(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: -)
الخلافة   (محمد رشيد رضا)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: الخلافة

المؤلف: محمد رشيد بن علي رضا بن محمد شمس الدين بن محمد بهاء الدين بن منلا علي خليفة القلموني الحسيني (ت 1354هـ)

المحقق: بدون

الناشر: الزهراء للاعلام العربي - مصر / القاهرة

الطبعة:؟ ،؟

عدد الصفحات: 157

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খিলাফত   (মুহাম্মদ রশিদ রিদা)

বিভাগ: শারয়ী রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা


গ্রন্থ: খিলাফত

লেখক: মুহাম্মদ রশিদ বিন আলী রিদা বিন মুহাম্মদ শামসুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বাহাউদ্দিন বিন মুনলা আলী খলিফা আল-কালামুনি আল-হুসাইনি (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক: নেই

প্রকাশক: আল-জাহরা আল-ইলামুল আরাবি - মিসর / কায়রো

সংস্করণ:? ،؟

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
(مُقَدّمَة)

 

{وَإِذ ابتلى إِبْرَاهِيم ربه بِكَلِمَات فأتمهن قَالَ إِنِّي جاعلك للنَّاس إِمَامًا، قَالَ: وَمن ذريتي، قَالَ لَا ينَال عهدي الظَّالِمين} {2: 124} .

{وعد الله الَّذين آمنُوا مِنْكُم وَعمِلُوا الصَّالِحَات ليَستَخْلِفنهم فِي الأَرْض كَمَا اسْتخْلف الَّذِي من قبلهم، وليمكنن لَهُم دينهم الَّذِي ارتضى لَهُم، وليبدلنهم من بعد خوفهم أمنا، يعبدونني لَا يشركُونَ بِي شَيْئا، وَمن كفر بعد ذَلِك فَأُولَئِك هم الْفَاسِقُونَ} {24: 55} .

{وَهُوَ الَّذِي جعلكُمْ لخائف الأَرْض وَرفع بَعْضكُم فَوق بعض دَرَجَات ليَبْلُوكُمْ فِيمَا آتَاكُم، إِن رَبك سريع الْعقَاب وَإنَّهُ لغَفُور رَحِيم} {6: 165} . .

هدَانَا الْكتاب الْحق، وَالنَّظَر فِي تَارِيخ الْخلق، إِلَى الِاعْتِبَار بخلافة الشعوب بَعْضهَا لبَعض، فِي السِّيَادَة وَالْحكم فِي الأَرْض، وبخلافة الْأَفْرَاد والبيوت فِي الشعوب، وَمَا فِيهَا من حق مَشْرُوع وتراث مَغْصُوب، وَإِلَى مَا لله تَعَالَى فِي ذَلِك من الحكم وَالسّنَن الاجتماعية، وَالْأَحْكَام وَالسّنَن الشَّرْعِيَّة وَمن الْعَهْد بِالْإِمَامَةِ الْعَامَّة لبَعض الْمُرْسلين، والوعد باستخلاف وإرث الأَرْض لِعِبَادِهِ الصَّالِحين، وَمن تِلْكَ السّنَن الْعَامَّة ابتلاء بعض الشعوب بِبَعْض ليظْهر أَيهَا أقوم وَأقرب إِلَى الْعدْل وَالْحق فَيكون حجَّة لَهُ على الْخلق ولينتقم من الظَّالِمين، تَارَة بأمثالهم من المفسدين، وَتارَة بأضدادهم من المصلحين، وَتَكون عَاقِبَة التَّنَازُع لِلْمُتقين، فالمتقون هم الَّذين يَتَّقُونَ بَاب الخيبة والفشل، ويسيرون على سنَن الله الشَّرْعِيَّة والكونية فِي الْعَمَل، والصالحون هم الَّذين يجتنبون الْفساد، ويسلكون سَبِيل الرشاد، ويقومون مَا اعوج من أَمر الْعباد.
(ভূমিকা)

 

{আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহীমকে তাঁর রব কয়েকটি বাণী দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন। তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানবজাতির জন্য ইমাম (إمام) বা নেতা বানাবো।’ তিনি বললেন, ‘আর আমার বংশধরদের থেকেও?’ তিনি বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের স্পর্শ করবে না’} {২: ১২৪}।

{তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন। আর তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে, তারাই ফাসিক} {২৪: ৫৫}।

{আর তিনিই তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি (خلائف) করেছেন এবং তোমাদের কতককে কতকের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন সে বিষয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয়ই তোমার রব দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} {৬: ১৬৫}।

সত্য কিতাব এবং সৃষ্টির ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত আমাদের শিক্ষা দেয় এক জাতির পর অন্য জাতির স্থলাভিষিক্ত হওয়া সম্পর্কে; পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও শাসনের ক্ষেত্রে। একইভাবে জাতিসমূহের মধ্যে ব্যক্তি ও পরিবারবর্গের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং তাতে বিদ্যমান বৈধ অধিকার ও ছিনতাইকৃত উত্তরাধিকার সম্পর্কেও তা দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আর এতে মহান আল্লাহর যে হিকমত, সামাজিক রীতিনীতি, শারয়ী বিধান ও নিয়মাবলি রয়েছে এবং কোনো কোনো রাসূলের (مرسلون) জন্য যে সাধারণ ইমামত (إمامة) বা নেতৃত্বের অঙ্গীকার রয়েছে, তা সম্পর্কেও আলোকপাত করে। এছাড়া তাঁর সৎকর্মশীল (صالحون) বান্দাদের জন্য প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) ও জমিনের উত্তরাধিকারের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তাও এর অন্তর্ভুক্ত। এসব সাধারণ নিয়মের একটি হলো এক জাতিকে অন্য জাতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা, যাতে প্রকাশিত হয় যে কারা অধিক সুদৃঢ় এবং সত্য ও ন্যায়ের অধিক নিকটবর্তী। ফলে এটি সৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ হবে। আল্লাহ জালিমদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন—কখনো তাদের মতোই কোনো ফাসাদ সৃষ্টিকারীর মাধ্যমে, আবার কখনো তাদের বিপরীত কোনো সংস্কারকের মাধ্যমে। আর দ্বন্দ্ব-সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণাম মুত্তাকীদের (متقون) পক্ষেই থাকে। বস্তুত মুত্তাকী (متقون) তারাই, যারা ব্যর্থতা ও নিরাশার পথ থেকে বেঁচে থাকে এবং কর্মক্ষেত্রে আল্লাহর শারয়ী ও মহাজাগতিক নিয়মাবলি অনুসরণ করে চলে। আর সৎকর্মশীল (صالحون) তারাই, যারা ফাসাদ বর্জন করে, হিদায়াতের পথ অনুসরণ করে এবং মানুষের যাবতীয় বিচ্যুতি সংশোধন করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
عهد الله تَعَالَى بِالْإِمَامَةِ الْعَامَّة لنَبيه وخليله إِبْرَاهِيم وللعادلين من ذُريَّته غير الظَّالِمين، فوعد بهَا قوم مُوسَى من بني إِسْرَائِيل، وَقوم مُحَمَّد من بني إِسْمَاعِيل، قَالَ تَعَالَى فِي الْوَعْد الأول 28: 5 {ونريد أَن نمن على الَّذين استضعفوا فِي الأَرْض ونجعلهم أَئِمَّة ونجعلهم الْوَارِثين} وَقَالَ فِي الْوَفَاء بِهِ 7: 137 {وأورثنا الْقَوْم الَّذين كَانُوا يستضعفون مَشَارِق الأَرْض وَمَغَارِبهَا الَّتِي باركنا فِيهِ وتمت كلمة رَبك الْحسنى على بني إِسْرَائِيل بِمَا صَبَرُوا} الْآيَة وَقَالَ فِي الْوَعْد الثَّانِي 24: 55 {وعد الله الَّذين آمنُوا مِنْكُم وَعمِلُوا الصَّالِحَات ليَستَخْلِفنهم فِي الأَرْض كَمَا اسْتخْلف الَّذين من قبلهم وليمكنن لَهُم دينهم الَّذِي ارتضى لَهُم} . . وَقد صدق الله هَذِه الْأمة وعده ووفى لَهَا، كَمَا وفى لمن قبلهَا، ثمَّ سلبها جلّ مَا أَعْطَاهَا، كَمَا عاقب بذلك سواهَا، إِذْ نقضت عهدها كَمَا نقضوا، وفسقت عَن أَمر بهَا كَمَا فسقوا، واغترت بنسبها وبكتابها كَمَا اغتروا، وَإِنَّمَا ناط تَعَالَى إِرْث الأَرْض، بِإِقَامَة الْحق وَالْعدْل، وبالصلاح والإصلاح لأمور الْخلق، وَاسْتثنى من نيل عَهده الظَّالِمين، وتوعد بسلبه من الْفَاسِقين، وَكَانَ الْوَاجِب عَلَيْهَا أَن تعْتَبر بذلك فتثوب إِلَى رشدها، وتتوب إِلَى رَبهَا، عَسى أَن يرحمها، وَيتم لآخرها، مَا أنْجز من عَهده لأولها، وَلكنهَا لما تفعل، وَعَسَى أَن تفعل.

إِن الْمَرِيض الْجَاهِل بمرضه لَا يطْلب لَهُ علاجا، وَإِن من يطْلب العلاج من غير الطَّبِيب الْعَارِف بمرضه لَا يُصِيب نجاحا، وَإِن دَاء الْمُسلمين ودواءه مُبين فِي كِتَابهمْ الْمنزل، وَلَكنهُمْ حرمُوا على أنفسهم الْعلم وَالْعَمَل بِهِ، اسْتغْنَاء عَنْهُمَا بِفقه المقلدين وكتبهم، وَيُمكن الْعلم بهما مِمَّا أرشدهم إِلَيْهِ الْكتاب من السّير فِي الأَرْض، للنَّظَر فِي أُمُور الْأُمَم وَالِاعْتِبَار بسنن الله فِي الْخلق، وَلَكنهُمْ قَلما كَانُوا يَسِيرُونَ، وَإِذا سَارُوا فقلما ينظرُونَ ويعتبرون.
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী ও খলিল ইব্রাহিম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ ও জালেম নয় এমন ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ ইমামতের (إمامة) অঙ্গীকার করেছেন। অতঃপর তিনি বনী ইসরাইলের মধ্য থেকে মূসার কওমকে এবং বনী ইসমাইলের মধ্য থেকে মুহাম্মাদের কওমকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ প্রথম প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বলেছেন (২৮:৫): "আর আমি চাচ্ছিলাম দেশে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে ইমাম (أئمة) করতে এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে।" আর সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার বিষয়ে বলেছেন (৭:১৩৭): "আর যে কওমকে দুর্বল মনে করা হতো, আমি তাদেরকে সেই ভূমির পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী বানালাম যাতে আমি বরকত দিয়েছি। আর বনী ইসরাইলের উপর আপনার রবের উত্তম বাণী পূর্ণ হলো, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল।" দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বলেছেন (২৪:৫৫): "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত (استخلاف) দান করবেন যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন।" . . আল্লাহ এই উম্মতের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য করেছেন এবং তা পূর্ণ করেছেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য পূর্ণ করেছিলেন। এরপর তিনি তাদের যা দিয়েছিলেন তার অধিকাংশ ছিনিয়ে নিয়েছেন, যেভাবে তিনি অন্যদের শাস্তি দিয়েছিলেন; কারণ তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল যেমন আগের লোকেরা করেছিল, এবং তারা আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল যেমন আগের লোকেরা করেছিল, এবং তারা তাদের বংশ ও কিতাব নিয়ে দম্ভ করেছিল যেমন আগের লোকেরা করেছিল। বস্তুত আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর উত্তরাধিকারকে হক ও ন্যায়বিচার কায়েম করা এবং সৃষ্টির বিষয়াদির সংশোধন ও মঙ্গলের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি জালেমদেরকে তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তি থেকে বাদ দিয়েছেন এবং ফাসেকদের থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়ার ধমকি দিয়েছেন। তাদের জন্য আবশ্যক ছিল এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং সুপথে ফিরে আসা, আর তাদের রবের কাছে তওবা করা; যাতে হয়তো তিনি তাদের প্রতি দয়া করেন এবং তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য যা পূর্ণ করেছিলেন, তাদের পরবর্তীদের জন্যও তা পূর্ণ করেন। কিন্তু তারা এখনো তা করেনি, তবে আশা করা যায় যে তারা করবে।

নিশ্চয়ই যে রোগী তার রোগ সম্পর্কে অজ্ঞ, সে তার জন্য চিকিৎসা খোঁজে না। আর যে ব্যক্তি তার রোগ সম্পর্কে অবগত নয় এমন চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারো কাছে চিকিৎসা চায়, সে সফল হয় না। আর মুসলিমদের রোগ ও তার প্রতিকার তাদের অবতীর্ণ কিতাবে সুস্পষ্ট, কিন্তু তারা মুকাল্লিদদের (مقلدين) ফিকহ ও তাদের কিতাবসমূহের উপর নির্ভর করে সেই কিতাবের ইলম ও আমল থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেছে। আর এই দুই বিষয়ে জ্ঞান অর্জন সম্ভব কিতাব প্রদর্শিত নির্দেশনার মাধ্যমে, যা হলো পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করা, জাতিসমূহের বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করা এবং সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর নিয়মাবলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। কিন্তু তারা খুব কমই পরিভ্রমণ করত; আর যখন করত, তখন খুব কমই দেখত ও শিক্ষা নিত।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَالْإِسْلَام هِدَايَة روحية، وسياسة اجتماعية مَدَنِيَّة، أكمل الله بِهِ دين الْأَنْبِيَاء، وَمَا أَقَامَ عَلَيْهِ نظام الِاجْتِمَاع البشري من سسن الارتقاء، فَأَما الْهِدَايَة الدِّينِيَّة الْمَحْضَة فقد جَاءَ بهَا تَامَّة أصلا وفرعا، وفرضا ونفلا، إِذْ مدارها على نُصُوص الْوَحْي، وَبَيَان الرَّسُول صلى الله عليه وسلم لَهَا بالْقَوْل وَالْفِعْل، وَلما طَرَأَ الضعْف على الْمُسلمين جهلوا هَذَا الأَصْل، فغلا بَعضهم فِي الدّين، فَزَاد فِي أَحْكَام الْعِبَادَات والمحرمات الدِّينِيَّة، والمواسم والأحزاب والأوراد الصُّوفِيَّة، مَا ألفت فِيهِ المجلدات، ويستغرق الْعَمَل بِهِ جَمِيع الْأَوْقَات، ويستلزم جعله من الدّين نُقْصَان دين الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ إِذْ لم يكن لديهم شَيْء مِنْهُ، وَلَو اشتغلوا بِمثلِهِ لما وجدوا وقتا لفتح الْبِلَاد، وَإِصْلَاح أُمُور الْعباد. . وَأما السياسة الاجتماعية المدنية فقد وضع الْإِسْلَام أساسها وقواعدها، وَشرع للْأمة الرَّأْي وَالِاجْتِهَاد فِيهَا، لِأَنَّهَا تخْتَلف باخْتلَاف الزَّمَان وَالْمَكَان وترتقي بارتقاء الْعمرَان وفنون الْعرْفَان، وَمن قَوَاعِده فِيهَا أَن سلطة الْأمة لَهَا، وأمرها شُورَى بَينهَا، وَأَن حكومتها ضرب من الجمهورية، وَخَلِيفَة الرَّسُول فِيهَا لَا يمتاز فِي أَحْكَامهَا على أَضْعَف أَفْرَاد الرّعية، وَإِنَّمَا هُوَ منفذ لحكم الشَّرْع ورأي الْأمة، وَأَنَّهَا حافظة للدّين ومصالح الدُّنْيَا، وجامعة بَين الْفَضَائِل الأدبية، وَالْمَنَافِع المادية، وممهدة لتعميم الْأُخوة الإنسانية، بتوحيد مقومات الْأُمَم الصورية والمعنوية. . وَلما طَرَأَ الضعْف على الْمُسلمين قصروا فِي إِقَامَة الْقَوَاعِد وَالْعَمَل بالأصول، وَلَو أقاموها لوضعوا لكل عصر مَا يَلِيق بِهِ من النّظم وَالْفُرُوع. .

ظَهرت مَدَنِيَّة الْإِسْلَام مشرقة من أفق هِدَايَة الْقُرْآن، مَبْنِيَّة على أساس البدء بإصلاح الْإِنْسَان، ليَكُون هُوَ المصلح لأمور الْكَوْن وشئون الِاجْتِمَاع، فَكَانَ جلّ إصْلَاح الْخُلَفَاء الرَّاشِدين إِقَامَة الْحق وَالْعدْل، والمساواة بَين النَّاس فِي الْقسْط، وَنشر الْفَضَائِل وقمع الرذائل، وَإِبْطَال مَا أرهق الْبشر من استبداد الْمُلُوك والأمراء، وسيطرة الكهنة ورؤساء الدّين على الْعُقُول والأرواح، فبلغوا بذلك حدا من الْكَمَال، لم يعرف لَهُ نَظِير فِي تَارِيخ الْأُمَم والأجيال، واستتبع ذَلِك مَدَنِيَّة سريعة السّير، جَامِعَة بَين الدّين والفضيلة، وَبَين التَّمَتُّع بالطيبات والزينة، ارتقت فِيهَا الْعُلُوم والفنون بِسُرْعَة غَرِيبَة، حَتَّى قَالَ الفيلسوف المؤرخ موسيو غوستاف لوبون فِي كِتَابه (تطور الْأُمَم) : إِن ملكة الْفُنُون لم تستحكم لأمة من الْأُمَم فِيمَا دون الثَّلَاثَة أجيال الطبيعية إِلَّا للْعَرَب، وَيَعْنِي بِالثَّلَاثَةِ أجيال: الجيل الْمُقَلّد، والجيل المخضرم، والجيل المستقل. .

ইসলাম হলো একটি আধ্যাত্মিক পথনির্দেশনা এবং সামাজিক ও নাগরিক রাজনীতি; যার মাধ্যমে আল্লাহ নবীদের ধর্মকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং এর ওপরই তিনি মানবীয় উন্নয়নের ধারা হিসেবে মানব সমাজের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশুদ্ধ ধর্মীয় হিদায়াতের ক্ষেত্রে এটি মূলনীতি (أصل) ও শাখা-প্রশাখা (فرع) এবং আবশ্যিক (فرض) ও ঐচ্ছিক (نفل) উভয় দিক থেকেই পূর্ণাঙ্গরূপে এসেছে; কেননা এর মূল ভিত্তি হলো ওহীর (وحي) ভাষ্য এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কথা ও কাজের মাধ্যমে তার বর্ণনা (بيان)। যখন মুসলমানদের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) দেখা দিল, তখন তারা এই মূলনীতি (أصل) সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়ল। ফলে তাদের কেউ কেউ দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি শুরু করল এবং ইবাদতের বিধান, ধর্মীয় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ, বিভিন্ন উৎসবের মৌসুম, হিজব এবং সুফিদের আওরাদের ক্ষেত্রে এমন সব বিষয় বৃদ্ধি করল, যার ওপর বড় বড় খণ্ড রচিত হয়েছে। এগুলো পালন করতে গিয়ে সবটুকু সময় ব্যয় হয়ে যায় এবং একে দ্বীনের অংশ মনে করার অর্থ হলো সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ীগণের (التابعين) দ্বীনকে অপূর্ণ মনে করা, কেননা তাঁদের নিকট এর কিছুই ছিল না। তাঁরা যদি এই জাতীয় কাজে লিপ্ত থাকতেন, তবে দেশ জয় এবং জনগণের সংশোধনের কোনো সময় পেতেন না।

আর সামাজিক ও নাগরিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ইসলাম এর ভিত্তি ও নীতিমালা (قواعد) স্থাপন করেছে এবং এই বিষয়ে উম্মতের জন্য সুচিন্তিত মতামত ও ইজতিহাদের (اجتهاد) সুযোগ রেখেছে; কারণ এটি স্থান ও কালের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং সভ্যতার উন্নয়ন ও জ্ঞানের উৎকর্ষের সাথে বিকশিত হয়। এই ক্ষেত্রে ইসলামের একটি মূলনীতি হলো, শাসনক্ষমতা উম্মতের হাতে থাকবে, তাদের কার্যাবলি পারস্পরিক পরামর্শের (شورى) ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং তাদের সরকার হবে এক ধরনের প্রজাতন্ত্র। সেখানে রাসূলের খলীফা (خليفة) শাসনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির ওপর কোনো বিশেষ প্রাধান্য পাবেন না। বরং তিনি কেবল শরীয়তের (شرع) বিধান ও উম্মতের মতামতের বাস্তবায়নকারী। এই শাসনব্যবস্থা দ্বীন ও দুনিয়াবী স্বার্থের রক্ষক, যা নৈতিক গুণাবলি ও বস্তুগত উপযোগিতার সমন্বয় ঘটায় এবং জাতির দৃশ্যমান ও ভাবগত উপাদানগুলোকে একীভূত করার মাধ্যমে মানবিক ভ্রাতৃত্বকে সার্বজনীন করার পথ প্রশস্ত করে। যখন মুসলমানদের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) দেখা দিল, তখন তারা এই নীতিমালা (قواعد) প্রতিষ্ঠা ও মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী আমল করতে অবহেলা করল। তারা যদি এগুলো প্রতিষ্ঠিত রাখত, তবে তারা প্রত্যেক যুগের জন্য উপযোগী নিয়ম-কানুন ও উপ-বিধানসমূহ (فروع) তৈরি করতে পারত।

ইসলামি সভ্যতা কুরআনী হিদায়াতের দিগন্ত থেকে প্রদীপ্ত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা মূলত মানুষের সংশোধনের মাধ্যমে সূচিত হয়েছে—যাতে মানুষ নিজেই মহাবিশ্বের বিষয়াবলি ও সামাজিক কার্যাবলির সংশোধনকারী হতে পারে। খোলাফায়ে রাশেদীনের (الخلفاء الراشدين) অধিকাংশ সংস্কারই ছিল সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা, ইনসাফের (قسط) ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সমতা বজায় রাখা, সদ্গুণাবলির প্রসার ও অসদাচরণের মূলোৎপাটন করা। এছাড়া রাজা-বাদশাহদের স্বৈরশাসন এবং বুদ্ধিবৃত্তি ও আত্মার ওপর পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতাদের আধিপত্যের মাধ্যমে মানুষকে যে লাঞ্ছনা গ্রাস করেছিল, তা বিলুপ্ত করা। এর মাধ্যমে তাঁরা পূর্ণতার এমন এক শিখরে পৌঁছেছিলেন, যা জাতি ও প্রজন্মের ইতিহাসে অতুলনীয়। এর ফলে একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, যা দ্বীন ও নৈতিকতার পাশাপাশি পবিত্র বস্তু ও সৌন্দর্য উপভোগের সমন্বয় ঘটিয়েছিল। সেখানে বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা এক বিস্ময়কর গতিতে উন্নতি লাভ করেছিল, এমনকি ঐতিহাসিক দার্শনিক মসিয়ে গুস্তাভ লো বঁ তাঁর 'তাতাওয়ুরুল উমাম' গ্রন্থে বলেছেন: 'তিনটি স্বাভাবিক প্রজন্মের মধ্যে কোনো জাতির পক্ষেই শিল্পকলায় দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, একমাত্র আরবদের ব্যতীত।' আর তিনটি প্রজন্ম বলতে তিনি বুঝিয়েছেন: অনুকরণকারী প্রজন্ম, মুখাদরাম (مخضرم) প্রজন্ম এবং স্বাধীন প্রজন্ম।

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
لقد أَتَى على النَّاس حِين من الدَّهْر وهم يظنون أَن المدنية الإسلامية قد مَاتَت وبليت، فَلَا رَجَاء فِي بَعْضهَا، وَأَن المدنية الإفرنجية قد كسبت صفة الخلود فَلَا مطمع فِي مَوتهَا، ثمَّ اسْتَدَارَ الزَّمَان وَظهر خطأ الحسبان، وَكثر فِي حكماء أوروبة وعلمائه من يرتقب اقتراب أجل مدنيتها، بِمَا يفتك بهَا من أوبئة الأفكار المادية، وَالروح الحربية، والمطامع الأشعبية، والإسراف فِي الشَّهَوَات الحيوانية، وَقد كَانَ من أساطين أهل هَذَا الرَّأْي شيخ فلاسفة الْعَصْر هربرت سبنسر الإنكليزي مؤسس علم الِاجْتِمَاع، وَكثر أَهله بعد الْحَرْب الْكُبْرَى، لما ترَتّب عَلَيْهَا من الْمَفَاسِد الَّتِي لَا تحصى، فقد أرثت الأحقاد والأضغان بَين الشعوب الأوروبية، وضاعفت الْمَفَاسِد والمشاكل الْمَالِيَّة والسياسية، وَلكنهَا قد هزت الْعَالم الإسلامي والشرق كُله هزة عنيفة، وأحدثت فِي شعوبه توارث لم تكن مألوفة، فسنحت لَهُ فرْصَة للْعَمَل، هِيَ منَاط الرَّجَاء وَقُوَّة الأمل. .

وَإِن أعظم مظَاهر هَذِه الفرصة نهضة الشّعب التركي من كبوته الَّتِي قَضَت على السلطنة العثمانية، وتوثيقه عرى الإخاء بَين الدولتين الإيرانية والأفغانية، وبثه دَعْوَة الِاعْتِصَام مَعَ سَائِر الشعوب الإسلامية الأعجمية، ونجاحه فِي إِلْغَاء الامتيازات الْأَجْنَبِيَّة، وَالنَّقْص من سَائِر الْقُيُود والأغلال السياسية والمالية، فرجاؤنا فِيهِ أَن يشد أواصر الإخاء مَعَ الْأمة الْعَرَبيَّة، ويتعاون مَعهَا على إحْيَاء المدنية الإسلامية، بتجديد حُكُومَة الْخلَافَة على الْقَوَاعِد المقررة فِي الْكتب الكلامية والفقهية، وَألا يرضى بِمَا دون ذَلِك من الْمظَاهر الدُّنْيَوِيَّة، وَلَا يغتر بتحبيذ عوام الْمُسلمين لما قَرَّرَهُ فِي أَمر الْخلَافَة الروحية، فَمَا أضاع على الْمُسلمين دنياهم وَدينهمْ، إِلَّا تحبيذ دهمائهم لكل مَا تَفْعَلهُ حكوماتهم ودولهم، ناهيك بشعور الْمُسلمين، الَّذين يئطون من أثقال حكم المستعمرين، إِنَّه شُعُور شرِيف، وَإِنَّمَا يعوزه الرَّأْي الحصيف، فقد كَانَ السوَاد الْأَعْظَم من هَؤُلَاءِ الملايين، يَرْمِي من يُخَالف أهواء السُّلْطَان عبد الحميد بالخيانة أَو المروق من الدّين، وَهُوَ السُّلْطَان الَّذِي أقنع جُمْهُور ساسة التّرْك بِإِسْقَاط سلطة السلاطين، الَّذِي تحمده الْيَوْم هَذِه الملايين، وَمَا لَهُم بِهَذَا وَلَا ذَاك من علم وَلَا سُلْطَان مُبين. .

أَيهَا الشّعب التركي الْحَيّ: إِن الْإِسْلَام أعظم قُوَّة معنوية فِي الأَرْض وَإنَّهُ هُوَ الَّذِي يُمكن أَن يحيي مَدَنِيَّة الشرق وينقذ مَدَنِيَّة الغرب، فَإِن المدنية لَا تبقى إِلَّا

মানুষের ওপর দীর্ঘ কালপ্রবাহের এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে যখন তারা ধারণা করত যে, ইসলামী সভ্যতা মৃত ও জীর্ণ হয়ে গেছে, যার পুনর্জীবনের কোনো আশা অবশিষ্ট নেই। আর তারা মনে করত যে, ইউরোপীয় সভ্যতা স্থায়িত্বের গুণ অর্জন করেছে, যার বিনাশের কোনো সম্ভাবনা নেই। অতঃপর কালের আবর্তন ঘটল এবং সেই ধারণার ভ্রান্তি প্রকাশ পেল। বর্তমানে ইউরোপের বিজ্ঞজন ও পণ্ডিতদের মধ্যে এমন অনেকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা তাদের সভ্যতার অন্তিমকাল ঘনিয়ে আসার প্রতীক্ষা করছেন; কারণ বস্তুবাদী চিন্তাধারার মহামারি, যুদ্ধংদেহী মনোভাব, তীব্র লালসা এবং পাশবিক কামনাবাসনায় মাত্রাতিরিক্ত নিমগ্নতা একে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই মতের প্রধান প্রবক্তাদের অন্যতম ছিলেন বর্তমান যুগের দার্শনিকদের অগ্রগণ্য এবং সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার। মহাযুদ্ধের (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ) পর এমন চিন্তাশীলদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ এই যুদ্ধ অসংখ্য অগণিত অনিষ্টের জন্ম দিয়েছে। এটি ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করেছে এবং আর্থিক ও রাজনৈতিক সমস্যা ও বিশৃঙ্খলাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি সমগ্র ইসলামী বিশ্ব ও প্রাচ্যকে এক প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়েছে এবং এখানকার জাতিগুলোর মধ্যে এমন এক জাগরণ সৃষ্টি করেছে যা আগে পরিচিত ছিল না। ফলে তাদের সামনে কর্মতৎপরতার এমন এক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা আশা ও আকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এই সুযোগের সর্বশ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ হলো তুর্কি জাতির সেই স্থবিরতা থেকে জেগে ওঠা যা উসমানীয় সালতানাতকে স্তিমিত করে দিয়েছিল। আর ইরান ও আফগান রাষ্ট্রের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং অন্যান্য অনারব মুসলিম জাতিগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রচার করা। সেইসাথে বৈদেশিক বিশেষ সুবিধাসমূহ বাতিলের ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য এবং অন্যান্য সকল রাজনৈতিক ও আর্থিক শৃঙ্খল ও সীমাবদ্ধতা হ্রাস করা। সুতরাং তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা হলো, তারা যেন আরব উম্মাহর সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন মজবুত করে এবং কালামশাস্ত্রীয় ও ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে নির্ধারিত মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতে খিলাফত ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতার পুনর্জাগরণে পারস্পরিক সহযোগিতা করে। তারা যেন নিছক পার্থিব বাহ্যিক চাকচিক্যে সন্তুষ্ট না হয় এবং 'আধ্যাত্মিক খিলাফত' বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি সাধারণ মুসলমানদের সমর্থন দেখে প্রতারিত না হয়। কেননা মুসলমানদের পার্থিব ও ধর্মীয় জীবন ধ্বংস হওয়ার মূল কারণ হলো, তাদের সরকার ও রাষ্ট্র যা-ই করে, সাধারণ জনগণের নির্বিচারে তার সমর্থন করা। মুসলমানদের সেই অনুভূতির কথা বলাই বাহুল্য, যারা ঔপনিবেশিক শাসকদের শাসনের ভারে জর্জরিত ও আর্তনাদরত। এটি একটি মহৎ অনুভূতি, তবে এর জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের। কেননা এই লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল জনসমষ্টির বড় একটি অংশই সুলতান আব্দুল হামিদের খেয়ালখুশির বিরোধিতা করলে তাকে বিশ্বাসঘাতক বা ধর্মত্যাগী হিসেবে আখ্যায়িত করত। অথচ তিনিই সেই সুলতান যিনি তুর্কি রাজনীতিকদের একটি বড় অংশকে সুলতানদের ক্ষমতা বিলুপ্ত করতে প্ররোচিত করেছিলেন, যার প্রশংসা আজ এই লক্ষ লক্ষ মানুষ করছে। অথচ তাদের এই প্রশংসা বা নিন্দার কোনোটির পেছনেই কোনো জ্ঞান বা স্পষ্ট দলিল নেই।

হে জীবন্ত তুর্কি জাতি! নিশ্চয়ই ইসলাম পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মিক শক্তি এবং এটিই প্রাচ্যের সভ্যতাকে পুনর্জীবিত করতে পারে এবং পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে রক্ষা করতে পারে। কারণ সভ্যতা কেবল টিকে থাকে...

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بالفضيلة، والفضيلة لَا تتَحَقَّق إِلَّا بِالدّينِ، وَلَا يُوجد دين يتَّفق مَعَ الْعلم والمدنية إِلَّا الْإِسْلَام، وَإِنَّمَا عاشت المدنية الغربية هَذِه الْقُرُون بِمَا كَانَ فِيهَا من التوازن بَين بقايا الْفَضَائِل المسيحية، مَعَ التَّنَازُع بَين الْعلم الاستقلالي والتعاليم الكنسية، فَإِن الْأُمَم لَا تنسل من فَضَائِل دينهَا، بِمُجَرَّد طروء الشَّك فِي عقائده على أذهان الْأَفْرَاد وَالْجَمَاعَات مِنْهَا، وَإِنَّمَا يكون ذَلِك بالتدريج فِي عدَّة أجيال، وَقد انْتهى التَّنَازُع بفقد ذَلِك التوازن، وَأصْبح الدّين والحضارة على خطر الزَّوَال، واشتدت حَاجَة الْبشر إِلَى إصْلَاح روحي مدنِي ثَابت الْأَركان، يَزُول بِهِ استعباد الأقوياء للضعفاء، واستذلال الْأَغْنِيَاء للْفُقَرَاء، وخطر البلشفية على الْأَغْنِيَاء، وَيبْطل بِهِ امتياز الْأَجْنَاس، لتتحقق الْأُخوة الْعَامَّة بَين النَّاس، وَلنْ يكون ذَلِك إِلَّا بحكومة الْإِسْلَام، الَّتِي بيناها بالإجمال فِي هَذَا الْكتاب، وَنحن مستعدون للمساعدة على تفصيلها، إِذا وفْق الله للْعَمَل بهَا. .

أَيهَا الشّعب التركي الباسل: إِنَّك الْيَوْم أقدر الشعوب الإسلامية على أَن تحقق للبشر هَذِه الأمنية، فاغتنم هَذِه الفرصة لتأسيس مجد إنساني خَالِد، لَا يذكر مَعَه مجدك الْحَرْبِيّ التالد، وَلَا يجرمنك المتفرنجون على تَقْلِيد الإفرنج فِي سيرتهم، وَأَنت أهل لِأَن تكون إِمَامًا لَهُم بمدنية خير من مدنيتهم، وَمَا ثمَّ إِلَّا المدنية الإسلامية، الثَّابِتَة قواعدها المعقولة على أساس العقيدة الدِّينِيَّة، فَلَا تزلزلها النظريات الَّتِي تعبث بالعمران، وتفسد نظم الْحَيَاة الاجتماعية على النَّاس. .

أَيهَا الشّعب التركي المتروي: انهض بتجديد حُكُومَة الْخلَافَة الإسلامية، بِقصد الْجمع بَين هِدَايَة الدّين والحضارة لخدمة الإنسانية، لَا لتأسيس عصبية إسلامية تهدد الدول الغربية، فَإِن فعلت ذَلِك وَأثبت إخلاصك وَصِحَّة نيتك فِيهِ، فَإنَّك تَجِد من عُلَمَاء الإفرنج وفضلائهم وأحرارهم من يشد أزرك، وَيرْفَع ذكرك، وَيدْفَع عَنْك تهم الساسة المفترين، وإغراء الطامعين المغررين. .

أَيهَا الشّعب التركي الْعَاقِل: إِنَّنِي أهدي إِلَيْك هَذِه المباحث الَّتِي كتبتها فِي بَيَان حَقِيقَة الْخلَافَة وأحكامها، وَشَيْء من تَارِيخه وعلو مكانتها، وَبَيَان حَاجَة جَمِيع الْبشر إِلَيْهَا، وَجِنَايَة الْمُسلمين على أنفسهم بِسوء التَّصَرُّف فِيهَا، وَالْخُرُوج بهَا عَن موضوعها، وَمَا يعْتَرض الْآن فِي سَبِيل إحيائها، مَعَ بَيَان الْمخْرج مِنْهَا، بِمَا أشرع السَّبِيل، وأنار الدَّلِيل، بمقال وسط بَين الْإِجْمَال وَالتَّفْصِيل، جَامع لآراء العارفين

শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে; আর শ্রেষ্ঠত্ব দ্বীন ব্যতীত অর্জিত হয় না। বিজ্ঞান ও সভ্যতার সাথে সংগতিপূর্ণ এমন কোনো দ্বীন ইসলাম ব্যতীত নেই। পশ্চিমা সভ্যতা এই শতাব্দীগুলোতে টিকে ছিল খ্রিস্টীয় গুণাবলির অবশিষ্টাংশ এবং স্বতন্ত্র বিজ্ঞান ও গির্জার শিক্ষার মধ্যকার দ্বন্দ্বের ভারসাম্যের কারণে। কেননা কোনো জাতি তার ধর্মীয় গুণাবলি থেকে কেবল তখনই বিচ্যুত হয় না যখন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মনে তার আকিদাহ সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দেয়, বরং তা কয়েক প্রজন্ম ধরে পর্যায়ক্রমে ঘটে থাকে। বর্তমানে সেই ভারসাম্য হারানোর মাধ্যমে এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে এবং দ্বীন ও সভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন মানবজাতির জন্য এমন এক সুদৃঢ় ভিত্তিবিশিষ্ট আধ্যাত্মিক ও নাগরিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে দুর্বলের ওপর সবলের দাসত্ব, দরিদ্রের ওপর ধনীদের লাঞ্ছনা এবং ধনীদের ওপর বলশেভিজমের ঝুঁকি দূর হবে। এর মাধ্যমে জাতিগত বৈষম্য বিলুপ্ত হবে, যাতে মানুষের মধ্যে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এটি কেবল ইসলামের শাসনের মাধ্যমেই সম্ভব, যা আমরা এই গ্রন্থে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। আমরা এর বিস্তারিত বিবরণে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি, যদি আল্লাহ তা বাস্তবায়নের তাওফিক দান করেন। .

হে বীর তুর্কি জাতি: মানবজাতির জন্য এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার ক্ষেত্রে আজ তোমরাই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্ষম। তাই একটি শাশ্বত মানবিক গৌরব প্রতিষ্ঠার এই সুযোগটি গ্রহণ করো, যার কাছে তোমাদের প্রাচীন সামরিক গৌরবও তুচ্ছ হবে। পাশ্চাত্য ভাবধারায় প্রভাবিত ব্যক্তিরা যেন তোমাদেরকে ইউরোপীয়দের জীবনপদ্ধতির অনুকরণে প্রলুব্ধ না করে; বরং তোমরাই তাদের জন্য তাদের সভ্যতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ সভ্যতার ইমাম হওয়ার যোগ্য। আর তা কেবল ইসলামী সভ্যতা, যার যুক্তিসঙ্গত মূলনীতিসমূহ ধর্মীয় আকিদাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। সুতরাং একে এমন কোনো মতবাদ টলাতে পারবে না যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মানুষের সামাজিক জীবন ব্যবস্থাকে কলুষিত করে। .

হে ধৈর্যশীল তুর্কি জাতি: মানবসেবায় দ্বীনি হিদায়াত ও সভ্যতার সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হও; এটি কোনো পশ্চিমা রাষ্ট্রকে হুমকি প্রদানকারী ইসলামী সাম্প্রদায়িকতা বা গোঁড়ামি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। তুমি যদি তা করো এবং এতে তোমার আন্তরিকতা ও নিয়তের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করো, তবে তুমি ইউরোপীয় আলেম, গুণীজন এবং স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোক পাবে যারা তোমার হাতকে শক্তিশালী করবে, তোমার সুখ্যাতি বৃদ্ধি করবে এবং মিথ্যাবাদী রাজনীতিবিদদের অপবাদ ও লোভী প্রবঞ্চকদের প্ররোচনা থেকে তোমাকে রক্ষা করবে। .

হে বুদ্ধিমান তুর্কি জাতি: আমি তোমাদের প্রতি এই গবেষণামূলক আলোচনাটি উৎসর্গ করছি, যা আমি খিলাফতের প্রকৃত রূপ ও এর বিধানাবলি, এর ইতিহাস ও সুউচ্চ মর্যাদার কিঞ্চিৎ বিবরণ, এবং এর প্রতি সমগ্র মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে লিখেছি। সেই সাথে এতে বর্ণনা করেছি নিজেদের ওপর মুসলমানদের কৃত অপরাধসমূহ—এর অপব্যবহার এবং এর মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ও বর্তমানে এর পুনরুজ্জীবনের পথে যে বাধাগুলো রয়েছে তার বিবরণ এবং তা থেকে উত্তরণের পথ। আমি এই পথ নির্দেশ করেছি এবং দলিলকে উজ্জ্বল করেছি একটি মধ্যমপন্থী আলোচনার মাধ্যমে, যা সংক্ষিপ্তসার ও বিস্তারিতের মাঝামাঝি এবং বিজ্ঞজনদের মতামতের সারসংক্ষেপ।

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بمصالح الدُّنْيَا وَحَقِيقَة الدّين، فَخذ مَا آتيتك وَكن من الشَّاكِرِينَ، وَإِنَّمَا الشُّكْر لَهَا، بِالْعَمَلِ بهَا {وَإِذ تَأذن ربكُم لَئِن شكرتم لأزيدنكم وَلَئِن كَفرْتُمْ إِن عَذَابي لشديد} …
পার্থিব কল্যাণ ও দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে; সুতরাং আমি তোমাকে যা প্রদান করেছি তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও। আর এগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা তো কেবল সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়; {এবং যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর’} …
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الْمُتَعَلّقَة بالخلافة الإسلامية

 

لقد كَانَت الْخلَافَة والسلطنة فتْنَة للنَّاس فِي الْمُسلمين كَمَا كَانَت حُكُومَة الْمُلُوك فتْنَة لَهُم فِي سَائِر الْأُمَم والملل. . وَكَانَت هَذِه الْمَسْأَلَة نَائِمَة فأيقظتها الْأَحْدَاث الطارئة فِي هَذِه الْأَيَّام، إِذْ أسقط التّرْك دولة آل عُثْمَان، وأسسوا من أنقاضها فيهم دولة جمهورية بشكل جَدِيد، من أُصُولهَا أَنهم لَا يقبلُونَ أَن يكون فِي حكومتهم الجديدة سلطة لفرد من الْأَفْرَاد لَا باسم خَليفَة وَلَا باسم سُلْطَان، وَأَنَّهُمْ قد فصلوا بَين الدّين والسياسة فصلا تَاما وَلَكنهُمْ سموا أحد أَفْرَاد أسرة السلاطين السَّابِقين خَليفَة روحياً لجَمِيع الْمُسلمين، وحصروا هَذِه الْخلَافَة فِي هَذِه الأسرة، كَمَا بَينا ذَلِك بالتفصيل فِي هَذَا الْجُزْء وَمَا قبله من الْمنَار. لذَلِك كثر خوض الجرائد فِي مَسْأَلَة الْخلَافَة وأحكامها، فَكثر الْخَلْط والخبط فِيهَا، وَلبس الْحق بِالْبَاطِلِ، فَرَأَيْنَا من الْوَاجِب علينا أَن نبين أَحْكَام شريعتنا فِيهَا بالتفصيل الَّذِي يَقْتَضِيهِ الْمقَام، ليعرف الْحق من الْبَاطِل، وَأَن نقفى على ذَلِك بمقال آخر فِي مَكَان نظام الْخلَافَة من نظم الحكومات الْأُخْرَى، وسيرة الْمُسلمين فِيهِ، وَمَا يَنْبَغِي لَهُم فِي هَذَا الزَّمَان.

وَإِن تأييدنا للحكومة التركية الجديدة، لمما يُوجب علينا هَذَا الْبَيَان والنصيحة، وَنحن إِنَّمَا نؤيدها لمَكَان الدّين، ومصلحة الْمُسلمين، وَمَا أَضْعَف ديننَا وَأَهله، إِلَّا محاباتهم للأقوياء فِيهِ، فَكَانَت مُحَابَاة الْعلمَاء للملوك وَالْخُلَفَاء وبالا عَلَيْهِم وعَلى النَّاس، وَقد أَخذ الله الْمِيثَاق على الْعلمَاء {لتبيننه للنَّاس وَلَا تكتمونه} {وَلَا تلبسوا الْحق بِالْبَاطِلِ وتكتموا الْحق وَأَنْتُم تعلمُونَ} وَمن الله نستمد الصَّوَاب، ونسأله الْحِكْمَة وَفصل الْخطاب:
‌‌ইসলামি খিলাফত সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধানসমূহ

 

নিশ্চয়ই খিলাফত ও রাজতন্ত্র মুসলমানদের মাঝে মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল, যেমনটি অন্যান্য উম্মত ও জাতিগোষ্ঠীর নিকট রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তাদের জন্য পরীক্ষা ছিল। এই বিষয়টি সুপ্ত ছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ের আকস্মিক ঘটনাবলি একে জাগ্রত করেছে। কেননা তুর্কিরা উসমানি বংশের রাষ্ট্রের পতন ঘটিয়েছে এবং এর ধ্বংসাবশেষ থেকে নিজেদের মধ্যে একটি নতুন আঙ্গিকের প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের অন্যতম মূলনীতি হলো—তারা তাদের নতুন শাসনব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির কর্তৃত্ব গ্রহণ করবে না, তা খলিফা নামেই হোক বা সুলতান নামেই হোক; এবং তারা ধর্ম ও রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে পৃথক করেছে। তবে তারা পূর্ববর্তী সুলতান পরিবারের একজন সদস্যকে সকল মুসলমানের জন্য আধ্যাত্মিক খলিফা হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এই খিলাফতকে কেবল এই পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে, যেমনটি আমরা আল-মানার পত্রিকার এই খণ্ডে এবং এর পূর্ববর্তী খণ্ডে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। এ কারণে খিলাফত ইস্যু ও এর বিধান নিয়ে সংবাদপত্রগুলোতে প্রচুর আলোচনা-পর্যালোচনা হচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে অনেক বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটেছে। তাই আমরা বর্তমান পরিস্থিতির প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমাদের শরয়ি বিধানগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করা আমাদের জন্য আবশ্যক মনে করেছি, যাতে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপিত হয়। এবং এর পরেই আমরা অন্য একটি প্রবন্ধ সংযোজন করব, যেখানে অন্যান্য শাসনব্যবস্থার মাঝে খিলাফত ব্যবস্থার অবস্থান, এ ব্যাপারে মুসলমানদের কর্মপন্থা এবং বর্তমান সময়ে তাদের জন্য যা করণীয়—তা আলোচিত হবে।

আর নতুন তুর্কি সরকারের প্রতি আমাদের সমর্থনই এই বর্ণনা ও নসিহত প্রদান আমাদের জন্য অবধারিত করে দিয়েছে। আমরা তাদের সমর্থন করছি শুধুমাত্র ধর্মের খাতিরে এবং মুসলমানদের কল্যাণে। আমাদের ধর্ম ও তার অনুসারীদেরকে শক্তিমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ছাড়া অন্য কিছু দুর্বল করেনি। সুতরাং রাজা-বাদশাহ ও খলিফাদের প্রতি আলেমদের এই তোষণনীতি তাদের নিজেদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য অকল্যাণ বয়ে এনেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা আলেমদের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছেন যে— "তোমরা অবশ্যই তা মানুষের নিকট বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না" এবং "আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না"। আর আল্লাহর কাছেই আমরা সঠিক পথের তাওফিক কামনা করি এবং তাঁর নিকট প্রজ্ঞা ও চূড়ান্ত ফয়সালা প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فارغة
খালি
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التَّعْرِيف بالخلافة الإسلامية ووجوبها شرعا
ইসলামী খিলাফতের পরিচিতি এবং শরিয়াহ অনুযায়ী এর আবশ্যকতা
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فارغة
খালি
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌التَّعْرِيف بالخلافة

 

الْخلَافَة، والإمامة الْعُظْمَى، وإمارة الْمُؤمنِينَ، ثَلَاث كَلِمَات مَعْنَاهَا وَاحِد، وَهُوَ رئاسة الْحُكُومَة الإسلامية الجامعة لمصَالح الدّين وَالدُّنْيَا.

قَالَ الْعَلامَة الأصولي الْمُحَقق السعد التَّفْتَازَانِيّ فِي متن مَقَاصِد الطالبين، فِي علم أصُول عقائد الدّين: الْفَصْل الرَّابِع - أَي من العقائد السمعية - فَفِي الْإِمَامَة، وَهِي رئاسة عَامَّة فِي أَمر الدّين وَالدُّنْيَا خلَافَة عَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]

وَقَالَ الْعَلامَة الْفَقِيه أَبُو الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد الْمَاوَرْدِيّ فِي كِتَابه الْأَحْكَام السُّلْطَانِيَّة: الْإِمَامَة مَوْضُوعَة لخلافة النُّبُوَّة فِي حراسة الدّين وسياسة الدُّنْيَا.

وَكَلَام سَائِر عُلَمَاء العقائد وَالْفُقَهَاء من جَمِيع مَذَاهِب أهل السّنة لَا يخرج عَن هَذَا الْمَعْنى، إِلَّا أَن الإِمَام الرَّازِيّ زَاد قيداّ فِي التَّعْرِيف فَقَالَ: هِيَ رئاسة عَامَّة فِي الدّين وَالدُّنْيَا لشخص وَاحِد من الْأَشْخَاص. . وَقَالَ: هُوَ احْتِرَاز عَن كل الْأمة إِذا عزلوا الإِمَام لفسقه. . قَالَ السعد فِي شرح الْمَقَاصِد بعد ذكر هَذَا الْقَيْد فِي التَّعْرِيف وَمَا علله بِهِ: (وَكَأَنَّهُ أَرَادَ بِكُل الْأمة أهل الْحل وَالْعقد وَاعْتبر رئاستهم على من عداهم أَو على كل من أحاد الْأمة) .
খিলাফতের (الخلافة) পরিচয়

 

খিলাফত (الخلافة), মহান ইমামত (الإمامة العظمى) এবং মুমিনদের নেতৃত্ব (إمارة المؤمنين)—এই তিনটি শব্দ একই অর্থ বহন করে; আর তা হলো দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্মিলিত ইসলামী সরকারের প্রধান হওয়া।

বিখ্যাত উসুলবিদ (الأصولي) ও গবেষক (المحقق) আল্লামা সাদ আল-তাফতাজানি দ্বীনের মূল আকীদা শাস্ত্রের গ্রন্থ 'মাকাসিদুত তালিবিন'-এর মূল পাঠে বলেছেন: চতুর্থ পরিচ্ছেদ—অর্থাৎ শ্রুতিনির্ভর আকীদা (العقائد السمعية) সংক্রান্ত আলোচনা থেকে—ইমামত (الإمامة) প্রসঙ্গে। আর ইমামত হলো দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এক সাধারণ নেতৃত্ব (رئاسة عامة)।

বিখ্যাত ফকিহ (الفقيه) আল্লামা আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মাওয়ার্দি তাঁর 'আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: নবুয়তের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দ্বীন সংরক্ষণ এবং দুনিয়ার শাসন পরিচালনার জন্য ইমামত (الإمامة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) সকল মাযহাবের অন্যান্য আকীদা বিশেষজ্ঞ এবং ফকিহগণের (الفقهاء) বক্তব্যও এই অর্থের বাইরে নয়। তবে ইমাম রাযী সংজ্ঞার মধ্যে একটি শর্ত (قيد) যোগ করে বলেছেন: এটি হলো ব্যক্তিবিশেষের মধ্য থেকে কোনো একজন ব্যক্তির জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে এক সাধারণ নেতৃত্ব (رئاسة عامة)। তিনি আরও বলেন: এটি (এক ব্যক্তি হওয়ার শর্তটি) সমগ্র উম্মতকে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে সতর্কতাস্বরূপ, যদি তারা ইমামকে তাঁর পাপাচারের (فسق) কারণে পদচ্যুত করে। আল্লামা সাদ 'শারহুল মাকাসিদ'-এ সংজ্ঞার এই শর্ত এবং এর কারণ উল্লেখ করার পর বলেন: (সম্ভবত তিনি ‘সমগ্র উম্মত’ বলতে নীতিনির্ধারক পরিষদকে (أهل الحل والعقد) বুঝিয়েছেন এবং অন্যদের ওপর অথবা উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর তাঁদের নেতৃত্বকে বিবেচনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌حكم الْإِمَامَة أَو نصب الْخَلِيفَة

 

أجمع سلف الْأمة، وَأهل السّنة، وَجُمْهُور الطوائف الْأُخْرَى على أَن نصب الإِمَام - أَي تَوليته على الْأمة - وَاجِب على الْمُسلمين شرعا لَا عقلا فَقَط كَمَا قَالَ بعض الْمُعْتَزلَة، وَاسْتَدَلُّوا بِأُمُور لخصها السعد فِي متن الْمَقَاصِد بقوله: لنا وُجُوه: (الأول) الْإِجْمَاع وَبَين فِي الشَّرْح أَن المُرَاد إِجْمَاع الصَّحَابَة قَالَ: وَهُوَ الْعُمْدَة، حَتَّى قدموه على دفن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] (الثَّانِي) أَنه لَا يتم إِلَّا بِهِ مَا وَجب من إِقَامَة الْحُدُود وسد الثغور وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يتَعَلَّق بِحِفْظ النظام (الثَّالِث) أَن فِيهِ جلب مَنَافِع وَدفع مضار لَا تحصى وَذَلِكَ وَاجِب إِجْمَاعًا (الرَّابِع) وجوب طَاعَته ومعرفته بِالْكتاب وَالسّنة، وَهُوَ يَقْتَضِي وجوب حُصُوله وَذَلِكَ بنصبه اهـ. وَمعنى الْأَخير أَن مَا أَجمعُوا عَلَيْهِ من وجوب طَاعَته فِي الْمَعْرُوف شرعا وَوُجُوب مَعْرفَته بِالْكتاب وَالسّنة وَكَونهَا من أهم شُرُوطه يَقْتَضِي أَن نَصبه وَاجِب شرعا، وَقد أَطَالَ السعد فِي شرح الْمَقَاصِد فِي بَيَان هَذِه الْوُجُوه وَمَا اعْترض بِهِ بعض المبتدعة الْمُخَالفين عَلَيْهَا وَالْجَوَاب عَنْهَا.

وَقد غفل هُوَ وَأَمْثَاله عَن الِاسْتِدْلَال على نصب الإِمَام بالأحاديث الصَّحِيحَة الْوَارِدَة فِي الْتِزَام جمَاعَة الْمُسلمين وإمامهم، وَفِي بَعْضهَا التَّصْرِيح بِأَن

" من مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقه بيعَة مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة " رَوَاهُ مُسلم من حَدِيث لِابْنِ عمر مَرْفُوعا، وَسَيَأْتِي حَدِيث حُذَيْفَة الْمُتَّفق عَلَيْهِ وَفِيه قَوْله [صلى الله عليه وسلم] لَهُ

" تلْزم جمَاعَة الْمُسلمين وإمامهم ".

‌‌من ينصب الْخَلِيفَة ويعزله؟ :

 

اتّفق أهل السّنة على أَن نَصْبَ الْخَلِيفَة فرض كِفَايَة، وَأَن المطالب بِهِ أهل الْحل وَالْعقد فِي الْأمة، وَوَافَقَهُمْ المغتزلة والخوارج على أَن الْإِمَامَة تَنْعَقِد ببيعة أهل الْحل وَالْعقد. . وَلَكِن اضْطربَ كَلَام بعض الْعلمَاء فِي أهل الْحل وَالْعقد من هم؟ وَهل تشْتَرط مُبَايَعَتهمْ كلهم أم يَكْتَفِي بِعَدَد معِين مِنْهُم؟ أم لَا يشْتَرط الْعدَد؟ وَكَانَ يَنْبَغِي أَن تكون تسميتهم بِأَهْل الْحل وَالْعقد مَانِعَة من الْخلاف فيهم، إِذْ الْمُتَبَادر مِنْهُ أَنهم زعماء الْأمة وأولو المكانة وَمَوْضِع الثِّقَة من سوادها الْأَعْظَم، بِحَيْثُ تتبعهم فِي
‌ইমামত বা খলিফা নিযুক্ত করার বিধান

 

উম্মাহর সালফ, আহলে সুন্নাত এবং অন্যান্য দলসমূহের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইমাম নিযুক্ত করা—অর্থাৎ উম্মাহর ওপর কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা—শরিয়তগতভাবে মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব, কেবল যুক্তিগতভাবে নয় যেমনটি কিছু মুতাজিলা দাবি করেছেন। তারা এ বিষয়ে এমন কিছু দলীল পেশ করেছেন যা সা’দ (আত-তাফতাজানি) ‘মাতনুল মাকাসিদ’-এ সংক্ষেপে বর্ণনা করে বলেছেন: আমাদের নিকট বেশ কিছু দিক রয়েছে: (প্রথম) ঐকমত্য; তিনি এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, এখানে সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য উদ্দেশ্য। তিনি বলেন: এটিই মূল ভিত্তি, এমনকি তারা এটিকে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর দাফনকার্যের ওপরও অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। (দ্বিতীয়) হুদুদ কায়েম করা, সীমান্ত রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ইমাম ছাড়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। (তৃতীয়) এতে অসংখ্য উপকার লাভ ও অপকার দূর করার সুযোগ রয়েছে, আর ঐকমত্য অনুযায়ী তা ওয়াজিব। (চতুর্থ) কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তাঁর আনুগত্য ও তাঁকে চেনা ওয়াজিব হওয়া; আর এটি তাঁকে নিযুক্ত করার আবশ্যকতাকেই দাবি করে। শেষোক্ত কথার অর্থ হলো: শরিয়তগতভাবে নেক কাজে তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় জানা এবং এটি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হওয়া সম্পর্কে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা দাবি করে যে তাঁকে নিযুক্ত করা শরিয়তগতভাবে ওয়াজিব। সা’দ ‘শারহুল মাকাসিদ’-এ এই দিকগুলোর বর্ণনায় এবং এতে কতিপয় বিদআতি বিরোধীদের আপত্তির খণ্ডনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তিনি এবং তাঁর মতো অন্যান্যরা ইমাম নিযুক্ত করার স্বপক্ষে মুসলমানদের জামাত ও তাদের ইমামের সাথে থাকার বিষয়ে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ থেকে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে উদাসীন ছিলেন। এর কোনো কোনোটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে,

“যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল অথচ তার ঘাড়ে (ইমামের প্রতি) আনুগত্যের বাইয়াত নেই, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।” এটি ইবনে ওমর থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সামনে হুজাইফার মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) হাদিসটি আসছে যাতে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে বলেছেন,

“তুমি মুসলমানদের জামাত ও তাদের ইমামের সাথে আবশ্যিকভাবে থাকবে।”

‌‌কে খলিফা নিযুক্ত ও অপসারিত করবেন? :

 

আহলে সুন্নাত এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, খলিফা নিযুক্ত করা ফরজে কিফায়া এবং উম্মাহর ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ (নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী)-এর ওপর এই দায়িত্ব বর্তায়। মুতাজিলা এবং খারিজিরাও তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর বাইয়াতের মাধ্যমেই ইমামত সাব্যস্ত হয়। তবে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ আসলে কারা, সেই বিষয়ে কিছু আলেমদের বক্তব্যে মতভেদ দেখা যায়। তাদের সকলের বাইয়াত কি শর্ত? নাকি নির্দিষ্ট সংখ্যক বাইয়াতই যথেষ্ট? নাকি সংখ্যার কোনো শর্ত নেই? প্রকৃতপক্ষে তাদের ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ নামকরণই এই মতভেদের নিরসন করার জন্য যথেষ্ট ছিল; কেননা এটি দ্বারা সচরাচর উদ্দেশ্য হলো উম্মাহর নেতৃবৃন্দ, মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিগণ, যাদের অনুসারী হয়ে...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
طَاعَة من يولونه عَلَيْهَا فينتظم بِهِ أمرهَا، وَيكون بمأمن من عصيانها وخروجها عَلَيْهِ، قَالَ السعد فِي شرح الْمَقَاصِد كَغَيْرِهِ من الْمُتَكَلِّمين وَالْفُقَهَاء: هم الْعلمَاء والرؤساء ووجوه النَّاس زَاد فِي الْمِنْهَاج للنووي الَّذين يَتَيَسَّر اجْتِمَاعهم. وَعلله شَارِحه الرملى بقوله لِأَن الْأَمر يَنْتَظِم بهم ويتبعهم سَائِر النَّاس. وَهَذَا التَّعْلِيل هُوَ غَايَة التَّحْقِيق منطوقاً ومفهوماً فَإِذا لم يكن المبايعون بِحَيْثُ تتبعهم الْأمة فَلَا تَنْعَقِد الْإِمَامَة بمبايعتهم. . وَهَذَا هُوَ الْمَأْخُوذ من عمل الصَّحَابَة رضي الله عنهم فِي تَوْلِيَة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين، فَإِن عمر عَدّ البدء فِي بيعَة أبي بكر فلتة لِأَنَّهُ وَقع قبل أَن يتم التشاور بَين جَمِيع أهل الْحل وَالْعقد إِذْ لم يكن فِي سَقِيفَة بني سَاعِدَة أحد من بني هَاشم وهم فِي ذروتهم، وتضافرت الرِّوَايَات بِأَن أَبَا بكر رضي الله عنه أَطَالَ التشاور مَعَ كبراء الصَّحَابَة فِي ترشيح عمر فَلم يعبه أحد لَهُ بِشَيْء إِلَّا شدته، وَإِن كَانُوا يعترفون أَنَّهَا فِي الْحق، فَكَانَ يُجِيبهُمْ بِأَنَّهُ يرَاهُ يلين فيشتد هُوَ - وَهُوَ وزيره - ليعتدل الْأَمر، وَأَن الْأَمر إِذا آل إِلَيْهِ يلين فِي مَوضِع اللين ويشتد فِي مَوضِع الشدَّة، حَتَّى إِذا رأى أَنه أقنع جُمْهُور الزعماء - وَفِي مقدمتهم عَليّ كرم الله وَجهه - صرح باستخلافه فقبلوا وَلم يشذ مِنْهُم أحد، وَلما طعن عمر رأى حصر الشورى الْوَاجِبَة فِي الزعماء السِّتَّة الَّذين مَاتَ الرَّسُول [صلى الله عليه وسلم] وَهُوَ عَنْهُم رَاض لعلمه بِأَنَّهُ لَا يتَقَدَّم عَلَيْهِم أحد وَلَا يخالفهم فِيمَا يتفقون عَلَيْهِ أحد، لأَنهم هم المرشحون للْإِمَامَة دون سواهُم (وهم عُثْمَان وَعلي وَطَلْحَة وَالزُّبَيْر وَسعد بن أبي وَقاص وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف، وَلما أخرج نَفسه عبد الرَّحْمَن بن عَوْف مِنْهُم وَجعلُوا لَهُ الِاخْتِيَار بَقِي ثَلَاثًا لَا تكتحل عينه بِكَثِير نوم وَهُوَ يشاور كبراء الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار، وَلما رَجَعَ عُثْمَان دَعَا الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وأمراء الأجناد فَلَمَّا اجْتَمعُوا عِنْد مِنْبَر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بعد صَلَاة الْفجْر صرح لَهُم بِاخْتِيَارِهِ لعُثْمَان وَبَايَعَهُ هَؤُلَاءِ كلهم، رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَغَيره. . وَالْمرَاد بأمراء الأجناد وُلَاة الأقطار الْكُبْرَى مصر وَالشَّام وحمص والكوفة وَالْبَصْرَة وَكَانُوا قد حجُّوا مَعَ عمر فِي ذَلِك الْعَام وحضروا مَعَه الْمَدِينَة. وَلما شَذَّ أحد هَؤُلَاءِ الْوُلَاة - وَهُوَ مُعَاوِيَة فَلم يُبَايع عليا كرم الله وَجهه مَعَ إِجْمَاع سَائِر الْمُسلمين على مبايعته - كَانَ من الْفِتْنَة وتفرق الْكَلِمَة مَا كَانَ. . وَإِنَّمَا تصح الْمُبَايعَة باتفاقهم، أَو اتِّفَاق الرؤساء الَّذين يتبعهُم

যাঁকে তাঁরা কর্তৃত্ব প্রদান করেন তাঁর আনুগত্য করা হয়, যার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা সুশৃঙ্খল হয় এবং তা উম্মাহর অবাধ্যতা ও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে নিরাপদ থাকে। আস-সা'দ তাঁর 'শারহুল মাকাসিদ'-এ অন্যান্য কালামশাস্ত্রবিদ ও ফকীহগণের মতো বলেছেন: তাঁরা হলেন আলেম, নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ইমাম নববী তাঁর 'মিনহাজ'-এ বর্ধিত করেছেন: 'যাঁদের একত্রিত হওয়া সহজসাধ্য'। এর ব্যাখ্যাকারী রামলি এর কারণ দর্শিয়ে বলেছেন যে, কারণ তাঁদের মাধ্যমেই শাসনব্যবস্থা সুশৃঙ্খল হয় এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে। আর এই কারণ দর্শানোটিই ভাষ্য ও মর্মার্থের দিক থেকে চূড়ান্ত বিশ্লেষণ। সুতরাং যদি বায়আত প্রদানকারীগণ এমন না হন যে উম্মাহ তাঁদের অনুসরণ করবে, তবে তাঁদের বায়আতের মাধ্যমে ইমামত বা নেতৃত্ব সাব্যস্ত হবে না। আর এটিই খোলাফায়ে রাশেদীনের নিযুক্তির ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কর্মপন্থা থেকে গৃহীত। কেননা উমর (রা.) আবু বকর (রা.)-এর বায়আতের সূচনার বিষয়টিকে আকস্মিক হিসেবে গণ্য করেছিলেন, কারণ তা সমস্ত আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর মধ্যে পরামর্শ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই ঘটেছিল; যেহেতু সাকিফা বনী সাঈদায় বনী হাশিমের কেউ উপস্থিত ছিলেন না, অথচ তাঁরা মর্যাদার শীর্ষে ছিলেন। বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) দ্বারা এটি সুপ্রমাণিত যে, আবু বকর (রা.) উমর (রা.)-কে মনোনীত করার ক্ষেত্রে প্রবীণ সাহাবীদের সাথে দীর্ঘ পরামর্শ করেছিলেন। ফলে তাঁর কঠোরতা ছাড়া আর কোনো বিষয়ে কেউ তাঁর সমালোচনা করেনি; যদিও তাঁরা স্বীকার করতেন যে তা ছিল হকের পথে। আবু বকর (রা.) তাঁদের উত্তরে বলতেন যে, তিনি তাঁকে (উমরকে) কোমল দেখেন বিধায় নিজে—যিনি তাঁর উজির ছিলেন—কঠোর হন যাতে শাসনব্যবস্থা ভারসাম্যপূর্ণ হয়; এবং যখন শাসনভার তাঁর কাছে ন্যস্ত হবে, তখন তিনি কোমলতার স্থানে কোমল এবং কঠোরতার স্থানে কঠোর হবেন। অবশেষে যখন তিনি দেখলেন যে অধিকাংশ নেতার—যাঁদের অগ্রভাগে আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) ছিলেন—মনঃপুত হয়েছে, তখন তিনি তাঁকে খলিফা নিযুক্ত করার ঘোষণা দেন; ফলে তাঁরা তা কবুল করে নেন এবং তাঁদের কেউ এর থেকে বিচ্যুত হননি। উমর (রা.) যখন আঘাতপ্রাপ্ত হন, তখন তিনি আবশ্যকীয় পরামর্শকে সেই ছয়জন নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন যাঁদের ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ওফাত পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন; কারণ তাঁরাই ছিলেন নেতৃত্বের জন্য যোগ্য, অন্য কেউ নয় (তাঁরা হলেন উসমান, আলী, তালহা, জুবায়ের, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ)। যখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ নিজেকে তাঁদের থেকে প্রত্যাহার করে নিলেন এবং তাঁরা তাঁকে নির্বাচনের দায়িত্ব দিলেন, তখন তিনি মুহাজির ও আনসারদের প্রবীণদের সাথে পরামর্শরত অবস্থায় তিনটি রাত অতিবাহিত করলেন যাতে তাঁর চোখে পর্যাপ্ত ঘুমের অবকাশ ছিল না। যখন তিনি উসমানের (রা.) ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন, তখন তিনি মুহাজির, আনসার এবং সামরিক কমান্ডারদের আহ্বান করলেন। যখন তাঁরা ফজরের নামাজের পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিম্বরের নিকট সমবেত হলেন, তখন তিনি তাঁদের নিকট উসমানকে মনোনীত করার ঘোষণা দেন এবং তাঁরা সকলেই তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। এটি ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ বুখারি এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর সামরিক কমান্ডার বলতে উদ্দেশ্য হলো বড় বড় অঞ্চলের গভর্নরবৃন্দ যেমন: মিশর, শাম, হিমস, কুফা ও বসরা। তাঁরা সেই বছর উমর (রা.)-এর সাথে হজ সম্পন্ন করেছিলেন এবং তাঁর সাথে মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। আর যখন এই গভর্নরদের মধ্যে একজন—যিনি মুয়াবিয়া—আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) এর হাতে বায়আত গ্রহণ করা থেকে বিচ্যুত হলেন, অথচ অন্যান্য সকল মুসলমান তাঁর বায়আতের ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন; তখন যে ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টি হওয়ার ছিল তা সংঘটিত হয়েছিল। মূলত বায়আত তাঁদের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সঠিক (صحيح) হয়, অথবা সেই নেতৃবৃন্দের ঐকমত্যের ভিত্তিতে যাঁদের সাধারণ মানুষ অনুসরণ করে।

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
غَيرهم، وَمن لم يتبعهُم بِالِاخْتِيَارِ، سهل عَلَيْهِم إكراهه بِقُوَّة الْأمة على الطَّاعَة والانقياد. . وَمن رُؤَسَائِهِمْ فِي هَذَا الْعَصْر قواد الْجَيْش كوزيرى الحربية والبحرية وأركان الْحَرْب لَهما. . وَمَتى تمت الْبيعَة فِي العاصمة وَجب أَن تتبعها الولايات بمبايعة ولاتها إِذا كَانُوا يتبعُون فِيهَا، وَإِلَّا وَجب أَن يَنْضَم إِلَيْهِم زعماء أَهلهَا من الْعلمَاء والقواد وَغَيرهم. .

وَغلط بعض الْمُعْتَزلَة وَالْفُقَهَاء فَقَالُوا: إِن الْبيعَة تَنْعَقِد دَائِما بِخَمْسَة مِمَّن يصلح للْإِمَامَة بِدَلِيل مَا أَشَارَ بِهِ عمر إِذْ حصر الشورى فِي المرشحين السِّتَّة وَقبل جَمِيع الصَّحَابَة مِنْهُ ذَلِك فَكَانَ إِجْمَاعًا. . نعم كَانَ إِجْمَاعًا على الشورى وعَلى أُولَئِكَ السِّتَّة فِي تِلْكَ الْوَاقِعَة، لَا إِجْمَاعًا على ذَلِك الْعدَد فِي كل مبايعة، وَقَالُوا إِن مَذْهَب الأشعرى أَنَّهَا تَنْعَقِد بِعقد وَاحِد مِنْهُم إِذا كَانَ بمشهد من الشُّهُود وَهُوَ غلط وَاضح؟ وَقد ذكر هَذَا القَوْل الْفُقَهَاء مُقَيّدا بِمَا إِذا انحصر الْحل وَالْعقد فِيهِ بِأَن وثق زعماء الْأمة بِهِ وفوضوا أَمرهم إِلَيْهِ، وَهَذَا لم يَقع وينذر أَن يَقع. . وإمامة عُثْمَان لم تكن بمبايعة عبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَحده بل كَانَت عَامَّة لَا خَاصَّة بِهِ، وَكَذَلِكَ مبايعة عمر لأبي بكر، فَإِن الْإِمَامَة لم تَنْعَقِد بمبايعته وَحده، بل بمتابعة الْجَمَاعَة لَهُ، وَقد صَحَّ أَن عمر أنكر على من زعم أَن الْبيعَة تَنْعَقِد بِوَاحِد من غير مُشَاورَة الْجَمَاعَة وَكَانَ بلغه هَذَا القَوْل فِي أثْنَاء حجه فعزم على بَيَان حَقِيقَة أَمر الْمُبَايعَة وَمَا يشْتَرط فِيهَا من الشورى على جَمَاهِير الْحجَّاج فَذكره بَعضهم بِأَن الْمَوْسِم يجمع أخلاط النَّاس وَمن لَا يفهمون الْمقَال، فيطيرون بِهِ كل مطار، وَأَنه يجب أَن يرجئ هَذَا الْبَيَان إِلَى أَن يعود إِلَى الْمَدِينَة فيلقيه على أهل الْعلم والرأي فَفعل …

قَالَ على مِنْبَر الرَّسُول [صلى الله عليه وسلم] : بَلغنِي أَن قَائِلا مِنْكُم يَقُول وَالله لَو مَاتَ عمر لبايعت فلَانا، فَلَا يغترن امْرُؤ أَن يَقُول إِن بيعَة أبي بكر كَانَت فلتة فتمت، أَلا وَإِنَّهَا قد كَانَت كَذَلِك وَلَكِن وقى الله شَرها، وَلَيْسَ فِيكُم من تتطلع إِلَيْهِ الْأَعْنَاق مثل أبي بكر، من بَايع رجلا من غير مشورة من الْمُسلمين فَلَا يُبَايع هُوَ وَلَا الَّذِي بَايعه لغرة أَن يقتلا. ثمَّ سَاق خبر بيعَة أبي بكر وَمَا كَانَ يخْشَى من وُقُوع الْفِتْنَة بَين الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار لَوْلَا تِلْكَ الْمُبَادرَة بمبايعته للثقة
অন্যদের কথা ছেড়ে দিন; যারা স্বেচ্ছায় তাদের অনুসরণ করে না, উম্মাহর শক্তির মাধ্যমে তাদের আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করা তাদের জন্য সহজ হয়। বর্তমান যুগে তাদের প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন সেনাপ্রধানগণ, যেমন যুদ্ধ ও নৌমন্ত্রী এবং তাদের স্টাফ প্রধানগণ। যখন রাজধানীতে আনুগত্যের শপথ সম্পন্ন হয়, তখন প্রদেশগুলোরও উচিত তাদের গভর্নরদের আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে তা অনুসরণ করা, যদি তারা তাতে অনুগামী হয়; অন্যথা আলেম, সেনাপতি এবং অন্যদের মধ্য থেকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তাদের সাথে যোগ দেওয়া আবশ্যক। .

কিছু মুতাজিলা ও ফকিহ ভুল করে বলেছেন যে, ইমামত বা নেতৃত্বের চুক্তি সর্বদা পাঁচজন উপযুক্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়; যার সপক্ষে তারা উমর (রা.)-এর সেই ইঙ্গিতকে দলিল হিসেবে পেশ করেন যখন তিনি পরামর্শ সভাকে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিলেন এবং সমস্ত সাহাবী তা গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তা একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছিল। হ্যাঁ, সেটি সেই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে পরামর্শ সভা এবং সেই ছয়জন ব্যক্তির ওপর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল, প্রতিটি আনুগত্যের শপথের ক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল না। তারা আরও বলেন যে, আশআরী মতবাদ অনুযায়ী একজনের চুক্তির মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয় যদি সেখানে সাক্ষী উপস্থিত থাকে, যা একটি স্পষ্ট ভুল। ফকিহগণ এই মতটিকে শর্তসাপেক্ষ উল্লেখ করেছেন যে, যখন ক্ষমতা প্রদান ও অপসারণের কর্তৃত্ব কেবল একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, অর্থাৎ উম্মাহর নেতৃবৃন্দ তার ওপর আস্থা রাখেন এবং তাদের বিষয়াবলী তার ওপর ন্যস্ত করেন; তবে এমনটি ঘটেনি এবং ঘটা বিরল। উসমানের ইমামত কেবল আব্দুর রহমান বিন আউফের একার আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে হয়নি, বরং এটি ছিল সাধারণ শপথ, কোনো বিশেষ একজনের নয়। একইভাবে আবু বকরের প্রতি উমরের আনুগত্যের শপথও কেবল তার একার মাধ্যমে ইমামত প্রতিষ্ঠিত করেনি, বরং জনসমষ্টির অনুসরণের মাধ্যমে হয়েছিল। এটি সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত যে, উমর (রা.) ঐ ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন যে দাবি করেছিল জনসমষ্টির পরামর্শ ব্যতীত কেবল একজনের মাধ্যমে আনুগত্যের শপথ সম্পন্ন হয়। হজের সময় তিনি এই কথাটি জানতে পারেন এবং তখন তিনি সাধারণ হাজীদের সামনে আনুগত্যের শপথের প্রকৃত অবস্থা এবং এতে পরামর্শের শর্তসমূহ বর্ণনা করার সংকল্প করেন। কিন্তু তাদের কেউ তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, হজের মৌসুমে নানা স্তরের মানুষের সমাবেশ ঘটে এবং অনেকে কথা বুঝতে পারে না, ফলে তারা একে ভুলভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই মদিনায় ফিরে গিয়ে জ্ঞানী ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মজলিসে এই বক্তব্য দেওয়া উচিত। তিনি তাই করলেন …

তিনি রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তোমাদের মধ্য থেকে কেউ বলেছে—'আল্লাহর কসম, উমর মারা গেলে আমি অমুকের হাতে আনুগত্যের শপথ নেব।' কেউ যেন এই কথা বলে ধোঁকায় না পড়ে যে, আবু বকরের শপথ গ্রহণ ছিল একটি আকস্মিক ঘটনা যা সম্পন্ন হয়ে গেছে। জেনে রেখো, এটি এমনই ছিল কিন্তু আল্লাহ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। তোমাদের মধ্যে আবু বকরের মতো এমন কেউ নেই যার প্রতি সবার এমন গভীর শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ রয়েছে। মুসলমানদের পরামর্শ ব্যতীত কেউ যদি কারো হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে, তবে যে শপথ নিল এবং যার হাতে নেওয়া হলো তারা উভয়েই নিহত হওয়ার ঝুঁকির মুখে থাকবে। এরপর তিনি আবু বকরের আনুগত্যের শপথের ঘটনা বর্ণনা করেন এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার যে আশঙ্কা ছিল তা উল্লেখ করেন, যদি না নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়ার কারণে তাঁর প্রতি এই দ্রুত আনুগত্যের উদ্যোগ নেওয়া হতো।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
بِقبُول سَائِر الْمُسلمين، رَوَاهُ البُخَارِيّ، وَقد أقرَّت جمَاعَة الصَّحَابَة عمر على ذَلِك فَكَانَ إِجْمَاعًا فتقرر بِهَذَا، إِن الأَصْل فِي الْمُبَايعَة أَن تكون بعد استشارة جُمْهُور الْمُسلمين وَاخْتِيَار أهل الْحل وَالْعقد وَلَا تعْتَبر مبايعة غَيرهم إِلَّا أَن تكون تبعا لَهُم. . وَأَن عمل عمر رضي الله عنه خَالف هَذَا الأَصْل الْقطعِي فَكَانَ فلتة لمقتضيات خَاصَّة لَا أصلا شَرْعِيًّا يعْمل بِهِ، وَمن تصدى لمثله فَبَايع أحدا فَلَا يَصح أَن يكون هُوَ وَلَا من بَايعه أَهلا للمبايعة، بل يكون ذَلِك تغريراً بأنفسهما قد يُفْضِي إِلَى قَتلهمَا إِذْ أحدث فِي الْأمة شقاقا وفتنة.

‌‌سلطة الْأمة وَمعنى الْجَمَاعَة

 

قَالَ الله تَعَالَى فِي وصف الْمُؤمنِينَ {وَأمرهمْ شُورَى بَينهم} وَالْقُرْآن يُخَاطب جمَاعَة الْمُؤمنِينَ بِالْأَحْكَامِ الَّتِي يشرعها حَتَّى أَحْكَام الْقِتَال وَنَحْوهَا من الْأُمُور الْعَامَّة الَّتِي لَا تتلعق بالأفراد كَمَا بَيناهُ فِي التَّفْسِير، وَقد أَمر بِطَاعَة أولي الْأَمر - وهم الْجَمَاعَة - لَا ولي الْأَمر، وَذَلِكَ أَن ولي الْأَمر وَاحِد مِنْهُم، وَإِنَّمَا يطاع بتأييد جمَاعَة الْمُسلمين الَّذين بَايعُوهُ لَهُ وثقتهم بِهِ، وَيدل على هَذَا الْمَعْنى مَا ورد من الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة فِي الْتِزَام الْجَمَاعَة وَكَون طَاعَة الْأَمِير تَابِعَة لطاعتهم واجتماع الْكَلِمَة بسلطتهم كَحَدِيث ابْن عَبَّاس فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] قَالَ:

" من رأى من أميره شَيْئا فليصبر عَلَيْهِ فَإِن من فَارق الْجَمَاعَة شبْرًا فَمَاتَ مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة " وَلما أخبر النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] حُذَيْفَة بن الْيَمَان بِمَا يكون فِي الْأمة من الْفِتَن فِي الحَدِيث الصَّحِيح الْمَشْهُور قَالَ: فَمَا تَأْمُرنِي إِن أدركني ذَلِك؟ قَالَ [صلى الله عليه وسلم] : " تلْزم جمَاعَة الْمُسلمين " وإمامهم " قَالَ قلت: فَإِن لم يكن لَهُم جمَاعَة وَلَا إِمَام؟ قَالَ " فاعتزل تِلْكَ الْفرق كلهَا " إِلَخ. . وَفِي بعض الْأَحَادِيث بَيَان أَن الْجَمَاعَة وهم السوَاد الْأَعْظَم أَي بِالنِّسْبَةِ إِلَى صدر الْإِسْلَام.

وَمن الْأَدِلَّة على سلطة الْأمة - وَاسْتَدَلُّوا بِهِ على الْإِجْمَاع - حَدِيث " لَا تَجْتَمِع أمتِي على ضَلَالَة - وَفِي لفظ لن تَجْتَمِع - وَفِي رِوَايَة زِيَادَة وَيَد الله على الْجَمَاعَة فَمن شَذَّ شَذَّ فِي النَّار " وَفِي أُخْرَى " سَأَلت رَبِّي أَلا تَجْتَمِع على ضَلَالَة وأعطانيها " وَهُوَ فِي مُسْند أَحْمد وجامع التِّرْمِذِيّ وَالْكَبِير للطبراني ومستدرك الْحَاكِم …
সকল মুসলিমদের গ্রহণের মাধ্যমে, এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। সাহাবীদের একটি দল এই বিষয়ে উমর (রা.)-এর সিদ্ধান্তের প্রতি একমত হয়েছিলেন, ফলে তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছিল। এর মাধ্যমে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বায়আতের মূল নীতি হলো তা সাধারণ মুসলিমদের পরামর্শ এবং ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’-এর নির্বাচনের ভিত্তিতে হতে হবে। তাদের ব্যতীত অন্য কারো বায়আত গণ্য হবে না, যদি না তা তাদের অনুগামী হিসেবে হয়। উমর (রা.)-এর সেই আমল এই অকাট্য মূলনীতির পরিপন্থী ছিল এবং তা ছিল বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি আকস্মিক ঘটনা (فلتة), কোনো শরয়ি মূলনীতি (أصل شرعي) নয় যা অনুসরণ করা হবে। যে ব্যক্তি অনুরূপ পদক্ষেপ নিয়ে কারো নিকট বায়আত গ্রহণ করবে, তবে সে নিজে এবং যার নিকট সে বায়আত হয়েছে, তারা কেউই বায়আতের যোগ্য হবে না। বরং তা হবে তাদের নিজেদের জীবনের জন্য একটি ঝুঁকি, যা তাদের হত্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে; যেহেতু এটি উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য ও ফিতনা সৃষ্টি করে।

উম্মাহর কর্তৃত্ব এবং জামাতের তাৎপর্য

 

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বর্ণনায় বলেছেন: "এবং তাদের কার্যাবলি তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়"। কুরআন মুমিনদের জামাতকে (جماعة) তাদের জন্য প্রবর্তিত বিধানাবলির মাধ্যমে সম্বোধন করে, এমনকি যুদ্ধের বিধান এবং অনুরূপ সাধারণ বিষয়সমূহ যা একক ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যেমনটি আমরা তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। তিনি উলুল আমর (কর্তৃপক্ষ) এর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন—আর তারা হলো জামাত (جماعة)—কেবল একজন ওয়ালিউল আমরের (শাসক) নয়। কারণ ওয়ালিউল আমর তো তাদেরই একজন সদস্য। তার আনুগত্য কেবল তখনই করা হয় যখন তাকে বায়আত দানকারী মুসলিম জামাতের সমর্থন ও তাদের আস্থা (ثقة) তার ওপর থাকে। এই অর্থের সপক্ষে সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ প্রমাণ বহন করে যা জামাতের (جماعة) সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকা এবং আমিরের আনুগত্য জামাতের আনুগত্যের অনুগামী হওয়া এবং তাদের কর্তৃত্বের মাধ্যমে সংহতি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। যেমন সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদিসে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন:

"যে ব্যক্তি তার আমিরের মধ্যে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন তাতে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি জামাত (جماعة) থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন (فارق) হয়ে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।" এবং যখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-কে উম্মাহর মধ্যে প্রকাশ্য ফিতনা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন—যা একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) ও সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "তুমি মুসলিমদের জামাত (جماعة) এবং তাদের ইমামের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকবে।" আমি আরজ করলাম: যদি তাদের কোনো জামাত (جماعة) ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন: "তবে তুমি ওই সকল দলসমূহ বর্জন করো..." ইত্যাদি। কিছু হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, জামাত (جماعة) হলো 'সাওয়াদে আজম' (السواد الأعظم) অর্থাৎ ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের তুলনায় মুসলিমদের মূল ধারা।

উম্মাহর কর্তৃত্বের দলিলের অন্তর্ভুক্ত এবং যার মাধ্যমে তারা ইজমার (إجماع) দলিল পেশ করেছেন—তা হলো হাদিস: "আমার উম্মাহ কোনো ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।" অন্য শব্দে: "কখনোই ঐক্যবদ্ধ হবে না।" একটি বর্ণনায় বর্ধিত অংশ রয়েছে: "জামাতের (جماعة) ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে, সুতরাং যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন (شذ) হবে, সে জাহান্নামে বিচ্ছিন্ন হবে।" অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছি যেন তারা ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর একমত না হয়, আর তিনি আমাকে তা দান করেছেন।" হাদিসটি মুসনাদে আহমাদ, জামি আত-তিরমিজি, তাবারানির আল-মুজামুল কাবীর এবং মুস্তাদরাক আল-হাকিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।…
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قَالَ الطَّبَرِيّ بعد ذكر الْخلاف فِي الْجَمَاعَة، وَمِنْه حصر بَعضهم إِيَّاه فِي الصَّحَابَة: وَالصَّوَاب لُزُوم الْجَمَاعَة الَّذين فِي طَاعَة من اجْتَمعُوا على تأميره، فَمن نكث بيعَته خرج عَن الْجَمَاعَة (قَالَ) وَفِي الحَدِيث أَنه مَتى لم يكن للنَّاس إِمَام فافترق النَّاس أحزاباً فَلَا يتبع الْمُسلم أحدا فِي الْفرْقَة ويعتزل الْجَمِيع إِن اسْتَطَاعَ ذَلِك خشيَة من الْوُقُوع فِي الشَّرّ. . نَقله عَنهُ الْحَافِظ فِي شرح البُخَارِيّ وَأقرهُ. .

هَؤُلَاءِ الْجَمَاعَة هم أولو الْأَمر من الْمُسلمين وَأهل الْحل وَالْعقد وَالْإِجْمَاع المطاع. . وَمِنْهُم كبار الْحُكَّام، وَأهل الشورى لَدَى الإِمَام، وَمَتى خُوطِبَ الْمُؤْمِنُونَ فِي الْكتاب وَالسّنة وآثار الصَّحَابَة فِي أَمر من الْأُمُور الْعَامَّة فهم المعنيون المطالبون بتنفيذ الْأَمر، ومراقبة المنفذ: وَمن الْآثَار الدَّالَّة على الْإِجْمَاع فِي ذَلِك قَول أبي بكر رضي الله عنه فِي خطبَته الأولى بعد الْمُبَايعَة: " أما بعد فقد وليت عَلَيْكُم وَلست بِخَيْرِكُمْ فَإِذا اسْتَقَمْت فَأَعِينُونِي، وَإِذا زِغْت فقوموني ". . وروى نَحوه عَن عمر وَعُثْمَان: وهم الَّذين فرضوا لَهُ راتب الْخلَافَة كَرجل من أوساط الْمُهَاجِرين لَا أعلاهم وَلَا أَدْنَاهُم. .

وَفِي متن المواقف للعضد: وللأمة خلع الإِمَام وعزله بِسَبَب يُوجِبهُ، وَإِن أدّى إِلَى الْفِتْنَة احْتمل أدنى المضرتين. . وَقَالَ شَارِحه السَّيِّد الْجِرْجَانِيّ فِي بَيَان السَّبَب: مثل أَن يُوجد مِنْهُ مَا يُوجب اختلال أَحْوَال الْمُسلمين، وانتكاس أُمُور الدّين. . كَمَا كَانَ لَهُم نَصبه وإقامته لإنتظامها وإعلائها. . وَسَيَأْتِي مثله لإِمَام الْحَرَمَيْنِ.

وَقد تقدم فِي التَّعْرِيف بالخلافة قَول الرَّازِيّ إِن الرِّئَاسَة الْعَامَّة هِيَ حق الْأمة الَّتِي لَهَا أَن تعزل الإِمَام (الْخَلِيفَة) إِذا رَأَتْ مُوجبا لعزله، وَقد فسر السعد معنى هَذِه الرِّئَاسَة لِئَلَّا تستشكل فَيُقَال إِذا كَانَت الرِّئَاسَة للْأمة فَمن المرءوس؟ فَقَالَ إِنَّه يُرِيد بالأمة أهل الْحل وَالْعقد أَي الَّذين يمثلون الْأمة بِمَا لَهُم فِيهَا من الزعامة والمكانة، ورئاستهم تكون على من عداهم أَو على جَمِيع أَفْرَاد الْأمة. . وَالثَّانِي هُوَ الصَّحِيح، وَيُؤَيّد هَذَا تَفْسِير الرَّازِيّ لأولى الْأَمر فِي قَوْله تَعَالَى 58: 4 {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم} فقد حقق أَن المُرَاد بأولي الْأَمر أهل الْحل وَالْعقد الَّذين يمثلون سلطة الْأمة. وَقد تَابعه على هَذَا النَّيْسَابُورِي وَاخْتَارَهُ الْأُسْتَاذ الإِمَام، ووضحناه فِي التَّفْسِير مستدلين عَلَيْهِ بقوله تَعَالَى (وَإِذا جَاءَهُم أَمر من الْأَمْن أَو الْخَوْف أذاعوا بِهِ وَلَو ردُّوهُ إِلَى الرَّسُول وَإِلَى أولي الْأَمر مِنْهُم لعلمه الَّذين يستنبطونه

তাবারী ‘জামায়াত’ (الجماعة) সম্পর্কে মতভেদ উল্লেখ করার পর—যার মধ্যে কারও কারও মতে এটি কেবল সাহাবীদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ—বলেন: সঠিক (الصواب) মত হলো সেই জামায়াতের (الجماعة) সাথে থাকা যারা এমন একজন নেতার আনুগত্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যাকে তারা আমীর হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তার বায়আত (بيعة) ভঙ্গ করল, সে জামায়াত (الجماعة) থেকে বের হয়ে গেল। তিনি আরও বলেন, হাদিসে এসেছে যে, যখন মানুষের কোনো ইমাম (إمام) থাকবে না এবং মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে, তখন কোনো মুসলিম যেন কোনো দলাদলিতে লিপ্ত না হয় এবং অনিষ্ট বা ফিতনায় (الفتنة) পড়ার ভয়ে সম্ভব হলে সবার থেকে পৃথক থাকে। হাফিজ (ইবনে হাজার) সহীহ বুখারী এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তার থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তা সমর্থন করেছেন।

এই জামায়াতই (الجماعة) হলো মুসলমানদের মধ্যে উলুল আমর (أولي الأمر), আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদি (أهل الحل والعقد) এবং মান্যবর ইজমা (الإجماع)। এদের মধ্যে রয়েছেন উচ্চপদস্থ শাসকবর্গ এবং ইমামের (إمام) পরামর্শদাতা ব্যক্তিবর্গ। কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবীদের আসার (الآثار) সমূহে যখন কোনো সাধারণ বিষয়ে মুমিনদের সম্বোধন করা হয়, তখন মূলত এরাই উদ্দেশ্য যারা সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে আদিষ্ট এবং বাস্তবায়নকারীর পর্যবেক্ষক। এ বিষয়ে ইজমা (الإجماع) নির্দেশকারী আসার (الآثار) সমূহের মধ্যে একটি হলো বায়আত (بيعة) পরবর্তী প্রথম খুতবায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি: "অতঃপর, আমাকে আপনাদের ওপর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে অথচ আমি আপনাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নই। যদি আমি সঠিক পথে চলি তবে আমাকে সাহায্য করবেন, আর যদি আমি বিপথগামী হই তবে আমাকে সোজা করে দেবেন।" অনুরূপ বর্ণনা ওমর এবং ওসমান থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তারাই মুহাজিরদের মধ্যম স্তরের একজন ব্যক্তির ন্যায় তার জন্য খিলাফতের ভাতা নির্ধারণ করেছিলেন, যা সর্বোচ্চও ছিল না আবার সর্বনিম্নও ছিল না।

আদুদুদ্দীন আল-ইজি রচিত ‘মাওয়াকিফ’ গ্রন্থের মূল পাঠে রয়েছে: কোনো অনিবার্য কারণে ইমামকে (إمام) পদচ্যুত ও অপসারিত করার অধিকার উম্মতের রয়েছে। যদি এতে ফিতনা (الفتنة) সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, তবে দুটি ক্ষতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রতরটি গ্রহণ করা হবে। এর ব্যাখ্যাকার সায়্যিদ জুরজানী এই কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: যেমন ইমামের (إمام) পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া যা মুসলমানদের অবস্থার বিশৃঙ্খলা এবং দ্বীনি বিষয়ে বিপর্যয়ের কারণ হয়। ঠিক যেভাবে মুসলমানদের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দ্বীনের উন্নতির জন্য তাকে নিযুক্ত ও প্রতিষ্ঠিত করার অধিকার তাদের ছিল। ইমামুল হারামাইনের পক্ষ থেকেও অনুরূপ বক্তব্য সামনে আসবে।

খিলাফতের সংজ্ঞায় ইতিপূর্বে আল-রাজীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাধারণ নেতৃত্ব হলো উম্মতের অধিকার, যারা ইমামকে (إمام) (খলিফা - الخليفة) অপসারিত করার অধিকার রাখে যদি তারা অপসারণের কোনো কারণ দেখতে পায়। আল-সাদ এই নেতৃত্বের অর্থের ব্যাখ্যা করেছেন যাতে কোনো সংশয় না থাকে—যেমন কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, নেতৃত্ব যদি উম্মতের হয় তবে অধীনস্থ কারা? তিনি বলেন, উম্মত বলতে তিনি আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদি (أهل الحل والعقد) বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ যারা তাদের নেতৃত্ব ও মর্যাদার কারণে উম্মতের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের নেতৃত্ব হবে তাদের ব্যতীত অন্যদের ওপর অথবা উম্মতের সকল ব্যক্তির ওপর। দ্বিতীয় মতটিই সঠিক (الصحيح)। আর এটি আল্লাহ তাআলার বাণী: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে উলুল আমরের (أولي الأمر)" (৪:৫৯)-এর ক্ষেত্রে আল-রাজীর ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে। তিনি সুনিশ্চিত করেছেন যে, উলুল আমর (أولي الأمر) বলতে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদি (أهل الحل والعقد) উদ্দেশ্য, যারা উম্মতের কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিশাপুরীও এ ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন এবং উস্তাদ ইমাম এটিকেই গ্রহণ করেছেন। আমরা তাফসীরে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে এর সবিস্তার ব্যাখ্যা দিয়েছি: "যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসূলের কাছে এবং তাদের উলুল আমরের (أولي الأمر) কাছে পৌঁছে দিত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা অনুধাবন বা গবেষণা (يستنبطونه) করে বের করেন তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারতেন।"

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
مِنْهُم} وَمن الْمَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ أَن أولي الْأَمر الَّذين كَانُوا مَعَ الرَّسُول يرد إِلَيْهِم مَعَه أَمر الْأَمْن وَالْخَوْف وَمَا اشبههما من الْمصَالح الْعَامَّة لَيْسُوا عُلَمَاء الْفِقْه وَلَا الْأُمَرَاء والحكام، بل أهل الشورى من زعماء الْمُسلمين.

‌‌شُرُوط أهل الِاخْتِيَار للخليفة:

 

اشْترط الْعلمَاء فِي جمَاعَة الْمُسلمين أهل الْحل وَالْعقد شُرُوطًا بَينهَا الْمَاوَرْدِيّ فِي الْأَحْكَام السُّلْطَانِيَّة بقوله:

(فصل) فَإِذا ثَبت وجوب الْإِمَامَة ففرضها على الْكِفَايَة كالجهاد وَطلب الْعلم فَإِذا قَامَ بهَا من هُوَ أَهلهَا سقط فَرضهَا عَن الكافة وَإِن لم يقم بهَا أحد خرج من النَّاس فريقان (أَحدهمَا) أهل الِاخْتِيَار حَتَّى يختاروا إِمَامًا للْأمة (وَالثَّانِي) أهل الْإِمَامَة حَتَّى ينْتَصب أحدهم للْإِمَامَة. .

فَأَما أهل الِاخْتِيَار فالشروط الْمُعْتَبرَة فيهم ثَلَاثَة (أَحدهَا) الْعَدَالَة الجامعة لشروطها (وَالثَّانِي) الْعلم الَّذِي يتَوَصَّل بِهِ إِلَى معرفَة من يسْتَحق الْإِمَامَة على الشُّرُوط الْمُعْتَبرَة فِيهَا (وَالثَّالِث) الرَّأْي وَالْحكمَة المؤديان إِلَى اخْتِيَار من هُوَ للْإِمَامَة أصلح، وبتدبير الْمصَالح أقوم وَأعرف. . وَلَيْسَ لمن كَانَ فِي بلد الإِمَام على غَيره من أهل الْبِلَاد فضل مزية يقدم بهَا عَلَيْهِ، وَإِنَّمَا صَار من يحضر بِبَلَد الإِمَام مُتَوَلِّيًا لعقد الْإِمَامَة عرفا وَشرعا لسبوق علمهمْ بِمَوْتِهِ، وَلِأَن من يصلح للْإِمَامَة فِي الْأَغْلَب مَوْجُود فِي بَلَده اه (فتح الْبَارِي) . .

أَقُول: لهَذِهِ الشُّرُوط مَأْخَذ من هدى السّلف فقد قَالَ الطَّبَرِيّ: لم يكن فِي أهل الْإِسْلَام أحد لَهُ من الْمنزلَة فِي الدّين وَالْهجْرَة والسابقة وَالْعقل وَالْعلم والمعرفة بالسياسة مَا للستة الَّذين جعل عمر الْأَمر شُورَى بَينهم.
...তাদের মধ্য থেকে। এটি অকাট্যভাবে জ্ঞাত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে থাকা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিগণ), যাঁদের নিকট তাঁর সাথে নিরাপত্তা ও ভীতি এবং অনুরূপ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যস্ত করা হতো, তাঁরা কেবল ফিকহ শাস্ত্রের আলেম কিংবা শাসক ও প্রশাসকগণ ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন মুসলিম নেতাদের মধ্য থেকে শূরা বা পরামর্শ সভার সদস্য।

‌‌খলিফা নির্বাচনকারীদের শর্তাবলি:

 

আলেমগণ মুসলিম জামাতের আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ)-এর জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন, যা ইমাম আল-মাওয়ার্দি আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ গ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন:

(পরিচ্ছেদ) যখন ইমামতের (নেতৃত্বের) আবশ্যকতা প্রমাণিত হলো, তখন এটি ফরজে কিফায়াহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়, যেমনটি জিহাদ ও ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সুতরাং যখন যোগ্য কোনো ব্যক্তি এই দায়িত্ব পালন করেন, তখন অন্য সবার ওপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়। আর যদি কেউ এই দায়িত্ব পালন না করে, তবে মানুষের মধ্যে দুটি দল তৈরি হয়: (এক) নির্বাচনকারী দল, যতক্ষণ না তাঁরা উম্মাহর জন্য একজন ইমাম নির্বাচন করেন; (দুই) ইমামতের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, যতক্ষণ না তাঁদের মধ্য থেকে কেউ ইমাম হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। .

আর নির্বাচনকারীদের ক্ষেত্রে বিবেচ্য শর্তাবলি তিনটি: (এক) ন্যায়পরায়ণতা বা নির্ভরযোগ্যতা (عدالة), যা এর সকল শর্তকে অন্তর্ভুক্ত করে; (দুই) এমন ইলম বা জ্ঞান, যার মাধ্যমে ইমামতের জন্য নির্ধারিত শর্তাবলির আলোকে কে এই পদের যোগ্য তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়; (তিন) প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা, যা ইমামতের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত এবং জনস্বার্থ পরিচালনায় অধিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নির্বাচনের পথে পরিচালিত করে। ইমামের (খলিফার) শহরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের অন্যান্য শহরের অধিবাসীদের ওপর এমন কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই যার কারণে তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। মূলত ইমামের শহরে যারা উপস্থিত থাকেন, তাঁরা প্রথাগত ও শরয়িভাবে ইমাম নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন কেবল একারণে যে, তাঁরা ইমামের মৃত্যুর খবর আগে জানতে পারেন এবং ইমামতের যোগ্য ব্যক্তিরা সাধারণত তাঁর শহরেই বিদ্যমান থাকেন। সমাপ্ত (ফাতহুল বারী) .

আমি বলি: এই শর্তাবলি সালাফদের আদর্শ থেকে গৃহীত। ইমাম তাবারী বলেছেন: মুসলিমদের মধ্যে দ্বীন, হিজরত, ইসলামের অগ্রগামিতা, বুদ্ধি, জ্ঞান এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার দিক থেকে এমন কেউ ছিল না, যারা সেই ছয়জন ব্যক্তির সমকক্ষ হতে পারে, যাঁদের মধ্যে উমর (রা.) পরামর্শের (শূরা) দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أما الْعَدَالَة الَّتِي هِيَ الشَّرْط الأول فَهِيَ عِنْد الْفُقَهَاء عبارَة عَن التحلي بالفرائض والفضائل، والتخلي عَن الْمعاصِي والرذائل، وَعَما يخل بالمروءة أَيْضا، وَاشْترط بَعضهم فِيهَا أَن تكون ملكة لَا تكلفاً، وَلَكِن التَّكَلُّف إِذا الْتزم صَار خلقا. .

وَأما الْعلم فيعنون بِهِ علم الدّين ومصالح الْأمة وسياستها وَإِذا أَطْلقُوهُ كَانَ المُرَاد بِهِ الْعلم الاستقلالي الْمعبر عَنهُ بِالِاجْتِهَادِ، وَيفهم من كَلَام بَعضهم أَن الِاجْتِهَاد فِي الشَّرْع شَرط فِي مجموعهم لَا فِي كل فَرد مِنْهُم، فقد قَالَ فِي الرَّوْضَة وَأَصلهَا أَنه يشْتَرط أَن يكون فيهم مُجْتَهد. . وتقييده شَرط الْعلم بِمَا قَيده بِهِ يدل على أَنه يخْتَلف باخْتلَاف الزَّمَان فَإِن اسْتِحْقَاق الْإِمَامَة فِي هَذَا الْعَصْر يتَوَقَّف على عُلُوم لم يكن يتَوَقَّف عَلَيْهَا فِي العصور الْقَدِيمَة، وَقد ذكر بعض الْعلمَاء أَن من مرجحات اخْتِيَار الصَّحَابَة لأبي بكر (رض) أَنه كَانَ أعلمهم بأنساب الْعَرَب وبأحوالهم وقواتهم، وَلأَجل هَذَا لم يهب من قتال أهل الرِّدَّة مَا هابه عمر، ولابد الْآن للْإِمَام وَجَمَاعَة الشورى (أهل الْحل وَالْعقد) الَّذين هم قوام إِمَامَته وأركان حكومته من الْعلم بالقوانين الدولية والمعاهدات الْعَامَّة، وبأحوال الْأُمَم والدول الْمُجَاورَة لبلاد الْإِسْلَام وَذَات العلاقات السياسية والتجارية بهَا من حَيْثُ سياستها وقوتها وَمَا يخَاف ويرجى مِنْهَا، وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ لَا تقاء ضررها وَالِانْتِفَاع بهَا. .

وَمن الْآثَار فِي ذَلِك قَول الْحَافِظ فِي الْكَلَام على مبايعة عُثْمَان من (الْفَتْح) : وَالَّذِي يظْهر من سيرة عمر فِي أمرائه الَّذين كَانَ يؤمرهم فِي الْبِلَاد أَنه كَانَ لَا يُرَاعِي الْأَفْضَل فِي الدّين فَقَط بل يضم إِلَيْهِ مزِيد الْمعرفَة بالسياسة مَعَ اجْتِنَاب مَا يُخَالف الشَّرْع فِيهَا فلأجل ذَلِك اسْتخْلف (أَي أمَّر) مُعَاوِيَة والمغيرة بن شُعْبَة وَعَمْرو بن الْعَاصِ مَعَ وجود من هُوَ أفضل مِنْهُم فِي أَمر الدّين وَالْعلم كَأبي الدَّرْدَاء فِي الشَّام وَابْن مَسْعُود فِي الْكُوفَة. . وسيرة أبي بكر وَعمر فِي الْخلَافَة يقْتَدى بهَا وَلَا سِيمَا فِي الْأُمُور الْعَامَّة الْكُلية الَّتِي تسمى سنة بِدَلِيل اشْتِرَاط عبد الرَّحْمَن إِيَّاهَا مَعَ سنة الرَّسُول على عَليّ وَعدم تَرْجِيحه لعدم جزمه فِي الْجَواب أَو تَقْيِيده بالاستطاعة وترجيحه لعُثْمَان لجزمه بِغَيْر قيد لِأَن سنتهما نَالَتْ الاجماع وَلقَوْله ( [صلى الله عليه وسلم] )

" اقتدوا باللذين من بعدِي أبي بكر وَعمر " رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه عَن حُذَيْفَة وصححوه، وَبَالغ فُقَهَاء

আর ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), যা প্রথম শর্ত, তা ফকিহগণের নিকট ফরয ইবাদত ও সদ্গুণাবলি দ্বারা ভূষিত হওয়া এবং গুনাহ ও অনৈতিকতা এবং যা শিষ্টাচার ও পৌরুষত্বের (المروءة) পরিপন্থী তা থেকে দূরে থাকার নামান্তর। তাঁদের কেউ কেউ এতে শর্তারোপ করেছেন যে, এটি যেন স্বভাবজাত গুণ (ملكة) হয়, কৃত্রিমতা (تكلفاً) নয়। তবে কৃত্রিম আচরণেও যদি অবিচল থাকা যায়, তবে তা কালক্রমে স্বভাবে পরিণত হয়।

আর জ্ঞান (العلم) বলতে তাঁরা দ্বীনি জ্ঞান এবং উম্মাহর কল্যাণ ও রাজনীতি বিষয়ক জ্ঞানকে বুঝিয়েছেন। যখন তাঁরা এই শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করেন, তখন এর দ্বারা স্বাধীন জ্ঞান বা ইজতিহাদ (الاجتهاد) উদ্দেশ্য হয়। কারো কারো বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, শরয়ি বিষয়ে ইজতিহাদ (الاجتهاد) তাঁদের সামগ্রিক সমষ্টির মধ্যে থাকা শর্ত, প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে থাকা আবশ্যক নয়। রাওদাহ এবং এর মূল গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, তাঁদের মধ্যে একজন মুজতাহিদ (مجتهد) থাকা শর্ত। জ্ঞানের শর্তটিকে এভাবে নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ করা একথাই নির্দেশ করে যে, তা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। কেননা বর্তমান যুগে ইমামত বা নেতৃত্ব (الإمامة) লাভের যোগ্যতা এমন কিছু জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে, প্রাচীনকালে যা আবশ্যক ছিল না। জনৈক আলেম উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক আবু বকর (রা.)-কে নির্বাচিত করার অন্যতম একটি অগ্রাধিকারমূলক কারণ ছিল এই যে, তিনি আরবদের বংশলতিকা, তাঁদের অবস্থা ও শক্তি সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। এ কারণেই তিনি ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এমন দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন যা উমর (রা.)-এর মনেও কিছুটা সংশয় সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে ইমাম এবং শুরা মজলিস অর্থাৎ আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الْحل وَالْعقد), যারা তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি এবং সরকারের স্তম্ভ, তাঁদের জন্য আন্তর্জাতিক আইন, সাধারণ চুক্তি এবং মুসলিম দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর রাজনীতি, শক্তি এবং সে দেশগুলো থেকে আশঙ্কার কারণ বা লাভের দিকগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এছাড়াও সে দেশগুলোর ক্ষতি থেকে বাঁচতে এবং উপকার লাভে কী করণীয় সে সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা জরুরি।

এ বিষয়ে হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার ফাতহুল বারী গ্রন্থে উসমান (রা.)-এর বায়আত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "উমর (রা.) বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব আমির বা প্রশাসক নিযুক্ত করতেন, তাঁদের জীবনচরিত থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কেবল দ্বীনি শ্রেষ্ঠত্বই বিবেচনা করতেন না, বরং এর পাশাপাশি শরয়ি সীমা লঙ্ঘন না করে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা দূরদর্শিতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতেন। এ কারণেই তিনি মুয়াবিয়া, মুগীরা ইবনে শুবা এবং আমর ইবনুল আস (রা.)-কে প্রশাসক নিযুক্ত করেছিলেন, যদিও দ্বীনদারি ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তি যেমন সিরিয়ায় আবু দারদা এবং কুফায় ইবনে মাসউদ (রা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন।" খিলাফত পরিচালনায় আবু বকর ও উমর (রা.)-এর জীবনচরিত অনুসরণযোগ্য, বিশেষ করে সেই সকল সাধারণ ও মৌলিক বিষয়ে যেগুলোকে সুন্নাহ (سنة) বলা হয়। এর প্রমাণ হলো আব্দুর রহমান (রা.) কর্তৃক রাসুলুল্লাহর সুন্নাহর সাথে আবু বকর ও উমর (রা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের শর্ত আলী (রা.)-এর সামনে উপস্থাপন করা। আলী (রা.) উত্তরে সুনিশ্চিতভাবে প্রতিশ্রুতি না দেওয়া বা তা সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত করায় তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি; বরং উসমান (রা.) কোনো শর্ত ছাড়াই দৃঢ়তা প্রকাশ করায় তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাঁদের দুজনের সুন্নাহর ওপর ইজমা (الاجماع) বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাছাড়া নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"আমার পরে তোমরা এই দুজনের অনুসরণ করবে—আবু বকর ও উমর।" এটি আহমাদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা একে সহিহ (صححوه) বলে অভিহিত করেছেন। ফকিহগণ এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন...

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الْمذَاهب الْمُدَوَّنَة فعدوا أَعمال عمر قَوَاعِد فِي الجزئيات كالخراج ومعاملة أهل الذِّمَّة وَهِي أَعمال اجتهادية تتبع الْمصلحَة. .

وَهَذَا الْعلم هُوَ الْمَادَّة لما ذكر فِي الشَّرْط الثَّالِث من الْحِكْمَة وجودة الرَّأْي. وَلم يشْتَرط قُوَّة العصبية فيهم لِأَن الْمَفْرُوض أَنهم أهل الْحل وَالْعقد الَّذين تعتمد عَلَيْهِم الْأمة فِي أمورها الْعَامَّة، وَأَن أَحْكَام الشَّرْع فِيهَا هِيَ الحاكمة والنافذة، وَأَن الْمُسلمين لَا يدينون إِلَّا بهَا، وَلَا يخضعون إِلَّا لمن ينفذها، وَأما التغلب بعصبية الْجِنْس فَلَيْسَ من هدى الْإِسْلَام فِي شَيْء، بل هُوَ خُرُوج عَن هدايته، وَحكمه فِيهِ سَيذكرُ بعد. .

فَعلم مِمَّا تقدم أَن لقب أهل الْحل وَالْعقد مُرَاد بِهِ معنى المصدرين فِيهِ بِالْقُوَّةِ وبالفعل وهم الرؤساء الَّذين تتبعهم الْأمة فِي أمورها الْعَامَّة، وأهمها نصب الإِمَام الْأَعْظَم وَكَذَا عَزله إِذا ثَبت عِنْدهم وجوب ذَلِك، وَمن يملك التَّوْلِيَة يملك الْعَزْل، كَمَا تقدم بَيَانه فِي مَسْأَلَة سلطة الْأمة، قَالَ إِمَام الْحَرَمَيْنِ فِي الإِمَام الَّذِي " جَار وَظهر ظلمه وغشمه وَلم يرعو لزاجر عَن سوء صَنِيعه: فلأهل الْحل وَالْعقد التواطؤ على ردعه وَلَو بِشَهْر السِّلَاح وَنصب الحروب " وَمن ظن أَن كل من يُوصف بِالْعلمِ والوجاهة تَنْعَقِد ببيعتهم الْإِمَامَة وَيجب على الْأمة اتباعهم فِيهَا فقد جهل معنى الْحل وَالْعقد وَمعنى الْجَمَاعَة وَالْإِجْمَاع، وَمَا تقدم من الْأَخْبَار والْآثَار، وَمن كَلَام الْمُحَقِّقين فِي الْمَسْأَلَة وَلَا سِيمَا شُرُوط أهل الِاخْتِيَار. .

‌‌الشُّرُوط الْمُعْتَبرَة فِي الْخَلِيفَة:

 

قَالَ السعد: وَقد ذكر فِي كتبنَا الْفِقْهِيَّة أَنه لابد للْأمة من إِمَام يحيى الدّين وَيُقِيم السّنة وينتصف للمظلومين ويستوفي الْحُقُوق ويضعها موَاضعهَا. وَيشْتَرط أَن يكون مُكَلّفا مُسلما عدلا حرا ذكرا مُجْتَهدا شجاعا ذَا رَأْي وكفاية سميعا بَصيرًا ناطقا قرشيا. . فَإِن لم يُوجد فِي قُرَيْش من
সংকলিত মাজহাবসমূহের (المذاهب المدونة) ইমামগণ উমরের কর্মসমূহকে খুটিনাটি বিষয়াবলির মূলনীতি হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমন খারাজ এবং জিম্মিদের (أهل الذمة) সাথে আচরণ। এগুলো ছিল গবেষণালব্ধ (اجتهادية) কার্যক্রম যা জনকল্যাণ (المصلحة) অনুসরণে গৃহীত হয়েছিল।

আর এই জ্ঞানই হলো প্রজ্ঞা এবং সঠিক মতামতের সেই উপকরণ যা তৃতীয় শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে গোত্রীয় সংহতির (عصبية) শক্তি শর্ত করা হয়নি, কারণ এটি স্বতঃসিদ্ধ যে তারা হলেন সেই সমাধান ও চুক্তির অধিকারী ব্যক্তিবর্গ (أهل الحل والعقد) যাদের ওপর উম্মাহ তাদের সাধারণ বিষয়াবলিতে নির্ভর করে। শরীয়তের বিধানসমূহ (أحكام الشرع) সেখানে শাসক ও কার্যকর শক্তি এবং মুসলিমরা তা ছাড়া অন্য কিছুকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে না এবং এটি বাস্তবায়নকারী ছাড়া অন্য কারো অনুগত হয় না। পক্ষান্তরে বংশীয় সংহতির (عصبية) জোরে ক্ষমতা দখল করা ইসলামের হেদায়েতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি তার শিক্ষা থেকে বিচ্যুতি; এ বিষয়ে বিধান পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, সমাধান ও চুক্তির অধিকারী (أهل الحل والعقد) উপাধি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তিবর্গ যারা নীতি নির্ধারণে সম্ভাব্য (بالقوة) ও কার্যকর (بالفعل) উভয় অর্থেই ক্ষমতার উৎস। তারা হলেন সেই নেতা যাদের উম্মাহ তাদের সাধারণ বিষয়াবলিতে অনুসরণ করে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান ইমাম (الإمام الأعظم) নিয়োগ করা এবং একইভাবে তাকে অপসারণ করা যদি তাদের নিকট এর আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়। যিনি নিয়োগের অধিকার রাখেন, তিনি অপসারণেরও অধিকার রাখেন, যেমনটি উম্মাহর কর্তৃত্বের মাসআলায় পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ইমামুল হারামাইন সেই ইমাম সম্পর্কে বলেছেন যিনি "অত্যাচারী এবং যার জুলুম ও নিপীড়ন প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে এবং যে তার মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার নির্দেশকেও তোয়াক্কা করে না: এমতাবস্থায় সমাধান ও চুক্তির অধিকারীদের (أهل الحل والعقد) জন্য তাকে প্রতিহত করতে একমত হওয়া আবশ্যক, এমনকি তা অস্ত্র ধারণ ও যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে হলেও।" আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, জ্ঞান ও সম্মানের অধিকারী যে কারো বায়আতের (بيعة) মাধ্যমেই ইমামত (الإمامة) সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং উম্মাহর জন্য তাদের অনুসরণ করা আবশ্যক, সে মূলত সমাধান ও চুক্তির অধিকারী (أهل الحل والعقد), জামাত (الجماعة) এবং ইজমার (الإجماع) অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ। সে এই বিষয়ে বর্ণিত সংবাদসমূহ (الأخبار), বর্ণনাধারা (الآثار) এবং গবেষকগণের (المحققين) বক্তব্য, বিশেষ করে নির্বাচক মণ্ডলীর (أهل الاختيار) শর্তাবলি সম্পর্কে অবগত নয়।

‌‌খলিফার (الخليفة) জন্য বিবেচ্য শর্তাবলি:

 

সাদ বলেন: আমাদের ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মাহর জন্য একজন ইমাম থাকা অপরিহার্য যিনি দ্বীনকে জীবিত করবেন, সুন্নাহ (السنة) কায়েম করবেন, মজলুমের প্রতি ইনসাফ করবেন এবং প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করে যথাস্থানে পৌঁছে দেবেন। আর তার জন্য শর্ত হলো তাকে শারঈ দায়বদ্ধতা সম্পন্ন (مكلف), মুসলিম, ন্যায়পরায়ণ (عدلا), স্বাধীন, পুরুষ, মুজতাহিদ (مجتهدا), সাহসী, বিচক্ষণ, কর্মক্ষম, শ্রবণশক্তি সম্পন্ন, দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন, বাকশক্তি সম্পন্ন এবং কুরাইশ বংশীয় হতে হবে। যদি কুরাইশদের মধ্যে এমন কাউকে না পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
يستجمع الصِّفَات الْمُعْتَبرَة ولى كنانى، فَإِن لم يُوجد فَرجل من ولد إِسْمَاعِيل فَإِن لم يُوجد فَرجل من الْعَجم اه.

وَالْمرَاد بقوله مُجْتَهدا الِاجْتِهَاد فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة، بِالْعلمِ بأدلتها التفصيلية. . وَالتَّفْصِيل الْأَخير فِي حَال فقد القرشى للشَّافِعِيَّة وَقيل إِنَّه من فرض مَالا يَقع، وكل مَا قبله مُتَّفق عَلَيْهِ عِنْد أهل السّنة، إِلَّا الْحَنَفِيَّة فقد أجَاز بَعضهم تَوْلِيَة غير الْعَالم الْمُجْتَهد لِأَنَّهُ يَسْتَعِين بالمفتين الْمُجْتَهدين كالقضاء، وَقد قَالَ الشَّيْخ قَاسم بن قلطوبغا فِي حَاشِيَته على المسايرة لشيخه الْكَمَال بن الْهمام إِن الشُّرُوط الَّتِي لَا تَنْعَقِد الْخلَافَة بِدُونِهَا عِنْد الْحَنَفِيَّة هِيَ الْإِسْلَام والذكورة وَالْحريَّة وَالْعقل وأصل الشجَاعَة وَأَن يكون قرشيا. ا. هـ أَي وَمَا عدا هَذِه فشروط تَقْدِيم فِي الِاخْتِيَار لَا شُرُوط انْعِقَاد ووضح الْمَاوَرْدِيّ هَذِه الشُّرُوط بقوله:

وَأما أهل الْإِمَامَة فالشروط الْمُعْتَبرَة فيهم سَبْعَة (أَحدهَا) الْعَدَالَة على شُرُوطهَا الجامعة (وَالثَّانِي) الْعلم الْمُؤَدِّي إِلَى الِاجْتِهَاد فِي النَّوَازِل وَالْأَحْكَام (وَالثَّالِث) سَلامَة الْحَواس من السّمع وَالْبَصَر وَاللِّسَان ليَصِح مَعهَا مُبَاشرَة مَا يدْرك بهَا (وَالرَّابِع) سَلامَة الْأَعْضَاء من نقص يمْنَع من اسْتِيفَاء الْحَرَكَة وَسُرْعَة النهوض (وَالْخَامِس) الرَّأْي المفضى إِلَى سياسة الرّعية وتدبير الْمصَالح (وَالسَّادِس) الشجَاعَة والنجدة المؤدية إِلَى حماية الْبَيْضَة وَجِهَاد الْعَدو (وَالسَّابِع) النّسَب وَهُوَ أَن يكون من قُرَيْش لوُرُود النَّص فِيهِ، وانعقاد الْإِجْمَاع عَلَيْهِ، وَلَا اعْتِبَار بضرار حِين شَذَّ فجوزها فِي جَمِيع النَّاس لِأَن أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه احْتج يَوْم السَّقِيفَة على الْأَنْصَار فِي دفعهم عَن الْخلَافَة لما بَايعُوا سعد بن عبَادَة عَلَيْهَا (أَي أَرَادوا مبايعته) بقول النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]

" الْأَئِمَّة من قُرَيْش " فأقلعوا عَن التفرد بهَا، وَرَجَعُوا عَن الْمُشَاركَة فِيهَا حِين قَالُوا: منا أَمِير ومنكم أَمِير، تَسْلِيمًا لروايته، وَتَصْدِيقًا لخبره، وَرَضوا بقوله: نَحن الْأُمَرَاء، وَأَنْتُم الوزراء وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم]

" قدمُوا
বিবেচ্য গুণাবলি সম্পন্ন হবেন এবং কেনানি বংশোদ্ভূত হবেন। যদি না পাওয়া যায় তবে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের কোনো ব্যক্তি, আর যদি তাও না পাওয়া যায় তবে অনারবদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি। সমাপ্ত।

তার ‘মুজতাহিদ’ বলার উদ্দেশ্য হলো শরীয়াহর বিধানাবলীতে বিস্তারিত দলিলের ইলমের মাধ্যমে গবেষণালব্ধ জ্ঞান (اجتهاد) অর্জন করা। কুরাইশ না পাওয়ার ক্ষেত্রে শেষের বিস্তারিত বিবরণটি শাফেয়ী মাজহাবের মতানুযায়ী, এবং বলা হয়েছে যে এটি এমন একটি প্রসঙ্গের অবতারণা যা সচরাচর ঘটে না। এর পূর্ববর্তী সবকটি বিষয়ে আহলে সুন্নাত একমত, তবে হানাফী মাজহাবের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে; কারণ তাদের কেউ কেউ মুজতাহিদ (مجتهد) নন এমন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধান নিযুক্ত করা বৈধ বলেছেন, কেননা তিনি বিচার ব্যবস্থার মতো মুফতি ও মুজতাহিদগণের (مجتهدين) সাহায্য নিতে পারেন। শায়খ কাসেম ইবনে কুতলুবুগা তার উস্তাদ কামাল ইবনে হুমামের আল-মুসায়ারা গ্রন্থের টিকায় বলেছেন যে, হানাফী মাজহাব মতে যেসব শর্ত ছাড়া খিলাফত সম্পন্ন হয় না সেগুলো হলো: ইসলাম, পুরুষ হওয়া, স্বাধীন হওয়া, বিবেকসম্পন্ন হওয়া, সাহস থাকা এবং কুরাইশ বংশীয় হওয়া। অর্থাৎ এগুলো বাদে বাকি শর্তগুলো হলো অগ্রাধিকার প্রদানের শর্ত, খিলাফত অকার্যকর হওয়ার শর্ত নয়। আল-মাওয়ার্দী এই শর্তগুলোকে এভাবে স্পষ্ট করেছেন:

আর ইমামতের (নেতৃত্বের) যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিবেচ্য শর্তাবলি হলো সাতটি: (এক) শর্তানুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة); (দুই) উদ্ভূত সমস্যা ও বিধানাবলীতে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছানোর মতো জ্ঞান; (তিন) শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বাকশক্তির মতো ইন্দ্রিয়গুলোর সুস্থতা যাতে এগুলোর মাধ্যমে উপলব্ধ বিষয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়; (চার) শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ত্রুটিমুক্ত হওয়া যা চলাফেরা ও দ্রুত পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করে; (পাঁচ) প্রজ্ঞা যা প্রজাদের শাসন ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হয়; (ছয়) সাহস ও বীরত্ব যা রাষ্ট্রীয় সীমানা রক্ষা ও শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদে সহায়ক হয়; এবং (সাত) বংশমর্যাদা অর্থাৎ কুরাইশ বংশীয় হওয়া, যেহেতু এ বিষয়ে অকাট্য বর্ণনা (نص) রয়েছে এবং ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিরার যখন বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত পোষণ করে একে সব মানুষের জন্য বৈধ করেছেন, তখন তার সেই মতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই; কারণ আবু বকর সিদ্দীক (রা.) সাকীফাহর দিনে আনসারগণ যখন সা'দ ইবনে উবাদাহকে বায়আত করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তখন তাদের খিলাফত থেকে বিরত রাখতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছিলেন:

“ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।” ফলে তারা এককভাবে খিলাফত গ্রহণের চিন্তা ত্যাগ করেন এবং যখন তারা বলেছিলেন: ‘আমাদের থেকে একজন আমির এবং তোমাদের থেকে একজন আমির হবে’, তখন তারা সেই অংশীদারিত্বের দাবি থেকেও ফিরে আসেন। এটি ছিল তার বর্ণিত বর্ণনার (رواية) প্রতি আত্মসমর্পণ এবং তার খবরের (خبر) প্রতি বিশ্বাসের কারণে। তারা তার এই কথায় সন্তুষ্ট হলেন যে: “আমরা হলাম আমির এবং তোমরা হলে উজির।” এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

“তোমরা অগ্রগণ্য করো...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قُريْشًا وَلَا تقدموها " - أَي وَلَا تتقدموها - وَلَيْسَ مَعَ هَذَا النَّص شُبْهَة لمنازع فِيهَا، وَلَا قَول لمخالف لَهُ. .

أَقُول: قد تقدم الْكَلَام فِي الْعَدَالَة وَالْعلم المشترطين فِي أهل الِاخْتِيَار للخليفة وَيَأْتِي مثله هُنَا بِالْأولَى، أما الْإِجْمَاع على اشْتِرَاط القرشية فقد ثَبت بِالنَّقْلِ وَالْفِعْل، رَوَاهُ ثقاة الْمُحدثين، وَاسْتدلَّ بِهِ المتكلمون وفقهاء مَذَاهِب السّنة كلهم. وَجرى عَلَيْهِ الْعَمَل بِتَسْلِيم الْأَنْصَار وإذعانهم لنَبِيّ قُرَيْش ثمَّ إذعان السوَاد الْأَعْظَم من الْأمة عدَّة قُرُون حَتَّى إِن التّرْك الَّذين تغلبُوا على العباسيين وسلبوهم السلطة بِالْفِعْلِ لم يتجرأ أحد مِنْهُم على ادِّعَاء الْخلَافَة وَلَا التصدي لانتحالها حَتَّى بالتغلب الَّذِي يجِئ الْكَلَام فِيهِ بعد، وَمَا ذَلِك إِلَّا لِأَن الْأمة كلهَا مجمعة على مَا ذكر، معتقدة لَهُ دينا، بل كَانَ الْمُلُوك والسلاطين المتغلبون يستمدون السلطة مِنْهُم، أَو كَانُوا يدعونَ النِّيَابَة عَنْهُم. .

وَأما الْأَحَادِيث فِي ذَلِك فكثيرة مستفيضة فِي جَمِيع كتب السّنة، وَقد أخرجوها فِي كتب الْأَحْكَام وأبواب الْخلَافَة أَو الْإِمَارَة والمناقب وَغَيرهَا، وَلم يَقع خلاف فِي مَضْمُون مجموعها بَين أهل السّنة من عرب وَلَا عجم، وَلم يتصد أحد من عُلَمَاء التّرْك لتأويلها، وَقد طبع بعض الْكتب المثبتة لَهَا فِي الآستانة بِإِذن نظارة المعارف حَتَّى فِي زمن السُّلْطَان عبد الحميد الَّذِي لم يهتم بلقب الْخَلِيفَة أحد مثله، وَمِنْهَا شرح الْمَقَاصِد الَّذِي نقلنا عَنهُ هُنَا مَا نقلنا، وَكَذَا المواقف مَعَ شَرحه وحواشيه. . وَحَدِيث

" قدمُوا قُريْشًا وَلَا تقدموها " الَّذِي ذكره الْمَاوَرْدِيّ رَوَاهُ الشَّافِعِي وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْمعرفَة بلاغا وَابْن عدي فِي الْكَامِل من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَالْبَزَّار فِي مُسْنده من حَدِيث عَليّ كرم الله وَجهه وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير من حَدِيث عبد الله بن السَّائِب بأسانيد صَحِيحَة. . وَفِي مَعْنَاهُ حَدِيث أبي هُرَيْرَة الْمَرْفُوع فِي الصَّحِيحَيْنِ

" النَّاس تبع لقريش فِي هَذَا الشَّأْن " وَلَا نُرِيد ذكر بَقِيَّة الْأَحَادِيث وَإِنَّمَا خرجنَا الحَدِيث الَّذِي اعْتَمدهُ الْمَاوَرْدِيّ وَذكرنَا مَا يقرب مِنْهُ فِي لَفظه لِأَنَّهُ لم يُخرجهُ

وحسبنا من قُوَّة حَدِيث

" الْأَئِمَّة من قُرَيْش " من حَيْثُ الرِّوَايَة قَول الْحَافِظ بن حجر فِي فتح الْبَارِي عِنْد ذكره فِي المناقب من صَحِيح البُخَارِيّ مَا نَصه: قد جمعت طرقه عَن نَحْو أَرْبَعِينَ صحابيا لما بَلغنِي أَن بعض فضلاء الْعَصْر ذكر أَنه لم يرو إِلَّا عَن أبي بكر الصّديق. . وَذكر الْحَافِظ أَن لفظ
"কুরাইশদের আগে রাখো এবং তোমরা তাদের আগে থেকো না" - অর্থাৎ তোমরা তাদের চেয়ে অগ্রবর্তী হতে যেয়ো না - এবং এই নস (نص) এর বিপরীতে কোনো বিবাদকারীর জন্য কোনো সংশয় নেই এবং কোনো ভিন্নমত পোষণকারীর জন্য কথা বলার কোনো অবকাশ নেই।

আমি বলি: খলিফা নির্বাচনের অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের (আহলুল ইখতিয়ার) জন্য আবশ্যকীয় শর্ত হিসেবে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং ইলমের বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এখানেও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তদ্রূপ আলোচনা প্রযোজ্য হবে। কুরাইশ বংশীয় হওয়ার শর্তের ওপর যে ইজমা (ঐকমত্য) রয়েছে, তা বর্ণনা এবং কর্মের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাদিস বিশারদগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইলমে কালামের পণ্ডিত ও সুন্নাহর সকল মাযহাবের ফকিহগণ এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আনসারদের পক্ষ থেকে কুরাইশ বংশীয় নবীর আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে উম্মতের বিশাল জনসমষ্টির (সাওয়াদে আজম) আনুগত্যের মাধ্যমে এই আমল জারি রয়েছে। এমনকি যে তুর্কিরা আব্বাসীয়দের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং কার্যত তাদের থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউই খিলাফতের দাবি করার বা ছলে-বলে তা নিজের দিকে টেনে নেওয়ার দুঃসাহস করেনি—এমনকি জবরদখলের (তগাল্লুব) মাধ্যমেও নয়, যা নিয়ে সামনে আলোচনা আসবে। এটি কেবল একারণেই ছিল যে, সমগ্র উম্মত উক্ত বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং একে দ্বীনি বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল। বরং প্রভাবশালী বাদশাহ ও সুলতানগণ তাদের থেকেই কর্তৃত্বের বৈধতা গ্রহণ করতেন অথবা তাদের প্রতিনিধি হওয়ার দাবি করতেন।

আর এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ সুন্নাহর সকল গ্রন্থে প্রচুর পরিমাণে এবং প্রসিদ্ধ (مستفيض) হিসেবে বিদ্যমান। ইমামগণ এগুলো আহকাম বা বিধানের কিতাবে এবং খিলাফত অথবা ইমারত (নেতৃত্ব) ও মানাকিব (মর্যাদা) ইত্যাদি অধ্যায়ে সংকলন করেছেন। আরব বা অনারব নির্বিশেষে আহলুস সুন্নাহর মধ্যে এগুলোর সামগ্রিক মর্ম নিয়ে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হয়নি। এমনকি তুর্কি আলেমদের কেউ এগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে উদ্যোগী হননি। এগুলো সাব্যস্তকারী কিছু কিতাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে আস্তানা (ইস্তাম্বুল)-তে মুদ্রিত হয়েছে, এমনকি সুলতান আব্দুল হামিদের যুগেও, যিনি খলিফা উপাধির ব্যাপারে অন্য কারো চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। এর মধ্যে 'শারহুল মাকাসিদ' অন্যতম, যা থেকে আমরা এখানে উদ্ধৃতি দিয়েছি; তদ্রূপ 'আল-মাওয়াফিফ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাসমূহও উল্লেখযোগ্য। আর হাদিস:

"কুরাইশদের আগে রাখো এবং তোমরা তাদের আগে যেয়ো না"—যা ইমাম মাওয়ার্দি উল্লেখ করেছেন, তা ইমাম শাফেয়ি এবং বায়হাকি 'আল-মারিফাহ' গ্রন্থে সনদবিহীন সরাসরি বর্ণনা (بلاغ) হিসেবে, ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, বাজ্জার তাঁর মুসনাদে আলী (রা.) থেকে এবং তাবারানি 'আল-কাবির' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) থেকে সহিহ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন। এই একই অর্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস যা মারফু (مرفوع) হিসেবে সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে:

"এই (নেতৃত্বের) বিষয়ে মানুষ কুরাইশদের অনুসারী।" আমরা বাকি হাদিসগুলো উল্লেখ করতে চাই না, বরং মাওয়ার্দি যে হাদিসটির ওপর নির্ভর করেছেন আমরা কেবল সেটিই তখরিজ করেছি এবং এর শব্দের কাছাকাছি অন্য একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছি কারণ তিনি সেটি তখরিজ করেননি।

বর্ণনাগত সূত্রের দিক থেকে "ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবেন" হাদিসটির বলিষ্ঠতার জন্য হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির 'ফাতহুল বারি'-র সেই উক্তিটিই যথেষ্ট, যা তিনি সহিহ বুখারি-র মানাকিব অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য হলো: "আমি প্রায় চল্লিশজন সাহাবি থেকে এর বর্ণনা সূত্রসমূহ (طرق) সংগ্রহ করেছি, যখন আমি জানতে পারলাম যে বর্তমান সময়ের কোনো কোনো গুণীজন উল্লেখ করেছেন যে এটি কেবল আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকেই বর্ণিত হয়েছে।" হাফেজ ইবনে হাজার আরো উল্লেখ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي بكر لسعد بن عبَادَة فِي السَّقِيفَة فِي مُسْند أَحْمد: وَالله لقد علمت يَا سعد أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ وَأَنت قَاعد

" قُرَيْش وُلَاة هَذَا الْأَمر " فَقَالَ لَهُ سعد: صدقت.

فَمن علم هَذَا لَا يلْتَفت إِلَى مَا يذكرهُ بعض أهل هَذَا الْعَصْر من تَأْوِيل تِلْكَ الْأَحَادِيث والبحث فِي أَسَانِيد بَعْضهَا، أَو من أَن شَرط القرشية من الشُّرُوط الخلافية وَإِن قَالَ هَذَا بعض كبار الْمُتَكَلِّمين فَإِن هَؤُلَاءِ يذكرُونَ أَمْثَال هَذِه الخلافات الشاذة عَن بعض المبتدعة لأجل الرَّد عَلَيْهَا، لَا لِأَنَّهَا كالخلاف بَين أَئِمَّة الْحق من الْمسَائِل الاجتهادية، وغرض من يُمَارِي أَو يكتم شَرط القرشية فِي هَذَا الْعَصْر تَصْحِيح خلَافَة سلاطين بني عُثْمَان، وَهَذَا مَالا سَبِيل إِلَيْهِ عندأهل السّنة المشترطين للقرشية بِإِجْمَاع مذاهبهم إِلَّا بقاعدة التغلب، وَأما عِنْد الْخَوَارِج فَلَا سَبِيل إِلَيْهِ الْبَتَّةَ، لأَنهم إِنَّمَا أَنْكَرُوا شَرط القرشية منعا لحصر الْإِمَامَة فِي بَيت معِين. . وماذا يضر العثمانيين أَن تكون خلافتهم بالتغلب وَقد قَالَ بعض الْفُقَهَاء فِي بني أُميَّة وَبني الْعَبَّاس كلهم أَو جلهم مثل ذَلِك. .

وَأما حِكْمَة حصر النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] الْخلَافَة الشَّرْعِيَّة فيهم أَو سَببه فقد ذكر المتكلمون وَالْفُقَهَاء فِيهِ مَا روى من قَول أبي بكر الصّديق. . للْأَنْصَار فِي سَقِيفَة بني سَاعِدَة: من أَنهم أَوسط الْعَرَب نسبا ودارا، وأعزهم أحسابا. . وَزَاد بَعضهم مَا كَانَ الصّديق فِي غنى عَنهُ فِي ذَلِك الْوَقْت وَأجْمع كَلَام لَهُم فِي هَذَا مَا ذكره الشَّيْخ أَحْمد ولى الله الدهاوي فِي كِتَابه (حجَّة الله الْبَالِغَة) وَفِي بعضه نظر قَالَ:

" وَالسَّبَب المفضى لهَذَا أَن الْحق الَّذِي أظهره الله على لِسَان نبيه [صلى الله عليه وسلم] إِنَّمَا جَاءَ بِلِسَان قُرَيْش وَفِي عاداتهم، وَكَانَ أَكثر ماتعين من الْمَقَادِير وَالْحُدُود مَا هُوَ عِنْدهم، وَكَانَ الْمعد لكثير من الْأَحْكَام مَا هُوَ فيهم، فهم أقوم بِهِ، وَأكْثر النَّاس تمسكا بذلك وَأَيْضًا فَإِن قُريْشًا قوم النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] وَحزبه وَلَا فَخر لَهُم إِلَّا بعلو دين مُحَمَّد [صلى الله عليه وسلم] ، وَقد اجْتمع فيهم حمية دينية، وحيمة نسبية، فَكَانُوا مَظَنَّة الْقيام بالشرائع والتمسك بهَا، وَأَيْضًا فَإِنَّهُ يجب أَن يكون الْخَلِيفَة مِمَّن لَا يستنكف النَّاس من طَاعَته لجلالة نسبه
মুসনাদ আহমদ-এ বর্ণিত সকিফাহর দিনে সা’দ ইবনে উবাদাহর প্রতি আবু বকরের উক্তি: আল্লাহর কসম! হে সা’দ, আপনি অবশ্যই জানেন যে আপনি বসা থাকা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছিলেন,

“কুরাইশগণই এই শাসনের অধিকারী,” তখন সা’দ তাকে বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।

সুতরাং যে ব্যক্তি এটি জানে, সে এই যুগের একদল লোকের সেই হাদিসগুলোর অপব্যাখ্যা (تأويل) এবং কোনো কোনোটির সূত্রসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। অথবা খিলাফতের জন্য কুরাইশ হওয়া যে মতভেদপূর্ণ একটি শর্ত—এমন দাবির প্রতিও কান দেবে না। যদিও কোনো কোনো বড় ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদ এটি বলেছেন, তবে তারা বিদআতিদের পক্ষ থেকে বর্ণিত এই ধরণের বিচ্ছিন্ন (شاذة) মতভেদগুলো কেবল সেগুলোর খণ্ডন করার জন্য উল্লেখ করেছেন; সত্যের ইমামদের মধ্যকার গবেষণালব্ধ (اجتهادية) মাসআলাগুলোর মতো কোনো বৈধ মতভেদ হিসেবে নয়। আর বর্তমান যুগে যারা কুরাইশ হওয়ার শর্ত নিয়ে বিতর্ক করে বা এটি গোপন করে, তাদের উদ্দেশ্য হলো উসমানীয় সুলতানদের খিলাফতকে বৈধতা দেওয়া। অথচ আহলুস সুন্নাহর নিকট, যারা তাদের মাযহাবসমূহের সর্বসম্মতি (إجماع) অনুযায়ী কুরাইশ হওয়াকে শর্ত মনে করেন, শক্তিপ্রয়োগে ক্ষমতা দখলের (التغلب) মূলনীতি ছাড়া তাদের খিলাফত প্রমাণের অন্য কোনো উপায় নেই। আর খারিজিদের (الخوارج) নিকট তো এর কোনো উপায়ই নেই, কারণ তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট বংশে ইমামতকে সীমাবদ্ধ রাখা ঠেকানোর জন্যই কুরাইশ হওয়ার শর্তকে অস্বীকার করেছে। উসমানীয়দের জন্য তাদের খিলাফত শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে হওয়াতে ক্ষতির কী আছে, যেখানে কোনো কোনো ফকিহ বনু উমাইয়া এবং বনু আব্বাসের সবার বা অধিকাংশের ব্যাপারে একই কথা বলেছেন?

আর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কর্তৃক শরয়ী খিলাফতকে তাদের (কুরাইশদের) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রজ্ঞা বা কারণ সম্পর্কে ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদ ও ফকিহগণ তা-ই উল্লেখ করেছেন যা সকিফাহ বনু সাঈদায় আনসারদের প্রতি আবু বকর সিদ্দিকের উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: তারা বংশ ও আবাসস্থলের দিক থেকে আরবদের শ্রেষ্ঠ এবং আভিজাত্যের দিক থেকে সবচেয়ে সম্মানিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কিছু বাড়িয়ে বলেছেন যা সেই সময়ে সিদ্দিকের বলার প্রয়োজন ছিল না। এই বিষয়ে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সংহতিপূর্ণ বক্তব্য হলো যা শেখ আহমদ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি তার কিতাব হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ-তে উল্লেখ করেছেন, যদিও তার কোনো কোনো বক্তব্যের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ আছে। তিনি বলেছেন:

“এর কারণ হলো, আল্লাহ তাঁর নবীর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মুখে যে সত্য প্রকাশ করেছেন, তা কুরাইশদের ভাষা ও রীতিনীতি অনুসারেই এসেছে। বিধি-বিধান ও দণ্ডবিধির (الحدود) অধিকাংশ নির্ধারিত পরিমাণ যা তাদের নিকট বিদ্যমান ছিল এবং অনেক হুকুমের উপাদান তাদের মধ্যেই ছিল। ফলে তারা এগুলো পালনে অধিক সক্ষম এবং এগুলোর প্রতি অধিক অনুগত। তাছাড়া কুরাইশরা হলো নবীর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বংশ ও দল; মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর দীনের শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া তাদের গর্ব করার মতো আর কিছু নেই। তাদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ এবং বংশীয় আত্মমর্যাদা একীভূত হয়েছে, তাই তারা শরয়ি বিধানসমূহ (الشرائع) প্রতিষ্ঠা ও তা আঁকড়ে ধরার উপযুক্ত স্থান। উপরন্তু, খলিফা এমন ব্যক্তি হওয়া আবশ্যক যার বংশমর্যাদার উচ্চতার কারণে মানুষ তার আনুগত্য করতে সংকুচিত হবে না।”
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وحسبه، فَإِن من لانسب لَهُ يرَاهُ النَّاس حَقِيرًا ذليلا، وَأَن يكون مِمَّن عرف مِنْهُم الرئاسات والشرف، ومارس قومه جمع الرِّجَال وَنصب الْقِتَال، وَأَن يكون قومه أقوياء يحمونه وينصرونه ويبذلون دونه الْأَنْفس، وَلم تَجْتَمِع هَذِه الْأُمُور إِلَّا فِي قُرَيْش، ولاسيما بعد مابعث النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] وَنبهَ بِهِ أَمر قُرَيْش، وَقد أَشَارَ أَبُو بكر الصّديق رضي الله عنه إِلَى ذَلِك فَقَالَ: " وَلنْ يعرف هَذَا الْأَمر إِلَّا لقريش هم أَوسط الْعَرَب دَارا … الخ ".

" وَإِنَّمَا لم يشْتَرط كَونه هاشميا مثلا لوَجْهَيْنِ (أَحدهمَا) أَلا يَقع النَّاس فِي الشَّك فيقولوا إِنَّمَا أَرَادَ ملك أهل بَيته كَسَائِر الْمُلُوك فَيكون سَببا للارتداد، ولهذه الْعلَّة لم يُعْط النَّبِي الْمِفْتَاح (أَي مِفْتَاح الْكَعْبَة) للْعَبَّاس بن عبد الْمطلب رضي الله عنه (وَالثَّانِي) أَن المهم فِي الْخلَافَة رِضَاء النَّاس بِهِ واجتماعهم عَلَيْهِ وتوقيرهم إِيَّاه وَأَن يُقيم الْحُدُود ويناضل دون الْملَّة وَينفذ الْأَحْكَام، واجتماع هَذِه الْأُمُور لَا يكون إِلَّا فِي وَاحِد بعد وَاحِد، وَفِي اشْتِرَاط أَن يكون من قَبيلَة خَاصَّة تضييق، وحرج فَرُبمَا لم يكن فِي هَذِه الْقَبِيلَة من تَجْتَمِع فِيهِ الشُّرُوط وَكَانَ فِي غَيرهَا ".

وَأَقُول: إِن الله تَعَالَى ختم دينه وأتمه وأكمله بكتابه الْحَكِيم الَّذِي أنزلهُ {قُرْآنًا عَرَبيا} و {حكما عَرَبيا} على خَاتم رسله الْعَرَبِيّ الْقرشِي، واقتضت حكمته أَن يكون نشره فِي مَشَارِق الأَرْض وَمَغَارِبهَا بدعوة قُرَيْش وزعامتهم، وَقُوَّة الْعَرَب وحماية هَذِه الدعْوَة بسيوفهم، وكل من دخل فِي الْإِسْلَام من الأعجام وَكَانَ لَهُ عمل صَالح فِيهِ كَانَ تَابعا لَهُم متلقيا عَنْهُم، على مُسَاوَاة الشَّرْع فِي أَحْكَامه بَينهم، ونبوغ كثير من مواليهم الَّذين استعربوا بالتبع لَهُم، وَكَانَت قُرَيْش فِي جملَة بطونها أكمل الْعَرَب خلقا وأخلاقا وفصاحة وذكاء وفهما وَقُوَّة عارضة، كَمَا كَانَت أصرح نسبا فِي سلالة إِسْمَاعِيل وأشرف تَارِيخا فِي الْعَرَب بفضائلها وفواضلها وَخدمتهَا لبيت الله تَعَالَى، فَكَانَ مَجْمُوع هَذِه المزايا الَّتِي كملت بِالْإِسْلَامِ مؤهلا لَهَا لِاجْتِمَاع كلمة الْعَرَب عَلَيْهَا، ثمَّ كلمة من يدْخل فِي الْإِسْلَام من شعوب الْعَجم بِالْأولَى، وَلَا سِيمَا بعد النَّص من الرَّسُول [صلى الله عليه وسلم] بذلك وَإِجْمَاع أصحابة
এবং তার বংশমর্যাদা (نسب); কেননা যার কোনো বংশীয় পরিচয় (نسب) নেই, মানুষ তাকে হীন ও লাঞ্ছিত মনে করে। আর শর্ত হলো সে যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের মাঝে নেতৃত্ব ও আভিজাত্য সুবিদিত এবং যাদের কওম জনবল সংগঠিত করতে ও যুদ্ধ পরিচালনায় অভ্যস্ত। তদুপরি তার কওম যেন শক্তিশালী হয় যারা তাকে সুরক্ষা দেবে, সাহায্য করবে এবং তার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করবে। আর এই বৈশিষ্ট্যসমূহ কুরাইশ ব্যতীত অন্য কারো মাঝে একত্রিত হয়নি, বিশেষ করে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রেরিত হওয়ার পর যখন কুরাইশদের মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এ দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছিলেন: "কুরাইশ ব্যতীত অন্য কারো জন্য এই খিলাফতের বিষয়টি স্বীকৃত হবে না; কারণ তারা আরবদের মধ্যে আবাসস্থল ও বংশমর্যাদার দিক থেকে মধ্যমণি … ইত্যাদি"।

"আর হাশেমী হওয়া কেন শর্ত করা হয়নি, তার দুটি কারণ রয়েছে (প্রথমত) মানুষ যেন সন্দেহে নিপতিত না হয় এবং এ কথা না বলে যে, তিনি (রাসূল) অন্যান্য রাজাদের মতো কেবল তার আহলে বায়তের জন্য রাজত্ব চেয়েছেন, যা ধর্মত্যাগের (الارتداد) কারণ হতে পারতো। আর এই যৌক্তিক কারণেই নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কাবার চাবি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রদান করেননি। (দ্বিতীয়ত) খিলাফতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার প্রতি জনগণের সন্তুষ্টি, তার ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও তাকে সম্মান করা; এবং তিনি যেন দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করেন, ধর্মের সুরক্ষায় লড়াই করেন এবং বিধানসমূহ (الأحكام) বাস্তবায়ন করেন। আর এই গুণাবলিগুলোর একত্র হওয়া একজনের পর একজনের মধ্যেই সম্ভব। আর নেতৃত্বকে একটি নির্দিষ্ট গোত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার শর্তারোপের মাঝে সংকীর্ণতা ও কষ্ট রয়েছে; কারণ হতে পারে সেই নির্দিষ্ট গোত্রে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যার মধ্যে সকল শর্ত বিদ্যমান, অথচ অন্য গোত্রে তা পাওয়া যেতে পারে।"

আমি বলি: আল্লাহ তাআলা তাঁর হিকমতপূর্ণ কিতাবের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে সমাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ করেছেন যা তিনি {আরবি কুরআন} এবং {আরবি বিধান} হিসেবে তাঁর সর্বশেষ আরবি ও কুরাইশি রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন। আর আল্লাহর হিকমতের দাবি ছিল যে, কুরাইশদের দাওয়াত ও নেতৃত্ব এবং আরবদের শক্তি ও তাদের তলোয়ারের মাধ্যমে এই দাওয়ার সুরক্ষার দ্বারা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর প্রচার ও প্রসার ঘটবে। আর অনারবদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং দ্বীনের পথে যাদের নেক আমল রয়েছে, তারা তাদেরই অনুসারী ও তাদের কাছ থেকেই ইলম গ্রহণকারী হিসেবে গণ্য হবেন; যদিও শরিয়তের বিধানে (الأحكام) সবার মাঝে সমতা বিদ্যমান। আর কুরাইশদের অনুসারী হওয়ার ফলে তাদের অনেক আযাদকৃত দাস বা অনুসারী (موالي) যারা আরবীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেও অনেক প্রথিতযশা জ্ঞানীর উদ্ভব হয়েছে। কুরাইশরা তাদের সকল উপগোত্রের মধ্যে দৈহিক অবয়ব, চরিত্র, বাকপটুতা, মেধা, প্রজ্ঞা ও উপস্থিত বুদ্ধির দিক থেকে আরবদের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ছিল। যেমন তারা ইসমাইল (আ.)-এর বংশধারায় বিশুদ্ধতম এবং আল্লাহর ঘরের সেবা ও তাদের নানাবিধ শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আরবদের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ছিল। সুতরাং এই সকল বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি, যা ইসলামের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে, তা কুরাইশদেরকে এই যোগ্য করে তুলেছে যেন আরবদের ঐক্য তাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়; আর অনারব জাতিগুলোর মধ্য থেকে যারা ইসলামে প্রবেশ করবে, তাদের ক্ষেত্রে তো এটি আরও অগ্রগণ্য। বিশেষ করে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ (النص) আসার পর এবং তাঁর সাহাবীদের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
عَلَيْهِ، فحكمة جعله صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ خلَافَة نبوته فِيهَا وَسَببه أَمْرَانِ (الأول) كَثْرَة المزايا الَّتِي تَنْتَشِر بهَا الدعْوَة، وَتَكون بِسَبَب طباع الْبشر سَببا لجمع الْكَلِمَة، وَمنع الْمُعَارضَة والمزاحمة أَو ضعفها، وَكَذَلِكَ كَانَ، فَإِن النَّاس أذعنوا لَهُم على تنازعهم وَكَثْرَة من لم يقم بأعباء الْخلَافَة مِنْهُم وَلَا أَخذهَا بِحَقِّهَا فَلم يَكُونُوا يَبْتَغُونَ بديلا من فَرد أَو بَيت مِنْهُم، إِلَّا إِلَى آخر مِنْهُم، وَكَانَ افتئات بعض الْأَعَاجِم على بعض العباسيين فسقا على الشَّرْع واعتداء على الْحُقُوق الْعَامَّة كَسَائِر أَنْوَاع الاعتداء على الْأَمْوَال والأعراض (وَالثَّانِي) أَن تكون إِقَامَة الْإِسْلَام متسلسلة فِي سلائل أول من تلقاها ودعا إِلَيْهَا ونشرها حَتَّى لَا يَنْقَطِع اتِّصَال سَيرهَا الْمَعْنَوِيّ والتاريخي، فَإِن الْحُقُوق الْخَاصَّة من الْملَل والأمم وليدة التَّارِيخ وربيبته.

ألم تروا أَن سيرة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين تعد هِيَ الْمثل الْأَعْلَى لأحكام الْكتاب وَالسّنة النَّبَوِيَّة وهديهما، وَأَن سيرة الْخُلَفَاء الْمَدَنِيين من الأمويين والعباسيين الَّذين نشرُوا الْفُنُون والعلوم ورقوا الحضارة فِي الشرق والغرب تعد أصل المَدنِيَّة الإسلامية وسندها؟ أَو لم تروا أَن صلَة الْعَالم الإسلامي بمهد الْإِسْلَام الموضعي (الْحجاز) تعد فِي الدرجَة الثَّانِيَة لصلته بكتابه وسنته، حَتَّى إِن الْخَلِيفَة الَّذِي نصبته الدولة التركية الجديدة فِي الآستانة، قد لقب نَفسه بخادم الْحَرَمَيْنِ الشريفين كالسلاطين الَّذين كَانَ الْحجاز خاضعا لَهُم؟

ألم تعلمُوا أَن الْإِسْلَام على حُرِّيَّته وسماحته قد خص الْحجاز أَو جَزِيرَة الْعَرَب بألا يبْقى فِيهَا دينان وَأوصى بذلك النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فِي آخر حَيَاته؟ ألم يبلغكم أَن بعض المؤرخين من غير الْمُسلمين قَالَ: لَو أَن الْجَيْش الَّذِي فتح جنوب فرنسا بعد فتح الأندلس كَانَ كُله أَو أَكْثَره عَرَبيا لملك أوربا كلهَا ودان لَهُ أَهلهَا، وَإِنَّمَا انْتقض الإفرنج عَلَيْهِ لِأَن أَكْثَره كَانَ من البربر الَّذين لم يفهموا الْإِسْلَام وَلم يلتزموا أَحْكَامه فِي حفظ العهود وَالْعدْل وَعدم الاعتداء على الْأَمْوَال والأعراض كالعرب، أَفَرَأَيْتُم لَو جعل الْإِسْلَام خلَافَة النُّبُوَّة مشَاعا وتغلب عَلَيْهَا الْعَجم من الْقُرُون الأولى أَكَانَ يحفظ الْإِسْلَام ولغته كَمَا حفظ بنشر خلفاء قُرَيْش لَهُ من برهم وفاجرهم؟ وَهَذَا بحث يَتَّسِع المجال لشرحه وَلَكِن فِي غير هَذَا الْمقَال الَّذِي نُرِيد أَن يكون بِقدر الْحَاجة الطارئة.
তাঁর ওপর [সালাত ও সালাম] বর্ষিত হোক; তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের খিলাফত তাঁদের মধ্যে ন্যস্ত করার হিকমত ও কারণ ছিল দুটি: (প্রথমত) অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের সমাহার যার মাধ্যমে দাওয়াত বিস্তৃত হয় এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগত কারণে যা ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোধ বা তা দুর্বল করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবেও তাই ঘটেছিল। মানুষ তাঁদের মধ্যে বিদ্যমান মতভেদ এবং তাঁদের অনেকের খিলাফতের গুরুদায়িত্ব পালনে অক্ষমতা কিংবা তা যথাযথভাবে গ্রহণ না করা সত্ত্বেও তাঁদের আনুগত্য স্বীকার করেছিল। তারা তাঁদের পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের বিকল্প খুঁজত না, বরং তাঁদেরই একজনের পরিবর্তে অন্যজনকে গ্রহণ করত। আব্বাসীয়দের কারো ওপর অনারবদের হঠকারিতা ছিল শরীয়াহর (شرع) দৃষ্টিতে পাপাচার এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী এক জঘন্য অপরাধ, যেমনটি ধন-সম্পদ ও সম্মানের ওপর অন্যান্য সব ধরনের আক্রমণ হয়ে থাকে। (দ্বিতীয়ত) ইসলামের এই প্রতিষ্ঠা যেন তাঁদেরই বংশধারার মধ্যে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে যারা সর্বপ্রথম এটি গ্রহণ করেছিলেন, এর দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং এর প্রচার ঘটিয়েছিলেন, যাতে ইসলামের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ধারার অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) বজায় থাকে। কারণ বিভিন্ন মিল্লাত ও উম্মতের বিশেষ অধিকারসমূহ মূলত ইতিহাসের গর্ভেই জন্ম নেয় এবং পরিপুষ্ট হয়।

আপনারা কি দেখেননি যে, খোলাফায়ে রাশেদীনের জীবনীই হলো আল্লাহর কিতাব ও নববী সুন্নাহর (سنة) বিধান (أحكام) ও নির্দেশনার এক সর্বোচ্চ আদর্শ? আর উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের মতো সভ্যতা নির্মাণকারী খলিফাদের জীবনী—যাঁরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে শিল্প ও বিজ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছিলেন এবং সভ্যতাকে উন্নত শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন—তা-ই কি ইসলামি সভ্যতার মূল ভিত্তি ও সনদ (سند) হিসেবে বিবেচিত নয়? আপনারা কি দেখেন না যে, ইসলামের ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দু হিজাজের সাথে ইসলামি বিশ্বের সম্পর্ক আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) সম্পর্কের পরে দ্বিতীয় স্তরে অবস্থান করে? এমনকি আস্তানা তথা ইস্তাম্বুলে নব্য তুর্কি রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত খলিফাও নিজেকে 'খাদেমুল হারামাইন আশ-শরিফাইন' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, যেমনটি হিজাজ যাদের শাসনাধীন ছিল সেই পূর্ববর্তী সুলতানগণ করতেন।

আপনারা কি জানেন না যে, ইসলাম তার বিশালতা ও উদারতা সত্ত্বেও হিজাজ বা আরব উপদ্বীপকে (جزيرة العرب) এই বিশেষত্ব দান করেছে যে, সেখানে যেন দুটি ধর্ম অবশিষ্ট না থাকে? নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তেও এ বিষয়ে অসিয়ত করে গেছেন। আপনাদের নিকট কি এ সংবাদ পৌঁছেনি যে, জনৈক অমুসলিম ইতিহাসবিদ বলেছেন: আন্দালুস বিজয়ের পর দক্ষিণ ফ্রান্স বিজয়কারী সেনাবাহিনী যদি সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ আরবীয় হতো, তবে তারা সমগ্র ইউরোপ জয় করত এবং ইউরোপবাসী তাদের অনুগত হতো। মূলত ইউরোপীয়রা তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল কারণ সেই বাহিনীর অধিকাংশ ছিল বারবার গোত্রের, যারা আরবের ন্যায় ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা, ইনসাফ কায়েম এবং ধন-সম্পদ ও সম্মানের ওপর হস্তক্ষেপ না করার মতো বিধানগুলো (أحكام) যথাযথভাবে মেনে চলেনি। আপনারা কি ভেবে দেখেছেন, ইসলাম যদি নবুওয়াতের খিলাফতকে উন্মুক্ত করে দিত এবং প্রথম শতাব্দীগুলোতেই অনারবরা এর ওপর বিজয়ী হতো, তবে কি ইসলাম ও তার ভাষা এমনভাবে সংরক্ষিত থাকত যেমনটি কুরাইশ খলিফাদের দ্বারা সংরক্ষিত হয়েছে—চাই তারা নেককার হোক কিংবা পাপিষ্ঠ? এটি এক সুদীর্ঘ তাত্ত্বিক আলোচনা যার ব্যাখ্যার ক্ষেত্র অনেক প্রশস্ত, তবে এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য কেবল বিদ্যমান প্রয়োজনটুকু পূরণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَقد أورد بعض فضلاء الْعَصْر شُبْهَة على جعل الْخلَافَة فِي قُرَيْش بِأَنَّهَا تعَارض مَا جَاءَ بِهِ الْإِسْلَام من الْمُسَاوَاة وَمن نزع العصبية وتسييد طَائِفَة مُعينَة على سَائِر الْمُسلمين بل جعلهَا كالشبهة الَّتِي أوردهَا بعض الْعلمَاء على الشِّيعَة الَّذين يحصرونها فِي العلويين من أَنَّهَا تفتح بَاب الطعْن فِي الْإِسْلَام لغير الْمُؤمنِينَ بزعمهم أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] إِنَّمَا أسس ملكا لأهل بَيته، وكل ذَلِك ظَاهر الْبطلَان، كَمَا بَيناهُ فِي مَوضِع آخر من الْمنَار. فَإِن قُريْشًا بطُون كَثِيرَة مُتَفَرِّقَة وَكَانَ بَينهَا من التعادي فِي الْجَاهِلِيَّة مَا بَين غَيرهَا من قبائل الْعَرَب وبطونها وَمِنْه عَدَاوَة بني عبد شمس لبني هَاشم الَّتِي خفيت بعد فتح النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] لمَكَّة وتأليفه لأبي سُفْيَان كَبِير بني أُميَّة وَفِي خلَافَة أبي بكر وَعمر، وَبَدَأَ الاستعداد لإظهارها فِي خلَافَة عُثْمَان وأظهرها مُعَاوِيَة بعده. وَلم يَتَجَدَّد لقريش شَأْن فِي زمن الرَّاشِدين لم يكن لَهَا وَلَا فِي زمن الأمويين والعباسيين، إِلَّا أَن الأمويين كَانَت عِنْدهم عصبية لأهل بَيتهمْ ثمَّ للعربية فمقتهم الْعَالم الإسلامي وقلبهم قبل أَن يستكمل ملكهم قرنا وَاحِدًا.

وَلم يكن لبني تَمِيم فِي خلَافَة أبي بكر وَلَا لبني عدي فِي خلَافَة عمر أدنى امتياز على أحد من أقرانهم، ونزوان بني أُميَّة على مصَالح الْأمة فِي زمَان عُثْمَان كَانَ بِسَبَب ضعفه، بنعرة عصبية مِنْهُ، وَلم يغْفر لَهُ الرَّأْي الإسلامي الْعَام هَذَا بل هاج النَّاس عَلَيْهِ حَتَّى كَانَ ذَلِك تمهيداً لتمكن أَصْحَاب الدسائس الْخفية فِي الْإِسْلَام من قَتله، أعنى دسائس حزب عبد الله بن سبأ الْيَهُودِيّ. . وَالْمَجُوس مثيري الْفِتَن فِي الْإِسْلَام. وَقد روى أَن الإِمَام الْعَادِل الْعَاقِل عمر حذر عُثْمَان وعلياً وَعبد الرَّحْمَن من مثل هَذَا الإيثار للأقارب الْمنَافِي لهدى الْإِسْلَام والمفضي إِلَى فَسَاد الْأَمر. . فَقَالَ لَهُم لما جعل الْأَمر من السِّتَّة: إِن النَّاس لن يعدوكم أَيهَا الثَّلَاثَة، فَإِن كنت يَا عُثْمَان فِي شَيْء من أَمر النَّاس فَاتق الله وَلَا تحملن بني أُميَّة وَبني أبي معيط على رِقَاب النَّاس، وَإِن كنت يَا عَليّ فَاتق الله وَلَا تحملن بني هَاشم على رِقَاب النَّاس، وَقَالَ لعبد الرَّحْمَن مثل ذَلِك. . ذكره الْحَافِظ فِي شرح البُخَارِيّ، وَقَوله إِن النَّاس لن يعدوكم مبْنى على الْقَاعِدَة الَّتِي قررناها وَهِي أَن أَمر الْخلَافَة للْأمة لَا للستة الزعماء الَّذين أَرَادَ عمر جمع كلمة الْأمة بِجمع كلمتهم، لعلو مكانتهم فِيهَا بمناقبهم، على أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] قد أوعد قُريْشًا فِي بعض الْأَحَادِيث بانتقام الله مِنْهُم إِذا لم يقيموا الْحق وَالْعدْل وَالرَّحْمَة كَمَا

বর্তমান যুগের কিছু বিজ্ঞ ব্যক্তি কুরাইশদের মধ্যে খেলাফত সীমাবদ্ধ করার বিধানের বিষয়ে একটি সংশয় (شبهة) উত্থাপন করেছেন। তাদের দাবি হলো, এটি ইসলামের সাম্য নীতি, গোত্রীয় পক্ষপাতের মূলোৎপাটন এবং সকল মুসলমানের ওপর একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের পরিপন্থী। তারা এটিকে সেই সংশয়ের (شبهة) সাথে তুলনা করেছেন যা কিছু আলিম শিয়াদের বিরুদ্ধে উত্থাপন করেন—যারা খেলাফতকে কেবল আলীয় (আলী রা.-এর বংশধর) বংশে সীমাবদ্ধ মনে করেন। তাদের মতে, এটি অবিশ্বসীদের কাছে ইসলামের বিরুদ্ধে সমালোচনার পথ উন্মুক্ত করে দেয়; তাদের ধারণা অনুযায়ী নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কেবল তাঁর আহলে বায়তের জন্য একটি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ এসবই স্পষ্টত বাতিল (باطل), যেমনটি আমরা আল-মানার-এর অন্য স্থানে ব্যাখ্যা করেছি। কারণ, কুরাইশ ছিল বহু বিচ্ছিন্ন উপগোত্রের সমষ্টি। জাহেলি যুগে তাদের নিজেদের মধ্যে তেমন শত্রুতা বিদ্যমান ছিল যেমনটি আরবের অন্যান্য গোত্র ও উপগোত্রগুলোর মাঝে থাকত। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বনু আবদে শামস ও বনু হাশেমের শত্রুতা, যা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মক্কা বিজয় এবং বনু উমাইয়ার প্রধান আবু সুফিয়ানের মন তুষ্টির পর, এবং আবু বকর ও উমরের খেলাফতের সময় প্রচ্ছন্ন ছিল। উসমানের খেলাফতের সময় এই শত্রুতা প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয় এবং মুয়াবিয়া তাঁর পরে তা প্রকাশ করেন। খুলাফায়ে রাশেদীনের আমলে কুরাইশদের জন্য এমন কোনো নতুন প্রভাব-প্রতিপত্তি সৃষ্টি হয়নি যা আগে ছিল না, এমনকি উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের আমলেও নয়; তবে উমাইয়াদের মধ্যে প্রথমে তাদের পরিবার এবং পরবর্তীতে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতি অন্ধ আসক্তি (عصبية) কাজ করেছিল। ফলে মুসলিম বিশ্ব তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে এবং এক শতাব্দী পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের রাজত্বের পতন ঘটায়।

আবু বকরের খেলাফতকালে বনু তামিমে বা উমরের খেলাফতকালে বনু আদিতে তাদের সমসাময়িক কারো ওপর সামান্যতম বিশেষ অধিকার ছিল না। উসমানের সময়ে উম্মতের স্বার্থের ওপর বনু উমাইয়ার চড়াও হওয়ার কারণ ছিল তাঁর কোমলতা এবং তাঁদের পক্ষ থেকে বংশীয় আভিজাত্যের হুংকার। ইসলামের সাধারণ জনমত এটিকে ক্ষমা করেনি, বরং জনগণ তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত ইসলামের অভ্যন্তরে গোপন ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য তাঁকে হত্যা করার পথ সুগম করে। আমি এখানে ইহুদি আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা এবং মজুসিদের ষড়যন্ত্রের কথা বোঝাচ্ছি, যারা ইসলামের অভ্যন্তরে ফিতনা (فتنة) উস্কে দিয়েছিল। বর্ণিত হয়েছে যে, ন্যায়পরায়ণ ও প্রাজ্ঞ ইমাম উমর; উসমান, আলী এবং আব্দুর রহমান (রা.)-কে আত্মীয়-স্বজনের প্রতি এ জাতীয় পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন যা ইসলামের হিদায়াতের পরিপন্থী এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। যখন তিনি খেলাফতের বিষয়টি ছয় জনের কমিটির ওপর ন্যস্ত করলেন, তখন তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "হে এই তিন ব্যক্তি! মানুষ তোমাদের অতিক্রম করে যাবে না। সুতরাং হে উসমান, তুমি যদি মুসলিমদের বিষয়ের কোনো দায়িত্বে আসো, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং বনু উমাইয়া ও বনু আবি মুআইতকে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিও না। আর হে আলী, তুমি যদি দায়িত্বে আসো, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং বনু হাশেমকে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিও না।" তিনি আব্দুর রহমানকেও অনুরুপ কথা বলেছিলেন। হাফেজ (الحافظ) এটি বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। উমরের উক্তি "মানুষ তোমাদের অতিক্রম করবে না" আমাদের নির্ধারিত সেই মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, খেলাফতের বিষয়টি মূলত উম্মতের অধিকারভুক্ত; কেবল সেই ছয় জন নেতার জন্য নয় যাদের সংহতির মাধ্যমে উমর উম্মতের ঐক্য নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কারণে। তদুপরি, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কিছু হাদিসে কুরাইশদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়েছেন যদি তারা সত্য, ন্যায় ও দয়া প্রতিষ্ঠা না করে...

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
شرعها، وَالْأَحَادِيث فِي ذَلِك مُتعَدِّدَة مِنْهَا قَوْله [صلى الله عليه وسلم]

" يَا معشر قُرَيْش إِنَّكُم أهل هَذَا الْأَمر مالم تحدثُوا فَإِذا غيرتم بعث الله عَلَيْكُم من يلحاكم كَمَا يلحى الْقَضِيب " رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى عَن ابْن مَسْعُود بِسَنَد رِجَاله ثِقَات وَله طَرِيق آخر بِلَفْظ آخر وشواهد وَمِنْهَا " الْأُمَرَاء من قُرَيْش مَا عمِلُوا فِيكُم بِثَلَاث - مَا رحموا إِذا استرحموا، واقسطوا إِذا قسموا، وَعدلُوا إِذا حكمُوا " رَوَاهُ الْحَاكِم عَن أنس بِسَنَد حسن. .

هَذَا وَإِن العباسيين لم يحملوا بني هَاشم على رِقَاب النَّاس بل كَانُوا أَشد من بني أُميَّة وَطْأَة على العلويين الَّذين هم خيارهم وفضلوا الْفرس ثمَّ التّرْك على الْعَرَب، وَأما العلويون فَكَانُوا أزهد النَّاس فِي الدُّنْيَا وملكها، وَلَوْلَا ذَلِك لسعوا لَهَا سعيها، وَمن صَحَّ مِنْهُ الْهوى أرشد للحيل، وَلم يتول أحد مِنْهُم الْإِمَامَة بعد أَن نزل عَنْهَا الإِمَام الْحسن السبط عليه السلام إِلَّا أَئِمَّة الزيدية فِي الْيمن فَكَانُوا وَمَا زَالُوا أفضل وَأَعْدل أهل بَيت تولوها بعد الرَّاشِدين. . وَأما أدارسة الْمغرب فيلقبون بالسلاطين وَأما العبيديون فَكَانُوا أدعياء فِي النّسَب وَفِي الْإِسْلَام أَيْضا. .

وَجُمْلَة القَوْل أَن الشعوبية أوردوا شُبُهَات كَثِيرَة على الْعَرَب وعَلى قُرَيْش وَأجَاب عَنْهَا الْعلمَاء كَابْن قُتَيْبَة وَغَيره، وَلكُل قوم محامد ومساوئ وَدين الله فَوق كل شَيْء وَمَا صَحَّ دَلِيله وأجمعت عَلَيْهِ الْأمة أَو سوادها الْأَعْظَم فِي خير الْقُرُون لَا نقبل رَأيا وَلَا بحثا فِي نقضه، وَإِلَّا لم يبْق لنا شَيْء من ديننَا، وَمَا كَانَت أهواء العصبية والمحاباة فِي الدّين إِلَّا فتْنَة لنا، وضارة بعربنا وعجمنا، وَإِن جهل ذَلِك الكثيرون منا، وَإِن حِكْمَة الشَّارِع [صلى الله عليه وسلم] فِي جعل خلَافَة نبوته فِي قُرَيْش منزهة عَن العصبية الْجَاهِلِيَّة الَّتِي حرمهَا، ولبابها مَكَان قُرَيْش من هَذَا الدّين وَكتابه وَنبيه ولغته وَأَهْلهَا. . إِذْ لم تقم لَهُ قَائِمَة إِلَّا بدعوتهم ولغتهم، ثمَّ لم يَخْدمه أحد من الْأَعَاجِم إِلَّا من أتقنها، فخدمه أَولا من استعرب من الْفرس وَغَيرهم، ثمَّ جدد قُوَّة دولته العثمانيون من التّرْك، بعد أَن مزق شَمله وأضعفه سلفهم، وسنبين بعد مَا يجب لَهُ علينا وَعَلَيْهِم. .

‌‌صِيغَة الْمُبَايعَة:

 

الْإِمَامَة عقد تحصل بالمبايعة من أهل الْحل وَالْعقد لمن اختاروه إِمَامًا للْأمة بعد التشاور بَينهم، وَالْأَصْل فِي الْبيعَة أَن تكون على الْكتاب وَالسّنة وَإِقَامَة الْحق وَالْعدْل من قبله وعَلى السّمع وَالطَّاعَة فِي الْمَعْرُوف من قبلهم. فَفِي الصَّحِيح أَن عبد الرَّحْمَن
এটি বিধিবদ্ধ করেছেন, এবং এ বিষয়ে বহু হাদিস রয়েছে। এর মধ্যে [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বাণী:

"হে কুরাইশ বংশীয়রা! তোমরা এই বিষয়ের (খিলাফতের) অধিকারী, যতক্ষণ না তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করো। তবে তোমরা যদি তা পরিবর্তন করো, তবে আল্লাহ তোমাদের ওপর এমন লোক নিয়োগ করবেন যারা তোমাদের এমনভাবে ছিলে ফেলবে যেমন গাছের ডাল ছিলে ফেলা হয়।" এটি আহমাদ এবং আবু ইয়ালা ইবনে মাসউদ থেকে এমন একটি সনদের (بإسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)। অন্য শব্দে (لفظ) এর আরেকটি পথ (طريق) এবং আরও কিছু শাহেদ বা সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। এর মধ্যে আরও রয়েছে: "কুরাইশরা হলো শাসক, যতক্ষণ তারা তোমাদের মাঝে তিনটি কাজ করবে—যখন দয়া চাওয়া হবে তখন দয়া করবে, যখন বণ্টন করবে তখন ইনসাফ করবে এবং যখন ফয়সালা করবে তখন ন্যায়বিচার করবে।" এটি হাকেম আনাস থেকে একটি হাসান (حسن) সনদের (بإسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

বাস্তবতা হলো এই যে, আব্বাসীয়রা বনী হাশিমকে মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়নি, বরং তারা আলওয়ীদের (আলী বংশধর) ওপর বনী উমাইয়াদের চেয়েও কঠোর ছিল, যদিও আলওয়ীরাই ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। তারা আরবদের ওপর পারস্যবাসী এবং পরবর্তীতে তুর্কিদের অগ্রাধিকার প্রদান করেছিল। পক্ষান্তরে আলওয়ীরা দুনিয়া ও এর রাজত্বের প্রতি সবচেয়ে বেশি বিমুখ বা জাহিদ ছিলেন; অন্যথা তাঁরা এর জন্য প্রচেষ্টা চালাতেন। যার প্রবৃত্তি সঠিক পথে থাকে তাকেই কৌশলের পথ দেখানো হয়। ইমাম হাসান আল-সিবত (আলাইহিস সালাম) ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর ইয়েমেনের যাইদি ইমামগণ ব্যতীত তাঁদের বংশের আর কেউ ইমামতের (إمامة) দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তাঁরা খোলাফায়ে রাশেদীনের (الراشدين) পর আহলে বাইতের মধ্যে খিলাফতের দায়িত্ব পালনকারী সবচেয়ে উত্তম ও ন্যায়পরায়ণ ছিলেন এবং এখনো আছেন। মরক্কোর ইদ্রিসীরা সুলতান উপাধিতে ভূষিত হতেন, আর উবায়দীরা বংশ পরিচয় এবং ইসলামের দাবির ক্ষেত্রেও ছিল ভণ্ড।

সারকথা হলো, শুউবিয়্যাহ গোষ্ঠী আরব ও কুরাইশদের বিরুদ্ধে অনেক সংশয় (شبهات) উত্থাপন করেছে, যেগুলোর জবাব ইবনে কুতাইবা ও অন্যান্য আলেমগণ দিয়েছেন। প্রতিটি জাতিরই কিছু প্রশংসা ও কিছু দোষ থাকে, কিন্তু আল্লাহর দ্বীন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সর্বোত্তম শতাব্দীগুলোতে (القرون) উম্মত (الأمة) বা তাদের বৃহৎ গোষ্ঠী (السواد الأعظم) যার ওপর ঐক্যমত্য (أجمعت) পোষণ করেছে এবং যার দলিল (دليل) সহিহ (صح) প্রমাণিত হয়েছে, তার বিপরীতে আমরা কোনো মত বা গবেষণাকে গ্রহণ করি না; অন্যথা আমাদের দ্বীনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ধর্মের ক্ষেত্রে গোত্রীয় সংকীর্ণতা ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রবৃত্তি আমাদের জন্য ফিতনা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এটি আমাদের আরব-অনারব সবার জন্যই ক্ষতিকর, যদিও আমাদের অনেকেই তা জানে না। জাহেলিয়াতের যে গোত্রবাদকে শারি' [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হারাম করেছেন, কুরাইশদের মধ্যে নবুয়তের খিলাফত নির্ধারণের পেছনে তাঁর হিকমত সেই সংকীর্ণতা থেকে পবিত্র। এর মূল ভিত্তি হলো এই দ্বীন, এর কিতাব, নবী, ভাষা এবং অনুসারীদের মধ্যে কুরাইশদের বিশেষ অবস্থান। কারণ তাদের দাওয়াত ও ভাষা ব্যতীত এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হতো না। অতঃপর অনারবদের মধ্য থেকে তারাই দ্বীনের সেবা করেছে যারা এই ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছে। প্রথমে পারস্য ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে যারা আরবি ভাষা গ্রহণ করেছিল তারা সেবা করেছে, আর পরবর্তীতে তুর্কি উসমানীয়রা এই রাষ্ট্রের শক্তি পুনরুজ্জীবিত করেছে—যদিও তাদের পূর্বসূরিরাই একে ছিন্নভিন্ন ও দুর্বল করেছিল। তাদের প্রতি আমাদের এবং আমাদের প্রতি তাদের কী কর্তব্য রয়েছে তা আমরা পরে বর্ণনা করব।

‌‌বায়াতের (আনুগত্যের শপথ) পদ্ধতি:

 

ইমামত (إمامة) হলো একটি চুক্তি যা 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'-এর (أهل الحل والعقد) পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য মনোনীত ব্যক্তির প্রতি পারস্পরিক পরামর্শের পর বায়াতের (مبايعة) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বায়াতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং নেতার পক্ষ থেকে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের পক্ষ থেকে ন্যায়সঙ্গত কাজে শোনা ও আনুগত্য করা। সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুর রহমান...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ابْن عَوْف قَالَ فِي مبايعته لعُثْمَان: أُبَايِعك على سنة الله وَرَسُوله والخليفتين من بعده، وَبَايَعَهُ النَّاس على ذَلِك. وَإِن النَّاس لما اجْتَمعُوا على عبد الْملك بن مَرْوَان بعد قتل عبد الله بن الزبير بَايعه عبد الله بن عمر رضي الله عنه بعد أَن امْتنع عَن مبايعتهما مَعًا لأجل الْخلاف والتفرقة. فَكتب إِلَيْهِ: إِنِّي أقرّ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَة لعبد الله عبد الْملك أَمِير الْمُؤمنِينَ على سنة الله وَرَسُوله فِيمَا اسْتَطَعْت، وَإِن بَنِى ّ قد أقرُّوا بذلك.

وَكَانَ الصَّحَابَة يبايعون النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] على السّمع وَالطَّاعَة فِي المنشط وَالْمكْره وَقَول الْحق وَالْقِيَام بِهِ فِيمَا اسْتَطَاعُوا وَعدم عصيانه فِي الْمَعْرُوف، كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي مبايعة النِّسَاء لَهُ (وَلَا يعصِينك فِي مَعْرُوف) وَقد صَحَّ أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] هُوَ الَّذِي كَانَ يلقنهم قيد الِاسْتِطَاعَة عِنْد الْمُبَايعَة وَقد بَايعُوهُ أَيْضا على الْإِسْلَام وعَلى الْهِجْرَة وعَلى الْجِهَاد وَالصَّبْر وَعدم الْفِرَار من الْقِتَال وعَلى بيعَة النِّسَاء المنصوصة فِي الْقُرْآن. وَالْأَحَادِيث فِي هَذَا مَعْرُوفَة فِي الصَّحِيحَيْنِ وَالسّنَن. نخص بِالذكر مِنْهَا حَدِيث عبَادَة بن الصَّامِت الْمُتَّفق عَلَيْهِ وَلَفظه كَمَا فِي كتاب الْفِتَن من البُخَارِيّ: دَعَانَا النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فَبَايعْنَا فَقَالَ فِيمَا أَخذ علينا أَن بَايعنَا على السّمع وَالطَّاعَة فِي منشطنا ومكرهنا وعسرنا ويسرنا وأثره علينا وَألا ننازع الْأَمر أَهله

" إِلَّا أَن تروا كفرا بواحا عنْدكُمْ من الله فِيهِ برهَان " وَلَفظه فِي بَاب الْمُبَايعَة من كتاب الْأَحْكَام " بَايعنَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] على السّمع وَالطَّاعَة فِي المنشط وَالْمكْره وَألا ننازع الْأَمر أَهله، وَأَن نقوم وَأَن نقُول بِالْحَقِّ حَيْثُمَا كُنَّا لَا نَخَاف فِي الله لومة لائم " قَالَ الْحَافِظ فِي شرح حَدِيث البُخَارِيّ فِي الْمُبَايعَة على السّمع وَالطَّاعَة الَّذِي تقدم فِي الأَصْل عِنْد قَوْله فِيهِ من كتاب الْفِتَن " وَألا ننازع الْأَمر أَهله " أَي الْملك والإمارة. .

وَجُمْلَة القَوْل أَن الْعلمَاء اتَّفقُوا على وجوب الْخُرُوج على الإِمَام بالْكفْر وَاخْتلفُوا فِي الظُّلم وَالْفِسْق لتعارض الْأَدِلَّة وَمِنْهَا سد ذَرِيعَة الْفِتْنَة وَالتَّحْقِيق الْمُخْتَار أَن على الْأَفْرَاد الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر بشروطهما دون الْخُرُوج على ولي الْأَمر بِالْقُوَّةِ، وَأما أهل الْحل وَالْعقد فَيجب عَلَيْهِم مَا يرَوْنَ فِيهِ الْمصلحَة الراجحة حَتَّى الْقِتَال وَقد تقدم النَّقْل فِي هَذَا فِي مَسْأَلَة سلطة الْأمة وسنعود إِلَيْهِ فِي بحث مَا يخرج بِهِ الإِمَام عَن الْخلَافَة. .
ইবনে আউফ (রা.) উসমানের (রা.) বায়আত গ্রহণের সময় বলেছিলেন: “আমি আপনার কাছে আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী দুই খলিফার আদর্শের ওপর বায়আত গ্রহণ করছি।” মানুষ এই ভিত্তিতেই তাঁর বায়আত গ্রহণ করেছিল। আর আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের (রা.) শাহাদাতের পর যখন মানুষ আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের ওপর ঐক্যবদ্ধ হলো, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর বায়আত গ্রহণ করলেন; অথচ ইতিপূর্বে ইখতিলাফ ও অনৈক্যের কারণে তিনি উভয়ের বায়আত গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: “আমি আমিরুল মুমিনিন আল্লাহর বান্দা আব্দুল মালিকের প্রতি সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর শ্রবণ ও আনুগত্যের স্বীকৃতি প্রদান করছি। আর আমার সন্তানেরাও এর স্বীকৃতি দিয়েছে।”

সাহাবায়ে কেরাম নবী করীম (সা.)-এর হাতে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সর্বাবস্থায় শ্রবণ ও আনুগত্য করার, সত্য কথা বলার এবং সাধ্যানুযায়ী সত্যের ওপর অটল থাকার ও সৎ কাজে অবাধ্য না হওয়ার শর্তে বায়আত গ্রহণ করতেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা নারীদের বায়আত প্রসঙ্গে বলেছেন: “এবং তারা যেন সৎ কাজে আপনার অবাধ্য না হয়।” এটি বিশুদ্ধ (صحيح) রূপে প্রমাণিত যে, নবী করীম (সা.) স্বয়ং বায়আতের সময় তাঁদেরকে ‘সাধ্যানুযায়ী’ হওয়ার শর্তটি শিখিয়ে দিতেন। তাঁরা ইসলাম, হিজরত, জিহাদ, ধৈর্য এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে না পালানোর ওপরও বায়আত গ্রহণ করেছিলেন; আর কুরআনে বর্ণিত নারীদের বায়আতের শর্তেও। এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সহিহাইন এবং সুনান গ্রন্থসমূহে সুপরিচিত। আমরা বিশেষভাবে উবাদাহ ইবনে সামিতের (রা.) হাদিসটি উল্লেখ করছি যা সর্বসম্মত (متفق عليه)। এর শব্দাবলি বুখারির কিতাবুল ফিতান-এ এভাবে বর্ণিত হয়েছে: “নবী করীম (সা.) আমাদের ডাকলেন এবং আমরা তাঁর বায়আত গ্রহণ করলাম। তিনি আমাদের কাছ থেকে যে অঙ্গীকারগুলো নিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল: আমরা যেন সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায়, কষ্টে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আমাদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিস্থিতিতেও শ্রবণ ও আনুগত্য করি, আর যেন নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হই।”

“যতক্ষণ না তোমরা প্রকাশ্য কুফরি দেখতে পাও, যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।” আর কিতাবুল আহকাম-এর বায়আত অধ্যায়ে এর শব্দাবলি হলো: “আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সর্বাবস্থায় শ্রবণ ও আনুগত্যের এবং নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়ার বায়আত গ্রহণ করেছি। আর আমরা যেখানেই থাকি না কেন, যেন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি ও সত্য কথা বলি এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া না করি।” হাফেজ (ইবনে হাজার) বুখারির কিতাবুল ফিতান-এ বর্ণিত শ্রবণ ও আনুগত্যের বায়আত সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় “নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে যেন বিবাদে লিপ্ত না হই” অংশটি সম্পর্কে বলেছেন: অর্থাৎ রাজত্ব ও নেতৃত্ব।

সারকথা হলো, উলামায়ে কেরাম ইমাম বা শাসকের কুফরির কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তবে জুলুম ও ফাসেকির কারণে বিদ্রোহ করার বিষয়ে দলিলাদির বৈপরীত্যের কারণে তাঁরা মতভেদ করেছেন; যার অন্যতম কারণ হলো ফিতনার পথ রুদ্ধ করা। এ বিষয়ে নির্বাচিত ও সঠিক বিশ্লেষণ (تحقيق) হলো, সাধারণ ব্যক্তিদের দায়িত্ব হলো শর্তসাপেক্ষে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা, কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা তাদের কাজ নয়। তবে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর ওপর ওয়াজিব হলো তারা যাতে বৃহত্তর কল্যাণ দেখেন তা পালন করা, এমনকি যুদ্ধ হলেও। উম্মাহর কর্তৃত্বের মাসআলায় ইতিপূর্বে এ সংক্রান্ত উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে এবং শাসক কী কারণে খিলাফত থেকে বিচ্যুত হন সে আলোচনায় আমরা পুনরায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌مَا يجب على الْأمة بالمبايعة:

 

وَمَتى تمت الْمُبَايعَة وَجب بهَا على الْمُبَايِعين وَسَائِر الْأمة بالتبع لَهُم الطَّاعَة للْإِمَام فِي غير مَعْصِيّة الله والنصرة لَهُ، وقتال من بغى عَلَيْهِ أَو استبد بِالْأَمر دونه، وَسَيَأْتِي الْكَلَام على دَار الْعدْل وَالْجَمَاعَة، وَمَا يتَعَلَّق بهَا كَحكم الْهِجْرَة. .

وأهم مَا يجب التَّذْكِير بِهِ من طَاعَة الإِمَام الْحق على كل مُسلم وَكَذَا إِمَام الضَّرُورَة أَو التغلب على كل من بَايعه بِالذَّاتِ وَمن لَزِمته بيعَة أهل الْحل وَالْعقد - أَدَاء زَكَاة المَال والأنعام وَالزَّرْع وَالتِّجَارَة - وَالْجهَاد الْوَاجِب وجوبا كفائيا على مَجْمُوع الْأمة وَالْوَاجِب وجوبا عينيا على أفرادها رجَالًا وَنسَاء على مَا هُوَ مُبين فِي كتب الْفِقْه، كَمَا يجب عَلَيْهِم طَاعَة من ولاهم أَمر الْبِلَاد من الْوُلَاة السياسيين والقضاة وقواد الجيوش دون غَيرهم، وَيجب على هَؤُلَاءِ الخضوع لَهُ فِيمَا يُقيد بِهِ سلطتهم وَفِي عَزله إيَّاهُم إِذا عزلهم، وَالشّرط الْعَام فِي الطَّاعَة أَلا تكون فِي مَعْصِيّة لله تَعَالَى وَالْأَحَادِيث الصَّحِيحَة فِي هَذَا مَعْرُوفَة وَمجمع على مَعْنَاهَا. .

وَمن الْأَخْبَار والْآثَار الَّتِي يحسن إيرادها هُنَا مَا رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه عَن عبد الرَّحْمَن بن عبد رب الْكَعْبَة قَالَ: دخلت الْمَسْجِد فَإِذا عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ جَالس فِي ظلّ الْكَعْبَة وَالنَّاس مجتمعون عَلَيْهِم فأتيتهم فَجَلَست إِلَيْهِ فَقَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي سفر فنزلنا منزلا فمنا من يصلح خباءه وَمنا من ينتضل وَمنا من هُوَ فِي جشره إِذْ نَادَى مُنَادِي رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] " الصَّلَاة جَامِعَة " فَاجْتَمَعْنَا إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ:

" إِنَّه لم يكن نَبِي قبلي إِلَّا كَانَ حَقًا عَلَيْهِ أَن يدل أمته على خير مَا يُعلمهُ لَهُم وَيُنْذرهُمْ شَرّ مَا يُعلمهُ لَهُم، وَإِن أمتكُم هَذِه جعل عَافِيَتهَا فِي أَولهَا، وسيصيب آخرهَا بلَاء وَأُمُور تنكرونها، وتجئ فتْنَة فيرقق بَعْضهَا بَعْضًا وتجئ الْفِتْنَة فَيَقُول الْمُؤمن هَذِه مهلكتي ثمَّ تنكشف وتجئ الْفِتْنَة فَيَقُول الْمُؤمن هَذِه هَذِه، فَمن أحب أَن يزحزح عَن النَّار وَيدخل الْجنَّة فلتأته منيته وَهُوَ يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر وليأت إِلَى النَّاس الَّذِي يجب أَن يُؤْتى إِلَيْهِ. . وَمن بَايع إِمَامًا فَأعْطَاهُ صَفْقَة يدة، وَثَمَرَة
বাইয়াত বা আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে উম্মতের ওপর যা ওয়াজিব হয়:

 

যখন আনুগত্যের শপথ বা মুবায়াত সম্পন্ন হয়, তখন শপথ গ্রহণকারী এবং তাদের অনুগামী হিসেবে অবশিষ্ট উম্মতের ওপর আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে ইমামের আনুগত্য করা এবং তাঁকে সাহায্য করা ওয়াজিব হয়ে যায়। সেইসাথে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী অথবা তাঁর অগোচরে ক্ষমতা দখলকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করাও ওয়াজিব হয়। ন্যায়বিচারের আবাসস্থল (দারুল আদল), জামাত এবং হিজরতের বিধানের মতো সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সামনে আলোচনা করা হবে।

প্রত্যেক মুসলিমের ওপর হক ইমামের আনুগত্যের ক্ষেত্রে এবং একইভাবে নিরুপায় অবস্থায় বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ইমামের আনুগত্যের ক্ষেত্রে—যিনি স্বয়ং তাঁকে বাইয়াত করেছেন অথবা যাঁর ওপর আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-এর (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ) বাইয়াত বাধ্যতামূলক হয়েছে—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া আবশ্যক তা হলো: সম্পদের জাকাত, গবাদিপশু, ফসল ও ব্যবসার জাকাত আদায় করা এবং জিহাদ সম্পন্ন করা; যা উম্মতের সামগ্রিক অবস্থার ওপর ফরজে কিফায়া এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে নারী-পুরুষের ওপর ফরজে আইন। অনুরূপভাবে, তাদের ওপর সেই সব রাজনৈতিক শাসক, বিচারক এবং সেনাপতিদের আনুগত্য করাও ওয়াজিব যাদেরকে ইমাম দেশের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই কর্মকর্তাদের ওপরও ইমামের আনুগত্য করা ওয়াজিব; ইমাম তাদের ক্ষমতার যে সীমা নির্ধারণ করে দেবেন তা মেনে চলা এবং পদচ্যুত করলে তা গ্রহণ করা তাদের দায়িত্ব। আনুগত্যের ক্ষেত্রে সাধারণ শর্ত হলো তা যেন মহান আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে না হয়। এ বিষয়ে সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ সুপরিচিত এবং সেগুলোর অর্থের ওপর ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত।

এখানে উল্লেখ করার মতো উত্তম সংবাদ ও আসার (آثار) সমূহের মধ্যে একটি হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আব্দুর রহমান ইবনে আবদ রাব্বিল কাবা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) কাবার ছায়ায় বসে আছেন এবং তাঁর চারপাশে মানুষ সমবেত হয়েছে। আমি তাঁদের কাছে গিয়ে তাঁর পাশে বসলাম। তখন তিনি বললেন: আমরা এক সফরে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সাথে ছিলাম। আমরা এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করলাম। আমাদের কেউ তাবু ঠিক করছিল, কেউ তীরের লক্ষ্যভেদ অনুশীলন করছিল, আবার কেউ পশুপাল চরাচ্ছিল। এমন সময় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর ঘোষণাকারী উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: "আস-সালাতু জামিআহ" (সালাত সমবেত হতে যাচ্ছে)। তখন আমরা আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে সমবেত হলাম। তিনি বললেন:

"নিশ্চয়ই আমার পূর্বে এমন কোনো নবী অতিবাহিত হননি যাঁদের ওপর এই দায়িত্ব ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতের জন্য যে কল্যাণ সম্পর্কে জানেন তা তাদের দেখিয়ে দেবেন এবং যে অকল্যাণ সম্পর্কে জানেন তা থেকে তাদের সতর্ক করবেন। আর তোমাদের এই উম্মতের নিরাপত্তা ও প্রশান্তি এর প্রথমাংশে রাখা হয়েছে এবং এর শেষাংশে বালা-মুসিবত ও এমন সব আপত্তিকর বিষয় প্রকাশ পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে। এমন সব ফিতনা আসবে যে একটি অন্যটিকে তুচ্ছ করে দেবে (অর্থাৎ পরেরটি আগেরটির চেয়ে ভয়াবহ হবে)। একটি ফিতনা আসবে তখন মুমিন বলবে, 'এটিই আমার ধ্বংসের কারণ।' এরপর তা দূর হয়ে যাবে। আবার অন্য একটি ফিতনা আসবে তখন মুমিন বলবে, 'এটাই সেই চরম ফিতনা'। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করে, তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে সে আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে। আর মানুষের সাথে সে তদ্রূপ আচরণ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। আর যে ব্যক্তি কোনো ইমামের কাছে বাইয়াত করে এবং তাঁর হাতে হাত রেখে আনুগত্যের অঙ্গীকার করে এবং অন্তরের নিষ্ঠা..."
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قلبه. . فليطعه إِن اسْتَطَاعَ فَإِن جَاءَ آخر ينازعه فاضربوا عنق الآخر " فدنوت مِنْهُ فَقلت لَهُ: أنْشدك الله آنت سَمِعت هَذَا من رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ؟ فَأَهوى إِلَى أُذُنَيْهِ وَقَلبه بيدَيْهِ وَقَالَ سمعته أذناي ووعاه قلبِي، فَقلت لَهُ هَذَا ابْن عمك مُعَاوِيَة يَأْمُرنَا أَن نَأْكُل أَمْوَالنَا بَيْننَا بِالْبَاطِلِ ونقتل أَنْفُسنَا وَالله يَقُول {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالكُم بَيْنكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تكون تِجَارَة عَن ترَاض مِنْكُم وَلَا تقتلُوا أَنفسكُم إِن الله كَانَ بكم رحِيما} قَالَ فَسكت سَاعَة ثمَّ قَالَ: أطعه فِي طَاعَة الله وأعصه فِي مَعْصِيّة الله. .

وَقد أعز الله الْبشر بِالْإِسْلَامِ، وَمُقْتَضى الْكتاب وَالسّنة أَنه لَا طَاعَة وَلَا خضوع فِيهِ إِلَّا لله تَعَالَى، وَطَاعَة الرَّسُول من طَاعَته لقَوْله: {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله} وَطَاعَة أولى الْأَمر كَذَلِك لقَوْله: {وأولي الْأَمر مِنْكُم} وَلذَلِك اشْترط فِيهَا أَن تكون فِي تَنْفِيذ أصُول شَرعه أَو فروعه. . وَقد قَالَ بعض أُمَرَاء بني أُميَّة لبَعض عُلَمَاء التَّابِعين: أَلَيْسَ الله قد أَمركُم بِأَن تطيعونا فِي قَوْله: {وأولي الْأَمر مِنْكُم} ؟ فَقَالَ لَهُ: أَلَيْسَ قد نزعت عَنْكُم - يَعْنِي الطَّاعَة - إِذْ خالفتم الْحق بقوله: {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} ؟ نَقله الْحَافِظ فِي الْفَتْح: قَالَ وَمن بديع الْجَواب وَذكره. . على أَن أولى الْأَمر هُنَا الْجَمَاعَة أَي الْأمة كَمَا تقدم. .

‌‌مَا يجب على الإِمَام للملة وَالْأمة:

 

يجب على الإِمَام نشر دَعْوَة الْحق، وَإِقَامَة ميزَان الْعدْل، وحماية الدّين من الاعتداء والبدع، والمشاورة فِي كل مَا لَيْسَ فِيهِ نَص، وَهُوَ مسئول عَن عمله يُرَاجِعهُ كل أحد من الْأمة فِيمَا يرَاهُ أَخطَأ فِيهِ، يحاسبه عَلَيْهِ أهل الْحل وَالْعقد، وَقد قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم]

" الإِمَام الَّذِي على النَّاس رَاع وَهُوَ مسئول عَن رَعيته " رَوَاهُ الشَّيْخَانِ من حَدِيث لِابْنِ عمر وَغَيرهمَا. . وَقد بَين الْمَاوَرْدِيّ مَا يجب عَلَيْهِ فِي متأخرها أَشد مِمَّا قبله، فيعد الْمُتَقَدّم رَقِيقا بِالْإِضَافَة إِلَى مَا بعده. . عشر قَوَاعِد كُلية لم يذكر مِنْهَا مَسْأَلَة الْمُشَاورَة، على كَثْرَة النُّصُوص فِيهَا، واستفاضة آثَار الرَّاشِدين فِي الجري عَلَيْهَا، اتبَاعا لما صَحَّ من عمل النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] بهَا، قَالَ: " وَالَّذِي يلْزمه من الْأُمُور الْعَامَّة عشر أَشْيَاء:
...তাঁর অন্তরে। সুতরাং সে যেন সাধ্যানুযায়ী তাঁর আনুগত্য করে। আর যদি অন্য কেউ তাঁর সাথে বিবাদ করতে আসে, তবে সেই অন্যের গর্দান উড়িয়ে দাও।" আমি তখন তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং তাঁকে বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি কি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে এটি শুনেছেন? তখন তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে কান ও হৃদয়ের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: আমার দুই কান এটি শুনেছে এবং আমার অন্তর এটি ধারণ করেছে। আমি তাঁকে বললাম, আপনার এই চাচাতো ভাই মুআবিয়াহ আমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন যেন আমরা নিজেদের মধ্যে অবৈধ পন্থায় একে অপরের সম্পদ গ্রাস করি এবং নিজেদের হত্যা করি, অথচ আল্লাহ বলছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে কোনো ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা; আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।} বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর বললেন: আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে তুমি তাঁর অনুসরণ করো এবং আল্লাহর নাফরমানির ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ্য হও।

আল্লাহ তাআলা ইসলাম দ্বারা মানবজাতিকে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহর দাবি হলো, মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রতি নিরঙ্কুশ আনুগত্য বা মস্তক নত করা যাবে না। রাসুলের আনুগত্য মূলত আল্লাহরই আনুগত্য, কারণ আল্লাহ বলেছেন: {যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল}। একইভাবে উলুল আমর বা দায়িত্বশীলদের আনুগত্যও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ আল্লাহ বলেছেন: {এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী)}। এই কারণেই এই আনুগত্যের শর্ত হলো, তা শরিয়তের মূলনীতি বা শাখাগত বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হতে হবে। বনু উমাইয়ার কোনো এক আমির জনৈক তাবিঈ আলেমকে বলেছিলেন: আল্লাহ কি আপনাদেরকে আমাদের আনুগত্যের নির্দেশ দেননি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী)}? তাবিঈ তাকে উত্তর দিলেন: যখন আপনারা সত্যের বিরোধিতা করেছেন, তখন কি আপনাদের থেকে সেই আনুগত্যের দায়ভার প্রত্যাহার করা হয়নি? কারণ আল্লাহ বলেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো}। হাফিজ (الحافظ) এটি ফাতহুল বারীতে উদ্ধৃত করেছেন এবং একে এক চমৎকার উত্তর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে, এখানে উলুল আমর বলতে 'জামাত' তথা উম্মতকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

‌‌মিল্লাত ও উম্মতের প্রতি ইমামের আবশ্যিক কর্তব্য:

 

ইমামের জন্য সত্যের দাওয়াত প্রচার করা, ইনসাফের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা, আক্রমণ ও বিদআত (بدعة) থেকে দ্বীনকে রক্ষা করা এবং যে সকল বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নস (نص) নেই তাতে পরামর্শ করা আবশ্যক। তিনি তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ এবং উম্মতের যে কেউ তাঁর ভুল দেখলে তাঁকে জবাবদিহি করতে পারবে; 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' তাঁর হিসাব গ্রহণ করবেন। রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "মানুষের ওপর দায়বদ্ধ ইমাম একজন রাখাল বা অভিভাবক এবং তিনি তাঁর প্রজাসাধারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।" এটি শাইখাইন ইবনে ওমরের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-মাওয়ার্দি ইমামের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ বর্ণনা করেছেন, যার পরবর্তী ধাপগুলো পূর্বের চেয়েও কঠিন, ফলে পরবর্তীগুলোর তুলনায় পূর্বের দায়িত্বগুলো সহজ মনে হয়। তিনি দশটি সামষ্টিক মূলনীতি উল্লেখ করেছেন, যদিও তাতে পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করেননি—অথচ এ বিষয়ে প্রচুর নস (نص) বিদ্যমান এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের আসার (آثار) এর প্রাচুর্য রয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বিশুদ্ধ (صحيح) আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত। তিনি বলেন: "জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্যে দশটি বিষয় তাঁর ওপর আবশ্যক:"