(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: -)
الجوهر النفيس في سياسة الرئيس القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: الجوهر النفيس في سياسة الرئيس
المؤلف: ابن الحداد محمد بن منصور بن حبيش (ت بعد 673هـ)
الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز - مكة / الرياض
الطبعة: الأولى، 1996م
عدد الصفحات: 184
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-জাওহারুন নাফিস ফি সিয়াসাতিল রাইস বিভাগ: সিয়াসা শরইয়্যাহ ও বিচার বিভাগ
গ্রন্থ: আল-জাওহারুন নাফিস ফি সিয়াসাতিল রাইস
লেখক: ইবনুল হাদ্দাদ মুহাম্মাদ বিন মানসুর বিন হুবাইশ (মৃত্যু ৬৭৩ হিজরির পর)
প্রকাশক: মাকতাবা নিজার মুস্তফা আল-বাজ - মক্কা / রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم)الْحَمد لله مانح الْمُلُوك رياسة الْبِلَاد، وموليهم سياسة الْعباد ومؤيدهم بالنصر على الأضداد، من أهل الشقاق والعناد، وواعدهم على المعدلة حسن الْعَاقِبَة فِي الْمعَاد: {إِن الله لَا يخلف الميعاد} [آل عمرَان: 9] ، أَحْمَده على مَا أنعم وَأفَاد وأشكره شكرا لَيْسَ لَهُ نفاد، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، شَهَادَة أخْلص لَهُ فِيهَا اللِّسَان والفؤاد، وَأشْهد أَن محمداُ عَبده وَرَسُوله النَّاسِخ الضَّلَالَة بالرشاد، صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله الأمجاد وَأَصْحَابه الزهاد، صَلَاة لَا ينْحَصر لَهَا تعداد.
أما بعد: فَإِن من وصف الرياسة الْعدْل فِي السياسة، لتعمر الْبِلَاد ويأمن الْعباد، ويصخ الْفساد، وتجري الْأُمُور على وفْق السداد، وتنتعش الرّعية، وتقوى على أَدَاء الْفَرَائِض الشَّرْعِيَّة، وَتلك رَحْمَة من الله أودعها قُلُوب الْوُلَاة والملوك، لينصفوا بَين الْمَالِك والمملوك والغني والصعلوك.
والسياسة سياستان: سياسة الدّين، وسياسة الدُّنْيَا.
فسياسة الدّين، مَا أدّى إِلَى قَضَاء الْغَرَض.
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বাদশাহদের দেশ শাসনের কর্তৃত্ব দান করেছেন, তাঁদেরকে বান্দাদের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন এবং বিভেদকামী ও হঠকারী শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে তাঁদের শক্তিশালী করেছেন। তিনি ন্যায়বিচারের বিনিময়ে পরকালে উত্তম পরিণামের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না} [আলে ইমরান: ৯]। তাঁর প্রদত্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর প্রতি এমন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি যার কোনো শেষ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা আমার রসনা ও অন্তরের ঐকান্তিক নিষ্ঠাপ্রসূত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি সঠিক পথের মাধ্যমে ভ্রষ্টতাকে বিলুপ্ত করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর মহিমান্বিত পরিবার ও সংসারবিরাগী সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর এমন রহমত বর্ষিত হোক যা গণনাাতীত।
অতঃপর: নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার কায়েম করা, যেন দেশ আবাদ হয় এবং প্রজাসাধারণ নিরাপদ থাকে, আর সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা দূরীভূত হয়; যাতে যাবতীয় বিষয় সঠিক পথে পরিচালিত হয়, প্রজাসাধারণ সমৃদ্ধি লাভ করে এবং শরয়ি বিধানসমূহ পালনে শক্তি ও সামর্থ্য অর্জন করতে পারে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত যা তিনি শাসক ও বাদশাহদের অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন, যেন তাঁরা মালিক ও মালিকানাধীন এবং ধনী ও নিঃস্বদের মধ্যে ইনসাফ কায়েম করতে পারেন।
শাসননীতি দুই প্রকার: দ্বীনি শাসননীতি এবং পার্থিব শাসননীতি।
দ্বীনি শাসননীতি হলো তা-ই, যা মূল উদ্দেশ্য সাধনের দিকে নিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
وسياسة الدُّنْيَا، مَا أدّى إِلَى عمَارَة الأَرْض، وَكِلَاهُمَا يرجعان إِلَى الْعدْل الَّذِي بِهِ سَلامَة السُّلْطَان وَعمارَة الْبلدَانِ، لِأَن من ترك الْفَرْض ظلم نَفسه، وَمن خرب الأَرْض ظلم غَيره. قَالَ أفلاطون الْحَكِيم: بِالْعَدْلِ ثبات الْأَشْيَاء وبالجور زَوَالهَا.
وَلما كَانَ الْعدْل هُوَ ميزَان الله فِي أرضه، وَبِه يتَوَصَّل إِلَى أَدَاء فَرْضه، بادرت إِلَى جمع لمْعَة فِيمَا ورد من محَاسِن الْعدْل والسياسة لِذَوي النفاسة، وأرباب الرياسة وجعلتها كتابا ووسمته " بالجوهر النفيس فِي سياسة الرئيس "، وَكَانَ الَّذِي حداني على ذَلِك: مَا انْتَشَر فِي الْبِلَاد واشتهر بَين الْعباد، من حسن سيرة الْمولى الْأَمِير الْكَبِير الأسعد الأمجد، الْعَالم، الْعَادِل، الْكَامِل، الزَّاهِد، العابد، الْمُجَاهِد، أخص الْخَواص الْعَامِل بالإخلاص، كَهْف الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين، ملك الْأُمَرَاء والمقدمين، خَالِصَة أَمِير الْمُؤمنِينَ، سعد الدُّنْيَا وَالدّين ولي الدولة البدرية وصفي المملكة الرحيمية، خلد الله سلطانها وَأَعْلَى فِي الدَّاريْنِ مَكَانهَا وإمكانها، أحسن الله عاقبته وأبد ولَايَته فِي الْبِلَاد، وَجَمِيل سيرته ومعدلته بَين الْعباد، وَالْعَمَل بِالْعَدْلِ والإفضال وَالْفضل، وَحب الصَّدقَات وَفعل الْخيرَات والتنفيس عَن المكروبين، وَالْإِحْسَان إِلَى جَمِيع الْمُسلمين المقيمين بمقره والنازحين، وإغاثة الملهوف وتحبيس الْوُقُوف، وَإِعْطَاء الجزيل وإسداء الْجَمِيل، وتتبع فعل
এবং পার্থিব রাজনীতি, যা পৃথিবী আবাদের দিকে পরিচালিত করে; আর এই উভয় বিষয়ই সেই ন্যায়পরায়ণতার (العدل) দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যার মাধ্যমে শাসকের নিরাপত্তা ও দেশসমূহের আবাদ হওয়া নিশ্চিত হয়। কারণ, যে ব্যক্তি অপরিহার্য বিধান পরিত্যাগ করল সে নিজের ওপর জুলুম করল, আর যে পৃথিবী ধ্বংস করল সে অন্যের ওপর জুলুম করল। প্রাজ্ঞ দার্শনিক প্লেটো বলেছেন: ন্যায়পরায়ণতার (العدل) মাধ্যমে বস্তুসমূহ স্থায়িত্ব লাভ করে এবং অন্যায়ের মাধ্যমে তা বিলীন হয়ে যায়।
যেহেতু ন্যায়পরায়ণতা (العدل) হলো আল্লাহর জমিনে তাঁর দাড়ি পাল্লা, যার মাধ্যমে তাঁর অপরিহার্য বিধান পালনের পথ উন্মোচিত হয়, তাই আমি আভিজাত্য ও নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়পরায়ণতা (العدل) ও রাজনীতির সৌন্দর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার একটি সারসংক্ষেপ সংকলন করতে উদ্যোগী হয়েছি। আমি একে একটি গ্রন্থে রূপ দিয়েছি এবং এর নাম রেখেছি "আল-জাওহার আন-নাফিস ফি সিয়াসাত আর-রাইস"। এই কাজে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এবং জনগণের মাঝে সুপরিচিত হওয়া সেই মহান আমীর, পরম সৌভাগ্যবান ও মর্যাদাবান, বিজ্ঞ আলেম, ন্যায়নিষ্ঠ (العادل), পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী সম্পন্ন, সংসারবিরাগী (الزاهد), ইবাদতকারী (العابد), জিহাদকারী (المجاهد), বিশিষ্টজনদের মধ্যে অতি বিশিষ্ট, একনিষ্ঠতার সাথে আমলকারী, দরিদ্র ও মিসকিনদের আশ্রয়স্থল, আমীর ও অগ্রগামীদের অধিপতি, আমীরুল মুমিনীনের খাস অনুসারী, দুনিয়া ও দ্বীনের সৌভাগ্যস্বরূপ, বাদরিয়া রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং রহিমীয়াহ সালতানাতের মনোনীত ব্যক্তিত্বের উত্তম জীবনচরিত। আল্লাহ তাঁর শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং উভয় জগতে তাঁর মর্যাদা ও সামর্থ্যকে উচ্চকিত করুন। আল্লাহ তাঁর শেষ পরিণাম শুভ করুন এবং দেশজুড়ে তাঁর কর্তৃত্ব এবং জনগণের মাঝে তাঁর সুন্দর জীবনধারা ও ন্যায়পরায়ণতাকে (العدل) চিরস্থায়ী করুন। তিনি ন্যায়পরায়ণতা (العدل), বদান্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে কাজ করেন; দান-সদকা ও কল্যাণমূলক কাজ করতে ভালোবাসেন; বিপদগ্রস্তদের দুঃখ লাঘব করেন; স্বদেশে অবস্থানরত এবং প্রবাসী সকল মুসলিমের প্রতি ইহসান করেন; আর্তের আর্তনাদ শোনেন ও ওয়াক্ফসমূহ বলবৎ রাখেন; অকাতরে দান করেন ও সদাচরণ প্রদর্শন করেন এবং সৎকর্মের অনুসরণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২০)
الْخيرَات بِمَا لَا يُحْصى من جَمِيع الْجِهَات على دوَام الْأَوْقَات راجياً مَا عِنْد الله يَوْم الْفَصْل والميقات ثَوابًا موفوراً: {يَوْم تَجِد كل نفس مَا عملت من خير محضرا} [آل عمرَان: 30] .
بلغه الله الآمال فِي الدُّنْيَا والمآل، وأدام دولته، وَحفظ مهجته، وأعز أنصاره، وضاعف اقتداره وَأحسن إِلَيْهِ بإحسانه إِلَيْنَا، وأنعم عَلَيْهِ بإنعامه علينا بِمُحَمد وَآله الطاهرين، وَأَصْحَابه المنتجبين. وَلما تمّ هَذَا الْكتاب كالدر والعقيان فِي نحور الحسان، حَملته خدمَة مني لمحروس خزانته العامرة وَنعمته الغامرة، لِيَزْدَادَ من حسن سيرته، وَجَمِيل معدلته، وَتلك نعْمَة أنعمها الله عَلَيْهِ، ليؤدي شكرها إِلَيْهِ.
ثَبت الله قَوَاعِد سُلْطَانه وأيده بتأييد أعوانه، وتولاه فِيمَا ولاه بِمُحَمد وَمن اصطفاه.
وبنيت أصُول هَذَا الْكتاب على عشرَة أَبْوَاب: الْبَاب الأول فِي فضل الْعدْل من ذَوي الْفضل
সকল দিক থেকে সকল সময়ে অসংখ্য কল্যাণ লাভ করে আল্লাহ তাআলার নিকট ফয়সালা ও নির্ধারিত দিনে পরিপূর্ণ প্রতিদানের প্রত্যাশা করছি: {সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি যা কিছু নেক আমল করেছে, তা উপস্থিত দেখতে পাবে} [আল ইমরান: ৩০]।
আল্লাহ তাআলা ইহকাল ও পরকালে তাঁর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করুন, তাঁর রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী করুন, তাঁর প্রাণ রক্ষা করুন, তাঁর সাহায্যকারীদের সম্মানিত করুন, তাঁর ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের প্রতি তাঁর ইহসানের মাধ্যমে তাঁর প্রতিও ইহসান করুন এবং আমাদের প্রতি নেয়ামত দানের মাধ্যমে তাঁর প্রতিও নেয়ামত দান করুন; মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও মনোনীত সাহাবীবর্গের ওসিলায়। যখন এই কিতাবটি সুন্দরীদের গ্রীবায় মুক্তা ও স্বর্ণালঙ্কারের ন্যায় পূর্ণতা লাভ করল, তখন আমি তাঁর সুরক্ষিত সমৃদ্ধ ভাণ্ডার ও অঢেল নেয়ামতের খিদমতে এটি পেশ করলাম, যেন তাঁর উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ন্যায়পরায়ণতা (عدل) আরও বৃদ্ধি পায়; আর এটি এমন এক নেয়ামত যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন, যাতে তিনি তাঁর শোকর আদায় করতে পারেন।
আল্লাহ তাঁর সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করুন, তাঁর সাহায্যকারীদের মাধ্যমে তাঁকে শক্তিশালী করুন এবং তাঁকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তাতে তাঁকে অভিভাবকত্ব দান করুন; মুহাম্মদ (সা.) এবং যাঁদের তিনি মনোনীত করেছেন তাঁদের ওসিলায়।
আমি এই কিতাবের মূলনীতি (أصول) দশটি অধ্যায়ের ওপর বিন্যস্ত করেছি: প্রথম অধ্যায়—মর্যাদাবান ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার (عدل)-এর ফযীলত সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الْبَاب الثَّانِي فِي فضل السياسة من أَرْبَاب الرياسة الْبَاب الثَّالِث فِي فضل الْحلم والأناة من الْمُلُوك والولاة الْبَاب الرَّابِع فِي فضل الْعَفو المشوب بالصفو الْبَاب الْخَامِس فِي اصطناع الْمَعْرُوف إِلَى الْمَجْهُول وَالْمَعْرُوف الْبَاب السَّادِس فِي مَكَارِم الْأَخْلَاق من متوفري الخلاق الْبَاب السَّابِع فِي السؤدد والمروة من ذَوي الْفضل والفتوة الْبَاب الثَّامِن فِي حسن الْخلق من الْخلق الْبَاب التَّاسِع فِي فضل المشورة من ذَوي الآراء الْبَاب الْعَاشِر فِي فضل السخاء والجود الْمفضل فِي الْوُجُود وَالله تَعَالَى الْمَسْئُول فِي بُلُوغ المأمول، إِنَّه ولي الْإِجَابَة وَمَوْضِع الطّلبَة مِنْهُ، وَطوله وقوته وَحَوله.
দ্বিতীয় অধ্যায়: নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের শাসননীতির (السياسة) ফযিলত প্রসঙ্গে। তৃতীয় অধ্যায়: রাজা ও শাসকদের সহিষ্ণুতা (الحلم) ও ধীরস্থিরতার (الأناة) ফযিলত প্রসঙ্গে। চতুর্থ অধ্যায়: স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা মিশ্রিত ক্ষমার (العفو) ফযিলত প্রসঙ্গে। পঞ্চম অধ্যায়: পরিচিত ও অপরিচিত সকলের প্রতি সদাচরণ (المعروف) করা প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ অধ্যায়: উন্নত চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিদের সৎচরিত্রের (مكارم الأخلاق) গুণাবলী প্রসঙ্গে। সপ্তম অধ্যায়: গুণী ও বীরত্বপরায়ণ ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব (السؤدد) ও মহানুভবতা (المروة) প্রসঙ্গে। অষ্টম অধ্যায়: সৃষ্টির মধ্যে সচ্চরিত্রের (حسن الخلق) সৌন্দর্য প্রসঙ্গে। নবম অধ্যায়: প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শের (المشورة) ফযিলত প্রসঙ্গে। দশম অধ্যায়: অস্তিত্বের জগতে শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে দানশীলতা (السخاء) ও উদারতার (الجود) ফযিলত প্রসঙ্গে। আর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মহান আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্যকারী; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারী এবং সকল যাচনার আধার। সকল অনুগ্রহ, শক্তি ও সামর্থ্য কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২২)
(الْبَاب الأول)
(فِي فضل الْعدْل من ذَوي الْفضل)رُوِيَ فِي " الْخَبَر الْجَلِيّ " عَن الْجَانِب الْمُقَدّس النَّبَوِيّ أَنه قَالَ [صلى الله عليه وسلم] : " الْعدْل ميزَان الله فِي الأَرْض فَمن أَخذ بِهِ قَادَهُ إِلَى الْجنَّة، وَمن تَركه قَادَهُ إِلَى النَّار ".
وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " يَوْم من أَيَّام إِمَام عَادل أفضل من عبَادَة سِتِّينَ سنة ". قلت: وناهيك مِنْهَا حَالَة على كل الْأَحْوَال فاخرة، تزين دنيا وَتثبت آخِرَة، أوفت عبَادَة العابدين مقَاما، إِذا نَالَتْ محاولها أَفْخَر مَآلًا وأشرف مقَاما، وَذَلِكَ أَن الْعدْل صفة من صِفَات الْخَالِق، وَرَحْمَة مَوْجُودَة فِي الْخَلَائق، يقمع سَيْفه كل باغٍ وَعَاد، ويكنف ظله كل ملهوف وصادٍ، وَهُوَ غرس جناه أعذب خير، لِأَن خير الْأَعْمَال مَا تعدى نَفعه إِلَى الْغَيْر وَأَقُول: // (الْكَامِل) //:
(প্রথম অধ্যায়)
(গুণীজনদের ন্যায়বিচার (عدل)-এর ফযীলত সম্পর্কে)আল-খাবার আল-জালি গ্রন্থে পবিত্র নবুওয়াতের পক্ষ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "ন্যায়বিচার (عدل) হলো জমিনে আল্লাহর দাঁড়িপাল্লা; সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, তা তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে, আর যে তা বর্জন করবে, তা তাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেবে।"
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "একজন ন্যায়পরায়ণ (عادل) শাসকের একদিনের সময়কাল ষাট বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।" আমি বলি: এটি সকল অবস্থায় একটি অনন্য বিষয় যা দুনিয়াকে সুশোভিত করে এবং আখেরাতকে নিশ্চিত করে। এটি ইবাদতকারীদের ইবাদতের মর্যাদাকেও ছাড়িয়ে যায় যখন এর অন্বেষণকারী শ্রেষ্ঠ গন্তব্য ও সর্বোত্তম স্থান লাভ করে। আর তা এজন্য যে, ন্যায়বিচার (عدل) হলো মহান স্রষ্টার গুণাবলির একটি গুণ এবং সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান একটি রহমত। এর তলোয়ার প্রত্যেক বিদ্রোহী ও সীমালঙ্ঘনকারীকে দমন করে এবং এর ছায়া প্রত্যেক আর্ত ও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়। এটি এমন এক বৃক্ষ যার ফসল অত্যন্ত সুমিষ্ট ও কল্যাণকর, কারণ সর্বোত্তম আমল সেটিই যার উপকারিতা অন্যের কাছে পৌঁছায়। আর আমি বলছি: // (আল-কামিল) //:
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
(وَالله مَا حلي الإِمَام بحليةٍ
… أبهى من الْإِحْسَان والإنصاف)
(فلسوف يلقى فِي الْقِيَامَة فعله
… مَا كَانَ من كدرٍ أَتَاهُ وصافي)
وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " زين الله السَّمَاء بالشمس وَالْقَمَر وَالْكَوَاكِب، وزين الأَرْض بالعلماء والمطر وَالسُّلْطَان الْعَادِل ".
وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " إِن أفضل مَا يمن الله على عباده الْملك الْخَيْر الْفَاضِل ". وَعَن عبد الله بن عمر _ رضي الله عنهما _ قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " المقسطين عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة على مَنَابِر من نور على يَمِين الرَّحْمَن وكلتا يَدَيْهِ يَمِين، الَّذين يعدلُونَ فِي حكمهم وأهاليهم وَمَا ولوا ". وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء: " بالراعي تصلح الرّعية، وبالعدل تملك الْبَريَّة وَمن عدل فِي سُلْطَانه اسْتغنى عَن أعوانه، وَالظُّلم مسْلبَةٌ النعم، ومجلبة
(আল্লাহর শপথ, কোনো ইমাম বা শাসক এহসান (সদাচরণ) ও ইনসাফ (ন্যায়বিচার) অপেক্ষা অধিকতর চমৎকার কোনো অলঙ্কারে
… ভূষিত হননি)
(অচিরেই কিয়ামতের দিন তিনি নিজের কৃতকর্মের মুখোমুখি হবেন
… চাই তা পঙ্কিল হোক কিংবা পরিচ্ছন্ন)
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "আল্লাহ আকাশকে সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন, আর জমিনকে সুশোভিত করেছেন আলেম সমাজ, বৃষ্টি এবং ন্যায়পরায়ণ সুলতানের মাধ্যমে।"
নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের ওপর শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ হলো কল্যাণকামী ও গুণী শাসক দান করা।" আবদুল্লাহ ইবনে ওমর — রাদিয়াল্লাহু আনহুমা — থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহে করুণাময় আল্লাহর ডান পার্শ্বে অবস্থান করবেন — এবং তাঁর উভয় হাতই ডান — তারা হলেন সেই সব লোক যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবার-পরিজন এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ন্যায়বিচার করে।" জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: "রাখালের (শাসক) মাধ্যমে প্রজাসাধারণ সংশোধিত হয়, আর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সৃষ্টিজগত বশীভূত হয়। যে ব্যক্তি তার শাসনামলে ন্যায়বিচার করে, সে তার সহযোগীদের থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। আর জুলুম হচ্ছে নেয়ামত হরণকারী এবং (বিপদ) আহ্বানকারী..."
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
النقم، وَأقرب الْأَشْيَاء سرعَة الظلوم وأنفذ السِّهَام دَعْوَة الْمَظْلُوم، وَمن سل سيف الْعدوان سلب من السُّلْطَان ". وَقَالَ أرسطاطاليس: " الْحَكِيم الْعَالم بستانٌ، سياجه الدولة، الدولة ولَايَة تحرسها الشَّرِيعَة، الشَّرِيعَة سنة يستنها الْملك الْملك راعٍ يعضده الْجَيْش، الْجَيْش أعوان يكفيهم الرزق، الرزق مَال تجمعه الرّعية، الرّعية عبيد يستعبدهم الْعدْل، الْعدْل مألوف وَهُوَ قوام الْعَالم "، وَكَانَ مَكْتُوبًا على خَاتم كسْرَى أنو شرْوَان: " عدل السُّلْطَان أَنْفَع من خصب الزَّمَان ".
قَالَ الفضيل بن عِيَاض رحمه الله: " إِن الله تَعَالَى لَا يهْلك الرّعية، وَإِن
...বিপদাপদ; আর দ্রুততম বিষয় হলো অত্যাচারীর পতন এবং সর্বাধিক লক্ষ্যভেদকারী তীর হলো মজলুমের প্রার্থনা। যে ব্যক্তি অন্যায়ের তরবারি কোষমুক্ত করে, তার থেকে রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরিস্টটল বলেছেন: "বিজ্ঞ আলেম হলেন একটি উদ্যানস্বরূপ, যার প্রাচীর হলো রাষ্ট্র; রাষ্ট্র হলো এমন এক কর্তৃত্ব যাকে শরীয়াহ (الشريعة) সুরক্ষা দেয়; শরীয়াহ হলো এমন এক সুন্নাহ (سنة) যা রাজা জারি করেন; রাজা হলেন একজন রাখাল যাকে সেনাবাহিনী শক্তিশালী করে; সেনাবাহিনী হলো এমন এক সাহায্যকারী দল যাদের জন্য পর্যাপ্ত জীবিকা আবশ্যক; জীবিকা হলো সেই সম্পদ যা প্রজাসাধারণ একত্রিত করে; প্রজারা হলো ন্যায়বিচারের অনুগত সেবক; আর ন্যায়বিচার হলো সর্বজনবিদিত এবং তা-ই বিশ্বজগতের স্থিতিশীলতার ভিত্তি।" কিসরা আনুশিরওয়ানের আংটিতে খোদাই করা ছিল: "সুলতানের ন্যায়বিচার সময়ের প্রাচুর্যের চেয়েও অধিক উপকারী।"
ফুদায়েল ইবনুল ইয়াজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ প্রজাদের ধ্বংস করেন না, যদিও..."
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
كَانَت ظالمة إِذا كَانَت الْأَئِمَّة هادية مهديةٌ: وَيهْلك الرّعية وَإِن كَانَت هادية مهدية إِذا كَانَت الْأَئِمَّة ظالمة، لِأَن أَعمال الْأَئِمَّة تعلو أَعمال الرّعية ". وروى جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّادِق _ عليهما السلام _ يرفعهُ إِلَى النَّبِي _[صلى الله عليه وسلم]_ أَنه قَالَ: " مَا من ملك يصل رَحمَه، وَذَا قرَابَته، ويعدل فِي رَعيته، إِلَّا شدّ الله ملكه، وأجزل ثَوَابه، وَأكْرم مآبه وخفف حسابه ".
"প্রজাসাধারণ জুলুমের শিকার হয় যখন ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) হিদায়াতকারী ও সৎপথপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও [সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না]; এবং প্রজাসাধারণ ধ্বংস হয়ে যায়—যদিও তারা নিজেরা হিদায়াতপ্রাপ্ত ও সৎপথগামী হয়—যখন ইমামগণ জালিম হন। কারণ ইমামদের কর্মকাণ্ড প্রজাসাধারণের কর্মকাণ্ডের ওপর প্রাধান্য পায়।" জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আলাইহিমাস সালাম) বর্ণনা করেন এবং তিনি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত (يرفعه) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে বাদশাহ তার আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে, তার নিকটাত্মীয়দের প্রতি অনুগ্রহ করে এবং তার প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে, আল্লাহ অবশ্যই তার রাজত্বকে সুসংহত করেন, তার প্রতিদানকে করেন সুমহান, তার প্রত্যাবর্তনস্থলকে করেন মর্যাদাপূর্ণ এবং তার হিসাবকে করেন সহজ।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
(الْبَاب الثَّانِي)
(فِي فضل السياسة من أَرْبَاب الرياسة)رُوِيَ عَن النَّبِي _[صلى الله عليه وسلم]_ أَنه قَالَ: " أَشد النَّاس عذَابا يَوْم الْقِيَامَة رجلٌ أشركه الله فِي سُلْطَانه فجار فِي حكمه ".
وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " من استرعاه الله رعية فَلم يحطهَا بنصيحة لم يرح رَائِحَة الْجنَّة، وَإِن رِيحهَا لتوجد من مسيرَة خَمْسمِائَة عَام ".
وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " كلكُمْ راعٍ وكلكم مسئول عَن رَعيته "، قَالَ رجل للرشيد _ رحمه الله _ فِي بعض غَزَوَاته، وَقد ألح
(দ্বিতীয় অধ্যায়)
(নেতৃত্বের অধিকারীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার মর্যাদা প্রসঙ্গে)নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে কঠিনতম শাস্তির সম্মুখীন হবে সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাঁর রাজত্বে অংশীদার করেছিলেন কিন্তু সে তার বিচারে জুলুম করেছে।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যাকে কোনো প্রজাসাধারণের দায়িত্ব অর্পণ করেন, অতঃপর সে যদি তাদের অকৃত্রিম উপদেশের মাধ্যমে আগলে না রাখে, তবে সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না; যদিও জান্নাতের সুবাস পাঁচশত বছরের পথ দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" জনৈক ব্যক্তি হারুনুর রশীদ - আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন - কে তাঁর কোনো এক যুদ্ধাভিযানে বললেন, যখন সে অত্যন্ত পিড়াপিড়ি করছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
عَلَيْهِم الثَّلج: " أما ترى يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَا نَحن فِيهِ والرعية وَادعَة؟ فَقَالَ: اسْكُتْ على الرّعية الْمَنَام وعلينا الْقيام، وَلَا بُد لِلرَّاعِي من حراسة رَعيته ".
فَقَالَ بعض الشُّعَرَاء فِي ذَلِك: // (الْكَامِل) //:
(غضِبت لغضبتك القواطع والقنا
… لما نهضت لنصرة الْإِسْلَام)
(نَامُوا إِلَى كنفٍ بعد لَك وَاسع
… وسهرت تحرس غَفلَة النوام)
وَقَالَ بَعضهم: " طلب الرياسة صَبر على مضض السياسة " وَقَالَ زِيَاد: " جمال الْولَايَة شدَّة فِي غير إفراط ولين فِي غير إهمال ".
وَقَالَ زِيَاد لحاجبه عجلَان: " قد وليتك بَابي وعزلتك عَن أَربع: طَارق ليل شَرّ مَا جَاءَ بِهِ أم خير، وَرَسُول صَاحب الثغر فَإِنَّهُ إِن تَأَخّر سَاعَة بَطل عمل
তাদের উপর বরফ পড়ছিল: "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি কি দেখছেন না আমরা কীসের মধ্যে আছি, অথচ প্রজারা শান্তিতে রয়েছে? তিনি বললেন: চুপ করো, প্রজাদের কাজ হলো ঘুমানো আর আমাদের কাজ হলো জাগ্রত থাকা; কেননা রাখালের জন্য তার পালের রক্ষণাবেক্ষণ করা অপরিহার্য।"
এ প্রসঙ্গে জনৈক কবি বলেছেন: // (আল-কামিল ছন্দে) //:
(আপনার ক্রোধের কারণে শাণিত তলোয়ার ও বল্লমসমূহ ক্রুদ্ধ হয়েছে
… যখন আপনি ইসলামের সাহায্যের তরে দণ্ডায়মান হয়েছেন।)
(তারা আপনার সুপ্রশস্ত আশ্রয়ে নিশ্চিন্তে নিদ্রা গিয়েছে
… আর আপনি সেই নিদ্রিতদের অসতর্কতার প্রহরী হয়ে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন।)
কেউ কেউ বলেছেন: "নেতৃত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা হলো রাজনীতির যন্ত্রণায় ধৈর্য ধারণ করা।" জিয়াদ বলেছেন: "প্রশাসনের সৌন্দর্য হলো সীমা লঙ্ঘন না করে কঠোরতা অবলম্বন এবং অবহেলা না করে কোমলতা প্রদর্শন।"
জিয়াদ তার দ্বাররক্ষী আজলানকে বলেছিলেন: "আমি তোমাকে আমার দ্বারের দায়িত্ব অর্পণ করেছি, তবে চারটি ক্ষেত্র হতে তোমাকে অব্যাহতি প্রদান করলাম: ১. রাতের বেলা আগত কোনো ব্যক্তি, সে ভালো খবর নিয়ে আসুক কিংবা মন্দ; ২. সীমান্ত অঞ্চলের প্রহরীর বার্তাবাহক, কারণ সে যদি এক মুহূর্ত বিলম্ব করে তবে সমস্ত কর্মকাণ্ড পণ্ড হয়ে যাবে..."
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
سنة، وَهَذَا الْمُنَادِي بِالصَّلَاةِ وَصَاحب الطَّعَام إِذا أدْرك، فَإِن الطَّعَام إِذا أُعِيد عَلَيْهِ التسخين فسد ".
قَالَ أَبُو الْحسن: " لما ولي زِيَاد الْكُوفَة صعد الْمِنْبَر بعد صَلَاة الظّهْر، فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ، ثمَّ قَالَ: أَيهَا النَّاس إِنِّي قد رَأَيْت إعظام ذَوي الشّرف، وإجلال أهل الْعلم، وتوقير ذَوي الْأَسْنَان، وَإِنِّي أعَاهد الله لَا يأتيني شرِيف بوضيع لم يعرف لَهُ شرفه على ضعته إِلَّا عاقبته، وَلَا يأتني كهلٌ بحدثٍ لم يعرف لَهُ فضل سنة إِلَّا عاقبته، وَلَا يأتيني عَالم بجاهل لاحاه فِي علمه ليهجنه عَلَيْهِ إِلَّا عاقبته، فَإِنَّمَا النَّاس بأشرافهم وعلمائهم وَذَوي أسنانهم، ثمَّ تمثل بقول الأفوه الأودي: // (الْبَسِيط) //:
(تهدى الْأُمُور بِأَهْل الرَّأْي مَا صلحت
… وَإِن تولت فبالأشرار تنقاد)
...বছর, আর এই সালাতের আহ্বানকারী এবং খাবারের মালিক যখন তা প্রস্তুত পায়; কেননা খাবার যদি পুনরায় গরম করা হয় তবে তা নষ্ট হয়ে যায়।"
আবুল হাসান বলেন: "জিয়াদ যখন কুফার শাসনভার গ্রহণ করলেন, তখন তিনি জোহরের সালাতের পর মিম্বরে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে লোকসকল! আমি উচ্চমর্যাদাসম্পন্নদের সম্মান করা, আলিমদের শ্রদ্ধা করা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন করাকে অপরিহার্য মনে করি। আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করছি যে, কোনো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যদি এমন কোনো হীন ব্যক্তিকে নিয়ে আমার কাছে আসে যে তার হীনতার বিপরীতে ওই ব্যক্তির মর্যাদা স্বীকার করে না, তবে আমি অবশ্যই তাকে শাস্তি দেব। কোনো প্রৌঢ় ব্যক্তি যদি এমন কোনো যুবকের সাথে আসে যে তার বয়সের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে না, তবে আমি তাকে শাস্তি দেব। আর কোনো আলিম যদি এমন কোনো মূর্খকে নিয়ে আসে যে তার ইলম নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তাকে অপদস্থ করতে চায়, তবে আমি তাকে শাস্তি দেব। কেননা মানুষ তাদের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, আলিম এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের মাধ্যমেই টিকে থাকে। এরপর তিনি আফওয়াহ আল-আওদির এই কবিতাটি উদ্ধৃত করলেন: // (আল-বাসিত) //:
(বিষয়াবলি প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয় যতক্ষণ তা সঠিক থাকে
… আর যদি তারা বিমুখ হয় তবে তা দুরাচারদের দ্বারা চালিত হয়)
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
(لَا يصلح النَّاس فوضى لَا سراة لَهُم
… وَلَا سراة إِذا جهالهم سادوا)
قَالَ أَعْرَابِي: " إِذا كَانَ الرَّأْي عِنْد من لَا يقبله، وَالسِّلَاح عِنْد من لَا يَسْتَعْمِلهُ، وَالْمَال عِنْد من لَا يُنْفِقهُ ضَاعَت الْأُمُور "، وَبلغ بعض الْمُلُوك حسن سياسة ملكٍ، فَكتب إِلَيْهِ: " أفدني بِمَا بلغت هَذَا فَكتب إِلَيْهِ: لم أهزل فِي أمرٍ وَلَا نهيٍ وَلَا وعدٍ وَلَا وعيدٍ، واستكفيت على الْكِفَايَة، وَأثبت على العناء، لَا على الْهوى، وأودعت الْقُلُوب هَيْبَة لم يشبها مقت، ووداً لم يشبه كدرٌ، وعممت بالقوت، ومنعت الفضول ".
(বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের সংশোধন সম্ভব নয় যদি তাদের কোনো নেতৃত্ব না থাকে
… আর কোনো নেতৃত্ব থাকে না যখন তাদের মূর্খরা শাসনভার গ্রহণ করে।)
জনৈক বেদুইন বলেছেন: "যখন সঠিক পরামর্শ এমন ব্যক্তির কাছে থাকে যে তা গ্রহণ করে না, অস্ত্র এমন ব্যক্তির কাছে থাকে যে তা ব্যবহার করে না এবং সম্পদ এমন ব্যক্তির কাছে থাকে যে তা ব্যয় করে না, তখন সকল বিষয় বিনষ্ট হয়ে যায়।" জনৈক রাজার নিকট অন্য এক রাজার উত্তম রাষ্ট্রপরিচালনার সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: "আপনি কিসের মাধ্যমে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন তা আমাকে অবগত করুন।" তিনি প্রতিউত্তরে লিখলেন: "আমি কোনো আদেশ, নিষেধ, প্রতিশ্রুতি কিংবা সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে কৌতুক বা শিথিলতা প্রদর্শন করিনি; আমি যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব অর্পণ করেছি; প্রবৃত্তির বশবর্তী না হয়ে পরিশ্রমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছি; মানুষের হৃদয়ে এমন গাম্ভীর্য সঞ্চার করেছি যাতে কোনো ঘৃণা মিশ্রিত নেই এবং এমন সৌহার্দ্য স্থাপন করেছি যা কোনো মালিন্যে ঘোলাটে হয়নি। আমি জীবনোপকরণকে সর্বজনীন করেছি এবং অতিরিক্ত বিলাসিতা রুদ্ধ করেছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
وَلما أَرَادَ الاسكندر الْخُرُوج إِلَى أقاصي الأَرْض قَالَ لأرسطاطاليس: " أخرج معي قَالَ: قد كل بدني، وضعفت عَن الْحَرَكَة، فَلَا تزعجني، قَالَ: فأوصني فِي عمالي خَاصَّة قَالَ: انْظُر من كَانَ لَهُ مِنْهُم عبيدٌ فَأحْسن سياستهم فوله الْجند، وَمن كَانَت لَهُ ضَيْعَة، فَأحْسن تدبيرها فوله الْخراج ".
وَقَالَ زِيَادٌ: " مَا غلبني مُعَاوِيَة فِي شَيْء من أَمر السياسة إِلَّا فِي شَيْء وَاحِد، وَذَاكَ أَنِّي اسْتعْملت رجلا على " دستميسان " فَكسر الْخراج وَلحق بِمُعَاوِيَة، فَكتبت إِلَيْهِ أسأله أَن يبْعَث بِهِ إِلَيّ فَكتب: بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم، أما بعد: فَإِنَّهُ لَيْسَ يَنْبَغِي لمثلي وَمثلك أَن نسوس النَّاس جَمِيعًا بسياسة وَاحِدَة،
যখন আলেকজান্ডার পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত অভিমুখে যাত্রার সংকল্প করলেন, তখন তিনি এরিস্টটলকে বললেন: "আমার সাথে বের হও।" তিনি বললেন: "আমার শরীর অবসন্ন হয়ে পড়েছে এবং আমি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়েছি, তাই আমাকে বিচলিত করবেন না।" আলেকজান্ডার বললেন: "তবে বিশেষভাবে আমার কর্মকর্তাদের বিষয়ে আমাকে কিছু উপদেশ দিন।" তিনি বললেন: "দেখুন তাদের মধ্যে কার দাস রয়েছে এবং সে তাদের সুচারুভাবে পরিচালনা করে, তাকে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রদান করুন; আর যার ভূ-সম্পত্তি রয়েছে এবং সে তা উত্তমরূপে ব্যবস্থাপনা করে, তাকে রাজস্ব (خراج) আদায়ের দায়িত্ব দিন।"
জিয়াদ বলেন: "রাজনীতির কোনো বিষয়েই মুআবিয়া আমার ওপর জয়ী হতে পারেননি কেবল একটি বিষয় ব্যতীত; আর তা হলো, আমি 'দাস্তামিসান' অঞ্চলে এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছিলাম, সে রাজস্ব (خراج) আত্মসাৎ করে মুআবিয়ার নিকট আশ্রয় নেয়। তখন আমি তাকে আমার কাছে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে তাঁর নিকট পত্র লিখলাম। তিনি উত্তরে লিখলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। অতঃপর: আমার এবং আপনার ন্যায় ব্যক্তিদের জন্য এটি সমীচীন নয় যে, আমরা সকল মানুষকে একটি মাত্র অভিন্ন নীতির মাধ্যমে শাসন করব,"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
وَأَن نشتد جَمِيعًا فنخرهم، أَو نلين جَمِيعًا فنمرجهم وَلَكِن تكون أَنْت إِلَى الفظاظة والغلظة وأكون أَنا أَلِي الرأفة وَالرَّحْمَة، فَإِذا هرب هارب من بَاب وَاحِد وجد بَابا يدْخل فِيهِ، وَالسَّلَام.
سَأَلَ ملك من مُلُوك الْفرس موبذان: " مَا شَيْء وَاحِد يعز بِهِ السُّلْطَان؟ قَالَ: الطَّاعَة، قَالَ: فَمَا سَبَب الطَّاعَة؟ قَالَ: تقريب الْخَاصَّة، وَالْعدْل على الْعَامَّة، قَالَ: فَمَا صَلَاح الْملك؟ قَالَ: الرِّفْق بالرعية، وَأخذ الْحق مِنْهُم، وأداؤه إِلَيْهِم عِنْد أَوَانه، وسد الْفروج، وَأمن السبل، وإنصاف الْمَظْلُوم من الظَّالِم، وَأَن يحرص الْقوي على الضَّعِيف، قَالَ فَمَا صَلَاح الْملك؟ قَالَ: وزراؤه وأعوانه فَإِنَّهُم إِن صلحوا صلح، وَإِن فسدوا فسد.
আর আমাদের সবার কঠোর হওয়া উচিত নয় যাতে আমরা তাদের ভীত করে তাড়িয়ে দেই, অথবা আমাদের সবার কোমল হওয়া উচিত নয় যাতে আমরা তাদের উচ্ছৃঙ্খল করে ফেলি; বরং আপনি রূঢ়তা ও কঠোরতার পথ অবলম্বন করবেন আর আমি দয়া ও করুণার পথ বেছে নেব। ফলে কোনো পলায়নকারী যদি এক দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়, তবে সে পুনরায় প্রবেশের জন্য অন্য একটি দরজা খুঁজে পাবে। ইতি (সালাম)।
পারস্যের রাজাদের মধ্যে এক রাজা তাঁর প্রধান উপদেষ্টাকে (মুবাজান) জিজ্ঞাসা করলেন: "এমন একটি বিষয় কী যার মাধ্যমে সুলতান শক্তিশালী হন?" তিনি বললেন: "আনুগত্য"। তিনি বললেন: "তবে আনুগত্যের কারণ কী?" তিনি বললেন: "বিশিষ্টজনদের সান্নিধ্য প্রদান এবং সাধারণ জনগণের প্রতি ন্যায়বিচার করা"। তিনি বললেন: "রাজত্বের কল্যাণ কিসে?" তিনি বললেন: "প্রজাদের সাথে নম্রতা বজায় রাখা, তাদের থেকে প্রাপ্য অধিকার গ্রহণ করা এবং যথাসময়ে তা তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়া, সীমান্তসমূহ সুরক্ষিত রাখা, পথসমূহ নিরাপদ রাখা, জালিমের হাত থেকে মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং দুর্বলের প্রতি শক্তিমানের যত্নবান হওয়া"। তিনি বললেন: "শাসকের সংশোধন কিসে?" তিনি বললেন: "তাঁর উজির ও সহযোগীদের মাঝে; কারণ তাঁরা যদি সৎ হন তবে তিনিও সৎ হবেন, আর তাঁরা যদি কলুষিত হন তবে তিনিও কলুষিত হবেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
قَالَ: فأية خصْلَة تكون فِي الْملك أَنْفَع؟ قَالَ: صدق النِّيَّة " وَقَالَ الإِمَام عَليّ بن أبي طَالب عليه السلام: " يَنْبَغِي للْملك أَن يعْمل بخصال ثَلَاث: تَأْخِير الْعقُوبَة فِي سُلْطَان الْغَضَب، وتعجيل الْمُكَافَأَة للمحسن، وَالْعَمَل بالأناة فِيمَا يحدث فَإِن لَهُ فِي تَأْخِير الْعقُوبَة إِمْكَان الْعَفو، وَفِي تَعْجِيل الْمُكَافَأَة بِالْإِحْسَانِ المسارعة فِي الطَّاعَة من الرّعية، وَفِي الأناة انفساح الرَّأْي، واتضاح الصَّوَاب ".
وَقَالَ أنو شرْوَان: النَّاس ثَلَاث طَبَقَات، تسوسهم ثَلَاث سياسات: طبقَة من خَاصَّة الْأَبْرَار، نسوسهم بالْعَطْف واللين وَالْإِحْسَان.
وطبقة من خَاصَّة الأشرار نسوسهم بالغلظة، والشدة.
وطبقة بَين هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء، نسوسهم بالغلظة مرّة وباللين مرّة، لِئَلَّا تخرجهم الغلظة وَلَا يبطرهم اللين.
رفع إِلَى المعتضد _ رحمه الله _ أَن قوما يَجْتَمعُونَ ويرجفون ويخوضون فِي الفضول، وَقد تفاقم فسادهم، فَرمى بالرقعة إِلَى وزيره عبيد الله بن سُلَيْمَان، فَقَالَ: " الرَّأْي قتل بَعضهم وإحراق بَعضهم، فَقَالَ المعتضد: وَالله لقد بردت لهيب غَضَبي بقسوتك هَذِه، ونقلتني إِلَى اللين من حَيْثُ أَشرت بِالْقَتْلِ والحرق، وَمَا علمت أَنَّك تستجيز هَذَا فِي دينك، أما علمت أَن الرّعية وَدِيعَة الله
তিনি বললেন: "রাজত্বের ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্যটি সবচেয়ে বেশি উপকারী?" তিনি বললেন: "নিয়তের একনিষ্ঠতা (صدق النية)।" আর ইমাম আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "রাজার জন্য তিনটি গুণের ওপর আমল করা উচিত: ক্রোধের বশবর্তী অবস্থায় শাস্তি প্রদান বিলম্বিত করা, সৎকর্মশীলের পুরস্কার প্রদানে দ্রুততা অবলম্বন করা এবং নতুন কোনো ঘটনায় ধীরস্থিরতার (الأناة) সাথে কাজ করা। কারণ শাস্তি বিলম্বে তার জন্য ক্ষমার সুযোগ থাকে, পুরস্কার প্রদানে দ্রুততা অবলম্বন করলে প্রজাদের মধ্যে আনুগত্যের ত্বরান্বিত হওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয় এবং ধীরস্থিরতার (الأناة) মধ্যে চিন্তার প্রশস্ততা ও সঠিক সিদ্ধান্তের স্পষ্টতা প্রকাশ পায়।"
আর আনুশিরওয়ান বলেছেন: মানুষ তিন স্তরবিশিষ্ট (طبقات), তাদের তিনটি নীতিতে শাসন করা হয়: এক স্তর হলো বিশিষ্ট পুণ্যবান ব্যক্তিদের, আমরা তাদের মমতা, কোমলতা এবং মহানুভবতার সাথে শাসন করি।
আরেক স্তর হলো বিশিষ্ট পাপাচারীদের, আমরা তাদের কঠোরতা এবং দৃঢ়তার মাধ্যমে শাসন করি।
আর অন্য স্তরটি হলো এদের মাঝামাঝি, আমরা তাদের কখনও কঠোরতা আর কখনও কোমলতার সাথে শাসন করি, যাতে কঠোরতা তাদের অবাধ্য না করে এবং কোমলতা তাদের উদ্ধত না করে।
মুতাদিদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট এই মর্মে সংবাদ পৌঁছানো হলো যে, একদল লোক একত্রিত হয়ে গুজব ছড়াচ্ছে এবং অনর্থক বিষয়ে লিপ্ত হচ্ছে, আর তাদের বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। তিনি চিরকুটটি তার উজির উবায়দুল্লাহ বিন সুলাইমানের দিকে ছুড়ে দিলেন। উজির বললেন: "আমার পরামর্শ হলো তাদের কাউকে হত্যা করা এবং কাউকে পুড়িয়ে ফেলা।" মুতাদিদ বললেন: "আল্লাহর কসম, তোমার এই কঠোরতার মাধ্যমে তুমি আমার ক্রোধের দাবদাহকে শীতল করে দিলে। তুমি যখন হত্যা ও পুড়িয়ে মারার পরামর্শ দিলে, তা আমাকে কোমলতার দিকে ধাবিত করল। আমি জানতাম না যে তুমি তোমার দ্বীনের ক্ষেত্রে একে বৈধ মনে করো! তুমি কি জানো না যে প্রজারা হলো আল্লাহর আমানত (وديعة)?"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
عِنْد سلطانها وَأَن الله تَعَالَى سائله عَنْهَا، أما تَدْرِي أَن أحدا من الرّعية لَا يَقُول إِلَّا لظلم لحقه أَو داهية نالته، أَو نَالَتْ صاحباً لَهُ، ثمَّ قَالَ: سل عَن الْقَوْم فَمن كَانَ سيئ الْحَال فَصله، وَمن كَانَ يُخرجهُ إِلَى هَذَا البطر خَوفه " فَفعل فصلحت الْحَال، قَالَ بعض الْحُكَمَاء: " من تغدى بسيئ السِّيرَة تعشى بِزَوَال الْقُدْرَة ".
وَقَالَ آخر: " من ساءت سيرته لم يَأْمَن أبدا، وَمن حسنت سيرته لم يخف أحدا ".
وَقَالَ آخر: " من أحسن فبنفسه بدا، وَمن أَسَاءَ فعلى نَفسه جنى، وَمن طَال تعديه كثر أعاديه ".
وَقَالَ آخر: " أفضل الْمُلُوك من أحسن فِي فعله وَنِيَّته، وَعدل فِي جنده ورعيته ".
قيل للإسكندر: " لَو استكثرت من النِّسَاء ليكْثر ولدك، فيدوم بهم ذكرك، فَقَالَ: دوَام الذّكر تَحْسِين السِّيرَة وَالسّنَن، وَلَا يحسن بِمن غلب الرِّجَال أَن يغلبه النِّسَاء ".
وَقَالَ بعض الْعلمَاء: " مَا أعلم شَيْئا بعد الْإِخْلَاص بِاللَّه أفضل من نصيحه الْوَالِي لرعيته ".
তার কর্তৃত্বের নিকট এবং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আপনি কি জানেন না যে, প্রজাদের মধ্য হতে কেউ কেবল তখনই অভাব-অভিযোগ করে যখন সে কোনো জুলুমের শিকার হয় অথবা কোনো গুরুতর বিপদে নিপতিত হয় কিংবা তার কোনো সঙ্গী বিপদে পড়ে? অতঃপর তিনি বললেন: লোকদের সম্পর্কে খোঁজ নিন; যাদের অবস্থা শোচনীয় তাদের সাহায্য করুন এবং যাদের ভয় তাদেরকে এই ঔদ্ধত্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে [তাদের আশ্বস্ত করুন]। অতঃপর তিনি তা করলেন এবং পরিস্থিতির সংশোধন হলো। জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মন্দ আচরণের মাধ্যমে দিনের সূচনা করে, সে ক্ষমতা বিলুপ্তির মাধ্যমে দিন শেষ করে।"
অপর একজন বলেছেন: "যার আচরণ মন্দ হয় সে কখনোই নিরাপদ বোধ করে না, আর যার আচরণ সুন্দর হয় সে কাউকে ভয় পায় না।"
অন্য আরেকজন বলেছেন: "যে ভালো কাজ করে সে নিজের মাধ্যমেই তার সূচনা করে, আর যে মন্দ কাজ করে সে মূলত নিজেরই ক্ষতি করে। আর যার সীমালঙ্ঘন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার শত্রুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।"
অপর একজন বলেছেন: "শ্রেষ্ঠ রাজা তিনিই, যিনি নিজ কর্ম ও নিয়তে উৎকর্ষ সাধন করেন এবং নিজ সৈন্য ও প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) কায়েম করেন।"
আলেকজান্ডারকে বলা হলো: "আপনি যদি অধিক স্ত্রী গ্রহণ করতেন তবে আপনার সন্তানসন্ততি বৃদ্ধি পেত এবং তাদের মাধ্যমে আপনার নাম ও কীর্তি দীর্ঘস্থায়ী হতো।" তিনি বললেন: "কীর্তি অক্ষয় হওয়া তো সুন্দর চরিত্র ও সুনান অনুসরণের ওপর নির্ভরশীল। আর যে ব্যক্তি বীর পুরুষদের পরাজিত করেছে, নারীরা তাকে জয় করে নেবে—তা তার জন্য শোভনীয় নয়।"
জনৈক আলেম বলেছেন: "আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার পর শাসকের পক্ষ থেকে প্রজাদের কল্যাণকামনা করার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু আমার জানা নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
(الْبَاب الثَّالِث)
(فِي فضل الْحلم والأناة من الْمُلُوك والولاة) قَالَ الْهِلَالِي: بَلغنِي أَن جِبْرِيل _ عليه السلام _ نزل على النَّبِي _[صلى الله عليه وسلم]_ فَقَالَ: " يَا مُحَمَّد إِنِّي أَتَيْتُك بمكارم الْأَخْلَاق كلهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة {خُذ الْعَفو وَأمر بِالْعرْفِ وَأعْرض عَن الْجَاهِلين} [الْأَعْرَاف: 199] ، وَهُوَ يَا مُحَمَّد أَن تصل من قَطعك وَتَعْفُو عَمَّن ظلمك وَتُعْطِي من حَرمك ".
قَالَ الشّعبِيّ: " قلت لِابْنِ هُبَيْرَة: عَلَيْك بالتؤدة، فَإنَّك على فعل مَا لم تفعل أقدر مِنْك على رد مَا قد فعلت ".
قَالَ يزِيد بن مُعَاوِيَة لِأَبِيهِ: " يَا أبه هَل ذممت عَاقِبَة حلمٍ قطّ؟ أم
(তৃতীয় অধ্যায়) (বাদশাহ ও শাসকদের সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতার ফযিলত প্রসঙ্গে) হিলালী বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অবতীর্ণ হয়ে বললেন: "হে মুহাম্মদ, আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় মহৎ চরিত্রাবলি নিয়ে এসেছি: {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং জাহেলদের এড়িয়ে চলুন} [আল-আরাফ: ১৯৯]। আর হে মুহাম্মদ, তা হলো— যে আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আপনি তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, যে আপনার প্রতি জুলুম করে আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং যে আপনাকে বঞ্চিত করে আপনি তাকে দান করুন।"
শা'বি বলেন: "আমি ইবনে হুবাইরাহকে বললাম: আপনি ধীরস্থিরতা অবলম্বন করুন; কারণ আপনি যা এখনও করেননি তা সম্পাদন করার ক্ষেত্রে আপনার যে সামর্থ্য, যা ইতিপূর্বে করে ফেলেছেন তা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আপনার সামর্থ্যের চেয়ে তা অনেক বেশি।"
ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া তার পিতাকে বললেন: "হে পিতা, আপনি কি কখনও সহনশীলতার পরিণামের নিন্দা করেছেন? নাকি"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
حمدت عَاقِبَة إقدام قطّ؟ قَالَ: مَا حلمت عَن لئيم، وَإِن كَانَ وليا إِلَّا أعقبني ندماً وَلَا أقدمت على كريم وَإِن كَانَ عدوا إِلَّا أعقبني أسفا ".
قَالَ أَبُو بكر بن عَيَّاش: " اجْتمع أَرْبَعَة مُلُوك: ملك " الْهِنْد "، وَملك " الصين "، و " كسْرَى "، و " قَيْصر "، فَقَالَ أحدهم: أَنا أندم على مَا قلت، وَلَا أندم على مَا لم أقل، وَقَالَ الآخر: إِذا تَكَلَّمت بِالْكَلِمَةِ ملكتني وَلم أملكهَا، وَإِذا لم أَتكَلّم بهَا ملكتها وَلم تملكني، وَقَالَ الثَّالِث: عجبت للمتكلم إِن رجعت الْكَلِمَة عَلَيْهِ ضرته، وَإِن لم ترجع ضرته، وَقَالَ الرَّابِع: أَنا على رد مَا لم أقل أقدر مني على رد مَا قلت ".
سَأَلَ عَليّ _ عليه السلام _ كَبِيرا من كبراء " فَارس ": " أَي ملوككم كَانَ أَحْمد سيرة؟ قَالَ: أنو شرْوَان قَالَ: فَأَي أخلاقه كَانَ أغلب عَلَيْهِ؟ قَالَ: الْحلم والأناة، فَقَالَ عَليّ عليه السلام: هما توءمان ينتجهما علو الهمة ".
أُتِي الْحجَّاج بِرَجُل من الْخَوَارِج فَأمر بِضَرْب عُنُقه، فاستنظره يَوْمًا قَالَ: وَمَا تُرِيدُ بذلك؟ قَالَ: أؤصل عَفْو الْأَمِير مَعَ مَا تجْرِي بِهِ الْمَقَادِير، فَاسْتحْسن قَوْله وخلاه.
আপনি কি কখনো সাহসিকতার পরিণামের প্রশংসা করেছেন? তিনি বললেন: "আমি কোনো হীন ব্যক্তির প্রতি কখনো সহনশীলতা প্রদর্শন করিনি—এমনকি সে বন্ধু হলেও—যা আমাকে অনুশোচনা দেয়নি; এবং কোনো মহৎ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কখনো পদক্ষেপ নেইনি—এমনকি সে শত্রু হলেও—যা আমাকে অনুশোচনা ও দুঃখ দেয়নি।"
আবু বকর বিন আইয়্যাশ বলেন: "চারজন রাজা একত্রিত হলেন: ভারতের রাজা, চীনের রাজা, কিসরা এবং কায়সার। তাদের একজন বললেন: 'আমি যা বলেছি তার জন্য অনুতপ্ত হই, কিন্তু যা বলিনি তার জন্য অনুতপ্ত হই না।' অন্যজন বললেন: 'যখন আমি কোনো কথা বলি, তখন তা আমার ওপর কর্তৃত্বশীল হয় এবং আমি তার মালিক থাকি না; কিন্তু যতক্ষণ আমি তা না বলি, ততক্ষণ আমি তার মালিক থাকি এবং তা আমার ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে না।' তৃতীয়জন বললেন: 'আমি বক্তার বিষয়ে বিস্মিত হই; কথাটি যদি তার বিরুদ্ধে ফিরে আসে তবে তা তার ক্ষতি করে, আর যদি ফিরে না-ও আসে তবুও তা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।' চতুর্থজন বললেন: 'আমি যা বলিনি তা ফিরিয়ে নিতে আমি যতটা সক্ষম, যা বলেছি তা ফিরিয়ে নিতে ততটা সক্ষম নই'।"
আলী (আলাইহিস সালাম) পারস্যের জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমাদের রাজাদের মধ্যে কার জীবনচরিত সবচেয়ে প্রশংসনীয় ছিল? তিনি বললেন: নওশেরওয়ান। আলী (আলাইহিস সালাম) বললেন: তার কোন গুণটি তার ওপর সবচেয়ে প্রবল ছিল? তিনি বললেন: সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা। তখন আলী (আলাইহিস সালাম) বললেন: এ দুটি হলো যমজ গুণ যা উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত হয়।"
হাজ্জাজের কাছে জনৈক খারেজি (الخوارج) ব্যক্তিকে আনা হলো এবং তিনি তার শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দিলেন। তখন সে একদিনের অবকাশ প্রার্থনা করল। হাজ্জাজ বললেন: "তুমি এর দ্বারা কী চাও?" সে বলল: "আমি আমিরের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রাপ্তিকে ভাগ্যের (المقادير) ফয়সালার সাথে যুক্ত করতে চাই।" হাজ্জাজ তার কথাটি পছন্দ করলেন এবং তাকে ছেড়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
أُتِي بعض الْمُلُوك بِرَجُل قد أجرم فَأمر بِضَرْب عُنُقه، فَقَالَ لَهُ الرجل: يَا مولَايَ تأن عَليّ فَإِن التأني نصف الْعقُوبَة، فَعَفَا عَنهُ، أَخذ مُصعب بن الزبير رجلا من أَصْحَاب الْمُخْتَار بن أبي عبيد فَأمر بِضَرْب عُنُقه، فَقَالَ: أَيهَا الْأَمِير مَا أقبح بك أَن أقوم يَوْم الْقِيَامَة إِلَى صُورَتك هَذِه الْحَسَنَة ووجهك هَذَا الَّذِي يستضاء بِهِ، فأتعلق بأطرافك وَأَقُول: يَا رب سل مصعباً فيمَ قتلني؟ فَقَالَ: مُصعب: أَطْلقُوهُ قَالَ: اجْعَل مَا وهبت من حَياتِي فِي خفض قَالَ: أَعْطوهُ عشرَة آلَاف دِرْهَم، قَالَ: بِأبي أَنْت وَأمي، أشهد الله أَن لِابْنِ قيس الرقيات خَمْسَة آلَاف، قَالَ: وَلم؟ قَالَ: لقَوْله: // (الْخَفِيف) //
(إِنَّمَا مُصعب شهَاب من الله
… تجلت عَن وَجهه الظلماء)
(يَتَّقِي الله فِي الْأُمُور وَقد أَفْلح
… من كَانَ همه الاتقاء)
কোন এক বাদশাহর নিকট এমন এক অপরাধী ব্যক্তিকে আনা হলো যাকে তিনি শিরশ্ছেদ করার আদেশ দিলেন। তখন লোকটি তাকে বলল: "হে আমার মনিব, আমার প্রতি সহনশীল হোন; কারণ সহনশীলতা দণ্ডের অর্ধেক।" ফলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। মুসআব ইবনুল জুবায়ের মুখতার ইবনে আবি উবাইদের অনুসারীদের মধ্য থেকে একজনকে পাকড়াও করলেন এবং তার শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দিলেন। তখন সে বলল: "হে আমির, কিয়ামতের দিন আপনার এই সুন্দর অবয়ব এবং আপনার এই জ্যোতির্ময় চেহারার সামনে দাঁড়ানোটা আপনার জন্য কতই না কদর্য হবে, যখন আমি আপনার কাপড়ের আঁচল ধরে বলব: 'হে প্রভু, মুসআবকে জিজ্ঞাসা করুন কেন তিনি আমাকে হত্যা করেছিলেন?'" তখন মুসআব বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও।" সে বলল: "আপনি আমার জীবনের যে অংশটুকু আমাকে দান করলেন, তাকে সচ্ছল করে দিন।" তিনি বললেন: "তাকে দশ হাজার দিরহাম প্রদান করো।" সে বলল: "আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, ইবনে কাইস আল-রুকাইয়্যাতের জন্য পাঁচ হাজার দিরহাম বরাদ্দ করলাম।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কেন?" সে বলল: "তার এই বাণীর জন্য: // (আল-খাফিফ) //
(নিশ্চয়ই মুসআব আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক
… যার চেহারা থেকে অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায়)
(তিনি সকল বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেন; আর সেই ব্যক্তিই সফলকাম হয়েছে
… যার মূল লক্ষ্য ছিল তাকওয়া)
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
فَضَحِك مُصعب وَقَالَ: فِيك مَوضِع للصنيعة، وَأمره بملازمته وَأحسن إِلَيْهِ وَلم يزل مَعَه حَتَّى قتل مُصعب.
قَالَ الْمَدَائِنِي: " ثَلَاثَة لَا ينتصفون من ثَلَاثَة: حَلِيم من أَحمَق، وبر من فَاجر وشريف من دني ".
وَكَانَ يُقَال: " لَيْسَ الْحَلِيم من ظلم فحلم حَتَّى إِذا قدر انتقم، وَلَكِن الْحَلِيم من ظلم فحلم حَتَّى إِذا قدر عَفا ".
قَالَ خَالِد بن صَفْوَان التَّمِيمِي: " شهِدت عَمْرو بن عبيد، وَرجل يشتمه فَمَا ترك شَيْئا إِلَّا وأوسعه إِيَّاه، فَلَمَّا فرغ قَالَ لَهُ عَمْرو: آجرك الله على مَا ذكرت من صَوَاب، وَغفر لَك مَا ذكرت من أخطاء، فَمَا حسدت أحدا حسدي على هَاتين الْكَلِمَتَيْنِ ".
তখন মুসআব হেসে বললেন: "তোমার মাঝে অনুগ্রহ করার মতো যোগ্যতা রয়েছে।" তিনি তাকে নিজের সান্নিধ্যে থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তার প্রতি সদাচরণ করলেন। মুসআব নিহত হওয়া পর্যন্ত সে তাঁর সাথেই ছিল।
মাদায়িনী বলেন: "তিন শ্রেণীর লোক অপর তিন শ্রেণীর লোকের নিকট থেকে ইনসাফ পায় না: নির্বোধের নিকট থেকে ধৈর্যশীল, পাপাচারীর নিকট থেকে পুণ্যবান এবং নীচ ব্যক্তির নিকট থেকে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি।"
বলা হয়ে থাকে: "সেই ব্যক্তি প্রকৃত ধৈর্যশীল নয় যে অত্যাচারিত হয়ে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমতা লাভ করলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে; বরং প্রকৃত ধৈর্যশীল সেই ব্যক্তি যে অত্যাচারিত হয়ে ধৈর্য ধরে এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেয়।"
খালিদ বিন সাফওয়ান আত-তামিমী বলেন: "আমি আমর বিন উবায়েদকে প্রত্যক্ষ করেছি যখন এক ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করছিল এবং তাকে গালি দিতে কোনো ত্রুটি করেনি। গালি শেষ হলে আমর তাকে বললেন: তুমি সত্য যা বলেছ তার জন্য আল্লাহ তোমাকে প্রতিদান দিন এবং তুমি যা ভুল বলেছ তার জন্য আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। আমরের এই দুটি কথার জন্য আমি অন্য কাউকে যে পরিমাণ ঈর্ষা করেছি, তেমন আর কাউকে করিনি।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
وَكَانَ يُقَال: " إِن أفضل رِدَاء ارتدي بِهِ الْحلم، فَإِن لم يكن حَلِيمًا فيتحلم، فَإِنَّهُ قل لمن تشبه بِقوم إِلَّا أوشك أَن يكون مِنْهُم ".
وَكَانَ يُقَال: " احضر النَّاس جَوَابا من لم يغْضب ".
دخل جَعْفَر بن مُحَمَّد بن الْأَشْعَث على الرشيد، وَقد استخفه الْغَضَب على رجل، فَقَالَ لَهُ: " يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِنَّك إِنَّمَا تغْضب لله، فَلَا تغْضب لَهُ أَكثر مِمَّا غضب لنَفسِهِ عز وجل ".
كَانَ أَسمَاء بن خَارِجَة الْفَزارِيّ يَقُول: " النَّاس إِمَّا لئيم، فوَاللَّه لَا أجعَل عرضي لعرضه خطراً وَلَا أجعله لي ندا، وَإِمَّا كريم كَانَت مِنْهُ هفوة، فوَاللَّه لَا أؤدبه، لِأَنِّي أَحَق من غفرها، وَقَالَ: // (الطَّوِيل) //
(وأغفر عوراء الْكَرِيم ادخاره
… وَأعْرض عَن شتم اللَّئِيم تكرما)
قَالَ بعض الْعلمَاء: مَكْتُوب فِي الْإِنْجِيل: " لَا يَنْبَغِي أَن يكون الْعَالم
প্রচলিত ছিল যে: "নিশ্চয়ই সহনশীলতা হলো সর্বোত্তম পোশাক যা পরিধান করা যায়। সুতরাং কেউ যদি প্রকৃতিগতভাবে সহনশীল না হয়, তবে সে যেন সহনশীল হওয়ার চেষ্টা করে। কেননা খুব কমই এমন ঘটে যে, কেউ কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে আর শীঘ্রই তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় না।"
বলা হতো: "সেই ব্যক্তির উত্তর সবচেয়ে উপস্থিত থাকে যে রাগান্বিত হয় না।"
জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-আশ’আছ হারুনুর রশিদের নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় যে জনৈক ব্যক্তির প্রতি ক্রোধ তাঁকে উত্তেজিত করে তুলেছিল। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি তো কেবল আল্লাহর জন্যই রাগান্বিত হন, সুতরাং তাঁর (আল্লাহর) জন্য তাঁর নিজের চেয়েও বেশি রাগান্বিত হবেন না।"
আসমা ইবন খারিজাহ আল-ফাজারি বলতেন: "মানুষ হয় নীচ চরিত্রের হবে—আল্লাহর শপথ, আমি আমার সম্মানকে তার সম্মানের লক্ষ্যবস্তু বানাব না এবং তাকে আমার সমকক্ষও গণ্য করব না; নতুবা সে হবে কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তি যার থেকে কোনো পদস্খলন ঘটেছে—আল্লাহর শপথ, আমি তাকে শাসন করব না, কারণ আমিই তাকে ক্ষমা করার জন্য অধিক উপযুক্ত।" এবং তিনি বলেন: // (তবিল ছন্দ) //
(আমি মর্যাদাবান ব্যক্তির ভুল ক্ষমা করি তাকে রক্ষা করার মানসে
… আর মহানুভবতা প্রদর্শন স্বরূপ নীচ ব্যক্তির গালি থেকে বিমুখ থাকি)
জনৈক আলেম বলেন: ইনজিলে লিপিবদ্ধ আছে: "একজন আলেমের জন্য এমন হওয়া সমীচীন নয় যে...
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
سَفِيها، وَمن عِنْده يقتبس الْحلم، وَلَا يَنْبَغِي أَن يكون الإِمَام جائراً، وَمن عِنْده يلْتَمس الْعدْل.
(الْبَاب الرَّابِع فِي فضل الْعَفو المشوب بالصفو)قَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " عَفْو الْمُلُوك بَقَاء للْملك "، وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " إِن الْعَفو لَا يزِيد العَبْد إِلَّا عزا فاعفوا يعزكم الله، وَإِن التَّوَاضُع لَا يزِيد العَبْد إِلَّا رفْعَة، فتواضعوا يرفعكم الله، وَإِن الصَّدَقَة لَا تزيد المَال إِلَّا نَمَاء فتصدقوا يزدكم الله ".
لما أُتِي عبد الْملك بن مَرْوَان بأسرى بني الْأَشْعَث قَالَ لرجاء بن حَيْوَة: مَا ترى؟ قَالَ: " إِن الله أَعْطَاك مَا تحب من الظفر فأعطه مَا يحب من الْعَفو
নির্বোধ, অথচ যাঁর নিকট থেকে সহনশীলতা গ্রহণ করা হয়; আর ইমামের জন্য অত্যাচারী হওয়া সমীচীন নয়, অথচ যাঁর নিকট থেকে ইনসাফ প্রত্যাশা করা হয়।
(চতুর্থ অধ্যায়: স্বচ্ছতা মিশ্রিত ক্ষমার ফযীলত প্রসঙ্গে)নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "রাজাদের ক্ষমা রাজত্বের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।" নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই ক্ষমা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি ভিন্ন আর কিছু করে না; অতএব তোমরা ক্ষমা করো, আল্লাহ তোমাদের সম্মানিত করবেন। আর বিনয় বান্দার উচ্চমর্যাদা বৃদ্ধি ভিন্ন আর কিছু করে না; অতএব তোমরা বিনয়ী হও, আল্লাহ তোমাদের সমুন্নত করবেন। আর দান-সদকা সম্পদের প্রবৃদ্ধি ভিন্ন আর কিছু করে না; অতএব তোমরা দান-সদকা করো, আল্লাহ তোমাদের সম্পদ বাড়িয়ে দেবেন।"
যখন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট বনু আশআসের বন্দীদের আনা হলো, তখন তিনি রাজা ইবনে হাইওয়াহকে বললেন: "আপনার অভিমত কী?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে আপনার পছন্দনীয় বিজয় দান করেছেন, সুতরাং আপনি আল্লাহকে তাঁর পছন্দনীয় ক্ষমা প্রদর্শন করুন।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
فَعَفَا عَنْهُم ".
وَلما ظفر الْمَأْمُون بِعَمِّهِ إِبْرَاهِيم بن الْمهْدي قَالَ لِأَحْمَد بن أبي خَالِد الْكَاتِب: يَا أَحْمد مَا تَقول فِي هَذَا الرجل؟ فَقَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِن تقتله فقد وجدت مثلك قتل مثله، وَإِن تعف لم تَجِد مثلك عَفا عَن مثله، فَقَالَ الْمَأْمُون: لَا رَأْي لنا فِي الشّركَة، وَأمر بِإِطْلَاقِهِ وَعَفا عَنهُ.
كَانَ مُعَاوِيَة يَقُول: إِن أولى النَّاس بِالْعَفو أقدرهم على الْعقُوبَة، وَإِن أنقص النَّاس عقلا من ظلم من هُوَ دونه ".
قَالَ عِكْرِمَة: إِن الله تَعَالَى قَالَ ليوسف عليه السلام: " بِعَفْو عَن إخْوَتك، رفعت ذكرك فِي الذَّاكِرِينَ ".
وَقَالَ جَعْفَر بن مُحَمَّد: " لِأَن أندم على الْعَفو أحب إِلَيّ من أَن أندم على الْعقُوبَة ".
كتب الْحجَّاج إِلَى عبد الْملك: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ، إِنَّك أعز مَا تكون أحْوج مَا
অতঃপর তিনি তাদের ক্ষমা করে দিলেন।
যখন আল-মামুন তার চাচা ইব্রাহিম ইবনুল মাহদীকে পাকড়াও করলেন, তখন তিনি আহমদ ইবনে আবি খালিদ আল-কাতিবকে জিজ্ঞেস করলেন: "হে আহমদ, এই লোকটির ব্যাপারে তোমার অভিমত কী?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি যদি তাকে হত্যা করেন, তবে আপনার মতো শাসকরা ইতিপূর্বেও তার মতো অপরাধীকে হত্যা করেছে। কিন্তু আপনি যদি তাকে ক্ষমা করে দেন, তবে আপনার মতো স্তরের কোনো শাসক তার মতো কাউকে ক্ষমা করার নজির আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।" তখন মামুন বললেন: "শরীকদারিত্বে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।" অতঃপর তিনি তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং ক্ষমা করে দিলেন।
মুয়াবিয়া বলতেন: "ক্ষমা করার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য সেই ব্যক্তি, যার শাস্তি প্রদানের পূর্ণ সামর্থ্য রয়েছে। আর মানুষের মধ্যে বিবেকের দিক থেকে সবচেয়ে অপূর্ণ সেই ব্যক্তি, যে তার চেয়ে দুর্বল কারো ওপর জুলুম করে।"
ইকরিমা বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন: "তোমার ভাইদের ক্ষমা করে দেওয়ার কারণেই আমি স্মরণকারীদের মাঝে তোমার নাম ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছি।"
জাফর ইবনে মুহাম্মদ বলেন: "শাস্তি দিয়ে অনুতপ্ত হওয়ার চেয়ে ক্ষমা করে দিয়ে অনুতপ্ত হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়।"
হাজ্জাজ আব্দুল মালিকের কাছে লিখেছিলেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি যখন সবচেয়ে বেশি প্রতাপশালী থাকেন, তখনই আপনি সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হন...
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
تكون إِلَى الله عز وجل، وَإِذا عززت بِاللَّه فاعفو لله، فَإنَّك بِهِ تعز وَإِلَيْهِ ترجع
غضب سُلَيْمَان بن عبد الْملك على خَالِد بن عبد الله الْقَسرِي فَلَمَّا دخل عَلَيْهِ قَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِن الْقُدْرَة تذْهب الحفيظة، وَإنَّك تجل عَن الْعقُوبَة، فَإِن تعف فَأهل ذَلِك أَنْت، وَإِن تعاقب فبمَا كَانَ منا.
كَانَ الْمَأْمُون يَقُول: لَيْسَ على الْحلم مؤونة ولوددت أَن أهل الجرائم علمُوا رَأْيِي فِي الْعَفو فَيذْهب عَنْهُم الْخَوْف، فيخلص إِلَى قُلُوبهم وَأنْشد الْحسن بن رَجَاء فِي الْمَأْمُون يَقُول: // (الطَّوِيل) //
আল্লাহর (عز وجل) প্রতি নিবিষ্ট হও। যখন তুমি আল্লাহর মাধ্যমে সম্মান লাভ করবে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্ত ক্ষমা প্রদর্শন করো; কারণ তাঁর মাধ্যমেই তুমি সম্মানিত হও এবং তাঁর কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন।
সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরির ওপর ক্রুদ্ধ হলেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হলেন, তখন বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! ক্ষমতা ক্রোধকে প্রশমিত করে, আর আপনি শাস্তিদানের ঊর্ধ্বে। যদি আপনি ক্ষমা করেন, তবে আপনিই তার উপযুক্ত; আর যদি শাস্তি দেন, তবে তা আমাদের কৃতকর্মের কারণেই হবে।
আল-মামুন বলতেন: সহনশীলতার (الحلم) কোনো ব্যয়ভার নেই। আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে, অপরাধীরা যদি ক্ষমা সম্পর্কে আমার মনোভাব জানত, তবে তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর হয়ে যেত এবং তাদের হৃদয়ে প্রশান্তি ও একাগ্রতা সঞ্চারিত হতো। হাসান ইবনে রাজা আল-মামুন সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করলেন: // দীর্ঘ ছন্দ (الطويل) //
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
(صفوح عَن الإجرام حَتَّى كَأَنَّهُ
… من الْعَفو لم يعرف من النَّاس مجرما)
(وَلَيْسَ يُبَالِي أَن يكون بِهِ الْأَذَى
… إِذا مَا الْأَذَى لم يغش بالكره مُسلما)
قَالَ: الْمَدَائِنِي: لما ظفر الْحجَّاج بأصحاب ابْن الْأَشْعَث فغدا يضْرب أَعْنَاقهم عَامَّة النَّهَار، فَأتي بِرَجُل فِي آخِرهم من بني تَمِيم
فَقَالَ: يَا حجاج لَئِن كُنَّا أسأنا فِي الذَّنب مَا أَحْسَنت أَنْت فِي الْعقُوبَة.
فَقَالَ الْحجَّاج: أُفٍّ لهَذِهِ الْجِيَف، مَا كَانَ فيهم رجل يحسن مثل هَذَا وَعَفا عَنهُ.
قَالَ الشَّاعِر: // (الطَّوِيل) //
(إِذا مَا امْرُؤ من ذَنبه جَاءَ تَائِبًا
… إِلَيْك فَلم تغْفر لَهُ فلك الذَّنب)
قيل للأحنف بن قيس: مِمَّن تعلمت الْعَفو وَحسن الْخلق، قَالَ: من قيس بن عَاصِم الْمنْقري، فَقيل لَهُ: وَكَيف ذَلِك؟ وَمَا بلغ من حلمه؟ قَالَ: بَيْنَمَا هُوَ جَالس فِي دَاره، إِذْ جَاءَت خَادِم لَهُ بسفود عَلَيْهِ شواء فَسقط من يَديهَا فَوَقع على ابْن لَهُ فَمَاتَ، فدهشت الْجَارِيَة، فَقَالَ: لَا روع عَلَيْك أَنْت
(অপরাধের প্রতি তিনি এতটাই ক্ষমাশীল যে মনে হয় যেন
… ক্ষমার আধিক্যের কারণে তিনি মানুষের মাঝে কোনো অপরাধীকেই চেনেন না)
(তিনি এতে সামান্য পরোয়া করেন না যে তাতে তাঁর নিজের কোনো কষ্ট হবে
… যতক্ষণ না সেই কষ্ট অনিচ্ছাসত্ত্বেও কোনো মুসলিমকে স্পর্শ করে)
আল-মাদায়িনী বলেন: আল-হাজ্জাজ যখন ইবনুল আশআশ-এর সঙ্গীদের ওপর বিজয় লাভ করলেন, তখন তিনি দিনের দীর্ঘ সময় তাদের শিরচ্ছেদ করতে থাকলেন। অতঃপর তাদের সবার শেষে বনু তামীম গোত্রের এক ব্যক্তিকে তাঁর সামনে আনা হলো।
সে বলল: হে হাজ্জাজ! আমরা যদি পাপ করে অপরাধী হয়েও থাকি, তবে আপনিও তো শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সদাচার করেননি।
তখন আল-হাজ্জাজ বললেন: ধিক এই নিথর দেহগুলোর জন্য! তাদের মধ্যে কি এমন একজন ব্যক্তিও ছিল না যে এর মতো সুন্দর কথা বলতে পারে? অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
কবি বলেন: // (আত-তাবিল) //
(যখন কোনো ব্যক্তি তার পাপ থেকে তওবা করে
… তোমার নিকট আসে এবং তুমি তাকে ক্ষমা না করো, তবে সেই পাপ তোমারই ওপর বর্তাবে)
আল-আহনাফ ইবনে কায়েসকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি ক্ষমা ও সচ্চরিত্রতা কার নিকট থেকে শিখেছেন? তিনি বললেন: কায়েস ইবনে আসিম আল-মিনকারি থেকে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তা কীভাবে? এবং তাঁর সহনশীলতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল? তিনি বললেন: একদিন তিনি তাঁর ঘরে বসা ছিলেন, এমন সময় তাঁর এক পরিচারিকা একটি শিক নিয়ে উপস্থিত হলো যাতে ঝলসানো মাংস ছিল। সেটি তার হাত থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর এক পুত্রের ওপর নিক্ষিপ্ত হলো এবং সে মারা গেল। দাসীটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন: তোমার কোনো ভয় নেই, তুমি
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
حرَّة لوجه الله تَعَالَى.
أُتِي الْمَنْصُور بِرَجُل ليعاقبه فَقَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ الانتقام عدل، والتجاوز فضل، وَنحن نعيذ أَمِير الْمُؤمنِينَ أَن يرضى لنَفسِهِ بأوكس النَّصِيبَيْنِ، دون أَن يبلغ أرفع الدرجتين، فَعَفَا عَنهُ.
كَانَت جَارِيَة لعَلي بن الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي طَالب عليهم السلام تسكب المَاء على يَده، فنعست فَسقط الإبريق من يَدهَا فَشَجَّهُ فَرفع رَأسه، فَقَالَت: إِن الله يَقُول: {والكاظمين الغيظ} [آل عمرَان: 134] ، قَالَ: كظمت غيظي، قَالَت: {وَالْعَافِينَ عَن النَّاس} [آل عمرَان: 134] ، قَالَ:
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তুমি মুক্ত।
আল-মানসুরের নিকট এক ব্যক্তিকে শাস্তির জন্য নিয়ে আসা হলো। তখন সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, প্রতিশোধ গ্রহণ হলো ন্যায়বিচার, আর মার্জনা হলো অনুগ্রহ। আমরা আমিরুল মুমিনীনকে এ থেকে আশ্রয় প্রদান করছি যেন তিনি উচ্চতর স্তরে না পৌঁছে নিজের জন্য নিম্নতর ভাগে সন্তুষ্ট না হন।" তখন তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর এক দাসী তাঁর হাতে পানি ঢেলে দিচ্ছিল। এমতাবস্থায় সে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তার হাত থেকে পানির পাত্রটি পড়ে যায় এবং তাঁর মাথা জখম করে। তিনি মাথা উঁচু করলে দাসীটি বলল: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী}" [আল-ইমরান: ১৩৪]। তিনি বললেন: "আমি আমার ক্রোধ সংবরণ করলাম।" সে বলল: "{এবং যারা মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল}" [আল-ইমরান: ১৩৪]। তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
عَفا الله عَنْك، قَالَت: {وَالله يحب الْمُحْسِنِينَ} [آل عمرَان: 134] ، قَالَ: فاذهبي فَأَنت حرَّة لوجه الله تَعَالَى.
قَالَ بعض الشُّعَرَاء فِي هَذَا الْمَعْنى: // (الْبَسِيط) //
(تَمُوت أضغانه أَيَّام قدرته
… ومكنة الْحر تنسي فَاحش الخطل)
(إِذا الجرائم هاجته تغمدها
… بالصفح مِنْهُ حَلِيمًا غير ذِي فشل)
جنى عبد أسود على عمر بن عبد الْعَزِيز رحمه الله فِي عنفوان حداثته جِنَايَة، فشده ليضربه، فَقَالَ لَهُ: يَا مولَايَ لم تضربني؟ قَالَ: لِأَنَّك جنيت كَذَا، وَكَذَا، فَقَالَ العَبْد: هَل جنيت أَنْت جِنَايَة قطّ، فَغَضب عَلَيْك مَوْلَاك؟ قَالَ: نعم، قَالَ: فَهَل عجل عَلَيْك؟ فَقَالَ لَهُ: قُم فَأَنت حر لوجه الله تَعَالَى، فَكَانَ ذَلِك سَبَب تَوْبَته لأبي مُحَمَّد الْقَاسِم الحريري يَقُول: // (الْبَسِيط) //
(أَحْمد بِحِلْمِك مَا أذكاه ذُو سفه
… من غيظك، وَاصْفَحْ إِن جنى جاني)
(فالحلم أفضل مَا ازدان اللبيب بِهِ
… وَالْأَخْذ بِالْعَفو أحلى مَا جنى جاني)
আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। তিনি (দাসী) বললেন: {আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন} [আল ইমরান: ১৩৪]। তিনি (মালিক) বললেন: তবে তুমি চলে যাও, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তুমি মুক্ত।
জনৈক কবি এই প্রসঙ্গে বলেছেন: // (আল-বাসীত ছন্দ) //
(তাঁর সামর্থ্যের দিনগুলোতে তাঁর অন্তরের বিদ্বেষ বিলীন হয়ে যায়... আর স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষমতা জঘন্য বিচ্যুতিকে ভুলিয়ে দেয়)
(যখন অপরাধসমূহ তাঁকে উত্তেজিত করে, তখন তিনি ধৈর্যশীল হয়ে এবং কোনো প্রকার দুর্বলতা প্রদর্শন না করে তা ক্ষমার আবরণে ঢেকে দেন)
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর যৌবনের প্রারম্ভে জনৈক কৃষ্ণবর্ণের ক্রীতদাস একটি অপরাধ করেছিল। তিনি তাকে প্রহার করার জন্য শক্ত করে বাঁধলেন। তখন দাসটি তাঁকে বলল: হে আমার মনিব! আপনি কেন আমাকে প্রহার করছেন? তিনি বললেন: কারণ তুমি অমুক অমুক অপরাধ করেছ। দাসটি বলল: আপনি কি কখনো এমন কোনো অপরাধ করেছেন যাতে আপনার প্রতিপালক আপনার ওপর রাগান্বিত হয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: তবে তিনি কি আপনার ওপর শাস্তি প্রদানে ত্বরান্বিত করেছেন? তখন তিনি তাকে বললেন: উঠে দাঁড়াও, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তুমি মুক্ত। আর এটিই ছিল তাঁর তওবার কারণ। আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম আল-হারীরি বলেন: // (আল-বাসীত ছন্দ) //
(তোমার সহনশীলতার মাধ্যমে সেই আগুন নির্বাপিত করো যা কোনো নির্বোধ তোমার ক্রোধ থেকে প্রজ্জ্বলিত করেছে, আর কোনো অপরাধী অপরাধ করলে তা ক্ষমা করে দাও)
(কেননা সহনশীলতাই হলো সর্বোত্তম ভূষণ যা দিয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজেকে সজ্জিত করে, আর ক্ষমা প্রদর্শনই হলো কোনো অপরাধীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত মধুরতম অর্জন)
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
قَالَ: بعض الْمَشَايِخ: جرى بَين شهرام الْمروزِي وَبَين أبي مُسلم الْخُرَاسَانِي كَلَام شَدِيد فَمَا زَالَ أَبُو مُسلم يقاوله إِلَى أَن قَالَ: لَهُ شهرام بالغيظ: كذبت، فَلَمَّا قَالَ لَهُ ذَلِك صمت أَبُو مُسلم وَنَدم شهرام، وَأَقْبل عَلَيْهِ معتذراً، وخاضعاً متذللاً، فَلَمَّا رأى ذَلِك أَبُو مُسلم قَالَ: لِسَان سبق، وَوهم أَخطَأ، وَإِنَّمَا الْغَضَب شَيْطَان وَأَنا جرأتك بطول احتمالي إياك، وَإِن كنت مُتَعَمدا فقد شاركتك فِيهِ، وَإِن كنت مَغْلُوبًا فالعذر يسعك، وَقد عَفَوْنَا عَنْك على كل حَال، فَقَالَ شهرام: أَيهَا الْأَمِير إِن عفوك لَا يكون غدراً، قَالَ: أجل قَالَ: فَإِن عظم ذَنبي لَا يدع قلبِي يسكن، ولج فِي الِاعْتِذَار فَقَالَ أَبُو مُسلم: يَا عجبي كنت تسيء وَأَنا أحسن، فَإِذا أَحْسَنت أُسِيء.
قَالَ هِشَام بن مُحَمَّد: أُتِي النُّعْمَان بن الْمُنْذر برجلَيْن: أَحدهمَا قد أذْنب ذَنبا عَظِيما فَعَفَا عَنهُ، وَالْآخر قد أذْنب ذَنبا صَغِيرا فعاقبه وَقَالَ // (مجزوء الْكَامِل) //
(تَعْفُو الْمُلُوك عَن الْعَظِيم
… من الذُّنُوب لفضلها)
তিনি বলেন: জনৈক শায়খ (مشايخ) বর্ণনা করেছেন: শাহরাম আল-মারওয়াযী এবং আবু মুসলিম আল-খুরাসানীর মধ্যে অত্যন্ত কঠোর বাক্যবিনিময় হয়েছিল। আবু মুসলিম তার সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, একপর্যায়ে শাহরাম অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে বললেন: "আপনি মিথ্যা (كذب) বলেছেন।" যখন তিনি তাকে এ কথা বললেন, তখন আবু মুসলিম মৌনতা অবলম্বন করলেন এবং শাহরাম অনুতপ্ত হলেন। তিনি বিনীত ও অত্যন্ত নমনীয় হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন। আবু মুসলিম যখন এটি দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "এটি জিহ্বার স্খলন এবং একটি ভ্রান্তি (وهم)। প্রকৃতপক্ষে ক্রোধ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আমার দীর্ঘ সহনশীলতার মাধ্যমেই আমি তোমাকে ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছি। তুমি যদি এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকো, তবে আমি এতে তোমার অংশীদার; আর যদি তুমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকো, তবে ওজর পেশ করার অবকাশ তোমার রয়েছে। আমি তোমাকে সর্বাবস্থায় ক্ষমা করে দিলাম।" শাহরাম বললেন: "হে আমির! আপনার ক্ষমা যেন কোনো বিশ্বাসঘাতকতা না হয়।" তিনি বললেন: "অবশ্যই।" শাহরাম বললেন: "আমার অপরাধের গুরুত্ব আমার মনকে শান্ত হতে দিচ্ছে না।" তিনি ক্ষমা প্রার্থনায় পীড়াপীড়ি করতে থাকলে আবু মুসলিম বললেন: "আশ্চর্যের বিষয়! যখন তুমি মন্দ আচরণ করছিলে তখন আমি সদাচরণ করছিলাম; আর এখন আমি যখন সদাচরণ করছি, তখন তুমি মন্দ আচরণ করছ।"
হিশাম ইবনে মুহাম্মদ বলেন: নুমান ইবনে মুনযিরের নিকট দুইজন ব্যক্তিকে আনা হলো। তাদের একজন গুরুতর অপরাধ করেছিল, তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। অপরজন সামান্য অপরাধ করেছিল, তিনি তাকে শাস্তি দিলেন এবং বললেন // (মাজজু আল-কামিল ছন্দ) //
(রাজন্যবর্গ তাদের মহানুভবতার কারণে গুরুতর অপরাধসমূহ
… ক্ষমা করে দেন)
(খণ্ড: ১)
আল-জাওহারুন নাফীস ফী সিয়াসাতিল রাঈস
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
(وَلَقَد تعاقب فِي الْيَسِير
… وَلَيْسَ ذَلِك لجهلها)
(إِلَّا ليعرف حلمها
… وَيخَاف شدَّة نكلها)
وَلأبي الفراس بن حمدَان يَقُول // (الوافر) //:
(وأروع جَيْشه جَيش بهيم
… وغرته عَمُود من صباح)
(صفوح عِنْد قدرته حَلِيم
… قَلِيل الصفح مَا بَين الصفاح)
(وَكَانَ ثباته للقلب قلباً
… وهيبته جنَاحا للجناح)
(তিনি সামান্য বিষয়েও শাস্তি প্রদান করতেন
… এবং সেটি তাঁর অজ্ঞতার কারণে ছিল না)
(বরং যেন তাঁর ধৈর্য (حلم) অনুধাবন করা যায়
… এবং তাঁর কঠোর শাস্তিকে ভয় করা হয়)
আবু ফিরাস ইবনে হামদান বলেন // (ওয়াফির ছন্দ) //:
(এক বীরত্বপূর্ণ বাহিনী যা নিকষ কালো অন্ধকার সেনাদল
… যার ললাটের শুভ্রতা প্রভাতের আলোকস্তম্ভের ন্যায়)
(ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল (حليم)
… তবে যুদ্ধের ময়দানে তলোয়ারের মুখে তিনি অল্পই ক্ষমা প্রদর্শন করেন)
(তাঁর অবিচলতা (ثبات) ছিল হৃদয়ের জন্য এক অনন্য শক্তি
… এবং তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল সেনাদলের পার্শ্বভাগের জন্য সুরক্ষাকারী ডানা স্বরূপ)