(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: -)
مقتل الشيخ جميل الرحمن الأفغاني القسم: كتب عامة
الكتاب: مقتل الشيخ جميل الرحمن الأفغاني، ومعه (حول كلمة وهابي)
المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)
الناشر: دَارُ الآثَار للنشر وَالتوزيع، صَنعاء - اليمن
الطبعة: الثانية، 1421 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 101
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
শেখ জামিলুর রহমান আল-আফগানির হত্যাকাণ্ড বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: শেখ জামিলুর রহমান আল-আফগানির হত্যাকাণ্ড, এবং এর সাথে ('ওয়াহাবি' শব্দটির প্রসঙ্গে)
গ্রন্থকার: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কায়িদাহ (জনৈক ব্যক্তির নাম) আল-হামদানী আল-ওয়াদি'ঈ (মৃত্যু ১৪২২ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল আসার প্রকাশনী ও বিতরণী, সানা - ইয়েমেন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله الذي قدّر فهدى وقال في كتابه الكريم: ياأيّها الّذين ءامنوا استعينوا بالصّبر والصّلاة إن الله مع الصّابرين * ولا تقولوا لمن يقتل في سبيل الله أموات بل أحياء ولكن لا تشعرون * ولنبلونّكم بشيء من الخوف والجوع ونقص من الأموال والأنفس والثّمرات وبشّر الصّابرين * الّذين إذا أصابتهم مصيبة قالوا إنّا لله وأنا إليه راجعون * أولئك عليهم صلوات من ربّهم ورحمة وأولئك هم المهتدون (1).
وأشهد أن لا اله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد فهذه نبذة عن قتل أخينا في الله الشيخ جميل الرحمن الأفغاني، وقد وصلتنا معلومات من بعض إخواننا في الله جزاهم الله خيرًا لعلها تكون مجلدًا صغيرًا، واستفدنا منها، ولم نزبرها في هذا الكتاب خشية أن تكبّر حجم الكتاب، وأضفت إليها (حول كلمة وهابي)، لما بلغني من عداوة الأفغان للوهابية، فقد أخبرني بعض إخواني في الله أنه كان في بعض المعسكرات وسمع بعض الأفغان يقول: إذا انتهينا من الشيوعيين؛
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নির্ধারণ করেছেন এবং পথপ্রদর্শন করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না। আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে; আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের—যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’। তাদের ওপরই তাদের রবের পক্ষ থেকে আশীর্বাদ ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত (১)।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের ভাই শেখ জামিলুর রহমান আল-আফগানির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ। আমাদের কিছু দ্বীনি ভাইয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছেছে—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—যা সম্ভবত একটি ছোট খণ্ডের সমান হতে পারত। আমরা সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি, তবে বইটির কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় আমরা সেগুলো এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিনি। আর আমি এর সাথে ‘ওয়াহাবি শব্দ প্রসঙ্গে’ বিষয়টি যুক্ত করেছি; কারণ আফগানদের মধ্যে ওয়াহাবিদের প্রতি শত্রুতা সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি। আমার জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো এক সামরিক ক্যাম্পে ছিলেন এবং জনৈক আফগানকে বলতে শুনেছেন: যখন আমরা কমিউনিস্টদের থেকে অবসর হব (তাদের নির্মূল করব);
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
سنرجع على الوهابية.
وكذا أضفت إليها أسئلة من بعض إخواننا في الله اليمنيين المتعاونين مع أخينا في الله (جميل الرحمن) لما لها من تعلق بموضوع الاعتداء. نسأل من الله أن ينفع بما كتبته وأن يحقق به الحق، ويدحض الباطل إنه على كل شيء قدير.
هذا وأني أنصح العلماء والدعاة إلى الله من أهل السنة أن يجدوا ويجتهدوا في التحذير من الحزبية المشؤومة التي فرقت شمل المسلمين ويكون التحذير على الاستمرار لأن عمل النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كان ديمة.
أسأل الله أن يوفقهم لذلك أنه على كل شيء قدير.
أبوعبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
আমরা ওহাবিবাদের বিষয়ের দিকে পুনরায় ফিরে আসব।
একইভাবে, আমি এর সাথে আমাদের আল্লাহর ওয়াস্তে ইয়েমেনি ভাইদের পক্ষ থেকে আসা কিছু প্রশ্ন যুক্ত করেছি যারা আমাদের দ্বীনি ভাই (জামিলুর রহমান)-এর সাথে সহযোগী হিসেবে কাজ করেন; যেহেতু এই প্রশ্নগুলোর সাথে আগ্রাসনের বিষয়টির সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, আমি যা লিখেছি তা যেন তিনি উপকারী করেন এবং এর মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও বাতিলকে পর্যুদস্ত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আর আমি অহলুস সুন্নাহর আলেম ও আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের এই উপদেশ দিচ্ছি যে, তারা যেন সেই অশুভ দলবাজি (حزبية) থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম করেন যা মুসলিমদের ঐক্যকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। আর এই সতর্কীকরণের ধারা যেন অব্যাহত থাকে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর আমল ছিল নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের এর তাওফিক দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقابلة في شأن الجهاد الأفغانيالسؤال1: بما أنكم عشتم في بيئة زيدية وتعلمتم المذهب الزيدي عند أهله، فما هو السر في تحولكم إلى منهج أهل السنة والجماعة؟
الجواب: الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
نعم عشنا في بيئة زيدية لا يعرف آباؤنا إلا زيد بن علي والهادي والحسن والحسين وعلي بن أبي طالب، لكن ينبغي أن يعلم أننا لا نستطيع أن نسمي العامة زيدية، فلا نسمي زيديًّا إلا من درس المذهب الزيدي واقتنع بما فيه، وأما العامة فهم أتباع من وثقوا به ويظنون أن من دعاهم أو اقتدوا به على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
أما تركي المذهب الزيدي وانتقالي إلى سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فإن التقليد محرم، ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {ولا تقف ما ليس لك
আফগান জিহাদ প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারপ্রশ্ন ১: যেহেতু আপনারা জাইদি পরিবেশে বসবাস করেছেন এবং জাইদি মাযহাবের অনুসারীদের নিকট থেকে তা শিক্ষা করেছেন, সেহেতু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ (منهج)-এ আপনাদের পরিবর্তনের রহস্য কী?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
হ্যাঁ, আমরা জাইদি পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে আমাদের পিতৃপুরুষগণ যায়িদ বিন আলী, আল-হাদী, আল-হাসান, আল-হুসাইন এবং আলী বিন আবি তালিব ছাড়া অন্য কাউকে চিনতেন না। তবে এটি জানা উচিত যে, আমরা সাধারণ জনগণকে জাইদি হিসেবে অভিহিত করতে পারি না। আমরা কেবল তাকেই জাইদি বলতে পারি যে জাইদি মাযহাব অধ্যয়ন করেছে এবং এর বিষয়বস্তুর ওপর আশ্বস্ত হয়েছে। আর সাধারণ মানুষ তো তাদেরই অনুসারী যাদের তারা নির্ভরযোগ্য (ثقة) মনে করে এবং তারা মনে করে যে, যারা তাদের দাওয়াত দিচ্ছে বা যাদের তারা অনুসরণ করছে তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আমার জাইদি মাযহাব ত্যাগ করা এবং রাসুলুল্লাহর সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার কারণ হলো—নিশ্চয়ই অন্ধ অনুসরণ (تقليد) হারাম। আর ইজ্জতের মালিক মহান রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না...}
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
به علم إنّ السّمع والبصر والفؤاد كلّ أولئك كان عنه مسئولاً (1)}، ويقول الله سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {اتّبعوا ما أنزل إليكم من ربّكم ولا تتّبعوا من دونه أولياء قليلاً ما تذكّرون (2)}، ولقد تبرأ جماعة ممن درسوا المذهب الزيدي منه وابتعدوا عنه، من ذلكم: علامة اليمن محمد بن إبراهيم الوزير الذي قال فيه الشوكاني: لو قلت أن اليمن لم تنجب مثله لما أبعدت عن الصواب. ثم بعده صالح بن مهدي المقبلي صاحب "العلم الشامخ" القائل:
العلم يا صاحبي ما قال خالقنا
والمصطفى واطّرح ما شئت من كتب
هذا على أن المقبلي لم يخلص إلى السنة، فهو بين أهل السنة وبين الشيعة والمعتزلة ما ترك أحدًا إلا هاجمه حتى أهل السنة وحتى الإمام البخاري رحمه الله، وبعده محمد بن إسماعيل الأمير صاحب "سبل السلام" والكتب النيرة المتداولة التي تداولها المسلمون، وبعده محمد ابن علي الشوكاني قاضي قضاة القطر اليماني فإنه أيضًا ابتعد عن المذهب الزيدي، فمثل هؤلاء الأربعة الذين ينبغي أن يقال: لماذا تركوا المذهب الزيدي؟ لأنّهم درسوه وعرفوا ما فيه ثم رأوا أنه بعيد عن كتاب الله وعن سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
--------------------------------------------
...জ্ঞান রয়েছে; নিশ্চয়ই কান, চোখ এবং হৃদয়—এদের প্রত্যেকের নিকট হতে সে সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে (১)}। এবং আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছেড়ে অন্যদের অভিভাবকরূপে অনুসরণ করো না; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো (২)}। বস্তুত একদল লোক যারা যায়দি মাজহাব (المذهب الزيدي) অধ্যয়ন করেছিলেন, তারা এটি থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং তা বর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়ামেনের প্রাজ্ঞ আলেম (علامة) মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াযির, যার সম্পর্কে শাওকানি বলেছেন: "আমি যদি বলি যে ইয়ামেন তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে জন্ম দেয়নি, তবে আমি সত্য থেকে খুব একটা দূরে থাকব না।" অতঃপর তাঁর পরে রয়েছেন 'আল-আলাম আশ-শামিখ' গ্রন্থের রচয়িতা সালিহ বিন মাহদি আল-মাকবিলি, যিনি বলেছিলেন:
হে বন্ধু! জ্ঞান তো তা-ই যা আমাদের স্রষ্টা বলেছেন
এবং আল-মুস্তফা যা বলেছেন; এছাড়া বাকি সব কিতাব তুমি বর্জন করো
তবে আল-মাকবিলি সুন্নাহর (السنة) প্রতি পূর্ণ একনিষ্ঠ হতে পারেননি; তিনি আহলে সুন্নাহ (أهل السنة), শিয়া (الشيعة) এবং মুতাজিলাদের (المعتزلة) মাঝে এমন এক অবস্থানে ছিলেন যে তিনি কাউকেও আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকেননি, এমনকি আহলে সুন্নাহ (أهل السنة) এবং ইমাম বুখারিকেও (রহ.)। এরপর রয়েছেন 'সুবুলুস সালাম' এবং মুসলমানদের মাঝে বহুল প্রচলিত অন্যান্য আলোকবর্তিকাসমূহ গ্রন্থের রচয়িতা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমির। অতঃপর ইয়ামেন ভূখণ্ডের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ বিন আলী আল-শাওকানি, তিনিও যায়দি মাজহাব (المذهب الزيدي) থেকে দূরে সরে এসেছিলেন। মূলত এই চারজন ব্যক্তির ব্যাপারেই বলা সমীচীন যে: কেন তারা যায়দি মাজহাব (المذهب الزيدي) ত্যাগ করেছিলেন? কারণ তারা এটি গভীর গবেষণার মাধ্যমে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং এর অভ্যন্তরের বিষয়াদি অবগত হয়েছিলেন; অতঃপর তারা দেখতে পেয়েছিলেন যে এটি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে অনেক দূরে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
أما أنا فدراستي بصعدة بعد أن تعلمت شيئًا من السنة، وأحببت سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، درست قدر ثلاث سنين، وكلما ازددت دراسة للمذهب الزيدي ازددت بغضاً له، لماذا؟ لأنه في العقيدة مسروق من مذهب المعتزلة كما بينا هذا في شريط "المذهب الزيدي مبني على الهيام" وفي الأحكام والعبادات مسروق من المذهب الحنفي وفي التشيع مسروق من المذهب الرافضي، فحق لمسلم أن يتبرأ من هذه البدع ومن هذه الخرافات، والله سبحانه وتعالى يقول في نبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم: {وإن تطيعوه تهتدوا (1)}، ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {وما آتاكم الرّسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا (2)}، ويقول سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله كثيرًا (3)}.
فالتمذهب ليس من دين الإسلام، بل أن الإمام ابن عبد البر يقول: أجمع أهل العلم على أن المقلد لا يعد من أهل العلم. فالحمد لله الذي وفقنا لسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم من بدء الطلب الحقيقي أقول من بدء الطلب الحقيقي لأننا طلبنا العلم في المكتب وهو ما يبتدئ فيه الطالب بمعرفة الهجاء وحفظ أو قراءة القرآن، قرأنا قراءة لا نذوق حلاوتها ولا ندري
--------------------------------------------
আমার কথা বলতে গেলে, সুন্নাহর কিছুটা জ্ঞান অর্জনের পর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা জন্মানোর পর আমি সা'দাহ নামক স্থানে পড়াশোনা করেছি। সেখানে আমি প্রায় তিন বছর পড়াশোনা করেছি। যায়েদি মাযহাব সম্পর্কে আমি যত বেশি পড়াশোনা করেছি, এর প্রতি আমার ঘৃণা ততই বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন? কারণ এর আকিদা (عقيدة) মুতাজিলা মাযহাব থেকে চুরি করা হয়েছে, যেমনটি আমরা 'আল-মাযহাবুল যায়েদি মাবনি আলাল হাইয়াম' নামক অডিও ক্যাসেটে বর্ণনা করেছি। এর বিধান (أحكام) ও ইবাদতসমূহ হানাফি মাযহাব থেকে এবং শিয়া মতবাদ রাফেযি মাযহাব থেকে চুরি করা হয়েছে। সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য এই বিদআত (بدعة) ও কুসংস্কারগুলো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা আবশ্যক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন: {যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হেদায়াত পাবে (১)}। রব্বুল ইজ্জত তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো (২)}। তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবে আরও বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ (৩)}।
মূলত মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ ইসলাম ধর্মের অংশ নয়; বরং ইমাম ইবনে আবদিল বার বলেন: আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, অন্ধ অনুসারী (مقلد) ব্যক্তিকে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণের শুরু থেকেই আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ওপর অটল থাকার তাওফিক দিয়েছেন। আমি 'প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণ' বলছি কারণ শুরুতে আমরা মকতবে জ্ঞান অর্জন করেছিলাম, যেখানে একজন ছাত্র বানান শেখা এবং কুরআন মুখস্থ বা পাঠ করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। তখন আমরা এমনভাবে পাঠ করতাম যার মিষ্টতা আমরা অনুভব করতে পারতাম না এবং আমরা জানতাম না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
لماذا نقرأ، ثم بعد ذلك ضاع من العمر ما شاء الله، وبعدها بحمد الله وفقنا لدراسة سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم من بدء الأمر، والحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
السؤال2: بما أن الشعب اليمني عاش تحت وطأة التصوف والتشيع، فكيف بدأتم الدعوة؟ وكيف حققتم هذه النتائج المثمرة؟
الجواب: نعم، الأمر كما يقول الأخ، الشعب اليمني عاش تحت وطأة التشيع ووطأة التصوف، والقليل الذي هو متمسك بسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، لقد دخل التشيع إلى اليمن من القرن الثالث واعتبرها المؤرخ الجعدي صاحب "طبقات فقهاء اليمن" فتنةً دخلت إلى اليمن، ثم لم يزل التشيع إلى أعوام قريبة حتى من تظاهر بسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم استحلوا دمه، فذلكم محمد بن إبراهيم الوزير رحمه الله تعالى بعد أن كان يجلّه أساتذته وكانوا يجهلونه، فلما تظاهر بالسنة كتب شيخه رسالة يفند ما ذهب إليه، وأجاب عليه بكتابه "العواصم والقواصم" وبكتابه: "الروض الباسم" فكان من جملة ما قال يبين لنا حالته بسبب تمسكه بسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وبسبب تحامل أعداء السنة عليه يقول وهو يفر بدينه من شعب إلى شعب ومن واد إلى واد:
فحينًا بشعب بطن واد كأنّه وحينًا بطود تمطر السحب دونه هنالك يصفو لي من العيش ورده
কেন আমরা পড়ি? এরপর জীবনের একটি দীর্ঘ সময় আল্লাহর ইচ্ছায় অতিবাহিত হলো। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসায় আমরা শুরু থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة) অধ্যয়নের তাওফিক লাভ করেছি। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আর আল্লাহ যদি আমাদের হেদায়াত না দিতেন, তবে আমরা কদাচ হেদায়াত প্রাপ্ত হতাম না।
প্রশ্ন ২: যেহেতু ইয়েমেনের জনগণ তাসাউফ এবং শিয়া মতবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল, তাই আপনারা কীভাবে দাওয়াহর কাজ শুরু করেছিলেন? এবং কীভাবে আপনারা এই ফলপ্রসূ ফলাফল অর্জন করলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, বিষয়টি আমাদের এই ভাই যেমনটি বলেছেন তেমনই। ইয়েমেনের জনগণ শিয়া মতবাদ ও তাসাউফের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছে। অতি সামান্য সংখ্যক মানুষই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর (سنة) ওপর অবিচল ছিলেন। তৃতীয় হিজরি শতাব্দী থেকে ইয়েমেনে শিয়া মতবাদের অনুপ্রবেশ ঘটে। ইতিহাসবিদ আল-জাদি, যিনি 'তাবাকাত ফু্কাহা আল-ইয়ামান' গ্রন্থের রচয়িতা, একে ইয়েমেনে প্রবেশকারী একটি ফিতনা হিসেবে গণ্য করেছেন। এরপর নিকট অতীত পর্যন্ত শিয়া মতবাদ এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة) প্রকাশ করত, তারা তাদের রক্ত বৈধ মনে করত। এই তো মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াজির (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর কথা ধরুন; একসময় তাঁর উস্তাদরা তাঁকে অনেক সম্মান করতেন কিন্তু তাঁর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। অতঃপর যখনই তিনি সুন্নাহ (سنة) প্রকাশ করলেন, তখন তাঁর উস্তাদ তাঁর অনুসৃত মতাদর্শ খণ্ডন করে একটি পুস্তিকা লিখলেন। তিনি এর জবাবে তাঁর 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' এবং 'আর-রাওদ আল-বাসিম' গ্রন্থ দুটি রচনা করেন। সুন্নাহর (سنة) প্রতি অবিচল থাকার কারণে এবং সুন্নাহর (سنة) বিরোধীদের পক্ষ থেকে আসা চরম বিদ্বেষের ফলে তাঁর যে অবস্থা হয়েছিল, তা তিনি নিজেই ব্যক্ত করেছেন। তিনি যখন নিজের দ্বীন রক্ষার্থে এক গিরিপথ থেকে অন্য গিরিপথে এবং এক উপত্যকা থেকে অন্য উপত্যকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন:
কখনো কোনো উপত্যকার গভীর গিরিপথে অবস্থান করি যেন তা নির্জন এক আশ্রয়,
কখনো বা সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গে যেখানে মেঘমালা নিচে বর্ষণ করে;
সেখানেই জীবনের প্রতিটি আস্বাদ আমার তরে স্বচ্ছ ও নির্মল হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
فإن يبست ثمّ المراعي وأجدبت
… ولا عار أن ينجو كريم بنفسهفقد هاجر المختار قبلي وصحبه
… حشا قلم تمسي به الطير تصفرأشم منيف بالغمام مؤزروإلا فورد العيش رمق مكدّر فروض العلا والعلم والدين أخضرولكن عارًا عجزه حين ينصروفرّ إلى أرض النجاشي جعفر
كانت القراءة في كتب السنة جريمة لا تغتفر، ولسنا بصدد القصص فقد ذكرنا شيئًا في شريط "المذهب الزيدي مبني على الهيام"، لسنا في سبيل القصص التي حدثت لعلماء السنة بسبب تمسكهم بسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، إذا قالوا: فلان سنّي فكأنّهم قالوا: فلان يهودي.
ثم بعده أيضًا صالح بن مهدي المقبلي ومن ذكر حصل لهم من الأذى ما الله به عليم، فالحمد لله خاب أعداؤهم وانتشرت سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وانتشر أيضًا علمهم، انتصر علم هؤلاء الأئمة الذين قاموا بالدفاع عن سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
أما بدء الدعوة ههنا فإننا قدمنا إلى قومنا غرباء عند القريب والبعيد، فذاك يرى أنني إذا وضعت يدي اليمنى على يدي اليسرى في الصلاة أن صلاتي باطلة، وآخر إذا سمع مني أنني أقول: أن الهادي لا ينفع ولا يضر مع الله؛ يرى أنني أبغض أهل بيت النبوة، وآخر أيضًا إذا وجد عندي "صحيح البخاري" أو "صحيح مسلم"؛ يقول: هذا وهّابي قد انحرف عن أهل بيت النبوة، وبقيت ما شاء الله تارة ببلدي وأخرى بصنعاء وأخرى في ذمار أتنقل وأزور طلبة العلم وأهل السنة، ولا أستأنس إلا إذا كنت بين أهل السنة، أما في بلدي فيا لله يالله من ضيق يتوالى عليّ
যদি চারণভূমিগুলো শুকিয়ে যায় এবং অনাবৃষ্টি দেখা দেয়
… এমন এক সুউচ্চ স্থানে যেখানে পাখিরা কিচিরমিচির করে প্রভাত অতিবাহিত করে,
মেঘমালা পরিবেষ্টিত এক সুউচ্চ শিখর।
অন্যথায় জীবন ধারণের রসদ যদি পঙ্কিল ও যৎসামান্যও হয়, তবুও শ্রেষ্ঠত্ব, ইলম ও দ্বীনের চারণভূমিগুলো চিরসবুজ থাকে।
কোনো সম্মানিত ব্যক্তির নিজের জীবন রক্ষার্থে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়
… তবে লজ্জা হলো সাহায্য প্রাপ্তি সত্ত্বেও তার অক্ষম হয়ে পড়ে থাকা।
নিশ্চয়ই আমার পূর্বে আল-মুখতার (রাসূলুল্লাহ ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ হিজরত করেছেন
… আর জাফর নাজ্জাশির ভূমিতে হিজরত করেছিলেন।
সুন্নাহর (سنة) কিতাবসমূহ পাঠ করা তখন এক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। আমরা এখানে সেই কাহিনীগুলো বর্ণনা করতে বসিনি, কারণ "আল-মাজহাব আল-জাইদি মাবনি আলাল হাইয়াম" নামক অডিও ক্যাসেটে আমরা এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে (سنة) আঁকড়ে ধরার কারণে সুন্নাহর (سنة) আলেমদের ওপর যে সব বিপদ-আপদ এসেছিল, আমরা সেই গল্প বলার পর্যায়ে এখন নেই। তারা যদি বলত: "অমুক ব্যক্তি সুন্নী (سني)", তবে তা যেন এমন ছিল যে তারা বলছে: "অমুক ব্যক্তি ইহুদি।"
অতঃপর তাঁর পরে সালেহ বিন মাহদী আল-মাকবালী এবং যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের ওপর এমন কষ্ট ও নির্যাতন নেমে এসেছিল যা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। তবে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাদের শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة) ও তাঁদের ইলম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সব ইমামদের ইলম বিজয়ী হয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর (سنة) প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন।
এখানকার দাওয়াতের সূচনালগ্ন সম্পর্কে বলতে গেলে, আমরা আমাদের কওমের কাছে নিকটাত্মীয় ও দূরবর্তী সবার নিকট আগন্তুক (غرباء) হিসেবে এসেছিলাম। তাদের কেউ মনে করত যে, আমি যদি সালাতে আমার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখি তবে আমার সালাত বাতিল (باطل)। আবার অন্য কেউ যখন আমার কাছ থেকে শুনত যে আমি বলছি— 'হাদী (আলী বিন হুসাইন) আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখেন না', তখন সে মনে করত যে আমি আহলে বাইতকে ঘৃণা করি। আবার অন্য কেউ যখন আমার কাছে Sahih Bukhari বা Sahih Muslim দেখত, তখন বলত: "এ তো ওহাবী, সে নবুয়তের আহলে বাইতের পথ থেকে বিচ্যুত (منحرف) হয়ে গেছে।" আমি যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা কখনো আমার নিজ শহরে, কখনো সানআয়, আবার কখনো যামারে যাতায়াত করেছি এবং ইলম অন্বেষণকারী ও আহলে সুন্নাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি আহলে সুন্নাহর মাঝে থাকলেই কেবল প্রশান্তি অনুভব করতাম, আর আমার নিজ শহরে থাকাকালীন আমার ওপর যে সংকীর্ণতা ও মানসিক চাপ ক্রমাগত আসত তা কেবল আল্লাহর কাছেই সমর্পণযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأنا في بلدي، والسبب في هذا ما ذكر، لا يدري طالب العلم أيواجه العامة الذين لا يفقهون عن دين الله شيئًا؟ أم يواجه المتمذهبة، أم يواجه غلاة التشيع؟ إلى غير ذلك، وهناك أيضًا من يدفع هذين الصنفين وهم الشيوعية والبعثية والناصرية فأنّهم يكيدون للإسلام من تحت الستار ولا يستطيعون أن يرفعوا رؤوسهم لأنّهم في بلد مسلم.
فبدأت بحمد الله بتعليم القرآن، وبعد ذلكم الأحاديث: أحاديث في فضل اليمن وفي فضل أهل بيت النبوة وفي فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، لأنّهم يقولون أن أهل السنة لا يحبون رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ولا يحبون أهل بيت النبوة، وهكذا يرمونهم بالعظائم، فأردنا أن نبرهن لهم أنّهم كاذبون في هذه الفرية وأن أهل السنة يحبون أهل النبوة حبًا شرعيًا ويحبون النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم حبًا شرعيًا وينْزلونه المنْزلة التي أنزله الله إياها، وهكذا المنْزلة التي أنزل نفسه إياها، فقد روى البخاري في "صحيحه" عن عمر رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه قال: ((لا تطروني كما أطرت النّصارى عيسى بن مريم عليه السلام فإنّما أنا عبد الله ورسوله)) وجاء أيضًا في "المسند" وفي "السنن" والمعنى متقارب من حديث عبد الله بن الشخير ومن حديث أنس أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((لا ترفعوني فوق منْزلتي)) ومن حديث عبد الله بن الشخير أنّهم قالوا أي الوفد: أنت سيّدنا. فقال: ((السّيّد الله تبارك وتعالى) قلنا: وأفضلنا فضلاً وأعظمنا طولاً. فقال: ((قولوا بقولكم أو بعض قولكم ولا يستجرينّكم الشّيطان)).فأهل السنة ينْزلون النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم منْزلته.
আমি আমার নিজ দেশে অবস্থান করছি এবং এর কারণ হলো যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন ইলম অন্বেষণকারী বুঝে উঠতে পারেন না যে, তিনি কি সেই সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন যারা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে কিছুই বোঝে না? নাকি মাযহাবী গোঁড়ামিতে লিপ্ত (المتمذهبة) ব্যক্তিদের মোকাবিলা করবেন, নাকি শিয়া চরমপন্থীদের (غلاة التشيع) মোকাবিলা করবেন? এছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেখানে এমন কিছু লোকও রয়েছে যারা এই দুই শ্রেণীকে উস্কানি দেয়, আর তারা হলো কমিউনিস্ট, বাথপন্থী এবং নাসেরবাদী; তারা পর্দার আড়াল থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং মুসলিম দেশ হওয়ার কারণে তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।
অতঃপর আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে আমি কুরআন শিক্ষা দেওয়া শুরু করি এবং এর পরে হাদিসসমূহ: যেমন ইয়েমেনের মর্যাদা বিষয়ক হাদিস, আহলে বায়তের মর্যাদা বিষয়ক হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের ফজিলত বিষয়ক হাদিসসমূহ। কারণ তারা বলে থাকে যে, আহলে সুন্নাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসে না এবং তারা আহলে বায়তকেও ভালোবাসে না; এভাবে তারা তাঁদের ওপর গুরুতর অপবাদ আরোপ করে। তাই আমরা তাঁদের কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছি যে, তারা এই অপবাদে মিথ্যাবাদী (كاذبون) এবং আহলে সুন্নাত নবী পরিবারকে শরয়ি পদ্ধতিতে ভালোবাসে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে শরয়ি পদ্ধতিতে মহব্বত করে। তাঁরা তাঁকে সেই মর্যাদায় আসীন করেন যে মর্যাদা আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন, এবং সেই মর্যাদা যা তিনি স্বয়ং নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার প্রশংসায় এমন অতিরঞ্জন করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে করেছিল। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা, সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।” এছাড়া মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহেও আব্দুল্লাহ বিন আল-শিখখির এবং আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কাছাকাছি অর্থের হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমাকে আমার মর্যাদার উর্ধ্বে তুলে ধরো না।” আব্দুল্লাহ বিন আল-শিখখির বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তারা অর্থাৎ প্রতিনিধি দলটি বলেছিল: আপনি আমাদের সাইয়্যিদ। তিনি বললেন: “সাইয়্যিদ হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা।” আমরা বললাম: আপনি আমাদের মধ্যে ফযিলতে শ্রেষ্ঠ এবং দানে মহান। তিনি বললেন: “তোমরা তোমাদের কথা বলো অথবা তোমাদের কথার কিছু অংশ বলো, শয়তান যেন তোমাদেরকে প্ররোচিত না করে।” সুতরাং আহলে সুন্নাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর সঠিক মর্যাদাতেই স্থান দেয়।
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأذكر عند أن كنت بتلك الوحشة، في هذه البلد وعندنا مسجد من الطين وبرك مسقف والحمد لله، زارني رجل فاضل وقد قتله الشيوعيون رحمه الله تعالى وهو الأخ مرشد الكبودي، فعند أن رأى تلكم الحالة لا أستطيع أن أصفها لكم، كان يقول:
أضاعوني وأيّ فتًى أضاعوا؟!!
… ليوم كريهة وسداد ثغر
لأنه كان يعرفني من مدينة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فكأني لم أسمع أخي في الله مرشد الكبودي وكأنه لم يعنني والحمد لله، بعدها بحمد الله صار أهل العلم والدعاة إلى الله يأتون إلى هنا ويزوروننا، ذاك من أرحب، وذاك من حاشد، وذاك من آنس، وذاك من عنس، وذاك من صنعاء، وذاك من تعز، وذاك من السودان، وذاك من مصر، وذاك من بلجيكا
… الخ
أخبرني شخص يقول: كنت في السيارة وهناك اجتماع عندكم في دماج، وأنا في السيارة فإذا اثنان يتحدثان من أهل دماج عند أن رأوا الجمع الكثير وطلبة العلم وإذا هما يقولان: لقد ظلمنا مقبلاً، هكذا إخواني في الله عند أن رأوا طلبة العلم يفدون. الآن أهل البلد بحمد الله سنّيهم وشيعيّهم -أعني أهل دماج- يحبون الدعوة، على أنه ليس هناك في دماج أحد نستطيع أن نقول إنه شيعي، اللهم إلا واحدًا ليس له أثر، وإلا فهم عامة مساكين أتباع كل ناعق، كل يوم وهو يتراجع اثنان أو ثلاثة والله المستعان.
فالحمد لله الآن أهل دماج مستجيبون للدعوة ومستعدون لمناصرة
আর আমি স্মরণ করি যখন আমি সেই নির্জনতায় ছিলাম, এই জনপদে যেখানে আমাদের একটি মাটির মসজিদ এবং একটি ছাদযুক্ত হাউজ ছিল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তখন একজন গুণী ব্যক্তি আমাকে দেখতে এসেছিলেন—যাকে পরবর্তীতে কমিউনিস্টরা হত্যা করেছিল, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি হলেন ভাই মুরশিদ আল-কাবূদী। যখন তিনি আমার সেই অবস্থা দেখলেন যা আমি আপনাদের কাছে বর্ণনা করতে সক্ষম নই, তখন তিনি বলতেন:
“তারা আমাকে হারিয়েছে, আর তারা কোন যুবককেই না হারিয়েছে?!!
… এক কঠিন দিনের জন্য এবং সীমান্ত রক্ষার নিমিত্তে।”
কেননা তিনি আমাকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহর থেকে চিনতেন। তখন যেন আমি আমার আল্লাহর পথের ভাই মুরশিদ আল-কাবূদীর কথা শুনিনি এবং তা যেন আমার প্রতি তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এরপর আল্লাহর প্রশংসায় আলেম সমাজ এবং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীগণ এখানে আসতে শুরু করলেন এবং আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে লাগলেন; কেউ আরহাব থেকে, কেউ হাশেদ থেকে, কেউ আনাস থেকে, কেউ আনস থেকে, কেউ সানআ থেকে, কেউ তায়িয থেকে, কেউ সুদান থেকে, কেউ মিশর থেকে, আর কেউ বেলজিয়াম থেকে
… ইত্যাদি।
এক ব্যক্তি আমাকে জানালেন যে, তিনি বলছিলেন: আমি গাড়িতে ছিলাম এবং আপনাদের দাম্মাজে তখন একটি সমাবেশ চলছিল। আমি গাড়িতে থাকা অবস্থায় দাম্মাজের অধিবাসীদের মধ্যে দুজনকে কথা বলতে শুনলাম; যখন তারা বিশাল জনসমাবেশ এবং ইলমে দ্বীনের ছাত্র (طلبة العلم) দেখল, তখন তারা বলছিল: “আমরা মুকবেলের প্রতি অবিচার করেছি।” হে আল্লাহর পথের ভাইয়েরা, এভাবেই তারা যখন ইলমে দ্বীনের ছাত্র (طلبة العلم)-দের দলে দলে আসতে দেখল। এখন এই জনপদের অধিবাসীরা আল্লাহর প্রশংসায়—তাদের সুন্নি (سني) এবং শিয়া (شيعي) নির্বিশেষে, অর্থাৎ দাম্মাজের অধিবাসীরা—এই দাওয়াতকে ভালোবাসে। যদিও দাম্মাজে এমন কেউ নেই যাকে আমরা শিয়া (شيعي) বলতে পারি, তবে একজন ছাড়া যার কোনো প্রভাব নেই; নতুবা তারা সাধারণ অসহায় মানুষ যারা প্রত্যেক আহ্বানকারীর অনুসরণ করে। প্রতিদিন দুই বা তিনজন করে ফিরে আসছে এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এখন দাম্মাজের অধিবাসীরা দাওয়াতের প্রতি সাড়া দিচ্ছে এবং সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الدعوة، ويكرمون من أتى إليهم ويصبرون على من أتى إليهم من طلبة العلم، فجزاهم الله عن الدعوة خيرًا والحمد لله الذي وفقهم لهذا.
السؤال3: بما أننا وجدنا تقاربًا في الحياة القبلية والتعصب المذهبي بين الشعب الأفغاني والشعب اليمني فبماذا تنصحون القائمين على الدعوة في أفغانستان؟
الجواب: الذي أنصح به هو ما نصح النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أبا موسى ومعاذ ابن جبل حيث قال لهما: ((يسّرا ولا تعسّرا، وبشّرا ولا تنفّرا، وتطاوعا ولا تختلفا)) وما جاء في "الصحيحين" من حديث أنس أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((إنّما بعثتم ميسّرين ولم تبعثوا معسّرين)) وبما جاء أيضًا في "الصحيح" عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال لعائشة: ((إنّ الرّفق لا يكون في شيء إلاّ زانه ولا ينْزع من شيء إلاّ شانه)) ونحن في مجتمع لا نستطيع أن ندعوه إلا بالرفق واللين؛ لأنه ليس بأيدينا سلطة.
ثم بعد ذلك المجتمع هو رأس مالنا فلا ينبغي أن ننفر المجتمع، ندعو المجتمع من كتاب إلى كتاب الله ومن سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم إلى سنة رسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم، والقبيلي مستعد أن يكفر في سبيل الكبْر، فإذا شاددته وأردت أن تلزمه أو تصارعه مستعد أن يقتلك أو تقتله وهو مسلم وأنت مسلم، والرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول كما في "الصحيح" من حديث أبي بكرة: ((إذا التقى المسلمان بسيفيهما فالقاتل والمقتول في النّار)) ويقول أيضًا كما في "الصحيحين" من حديث ابن مسعود: ((لا يحلّ دم امرئ مسلم يشهد أن
দাওয়াত, এবং তারা তাদের নিকট আগতদের সম্মান করেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা তাদের কাছে আসেন তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করেন; আল্লাহ তাদের দাওয়াতের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাদের এই তাওফিক দান করেছেন।
প্রশ্ন ৩: যেহেতু আমরা আফগান ও ইয়ামেনি জনগণের মধ্যে গোত্রীয় জীবন এবং মাযহাবী গোঁড়ামির ক্ষেত্রে একটি সাদৃশ্য লক্ষ্য করেছি, সেহেতু আফগানিস্তানে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি আপনার নসিহত কী?
উত্তর: আমি সেই নসিহতই করছি যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আবু মুসা এবং মুয়াজ ইবনে জাবালকে করেছিলেন, যখন তিনি তাদের উভয়কে বলেছিলেন: "তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতাড়িত করো না এবং পরস্পর মিলেমিশে থেকো, মতভেদ করো না।" আর যা 'সহিহাইন' এ আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদেরকে কেবল সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং কঠিনকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি।" এবং 'সহিহ' গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই কোমলতা যে জিনিসের মধ্যেই থাকে তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, আর যা থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় তা তাকে কলঙ্কিত করে।" আর আমরা এমন এক সমাজে আছি যেখানে কোমলতা ও নম্রতা ব্যতিরেকে আমরা দাওয়াত দিতে পারি না; কারণ আমাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই।
অতঃপর সমাজই আমাদের মূলধন, তাই সমাজকে বিতাড়িত করা আমাদের উচিত নয়। আমরা সমাজকে আল্লাহর কিতাবের দিকে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানাব। একজন গোত্রীয় লোক তার অহংকারের খাতিরে কুফরি করতেও প্রস্তুত থাকে; সুতরাং আপনি যদি তার সাথে কঠোরতা করেন এবং তাকে কোনো বিষয়ে বাধ্য করতে চান বা তার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন, তবে সে আপনাকে হত্যা করতে বা আপনার হাতে নিহত হতেও প্রস্তুত থাকে, অথচ সেও মুসলিম এবং আপনিও মুসলিম। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) যেমনটি 'সহিহ' গ্রন্থে আবু বকরা (রা.)-এর হাদিসে বলেছেন: "যখন দুজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে।" এবং তিনি আরও বলেছেন যেমনটি 'সহিহাইন' এ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে..."
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لا إله إلاّ الله وأنّي رسول الله إلاّ بإحدى ثلاث: النّفس بالنّفس، والثّيّب الزّاني، والمارق من الدّين التّارك للجماعة)) ثم بعد ذلك الله سبحانه وتعالى يقول في كتابه الكريم: {وقل لعبادي يقولوا الّتي هي أحسن إنّ الشّيطان ينْزغ بينهم إنّ الشّيطان كان للإنسان عدوًّا مبينًا (1)}، ويقول سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {ولا تستوي الحسنة ولا السّيّئة ادفع بالّتي هي أحسن فإذا الّذي بينك وبينه عداوة كأنّه وليّ حميم (2)}.
فنحن نقول: إن إخواننا العامة إذا سخطوا علينا قابلناهم بالتي هي أحسن، وشيعة اليمن نحن نعتبرهم مسلمين مبتدعة، فإذا تقدموا خطوة تأخرنا أخرى، لأننا نعتبرهم مسلمين ولا نستحل دمائهم ولا أموالهم ولا أعراضهم، وقد رأينا سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أقوى منا؛ فقد ضربتهم سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وبحمد الله أيضًا ضربوا بسبب التأليف وبسبب الدعوة إلى الله، فالدعوة إلى الله أنفع، ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {ادع إلى سبيل ربّك بالحكمة والموعظة الحسنة}. فلا بد من دعوة بحكمة وموعظة حسنة، وأن تعرف من تواجه، أنت تواجه أخاك المسلم لا تستحل ماله ولا دمه ولا عرضه فإن قبل منك اليوم وإلا فسيقبل غدًا أو بعد غد، أما أن يكون الانتصار للنفس، شأن أهل الدنيا أنّهم إذا خالفهم أحد نبذوه ورموه بالألقاب المشنعة، فذاك بعثي وذاك ناصري وذاك
--------------------------------------------
(আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির রক্ত [হত্যা করা] তিনটি কারণ ছাড়া বৈধ নয়: জীবনের বিনিময়ে জীবন, বিবাহিত ব্যভিচারী এবং দ্বীন ত্যাগকারী ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি।) এরপর মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {আর আমার বান্দাদের বলে দিন, তারা যেন এমন কথা বলে যা অতি উত্তম। নিশ্চয়ই শয়তান তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু (১)}, এবং মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে আরও বলেন: {সৎকাজ ও অসৎকাজ সমান হতে পারে না। আপনি মন্দকে প্রতিহত করুন যা উত্তম তা দ্বারা; ফলে আপনার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে (২)}।
আমরা বলি: আমাদের সাধারণ ভাইয়েরা যদি আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়, তবে আমরা তাদের সাথে উত্তম পন্থায় আচরণ করব। আর ইয়েমেনের শিয়াদের আমরা বিদআতপন্থী (مبتدعة) মুসলিম হিসেবে গণ্য করি। তারা যদি এক কদম এগিয়ে আসে, তবে আমরা এক কদম পিছিয়ে যাব; কারণ আমরা তাদের মুসলিম মনে করি এবং তাদের রক্ত, সম্পদ কিংবা সম্মানকে আমরা বৈধ মনে করি না। আমরা দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ আমাদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের ওপর প্রভাব পড়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসায় তারা কিতাব রচনা ও আল্লাহর পথে দাওয়াতের কারণেও প্রভাবিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করাই অধিক উপকারী। মহা প্রতাপশালী রব তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {আপনি আপনার রবের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দিন}। সুতরাং প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়া অপরিহার্য। আর আপনি কার মুখোমুখি হচ্ছেন তা আপনাকে জানতে হবে; আপনি আপনার মুসলিম ভাইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, আপনি তার সম্পদ, রক্ত কিংবা সম্মানকে বৈধ মনে করতে পারেন না। সে যদি আজ আপনার কথা গ্রহণ না করে, তবে হয়তো আগামীকাল কিংবা পরশু গ্রহণ করবে। কিন্তু কেবল নিজের বিজয় কামনা করা দুনিয়াদারদের কাজ; তাদের সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে তারা তাকে বর্জন করে এবং কুরুচিপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত করে। তারা বলে ওমুক বাথপন্থী, ওমুক নাসেরপন্থী এবং ওমুক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
شيوعي، وربما لا يكون بعثيًّا ولا ناصريًّا ولا شيوعيًّا، لكن لأجل أنه خالفهم ولم يستجب لهم.
فلا بد من الدعوة برفق ولين، لأن أهل السنة يمثلون سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {وما أرسلناك إلاّ رحمةً للعالمين (1)}، فينبغي أن تكون دعوة أهل السنة رحمة من عند الله عز وجل، يقول سبحانه وتعالى: {لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتّم حريص عليكم بالمؤمنين رؤوف رحيم (2)}، ويقول الله سبحانه وتعالى: {فبما رحمة من الله لنت لهم ولو كنت فظًّا غليظ القلب لانفضّوا من حولك (3)}.
وقد كان النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يعامل أجلاف الأعراب غير معاملة أفاضل صحابته، فذاك الذي من أفاضل صحابته يقول له: ((إنّك امرؤ فيك جاهليّة)) يقصد أبا ذر، وآخر يقول له: ((أفتّان أنت يا معاذ)) لكن الأعرابي يأتي إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ويمسكه بحاشية ردائه ويقول: يا محمد أعطني فإنّك لا تعطيني من مالك ولا من مال أبيك. فيعطيه.
فدعوة العامي تحتاج إلى صبر وإلى تأليف، ينبغي أن تتألفوا العامة، فقد جعل الله سبحانه وتعالى قسطًا في الزكاة للمؤلفة قلوبهم، وينبغي
--------------------------------------------
কমিউনিস্ট, এবং সম্ভবত সে বাথপন্থী নয়, নাসিরপন্থী নয় এবং কমিউনিস্টও নয়; কিন্তু কেবল এজন্য যে সে তাদের বিরোধিতা করেছে এবং তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি।
তাই নম্রতা ও কোমলতার সাথে দাওয়াত (دعوة) প্রদান করা আবশ্যক, কেননা সুন্নাহর অনুসারীগণ (أهل السنة) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতিনিধিত্ব করেন। আর ইজ্জতের মালিক রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই পাঠিয়েছি (১)}। সুতরাং সুন্নাহর অনুসারীদের (أهل السنة) দাওয়াত (دعوة) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণাস্বরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন: {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর জন্য অসহনীয়। তিনি তোমাদের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু (২)}, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আরও বলেন: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত (৩)}।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রূঢ় স্বভাবের মরুবাসীদের সাথে তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের মধ্য থেকে একজনকে তিনি বলেছিলেন: ((নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে জাহিলিয়াত (جاهليّة) রয়েছে)) — তিনি এর দ্বারা আবু যর-কে উদ্দেশ্য করেছিলেন; এবং অন্য একজনকে বলেছিলেন: ((হে মুয়াজ! তুমি কি ফিতনাকারী (فتّان) হতে চাও?))। কিন্তু জনৈক মরুবাসী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁর চাদরের প্রান্ত ধরে টান দিয়ে বলেছিল: হে মুহাম্মদ! আমাকে দান করুন, কেননা আপনি আমাকে আপনার নিজের সম্পদ থেকে বা আপনার পিতার সম্পদ থেকে দিচ্ছেন না। অতঃপর তিনি তাকে দান করতেন।
সুতরাং সাধারণ ব্যক্তির (عامي) ক্ষেত্রে দাওয়াত (دعوة) প্রদানের জন্য ধৈর্য (صبر) ও মন জয়ের প্রয়োজন রয়েছে। আপনাদের উচিত সাধারণ মানুষের মন জয় করা, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা জাকাতের একটি অংশ যাদের অন্তর জয় করা কাম্য (المؤلفة قلوبهم) তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, এবং উচিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أيضًا أن تحسنوا إليهم؛ فأنتم دعاة إلى الجنة، لا ينبغي أن نكون دعاة إلى النار ولا ينبغي أن نكون منفّرين وينبغي أن نعرف من ندعو فنحن ندعو أهل اليمن الذين قال فيهم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((إنّهم ألين قلوبًا وأرقّ أفئدةً)) وقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((الإيمان يمان والحكمة يمانية)).
وقد رأينا من الاستجابة بعد تلكم الحالة التي قصصتها عليكم، ومن استقبال أهل السنة لسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ومن حفاوتهم بإخوانّهم أهل السنة، وإكرامهم لإخوانّهم أهل السنة، فالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، ورب العزة يقول: {وجعلنا منهم أئمّةً يهدون بأمرنا لمّا صبروا (1)}، فلا بد أن تصبر على العامي، ولا بد أن تصبر أيضًا على طلب العلم، ولا بد أن تصبر أيضًا على أبيك وأمك وعلى أخيك وأختك وعلى مجتمعك، لا تكن فظًا غليظًا، ولا تنتصر لنفسك، ربما كانت الخصومة شهوة نفس فينبغي أن تبتعد عن شهوة النفس وعن حظوظ النفس، والله المستعان.
فننصح إخواننا القائمين بالدعوة هنالك في أفغانستان بالرفق واللين وبالدعوة إلى كتاب الله وإلى سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، وبتقديم الأهم فالأهم إن استطاعوا؛ فقد روى البخاري ومسلم في "صحيحيهما" أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال لمعاذ: ((إنّك ستأتي قومًا من أهل الكتاب، فإذا جئتهم فادعهم إلى أن
--------------------------------------------
আরও একটি বিষয় হলো যে, আপনারা তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করবেন; কেননা আপনারা জান্নাতের দিকে আহ্বানকারী। আমাদের জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী হওয়া উচিত নয় এবং আমাদের মানুষের মনে অনীহা বা ঘৃণা উদ্রেককারী হওয়াও উচিত নয়। আমাদের জানা উচিত আমরা কাদের দাওয়াত দিচ্ছি; আমরা ইয়েমেনের অধিবাসীদের দাওয়াত দিচ্ছি যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের ও দয়ালু অন্তরের অধিকারী।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: "ঈমান হলো ইয়েমেনি আর হিকমত (প্রজ্ঞা) হলো ইয়েমেনি।"
আমি আপনাদের কাছে যে অবস্থার বর্ণনা দিয়েছি, তারপর আমরা (দাওয়াতের প্রতি) সেই সাড়া লক্ষ্য করেছি। এছাড়া আহলে সুন্নাহর পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি ইতিবাচক সাড়া এবং তাদের আহলে সুন্নাহ ভাইদের প্রতি উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সম্মান প্রদর্শনও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এ পথে পরিচালিত করেছেন; আল্লাহ আমাদের হেদায়েত না করলে আমরা সঠিক পথ পেতাম না। মহান রব্বুল ইজ্জত বলেন: "আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা (أئمّة) মনোনীত করেছি যারা আমার আদেশে মানুষকে পথ দেখায় যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল (১)।" সুতরাং সাধারণ মানুষের (عامي) প্রতি আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে, ইলম অন্বেষণের (طلب العلم) ক্ষেত্রেও ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আপনার পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও সমাজের প্রতিও ধৈর্যশীল হতে হবে। আপনি রূঢ় ও কঠোর মেজাজের হবেন না এবং নিজের প্রবৃত্তির স্বার্থে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। হতে পারে বিবাদটি কেবল নফসের আকাঙ্ক্ষা মাত্র; তাই নফসের প্রবৃত্তি ও নফসের ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।
আমরা আফগানিস্তানে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত আমাদের ভাইদেরকে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার নসিহত করছি। এছাড়া তারা সক্ষম হলে গুরুত্ব অনুযায়ী অগ্রাধিকার (تقديم الأهم فالأهم) প্রদানের মাধ্যমে দাওয়াত দেবেন। কেননা বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুয়াজকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের দাওয়াত দেবে যেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يشهدوا أن لا إله إلاّ الله وأنّ محمّدًا رسول الله، فإن هم طاعوا لك بذلك
… الخ)) شاهدنا من هذا أنه يبدأ بالعقيدة، وبتحبيب الدين إلى المسلمين؛ فالشخص إذا أحب الدين وأحب الله ورسوله مستعد أن يتنازل عن كل شيء يخالف دين الله، بل ربما يكون بعد أيام أغير منك وأنفع منك للإسلام.
السؤال4: بما أن إخوانكم أهل الدعوة إلى الكتاب والسنة في أفغانستان يعيشون غربة الإسلام الحقيقية، خصوصًا في المجتمعات التي غلب عليها الجهل والتعصب المذهبي والأهواء، فبماذا تنصحونهم؟
الجواب: الذي ننصحهم به هو استقدام العلماء الأفاضل، فإن هذا ينفعهم، وسواء كان المستقدم عربيًّا أم أعجميًّا أبيض أم أسود، فالعلماء هم الذين يضعون الأشياء مواضعها، فرب العزة يقول في كتابه الكريم: {وما يعقلها إلاّ العالمون (1)}، ويقول سبحانه وتعالى مبينًا حال العلماء أنّهم هم الذين يضعون الأشياء مواضعها فيقول سبحانه وتعالى في شأن قارون عند أن خرج على قومه في زينته: {فخرج على قومه في زينته قال الّذين يريدون الحياة الدّنيا ياليت لنا مثل ما أوتي قارون إنّه لذو حظّ عظيم وقال الّذين أوتوا العلم ويلكم ثواب الله خير لمن ءامن وعمل
--------------------------------------------
((তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; যদি তারা তোমার এই কথা মেনে নেয়
… ইত্যাদি)) এখান থেকে আমাদের মূল লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো যে, দাওয়াতের কাজ আকিদা (عقيدة) দিয়ে শুরু করতে হয় এবং মুসলিমদের নিকট দ্বীনকে প্রিয় করে তুলতে হয়। কেননা কোনো ব্যক্তি যখন দ্বীনকে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবেসে ফেলে, তখন সে আল্লাহর দ্বীন পরিপন্থী প্রতিটি বিষয় বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। এমনকি কয়েক দিন পর সে হয়তো আপনার চেয়েও অধিক দ্বীনি আত্মমর্যাদাবান এবং ইসলামের জন্য অধিক উপকারী সাব্যস্ত হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: যেহেতু আফগানিস্তানে কিতাব ও সুন্নাহর দাওয়াত প্রদানকারী আপনাদের ভাইয়েরা ইসলামের প্রকৃত পরবাস বা নির্জনতার (غربة) মধ্যে অতিবাহিত করছেন, বিশেষ করে সেই সব সমাজে যেখানে মূর্খতা, মাযহাবি গোঁড়ামি এবং কুপ্রবৃত্তি প্রবল, এমতাবস্থায় আপনি তাদের কী নসিহত করবেন?
উত্তর: আমরা তাদেরকে যে নসিহত করি তা হলো প্রাজ্ঞ আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো, কারণ এটি তাদের জন্য কল্যাণকর হবে। সেই আমন্ত্রিত ব্যক্তি আরব হোক বা অনারব, শ্বেতাঙ্গ হোক বা কৃষ্ণাঙ্গ—আলেমরা হলেন এমন ব্যক্তি যারা বিষয়সমূহকে তাদের যথাযথ স্থানে বিন্যস্ত করেন। কেননা মহান রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {আর জ্ঞানীরা (العالمون) ছাড়া কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না (১)}, এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা আলেমদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন যে, তারাই বিষয়সমূহকে সঠিক স্থানে রাখেন। কারুন যখন জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হলো, তখন তার ব্যাপারে সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন: {অতঃপর সে তার সম্প্রদায়ের সামনে জাঁকজমক সহকারে বের হলো; যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল, হায়! কারুনকে যা দেওয়া হয়েছে আমাদেরও যদি তা থাকত! সে তো বড় ভাগ্যবান। আর যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছিল তারা বলল, ধিক তোমাদেরকে! যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
صالحًا ولا يلقّاها إلاّ الصّابرون (1)}.
ثم بعد هذا البدء من جديد، وذلك أن يجلس أهل العلم لطلبة العلم يعلمونهم كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فإننا ننصح إخواننا بنجد وإخواننا بالحجاز وإخواننا بمصر وإخواننا باليمن أن لا يبخلوا على إخوانهم الأفغانيين في سبيل التعليم أو في سبيل الجهاد، ننصح بهذا فالرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول كما في "الصحيحين" من حديث النعمان بن بشير: ((مثل المؤمنين في توادّهم وتراحمهم وتعاطفهم مثل الجسد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسّهر والحمّى)) ويقول أيضًا كما في "الصحيحين" من حديث أبي موسى الأشعري: ((المؤمن للمؤمن كالبنيان يشدّ بعضه بعضًا)) ويقول سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {إنّما المؤمنون إخوة (2)}، ويقول أيضًا: {ياأيّها الّذين ءامنوا لا يسخر قوم من قوم عسى أن يكونوا خيرًا منهم (3)}، ويقول: {واعتصموا بحبل الله جميعًا ولا تفرّقوا (4)}.
فالواجب على إخواننا أهل السنة في جميع البلاد الإسلامية أن يتفقدوا إخوانهم؛ فإن أكثر المسلمين من أهل السنة ولكن ليس لهم من يرعاهم إلا الله سبحانه وتعالى، فهكذا ينبغي لهم أن يستقدموا إخوانهم
--------------------------------------------
...সৎকর্মশীল, আর ধৈর্যশীলরা ব্যতীত তা কেউ প্রাপ্ত হয় না (১)}।
অতঃপর এই নতুন সূচনার পর, আলেমদের কর্তব্য হলো ইলম অন্বেষণকারীদের নিয়ে বসা এবং তাদেরকে আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়া। আমরা নজদ, হিজায, মিশর ও ইয়ামেনে অবস্থানরত আমাদের ভাইদের নসিহত করছি যেন তারা তাদের আফগানি ভাইদের প্রতি শিক্ষা অথবা জিহাদের পথে কার্পণ্য না করেন। আমরা এ বিষয়ে নসিহত করছি কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি সহিহাইন-এ বর্ণিত নুমান ইবনে বশিরের হাদিসে বলেছেন: ((মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ হলো একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়))। তিনি আরও বলেন, যেমনটি আবু মুসা আল-আশআরি বর্ণিত হাদিসে সহিহাইন-এ এসেছে: ((এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় করে))। আর মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই (২)}, তিনি আরও বলেন: {হে ঈমানদারগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম (৩)} এবং তিনি বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (৪)}।
সুতরাং বিশ্বের সকল মুসলিম ভূখণ্ডের আমাদের আহলে সুন্নাত ভাইদের ওপর এটি কর্তব্য যে তারা যেন তাদের ভাইদের খোঁজখবর নেন; কেননা অধিকাংশ মুসলিমই আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই। সুতরাং তাদের জন্য এটিই সঙ্গত যে তারা যেন তাদের ভাইদের সান্নিধ্যে নিয়ে আসেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أهل السنة، ويبدءون بتعليم كتاب الله، وما يستقيم به اللسان من اللغة العربية، وما يستطاع من سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم هذا الذي إن شاء الله يأتي بنتيجة في مدة ثلاث سنوات أو مدة سنتين، وما ندري بإذن الله تعالى إلا وإخواننا الأفغانيون يصدّرون مدرسين ويصدّرون دعاةً إلى الله إذا سلكوا هذا السبيل.
المسلمون محتاجون إلى أن يصدروا دعاةً إلى الله، إلى أمريكا وإلى روسيا وغيرها من دول الكفر لكن متى يكونون كذلك؟ إذا تفقهوا في دين الله فحينئذ يستطيعون أن يصدروا والحمد لله الدين يسر ما عقّده إلا الناس، رب العزة يقول في كتابه الكريم: {ولقد يسّرنا القرءان للذّكر فهل من مدّكر (1)}. ونبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((بعثت بالحنيفيّة السّمحة)) فالدين يسر وتعلمه يسر، فقط يحتاج إلى من يجلس ويتعلم في حدود ما يستطيع. وينبغي أيضًا أن نهيئ أنفسنا في مسألة العلم إلى الكتابة والتحقيق، فإن الكتابة والتحقيق تضرب الأعداء فهناك من يعتدي على دين الإسلام بالكتابة، وهناك من يعتدي على دين الإسلام بالخطابة، وهناك من يعتدي على دين الإسلام بالتلبيس، فلا بد أيضًا أن نأهّل أنفسنا للكتابة وللتحقيق، وهكذا بحمد الله يمكن أن يزوروا إخوانهم ويتعلموا البحث والتحقيق، وفي وقت قريب على أنني أجد كتابة أخينا في الله جميل الرحمن حفظه الله كتابة طيبة، والحمد لله، والله المستعان.
--------------------------------------------
আহলুস সুন্নাহ; এবং তারা আল্লাহর কিতাব শিক্ষার মাধ্যমে শুরু করেন, আর আরবি ভাষার সেই অংশ যার মাধ্যমে উচ্চারণ শুদ্ধ হয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর (سنة) যতটুকু আয়ত্ত করা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, এটি এমন একটি পদ্ধতি যা দুই বা তিন বছর সময়ের মধ্যে সুফল বয়ে আনবে। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা আশা রাখি যে, আমাদের আফগান ভাইয়েরা যদি এই পথ অবলম্বন করেন, তবে তারা শিক্ষক ও আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের (دعاة) তৈরি করতে পারবেন।
মুসলিমরা আমেরিকা, রাশিয়া এবং অন্যান্য কুফরি রাষ্ট্রে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (دعاة) প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কিন্তু তারা কখন তা করতে সক্ষম হবে? যখন তারা আল্লাহর দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা ও জ্ঞান অর্জন (تفقهوا) করবে, তখনই তারা তাদের প্রেরণ করতে পারবে। আলহামদুলিল্লাহ, দ্বীন সহজ; মানুষই একে জটিল করে তুলেছে। রব্বুল ইজ্জত তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: "আর অবশ্যই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, তবে কি কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে?" (১)। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "আমি সহজ ও একনিষ্ঠ আদর্শ (الحنيفيّة السّمحة) নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।" সুতরাং দ্বীন সহজ এবং তা শিক্ষা করাও সহজ, শুধু প্রয়োজন এমন ব্যক্তির যে একাগ্রচিত্তে বসবে এবং নিজের সাধ্য অনুযায়ী ইলম অর্জন করবে। ইলমের ক্ষেত্রে লেখালেখি এবং গবেষণার (تحقيق) বিষয়েও আমাদের নিজেদের প্রস্তুত করা উচিত, কারণ লেখালেখি এবং গবেষণা (تحقيق) শত্রুদের প্রতিহত করে। কেননা কেউ লেখনীর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের ওপর আক্রমণ করে, কেউ বক্তৃতার মাধ্যমে, আবার কেউ সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করার (تلبيس) মাধ্যমে। তাই আমাদের নিজেদেরকেও লেখালেখি ও গবেষণার (تحقيق) জন্য যোগ্য করে তোলা আবশ্যক। এভাবে আল্লাহর অনুগ্রহে তারা তাদের ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং অনুসন্ধান ও গবেষণা (تحقيق) পদ্ধতি শিখতে পারেন। অদূর ভবিষ্যতে, আমি আল্লাহর পথে আমাদের ভাই জামিলুর রহমানের—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—লেখনীকে অত্যন্ত চমৎকার হিসেবে দেখতে পাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
السؤال5: ما هي وجهة نظركم في الجهاد الأفغاني؟
الجواب: وجهة نظرنا أن الله سبحانه وتعالى رفع عن المسلمين ذلاًّ وعارًا بسبب إخواننا الأفغانيين جزاهم الله خيرًا، فقد كان المسلمون ترجف قلوبهم إذا ذكرت روسيا، وكانوا يظنون أنّها قوة لا تستطاع وبحمد الله أخزاها الله وصدق الله إذ يقول: {ياأيّها الّذين ءامنوا إن تنصروا الله ينصركم ويثبّت أقدامكم (1)}، ويقول: {ولينصرنّ الله من ينصره إنّ الله لقويّ عزيز (2)}، ويقول: {وعد الله الّذين ءامنوا منكم وعملوا الصّالحات ليستخلفنّهم في الأرض كما استخلف الّذين من قبلهم وليمكّننّ لهم دينهم الّذي ارتضى لهم وليبدّلنّهم من بعد خوفهم أمنًا يعبدونني لا يشركون بي شيئًا (3)}. وفي "الصحيحين" من حديث معاوية والمغيرة بن شعبة والمعنى متقارب أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحقّ لا يضرّهم من خذلهم حتّى يأتي أمر الله وهم كذلك)) أهل السنة وأهل الحديث داخلون دخولاً أوّليًّا، لكنه أيضًا يدخل المجاهد كما قاله النووي رحمه الله تعالى ويدخل ذوو الأعمال التي تخدم الإسلام يدخلون في مسألة الظهور.
فالحمد لله الذي وفقهم لهذا وأيّد بهم دينه وأسأل الله العظيم أن
--------------------------------------------
প্রশ্ন ৫: আফগান জিহাদ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
উত্তর: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, আমাদের আফগান ভাইদের মাধ্যমে—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিমদের ওপর থেকে লাঞ্ছনা ও অপমানের বোঝা সরিয়ে দিয়েছেন। কেননা রাশিয়ার নাম নেওয়া হলে মুসলিমদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হতো এবং তারা ধারণা করত যে, এটি এমন এক শক্তি যার মুকাবিলা করা অসম্ভব। আল্লাহর প্রশংসায়, আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং আল্লাহর বাণী সত্য যখন তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন (১)}। তিনি আরও বলেন: {আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁর (দ্বীনের) সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী (২)}। তিনি আরও বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত (প্রতিনিধিত্ব) দান করবেন, যেমন তিনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের; এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না (৩)}। আর "সহীহাইন"-এ মুআবিয়া ও মুগিরা ইবনে শু’বা বর্ণিত হাদিসে—যাদের অর্থ কাছাকাছি—এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সহায়তা বর্জন করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে))। এখানে আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদিস এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া অত্যন্ত প্রাথমিক ও স্পষ্ট বিষয়, তবে ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি তাআলা যেমনটি বলেছেন, এতে মুজাহিদগণও অন্তর্ভুক্ত এবং ইসলামের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন কর্মতৎপর ব্যক্তিরাও এই বিজয়ী হওয়ার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাদের এই কাজের তাওফিক দান করেছেন এবং তাদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
يتمها بخير، وأن يجمع كلمتهم، ثم بعد ذلك أيضًا ننصحهم بجمع الكلمة؛ فإن الله عز وجل يحذر من الفرقة ويبين أنّها سبب الفشل يقول سبحانه وتعالى: {ولا تنازعوا فتفشلوا وتذهب ريحكم (1)}، ويقول سبحانه وتعالى في شأن أهل الكتاب: {تحسبهم جميعًا وقلوبهم شتّى (2)}. فعليهم أن يتّحدوا وأن يتآخوا حتى يحقق الله ما يريدون من النصر، أما إذا بقوا أحزابًا متفرقين فربما يدب بينهم الخلاف، ويغذى من قبل أمريكا وروسيا ومن قبل أعداء الإسلام وما ندري وقد اشتغل المجاهدون بأنفسهم والله المستعان.
السؤال6: ما هي نصيحتكم للشباب المسلم؟
الجواب: نصيحتنا للشباب المسلم أن يقتدوا برسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وبصحابة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ففي حال الحرب يهيئون أنفسهم للحرب، لحرب الكفار اليهود والنصارى والشيوعيين وغيرهم من أعداء الإسلام، وفي حال السلم يهيئون أنفسهم لطلب العلم ولما يحتاجون إليه كما قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((بعثت بين يدي السّاعة بالسّيف حتّى يعبد الله وحده لا شريك له، وجعل رزقي تحت ظلّ رمحي، وجعلت الذّلّة والصّغار على من خالف أمري)).
--------------------------------------------
(আল্লাহ যেন) তা কল্যাণের সাথে সম্পন্ন করেন এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। এরপর আমি তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নসিহত করছি; কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অনৈক্য সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে এটি ব্যর্থতার কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা বিবাদ করো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে (১)}। তিনি আহলে কিতাবদের অবস্থা সম্পর্কে বলেন: {তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে করো, অথচ তাদের অন্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন (২)}। অতএব তাদের ওপর আবশ্যক হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা, যাতে তারা যে বিজয় কামনা করে আল্লাহ তা বাস্তবায়িত করেন। কিন্তু তারা যদি বিভক্ত দল ও উপদলে বিচ্ছিন্ন থাকে, তবে সম্ভবত তাদের মধ্যে মতভেদের অনুপ্রবেশ ঘটবে এবং আমেরিকা ও রাশিয়া তথা ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে তাতে ইন্ধন দেওয়া হবে। আমরা জানি না (কী ঘটবে), হয়তো মুজাহিদগণ নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
প্রশ্ন ৬: মুসলিম তরুণদের প্রতি আপনার নসিহত কী?
উত্তর: মুসলিম তরুণদের প্রতি আমাদের নসিহত হলো তারা যেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণের অনুসরণ করে। যুদ্ধের সময় তারা কাফির, ইহুদি, খ্রিস্টান, সাম্যবাদী ও ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। আর শান্তির সময় তারা ইলম অর্জনের জন্য এবং তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়ের জন্য নিজেদের তৈরি করবে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((কিয়ামতের প্রাক্কালে আমি তরবারি সহকারে প্রেরিত হয়েছি যাতে এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা হয়, যাঁর কোনো শরিক নেই। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে, আর যে ব্যক্তি আমার আদেশের বিরোধিতা করবে তার জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান নির্ধারণ করা হয়েছে))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
والشباب المسلم محتاجون إلى رعاية أنصحهم جميعًا -ليست النصيحة للأخوة الأفغانيين ولكن لجميع الشباب المسلم-: بالابتعاد عن الحزبية فإن الحزبية تعتبر جاهلية حديثة النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كما في "الصحيحين" من حديث جابر عند أن تخاصم أنصاري ومهاجري فقال الأنصاري: ياللأنصار! وقال المهاجري: يا للمهاجرين! فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((أبدعوى الجاهليّة وأنا بين أظهركم؟! دعوها فإنّها منتنة)) ويقول النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((من قتل تحت راية عمّيّة يغضب للعصبة ويقاتل للعصبة فليس من أمّتي)) فالتعصب الحزبي يعتبر دسيسة ويغذّى من قبل أعداء الإسلام، نحن مسلمون سمّانا الله مسلمين ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {إنّ هذه أمّتكم أمّةً واحدةً وأنا ربّكم فاعبدون (1)}، ويقول: {وأنّ هذا صراطي مستقيمًا فاتّبعوه ولا تتّبعوا السّبل فتفرّق بكم عن سبيله ذلكم وصّاكم به لعلّكم تتّقون (2)}، فسبيل الله واحد وكتاب الله واحد، وسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم واحدة.
وأما قول القائل: (نتعاون فيما اتفقنا عليه، وليعذر بعضنا بعضا فيما اختلفنا فيه) فلا، لأن الله عز وجل يقول في كتابه الكريم: {وما اختلفتم فيه من شيء فحكمه إلى الله (3)}، ويقول: {فإن تنازعتم في شيء
--------------------------------------------
মুসলিম যুবকগণের পরিচর্যা ও নির্দেশনার প্রয়োজন। আমি তাদের সকলকে নসিহত করছি—এই নসিহত কেবল আফগান ভাইদের জন্য নয় বরং সকল মুসলিম যুবকের জন্য—তারা যেন দলাদলি (حزبية) থেকে দূরে থাকে। কেননা দলাদলিকে আধুনিক জাহেলিয়াত (جاهلية) হিসেবে গণ্য করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি ‘সহিহাইন’-এ জাবির বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, যখন একজন আনসারি ও একজন মুহাজির বিবাদে লিপ্ত হলেন, তখন আনসারি ডাক দিলেন: "হে আনসারগণ!", আর মুহাজির ডাক দিলেন: "হে মুহাজিরগণ!" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকা অবস্থায়ও কি জাহেলিয়াতের ডাক (دعوى الجاهلية)? তোমরা এটি ত্যাগ করো, কেননা এটি দুর্গন্ধযুক্ত।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো অন্ধ উদ্দেশ্যের পতাকার নিচে নিহত হলো, যে অন্ধ পক্ষপাতের (عصبة) কারণে রাগান্বিত হয় এবং অন্ধ পক্ষপাতের (عصبة) জন্য লড়াই করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" সুতরাং দলীয় সংকীর্ণতা একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত এবং এটি ইসলামের শত্রুদের দ্বারা লালিত হয়। আমরা মুসলিম, আল্লাহ আমাদের ‘মুসলিম’ হিসেবে নামকরণ করেছেন এবং মহাপরাক্রমশালী রব তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো (১)}, এবং তিনি বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো (২)}। সুতরাং আল্লাহর পথ এক, আল্লাহর কিতাব এক এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহও এক।
আর কোনো প্রবক্তার এই উক্তি: (আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি তাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করব, আর যে বিষয়ে আমরা ভিন্নমত পোষণ করি তাতে একে অপরকে ক্ষমা করব) —তা সঠিক নয়। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {তোমরা যে কোনো বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট (৩)}, এবং তিনি বলেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
فردّوه إلى الله والرّسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الأخر (1)}. لا يقول حزب من الأحزاب: أنت تنازل أيها الحزب عن جميع أفكارك واتبعنا. لا، معناه أن لا تدعوه إلى تقليدك، قل له نحن وأنت نتبع رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قل له: {تعالوا إلى كلمة سواء بيننا وبينكم} أن لا نحكّم إلا كتاب الله ولا نحكّم إلا سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، الاختلاف هلكة.
روى البخاري ومسلم في "صحيحيهما" عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((ذروني ما تركتكم فإنّما هلك من كان قبلكم بكثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم)) وروى البخاري ومسلم في "صحيحيهما" من حديث النعمان بن بشير رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((لتسوّنّ صفوفكم أو ليخالفنّ الله بين وجوهكم)) وروى أبوداود في "سننه" من حديث محمد بن عمرو بن علقمة عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((افترقت اليهود على إحدى أو ثنتين وسبعين فرقةً، وتفرّقت النّصارى على إحدى أو ثنتين وسبعين فرقةً وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقةً)) فالفرقة تعتبر عذابًا وأما حديث: ((اختلاف أمّتي رحمة)) فحديث لا سند له، أعني أنه حديث باطل، لأن الله عز وجل يقول في كتابه الكريم: {ولا يزالون مختلفين إلاّ من رحم ربّك ولذلك خلقهم (2)}، مفهوم الآية الكريمة أن
--------------------------------------------
{অতঃপর তোমরা যদি আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস করো, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে ফিরিয়ে দাও (১)}। কোনো দলই বলবে না: হে দল, তুমি তোমার সকল চিন্তা-চেতনা ত্যাগ করো এবং আমাদের অনুসরণ করো। না, এর অর্থ হলো আপনি তাকে আপনার অন্ধ অনুকরণের (تقليد) দিকে আহ্বান করবেন না। তাকে বলুন: আমি এবং আপনি উভয়েই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করি। তাকে বলুন: {আসুন সেই কথায় যা আমাদের ও আপনাদের মধ্যে অভিন্ন} যে, আমরা আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কিছুকে বিধানদাতা মানবো না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ ছাড়া অন্য কিছুর বিচার মানবো না। মতভেদ হলো ধ্বংস।
বুখারি ও মুসলিম তাদের 'সহিহাইন'-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি যতক্ষণ তোমাদের (কোনো বিষয়ে) কিছু না বলি, ততক্ষণ তোমরা আমাকে সেভাবেই থাকতে দাও; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংস হয়েছে অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে।" এবং বুখারি ও মুসলিম তাদের 'সহিহাইন'-এ নুমান ইবনে বশির (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হয় তোমরা তোমাদের কাতারগুলো অবশ্যই সোজা করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারাসমূহের মধ্যে (অর্থাৎ অন্তরে) বৈরিতা সৃষ্টি করে দেবেন।" এবং আবু দাউদ তার 'সুনান'-এ মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা-এর সূত্রে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, খ্রিস্টানরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।" সুতরাং বিভেদ বা অনৈক্য আজাব হিসেবে গণ্য। আর "আমার উম্মতের মতভেদ রহমত" শীর্ষক হাদিসটি এমন এক হাদিস যার কোনো সনদ (سند) নেই, অর্থাৎ এটি একটি ভিত্তিহীন (باطل) হাদিস। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেছেন: {তারা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে, তবে তারা নয় যাদের প্রতি আপনার পালনকর্তা দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন (২)}। এই মহিমান্বিত আয়াতের মর্মার্থ হলো এই যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الذين يختلفون لم يرحمهم الله عز وجل.
والنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول كما في "صحيح البخاري" من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: سمعت رجلاً قرأ آيةً وسمعت النّبيّ صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقرأ خلافها، فجئت به النّبيّ صلى الله عليه وعلى آله وسلم فأخبرته، فعرفت في وجهه الكراهية وقال: ((كلاكما محسن، ولا تختلفوا فإنّ من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا)).
فالاختلاف هلكة ويغذيه أعداء الإسلام، وتغذية المخابرات الخبيثة، ويجب على طلبة العلم أن يتبرءوا إلى الله من الحزبية، نقول هذا حتى بحت أصواتنا مشفقين على طلبة العلم أن تضيع أعمارهم في الحزبية، وأن تضيع أعمارهم في (قال فلان، قال فلان) نحن نريد (قال الله، قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم) ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {إنّما المؤمنون إخوة (1)}، ويقول: {واعتصموا بحبل الله جميعًا ولا تفرّقوا (2)}، ويقول: {إنّ الّذين فرّقوا دينهم وكانوا شيعًا لست منهم في شيء إنّما أمرهم إلى الله (3)}.
فالأمر خطير؛ الحزبية فرقت المسلمين، فرب شخص يكون حافظًا للقرآن مبرزًا في السنة، وبعد أن تتدنس فكرته بحزبية فإذا هو قد أصبح من جملة العامة، ربما يحلق لحيته ويلبس البنطلون ويكون مخزّنًا (4) مدخنًا،
--------------------------------------------
যারা মতভেদ করে, মহান আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন না।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেন—যেমনটি "সহিহ বুখারি"তে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে—তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে একটি আয়াত পাঠ করতে শুনলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে এর বিপরীতে পাঠ করতে শুনলাম। ফলে আমি তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে এলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন আমি তাঁর চেহারায় অপছন্দের চিহ্ন দেখতে পেলাম এবং তিনি বললেন: "তোমরা উভয়ই সঠিক করেছ, তোমরা মতভেদ করো না। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতভেদ করেছিল এবং ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।"
সুতরাং মতভেদ হলো ধ্বংসের কারণ এবং ইসলামের শত্রুরা ও কুচক্রী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একে ইন্ধন জোগায়। ইলম অন্বেষণকারীদের (তলেবে ইলম) উচিত আল্লাহর নিকট দলপ্রীতি (الحزبية) থেকে দায়মুক্ত হওয়া। আমরা এই কথাগুলো বলতে বলতে আমাদের কণ্ঠস্বর বসে গেছে, ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে যে, তাদের জীবন যেন দলপ্রীতির (الحزبية) মধ্যে নষ্ট না হয় এবং তাদের জীবন যেন "অমুক বলেছে, তমুক বলেছে" এর পেছনে ব্যয় না হয়। আমরা চাই "আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন"। আর মহা প্রতাপশালী রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই (১)}, তিনি আরও বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (২)}, এবং তিনি বলেন: {নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয় তো আল্লাহর নিকট (৩)}।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর; দলপ্রীতি (الحزبية) মুসলিমদের বিভক্ত করে দিয়েছে। অনেক ব্যক্তি এমন থাকে যে সে কুরআনের হাফেজ এবং সুন্নাহর ক্ষেত্রে পারদর্শী, কিন্তু যখনই তার চিন্তাচেতনা দলপ্রীতি (الحزبية) দ্বারা কলুষিত হয়, তখন সে সাধারণ জনগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। হয়তো সে তার দাড়ি মুণ্ডন করে ফেলে, প্যান্ট পরিধান করে এবং নেশাদ্রব্য (কাত) গ্রহণকারী (৪) ও ধূমপায়ী হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إلى غير ذلك. فحذار حذار من الحزبية، والواجب علينا أن نبتعد عنها وأن نحذّر جميع المسلمين، قد تأكدنا جميعًا أن أعداء الإسلام يحرصون على التحريش بين المسلمين، النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((إنّ الشّيطان قد أيس أن يعبده المصلّون في جزيرة العرب ولكن في التّحريش)) فأعداء الإسلام يسلكون مسلك الشيطان في التحريش بين الجماعات، الجماعة الواحدة ما تدري إلا وقد انقسمت إلى قسمين أو إلى ثلاثة.
ثم أنني أنصحهم جميعًا أن يحرصوا على أن لا يضيع وقتهم في الكرة فهي من المخدرات وأنت المسؤول عن عمرك فإن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((لا تزول قدما عبد يوم القيامة حتّى يسأل عن أربع -ومنها:- عمره فيما أفناه)) أيضًا آلات اللهو والطرب وهكذا السينما وجميع ما يبعدك عن الدين لا نستطيع في هذا المجلس أن نكمل ما نريد أن نتكلم به والله المستعان.
السؤال7: لقد مضى على الجهاد الإسلامي الأفغاني ما يقارب اثنتا عشر سنة وسقوط ما يقارب المليون والنصف من القتلى الذين نحتسبهم عند الله، أصبح الجهاد على وشك الانتهاء وإقامة دولة إسلامية، وبدأ التسابق الحزبي من المنظمات والأحزاب الجهادية في الحصول على أكثر عدد من المقاعد في مجلس الشورى، ومن ثمّ الحقائب الوزارية، فتراهم يتجاهلون جماعة الدعوة إلى الكتاب والسنة، مع العلم بأن هذه الجماعة هي أول من بدأ بالجهاد في أفغانستان، في حين أنّهم وافقوا على إعطاء الحزب
...ইত্যাদি। সুতরাং দলাদলি (الحزبية) থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। আমাদের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো তা থেকে দূরে থাকা এবং সকল মুসলিমকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা। আমরা সকলেই নিশ্চিত হয়েছি যে, ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক উস্কানি ও বিভেদ (التحريش) সৃষ্টিতে অত্যন্ত আগ্রহী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "শয়তান আরব উপদ্বীপে মুসুল্লিদের নিকট থেকে তার ইবাদত পাওয়ার বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে, তবে সে তাদের মধ্যে পারস্পরিক উস্কানি ও বিবাদ (التحريش) সৃষ্টির বিষয়ে নিরাশ হয়নি।" ইসলামের শত্রুরা জামাতগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে শয়তানের পথই অবলম্বন করে; একটি জামাত কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখা যায় যে তা দুই বা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।
অতঃপর আমি তাদের সকলকে এই উপদেশ দিচ্ছি যে, তারা যেন ফুটবলের পেছনে সময় নষ্ট না করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে, কারণ এটি এক প্রকার নেশাস্বরূপ। আপনি আপনার জীবনের সময়ের জন্য দায়ী, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা দুটি এক কদমও নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—আর তার একটি হলো: তার জীবনকাল, সে তা কিসে অতিবাহিত করেছে।" তদ্রূপ আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমা—এভাবে যা কিছু আপনাকে দ্বীন থেকে বিমুখ করে দেয়। এই মজলিসে আমরা যা বলতে চেয়েছিলাম তার সবটুকু সম্পন্ন করতে পারছি না, আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
প্রশ্ন ৭: আফগান ইসলামি জিহাদের প্রায় বারো বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং প্রায় পনেরো লক্ষ লোক নিহত হয়েছে যাদের আমরা আল্লাহর নিকট (শহীদ হিসেবে) গণ্য করি। জিহাদ এখন সমাপ্তির এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। এমতাবস্থায় শুরা কাউন্সিলের অধিক সংখ্যক আসন এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিত্বের পদ পাওয়ার জন্য জিহাদি সংগঠন ও দলগুলোর মধ্যে দলীয় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় দেখা যাচ্ছে যে, তারা 'জামাআতুদ দাওয়াহ ইলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ' কে উপেক্ষা করছে, অথচ সর্বজনবিদিত যে, এই জামাতটিই সর্বপ্রথম আফগানিস্তানে জিহাদ শুরু করেছিল। অন্যদিকে তারা এই মর্মে একমত হয়েছে যে, তারা অমুক দলকে দিবে...
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشيعي ستين مقعدًا مع العلم أنّهم لم يشتركوا في الجهاد!! فبماذا تنصحون جماعة الدعوة في التعامل مع هذا الموقف؟
الجواب: الذين يريدون أن يبعدوا إخوانهم العاملين لله سبحانه وتعالى لن يفلحوا، فقد كنا نتوقع بعد هذه التضحية من إخواننا الأفغانيين أن نسمع منهم الخير، ما كنا نتوقع أن نسمع رئيسًا ولا جمهوريًا إلى غير ذلك، كنا نتوقع أن نسمع منهم لقب (أمير المؤمنين) ويقلّدون هذا الأمر رجلاً قرشيًا، وهذا يصير ضربة على أمريكا وعلى روسيا وعلى الدويلات التي تمشي بعد روسيا وأمريكا، كنا نتوقع أن نسمع حاكمًا يلقّب بأمير المؤمنين فإن الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((الأئمّة من قريش)) ويقول الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((إنّ هذا الأمر في قريش لا يعاديهم أحد إلاّ كبّه الله على وجهه ما أقاموا الدّين)) والحديث في "صحيح البخاري" من حديث معاوية.
لكن من زمن قديم والدعاة إلى الله خصوصًا أخانا جميل حفظه الله تعالى ومن سلك مسلكه يبدءون -أو يحرصون على أن يبدءوا- بالعقيدة، ولما كانت المسألة لفيف، هذه التي نخشاها الحزبية التي تجمع الصوفي والشيعي والفاسق والصالح ثم بعد ذلك يرجعون يتقاتلون على الكراسي، لأنه لم يكن البناء من أول الأمر بناءً إيمانيًا، استسلام لكتاب الله ولسنة رسول الله، استسلام لحكم الله، رب العزة يقول في كتابه الكريم: {فلا وربّك لا يؤمنون حتّى يحكّموك فيما شجر بينهم ثمّ لا يجدوا في
শিয়াদের ষাটটি আসন প্রদান করা হয়েছে, অথচ এটি জানা কথা যে তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করেনি!! এমতাবস্থায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনারা জামাআতে দাওয়াহকে কী নসিহত করবেন?
উত্তর: যারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিতপ্রাণ ভাইদের দূরে সরিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই সফল হবে না। আমাদের আফগান ভাইদের এই আত্মত্যাগের পর আমরা তাদের কাছ থেকে কল্যাণের প্রত্যাশা করেছিলাম। আমরা তাদের কাছ থেকে 'প্রেসিডেন্ট' বা 'প্রজাতন্ত্র'—এই জাতীয় কিছু শোনার আশা করিনি; বরং আমরা তাদের কাছ থেকে 'আমিরুল মুমিনিন' (أمير المؤمنين) উপাধিটি শোনার আশা করেছিলাম এবং তারা যেন এই নেতৃত্বের বিষয়টি একজন কুরাইশি ব্যক্তির ওপর অর্পণ করে। এটি আমেরিকা, রাশিয়া এবং তাদের অনুসারী রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি বড় আঘাত হতো। আমরা এমন একজন শাসকের কথা শোনার প্রত্যাশা করেছিলাম যাকে 'আমিরুল মুমিনিন' (أمير المؤمنين) হিসেবে অভিহিত করা হবে। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।" এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই বিষয়টি (নেতৃত্ব) কুরাইশদের মধ্যে থাকবে, যে কেউ তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে অধঃমুখে নিক্ষেপ করবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দ্বীন কায়েম রাখবে।" আর হাদিসটি মুয়াবিয়া (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস হিসেবে 'সহিহ বুখারি'-তে বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীরা, বিশেষ করে আমাদের ভাই জামিল (হাফিজাহুল্লাহ) এবং যারা তার পথ অনুসরণ করেছেন, তারা আকিদা (عقيدة) দিয়ে শুরু করেন—অথবা আকিদা (عقيدة) দিয়েই শুরু করতে সচেষ্ট থাকেন। যখন বিষয়টি একটি সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছিল—যা আমরা ভয় করি—তা হলো সেই দলীয় সংকীর্ণতা (حزبية), যা সুফি, শিয়া, পাপাচারী (فاسق) এবং নেককার (صالح) সবাইকে একত্রিত করে, আর পরবর্তীতে তারা গদির (ক্ষমতার) লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। কারণ শুরু থেকেই এই নির্মাণটি ঈমানি ভিত্তি সম্পন্ন ছিল না; আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং আল্লাহর বিধানের সামনে আত্মসমর্পণের ওপর ভিত্তি করে তা গড়ে ওঠেনি। মহান রব তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {সুতরাং না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, এরপর তারা তাদের অন্তরে...}
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أنفسهم حرجًا ممّا قضيت ويسلّموا تسليمًا (1)}، ويقول سبحانه وتعالى: {فليحذر الّذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم (2)}، ويقول سبحانه وتعالى في كتابه العزيز: {وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمرًا أن يكون لهم الخيرة من أمرهم ومن يعص الله ورسوله فقد ضلّ ضلالاً مبينًا (3)}.
فإذا كان الأمر كذا فيخشى من أن يشغلهم أعداء الإسلام بالقتال بينهم، ثم بعد ذلك يرجع أعداء الإسلام أو يتمكن عملاء الشيوعية. وقد حقق الله النصر للمسلمين فلماذا يتخاذلون؟! ولماذا يتنازعون على الكراسي؟! ولماذا يتنازعون على مسؤولية عظيمة؟! الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((كلّكم راع، وكلّكم مسئول عن رعيّته، الإمام راع ومسؤول عن رعيّته)) والإمام أيّ شيء في البلاد يكون مسئولاً عنه أمام الله عز وجل، لكن ينبغي أن يقلّد لهذا المنصب الرجل الصالح القرشي، ثم بعد ذلك يجتمع أهل الحل والعقد ويتشاورون في أعضاء الحكومة فإن الله عز وجل يقول في كتابه الكريم: {وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ولو ردّوه إلى الرّسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الّذين يستنبطونه منهم (4)}.
أما مسألة التصويت فهي تعتبر طاغوتية فليبلغ الشاهد الغائب فإن الله
--------------------------------------------
...তাদের অন্তরে আপনার ফয়সালার ব্যাপারে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয় (১)}। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসবে (২)}, এবং তিনি তাঁর সুমহান কিতাবে বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয় (৩)}।
বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আশঙ্কা করা যায় যে, ইসলামের শত্রুরা তাদের নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে লিপ্ত করে ব্যস্ত রাখবে, অতঃপর ইসলামের শত্রুরা পুনরায় ফিরে আসবে অথবা কমিউনিজমের দোসররা ক্ষমতা দখল করবে। আল্লাহ তো মুসলিমদের বিজয় দান করেছেন, তবে কেন তারা হতোদ্যম হচ্ছে?! কেন তারা ক্ষমতার গদির জন্য বিবাদে লিপ্ত হচ্ছে?! কেন তারা এক মহান দায়িত্ব নিয়ে ঝগড়া করছে?! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ((তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল (راع), এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের (رعيّة) সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। ইমাম (শাসক) একজন দায়িত্বশীল (راع) এবং তাকে তার অধীনস্থদের (رعيّة) ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে))। দেশের যেকোনো বিষয়েই ইমাম মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সামনে দায়বদ্ধ থাকবেন। তবে এই পদের জন্য একজন সৎ কুরাইশি ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করা উচিত। অতঃপর নীতি-নির্ধারক ও সমাধানকারী ব্যক্তিবর্গ (أهل الحل والعقد) একত্রিত হবেন এবং সরকারের সদস্যদের বিষয়ে পরামর্শ করবেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে বলেছেন: {যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসূলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃপক্ষ) নিকট পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য উদ্ঘাটন ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) গ্রহণে সক্ষম, তারা অবশ্যই তা অনুধাবন করতে পারত (৪)}।
আর ভোটের বিষয়টি তো তাগুতি ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য। সুতরাং উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট এ বার্তা পৌঁছে দেয়; কেননা আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عز وجل يقول في كتابه الكريم: {أفمن كان مؤمنًا كمن كان فاسقًا لا يستوون (1)}، ويقول: {أم حسب الّذين اجترحوا السّيّئات أن نجعلهم كالّذين ءامنوا وعملوا الصّالحات سواءً محياهم ومماتهم ساء ما يحكمون (2)}، ويقول مبينًا أن الفاسق لا يستوي مع المؤمن: {أم نجعل الّذين ءامنوا وعملوا الصّالحات كالمفسدين في الأرض أم نجعل المتّقين كالفجّار (3)}. والتصويت يجعل صوت العالم الفاضل وصوت الخمار واحدًا، بل أقبح من هذا المرأة صوتها وصوت الرجل واحد، ورب العزة يقول حاكيًا عن امرأة عمران: {وليس الذّكر كالأنثى (4)}. والرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((لا يفلح قوم أسندوا أمرهم إلى امرأة)).
فأنا أنصح أخي في الله جميل الرحمن حفظه الله تعالى أن يصبر ويحتسب، ولا يدخل في هذه الانتخابات الجاهلية التي ما أنزل الله بها من سلطان. والنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((يقول الله تعالى: يا آدم! فيقول: لبّيك وسعديك والخير في يديك. فيقول: أخرج بعث النّار. قال: وما بعث النّار؟ قال: من كلّ ألف تسع مائة وتسعةً وتسعين))، ويقول تعالى في كتابه الكريم: {وإن تطع أكثر من في الأرض يضلّوك عن سبيل الله (5)}،
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {তবে কি যে ব্যক্তি মুমিন (مؤمن), সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে পাপাচারী (فاسق)? তারা সমান নয় (১)}। এবং তিনি বলেন: {যারা মন্দ কাজ উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের মতো গণ্য করব—জীবন ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাদের সমান করে দেব? তারা যা ফয়সালা করে তা খুবই নিকৃষ্ট (২)}। এবং তিনি পাপাচারী (فاسق) যে মুমিন (مؤمن) এর সমান নয় তা স্পষ্ট করে দিয়ে বলেন: {তবে কি আমি যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের মতো গণ্য করব, নাকি মুত্তাকীদের (المتقين) পাপাচারীদের (الفجار) মতো গণ্য করব? (৩)}। আর ভোটাভুটি একজন বিদ্বান ও মর্যাদাবান ব্যক্তির ভোট এবং একজন মদ্যপায়ীর ভোটকে এক করে দেয়; বরং এর চেয়েও জঘন্য হলো নারী ও পুরুষের ভোটকে সমান করে দেওয়া। অথচ ইজ্জতের মালিক রব ইমরানের স্ত্রীর ঘটনা বর্ণনা করে বলেন: {এবং পুরুষ নারীর মতো নয় (৪)}। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ((সেই জাতি কখনোই সফল হবে না যারা তাদের বিষয়াদি নারীর ওপর ন্যস্ত করেছে))।
অতএব আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার ভাই জামিলুর রহমানকে (আল্লাহ তাআলা তাকে হেফাযত করুন) উপদেশ দিচ্ছি যে, তিনি যেন ধৈর্য ধারণ করেন এবং সওয়াবের আশা রাখেন। আর তিনি যেন এই জাহেলি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেন যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ((আল্লাহ তাআলা বলবেন: হে আদম! তিনি বলবেন: আমি আপনার দরবারে হাজির ও আপনার আজ্ঞাবহ এবং সকল কল্যাণ আপনার হাতে। আল্লাহ বলবেন: জাহান্নামের দল বের করো। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: জাহান্নামের দল কী? আল্লাহ বলবেন: প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন))। এবং মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {যদি আপনি জমিনের অধিকাংশ লোকের আনুগত্য করেন তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে (৫)}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ويقول سبحانه وتعالى: {وما أكثر النّاس ولو حرصت بمؤمنين (1)}، ويقول: {وقليل من عبادي الشّكور (2)}، ما يغتر بالكثرة غثاء كغثاء السيل، وأنا أسألكم أيها الأخوة: الصالحون في مجتمعنا أكثر أم الفاسدون؟
… الفاسدون.
أمر مخطط يا إخواننا يعرفون أن الصالحين لا ينجحون في هذا، من أجل أن لا ينجح الصالحون جاءوا بالانتخابات، فينبغي أن نكفر بهذا التصويت وأن نبتعد عن هذه الانتخابات، والله سبحانه وتعالى سيجعل بأسهم بينهم. ثم أيضًا لا نقاتلهم؛ لأنّهم مسلمون والمسلم لا يحل له أن يقاتل أخاه المسلم بل نصبر ونحتسب ونتقي الله سبحانه وتعالى، فإن الله عز وجل يقول في كتابه الكريم: {ومن يتّق الله يجعل له مخرجًا ويرزقه من حيث لا يحتسب (3)}. وقد ذكرنا نبذه طيبة في شأن التصويت في الطبعة الثانية من "المخرج من الفتنة".
وإن اعتدوا على الجماعة فلهم أن يدافعوا عن أنفسهم، أما إذا لم يعتدوا فلا يقاتلهم إخواننا ويقولون: لماذا ما تعطون لنا كرسيًا؟ فهذا الكرسيّ بلاء، بلاء، ستأتي قروض ربوية وتحتاج أن توقع أنت يا صاحب الكرسي، ستأتي بعثات إلى الخارج وتوقع عليها، وسيأتي أيضًا نصارى
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর আপনি যতই আকাঙ্ক্ষা করেন না কেন, অধিকাংশ মানুষ ঈমানদার হবে না (১)}, এবং তিনি বলেন: {আমার বান্দাদের মধ্যে কৃতজ্ঞ অল্পই (২)}। সংখ্যার আধিক্য দ্বারা প্রতারিত হওয়া উচিত নয়, যা কি না প্লাবনের ফেনার মতো আবর্জনা (غثاء); হে ভাইয়েরা, আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করি: আমাদের সমাজে সৎ কর্মশীল (الصالحون) মানুষ বেশি নাকি পাপাচারী (الفاسدون)?
… পাপাচারী (الفاسدون)।
হে আমাদের ভাইয়েরা, এটি একটি পরিকল্পিত বিষয়; তারা জানে যে সৎ কর্মশীলরা (الصالحون) এতে সফল হবে না। সৎ কর্মশীলরা (الصالحون) যেন সফল হতে না পারে সেজন্যই তারা এই নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। অতএব, আমাদের উচিত এই ভোটাভুটি বা রায় প্রদানকে প্রত্যাখ্যান করা এবং এই নির্বাচন থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সংঘাত তাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেবেন। তদুপরি, আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না; কারণ তারা মুসলিম এবং একজন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে লড়াই করা বৈধ নয়। বরং আমরা ধৈর্য ধারণ করব, সওয়াবের আশা করব এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভয় করব। কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের কোনো পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না (৩)}। আর আমরা 'আল-মাখরাজু মিনাল ফিতনাহ' গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে ভোটাভুটির বিষয়ে একটি উত্তম আলোচনা উল্লেখ করেছি।
আর তারা যদি দলবদ্ধ সম্প্রদায়ের (الجماعة) উপর আক্রমণ করে, তবে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। কিন্তু যদি তারা আক্রমণ না করে, তবে আমাদের ভাইদের উচিত নয় তাদের সাথে লড়াই করা এবং এই প্রশ্ন করা যে: 'আপনারা কেন আমাদের কোনো আসন দিচ্ছেন না?' কারণ এই আসন বা ক্ষমতা হলো একটি পরীক্ষা বা আপদ (بلاء), পরীক্ষা বা আপদ (بلاء)। অচিরেই সুদী (ربوية) ঋণ আসবে এবং হে আসনধারী, আপনাকে তাতে স্বাক্ষর করতে হবে; বিদেশে প্রতিনিধি দল যাবে এবং আপনাকে তাতে স্বাক্ষর করতে হবে, আর খ্রিস্টানরাও আসবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويهود وتستقبلهم إلى غير ذلك، ورب العزة يقول في كتابه الكريم: {ولا تركنوا إلى الّذين ظلموا فتمسّكم النّار (1)}، ويقول: {ياأيّها الّذين ءامنوا لا تتّخذوا بطانةً من دونكم لا يألونكم خبالاً ودّوا ما عنتّم قد بدت البغضاء من أفواههم وما تخفي صدورهم أكبر (2)}. والله المستعان.
السؤال8: وأخيرًا هل لكم من كلمة توجهونها إلى إخوانكم من القادة والشعب الأفغاني المسلم عامة، وإلى فضيلة الشيخ جميل الرحمن خاصة؟
الجواب: الذي ننصح به إخواننا القادة وفقهم الله لكل خير أن يحرصوا كل الحرص على جمع الكلمة، وأن يعطوا الرجل المناسب العمل المناسب فالنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يؤمّر خالد بن الوليد وهو لا يحفظ إلا أحاديث يسيرة، والنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يثني على عبد الله بن مسعود: ((من أحبّ أن يقرأ القرآن غضًّا كما أنزل فليقرأه على قراءة ابن أمّ عبد))، ينزّل النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كل شخص من صحابته منْزلته ويعطيه فضيلته.
ألاّ يكل أمرهم إلى أمريكا ولا إلى روسيا، فإن الله عز وجل يقول في كتابه الكريم: {ولن ترضى عنك اليهود ولا النّصارى حتّى تتّبع ملّتهم (3)}، فهم لا يريدون أن يحقق للإسلام نصر ولا يريدون أن تجتمع
--------------------------------------------
...এবং ইহুদিরা এবং আপনি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন ইত্যাদি বিষয়াবলী। অথচ মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {আর তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পোড়ো না, অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে (১)}, এবং তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট সাধনে কোনো ত্রুটি করে না; তারা তোমাদের বিপত্তি কামনা করে। তাদের মুখ থেকে তো বিদ্বেষ প্রকাশ পায়, আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও ভয়ংকর (২)}। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
প্রশ্ন ৮: সবশেষে, আপনাদের নেতা ও সাধারণ আফগান মুসলিম জনগণের উদ্দেশ্যে এবং বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় শাইখ জামিলুর রহমানের উদ্দেশ্যে আপনাদের কি কোনো নসিহত রয়েছে?
উত্তর: আমাদের নেতা ভাইদের প্রতি—আল্লাহ তাঁদের সকল কল্যাণের তাওফিক দান করুন—আমাদের পরামর্শ হলো, তাঁরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হন এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য কাজের দায়িত্ব প্রদান করেন। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ বিন ওয়ালিদকে নেতৃত্বের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন অথচ তিনি অল্প কিছু হাদিসই মুখস্থ রাখতেন। আবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ বিন মাসউদের প্রশংসা করে বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কুরআনকে অবিকল সেরূপ সতেজভাবে পাঠ করতে পছন্দ করে যেমন তা অবতীর্ণ হয়েছে, সে যেন ইবনে উম্মে আবদ (আবদুল্লাহ বিন মাসউদ)-এর তিলাওয়াত অনুযায়ী পাঠ করে))। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের প্রত্যেককে নিজ নিজ মর্যাদানুসারে মূল্যায়ন করতেন এবং তাঁদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্থান দিতেন।
তাঁরা যেন নিজেদের বিষয়াদি আমেরিকা কিংবা রাশিয়ার হাতে সোপর্দ না করেন। কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শের অনুসরণ করেন (৩)}। সুতরাং তারা চায় না যে ইসলামের কোনো বিজয় অর্জিত হোক এবং তারা চায় না যে (মুসলিমরা) ঐক্যবদ্ধ হোক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كلمة المسلمين. ثم ننصح أخانا في الله جميل الرحمن حفظه الله تعالى باستقدام إخوانه أهل السنة ليشاركوه في التعليم، وليؤازروه على هذا الأمر فإن هذا ينفعه. وننصحه أيضًا أن لا يغتر بمجتمعنا الذي نعيش فيه فهو لا يساعد على الخير، فعليك أن تتمسك بالسنة ولو لم يتبعك أحد؛ فقد قال الأوزاعي رحمه الله تعالى: (عليك بالسنة وإن رفضك الناس، وإياك والبدعة وإن زخرفها لك الناس) أو بهذا المعنى. ويقول عبد الله بن المبارك -وقد سئل: من هم جماعة المسلمين؟ - فقال: حسين بن واقد ومحمد بن ثابت وأبوحمزة السكري. وقال: هؤلاء هم جماعة المسلمين.
ثم بعد ذلك إذا استفتى أحد أو غير ذلك فعليه أن يطلب الدليل، وأن يعرض الفتوى على كتاب الله وعلى سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، نحن نحب علماء السنة، أمّا الدين فلسنا مستعدين أن نقلد أحدًا وإذا كنا على الحق لا نخاف من هذا ولا من هذا، فلا بأس أن نستفتي أفاضل العلماء لكن ينبغي أن ينظر فرب عالم يكون متأثرًا بمجتمعه ورب عالم يكون متأثرًا ببيئته، ورب عالم يكون مهزوم النفس لا يستطيع أن يقول بكل ما في نفسه، فعليه أن يجتهد وأن يبحث، أنصحه بكتب السنة إذا عرضت مسألة أن يبحث في هذه المسألة والله المستعان.
ونستودعهم الله ونسأل الله العظيم أن يجمع كلمتهم وأن ينصرهم على أعدائهم، والحمد لله رب العالمين.
মুসলমানদের ঐক্য। অতঃপর আমরা আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের ভাই জামিলুর রহমানকে (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন) নসিহত করছি যেন তিনি তাঁর আহলে সুন্নাত ভাইদের শিক্ষাদানে অংশগ্রহণের জন্য নিয়ে আসেন এবং এই কাজে তাঁরা যেন তাঁকে সহযোগিতা করেন, কারণ এটি তাঁর জন্য ফলপ্রসূ হবে। আমরা তাঁকে আরও নসিহত করছি যেন তিনি আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থা দ্বারা প্রলুব্ধ না হন, কারণ এটি কল্যাণের পথে সহায়ক নয়। সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, যদিও কেউ আপনাকে অনুসরণ না করে। কেননা ইমাম আওযাঈ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: "তুমি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে, আর বিদআত (بدعة) থেকে বেঁচে থাকো যদিও মানুষ তা তোমার সামনে সুশোভিত করে পেশ করে"—অথবা এই মর্মার্থের কোনো কথা। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: 'মুসলিমদের জামাত কারা?' তখন তিনি বলেছিলেন: 'হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ, মুহাম্মদ ইবনে সাবিত এবং আবু হামযা আস-সুক্কারি।' তিনি বলেন: 'এরাই হলেন মুসলিমদের জামাত।'
অতঃপর কোনো ব্যক্তি যদি ফতোয়া (فتوى) প্রার্থনা করে বা অন্য কিছু, তবে তার উচিত দলিল (دليل) সন্ধান করা এবং সেই ফতোয়াকে (فتوى) আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর নিরিখে যাচাই করা। আমরা সুন্নাহর আলেমদের ভালোবাসি, তবে দ্বীনের বিষয়ে আমরা কাউকে অন্ধভাবে অনুকরণ বা তাকলিদ (تقليد) করতে প্রস্তুত নই। আমরা যদি হকের (حق) ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, তবে আমরা একে বা ওকে ভয় পাই না। শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট ফতোয়া (فتوى) চাওয়ায় কোনো বাধা নেই, তবে এটি লক্ষ রাখা প্রয়োজন যে—অনেক সময় কোনো আলেম তাঁর সমাজ বা পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, আবার কোনো আলেম মানসিকভাবে সংকুচিত থাকতে পারেন যার ফলে তিনি তাঁর অন্তরের সব কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারেন না। এমতাবস্থায় তাঁর উচিত ইজতিহাদ (اجتهاد) করা এবং অনুসন্ধান চালানো। আমি তাঁকে সুন্নাহর কিতাবসমূহ অধ্যয়নের পরামর্শ দিচ্ছি; কোনো মাসআলা (مسألة) উপস্থিত হলে যেন তিনি তা নিয়ে গবেষণা করেন। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
আমরা তাঁদেরকে আল্লাহর হেফাজতে সোপর্দ করছি এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁদের বিজয়ী করেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
মাকতালুশ শায়খ জামিলুর রহমান আল-আফগানী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مقتل الشيخ جميل الرحمنالحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين، وأشهد أن لا إله إلا الله لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد:
فيقول الله سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {ياأيّها الّذين ءامنوا كونوا قوّامين بالقسط شهداء لله ولو على أنفسكم أو الوالدين والأقربين إن يكن غنيًّا أو فقيرًا فالله أولى بهما فلا تتّبعوا الهوى أن تعدلوا وإن تلووا أو تعرضوا فإنّ الله كان بما تعملون خبيرًا (1)}، ويقول سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: {ولا يجرمنّكم شنآن قوم على ألاّ تعدلوا اعدلوا هو أقرب للتّقوى (2)}.
وروى الإمام أحمد في "مسنده" عن أبي ذر الغفاري رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أمره أن يقول الحقّ ولو كان مرًّا. وفي "الصحيحين" عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: بايعْنا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم على السّمع والطّاعة في المنشط والمكره، وأن لا ننازع الأمر أهله، وأن نقول بالحقّ
--------------------------------------------
শেখ জামিলুর রহমানের শাহাদাতসকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষ্যদাতা হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠতর অভিভাবক। অতএব তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা সত্য এড়িয়ে যাও, তবে জেনে রেখো আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত। (১)}, এবং মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে আরও বলেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। (২)}।
ইমাম আহমাদ তাঁর "মুসনাদ"-এ আবু যার আল-গিফারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সত্য বলার আদেশ দিয়েছেন যদিও তা তিক্ত হয়। এবং "সহীহাইন"-এ উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি সক্রিয়তা ও অনিচ্ছা উভয় অবস্থায় কথা শোনা ও আনুগত্য করার ওপর, আর আমরা যেন নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হই এবং আমরা যেন সত্য কথা বলি।
--------------------------------------------