(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: -)
غارة الفصل على المعتدين على كتب العلل   (مقبل بن هادي الوادعي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: غارة الفصل على المعتدين على كتب العلل

المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)

الناشر: دَارُ الآثَار للنشر وَالتوزيع، صَنعاء - اليمن

الطبعة: الثانية، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 125

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434

হাদিসের গোপন ত্রুটি (العلل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত   (মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: হাদিসের গোপন ত্রুটি (العلل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত

লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কায়িদাহ (ব্যক্তির নাম) আল-হামদানি আল-ওয়াদিয়ি (মৃত্যু ১৪২২ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল আসার প্রকাশনা ও বিতরণ, সানা - ইয়েমেন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: -)
غَارَةُ الفِصَلِ

عَلَىَ

المُعْتَدِيْنَ عَلَىَ كُتُبِ العِلَلِ

 

لأبي عبد الرحمن

مقبل بن هادي الوادعي
গারা-তুল ফিসাল

বিরুদ্ধে

হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি-বিচ্যুতি (علل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ওপর সীমালঙ্ঘনকারীদের

 

আবু আবদুর রহমান

মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، كما يحب ربنا ويرضى، والصلاة والسلام على نبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم المنزل فيه: (إنا أعطيناك الكوثر * فصل لربك وانحر * إن شانئك هو الأبتر) [الكوثر:1 - 3].

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له المنزل في كتابه: (لتبلون في أموالكم وأنفسكم ولتسمعن من الذين أوتوا الكتاب من قبلكم ومن الذين أشركوا أذى كثيرًا وإن تصبروا وتتقوا فإن ذلك من عزم الأمور) [آل عمران: 186].

أما بعد: ففي الوقت الذي قام الإعلام من الداخل والخارج بحملة شرسة على دعوة أهل السنة باليمن، حملهم الغيظ لما رأوا إقبال المجتمع اليمني عليها، ولما لها من محبة في قلوب المحبين للخير، وكنا نتوقع من إخواننا بنجد وبأرض الحرمين وبمصر وغيرهم ممن عرف حقيقة دعوة إخوانهم أهل السنة باليمن، كنا نتوقع منهم أن يدافعوا عن إخوانهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—অঢেল, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যেমনটি আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর, যাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে: (নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন। নিশ্চয় আপনার শত্রুই তো নির্বংশ) [কাওসার: ১-৩]।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন: (অবশ্যই তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবনের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হবে এবং তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব ও মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ) [আল-ইমরান: ১৮৬]।

অতঃপর: বর্তমানে যখন দেশি ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো ইয়েমেনের আহলে সুন্নাহ (أهل السنة)-এর দাওয়াতের ওপর এক প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করেছে; মূলত ইয়েমেনি সমাজ এই দাওয়াতের প্রতি যেভাবে ঝুঁকে পড়ছে এবং কল্যাণকামীদের হৃদয়ে এর প্রতি যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তা দেখে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। আমরা নজদ, হারামাইন ভূমি, মিশর এবং অন্যান্য অঞ্চলের সেই ভাইদের থেকে প্রত্যাশা করেছিলাম যারা ইয়েমেনের আহলে সুন্নাহ (أهل السنة) ভাইদের দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত—আমরা তাদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করেছিলাম যে, তারা তাদের ভাইদের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করবেন।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৬)
الذين نفع الله بهم، ودحر بهم التصوف والتشيع والحزبية الممقوتة، بل دحر بهم الشيوعي، والبعثي، والناصري، وجميع فرق الضلال، في ذلك الوقت نفسه وافتنا جريدة سخيفة يكتب فيها علي رضا أربعة أحاديث من " أحاديث ظاهرها الصحة وهي معلة " بعنوان: (ما هكذا تُعَلُّ الأحاديث).

وقد رد عليَّ غير واحد ولا أبالي بردودهم ولا أرد عليها وتموت، بل يكون إخراجها سببًا لنصر السنة.

والعلماء من زمن قديم يرد بعضهم على بعض، فأبوحاتم وأبو زرعة قد بينا بعض أخطاء الإمام البخاري في " تاريخه "، والدارقطني قد انتقد على البخاري ومسلم قدر مائتي حديث، والخطيب في كتابه" موضح أوهام الجمع والتفريق " يرد على البخاري بعض أوهامه في " التاريخ"، ولم يزل العلماء يختلفون في صحة بعض الأحاديث وضعفها وفي توثيق الرجل وتجريحه ولقد أحسن من قال:

وجدال أهل العلم ليس بضائري … ما بين غالبهم من المغلوب

وبعد قراءة تلك الجريدة طالعت بعض تحقيقات علي رضا، وإذا به تِيهٌ واستخفاف ببعض العلماء، فرأيت أنه يلزمني أن أبين له حقيقة خطئه حتى لا يتجرأ على علماء آخرين، ورب العزة يقول في كتابه الكريم: (لا يحب الله الجهر بالسوء من القول إلا من ظلم) [النساء: 148].

ويقول: (وإن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عاقبتم به ولئن صبرتم لهو
যাদের মাধ্যমে আল্লাহ (উম্মাহর) কল্যাণ সাধন করেছেন এবং তাদের দ্বারা সুফিবাদ, শিয়া মতবাদ ও ঘৃণ্য দলপ্রীতিকে পরাভূত করেছেন; বরং তাদের মাধ্যমে তিনি কমিউনিস্ট, বাথপন্থী, নাসেরবাদী এবং সকল ভ্রান্ত দলকে পর্যুদস্ত করেছেন। ঠিক সেই সময়েই আমাদের নিকট একটি নিম্নমানের পত্রিকা পৌঁছায়, যাতে আলি রেজা "বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ (صحة) কিন্তু বাস্তবে ত্রুটিযুক্ত (معلة)" শীর্ষক আলোচনা থেকে চারটি হাদিস নিয়ে (হাদিসকে এভাবে ত্রুটিযুক্ত (تعل) করা হয় না) শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছে।

অনেকেই আমার প্রতিবাদ করেছেন, কিন্তু আমি তাদের প্রতিবাদের পরোয়া করি না এবং সেগুলোর উত্তরও দিই না, ফলে সেগুলো বিলীন হয়ে যায়; বরং এগুলোর প্রকাশ সুন্নাহর বিজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রাচীনকাল থেকেই আলেমগণ একে অপরের ভুল সংশোধন করে আসছেন। ইমাম আবু হাতেম এবং ইমাম আবু জুরআ ইমাম বুখারির 'তারিখ' গ্রন্থের কিছু ভুল বর্ণনা করেছেন। ইমাম দারাকুতনি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের প্রায় দুইশত হাদিসের সমালোচনা করেছেন। খতিব আল-বাগদাদি তার 'মুদিহ আওহাম আল-জাম ওয়া আল-তাফরিক' গ্রন্থে ইমাম বুখারির 'তারিখ' গ্রন্থের কিছু ভ্রান্তি খণ্ডন করেছেন। আলেমগণ সর্বদা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) এবং বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) ও অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করা (تجريح) নিয়ে মতভেদ করে আসছেন। কতই না চমৎকার বলেছেন সেই কবি:

ইলম অন্বেষীদের বিতর্ক আমার কোনো ক্ষতি করে না … তাদের মধ্যকার বিজয়ী এবং বিজিতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

সেই পত্রিকাটি পড়ার পর আমি আলি রেজার কিছু গবেষণা (تحقيق) পর্যালোচনা করলাম এবং দেখলাম যে, সেখানে দম্ভ এবং কিছু আলেমের প্রতি অবজ্ঞা রয়েছে। তাই আমি মনে করলাম যে, তার ভুলের প্রকৃত স্বরূপ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া আমার জন্য আবশ্যক, যাতে সে অন্য আলেমদের ব্যাপারে ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস না পায়। মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: (আল্লাহ মন্দ কথা প্রকাশ্যে বলা পছন্দ করেন না, তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন) [আন-নিসা: ১৪৮]।

তিনি আরও বলেন: (আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু তোমাদের ওপর করা হয়েছে। তবে যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, তবে নিশ্চয়ই তা ধৈর্যশীলদের জন্য উত্তম।) [আন-নাহল: ১২৬]
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৭)
خير للصابرين) [النحل:126]، ويقول في معرض المدح: (والذين إذا أصابهم البغي هم ينتصرون * وجزاء سيئة سيئة مثلها فمن عفا وأصلح فأجره على الله إنه لا يحب الظالمين * ولمن انتصر بعد ظلمه فأولئك ما عليهم من سبيل * إنما السبيل على الذين يظلمون الناس ويبغون في الأرض بغير الحق أولئك لهم عذاب أليم * ولمن صبر وغفر إن ذلك لمن عزم الأمور) [الشورى:39 - 43].

ولو كانت المسألة تتعلق بشخصي لما رددت عليه، فمن أنا حتى أضيع الوقت في الدفاع عن نفسي؟ ولكن المسألة فيها هجوم على كتب العلل من كثير من العصريين، واستخفاف بعلماء الحديث الأقدمين؛ فلذلك استعنت بالله وتركت بعض مشاريعي من أجل الرد على علي رضا وسميت الرد: " غارة الفِصَل على المعتدين على كتب العِلَل ".

وليس علي هو المقصود نفسه، بل كثير من العصريين الذين يستخفون بأقوال أئمة العلل، وقد كننت عازماً على التخشين؛ فشفع بعض إخواننا الأفاضل من ساكني المدينة في الرفق به.

وقد كنت ذكرت بعض النقولات المفيدة في مقدمة " أحاديث ظاهرها الصحة " فيما يتعلق بعلم العلل لو راجعها علي لما وقع فيما وقع فيه.

ولما رأيتها لم تُغن شيئًا رأيت أن أذكر فوائد من كتب العلل لعلها تسهل على القارئ بعض إشكالات كتب العلل.
(ধৈর্যশীলদের জন্য এটিই উত্তম) [আন-নাহল: ১২৬], এবং তিনি প্রশংসার প্রেক্ষাপটে বলেন: (আর যারা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ। তবে যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস-মীমাংসা করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি জালেমদের পছন্দ করেন না। আর যে ব্যক্তি তার ওপর জুলুম হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের ওপর জুলুম করে এবং জমিনে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়; তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয়ই তা দৃঢ়সংকল্পের কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত) [আশ-শুরা: ৩৯-৪৩]।

যদি বিষয়টি কেবল আমার ব্যক্তিগত হতো, তবে আমি এর কোনো উত্তর দিতাম না। আমি কে যে নিজের আত্মরক্ষায় সময় নষ্ট করব? কিন্তু বিষয়টি অনেক আধুনিকমনস্কদের পক্ষ থেকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক (علل) গ্রন্থসমূহের ওপর আক্রমণ এবং প্রাচীন হাদিস বিশারদদের প্রতি অবজ্ঞার সাথে জড়িত। তাই আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং আলী রেজার জবাব দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার কিছু গবেষণামূলক প্রকল্প স্থগিত রাখলাম। আমি এই খণ্ডনমূলক জবাবের নাম দিয়েছি: "গারা আল-ফিসাল আলা আল-মুতাদিন আলা কুতুব আল-ইলাল"।

এখানে কেবল আলী একাই উদ্দেশ্য নয়, বরং সেই সব আধুনিকমনস্ক ব্যক্তিরাও উদ্দেশ্য যারা হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্যকে তুচ্ছজ্ঞান করেন। আমি কঠোর ভাষা ব্যবহারের সংকল্প করেছিলাম; কিন্তু মদীনার কিছু সম্মানিত ভাই তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শনের সুপারিশ করেন।

আমি 'আহাদিসুন জাহিরুহা আস-সিহহা' গ্রন্থের ভূমিকায় হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) শাস্ত্র সংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছিলাম। আলী যদি তা পর্যালোচনা করতেন, তবে তিনি এমন ভুলের সম্মুখীন হতেন না।

কিন্তু যখন দেখলাম তা যথেষ্ট হয়নি, তখন আমি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক (علل) গ্রন্থসমূহ থেকে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ করা সমীচীন মনে করলাম, যাতে পাঠকের কাছে উক্ত গ্রন্থসমূহের কিছু জটিলতা সহজ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৮)
والحق أن كتب العلل فوق مستوانا فقد طلب مني بعض إخواني في الله أن أدرِّسهم في "كتاب العلل" لابن أبي حاتم؛ فقلت لهم: لا أستطيع أخشى أن نقرأ الحديث ونعتقد ضعفه، ويكون في " الصحيحين" أو غيرهما عن صحابي آخر أو من طريق أخرى عن ذلك الصحابي فهي تحتاج إلى حافظ يعلم أن الحديث في كتاب آخر صحيح كما تقدم، أو أنه مُعلِّ من جميع طرقه.

وإنني أحمد الله فبسبب كثرة الممارسة لهذا الفن في الكتابة على تتبع الدارقطني واستدراكه على البخاري ومسلم وهو من كتب العلل فقد سهلت عليَّ بعض الشيء، ومع هذا فلا أزال أهاب هذا الفن وكتابي " أحاديث معلة ظاهرها الصحة " أغلبها نقل من كتب علمائنا رحمهم الله.

ولا تظن أن كلام علي رضا قد أثر عليَّ، فأنا آلفُ للمصارعة، وصدري بحمد الله رحب للانتقاد، والذي يهاب الرد عليه ما يؤلف، فزيادة على ثلاثين مؤلفًا وقسط كبير من الأشرطة وأعداء الدعوة كثير، والحسدة أكثر ثم أتوقع أنه لا يرد عليَّ؟!!.

ما سلم الله من بريته ولا نبي الهدي فكيف أنا

وكذا بحمد الله لم يزدد الناس إلا رغبة في الكتاب وصدق من قال:

وإذا أراد الله نشر فضيلة … طويت أتاح لها لسان حسود

لولا اشتعال النار في جزل الغضى … ما كان يعرف طيب نشر العود

فبعد أن خرجت الجريدة أتاني بعض الإخوة من أصحاب دور

সত্য এই যে, ইল্লাল বা ত্রুটি বিষয়ক কিতাবসমূহ (كتب العلل) আমাদের যোগ্যতার উর্ধ্বে। আমার কিছু দ্বীনি ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি তাদের ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুল ইলাল' পড়াই; তখন আমি তাদের বললাম: আমি সক্ষম নই। আমি আশঙ্কা করি যে, আমরা হয়তো কোনো হাদিস পড়ব এবং সেটিকে দুর্বল (ضعيف) মনে করব, অথচ সেটি 'সহীহাইন' বা অন্য কোনো কিতাবে অন্য কোনো সাহাবীর সূত্রে অথবা সেই সাহাবীরই অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। তাই এটি এমন একজন হাফিজ (حافظ) এর মুখাপেক্ষী, যিনি জানেন যে হাদিসটি অন্য কোনো কিতাবে সহিহ (صحيح) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, অথবা এটি তার সকল সূত্রের দিক থেকেই ত্রুটিযুক্ত (معل)।

আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, এই শাস্ত্রের (فن) অত্যধিক চর্চার কারণে—বিশেষ করে ইমাম দারা কুতনী কর্তৃক বুখারি ও মুসলিমের ওপর যে পর্যালোচনা (تتبع) ও সংশোধনী (استدراك) রয়েছে এবং যা ত্রুটি বিষয়ক কিতাবসমূহের (كتب العلل) অন্তর্ভুক্ত, তার ওপর কাজ করার দরুন বিষয়টি আমার কাছে কিছুটা সহজ হয়েছে। তাসত্ত্বেও আমি এই শাস্ত্রকে (فن) এখনো সমীহ করি এবং আমার কিতাব 'আহাদিসু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহহা' (বাহ্যিকভাবে সহিহ প্রতীয়মান ত্রুটিযুক্ত হাদিসসমূহ), এর অধিকাংশ তথ্যই আমাদের উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর কিতাব থেকে সংগৃহীত।

আপনি মনে করবেন না যে, আলী রেজার কথা আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে। আমি লড়াইয়ে অভ্যস্ত এবং আলহামদুলিল্লাহ আমার হৃদয় সমালোচনার জন্য প্রশস্ত। যার রচনার ওপর খণ্ডনমূলক জবাব (رد) আসবে বলে সে ভয় পায়, তার লেখালেখি করা উচিত নয়। আমার তিরিশটিরও বেশি গ্রন্থ এবং অডিও ক্যাসেটের একটি বড় অংশ রয়েছে। দাওয়াতের শত্রু অনেক এবং হিংসুক আরও বেশি; এরপরও কি আমি আশা করতে পারি যে আমার ওপর কোনো প্রতিবাদ আসবে না?!!

স্বয়ং আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে রেহাই পাননি, হিদায়াতের নবীও পাননি, তবে আমি কে?

তেমনিভাবে আল্লাহর প্রশংসায় মানুষের মাঝে কিতাবটির প্রতি আগ্রহ কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। আর যে বলেছে সে সত্যই বলেছে:

যখন আল্লাহ কোনো সুপ্ত গুণের বিকাশ ঘটাতে চান … তখন তিনি তার জন্য হিংসুকের জিহ্বাকে উপলক্ষ করে দেন।

যদি কাঠের গুঁড়িতে আগুনের দহন না থাকতো … তবে আগরকাঠের সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অজানাই থেকে যেতো।

অতঃপর পত্রিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর আমার কাছে প্রকাশনীগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ভাই আসলেন...

(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৯)
النشر وألح عليَّ في نشره فقلت: لا أستطيع قد وعدت الأخ الناشر الأول.

وكذا تكالب وسائل الإعلام على دعوة أهل السنة ما زادت الناس إلا وثوقاً بالدعوة والقائمين عليها، فكثير من الناس يعلم حقيقة دعوتنا وحقيقة وسائل الإعلام، فلك الحمد يا ربنا أنت الذي صبَّرتنا ونصرتنا ورددتهم خائبين خاسرين، فالفضل لك وحدك فأنت المقدم وأنت المؤخر وأنت على كل شيء قدير، وحسبنا الله نعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير.

****
প্রকাশনা বিষয়ক; তিনি এটি প্রকাশের জন্য আমার ওপর বিশেষ পিড়াপিড়ি করছিলেন, তখন আমি বললাম: আমি তা করতে পারব না, কারণ আমি প্রথম প্রকাশক ভাইয়ের নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুরূপভাবে আহলে সুন্নাতের দাওয়াতের ওপর গণমাধ্যমের আক্রমণ মানুষের অন্তরে এই দাওয়াত এবং এর পরিচালনাকারীদের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করা ব্যতীত আর কিছুই করেনি। কারণ অধিকাংশ মানুষই আমাদের দাওয়াতের বাস্তবতা এবং গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জানে। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনারই; আপনিই আমাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেছেন, আমাদের সাহায্য করেছেন এবং তাদের ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ কেবল আপনারই; আপনিই অগ্রবর্তীকারী এবং আপনিই পশ্চাদবর্তীকারী এবং আপনিই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

****
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌فوائد وقواعد

قال الحافظ ابن رجب رحمه الله في " ملحق شرح علل الترمذي " (ج2 ص756):

 

‌‌قاعدة مهمة: حذاق النقاد من الحفاظ لكثرة ممارستهم للحديث ومعرفتهم بالرجال وأحاديث كل واحد منهم، لهم فهم خاص يفهمون به أن هذا الحديث يشبه حديث فلان ولا يشبه حديث فلان فيعللون الأحاديث بذلك.

وهذا مما لا يعبَّر عنه بعبارة تحصره، وإنما يرجع فيه أهله إلى مجرد الفهم والمعرفة، التي خصوا بها عن سائر أهل العلم، كما سبق ذكره في غير موضع.

- فمن ذلك:

- سعد بن سنان، ويقال سنان بن سعد:

يروي عن أنس ويروي عنه أهل مصر.

قال أحمد: تركت حديثه، حديثه حديث مضطرب، وقال: يشبه
উপকারিতা ও নীতিমালা

হাফিজ ইবন রাজাব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "Mulhaq Sharh Ilal al-Tirmidhi" (২য় খণ্ড, ৭৫৬ পৃষ্ঠা)-এ বলেছেন:

 

গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি: হাফেজগণের (الحفاظ) মধ্যে যারা প্রাজ্ঞ সমালোচক (النقاد), হাদিস নিয়ে তাঁদের ব্যাপক চর্চা এবং বর্ণনাকারী (الرجال) ও তাঁদের প্রত্যেকের হাদিস সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কারণে তাঁদের এক বিশেষ প্রজ্ঞা বা বোধশক্তি তৈরি হয়। এর মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পারেন যে, এই হাদিসটি অমুক ব্যক্তির হাদিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং অমুক ব্যক্তির হাদিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়; আর এর মাধ্যমেই তাঁরা হাদিসগুলোর মাঝে লুকায়িত দোষ (يعللون) চিহ্নিত করেন।

এটি এমন বিষয় যা কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা যায় না। বরং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এই ক্ষেত্রে কেবল সেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের ওপরই নির্ভর করেন, যা অন্যান্য সকল আলেমদের তুলনায় বিশেষভাবে তাঁদেরই দান করা হয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে একাধিক স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।

- এরই একটি উদাহরণ হলো:

- সা’দ ইবন সিনান, যাকে সিনান ইবন সা’দও বলা হয়:

তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে মিশরের অধিবাসীরা বর্ণনা করেন।

ইমাম আহমাদ বলেন: আমি তাঁর হাদিস বর্জন করেছি, তাঁর হাদিস হলো অসংলগ্ন (مضطرب); তিনি আরও বলেন: এটি সাদৃশ্যপূর্ণ...
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১১)
حديثه حديث الحسن، لا يشبه أحاديث سنان، نقله عبد الله بن أحمد عن أبيه.

ومراده: أن الأحاديث التي يرويها عن أنس مرفوعة، إنما تشبه كلام الحسن البصري أو مراسيله.

وقال الجوزجاني: أحاديثه واهية لا تشبه أحاديث الناس عن أنس.

- حديث شعيب بن أبي حمزة عن ابن المنكدر:

روى عنه أحاديث:

منها: حديث ابن المنكدر عن جابر مرفوعاً: " من قال حين يسمع النداء: اللهم رب هذه الدعوة التامة .. "الحديث، وقد خرجه البخاري في " صحيحه ".

وله علة: ذكرها ابن أبي حاتم عن أبيه قال: قد طعن في هذا الحديث، وكان عَرض شعيب عن أي حمزة بن المنكدر كتابًا فأمر بقراءته عليه فعرف بعضًا وأنكر بعضًا وقال لابنه أو ابن أخيه: اكتب هذا الأحاديث، فدوَّن شعيب ذلك الكتاب، ولم تثبت رواية شعيب تلك الأحاديث على الناس، وعرض عليَّ بعض تلك الكتب فرأيتها متشابهة لحديث إسحاق عن أبي فروة، وهذا الحديث من تلك الأحاديث.

قلت: ومصداق ما ذكره أبو حاتم أن شعيب بن أبي حمزة روى عن ابن المنكدر عن جابر حديث الاستفتاح في الصلاة بنحو سياق حديث علي.

وروي عن شعيب عن ابن المنكدر عن الأعرج عن محمد بن
তাঁর বর্ণিত হাদিস হাসান (আল-বাসরি)-এর বাণীর মতো, সিনানের হাদিসসমূহের অনুরূপ নয়; আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর উদ্দেশ্য হলো: আনাস থেকে তিনি যে মারফু (مرفوع) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন, তা মূলত হাসান বসরির কথা অথবা তাঁর মুরসাল (مرسل) বর্ণনাসমূহের সদৃশ।

জাওজাজানি বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ অত্যন্ত দুর্বল (واهية), আনাস থেকে বর্ণিত অন্যান্যদের হাদিসসমূহের সাথে এগুলোর সাদৃশ্য নেই।

- ইবনুল মুনকাদির থেকে শুআইব ইবনে আবু হামযার হাদিস:

তিনি তাঁর থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন:

তন্মধ্যে: জাবির থেকে বর্ণিত ইবনুল মুনকাদিরের মারফু (مرفوع) হাদিসটি: "যে ব্যক্তি আজান শোনার সময় বলে: হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বানের রব..." (হাদিসটি), ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন।

তবে এর একটি ত্রুটি (علة) রয়েছে; ইবনে আবু হাতিম তাঁর পিতা থেকে তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এই হাদিসটি সমালোচিত হয়েছে। শুআইব ইবনে আবু হামযা ইবনুল মুনকাদিরের নিকট একটি পাণ্ডুলিপি পেশ করেছিলেন এবং সেটি তাঁকে পড়ে শোনানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইবনুল মুনকাদির তার কিছু অংশ চিনতে পেরেছিলেন এবং কিছু অংশ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি তাঁর পুত্র অথবা ভ্রাতুষ্পুত্রকে বলেছিলেন: "এই হাদিসগুলো লিখে নাও।" ফলে শুআইব সেই পাণ্ডুলিপিটি লিপিবদ্ধ করেন। তবে লোকপরম্পরায় শুআইবের সেই হাদিসগুলোর বর্ণনা প্রমাণিত হয়নি। আমার কাছে সেই পাণ্ডুলিপিগুলোর কিছু অংশ পেশ করা হয়েছিল এবং আমি দেখেছি যে সেগুলো আবু ফারওয়া থেকে বর্ণিত ইসহাকের হাদিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর আলোচ্য হাদিসটি সেই হাদিসগুলোরই অন্তর্ভুক্ত।

আমি বলি: আবু হাতিম যা উল্লেখ করেছেন তার সত্যতা এতে প্রমাণিত হয় যে, শুআইব ইবনে আবু হামযা ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে নামাজের প্রারম্ভিক দুআ (ইসতিফতাহ) সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাশৈলী আলী থেকে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।

শুআইব থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১২)
مسلمة، فرجع الحديث إلى الأعرج.

وإنما رواه الناس عن الأعرج عن عبيد الله بن أبي رافع عن علي بن أبي طالب.

ومن جملة من رواه عن الأعرج بهذا الإسناد: إسحاق بن أبي فروة.

وقيل: إنه رواه عن عبد الله بن الفضل عن الأعرج.

وروي عن محمد بن حمير عن شعيب بن أبي حمزة عن ابن أبي فروة وابن المنكدر عن الأعرج عن محمد بن مسلمة.

رواه حيوة عن شعيب عن إسحاق عن الأعرج عن عبيد الله بن أبي رافع عن محمد بن مسلمة، فظهر بهذا أن الحديث عند شعيب عن أبي فروة.

وكذا قال أبو حاتم الرازي: هذا الحديث من حديث إسحاق بن أبي فروة يرويه شعيب عنه.

وحاصل الأمر: أن حديث الاستفتاح رواه شعيب عن اسحاق بن أبي فروة وابن المنكدر، فمنهم من ترك إسحاق وذكر ابن المنكدر، ومنهم من كنى عنه، فقال: عن ابن المنكدر وآخر، وكذا وقع في " سنن النسائي ".

وهذا مما لا يجوز فعله، وهو أن يروي الرجل حديثًا عن اثنين: أحدهما مطعون فيه، والآخر ثقة، فيترك ذكر المطعون فيه ويذكر الثقة.

وقد نص الإمام أحمد على ذلك، وعَلَّلَه بأنه ربما كان في حديث
মাসলামাহ, ফলে হাদিসটি আল-আরাজের দিকে ফিরে গেল।

প্রকৃতপক্ষে সাধারণ বর্ণনাকারীরা এটি আল-আরাজ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবি রাফি থেকে এবং তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন।

যারা এই সূত্র (إسناد) দিয়ে আল-আরাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইসহাক বিন আবি ফারওয়াহ।

বলা হয়ে থাকে যে: তিনি এটি আবদুল্লাহ বিন আল-ফাদল থেকে এবং তিনি আল-আরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ বিন হিমইয়ার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি শুআইব বিন আবি হামযাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি ফারওয়াহ ও ইবনুল মুনকাদির থেকে, তারা আল-আরাজ থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাইওয়াহ এটি শুআইব থেকে, তিনি ইসহাক থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবি রাফি থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, শুআইবের নিকট এই হাদিসটি আবু ফারওয়াহর সূত্রে বর্ণিত।

আবু হাতিম আর-রাজি অনুরূপ বলেছেন: এই হাদিসটি মূলত ইসহাক বিন আবি ফারওয়াহর হাদিস, যা শুআইব তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

সারসংক্ষেপ হলো: ইস্তিফতাহ (নামাজ শুরুর দোয়া) সংক্রান্ত হাদিসটি শুআইব ইসহাক বিন আবি ফারওয়াহ ও ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ইসহাককে বাদ দিয়ে কেবল ইবনুল মুনকাদিরের নাম উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ তার নাম উহ্য রেখে ইশারায় বলেছেন: "ইবনুল মুনকাদির ও অন্য এক ব্যক্তি থেকে"। সুনান আন-নাসায়ী-তে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আর এটি এমন একটি কাজ যা করা বৈধ নয়। সেটি হলো—কোনো ব্যক্তি দুইজন রাবির নিকট থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করবেন যাদের একজন সমালোচিত (مطعون فيه) এবং অন্যজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), এরপর তিনি সমালোচিত রাবির নাম বাদ দিয়ে কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির নাম উল্লেখ করবেন।

ইমাম আহমদ এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে মত ব্যক্ত করেছেন এবং এর কারণ বর্ণনা করেছেন (علله) এই বলে যে, সম্ভবত হাদিসটির মধ্যে...
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৩)
الضعيف شيء ليس في حديث الثقة وهو كما قال، فإنه ربما كان سياق الحديث للضعيف وحديث الآخر محمولٌ عليه.

فهذا الحديث يرجع إلى رواية إسحاق بن أبي فروة وابن المنكدر، ويرجع إلى حديث الأعرج، ورواية الأعرج له معروفة عن ابن أبي رافع عن علي، وهو الصواب عند النسائي والدارقطني وغيرهما.

وهذا الاضطراب في الحديث الظاهر أنه من ابن أبي فروة لسوء حفظه وكثرة اضطرابه في الأحاديث، وهو يروي عن ابن المنكدر، وقد روى هذا الحديث يزيد بن عياض بن جعدبة عن ابن المنكدر عن الأعرج عن ابن أبي رافع عن علي.

وقد كان بعض المدلسين يسمع الحديث من ضعيف فيرويه عنه ويدلسه معه عن ثقة لم يسمعه منه، فيظن أنه سمعه منهما، كما روى معمر عن ثابت وأبان وغير واحد عن أنس عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه نهى عن الشغار.

قال أحمد: هذا عمل أبان - يعني أنه حديث أبان - وإنما معمر يعني لعله دلسه، ذكره الخلال عن الهلال بن العلاء الرقي عن أحمد.

- ومن هذا المعنى: أن ابن عيينة كان يروي عن ليث وابن أبي نجيح جميعًا عن مجاهد عن أبي معمر عن علي حديث القيام للجنازة.

قال الحميدي: فكنا إذا وقفناه عليه لم يدخل في الإسناد أبا معمر إلى في حديث ليث خاصة.
দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর বর্ণনা এমন কিছু যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর হাদিসে নেই এবং বিষয়টি তিনি যেমন বলেছেন তেমনই। কারণ অনেক সময় হাদিসের প্রেক্ষাপটটি দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর হয়ে থাকে এবং অন্য বর্ণনাকারীর হাদিসটি তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বা তার সদৃশ করে বর্ণনা করা হয়।

এই হাদিসটি ইসহাক ইবনে আবি ফারওয়া ও ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনার দিকে ফিরে যায় এবং এটি আল-আ’রাজ-এর হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আবি রাফে’র সূত্রে আলীর থেকে আল-আ’রাজ-এর বর্ণনাটি সুপরিচিত। ইমাম নাসাঈ, দারাকুতনী ও অন্যদের মতে এটিই সঠিক (صواب)।

হাদিসের এই বিশৃঙ্খলা (اضطراب) সম্ভবত ইবনে আবি ফারওয়ার পক্ষ থেকে হয়েছে তার মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) এবং হাদিস বর্ণনায় অত্যধিক বিশৃঙ্খলার (اضطراب) কারণে। তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেন। আর এই হাদিসটি ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ ইবনে জা'দাবাহ, ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি ইবনে আবি রাফে’ থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

অনেক সময় কিছু মুদাল্লিস (مدلس) কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস শোনার পর তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করতেন এবং তিনি তা এমন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সূত্রে তাদলীস (تدليس) করতেন যার নিকট থেকে তিনি সেটি শোনেননি। ফলে ধারণা হয় যে, তিনি উভয়ের নিকট থেকেই তা শুনেছেন। যেমন— মা’মার আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শিগার (বিনিময় বিবাহ) নিষিদ্ধ করেছেন; এখানে তিনি সাবিত, আবান ও আরও কয়েকজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ বলেন: এটি আবানের কাজ— অর্থাৎ এটি মূলত আবানের হাদিস— তবে মা’মার সম্ভবত এটি তাদলীস (تدليس) করেছেন। খিলাল এটি হিলাল ইবনুল আলা আর-রাক্কীর সূত্রে ইমাম আহমদ থেকে উল্লেখ করেছেন।

- এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো: ইবনে উয়ায়না, লাইস ও ইবনে আবি নাজীহ উভয়ের সূত্রে মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু মা’মার থেকে এবং তিনি আলী (রা.)-এর সূত্রে জানাজার জন্য দাঁড়ানো সম্পর্কিত হাদিসটি বর্ণনা করতেন।

হুমাইদী বলেন: আমরা যখন তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম, তখন তিনি আবু মা’মারকে বিশেষভাবে কেবল লাইসের হাদিসের সনদ (إسناد)-এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করতেন।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৪)
يعني أن حديث ابن أبي نجيح كان يرويه عن مجاهد عن علي منقطعًا، وقد رواه ابن المديني وغيره عن ابن عيينة بهذين الإسنادين.

ورواه ابن أبي شيبة وغيره عن ابن عيينة عن ابن أبي نجيح وحده، وذكر في إسناده مجاهدًا وهو وَهْمٌ.

قال يعقوب بن شيبة: كان سفيان بن عيينة ربما يحدث بالحديث عن اثنين فيسند الكلام عن أحدهما، فإذا حدث به عن الآخر على الانفراد أوقفه أو أرسله.

- معقله بن عبيد الله الجزري:

لقد سبق قول أحمد: إن حديثه عن أبي الزبير يشبه حديث ابن لهيعة، وظهر مصداق قول أحمد إن أحاديثه عن أبي الزبير مثل أحاديث ابن لهيعة سواء كحديث اللمعة في الوضوء وغيره.

وقد كانوا يستدلون باتفاق حديث الرجلين في اللفظ على أن أحدهما أخذه عن صاحبه.

كما قال ابن معين في مطرف بن مازن: إنه قابل كتبه عن ابن جريج ومعمر فإذا هي مثل كتب هشام بن يوسف سواء، وكان هشام يقول: لم يسمعها من ابن جريج ومعمر إنما أخذها من كتبي.

قال يحيى: فعلمت أن مطرقًا كذاب، يعني علم صدق قول هشام عنه.

*ومن ذلك:

قول أحمد وأبي حاتم في أحاديث الدراوردي عن عبيد الله بن عمر:
এর অর্থ হলো, ইবনে আবি নাজিহ মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আলী থেকে হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطعًا) বর্ণনায় বর্ণনা করতেন। ইবনুল মাদিনি এবং অন্যরা ইবনে উইয়াইনা থেকে এই দুটি সূত্রের (الإسنادين) মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শাইবা এবং অন্যরা ইবনে উইয়াইনা থেকে শুধু ইবনে আবি নাজিহের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সূত্রের (إسناده) মধ্যে মুজাহিদের উল্লেখ করেছেন, যা একটি ভ্রম (وَهْمٌ)।

ইয়াকুব বিন শাইবা বলেন: সুফিয়ান বিন উইয়াইনা কখনও কখনও দুই ব্যক্তির বরাতে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তাদের একজনের সূত্রে কথাটি সংযুক্ত করে বর্ণনা করতেন, কিন্তু যখন তিনি অন্যজনের মাধ্যমে এককভাবে বর্ণনা করতেন, তখন তিনি তা স্থগিত (أوقفه) রাখতেন অথবা বিচ্ছিন্ন (أرسله) ভাবে বর্ণনা করতেন।

- মাকিল বিন উবাইদুল্লাহ আল-জাজারি:

ইমাম আহমদের বক্তব্য ইতিপূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে যে: আবু জুবাইর থেকে তার বর্ণিত হাদিস ইবনে লাহিয়ার হাদিসের সদৃশ। আহমদের সেই বক্তব্যের যথার্থতা প্রকাশ পেয়েছে যে, আবু জুবাইর থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলো হুবহু ইবনে লাহিয়ার হাদিসের মতোই, যেমন ওজু করার সময় শরীরের কোনো অংশ শুষ্ক থাকা সংক্রান্ত হাদিস এবং অন্যান্য।

মুহাদ্দিসগণ দুই ব্যক্তির হাদিসের শব্দাবলির হুবহু মিল দেখে এই প্রমাণ গ্রহণ করতেন যে, তাদের একজন অন্যজনের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছেন।

যেমনটি ইবনে মাইন মুতাররিফ বিন মাজেন সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ইবনে জুরাইজ এবং মা’মার থেকে সংগৃহীত তার পাণ্ডুলিপিগুলো মিলিয়ে দেখেছেন যে, সেগুলো হুবহু হিশাম বিন ইউসুফের পাণ্ডুলিপির মতো। হিশাম বলতেন: সে এগুলো ইবনে জুরাইজ এবং মা’মার থেকে সরাসরি শোনেনি, বরং কেবল আমার পাণ্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করেছে।

ইয়াহইয়া বলেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে মুতাররিফ একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), অর্থাৎ তার সম্পর্কে হিশামের বক্তব্যের সত্যতা প্রতীয়মান হলো।

*এরই অন্তর্ভুক্ত হলো:*

উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে দারাওয়ার্দির বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে আহমদ এবং আবু হাতিমের উক্তি:
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৫)
إنها تشبه أحاديث عبد الله بن عمر.

*ومن ذلك:

ما ذكره البرذعي قال: قال لي أبو زرعة: خالد بن يزيد المصري وسعيد بن أبي هلال صدوقان وربما وقع في قلبي من حسن حديثهما.

قال: وقال لي أبو حاتم: أخاف أن يكون بعضها مراسيل عن ابن أبي فروة وابن سمعان. انتهى.

ومعنى ذلك انه عرض حديثهما على حديث ابن أبي فروة وابن سمعان فوجده يشبهه، ولا يشبه حديث الثقات الذين يحدثان عنهم، فخاف أن يكونا أخذا حديث ابن أبي فروة وابن سمعان ودلساه عن شيوخهما.

- ومن ذلك:

أن مسلمًا خرَّج في " صحيحه " عن القواريري عن أبي بكر الحنفي عن عاصم بن محمد العمري ثنا سعيد المقبري عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: " قال الله عز وجل: أبتلي عبدي المؤمن فإن لم يشكني إلى عواده أطلقته من أساري ثم أبدلته لحمًا خيرًا من لحمه … " الحديث.

قال الحافظ أبو الفضل بن عمار الهروي الشهيد رحمه الله: هذا حديث منكر وإنما رواه عاصم بن محمد عن عبد الله بن سعيد المقبري عن أبيه. وعبد الله ابن سعيد شديد الضعف. قال يحي القطان: ما رأيت أحدًا أضعف منه.
এটি আবদুল্লাহ ইবনে উমরের হাদিসগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

*এর উদাহরণ হলো:

আল-বারযাঈ যা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আবু জুরআ আমাকে বলেছেন: খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-মিসরি এবং সাঈদ বিন আবি হিলাল সত্যবাদী (صدوقان), এবং কখনও কখনও তাদের হাদিসের উচ্চমান (حسن) দেখে আমার মনে সংশয় জাগে।

তিনি বলেন: আবু হাতিম আমাকে বলেছেন: আমি আশঙ্কা করি যে এগুলোর কিছু ইবনে আবি ফারওয়া এবং ইবনে সামআন থেকে বর্ণিত বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনা। সমাপ্ত।

এর অর্থ হলো, তিনি তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোকে ইবনে আবি ফারওয়া এবং ইবনে সামআনের হাদিসের সাথে তুলনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। অথচ সেগুলো সেই নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের হাদিসের মতো নয় যাদের থেকে তারা বর্ণনা করছেন। তাই তিনি আশঙ্কা করেছেন যে, তারা হয়তো ইবনে আবি ফারওয়া এবং ইবনে সামআনের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তাদের শায়েখদের নাম উল্লেখ না করে তা বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রতারণার (دلساه) আশ্রয় নিয়েছেন।

- এর আরেকটি উদাহরণ হলো:

ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে আল-কাওয়ারিরি থেকে, তিনি আবু বকর আল-হানাফি থেকে, তিনি আসিম বিন মুহাম্মদ আল-উমরি থেকে বর্ণনা করেছেন: সাঈদ আল-মাকবুরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মহান আল্লাহ বলেন: আমি যখন আমার মুমিন বান্দাকে পরীক্ষায় ফেলি এবং সে তার নিকট আসা দর্শকদের কাছে আমার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ করে না, তখন আমি তাকে আমার বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেই এবং তাকে তার বর্তমান মাংসের চেয়ে উত্তম মাংস দান করি … " হাদিস।

হাফেজ আবু আল-ফাদল বিন আম্মার আল-হারাউয়ি আশ-শহীদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি একটি অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস। মূলত আসিম বিন মুহাম্মদ এটি আবদুল্লাহ বিন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল্লাহ বিন সাঈদ অত্যন্ত দুর্বল (الضعف)। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: আমি তার চেয়ে অধিক দুর্বল আর কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৬)
ورواه معاذ بن معاذ عن عاصم بن محمد عن عبد الله بن سعيد عن أبيه عن أبي هريرة، وهو يشبه أحاديث عبد الله بن سعيد. انتهى.

- ومن ذلك:

قول ابن المديني في حديث الفضل بن عباس عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم في خطبة الوداع، الذي رواه القاسم بن يزيد بن عبد الله بن قسيط عن أبيه عن عطاء عن الفضل: إنه يشبه أحاديث القصاص وليس يشبه أحاديث عطاء عن أبي رباح.

- ومن ذلك:

حديث يرويه عمر بن يزيد الرفاء عن شعبة عن عمرو بن مرة
এবং এটি মুয়ায ইবনে মুয়ায আসিম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদের হাদিসসমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ (يشبه)। সমাপ্ত।

- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো:

বিদায় হজের খুতবা প্রসঙ্গে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত ফজল ইবনে আব্বাসের হাদিস সম্পর্কে ইবনুল মাদিনীর উক্তি; যা কাসিম ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুসাইত তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ফজল থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই এটি কিচ্ছাকারদের (القصاص) হাদিসসমূহের সদৃশ (يشبه) এবং আতা ইবনে আবি রাবাহর হাদিসসমূহের সদৃশ নয়।"

- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো:

একটি হাদিস যা উমর ইবনে ইয়াযিদ আর-রাফ্ফা শু'বাহ থেকে এবং তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
عن أبي وائل عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم: " ما بال أقوام يشرفون المترفين، ويستخفون بالعابدين، ويعملون بالقرآن ما وافق أهواءهم، وما خالف اهواءهم تركوه … ) الحديث.

قال ابن عدي: هذا يعرف بعمر بن يزيد عن شعبة، وهو بهذا الإسناد باطل.

قال العقيلي: وليس لهذا الحديث أصل من حديث شعبة. قال: وهذا الكلام عندي والله أعلم يشبه كلام عبد الله بن المسور الهاشمي المدايني وكان يضع الحديث، وقد روى عمرو بن مرة عنه؛ فلعل هذا الشيخ حمله عن رجل عن عمرو بن مرة عن عبد الله بن المسور مرسلاً وأحاله على شعبه. انتهى. والأمر على ما ذكره العقيلي رحمه الله.

وقد روى عمرو بن مرة عن ابن المسور المدايني حديثًا آخر أصله مرسل عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: لما نزل قوله تعالى: (فمن يرد الله أن يهديه يشرح صدره للإسلام) [الأنعام:125]، قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: " إذا دخل النور القلب انشرح وانفسح … " الحديث.

فهذا هو أصل الحديث ثم وصله قوم وجعلوا له إسنادًا موصولاً مع اختلافهم فيه.

قال الدارقطني: يرويه عمرو بن مرة، واختلف عنه؛ فرواه مالك ابن مغول عن عمرو بن مرة عن عبيدة عن عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، قاله عبد الله بن محمد بن المغيرة تفرد بذلك.
আবু ওয়াইল থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: "সেসব কওমের কী হলো যারা বিলাসপ্রিয়দের সম্মানিত করে এবং ইবাদতকারীদের তুচ্ছজ্ঞান করে? আর তারা কুরআনের সেই অংশ অনুযায়ী আমল করে যা তাদের প্রবৃত্তির অনুকূল হয়, আর যা তাদের প্রবৃত্তির পরিপন্থী হয় তা বর্জন করে … " (পুরো হাদিস)।

ইবনে আদি বলেন: এটি শু'বা থেকে উমর বিন ইয়াজিদের বর্ণনা হিসেবে পরিচিত, আর এই সনদ (إسناد) অনুযায়ী এটি বাতিল (باطل)।

উকাইলি বলেন: শু'বা বর্ণিত হাদিসের মধ্যে এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই। তিনি বলেন: আমার নিকট এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—আবদুল্লাহ ইবনুল মাসওয়ার হাশেমি মাদায়িনির কথার মতো মনে হয়, যিনি হাদিস জাল (يضع الحديث) করতেন। আমর বিন মুররাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন; সম্ভবত এই শায়খ এটি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মাসওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একে শু'বার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। সমাপ্ত। বিষয়টি মূলত উকাইলি (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তেমনই।

আমর বিন মুররাহ ইবনুল মাসওয়ার মাদায়িনি থেকে অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার মূল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل): যখন মহান আল্লাহর বাণী নাযিল হলো: (আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করতে চান তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন) [আনআম: ১২৫], নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যখন হৃদয়ে নূর প্রবেশ করে, তখন তা প্রশস্ত ও উন্মুক্ত হয় … " (পুরো হাদিস)।

এটিই হলো হাদিসের মূল ভিত্তি, অতঃপর একদল লোক এটিকে সংযুক্ত করেছেন এবং এর জন্য একটি সংযুক্ত সনদ (إسناد موصول) তৈরি করেছেন, যদিও এ বিষয়ে তাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

দারা কুতনি বলেন: এটি আমর বিন মুররাহ বর্ণনা করেন এবং তার থেকে বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে; মালিক ইবনে মিগওয়াল এটি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুগিরা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই বর্ণনায় একক (تفرد) হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
ورواه زيد بن أبي أنيسة عن عمرو بن مرة عن أبي عبيدة عن عبد الله بن مسعود، قاله أبوعبد الرحيم عن زيد.

وخالفه يزيد بن سناه فرواه عن زيد عن عمرو بن مرة عن عبد الله ابن الحارث عن ابن مسعود، وقال وكيع: عن المسعودي عن عمرو ابن مرة عن أبي عبيدة عن عبد الله.

وكلها وَهْم، والصواب: عن عمرو بن مرة عن أبي جعفر عبد الله ابن المسور مرسلاً عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، كذلك قاله الثوري.

وعبد الله بن المسور هذا متروك، وهو عبد الله بن المسور بن عون ابن جعفر بن أبي طالب. انتهى. والصحيح عن وكيع، كما رواه الثوري فقد خرَّجه وكيع في " كتاب الزهد " عن المسعودي عن عمرو ابن مرة عن أبي جعفر عبد الله بن مسور عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم مرسلاً. وما ذكره الدارقطني عن وكيع لا يثبت عنه.

*ومن ذلك:

ما ذكره عبد الله بن الإمام أحمد في " كتاب العلل " قال: حدثني أبومعمر نا أبو اسامة قال: كنت عند سفيان الثوري فحدثه زائدة عن شعبة عن سلمة بن كهيل عن سعيد بن جبير: (فصعق من في السموات ومن في الأرض إلا من شاء الله) [الزمر: 68] قال: هم الشهداء.
যায়েদ ইবনে আবি আনিসা এটি আমর ইবনে মুররাহ্ থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ্ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন; আবু আবদুর রহিম যায়েদ থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু ইয়াযিদ ইবনে সিনাহ তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি যায়েদ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ্ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ওকী (র.) বলেছেন: মাসউদী থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ্ থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ্ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এগুলোর প্রতিটিই হলো বিভ্রান্তি (وهم), আর সঠিক (الصواب) হলো: এটি আমর ইবনে মুররাহ্ থেকে, তিনি আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবনে মাসওয়ার থেকে এবং তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) সূত্রে বর্ণিত; সুফিয়ান সাওরী (র.)-ও এভাবেই বলেছেন।

আর এই আবদুল্লাহ ইবনে মাসওয়ার হলেন পরিত্যাজ্য (متروك); তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসওয়ার ইবনে আওন ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব। ইতি। ওকী (র.) থেকে বিশুদ্ধ (الصحيح) বর্ণনা সেটিই যা সাওরী বর্ণনা করেছেন; কেননা ওকী "কিতাবুজ জুহদ"-এ এটি মাসউদী থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ্ থেকে, তিনি আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবনে মাসওয়ার থেকে এবং তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর দারাকুতনী ওকী (র.) থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা তাঁর থেকে প্রমাণিত (لا يثبت) নয়।

*এর একটি উদাহরণ হলো:

ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ "কিতাবুল ইলাল"-এ যা উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: আবু মা'মার আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান সাওরী (র.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় যায়েদাহ্ তাঁকে শু’বাহ্ থেকে, তিনি সালামাহ্ ইবনে কুহাইল থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে হাদীস বর্ণনা করেন: (আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই মুর্ছিত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত) [সূরা যুমার: ৬৮]; তিনি বলেন: তাঁরা হলেন শহীদগণ।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
فقال له سفيان: إنك لثقة وإنك لتحدثنا عن ثقة، وما يقبل قلبي أن هذا من حديث سلمة، فدعا بكتاب فكتب من سفيان بن سعيد إلى شعبة … وجاء كتاب شعبة: من شعبة إلى سفيان: إني لم أحدث بهذا عن سلمة، ولكن حدثني عمارة بن أبي حفصة عن حجر الهجري عن سعيد بن جبير.

- ومن ذلك:

أنهم يعرفون الكلام الذي يشبه كلام النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، من الكلام الذي لا يشبه كلامه.

قال ابن أبي حاتم الرازي عن أبيه: تعلم صحة الحديث بعدالة ناقليه، وإن يكون كلامًا يصلح أن يكون مثله كلام النبوة، ويعرف سقمه وإنكاره بتفرد من لم تصح عدالته بروايته، والله أعلم.
সুফিয়ান তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আপনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং আপনি আমাদের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির পক্ষ থেকেই বর্ণনা করেন, কিন্তু আমার মন সায় দিচ্ছে না যে এটি সালামাহ-এর হাদিস।" এরপর তিনি লিখনি চাইলেন এবং সুফিয়ান ইবনে সাঈদ-এর পক্ষ থেকে শু'বাহ-এর নিকট পত্র লিখলেন … এবং শু'বাহ-এর পত্র এল: "শু'বাহ-এর পক্ষ থেকে সুফিয়ানের প্রতি: আমি এটি সালামাহ থেকে বর্ণনা করিনি, বরং উমারাহ ইবনে আবি হাফসাহ হুজর আল-হিজরি থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।"

- আর এরই অন্তর্ভুক্ত:

নিশ্চয়ই তাঁরা সেই বাণীকে চিনে নিতেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সদৃশ, সেই বাণী থেকে যা তাঁর বাণীর সদৃশ নয়।

ইবনে আবি হাতিম আল-রাজি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন: "হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিরূপিত হয় এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) মাধ্যমে, এবং (শর্ত হলো) কথাটি এমন হওয়া যা নবুওয়াতের বাণীর সদৃশ হওয়ার উপযোগী। আর এর ত্রুটি (سقم) এবং অগ্রহণযোগ্যতা (إنكار) চেনা যায় এমন ব্যক্তির একক বর্ণনার (تفرد) মাধ্যমে যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রমাণিত নয়। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।"
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌فائدة نفيسة

تدل على تيقظ علماء الحديث واستيعابهم

فنهم وأنهم لا يجارون في ذلك

قال الحافظ ابن رجب رحمه الله في " ملحق شرح علل الترمذي " (ص732):

 

‌‌ذكر الأسانيد التي لا يثبت منها شيء، أو لا يثبت منها إلا شيء يسير مع انه قد روي بها أكثر من ذلك.

- قتادة عن الحسن عن انس عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم:

هذه السلسلة قال البرديجي: لا يثبت منها حديث أصلاً من رواية الثقات.

- قتادة عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم:

قال البرديجي: هذه الأحاديث كلها معلولة، وليس عند شعبة منها شيء، وعند سعيد بن أبي عروبة منها حديث، وعند هشام آخر وفيهما نظر.

- يحيى بن سعيد الأنصاري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة عن صلى الله عليه وعلى آله وسلم:

قال البرديجي: قال ابن المديني: لم يصح منها شيء بهذا الإسناد.

وقال البرديجي: لا يصح منها شيء إلى من حديث سليمان بن بلال
একটি মূল্যবান জ্ঞাতব্য বিষয়

যা হাদিস বিশারদগণের প্রখর সচেতনতা এবং স্বীয় শাস্ত্রের ওপর পূর্ণ দখলের প্রমাণ বহন করে এবং এ ক্ষেত্রে তাঁরা অতুলনীয়।

হাফেজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) 'মুলহাক শারহু ইলালিত তিরমিযী' (পৃ. ৭৩২)-এ বলেছেন:

 

‌‌সেসব সনদ (أسانيد) সমূহের আলোচনা যেগুলোর মাধ্যমে বর্ণিত কোনো কিছুই প্রমাণিত (ثابت) নয়, অথবা সামান্য কিছু ব্যতীত এর মাধ্যমে কিছুই প্রমাণিত (ثابت) হয় না, যদিও এর মাধ্যমে প্রচুর বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে।

- কাতাদা, হাসান (বসরী) থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে:

এই সূত্রটি (سلسلة) সম্পর্কে আল-বারদিজী বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের বর্ণনায় এর মাধ্যমে কোনো হাদিসই আদপে প্রমাণিত (ثابت) নয়।

- কাতাদা, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে:

আল-বারদিজী বলেন: এই হাদিসগুলোর সবগুলোই ত্রুটিযুক্ত (معلولة); শু’বার নিকট এর কোনো অংশ নেই, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহর নিকট একটি হাদিস আছে এবং হিশামের নিকট অন্যটি রয়েছে, আর এই দুটির বর্ণনার মধ্যেই সংশয় (نظر) রয়েছে।

- ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে:

আল-বারদিজী বলেন: ইবনুল মাদিনী বলেছেন: এই সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণিত কোনো কিছুই সহিহ (صحيح) নয়।

আল-বারদিজী আরও বলেন: সুলাইমান ইবনে বিলালের হাদিস ব্যতীত এর কোনো কিছুই সহিহ (صحيح) নয়।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২১)
من حديث ابن أبي أويس عن أخيه عنه قال: وسائر ذلك مراسيل وصلها قوم ليسوا بأقوياء.

- يحيى بن سعيد الأنصاري عن أنس:

قال البرديجي: هي صحاح وهي ثلاثة أحاديث، منها حديث فيه اضطراب، وسائر حديث يحيى عن أنس فيها نظر.

- حماد بن زيد عن أيوب عن نافع عن ابن عمر:

قال سليمان بن حرب: لم يصح بهذا الإسناد إلا حديث واحد، وأنكر حديث نافع عن ابن عمر عن عمر في تقبيل الحجر. وقال: ليس هو عن أيوب قط.

وحديث حماد عن نافع عن ابن عمر عن عمر في تقبيل الحجر رواه غير واحد عنه، وخرجه مسلم في " صحيحه ".

ورواه ابن علية عن أيوب قال: نبئت أن عمر قبل الحجر. كذا رواه مرسلاً.

- يحيى بن الجزار عن علي:

قال شبابة: عن شعبة: لم يسمع يحيى بن الجزار من علي إلا ثلاثة أشياء: منها: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قام على فرضة من فرض الخندق، وأن رجلاً جاء إلى علي فقال: أي يوم هذا؟.

- الحسن عن سمرة:

قيل: إنه لم يسمع منه سوى حديث العقيقة وقيل: لم يسمع منه شيئًا بالكلية وقد ذكرنا ذلك غير مرة.
ইবনে আবি উয়াইস তাঁর ভাই থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এবং এর বাকিগুলো হচ্ছে বিচ্ছিন্ন (مراسيل), যা এমন এক দল ব্যক্তি যুক্ত করেছেন যারা শক্তিশালী (أقوياء) নন।

- আনাস (রা.) থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী:

আল-বারদিজি বলেছেন: সেগুলো সহিহ (صحاح) এবং সেগুলো তিনটি হাদিস; এর মধ্যে একটি হাদিসে বিশৃঙ্খলা (اضطراب) রয়েছে, আর আনাস (রা.) থেকে ইয়াহইয়ার বর্ণিত বাকি হাদিসগুলোর ব্যাপারে সংশয় (نظر) রয়েছে।

- ইবনে উমর (রা.) থেকে নাফে', তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ সূত্রে:

সুলাইমান ইবনে হারব বলেছেন: এই সূত্রের (إسناد) মাধ্যমে মাত্র একটি হাদিস ছাড়া অন্য কোনোটি সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়নি। আর তিনি পাথর চুম্বনের ব্যাপারে উমর (রা.) থেকে ইবনে উমর (রা.)-এর মাধ্যমে নাফে' বর্ণিত হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যাত (منكر) বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন: এটি কখনই আইয়ুব থেকে বর্ণিত নয়।

আর পাথর চুম্বনের ব্যাপারে উমর (রা.) থেকে ইবনে উমর (রা.)-এর মাধ্যমে নাফে' থেকে বর্ণিত হাম্মাদের হাদিসটি একাধিক ব্যক্তি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

আর ইবনে উলাইয়্যাহ এটি আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে যে উমর (রা.) পাথর চুম্বন করেছেন। এভাবে তিনি এটি বিচ্ছিন্নভাবে (مرسلاً) বর্ণনা করেছেন।

- আলী (রা.) থেকে ইয়াহইয়া ইবনুল জাযযার:

শাবাবাহ শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনুল জাযযার আলী (রা.) থেকে মাত্র তিনটি বিষয় শুনেছেন: তার মধ্যে একটি হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের একটি প্রবেশপথে দাঁড়িয়েছিলেন; এবং এক ব্যক্তি আলীর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: আজ কোন দিন?

- সামুরাহ (রা.) থেকে হাসান (বসরী):

বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে আকিকা সংক্রান্ত হাদিসটি ছাড়া আর কিছুই শোনেননি। আবার বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে আদৌ কিছুই শোনেননি, আর আমরা ইতিপূর্বে একাধিকবার এ বিষয়টি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২২)
- حميد الطويل عن أنس:

قال أبو داود الطيالسي: قال شعبة: إنما روى حميد عن أنس ما سمعه منه: خمسة أحاديث. قال أبو داود: قال حماد بن سلمة: عامة ما يروي حميد عن أنس لم يسمعه منه، إنما عامتها سمعه من ثابت.

وذكر العجلي عن يحيى بن معين عن أبي عبيدة الحداد قال: قال شعبة: لم يسمع حميد من أنس إلى أربعة وعشرين حديثًا.

- الزبير بن عدي عن أنس عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم:

قال ابن معين: ليس له إلا حديث واحد يعني حديث: " لا يأتي عليكم زمان إلا والذي بعده شر منه "، وكذا قال ابن حبان.

وقال أبو حاتم الرازي: له عنه أربعة أحاديث أو خمسة.

وروى بشر بن الحسين الأصبهاني عن الزبير عن أنس عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم نسخة نحو عشرين حديثًا وهي موضوعة، قاله أبو حاتم وغيره.

- الأعمش:

قيل: إنه سمع من أنس حديثًا واحدًا، وقيل: إنه لم يسمع منه شيئاً.

وقد سبق ذلك مستوفى في أول الكتاب.

- الزهري:

قيل: إنه لم يسمع من ابن عمر، وقيل: سمع منه حديثين، كذا ذكره محمد بن يحيى عن عبد الرزاق عن معمر.
- হুমায়দ আত-তবিল আনাস (রা.) থেকে:

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বলেন: শু’বাহ বলেছেন: হুমায়দ আনাস (রা.) থেকে কেবল পাঁচটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যা তিনি সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছেন। আবু দাউদ বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ বলেছেন: হুমায়দ আনাস (রা.) থেকে যা কিছু বর্ণনা করেন তার অধিকাংশ তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শুনেননি, বরং তার অধিকাংশ তিনি সাবিত থেকে শুনেছেন।

আর আল-ইজলি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে এবং তিনি আবু উবাইদাহ আল-হাদ্দাদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, শু’বাহ বলেছেন: হুমায়দ আনাস (রা.) থেকে চব্বিশটির মতো হাদিস শুনেছেন।

- জুবায়ের ইবনে আদি আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে:

ইবনে মাঈন বলেন: তাঁর বর্ণিত মাত্র একটি হাদিস রয়েছে, অর্থাৎ: "তোমাদের নিকট এমন কোনো যুগ আসবে না যার পরবর্তী যুগ তার চেয়েও মন্দ হবে না।" ইবনে হিব্বানও অনুরূপ বলেছেন।

আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: তাঁর সূত্রে তাঁর বর্ণিত চার বা পাঁচটি হাদিস রয়েছে।

বিশর ইবনুল হুসাইন আল-আসবাহানি জুবায়েরের সূত্রে আনাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রায় বিশটি হাদিসের একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছেন, যা জাল (موضوعة)। আবু হাতিম এবং অন্যরা একথাই বলেছেন।

- আল-আ’মাশ:

বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস শুনেছেন; আবার বলা হয় যে, তিনি তাঁর থেকে কিছুই শুনেননি।

এই বিষয়টি কিতাবের শুরুতে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

- আজ-জুহরি:

বলা হয় যে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে কোনো হাদিস শুনেননি; আবার বলা হয় যে, তিনি তাঁর থেকে দুইটি হাদিস শুনেছেন। মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আব্দুর রাজ্জাক থেকে এবং তিনি মা’মার থেকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
- أبو إسحاق عن الحارث:

لم يسمع منه غير أربعة أحاديث، والباقي كتاب أخذه، كذا قاله شعبة، وكذا قال العجلي وغيره، وقال الإمام أحمد: سمعت أبا بكر ابن عياش قال: قل ما سمع أبو إسحاق من الحارث: ثلاثة أحاديث.

- الحكم عن مقسم:

روى عنه كثيرًا، ولم يسمع منه سوى أربعة أحاديث، قاله شعبة.

قال أبو داود: ليس فيها سند واحد، يعنى: كلها موقوفات.

وذكر ابن المديني عن يحيى بن سعيد عن شعبة أنه قال: هي خمسة أحاديث وعدها شعبة: حديث الوتر، وحديث القنوت، وحديث عزمة الطلاق، وحديث جزاء ما قتل من النعم، وحديث الرجل يأتي امرأته وهي حائض.

- قتادة عن أبي العالية:

قال شعبة: لم يسمع منه إلا أربعة أحاديث، حديث يونس بن متى، وحديث ابن عمر في الصلاة، وحديث: " القضاة ثلاثة "، وحديث ابن عباس: شهد عندي رجال مرضيون وأرضاهم عندي عمر الحديث. وقد خرجا له في " الصحيحين " عن أبي العالية حديثين آخرين: أحدهما: حديث دعاء الكرب، والثاني: حديث رؤية النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ليلة أسرى به موسى وغيره من الأنبياء.
- আবু ইসহাক আল-হারিস থেকে:

তিনি তাঁর থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন, আর বাকিগুলো ছিল একটি পাণ্ডুলিপি যা তিনি গ্রহণ করেছেন; শু'বাহ এমনই বলেছেন। আল-ইজলি এবং অন্যান্যরাও অনুরূপ বলেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: আমি আবু বকর ইবনে আইয়াশকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবু ইসহাক আল-হারিস থেকে খুব সামান্যই শুনেছেন—মাত্র তিনটি হাদিস।

- আল-হাকাম মিকসাম থেকে:

তিনি তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, কিন্তু শু'বাহর মতে তিনি তাঁর থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন।

আবু দাউদ বলেছেন: সেগুলোর মধ্যে একটিও সনদ (سند) নেই, অর্থাৎ: সেগুলো সবই মওকুফ (موقوفات)।

ইবনুল মাদিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সেগুলো পাঁচটি হাদিস এবং শু'বাহ সেগুলো গণনা করেছেন: বিতরের হাদিস, কুনুতের হাদিস, তালাকের সংকল্পের হাদিস, শিকার করা পশুর জরিমানার হাদিস এবং ঋতুবতী স্ত্রীর নিকট স্বামী গমণ করা সংক্রান্ত হাদিস।

- কাতাদাহ আবুল আলিয়া থেকে:

শু'বাহ বলেছেন: তিনি তাঁর থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন: ইউনুস ইবনে মাত্তা সংক্রান্ত হাদিস, সালাত বিষয়ে ইবনে উমরের হাদিস, "বিচারক তিন প্রকার" সংক্রান্ত হাদিস এবং ইবনে আব্বাসের হাদিস: "আমার নিকট এমন কিছু ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন যারা সন্তোষজনক এবং তাদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় হলেন উমর..."। তবে সহিহাইন-এ আবুল আলিয়া থেকে তাঁর আরও দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: একটি হলো বিপদ মুক্তির দোয়ার হাদিস, আর দ্বিতীয়টি হলো মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মুসা ও অন্যান্য নবীদের দেখার হাদিস।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
- أبو سفيان طلحة بن نافع:

قال شعبة وابن عيينة: روايته عن جابر إنما هي صحيفة، ومرادهما أنه كتاب أخذه فرواه عن جابر ولم يسمعه.

وروي عن شعبة قال: حديث أبي سفيان عن جابر إنما هو كتاب سليمان اليشكري.

وقال ابن المديني: قال معلى الرازي عن يحيى بن أبي زائدة، قال سمعت يزيد الدالاني قال: لم يسمع أبو سفيان من جابر إلا أربعة أحاديث.

وذكر الترمذي في " علله " عن البخاري قال: كان يزيد أبو خالد الدالاني يقول: أبو سفيان لم يسمع من جابر إلا أربعة أشياء، ثم قال البخاري: وما يدريه؟ أو ما يرضى أن رأسًا برأس، حتى يقول مثل هذا؟ يشير البخاري إلى أن أبا خالد في نفسه ليس بقوي فكيف يتكلم في غيره.

وأثبت البخاري سماع أبي سفيان من جابر، وقال في " تاريخه ": قال لنا مسدد عن أبي معاوية عن الأعمش عن أبي سفيان: جاورت جابرًا بمكة ستة أشهر.

قال: وقال علي: سمعت عبد الرحمن قال: قال لي هشيم عن العلاء قال: قال لي أبو سفيان: كنت أحفظ وكان سليمان اليشكري يكتب، يعني: عن جابر.

وخرج مسلم حديث أبي سفيان عن جابر، وخرجه البخاري مقرونًا.
- আবু সুফিয়ান তালহা ইবনে নাফে:

শুবা এবং ইবনে উয়াইনা বলেন: জাবির থেকে তার বর্ণনা মূলত একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة); তাদের উদ্দেশ্য হলো এটি একটি কিতাব যা তিনি সংগ্রহ করে জাবিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তা সরাসরি শ্রবণ (سماع) করেননি।

শুবা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: জাবিরের সূত্রে আবু সুফিয়ানের হাদিস মূলত সুলাইমান আল-ইয়াশাকুরীর কিতাব।

ইবনুল মাদিনী বলেন: মুআল্লা আর-রাজি ইয়াহইয়া ইবনে আবি যাইদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াজিদ আদ-দালানিকে বলতে শুনেছি: আবু সুফিয়ান জাবির থেকে মাত্র চারটি হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন।

তিরমিযী তার ইলাল গ্রন্থে বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ আবু খালিদ আদ-দালানি বলতেন যে, আবু সুফিয়ান জাবির থেকে মাত্র চারটি বিষয় শ্রবণ (سماع) করেছেন। অতঃপর বুখারি বলেন: সে কী করে জানল? অথবা সে কি এতেই সন্তুষ্ট নয় যে তারা একে অপরের সমকক্ষ (رأسا برأس), তবুও সে এমন কথা বলছে? বুখারি ইঙ্গিত করেছেন যে, আবু খালিদ স্বয়ং শক্তিশালী (قوي) বর্ণনাকারী নন, তবে তিনি কীভাবে অন্যকে নিয়ে কথা বলেন।

বুখারি জাবির থেকে আবু সুফিয়ানের সরাসরি শ্রবণ (سماع) সাব্যস্ত করেছেন এবং তিনি তার তারিখ গ্রন্থে বলেছেন: মুসাদ্দাদ আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি মক্কায় জাবিরের প্রতিবেশী হিসেবে ছয় মাস অবস্থান করেছি।

তিনি বলেন: এবং আলী বলেছেন: আমি আবদুর রহমানকে বলতে শুনেছি, হুশাইম আল-আলা থেকে বর্ণনা করে আমাকে বলেছেন, আবু সুফিয়ান আমাকে বলেছিলেন: আমি মুখস্থ (حفظ) রাখতাম এবং সুলাইমান আল-ইয়াশাকুর লিখতেন—অর্থাৎ জাবিরের থেকে।

মুসলিম জাবিরের সূত্রে আবু সুফিয়ানের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি তা সহ-বর্ণনাকারীসহ (مقرونا) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
- الأعمش:

قيل: إنه لم يسمع من مجاهد إلا أربعة أحاديث، قاله ابن المبارك عن هشيم.

وذكر ابن أبي حاتم بإسناده عن وكيع قال: كنا نتبع ما سمع الأعمش من مجاهد؛ فإذا هي سبعة أو ثمانية.

وحكى الكرابيسي أنه سمع علي بن المديني يقول: لم يصح عندنا سماع الأعمش من مجاهد إلا نحوًا من ستة أو سبعة.

قال علي: وكذلك سمعت يحيى وعبد الرحمن يقولان في الأعمش.

وقال الترمذي في " علله ": قللت للبخاري: يقولون: لم يسمع الأعمش من مجاهد إلا أربعة أحاديث؟ قال: ريح ليس بشيء، لقد عددت له أحاديث كثيرة نحوًا من ثلاثين أو أقل أو أكثر يقول فيها: ثنا مجاهد.

وكذا نقل الكرابيسي عن الشاذكوني أن الأعمش سمع من مجاهد أقل من ثلاثين حديثًا.

ومما أختلف في سماع الأعمش له من مجاهد، حديث ابن عمر: " كن في الدنيا كأنك غريب " والبخاري يرى أنه سمعه الأعمش من مجاهد، وخرجه في " صحيحه " كذلك، وأنكر ذلك جماعة، وقد ذكرناه في " كتاب الزهد ".

 

- الأعمش عن أبي سفيان:

قال الكرابيسي: حدثنا علي بن المديني وسليمان الشاذكوني قالا: روى
- আল-আমাশ:

বলা হয়েছে যে: তিনি মুজাহিদ থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন; হুশাইমের সূত্রে ইবনুল মুবারক এটি বলেছেন।

ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে ওয়াকি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাশ মুজাহিদ থেকে যা শুনেছেন আমরা তা অনুসন্ধান করতাম; তখন দেখা গেল সেগুলো মাত্র সাতটি বা আটটি।"

আল-কারাবিসি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলী ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছেন: "আমাদের নিকট মুজাহিদ থেকে আমাশের শ্রবণ (سماع) ছয় বা সাতটির মতো হাদিস ব্যতীত সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়নি।"

আলী বলেন: "অনুরূপভাবে আমি ইয়াহইয়া এবং আব্দুর রহমানকেও আমাশ সম্পর্কে (একই কথা) বলতে শুনেছি।"

তিরমিজি তাঁর "ইলাল" গ্রন্থে বলেন: "আমি বুখারিকে বললাম: তারা বলে যে আমাশ মুজাহিদ থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন? তিনি বললেন: 'এটি অসার কথা, যার কোনো ভিত্তি নেই। আমি তাঁর অনেকগুলো হাদিস গণনা করেছি—প্রায় ত্রিশটি বা এর কিছু কম-বেশি—যেখানে তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুজাহিদ বর্ণনা করেছেন (حدثنا)'।"

অনুরূপভাবে আল-কারাবিসি আশ-শাজকুনির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আমাশ মুজাহিদ থেকে ত্রিশটির কম হাদিস শুনেছেন।

মুজাহিদ থেকে আমাশের শ্রবণের ব্যাপারে যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তার মধ্যে ইবনে উমরের এই হাদিসটি অন্যতম: "দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন আগন্তুক।" ইমাম বুখারি মনে করেন যে আমাশ এটি মুজাহিদ থেকে শুনেছেন এবং তিনি তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে এটি এভাবেই সংকলন (خرج) করেছেন, তবে একদল বিশেষজ্ঞ এটি অস্বীকার করেছেন। আমরা এটি "কিতাবুয যুহদ"-এ উল্লেখ করেছি।

 

- আবু সুফিয়ান থেকে আমাশের বর্ণনা:

আল-কারাবিসি বলেন: আলী ইবনুল মাদিনি ও সুলাইমান আশ-শাজকুনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: তিনি বর্ণনা করেছেন (روى)
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
الأعمش عن أبي سفيان أكثر من مائة، لم يسمع منها إلا أربعة.

قال علي: وسمعت يحيى يقول ذلك.

وذكر البزار في " مسنده " أن الأعمش لم يسمع من أبي سفيان قال: وقد روى عنه نحو مائة حديث. كذا قال، وهو بعيد، وحديث الأعمش عن أبي سفيان مخرج في " الصحيح ".

- سفيان بن عيينة عن بريد بن عبد الله بن أبي بردة عن أبي بردة عن أبي موسى عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

قال العقيلي: ليس لسفيان بهذا الإسناد غير أربعة أحاديث: " مثل الجليس الصالح "، و " المؤمن للمؤمن كالبنيان " و " اشفعوا إليَّ فلتؤجروا " و " الخازن الأمين ".

قال: ليس عنده غير هذه الأربعة.

وروى إبراهيم بن بشار عن سفيان بهذا الإسناد حديث: " كلكم راع "، قال: وليس له أصل ولم يتابع إبراهيم عليه أحد عن ابن عيينة.

- سفيان بن عيينة عن الزهري عن أنس عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم:

ذكر بعض الحفاظ أنه لا يصح بهذا الإسناد غير ستة أحاديث أو سبعة، قال: وأظهر بعضهم كتابًا كله بهذا الإسناد، فظهر كذبه وافتضح.

- هشيم:

لم يصح له السماع من الزهري إلا أربعة أحاديث، منها: حديث
আল-আ’মাশ আবু সুফিয়ান থেকে একশরও বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এর মধ্যে মাত্র চারটি সরাসরি শ্রবণ করেছেন।

আলী বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে এটি বলতে শুনেছি।

বাজ্জার তাঁর "মুসনাদ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল-আ’মাশ আবু সুফিয়ান থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি। তিনি বলেন: তিনি তাঁর থেকে প্রায় একশ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি এমনটিই বলেছেন, তবে এটি বাস্তবতা থেকে দূরবর্তী, আর আবু সুফিয়ান থেকে আল-আ’মাশের হাদিস "সহিহ" গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

- সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, বুরাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বুর্দাহ থেকে, তিনি আবু বুর্দাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

উকাইলি বলেন: এই সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে সুফিয়ানের নিকট মাত্র চারটি হাদিস রয়েছে: "সৎ সঙ্গীর উদাহরণ", "এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য ইমারত সদৃশ", "তোমরা আমার নিকট সুপারিশ করো যাতে তোমরা প্রতিদান পাও" এবং "বিশ্বস্ত খাজাঞ্চী"।

তিনি বলেন: তাঁর নিকট এই চারটি ব্যতীত আর কোনো হাদিস নেই।

ইব্রাহিম ইবনে বাশশার সুফিয়ান থেকে এই সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই এবং ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণিত এই হাদিসে অন্য কেউ ইব্রাহিমকে অনুসরণ (تابع) করেনি।

- সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, জুহরি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন:

কোনো কোনো হাফিজ (حفاظ) উল্লেখ করেছেন যে, এই সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে ছয়টি বা সাতটি হাদিস ব্যতীত অন্য কোনোটি সঠিক (يصح) নয়। তিনি বলেন: তাদের কেউ একজন একটি কিতাব প্রকাশ করেছিলেন যার সম্পূর্ণটাই এই সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে ছিল, ফলে তার মিথ্যা (كذب) প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং সে লাঞ্ছিত হয়।

- হুশাইম:

জুহরি থেকে তার সরাসরি শ্রবণ করা হাদিসগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি সঠিক (يصح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: হাদিস...
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
السقيفة، قاله الإمام أحمد.

قال أحمد: وسمع هشيم من جابر - يعني الجعفي - حديثين.

- حجاج بن أرطأة:

قال أبو نعيم الفضل بن دكين: لم يسمع حجاج من عمرو بن شعيب إلا أربعة أحاديث، والباقي عن محمد بن عبيد الله العرزمي، يعني: أنه يدلس بقية حديثه عن عمرو عن العرزمي.

وقال شعبة: أحاديث الحكم عن مجاهد كتاب إلا ما قال: سمعت.
আস-সাকিফাহ, এটি ইমাম আহমাদ বলেছেন।

আহমাদ বলেন: হুশাইম জাবির —অর্থাৎ আল-জু'ফী— থেকে দুটি হাদিস শুনেছেন।

- হাজ্জাজ বিন আরত্বাহ:

আবু নুয়াইম আল-ফজল বিন দুকাইন বলেন: হাজ্জাজ আমর বিন শুয়াইব থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন, আর বাকিগুলো মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-আরজামি থেকে এসেছে; অর্থাৎ: তিনি আমর থেকে বর্ণিত তাঁর বাকি হাদিসগুলোতে আল-আরজামির নাম গোপন করে তাদলিস (يدلس) করতেন।

আর শু'বাহ বলেন: মুজাহিদ থেকে বর্ণিত আল-হাকামের হাদিসগুলো লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া, তবে সে সকল বর্ণনা ব্যতীত যাতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন: 'আমি শুনেছি'।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌تيقظ علمائنا رحمهم الله للوقوف على حقيقة

الأسانيد المدلسة

قال الحافظ ابن رجب رحمه الله في " ملحق شرح علل الترمذي " (ص693):

ذكر بعض الأسانيد التي كان رواتها يسقطون

منها الضعيف غالبًا

- فمن ذلك: رواية عبد الرزاق عن ابن جريج عن صفوان بن سليم:

قال أبو عثمان البرذعي سمعت أبا مسعود أحمد بن الفرات يقول رأيت عند عبد الرزاق عن ابن جريج عن صفوان بن سليم أحاديث حسانًا فسألته عنها، فقال: أي شيء تصنع بها؟ هي من أحاديث إبراهيم بن أبي يحيى، قال أبو مسعود: فتركتها ولم أسمعها. انتهى.

ويقال: إن ابن جريج كان يدلس أحاديث صفوان عن أبن أبي يحيى.

*وكذلك أحاديث:

- ابن جريج عن المطلب بن عبد الله بن حنطب:

قال ابن المديني: لم يسمع منه، وإنما أخذ حديثه عنه عن ابن أبي يحيى.

وقال ابن المديني أيضًا: وكل ما في كتاب ابن جريج أخبرت عن
আমাদের আলেমগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) সতর্কতা, তথ্য গোপনকৃত (المدلسة) সনদসমূহ (الأسانيد)-এর প্রকৃত অবস্থা উদঘাটনের লক্ষ্যে

হাফেজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) "মুলহাক শারহু ইলালিত তিরমিজি" (পৃষ্ঠা ৬৯৩)-এ বলেছেন:

তিনি এমন কিছু সনদসমূহ (الأسانيد) উল্লেখ করেছেন যেগুলোর বর্ণনাকারীগণ (رواة) সাধারণত সেগুলো থেকে দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারীকে বাদ দিতেন।

- এর মধ্যে একটি হলো: সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে ইবনে জুরাইজ এবং তাঁর সূত্রে আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনা:

আবু উসমান আল-বারযাঈ বলেন, আমি আবু মাসউদ আহমদ ইবনুল ফুরাতকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রাজ্জাকের নিকট সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে ইবনে জুরাইজের সূত্রে কিছু চমৎকার (حسان) হাদিস দেখতে পাই এবং আমি তাঁকে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বললেন: তুমি এগুলো দিয়ে কী করবে? এগুলো মূলত ইবরাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়ার হাদিসসমূহ থেকে গৃহীত। আবু মাসউদ বলেন: অতঃপর আমি সেগুলো বর্জন করলাম এবং শ্রবণ করিনি। (সমাপ্ত)

বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে জুরাইজ ইবনে আবি ইয়াহইয়ার থেকে প্রাপ্ত সাফওয়ানের হাদিসসমূহে তথ্য গোপন বা তাদলিস (يدلس) করতেন।

*অনুরূপভাবে নিচের হাদিসসমূহও:

- মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে ইবনে জুরাইজের বর্ণনা:

ইবনে মাদিনী বলেন: তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, বরং তিনি তাঁর হাদিস ইবনে আবি ইয়াহইয়ার মাধ্যমেই গ্রহণ করেছেন।

ইবনে মাদিনী আরও বলেন: ইবনে জুরাইজের কিতাবে যা কিছু ‘আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে’ (أخبرت عن) শব্দে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
داود بن الحصين، وأخبرت عن صالح مولى التوأمة فهو من كتب إبراهيم بن أبي يحيى.

- ومنها: رواية عباد بن منصور عن عكرمة عن ابن عباس: وقد قيل: إنها كلها مأخوذة عن ابن أبي يحيى عن داود بن الحصين عن عكرمة.

وله حديث في اللعان عن عكرمة.

قال أحمد: إنما رواه عن ابن أبي يحيى. وقد ذكرناه في أبواب اللعان.

وله حديث أخر في الحجامة.

وحديث في الاكتحال، وقد ذكرناهما أيضًا.

وقد سئل عنهما عباد؟ فقال: حدثينهما ابن أبي يحيى عن داود بن عكرمة.

- ومنها: أحاديث متعددة يرويها الحسن بن ذكوان عن حبيب ابن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة عن علي.

يرويها عنه عبد الوارث بن سعيد.

إنما رواها الحسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد الواسطي - وهو كذاب متهم بالوضع - عن حبيب ثم أسقط عمرًا من إسنادها، وكلها بواطيل قاله الإمام أحمد، وقال ابن المديني نحو ذلك.

وقال ابن معين: بين الحسن وحبيب رجل غير ثقة.

وقال أيضًا: لم يسمع الحسن من حبيب، إنما سمع حديثه من عمرو بن خالد عنه وعمرو متروك.
দাউদ ইবনে আল-হুসাইন, এবং আমি সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামাহ সম্পর্কে সংবাদ পেয়েছি; এটি ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়ার পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।

- এর মধ্যে রয়েছে: ইকরামা থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে আব্বাদ ইবনে মনসুরের বর্ণনা। বলা হয়ে থাকে যে, এর সবই ইবরাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া থেকে দাউদ ইবনে আল-হুসাইন ও ইকরামার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে।

ইকরামার সূত্রে লি’আন সংক্রান্ত তার একটি হাদিস রয়েছে।

আহমাদ বলেছেন: তিনি এটি কেবল ইবনে আবি ইয়াহইয়া থেকেই বর্ণনা করেছেন। আমরা লি’আন অধ্যায়গুলোতে এটি উল্লেখ করেছি।

হিজামা সম্পর্কে তার আরেকটি হাদিস রয়েছে।

এবং চোখে সুরমা লাগানো সম্পর্কেও একটি হাদিস রয়েছে, আমরা এই দুটিকেও উল্লেখ করেছি।

এ দুটি সম্পর্কে কি আব্বাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: ইবনে আবি ইয়াহইয়া দাউদ ইবনে ইকরামার সূত্রে এ দুটি আমাকে বর্ণনা করেছেন।

- এর মধ্যে রয়েছে: অনেকগুলো হাদিস যা হাসান ইবনে জাকওয়ান হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে এবং তিনি আলীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তার নিকট থেকে এগুলো আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবনে জাকওয়ান মূলত এগুলো আমর ইবনে খালিদ আল-ওয়াসিতি — যিনি একজন মিথ্যাবাদী (كذاب) এবং জাল করার দায়ে অভিযুক্ত (متهم بالوضع) — তার সূত্রে হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এর সনদ থেকে আমরকে বাদ দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন, এর সবগুলোই বাতিল (بواطيل), এবং ইবনে মাদিনিও অনুরূপ কথা বলেছেন।

ইবনে মাঈন বলেছেন: হাসান এবং হাবিবের মাঝখানে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি নির্ভরযোগ্য নন (غير ثقة)।

তিনি আরও বলেছেন: হাসান হাবিবের নিকট থেকে সরাসরি শোনেননি, বরং তিনি তার হাদিসগুলো আমর ইবনে খালিদের নিকট থেকে শুনেছেন এবং আমর হলেন পরিত্যক্ত (متروك)।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد ذكرنا من هذا الأحاديث أحاديث متعددة متفرقة في الكتاب وبيَّنا علتها.

وروي عن ابن جريح عن حبيب ابن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة عن علي مرفوعًا حديثًا في كشف الفخذ.

قال أبو حاتم: لم يسمعه ابن جريج من حبيب، فأرى أن ابن جريج أخذه عن الحسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد عن حبيب.

وقال ابن المديني: أحاديث حبيب عن عاصم بن ضمرة لا تصح إنما هي مأخوذة عن عمرو بن خالد الواسطي.

ولكن ذكر يعقوب بن شيبة عن ابن المديني أنه قال في حديث ابن جريج هذا: رأيته في كتب ابن جريج أخبرني إسماعيل بن مسلم عن حبيب.

وحبيب قال أبو حاتم: لا تثبت له رواية عن عاصم، وقد سبق ذكر حديث الفخذ في أبواب الأدب.

- ومنها: أحاديث يرويها عبد الرحمن بن زياد الأفريقي عن عتبة بن حميد عن عبادة بن نُسي عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

قد قيل: إنها كلها مأخوذة عن محمد بن سعيد المصلوب في الزندقة المشهور بالكذب والوضع، وأنه قد أسقط اسمه من الإسناد بين عتبة وعبادة.

*ومن جملتها: حديث المنديل بعد الوضوء، وقد سبق في كتاب الطهارة.
আমরা এই হাদিসগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বিক্ষিপ্তভাবে কিতাবে উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর ত্রুটি (علة) বর্ণনা করেছি।

ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম বিন দামরা থেকে, তিনি আলি (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে উরু উন্মুক্ত করা সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতিম বলেন: ইবনে জুরাইজ এটি হাবিব থেকে সরাসরি শোনেননি; আমি মনে করি যে ইবনে জুরাইজ এটি হাসান বিন জাকওয়ান থেকে, তিনি আমর বিন খালিদ থেকে এবং তিনি হাবিব থেকে গ্রহণ করেছেন।

ইবনে মাদিনি বলেন: আসিম বিন দামরা থেকে বর্ণিত হাবিবের হাদিসসমূহ সহিহ (صحيح) নয়, বরং এগুলো আমর বিন খালিদ আল-ওয়াসিতি থেকে গৃহীত।

তবে ইয়াকুব বিন শাইবা ইবনে মাদিনি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে জুরাইজের এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: আমি ইবনে জুরাইজের কিতাবসমূহে দেখেছি যে, তিনি বলেন: আমাকে ইসমাইল বিন মুসলিম হাবিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন।

আর হাবিব সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: আসিম থেকে তার কোনো বর্ণনা (رواية) প্রমাণিত নয়। উরু সংক্রান্ত হাদিসটি আদব অধ্যায়ে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

- এর মধ্যে রয়েছে: সেই হাদিসসমূহ যা আব্দুর রহমান বিন জিয়াদ আল-আফ্রিকি বর্ণনা করেন উকবা বিন হামিদ থেকে, তিনি উবাদা বিন নুসাই থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন গানম থেকে এবং তিনি মুয়াজ (রা.) থেকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে বর্ণনা করেন।

বলা হয়ে থাকে যে: এগুলোর সবকটিই মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-মাসলুব থেকে গৃহীত, যিনি ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং মিথ্যা (كذب) ও জালিয়াতির (وضع) জন্য সুপরিচিত। তিনি উকবা ও উবাদার মধ্যবর্তী সনদ (إسناد) থেকে নিজের নাম বাদ দিয়েছেন।

*সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: ওজুর পর রুমাল ব্যবহার সংক্রান্ত হাদিস, যা পবিত্রতা অধ্যায়ে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌نماذج من عناية علماء الحديث المتقدمين

بحفظ الحديث وإتقانه

- قال العقيلي رحمه الله في " الضعفاء " في ترجمة عبد الله بن دينار مولى ابن عمر: وقد روى عن عبد الله بن دينار شعبة وسفيان الثوري ومالك بن أنس وابن عيينة أحاديث متقاربة، عند شعبة عنه نحو عشرين حديثًا، وعند الثوري نحو ثلاثين حديثًا، وعند مالك نحوها وعند ابن عيينة بضعة عشر حديثًا.

وأما رواية المشايخ عنه ففيها اضطراب فأنت ترى أن الإمام محمد ابن عمرو بن موسى العقيلي يحفظ ما لكل من هؤلاء الأئمة عن عبد الله بن دينار.

- قال الإمام أحمد رحمه الله كما في " العلل " (ج2 ص349): كنت أنا وعلي بن المديني فذكرنا أثبت من يروي عن الزهري، فقال علي: سفيان بن عيينة، وقلت أنا: مالك بن انس، وقلت: مالك أقل خطأ عن الزهري، وابن عيينة يخطئ في نحو من عشرين حديثًا عن الزهري في حديث كذا وحديث كذا فذكرت منها ثمانية عشر حديثًا وقلت: هات ما أخطأ فيه مالك فجاء بحديثين أو ثلاثة، فرجعت فنظرت فيما أخطأ فيه ابن عيينة فإذا هي أكثر من عشرين حديثًا.
পূর্ববর্তী হাদিস পণ্ডিতদের হাদিস সংরক্ষণ এবং তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নের কিছু নমুনা

- ইমাম আল-উকায়লি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে ইবনে ওমরের মুক্তদাস আবদুল্লাহ বিন দীনারের জীবনীতে বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন দীনার থেকে শুবা, সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক বিন আনাস এবং ইবনে উয়াইনা কাছাকাছি ধরণের হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। শুবার নিকট তাঁর থেকে বর্ণিত প্রায় বিশটি হাদিস রয়েছে, সাওরির নিকট প্রায় ত্রিশটি, মালিকের নিকটও প্রায় অনুরূপ এবং ইবনে উয়াইনার নিকট দশের অধিক (কয়েকটি) হাদিস রয়েছে।

তবে সাধারণ শায়খদের বর্ণনায় তাঁর থেকে বিশৃঙ্খলা (اضطراب) বিদ্যমান। সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে মুসা আল-উকায়লি এই প্রত্যেক ইমামের নিকট আবদুল্লাহ বিন দীনার থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ মুখস্থ রাখতেন।

- ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-ইলাল' গ্রন্থে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৯) উল্লেখ করেছেন: আমি এবং আলি ইবনুল মাদিনি একত্রে ছিলাম, তখন আমরা ইমাম যুহরি থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে মজবুত (أثبت) কে—তা নিয়ে আলোচনা করলাম। তখন আলি বললেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা; আর আমি বললাম: মালিক বিন আনাস। আমি আরও বললাম: যুহরির হাদিস বর্ণনায় মালিকের ভুলের পরিমাণ অনেক কম, পক্ষান্তরে ইবনে উয়াইনা যুহরি থেকে বর্ণিত প্রায় বিশটি হাদিসে ভুল করেছেন, যেমন অমুক হাদিস ও অমুক হাদিস। তখন আমি তার মধ্য থেকে আঠারোটি হাদিস উল্লেখ করলাম এবং বললাম: এবার ইমাম মালিক যেসব হাদিসে ভুল করেছেন সেগুলো পেশ করুন। তখন তিনি মাত্র দুইটি বা তিনটি হাদিস নিয়ে আসলেন। এরপর আমি পুনরায় ইবনে উয়াইনার ভুলগুলো পর্যালোচনা করলাম এবং দেখলাম সেগুলো সংখ্যায় বিশটিরও বেশি।
(খণ্ড: ১) গরাতিল ফাসলি আলাল মুতাদিনা আলা কুতুবিল ইলাল (পৃষ্ঠা: ৩২)
- وقال الحافظ ابن رجب رحمه الله في " ملحق شرح علل الترمذي الصغير" (ص580) بتحقيق عتر:

- … وذكر عبد الله بن أحمد أنه سمع يحيى بن معين قيل له: تحفظ عن عبد الرزاق عن معمر عن أبي إسحاق عن عاصم بن ضمرة عن علي النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه مسح على الجبيرة.

قال يحيى: باطل، ما حدث به معمر قط.

ثم قال يحيى: عليه مائة بدنة مقلدة مجللة إن كان معمر حدث بهذا قط، هذا باطل، ولو حدث بهذا عبد الرزاق كان حلال الدم، من حدث بهذا عن عبد الرزاق؟ قالوا فلان، وفي بعض النسخ: قالوا محمد بن يحيى، قال: لا والله ما حدث به معمر وعليه حجة من ههنا إلى مكة إن كان معمر يحدث بهذا.

- قال عبد الله بن أحمد: هذا الحديث يروونه عن إسرائيل عن عمرو ابن خالد عن زيد بن علي عن آبائه عن علي عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

وعمرو بن خالد لا يساوي شيئًا.

فهذا يدل على تأكد يحيى بن معين رحمه الله ووثوقه بما يقول.
হাফেজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) "মুলহাক শারহু ইলালিত তিরমিযি আস-সগির" (পৃষ্ঠা ৫৮০, ইতর কর্তৃক সম্পাদিত)-এ বলেছেন:

- … এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন-কে বলতে শুনেছেন; তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই হাদিসটি সম্পর্কে অবগত আছেন যে, তিনি জাবীরার (ক্ষতের পট্টি) ওপর মাসেহ করেছেন?

ইয়াহইয়া বললেন: এটি ভিত্তিহীন (باطل); মা’মার এটি কখনোই বর্ণনা করেননি।

এরপর ইয়াহইয়া বললেন: মা’মার যদি কখনও এটি বর্ণনা করে থাকেন, তবে আমার ওপর একশতটি চিহ্নিত ও সজ্জিত উট (কোরবানি করা) ওয়াজিব। এটি ভিত্তিহীন (باطل)। যদি আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করতেন, তবে তাঁর রক্ত বৈধ (حلال الدم) হতো। আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষ থেকে এটি কে বর্ণনা করেছে? তারা বলল, অমুক। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তারা বলল, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া। তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম! মা’মার এটি বর্ণনা করেননি। মা’মার যদি এটি বর্ণনা করে থাকেন, তবে এখান থেকে মক্কা পর্যন্ত আমার ওপর হজ পালন করা ওয়াজিব।

- আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: এই হাদিসটি তারা ইসরাঈল থেকে, তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে আলী থেকে, তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন।

আর আমর ইবনে খালিদ সামান্য মূল্যেরও নয় (لا يساوي شيئًا)।

এটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহিমাহুল্লাহ)-এর সুনিশ্চিত অবস্থান এবং তিনি যা বলছেন সে সম্পর্কে তাঁর প্রগাঢ় আস্থার প্রমাণ দেয়।