(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المقترح في أجوبة بعض أسئلة المصطلح القسم: علوم الحديث
الكتاب: المقترح في أجوبة بعض أسئلة المصطلح - أكثر من 200 سؤال في المصطلح مع محاضرات في:
البحث، الاستفادة من الكتب، وعلم الحديث
المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)
الناشر: دَارُ الآثَار للنشر وَالتوزيع، صَنعاء - اليمن
الطبعة: الثالثة، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 194
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
আল-মুকতারিহ ফি আজউইবাতি বাদিল আসইলাতিল মুসতালাহ বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আল-মুকতারিহ ফি আজউইবাতি বাদিল আসইলাতিল মুসতালাহ - হাদিস শাস্ত্রীয় পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ক ২০০টিরও বেশি প্রশ্ন এবং সাথে নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর আলোচনা:
গবেষণা، গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া، এবং হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث)
লেখক: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কায়িদাহ (ব্যক্তির নাম) আল-হামদানি আল-ওয়াদিয়ি (ওফাত ১৪২২ হি.)
প্রকাশক: দারুল আসার পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সানা - ইয়েমেন
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৫ হি. - ২০০৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه كما يحب ربنا ويرضى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله .. أما بعد:
فإني أحمد الله الذي وفقني لإخراج كتاب "المقترح" فقد نفع الله به، وتنافس أهل المكاتب في طبعه فطبع مرات بدون إذن منا، ولما نفدت طبعاته الأول طلب مني الأخ الفاضل/ سعيد بن عمر حبيشان أن يعيد طبعه، فأعدت النظر فيه، وأضفت بعض أسئلة إخواننا أهل لودر لأنّها مماثلة لموضوع الكتاب.
وإنني أحمد الله الذي وفقني للسهولة والتيسير، والمصطلح يحتاج إليه كل طالب علم لكن ينبغي أن يكون وسيلةً من الوسائل، أما الأصل فهو الكتاب والسنة لذا تركت الإجابة عن بعض الأسئلة، فإني أنصح كل طالب أن يهتم بعلم الكتاب والسنة ويأخذ من الوسائل ما يحتاج إليه فلا يشغل بالوسيلة عن حفظ القرآن وعن معرفة سنة رسول الله
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—যে প্রশংসা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়; ঠিক যেমন আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতপর:
আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাকে "আল-মুকতারাহ" গ্রন্থটি প্রকাশ করার তৌফিক দান করেছেন। আল্লাহ এর মাধ্যমে অনেককে উপকৃত করেছেন। প্রকাশনা সংস্থাগুলো এটি ছাপানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল, ফলে আমাদের অনুমতি ছাড়াই এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে। যখন এর প্রথম সংস্করণগুলো শেষ হয়ে গেল, তখন সম্মানিত ভাই সাঈদ বিন উমর হুবাইশান আমাকে এটি পুনরায় মুদ্রণের অনুরোধ জানান। তাই আমি গ্রন্থটিতে পুনরায় নজর দিয়েছি এবং আমাদের লাওদারের অধিবাসী ভাইদের কিছু প্রশ্ন এতে যুক্ত করেছি; কেননা সেগুলো এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাকে সহজবোধ্যতা ও সাবলীলতার তৌফিক দিয়েছেন। হাদিসের পরিভাষা (المصطلح) শাস্ত্র প্রত্যেক ইলম অন্বেষীর জন্য প্রয়োজনীয়, তবে একে কেবল একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। পক্ষান্তরে মূল ভিত্তি হলো কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ। এ কারণেই আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর প্রদান থেকে বিরত থেকেছি। আমি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নসিহত করছি যেন তারা কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং আনুষঙ্গিক মাধ্যমগুলো থেকে কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকুই গ্রহণ করে। এই মাধ্যমগুলো নিয়ে যেন তারা এতটা মগ্ন না হয়ে পড়ে যা তাদের কুরআন হিফজ করা এবং আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন থেকে বিমুখ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
صلى الله عليه وعلى آله وسلم ومعرفة صحيحها من سقيمها ومعلولها من سليمها، وبسبب هذا -من فضل الله- استفاد طلبة العلم بدار الحديث بدماج، والفضل في هذا لله، فهو الذي وفّقنا وله الحمد والمنة، ونسأل الله أن يتممها بخير وأن يعيذنا من شر أنفسنا وهو حسبنا ونعم الوكيل.
أبوعبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) থেকে এর দুর্বল (سقيم) এবং এর ত্রুটিযুক্ত (معلول) থেকে এর ত্রুটিমুক্ত (سليم) অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা; আর আল্লাহর অনুগ্রহে এর মাধ্যমেই দাম্মাজস্থ দারুল হাদিসের ইলম অন্বেষণকারীগণ উপকৃত হয়েছেন। এর সকল কৃতিত্ব আল্লাহরই; তিনিই আমাদের তাওফিক দান করেছেন এবং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি কল্যাণের সাথে সম্পন্ন করেন এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আমাদের আশ্রয় দান করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদি'ই
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمةالحمد لله وحده، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد: فإنّ كثيرًا ما يسأل إخواننا الراغبون في علم السنة كيف الطريق إلى الإستفادة من كتب السنة؟ ترد إلينا هذه الأسئلة من اليمن، ومن أكثر البلاد الإسلامية. وكنت أجيب على هذا في أشرطة، فلما رأيت الأسئلة تتكرر؛ رأيت أن ينشر هذا، فإن الكتاب يبقى.
وأضفت إلى هذا أسئلة أخينا في الله أبي الحسن المصري لنفاستها وفائدتها، وما اشتملت عليه الأسئلة من الفوائد.
أرجو أن ينفع الله بالجميع، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
ভূমিকাসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: সুন্নাহর ইলম (علم السنة) অর্জনে আগ্রহী আমাদের অনেক ভাই প্রায়শই জিজ্ঞাসা করেন যে, সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার পথ কী? ইয়েমেন এবং অধিকাংশ মুসলিম দেশ থেকে আমাদের নিকট এই প্রশ্নগুলো আসে। আমি ইতিপূর্বে অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে এগুলোর উত্তর দিতাম; কিন্তু যখন দেখলাম যে প্রশ্নগুলো বারবার আসছে, তখন আমি এগুলো প্রকাশ করা সমীচীন মনে করলাম, কারণ গ্রন্থ স্থায়ী হয়।
আমি এর সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের ভাই আবুল হাসান আল-মিসরীর প্রশ্নগুলোও যুক্ত করেছি, কারণ সেগুলো অত্যন্ত মূল্যবান ও উপকারী এবং প্রশ্নগুলোতে অনেক জ্ঞানগর্ভ ফায়দা (فوائد) নিহিত রয়েছে।
আমি আশা করি আল্লাহ এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করবেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
حول العلم وفوائد في علم الحديثالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد الأمين وعلى آله وأصحابه أجمعين وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد: فإن الموضوع الذي تم اختياره هو موضوع العلم. والعلم يعتبر علاجًا لجميع أمراضنا، ونبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم يأمره ربه أن يطلب الزيادة من العلم، فقال سبحانه وتعالى: وقل ربّ زدني علمًا (1) ورب العزة يبين حالة العالم وحالة الجاهل، فقال: أفمن يعلم أنّما أنزل إليك من ربّك الحقّ كمن هو أعمى إنّما يتذكّر أولو الألباب (2).
ونبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول فيما رواه البخاري ومسلم في "صحيحيهما" من حديث معاوية رضي الله عنه: ((من يرد الله به خيرًا يفقّهه في الدّين)).
ورب العزة يعلّل كثيرًا من مخلوقاته، فيقول في آية من كتابه: إنّ
--------------------------------------------
জ্ঞান এবং হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) উপকারিতা প্রসঙ্গেসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতপর: আলোচনার জন্য যে বিষয়টি নির্বাচন করা হয়েছে তা হলো জ্ঞান। জ্ঞানকে আমাদের যাবতীয় ব্যাধির প্রতিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর প্রতিপালক জ্ঞানের সমৃদ্ধি প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "আর তুমি বলো, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও" (১)। মহান রাব্বুল ইজ্জত জ্ঞানী ও অজ্ঞ ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করে বলেন: "তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে, সে কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধ? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে" (২)।
আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলেন, যা বুখারি ও মুসলিম তাঁদের "সহিহ" গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন।"
আর মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর বহু সৃষ্টির রহস্য বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর কিতাবের একটি আয়াতে বলেন: নিশ্চয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
في ذلك لآيات للعالمين (1). وقال تعالى: وما يعقلها إلاّ العالمون (2).
ورب العزة يفضّل الكلب المعلم على غير الكلب المعلم، فيحلّ صيد الكلب المعلم مع ذكر اسم الله تعالى، فيقول سبحانه وتعالى: يسألونك ماذا أحلّ لهم قل أحلّ لكم الطّيّبات وما علّمتم من الجوارح مكلّبين تعلّمونهنّ ممّا علّمكم الله (3).
بل يخبرنا الله سبحانه وتعالى أن الهدهد صال بحجته على سليمان فقال: أحطت بما لم تحط به وجئتك من سبإ بنبإ يقين (4).
ونبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم يرغّب أمته في العلم، ويرغّب أمته في أشرف العلوم، ألا وهو حفظ كتاب الله، فإن أفضل العلوم هو القرآن الكريم، بخلاف ما يقول أهل علم الكلام. أهل علم الكلام يقولون: إن أفضل العلوم هو علم الكلام لأنه يتكلم عن الله وصفاته. وهذا جهل منهم بكتاب الله وبسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وقد كان الإمام الشافعي رحمه الله تعالى يقول: (حكمي على أهل علم الكلام، أن يدار بهم في الأسواق ويضربوا بالسياط، ويقال: هذا جزاء من استبدل بكتاب الله أو من أعرض عن كتاب الله).
--------------------------------------------
এতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে (১)। মহান আল্লাহ বলেন: আর জ্ঞানীগণ ব্যতীত কেউ তা উপলব্ধি করে না (২)।
আর মহিমান্বিত রব শিক্ষিত কুকুরকে অশিক্ষিত কুকুরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। ফলে মহান আল্লাহর নাম উল্লেখপূর্বক শিক্ষিত কুকুরের শিকার করা জন্তু হালাল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে যে, তাদের জন্য কী কী বস্তু হালাল করা হয়েছে। আপনি বলুন, তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে এবং শিকারি জীবজন্তু—যাদের তোমরা শিকার করা শিখিয়েছ, আল্লাহ তোমাদের যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদের শিক্ষা দিয়ে থাকো (৩)।
বরং মহান আল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, হুদহুদ তার প্রমাণের মাধ্যমে সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল; সে বলেছিল: আমি এমন বিষয় অবগত হয়েছি যা আপনি অবগত নন এবং আমি সাবা থেকে আপনার নিকট সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি (৪)।
এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে ইলম অর্জনে উৎসাহিত করেছেন এবং উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ ইলমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, আর তা হলো আল্লাহর কিতাব হিফজ করা বা সংরক্ষণ করা। কেননা সর্বোত্তম ইলম হলো পবিত্র কুরআন; ইলমুল কালামের অনুসারীরা যা বলে থাকে তার বিপরীতে। ইলমুল কালামের অনুসারীরা বলে থাকে: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম ইলম হলো ইলমুল কালাম, কারণ এটি আল্লাহ এবং তাঁর সিফাত বা গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করে। এটি আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা মাত্র। ইমাম শাফেঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলতেন: (ইলমুল কালামের অনুসারীদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা হলো, তাদেরকে চাবুক দিয়ে প্রহার করে বাজারে বাজারে ঘোরানো হবে এবং ঘোষণা করা হবে: এটিই সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে আল্লাহর কিতাব ত্যাগ করে অন্য কিছু গ্রহণ করেছে অথবা আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فأفضل العلوم هو تعلم كتاب الله وتعلم سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يرفع الله الّذين ءامنوا منكم والّذين أوتوا العلم درجات (1)، إنّما يخشى الله من عباده العلماء (2).
والعلم أفضله هو حفظ القرآن الكريم، فإن نبينا محمدًا صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول -كما في "صحيح البخاري" من حديث عثمان رضي الله عنه: ((خيركم من تعلّم القرآن وعلّمه))، ويقول كما في "صحيح مسلم" من حديث عمر رضي الله عنه: ((إنّ الله يرفع بهذا الكتاب أقوامًا ويضع به آخرين)).
وكان علماؤنا المتقدمون رحمهم الله تعالى، منهم من يتخصص للقرآن، ومنهم من يتخصص لسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ومنهم من يتخصص في اللغة العربية. وفي الغالب أن المتخصص منهم يكون ملمًا ببقية العلوم، لكن قد وجد من القراء كحفص بن سليمان إمام في القراءة -وهو أحد القراء السبعة- لكنه متروك في الحديث، ووجد أيضًا من هو إمام في الحديث، وربما يلحن في الأمور السهلة، وذلكم كعثمان بن أبي شيبة أخي أبي بكر بن أبي شيبة وأخي القاسم أيضًا، فإنه كان إمامًا في الحديث، لكنه يصحّف في القرآن، وإن كان الحافظ ابن كثير ينكر هذا في كتابه "مختصر علوم الحديث".
ومن علمائنا المتقدمين من كان يتخصص في اللغة العربية، بل
--------------------------------------------
সর্বোত্তম জ্ঞান হলো আল্লাহর কিতাব শিক্ষা করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ শিক্ষা করা। "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নীত করবেন" (১), "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে" (২)।
আর ইলমের মধ্যে সর্বোত্তম হলো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা। কেননা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—যেমনটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে "সহিহ বুখারি"-তে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে "সহিহ মুসলিম"-এ যেমনটি রয়েছে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে অনেক জাতিকে উচ্চাসনে বসান এবং এর দ্বারাই অন্যদের অবনমিত করেন।"
আমাদের পূর্ববর্তী আলেমগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ তাআলা)—তাঁদের কেউ কুরআনের জন্য বিশেষজ্ঞ ছিলেন, কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর জন্য বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং কেউ আরবি ভাষার জন্য বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সাধারণত তাঁদের মধ্যে যারা বিশেষজ্ঞ ছিলেন তারা অন্যান্য জ্ঞানেও পারদর্শী হতেন। তবে এমন ক্বারীও পাওয়া গেছে যেমন হাফস ইবনে সুলাইমান, যিনি কিরাআতের ইমাম—এবং তিনি সাত ক্বারীর অন্যতম—কিন্তু তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জিত (متروك)। আবার এমন ব্যক্তিও পাওয়া যায় যিনি হাদিসের ইমাম, অথচ সম্ভবত তিনি অতি সহজ বিষয়েও ব্যাকরণগত ভুল করতেন; যেমন উসমান ইবনে আবি শায়বাহ—যিনি আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ এবং কাসিমের ভাই। তিনি হাদিসের ইমাম ছিলেন, কিন্তু তিনি কুরআনের শব্দে ভুল পাঠ (يصحّف) করতেন, যদিও হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর গ্রন্থ "মুখতাসার উলুমিল হাদিস"-এ এটি অস্বীকার করেছেন।
আমাদের পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি আরবি ভাষায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন, বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
العربية تنقسم إلى أقسام، فمنهم من يتخصص في النحو، ومنهم من يتخصص في الصرف إلى غير ذلك، ومنهم من يجمع بين هذا وذاك، فالإمام الشافعي رحمه الله تعالى كان إمامًا في اللغة، وربما احتجّ بعربيته، وكان إمامًا في سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم حتى إنه لقّب بناصر السنة، وكتاباه "مختلف الحديث" و"الرسالة" ينبئان بأنه يستحق أن يلقب بناصر السنة، لأنه رد على أصحاب الرأي، ورد أيضًا على المعتزلة، وعلى من يطعن في سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
والعلم منْزلته رفيعة، من أجل هذا، فقّل أن تجد مؤلّفًا إلا وقد عقد كتابًا في العلم، ففي "البخاري" (كتاب العلم) ، وفي "صحيح مسلم" (كتاب العلم)، وفي "الترمذي" كتاب العلم)، بل من أهل العلم من أفرد العلم بالتأليف كالحافظ ابن عبد البر يوسف بن عبد الله، فإنه ألف كتابًا قيّمًا يساوي الدنيا، اسمه "جامع بيان العلم وفضله" (1) فذكر فيه فضل العلماء، وذكر فضل العلم، وذكر التقليد، وأن التقليد ليس بعلم.
يقول بعضهم: أجمع العلماء على أن المقلد لا ينبغي أن يعدّ من أهل العلم، ورب العزة يقول في كتابه الكريم: اتّبعوا ما أنزل إليكم من ربّكم ولا تتّبعوا من دونه أولياء قليلاً ما تذكّرون (2).
فذلك الكتاب القيم بدأه بفرض العلم، ثم أتى بحديث: ((طلب العلم
--------------------------------------------
আরবি ভাষা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। তাদের মধ্যে কেউ নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কেউ সারফ (রূপতত্ত্ব) শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি। আবার কেউ এই সবগুলোর সমন্বয় ঘটান। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) ভাষাতত্ত্বে একজন ইমাম ছিলেন এবং সম্ভবত তাঁর আরবি ভাষার পারদর্শিতা দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)-র ক্ষেত্রেও একজন ইমাম ছিলেন, এমনকি তাঁকে 'নাসিরুস সুন্নাহ' (সুন্নাহর সাহায্যকারী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর দুটি গ্রন্থ 'মুখতালিফুল হাদিস' ও 'আর-রিসালাহ' সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি 'নাসিরুস সুন্নাহ' উপাধি পাওয়ার যোগ্য। কারণ তিনি রায়-পন্থীদের (আসহাবুর রায়) জবাব দিয়েছেন এবং মুতাজিলাদের ও যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)-র সমালোচনা করে তাদেরও দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।
ইলম বা জ্ঞানের মর্যাদা সুউচ্চ। একারণেই খুব কম লেখকই পাওয়া যাবে যারা ইলম সম্পর্কে কোনো অধ্যায় রচনা করেননি। যেমন বুখারিতে (ইলম অধ্যায়), সহিহ মুসলিমে (ইলম অধ্যায়), তিরমিজিতে (ইলম অধ্যায়) রয়েছে। বরং আলেমদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা কেবল ইলম বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন হাফেজ ইবনে আব্দুল বার ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ। তিনি একটি অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেছেন যা দুনিয়ার সমান মূল্যবান, যার নাম 'জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি'। এতে তিনি আলেমদের ফজিলত, ইলমের ফজিলত এবং তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তাকলিদ কোনো ইলম নয়।
তাঁদের কেউ কেউ বলেন: ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন যে, অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد)-কে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। আর মহিমান্বিত প্রতিপালক তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।" (আল-আরাফ: ৩)
সেই অমূল্য গ্রন্থটি তিনি ইলম অর্জন ফরজ হওয়া দিয়ে শুরু করেছেন, অতঃপর এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "ইলম অন্বেষণ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فريضة على كلّ مسلم)) وأشار إلى تضعيفه رحمه الله تعالى، لكن الإمام السيوطي رحمه الله تعالى يقول: إنه وجد له قدر خمسين طريقًا، ومن ثمّ حكم بصحته.
وما هو العلم الذي يعد فريضة؟.
العلم الذي أوجبه الله عليك هو الذي يعد فريضة. فالعقيدة (التوحيد) واجب على كل مسلم أن يتعلمها، كما جاءت في الكتاب والسنة. ويحرم الجهل بالعقيدة سواء أكانت في أسماء الله أو صفاته، ويجب الإيمان بالعقيدة في أسماء الله وصفاته، كما وردت في كتاب الله، وكما وردت في سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فتلكم الجارية التي هي راعية غنم كما في حديث معاوية بن الحكم السّلمى رضي الله عنه: أنه أتى بجارية ليعتقها. فقال: يا رسول الله إني أريد أن أعتقها. فقال لها النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((يا جارية أين الله؟)) قالت: في السماء. قال: ((أعتقها فإنّها مؤمنة)).
يجب على كل مسلم أن يؤمن أن الله في السماء، وأن الله سبحانه وتعالى بعلمه مع كل أحد، وبحفظه وكلاءته ونصره مع المؤمنين يجب أن نؤمن بهذا: ءأمنتم من في السّماء أن يخسف بكم الأرض (1)، الرّحمن على العرش استوى (2).
--------------------------------------------
...প্রত্যেক মুসলিমের ওপর (ইলম অর্জন করা) ফরজ)) এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) একে দুর্বল (تضعيف) করার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: তিনি এর প্রায় পঞ্চাশটি সূত্র (طريق) পেয়েছেন, যার ফলে তিনি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে ফয়সালা দিয়েছেন।
আর সেই ইলম কোনটি যা ফরজ হিসেবে গণ্য?।
আল্লাহ তোমার ওপর যা অপরিহার্য করেছেন সেই ইলমই ফরজ হিসেবে গণ্য। সুতরাং আকীদা (তাওহীদ) শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব, যেমনটি কিতাব ও সুন্নাহতে এসেছে। আকীদা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা হারাম, চাই তা আল্লাহর নামসমূহ অথবা তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে হোক। আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত আকীদার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, যেভাবে তা আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। যেমন সেই দাসীটি যে বকরি চরাত, যার কথা মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে এসেছে: তিনি এক দাসীকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে নিয়ে এলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে মুক্ত করতে চাই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: "হে দাসী! আল্লাহ কোথায়?" সে বলল: "আসমানে।" তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিন।"
প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব যে আল্লাহ আসমানে আছেন, এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর জ্ঞান দ্বারা প্রত্যেকের সাথে আছেন, আর তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও সাহায্যের মাধ্যমে মুমিনদের সাথে আছেন। আমাদের এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব: "তোমরা কি নিরাপদ বোধ করছ যে, যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদেরসহ ভূমি ধসিয়ে দেবেন না?" (১), "পরম করুণাময় আরশের ওপর সমুन्नत হয়েছেন" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وهناك كتاب قيم في هذا الموضوع أنصح إخواني في الله بقراءته، ذلك الكتاب القيم هو "العلو للعلي الغفار" للحافط الذهبي رحمه الله تعالى، وقد اختصره الشيخ ناصر الدين الألباني حفظه الله تعالى، فمن كان من طلبة العلم المحققين فينبغي أن يقتني الأصل، ومن كان لا يستطيع التحقيق فيقتني اختصار الشيخ، وإن جمع بين الكتابين فحسن، فإن أحدهما لا يغني عن الآخر.
والعلم قيض الله له علماء حفظوا لنا هذا الدين، حفظوا كتاب الله، وتلقاه الآخر عن الأول، وحفظوا سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ونفوا عنها الكذب والأباطيل، نفوا ووقفوا في وجوه الكذّابين، ونخلوا سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم نخلاً، لأنّهم كانوا لا تأخذهم في الله لومة لائم.
يقول الإمام الشافعي: (من روى عن البياضي بيّض الله عيونه). يدعو على من روى عن البياضي لأن البياضي مجروح. ويقول: الإمام الشافعي رحمه الله تعالى: (الرواية عن حرام بن عثمان حرام). فهذا قول الإمام الشافعي في هذين المحدثين.
ولقد كان العلماء رحمهم الله تعالى ينخلون السنة نخلاً، حتى إنه قدّم زنديق لتضرب عنقه في عصر الرشيد فقال: كيف تقتلونني وقد وضعت في دينكم أربعة آلاف حديث أحرّم فيها الحلال وأحلّ فيها الحرام. فقال له الرشيد: يا خبيث، إن أبا إسحاق الفزاري وعبد الله ابن المبارك سينخلانها نخلاً.
وكانت لديهم غيرة على سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم حتى إن يحيى بن
এই বিষয়ে একটি মূল্যবান কিতাব রয়েছে যা আমি আমার আল্লাহর পথের ভাইদের পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। সেই মূল্যবান কিতাবটি হলো হাফেজ যাহাবী রহিমাহুল্লাহ তায়ালা রচিত 'আল-উলুউ লিল-আলিয়্যিল গাফফার'। শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-বানি হাফিজাহুল্লাহ তায়ালা এটি সংক্ষেপ করেছেন। সুতরাং জ্ঞানান্বেষীদের মধ্যে যারা গবেষক (محقق), তাদের উচিত মূল কিতাবটি সংগ্রহ করা। আর যারা গবেষণা (تحقيق) করতে সক্ষম নয়, তারা শায়খের সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি সংগ্রহ করবে। আর যদি কেউ উভয় কিতাবই একত্রিত করতে পারে তবে তা উত্তম; কেননা একটির অভাব অন্যটি দ্বারা পূরণ হয় না।
আর ইলমের জন্য আল্লাহ এমন সব আলেম নির্ধারণ করেছেন যারা আমাদের জন্য এই দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন। তারা আল্লাহর কিতাবকে সংরক্ষণ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্ম তা পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছে। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন এবং তা থেকে মিথ্যা ও বাতিল বিষয়সমূহ অপসারিত করেছেন। তারা চরম মিথ্যাবাদীদের (كذابين) মোকাবিলা করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ঝাড়াই-বাছাই করেছেন; কারণ আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তারা কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না।
ইমাম শাফেয়ী বলেন: "যে ব্যক্তি বায়াযী থেকে বর্ণনা করে, আল্লাহ যেন তার চক্ষুদ্বয় সাদা (অন্ধ) করে দেন।" তিনি বায়াযী থেকে বর্ণনাকারীর বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছেন কারণ বায়াযী ছিলেন সমালোচিত (مجروح)। ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: "হারাম বিন উসমান থেকে বর্ণনা (رواية) করা হারাম।" এই দুই হাদিস বিশারদ সম্পর্কে এটিই ইমাম শাফেয়ীর উক্তি।
ওলামায়ে কেরাম রহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা সুন্নাহকে এমন নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করতেন যে, একদা হারুনুর রশীদের যুগে এক ধর্মদ্রোহীকে শিরশ্ছেদ করার জন্য আনা হলো। তখন সে বলল: "আপনারা আমাকে কেন হত্যা করছেন অথচ আমি আপনাদের দ্বীনের মধ্যে চার হাজার হাদিস জাল (وضع) করেছি, যাতে আমি হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করেছি?" তখন রশীদ তাকে বললেন: "ওরে খবিস! আবু ইসহাক আল-ফাযারি এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক এগুলোকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ঝাড়াই-বাছাই করবেন।"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি তাদের এমন আত্মমর্যাদাবোধ ছিল যে, এমনকি ইয়াহইয়া বিন
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
معين رحمه الله تعالى عند أن حدّث سويد بن سعيد: ((من عشق فعفّ فمات مات شهيدًا)). قال يحيى بن معين: لو أنّ لي فرسًا ورمحًا لغزوت سويدًا، لأنه تجرأ في رواية الأحاديث الضعيفة.
ورئي شعبة بن الحجاج رحمه الله تعالى ذات يوم متقنعًا في نصف النهار، فقيل له: إلى أين يا أبا بسطام؟ قال: أريد أن أعتدي على جعفر بن الزبير، فإنه يكذب على رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
ومن لم يكن من المحدثين فلا بد أن يتخبط في عبادته، وفي وعظه، وفي معاملته، وفي جميع شئونه. لأنّه لا يؤمن أن يحدث بحديث ضعيف. وأنا آتيكم بمثال أو بأمثلة:
من الأمثلة على هذا حديث قد شاع وذاع: ((حبّ الوطن من الإيمان)) هذا الحديث لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
ومن الأمثلة على هذا أيضًا حديث: ((اختلاف أمّتي رحمة)) حديث لا يوجد له سند، ولا يثبت عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
ومن الأمثلة على هذا أيضًا حديث: ((الكيّس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت والعاجز من أتبع نفسه هواها وتمنّى على الله الأماني))، هذا حديث معناه صحيح. لكنه بهذا اللفظ ضعيف، لأنه من طريق أبي بكر بن أبي مريم، وقد اختلط بسبب حليّ سرقت عليه.
ومن الأمثلة: قصة يحدّث بها في الحرمين ويحدّث بها في الإذاعات، قصة ثعلبة، التي فيها أنه سأل رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أن يسأل الله أن يرزقه
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সামনে যখন সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ এই হাদিস বর্ণনা করলেন: ((যে ব্যক্তি প্রেমে আসক্ত হয়েও পবিত্রতা বজায় রাখল এবং সেই অবস্থায় মারা গেল, সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করল))। তখন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বললেন: যদি আমার কাছে একটি ঘোড়া ও একটি বর্শা থাকত, তবে আমি সুওয়াইদকে আক্রমণ করতাম; কারণ সে দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
একদা শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ভরদুপুরে মুখাবরণ পরিহিত অবস্থায় দেখা গেল। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আবু বাস্তাম, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন: আমি জা'ফর ইবনুল জুবায়েরের ওপর চড়াও হতে চাইছি, কারণ সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করে।
আর যারা হাদিস বিশারদ নন, তারা তাদের ইবাদত, ওয়াজ-নসিহত, লেনদেন এবং সকল বিষয়ে বিভ্রান্ত হতে বাধ্য। কারণ তারা দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করা থেকে নিরাপদ নয়। আমি আপনাদের সামনে একটি বা একাধিক উদাহরণ দিচ্ছি:
এর একটি উদাহরণ হলো এই হাদিসটি যা অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রচারিত: ((দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ))। এই হাদিসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো এই হাদিস: ((আমার উম্মতের মতভেদ রহমতস্বরূপ))। এটি এমন একটি হাদিস যার কোনো সনদ (سند) নেই এবং এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়।
এর আরও একটি উদাহরণ হলো এই হাদিস: ((বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে অনুগত রাখে এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে; আর অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে প্রবৃত্তির অনুসারী করে এবং আল্লাহর কাছে বৃথা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে))। এই হাদিসটির অর্থ বিশুদ্ধ (صحيح), কিন্তু এই শব্দে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। কারণ এটি আবু বকর ইবনে আবি মারইয়ামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর তার অলঙ্কার চুরি হয়ে যাওয়ার ফলে তার স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) ঘটেছিল।
অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে সেই কাহিনী যা দুই হারামাইন এবং রেডিওতে বর্ণনা করা হয়; অর্থাৎ সা'লাবার কাহিনী, যাতে উল্লেখ রয়েছে যে সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আবেদন করেছিল যেন তিনি তার রিযিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مالاً، وأنه قيل له: ((يا ثعلبة قليل تؤدّي شكره خير من كثير لا تطيقه))، وذكرت في "الجلالين"، وقلّ أن تجد تفسيرًا إلاّ وقد ذكرت فيه.
هذه القصة استفدنا تضعيفها في أول الأمر من أبي محمد بن حزم رحمه الله تعالى، قال: إن في سندها معان بن رفاعة، وعلي بن يزيد الألهاني، والقاسم بن عبد الرحمن، وثلاثتهم ضعفاء. ثم روجع "مجمع الزوائد" فإذا هو يقول: في سندها علي بن يزيد الألهاني وهو متروك. ثم روجع "تخريج الكشاف" للحافظ ابن حجر فإذا هو يقول: في سندها علي بن يزيد الألهاني وهو واه، ثم روجع "تخريج الإحياء" فإذا الحافظ العراقي يقول: إن في سندها ضعفًا. وناهيك بالسيوطي تساهلاً فإنه ذكرها في "لباب النقول من أسباب النّزول".
هذه القصة كان بعض علماء الحرم يحدث بها فقيل له: يا شيخ إنّها ضعيفة. قال: نريد أن نرقّق بها قلوب العامة.
يا سبحان الله!! أما في كتاب الله، ولا في صحيح حديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ما يرقق قلوب العامّة!! فبأيّ حديث بعد الله وءاياته يؤمنون.
ومن الأمثلة على هذا حديث: ((لا يؤمن أحدكم حتّى يكون هواه تبعًا لما جئت به)) وما أكثر ما قد حدثْنا بهذا الحديث! يقول الحافظ ابن رجب في كتابه "جامع العلوم والحكم": إنه من طريق نعيم بن حماد، وهو ضعيف. هذه علة.
...সম্পদ, এবং তাকে বলা হয়েছিল: "হে সালাবা! অল্প সম্পদ যার শোকর তুমি আদায় করো তা সেই অধিক সম্পদের চেয়ে উত্তম যা বহন করার সামর্থ্য তোমার নেই।" আর বিষয়টি "জালালাইন"-এ উল্লেখ করা হয়েছে; এমন কোনো তাফসির গ্রন্থ খুব কমই পাওয়া যাবে যাতে এটি উল্লিখিত হয়নি।
এই গল্পের দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف) সম্পর্কে আমরা সর্বপ্রথম আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে অবগত হয়েছি। তিনি বলেছেন: এর সনদে (سند) মাআন বিন রিফাআহ, আলি বিন ইয়াজিদ আল-আলহানি এবং কাসিম বিন আব্দুর রহমান রয়েছে; আর তারা তিনজনই দুর্বল (ضعفاء)। অতঃপর "মাজমাউয যাওয়ায়েদ" পর্যালোচনা করা হলো, সেখানে তিনি বলেছেন: এর সনদে আলি বিন ইয়াজিদ আল-আলহানি রয়েছে এবং সে পরিত্যক্ত (متروك)। এরপর হাফেজ ইবনে হাজারের "তাখরিজুল কাশশাফ" দেখা হলো, সেখানে তিনি বলেছেন: এর সনদে আলি বিন ইয়াজিদ আল-আলহানি রয়েছে এবং সে অত্যন্ত দুর্বল (واه)। অতঃপর "তাখরিজুল ইহয়া" দেখা হলো, সেখানে হাফেজ ইরাকি বলেছেন: নিশ্চয়ই এর সনদে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। আর সুয়ুতির শিথিলতা (تساهل) সম্পর্কে তো বলাই বাহুল্য, কেননা তিনি এটি "লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
এই কাহিনীটি হারামের জনৈক আলেম বর্ণনা করতেন। তখন তাকে বলা হলো: হে শায়খ! নিশ্চয়ই এটি দুর্বল (ضعيفة)। তিনি বললেন: আমরা এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অন্তর কোমল করতে চাই।
সুবহানাল্লাহ!! আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সহিহ হাদিসে কি এমন কিছু নেই যা সাধারণ মানুষের অন্তর কোমল করতে পারে?! তবে আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা আর কোন হাদিসে ঈমান আনবে?
এর একটি উদাহরণ হলো এই হাদিস: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত আদর্শের অনুসারী হয়।" আমরা কতই না এই হাদিসটি বর্ণনা করেছি! হাফেজ ইবনে রজব তার "জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম" গ্রন্থে বলেছেন: এটি নুয়াইম বিন হাম্মাদের সূত্র থেকে বর্ণিত, আর সে দুর্বল (ضعيف)। এটি একটি ত্রুটি (علة)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والعلة الثانية: أنه اختلف على نعيم في شيخه. والعلة الثالثة: أنه لا يدرى أسمع عقبة بن أوس من عبد الله بن عمرو أم لم يسمع؟
ومن الأمثلة على هذا: ((من تعلّم لغة قوم أمن مكرهم)) هذا الحديث بحث عنه الباحثون فلم يجدوا له أصلاً، وإن كان معناه صحيحًا، لكن لا يجوز لنا أن نضيف إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم إلا ما ثبت عنه صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
ومن الأمثلة على هذا: أنكم تجدون بعض الأئمة عند تسوية الصفوف يقول: ((استووا فإنّ الله لا ينظر إلى الصّفّ الأعوج))، وهذا لا يثبت عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ويكفي أن تقول: استووا، فإن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((لتسوّنّ صفوفكم أو ليخالفنّ الله بين قلوبكم)).
من الأمثلة على هذا -أي على الأحاديث الموضوعة- أنّهم رووا حديثًا أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((من قال حين يسمع المؤذّن يقول: أشهد أنّ محمدًا رسول الله، ثمّ ينفث في ظفري إبْهاميه ويمسح بهما عينيه ثمّ يقول: مرحبًا بحبيبي وقرّة عيني. قال: فمن قالها فإنّه لا يرمد)) الحديث ذكره الشوكاني في "الفوائد المجموعة في الأحاديث الضعيفة والموضوعة".
ومن الأمثلة على هذا حديث: ((أنا مدينة العلم وعليّ بابها، فمن يرد المدينة فليأت الباب)). فيه عبد السلام بن صالح أبوالصلت الهروي وهو متروك.
والصحيح كاف. يكفي ما صح عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ويكفي كتاب الله، فإن نبينا محمدًا صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((من كذب عليّ متعمّدًا فليتبوّأ مقعده من النّار)). هذا مرويّ عن علي بن أبي طالب، وعن المغيرة بن شعبة، وعن
এবং দ্বিতীয় ত্রুটি (علة): নুয়াইমের তাঁর শাইখের বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। এবং তৃতীয় ত্রুটি (علة): উকবা বিন আউস কি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে শ্রবণ করেছেন কি করেননি তা জানা যায় না।
এর উদাহরণসমূহের মধ্যে একটি হলো: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের ভাষা শিখল, সে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ থাকল।" গবেষকরা এই হাদিসটি অনুসন্ধান করেছেন কিন্তু এর কোনো মূল (أصل) খুঁজে পাননি, যদিও এর অর্থ সঠিক (صحيح), কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের থেকে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু তাঁর সাথে সম্বন্ধ করা আমাদের জন্য বৈধ নয়।
এর আরও উদাহরণ হলো: আপনারা দেখবেন কাতার সোজা করার সময় কোনো কোনো ইমাম বলেন: "তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, কেননা আল্লাহ বাঁকা কাতারের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না।" এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) নয়। আপনার জন্য শুধু "সোজা হও" বলাই যথেষ্ট, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, নতুবা আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে দেবেন।"
এর উদাহরণসমূহের মধ্যে -অর্থাৎ বানোয়াট (موضوع) হাদিসসমূহের মধ্যে- হলো তারা একটি হাদিস বর্ণনা করেছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ' বলার সময় তার দুই বৃদ্ধাঙ্গুলির নখে ফুঁ দেয় এবং তা দিয়ে তার দুই চোখ মুছে নেয়, এরপর বলে: আমার প্রিয়জন ও নয়নমণিকে স্বাগতম। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি এটি বলবে তার চোখের রোগ হবে না।" হাদিসটি শাওকানী "আল-ফাওয়াইদ আল-মাজমুআ ফিল আহাদিস আদ-দায়িফাহ ওয়াল মাউদুআহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
এর আরও একটি উদাহরণ হলো এই হাদিস: "আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তার দরজা, সুতরাং যে শহর কামনা করে সে যেন দরজা দিয়ে আসে।" এতে আব্দুস সালাম বিন সালেহ আবুস সালত আল-হারাউই রয়েছেন এবং তিনি পরিত্যাজ্য (متروك)।
সহিহ (صحيح) হাদিসই যথেষ্ট। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধ (صح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে তা-ই যথেষ্ট এবং আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। কারণ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি আলী বিন আবি তালিব, মুগিরা বিন শু'বা এবং... থেকে বর্ণিত (مروي)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الزبير بن العوام وعن قدر ستين صحابيًا.
ويقول النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((من حدّث عنّي حديثًا وهو يرى أنّه كذب فهو أحد الكاذبين)).
قد يقول قائل: إن من أهل العلم من أجاز أن يحدث بالحديث الضعيف في فضائل الأعمال!
نعم، أجازه عبد الرحمن بن مهدي، والإمام أحمد، والإمام البيهقي، وجمع من العلماء لكنهم يعنون الحسن، بدليل أنّهم مثلوا بمحمد بن عمرو بن علقمة وأمثاله، وجعلوا حديثه ضعيفًا، والمتأخرون يحسنون حديثه. فهم يريدون الحسن.
ومن أجاز التحديث بالحديث الضعيف، فإنما يجيزه بثلاثة شروط:
الشرط الأول: أن لا يشتد ضعفه.
الشرط الثاني: أن يكون مندرجًا تحت أصل من الأصول.
الشرط الثالث: أن لا يشتهر العمل به، وأن لا يعتقد ثبوته.
أما الإمام الشوكاني رحمه الله تعالى فإنه يقول في كتابه "الفوائد المجموعة": وهو شرع ومن ادعى التفصيل فعليه البرهان.
قد يقول قائل أو يظن ظانّ أن المشتغل بتصحيح حديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يشغله عن الدعوة، لا، بل يقويك على الدعوة، وتصبح حاكمًا، تستطيع أن تحكم على الخطيب، وعلى الصحفي، وعلى المؤلف، فكم من حديث ضعيف يختلف الناس فيه، وهو حديث ضعيف. منهم من يقول
যুবাইর ইবনুল আওয়াম এবং প্রায় ষাট জন সাহাবীর নিকট থেকে।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করল যা সে মনে করে যে তা মিথ্যা (كذب), তবে সে মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) অন্যতম।"
কেউ কেউ বলতে পারেন: আলেমদের মধ্যে এমন একদল আছেন যারা ফাযায়িলে আমলের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন!
হ্যাঁ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, ইমাম আহমাদ, ইমাম বাইহাকী এবং একদল আলেম এটি অনুমোদন করেছেন, তবে তাঁরা এর দ্বারা হাসান (الحسن) হাদিস বুঝিয়েছেন। এর প্রমাণ হলো যে, তাঁরা মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা এবং তাঁর সমগোত্রীয়দের উদাহরণ দিয়েছেন এবং তাঁর হাদিসকে দুর্বল (ضعيفًا) বলে অভিহিত করেছেন, অথচ পরবর্তীগণ তাঁর হাদিসকে হাসান (يحسنون) হিসেবে গণ্য করেন। সুতরাং তাঁরা মূলত হাসান (الحسن) হাদিসই উদ্দেশ্য করেছেন।
আর যারা দুর্বল (الضعيف) হাদিস বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন, তাঁরা মূলত তা তিনটি শর্তে দিয়েছেন:
প্রথম শর্ত: সেটির দুর্বলতা (ضعفه) যেন অত্যধিক না হয়।
দ্বিতীয় শর্ত: সেটি যেন কোনো মূলনীতির (أصل) অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তৃতীয় শর্ত: সেটির ওপর আমল যেন প্রসিদ্ধ না হয়ে যায় এবং সেটি প্রমাণিত (ثبوته) বলে বিশ্বাস না করা হয়।
অন্যদিকে ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর "আল-ফাওয়ায়িদ আল-মাজমুআ" গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি শরিয়তসম্মত বিষয়, আর যে ব্যক্তি এর বিস্তারিত বিবরণ দাবি করবে, তাকে অবশ্যই প্রমাণ (البرهان) পেশ করতে হবে।
কেউ বলতে পারেন বা ধারণা করতে পারেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসকে সহিহ করার (تصحيح) কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি দাওয়াতি কাজ থেকে বিমুখ হয়ে যান। না, বরং এটি আপনাকে দাওয়াতি কাজের ওপর শক্তিশালী করে তোলে এবং আপনি একজন বিচারক (حاكمًا) হয়ে ওঠেন। আপনি খতিব, সাংবাদিক এবং লেখকের বক্তব্যের ওপর বিচার করতে পারেন। কতই না দুর্বল (ضعيف) হাদিস রয়েছে যা নিয়ে মানুষ মতভেদ করে, অথচ সেটি আসলে একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
به، ومنهم من لا يقول به.
ومن الأمثلة على هذا: حديث أن جماعةً من الصحابة ضحكوا في الصلاة، ثم أمرهم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أن يعيدوا الصلاة، وأن يعيدوا الوضوء.
هذا حديث من طريق أبي العالية الرياحي، وقد قال الإمام الشافعي رحمه الله تعالى: حديث أبي العالية رياح. يعني لا يثبت هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
ومن الأمثلة على هذا أي على الأحاديث الضعيفة والموضوعة: ما جاء في "فيض القدير" وفي "المجموع" المنسوب لزيد بن علي: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم رأى رجلاً يعبث بلحيته، وهو في الصلاة، فقال: ((لو خشع قلب هذا لسكنتْ جوارحه)). هذا الحديث يحدث به كثير من الناس، مع أنه لا يثبت عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
ومن الأمثلة على هذا: ((صنفان من أمّتي إذا صلحا صلحتْ أمّتي وإذا فسدا فسدتْ أمّتي: العلماء والأمراء)). الحديث معناه صحيح، لكن لا يجوز لك أن تقول: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، لأنّه ما كلّ ما يصحّ معناه يجوز لك أن تضيفه إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
فالأحاديث الضعيفة كما ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى في كتابه "رفع الملام عن الأئمة الأعلام" سبب من أسباب الفرقة، تجد الرجل قد استدل بحديث، فيأتي آخر ويضعفه، وليس معنى هذا أنه لا سبيل إلى أن تعرف الحقيقة.
...তাঁদের কেউ কেউ এটি গ্রহণ করেন, আবার তাঁদের কেউ কেউ এটি বলেন না (বা গ্রহণ করেন না)।
এর উদাহরণসমূহের মধ্যে একটি হলো: সেই হাদিস যেখানে সাহাবীদের একটি দল সালাতে হেসেছিলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে সালাত ও অজু পুনরায় করার নির্দেশ দেন।
এই হাদিসটি আবুল আলিয়া আর-রিয়াহির সূত্রে বর্ণিত। ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: "আবুল আলিয়ার হাদিস হলো বাতাস (অসার)।" অর্থাৎ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদিসটি প্রমাণিত নয়।
এর উদাহরণসমূহের মধ্যে অর্থাৎ দুর্বল (ضعيف) ও জাল (موضوع) হাদিসসমূহের উদাহরণ হলো: যা "ফয়জুল কাদির" এবং জায়েদ বিন আলীর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত "আল-মাজমু" গ্রন্থে এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে সালাতরত অবস্থায় নিজের দাড়ি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "যদি এই ব্যক্তির অন্তরে খুশু থাকত, তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির থাকত।" অনেক মানুষ এই হাদিসটি বর্ণনা করে থাকেন, যদিও এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়।
এর আরও একটি উদাহরণ হলো: "আমার উম্মতের দুটি শ্রেণি, তারা যখন সংশোধিত হয় তখন আমার উম্মত সংশোধিত হয়, আর যখন তারা পথভ্রষ্ট হয় তখন আমার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়: তারা হলো আলেম সমাজ ও শাসকগোষ্ঠী।" হাদিসটির অর্থ সঠিক (صحيح), কিন্তু আপনার জন্য এটি বলা জায়েজ নয় যে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন," কারণ কোনো কিছুর অর্থ সঠিক (صحيح) হওয়া মানেই এটি নয় যে, আপনি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারবেন।
সুতরাং দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ—যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর "রাফুল মালাম আনিল আইম্মাতিল আ'লাম" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—বিভেদের অন্যতম কারণ। আপনি দেখবেন যে এক ব্যক্তি একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করছেন, তখন অন্যজন এসে সেটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করছেন; এর অর্থ এই নয় যে সত্য জানার কোনো উপায় নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن أهل الخير، ومن الناس الطيبين من يحب علم الحديث، ويحب أهل الحديث، لكنه يرى أن الأئمة قد اختلفوا في التجريح والتعديل، واختلفوا في التصحيح والتضعيف، فيظن أنه لا سبيل إلى ذلك، لأن الأئمة رضوان الله عليهم وضعوا قواعد، فأنت إذا قال لك رجل: فلان ثقة. وقال لك آخر: أنا سمعته يعكف على آلات اللهو والطرب أو رأيته على آلات اللهو والطرب. فبأي القولين تأخذ؟ ويقول لك رجل: فلان ثقة يصلي معنا، وحسن المعاملة. وآخر يقول: أنا رأيته عاكفًا على آلات اللهو والطرب. فبأي القولين تأخذ؟ الجرح المفسّر مقدّم على التعديل، والجارح اطلع على مالم يطلع عليه المعدل.
والعلماء يتفاوتون في هذا المضمار من أجل هذا يحصل الاختلاف. وقد ذكر ابن أبي حاتم في كتابه "مناقب الشافعي" والبيهقي أيضًا في كتابه "مناقب الشافعي" أنه اختلف الشافعي ومحمد ابن الحسن أي العالمين أعلم، مالك أم أبوحنيفة؟ وكان الشافعي يحب مالكًا، والشافعي تلميذ مالك. ومحمد بن الحسن تلميذ أبي حنيفة. فقال الإمام الشافعي لمحمد بن الحسن: أنشدك الله، أصاحبنا أعلم بكتاب الله أم صاحبكم؟ قال: صاحبكم -يعني مالكًا-. قال: أنشدك الله، أصاحبنا أعلم بسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، أم صاحبكم؟ قال: صاحبكم -يعني مالكًا-. قال: فلم يبق إلا القياس فالذي ليس لديه أصول فعلى أي شيء يقيس. هذه القصة ذكرها ابن أبي حاتم والبيهقي بسند صحيح.
شاهدنا من هذا أن العلماء يتفاوتون فمنهم إمام في الفقه، وهو
নেককার এবং ভালো মানুষদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা হাদিস বিজ্ঞানকে ভালোবাসেন এবং হাদিস বিশারদদেরও ভালোবাসেন; তবে তারা মনে করেন যে, ইমামগণ সমালোচনামূলক মূল্যায়ন (تجريح وتعديل) এবং হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) ও দুর্বল সাব্যস্তকরণের (تضعيف) ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। ফলে তারা ধারণা করেন যে, এক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো পথ নেই। অথচ ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে গেছেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে বলে: অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة); আর অন্য একজন আপনাকে বলে: আমি তাকে বাদ্যযন্ত্র ও আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত হতে শুনেছি অথবা আমি তাকে বাদ্যযন্ত্রের আসরে লিপ্ত থাকতে দেখেছি। এমতাবস্থায় আপনি কোন বক্তব্যটি গ্রহণ করবেন? একজন আপনাকে বলছে: অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সে আমাদের সাথে নামাজ পড়ে এবং তার আচরণও সুন্দর। আর অন্যজন বলছে: আমি তাকে বাদ্যযন্ত্র ও আমোদ-প্রমোদে নিমগ্ন থাকতে দেখেছি। তবে আপনি কোন কথাটি মেনে নেবেন? মূলত, ব্যাখ্যামূলক দোষারোপ (جرح مفسّر) সাধারণ প্রশংসার (تعديل) উপর প্রাধান্য পায়; কারণ যিনি দোষারোপ করেছেন তিনি এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে অবগত হয়েছেন যা প্রশংসাকারী জানতে পারেননি।
এই অঙ্গনে আলেমদের যোগ্যতার তারতম্য রয়েছে এবং এই কারণেই মূলত মতভেদ সৃষ্টি হয়। ইবনে আবি হাতিম তাঁর "মানাকিব আল-শাফিঈ" গ্রন্থে এবং বায়হাকিও তাঁর "মানাকিব আল-শাফিঈ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের মধ্যে এই বিষয়ে বিতর্ক হয়েছিল যে—ইমাম মালিক ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যে কে অধিক বড় আলেম? ইমাম শাফিঈ ইমাম মালিককে ভালোবাসতেন এবং তিনি ছিলেন ইমাম মালিকের ছাত্র। অপরদিকে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ছিলেন ইমাম আবু হানিফার ছাত্র। তখন ইমাম শাফিঈ মুহাম্মদ ইবনুল হাসানকে বললেন: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আমাদের সাথি (ইমাম মালিক) কি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত, নাকি আপনাদের সাথি? তিনি উত্তর দিলেন: আপনাদের সাথি—অর্থাৎ ইমাম মালিক। শাফিঈ পুনরায় বললেন: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আমাদের সাথি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত, নাকি আপনাদের সাথি? তিনি উত্তর দিলেন: আপনাদের সাথি—অর্থাৎ ইমাম মালিক। তখন ইমাম শাফিঈ বললেন: তবে তো কেবল কিয়াস (قياس) বাকি রইল; কিন্তু যার কাছে মৌলিক নীতিমালা (أصول) নেই, সে কিসের ভিত্তিতে কিয়াস (قياس) করবে? এই ঘটনাটি ইবনে আবি হাতিম এবং বায়হাকি বিশুদ্ধ সনদ (سند صحيح) সহকারে বর্ণনা করেছেন।
এর থেকে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, আলেমদের মাঝে মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম, আবার তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ضعيف في الحديث، ومنهم إمام في الحديث، لا يستطيع أن يستنبط أحكامًا كما يستطيع أن يستنبطها الفقيه.
والنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((ربّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه)) ويقول: ((ربّ مبلّغ أوعى من سامع)).
وعلم الحديث الذي زهد فيه كثير من الناس، وأصبحوا يزهّدون فيه، إن لم يكن الفقيه محدثًا فلا بد أن يتخبط، كما ذكره الشوكاني رحمه الله تعالى في كتابه "نيل الأوطار".
وهكذا أيضًا لأن أحاديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم كثيرة ولا بد من النظر فيها، فماذا يفعل علماؤنا رحمهم الله تعالى؟ العلماء رحمهم الله تعالى إذا أرادوا أن يستدلوا بحديث؟ فإن كان في"الصحيحين" فقد أجمع أهل الحق على تلقي ما في "الصحيحين" بالقبول إلا أحاديث يسيرة انتقدها الحفاظ كالدارقطني وغيره. وإن كان في غير "الصحيحين" فإما أن يصححه حافظ من الحفاظ، كالحافظ ابن حجر والحافظ العراقي وغيرهما من العلماء الذين تصدوا للتصحيح والتضعيف، وإما أن تبحث أنت عن سنده لابد من هذا وإلا فلا يحل لك أن تستدل، لأن العلماء رحمهم الله تعالى مثل أبي داود رحمه الله تعالى يقول في "سننه": ذكرت الصحيح وما يقاربه وما يشابهه، وما كان فيه وهن شديد بينته وما لم أذكر فيه شيئًا فهو صالح.
হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল (ضعيف), আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام), কিন্তু তিনি একজন ফকিহ (فقيه) যেভাবে বিধান উদ্ঘাটন করতে পারেন সেভাবে তা পারেন না।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “অনেক ফিকহ বা জ্ঞান বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকিহ (فقيه)।” তিনি আরও বলেন: “অনেক সময় যাকে সংবাদ পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।”
আর হাদিস শাস্ত্র—যার প্রতি অনেক মানুষ অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে এবং অন্যদেরও অনাগ্রহী করে তুলছে—যদি ফকিহ (فقيه) নিজে মুহাদ্দিস (محدث) না হন, তবে তিনি অবশ্যই বিভ্রান্ত হবেন; যেমনটি ইমাম শাওকানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে, যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের হাদিস অনেক এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা আবশ্যক, তাই আমাদের উলামায়ে কেরাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) কী করেন? উলামায়ে কেরাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) যখন কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করতে চান তখন কী করেন? যদি তা ‘সহিহাইন’-এ থাকে, তবে সত্যপন্থীগণ ‘সহিহাইন’-এর বিষয়বস্তুকে কবুল করে নেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; কেবল সামান্য কিছু হাদিস ব্যতীত যা হাফিজগণ (الحفاظ) যেমন আল-দারাকুতনী ও অন্যান্যরা সমালোচনা করেছেন। আর যদি তা ‘সহিহাইন’ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে হয়তো কোনো হাফিজ (حافظ) বা হাফিজগণের (الحفاظ) মধ্য থেকে কেউ সেটিকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করবেন—যেমন হাফিজ ইবনে হাজার, হাফিজ ইরাকি এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম যারা হাদিসকে সহিহ আখ্যা দেওয়া (التصحيح) এবং দুর্বল আখ্যা দেওয়ার (التضعيف) কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন—অথবা আপনাকে সেই হাদিসের সনদ (سند) নিয়ে গবেষণা করতে হবে। এটি করা আবশ্যক, অন্যথায় আপনার জন্য দলিল পেশ করা বৈধ হবে না। কেননা আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতো উলামায়ে কেরাম তার ‘সুনান’ গ্রন্থে বলেছেন: “আমি এখানে সহিহ (صحيح) এবং এর নিকটবর্তী ও সাদৃশ্যপূর্ণ হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি। আর যার মধ্যে তীব্র দুর্বলতা (وهن شديد) ছিল তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি, আর যে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করিনি তা সালেহ বা গ্রহণযোগ্য (صالح)।”
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وهكذا الترمذي ذكر الأحاديث الصحيحة، ورب حديث يذكره الترمذي ويقول: إنه ضعيف، ويقول: إنه منقطع، ويقول: إنه غريب. والغالب على ما قال فيه الترمذي: (غريب) فقط الضعف.
إذًا فسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يجب على المدرس وعلى الواعظ أن يتعلمها وما أكثر التخبطات في كلام كثير من الواعظين، وذلكم من زمن قديم حتى إن من العلماء من ألّف كتابًا بعنوان "القصّاص" وآخر يؤلف كتابًا بعنوان "تحذير الخواص من أحاديث القصاص"، وكثير من الواعظين يعظون الناس بأحاديث ضعيفة وموضوعة، خصوصًا الأحاديث التي يتلقاها بعضهم من بعض. فأنصح إخواني في الله من أراد أن يعظ فليقتن "رياض الصالحين" وليقتن "اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان" وليقتن الكتب التي قد خدمت.
أما أن تقرأ في "تنبيه الغافلين" لأبي الليث السمرقندي، أو تقرأ في "نزهة المجالس" أو تقرأ في "بدائع الزهوروكثير من الكتّاب العصريين يكتفون بقولهم: رواه الترمذي، رواه ابن ماجه، رواه أبوداود، رواه الطبراني. وهذا لا يكفى لأن هؤلاء لم يشترطوا الصحة، بل لابد أن يقول رواه الطبراني وهو حديث صحيح أو حسن أو ضعيف إلى غير ذلك.
لا يكفى أن يعزو الحديث، ثم بعد ذلك أنت تقرأ وتظن أنه قد طبع في المطابع ولو لم يكن صحيحًا لما طبع في المطابع، لا، فكتب السحر والدجل والشعوذة
একইভাবে তিরমিযী সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন। অনেক হাদিস তিরমিযী উল্লেখ করে বলেন: এটি দুর্বল (ضعيف), এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), এবং এটি অপরিচিত (غريب)। আর তিরমিযী যে হাদিস সম্পর্কে কেবল ‘অপরিচিত’ (غريب) বলেন, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটি দুর্বলতা (ضعف) বুঝায়।
সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা শিক্ষক ও ওয়ায়েজদের (ওয়াজকারী) জন্য আবশ্যক। অনেক ওয়ায়েজদের কথায় কতই না বিভ্রান্তি রয়েছে! এটি অনেক প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে, এমনকি আলেমদের মধ্যে কেউ 'আল-কুসসাস' শিরোনামে বই লিখেছেন, আবার কেউ 'তাহযীরুল খাওয়াছ মিন আহাদিসিল কুসসাস' শিরোনামে বই লিখেছেন। অনেক ওয়ায়েজ মানুষকে দুর্বল (ضعيف) এবং জাল (موضوع) হাদিস দিয়ে নসিহত করেন, বিশেষ করে সেই সব হাদিস যা তারা একে অপরের থেকে শুনে থাকেন। তাই আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ভাইদের নসিহত করছি যে, যারা ওয়াজ করতে চান তারা যেন 'রিয়াদুস সালিহীন', 'আল-লুলু ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান' এবং সেই সব কিতাব সংগ্রহ করেন যেগুলোর যথাযথ খেদমত করা হয়েছে।
কিন্তু আবু লাইস আস-সামারকান্দির 'তানবিহুল গাফিলিন' পাঠ করা, অথবা 'নুযহাতুল মাজালিস' কিংবা 'বাদায়িউয যুহুর' পাঠ করা (উচিত নয়)। বর্তমান সময়ের অনেক লেখক কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হন যে: এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তাবারানি বর্ণনা করেছেন। এটি যথেষ্ট নয়, কারণ এই ইমামগণ কেবল বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত করেননি। বরং তাকে অবশ্যই বলতে হবে যে, এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) কিংবা দুর্বল (ضعيف) হাদিস ইত্যাদি।
হাদিসের উৎস উল্লেখ করাই যথেষ্ট নয়। আপনি এটি পড়ার পর মনে করতে পারেন যে এটি যেহেতু ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছে, তাই এটি যদি সহিহ (صحيح) না হতো তবে মুদ্রিত হতো না। না, বিষয়টি এমন নয়; কারণ জাদুবিদ্যা, প্রতারণা ও ভেলকিবাজির বইগুলোও তো ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
طبعت في المطابع، فإن المطابع الآن أصبحت آلة ارتزاق، يهمهم أن يطبعوا الكتاب الذي ينفق لهم في الأسواق.
فلا بد أن تسأل العلماء، وأن ترحل إلى العلماء، كما كان العلماء السابقون يرحلون. فربما رحلوا من أجل حديث واحد، ونحن الآن معشر المسلمين يتغرب أحدنا عشر سنين، أو خمس سنين، أو سنتين من أجل الدنيا، أولئكم كانوا يتغربون، وكانوا يرحلون من أجل العلم، لعلمهم أنه لا قوام للأمة الإسلامية إلا بالعلم، لاسيما وبلدنا معشر اليمنيين فقيرة من العلم نحن محتاجون إلى شباب يدرسون كتاب الله ويحفظون كتاب الله، وإلى شباب يحفظون سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم والأمر سهل جدًا لو تغرب طالب العلم مدة يسيرة استطاع أن يحفظ القرآن ومدةً يسيرة يستطيع أن يعرف كيف يستفيد من الكتب العلمية يستطيع أن يستفيد في مدة يسيرة. يسر الله ذلك إنه على كل شيء قدير (1).
--------------------------------------------
মুদ্রণালয়গুলোতে (বইগুলো) মুদ্রিত হয়েছে, কেননা বর্তমান সময়ে মুদ্রণালয়গুলো কেবল জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে এমন বই ছাপানো যা বাজারে অধিক কাটতি পায়।
তাই আলেমদের জিজ্ঞাসা করা এবং আলেমদের নিকট সফর করা অপরিহার্য, যেমনটি পূর্ববর্তী আলেমগণ সফর করতেন। সম্ভবত তাঁরা কেবল একটি হাদিসের জন্য সফর করতেন, অথচ এখন আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থা এমন যে, কেউ দুনিয়ার স্বার্থে দশ বছর, পাঁচ বছর বা দুই বছর বিদেশে কাটিয়ে দেয়। তাঁরা বিদেশের মাটিতে কষ্ট করতেন এবং ইলম অর্জনের জন্য সফর করতেন, কারণ তাঁরা জানতেন যে ইলম ছাড়া ইসলামি উম্মাহর কোনো ভিত্তি নেই। বিশেষ করে আমাদের ইয়ামেনিদের ভূখণ্ড ইলমের দিক থেকে অতিশয় দরিদ্র। আমাদের এমন এক যুবসমাজ প্রয়োজন যারা আল্লাহর কিতাব অধ্যয়ন করবে ও আল্লাহর কিতাব হিফজ করবে এবং এমন যুবসমাজ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ হিফজ করবে। যদি একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী (তালিবে ইলম) অল্প সময়ের জন্য প্রবাসে অবস্থান করে, তবে সে কুরআন হিফজ করতে এবং কীভাবে জ্ঞানগর্ভ কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া যায় তা জানতে সক্ষম হবে। আল্লাহ যেন এটি সহজ করে দেন, নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أسئلة في المصطلح من أبي الحسن حفظه الله تعالىالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. وبعد:
فهذه عدة أسئلة نطرحها على شيخنا أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي حفظه الله تعالى، بحضور إخواننا طلبة العلم. ونسأل الله أن ينفعنا وأياهم، وأن يعلّمنا ما جهلنا.
السؤال1 في كتب المصطلح ذكروا: أن الرجل المشهور بالطلب ولم يثبتْ فيه جرح ولا تعديل، نص بعضهم مثل المزي، والذهبي، وابن القطان، وابن حجر، وغيرهم على قبول روايته، حتى يثبت جرح فيه، وأن أمره محمول على العدالة، وكان هذا منهم مصيّرًا على مذهب ابن عبد البر، في الحديث الذي ذكروه (1)، واعترضه
--------------------------------------------
আবু আল-হাসান (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর পক্ষ থেকে পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর:
ইলম অন্বেষী ভাইদের উপস্থিতিতে এই কয়েকটি প্রশ্ন আমরা আমাদের শায়খ আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর নিকট পেশ করছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি আমাদের ও তাদেরকে এর দ্বারা উপকৃত করুন এবং যা আমাদের অজানা তা আমাদের শিখিয়ে দিন।
প্রশ্ন ১: পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে তারা উল্লেখ করেছেন যে: ইলম অন্বেষণে প্রসিদ্ধ এমন ব্যক্তি যার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (جرح) বা নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) সাব্যস্ত হয়নি—আল-মিযযি, আয-যাহাবি, ইবনুল কাত্তান, ইবনে হাজার এবং আরও অনেকে তার বর্ণনা (رواية) কবুল করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন, যতক্ষণ না তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (جرح) প্রমাণিত হয়। তারা বিষয়টিকে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। এটি তাদের পক্ষ থেকে ইবনে আবদিল বার-এর মতের অনুগামী হওয়া, যা তারা একটি হাদিসের (১) ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি আপত্তির সম্মুখীন হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن الصلاح. بعضهم قال: إن هذا متعين في زمننا، وهذا الذي عليه العمل. فنريد أن نعرف: أن الرجل إذا لم يثبت فيه جرح ولا تعديل لكنه معروف عند أهل العلم، هل حديثه محمول على الاحتجاج به؟ أم ماذا؟
الجواب: الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم أجمعين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد: فالسؤال عن الرجل المحدّث المشهور بالطّلب، ولم يذكر فيه جرح ولا تعديل، ذكر صاحب "فتح المغيث" أن الرجل إذا كان مشهورًا بالطلب، ولم يأت فيه جرح ولا تعديل أنّهم يقبلونه، وهكذا الإمام الذهبي رحمه الله تعالى، لكن صاحب "فتح المغيث" مثّل بالإمام مالك رحمه الله تعالى، فالإمام مالك مشهور بالطلب وقد وثّق فإذا حصل من هذا النوع وكان مشهورًا بالطلب وتتلمذ له معاصروه مثل: يحيى بن سعيد القطان، أو يحيى بن معين، أو الأئمة من أمثالهما فيقبل، وإن لم يأت فيه جرح ولا تعديل، لأنه لو كان ضعيفًا لضعّف، والأصل في المسلمين هو العدالة، ولكنه يضاف إلى العدالة الحفظ -لا بد من معرفة الحفظ- إلا أنه لو كان مخلّطًا لصاحوا به، فهذا مستقيم إن شاء الله تعالى، ولا يقدح فيه أنّهم يشترطون العدالة ويشترطون الضبط، لو لم يكن عدلاً لما تتلمذ له،
ইবনুস সালাহ। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটিই আমাদের সময়ের জন্য নির্ধারিত এবং এর ওপরই আমল জারি রয়েছে। আমরা জানতে চাই: যদি কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমালোচনা (جرح) কিংবা প্রশংসা (تعديل) কোনোটাই প্রমাণিত না হয় কিন্তু তিনি আলেমদের নিকট পরিচিত হন, তবে কি তাঁর হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (الاحتجاج) বলে বিবেচিত হবে? নাকি অন্য কিছু?
উত্তর: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর: যে মুহাদ্দিস (المحدّث) হাদিস অন্বেষণে প্রসিদ্ধ কিন্তু তাঁর সম্পর্কে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) উল্লেখিত হয়নি, তাঁর বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। ফাতহুল মুগিস গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি হাদিস অন্বেষণে প্রসিদ্ধ হন এবং তাঁর সম্পর্কে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) না পাওয়া যায়, তবে তারা তাঁকে কবুল করেন। ইমাম যাহাবি (রহ.)-ও অনুরূপ মত দিয়েছেন। তবে ফাতহুল মুগিস গ্রন্থের লেখক ইমাম মালিক (রহ.)-এর উদাহরণ দিয়েছেন। ইমাম মালিক হাদিস অন্বেষণে প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثّق) সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুতরাং যদি এই প্রকারের কোনো ব্যক্তি হন যিনি হাদিস অন্বেষণে প্রসিদ্ধ এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামগণ যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বা তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ তাঁর নিকট ইলম অর্জন করেন, তবে তাঁকে গ্রহণ করা হবে; যদিও তাঁর সম্পর্কে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) না থাকে। কারণ তিনি যদি দুর্বল (ضعيف) হতেন তবে তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত (ضعّف) করা হতো। আর মুসলিমদের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো ন্যায়পরায়ণতা (العدالة); তবে ন্যায়পরায়ণতার সাথে স্মৃতিশক্তি (الحفظ) যোগ করতে হবে—স্মৃতিশক্তি (الحفظ) সম্পর্কে জানা আবশ্যক—যদি তিনি বর্ণনায় ভুলকারী বা সংমিশ্রণকারী (مخلّط) হতেন তবে তারা অবশ্যই তা চিৎকার করে প্রকাশ করে দিতেন। সুতরাং ইনশাআল্লাহ এটি সঠিক। তাঁরা যে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) ও নির্ভুলতা (الضبط) এর শর্তারোপ করেন, এটি তার কোনো ক্ষতি করে না; কারণ তিনি যদি ন্যায়পরায়ণ (عدل) না হতেন, তবে তাঁরা তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لا أقول: إنه لو لم يكن عدلاً لما تتلمذ له مثل يحيى وغيره، فإنّهم قد تتلمذوا للعدل ولغيره، فقد قال بعضهم: إننا نسمع الحديث للفائدة ونسمعه للنظر في حال صاحبه، لكن أقول: لو كان مخلطًا أو كان ليس بثقة لصاح به مثل يحيى بن معين، ومثل يحيى بن سعيد القطان، وهكذا الإمام أحمد والبخاري، والله أعلم.
السؤال2 استطراد: بارك الله فيك، المسألة على طرف آخر، فإن ابن الصلاح وغيره من الأئمة الذين تكلموا في المصطلح ذكروا: أن العدالة تثبت إما بالشهرة مثل الذين ذكرتهم -يحيى بن معين، وأحمد بن حنبل وغيرهم- وإما بالتنصيص على ذلك من واحد من العدول، لكن مسألتنا في جانب آخر: رجل لم يكن مشهورًا عند أئمة الجرح بالتوثيق، لأن مثل الإمام مالك رحمه الله تعالى أمره مستفيض وأمره مشهور بالعدالة، فشهرة هؤلاء أقوى من أن يعدلهم أحد الناس لكن مسألتنا مثل ما قالوا هنا في غير هؤلاء المشاهير، رجل قالوا: إنه (معروف). أو على سبيل المثال قالوا: إنه (حافظ) أو (ضابط).
الجواب: هذا أمر آخر: قالوا (معروف) لا تكفي، (حافظ) أو (ضابط) أو كذا يقبل منهم لأنه مثل أئمة الجرح والتعديل إذا أطلقوا مثل هذه العبارات على المحدث، فلو كان به جرح لصاحوا به مثل: أبي حاتم الرازي، ومثل أبي زرعة، ومن تقدّم ذكرهم،
আমি এটি বলছি না যে, যদি তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) না হতেন তবে ইয়াহইয়া ও অন্যান্যদের মতো ব্যক্তিরা তাঁর নিকট শিক্ষাগ্রহণ করতেন না; কেননা তাঁরা ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং ন্যায়পরায়ণ নন এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকেও শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: "আমরা হাদিস শ্রবণ করি ফায়দার জন্য এবং তা শ্রবণ করি বর্ণনাকারীর অবস্থা পর্যালোচনার জন্য।" তবে আমি বলব: যদি তিনি বিভ্রান্তিকর বর্ণনাকারী (مخلط) হতেন অথবা নির্ভরযোগ্য (ثقة) না হতেন, তবে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং অনুরূপভাবে ইমাম আহমদ ও বুখারির ন্যায় ব্যক্তিগণ তাঁর ত্রুটির ব্যাপারে সোচ্চার হতেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
প্রশ্ন ২ (প্রাসঙ্গিক আলোচনা): আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন। বিষয়টি ভিন্ন একটি দিক সম্পর্কিত। ইবনে আস-সালাহ এবং অন্যান্য ইমামগণ যাঁরা হাদিস শাস্ত্র (مصطلح) নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে: ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সাব্যস্ত হয় হয় প্রসিদ্ধির মাধ্যমে—যেমন আপনি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন (ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্য)—নতুবা কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তির পক্ষ থেকে সেই মর্মে সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের বিষয়টি অন্য ক্ষেত্রে: এমন এক ব্যক্তি যিনি জারহ ও তাদীল ইমামগণের নিকট নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (توثيق) মাধ্যমে প্রসিদ্ধ নন; কারণ ইমাম মালিক (রহ.)-এর ন্যায় ব্যক্তিদের বিষয়টি অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) এবং তিনি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণের জন্য খ্যাতিমান। তাঁদের এই প্রসিদ্ধি অন্য কারো ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার চেয়েও অধিক শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের বিষয়টি হলো তাঁদের বাইরে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে যাঁদের সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি ‘সুপরিচিত (معروف)’। অথবা উদাহরণস্বরূপ তাঁরা বললেন যে তিনি ‘হাফিজ (حافظ)’ কিংবা ‘সংরক্ষণকারী (ضابط)’।
উত্তর: এটি ভিন্ন একটি বিষয়। তাঁদের ‘সুপরিচিত (معروف)’ বলাটাই যথেষ্ট নয়; তবে ‘হাফিজ (حافظ)’ বা ‘সংরক্ষণকারী (ضابط)’ অথবা এই জাতীয় শব্দ তাঁদের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ সমালোচনা ও সংশোধনকারী (جرح وتعديل) ইমামগণ যখন কোনো মুহাদ্দিসের ব্যাপারে এ জাতীয় শব্দ প্রয়োগ করেন, তখন যদি তাঁর মধ্যে কোনো সমালোচনা (جرح) থাকত তবে আবু হাতিম আর-রাজি, আবু জুরআ এবং পূর্বে যাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মতো ইমামগণ অবশ্যই তাঁর ত্রুটি প্রকাশে সোচ্চার হতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لو سمعوا عنه ووجدوه مجروحًا، لا يتركونه. فتتلمذهم له، وشهرته، ولا بد أن يكون مشهورًا بالطلب، وتتلمذ له أئمة من أئمة الجرح والتعديل، فلو كان ضعيفًا لصاحوا به.
السؤال3 هل الحديث الذي تلقاه الناس بالقبول يحكم بصحته وإن لم يصح سنده، كما ذكر صاحب "التدريب" عن البخاري رحمه الله تعالى بحديث ((هو الطّهور ماؤه، الحلّ ميتته)) قال: لا أعلم له إسنادًا يصح غير أن الناس تلقوه بالقبول؟
الجواب: لا بد من النظر في أسانيده، وقد ذكر هذا الصنعاني في كتابه "توضيح الأفكار" وقد قال ابن عبد البر في بعض الأحاديث مثل حديث: ((لايمسّ القرآن إلاّ طاهر)) قال: إن الأمة تلقته بالقبول، وادعى بعضهم في حديث: ((اختلاف أمّتي رحمة)) أن الأمة تلقته بالقبول، وهذا ليس بصحيح، لا ذا ولا ذاك، وأما حديث: ((هو الطّهور ماؤه، الحلّ ميتته)) في ماء البحر فهو وإن لم يصح له سند بمفرده فهو بمجموع طرقه صالح للحجية، وإلا فلا بد من النظر في سنده، وما أكثر الأحاديث التي اشتهرت عند المحدثين، ومع هذا فهم ينظرون إلى أسانيدها، وما أكثر الأحاديث التي يسأل بعضهم بعضًا عن أسانيدها، فلا بد من النظر في السند والنظر في المتن، لا يكون المتن شاذًا ولا يكون معلاً، إلى غير ذلك، ذكر هذا الصنعاني في كتابه "توضيح الأفكار"
যদি তারা তাঁর সম্পর্কে শুনতে পেতেন এবং তাঁকে সমালোচিত (مجروح) হিসেবে পেতেন, তবে তাঁরা তাঁকে ছেড়ে দিতেন না। সুতরাং তাঁর কাছে তাঁদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করা এবং তাঁর প্রসিদ্ধি—আর জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর প্রসিদ্ধ হওয়া আবশ্যক—পাশাপাশি জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামদের মধ্য থেকে একদল ইমাম তাঁর কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তিনি যদি দুর্বল (ضعيف) হতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই সে সম্পর্কে উচ্চকণ্ঠ হতেন।
প্রশ্ন ৩: কোনো হাদিস যা মানুষ কবুল করে নিয়েছে, সেটিকে কি সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করা হবে, যদিও তার সনদ (سند) সহিহ (صحيح) না হয়? যেমনটি 'তাদরিব' গ্রন্থের লেখক ইমাম বুখারি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে "এর পানি পবিত্র, এর মৃত প্রাণী হালাল" হাদিসটি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি এর এমন কোনো ইসনাদ (إسناد) জানি না যা সহিহ (يصح), তবে মানুষ একে কবুল করে নিয়েছে।"
উত্তর: তার আসানিদ (أسانيد) বা সনদসমূহ পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। সানআনি তাঁর 'তওদিহুল আফকার' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবদিল বার কিছু হাদিস সম্পর্কে—যেমন: "পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না"—বলেছেন যে, উম্মাহ এটি কবুল করে নিয়েছে। আবার কেউ কেউ "আমার উম্মতের মতভেদ রহমত" হাদিসটি সম্পর্কে দাবি করেছেন যে উম্মাহ একে কবুল করে নিয়েছে, অথচ এটি সঠিক (صحيح) নয়; এটিও নয়, ওটিও নয়। আর সমুদ্রের পানি সম্পর্কে "এর পানি পবিত্র, এর মৃত প্রাণী হালাল" হাদিসটি যদিও এককভাবে কোনো সহিহ (يصح) সনদ (سند) লাভ করেনি, তবুও তার সকল সূত্রের সমষ্টিগতভাবে (بمجموع طرقه) এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (صالح للحجية)। অন্যথায় তার সনদ (سند) যাচাই করা অপরিহার্য। মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ এমন অনেক হাদিস রয়েছে, তা সত্ত্বেও তাঁরা সেগুলোর আসানিদ (أسانيد) পর্যবেক্ষণ করেন। এমন অনেক হাদিস রয়েছে যেগুলোর সনদ (أسانيد) সম্পর্কে তাঁরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করেন। সুতরাং সনদ (السند) এবং মতন (المتن) উভয়ই দেখা জরুরি; মতন (المتن) যেন শায বা ব্যতিক্রমী (شاذ) না হয় এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) না হয় ইত্যাদি। সানআনি তাঁর 'তওদিহুল আফকার' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم رب حديث يكون قد تلقاه طائفة من الناس بالقبول مثل حديث: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم لما أرسل معاذًا إلى اليمن قال: ((بم تقضي فيهم)) قال: بكتاب الله تعالى. قال: ((فإن لم تجد))؟ قال: فبسنّة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم. قال: ((فإن لم تجد))؟ قال: أجتهد رأيي ولا آلو.
يقولون: إن الفقهاء تلقوه بالقبول، أبومحمد بن حزم رحمه الله يقول: إنه نفق عليهم الحديث وتناقلوه من كتاب إلى كتاب، حتى ظنوه أنه متلقى بالقبول، مع أنه يدور على الحارث بن عمرو بن أخي المغيرة، وهو مجهول العين. وقد قال البخاري: إن حديثه لايصح. وله طرق أخرى ذكرها الشيخ ناصر الدين الألباني حفطه الله تعالى، ذكره في "سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة" وبيّن طرقه، وما فيها من الضعف.
السؤال4 في تعارض الجرح والتعديل ذكر الجمهور أن الجرح مقدم، لأن الجارح لا يكذب المعدلين، ولكن يوافقهم ويقول: اطلعت على ما لم تطلعوا عليه. والحافظ ابن حجر له في ذلك مذهب كما تعلمون: أن الرجل إذا ثبتت له مرتبة سنيّة فلا يزحزح عنها إلا بأمر جلي. وأنا ليس سؤالي في الجرح أو التعديل ولكن سؤالي فيما إذا تعارضت مرتبة، كأن يقول في رجل: ثقة، وآخر يقول فيه: صالح الحديث، أو حسن الحديث، أو شيخ، وأحد العلماء يجعله في مرتبة الاحتجاج، وآخر يجعله في مرتبة الاستشهاد، واللذان تعارض كلامهما من أئمة الشأن ليس لأحد منهم فضل على الآخر حتى أرجّح كلامه على الآخر، فلا أدري: هل أبقيه
অতঃপর এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা একদল মানুষ গ্রহণের মাধ্যমে সমাদৃত (تلقاه بالقبول) করেছে, যেমন এই হাদিসটি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তিনি বললেন: "তুমি তাদের মধ্যে কিসের ভিত্তিতে ফয়সালা করবে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলার কিতাব অনুযায়ী।" তিনি বললেন: "যদি তুমি তা না পাও?" তিনি বললেন: "তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী।" তিনি বললেন: "যদি তুমি তা-ও না পাও?" তিনি বললেন: "আমি আমার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ করব এবং কোনো ত্রুটি করব না।"
তারা বলেন: ফকিহগণ এটিকে গ্রহণের মাধ্যমে সমাদৃত (تلقوه بالقبول) করেছেন। আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদিসটি তাদের মাঝে প্রচলিত হয়ে গেছে এবং তারা এক কিতাব থেকে অন্য কিতাবে এটি বর্ণনা করে গেছেন, এমনকি তারা ধারণা করে নিয়েছেন যে এটি গ্রহণের মাধ্যমে সমাদৃত (متلقى بالقبول)। অথচ এটি হারিস ইবনে আমর ইবনে আখিল মুগিরা-এর মাধ্যমে বর্ণিত, আর তিনি হলেন ব্যক্তিগতভাবে অজ্ঞাত (مجهুল العين)। ইমাম বুখারি বলেছেন: তার হাদিস সহিহ নয় (لايصح)। এর আরও কিছু সূত্র রয়েছে যা শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (হাফিজাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর সূত্রসমূহ ও তাতে বিদ্যমান দুর্বলতা (الضعف) বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন ৪: জরহ (الجرح) এবং তাদিল (التعديل)-এর বৈপরীত্য (تعارض) প্রসঙ্গে জমহুর ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, জরহ অগ্রগণ্য (مقدم); কারণ যিনি জরহ করেন তিনি তাদিলকারীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন না, বরং তাদের সাথে একমত পোষণ করেন এবং বলেন: "আমি এমন বিষয় অবগত হয়েছি যা আপনারা অবগত হননি।" আর হাফিজ ইবনে হাজার এ বিষয়ে একটি বিশেষ মত পোষণ করেন, যা আপনারা জানেন: কোনো ব্যক্তির উচ্চমর্যাদা সাব্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া তাকে তা থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। আমার প্রশ্ন জরহ বা তাদিল নিয়ে নয়, বরং আমার প্রশ্ন হলো যখন বর্ণনাকারীর স্তরে বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয়। যেমন—একই ব্যক্তি সম্পর্কে কেউ বললেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবার অন্যজন বললেন: হাদিস বর্ণনায় উপযুক্ত (صالح الحديث), অথবা হাসান হাদিস বর্ণনাকারী (حسن الحديث), অথবা শায়খ (شيخ)। কোনো আলেম তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) স্তরে রাখছেন, আবার অন্যজন তাকে সমর্থনমূলক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের (الاستشهاد) স্তরে রাখছেন। যাদের বক্তব্যের মধ্যে এই বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে তারা উভয়ই এই শাস্ত্রের ইমাম, যাদের একজনের ওপর অন্যজনের এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই যার ভিত্তিতে আমি একজনের বক্তব্যকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য (أرجّح) দিতে পারি। এমতাবস্থায় আমি বুঝতে পারছি না যে, আমি কি তাকে সেই স্তরেই রাখব...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
على مرتبة الثقة ولا أنزله إلى مرتبة الاستشهاد؟ أم ماذا؟
الجواب: مثل هذا الحافظ ابن حجر في "تقريب التهذيب" يأخذ مرتبة وسطى، ويجعله صدوقًا، وهذا حسن، والمسألة اجتهادية.
السؤال5 رجل وصف بأنه (عابد) أو (مقلّ)، ليس في وصفه إلا هكذا، فهل يعتبر بحديثه، ويستشهد به؟
الجواب: يستشهد به، ولا يحتج به، لأن العبادة تحتاج إلى حفظ، فما أكثر المحدثين العابدين الذين ضعّفوا مثل: أبان بن أبي عياش، وعبد الله بن عمر العمري، وجمع كثير من العباد الذين ضعّفوا، حتى قال يحيى بن سعيد رحمه الله تعالى: لم نر الصالحين في شيء أكذب منهم في الحديث. أو بهذا المعنى، يقول مسلم: بمعنى أن الكذب يجري على ألسنتهم ولا يتعمدونه. فهذه العبارة لفظة (عابد) أو ما يجري مجراها لا تدل على أنه يقبل الحديث، لأنه يشترط في الحديث أمر آخر وهو: الضبط. والله المستعان.
السؤال6 لو أن أحدنا مثلاً قال: إنه معروف من الصالحين أنّهم مغفلون في الحديث ويفحشون في الخطأ، وقال: إن الذي يوصف بعابد لا أستشهد بحديثه، فكم جرب على عابد أنه لا يحتج بحديثه ولا يستشهد به، ونزله منْزلة المردود، نعم هو عابد في دينه، أما من حيث حفظه فإنه ليس بشيء، لو أن أحد الناس قال: الذي يوصف بعابد لا يحتج به، ولا يستشهد به، بم نجيب عليه؟
নির্ভরযোগ্য (ثقة) পর্যায়ে কি তাকে রাখব, নাকি তাকে সাক্ষ্য গ্রহণের (استشهاد) পর্যায়ে নামিয়ে দেব? নাকি অন্য কিছু?
উত্তর: হাফেজ ইবনে হাজার "তাক্বরীবুত তাহযীব"-এ এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি মধ্যম পর্যায়ের অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাকে সত্যবাদী (صدوق) হিসেবে গণ্য করেন, আর এটিই উত্তম (حسن); বিষয়টি ইজতিহাদনির্ভর।
প্রশ্ন ৫: এমন এক ব্যক্তি যাকে 'ইবাদতকারী (عابد)' বা 'স্বল্প বর্ণনাকারী (مقلّ)' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং তার বর্ণনায় কেবল এটুকুই আছে; তবে কি তার হাদিস গ্রহণযোগ্য (يعتبر) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ (يستشهد) করা যাবে?
উত্তর: তার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ (يستشهد) করা যাবে, কিন্তু তা দলীল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করা যাবে না। কারণ ইবাদতের জন্য হিফজ বা মুখস্থশক্তির প্রয়োজন হয়। কতই না ইবাদতকারী হাদিস বিশারদ রয়েছেন যাদেরকে দুর্বল (ضعّفوا) সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেমন: আবান বিন আবি আয়্যাশ এবং আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-উমরি। আরও বহু সংখ্যক ইবাদতকারী রয়েছেন যাদেরকে দুর্বল (ضعّفوا) করা হয়েছে। এমনকি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা নেককার লোকদের হাদিসের চেয়ে অন্য কোনো বিষয়ে এত বেশি মিথ্যা বলতে দেখিনি।" অথবা এই অর্থবোধক কোনো কথা। ইমাম মুসলিম বলেন: এর অর্থ হলো তাদের মুখ দিয়ে অবলীলায় মিথ্যা বের হয়ে আসে কিন্তু তারা তা ইচ্ছা করে করেন না। সুতরাং এই 'ইবাদতকারী (عابد)' শব্দ বা এই জাতীয় শব্দাবলি হাদিস গৃহীত হওয়ার প্রমাণ দেয় না; কেননা হাদিসের ক্ষেত্রে অন্য একটি শর্তও আবশ্যক, আর তা হলো: মুখস্থশক্তির নির্ভুলতা (ضبط)। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
প্রশ্ন ৬: আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি উদাহরণস্বরূপ বলে: নেককারদের ব্যাপারে এটি প্রসিদ্ধ যে তারা হাদিসের ক্ষেত্রে অসতর্ক এবং তাদের ভুলগুলো অত্যন্ত প্রকট; আর তিনি বললেন: যাকে ইবাদতকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়, আমি তার হাদিস দ্বারা সাক্ষ্য গ্রহণ (استشهد) করব না। কারণ অনেক ইবাদতকারীর ক্ষেত্রেই পরীক্ষিত যে তাদের হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করা যায় না এবং তার মাধ্যমে সাক্ষ্যও গ্রহণ (يستشهد) করা যায় না; ফলে তিনি তাকে প্রত্যাখ্যাত (مردود) স্তরে নামিয়ে দিলেন। হ্যাঁ, তিনি হয়তো তার দ্বীনদারির ক্ষেত্রে ইবাদতকারী, কিন্তু হিফজ বা মুখস্থশক্তির দিক থেকে তিনি কিছুই নন। যদি কোনো ব্যক্তি বলে: যাকে ইবাদতকারী হিসেবে অভিহিত করা হয় তাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করা যাবে না এবং তার মাধ্যমে সাক্ষ্যও গ্রহণ (يستشهد) করা যাবে না, তবে আমরা তাকে কী জবাব দেব?
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الجواب: كم روى عنه؟ نرجع إلى القاعدة: إذا روى عنه اثنان فأكثر، ولم يوثقه معتبر ولم يجرح، يصلح في الشواهد والمتابعات.
السؤال7 ذكرتنا بكم الرواة عنه قالوا: إن الراوي عنه يكون عدلاً، لو أنّ -مثلاً- رجلاً شيخًا، في ترجمته أنه شيخ من مراتب الاستشهاد وليس من مراتب الاحتجاج، وكان من الرواة عنه أناس هم من مراتب الاستشهاد، هل يرفعون جهالته؟
الجواب: الظاهر أن جهالته ترتفع، إلا إذا كان الراوي عنه كذابًا، فربما أن الكذاب يروي عمن لم يوجد ولم يخلق.
السؤال8 وإذا قالوا في الرجل: (يروي عن الثقات ما ليس من حديثهم)، هل هذا الكلام يفهم منه أنه كذاب أو أنه منكر الحديث؟
الجواب: ينبغي أن ينظر في قائل هذه الكلمة، فإن مثل هذه الكلمة يقولها ابن حبان في بعض الحفاظ الكبار، من رجال البخاري ومسلم، فإذا قالها الإمام أحمد، أو يحيى بن معين، أو من جرى مجراهما، فمثل هؤلاء ينظر فيما قاله غير القائل، ينظر أوثّقه غير القائل؟ أو قال: إنه صدوق غير القائل. أما إذا لم ترد إلا هذه العبارة فهي تعتبر جرحًا، وهي محتملة أنه يكذب، وأنه يهم. محتملة لهذا وهذا، فنحن نتوقف في أمره، لا نحكم عليه بأنه كذاب، ولا نحكم عليه بأنه صالح للشواهد والمتابعات، ولكن
উত্তর: তার থেকে কতজন বর্ণনা করেছেন? আমরা মূলনীতির দিকে ফিরে যাই: যদি তার থেকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেন এবং কোনো গ্রহণযোগ্য (معتبر) ব্যক্তি তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন (وثق) না করেন আবার তাকে সমালোচিতও (جرح) না করা হয়, তবে তিনি শাহেদ (شواهد) এবং মুতাবিআত (متابعات) হিসেবে উপযুক্ত।
প্রশ্ন ৭: আপনি আমাদের বর্ণনাকারীদের সংখ্যা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন: তার থেকে বর্ণনাকারী যদি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন, যেমন- কোনো একজন শাইখ (شيخ), যার পরিচিতিতে বলা হয়েছে যে তিনি শাহেদের স্তরের (مراتب الاستشهاد), দলিলের স্তরের (مراتب الاحتجاج) নন; আর যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তারাও শাহেদের স্তরের (مراتب الاستشهاد) অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তারা কি তার অজ্ঞাত অবস্থা (جهالة) দূর করতে পারবেন?
উত্তর: বাহ্যত তার অজ্ঞাত অবস্থা (جهالة) দূর হয়ে যাবে, তবে যদি তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিটি চরম মিথ্যুক (كذاب) হয় তবে ভিন্ন কথা। কেননা সম্ভবত কোনো চরম মিথ্যুক (كذاب) এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করতে পারে যার কোনো অস্তিত্বই নেই এবং যাকে সৃষ্টিই করা হয়নি।
প্রশ্ন ৮: যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়: "তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা তাদের হাদিস নয়", তবে এই কথা থেকে কি এটা বোঝা যায় যে তিনি একজন চরম মিথ্যুক (كذاب) নাকি তিনি অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)?
উত্তর: এই কথাটির প্রবক্তার দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। কারণ ইবনে হিব্বান এমন কথা কিছু বড় বড় হাফেজদের (حفاظ) ক্ষেত্রেও বলেছেন যারা বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের (رجال) অন্তর্ভুক্ত। আর যদি ইমাম আহমাদ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বা তাদের সমপর্যায়ের কেউ এটি বলেন, তবে অন্যদের মন্তব্যের দিকে তাকাতে হবে। দেখতে হবে মন্তব্যকারী ছাড়া অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেছেন কি না? অথবা অন্য কেউ তাকে সত্যবাদী (صدوق) বলেছেন কি না? কিন্তু যদি এই একটি বাক্য ছাড়া আর কিছু না পাওয়া যায়, তবে এটি সমালোচনা (جرح) হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে এই সম্ভাবনাও আছে যে তিনি মিথ্যা বলছেন অথবা তার ভ্রম (وهم) হয়েছে। যেহেতু এখানে উভয় সম্ভাবনা বিদ্যমান, তাই আমরা তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখব; তাকে চরম মিথ্যুক (كذاب) হিসেবেও রায় দেব না, আবার শাহেদ (شواهد) ও মুতাবিআত (متابعات) হিসেবেও তাকে যোগ্য বলব না, কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إن وردت عبارات أخرى لبعض أهل العلم يحمل عليها هذا القول، بمعنى أنه يهم، وينظر أذلك الحديث من أوهامه، أم ليس من أوهامه؟ فإذا لم ترد إلا هذه العبارة توقفنا في أمره ولا نحتج به، لكن ربما يصلح للشواهد والمتابعات، وينظر فيمن روى عنه أهم من الثقات الأثبات أم ماذا؟
السؤال9 قولهم في الرجل: (يروي المعضلات) هل المقصود بذلك العجائب والمشكلات، أو الأوابد -كما يقولون-، أم المعضلات بالمعنى الاصطلاحي؟ وإذا كان المقصود المعنى الاصطلاحي فما وجه القدح؟
الجواب: ذلك بمعنى الأوابد، وبمعنى الأمور التي لم تثبت عنهم، لكن هذه العبارة -كما تقدم- ينبغي أن ينظر في قائلها، فيخشى أن تكون من ابن حبان رحمه الله تعالى، فكثيرًا ما يقول: يروي المعضلات عن الأثبات فاستحق الترك. فابن حبان هو شديد التجريح، كما أنه متساهل في توثيق المجهولين، فهو يطلق هذه العبارة على بعض رجال الشيخين، فيتوقف في كلامه، وربما اعترض عليه الحافظ الذهبي وقال: إنه لا يدري ما يخرج من رأسه.
السؤال10 بارك الله فيكم. ومثلها قولهم (يروي المرسلات والمنقطعات والمقطوعات)، ماوجه القدح فيها؟
যদি কিছু বিজ্ঞ আলেমদের পক্ষ থেকে অন্য কোনো উক্তি বর্ণিত হয়ে থাকে যা দ্বারা এটিই বোঝানো হয়, অর্থাৎ তিনি ভুল করেন (يهم), তবে দেখতে হবে যে সেই হাদিসটি কি তাঁর ভুলগুলোর (أوهامه) অন্তর্ভুক্ত, নাকি তাঁর ভুল নয়? যদি এই উক্তিটি ছাড়া অন্য কিছু না পাওয়া যায়, তবে তাঁর ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্তহীন থাকব এবং তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (نحتج به) করব না। তবে সম্ভবত এটি শাহেদ (الشواهد) এবং মুতাবিআত (المتابعات) হিসেবে উপযুক্ত হতে পারে। আর লক্ষ্য করতে হবে যে, যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁরা কি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (الثقات الأثبات) বর্ণনাকারী কি না?
৯নং প্রশ্ন: কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাঁদের এই উক্তি: "তিনি মোদাল (المعضلات) বর্ণনা করেন"—এর দ্বারা কি বিস্ময়কর (العجائب) ও সমস্যাসংকুল (المشكلات) বিষয়গুলো উদ্দেশ্য, নাকি অস্বাভাবিক বা বিরল (الأوابد) বর্ণনা—যেমনটি তাঁরা বলে থাকেন—উদ্দেশ্য? নাকি এটি পারিভাষিক অর্থের মোদাল (المعضلات) হাদিস? আর যদি পারিভাষিক অর্থই উদ্দেশ্য হয়, তবে এতে আপত্তির (القدح) দিকটি কী?
উত্তর: এটি বিরল বা অস্বাভাবিক (الأوابد) বর্ণনার অর্থে এবং এমন বিষয়ের অর্থে যা তাঁদের থেকে সাব্যস্ত বা প্রমাণিত (لم تثبت) হয়নি। তবে এই উক্তিটির ক্ষেত্রে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—এর প্রবক্তার দিকে লক্ষ্য করা উচিত। আশঙ্কা হয় যে এটি ইবনে হিব্বান রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর উক্তি হতে পারে; কারণ তিনি প্রায়ই বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্যদের থেকে মোদাল (المعضلات) হাদিস বর্ণনা করেন, ফলে তিনি বর্জনীয় (الترك) হওয়ার যোগ্য।" ইবনে হিব্বান জারহ বা সমালোচনার (التجريح) ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর, যেমনটি তিনি অপরিচিতদের (المجهولين) নির্ভরযোগ্য (توثيق) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শিথিল। তিনি এই উক্তিটি শায়খাইন-এর কিছু বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন, তাই তাঁর বক্তব্যের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় (অর্থাৎ সরাসরি গ্রহণ না করে স্থগিত রাখা হয়)। সম্ভবত হাফিজ যাহাবী তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি জানেন না তাঁর মস্তিষ্ক থেকে কী নিঃসৃত হচ্ছে।"
১০নং প্রশ্ন: বারাকাল্লাহু ফিকুম। অনুরূপভাবে তাঁদের এই উক্তি: "(তিনি) মুরসাল (المرسلات), মুনকাতি (المنقطعات) এবং মাকতু (المقطوعات) হাদিস বর্ণনা করেন"—এতে আপত্তির (القدح) কারণ কী?
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الجواب: الظاهر أنّهم يعنون بهذا أنه يصل المرسلات، لعلهم يعنون هذا، يصل المرسل ويرفع الموقوف … الخ، هذا بمعنى أنه يخالف الناس في هذا، فإذا كان ثقةً أو قيل فيه: صدوق، بقي علينا أن ننظر في كتاب "ميزان الاعتدال" وفي كتاب "الكامل" لابن عدي، وفي غير هذين الكتابين، أهذا الحديث مما تفرد هو برفعه والناس يروونه موقوفًا، أو تفرد بوصله والناس يروونه مرسلاً؟ فينبغي أن تراجع ترجمته، وإذا قد وثقه العلماء الأثبات -وبعضهم قال هذا-، بقي علينا أن ننظر في ترجمته، أهذا الحديث مما أخطأ فيه؟ فيترك خطؤه، وهكذا إذا قالوا: صدوق يهم، صدوق يخطيء، وهنا أمر أنصح به طلبة العلم وهو: أن يعرضوا ما كتبوه على كتب العلل، فربّ حديث نغترّ به ونقول: إن رجاله رجال الشيخين، ثم بعد هذا نجد أن الحديث معل، وقد حكم عليه بالوضع، وربّ حديث قد حدّثْنا به وهززْنا به رؤوسنا وفي النهاية فإذا الحديث معل، وقد قال أبوحاتم أو الدارقطني رحمهما الله تعالى: إن هذا معل، فالذي أنصح به إخواني في الله أن يعرضوا ما كتبوه على كتب العلل، والحمد لله كتب العلل تغربل الأحاديث غربلة، وقد قال علي بن المديني -وهو كما يقول الحافظ ابن حجر: أعلم أهل عصره بعلل الحديث- يقول: الحديث إذا لم تجمع طرقه، لم يتبين خطؤه. والله المستعان.
উত্তর: বাহ্যত মনে হয় যে, তারা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেন যে সে মুরসাল (مرسل) হাদিসগুলোকে সংযুক্ত (يصل) করে; সম্ভবত তারা এটিই বুঝাতে চেয়েছেন যে, সে মুরসালকে (مرسل) মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করে এবং মাওকুফ (موقوف) হাদিসকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করে … ইত্যাদি। এর অর্থ হলো সে এ বিষয়ে অন্যান্যদের বিরোধিতা করে। সুতরাং সে যদি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হয় অথবা তার সম্পর্কে সত্যবাদী (صدوق) বলা হয়ে থাকে, তবে আমাদের জন্য বাকি থাকে "মিজানুল ইতিদাল" এবং ইবনে আদীর "আল-কামিল" কিতাবসহ এই দুই কিতাব ব্যতিরেকে অন্যান্য কিতাবসমূহ দেখা। এই হাদিসটি কি এমন যা সে মারফু (مرفوع) হিসেবে এককভাবে বর্ণনা করেছে অথচ সাধারণ বর্ণনাকারীগণ তা মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেন? অথবা সে কি এটি মুত্তাসিল বা সংযুক্ত বর্ণনায় একক হয়ে গেছে অথচ সাধারণ বর্ণনাকারীগণ তা মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন? সুতরাং তার জীবনী (ترجمة) পর্যালোচনা করা উচিত। আর যদি সুদৃঢ় (أثبات) আলেমগণ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে সত্যায়ন করে থাকেন —এবং তাদের কেউ কেউ এমনটি বলেছেন— তবে আমাদের জন্য তার জীবনী (ترجمة) দেখা বাকি থাকে যে, এই হাদিসটি কি এমন যাতে সে ভুল করেছে? তবে তার ভুলটি বর্জন করা হবে। তদ্রূপ যদি তারা বলেন: 'সত্যবাদী কিন্তু ভ্রমপ্রবণ' (صدوق يهم), 'সত্যবাদী কিন্তু ভুল করে' (صدوق يخطئ)। এখানে একটি বিষয় যা আমি ইলম অন্বেষণকারীদের নসিহত করছি তা হলো: তারা যেন যা লিখেছে তা ইলমে ইলাল (علل) সংক্রান্ত কিতাবসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখে। কেননা অনেক সময় আমরা কোনো হাদিস দেখে মুগ্ধ হই এবং বলি: এর বর্ণনাকারীগণ শাইখাইন-এর বর্ণনাকারী, অথচ এরপর আমরা দেখতে পাই যে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معل) এবং এর ওপর জাল (وضع) হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক হাদিস আমরা বর্ণনা করি এবং তাতে তৃপ্তি অনুভব করি, অথচ পরিশেষে দেখা যায় হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معل)। ইমাম আবু হাতিম অথবা ইমাম দারা কুতনী (রহিমাহুমুল্লাহ) হয়তো বলেছেন: এটি ত্রুটিযুক্ত (معل)। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমি আমার ভাইদের যে নসিহত করছি তা হলো, তারা যা লিখেছে তা যেন ইলাল (علل) শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখে। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, ইলাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ হাদিসগুলোকে সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করে। আলী ইবনুল মাদীনী —যিনি হাফিজ ইবনে হাজার-এর ভাষ্যমতে: স্বীয় যুগের হাদিসের ত্রুটি (علل) সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন— বলেন: হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) যদি একত্রিত করা না হয়, তবে তার ভুলগুলো স্পষ্ট হয় না। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
السؤال11 إذا قال أحد من أئمة الحديث: إن الحديث معلول. فهل لا بد من أن يبين السبب ويظهره لنا كطلبة علم، أو لا يقبل منه هذا القول، أو يقبل منه من غير بيان؟
الجواب: أنا وأنت في هذا الأمر ننظر إلى القائل، فإذا قاله أبوحاتم، أو أبوزرعة، أو البخاري، أو أحمد بن حنبل، أو علي بن المديني، ومن جرى مجراهم، نقبل منه هذا القول، وقد قال أبوزرعة كما في "علوم الحديث للحاكم" ص (113) عند جاء إليه رجل وقال: ما الحجة في تعليلكم الحديث؟ قال: الحجة -إذا أردت أن تعرف صدقنا من عدمه، أنحن نقول بتثبت أم نقول بمجرد الظن والتخمين؟ - أن تسألني عن حديث له علة فأذكر علته، ثم تقصد ابن وارة -يعني محمد بن مسلم بن وارة- وتسأله عنه ولا تخبره بأنك قد سألتني عنه فيذكر علته، ثم تقصد أبا حاتم فيعلله ثم تميز كلام كل منا على ذلك الحديث، فإن وجدت بيننا خلاف فاعلم أن كلاً منا تكلم على مراده، وإن وجدت الكلمة متفقة فاعلم حقيقة هذا العلم. ففعل الرجل فاتفقت كلمتهم عليه فقال أشهد أن هذا العلم إلهام.
وقد قال عبد الرحمن بن مهدي كما في "العلل" لابن أبي حاتم (ج1 ص10): إن كلامنا في هذا الفن يعتبر كهانة عند الجهال.
وإذا صدر من حافظ من المتأخرين، حتى من الحافظ ابن حجر ففي النفس شيء، لكننا لا نستطيع أن نخطّئه، وقد مرّ بي حديث في
১১ নং প্রশ্ন: হাদিস বিশারদ ইমামদের মধ্যে কেউ যদি বলেন: এই হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول)। তবে ইলমে দ্বীনের ছাত্র হিসেবে আমাদের কাছে কি তার কারণ স্পষ্ট করা ও প্রকাশ করা কি আবশ্যক? নাকি তার এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না? অথবা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তা গ্রহণ করা হবে?
উত্তর: এই বিষয়ে আমি ও আপনি (উভয়েই) প্রবক্তার দিকে লক্ষ্য করব। যদি এই কথা আবু হাতেম, আবু জুরআ, বুখারি, আহমাদ বিন হাম্বল, আলি ইবনুল মাদিনি অথবা যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন এমন কেউ বলেন, তবে আমরা তাদের এই বক্তব্য গ্রহণ করব। আবু জুরআ যেমনটি হাকেম-এর "উলুমুল হাদিস" (পৃষ্ঠা ১১৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যখন এক ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: "হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে (تعليل) আপনাদের কাছে দলিল কী?" তিনি বললেন: "দলিল হলো—যদি তুমি আমাদের সত্যবাদিতা যাচাই করতে চাও যে, আমরা কি দৃঢ়তার সাথে বলছি নাকি কেবল ধারণা ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলছি?—তবে তুমি আমাকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো যাতে ত্রুটি (علة) রয়েছে এবং আমি তার ত্রুটি (علة) বর্ণনা করব। এরপর তুমি ইবনে ওয়ারাহ—অর্থাৎ মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বিন ওয়ারাহ—এর কাছে যাবে এবং তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে; তাকে বলবে না যে তুমি আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। তিনিও এর ত্রুটি (علة) বর্ণনা করবেন। এরপর তুমি আবু হাতেমের কাছে যাবে এবং তিনিও এর ত্রুটি (علة) বর্ণনা করবেন। অতঃপর তুমি সেই হাদিস সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের বক্তব্য পর্যালোচনা করবে। যদি তুমি আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য পাও, তবে জানবে যে আমাদের প্রত্যেকেই নিজের খেয়ালখুশি মতো বলেছে। আর যদি দেখো আমাদের বক্তব্য অভিন্ন, তবে জানবে এই ইলমের প্রকৃত বাস্তবতা।" অতঃপর লোকটি তাই করল এবং তাদের সবার বক্তব্য এক হয়ে গেল। তখন সে বলল, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এই জ্ঞান একটি ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা (ইলহাম)।"
আব্দুর রহমান বিন মাহদি যেমনটি ইবনে আবু হাতেম-এর "আল-ইলাল" (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০) গ্রন্থে বলেছেন: "মূর্খদের নিকট আমাদের এই শাস্ত্রের আলোচনা গণকগিরি হিসেবে বিবেচিত হয়।"
কিন্তু যদি পরবর্তী যুগের কোনো হাফেজ (حافظ), এমনকি হাফেজ ইবনে হাজার-এর পক্ষ থেকেও এমনটি প্রকাশিত হয়, তবে মনে কিছুটা সংশয় জাগে; তবুও আমরা তাকে ভুল বলতে পারি না। আর আমার নিকট এমন একটি হাদিস অতিক্রান্ত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকতারাহু ফি আজউবাতি বাদি আসইলাতিল মুসতালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
"بلوغ المرام" قال الحافظ: إنه معلول. ونظرت في كلام المتقدمين، فما وجدت كلامًا في تصحيح الحديث ولا تضعيفه، ولا وجدت علةً، فتوقفت فيه.
ففهمنا من هذا، أنه إذا قاله العلماء المتقدمون ولم يختلفوا، أخذنا به عن طيبة نفس واقتناع، وإذا قاله حافظ من معاصري الحافظ ابن حجر نتوقف فيه.
السؤال12 ذكرتم في من قيل فيه: (صدوق يخطئ)، أو (صدوق يهم): أننا نرجع "للميزان" للذهبي أو "الكامل" لابن عدي للنظر، هل هذا الحديث من أوهامه وأخطائه، أم لا؟ وأحيانًا أرجع إلى ترجمة بعض الرواة الذين قيل فيهم هذه المقالة، فأجدهم يقولون: ومن أوهامه، لا يسوقون هذا مساق الحصر، ولكن مساق التمثيل، يمثّلون بأوهامه، ولم يذكروا الحديث الذي بين يدي، لكنهم ما قالوا: إن هذه كل أوهامه، وإنما ذكروها على سبيل المثال، فكيف بالحديث الذي بين يدي؟
الجواب: سؤال حسن، إن كان الحديث من أحاديث الأحكام، فأحاديث الأحكام قد نخلت نخلاً، لأن هناك فقهاء محدثين، مثل الإمام النووي، ومثل الإمام الحافظ ابن حجر، ومثل العراقي، ومثل الزيلعي في "نصب الراية"، ومثل من تقدمهم، كالبيهقي، ومثل الطحاوي، فمثل هذه الأحاديث يتكلمون عليها إذا استدل شافعيّ بالحديث،
"বুলুগুল মারাম" প্রসঙ্গে হাফিজ (الحافظ) বলেছেন: এটি ত্রুটিযুক্ত (معلول)। আমি পূর্ববর্তী (متقدمين) আলিমগণের বক্তব্য পর্যালোচনা করেছি, কিন্তু হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) বা দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف) সম্পর্কে কোনো মন্তব্য খুঁজে পাইনি, এমনকি কোনো গোপন ত্রুটিও (علة) পাইনি; ফলে আমি এ বিষয়ে স্থগিত (توقف) থেকেছি।
এ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, যদি পূর্ববর্তী (متقدمين) আলিমগণ কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং তাতে মতবিরোধ না করেন, তবে আমরা তা স্বাচ্ছন্দ্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করি। কিন্তু যদি হাফিজ ইবনে হাজারের সমসাময়িক কোনো হাফিজ কোনো মন্তব্য করেন, তবে আমরা সে বিষয়ে স্থগিত (توقف) থাকি।
১২ নং প্রশ্ন: যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: 'সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন' (صدوق يخطئ), অথবা 'সত্যবাদী কিন্তু বিভ্রান্ত হন' (صدوق يهم); তাদের ক্ষেত্রে আপনারা উল্লেখ করেছেন যে, আমরা আয-যাহাবির "মিযান" অথবা ইবনে আদীর "আল-কামিল" গ্রন্থের শরণাপন্ন হব এটা দেখার জন্য যে, এই হাদিসটি কি তার ভ্রম (أوهام) ও ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত কি না? কখনো কখনো আমি এমন কিছু বর্ণনাকারীর (رواة) জীবনীর (ترجمة) দিকে ফিরে যাই যাদের সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে, তখন আমি দেখি তারা বলছেন: "এটি তার ভ্রমগুলোর (أوهام) অন্তর্ভুক্ত"। তারা এটি সীমাবদ্ধ করার (حصر) উদ্দেশ্যে নয়, বরং উদাহরণ হিসেবে (تمثيل) পেশ করেন। তারা তার ভ্রমগুলোর (أوهام) উদাহরণ দেন, কিন্তু আমার সামনে থাকা হাদিসটির কথা উল্লেখ করেননি। আবার তারা এটাও বলেননি যে এগুলোই তার সকল ভ্রম (أوهام), বরং তারা তা কেবল উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় আমার নিকট থাকা হাদিসটির বিধান কী হবে?
উত্তর: এটি একটি চমৎকার প্রশ্ন। হাদিসটি যদি বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদিস (أحاديث الأحكام) হয়, তবে এই ধরনের হাদিসগুলোকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কারণ সেখানে ফকিহ-মুহাদ্দিসগণ ছিলেন, যেমন ইমাম নববী, ইমাম হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার, ইরাকি এবং "নাসবুর রায়াহ" গ্রন্থের রচয়িতা যাইলায়ি এবং তাঁদের পূর্ববর্তীগণ যেমন বায়হাকি ও তহাবি। এই ধরনের হাদিসগুলো নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন যখন কোনো শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী সেই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন,