(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
الشفاعة القسم: العقيدة
الكتاب: الشفاعة
المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)
الناشر: دَارُ الآثَار للنشر وَالتوزيع، صَنعاء - اليمن
الطبعة: الثالثة، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 317
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
আশ-শাফা‘আহ (সুপারিশ) বিভাগ: আকিদাহ (ধর্মবিশ্বাস)
গ্রন্থ: আশ-শাফা‘আহ
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কা‘ইদাহ (ব্যক্তির নাম) আল-হামদানী আল-ওয়াদিয়ি (মৃত্যু ১৪২২ হি.)
প্রকাশক: দারুল আসার প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র, সানআ - ইয়েমেন
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহাররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة الطبعة الثالثةالحمد لله حمدًا كثيرًا طيّبًا مباركًا فيه كما يحب ربنا ويرضى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد:
فمما منّ الله به عليّ ويسّر لي تأليف "الشّفاعة"، فقرّت بها أعين إخواننا أهل السّنة، وغص بها المبتدعة، وقد وفقني الله لذكر الأحاديث بأسانيدها والفضل في هذا لله، فإنّ الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء، كما قال عبد الله بن المبارك رحمه الله ورضي عنه.
والكتاب يعدّ ردًّا على المبتدعة ففي المقدمة الجمع بين الآيات وبيان الشفاعة المقبولة والشفاعة غير المقبولة، وفي أثناء الكتاب أيضًا رد على الذين يطلبون الشفاعة من غير من يملكها كالصوفية والغلاة من الشيعة والرافضة من أهل البيت وغيرهم.
وقد يسّر الله قراءة "الشفاعة" في (دار الحديث) بدمّاج، فأبدى إخواننا الأفاضل -وأخص بالذكر منهم مدرّسهم الشيخ يحيى بن علي الحجوري- ملاحظاتهم وفوائدهم القيّمة، فأضيفت إلى الكتاب، فجزاهم الله خيرًا.
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যেমনটি আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন এবং আমার জন্য যা সহজ করে দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো "আশ-শাফাআহ" (সুপারিশ) গ্রন্থটি রচনা করা। এর মাধ্যমে আমাদের আহলুস সুন্নাহ ভাইদের চক্ষু শীতল হয়েছে এবং বিদআতিদের কণ্ঠরোধ হয়েছে। আল্লাহ আমাকে হাদিসসমূহ সেগুলোর সনদসহ উল্লেখ করার তাওফিক দান করেছেন এবং এর সকল কৃতিত্ব একমাত্র আল্লাহর। কেননা সনদ হলো দ্বীনের অংশ; যদি সনদ না থাকত তবে যে যা খুশি তা-ই বলত, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন।
এই গ্রন্থটি বিদআতিদের একটি খণ্ডন হিসেবে বিবেচিত। এর ভূমিকায় আয়াতসমূহের মধ্যে সমন্বয় এবং গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় সুপারিশের বর্ণনা রয়েছে। গ্রন্থের ভেতরেও তাদের খণ্ডন করা হয়েছে যারা এমন সব সত্তার কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করে যারা এর মালিক নয়; যেমন সুফি সম্প্রদায়, শিয়াদের চরমপন্থী গোষ্ঠী, আহলে বাইতের নামধারী রাফেজি এবং অন্যান্যরা।
আল্লাহ তাআলা দাম্মাজের 'দারুল হাদিস'-এ "আশ-শাফাআহ" গ্রন্থটি পাঠ করার তাওফিক দিয়েছেন। তখন আমাদের সম্মানিত ভাইয়েরা—বিশেষ করে তাদের শিক্ষক শায়খ ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-হাজুরি—তাঁদের মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, যা এই গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২)
والله أسأل أن يجزي الأخوين الفاضلين: سعيد بن عمر حبيشان وحسين ابن محمد مناع اللذين قاما برص الكتاب، وكذا الأخ الفاضل محمد بن عبد الله السّيّاغي خيرًا، وأن يدفع عنّا وعنهم كل سوء ومكروه وأن يعيذنا وإياهم من الحزبية المسّاخة
… إنه على كل شيء قدير.
أبوعبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
تنبيه:
قد أذن لنا الشيخ في تقديم وتأخير بعض الأحاديث إلى مواضعها الأليق بها في هذه الطبعة، وكتبنا هذا التنبيه لئلا يظنّ أن هناك سقطًا في الكتاب.
আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই দুই ফাযেল ভ্রাতা: সাঈদ বিন উমর হুবাইশান ও হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ মান্না‘—যাঁরা কিতাবটির বিন্যাসের কাজ করেছেন—এবং সেই সাথে ফাযেল ভ্রাতা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সায়াগীকে উত্তম প্রতিদান দান করেন; আর তিনি যেন আমাদের ও তাঁদের থেকে সকল মন্দ ও অনিষ্ট দূর করেন এবং আমাদেরকে ও তাঁদেরকে বিকৃতকারী দলাদলি থেকে হিফাযত করেন
... নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল।
আবু আব্দুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ
সতর্কীকরণ:
শায়খ আমাদের এই সংস্করণে কিছু হাদিসকে অগ্র-পশ্চাৎ করে সেগুলোর অধিকতর উপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত করার অনুমতি দিয়েছেন; আর আমরা এই সতর্কবার্তাটি এ কারণে লিখেছি যাতে কিতাবটিতে কোনো অংশ বাদ পড়েছে বলে মনে করা না হয়।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقديمإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{ياأيّها الّذين آمنوا اتّقوا الله حقّ تقاته ولا تموتنّ إلا وأنتم مسلمون}
{ياأيّها النّاس اتّقوا ربّكم الّذي خلقكم من نفْس واحدة وخلق منها زوجها وبثّ منهما رجالاً كثيرًا ونساءً واتّقوا الله الّذي تساءلون به والأرحام إنّ الله كان عليكم رقيبًا}
{ياأيّها الّذين آمنوا اتّقوا الله وقولوا قولاً سديدًا، يصلحْ لكم أعْمالكم ويغفرْ لكم ذنوبكم ومنْ يطع الله ورسوله فقدْ فاز فوزًا عظيمًا}
أما بعد:
فإن ضلال الصوفية وأتباعهم من الجهلة يتّهمون أهل السّنة بعدم حبّهم لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لكون أهل السّنة يثبتون على سنة النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ولا يوافقونهم على غلوهم في رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فهم يدّعون حبّ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم بألسنتهم، ويخالفون طريقته في اعتقادهم وسلوكهم،
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর:
পথভ্রষ্ট সুফি ও তাদের জাহেল অনুসারীরা আহলে সুন্নাহর বিরুদ্ধে এই অপবাদ দেয় যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসে না। এর কারণ হলো আহলে সুন্নাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ওপর সুদৃঢ় থাকে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের শানে তাদের (সুফিদের) অতিরঞ্জনের সাথে একমত হয় না। তারা মুখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার দাবি করে, অথচ তাদের আকিদাহ ও আচরণে তারা তাঁর আদর্শের বিরোধিতা করে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
حتى وصل بغلاتهم إلى دعاء رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، والاستغاثة به، واتّخاذه واسطة بينهم وبين الله عز وجل فيما يطلبونه من الله عز وجل، وهذا هو الشرك الذي كان عليه أهل الجاهلية الأولى، قال الله عز وجل: {والّذين اتّخذوا من دونه أولياء ما نعبدهم إلا ليقرّبونا إلى الله زلفى إنّ الله يحكم بينهم في ما هم فيه يختلفون إنّ الله لا يهدي من هو كاذب كفّار}.
وقال تعالى: {ويعبدون من دون الله ما لا يضرّهم ولا ينفعهم ويقولون هؤلاء شفعاؤنا عند الله قلْ أتنبّئون الله بما لا يعلم في السّموات ولا في الأرض سبحانه وتعالى عمّا يشركون} ومع ذلك فهم يدّعون حبّ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
وكذلك غيرهم من أهل البدع يخرجون عن هدي رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ويدّعون حبّ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ومما ضل فيه أهل البدع شفاعة النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فكثير من أهل البدع ينكرون بعض أنواع شفاعة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
فالخوارج ينكرون شفاعة النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم لأهل الكبائر من أمته في خروجهم من النّار، لأنّهم يرون أنّ مرتكب الكبيرة كافر مخلد في النار لذلك فهم يجدون أن إثبات هذه الشفاعة يخالف معتقدهم الفاسد، فهم ينكرونها.
وكذلك المعتزلة تابعوا الخوارج على القول بتخليد أهل الكبائر من الموحدين في النار، وتابعهم الشيعة على ذلك أيضًا.
এমনকি তাদের চরমপন্থা ও অতিশয়োক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দুআ করা, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং মহান আল্লাহর কাছে যা তারা প্রার্থনা করে তার জন্য তাঁকে নিজেদের এবং আল্লাহর মধ্যে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা শুরু করেছে। আর এটিই সেই শিরক যার উপর প্রথম জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা লিপ্ত ছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে তারা বলে, ‘আমরা তাদের ইবাদত এ জন্যই করি যাতে তারা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়।’ নিশ্চয় তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আল্লাহ তাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না যে চরম মিথ্যাবাদী ও কাফির।"
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, ‘এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।’ আপনি বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?’ তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।" তা সত্ত্বেও তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসার দাবি করে।
একইভাবে অন্যান্য বিদআতী গোষ্ঠীও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ ও হেদায়াত থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, অথচ তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসার দাবি করে। বিদআতীরা যে সকল বিষয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফায়াত (সুপারিশ) সংক্রান্ত বিষয়। অনেক বিদআতীই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফায়াতের বিশেষ কিছু প্রকারকে অস্বীকার করে।
খাওয়ারিজরা তাদের উম্মতের মধ্য থেকে কবিরা গুনাহগারদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফায়াতকে অস্বীকার করে। কারণ তাদের মতে, কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি কাফির এবং সে চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। ফলে তারা মনে করে যে, এই শাফায়াতকে স্বীকৃতি দেওয়া তাদের ভ্রান্ত আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক, তাই তারা একে অস্বীকার করে।
অনুরূপভাবে মুতাজিলাগণও তাওহিদবাদী কবিরা গুনাহগারদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার মতবাদের ক্ষেত্রে খাওয়ারিজদের অনুসরণ করেছে এবং শিয়ারাও এ বিষয়ে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وإثبات هذه الشفاعة فيه ردّ على المرجئة أيضًا، لأن غلاة المرجئة يقولون: إنه لا يضرّ مع الإيمان معصية كما لا ينفع مع الكفر طاعة. وهذه الفرق المذكورة وغيرها موجودة في أيامنا هذه، فالشيعة موجودون بكثرة لا كثّرهم الله، وهذه دولتهم إيران التي تدّعي أنّها (الجمهورية الإسلامية) تعلن أن مذهبها هو المذهب الإثنا عشري الجعفري، فهم رافضة من غلاة الشيعة، وقد أخذوا كثيرًا من مذاهب المعتزلة.
وكذلك الخوارج لهم أفراخ موجودون وهم الذين يكفرون عصاة المسلمين، وإن كانت شوكتهم قد انكسرت، وكثير منهم قد تراجعوا ورجعوا إلى الحق، إلا أنه لا يزال منهم من هو عاضّ على هذه العقائد الضّالة، ويظنون أن هذه الجموع التي قد تراجعت قد فتنوا، وأنّهم هم القابضون على الجمر وهم الطّائفة المنصورة! ومع أن هؤلاء كما قلنا قد أصبحوا قلة قليلة لا يقدرون على مواجهة صغار طلبة العلم الذين قد تعلموا شيئًا من عقائد السلف، إلا أننا لا نأمن أن يظهروا مرة أخرى هنا أو هناك.
وأمّا المرجئة فكثير من عوام المسلمين عقيدتهم هي عقيدة المرجئة فهم يظنون أنّهم لمجرد انتسابهم للإسلام سوف يدخلون الجنة من أوسع أبوابها، ولا يعملون للعمل والطاعات حسابًا؛ حتى أهم الأعمال وهي الصلاة كثير منهم يتركونها، ومع ذلك فهم أهل الجنة وهم أبعد الناس عن النار! أين هؤلاء مما حكاه ابن أبي مليكة حيث يقول: أدركت ثلاثين من أصحاب النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كلهم يخشى على نفسه النفاق. فما أبعد هؤلاء عن فهم سلفنا واعتقادهم، وما أقربهم من المرجئة المبتدعة واعتقادهم.
আর এই শাফাআত (সুপারিশ) সাব্যস্ত করার মধ্যে মুরজিয়াদেরও খণ্ডন রয়েছে। কারণ চরমপন্থী মুরজিয়ারা বলে থাকে যে, ঈমানের সাথে কোনো পাপাচার ক্ষতি করে না, যেমন কুফরের সাথে কোনো আনুগত্য উপকারে আসে না। উল্লিখিত এই দলসমূহ ও অন্যান্যরা বর্তমান সময়েও বিদ্যমান রয়েছে। শিয়ারা প্রচুর সংখ্যায় বিদ্যমান—আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন। আর এই যে তাদের রাষ্ট্র ইরান, যা নিজেকে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র’ বলে দাবি করে, তারা ঘোষণা করে যে তাদের মাযহাব হলো ‘ইসনা আশারি জাফরি’ মাযহাব। তারা শিয়াদের মধ্যকার চরমপন্থী রাফেযী এবং তারা মুতাজিলাদের অনেক মতবাদ গ্রহণ করেছে।
অনুরূপভাবে খারেজীদের অনুসারীরাও বিদ্যমান রয়েছে, যারা পাপিষ্ঠ মুসলিমদের কাফের সাব্যস্ত করে। যদিও তাদের প্রতাপ চূর্ণ হয়ে গেছে এবং তাদের অনেকে ফিরে এসেছে ও সত্যের পথে প্রত্যাবর্তন করেছে, তবুও তাদের মধ্যে এখনও এমন কিছু লোক রয়ে গেছে যারা এই ভ্রান্ত আকিদাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে আছে। তারা মনে করে যে, যারা সত্যে ফিরে এসেছে তারা ফিতনায় নিপতিত হয়েছে, আর তারা নিজেরাই কেবল জ্বলন্ত অঙ্গার ধারণকারী এবং তারাই সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল! যদিও আমরা বলেছি যে, তারা একটি নগণ্য সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে যারা সালাফদের আকিদা সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান অর্জনকারী নবীন শিক্ষার্থীদের মোকাবেলা করতেও সক্ষম নয়, তবুও আমরা এটি থেকে নিরাপদ বোধ করছি না যে তারা আবারও এখানে বা সেখানে প্রকাশ পাবে না।
আর মুরজিয়াদের কথা বলতে গেলে, অনেক সাধারণ মুসলিমের আকিদা হলো মুরজিয়াদের আকিদা। তারা মনে করে যে, কেবল ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণেই তারা জান্নাতের প্রশস্ততম দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তারা আমল ও আনুগত্যের কোনো হিসাব করে না। এমনকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল তথা সালাতও তাদের অনেকে বর্জন করে; তবুও তারা মনে করে যে তারাই জান্নাতী এবং জাহান্নাম থেকে সবচেয়ে নিরাপদ! ইবনে আবি মুলাইকা যা বর্ণনা করেছেন তার থেকে এরা কতই না দূরে! তিনি বলেন: “আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, যাদের প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে নিফাক বা মুনাফেকির আশঙ্কা করতেন।” আমাদের সালাফদের উপলব্ধি ও বিশ্বাস থেকে এরা কত দূরে, আর বিদআতী মুরজিয়া ও তাদের বিশ্বাসের কতই না নিকটবর্তী তারা!
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
لذلك فدراسة عقيدة أهل السنة والجماعة ومعرفة عقائد الفرق الضّالة من أهمّ ما يكون، بل هو أهمّ شيء في دين الله عز وجل، نقول هذا ونحن نعلم أن هناك ممن ينتسب إلى الدعوة إلى الله من يقول: إن هذا من فضول القول، وإن هذه الفرق قد عفا عليها الدهر، فلا داعي لإضاعة الأوقات في معرفتها ودراسة مناهجها ومعتقداتها. ونقول: إن هؤلاء ما قالوا ذلك إلا بسبب جهلهم وبعدهم عن العلم النّافع، فنجد كثيرًا من هؤلاء يعتبرون إيران الدولة المسلمة الوحيدة على وجه الأرض، ولايدري هؤلاء أن بها مدينة (قم) المقدسة عندهم! ولماذا هي مقدسة عندهم؟ لأن بها المشاهد التي يعبدونها، وكذلك فهم يكفّرون الصحابة إلا نفرًا يسيرًا وغير ذلك من عقائدهم الفاسدة. ولكن القوم لا يعنيهم أمر العقيدة فالشيء المهم أن يسير المرء معهم ويوافقهم على الاشتغال بالسياسة، وأن يلبس كلّ شيء ثوب الإسلام: سينما إسلامية، مسرح إسلامي، فن إسلامي، وهكذا. أما تعلّم العقيدة الإسلامية الصحيحة عقيدة السلف الصالح، وتعلّم العلوم الشرعية فهذا عندهم من إضاعة الأوقات، نسأل الله السلامة والعافية.
وكما قلنا إن الشفاعة والإيمان بها من أهم معتقدات أهل السنة والجماعة، وفي معرفتها والإيمان بها ردّ على كثير من الفرق الضالة كما بيّنا وتصحيح لعقائد المسلمين.
وقد قام شيخنا مقبل حفظه الله بجمع كل ما يتعلق بالشفاعة، سواء كانت الشفاعة العظمى، أو الشفاعة لأهل الكبائر، وشفاعة المؤمنين بعضهم لبعض، وما يجوز من الشفاعة وما لا يجوز، وقد بيّن الصحيح من الأحاديث في ذلك من الضعيف مع بيان سبب الضعف، فهو مفيد جامع في بابه لا
অতএব আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ অধ্যয়ন করা এবং ভ্রান্ত দলসমূহের আকিদাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত; বরং মহান আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা একথা বলছি অথচ আমরা জানি যে, আল্লাহর পথে দাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু লোক রয়েছেন যারা বলেন: এগুলো অনর্থক কথা, এবং এই দলগুলো কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, তাই তাদের সম্পর্কে জানতে এবং তাদের মানহাজ ও আকিদাহ অধ্যয়নে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা বলি: তারা কেবল তাদের অজ্ঞতা এবং উপকারী ইলম থেকে দূরে থাকার কারণেই এমনটি বলে থাকে। আমরা তাদের অনেককেই দেখতে পাই যারা ইরানকে পৃথিবীর বুকে একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র বলে গণ্য করে, অথচ তারা জানে না যে সেখানে তাদের নিকট পবিত্র 'কোম' (Qom) নামক নগরী রয়েছে! এবং কেন সেটি তাদের কাছে পবিত্র? কারণ সেখানে এমন সব মাজার ও সমাধি রয়েছে যেগুলোকে তারা উপাসনা করে। তদ্রূপ তারা সামান্য কয়েকজন ব্যতীত সকল সাহাবায়ে কেরামকে কাফের মনে করে এবং তাদের আরও অনেক ভ্রান্ত আকিদাহ রয়েছে। কিন্তু এই গোষ্ঠী আকিদাহর বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয় না; বরং তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যক্তি তাদের সাথে চলবে এবং রাজনীতিতে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে একমত হবে, আর সবকিছুতে ইসলামের পোশাক পরিয়ে দেবে: যেমন ইসলামি সিনেমা, ইসলামি থিয়েটার, ইসলামি শিল্পকলা ইত্যাদি। পক্ষান্তরে সঠিক ইসলামি আকিদাহ তথা সালাফে সালেহীনের আকিদাহ শিক্ষা করা এবং শরয়ী জ্ঞান অর্জন করা তাদের নিকট সময় নষ্ট করার নামান্তর। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।
যেমনটি আমরা বলেছি যে, শাফায়াত (সুপারিশ) এবং এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকিদাহ। এটি জানা ও এতে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অনেক ভ্রান্ত দলের খণ্ডন করা যায়—যেভাবে আমরা বর্ণনা করেছি—এবং মুসলমানদের আকিদাহর সংশোধন হয়।
আমাদের শায়খ মুকবিল (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) শাফায়াত সংক্রান্ত সকল বিষয় সংগ্রহ করেছেন; হোক তা শাফায়াতে উজমা (মহা-সুপারিশ), কিংবা কবিরা গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ, অথবা মুমিনদের একে অপরের জন্য সুপারিশ, এবং কোন ধরনের সুপারিশ জায়েজ আর কোনটি নাজায়েয। তিনি এই বিষয়ে হাদিসগুলোর মধ্য থেকে সহিহ এবং জইফ (দুর্বল) বর্ণনাগুলোকে পৃথক করেছেন এবং দুর্বল হওয়ার কারণও বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি স্বীয় বিষয়ে একটি অত্যন্ত উপকারী ও পূর্ণাঙ্গ সংকলন যা...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يستغني عنه عالم ولا طالب علم ولا عامّي، فلا نكون مبالغين -إن شاء الله- إذا قلنا: ينبغي ألا يخلو منه بيت.
وشيخنا مقبل بن هادي الوادعي حفظه الله غني عن التعريف، فكتبه وعلمه منتشران في كل مكان، وإن كنت أرى أنه لم يأخذ حظه كأقرانه أو من هم دونه من أهل العلم، فإن اليمن تعتبر بلدًا معزولة إلى حدّ كبير، ومع هذا فقد نفع الله عز وجل به أناسًا كثيرين في جميع البلدان وأما في اليمن فهو حفظه الله يعتبر مجددًا للدين في اليمن وناصرًا للسنة، فقد نشر الله عز وجل به السنة وقمع به البدعة. وأصبح غلاة الشيعة مدحورين، أمرهم إلى زوال إن شاء الله تعالى، بعد أن كانت اليمن معقلاً كبيرًا من معاقل الشيعة في العالم. ومنطقته التي يحل بها (صعْدة) تعتبر أكثر شيعة اليمن غلوًا وتعصبًا لأن بها مسجد (الهادي) الذي يعتبر مركز الشيعة باليمن.
ولذلك فقد تعرّض الشيخ حفظه الله لبلاء كثير في التمسك بالسنة والدعوة إليها وسط هؤلاء. كما سمعنا من أقربائه عندما كنا هناك وكما حكى هو في ترجمته التي قمنا بطباعتها، وعلى سبيل المثال لما لاقاه الشيخ من المعاناة في مواجهة الشيعة المبتدعة، في أول نزوله لليمن ذهب إلى مسجد الهادي بصعدة ليدعوهم إلى الله فقاموا عليه، وأرادوا قتله في المسجد فأسند ظهره للجدار فقام رجال من قبيلته ودافعوا عنه، ثم جاء آخرون ممن كانوا خارج المسجد فاجتمعوا حوله وخلّصوه من أيديهم.
ونحن قد رأينا مدى تعصب هؤلاء القوم بأنفسنا عندما ذهبنا إلى بعض المناطق النائية من (لواء صعدة) التي لم تكن الدعوة مألوفة عند أهلها في تلك الأيام من نحو أكثر من اثني عشر عامًا، عندما دخلنا مسجدًا من
কোনো আলেম, তালিবে ইলম কিংবা সাধারণ মানুষ কেউই এটি থেকে বিমুখ থাকতে পারেন না; তাই ইনশাআল্লাহ আমরা অত্যুক্তি করব না যদি বলি যে, কোনো ঘরই এই গ্রন্থ থেকে শূন্য থাকা উচিত নয়।
আমাদের শায়খ মুকবিল ইবনে হাদী আল-ওয়াদি'ঈ (হাফিযাহুল্লাহ) পরিচিতি প্রদানের ঊর্ধ্বে। তাঁর কিতাবসমূহ এবং ইলম সর্বত্র বিস্তৃত। যদিও আমি মনে করি যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক বা তাঁর নিম্নস্তরের আলেমদের মতো যথাযথ মূল্যায়ন লাভ করেননি, কারণ ইয়েমেন একটি অনেকটা বিচ্ছিন্ন জনপদ হিসেবেই বিবেচিত। তা সত্ত্বেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর মাধ্যমে সমস্ত দেশের অসংখ্য মানুষকে উপকৃত করেছেন। আর ইয়েমেনের প্রেক্ষাপটে তিনি (হাফিযাহুল্লাহ) সেখানে দ্বীনের মুজাদ্দিদ এবং সুন্নাহর সাহায্যকারী হিসেবে গণ্য হন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাধ্যমেই সেখানে সুন্নাহর প্রসার ঘটিয়েছেন এবং বিদআতকে দমন করেছেন। ফলে চরমপন্থী শিয়ারা আজ পর্যুদস্ত, ইনশাআল্লাহ তায়ালা তাদের আধিপত্য বিলুপ্তির পথে। অথচ একসময় ইয়েমেন ছিল বিশ্বে শিয়াদের অন্যতম প্রধান শক্তিশালী ঘাঁটি। তিনি যেখানে বসবাস করেন সেই 'সাদা' (Sa'dah) অঞ্চলটি ইয়েমেনের শিয়াদের মাঝে সবচাইতে বেশি উগ্রতা ও গোঁড়ামিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, কারণ সেখানে 'মসজিদে হাদী' অবস্থিত যা ইয়েমেনে শিয়াদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
একারণেই এসব মানুষের মাঝে সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা এবং তার দিকে দাওয়াত দেওয়ার পথে শায়খ (হাফিযাহুল্লাহ) অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা যখন সেখানে ছিলাম তখন তাঁর আত্মীয়স্বজনের নিকট থেকে যেমনটি শুনেছি এবং তিনি নিজে তাঁর জীবনীতে—যা আমরা মুদ্রণ করেছি—যেমনটি বর্ণনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, বিদআতী শিয়াদের মোকাবিলা করতে গিয়ে শায়খ যে অবর্ণনীয় কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন তার একটি ঘটনা হলো: ইয়েমেনে তাঁর আগমনের প্রাথমিক দিনগুলোতে তিনি সাদা-এর ‘মসজিদে হাদী’-তে তাদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে গিয়েছিলেন। তখন তারা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং মসজিদের ভেতরেই তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এমতাবস্থায় তিনি দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর গোত্রের কিছু লোক দাঁড়িয়ে তাঁকে রক্ষা করেন। এরপর মসজিদের বাইরে অবস্থানরত অন্যান্যরা এগিয়ে আসেন এবং তাঁর চারপাশে সমবেত হয়ে তাঁদের হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।
আমরা স্বচক্ষে এই সম্প্রদায়ের গোঁড়ামির মাত্রা প্রত্যক্ষ করেছি যখন আমরা 'সাদা' প্রদেশের এমন কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছিলাম যেখানে প্রায় বারো বছরেরও বেশি সময় আগে দাওয়াতী কাজ সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল না। যখন আমরা একটি মসজিদে প্রবেশ করলাম...
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مساجد القوم في صلاة المغرب، فلما قرأ الإمام الفاتحة فأمّنّا جهرًا. فحدثت فوضى في مؤخر المسجد وخرج بعضهم من الصلاة، وبعد انتهاء الصلاة قام أحد إخواننا ليتكلم فقطعوا التيار الكهربائي، وحدثت فوضى كبيرة، وكادت تحدث مضاربة في المسجد فخرجنا وانصرفنا من تلك القرية.
حدث هذا معنا مع أننا غرباء ويعلمون أن مذهبنا يخالف مذهبهم، فما بالك بمن هو منهم وترك مذهبهم وانتحل مذهب أهل السنة والجماعة، لا شك أنّهم سيكونون له أشدّ عداوةً وحربًا، فتحمّل شيخنا كل هذه الصعاب والمحن من غير إثارة فتنة ولا قلاقل حتى انتشرت السنة وقمعت البدعة بفضل الله عز وجل، فجزاه الله خيرًا.
فمن أراده بسوء فلا وفّقه الله، ومن أعانه بخير فجزاه الله خيرًا، وأسأل الله عز وجل أن يمدّ في عمر شيخنا وأن ينفع به الإسلام والمسلمين، وأن يغفر لنا ما قدمنا وما أخرنا وما أسررنا وما أعلنّا وما هو أعلم به منا، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
أبوعبد الله أحمد بن إبراهيم بن أبي العينين
মাগরিবের সালাতে সম্প্রদায়ের মসজিদসমূহে; যখন ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করলেন, আমরা উচ্চস্বরে 'আমীন' বললাম। এতে মসজিদের শেষাংশে হট্টগোল শুরু হলো এবং তাদের কেউ কেউ সালাত ত্যাগ করে বেরিয়ে গেল। সালাত শেষ হওয়ার পর আমাদের এক ভাই কিছু বলার জন্য দাঁড়ালে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং এক চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। এমনকি মসজিদের অভ্যন্তরে হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল; ফলে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং সেই গ্রাম ত্যাগ করলাম।
আমাদের সাথে এমনটি ঘটেছে অথচ আমরা ছিলাম আগন্তুক এবং তারা জানত যে আমাদের পথ তাদের মতাদর্শের পরিপন্থী। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হতে পারে, যে তাদেরই একজন ছিল কিন্তু পরবর্তীতে নিজ মাযহাব বর্জন করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আদর্শ গ্রহণ করেছে? নিঃসন্দেহে তারা তার সাথে আরও কঠোর শত্রুতা ও বিবাদে লিপ্ত হবে। তবে আমাদের শায়খ কোনো প্রকার ফিতনা বা অশান্তি সৃষ্টি না করেই এই সকল প্রতিকূলতা ও কঠিন পরীক্ষা ধৈর্য সহকারে সহ্য করেছেন, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর অনুগ্রহে সুন্নাহর প্রচার ও প্রসার ঘটেছে এবং বিদআত অবদমিত হয়েছে। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সুতরাং যে ব্যক্তি তার অনিষ্ট কামনা করবে, আল্লাহ তাকে সফল না করুন; আর যে ব্যক্তি কল্যাণের দ্বারা তাকে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের শায়খের হায়াত বৃদ্ধি করেন এবং তার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। আর তিনি যেন আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী, গোপন ও প্রকাশ্য এবং যে সকল বিষয়ে তিনি আমাদের চেয়ে অধিক অবগত—সেই সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আবিল আইনাইন
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{ياأيّها الّذين آمنوا اتّقوا الله حقّ تقاته ولا تموتنّ إلا وأنتم مسلمون}
{ياأيّها النّاس اتّقوا ربّكم الّذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبثّ منهما رجالاً كثيرًا ونساءً واتّقوا الله الّذي تساءلون به والأرحام إنّ الله كان عليكم رقيبًا}
{ياأيّها الّذين آمنوا اتّقوا الله وقولوا قولاً سديدًا، يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزًا عظيمًا}
أما بعد:
فلما كان موضوع الشّفاعة من المواضيع التي يزداد المؤمن بقراءتها حبًّا لرسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم، رأيت أن أكتب ما عثرت عليه من الأحاديث مبيّنًا بعون الله صحيحها من سقيمها، ومعلولها من سليمها،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করল, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর:
যেহেতু শাফায়াতের (সুপারিশ) বিষয়টি এমন এক বিষয় যা পাঠ করার মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়, তাই আমি এ বিষয়ে যে সকল হাদিস পেয়েছি তা লিপিবদ্ধ করার মনস্থ করেছি, যেখানে আল্লাহর তৌফিকে সেগুলোর সহিহ ও সাকিম (দুর্বল) এবং দোষযুক্ত ও ত্রুটিমুক্ত হাদিসসমূহকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بحسب الاستطاعة حتى يستفيد مما أكتبه طلبة العلم وغيرهم، فربّ حديث قد شاع وذاع واشتهر على ألسنة العامّة، وهو لا يثبت عن رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم، ولست أعني أني آت بما لا تستطيع الأوائل، ولكني أستفيد من كتبهم، وأحذو حذوهم، فهم رحمهم الله قد قاموا بجهود ليس لها نظير في خدمة السّنة المطهرة، فجزاهم الله عن الإسلام خيرًا.
وإن مما دفعني على اختيار الكتابة في هذا الموضوع، أن هناك بعض مقامات الشّفاعة قد أنكرها بعض ذوي الأهواء، فمن ثمّ أدرج الشّفاعة أهل السّنة رحمهم الله في كتب العقيدة، فقلّ أن تجد مؤلفًا يؤلف في العقيدة إلا وقد عقد كتابًا أو فصلاً في كتابه للشّفاعة، بيانًا للحق، وقمعًا للباطل، ونصرةً للعقيدة الحقّة، فجزاهم الله عن الإسلام خيرًا.
وهؤلاء المنكرون لبعض مقامات الشّفاعة وهي الشّفاعة لأهل الكبائر، والشّفاعة في خروج الموحدين من النار، قد أخبر عنهم عمر رضي الله عنه، وهو المحدّث (1)، فقد روى الإمام أحمد في "مسنده" (ج1 ص23) من طريق علي بن زيد (2) عن يوسف بن مهران عن ابن عبّاس قال: خطب عمر رضي الله عنه
… -وفي الخطبة-: وإنّه سيكون من بعدكم قوم يكذبون بالرّجم وبالدّجال وبالشّفاعة وبعذاب القبر، وبقوم يخرجون من النّار بعد ما امتحشوا.
ولمّا كان من أعظم شبههم الباطلة أن أحاديث الشّفاعة أخبار آحاد،
--------------------------------------------
সামর্থ্য অনুযায়ী (লিখছি) যেন আমার এই লেখা থেকে জ্ঞানান্বেষী ও অন্যরা উপকৃত হতে পারেন। কেননা, অনেক সময় এমন কোনো হাদীস সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করে, যা আসলে আল্লাহর রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়। আমি এটি বোঝাচ্ছি না যে, আমি এমন কিছু নিয়ে আসছি যা পূর্ববর্তীগণ করতে সক্ষম হননি; বরং আমি তাঁদের গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হচ্ছি এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন, তাঁরা পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে এমন সব অতুলনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন যার কোনো নজির নেই। আল্লাহ তাঁদের ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এই বিষয়ে লিখতে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো, শাফাআতের (সুপারিশ) কিছু পর্যায় প্রবৃত্তি পূজারী বা বিভ্রান্তদের কেউ কেউ অস্বীকার করেছে। ফলে আহলুস সুন্নাহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) তাঁদের আকিদাহর গ্রন্থসমূহে শাফাআতের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আপনি আকিদাহর এমন কোনো গ্রন্থ খুব কমই পাবেন যেখানে লেখক সত্য প্রকাশ, বাতিলকে দমন এবং সঠিক আকিদাহর সাহায্যার্থে শাফাআতের জন্য স্বতন্ত্র কোনো অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ উৎসর্গ করেননি। আল্লাহ তাঁদের ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
শাফাআতের কিছু পর্যায়—যেমন কবিরা গুনাহগারদের জন্য শাফাআত এবং জাহান্নাম থেকে তাওহীদপন্থীদের মুক্তির জন্য শাফাআত—অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনি ছিলেন ইলহামপ্রাপ্ত বা মুহাদ্দাস (১)। ইমাম আহমাদ তাঁর "মুসনাদ"-এ (১ম খণ্ড, ২৩ পৃষ্ঠা) আলী ইবনে যায়িদ (২)-এর সূত্রে ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) ভাষণ দিলেন
… -এবং সেই ভাষণে ছিল-: “নিশ্চয়ই তোমাদের পরে এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যারা রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড), দাজ্জাল, শাফাআত ও কবরের আযাবকে অস্বীকার করবে। তারা সেই সম্প্রদায়কেও অস্বীকার করবে যারা (আগুনে) দগ্ধ হওয়ার পর জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে।”
যেহেতু তাদের অন্যতম প্রধান ভ্রান্ত সংশয় ছিল এই যে, শাফাআতের হাদীসসমূহ হলো ‘আখবারে আহাদ’ (একক সূত্রে বর্ণিত সংবাদ),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأنه لا يؤخذ بأحاديث الآحاد في العقيدة جمعت ما استطعت الوقوف عليه حتى تبطل شبهتهم، ويعلموا أن أحاديث الشّفاعة متواترة عن رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم، على أنّي أعلم أن شبهة كون أخبار الآحاد لا يؤخذ بها في العقيدة دسيسة من قبل أعداء السّنة حتى يبطلوا سنّة رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم، وقد أحسن الردّ عليهم الإمام الشافعي رحمه الله في "الرّسالة"، والإمام البخاري في "صحيحه"، وعقد كتابًا في صحيحه أسماه: (كتاب أخبار الآحاد)، وممن تولى الردّ عليهم ابن حزم في "الأحكام"، وابن القيم في "الصواعق المرسلة"، ولو لم يكن إلا عموم {وما آتاكم الرّسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} (1) وعموم قوله تعالى: {فليحذر الّذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم} (2) والنبي صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم يرسل الرسول ويأمره أن يعلم الناس العقائد والعبادات وما يحتاجون إليه كما هو معلوم من سيرته، ومما أستحضره الآن الحديث المتفق عليه من حديث ابن عباس أن النبي صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم قال لمعاذ بن جبل: ((إنّك ستأتي قومًا من أهْل الكتاب فليكن أوّل ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلاّ الله، وأنّ محمدًا رسول الله
… )) الحديث، وقال عمر رضي الله عنه: إنّي لم أرسل عمالي إليكم ليأخذوا أموالكم، ولا ليضربوا أبشاركم، ولكن ليعلموكم دينكم. رواه أحمد في "مسنده" (3).
--------------------------------------------
আকিদাহ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ‘আহাদ’ (একক) হাদিস গ্রহণীয় নয়—তাদের এই সংশয় নিরসনের জন্য আমি আমার সাধ্যমতো তথ্য সংগ্রহ করেছি, যেন তাদের বিভ্রান্তি বাতিল হয়ে যায় এবং তারা জানতে পারে যে, শাফায়াত (সুপারিশ) সংক্রান্ত হাদিসগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে ‘মুতাওয়াতির’ (অকাট্য নিরবচ্ছিন্ন) সূত্রে বর্ণিত। যদিও আমি জানি যে, আকিদাহর ক্ষেত্রে ‘আখবারে আহাদ’ (একক বর্ণনা) গ্রহণ করা যাবে না—এই সংশয়টি মূলত সুন্নাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে একটি অনুপ্রবেশ ঘটানো চক্রান্ত, যাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে অকার্যকর করে দিতে পারে। ইমাম শাফিঈ (রহ.) তাঁর ‘আর-রিসালা’ গ্রন্থে এবং ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে তাদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: ‘কিতাব আখবারিল আহাদ’ (একক সংবাদের অধ্যায়)। তাদের খণ্ডনকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন ‘আল-ইহকাম’ গ্রন্থে ইবনে হাজম এবং ‘আস-সাওয়ািকুল মুরসালাহ’ গ্রন্থে ইবনুল কায়্যিম। যদি কেবল এই আয়াতের ব্যাপক অর্থও থাকত: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো” (১), এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপক অর্থ: “সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি গ্রাস করবে” (২)। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বার্তাবাহক পাঠাতেন এবং তাঁদের নির্দেশ দিতেন মানুষকে আকিদাহ, ইবাদত এবং তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শিক্ষা দিতে, যেমনটি তাঁর সিরাত থেকে সুবিদিত। এই মুহূর্তে আমার যা স্মরণে আসছে তা হলো ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত বুখারি ও মুসলিমের একটি হাদিস; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই তুমি কিতাবধারীদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ; সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল
... ” (হাদিস)। উমর (রা.) বলেন: “আমি আমার কর্মকর্তাদের তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি তোমাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য কিংবা তোমাদের চাবুক মারার জন্য নয়, বরং তোমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য।” এটি আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أولئك المنكرون لبعض مقامات الشفاعات في جانب، وبعض الجهلة من المسلمين في جانب آخر، وهم الذين يظنون أن لرسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم وللصالحين أن يدخلوا الجنة من شاءوا، ويخرجوا من النار من شاءوا، وهكذا يظنون أن لهم التصرف المطلق في الدنيا، وكلتا الطائفتين مجانبة للصواب، والحقّ وسط أنّ الرسول صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم والصالحين سيشفعون في الآخرة لكن بشروط ستأتي في الجمع بين الآيات المثبتة للشّفاعة والآيات النّافية، وهكذا لهم في حياتهم أن يشفعوا عند الله لكن فيما يقدرون عليه، وقد شفع النبي صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم للمشركين عند الله أن يسقوا كما في "الصحيحين" من حديث ابن مسعود رضى الله عنه.
فمذهب أهل السّنة رحمهم الله وسط بين الغالي والجافي، لأنّهم رحمهم الله يجمعون بين الأدلة، وبقية الطوائف تأخذ بجانب من الأدلة وتترك الجانب الآخر، فمن ثمّ تخبّطوا وتعسّفوا في دحض الأدلّة التي لا توافق أهواءهم، فتارة يتجرأون ويطعنون في الصحابي الراوي للسّنة، وتارة يقولون: أخبار آحاد. وتارة يؤولون الأدلة بحيث يعطلونها عمّا تدلّ عليه، ويأبى الله إلا أن يتمّ نوره، ويظهر حجته، فلم يزل بحمد الله في كل بلد من بلاد المسلمين من يقيم عليهم الحجة، وصدق رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم إذ يقول: ((لا تزال طائفة من أمّتي على الحقّ ظاهرين لا يضرهم من خالفهم حتّى يأتيهم أمر الله وهم على ذلك)) متفق عليه بهذا المعنى.
একদিকে যেমন শাফাআতের (সুপারিশের) কিছু স্তর বা প্রকার অস্বীকারকারী একদল লোক রয়েছে, তেমনি অন্য দিকে মুসলমানদের মধ্যে একদল অজ্ঞ মানুষ রয়েছে যারা মনে করে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং নেককার ব্যক্তিরা যাকে খুশি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং যাকে খুশি জাহান্নাম থেকে বের করবেন। তারা আরও বিশ্বাস করে যে, দুনিয়াতে তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব রয়েছে। এ উভয় পক্ষই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত। আর সত্য হচ্ছে এই দুই প্রান্তিকতার মধ্যবর্তী পথ—নিশ্চয়ই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং নেককার ব্যক্তিগণ আখিরাতে শাফাআত করবেন, তবে তা নির্দিষ্ট কিছু শর্তের অধীনে, যা শাফাআত সাব্যস্তকারী এবং শাফাআত অস্বীকারকারী আয়াতসমূহের সমন্বয়ের আলোচনায় সামনে আসবে। অনুরূপভাবে তাদের ইহকালেও আল্লাহর নিকট সুপারিশ করার সুযোগ রয়েছে, তবে তা কেবল সে সব বিষয়েই যা তাদের সামর্থ্যের অধীন। যেমনটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের জন্য আল্লাহর নিকট বৃষ্টি কামনায় সুপারিশ করেছিলেন, যা ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে 'সহীহাইন'-এ প্রমাণিত হয়েছে।
আহলুস সুন্নাহর (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) মাযহাব হলো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মধ্যবর্তী পথ। কারণ তারা সকল দলীল-প্রমাণের মাঝে সমন্বয় সাধন করেন। পক্ষান্তরে অন্যান্য দলগুলো কিছু দলীল গ্রহণ করে এবং অন্যগুলো বর্জন করে। এর ফলে তারা বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয় এবং তাদের প্রবৃত্তির পরিপন্থী দলীলসমূহ খণ্ডন করার ক্ষেত্রে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও গোঁড়ামির আশ্রয় নেয়। কখনো তারা স্পর্ধার সাথে সুন্নাহ বর্ণনাকারী সাহাবীর সমালোচনা করে, কখনো বা সেগুলোকে 'আখবারে আহাদ' (একক বর্ণনা) বলে প্রত্যাখ্যান করে। আবার কখনো দলীলসমূহের এমন অপব্যাখ্যা করে যা মূল অর্থকেই অকার্যকর করে দেয়। অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করতে এবং তাঁর প্রমাণকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। আল্লাহর প্রশংসায়, মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সর্বদা এমন কেউ না কেউ থাকেন যারা তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সত্যই বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে; কোনো বিরোধিতাকারী তাদের ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা ওই অবস্থাতেই থাকবে।" এই মর্মেই হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وإنّ من أحسن الكتب فيما اطلعت عليه في تزييف أباطيلهم كتاب "تأويل مختلف الحديث" لابن قتيبة رحمه الله، فقد أبطل رحمه الله جلّ شبهاتهم حول سنة رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم، فجزاه الله خيرًا.
الشّفاعة في اللغة:قال ابن الأثير في "النهاية": قد تكرر ذكر الشّفاعة في الحديث فيما يتعلق بأمور الدنيا والآخرة، وهي: السؤال في التجاوز عن الذنوب والجرائم بينهم، يقال: شفع يشفع شفاعةً فهو شافع وشفيع، والمشفّع: الّذي يقبل الشّفاعة، والمشفّع: الّذي تقبل شفاعته. اهـ
وفي "القاموس" و"تاج العروس": والشّفيع: صاحب الشّفاعة، والجمع: شفعاء، وهو: الطالب لغيره يتشفّع به إلى المطلوب.
وفيهما أيضًا: وشفّعته فيه تشفيعًا حين شفع -كمنع- شفاعةً، أي قبلت شفاعته كما في "العباب"، قال حاتم يخاطب النعمان:
فككت عديًّا كلّها من إسارها
… فأفضلْ وشفّعني بقيس بن جحْدر
وفي حديث الحدود: ((إذا بلغ الحدّ السلطان فلعن الله الشافع والمشفّع)) (1).
وفي حديث ابن مسعود: ((القرآن شافع مشفّع، وماحل (2) مصدّق))
… (3).
--------------------------------------------
তাদের বাতিল মতবাদসমূহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব হলো ইবনে কুতায়বাহ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস'। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের অধিকাংশ সংশয় বাতিল করে দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
ভাষাতত্ত্বে শাফাআতের পরিচয়:ইবনুল আসীর ‘আন-নিহায়াহ’ গ্রন্থে বলেছেন: দুনিয়া ও আখিরাত সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির ক্ষেত্রে হাদিসে ‘শাফাআত’ (সুপারিশ) শব্দটির উল্লেখ বারবার এসেছে। আর তা হলো: পারস্পরিক গুনাহ ও অপরাধ মার্জনার জন্য আবেদন করা। বলা হয়ে থাকে: ‘শাফাআ-ইয়াশফাউ-শাফাআতান’ (সুপারিশ করা), সে হলো ‘শাফি’ ও ‘শাফিউ’ (সুপারিশকারী)। আর ‘মুশাফ্ফি’ (জেবর যোগে) হলো সেই ব্যক্তি যে সুপারিশ গ্রহণ করে, এবং ‘মুশাফ্ফা’ (জবর যোগে) হলো সেই ব্যক্তি যার সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। সমাপ্ত।
‘আল-কামুস’ এবং ‘তাজুল আরূস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘শাফিউ’ হলো শাফাআতের অধিকারী (সুপারিশকারী), এর বহুবচন হলো ‘শুফাআ’। তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি অন্যের পক্ষ হয়ে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে কোনো দাবি নিয়ে যান।
উভয় গ্রন্থে আরও রয়েছে: ‘শাফ্ফাতুহু ফীহি তাশফীআন’ অর্থাৎ যখন সে সুপারিশ করল তখন আমি তার সুপারিশ কবুল করলাম— যেমনটি ‘আল-উবাব’ গ্রন্থে রয়েছে। হাতিম (তাই) নুমানকে সম্বোধন করে বলেছেন:
আমি আদীর বংশধরদের সকলকে তাদের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করেছি
… সুতরাং অনুগ্রহ করুন এবং কায়েস ইবনে জাহদারের ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন।
হুদুদ (শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি) সংক্রান্ত হাদিসে এসেছে: “যখন দণ্ডবিধির বিষয়টি শাসকের নিকট পৌঁছে যায়, তখন সুপারিশকারী এবং যার সুপারিশ কবুল করা হয়— উভয়ের ওপরই আল্লাহ লানত করেন।” (১)।
ইবনে মাসউদের হাদিসে এসেছে: “কুরআন হলো এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয় এবং এমন এক বিবাদী যার অভিযোগ সত্য বলে গ্রহণ করা হয়”
… (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أي من اتبعه وعمل بما فيه فهو شافع مقبول الشّفاعة من العفو عن فرطاته، ومن ترك العمل به تمّ على إساءته، وصدّق عليه فيما يرفع من مساويه، فالمشفّع: الذي يقبل الشّفاعة، والمشفّع: الذي تقبل شفاعته، ومنه حديث: ((اشْفع تشفّع))، واستشفعه إلى فلان: أي سأله أن يشفع له إليه، وأنشد الصغاني للأعشى:
تقول بنتي وقدْ قرّبت مرتحلاً
… يا ربّ جنّبْ أبي الأوصاب والوجعا
واستشفعتْ من سراة الحيّ ذا شرف (1)
… فقدْ عصاها أبوها والّذي شفعا
يريد: والذي أعان وطلب الشّفاعة فيها، وأنشد أبوليلى:
زعمتْ معاشر أنّني مستشفع
… لمّا خرجت أزوره أقلامها
قال: زعموا أني أستشفع أقلامهم في الممدوح أي بكتبهم. اهـ مختصرًا.
وذكر الزمخشري في "أساس البلاغة" بعض ما تقدم، ثم قال: وقال آخر:
مضى زمن والنّاس يستشفعون بي
… فهل لي إلى ليلى الغداة شفيع
والمعاني الشرعية موافقة للمعاني اللغوية. فمن الشّفعاء من يشفع ابتداءً، ومنهم من يشفع بعد الطلب، كما سيأتي إن شاء الله بيانه في الأحاديث.
--------------------------------------------
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি এটি অনুসরণ করবে এবং এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করবে, এটি তার জন্য এমন এক সুপারিশকারী হবে যার সুপারিশ তার ভুলত্রুটি মার্জনার ক্ষেত্রে কবুল করা হবে। আর যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করা ছেড়ে দেবে, সে তার পাপাচারের ওপরই বহাল থাকবে এবং তার মন্দ কাজগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর সাক্ষ্যকে সত্য বলে গণ্য করা হবে। অতঃপর 'মুশাফ্ফি' (المشفّع) হলেন তিনি, যিনি সুপারিশ কবুল করেন; আর 'মুশাফ্ফা' (المشفّع) হলেন তিনি, যার সুপারিশ কবুল করা হয়। এ থেকেই হাদিসের অংশ: "সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে"। আর 'অমুকের নিকট তার পক্ষ হয়ে সুপারিশ প্রার্থনা করা' (ইস্তাশফাউহু)-এর অর্থ হলো: সে তার কাছে আবেদন করল যেন সে তার জন্য সুপারিশ করে। আস-সাগানি আল-আশা’র কবিতা উদ্ধৃত করেছেন:
আমার কন্যা বলছে, যখন আমি সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম
… হে রব! আমার পিতাকে রোগব্যাধি ও যাতনা থেকে দূরে রাখুন।
সে গোত্রের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করল (১)
… কিন্তু তার পিতা এবং যে সুপারিশ করেছিল তারা উভয়েই তার কথা অমান্য করল।
এখানে উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি সাহায্য করেছে এবং তার বিষয়ে সুপারিশ প্রার্থনা করেছে। আবু লাইলা পাঠ করেছেন:
একদল লোক ধারণা করল যে আমি সুপারিশপ্রার্থী
… যখন আমি তাদের কলমগুলো নিয়ে তার (প্রশংসিত ব্যক্তির) সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হলাম।
তিনি বলেন: তারা ধারণা করল যে আমি প্রশংসিত ব্যক্তির নিকট তাদের কলমের মাধ্যমে অর্থাৎ তাদের চিঠিপত্রের মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করছি। —সংক্ষেপিত সমাপ্ত।
যামাখশারি 'আসাসুল বালাগাহ' গ্রন্থে পূর্বোক্ত কিছু বিষয় উল্লেখ করে বলেন: অন্য একজন কবি বলেছেন:
এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন মানুষ আমার মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করত
… তবে আজ সকালে লায়লার নিকট পৌঁছাতে আমার কি কোনো সুপারিশকারী আছে?
শরিয়তগত অর্থসমূহ ভাষাগত অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ। সুপারিশকারীদের মধ্যে কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে সুপারিশ করবেন, আবার কেউ আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপারিশ করবেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ অচিরেই হাদিসসমূহের বর্ণনায় আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل الآيات الواردة في الشّفاعة والجمع بينهاوبما أنّها قد وردت آيات تنفي الشّفاعة والشفيع، وآيات تثبتهما رأيت أن أذكر الآيات التي تنفي الشّفاعة والشّفيع، والآيات التي تثبتهما ثم أذكر الجمع بين هذه الآيات حسبما جمع بينها أهل العلم رحمهم الله.
الآيات الواردة في نفي الشّفاعة والشفيع:قال الله تعالى: {واتّقوا يومًا لا تجْزي نفس عن نفس شيئًا ولا يقبل منها شفاعة ولا يؤخذ منها عدل (1) ولا هم ينصرون} (2).
وقال تعالى: {ياأيها الّذين آمنوا أنفقوا ممّا رزقناكم من قبل أن يأتي يوم لا بيع فيه ولا خلّة (3) ولا شفاعة والكافرون هم الظّالمون} (4).
وقال تعالى حاكيًا عن بعض الصالحين: {أأتّخذ من دونه آلهةً إن يردن الرّحمن بضرّ لا تغن عنّي شفاعتهم شيئًا ولا ينقذون} (5).
--------------------------------------------
শাফায়াত (সুপারিশ) সংক্রান্ত আয়াতসমূহ এবং সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান বিষয়ক পরিচ্ছেদযেহেতু শাফায়াত এবং শাফায়াতকারীকে নাকচ বা অস্বীকারকারী আয়াতসমূহ এবং এ দুটি সাব্যস্তকারী আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, তাই আমি শাফায়াত ও শাফায়াতকারীকে নাকচকারী আয়াতসমূহ এবং সেগুলো সাব্যস্তকারী আয়াতসমূহ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। অতঃপর উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যেভাবে এ আয়াতগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন, তা উল্লেখ করব।
শাফায়াত ও শাফায়াতকারীকে নাকচকারী আয়াতসমূহ:মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কেউ কারো কোনো উপকারে আসবে না এবং কারো পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, আর কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় (১) গ্রহণ করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না} (২)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো সেই দিন আসার আগে, যেদিন কোনো কেনাবেচা নেই, নেই কোনো বন্ধুত্ব (৩) এবং কোনো সুপারিশ। আর কাফিররাই হলো জালিম} (৪)।
আল্লাহ তাআলা জনৈক পুণ্যবান ব্যক্তির কথা বর্ণনা করে বলেন: {আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহদের গ্রহণ করব? পরম করুণাময় যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো উপকারে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না} (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في هذه الآيات نفي الشّفاعة.
وقال تعالى: {وأنذر به الّذين يخافون أن يحشروا إلى ربّهم ليس لهم من دونه وليّ ولا شفيع لعلّهم يتّقون} (1).
وقال تعالى: {وذر الّذين اتّخذوا دينهم لعبًا ولهوًا وغرّتْهم الحياة الدّنيا وذكّر به أن تبسل (2) نفس بما كسبت ليس لها من دون الله وليّ ولا شفيع وإن تعدل كلّ عدل لا يؤخذ منها أولئك الّذين أبسلوا بما كسبوا لهم شراب من حميم وعذاب أليم بما كانوا يكفرون} (3).
وقال تعالى: {ويعبدون من دون الله ما لا يضرّهم ولا ينفعهم ويقولون هؤلاء شفعاؤنا عند الله قل أتنبّئون الله بما لا يعلم (4) في السّموات ولا في الأرض سبحانه وتعالى عمّا يشركون} (5).
وقال تعالى حاكيًا عن أهل النار: {فما لنا من شافعين (6)، ولا صديق
--------------------------------------------
এই আয়াতগুলোতে সুপারিশ (শাফাআত) অস্বীকার করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করুন যারা ভয় পায় যে তাদেরকে তাদের রবের নিকট সমবেত করা হবে—এমতাবস্থায় যে, তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই; যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে} (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি তাদেরকে বর্জন করুন যারা তাদের দ্বীনকে খেল-তামাশা ও আমোদ-প্রমোদের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে প্রতারিত করেছে। আর আপনি এর মাধ্যমে উপদেশ দান করুন, পাছে কোনো ব্যক্তি তার কৃতকর্মের কারণে ধ্বংসের সম্মুখীন হয় (২)—আল্লাহ ছাড়া যার কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। আর সে যদি বিনিময়ে সব কিছুও দিয়ে দেয়, তবুও তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এরাই তারা, যারা তাদের কৃতকর্মের জন্য ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে অতি উষ্ণ পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা কুফরি করত} (৩)।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, 'এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।' আপনি বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহকে এমন সংবাদ দিচ্ছ (৪), যার অস্তিত্ব আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে তিনি জানেন না?' তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে} (৫)।
মহান আল্লাহ জাহান্নামীদের বর্ণনা দিয়ে বলেন: {অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই (৬), আর নেই কোনো সুহৃদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حميم، فلو أنّ لنا كرّةً فنكون من المؤمنين} (1).
ومعنى حميم: قريب، وكرّة: رجعة إلى الدنيا.
وقال تعالى: {الله الّذي خلق السّموات والأرض وما بينهما في ستّة أيّام ثمّ استوى على العرش (2) ما لكم من دونه من وليّ ولا شفيع أفلا تتذكّرون} (3).
وقال تعالى: {أم اتّخذوا من دون الله شفعاء قل أولو كانوا لا يملكون شيئًا ولا يعقلون، قل لله الشّفاعة جميعًا له ملك السّموات والأرض ثمّ إليه ترجعون} (4).
وقال تعالى: {وأنذرهم يوم الآزفة (5) إذ القلوب لدى الحناجر كاظمين ما للظّالمين من حميم ولا شفيع يطاع} (6).
في هذه الآيات نفي الشفيع.
--------------------------------------------
...অন্তরঙ্গ বন্ধু। সুতরাং যদি আমাদের জন্য একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তবে আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম} (১)।
'হামিম' শব্দের অর্থ: নিকটাত্মীয় বা বন্ধু, এবং 'কাররাহ' শব্দের অর্থ: দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন।
মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহই তিনি, যিনি আসমানসমূহ, যমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হয়েছেন (২)। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} (৩)।
মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে? বলুন, ‘তারা যদি কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং তারা যদি না বোঝে তবুও কি?’ বলুন, ‘সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ইখতিয়ারে; আসমানসমূহ ও যমিনের রাজত্ব তাঁরই, অতঃপর তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে’} (৪)।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন (৫) সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন দুঃখ-কষ্টে ক্লিষ্ট হৃদপিণ্ডগুলো কণ্ঠনালীর নিকট চলে আসবে। যালিমদের জন্য কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই এবং এমন কোনো সুপারিশকারীও নেই যার কথা মানা হবে} (৬)।
এই আয়াতগুলোতে সুপারিশকারীর উপস্থিতিকে নাকচ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الآيات في إثبات الشّفاعة والشفيع:قال الله تعالى: {من ذا الّذي يشفع عنده إلا بإذنه} (1).
وقال تعالى: {ما من شفيع إلا من بعد إذنه} (2).
وقال تعالى: {وقالوا اتّخذ الرّحمن ولدًا سبحانه بل عباد مكرمون، لا يسبقونه بالقول وهم بأمره يعملون، يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم ولا يشفعون إلا لمن ارتضى وهم من خشيته مشفقون (3)} (4).
فهي هذه الآيات إثبات الشفيع بشروط وستأتي إن شاء الله.
وقال الله تعالى: {ويسألونك عن الجبال فقل ينسفها ربّي نسفًا، فيذرها قاعًا صفصفًا (5)، لا ترى فيها عوجًا ولا أمتًا، يومئذ يتّبعون الدّاعي لا عوج له وخشعت الأصوات للرّحمن فلا تسمع إلا همسًا (6)، يومئذ لا تنفع الشّفاعة إلا من أذن له الرّحمن ورضي له قولاً} (7).
وقال تعالى: {ولا يملك الّذين يدعون من دونه الشّفاعة إلا من شهد بالحقّ وهم يعلمون} (8).
--------------------------------------------
সুপারিশ এবং সুপারিশকারীর প্রমাণের বিষয়ে আয়াতসমূহ:মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} (১)।
তিনি আরও বলেন: {তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করার মতো কেউ নেই} (২)।
তিনি আরও বলেন: {এবং তারা বলে: ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন’; তিনি পবিত্র-মহান! বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা কথায় তাঁকে ছাড়িয়ে যায় না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন এবং তিনি যার প্রতি সন্তুষ্ট, তারা কেবল তার জন্যই সুপারিশ করে; আর তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত (৩)} (৪)।
এই আয়াতসমূহ শর্তসাপেক্ষে সুপারিশকারীর অস্তিত্ব প্রমাণ করে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আসবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: {লোকেরা আপনাকে পাহাড়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন: আমার প্রতিপালক সেগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে ধূলিসাৎ করে দেবেন। অতঃপর তিনি তাকে সমতল মসৃণ প্রান্তরে পরিণত করবেন। যাতে আপনি কোনো বক্রতা বা উঁচু-নিচু দেখবেন না। সেই দিন তারা এক আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার কোনো বিচ্যুতি নেই। আর দয়াময়ের সামনে সকল শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে, ফলে আপনি মৃদু গুঞ্জন (৬) ব্যতীত আর কিছুই শুনতে পাবেন না। সেই দিন দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, সে ছাড়া অন্য কারো সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না} (৭)।
তিনি আরও বলেন: {আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশ করার কোনো অধিকার রাখে না; তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং যারা জ্ঞান রাখে (তারা সুপারিশ করতে পারবে)} (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: {ولا يملك الّذين يدعون من دونه} أي: من الأصنام والأوثان {الشّفاعة} أي: لا يقدرون على الشّفاعة لهم {إلا من شهد بالحقّ وهم يعلمون} هذا استثناء منقطع، أي: لكن من شهد بالحقّ على بصيرة وعلم فإنه تنفع شفاعته عنده بإذنه له. اهـ
وقال تعالى: {وكم من ملك في السّموات لا تغني شفاعتهم شيئًا إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى} (1).
هذه الآيات تدل على الشّفاعة المثبتة بشروط ستأتي إن شاء الله.
الجمع بين الآيات المثبتة والآيات النافية:يتحصل من هذا أن النفي مقصود به الشّفاعة التي تطلب من غير الله، كما قال تعالى: {قل لله الشّفاعة جميعًا} (2) والشّفاعة المثبتة لا تقبل إلا بشروط:
1 - قدرة الشافع على الشّفاعة كما قال تعالى في حق الشافع الذي يطلب منه وهو غير قادر على الشّفاعة: {ويعبدون من دون الله ما لا يضرّهم ولا ينفعهم ويقولون هؤلاء شفعاؤنا عند الله قل أتنبّئون الله بما لا يعلم في السّموات ولا في الأرض سبحانه وتعالى عمّا يشركون} (3)، وقال تعالى: {ولا يملك الّذين يدعون من دونه الشّفاعة إلا من شهد بالحقّ
--------------------------------------------
হাফিজ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: {আর তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে আহ্বান করে, তারা মালিক নয়} অর্থাৎ: প্রতিমা ও মূর্তিসমূহ {সুপারিশের} অর্থাৎ: তারা তাদের জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না {তবে তারা ছাড়া যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা অবগত আছে} এটি একটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা মুনকাতি‘), অর্থাৎ: কিন্তু যারা দূরদর্শিতা ও জ্ঞানের সাথে সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে, অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে তাঁর নিকট তার সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
এবং মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর আসমানসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না; তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তাকে অনুমতি দেওয়ার পর} (১)।
এই আয়াতসমূহ ওই সাব্যস্তকৃত সুপারিশের প্রমাণ বহন করে, যা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ্য শর্তাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট।
সাব্যস্তকারী ও না-বোধক আয়াতসমূহের মধ্যে সমন্বয়:এ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, (সুপারিশ) অস্বীকারের দ্বারা ওই সুপারিশ উদ্দেশ্য যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট প্রার্থনা করা হয়, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {বলুন, সকল সুপারিশ আল্লাহরই মালিকানাধীন} (২)। আর সাব্যস্তকৃত সুপারিশ কেবল কিছু শর্তসাপেক্ষেই কবুল করা হয়:
১ - সুপারিশকারীর সুপারিশ করার সক্ষমতা থাকা; যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা এমন সুপারিশকারীর ব্যাপারে বলেছেন যার নিকট সুপারিশ চাওয়া হয় অথচ সে সুপারিশ করতে অক্ষম: {আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, ‘এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।’ বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি আসমানসমূহে ও জমিনে জানেন না?’ তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে} (৩)। এবং মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে আহ্বান করে তারা সুপারিশের মালিক নয়; তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهم يعلمون} (1) فعلم من هذا أن طلب الشّفاعة من الأموات طلب ممن لا يملكها، قال تعالى: {والّذين تدعون من دونه ما يملكون من قطمير، إن تدعوهم لا يسمعوا دعاءكم ولو سمعوا ما استجابوا لكم ويوم القيامة يكفرون بشرككم ولا ينبّئك مثل خبير} (2) وقال تعالى: {قل ادعوا الّذين زعمتم من دون الله لا يملكون مثقال ذرّة في السّموات ولا في الأرض وما لهم فيهما من شرك وما له منهم من ظهير، ولا تنفع الشّفاعة عنده إلا لمن أذن له} (3).
2 - إسلام المشفوع له، قال الله تعالى: {ما للظّالمين من حميم ولا شفيع يطاع} (4)، والمراد بالظالمين هنا: الكافرون، بدليل الأحاديث المتواترة في الشّفاعة لأهل الكبائر، وستأتي إن شاء الله في موضعها. قال الحافظ البيهقي رحمه الله في "الشعب" (ج1 ص205): فالظالمون هاهنا هم الكافرون، ويشهد لذلك مفتتح الآية إذ هي في ذكر الكافرين. اهـ
وقال الحافظ ابن كثير رحمه الله في تفسير الآية: أي ليس للذين ظلموا أنفسهم بالشرك بالله من قريب منهم ينفعهم، ولا شفيع يشفع فيهم، بل قد تقطعت بهم الأسباب من كل خير. اهـ
ويستثنى من المشركين أبوطالب، فإن النبي صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم يشفع له حتى يصير في ضحضاح من نار كما سيأتي في
--------------------------------------------
এবং তারা জানে।} (১) এ থেকে প্রতিভাত হয় যে, মৃত ব্যক্তিদের নিকট শাফাআত (সুপারিশ) প্রার্থনা করা মূলত এমন কারো নিকট প্রার্থনা করা, যে তার কোনো মালিকানা রাখে না। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে আহ্বান করো, তারা খেজুরের আঁটির উপরে থাকা পাতলা আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা যদি তাদেরকে ডাকো, তবে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের এই শিরককে অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞাত আল্লাহর ন্যায় কেউ তোমাকে সংবাদ দিতে পারবে না।} (২) মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (উপাস্য) মনে করো তাদেরকে ডাকো; তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, আর তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়। যার জন্য তিনি অনুমতি প্রদান করেন, সে ব্যতীত তাঁর নিকট কোনো শাফাআত ফলপ্রসূ হবে না।} (৩)।
২ - যার জন্য শাফাআত করা হবে তার মুসলিম হওয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {জালিমদের জন্য কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই এবং এমন কোনো শাফাআতকারীও নেই যার কথা মানা হবে।} (৪)। এখানে জালিম বলতে কাফিরদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে; এর প্রমাণ হলো কীরাহ গোনাহগারদের জন্য শাফাআত সংক্রান্ত মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ, যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আলোচিত হবে। হাফিজ বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) 'আশ-শুআব' গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা) বলেন: "এখানে জালিম বলতে কাফিরদের বোঝানো হয়েছে; আয়াতের সূচনাভাগই এর সাক্ষ্য বহন করে, যেহেতু তা কাফিরদের বিবরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।" সমাপ্ত।
হাফিজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) অত্র আয়াতের তাফসিরে বলেন: "অর্থাৎ যারা আল্লাহর সাথে শিরক করার মাধ্যমে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে, তাদের কোনো হিতৈষী নেই যে তাদের উপকার করবে, আর না আছে কোনো শাফাআতকারী যে তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে। বরং তাদের জন্য সকল কল্যাণের পথ ও মাধ্যম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।" সমাপ্ত।
মুশরিকদের মধ্য থেকে আবু তালিব ব্যতিক্রম, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য শাফাআত করবেন, যার ফলে সে জাহান্নামের আগুনের এক অগভীর স্তরে অবস্থান করবে, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الأحاديث في مواضعها إن شاء الله.
3 - الإذن للشافع، كما قال تعالى: {من ذا الّذي يشفع عنده إلا بإذنه} (1).
4 - الرّضا عن المشفوع له كما قال تعالى: {وكم من ملك في السّموات لا تغني شفاعتهم شيئًا إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى} (2) وقال تعالى: {ولا يشفعون إلا لمن ارتضى} (3).
وبهذا تنتهي المقدمة، ونستعين بالله في الشروع في ذكر الأحاديث بأسانيدها مع العزو إلى بقيّة المخرجين بحسب الاستطاعة، فإن في ذكر الحديث بسنده طمأنينةً لطالب علم الحديث، وحذف الأسانيد خسارة كبيرة، إذ الإسناد من الدين، وما كان سلفنا رحمهم الله يقبلون من محدث حديثًا حتى يسنده، وينظروا في رجاله رجلاً رجلاً، كما هو معروف من سيرهم رحمهم الله.
وأما التخريج فهو يعين طالب العلم على جمع طرق الحديث، والحديث كلما كثرت طرقه ازداد قوة، والتخريج أيضًا يعين طالب العلم على الوقوف على شروح الحديث، في الكتب التي قد شرحت، فربّ حديث يكون عامًا قد خصّص، أو يكون منسوخًا، أو يكون مطلقًا قد قيّد، من أجل هذا فإنه لا غنى لنا عن الرجوع إلى الشروح غير مقلدين لأصحابها،
--------------------------------------------
ইনশাআল্লাহ, হাদিসসমূহ তাদের যথাযথ স্থানে উল্লেখ করা হবে।
৩ - সুপারিশকারীর জন্য অনুমতি, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে এমন কে আছে?} (১)।
৪ - যার জন্য সুপারিশ করা হবে তার প্রতি সন্তুষ্টি, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আকাশমণ্ডলীসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না; তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন, তাকে অনুমতি দেওয়ার পর} (২) এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট} (৩)।
এভাবেই ভূমিকা সমাপ্ত হলো। আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি হাদিসসমূহ তাদের সনদসহ উল্লেখ করা শুরু করার ক্ষেত্রে, পাশাপাশি সক্ষমতা অনুযায়ী অন্যান্য সংকলনকারীদের সূত্রের প্রতিও সেগুলোকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে। কারণ সনদসহ হাদিস উল্লেখ করার মাঝে হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য নির্ভরতা ও প্রশান্তি নিহিত রয়েছে। আর সনদ বিলুপ্ত করা এক বিরাট ক্ষতি, কেননা সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের পূর্বসূরিগণ (সালাফ) — আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন — কোনো বর্ণনাকারীর নিকট থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না তিনি সেটিকে সনদযুক্ত করতেন, এবং তাঁরা বর্ণনাকারীদের একে একে পর্যবেক্ষণ করতেন, যেমনটি তাঁদের জীবনী থেকে সুপরিচিত — আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন।
আর তাহরিজ (হাদিসের সূত্র অনুসন্ধান) ইলম অন্বেষণকারীকে হাদিসের সূত্রসমূহ একত্রিত করতে সাহায্য করে। হাদিসের সূত্র যত বৃদ্ধি পায়, তার শক্তিও তত বৃদ্ধি পায়। তাহরিজ ইলম অন্বেষণকারীকে হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে সংশ্লিষ্ট হাদিসের ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত হতেও সাহায্য করে। কারণ অনেক সময় কোনো হাদিস হয়তো সাধারণ (আম) থাকে যা অন্য বর্ণনার মাধ্যমে বিশেষিত (খাস) করা হয়েছে, অথবা তা রহিত (মানসুখ) হতে পারে, কিংবা শর্তহীন (মুতলাক) থাকে যা শর্তযুক্ত (মুকাইয়াদ) করা হয়েছে। এ কারণেই আমাদের জন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য, তবে সেগুলোর রচয়িতাদের অন্ধ অনুসরণ না করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولكن مستفيدين من جهودهم التي بذلوها في خدمة السنة، فجزاهم الله عن الإسلام خيرًا.
هذا ويستفاد من التخريج وجمع الطرق أنّ الحديث ربّما يكون ظاهره الصحة، وبجمع الطرق تظهر فيه علّة من اضطراب أو انقطاع أو إرسال أو وقف أو غيرها مما يعلّ بها الحديث. فمن ثمّ يقول علي بن المديني: إن الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبيّن خطؤه. وإليك مثالاً على ذلك: حديث جابر في "صحيح البخاري" فيمن يقول مثل ما يقول المؤذن، ثم يقول: ((اللهمّ ربّ هذه الدّعوة التّامة، والصّلاة القائمة، آت محمّدًا [وفي "معاني الآثار" للطحاوي: آت سيّدنا محمدًا] الوسيلة والفضيلة، وابعثْه مقامًا محمودًا الذي وعدته))، وفي "سنن البيهقي" زيادة: ((إنّك لا تخلف الميعاد))، فبسبب جمع الطرق علم أنّ هاتين الزيادتين شاذتان كما سيأتي إن شاء الله، في (أسباب الشّفاعة).
هذا وقد أذكر بعض الأحاديث الشديدة الضعف والموضوعة لبيان حالها لا للاحتجاج بها، فإنّ بعض الأحاديث الموضوعة تستغلها بعض الطوائف المنحرفة لترويج باطلها، وإليك مثالاً على ذلك وهو ما قرأناه في "العقد الثمين في معرفة رب العالمين" (1) ونحن بصعدة (2): ((ليست شفاعتي لأهل الكبائر من أمّتي)) فهذا حديث ليس له أصل، إنّما هو من أباطيل المعتزلة، كما في "أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب".
--------------------------------------------
তবে সুন্নাহর খিদমতে তাদের ব্যয়িত প্রচেষ্টাসমূহ থেকে আমরা উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ ইসলামের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
উল্লেখ্য যে, তাখরিজ এবং সনদসমূহ একত্রিত করার মাধ্যমে এই ফায়দা অর্জিত হয় যে, কোনো হাদীস বাহ্যিকভাবে সহীহ মনে হলেও সনদগুলো একত্র করার ফলে তাতে ইদতিরাব (বিশৃঙ্খলা), ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা), ইরসাল (তাবেয়ি কর্তৃক সরাসরি রাসূলের উদ্ধৃতি), ওয়াকফ (সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া) অথবা হাদীস ত্রুটিযুক্ত হওয়ার মতো অন্যান্য কোনো সূক্ষ্ম ইল্লত বা ত্রুটি ধরা পড়ে। একারণেই আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: কোনো বিষয়ের সবগুলো সনদ যদি একত্রিত না করা হয়, তবে তার ভুল স্পষ্ট হয় না। এর একটি উদাহরণ হলো: সহীহ বুখারীতে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদীস, যা মুআযযিনের আযানের উত্তর দেওয়ার পর পাঠ করতে হয়: ((হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মাদকে [এবং তহাবীর "মা’আনিল আসার" গ্রন্থে রয়েছে: আমাদের নেতা মুহাম্মাদকে] দান করুন অসীলা ও ফযীলত এবং তাঁকে পৌঁছে দিন মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থান), যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন))। আর "সুনানে বায়হাকী"-তে একটি বর্ধিত অংশ রয়েছে: ((নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না))। সনদগুলো একত্রিত করার ফলে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই দুটি বর্ধিত অংশই 'শায' (সূক্ষ্ম ভুল বা বিচ্ছিন্ন), যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে (শাফাআতের কারণসমূহ) পরিচ্ছেদে আলোচিত হবে।
আমি এখানে কিছু অতিশয় দুর্বল এবং জাল হাদীসও উল্লেখ করতে পারি, যা কেবল সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করার জন্যই, দলীল হিসেবে পেশ করার জন্য নয়। কেননা, বিভ্রান্ত কিছু দল তাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের জন্য কিছু জাল হাদীস ব্যবহার করে থাকে। এর একটি উদাহরণ হলো, আমরা ইয়েমেনের সায়দাহ্ (২)-তে অবস্থানকালে "আল-ইকদুত সামীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন" (১) নামক গ্রন্থে পড়েছি: ((আমার উম্মতের কবীরা গুনাহগারদের জন্য আমার শাফাআত হবে না))। এটি এমন একটি হাদীস যার কোনো ভিত্তি নেই। মূলত এটি মুতাযিলাদের বাতিল সংমিশ্রণগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি "আসনীল মাতালিব ফী আহাদীসিন মুখতালিফাতির মারাতিব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مثال آخر: حديث ((ثلاثة أنا شفيع لهم يوم القيامة: الضارب بسيفه أمام ذريتي، والقاضي لهم حوائجهم عندما اضطروا إليه، والمحبّ لهم بقلبه ولسانه)) ولا يخفى على القارئ ما هو مقصد (1) واضع هذا الحديث، وسيأتي إن شاء الله الكلام على هذا الحديث الباطل في (أعمال متفرقة من أسباب الشّفاعة).
تنبيه:قاعدتي في الحكم على الحديث أنّني أبحث في كتب المحدثين، فإن وجدت حكمًا لمحدث نقلته، ثم نظرت في رجال السّند فإن ظهر لي خلاف ذلك الحكم من تصحيح أو تضعيف عقّبت به على حكمه، وإلا أقررته كما هو، وأعتقد أنّ هذه الطريقة أسلم، فقد يظن الباحث أنّ السند صحيح ويكون قد اطلع العلماء على علّة فيه، وقد يصححه متساهل، فيتناقله من بعده معتمدين على تصحيحه، من أجل هذا ألزمت نفسي بالجمع بين البحث عمّا قاله العلماء، والنظر في السند، وأيضًا النّاس يطمئنون إلى تصحيح المتقدمين لعلمهم أنّهم أوسع علمًا من المتأخرين. فإذا لم أجد لهم كلامًا حكمت على الحديث بظاهر السّند. والله المستعان، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
اعتذار:
اطلعت على أحاديث في "كنْز العمّال" وفي "مجمع الزوائد" و"المطالب العالية" تعزى إلى مصادر ليست في متناولي فتركتها ولم تطمئن النفس إلى
--------------------------------------------
অন্য একটি উদাহরণ: হাদীস ((তিন ব্যক্তি এমন যাদের জন্য আমি কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হব: যে ব্যক্তি আমার বংশধরদের রক্ষার্থে তরবারি চালিয়ে যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি তাদের প্রয়োজনে তাদের হাজত পূরণ করে যখন তারা তার মুখাপেক্ষী হয় এবং যে ব্যক্তি অন্তর ও জবান দিয়ে তাদের ভালোবাসে))। এই হাদীসের জালকারীর উদ্দেশ্য (১) কী তা পাঠকের কাছে অস্পষ্ট নয়। ইনশাআল্লাহ, এই বাতিল হাদীসটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা 'শাফাআতের কারণসমূহের বিবিধ আমলসমূহ' অধ্যায়ে সামনে আসবে।
সতর্কীকরণ:হাদীসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমার নীতি হলো, আমি মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহে অনুসন্ধান করি। যদি কোনো মুহাদ্দিসের কোনো হুকুম বা মন্তব্য পাই তবে তা উদ্ধৃত করি। অতঃপর সনদের বর্ণনাকারীদের (রাবী) প্রতি দৃষ্টিপাত করি; যদি সহীহ বা যঈফ হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত হুকুমের বিপরীতে কোনো কিছু আমার নিকট প্রকাশ পায়, তবে আমি তার ওপর টীকা প্রদান করি। অন্যথায় তা যেমন আছে তেমনই বহাল রাখি। আমি মনে করি এই পদ্ধতিটি অধিক নিরাপদ। কেননা, অনেক সময় একজন গবেষক মনে করতে পারেন যে সনদটি সহীহ, অথচ উলামায়ে কেরাম হয়তো তাতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লত) সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আবার কখনো কখনো কোনো শিথিলকারী (মুতাসাহিল) ব্যক্তি সেটিকে সহীহ বলে দিতে পারেন এবং পরবর্তীগণ তার সেই সংশোধনের ওপর ভিত্তি করে তা বর্ণনা করতে থাকেন। একারণেই আমি পূর্বসূরী আলিমগণের বক্তব্য অনুসন্ধান এবং সনদের প্রতি দৃষ্টিপাত—উভয়ের সমন্বয়ে নিজেকে দায়বদ্ধ করেছি। এছাড়া মানুষ পূর্বসূরীদের (মুতালাদ্দিমুন) যাচাই-বাছাইয়ের ওপর অধিক আশ্বস্ত হন, কারণ তারা পরবর্তীগণের (মুতায়াকখিরুন) চেয়ে অধিকতর ইলমের অধিকারী ছিলেন। আর যদি তাদের কোনো বক্তব্য না পাই, তবে সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হাদীসের হুকুম প্রদান করি। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
ক্ষমা প্রার্থনা:
আমি 'কানযুল উম্মাল', 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ' এবং 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' গ্রন্থে এমন কিছু হাদীস দেখেছি যা এমন সব মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যেগুলো আমার হাতের নাগালে নেই। ফলে আমি সেগুলো পরিত্যাগ করেছি এবং মন তাতে তৃপ্ত হয়নি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
نقلها بدون أسانيد، وقد أخرجت في الغالب ما يغني عنها، وهكذا في الرجال فقد أبحث عن بعضهم فلا أجد له ترجمة في المصادر لديّ، فأتوقف في الحكم على الحديث خشية أن يكون الراوي موثقًا في مصدر لم أطلع عليه، أو يكون تصحّف فما أكثر التصحيف في الكتب المطبوعة التي لم يشرف عليها من هو أهل للإشراف.
هذا، وقد أعرضت عن جدل أهل البدع وذكر أقوالهم والردّ عليها، وسقت الأحاديث كما هي، ففي الأدلة غنية عن فلسفة أهل علم الكلام، وفي الأدلة قمع لبدعهم (1) فعسى الله أن يوفق المسلمين إلى الرجوع إلى كتاب الله وسنة رسول الله اللّذين هما أمان من الضلال والزّيغ، وهما عصمة من الاختلاف الذي مزّق الأمّة الإسلامية وجعلهم شيعًا وأحزابًا، فإنّا لله وإنّا إليه راجعون.
((اللهمّ ربّ جبرائيل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السّموات والأرض، عالم الغيب والشّهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحقّ بإذنك إنّك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم)) (2).
--------------------------------------------
তিনি এগুলোকে সনদ বা বর্ণনাসূত্র ছাড়াই উদ্ধৃত করেছেন, আর আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন বিষয় উপস্থাপন করেছি যা সেগুলোর অভাব পূরণ করে। বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ; আমি হয়তো কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে অনুসন্ধান করি কিন্তু আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহে তার জীবনবৃত্তান্ত খুঁজে পাই না। এমতাবস্থায় আমি হাদীসটির ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে বিরত থাকি এই আশঙ্কায় যে, বর্ণনাকারী হয়তো এমন কোনো উৎসে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়েছেন যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি, অথবা নামটিতে হয়তো বর্ণবিকৃতি ঘটেছে—আর উপযুক্ত বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ব্যতীত মুদ্রিত বইগুলোতে এজাতীয় বর্ণবিকৃতি কতই না অধিক!
তদুপরি, আমি বিদআতিদের বিতর্ক, তাদের মতামতের উল্লেখ এবং সেগুলোর খণ্ডন করা থেকে বিরত থেকেছি। আমি হাদীসসমূহকে তার স্বরূপে উপস্থাপন করেছি; কেননা দালিলিক প্রমাণের মধ্যে ইলমুল কালামপন্থীদের দর্শনের চেয়ে অধিক উপযোগিতা রয়েছে এবং দালিলিক প্রমাণের মাঝেই তাদের বিদআতসমূহের মূলোৎপাটন নিহিত রয়েছে (১)। মহান আল্লাহ যেন মুসলিমদের আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করার তাওফীক দান করেন, যা পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষার উপায় এবং সেই অনৈক্য থেকে বেঁচে থাকার রক্ষাকবচ যা মুসলিম উম্মাহকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করেছে। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই নিকট আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।
((হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাত! আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনিই তাদের মাঝে সেটির বিচার করবেন। যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সত্যের দিশা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের হিদায়াত দান করেন)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشّفاعة العظمى1 - قال البخاري رحمه الله (ج8 ص395): حدثنا محمد بن مقاتل أخبرنا عبد الله (1) أخبرنا أبوحيان التيمي عن أبي زرعة بن عمرو بن جرير عن أبي هريرة رضى الله عنه قال: أتي رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلّم بلحم، فرفع إليه الذراع، وكانت تعجبه فنهس منها نهسةً ثم قال: ((أنا سيّد النّاس يوم القيامة، وهل تدرون ممّ ذلك؟ يجمع الله النّاس الأوّلين والآخرين في صعيد واحد يسمعهم الدّاعي وينفذهم البصر، وتدنو الشّمس، فيبلغ النّاس من الغمّ والكرب ما لا يطيقون ولا يحتملون، فيقول النّاس: ألا ترون ما قد بلغكم؟ ألا تنظرون من يشفع لكم إلى ربّكم؟ فيقول بعض النّاس لبعض: عليكم بآدم. فيأتون آدم عليه السلام فيقولون له: أنت أبوالبشر، خلقك الله بيده، ونفخ فيك من روحه، وأمر الملائكة فسجدوا لك، اشفع لنا إلى ربّك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ ألا ترى إلى ما قد بلغنا؟ فيقول آدم: إنّ ربّي قد غضب اليوم غضبًا لم يغضب قبله مثله، ولن يغضب بعده مثله، وإنّه قد نهاني عن الشّجرة فعصيته، نفسي نفسي نفسي اذهبوا إلى غيري اذهبوا إلى نوح. فيأتون نوحًا فيقولون: يا نوح إنّك أنت
--------------------------------------------
মহা সুপারিশ১ - ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩৯৫): আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন মুকাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে আব্দুল্লাহ (১) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে আবু হাইয়ান আত-তায়মী সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআ বিন আমর বিন জারীর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গোশত আনা হলো, অতঃপর তাঁর সামনে দস্ত বা সামনের পায়ের গোশত পেশ করা হলো, যা তাঁর অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিল। তিনি তা থেকে এক কামড় নিলেন এবং বললেন: ((কিয়ামতের দিন আমি হব মানবজাতির নেতা। তোমরা কি জানো তা কেন? আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে এক বিশাল সমতলে একত্রিত করবেন, আহ্বানকারীর ডাক তাদের সকলের কানে পৌঁছাবে এবং দৃষ্টি তাদের সবাইকে পরিবেষ্টন করবে। সূর্য অতি নিকটে চলে আসবে, ফলে মানুষ এমন অসহনীয় দুঃখ ও কষ্টে নিপতিত হবে যা তারা সহ্য করতে পারবে না এবং বহন করতে পারবে না। তখন মানুষ একে অপরকে বলবে: 'তোমরা কি দেখছ না তোমাদের অবস্থা কী দাঁড়িয়েছে? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজবে না যে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের জন্য সুপারিশ করবে?' তখন কিছু লোক অন্যদের বলবে: 'তোমাদের আদমের কাছে যাওয়া উচিত।' অতঃপর তারা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আসবে এবং বলবে: 'আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ফলে তারা আপনাকে সিজদা করেছে। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থার মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না আমাদের কী দশা হয়েছে?' আদম (আলাইহিস সালাম) বলবেন: 'নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে ইতিপূর্বে তিনি কখনো এমন রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে সেই বৃক্ষটি থেকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি তাঁর অবাধ্যতা করেছি। আজ আমার নিজেরই চিন্তা, আমার নিজেরই চিন্তা, আমার নিজেরই চিন্তা! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা নূহের কাছে যাও।' অতঃপর তারা নূহের নিকট আসবে এবং বলবে: 'হে নূহ! নিশ্চয়ই আপনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أوّل الرّسل إلى أهل الأرض (1)، وقد سمّاك الله عبدًا شكورًا، اشفع لنا إلى ربّك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ فيقول: إنّ ربّي عز وجل قد غضب اليوم غضبًا لم يغضب قبله مثله، ولن يغضب بعده مثله، وإنّه قد كانت لي دعوة دعوتها على قومي، نفسي نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري اذهبوا إلى إبراهيم.
فيأتون إبراهيم فيقولون: يا إبراهيم أنت نبيّ الله وخليله من أهل الأرض، اشفع لنا إلى ربّك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ فيقول لهم: إنّ ربّي قد غضب اليوم غضبًا لم يغضب قبله مثله، ولن يغضب بعده مثله، وإنّي قد كنت كذبت ثلاث كذبات- فذكرهنّ أبوحيان في الحديث- نفسي نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري، اذهبوا إلى موسى. فيأتون موسى فيقولون: يا موسى أنت رسول الله، فضّلك الله برسالته وبكلامه على النّاس، اشفع لنا إلى ربّك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ فيقول: إنّ ربّي قد غضب اليوم غضبًا لم يغضب قبله مثله، ولن يغضب بعده مثله، وإنّي قد قتلت نفسًا لم أومر بقتلها، نفسي نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري، اذهبوا إلى عيسى. فيأتون عيسى فيقولون: يا عيسى أنت رسول الله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، وكلّمت النّاس في المهد صبيًّا" اشفع لنا إلى ربّك ألا ترى إلى ما نحن
--------------------------------------------
পৃথিবীর অধিবাসীদের নিকট প্রেরিত প্রথম রাসূল (১), এবং আল্লাহ আপনাকে ‘পরম কৃতজ্ঞ বান্দা’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন; আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থার মধ্যে আছি? তিনি বলবেন: নিশ্চয়ই আজ আমার মহান রব এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, ইতিপূর্বে তিনি কখনও এরূপ রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমার একটি দোয়ার অধিকার ছিল যা আমি আমার কওমের বিরুদ্ধে করে ফেলেছি। হায় আমার নফসের কী হবে! হায় আমার নফসের কী হবে! হায় আমার নফসের কী হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ইবরাহীমের নিকট যাও।
অতঃপর তারা ইবরাহীমের কাছে আসবে এবং বলবে: হে ইবরাহীম! আপনি আল্লাহর নবী এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যে তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু (খালীল), আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন; আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থার মধ্যে আছি? তিনি তাদের বলবেন: নিশ্চয়ই আজ আমার রব এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, ইতিপূর্বে তিনি কখনও এরূপ রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তিনটি মিথ্যা বলেছিলাম—আবু হাইয়ান হাদিসটিতে সেগুলো উল্লেখ করেছেন—হায় আমার নফসের কী হবে! হায় আমার নফসের কী হবে! হায় আমার নফসের কী হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা মূসার নিকট যাও। অতঃপর তারা মূসার কাছে আসবে এবং বলবে: হে মূসা! আপনি আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তাঁর রিসালাত এবং তাঁর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন; আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থার মধ্যে আছি? তিনি বলবেন: নিশ্চয়ই আজ আমার রব এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, ইতিপূর্বে তিনি কখনও এরূপ রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলাম যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। হায় আমার নফসের কী হবে! হায় আমার নফসের কী হবে! হায় আমার নফসের কী হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ঈসার নিকট যাও। অতঃপর তারা ঈসার কাছে আসবে এবং বলবে: হে ঈসা! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী (কালেমা) যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ; আর আপনি দোলনায় শিশু অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলেছিলেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন, আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থায় আছি?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فيه فيقول عيسى إنّ ربّي قد غضب اليوم غضبًا لم يغضب قبله مثله، ولن يغضب بعده مثله -ولم يذكر ذنبًا- نفسي نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري اذهبوا إلى محمّد صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم. فيأتون محمّدًا، فيقولون: يا محمّد أنت رسول الله وخاتم الأنبياء، وقد غفر الله لك ما تقدّم من ذنبك وما تأخّر، اشفع لنا إلى ربّك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ فأنطلق فآتي تحت العرش فأقع ساجدًا لربّي عز وجل، ثمّ يفتح الله عليّ من محامده وحسن الثّناء عليه شيئًا لم يفتحه على أحد قبلي، ثمّ يقال: يا محمّد ارفع رأسك، سل تعطه، واشفعْ تشفّعْ. فأرفع رأسي فأقول: أمّتي يا ربّ، أمّتي يا ربّ (1). فيقال: يا محمّد أدخل من أمّتك من لا حساب عليهم من الباب الأيمن من أبواب الجنّة، وهم شركاء النّاس فيما سوى ذلك من الأبواب. -ثم قال- والّذي نفسي بيده إنّ ما بين المصراعين من مصاريع الجنّة كما بين مكّة وحمير، أو كما بين مكّة وبصرى)).
الحديث أخرجه مسلم (ج1 ص184)، والترمذي (ج4 ص43)، وأحمد (ج2 ص435)، وابن خزيمة (2) ص (242)، وأبوعوانة (ج1 ص171)، وعندهم كلهم إلا البخاري وأبا عوانة: ((ما بين مكّة وهجر)).
2 - قال البخاري رحمه الله (ج13 ص392): حدثني معاذ بن فضالة
--------------------------------------------
সেখানে তখন ঈসা বলবেন, ‘নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন ক্রুদ্ধ হয়েছেন যার আগে কখনও তিনি এরূপ ক্রুদ্ধ হননি এবং এরপরও কখনও এরূপ ক্রুদ্ধ হবেন না—তিনি নিজের কোনো গুনাহর কথা উল্লেখ করবেন না—আমার কী হবে, আমার কী হবে, আমার কী হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাও।’ তখন তারা মুহাম্মদের কাছে আসবে এবং বলবে: ‘হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন; আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি আমাদের অবস্থা দেখতে পাচ্ছেন না?’ তখন আমি রওয়ানা হব এবং আরশের নিচে এসে আমার মহান রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হব। এরপর আল্লাহ আমার জন্য তাঁর এমন কিছু মহিমা ও উত্তম প্রশংসা উন্মুক্ত করে দেবেন যা ইতিপূর্বে আর কারো জন্য করেননি। এরপর বলা হবে: ‘হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা উঠান; প্রার্থনা করুন, আপনাকে দেওয়া হবে এবং সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে।’ তখন আমি মাথা তুলব এবং বলব: ‘হে আমার রব, আমার উম্মত! হে আমার রব, আমার উম্মত!’ (১)। তখন বলা হবে: ‘হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোনো হিসাব নেই, জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্য থেকে ডান দিকের দরজা দিয়ে তাদের প্রবেশ করিয়ে দিন, আর অন্যান্য দরজায় তারা অন্য মানুষের সাথে অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে।’ অতঃপর তিনি বললেন: ‘সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতের চৌকাঠের দুই কপাটের মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা ও হিময়ারের দূরত্বের সমান অথবা মক্কা ও বসরার দূরত্বের সমান’।
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১ম খণ্ড, ১৮৪ পৃষ্ঠা), তিরমিযী (৪র্থ খণ্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা), আহমাদ (২য় খণ্ড, ৪৩৫ পৃষ্ঠা), ইবনে খুজাইমা (২) (২৪২ পৃষ্ঠা), এবং আবু আওয়ানা (১ম খণ্ড, ১৭১ পৃষ্ঠা)। বুখারী ও আবু আওয়ানা ব্যতীত তাদের সকলের বর্ণনায় রয়েছে: ‘মক্কা ও হাজারের মধ্যবর্তী দূরত্ব’।
২ - ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১৩শ খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা): মুয়াজ ইবনে ফাদালা আমার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حدثنا هشام (1) عن قتادة عن أنس أن النّبيّ صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم قال: ((يجمع الله المؤمنين (2) يوم القيامة كذلك، فيقولون: لو استشفعنا إلى ربّنا حتّى يريحنا من مكاننا هذا. فيأتون آدم، فيقولون: يا آدم أما ترى النّاس؟ خلقك الله بيده، وأسجد لك ملائكته، وعلّمك أسماء كلّ شيء، اشفع لنا إلى ربّك، حتّى يريحنا من مكاننا هذا. فيقول: لست هناكم -ويذكر لهم خطيئته التي أصاب- ولكن ائتوا نوحًا فإنّه أوّل رسول بعثه الله إلى أهل الأرض. فيأتون نوحًا، فيقول: لست هناك -ويذكر خطيئته التي أصاب- ولكن ائتوا إبراهيم خليل الرّحمن. فيأتون إبراهيم، فيقول: لست هناكم -ويذكر لهم خطاياه التي أصابها- ولكن ائتوا موسى عبدًا آتاه الله التّوراة، وكلّمه تكليمًا. فيأتون موسى، فيقول: لست هناكم -ويذكر لهم خطيئته التي أصاب- ولكن ائتوا عيسى عبد الله ورسوله وكلمته وروحه. فيأتون عيسى، فيقول: لست هناكم، ولكن ائتوا محمّدًا صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم عبدًا غفر له ما تقدّم من ذنبه وما تأخّر. فيأتونني فأنطلق فأستأذن على ربّي، فيؤذن لي عليه، فإذا رأيت ربّي (3) وقعت له ساجدًا، فيدعني ما شاء الله أن يدعني، ثمّ يقال لي: ارفع محمّد، قل يسمعْ، وسل تعطه، واشفعْ تشفّعْ.
فأحمد ربّي بمحامد علّمنيها، ثمّ أشفع فيحدّ لي حدًّا فأدخلهم الجنّة، ثمّ أرجع فإذا رأيت ربّي وقعت ساجدًا، فيدعني ما شاء الله أن يدعني، ثمّ يقال: ارفع محمّد، وقل يسمع، وسل تعطه، واشفع تشفّع. فأحمد ربّي بمحامد علّمنيها، ثمّ أشفع
--------------------------------------------
হিশাম (১) কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ কিয়ামতের দিন মুমিনদের (২) একইভাবে সমবেত করবেন। অতঃপর তারা বলবে: 'যদি আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করতাম যাতে তিনি আমাদের এই কষ্টদায়ক স্থান থেকে মুক্তি দিতেন!' তারা আদমের নিকট আসবে এবং বলবে: 'হে আদম! আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদাহ করিয়েছেন এবং আপনাকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের এই স্থান থেকে মুক্তি দেন।' তিনি বলবেন: 'আমি তোমাদের এই সুপারিশের যোগ্য নই'—এবং তিনি তাঁর কৃত ত্রুটির কথা উল্লেখ করবেন—'বরং তোমরা নূহের নিকট যাও, কারণ তিনি প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ পৃথিবীবাসীর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।' অতঃপর তারা নূহের নিকট আসবে, তিনি বলবেন: 'আমি তোমাদের এই সুপারিশের যোগ্য নই'—এবং তিনি তাঁর কৃত ত্রুটির কথা উল্লেখ করবেন—'বরং তোমরা ইবরাহিমের নিকট যাও, যিনি দয়াময় আল্লাহর খলীল (বন্ধু)।' তারা ইবরাহিমের নিকট আসবে, তিনি বলবেন: 'আমি তোমাদের এই সুপারিশের যোগ্য নই'—এবং তিনি তাঁর কৃত ত্রুটিগুলোর কথা উল্লেখ করবেন—'বরং তোমরা মূসার নিকট যাও, যিনি এমন এক বান্দা যাকে আল্লাহ তাওরাত দান করেছেন এবং তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।' তারা মূসার নিকট আসবে, তিনি বলবেন: 'আমি তোমাদের এই সুপারিশের যোগ্য নই'—এবং তিনি তাঁর কৃত ত্রুটির কথা উল্লেখ করবেন—'বরং তোমরা ঈসার নিকট যাও, যিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর কালিমা এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ।' তারা ঈসার নিকট আসবে, তিনি বলবেন: 'আমি তোমাদের এই সুপারিশের যোগ্য নই; বরং তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাও, যিনি এমন এক বান্দা যার পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করা হয়েছে।' অতঃপর তারা আমার নিকট আসবে, তখন আমি গিয়ে আমার প্রতিপালকের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, আমাকে তাঁর দরবারে অনুমতি দেওয়া হবে। যখন আমি আমার প্রতিপালককে দেখব (৩), আমি তাঁর উদ্দেশে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা করবেন আমাকে সে অবস্থায় রাখবেন। অতঃপর আমাকে বলা হবে: 'হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, কথা বলুন—আপনার কথা শোনা হবে, যা চাইবেন—দেওয়া হবে এবং সুপারিশ করুন—আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে।'"
"অতঃপর আমি আমার প্রতিপালকের এমন সব প্রশংসাগীতি করব যা তিনি আমাকে শিক্ষা দেবেন। এরপর আমি সুপারিশ করব, তখন আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। অতঃপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। এরপর আমি পুনরায় ফিরে আসব এবং যখন আমার প্রতিপালককে দেখব তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ আমাকে যতক্ষণ ইচ্ছা করবেন সে অবস্থায় রাখবেন। অতঃপর বলা হবে: 'হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, কথা বলুন—আপনার কথা শোনা হবে, যা চাইবেন—দেওয়া হবে এবং সুপারিশ করুন—আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে।' তখন আমি আমার প্রতিপালকের ঐ সমস্ত প্রশংসাগীতি করব যা তিনি আমাকে শিক্ষা দেবেন, এরপর আমি সুপারিশ করব..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শাফাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فيحدّ لي حدًّا فأدخلهم الجنّة، ثمّ أرجع فإذا رأيت ربّي وقعت ساجدًا، فيدعني ما شاء الله أن يدعني، ثمّ يقال: ارفع محمّد، قل يستمع، وسل تعطه، واشفع تشفّع. فأحمد ربّي بمحامد علّمنيها، ثمّ أشفع فيحدّ لي حدًّا فأدخلهم الجنّة، ثمّ أرجع فأقول: يا ربّ ما بقي في النّار إلا من حبسه القرآن ووجب عليه الخلود (1)).
فقال النّبيّ صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم: ((يخرج من النّار من قال لا إله إلاّ الله، وكان في قلبه من الخير ما يزن شعيرة، ثمّ يخرج من النّار من قال لا إله إلاّ الله وكان في قلبه من الخير ما يزن برّةً، ثمّ يخرج من النّار من قال لا إله إلا الله وكان في قلبه ما يزن من الخير ذرّةً)).
الحديث أعاده البخاري ص (422)، وأخرجه مسلم (ج1 ص180)، وأبوعوانة (ج1 ص178 - 179) وابن ماجة (ج2 ص1442)، وأحمد (ج3 ص116، 244، 247)، والطيالسي (ج2 ص227) من "ترتيب المسند" من رواية همام عن قتادة به.
3 - قال البخاري رحمه الله (ج13 ص473): حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد حدثنا معبد بن هلال العنزي قال: اجتمعنا ناس من
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবেন, আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। এরপর আমি পুনরায় ফিরে আসব এবং যখন আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন ততক্ষণ আমাকে সেই অবস্থায় থাকতে দেবেন। এরপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ, মাথা ওঠান; বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; প্রার্থনা করুন, আপনাকে দান করা হবে; এবং সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি আমার প্রতিপালকের প্রশংসা করব সেই সকল স্তুতিবাক্যের মাধ্যমে যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। এরপর আমি সুপারিশ করব এবং তিনি আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবেন, আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। অতঃপর আমি পুনরায় ফিরে এসে বলব: হে আমার প্রতিপালক, জাহান্নামে কেবল তারাই অবশিষ্ট আছে যাদের কুরআন আটকে দিয়েছে এবং যাদের জন্য চিরস্থায়ী অবস্থান অবধারিত হয়েছে (১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "জাহান্নাম থেকে বের করা হবে তাকে, যে ব্যক্তি বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং তার হৃদয়ে একটি যব পরিমাণও কল্যাণ বিদ্যমান। এরপর জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে, যে ব্যক্তি বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং তার হৃদয়ে একটি গম পরিমাণও কল্যাণ বিদ্যমান। অতঃপর জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে, যে ব্যক্তি বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং তার হৃদয়ে একটি অণু পরিমাণও কল্যাণ বিদ্যমান।"
হাদিসটি ইমাম বুখারী ৪২২ পৃষ্ঠায় পুনরাবৃত্তি করেছেন। এছাড়াও এটি মুসলিম (১ম খণ্ড, ১৮০ পৃষ্ঠা), আবু আওয়ানা (১ম খণ্ড, ১৭৮-১৭৯ পৃষ্ঠা), ইবনে মাজাহ (২য় খণ্ড, ১৪৪২ পৃষ্ঠা), আহমাদ (৩য় খণ্ড, ১১৬, ২৪৪, ২৪৭ পৃষ্ঠা) এবং তায়ালিসি (২য় খণ্ড, ২২৭ পৃষ্ঠা) 'তারতিবুল মুসনাদ' গ্রন্থে হাম্মাম হতে কাতাদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৩ - ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (১৩শ খণ্ড, ৪৭৩ পৃষ্ঠা) বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনুল হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মা'বাদ ইবনে হিলাল আল-আনাযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা কিছু লোক একত্রিত হয়েছিলাম...
--------------------------------------------