(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: -)
متن شذور الذهب القسم: النحو والصرف
الكتاب: متن شذور الذهب
المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761هـ)
الناشر: مطبعة مصطفى البابي الحلبي
الطبعة: الأخيرة
عدد الصفحات: 34
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مشكول]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ذو الحجة 1433
মতন শুযুরুল যাহাব বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: মতন শুযুরুল যাহাব
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি মুদ্রণালয়
সংস্করণ: সর্বশেষ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযায়েরি
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি হরকতযুক্ত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ যুলহিজ্জাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১)
متن شرح شذور الذهب
تأليف
جمال الدين محمد بن يوسف بن هشام
الأنصاري الشهير بالنَحْوُي
(708 - 761)
الطبعة الأخيرة
مطبعة مصطفى البابي الحلبي
শারহু শুযুরিল যাহাব-এর মূল পাঠ (متن)
রচনায়
জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন হিশাম
আল-আনসারী, যিনি ব্যাকরণবিদ (النحوي) হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ
(৭০৮ - ৭৬১ হিজরি)
সর্বশেষ সংস্করণ
মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি মুদ্রণালয়
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْكَلِمَةُ قَوْلٌ مُفْرَدٌ، وَهِيَ اسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفٌ، فَالِاسْمُ: مَا يَقْبَلُ أَلْ، أَوِ النِّدَاءَ، أَوِ الْإِسْنَادَ إِلَيْهِ. وَالْفِعْلُ إِمَّا (مَاضٍ) وَهُوَ مَا يَقْبَلُ تَاءَ التَّأْنِيثِ السَّاكِنَةَ كَقَامَتْ وَقَعَدَتْ وَمِنْهُ نِعْمَ وَبِئْسَ وَعَسَى وَلَيْسَ. أَوْ (أَمْرٌ) وَهُوَ مَا دَلَّ عَلَى الطَّلَبِ مَعَ قَبُولِ يَاءِ الْمُخَاطَبَةِ كَقُومِي، وَمِنْهُ هَاتِ وَتَعَالَ. أَوْ (مُضارعٌ) وَهُوَ مَا يَقْبَلُ لَمْ كَلَمْ يَقُمْ، وَافْتِتَاحُهُ بِحَرْفٍ مِنْ (نَأَيْتُ) مَضْمُومٍ إِنْ كَانَ الْمَاضِي رُبَاعِيًّا كَأُدَحْرِجُ وَأُجِيبُ، وَمَفْتُوحٍ فِي غَيْرِهِ كَأَضْرِبُ وَأَسْتَخْرِجُ.
وَالْحَرْفُ مَا عَدَا ذَلِكَ كَهَلْ وَفِي وَلَمْ.
وَالْكَلَامُ قَوْلٌ مُفِيدٌ مَقْصُودٌ، وَهُوَ خَبَرٌ، وَطَلَبٌ، وَإنْشَاءٌ.
(بَابٌ)الْإِعْرَابُ أَثَرٌ ظَاهِرٌ أَوْ مُقَدَّرٌ يَجْلِبُهُ الْعَامِلُ فِي آخِرِ الاِسْمِ الْمُتَمَكِّنِ وَالْفِعْلِ الْمُضَارِعِ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শব্দ (كلمة) হলো একটি একক কথা; আর তা হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। সুতরাং বিশেষ্য (اسم) হলো তা, যা 'আল' (ال), আহ্বান (النداء) অথবা যার দিকে কোনো কিছুকে সম্বন্ধিত করা (الإسناد) গ্রহণ করে। আর ক্রিয়া (فعل) হয় অতীতকাল (ماض); আর তা হলো যা স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক সুকুনযুক্ত 'তা' (تاء التأنيث الساكنة) গ্রহণ করে যেমন 'ক্বামাত' ও 'ক্বা'য়াদাত', আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'নি'মা', 'বি'সা', 'আসা' ও 'লাইসা'। অথবা আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر); আর তা হলো যা সম্বোধিত স্ত্রীবাচক 'ইয়া' (ياء المخاطبة) গ্রহণের সাথে সাথে কোনো কিছু প্রার্থনার অর্থ প্রকাশ করে যেমন 'ক্বুমি', আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'হাতি' ও 'তা'আলা'। অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع); আর তা হলো যা 'লাম' (لم) গ্রহণ করে যেমন 'লাম ইয়াক্বুম'। এর শুরু হয় 'নাআইতু' (نأيت)-এর কোনো একটি অক্ষর দ্বারা; যদি এর অতীতকালটি চার অক্ষরবিশিষ্ট হয় তবে তা পেশযুক্ত (مضموم) হয় যেমন 'উদাহরিজু' ও 'উজ্বিবু', আর অন্য ক্ষেত্রে তা জবরযুক্ত (مفتوح) হয় যেমন 'আদ্বরিবু' ও 'আসতাখরিজু'।
আর অব্যয় (حرف) হলো এগুলো ব্যতীত অন্য কিছু যেমন 'হাল', 'ফি' এবং 'লাম'।
আর বাক্য (كلام) হলো উদ্দেশ্যমূলক অর্থবোধক কথা; আর তা সংবাদ (خبر), প্রার্থনা বা তলব (طلب) এবং ইনশা (إنشاء)-এর অন্তর্ভুক্ত।
(পরিচ্ছেদ)ই'রাব (إعراب) হলো এমন প্রকাশ্য (ظاهر) বা উহ্য (مقدر) প্রভাব, যা আমিল (عامل) পরিবর্তনযোগ্য বিশেষ্য (اسم متمكن) এবং মুদারে ক্রিয়ার (فعل مضارع) শেষে সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
وَأَنْوَاعُهُ: رَفْعٌ وَنَصْبٌ فِي اسْمٍ وَفِعْلٍ كَزَيْدٌ يَقُومُ، وَإِنَّ زَيْداً لَنْ يَقُومَ، وَجَرٌّ فِي اسْمٍ كَبِزَيْدٍ، وَجَزْمٌ فِي فِعْلٍ كَلَمْ يَقُمْ، وَالْأَصْلُ كَوْنُ الرَّفْعِ بِالضَّمَّةِ، والنَّصْبِ بِالْفَتْحَةِ، وَالْجَرِّ بالْكَسْرَةِ، وَالْجَزْمِ بالسُّكُونِ.
وَخَرَجَ عَنْ ذَلِكَ الْأَصْلِ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ، أَحَدُهَا مَا لَا يَنْصَرِفُ فَإِنَّهُ يُجَرُّ بِالْفَتْحَةِ نَحْوُ بِأَفْضَلَ مِنْهُ إِلَّا إِنْ أُضِيفَ أَوْ دَخَلَتْهُ أَلْ نَحْوُ بِأَفْضَلِكُمْ وَبِالْأَفْضَلِ.
الثَّانِي مَا جُمِعَ بِأَلِفٍ وَتَاءٍ مَزِيدَتَيْنِ، كَهِنْدَاتٍ فَإِنَّهُ يُنْصَبُ بِالْكَسْرَةِ نَحْوُ خَلَقَ اللَّهُ السَّموَاتِ، فَانفِرُواْ ثُبَاتٍ.
بِخِلَافِ نَحْوِ: وَكُنتُمْ أَمْوتًا، وَرَأَيْتُ قُضَاةً، وَأُلْحِقَ بِهِ أُولَاتُ.
الثَّالِثُ ذُو بِمَعْنَى صَاحِبٍ، وَمَا أُضِيفَ لِغَيْرِ الْيَاءِ مِنْ أَبٍ وَأَخٍ وَحَمٍ وَهَنٍ وَفَمٍ بِغَيْرِ مِيمٍ فَإِنَهَا تُعْرَبُ بِالْوَاوِ وَالْأَلِفِ وَالْيَاءِ وَالْأَفْصَحُ فِي الْهَنِ النَّقْصُ.
الرَّابِعُ الْمُثْنَّى كَالزَّيْدَانِ وَالْهِنْدَانِ، فَإنَّهُ يُرْفَعُ بِالْأَلِفِ، وَيُجَرُّ وَيُنْصَبُ بِالْيَاءِ الْمَفْتُوحِ مَا قَبْلَهَا الْمَكْسُورِ مَا بَعْدَهَا.
এর প্রকারভেদসমূহ হলো: বিশেষ্য ও ক্রিয়ার ক্ষেত্রে রফ' (رفع) ও নসব (نصب), যেমন— যাইদুন ইয়াক্বূমু এবং ইন্না যাইদান লান ইয়াক্বূমা; আর বিশেষ্যের ক্ষেত্রে জর (جر), যেমন— বি-যাইদিন; এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জজম (جزم), যেমন— লাম ইয়াক্বুম। আর মূল নিয়ম হলো রফ' (رفع) দম্মাহ (ضمة) দ্বারা হওয়া, নসব (نصب) ফাতহাহ (فتحة) দ্বারা হওয়া, জর (جر) কাসরাহ (كسرة) দ্বারা হওয়া এবং জজম (جزم) সুকুন (سكون) দ্বারা হওয়া।
এই মূল নিয়ম থেকে সাতটি পরিচ্ছেদ বের হয়ে গেছে; তার একটি হলো গায়রে মুনসারিফ (ما لا ينصرف), যা ফাতহাহ (فتحة) দ্বারা জর (جر) প্রাপ্ত হয়। যেমন— বি-আফদালা মিনহু; তবে যদি শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত (أضيف) হয় কিংবা তাতে আলিফ-লাম (ال) যুক্ত হয়, (তবে তা কাসরাহ দ্বারা জর হবে)। যেমন— বি-আফদালিকুম এবং বিল-আফদালি।
দ্বিতীয়টি হলো যা অতিরিক্ত আলিফ ও তা যোগে বহুবচন (ما جمع بألف وتاء مزيدتين) করা হয়েছে, যেমন— হিন্দাত। এটি কাসরাহ (كسرة) দ্বারা নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়। যেমন— খালাকাল্লাহুস সামাওয়াতি এবং ফানফিরূ সুবাতিন।
এর বিপরীতে যেমন: ওয়া কুনতুম আমওয়াতান এবং রাআইতু কুদাতান। আর উলাতু (أولات) শব্দটিকে এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তৃতীয়টি হলো— সাহিব অর্থে ব্যবহৃত যু (ذو), এবং আবু, আখু, হামু, হানু ও মীম বিহীন ফামু—যখন এগুলো ইয়া ব্যতীত অন্য কোনো শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (أضيف) হয়। এগুলোর ইরাব বা শব্দতাত্ত্বিক রূপান্তর (تعرب) ওয়াও, আলিফ ও ইয়া দ্বারা হয়। আর হানু (الهن) শব্দের ক্ষেত্রে নকস (النقص) তথা বর্ণ বিলোপ করে সংক্ষিপ্ত করাই অধিক বিশুদ্ধ।
চতুর্থটি হলো দ্বিবচন (المثنى), যেমন— যাইদানি এবং হিন্দানি। এটি আলিফ দ্বারা রফ' (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং এমন ইয়া দ্বারা জর (جر) ও নসব (نصب) প্রাপ্ত হয় যার পূর্ববর্ণটি ফাতহাহ-যুক্ত (مفتوح) এবং পরবর্তী বর্ণটি কাসরাহ-যুক্ত (مكسور) হয়।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَأُلْحِقَ بِهِ اثْنَانِ وَاثْنَتَانِ وَثِنْتَانِ، مُطْلَقاً، وَكِلَا وَكِلْتَا مُضَافَيْنِ إِلَى مُضْمَرٍ.
الخَامِسُ جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ، كَالزَّيْدُونَ والْمُسْلِمُونَ فَإِنَّهُ يُرْفَعُ بِالْوَاوِ، وَيُجَرُّ ويُنْصَبُ بِالْيَاءِ المَكْسُورِ مَا قبلَهَا، الْمَفْتُوحِ مَا بَعْدَهَا.
وَأُلْحِقَ بِهِ أُولُو وَعَالَمُونَ وَأَرَضُونَ وَسِنُونَ وَعِشْرُونَ وَبَابُهُمَا وَأَهْلُونَ وَعِلِّيُّونَ وَنَحْوُهُ.
السَّادِسُ يَفْعَلَانِ وَتَفْعَلَانِ وَيَفْعَلُونَ وَتَفْعَلُونَ وَتَفْعَلِينَ. فإنَّهَا تُرْفَعُ بِثُبُوتِ النُّونِ وَتُنْصَبُ وَتُجْزَمُ بِحَذْفِهَا، وَأَمَّا نَحْوُ أَتُحَاجُّونِي فَالْمَحْذُوفُ نُونُ الْوِقَايَةِ، وَأَمَّا إِلَاّ أَنْ يَعْفُونَ فَالْوَاوُ أَصْلٌ، وَالْفِعْلُ مَبْنِيٌّ، بِخِلَافِ وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى.
السَّابعُ الْفِعْلُ الْمُعْتَلُّ الآخِرِ كَيَغْزُو وَيَخْشَى وَيَرْمِي فَإِنَّهُ يُجْزَمُ بِحَذْفِهِ، وَنَحْوُ إِنَّهُ مَن يَتَّقِ وَيِصْبِرْ مُؤَوَّلٌ.
(فَصْلٌ)تُقَدَّرُ الْحَركَاتُ كُلُّهَا فِي نَحْوِ غُلَامِي وَنَحْوِ الْفَتَى وَيُسَمَّى مَقْصُوراً، وَالضَّمَّةُ وَالْكَسْرَةُ فِي نَحْوِ القَاضِي، وَيُسَمَّى مَنْقُوصاً،
ইছনানে, ইছনাতানে ও ছিনতানে শব্দগুলোকে শর্তহীনভাবে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়; এবং কিলা ও কিলতা-কেও যখন সেগুলো সর্বনামের দিকে সম্বন্ধিত হয়।
পঞ্চম প্রকার হলো জম' মুজাক্কার সালেম, যেমন যাইদূনা ও মুসলিমূনা। এটি ওয়াও এর মাধ্যমে রফ' প্রাপ্ত হয় এবং পূর্ববর্তী বর্ণ কাসরাযুক্ত ও পরবর্তী বর্ণ ফাতহাযুক্ত ইয়া-এর মাধ্যমে জর ও নাসব প্রাপ্ত হয়।
এবং এর সাথে উলূ, আলামূন, আরাদূন, সিনূন, ইশরূন ও এর সমপর্যায়ের শব্দসমূহ, আহলূন, ইল্লিয়্যূন এবং এই জাতীয় শব্দসমূহকে যুক্ত করা হয়।
ষষ্ঠ প্রকার হলো ইয়াফ'আলানি, তাফ'আলানি, ইয়াফ'আলুনা, তাফ'আলুনা এবং তাফ'আলিনা। এগুলো নূন স্থির থাকার মাধ্যমে রফ' প্রাপ্ত হয় এবং নূন বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নাসব ও জযম প্রাপ্ত হয়। তবে 'আতুহা-জ্জূন্নী' এর ন্যায় শব্দের ক্ষেত্রে যা বিলুপ্ত হয়েছে তা হলো নূনে বিকায়া। আর 'ইল্লা আই ইয়া'ফূনা' এর ক্ষেত্রে ওয়াও হলো মূল বর্ণ এবং ক্রিয়াটি মাবনি; এটি 'ওয়া আন তা'ফূ আকরাবু লিত্তাকওয়া' এর বিপরীত।
সপ্তম প্রকার হলো হরফে ইল্লত বিশিষ্ট ক্রিয়া, যেমন ইয়াগযূ, ইয়াখশা এবং ইয়ারমী। এটি শেষ বর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে জযম প্রাপ্ত হয়। আর 'ইন্নাহূ মাই ইয়াত্তাকি ওয়া ইয়াসবির' এর মতো উদাহরণগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ।
(পরিচ্ছেদ)'গুলামী' ও 'আল-ফাতা' এর ন্যায় শব্দে সকল হরকত উহ্য থাকে এবং একে মাকসূর বলা হয়। আর 'আল-কাদী' এর ন্যায় শব্দে পেশ এবং যের উহ্য থাকে এবং একে মানকূস বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَالضَّمَّةُ وَالْفَتْحَةُ فِي نَحْوِ يَخْشَى وَالضَّمَّةُ فِي نَحْوِ يَدْعو وَيَرْمِي.
(بَابٌ)الْبِنَاءُ ضِدُّ الْإِعْرَابِ، وَالْمَبْنِيُّ إِمَّا أَنْ يَطَّرِدَ فِيهِ السُّكُونُ وَهُوَ الْمُضَارِعُ الْمُتَّصِلُ بِنُونِ الْإِنَاثِ نَحْوُ يَتَرَبَّصْنَ وَيُرْضِعْنَ أَوِ الْمَاضِي الْمُتَّصِلُ بِضَمِيرِ رَفْعٍ مُتَحَرِّكٍ كَضَرَبْتُ وَضَرَبْنَا، أَوِ السُّكُونُ أَوْ نَائِبُهُ وَهُوَ الْأَمْرُ نَحْوُ اضْرِبْ وَاضْرِبَا وَاضْرِبُوا وَاضْرِبي وَاغْزُ وَاخْشَ، وَارْمِ.
الْبَابُ الْأَوَّلُ مَا لَزِمَ الْبِنَاءَ عَلَى السُّكُونِ.
الْبَابُ الثَّانِي مَا لَزِمَ الْبِنَاءَ عَلَى السُّكُونِ أَوْ نَائِبِهِ، وَهُوَ نَوْعٌ وَاحِدٌ،
أَوِ الْفَتْحِ، وَهُوَ سَبْعَةٌ: الْمَاضِي الْمُجَرَّدُ كَضَرَبَ َوضَرَبَكَ وَضَرَبَا، وَالْمُضَارِعُ الَّذِي بَاشَرَتْهُ نُونُ التَّوْكِيدِ نَحْوُ لَيُنبَذَنَّ وَلَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًا، بِخِلَافِ نَحْوُ لَتُبْلَوُنَّ وَلَا يَصُدُّنَّكَ، وَمَا رُكِّبَ مِنَ الْأَعْدَادِ وَالظُّرُوفِ وَالْأَحْوَالِ وَالْأَعْلَامِ نَحْوُ أَحَدَ عَشَرَ ونَحْوُ هُوَ يَاتِينَا صَبَاحَ مَسَاءَ، وَبَعْضُ الْقَوْمِ يَسْقُطُ بَيْنَ بَيْنَ، ونَحْوُ هُوَ جَارِي بَيْتَ بَيْتَ أَيْ مُلَاصِقاً وَنَحْوُ بَعْلَبَكَّ فِي لُغَيَّةٍ، وَالزَّمَنُ الْمُبْهَمُ الْمُضَافُ لِجُمْلَةٍ وَإعْرَابُهُ مَرْجُوحٌ قَبْلَ
এবং ইয়াখশা (يخشى) সদৃশ শব্দে পেশ (ضمة) ও জবর (فتحة) এবং ইয়াদউ (يدعو) ও ইয়ারমি (يرمي) সদৃশ শব্দে পেশ (ضمة)।
(পরিচ্ছেদ)আল-বিনা (البناء) হলো আল-ই’রাব (الإعراب)-এর বিপরীত। আর মাবনি (المبني) বা অপরিবর্তনীয় শব্দ হলো—হয় যাতে নিয়মিতভাবে সুকুন (سكون) হয়, আর তা হলো সেই মুদারে (المضارع) যা স্ত্রীলিঙ্গবাচক নুন-এর সাথে যুক্ত, যেমন: يَتَرَبَّصْنَ ও يُرْضِعْنَ; অথবা সেই মাদি (الماضي) যা স্বরযুক্ত রফ (رفع) বাচক সর্বনামের সাথে যুক্ত, যেমন: ضَرَبْتُ ও ضَرَبْنَا। অথবা যা সুকুন (سكون) কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত চিহ্নের ওপর [মাবনি হয়], আর তা হলো আমর (الأمر), যেমন: اضْرِبْ, اضْرِبَا, اضْرِبُوا, اضْرِبي, اغْزُ, اخْشَ, ও ارْمِ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: যা সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকা আবশ্যক।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যা সুকুন (سكون) বা তার স্থলাভিষিক্ত চিহ্নের ওপর ভিত্তি করে সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকা আবশ্যক, আর তা এক প্রকার;
অথবা ফাতাহ (فتح)-এর ওপর [মাবনি হওয়া], আর তা সাত প্রকার: অতিরিক্ত বর্ণহীন মাদি (الماضي), যেমন: ضَرَبَ, ضَرَبَكَ ও ضَرَبَا; এবং সেই মুদারে (المضارع) যার সাথে সরাসরি তাকীদ (توكيد)-এর নুন যুক্ত হয়েছে, যেমন: لَيُنبَذَنَّ, لَيُسْجَنَنَّ ও لَيَكُونًا; এর বিপরীতে لَتُبْلَوُنَّ ও لَا يَصُدُّنَّكَ এর ন্যায় শব্দগুলো [মাবনি নয়]। এবং যা সংখ্যা (আ’দাদ), কাল ও স্থানবাচক বিশেষ্য (যুরুফ), অবস্থা (আহওয়াল) ও নামবাচক বিশেষ্য (আ’লাম) থেকে যৌগিকভাবে গঠিত হয়েছে, যেমন: أَحَدَ عَشَرَ এবং যেমন: هُوَ يَأْتِينَا صَبَاحَ مَسَاءَ (সে আমাদের নিকট সকাল-সন্ধ্যায় আসে), এবং ‘লোকদের কেউ কেউ মাঝামাঝি জায়গায় (بَيْنَ بَيْنَ) পড়ে যায়’, এবং যেমন: هُوَ جَارِي بَيْتَ بَيْتَ অর্থাৎ সে আমার সরাসরি সংলগ্ন প্রতিবেশী, এবং এক বিরল ভাষান্তর অনুযায়ী بَعْلَبَكَّ শব্দ; আর অনির্দিষ্ট কালবাচক শব্দ যা কোনো বাক্যের দিকে মুদাফ (مضاف) হয়েছে এবং যার ই’রাব (إعراب) হওয়াটি [মাবনি হওয়ার তুলনায়] অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح)।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْفِعْلِ الْمَبْنِيِّ نَحْوُ *عَلَى حِينَ عَاتَبْتُ المَشِيبَ عَلَى الصِّبَا*
*وعَلَى حِينَ يَسْتَصْبِينَ كُلَّ حَلِيمٍ*
وَرَاجِحٌ قَبْلَ غَيْرِهِ نَحْوُ - هَذَا يَوْمُ يَنفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ. وَقَوْلُهُ *عَلَى حِينِ التَّوَاصُلُ غَيْرُ دَانِي*
وَالْمُبْهَمُ الْمُضَافُ لِمَبْنِيٍّ نَحْوُ - وَمِنْ خِزْىِ يَوْمِئِذٍ، وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ، لَقَد تَّقَطَّعَ بَيْنَكُمْ، إِنَّهُ لَحَقٌّ مِثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ.
وَيَجُوزُ إِعْرَابُهُ. أَوِ الْفَتْحِ أَوْ نَائِبِهِ وَهُوَ اسْمُ لَا النَّافِيَةِ لِلْجِنْسِ، إِذَا كَانَ مُفْرَداً نَحْوُ لَا رَجُلَ وَلَا رِجَالَ وَلَا رَجُلَيْنِ وَلَا قَائِمِينَ وَلَا قَائِمَاتٍ، وَفَتْحُ نَحْوُ قَائِمَاتٍ أَرْجَحُ مِنْ كَسْرِهِ وَلَكَ فِي الاِسْمِ الثَّانِي مِنْ نَحْوِ لَا رَجُلَ ظَرِيفٌ، وَلَا مَاءَ بَارِدٌ النَّصْبُ وَالرَّفْعُ وَالْفَتْحُ وَكَذَا الثَّانِي مِنْ نَحْوِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِنْ فَتَحْتَ الْأَوَّلَ، فَإِنْ رَفَعْتَهُ امْتَنَعَ النَّصْبُ فِي الثَّانِي، فَإِنْ فُصِلَ النَّعْتُ، أَوْ كَانَ هُوَ، أَوِ المَنْعُوتُ غَيْرَ مُفْرَدٍ امْتَنَعَ الْفَتْحُ. أَوِ الكَسْرِ وَهُوَ خَمْسَةٌ: الْعَلَمُ الْمَخْتُومُ بِوَيْهٍ كَسِيبَوَيْهٍ، وَالْجَرْمِيُّ يُجِيزُ مَنْعَ صَرْفِهِ، وَفَعَالِ لِلْأَمْرِ كَنَزَالِ وَدَرَاكِ، وَبَنُو أَسَدٍ تَفْتَحُهُ، وَفَعَالِ سَبًّا لِلْمُؤَنَّثِ كَفَسَاقِ وَخَبَاثِ، وَيَخْتَصُّ هَذَا
অপরিবর্তনশীল (مبني) ক্রিয়ার উদাহরণ— যেমন: *সেই সময়ে যখন আমি বার্ধক্যকে যৌবনের জন্য তিরস্কার করেছিলাম*
*এবং সেই সময়ের ওপর যা প্রত্যেক ধীরস্থির ব্যক্তিকে বিমোহিত করে*
এবং যা অন্যের তুলনায় অধিক অগ্রগণ্য (راجح), যেমন— "এটি এমন এক দিন যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে।" এবং কবির উক্তি: *সেই সময়ের ওপর যখন পারস্পরিক যোগাযোগ নিকটবর্তী ছিল না*
এবং অস্পষ্ট (مبهم) শব্দ যা কোনো অপরিবর্তনশীল (مبني) শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, যেমন— "এবং সেই দিনের লাঞ্ছনা হতে", "এবং আমাদের মধ্যকার কেউ এর চেয়ে নিম্ন স্তরের", "অবশ্যই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে", "নিশ্চয় এটি সত্য, যেমন তোমরা কথা বলে থাকো।"
এবং এর ব্যাকরণিক রূপান্তর বৈধ। অথবা ফাতহ (যবর) কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া; আর তা হলো 'লা নাফিয়া লিল জিনস'-এর ইসিম, যখন তা একক (مفرد) হয়, যেমন— 'লা রাজুলা', 'লা রিজালা', 'লা রাজুলাইনি', 'লা কায়িমিনা' ও 'লা কায়িমাত'। আর 'কায়িমাত'-এর ন্যায় শব্দের ক্ষেত্রে ফাতহ প্রদান করা কাসরাহ (জের) প্রদানের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য (راجح)। এবং 'লা রাজুলা জারিফুন' ও 'লা মা’আ বারিদুন'-এর ন্যায় উদাহরণে দ্বিতীয় শব্দটির ক্ষেত্রে নাসব (যবর), রাফ’ (পেশ) ও ফাতহ (যবর) পড়ার সুযোগ তোমার রয়েছে। অনুরূপভাবে 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা'-এর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটির বিধানও একই, যদি তুমি প্রথমটিতে ফাতহ প্রদান করো। কিন্তু যদি তুমি প্রথমটিকে রাফ’ (পেশ) প্রদান করো, তবে দ্বিতীয়টিতে নাসব করা নিষিদ্ধ। আর যদি বিশেষণটি পৃথক হয়ে যায়, অথবা বিশেষণ বা বিশেষ্য একক (مفرد) শব্দ না হয়, তবে ফাতহ প্রদান করা নিষিদ্ধ। অথবা কাসরাহ (জের) প্রদান; আর তা পাঁচটি ক্ষেত্রে হয়ে থাকে: ঐ সকল নামবাচক বিশেষ্য যা 'ওয়াইহি' শব্দ দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে, যেমন— 'সিবাওয়াইহি'; ইমাম আল-জারমি এর রূপান্তরহীনতা বৈধ বলেছেন। এবং নির্দেশসূচক শব্দ যা 'ফায়ালি' ওজনে হয়, যেমন— 'নাজালি' ও 'দারাকি'; বনু আসাদ গোত্র একে ফাতহ দিয়ে পড়ে। এবং স্ত্রীলিঙ্গের গালমন্দসূচক শব্দ যা 'ফায়ালি' ওজনে হয়, যেমন— 'ফাসাকি' ও 'খাবাসি'; আর এটি নির্দিষ্ট...
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
بِالنِّدَاءِ، وَيَنْقَاسُ هُوَ وَنَحْوُ نَزَالِ مِنْ كُلِّ فِعْلٍ ثُلَاثِيٍّ تَامٍّ.
وَفَعَالِ عَلَماً لِمُؤَنَّثٍ كَحَذَامِ فِي لُغَةِ أَهْلِ الْحِجَازِ، وَكَذَلِكَ أَمْسِ عِنْدَهُمْ إَذَا أُرِيدَ بِهِ مُعَيَّنٌ، وَأَكْثَرُ بَنِي تَمِيمٍ يُوَافِقُهُمْ فِي نَحْوِ سَفَارِ وَوَبَارِ مُطْلَقاً، وَفِي أَمْسِ فِي الْجَرِّ وَالنَّصْبِ، وَيَمْنَعُ الصَّرْفَ فِي الْبَاقِي.
أَوِ الضَّمِّ وَهُوَ مَا قُطِعَ لَفْظاً لَا مَعْنًى عَنِ الْإِضَافَةِ مِنَ الظُّرُوفِ الْمُبْهَمَةِ كَقَبْلُ وَبَعْدُ وَأَوَّلُ، وَأَسْمَاءِ الْجِهَاتِ وَأُلْحِقَ بِهَا عَلُ الْمَعْرِفَةُ وَلَا تُضَافُ، وَغَيْرُ إِذَا حُذِفَ مَا تُضَافُ إلَيْهِ، وَذَلِكَ بَعْدَ لَيْسَ كَقَبَضْتُ عَشَرَةً لَيْسَ غَيْرُ فِيمَنْ ضَمَّ وَلَمْ يُنَوِّنْ، وَأَيُّ الْمَوْصُولَةُ إِذَا أُضِيفَتْ وَكَانَ صَدْرُ صِلَتِهَا ضَمِيراً مَحْذُوفاً نَحْوُ أَيُّهُمْ أَشَدُّ، وَبَعْضُهُمْ يُعْرِبُهَا مُطلَقاً.
أَوِ الضَّمِّ أَوْ نَائِبِهِ، وَهُوَ الْمُنَادَى الْمُفْرَدُ الْمَعْرِفَةُ نَحْوُ يَا زَيْدُ وَيَجِبَالُ وَيَا زَيْدَانِ وَيَا زَيْدُونَ.
وَإِمَّا أَنْ لَا يَطَّرِدَ فِيهِ شَيْءٌ بِعَيْنِهِ، وَهُو الْحُرُوفُ كَهَلْ وَثُمَّ وَجَيْرِ وَمُنْذُ وَبَقِيَّةُ الْأَسْمَاءِ غَيْرِ المُتَمَكِّنَةِ، وَهِيَ سَبْعَةٌ: أَسْمَاءُ الْأَفْعَالِ كَصَهْ وَآمِينَ وَإِيهِ وَهَيْتُ وَالمُضْمَرَاتُ كَقُومِي وَقُمْتُ
আহ্বানের (نداء) মাধ্যমে; এবং এটি প্রতিটি ত্রিমৌলিক (ثلاثي) ও পূর্ণাঙ্গ (تام) ক্রিয়া (فعل) থেকে 'নাযালি' এবং এর সমজাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে পরিমাপযোগ্য (قياسي) হয়ে থাকে।
এবং 'ফায়ালি' যখন স্ত্রীলিঙ্গের (مؤنث) নাম (علم) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন হিজাযবাসীদের ভাষায় 'হাযামি'। অনুরূপভাবে তাদের নিকট 'আমসি' শব্দটিও, যখন এর দ্বারা নির্দিষ্ট (معين) কোনো দিনকে বোঝানো হয়। বনু তামীম গোত্রের অধিকাংশ লোক 'সাফারি' এবং 'ওয়াবারি' এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে সব অবস্থাতেই তাদের সাথে একমত পোষণ করেন। তবে 'আমসি' শব্দের ক্ষেত্রে তারা কেবল জের (جر) এবং নসব (نصب) অবস্থায় একমত হন এবং অবশিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে দিরূপবর্জিত (ممنوع من الصرف) হিসেবে গণ্য করেন।
অথবা পেশ (ضم) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া; আর তা হলো সেই অস্পষ্ট ক্রিয়াবিশেষণ (ظروف مبهمة) যা শাব্দিকভাবে সম্বন্ধ (إضافة) হতে বিচ্ছিন্ন কিন্তু অর্থগতভাবে নয়, যেমন: 'কবলু', 'বাদু' এবং 'আউয়ালু' এবং দিকনির্দেশক বিশেষ্যসমূহ (أسماء الجهات)। আর এদের সাথে সুনির্দিষ্ট (معرفة) 'আলু' শব্দটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা কখনো সম্বন্ধযুক্ত (تضاف) হয় না। এছাড়া 'গয়িরু' শব্দটিও যখন তার পরবর্তী সম্বন্ধীয় পদটি বিলুপ্ত করা হয়—এটি ঘটে 'লাইসা' এর পরে; যেমন: 'আমি দশটি গ্রহণ করেছি, তার বেশি নয়' তাদের কিরাআত অনুযায়ী যারা পেশ (ضم) প্রদান করেছেন এবং তানউইন (تنوين) দেননি। এবং সম্বন্ধসূচক (موصولة) 'আইয়্যু' যখন সেটি সম্বন্ধযুক্ত (أضيفت) হয় এবং তার পরবর্তী সম্বন্ধ-বাক্যের (صلة) প্রারম্ভিক অংশটি একটি উহ্য সর্বনাম (ضمير) হয়, যেমন: 'আইয়্যুহুম আশাদ্দু'। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সর্বাবস্থায় পরিবর্তনশীল (معرب) হিসেবে গণ্য করেন।
অথবা পেশ (ضم) কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত (نائب) চিহ্নের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া; আর তা হলো একবচন বিশিষ্ট নির্দিষ্ট সম্বোধিত পদ (المنادى المفرد المعرفة), যেমন: 'ইয়া যাইদু', 'ইয়া জিবালু', 'ইয়া যাইদানি' এবং 'ইয়া যাইদুনা'।
আর যা নির্দিষ্ট কোনো নিয়মের অধীন নয়, তা হলো অব্যয়সমূহ (حروف) যেমন: 'হাল', 'সুম্মা', 'জায়রি' ও 'মুনযু'। এছাড়া বাকি অপরিবর্তনীয় বিশেষ্যসমূহ (الأسماء غير المتمكنة), আর তা সাত প্রকার: ক্রিয়া-বিশেষ্য (أسماء الأفعال) যেমন: 'সাহ', 'আমীন', 'ইহি' ও 'হাইতা'; এবং সর্বনামসমূহ (المضمرات) যেমন: 'কুমি' এবং 'কুমতু'।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَقُمْتَ وَقُمْتِ، وَالْإِشَارَاتُ كَذِي وَثَمَّ وَهَؤُلَاءِ، وَالْمَوْصُولَاتُ كَالَّذِي وَالَّتِي وَالَّذِينَ وَالْآلَاءِ فِيمَنْ مَدَّهُ وَذَاتُ فِيمَنْ بَنَاهُ وَهُوَ الْأَفْصَحُ إِلَّا ذَيْنِ وَتَيْنِ وَاللَّذَيْنِ وَاللَّتَيْنِ فَكَالْمُثَنَّى.
وَأَسْمَاءُ الشَّرْطِ وَأَسْمَاءُ الاِسْتِفْهَامِ كَمَنْ وَمَا وَأَيْنَ إِلَّا أَيًّا فِيهِمَا، وَبَعْضُ الظُّرُوفِ كَإِذْ وَالآنَ وَأَمْسِ وَحَيْثُ مُثَلَّثاً.
(بَابٌ)الْاِسْمُ نَكِرةٌ؛ وَهُوَ مَا يَقْبَلُ رُبُّ، وَمَعْرِفَةٌ، وهِيَ سِتَّةٌ.
أَحَدُهَا الْمُضْمَرُ وَهُوَ مَا دَلَّ عَلَى مُتَكَلِّمٍ أَوْ مُخَاطَبٍ أَوْ غَائِبٍ
مَعْلُومٍ نَحْوُ - إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ، أَوْ مُتَقَدِّمٍ مُطْلَقاً، نَحْوُ - وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ -أَوْ لَفْظاً لَا رُتْبَةً نَحْوُ - وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرهِيمَ رَبُّهُ، أَوْ رُتْبَةً نَحْوُ - فَأَوْجَسَ فِى نَفْسِهِ خِيفَةً مُّوسَى، أَوْ مُؤَخَّرًا مُطْلَقاً فِي نَحْوِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، وَقَالُواْ مَا هِيَ إِلَاّ حَيَاتُنَا الدُّنْيَا- وَنِعْمَ رَجُلاً زَيْدٌ، وَرُبَّهُ رَجُلاً، وَقَامَا وَقَعَدَ أَخَوَاكَ وَضَرَبْتُهُ زَيْدًا، وَنَحْوُ قَوْلِهِ: *جَزَى رَبُّهُ عَنِّي عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ* وَالْأَصَحُّ أَنَّ هَذَا ضَرُورَةٌ.
الثَّانِي: الْعَلَمُ، وَهُوَ شَخْصِيٌّ إنْ عَيَّنَ مُسَمَّاهُ مُطْلَقاً كَزَيْدٍ
এবং ‘কুমতা’ ও ‘কুমতি’, আর ইশারাসূচক শব্দসমূহ যেমন ‘যি’, ‘সাম্মা’ ও ‘হা-উলাই’; এবং ইসমে মওসূলসমূহ যেমন ‘আল্লাযি’, ‘আল্লাতি’, ‘আল্লাযিনা’ এবং ‘আল-আলাই’—তাদের নিকট যারা একে দীর্ঘ করে পড়েন; এবং ‘যাতু’—তাদের নিকট যারা একে অব্যয় (মাবনি) হিসেবে গণ্য করেন, আর এটিই অধিকতর প্রাঞ্জল মত; তবে ‘যাইনি’, ‘তাইনি’, ‘আল্লাযাইনি’ ও ‘আল্লাতাইনি’ ব্যতীত, কেননা এগুলো দ্বিবচনের ন্যায়।
এবং শর্তবাচক বিশেষ্যসমূহ এবং প্রশ্নবোধক বিশেষ্যসমূহ যেমন ‘মান’, ‘মা’ ও ‘আইনা’, তবে উভয় ক্ষেত্রে ‘আইয়্যান’ ব্যতীত; এবং কিছু অব্যয় যেমন ‘ইয’, ‘আল-আনা’, ‘আমসি’ এবং ‘হাইসু’ (তিন হরকতের সাথেই)।
(পরিচ্ছেদ)বিশেষ্য হলো অনির্দিষ্ট; আর তা হলো যা ‘রুব্বা’ শব্দটিকে গ্রহণ করে। এবং নির্দিষ্ট, আর তা ছয় প্রকার।
তন্মধ্যে প্রথমটি হলো সর্বনাম, যা বক্তা, সম্বোধিত কিংবা পরিচিত অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নির্দেশ করে; যেমন—‘নিশ্চয়ই আমি তা অবতীর্ণ করেছি’, অথবা যা নিরঙ্কুশভাবে পূর্বোল্লিখিত কোনো বিষয়কে নির্দেশ করে, যেমন—‘আর চন্দ্রের জন্য আমি কক্ষপথ নির্ধারণ করেছি’; অথবা যা কেবল শব্দে পূর্বোল্লিখিত কিন্তু পদমর্যাদায় নয়, যেমন—‘আর যখন ইব্রাহিমকে তাঁর প্রতিপালক পরীক্ষা করলেন’; অথবা যা পদমর্যাদায় পূর্বোল্লিখিত, যেমন—‘অতঃপর মুসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন’; অথবা যা নিরঙ্কুশভাবে পরে উল্লেখিত হয়েছে, যেমন—‘বলুন, তিনিই আল্লাহ এক’, ‘তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো সব’, ‘যাইদ কতই না চমৎকার ব্যক্তি’, ‘হয়তো সে একজন ব্যক্তি’, ‘তোমার দুই ভাই দাঁড়াল এবং বসল’ এবং ‘আমি তাকে অর্থাৎ যাইদকে প্রহার করেছি’। এবং যেমন কবির উক্তি: ‘তার প্রতিপালক আমার পক্ষ থেকে আদি ইবনে হাতিমকে প্রতিদান দান করুন’। আর অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো যে, এটি কাব্যিক প্রয়োজনে হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো নামবাচক বিশেষ্য, আর তা হলো ব্যক্তিবাচক যদি তা নিরঙ্কুশভাবে তার নামযুক্ত সত্তাকে নির্দিষ্ট করে, যেমন—‘যাইদ’।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَجِنْسِيٌّ إنْ دَلَّ بِذَاتِهِ عَلَى ذِي الْمَاهِيَّةِ تَارَةً، وَعَلَى الْحَاضِرِ أُخْرَى كَأُسَامَةَ، ومِنَ الْعَلْمِ الْكُنْيَةُ وَاللَّقَبُ وَيُؤَخَّرُ عَنِ الاِسْمِ غَالِبًا تَابِعاً لَهُ مُطْلَقاً أَوْ مَخْفُوضاً بِإِضَافَتِهِ إنْ أُفْرِدَا.
الثَّالِثُ الْإِشَارَةُ وَهُوَ مَا دَلَّ عَلَى مُسَمًّى، وَإِشَارَةٍ إِلَيْهِ كَهَذِهِ وَهَذَا وَهَاتَا وَتَثْنِيَتِهِمَا وَهَؤُلَاءِ لِجَمِعِهِمَا، وَتَلْحَقُهُنَّ فِي الْبُعْدِ كَافُ خِطَابٍ حَرْفِيَّةٌ مُجَرَّدَةٌ مِنَ اللَّامِ مُطْلَقاً، أَوْ مَقْرُونَةٌ بِهَا إِلَاّ فِي الْمُثَنَّى وَفِي الْجَمْعِ فِي لُغَةِ مَنْ مَدَّهُ، وَهِيَ الْفُصْحَى، وَفِيمَا سَبَقَتْهُ هَا التَّنْبِيهِ.
الرَّابِعُ: الْمَوْصُولُ وَهُوَ مَا افْتَقَرَ إِلَى الْوَصْلِ بِجُمْلَةٍ خَبَرِيَّةٍ، أَوْ ظَرْفٍ، أَوْ مَجْرُورٍ تَامَّيْنِ، أَوْ وَصْفٍ صَرِيحٍ، وَإِلَى عَائِدٍ أَوْ خَلَفِهِ.
وَهُوَ الَّذِي وَالَّتِي وَتَثْنِيَتُهُمَا وَجَمْعُهُمَا وَالْأُلَى وَالَّذِينَ وَاللَّاتِي وَاللَّائِي وَمَا بِمَعْنَاهُنَّ، وَهُوَ مَنْ لِلْعَالِم وَمَا لِغَيْرِهِ وَذُو عِنْدَ طَيِّىءٍ وَذَا بَعْدَ مَا أَوْ مَنْ الاِسْتِفْهَامِيَّتَيْنِ إِنْ لَمْ تُلْغَ وَأَيٌّ وَأَلْ فِي نَحْوِ الضَّارِبِ والْمَضْرُوبِ.
الْخَامِسُ: المُحَلَّى بِأَلِ الْعَهْدِيَّةِ كَجَاءَ الْقَاضِي وَنَحْوُ - فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ - الآية، أَوِ الْجِنْسِيَّةِ نَحْوُ - وَخُلِقَ الإِنسَانُ
আর এটি জাতিবাচক, যদি তা নিজস্ব সত্তাগতভাবে কখনও কোনো প্রকৃত সত্তাকে নির্দেশ করে এবং অন্য সময় উপস্থিত কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যেমন: উসামাহ। আর আলাম বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো কুনইয়াহ এবং লকব বা উপাধি। সাধারণত উপাধি নামের পরে আসে এবং এটি ব্যাকরণগত বিচারে সর্বাবস্থায় নামের অনুগামী হয় অথবা উভয়টি একক শব্দ হলে ইজাফাতের কারণে তা মাজরুর বা জের-যুক্ত হয়।
তৃতীয় প্রকার হলো ইশারা বা ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্য। এটি এমন পদ যা কোনো নামধারী সত্তাকে নির্দেশ করে এবং তার দিকে ইঙ্গিত করে; যেমন: হাযিহি, হাযা, হাতা এবং এগুলোর দ্বিবচন রূপ এবং এদের সকলের বহুবচন হিসেবে হাউলাই। দূরবর্তিতার ক্ষেত্রে এগুলোর সাথে সম্বোধনসূচক 'কাফ' যুক্ত হয় যা 'লাম' বিহীন হতে পারে অথবা 'লাম' যুক্ত হতে পারে; তবে দ্বিবচনের ক্ষেত্রে এবং যে সকল গোত্রের ভাষায় বহুবচনে দীর্ঘস্বর বা মদ্দ করা হয় (যা সর্বাধিক বিশুদ্ধ ভাষা) তাদের ক্ষেত্রে, এবং যার পূর্বে সতর্কতামূলক 'হা' যুক্ত হয়েছে তাতে 'লাম' যুক্ত হয় না।
চতুর্থ প্রকার হলো মাওসুল বা সংযোজক বিশেষ্য। এটি এমন পদ যা একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদমূলক বাক্য, অথবা একটি পূর্ণাঙ্গ যরফ বা মাজরুর যা অর্থ প্রকাশে সক্ষম, অথবা একটি স্পষ্ট গুণবাচক শব্দের সাথে সংযুক্ত হওয়ার মুখাপেক্ষী থাকে এবং একটি আয়েদ বা প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম অথবা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো শব্দের মুখাপেক্ষী হয়।
আর সেগুলো হলো: আল্লাযি, আল্লাতি, তাদের দ্বিবচন ও বহুবচন রূপ এবং আল-উলা, আল্লাযিনা, আল-লাতি, আল-লাই এবং এগুলোর সমার্থবোধক শব্দসমূহ। আর তা হলো জ্ঞানীদের ক্ষেত্রে 'মান', অন্যদের ক্ষেত্রে 'মা', তায় গোত্রের নিকট 'যু' এবং 'মা' অথবা 'মান' নামক প্রশ্নবোধক অব্যয়ের পরে ব্যবহৃত 'যা' যখন তাকে বাতিল করা হয় না, এবং আয-যরিব ও আল-মাযরুব-এর ন্যায় শব্দে ব্যবহৃত 'আল'।
পঞ্চম প্রকার হলো আল-আহদিয়্যাহ বা পরিচিতি নির্দেশক 'আল' দ্বারা নির্দিষ্ট বিশেষ্য; যেমন: বিচারক এসেছেন (জা-আল কাযি) এবং অনুরূপ—'তন্মধ্যে রয়েছে একটি প্রদীপ, সেই প্রদীপটি...'—আয়াতটি। অথবা তা হতে পারে জাতিবাচক বা আল-জিনিসিয়্যাহ; যেমন: 'এবং মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে...'।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
ضَعِيفاً - ونَحْوُ - ذلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ - ونَحْوُ - وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَآء كُلَّ شَىْء حَىٍّ -.
وَيَجِبُ ثُبُوتُهَا فِي فَاعِلَيْ نِعْمَ وَبِئْسَ الْمُظْهَرَيْنِ نَحْوُ نِعْمَ الْعَبْدُ، وبِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ، فَنِعْمَ ابنُ أُخْتِ الْقَوْمِ.
فَأَمَّا الْمُضْمَرُ فَمُسْتَتِرٌ مُفَسَّرٌ بِتَمْيِيزٍ نَحْوُ نِعْم امْرَأً هَرِمُ ومِنْهُ - فَنِعِمَّا هِيَ - وَفِي نَعْتَيِ الْإِشَارَةِ مُطْلَقاً وَأَيُّ فِي النِّدَاءِ نَحْوُ - يأَيُّهَا الإِنسَنُ - وَنَحْوُ - مَا لِهَذَا الْكِتَبِ - وَقَدْ يُقالُ: يَا أَيُّهَذَا.
وَيَجِبُ فِي السَّعَةِ حَذْفُهَا مِنَ الْمُنَادَى إِلَاّ مِنِ اسْمِ اللَّهِ تَعَالَى وَالْجُمْلَةِ الْمُسَمَّى بِهَا، وَمِنَ الْمُضَافِ، إِلَاّ إِذَا كَانَتْ صِفةً مُعْرَبةً بِالْحَرْفِ، أَوْ مُضَافَةً إِلَى مَا فِيهِ أَلْ.
(بَابٌ)الْمَرْفُوعَاتُ عَشَرَةٌ: أَحَدُهَا الْفَاعِلُ، وَهُوَ مَا قُدِّمَ الْفِعْلُ أَوْ شِبْهُهُ عَلَيْهِ وَأُسْنِدَ إِلَيْهِ عَلَى جِهَةِ قِيَامِهِ بِهِ أَوْ وُقُوعِهِ مِنْهُ كَعَلِمَ زَيْدٌ وَمَاتَ بَكْرٌ وَضَرَبَ عَمْرٌو وَمُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ.
الثَّانِي نَائِبُهُ، وَهُوَ مَا حُذِفَ فَاعِلُهُ، وَأُقِيمَ هُوَ مُقَامَهُ، وَغُيِّرَ عَامِلُهُ إِلَى طَرِيقَةِ فُعِلَ أَوْ يُفْعَلُ أَوْ مَفْعُولٍ وَهُوَ الْمَفْعُولُ بِهِ نَحْوُ
দুর্বল (ضعيف) - এবং অনুরূপ - "এই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই" - এবং অনুরূপ - "আর আমি প্রাণবান প্রতিটি বস্তুকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি" -।
এবং 'নি'মা' ও 'বি'সা'-এর প্রকাশ্য ফায়েল বা কর্তা দ্বয়ের ক্ষেত্রে এটি (আলিফ-লাম) সাব্যস্ত থাকা আবশ্যক; যেমন- 'নি'মা আল-আবদু', 'বি'সা মাসালুল কওম' এবং 'ফা নি'মা ইবনু উখতিল কওম'।
পক্ষান্তরে সর্বনামের ক্ষেত্রে তা প্রচ্ছন্ন থাকে যা তামিয দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়; যেমন- 'নি'মা ইমরাআন হারিমুন' এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো- "তা কতই না চমৎকার"। আর নির্দেশক বিশেষণের ক্ষেত্রে নিঃশর্তভাবে এবং আহ্বানের ক্ষেত্রে 'আইয়্যু' শব্দের সাথেও; যেমন- "হে মানুষ", এবং "এই কিতাবের কী হলো"। আর কখনো বলা হয়- "হে এটি"।
এবং স্বাভাবিক অবস্থায় মুনাদা থেকে এটি বিলুপ্ত করা ওয়াজিব, তবে আল্লাহ তাআলার নাম, যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছুর নামকরণ করা হয়েছে এবং মুদাফ-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম; অবশ্য যদি মুদাফটি এমন বিশেষণ হয় যা হরফের মাধ্যমে ইরাব গ্রহণ করে অথবা এমন শব্দের দিকে মুদাফ হয় যাতে 'আলিফ-লাম' বিদ্যমান রয়েছে।
(পরিচ্ছেদ)মারফু'আত দশটি: তার মধ্যে প্রথমটি হলো ফায়েল, আর তা হলো এমন পদ যার পূর্বে ফেল (ক্রিয়া) বা ফেল সদৃশ পদকে আনা হয়েছে এবং তার দিকে এমনভাবে সম্বন্ধ করা হয়েছে যে কাজটি তার দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে অথবা তার মাঝে সংঘটিত হয়েছে। যেমন: 'যায়েদ জেনেছে', 'বকর মারা গেছে', 'আমর প্রহার করেছে' এবং 'তার রঙসমূহ বিচিত্র'।
দ্বিতীয়টি হলো নায়েবে ফায়েল, আর তা হলো এমন পদ যার ফায়েলকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং একে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আর তার আমেলকে 'ফু'ইলা' বা 'ইউফ'আলু' অথবা 'মাফ'উল'-এর পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আর তা মূলত মাফ'উল বিহি, যেমন-
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَقُضِيَ الْأَمْرُ - فَإِنْ فُقِدَ فَالْمَصْدَرُ نَحْوُ - فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وحِدَةٌ - فَمَنْ عُفِىَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَىْء -.
أَوِ الظَّرْفُ نَحْوُ صِيمَ رَمَضَانُ وَجُلِسَ أَمَامُكَ، أَوِ الْمَجْرُورُ نَحْوُ - غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ - وَمِنْهُ - لَاّ يُؤْخَذُ مِنْهَا -.
وَلَا يُحْذَفَانِ بَلْ يَسْتَتِرَانِ، وَيُحْذَفُ عَامِلُهُمَا جَوَازاً نَحْوُ زَيْدٌ لِمَنْ قَالَ: مَنْ قَامَ أَوْ مَنْ ضَرَبَ، وَوُجُوباً نَحْوُ - إِذَا السَّمَاء انشَقَّتْ وَأَذِنَتْ لِرَبّهَا وَحُقَّتْ وَإِذَا الاْرْضُ مُدَّتْ - وَلَا يَكُونَانِ جُمْلَةً فنَحْوُ: وَتَبَيَّنَ لَكُمْ كَيْفَ فَعَلْنَا بِهِمْ عَلَى إضْمَارِ التَّبَيُّنِ، ونَحْوُ - وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وعْدَ اللَّهِ حَقٌّ - عَلَى الْإِسْنَادِ إِلَى اللَّفْظِ، وَيُؤَنَّثُ فِعْلُهُمَا لِتَأْنِيثِهِمَا وُجُوباً فِي نَحْوِ: الشَّمْسُ طَلَعَتْ وَقَامَتْ هِنْدٌ أَوِ الْهِنْدَانِ أَوِ الهِنْدَاتُ، وَجَوَازاً: رَاجِحاً فِي نَحْوِ طَلَعَتتِ الشَّمْسُ، ومِنْهُ قَامَتِ الرِّجَالُ أَوْ النِّسَاءُ أَوِ الْهُنُودُ وَحَضَرَتِ الْقَاضِيَ امْرَأةٌ، وَمِثْلُ قَامَتِ النِّسَاءُ نِعْمَتِ الْمَرْأَةُ هِنْدٌ، وَمَرْجُوحاً فِي نَحْوِ مَا قَامَ إِلَاّ هِنْدٌ، وَقِيلَ ضَرُورَةً، وَلَا تَلْحَقُهُ عَلَامَةُ تَثْنِيَةٍ وَلَا جَمْعٍ، وشَذَّ نَحْوُ أَكَلُونِي الْبَرَاغِيثُ.
আর বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেল—অতঃপর যদি (কর্তা) অনুপস্থিত থাকে, তবে মাসদার (ক্রিয়ামূল) তার স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন— “অতঃপর যখন শিঙায় একটিমাত্র ফুঁৎকার দেওয়া হবে” এবং “অতঃপর যার জন্য তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছু ক্ষমা করা হয়”।
অথবা যরফ (ক্রিয়াবিশেষণ); যেমন— “রমজান মাসে রোজা রাখা হয়েছে” এবং “তোমার সামনে বসা হয়েছে”। অথবা মাজরুর (অব্যয়যুক্ত বিশেষ্য); যেমন— “যাদের ওপর তোমার ক্রোধ নেই” এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো— “তা থেকে তা গ্রহণ করা হবে না”।
আর এ দুটি বিলুপ্ত হয় না, বরং উহ্য থাকে। এদের আমিল (ক্রিয়া) বৈধভাবে (جوازاً) বিলুপ্ত হতে পারে; যেমন— কেউ যদি প্রশ্ন করে “কে দাঁড়িয়েছে?” বা “কে প্রহার করেছে?”, তবে তার উত্তরে “যায়েদ” বলা। এবং এটি আবশ্যিকভাবে (وجوباً) বিলুপ্ত হয়; যেমন— “যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং সে তার রবের নির্দেশ পালন করবে আর তা-ই তার জন্য সংগত, এবং যখন জমিনকে প্রসারিত করা হবে”। আর এ দুটি জুমলা (বাক্য) হতে পারে না। অতএব, “তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমি তাদের সাথে কী রূপ আচরণ করেছি”—এই জাতীয় উদাহরণগুলো ‘তাবাইয়ুন’ (স্পষ্ট হওয়া) শব্দটিকে উহ্য মানার ভিত্তিতে গঠিত। আর “যখন বলা হয়েছিল যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য”—এই জাতীয় উদাহরণগুলো শব্দের প্রতি সনদ পরম্পরা বা সম্পর্ক (إسناد) স্থাপনের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। আর এ দুটি স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার কারণে এদের ক্রিয়াকে আবশ্যিকভাবে (وجوباً) স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়; যেমন— “সূর্য উদিত হয়েছে”, “হিন্দ দাঁড়িয়েছে”, “দুই হিন্দ দাঁড়িয়েছে” কিংবা “হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে”। আর বৈধভাবে (جوازاً) যা অগ্রগণ্য (راجحاً); যেমন— “সূর্য উদিত হয়েছে”। এর অন্তর্ভুক্ত হলো— “পুরুষেরা দাঁড়িয়েছে”, “নারীরা দাঁড়িয়েছে”, কিংবা “হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে” এবং “বিচারকের নিকট একজন নারী উপস্থিত হয়েছে”। “নারীরা দাঁড়িয়েছে”-এর অনুরূপ হলো— “হিন্দ কতই না উত্তম নারী”। আর যা অনুচিত বা কম পছন্দনীয় (مرجوحاً); যেমন— “হিন্দ ছাড়া আর কেউ দাঁড়ায়নি”। কেউ কেউ একে কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (ضرورةً) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর ক্রিয়ার সাথে দ্বিবচন বা বহুবচনের কোনো চিহ্ন যুক্ত হয় না। তবে “আকালুনিল বারগিস” (পোকামাকড়গুলো আমাকে খেয়ে ফেলেছে)—এই জাতীয় উদাহরণগুলো বিরল বা ব্যতিক্রমী (شاذ) হিসেবে বিবেচিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثَّالِثُ الْمُبْتَدَأُ، وَهُوَ الْمُجَرَّدُ عَنِ الْعَوَامِلِ اللَّفْظِيَّةِ مُخْبَراً عَنْهُ أَوْ وَصْفاً رَافِعاً لِمُكْتَفًى بِهِ، فَالْأَوَّلُ كَزَيْدٌ قَائِمٌ- وَأَنْ تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ، وَهَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ - وَالثَّانِي شَرْطُهُ نَفْيٌ أَوِ اسْتِفْهَامٌ نَحْوُ أَقَائِمٌ الزَّيْدَانِ وَمَا مَضْرُوبٌ الْعَمْرَان، وَلَا يُبْتَدَأُ بِنَكِرَةٍ إِلَاّ إِنْ عَمَّتْ نَحْوُ مَا رَجُلٌ فِي الدَّارِ، أَوْ خَصَّتْ نَحْوُ رَجُلٌ صَالِحٌ جَاءَنِي، وَعَلَيْهِمَا -وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ -.
الرَّابِعُ خَبَرُهُ، وَهُوَ مَا تَحْصُلُ بِهِ الْفَائِدَةُ مَعَ مُبْتَدَإٍ غَيْرِ الْوَصْفِ الْمَذْكُورِ، وَلَا يَكُونُ زَمَاناً، والْمُبْتَدَا اسْمُ ذَاتٍ، وَنَحْوُ اللَّيْلَةَ الْهِلَالُ مُتَأَوَّلٌ.
الْخَامِسُ اسْمُ كَانَ وَأَخَوَاتِهَا، وَهِيَ أَمْسَى وَأَصْبَحَ وَأَضْحَى وَظَلَّ وَبَاتَ وَصَارَ وَلَيْسَ مُطْلَقاً، وَتَالِيَةً لِنَفْيٍ أَوْ شِبْهِهِ زَالَ مَاضِي يَزَالُ وَبَرِحَ وَفَتِيءَ وَانْفَكَّ، وَصِلَةً لِمَا الْوَقْتِيَّةِ دَامَ نَحْوُ مَا دُمْتُ حَيّاً.
وَيَجِبُ حَذْفُ كَانَ وَحْدَهَا بَعْدَ أمَّا فِي نَحْوِ أَمَّا أَنْتَ ذَا نَفَرٍ، وَيَجُوزُ حَذْفُهَا مَعَ اسْمِهَا بَعْدَ إِنْ وَلَوِ الشَّرْطِيَّتَيْنِ وَحَذْفُ نُونِ مُضَارِعِهَا الْمَجْزُومِ إِلَاّ قَبْلَ سَاكِنٍ أَوْ مُضْمَرٍ مُتَّصِلٍ.
তৃতীয় প্রকার হলো মুক্তাদা (المبتدأ), যা শাব্দিক আমিল (العوامل اللفظية) থেকে মুক্ত এমন একটি পদ যার সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেওয়া হয় অথবা এমন একটি গুণবাচক শব্দ (وصف) যা তার পরবর্তী পদের জন্য রাফা (رافع) প্রদানকারী হিসেবে যথেষ্ট হয়। প্রথমটির উদাহরণ যেমন: ‘জায়েদ দণ্ডায়মান’, ‘তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর’ এবং ‘আল্লাহ ছাড়া কি কোনো স্রষ্টা আছে?’। দ্বিতীয় প্রকারের শর্ত হলো তা নফি (نفي) বা প্রশ্নবোধক (استفهام)-এর পরে আসা, যেমন: ‘দুই জায়েদ কি দণ্ডায়মান?’ এবং ‘দুই আমর প্রহৃত হয়নি’। অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) দ্বারা বাক্য শুরু করা যায় না, যদি না তা ব্যাপকতা (عمت) প্রকাশ করে যেমন: ‘বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই’, অথবা বিশেষত্ব (خصت) প্রকাশ করে যেমন: ‘একজন নেককার লোক আমার নিকট এসেছে’। এই উভয় সুরতের উদাহরণ হলো: ‘অবশ্যই একজন মুমিন ক্রীতদাস উত্তম’।
চতুর্থ প্রকার হলো তার খবর (خبر), যা এমন একটি পদ যা দ্বারা উল্লিখিত গুণবাচক শব্দ ব্যতীত মুক্তাদা (مبتدأ)-এর সাথে মিলে পূর্ণ অর্থ বা ফায়দা (الفائدة) অর্জিত হয়। এটি সময়ের নাম বা যামান (زمانا) হতে পারে না যখন মুক্তাদা (المبتدأ) কোনো সত্তাবাচক নাম বা ইসমু জাত (اسم ذات) হয়। আর ‘আজ রাতে নতুন চাঁদ’-এর মতো উদাহরণগুলো ব্যাখ্যার (متأول) দাবি রাখে।
পঞ্চম প্রকার হলো কানা (كان) এবং তার সমগোত্রীয় শব্দাবলির ইসম (اسم)। সেগুলো হলো: আমসা (أمسى), আসবাহা (أصبح), আদহা (أضحى), জাল্লা (ظل), বাতা (بات), সারা (صار) এবং লাইসা (ليس) যা কোনো শর্ত ছাড়াই আমল করে। আর নফি (نفي) বা নফির সদৃশ শব্দের অনুগামী হয়ে আমল করে যলা (زال) - যার অতীতকাল বা মাজি (ماضي) হলো ইয়াজালু (يزال) - এবং বারিহা (برح), ফাতিয়া (فتئ) ও ইনফাক্কা (انفك)। আর সময়ের ব্যাপ্তিবোধক ‘মা’ (ما الوقتية)-এর সাথে সংযুক্ত বা সিলাহ (صلة) হিসেবে আমল করে দামা (دام), যেমন: ‘যতদিন আমি জীবিত থাকি’।
শুধুমাত্র কানা (كان)-কে ‘আম্মা’ (أما)-এর পরে বিলোপ (حذف) করা আবশ্যক (واجب), যেমন: ‘যেহেতু তুমি একদল সৈন্যের অধিকারী’। আর শর্তবাচক ‘ইন’ (إن) এবং ‘লাও’ (لو)-এর পরে তার ইসম (اسم)-সহ কানা-কে বিলোপ (حذف) করা বৈধ (يجوز), এবং এর মাজজুম (مجزوم) মুদারে (مضارع) থেকে ‘নুন’ (نون) অক্ষরটি বিলোপ করাও বৈধ, তবে সাকিন (ساكن) বা সংযুক্ত সর্বনাম বা মুদমার মুত্তাসিল (مضمر متصل)-এর পূর্বে নয়।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السَّادِسُ: اسْمُ أَفْعَالِ الْمُقَارَبَةِ، وَهِيَ كَادَ وَكَرَبَ وَأَوْشَكَ لِدُنُوِّ الْخَبَرِ، وَعَسَى وَاخْلَوْلَقَ وَحَرَى لِتَرَجِّيهِ، وَطَفِقَ وَعَلِقَ وَأَنْشَأَ وَأَخَذَ وَجَعَلَ وَهَبَّ وَهَلْهَلَ لِلشُّرُوعِ فِيهِ، وَيَكُونُ خَبَرُهَا مُضَارِعاً.
السَّابِعُ: اسْمُ مَا حُمِلَ عَلَى لَيْسَ، وَهِيَ أَرْبَعَةٌ: لَاتَ فِي لُغَةِ الْجَمِيعِ، وَلَا تَعْمَلُ إِلَاّ فِي الْحِينِ بِكَثْرَةٍ أَوِ السَّاعَةِ أَوِ الْأَوَانِ بِقلَّةٍ، وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ جُزْأَيْهَا، وَالْأَكْثَرُ كَوْنُ الْمَحْذُوفِ اسْمَهَا نَحْوُ وَلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ وَمَا وَلَا النَّافِيَتَانِ فِي لُغَةِ الْحِجَازِ، وَإنِ النَّافِيَةُ فِي لُغَةِ أَهْلِ الْعَالِيَّةِ، وَشَرْطُ إِعْمَالِهِنَّ نَفْيُ الْخَبَرِ وَتَأْخِيرُهُ، وَأَنْ لَا يَلِيَهُنَّ مَعْمُولُهُ، وَلَيْسَ ظَرْفاً وَلَا مَجْرُوراً، وَتَنْكِيرُ مَعْمُولَيْ لَا وَأَنْ لَا يَقْتَرِنَ اسْمُ مَا بِأَلِ الزَّائِدَةِ نَحْوُ مَا هَذَا بَشَرًا:
*وَلَا وَزَرٌ مِمَّا قَضَى اللَّهُ واقِياً*
*وَإِنْ ذَلِكَ نَافِعَكَ وَلَا ضَارَّكَ*.
الثَّامنُ: خَبَرُ إنَّ وَأَخَوَاتِهَا: أَنَّ وَلَكِنَّ، وَكَأَنَّ وَلَيْتَ وَلَعَلَّ نَحْوُ - إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ وَلَا يَجُوزُ تَقَدُّمُهُ مُطْلَقاً وَلَا تَوَسُّطُهُ إِلَاّ إنْ كَانَ ظَرْفاً أَوْ مَجْرُوراً نَحْوُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً، إِنَّ لَدَيْنَآ أَنكَالاً
ষষ্ঠ: আসন্না জ্ঞাপক ক্রিয়া (أفعال المقاربة) সমূহের বিশেষ্য (اسم); আর সেগুলো হলো সংবাদের নিকটবর্তিতা বুঝাতে ‘কাদা’ (كاد), ‘কারাবা’ (كرب) এবং ‘আওশাকা’ (أوشك); আকাঙ্ক্ষার (ترجي) জন্য ‘আসা’ (عسى), ‘ইখলাওলাকা’ (اخلولق) এবং ‘হারা’ (حرى); এবং শুরু করার (الشروع) জন্য ‘তাফিকা’ (طفق), ‘আলিকা’ (علق), ‘আনশাআ’ (أنشأ), ‘আখাযা’ (أخذ), ‘জাআলা’ (جعل), ‘হাব্বা’ (هب) ও ‘হালহালা’ (هلهل)। এগুলোর সংবাদ (خبر) সর্বদা বর্তমানকালীন ক্রিয়া (مضارع) হয়ে থাকে।
সপ্তম: সেইসব অব্যয়ের বিশেষ্য (اسم) যেগুলোকে ‘লাইসা’ (ليس)-এর সাদৃশ্য প্রদান করা হয়েছে। আর সেগুলো চারটি: সকলের ভাষ্যানুযায়ী ‘লাতা’ (لات), যা অধিক হারে ‘হিন’ (الحين) শব্দে আমল করে অথবা কদাচিৎ ‘সাআহ’ (الساعة) বা ‘আওয়ান’ (الأوان) শব্দে আমল করে। এর উভয় পদের (বিশেষ্য ও সংবাদ) মাঝে সমন্বয় করা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উহ্য (محذوف) অংশটি বিশেষ্য (اسم) হয়ে থাকে, যেমন: ‘এখন পলায়নের সময় নয়’; এবং হিজাজবাসীদের ভাষার না-বোধক (نافية) ‘মা’ (ما) ও ‘লা’ (لا); এবং উচ্চভূমির অধিবাসীদের ভাষার না-বোধক (نافية) ‘ইন’ (إن)। এগুলোর আমল করার শর্ত হলো সংবাদের (خبر) অস্বীকৃতি বজায় থাকা এবং সংবাদটি পরে আসা; এবং এগুলোর অব্যবহিত পরে যেন এগুলোর কোনো আমলকৃত অংশ না আসে, যদি না সেটি সময় বা স্থানবাচক অব্যয় (ظرف) অথবা মাজরুর (مجرور) হয়; আর ‘লা’ (لا)-এর উভয় আমলকৃত পদ অনির্দিষ্ট (نكرة) হওয়া এবং ‘মা’ (ما)-এর বিশেষ্য (اسم) যেন অতিরিক্ত আলিফ-লাম (أل الزائدة)-এর সাথে যুক্ত না হয়। যেমন: ‘ইনি কোনো মানুষ নন’:
*আল্লাহর ফয়সালা থেকে কোনো আশ্রয়ই সুরক্ষাকারী নয়*
*নিশ্চয় তা তোমার উপকারে আসবে না এবং তোমার ক্ষতিও করবে না*.
অষ্টম: ‘ইন্না’ (إنَّ) এবং এর সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহের সংবাদ (خبر): ‘আন্না’ (أنَّ), ‘লাকিন্না’ (لكنَّ), ‘কাআন্না’ (كأنَّ), ‘লাইতা’ (ليت) এবং ‘লাআল্লা’ (لعلَّ); যেমন— ‘নিশ্চয় কিয়ামত আগত’। এর সংবাদ (خبر) কোনো অবস্থাতেই শুরুতে আসা বৈধ নয় এবং মাঝখানে আসাও বৈধ নয়, তবে সংবাদটি যদি সময় বা স্থানবাচক অব্যয় (ظرف) অথবা মাজরুর (مجرور) হয় তবে ভিন্ন কথা। যেমন: ‘নিশ্চয় এতে শিক্ষা রয়েছে’, ‘নিশ্চয় আমাদের নিকট রয়েছে শিকলসমূহ’।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَتُكْسَرُ إِنَّ فِي الِابْتِداءِ، وَفِي أَوَّلِ الصِّلَةِ، وَالصِّفَةِ وَالْجُمْلَةِ الْحَالِيَّةِ، وَالْمُضَافِ إِلَيْهَا مَا يَخْتَصُّ بِالْجُمَلِ وَالْمَحْكِيَّةِ بِالْقَوْلِ وَجَوَابِ الْقَسَمِ وَالْمُخْبَرِ بِهَا عَنِ اسْمِ عَيْنٍ وَقَبْلَ اللَّامِ المُعَلِّقةِ، وَتُكْسَرُ أَوْ تُفْتَحُ بَعْدَ إِذَا الْفُجَائِيَّةِ وَالْفَاءِ الْجَزَائِيَّةِ وَفِي نَحْوِ: أَوَّلُ قَوْلِي إِنِّي أَحْمَدُ اللهَ، وَتُفْتَحُ فِي الْبَاقِي.
التَّاسِعُ: خَبَرُ لَا الَّتِي لِنَفْيِ الْجِنْسِ نَحْوُ لَا رَجُلَ أَفْضَلُ مِنْ زيْدٍ، وَيَجِبُ تَنْكِيرُهُ كَالِاسْمِ وَتَأْخِيرُهُ وَلَوْ ظَرْفاً، وَيَكْثُرُ حَذْفُهُ إِنْ عُلِمَ، وَتَمِيمٌ لَا تَذْكُرُهُ حِينَئِذٍ.
الْعَاشِرُ: الْمُضَارِعُ إِذَا تَجَرَّدَ مِنْ نَاصِبٍ وَجَازِمٍ.
(بَابٌ)الْمَنْصُوبَاتُ خَمْسَةَ عَشَرَ: أَحَدُهَا: الْمَفْعُولُ بِهِ، وهُوَ مَا وَقَعَ عَلَيْهِ فِعْلُ الْفَاعِلِ كَضَرَبْتُ زَيْداً وَمِنْهُ مَا أُضْمِرَ عَامِلُهُ جَوَازاً نَحْوُ قَالُواْ خَيْرًا، وَوُجُوباً فِي مَوَاضِعَ مِنْهَا بَابُ الِاشْتِغَالِ نَحْوُ وَكُلَّ إِنْسَنٍ أَلْزَمْنَهُ.
وَمِنْهُ الْمُنَادَى، وِإنَّمَا يَظْهَرُ نَصْبُهُ إِذَا كَانَ مُضَافاً أَوْ شِبْهَهُ أَوْ نَكِرَةً مَجْهُولَةً نَحْوُ يَا عَبْدَ اللَّهِ وَيَا طَالِعاً جَبَلاً وَقَوْلِ الْأَعْمَى: يَا رَجُلاً خُذْ بِيَدِي!.
বাক্যের শুরুতে, সিলার শুরুতে, সিফাত এবং হাল হিসেবে ব্যবহৃত জুমলায়, জুমলার জন্য নির্দিষ্ট এমন মুদাফ ইলাইহির পরে, কওল (উক্তি) দ্বারা বর্ণিত বাক্যে, কসমের জবাবে, ইসমু আইনের খবর হিসেবে এবং আমল স্থগিতকারী (মুআল্লাকাহ) লামের পূর্বে 'ইন্না'-এর হামজায় কাসরা পড়তে হয়। আর 'ইদায়ে ফুযাইয়্যাহ' ও 'ফায়ে জাযাইয়্যাহ'-এর পরে এবং "আউয়ালু কওলি ইন্নানি আহমাদুল্লাহ" জাতীয় বাক্যগুলোতে কাসরা বা ফাতহা উভয়ই পড়া বৈধ। আর অবশিষ্ট সকল ক্ষেত্রে ফাতহা পড়তে হয়।
নবম: জাতিবাচক না-বোধক 'লা' (লা-নাফিয়ে জিনস)-এর খবর। যেমন- "লা রাজুলা আফদ্বালু মিন যাইদিন" (যাইদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো পুরুষ নেই)। ইসমের ন্যায় এটিকেও নাকেরা (অনির্দিষ্ট) করা এবং বিলম্বে আনা ওয়াজিব, এমনকি তা জরফ (অধিকরণ) হলেও। এটি জানা থাকলে এর খবর বিলুপ্ত (হজফ) হওয়া প্রচুর লক্ষ্য করা যায়, আর তামীম গোত্র এমতাবস্থায় এটি উল্লেখ করে না।
দশম: মুদারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া), যখন তা নসব দানকারী ও জজম দানকারী আমেল থেকে মুক্ত থাকে।
(অধ্যায়)মানসুবাত (নসবযুক্ত শব্দাবলি) পনেরটি। প্রথমটি: মাফউলুন বিহি (কর্মপদ), আর তা হলো যার ওপর কর্তার ক্রিয়া পতিত হয়; যেমন- "দবারাবতু যাইদান" (আমি যাইদকে প্রহার করেছি)। এর অন্তর্ভুক্ত ঐ সকল পদও যার আমেল জায়িয (বৈধ) হিসেবে বিলুপ্ত থাকে, যেমন তারা বলে- "খাইরান" (অর্থাৎ: তারা কল্যাণকর কথা বলেছে)। আবার কিছু স্থানে আমেল বিলুপ্ত থাকা ওয়াজিব (আবশ্যক), যার মধ্যে ইশতিগাল-এর অনুচ্ছেদ অন্যতম; যেমন- "ওয়া কুল্লা ইনসানিন আলযামনাহু"।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুনাদা (আহূত পদ); এর নসব কেবল তখনই প্রকাশ পায় যখন তা মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত), মুদাফ সদৃশ (শিবহে মুদাফ) কিংবা অনির্দিষ্ট অনির্ধারিত (নাকেরায়ে মাজহুলাহ) হয়। যেমন- "ইয়া আবদাল্লাহ", "ইয়া ত্বলিআন জাবালান" এবং অন্ধ ব্যক্তির উক্তি- "ইয়া রাজুলান খুজ বিয়াদি!" (হে কোনো ব্যক্তি, আমার হাত ধরুন!)।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَالْمَنْصُوبُ بِأَخُصُّ بَعْدَ ضَمِيرٍ مُتَكَلِّمٍ، وَيَكُونُ بِأَلْ نَحْوُ نَحْنُ الْعُرْبَ أَقْرَى النَّاسِ لِلضَّيْفِ، وَمُضافاً نَحْوُ نَحْنُ مَعَاشِرَ الْأَنْبِيَاءِ لَا نُورَثَ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ، وَأَيًّا فَيَلْزَمُهَا مَا يَلْزَمُهَا فِي النِّدَاءِ نَحْوُ أَنَا أَفْعَلُ كَذَا أَيُّهَا الرَّجُلُ، وَعَلَماً قَلِيلاً فنَحْوُ بِكَ اللَّهَ نَرْجُو الْفَضْلَ شَاذٌّ مِنْ وَجْهَيْنِ.
وَالْمَنْصُوبُ بِالْزَمْ أَوْ بِاتَّقِ إِنْ تَكَرَّرَ أَوْ عُطِفَ عَلَيْهِ أَوْ كَانَ إِيَّاكَ نَحْوُ السِّلَاحَ السِّلَاحَ وَالْأَخَ الْأَخَ، وَنَحْوُ السَّيْفَ وَالرُّمْحَ، ونَحْوُ الْأَسَدَ الْأَسَدَ، أَوْ نَفْسَكَ نَفْسَكَ وَنَحْوُ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَهَا، وَإِيَّاكَ مِنَ الْأَسَدِ،
وَالْمَحْذُوفِ عَامِلُهُ، وَالْوَاقِعُ فِي مَثَلٍ أَوْ شِبْهِهِ نَحْوُ الْكِلَابَ عَلَى الْبَقَرِ، وَانْتَهِ خَيْراً لَكَ.
الثَّانِي الْمَفْعُولُ الْمُطْلَقُ، وَهُوَ الْمَصْدَرُ الْفَضْلَةُ الْمُؤَكِّدُ لِعَامِلِهِ، أَوِ الْمُبَيِّنُ لِنَوْعِهِ أَوْ لِعَدَدِهِ كَضَرَبْتُ ضَرْباً أَوْ ضَرْبَ الْأَمِيرِ أَوْ ضَرْبَتَيْنِ، وَمَا بِمَعْنَى الْمَصْدَرِ مِثْلُهُ نَحْوُ - فَلَا تَمِيلُواْ كُلَّ الْمَيْلِ، وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا، فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً.
الثَّالِثُ الْمَفْعُولُ لَهُ وَهُوَ الْمَصْدَرُ الْفَضْلَةُ الْمُعَلِّلُ لِحَدَثٍ شَارَكَهُ فِي الزَّمَانِ والْفَاعِلِ كَقُمْتُ إِجْلَالاً لَكَ، وَيَجُوزُ فِيهِ أَنْ
বক্তার সর্বনামের পরে 'আমি নির্দিষ্ট করছি' ক্রিয়াটি উহ্য থাকার মাধ্যমে নাসবপ্রাপ্ত বিশেষ্য; এটি 'আলিফ-লাম' যুক্ত হতে পারে, যেমন: 'আমরা আরবরা মেহমানদারিতে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ'; অথবা সম্বন্ধযুক্ত পদ হিসেবে হতে পারে, যেমন: 'আমরা নবীগণ, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী রাখা হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা'; অথবা 'আইয়্যু' শব্দযোগে হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে এটি সম্বোধনের বিধানসমূহ অনুসরণ করে, যেমন: 'হে ব্যক্তি, আমি এরূপ করছি'; এবং কদাচিৎ এটি নামবাচক বিশেষ্য হিসেবেও হতে পারে, যেমন: 'হে আল্লাহ, আপনার কাছেই আমরা অনুগ্রহ প্রার্থনা করি', যা দুই দিক থেকে ব্যতিক্রমী (شاذّ)।
এবং 'আঁকড়ে ধরো' অথবা 'সতর্ক থাকো' ক্রিয়া দ্বারা নাসবপ্রাপ্ত বিশেষ্য; যখন তা পুনরাবৃত্ত হয় অথবা তার ওপর অন্য পদের সংযোজন ঘটে অথবা সেটি 'তোমাকে' (ইয়্যাকা) শব্দ হয়। যেমন: 'অস্ত্র, অস্ত্র!', 'ভাই, ভাই!', 'তলোয়ার ও বল্লম!', 'সিংহ, সিংহ!', অথবা 'তোমার নিজের প্রতি লক্ষ্য রাখো, নিজের প্রতি লক্ষ্য রাখো!', 'আল্লাহর উষ্ট্রী ও তার পানি পানের বিষয়ে সতর্ক থাকো!', এবং 'সিংহ থেকে সাবধান!'।
এবং এমন পদ যার প্রভাবক ক্রিয়া উহ্য থাকে এবং যা প্রবাদ বা প্রবাদতুল্য বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'গরুর ওপর কুকুর লেলিয়ে দাও', এবং 'বিরত হও, যা তোমার জন্য কল্যাণকর'।
দ্বিতীয় প্রকার হলো মাফউলে মুতলাক। এটি এমন অতিরিক্ত মাসদার যা তার প্রভাবক ক্রিয়াকে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করে, অথবা তার ধরন বা সংখ্যা বর্ণনা করে। যেমন: 'আমি সজোরে প্রহার করেছি', অথবা 'নেতার প্রহারের ন্যায় প্রহার করেছি', অথবা 'দুইবার প্রহার করেছি'। মাসদারের অর্থ প্রদানকারী শব্দসমূহও এর অনুরূপ। যেমন— 'সুতরাং তোমরা পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না', 'এবং তোমরা তার সামান্যতম ক্ষতি করতে পারবে না', এবং 'অতএব তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো'।
তৃতীয় প্রকার হলো মাফউলে লাহু। এটি এমন অতিরিক্ত মাসদার যা কোনো ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে এবং সময় ও কর্তার ক্ষেত্রে মূল ক্রিয়ার সাথে একীভূত থাকে। যেমন: 'আমি তোমার সম্মানে দণ্ডায়মান হলাম'। এবং এতে অনুমতি আছে যে
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يُجَرَّ بِحَرْفِ التَّعْلِيلِ، وَيَجِبُ فِي مُعَلَّلٍ فَقَدَ شَرْطاً أَنْ يُجَرَّ باللَاّمِ أَوْ نَائِبِهَا.
الرَّابعُ الْمَفْعُولُ فِيهِ، وهُوَ مَا ذُكِرَ فَضْلَةً لِأَجْلِ أَمْرٍ وَقَعَ فيهِ مِنْ زَمَانٍ مُطْلَقاً، أَوْ مَكَانٍ مُبْهَمٍ، أَوْ مُفِيدٍ مِقْدَاراً، أَوْ مَادَّتُهُ مَادَّةُ عَامِلِهِ كَصُمْتُ يَوْماً أَوْ يَوْمَ الْخَمِيس وَجَلَسْتُ أَمَامَكَ وَسِرْتُ فَرْسَخاً وَجَلَسْتُ مَجْلِسَكَ. وَالْمَكَانِيُّ غَيْرُهُنَّ يُجَرُّ بِفِي كَصَلَّيْتُ فِي الْمَسْجِدِ وَنَحْوُ:
*قَالَا خَيْمَتَيْ أُمِّ مَعْبَدِ*
وَقَوْلِهِمْ: دَخَلْتُ الدَّارَ عَلَى التَّوَسُّعِ.
الخَامِسُ: الْمَفْعُولُ مَعَهُ، وَهُوَ الِاسْمُ الْفَضْلَةُ التَّالِي وَاوَ الْمُصَاحَبَةِ مَسْبُوقَةً بِفِعْلٍ، أَوْ مَا فِيهِ مَعْنَاهُ وَحُرُوفُهُ كَسِرْتُ وَالنِّيلَ، وَأَنَا سَائِرٌ وَالنِّيلَ.
السَّادِسُ: الْمُشَبَّهُ بِالْمَفْعُولِ بِهِ، نَحْوُ: زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهَهُ وَسَيَأْتِي.
السَّابِعُ: الْحَالُ، وَهُوَ وَصْفٌ فَضْلَةٌ مَسُوقٌ لِبَيَانِ هَيْئَةِ صَاحِبِهِ أَوْ تَأْكِيدِهِ أَوْ تَأْكِيدِ عَامِلِهِ أَوْ مَضْمُونِ الْجُمْلَةِ قَبْلَهُ،
এটি কারণ নির্দেশক হরফ দ্বারা মাজরুর হবে; আর এমন মুআল্লাল (معلل), যা কোনো শর্ত হারিয়েছে, তাকে ‘লাম’ অথবা তার স্থলাভিষিক্ত হরফ দ্বারা মাজরুর করা ওয়াজিব।
চতুর্থটি হলো মফউল ফিহি; আর তা হলো এমন যা ফজলাহ হিসেবে এমন কোনো বিষয়ের জন্য উল্লিখিত হয় যা তার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে—চাই তা সাধারণভাবে কোনো কাল হোক, অথবা অনির্দিষ্ট কোনো স্থান হোক, অথবা পরিমাপ নির্দেশক হোক, কিংবা যার মূল উপাদান তার আমেলের উপাদানের অনুরূপ হয়। যেমন: ‘আমি একদিন রোজা রেখেছি’ অথবা ‘আমি বৃহস্পতিবার রোজা রেখেছি’, ‘আমি তোমার সামনে বসলাম’, ‘আমি এক ফরসাখ পথ চললাম’ এবং ‘আমি তোমার বসার স্থানে বসলাম’। আর এগুলা ব্যতীত অন্যান্য স্থানবাচক শব্দগুলো ‘ফী’ হরফ দ্বারা মাজরুর হয়, যেমন: ‘আমি মসজিদে সালাত আদায় করেছি’ এবং অনুরূপ:
*তারা উম্মে মা’বাদের দুটি তাঁবুর নিকট অবতরণ করল*
এবং তাদের উক্তি: “আমি ঘরে প্রবেশ করলাম”—এটি প্রশস্ততা বা তাওয়াসসু-এর ভিত্তিতে ব্যবহৃত।
পঞ্চমটি হলো: মফউল মাআহু, আর তা হলো এমন অতিরিক্ত বিশেষ্য যা সাহচর্যবোধক ‘ওয়াও’-এর পরে আসে এবং যার পূর্বে কোনো ক্রিয়া অথবা ক্রিয়ার অর্থ ও অক্ষর বিশিষ্ট কোনো শব্দ থাকে। যেমন: ‘আমি এবং নীল নদ চললাম’ এবং ‘আমি নীল নদের সাথে ভ্রমণকারী’।
ষষ্ঠটি হলো: মফউল বিহি-র সদৃশ, যেমন: ‘যায়েদ সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট’ এবং এর বর্ণনা সামনে আসবে।
সপ্তমটি হলো: হাল, আর তা হলো এমন একটি অতিরিক্ত বর্ণনা যা তার সাহিবুল হালের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য, অথবা তাকে তাকিদ দেওয়ার জন্য, অথবা তার আমেলকে তাকিদ দেওয়ার জন্য, কিংবা তার পূর্ববর্তী বাক্যের মর্মার্থকে তাকিদ দেওয়ার জন্য আনীত হয়।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
نَحْوُ: - فَخَرَجَ مِنْهَا خَآئِفاً يترقب، لآمَنَ مَن فِى الاْرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا، فَتَبَسَّمَ ضَحِكاً، وَأَرْسَلْنَكَ لِلنَّاسِ رَسُولاً.
*وَأَنَا ابْنُ دَارَةَ مَعْرُوفاً بِهَا نَسَبِي*
وَيَأْتِي مِنَ الْفَاعِلِ، وَمِنَ الْمَفْعُولِ، وَمِنْهُمَا مُطْلَقاً، وَمِنَ الْمُضَافِ إلَيْهِ، إِنْ كَانَ الْمُضَافُ بَعْضَهُ نَحْوُ - لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتاً - أَوْ كَبَعْضِهِ، نَحْوُ -مِلَّةَ إِبْرهِيمَ حَنِيفًا - أَوْ عَامِلاً فِيهَا، نَحْوُ -إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعاً-
وَحَقُّهَا أنْ تَكُونَ نَكِرَةً مُنْتَقِلَةً مُشْتَقَّةً، وَأَنْ يَكُونَ صَاحِبُهَا مَعْرِفَةً، أَوْ خَاصًّا أَوْ مُؤَخَّراً، وَقَدْ يَتَخَلَّفْنَ.
الثَّامِنُ: التَّمْييزُ، وَهْوَ اسْمٌ نَكِرَة فَضْلَةٌ يَرْفَعُ إِبْهَامَ اسْمٍ أَوْ إِجْمَالَ نِسْبَةٍ. فَالْأَوَّلُ بَعْدَ الْعَدَدِ الْأَحَدَ عَشَرَ فَمَا فَوْقَهَا إِلَى الْمِائَةِ وَكَمْ الِاسْتِفْهَامِيَّةِ، نَحْوُ -كَمْ عَبْداً مَلَكْتَ-، وَبَعْدَ الْمَقَادِيرِ كَرِطْلٍ زَيْتاً، وَكَشِبْرٍ أَرْضاً، وَقَفِيزٍ بُرًّا وَشِبْهِهِنَّ مِنْ نَحْوِ -مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً وَنِحْيٌ سَمْناً، وَمِثْلُهَا زُبْداً، وَمَوْضِعُ رَاحَةٍ سَحَاباً، وبَعْدَ فَرْعِهِ نَحْوُ خَاتَمٌ حَدِيداً. وَالثَّانِي إمَّا مُحَوَّلٌ عَنِ الْفَاعِلِ، نَحْوُ - وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْباً- أَوْ عَنِ الْمَفْعُولِ،
যেমন: — “অতঃপর তিনি সেখান থেকে ভীত ও সতর্ক অবস্থায় বের হলেন”, “তবে জমিনে যারা আছে তারা সকলেই ঈমান আনত”, “অতঃপর তিনি তার কথায় মুচকি হাসলেন”, “এবং আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি।”
*আর আমি ইবনে দারা, যার কারণে আমার বংশ পরিচয় সুপরিচিত*
আর এটি (হাল) কর্তা (ফায়েল) থেকে, কর্ম (মাফুল) থেকে, উভয়টি থেকে সাধারণভাবে, এবং মুযাফ ইলাইহি থেকে আসে—যদি মুযাফ তার অংশ হয়, যেমন: “তার মৃত ভাইয়ের গোশত”, অথবা তার অংশের ন্যায় হয়, যেমন: “ইব্রাহিমের একনিষ্ঠ আদর্শ”, অথবা তা হালের মধ্যে আমিল (ক্রিয়াশীল) হয়, যেমন: “তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।”
আর হালের নিয়ম হলো তা অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ), পরিবর্তনশীল ও উদ্ভূত শব্দ হওয়া; এবং তার সাহেবুল হাল যেন নির্দিষ্ট (মারেফাহ) অথবা বিশেষায়িত কিংবা পরবর্তী শব্দ হয়। তবে কখনও কখনও এর ব্যতিক্রমও ঘটে।
অষ্টম: তাময়ীয; এটি এমন এক অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) অতিরিক্ত পদ, যা কোনো বিশেষ্যের অস্পষ্টতা কিংবা কোনো সম্পর্কের অস্পষ্টতা দূর করে। প্রথম প্রকারটি এগারো থেকে একশ পর্যন্ত সংখ্যার পরে এবং প্রশ্নবোধক ‘কাম’-এর পরে আসে, যেমন: “তুমি কতজন দাসের মালিক হয়েছ?”; এবং পরিমাপের পরে আসে, যেমন: এক রতল তেল, এক বিঘত জমি, এক কাফীয গম এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ; যেমন: “অণু পরিমাণ কল্যাণ”, এক মশক ঘি, তার সমপরিমাণ মাখন, এক হাতের তালু পরিমাণ মেঘ। এবং এটি এর মূলের কোনো শাখার পরে আসে, যেমন: লোহার আংটি। দ্বিতীয় প্রকারটি হয় কর্তা (ফায়েল) থেকে রূপান্তরিত, যেমন: “মাথা বার্ধক্যের শুভ্রতায় জ্বলে উঠল”; অথবা কর্ম (মাফুল) থেকে রূপান্তরিত।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نَحْوُ - وَفَجَّرْنَا الاْرْضَ عُيُوناً - أَوْ عَنْ غَيْرِهِمَا نَحْوُ - أَنَاْ أَكْثَرُ مِنكَ مَالاً - أَوْ غَيْرُ مُحَوَّلٍ نَحْوُ: لِلَّهِ دَرُّهُ فَارِساً.
التَّاسِعُ: المُسْتَثْنَى بِلَيْسَ أَوْ بِلَا يَكُونُ أَوْ بِمَا خَلَا أَوْ بِمَا عَدَا مُطْلَقاً، أَوْ بِإلَاّ بَعْدَ كَلَامٍ تَامٍّ مُوجَبٍ أَوْ غَيْرِ مُوجَبٍ وَتَقَدَّمَ الْمُسْتَثْنَى نَحْوُ فَشَرِبُواْ مِنْهُ إِلَاّ قَلِيلاً مّنْهُمْ.
*وَمَا لِيَ إلَاّ آلَ أَحْمَدَ شِيعَةٌ*
وَغَيْرُ الْمُوجَبِ إنْ تُرِكَ فِيهِ الْمُسْتَثْنَى مِنْهُ فَلَا أَثَرَ فِيهِ لِإلَاّ وَيُسَمَّى مُفَرَّغاً، نَحْوُ مَا قَامَ إِلَاّ زَيْدٌ، وَإِنْ ذُكِرَ، فَإِنْ كَانَ الاِسْتِثْنَاءُ مُتَّصِلاً فَإِتْبَاعُهُ لِلْمُسْتَثْنَى مِنْهُ أَرْجَحُ، نَحْوُ مَّا فَعَلُوهُ إِلَاّ قَلِيلٌ مّنْهُمْ، أَوْ مُنْقَطِعاً فَتَمِيمٌ تُجِيزُ إِتْبَاعَهُ إِنْ صَحَّ التَّفْرِيغُ. وَالمُسْتَثْنَى بِغَيْرٍ وَسُوًى مَخْفُوضٌ، وَبِخَلَا وَعَدَا وَحَاشَا مَخْفُوضٌ أَوْ مَنْصُوبٌ، وَتُعْرَبُ غَيْرٌ اتِّفَاقًا، وَسُوًى عَلَى الْأَصَحِّ إِعْرَابَ الْمُسْتَثْنَى بِإِلَاّ.
وَالْبَوَاقِي: خَبَرُ كَانَ وَأَخَوَاتِهَا وَخَبَرُ كَادَ وَأَخَوَاتِهَا، وَيَجِبُ كَوْنُهُ مُضَارِعاً مُؤَخَّراً عَنْهَا رَافِعاً لِضَمِيرِ أَسْمَائِهَا مُجَرَّداً مِنْ أَنْ بَعْدَ أَفْعَالِ الشُّرُوعِ، وَمَقْرُوناً بِهَا بَعْدَ حَرَى وَاخْلَوْلَقَ، وَنَدَرَ
যেমন— "আর আমি ভূমি হতে প্রশ্রবণসমূহ উৎসারিত করলাম"— অথবা এই দুই প্রকার ব্যতীত অন্য কিছু থেকে রূপান্তরিত, যেমন— "আমি ধনে তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ"— অথবা যা রূপান্তরিত নয়, যেমন: "আল্লাহর জন্য তার শ্রেষ্ঠত্ব একজন অশ্বারোহী হিসেবে।"
নবম: 'লাইসা' অথবা 'লা ইয়াকুনু' অথবা 'মা খালা' অথবা 'মা আদা' দ্বারা সাধারণভাবে শর্তহীনভাবে ব্যতিক্রম করা হয়েছে এমন শব্দ, অথবা 'ইল্লা' দ্বারা পূর্ণ ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক বাক্যের পরে গঠিত মুস্তাসনা, যেখানে মুস্তাসনা আগে উল্লেখ করা হয়েছে; যেমন: "অতঃপর তাদের মধ্য হতে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত তারা সকলেই তা পান করল।"
*"এবং আহমদ (সা.)-এর বংশধরগণ ব্যতীত আমার অন্য কোনো অনুসারী নেই"*
আর নেতিবাচক বাক্যে যদি 'মুস্তাসনা মিনহু' উল্লেখ না করা হয়, তবে তাতে 'ইল্লা'-এর কোনো প্রভাব থাকে না এবং তাকে 'মুফাররাগ' বলা হয়; যেমন: "জায়েদ ব্যতীত কেউ দাঁড়ায়নি।" আর যদি তা (মুস্তাসনা মিনহু) উল্লিখিত থাকে এবং ইসতিসনা বা ব্যতিক্রমটি যদি সংযুক্ত (متصل) হয়, তবে তাকে মুস্তাসনা মিনহু-এর অনুগামী করা উত্তম; যেমন: "তাদের মধ্য হতে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত তারা তা করেনি।" আর যদি তা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হয়, তবে তামীম গোত্র একে অনুগামী করা বৈধ মনে করে যদি 'তাফরিগ' সঠিক হয়। আর 'গাইর' এবং 'সুওয়া' দ্বারা গঠিত মুস্তাসনা মাজরুর হয়। এবং 'খালা', 'আদা' ও 'হাশা' দ্বারা গঠিত মুস্তাসনা মাজরুর বা মানসুব হতে পারে। সর্বসম্মতিক্রমে 'গাইর' এবং বিশুদ্ধতম মতানুসারে 'সুওয়া'-এর ব্যাকরণিক অবস্থান (ইরাব) হবে 'ইল্লা' যোগে গঠিত মুস্তাসনার ইরাবের ন্যায়।
আর অবশিষ্টগুলো হলো: 'কানা' ও তার সমজাতীয় ক্রিয়াগুলোর খবর এবং 'কাদা' ও তার সমজাতীয় ক্রিয়াগুলোর খবর। এটি মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) হওয়া আবশ্যক যা তাদের পরে আসবে, তাদের ইসিমের সর্বনামকে রাফা প্রদানকারী হবে, এবং প্রারম্ভিক ক্রিয়া (আফয়ালুশ শুরূ)-এর পরে 'আন' মুক্ত থাকবে, আর 'হারা' ও 'ইখলাওলাকা'-এর পরে 'আন' যুক্ত হওয়া আবশ্যক এবং এটি বিরল...
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تَجَرُّدُ خَبَرِ عَسَى وَأَوْشَكَ، وَاقْتِرَانُ خَبَرِ كَادَ وكَرَبَ، وَرُبَّمَا رُفِعَ السَّبَبِيُّ بِخَبَرِ عَسَى، فَفِي قَوْلِهِ:
*وَمَاذَا عَسَى الْحَجَّاجُ يَبْلُغُ جُهْدُهُ*
فِيمَنْ رَفَعَ جُهْدُهُ شُذُوذَانِ وخَبَرُ مَا حُمِلَ عَلَى لَيْسَ واسْمُ وَإنَّ أَخَوَاتِهَا.
وَإنْ قُرِنَتْ بِمَا الْمَزِيدَةِ أُلْغِيَتْ وُجُوباً إِلَاّ لَيْتَ فَجَوَازاً، وَيُخَفَّفُ ذُو النُّونِ مِنْهَا فَتُلْغَى لَكِنَّ وُجُوباً وَكَأَنَّ قَلِيلاً، وَإِنَّ غَالِباً وَيَغْلِبُ مَعَهَا مُهْمَلَةً اللَّامُ وَكَوْنُ الْفِعْلِ التَّالِي لَهَا نَاسِخاً، وَيَجِبُ اسْتِتَارُ اسْمِ إِنْ وَكَوْنُ خَبَرِهَا جُمْلَةً وَكَوْنُ الْفِعْلِ بَعْدَهَا دُعَائِيًا أَوْ جَامِداً أَوْ مَفْصُولاً بِتَنْفِيسٍ أَوْ شَرْطٍ أَوْ قَدْ أَوْ لَوْ، ويَغْلِبُ لِكَأَنَّ مَا وَجَبَ لِأَنْ إِلَاّ أَنَّ الْفِعْلَ بَعْدَهَا دَائِماً خَبَرِيٌّ مَفْصُولٌ بِقَدْ أَوْ لَمْ خَاصَّةً.
وَاسْمُ لَا النَّافِيَةِ لِلْجِنْسِ، وَإنَّمَا يَظْهَرُ نَصْبُهُ إِنْ كَانَ مُضَافاً، أَوْ شِبْهَهُ، نَحْوُ: لَا غُلَامَ سَفَرٍ عِنْدَنَا، وَلَا طَالِعاً جَبَلاً حَاضِرٌ.
وَالْمُضَارِعُ بَعْدَ نَاصِبٍ وَهُوَ لَنْ أَوْ كَيْ الْمَصْدَرِيَّةُ مُطْلَقاً،
'আসা' এবং 'আওশাকা'-এর খবর থেকে 'আন' বিযুক্ত থাকা এবং 'কাদা' ও 'কারাবা'-এর খবরের সাথে 'আন' যুক্ত হওয়া (প্রচলিত); আর কখনও কখনও 'আসা'-এর খবরের মাধ্যমে 'সাবাবি' (সংযুক্ত বিষয়)-কে রফ প্রদান করা হয়। কবির উক্তিতে:
*আর হাজ্জাজ তার প্রচেষ্টায় কী-ই বা পৌঁছাতে পারবে*
যিনি 'জুহদুহু' শব্দটিকে রফ পড়েছেন, তার পাঠে দুটি ব্যতিক্রম (شذوذ) রয়েছে। এবং 'মা'-এর খবর যা 'লাইসা'-এর ওপর কিয়াস করা হয়েছে এবং 'ইন্না' ও তার সমগোত্রীয়দের ইসিম।
যদি এগুলোর সাথে অতিরিক্ত 'মা' যুক্ত হয়, তবে 'লাইতা' ব্যতীত বাকিগুলোর আমল বাতিল করা ওয়াজিব, আর 'লাইতা'-এর ক্ষেত্রে তা জায়েজ। আর এগুলোর নুন-যুক্ত হরফগুলোকে যখন লঘু করা হয়, তখন 'লাকিন্না'-এর আমল বাতিল করা ওয়াজিব, 'কা-আন্না'-এর ক্ষেত্রে তা বিরল এবং 'ইন্না'-এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় (আমল বাতিল হওয়া) পরিলক্ষিত হয়। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় এটি আমলহীন অবস্থায় থাকে এবং এর সাথে 'লাম' যুক্ত হওয়া এবং পরবর্তী ফেলটি নাসিখ হওয়া অধিক প্রচলিত। আর 'আন্না'-এর ইসিমটি উহ্য থাকা ওয়াজিব এবং এর খবরটি বাক্য হওয়া আবশ্যক; আর এর পরবর্তী ফেলটি দোয়াবোধক, অথবা জামিদ, অথবা তানফিস, শর্ত, 'কদ' বা 'লাও' দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়া আবশ্যক। আর 'কা-আন্না'-এর ক্ষেত্রে তা-ই ওয়াজিব যা 'আন্না'-এর জন্য ওয়াজিব, তবে পার্থক্য হলো এর পরবর্তী ফেলটি সর্বদা সংবাদবাচক হয় যা বিশেষ করে 'কদ' অথবা 'লাম' দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে।
এবং 'লা নাফিয়া লিল জিনস'-এর ইসিম; এর নসব হওয়ার বিষয়টি কেবল তখনই প্রকাশ পায় যদি তা মুদাফ অথবা মুদাফ-সদৃশ হয়। যেমন: 'আমাদের কাছে সফরের কোনো গোলাম নেই' এবং 'পাহাড়ে আরোহণকারী কেউ উপস্থিত নেই'।
এবং নসব প্রদানকারী হরফের পরবর্তী ফে’লে মুদারে; আর তা হলো 'লান' অথবা নিঃশর্তভাবে মাসদারিয়া 'কাই'।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَإذَنْ إنْ صُدِّرَتْ وَكَانَ الْفِعْلُ مُسْتَقْبَلاً مُتَّصِلاً أَوْ مُنْفَصِلاً بالْقَسَمِ أَوْ بِلَا أَوْ بَعْدَ أَنِ الْمَصْدَرِيَّةِ نَحْوُ: -وَالَّذِى أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيئَتِى- إنْ لَمْ تُسْبَقْ بِعِلْمٍ نَحْوُ - عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُمْ مَّرْضَى-، فإن سُبِقَتْ بِظَنّ فَوَجْهَانِ نَحْوُ - وَحَسِبُواْ أَلَاّ تَكُونَ فِتْنَةٌ-.
وَتُضْمَرُ أَنْ بَعْدَ ثَلَاثَةٍ مِنْ حُرُوفِ الْجَرِّ، وَهِيَ: كَيْ نَحْوُ -كَي لَا يَكُونَ دُولَةً، وَحتَّى إِنْ كَانَ الْفِعْلُ مُسْتَقْبَلاً بِالنَّظَرِ إِلَى مَا قَبْلَهَا نَحْوُ - حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى - وَأَسْلَمْتُ حَتَّى أَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَاللَّامُ تَعْلِيلِيَّةً مَعَ الْمُضَارِعِ الْمُجَرَّدِ مِنْ لَا نَحْوُ -ليَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ - بِخِلَافِ لِئَلَاّ يَعْلَمَ، أَوْ جُحُودِيَّةً نَحْوُ مَا كُنْتُ أَوَ لَمْ أَكُنْ لِأَفْعَلَ، وَبَعْدَ ثَلَاثَةٍ مِنْ حُرُوفِ الْعَطْفِ، وَهِيَ أَوِ الَّتِي بِمَعْنَى إِلَى نَحْوُ لَأَلْزَمَنَّكَ أَوْ تَقْضِيَنِي حَقِّي، أَوْ إِلَاّ نَحْوُ لَأَقْتُلَنَّهُ أَوْ يُسْلِمَ، وَفَاءِ السَّبَبِيَّةِ، وَوَاوِ المَعِيَّةِ مَسْبُوقَيْنِ بِنَفْيٍ مَحْضٍ أَوْ طَلَبٍ بِغَيْرِ اسْمِ الْفِعْلِ نَحْوُ -لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُواْ، وَيَعْلَمَ الصَّابِرِين- وَنَحْوُ -وَلَا تَطْغَوْاْ فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي.
*لَا تَنْهَ عَنْ خُلُقٍ وَتَأتِيَ مِثْلَهُ*
অনুরূপভাবে ইযান (إذَنْ) যখন বাক্যের শুরুতে (صُدِّرَتْ) আসে এবং তার পরবর্তী ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎকাল (مستقبلاً) নির্দেশক হয় এবং তা সরাসরি যুক্ত (متصلاً) থাকে অথবা কসম বা লা (لا) দ্বারা বিচ্ছিন্ন (منফصلاً) হয়, অথবা আন মাসদারিয়্যাহ (أَن المصدرية)-এর পরে আসে, যেমন: -এবং যাঁর প্রতি আমি আশা রাখি যে তিনি আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন- যদি তার পূর্বে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) এর কোনো শব্দ না থাকে, যেমন: -তিনি জানেন যে শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে-; তবে যদি তার পূর্বে ধারণা (ظن) এর কোনো শব্দ থাকে তবে উভয় রূপই বৈধ, যেমন: -এবং তারা ধারণা করেছিল যে কোনো ফিতনা হবে না-।
আর তিনটি হরফে জরের পরে আন (أن) উহ্য (تضمر) থাকে। সেগুলো হলো: কাই (كي), যেমন: -যাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত না হয়-, এবং হাত্তা (حتى) যদি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের নিরিখে ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎকাল (مستقبلاً) নির্দেশ করে, যেমন: -যতক্ষণ না মূসা আমাদের নিকট ফিরে আসেন- এবং -আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি যাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করি-, এবং মুজারে ক্রিয়া থেকে লা (لا) মুক্ত থাকা অবস্থায় কারণবাচক (تعليلية) লাম, যেমন: -যাতে আল্লাহ আপনার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন-; যা ‘যাতে সে না জানে’ (لئلا يعلم)-এর বিপরীত; অথবা অস্বীকারসূচক (جحودية) লাম, যেমন: -আমি এমন ছিলাম না বা হব না যে আমি তা করব-; এবং তিনটি হরফে আতফের পরে, সেগুলো হলো: সেই আও (أو) যা পর্যন্ত (إلى) অর্থে আসে, যেমন: -আমি অবশ্যই তোমার সাথে লেগে থাকব যতক্ষণ না তুমি আমার পাওনা পরিশোধ করো-, অথবা যা ব্যতীত (إلا) অর্থে আসে, যেমন: -আমি অবশ্যই তাকে হত্যা করব নতুবা সে ইসলাম গ্রহণ করবে-; এবং ফা-এ সাবাবিয়্যাহ (فاء السببية) ও ওয়াও-এ মায়িয়্যাহ (واو المعية), যদি এই দুইয়ের পূর্বে বিশুদ্ধ না-বোধক (نفي محض) বাক্য অথবা ইসমুল ফিল (اسم الفعل) ব্যতীত কোনো অনুরোধ (طلب) থাকে, যেমন: -তাদের মৃত্যুও দেওয়া হবে না যে তারা মারা যাবে, এবং যাতে তিনি ধৈর্যশীলদের জেনে নেন- এবং যেমন: -তোমরা তাতে সীমালঙ্ঘন করো না, অন্যথায় তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ অবতীর্ণ হবে-।
*এমন কোনো চরিত্রের নিষেধ করো না, অথচ তুমি নিজেও অনুরূপ কাজ করো*
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَبَعْدَ الفَاءِ وَالْوَاوِ وَأَوْ وَثُمَّ إِنْ عَطَفْنَ عَلَى اسْمٍ خَالِصٍ، نَحْوُ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولاً.
*وَلُبْسُ عَبَاءَةِ وَتَقَرَّ عَيْنِي*
وَلَكَ مَعَهُنَّ وَمَعَ لَامِ التَّعْلِيلِ إظْهَارُ أَنْ.
(بابٌ)الْمَجْرُورَاتُ ثَلَاثَةٌ: أَحَدُهَا الْمَجْرُورُ بِالْحَرْفِ، وَهُوَ مِنْ وَإِلَى وَعَنْ وَعَلَى وَالْبَاءُ وَاللَّامُ وَفِي مُطْلَقاً وَالْكَافُ وَحتَّى وَالْوَاوُ لِلظَّاهِرِ مُطْلقاً وَالتَّاءُ لِلَّهِ وَرَبِّ مُضَافاً لِلْكَعْبَةِ أَوِ الْيَاءِ، وَكَيْ لِمَا الِاسْتِفْهَامِيَّةِ أَوْ أَنِ الْمُضْمَرَةِ وَصِلَتِهَا، وَمُنْذُ وَمُذْ لِزَمَنٍ غَيْرِ مُسْتَقْبَلٍ وَلَا مُبْهَمٍ، وَرُبَّ بِضَمِيرِ غَيْبَةٍ مُفْرَدٍ مُذَكَّرٍ يُمَيَّزُ بِمُطَابِقٍ لِلْمَعْنَى قَلِيلاً وَلِمُنَكَّرٍ مَوْصُوفٍ كَثِيراً، وَيَجُوزُ حَذْفُهَا مَعَهُ، فَيَجِبُ بَقَاءُ عَمَلِهَا، وَذَلِكَ بَعْدَ الْوَاوِ كَثِيرٌ، وَالْفَاءِ وَبَلْ قَلِيلٌ وَحَذْفُ اللَّامِ قَبْلَ كَيْ، وَخَافِضِ أَنَّ، وَأَنْ مُطْلقاً.
الثَّاني الْمَجْرُورُ بِالإضَافَةِ كَغُلَامِ زَيْدٍ، وَيُجَرَّدُ الْمُضَافُ مِنْ
এবং ফা, ওয়াও, আও এবং ছুম্মা-র পরে [উহ্য ‘আন’ দ্বারা নসব হয়] যদি সেগুলো কোনো খাঁটি বিশেষ্যের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়, যেমন: ‘অথবা তিনি কোনো রাসুল প্রেরণ করবেন’।
*এবং পশমি চাদর পরিধান করা ও আমার চোখ শীতল হওয়া*
তোমার জন্য এগুলোর সাথে এবং কারণ দর্শানো ‘লাম’-এর সাথে ‘আন’-কে প্রকাশ করার অবকাশ রয়েছে।
(পরিচ্ছেদ)মাজরুরসমূহ তিন প্রকার: প্রথমটি হলো হরফ দ্বারা মাজরুর। আর সেগুলো হলো: মিন, ইলা, আন, আলা, বা, লাম এবং ফি—নিঃশর্তভাবে; এবং কাফ, হাত্তা এবং ওয়াও—প্রকাশ্য বিশেষ্যের জন্য নিঃশর্তভাবে; এবং তা—কেবল ‘আল্লাহ’ শব্দের জন্য এবং কাবার সাথে অথবা ‘ইয়া’ মুতাকাল্লিমের সাথে সম্বন্ধযুক্ত ‘রব’ শব্দের জন্য; এবং কাই—প্রশ্নবোধক ‘মা’-এর জন্য অথবা উহ্য ‘আন’ ও তার পরবর্তী বাক্যাংশের জন্য; এবং মুনজু ও মুজ—অনাগত নয় এবং অস্পষ্ট নয় এমন সময়ের জন্য; এবং রুব্বা—নামপুরুষের একবচন পুংলিঙ্গ সর্বনামের সাথে যুক্ত হয় যা কদাচিৎ অর্থ অনুযায়ী কোনো স্পষ্টকারী শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুণবাচক শব্দযুক্ত অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের সাথে ব্যবহৃত হয়। আর তার আমল বহাল রেখে তাকে বিলুপ্ত করা জায়েজ; এটি ‘ওয়াও’-এর পরে অধিক এবং ‘ফা’ ও ‘বাল’-এর পরে কম ঘটে। আর ‘কাই’-এর পূর্ব থেকে ‘লাম’ বিলুপ্ত হওয়া এবং ‘আন্না’ ও ‘আন’-এর আমেল (মাজরুরকারী অব্যয়) নিঃশর্তভাবে বিলুপ্ত হওয়া।
দ্বিতীয়টি হলো সম্বন্ধ বা ইদাফাতের কারণে মাজরুর হওয়া, যেমন ‘যায়েদের গোলাম’। আর মুদাফকে মুক্ত করা হয়...
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
تَنْوِينٍ أَوْ نُونٍ تُشْبِهُهُ مُطْلَقاً وَمِنَ التَّعْرِيفِ إِلَاّ فِيمَا مَرَّ، وَإِذَا كَانَ المُضَافُ صِفَةً وَالْمُضَافُ إلَيْهِ مَعْمُولَا لَهَا سُمِّيَتْ لَفْظِيَّةً وَغَيْرَ مَحْضَةٍ، وَلَمْ تُفِدْ تَعْرِيفاً وَلَا تَخْصِيصاً، كَضَارِبُ زَيْدٍ وَمُعْطِى الدِّينَارِ وَحَسَنُ الْوَجْهِ، وَإِلَاّ فَمَعْنَوِيَّةٌ مَحْضَةٌ تُفِيدُهُمَا إِلَاّ إِذَا كَانَ الْمُضَافُ شَدِيدَ الْإِبْهَامِ كَغَيْرٍ وَمِثْلٍ وَخِدْنٍ أَوْ مَوْضِعُهُ مُسْتَحقًّا لِلنَّكِرَةِ كَجَاءَ زَيْدٌ وَحْدَهُ وَكَمْ نَاقَةٍ وَفَصِيلِهَا لَكَ وَلَا أَبَا لَهُ فَلَا يَتَعَرَّفُ، وَتُقَدَّرُ بِمَعْنَى فِي نَحْوُ، بَلْ مَكْرُ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَعُثْمَانُ شَهِيدُ الدَّارِ، وَبِمَعْنَى مِنْ فِي نَحْوُ خَاتَمُ حَدِيدٍ، وَيَجُوزُ فِيهِ نَصْبُ الثَّاني وَإِتْبَاعُهُ لِلْأَوَّلِ، وَبِمَعْنَى اللَّامِ فِي الْبَاقِي.
الثَّالِثُ الْمَجْرُورُ لِلْمُجَاوَرَةِ، وَهُوَ شَاذٌّ نَحْوُ هَذَا جُحْرُ ضَبٍ خَرِبٍ وَقَوْلِهِ:
*يَا صَاحِ بَلِّغْ ذَوِي الزَّوْجاتِ كُلِّهِمِ*
وَلَيْسَ مِنْهُ - وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ عَلَى الْأَصَحِّ.
(بابٌ)الْمَجْزُومَاتُ الْأَفْعَالُ الْمُضَارِعَةُ الدَّاخِلُ عَلَيْهَا جَازِمٌ وَهُوَ
তানউইন (تنوين) অথবা এমন নূন (نُون) যা নিঃশর্তভাবে তার সদৃশ এবং সংজ্ঞায়ন (تعريف) হতে বিমুক্ত হওয়া—পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা ব্যতীত। যখন মুদাফ (مُضَاف) সিফাত (صِفَة) হয় এবং মুদাফ ইলাইহি (مُضَاف إلَيْه) তার আমলপ্রাপ্ত (مَعْمُول) হয়, তখন তাকে শাব্দিক সম্বন্ধ (لفظية) এবং অপ্রকৃত (غير محضة) বলা হয়। এটি কোনো সংজ্ঞায়ন (تعريف) বা বিশেষায়ন (تخصيص) প্রদান করে না; যেমন- 'যায়েদকে প্রহারকারী' (ضَارِبُ زَيْدٍ), 'দিনার দানকারী' (مُعْطِى الدِّينَارِ) এবং 'সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট' (حَسَنُ الْوَجْهِ)। অন্যথায়, এটি অর্থগত সম্বন্ধ (معنوية) ও প্রকৃত (محضة), যা উভয়টি (সংজ্ঞায়ন ও বিশেষায়ন) প্রদান করে; তবে মুদাফটি যদি অত্যন্ত অস্পষ্ট (شديد الإبهام) হয় যেমন- 'অন্য' (غير), 'অনুরূপ' (مثل), 'বন্ধু' (خدن), অথবা তার স্থানটি যদি নাকেরা (نكرة) হওয়ার উপযুক্ত হয় যেমন- 'যায়েদ একাকী এল' (جَاءَ زَيْدٌ وَحْدَهُ), 'তোমার কয়টি উট ও তার শাবক রয়েছে?' (كَمْ نَاقَةٍ وَفَصِيلِهَا لَكَ) এবং 'তার কোনো পিতা নেই' (لَا أَبَا لَهُ), তবে তা নির্দিষ্ট (معرفة) হবে না। আর এটি 'মধ্যে' (في) এর অর্থে উহ্য ধরা হয় যেমন- 'বরং রাত ও দিনের চক্রান্ত' (بَلْ مَكْرُ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ) এবং 'উসমান গৃহের অভ্যন্তরে শহীদ হয়েছেন' (عُثْمَانُ شَهِيدُ الدَّارِ)। আবার এটি 'হতে' (من) এর অর্থে হয় যেমন- 'লোহার আংটি' (خَاتَمُ حَدِيدٍ); আর এতে দ্বিতীয় শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা এবং প্রথমটির অনুগামী করাও বৈধ। এবং অবশিষ্ট ক্ষেত্রে তা 'লাম' (لام) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
তৃতীয় প্রকার হলো নৈকট্যের কারণে মাজরুর (مجرور) হওয়া; এটি বিরল (شاذ); যেমন- 'এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গুঁইসাপের গর্ত' (هَذَا جُحْرُ ضَبٍ خَرِبٍ) এবং কবির উক্তি:
*হে বন্ধু! সকল পত্নীওয়ালাদেরকে সংবাদ পৌঁছে দাও*
আর বিশুদ্ধতম (أصح) মতানুযায়ী—'তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ কর এবং তোমাদের পা (ধৌত কর)'—এটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
(পরিচ্ছেদ)মাজজুম (مجزوم) বিষয়সমূহ হলো সেই সকল মুজারে (مضارع) ক্রিয়া যার শুরুতে জাজেম (جازم) প্রবেশ করে, আর তা হলো...
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ضَرْبَانِ جَازِمٌ لِفِعْلٍ وَهُوَ لَمْ وَلَمَّا وَلَامُ الْأَمْرِ وَلَا فِي النَّهْيِ وَجَازِمٌ لِفِعْلَيْنِ وَهُوَ أَدَوَاتُ الشَّرْطِ إنْ وَإِذْ مَا لِمُجَرَّدِ التَّعْلِيقِ وَهُمَا حَرْفَانِ وَمَنْ لِلعَاقِلِ وَمَا ومَهْمَا لِغَيْرِهِ وَمَتَى وَأَيَّانَ لِلزَّمَانِ وَأَيْنَ وَأَنَّى وَحَيْثُمَا لِلمَكَانِ وَأَيٌّ بِحَسَبِ مَا تُضَافُ إِلَيْهِ، وَيُسَمَّى أَوَّلُهُمَا شَرْطاً وَلَا يَكُونُ مَاضِيَ الْمَعْنَى وَلَا إِنْشَاءً وَلَا جَامِداً وَلَا مَقْرُوناً بِتَنْفِيسٍ وَلَا قَدْ وَلَا نَافٍ غَيْرِ لَا وَلَمْ، وَثَانِيهِمَا جَواباً وَجَزَاءً وَقَدْ يَكُونُ وَاحِداً مِنْ هَذِهِ فَيَقْتَرِنُ بِالْفَاءِ نَحْوُ إِنْ كَانَ قَمِيصُهُ قُدَّ مِنْ قُبُلٍ فَصَدَقَتْ الآية، فَمَن يُؤْمِن بِرَبّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْساً.
أَوْ جُمْلَةً اسْمِيَّةً فَيَقْتَرِنُ بِهَا أَوْ بِإِذَا الْفُجَائِيَّةِ نَحْوُ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَديرٌ وَنَحْوُ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ، وَيَجُوزُ حَذْفُ مَا عُلِمَ مِنْ شَرْطٍ بَعْدَ وَإِلَاّ نَحْوُ افْعَلْ هَذَا وَإِلَاّ عَاقَبْتُكَ أَوْ جَوَابٍ شَرْطُهُ مَاضٍ نَحْوُ: فَإِن اسْتَطَعْتَ أَن تَبْتَغِىَ نَفَقاً فِى الاْرْضِ أَوْ جُمْلَةِ شَرْطٍ وَأَدَاتِهِ إِنْ تَقَدَّمَهَا طَلَبٌ وَلَوْ بِاسْمِيَّةٍ أَوْ بِاسْمِ فِعْلٍ أَوْ بِمَا لَفْظُهُ الْخَبَرُ نَحْوُ -تَعَالَوْاْ أَتْلُ- وَنَحْوُ: أَيْنَ بَيْتُكَ أَزُرْكَ، وَحَسْبُكَ الْحَدِيثُ يَنَمِ النَّاسُ، وَقَالَ:
(জাযম প্রদানকারী আমিল) দুই প্রকার; এক প্রকার যা একটি ক্রিয়াকে জাযম (جزم) প্রদান করে, আর সেগুলো হলো ‘লাম’ (لَمْ), ‘লাম্মা’ (لَمَّا), ‘লামুল আমর’ তথা নির্দেশসূচক লাম (لام الأمر) এবং ‘লা ফিন-নাহয়ি’ তথা নিষেধাজ্ঞাপক লা (لا في النهي)। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা দুটি ক্রিয়াকে জাযম প্রদান করে, আর সেগুলো হলো শর্তের অব্যয়সমূহ (أدوات الشرط)। যেমন: কেবল শর্তারোপের (تعليق) জন্য ‘ইন’ (إِنْ) এবং ‘ইয মা’ (إِذْ مَا), আর এ দুটি হলো হরফ (حرف)। বুদ্ধিমান সত্তার জন্য ‘মান’ (مَنْ) এবং বুদ্ধিহীন সত্তার জন্য ‘মা’ (مَا) ও ‘মাহমা’ (مَهْمَا)। সময়ের জন্য ‘মাতা’ (مَتَى) ও ‘আইয়্যানা’ (أَيَّانَ), স্থানের জন্য ‘আইনা’ (أَيْنَ), ‘আন্না’ (أَنَّى) ও ‘হাইসুমা’ (حَيْثُمَا) এবং ‘আইয়্যুন’ (أَيٌّ) তার মুযাফ ইলাইহ-এর (تضاف إليه) অর্থ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। এগুলোর প্রথমটিকে শর্ত (شرط) বলা হয়; এটি অতীত অর্থবোধক (ماضي المعنى), ইনশা (إنشاء), জামিদ (جامদ), তানফিস (تنفيس) তথা ভবিষ্যৎজ্ঞাপক অব্যয় যুক্ত, ‘ক্বদ’ (قد) যুক্ত কিংবা ‘লা’ (لا) ও ‘লাম’ (لم) ব্যতীত অন্য কোনো না-বোধক অব্যয় যুক্ত হতে পারে না। দ্বিতীয়টিকে জাওয়াব (جواب) ও জাযা (جزاء) বলা হয়; এটি কখনও এই প্রকারগুলোর কোনো একটি হয়ে থাকে, আর তখন তা ‘ফা’ (فاء) যুক্ত হয়। যেমন: “যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে, তবে সে সত্য বলেছে” (আয়াত শেষ পর্যন্ত); “অতঃপর যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি ঈমান আনে, সে কোনো লোকসান বা হ্রাসের ভয় করবে না।”
অথবা যদি জাওয়াবটি জুমলা ইসমিয়া (جملة اسمية) হয়, তবে তাতে ‘ফা’ (فاء) অথবা ‘ইযা আল-ফুযায়িয়্যাহ’ তথা আকস্মিকতা বোধক ইযা (إذَا الفجائية) যুক্ত হয়। যেমন: “তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান” এবং “তখনই তারা হতাশ হয়ে পড়ে।” আর ‘ওয়া ইল্লা’ (وإلا)-এর পর যদি শর্তটি জানা থাকে, তবে তা বিলোপ (حذف) করা জায়েয। যেমন: “তুমি এটি করো, অন্যথায় (যদি না করো) আমি তোমাকে শাস্তি দেব।” অথবা এমন জাওয়াব বিলোপ করা জায়েয যার শর্তটি অতীতকালীন (ماض)। যেমন: “যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয় জমিনে কোনো সুড়ঙ্গ তালাশ করা (তবে করো)।” অথবা শর্ত ও তার অব্যয় উভয়কে বিলোপ (حذف) করা জায়েয যদি তার পূর্বে কোনো ‘তলব’ তথা আকাঙ্ক্ষা বা আহ্বান (طلب) থাকে—যদিও তা জুমলা ইসমিয়া (جملة اسمية), ইসম ফিল (اسم فعل) কিংবা এমন কোনো শব্দের মাধ্যমে হয় যা বাহ্যত সংবাদ বা খবর (خبر) প্রকাশ করে। যেমন: “এসো, আমি তিলাওয়াত করি”; এবং যেমন: “তোমার বাড়ি কোথায়? (বলো) আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব”; এবং “তোমার জন্য হাদিসটুকুই যথেষ্ট, লোকেরা ঘুমিয়ে পড়বে”, এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
*مَكَانَكِ تُحْمَدِي أَوْ تَسْتَرِيحِي*
وَشَرْطُ ذَلِكَ بَعْدَ النَّهْيِ كَوْنُ الْجَوَابِ مَحْبُوباً نَحْوُ: لَا تَكْفُرْ تَدْخُلِ الْجَنَّةَ.
وَيَجِبُ الاِسْتِغْنَاءُ عَنْ جَوَابِ الشَّرْطِ بِدَلِيلِهِ مُتَقَدِّماً لَفْظاً نَحْوُ: هُوَ ظَالِمٌ إِنْ فَعَلَ أَوْ نِيَّةً نَحْوُ: إنْ قُمْتَ أَقُومُ، وَمِنْ ثَمَّ امْتَنَعَ فِي النَّثْرِ إِنْ تَقُمْ أَقُومُ، وَبِجَوَابِ مَا تَقَدَّمَ مِنْ شَرْطٍ مُطْلَقاً أَوْ قَسَمٍ، إِلَاّ إِنْ سَبَقَهُ ذُو خَبَرٍ فَيَجُوزُ تَرْجِيحُ الشَّرْطِ الْمُؤَخَّرِ.
وَجَزْمُ مَا بَعْدَ فَاءٍ أَوْ وَاوٍ مِنْ فِعْلٍ تَالٍ لِلشَّرْطِ أَوْ الْجَوَابِ قَوِيٌّ، وَنَصْبُهُ ضَعِيفٌ، وَرَفْعُ تَالِي الْجَوَابِ جَائِزٌ.
(بَابٌ فِي عَمَلِ الفِعْلِ)كُلُّ الْأَفْعَالِ تَرْفَعُ إِمَّا الْفَاعِلَ أَوْ نَائِبَهُ أَوْ الْمُشَبَّهَ بِهِ وَتَنْصِبُ الْأَسْمَاءَ إِلَاّ الْمُشَبَّهَ بِالْمَفْعُولِ بِهِ مُطْلقاً، وَإِلَاّ الْخَبَرَ وَالتَّمْيِيزَ وَالْمَفْعُولَ الْمُطْلَقَ فَنَاصِبُهَا الْوَصْفُ وَالنَّاقِصُ وَالْمُبْهَمُ الْمَعْنَى أَوْ النِّسْبَةُ وَالمُتَصَرِّفُ التَّامُّ وَمَصْدَرُهُ وَوَصْفُهُ، وَإِلَاّ الْمَفْعُولَ بِهِ فَإِنَّهَا بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ سَبْعَةُ أَقْسَامٍ: مَا لَا يَتَعَدَّى إِلَيْهِ أَصْلاً
*তোমার অবস্থানে অটল থাকো, তবেই তুমি প্রশংসিত হবে অথবা স্বস্তি পাবে।*
এবং নিষেধাজ্ঞার (নহি) পর এর শর্ত হলো উত্তরটি (জওয়াব) পছন্দনীয় হওয়া; যেমন: "কুফরি করো না, জান্নাতে প্রবেশ করবে" (অর্থাৎ এখানে জজম হবে)।
আর শর্তের উত্তর (জওয়াব) থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া (অর্থাৎ তা বিলুপ্ত করা) আবশ্যক যখন এর নির্দেশক শব্দগতভাবে আগে আসে; যেমন: "সে জালিম যদি সে তা করে", অথবা অর্থগতভাবে আগে আসে; যেমন: "যদি তুমি দাঁড়াও তবে আমি দাঁড়াবো"। আর এই কারণেই গদ্যে "যদি তুমি দাঁড়াও তবে আমি দাঁড়াবো" (ইন্ তাকুম আকূমু) ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। আর সাধারণত পূর্বে বর্ণিত কোনো শর্ত বা শপথের উত্তর দ্বারাও জওয়াব বিলুপ্ত হতে পারে, তবে যদি তার আগে খবর (সংবাদ) সম্পন্ন কোনো পদ থাকে তবে পরবর্তী শর্তটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া বৈধ (جائز)।
আর শর্ত বা উত্তরের (জওয়াব) পরবর্তী 'ফা' অথবা 'ওয়াও' এর পরে আসা ক্রিয়ার জজম হওয়া শক্তিশালী (قوي), এবং এর নসব হওয়া দুর্বল (ضعيف), আর উত্তরের (জওয়াব) পরবর্তী ক্রিয়ার রফা হওয়া বৈধ (جائز)।
(ক্রিয়ার আমল বিষয়ক অধ্যায়)সকল ক্রিয়া হয় কর্তা (ফায়েল) অথবা তার স্থলাভিষিক্ত (নায়েবে ফায়েল) অথবা তার সদৃশকে রফা প্রদান করে এবং ইসিমসমূহকে নসব প্রদান করে; তবে সাধারণভাবে মাফউল বিহি-র সদৃশ ব্যতীত, এবং খবর, তাময়িজ ও মাফউলে মুতলাক ব্যতীত—কেননা এগুলোর নসব প্রদানকারী হলো গুণবাচক শব্দ (ওয়াসফ), অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (নাকেস), অস্পষ্ট অর্থ (মুবহাম) অথবা নিসবত এবং পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য (মুতাসাররিফ) পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া ও তার মূল ধাতু (মাসদার) ও তার গুণবাচক শব্দ (ওয়াসফ)। আর মাফউল বিহি ব্যতীত—কেননা এর প্রতি সম্পর্কের বিচারে ক্রিয়াগুলো সাত প্রকার: প্রথমত, যা মাফউল বিহি-র দিকে মোটেও অতিক্রম করে না (অকর্মক)।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كَالدَّالِّ عَلَى حُدُوثِ ذَاتٍ كَحَدَثَ وَنَبَتَ أَوْ صِفَةٍ حِسِّيَّةٍ كَطَالَ وَخَلِقَ أَوْ عَرَضٍ كَمَرِضَ وفَرِحَ وَكَالْمُوَازِنِ لِانْفَعَلَ كَانْكَسَرَ أَوْ فَعُلَ كَظَرُفَ أَوْ فَعَلَ أَوْ فَعِلَ اللَّذَيْنِ وَصْفُهُمَا عَلَى فَعِيلٍ فِي نَحْوِ ذَلَّ وسَمِنَ. وَمَا يَتَعَدَّى إِلَى وَاحِدٍ دَائِماً بِالْجَارِّ كَغَضِبَ وَمَرَّ أَوْ دَائِماً بِنَفْسِهِ كَأَفْعَالِ الْحَوَاسِّ أَوْ تَارَةً وَتَارَةً كَشَكَرَ وَنَصَحَ وَقَصَدَ، وَمَا يَتَعَدَّى لَهُ بِنَفْسِهِ تَارَةً وَلَا يَتَعَدَّى إِلَيْهِ أُخْرَى كَنَقَصَ وَزَادَ، أَوْ يَتَعَدَّى إِلَيْهِمَا دَائِماً، فَأَمَّا ثَانِيهِمَا كَمَفْعُولِ شَكَرَ كَأَمَرَ وَاسْتَغْفَرَ وَاخْتَارَ وَصَدَّقَ وَزَوَّجَ وَكَنَّى وَسَمَّى وَدَعَا بِمَعْنَاهُ وَكَالَ وَوَزَنَ، أَوْ أَوَّلُهُمَا فَاعِلٌ فِي الْمَعْنَى كَأَعْطَى وَكَسَا أَوْ أَوَّلُهُمَا وَثَانِيهِمَا مُبْتَدأٌ وَخَبَرٌ فِي الْأَصْلِ وَهُوَ أَفْعَالُ الْقُلُوبِ ظَنَّ لَا بِمَعْنَى اتَّهَمَ، وَعَلِمَ - لَا بِمَعْنَى عَرَفَ وَرَأَى لَا مِنَ الرَّأْيِ وَوَجَدَ لَا بِمَعْنَى حَزِنَ أَوْ حَقَدَ، وَحَجَا لَا بِمَعْنَى قَصَدَ، وَحَسِبَ وَزَعَمَ وَخَالَ وجَعَلَ وَدَرَى فِي لُغَيَّةٍ، وَهَبْ وَتَعَلَّمْ بِمَعْنَى اعْلَمْ وَيَلْزَمَانِ الْأَمْرَ، وَأَفْعَالُ التَّصْيِيرِ كَجَعَلَ وَتَخِذَ وَاتَّخَذَ وَرَدَّ وَتَرَكَ وَيَجُوزُ إِلْغَاءُ الْقَلْبِيَّةِ الْمُتَصَرِّفَةِ مُتَوَسِّطَةً أَوْ مُتَأخِّرَةً، وَيَجِبُ
যেমন কোনো সত্তার নব-উদ্ভব নির্দেশক, যেমন ‘ঘটা’ এবং ‘অঙ্কুরিত হওয়া’; অথবা কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ নির্দেশক, যেমন ‘দীর্ঘ হওয়া’ এবং ‘জীর্ণ হওয়া’; অথবা কোনো আপতিক অবস্থা নির্দেশক, যেমন ‘অসুস্থ হওয়া’ এবং ‘আনন্দিত হওয়া’। এবং যা ‘ইনফায়ালা’ ছাঁচের সমরূপ, যেমন ‘ভেঙে যাওয়া’; অথবা ‘ফাউলা’ ছাঁচের সমরূপ, যেমন ‘মার্জিত হওয়া’; অথবা ‘ফায়ালা’ ও ‘ফায়িলা’ ছাঁচের সমরূপ—যেগুলোর বিশেষণ ‘ফায়ীল’ ওজনে গঠিত হয়, যেমন ‘লাঞ্ছিত হওয়া’ এবং ‘স্থূলকায় হওয়া’। আর যা সর্বদা অব্যয়ের মাধ্যমে একটি কর্মের দিকে সকর্মক হয়, যেমন ‘রাগান্বিত হওয়া’ এবং ‘অতিক্রম করা’; অথবা যা সর্বদা সরাসরি সকর্মক হয়, যেমন ‘ইন্দ্রিয়জাত ক্রিয়াসমূহ’; অথবা যা কখনো সরাসরি আবার কখনো অব্যয়ের মাধ্যমে সকর্মক হয়, যেমন ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা’, ‘উপদেশ দেওয়া’ এবং ‘উদ্দেশ্য করা’। আর যা কখনো সরাসরি সকর্মক হয় এবং কখনো অকর্মক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘হ্রাস পাওয়া’ এবং ‘বৃদ্ধি পাওয়া’। অথবা যা সর্বদা দুটি কর্মের দিকে সকর্মক হয়; এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি যদি ‘শাকারা’-এর কর্মের অনুরূপ হয়, যেমন ‘আদেশ করা’, ‘ক্ষমা প্রার্থনা করা’, ‘পছন্দ করা’, ‘সত্যায়ন করা’, ‘বিয়ে দেওয়া’, ‘উপনাম রাখা’, ‘নাম রাখা’ এবং একই অর্থবোধক ‘আহ্বান করা’, ‘পরিমাপ করা’ ও ‘ওজন করা’। অথবা যাদের প্রথমটি অর্থগতভাবে কর্তা হয়, যেমন ‘প্রদান করা’ এবং ‘পরিধান করানো’। অথবা যাদের প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় কর্মটি মূলত মুক্তাদা ও খবর—আর তা হলো ‘হৃদয়জাত ক্রিয়াসমূহ’; যেমন ‘ধারণা করা’—তবে তা ‘অভিযুক্ত করা’ অর্থে নয়; ‘জানা’—তবে তা ‘চেনা’ অর্থে নয়; ‘দেখা’—তবে তা ‘মতামত প্রদান’ অর্থে নয়; ‘পাওয়া’—তবে তা ‘ব্যথিত হওয়া’ বা ‘বিদ্বেষ পোষণ করা’ অর্থে নয়; ‘বিবেচনা করা’—তবে তা ‘উদ্দেশ্য করা’ অর্থে নয়; এবং ‘হিসাব করা’, ‘দাবি করা’, ‘কল্পনা করা’, ‘মনে করা’ এবং একটি বিরল ভাষাশৈলী অনুযায়ী ‘অবগত হওয়া’। এছাড়া ‘ধরে নাও’ এবং ‘শেখো’ যা ‘জানো’ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো সর্বদা আদেশসূচক হিসেবে আসে। আর ‘রূপান্তরকারী ক্রিয়াসমূহ’, যেমন ‘বানানো’, ‘গ্রহণ করা’, ‘তৈরি করা’, ‘ফিরিয়ে দেওয়া’ এবং ‘বর্জন করা’। আর রূপান্তরযোগ্য হৃদয়জাত ক্রিয়াগুলোর আমল বাতিল করা বৈধ যদি সেগুলো বাক্যের মাঝে বা শেষে আসে; এবং তা আবশ্যক...
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تَعْلِيقُهَا، قَبْلَ لَامِ الاِبْتِدَاءِ أَوِ القَسَمِ أَوِ اسْتِفْهَامٍ أَوْ نَفْيٍ بِمَا مُطْلَقاً أَوْ بِلَا أَوْ إنْ فِي جَوَابِ الْقَسَمِ، أَوْ لَعَلَّ أَوْ لَوْ أَوْ أنْ أَوْ كَمِ الْخَبَرِيَّةِ. وَمَا يَتَعَدَّى إِلَى ثَلَاثَةٍ وَهُوَ أَعْلَمَ وَأَرَى وَمَا ضُمِّنَ مَعِنَاهُمَا مِنْ أَنْبَأَ وَنَبَّأَ وَأَخْبَرَ وَخَبَّرَ وَحَدَّثَ، وَلَا يَجُوزُ حَذْفُ مَفْعُولٍ فِي
بَابِ ظَنَّ وَلَا غَيْرِ الْأَوَّلِ فِي بَابِ أَعْلَمَ وَأَرَى إلَاّ لِدَلِيلٍ. وَبَنُو سُلَيْمٍ يُجِيزُونَ إِجْرَاءَ الْقَوْلِ مُجْرَى الظَّنِّ، وَغَيْرُهُمْ يَخُصُّهُ بِصِيغَةِ تَقُولُ بَعْدَ اسْتِفْهَامٍ مُتَّصِلٍ، أَوْ مُنْفَصِلٍ بِظَرْفٍ أَوْ مَعْمُولٍ أَوْ مَجْرُورٍ.
(بَابُ)
الْأَسْمَاءُ الَّتِي تَعْمَلُ عَمَلَ الْفِعْلِ عَشَرَةٌ: أَحَدُهَا الْمَصْدَرُ وَهُوَ اسْمُ الْحَدَثِ الْجَارِي عَلَى الْفِعْلِ كَضَرْبٍ وَإكْرَامٍ، وَشَرْطُهُ أَلَاّ يُصَغَّرَ وَلَا يُحَدَّ بِالتَّاءِ نَحْوُ ضَرَبْتُهُ ضَرْبَتَيْنِ أَوْ ضَرَبَاتٍ وَلَا يُتْبَعُ قَبْلَ الْعَمَلِ وَأَنْ يَخْلُفَهُ فِعْلٌ مَعَ أَنْ أَوْ مَا وَعَمَلُهُ مُنَوَّناً أَقْيَسُ نَحْوُ - أَوْ إِطْعَامٌ فِى يَوْمٍ ذِى مَسْغَبَةٍ يَتِيماً - وَمُضَافاً لِلْفَاعِلِ أَكْثَرُ نَحْوُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ ومَقْرُوناً بِأَلْ وَمُضَافاً لِمَفْعُولٍ ذُكِرَ فَاعِلُهُ ضَعِيفٌ.
ক্রিয়ার আমল স্থগিতকরণ (تعليق) হবে—প্রারম্ভিক লাম, শপথের লাম, প্রশ্নবোধক অব্যয়, শর্তহীনভাবে ‘মা’ দ্বারা না-বোধক অব্যয়, ‘লা’ দ্বারা, অথবা শপথের উত্তরে ‘ইন’, অথবা ‘লাআল্লা’, ‘লাউ’, ‘আন’ অথবা সংবাদজ্ঞাপক ‘কাম’-এর পূর্বে। আর যা তিনটি কর্মের (মফুল) দিকে ধাবিত হয় তা হলো ‘আ‘লামা’ এবং ‘আরা’ এবং যে শব্দগুলো এই দুটির অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন: জানানো (أنبأ), সংবাদ দেওয়া (نبأ), সংবাদ প্রদান করা (أخبر), অবহিত করা (خبر) এবং বর্ণনা করা (حدث)। ‘জান্না’
পরিচ্ছেদে কোনো কর্ম বিলুপ্ত করা বৈধ নয় এবং ‘আ‘লামা’ ও ‘আরা’ পরিচ্ছেদে প্রথম কর্মটি ছাড়া অন্য কোনো কর্ম বিলুপ্ত করা বৈধ নয়, যথাযথ প্রমাণ (دليل) ব্যতীত। বানু সুলাইম গোত্র ‘কউল’-কে ‘জান্ন’-এর ন্যায় আমল করানো বৈধ মনে করে, আর অন্যরা একে প্রশ্নবোধক চিহ্নের পরবর্তী ‘তাকুলু’ শব্দের রূপের সাথে নির্দিষ্ট করে দেয়, যা সংযুক্ত হতে পারে অথবা যরফ, মামুল বা মাজরুর দ্বারা বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
(পরিচ্ছেদ)
যে সকল বিশেষ্য ক্রিয়ার ন্যায় আমল করে তা দশটি: তার একটি হলো মাসদার, আর তা হলো ক্রিয়া থেকে উৎসারিত ঘটনার নাম; যেমন: প্রহার করা ও সম্মান করা। এর শর্ত হলো—একে তাসগীর করা যাবে না, ‘তা’ বর্ণ দ্বারা সংখ্যাবদ্ধ করা যাবে না (যেমন: ‘আমি তাকে দুইবার প্রহার করেছি’ বা ‘কয়েকবার প্রহার করেছি’), আমল করার পূর্বে অনুগামী পদের অনুবর্তী হওয়া যাবে না এবং তার স্থলে ‘আন’ অথবা ‘মা’ সহ কোনো ক্রিয়া স্থলাভিষিক্ত হওয়া সম্ভব হতে হবে। তানভীনযুক্ত অবস্থায় এর আমল করা অধিক নিয়মসিদ্ধ; যেমন— “অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে এতিমকে অন্নদান করা।” আর কর্তার (ফায়িল) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ) হওয়া অধিক প্রচলিত; যেমন— “আর আল্লাহ যদি মানুষদের প্রতিহত না করতেন।” তবে ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত হওয়া অথবা এমন কর্মের (মফুল) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া যার কর্তা (ফায়িল) উল্লেখ করা হয়েছে, তা দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الثَّانِي: اسْمُ الْفَاعِلِ، وَهُوَ مَا اشْتُقَّ مِنْ فِعْلٍ لِمَنْ قَامَ بِهِ عَلَى مَعْنَى الْحُدُوثِ كَضَارِبٍ وَمُكْرِمٍ، فَإنْ صُغِّرَ أَوْ وُصِفَ لَمْ يَعْمَلْ، وَإِلَاّ فَإنْ كَانَ صِلَةً لِأَلْ عَمِلَ مُطْلَقاً، وَإِلَاّ عَمِلَ إنْ كَانَ حَالاً أَوِ اسْتِقْبَالاً، وَاعْتَمَدَ وَلَوْ تَقْدِيراً عَلَى نَفْيٍ، أَوِ اسْتِفْهَامٍ، أَوْ مُخْبَرٍ عَنْهُ، أَوْ مَوْصُوفٍ.
الثَّالِثُ: الْمِثَالُ، وَهْوَ مَا حُوِّلَ لِلْمُبَالَغَةِ مِنْ فَاعِلٍ إِلَى فَعَّالٍ، أَوْ مِفْعَالٍ، أَوْ فَعُولٍ، بِكَثْرَةٍ، أَوْ فَعِيلٍ، أَوْ فَعِلٍ بِقِلَّةٍ.
الرَّابعُ: اسْمُ المَفْعُولِ، وَهُوَ مَا اشْتُقَّ مِنْ فِعْلٍ لِمَنْ وَقَعَ عَلَيْهِ كَمَضْرُوبٍ وَمُكْرَمٍ، وشَرْطُهُمَا كَاسْمِ الفَاعِلِ.
الْخَامِسُ: الصِّفَةُ المُشَبَّهَةُ، وَهِيَ كُلُّ صِفَةٍ صَحَّ تَحْويلُ إسْنادِهَا إِلَى ضَمِيرِ مَوْصُوفِهَا، وَتَخْتَصُّ بِالْحَالِ وَبَالْمَعْمُولِ السَّبَبِيِّ المُؤَخَّرِ، وَتَرْفَعُهُ فَاعِلاً، أَوْ بَدَلاً، أَوْ تَنْصِبُهُ مُشَبَّهاً، أَوْ تَمْيِيزاً، أَوْ تَجُرُّهُ بِالْإِضَافَةِ إِلَاّ إِنْ كَانَتْ بِأَلْ، وَهُوَ عَارٍ مِنْهَا.
السَّادِسُ: اسْمُ الْفِعْلِ، نَحْوُ بَلْهَ زَيْداً بِمَعْنَى دَعْهُ، وَعَلَيْكَهُ وَبِهِ بِمَعْنَى الْزَمْهُ وَالْصَقْ، وَدُونَكَهُ بِمَعْنَى خُذْهُ، ورُوَيْدَهُ،
দ্বিতীয়: ইসম ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য)। এটি এমন শব্দ যা কোনো ক্রিয়া থেকে এমন সত্তার জন্য গঠিত হয় যে ওই কাজটি সম্পাদন করেছে এবং যা নতুনভাবে কাজটি সংঘটিত হওয়া বোঝায়; যেমন: ‘দারিব’ (প্রহারকারী) এবং ‘মুকরিম’ (সম্মানকারী)। যদি এটি তাসহীর (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ) করা হয় কিংবা এর কোনো গুণ বর্ণনা করা হয়, তবে তা আমল করে না। অন্যথায়, এটি যদি ‘আলিফ-লাম’-এর সিলাহ (অনুগামী) হয়, তবে তা নিঃশর্তভাবে আমল করে। আর যদি তা না হয়, তবে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রদান করলে এবং দৃশ্যত বা উহ্যভাবে নফি (না-বাচক শব্দ), ইস্তিফহাম (প্রশ্নবোধক শব্দ), মুখবার আনহু (উদ্দেশ্য) অথবা মাওসূফ (বিশেষিত শব্দ)-এর ওপর নির্ভরশীল হলে আমল করে।
তৃতীয়: মিছাল বা অতিরঞ্জনমূলক রূপ। এটি হলো আধিক্য বা অতিরঞ্জন বোঝানোর জন্য ‘ফায়িল’ (কর্তৃবাচক রূপ) থেকে অধিক পরিমাণে ‘ফায়্যাল’, ‘মিফয়াল’ বা ‘ফায়ূল’ ওজনে এবং স্বল্প পরিসরে ‘ফায়ীল’ বা ‘ফায়িল’ ওজনে রূপান্তরিত শব্দ।
চতুর্থ: ইসম মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)। এটি এমন শব্দ যা কোনো ক্রিয়া থেকে এমন সত্তার জন্য গঠিত হয় যার ওপর কাজটি আপতিত হয়েছে; যেমন: ‘মাদরুব’ (প্রহৃত) এবং ‘মুকরাম’ (সম্মানিত)। এ দুটির (আমল করার) শর্তসমূহ ইসম ফায়িলের অনুরূপ।
পঞ্চম: সিফাত মুশাব্বাহ (স্থায়ী গুণবাচক বিশেষ্য)। এটি এমন প্রত্যেক গুণবাচক বিশেষ্য যার সম্বন্ধ তার মাওসূফ (বিশেষিত বিশেষ্য)-এর সর্বনামের দিকে পরিবর্তন করা শুদ্ধ। এটি বর্তমান কাল এবং পরবর্তী সববী মামূলের সাথে সুনির্দিষ্ট। এটি উক্ত মামূলকে ফায়িল (কর্তা) বা বদল (পরিবর্ত) হিসেবে রফ’ প্রদান করে, অথবা ইসম মাফউলের সদৃশ হিসেবে কিংবা তামীয (পার্থক্যকারী) হিসেবে নসব প্রদান করে, অথবা ইদাফাত (সম্বন্ধ)-এর মাধ্যমে জার প্রদান করে; তবে শর্ত হলো সিফাত মুশাব্বাহ-টি যদি ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত হয়, তবে মামূলটি যেন ‘আলিফ-লাম’ থেকে মুক্ত থাকে।
ষষ্ঠ: ইসম ফিল (ক্রিয়া-বিশেষ্য)। যেমন: ‘বালহা যায়দান’ যার অর্থ ‘তাকে ছেড়ে দাও’; ‘আলায়কাহু’ এবং ‘বিহি’ যার অর্থ ‘একে আবশ্যক করে নাও’ এবং ‘লেগে থাকো’; ‘দুনাকাহু’ যার অর্থ ‘একে গ্রহণ করো’ এবং ‘রুওয়ায়দাহু’।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتَيْدَهُ بِمَعْنَى أَمْهِلْهُ، وَهَيْهَاتَ وَشَتَّانَ بِمَعْنَى بَعُدَ وَافْتَرَقَ، وَأَوَّهْ وَأُفٍّ بِمَعْنَى أَتَوَجَّعُ وَأَتَضَجَّرُ، وَلَا يُضَافُ وَلَا يَتَأَخَّرُ عَنْ مَعْمُولهِ، وَلَا يُنْصَبُ فِي جَوَابِهِ، وَمَا نُوِّنَ مِنْهُ فَنَكِرَةٌ.
السَّابِعُ والثَّامِنُ: الظَّرْفُ والْمَجْرُورُ الْمُعْتَمِدَانِ، وَعَمَلُهُمَا عَمَلُ اسْتَقَرَّ.
التَّاسِعُ: اسْمُ الْمَصْدَرِ، وَالْمُرَادُ بِهِ اسْمُ الْجِنْسِ الْمَنْقُولُ عَنْ مَوْضُوعِهِ إلَى إفَادَةِ الْحَدَثِ كَالْكَلَامِ وَالثَّوَابِ، وَإنَّما يُعْمِلُهُ الْكُوفيُّونَ وَالْبَغْدَادِيُّونَ، وَأَمَّا نَحْوُ إِنَّ مُصَابَكَ الْكَافِرَ حَسَنٌ فَجَائِزٌ إِجْمَاعاً؛ لِأَنَّهُ مَصْدَرٌ، وَعَكْسُهُ نَحْوُ فَجَارِ وَحَمَادِ.
الْعَاشِرُ: اسْمُ التَّفْضِيلِ كَأَفْضَلَ وَأَعْلَمَ، وَيَعْمَلُ فِي تَمْيِيزٍ وَظَرْفٍ وَحَالٍ وَفَاعِلٍ مُسْتَتِرٍ مُطْلَقاً، وَلَا يَعْملُ فِي مَصْدَرٍ ومَفْعُولٍ بِهِ، أَوْ لَهُ، أَوْ مَعَهُ، وَلَا مَرْفُوعٍ مَلْفُوظٍ بِهِ فِي الْأَصَحِّ إِلَاّ فِي مَسْألَةِ الْكُحْلِ.
وَإِذَا كَانَ بِأَلْ طَابَقَ، أَوْ مُجَرَّداً، أَوْ مُضَافاً لِنَكِرَةِ أُفْرِدَ وَذُكِّرَ، أَوْ لِمَعْرِفَةٍ فَالْوَجْهَانِ، وَلَا يُبْنَى وَلَا يَنْقَاسُ هُوَ وَلَا أَفْعَالُ التَّعَجُّبِ، وَهِيَ مَا أفْعَلَهُ وَأَفْعِلْ بِهِ،
তৈদাহু (تَيْدَهُ) অর্থ হলো তাকে অবকাশ দাও, আর হায়হাতা (هَيْهَاتَ) ও শাত্তানা (شَتَّانَ) এর অর্থ হলো দূরে হওয়া ও পৃথক হওয়া। আউওয়াহ (أَوَّهْ) এবং উফফিন (أُفٍّ) এর অর্থ হলো আমি ব্যথিত হচ্ছি ও আমি বিরক্ত হচ্ছি। এটি সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয় না এবং এর আমলযোগ্য পদের (معمول) পরে আসে না এবং এর জবাবে নসব (ينصب) হয় না। এর যে অংশ তানভীনযুক্ত হয়, তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে গণ্য হয়।
সপ্তম ও অষ্টম: আধারের ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) ও অব্যয়-সংযুক্ত বিশেষ্য (مجرور) যা অন্য পদের ওপর নির্ভরশীল, যাদের আমল হলো 'ইস্তাকাররা' (استقر) এর আমলের মতো।
নবম: ধাতু-সদৃশ বিশেষ্য (اسم المصدر), এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم الجنس) যা তার মূল অর্থ থেকে সরিয়ে কোনো ঘটনা (حدث) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'কালাম' ও 'সওয়াব'। কুফাবাসী ও বাগদাদবাসী ব্যাকরণবিদগণই কেবল একে আমল প্রদান করেন। তবে 'ইন্না মুসুবাকা আল-কাফিরা হাসানুন' এর মতো উদাহরণ সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعا) জায়েজ; কারণ এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر)। এর বিপরীত হলো ফাজারা ও হামাদা এর মতো শব্দগুলো।
দশম: আধিক্যবোধক বিশেষ্য (اسم التفضিল) যেমন: 'আফদালু' ও 'আলামু'। এটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যতা (تمييز), আধারের ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف), অবস্থা (حال) এবং উহ্য কর্তার (فاعل مستتر) ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশভাবে আমল করে। এটি ক্রিয়ামূল (مصدر), কর্মপদ (مفعول به), কারণবাচক কর্ম (مفعول له) বা অনুষঙ্গবাচক কর্ম (مفعول معه)-এর ক্ষেত্রে আমল করে না। সর্বাধিক সঠিক (الأصح) মতানুযায়ী এটি কোনো প্রকাশ্য রফাপ্রাপ্ত (مرفوع) পদের ক্ষেত্রেও আমল করে না, তবে 'কোহল' (সুর্মা) সংক্রান্ত মাসআলাটি এর ব্যতিক্রম।
যখন এটি 'আলিফ-লাম' যুক্ত হয়, তখন তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর যদি তা অব্যয়মুক্ত হয় কিংবা কোনো অনির্দিষ্ট শব্দের (نكرة) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে তা একবচন ও পুংলিঙ্গ হয়। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট শব্দের (معرفة) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে উভয় পদ্ধতিই বৈধ। এটি এবং বিস্ময়বোধক ক্রিয়াগুলো (أفعال التعجب) তথা 'মা আফআলাহু' ও 'আফইল বিহি' কোনোটিই অপরিবর্তনীয় (مبني) নয় এবং এগুলো কিয়াসযোগ্য (ينقاس) নয়।
(খণ্ড: ১)
মাতনু শুযুরিজ যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَفَعِلَ إِلَاّ مِنْ فِعْلٍ ثُلَاثِيٍّ مُجَرَّدٍ لَفْظاً وَتَقْدِيراً، تَامٍّ مُتَفَاوِتِ الْمَعْنَى غَيْرِ مَنْفِيٍّ، وَلَا مَبْنِيٍّ لِلْمَفْعُولِ.
(بابٌ)وَإِذَا تَنَازَعَ مِنَ الْفِعْلِ أَوْ شِبْهِهِ عَامِلَانِ فَأَكْثَرُ مَا تَأَخَّرَ مِنْ مَعْمُولٍ فَأَكْثَرَ فَالْبَصْرِيُّ يَخْتَارُ إِعْمَالَ الْمُجَاوِرِ فيُضْمِرُ فِي غَيْرِ مَرْفُوعِهِ وَيَحْذِفُ مَنْصُوبَهُ إِنِ اسْتَغْنَى عَنْهُ وَإِلَاّ أَخَّرَهُ، وَالْكُوفِيُّ الْأَسْبَقَ فَيُضْمِرُ فِي غَيْرِهِ مَا يَحْتَاجُهُ.
(بَابٌ)
إَذَا شَغَلَ فِعْلاً أَوْ وَصْفاً ضَمِيرُ اسْمٍ سَابِقٍ أَوْ مُلَابِسٍ لِضَمِيرِهِ عَنْ نَصْبِهِ وَجَبَ نَصْبُهُ بِمَحْذُوفٍ مُمَاثِلٍ لِلْمَذْكُورِ إِنْ تَلَا مَا يَخْتَصُّ بِالْفِعْلِ كَإِنِ الشَّرْطِيَّةِ وَهَلَاّ وَمَتَى، وَتَرَجَّحَ إنْ تَلَا مَا الْفِعْلُ بِهِ أَوْلَى كَالْهَمْزَةِ وَمَا النَّافِيَةِ أَوْ عَاطِفاً عَلَى فِعْلِيَّةِ غَيْرِ مَفْصُولٍ بِإِمَّا نَحْوُ: أَبَشَراً مّنَّا واحِداً نَّتَّبِعُهُ، وَالاْنْعَمَ خَلَقَهَا لَكُمْ، أَوْ كَانَ الْمَشْغُولُ طَلَباً، وَوَجَبَ رَفْعُهُ بِالِابْتِدَاءِ إِنْ تَلَا مَا يَخْتَصُّ بِهِ كَإِذَا الْفُجَائِيَّةِ أَوْ تَلَاهُ مَا لَهُ الصَّدْرُ كَزَيْدٌ هَلْ رَأَيْتَهُ وَهَذَا خَارِجٌ عَنْ أَصْلِ هَذَا الْبَابِ، مِثْلُ- وَكُلُّ شَىْء فَعَلُوهُ فِى الزُّبُرِ-
এবং [আফ'আলা] গঠিত হয় না কেবল শব্দগত এবং অর্থগতভাবে সুলাসি মুজাররাদ (ثلاثي مجرد) ক্রিয়া থেকে, যা পূর্ণ ক্রিয়া (تام), অর্থগতভাবে হ্রাস-বৃদ্ধিযোগ্য (متفاوت المعنى), না-বোধক (منفي) নয় এবং কর্মবাচ্য (مبني للمفعول) নয়।
(পরিচ্ছেদ)যখন দুই বা ততোধিক আমিল (عامل) কোনো ক্রিয়া বা সদৃশ ক্রিয়া থেকে এক বা একাধিক পরবর্তী মামুল (معمول)-এর ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তখন বসরী (بصরি) ব্যাকরণবিদগণ নিকটবর্তী (المجاور) আমিলকে আমল প্রদান করা পছন্দ করেন। ফলে তিনি মারফু (مرفوع) ব্যতীত অন্য স্থানে জমির (ضمير) ব্যবহার করেন এবং মানসুব (منصوب) হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন না থাকলে তা বিলোপ করেন, অন্যথায় তা বিলম্বে আনেন। আর কুফী (كوفي) ব্যাকরণবিদগণ পূর্ববর্তী আমিলকে নির্বাচন করেন এবং তিনি অন্য আমিলের প্রয়োজনীয় অংশ জমির (ضمير) হিসেবে ব্যবহার করেন।
(পরিচ্ছেদ)
যখন কোনো পূর্ববর্তী বিশেষ্য অথবা তার জমিরের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় কোনো ক্রিয়া বা গুণবাচক পদকে (وصف) তাকে নসব (نصب) প্রদান করা থেকে বিরত রেখে অন্য কাজে ব্যস্ত করে ফেলে, তখন উক্ত বিশেষ্যকে উল্লিখিত আমিলের অনুরূপ একটি উহ্য (محذوف) আমিল দ্বারা নসব প্রদান করা ওয়াজিব (واجب); যদি তা এমন পদের পরে আসে যা কেবল ক্রিয়ার সাথেই সংশ্লিষ্ট, যেমন ইন শারতিয়্যাহ (إن الشرطية), হাল্লা (هلا) এবং মাতা (متى)। আর নসব প্রদান করা অগ্রাধিকার পাবে (ترجح) যদি তা এমন পদের পরে আসে যা ক্রিয়ার জন্য অধিকতর উপযুক্ত, যেমন হামজাহ (الهمزة) এবং মা নাফিয়াহ (ما النافية), অথবা এমন ক্রিয়া-প্রধান বাক্যের ওপর আতফ (عاطف) হয় যা ‘ইম্মা’ (إما) দ্বারা বিচ্ছিন্ন নয়; যেমন: "আমরা কি আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত একজন মানুষের অনুসরণ করব?" এবং "গবাদি পশু, তিনি তা তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।" অথবা যদি ব্যস্তকারী ক্রিয়াটি তলব (طلب) তথা আদেশ বা অনুরোধমূলক হয়। আর উক্ত বিশেষ্যকে ইবতিদা (ابتداء) হিসেবে রাফা (رفع) প্রদান করা ওয়াজিব (واجب) হবে যদি তা এমন পদের পরে আসে যা কেবল ইবতিদার সাথেই সংশ্লিষ্ট, যেমন ইজা ফুজাইয়্যাহ (إذا الفجائية), অথবা তার পরে এমন পদ আসে যার বাক্যের শুরুতে বসার অধিকার (له الصدر) রয়েছে; যেমন: "যাইদ, তুমি কি তাকে দেখেছ?" এবং এটি এই পরিচ্ছেদের মূল নিয়মের বহির্ভূত, যেমন- "এবং তারা যা কিছু করেছে, তা আমলনামায় রয়েছে।"