(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: -)
السبحة تاريخها وحكمها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: السبحة تاريخها وحكمها
المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (ت 1429هـ)
الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998م
عدد الصفحات: 111
أعده للشاملة: عبد الرحيم الهاشم
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ذو الحجة 1433
তসবিহ: এর ইতিহাস ও বিধান বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তসবিহ: এর ইতিহাস ও বিধান
লেখক: বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যাইদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গাইহাব বিন মুহাম্মদ (মৃ. ১৪২৯ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: আব্দুর রহিম আল-হাশিম
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ জিলহজ ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১)
السُّبْحةُ
تارِيخُها وَحُكْمُهَا
تَأليف الشيخ
بَكر بن عبد الله أبَوُ زيد
دار العاصمة - الطبعة الأولى
(1419هـ - 1998م)
তসবিহ
এর ইতিহাস ও বিধান (حكم)
শায়খ কর্তৃক প্রণীত
বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
দারুল আসিমাহ - প্রথম সংস্করণ
(১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى جميع صحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أَما بعدُ: فإن عَدَّ الأَذكار العَدَدِيَّة بالأنامل، سُنَّةٌ ماضية في الإِسلام، ومن العمل المتوارث بين المسلمين، ثم دَاخَلَ بَعْضَهُمْ في غير طبقة الصحابة رضي الله عنهم وفي غير صدر التابعين - رحمهم الله تعالى- بَادِرَةُ عَدِّ الأذكار بالنوى، أو الخرز منظوماً في خيط، مما اكتسب بَعْدُ اسْم: ((السُّبْحَة)) حتى أصبحت شعاراً للِطُّرقِيَّة، والروافض، وادَّعى المدَّعون مشروعية تعليقها بالأعناق، وأنها سيما الملائكة الكرام في التسبيح والتعليق لها في الأعناق - وحاشاهم - وأنها تدور بنفسها إذا تأخر المريد عنها، كأنما نُفِخَتِ الرُّوح فيها، وادَّعى الكَذَّابون، أن النبي صلى الله عليه وسلم وَرَّث لأمته ((سُبْحَة)) في تركته، وأنه يشرع اتخاذ خرز لها كالأَرْحَاء، فَتُعَلَّقُ بالسقوف، وَيَتَعَاقَبُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর সকল সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর: আঙ্গুলের অগ্রভাগের মাধ্যমে সংখ্যাবাচক জিকির গণনা করা ইসলামে একটি প্রচলিত সুন্নাহ এবং মুসলমানদের মধ্যে যুগ পরম্পরায় চলে আসা আমল। অতঃপর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) স্তর এবং তাবেয়ীদের (রহিমাহুমুল্লাহু তাআলা) স্বর্ণযুগের পরবর্তী সময়ের কিছু লোকের মাঝে খেজুরের আঁটি বা সুতায় গাঁথা পুঁতির মাধ্যমে জিকির গণনার প্রবণতা প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে 'তাসবিহ' (السبحة) নাম ধারণ করে। এমনকি এটি বিভিন্ন সুফি তরিকা ও রাফেজিদের (الروافض) প্রতীকে পরিণত হয়। একদল দাবিদার দাবি করেছে যে, এটি গলায় লটকানো বৈধ এবং এটি তাসবিহ পাঠের ক্ষেত্রে সম্মানিত ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য ও তাঁদের গলায় পরিহিত থাকে—অথচ তাঁরা এসব থেকে পবিত্র—এবং মুরিদ যদি এটি পাঠে পিছিয়ে পড়ে তবে এটি নিজেই ঘুরতে থাকে, যেন এতে আত্মা ফুঁকে দেওয়া হয়েছে। মিথ্যাবাদীরা (الكذابون) দাবি করেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিত্যক্ত সম্পদে উম্মতের জন্য 'তাসবিহ' (السبحة) রেখে গেছেন এবং জাঁতার মতো বড় বড় পুঁতি গ্রহণ করা বৈধ, যা ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হবে এবং পর্যায়ক্রমে ব্যবহৃত হবে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
على إدارتها المريدون، وأن صَوْتَ وقْعِها كصوت الوحي وَتُوْقَفُ عليها الوُقُوفُ، وَتُحَوَّلُ عليها الوصايا والهبات، ويرثها الابن عن أبيه عن جده، للتسبيح، والاستشفاء، ويُمَرُّ بها على جسد المريض فيكتب له الشفاء، واستقلت بأسماء، منها: حبل الوصل، وسوط الشيطان، ورابطة القلوب. حينئذٍ نَالَتْ حظّاً وَافِراً، من بيان حكمها، وأحوالها لدى العلماء: فقهاء، ومحدِّثين، ولسانيين، ومؤرخين، في كتُب الفقه، والفتاوى، والشروح الحديثية، وكتب اللسان، والتاريخ، حتى أُفْرِدَت بالتأليف، وبلغت نحو اثني عشر كتاباً، لَعلَّ أولها للسيوطي المتوفى سنة 911 - رحمه الله تعالى - باسم: ((المنحة في السُّبْحة)) التي استلها منه تلميذه ابن طولون المتوفى سنة 953 - رحمه الله تعالى - باسم: ((الملحة. . .)) حتى إذا بلغت النَّوْبَةُ إلى الشيخ عبد الحي اللكنوي المتوفى سنة 1304 - رحمه الله تعالى - ألَّف كتابه: ((نزهة الفِكْر في سُبْحة الذَّكر)) فاستوفى جُل ما في الباب رواية وفقهاً، لكن الجميع نزعوا من وجهة الانتصار * * *
মুরিদগণ এটি পরিচালনা করেন এবং এর ব্যবহারের শব্দ ওহীর শব্দের ন্যায় মনে করা হয়। এর অনুকূলে ওয়াকফ করা হয় এবং এর মাধ্যমেই ওসিয়ত ও দান-অনুদান আবর্তিত হয়। তাসবিহ পাঠ এবং রোগমুক্তির উদ্দেশ্যে পুত্র তার পিতা ও দাদার কাছ থেকে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে। এটি অসুস্থ ব্যক্তির শরীরের ওপর বুলিয়ে দেওয়া হয় যেন তার আরোগ্য ত্বরান্বিত হয়। এর জন্য কিছু স্বতন্ত্র নামও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: হাবলুল ওয়াসল, সাওতুশ শয়তান এবং রাবিতাতুল কুলুব। ফলশ্রুতিতে আলেমগণ—ফকিহ, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদগণ—ফেকাহ, ফতোয়া, হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, অভিধান এবং ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এর বিধান ও স্বরূপ বর্ণনায় প্রভূত গুরুত্বারোপ করেন। এমনকি এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচিত হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় বারোটি। সম্ভবত এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো ৯১১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইমাম সুয়ূতী—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—রচিত 'আল-মিনহাহ ফিস সুবহা', যা থেকে তাঁর ছাত্র ৯৫৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে তুলুন—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—'আল-মিলহাহ...' নামক গ্রন্থটি চয়ন করেন। পরিশেষে, ১৩০৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শায়খ আব্দুল হাই লাখনভী—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—যখন এ বিষয়ে রচনার সুযোগ পান, তখন তিনি তার 'নুজহাতুল ফিকর ফী সুবহাতিল জিকর' নামক গ্রন্থে বর্ণনা (رواية) এবং ফিকহ উভয় দিক থেকে এই প্রসঙ্গের প্রায় সকল দিক পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করেন। তবে তারা সকলেই মূলত এর স্বপক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করার দিকেই ঝুঁকেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
للمشروعية، وَلَمْ أَرَ واحداً منهم التفت إلى تاريخ وجودها في تَعَبُّدَات الأمم الأخرى لدى البوذيين، والهندوس، والنصارى في أيدي الرهبان والراهبات، فيما ابتدعوه، ولا إلى تاريخ تسربها إلى بعض المسلمين عن طريق الروافض، ودراويش المتصوفة، ولا إلى كلام المانعين لاستعمالها في جانب التعبد لعد الأذكار، وفي جانب اللَّعِب والتَّلَهِّي، وتحرير حجج الفريقين، مما أدَّى إلى طول الجدل من جهة، وتوسع انتشارها من جهة أُخرَى.
لهذا أحتسب عند الله تعالى تحرير القول فيها من جميع جوانبه، بجمع المرويات، وبيان درجتها، وجمع كلام العلماء في تاريخها، وتاريخ حدوثها في المسلمين، وأن العرب لم تعرف في لغتها شيئاً اسمه: ((السُّبْحَة)) في هذا المعنى، وفي ((خلاصة التحقيق)) بيان حكمها في التعبد لِعَدِّ الذِّكر، أو في العادة واللَّهْو، حتى يُعلم أنها وسيلة محدثة لِعَدِّ الذِّكر، ومجاراة لأهل الأهواء، فَتَشَبُّهٌ بأهل الملل الأخرى، وَمِنِ اسْتِبْدَالِ الأَدْنَى بالذي هو خير، وقاعدة الشرع المطهر:
বৈধতা প্রমাণের লক্ষ্যে, কিন্তু আমি তাদের কাউকেই বৌদ্ধ, হিন্দু এবং খ্রিস্টান সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীদের দ্বারা উদ্ভাবিত অন্যান্য জাতির উপাসনায় এর অস্তিত্বের ইতিহাসের দিকে মনোনিবেশ করতে দেখিনি। এমনকি রাফেজি এবং সুফি দরবেশদের মাধ্যমে কিছু মুসলমানের মধ্যে এর অনুপ্রবেশের ইতিহাসের প্রতিও কেউ ভ্রূক্ষেপ করেননি। তদুপরি, জিকির গণনার ক্ষেত্রে ইবাদত হিসেবে এবং খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহারের বিরোধিতাকারীদের বক্তব্য এবং উভয় পক্ষের যুক্তিসমূহ পর্যালোচনার প্রতিও তারা গুরুত্ব দেননি; যা একদিকে যেমন দীর্ঘ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে এর ব্যবহারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
একারণে আমি বর্ণনাসমূহ (المرويات) সংগ্রহ করে সেগুলোর মান (درجتها) স্পষ্ট করার মাধ্যমে এবং এর ইতিহাস ও মুসলমানদের মধ্যে এর অনুপ্রবেশ নিয়ে আলেমদের বক্তব্য সংকলন করে সকল দিক থেকে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রতিদান আশা করছি। মূলত আরবরা তাদের ভাষায় এই অর্থে "সুবহাহ" (السُّبْحَة) নামক কোনো শব্দের সাথে পরিচিত ছিল না। আর "খুলাসাতুত তাহকিক"-এ জিকির গণনার জন্য ইবাদত হিসেবে অথবা অভ্যাস ও বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে এর বিধানের স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে; যাতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, এটি জিকির গণনার জন্য একটি উদ্ভাবিত (محدثة) মাধ্যম, যা প্রবৃত্তি পূজারিদের অনুকরণ, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সদৃশতা (تشبه) গ্রহণ এবং উত্তমের পরিবর্তে নিকৃষ্ট কিছু গ্রহণ করার নামান্তর। আর পবিত্র শরীয়তের মূলনীতি হলো:
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
تحريم التشبه بالكفار في تعبداتهم وفيما هو من خصائصهم من عاداتهم، مُبيِّناً ذلك في مبحثين:
المبحث الأول: في بيان المشروع وهو عَدُّ الذكر بالأنامل.
المبحث الثاني: في بيان غير المشروع وهو عَدُّ الذكر بغير الأنامل كالسُّبْحَة.
وهذه الرسالة في جملتها ضمن كتاب: ((تصحيح الدعاء)) لكن رأيت من الخير إفرادها، لعله يكثر الانتفاع بها. والله ولي التوفيق.
المؤلف
بكر بن عبد الله أبو زيد
25/ 5/ 1419
কাফিরদের উপাসনা এবং তাদের প্রথাগত বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর ক্ষেত্রে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের (تشبه) নিষেধাজ্ঞা, যা দুটি পরিচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিধিসম্মত (مشروع) পদ্ধতির বর্ণনায়, আর তা হলো আঙুলের করের মাধ্যমে জিকির গণনা করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিধি-বহির্ভূত (غير مشروع) পদ্ধতির বর্ণনায়, আর তা হলো আঙুলের কর ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে জিকির গণনা করা, যেমন তাসবিহ পাঠের মালা (سبحة)।
এই পুস্তিকাটি মূলত "তাসহিহুদ দুআ" নামক কিতাবের অন্তর্ভুক্ত; তবে আমি এটি পৃথকভাবে প্রকাশ করা কল্যাণকর মনে করেছি, যাতে এর দ্বারা অধিক উপকার সাধিত হয়। আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।
লেখক
বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ
২৫/ ৫/ ১৪১৯
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأولفي بيان المشروع وهو عد الذكر بالأناملثبت من هدي النبي صلى الله عليه وسلم قولاً، وفعلاً، وتقريراً، عَدَّ الذكر بالأنامل. ((أصابع اليد)) (1) لا غير. ودرجَ على ذلك الصحابة رضي الله عنهم ومن تبعهم بإحسان إلى يومنا هذا، فهو من السُّنن المستقرة، والعمل المتوارث لدى الأُمة، تأسياً بنبيها صلى الله عليه وسلم
وقد دَلَّ هديُ النبي صلى الله عليه وسلم على أَنَّ ذكر العبد لربه بالتهليل، والتسبيح، والتكبير، والحمد، والتعظيم، على نوعين:
مُطْلَقٌ: كما قال الله تعالى: ? وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ ? [الأحزاب/35]. وقال سبحانه: ? يَا أَيُّهَا الَّذِينَ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদশরীয়তসম্মত পদ্ধতির বিবরণ: আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে জিকির গণনা করানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির (تقرير) মাধ্যমে আঙুলের অগ্রভাগ—অর্থাৎ হাতের আঙুল (১)—দিয়ে জিকির গণনা করা প্রমাণিত হয়েছে। এর বাইরে অন্য কিছু নয়। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ এই পদ্ধতির ওপরই অটল ছিলেন। সুতরাং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে উম্মাহর নিকট এক সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা আমল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ নির্দেশ করে যে, বান্দা কর্তৃক তাঁর রবের জিকির তথা তহলিল, তাসবিহ, তাকবির, হামদ এবং মহিমা কীর্তন দুই প্রকার:
সাধারণ বা অনির্ধারিত (مطلق): যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী..." [আল-আহজাব: ৩৫]। তিনি আরও বলেছেন: "হে মুমিনগণ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
آَمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ? [الأحزاب/41].
وَمُقَيَّدٌ بِحال، أو زمان، أو مكان، وأكثر ما ورد فيه من العدد مائة، مثل: مائة تهليلة، ومائة تسبيحة، وقول: سبحان الله، والحمد لله، والله أكبر، ثلاثاً وثلاثين مرة لكل واحدة منها، وتمام المائة: ((التهليل)).
وما زال المسلمون - بحمد الله - يقومون بهذا الذكر العددي المبارك، ويعقدون تعداده بأنامل اليدين، أو أنامل اليد اليمنى، دون حاجة إلى وسيلة أخرى، من حصى، أو نوى، أو سُبْحة منظومة، أو آلة مصنوعة.
وهذا هو الذي يوافق يسر الإِسلام، وسهولة التشريع، وأن أحكامه في قدرة المكلفين على اختلاف طبقاتهم. وهذا دأب هذه الشريعة المباركة في التيسير، كما رَدَّهم النبي صلى الله عليه وسلم في إثبات الشهر دخولاً وخروجاً إلى الرؤية، أو الإِكمال، مع تعلقها بركنين من أركان الإِسلام: الصيام، والحج، ولم يكلفهم ما وراء ذلك من الحساب، ومراقبة النجوم، وتسيير الكواكب.
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো [আল-আহযাব/৪১]।
এবং যা কোনো অবস্থা, সময় বা স্থানের সাথে সীমাবদ্ধ (مقيد); আর এতে সংখ্যার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধিকাংশ হলো একশত। যেমন: একশত বার তাহলিল (تهليلة), একশত বার তাসবিহ (تسبيحة) এবং সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার—প্রতিটি তেত্রিশ বার করে বলা এবং একশত পূর্ণ করা: 'তাহলিল' (التهليل) এর মাধ্যমে।
আর মুসলমানগণ—আল্লাহর প্রশংসায়—এখনো এই বরকতময় সংখ্যাভিত্তিক জিকির সম্পাদন করছেন এবং হাতের আঙুলের ডগায় অথবা ডান হাতের আঙুলের ডগায় তা গণনা করছেন; অন্য কোনো মাধ্যম যেমন পাথর, ফলের আঁটি, সুতোয় গাঁথা তসবিহ বা কোনো কৃত্রিম যন্ত্রের প্রয়োজন ছাড়াই।
আর এটিই ইসলামের সহজবোধ্যতা ও শরিয়তের বিধান প্রণয়নের সরলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর বিধানসমূহ বিভিন্ন স্তরের দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) সামর্থ্যের আওতাভুক্ত। সহজীকরণের ক্ষেত্রে এই বরকতময় শরিয়তের পদ্ধতি এমনই, যেমন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাস শুরু ও শেষ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের জন্য তাদেরকে চাঁদ দেখা অথবা সংখ্যা পূর্ণ করার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন; যদিও তা ইসলামের দুটি রুকন—রোজা ও হজের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি তাদেরকে এর বাইরে কোনো গাণিতিক হিসাব, নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ বা গ্রহের গতিবিধি নির্ণয়ের কষ্ট প্রদান করেননি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولهذا فإنه لما ظهر للنبي صلى الله عليه وسلم من بعض أصحابه رضي الله عنهم: عَدُّ التسبيح بالحصى - على فرض ثبوته - دَلَّهم على هديه صلى الله عليه وسلم من العد بالأنامل، وَأَنَّهَا وسيلة العَدِّ المشروعة لا غير، وأنها خير وأفضل على حَدِّ قول الله تعالى: ? أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيلًا ? [الفرقان/24]. فإنه - والله أعلم - من باب استعمال أفعل التفضيل فيما ليس في الطرف الآخر منه شيء، لأنه لا خير في مقيل أهل النار، ومستقرهم، كقول الله تعالى: ?آَللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ ? (1). فلا وسيلة شرعية لِعَدِّ الذكر سوى الأنامل.
* * *
--------------------------------------------
এই কারণে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন তাঁর কিছু সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পক্ষ থেকে পাথরখণ্ড দিয়ে তসবিহ গণনা করার বিষয়টি প্রকাশ পেল—যদি এর নির্ভরযোগ্যতা সাব্যস্ত (ثبوت) হওয়ার বিষয়টি ধরে নেওয়া হয়—তবে তিনি তাদেরকে আঙুলের কর দিয়ে জিকির গণনা করার ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ বা আদর্শের (هدي) প্রতি পথনির্দেশ দান করেন। আর এটিই হলো জিকির গণনার একমাত্র বিধিবদ্ধ (مشروعة) পদ্ধতি, অন্য কিছু নয়; এবং এটিই অধিক কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠ (أفضل)। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: "সেদিন জান্নাতবাসীদের বসবাসের স্থান হবে সর্বোত্তম এবং বিশ্রামস্থল হবে অতি উৎকৃষ্ট" [আল-ফুরকান: ২৪]। প্রকৃতপক্ষে—আল্লাহই ভালো জানেন—এটি এমন ক্ষেত্রে আধিক্যবাচক বিশেষণের (أفعل التفضيل) প্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে অপর পক্ষের মাঝে সেই গুণের কোনো অস্তিত্বই নেই। কারণ জাহান্নামীদের বিশ্রামস্থল ও আবাসস্থলে কোনো কল্যাণ নেই; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ (خير), নাকি তারা যাদেরকে শরিক করে তারা?" সুতরাং আঙুলের কর ব্যতীত জিকির গণনার আর কোনো বিধিবদ্ধ (مشروعة) পদ্ধতি নেই।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثانيفي بيان غير المشروع وهو عد الذكر بغير الأنامل، مثل العَدُّ بالسُّبْحَة (1)
استقرت السنة على عقد الذكر العَدَدِيِّ بالأنامل
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদযা শরিয়তসম্মত নয় তার বর্ণনায়, আর তা হলো আঙুলের গিঁট ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে জিকির গণনা করা, যেমন তসবিহ দিয়ে গণনা করা (১)
সংখ্যাভিত্তিক জিকির আঙুলের গিঁটে গণনা করার ওপর সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم حصل التحول إلى وسيلة أخرى لِعَدِّ الأذكار في مراحل ثلاث:
المرحلة الأولى: عَدُّ الذكر بالحصى أو النوى.
المرحلة الثانية: عَدُّ الذكر به منظوماً في خيط: ((السُّبْحَة)).
المرحلة الثالثة: عَدُّ الذكر بآلة حديثة مُصَنَّعة.
فإِلى بيان التحول في مراحله الثلاث:
* * *
অতঃপর জিকির গণনার ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়ে অন্য একটি মাধ্যমে রূপান্তর ঘটে:
প্রথম পর্যায়: নুড়ি পাথর বা বীজের সাহায্যে জিকির গণনা করা।
দ্বিতীয় পর্যায়: সুতায় গাঁথা দানার মাধ্যমে জিকির গণনা করা: ((তসবীহ))।
তৃতীয় পর্যায়: আধুনিক তৈরি যন্ত্রের সাহায্যে জিকির গণনা করা।
নিচে এই রূপান্তরের তিনটি পর্যায়ের বর্ণনা দেওয়া হলো:
* * *
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المرحلة الأولىالتسبيح بالحصى أو النَّوىوهي على ثلاث مراتب:
المرتبة الأولى: في زمن النبي صلى الله عليه وسلم-:
معلوم أن المساجد من زمن النبي صلى الله عليه وسلم وإلى زمننا هذا في بقية من القرى في جزيرة العرب، كانت أرضها مفروشة بالحصباء، وكان الناس يستعملون الحصباء التي في المسجد، لحصب الصبية عن العبث بالمسجد، وفي العصور اللاحقة من بني أمية فما بعد، كان المصلون يحصبون به الولاة، والخطباء، إذا سمعوا منهم مالا يرضيهم (1).
وقد عَلِمْتَ أن هدي النبي صلى الله عليه وسلم هو عقد التسبيح بأنامل اليد، قولاً، وفعلاً، وتقريراً.
--------------------------------------------
প্রথম পর্যায়কাঁকর বা ফলের বিচি দিয়ে তাসবিহ পাঠএটি তিনটি স্তরের (مراتب) ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম স্তর (المرتبة الأولى): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে-:
এটি সুবিদিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের এই সময় পর্যন্ত আরব উপদ্বীপের অবশিষ্ট পল্লী অঞ্চলগুলোতে মসজিদের মেঝে কাঁকর বিছানো থাকত। মানুষ মসজিদের সেই কাঁকরগুলো শিশুদেরকে মসজিদের ভেতর অনর্থক আচরণ থেকে বিরত রাখতে ব্যবহার করত। পরবর্তীকালে উমাইয়া ও তার পরবর্তী যুগগুলোতে মুসল্লিগণ তা দিয়ে শাসক ও খতিবদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করতেন, যখন তারা তাদের নিকট থেকে এমন কিছু শুনতেন যা তাদের পছন্দনীয় হতো না (১)।
আর আপনি অবগত আছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ (هدي) ছিল হাতের আঙুলের গিঁটে তাসবিহ গণনা করা, যা তাঁর কথা (قولاً), কর্ম (فعلاً) এবং মৌনসম্মতি (تقريراً) দ্বারা প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فهل حصل تحول إلى عَدِّ الذكر بالحصى، أو النَّوى، في زمنه صلى الله عليه وسلم فيكون من اختلاف التنوع في وسيلة عد الذكر، فيكون العد بالأنامل، أو بالحصى ونحوه، أم أن الآلة واحدة وهي: الأنامل ولا وسيلة سواها؟!
أقول: لا يصح في مشروعية عَدِّ الذكر بالحصى أو النوى حديث، وغاية المروي في ذلك مرفوعاً: ثلاثة أحاديث، واحد منها موضوع وهو حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وحديثا صفية وسعد بن أبي وقاص رضي الله عنهما لا تثبت دلالتهما على المشروعية، وفي ثبوت سند كل منهما نظر.
وإلى بيانها سنداً ومتناً:
الحديث الأول: حديث صفية بنت حيي زوج النبي صلى الله عليه وسلم: عن صفية رضي الله عنها قالت: ((دخل عَليَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين يدي أربعة آلاف نواة أُسَبِّح بهن، فقال: يا بنت
সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কি কঙ্কর বা খেজুরের আঁটির মাধ্যমে জিকির গণনার কোনো রূপান্তর ঘটেছিল, যাতে করে এটি জিকির গণনার মাধ্যমের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় মতপার্থক্য (اختلاف التنوع)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়—অর্থাৎ জিকির আঙ্গুলের গিঁট অথবা কঙ্কর ও অনুরুপ মাধ্যমে করা যায়—নাকি গণনার মাধ্যম একটিই আর তা হলো আঙ্গুলের গিঁট এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম নেই?
আমি বলি: কঙ্কর বা খেজুরের আঁটির মাধ্যমে জিকির গণনার বৈধতা (مشروعية) বিষয়ে কোনো হাদিস শুদ্ধ (يصح) নয়। এই বিষয়ে মারফু (مرفوع) হিসেবে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সর্বোচ্চ সংখ্যা হলো তিনটি হাদিস; যার একটি জাল (موضوع) আর সেটি হলো আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস। সাফিয়্যাহ ও সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদিসদ্বয় জিকির গণনার বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল হিসেবে প্রমাণিত নয় এবং এগুলোর প্রতিটির সূত্রের (سند) বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রেও সংশয় (نظر) রয়েছে।
নিচে এগুলোর সূত্র (سند) ও মূল পাঠের (متن) বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
প্রথম হাদিস: নবী (সা.)-এর সহধর্মিণী সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস: সাফিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় আমার সামনে চার হাজার খেজুরের আঁটি ছিল যা দিয়ে আমি তাসবিহ পাঠ করছিলাম। তিনি বললেন: হে বিনতে (কন্যা) ...
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حيي، ما هذا؟ قلت: أُسبح بهن. قال: قد سَبَّحْتُ مُنْذُ قُمْتُ على رأسك أكثر من هذا، قلت: علمني يا رسول الله، قال: قُولي: سبحان الله عدد ما خلق الله من شيء)) رواه الترمذي (برقم / 3554 - 4/ 274) وقال: ((هذا حديث غريب لا نعرفه إلَاّ من هذا الوجه من حديث هاشم بن سعيد الكوفي، وليس إسناده بمعروف، وفي الباب عن ابن عباس)) انتهى. ورواه الحاكم وصححه، ووافقه الذهبي: (1/ 547). ورواه أبو يعلى في ((مسنده: 4/ 1696)) ، وابن عدي في: ((الكامل 7/ 2574)) وهذا الحديث في سنده هاشم بن سعيد الكوفي، قال الحافظ في: ((التقريب)): ((ضعيف)). وفيه: شيخه: كنانة مولى صفية، قال الحافظ: ((مقبول، ضعفه الأزدي بلا حجة)) انتهى.
وهذا الحديث رواه الطبراني من وجه آخر في: ((الدعاء)) و ((الأوسط)) عن روح بن الفرج، ثنا عمرو بن خالد، ثنا خديج ابن معاوية، ثنا كنانة مولى صفية، عن صفية بنت حيي - رضي الله عنها
[হে বিনতে] হুয়াই, এটি কী? আমি বললাম: আমি এগুলো দিয়ে তাসবিহ পাঠ করছি। তিনি বললেন: আমি যখন থেকে তোমার শিয়রে দাঁড়িয়েছি তখন থেকে এর চেয়েও বেশি তাসবিহ পাঠ করেছি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: তুমি বলো: সুবহানাল্লাহি আদাদা মা খালাকাল্লাহু মিন শাই (আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাঁর সংখ্যার সমপরিমাণ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৩৫৫৪ - ৪/২৭৪) এবং বলেছেন: “এটি একটি বিরল (غريب) হাদিস, হাশিম ইবনে সাঈদ আল-কুফির হাদিস হিসেবে এই একটি সূত্র ছাড়া আমরা এটি জানি না এবং এর সনদ (إسنাদ) সুপরিচিত (معروف) নয়। এই পরিচ্ছেদে ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা রয়েছে।” — সমাপ্ত। এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আল-জাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন (১/৫৪৭)। এটি আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৪/১৬৯৬) এবং ইবনে আদি আল-কামিল গ্রন্থে (৭/২৫৭৪) বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসের সনদ (سند)-এ হাশিম ইবনে সাঈদ আল-কুফি রয়েছেন; হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরিব গ্রন্থে তাঁকে ‘দুর্বল (ضعيف)’ বলেছেন। এতে আরও রয়েছেন তাঁর শিক্ষক কেনানা, যিনি সাফিয়্যার মুক্তদাস; হাফেজ বলেছেন: “তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول); আল-আজদি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।” — সমাপ্ত।
এই হাদিসটি তাবারানি অন্য একটি সূত্রে আদ-দুয়া এবং আল-আওসাত গ্রন্থে রুহ ইবনে ফরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি খাদিজ ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি সাফিয়্যার মুক্তদাস কেনানা থেকে, তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
- وحُدَيْج قال الحافظ عنه: ((صدوق يخطئ)).
ورواه الطبراني أيضاً من وجه آخر في: ((الدعاء)) وفي ((الأوسط)) فقال: ((حدثنا محمد بن عثمان بن أبي شيبة، ثنا أبي، قال: وجدت في كتاب أبي بخطه: ثنا مسلم بن سعيد عن منصور بن زاذان، عن زيد - يعني ابن متعب - مولى صفية بنت حيي رضي الله عنها به. لكن يزيد لم يوجد له ترجمة، لكنه من طبقة أوساط التابعين، من موالي صفية رضي الله عنها. وقول الترمذي المتقدم، بعد حديث صفية رضي الله عنها: ((وفي الباب عن ابن عباس)) يريد ما أخرجه مسلم وغيره عن ابن عباس رضي الله عنهما عن جويرية رضي الله عنها: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج من عندها بكرةً حين صَلَّى الصبح وهي في مسجدها، ثم رجع حين أضحى وهي على حالتها، فقال: ما زالت على حالتك التي فارقتك عليها قالت: نعم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لقد قلت بعدك أربع كلمات
- এবং হুদাইজ সম্পর্কে হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (صدوق) তবে ভুল করেন (يخطئ)"।
এবং তাবারানিও এটি অন্য একটি সূত্রে (وجه) আদ-দুআ এবং আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার কিতাবে তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে পেয়েছি: আমাদের নিকট মুসলিম ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন মানসুর ইবনে যাদান থেকে, তিনি যায়েদ — অর্থাৎ ইবনে মুতয়িব — থেকে, যিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা.)-এর মুক্তদাস ছিলেন, তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণিত। তবে ইয়াযীদের কোনো জীবনী (ترجمة) পাওয়া যায়নি, কিন্তু তিনি মধ্যম স্তরের তাবেয়ী (أوساط التابعين) স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং সাফিয়্যা (রা.)-এর মুক্তদাসদের একজন। আর সাফিয়্যা (রা.)-এর হাদিসের পর তিরমিযীর পূর্বোল্লিখিত বক্তব্য: "এই অধ্যায়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে" — এর দ্বারা তিনি সেই হাদিসটি বুঝিয়েছেন যা মুসলিম এবং অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং তিনি জুওয়াইরিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব ভোরে ফজরের সালাত আদায় করার পর তাঁর কাছ থেকে বের হলেন, আর তখন তিনি (জুওয়াইরিয়া) তাঁর ইবাদতস্থলে ছিলেন। তারপর তিনি চাশতের সময় ফিরে আসলেন এবং তাঁকে সেই একই অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি কি এখনো সেই অবস্থাতেই আছো?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য বলেছি..."
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثلاث مرات، لو وُزنت بما قلت منذ اليوم لوزنتهن: سبحان الله وبحمده، عدد خلقه، ورضى نفسه، وزِنة عرشه، ومداد كلماته)). قال الحافظ ابن حجر في: ((نتائج الأفكار: 1/ 78)): ((وهذه المرأة يمكن أن تكون جويرية وقد مضى حديثها، لكن سياقه بغير هذا اللفظ، ويمكن أن تكون صفية، فقد جاء من حديثها بهذا اللفظ، ولكن باختصار، وفيه ذكر عدد النوى التي كانت تُسبح به)) انتهى.
الحديث الثاني: حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه: عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه أنه دخل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على امرأة وبين يديها نواة، أو قال: حصاة تسبح بها، فقال: ألا أخبرك بما هو أيسر عليك من هذا وأفضل؟ سبحان الله عدد ما خلق في السماء. وسبحان الله عدد ما خلق في الأَرض. وسبحان الله عدد ما بين ذلك.
তিন বার, আমি সকাল থেকে যা বলেছি তার সাথে যদি তোমার এই বাক্যগুলো ওজন করা হয়, তবে এগুলোর ওজনই বেশি হবে: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর কালামের কালির পরিমাণের সমান। হাফিজ ইবনে হাজার নাতাইজুল আফকার (১/৭৮) গ্রন্থে বলেছেন: "এই নারী সম্ভবত জুওয়াইরিয়া হতে পারেন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তবে এর বর্ণনাভঙ্গি (سياق) এই শব্দের (لفظ) অনুরূপ নয়; আবার তিনি সাফিয়্যাহ-ও হতে পারেন, কারণ তাঁর হাদিসটি এই শব্দেই (لفظ) বর্ণিত হয়েছে, তবে সংক্ষিপ্ত আকারে, আর তাতে খেজুরের বীচির সংখ্যার কথা উল্লেখ আছে যা দিয়ে তিনি তাসবিহ পাঠ করছিলেন।" সমাপ্ত।
দ্বিতীয় হাদিস: সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদিস: সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাথে এক মহিলার কাছে প্রবেশ করলেন যার সামনে অনেকগুলো খেজুরের বীচি—অথবা তিনি বলেছিলেন: পাথর কণা—ছিল, যা দিয়ে তিনি তাসবিহ পাঠ করছিলেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন: "আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ এবং তোমার জন্য অধিক উত্তম কিছুর কথা বলব না? আকাশে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার সংখ্যার সমান সুবহানাল্লাহ। পৃথিবীতে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার সংখ্যার সমান সুবহানাল্লাহ। এবং এই উভয়ের মাঝে যা আছে তার সংখ্যার সমান সুবহানাল্লাহ।"
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وسبحان الله عدد ما هو خالق والله اكبر مثل ذلك والحمد لله مثل ذلك ولا حول ولا قوة إلا بالله مثل ذلك)) انتهى. رواه أبو داود ((4/ 366)) والترمذي ((3568)) وقال: ((هذا حديث حسن غريب، والنسائي في: ((عمل اليوم والليلة)). وهو في: ((مسند سعد برقم / 88)) ، والطبراني في: ((الدعاء 3/ 1584 برقم / 1738)) وينظر تعليق المحقق، والبزار في: ((مسنده)) والبيهقي في: ((الشعب 1/ 347)) والبغوي في: ((شرح السنة / 1279)). جميعهم بأسانيدهم إلى ابن وهب، عن عمرو بن الحارث، عن سعيد بن أبي هلال، عن خزيمة، عن عائشة بنت سعد بن أبي وقاص، عن أبيها رضي الله عنه فذكره.
ورواه الحاكم في: ((المستدرك 1/ 547)) وابن حبان في: ((صحيحه / 834)) والبزار في: ((مسنده 4/ 40)) كلهم بإسقاط ((خزيمة)) وراوية سعيد بن أبي هلال له مباشرة عن عائشة بنت سعد به.
এবং 'সুবহানাল্লাহ' তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার সংখ্যা সমপরিমাণ, আল্লাহু আকবার তদ্রূপ, আলহামদুলিল্লাহ তদ্রূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ তদ্রূপ)) সমাপ্ত। এটি আবু দাউদ (৪/৩৬৬) এবং তিরমিযী (৩৫৬৮) বর্ণনা করেছেন; তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: ((এটি একটি হাসান (حسن) গরীব (غريب) হাদিস))। এছাড়া নাসাঈ এটি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটি 'মুসনাদে সা'দ'-এ ৮৮ নম্বর হাদিস হিসেবে বিদ্যমান, এবং তাবারানি এটি 'আদ-দু'আ' গ্রন্থে (৩/১৫৮৪, নম্বর ১৭৩৮) বর্ণনা করেছেন; এক্ষেত্রে মুহাক্কিকের টীকা দ্রষ্টব্য। এছাড়া বাযযার তাঁর 'মুসনাদ'-এ, বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ (১/৩৪৭) এবং বাগাওয়ী 'শারহুস সুন্নাহ'-তে (১২৭৯) এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলেই ইবনে ওয়াহাব থেকে নিজ নিজ সনদের (أسانيد) মাধ্যমে, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে, তিনি খুযাইমা থেকে, তিনি আয়েশা বিনতে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (রা.) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
আর হাকেম এটি 'আল-মুস্তাদরাক'-এ (১/৫৪৭), ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-তে (৮৩৪) এবং বাযযার তাঁর 'মুসনাদ'-এ (৪/৪০) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই 'খুযাইমা'-কে বাদ দিয়ে (إسقاط) সাঈদ বিন আবি হিলাল কর্তৃক সরাসরি আয়েশা বিনতে সা'দ থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
فمدار أسانيده على: سعيد بن أبي هلال، قال الحافظ عنه: ((صدوق)) لم أر لابن حزم في تضعيفه سلفاً، إلا أن الساجي حكى عن أحمد أنه أختلط)) انتهى.
وقال الحافظ أيضاً في: خزيمة: ((خزيمة عن عائشة بنت سعد: لا يعرف، من السابعة د ت سي)) انتهى.
الحديث الثالث: عن أبي هريرة رضي الله عنه (1):
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((كان صلى الله عليه وسلم يسبح بالحصى)) رواه أبو القاسم الجرجاني في: ((تاريخ الجرجاني / 68)).
وفي سنده: عبد الله بن محمد بن ربيعة القدامي، صاحب مصائب، ومناكير، كما في ترجمته من: ((لسان الميزان)) وأصله: ((الميزان)).
والراوي عنه: صالح بن علي النوفلي، لم يعرف له ترجمة.
--------------------------------------------
এর সনদগুলোর মূল ভিত্তি হলো: সাঈদ বিন আবি হিলাল। হাফিজ (ইবনে হাজার) তার সম্পর্কে বলেছেন: "(তিনি) সত্যবাদী (صدوق); তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইবনে হাজমের কোনো পূর্বসূরি আমি দেখিনি, তবে আস-সাজি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার স্মৃতিভ্রম (اختلط) ঘটেছিল।" সমাপ্ত।
হাফিজ খুজাইমাহ সম্পর্কে আরও বলেছেন: "খুজাইমাহ, আয়েশা বিনতে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি অপরিচিত (لا يعرف), সপ্তম স্তরের বর্ণনাকারী; আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি-তে (তার হাদিস বর্ণিত)।" সমাপ্ত।
তৃতীয় হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে (১):
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) কঙ্কর দ্বারা তাসবিহ পাঠ করতেন।" আবু কাসেম আল-জোরজানি এটি 'তারিখে জোরজানি / ৬৮' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
এর সনদে রয়েছেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন রাবিআহ আল-কুদামি; তিনি মারাত্মক ভুল এবং অস্বীকৃত (منكر) বর্ণনাসমূহের অধিকারী, যেমনটি 'লিসানুল মিজান' এবং এর মূল গ্রন্থ 'মিজান'-এ তার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার থেকে বর্ণনাকারী হলেন: সালিহ বিন আলি আন-নওফালি, যার কোনো জীবনী পাওয়া যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
فهذا حديث ذكرته من باب ذكر ما في الباب، وإلا فلا يلتفت إليه بحال.
والخلاصة: عن هذه الأحاديث المرفوعة: أن حديث أبي هريرة وهو الثالث منها لا يعتد به، إذ له حكم الأحاديث الموضوعة، وأما حديث صفية، وحديث سعد بن أبي وقاص، فيشهد كل واحد منها للآخر، إذ ليس في إسناد أحدهما من قُدح فيه من جهة عدالته؟ ولكن ما معنى كل واحد منهما - على فرض ثبوته -؟
إن حديث صفية رضي الله عنها فيه قول النبي صلى الله عليه وسلم لها لما رآها تعد التسبيح بالنوى: ((ما هذا؟)) وهذا استنكار لفعلها، كأنه على غير المعهود في التشريع، فهو إنكار له، ولذا دَلَّها صلى الله عليه وسلم على التسبيح المشروع، كدلالته صلى الله عليه وسلم للمستغفرين على سيد الاستغفار. فلا دلالة فيه لمستدل على جواز التسبيح بالحصى، أو النوى.
وإن حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه فيه
এটি এমন একটি হাদিস যা আমি এই বিষয়ের সংশ্লিষ্ট বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছি, অন্যথায় এর প্রতি কোনোভাবেই ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।
সারকথা হলো: রাসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) এই হাদিসগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এই যে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি—যা এগুলোর মধ্যে তৃতীয়—তা নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ এর হুকুম হলো জাল (موضوع) হাদিসের ন্যায়। আর সাফিয়্যা (রা.) ও সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণিত হাদিস দুটির একটি অপরটির জন্য সমর্থক হিসেবে কাজ করে। কারণ এ দুটির কোনোটির সনদ (إسناد) এর মধ্যেই এমন কেউ নেই যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এই হাদিস দুটির—এগুলো সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) ধরে নেওয়া হলে—অর্থ কী হবে?
সাফিয়্যা (রা.) বর্ণিত হাদিসটিতে উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে খেজুরের বিচি দিয়ে তসবিহ গণনা করতে দেখলেন, তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "এটা কী?" এটি ছিল তার কাজের প্রতি একটি অস্বীকৃতি, যেন এটি শরিয়তের স্বতঃসিদ্ধ নিয়মের পরিপন্থী ছিল। তাই তিনি এর প্রতি আপত্তি জানিয়েছেন এবং এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শরয়ি তসবিহ (التسبيح المشروع) এর পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, যেমনটি তিনি ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের সাইয়িদুল ইস্তিগফারের পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং, পাথর বা বিচি দিয়ে তসবিহ পাঠের বৈধতা (جواز) প্রমাণের জন্য কোনো দলিল অন্বেষণকারীর কাছে এতে কোনো দলিল নেই।
আর সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণিত হাদিসটিতে রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لما رأى صلى الله عليه وسلم المرأة تسبح بنواة، أو حصاة، قال: ((ألا أخبرك بما هو أيسر عليك من هذا وأفضل. . .)).
وهذا أسلوب عربي معروف تأتي فيه صيغة أفعل على غير بابها، كما في قول الله تعالى عن نعيم أهل الجنة: {أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيلًا} [الفرقان/24].
((فإنها من باب استعمال أفعل التفضيل فيما ليس في الطرف الآخر منه شيء، لأَنه لا خير في مقيل أهل النار، ومستقرهم، كقوله: {آَللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ} (1).
وبهذا التقرير لمعنى هذين الحديثين - على فرض صحتهما - يظهر بجلاء عدم صحة استدلال من استدل بهما على جواز التسبيح بالحصى، أو النوى. والله أعلم.
المرتبة الثانية: في زمن الصحابة رضي الله عنهم -:
والآثار فيها على نوعين: نوع في الإنكار، ونوع في الفعل، أو الإِقرار، وهذا بيانها:
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এক মহিলাকে বীজ বা কঙ্কর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: ((আমি কি তোমাকে এমন কিছু বলব না যা তোমার জন্য এর চেয়ে সহজ এবং উত্তম (أفضل)? . . .))।
এটি একটি সুপরিচিত আরবি রীতি যেখানে 'আফ'আলু' (أفعل) রূপটি তার মূল ব্যাকরণগত প্রয়োগের বাইরে ব্যবহৃত হয়, যেমন জান্নাতবাসীদের নেয়ামত সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন জান্নাতবাসীদের আবাসস্থল হবে উৎকৃষ্ট এবং বিশ্রামস্থল হবে মনোরম।} [আল-ফুরকান/২৪]।
((এটি হলো 'অধিকতর শ্রেষ্ঠত্ববাচক' (أفعل التفضيل) শব্দের এমন প্রয়োগ যেখানে অন্য পক্ষে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। কারণ জাহান্নামবাসীদের বিশ্রামস্থল ও আবাসস্থলে কোনো কল্যাণ নেই; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ (خير), নাকি তারা যাদের শরিক করে?} (১)।
এই দুটি হাদিসের অর্থের এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে—যদি সেগুলোকে বিশুদ্ধ (صحيح) ধরে নেওয়া হয়—তবে যারা পাথর বা বীজ দিয়ে তাসবিহ পাঠ করার বৈধতার পক্ষে এই হাদিসগুলো দিয়ে দলিল পেশ করেছেন, তাদের দলিলের অসারতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয় পর্যায়: সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের যুগে -:এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো (آثار) দুই প্রকার: এক প্রকার হলো অস্বীকৃতি জ্ঞাপক, আর অন্য প্রকার হলো কর্ম বা মৌনসম্মতি (إقرار) বিষয়ক; নিচে এগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النوع الأول: الآثار في الإِنكار:وهي عن ثلاثة من الصحابة رضي الله عنهم: عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وعن عائشة رضي الله عنها وعن ابن مسعود رضي الله عنه وهذا بيانها:
1 - الأثر عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه:
عن سعيد بن جبير، قال: ((رأى عمر بن الخطاب رجلاً يسبح بتسابيح معه، فقال عمر: إنما يجزيه من ذلك أن يقول: سبحان الله ملء السموات والأرض، وملء ما شاء من شيء بعد، ويقول: الحمد لله ملء السموات والأَرض وملء ما شاء من شيء بعد، ويقول: الله أكبر ملء السموات والأَرض وملء ما شاء من شيء بعد)).
رواه ابن أبي شيبة في: ((المصنف 7669)) باب: ((من كره عقد التسبيح)).
ورواية سعيد ابن جبير المتوفى سنة 95 - رحمه الله تعالى - عن عمر رضي الله عنه مرسلة ففي الأثر انقطاع.
প্রথম প্রকার: অস্বীকৃতিমূলক বর্ণনাসমূহ:এগুলো তিনজন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। নিচে এর বিবরণ প্রদান করা হলো:
1 - আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক ব্যক্তিকে তার সাথে থাকা কিছু দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতে দেখলেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "এর পরিবর্তে তার জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে বলবে: 'সুবহানাল্লাহ' আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর তিনি যা চান তা পূর্ণ করে। আর বলবে: 'আলহামদুলিল্লাহ' আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর তিনি যা চান তা পূর্ণ করে। আর বলবে: 'আল্লাহু আকবার' আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর তিনি যা চান তা পূর্ণ করে।"
এটি ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফ (৭৬৬৯) গ্রন্থের "যারা তাসবিহ গণনা করাকে অপছন্দ করেছেন" অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
৯৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) কর্তৃক উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (مرسلة); সুতরাং এই বর্ণনায় সূত্রবিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - الأثر عن عائشة رضي الله عنهم:
حدثنا يحي بن سعيد القطان، عن التميمي، عن أبي تميمة عن امرأة من بني كليب، قالت: ((رأتني عائشة أُسَبِّح بتسابيح معي، فقالت: أين الشواهد؟)) يعني الأصابع.
رواه ابن أبي شيبة في: ((المصنف برقم/ 7657)). وفي سنده جهالة كما ترى.
3 - الآثار عن ابن مسعود رضي الله عنه:
فيه ثلاثة آثار وهي:
الأول: عن إبراهيم، قال: ((كان عبد الله يكره العَدَّ، ويقول: أّيُمَنُّ على الله حسناته؟)). رواه ابن أبي شيبة في: ((المصنف: برقم / 7667)) بسند صحيح.
الثاني: عن الصلت بن بهرام، قال: ((مَرَّ ابن مسعود بامرأة معها تسبيح تُسبح به فقطعه، وألقاه. ثم مَرَّ برجل يسبح بحصى، فضربه برجله، ثم قال: لقد سبقْتُمْ، ركبتم بدعة ظلما، ولقد غلبتم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم عِلْماً)).
২ - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত আসার:
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তামিমি থেকে, তিনি আবু তামিমি থেকে, তিনি বনু কুলাইব গোত্রের একজন নারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আমাকে আমার সাথে থাকা তাসবিহ (গণনা করার সামগ্রী) দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: সাক্ষীরা কোথায়?" অর্থাৎ আঙুলসমূহ।
এটি ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফ-এ বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৭৬৫৭)। এর সনদে অজ্ঞাত পরিচয় (جهالة) ব্যক্তি রয়েছে যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন।
৩ - ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আসারসমূহ:
এতে তিনটি আসার রয়েছে, সেগুলো হলো:
প্রথমটি: ইবরাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) গণনা করাকে অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: আল্লাহর ওপর কি তাঁর নেক কাজগুলোর মাধ্যমে অনুগ্রহ জাহির করা হচ্ছে?" এটি ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফ-এ (হাদিস নং ৭৬৬৭) সহিহ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়টি: সালত ইবনে বাহরাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার কাছে তাসবিহ ছিল যা দিয়ে তিনি তাসবিহ পাঠ করছিলেন, তখন তিনি তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং ফেলে দিলেন। এরপর তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন যে পাথর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করছিল, তখন তিনি তাকে পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: তোমরা তো অনেক অগ্রগামী হয়ে গেছ, তোমরা অন্যায়ভাবে একটি বিদআত (بدعة) অবলম্বন করেছ এবং তোমরা জ্ঞানে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদেরকেও ছাড়িয়ে গেছ!"
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
رواه ابن وضاح القرطبي في: ((البدع والنهي عنها: ص / 12)) بسند صحيح لولا الانقطاع الذي فيه، فإن الصلت لم يسمع من ابن مسعود.
الثالث: عن سيار أبي الحكم: أن عبد الله بن مسعود، حُدِّث: ((أَن أُناساً بالكوفة يُسبحون بالحصى في المسجد، فأتاهم وقد كَوَّمَ كُلُّ رجل منهم بين يديه كوْمَةَ حصى، فلم يزل يحصبهم بالحصى حتى أخرجهم من المسجد، ويقول: لقد أحدثتم بدعة ظلما، أو قد فَضَلْتُم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم عِلْماً)). رواه ابن وضاح في: ((البدع والنهي عنها: ص / 11)) بسند صحيح، لولا الانقطاع الذي فيه، فإن سياراً لم يسمع من ابن مسعود رضي الله عنه.
الرابع: عن ابن سمعان، قال: ((بلغنا عن ابن مسعود، أنه رأى أُناساً يُسَبِّحُوْنَ بالحصى، فقال: على الله تحصون؟ سبقتم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم عِلْماً، أو لقد أحدثتم بدعة ظلما)). رواه ابن وضاح في: ((البدع والنهي عنها ص / 12)).
ইবনে ওয়াদদাহ আল-কুরতুবি এটি ‘আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা’ (পৃষ্ঠা: ১২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) হতো যদি না এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) থাকত; কেননা আস-সলত ইবনে মাসুদ (রা.) থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি।
তৃতীয়: সাইয়্যার আবু আল-হাকাম থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.)-কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে: “কুফার কিছু লোক মসজিদে কঙ্কর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করছে। তখন তিনি তাদের নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় তাদের প্রত্যেকের সামনে কঙ্করের স্তূপ ছিল। এরপর তিনি অনবরত তাদের দিকে কঙ্কর ছুড়তে থাকলেন যতক্ষণ না তাদের মসজিদ থেকে বের করে দিলেন এবং বলছিলেন: তোমরা অবশ্যই একটি অন্ধকার বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করেছ, অথবা তোমরা কি জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে গেছ?” ইবনে ওয়াদদাহ এটি ‘আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা’ (পৃষ্ঠা: ১১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) হতো যদি না এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) থাকত; কেননা সাইয়্যার ইবনে মাসুদ (রা.) থেকে শ্রবণ করেননি।
চতুর্থ: ইবনে সামআন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “ইবনে মাসুদ (রা.) থেকে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে (بلغنا) যে, তিনি কিছু লোককে কঙ্কর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি আল্লাহর ওপর হিসাব রাখছ? তোমরা জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবীদের ছাড়িয়ে গেছ, অথবা তোমরা একটি অন্ধকার বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করেছ।” এটি ইবনে ওয়াদদাহ ‘আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা’ (পৃষ্ঠা: ১২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وسنده تالف، لأن ابن سمعان وهو: عبد الله بن زياد المخزومي، رُمي بالكذب، فهذا لا يعتبر بمتابعته لما قبله.
الخامس: الحكم بن المبارك عن عمرو (1) بن يحي بن عُمارة بن أبي حسن المازني، قال: سمعت أبي يحدِّث أبيه، قال: ((روى الدارمي في سننه: قال: أخبرنا الحكم بن المبارك أن عمر - عمرو - بن يحي قال: سمعت أبي يحدِّث، عن أبيه قال: كنا جلوس على باب عبد الله بن مسعود قبل صلاة الغداة، فإذا خرج مشينا معه على المسجد، فجاءنا أبو موسى الأشعري فقال: أَخَرَجَ إليكم أبو عبد الرحمن بَعْدُ؟ قلنا: لا. فجلس حتى خرج، فلما خرج قمنا إليه جميعاً، فقال له أبو موسى: يا أبا عبد الرحمن، إني رأيت في المسجد آنفاً أمراً أنكرته، ولم أرَ والحمد لله إلا خيراً، قال: فما هو؟ فقال: إن عِشْتَ فستراه، قال: رأيتُ في المسجد قوماً حلقاً جلوساً ينتظرون الصلاة، في كل حلقة رجل وفي أيديهم حصى، فيقول: كبروا مائة، فيكبرون مائة، فيقول: هللوا مائة،
--------------------------------------------
এবং এর সনদটি অসার (تالف); কারণ ইবনে সামআন—আর তিনি হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আল-মাখযুমী—মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত (رُمي بالكذب) হয়েছেন। সুতরাং পূর্ববর্তী বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর এই সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعة) বিবেচনাযোগ্য নয়।
পঞ্চম (সূত্র): আল-হাকাম ইবনুল মুবারক, আমর (১) ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমারা ইবনে আবি হাসান আল-মাযিনী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আদ-দারমি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আল-হাকাম ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর —আমর— ইবনে ইয়াহইয়া বলেছেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা সকালের সালাতের পূর্বে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের দরজায় বসে থাকতাম। যখন তিনি বের হতেন, আমরা তাঁর সাথে মসজিদের দিকে হেঁটে যেতাম। এমতাবস্থায় আবু মুসা আল-আশআরী আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: আবু আবদুর রহমান কি এখনো তোমাদের নিকট বের হয়ে এসেছেন? আমরা বললাম: না। অতঃপর তিনি বসলেন যতক্ষণ না তিনি বের হলেন। যখন তিনি বের হলেন, আমরা সবাই তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালাম। তখন আবু মুসা তাঁকে বললেন: হে আবু আবদুর রহমান, আমি এইমাত্র মসজিদে এমন একটি বিষয় দেখেছি যা আমার নিকট অস্বীকৃতিযোগ্য (أنكرته) মনে হয়েছে, তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি কল্যাণ ছাড়া আর কিছু দেখিনি। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আপনি বেঁচে থাকলে শীঘ্রই তা দেখতে পাবেন। তিনি বললেন: আমি মসজিদে কিছু লোককে বৃত্তাকারে (حلقاً) বসে সালাতের অপেক্ষা করতে দেখেছি। প্রতিটি হালকায় (حلقة) একজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং তাদের হাতে কঙ্কর রয়েছে। এরপর সে বলছে: তোমরা একশ বার তাকবির পাঠ করো, তখন তারা একশ বার তাকবির পাঠ করছে। সে বলছে: তোমরা একশ বার তাহলীল পাঠ করো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيهللون مائة، ويقول: سبحوا مائة. قال: فماذا قلتَ لهم؟ قال: ما قلتُ لهم شيئاً انتظار رأيك أو انتظار أمرك، قال: أفلا أمرتهم أن يعدوا سيئاتهم، وضمنت لهم أن لا يضيع من حسناتهم؟
ثم مضى ومضينا معه، حتى أتى حلقة من تلك الحِلَق فوقف عليهم فقال: ما هذا الذي أراكم تصنعون؟ قالوا: يا أبا عبد الرحمن حصىً نعدّ به التكبير والتهليل والتسبيح، قال: فعدوا سيئاتكم، فأنا ضامن ألا يضيع من حسناتكم شيء، ويحكم أمة محمد، ما أسرع هلكتكم! هؤلاء صحابة نبيكم صلى الله عليه وسلم متوافرون، وهذه ثيابه لم تبل، وآنيته لم تكسر، والذي نفسي بيده إنكم لعلى ملة هي أهدى من ملة محمد، أو مفتتحو باب ضلالة! قالوا: والله يا أبا عبد الرحمن ما أردنا إلا الخير، قال: وكم من مريد للخير لن يصيبه، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثنا: إن قوماً يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، وايم الله ما أدري لعل أكثرهم منكم، ثم تولى عنهم. فقال عمرو بن سلمة: رأينا عامة أولئك الحِلَق
তারা একশত বার তাহলীল পাঠ করছিল এবং সে বলছিল: তোমরা একশত বার তাসবীহ পাঠ করো। তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: তবে তুমি তাদের কী বললে? সে বলল: আপনার অভিমত অথবা আপনার নির্দেশের অপেক্ষায় আমি তাদের কিছুই বলিনি। তিনি বললেন: তুমি কেন তাদের নিজেদের পাপসমূহ গণনা করতে নির্দেশ দিলে না? আর আমি এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, তাদের পুণ্যসমূহ থেকে কোনো কিছুই বিনষ্ট হবে না।
অতঃপর তিনি এগিয়ে চললেন এবং আমরাও তাঁর সাথে চললাম, যতক্ষণ না তিনি সেই বৈঠক বা হালকাসমূহের (حلقة) একটির নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: আমি তোমাদের যা করতে দেখছি তা কী? তারা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান! এগুলো কিছু পাথরখণ্ড, যা দিয়ে আমরা তাকবীর, তাহলীল এবং তাসবীহ গণনা করছি। তিনি বললেন: বরং তোমরা তোমাদের পাপসমূহ গণনা করো; আমি জামিন হচ্ছি যে, তোমাদের পুণ্যসমূহ থেকে কোনো কিছুই বিনষ্ট হবে না। হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত, তোমাদের জন্য আক্ষেপ! তোমাদের ধ্বংস কতই না নিকটবর্তী! তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ (صحابة) এখনও বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান, তাঁর এই পরিধেয় বস্ত্রসমূহ এখনও জীর্ণ হয়নি এবং তাঁর ব্যবহৃত পাত্রসমূহ এখনও ভেঙে যায়নি। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! হয় তোমরা এমন কোনো আদর্শের ওপর আছ যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ অপেক্ষা অধিক হিদায়াতপূর্ণ, অথবা তোমরা ভ্রষ্টতার (ضلالة) দ্বার উন্মোচনকারী! তারা বলল: আল্লাহর কসম, হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু ইচ্ছা করিনি। তিনি বললেন: কল্যাণের অন্বেষণকারী এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা কখনোই তা অর্জন করতে পারে না। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন: এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। আল্লাহর কসম, আমি জানি না—সম্ভবত তাদের অধিকাংশ তোমাদের মধ্য থেকেই হবে। অতঃপর তিনি তাদের নিকট থেকে ফিরে গেলেন। আমর বিন সালামাহ বললেন: আমরা সেই হালকার (حلقة) অধিকাংশ ব্যক্তিকে দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يطاعنونا يوم النهروان مع الخوارج)) انتهى.
ورجاله كلهم من رجال: ((التقريب)) وهم ثقات، عمرو وأبوه يحيى من رجال الكتب الستة، وجده عُمارة من رجال النسائي في: ((عمل اليوم والليلة)) وهو ثقة.
وأما الحكم بن المبارك فهو الباهلي، فقال في التقريب: ((صدوق ربما وهم)) ورمز بكونه من رجال البخاري في الأدب المفرد، ومن رواة الترمذي، وقد توبع في الرواية بعده:
السادس: قال بحشل: أسلم بن سهل، المتوفى سنة 292 - رحمه الله تعالى - في: ((تاريخ واسط: ص / 198 - 199)).
قال: ((حدّثنا علي بن الحسن بن سليمان، قال: حدّثني أبي، قال: حدّثني أبي [؟!] قال: كنا جلوساً. . .)) إلى آخره بنحو سياقه عند الدرامي.
فهذه متابعة من علي بن الحسن بن سليمان الحضرمي الواسطي، ثقة من رجال مسلم وابن ماجه.
"তারা নহরওয়ানের দিন খারিজিদের সাথে মিলে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল)) সমাপ্ত।"
এর বর্ণনাকারীগণের সকলেই 'আত-তাকরীব' গ্রন্থের বর্ণনাকারী এবং তারা নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আমর এবং তার পিতা ইয়াহইয়া কুতুবুস সিত্তাহ-এর বর্ণনাকারী। তার দাদা উমারা 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে ইমাম নাসাঈর বর্ণনাকারী এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
আর হাকাম ইবনুল মুবারক আল-বাহিলী সম্পর্কে 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হতেন (ربما وهم)" এবং তাকে 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারী ও ইমাম তিরমিযীর বর্ণনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তী বর্ণনায় তাকে সমর্থন করা হয়েছে (توبع):
ষষ্ঠ: বাহশাল (আসলাম ইবনে সাহল, মৃত্যু ২৯২ হিজরী - আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন) 'তারীখু ওয়াসিত' (পৃষ্ঠা: ১৯৮-১৯৯)-এ বলেছেন:
তিনি বলেন: "আলী ইবনুল হাসান ইবনে সুলায়মান আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন [?!], তিনি বলেন: আমরা বসা ছিলাম..." দারেমীর বর্ণনার প্রেক্ষাপটের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত।
এটি আলী ইবনুল হাসান ইবনে সুলায়মান আল-হাদরামি আল-ওয়াসিতীর পক্ষ থেকে একটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة)। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং ইমাম মুসলিম ও ইবনে মাজাহর বর্ণনাকারী।
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
النوع الثاني: آثار في الإِقرار:وهي عن ستة من الصحابة وهم: علي بن أبي طالب وأبو هريرة، وأبو الدرداء، وسعد بن أبي وقاص، وأبو سعيد الخدري، وأبو صفية رضي الله عنهم.
1 - الأثر عن علي رضي الله عنه:
قال ابن أبي شيبة في: ((المصنف برقم / 7662)): حدّثنا حميد بن عبد الرحمن، عن حسن بن موسى القاري عن طلحة بن عبد الله، عن زاذان، قال: ((أخذت من أم يعفور تسابيح لها، فلما أتيت علياً علمني فقال: يا أبا عمر، ارْدُدْ على أم يعفور تسابيح)). انتهى.
2 - عن أبي هريرة رضي الله عنه: وعنه أثران:
أ- عن شيخ من طفاوة، قال: ((تَثَوَّيت أبا هريرة بالمدينة -أي جئته ضيفاً- فَلَمْ أَرَ رجلاً من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أِشَدَّ تَشميراً ولا أقوم علي ضيف منه، فبينما أنا عنده يوماً، وهو على سرير له، معه كيس كبير فيه حصى، أو نوى، وأسفل منه جارية سوداء، وهو يسبح بها، حتى أنفذ ما في الكيس
দ্বিতীয় প্রকার: মৌনসম্মতি (إقرار) বিষয়ক বর্ণনা (أثر) সমূহ:এগুলো ছয়জন সাহাবী থেকে বর্ণিত, তাঁরা হলেন: আলী ইবনে আবু তালিব, আবু হুরায়রা, আবু দারদা, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আবু সাঈদ আল-খুদরি এবং আবু সাফিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
1 - আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (أثر):
ইবনে আবি শাইবাহ মুসান্নাফ গ্রন্থে (হাদিস নং ৭৬৬২) বলেন: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুসা আল-ক্বারি থেকে, তিনি তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি জাযান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি উম্মে ইয়াফুর থেকে তাঁর তসবিহ গণনার সামগ্রী নিয়েছিলাম। এরপর যখন আমি আলীর নিকট আসলাম, তিনি আমাকে বিষয়টি শিখিয়ে দিলেন এবং বললেন: হে আবু উমর, তসবিহগুলো উম্মে ইয়াফুরকে ফিরিয়ে দাও।" সমাপ্ত।
2 - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তাঁর থেকে দুইটি বর্ণনা (أثر) বর্ণিত হয়েছে:
ক- তুফাওয়াহর একজন শায়খ (شيخ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মদিনায় আবু হুরায়রার আতিথ্য গ্রহণ করলাম—অর্থাৎ আমি তাঁর মেহমান হিসেবে আসলাম—আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবীদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক ইবাদতে সচেষ্ট এবং মেহমানের প্রতি অধিক যত্নবান আর কাউকে দেখিনি। একদিন আমি তাঁর নিকট থাকাকালীন তিনি তাঁর একটি খাটের ওপর বসা ছিলেন, তাঁর নিকট কঙ্কর অথবা খেজুরের আঁটি ভর্তি একটি বড় থলি ছিল। তাঁর নিচে একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসী ছিল। তিনি সেগুলো দিয়ে তসবিহ পাঠ করছিলেন, যতক্ষণ না থলিতে থাকা বস্তুগুলো শেষ হতো।"
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ألقاه إليها، فَجَمَعَتْهُ، فأعادته في الكيس، فدفعته إليه. . .
رواه أبو داود في: ((سننه 2/ 339)). وابن أبي شيبة في: ((المصنف برقم / 7661)).
وأصله دون ذكر قصة الكيس في: المسند للإمام أحمد، ولدى الترمذي، والنسائي. وأنت ترى أن الرواي له عن أبي هريرة: شيخ من طفاوة لم يُسَمَّ، ولذا قال الحافظ في: ((التقريب)): ((لا يعرف)).
ب- الأثر الثاني عن أبي هريرة رضي الله عنه (1):
((كان يسبح بالنوى المجزع)). أخرجه ابن سعد في: ((الطبقات)). ولم أقف عليه.
3 - أثر أبي الدرداء رضي الله عنه:
عن القاسم بن عبد الرحمن، قال: ((كان لأَبي الدرداء، نوى من نوى العجوة، حسبت عشراً، أو نحوها في كيس، وكان إذا صَلَّى الغداة أفضى على فراشه، فأخذ الكيس، فأخرجهن، واحدة، واحدة، يُسبح بهن، فإذا نَفَذْن، أعادهن،
--------------------------------------------
তিনি সেটি তাঁর (স্ত্রীর) দিকে ছুড়ে দিলেন, এরপর তিনি তা কুড়িয়ে নিলেন এবং থলিতে পুনরায় ভরে দিলেন, তারপর সেটি তাঁকে ফেরত দিলেন...
এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে (২/৩৩৯) এবং ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফে (৭৬৬১ নং ক্রমিকে) বর্ণনা করেছেন।
আর থলির গল্পের উল্লেখ ছাড়াই এর মূল বর্ণনা ইমাম আহমদের মুসনাদ, তিরমিজি এবং নাসায়িতে রয়েছে। আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, আবু হুরায়রা থেকে এর বর্ণনাকারী হলেন: তুফাওয়াহর একজন শাইখ যার নাম উল্লেখ করা হয়নি (لم يسم), আর এ কারণেই হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরিব গ্রন্থে বলেছেন: "অপরিচিত (لا يعرف)"।
খ- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় আছার (أثر) (১):
"তিনি দাগকাটা খেজুরের বিচি দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতেন।" এটি ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)। তবে আমি এর বিস্তারিত অবগত হতে পারিনি।
৩ - আবু দারদা (রা.)-এর আছার (أثر):
কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবু দারদার নিকট আজওয়া খেজুরের কিছু বিচি ছিল, আমার ধারণা দশটি বা তার কাছাকাছি যা একটি থলিতে থাকত। তিনি যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন বিছানায় বসতেন এবং থলিটি নিতেন। এরপর তিনি একে একে সেগুলো বের করতেন এবং তাসবিহ পাঠ করতেন। যখন সেগুলো শেষ হয়ে যেত, তখন তিনি তা পুনরায় ফিরিয়ে রাখতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
واحدة، واحدة، كل ذلك يُسبح بهن)). رواه عبد الله بن الإِمام أحمد في: ((زوائد الزهد)). ولم أر من صرّح بسماع القاسم بن عبد الرحمن الشامي مولى جويرية بنت أبي سفيان، من أبي الدرداء الصحابي لأَنه إن لم يسمع منه فهو أثر منقطع.
4 - أثر سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه:
عن حكيم بن الديلمي: ((أن سعداً كان يسبح بالحصى)). رواه ابن سعد في: ((الطبقات)) وأحمد في: ((الزهد)) وفيه انقطاع فإن حكيم بن الديلمي لم يرو عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه، ورواه ابن أبي شيبة في: ((المصنف برقم / 7659)) بسنده عن حكيم بن الديلمي، عن مولاة لسعد: ((أن سعداً يسبح بالحصى أو النوى)). ومولاة سعد هذه مجهولة.
5 - الأثر عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه:
قال السيوطي - رحمه الله تعالى - (1):
--------------------------------------------
((একটি একটি করে, এ সবগুলোর মাধ্যমেই তিনি তাসবিহ পাঠ করতেন))। ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ এটি জাওয়াইদুজ জুহদ-এ বর্ণনা করেছেন। আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি জুওয়াইরিয়া বিনতে আবি সুফিয়ানের আযাদকৃত দাস কাসিম ইবন আবদুর রহমান আশ-শামির সাহাবি আবু দারদা থেকে শ্রবণ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; কেননা যদি তিনি তাঁর থেকে শ্রবণ না করে থাকেন, তবে এটি একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) আসার (أثر)।
৪ - সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর আসার (أثر):
হাকিম ইবনুদ দাইলামি থেকে বর্ণিত: ((সাদ কাঁকর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতেন))। ইবন সাদ এটি তাবাকাত-এ এবং আহমদ জুহদ-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে, কেননা হাকিম ইবনুদ দাইলামি সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেননি। ইবন আবি শায়বা এটি মুসান্নাফ-এ (নং ৭৬৫৯) তাঁর সনদে হাকিম ইবনুদ দাইলামি থেকে, তিনি সাদের এক আযাদকৃত দাসী থেকে বর্ণনা করেছেন: ((সাদ কাঁকর অথবা খেজুরের আঁটি দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতেন))। আর সাদের এই দাসীটি অজ্ঞাত (مجهولة)।
৫ - আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আসার (أثر):
সুয়ূতি—রহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেছেন (১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুবহাতু তারিখুহা ওয়া হুকমুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
((وأخرج ابن أبي شيبة عن أبي سعيد الخدري، أنه كان يسبح بالحصى)) انتهى.
والذي في: ((مصنف ابن أبي شيبة برقم / 7660)): ((حدثنا يحيى بن سعيد، عن عبيد الله، عن ابن الأخنس، قال: حدثني مولى لأَبي سعيد، عن أبي سعيد، أنه كان يأخذ ثلاث حصيات فيضعهن على فخذه فيسبح، فيضع واحدة، ثم يسبح ويضع أخرى، ثم يسبح ويضع أخرى، ثم يُرْفَعْنَ، ويضع مثل ذلك، وقال: لا تسبحوا بالتسبيح صفيراً)) انتهى.
6 - الأثر عن أبي صفية رضي الله عنه مولى النبي صلى الله عليه وسلم (2):
عن يونس بن عبيد عن أمه، قالت: ((رأيت أبا صفية، رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وكان جارنا، قالت: فكان يسبح بالحصى)).
رواه الإِمام أحمد في: ((الزهد)) و ((العلل / 711)) وفي: ((المنحة)) للسيوطي، قال: ((وفي جزء هلال الحفار و ((معجم الصحابة)) للبغوي
--------------------------------------------
((ইবন আবি শাইবা আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কঙ্কর দ্বারা তাসবিহ পাঠ করতেন)) সমাপ্ত।
আর যা: ((মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, নম্বর ৭৬৬০))-এ রয়েছে: ((ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনুল আখ্নাস থেকে, তিনি বলেন: আবু সাঈদের জনৈক আযাদকৃত দাস (مولى) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ থেকে যে, তিনি তিনটি কঙ্কর নিতেন এবং সেগুলো তাঁর উরুর ওপর রাখতেন। অতঃপর তাসবিহ পাঠ করতেন এবং একটি রাখতেন, পুনরায় তাসবিহ পাঠ করতেন এবং অন্যটি রাখতেন, পুনরায় তাসবিহ পাঠ করতেন এবং অপরটি রাখতেন। এরপর সেগুলো তুলে নেওয়া হতো এবং তিনি পুনরায় তদ্রূপ করতেন। তিনি বলতেন: তোমরা শিস দেওয়ার মতো শব্দ করে তাসবিহ পাঠ করো না)) সমাপ্ত।
৬ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস (مولى) আবু সাফিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আসার (أثر) (২):
ইউনুস ইবন উবাইদ তাঁর মা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত আবু সাফিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যিনি আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন। তিনি বলেন: তিনি কঙ্কর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করতেন))।
ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন: 'কিতাবুয যুহদ' ও 'আল-ইলাল (৭১১)'-এ এবং সুয়ুতির 'আল-মিনহা' গ্রন্থে। তিনি বলেছেন: ((এটি হিলাল আল-হাফফার-এর জুয (جزء) এবং বাগাভির 'মু'জাম আস-সাহাবা' গ্রন্থেও রয়েছে))
--------------------------------------------