(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
مباحث في إعجاز القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: مباحث في إعجاز القرآن
المؤلف: د مصطفى مسلم
الناشر: دار القلم - دمشق
الطبعة: الثالثة، 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 320
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
কুরআনের মুজিজা বিষয়ক আলোচনা বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
গ্রন্থ: কুরআনের মুজিজা বিষয়ক আলোচনা
লেখক: ড. মোস্তফা মুসলিম
প্রকাশক: দারুল কলাম - দামেস্ক
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الثالثةإن الحمد لله أحمده وأستعينه وأسترشده وأصلي وأسلم على نبيه المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه البررة الأطهار ومن تبعهم بإحسان واقتفى أثرهم إلى يوم الدين.
وبعد:
فقد كان من فضل الله عليّ وإنعامه أن كتب لهذا الكتاب شيئا من القبول والرواج في بعض الجامعات وطلبت بعض الجهات ترجمته إلى بعض اللغات، وطلبت بعض دور النشر إعادة طباعته. ولما كانت تجربتي سابقة مع دار القلم في دقة الطبع وحسن الإخراج والالتزام بطبع الآيات بخط المصحف وغيرها من المزايا، بالإضافة إلى الاستقامة في التعامل المعروف بها صاحبها الأستاذ محمد علي دولة- حفظه الله- رأيت إيثارها على غيرها من دور النشر، دعما لجهودها في خدمة الشريعة الإسلامية عامة وخدمة كتاب الله خاصة. فأسأل الله سبحانه وتعالى أن يكلل مساعيها بالنجاح وأن يثبت القائمين عليها على النهج القويم.
ولا يفوتني أن أقول: إن هذه الطبعة (الثالثة) قد زيد فيها في مبحث الإعجاز الغيبي بعض القضايا والأمثلة التي رأيت ضرورة إضافتها. والله أسأل أن يوفقنا لخدمة كتابه، وأن يجعل عملنا صالحا لوجهه الكريم، وأن يجعل ما نقول ونكتب حجة لنا لا علينا وأن يفيد به طلاب العلم، وأن لا يحرمنا من دعواتهم الصالحة في ظهر الغيب.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
المؤلف
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত ও সঠিক পথের দিশা চাচ্ছি। আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত তাঁর নবী এবং তাঁর পুণ্যবান ও পবিত্র পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের প্রতি।
অতঃপর:
এটা আমার প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও নিআমত যে, তিনি এই গ্রন্থটিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবুলিয়াত ও বিশেষ প্রসিদ্ধি দান করেছেন। কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদের অনুরোধ জানিয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকাশনী এটি পুনর্মুদ্রণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মুদ্রণের নির্ভুলতা, চমৎকার অঙ্গসজ্জা এবং কুরআনের আয়াতসমূহকে মুসহাফের লিপিতে মুদ্রণের প্রতিশ্রুতিসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে 'দারুল কলাম'-এর সাথে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় এবং এর স্বত্বাধিকারী জনাব মুহাম্মদ আলী দাওলা—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—তাঁর সততা ও লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য সুপরিচিত হওয়ায়, আমি ইসলামী শরীয়াহর সার্বিক খিদমত এবং বিশেষভাবে আল্লাহর কিতাবের খিদমতে তাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাতে অন্যান্য প্রকাশনীর তুলনায় একেই অগ্রাধিকার প্রদান করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের এই প্রচেষ্টাকে সফল করেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঠিক পথে অবিচল রাখেন।
আমি আরও উল্লেখ করছি যে, এই (তৃতীয়) সংস্করণে অদৃশ্যের অলৌকিকত্ব (الإعجاز الغيبي) বিষয়ক আলোচনায় কিছু নতুন বিষয় ও উদাহরণ সংযোজন করা হয়েছে, যা আমি যোগ করা প্রয়োজনীয় মনে করেছি। আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের তাঁর কিতাবের খিদমত করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের সকল আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমরা যা বলি ও লিখি, তিনি যেন সেগুলোকে আমাদের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে কবুল করেন—বিপক্ষে নয়, এবং এর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারীদের (طلاب العلم) উপকৃত করেন। আর অগোচরে তাদের নেক দুআ থেকে যেন আমাদের বঞ্চিত না করেন।
আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লেখক
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:
فإن عودة المسلمين إلى كتاب ربهم في العقود الأخيرة من هذا القرن أصبحت حقيقة واقعة والإقبال على الدراسات القرآنية أصبحت ظاهرة لافتة للنظر، وافتتاح مدارس تحفيظ القرآن وإقامة الحلقات المسجدية لمدارسة القرآن الكريم ونشر علومه عمت بلاد المسلمين.
وانطلقت الصحوة الإسلامية في أقطار الأرض تكتسح الجامعات والطبقات الاجتماعية المختلفة وعلى رأسها طبقات الشباب، وأدرك المسلمون أن لا مكان لهم على وجه الأرض ما لم يحددوا هويتهم الحضارية ويثبتوا استقلالهم الفكري ويثبتوا شخصيتهم وذاتهم وأدركوا أن ذلك لا يتم إلا بالعودة إلى المنهل الصافي والمورد العذب إلى الوحي الإلهي من الكتاب والسنّة.
ولما كان التطبيق العملي لهدايات القرآن الكريم لا يتم إلا بعد فهم نصوصه والإحاطة بتوجيهاته، كان لزاما على علماء المسلمين عامة وعلى المتخصصين في علوم القرآن الكريم خاصة أن يتناولوا كل ما يتصل بالقرآن الكريم من حيث الشكل والمضمون، ومن حيث الأداء والترتيل، ومن حيث الفهم والاستنباط، فإن ذلك كله مقومات ومقدمات للالتزام والتطبيق.
ولئن كانت تلك الدراسات والجهود تتم على مستوى الأفراد والمؤسسات العلمية والأصعدة الشعبية، فإن المستويات الرسمية والدول لا زالت تتوجس خيفة من الالتزام بهدايات القرآن في أنظمة الدولة السياسية
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই শতাব্দীর শেষ কয়েক দশকে মুসলমানদের তাদের রবের কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন একটি বাস্তব সত্যে পরিণত হয়েছে এবং কুরআন বিষয়ক গবেষণার প্রতি আগ্রহ একটি লক্ষণীয় বিষয়ে রূপ নিয়েছে। কুরআন হিফজ করার মাদরাসা উদ্বোধন এবং পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন ও এর জ্ঞানসমূহ প্রসারের লক্ষে মসজিদে মসজিদে ইলমি হালকাসমূহ প্রতিষ্ঠা মুসলিম দেশগুলোতে পরিব্যাপ্ত হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামী জাগরণ শুরু হয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং বিভিন্ন সামাজিক স্তরকে প্লাবিত করেছে, যার অগ্রভাগে রয়েছে যুব সমাজ। মুসলিমরা অনুধাবন করেছে যে, পৃথিবীতে তাদের কোনো স্থান নেই যতক্ষণ না তারা তাদের তামাদ্দুনিক পরিচয় নির্ধারণ করবে, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা প্রমাণ করবে এবং তাদের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও অস্তিত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। তারা আরও বুঝতে পেরেছে যে, কিতাব ও সুন্নাহর ঐশী ওহীরূপী স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট প্রস্রবণের দিকে প্রত্যাবর্তন ব্যতিরেকে এটি সম্ভব নয়।
যেহেতু পবিত্র কুরআনের হিদায়াতসমূহের বাস্তব প্রয়োগ এর মূল পাঠসমূহ (نصوص) অনুধাবন এবং এর দিকনির্দেশনাগুলো আয়ত্ত করা ব্যতীত সম্ভব নয়, তাই সাধারণ মুসলিম আলেমদের ওপর এবং বিশেষ করে উলুমুল কুরআন বা কুরআন বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞদের ওপর এটি আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে যে, তারা পবিত্র কুরআনের অবয়ব ও বিষয়বস্তু, তিলাওয়াত ও তারতীল (ترتيل) এবং অনুধাবন ও মাসআলা আহরণ (استنباط) সংক্রান্ত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। কারণ এ সবই হলো এর প্রতি দায়বদ্ধতা ও বাস্তবায়নের মৌলিক উপাদান ও উপক্রমণিকা।
যদিও এই সমস্ত গবেষণা ও প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত পর্যায়ে, প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এবং জনপরিসরে পরিচালিত হচ্ছে, তবে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রগুলো তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কুরআনের হিদায়াতসমূহ মেনে চলার ক্ষেত্রে এখনও এক প্রকার শঙ্কা পোষণ করছে।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
والاقتصادية والاجتماعية في السلم والحرب لا إنكارا وجحودا للهدايات القرآنية وصلاحيتها لكل زمان ومكان، ولكن خوفا على مصالحهم وعلى مناصبهم وهيئاتهم من المتنفذين في مصير الدول والشعوب من طواغيت الكفر، ولو اطمأن هؤلاء الحكام إلى وعد ربهم وأيقنوا حتمية سننه في مخلوقاته لبادروا إلى التطبيق والالتزام.
يقول جل جلاله: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصارى أَوْلِياءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِياءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (51) فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشى أَنْ تُصِيبَنا دائِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِنْ عِنْدِهِ فَيُصْبِحُوا عَلى ما أَسَرُّوا فِي أَنْفُسِهِمْ نادِمِينَ (52) وَيَقُولُ الَّذِينَ آمَنُوا أَهؤُلاءِ الَّذِينَ أَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمانِهِمْ إِنَّهُمْ لَمَعَكُمْ حَبِطَتْ أَعْمالُهُمْ فَأَصْبَحُوا خاسِرِينَ (53) يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكافِرِينَ يُجاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا يَخافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ ذلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشاءُ وَاللَّهُ واسِعٌ عَلِيمٌ (54) إِنَّما وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكاةَ وَهُمْ راكِعُونَ (55) وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغالِبُونَ (56) [المائدة: 51 - 56].
ولما كان موضوع إعجاز القرآن من الموضوعات الحيوية المتجددة لتعلقه بصحة الرسالة وصدق الرسول الذي جاء بها، وإقامة الحجة والبرهان في كل عصر وعلى الناس قاطبة في كل مكان، بما يتناسب مع مدارك الناس العلمية ومعطيات الحضارة والتقدم العلمي، فإن التأليف فيه قد كثر وشمل المجالات العامة والتخصصية.
ولما نفذت الطبعة الأولى من كتاب (مباحث في إعجاز القرآن) رأيت إعادة طباعته ثانية بعد إعادة النظر في بعض مباحثه وزيادة بعض فقراته واستدراك الأخطاء المطبعية في الطبعة الأولى وذلك مساهمة في الجهود المبذولة لخدمة كتاب الله، وإقامة الحجة على المتقاعسين عن تطبيق هداياته وتسليحا للدعاة إلى الله بسلاح المعرفة القرآنية في معركتهم مع أعداء القرآن
শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে [কুরআনি বিধান প্রয়োগ না করা] কুরআনি হিদায়াত এবং সকল সময়ের জন্য এর উপযোগিতার প্রতি অস্বীকৃতি বা অবজ্ঞাবশত নয়; বরং রাষ্ট্র ও জনগণের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী কুফরি শক্তির প্রতাপশালীদের পক্ষ থেকে নিজেদের স্বার্থ, পদমর্যাদা ও কর্তৃত্ব হারানোর ভয়ে। যদি এই শাসকরা তাদের রবের প্রতিশ্রুতির ওপর আশ্বস্ত হতো এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর অমোঘ বিধানের অনিবার্যতা সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত, তবে তারা [কুরআনি বিধান] বাস্তবায়ন ও অনুসরণে অগ্রণী হতো।
মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। (৫১) অতঃপর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তুমি তাদেরকে তাদের (কাফিরদের) সাথে মিলিত হওয়ার জন্য দ্রুত ছুটতে দেখবে; তারা বলে, 'আমরা আশঙ্কা করি যে পাছে কোন বিপদ আমাদের আক্রান্ত করে।' শীঘ্রই আল্লাহ বিজয় দান করবেন কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু দেবেন যাতে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন করেছিল সেজন্য লজ্জিত হবে। (৫২) আর মুমিনগণ বলবে, 'এরাই কি তারা যারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করেছিল যে তারা তোমাদের সাথেই আছে?' তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে, ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (৫৩) হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজ ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, শীঘ্রই আল্লাহ এমন এক জাতি নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি হবে কোমল আর কাফিরদের প্রতি হবে কঠোর; তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। (৫৪) তোমাদের প্রকৃত বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ—যারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং তারা বিনয়াবনত (রুকুকারী)। (৫৫) আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহর দল এবং আল্লাহর দলই বিজয়ী।" (৫৬) [আল-মায়িদাহ: ৫১-৫৬]।
যেহেতু কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়টি একটি প্রাণবন্ত ও চিরনতুন বিষয়—কারণ এটি রিসালাতের বিশুদ্ধতা এবং যে রাসূল এটি নিয়ে এসেছেন তাঁর সত্যতার সাথে সম্পৃক্ত; এবং প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি স্থানে সমগ্র মানুষের জন্য তাদের বৈজ্ঞানিক উপলব্ধি, সভ্যতার অবদান ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করে; তাই এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা সাধারণ ও বিশেষায়িত উভয় ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
যখন 'মাবাহিছ ফি ই'জাজিল কুরআন' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে গেল, তখন আমি এর কিছু বিষয় পুনঃনিরীক্ষণ, কিছু অনুচ্ছেদ বৃদ্ধি এবং প্রথম সংস্করণের মুদ্রণজনিত ভুলসমূহ সংশোধনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার এটি মুদ্রণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। আল্লাহর কিতাবের খিদমতে নিয়োজিত প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ, যারা এর হিদায়াত বাস্তবায়নে বিমুখ তাদের ওপর প্রমাণ উপস্থাপন এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদেরকে তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক লড়াইয়ে কুরআনি জ্ঞানের অস্ত্রে সজ্জিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
وامتثالا لقول الله تعالى: فَلا تُطِعِ الْكافِرِينَ وَجاهِدْهُمْ بِهِ جِهاداً كَبِيراً (52) [الفرقان: 52].
وأشكر للقائمين على دار المسلم وعلى رأسهم الأخ الدكتور عمر المديفر اهتمامهم بالكتاب وإخراجه اللائق بمضمونه.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الرياض في 18 شعبان 1415 هـ المؤلف
এবং মহান আল্লাহ তায়ালার বাণীর বাস্তবায়নে: "সুতরাং আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং এর (কুরআনের) মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে এক মহা সংগ্রামে লিপ্ত হোন।" (৫২) [আল-ফুরকান: ৫২]।
আমি 'দারুল মুসলিম'-এর দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং বিশেষভাবে ভ্রাতৃবর ডক্টর উমর আল-মুদাইফির-এর প্রতি, কিতাবটির প্রতি তাদের সবিশেষ গুরুত্বারোপ এবং এর বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুন্দর অবয়বে তা প্রকাশের জন্য।
আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
রিয়াদ, ১৮ শাবান ১৪১৫ হিজরি — লেখক
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
بين يدي المباحثإن الحمد لله أحمده وأستعينه وأسترشده، وأعوذ بالله من شرور نفسي ومن سيئات عملي.
وأصلي وأسلم على المبعوث رحمة للعالمين الذي جاء بالمحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك.
ورضي الله عن الآل والأصحاب البررة الذين قاموا بالقرآن آناء الليل وأطراف النهار، وحملوا راية الجهاد لنشر تعاليم القرآن في الآفاق فكانوا جيل الشهادة.
وبعد:
فلما قرر تدريس مادة (إعجاز القرآن) في قسم القرآن وعلومه في كلية أصول الدين بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، أسند إليّ تدريس هذه المادة، وكانت فقرات المنهج المقرّر قريبة من محتوى رسالتي (إعجاز القرآن) التي تقدمت بها لنيل شهادة الدكتوراة من كلية أصول الدين بالأزهر، قمت بمراجعة المباحث الموجودة في الرسالة وأعدت فيها النظر اختصارا وإضافة لتتناسب وفقرات المنهج المقرر، ثم رأيت نشر هذه المباحث لتعم بها الفائدة إن شاء الله تعالى.
أما الرسالة الأم فإني بصدد إعادة النظر في بعض مباحثها وخاصة ما يتعلق منها بالإعجاز العلمي، ولعلها تقدم للنشر قريبا بإذن الله تعالى.
المؤلف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আলোচনার উপক্রমণিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট সঠিক পথের দিশা চাই। আর আমি আমার নফসের অনিষ্টতা এবং আমার মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত সেই মহান সত্তার প্রতি, যিনি এক সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা নিয়ে এসেছেন যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর পুণ্যবান পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি, যারা রাত-দিনের বিভিন্ন প্রহরে কুরআন নিয়ে দণ্ডায়মান হতেন এবং দিগন্তজুড়ে কুরআনের শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে জিহাদের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন, ফলে তাঁরা ছিলেন এক সাক্ষী প্রজন্ম।
অতঃপর:
যখন রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদের ‘কুরআন ও কুরআন বিজ্ঞান’ বিভাগে ‘ইজাজুল কুরআন’ (কুরআনের অলৌকিকত্ব) বিষয়টি পাঠদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তখন এই বিষয়টি পড়ানোর দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করা হলো। নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো আমার সেই গবেষণাপত্র (ইজাজুল কুরআন)-এর বিষয়বস্তুর কাছাকাছি ছিল, যা আমি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য পেশ করেছিলাম। আমি আমার গবেষণাপত্রের বিদ্যমান আলোচনাগুলো পর্যালোচনা করলাম এবং নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংক্ষিপ্তকরণ ও পরিমার্জন করে তা পুনরায় বিন্যাস করলাম। এরপর আমি এই আলোচনাগুলো প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার সাধারণ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
মূল গবেষণাপত্রটির ব্যাপারে কথা হলো—আমি বর্তমানে এর কিছু অধ্যায়, বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনঃনিরীক্ষণ করছি। সম্ভবত অচিরেই তা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় প্রকাশের জন্য পেশ করা হবে।
লেখক
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة في مكانة الإنسان بين المخلوقاتالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله.
وبعد، فقد خلق الله سبحانه وتعالى الإنسان كرّمه على سائر المخلوقات، وتتجلى صور التكريم في:
1 - خلقه: القوام المتناسق في أحسن تقويم: لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ (4) [التين: 4].
يتجلى ذلك في: (انتصاب القامة، الجمجمة، اليدين وتركيب الأصابع، والرجلين، الوجه ..... ).
2 - خلقه: الفطرة التي فطر الله الإنسان عليها بمعنى الاستعداد للرقيّ والكمالات الروحية والخلقية، لديه الاستعداد للتسامي ليكون في أعلى عليين، ولديه الاستعداد ليكون في أسفل سافلين من دركات الانحطاط النفسي والخلقي فيكون أخبث الموجودات.
إن الإنسان لديه الاستعداد لأن يتصف بالحقد والحسد والغش والكبر والرياء والطمع والبطر والخيلاء والضعف والمداهنة والمكر .. ولديه الاستعداد ليتصف بأضداد هذه الخصال.
ويمكنه أن يشغل أكثر من حيز بين هذه الأوصاف أو يخلط بينها.
بينما لا يتصف الحيوان في الغالب إلا بصفة من هذه الصفات.
3 - ملكة البيان: قال تعالى: الرَّحْمنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ (2) خَلَقَ الْإِنْسانَ (3) عَلَّمَهُ الْبَيانَ (4) [الرحمن: 1 - 4].
সৃষ্টিজগতসমূহের মাঝে মানুষের মর্যাদার ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে অন্যান্য সকল সৃষ্টির ওপর সম্মানিত করেছেন। এই সম্মানের রূপসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে প্রকাশ পায়:
1 - তার সৃষ্টি: সর্বোত্তম অবয়বে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক গঠন: "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে" (৪) [আত-তীন: ৪]।
তা প্রকাশ পায়: (সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গি, খুলি, হাত ও আঙুলের বিন্যাস, দুই পা, মুখমণ্ডল...)।
2 - তার সৃষ্টি: সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক উৎকর্ষ ও পূর্ণতা অর্জনের যোগ্যতা। তার মাঝে সুউচ্চ মর্যাদায় আরোহণের যোগ্যতা রয়েছে, আবার মানসিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের অতল গহ্বরে গিয়ে নিকৃষ্টতম সত্তায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও বিদ্যমান।
মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ, হিংসা, প্রতারণা, অহংকার, লোকদেখানো মানসিকতা, লোভ, দম্ভ, গর্ব, দুর্বলতা, তোষামোদ এবং চাতুরীর মতো গুণাবলীতে ভূষিত হওয়ার যেমন যোগ্যতা রয়েছে, তেমনি এসবের বিপরীত গুণাবলীতে ভূষিত হওয়ারও সামর্থ্য রয়েছে।
সে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাঝে একাধিক অবস্থা ধারণ করতে পারে অথবা এগুলোর সংমিশ্রণ ঘটাতে পারে।
অন্যদিকে, প্রাণিকুল সাধারণত এই গুণগুলোর কোনো একটির মাধ্যমেই কেবল বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।
3 - ভাব প্রকাশের ক্ষমতা: মহান আল্লাহ বলেন: "পরম করুণাময় (১) তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন (২) তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ (৩) তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে (৪)" [আর-রহমান: ১-৪]।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
إن القدرة على التعبير عما في النفس من خصائص الإنسان الكبرى سواء كان المراد التعبير عن الحاجات العضوية من الطعام والشراب، أو عن الأفكار والمبادئ والمعتقدات، أو التعبير عن العواطف والمشاعر.
أما الحيوانات فلا تصدر إلا بعض الأصوات للتعبير عن حاجة ما، ومن الصعوبة بمكان تعويده على بعض الأصوات للتعبير عن عادات، أو ربطها ببعض الظروف فتكون رد فعل على بعض التصرفات الموجهة إليه.
ولا يقاس هذا بما لدى الإنسان من النطق بحروف الهجاء التي يستطيع بواسطتها من تركيب كلمات وإيجاد ألفاظ ليتحدث بأي لغة من لغات العالم بها.
4 - علمه: إن الاستعداد الفطري لدى الإنسان لتلقي العلوم واستيعابها ثم تحليلها والاستنتاج منها أو تركيبها وإدراك القوانين المتبعة في سنن الكون والحياة، واستخلاص العبر من أحداث التاريخ ورسم الخطا للمستقبل، وتسخير سنن الله في الكون لمصالحه المادية والمعنوية.
كل ذلك يجعله سيد المخلوقات وإطلاق العنان لطاقاته في تسخير الكون لصالحه ولا يزال الإنسان جاهدا في إدراك أسرار هذا الكون في الآفاق والأنفس يقول تعالى: عَلَّمَ الْإِنْسانَ ما لَمْ يَعْلَمْ (5) [العلق: 5]، ويقول سبحانه وتعالى: وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْماءَ كُلَّها [البقرة: 31]، ويقول عز من قائل: أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظاهِرَةً وَباطِنَةً [لقمان: 20].
5 - إرادته وطرق الخيار لديه: كلما اتسعت دائرة العلم لدى الكائن الحي اتسع مجال الاختيار عنده ولما كان الإنسان أكثر علما فهو أوسع إرادة لذا فهو يستطيع أن يتصرف أمام الحادث الواحد بأكثر من أسلوب ويستطيع اختيار الطريق الأنسب لمصالحه وتحقيق رغباته.
فإذا جوبه بالاعتداء عليه: قد ينتقم أو يعفو، وقد يكظم غيظه أو
মনের গহীনে লুকায়িত বিষয়াবলি প্রকাশ করার ক্ষমতা মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য; চাই তা খাদ্য ও পানীয়ের মতো জৈবিক চাহিদা প্রকাশের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা চিন্তা, আদর্শ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে হোক অথবা আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে হোক।
পক্ষান্তরে প্রাণীরা কেবল কোনো একটি বিশেষ প্রয়োজন প্রকাশের জন্য কিছু আওয়াজ করে থাকে। কোনো অভ্যাসের বহিঃপ্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শব্দে তাদের অভ্যস্ত করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার, কিংবা কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সাথে সেই শব্দগুলোকে সংশ্লিষ্ট করা যাতে তা তাদের প্রতি পরিচালিত নির্দিষ্ট কোনো আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গণ্য হয়।
আর একে মানুষের বর্ণমালার উচ্চারণের সাথে তুলনা করা যায় না, যার সাহায্যে মানুষ শব্দ গঠন করতে এবং বিভিন্ন পদের অবতারণা করতে পারে যাতে সে বিশ্বের যেকোনো ভাষায় কথা বলতে সক্ষম হয়।
৪ - তার জ্ঞান: জ্ঞান অর্জন করা এবং তা অনুধাবন করা, অতঃপর তা বিশ্লেষণ করা ও তা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অথবা নতুন তথ্য গঠন করা এবং মহাবিশ্ব ও জীবনের নিয়মে অনুসৃত বিধিবিধানগুলো উপলব্ধি করা, ইতিহাসের ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা, আর মহাবিশ্বে আল্লাহর সুন্নাত বা নিয়মাবলিকে নিজের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক স্বার্থে নিয়োজিত করার যে সহজাত সক্ষমতা মানুষের রয়েছে।
এই সবকিছুই তাকে সৃষ্টির সেরা মর্যদা দান করে এবং মহাবিশ্বকে নিজের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য তার শক্তিসমূহকে অবারিত করে দেয়। মানুষ সর্বদা সৃষ্টিজগতের দিগন্তসমূহে এবং নিজ সত্তার গহীনে লুকিয়ে থাকা রহস্যসমূহ উদ্ঘাটনে সচেষ্ট রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না” (৫) [আল-আলাক: ৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: “আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন” [আল-বাকারা: ৩১]। মহান দাতা আরও বলেন: “তোমরা কি দেখ না যে, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন?” [লুকমান: ২০]।
৫ - তার ইচ্ছা এবং পছন্দের পথসমূহ: কোনো জীবন্ত সত্তার জ্ঞানের পরিধি যত বিস্তৃত হয়, তার নির্বাচনের ক্ষেত্রও তত প্রশস্ত হয়। যেহেতু মানুষ সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, তাই তার ইচ্ছাশক্তিও অধিকতর ব্যাপক। ফলে সে কোনো একটি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একাধিক পদ্ধতিতে আচরণ করতে পারে এবং নিজের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পথটি বেছে নিতে সক্ষম হয়।
সুতরাং যখন সে কোনো আক্রমণের শিকার হয়: সে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারে অথবা ক্ষমা করে দিতে পারে, আবার সে নিজের রাগ সংবরণ করতে পারে অথবা
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يظهره، وقد يداري في وقت ليترك الانتقام إلى الفرصة المؤاتية، وقد يجبن ويتخاذل ويستسلم، وقد يردّ بالمثل أو يطغى، وقد يترفع في الرد أو يسف، إلا أن مواقف الحيوان محدودة ولا يكون في الغالب إلا تصرف واحد تجاه الحادث الذي يتعرض له.
يقول تعالى: إِنَّا هَدَيْناهُ السَّبِيلَ إِمَّا شاكِراً وَإِمَّا كَفُوراً (3) [الإنسان: 3] إن الإنسان الذي خلقه الله سبحانه وتعالى بهذه المثابة وأودع فيه هذه الطاقات والقدرات وأكرمه هذا التكريم وجعل له السيادة على مخلوقاته لم يخلقه عبثا ولن يتركه هملا يقول تعالى: أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّما خَلَقْناكُمْ عَبَثاً وَأَنَّكُمْ إِلَيْنا لا تُرْجَعُونَ (115) [المؤمنون: 115] ويقول عز وجل: أَيَحْسَبُ الْإِنْسانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدىً (36) [القيامة: 36] إن كل ميزة تقابلها مسئولية وتكليف وعلى قدر عظم نعم الخالق سبحانه وتعالى على المخلوق تأتي التكاليف بأمور العبودية يقول تعالى: إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمانَةَ عَلَى السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَها وَأَشْفَقْنَ مِنْها وَحَمَلَهَا الْإِنْسانُ إِنَّهُ كانَ ظَلُوماً جَهُولًا (72) [الأحزاب: 72].
إن الأمانة كما فسرها كثير من المفسرين هي تكاليف العبودية لله سبحانه وتعالى: إذن السيادة على الكون، والتكريم بالطاقات والقدرات قوبلت بحمل تكاليف العبودية والاستخلاف في الأرض، وَما خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56) [الذاريات: 56] وكلما حقق الإنسان صفة العبودية في نفسه لله سبحانه وتعالى، كان أقرب إلى الوفاء بأداء مستلزمات الأمانة وإيفاء العهد والقيام بالدور المنوط به، وكلما ابتعد عن صفات العبودية لله تعالى كان تقصيره وتقاعسه في أداء دوره الذي خلق من أجله.
لهذا نجد الآيات الكريمة تخاطب سيد الأنبياء والمرسلين في مقامات التكريم والقرب بصفة العبودية يقول تعالى: سُبْحانَ الَّذِي أَسْرى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بارَكْنا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آياتِنا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (1) [الإسراء: 1] ويقول جل شأنه: عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوى
তিনি তা প্রকাশ করেন, কখনও কখনও তিনি উপযুক্ত সুযোগের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে নিজেকে সংবরণ করেন, কখনও কাপুরুষতা দেখান, পিছু হটেন ও আত্মসমর্পণ করেন, কখনও সমান উত্তর দেন কিংবা সীমা লঙ্ঘন করেন, কখনও উত্তরে মহত্ত্ব প্রদর্শন করেন আবার কখনও নিম্নরুচি প্রকাশ করেন; তবে প্রাণীর প্রতিক্রিয়া সীমিত এবং সচরাচর কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার আচরণ কেবল এক ধরনেরই হয়ে থাকে।
মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি; হয় সে কৃতজ্ঞ (شاكراً) হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ (كفوراً) হবে।" [সূরা ইনসান: ৩] নিশ্চয়ই মানুষ, যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই বিশেষ মর্যাদায় সৃষ্টি করেছেন এবং যার মধ্যে এই শক্তি ও সক্ষমতা নিহিত রেখেছেন, যাকে এই সম্মান দান করেছেন এবং তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তাকে তিনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি এবং তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেবেন না। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?" [সূরা মুমিনুন: ১১৫] এবং মহিয়ান আল্লাহ বলেন: "মানুষ কি মনে করে যে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে (سدى) ছেড়ে দেওয়া হবে?" [সূরা কিয়ামাহ: ৩৬] প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা (تكليف) রয়েছে এবং সৃষ্টির ওপর মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নেয়ামতের বিশালতার অনুপাতে বন্দেগির (عبودية) দায়ভার অর্পিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ, জমিন ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত (الأمانة) পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো, আর মানুষ তা বহন করল; নিশ্চয়ই সে অত্যন্ত জালেম ও অতিশয় অজ্ঞ।" [সূরা আহজাব: ७২]।
অনেক মুফাসসিরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আমানত (الأمانة) হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি বন্দেগির দায়বদ্ধতা (تكاليف العبودية)। সুতরাং মহাবিশ্বের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব এবং শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে সম্মাননা প্রদানের বিপরীতে বন্দেগির দায়ভার গ্রহণ এবং পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের (الاستخلاف) দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। "আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার বন্দেগির জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [সূরা যারিয়াত: ৫৬] মানুষ যখনই নিজের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি বন্দেগির (عبودية) গুণাবলী বাস্তবায়ন করে, তখনই সে আমানতের (أمانة) দাবিগুলো পূরণ, অঙ্গীকার রক্ষা এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের অধিক নিকটবর্তী হয়। আর যখনই সে মহান আল্লাহর বন্দেগির গুণাবলী থেকে দূরে সরে যায়, তখনই তার সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য পালনে তার মধ্যে বিচ্যুতি ও স্থবিরতা দেখা দেয়।
এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র আয়াতগুলোতে সম্মান ও নৈকট্যের স্থানসমূহে নবীকুল ও রাসূলকুল শিরোমণিকে বন্দেগির (عبودية) গুণ দ্বারা সম্বোধন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "পরম পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে (عبده) রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখানোর জন্য; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা ইসরা: ১] এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তাকে শিক্ষা দান করেছেন এক শক্তিশালী সত্তা..."
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(5) ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوى (6) ثُمَّ دَنا فَتَدَلَّى (8) فَكانَ قابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنى (9) فَأَوْحى إِلى عَبْدِهِ ما أَوْحى (10) [النجم: 5 - 10] وفي معرض الحديث عن رسالته وتكريمه بإنزال القرآن عليه يقول عز شأنه: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلى عَبْدِهِ الْكِتابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجاً (1) [الكهف: 1]. ويقول: وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (23) [البقرة: 23].
ونجد الآيات الكريمة تصم من ترك مستلزمات العبودية وتنكب لأداء الأمانة ونكص على عقبه بأشد النعوت وتخرجهم عن دائرة الإنسان المكرّم وتلحقه بالدواب والعجماوات، يقول تعالى:* إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لا يَعْقِلُونَ (22) وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْراً لَأَسْمَعَهُمْ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُونَ (23) [الأنفال: 22]. ويقول جل شأنه: لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِها وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لا يُبْصِرُونَ بِها وَلَهُمْ آذانٌ لا يَسْمَعُونَ بِها أُولئِكَ كَالْأَنْعامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولئِكَ هُمُ الْغافِلُونَ [الأعراف: 179]. وقال جل شأنه: مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْراةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوها كَمَثَلِ الْحِمارِ يَحْمِلُ أَسْفاراً بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآياتِ اللَّهِ وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (5) [الجمعة: 5].
وطريق التعرف على الأمانة التي كلّف الإنسان بها والتعرف على تفاصيل التكاليف المنوطة بالإنسان، والتعرف على أسلوب الأداء لهذه التكاليف على أكمل وجه، كل ذلك يتمثل في الصفوة المختارة من البشر لحمل الأمانة العظمى تمثّلها في سلوكهم وحياتهم الخاصة أولا، ثم تبليغها للآخرين دعوة وتطبيقا عمليا ليكونوا القدوة المثلى، والجهاد في سبيلها لحمل الناس على اعتناقها والالتزام بها، إنهم رسل الله عليهم الصلاة والسلام، الذين يمثلون ذروة الكمال البشري، لأنهم يمثلون ذروة العبودية لله تعالى ويقومون بأعظم مهمة في الوجود وهي مهمة إرشاد الإنسان إلى الطريق الصحيح لتحقيق إنسانيته وللإبقاء على الفطرة الإنسانية سليمة من أدران البهيمية، وللأخذ بأيدي الناس إلى طريق الكمالات البشرية.
(৫) শক্তিশালী, অতঃপর সে স্থির হলো (৬), তারপর সে নিকটবর্তী হলো এবং ঝুলে পড়ল (৮), ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম (৯), তখন তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহি করার তা ওহি করলেন (১০) [আন-নাজম: ৫ - ১০]। তাঁর রিসালাত এবং তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করার প্রসঙ্গের আলোচনায় মহান আল্লাহ বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি" (১) [আল-কাহফ: ১]। তিনি আরও বলেন: "আমি আমার বান্দার ওপর যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের আহ্বান করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও" (২৩) [আল-বাকারা: ২৩]।
আমরা দেখতে পাই যে, এই সম্মানিত আয়াতগুলো ওই সমস্ত ব্যক্তিকে কঠোর বিশেষণে বিশেষায়িত করেছে যারা দাসত্বের আবশ্যকতা বর্জন করেছে, আমানত পালনে বিমুখ হয়েছে এবং পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছে। এই আয়াতগুলো তাদের সম্মানিত মানুষের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় এবং তাদের চতুষ্পদ জন্তু ও অবলা প্রাণীর কাতারে শামিল করে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম বিচরণশীল প্রাণী হলো সেই বধির ও বোবারা যারা কিছুই বোঝে না (২২)। আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ দেখতেন তবে তাদের শোনার তাওফিক দিতেন, আর যদি তিনি তাদের শুনাতেন তবুও তারা মুখ ফিরিয়ে নিত বিমুখ হয়ে (২৩)" [আল-আনফাল: ২২-২৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে বোঝে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা তার চেয়েও বেশি বিভ্রান্ত; তারাই হলো গাফেল" [আল-আরাফ: ১৭৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে। সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত কতই না মন্দ যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে; আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না" (৫) [আল-জুমুআ: ৫]।
মানুষকে যে আমানতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা জানার উপায়, মানুষের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহের বিস্তারিত বিবরণ জানা এবং এই দায়িত্বসমূহ সর্বোত্তমভাবে পালন করার পদ্ধতি অবগত হওয়া—এই সব কিছুই সেই মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের মাঝে পরিলক্ষিত হয়, যাদেরকে এই মহান আমানত বহনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁরা প্রথমে তাঁদের আচরণ ও ব্যক্তিগত জীবনে তা বাস্তবায়ন করেছেন এবং পরবর্তীতে দাওয়াত ও ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে অন্যদের নিকট তা পৌঁছে দিয়েছেন, যাতে তাঁরা আদর্শ নমুনা হতে পারেন; এবং সেই পথে জিহাদ করেছেন যাতে মানুষকে তা গ্রহণ ও পালনে উদ্বুদ্ধ করা যায়। তাঁরাই হলেন আল্লাহর রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম), যাঁরা মানবীয় পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরের প্রতিনিধিত্ব করেন। কারণ তাঁরা মহান আল্লাহর প্রতি দাসত্বের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেন এবং এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে মহান দায়িত্ব পালন করেন; আর তা হলো মানুষকে তার মানবতা অর্জনের সঠিক পথ প্রদর্শন করা, মানবীয় স্বভাবকে পশুবৃত্তির কলুষতা থেকে মুক্ত রাখা এবং মানুষকে মানবীয় পূর্ণতার পথে পরিচালিত করা।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
من كل ما تقدم تظهر لنا حاجة الإنسانية إلى الرسالة لتتضح أمامها معالم الرشد والهدى وليعرف الناس الحكمة من إيجادهم، وتظهر الهدايات الربانية لحل مشاكل البشرية، كانَ النَّاسُ أُمَّةً واحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ ما جاءَتْهُمُ الْبَيِّناتُ بَغْياً بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشاءُ إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ (213) [البقرة: 213].
وبما أن الحكمة الإلهية اقتضت أن يكون الرسل بشرا يوحى إليهم، كانت الحاجة إلى آيات ودلائل تبيّن صدقهم فيما يبلّغون عن ربهم، وتقيم الحجة على الناس، لذا كانت المعجزة قرينة الرسالة، ولولا المعجزة لأشكل الأمر على الناس والتبس أمر الصادق بغيره، ولما سلمت الدعوات من مدّعين كاذبين.
وتأييد الرسول بآية صدق سنّة إلهية في رسالات الأنبياء جميعا، والقرآن الكريم يوضح هذه السنة ويقررها كما ورد في قصص الأنبياء والأمم السابقة. ولم يؤاخذ الأقوام عند ما طالبوا رسلهم بالآيات الدالة على صدقهم، إنما آخذهم عند ما عطلوا ملكاتهم العقلية ولم يتدبروا أثر الحكمة والتدبير فيما حولهم، أو أصرّوا على نوع معيّن من الآيات من قبل العناد والجمود على العادات الجاهلية الموروثة من الآباء الذين لم يكونوا على هدى من ربهم.
উপরোক্ত সকল আলোচনা থেকে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, মানবতা নবুওয়াতের মুখাপেক্ষী, যাতে তাদের সামনে সঠিক পথ ও হিদায়াতের নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট হয় এবং মানুষ তাদের সৃষ্টির পেছনের প্রজ্ঞা উপলব্ধি করতে পারে; আর মানবজাতির সমস্যা সমাধানের জন্য খোদায়ী হিদায়াতসমূহ প্রকাশিত হয়। "মানুষ ছিল এক উম্মতভুক্ত, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের পাঠালেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন, যাতে মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তার ফয়সালা করা যায়। আর যাদের তা দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর কেবলমাত্র নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষবশত তারা তাতে মতভেদ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে মুমিনদেরকে সেই সত্যের দিশা দিলেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল পথ (صراط مستقيم) প্রদর্শন করেন।" [আল-বাকারা: ২১৩]
আর যেহেতু খোদায়ী প্রজ্ঞা এটি দাবি করে যে, রাসুলগণ হবেন এমন মানুষ যাদের কাছে ওহী (وحي) পাঠানো হয়, তাই এমন কিছু নিদর্শন ও দলীলের প্রয়োজন ছিল যা তাদের রবের পক্ষ থেকে আনীত বাণীর সত্যতা (صدق) প্রকাশ করবে এবং মানুষের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) পেশ করবে। একারণেই মুজিজা (معجزة) ছিল রিসালাতের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। যদি মুজিজা (معجزة) না থাকত, তবে মানুষের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট থাকত এবং সত্যবাদীর (صادق) সাথে অন্যের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ত; আর দাওয়াহ বা আহ্বানসমূহ মিথ্যাবাদী (كاذب) দাবিদারদের হাত থেকে নিরাপদ থাকত না।
সত্যতার নিদর্শন দ্বারা রাসুলকে সমর্থন প্রদান করা সমস্ত নবীদের রিসালাতের ক্ষেত্রে একটি খোদায়ী রীতি (سنة)। পবিত্র কুরআন এই রীতিকে (سنة) স্পষ্ট করে এবং তা প্রতিষ্ঠিত করে, যেমনটি পূর্ববর্তী নবী ও উম্মতদের কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে। জাতিসমূহ যখন তাদের রাসুলদের কাছে তাদের সত্যতার (صدق) প্রমাণস্বরূপ নিদর্শন দাবি করেছিল, তখন তাদের অভিযুক্ত করা হয়নি; বরং তাদের তখনই পাকড়াও করা হয়েছে যখন তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অকেজো করে দিয়েছিল এবং তাদের চতুষ্পার্শ্বের প্রজ্ঞা ও সুনিপুণ ব্যবস্থাপনার প্রভাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি, অথবা হঠকারিতা ও পিতৃপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জাহেলি প্রথার ওপর অটল থাকার কারণে কোনো নির্দিষ্ট ধরণের নিদর্শনের জন্য পীড়াপীড়ি করেছিল, অথচ তাদের পিতৃপুরুষরা তাদের রবের পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াতের ওপর ছিল না।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول المعجزة
تمهيد:لم يرد في القرآن الكريم ولا في السنة المطهرة مصطلح المعجزة، وإنما ظهر هذا المصطلح في وقت متأخر بعض الشيء عند ما دوّنت العلوم ومنها علوم العقائد، في أواخر القرن الثاني الهجري وبداية الثالث، لذا نجد أن القرآن الكريم قد استعمل كلمة (الآية) في صدد إعطاء الدلائل للرسل عليهم الصلاة والسلام لمحاجّة الأقوام، يقول تعالى: وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمانِهِمْ لَئِنْ جاءَتْهُمْ آيَةٌ لَيُؤْمِنُنَّ بِها قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَما يُشْعِرُكُمْ أَنَّها إِذا جاءَتْ لا يُؤْمِنُونَ (109) [الأنعام: 109].
كما استعمل القرآن الكريم تارة لفظة (البيّنة) كما في قوله تعالى:
قَدْ جاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ هذِهِ ناقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً [الأعراف:
73]، والبينة هي الدلالة الواضحة عقلية كانت أو حسية.
وتارة يستخدم القرآن الكريم لفظة (البرهان)، يقول تعالى: فَذانِكَ بُرْهانانِ مِنْ رَبِّكَ إِلى فِرْعَوْنَ وَمَلَائِهِ إِنَّهُمْ كانُوا قَوْماً فاسِقِينَ [القصص:
32]. والبرهان بيان للحجة وهو أوكد الأدلة ويقتضي الصدق لا محالة (1).
كما يأتي التعبير عن المعجزة أحيانا بالسلطان، قال تعالى:
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة)উপক্রমণিকা:পবিত্র কুরআন কিংবা পবিত্র সুন্নাহর কোথাও অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة) পরিভাষাটি আসেনি। বরং এই পরিভাষাটি কিছুটা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ পেয়েছে যখন জ্ঞানবিজ্ঞানসমূহ বিশেষ করে আকাইদ শাস্ত্র লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়, যা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকের কথা। এজন্য আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআন রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পক্ষে জাতিগুলোর সাথে বিতর্কে দলিল হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে 'নিদর্শন' (الآية) শব্দটি ব্যবহার করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "তারা আল্লাহর নামে অত্যন্ত কঠোর শপথ করে বলে যে, যদি তাদের কাছে কোনো নিদর্শন (آية) আসে তবে তারা অবশ্যই তাতে বিশ্বাস করবে। বলুন, নিদর্শনসমূহ তো কেবল আল্লাহর নিকটেই। আর কিসে তোমাদেরকে সচেতন করবে যে, যখন তা আসবে তখন তারা বিশ্বাস করবে না?" (১০৯) [আল-আনআম: ১০৯]।
আবার পবিত্র কুরআন কখনো 'সুস্পষ্ট প্রমাণ' (البينة) শব্দটিও ব্যবহার করেছে, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে:
"তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) এসেছে। আল্লাহর এই উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন (آية)।" [আল-আরাফ: ৭৩]। আর 'বায়্যিনাহ' বা সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো এমন সুস্পষ্ট দলিল যা বুদ্ধিভিত্তিক কিংবা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উভয়ই হতে পারে।
আবার কখনো পবিত্র কুরআন 'অকাট্য প্রমাণ' (البرهان) শব্দটিও ব্যবহার করে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: "এই দুটি তোমার রবের পক্ষ থেকে ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের জন্য দুটি অকাট্য প্রমাণ (برهانان)। নিশ্চয় তারা ছিল এক পাপাচারী সম্প্রদায়।" [আল-কাসাস: ৩২]। আর 'বুরহান' বা অকাট্য প্রমাণ হলো যুক্তির সুস্পষ্ট বর্ণনা, যা দলিলের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং যা অনিবার্যভাবে সত্যের দাবি রাখে (১)।
অনুরূপভাবে অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة) প্রকাশে কখনো 'কর্তৃত্ব বা অকাট্য দলিল' (السلطان) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونا عَمَّا كانَ يَعْبُدُ آباؤُنا فَأْتُونا بِسُلْطانٍ مُبِينٍ [إبراهيم: 10] ولعل اختيارهم لهذا المصطلح بدلا من (الآية) والكلمات الأخرى لإزالة الدلالة المشتركة في الآية من القرآن الكريم (1) كما في قوله تعالى: ما نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِها [البقرة: 106]، وبين الآية بمعنى العلامة البارزة الدالة على وجود الخالق سبحانه وتعالى ووحدانيته كما في قوله تعالى:
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهارِ لَآياتٍ لِأُولِي الْأَلْبابِ (190) [آل عمران: 190]، وبين الآية بمعنى البناء العالي كما في قوله تعالى:
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ (128) [الشعراء: 128]، وكذلك الخروج من الدلالات المشتركة في الكلمات الأخرى.
تعريف المعجزة:في اللغة: من أعجز وعجز وهو ما يقابل القدرة، والهاء فيها للمبالغة.
في لسان العرب في مادة عجز: العجز نقيض الحزم، والعجز: الضعف، وعجز (2) عن الأمر إذا قصر عنه. وفي القرآن الكريم: وَالَّذِينَ سَعَوْا فِي آياتِنا مُعاجِزِينَ [سبأ: 5]، قال الزجاج: معناه ظانين أنهم يعجزوننا، لأنهم ظنوا أنهم لا يبعثون وأنه لا جنة ولا نار وقيل معناها معاندين، وهو راجع إلى الأول ومعنى الإعجاز الفوت والسبق، يقال أعجزني فلان أي فاتني.
وعرف العلماء المعجزة بقولهم: أمر خارق للعادة مقرون بالتحدّي سالم من المعارضة يظهره الله على يد رسله (3).
فالمعجزة أمر خارق للسنّة التي أودعها الله سبحانه وتعالى في الكون
--------------------------------------------
"তোমরা আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত তা থেকে আমাদের বিরত রাখতে চাও; অতএব আমাদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (سلطان) নিয়ে এসো।" [ইব্রাহিম: ১০]। সম্ভবত তারা 'আয়াত' (الآية) বা অন্য শব্দের পরিবর্তে এই পরিভাষাটি (সুলতান) বেছে নিয়েছেন যাতে পবিত্র কুরআনের আয়াতের (الآية) মধ্যকার অর্থের দ্ব্যর্থকতা দূর করা যায় (১); যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "আমি যদি কোনো আয়াত (آية) রহিত করি কিংবা ভুলিয়ে দেই..." [আল-বাকারাহ: ১০৬]। আবার আয়াত দ্বারা এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনও (العلامة) বোঝায় যা মহান সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব ও একত্ববাদের প্রমাণ দেয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
"নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য নিদর্শনাবলি (آيات) রয়েছে।" [আলে ইমরান: ১৯০]। আবার আয়াত দ্বারা সুউচ্চ ভবনও বোঝানো হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে:
"তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক নিদর্শন (آية) স্বরূপ ইমারত নির্মাণ করছ?" [আশ-শুআরা: ১২৮]। অনুরূপভাবে অন্যান্য শব্দের মধ্যকার দ্ব্যর্থবোধক অর্থসমূহ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যও (এই পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে)।
মুজিজার (المعجزة) সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে: এটি 'আ'জাজা' (أعجز) ও 'আজাযা' (عجز) থেকে উৎপন্ন, যা সক্ষমতার (القدرة) বিপরীত; আর এতে থাকা 'হা' (الهاء) বর্ণটি আধিক্য (المبالغة) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
লিসানুল আরবে 'আজজ' (عجز) মূল ধাতুর অধীনে বলা হয়েছে: 'আজজ' (العجز) হলো বিচক্ষণতার (الحزم) বিপরীত। আর 'আজজ' (العجز) এর অর্থ হলো দুর্বলতা (الضعف); কোনো কাজ থেকে অক্ষম (عجز) হওয়া মানে তা সম্পাদনে অসামর্থ্য হওয়া। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ (معاجزين) করার চেষ্টা করে..." [সাবা: ৫]। ইমাম আজ-জাজ্জাজ বলেন: এর অর্থ হলো তারা ধারণা করেছিল যে তারা আমাদের পরাস্ত (يعجزوننا) করতে পারবে; কারণ তাদের ধারণা ছিল যে তারা পুনরুত্থিত হবে না এবং জান্নাত-জাহান্নাম বলতে কিছু নেই। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো বিদ্বেষ পোষণ করা, যা মূলত প্রথম অর্থের দিকেই ফিরে যায়। আর 'ই'জাজ' (الإعجاز) এর অর্থ হলো লক্ষ্যভ্রষ্ট করা এবং অগ্রবর্তী হওয়া (الفوت والسبق); বলা হয় 'অমুক ব্যক্তি আমাকে পরাস্ত করেছে' (أعجزني), অর্থাৎ সে আমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে এগিয়ে গিয়েছে।
উলামায়ে কেরাম মুজিজাকে (المعجزة) সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "এটি এমন এক অলৌকিক (خارق للعادة) বিষয়, যা চ্যালেঞ্জের (التحدّي) সাথে যুক্ত এবং যা প্রতিপক্ষ কর্তৃক মোকাবিলা (المعارضة) থেকে মুক্ত থাকে, আল্লাহ যা তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে প্রকাশ করেন" (৩)।
মুজিজা (المعجزة) হলো সেই স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী বিষয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহাবিশ্বে স্থাপন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا تخضع للأسباب والمسببات ولا يمكن لأحد أن يصل إليها عن طريق الجهد الشخصي والكسب الذاتي وإنما هي هبة من الله سبحانه وتعالى يختار نوعها وزمانها ليبرهن بها على صدق رسول الله الذي أكرمه بالرسالة.
والسحر والأعمال الدقيقة التي يمارسها بعض أهل الرياضات البدنية أو الروحية لا يدخل تحت اسم الخارق لأن لكل من تلك الأمور أساليب ووسائل يمكن لأي إنسان أن يتعلمها ويتقنها ويمارسها، فإذا اتبع الأسباب والأساليب المؤدية إلى نتائجها أمكنه بواسطة الجهد الشخصي والمران والممارسة أن يتوصل إلى تلك النتائج.
أما الأمور الخارقة فلا تدخل تحت طاقة البشر، ليست لها أسباب تؤدّي إليها.
شروط المعجزة:ومن خلال التعريف السابق للمعجزة نستطيع أن نتلمس شروطها:
1 - أن تكون من الأمور الخارقة للعادة: سواء كان هذا الأمر الخارق من قبيل الأقوال: كتسبيح الحصى وحنين الجذع ومثل القرآن الكريم، أو يكون من قبيل الفعل
كانفجار الماء من بين أصابع الرسول صلى الله عليه وسلم وتكثير الطعام القليل وكفايته للجمع الكثير أو من قبيل الترك: مثل عدم إحراق النار لسيدنا إبراهيم عليه الصلاة والسلام وعدم إغراق الماء لموسى وقومه وعدم سيلانه عليهم.
أما إذا كان الأمر من الأمور الاعتيادية للناس ومع ذلك لم يستطع الناس الإتيان بها يكون (المانع) هو الأمر الخارق وليس هذا الأمر المعتاد، فلو قال: معجزتي عدم استطاعتكم وضع أيديكم على رءوسكم فلم يستطيعوا بالفعل لكان هذا المنع في هذه اللحظة هي المعجزة، وليس عملية وضع الأيدي.
2 - أن يكون الخارق من صنع الله وإنجازه يقول تعالى: وَلَقَدْ أَرْسَلْنا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنا عَلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ
এগুলো কার্যকরণ বা কারণ-ফলাফলের অধীন নয় এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা বা স্বকীয় অর্জনের মাধ্যমে কেউ এতে পৌঁছাতে পারে না। বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ দান, তিনি এর ধরন ও সময় নির্বাচন করেন যাতে এর মাধ্যমে সেই রাসুলের সত্যতা প্রমাণ করা যায় যাকে তিনি রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করেছেন।
আর জাদু এবং শারীরিক বা আত্মিক কসরতকারী একদল লোক যে সূক্ষ্ম কাজগুলো সম্পাদন করে, তা অলৌকিক (خارق) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এগুলোর প্রত্যেকের এমন পদ্ধতি ও মাধ্যম রয়েছে যা যে কেউ শিখতে, আয়ত্ত করতে এবং চর্চা করতে পারে। সুতরাং, কেউ যদি এর ফলাফলের দিকে নিয়ে যায় এমন কারণ ও পদ্ধতি অনুসরণ করে, তবে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, অনুশীলন ও চর্চার মাধ্যমে সে সেই ফলাফলগুলোতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
পক্ষান্তরে, অলৌকিক (خارق) বিষয়সমূহ মানুষের ক্ষমতার আয়ত্তে নয় এবং এগুলোর পেছনে এমন কোনো পার্থিব কারণ নেই যা তাকে সেদিকে নিয়ে যায়।
মুজিজার (معجزة) শর্তাবলি:মুজিজার (معجزة) পূর্বোক্ত সংজ্ঞার আলোকে আমরা এর শর্তগুলো চিহ্নিত করতে পারি:
১ - তা অভ্যাসবহির্ভূত (خارق للعادة) বিষয় হতে হবে: এই অলৌকিক বিষয়টি বাণীর দিক থেকেও হতে পারে; যেমন—পাথরের তাসবিহ পাঠ, গাছের গুড়ির রোদন এবং আল-কুরআনের অনুরূপ। অথবা তা কর্মের দিক থেকেও হতে পারে
যেমন—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙুলসমূহের মাঝখান দিয়ে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হওয়া, সামান্য খাবার বরকতের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাওয়া যা বিশাল জনসমষ্টির জন্য পর্যাপ্ত হওয়া। অথবা তা কোনো কর্ম সম্পাদন না হওয়ার দিক থেকে হতে পারে: যেমন—আমাদের নেতা ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আগুন কর্তৃক দহন না করা এবং মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর কওমকে পানি কর্তৃক নিমজ্জিত না করা এবং তাঁদের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত না হওয়া।
কিন্তু বিষয়টি যদি মানুষের সাধারণ অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তা সত্ত্বেও মানুষ তা করতে সক্ষম না হয়, তবে সেই প্রতিবন্ধকতা (المانع) সৃষ্টি হওয়াই হবে অলৌকিক (خارق) বিষয়, এই স্বাভাবিক বিষয়টি নয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি বলে: 'আমার মুজিজা (معجزة) হলো তোমাদের নিজ নিজ মাথায় হাত রাখতে না পারা' এবং তারা সত্যিই তা করতে অক্ষম হয়, তবে সেই মুহূর্তে এই অক্ষমতা বা বাধাই হবে মুজিজা (معجزة), হাত রাখার প্রক্রিয়াটি নয়।
২ - অলৌকিক (خارق) বিষয়টি আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর পক্ষ থেকে বাস্তবায়িত হতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর অবশ্যই আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসুল প্রেরণ করেছি, তাদের মধ্যে কয়েকজনের কথা আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং কয়েকজনের কথা আপনার কাছে বর্ণনা করিনি।"
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَما كانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ فَإِذا جاءَ أَمْرُ اللَّهِ قُضِيَ بِالْحَقِّ وَخَسِرَ هُنالِكَ الْمُبْطِلُونَ (78) [غافر: 78].
فالمعجزة هبة من الله سبحانه وتعالى لا يستطيع أحد أن يعيّن زمانها ونوعها: قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ [الأنعام: 109].
3 - سلامتها من المعارضة: فلو استطاع الخصم أن يأتي بمثل ما جاء به النبي بطلت حجته ولم يسلم له ادعاؤه أن هذه الخارقة أو هذا الأمر دليل على صدقه وأمارة على بعثته من قبل الله سبحانه وتعالى.
4 - أن تقع على مقتضى قول من يدّعيها (وقوعها على مقتضى الدعوى).
يشترط في المعجزة أن تكون موافقة لقول مدّعيها غير مخالفة له سواء كان هذا الأمر مطابقا لطلب المعاندين أو مخالفا له، لأن الرسول يبلّغ عن أمر ربه في تحديد نوع المعجزة وزمانها ولا دخل له في هذا التعيين، فإذا جاءت المعجزة على وجه غير الوجه الذي عيّنه الرسول لم تكن دليلا على صدقه، بل تثير عندئذ الشكوك حول ادعائه. ومن هذا القبيل ما وقع لبعضهم مما يطلق عليه العلماء (اسم الإهانة)؛ فإذا مسح على المريض ليشفى فمات، أو بصق في البئر لتكثير مائه فغار كما ذكرت بعض الروايات في شأن مسيلمة الكذاب، فلا تكون معجزة إنما هي إهانة له ودليل على كذبه.
5 - التحدّي بها: وهذا شرط أساس في المعجزة لإثبات عجز الجاحدين وإقامة الحجة عليهم فإن عدم التحدّي لمعجزة لا يبرزها كدليل وبرهان، لكي لا يقول قائل فيما بعد: إنه لو تحدّي بالمعجزة القوم لتمكّنوا من الإتيان بها.
والتحدّي يكون بالقول الصريح بأن يقول الرسول: دليل صدقي وصحة ما جئت به هو عجزكم عن الإتيان بمثل هذا الأمر الذي أفعله.
আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো নিদর্শন উপস্থিত করা কোনো রাসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর নির্দেশ আসবে, তখন সত্যের সাথে ফয়সালা করা হবে এবং মিথ্যার অনুসারীরা সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (৭৮) [গাফির: ৭৮]।
সুতরাং অলৌকিক নিদর্শন (মোজেজা) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ, যার সময় ও ধরণ নির্ধারণ করার ক্ষমতা কারো নেই: আপনি বলুন, নিদর্শনসমূহ তো কেবল আল্লাহরই নিকট। [আনআম: ১০৯]।
৩ - বিরোধিতার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত হওয়া: যদি প্রতিপক্ষ নবীর আনীত নিদর্শনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হতো, তবে তাঁর দলিল বাতিল হয়ে যেত এবং এই অলৌকিক ঘটনা বা বিষয়টি যে তাঁর সত্যতার প্রমাণ এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রেরিত হওয়ার চিহ্ন—এই দাবি আর সাব্যস্ত হতো না।
৪ - তা দাবিদারের বক্তব্যের অনুকূলে হওয়া (দাবির চাহিদা অনুযায়ী তা সংঘটিত হওয়া)।
অলৌকিক নিদর্শনের (মোজেজা) শর্ত হলো এটি দাবিদারের বক্তব্যের অনুকূলে হবে এবং তার বিপরীত হবে না; চাই বিষয়টি বিরোধীদের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক বা ভিন্ন হোক। কেননা রাসূল মোজেজার ধরণ ও সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশই পৌঁছে দেন এবং এই নির্ধারণে তাঁর কোনো হাত নেই। সুতরাং মোজেজা যদি রাসূলের নির্ধারিত রূপের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো রূপে প্রকাশ পায়, তবে তা তাঁর সত্যতার প্রমাণ হবে না; বরং তা তখন তাঁর দাবির ব্যাপারে সন্দেহের সৃষ্টি করবে। আলেমগণ যাকে ‘লাঞ্ছনা’ (ইহানাত) হিসেবে অভিহিত করেন, এটি সে পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যেমন, কেউ যদি সুস্থ করার উদ্দেশ্যে কোনো রোগীর গায়ে হাত বুলিয়ে দেয় আর সে মারা যায়, অথবা পানির পরিমাণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কূপে থুতু নিক্ষেপ করে আর তার পানি শুকিয়ে যায়—যেমনটি মুসাইলামা চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)-এর ব্যাপারে কিছু বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে—তবে সেটি মোজেজা হবে না, বরং তা হবে তার জন্য একটি লাঞ্ছনা এবং তার মিথ্যাচারের প্রমাণ।
৫ - এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান করা: অস্বীকারকারীদের অক্ষমতা প্রমাণ এবং তাদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপনের জন্য এটি মোজেজার একটি মৌলিক শর্ত। কেননা মোজেজার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান করা না হলে সেটি প্রমাণ ও নিদর্শন হিসেবে জোরালো হয় না, যাতে পরবর্তীতে কেউ বলতে না পারে যে: যদি জাতির সামনে এই মোজেজার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হতো, তবে তারা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হতো।
আর চ্যালেঞ্জ প্রদান হবে স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে, যেমন রাসূল বলবেন: আমার সত্যতার এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার নির্ভুল হওয়ার প্রমাণ হলো আমি যা করছি তোমরা তার অনুরূপ কিছু করতে অক্ষম হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وهذا هو الغالب في معجزات الرسل عليهم الصلاة والسلام، وَرَسُولًا إِلى بَنِي إِسْرائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِما تَأْكُلُونَ وَما تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (49) [آل عمران: 49].
كما يكون التحدّي (بالقوة) حيث لا يكون هنالك تحدّ ظاهر لأن المقام لا يستدعيه ولكن لو وجد تحدّ لأفحم المتحدّى به، ومن هذا القبيل الخوارق التي وقعت على يد رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بين أصحابه وهم مؤمنون به، فمثلا نبع الماء بين أصابع رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن في مضمار تحدّ لإثبات رسالة، ومثل ذلك تسبيح الحصى في يده، وحنين الجذع إليه فقد وقعت هذه الخوارق في جو إيماني وفي مجتمع إسلاميّ.
وقد فرّق بعض العلماء بين الخارقة التي يتحدّى بها الرسول القوم ويجعلها آية صدقه وبرهان صحة رسالته، وبين الخارقة التي لا تقترن بالتحدّي وتقع بين المؤمنين برسالة الرسول؛ فأطلقوا على النوع الأول اسم (المعجزات)، وأطلقوا على النوع الثاني اسم (دلائل النبوة).
يقول ابن حجر في فتح الباري في شرح (باب علامات النبوة):
العلامات جمع علامة وعبّر عنها المصنف لكون ما يورده من ذلك أعم من المعجزة والكرامة، والفرق بينها أن المعجزة أخص، لأنه يشترط فيها أن يتحدّى النبي من يكذبه.
6 - أن يستشهد بها مدّعي الرسالة على الله عز وجل: أي يجعلها الرسول دليل صدق رسالته لإثباتها وينسب هذا الأمر إلى الله عز وجل فيقول مثلا: آيتي أن يقلب الله سبحانه وتعالى هذه العصا ثعبانا، أو أن يحيي الله سبحانه وتعالى هذا الميت عند قولي له (قم).
7 - تأخّر الأمر المعجز عن دعوى الرسالة: لأنه بمثابة الشاهد، ولا
আর রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) ক্ষেত্রে এটিই সাধারণত ঘটে থাকে; "আর তিনি বনী ইসরাঈলের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হবেন (তিনি বলবেন), 'নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে এসেছি যে, আমি তোমাদের জন্য কাদা দিয়ে পাখির প্রতিকৃতি তৈরি করব এবং তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর নির্দেশে তা পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর নির্দেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করব এবং মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা যা খাও এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখো আমি তোমাদের তা জানিয়ে দেব। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও'।" (সূরা আল-ইমরান: ৪৯)।
চ্যালেঞ্জ (تحدّ) সম্ভাব্য রূপেও হতে পারে, যেখানে কোনো স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ (تحدّ) বিদ্যমান থাকে না কারণ পরিস্থিতি তার দাবি রাখে না, তবে যদি চ্যালেঞ্জ (تحدّ) উপস্থিত থাকত তবে প্রতিপক্ষ এতে পরাস্ত হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তাঁর সাহাবীদের মাঝে সংঘটিত অলৌকিক ঘটনাসমূহ (خوارق) এই পর্যায়ের, যখন তাঁরা তাঁর প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গুলসমূহ থেকে পানি নির্গত হওয়া কোনো রিসালাত প্রমাণের চ্যালেঞ্জের (تحدّ) ময়দানে ছিল না। অনুরূপভাবে তাঁর হাতে পাথরের তাসবীহ পাঠ এবং তাঁর প্রতি খেজুর গাছের কান্ডের আকুলতা; এই অলৌকিক বিষয়গুলো (خوارق) ঈমানী পরিবেশে এবং একটি ইসলামী সমাজে সংঘটিত হয়েছিল।
কোনো কোনো আলিম সেই অলৌকিক ঘটনার (الخارقة) মধ্যে পার্থক্য করেছেন যার মাধ্যমে রাসূল কোনো সম্প্রদায়কে চ্যালেঞ্জ (تحدّ) করেন এবং সেটিকে তাঁর সত্যতার নিদর্শন (آية) ও তাঁর রিসালাতের সঠিকত্বের প্রমাণ (برهان) হিসেবে উপস্থাপন করেন, আর সেই অলৌকিক ঘটনার (الخارقة) মধ্যে যা চ্যালেঞ্জের (تحدّ) সাথে যুক্ত নয় এবং রাসূলের রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসীদের মাঝে সংঘটিত হয়। তাঁরা প্রথম প্রকারের নাম দিয়েছেন ‘অলৌকিক নিদর্শন’ (معجزات) এবং দ্বিতীয় প্রকারের নাম দিয়েছেন ‘নবুওয়াতের প্রমাণাদি’ (دلائل النبوة)।
ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে ‘নবুওয়াতের নিদর্শন সংক্রান্ত অধ্যায়’ এর ব্যাখ্যায় বলেন:
‘আলামাত’ শব্দটি ‘নিদর্শন’ (علامة) এর বহুবচন। লেখক এটি ব্যবহার করেছেন কারণ তিনি এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) ও অলৌকিকত্ব (الكرامة) অপেক্ষা ব্যাপক অর্থবোধক। এগুলোর মধ্যে পার্থক্য হলো, ‘মুজিজা’ (معجزة) অধিক সুনির্দিষ্ট, কারণ এতে শর্ত হলো নবী এমন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ (تحدّ) করবেন যে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।
৬ - রিসালাতের দাবিদার আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ওপর একে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করবেন: অর্থাৎ রাসূল একে তাঁর রিসালাতের সত্যতা প্রমাণের দলিল হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং বিষয়টি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে সম্পর্কিত করবেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলবেন: আমার নিদর্শন (آية) হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই লাঠিটিকে অজগরে রূপান্তরিত করবেন, অথবা আমি যখন মৃত ব্যক্তিকে বলব ‘দাঁড়াও’, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে জীবিত করবেন।
৭ - অলৌকিক বিষয়টি (معجز) রিসালাতের দাবির পরে হওয়া: কারণ এটি সাক্ষীর স্থলাভিষিক্ত, আর...
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
يقوم الشاهد إلا بعد قيام الدعوى، أما إذا تقدم على دعوى الرسالة، فيكون من قبيل (الإرهاص). وهي الأمور التي تتقدم على الرسالة وتمهد لها كتظليل السحابة لرسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في سفره إلى الشام قبل البعثة.
إمكان وقوع المعجزة:إن النواميس الطبيعية التي يسير عليها الكون والتي يخضع لها الإنسان في أغلب شئونه وحياته المعاشية هي من صنع خالق الكون ومبدعه وواضع نظمه وأسسه. فالله سبحانه وتعالى له القدرة المطلقة والسلطان الذي لا يحدّ في إبقاء السنن أو تغييرها.
إن الذي أوجد الماء من العدم المطلق لا يعجز أن يجعله ينبع من بين أصابع الإنسان، والذي خلق الجاذبية في الكون والكواكب وجعل الأجسام الثقيلة تسقط باتجاه مركزها، لا يستغرب منه أن يرفع تأثير هذه الجاذبية عن بعض الأجسام لتتخلص من نفوذها وتصعد إلى السماء، فيكون في هذه الحالة وتلك معجزة لأحد أصفيائه من البشر، ودليل صدق على رسالته.
إن العقل السليم الذي يؤدي بصاحبه إلى الإيمان بالله ذي القوة المطلقة الخالق المدبر المهيمن على الكون بأسره لا يستبعد حدوث الأمور الخارقة لهذه الأسباب والسنن ما
دامت الحياة والإنسان والكون خاضعا لإرادة الذي إذا أراد شيئا أن يقول له كن فيكون.
ولا ينكر الأمور الخارقة للعادة عامة ومعجزات الأنبياء خاصة إلا أحد اثنين:
- إنسان ملحد ينكر كل ما غاب عن الحواس فهو كافر بالغيب، ويقول إنما نحيا ونموت وما يهلكنا إلا الدهر، فمثل هذا يحتاج إلى عملية فكرية جذرية للإيمان بخالق الكون والحياة والإنسان
…- أو إنسان يؤمن بإله محدود القدرة عاجز عن التصرف في الكون
সাক্ষ্য প্রদানকারী কেবল দাবি উত্থাপনের পরেই উপস্থিত হয়; কিন্তু যদি তা রিসালাতের দাবির পূর্বেই প্রকাশ পায়, তবে তা 'ইরহাস' (الإرهاص) এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়। আর এগুলো হলো এমন সব বিষয় যা রিসালাতের পূর্বে সংঘটিত হয় এবং এর পটভূমি তৈরি করে, যেমন নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে সিরিয়া সফরের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর মেঘমালা কর্তৃক ছায়া প্রদান করা।
মুজিযা (المعجزة) সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা:মহাবিশ্ব যে প্রাকৃতিক নিয়মের (النواميس) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এবং মানুষ তার অধিকাংশ কার্যাবলি ও জীবনযাত্রায় যার অনুগত, তা এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, উদ্ভাবক এবং এর শৃঙ্খলা ও ভিত্তির প্রবর্তকেরই সৃষ্টি। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রয়েছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এবং সীমাহীন কর্তৃত্ব, যার মাধ্যমে তিনি এই নিয়মসমূহ (السنن) বহাল রাখতে পারেন অথবা পরিবর্তন করতে পারেন।
যিনি পরম শূন্যতা থেকে পানি সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানুষের আঙুলের মাঝখান থেকে তা প্রবাহিত করতে অক্ষম নন; এবং যিনি মহাবিশ্বে ও গ্রহসমূহে মাধ্যাকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন এবং ভারী বস্তুগুলোকে এর কেন্দ্রের দিকে পতিত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, তাঁর জন্য কোনো কোনো বস্তু থেকে এই মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব অপসারণ করা বিস্ময়কর কিছু নয়, যাতে সেগুলো এর প্রভাবমুক্ত হয়ে আকাশে আরোহণ করতে পারে। এমতাবস্থায় এটি হবে তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্য হতে কারো জন্য একটি মুজিযা (معجزة) এবং তাঁর রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ।
সুস্থ বিবেক, যা তার অধিকারীকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী, সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা, পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক আল্লাহর প্রতি ঈমানের (الإيمان) দিকে পরিচালিত করে, সে এসকল কার্যকারণ ও নিয়মের (السنن) পরিপন্থী অলৌকিক (الخارقة) বিষয়াদি ঘটাকে অসম্ভব মনে করে না; যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন, মানুষ এবং মহাবিশ্ব সেই সত্তার ইচ্ছাধীন থাকে, যিনি কোনো কিছু ইচ্ছা করলে কেবল বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।
সাধারণভাবে স্বভাবজাত নিয়মের পরিপন্থী অলৌকিক (الخارقة للعادة) বিষয়সমূহ এবং বিশেষভাবে নবীদের মুজিযাসমূহ (معجزات) কেবল দুই শ্রেণির মানুষ ছাড়া আর কেউ অস্বীকার করে না:
- এমন নাস্তিক যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এমন সব কিছু অস্বীকার করে, ফলে সে অদৃশ্যের (الغيب) প্রতি অবিশ্বাসী (كافر)। সে বলে যে, আমরা কেবল জীবিত হই ও মৃত্যুবরণ করি এবং মহাকাল (الدهر) ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না। এই ধরনের ব্যক্তির জন্য মহাবিশ্ব, জীবন ও মানুষের স্রষ্টার প্রতি ঈমান (الإيمان) আনার ক্ষেত্রে আমূল চিন্তাগত পরিবর্তনের প্রয়োজন
…- অথবা এমন মানুষ যে সীমিত ক্ষমতার ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, যে মহাবিশ্বের বিষয়াদি পরিচালনায় অক্ষম।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والمخلوقات حسب إرادته، ومن هذه النوعية كل من اتخذ من دون الله أربابا وأوثانا وآلهة ابتدعوها، وأملتها عليهم شهواتهم وأهواؤهم، هؤلاء يحتاجون إلى معرفة الألوهية الحقة ومستلزماتها من صفات الكمال المطلق، والتنزّه عن النقص والعجز الذي لا يليق بخصائص الألوهية.
إن الموجة العقلية المنبثقة عن مناهج الفلاسفة الماديّين قد أثّرت على تفكير كثير من علماء المسلمين المعاصرين الذين حاولوا تفسير الخوارق التي ظهرت على يد الأنبياء والمرسلين عليهم الصلاة والسلام، والتي نقلت إلينا نقلا لا يتطرّق إليه أدنى شك، حاولوا تفسير تلك الخوارق تفسيرا ماديا خاضعا للأسباب والسنن الكونية مما يفرغها عن مضمونها ويعطل دلالتها التي ترد هذه الخارقة من أجل إثباتها ألا وهي إثبات صدق الرسول في دعوى الرسالة وتلقي الوحي من الملأ الأعلى.
إن من يفسّر فلق البحر لموسى عليه السلام بالمد والجزر، والطير الأبابيل بجراثيم الطاعون أو الأمراض المعدية الوبائية .. وغير ذلك من الخوارق، إن هؤلاء يسيئون إلى قضية الإيمان بالغيب وبخالق الكون وبرسل الله المصطفين، وكذلك يسيئون إلى تفكيرهم وإيمانهم وعقيدتهم، وإلا فما المانع عقلا من وقوع المعجزات على يد أناس لهم صلة بالله ذي القوة غير المحدودة؟ أناس اصطفاهم الله سبحانه وتعالى للقيام بدور السفارة بينه وبين خلقه لتبليغهم أحكام دينه الحنيف وشرعه القويم وقد أيدهم بكل ما يسهل عليهم مهمتهم من الحجج والبراهين ويظهرهم على خصومهم المعاندين.
وجه دلالة المعجزة على صدق الرسول:ليس المقصود بالمعجزة إثبات العجز للخلق لذاته من غير ترتّب مطلب على هذا العجز، بل المقصود لازم هذا العجز. وهو إقامة الحجة على أن هذا الادّعاء حق وأن الرسول الذي جاء به رسول صدق.
فإعجاز القرآن الناس أن يأتوا بمثله يراد من وراء ذلك إقامة الحجة
এবং সকল সৃষ্টি তাঁর ইচ্ছাধীন। এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত তারা, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে উদ্ভাবিত বহু প্রভু, প্রতিমা ও উপাস্য গ্রহণ করেছে। এদের প্রয়োজন সত্য উপাস্যত্ব এবং এর অনিবার্য দাবি হিসেবে নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণাবলি এবং সেই সকল ত্রুটি ও অক্ষমতা থেকে পবিত্রতা সম্পর্কে জানা, যা উপাস্যত্বের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
বস্তুবাদী দার্শনিকদের কর্মপন্থা থেকে উদ্ভূত বুদ্ধিবৃত্তিক জোয়ার অনেক সমকালীন মুসলিম জ্ঞানীদের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করেছে, যারা নবী ও রাসূলগণের (তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) মাধ্যমে প্রদর্শিত সেই সকল অলৌকিক বিষয়াবলিকে (خوارق) ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন—যা আমাদের নিকট এমন বর্ণনার (نقل) মাধ্যমে পৌঁছেছে যাতে সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ নেই। তারা সেই অলৌকিক ঘটনাগুলোকে জাগতিক কার্যকারণ ও প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, যা বিষয়বস্তুর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে অন্তঃসারশূন্য করে দেয় এবং এর সেই প্রমাণকে অকার্যকর করে দেয় যার জন্য এই অলৌকিকতা প্রদর্শিত হয়েছিল; আর তা হলো রিসালাতের দাবিতে রাসূলের সত্যতা এবং ঊর্ধ্বজগৎ থেকে ওহি (وحي) প্রাপ্তির বিষয়টি প্রমাণ করা।
যারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়াকে জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে এবং 'তৈরা আবাবিল'কে প্লেগের জীবাণু বা সংক্রামক মহামারি দ্বারা ব্যাখ্যা করে, তারা মূলত অদৃশ্যের (غيب) প্রতি বিশ্বাস, মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং আল্লাহর মনোনীত রাসূলগণের প্রতি ঈমানের বিষয়টিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। একইভাবে তারা তাদের নিজস্ব চিন্তা, ঈমান ও আকিদাকেও (عقيدة) কলুষিত করে। অন্যথায়, অসীম ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মুজেজা (معجزات) সংঘটিত হওয়ার পথে যৌক্তিক বাধা কোথায়? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে তাঁর সঠিক দ্বীন ও সুদৃঢ় শরয়ি বিধান পৌঁছে দেওয়ার জন্য দূত হিসেবে যাদের মনোনীত করেছেন এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সহজ করার লক্ষ্যে দলিল ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন, যাতে তারা একগুঁয়ে বিরোধীদের মোকাবিলায় জয়ী হতে পারেন।
রাসূলের সত্যতা প্রমাণে মুজেজার গুরুত্বের দিকসমূহ:মুজেজার (معجزة) উদ্দেশ্য কেবল কোনো দাবি ব্যতিরেকে সৃষ্টির অক্ষমতা প্রমাণ করা নয়, বরং এই অক্ষমতার অনিবার্য ফলাফলই এর মূল লক্ষ্য। আর তা হলো এই দাবি যে সত্য এবং যিনি এটি নিয়ে এসেছেন সেই রাসূলও যে সত্যবাদী—তা হুজ্জাত (حجة) বা অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা।
মানুষের জন্য কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যে অক্ষমতা বা ইজায (إعجاز), তার পেছনেও উদ্দেশ্য হলো হুজ্জাত (حجة) কায়েম করা।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
على الخلق كافة، إن هذا الكلام كلام رب العالمين، وإن الرسول الذي أرسل به يبلّغ عن ربه، وإن الأوامر والنواهي التي يحملها هي سبيل النجاة.
وكذلك الشأن في جميع معجزات الأنبياء السابقين، هو إبراز صدق من ظهرت على يديه، ليؤمن بهم الناس ويتبعوهم، وذلك لأن بعثة النبي لا تصح من غير أن يؤتى دلالة ويؤيّد بآية، لأنه لا يتميز من الكاذب بصورته، ولا بقول نفسه ولا بشيء آخر، سوى البرهان الذي يظهر على يديه فيستدلّ به على صدقه، وأنه مبلّغ عن الله سبحانه وتعالى (1) وإصدار الله لها عند ذلك يعدّ تأييدا منه له في تلك الدعوى، ومن المحال على الله سبحانه وتعالى أن يؤيد الكاذب. فإن تأييد الكاذب تصديق له، وتصديق الكاذب كذب، وهو محال على الله سبحانه وتعالى، فمتى ظهرت المعجزة وهي مما لا يقدر عليه البشر، وقارن ظهورها دعوى النبوة، علم بالضرورة أن الله ما أظهرها إلا تصديقا لمن ظهرت على يديه، وإن كان هذا العلم قد يقارنه الإنكار مكابرة (2)، ما كانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِباداً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِما كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتابَ وَبِما كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ (79) وَلا يَأْمُرَكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْباباً أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (80) [آل عمران: 79، 80].
--------------------------------------------
সৃষ্টির সকল স্তরের জন্য, নিশ্চয়ই এই কথা বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের বাণী। আর যে রাসূলকে এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে, তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে তা পৌঁছে দিচ্ছেন (مبلغ), এবং তিনি যেসব আদেশ ও নিষেধ বহন করছেন, সেগুলোই হচ্ছে মুক্তির পথ।
তেমনিভাবে পূর্ববর্তী সকল নবীদের অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) স্বরূপ হলো, যার হাতে তা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর সত্যবাদিতা (صدق) ফুটিয়ে তোলা, যাতে মানুষ তাঁদের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁদের অনুসরণ করে। আর তা এজন্য যে, কোনো নবীর প্রেরিত হওয়া সঠিক হয় না যতক্ষণ না তাকে কোনো দলিল প্রদান করা হয় এবং নিদর্শনের (آية) মাধ্যমে সমর্থন করা হয়। কেননা, একজন মিথ্যাবাদী (كاذب) থেকে তাঁকে কেবল তাঁর অবয়ব, নিজের কথা বা অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে আলাদা করা সম্ভব নয়; বরং কেবল সেই প্রমাণের (برهان) মাধ্যমেই তা সম্ভব যা তাঁর হাতে প্রকাশ পায়, যার দ্বারা তাঁর সত্যবাদিতার (صدق) ওপর এবং তিনি যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক (مبلغ), তার ওপর দলিল পেশ করা হয় (১)। সেই মুহূর্তে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা প্রকাশ করাকে ওই দাবির ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে সমর্থন হিসেবে গণ্য করা হয়। আর মহান আল্লাহর পক্ষে কোনো মিথ্যাবাদীকে (كاذب) সমর্থন করা অসম্ভব। কেননা কোনো মিথ্যাবাদীকে (كاذب) সমর্থন করা মানে তাঁকে সত্যায়ন করা (تصديق), আর মিথ্যাবাদীকে সত্যায়ন করা হলো মিথ্যা, যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। সুতরাং যখনই কোনো অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) প্রকাশ পায়—যা মানুষের সাধ্যাতীত—এবং তার প্রকাশের সাথে নবুওয়াতের (نبوة) দাবির সংশ্লিষ্টতা থাকে, তখন অকাট্যভাবে জানা যায় যে, আল্লাহ তা কেবল তাঁর সত্যতা প্রমাণের জন্যই প্রকাশ করেছেন যার মাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে; যদিও এই জ্ঞানের সাথে অহংকারবশত অস্বীকার (إنكار) যুক্ত থাকতে পারে (২)। "কোনো মানুষের জন্য সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, প্রজ্ঞা (حكم) ও নবুওয়াত (نبوة) দান করার পর সে মানুষকে বলবে, 'তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও'; বরং সে বলবে, 'তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।' আর তিনি তোমাদের নির্দেশ দেন না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদের প্রতিপালকরূপে গ্রহণ করো। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদের কুফরির (كفر) নির্দেশ দেবেন?" [আল ইমরান: ৭৯, ৮০]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني معجزات الأنبياء السابقين ومعجزات خاتمهم صلوات الله وسلامه عليهم أجمعينذكرنا في السابق أن المعجزة قرينة الرسالة، وذلك لأن الرسول لا يتميز عن سائر الناس بجسمه ولا بكلامه، فكان لا بدّ من أمارة تدل على صدقه في سفارته هذه بين الخالق سبحانه وتعالى وبين خلقه.
وقد يعطى الرسول الآية (المعجزة) عند تبليغه الوحي أول مرة من غير سؤال وتطلّع، كما حدث لموسى عليه السلام: فَلَمَّا جاءَها نُودِيَ أَنْ بُورِكَ مَنْ فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَها وَسُبْحانَ اللَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ (8) يا مُوسى إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (9) وَأَلْقِ عَصاكَ فَلَمَّا رَآها تَهْتَزُّ كَأَنَّها جَانٌّ وَلَّى مُدْبِراً وَلَمْ يُعَقِّبْ يا مُوسى لا تَخَفْ إِنِّي لا يَخافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ (10) إِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْناً بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ (11) وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ فِي تِسْعِ آياتٍ إِلى فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ إِنَّهُمْ كانُوا قَوْماً فاسِقِينَ (12) [النمل: 8 - 12].
وقد يعطاها الرسول بعد تكذيب القوم له ومطالبتهم بالآية، كما حدث لأغلب الأنبياء عليهم صلوات الله وسلامه: قالُوا يا هُودُ ما جِئْتَنا بِبَيِّنَةٍ وَما نَحْنُ بِتارِكِي آلِهَتِنا عَنْ
قَوْلِكَ وَما نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ
(53) [هود: 53]، قالُوا إِنَّما أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ (153) ما أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنا فَأْتِ بِآيَةٍ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (154) قالَ هذِهِ ناقَةٌ لَها شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَعْلُومٍ
… (155)
[الشعراء: 153 - 159].
وعلى كلتا الحالتين فإنها هبة من الله سبحانه لرسله، فهو المعطي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী নবীগণের মুজিজা (معجزة) এবং তাঁদের সর্বশেষ নবীর মুজিজাসমূহ (معجزة) — তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোকআমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুজিজা (معجزة) হলো নবুয়তের প্রমাণ (قرينة)। এর কারণ হলো, একজন রাসুল তাঁর শারীরিক গঠন বা কথাবার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের থেকে স্বতন্ত্র হন না, তাই স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে এই দূতিয়ালির ক্ষেত্রে তাঁর সত্যতার সপক্ষে একটি নিদর্শন (أمارة) থাকা আবশ্যক ছিল।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাসুলকে কোনো প্রকার প্রার্থনা বা আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই ওহি পৌঁছানোর প্রথম পর্যায়েই নিদর্শন (آية) [মুজিজা (معجزة)] প্রদান করা হয়; যেমনটি মুসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে ঘটেছিল: "অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন, তখন তাঁকে আহ্বান করে বলা হলো—বরকতময় তিনি, যিনি আগুনের মধ্যে আছেন এবং যারা এর আশেপাশে আছে। আর জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ অতি পবিত্র। (৮) হে মুসা! নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৯) আর তুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ করো। অতঃপর যখন তিনি ওটিকে সাপের মতো নড়াচড়া করতে দেখলেন, তখন তিনি পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করলেন এবং পিছন ফিরে তাকালেন না। (আল্লাহ বললেন—) হে মুসা! ভয় পেয়ো না, নিশ্চয়ই আমার সান্নিধ্যে রাসুলগণ ভয় পান না। (১০) তবে যে ব্যক্তি জুলুম করে, অতঃপর মন্দের পরিবর্তে নেক আমল করে, তবে আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (১১) আর তুমি তোমার হাত বগলে প্রবেশ করাও, তা কোনো ত্রুটি ছাড়াই নির্মল উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে। এটি ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে (প্রদর্শনের জন্য) নয়টি নিদর্শনের (آيات) অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক পাপাচারী সম্প্রদায়।" (১২) [আন-নামল: ৮-১২]।
আবার কখনো রাসুলকে এই নিদর্শন প্রদান করা হয় যখন তাঁর কওম তাঁকে অস্বীকার করে এবং তাঁর কাছে নিদর্শনের (آية) দাবি জানায়, যেমনটি অধিকাংশ নবী (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তারা বলেছিল: "হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ (بينة) নিয়ে আসোনি। আর আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদের বর্জনকারী নই এবং আমরা তোমার ওপর ঈমান আনয়নকারীও নই।"
[হুদ: ৫৩]
তারা বলেছিল: "তুমি তো কেবল জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। (১৫৩) তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে কোনো নিদর্শন (آية) নিয়ে আসো। (১৫৪) তিনি বললেন: এই যে একটি উটনী, এর জন্য পানি পানের একটি দিন নির্ধারিত এবং তোমাদের জন্য পানি পানের একটি নির্দিষ্ট দিন আছে..." (১৫৫)
[আশ-শুআরা: ১৫৩-১৫৯]।
উভয় ক্ষেত্রেই এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসুলদের প্রতি একটি বিশেষ দান; কেননা তিনিই প্রকৃত দাতা।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهو الذي يختار نوعها وزمانها ومكانها، ودور الرسول فيها أنها تتجلى على يده. وليس بالضرورة أن تكون نفس الخارقة التي طلبها القوم، فإن مدلول الخارقة والإيمان والتصديق لصدق الرسول يتحقق بوجود المعجزة مطلقا ولا يتوقّف على نوع خاص من المعجزات. بل إن سنّة الله تقضي بتعجيل عذاب الاستئصال للذين لم يذعنوا للآية الخاصة التي سألوها: وَقالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ وَلَوْ أَنْزَلْنا مَلَكاً لَقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لا يُنْظَرُونَ (8) [الأنعام: 8].
سنة الله سبحانه وتعالى في معجزات الأنبياء:باستعراض معجزات الأنبياء السابقين ومعجزات خاتمهم عليهم الصلاة والسلام أجمعين نلاحظ أن المعجزة تختار من بيئة القوم الذين يرسل الرسول إليهم ومن نوع المشهور في عصرهم مما يتلاءم مع مستواهم الفكري ورقيّهم الحضاري، لتكون الحجة أقوى.
أ- الأنبياء الذين عاشوا في البلاد العربية كانت معجزاتهم مناسبة لبيئة العرب الصحراوية، فمعجزة صالح عليه السلام كانت ناقة غريبة المنشأ والمولد بين نوق أهل البادية قالُوا إِنَّما أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ (153) ما أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنا فَأْتِ بِآيَةٍ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (154) قالَ هذِهِ ناقَةٌ لَها شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَعْلُومٍ (155) وَلا تَمَسُّوها بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ (156) [الشعراء:
153 - 156].
ب- وكان السحر منتشرا بين المصريين عامتهم وخاصتهم استرهبهم فرعون وجنوده به، فجاءت معجزات موسى عليه السلام من جنس المشهور بين قومه فمن معجزاته الرئيسية:
العصا: فَأَلْقى عَصاهُ فَإِذا هِيَ ثُعْبانٌ مُبِينٌ (32) [الشعراء: 32].
واليد: وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ فِي تِسْعِ آياتٍ إِلى فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ إِنَّهُمْ كانُوا قَوْماً فاسِقِينَ (12) [النمل: 12].
فظاهر هاتين المعجزتين لا يختلف عما كان متداولا بين سحرة
তিনিই সেই সত্তা যিনি অলৌকিক নিদর্শনের ধরণ, সময় এবং স্থান নির্ধারণ করেন, আর এতে রাসূলের ভূমিকা হলো তাঁর বরকতময় হাতে এর প্রকাশ ঘটা। এটি অপরিহার্য নয় যে, সেই অলৌকিক বিষয়টি ঠিক তেমনই হতে হবে যা কওম বা জাতি দাবি করেছে। কেননা রাসূলের সত্যতার ওপর ঈমান ও তসদিক (সত্যায়ন)-এর ক্ষেত্রে অলৌকিকতার লক্ষ্য কোনো একটি মুজিযা (معجزة) সাধারণভাবে বিদ্যমান থাকলেই অর্জিত হয়ে যায় এবং তা কোনো বিশেষ ধরণের মুজিযা (معجزة)-এর ওপর নির্ভর করে না। বরং আল্লাহর সুন্নাত বা রীতি হলো সেই সমস্ত লোকদের ওপর দ্রুত সমূলে বিনাশকারী আযাব আপতিত করা যারা তাদের নিকট আগত বিশেষ নিদর্শন বা আয়াতের (آية) প্রতি নতি স্বীকার করেনি, যা তারা নিজেরাই চেয়েছিল: "তারা বলে, ‘তার কাছে কোনো ফেরেশতা নাযিল করা হলো না কেন?’ যদি আমি কোনো ফেরেশতা নাযিল করতাম, তবে তো ফয়সালা হয়েই যেত, তারপর তাদের আর কোনো অবকাশ দেওয়া হতো না।" [আল-আন’আম: ৮]।
নবীদের মুজিযার (معجزات) ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সুন্নাত বা রীতি:পূর্ববর্তী নবীদের মুজিযা (معجزات) এবং তাঁদের সর্বশেষ নবী—তাঁদের সকলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর মুজিযাগুলো (معجزات) পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা লক্ষ্য করি যে, মুজিযা (معجزة) সেই কওমের পরিবেশ থেকে এবং তাদের যুগে প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে এমনভাবে নির্বাচন করা হয় যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর ও সভ্যতার উৎকর্ষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যাতে হুজ্জাত বা প্রমাণ (حجة) অধিকতর শক্তিশালী হয়।
ক- যে সকল নবী আরব ভূখণ্ডে বসবাস করতেন, তাঁদের মুজিযাগুলো (معجزات) আরব মরুভূমির পরিবেশের উপযোগী ছিল। যেমন সালেহ (আ.)-এর মুজিযা (معجزة) ছিল মরুবাসীদের উটদের মধ্যে উৎস ও জন্মের দিক থেকে এক বিস্ময়কর উষ্ট্রী। তারা বলেছিল: "তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল এক জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তি। তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ; সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে একটি আয়াত বা নিদর্শন (آية) নিয়ে এসো।’ তিনি বললেন, ‘এই একটি উষ্ট্রী; এর জন্য রয়েছে পানি পানের একটি নির্ধারিত দিন এবং তোমাদের জন্যও রয়েছে পানি পানের একটি নির্দিষ্ট দিন। আর একে কোনো মন্দভাবে স্পর্শ করো না, অন্যথায় এক মহাদিবসের আযাব তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।" [আশ-শু’আরা:
১৫৩ - ১৫৬]।
খ- প্রাচীন মিশরীয়দের সাধারণ ও বিশেষ উভয় শ্রেণির মধ্যে যাদু (سحر) ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং ফেরাউন ও তার বাহিনী এর মাধ্যমে মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল। তাই মূসা (আ.)-এর মুজিযাগুলো (معجزات) তাঁর কওমের মধ্যে প্রসিদ্ধ বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে এসেছিল। তাঁর প্রধান মুজিযাগুলোর (معجزات) মধ্যে ছিল:
লাঠি: "অতঃপর তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তৎক্ষণাৎ তা এক সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হলো।" [আশ-শু’আরা: ৩২]।
এবং হাত: "আর তোমার হাত তোমার বগলে প্রবেশ করাও, তা কোনো প্রকার রোগ ছাড়াই শুভ্র হয়ে বের হয়ে আসবে। ফেরাউন ও তার কওমের কাছে প্রেরিত নয়টি আয়াতের বা নিদর্শনের (آيات) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক পাপাচারী জাতি।" [আন-নামল: ১২]।
বাহ্যিকভাবে এই দুটি মুজিযার (معجزات) ধরণ যাদুকরদের মাঝে প্রচলিত বিষয়গুলো থেকে ভিন্ন ছিল না...
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فرعون (1)، ولكن أهل الدراية بالسحر كانوا يميّزون بين السحر، وبين ما هو خارج قوى السحرة، بل من صنع الله، لذا كانوا أول المؤمنين به.
ج- وبعد عصر موسى عليه السلام انتشرت الفلسفة الأيونية وهي أساس الفلسفة اليونانية فيما بعد، وكانت تقوم على الأخذ بالأسباب والمسبّبات وتولّد المعلول من العلة في انتظام قائم لا يتخلف، فجاءت معجزات أنبياء بني إسرائيل في هذا العصر خارقة للأسباب والمسبّبات، لتثبت أن الكون كله بإرادة مريد مختار، لا يفعل إلا ما يريد ولا يصدر عنه بغير إرادته الثابتة شيء (2).
فمعجزات سليمان عليه السلام مثلا جاءت مناهضة لتلك النظرية التي تقول إن المخلوقات نشأت عن الموجد الأول نشوء العلة من المعلول، فكانت حياة نبي الله سليمان في ملكه تجري على هدم هذا النظر، فمن معجزاته:
- تسخير الجن والطير له.
- تعليمه منطق الطير والحيوان وَقالَ يا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنا مَنْطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ إِنَّ هذا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ (16) وَحُشِرَ لِسُلَيْمانَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ (17) حَتَّى إِذا أَتَوْا عَلى وادِ النَّمْلِ قالَتْ نَمْلَةٌ يا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَساكِنَكُمْ لا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لا يَشْعُرُونَ (18) فَتَبَسَّمَ ضاحِكاً مِنْ قَوْلِها وَقالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلى والِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صالِحاً تَرْضاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبادِكَ الصَّالِحِينَ (19) وَتَفَقَّدَ الطَّيْرَ فَقالَ ما لِيَ لا أَرَى الْهُدْهُدَ أَمْ كانَ مِنَ الْغائِبِينَ
… (20) [النمل: 16 - 22].
- تسخير الريح له: وَلِسُلَيْمانَ الرِّيحَ غُدُوُّها شَهْرٌ وَرَواحُها شَهْرٌ وَأَسَلْنا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ [سبأ: 12].
د- وفي عصر اليونان ازدهر الطب والفلسفة المبنية على الأسباب
--------------------------------------------
ফেরাআউন (১), তবে জাদু বিদ্যায় গভীর জ্ঞানসম্পন্ন (دراية) ব্যক্তিগণ জাদু এবং জাদুকরদের শক্তির ঊর্ধ্বে যা ছিল—অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টি—এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন; এই কারণেই তাঁরাই ছিলেন তাঁর প্রতি প্রথম ঈমান আনয়নকারী।
গ- আর মুসা আলাইহিস সালামের যুগের পরে আয়োনীয় দর্শন ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে গ্রিক দর্শনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত কার্যকারণ (أسباب) এবং একটি সুসংগত নিয়মে কারণ (علة) থেকে কার্যের অনিবার্য উৎপত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা কখনও ব্যাহত হয় না। তাই এই যুগে বনী ইসরাঈলের নবীগণের মুজেযাগুলো কার্যকারণের প্রচলিত নিয়মের ঊর্ধ্বে এসে প্রকাশ পেয়েছিল, যাতে প্রমাণিত হয় যে, সমগ্র মহাবিশ্ব একজন স্বাধীন ইচ্ছাসম্পন্ন সত্তার ইচ্ছাধীন। তিনি যা চান তা-ই করেন এবং তাঁর অটল ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছুই অস্তিত্ব লাভ করে না (২)।
উদাহরণস্বরূপ, সুলাইমান আলাইহিস সালামের মুজেযাগুলো সেই তত্ত্বের পরিপন্থী ছিল যা দাবি করত যে, সৃষ্টিজগত প্রথম সত্তা থেকে কারণ (علة) ও কার্যের স্বাভাবিক সম্পর্কের ন্যায় উদ্ভূত হয়েছে। আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজকীয় জীবন ও শাসনব্যবস্থা এই তত্ত্বকে খণ্ডন করার ওপর পরিচালিত ছিল। তাঁর কিছু মুজেযা হলো:
- জিন ও পক্ষীকুলকে তাঁর অনুগত করে দেওয়া।
- তাঁকে পাখি ও প্রাণীদের ভাষা শিক্ষা দেওয়া: "আর সুলাইমান দাউদের উত্তরাধিকারী হলেন এবং বললেন, 'হে লোকসকল! আমাদেরকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সবকিছুই দান করা হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।' (১৬) আর সুলাইমানের সামনে তাঁর জিন, মানুষ ও পক্ষীকুলের বাহিনীগুলোকে সমবেত করা হলো এবং তাদেরকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করা হলো। (১৭) অবশেষে যখন তারা পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছালো, তখন এক পিপীলিকা বলল, 'হে পিপীলিকা দল! তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী তোমাদের অজ্ঞাতসারে পিষ্ট না করে ফেলে।' (১৮) তখন সুলাইমান তার কথা শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন এবং যেন আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।' (১৯) আর তিনি পক্ষীকুল পর্যবেক্ষণ করলেন এবং বললেন, 'ব্যাপার কী, আমি হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?'
… (২০)" [আন-নামল: ১৬-২২]।
- তাঁর জন্য বায়ুকে অনুগত করে দেওয়া: "আর আমি সুলাইমানের অধীন করে দিয়েছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকেলে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আর আমি তার জন্য গলিত তামার ঝরনা প্রবাহিত করেছিলাম।" [সাবা: ১২]।
ঘ- আর গ্রিক যুগে চিকিৎসাশাস্ত্র এবং কার্যকারণ (أسباب) নির্ভর দর্শনের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أيضا، فكانت معجزات عيسى عليه السلام من جنس ما اشتهر في هذا العصر:
- فكانت ولادته إبطالا صارخا لهذه النظرية، فإن المعتاد في حياة الكائنات الحية أن المولود يولد من أبوين، فجاء عيسى عليه السلام من غير أب فكان ذلك خرقا للأسباب
الطبيعية الجارية
… فَأَرْسَلْنا إِلَيْها رُوحَنا فَتَمَثَّلَ لَها بَشَراً سَوِيًّا (17) قالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا (18) قالَ إِنَّما أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلاماً زَكِيًّا (19) قالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا (20) قالَ كَذلِكِ قالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكانَ أَمْراً مَقْضِيًّا (21) * فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهِ مَكاناً قَصِيًّا (22) [مريم: 17 - 22].
وتحدّثه في المهد حديث الحكماء
… قالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا (29) قالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتانِيَ الْكِتابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا (30) وَجَعَلَنِي مُبارَكاً أَيْنَ ما كُنْتُ وَأَوْصانِي بِالصَّلاةِ وَالزَّكاةِ ما دُمْتُ حَيًّا (31) وَبَرًّا بِوالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّاراً شَقِيًّا (32) وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا (33) [مريم: 29 - 33].
- وتصويره من الطين كهيئة الطير ثم نفخه فيه فيكون طيرا بإذن الله، وإحياؤه الموتى بإذن الله، وإبراؤه الأكمة والأبرص بإذن الله
… وَرَسُولًا إِلى بَنِي إِسْرائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِما تَأْكُلُونَ وَما تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (49) [آل عمران: 49].
هـ- وقبل بعثة خاتم النبيين بلغت الفصاحة والبلاغة وفنون القول شأوا بعيدا، وأخذت الكلمة مكانا في نفوس العرب من التقديس والتعظيم لم يبلغه شيء آخر، مما حدا بهم أن يعلّقوا المعلّقات السبع في جوف الكعبة، وإذا علمنا أن الكعبة كانت تعتبر أقدس مكان عند العرب في جاهليتهم أدركنا مكانة الكلمة في نفوسهم.
একইভাবে, ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিজাসমূহ সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল যা সেই যুগে প্রসিদ্ধ ছিল:
- তাঁর জন্ম ছিল এই তত্ত্বের এক সুস্পষ্ট খণ্ডন, কারণ জীবনপ্রবাহের স্বাভাবিক নিয়ম হলো সন্তান পিতা-মাতার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করবে। কিন্তু ঈসা আলাইহিস সালাম কোনো পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন, যা ছিল প্রচলিত প্রাকৃতিক কার্যকারণ
… নিয়মের এক ব্যতিক্রম। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রুহ (জিবরাঈল)-কে পাঠালাম, সে তার সামনে এক পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল (১৭)। সে বলল, আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও (১৮)। সে বলল, আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যেন আমি তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করতে পারি (১৯)। সে বলল, আমার কীভাবে পুত্র হবে যখন কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই? (২০)। সে বলল, এভাবেই হবে; তোমার রব বলেছেন, এটি আমার জন্য অত্যন্ত সহজ এবং তাকে মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ করার জন্য; আর এটি ছিল এক স্থিরীকৃত বিষয় (২১)। অতঃপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তাকে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেল (২২) [মারইয়াম: ১৭-২২]।
এবং দোলনায় থাকা অবস্থায় তাঁর প্রজ্ঞাবানদের ন্যায় কথোপকথন
… তারা বলল, যে দোলনায় থাকা শিশু তার সাথে আমরা কীভাবে কথা বলব? (২৯) সে বলল, আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন (৩০)। আর আমি যেখানেই থাকি তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং আমাকে আজীবন সালাত ও জাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন (৩১)। এবং আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি (৩২)। আর শান্তি আমার প্রতি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হব (৩৩) [মারইয়াম: ২৯-৩৩]।
- এবং মাটি দিয়ে পাখির আকৃতির মতো অবয়ব তৈরি করা, অতঃপর তাতে ফুঁ দেওয়া, ফলে আল্লাহর নির্দেশে তা পাখি হয়ে যেত; এবং আল্লাহর নির্দেশে মৃতদের জীবিত করা, এবং আল্লাহর নির্দেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা
… এবং বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত রাসূল হিসেবে (তিনি বললেন), আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি যে, আমি তোমাদের জন্য মাটি থেকে পাখির ন্যায় অবয়ব তৈরি করি এবং তাতে ফুঁ দিই, ফলে তা আল্লাহর নির্দেশে পাখি হয়ে যায়। আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করি এবং আল্লাহর নির্দেশে মৃতকে জীবিত করি। আর তোমরা যা খাও এবং তোমাদের ঘরে যা জমা রাখো সে সম্পর্কে আমি তোমাদের সংবাদ দিই। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও (৪৯) [আলে ইমরান: ৪৯]।
ঙ- আর শেষ নবীর প্রেরণের পূর্বে অলঙ্কারশাস্ত্র, বাগ্মিতা ও সাহিত্যশিল্প এক সুদূরপ্রসারী উচ্চশিখরে পৌঁছেছিল। আরবদের অন্তরে শব্দের মর্যাদা ও মহিমা এমন এক সুউচ্চ স্থান দখল করেছিল যা অন্য কোনো কিছু অর্জন করতে পারেনি; যা তাদের কাবার অভ্যন্তরে 'সাতটি মুআল্লাকা' ঝুলিয়ে রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর আমরা যখন জানি যে কাবার ঘরটি জাহেলী যুগে আরবদের নিকট পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো, তখন তাদের অন্তরে সাহিত্যের উচ্চাসনের বিষয়টি সহজেই উপলব্ধি করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كانت القصيدة تفعل فعلها في القبائل وربما نزلت منزلة قبيلة إلى الحضيض لأن شاعرا أقذع في هجائها. وربما ارتفعت مكانتها لأن شاعرا قد أجاد في تمجيد مآثرها. (وحادث بني أنف الناقة) (1)، وما جرى بين الحطيئة (والزّبرقان) (2) يدلنا على مدى ترك الكلمة أثرا في نفوس القوم ..
فكانت معجزة خاتم النبيين في الكلمة والقول.
والحكمة الإلهية في اختيار المعجزة من جنس ما اشتهر بين القوم هي أن الإنسان إذا أوتي من قبل ما يعتبره مفخرته ومجال إجادته واعتزازه تكون الحجة عليه أقوى والمعجز أكثر فعلا وأثرا.
ولتكون معجزة النبي الخاتم أشدّ لمعانا وأسطع برهانا فقد جعل الله معجزته كتابا متلوّا معجزا، وهو الإنسان الأمي الذي لم يخطّ بيده كتابا ولم يتلقّ من أحد من البشر معرفة.
مزايا معجزة رسول الله صلى الله عليه وسلم العظمى (القرآن الكريم):لقد جعل الله سبحانه وتعالى معجزة رسوله صلى الله عليه وسلم من نوع خاص، إلى جانب تحقيق سنته في معجزات الأنبياء. جعلها القرآن الكريم لحكم جليلة.
ندرك من هذه الحكم ما يلي:
--------------------------------------------
একটি কবিতা গোত্রগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করত এবং সম্ভবত কোনো কবির কটু বিদ্রূপের কারণে একটি গোত্রের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়ে যেত। আবার সম্ভবত কোনো কবির তাদের কীর্তিগাঁথা বর্ণনায় পারদর্শিতার কারণে তাদের মর্যাদা উঁচুতে পৌঁছে যেত। (বনু আনফুন নাকাহ-র ঘটনা) (১), এবং হুতাইয়াহ ও (যিবরিকান)-এর (২) মধ্যে যা ঘটেছিল তা আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, মানুষের অন্তরে শব্দের প্রভাব কতটা গভীর ছিল...
তাই শেষ নবীর মুজিজা ছিল শব্দ ও বাণীর মাঝে।
কওমের মধ্যে যা প্রসিদ্ধ ছিল সেই জাতীয় বিষয়ের মধ্য থেকে মুজিজা নির্বাচনের পেছনে খোদায়ী হিকমত হলো এই যে, মানুষকে যদি এমন বিষয় দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয় যা সে তার গর্ব ও পারদর্শিতার ক্ষেত্র মনে করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) আরও শক্তিশালী হয় এবং মুজিজাটি আরও কার্যকর ও প্রভাবশালী হয়।
যাতে শেষ নবীর মুজিজা অধিকতর উজ্জ্বল এবং অধিকতর স্পষ্ট দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয়, সেজন্য আল্লাহ তাঁর মুজিজাকে একটি পঠিত অলৌকিক কিতাব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; অথচ তিনি ছিলেন একজন উম্মী মানুষ, যিনি নিজ হাতে কোনো কিতাব লেখেননি এবং কোনো মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেননি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান মুজিজার (আল-কুরআনুল কারীম) বৈশিষ্ট্যসমূহ:মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজাকে একটি বিশেষ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, পাশাপাশি নবীদের মুজিজা সংক্রান্ত তাঁর চিরন্তন রীতি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি মহান হিকমতের কারণে একে আল-কুরআনুল কারীম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
এই হিকমতসমূহ থেকে আমরা যা উপলব্ধি করি তা নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أ- مواءمة طبيعة الرسالة: لقد كان الرسول في السابق يرسل إلى قوم مخصوصين أو إلى قبيلة خاصة ولفترة زمنية محددة أحيانا، فكان التحديد زمانا ومكانا وقوما يحدّد مهمة الرسول. أما الرسالة الخاتمة فقد امتازت عن الرسالات السابقة بشمولها وعمومها وعالميتها زمانا ومكانا ومكلّفين يقول تعالى: قُلْ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ يُحيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِماتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (158) [الأعراف:
158] « .. وكان النبي يرسل إلى قومه خاصة وبعثت إلى كل أحمر وأسود» (1).
فكانت معجزات الأنبياء ملائمة لطبيعة رسالاتهم، وكانت المعجزة تنتهي بوفاة الرسول ولا يبقى إلا الحديث عنها والأخبار التي يتناقلها أتباع الدين جيلا عن جيل. ولا تنفك المعجزة عن شخص الرسول فلا تبقى بمنأى عنه في الزمان والمكان. أما الرسالة المحمدية فهي مستمرة إلى يوم القيامة، ولا بدّ من معجزة مستمرة تقيم الحجّة على الأجيال اللاحقة بصدق الرسول صلى الله عليه وسلم وربانية رسالته. ولا تؤدّي المعجزة المادية هذا الدور وهذه المهمة، فكان الاختيار الرباني أن تكون المعجزة وحيا. روى الشيخان من حديث الليث بن سعد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما من الأنبياء نبيّ إلا قد أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيت وحيا أوحاه الله إليّ، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة» (2).
ب- كون القرآن الكريم المعجزة الخالدة: فمن المعجزة تستنبط أحكام الشريعة فآية تصديق الرسالة في الرسالة نفسها، وليس في معجزات
--------------------------------------------
ক- বার্তার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা: ইতিপূর্বে রাসূলগণকে বিশেষ কোনো কওম বা বিশেষ কোনো গোত্রের নিকট এবং কখনো কখনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রেরণ করা হতো; ফলে সময়, স্থান ও জাতিগত সীমাবদ্ধতা রাসূলের দায়িত্বকে সুনির্দিষ্ট করে দিত। পক্ষান্তরে, সর্বশেষ বার্তাটি (الرسالة الخاتمة) এর পূর্ববর্তী বার্তাগুলো থেকে সময়, স্থান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা, সাধারণত্ব এবং বিশ্বজনীনতার মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর রয়েছে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর প্রেরিত উম্মী (الأمي) নবীর প্রতি ঈমান আনো, যে নবী আল্লাহ ও তাঁর বাণীর প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।" (১৫৮) [আরাফ:
১৫৮] "...আর নবীকে বিশেষভাবে তাঁর কওমের নিকট পাঠানো হতো, আর আমাকে পাঠানো হয়েছে প্রত্যেক লাল ও কালোর (সমগ্র মানবজাতির) নিকট।" (১)।
নবীদের মোজেজাগুলো (معجزات) তাদের বার্তার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। মোজেজা (المعجزة) রাসূলের ইন্তেকালের সাথেই শেষ হয়ে যেত এবং কেবল তা নিয়ে আলোচনা ও সেই ধর্মের অনুসারীদের মাঝে যুগপরম্পরায় প্রচলিত সংবাদসমূহ অবশিষ্ট থাকত। মোজেজা (المعجزة) রাসূলের সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতো না, ফলে সময় ও স্থানের প্রেক্ষাপটে তা তাঁর থেকে দূরে অবস্থান করত না। পক্ষান্তরে, মুহাম্মাদী রিসালাত কিয়ামত পর্যন্ত চলমান, তাই পরবর্তী প্রজন্মের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতা এবং তাঁর রিসালাতের ঐশ্বরিকতা প্রমাণের জন্য একটি চলমান মোজেজা (معجزة) থাকা অপরিহার্য। বস্তুগত মোজেজা (المعجزة المادية) এই ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করতে পারে না, তাই ঐশ্বরিক সিদ্ধান্ত ছিল যে এই মোজেজা হবে ওহি (وحي)। শাইখাইন (الشيخان) লাইস ইবনে সাদ-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন কিছু নিদর্শন (الآيات) দেওয়া হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহি (وحي) যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন অনুসারীর সংখ্যায় আমি তাঁদের সবার চেয়ে অধিক হব।" (২)।
খ- আল-কুরআনুল কারীম চিরস্থায়ী মোজেজা (المعجزة الخالدة) হওয়া: মোজেজা থেকেই শরীয়তের বিধান (أحكام الشريعة) আহরণ করা হয়। সুতরাং রিসালাতের সত্যতার নিদর্শন (آية) স্বয়ং রিসালাতের মধ্যেই বিদ্যমান, অন্য কোনো মোজেজার মধ্যে নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأنبياء السابقين ما يستنبط منها حكم تشريعي. وهذه ميزة فريدة لمعجزة رسول الله صلى الله عليه وسلم دلالتها على مصدرها الرباني كامن فيها نفسها. فالرسالة هي المعجزة والمعجزة هي الرسالة.
وبهذه المزايا الفريدة لم تكن هذه المعجزة دليل صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم فحسب بل كانت شاهد الصدق على رسالات الأنبياء السابقين وتبليغهم رسالات ربهم لأممهم. وبهذه المزايا أصبحت أمة محمد صلى الله عليه وسلم جديرة بالاستشهاد على الأمم الأخرى يوم يقع التناكر والجحود بين الأقوام ورسلهم، تزعم الأمم أن رسلها لم يبلّغوا الرسالات، عندئذ تدعى أمة محمد صلى الله عليه وسلم لتشهد على تبليغ الأنبياء أقوامهم رسالات ربهم، وما شهادتهم للأنبياء إلا على إخبار القرآن الكريم وَكَذلِكَ جَعَلْناكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً [البقرة: 143].
الحكمة في الصرف عن المطالبة بالمعجزات المادية إلى معجزة القرآن الكريم:ولعلنا لا نستغرب عند ما نجد القرآن الكريم يصرف أنظار قريش المطالبين بالآيات المادية وغيرها من المقترحات يلفت أنظارهم إلى ما هو الأجدى والأليق والأرحم: وَقالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعاً (90) أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهارَ خِلالَها تَفْجِيراً (91) أَوْ تُسْقِطَ السَّماءَ كَما زَعَمْتَ عَلَيْنا كِسَفاً أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ قَبِيلًا (92) أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقى فِي السَّماءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنا كِتاباً نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَراً رَسُولًا (93) [الإسراء: 90 - 93].
وَقالُوا يا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ (6) لَوْ ما تَأْتِينا بِالْمَلائِكَةِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (7) ما نُنَزِّلُ الْمَلائِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَما كانُوا إِذاً مُنْظَرِينَ (8) إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ (9) وَلَقَدْ أَرْسَلْنا مِنْ قَبْلِكَ فِي شِيَعِ الْأَوَّلِينَ (10) وَما يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُنَ (11) كَذلِكَ نَسْلُكُهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ (12) لا يُؤْمِنُونَ بِهِ وَقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ (13) وَلَوْ فَتَحْنا عَلَيْهِمْ باباً مِنَ السَّماءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ (14) لَقالُوا إِنَّما سُكِّرَتْ أَبْصارُنا بَلْ
পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রে এমন কিছু নেই যা থেকে কোনো শরয়ী বিধান (حكم) উদ্ভূত হতে পারে। আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অলৌকিকত্বের (معجزة) এক অনন্য বৈশিষ্ট্য যে, এর ঐশী উৎসের প্রমাণ এর মধ্যেই নিহিত। সুতরাং ঐশী বার্তাই (رسالة) হলো অলৌকিকত্ব (معجزة) আর অলৌকিকত্বই (معجزة) হলো ঐশী বার্তা (رسالة)।
এই অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের কারণে এই অলৌকিকত্ব (معجزة) কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার প্রমাণই ছিল না, বরং এটি পূর্ববর্তী নবীদের ঐশী বার্তার (رسالة) এবং তাদের উম্মতদের কাছে তাদের রবের বাণীর প্রচারের (تبليغ) ক্ষেত্রেও এক সত্য সাক্ষী ছিল। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর ফলেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত অন্যান্য জাতিগুলোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদানের উপযুক্ত হয়েছে সেই দিন, যখন বিভিন্ন জাতি ও তাদের রাসূলদের মধ্যে পারস্পরিক অস্বীকার ও বিবাদ দেখা দেবে; জাতিগুলো দাবি করবে যে তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে ঐশী বার্তা (رسالة) পৌঁছাননি। তখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতকে ডাকা হবে যাতে তারা নবীদের পক্ষ থেকে তাদের জাতিগুলোর কাছে রবের বাণী প্রচারের (تبليغ) সাক্ষ্য দেয়। আর নবীদের স্বপক্ষে তাদের এই সাক্ষ্য প্রদান মূলত পবিত্র কুরআনের সংবাদের ওপর ভিত্তি করেই হবে: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন" [আল-বাকারা: ১৪৩]।
বস্তুগত অলৌকিকত্বের (معجزة) দাবি থেকে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (معجزة) দিকে মনোনিবেশ করার পেছনের হিকমত (حكمة):আর সম্ভবত আমরা বিস্মিত হব না যখন দেখি যে পবিত্র কুরআন কুরাইশদের দৃষ্টিকে বস্তুগত নিদর্শন এবং অন্যান্য প্রস্তাবনার দাবি থেকে সরিয়ে এমন কিছুর দিকে নিবদ্ধ করছে যা অধিকতর কার্যকর, অধিকতর সংগতিপূর্ণ এবং অধিকতর রহমতস্বরূপ: "এবং তারা বলল, ‘আমরা কখনোই তোমার ওপর ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটি ঝরনা প্রবাহিত করো (৯০) অথবা তোমার জন্য খেজুর ও আঙুরের একটি বাগান হয় এবং তুমি তার ফাঁকে ফাঁকে নদীসমূহ প্রবাহিত করে দাও (৯১) অথবা তুমি যেমন দাবি করেছ তেমনি আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের ওপর ফেলো অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদের আমাদের সামনে নিয়ে আসো (৯২) অথবা তোমার একটি স্বর্ণালঙ্কৃত ঘর হয় অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করো; আর তোমার আরোহণে আমরা কখনোই ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের ওপর একটি কিতাব অবতীর্ণ করো যা আমরা পাঠ করব।’ বলো, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি কি একজন মানুষ রাসূল ছাড়া আর কিছু?’" [আল-ইসরা: ৯০-৯৩]।
"এবং তারা বলল, ‘হে ওই ব্যক্তি! যার ওপর উপদেশ (ذكر) অবতীর্ণ করা হয়েছে, নিশ্চয়ই তুমি একজন উন্মাদ (৬) যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদের নিয়ে আসো না কেন? (৭)’ আমি ফেরেশতাদের কেবল যথাযথ কারণ (حق) ছাড়া অবতীর্ণ করি না এবং তখন তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয় না (৮) নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (ذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী (৯) আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে পূর্ববর্তী দলগুলোর মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম (১০) এবং তাদের কাছে এমন কোনো রাসূল আসতেন না যাকে নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত না (১১) এভাবেই আমি তা অপরাধীদের হৃদয়ে প্রবেশ করাই (১২) তারা এতে বিশ্বাস করবে না এবং পূর্ববর্তীদের রীতি (سنة) এমনই গত হয়েছে (১৩) আর যদি আমি তাদের জন্য আকাশের কোনো দরজা খুলে দিতাম এবং তারা তাতে আরোহণ করতে থাকত (১৪) তবে তারা বলত, ‘আমাদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছে বরং...’"
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ (15) [الحجر: 6 - 15]. وَقالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آياتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّما أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ (50) أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ يُتْلى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (51) [العنكبوت: 50 - 51].
وَلَوْ أَنَّ قُرْآناً سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتى بَلْ لِلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعاً [الرعد: 31].
إن الله سبحانه وتعالى لا يعجزه شيء في الأرض ولا في السماء، ومن السهل الميسّر الهيّن عليه أن يلبّي جميع المطالب، ولكن لم يشأ ذلك لحكم:
الحكمة الأولى:لأنهم غير جادّين بهذه المطالب ولو لبّيت لهم لما آمنوا لأن قصدهم هو التعجيز كما أشارت الآية الكريمة السابقة وَلَوْ فَتَحْنا عَلَيْهِمْ باباً مِنَ السَّماءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ (14) لَقالُوا إِنَّما سُكِّرَتْ أَبْصارُنا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ (15) [الحجر: 15]. فمن العبث عندئذ اتبع أهوائهم ورغباتهم ولو اتّبع الحق أهواءهم لفسدت السماوات والأرض.
روى ابن هشام في السيرة النبوية قال:
(اجتمع أشراف قريش بعد غروب الشمس عند ظهر الكعبة ثم قال بعضهم لبعض: ابعثوا إلى محمد فكلّموه وخاصموه حتى تعذروا فيه، فبعثوا إليه أن أشراف قومك قد اجتمعوا لك ليكلّموك، فأتهم فجاءهم رسول الله صلى الله عليه وسلم سريعا، وهو يظن أن قد بدا لهم فيما كلّمهم فيه بداء، وكان عليهم حريصا يحب رشدهم، ويعز عليه عنتهم، حتى جلس إليهم، فقالوا له: يا محمد إنا قد بعثنا إليك لنكلمك، وإنا والله ما نعلم رجلا من العرب أدخل على قومه مثل ما أدخلت على قومك، لقد شتمت الآباء، وعبت الدين، وشتمت الآلهة، وسفهت الأحلام، وفرّقت الجماعة فما بقي أمر
"আমরা এক জাদুগ্ৰস্ত সম্প্রদায়" (১৫) [আল-হিজর: ৬ - ১৫]। এবং তারা বলে, "তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার নিকট নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করা হয় না কেন?" আপনি বলুন, "নিদর্শনসমূহ তো কেবল আল্লাহরই নিকট আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী" (৫০)। এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? এতে অবশ্যই মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে (৫১) [আল-আনকাবুত: ৫০ - ৫১]।
আর যদি এমন কোনো কুরআন থাকত যার মাধ্যমে পাহাড়কে গতিশীল করা যেত অথবা যমীনকে বিদীর্ণ করা যেত কিংবা মৃতদের সাথে কথা বলা যেত (তবেও তারা ঈমান আনত না); বরং সকল বিষয় কেবল আল্লাহরই ইখতিয়ারভুক্ত [আর-রাদ: ৩১]।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই করতে অক্ষম নন। সকল চাহিদা পূরণ করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ ও সাধারণ বিষয়, কিন্তু তিনি বিশেষ কিছু হিকমতের (প্রজ্ঞার) কারণে তা চাননি:
প্রথম হিকমত:কারণ তারা এই দাবিগুলোর ব্যাপারে আন্তরিক ছিল না। তাদের দাবি পূরণ করা হলেও তারা ঈমান আনত না, কেননা তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল সত্যকে অক্ষম প্রমাণ করা; যেমনটি পূর্ববর্তী আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আর যদি আমি তাদের জন্য আসমানের কোনো দরজাও খুলে দিতাম এবং তারা তাতে আরোহণ করতে থাকত (১৪), তবুও তারা বলত—আমাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করা হয়েছে বরং আমরা এক জাদুগ্ৰস্ত সম্প্রদায়" (১৫) [আল-হিজর: ১৫]। এমতাবস্থায় তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হবে নিরর্থক কাজ। আর যদি সত্য তাদের প্রবৃত্তির অনুসারী হতো, তবে আসমান ও যমীন ধ্বংস হয়ে যেত।
ইবনে হিশাম আস-সিরাত আন-নাবাবিয়্যাহ-তে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
(সূর্যাস্তের পর কাবার পশ্চাতে কুরাইশদের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ সমবেত হলেন। অতঃপর তারা একে অপরকে বললেন: তোমরা মুহাম্মাদের নিকট লোক পাঠাও এবং তার সাথে কথা বলো ও বিতর্ক করো যেন তার ব্যাপারে তোমাদের ওজর পেশ করার সুযোগ থাকে। তারা তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, আপনার সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ আপনার সাথে কথা বলার জন্য সমবেত হয়েছেন, সুতরাং আপনি তাদের কাছে আসুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্রুত তাদের কাছে এলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, হয়তো তাদের মাঝে কোনো নতুন চিন্তার উদয় হয়েছে সে বিষয়ে যা নিয়ে তিনি ইতিপূর্বে তাদের সাথে কথা বলেছিলেন। তিনি তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তাদের বিপথগামিতা তাঁকে ব্যথিত করত। পরিশেষে তিনি তাদের নিকট বসলেন। তারা তাকে বলল: হে মুহাম্মাদ, আমরা আপনার নিকট লোক পাঠিয়েছি আপনার সাথে কথা বলার জন্য। আল্লাহর কসম, আমরা কোনো আরব ব্যক্তিকে জানি না যে তার সম্প্রদায়ের ওপর এমন বিপদ ডেকে এনেছে যা আপনি আপনার সম্প্রদায়ের ওপর এনেছেন। আপনি পূর্বপুরুষদের গালি দিয়েছেন, দ্বীনের নিন্দা করেছেন, উপাস্যদের গালি দিয়েছেন, জ্ঞানীদের নির্বোধ সাব্যস্ত করেছেন এবং ঐক্যবদ্ধ দলকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। ফলে এমন কোনো বিষয়ই আর অবশিষ্ট রইল না...)
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قبيح إلا قد جئته فيما بيننا وبينك، فإن كنت إنما جئت بهذا الحديث تطلب مالا جمعنا لك من أموالنا حتى تكون أكثرنا مالا
… فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما بي ما تقولون، ما جئت بما جئت به أطلب أموالكم ولا الشرف فيكم ولا الملك عليكم، ولكنّ الله بعثني إليكم رسولا، وأنزل عليّ كتابا، وأمرني أن أكون لكم بشيرا ونذيرا، فبلغتكم رسالات ربي ونصحت لكم فإن تقبلوا مني ما جئتكم به فهو حظكم في الدنيا والآخرة، وإن تردّوه عليّ أصبر لأمر الله حتى يحكم الله بيني وبينكم» .. قالوا يا محمد: فإن كنت غير قابل منا شيئا مما عرضناه عليك فإنك قد علمت أنه ليس من الناس أحد أضيق بلدا، ولا أقل ماء، ولا أشد عيشا منا، فسل ربك الذي بعثك بما بعثك به فليسيّر عنا هذه الجبال التي ضيّقت علينا، ويبسط لنا في بلادنا، ويفجر لنا فيها أنهارا كأنهار الشام والعراق، وليبعث من مضى من آبائنا، وليكن فيمن يبعث لنا منهم قصيّ بن كلاب فإنه كان شيخ صدق، فنسألهم عما تقول أحقّ هو أم باطل؟ فإن صدقوك، وصنعت ما سألناك، صدقناك وعرفنا به منزلتك من الله وأنه بعثك رسولا كما
تقول، فقال لهم صلوات الله وسلامه عليه: «ما بهذا بعثت إليكم، إنما جئتكم من الله بما بعثني به، وقد بلّغتكم ما أرسلت به إليكم، فإن تقبلوه فهو حظكم في الدنيا والآخرة، وإن تردوه عليّ أصبر لأمر الله تعالى حتى يحكم الله بيني وبينكم»، قالوا: فإذا لم تفعل لنا فخذ لنفسك، سل ربك أن يبعث معك ملكا يصدقك بما تقول ويراجعنا عنك، وسله فليجعل لك جنانا وقصورا من ذهب وفضة يغنيك بها عما نراك تبتغي فإنك تقوم بالأسواق كما نقوم، وتلتمس المعاش كما نلتمسه، حتى نعرف فضلك ومنزلتك من ربك إن كنت رسولا كما تزعم، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما أنا بفاعل وما أنا الذي يسأل ربه هذا» ..
قالوا: فأسقط السماء علينا كسفا كما زعمت أن ربّك إن شاء فعل ..
فإنا لا نؤمن لك إلا أن تفعل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ذلك إلى الله إن شاء أن يفعله بكم فعل
… ».
আমরা এবং তোমার মাঝে কোনো কদর্য বিষয় অবশিষ্ট নেই যা তুমি নিয়ে আসনি। যদি তুমি এই হাদিস নিয়ে আমাদের কাছে এসে থাকো শুধু সম্পদ অন্বেষণের জন্য, তবে আমরা আমাদের সম্পদ থেকে তোমার জন্য এমনভাবে একত্রিত করব যাতে তুমি আমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হয়ে যাও
… অত:পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: «তোমরা যা বলছ তা আমার মাঝে নেই। আমি তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছি তা তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের মাঝে মর্যাদা কিংবা তোমাদের ওপর রাজত্ব কামনার জন্য নিয়ে আসিনি। বরং আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আমার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হই। সুতরাং আমি তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি। এখন আমি যা নিয়ে এসেছি তা যদি তোমরা গ্রহণ করো, তবে তা দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদেরই সৌভাগ্য। আর যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করো, তবে আমি আল্লাহর ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করব যতক্ষণ না আল্লাহ আমার ও তোমাদের মাঝে বিচার করেন» .. তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা তোমার সামনে যা পেশ করেছি তার কিছুই যদি তুমি গ্রহণ না করো, তবে তুমি তো জানো যে, মানুষের মধ্যে আমাদের চেয়ে সংকীর্ণ ভূখণ্ড, স্বল্প পানি এবং কঠিন জীবন যাপনের মধ্যে আর কেউ নেই। সুতরাং তোমার সেই রব—যিনি তোমাকে যা দিয়ে পাঠানোর তা দিয়ে পাঠিয়েছেন—তাঁর কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি আমাদের থেকে এই পাহাড়গুলোকে সরিয়ে দেন যা আমাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে রেখেছে এবং আমাদের ভূখণ্ডকে প্রশস্ত করে দেন, আর আমাদের এখানে সিরিয়া ও ইরাকের নহরগুলোর মতো নহর প্রবাহিত করে দেন। আর আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে যারা গত হয়েছেন তাদের যেন জীবিত করে পাঠান, আর তাদের মধ্যে যেন কুসাই ইবনে কিলাবও থাকেন; কারণ তিনি ছিলেন একজন সত্যবাদী (صدق) শায়খ। অত:পর আমরা তাদের জিজ্ঞেস করব তুমি যা বলছ তা সত্য (حق) নাকি বাতিল (باطل)? যদি তারা তোমাকে সত্যয়ন করেন এবং আমরা যা চেয়েছি তা তুমি করে দেখাও, তবে আমরা তোমাকে সত্য বলে মেনে নেব এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তোমার মর্যাদা ও তুমি যে তাঁর প্রেরিত রাসূল তা জেনে নেব যেমনটি তুমি
বলছ। অত:পর তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি তাদের বললেন: «আমি এসব বিষয় দিয়ে তোমাদের কাছে প্রেরিত হইনি। আমি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে তা-ই নিয়ে এসেছি যা দিয়ে তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। আর যা দিয়ে আমাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে তা আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। যদি তোমরা তা গ্রহণ করো তবে তা দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদেরই সৌভাগ্য। আর যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করো, তবে আমি মহান আল্লাহর ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করব যতক্ষণ না আল্লাহ আমার ও তোমাদের মাঝে বিচার করেন»। তারা বলল: যদি তুমি আমাদের জন্য এগুলো না করো, তবে অন্তত নিজের জন্য কিছু গ্রহণ করো। তোমার রবের কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি তোমার সাথে একজন ফেরেশতা পাঠান যিনি তোমার কথার সত্যতা নিশ্চিত করবেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমার হয়ে উত্তর দেবেন। আর তাঁর কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি তোমার জন্য বাগান ও স্বর্ণ-রৌপ্যের প্রাসাদ তৈরি করে দেন, যার মাধ্যমে তিনি তোমাকে সেই অন্বেষণ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবেন যা আমরা তোমাকে করতে দেখছি। কারণ তুমি তো আমাদের মতোই বাজারে চলাফেরা করো এবং আমাদের মতোই জীবিকা অন্বেষণ করো। এতে অন্তত আমরা তোমার রবের কাছে তোমার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা বুঝতে পারব, যদি তুমি দাবি অনুযায়ী রাসূল হয়ে থাকো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: «আমি তা করার নই এবং আমি এমন কেউ নই যে তার রবের কাছে এসব প্রার্থনা করবে» ..
তারা বলল: তবে তুমি যেমনটি দাবি করেছ যে তোমার রব চাইলে করতে পারেন, সেই অনুযায়ী আকাশের টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও ..
কেননা তুমি এটি না করা পর্যন্ত আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সেটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন, তিনি যদি তোমাদের সাথে তা করতে চান তবে করবেন
… »।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فلما قام رسول الله صلى الله عليه وسلم قام معه ابن عمته عبد الله بن أبي أمية، قال:
يا محمد عرض عليك قومك ما عرضوا فلم تقبله منهم
… فو الله لا أؤمن بك أبدا حتى تتخذ سلّما إلى السماء ثم ترقى فيه، وأنا أنظر إليك حتى تأتيها، ثم تأتي معك أربعة من الملائكة يشهدون لك أنك كما تقول، وأيم الله لو فعلت ذلك ما ظننت أني أصدقك. ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم» (1).
إن المراء والعناد واضح في مطالبهم، ولو أن هذه الخوارق وقعت كما اقترحوا ما كانت بالتي تقنعهم، فإن الله يضل من يشاء فلا يؤمن ولو أجيب إلى ما يقترحه من الآيات، ويهدي إليه من أناب فيؤمن بغير اقتراح آيات.
إن مطالبهم كانت بقصد التعجيز ولو لبيّت لانتقلوا إلى غيرها، ومواقفهم العنادية كانت تحتاج إلى تبرير للاستمرار عليها يقول تعالى: وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْواءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّماواتُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ بَلْ أَتَيْناهُمْ بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَنْ ذِكْرِهِمْ مُعْرِضُونَ (71) [المؤمنون: 71]. إن كون القرآن بلسانهم وأسلوبهم فيه رفع لمقامهم وإعلاء لمكانتهم بين الناس ولكنهم يعرضون عن هذه المزية لعدم إدراكهم لقيمتها وحقيقتها.
الحكمة الثانية في هذا الصرف عن المعجزات المادية:إظهار مكانة القرآن الكريم، وأن المعجزات المادية تتضاءل بجانب معجزته فهو المعجزة الباقية الخالدة إلى يوم القيامة. والرسالة الشاملة الباقية لا بدّ لها من معجزة توائم خلودها وشمولها، فكان في هذا الالتفات والصرف عن المعجزات المادية إلى المعجزة الفكرية رفع لشأن الأمة من جهة وإبراز لميزات القرآن العظيم وبيان مكانته الرفيعة من جهة أخرى. لَوْ أَنْزَلْنا هذَا الْقُرْآنَ عَلى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خاشِعاً مُتَصَدِّعاً مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثالُ نَضْرِبُها لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (21) [الحشر: 21]،
--------------------------------------------
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর সাথে তাঁর ফুফাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়া উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন:
হে মুহাম্মদ! তোমার কওম তোমার নিকট যা পেশ করার তা করেছে, কিন্তু তুমি তা তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করোনি
… আল্লাহর কসম, আমি তোমার প্রতি কখনোই ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আকাশের দিকে একটি সিঁড়ি তৈরি করবে এবং তাতে আরোহণ করবে; আর আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকব যতক্ষণ না তুমি সেখানে পৌঁছাবে। এরপর তুমি তোমার সাথে চারজন ফেরেশতা নিয়ে আসবে যারা তোমার সপক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে তুমি যা বলছ তা সত্য। আল্লাহর কসম! তুমি যদি তা করোও, তবুও আমার মনে হয় না যে আমি তোমাকে বিশ্বাস করব। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্থান করলেন (১)।
নিশ্চয়ই তাদের দাবিগুলোর মধ্যে বিতর্ক ও হঠকারিতা সুস্পষ্ট। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী যদি এই অলৌকিক বিষয়াবলি ঘটত, তবুও তা তাদের আশ্বস্ত করার মতো হতো না। কেননা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, ফলে তার প্রস্তাবিত নিদর্শনসমূহ তাকে প্রদান করা হলেও সে ঈমান আনে না। আর তিনি তাকেই পথপ্রদর্শন করেন যে তাঁর অভিমুখী হয়, ফলে সে কোনো নিদর্শনের দাবি ছাড়াই ঈমান আনে।
নিশ্চয়ই তাদের দাবিগুলো ছিল মূলত অক্ষম করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে, আর যদি তা পূরণ করা হতো তবে তারা অন্য দাবিতে লিপ্ত হতো। তাদের এই হঠকারিতামূলক অবস্থানের সপক্ষে অটল থাকার জন্য একটি অজুহাতের প্রয়োজন ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর সত্য যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুগামী হতো, তবে আসমানসমূহ, যমীন এবং এগুলোর মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যেত। বরং আমি তাদের নিকট তাদের উপদেশ নিয়ে এসেছি, কিন্তু তারা তাদের উপদেশ থেকে বিমুখ।" (৭১) [মুমিনুন: ৭১]। নিশ্চয়ই কুরআন তাদের ভাষা ও শৈলীতে অবতীর্ণ হওয়া তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও মানুষের মাঝে তাদের অবস্থানকে সমুন্নত করার শামিল ছিল, কিন্তু তারা এই বৈশিষ্ট্যের গুরুত্ব ও বাস্তবতা অনুধাবন করতে না পারার কারণে তা থেকে বিমুখ হয়ে রয়েছে।
বস্তুগত মুজিজা থেকে এই বিমুখ করার দ্বিতীয় হিকমত:পবিত্র কুরআনের উচ্চমর্যাদা প্রকাশ করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে, কুরআনের মুজিজার সামনে বস্তুগত মুজিজাসমূহ ম্লান হয়ে যায়। কারণ এটি কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট ও চিরস্থায়ী মুজিজা। আর একটি শাশ্বত ও ব্যাপক বার্তার (রিসালাতের) জন্য এমন একটি মুজিজা অপরিহার্য যা তার স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বস্তুগত মুজিজা থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিজার দিকে এই মনোযোগ নিবদ্ধ করার মাধ্যমে একদিকে উম্মাহর শান বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অন্যদিকে মহান কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা ও তার উচ্চমর্যাদা বয়ান করা হয়েছে। "যদি আমি এই কুরআনকে পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে। আমি মানুষের জন্য এসব দৃষ্টান্ত পেশ করি যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" (২১) [হাশর: ২১]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফী ইজাযিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَما كانَ هذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعالَمِينَ (37) أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (38) بَلْ كَذَّبُوا بِما لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كانَ عاقِبَةُ الظَّالِمِينَ (39) [يونس: 37 - 39].
الحكمة الثالثة:كان في هذا الصرف رحمة بهم، فقد جرت سنّة الله سبحانه وتعالى في رسالاته إلى الناس أن القوم إن أجيبوا إلى مطالبهم من المعجزات المادية الباهرة القاهرة ثم نكصوا على أعقابهم فكفروا بعد ذلك، جرت سنّة الله أن يكون العذاب المستأصل حظّهم في الدنيا والعذاب المهين مصيرهم في الأخرى.
وهذا ما يتجلى في الآيات التي تحكي مصائر الأمم والشعوب:
- وَإِلى ثَمُودَ أَخاهُمْ صالِحاً قالَ يا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ ما لَكُمْ مِنْ إِلهٍ غَيْرُهُ قَدْ جاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ هذِهِ ناقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوها تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلا تَمَسُّوها بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ (73) [الأعراف: 73].
- وَلَقَدْ جاءَ آلَ فِرْعَوْنَ النُّذُرُ (41) كَذَّبُوا بِآياتِنا كُلِّها فَأَخَذْناهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُقْتَدِرٍ (42) [القمر: 41 - 42].
- إِذْ قالَ الْحَوارِيُّونَ يا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ أَنْ يُنَزِّلَ عَلَيْنا مائِدَةً مِنَ السَّماءِ قالَ اتَّقُوا اللَّهَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (112) قالُوا نُرِيدُ أَنْ نَأْكُلَ مِنْها وَتَطْمَئِنَّ قُلُوبُنا وَنَعْلَمَ أَنْ قَدْ صَدَقْتَنا وَنَكُونَ عَلَيْها مِنَ الشَّاهِدِينَ (113) قالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنا أَنْزِلْ عَلَيْنا مائِدَةً مِنَ السَّماءِ تَكُونُ لَنا عِيداً لِأَوَّلِنا وَآخِرِنا وَآيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ (114) قالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُها عَلَيْكُمْ فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذاباً لا أُعَذِّبُهُ أَحَداً مِنَ الْعالَمِينَ (115) [المائدة:
112 - 115].
আর এই কুরআন এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দ্বারা তা রচিত হওয়া সম্ভব; বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং কিতাবটির বিশদ ব্যাখ্যা, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (৩৭) নাকি তারা বলে যে, তিনি এটি নিজে রচনা করেছেন? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো তাকে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (৩৮) বরং তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার প্রকৃত স্বরূপ এখনও তাদের কাছে আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। অতএব দেখুন, জালেমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। (৩৯) [ইউনুস: ৩৭ - ৩৯]।
তৃতীয় প্রজ্ঞা:এই বিমুখতার মধ্যে তাদের প্রতি রহমত নিহিত ছিল। মানুষের কাছে প্রেরিত রিসালাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একটি রীতি (سنّة) হলো, কোনো সম্প্রদায় যদি তাদের চাহিদানুযায়ী অত্যন্ত জাজ্বল্যমান ও অকাট্য পার্থিব অলৌকিক নিদর্শন লাভ করার পর পুনরায় সত্যবিমুখ হয় এবং কুফরি করে, তবে আল্লাহর রীতি (سنّة) অনুযায়ী পার্থিব জীবনে সমূলে বিনাশকারী আজাব তাদের প্রাপ্য হয় এবং পরকালে লাঞ্ছনাকর শাস্তিই তাদের পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।
আর এটিই সেই সব আয়াতে স্পষ্ট হয় যা বিভিন্ন উম্মত ও জাতির পরিণাম বর্ণনা করে:
- আর সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন। সুতরাং একে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও এবং একে কোনো মন্দ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করো না, অন্যথায় তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক আজাব পাকড়াও করবে। (৭৩) [আল-আরাফ: ৭৩]।
- আর অবশ্যই ফেরাউনের বংশধরদের কাছে সতর্কবার্তাসমূহ এসেছিল। (৪১) তারা আমার সকল নিদর্শনকে অস্বীকার করেছিল, ফলে আমি তাদেরকে এক মহাপরাক্রান্ত ও সর্বশক্তিমানের পাকড়াওয়ের মতো পাকড়াও করলাম। (৪২) [আল-কামার: ৪১ - ৪২]।
- যখন হাওয়ারিগণ বলল, হে মারয়াম তনয় ঈসা! আপনার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করাতে সক্ষম? তিনি বললেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হও। (১১২) তারা বলল, আমরা চাই যে তা থেকে ভক্ষণ করব এবং আমাদের অন্তর প্রশান্ত হবে, আর আমরা যেন জানতে পারি যে আপনি আমাদের কাছে সত্য বলেছেন এবং আমরা যেন এর ওপর সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। (১১৩) ঈসা ইবনে মারয়াম বললেন, হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন, যা আমাদের জন্য—আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্য—একটি আনন্দদায়ক উৎসব এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আর আমাদের রিজিক দান করুন, আপনিই তো শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা। (১১৪) আল্লাহ বললেন, নিশ্চয়ই আমি তা তোমাদের কাছে অবতরণ করব; কিন্তু এরপর তোমাদের মধ্যে যে কুফরি করবে, তাকে আমি এমন আজাব দেব যা বিশ্বজগতের আর কাউকেও দেব না। (১১৫) [আল-মায়িদাহ:
১১২ - ১১৫]।