(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: -)
اللمعة ببيان أن صلاة العيد لا تجزئ عن صلاة الجمعة (أحمد شحاتة السكندري)
القسم: مسائل فقهية
الكتاب: اللمعة ببيان أن صلاة العيد لا تجزئ عن صلاة الجمعة
المؤلف: أبو محمد أحمد محمد شحاته الألفى السكندرى
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للأصل]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1433
ঈদের সালাত জুমার সালাতের স্থলাভিষিক্ত না হওয়ার বর্ণনায় উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা (আহমদ শিহাতা আল-ইসকান্দারি)
বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ঈদের সালাত জুমার সালাতের স্থলাভিষিক্ত না হওয়ার বর্ণনায় উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা
লেখক: আবু মুহাম্মদ আহমদ মুহাম্মদ শিহাতা আল-আলফি আল-ইসকান্দারি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল পাণ্ডুলিপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ যিলহজ্জ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ১)
اللُّمْعَةُ بِبِيَانِ أَنَّ صَلاةَ الْعِيدِلا تُجْزِئُ عَنْ صَلاةِ الْجُمُعَةِ مِنَ الأُصُولِ الثَّابِتَةِ الْمَعْلُومَةِ بِالضَّرُورَةِ لَدَى الْخَوَاصِّ وَالْعَوَامِأَنَّ صَلاةَ الْجُمُعَةِ فَرِيضَةٌ وَاجِبَةٌ عَلَى الْمُسْلِمِ الْبَالِغِ الْعَاقِلِوَأَنَّهَا أَوْجَبُ، وَأَوْكَدُ، وَأَفْرَضُ مِنْ صَلاةِ الْعِيدِوَلا تَبْرَؤُ ذِمَّةُ مَنْ لَزِمَتْهُ إِلَاّ بِأَدَائِهَا وَرَدَتْ رِوَايَاتٌ وَاهِيَاتٌ أَوْهَمَتْ: أَنَّ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَ إِذَا اجْتَمَعَارُخِّصَ لِمَنْ صَلَّى الْعِيدَ فِي تَرْكِ صَلاةِ الْجُمُعَةِوَهَذِهِ الْوَاهِيَاتُ لا يَسْمَعُهَا مُسْلِمٌ عَاقِلٌوَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِنَقْدِهَاوَمَرَاتِبِ رُوَاتِهَا إِلَاّ اسْتَفْظَعَ الْقَوْلَبِإِسْقَاطِ الْجُمُعَةِ عَمَّنْ لَزِمَتْهُ
ঈদের নামাজ জুমার নামাজের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না—তার সুস্পষ্ট বর্ণনায় একটি আলোকপাতবিশিষ্ট এবং সাধারণ—সকলের নিকট অকাট্যভাবে জ্ঞাত ও প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি (أصول) সমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো:জুমার নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিমের ওপর একটি ফরজ (فريضة) ও ওয়াজিব (واجبة) বিধান।এবং এটি ঈদের নামাজের তুলনায় অধিকতর অপরিহার্য, অধিকতর গুরুত্ববহ এবং অধিকতর আবশ্যক।যার ওপর এটি আবশ্যক হয়েছে, তা আদায় করা ব্যতিরেকে তার জিম্মাদারী বা দায়মুক্তি হতে পারে না। এমন কিছু অত্যন্ত দুর্বল (واهيات) বর্ণনা (روايات) এসেছে যা এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে: যখন জুমা এবং ঈদ একই দিনে একত্রিত হয়,তখন যে ব্যক্তি ঈদের নামাজ পড়েছে তার জন্য জুমার নামাজ বর্জন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।আর এই অত্যন্ত দুর্বল (واهيات) বর্ণনাগুলো কোনো বিবেকবান মুসলিম শ্রবণ করতে পারেন না—যদিও তিনি সেই বর্ণনার সমালোচনা (نقد)এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) স্তর সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের অন্তর্ভুক্ত না হন—তবুও তিনি এই বক্তব্যটিকে অত্যন্ত গর্হিত মনে করবেনযে, যার ওপর জুমা আবশ্যক তার ওপর থেকে তা রহিত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيمأَبْدَأُ بِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ عَلَى سَوَابِغِ نِعَمِكَ وَعَطَاكَ. وَالشَّكْرِ لَكَ عَلَى مَا عَلَّمْتَنِي مِنْ سُنَنِ نَبِيِّكَ وَمُصْطَفَاكَ. وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنْتَ، وَلا مَعْبُودَ بِحَقٍّ سِوَاكَ. وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى أَكْرَمِ مَنْ دَعَا إِلَى الْعِلْمِ وَعَلَّمَ. مُحَمَّدٍ الْمُجْتَبَى مِنْ خَلْقِهِ صلى الله عليه وسلم.وَبَعْدُ .. فَإِنَّهُ مِنَ الأُصُولِ الثَّابِتَةِ الْمَعْلُومَةِ بِالضَّرُورَةِ لَدَى الْخَوَاصِّ وَالْعَوَامِ: أَنَّ صَلاةَ الْجُمُعَةِ فَرِيضَةٌ وَاجِبَةٌ عَلَى الْمُسْلِمِ الْبَالِغِ الْعَاقِلِ، وَأَنَّهَا أَوْجَبُ، وَأَوْكَدُ، وَأَفْرَضُ مِنْ صَلاةِ الْعِيدِ، وَلا تَبْرَؤُ ذِمَّةُ مَنْ لَزِمَتْهُ إِلَاّ بِأَدَائِهَا. وَمِنْ لَوَازِمِ ذَلِكَ: أَنَّ صَلاةَ الْعِيدِ لا تُكَافِئُهَا، وَلا تُسْقِطُهَا، وَلا تُجْزِئُ عَنْهَا. وَقَدْ يُعَبِّرُ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ عَنْ هَذَا الْمَعْنَى بِقَوْلِهِمْ: الْجُمُعَةُ فَرِيضَةٌ، وَصَلاةُ الْعِيدِ تَطَوُّعٌ، وَالتَّطَوُّعُ لَا يُسْقِطُ الْفَرْضَ. وَهَذَا لَفْظُ أبِي مُحَمَّدٍ ابْنِ حَزْمٍ الظَّاهِرِيِّ فِي «الْمُحَلَّى».وَقَدْ وَرَدَتْ رِوَايَاتٌ وَاهِيَاتٌ، أَوْهَمَتْ: أَنَّ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَ إِذَا اجْتَمَعَا، رُخِّصَ لِمَنْ صَلَّى الْعِيدَ فِي تَرْكِ صَلاةِ الْجُمُعَةِ. وَفِي بَعْضِهَا التَّصْرِيحُ بِنِسْبَةِ هَذِهِ الرُّخْصَةِ إلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ رِوَايَةِ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَابْنِ عُمَرَ عَنْهُ!!.وَهَذِهِ الْوَاهِيَاتُ لا يَسْمَعُهَا مُسْلِمٌ عَاقِلٌ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِنَقْدِهَا، وَمَرَاتِبِ رُوَاتِهَا، إِلَاّ اسْتَفْظَعَ الْقَوْلَ بِإِسْقَاطِ الْجُمُعَةِ عَمَّنْ لَزِمَتْهُ، وَسَارَعَ إلَى نَفْي نِسْبَةِ ذَلِكَ إلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ مُتَعَجِّبًا: كَيْفَ يَجُوزُ لأَحَدٍ مِمَّنْ لَزِمَتْهُ الْجُمُعَةِ أَنْ يَتَخَلَّفَ عَنْهَا مَعَ قَوْلِ اللهِ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إذَا نُودِيَ لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ}، أَمْ كَيْفَ يَرْضَى لِنَفْسِهِ أَنْ يَلْحَقَهُ وَعِيدُ تَرْكِ الْجُمُعَةِ الْمَشْهُورُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِهِ: «مَنْ تَرَكَ ثَلاثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللهُ عَلَى قَلْبِهِ»، وَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمْ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنْ الْغَافِلِينَ»؟!.وَبِهَذَا التَّقْرِيرِ النَّاصِعِ الدِّلالَةِ، الْقَوِيِّ الْمُسْتَنَدِ، الْوَاضِحِ الْحُجَّةِ، تَبْلُغُ قَنَاعَةِ الْمُسْلِمِ الْعَاقِلِ كَمَالَهَا، فَلا يَشُكُّ، وَلا يَرْتَابُ فِي صِحَّةِ مُعْتَقَدِهِ وَمَذْهَبِهِ: أَنَّ صَلاةَ الْجُمُعَةِ فَرِيضَةٌ وَاجِبَةٌ لا تَبْرَؤُ ذِمَّتُهُ إِلَاّ بِأَدَائِهَا، وَلا تُتْرَكُ لِصَلاةِ الْعِيدِ، وَلا لِغَيْرِهَا مِنْ النَّوَافِلِ، وَلَوْ جَاءَهُ الْمُتَرَخِّصُ بِكُلِّ شُبْهَةٍ زَعَمَ أَنَّهَا دَلِيلاً لِرُخْصَتِهِ، نَاسِخًا لِلأَصْلِ الثَّابِتِ الْمَعْلُومِ بِالضَّرُورَةِ لَدَى الْكَافَّةِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ.وَلَرُبَّمَا نَعَتَ مُخَالِفَهُ الْمُتَرَخِّصَ بِالتَّنَطُّعِ، وَالشُّذُوذِ، وَاتِّبَاعِ الشُّبُهَاتِ، وَمُخَالَفَةِ الأُصُولِ الْمُحْكَمَاتِ، وَأَرْبَعَتُهَا مِنَ الْمَنْهي عَنْهُ لِقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، وَلِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ».فَاسْعَدْ بِقَنَاعَتِكَ أَيَّهَا الْعَاقِلُ الْفَطِنُ، فَقَدْ وَافَقَكَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى مَذْهَبِكَ، وَاسْتِيفَاءُ أَقْوَالِ مُوَافِقِيكَ مِمَّا لا يَسَعُهُ هَذَا الْمُخْتَصَرُ.وَهَذَا قَوْلُ إِمَامِ الْمَالِكِيَّةِ أَبِي عُمَرَ ابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ فِِي «التَّمْهِيدِ» (10/ 270): وَأَمَّا الْقَوْلُ بِأَنَّ الْجُمُعَةَ تَسْقُطُ بِالْعِيدِ، وَلا تُصَلَّى ظُهْرًا وَلا جُمُعَةً فَقَوْلٌ بَيِّنُ الْفَسَادِ، وَظَاهِرُ الْخَطَأِ، مَتْرُوكٌ مَهْجُورٌ، لا يُعَرَّجُ عَلَيْهِ، لأَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ
بسم الله الرحمن الرحيمহে আল্লাহ! আপনার অফুরন্ত নেয়ামত ও দানের জন্য আপনার প্রশংসা দিয়েই আমি শুরু করছি। আপনার নবীর এবং আপনার মনোনীত বান্দার সুন্নাহ থেকে আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তার জন্য আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনি ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সম্মানিত ব্যক্তির ওপর যিনি জ্ঞানের দিকে আহ্বান করেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন; তিনি হলেন তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।অতঃপর... এটি বিশেষ ও সাধারণ সকলের নিকট অকাট্যভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের (الأصول) অন্তর্ভুক্ত যে, জুমার সালাত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিমের ওপর একটি অপরিহার্য ফরজ (فَرِيضَةٌ) এবং ওয়াজিব (وَاجِبَةٌ) ইবাদত। এটি ঈদের সালাতের চেয়ে অধিক আবশ্যকীয়, অধিক গুরুত্ববহ এবং অধিকতর ফরজ। যার ওপর এটি পালন করা আবশ্যক হয়েছে, তা আদায় করা ব্যতীত তার জিম্মা বা দায় মুক্তি পাবে না। এর অপরিহার্য দাবি হলো, ঈদের সালাত জুমার সালাতের সমতুল্য হতে পারে না, এটি জুমাকে রহিত করতে পারে না এবং এটি জুমার বিকল্প হিসেবেও যথেষ্ট নয়। কোনো কোনো ফকিহ এই অর্থটিকে এভাবে ব্যক্ত করেছেন: "জুমা হলো ফরজ (فَرِيضَةٌ), আর ঈদের সালাত হলো নফল (تَطَوُّعٌ); আর নফল ইবাদত কখনো ফরজকে রহিত করে না।" এটি আল-মুহাল্লা গ্রন্থে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম আল-জাহিরি-এর শব্দ।এমন কিছু অত্যন্ত দুর্বল (وَاهِيَاتٌ) বর্ণনা (رِوَايَاتٌ) বর্ণিত হয়েছে, যা এই ভ্রম সৃষ্টি করে যে: যখন জুমা ও ঈদ একই দিনে একত্রিত হয়, তখন যে ব্যক্তি ঈদের সালাত আদায় করেছে তাকে জুমার সালাত বর্জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো বর্ণনায় এই অনুমতির বিষয়টি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে যা যায়েদ ইবনে আরকাম, আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে!!এই অত্যন্ত দুর্বল (الْوَاهِيَاتُ) বর্ণনাগুলো কোনো বুদ্ধিমান মুসলিম শুনতে পায় না—যদিও সে বর্ণনার সমালোচনা (نَقْد) এবং বর্ণনাকারীদের স্তর (مَرَاتِبِ رُوَاتِهَا) সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হয়—তবুও সে যার ওপর জুমা আবশ্যক তার থেকে জুমা রহিত হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করবে। সে এই বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধ করাকে প্রত্যাখ্যান করতে তৎপর হবে এবং অবাক হয়ে বলবে: যার ওপর জুমা আবশ্যক হয়েছে তার পক্ষে আল্লাহর এই বাণীর উপস্থিতিতে জুমা থেকে পিছিয়ে থাকা কীভাবে বৈধ হতে পারে? আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্ল বলেন: {হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে।} অথবা সে কীভাবে নিজের জন্য জুমার সালাত বর্জনের সেই শাস্তির ধমকি পছন্দ করতে পারে যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রসিদ্ধ হয়েছে? তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তিনটি জুমা বর্জন করবে আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন", এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "লোকেরা যেন অবশ্যই জুমার সালাত বর্জন করা থেকে বিরত থাকে, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন এবং তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে"?!অকাট্য দলীল, শক্তিশালী ভিত্তি এবং স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে একজন বুদ্ধিমান মুসলিমের দৃঢ় বিশ্বাস পূর্ণতায় পৌঁছায়। ফলে সে তার বিশ্বাস ও মাযহাবের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ বা সংশয় পোষণ করে না যে: জুমার সালাত একটি অপরিহার্য ফরজ (فَرِيضَةٌ) ও ওয়াজিব (وَاجِبَةٌ) কাজ, যা আদায় করা ব্যতীত তার দায় মুক্তি পায় না। ঈদের সালাত বা অন্য কোনো নফল (النَّاوَافِلِ) ইবাদতের কারণে এটি বর্জন করা যাবে না। যদি কোনো শিথিলতা অন্বেষণকারী ব্যক্তি এমন কোনো সংশয় নিয়ে আসে যাকে সে তার প্রদত্ত অনুমতির পক্ষে দলীল এবং সকল মুসলিমের কাছে অকাট্যভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতির (الأصل) জন্য রহিতকারী হিসেবে দাবি করে, তবুও তা গ্রহণযোগ্য নয়।হয়তো সে তার শিথিলতা অন্বেষণকারী প্রতিপক্ষকে বাড়াবাড়ি, বিচ্ছিন্নতা (الشذوذ), সংশয়ের অনুসরণ এবং সুদৃঢ় মূলনীতিসমূহের (الأصول الْمُحْكَمَاتِ) বিরোধিতার দায়ে অভিযুক্ত করবে। আর এই চারটি বিষয়ই নিষিদ্ধ, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করবে যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رَدٌّ)"।হে বিচক্ষণ বুদ্ধিমান! আপনি আপনার বিশ্বাস নিয়ে তৃপ্ত থাকুন, কারণ অধিকাংশ আলেম আপনার মাযহাবের সাথে একমত পোষণ করেছেন। আপনার সাথে একমত পোষণকারীদের সকল মতামত তুলে ধরা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়।আর এটি মালেকি মাযহাবের ইমাম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার-এর উক্তি যা আত-তামহিদ গ্রন্থে রয়েছে (১০/ ২৭০): "আর এই মত যে, ঈদের কারণে জুমা রহিত হয়ে যায় এবং জোহরের সালাত বা জুমার সালাত কোনটিই আদায় করতে হবে না—তা একটি সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতা এবং প্রকাশ্য ভুল। এটি একটি পরিত্যক্ত (مَتْرُوكٌ) ও প্রত্যাখ্যাত মত, যার দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্ল..."
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ৩)
يَقُولُ: «يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إذَا نُودِيَ لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إلَى ذِكْرِ اللهِ»، وَلَمْ يَخُصَّ يَوْمَ عِيدٍ مِنْ غَيْرِهِ. وَقَالَ: لا يَجُوزُ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَذْهَبَ إِلَى سُقُوطِ فَرْضِ الْجُمُعَةِ عَمَّنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ بِأَحَادِيثَ لَيْسَ مِنْهَا حَدِيثٌ إِلَاّ وَفِيهِ مَطْعَنٌ لأَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ اهـ. وَأَوَّل الْمُؤَيِّدَاتِ لِهَذَا التَّقْرِيرِ: بَيَانُ أَنَّ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَ كَانَا إِذَا اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍصَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاتَيْنِ كِلَيْهِمَا، وَلَمْ يَتْرُكْ وَاحِدَةً مِنْهُمَا بِفِعْلِ الأخْرَىقَالَ الإِمَامُ مُسْلِمٌ فِي «كِتَابِ الْجُمُعَةِ» مِنْ «صَحِيحِهِ» (ح1452): حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ مَوْلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ، وَفِي الْجُمُعَةِ بِـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى} وَ {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ}، قَالَ: وَإِذَا اجْتَمَعَ الْعِيدُ وَالْجُمُعَةُ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ يَقْرَأُ بِهِمَا أَيْضًا فِي الصَّلاتَيْنِ.قُلْتُ: وَهَذَا الْحَدِيثُ مَبْسُوطٌ فِي أُمَّهَاتِ كُتُبِ الْحَدِيثِ، وَالْفِقْهِ. وَتَخْرِيْجُ الإِمَامِ مُسْلِمٍ لَهُ فِي «صَحِيحِهِ» كَالْبُرْهَانِ فِي ثُبُوتِ حُجِّيَتِهِ وَالاحْتِجَاجِ بِدِلالَتِهِ. وَلِلْحَدِيثِ طُرُقٌ كَثِيْرَةٌ، وَرِوَايَاتٌ مَشْهُورَةٌ. فَقَدْ رَوَاهُ عَنِ الثِّقَةِ الصَّدُوقِ الصَّالِحِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ الْهَمْدَانِيِّ الْكُوفِيِّ جَمْعٌ مِنَ الثِّقَاتِ الأَثْبَاتِ: جَرِيرٌ، وَالسُّفْيَانَانِ الثَّوْرِيُّ، وَابْنُ عُيَيْنَةَ، وَشُعْبَةُ، وَغَيْلانُ بْنُ جَامِعٍ، وَالْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ الْمَسْعُودِيُّ، وَمِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، وَأَبُو حَنِيفَةَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ، وَأَبُو عَوَانَةَ.فَقَدْ أَخْرَجَهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ (2/ 141، 176، 187/ 5494، 5776، 5890 و14/ 264/37627)، وَالْحُمَيْدِيُّ (967)، وَمُسْلِمٌ (62)، وَالنَّسَائِيُّ «الْكُبْرَى» (1/ 547/1575) و «الْمُجْتَبَى» (3/ 194)، وَالطَّحَاوِيُّ «شَرْحُ مَعَانِي الآثَارِ» (1/ 413)، وَابْنُ حِبَّانَ (2822)، وَالطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (21/ 135/169)، وَأَبُو نُعَيْمٍ «الْمُسْنَدُ الْمُسْتَخْرَجُ» (1973)، وَالْبَيْهَقِيُّ «الْكُبْرَى» (3/ 201) و «الصُّغْرَى» (637)، وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ «التَّمْهِيدُ» (16/ 325) مِنْ طُرُقٍ عَنْ جَرِيرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ.وَأَخْرَجَهُ الطَّيَالِسِيُّ (795)، وَأَحْمَدُ، وَمُسْلِمٌ (62، 878)، وَأَبُو دَاوُدَ (1122)، وَالتِّرْمِذِيُّ (533)، وَالنَّسَائِيُّ «الْكُبْرَى» (1738، 11665) و «الْمُجْتَبَى» (3/ 184)، وَابْنُ الْمُنْذِرِ «الأَوْسَطُ»، وَابْنُ حِبَّانَ (2821)، وَالطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (21/ 134/166)، وَالْبَيْهَقِيُّ «السُّنَنُ الْكُبْرَى» (3/ 294)، وَالْبَغَوِيُّ «شَرْحُ السُّنَّةِ» (1091) مِنْ طُرُقٍ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ، إِلَاّ أَنَّهُ قَالَ: وَرُبَّمَا اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ، فَيَقْرَأُ بِهِمَا.وَتَخْرِيجْ بَقِيَّةِ الْمُتَابَعَاتِ بِالْمُطَوَّلاتِ أَلْيَقُ، إِذْ لا يَسَعُهُ هَذَا الْمُخْتَصَرُ، وَقَدْ أَجْتَزَأتُ بِأَصَحِّ طُرُقِهِ.قُلْتُ: فَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، بَيِّنُ الدِّلالَةِ أَنَّ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَ كَانَا إِذَا اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، صَلَى الصَّلاتَيْنِ كِلَيْهِمَا، كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا فِي وَقْتِهَا، وَلَمْ يَتْرُكْ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بِفِعْلِهِ الأُخْرَى.
তিনি বলেন: «হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও», আর তিনি এই ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতর বা অন্য কোনো দিনকে আলাদা করেননি। তিনি আরও বলেন: কোনো মুসলিমের জন্য এমন সব হাদিস দ্বারা জুমার ফরজ রহিত হওয়ার দিকে যাওয়া বৈধ নয়, যেগুলোর প্রত্যেকটি হাদিসের ব্যাপারে হাদিসবিশারদদের নিকট আপত্তি (مطْعَن) রয়েছে। সমাপ্ত। এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে প্রথম সমর্থনকারী দলিলসমূহ হলো: জুমা এবং ঈদ একই দিনে পড়লে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় সালাত আদায় করতেন এবং একটির কারণে অন্যটি ছেড়ে দিতেন না—তার বর্ণনা, এবং তিনি একটির কারণে অন্যটি ছেড়ে দিতেন না।ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থের ‘কিতাবুল জুমা’-তে (হাদিস নং ১৪৫২) বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ এবং ইসহাক সবাই আমাদের নিকট জারির থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুনতাশির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নুমান ইবনু বাশিরের মুক্তদাস হাবিব ইবনু সালিম থেকে, তিনি নুমান ইবনু বাশির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদ এবং জুমার সালাতে {সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা} এবং {হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ} পাঠ করতেন। তিনি বলেন: ঈদ এবং জুমা একই দিনে একত্রিত হলে তিনি উভয় সালাতেই এই সূরা দুটি পাঠ করতেন।আমি বলছি: এই হাদিসটি হাদিস ও ফিকহের মূল কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম কর্তৃক তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে এর তাখরিজ (تخريج) করা এর প্রামাণ্যতা এবং এর দলিল হিসেবে পেশ করার বৈধতার স্পষ্ট প্রমাণ। এই হাদিসের অনেকগুলো সূত্র (طرق) এবং প্রসিদ্ধ বর্ণনা (روايات مشهورة) রয়েছে। নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদী (صدوق) এবং নেককার (صالح) বর্ণনাকারী ইবরাহিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুনতাশির আল-হামদানি আল-কুফি থেকে একদল নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং সুদৃঢ় (أثبات) বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন: জারির, দুই সুফিয়ান (আস-সাওরি ও ইবনু উয়ায়নাহ), শুবা, গাইলান ইবনু জামি, আল-কাসিম ইবনু মান আল-মাসউদি, মিসআর ইবনু কিদাম, আবু হানিফা নুমান ইবনু সাবিত এবং আবু আওয়ানাহ।এটি ইবনু আবি শায়বাহ (২/ ১৪১, ১৭৬, ১৮৭/ ৫৪৯৪, ৫৭৭৬, ৫৮৯০ এবং ১৪/ ২৬৪/ ৩৭৬২৭), আল-হুমাইদি (৯৬৭), মুসলিম (৬২), নাসাঈর ‘আল-কুবরা’ (১/ ৫৪৭/ ১৫৭৫) ও ‘আল-মুজতাবা’ (৩/ ১৯৪), তহাবীর ‘শারহু মাআনিল আসার’ (১/ ৪১৩), ইবনু হিব্বান (২৮২২), তবারানির ‘আল-কাবির’ (২১/ ১৩৫/ ১৬৯), আবু নুআইমের ‘আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ’ (১৯৭৩), বায়হাকীর ‘আল-কুবরা’ (৩/ ২০১) ও ‘আস-সুগরা’ (৬৩৭) এবং ইবনু আব্দুল বার ‘আত-তামহিদ’ (১৬/ ৩২৫) গ্রন্থে জারিরের সূত্রে ইবরাহিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুনতাশিরের সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।এটি তায়ালিসি (৭৯৫), আহমাদ, মুসলিম (৬২, ৮৭৮), আবু দাউদ (১১২২), তিরমিজি (৫৩৩), নাসাঈর ‘আল-কুবরা’ (১৭৩৮, ১১৬৬৫) ও ‘আল-মুজতাবা’ (৩/ ১৮৪), ইবনুল মুনযিরের ‘আল-আওসাত’, ইবনু হিব্বান (২৮২১), তবারানির ‘আল-কাবির’ (২১/ ১৩৪/ ১৬৬), বায়হাকীর ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (৩/ ২৯৪) এবং বাগাভীর ‘শারহুস সুন্নাহ’ (১০৯১) গ্রন্থে আবু আওয়ানাহর সূত্রে ইবরাহিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুনতাশিরের সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি বলেছেন: "মাঝে মাঝে এই দুটি (ঈদ ও জুমা) একই দিনে একত্রিত হতো, তখন তিনি উভয় সালাতেই এই সূরা দুটি পাঠ করতেন।"অন্যান্য সমর্থনমূলক বর্ণনার (متابعات) তাখরিজ (تخريج) দীর্ঘ কিতাবসমূহে প্রদান করাই অধিক উপযোগী; কারণ এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা সম্ভব নয়। আমি এর সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) সূত্র (طرق)গুলো বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হয়েছি।আমি বলছি: এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস এবং এর প্রমাণ অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যখন জুমা ও ঈদ একই দিনে একত্রিত হতো, তখন তিনি উভয় সালাতই যার যার সময়ে আদায় করতেন এবং নিজের আমল দ্বারা একটির জন্য অন্যটিকে ত্যাগ করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ৪)
بَيَانُ الرِّوَايَاتِ الْوَاهِيَاتٌ الَّتِي رَخَّصَتْ لِمَنْ صَلَّي الْعِيدَ فِي ترك فَرِيضَةِ الْجُمُعَةِقَدْ ذَكَرْنَا آنِفًا قَوْلَ إِمَامِ الْمَالِكِيَّةِ أَبِي عُمَرَ ابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ فِِي «التَّمْهِيدِ»: لا يَجُوزُ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَذْهَبَ إِلَى سُقُوطِ فَرْضِ الْجُمُعَةِ عَمَّنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ بِأَحَادِيثَ لَيْسَ مِنْهَا حَدِيثٌ إِلَاّ وَفِيهِ مَطْعَنٌ لأَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ اهـ.وَمِنْ نَوَافِلِ الإِفَادَةِ: بَيَانُ أنَّ مَنْ لَا تَلْزَمُهُ الْجُمُعَةُ مِنْ أَهْلِ الأَعْذَارِ هُمُ الْمَذْكُورُونَ فِيمَا:أَخْرَجَهُ أبُو دَاوُدَ (1067) قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ ثَنَا هُرَيْمُ بْنُ سُفْيَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلَاّ أَرْبَعَةً: عَبْدٌ مَمْلُوكٌ، أَوْ امْرَأَةٌ، أَوْ صَبِيٌّ، أَوْ مَرِيضٌ».وَأَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ «السُّنَنُ» (164)، والْبَيْهَقِيُّ «الْكُبْرَى» (3/ 183) و «مَعْرِفَةُ السُّنَنِ وَالآثَارِ» (1721)، وَالضِّيَاءُ الْمَقْدِسِيُّ «الْمُخْتَارَةُ» (2/ 121) مِنْ طُرُقٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ.قَالَ أَبُو دَاوُد: طَارِقُ بْنُ شِهَابٍ قَدْ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ شَيْئًا.قَالَ أَبُو زَكَرِيَّا النَّوَوِيُّ فِي «الْخُلاصَةِ»: وَهَذَا غَيْرُ قَادِحٍ فِي صِحَّتِهِ، فَإِنَّهُ يَكُونُ مُرْسَلَ صَحَابِيٍّ وَهُوَ حُجَّةٌ، وَالْحَدِيثُ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ.وَقاَلَ الشَّافِعِىُّ «الْمُسْنَدُ» (179): أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَبْصَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه رَجُلاً عَلَيْهِ هَيْئَةُ السَّفَرِ، فَسَمِعَهُ يَقُولُ: لَوْلَا أَنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ لَخَرَجْتُ، فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: اخْرُجْ، فَإِنَّ الْجُمُعَةَ لَا تَحْبِسُ عَنْ سَفَرٍ.قُلْتُ: فَهَؤُلاءِ أَهْلِ الأَعْذَارِ الَّذِينَ لا تَلْزَمُهُمَ الْجُمُعَةِ، وَجَائِزٌ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ حُضُورُ الْجُمُعَةِ مِنْ غَيْرِ إِيْجَابٍ.وَهَذَا بَيَانُ الأَحَادِيثِ الْوَاهِيَاتِ الَّتِي احْتَجَّ بِهَا الْقَائِلُونَ بِسُقُوطِ فَرْضِ الْجُمُعَةِ عَمَّنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ بِأَدَاءِ صَلاةِ الْعِيدِ: [1] حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهقَالَ أَبُو دَاوُدَ (907): حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، وَعُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الْوَصَّابِيُّ الْمَعْنَى قَالا: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْمُغِيرَةِ الضَّبِّيِّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «قَدْ اجْتَمَعَ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ، فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنْ الْجُمُعَةِ، وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ».وَأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ (1311)، وَابْنُ الْجَارُودِ (302)، وَالْبَزَّارُ (8995)، وَالطَّحَاوِيُّ «مُشْكَلُ الآثَارِ» (1155)، وَالْحَاكِمُ (1/ 288)، وَالْبَيْهَقِيُّ «الْكُبْرَى» (3/ 318)، وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ «التَّمْهِيدُ» (10/ 272)، وَالْخَطِيبُ «تَارِيْخُ بَغْدَادَ» (3/ 129)، وَابْنُ الْجَوْزِيِّ «التَّحْقِيقُ فِي أَحَادِيثِ الْخَلافِ» (769) مِنْ طُرُقٍ عَنْ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ ثَنَا شُعْبَةُ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ.قُلْتُ: هَذَا حَدِيثٌ مُضْطَرِبٌ. وَبَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، وَإِنْ بَرِئَ مِنْ تُهْمَةِ التَّدْلِيسِ بِالتَّصْرِيْحِ بِسَمَاعِهِ مِنْ شُعْبَةَ، لَكِنَّهُ لَمْ يَبْرَئْ مِن الْوَهْمِ وَالْغَلَطِ، وَالْمُخَالَفَةِ عَلَى إِسْنَادِهِ، وَجَاءَ بِعِبَارَةٍ شَاذَّةٍ لَمْ يُتَابِعْهُ عَلَيْهَا أَحَدٌ، وَهِيَ قَوْلُهُ: أَجْزَأَهُ يَعْنِي الْعِيدَ مِنْ الْجُمُعَةِ.فَأَمَّا الاضْطِرَابُ، فَقَدْ أَبَانَهُ إِمَامُ الْعِلَلِ أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيُّ، فَقَالَ «الْعِلَلُ» (1984): هَذَا الْحَدِيثُ يَرْوِيهِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رَفِيعٍ، وَقَدِ اخْتُلِفَ عَنْهُ، فَرَواهُ زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْبَكَّائِيُّ، وَالْمُغِيرَةُ بْنُ مُقْسِمٍ مِنْ رِوايَةِ بَقِيَّةَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْهُ.
সেই সমস্ত অত্যন্ত দুর্বল (الواهيات) বর্ণনার বিবরণ যা ঈদের নামাজ আদায়কারীর জন্য জুমার ফরজ ত্যাগ করার অনুমতি প্রদান করেআমরা ইতিপূর্বে ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে মালিকি মাজহাবের ইমাম আবু ওমর ইবনে আবদিল বার-এর উক্তি উল্লেখ করেছি: “কোনো মুসলমানের জন্য এমন সব হাদিসের ভিত্তিতে সেই ব্যক্তির ওপর থেকে জুমার ফরজ বিলুপ্ত হওয়ার অভিমত গ্রহণ করা বৈধ নয় যার ওপর তা ওয়াজিব হয়েছে; কেননা এই হাদিসগুলোর প্রতিটিই হাদিসশাস্ত্র বিশারদদের নিকট সমালোচিত (مطعن)।” اهـ.অতিরিক্ত ফায়দা হিসেবে: যাদের ওজর রয়েছে এবং যাদের ওপর জুমা আবশ্যক নয়, তাদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:আবু দাউদ (১০৬৭) এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে আবদিল আজিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে মানসুর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুরাইম ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুনতাশির থেকে, তিনি কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «জামাতের সাথে জুমা আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর একটি অপরিহার্য হক, চারজন ব্যতীত: ক্রীতদাস, নারী, শিশু অথবা অসুস্থ ব্যক্তি।»দারা কুতনি ‘আস-সুনান’ (১৬৪), বাইহাকি ‘আল-কুবরা’ (৩/ ১৮৩) ও ‘মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’ (১৭২১) এবং জিয়া আল-মাকদিসি ‘আল-মুখতারা’ (২/ ১২১) গ্রন্থে ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে একই সনদে (بإسناده) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আবু দাউদ বলেন: তারিক ইবনে শিহাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, কিন্তু তাঁর থেকে সরাসরি কিছু শ্রবণ করেননি।আবু জাকারিয়া আন-নববী ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে বলেন: “এটি এই হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحته) ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নয়; কেননা এটি একজন সাহাবীর বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مرسل صحابي), আর তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। এই হাদিসটি শাইখাইনের শর্তানুসারে (شرط الشيخين) বর্ণিত।”ইমাম শাফেঈ ‘আল-মুসনাদ’ (১৭৯) গ্রন্থে বলেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসওয়াদ ইবনে কায়েস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার ওপর সফরের চিহ্ন ছিল। তিনি তাকে বলতে শুনলেন: “আজ জুমার দিন না হলে আমি বেরিয়ে পড়তাম।” তখন ওমর (রা.) বললেন: “তুমি বেরিয়ে পড়ো, কেননা জুমা কাউকে সফর থেকে আটকে রাখে না।”আমি (লেখক) বলছি: এরা হলো ওজরগ্রস্ত ব্যক্তি যাদের ওপর জুমা আবশ্যক নয়, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য জুমায় উপস্থিত হওয়া বৈধ, ওয়াজিব করা ছাড়া।আর এটি হলো সেই সমস্ত অত্যন্ত দুর্বল (الواهيات) হাদিসের বিবরণ যার মাধ্যমে যারা ঈদের নামাজ আদায়ের ফলে জুমার ফরজ রহিত হওয়ার প্রবক্তা তারা দলিল পেশ করেছেন: [১] আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসআবু দাউদ (৯০৭) বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফ্ফা এবং ওমর ইবনে হাফস আল-ওয়াসসাবি অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শুবা থেকে, তিনি মুগিরা আদ-দাব্বি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে রুফাই থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের এই দিনে দুটি ঈদ একত্রিত হয়েছে। সুতরাং যে চায় এটি তাকে জুমার পরিবর্তে যথেষ্ট করবে; তবে আমরা জুমা আদায় করব।»ইবনে মাজাহ (১৩১১), ইবনুল জারুদ (৩০২), আল-বাযযার (৮৯৯৫), তাহাবি ‘মুশকিলাল আসার’ (১১৫৫), আল-হাকিম (১/ ২৮৮), বাইহাকি ‘আল-কুবরা’ (৩/ ৩১৮), ইবনে আবদিল বার ‘আত-তামহীদ’ (১০/ ২৭২), আল-খাতিব ‘তারিখে বাগদাদ’ (৩/ ১২৯) এবং ইবনুল জাওজি ‘আত-তাহকিক ফি আহাদিসিল খিলাফ’ (৭৬৯) গ্রন্থে বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ-এর সূত্রে বিভিন্ন তরিকায় শুবা থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আমি বলছি: এটি একটি ওলোটপালট বা বিভ্রান্তিকর (مضطرب) হাদিস। বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ যদিও শুবা থেকে শ্রবণের সুস্পষ্ট উল্লেখ করার মাধ্যমে তাদলিসের (التدليس) অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন, কিন্তু তিনি বিভ্রান্তি ও ভুলের অভিযোগ থেকে মুক্ত নন এবং সনদে বৈপরীত্য করেছেন। তিনি এমন এক অসংগতিপূর্ণ (شاذة) শব্দ প্রয়োগ করেছেন যাতে অন্য কেউ তাঁর অনুসরণ করেনি; আর তা হলো তাঁর উক্তি: ‘এটি তাকে যথেষ্ট করবে’ অর্থাৎ জুমার পরিবর্তে ঈদ।বিভ্রান্তিকর হওয়ার (الاضطراب) বিষয়টি ইলমে ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) বিশেষজ্ঞ ইমাম আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি স্পষ্ট করেছেন। তিনি ‘আল-ইলাল’ (১৯৮৪) গ্রন্থে বলেন: “এই হাদিসটি আব্দুল আজিজ ইবনে রুফাই বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে; এটি জিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ি বর্ণনা করেছেন এবং বাকিয়্যাহ শুবা-এর সূত্রে মুগিরা থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন।”
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَقَالَ وَهْبُ بْنُ حَفْصٍ عَنِ الْجُدِّيِّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رَفِيعٍ وَلَمْ يَذْكُرْ مُغِيرَةَ.وَقَالَ أَبُو بِلَالٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بنِ رَفِيعٍ، وَقَالَ يَحيَى بْنُ حَمْزَةَ: عَنْ هُذَيْلٍ الْكُوفِيِّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رَفِيعٍ كُلُّهُم قَالُوا: عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.وَكَذَلِكَ قال عُبَيدُ الله بنُ مُحَمدٍ الفِريابِيُّ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رَفِيعٍ، وَخَالَفَهُ الْحُمَيدِيُّ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَأَرسَلَهُ، وَلَمْ يَذْكُرْ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَكَذَلِكَ رَواهُ الثَّوْرِيُّ، وَاخْتُلِفَ عَنهُ.وَرَوَاهُ أَبُو عَوَانَةَ، وَزَائِدَةُ، وَشَرِيكٌ، وَجَرِيْرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، وَأَبُو حَمْزَةَ السُّكَّرِيُّ كُلُّهُمْ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رَفِيعٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مُرْسَلاً، وَهُوَ الصَّحِيحُ اهـ.قُلْتُ: فَهَذِهِ وُجُوهُ الاضْطِرَابِ عَلَى إِسْنَادِهِ، وَإِنَّمَا رَجَّحَ الدَّارَقُطْنِيُّ إِرْسَالَهُ، لإِنَّهُ مِنْ رِوَايَةِ الأَثْبَاتِ الْحُفَّاظِ: السُّفْيَانَانِ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ عُيَيْنَةَ وَغَيْرِهِمَا.وَأَمَّا النَّكَارَةُ، فَإِنَّ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، وَزِيَادَ بْنَ عَبْدِ اللهِ الْبَكَّائِيَّ قَدْ كَشَفَا عَوْرَةَ حَدِيثِ بَقِيَّةَ، وَأَبَانَا نَكَارَتَهُ، إِلَاّ أَنَّ الثَّوْرَيَّ أَرْسَلَهُ، وَالْبَكَّائِيَّ رَفَعَهُ.قَالَ الطَّحَاوِيُّ «مُشْكَلُ الآثَارِ» (1156): حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ قُتَيْبَةَ ثَنَا أَبُو دَاوُدَ، وَأَبُو عَامِرٍ قَالا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ ذَكْوَانَ قَالَ: اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «إِنَّكُمْ قَدْ أَصَبْتُمْ خَيْرًا وَذِكْرًا، وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ، فَمَنْ شَاءَ أَنْ يُجَمِّعَ فَلْيُجَمِّعْ، وَمَنْ شَاءَ أَنْ يَرْجِعَ فَلْيَرْجِعْ».وَأَخْرَجَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ «الْمُصَنَّفُ» (5728) عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ أبِي صَالِحٍ ذَكْوَانَ بِمِثْلِهِ إِلَاّ أَنَّهُ قَالَ: «وَمَنْ شَاءَ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ».وَأَخْرَجَ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (3/ 93)، والْبَيْهَقِيُّ «الْكُبْرَى» (3/ 318)، وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ «التَّمْهِيدُ» (10/ 272) مِنْ طُرُقٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَكَّائِيِّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِى صَالِحٍ عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ: اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «إِنَّهُ قَدِ اجْتَمَعَ عِيدُكُمْ هَذَا وَالْجُمُعَةُ، وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ، فَمَنْ شَاءَ أَنْ يُجَمِّعَ فَلْيُجَمِّعْ»، فَلَمَّا صَلَّى الْعِيدَ جَمَّعَ.قُلْتُ: فَلَيْسَ فِي حَدِيثَيْهِمَا ذِكْرٌ لِهَذِهِ الْعِبَارَةِ الشَّاذَّةِ الَّتِي تَفَرَّدَ بِهَا بِقَيَّةُ: أَجْزَأَهُ يَعْنِي الْعِيدَ مِنْ الْجُمُعَةِ، وَإِنَّمَا فِيهِ قَوْلُهُ: «إِنَّا مُجَمِّعُونَ»، وَهُوَ إِخْبَارٌ عَنْ نَفْسِهِ صلى الله عليه وسلم، وَعَمَّنْ لَزِمَتْهُ الْجُمُعَةَ أَنَّهُمْ مُجَمِّعُونَ لا مَحَالَةَ، إِذْ لَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَتْرُكُوا الْفَرِيضَةَ، وَقَوْلُهُ: «وَمَنْ شَاءَ أَنْ يَرْجِعَ فَلْيَرْجِعْ» إِعْلامٌ لِمَنْ كَانُوا يَنْتَابُونَ الْمَدِينَةَ لِحُضُورِ الْعِيدَ أَنَّ لَهُمْ أَنْ يُقِيمُوا بِهَا اخْتِيَارًا حَتَّى يُصَلُّوا مَعَهُ الْجُمُعَةَ، أَوْ يَنْصَرِفُوا عَنْهَا إِلَى أَمَاكِنِهِمْ ، وَيَتْرُكُونَ الإِقَامَةَ لِلْجُمُعَةِ، وَهَذَا الاخْتِيَارُ لَيْسَ لأَحَدٍ سِوَاهُمْ، وَلا يُرَخَّصُ فِيهِ لِغَيْرِهِمْ.وَبِهَذَا الإِيْضَاحِ تَعْلَمُ خَطَأَ مَنْ جَعَلَ حَدِيثَ الْبَكَّائِىِّ عَاضِدًا لَحَدِيثِ بَقِيَّةَ، وَشَاهِدًا لِصِحَّتِهِ، لاخْتِلافِهِمَا مَعْنًى وَدِلالَةً، وَتَرْجِيحُ دِلالَةِ حَدِيثِ الْبَكَّائِىِّ بِمُتَابَعَةِ الثَّوْرِىِّ وَغَيْرِهِ عَلَى مَعْنَى حَدِيثِهِ وَدِلالَتِهِ.قَالَ أَبُو عُمَرَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: فَقَدْ بَانَ فِي رِوَايَةِ الْبَكَّائِيِّ، وَالثَّوْرِيِّ لِهَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَمَّعَ ذَلِكَ الْيَوْمَ بِالنَّاسِ، وَفِي ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ فَرْضَ الْجُمُعَةِ لازِمٌ، وَأَنَّ الرُّخْصَةَ إِنَّمَا أُرِيدَ بِهَا مَنْ لَمْ تَجِبْ عَلَيْهِ الْجُمُعَةُ مِمَّنْ شَهِدَ الْعِيدَ مَنْ أَهْلَ الْبَوَادِي، وَهَذَا تَأْوِيلٌ تُعَضِّدُهُ الأُصُولُ، وَتَقُومُ عَلَيْهِ الدَّلائِلُ، وَمَنْ خَالَفَهُ فَلا دَلِيلَ مَعَهُ، وَلا حُجَّةَ لَهُ اهـ.
ওয়াহব ইবন হাফস আল-জুদ্দি থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবন রাফি’ থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি মুগিরাহ-র কথা উল্লেখ করেননি।আবু বিলাল আবু বকর ইবন আইয়াশ থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবন রাফি’ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবন হামজাহ হুযাইল আল-কুফি থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবন রাফি’ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে আবু সলিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।তদ্রূপ উবাইদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি ইবন উইয়াইনাহ থেকে এবং তিনি আবদুল আজিজ ইবন রাফি’ থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আল-হুমাইদি ইবন উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি আবু হুরায়রার নাম উল্লেখ করেননি। সুফিয়ান সাওরিও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রেও মতভেদ (اختلاف) পরিলক্ষিত হয়েছে।আবু আওয়ানাহ, যায়িদাহ, শারিক, জারির ইবন আবদুল হামিদ এবং আবু হামজাহ আস-সুক্কারি—তাঁরা সকলে আবদুল আজিজ ইবন রাফি’ থেকে এবং তিনি আবু সলিহ থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আর এটিই হচ্ছে সঠিক (صحيح) মত। সমাপ্ত।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এগুলোই এই হাদিসের সনদের (إسناد) অস্থিতিশীলতার (اضطراب) দিকসমূহ। আর ইমাম দারাকুতনি এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, কারণ এটি সুদৃঢ় হাফিজ (الأثبات الحفاظ) বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে এসেছে; যেমন: দুই সুফিয়ান—সুফিয়ান সাওরি ও ইবন উইয়াইনাহ এবং অন্যান্যরা।আর এর অগ্রহণযোগ্যতার (نكارة) বিষয়ে কথা হলো—সুফিয়ান সাওরি এবং যিয়াদ ইবন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ি মূলত বাকিয়্যাহ বর্ণিত হাদিসের ত্রুটি উন্মোচন করেছেন এবং এর অগ্রহণযোগ্যতা (نكارة) স্পষ্ট করেছেন। তবে পার্থক্য হলো সাওরি একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন আর আল-বাক্কায়ি একে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।ইমাম তহাবি 'মুশকিলুল আসার' (১১৫৬) গ্রন্থে বলেছেন: বাকার ইবন কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু দাউদ ও আবু আমির বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবন রুফাই’ থেকে, তিনি যাকওয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একই দিনে দুটি ঈদ (ঈদ ও জুমু'আ) একত্রিত হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কল্যাণ ও জিকির লাভ করেছ। আর আমরা জুমু'আর সালাত আদায় করব; সুতরাং যে ব্যক্তি জুমু'আ আদায় করতে চায় সে যেন করে, আর যে ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়।»আবদুর রাজ্জাক তাঁর 'আল-মুসান্নাফ' (৫৭২৮) গ্রন্থে সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবন রুফাই’ থেকে, তিনি আবু সলিহ যাকওয়ান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে সেখানে তিনি বলেছেন: «আর যে বসে থাকতে চায় সে যেন বসে থাকে।»ইবন আদি 'আল-কামিল' (৩/৯৩), বায়হাকি 'আল-কুবরা' (৩/৩১৮) এবং ইবন আবদিল বার 'আত-তামহিদ' (১০/২৭২) গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে যিয়াদ ইবন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ি থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবন রুফাই’ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একই দিনে দুটি ঈদ একত্রিত হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: «তোমাদের এই ঈদের দিনে জুমু'আও একত্রিত হয়েছে। আমরা জুমু'আ আদায় করব, সুতরাং যে জুমু'আ আদায় করতে চায় সে যেন করে।» অতঃপর যখন তিনি ঈদের সালাত শেষ করলেন, তখন জুমু'আর সালাতও আদায় করলেন।আমি বলছি: তাঁদের উভয়ের বর্ণিত হাদিসে এই শায (الشاذة) বা প্রচলিত সূত্রের বিপরীত শব্দটির কোনো উল্লেখ নেই, যা বাকিয়্যাহ এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন। সেটি হলো: "তা তাকে যথেষ্ট করবে"—অর্থাৎ ঈদের সালাত জুমু'আ থেকে যথেষ্ট হবে। বরং সেখানে তাঁর এই বাণী রয়েছে: «নিশ্চয়ই আমরা জুমু'আ আদায় করব।» এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের পক্ষ থেকে এবং যাঁদের জন্য জুমু'আ অপরিহার্য তাঁদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ যে, তাঁরা অবশ্যই জুমু'আ আদায় করবেন। কেননা তাঁদের জন্য ফরজ ইবাদত ত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আর তাঁর এই বাণী: «আর যে ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়»—এটি মূলত তাঁদের জন্য অবগত করা হয়েছে যাঁরা ঈদের সালাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য মদিনায় আসতেন। তাঁদের জন্য এটি ঐচ্ছিক ছিল যে, তাঁরা চাইলে সেখানে অবস্থান করে তাঁর সাথে জুমু'আ আদায় করবেন, অথবা সেখান থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন এবং জুমু'আর জন্য অবস্থান করা ত্যাগ করবেন। আর এই এখতিয়ার তাঁদের ব্যতীত অন্য কারো জন্য ছিল না এবং তাঁদের ছাড়া অন্য কাউকে এই অনুমতি দেওয়া হয়নি।এই স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে আপনি সেই ব্যক্তির ভুল বুঝতে পারবেন, যিনি আল-বাক্কায়ির হাদিসকে বাকিয়্যাহর হাদিসের সমর্থক (عاضد) এবং এর বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য (শাহিদ) হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ অর্থ ও নিহিতার্থের দিক থেকে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বরং সাওরি ও অন্যান্যদের সমর্থক বর্ণনার (متابعة) কারণে আল-বাক্কায়ির হাদিসের নিহিতার্থটিই অর্থ ও নির্দেশনার দিক থেকে অগ্রগণ্য।আবু উমর ইবন আবদিল বার বলেছেন: আল-বাক্কায়ি এবং সাওরির এই হাদিসের বর্ণনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন লোকজনকে নিয়ে জুমু'আ আদায় করেছিলেন। এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, জুমু'আর ফরজ হওয়া অপরিহার্য (لازم)। আর মূলত এই বিশেষ অনুমতি (رخصة) তাঁদের জন্য প্রদান করা হয়েছে যাঁদের ওপর জুমু'আ ওয়াজিব ছিল না, কিন্তু তাঁরা মরুভূমি বা গ্রাম অঞ্চল থেকে এসে ঈদের জামাতে শরিক হয়েছিলেন। এটিই এমন এক ব্যাখ্যা যাকে মূলনীতিসমূহ সমর্থন করে এবং প্রমাণাদি যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করল, তার পক্ষে কোনো দলিল নেই এবং তার কোনো অকাট্য যুক্তিও নেই। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَالْخُلاصَةُ، فَحَدِيثُ بَقِيَّةَ غَرِيبٌ مُنْكَرٌ، لا يُتَابِعُهُ أَحَدٌ عَلَى دِلالَتِهِ وَمَعْنَاهُ. وَلِهَذَا أَنْكَرَهُ الأَئِمَّةُ: أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَأَبُو حَاتِمٍ، وَالدَّارَقُطْنِيُّ، وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ.قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ «تَارِيْخُ بَغْدَادَ» (3/ 129): حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْبَرْقَانِيُّ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْن إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقِ: حَدَّثَكُمْ يَحْيَى بْنُ صَاعِدٍ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ الأَثْرَمُ قَالَ: قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: بَلَغَنِي أَنَّ بَقِيَّةَ رَوَى عَنْ شُعْبَةَ عَنِ مُغِيْرَةَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي الْعِيدَيْنِ يَجْتَمِعَانِ فِي يَوْمٍ، مِنْ أَيْنَ جَاءَ بَقِيَّةُ بِهَذَا؟، كَأَنَّهُ يَعْجَبُ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: قَدْ كَتَبْتُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ عَنْ بَقِيَّةَ عَنْ شُعْبَةَ حَدِيثَيْنِ لَيْسَ هَذَا فِيهِمَا، وَإِنَّمَا رَوَاهُ النَّاسُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِى صَالِحٍ مُرْسَلاً. [2] حَدِيثُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهقَالَ ابْنُ مَاجَهْ (1302): حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ ثَنَا مِنْدَلُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَصَلَّى بِالنَّاسِ، ثُمَّ قَالَ: مَنْ شَاءَ أَنْ يَأْتِيَ الْجُمُعَةَ فَلْيَأْتِهَا، وَمَنْ شَاءَ أَنْ يَتَخَلَّفَ فَلْيَتَخَلَّفْ.وَأَخْرَجَهُ ابْنُ عَدِيٍّ «الْكَامِلُ» (6/ 456)، وَابْنُ الْجَوْزِيِّ «التَّحْقِيقُ فِي أَحَادِيثِ الْخَلافِ» (797) كلاهما من طريق جُبَارَةَ بْنِ الْمُغَلِّسِ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ.قُلْتُ: وَهَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ. مِنْدَلٌ، وَجُبَارَةُ ضَعِيفَانِ، وَأَضْعَفُهُمَا جُبَارَةُ، فَقَدْ اتَّهَمَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ بِالْكَذِبِ.وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: عَرَضْتُ عَلَى أَبِي أَحَادِيثَ سَمِعْتُهَا مِنْ جُبَارَةَ، فَقَالَ فِي بَعْضِ مَا عَرَضْتُ عَلَيْهِ: هَذِهِ مَوْضُوعَةٌ أَوْ هِيَ كَذِبٌ. وَقَالَ ابْنُ الْجُنَيْدِ: قَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدِيثُهُ مُضْطَرِبٌ.وَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: كَانَ أبُو زُرْعَةَ حَدَّثَ عَنْهُ فِي أَوَّلِ أَمْرِهِ، ثُمَّ تَرَكَ حَدِيثَهُ بَعْدُ، وَقَالَ: قَالَ لِيَ ابْنُ نُمَيْرٍ: مَا هُوَ عِنْدِي مِمَّنُ يَكْذِبُ، كَانَ يُوضَعُ لَهُ الْحَدِيثُ، فَيُحَدِّثُ بِهِ.وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: فِي بَعْضِ حَدِيثِهِ مَا لا يُتَابِعُهُ أَحَدٌ عَلَيْهِ، غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ لا يَتَعَمَّدُ الْكَذِبَ، إِنَّمَا كَانَتْ غَفْلَةٌ فِيهِ، وَحَدِيثُهُ مُضْطَرِبٌ كَمَا قَالَ الْبُخَارِيُّ.قُلْتُ: وَهَذَا الْحَدِيثُ مِمَّا يَصْدُقُ فِيهِ قَوْلُ الإِمَامِ أَحْمَدَ السَّالِفِ، إِذْ لا أَصْلَ لَهُ مِنْ حَدِيثِ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، إِنَّمَا هُوَ مِنْ حَدِيثِ الْمَتْرُوكِينَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَلا يَصِحُّ عَنْهُ.فَقَدْ أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (12/ 435/13591) مِنْ طَرِيقِ سَعِيدِ بْنِ رَاشِدٍ السَّمَّاكِ ثَنَا عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمُ فِطْرٍ، وَجُمْعَهٌ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الْعِيدِ ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ قَدْ أَصَبْتُمْ خَيْرًا وَأَجْرًا، وَإِنَّا مُجْمِعُونَ، فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يُجْمِعَ مَعَنَا فَلْيُجْمِعْ، وَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهِ فَلْيَرْجِعْ.قُلْتُ: وَهَذَا بِاطِلٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ. وَالْمُتَّهَمُ بِهِ سَعِيدُ بْنُ رَاشِدٍ السَّمَّاكُ الْبَصْرِيُّ.قَالَ ابْنُ مَعِينٍ: لَيْسَ بِشَيْءٍ. وَقَالَ الْبُخَارِيُّ، وَأَبُو حَاتِمٍ: مُنْكَرُ الْحَدِيثِ. وَقَالَ النَّسَائِيُّ: مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ. [3] حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رضي الله عنهقَالَ أَبُو دَاوُدَ (904): حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ إِيَاسِ بْنِ أَبِي رَمْلَةَ الشَّامِيِّ قَالَ: شَهِدْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، وَهُوَ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، قَالَ: أَشَهِدْتَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ
সংক্ষেপকথা হলো, বকিয়্যাহর হাদিসটি একক (غريب) ও অস্বীকৃত (منكر); এর মর্ম ও অর্থের ক্ষেত্রে কেউ তাঁর অনুসরণ করেনি। এই কারণেই ইমামগণ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, আবু হাতিম, দারা কুতনী এবং ইবনে আব্দুল বার।আবু বকর আল-খাতিব 'তারিখে বাগদাদ' (৩/১২৯)-এ বলেছেন: আমাদের নিকট আবু বকর আল-বারকানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ওয়াররাকের সামনে পাঠ করেছি যে, ইয়াহইয়া বিন সাইদ আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর আল-আছরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, বকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন শুবা থেকে, তিনি মুগীরা থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন রুফাই থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরা থেকে—একই দিনে দুই ঈদ একত্রিত হওয়া প্রসঙ্গে। বকিয়্যাহ এই হাদিস কোথা থেকে পেলেন? তিনি যেন এতে বিস্ময় প্রকাশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি ইয়াজিদ বিন আব্দু রাব্বিহি থেকে বকিয়্যাহর সূত্রে শুবা থেকে বর্ণিত দুটি হাদিস লিখেছি, যার মধ্যে এটি নেই। বরং মানুষ এটি আব্দুল আজিজ থেকে আবু সালিহর সূত্রে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। [২] আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিসইবনে মাজাহ (১৩০২) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট জুবাহ বিন আল-মুগাল্লিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মিনদাল বিন আলী বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে দুটি ঈদ একই দিনে একত্রিত হয়েছিল। তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি জুমায় আসতে চায় সে যেন আসে, আর যে অনুপস্থিত থাকতে চায় সে যেন অনুপস্থিত থাকে।এটি ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৬/৪৫৬) এবং ইবনে আল-জাওজি 'আত-তাহকিক ফি আহাদিসিল খিলাফ' (৭৯৭)-এ বর্ণনা করেছেন; উভয়েই জুবাহ বিন আল-মুগাল্লিসের সূত্রে এই একই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আমি বলছি: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ। মিনদাল এবং জুবাহ উভয়ই দুর্বল (ضعيف); আর তাদের মধ্যে জুবাহ অধিকতর দুর্বল, কারণ ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যার (كذب) অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: আমি আমার পিতার নিকট কিছু হাদিস পেশ করলাম যা আমি জুবাহ থেকে শুনেছিলাম। আমি যা পেশ করেছি তার কিছু সম্পর্কে তিনি বললেন: এগুলো বানোয়াট (موضوعة) অথবা এগুলো মিথ্যা (كذب)। ইবনুল জুনাইদ বলেছেন: বুখারি বলেছেন: তার হাদিস অসংলগ্ন (مضطرب)।ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আবু যুরআ প্রাথমিক অবস্থায় তার থেকে বর্ণনা করতেন, পরবর্তীতে তিনি তার হাদিস পরিত্যাগ (ترك) করেন। তিনি আরও বলেন: ইবনে নুমাইর আমাকে বলেছেন: আমার নিকট সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলা (يكذب) লোকেদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তার জন্য হাদিস তৈরি করে দেওয়া হতো আর সে তা বর্ণনা করত।ইবনে আদি বলেছেন: তার কিছু হাদিসে এমন বিষয় রয়েছে যাতে কেউ তার অনুসরণ করেনি, তবে সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলত না; বরং এটি তার অসতর্কতার কারণে হয়েছে। ইমাম বুখারি যেমনটি বলেছেন, তার হাদিস অসংলগ্ন (مضطرب)।আমি বলছি: এই হাদিসটির ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদের পূর্বোক্ত উক্তিটিই সঠিক, কারণ নাফে-এর সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এই হাদিসের কোনো ভিত্তি (أصل) নেই। বরং এটি পরিত্যক্ত (متروكين) বর্ণনাকারীদের সূত্রে আতা বিন আবি রাবাহ থেকে ইবনে উমরের বর্ণনা, যা তাঁর থেকে বিশুদ্ধ নয়।তাবারানি 'আল-কাবির' (১২/৪৩৫/১৩৫৯১)-এ সাঈদ বিন রাশিদ আস-সাম্মাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আতা বিন আবি রাবাহ বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ঈদুল ফিতর ও জুমার দিন—এই দুই ঈদ একত্রিত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে ঈদের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: হে লোকসকল! তোমরা কল্যাণ ও নেকি লাভ করেছ। আমরা জুমার নামাজও আদায় করব। সুতরাং যে আমাদের সাথে জুমা আদায় করতে চায় সে যেন আদায় করে, আর যে তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়।আমি বলছি: এই সনদে হাদিসটি বাতিল (باطل)। এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো সাঈদ বিন রাশিদ আস-সাম্মাক আল-বাসরি।ইবনে মাঈন বলেছেন: সে উল্লেখযোগ্য কেউ নয়। বুখারি ও আবু হাতিম বলেছেন: সে অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। নাসাঈ বলেছেন: সে পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)। [৩] যায়িদ বিন আরকাম (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিসআবু দাউদ (৯০৪) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন কাসির বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসরাইল, আমাদের নিকট উসমান বিন আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন ইয়াস বিন আবি রামলাহ আশ-শামি থেকে, তিনি বলেন: আমি মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ানকে দেখেছি যখন তিনি যায়িদ বিন আরকামকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, তিনি বললেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ৭)
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِيدَيْنِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ؟، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَكَيْفَ صَنَعَ؟، قَالَ: صَلَّى الْعِيدَ، ثُمَّ رَخَّصَ فِي الْجُمُعَةِ فَقَالَ: «مَنْ شَاءَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُصَلِّ».وَأَخْرَجَهُ الطَّيَالِسِيُّ (685)، وَابْنُ أبِي شَيْبَةَ (2/ 187/5896)، وَأَحْمَدُ (4/ 372)، وَالدَّارِمِيُّ (1612)، وَالْبُخَارِيُّ «التَّارِيْخُ الْكَبِيْرُ» (1/ 438)، وَالنَّسَائِيُّ «الْمُجْتَبَى» (3/ 194) و «الْكُبْرَى» (1793)، وَابْنُ مَاجَهْ (1310)، وَالْبَزَّارُ (4337)، وَابْنُ خُزَيْمَةَ (1464)، وَيَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ «الْمَعْرِفَةُ وَالتَّارِيْخُ» (1/ 303)، وَالطَّحَاوِيُّ «شَرْحُ مُشْكَلِ الآثَارِ» (1153، 1154)، وَالطَّبَرَانِيُّ «الْكَبِيْرُ» (5/ 210/5120)، وَالْحَاكِمُ «الْمُسْتَدْرَكُ» (1/ 288)، وَالْبَيْهَقِيُّ «السُّنَنُ الْكُبْرَى» (3/ 317) و «الصُّغْرَى» (714) و «مَعْرِفَةُ السُّنَنِ وَالآثَارِ» (7023)، وَابْنُ الْجَوْزِيِّ «التَّحْقِيقُ فِي أَحَادِيثِ الْخَلافِ» (795) مِنْ طُرُقٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ إِيَاسِ بْنِ أَبِي رَمْلَةَ بِمِثْلِهِ.قَالَ أَبُو بَكْرِ ابْنُ خُزَيْمَةَ: إِنْ صَحَّ الْخَبَرُ!، فَإِنِّي لَا أَعْرِفُ إِيَاسَ بْنَ أَبِي رَمْلَةَ بِعَدَالَةٍ، وَلَا جَرْحٍ.وَقَالَ الذَّهَبِيُّ «مِيزَانُ الاعْتِدَالِ» (1052): قَالَ ابْنُ الْمُنْذِرِ: لا يَثْبُتُ هَذَا، فَإِنَّ إِيَاسًا مَجْهُولٌ.قُلْتُ: هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ. وَإِيَاسُ بْنُ أَبِي رَمْلَةَ، وَإِنْ كَانَ مِنْ مَجَاهِيلِ التَّابِعِينَ الَّذِينَ يُتَلَقَّى حَدِيثُهُمْ بِحُسْنِ الظَّنِّ عِنْدَ الذَّهَبِيِّ، لَكِنْ مُوجِبَاتُ ضَعْفِ حَدِيثِهِ لائِحَةٌ:[أَوَّلاً] نَكَارَةُ مَتْنِهِ.[ثَانِيًا] مُخَالَفَتُهُ للأُصُولِ.[ثَالِثًا] مُعَارَضَتُهُ لِمَا ثَبَتَ وَصَحَّ مِنْ حَدِيثِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ رضي الله عنه: أَنَّ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَ كَانَا إِذَا اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاتَيْنِ كِلَيْهِمَا.قُلْتُ: وَأَكْثَرَ مَنْ تَلَقَّى هَذَا الْحَدِيثَ بِالْقَبُولِ، وَلَمْ يُضَعِّفْهُ بِجَهَالَةِ رَاوِيهِ، فَإِنَّمَا تَأَوَّلَهُ عَلَى انْتِفَاءِ هَذِهِ الْعَوَارِضِ الثَّلاثِ، كَنَحْوِ صَنِيعِ ابْنِ خُزَيْمَةَ، وَالطَّحَاوِيِّ، وَابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ، وَعِدَّةٍ مِنَ الأَئِمَّةِ وَالْحُفَّاظِ.فَقَدْ بَوَّبَ لَهُ أَبُو بَكْرِ ابْنُ خُزَيْمَةَ: بَابُ الرُّخْصَةِ لِبَعْضِ الرَّعِيَّةِ فِي التَّخَلُّفِ عَنِ الْجُمُعَةِ إِذَا اجْتَمَعَ الْعِيدُ وَالْجُمُعَةُ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ، إِنْ صَحَّ الْخَبَرُ، فَإِنِّي لَا أَعْرِفُ إِيَاسَ بْنَ أَبِي رَمْلَةَ بِعَدَالَةٍ، وَلَا جَرْحٍ.فَقَوْلُهُ: لِبَعْضِ الرَّعِيَّةِ بَيِّنُ الدِّلالَةِ عَلَى أَنَّ الرُّخْصَةَ لِمَنْ شَهِدَ ذَلِكَ الْعِيدَ مِمَّنْ لَمْ تَجِبِ الْجُمُعَةُ عَلَيْهِ، وَهُمْ أَهْلُ الْبَوَادِي.وَمِنَ التَّنْبِيهِ الْوَاجِبِ: أَنَّ ابْنَ خُزَيْمَةَ لَمْ يَجْزِمْ بِصِحَّةِ الْحَدِيثِ كَمَا زَعَمَ الأَمِيْرُ الصَّنْعَانِيُّ فِي «سُبُلِ السَّلامِ».وَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ الطَّحَاوِيُّ «شَرْحِ مُشْكَلِ الآثَارِ» (1153، 1154): أَنَّ الْمُرَادِينَ بِالرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ الْجُمُعَةِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُمْ أَهْلُ الْعَوَالِي الَّذِينَ مَنَازِلُهُمْ خَارِجَةٌ عَنِ الْمَدِينَةِ، مِمَّنْ لَيْسَتِ الْجُمُعَةُ عَلَيْهِمْ وَاجِبَةً ; لأَنَّهُمْ فِي غَيْرِ مِصْرٍ مِنَ الأَمْصَارِ ، وَالْجُمُعَةُ فَإِنَّمَا تَجِبُ عَلَى أَهْلِ الأَمْصَارِ.وَقَالَ أَبُو عُمَرَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ «التَّمْهِيدُ» (10/ 277): وَلَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى سُقُوطِ الْجُمُعَةِ، وَإِنَّمَا فِيهِ دَلِيلٌ أَنَّهُ رَخَّصَ فِي شُهُودِهَا، وَأَحْسَنُ مَا يُتَأَوَّلُ فِي ذَلِكَ أَنَّهُ رُخِّصَ بِهِ لِمَنْ لَمْ تَجِبِ الْجُمُعَةُ عَلَيْهِ مِمَّنْ شَهِدَ ذَلِكَ الْعِيدَ.وَقَالَ «الاسْتِذْكَارُ» (7/ 29): لَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْ هذه الآثَارِ، مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْهَا، وَمَا سَكَتْنَا عَنْهُ أَنَّ صَلاةَ الْجُمُعَةِ لَمْ يُقِمْهَا الأَئِمَّةُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ، وَإِنَّمَا فِيهَا أَنَّهُمْ أَقَامُوهَا بَعْدَ إِذْنِهِمُ الْمَذْكُورِ عَنْهُمْ، وَذَلِكَ الإِذْنُ عِنْدَنَا لِمَنْ قَصَدَ الْعِيدَيْنِ مِنْ غَيْرِ أَهْلِ الْمِصْرِ.
(তাঁর ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক) একদিনে কি দুটি ঈদ একত্রিত হয়েছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) কী করেছিলেন? তিনি বললেন: তিনি ঈদের নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর জুমুআর নামাজের ব্যাপারে অবকাশ প্রদান করলেন এবং বললেন: «যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ইচ্ছুক, সে যেন আদায় করে»।আর এটি বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি (৬৮৫), ইবনে আবি শাইবা (২/১৮৭/৫৮৯৬), আহমাদ (৪/৩৭২), দারেমি (১৬১২), বুখারি ‘তারিখুল কাবির’ (১/৪৩৮), নাসাঈ ‘আল-মুজতাবা’ (৩/১৯৪) ও ‘আল-কুবরা’ (১৭৯৩), ইবনে মাজাহ (১৩১০), বাজ্জার (৪৩৩৭), ইবনে খুজায়মাহ (১৪৬৪), ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান ‘আল-মারিফাহ ওয়াত তারিখ’ (১/৩০৩), তাহাবি ‘শারহু মুশকিলিল আসার’ (১১৫৩, ১১৫৪), তাবারানি ‘আল-কাবির’ (৫/২১০/৫১২০), হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ (১/২৮৮), বায়হাকি ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ (৩/৩১৭) ও ‘আস-সুগরা’ (৭১৪) ও ‘মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’ (৭০২৩), এবং ইবনে আল-জাওজি ‘আত-তাহকিক ফি আহাদিসিল খিলাফ’ (৭৯৫); ইসরাঈল থেকে বর্ণিত একাধিক সূত্রে উসমান ইবনে মুগিরা থেকে, তিনি ইয়াস ইবনে আবি রামলাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আবু বকর ইবনে খুজায়মাহ বলেন: এই সংবাদটি (الخبر) যদি সহিহ (صحيح) হয়! কেননা আমি ইয়াস ইবনে আবি রামলাহ-কে নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) বা দুর্বলতা (جرح) কোনোটি দিয়েই চিনি না।আয-যাহাবি ‘মিযানুল ইতিদাল’ (১০৫২)-এ বলেন: ইবনুল মুনযির বলেছেন: এটি সাব্যস্ত হয় না, কারণ ইয়াস একজন অপরিচিত (مجهول) ব্যক্তি।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। যদিও ইয়াস ইবনে আবি রামলাহ এমন সব অপরিচিত (مجاهيل) তাবেঈদের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত যাঁদের বর্ণিত হাদিস আয-যাহাবির নিকট সুধারণার (حسن الظن) ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়, তবে তাঁর হাদিস দুর্বল হওয়ার কারণসমূহ সুস্পষ্ট:[প্রথমত] এর মূলপাঠের (متن) অগ্রহণযোগ্যতা (نكارة)।[দ্বিতীয়ত] এটি মূলনীতিসমূহের (الأصول) পরিপন্থী।[তৃতীয়ত] নুমান ইবনে বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সাব্যস্ত ও সহিহ (صحيح) হাদিসের সাথে এর বৈপরীত্য: নিশ্চয়ই যখন জুমুআ এবং ঈদ একই দিনে একত্রিত হতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় নামাজই আদায় করতেন।আমি বলছি: যারা এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য (القبول) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং রাবির (راوي) পরিচয়হীনতার (جهالة) কারণে একে দুর্বল (ضعيف) বলেননি, তাঁরা মূলত এই তিনটি আপত্তির অনুপস্থিতি ধরে নিয়ে এর ব্যাখ্যা করেছেন; যেমনটি করেছেন ইবনে খুজায়মাহ, তাহাবি, ইবনে আব্দুল বার এবং একদল ইমাম (الأئمة) ও হাফেজ (الحفاظ)।আবু বকর ইবনে খুজায়মাহ এর জন্য অধ্যায় রচনা করেছেন এভাবে: “অধ্যায়: একদিনে ঈদ ও জুমুআ একত্রিত হলে প্রজাদের একাংশের জন্য জুমুআ থেকে অনুপস্থিত থাকার অবকাশ প্রসঙ্গে; যদি সংবাদটি (الخبر) সহিহ (صحيح) হয়, কেননা আমি ইয়াস ইবনে আবি রামলাহ-কে নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) বা দুর্বলতা (جرح) কোনোটি দিয়েই চিনি না।”সুতরাং তাঁর কথা: “প্রজাদের একাংশের জন্য” একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, এই অবকাশ কেবল তাদের জন্য যারা সেই ঈদে উপস্থিত হয়েছিলেন যাদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব নয়, আর তারা হলেন পল্লীবাসী।একটি জরুরি সতর্কতা হলো: ইবনে খুজায়মাহ এই হাদিসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না, যেমনটি আমির আস-সানআনি ‘সুবুলুস সালাম’-এ দাবি করেছেন।আবু জাফর আত-তাহাবি ‘শারহু মুশকিলিল আসার’ (১১৫৩, ১১৫৪)-এ বলেন: এই হাদিসে জুমুআ ত্যাগের অবকাশের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলেন মদিনার উপকণ্ঠের (আওয়ালি) বাসিন্দারা, যাদের আবাসস্থল মদিনা শহরের বাইরে এবং যাদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব নয়; কারণ তারা কোনো নগরের অধিবাসী নন, আর জুমুআ কেবল নগরবাসীদের ওপর ওয়াজিব হয়।আবু উমর ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহিদ’ (১০/২৭৭)-এ বলেন: এর মধ্যে জুমুআ রহিত হওয়ার কোনো দলিল নেই, বরং এতে দলিল রয়েছে যে তিনি তাতে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। আর এর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো যে, এটি তাদের জন্য অবকাশ ছিল যাদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব নয় অথচ তারা সেই ঈদে উপস্থিত হয়েছিলেন।তিনি ‘আল-ইস্তিজকার’ (৭/২৯)-এ বলেন: এই বর্ণনাগুলোর কোনোটিতেই—যা আমরা উল্লেখ করেছি কিংবা যা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি—এমন কিছু নেই যে ইমামগণ সেই দিন জুমুআর নামাজ কায়েম করেননি; বরং এতে রয়েছে যে তারা তাঁদের উল্লেখিত সেই অনুমতির পর তা কায়েম করেছিলেন। আর সেই অনুমতি আমাদের নিকট তাদের জন্য ছিল যারা ঈদ উপলক্ষে নগর ব্যতীত অন্য এলাকা থেকে এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লুমআতু বি-বায়ানি আন্না সালাতাল ঈদি লা তুজজিউ আন সালাতিল জুমুআতি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَاسْتَشْهَدُوا لِخُصُوصِ الرُّخْصَةِ بِأَهْلِ الْعَوَالِي بِمَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي «صَحِيحِهِ» عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ قال: شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، فَكَانَ ذَلِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَصَلَّى قَبْلَ الْخُطْبَةِ، ثُمَّ خَطَبَ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ؛ إِنَّ هَذَا يَوْمٌ قَدْ اجْتَمَعَ لَكُمْ فِيهِ عِيدَانِ، فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَنْتَظِرَ الْجُمُعَةَ مِنْ أَهْلِ الْعَوَالِي فَلْيَنْتَظِرْ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْجِعَ فَقَدْ أَذِنْتُ لَهُ. [4] حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهقَالَ ابْنُ مَاجَهْ (1311): حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي مُغِيرَةُ الضَّبِّيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «اجْتَمَعَ عِيدَانِ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا، فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ، وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ إِنْ شَاءَ اللهُ».قُلْتُ: كَذَا سَاقَهُ ابْنُ مَاجَهْ بِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَهُوَ خَطَأٌ صَوَابُهُ كَمَا أَخْرَجَهُ أَبُو دَاودَ بِهَذَا الإِسْنَادِ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ. وَهُوَ كَمَا سَبَقَ بَيَانُهُ مُفَصَّلاً: حَدِيثٌ مُضْطَرِبٌ مُنْكَرُ الْمَتْنِ.وَالْخُلاصَةُ: فَهَذِهِ الأَحَادِيثُ كُلُّهَا ضِعَافٌ وَاهِيَةٌ، وَلا يَسْتَقِلُ وَاحِدٌ مِنْهَا بِذَاتِهِ فِي الصِّحَّةِ، وَلا يُقَوِّي بَعْضُهَا بَعْضًا لِتَنَاقُضِهَا، وَتَبَايُنِ دِلالاتِهَا، ومُعَارَضَتُهَا مُجْتَمِعَةً بِالصَّحِيحِ الثَّابِتِ مِنْ حَدِيثِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ رضي الله عنه: أَنَّ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَ كَانَا إِذَا اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاتَيْنِ كِلَيْهِمَا.وَللهِ دَرُّ إِمَامِ الْمَالِكِيَّةِ أَبِي عُمَرَ ابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ إِذْ قَالَ: لا يَجُوزُ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَذْهَبَ إِلَى سُقُوطِ فَرْضِ الْجُمُعَةِ عَمَّنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ بِأَحَادِيثَ لَيْسَ مِنْهَا حَدِيثٌ إِلَاّ وَفِيهِ مَطْعَنٌ لأَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ اهـ.وَمِنَ التَّنْبِيهِ الْوَاجِبِ: أَنَّ أَكْثَرَ الْمُحَقِّقِينَ الْمُتَأَخِّرِينَ يُصَحِّحُونَ هَذِهِ الْوَاهِيَاتِ بِمَجْمُوعِ طُرُقِهَا، وَيَزْعُمُونَ أَنَّ ضَعْفَهَا مَيْسُورٌ مُحْتَمَلٌ، وَيَتَغَافَلُونَ عَنْ تَبَايُنِ دِلالاتِهَا وَمَعَانِيهَا، وَمُخَالَفَتِهَا للأُصُولِ.وَالْحَقُّ الَّذِي لا مِرْيَةَ فِيهِ: أَنَّهُ بِمِثْلِ هَذَا الصَّنِيعِ خَرَجَ أَكْثَرُهُمْ عَنْ حَدِّ التَّسَاهُلِ إِلَى التَّغَافُلِ، وَعَنْ قَيْدِ التَّثَبُّتِ وَالإِحْتِيَاطِ إِلَى التَّقْصِيْرِ وَالإِفْرَاطِ، ولَمْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ إِسْنَادٍ يَسِيْرٍ ضَعْفُهُ، مَجْبُورٍ كَسْرُهُ، وَإِسْنَادٍ ضَعْفُهُ أَكِيدٌ، وَكَسْرُهُ شَدِيدٌ.وَتَحْرِيرُ الْقَوْلِ فِى هَذَا الْمَهْيَعِ الصَّعْبِ مَا قَالَهُ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ الْعَسْقَلانِيُّ، فِيمَا ذَكَرَهُ عَنْهُ السَّخَاوِيُّ فِى «الْقَوْلِ الْبَدِيعِ» (ص258): «سَمِعْتُ شَيْخَنَا - يَعْنِي ابْنَ حَجَرٍ - مِرَارًا يَقُولُ، وَكَتَبَهُ لِي بِخَطِّهِ: إِنَّ شَرَائِطَ الْعَمَلِ بِالضَّعِيفِ ثَلاثَةٌ:(1) أَنْ يَكُونَ الضَّعْفُ غَيْرَ شَدِيدٍ، فَيُخْرِجُ هَذَا الْقَيْدُ الْكَذَّابِينَ، وَالْمُتَّهَمِينَ بِالْكَذِبِ، وَمَنْ فَحُشَ غَلَطُهُ.(2) أَنْ يَكُونَ مُنْدَرِجًا تَحْتَ أَصْلٍ عَامٍ، فَيَخْرُجُ مَا يُخْتَرَعُ، بِحَيْثُ لا يَكُونُ لَهُ أَصْلٌ أَصْلاً.(3) أَلا يَعْتَقِدَ عِنْدَ الْعَمَلِ بِهِ بِثُبُوتِهِ، لِئَلا يَنْسُبَ إِلَى النَّبىِّ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ يَقُلْهُ.قَالَ: وَالأَخِيْرَانِ عَنِ الْعِزِّ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ، وَابْنِ دَقِيقِ الْعِيدِ. وَالأَوَّلُ نَقَلَ الْعَلائِيُّ الاتِّفَاقَ عَلَيْهِ» اهـ.وَلَسْتُ مُبَالِغًا إِذَا قُلْتُ: إِنَّ أَكْثَرَ الْمُحَقِّقِينَ الْمُتَأَخِّرِينَ لا يُرَاعُونَ هَذِهِ الشَّرَائِطِ مُجْتَمِعَةً، خَاصَّةً وَاشْتِرَاطُ كَوْنِ الْحَدِيثِ مُنْدَرِجًا تَحْتَ أَصْلٍ عَامٍ صَعْبُ الإِدْرَاكِ وَالتَّصَوُّرِ، فَإِنَّ إِثْبَاتَ تَوَثُّقِ الْحَدِيثِ بِالأَصْلِ، وَانْدِرَاجِهِ تَحْتَهُ أَمْرٌ عَسِيْرٌ، لا يُحَقِّقُهُ إِلَاّ جَهَابِذَةُ الْفُقَهَاءِ والأُصُولِيِّينَ، لَذَا لا يُسْتَغْرَبُ اشْتِرَاطُهُمْ لَهُ.
তারা আওয়ালি অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ অনুমতির দলিল হিসেবে ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে ইবনে আজহারের মুক্তদাস আবু উবাইদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা পেশ করেছেন। তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফানের সাথে ঈদের নামাজে উপস্থিত ছিলাম। সেদিন ছিল জুমার দিন। তিনি খুতবার আগে নামাজ পড়ালেন, তারপর খুতবা দিলেন। তিনি বললেন: হে লোকসকল! আজ এমন একটি দিন যাতে তোমাদের দুটি ঈদ একত্রিত হয়েছে। সুতরাং আওয়ালি অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা জুমার জন্য অপেক্ষা করতে চাও, তারা অপেক্ষা করতে পারো, আর যারা ফিরে যেতে চাও, আমি তাদের অনুমতি দিচ্ছি। [৪] ইবনে আব্বাসের (রা.) হাদিসইবনে মাজাহ (১৩১১) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুসাফফা আল-হিমসি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুগিরা আদ-দাব্বি, তিনি আব্দুল আজিজ বিন রুফাই থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের এই দিনে দুটি ঈদ একত্রিত হয়েছে। সুতরাং যে চায়, তার জন্য এটি জুমার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। আর আমরা জুমার নামাজ আদায় করব, ইনশাআল্লাহ্।»আমি (লেখক) বলছি: ইবনে মাজাহ এই সনদে ইবনে আব্বাস থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তবে এটি ভুল; এর সঠিক রূপ হলো যেমনটি আবু দাউদ এই সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এটি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনার ন্যায় একটি বিপর্যস্ত (مضطرب) এবং পরিত্যক্ত মূলপাঠ (منكر المتন) বিশিষ্ট হাদিস।সারকথা: এই হাদিসগুলোর সবগুলোই দুর্বল (ضعاف) ও অসার (واهية)। এগুলোর কোনটিই নিজে নিজে বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার যোগ্য নয় এবং এদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, অর্থের ভিন্নতা এবং নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের পরিপন্থী হওয়ার কারণে একটি অপরটিকে শক্তিশালীও করে না। নুমান ইবনে বশির (রা.)-এর হাদিসে এসেছে যে, জুমা এবং ঈদ যখন একদিনে একত্রিত হতো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উভয় নামাজই আদায় করতেন।মালিকি মাজহাবের ইমাম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার কতই না চমৎকার বলেছেন: «কোনো মুসলমানের জন্য এমন সব হাদিসের ভিত্তিতে জুমার আবশ্যকতা বিলুপ্ত করার দিকে যাওয়া বৈধ নয়, যার প্রতিটিই হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সমালোচিত।»একটি জরুরি সতর্কতা: পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ গবেষক এই অসার (واهية) বর্ণনাগুলোকে বিভিন্ন সূত্রের সমষ্টির ভিত্তিতে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে গণ্য করেন। তারা দাবি করেন যে, এগুলোর দুর্বলতা (ضعف) সামান্য ও সহনীয়। অথচ তারা এগুলোর অর্থগত বৈপরীত্য এবং মূলনীতির (উসুল) সাথে এগুলোর বিরোধের বিষয়টি এড়িয়ে যান।সন্দেহাতীত সত্য এই যে: এই ধরনের কাজের মাধ্যমে তাদের অনেকেই শিথিলতার সীমা ছাড়িয়ে চরম উদাসীনতার দিকে এবং সতর্কতা ও সাবধানতার গণ্ডি পেরিয়ে অবহেলা ও বাড়াবাড়ির দিকে ধাবিত হয়েছেন। তারা সামান্য দুর্বল (ضعف) সনদ—যার ত্রুটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব—এবং মারাত্মক দুর্বল (ضعف) সনদ—যার ভাঙন অত্যন্ত গভীর—এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি।এই কঠিন বিষয়ে চূড়ান্ত কথা সেটিই যা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেছেন এবং সাখাভি তাঁর 'আল-কাওলুলবাদি' (পৃ. ২৫৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: «আমি আমাদের শাইখকে—অর্থাৎ ইবনে হাজারকে—বারবার বলতে শুনেছি এবং তিনি নিজ হাতে আমার জন্য এটি লিখেছেন: দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার শর্ত তিনটি:(১) দুর্বলতা (ضعف) যেন মারাত্মক না হয়। এই শর্তের মাধ্যমে মিথ্যাবাদী (كذابين), মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهمين بالكذب) এবং যাদের ভুল অত্যন্ত বেশি, তারা বাদ পড়বে।(২) এটি যেন কোনো সাধারণ মূলনীতির (আসল) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে এমন নতুন উদ্ভাবিত বিষয় বাদ পড়বে যার কোনো ভিত্তি নেই।(৩) এর ওপর আমল করার সময় এটি সুসাব্যস্ত বলে বিশ্বাস করা যাবে না, যাতে নবী (সা.)-এর দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ না করা হয় যা তিনি বলেননি।তিনি বলেন: «শেষোক্ত দুটি শর্ত ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম এবং ইবনে দাকিকুল ঈদ থেকে বর্ণিত। আর প্রথম শর্তটির ওপর ঐকমত্যের কথা আলায়ী বর্ণনা করেছেন।»আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছি না যখন বলি: পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ গবেষক এই শর্তগুলো একত্রে বজায় রাখেন না। বিশেষ করে হাদিসটি কোনো সাধারণ মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্তটি অনুধাবন ও কল্পনা করা বেশ কঠিন। কারণ মূলনীতির মাধ্যমে হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি দুরুহ বিষয়, যা কেবল ফকিহ ও উসুলবিদগণের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণই অর্জন করতে পারেন। তাই তারা এই শর্তারোপ করেছেন দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই।