(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
السلفيون وحوار هادئ مع الدكتور علي جمعة   (شحاتة صقر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: السلفيون وحوار هادئ مع الدكتور علي جمعة

المؤلف: شحاتة محمد صقر

الناشر: دار الخلفاء الراشدين - دار الفتح الإسلامي، الإسكندرية

عدد الصفحات: 181

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1433

সালাফিগণ এবং ডক্টর আলী জুমার সাথে একটি শান্ত সংলাপ   (শহাতা সাকর)

বিভাগ: দলসমূহ ও তাদের মতবাদ খণ্ডন


গ্রন্থ: সালাফিগণ এবং ডক্টর আলী জুমার সাথে একটি শান্ত সংলাপ

লেখক: শহাতা মুহাম্মদ সাকর

প্রকাশক: দারুল খুলাফা আল-রাশিদুন - দারুল ফাতহ আল-ইসলামি, আলেকজান্দ্রিয়া

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৫ যিলহজ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
السَلَفِيّون

 

وحوارٌ هادئٌ مع

الدكتور علي جمعة

 

جمع وترتيب

 

راجعه وقدَّم له

ا. د/محمد بكر حبيب … ا. د/محمد النشار

الأستاذ بجامعة الأزهر … الأستاذ بجامعة الأزهر
সালাফীগণ

 

এবং একটি শান্ত সংলাপ

ডক্টর আলী জুমআর সাথে

 

সংকলন ও বিন্যাস

 

নিরীক্ষণ ও ভূমিকা প্রদান করেছেন

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বকর হাবীব … প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আল-নাশার

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক … আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
* قال تعالى: {وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا} (الأنعام: 152).

* قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (المائدة: 8)» (1).

--------------------------------------------

(1) أي {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} بما أُمِرُوا بالإيمان به، قوموا بلازم إيمانكم، بأن تكونوا {قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ} … بأن تنشط للقيام بالقسط حركاتكم الظاهرة والباطنة.

وأن يكون ذلك القيام لله وحده، لا لغرض من الأغراض الدنيوية، وأن تكونوا قاصدين للقسط، الذي هو العدل، لا الإفراط ولا التفريط، في أقوالكم ولا أفعالكم، وقوموا بذلك على القريب والبعيد، والصديق والعدو.

{وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ} أي: لا يَحْمِلَنَّكُم بُغْضُ {قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا} كما يفعله مَن لا عَدْلَ عنده ولا قسط، بل كما تشهدون لِوَلِيِّكُم، فاشهدوا عليه، وكما تشهدون على عدوكم فاشهدوا له، ولو كان كافرًا أو مبتدعًا، فإنه يجب العدل فيه، وقبول ما يأتي به من الحق؛ لأنه حق، لا لأنه قاله، ولا يُرد الحق لأجل قوله، فإن هذا ظلم للحق.

{اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} أي: كلما حرصتم على العدل واجتهدتم في العمل به، كان ذلك أقرب لتقوى قلوبكم، فإن تم العدل كملت التقوى.

{وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} فمجازيكم بأعمالكم، خيرها وشرها، صغيرها وكبيرها، جزاءً عاجلًا وآجلًا. [انظر: تفسير السعدي (ص 224)].
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ করো} (আল-আন‘আম: ১৫২)।

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইনসাফের সাথে সাক্ষ্যদানে অটল থাকো; আর কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত} (আল-মায়িদাহ: ৮) (১)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: {হে মুমিনগণ!} যাদেরকে ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তোমরা তোমাদের ঈমানের দাবি অনুযায়ী অটল থাকো, যেন তোমরা {আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর} হও … যেন তোমাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল কর্মকাণ্ড ইনসাফ কায়েমে তৎপর থাকে।

আর সেই কাজ যেন একমাত্র আল্লাহর জন্যই হয়, পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যে নয়। তোমরা যেন ইনসাফ বা ন্যায়বিচার কামনা করো, যাতে কোনো চরমপন্থা বা শিথিলতা থাকবে না—তা তোমাদের কথা হোক বা কাজ। আর এই ইনসাফ আপন ও পর, বন্ধু ও শত্রু সকলের ক্ষেত্রে কায়েম করো।

{আর কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে প্ররোচিত না করে} অর্থাৎ: কোনো জাতির প্রতি ঘৃণা যেন তোমাদেরকে {ইনসাফ না করতে} প্ররোচিত না করে, যেমনটি করে থাকে তারা যাদের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ নেই। বরং তোমরা যেভাবে তোমাদের বন্ধুর অনুকূলে সাক্ষ্য দাও, ঠিক সেভাবেই তার বিরুদ্ধেও (প্রয়োজনে) সাক্ষ্য দাও। আবার যেভাবে তোমরা তোমাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দাও, তার সপক্ষেও (যদি সত্য হয়) সাক্ষ্য দাও—সে কাফির বা বিদআতী যাই হোক না কেন। কারণ তার ক্ষেত্রেও ইনসাফ করা এবং তার উপস্থাপিত সত্যকে গ্রহণ করা ওয়াজিব; যেহেতু তা সত্য, সে বলেছে বলে নয়। কোনো ব্যক্তির কারণে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না, কারণ তা হবে সত্যের প্রতি জুলুম।

{তোমরা ইনসাফ করো, এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} অর্থাৎ: তোমরা যতই ইনসাফের প্রতি যত্নশীল হবে এবং তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে, ততই তা তোমাদের অন্তরের তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী হবে। কারণ ইনসাফ পূর্ণতা পেলে তাকওয়াও পূর্ণতা পায়।

{আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করো সে সম্পর্কে সম্যক অবগত} ফলে তিনি তোমাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন—তা ভালো হোক বা মন্দ, ছোট হোক বা বড়, দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে। [দ্রষ্টব্য: তাফসীরে সাদী (পৃষ্ঠা: ২২৪)]।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
* قال تعالى: {وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا} (الأحزاب: 58).

* وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟»، قَالُوا: «اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ»، قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ»، قِيلَ: «أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟»، قَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ» (رواه مسلم) (1).

* قَالَ سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ: «ذَكَرْتُ رَجُلًا بِسُوءٍ عِنْدَ إِيَاسِ بْنِ مُعَاوِيَةَ فَنَظَرَ فِي وَجْهِي وَقَالَ: «أَغَزَوْتَ الرُّومَ؟»، قُلْتُ: «لَا». قَالَ: «فَالسِّنْدَ وَالْهِنْدَ وَالتُّرْكَ؟»، قُلْتُ: «لَا».

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم (4/ 2001)، برقم (2589). (بَهَتَّهُ) أَيْ قُلْتَ عَلَيْهِ الْبُهْتَانَ وَهُوَ كَذِبٌ عَظِيمٌ يُبْهَتُ فِيهِ مَنْ يُقَالُ فِي حَقِّهِ، والْبُهْتَانِ هُوَ الباطل، والغيبة ذِكْرُ الْإِنْسَانِ فِي غَيْبَتِهِ بِمَا يَكْرَهُ، وَأَصْلُ الْبَهْتِ أَنْ يُقَالَ لَهُ الْبَاطِلُ فِي وَجْهِهِ وَهُمَا حَرَامَانِ. [انظر: شرح النووي على مسلم (16/ 142)، تحفة الأحوذي (6/ 54)].
* মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা নিশ্চয়ই মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করল।} (সূরা আল-আহযাব: ৫৮)।

* হযরত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা কি জানো গীবত (পরনিন্দা) কী?», সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত», তিনি বললেন: «তোমার ভাই সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে», জিজ্ঞাসা করা হলো: «আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবে আপনার অভিমত কী?», তিনি বললেন: «তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবেই তুমি তার গীবত করলে, আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তাকে অপবাদ দিলে» (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত) (১)।

* সুফিয়ান ইবনে হুসাইন বলেন: «আমি ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়ার উপস্থিতিতে এক ব্যক্তির সমালোচনা করলাম। তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন: «তুমি কি রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছ?», আমি বললাম: «না।» তিনি বললেন: «তবে কি সিন্ধু, হিন্দু বা তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছ?», আমি বললাম: «না।»

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম (৪/ ২০০১), হাদীস নং (২৫৮৯)। (তুমি তাকে অপবাদ দিলে) অর্থাৎ তুমি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করলে, যা এক জঘন্য মিথ্যা যার দ্বারা যার সম্পর্কে বলা হয় সে হতভম্ব হয়ে পড়ে। অপবাদ হলো বাতিল বা মিথ্যা কথা। আর গীবত হলো মানুষের অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে। অপবাদের মূল অর্থ হলো কারো সামনে তার সম্পর্কে মিথ্যা বলা, আর উভয়টিই হারাম। [দ্রষ্টব্য: শরহুন নববী আলা মুসলিম (১৬/ ১৪২), তুহফাতুল আহওয়াযী (৬/ ৫৪)]।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قَالَ: «أَفَسَلِمَ مِنْكَ الرُّومُ وَالسِّنْدُ وَالْهِنْدُ وَالتُّرْكُ وَلَمْ يَسْلَمْ مِنْكَ أَخُوكَ الْمُسْلِمُ؟!». قَالَ سفيان: «فَلَمْ أَعُدْ بَعْدَهَا» (1).

العِلمُ قال اللهُ قال رسولُه

قال الصحابةُ ليسَ بالتَمْويه

ما العلمُ نصْبُك للخلافِ سفاهةً

بينَ الرسولِ وبينَ قولِ فَقيه

--------------------------------------------

(1) شعب الإيمان للبيهقي (5/ 314)، تاريخ مدينة دمشق لابن عساكر (10/ 18)، البداية والنهاية لابن كثير (9/ 336).
তিনি বললেন: "রোমান, সিন্ধু, হিন্দু এবং তুর্কিরা তোমার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকল, অথচ তোমার মুসলিম ভাই তোমার হাত ও জিহ্বা থেকে নিরাপদ থাকতে পারল না?!" সুফিয়ান বললেন: "অতঃপর আমি আর কখনো এমনটি করিনি" (১)।

প্রকৃত জ্ঞান হলো আল্লাহ যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল যা বলেছেন,

আর যা সাহাবীগণ বলেছেন; এতে কোনো বিভ্রান্তি বা প্রবঞ্চনা নেই।

জ্ঞান এটি নয় যে, তুমি নির্বুদ্ধিতাবশত রাসূলের সুন্নাহ

ও কোনো ফকীহ-এর মতের মাঝে বিরোধ তৈরি করবে।

--------------------------------------------

(১) বায়হাক্বী রচিত শুআবুল ঈমান (৫/ ৩১৪), ইবনে আসাকির রচিত তারিখু মদিনাতি দামেশক (১০/ ১৮), ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (৯/ ৩৩৬)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة

 

الأستاذ الدكتور

محمد بكر حبيب

الأستاذ بجامعة الأزهر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمةً للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد …

فبارك الله تعالى في الدعوة السلفية (1) ورجالها الربانيين، الذين قَيَّضَهُم الله تعالى لحَمْل الدين على مَرِّ العصور، يَنْفُون عنه تحريف الغَالِين وتأويل المُبْطِلين، ويَذُبُّون عن سنة خاتم المرسلين صلى الله عليه وآله وسلم، وينشرون منهج الصحابة والتابعين، ولولا أن الله قَيَّضَهم لذلك لَمَا وصل إلينا العلم الشرعي الصحيح، والمنهج النبوي المستقيم، ولَمَا قام دارس، ولا أفتى مُفْتٍ، إذ ذلك أساسه هذا الدين، وتعلم العلم الشرعي الصحيح، فالطّعْنُ فيهم طَعْنٌ في المتكلّم فيهم؛ إذ إنه يطعن في مصدرِ علمِه، وأساسِ فهمِه.

ومما ينبغي مراعاته، كما هو معلومٌ في أصول الفقه؛ مراعاة حال المُسْتَفْتين، ولذا فإن الرسول صلى الله عليه وآله وسلم ربما أعطى لكل سائلٍ في مسألة واحدة، جوابًا مختلفًا مراعاةً لحاله، وكان ابن عباس رضي الله عنه يغير فتواه بناءً على حال المُسْتَفْتي، وكذا فعل أئمة الفقه كالشافعي رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) هكذا ينسبون أنفسهم، ويتحاشَون التزكية بلفظ (السلف)، وإن كان الناس يطلقونه عليهم.
ভূমিকা

 

প্রফেসর ডক্টর

মুহাম্মাদ বকর হাবিব

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ প্রেরিত রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর ...

আল্লাহ তাআলা বরকত দান করুন সালাফি দাওয়াত (১) এবং এর রব্বানি (আল্লাহভীরু) পন্ডিতদের ওপর, আল্লাহ যাদেরকে যুগে যুগে এই দ্বীন বহনের জন্য নিযুক্ত করেছেন; তারা সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি ও বাতিলপন্থীদের অপব্যাখ্যা থেকে দ্বীনকে রক্ষা করেন, সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেন এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের মানহাজ (আদর্শ) প্রচার করেন। যদি আল্লাহ তাদেরকে এর জন্য নিযুক্ত না করতেন, তবে আমাদের কাছে সঠিক শরয়ী জ্ঞান ও সুপ্রতিষ্ঠিত নববী আদর্শ পৌঁছাত না এবং কোনো গবেষক গবেষণায় প্রবৃত্ত হতে পারত না কিংবা কোনো মুফতি ফতোয়া দিতে পারত না। কারণ এই দ্বীন এবং সঠিক শরয়ী জ্ঞান অর্জনই হলো এসবের ভিত্তি। সুতরাং তাদের সমালোচনা করা মূলত সমালোচনাকারীর নিজেরই সমালোচনা; কারণ সে তার নিজের জ্ঞানের উৎস এবং উপলব্ধির ভিত্তির ওপরই আঘাত করছে।

উসূলে ফিকহের সুপরিচিত নিয়ম অনুযায়ী যে বিষয়টি বিবেচনা করা আবশ্যক, তা হলো ফতোয়া প্রার্থনাকারীদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অনেক সময় একই বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নকারীকে তাদের অবস্থা বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিতেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্নকারীর অবস্থা ভেদে তাঁর ফতোয়া পরিবর্তন করতেন। ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণও অনুরূপ করতেন, যেমন ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ।

--------------------------------------------

(১) তারা নিজেদের এভাবেই সম্বোধন করেন এবং সরাসরি 'সালাফ' শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আত্ম-প্রশংসা পরিহার করে চলেন, যদিও মানুষ সাধারণত তাদের এই নামেই অভিহিত করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والناظر في أحوال مَن يبنون القباب على القبور، ويقيمون الموالد، ويعظمون غير الله، وغيرها من المسائل، يجد أنهم منغمسون في شتى الموبقات، من الشرك بالله، والزنا، وشرب المسكرات، وغيرها، فهل نزيد ذلك ونقول لهم: إن هذا جائز وهو من الدين؟

كما أن من طرق الاستدلال، كما هو معلومٌ في أصول الفقه، أن الترك فِعْلٌ، فما تركه النبي صلى الله عليه وآله وسلم في أمور العبادات، مع قيام المقتضي وانتفاء المانع، فالحَقُّ تَرْكُه، وإلا كان الفاعلُ مُحْدِثًا في الدين، أما تَرْكُه صلى الله عليه وآله وسلم في أمور العادات فلا يدل على الحظر أو المنع، إذ تُرَدُّ العادات والمعاملات إلى الأصل، وهو الإباحة، كما قال صلى الله عليه وآله وسلم:" أَنْتُمْ أَعْلَمُ بِأُمُورِ دُنْيَاكُمْ " (رواه مسلم). فالتَّرْكُ في العبادات يُرَدُّ إلى الأصل فيها وهو الحظر، والتَّرْكُ في المعاملات يُرَدُّ إلى الأصل وهو الإباحة.

وها هو الأستاذ/شحاتة صقر، مِن شباب الدعوة السلفية، يُخْرِج كتاب (السلفيّون وحوار هادئ مع الدكتور على جمعة، مفتي الديار المصرية) وهو جدير بالنشر والقراءة؛ إذ يحاور محاورةً علميةً هادئةً، ناقلًا عن العلماء الربانيين.

فجزاه الله خيرًا، وبارك فيه وفي إخوته من الدعوة السلفية، وفي عامة المسلمين.

وكتبه

محمد بكر إسماعيل حبيب

رئيس قسم أصول الفقه

بكلية الشريعة والقانون - جامعة الأزهر بدمنهور
যে ব্যক্তি কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণকারী, মিলাদ অনুষ্ঠান আয়োজনকারী, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনকারী এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে লিপ্তদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে, সে দেখতে পাবে যে তারা আল্লাহর সাথে শিরক, ব্যভিচার, মদ্যপানসহ নানা ধরণের ধ্বংসাত্মক পাপাচারের সাগরে নিমজ্জিত। এমতাবস্থায় আমরা কি তাদের এই কাজকে আরও উসকে দেব এবং তাদের বলব যে, এটি বৈধ এবং ধর্মের অংশ?

একইভাবে উসূলুল ফিকহের সুপরিচিত দলীলের পদ্ধতিসমূহের মধ্যে একটি হলো—বর্জন করাও এক প্রকার কাজ। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইবাদতের ক্ষেত্রে যা বর্জন করেছেন—অথচ তা করার প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান ছিল এবং কোনো বাধাও ছিল না—এমতাবস্থায় তা বর্জন করাই হলো সঠিক পথ। অন্যথায় এই কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবনকারী হিসেবে গণ্য হবে। তবে অভ্যাসগত বা জাগতিক বিষয়ে তাঁর বর্জন করা কোনো কিছু হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়া বোঝায় না। কারণ অভ্যাসগত আচরণ ও পারস্পরিক লেনদেনের মূল ভিত্তি হলো বৈধতা; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের পার্থিব বিষয়ে অধিক অবগত" (ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো আমল বর্জন করার বিষয়টি তার মূল নীতির দিকে ফিরে যায়, যা হলো নিষিদ্ধতা; আর লেনদেনের ক্ষেত্রে বর্জন করা তার মূল নীতির দিকে ফিরে যায়, যা হলো বৈধতা।

আর এই যে উস্তাদ শিহাতাহ সাকর—যিনি সালাফি দাওয়াতের এক তরুণ ব্যক্তিত্ব—তিনি "সালাফিগণ এবং মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. আলী জুমার সাথে একটি শান্ত আলোচনা" শীর্ষক বইটি রচনা করেছেন। এটি প্রকাশ ও পাঠের জন্য অত্যন্ত উপযোগী; কারণ তিনি এতে রাব্বানি আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করে অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ ও শান্ত আলোচনা করেছেন।

আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাকে ও সালাফি দাওয়াতের তার ভাইদের এবং সকল মুসলিমের ওপর বরকত নাযিল করুন।

এটি লিখেছেন

মুহাম্মাদ বকর ইসমাইল হাবীব

প্রধান, উসূলুল ফিকহ বিভাগ

শরীয়া ও আইন অনুষদ - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, দামানহুর শাখা
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة

الأستاذ الدكتور

محمد النشار

الأستاذ بجامعة الأزهر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله مُعِزِّ مَن أطاعه ومُذِلِّ مَن عصاه، وأشهد ان لا إله إلا الله وحده لا شريك له لا رب غيره ولا إله سواه، وأشهد أن نبيَّنا محمدًا عبده ورسوله خير نبي أرسله وأعَزّ عبدٍ اصطفاه، اللهم صَلّ وسلِّمْ وبارك عليه وعلى جميع أصحابه ومن اهتدى بهداه. وبعد …

فإن القلب لَيَحْزَن على ما صار إليه حال الأمة الإسلامية من فُرقةٍ واختلاف في وقتٍ هي أحوج ما تكون فيه إلى التقاء الكلمة، ووحدة الصف، وتكاتف الجهود من أجل العمل على الخروج بهذا البلد من الظروف العصيبة التي يمر بها، والوصول بها إلى بر الأمان.

وأهل العلم هم أوْلَى الناس بالعمل على توحيد الصف وجمع الكلمة؛ لأنهم ورثة الأنبياء، وهم الذين يمثلون ضمير الأمة، وقلبها النابض، ومَن بيدهم توجيه أفرادها إلى التزام منهج الدعوة إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، امتثالًا لقول الله سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} (النحل:125).

كذلك هم أوْلى الناس باتباع منهج الإسلام في البعد عن السخرية من المسلمين وغمزهم ولمزهم لقول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا
ভূমিকা

প্রফেসর ডক্টর

মুহাম্মদ আন-নাশার

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অনুগতদের সম্মানিত করেন এবং অবাধ্যদের লাঞ্ছিত করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; তিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর সকল সাহাবীর ওপর এবং যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করে, তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন। অতঃপর …

মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বিভক্তি ও মতভেদের করুণ দশা দেখে অন্তর ব্যথিত হয়; অথচ বর্তমান সময়ে উম্মাহর জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সংহতি বজায় রাখা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দেশকে তার চলমান কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

আর আলেম সমাজই উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি; কারণ তাঁরা নবীদের উত্তরাধিকারী। তাঁরাই উম্মাহর বিবেক এবং স্পন্দিত হৃদয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াতের নীতি অনুসরণে উম্মাহর সদস্যদের পরিচালিত করার দায়িত্ব তাঁদেরই। এটি মহান আল্লাহর বাণীরই প্রতিফলন: {তুমি তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান জানাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকই ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও তিনি অধিক পরিজ্ঞাত (১২৫)} (আন-নাহল: ১২৫)।

তেমনিভাবে তাঁরা মুসলমানদের উপহাস করা এবং ইশারা-ইঙ্গিতে দোষারোপ ও বিদ্রূপ করা থেকে বিরত থাকার ইসলামি আদর্শ অনুসরণে অগ্রগণ্য ব্যক্তি। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; হতে পারে তারা...
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (11)} (الحجرات:11). ويقول تعالى حاكيًا عما لاقاه رسوله الكريم صلى الله عليه وآله وسلم وأصحابه من أذى المشركين: {إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ (29) وَإِذَا مَرُّوا بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ (30) وَإِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوا فَكِهِينَ (31) وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوا إِنَّ هَؤُلَاءِ لَضَالُّونَ (32) وَمَا أُرْسِلُوا عَلَيْهِمْ حَافِظِينَ (33) فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ (34) عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ (35) هَلْ ثُوِّبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ (36)} (المطففين: 29 - 36).

وفضيلة الأستاذ الدكتور/علي جمعة مفتي جمهورية مصر العربية من العلماء الذين نُجلّهم ونقدّرهم؛ لأنه على رأس مؤسسة الإفتاء المصرية التي اضطلعت - وما تزال - بمهمة توجيه المسلمين إلى ما ينفعهم في دينهم ودنياهم، وذلك ببيان ما يحل لهم وما يحْرُم عليهم من أمور الدنيا والدين، خرج علينا فضيلته في هذه الظروف العصيبة التي تمر بها البلاد بعد ثورة الخامس والعشرين من يناير المجيدة بكتاب مطبوع على نفقة وزارة الأوقاف المصرية ومدعوم بأموال المسلمين، أسماه " المتشددون، منهجهم، ومناقشة أهم قضاياهم " صَوَّب فيه سهامه إلى السلفيين، ونال من منهجهم ووصفهم بأحَطّ الصفات من التشدد والضلال، وكالَ لهم التهم جزافًا، وحذّر منهم ومن منهجهم، وبيَّن أنهم أخطر على الأمة من ألّدِّ أعدائها، واستعدى عليهم جميع أفراد الشعب لكي يقفوا صفًا واحدًا في وجه هذا الخطر الداهم، وهذا مسلكٌ غريب، وسلوكٌ مُريب كُنّا نَبْرَأ بفضيلته أن يَسْلُكَه، فضلًا أن يدعوَ إليه.

وقد قام الأخ الفاضل الشيخ شحاتة صقر بمناقشته، والرد على فضيلته، وتفنيد حُجَجِه، ذبًّا عن إخوانه المسلمين الذين أصابتهم سهامه وسياطه، ودفعَ إلَيَّ كتابه للنظر فيه، ففعَلْتُ ولم أجد فيما كتبه شططًا، أو خروجًا على منهج أهل السنة والجماعة مِن طلبِ الدليل والتمسكِ به، فجزاه الله خيرًا.

واللهَ أسألُ أن يجمع هذه الأمة على كلمةٍ سواء، وأن يبرم لها أمر رُشدٍ يُعَزُّ فيه أهل الطاعة، ويُذَلُّ فيه أهل المعصية، ويُؤْمَرُ فيه بالمعروف، ويُنْهَى فيه عن المنكر، إنه
...তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর নারীরা যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তওবা করে না, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী (আল-হুজুরাত: ১১)। মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ মুশরিকদের পক্ষ থেকে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বলেন: {নিশ্চয় যারা অপরাধী ছিল, তারা মুমিনদের দেখে হাসত। আর যখন তারা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন তারা চোখ টিপে ইশারা করত। যখন তারা নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যেত, তখন উৎফুল্ল হয়ে ফিরে যেত। আর যখন তারা তাদের দেখত, তখন বলত, ‘নিশ্চয় এরা পথভ্রষ্ট।’ অথচ তাদের ওপর পাহারাদার হিসেবে পাঠানো হয়নি। আজ মুমিনরা কাফিরদের দেখে হাসছে। তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করছে। কাফিররা যা করত, তার প্রতিফল তারা পেল কি না?} (আল-মুতাফফিফীন: ২৯-৩৬)।

মাননীয় অধ্যাপক ডক্টর আলী জুমা, আরব প্রজাতন্ত্র মিসরের প্রাক্তন মুফতি, তিনি সেইসব আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের আমরা শ্রদ্ধা ও মূল্যায়ন করি। কারণ তিনি মিসরীয় ফতোয়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের (দারুল ইফতা) শীর্ষে ছিলেন, যা মুসলিমদের দ্বীন ও দুনিয়ার উপকারী বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং তাদের জন্য জীবন ও ধর্মের হালাল-হারাম বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে। কিন্তু পঁচিশে জানুয়ারির গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লবের পর দেশ যখন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি মিসরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং মুসলিমদের অর্থে পুষ্ট একটি মুদ্রিত বই নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন, যার নাম তিনি দিয়েছেন "চরমপন্থীরা: তাদের আদর্শ এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের পর্যালোচনা"। এতে তিনি সালাফিদের দিকে তাঁর তীরের লক্ষ্য স্থির করেছেন এবং তাদের আদর্শকে আক্রমণ করেছেন। তিনি তাদের প্রতি চরমপন্থা ও পথভ্রষ্টতার মতো হীনতম বিশেষণে ভূষিত করেছেন এবং তাদের ওপর ঢালাওভাবে নানা অপবাদ আরোপ করেছেন। তিনি তাদের ও তাদের আদর্শ থেকে সতর্ক করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তারা এই উম্মতের জন্য তার চরম শত্রুদের চেয়েও অধিক বিপজ্জনক। তিনি সাধারণ জনগণকে তাদের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন যাতে তারা এই আসন্ন বিপদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। এটি ছিল একটি অদ্ভুত আচরণ এবং সন্দেহজনক পথ, যা থেকে আমরা জনাব মুফতি সাহেবকে মুক্ত মনে করতাম; তিনি এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান করবেন—তা ছিল অকল্পনীয়।

অতঃপর শ্রদ্ধেয় ভাই শেখ শাহাতা সাকর তাঁর সাথে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর জবাব দিয়েছেন। তিনি সেই সব মুসলিম ভাইদের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষার নিমিত্তে তাঁর যুক্তিগুলো খণ্ডন করেছেন, যারা মুফতি সাহেবের তীর ও চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলেন। তিনি বইটি পর্যালোচনার জন্য আমার কাছে অর্পণ করেছিলেন। আমি তা পাঠ করেছি এবং তাঁর লেখায় কোনো অসংলগ্নতা বা দলিল অন্বেষণ ও তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি খুঁজে পাইনি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই উম্মতকে অভিন্ন চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেন এবং তাদের জন্য এমন এক সুশৃঙ্খল ফয়সালা করেন যাতে আনুগত্যশীলরা সম্মানিত হয় এবং পাপাচারীরা লাঞ্ছিত হয়, আর যেখানে সৎকাজের আদেশ দেওয়া হয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা হয়। নিশ্চয়ই তিনি—
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وليُّ ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وكتبه

ا. د/محمد النشار

دمنهور في 7/ 1/1433هـ.

الموافق 3/ 12/2011م.
তিনিই এর অধিপতি এবং এতে সক্ষম; আর আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আন-নাশার

দামানহুর, ৭/ ১/ ১৪৩৩ হিজরি।

মোতাবেক ৩/ ১২/ ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌مقدمة

إِنَّ الْحَمْدَ لِلهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} (آل عمران:102). {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} (النساء:1). {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70)}. (الأحزاب:70).

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم، وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلَّ ضَلَالَةٍ فِى النَّارِ.

في كتاب طُبِعَ على نفقة وزارة الأوقاف المصرية (1) ومدعَّم من أموال المسلمين ويباع بـ «جنيه واحد» عند بائعي الصحف رغم أن تكلفته قد تتعدى ضعف هذا المبلغ، ليصل إلى أكبر عدد من القراء في مصر- شَنَّ مفتي الديار المصرية الدكتور علي جمعة هجومًا شرسًا ليس على مَن يَصُدُّون عن سبيل الله ويَبْغُونَها عِوَجًا ويحاربون شرع الله سبحانه وتعالى جهارًا نهارًا من العالمانيين والليبراليين وغيرهم، بل شن هجومه على السلفيين الذين يطالبون بتطبيق شرع الله عز وجل في كل صغيرة وكبيرة، ويَدْعون المسلمين إلى العودة إلى منهج النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأصحابه الكرام رضي الله عنهم في العقيدة والشريعة وشتى أمور الحياة.

--------------------------------------------

(1) ضمن إصدارات سلسلة قضايا إسلامية، العدد (197)، رجب 1432، يونية 2011.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} (আল-ইমরান: ১০২)। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (১)} (আন-নিসা: ১)। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)}। (আল-আহজাব: ৭০)।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

মিশরীয় ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের (১) অর্থায়নে এবং মুসলমানদের অর্থে ভর্তুকিপ্রাপ্ত একটি বইয়ে—যা মিশরীয় পাঠকদের একটি বিশাল অংশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংবাদপত্র বিক্রেতাদের কাছে মাত্র 'এক পাউন্ড' মূল্যে বিক্রি হচ্ছে, যদিও এর উৎপাদন খরচ উক্ত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি—মিশরের তৎকালীন মুফতি ডক্টর আলী জুমা এক তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। তবে এই আক্রমণ তাদের বিরুদ্ধে ছিল না যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, একে বাঁকা করতে চায় এবং প্রকাশ্যে আল্লাহর শরীয়তের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে—যেমন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, লিবারেল বা অন্যান্য গোষ্ঠী। বরং তিনি আক্রমণ চালিয়েছেন সেই সব সালাফীদের বিরুদ্ধে, যারা জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর শরীয়ত বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং মুসলমানদের আকিদা, শরীয়ত ও জীবনের যাবতীয় বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মানহাজের (আদর্শের) দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

--------------------------------------------

(১) ইসলামিক ইস্যু সিরিজ প্রকাশনার অন্তর্ভুক্ত, সংখ্যা (১৯৭), রজব ১৪৩২ হি., জুন ২০১১ খ্রি.।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
كنا ننتظر من المفتي أن يقوم بدوره في صد هجوم أعداء الشريعة، ولكنه بدلًا من ذلك حاول تشويه صورة السلفيين الذين ذاع صيتهم وازداد إقبال الناس عليهم، ولم يتوقع أعداؤهم أن يكون لهم ولعلمائهم بعد الثورة هذا الظهور الطاغي على المشهد المصري، واستحواذهم على قلوب الناس وعقولهم، رغم سنين طوال مُورِسَتْ فيها صنوف التشويه والقمع والاضطهاد ضدهم بحجج مختلفة، لو مورست تجاه أي طائفة لكانت نسيًا منسيًّا.

ففي كتابه الأخير (المتشددون … منهجهم … ومناقشة أهم قضاياهم) شنّ الدكتور علي جمعة حربًا شعواء ظالمة على جموع السلفيين في مصر والعالم الإسلامي، في محاولة لحجب الأضواء المتزايدة عنهم، وكبح جماح نجمهم الصاعد بقوة في السماء المصرية سياسيًا واجتماعيًّا ودينيًّا وفكريًّا.

وقد كان التيار السلفي - وما زال - غرضًا لكل السهام العلمانية والليبرالية والماركسية والقومية ، ولا عجب في خلافهم وعدائهم للمنهج الإسلامي الذي يناصبونه العداء ويدخلون معه في صراع وجود حيث ينتمون لفكر مختلف كليًّا ، ولكن العجب من عداء مفتي الديار الذي أخذ يكيل التهم للسلفيين بلا دليل.

بل إنه في تسجيل بالصوت والصورة أخذ ينتقصهم وينتقص كبار علمائهم كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم بأسلوب ساخر مع أنهما يتمتعان باحترام وتوقير كبيرين من علماء الأزهر وغيرهم كما سيرى القارئ في صفحات هذا الكتاب.

وقُوبل كتاب المفتي باحتفاءٍ شديد من أصحاب الفكر العلماني والليبرالي نظرًا لكونه يصب في مصالحهم للهجوم على التيار السلفي الذي يقف حجر عثرة في وجه محاولاتهم المستميتة لمسخ هوية الأمة الإسلامية.

ومع هذه الحرب الشعواء من المفتي ضد السلفيين تعجب عندما تجد منه الدعوة إلى التقريب مع الشيعة الذين يقولون بتحريف القرآن ويكفّرون الصحابة، وفي مقدمتهم أبو بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم.
আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে, শরীয়াহর শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে মুফতি তাঁর যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি সালাফীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন, যাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং যাদের প্রতি মানুষের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপ্লবের পর মিশরীয় প্রেক্ষাপটে সালাফী ও তাঁদের আলেমদের এই প্রবল উত্থান এবং মানুষের হৃদয় ও মন জয় করে নেওয়ার বিষয়টি তাঁদের শত্রুরা কল্পনাও করতে পারেনি। অথচ দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অজুহাতে নানামুখী অপপ্রচার, দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল—যা অন্য কোনো দলের বিরুদ্ধে করা হলে তারা ইতিহাসের পাতা থেকে চিরতরে মুছে যেত।

তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ (চরমপন্থীরা ... তাঁদের মানহাজ ... এবং তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের পর্যালোচনা)-তে ডক্টর আলী জুমা মিশর ও মুসলিম বিশ্বের সালাফী জনসমষ্টির বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ও অন্যায্য আক্রমণ চালিয়েছেন। এটি মূলত তাঁদের ওপর ক্রমবর্ধমান আলোকপাতকে আড়াল করার এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে মিশরের আকাশে তাঁদের উদীয়মান নক্ষত্রের গতিবেগ রোধ করার একটি হীন প্রচেষ্টা।

সালাফী ধারা অতীতেও ছিল এবং বর্তমানেও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, উদারপন্থী, মার্ক্সবাদী ও জাতীয়তাবাদীদের সকল তীরের লক্ষ্যবস্তু। ইসলামি মানহাজের সাথে তাদের বিরোধিতা ও শত্রুতা কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়; কারণ তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শের অনুসারী হওয়ায় এর সাথে প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করে এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। কিন্তু বিস্ময় জাগানিয়া বিষয় হলো খোদ দেশের মুফতির শত্রুতা, যিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই সালাফীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তূপ গড়ে তুলেছেন।

এমনকি একটি অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ে তিনি বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে সালাফীদের এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের মতো বরেণ্য আলেমদের অবমাননা করেছেন। অথচ আল-আযহারের আলেম সমাজসহ অন্যান্যদের নিকট তাঁরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র, যা পাঠক এই বইয়ের পাতায় পাতায় দেখতে পাবেন।

মুফতির এই গ্রন্থটি ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী বুদ্ধিজীবীদের নিকট বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। কারণ এটি সালাফী ধারার ওপর আক্রমণের ক্ষেত্রে তাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে—যে ধারাটি মুসলিম উম্মাহর পরিচয় বিকৃত করার লক্ষ্যে তাদের মরিয়া প্রচেষ্টার পথে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সালাফীদের বিরুদ্ধে মুফতির এই ভয়াবহ যুদ্ধের পাশাপাশি অবাক হতে হয় যখন দেখা যায় তিনি শিয়াদের সাথে সুসম্পর্ক ও নৈকট্য স্থাপনের আহ্বান জানান—যারা কুরআনের বিকৃতির কথা বলে এবং সাহাবায়ে কেরামকে (যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন আবু বকর, উমর ও উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কাফির সাব্যস্ত করে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
صدر هذا الكتاب عن المجلس الأعلى للشؤون الإسلامية التابع لوزارة الأوقاف المصرية ليطعن في السلفيين الذين لم ينزلوا على الناس من كوكب المريخ أو زحل، بل هم ملايين من المسلمين لهم بفضل الله سبحانه وتعالى قبول واسع عند الناس لتبنّيهم منهج الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة.

صدر هذا الكتاب وفي مقدمته كلمة للدكتور محمد الشحات الجندي - الأمين العام للمجلس الأعلى للشؤون الإسلامية - يقول فيها: «يتناول هذا الإصدار من إصدارات المجلس - قضايا إسلامية - العديد من القضايا الحياتية، وهي قضايا تستمد جذورها من منابعها الصافية التي أرسى تعاليمها القرآن والسنة والإجماع والمنقول والمصلحة الإسلامية المعتبرة …

وليس من غرض المجلس من إصداره هذه المطبوعات ومنها هذه السلسلة: قضايا إسلامية، مصادرة الفكر المعارض أو الحَجْر على الرأي الآخر … ».

ونسأل فضيلة الأمين العام:

* هل قرأتم كتاب المفتي قبل طبعه؟!!

* هل اطلعتم على ما فيه من افتراءات على السلفيين؟!!

* إذا كنتم قد اطلعتم على ما فيه من افتراءات فهل تَثَبَّتُّم من صحة تلك الدعاوى قبل نَشْر الكتاب؟!! مع أن المفتي لم يذكر أدلة لتلك الادعاءات.

* هل الطعن في الملايين من المسلمين يعتبر من وجهة نظركم من القضايا الحياتية، التي تستمد جذورها من منابعها الصافية التي أرسى تعاليمها القرآن والسنة والإجماع والمنقول والمصلحة الإسلامية المعتبرة؟!!!

* ألا يُعَدّ ما في هذا الكتاب مصادرةً لفكر السلفيين وحَجْرًا على رأيهم الذي يعتمد بالأساس على الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة من الصحابة والتابعين لهم بإحسان؟!!
মিশরীয় ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উচ্চতর ইসলামি বিষয়ক পরিষদ থেকে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে মূলত সালাফিদের আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে। অথচ এই সালাফিরা মঙ্গল বা শনি গ্রহ থেকে আগত কোনো ভিনগ্রহী নয়; বরং তারা লক্ষ-কোটি মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত, যাদের মহান আল্লাহর অনুগ্রহে জনগণের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কারণ তারা উম্মাহর নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ) বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর মানহাজ (পদ্ধতি) গ্রহণ করেছেন।

গ্রন্থটির ভূমিকায় উচ্চতর ইসলামি বিষয়ক পরিষদের মহাসচিব ডক্টর মুহাম্মদ আশ-শাহাত আল-জুন্দির একটি বক্তব্য রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: «পরিষদের প্রকাশনাগুলোর মধ্যে 'ইসলামি বিষয়াবলী' শীর্ষক এই প্রকাশনাটি জীবন-ঘনিষ্ঠ বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এই বিষয়গুলোর শিকড় নিহিত রয়েছে এমন সব স্বচ্ছ উৎসধারা থেকে, যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (ঐক্যমত), নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং গ্রহণযোগ্য ইসলামি জনকল্যাণের (মাসলাহা) ওপর …

আর এই প্রকাশনাগুলো, বিশেষ করে 'ইসলামি বিষয়াবলী' সিরিজটি প্রকাশের পেছনে পরিষদের উদ্দেশ্য ভিন্নমতাবলম্বীদের চিন্তাধারা বাজেয়াপ্ত করা কিংবা অন্য কোনো মতকে রুদ্ধ করা নয় … »।

এমতাবস্থায় আমরা মাননীয় মহাসচিবের নিকট জিজ্ঞাসা করতে চাই:

* আপনারা কি মুফতির বইটি ছাপানোর আগে পড়েছিলেন?!!

* সালাফিদের বিরুদ্ধে এতে যেসব অপবাদ ও মিথ্যারোপ করা হয়েছে, সেগুলো কি আপনারা লক্ষ্য করেছেন?!!

* যদি আপনারা সেই অপবাদগুলোর ব্যাপারে অবগত হয়ে থাকেন, তবে গ্রন্থটি প্রকাশের পূর্বে সেই দাবিগুলোর সত্যতা কি যাচাই করেছিলেন? অথচ মুফতি সাহেব উক্ত দাবিগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

* লক্ষ-কোটি মুসলিমের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা কি আপনাদের দৃষ্টিতে সেইসব জীবন-ঘনিষ্ঠ বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত, যার উৎসধারা কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ও গ্রহণযোগ্য ইসলামি জনকল্যাণের শিক্ষা থেকে উৎসারিত?!!!

* এই গ্রন্থে যা বিধৃত হয়েছে, তা কি সালাফিদের চিন্তাধারা হরণ এবং তাদের মতাদর্শকে রুদ্ধ করা নয়? অথচ তাদের মতাদর্শ মূলত সাহাবায়ে কেরাম এবং যথাযথভাবে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণের তথা এই উম্মাহর নেককার পূর্বসূরিদের বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত।!!
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
* ما رأي فضيلة الأمين العام للمجلس الأعلى للشؤون الإسلامية فيما قاله المفتي في هذا الكتاب المطبوع على نفقة المجلس من أن مقاومة الفكر السلفي مطلب قومي؟!!

* أليس في هذا الكلام تحريضًا واستعداءً لأجهزة الدولة المختلفة لمحاربة هؤلاء المسلمين؟!!

* وإذا كان جهاز أمن الدولة البائد الذي كان يحارب هؤلاء السلفيين ويزُجّ بهم في المعتقلات قد ولّى فمن الذين يرشحهم فضيلة المفتي للقيام بهذا المطلب القومي؟!!

ولكننا نذَكّر فضيلة المفتي وفضيلة الأمين العام للمجلس الأعلى للشؤون الإسلامية بأن السلفيين رغم التشويه المتعمد لهم من قبل أجهزة الإعلام المختلفة، ورغم التضييق الشديد عليهم مِن قِبَل جهاز أمن الدولة في النظام البائد انتشرت دعوتهم بفضل الله سبحانه وتعالى في الآفاق، وقد انبهر كثيرون مسلمون وكافرون بملايينهم المنظمة التي خرجت لنصرة الشريعة في ميدان التحرير في جمعة 29/ 7/2011م (1).

ونرجو الله سبحانه وتعالى الذي وقانا أكاذيب العلمانيين وبطش وغشم جهاز أمن الدولة السابق أن يقينا ظلم فضيلة المفتي وافتراءاته علينا، وعند الله تجتمع الخصوم.

وأذكّر كل مَن يتمسكُ بمنهج أهل السنة والجماعة بقول الله سبحانه وتعالى: {وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا} (آل عمران: 120). فاصبروا واتقوا الله وتمسكوا بكتاب ربكم وسُنّة نبيكم صلى الله عليه وآله وسلم وامضوا بعزم وجد في طريق الدعوة إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، وتذكروا أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قد بشّر بخلافة راشدة على منهاج النبوة تأتي بعد الحكم الجبري.

--------------------------------------------

(1) راجع في ذلك تعليقات صحيفة «نيويورك تايمز» الأمريكية يوم السبت التالي لمليونية نصرة الشريعة، وكذلك مجلة «التايم» الأمريكية، وصحيفة «وول ستريت جورنال» الأمريكية.
সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্সের সম্মানিত মহাসচিবের অভিমত কী—মুফতি সাহেব এই কাউন্সিলের অর্থায়নে মুদ্রিত বইটিতে যে মন্তব্য করেছেন যে, সালাফি চিন্তাধারার প্রতিরোধ করা একটি জাতীয় দাবি?!!

এই কথার মধ্যে কি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে এই মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উস্কানি দেওয়া ও শত্রুতা সৃষ্টির প্রয়াস নেই?!!

আর বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সেই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা—যারা এই সালাফিদের বিরুদ্ধে লড়াই করত এবং তাদের বন্দিশালায় নিক্ষেপ করত—যদি গত হয়ে থাকে, তবে মুফতি সাহেব এই জাতীয় দাবি পূরণের জন্য এখন কাদের নাম প্রস্তাব করছেন?!!

তবে আমরা মাননীয় মুফতি সাহেব এবং সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্সের মাননীয় মহাসচিবকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্তৃক সালাফিদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন এবং বিগত শাসনব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার চরম দমনপীড়ন সত্ত্বেও, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহে তাদের দাওয়াত দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৯/০৭/২০১১ খ্রিষ্টাব্দের জুমুআর দিনে (১) তাহরির স্কয়ারে শরিয়তকে সহায়তার লক্ষ্যে তাদের যে সুশৃঙ্খল লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল, তাতে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে অনেকেই বিস্মিত হয়েছিল।

আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, যিনি আমাদের সেকুলারদের মিথ্যাচার এবং পূর্ববর্তী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার জুলুম ও নিপীড়ন থেকে রক্ষা করেছেন, তিনি যেন আমাদের মুফতি সাহেবের অবিচার ও অপবাদ থেকেও রক্ষা করেন। আর আল্লাহর দরবারেই বিবাদমান পক্ষসমূহ সমবেত হবে।

আর আমি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মানহাজ আঁকড়ে ধরা প্রত্যেকের স্মরণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীটি এনে দিচ্ছি: "যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না" (আলে ইমরান: ১২০)। অতএব আপনারা ধৈর্য ধরুন, আল্লাহকে ভয় করুন এবং আপনাদের প্রতিপালকের কিতাব ও আপনাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন। প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে দৃঢ় সংকল্প ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে যান। মনে রাখবেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পর নবুওয়াতের আদলে খিলাফতে রাশিদাহর সুসংবাদ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে শরিয়ত সহায়তায় লাখো মানুষের সমাবেশের পরবর্তী শনিবারের মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর মন্তব্য দেখুন, একই সাথে মার্কিন ‘টাইম’ ম্যাগাজিন এবং ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
إن كتاب (المتشددون) ما هو إلا اجترار لشبهات قديمة ذكر معظمها المفتي في كتابه (البيان القويم لتصحيح بعض المفاهيم، مجموعة فتاوى لدحض الشبهات وجمع الشتات) (1)، وهذا الكتاب الذي بين يديك أخي القارئ الكريم ليس ردًّا تفصيليًّا على كتاب (المتشددون)، بل خطوط عريضة، ومن أراد التفصيل فليرجع إلى الكتب الآتية:

1 - الاعتصام للإمام الشاطبي المالكي - صاحب كتاب الموافقات -، وفيه تأصيل شرعي لمسألة البدع.

2 - الإبداع في مضار الابتداع للشيخ علي محفوظ رحمه الله عضو هيئة كبار العلماء بالأزهر الشريف، وفيه كذلك تأصيل شرعي لمسألة البدع، وقد كان مقررًا لقسم الوعظ والخطابة بالأزهر الشريف.

3 - اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم، لشيخ الإسلام ابن تيمية.

4 - قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة لشيخ الإسلام ابن تيمية.

4 - التوسل أنواعه وأحكامه للشيخ الألباني.

5 - تحذير الساجد من اتخاذ القبور مساجد، للشيخ الألباني.

6 - اعتقاد الأئمة الأربعة، للدكتور محمد بن عبد الرحمن الخميس.

7 - القول الفصل في حكم الاحتفال بمولد خير الرسل، للشيخ إسماعيل الأنصاري.

8 - الأشاعرة عرض ونقد للدكتور سفر الحوالي.

--------------------------------------------

(1) وقد رد عليه الأخ خالد عبد القادر عقدة في كتاب (وقفات مع متصوفة اليوم)، وردَدْتُ عليه في كتاب (كشف شبهات الصوفية) فلله الحمد والمنة.
(আল-মুতাশাদ্দিদুন) গ্রন্থটি মূলত কিছু পুরাতন সংশয়েরই চর্বিতচর্বণ, যার অধিকাংশ মুফতি তাঁর ‘আল-বায়ানুল কাভিম লি তাশহিহি বা’দিল মাফাহিম, মাজমুআতু ফাতাওয়া লি দাহদিল শুবুহাত ওয়া জাময়িশ শাতাত’ (১) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হে সম্মানিত পাঠক ভাই, আপনার হাতে থাকা এই বইটি (আল-মুতাশাদ্দিদুন) গ্রন্থের কোনো বিস্তারিত খণ্ডন নয়, বরং এর মূল বিষয়বস্তুর একটি রূপরেখা মাত্র। যারা বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন নিম্নোক্ত গ্রন্থাবলির শরণাপন্ন হন:

১ - ইমাম শাতিবী মালিকী —যিনি ‘আল-মুয়াফাকাত’ গ্রন্থের লেখক— রচিত ‘আল-ইতিসাম’। এতে বিদআত সংক্রান্ত মাসআলার শরয়ী তাত্ত্বিক মূলনীতি আলোচিত হয়েছে।

২ - আল-আযহার আশ-শরীফের জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদের সদস্য শেখ আলী মাহফুজ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-ইবদা ফি মাদাররিল ইবতিদা’। এতেও বিদআত সংক্রান্ত মাসআলার শরয়ী তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে এবং এটি আল-আযহার আশ-শরীফের ওয়াজ ও খুতবা বিভাগের পাঠ্যসূচিভুক্ত ছিল।

৩ - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম’।

৪ - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘কায়িদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসিলাহ’।

৪ - শায়খ আলবানী রচিত ‘আত-তাওয়াসসুল: আনওয়াউহু ওয়া আহকামুহু’।

৫ - শায়খ আলবানী রচিত ‘তাহযীরুস সাজিদ মিন ইত্তিখাযিল কুবুরি মাসাজিদ’।

৬ - ডক্টর মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-খামিস রচিত ‘ইতিখাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ’।

৭ - শায়খ ইসমাইল আল-আনসারী রচিত ‘আল-কাউলুল ফাসল ফি হুকমিল ইহতিফাল বি মাওলিদি খাইরির রুসুল’।

৮ - ডক্টর সাফার আল-হাওয়ালি রচিত ‘আল-আশাআরিয়্যাহ: আরদুন ওয়া নাকদ’।

--------------------------------------------

(১) ভাই খালিদ আব্দুল কাদির উকদাহ ‘ওয়াকফাত মাআ মুতাসাউয়িফাতিল ইয়াউম’ গ্রন্থে এর জবাব দিয়েছেন এবং আমি ‘কাশফু শুবুহাতিল সুফিয়্যাহ’ গ্রন্থে এর প্রতি উত্তর দিয়েছি। সুতরাং যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহরই।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ونحن السلفيين لا ندّعي لأنفسنا ولا لعلمائنا العصمة، ونحن نرحب بكل من ينصحنا سواء أنَصَحَ برفقٍ أو بشدة طالما كان يريد أن يَرُدّنا إلى الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة، وإلا رددناه نحن إلى ذلك؛ فالحق أحق أن يُتَّبَع ، وما لم يكن دينًا عند النبي صلى الله عليه وآله وسلم وصحابته رضي الله عنهم الذين قال الله لهم: {فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا} (البقرة:137)، لا نقبل أن يكون اليوم دينًا.

ونُذَكِّر المفتي وجميع المسلمين بقول الإمام مالك رحمه الله: «من ابتدع في الإسلام بدعةً يراها حسنة فقد زعم أن محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم خانَ الرسالة؛ لأن الله يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} (المائدة:3)، فما لم يكن يومئذ دينًا فلا يكون اليوم دينًا» (1).

وفي الختام أشكر للأستاذ الدكتور محمد بكر حبيب، وللأستاذ الدكتور محمد النشار ما قاما به من جهد وما انتزعاه من وقتهما الثمين في مراجعة هذا الكتاب؛ فجزاهما الله عني وعن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، وأسأل الله عز وجل أن يبارك لهما في علمهما وعمرهما وأن ينفع بهما الإسلام والمسلمين.

كما أسأله سبحانه وتعالى أن ينفع المسلمين بهذه الورقات وأن يرزقنا الإخلاص في السر والعلن، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ونبيه ـ سيدنا محمد ـ وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.

شحاتة محمد صقر

saqrmhm@gawab.com

saqrmhma@yahoo.com

5 ذي الحجة 1432هـ

1 نوفمبر 2011 م

--------------------------------------------

(1) الاعتصام للإمام الشاطبي المالكي (1/ 54).
আমরা সালাফীরা নিজেদের জন্য কিংবা আমাদের আলেমদের জন্য নিষ্পাপত্বের (মাসুম হওয়ার) দাবি করি না। আমাদের কেউ যদি উপদেশ প্রদান করেন, তবে আমরা তাকে স্বাগত জানাই—চাই সেই উপদেশ কোমলভাবে হোক কিংবা কঠোরভাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য হয় উম্মাহর নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ) বুঝ অনুযায়ী আমাদের কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় আমরাই তাকে সেদিকে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানাব; কেননা সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। আর যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না—যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব তারা যদি সেরূপ ঈমান আনে যেরূপ তোমরা ঈমান এনেছ, তবে তারা অবশ্যই সুপথ পাবে} (আল-বাকারাহ: ১৩৭)—তা আজ দ্বীন হিসেবে আমরা কখনোই গ্রহণ করব না।

আমরা মুফতি সাহেব এবং সকল মুসলিমকে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সেই অমর বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করল এবং সেটিকে উত্তম মনে করল, সে মূলত দাবি করল যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাতের দায়িত্বে খেয়ানত করেছেন (নাউযুবিল্লাহ); কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম} (আল-মায়িদাহ: ৩)। সুতরাং সেদিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না» (১)।

পরিশেষে, আমি প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ বকর হাবীব এবং প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আন-নাশারকে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য এবং এই গ্রন্থটি পর্যালোচনায় তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের জ্ঞানে ও জীবনে বরকত দান করেন এবং তাদের দ্বারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে উপকৃত করেন।

সেই সাথে আমি মহান রবের নিকট আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং আমাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা দান করেন। আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও নবী—আমাদের নেতা মুহাম্মদ—এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে চলবেন তাদের সবার ওপর।

শাহাতা মুহাম্মদ সাকর

saqrmhm@gawab.com

saqrmhma@yahoo.com

৫ জিলহজ ১৪৩২ হিজরি

১ নভেম্বর ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাতবি আল-মালিকি রচিত আল-ইতিসাম (১/ ৫৪)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌دُرَرٌ

من كلام

الإمام الشاطبي المالكي

قال الإمام الشاطبي المالكي رحمه الله:

* «إن الإحداث في الشريعة إنما يقع إما من جهة الجهل، وإما من جهة تحسين الظن بالعقل، وإما من جهة اتباع الهوى في طلب الحق، وهذا الحصر بحسب الاستقراء من الكتاب والسنة» (1).

* «لا تجد مبتدعًا ممن ينتسب إلى الملة إلا وهو يستشهد على بدعته بدليل شرعي، فيُنْزِله على ما وافق عقله وشهوته» (2).

* «الإنسان لا ينبغي له أن يعتمد على عملِ أحدٍ البتة، حتى يتثبت ويسأل عن حكمه؛ إذ لعل المعتمَد على عمله يعمل على خلاف السُنّة، ولذلك قيل: لا تنظر إلى عمل العالم، ولكن سَلْه يصْدُقْك، وقالوا: ضعف الرويّة أن يكون رأى فلانًا يعمل فيعمل مثله، ولعله فعله ساهيًا» (3).

* «وقد علم العلماء أنَّ كلَّ دليل فيه اشتباهٌ وإشكالٌ ليس بدليل في الحقيقة؛ حتى يتبين معناه ويظهر المراد منه، ويشترط في ذلك أن لا يعارضه أصلٌ قطعيٌّ؛ فإذا لم يظهر معناه لإجمال أو اشتراك، أو عارضه قطعيٌّ؛ كظهور تشبيه؛ فليس بدليل؛ لأن حقيقة الدليل أن يكون ظاهرًا في نفسه، ودالًا على غيره؛ وإلا احتيج إلى دليل عليه؛

--------------------------------------------

(1) الاعتصام (2/ 493).

(2) الاعتصام (1/ 134).

(3) الاعتصام (2/ 508).
ইমাম শাতবি আল-মালিকির

অমূল্য

বাণীসমূহ

ইমাম শাতবি আল-মালিকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

* «শরিয়তে নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) মূলত তিনটি কারণে ঘটে: হয় অজ্ঞতা থেকে, অথবা যুক্তির ওপর মাত্রাতিরিক্ত আস্থার কারণে, অথবা সত্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে খেয়াল-খুশির অনুসরণ থেকে। কুরআন ও সুন্নাহর গভীর পর্যালোচনার (ইস্তিকরা) ভিত্তিতেই এই সীমাবদ্ধকরণ করা হয়েছে» (১)।

* «উম্মতের অন্তর্ভুক্ত এমন কোনো বিদআতিকে আপনি পাবেন না, যে তার বিদআতের পক্ষে কোনো শারয়ি দলীল পেশ করে না; তবে সে সেই দলীলকে তার নিজস্ব যুক্তি ও প্রবৃত্তির অনুকূলে প্রয়োগ করে» (২)।

* «কোনো ব্যক্তির উচিত নয় কারো আমলের ওপর নিশ্চিত না হয়ে বা তার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করে সম্পূর্ণ নির্ভর করা; কারণ হতে পারে যার আমলের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, তিনি সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ করছেন। এজন্যই বলা হয়েছে: আলেমের আমলের দিকে তাকিয়ো না, বরং তাকে জিজ্ঞাসা করো, তিনি তোমাকে সত্যটি জানাবেন। আরও বলা হয়েছে: বিবেচনাবোধের দুর্বলতা হলো অমুককে কাজ করতে দেখে তার মতো করা, অথচ হতে পারে তিনি কাজটি ভুলবশত করেছেন» (৩)।

* «উলামায়ে কিরাম অবগত আছেন যে, যে দলীলের মধ্যে অস্পষ্টতা ও জটিলতা রয়েছে, তা প্রকৃতপক্ষে দলীল নয়; যতক্ষণ না তার অর্থ সুস্পষ্ট হয় এবং তা দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা প্রকাশ পায়। এর জন্য শর্ত হলো এটি যেন কোনো অকাট্য মূলনীতির (আসল কাতয়ি) বিরোধী না হয়। সুতরাং যদি সংক্ষিপ্ততা বা দ্ব্যর্থবোধকতার কারণে কোনো দলীলের অর্থ অস্পষ্ট থাকে, অথবা তা কোনো অকাট্য দলীলের বিরোধী হয়—যেমন বাহ্যিকভাবে সাদৃশ্য স্থাপনের (তাশবিহ) উদ্রেক করে—তবে তা দলীল হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ দলীলের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হলো তা স্বয়ং স্পষ্ট হবে এবং অন্য বিষয়কে নির্দেশ করবে; অন্যথায় সেই দলীলের জন্যই আবার অন্য দলীলের প্রয়োজন পড়বে;

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিসাম (২/ ৪৯৩)।

(২) আল-ইতিসাম (১/ ১৩৪)।

(৩) আল-ইতিসাম (২/ ৫০৮)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فإن دلَّ الدليل على عدم صحته؛ فأحرى أن لا يكون دليلًا» (1).

* «من يأخذ الأدلة من أطراف العبارة الشرعية ولا ينظر بعضها ببعض، فيوشك أن يَزِلّ، وليس هذا من شأن الراسخين وإنما هو من شأن من استعجل طلبًا للمخرج في دعواه» (2).

* «شأن الراسخين: تصور الشريعة صورة واحدة، يخدم بعضها بعضًا كأعضاء الإنسان إذا صورت صورة مثمرة، وشأنُ متبعي المتشابهات أخذ دليلٍ مَا أيّ دليل كان عفوًا وأخذًا أوليًا - وإنْ كان ثَمَّ ما يعارضه من كُليٍّ أو جزئي -، فكأن العضو الواحد لا يعطى في مفهوم أحكام الشريعة حكمًا حقيقيًّا، فمتبعه متبع متشابه، ولا يتبعه إلا مَن في قلبه زيغ، ما شهد الله به ومن أصدق من الله قيلًا» (3).

--------------------------------------------

(1) الاعتصام (1/ 320).

(2) الاعتصام (1/ 223).

(3) الاعتصام (1/ 245).
“যদি প্রমাণটি তার অশুদ্ধতার ওপর আলোকপাত করে, তবে তা দলিল হিসেবে গণ্য না হওয়ারই অধিক যোগ্য।” (১)।

* “যে ব্যক্তি শরয়ি বক্তব্যের প্রান্তিক অংশ থেকে দলিল গ্রহণ করে এবং একটির সাথে অন্যটির পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, তার পদস্খলন ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এটি ইলমে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং এটি তাদের স্বভাব, যারা নিজ দাবির স্বপক্ষে কোনো পথ বের করার জন্য তাড়াহুড়ো করে।” (২)।

* “ইলমে গভীর জ্ঞানসম্পন্নদের বৈশিষ্ট্য হলো: শরিয়তকে একটি অবিভাজ্য রূপকল্প হিসেবে কল্পনা করা, যেখানে একটি অংশ অন্যটিকে সেভাবে সহযোগিতা করে যেমন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ একটি কার্যকর অবয়ব গঠনে ভূমিকা রাখে। পক্ষান্তরে, অস্পষ্ট বিষয়াদির অনুসারীদের স্বভাব হলো—সামনে আসা যে কোনো দলিলকেই তাৎক্ষণিকভাবে এবং ভাসাভাসাভাবে গ্রহণ করা—যদিও তার বিপরীতে কোনো সামগ্রিক বা আংশিক দলিল বিদ্যমান থাকে। যেন শরিয়তের বিধানের ধারণায় একটি একক অঙ্গকে প্রকৃত বিধান হিসেবে গণ্য করা যায় না। সুতরাং এর অনুসরণকারী মূলত অস্পষ্ট বিষয়েরই অনুসারী, আর কেবল যার অন্তরে বক্রতা রয়েছে সেই এটি অনুসরণ করে—আল্লাহ তাআলা এ সাক্ষ্যই দিয়েছেন, আর আল্লাহর চেয়ে সত্যবাদী আর কে হতে পারে?” (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিসাম (১/ ৩২০)।

(২) আল-ইতিসাম (১/ ২২৩)।

(৩) আল-ইতিসাম (১/ ২৪৫)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌من هم السلفيون؟ (1)

من حيث المصطلح أصبحت السلفية عَلَمًا على أصحاب منهج الاقتداء بالسلف من الصحابة والتابعين من أهل القرون الثلاثة الأولى وكل من تبعهم من الأئمة كالأئمة الأربعة وسفيان الثوري وسفيان بن عيينة والليث بن سعد وعبد الله بن المبارك والبخاري ومسلم وسائر أصحاب السنن، وشمل شيوخ الإسلام المحافظين على طريقة الأوائل مع تباين العصور وتفجر مشكلات وتحديات جديدة أمثال ابن تيمية وابن القيم ومحمد بن عبد الوهاب وكذلك أصحاب أغلب الاتجاهات السلفية المعاصرة بالجزيرة العربية والقارة الهندية ومصر وشمال أفريقيا وسوريا وكانت ذات أثر واضح في تنقية مفاهيم الإسلام ودفعه إلى الأمام لمواجهة زيف الحضارة الغربية، وللكشف عن جوهر الثقافة العربية والإسلامية الأصيلة القادرة على الحياة في كل جيل وكل بيئة.

ومن حيث المضمون تعني السلفية في الإسلام التعبير عن منهج المحافظين على مضمونه في ذروته الشامخة وقمته الحضارية، كما تُوَجّهنا إلى النموذج المتحقق في القرون الأولى المفضلة، وفيها تحقق الشكل العلمي والتنفيذ الفعلي ومنه استمدت حضارة المسلمين أصولها ومقوماتها ممثلة في العقيدة خضوعًا للتوحيد وبيانًا لدور الإنسان في هذه الحياة وتنفيذًا لقواعد الشريعة الإلهية بجوانبها المتعددة في الاجتماع والاقتصاد والسياسة وروابط الأسرة وفضائل الأخلاق.

والسلفية كمصطلح تعني أيضًا في مدلولها الخاص الاقتداء بالرسول صلى الله عليه وآله وسلم فإن أمتنا تنفرد بمزية لا تشاركها فيها أمة أخرى في الماضي أو الحاضر أو المستقبل تلك هي

--------------------------------------------

(1) انظر: قواعد المنهج السلفي، السلفية بين العقيدة الإسلامية والفلسفة الغربية، المخاطر التي تواجه الشباب المسلم وكيف نتوقاها؟ للأستاذ الدكتور مصطفى حلمي، الأستاذ بكلية دار العلوم بالقاهرة.
সালাফি কারা? (১)

পরিভাষার বিচারে সালাফিয়াত সেই সকল ব্যক্তিদের পরিচায়ক হয়ে উঠেছে, যারা প্রথম তিন প্রজন্মের সম্মানিত সাহাবী ও তাবেয়ীগণের তথা সালাফদের অনুসরণের মানহাজ বা পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তদ্রূপ চার ইমাম, সুফিয়ান সাওরি, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, লাইস ইবনে সাদ, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক, বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য সুনান গ্রন্থপ্রণেতাগণের মতো যে সকল ইমাম তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এই পরিভাষাটি বিভিন্ন যুগের আবর্তনে এবং নতুন নতুন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পূর্বসূরিদের পথ আঁকড়ে থাকা শায়খুল ইসলামগণকেও শামিল করে, যেমন ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব। একইভাবে আরব উপদ্বীপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, মিশর, উত্তর আফ্রিকা এবং সিরিয়ার অধিকাংশ সমসাময়িক সালাফি ধারাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। ইসলামের মৌলিক ধারণাসমূহকে বিশুদ্ধ করতে এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার অসত্যের মোকাবিলায় ইসলামকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এই ধারার সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। এটি প্রতিটি প্রজন্মে এবং প্রতিটি পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম খাঁটি আরব ও ইসলামি সংস্কৃতির সারবত্তা উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিষয়বস্তুর বিচারে ইসলামে সালাফিয়াত বলতে ইসলামের সেই সুউচ্চ শিখর এবং সভ্যতার স্বর্ণশিখরের সারবত্তাকে সংরক্ষণকারীদের মানহাজ বা পদ্ধতিকে বোঝায়। এটি আমাদের সেই আদর্শের দিকে পরিচালিত করে যা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী প্রথম তিন শতাব্দীতে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই যুগে ইসলামের তাত্ত্বিক রূপ এবং ব্যবহারিক বাস্তবায়ন উভয়ই পূর্ণতা পেয়েছিল, যেখান থেকে মুসলিম সভ্যতা তার মূলনীতি ও উপাদানসমূহ সংগ্রহ করেছে। এর প্রকাশ ঘটেছে তাওহীদের প্রতি আনুগত্য ভিত্তিক আকিদা বা বিশ্বাসে, এই জীবনে মানুষের ভূমিকার বর্ণনায় এবং সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিক গুণাবলির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঐশী শরীয়তের বিধিবিধানের বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

পরিভাষা হিসেবে সালাফিয়াত তার বিশেষ অর্থে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণকেও বোঝায়। কারণ আমাদের উম্মত এমন একটি বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যা অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের অন্য কোনো উম্মতের মাঝে নেই; আর তা হলো...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: কাওয়াইদুল মানহাজিস সালাফি, আস-সালাফিয়াতু বাইনাল আকিদাতিল ইসলামিয়া ওয়াল ফালসাফাতিল গারবিয়া, আল-মাখাত্বিরুল্লাতি তুওয়াজিহুল শাবাবাল মুসলিম ওয়া কাইফা নাতাওয়াক্কাহা? লেখক: প্রফেসর ড. মুস্তফা হিলমি, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের অধ্যাপক।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
تحقق القدوة في شخصه صلى الله عليه وآله وسلم إذ حُفِظَتْ سيرتُه كاملةً محققةً بكافة تفاصيلها فنحن نعلم عنه كل شيء وفقًا لما نُقِلَ إلينا في كتب وعلوم مصطلح الحديث بأدق منهج تاريخي علمي عرفه المؤرخون.

وهكذا فإن السيرة النبوية حية في كياننا ونحن نعيشها كل يوم وهي تمثل القمة للسلفيين، وتطبيق الشريعة الإسلامية ممتد على طول الزمن لا يتعلق بعصر دون آخر بل إن كل جيل من المسلمين مطالَبٌ بتنفيذ أصولها النَّصّية مع الاجتهاد فيما لم يَرِدْ فيه نَصٌّ عند مواجهة أحوال الحياة المتغيرة كما هو معروف في أصول الفقه.

وإزاء خطط الغزو الفكري ومظاهر الاشتباك العقلي مع خصوم الإسلام صمد السلفيون للمحافظة على جوهر الإسلام وأصوله إيمانًا بأنه لم يظهر زيف هذه العقائد والنحل إلا بطريقة السلف أنفسهم مهما تغيرت الأزمنة والأعصار لأنها طريقة موضوعية ذات أسس علمية منهجية تعتمد على النصوص الشرعية الموثقة.

فهناك مسائل ثابتة لا تتغير: كفطرة التوحيد ومخاطبة العقول البشرية للبرهنة على النبوات عامة ونبوة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم خاصة والرد على أهل الكتاب من اليهود والنصارى في كل ما انحرفوا به عن الشرع المنزل مع دحض شبهات الملحدين والمشركين.

هذا فضلًا عن ثبات الفضائل الأخلاقية وقواعد التحليل والتحريم في المأكل والمشرب والملبس وتنظيم العلاقات الاجتماعية في الأسرة والمجتمع وإقامة العلاقات الدولية مع سائر الأمم وفقًا لأصول الشرع.

فإذا كان المسلمون يتلمسون اليوم طريقًا للنهوض فليس لهم من سبيل إلا وحدة جماعتهم، ووحدة الجماعة ليس لها من سبيل إلا الإسلام الصحيح، والإسلام الصحيح مصدره القرآن والسنة، وهذه خلاصة الاتجاه السلفي: عودة بالإسلام إلى مَعِينه الصافي من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم.
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সত্তার মাঝে আদর্শের পূর্ণতা বাস্তবায়িত হয়েছে, কেননা তাঁর সীরাত বা জীবনচরিত অতি সূক্ষ্ম বিশদ বিবরণসহ পূর্ণাঙ্গ ও প্রমাণিত রূপে সংরক্ষিত হয়েছে। ঐতিহাসিকদের জানা মতে অত্যন্ত নির্ভুল ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণে ‘উসূলে হাদীস’ বা হাদীসশাস্ত্রের কিতাবসমূহের মাধ্যমে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে, তার ভিত্তিতে আমরা তাঁর সম্পর্কে সবকিছুই অবগত আছি।

আর এভাবেই সীরাতে নববী আমাদের সত্তায় জীবন্ত হয়ে আছে এবং আমরা প্রতিদিন তা যাপন করছি। এটি সালাফীগণের নিকট শ্রেষ্ঠত্বের শিখর স্বরূপ। ইসলামী শরীয়তের প্রয়োগ সর্বকালের জন্য বিস্তৃত, তা কোনো নির্দিষ্ট যুগের সাথে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুসলিমদের প্রতিটি প্রজন্মের প্রতি শরীয়তের অকাট্য মূলনীতিসমূহ বাস্তবায়নের দাবি রয়েছে। পাশাপাশি, জীবনের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো পাঠ বা ‘নস’ নেই, সেসব ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করাও তাদের দায়িত্ব, যেমনটি উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে সুবিদিত।

বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের নীল নকশা এবং ইসলামের শত্রুদের সাথে আদর্শিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সালাফীগণ ইসলামের সারসত্তা ও মূলনীতিসমূহ রক্ষার নিমিত্তে অবিচল থেকেছেন। তাঁদের এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, কাল ও যুগের বিবর্তনে এই ভ্রান্ত আকীদা ও মতবাদসমূহের অসারতা উদ্ঘাটন করা সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যতীত সম্ভব নয়। কেননা এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি, যা প্রামাণ্য শরয়ী দলিল-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

সেখানে এমন কিছু চিরন্তন বিষয় রয়েছে যা অপরিবর্তনীয়: যেমন তাওহীদের ফিতরাত বা সহজাত প্রবৃত্তি এবং সাধারণভাবে নবুওয়াত ও বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণ উপস্থাপনে মানববিবেকের নিকট আবেদন রাখা। সেই সাথে আসমানী শরীয়ত থেকে ইহুদি ও খ্রিষ্টান তথা আহলে কিতাবগণ যে সকল বিষয়ে বিচ্যুত হয়েছে সেগুলোর প্রতিবাদ জানানো এবং নাস্তিক ও মুশরিকদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করা।

এছাড়াও নৈতিক সচ্চরিত্রের স্থিতিশীলতা, পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদে হালাল-হারামের নিয়মাবলি, পরিবার ও সমাজে সামাজিক সম্পর্কের বিন্যাস এবং শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনও এর অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে মুসলমানরা যদি তাদের পুনর্জাগরণের পথ খুঁজে থাকে, তবে তাদের সামনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। আর উম্মাহর ঐক্যের জন্য বিশুদ্ধ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। বিশুদ্ধ ইসলামের উৎস হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ। এটাই হলো সালাফী ধারার সারকথা: ইসলামকে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর সেই স্বচ্ছ উৎসে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي العصر الحديث يعمل السلفيون على استئناف الحياة الإسلامية على أساس هذا الفهم وطبقًا للنظرة الرَحْبة الفسيحة لكل جوانب الإسلام كمنهج رباني شامل لا يَعْتَوِرُه نقص في أي من مجالات الحياة.

وقد اتفق المسلمون السلفيون على قاعدة اضطراد العلاقة بين تقدم المسلمين واستمساكهم بالإسلام، وعلى العكس، تدهورهم وضعفهم عند الانسلاخ منه فالعلاقة بينهما علاقة المد والجذر مع الإسلام والإيمان.

السلفية والتقدم:

يزعم خصوم الإسلام بعامة والسلفية بخاصة أنها دعوة رجعية، وهو زعم خاطئ من جذوره، فلا تتعارض السلفية مع التقدم؛ لأن التقدم في الإسلام تقدم أخلاقي يمضي قدمًا في تحقيق الرسالة التي نِيطَتْ بهذه الأمة مع الأخذ بأسباب العمران المادي في نواحي الحياة كلها.

والقديم في تاريخ أوربا تعبير يطلق على العصور المظلمة في القرون الوسطى السابقة لعصر النهضة ورفض أوربا لتاريخها القديم موقف عادي يتلاءم مع رغبتها في التقدم لأن الماضي يُعَدُّ سببًا لتخلفها.

وإذا قارَنّا الإسلام بمختلف ديانات العالم عرفنا أن عقائدها منعت معتنقيها من التقدم الحضاري عندما استمسكوا بها، ودارِسُ التاريخ يلاحظ أن أهل أوربا والبوذيين في اليابان على سبيل المثال لما كانوا راسخين في معتقداتهم الدينية كانوا على أسوأ ما يكون من أدوار التخلف، ولمّا أحرزوا لأنفسهم الرقي والتقدم في حياتهم العلمية والعقلية والمادية ما عادوا مؤمنين بمعتقداتهم المسيحية والبوذية إلا اسمًا.

أما المسلمون فعندما كانوا أقوياء في إيمانهم بمعتقداتهم صاروا أكثر أمم الأرض تقدمًا وازدهارًا وقوة ومجدًا، وما أن دَبَّ دبيبُ الضعف في إيمانهم بها حتى تخلفوا في ميادين العلم وضعفوا في صراعهم للرقي الدنيوي وتحكمت فيهم واستولت عليهم أمم أجنبية، وهذا فرق عظيم بين معتقدات الإسلام ومعتقدات الديانات الأخرى في العالم.
আধুনিক যুগে সালাফীগণ এই উপলব্ধির ভিত্তিতে এবং ইসলামের সকল দিকের প্রতি এক বিস্তৃত ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ইসলামী জীবনধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঐশী জীবনবিধান হিসেবে গণ্য করেন, যাতে জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই কোনো অপূর্ণতা নেই।

সালাফী মুসলমানগণ মুসলমানদের অগ্রগতি ও ইসলামের প্রতি তাদের অবিচলতার মাঝে একটি অবিচ্ছেদ্য ও সমানুপাতিক সম্পর্কের নীতির ওপর একমত হয়েছেন। বিপরীতক্রমে, ইসলাম থেকে বিচ্যুত হলে তাদের অধঃপতন ও দুর্বলতা অনিবার্য। সুতরাং ইসলাম ও ঈমানের সাথে এই সম্পর্কের ধরন হলো জোয়ার-ভাটার মতো।

সালাফিয়াত ও অগ্রগতি:

সাধারণভাবে ইসলামের এবং বিশেষভাবে সালাফিয়াতের শত্রুরা দাবি করে যে এটি একটি প্রতিক্রিয়াশীল দাওয়াত। এই দাবিটি মূলে থেকেই ভুল। কেননা সালাফিয়াত অগ্রগতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ ইসলামে অগ্রগতি হলো একটি নৈতিক অগ্রগতি, যা এই উম্মতের ওপর অর্পিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যায় এবং একই সাথে জীবনের সকল ক্ষেত্রে বস্তুগত উন্নতির উপকরণসমূহ গ্রহণ করে।

ইউরোপের ইতিহাসে 'অতীত' বলতে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ পূর্ববর্তী মধ্যযুগের অন্ধকার যুগকে বোঝানো হয়। তাই ইউরোপ কর্তৃক তাদের প্রাচীন ইতিহাস বর্জন করা একটি স্বাভাবিক অবস্থান, যা তাদের অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ সেই অতীতকে তাদের অনগ্রসরতার কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আমরা যদি ইসলামকে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের সাথে তুলনা করি, তবে দেখতে পাব যে, সেই ধর্মগুলোর বিশ্বাসসমূহ তাদের অনুসারীদের সভ্যতাগত অগ্রগতিতে বাধা প্রদান করেছিল যতক্ষণ তারা সেগুলো আঁকড়ে ধরেছিল। ইতিহাসের গবেষক মাত্রই লক্ষ্য করবেন যে, উদাহরণস্বরূপ ইউরোপের অধিবাসী এবং জাপানের বৌদ্ধরা যখন তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল ছিল, তখন তারা অনগ্রসরতার চরম পর্যায়ে ছিল। কিন্তু যখন তারা তাদের বৈজ্ঞানিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং বস্তুগত জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতি অর্জন করল, তখন তারা তাদের খ্রিস্টীয় বা বৌদ্ধ বিশ্বাসে কেবল নামমাত্র বিশ্বাসী হিসেবে অবশিষ্ট রইল।

অন্যদিকে মুসলমানদের অবস্থা হলো, যখন তারা তাদের বিশ্বাসের প্রতি দৃঢ় ঈমান পোষণ করত, তখন তারা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও মর্যাদাবান জাতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু যখনই তাদের ঈমানে দুর্বলতা দেখা দিল, তখনই তারা বিজ্ঞানের ময়দানে পিছিয়ে পড়ল এবং পার্থিব উন্নতির সংগ্রামে দুর্বল হয়ে পড়ল; ফলে বিদেশী জাতিসমূহ তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করল এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করল। ইসলামের বিশ্বাস এবং বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের বিশ্বাসের মধ্যে এটিই এক বিশাল পার্থক্য।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فالأمر عكسي بالنسبة لنا تمامًا: فإن تاريخنا يعبر عن تقدم حضاري في كافة المجالات، وإذا نحن طالبنا (بالترقي) إلى مستوى السلف فإننا نعني بذلك التمسك بالمفاهيم الإسلامية الشاملة للعقيدة والعبادة والشريعة وسائر الأنشطة الإنسانية التي منها - بلا شك - الحقل العلمي.

ولكننا في الوقت نفسه لا نزعم - ولا نظن أن عاقلًا يخطر له على بال - أن نضع الأمة الإسلامية في متحف للتاريخ! بمعنى أن نطالب بإرجاعها للأخذ بوسائل العصور السابقة في الحياة العمرانية بأساليبها في الإنتاج والنقل والتعليم والتطبيب وتشييد المدن وتجهيز الجيوش وبناء المدارس والجامعات والمستشفيات .... إلخ.

ويتضح لكل دارس للإسلام أن المفهوم الإسلامي للحضارة أرقى بكثير من التصور الغربي؛ فلا نحن نرضى بتخلف المسلمين الحالي عن تحقيق النموذج الإسلامي، ولا نرضى في الوقت نفسه بتقليد الغرب في فلسفته ومضامينه الفكرية الشاملة.

أما نَبْذُ السلفية بحجة التسابق مع الزمن واللحاق بكل ما هو جديد فمنهج خاطئ قائم على مفاهيم غربية متصلة بفلسفتها؛ فإن ما نراه اليوم جديدًا سيصبح غدًا - وحتمًا - قديمًا فليست الموازنة إذن بين قديم وجديد موازنة صحيحة؛ ولكن ينبغي أن تتم بالمقارنة بين الحق والباطل أيًا كان العصر والزمان لأن القيم لا تتغير ولا تتبدل، فليس الجديد مقدَّمًا بالضرورة عن سلفه؟.

ولعلنا نصدم أصحاب دعوى التجديد المتغرِّبين النابذين للسلفية عندما نضع أمامهم الحديث النبوي: «إِنَّ اللهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ
আমাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত: আমাদের ইতিহাস সকল ক্ষেত্রে এক সভ্যতার অগ্রগতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আমরা যখন পূর্বসূরিদের (সালাফ) স্তরে উন্নীত হওয়ার দাবি জানাই, তখন এর মাধ্যমে আমরা আকীদা, ইবাদত, শরীয়াহ এবং অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইসলামের সেই ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণাসমূহ আঁকড়ে ধরার কথা বুঝাই, যার অন্তর্ভুক্ত সন্দেহাতীতভাবেই বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রটিও রয়েছে।

কিন্তু একই সাথে আমরা এটি দাবি করি না—এবং আমরা মনে করি না যে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির মনে এই ভাবনা আসবে—যে আমরা মুসলিম উম্মাহকে ইতিহাসের কোনো জাদুঘরে রেখে দেব! অর্থাৎ এমন দাবি করা যে, তাদের পূর্ববর্তী যুগের জীবনযাত্রার উপায়-উপকরণ, উৎপাদন পদ্ধতি, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা, নগর বিনির্মাণ, সেনাবাহিনী গঠন এবং স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল নির্মাণের সেকেলে পদ্ধতিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে ইত্যাদি।

ইসলামের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট এটি স্পষ্ট যে, সভ্যতা সম্পর্কে ইসলামের ধারণা পাশ্চাত্য ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও শ্রেষ্ঠ। তাই আমরা যেমন ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মুসলমানদের বর্তমান অনগ্রসরতায় সন্তুষ্ট নই, তেমনিভাবে সামগ্রিক দর্শন ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াদিতে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণেও আমরা সম্মত নই।

আর সময়ের সাথে পাল্লা দেওয়া এবং প্রতিটি নতুন বিষয়ের সাথে যুক্ত হওয়ার অযুহাতে 'সালাফিয়্যাত' বা পূর্বসূরিদের আদর্শ বর্জন করা মূলত একটি ভ্রান্ত পদ্ধতি, যা পাশ্চাত্যের দার্শনিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা আমরা আজ যা নতুন দেখছি, তা আগামীকাল নিশ্চিতভাবেই পুরনো হয়ে যাবে; তাই প্রাচীন ও নবীনের মধ্যকার এই তুলনামূলক বিচার কোনো সঠিক মানদণ্ড নয়। বরং এই তুলনা হতে হবে সত্য ও মিথ্যার নিরিখে, তা যে কাল বা সময়েরই হোক না কেন। কারণ আদর্শ ও মূল্যবোধ কখনো পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। সুতরাং নতুন কিছু হওয়া মানেই তা অবধারিতভাবে তার পূর্ববর্তীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়া নয়।

হয়তো আমরা সেই পশ্চিমাঘেঁষা আধুনিকায়নের দাবিদারদের—যারা সালাফিয়্যাতকে বর্জন করেছে—একটি বড় ধাক্কা দেব, যখন আমরা তাদের সামনে এই হাদীসটি পেশ করব: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি দ্বীনকে সংস্কার করবেন...
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لَهَا دِينَهَا» (1) (رواه أبو داود، وغيره وصححه الْحَاكِمُ وَالْبَيْهَقِيُّ، وابن حَجَرٍ العسقلاني والعراقي والألباني).

والتجديد إنما يكون بعد الدُرُوس (2) فالتجديد ارتقاء وتقدم بالأمة لتسلك طريقها مرة أخرى كلما بعدت عن الصحيح الأصيل المتوارث.

ونحن نرفض تقليد الغرب ونبحث عن الأصالة ولا تأتي الأصالة بترقيع الشخصية بل بالارتباط بالعقيدة التي كانت حجر الزاوية في كيان هذه الأمة، وينبغي

--------------------------------------------

(1) (إِنَّ اللهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ) أَيْ أُمَّةِ الإجابة، ويحتمل أمة الدعوة (عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ) أَيِ انْتِهَائِهِ أَوِ ابْتِدَائِهِ إِذَا قَلَّ الْعِلْمُ وَالسُّنَّةُ وَكَثُرَ الجهل والبدعة، وَاخْتُلِفَ فِي رَأْسِ الْمِائَةِ هَلْ يُعْتَبَرُ مِنَ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ أَوِ الْبَعْثَةِ أَوِ الْهِجْرَةِ أَوِ الْوَفَاةِ (مَنْ يُجَدِّدْ) مَفْعُولُ يَبْعَثُ (لَهَا) أَيْ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ (دِينَهَا) أَيْ يُبَيِّنَ السُّنَّةَ مِنَ الْبِدْعَةِ وَيُكْثِرُ الْعِلْمَ وَيَنْصُرُ أَهْلَهُ وَيَكْسِرُ أَهْلَ الْبِدْعَةِ وَيُذِلَّهُمْ، وَلَا يَكُونُ إِلَّا عَالِمًا بِالْعُلُومِ الدِّينِيَّةِ الظَّاهِرَةِ وَالْبَاطِنَةِ.

ومَعْنَى التَّجْدِيدِ إِحْيَاءُ مَا انْدَرَسَ مِنَ الْعَمَلِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْأَمْرُ بِمُقْتَضَاهُمَا.

وَلَا يُعْلَمُ ذَلِكَ الْمُجَدِّدُ إِلَّا بِغَلَبَةِ الظَّنِّ مِمَّنْ عَاصَرَهُ مِنَ الْعُلَمَاءِ بِقَرَائِنِ أَحْوَالِهِ وَالِانْتِفَاعِ بِعِلْمِهِ إِذِ الْمُجَدِّدُ لِلدِّينِ لَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ عَالِمًا بِالْعُلُومِ الدِّينِيَّةِ الظَّاهِرَةِ وَالْبَاطِنَةِ نَاصِرًا لِلسُّنَّةِ قَامِعًا لِلْبِدْعَةِ وَأَنْ يَعُمَّ عِلْمُهُ أَهْلَ زَمَانِهِ، وَإِنَّمَا كَانَ التَّجْدِيدُ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ لِانْخِرَامِ الْعُلَمَاءِ فِيهِ غَالِبًا وَانْدِرَاسِ السُّنَنِ وَظُهُورِ الْبِدَعِ فَيُحْتَاجُ حِينَئِذٍ إِلَى تَجْدِيدِ الدِّينِ فَيَأْتِي اللهُ تَعَالَى مِنَ الْخَلْقِ بِعِوَضٍ مِنَ السَّلَفِ إما واحدًا أو متعددًا.

فالْمُجَدِّدَ لَا يَكُونُ إِلَّا مَنْ كَانَ عَالِمًا بِالْعُلُومِ الدِّينِيَّةِ وَمَعَ ذَلِكَ مَنْ كَانَ عَزْمُهُ وَهِمَّتُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِحْيَاءَ السُّنَنِ وَنَشْرَهَا وَنَصْرَ صَاحِبِهَا وَإِمَاتَةَ الْبِدَعَ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ وَمَحْوَهَا وَكَسْرَ أَهْلِهَا بِاللِّسَانِ أَوْ تَصْنِيفِ الْكُتُبِ وَالتَّدْرِيسِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ وَمَنْ لَا يَكُونُ كَذَلِكَ لَا يَكُونُ مُجَدِّدًا الْبَتَّةَ وَإِنْ كَانَ عَالِمًا بِالْعُلُومِ مَشْهُورًا بَيْنَ النَّاسِ مَرْجِعًا لَهُمْ.

وَلَا يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مُجَدِّدٌ وَاحِدٌ فَقَطْ بَلْ يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ أَكْثَرَ مِنْ وَاحِدٍ.

[انظر: عون المعبود شرح سنن أبي داود، لأبي الطيب محمد آبادي (11/ 259 - 264).

(2) دَرَسَ – دَرْسًا ودُرُوسًا –: عَفَا وذَهَبَ أَثَرُهُ، ودَرَسَ الثَوْبُ: أَخْلَقَ وبَلِيَ. [انظر: المعجم الوسيط، مادة درس)، معجم اللغة العربية المعاصرة، للدكتور أحمد مختار عبد الحميد عمر (1/ 737)].
তার দ্বীনকে» (১) (আবু দাউদ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাকিম, আল-বাইহাকি, ইবনে হাজার আল-আসকালানি, আল-ইরাকি ও আল-আলবানি একে সহিহ বলেছেন।)

আর সংস্কার মূলত বিলুপ্তির (২) পরেই হয়ে থাকে। সুতরাং সংস্কার হলো উম্মাহর এক প্রকার উত্তরণ ও অগ্রগতি, যাতে উম্মাহ যখনই তার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ ও মৌলিক পথ থেকে দূরে সরে যায়, তখন পুনরায় সেই পথে চলতে পারে।

আমরা পাশ্চাত্য অন্ধানুকরণ প্রত্যাখ্যান করি এবং মৌলিকত্বের অনুসন্ধান করি। আর মৌলিকত্ব ব্যক্তিত্বের তালি জোড়া দেওয়ার মাধ্যমে আসে না, বরং সেই আকিদার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে আসে যা এই উম্মাহর অস্তিত্বের ভিত্তিপ্রস্তর ছিল; এবং উচিত হলো

--------------------------------------------

(১) (নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রেরণ করবেন) অর্থাৎ উম্মাতে ইজাবাহ (যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে), তবে উম্মাতে দাওয়াহ (যাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানো হয়) হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। (প্রত্যেক শতাব্দীর শুরুতে) অর্থাৎ তার শেষে অথবা শুরুতে যখন ইলম ও সুন্নাহ কমে যায় এবং মূর্খতা ও বিদআত বৃদ্ধি পায়। শতাব্দীর শুরু বলতে কি নবীজির জন্ম, নবুয়ত প্রাপ্তি, হিজরত নাকি ওফাত থেকে গণ্য হবে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। (যিনি সংস্কার করবেন) এটি ‘প্রেরণ করবেন’ ক্রিয়ার কর্ম। (তার জন্য) অর্থাৎ এই উম্মতের জন্য (তার দ্বীনকে) অর্থাৎ তিনি বিদআত থেকে সুন্নাহকে পৃথক করে ব্যাখ্যা করবেন, ইলম বৃদ্ধি করবেন, ইলমের ধারক-বাহকদের সাহায্য করবেন এবং বিদআতিদের দমন ও লাঞ্ছিত করবেন। আর তিনি অবশ্যই প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দ্বীনি ইলমে পারদর্শী আলেম হবেন।

সংস্কারের অর্থ হলো কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমলের যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনরুজ্জীবিত করা এবং সে অনুযায়ী চলার নির্দেশ দেওয়া।

সেই সংস্কারক বা মুজাদ্দিদ সম্পর্কে সমসাময়িক আলেমগণের প্রবল ধারণার ভিত্তিতেই কেবল জানা যায়, যা তাঁরা তাঁর অবস্থা ও ইলম দ্বারা উপকৃত হওয়ার নিরিখে প্রদান করেন। কারণ দ্বীনের মুজাদ্দিদকে অবশ্যই প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দ্বীনি ইলমে পারদর্শী হতে হবে, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং বিদআতের মূলোৎপাটনকারী হতে হবে এবং তাঁর ইলম যেন তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে ব্যাপকতা লাভ করে। প্রতি শতাব্দীর শুরুতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় কারণ সাধারণত সেই সময়ে আলেমগণ বিদায় নেন, সুন্নাহ বিলুপ্ত হতে থাকে এবং বিদআতের প্রকাশ ঘটে। তখন দ্বীনের সংস্কারের প্রয়োজন হয়, ফলে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সৃষ্টির মধ্য থেকে একজনকে অথবা একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন।

মুজাদ্দিদ কেবল তিনিই হতে পারেন যিনি দ্বীনি ইলমে পারদর্শী এবং এর পাশাপাশি যাঁর সংকল্প ও প্রচেষ্টা দিন-রাত সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করা, তা প্রচার করা, সুন্নাহর অনুসারীদের সাহায্য করা এবং বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ মিটিয়ে দেওয়া, নির্মূল করা এবং বিদআতিদের মুখে বা কিতাব রচনা ও পাঠদানের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো উপায়ে পরাস্ত করার কাজে নিয়োজিত থাকে। যার মধ্যে এই গুণাবলি থাকবে না সে কখনোই মুজাদ্দিদ হতে পারবে না, যদিও সে ইলমে পারদর্শী হোক বা মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ এবং তাদের আশ্রয়স্থল হোক না কেন।

আর প্রতি শতাব্দীর শুরুতে কেবল একজনই মুজাদ্দিদ হওয়া আবশ্যক নয়, বরং একাধিক হওয়াও সম্ভব।

[দেখুন: আউনুল মাবুদ শারহু সুনানি আবি দাউদ, আবু তইয়েব মুহাম্মদ শামসুল হক আজিমাবাদি (১১/ ২৫৯ - ২৬৪)]।

(২) দারাসা – দর্সান ও দুরুসান –: অর্থ হলো মুছে যাওয়া এবং চিহ্ন বিলুপ্ত হওয়া। কাপড় পুরনো ও জীর্ণ হওয়া। [দেখুন: আল-মু’জামুল ওয়াসিত, ‘দ-র-স’ পরিচ্ছেদ; আধুনিক আরবি ভাষার অভিধান, ড. আহমদ মুখতার আব্দুল হামিদ ওমর (১/৭৩৭)]।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
هنا التمييز بين تقليد (مقومات الشخصية والعقائد والتصورات) وبين النتائج العلمية فلا وطن للعلم ولا جنسية للاكتشاف والأبحاث الإنسانية في الميادين المختلفة.

ولكن المشكلة هي اختلافنا الأساسي معهم على قواعد جوهرية تتناول عقيدة التوحيد والإيمان بالله سبحانه وتعالى وإفراده بالألوهية والربوبية وماهية الإنسان والغرض مِن خَلْقه وبيان مآله في اليوم الآخر وما هي وسائله لسلوك أحسن السبل الممكنة في الحياة والارتقاء بها؟

وتأتي آفة التقليد عندما ننسى أصالتنا ولذا ينبغي التنبيه إلى الحكمة النبوية في الحديث الذي رواه البخاري: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَأْخُذَ أُمَّتِي بِأَخْذِ القُرُونِ قَبْلَهَا، شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ»، فَقِيلَ: «يَا رَسُولَ اللهِ، كَفَارِسَ وَالرُّومِ؟»، فَقَالَ: «وَمَنِ النَّاسُ إِلَّا أُولَئِكَ؟».

وعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ، شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ»، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ، آلْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ؟» (رواه البخاري ومسلم).

إذا عرفنا كل هذا أصبح هدف السلفية واضحًا أمامنا كضوء الشمس وهو يتلخص في:

تطهير العقيدة من شوائب البدع، وتربية الشخصية الإسلامية، والدعوة لتطبيق الشريعة الإسلامية في كل مجالات الحياة، وفتح الذهن البشري لقبول كل جديد في ميادين العلوم التجريبية، وإحياء العقيدة من منابعها بعيدًا عن المذهبية الضيقة بصورتها الأخيرة أو تطويع العقيدة والشريعة في الإسلام لدعاوي التطوير الخاطئة.
এখানে অন্ধ অনুকরণ (ব্যক্তিত্বের উপাদানসমূহ, আকিদা ও চিন্তাধারা) এবং বৈজ্ঞানিক ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য নিহিত; কেননা বিজ্ঞানের কোনো স্বদেশ নেই এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানবীয় আবিষ্কার ও গবেষণার কোনো জাতীয়তা নেই।

তবে মূল সমস্যাটি হলো মৌলিক নীতিমালা নিয়ে তাদের সাথে আমাদের মৌলিক মতভেদ; যা তৌহিদের আকিদা, মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি ঈমান এবং তাঁর উলুহিয়্যাত ও রুবুবিয়্যাতের এককত্ব, মানুষের সত্তা ও তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য, পরকালে তার পরিণতির বর্ণনা এবং জীবনে সর্বোত্তম পথ অনুসরণের মাধ্যমে উন্নতি লাভের উপায়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

অন্ধ অনুকরণের ব্যাধি তখনই দেখা দেয় যখন আমরা আমাদের নিজস্বতা ভুলে যাই। তাই বুখারি শরীফে বর্ণিত হাদিসে বিদ্যমান নববী প্রজ্ঞার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না আমার উম্মত পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে—এক বিঘত এক বিঘত করে এবং এক হাত এক হাত করে।" জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! পারস্য ও রোমানদের মতো?" তিনি বললেন: "তারা ছাড়া আর মানুষ কারা?"

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত এবং হাত হাত হিসেবে অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি কোনো গুঁই সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।" আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কথা বুঝাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "তবে আর কারা?" (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)।

আমরা যদি এই সব কিছু অবগত হই, তবে আমাদের সামনে সালাফিয়্যাতের লক্ষ্য সূর্যের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যায়, যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

বিদআতের কলুষতা থেকে আকিদাকে পরিশুদ্ধ করা, ইসলামী ব্যক্তিত্বের লালন ও বিকাশ ঘটানো, জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত বাস্তবায়নের দাওয়াত প্রদান করা, পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের ময়দানে নতুন উদ্ভাবনসমূহ গ্রহণের জন্য মানুষের চিন্তাজগতকে উন্মুক্ত করা এবং সংকীর্ণ মাযহাবী গোঁড়ামির চরম রূপটি বর্জন করে অথবা ইসলামের আকিদা ও শরীয়তকে আধুনিকায়নের ভ্রান্ত দাবির অনুকূলে বিকৃত না করে মূল উৎসসমূহ থেকে আকিদাকে পুনরুজ্জীবিত করা।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌أخطاء

منهجية في كتاب المفتي

أولًا: لم يلتزم الدكتور علي جمعة بآداب الحوار الإسلامي مع السلفيين الذين نظن أنه يعتبرهم من المسلمين قال المفتي (ص24): «مِن مصائب (1) هذا التيار المتشدد أنهم اتهموا الأشاعرة بأنهم فرقة ضالة، وهنا يتجلى فكر الخوارج الذي لا يعبأ بأن يخرج على جماعة المسلمين وينتقصهم ويزعم أنهم على ضلالة ويدعي الحق لنفسه».

وقال (ص69): «مِن طامَّات (2) هذا التيار المتشدد أنه يحرِّم التوسل بالنبي صلى الله عليه وآله وسلم في الدعاء إلى الله».

وقال (ص102): «يخالف المتشددون أغلب المسلمين في فرحهم بذكرى ميلاد النبي صلى الله عليه وآله وسلم ويتهمونهم أنهم على بدعة ضلالة، على الرغم من احتفالهم بذكرى بعض علمائهم وأئمتهم، وهذه مصيبة أخرى من مصائبهم».

ثانيًا: المفتي أشعريٌّ، ويفخر بذلك، والأشاعرة لا يقبلون أحاديث الآحاد في العقائد حتى ولو كانت في صحيحَي البخاري ومسلم، وفي قولهم هذا مخالفة صريحة لمنهج النبي صلى الله عليه وآله وسلم فقد أرسل معاذًا رضي الله عنه وحده إلى اليمن ليُعلّم الناس العقيدة والشريعة.

إن المفتي (ص121 - 122) يرُدّ حديثين في صحيح مسلم بحجة أنهما أحاديث آحاد، ورغم ذلك تجده يستدل (ص120) بإسرائيليات لا زمام لها ولا خطام تروى بدون إسناد أصلًا.

--------------------------------------------

(1) هكذا: مِن مصائب، و (مِن) للتبعيض، أي أن هناك مصائب أخرى!!! حسبنا الله ونعم الوكيل.

(2) هكذا: مِن طامات، و (مِن) للتبعيض، أي أن هناك طامات أخرى!!! حسبنا الله ونعم الوكيل.
মুফতির বইয়ে পদ্ধতিগত ভুলসমূহ

প্রথমত: ডক্টর আলী জুমা সেই সালাফীদের সাথে ইসলামী সংলাপের শিষ্টাচার বজায় রাখেননি যাদেরকে আমরা মনে করি যে তিনি মুসলিম হিসেবেই গণ্য করেন। মুফতি বলেছেন (পৃষ্ঠা ২৪): «এই চরমপন্থী গোষ্ঠীর অন্যতম বিপদ (১) হলো তারা আশআরিদের একটি বিভ্রান্ত দল হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। এখানে সেই খারেজী চিন্তাধারা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যা মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং তাদের অবজ্ঞা করতে দ্বিধাবোধ করে না; তারা দাবি করে যে মুসলিম উম্মাহ পথভ্রষ্ট এবং কেবল নিজেদেরই সত্যের অনুসারী বলে দাবি করে।»

তিনি আরও বলেছেন (পৃষ্ঠা ৬৯): «এই চরমপন্থী ধারার অন্যতম বিপর্যয় (২) হলো তারা আল্লাহর কাছে দুআ করার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর উসিলা গ্রহণ করাকে হারাম সাব্যস্ত করে।»

তিনি আরও বলেছেন (পৃষ্ঠা ১০২): «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মদিনের খুশিতে এই চরমপন্থীরা অধিকাংশ মুসলিমের বিরোধিতা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে পথভ্রষ্ট বিদআতের অভিযোগ আনে, অথচ তারা নিজেরাও তাদের কিছু আলিম ও ইমামদের স্মরণে অনুষ্ঠান পালন করে। এটি তাদের বিপদসমূহের মধ্যে আরও একটি বিপদ।»

দ্বিতীয়ত: মুফতি একজন আশআরি এবং তিনি এতে গর্ববোধ করেন। আর আশআরিরা আকিদাহর ক্ষেত্রে আহাদে হাদিস (একক বর্ণনা) গ্রহণ করে না, এমনকি তা যদি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও থাকে। তাদের এই বক্তব্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতির স্পষ্ট পরিপন্থী; কারণ তিনি মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে একাকী ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন মানুষকে আকিদাহ ও শরীয়ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য।

মুফতি (পৃষ্ঠা ১২১ - ১২২) সহীহ মুসলিমের দুটি হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন এই অজুহাতে যে সেগুলো আহাদে হাদিস, অথচ তা সত্ত্বেও দেখা যায় তিনি (পৃষ্ঠা ১২০) এমন সব অনির্ভরযোগ্য ইসরাঈলী বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করছেন যেগুলোর কোনো লাগাম বা ভিত্তি নেই এবং যা মূলত কোনো সনদ ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এভাবে: অন্যতম বিপদ; এখানে 'মিন' (থেকে/অন্যতম) শব্দটি আংশিকতা প্রকাশের জন্য, অর্থাৎ আরও অন্যান্য বিপদও রয়েছে!!! আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(২) এভাবে: অন্যতম বিপর্যয়; এখানেও 'মিন' (থেকে/অন্যতম) শব্দটি আংশিকতা প্রকাশের জন্য, অর্থাৎ আরও অন্যান্য বিপর্যয়ও রয়েছে!!! আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتجده يستدل على عقيدته الأشعرية في تأويل الصفات بحديث مكذوب على النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وهو: (وَهُوَ الْآنَ عَلَى مَا عَلَيْهِ كَانَ)، ونسبه إلى علي بن أبي طالب رضي الله عنه، ثم قال المفتي في الهامش في تخريج هذا الأثر: «الفَرْق بين الفِرَق للبغدادي 1/ 321».

ونسأل المفتي: هل هذا الأثر حديث مرفوع إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم؟ وهل هو متواتر، أم آحاد؟ هل هو صحيح أم ضعيف؟ لم يبَيّن لنا المفتي؟ وهل الكتاب الذي عزى إليه مصدر معتبر في تخريج الأحاديث؟!! وهل هذا الأثر أصح من أحاديث البخاري ومسلم؟!!

نترك الإجابة لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله حيث قال: «(وَهُوَ الْآنَ عَلَى مَا عَلَيْهِ كَانَ) كَذِبٌ مُفْتَرًى عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم، اتَّفَقَ أَهْلُ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ عَلَى أَنَّهُ مَوْضُوعٌ مُخْتَلَقٌ وَلَيْسَ هُوَ فِي شَيْءٍ مِنْ دَوَاوِينِ الْحَدِيثِ لَا كِبَارِهَا وَلَا صِغَارِهَا وَلَا رَوَاهُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِإِسْنَادِ لَا صَحِيحٍ وَلَا ضَعِيفٍ وَلَا بِإِسْنَادِ مَجْهُولٍ، وَإِنَّمَا تَكَلَّمَ بِهَذِهِ الْكَلِمَةِ: بَعْضُ مُتَأَخِّرِي مُتَكَلِّمَةِ الْجَهْمِيَّة …

وَإِنَّمَا الْحَدِيثُ الْمَأْثُورُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم مَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم أَنَّهُ قَالَ: «كَانَ اللهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ ثُمَّ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ».

وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ الْإِلْحَادِيَّةُ وَهُوَ قَوْلُهُمْ: «وَهُوَ الْآنَ عَلَى مَا عَلَيْهِ كَانَ» قَصَدَ بِهَا الْمُتَكَلِّمَةُ الْمُتَجَهِّمَةُ نَفْيَ الصِّفَاتِ الَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ؛ مِنْ اسْتِوَائِهِ عَلَى الْعَرْشِ وَنُزُولِهِ إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَغَيْرِ ذَلِكَ فَقَالُوا: كَانَ فِي الْأَزَلِ لَيْسَ مُسْتَوِيًا عَلَى الْعَرْشِ وَهُوَ الْآنَ عَلَى مَا عَلَيْهِ كَانَ فَلَا يَكُونُ عَلَى الْعَرْشِ لِمَا يَقْتَضِي ذَلِكَ مِنْ التَّحَوُّلِ وَالتَّغَيُّرِ.

وَيُجِيبُهُمْ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْإِثْبَاتِ بِجَوَابَيْنِ مَعْرُوفَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: أَنَّ الْمُتَجَدِّدَ نِسْبَةٌ وَإِضَافَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْعَرْشِ: بِمَنْزِلَةِ الْمَعِيَّةِ وَيُسَمِّيهَا ابْنُ عَقِيلٍ الْأَحْوَالَ. وَتَجَدُّدُ النِّسَبِ وَالْإِضَافَاتِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ بَيْنَ جَمِيعِ أَهْلِ الْأَرْضِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَغَيْرِهِمْ؛ إذْ لَا يَقْتَضِي ذَلِكَ تَغَيُّرًا وَلَا اسْتِحَالَةً.
আপনি তাকে দেখতে পাবেন যে তিনি সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর আশআরি আকিদাহর স্বপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা আরোপিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করছেন, যা হলো: (তিনি এখন সেভাবেই আছেন যেভাবে তিনি ছিলেন), এবং তিনি এটি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। অতঃপর মুফতি টীকায় এই আছারের উৎস বর্ণনায় বলেছেন: «আল-বাগদাদীর আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ১/৩২১»।

আমরা মুফতির কাছে প্রশ্ন করি: এই আছারটি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে মারফু কোনো হাদিস? এটি কি মুতাওয়াতির নাকি আহাদ? এটি কি সহিহ নাকি জয়িফ? মুফতি কি তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন? আর তিনি যে কিতাবটির উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেটি কি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস?!! আর এই আছারটি কি বুখারি ও মুসলিমের হাদিস থেকেও অধিক বিশুদ্ধ?!!

আমরা এর উত্তর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহর জন্য ছেড়ে দিচ্ছি, যিনি বলেছেন: «(তিনি এখন সেভাবেই আছেন যেভাবে তিনি ছিলেন)—এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একটি বানোয়াট মিথ্যা। হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন যে এটি একটি মাউজু ও উদ্ভাবিত কথা। হাদিসের কোনো সংকলনে এটি পাওয়া যায় না, বড় কিতাব হোক বা ছোট। ইলম অন্বেষী আলেমদের কেউ এটি কোনো সহিহ, জয়িফ কিংবা মাজহুল সনদে বর্ণনা করেননি। বরং এই কথাটি জাহমিয়াহ সম্প্রদায়ের পরবর্তী যুগের কিছু কালামশাস্ত্রবিদ বলেছে ...

পক্ষান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস হলো সেটি, যা বুখারি ইমরান ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর আগে অন্য কিছু ছিল না, তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, তিনি লাওহে মাহফুজে সবকিছু লিপিবদ্ধ করেছেন, এরপর তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।"

আর এই নাস্তিক্যবাদী সংযোজন তথা তাদের বক্তব্য: «তিনি এখন সেভাবেই আছেন যেভাবে তিনি ছিলেন»—এর মাধ্যমে জাহমি মতাদর্শের কালামশাস্ত্রবিদরা সেই সমস্ত গুণাবলীকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্য করেছে যা দ্বারা আল্লাহ নিজেকে গুণান্বিত করেছেন; যেমন আরশের ওপর তাঁর ইসতিওয়া (উঠা), দুনিয়ার আসমানে তাঁর অবতরণ এবং এ জাতীয় অন্যান্য গুণাবলী। তারা বলে: তিনি অনাদিকাল থেকে আরশের ওপর উঠেছেন ছিলেন না এবং তিনি এখন সেভাবেই আছেন যেভাবে তিনি ছিলেন, সুতরাং তিনি আরশের ওপর হতে পারেন না, কারণ এতে স্থানান্তর ও পরিবর্তনের আবশ্যকতা দেখা দেয়।

এর উত্তরে আহলুস সুন্নাহ ও ইসবাত (গুণাবলী সাব্যস্তকারীগণ) দুটি সুপরিচিত জবাব দেন:

প্রথমটি হলো: যা নতুনভাবে উদ্ভূত হয়েছে তা হলো তাঁর ও আরশের মধ্যবর্তী একটি সম্বন্ধ ও সংযুক্তি, যা 'মায়িয়্যাহ' (সাথে থাকা) এর অনুরূপ; ইবনে আকিল একে 'আহওয়াল' (অবস্থা) বলে অভিহিত করেছেন। সম্বন্ধ ও সংযুক্তির এই নতুনত্ব মুসলিম ও অন্যান্য সকল মানুষের নিকট সর্বসম্মত; কারণ এতে কোনো পরিবর্তন বা অসম্ভব কিছু আবশ্যক হয় না।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالثَّانِي: أَنَّ ذَلِكَ وَإِنْ اقْتَضَى تَحَوُّلًا مِنْ حَالٍ إلَى حَالٍ وَمِنْ شَأْنٍ إلَى شَأْنٍ فَهُوَ مِثْلُ مَجِيئِهِ وَإِتْيَانِهِ وَنُزُولِهِ وَتَكْلِيمِهِ لِمُوسَى وَإِتْيَانِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صُورَةٍ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِمَّا دَلَّتْ عَلَيْهِ النُّصُوصُ وَقَالَ بِهِ أَكْثَرُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْحَدِيثِ وَكَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكَلَامِ وَهُوَ لَازِمٌ لِسَائِرِ الْفِرَقِ» (1).

وقد يقول قائل إن هذا كلام ابن تيمية الذي يعتبره المفتي من السلفيين المتشددين، ولهذا القائل ننقل تأييد الحافظ ابن حجر لكلام ابن تيمية المتشدد وثناءَه عليه، حيث قال: «وَقَعَ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: « … وَهُوَ الْآنَ عَلَى مَا عَلَيْهِ كَانَ»، وَهِيَ زِيَادَةٌ لَيْسَتْ فِي شَيْءٍ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ، نَبَّهَ عَلَى ذَلِكَ الْعَلَّامَةُ تَقِيُّ الدِّينِ ابْنُ تَيْمِيَةَ» (2).

ونسأل المفتي: هل الحافظ ابن حجر من المتشددين؟!!!

ثالثًا: يعارض المفتي الأحاديث الصحيحة بروايات ضعيفة، ومن ذلك أنه (ص81 - 82) عارض أحاديث رواها البخاري ومسلم في نهي النبي صلى الله عليه وآله وسلم عن اتخاذ القبور مساجد – بقصة بناء أبي جندل رضي الله عنه مسجدًا على قبر أبي بصير رضي الله عنه في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وهي قصة لا تصح، فليس لها إسناد تقوم به الحجة، وإنما أوردها ابن عبد البر في ترجمة أبي بصير عن الزهري، ورواها موسى بن عقبة بدون إسناد (3).

رابعًا: أحيانًا يحاول المفتي إقناع القارئ بصحة الأحاديث الضعيفة التي يستدل بها بأن يُكثر من المراجع التي يعزو إليها، مع عدم ذِكْر درجة صحة الحديث، ومن الأمثلة على ذلك أن المفتي بعد أن نقل القصة الضعيفة السابقة (ص82) عزاها في

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ابن تيمية (2/ 272 - 275).

(2) فتح الباري لابن حجر (6/ 289).

(3) انظر: الاستيعاب في معرفة الأصحاب (4/ 2123)، تحذير الساجد من اتخاذ القبور مساجد للألباني (ص78 - 82)
দ্বিতীয়ত: এটি যদিও এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় এবং এক বৈশিষ্ট্য থেকে অন্য বৈশিষ্ট্যে রূপান্তরকে আবশ্যক করে, তবুও এটি তাঁর (আল্লাহর) শুভাগমন, আসা, অবতরণ, মূসা (আ.)-এর সাথে কথা বলা এবং কিয়ামতের দিন বিশেষ আকৃতিতে আসার মতোই, যা অকাট্য দলীলসমূহ (নুসুস) দ্বারা প্রমাণিত। অধিকাংশ আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদীস এবং ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের অনেকেই এই মত পোষণ করেছেন এবং এটি অন্যান্য সকল দলের জন্যও অপরিহার্য। (১)।

হয়তো কোনো বক্তা বলতে পারেন যে, এটি ইবনে তাইমিয়্যাহর বক্তব্য, যাকে মুফতী সাহেব কঠোরপন্থী সালাফীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। সেই বক্তার উদ্দেশ্যে আমরা ইবনে তাইমিয়্যাহর এই বক্তব্যের প্রতি হাফেজ ইবনে হাজারের সমর্থন ও প্রশংসা উদ্ধৃত করছি, যেখানে তিনি বলেছেন: «কোনো কোনো কিতাবে এই হাদীসটির ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে যে: « … এবং তিনি এখন ঠিক তেমনই আছেন যেমন তিনি ছিলেন», অথচ এটি এমন এক অতিরিক্ত অংশ যা হাদীসের কোনো কিতাবে নেই; আল্লামা তাকীউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন» (২)।

আমরা মুফতী সাহেবের কাছে প্রশ্ন করি: হাফেজ ইবনে হাজার কি তবে কঠোরপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত?!!!

তৃতীয়ত: মুফতী সাহেব দুর্বল বর্ণনার মাধ্যমে সহীহ হাদীসসমূহের বিরোধিতা করেন। এর একটি উদাহরণ হলো যে, তিনি (পৃ. ৮১-৮২) কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বুখারী ও মুসলিমের হাদীসসমূহের বিরোধিতা করেছেন—আবু জান্দাল (রা.) কর্তৃক নবীজির যুগে আবু বাসীর (রা.)-এর কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণের কাহিনীর মাধ্যমে। অথচ এই কাহিনীটি বিশুদ্ধ নয়, কারণ এর এমন কোনো সনদ নেই যা দ্বারা দলীল পেশ করা যায়। ইবনে আব্দুল বার আবু বাসীর-এর জীবনীতে যুহরী থেকে এটি উল্লেখ করেছেন এবং মূসা ইবনে উকবা এটি কোনো সনদ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন (৩)।

চতুর্থত: কখনো কখনো মুফতী সাহেব যে দুর্বল হাদীসগুলো দ্বারা দলীল পেশ করেন, সেগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে পাঠককে আশ্বস্ত করতে অনেক বেশি সূত্রের উদ্ধৃতি প্রদান করেন, কিন্তু হাদীসের বিশুদ্ধতার মান উল্লেখ করেন না। এর একটি উদাহরণ হলো, মুফতী সাহেব পূর্বোক্ত দুর্বল কাহিনীটি বর্ণনা করার পর (পৃ. ৮২) তার উদ্ধৃতি দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২/ ২৭২ - ২৭৫)।

(২) ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী (৬/ ২৮৯)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-ইস্তিআব ফী মা’রিফাতিল আসহাব (৪/ ২১২৩), আলবানীর তাহযীরুস সাজিদ মিন ইত্তিখাযিল কুবুরি মাসাজিদ (পৃ. ৭৮ - ৮২)
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الهامش لبعض كتب السيرة التي يعلم الجميع أن بها الصحيح والضعيف، بل وما لا أصل له.

ورغم أن موسى بن عقبة روى القصة السابقة بلا إسناد فقد قال المفتي في الهامش: «ورواها أيضًا موسى بن عقبة في (المغازي) وابن إسحق في (السيرة)، ومغازي موسى بن عقبة من أصح كتب السيرة، فكان يقول الإمام مالك عنها: «عليكم بمغازي الرجل الصالح موسى بن عقبة فإنها أصح المغازي»، وكان يحيى بن معين يقول: «كتاب موسى بن عقبة عن الزهري من أصح هذه الكتب».

وهذا الكلام فيه من التدليس ما فيه، فإن كلام الإمام مالك والإمام يحيى بن معين - إن صح عنهما - فلا يعني أن كل ما في كتاب موسى بن عقبة صحيح؛ بل غاية ما فيه أنه أصح من كتب السّيَر الأخرى، أي أن ما لا يصح فيه أقل مما فيها.

خامسًا: بل إنه استدل (ص71) برؤيا، مع أن الرؤى والأحلام ليست من مصادر التشريع.

سادسًا: أحيانًا يعارض المفتي الأحاديث الصحيحة بأقوال العلماء، مع أن الحق في مسألة ما لا يُعرف بكثرة القائلين به، بل يعرف بمدى موافقته للدليل من الكتاب والسنة.

سابعًا: أحيانًا يعارض الأحاديث الصحيحة برأيه، قال المفتي (ص120): «لا يجوز زيارة قبور المشركين». رغم ورود الحديث الصحيح في صحيح مسلم أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم زار قبر أمه، وقد اتفق جمهور الفقهاء على أنه يجوز للمسلم أن يزور قبور الكافرين والمشركين، وذلك لأنه يتحصل له من هذه الزيارة تذكر الموت والدار الآخرة والتي
সেইসব সিরাত গ্রন্থের টীকা যেখানে বিশুদ্ধ, দুর্বল এমনকি ভিত্তিহীন বর্ণনাও রয়েছে বলে সকলে অবগত।

যদিও মুসা বিন উকবা পূর্ববর্তী ঘটনাটি কোনো সনদ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন, তথাপি মুফতি টীকায় বলেছেন: "এটি মুসা বিন উকবা (আল-মাগাযি)-তে এবং ইবনে ইসহাক (আস-সিরাহ)-তে বর্ণনা করেছেন। আর মুসা বিন উকবার মাগাযি গ্রন্থটি সিরাত শাস্ত্রের অন্যতম বিশুদ্ধ কিতাব। ইমাম মালিক এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলতেন: 'তোমরা নেককার ব্যক্তি মুসা বিন উকবার মাগাযি আঁকড়ে ধরো, কারণ তা সর্বাধিক বিশুদ্ধ মাগাযি।' ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলতেন: 'জুহরি থেকে বর্ণিত মুসা বিন উকবার কিতাবটি এই ধারার গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ'।"

এই বক্তব্যের মধ্যে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে। কেননা ইমাম মালিক এবং ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈনের উক্তিগুলো—যদি তা তাঁদের থেকে প্রমাণিত হয়ও—এর অর্থ এই নয় যে, মুসা বিন উকবার কিতাবের সবকিছুই বিশুদ্ধ; বরং এর চূড়ান্ত অর্থ হলো এটি অন্যান্য সিরাত গ্রন্থের তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ। অর্থাৎ এতে অশুদ্ধ বর্ণনার পরিমাণ অন্যান্য কিতাবের তুলনায় কম।

পঞ্চমতঃ তিনি (৭১ নং পৃষ্ঠায়) স্বপ্নকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, অথচ স্বপ্ন বা স্বপ্নলব্ধ কোনো বিষয় শরঈ বিধানের উৎস নয়।

ষষ্ঠতঃ কখনো কখনো মুফতি আলিমগণের উক্তির মাধ্যমে বিশুদ্ধ হাদিসের বিরোধিতা করেন। অথচ কোনো বিষয়ে সত্যের মানদণ্ড প্রবক্তাদের সংখ্যাধিক্য দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের সাথে সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে তা নিরূপিত হয়।

সপ্তমতঃ তিনি কখনো কখনো স্বীয় মতের মাধ্যমে বিশুদ্ধ হাদিসের বিরোধিতা করেন। মুফতি (১২০ নং পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "মুশরিকদের কবর যিয়ারত করা জায়েজ নয়।" অথচ সহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করেছিলেন। জমহুর ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, একজন মুসলিমের জন্য কাফির ও মুশরিকদের কবর যিয়ারত করা জায়েজ; কারণ এই যিয়ারতের মাধ্যমে মৃত্যু এবং পরকাল স্মরণ হয় যা...
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
علل بها النبي صلى الله عليه وآله وسلم الإذن العام بزيارة القبور، دون تفريق بين قبور المسلمين وقبور الكافرين (1).

ثامنًا: في كتاب المفتي عبارات تحتاج إلى مراجعة ومن ذلك:

أ - في (ص16) قال المفتي إن الأشعرية «هي عقيدة أغلب المسلمين في مجال الاعتقاد» (2). وللقارئ أن يسأل المفتي: ما معنى عقيدة في مجال الاعتقاد؟!!!

ب - في (ص21) قال المفتي: «من الأشياء التي يصر عليها من يُسمّون أنفسهم بالمتشددين … » رغم أنه لا يوجد مَن يسمون أنفسهم بالمتشددين، وأغلب الظن أن السبب في ذلك أن كلمة (المتشددين) في الكتاب كله كانت في الأصل كلمة (السلفيين) ثم استبدلت على الحاسب الآلي بكلمة (المتشددين)، فكانت هذه العبارة في الأصل: «من الأشياء التي يصر عليها من يُسمّون أنفسهم بالسلفيين … »، فاستُبدِلَت مع أخواتها.

ولعل مما يؤكد أن هذا الأمر تم على الحاسب الآلي أنه قد لفت انتباهي أن المفتي نقل كلامًا لابن القيم (ص126) وذكر فيه: «والمتشددون مجمعون على هذا».

وتعجبُ إذا وجدت المفتي ينقل عن ابن القيم إجماع المتشددين، وبالرجوع إلى كتاب (الروح) الذي نقل منه المفتي تجد العبارة هكذا: «والسلف مجمعون على هذا».

فتم استبدال كلمة (السلف) بكلمة (المتشددين)!!!

جـ - في (ص82 - 83) تكرار لفقرة تبلغ تسعة أسطر، مع اختلاف في أسلوب أول سطرين في الفقرة الثانية عن الأولى، والسبعة أسطر الباقية مكررة بالنص.

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم (7/ 45)، فتح الباري لابن حجر (3/ 179)، الإنصاف 2/ 562 للمرداوي الحنبلي، مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية (24/ 344، 27/ 377)، عون المعبود شرح سنن أبي داود، لأبي الطيب محمد آبادي (9/ 41).

(2) انظر الرد على ذلك (ص 74 - 78) من هذا الكتاب.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম ও কাফিরদের কবরের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করেই কবর যিয়ারতের সাধারণ অনুমতির সপক্ষে এর মাধ্যমে কারণ দর্শিয়েছেন (১)।

অষ্টম: মুফতির কিতাবে এমন কিছু পরিভাষা রয়েছে যা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে:

ক - (পৃ. ১৬)-এ মুফতি বলেছেন যে, আশআরী মতবাদ হলো «আকিদাহর ক্ষেত্রে অধিকাংশ মুসলমানের আকিদাহ» (২)। পাঠকের অধিকার রয়েছে মুফতিকে জিজ্ঞাসা করার: আকিদাহর ক্ষেত্রে আকিদাহ—এই কথার অর্থ কী?!!!

খ - (পৃ. ২১)-এ মুফতি বলেছেন: «সেইসব বিষয়সমূহের মধ্যে যা নিয়ে তারা জেদ ধরে যারা নিজেদেরকে কঠোরপন্থী বলে অভিহিত করে … » অথচ বাস্তবে এমন কেউ নেই যারা নিজেদেরকে কঠোরপন্থী বলে পরিচয় দেয়। প্রবল ধারণা এই যে, এর কারণ হলো পুরো কিতাবজুড়ে 'কঠোরপন্থী' শব্দটি মূলত ছিল 'সালাফি' শব্দ, যা পরবর্তীতে কম্পিউটারে 'কঠোরপন্থী' শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাই এই বাক্যটি মূলত ছিল: «সেইসব বিষয়সমূহের মধ্যে যা নিয়ে তারা জেদ ধরে যারা নিজেদেরকে সালাফি বলে অভিহিত করে … », অতঃপর এটি অন্যান্য সমজাতীয় শব্দের সাথে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

সম্ভবত এটি যে কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে তার একটি বড় প্রমাণ হলো, আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে মুফতি ইবনুল কাইয়্যিমের একটি উক্তি (পৃ. ১২৬) উদ্ধৃত করেছেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: «এবং কঠোরপন্থীরা এ ব্যাপারে একমত (ইজমা পোষণকারী)»।

আপনি বিস্মিত হবেন যখন দেখবেন যে মুফতি ইবনুল কাইয়্যিম থেকে কঠোরপন্থীদের ঐকমত্য উদ্ধৃত করছেন; অথচ যে (কিতাবুর রূহ) থেকে মুফতি এটি গ্রহণ করেছেন, সেখানে মূল ইবারতটি নিম্নরূপ: «এবং সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) এ বিষয়ে একমত»।

অর্থাৎ (সালাফ) শব্দটিকে (কঠোরপন্থী) শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে!!!

গ - (পৃ. ৮২ - ৮৩)-এ নয় লাইনের একটি অনুচ্ছেদের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যেখানে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রথম দুই লাইনের বর্ণনাভঙ্গি প্রথমটি থেকে কিছুটা ভিন্ন হলেও অবশিষ্ট সাতটি লাইন হুবহু একই রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শরহ (৭/ ৪৫), ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী (৩/ ১৭৯), মারদাবী হাম্বলীর আল-ইনসাফ ২/ ৫৬২, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমু'উল ফাতাওয়া (২৪/ ৩৪৪, ২৭/ ৩৭৭), আবু দাউদের শরহ 'আওনুল মাবুদ', লেখক আবু তায়্যিব মুহাম্মদ আবাদি (৯/ ৪১)।

(২) এর প্রত্যুত্তর দেখতে এই কিতাবের (পৃ. ৭৪ - ৭৮) লক্ষ্য করুন।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া হিওয়ারুন হাদিউন মাআদ দুকতুর আলি জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهذا ما يمنع من القول بأن ذلك خطأٌ طباعي.

د - في (ص 115) تجد عبارة «كما جاء بالسؤال»، وعند البحث لا تجد أية إشارةٍ إلى أسئلة لا قبل العبارة ولا بعدها، بل ولا في الكتاب كله.

تاسعًا: الكتاب في مواطن كثيرة يفتقد الموضوعية ويغلب عليه التعميم، فالمفتي يكيل الاتهامات جزافًا، ولم يدعم اتهاماته بدليل واحد، ومن الأمثلة على ذلك:

أ- في أول سطرين من كتابه (ص7) تجد هذه العبارة: «سمات منهج المتشددين الذين تسموا بالسلفيين».

فهو قد حكم على ملايين السلفيين في العالم الإسلامي بأنهم متشددون، وكأن هذا أمرٌ قد فُرِغَ منه، وبقى عنده أن يشرح سمات هؤلاء المتشددين.

وإن سألتَ المفتي بصفته حاصلًا على درجة الدكتوراه: «لو أن كتابه هذا نوقش كرسالة جامعية في جامعة الأزهر مثلًا وسأل المناقشون المفتي عن مصدر تلك المعلومات، فماذا ستكون إجابته؟!!.

بالطبع لم يذكر المفتي أي مصدر لتلك المعلومات.

ب- قال (ص12): «نرى آراء أغلب من تسموا بالسلفيين واتجاهاتهم وسلوكهم ومواقفهم وأحكامهم على الأشياء باطلة».

ونسأل المفتي: ما هي المراكز البحثية العالمية التي قامت بتلك الإحصائيات التي أوصَلَتْك إلى هذا الحكم الجائر على ملايين المسلمين؟ قال تعالى: {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (النمل: 64).

جـ- يتهم السلفيين (ص 116) بأن مكانة النبي صلى الله عليه وآله وسلم في قلوبهم ليست على القدر المطلوب، وأن حبهم للنبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يصدق.

ونسأل المفتي: هل شققت عن صدور هؤلاء الملايين حتى تدعي هذا الادعاء؟!!
এটিই এই কথা বলতে বাধা দেয় যে, এটি কোনো মুদ্রণজনিত ত্রুটি।

ঘ - (পৃষ্ঠা ১১৫)-তে আপনি «যেমনটি প্রশ্নে এসেছে» এই বাক্যটি পাবেন, অথচ অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, এই বাক্যের আগে বা পরে, এমনকি পুরো বইয়ের কোথাও কোনো প্রশ্নের উল্লেখ নেই।

নবমতঃ বইটি অনেক ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতার অভাব প্রকাশ করে এবং এতে সাধারণীকরণের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। মুফতি সাহেব নির্বিচারে অভিযোগ ছুড়ে দিয়েছেন এবং তাঁর একটি অভিযোগের সপক্ষেই কোনো দলিল পেশ করেননি। এর কিছু উদাহরণ হলো:

ক- তাঁর বইয়ের প্রথম দুই লাইনেই (পৃষ্ঠা ৭) এই বাক্যটি পাওয়া যায়: «কট্টরপন্থীদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির বৈশিষ্ট্য, যারা নিজেদের সালাফি হিসেবে পরিচয় দেয়»।

তিনি মুসলিম বিশ্বের লক্ষ লক্ষ সালাফিকে কট্টরপন্থী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যেন এটি একটি মীমাংসিত বিষয় এবং তাঁর কাছে কেবল সেই কট্টরপন্থীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করাই বাকি ছিল।

যদি মুফতি সাহেবকে একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী হিসেবে জিজ্ঞাসা করা হয়: «যদি তাঁর এই বইটি উদাহরণস্বরূপ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণাপত্র হিসেবে পর্যালোচিত হতো এবং পর্যালোচকগণ যদি মুফতি সাহেবকে এই তথ্যাদির উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন, তবে তাঁর উত্তর কী হতো?!!»

স্বভাবতই মুফতি সাহেব এসব তথ্যের কোনো উৎস উল্লেখ করেননি।

খ- তিনি বলেছেন (পৃষ্ঠা ১২): «আমরা দেখি যে অধিকাংশ সালাফি নামধারীদের মতামত, ঝোঁক, আচরণ, অবস্থান এবং বিষয়াদির ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তসমূহ বাতিল»।

আমরা মুফতি সাহেবের কাছে জানতে চাই: কোন আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো এই পরিসংখ্যান চালিয়েছে যা আপনাকে লক্ষ লক্ষ মুসলিমের ওপর এই অন্যায্য ফয়সালা দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছালো? মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো} (সূরা আন-নামল: ৬৪)।

গ- তিনি সালাফিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন (পৃষ্ঠা ১১৬) যে, তাদের হৃদয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের নয় এবং নবীর প্রতি তাদের ভালোবাসা সত্য নয়।

মুফতি সাহেবের কাছে আমাদের প্রশ্ন: আপনি কি এই লক্ষ লক্ষ মানুষের বক্ষ বিদীর্ণ করে দেখেছিলেন যে আপনি এই দাবি করছেন?!!