(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: -)
رحمة للعالمين - سعيد بن وهف   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: رَحمةٌ للعَالَمِين

مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ سَيِّدُ النَّاسِ أَجمَعِين نَبيُّ الرَّحمةِ، الرَّحمَةُ المُهدَاةُ خَاتم المرسَلين صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - نَشأتهُ، وَأخلاقه، وَمُعجزاته، وَعُمُوم رِسَالَتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ في ضوء الكتاب والسُّنَّة

المؤلف: د. سعيد بن على بن وهف القحطاني

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م

عدد الصفحات: 454

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ذو الحجة 1433

রাহমাতুল্লিল আলামিন - সাঈদ বিন ওয়াহাফ   (সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: রাহমাতুল্লিল আলামিন

মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সমগ্র মানবজাতির সরদার, রহমতের নবী, উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত, সর্বশেষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তাঁর বেড়ে ওঠা, তাঁর চরিত্র, তাঁর মুজিজা এবং কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে তাঁর রিসালাতের ব্যাপকতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ যুল হিজ্জাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[المقدمة]

المقدمة إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومَنْ يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله؛ صلى الله عليه وعلى آله، وأصحابه، وسَلَّم تسليمًا كثيرًا، أَمَّا بعد:

فلقد أرسل الله عز وجل مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رحمةً للعالمين، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107]، فهو رحمة للإنس، والجن، مؤمنهم وكافرهم؛ يدعوهم إلى الله؛ ليخرجهم من الظلمات إلى النور، قال الله تعالى له: {قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا
[ভূমিকা]

ভূমিকা: নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]। সুতরাং তিনি মানুষ ও জিন, তাদের মুমিন ও কাফির সকলের জন্যই রহমত। তিনি তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন; যাতে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন: {বলুন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর জন্য আসমান ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো...}
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৪)
بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158]، وقال تعالى للنبي صلى الله عليه وسلم: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ} [الأحقاف: 29]، فهو صلى الله عليه وسلم رحمة للعالمين وحجة على خلقه أجمعين، وهو مِنَّةٌ من الله تعالى على المؤمنين، كما قال تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [آل عمران: 164]، وعن أبي نضرة قال: «حدثني من سمع خطبة النبي صلى الله عليه وسلم وسط أيام التشريق فقال: يا أيها الناس إنَّ ربَّكُم واحد، وإنَّ أباكم واحد، ألا لا فضل لعربي على أعجمي ولا لعجمي على عربي، ولا لأحمر على أسود،
...আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল, সেই উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান আনেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা হেদায়াতপ্রাপ্ত হও।" [আল-আরাফ: ১৫৮]। এবং আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "আর যখন আমি তোমার দিকে একদল জিনকে ফিরিয়ে দিলাম যারা কুরআন মনোযোগ দিয়ে শুনছিল; অতঃপর যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হলো, তারা বলল, ‘চুপ থাকো’। এরপর যখন পাঠ শেষ হলো, তারা তাদের কওমের নিকট সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।" [আল-আহকাফ: ২৯]। সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জগতসমূহের জন্য রহমত এবং তাঁর সমগ্র সৃষ্টির ওপর এক অকাট্য প্রমাণ। তিনি মুমিনদের ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।" [আলে ইমরান: ১৬৪]। আবু নাদরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার নিকট এমন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি তাশরীকের দিনগুলোর মাঝামাঝি সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা শুনেছেন। তিনি বলেছিলেন: ‘হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের রব একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। জেনে রেখো, কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আর কোনো কালোর ওপর কোনো লালের শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং কোনো লালের ওপর কোনো কালোর..."
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৫)
ولا لأسود على أحمر إلا بالتَّقوى» (1). وهذا فيه الدلالة الواضحة على أنه لا فرق بين الناس إلا بالتقوى، فكلما كان الإنسان لله أتقى فهو أفضل، من أي الأجناس أو الألوان كان.

وقد مَنَّ الله تعالى على هذا النبي الكريم بمكارم الأخلاق كلِّها؛ فإنه لا يُحصى من دخل في الإسلام بسبب خُلُقه الكريم صلى الله عليه وسلم سواء كان ذلك الخُلُق الحسن الكريم: من جوده، أو كرمِهِ، أو عفوهِ، أو صفحِهِ، أو حلمِهِ، أو أناتِهِ، أو رفقِهِ، أو صبرِهِ، أو تواضُعِهِ، أو عدلِهِ، أو رحمتِهِ، أو منِّهِ، أو شجاعته وقوَّتِهِ، أو غير ذلك من مكارم الأخلاق. ومن تتبَّع سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وجد أنه كان يلازم الخُلُق الحسن في سائر أحواله، فأقبل الناس ودخلوا في دين الله أفواجًا، بفضل الله ثم بفضل حُسْنِ خُلُقِهِ صلى الله عليه وسلم، فكم دخل في الإسلام بسبب حُسْنِ خُلُقِهِ صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) مسند أحمد بترتيب البناء، 12/ 226، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد، 3/ 266: ((رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح)).
এবং কৃষ্ণাঙ্গের ওপর রক্তবর্ণের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই তাকওয়া ব্যতীত (১)। আর এর মধ্যে এই স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, মানুষের মধ্যে তাকওয়া ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই; সুতরাং মানুষ যে কোনো বংশ বা বর্ণের হোক না কেন, সে আল্লাহর প্রতি যত বেশি তাকওয়া অবলম্বন করবে, সে তত বেশি শ্রেষ্ঠ হবে।

আর আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিত নবীকে সমস্ত মহান চরিত্রে বিভূষিত করেছেন; কেননা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান চরিত্রের কারণে কত অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন তা গণনা করা সম্ভব নয়। সেই সুন্দর ও মহান চরিত্র চাই তাঁর বদান্যতা, উদারতা, ক্ষমা, মার্জনা, সহনশীলতা, ধীরস্থিরতা, কোমলতা, ধৈর্য, বিনয়, ন্যায়বিচার, দয়া, অনুগ্রহ, সাহসিকতা ও শক্তি অথবা অন্য যে কোনো মহান চরিত্রের মাধ্যমেই হোক না কেন। আর যে ব্যক্তিই নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত বা জীবনী অনুসন্ধান করবে, সে দেখতে পাবে যে তিনি তাঁর সকল অবস্থায় উত্তম চরিত্রের ওপর অবিচল ছিলেন। ফলে মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহে এবং অতঃপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তম চরিত্রের বরকতে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে ধাবিত হয়েছে ও প্রবেশ করেছে। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তম চরিত্রের কারণে কত মানুষ যে ইসলামে প্রবেশ করেছে!

--------------------------------------------

(১) মুসনাদে আহমাদ, আল-বান্নার বিন্যাস অনুযায়ী, ১২/২২৬; এবং আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ-এ (৩/২৬৬) বলেছেন: "এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী"।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৬)
فهذا ثُمامةُ بن أُثال يُسلِمُ بسبب عفو النبي صلى الله عليه وسلم، ويقول: (والله ما كان على وجه الأرض وجه أبغض إليَّ من وجهِكَ، فقد أصبح وجهُك أحب الوجوه كلها إليَّ، والله ما كان على وجه الأرض دين أبغض إليَّ من دينك، وقد أصبحَ دينُك أحبَّ الأديانِ كلِّها إليَّ، والله ما كان على وجه الأرض بلادٌ أبغض إليَّ من بلادك، فأصبح بلدك أحبَّ البلاد كلِّها إليَّ) (1). وهذا أعرابي يقول: اللهم ارحمني ومحمدًا ولا ترحم معنا أحدًا؛ لأنه تأثر بعفو النبي صلى الله عليه وسلم عندما بال هذا الأعرابي في المسجد، ولم يتركه على تحجيرهِ رحمة الله التي وسعت كل شيء؛ بل قال له ناصحًا ومُعلِّمًا صلى الله عليه وسلم: «لقد حجَّرتَ واسعًا» (2). وذاك معاوية بن الحكم يرفق به النبي صلى الله عليه وسلم في تعليمه، فيقول: (فبأبي هو وأمي ما رأيتُ مُعلِّمًا قبله ولا بعده أحسن

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 4372، ومسلم 1764.

(2) البخاري، برقم 6010.
এই হলেন সুমামা ইবন উসাল, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমার কারণে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বলেন: (আল্লাহর কসম, পৃথিবীর বুকে আপনার চেহারা অপেক্ষা অধিক অপ্রিয় কোনো চেহারা আমার কাছে ছিল না, কিন্তু এখন আপনার চেহারা আমার কাছে সমস্ত চেহারার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, পৃথিবীর বুকে আপনার দ্বীন অপেক্ষা অধিক অপ্রিয় কোনো দ্বীন আমার কাছে ছিল না, কিন্তু এখন আপনার দ্বীন আমার কাছে সমস্ত দ্বীনের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, পৃথিবীর বুকে আপনার ভূখণ্ড অপেক্ষা অধিক অপ্রিয় কোনো ভূখণ্ড আমার কাছে ছিল না, কিন্তু এখন আপনার ভূখণ্ড আমার কাছে সমস্ত ভূখণ্ডের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়ে গেছে) (১)। আর এই হলেন সেই মরুবাসী আরব, যিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতি এবং মুহাম্মাদের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের সাথে অন্য কাউকে রহম করবেন না; কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন যখন সেই মরুবাসী মসজিদে প্রস্রাব করেছিলেন। তিনি তাকে আল্লাহর সেই রহমতকে সংকীর্ণ করার ওপর ছেড়ে দেননি যা সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে; বরং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে উপদেশদাতা ও শিক্ষক হিসেবে বলেছিলেন: «তুমি একটি প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করে ফেলেছ» (২)। আর তিনি হলেন মুআবিয়া ইবনুল হাকাম, যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোমলতা প্রদর্শন করেছিলেন, তাই তিনি বলেছিলেন: (আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক, আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো শিক্ষক দেখিনি

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ৪৩৭২, এবং মুসলিম ১৭৬৪।

(২) বুখারী, হাদিস নং ৬০১০।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৭)
تعليمًا منه، والله ما كهرني، ولا ضربني ولا شتمني) (1) «وأعطى صلى الله عليه وسلم رجلًا غنمًا بين جبلين فرجع إلى قومه فقال: يا قومي أسلموا؛ فإن محمدًا يُعطي عطاءً لا يخشى الفاقة» (2).

«وهذا صفوان ابن أمية من صناديد قريش الكفرة يعطيه النبي صلى الله عليه وسلم مائة من الغنم ثم مائة، ثم مائة، فيقول صفوان: والله لقد أعطاني رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أعطاني، وإنه لأبغض الناس إليَّ، فما بَرِحَ يُعطيني حتى إنه لأحبُّ الناس إليَّ». وهذا سبب إسلام صفوان (3). ومُشركٌ كافرٌ آخرُ يُريدُ قتل النبي صلى الله عليه وسلم بالسيف فيعصم الله رسوله صلى الله عليه وسلم منه ويعفو عنه النبي صلى الله عليه وسلم (4) فيرجع إلى قومه ويُسلم، ويدعوهم إلى الإسلام فأسلم

--------------------------------------------

(1) مسلم، برقم 537.

(2) مسلم، برقم 2312.

(3) مسلم، برقم 2313.

(4) البخاري مع الفتح، 6/ 96، 97، برقم 2910، ومسلم، 4/ 1786، برقم 843.
(এটি ছিল) তাঁর পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রদান; আল্লাহর শপথ, তিনি আমাকে ধমক দেননি, প্রহার করেননি এবং গালিও দেননি) (১) «এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ ছাগল দান করেছিলেন। অতঃপর সে তার গোত্রের নিকট ফিরে গিয়ে বলল: হে আমার কওম! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো; কেননা মুহাম্মদ এমনভাবে দান করেন যে তিনি দারিদ্র্যের ভয় করেন না» (২)।

«আর এই যে সাফওয়ান ইবনে উমাইয়াহ, যিনি কুরাইশ কাফিরদের অন্যতম নেতা ছিলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে একশত ছাগল দান করেন, অতঃপর আরও একশত, অতঃপর আরও একশত। তখন সাফওয়ান বলেন: আল্লাহর শপথ, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে যা দান করার তা দান করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন আমার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি। অতঃপর তিনি আমাকে দান করতেই থাকলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি আমার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে গেলেন»। আর এটিই ছিল সাফওয়ানের ইসলাম গ্রহণের কারণ (৩)। আর অন্য একজন মুশরিক কাফির তলোয়ার দিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তার থেকে রক্ষা করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ক্ষমা করে দেন (৪)। ফলে সে তার গোত্রের নিকট ফিরে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়, ফলে তারা ইসলাম গ্রহণ করে।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, নম্বর ৫৩৭।

(২) মুসলিম, নম্বর ২৩১২।

(৩) মুসলিম, নম্বর ২৩১৩।

(৪) বুখারি আল-ফাতহ সহ, ৬/৯৬, ৯৭, নম্বর ২৯১০, এবং মুসলিম, ৪/১৭৮৬, নম্বর ৮৪৩।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৮)
من قومه على يديه خَلْقٌ كثير (1). «وهذا عبد الله بن سلام اليهودي الحبر العالم من علماء اليهود يأتي إلى النبي صلى الله عليه وسلم عند قدومه إلى المدينة يقول عبد الله رضي الله عنه: فجئتُ في الناس لأنظر، فلما تبيَّنْتُ وجهَهُ عَرفْتُ أن وجهه ليس بوجه كذَّاب، فكان أوَّل شيء سمعته يقول: يا أيها الناس! أفشوا السلام، وأطعِمُوا الطعام، وصِلُوا الأرحام، وصَلُّوا بالليل والناس نيام؛ تدخلوا الجنة بسلام» (2). وهذا زيد بن سعية اليهودي يختبر النبي صلى الله عليه وسلم فيعفو عنه النبي صلى الله عليه وسلم ويأمر عمر أن يعطيه عطاءً، فيقول زيد اليهودي الحبر: " ما من علامات النبوة شيءٌ إلا وقد عرفتها في وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حين نظرتُ إليه إلا اثنتين لم أخبرهما منه: يسبق حلمُهُ جهله، ولا تزيده شدَّةُ الجهل إلا حلمًا، وقد اختبرتهما فأشهدك يا عمر أني قد رضيت بالله ربًّا وبالإسلام دينًا

--------------------------------------------

(1) فتح الباري لابن حجر، 7/ 428، وشرح النووي، 15/ 44.

(2) الترمذي، برقم 2485، وابن ماجه، برقم 3251، وانظر: صحيح الترمذي 2/ 303.
তাঁর সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ তাঁর হাতে ধন্য হয়েছে (১)। «এবং এই যে ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্য থেকে প্রাজ্ঞ আলেম আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় আগমনের সময় তাঁর নিকট আসলেন। আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি লোকজনের মাঝে আসলাম যেন তাঁকে দেখতে পাই। যখন আমি তাঁর চেহারার প্রতি গভীরভাবে তাকালাম, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। আমি তাঁকে প্রথম যে কথাটি বলতে শুনেছিলাম তা হলো: হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রচার করো, অন্ন দান করো, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা সালাত আদায় করো; তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে» (২)। এবং এই যে ইহুদি পণ্ডিত যায়েদ ইবনে সায়্যাহ, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পরীক্ষা করেছিলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং উমরকে নির্দেশ দেন যেন তাঁকে কিছু প্রদান করা হয়। তখন ইহুদি পণ্ডিত যায়েদ বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকানোর পর নবুওয়াতের সবকয়টি নিদর্শনই আমি তাঁর মাঝে চিনতে পেরেছি, কেবল দুটি বিষয় ছাড়া যা আমি তাঁর থেকে তখনো পরীক্ষা করিনি: তাঁর সহনশীলতা তাঁর রাগের ওপর প্রাধান্য পাবে এবং তাঁর প্রতি মূর্খতাসুলভ আচরণের কঠোরতা বৃদ্ধি পেলে তা কেবল তাঁর সহনশীলতাই বৃদ্ধি করবে। আর আমি এই দুটি বিষয়ও পরীক্ষা করে নিয়েছি। অতএব হে উমর, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার কৃত ফাতহুল বারী, ৭/ ৪২৮; এবং শরহুন নববী, ১৫/ ৪৪।

(২) তিরমিযী, হাদিস নং ২৪৮৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২৫১; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযী ২/ ৩০৩।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৯)
وبمحمد نبيًّا، وأشهدك أنَّ شطر مالي صدقة على أمة محمدٍ صلى الله عليه وسلم " (1). وهذا يهودي آخر يقول عند الموت: والذي أنزل التوراة إنَّا لنجد في كتابنا صفتك ومخرجك، وأشهد أن لا إله إلا الله وأنَّك رسول الله (2).

وهذا ملك النصارى النجاشي في الحبشة عندما سمع دعوة النبي صلى الله عليه وسلم وقوله: إن عيسى عبد الله ورسوله فقال لوفد النبي صلى الله عليه وسلم: مرحبًا بكم، وبمن جئتم من عنده، فأنا أشهد أنه رسول الله، وأنه الذي بَشَّرَ به عيسى، ولولا ما أنا فيه من الملك لأتيته حتى أُقَبِّلَ نعله (3). وهذا هرقل عظيم الروم النصراني، يقول لأبي سفيان حينما قال له: «إن النبي صلى الله عليه وسلم لا يغدر، وأنه يأمر بعبادة الله وحده، وعدم الشرك به، وينهى عن عبادة الأوثان، ويأمر بالصلاة، والصدق، والعفاف، قال هرقل لأبي سفيان: فإن

--------------------------------------------

(1) الإصابة في تمييز الصحابة لابن حجر، 1/ 566.

(2) أحمد، 5/ 411، وقوَّاه ابن كثير في تفسيره، 2/ 252.

(3) سير أعلام النبلاء، للذهبي، 1/ 438.
এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে (মেনে নিলাম)। আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমার সম্পদের অর্ধেক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য সদকা" (১)। এবং এটি অন্য এক ইহুদির ঘটনা, যে মৃত্যুর সময় বলছিল: সেই সত্তার কসম যিনি তাওরাত নাজিল করেছেন! আমরা আমাদের কিতাবে আপনার গুণাবলি ও আবির্ভাবের সংবাদ পাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল (২)।

আর এই হলেন আবিসিনিয়ার খ্রিষ্টানদের রাজা নাজাশী; যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত এবং তাঁর এই বক্তব্য শুনলেন যে: নিশ্চয়ই ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তখন তিনি নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিনিধিদলকে বললেন: আপনাদের স্বাগতম এবং যাঁর পক্ষ থেকে আপনারা এসেছেন তাঁকেও স্বাগতম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সুসংবাদ ঈসা দিয়েছিলেন। আমি যদি রাজত্বের এই দায়িত্ব ও ব্যস্ততায় না থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর কাছে যেতাম এবং তাঁর জুতো মোবারক চুম্বন করতাম (৩)। আর এই হলেন রোমের খ্রিষ্টান সম্রাট হিরাক্লিয়াস; তিনি আবু সুফিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যখন আবু সুফিয়ান তাকে বলেছিল: «নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বাসঘাতকতা করেন না এবং তিনি এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করার আদেশ দেন, তিনি মূর্তি পূজা করতে নিষেধ করেন এবং সালাত, সততা ও পবিত্রতার (চারিত্রিক শুদ্ধতা) আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে বললেন: যদি...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আসকালানি রচিত আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ, ১/ ৫৬৬।

(২) আহমাদ, ৫/ ৪১১; ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে একে শক্তিশালী (হাসান) বলেছেন, ২/ ২৫২।

(৩) যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১/ ৪৩৮।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১০)
كان ما تقول حقًّا فسيملك موضع قدميَّ هاتين، وقد كُنتُ أعلم أنه خارج لم أكن أظنُّ أنه منكم، فلو أني أعلم أني أخلص إليه لتجشَّمْتُ لقاءَهُ، ولو كُنتُ عنده لغسلت عن قدمه» (1). وصدق الله تعالى إذ يقول: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4] وصدق النبي الكريم إذ يقول: «إنما بُعِثْتُ لأُتَمِّم مكارم الأخلاق» (2). «وسُئِلَتْ عائشةُ رضي الله عنها عن خُلُق النبيِّ صلى الله عليه وسلم؟ فقالت: فإن خلق نبي الله صلى الله عليه وسلم كان القرآن» (3). ولأهمية معرفة النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، التي هي الأصل الثاني من الأصول الثلاثة، التي يجب على كل مسلم ومسلمة تعلُّمها والعمل بها، ويُسأل عنها في قبره، كتبت هذا المختصر، وسَمَّيتُهُ: (رحمةٌ للعالمين: محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم وبيَّنت فيه: نسبه صلى الله عليه وسلم، ونشأته، وأخلاقه، وصفاته: الخَلْقِيَّة؛

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 7.

(2) البيهقي، 10/ 192، وأحمد، 2/ 381، وانظر: الصحيحة للألباني برقم 45.

(3) مسلم، برقم 746.
তুমি যা বলছো তা যদি সত্য হয়, তবে তিনি অচিরেই আমার এই দুই পায়ের নিচের স্থানের মালিক হবেন। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, তবে তিনি যে তোমাদের মধ্য থেকে হবেন তা ভাবিনি। আমি যদি জানতাম যে আমি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমি যে কোনো কষ্ট বরণ করতাম। আর আমি যদি তাঁর কাছে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর পা ধুইয়ে দিতাম» (১)। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি এক মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [আল-কলম: ৪] আর সম্মানিত নবী সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: «আমি কেবল উন্নত চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি» (২)। «আর আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র ছিল কুরআন» (৩)। আর সম্মানিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানার গুরুত্বের কারণে, যা হলো সেই তিনটি মূলনীতির দ্বিতীয়টি, যা শেখা এবং সে অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ওয়াজিব, এবং যে বিষয়ে তাকে তার কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে, আমি এই সংক্ষিপ্ত বইটি লিখেছি এবং এর নাম দিয়েছি: (রাহমাতুল্লিল আলামীন: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-)। এতে আমি তাঁর বংশপরিচয়, বেড়ে ওঠা, চরিত্র এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছি;

--------------------------------------------

(১) বুখারী, নং ৭।

(২) বায়হাকী, ১০/ ১৯২; আহমাদ, ২/ ৩৮১; এবং দেখুন: আলবানী কৃত আস-সহীহাহ্ নং ৪৫।

(৩) মুসলিম, নং ৭৪৬।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১১)
والخُلُقيَّة، ومُعجزاته، وعموم رسالته، ووصاياه لأمته، وحقوقه على أمته صلى الله عليه وسلم، وقد قسَّمت البحث إلى المباحث الآتية: المبحث الأول: خيار من خيار "نسبه صلى الله عليه وسلم". المبحث الثاني: نشأته صلى الله عليه وسلم. المبحث الثالث: صفاته: الخَلْقيَّة، والخُلُقيَّة صلى الله عليه وسلم. المبحث الرابع: اجتهاده في عبادته وجهاده صلى الله عليه وسلم.

المبحث الخامس: النبي الكريم صلى الله عليه وسلم رحمة للعالمين. المبحث السادس: تلطفه صلى الله عليه وسلم مع الأطفال ومداعبتهم وإدخال السرور عليهم. المبحث السابع: حسن خلقه صلى الله عليه وسلم. المبحث الثامن: جوده وكرمه صلى الله عليه وسلم. المبحث التاسع: عدله صلى الله عليه وسلم. المبحث العاشر: تواضعه صلى الله عليه وسلم. المبحث الحادي عشر: حلمه وعفوه صلى الله عليه وسلم. المبحث الثاني عشر: أناته وتثبته صلى الله عليه وسلم. المبحث الثالث عشر: رفقه ولينه صلى الله عليه وسلم. المبحث الرابع عشر: صبره الجميل صلى الله عليه وسلم.
এবং নৈতিক চরিত্র, তাঁর অলৌকিক নিদর্শনসমূহ, তাঁর রিসালাতের সার্বজনীনতা, তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর উপদেশসমূহ এবং তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর অধিকারসমূহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। আমি এই গবেষণাটিকে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে বিভক্ত করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদ: সর্বোত্তমের মধ্য হতে শ্রেষ্ঠ "তাঁর বংশপরিচয় (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)"। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ: শারীরিক ও চারিত্রিক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইবাদত ও জিহাদে তাঁর সাধনা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সম্মানিত নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বিশ্বজগতের জন্য রহমত। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: শিশুদের প্রতি তাঁর কোমলতা, তাদের সাথে হাস্যরসালাপ এবং তাদের মনে আনন্দ প্রদান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর চারিত্রিক সৌন্দর্য (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর দানশীলতা ও মহানুভবতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। দশম পরিচ্ছেদ: তাঁর বিনয় (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। একাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর সহনশীলতা ও ক্ষমা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর ধীরস্থিরতা ও সুনিশ্চিত হওয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর নম্রতা ও কোমলতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: তাঁর সুন্দর ধৈর্য (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الخامس عشر: شجاعته صلى الله عليه وسلم. المبحث السادس عشر: حكمته صلى الله عليه وسلم في الإصلاح وجمع القلوب. المبحث السابع عشر: بلاغته صلى الله عليه وسلم. المبحث الثامن عشر: معجزاته ودلائل نبوَّته صلى الله عليه وسلم. المبحث التاسع عشر: عموم رسالته صلى الله عليه وسلم إلى الجن والإنس. المبحث العشرون: اعتراف المنصفين من اليهود والنصارى برسالته صلى الله عليه وسلم. المبحث الحادي والعشرون: خير أعماله خواتمها صلى الله عليه وسلم. المبحث الثاني والعشرون: وداعه صلى الله عليه وسلم لأمته ووصاياه في حجة الوداع. المبحث الثالث والعشرون: توديعه صلى الله عليه وسلم للأحياء والأموات. المبحث الرابع والعشرون: بداية مرضه صلى الله عليه وسلم وأمره لأبي بكر أن يُصلي بالناس. المبحث الخامس والعشرون: خطبته العظيمة صلى الله عليه وسلم ووصاياه للناس. المبحث السادس والعشرون: اشتداد مرضه صلى الله عليه وسلم ووداعه ووصيته في تلك الشدة. المبحث السابع والعشرون: وصاياه صلى الله عليه وسلم عند وفاته. المبحث الثامن والعشرون: اختياره صلى الله عليه وسلم للرفيق الأعلى. المبحث التاسع والعشرون: موته صلى الله عليه وسلم شهيدًا. المبحث الثلاثون: مَن كان يعبد الله فإن الله حيٌّ لا يموت.
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বীরত্ব। ষোড়শ পরিচ্ছেদ: সংশোধন ও অন্তরসমূহকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিকমত বা প্রজ্ঞা। সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাঞ্জলতা ও বাগ্মিতা। অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোজেজা ও নবুওয়াতের প্রমাণাদি। ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: জিন ও মানবজাতির প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাতের ব্যাপকতা। বিংশ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাতের স্বীকৃতি। একবিংশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বোত্তম আমল হলো তাঁর জীবনের শেষভাগের আমলসমূহ। দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ: উম্মতের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় সম্ভাষণ এবং বিদায় হজ্জে তাঁর অসিয়তসমূহ। ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ: জীবিত ও মৃতদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় জ্ঞাপন। চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতার সূচনা এবং আবু বকরকে মানুষের সালাত পড়ানোর নির্দেশ প্রদান। পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান ভাষণ এবং মানুষের প্রতি তাঁর অসিয়তসমূহ। ষড়বিংশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতা তীব্র হওয়া এবং সেই কঠিন সময়ে তাঁর বিদায় ও অসিয়ত। সপ্তবিংশ পরিচ্ছেদ: ইন্তেকালের সময় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসিয়তসমূহ। অষ্টাবিংশ পরিচ্ছেদ: ‘রফিক আল-আ’লা’ (সর্বোচ্চ বন্ধু)-কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেছে নেওয়া। ঊনত্রিংশ পরিচ্ছেদ: শহীদ হিসেবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল। ত্রিংশ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক যে নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি মৃত্যুবরণ করেন না।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الحادي والثلاثون: مصيبة المسلمين بموته صلى الله عليه وسلم. المبحث الثاني والثلاثون: ميراثه صلى الله عليه وسلم. المبحث الثالث والثلاثون: حقوقه صلى الله عليه وسلم على أمته.

واللهَ تعالى أسألُ أن يجعل هذا العمل القليل مُباركًا نافعًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه أحسن مسؤول وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوَّة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبينا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أبو عبد الرحمن حرر ضحى الثلاثاء الموافق 29/ 1 / 1427هـ
একত্রিশতম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুতে মুসলিমদের বিপদ। বত্রিশতম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরাধিকার। তেত্রিশতম পরিচ্ছেদ: তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিকারসমূহ।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই নগণ্য কাজটিকে বরকতময় ও উপকারী করেন এবং এটিকে শুধুমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন, এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। কেননা তিনি পবিত্র সত্তা, যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং যাঁর কাছে আশা করা হয় তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক দয়ালু। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং তাঁর ওহীর আমানতদার, আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন। আবু আবদুর রহমান, ২৯/১/১৪২৭ হিজরী মোতাবেক মঙ্গলবার পূর্বাহ্ণে লিখিত।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الأول

خيار من خيار "نسبه صلى الله عليه وسلم
"

هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كِلَاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فِهْر بن مالك بن النضر بن كِنانة ابن خزيمة بن مُدْرِكَة بن إلياس بن مُضر بن نزار ابن معدِّ بن عدنان (1) فهو خيار من خيار، كما قال صلى الله عليه وسلم عن نسبه: «إن الله اصطفى كِنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشًا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم» (2). فهو صلى الله عليه وسلم من قريش، وقريش من العرب، والعرب من ذرية إسماعيل بن إبراهيم عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام (3).

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب مناقب الأنصار، باب مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، قبل الحديث رقم 3851.

(2) مسلم، برقم 2276.

(3) انظر نسب النبي صلى الله عليه وسلم إلى آدم: البداية والنهاية لابن كثير 2/ 195، وسيرة ابن هشام 1/ 1، قال ابن القيم عن نسبه صلى الله عليه وسلم إلى عدنان: (إلى هاهنا معلوم الصحة متفق عليه= = بين النسَّابين، ولا خلاف فيه البتَّة، وما فوق عدنان مختلف فيه، ولا خلاف بينهم أن "عدنان" من ولد إسماعيل عليه السلام، وإسماعيل هو الذبيح على القول الصواب عند علماء الصحابة والتابعين ومن بعدهم [زاد المعاد، 1/ 71].
প্রথম পরিচ্ছেদ

উত্তমদের মাঝে সর্বোত্তম "তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়"

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাআদ বিন আদনান (১)। সুতরাং তিনি হলেন উত্তমদের মাঝে সর্বোত্তম, যেমনটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের বংশপরিচয় সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং আমাকে বনু হাশিম থেকে মনোনীত করেছেন" (২)। সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত, আর কুরাইশরা আরবদের অন্তর্ভুক্ত, এবং আরবরা ইসমাইল বিন ইবরাহিমের বংশধর, তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক (৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাবুল মানাকিবে আনসার, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি অধ্যায়, হাদিস নম্বর ৩৮৫১-এর আগে।

(২) মুসলিম, হাদিস নম্বর ২২৭৬।

(৩) আদম পর্যন্ত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরিচয় দেখুন: ইবনে কাসিরের আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ২/১৯৫, এবং সিরাত ইবনে হিশাম ১/১। আদনান পর্যন্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরম্পরা সম্পর্কে ইবনুল কায়্যিম বলেন: (এ পর্যন্ত বংশের বিশুদ্ধতা বংশতত্ত্ববিদদের নিকট সর্বজনবিদিত এবং এ ব্যাপারে তাঁদের মাঝে ঐকমত্য রয়েছে, এতে বিন্দুমাত্র দ্বিমত নেই। আদনানের ওপরের বংশপরম্পরা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে তাঁদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, "আদনান" ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। আর সাহাবি, তাবেয়ি ও তাঁদের পরবর্তী আলেমদের নিকট সঠিক অভিমত অনুযায়ী ইসমাইলই হলেন জাবিহ (যাঁকে কোরবানির আদেশ দেওয়া হয়েছিল) [জাদুল মাআদ, ১/৭১]।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
[مولده صلى الله عليه وسلم]

ولد صلى الله عليه وسلم عام الفيل بمكة في شهر ربيع الأول (1) يوم الاثنين (2) الموافق 571م (3). [وفاته صلى الله عليه وسلم]

وتوفي صلى الله عليه وسلم وله من العمر ثلاث وستون سنة، منها: أربعون قبل النبوة، وثلاث وعشرون نبيًّا رسولًا، نُبِّئَ بإقرأ، وأُرسل بالمدثر، وبلده مكة، وهاجر إلى المدينة، بعثَهُ الله بالنذارة عن الشرك، ويدعو إلى التوحيد، أخذ على هذا عشر سنين يدعو إلى التوحيد،

--------------------------------------------

(1) هذا هو الصحيح المشهور أنه ولد صلى الله عليه وسلم عام الفيل في شهر ربيع الأول، وقد نقل بعضهم الإجماع على ذلك، انظر: تهذيب السيرة للإمام النووي ص 20.

(2) التحديد بيوم الإثنين ثابت؛ لقوله صلى الله عليه وسلم حينما سئل عن صومه: ((فيه ولدت وفيه أُنزِل عليَّ)) مسلم 2/ 820. أما تحديد تاريخ اليوم ففيه عدة أقوال: فقيل في اليوم الثاني، وقيل لثمانٍ، وقيل لعشر، وقيل: لسبعة عشر، وقيل في الثاني عشر، وقيل غير ذلك، وأشهر وأقرب الأقوال قولان: الأول: أنه ولد لثمانٍ مضين من ربيع الأول، ورجحه ابن عبد البر عن أصحاب التأريخ: انظر: البداية والنهاية 2/ 260 وقال: "هو أثبت". القول الثاني: أنه ولد في الثاني عشر من ربيع الأول، قال ابن كثير في البداية والنهاية: "وهذا هو المشهور عند الجمهور" 2/ 260، وجزم به ابن إسحاق: انظر: سيرة ابن هشام 1/ 171.

(3) انظر: الرحيق المختوم ص 53.
[তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম]

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তী বর্ষে মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে (১) সোমবার দিনে (২) যা ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের (৩) সাথে মিলে যায়, জন্মগ্রহণ করেন। [তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল]

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এর মধ্যে: চল্লিশ বছর ছিল নবুওয়াতের পূর্বে এবং তেইশ বছর নবী ও রাসূল হিসেবে। তিনি ‘ইকরা’ (সুরা আলাকের প্রথম অংশ) এর মাধ্যমে নবুওয়াত লাভ করেন এবং ‘আল-মুদ্দাসসির’ এর মাধ্যমে রাসূল হিসেবে প্রেরিত হন। তাঁর শহর ছিল মক্কা এবং তিনি মদিনায় হিজরত করেন। আল্লাহ তাঁকে শিরক থেকে সতর্ক করার জন্য এবং তাওহিদের দিকে আহ্বান করার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি এই অবস্থায় (মক্কায়) দশ বছর তাওহিদের দাওয়াত দিতে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) এটিই বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তী বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন, দেখুন: ইমাম নববীর তাহজীবুস সিরাহ, পৃষ্ঠা ২০।

(২) সোমবার দিনটি সুনির্ধারিত; কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্তি যখন তাঁকে তাঁর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "এই দিনেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর ওহী অবতীর্ণ করা হয়েছে।" মুসলিম ২/ ৮২০। তবে তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু মত রয়েছে: বলা হয়েছে দ্বিতীয় দিনে, আট তারিখে, দশ তারিখে, সতের তারিখে, বারো তারিখে এবং এর বাইরেও অন্যান্য কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও নিকটতম মত দুটি: প্রথমত, তিনি রবিউল আউয়ালের আট তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেছেন এবং ইবনে আব্দুল বার ইতিহাসবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন: দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/ ২৬০ এবং তিনি বলেছেন: "এটিই অধিকতর প্রমাণিত।" দ্বিতীয় মত: তিনি রবিউল আউয়ালের বারো তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে কাসীর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে বলেছেন: "জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ" ২/ ২৬০, এবং ইবনে ইসহাক এটি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন: দেখুন: সিরাতে ইবনে হিশাম ১/ ১৭১।

(৩) দেখুন: আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃষ্ঠা ৫৩।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبعد العشر عُرج به إلى السماء، وفُرِضَت عليه الصلوات الخمس، وصلَّى في مكة ثلاث سنين، وبعدها أُمِر بالهجرة إلى المدينة، فلما استقر بالمدينة (1) أُمِر ببقية شرائع الإسلام مثل: الزكاة، والصيام، والحج، والجهاد، والأذان، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وغير ذلك من شرائع الإسلام، أخذ على هذا عشر سنين وبعدها توفي صلى الله عليه وسلم، ودينه باقٍ وهذا دينه، لا خير إلا دلَّ أمته عليه، ولا شر إلا حذَّرها منه، وهو خاتم الأنبياء والمرسلين لا نبي بعده، وقد بعثه الله إلى الناس كافة، وافترض الله طاعته على الجن والإنس، فمن أطاعه دخل الجنة، ومن عصاه دخل النار (2). [الدروس والفوائد والعبر والعظات] وخلاصة القول: أن الدروس والفوائد والعبر

--------------------------------------------

(1) وصل إلى المدينة صلى الله عليه وسلم يوم الإثنين من شهر ربيع الأول وحدده بعضهم باليوم الثاني عشر من ربيع الأول، انظر: فتح الباري 7/ 224.

(2) انظر: صحيح البخاري، برقم 3851، والأصول الثلاثة للشيخ محمد بن عبد الوهاب ص75، 76.
নবুয়তের দশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। তিনি মক্কায় তিন বছর সালাত আদায় করেন এবং এরপর তাঁকে মদিনায় হিজরত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর যখন তিনি মদিনায় স্থিত হলেন (১) তখন তাঁকে ইসলামের অবশিষ্ট বিধানাবলি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়; যেমন: জাকাত, সিয়াম, হজ, জিহাদ, আজান, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ এবং ইসলামের অন্যান্য শরয়ি বিধানসমূহ। তিনি এ অবস্থায় দশ বছর অতিবাহিত করেন এবং এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। তাঁর দ্বীন অবশিষ্ট রয়েছে এবং এটাই তাঁর দ্বীন। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি তাঁর উম্মতকে দিকনির্দেশনা দেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। তিনি নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তি দানকারী, তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। আল্লাহ তাঁকে সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং জিন ও মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে (২)। [পাঠসমূহ, উপকারিতা, শিক্ষা ও উপদেশসমূহ] আর সারকথা হলো: পাঠসমূহ, উপকারিতা ও শিক্ষা...

--------------------------------------------

(১) তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিনে মদিনায় পৌঁছান এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী ৭/২২৪।

(২) দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৫১ এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রচিত আল-উসুলুস সালাসা, পৃষ্ঠা ৭৫, ৭৬।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والعظات في هذا المبحث كثيرة منها:

1 - إن النبي صلى الله عليه وسلم خيار من خيار من خيار، فهو أحسن الناس وخيرهم نسبًا، وأرجح العالمين عقلًا، وأفضل الخلق منزلة في الدنيا والآخرة، وأرفع الناس ذكرًا، وأكثر الأنبياء أتباعًا يوم القيامة.

2 - إن إقامة الاحتفالات بمولد النبي صلى الله عليه وسلم كل عام في اليوم الثاني عشر من ربيع الأول بدعة منكرة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعل ذلك في حياته، ولم يفعله الصحابة من بعده رضي الله عنهم، ولا التابعون لهم بإحسان في القرون المفضلة، ومع ذلك فإن تحديد ميلاد النبي صلى الله عليه وسلم باليوم الثاني عشر من ربيع الأول لم يُجْزَم به، وإنما فيه خلاف وحتى ولو ثبت فالاحتفال به بدعة لما تقدم؛ ولقوله صلى الله عليه وسلم: «مَن أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (1). وفي رواية لمسلم: «من عمل عملًا ليس عليه

--------------------------------------------

(1) البخاري برقم 2697، ومسلم برقم 1718.
এই আলোচনার উপদেশসমূহ অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:

১ - নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন শ্রেষ্ঠদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বরণীয়। তিনি বংশমর্যাদায় মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধিমত্তায় বিশ্ববাসীর মধ্যে অধিক ভারসাম্যপূর্ণ, দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদার দিক থেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ সম্মানের অধিকারী এবং কিয়ামতের দিনে নবীদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারীর অধিকারী।

২ - প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মোৎসব পালন করা একটি গর্হিত বিদআত; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবনে তা করেননি, তাঁর পরে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তা করেননি এবং স্বর্ণযুগে ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবিঈগণও তা করেননি। তদুপরি, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্ম বারো রবিউল আউয়াল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়, বরং এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আর যদি তা প্রমাণিতও হতো, তবুও তা উদযাপন করা বিদআত বলে গণ্য হতো, যার কারণ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছুর উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত" (১)। মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়..."

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ২৬৯৭ এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৭১৮।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أمرنا فهو رد» (1). 3 - إن وظيفة النبي صلى الله عليه وسلم هي الدعوة إلى التوحيد، وإنقاذ الناس من ظلمات الشرك إلى نور التوحيد، ومن ظلمات المعاصي والسيئات إلى نور الطاعات والأعمال الصالحات، ومن الجهل إلى المعرفة والعلم، فلا خير إلا دلَّ أمته عليه، ولا شر إلا حذَّرها منه صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: رسالة التحذير من البدع لسماحة شيخنا العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله.
আমাদের এই নির্দেশ [বা দ্বীনের] অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» (১)। ৩ - নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দায়িত্ব হলো তাওহীদের প্রতি দাওয়াত দেওয়া এবং মানুষকে শিরকের অন্ধকার থেকে তাওহীদের আলোর দিকে, পাপাচার ও মন্দ কাজের অন্ধকার থেকে আনুগত্য ও নেক আমলের আলোর দিকে এবং অজ্ঞতা থেকে পরিচিতি ও জ্ঞানের দিকে উদ্ধার করা। সুতরাং এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি তাঁর উম্মতকে বাতলে দেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'রিসালাতুত তাহযীর মিনাল বিদা' (বিদআত সম্পর্কে সতর্কীকরণ বিষয়ক পুস্তিকা)।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثاني

نشأته صلى الله عليه وسلم

نشأ النبي صلى الله عليه وسلم يتيمًا فآواه الله تعالى، وعائلًا فأغناه الله، فقد تُوفِّي والده عبد الله وهو صلى الله عليه وسلم حملٌ في بطن أمه، وأرضعته ثُويْبَةُ أيَّامًا (1) وهي مولاة لأبي لهبٍ، ثم أرضعته حليمة السعدية في البريَّة، وأقام عندها في بني سعدٍ نحوًا من أربع سنين، وَشُقَّ عن فُؤاده هناك وهو يلعب مع الغلمان، فعن أنس رضي الله عنه: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل وهو يلعب مع الغلمان، فأخذه فصرعه فشق عن قلبه، فاستخرج القلب فاستخرج منه علقةً فقال: هذا حظ الشيطان منك، ثم غسله في طستٍ (2) من ذهب بماء زمزم ثم لامَهُ (3) ثم أعاده في مكانه، وجاء الغلمان يسعون

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، 9/ 124.

(2) طستٍ: إناء كبير مستدير [فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 1/ 460].

(3) لامه: جمعه وضم بعضه على بعضٍ [شرح النووي على صحيح مسلم].
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেড়ে ওঠা

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে আশ্রয় দান করেন; এবং তিনি ছিলেন অভাবী, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে অভাবমুক্ত করেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মায়ের গর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলেন। সুওয়াইবা তাঁকে কয়েকদিন দুগ্ধপান করান (১), যিনি ছিলেন আবু লাহাবের মুক্তদাসী। অতঃপর হালিমা আস-সাদীয়া মরুপ্রান্তরে তাঁকে দুগ্ধপান করান এবং তিনি তাঁর নিকট বনু সাদ গোত্রে প্রায় চার বছর অবস্থান করেন। সেখানে বালকদের সাথে খেলাধুলা করার সময় তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বালকদের সাথে খেলা করছিলেন, তখন জিবরীল তাঁর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে ধরে শুইয়ে দিলেন এবং তাঁর হৃৎপিণ্ড বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি হৃৎপিণ্ডটি বের করে তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন: 'এটি তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ'। অতঃপর তিনি সেটি একটি স্বর্ণের পাত্রে (২) যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন, তারপর তা পুনরায় জোড়া দিলেন (৩) এবং পুনরায় সেটি তার স্থানে ফিরিয়ে রাখলেন। আর বালকেরা দৌড়ে আসলো...»

--------------------------------------------

(১) আল-বুখারী মাআল ফাতহ, ৯/ ১২৪।

(২) তসত্: একটি বড় গোলাকার পাত্র [ফাতহুল বারী বিশরহি সহীহিল বুখারী, ১/ ৪৬০]।

(৩) লমাহু: একে একত্রিত করা এবং এর এক অংশকে অন্য অংশের সাথে জুড়ে দেওয়া [সহীহ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যা]।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২০)
إلى أمه (يعني ظئره) (1) فقالوا: إن محمدًا قد قُتِلَ، فاستقبلوه وهو مُنتقع اللَّون (2) قال أنسٌ: وقد كنت أرى أثر ذلك المخيط في صدره» (3) وعند هذه الحادثة العظيمة خافت عليه حليمة السعدية رضي الله عنها، فردَّته إلى أمه آمنة بنت وهب، فخرجت به أمه إلى المدينة، تزور أخواله، ثم رجعت متجهة إلى مكة فماتت في الطريق بالأبواء، بين مكة والمدينة، وعمره صلى الله عليه وسلم ست سنين وثلاثة أشهر وعشرة أيام (4)

ولما ماتت أمه كفله جده عبد المطلب، فلما بلغ ثماني سنين توفي جده وأوصى به إلى عمه أبي طالب؛ لأنه كان شقيق عبد الله بن عبد المطلب

--------------------------------------------

(1) ظِئره: هي المرضعة، ويقال أيضا لزوج المرضعة [شرح النووي].

(2) منتقع اللون: أي متغير اللون [شرح النووي على صحيح مسلم].

(3) مسلم، برقم 261 - (162) وانظر: البداية والنهاية لابن كثير، بتحقيق الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي، 3/ 413.

(4) البداية والنهاية، 4/ 423، والفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، لابن كثير، ص92 وقد ماتت أمه وأبوه انظر: صحيح مسلم، برقم 203 (على دين الجاهلية ولا حول ولا قوة إلا بالله) ..
তাঁর মায়ের কাছে (অর্থাৎ তাঁর দাই মা) (১) এবং তারা বলল: নিশ্চয়ই মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন। অতঃপর তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল এমতাবস্থায় যে, তাঁর চেহারার রঙ বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল (২)। আনাস (রা.) বলেন: "আমি তাঁর বক্ষে সেই সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতে পেতাম" (৩)। এই মহান ঘটনার কারণে হালিমা আস-সাদিয়া (রা.) তাঁর ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়লেন এবং তাঁকে তাঁর মা আমিনা বিনতে ওয়াহাবের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে তাঁর মামাদের সাথে দেখা করতে মদিনায় গেলেন। তারপর যখন মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, তখন মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি 'আবওয়া' নামক স্থানে পথিমধ্যে তিনি ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স ছিল ছয় বছর তিন মাস দশ দিন (৪)।

যখন তাঁর মা ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। যখন তাঁর বয়স আট বছর পূর্ণ হলো, তখন তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর চাচা আবু তালিবের কাছে তাঁর ব্যাপারে অসিয়ত করে যান; কারণ তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সহোদর ভাই।

--------------------------------------------

(১) জিইর: তিনি হলেন স্তন্যদাত্রী মা, আর স্তন্যদাত্রী মায়ের স্বামীকেও এটি বলা হয় [শরহে নববী]।

(২) বিবর্ণ রঙ: অর্থাৎ গায়ের রঙ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া [সহিহ মুসলিমের শরহে নববী]।

(৩) মুসলিম, হাদিস নং ২৬১ - (১৬২) এবং দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুর্কির তাহকীকসহ, ৩/ ৪১৩।

(৪) আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪/ ৪২৩, এবং ইবনে কাসীর রচিত আল-ফুসুল ফি সিরাতিল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), পৃষ্ঠা ৯২। তাঁর মা এবং বাবা উভয়েই ইন্তেকাল করেছেন, দেখুন: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২০৩ (জাহেলিয়াতের ধর্মের ওপর এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই) ..
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২১)
فكفله، وأحاطه أتمَّ حياطة، ونصره حين بعثه الله، أعزَّ نصرٍ، مع أنه كان مستمرًا على شركه إلى أن مات، فخفَّفَ الله بذلك من عذابه بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم، قال صلى الله عليه وسلم: «هو في ضحْضاحٍ من النار، ولولا أنا لكان في الدَّرْكِ الأسفلِ من النار». وفي لفظٍ: «لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامةِ فيُجعلُ في ضحْضاحٍ من النارِ يبلغ كعبَيه، يغلي منه دِمَاغُه» (1).

 

‌‌[خروجه صلى الله عليه وسلم للتجارة]

وخرج مع عمِّه أبي طالب إلى الشام في تجارةٍ، وهو ابن ثنتي عشرة سنة، وذلك من تمام لطفه به؛ لعدم من يقوم به إذا تركه بمكة، فَرَأَى عبد المطلب وأصحابه ممن خرج معه إلى الشام من الآيات فيه صلى الله عليه وسلم ما زاد عمَّه في الوصاة بِهِ، والحرص عليه، فعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: «خرج أبو طالب إلى الشام، وخرج معه النبي صلى الله عليه وسلم في أشياخٍ من قريشٍ، فلما أشرفوا على الراهب هبطُوا فحلُّوا

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 3883، 3884، و3885، 6208، 6572، ومسلم، برقم 209. وانظر: الفصول لابن كثير، ص93، والبداية والنهاية، 5/ 431 - 434.
সুতরাং তিনি তাঁর লালনপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করেন। যখন আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করেন, যদিও তিনি আমৃত্যু শিরকের ওপর অটল ছিলেন। এর ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াতের (সুপারিশ) কারণে আল্লাহ তাঁর আজাব লাঘব করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সে জাহান্নামের একটি অগভীর স্তরে রয়েছে; আমি না থাকলে সে অবশ্যই জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকত।” অন্য শব্দে এসেছে: “সম্ভবত কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত তাঁর উপকারে আসবে, ফলে তাঁকে জাহান্নামের এমন এক অগভীর স্তরে রাখা হবে যা তাঁর টাখনু পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং তাতে তাঁর মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটবে।” (১)।

 

‌‌[ব্যবসার উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহির্গমন]

তিনি বারো বছর বয়সে তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে শামে (সিরিয়া) গমন করেন। এটি ছিল তাঁর প্রতি চাচার পূর্ণ মমতা ও দয়ার পরিচয়; কারণ তাঁকে মক্কায় রেখে গেলে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না। তখন আব্দুল মুত্তালিব এবং তাঁর সাথে শামের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সঙ্গীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে এমন সব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেন যা তাঁর চাচার মনে তাঁর প্রতি অসিয়ত রক্ষা ও যত্নের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিল। আবু মুসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আবু তালিব কুরাইশদের কিছু প্রবীণ ব্যক্তির সাথে শামের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর সাথে বের হলেন। যখন তাঁরা পাদ্রীর সন্নিকটে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা নিচে অবতরণ করলেন এবং সওয়ারি থেকে নামলেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ৩৮৮৩, ৩৮৮৪, ৩৮৮৫, ৬২০৮, ৬৫৭২; এবং মুসলিম, হাদিস নং ২০৯। আরও দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত আল-ফুসুল, পৃষ্ঠা ৯৩; এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৩১-৪৩৪।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২২)
رحالهم، فخرج إليهم الرَّاهبُ، وكانوا قبل ذلك يمرُّون به فلا يخرج إليهم، ولا يلتفتُ، قال: فهم يحلُّون رِحالهم فجعل يتخلَّلهم الراهب حتى جاء فأخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "هذا سيدُ العالَمِين، هذا رسولُ ربِّ العالمين، يبعثه الله رحمةً للعالمين، فقال له أشياخٌ من قريش ما علمك؟ فقال: إنكم حين أشرفتم من العقبة لم يبقَ شجرٌ ولا حجرٌ إلا خرَّ ساجدًا، ولا يسجدان إلا لنبي، وإنِّي أعرفه بخاتم النبوة أسفل من غضروفِ كتفهِ مثل التُّفَّاحة. . .» الحديث، وفيه: «أن النبي صلى الله عليه وسلم أظلته غمامةٌ ومالت الشجرة بظلها عليه» (1)

وأمر الراهب أبا طالب بالرجوع به إلى مكة؛ لئلا يراه اليهود؛ فيحصل له منهم سوء، فأرسل به عمه إلى مكة، ثم أرسلت به خديجة بنت

--------------------------------------------

(1) الترمذي برقم 3620، وقال عنه ابن كثير في الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم ص94: ((بإسناد رجاله كلهم ثقات)) وصححه الألباني في صحيح الترمذي، برقم 3620، وفي فقه السيرة للغزالي ص68 وقال: ((إسناده صحيح)) وقال: لكن ذِكر بلال فيه منكر كما قيل قال: ((قلت: وقد رواه البزار فقال: وأرسل معه عمه رجلاً)) ..
তাদের আসবাবপত্র বা হাওদা নামাচ্ছিল, তখন সেই পাদ্রি (রাহিব) তাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন। অথচ এর আগে তারা যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেতেন, তিনি তাদের কাছে আসতেন না এবং তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপও করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন: তারা যখন তাদের আসবাবপত্র নামাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন পাদ্রি তাদের ভিড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরলেন। তিনি বললেন: "ইনি বিশ্বজাহানের সরদার, ইনি বিশ্বজাহানের রবের রাসূল, আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করবেন।" তখন কুরাইশদের কতিপয় প্রবীণ ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার অবগতির কারণ কী?" তিনি বললেন, "আপনারা যখন গিরিপথ দিয়ে আসছিলেন, তখন কোনো গাছ বা পাথরই অবশিষ্ট ছিল না যা সিজদায় লুটিয়ে পড়েনি। আর তারা নবী ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করে না। এছাড়া আমি তাঁকে তাঁর কাঁধের তরুণাস্থির নিচে আপেলের মতো বিদ্যমান নবুওয়তের মোহর দেখে চিনতে পেরেছি..." হাদীস। এতে আরও রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি মেঘমালা ছায়া দিচ্ছিল এবং একটি গাছ তাঁর ওপর ছায়া দেওয়ার জন্য ঝুঁকে পড়েছিল।" (১)

এরপর পাদ্রি আবু তালিবকে তাঁকে নিয়ে মক্কায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, যাতে ইয়াহূদীরা তাঁকে দেখতে না পায় এবং তাঁর কোনো ক্ষতি করতে না পারে। ফলে তাঁর চাচা তাঁকে মক্কায় পাঠিয়ে দিলেন। এরপর খাদিজা বিনতে...

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬২০; ইবনু কাসীর 'আল-ফুসুল ফী সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' এর ৯৪ পৃষ্ঠায় এর সম্পর্কে বলেছেন: "এমন সনদে যার বর্ণনাকারীগণ সকলে নির্ভরযোগ্য।" আলবানী 'সহীহ তিরমিযী'তে একে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৩৬২০। আল-গাজালীর 'ফিকহুস সীরাহ' এর ৬৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: "এর সনদ সহীহ।" তিনি বলেন: তবে এতে বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উল্লেখ থাকাটা মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) যেমনটি বলা হয়েছে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর চাচা তাঁর সাথে জনৈক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন।" ..
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
خويلد في تجارةٍ لها إلى الشام مع غلامها ميسرة، فربحت تجارة خديجة رضي الله عنها، فرأى ميسرة ما بهره من شأنه، فرجع فأخبر سيدته بما رأى، فرغبت إلى النبي صلى الله عليه وسلم أن يتزوجها، لِمَا رجَتْ في ذلك من الخير الذي جمعه الله لها، وفوق ما يخطر بِبَالِ بشر، فتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وله من العمر خمس وعشرون سنة، وكان عمرُ خديجة أربعون سنة (1).

 

‌‌[حماية الله تعالى له صلى الله عليه وسلم من دنس الجاهلية]

وقد حماه الله تعالى من صغره من دنس الجاهلية، ومن كلِّ عيب، فلم يُعظِّم لهم صنمًا في عمره قط، ولم يحضر مشهدا ًمن مشاهد كفرهم، وكانوا يطلبونه بذلك فيمتنع، ويعصمه الله من ذلك، وما شرب خمرًا قط، وما عمل فاحشة قط، وكان يعلم بأنهم على باطل، ولم يشرك بالله قطٌّ، ولم يحضر مجلس لهوٍ (2) ولم

--------------------------------------------

(1) قاله ابن القيم في زاد المعاد، 1/ 105، وقال ابن كثير في البداية والنهاية 3/ 466: ((وكان عمرها آنذاك خمساً وثلاثين وقيل: خمساً وعشرين)).

(2) الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، لابن كثير، ص91 - 95، والبداية والنهاية، 3/ 406 - 451، وتهذيب الأسماء واللغات للنووي، 1/ 24.
খুওয়াইলিদ-তনয়ার ব্যবসায়িক কাফেলায় তাঁর গোলাম মায়সারার সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। এতে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ব্যবসায় প্রভূত মুনাফা অর্জিত হলো। মায়সারা নবীজীর মাঝে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করলেন যা তাঁকে বিমুগ্ধ করল। ফিরে এসে তিনি তাঁর মালকিনকে যা দেখেছিলেন তা অবহিত করলেন। এতে খাদিজা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তাঁকে বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করলেন, কারণ তিনি এতে সেই কল্যাণের আশা করেছিলেন যা আল্লাহ তাঁর জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন এবং যা কোনো মানুষের চিন্তারও অতীত ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বিয়ে করলেন; তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর (১)।

 

‌‌[আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাহিলিয়াতের পঙ্কিলতা থেকে সুরক্ষাদান]

আল্লাহ তাআলা তাঁর শৈশব থেকেই তাঁকে জাহিলিয়াতের পঙ্কিলতা এবং সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন। ফলে তিনি তাঁর জীবনে কখনোই তাদের কোনো মূর্তিকে সম্মান করেননি এবং তাদের শিরকি ও কুফরি কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। তারা তাঁকে এসবে যোগ দিতে অনুরোধ করত, কিন্তু তিনি বিরত থাকতেন এবং আল্লাহ তাঁকে তা থেকে রক্ষা করতেন। তিনি কখনোই মদ্যপান করেননি এবং কখনোই কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত হননি। তিনি জানতেন যে তারা বাতিলের ওপর রয়েছে। তিনি আল্লাহর সাথে কখনোই শিরক করেননি এবং কোনো আমোদ-প্রমোদের আসরে (২) উপস্থিত হননি এবং...

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনুল কাইয়্যিম 'যাদুল মাআদ' (১/১০৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনু কাসীর 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' (৩/৪৬৬) গ্রন্থে বলেছেন: "সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ এবং বলা হয়: পঁচিশ বছর।"

(২) ইবনু কাসীর রচিত 'আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসূল' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), পৃ. ৯১-৯৫; 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া', ৩/৪০৬-৪৫১; এবং ইমাম নববী রচিত 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত', ১/২৪।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
يعمل شيئًا مما كان يعمله قومه من الفواحش والمنكرات، فقد نشأ في مجتمعٍ كَثُرت فيه المفاسد وعمت فيه الرذائل، فالشرك بالله تعالى، ودعاء غيره معه، وقتل الأنفس بغير حق، والظلم، والبغاء، والاستبضاع، والزنى الجماعي، والأفرادي، ونكاح أسبق الرجال ممن مات زوجها، والاعتداء على الأعراض، والأموال، والدماء، كل ذلك كان شائعًا في قومه قبل الإسلام، لا ينكره أحد، ولا تحاربه جماعة، بالإضافة إلى وَأْدِ البناتِ، وقتل الأولاد خشية الفقر، أو العار، ولعب الميسر، وشرب الخمر، أمور تعدُّ في الجاهلية من المفاخر، والتباهي، وليس من شرط أن يكون المجتمع كلُّه يرتكب هذه الجرائم، وإنما عدم إنكارها هو دليل على الرضى بها، والنبي صلى الله عليه وسلم لم يعمل أي عمل أو يباشر أيَّ خُلقٍ من هذه الأخلاق الرذيلة، وقد أدَّبه ربُّهُ فأحسن تأديبه (1) وهذه الأخلاق

--------------------------------------------

(1) لم يثبت ((أدّبني ربي فأحسن تأديبي)) لكن قال شيخ الإسلام ابن تيمية في = … = مجموع الرسائل الكبرى، 2/ 336: ((معناه صحيح ولكن لا يعرف له إسناد ثابت))، وأيده السخاوي والسيوطي، فراجع كشف الخفاء 1/ 70. انظر: سلسلة الأحاديث الضعيفة للألباني برقم 72.
তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের অশ্লীল ও মন্দ কাজের কিছুই করতেন না। তিনি এমন এক সমাজে বেড়ে উঠেছেন যেখানে অনাচার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং পাপাচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা, তাঁর পাশাপাশি অন্যকে ডাকা, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, জুলুম, বেশ্যাবৃত্তি, ‘ইসতিবদা’ (এক প্রকার প্রাক-ইসলামী গর্ভধারণ প্রথা), দলগত ও ব্যক্তিগত ব্যভিচার, মৃত ব্যক্তির স্ত্রীদের সাথে (তার উত্তরাধিকারীদের) বিবাহ, মানুষের সম্মান, সম্পদ ও রক্তের ওপর আঘাত হানা—এসবই ইসলামের পূর্বে তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে প্রচলিত ছিল। কেউ তা অস্বীকার করত না এবং কোনো দল এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলত না। এর পাশাপাশি কন্যা সন্তানদের জীবন্ত সমাহিত করা, দারিদ্র্য বা লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানদের হত্যা করা, জুয়া খেলা ও মদ পান করা—এগুলো জাহেলিয়াতের যুগে গর্ব ও অহংকারের বিষয় বলে গণ্য হতো। পুরো সমাজই যে এসব অপরাধে লিপ্ত ছিল তা অপরিহার্য নয়, বরং এগুলোর প্রতিবাদ না করাই ছিল সেগুলোর প্রতি সন্তুষ্টির প্রমাণ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ধরনের কোনো হীন কাজ করেননি বা এসব মন্দ চরিত্রের কোনোটি অনুসরণ করেননি। তাঁর রব তাঁকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং তাঁর শিষ্টাচারকে সর্বোত্তম করেছেন (১) আর এই চরিত্রগুলো...

--------------------------------------------

(১) ‘আমার রব আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং আমার শিষ্টাচারকে সর্বোত্তম করেছেন’—কথাটি প্রমাণিত নয়। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ = ... = মাজমুউুর রাসাইলিল কুবরা-এর ২/৩৩৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: “এর অর্থ সঠিক, কিন্তু এর কোনো প্রমাণিত সনদ জানা নেই।” সাখাওয়ি এবং সুয়ূতিও তাঁকে সমর্থন করেছেন; বিস্তারিত দেখুন কাশফুল খাফা ১/৭০। আরও দেখুন: আলবানীর সিলসিলাতুল আহাদিসিদ দায়িফাহ, হাদিস নং ৭২।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
التي اتصف بها قد عرفها قومه منه؛ ولهذا لُقِّب بين قومه " بمحمدٍ الأمين" (1).

وقد بنت قريش الكعبة في سنة خمس وثلاثين من عمر النبي صلى الله عليه وسلم، وعندما وصلوا إلى موضع الحجر الأسود اختلفوا، واشتجروا فيمن يضع الحجر الأسود موضعه، فقالت كلُّ قبيلةٍ: نحن نضعه، ثم اتفقوا على أن يضعه أَوَّلُ داخلٍ عليهم، فكان أول من دخل عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففرِحوا به كثيرًا، فقالوا: جاء الأمين، فرضوا به أن يكون حكمًا بينهم؛ ليحلَّ النزاع ويقف القتال الذي كاد أن يحصل، فأمر صلى الله عليه وسلم بثوبٍ فَوُضِعَ الحجر في وسطه، وأمر كلَّ قبيلة أن ترفع بجانب من جوانب الثوب، ثم أخذ

--------------------------------------------

(1) أحمد في المسند، 3/ 425، وحسنه الألباني في تخريج فقه السيرة لمحمد الغزالي، ص84.
যে সকল গুণাবলীতে তিনি গুণান্বিত ছিলেন, তাঁর কওম তাঁর থেকে তা জেনেছিল; আর এ কারণেই তাঁর কওমের মধ্যে তিনি "মুহাম্মাদ আল-আমিন" (১) উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে কুরাইশরা কাবা পুনর্নির্মাণ করেছিল। যখন তারা হাজরে আসওয়াদের স্থানে পৌঁছাল, তখন কে হাজরে আসওয়াদকে তার যথাস্থানে স্থাপন করবে তা নিয়ে তারা মতবিরোধ ও বিবাদে জড়িয়ে পড়ল। প্রতিটি গোত্র বলতে লাগল: "আমরাই এটি স্থাপন করব।" অতঃপর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তাদের নিকট সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে সে-ই এটি স্থাপন করবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সর্বপ্রথম তাদের নিকট প্রবেশ করলেন। তাঁকে দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং বলল: "আল-আমিন এসেছেন।" তারা তাঁকে তাদের মধ্যে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হলো; যাতে বিবাদ মিটে যায় এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ বন্ধ হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাদর আনার নির্দেশ দিলেন এবং পাথরটি তার মাঝখানে রাখা হলো। তিনি প্রতিটি গোত্রকে চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরে উপরে তোলার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি নিলেন

--------------------------------------------

(১) আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩/৪২৫; আলবানী একে মুহাম্মাদ আল-গাজালীর 'ফিকহুস সিরাহ' এর তাখরীজ-এ হাসান বলেছেন, পৃ. ৮৪।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الحجر فوضعه بيديه في موضعه صلى الله عليه وسلم (1).

 

‌‌[تعبده صلى الله عليه وسلم بغار حراء]

وبعد ذلك حبب الله إليه الخلوة والانعزال عن الناس؛ لكي يتعبد لله تعالى، وكان يخلو بغار حراء يتعبد لله تعالى على ملة إبراهيم صلى الله عليه وسلم، ولما كمَّل الأربعين أكرمه الله تعالى بالنبوَّة، ولا خلاف أن مبعثه كان يوم الإثنين، وقيل بأن الشهر كان ربيع الأول سنة إحدى وأربعين لثمانٍ خلون منه، من عام الفيل وهذا قول الأكثرين (2).

 

‌‌[نزول الوحي]

«وجاءه جبريل في غار حراء، فقال له: اقرأ، فقال: "لست بقارئ"، قال: اقرأ، قال: "لست بقارئ"، فغتَّه (3) حتى بلغ منه الجهد، فقال له: اقرأ، فقال: "لست بقارئ" فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ - خَلَقَ الْإِنْسَانَ

--------------------------------------------

(1) الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم لابن كثير، ص95.

(2) زاد المعاد لابن القيم، 1/ 78، قال: وقيل: ((كان ذلك في رمضان، وقيل كان ذلك في رجب)).

(3) غته: حبس أنفاسه، وفي رواية البخاري: ((غطني)) ومعناه: ضمَّني وعصرني.
পাথরটি, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিজ হাতে তাঁর স্থানে স্থাপন করলেন (১)।

 

‌‌[হেরা গুহায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবাদত করা]

এর পর আল্লাহ তাঁর নিকট নির্জনতা ও মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাকে প্রিয় করে দিলেন; যেন তিনি মহান আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আদর্শ অনুযায়ী মহান আল্লাহর ইবাদত করতেন। যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁকে নবুওয়াত প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করলেন। এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির দিনটি ছিল সোমবার। বলা হয়ে থাকে যে, মাসটি ছিল হস্তীবাহিনীর ঘটনার একচল্লিশতম বছরের রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর, আর এটাই অধিকাংশের মত (২)।

 

‌‌[ওহি অবতীর্ণ হওয়া]

«এবং জিবরাঈল তাঁর নিকট হেরা গুহায় আসলেন, অতঃপর তাঁকে বললেন: "পড়ুন", তিনি বললেন: "আমি তো পাঠকারী নই", তিনি বললেন: "পড়ুন", তিনি বললেন: "আমি তো পাঠকারী নই", অতঃপর তিনি তাঁকে সজোরে চেপে ধরলেন (৩) এমনকি তা তাঁকে অত্যন্ত ক্লান্ত করে ফেলল, এরপর তিনি তাঁকে বললেন: "পড়ুন", তিনি বললেন: "আমি তো পাঠকারী নই", অতঃপর তিনি বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন - সৃষ্টি করেছেন মানুষকে

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর রচিত আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), পৃষ্ঠা ৯৫।

(২) ইবনুল কাইয়্যিম রচিত যাদুল মা'আদ, ১/ ৭৮; তিনি বলেন: এবং বলা হয়েছে যে: "তা ছিল রমজান মাসে, আর বলা হয়েছে তা ছিল রজব মাসে"।

(৩) গাততাহু: তাঁর শ্বাসরোধ করা, আর বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: "গাত্তানি", যার অর্থ: তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং সজোরে চাপ দেন।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مِنْ عَلَقٍ - اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ - الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ - عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1 - 5]، وبهذه السورة كان صلى الله عليه وسلم نبيًّا، ثم رجع صلى الله عليه وسلم إلى خديجة رضي الله عنها يرجفُ فؤادُهُ فدخل عليها وقال: "زملوني زمِّلوني"، فزمَّلوه (1) حتى ذهب عنه الرَّوعُ، فأخبر خديجة الخبر، فقالت خديجة رضي الله عنها: كلا واللهِ ما يُخزيك اللهُ أبدًا؛ إنك لتصل الرحم، وتحمِل الكلَّ، وتكسِب المعدوم، وتقري الضيف، وتعينُ على نوائب الحق. . .» الحديث (2) ثم أرسله الله تعالى بسورة المدثر إلى الإنس والجن، قال صلى الله عليه وسلم: «بينما أنا أمشي إذ سمعت صوتًا من السماء فرفعتُ بصري فإذا الملك الذي جاءني بحراء جالس على كرسي بين السماء والأرض فرُعبْتُ منه، فرجعت فقلت

--------------------------------------------

(1) زمِّلوني: أي غطُّوني أو لُفُّوني بثوبٍ أو نحوه.

(2) البخاري، برقم 3، ومسلم، برقم 160.
রক্তপিণ্ড থেকে - পাঠ করুন এবং আপনার প্রতিপালক অত্যন্ত মহিমান্বিত - যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন - মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।} [আল-আলাক: ১ - ৫], এবং এই সূরার মাধ্যমেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কম্পিত হৃদয়ে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে ফিরে এলেন এবং তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো", ফলে তাঁরা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন (১) যতক্ষণ না তাঁর থেকে ভীতি দূর হলো। এরপর তিনি খাদিজাকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: "কখনো নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; নিশ্চয় আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অক্ষমের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, অতিথির মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথের বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন। . . ." হাদিস (২) এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে সূরা আল-মুদ্দাসসিরের মাধ্যমে মানুষ ও জিনের নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "একদা আমি যখন হাঁটছিলাম, তখন হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট আছেন। আমি তাঁকে দেখে অত্যন্ত ভীত হলাম এবং ফিরে এসে বললাম

--------------------------------------------

(১) আমাকে বস্ত্রাবৃত করো: অর্থাৎ আমাকে ঢেকে দাও অথবা কোনো কাপড় বা অনুরূপ কিছু দিয়ে আমাকে জড়িয়ে দাও।

(২) বুখারি, হাদিস নং ৩, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৬০।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
زمِّلوني، فأنزل الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ - قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: 1 - 2] إلى قوله {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} [المدثر: 5] فحميَ الوحيُ وتتابع» (1) وبهذه السورة كان رسولًا صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌[الدعوة إلى الإسلام]

بدأ صلى الله عليه وسلم بالدعوة إلى الله تعالى سرًا، فأسلم على يديه: السابقون الأولون، وكان أول من أسلم خديجة رضي الله عنها، ثم علي ثم زيد بن حارثة، ثم أبو بكر رضي الله عنهم، ثم دخل الناس في دين الله واحد بعد واحد، حتى فشى الإسلام في مكة، «ثم أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم بأن يجهر بالدعوة فقال: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ - وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ - فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تَعْمَلُونَ} [الشعراء: 214 - 216]، فدعاهم إلى الله، وصعد على الصفا وقال: يا بني فهر، يا بني عدي لبطون قريش، حتى

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 4.
আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {হে চাদর আবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন} [আল-মুদ্দাসসির: ১-২] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন} [আল-মুদ্দাসসির: ৫]। এরপর ওহী প্রবলভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে আসতে শুরু করল (১)। আর এই সূরার মাধ্যমেই তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন।

 

‌‌[ইসলামের দিকে দাওয়াত]

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোপনে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন। ফলে তাঁর মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করলেন অগ্রবর্তী প্রথম দল (আস-সাবেকুনা আল-আউয়ালুন)। আর সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা), এরপর আলী, এরপর যায়েদ বিন হারিসা, এরপর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। এরপর মানুষ একে একে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে শুরু করল, এমনকি মক্কায় ইসলাম ছড়িয়ে পড়ল। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রকাশ্যে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন: {আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন। আর যারা আপনার অনুসরণকারী মুমিন, তাদের প্রতি আপনার বাহু অবনমিত করুন। যদি তারা আপনার অবাধ্য হয়, তবে বলে দিন—তোমরা যা করছ, তা থেকে আমি মুক্ত} [আশ-শুআরা: ২১৪-২১৬]। তখন তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে বললেন: হে বনু ফিহর! হে বনু আদী!—কুরাইশের বিভিন্ন গোত্রকে সম্বোধন করে—যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ৪।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
اجتمعوا، فقال: أرأيتكم لو أخبرتكم أن خيلًا تخرج عليكم بسفح هذا الوادي أكنتم مصدقي؟ " قالوا: نعم ما جرَّبنا عليك كذبًا، قال: فإني نذير لكم بين يدي عذابٍ شديد» (1) وقد ناصبه صناديد قريش ومن معهم العداء، ولكن مع ذلك لم يستطع أحد منهم أن يتهمه بصفة الكذب أو صفة غير لائقة، وقد قال الله تعالى: {فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} [الأنعام: 33]، ولو عرفوا خُلُقًا ذميمًا - وقد عاش بينهم أربعين عامًا -؛ لأراحهم من التنقيب عن خصلة غير حميدة يتهمونه بها أمام الناس، ووجدوا أن كلمة (ساحر) و (كاهن) هي أنسب الصفات التي يطلقونها عليه؛ حيث يفرق بدعوته إلى الله بين الأب وابنه، والأخ وأخيه، والزوجة وزوجها، واتهموه بالجنون؛ لأنه خالف

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 4971، ومسلم /194 - (برقم 208).
তারা একত্রিত হলো, অতঃপর তিনি বললেন: "তোমাদের কী মনে হয়, যদি আমি তোমাদের সংবাদ দেই যে, এই উপত্যকার পাদদেশ দিয়ে একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে আসছে, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল: "হ্যাঁ, আমরা আপনার ওপর কখনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা লাভ করিনি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক কঠিন শাস্তির পূর্ববর্তী সতর্ককারী।" (১) কুরাইশদের নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সাথে যারা ছিল তারা তাঁর প্রতি ঘোর শত্রুতা পোষণ করেছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কেউ তাঁকে মিথ্যাবাদিতার গুণে বা অন্য কোনো অশালীন বৈশিষ্ট্যে অভিযুক্ত করতে সক্ষম হয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।" [আল-আনআম: ৩৩]। আর যদি তারা কোনো নিন্দনীয় চরিত্র সম্পর্কে অবগত থাকত—অথচ তিনি তাদের মাঝে চল্লিশ বছর অতিবাহিত করেছেন—তবে তা তাদেরকে মানুষের সামনে তাঁকে অভিযুক্ত করার জন্য কোনো মন্দ স্বভাবের অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে রেহাই দিত। তারা দেখতে পেল যে 'জাদুকর' ও 'গণক' শব্দ দুটিই তাঁর ওপর আরোপ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য; যেহেতু তিনি আল্লাহর প্রতি তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে পিতা ও পুত্র, ভাই ও ভাই এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিচ্ছেন। তারা তাঁকে উন্মাদনার দায়েও অভিযুক্ত করেছিল; কারণ তিনি বিরোধিতা করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি, নম্বর ৪৯৭১, এবং মুসলিম /১৯৪ - (নম্বর ২০৮)।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
شركهم ودعا إلى عبادة الله وحده، وتابع دعوته إلى الله في المواسم، والأسواق، وخرج إلى الطائف، وأسلم الجن في طريقه عند رجوعه من الطائف، وحصل له من الأذى الكثير فصبر واحتسب.

 

‌‌[الإسراء والمعراج]

ثم أُسريَ به إلى بيت المقدس ليلًا وعُرِج به إلى السماوات العُلى، وقبل الإسراء جاء جبريلُ ففرج صدره ثم غسله بماء زمزم، ثم جاء بطستٍ ممتلئ حكمة وإيمانًا فأفرغه في صدره، ثم أطبقه، ثم أخذ بيده فَعُرِج به (1) وذكر الحافظ ابن حجر رحمه الله أن النبي صلى الله عليه وسلم شُقَّ صدره ثلاث مرات، الأولى في بني سعد وهو صغير، والثانية عند البعثة فقال: (وثبت شق الصدر أيضًا عند البعثة كما أخرجه أبو نعيم في دلائل النبوَّة، فالأول وقع فيه من الزيادة كما عند مسلم من حديث أنس: «فأخرج علقة فقال: هذا حظ الشيطان منك»، وكان هذا في زمن الطفولية فنشأ على أكمل الأحوال، من

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 349، ومسلم برقم 163.
তাদের শিরক বর্জন করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানালেন। তিনি বিভিন্ন মৌসুম ও বাজারগুলোতে আল্লাহর দিকে তাঁর দাওয়াত অব্যাহত রাখলেন। তিনি তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তায়েফ থেকে ফেরার পথে জিনেরা ইসলাম গ্রহণ করল। তাঁর ওপর অনেক কষ্ট ও নির্যাতন নেমে আসল, তবে তিনি ধৈর্য ধারণ করলেন এবং সওয়াবের আশা রাখলেন।

 

‌‌[ইসরা ও মিরাজ]

অতঃপর রাতে তাঁকে বায়তুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়া হলো এবং উচ্চাকাশে আরোহণ করানো হলো। ইসরার পূর্বে জিবরাঈল আসলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন, এরপর তা জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। তারপর প্রজ্ঞা ও ঈমানপূর্ণ একটি পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা তাঁর বক্ষে ঢেলে দিলেন, অতঃপর তা জোড়া লাগিয়ে দিলেন। তারপর তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁকে উপরে নিয়ে গেলেন (১)। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বক্ষ তিনবার বিদীর্ণ করা হয়েছে: প্রথমবার শৈশবে বনু সা’দ গোত্রে থাকাকালীন, এবং দ্বিতীয়বার নবুয়ত প্রাপ্তির সময়। তিনি বলেন: (নবুয়ত প্রাপ্তির সময়ও বক্ষ বিদীর্ণ করার বিষয়টি প্রমাণিত, যেমনটি আবু নুআইম ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যা মুসলিমে আনাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ‘তিনি একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন: এটি তোমার মাঝে শয়তানের অংশ।’ এটি শৈশবে ঘটেছিল, ফলে তিনি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় বেড়ে ওঠেন, ...থেকে)

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নং ৩৪৯, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৬৩।
(খণ্ড: ১) রহমাতুল্লিল আলামিন - সাইদ বিন ওয়াহফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
العصمة من الشيطان، ثم وقع شق الصدر عند البعث زيادة في إكرامه؛ ليتلقى ما يُوحى إليه بقلبٍ قويٍّ في أكمل الأحوال من التطهير، ثم وقع شق الصدر عند العروج إلى السماء؛ ليتأهب للمناجاة، ويحتمل أن تكون الحكمة في هذا الغسل لتقع المبالغة في الإسباغ بحصول المرة الثالثة كما تقرر في شرعه صلى الله عليه وسلم (1).

وصل ليلة الإسراء والمعراج إلى مكان يسمع فيه صريف الأقلام فوق السماء السابعة، وفرضت عليه الصلاة، وصلى بالأنبياء عليهم الصلاة والسلام ركعتين، ورجع قبل أن يصبح إلى مكة، واستمر في دعوته إلى التوحيد، وصلَّى في مكة قبل الهجرة ثلاث سنين، ولما اشتد الأذى من قريش، وأكمل ثلاثة عشر عامًا في دعوته قومه إلى التوحيد، أَذِنَ الله له بالهجرة، فهاجر إلى المدينة، وفرضت عليه فيها بقية شرائع الإسلام خلال

--------------------------------------------

(1) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 7/ 204 - 205.
শয়তান থেকে সুরক্ষা, অতঃপর নবুওয়াত লাভের সময় তাঁর সম্মান বৃদ্ধির নিমিত্তে বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা ঘটে; যাতে তিনি পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় সুদৃঢ় হৃদয়ে ওহী গ্রহণ করতে পারেন। এরপর আকাশে আরোহণের সময় বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়; যাতে তিনি নির্জনে কথোপকথনের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। সম্ভবত এই ধৌতকরণের হিকমত হলো তিনবার ধৌতকরণের মাধ্যমে পবিত্রতায় পূর্ণতা অর্জন করা, যেমনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শরীয়তে স্থিরীকৃত হয়েছে (১)।

ইসরা ও মি’রাজের রাতে তিনি সপ্তম আকাশের উপরে এমন এক স্থানে পৌঁছান যেখানে কলমের খসখস শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সেখানে তাঁর ওপর সালাত ফরজ করা হয় এবং তিনি নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ইমামতি করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। ভোর হওয়ার পূর্বেই তিনি মক্কায় ফিরে আসেন এবং তাওহীদের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন। হিজরতের পূর্বে তিনি মক্কায় তিন বছর সালাত আদায় করেন। যখন কুরাইশদের পক্ষ থেকে নির্যাতন তীব্রতর হলো এবং স্বগোত্রীয়দের মাঝে তাওহীদের দাওয়াতের তেরো বছর পূর্ণ হলো, তখন আল্লাহ তাঁকে হিজরতের অনুমতি দিলেন। ফলে তিনি মদীনায় হিজরত করলেন এবং সেখানে তাঁর ওপর ইসলামের অবশিষ্ট বিধানসমূহ ফরজ করা হলো...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী বি-শারহি সহীহিল বুখারী, ৭/ ২০৪ - ২০৫।