(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: -)
حملة الأوغاد على خير العباد   (شحاتة صقر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: حملة الأوغاد على خير العباد

المؤلف: شحاتة محمد صقر

الناشر: دار الخلفاء الراشدين - دار الفتح الإسلامي، الإسكندرية

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1433

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের বিরুদ্ধে দুরাচারদের অভিযান   (শেহাতা সকর)

বিভাগ: উপদল ও খণ্ডন


গ্রন্থ: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের বিরুদ্ধে দুরাচারদের অভিযান

লেখক: শেহাতা মুহাম্মদ সকর

প্রকাশক: দারুল খুলাফা আল-রাশিদিন - দারুল ফাতহ আল-ইসলামি, আলেকজান্দ্রিয়া

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: -)
حملة الأوغاد

على خير العباد صلى الله عليه وآله وسلم

لا يضر السحابَ نبْحُ الكلاب
নীচাত্মাদের আক্রমণ

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের প্রতি (তাঁর ও তাঁর পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)

কুকুরের ঘেউঘেউ মেঘমালার কোনো ক্ষতি করতে পারে না
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كلمات ليست عابرة

«حالُ مَن يَسُبُّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم كالباصق على الشمس … لن تجاوزَ البصقةُ رأسَه ثم تهوِي على وجهِه، ولا يضرُّ الشمسَ شيءٌ».

(بيير فوجل)

أحد المسلمين الألمان

وأحد الدعاة إلى الإسلام في ألمانيا.
অমোঘ বাণী

«যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে গালি দেয় বা অবমাননা করে, তার দৃষ্টান্ত ঠিক সূর্যের দিকে থুতু নিক্ষেপকারীর ন্যায় … সেই থুতু তার নিজের মাথা অতিক্রম করবে না, বরং তা পুনরায় তার নিজের মুখের ওপরই আছড়ে পড়বে। এতে সূর্যের বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি হবে না।»

(পিয়েরে ভোগেল)

জার্মান মুসলিমদের একজন

এবং জার্মানিতে ইসলামের অন্যতম একজন দাঈ (ধর্মপ্রচারক)।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

إِنَّ الْحَمْدَ لِلهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} (آل عمران: 102). {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} (النساء: 1). {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70)}. (الأحزاب: 70).

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم، وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ،
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ ফলাফল থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} (আলে ইমরান: ১০২)। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (১)} (নিসা: ১)। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)}। (আহযাব: ৭০)।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلَّ ضَلَالَةٍ في النَّارِ.

قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ (112)} (الأنعام: 112)، وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا (31) (الفرقان: 31).

إن الهجمة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم من بعض الأوغاد لن تنال من قدر النبي صلى الله عليه وآله وسلم شيئًا، فقد رفع الله ذكره، وأعطاه الخير الكثير، قال تعالى: {أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ (1) وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ (2) الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ (3) وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ (4)} (الشرح: 1 - 4). وقال تعالى: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ (1) فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ (2) إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ} (الكوثر: 1 - 3).
এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয় ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

মহান আল্লাহ বলেন: "এরূপেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু নিযুক্ত করেছি; তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যপূর্ণ কথার কুমন্ত্রণা দেয়। আর যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন, তবে তারা তা করত না। সুতরাং তুমি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে বর্জন করো।" (আল-আনআম: ১১২), এবং মহান আল্লাহ বলেন: "এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু সৃষ্টি করেছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।" (আল-ফুরকান: ৩১)।

নিশ্চয়ই কতিপয় নীচ ব্যক্তির পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর এই আক্রমণ তাঁর মর্যাদার বিন্দুমাত্র হানি করতে পারবে না; কারণ আল্লাহ তাঁর সম্মান ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন এবং তাঁকে প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কি তোমার জন্য তোমার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি? এবং আমি তোমার থেকে তোমার সেই বোঝা লাঘব করেছি, যা তোমার পিঠ ভেঙে দিচ্ছিল। আর আমি তোমার জন্য তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।" (আশ-শারহ: ১-৪)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কাউসার দান করেছি। অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কুরবানি করো। নিশ্চয়ই তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই নির্বংশ।" (আল-কাউসার: ১-৩)।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
إن الذين يحاولون أن ينالوا منه صلى الله عليه وآله وسلم مَثَلُهُم كما قال الشاعر:

كناطحٍ صخرةً يومًا لِيُوهِنَها

فلم يَضِرْها وأوْهَى قرنَه الوعِلُ

وكما قيل: «لا يضر السحابَ نبحُ الكلاب، ولن يَضِيرَ السماءَ نقيقُ الضفادع».

يا نَاطِحَ الجَبَلَ العالي ليَكْلِمَه

أَشفِقْ على الرّأسِ لا تُشْفِقْ على الجَبَلِ

فرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قمةٌ سامقة وجبلٌ شامخ لن تضره السهام الضعيفة لهؤلاء الأوغاد، ولا نَفْخُ أفواههم الكليلة، وكل المسلمين فداءٌ لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم.

إمامَ المرسلينَ فِداكَ رُوحي … وأرواحُ الأئمةِ والدعاةْ … رسُولَ العالمينَ فِداكَ عِرضِي … وأعراضُ الأحبةِ والتقاة (1)

--------------------------------------------

(1) للشاعر صالح بن علي العمري.
যারা তাঁর (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) অমর্যাদা করার চেষ্টা করে, তাদের দৃষ্টান্ত হলো ঠিক সেই কবির বর্ণনার মতো:

যেন কোনো এক বনছাগল একদিন এক বিশাল পাথরকে চূর্ণ করার নেশায় আঘাত করেছিল,

কিন্তু সে পাথরের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজের শিংটিকেই ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল।

যেমন প্রবাদে বলা হয়েছে: «কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে মেঘমালার কোনো ক্ষতি হয় না, আর ব্যাঙের ডাক কখনও আকাশের কোনো অনিষ্ট করতে পারে না»।

হে উচ্চ পর্বতকে আঘাতকারী, তুমি কি পাহাড়কে জখম করতে চাও?

নিজের মাথার মায়াই করো, পাহাড়ের জন্য করুণা দেখানোর প্রয়োজন নেই।

বস্তুত আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) হলেন এক অত্যুচ্চ শিখর এবং সুউচ্চ মহিমাময় পর্বত। এই সব নরাধমদের নিক্ষিপ্ত দুর্বল তিরসমূহ কিংবা তাদের ক্লান্ত মুখের ফুৎকার তাঁর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। সকল মুসলিমই আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর চরণে উৎসর্গিত প্রাণ।

হে রাসূলগণের ইমাম! আপনার তরে আমার প্রাণ বিসর্জিত হোক … এবং সকল মহান ইমাম ও দাঈগণের প্রাণও … হে বিশ্বজগতের রাসূল! আপনার সম্মানের তরে আমার সম্ভ্রম উৎসর্গিত হোক … এবং সকল প্রিয়জন ও আল্লাহভীরুদের সম্মানও (১)

--------------------------------------------

(১) কবি সালিহ বিন আলী আল-উমারীর উক্তি।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌جريمة

الاستهزاء بالنبي صلى الله عليه وآله وسلم
-

هزّت العالمَ الإسلاميَّ أجمع تلك الحملات المشينة التي تهدف إلى الإساءة إلى خير العباد، البشير النذير، رسول الله محمد صلى الله عليه وآله وسلم، وكم آلمت كل مسلم غيورٍ على دينه بما فيها من استهزاء وسخرية بمعتقدات أمتنا الإسلامية.

 

‌‌هل تطفئ البصقة ضوء الشمس؟

قال بيير فوجل (أبو حمزة): «حالُ مَن يَسُبُّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم كالباصق على الشمس … لن تجاوزَ البصقةُ رأسَه ثم تهوِي على وجهِه، ولا يضرُّ الشمسَ شيءٌ».

و (بيير فوجل) هو أحد المسلمين الألمان، وأحد الدعاة إلى الإسلام في ألمانيا، وكان نصرانيًا بروتستانتيًا، أسلم على يديه في يوم واحد 1250 شخصًا بعد محاضرة ألقاها عن الإسلام.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে

উপহাস করার অপরাধ
-

সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে সেই সব ঘৃণ্য প্রচারণা, যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত। এতে আমাদের ইসলামি উম্মাহর বিশ্বাসের প্রতি যে উপহাস ও বিদ্রূপ করা হয়েছে, তা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের অন্তরকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

 

থুথু কি সূর্যের আলো নেভাতে পারে?

পিয়েরে ভোগেল (আবু হামজা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয়, তার উদাহরণ হলো সূর্যের দিকে থুথু নিক্ষেপকারীর মতো … থুথুটি তার মাথার উপরে যাবে না বরং তা পুনরায় তার নিজের মুখেই পতিত হবে, অথচ সূর্যের এতে কোনোই ক্ষতি হবে না।"

পিয়েরে ভোগেল হলেন একজন জার্মান মুসলিম এবং জার্মানির অন্যতম ইসলামি দাঈ। তিনি পূর্বে একজন প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান ছিলেন। ইসলামের উপর তার প্রদানকৃত একটি বক্তৃতার পর একদিনে ১২৫০ জন ব্যক্তি তার নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
قال تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعَى إِلَى الْإِسْلَامِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (7) يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ (8) هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (9)} (الصف: 7 - 9).

{وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ} والحال أنه لا عذر له، وقد انقطعت حجته؛ لأنه {يُدْعَى إِلَى الْإِسْلَامِ} ويُبَيَّن له ببراهينه وبيناته، {وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} الذين لا يزالون على ظلمهم مستقيمين، لا تَرُدُّهم عنه موعظة، ولا يزجرهم بيان ولا برهان، خصوصًا هؤلاء الظلمة القائمين بمقابلة الحق ليردوه، ولينصروا الباطل، ولهذا قال الله عنهم: {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ} أي: بما يصدر منهم من المقالات الفاسدة، التي يرُدُّون بها الحق، وهي لا حقيقة لها، بل تزيد البصير معرفة بما هم عليه من الباطل، {وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} أي: قد تكفل الله بنَصْر
মহান আল্লাহ বলেন: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, অথচ তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হয়? আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৭)। তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে (৮)। তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে (৯)} (আস-সাফ: ৭ - ৯)।

{আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে} এমতাবস্থায় যে তার কোনো ওজর অবশিষ্ট নেই এবং তার সমস্ত প্রমাণ খণ্ডন হয়ে গেছে; কারণ {তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে} এবং তার নিকট ইসলামের দলিল-প্রমাণাদি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, {আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না} যারা নিরন্তর তাদের জুলুমের ওপর অবিচল থাকে, কোনো উপদেশ তাদের তা থেকে ফিরিয়ে আনে না এবং কোনো বর্ণনা বা প্রমাণ তাদের বিরত রাখে না। বিশেষ করে সেই সব জালেম যারা সত্যের মোকাবিলায় লিপ্ত যাতে তারা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে এবং বাতিলকে বিজয়ী করতে পারে; একারণেই আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়} অর্থাৎ তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া সেই সব ভ্রান্ত বক্তব্যের মাধ্যমে, যার দ্বারা তারা সত্যকে রদ করতে চায়। অথচ সেগুলোর কোনো বাস্তবতা নেই, বরং তা একজন বিচক্ষণ ব্যক্তির নিকট তাদের ভ্রষ্টতা সম্পর্কে জ্ঞান আরও বৃদ্ধি করে দেয়, {কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন...
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
دينه، وإتمام الحق الذي أرسل به رسله، وإشاعة نوره على سائر الأقطار، ولو كره الكافرون، وبذلوا بسبب كراهتهم كل سبب يتوصلون به إلى إطفاء نور الله فإنهم مغلوبون.

وصاروا بمنزلة من ينفخ عين الشمس بفمه ليطفئها، فلا على مرادهم حصلوا ولا سَلِمَتْ عقولهم من النقص والقدح فيها. فنور الله لا يمكن أن تطفئه الأفواه، ولا أن تطمسه كذلك النار والحديد، في أيدي العبيد! وإن خُيِّلَ للطغاة الجبارين، وللأبطال المصنوعين على أعين الصليبيين واليهود أنهم بَالِغُو هذا الهدف البعيد!

ثم ذكر سبب الظهور والانتصار للدين الإسلامي، الحسي والمعنوي، فقال: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى} أي: بالعلم النافع والعمل الصالح. بالعلم الذي يهدي إلى الله وإلى دار كرامته، ويهدي لأحسن الأعمال والأخلاق، ويهدي إلى مصالح الدنيا والآخرة.
তাঁর দ্বীন এবং সেই সত্যের পূর্ণতা যার মাধ্যমে তিনি তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, আর সমস্ত অঞ্চলে তাঁর নূরের বিস্তার ঘটানো—যদিও অবিশ্বাসীরা তা অপছন্দ করে এবং তাদের বিদ্বেষের কারণে তারা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য সকল উপায় অবলম্বন করে, তবুও তারা পরাজিত।

তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে সূর্যের প্রখরতাকে নিজ মুখ দিয়ে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়; ফলে তারা না তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে, আর না তাদের বিবেক-বুদ্ধি ত্রুটি ও নিন্দা থেকে রক্ষা পেয়েছে। কেননা আল্লাহর নূরকে মুখের ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, আর না তা দাসদের হাতে থাকা আগুন ও লোহা দিয়ে মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব! যদিও উদ্ধত স্বৈরশাসকদের নিকট এবং ক্রুসেডার ও ইহুদিদের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা তথাকথিত বীরদের নিকট মনে হয় যে, তারা এই সুদূরপরাহত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে!

অতঃপর তিনি ইসলামি দ্বীনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান বিজয় এবং শ্রেষ্ঠত্বের কারণ উল্লেখ করে বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াতসহ প্রেরণ করেছেন।" অর্থাৎ: উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলসহ। এমন জ্ঞান যা আল্লাহর দিকে এবং তাঁর চিরস্থায়ী নিআমতের গৃহের দিকে পথপ্রদর্শন করে, যা সর্বোত্তম আমল ও চরিত্রের দিকে পরিচালিত করে এবং যা দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণের পথ দেখায়।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
{وَدِينِ الْحَقِّ} أي: الدين الذي يُدَانُ به، ويُتَعَبَّد لرب العالمين الذي هو حق وصدق، لا نقص فيه، ولا خلل يعتريه، بل أوامره غذاء القلوب والأرواح وراحة الأبدان، وتَرْكُ نواهيه سلامة من الشر والفساد؛ فما بُعِثَ به النبي صلى الله عليه وآله وسلم من الهدى ودين الحق، أكبر دليل وبرهان على صدقه، وهو برهان باقٍ ما بقي الدهر، كلما ازداد العاقل تفكرًا، ازداد به فرحًا وتبصرًا.

{لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} أي: ليعليه على سائر الأديان، بالحجة والبرهان، ويظهر أهله القائمين به بالسيف والسنان، فأما نفس الدين، فهذا الوصف ملازم له في كل وقت، فلا يمكن أن يغالبه مغالب، أو يخاصمه مخاصم إلا فلجه وبلسه، وصار له الظهور والقهر، وأما المنتسبون إليه، فإنهم إذا قاموا به، واستناروا بنوره، واهتدوا بهديه، في مصالح دينهم ودنياهم، فكذلك لا يقوم لهم أحد، ولابد أن يظهروا على أهل الأديان، وإذا ضيعوه واكتفوا
{ও সত্য দ্বীন} অর্থাৎ: সেই দ্বীন যার মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করা হয় এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের ইবাদত করা হয়; যা পরম সত্য ও যথার্থ, যাতে কোনো অপূর্ণতা নেই এবং কোনো প্রকার ত্রুটি একে স্পর্শ করতে পারে না। বরং এর আদেশসমূহ হলো অন্তর ও আত্মার খোরাক এবং শরীরের জন্য প্রশান্তিদায়ক; আর এর নিষেধসমূহ বর্জন করার মাঝে নিহিত রয়েছে অনিষ্ট ও বিপর্যয় হতে নিরাপত্তা। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তা তাঁর সত্যতার সর্ববৃহৎ দলিল ও প্রমাণ। এটি এমন এক শাশ্বত প্রমাণ যা কালের বিবর্তনে চিরস্থায়ী; বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটি নিয়ে যত বেশি চিন্তা-গবেষণা করবে, ততই তার আনন্দ ও অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি পাবে।

{যাতে তিনি একে অপর সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন} অর্থাৎ: যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে একে অন্য সব ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন এবং যারা এর ওপর অটল থেকে সংগ্রাম করে তাদের তরবারি ও অস্ত্রের মাধ্যমে বিজয়ী করেন। বস্তুত দ্বীনের মৌলিক সত্তার ক্ষেত্রে এই 'বিজয়' বা 'শ্রেষ্ঠত্ব' গুণটি সর্বাবস্থায় অবিচ্ছেদ্য; সুতরাং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী একে পরাভূত করতে পারে না এবং কোনো বিবাদী এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলে সে পরাজিত ও নিস্তব্ধ হতে বাধ্য, আর চূড়ান্ত বিজয় ও প্রাধান্য এই দ্বীনের জন্যই নির্ধারিত। আর যারা এই দ্বীনের অনুসারী, তারা যখন একে পূর্ণরূপে ধারণ করবে, এর জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে এর হিদায়াত অনুসরণ করবে, তখনও তাদের সামনে কেউ টিকতে পারবে না এবং তারা অবশ্যই অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর বিজয়ী হবে। আর যখন তারা একে বিনষ্ট করবে এবং কেবল...
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
منه بمجرد الانتساب إليه، لم ينفعهم ذلك، وصار إهمالهم له سبب تسليط الأعداء عليهم، ويعرف هذا، من استقرأ الأحوال ونظر في أول المسلمين وآخرهم.

 

‌‌إنا أعطيناك الكوثر:

قال تعالى: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ (1) فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ (2) إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ (3)} (الكوثر: 1 - 3).

يقول الله سبحانه وتعالى لنبيه محمد صلى الله عليه وآله وسلم ممتنا عليه: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ} أي: الخير الكثير، والفضل الغزير، الذي من جملته، ما يعطيه الله لنبيه صلى الله عليه وآله وسلم يوم القيامة، من النهر الذي يُقالُ له {الْكَوْثَرَ} ومن الحوض. طوله شهر، وعرضه شهر، ماؤه أشد بياضًا من اللبن، وأحلى من العسل، آنيته كنجوم السماء في كثرتها واستنارتها، من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدًا.
এর সাথে কেবল সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমে, তা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। বরং এর প্রতি তাদের অবহেলাই শত্রুদের তাদের ওপর চেপে বসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা মুসলিম উম্মাহর আদি ও অন্ত ইতিহাস এবং সমসাময়িক অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা এই সত্য অনুধাবন করতে পারেন।

 

‌‌নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি:

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি (১) অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন (২) নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ (৩)} (আল-কাউসার: ১ - ৩)।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করে বলছেন: {নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি} অর্থাৎ: অজস্র কল্যাণ এবং অঢেল অনুগ্রহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা দান করবেন; যেমন সেই নহর যাকে 'কাউসার' বলা হয় এবং হাউজ। এর দৈর্ঘ্য এক মাসের পথ এবং প্রস্থ এক মাসের পথ, যার পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি, যার পানপাত্রগুলো সংখ্যায় এবং উজ্জ্বলতায় আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো; যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
عَنْ أَبِى ذَرٍّ سدد خطاكم قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ، مَا آنِيَةُ الْحَوْضِ؟»، قَالَ: «وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لآنِيَتُهُ أَكْثَرُ مِنْ عَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ وَكَوَاكِبِهَا، أَلَا فِى اللَّيْلَةِ الْمُظْلِمَةِ الْمُصْحِيَةِ آنِيَةُ الْجَنَّةِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهَا لَمْ يَظْمَأْ آخِرَ مَا عَلَيْهِ، يَشْخُبُ فِيهِ مِيزَابَانِ مِنَ الْجَنَّةِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ، عَرْضُهُ مِثْلُ طُولِهِ، مَا بَيْنَ عَمَّانَ إِلَى أَيْلَةَ، مَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ». (رواه مسلم).

الْمُصْحِيَةِ: التى لَا غَيْمَ فِيهَا.

(أَلَا فِي اللَّيْلَةِ الْمُظْلِمَةِ الْمُصْحِيَةِ) أَلَا: لِلِاسْتِفْتَاحِ، وَخَصَّ اللَّيْلَةَ الْمُظْلِمَةَ الْمُصْحِيَةِ لأن النجوم تُرَى فيها أكثر، والمراد بِالْمُظْلِمَةِ الَّتِي لَا قَمَرَ فِيهَا مَعَ أَنَّ النُّجُومَ طَالِعَةٌ؛ فَإِنَّ وُجُودَ الْقَمَرِ يَسْتُرُ كَثِيرًا من النجوم.

(آنِيَةُ الْجَنَّةِ) أَيْ هِيَ آنِيَةُ الْجَنَّةِ، أوَ أَعْنِي آنِيَةَ الْجَنَّةِ.

(لَمْ يَظْمَأْ آخِرَ مَا عَلَيْهِ) أي لَمْ يَظْمَأْ أبدًا.

(يَشْخُبُ): يَسِيلُ، الشَّخْبُ: السَّيَلَانُ.
আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হাউযের পানপাত্রগুলো কেমন? তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয়ই এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্র ও গ্রহরাজির সংখ্যার চেয়েও অধিক। শোনো, মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতের জান্নাতের সেই পানপাত্রসমূহ; যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে, সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। সেখানে জান্নাত থেকে দু’টি প্রণালী দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না। এর প্রস্থ এর দৈর্ঘ্যের সমান, যা আম্মান থেকে আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি।" (মুসলিম)।

আল-মুসহিয়াহ: যাতে কোনো মেঘ নেই।

(শোনো, মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে) 'আলা' শব্দটি আলোচনার সূচনালগ্নে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তখন নক্ষত্ররাজি অধিক সংখ্যায় ও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। এখানে 'অন্ধকার রাত' বলতে এমন রাত উদ্দেশ্য যেখানে চাঁদ নেই অথচ নক্ষত্ররা উদিত রয়েছে; কেননা চাঁদের উপস্থিতিতে অনেক নক্ষত্রই দৃষ্টির আড়ালে পড়ে যায়।

(জান্নাতের পানপাত্রসমূহ) অর্থাৎ এগুলো জান্নাতেরই পানপাত্র, অথবা এর দ্বারা জান্নাতের পানপাত্রসমূহকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

(সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না) অর্থাৎ সে অনন্তকালের জন্য তৃষ্ণা থেকে মুক্তি পাবে।

(প্রবাহিত হওয়া): এর অর্থ হলো গড়িয়ে পড়া বা জারি হওয়া। 'শাখব' অর্থ প্রবাহ বা স্রোত।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
(الميزاب): أنبوبة تُرَكَّبُ فى جانب البيت مِن أعلاه لينْصَرِف منها ماء المطر.

(عمان) هي بلدة بالبلقاء من الشام قال الحازمي قال ابن الأعرابي يجوز أن يكون فعلان من عم يعم فلا ينصرف معرفة وينصرف نكرة قال ويجوز أن يكون فعالا من عمن فينصرف معرفة ونكرة إذا عنى بها البلد هذا كلامه والمعروف في روايات الحديث وغيرها ترك صرفها]

وعَنْ ثَوْبَانَ سدد خطاكم أَنَّ نَبِىَّ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: «إِنِّى لَبِعُقْرِ حَوْضِى أَذُودُ النَّاسَ لأَهْلِ الْيَمَنِ أَضْرِبُ بِعَصَاىَ حَتَّى يَرْفَضَّ عَلَيْهِمْ». فَسُئِلَ عَنْ عَرْضِهِ فَقَالَ: «مِنْ مَقَامِى إِلَى عَمَّانَ». وَسُئِلَ عَنْ شَرَابِهِ فَقَالَ: «أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ يَغُتُّ فِيهِ مِيزَابَانِ يَمُدَّانِهِ مِنَ الْجَنَّةِ أَحَدُهُمَا مِنْ ذَهَبٍ وَالآخَرُ مِنْ وَرِقٍ».

(عُقْرِ حَوْضِي) هُوَ مَوْقِفُ الْإِبِلِ مِنَ الْحَوْضِ إِذَا وَرَدَتْهُ، وَقِيلَ: مُؤَخَّرُهُ. (أَذُودُ النَّاسَ لِأَهْلِ الْيَمَنِ أَضْرِبُ بِعَصَايَ حَتَّى يَرْفَضَّ عَلَيْهِمْ) مَعْنَاهُ أَطْرُدُ النَّاسَ عَنْهُ غَيْرَ
(আল-মিজাব/পরনালি): এটি একটি নল যা ঘরের উপরের অংশে একপাশে স্থাপন করা হয় যাতে বৃষ্টির পানি সেখান দিয়ে নির্গত হতে পারে।

(আম্মান): এটি শামের বালকা অঞ্চলের একটি শহর। আল-হাযমি বলেন, ইবনুল আরাবি বলেছেন যে, শব্দটি ‘আম্মা-ইয়াউম্মু’ ধাতু থেকে ‘ফালান’ ওজনে হতে পারে, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট (মারেফা) অবস্থায় এটি গায়রে মুনসারিফ (অব্যয়ী) হবে এবং অনির্দিষ্ট (নাকেরা) অবস্থায় মুনসারিফ হবে। তিনি আরও বলেন যে, এটি ‘আমান’ থেকে ‘ফায়াল’ ওজনে হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে শহর হিসেবে গণ্য হলে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট উভয় অবস্থায় মুনসারিফ হবে। এটি তাঁর বক্তব্য। তবে হাদিসের বর্ণনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে একে গায়রে মুনসারিফ হিসেবে ব্যবহার করাই সুপ্রসিদ্ধ।

সওবান (আল্লাহ আপনার পদক্ষেপসমূহ সুদৃঢ় করুন) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার হাওজের কিনারায় দাঁড়িয়ে ইয়েমেনবাসীদের জন্য অন্য মানুষদের সরিয়ে দেব। আমি আমার লাঠি দিয়ে আঘাত করব যাতে তাদের জন্য পানির পথ উন্মুক্ত হয়।" অতঃপর তাঁকে হাওজের প্রশস্ততা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আমার এই স্থান থেকে আম্মান পর্যন্ত।" আর এর পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এটি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। জান্নাত থেকে আসা দুটি নালি এতে পানি সরবরাহ করে; যার একটি স্বর্ণের এবং অন্যটি রূপার।"

(উকরি হাওজি): এটি হাওজের সেই স্থান যেখানে উট পানি পানের জন্য আসার পর দাঁড়ায়। আবার বলা হয়েছে, এটি হাওজের পেছনের অংশ। (আমি ইয়েমেনবাসীদের জন্য অন্য মানুষদের সরিয়ে দেব এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করব যাতে তাদের জন্য পানির পথ উন্মুক্ত হয়): এর অর্থ হলো আমি অন্যদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেব...
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أَهْلِ الْيَمَنِ لِيَرْفَضَّ عَلَى أَهْلِ الْيَمَنِ وَهَذِهِ كَرَامَةٌ لِأَهْلِ الْيَمَنِ فِي تَقْدِيمِهِمْ فِي الشُّرْبِ مِنْهُ مُجَازَاةً لَهُمْ بِحُسْنِ صَنِيعِهِمْ وَتَقَدُّمِهِمْ فِي الْإِسْلَامِ، وَالْأَنْصَارُ مِنَ الْيَمَنِ فَيَدْفَعُ غَيْرَهُمْ حَتَّى يَشْرَبُوا كَمَا دَفَعُوا فِي الدُّنْيَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم أَعْدَاءَهُ وَالْمَكْرُوهَاتِ، وَمَعْنَى (يَرْفَضَّ عَلَيْهِمْ) أَيْ يَسِيلُ عَلَيْهِمْ.

(يَغُتُّ فِيهِ مِيزَابَانِ يَمُدَّانِهِ) مَعْنَاهُ يَدْفُقَانِ فِيهِ الْمَاءَ دَفْقًا مُتَتَابِعًا شَدِيدًا، وَقِيلَ: يَصُبَّانِ فِيهِ دَائِمًا صَبًّا شَدِيدًا.

(يَمُدَّانِهِ) أَيْ يَزِيدَانِهِ وَيُكْثِرَانِهِ. الوَرِق: الفِضَّة.

والكوثر صيغة من الكثرة وهو مطلق غير محدود. يشير إلى عكس المعنى الذي أطلقه هؤلاء السفهاء. إنا أعطيناك ما هو كثر فائض غزير. غير ممنوع ولا مبتور. فإذا أراد أحد أن يتتبع هذا الكوثر الذي أعطاه الله لنبيه فهو واجده حيثما نظر أو تصور.

هو واجِدُه في النبوة. وهو واجده في هذا القرآن الذي نزل عليه. وسورة واحدة منه كوثر لا نهاية لكثرته، وينبوع
ইয়েমেনবাসীদের জন্য, যাতে তা ইয়েমেনবাসীদের ওপর প্রবাহিত হয়; এটি পান করার ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি একটি সম্মান প্রদর্শন, যা তাঁদের উত্তম আমল এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী হওয়ার প্রতিদানস্বরূপ। আনসারগণও ইয়েমেন বংশোদ্ভূত, সুতরাং তিনি অন্যদের হটিয়ে দেবেন যতক্ষণ না তাঁরা পান করেন, ঠিক যেমন তাঁরা দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে তাঁর শত্রু ও অনিষ্টকে প্রতিহত করেছিলেন। আর 'ইয়ারফাদ্বা আলাইহিম' শব্দের অর্থ হলো তাঁদের ওপর প্রবাহিত হওয়া।

'(তাতে দু’টি প্রণালী প্রবলবেগে পানি বর্ষণ করে যা তাকে সমৃদ্ধ করে)' এর অর্থ হলো তারা তাতে অবিরাম ও প্রবলবেগে পানি ঢালতে থাকে। আবার বলা হয়েছে: তারা তাতে স্থায়ীভাবে প্রবল ধারায় পানি বর্ষণ করে।

'(ইয়ামুদ্দানিহি)' অর্থাৎ তারা তা বৃদ্ধি করে ও প্রাচুর্যময় করে। 'আল-ওয়ারিক্ব' অর্থ হলো রুপা।

কাওসার শব্দটি 'প্রাচুর্য' অর্থবোধক একটি রূপ এবং এটি নিরঙ্কুশ ও অসীম। এটি সেই নির্বোধদের দাবিকৃত অর্থের বিপরীত বিষয়কে নির্দেশ করে। নিশ্চয়ই আমি আপনাকে এমন কিছু দান করেছি যা অতি প্রাচুর্যময়, উপচে পড়া এবং অফুরন্ত; যা রুদ্ধ নয় এবং বিচ্ছিন্নও নয়। সুতরাং যদি কেউ এই কাওসারের অনুসন্ধান করতে চায় যা আল্লাহ তাঁর নবীকে দান করেছেন, তবে তিনি যেখানেই দৃষ্টি দেবেন বা কল্পনা করবেন সেখানেই তা খুঁজে পাবেন।

তিনি তা নবুওয়াতের মাঝে খুঁজে পাবেন। তিনি তা তাঁর ওপর অবতীর্ণ এই কুরআনের মাঝে খুঁজে পাবেন। এর একটি সূরাও এমন এক কাওসার যার প্রাচুর্যের কোনো শেষ নেই, এবং এটি একটি ঝরনাধারা।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
لا نهاية لفيضه وغزارته! وهو واجده في الملأ الأعلى الذي يصلي عليه، ويصلي على من يصلي عليه في الأرض، حيث يقترن اسمه باسم الله في الأرض والسماء.

وهو واجده في سنته الممتدة على مدار القرون، في أرجاء الأرض، وفي الملايين بعْدَ الملايين السائرة على أثره، وملايين الملايين من الألسنة والشفاه الهاتفة باسمه، وملايين الملايين من القلوب المحبة لسيرته وذكراه إلى يوم القيامة.

وهو واجِدُه في الخير الذي فاض على البشرية في جميع أجيالها بسببه وعن طريقه. سواء مَن عرفوا هذا الخير فآمنوا به، ومَن لم يعرفوه ولكنه فاض عليهم فيما فَاض!

وهو واجِدُه في مظاهر شتى، محاولة إحصائها ضرب من تقليلها وتصغيرها!
তাঁর অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যের কোনো শেষ নেই! তিনি তা লাভ করেন সেই ঊর্ধ্বজগতে যারা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করে এবং যারা পৃথিবীতে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করে তাঁদের জন্যও দোয়া করে; সেখানে পৃথিবী ও আকাশে আল্লাহর নামের সাথে তাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

তিনি তা খুঁজে পান শতাব্দীকাল ধরে পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত তাঁর সুন্নাহর মাঝে, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী কোটি কোটি মানুষের মাঝে, তাঁর নাম উচ্চারণকারী কোটি কোটি রসনা ও ওষ্ঠাধরে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সীরাত ও স্মৃতির প্রতি প্রেমাসক্ত কোটি কোটি হৃদয়ে।

তিনি তা খুঁজে পান সেই কল্যাণের মাঝে যা তাঁরই কারণে এবং তাঁরই মাধ্যমে সকল প্রজন্মের মানবজাতির ওপর বর্ষিত হয়েছে—চাই তারা এই কল্যাণকে চিনে এতে বিশ্বাস স্থাপন করে থাকুক, কিংবা যারা একে চিনতে না পারলেও এর ফল লাভ করেছে!

তিনি তা খুঁজে পান নানাবিধ বহিঃপ্রকাশের মাঝে, যা গণনা করার চেষ্টা করা মূলত তাকে তুচ্ছ ও সংকুচিত করারই নামান্তর!
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
إنه الكوثر، الذي لا نهاية لفيضه، ولا إحصاء لعوارفه، ولا حد لمدلوله. ومِن ثَمَّ ترَكه النص بلا تحديد، يشمل كل ما يكثر من الخير ويزيد.

ولما ذكر الله سبحانه وتعالى مِنَّتَه عليه، أمره بشكرها فقال: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} خص هاتين العبادتين بالذكر لأنهما من أفضل العبادات وأجل القربات.

فعلى غير ما أرجف المرجفون وقال الكائدون، وجه الرسول صلى الله عليه وآله وسلم إلى شكر النعمة بحقها الأول. حق الإخلاص والتجرد لله في العبادة وفي الاتجاه. في الصلاة وفي ذبح النسك خالصاً لله غير مُلْقٍ بالًا إلى شرك المشركين، وغير مشارك لهم في عبادتهم أو في ذكر غير اسم الله على ذبائحهم.

والصلاة تتضمن الخضوع في القلب والجوارح لله، وتنقلها في أنواع العبودية، وفي النحر تقرب إلى الله بأفضل ما عند العبد من الذبائح، وإخراج للمال الذي جبلت النفوس على محبته والشح به.
এটিই হলো সেই ‘কাউসার’, যার প্রবাহের কোনো সমাপ্তি নেই, যার অনুগ্রহরাজি অগণিত এবং যার তাৎপর্য সীমাহীন। আর এ কারণেই মূল পাঠে একে নির্দিষ্ট কোনো সীমারেখায় আবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং তা কল্যাণ ও প্রাচুর্যের সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে।

মহান আল্লাহ যখন তাঁর ওপর এই অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করলেন, তখন তিনি এর কৃতজ্ঞতা আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বললেন: ‘অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন’। বিশেষ করে এই দুটি ইবাদতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এগুলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মহান মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

অপপ্রচারকারীদের মিথ্যা রটনা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উক্তির বিপরীতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ামতের শোকর আদায়ের সেই মৌলিক হকের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—যা হলো ইবাদত ও অভীষ্ট লক্ষ্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা ও একাত্মতা। তা সালাতের মাধ্যমে হোক কিংবা আত্মোৎসর্গের পশুর জবেহ করার মাধ্যমে হোক; যা হবে একমাত্র আল্লাহরই সন্তুষ্টির জন্য। সেখানে মুশরিকদের শিরকের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ থাকবে না এবং তাদের ইবাদতে কিংবা জবেহকৃত পশুর ওপর আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কারো নাম উচ্চারণ করার মতো কাজে তাদের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।

সালাত আল্লাহর সমীপে অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিনয় ও আনুগত্যকে শামিল করে এবং বান্দাকে বন্দেগির বিভিন্ন স্তরে আবর্তিত করে। আর কোরবানির মাধ্যমে বান্দা তার সর্বশ্রেষ্ঠ পশুর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করে এবং সেই সম্পদ ব্যয় করে, যার প্রতি মানুষের মন স্বভাবজাতভাবেই আসক্ত ও কৃপণ।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
{إِنَّ شَانِئَكَ} أي: مبغِضُك وذامُّك ومنتقصك {هُوَ الْأَبْتَرُ} أي: المقطوع من كل خير، مقطوع العمل، مقطوع الذكر. وأما محمد صلى الله عليه وآله وسلم، فهو الكامل حقًا، الذي له الكمال الممكن في حق المخلوق، من رَفْع الذكر، وكثرة الأنصار والأتباع صلى الله عليه وآله وسلم.

في الآية الأولى قرر أنه ليس أبتر بل هو صاحب الكوثر. وفي هذه الآية يرد الكيد على كائديه، ويؤكد سبحانه وتعالى أن الأبتر ليس هو محمد صلى الله عليه وآله وسلم، إنما هم شانئوه وكارهوه.

ولقد صدق فيهم وعيد الله. فقد انقطع ذكرهم وانطوى. بينما امتد ذكر محمد صلى الله عليه وآله وسلم وعلا. ونحن نشهد اليوم مصداق هذا القول الكريم، في صورة باهرة واسعة المدى كما لم يشهده سامعوه الأولون!
{নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই} অর্থাৎ: আপনার প্রতি ঘৃণাকারী, আপনার নিন্দাকারী এবং আপনাকে হেয় প্রতিপন্নকারী {সে-ই লেজকাটা বা সকল কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন} অর্থাৎ: সে সকল মঙ্গল থেকে বিচ্ছিন্ন, তার কর্মপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন এবং তার নাম-নিশানাও বিলুপ্ত। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হলেন প্রকৃতপক্ষে সেই পূর্ণাঙ্গ সত্তা, সৃষ্টির স্তরে একজন মানুষের জন্য যতটুকু পূর্ণতা অর্জন সম্ভব তার সবই তাঁর মাঝে বিদ্যমান—তা তাঁর সুউচ্চ খ্যাতি ও স্মরণের মাধ্যমে হোক কিংবা তাঁর সাহায্যকারী ও অনুসারীদের আধিক্যের মাধ্যমে হোক (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)।

প্রথম আয়াতে এটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে, তিনি নির্বংশ নন বরং তিনি 'কাওসার' বা অফুরন্ত প্রাচুর্যের অধিকারী। আর এই আয়াতে ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত তাদের ওপরই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ সুবহانাহু ওয়া তায়ালা সুনিশ্চিত করেছেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নির্বংশ নন, বরং যারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করে তারাই প্রকৃতপক্ষে নির্বংশ।

তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর এই হুঁশিয়ারি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তাদের নাম-নিশানা আজ বিলুপ্ত এবং বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। অপরদিকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্মরণ দেশ-কাল ছাপিয়ে সুউচ্চ মর্যদায় আসীন হয়েছে। আজ আমরা এই মহান বাণীর সত্যতা এমন এক বিস্ময়কর ও ব্যাপক পরিসরে প্রত্যক্ষ করছি, যা প্রথম যুগের শ্রোতারাও দেখেনি!
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
إن الإيمان والحق والخير لا يمكن أن يكون أبتر. فهو ممتد الفروع عميق الجذور. وإنما الكفر والباطل والشر هو الأبتر مهما ترعرع وزها وتجبر.

إن مقاييس الله غير مقاييس البشر. ولكن البشر ينخدعون ويغترون فيحسبون مقاييسهم هي التي تقرر حقائق الأمور! وأمامنا هذا المثل الناطق الخالد. فأين الذين كانوا يقولون عن محمد صلى الله عليه وآله وسلم قولتهم اللئيمة، وينالون بها من قلوب الجماهير، ويحسبون حينئذ أنهم قد قضوا على محمد وقطعوا عليه الطريق؟ أين هم؟ وأين ذِكْراهم، وأين آثارهم؟ إلى جوار الكوثر من كل شيء، ذلك الذي أوتيه من كانوا يقولون عنه: الأبتر؟!

إن الدعوة إلى الله والحق والخير لا يمكن أن تكون بتراء ولا أن يكون صاحبها أبتر، وكيف وهي موصولة بالله الحي القيوم؟ إنما يُبْتَر الكفر والباطل والشر، ويُبْتَرُ أهله، مهما بدا في لحظة من اللحظات أنه طويل ممتد الجذور.
নিশ্চয়ই ঈমান, সত্য এবং কল্যাণ কখনো নির্বংশ হতে পারে না; বরং এর শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত এবং শিকড় অত্যন্ত গভীর। পক্ষান্তরে কুফর, বাতিল এবং মন্দই হলো প্রকৃতপক্ষে নির্বংশ, তা যতই সমৃদ্ধ, চাকচিক্যময় এবং অহংকারী রূপ ধারণ করুক না কেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহর মানদণ্ড আর মানুষের মানদণ্ড এক নয়। কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত ও প্রবঞ্চিত হয় এবং মনে করে যে, তাদের মানদণ্ডই বিষয়ের বাস্তবতা নির্ধারণ করে! আমাদের সামনে এই জীবন্ত ও শাশ্বত উদাহরণ বিদ্যমান। কোথায় আজ তারা, যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে হীন উক্তি করত এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়কে প্রভাবিত করত, আর ভাবত যে তারা মুহাম্মাদকে নিঃশেষ করে দিয়েছে এবং তাঁর পথ রুদ্ধ করে ফেলেছে? আজ তারা কোথায়? কোথায় তাদের স্মৃতি আর কোথায় তাদের চিহ্ন? আজ প্রতিটি বিষয়ে সেই ‘কাউসার’ বা প্রাচুর্যের জয়জয়কার, যা তাঁকে দান করা হয়েছে—যাঁকে তারা ‘আবতার’ বা নির্বংশ বলেছিল!

নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে দাওয়াত, সত্য এবং কল্যাণের পথ কখনো চিহ্নহীন হতে পারে না এবং এর আহ্বায়কও কখনো নির্বংশ হতে পারেন না। আর তা হবেই বা কীভাবে, যখন এর সংযোগ স্বয়ং চিরঞ্জীব ও বিশ্বনিয়ন্তা আল্লাহর সাথে? মূলত কুফর, বাতিল এবং মন্দই কর্তিত ও বিলুপ্ত হয় এবং এর অনুসারীরাও চিহ্নহীন হয়ে পড়ে—তা কোনো এক মুহূর্তে যতই দীর্ঘ এবং সুগভীর শিকড়সম্পন্ন মনে হোক না কেন।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أيُّها الشَّانِئُ أَقْصِرْ … إِنَّمَا جِئْتُ لِأَفْخَرْ

برسولِ اللهِ هادِي الناسِ … مِنْ حُمْرٍ وأصفر

كان للناسِ مِثَالًا … يُحتَذَى في كُلِّ معبَرْ

في كمالٍ في خصالٍ … وجهادٍ وتصبُّرْ

أَيُّهَا الشَّانِي تَدَبَّرْ … فِي جَزَاءِ مَنْ تَجَبَّرْ

في جحِيمِ النار تُلْقَى … كُلُّ مَا تَجْنِي مُسَطَّرْ

هل يَضِيرُ الشَّمْسَ يَوْمًا … جَحْدُ مَنْ لِلنُّورِ أَنْكَرْ

هَلْ يُمِيطُ الضَّوْءَ عَنْهَا … أمْ بِنُورِ الْحَقِّ يُقْهَرْ

أَيُّ وَجْهٍ لِقِرَانٍ؟ … ذَاكَ نَجْمٌ لَسْتَ تُذْكَرْ

أَنْتَ لَا تَسْمُو لِتُرْبٍ … دَاسَهُ الْهادي الْمُطَهَّرْ

شَادَ فِي الْآفَاقِ عِزًّا … أُسُّهُ الدِّينُ الْمُظَفَّرْ

أَيُّهَا الْفُجَّارُ مَهْلًا … إِنَّنَا يَوْمًا سَنَثْأَرْ

إِنْ أَقَمْنَا الشَّرْعَ فِينَا … إِنَّنَا حَتْمًا سَنُنْصَرْ
ওহে বিদ্বেষপোষণকারী, ক্ষান্ত হও … আমি কেবল এসেছি গর্ব প্রকাশ করতে

আল্লাহর রাসূলের মাধ্যমে যিনি মানবজাতির পথপ্রদর্শক … শ্বেত ও পীত সকল বর্ণের মানুষের জন্য

তিনি ছিলেন মানুষের জন্য এক অনন্য আদর্শ … যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণীয়

তাঁর পূর্ণতায় ও চারিত্রিক গুণাবলিতে … এবং তাঁর জিহাদ ও ধৈর্যধারণের মহিমায়

ওহে বিদ্বেষপোষণকারী, গভীরভাবে চিন্তা করো … সেই ব্যক্তির পরিণাম সম্পর্কে যে অবাধ্যতা ও দম্ভ প্রদর্শন করে

জাহান্নামের অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে … তোমার অর্জিত সকল পাপাচার তো লিপিবদ্ধ রয়েছে

সূর্যের কি কোনো ক্ষতি হতে পারে কোনোদিন … সেই ব্যক্তির অস্বীকারে যে তার আলোকচ্ছটাকে অস্বীকার করে?

সে কি সূর্য থেকে তার জ্যোতি দূরীভূত করতে পারে … নাকি সত্যের আলোর নিকট সে নিজেই পরাভূত হয়?

তুলনার কি কোনো অবকাশ আছে? … তিনি তো এক সমুজ্জ্বল নক্ষত্র, আর তোমার কোনো উল্লেখই নেই

তুমি তো সেই ধূলিকণার উচ্চতায়ও পৌঁছাতে পারবে না … পবিত্র পথপ্রদর্শক যার ওপর দিয়ে পদচারণা করেছেন

তিনি দিগন্তজুড়ে যে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছেন … তার ভিত্তি হলো সুমহান বিজয়ী দীন

ওহে পাপাচারীরা, ধৈর্য ধরো … আমরা একদিন অবশ্যই এর প্রতিশোধ গ্রহণ করব

যদি আমরা আমাদের মাঝে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত করি … তবে আমরা অবশ্যই ঐশী সাহায্য লাভ করব
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
(الشانئ): المبغِض. (مِنْ حُمْرٍ وأصفر): أي من جميع الأجناس. (قِران): مقارنة. (تُرْب): تراب.

 

‌‌من عادى لله وليًا فإن الله يحاربه فكيف بمن عادى محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم خليل الله عز وجل -:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ سدد خطاكم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «إِنَّ اللهَ قَالَ: «مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْبِ» (رواه البخاري).

(مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا) الْمُرَادُ بِوَلِيِّ اللهِ الْعَالِمُ بِاللهِ الْمُوَاظِبُ عَلَى طَاعَتِهِ الْمُخْلِصُ فِي عِبَادَتِهِ. (فَقَدْ آذَنْتُهُ) أَيْ أَعْلَمْتُهُ، وَالْإِيذَانُ الْإِعْلَامُ، (بِالْحَرْبِ) فَكَأَنَّ الْمَعْنَى فَقَدْ تَعَرَّضَ لِإِهْلَاكِي إِيَّاهُ، فَأَطْلَقَ الْحَرْبَ وَأَرَادَ لَازِمَهُ أَيْ أَعْمَلُ بِهِ مَا يَعْمَلُهُ الْعَدُوُّ الْمُحَارَبُ، وفِي هَذَا تَهْدِيدٌ شَدِيدٌ لِأَنَّ مَنْ حَارَبَهُ اللهُ أَهْلَكَهُ.
(শানি): বিদ্বেষ পোষণকারী। (লাল ও হলুদ থেকে): অর্থাৎ সমস্ত জাতিগোষ্ঠী থেকে। (কিরান): তুলনা বা সহাবস্থান। (তুর্ব): মাটি।

 

‌‌যে ব্যক্তি আল্লাহর কোনো অলির (বন্ধুর) সাথে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন; তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে আল্লাহর খলিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে শত্রুতা করবে? -:

আবু হুরায়রা (আল্লাহ আপনার পথকে সুগম করুন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আমার কোনো অলির সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম'।" (বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন)।

(যে ব্যক্তি আমার কোনো অলির সাথে শত্রুতা করবে) আল্লাহর অলি বলতে উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, তাঁর আনুগত্যে অবিচল এবং তাঁর ইবাদতে একনিষ্ঠ। (আমি তাকে জানিয়ে দিচ্ছি) অর্থাৎ আমি তাকে অবগত করছি; আর 'ইজান' অর্থ হলো অবগত করা বা ঘোষণা দেওয়া। (যুদ্ধের মাধ্যমে) এর অর্থ দাঁড়ায় যে, সে নিজেকে আমার পক্ষ থেকে ধ্বংস হওয়ার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখানে 'যুদ্ধ' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে তার অবধারিত ফলাফল উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে; অর্থাৎ আমি তার সাথে সেই আচরণই করব যা একজন যুদ্ধরত শত্রুর সাথে করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এক কঠোর সতর্কতা, কারণ আল্লাহ যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তিনি তাকে ধ্বংস করে দেন।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الذين يؤذون رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ملعونون في الدنيا والآخرة:

قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (56) إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا (57) وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا (58)} (الأحزاب: 56 - 58).

صلاة الله على النبي صلى الله عليه وآله وسلم ذِكْرُه بالثناء في الملأ الأعلى؛ وصلاة ملائكته دعاؤهم له عند الله سبحانه وتعالى، وهذا فيه تنبيه على كمال رسول اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم ورفعة درجته، وعلو منزلته عند اللهِ سبحانه وتعالى وعند خلقه، ورفع ذِكْرِه.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} اقتداءً باللهِ سبحانه وتعالى وملائكته، وجزاءً له على بعض حقوقه عليكم، وتكميلًا لإيمانكم، وتعظيمًا له صلى الله عليه وآله وسلم، ومحبة وإكرامًا، وزيادةً في حسناتكم، وتكفيرًا من سيئاتكم. وأين
যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দেয় তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত (রহমত) বর্ষণ করেন। হে ঈমানদারগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও যথাযথভাবে সালাম (দরূদ ও সালাম) পাঠ করো (৫৬)। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি (৫৭)। আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল (৫৮)} (আল-আহযাব: ৫৬ - ৫৮)।

নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর আল্লাহর সালাত হলো ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের উচ্চতর সভায় প্রশংসার সাথে তাঁর কথা উল্লেখ করা; আর তাঁর প্রতি ফেরেশতাদের সালাত হলো মহান আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য দোয়া করা। এর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্ণতা, সুউচ্চ মর্যাদা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁর মহান অবস্থান এবং তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

{হে ঈমানদারগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো} এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাদের অনুসরণে, তোমাদের ওপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে তার আংশিক প্রতিদানস্বরূপ, তোমাদের ঈমানের পূর্ণতা সাধনে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে এবং তোমাদের নেকি বৃদ্ধি ও পাপ মোচনের লক্ষ্যে। আর কোথায়...
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
تذهب صلاة البشر وتسليمهم بعد صلاة الله العلي سبحانه وتعالى، وصلاة الملائكة في الملأ الأعلى؛ واقتران صلاة المؤمنين بصلاة الله عز وجل واقتران تسليمهم بتسليمه فيه تشريف لهم.

وهذا الأمر بالصلاة والسلام عليه صلى الله عليه وآله وسلم مشروع في جميع الأوقات، وأوجبه كثير من العلماء في الصلاة. وأفضل هيئات الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم ما علم به أصحابه: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه البخاري). أو «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ». (رواه الترمذي، وصححه الألباني).
মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সালাত এবং উর্ধ্বলোকে ফেরেশতাকুলের সালাতের পরেই মানুষের সালাত ও সালামের স্থান নির্ধারিত হয়। মহান আল্লাহর সালাত ও সালামের সাথে মুমিনগণের সালাত ও সালামের এই সম্পৃক্ততা তাদের জন্য এক অনন্য সম্মান ও মর্যাদার বিষয়।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠের এই নির্দেশ সব সময়ের জন্য বিধিবদ্ধ, এবং অনেক আলিম একে নামাযের ভেতরে ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক সাব্যস্ত করেছেন। তাঁর ওপর সালাত পাঠের সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো সেটিই, যা তিনি তাঁর সাহাবীগণকে শিক্ষা দিয়েছেন: "হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছিলেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" (বুখারী)। অথবা: "হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছিলেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বিশ্বজগতের মাঝে ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" (তিরমিযী বর্ণিত, আলবানী একে সহীহ বলেছেন)।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولما أمر الله سبحانه وتعالى بتعظيم رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، والصلاة والسلام عليه، نهى عن أذيته، وتوعد عليها فقال: {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ}، وهذا يشمل كل أذِيَّة، قولية أو فعلية، مِن سَبٍّ وشَتْمٍ، أو تَنَقّصٍ له، أو لدينه، أو ما يعود إليه بالأذى.

{لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ} أي: أبعدهم وطردهم، ومِن لَعْنِهِم في الدنيا أنه يحتِّم قتل من شتم الرسول صلى الله عليه وآله وسلم وآذاه.

{وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا} جزاءً له على أذاه، أن يؤذَى بالعذاب الأليم، فأذِيَّةُ الرسول صلى الله عليه وآله وسلم، ليست كأذِيَّةِ غيره، لأنه صلى الله عليه وآله وسلم لا يؤمن العبد بالله حتى يؤمن برسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وله من التعظيم، الذي هو من لوازم الإيمان، ما يقتضي ذلك، أن لا يكون مثل غيره، وإن كانت أذية المؤمنين عظيمة، وإثمها عظيمًا، ولهذا قال فيها: {وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا} أي: بغير
মহান আল্লাহ যখন তাঁর রাসূলের (তাঁর ও তাঁর পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর ওপর দরূদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন, তখন তিনি তাঁকে কষ্ট দান করতে নিষেধ করেছেন এবং এর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়}। এটি কথা বা কাজের মাধ্যমে সকল প্রকার কষ্টদানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন—গালিগালাজ, মন্দ বলা, তাঁকে কিংবা তাঁর ধর্মকে অবজ্ঞা করা অথবা এমন যেকোনো বিষয় যা তাঁর কষ্টের কারণ হয়।

{দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ তাদের অভিশপ্ত করেছেন} অর্থাৎ, তিনি তাদের রহমত থেকে দূরবর্তী ও বিতাড়িত করেছেন। দুনিয়াতে তাদের প্রতি অভিশাপের একটি রূপ হলো—যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (তাঁর ও তাঁর পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে গালি দেয় ও কষ্ট দেয়, তাকে হত্যা করা অবধারিত হয়ে যায়।

{এবং তিনি তাদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন} এটি তাঁকে কষ্ট দেওয়ার প্রতিদানস্বরূপ, যাতে তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (তাঁর ও তাঁর পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে কষ্ট দেওয়া অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়ার মতো নয়; কারণ কোনো বান্দা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার হতে পারে না যতক্ষণ না সে তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে। তাঁর জন্য এমন বিশেষ সম্মান রয়েছে যা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তা দাবি করে যে, তাঁকে যেন অন্য কারও সমতুল্য মনে না করা হয়। যদিও মুমিনদের কষ্ট দেওয়া একটি গুরুতর বিষয় এবং এর পাপও বিশাল, তাই আল্লাহ এ বিষয়ে বলেছেন: {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের এমন কিছুর জন্য কষ্ট দেয় যা তারা করেনি} অর্থাৎ কোনো...
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
جناية منهم موجبة للأذى {فَقَدِ احْتَمَلُوا} على ظهورهم {بُهْتَانًا} حيث آذوهم بغير سبب {وَإِثْمًا مُبِينًا} حيث تَعَدَّوْا عليهم، وانتهكوا حرمة أمر اللهِ باحترامها.

 

‌‌إنا كفيناك المستهزئين:

قال تعالى: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ (94) إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ (95) الَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ (96) وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ (97) فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ (98) وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ} (الحجر:95 - 99).

في هذه الآيات أمر الله سبحانه وتعالى رسوله صلى الله عليه وآله وسلم أن لا يبالي بالمشركين ولا بغيرهم وأن يصدع بما أمَرَ الله ويعلن بذلك لكل أحد ولا يعوقنه عن أمره عائق ولا تصده أقوال المتهوكين، {وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} أي: لا تبال بهم واترك مشاتمتهم ومسابتهم مقبلًا على شأنك.
তাদের পক্ষ থেকে এটি এমন এক অপরাধ যা কষ্টের উদ্রেক করে; {বস্তুত তারা বহন করেছে} তাদের পিঠে {মিথ্যা অপবাদ} যেহেতু তারা কোনো কারণ ছাড়াই তাদের কষ্ট দিয়েছে {এবং সুস্পষ্ট পাপ} যেহেতু তারা তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে এবং আল্লাহ যা সম্মান করার নির্দেশ দিয়েছেন তার পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে।

 

‌‌নিশ্চয়ই আমি বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট:

মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন (৯৪) নিশ্চয়ই আমি বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট (৯৫) যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ সাব্যস্ত করে, সুতরাং শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (৯৬) আর আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তাতে আপনার অন্তর সংকুচিত হয় (৯৭) সুতরাং আপনি আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন (৯৮) আর আপনার রবের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হয়} (আল-হিজর: ৯৪ - ৯৯)।

এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ করেছেন যেন তিনি মুশরিক বা অন্য কারো পরোয়া না করেন, এবং আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা যেন জোরালোভাবে প্রচার করেন এবং প্রত্যেকের কাছে তা ঘোষণা করেন; কোনো প্রতিবন্ধকতা যেন তাঁকে তাঁর কাজ থেকে বিরত না রাখে এবং বিভ্রান্তদের কথাবার্তা যেন তাঁকে বাধাগ্রস্ত না করে। {আর মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} অর্থাৎ: তাদের পরোয়া করবেন না এবং তাদের গালিগালাজ ও মন্দ কথা উপেক্ষা করে আপনার নিজ কার্যে মনোনিবেশ করুন।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
{إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ} بك وبما جئت به، وهذا وعد من الله سبحانه وتعالى لرسوله صلى الله عليه وآله وسلم، أن لا يضره المستهزئون، وأن يكفِيَه الله إياهم بما شاء من أنواع العقوبة. وقد فعل سبحانه وتعالى فإنه ما تظاهر أحد بالاستهزاء برسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وبما جاء به إلا أهلكه الله وقتَلَه شر قتلة.

ثم ذكر وصفهم وأنهم كما يؤذونك يا رسول الله، فإنهم أيضًا يؤذون الله ويجعلُون معه {إِلَهًا آخَرَ} وهو ربهم وخالقهم ومدبرهم {فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ} غِبَّ أفعالهم إذا وردوا القيامة، {وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ} لك من التكذيب والاستهزاء، فنحن قادرون على استئصالهم بالعذاب، والتعجيل لهم بما يستحقون، ولكن الله يُمْهِلُهُم ولا يُهْمِلُهم.

فأنت يا محمد {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ} أي: أكْثِرْ مِنْ ذِكْر الله وتسبيحه وتحميده والصلاة فإن ذلك يوسع الصدر ويشرحه ويعينك على أمورك.
{নিশ্চয় আমি আপনার পক্ষ থেকে সেই বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট,} যারা আপনাকে এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে উপহাস করে। এটি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল—আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—এর প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি যে, উপহাসকারীরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো প্রকার শাস্তির মাধ্যমে তাঁর জন্য যথেষ্ট হবেন। আল্লাহ মহিমান্বিত ও সুউচ্চ তা বাস্তবায়নও করেছেন; কেননা যখনই কেউ আল্লাহর রাসূল—আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—এবং তাঁর আনীত জীবনবিধান নিয়ে বিদ্রূপ প্রকাশ করেছে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেছেন এবং তাকে নিকৃষ্টতম পন্থায় সংহার করেছেন।

অতঃপর তিনি তাদের গুণাবলি উল্লেখ করেছেন যে, হে আল্লাহর রাসূল, তারা যেভাবে আপনাকে কষ্ট দেয়, ঠিক একইভাবে তারা আল্লাহকেও কষ্ট দেয় এবং তাঁর সাথে {অন্য উপাস্য} সাব্যস্ত করে, অথচ তিনিই তাদের প্রতিপালক, স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক। {সুতরাং শীঘ্রই তারা জানতে পারবে} তাদের কর্মের অশুভ পরিণাম সম্পর্কে যখন তারা কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে। {আর আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তাতে আপনার অন্তর সংকুচিত হয়,} আপনার প্রতি তাদের মিথ্যাচার ও বিদ্রূপের কারণে। সুতরাং আমি তাদের আজাব দ্বারা সমূলে বিনাশ করতে এবং তাদের প্রাপ্য শাস্তি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম, কিন্তু আল্লাহ তাদের অবকাশ দেন, তবে তাদের কর্মকে উপেক্ষা করেন না।

অতএব হে মুহাম্মদ, {আপনি আপনার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন।} অর্থাৎ: আপনি আল্লাহর জিকির, তাসবিহ, তাহমিদ এবং সালাত অধিক পরিমাণে আদায় করুন; কেননা তা অন্তরকে প্রশস্ত ও উন্মুক্ত করে এবং আপনার সকল বিষয়ে আপনাকে সহায়তা প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
{وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ} أي: الموت أي: استمر في جميع الأوقات على التقرب إلى الله بأنواع العبادات، فامتثل صلى الله عليه وآله وسلم أمر ربه، فلم يَزَل دائبًا في العبادة، حتى أتاه اليقين من ربه صلى الله عليه وآله وسلم.

نماذج من عقاب الله سبحانه وتعالى للمستهزئين برسول الله صلى الله عليه وآله وسلم:

1 - عن أبي هريرة سدد خطاكم أنه قال: «قال أبو جهل: «هل يُعَفِّرُ مُحَمَّدٌ وَجْهَهُ بَيْن أَظهُرِكُم»، فَقِيلَ: «نَعَمْ»، فَقَالَ: «وَاللَّاتِ وَالْعُزَّى لَئِنْ رَأَيتُهُ يَفعَلُ ذَلِكَ لَأَطَأَنَّ عَلَى رَقَبَتِهِ أَوْ لَأُعَفِّرَنَّ وَجْهَهُ فِي التُّرَابِ»، قَالَ فَأَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم وَهُوَ يُصَلِّي - زَعَمَ لِيَطَأَ عَلَى رَقَبَتِهِ - فَمَا فَجِئَهُمْ مِنْهُ إِلا وَهُوَ يَنْكُصُ عَلَى عَقِبَيهِ وَيَتَّقِي بِيَدَيْهِ.

فَقِيلَ لَهُ: «مَا لَكَ؟» فَقَالَ: «إِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ لَخَنْدَقًا مِنْ نَارٍ، وَهَوْلًا، وَأَجْنِحَةً»، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «لَوْ دَنَا مِنِّي لَاخْتَطَفَتْهُ الْمَلَائِكَةُ عُضْوًا عُضْوًا». (رواه مسلم).
{এবং তোমার প্রতিপালকের ইবাদত করো, যতক্ষণ না তোমার নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হয়।} অর্থাৎ: মৃত্যু। অর্থাৎ: সকল সময়ে বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে অবিচল থাকো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিপালকের আদেশ পালন করলেন এবং ইবাদতে সদা নিমগ্ন থাকলেন, যতক্ষণ না তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হলো (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে উপহাসকারীদের প্রতি মহান আল্লাহর শাস্তির কিছু নমুনা:

১ - আবু হুরায়রা (আল্লাহ আপনার পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: «আবু জাহল বলল: "মুহাম্মদ কি তোমাদের সামনে স্বীয় মুখমণ্ডল ধূলিধূসরিত করে (সিজদা করে)?" বলা হলো: "হ্যাঁ", অতঃপর সে বলল: "লাত ও উজ্জার কসম! আমি যদি তাকে তা করতে দেখি, তবে অবশ্যই আমি তার ঘাড় মর্দন করব অথবা তার মুখমণ্ডল মাটিতে মিশিয়ে দেব"। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলো যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন—সে ধারণা করেছিল যে সে তাঁর ঘাড় মর্দন করবে—কিন্তু হঠাৎ তারা তাকে দেখতে পেল যে, সে তার দুই গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে পেছনে সরে যাচ্ছে এবং হাত দিয়ে আত্মরক্ষা করছে।

অতঃপর তাকে বলা হলো: "তোমার কী হয়েছে?" সে বলল: "নিশ্চয়ই আমার ও তাঁর মাঝে আগুনের এক পরিখা, ভয়াবহ ভীতি এবং ডানা (বিশিষ্ট ফেরেশতাগণ) রয়েছে"। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সে যদি আমার নিকটবর্তী হতো, তবে ফেরেশতারা তার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এক এক করে ছিনিয়ে নিয়ে যেত"»। (মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
(يَنْكِصُ): يرَجعُ عَلَى عَقِبَيْهِ، يَمْشِي عَلَى وَرَائِهِ. (الهَوْل): فَزَع ورهبة. والجمع أهوال.

2 - عن أبي نوفل بن أبي عقرب عن أبيه قال: «كان لهب بن أبي لهب يسب النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «اللَّهُمَّ سَلِّطْ عَلَيْهِ كَلْبَكَ»، فخرج في قافلة يريد الشام فنزل منزلًا فقال: «إني أخاف دعوة محمَّد»، قالوا له: «كلا»، فحَطّوا مَتاعَهم حوله وقعدوا يحرسونه، فجاء الأسد فانتزعه فذهب به» (رواه الحاكم في المستدرك، وصححه ووافقه الذهبي، وحسنه ابن حجر العسقلاني).

3 - عن أنس سدد خطاكم قال: «كَانَ رَجُلٌ نَصْرَانِيًّا، فَأَسْلَمَ وَقَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ، فَكَانَ يَكْتُبُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم، فَعَادَ نَصْرَانِيًّا، فَانْطَلَقَ هَارِبًا حَتَّىَ لَحِقَ بِأَهْلِ الْكِتَابِ.

فَكَانَ يَقُولُ: «مَا يَدْرِي مُحَمَّدٌ إِلَّا مَا كَتَبْتُ لَهُ»، قَالُوا: «هَذَا قَدْ كَانَ يَكْتُبُ لِمُحَمَّدٍ»، فَأُعْجِبُوا بِهِ، فَمَا لَبِثَ أَنْ قَصَمَ اللهُ عُنُقَهُ فِيهِمْ، فَأَمَاتَهُ اللهُ فَدَفَنُوهُ، فَأَصْبَحَ وَقَدْ
(পিছু হটা): গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে ফিরে আসা বা পেছন দিকে হাঁটা। (ভীতি): আতঙ্ক ও ত্রাস। এর বহুবচন হলো ‘অহওয়াল’।

২ - আবু নওফল ইবনে আবি আকরাব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "লাহাব ইবনে আবি লাহাব নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দিত। তখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রার্থনা করলেন: ‘হে আল্লাহ! আপনার শিকারি প্রাণীগুলোর মধ্য হতে একটিকে তার ওপর লেলিয়ে দিন।’ অতঃপর সে সিরিয়া অভিমুখে একটি কাফেলার সাথে বের হলো এবং একস্থানে যাত্রাবিরতি করল। তখন সে বলল: ‘আমি মুহাম্মাদের বদদোয়ার ভয় পাচ্ছি।’ তারা তাকে বলল: ‘কখনোই নয়।’ অতঃপর তারা তার চারপাশে তাদের আসবাবপত্র স্তূপ করে রাখল এবং তাকে পাহারা দেওয়ার জন্য বসে রইল। এমতাবস্থায় একটি সিংহ এসে তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে চলে গেল।" (হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবি এতে একমত পোষণ করেছেন, আর ইবনে হাজার আসকালানি একে হাসান বলেছেন)।

৩ - আনাস (আল্লাহ আপনার পথ সুগম করুন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি খ্রিষ্টান ছিল, এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে-ইমরান পাঠ করল। সে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য ওহি লিখত। পরবর্তীতে সে পুনরায় খ্রিষ্টধর্মে ফিরে গেল এবং পলায়ন করে আহলে কিতাবদের সাথে গিয়ে মিলিত হলো।

সে বলতে লাগল: ‘আমি যা লিখে দিয়েছি, তা ছাড়া মুহাম্মাদ আর কিছুই জানে না।’ তারা বলল: ‘এ তো সেই ব্যক্তি যে মুহাম্মাদের লেখক ছিল।’ ফলে তারা তার প্রতি অতিশয় মুগ্ধ হলো। এরপর বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি যে, আল্লাহ তাদের মধ্যেই তার ঘাড় মটকিয়ে দিলেন এবং তাকে মৃত্যু দান করলেন। অতঃপর তারা তাকে দাফন করল, কিন্তু সকালে দেখা গেল যে..."
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
لَفَظَتْهُ الْأَرْضُ، فَقَالُوا: «هَذَا فِعْلُ مُحَمَّدٍ وَأَصْحَابِهِ لَمَّا هَرَبَ مِنْهُمْ نَبَشُوا عَنْ صَاحِبِنَا فَأَلْقَوْهُ»، فَحَفَرُوا لَهُ فَأَعْمَقُوا فَأَصْبَحَ وَقَدْ لَفَظَتْهُ الْأَرْضُ فَقَالُوا: «هَذَا فِعْلُ مُحَمَّدٍ وَأَصْحَابِهِ نَبَشُوا عَنْ صَاحِبِنَا لَمَّا هَرَبَ مِنْهُمْ فَأَلْقَوْهُ»، فَحَفَرُوا لَهُ وَأَعْمَقُوا لَهُ فِي الْأَرْضِ مَا اسْتَطَاعُوا فَأَصْبَحَ وَقَدْ لَفَظَتْهُ الْأَرْضُ؛ فَعَلِمُوا أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ النَّاسِ، فَتَرَكُوهُ مَنْبُوذا». (رواه البخاري ومسلم).

فهذا الملعونُ الذي افترى على النبيِّ صلى الله عليه وآله وسلم أنه ما كان يدري إلا ما كتب له، قصمه الله وفضحه بأن أخرجه من القبر بعد أن دُفن مرارًا، وهذا أمرٌ خارجٌ عن العادة، يدلُ كلّ أحدٍ على أن هذا عقوبةً لما قالهُ، وأنه كان كاذبًا، إذ كان عامة الموتى لا يصيبهم مثل هذا، وأن هذا الجُرمَ أعظمُ من مجرد الارتداد، إذ كان عامةُ المرتدين يموتون ولا يصيبهم مثل هذا، وأن اللهَ منتقمٌ لرسولهِ صلى الله عليه وآله وسلم ممن طعن عليه وسَبّهُ، ومُظْهِرٌ لدينه، ولكذب الكاذب إذا لم يمكن للناس أن يقيموا عليه الحد.
পৃথিবী তাকে উগরে দিল। তারা বলল, "এটি মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীদের কাজ; সে যখন তাদের নিকট থেকে পালিয়ে এসেছে, তখন তারা আমাদের সঙ্গীর কবর খুঁড়ে তাকে বাইরে ফেলে দিয়েছে।" অতঃপর তারা তার জন্য আরও গভীর করে কবর খুঁড়ল, কিন্তু ভোরে দেখা গেল পৃথিবী পুনরায় তাকে বাইরে নিক্ষেপ করেছে। তারা আবারও বলল, "এটি মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীদের কাজ; সে যখন তাদের নিকট থেকে পালিয়ে এসেছে, তখন তারা আমাদের সঙ্গীর কবর খুঁড়ে তাকে বাইরে ফেলে দিয়েছে।" এরপর তারা জমিনের যত গভীরে সম্ভব তার জন্য গর্ত করল, কিন্তু ভোরে দেখা গেল পৃথিবী তাকে আবারও উগরে দিয়েছে। তখন তারা বুঝতে পারল যে, এটি মানুষের কাজ নয়। ফলে তারা তাকে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখল। (বুখারি ও মুসলিম)।

সুতরাং এই অভিশপ্ত ব্যক্তি, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই অপবাদ আরোপ করেছিল যে, তিনি কেবল ততটুকুই জানতেন যা সে তাঁর জন্য লিখে দিত; আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছেন এবং বারবার সমাহিত করার পরও কবর থেকে বের করে এনে তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। এটি একটি অলৌকিক বিষয়, যা প্রত্যেকের নিকট এটিই প্রমাণ করে যে, এটি তার মন্তব্যেরই একটি শাস্তি এবং সে ছিল একজন মিথ্যাবাদী। কেননা সাধারণ মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। এটি আরও নির্দেশ করে যে, এই অপরাধ কেবল ধর্মত্যাগের চেয়েও গুরুতর ছিল; কারণ সাধারণ মুরতাদরা মৃত্যুবরণ করলে তাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির ওপর প্রতিশোধ গ্রহণকারী, যে তাঁর নিন্দা করে ও তাঁকে গালি দেয়। আর আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সমুন্নতকারী এবং মিথ্যাবাদীর মিথ্যাকে প্রকাশ করে দেন, যখন মানুষের পক্ষে তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
4 - عن ابْنَ عَبَّاسٍ سدد خطاكم أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم بَعَثَ بِكِتَابِهِ إِلَى كِسْرَى مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُذَافَةَ السَّهْمِيِّ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ الْبَحْرَيْنِ، فَدَفَعَهُ عَظِيمُ الْبَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى، فَلَمَّا قَرَأَهُ مَزَّقَهُ» قال الزُّهْرِيُّ: «فَحَسِبْتُ أَنَّ ابْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ فَدَعَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم أَنْ يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ. (رواه البخاري). (يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ): أَيْ يَتَفَرَّقُوا وَيَتَقَطَّعُوا.

وفي رواية أن عبد الله بن حذافة السهمي قال: … «فدفَعْتُ إليه كتاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فَقُرِئَ عليه، ثم أخذه فمزقه، فلما بلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «اللهم مَزِّقْ مُلْكَهُ». وكتب كسرى إلى باذان - عامِلَه في اليمن - أنِ ابعثْ من عندك رجلين جَلْدَيْن إلى هذا الرجل الذي بالحجاز فلْيَأتِيَاني بخبره، فبعث باذان قهرمان ورجلًا آخر وكتب معهما كتابًا، فقدما المدينة، فدفعا كتاب باذان إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فتبسم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ودعاهما إلى الإسلام - وفرائصهما ترعد -، وقال: «ارجِعَا عَنّي يومَكُما هذا حتى تأتياني الغد فأخْبِركما بما أريد»، فجاءاه من الغد فقال لهما:
৪ - ইবনে আব্বাস (আল্লাহ আপনার পথকে সুদৃঢ় করুন) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা আস-সাহমির মাধ্যমে পারস্য সম্রাট কিসরার কাছে তাঁর পত্র পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে আদেশ করেছিলেন যেন সে তা বাহরাইনের অধিপতির কাছে হস্তান্তর করে। অতঃপর বাহরাইনের অধিপতি তা কিসরার কাছে পৌঁছে দেন। যখন কিসরা তা পাঠ করল, তখন সে তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। ইমাম যুহরি বলেন: "আমি মনে করি ইবনুল মুসাইয়িব বলেছিলেন যে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে এই বলে বদদোয়া করলেন যে, তাদের যেন সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়।" (বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন)। (পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া): অর্থাৎ তারা যেন ছত্রভঙ্গ ও খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা আস-সাহমি বলেন: … "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পত্রটি তাঁর কাছে হস্তান্তর করলাম। তখন তাঁর সামনে তা পাঠ করা হলো, এরপর তিনি সেটি নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে সেই সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: ‘হে আল্লাহ, আপনি তাঁর সাম্রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিন’। আর কিসরা ইয়েমেনে তার নিয়োজিত গভর্নর বাযানের কাছে এই মর্মে পত্র লিখল যে, হিজাজে অবস্থানরত এই লোকটির কাছে তোমার নিকট থেকে দুইজন শক্তিশালী ব্যক্তিকে পাঠাও, যারা আমার কাছে তাঁর খবর নিয়ে আসবে। তখন বাযান একজন তত্ত্বাবধায়ক ও অন্য একজনকে পাঠাল এবং তাদের সাথে একটি পত্র লিখে দিল। তারা মদিনায় উপস্থিত হলো এবং বাযানের পত্রটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট অর্পণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মৃদু হাসলেন এবং তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন—সে সময় ভয়ে তাদের ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপছিল—এবং বললেন: ‘আজকের মতো ফিরে যাও এবং আগামীকাল আমার কাছে এসো, তখন আমি তোমাদের জানাবো আমি কী চাই’। পরদিন তারা যখন তাঁর কাছে এল, তখন তিনি তাদের বললেন:"
(খণ্ড: ১) হামালাতুল আওগাদ আলা খয়রিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
«أبْلِغَا صَاحِبَكُما أنَّ رَبِّي قَدْ قَتَلَ رَبَّهُ كِسْرَى فِي هَذِهِ اللّيْلَة» (رواه ابن سعد في الطبقات الكبرى وصححه الألباني). وكان هلاك كسرى بأنْ سلط الله عليه ابنه شيرويه فقتله.

5 - ذكر الحافظ ابن حجر في كتابه (الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة) أن بعض أمراء المغول تنَصَّر فحضر عنده جماعة من كبار النصارى والمغول فجعل واحد منهم ينتقص النبي صلى الله عليه وآله وسلم وهناك كلب صيد مربوط فلما أكثر من ذلك وثب عليه الكلب فخمشه فخلصوه منه. وقال بعض من حضر: «هذا بكلامك في محمد صلى الله عليه وآله وسلم».

فقال: «كلا، بل هذا الكلب عزيز النفس، رآني أشير بيدي فظن أني أريد أن أضربه»، ثم عاد إلى ما كان فيه فأطال، فوثب الكلب مرة أخرى فقبض على زرْدِمَتِه فقلعها فمات من حينه، فأسلم بسبب ذلك نحو أربعين ألفًا من المغول.
«তোমাদের অধিপতিকে সংবাদ দাও যে, আমার প্রতিপালক আজ রাতে তার প্রতিপালক কিসরাকে হত্যা করেছেন» (ইবনে সাদ এটি 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ বলেছেন)। কিসরার ধ্বংস হয়েছিল এভাবে যে, আল্লাহ তার ওপর তার পুত্র শিরওয়াইহকে লেলিয়ে দিয়েছিলেন এবং সে তাকে হত্যা করেছিল।

৫ - হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থ 'আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আয়ানিল মিআতিল সামিনাহ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, মঙ্গোলদের জনৈক আমির খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। একদা তাঁর নিকট একদল বিশিষ্ট খ্রিষ্টান ও মঙ্গোল উপস্থিত ছিলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অবমাননা শুরু করল। সেখানে একটি শিকারি কুকুর বাঁধা ছিল। যখন সে অবমাননা বৃদ্ধি করল, তখন কুকুরটি তার ওপর লাফিয়ে পড়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিল। তারা তাকে কুকুরটির কবল থেকে মুক্ত করল। উপস্থিতদের কেউ কেউ বললেন: «এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে তোমার ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের কারণে হয়েছে»।

সে বলল: «কখনোই নয়, বরং এই কুকুরটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন; সে আমাকে হাত নাড়াতে দেখে মনে করেছে আমি তাকে মারতে চাচ্ছি», অতঃপর সে পুনরায় আগের মতো অবমাননা শুরু করল এবং দীর্ঘক্ষণ তা চালিয়ে গেল। তখন কুকুরটি পুনরায় লাফিয়ে উঠে তার কণ্ঠনালি কামড়ে ছিঁড়ে ফেলল এবং সে তৎক্ষণাৎ মারা গেল। এই ঘটনার কারণে প্রায় চল্লিশ হাজার মঙ্গোল ইসলাম গ্রহণ করেন।