(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: -)
مفردات القرآن للفراهي   (عبد الحميد الفراهي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: مفردات القرآن - نظرات جديدة في تفسير ألفاظ قرآنية

المؤلف: عبد الحميد الفراهي الهندي (ت 1349هـ)

المحقق: د/ محمد أجمل أيوب الإصلاحي

الناشر: دار الغرب الإسلامي

الطبعة: الأولى، 2002 م

عدد الصفحات: 480

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1433

ফরাহীর মুফরাদাতুল কুরআন   (আবদুল হামিদ আল-ফরাহী)

বিভাগ: কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


কিতাব: মুফরাদাতুল কুরআন - কুরআনিক শব্দাবলির তাফসীরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

লেখক: আবদুল হামিদ আল-ফরাহী আল-হিন্দী (মৃত্যু ১৩৪৯ হিজরী)

সম্পাদক: ড/ মুহাম্মাদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহী

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামী

সংস্করণ: প্রথম، ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ যিলহজ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১)
مُفْرَدَاتُ القُرْآنِ

(نَظَرَاتٌ جَدِيدَةٌ فِي تَفْسِيرِ أَلْفَاظٍ قُرْآنِيَّةٍ)

تَأليف

الإمام عبد الحميد الفراهي

صَاحِبُ تَفْسِيرِ

(نِظَامِ القُرْآنِ وَتَأْوِيلِ الفُرْقَانِ بِالفُرْقَانِ)

تَحقيق وشَرح

الدكتور محمَّد أجمل أيّوب الإصلاحي

دار الغَرب الإسْلامي
কুরআনের শব্দাবলি

(কুরআনের শব্দাবলির ব্যাখ্যায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি)

গ্রন্থনায়

ইমাম আব্দুল হামিদ আল-ফারাহি

বিখ্যাত তাফসিরের রচয়িতা

(নিযামুল কুরআন ওয়া তাউয়ীলুল ফুরকানি বিল ফুরকান)

সম্পাদনা ও ব্যাখ্যায়

ডক্টর মুহাম্মদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহি

দারুল গারব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২)
مُفْرَدَاتُ القُرْآنِ

(نَظَرَاتٌ جَدِيدَةٌ فِي تَفْسِيرِ أَلْفَاظٍ قُرْآنِيَّةٍ)

تَأليف

الإمام عبد الحميد الفراهي

صَاحِبُ تَفْسِيرِ

(نِظَامِ القُرْآنِ وَتَأْوِيلِ الفُرْقَانِ بِالفُرْقَانِ)

تَحقيق وشَرح

الدكتور محمَّد أجمل أيّوب الإصلاحي

دار الغَرب الإسْلامي
কুরআনের শব্দাবলি

(কুরআনের শব্দাবলির তাফসিরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি)

রচনায়

ইমাম আব্দুল হামিদ আল-ফারাহি

তাফসিরের রচয়িতা

(নিজামুল কুরআন ওয়া তাবিলুল ফুরকান বিল ফুরকান)

সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা

ডক্টর মুহাম্মদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহি

দারুল গারব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৪)
( c) 2002 دَار الغَرب الإسلامي

الطبْعَة الأولَى

دار الغرب الإسلامي

ص. ب. 5787 - 113 بيروت

جميع الحقوق محفوظة. لا يسمح بإعادة إصدار الكتاب أو تخزينه في نطاق استعادة المعلومات أو نقله بأي شكل كان أو بواسطة وسائل إلكترونية أو كهروستاتية، أو أشرطة ممغنطة، أو وسائل ميكانيكية، أو الاستنساخ الفوتوغرافي، أو التسجيل وغيره دون إذن خطي من الناشر.
(ক) ২০০২ দারুল গারব আল-ইসলামি

প্রথম সংস্করণ

দারুল গারব আল-ইসলামি

ডাক বাক্স ৫৭৮৭ - ১১৩ বৈরুত

সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই গ্রন্থের পুনরুৎপাদন অথবা তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার পরিসরে এটি সংরক্ষণ করা কিংবা ইলেকট্রনিক, ইলেকট্রোস্ট্যাটিক, ম্যাগনেটিক টেপ, যান্ত্রিক পদ্ধতি, ফটোকপি, রেকর্ডিং বা অন্য কোনো উপায়ে একে স্থানান্তর করা অনুমোদিত নয়।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين وخاتم النبيين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد، فإن هذا الكتاب الجليل الذي بين أيديكم من الكتب الأصيلة في تفسير ألفاظ القرآن، ويحفل بنظرات جديدة وتحقيقات بارعة واستدراكات قيمة على كتب اللغة والتفسير. ولو لم يتضمن إلا تفسير كلمة (الآلاء) لكفاه شرفاً وتميزاً عن أمثاله من كتب غريب القرآن.

وهو من تأليف الإمام عبد الحميد الفراهي رحمه الله (1280 - 1349 هـ) أحد أفذاذ العلماء المتأخرين. كانت شخصيته الجامعة بين علوم الشرق والغرب نادرة العصر كما يقول العلامة السيد سليمان الندوي. لقيه العلامة الدكتور تقي الدين الهلالي المراكشي قبل وفاته بسبع سنوات، فوصفه في مذكراته بأنه "نادر في علماء العرب فضلاً عن علماء الهند". انتهى إليه فقه العربية فكان فيه السابق المبرّز والجواد المبِرّ، وأفنى عمره في تدبر كتاب الله ومدارسته، فبلغ في علمه شأواً لم يبلغه إلا قليل من أهل العلم. "ومن نظر في تصانيفه علم أنه لاحق سبق السابقين" (1)، ولم يسعه إلا أن يصدّق قول القائل: كم ترك الأول للآخر.

--------------------------------------------

(1) من قول أبي الحسن البيهقي في جامع العلوم الأصفهاني (معجم الأدباء 4: 1737).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং নবীদের মোহর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, আপনাদের সম্মুখে থাকা এই মহান গ্রন্থটি কুরআনের শব্দাবলির তাফসীরের ক্ষেত্রে মূলধারার গ্রন্থসমূহের অন্যতম। এটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, চমৎকার গবেষণা এবং ভাষা ও তাফসীর বিষয়ক গ্রন্থগুলোর ওপর মূল্যবান সংশোধনীতে সমৃদ্ধ। যদি এটি কেবল 'আল-আলা' (الآلاء) শব্দের ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই ধারণ না করত, তবে 'গারীবুল কুরআন' (কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলি) বিষয়ক সমজাতীয় গ্রন্থগুলোর মাঝে এর শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বাতন্ত্র্যের জন্য সেটিই যথেষ্ট হতো।

এটি পরবর্তী যুগের অনন্য আলেমদের অন্যতম ইমাম আব্দুল হামিদ আল-ফারাহি (রহিমাহুল্লাহ) (১২৮০ - ১৩৪৯ হিজরি)-এর রচনা। আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী যেমনটি বলেছেন, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের জ্ঞানরাজির সমন্বয়কারী তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল সমকালের এক বিরল দৃষ্টান্ত। আল্লামা ডক্টর তাকিউদ্দিন আল-হিলালী আল-মাররাকুশি তাঁর ইন্তেকালের সাত বছর আগে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন; তিনি তাঁর স্মৃতিকথায় তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি "ভারতীয় আলেমদের কথা তো থাক, এমনকি আরব আলেমদের মাঝেও এক বিরল প্রতিভা"। আরবি ভাষার প্রজ্ঞা তাঁর কাছে এসে সমাপ্ত হয়েছিল, ফলে তিনি এতে ছিলেন একজন অগ্রগামী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং ময়দান জয়ী অশ্বারোহী। তিনি তাঁর পুরো জীবন আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও অধ্যয়নে উৎসর্গ করেছিলেন, ফলে তিনি ইলমের এমন এক সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন যেখানে খুব কম আলেমই পৌঁছাতে পেরেছেন। "যে ব্যক্তি তাঁর রচনাবলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে বুঝতে পারবে যে তিনি এমন এক পরবর্তী মনীষী যিনি পূর্ববর্তীদেরও ছাড়িয়ে গেছেন" (১)। তখন সে এই প্রবাদের সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন।"

--------------------------------------------

(১) জামিউল উলুম আল-আস্পাহানি গ্রন্থে আবুল হাসান আল-বায়হাকীর উক্তি (মুজামুল উদাবা ৪: ১৭৩৭)।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৬)
ولد في الهند وتوفي فيها، مع ذلك ألّف كل مصنفاته العلمية في اللغة العربية، دون الأدوية التي كانت لغة العلم والأدب في شبه القارة الهندية، ولم يسمع في ذلك لنصح الناصحين وعلل العاذلين، فإنه ألّف ما ألّف لعلماء العالم الإسلامي أجمع، وهل للعالم الإسلامي من لغة غير لغة القرآن؟.

ولكن مما يؤسف له أن كتبه كلها (غير كتاب أقسام القرآن) صدرت في الهند، ونفدت نسخها قبل أن تصل إلى أيدي العلماء والباحثين في البلاد العربية، فلم يقفوا عليها لينهلوا من معينها العذب، ويقتطفوا من روضها الأُنُف. فلا هي وُفّيت حقها من الإفادة والدراسة والنقد، ولا هو وفّي حقه من التقدير والإنصاف والاعتراف. ولا أدلّ على ذلك من غياب ترجمته عن كتاب الأعلام للزركلي، وخلوّ الدراسات القرآنية والعربية التي ظهرت في العالم العربي في غضون سبعين عاماً مضت بعد وفاة المؤلف عن الدلالة على مكانته والإشارة إلى آرائه والنقل من كتبه إلا نادراً.

وقد دفعني ذلك في سالف أيامي إلى أن أقبل على بعض مؤلفاته وأخرجها للدارسين بعد ضبطها وتصحيحها وشرحها. وألفيت نفسي -على قصور باعي وضعف حيلتي- نازعة إلى خدمة كتاب مفردات القرآن، لأهميته البالغة في علم القرآن وعلم اللغة معًا، وكان ذلك عام 1395 هـ.

وكتاب المفردات هذا من الكتب التي لم يقدّر للمؤلف رحمه الله أن يكملها أو يحرر المادة التي كتبها في أزمنة مختلفة، فتوفاه الله، والكتاب في المسودة. فلما أنشأ تلامذته وأصدقاؤه الدائرة الحميدية ومطبعتها لنشر ما لم ينشر من مؤلفاته أسندوا تحرير المسودات وإعدادها للنشر إلى تلميذه الشيخ أختر أحسن الإصلاحي رحمه الله، فأصدر عدة كتب، منها هذا الكتاب الذي نشر سنة 1358 هـ.

وكنت قرأت الكتاب في زمن الطلب، فحيرتني أمور منها أن عدداً كبيراً من الألفاظ التي فسرت في الكتاب موجودة بنصها في أجزاء التفسير المطبوعة،
তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তা সত্ত্বেও তিনি তার সমস্ত জ্ঞানগর্ভ রচনা আরবি ভাষায় রচনা করেছেন, উর্দুতে নয়; যা ভারতীয় উপমহাদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের ভাষা ছিল। এ ব্যাপারে তিনি কোনো উপদেশদাতার উপদেশ বা সমালোচকের অজুহাতের তোয়াক্কা করেননি। কেননা তিনি যা কিছু লিখেছেন তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের আলেমদের জন্যই লিখেছেন। আর কুরআন মাজিদের ভাষা ছাড়া মুসলিম বিশ্বের কি আর কোনো ভাষা আছে?

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, তার সমস্ত বই (আকসামুল কুরআন গ্রন্থটি ব্যতীত) ভারত থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং আরব দেশগুলোর আলেম ও গবেষকদের হাতে পৌঁছানোর আগেই সেগুলোর কপি শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা সেগুলো পড়ার সুযোগ পাননি যাতে এর নির্মল ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন এবং এর সতেজ বাগান থেকে ফুল চয়ন করতে পারেন। ফলে তার বইগুলো থেকে উপকার গ্রহণ, অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যেমন হকের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, তেমনি তিনিও সম্মাননা, ইনসাফ ও স্বীকৃতির যথাযথ অধিকার পাননি। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না যে, যিরিকলির আল-আ'লাম গ্রন্থে তার জীবনী অনুপস্থিত এবং লেখকের মৃত্যুর পর গত সত্তর বছর ধরে আরব বিশ্বে কুরআন ও আরবি বিষয়ক যেসব গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোতে খুব সামান্য ক্ষেত্র ছাড়া তার উচ্চ মর্যাদা, তার মতামত কিংবা তার বই থেকে কোনো উদ্ধৃতি পাওয়া যায় না।

এটিই আমাকে অতীতে তার কিছু রচনার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল যাতে সেগুলো সম্পাদনা, সংশোধন ও ব্যাখ্যাসহ গবেষকদের জন্য উপস্থাপন করতে পারি। আমি নিজেকে—আমার সীমাবদ্ধতা ও সামর্থ্যের স্বল্পতা সত্ত্বেও—মুফরাদাতুল কুরআন গ্রন্থটির খিদমতে নিবেদিত হতে দেখলাম, কারণ কুরআন এবং ভাষাবিজ্ঞান উভয় ক্ষেত্রেই এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আর এটি ছিল ১৩৯৫ হিজরি সালের ঘটনা।

এই মুফরাদাত বইটি এমন সব কিতাবের অন্তর্ভুক্ত যা সম্পন্ন করা বা বিভিন্ন সময়ে লেখা এর বিষয়বস্তুগুলো বিন্যস্ত করা লেখকের—আল্লাহ তার ওপর দয়া করুন—তকদিরে ছিল না। পাণ্ডুলিপি অবস্থাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে যখন তার ছাত্র ও বন্ধুরা তার অপ্রকাশিত রচনাগুলো প্রকাশের উদ্দেশ্যে আদ-দাইরাতুল হামিদিয়া ও এর ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তারা এই পাণ্ডুলিপিগুলো সম্পাদনা ও প্রকাশের দায়িত্ব তার ছাত্র শেখ আখতার আহসান ইসলাহি—আল্লাহ তার ওপর দয়া করুন—এর ওপর ন্যস্ত করেন। ফলে তিনি বেশ কিছু বই প্রকাশ করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই কিতাবটি যা ১৩৫৮ হিজরি সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

আমি ছাত্রজীবনে বইটি পড়েছিলাম, তখন কিছু বিষয় আমাকে বিস্মিত করেছিল। যেমন, এই বইটিতে যেসব শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তার একটি বড় সংখ্যা মুদ্রিত তাফসিরের খণ্ডগুলোতে হুবহু বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৭)
فأيهما الأصل؟ ولم أجد جواباً عن هذا السؤال وغيره لأن الكتاب صدر بدون مقدمة من الناشر. ولكن إذ طبع بعد وفاة المؤلف توقعت أن تكون مسودته بخطه محفوظة. وكانت بالفعل محفوظة، ولم تكن دونها "مهامِهُ فِيح" أو "خَرقٌ تجرُّ به الرياح ذيولاً"، بل كانت على طرف الثمام، ولكن لم يتيسّر بلوغ المرام، إلا بعد بضعة أعوام!.

وتبين بعد النظر في الأصل أن الناشر رحمه الله لم يقتصر على تصحيح النص وتحريره بل أكمل المواد الناقصة منه بما ضم إلييها من نصوص التقطها من كتب المؤلف الأخرى، ثم أضاف إليه جملة مختارة من الألفاظ التي فسرت فيها، وأنزلها في الكتاب منازلها حسب ترتيب المؤلف. فلم يكن بد من الرجوع إلى تلك الكتب التي نقلت منها النصوص المزيدة لمعارضتها بالأصول. ومرة أخرى كانت تلك الكتب على حبل الذراع، ولكن تصرّم زمن حتى أمكن الوصول إليها والاطلاع. ثم شغلتني شواغل عن العناية بالكتاب فلم أتمكن من إنجاز العمل إلا سنة 1403 هـ.

ولكن مواطن عدة في الكتاب كانت خارجة عن طوقي، وهي التي رجع فيها المؤلف إلى اللغة العبرانية، وكتب بعض الألفاظ بحروفها، فشقّ عليّ أن أمرّ بها دون أن أفهمها وأوثقها. فكان من فضل الله سبحانه أن تهيأت لي فرصة للإلمام باللغة العبرانية إلماماً يمكّنني من مراجعة معاجمها والنسخة العبرية للعهد القديم، فحققت النصوص المتعلقة بها في الكتاب.

ثم بدا لي أن أتقيل ناشر الطبعة الأولى، فأضفت إلى نشرتي أيضاً ألفاظاً استخرجتها من كتب المؤلف، ولا سيما تفسير سورة البقرة الذي كان مخطوطاً آنذاك، وجمعتها في ملحق، وحققتها وعلقت عليها حسب المنهج الذي اتبعته في سائر الكتاب. وبعدما نجز هذا العمل أيضاً تجرّمت حِجَج خلون حلالها وحرامها!.

وأخرجت في خلال هذه الفترة كتابين آخرين من كتب المؤلف وهما:
তো এ দুটির মধ্যে মূল কোনটি? এই প্রশ্ন এবং অন্যান্য প্রশ্নের কোনো উত্তর আমি পাইনি কারণ বইটি প্রকাশকের কোনো ভূমিকা ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছিল। তবে লেখকের মৃত্যুর পর এটি মুদ্রিত হওয়ায় আমি আশা করেছিলাম যে তাঁর হাতের লেখা পাণ্ডুলিপিটি সংরক্ষিত থাকবে। এবং প্রকৃতপক্ষে তা সংরক্ষিতই ছিল; আর তা পাওয়ার পথে কোনো দুর্গম মরুপ্রান্তর বা বায়ুতাড়িত জনশূন্য প্রান্তর পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না, বরং তা ছিল হাতের নাগালেই, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে!

মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর স্পষ্ট হলো যে, প্রকাশক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কেবল পাঠ্য সংশোধন ও সম্পাদনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি লেখকের অন্যান্য বই থেকে সংগৃহীত পাঠ্যের মাধ্যমে এর অসম্পূর্ণ অংশগুলো পূর্ণ করেছেন। এরপর তিনি এতে ব্যাখ্যা করা শব্দের একটি নির্বাচিত সেট যোগ করেছেন এবং লেখকের বিন্যাস অনুযায়ী সেগুলোকে বইয়ের যথাস্থানে স্থাপন করেছেন। তাই বর্ধিত পাঠ্যগুলোকে মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য সেই বইগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আবারও, সেই বইগুলো ছিল অতি নিকটে, কিন্তু সেগুলোতে পৌঁছাতে এবং সেগুলো পর্যবেক্ষণ করতে কিছুটা সময় অতিবাহিত হলো। এরপর বিভিন্ন ব্যস্ততা আমাকে বইটির প্রতি মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখে, ফলে ১৪০৩ হিজরির আগে আমি কাজটি সম্পন্ন করতে পারিনি।

কিন্তু বইটির বেশ কিছু স্থান আমার সাধ্যের বাইরে ছিল, যেখানে লেখক হিব্রু ভাষার শরণাপন্ন হয়েছিলেন এবং কিছু শব্দ সেই ভাষার হরফেই লিখেছিলেন; ফলে সেগুলো না বুঝে এবং সেগুলোর উৎস নিশ্চিত না করে এড়িয়ে যাওয়া আমার জন্য কঠিন ছিল। অতঃপর এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহ ছিল যে, আমার জন্য হিব্রু ভাষায় এমন ব্যুৎপত্তি অর্জনের সুযোগ তৈরি হলো যার মাধ্যমে আমি এর অভিধানসমূহ এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের হিব্রু সংস্করণ পর্যালোচনা করতে সক্ষম হই। ফলে আমি বইটিতে হিব্রু সংশ্লিষ্ট পাঠ্যগুলো যাচাই করতে পেরেছি।

এরপর আমার কাছে মনে হলো প্রথম সংস্করণের প্রকাশকের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত, তাই আমি আমার এই সংস্করণেও লেখকের অন্যান্য বই থেকে সংগৃহীত আরও কিছু শব্দ যোগ করেছি, বিশেষ করে সূরা বাকারার তাফসীর থেকে যা সেই সময় পাণ্ডুলিপি আকারে ছিল। আমি সেগুলো একটি পরিশিষ্টে একত্র করেছি এবং পুরো বইয়ে অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলো যাচাই করেছি ও টীকা প্রদান করেছি। এই কাজ শেষ হতেও আরও বেশ কিছু বছর অতিবাহিত হয়ে গেল!

আর এই সময়ের মধ্যে আমি লেখকের আরও দুটি বই প্রকাশ করেছি, সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৮)
"إمعان في أقسام القرآن" (1415 هـ) و"الرأي الصحيح فيمن هو الذبيح" (1420 هـ). ولكن كتاب المفردات الذي كان أول كتاب اشتغلت به ظل ينتظر من ينهض بأعباء نشره، وظل المعنيون بآثار الفراهي يترقبون صدوره إلى أن قيّض الله لنشره الحاج الحبيب اللمسي صاحب دار الغرب الإسلامي في بيروت، الذي وقف حياته على خدمة العلم وأهله، وإخراج كنوز التراث الإسلامي العظيم ودرره.

وإني إذ أصدر اليوم نشرة جديدة للكتاب بعد ما مضى نحو خمسة وستين عاماً على نشرته الأولى التي أصدرها جدي لأمي رحمه الله، لا أراني إلا مقتفياً أثره في خدمة الكتاب. وإن اختلفت هذه عن تلك في بنائها ومنهجها، فذلك لأنني حرصت على أن تجمع نشرتي بين خصائص أصل المؤلف وفوائد النشرة الأولى كاملة غير منقوصة ومميزاً بعضها عن بعض.

ولما كانت سيرة المؤلف لا تزال مجهولة عند كثير من الدارسين العرب صدّرت الكتاب بفصل في ترجمة المؤلف وآثاره المطبوعة والمخطوطة. وأتبعته فصلاً آخر تحدثت فيه عن كتاب المفردات مشيراً إلى مقاصده والأسباب التي بعثته على تأليفه مع وجود كتب كثيرة في هذا الموضوع، ونوهت بمنهج المؤلف في تفسير الألفاظ والقيمة العلمية للكتاب. وبعد ذلك وصفت نشرته الأولى ومنهجها، ومسودة الكتاب، ثم بينت الطريقة التي سلكتها في إعداد هذه النشرة الجديدة.

وقبل أن أختم كلمتي هذه، أقدّم خالص شكري إلى كل من أعانني، أو أبدى اهتماماً بهذا العمل، وحثّني على إنجازه والتعجيل في إصداره، راجياً أن يشكر معي شيخنا الحاجّ الحبيب اللبيب الذي تولّى نشر الكتاب، وألبسه هذه الحلة القشيبة، سائلاً الله أن يبارك في عمره ويتقبل مساعيه.

اللهم اغفر لمؤلف هذا الكتاب وتلميذه الناشر نشرتَه الأولى وأحببهما وارضَ عنهما واجعلهما مع السفرة الكرام البررة، فقد كانا من أهل القرآن الذين
"ইমআন ফী আকসামিল কুরআন" (১৪১৫ হি.) এবং "আর-রায়ুস সহীহ ফীমান হুয়াজ জাবীহ" (১৪২০ হি.)। তবে মুফরাদাত কিতাবটি, যা ছিল আমার কাজ শুরু করা প্রথম গ্রন্থ, সেটি প্রকাশের ভার বহন করার মতো কারো অপেক্ষায় দীর্ঘকাল পড়ে ছিল। ফারাহীর রচনাবলির ব্যাপারে আগ্রহী ব্যক্তিরা এর প্রকাশের প্রতীক্ষায় ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ বৈরুতের 'দারুল গারব আল-ইসলামী'-এর স্বত্বাধিকারী আল-হাজ্জ আল-হাবীব আল-লামসীকে এর প্রকাশের জন্য নির্ধারিত করে দিলেন, যিনি তার জীবন জ্ঞান ও জ্ঞানীদের সেবায় এবং মহান ইসলামী ঐতিহ্যের অমূল্য ভাণ্ডার ও রত্নসমূহ প্রকাশের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

আজ আমি কিতাবটির একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করছি, যখন আমার মাতামহ (আল্লাহ তাকে রহমত দান করুন) কর্তৃক প্রকাশিত এর প্রথম সংস্করণের প্রায় পঁয়ষট্টি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আমি নিজেকে এই কিতাবটির সেবায় কেবল তার পদাঙ্ক অনুসরণকারী হিসেবেই দেখছি। যদিও এই সংস্করণটি গঠন ও পদ্ধতির দিক থেকে পূর্বেরটি থেকে ভিন্ন, তবুও এর কারণ হলো আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন আমার এই সংস্করণটিতে লেখকের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং প্রথম সংস্করণের সকল উপকারিতা কোনো ঘাটতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গরূপে একত্রিত হয় এবং একে অপরের থেকে স্বতন্ত্রভাবে পরিলক্ষিত হয়।

যেহেতু অনেক আরব গবেষকের কাছে লেখকের জীবনী আজও অজানা রয়ে গেছে, তাই আমি কিতাবটির শুরুতে লেখকের জীবনী এবং তার মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান রচনাবলি সম্পর্কে একটি অধ্যায় সংযোজন করেছি। এরপর আমি আরেকটি অধ্যায় যুক্ত করেছি যেখানে আমি মুফরাদাত কিতাবটি সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং এই বিষয়ে অনেক কিতাব থাকা সত্ত্বেও এটি রচনার উদ্দেশ্য ও কারণগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি। সেই সাথে শব্দ বিশ্লেষণে লেখকের কর্মপদ্ধতি এবং কিতাবটির তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব উল্লেখ করেছি। এরপর আমি এর প্রথম সংস্করণ ও তার পদ্ধতি এবং কিতাবটির খসড়া পাণ্ডুলিপির বর্ণনা দিয়েছি, অতঃপর এই নতুন সংস্করণটি প্রস্তুত করতে আমি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছি তা ব্যাখ্যা করেছি।

আমার এই আলোচনার সমাপ্তি টানার আগে, আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে সাহায্য করেছেন অথবা এই কাজের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং আমাকে এটি সম্পন্ন ও দ্রুত প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমি আশা করি আমার সাথে আমাদের শাইখ আল-হাজ্জ আল-হাবীব আল-লাবীবকেও ধন্যবাদ জানানো হবে, যিনি কিতাবটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং একে এই সুন্দর অবয়বে সজ্জিত করেছেন; আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তার হায়াতে বরকত দান করেন এবং তার প্রচেষ্টাকে কবুল করেন।

হে আল্লাহ! আপনি এই কিতাবের লেখক এবং এর প্রথম সংস্করণের প্রকাশক তার ছাত্রকে ক্ষমা করুন, তাদের উভয়কে ভালোবাসুন, তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের সম্মানিত ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গী করুন; কেননা তারা কুরআনের ধারক-বাহকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা...
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৯)
هم أهلك وخاصتك، ومن المتبعين لسنة نبيك، والمجتهدين في ابتغاء مرضاتك.

اللهم لك الحمد على أن وفقتني لخدمة هذا الكتاب الخادم لكتابك العزيز، فاجعل عملي -على ما فيه من ضروب النقص والتقصير- خالصاً لوجهك الكريم، واغفر لي ولوالديَّ وللمؤمنين. وصلِّ اللهمّ وسلِّم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

الرياض

10/ 11/ 1422هـ

الموافق 24/ 1/ 2002

محمد أجمل أيوب الإصلاحي
তাঁরা আপনার পরিবার ও একান্ত আপনজন, আপনার নবীর সুন্নাহর অনুসারী এবং আপনার সন্তুষ্টি অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রমী।

হে আল্লাহ, আপনার কাছেই সকল প্রশংসা যে, আপনি আমাকে আপনার সম্মানিত কিতাবের সেবায় নিয়োজিত এই কিতাবটির খেদমত করার তাওফিক দিয়েছেন। সুতরাং আমার এই আমলকে—এর মধ্যে নানা ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও—একান্তই আপনার মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

রিয়াদ

১০/ ১১/ ১৪২২ হিজরি

মোতাবেক ২৪/ ১/ ২০০২

মুহাম্মদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহি
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ترجمة المؤلف

‌‌(1) مصادر الترجمة:

اعتمدت في ترجمة المؤلف على مصادر عديدة أهمها:

1 - الترجمة الذاتية التي كتبها المؤلف رحمه الله بخطه في دفتر مذكرات العلامة الدكتور تقي الدين الهلالي المراكشي رحمه الله (1) عندما زاره في قريته في 17 رمضان سنة 1342 هـ، أي قبل وفاة المؤلف بسبع سنوات. وهي على وجازتها أوثق مصدر لسيرته. ثم ما كتبه الهلالي نفسه عن المؤلف في مذكراته. وقد نقل النصين أحد تلامذته -وهو الشيخ أبو الليث الإصلاحي الندوي رحمه الله (2) - في مقاله (الإمام حميد الدين الفراهي رحمه الله المنشور في مجلة الضياء الشهرية التي كانت تصدر في لكناؤ (عدد رجب 1352 هـ ص 253 - 260).

--------------------------------------------

(1) ولد الدكتور الهلالي في سجلماسة سنة 1311 هـ وتوفي في الدار البيضاء في 26 شوال سنة 1407 هـ. واتفق أن قدم الدكتور الهلالي إلى الهند سنة 1400 هـ فلقيته في وفد من مدرسة الإصلاح، فحدثنا عن الإمام الفراهي، فسألته أن يكتب لنا ما يحضره عن سيرة الفراهي، فوعدنا، وفي اليوم التالي سلم إلي ووقة كان أملاها على مرافقه وختمها بإمضائه: "أملاه الدكتور محمد تقي الدين بن عبد القادر الهلالي بمدينة بنارس- الهند في اليوم 6/ 4/ 1400هـ".

(2) كان اسمه (شير محمد) وبهذا الاسم نشر مقاله المذكور، وكلمة (شير) تعني الأسد فسماه الدكور الهلالي (أبا الليث) فاشتهر هذا الاسم الجديد، ونسي الاسم الأول. كان الشيخ أبو الليث رحمه الله من كبار العلماء الزهاد، انتخب بعد انقسام الهند أميراً للجماعة الإسلامية الهندية، فقادها أكثر من ثلاثين سنة. توفي في 16 جمادى الأولى سنة 1411 هـ.
‌লেখকের জীবনী

‌(১) জীবনীর উৎসসমূহ:

লেখকের জীবনী রচনায় আমি অনেকগুলো উৎসের ওপর নির্ভর করেছি, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১ - লেখকের নিজের লেখা আত্মজীবনী, যা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আল্লামা ডক্টর তকিউদ্দীন আল-হিলালী আল-মাররাকিশি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ডায়েরিতে নিজ হাতে লিখেছিলেন (১), যখন তিনি ১৩৪২ হিজরীর ১৭ই রমজান লেখকের গ্রামে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন; অর্থাৎ লেখকের ইন্তেকালের সাত বছর পূর্বে। সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি তাঁর জীবনীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। এরপর লেখকের ব্যাপারে হিলালী নিজে তাঁর ডায়েরিতে যা লিখেছেন। এই দুটি পাঠই তাঁর অন্যতম ছাত্র—শায়খ আবুল লাইস আল-ইসলাহি আন-নাদভী (রহিমাহুল্লাহ) (২)—তাঁর এক প্রবন্ধে (ইমাম হামিদুদ্দিন ফারাহি রহিমাহুল্লাহ) উদ্ধৃত করেছেন, যা লক্ষ্ণৌ থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘আদ-দিয়া’ পত্রিকায় (রজব সংখ্যা ১৩৫২ হিজরী, পৃষ্ঠা ২৫৩-২৬০) প্রকাশিত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) ডক্টর আল-হিলালী ১৩১১ হিজরীতে সিজিলমাসায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪০৭ হিজরীর ২৬শে শাওয়াল কাসাব্লাঙ্কায় ইন্তেকাল করেন। ডক্টর আল-হিলালী ১৪০০ হিজরীতে ভারত ভ্রমণে আসলে ‘মাদরাসাতুল ইসলাহ’-এর একটি প্রতিনিধি দলের সাথে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। তখন তিনি আমাদের কাছে ইমাম ফারাহি সম্পর্কে আলোচনা করেন। আমি তাঁকে ফারাহির জীবনী সম্পর্কে তাঁর যা স্মরণে আছে তা আমাদের জন্য লিখে দিতে অনুরোধ করি। তিনি আমাদের কথা দেন এবং পরের দিন তিনি তাঁর সফরসঙ্গীর নিকট ডিক্টেশন দিয়ে লেখা একটি কাগজ আমার হাতে তুলে দেন এবং শেষে নিজের দস্তখত করে দেন: "ডক্টর মুহাম্মদ তকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদির আল-হিলালী এটি ভারতের বেনারস শহরে ৬/৪/১৪০০ হিজরী তারিখে লিপিবদ্ধ করিয়েছেন।"

(২) তাঁর নাম ছিল (শের মুহাম্মদ) এবং এই নামেই তিনি তাঁর উল্লিখিত প্রবন্ধটি প্রকাশ করেছিলেন। ‘শের’ শব্দের অর্থ হলো সিংহ, তাই ডক্টর আল-হিলালী তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘আবুল লাইস’। পরবর্তীতে এই নতুন নামটিই প্রসিদ্ধ হয়ে যায় এবং প্রথম নামটি মানুষ ভুলে যায়। শায়খ আবুল লাইস (রহিমাহুল্লাহ) বড় মাপের দুনিয়াবিমুখ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ভারত বিভক্তির পর তিনি জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমীর নির্বাচিত হন এবং ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় এর নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৪১১ হিজরীর ১৬ই জুমাদাল উলা ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১২)
2 - رسائل العلامة شبلي النعماني رحمه الله إلى المؤلف، وهي منشورة ضمن مجموعة (مكاتيب شبلي) المجلد الثاني (ص 1 - 55).

3 - نزهة الخواطر للعلامة الشريف عبد الحي الحسني المتوفى سنة 1341 هـ (248:8 - 249) وقد زاد في الترجمة ابن المؤلف الشيخ أبو الحسن علي الندوي رحمه الله.

4 - ثلاث مقالات في سيرة المؤلف كتبها العلامة السيد سليمان الندوي رحمه الله وهي:

أ- ترجمة موجزة بالعربية كتبها في 27 شعبان سنة 1349 هـ، لتلحق بآخر كتاب إمعان في أقسام القرآن (طبعة المكتبة السلفية بالقاهرة).

ب- مقال بالأردية نشره فور وفاة المؤلف في مجلة معارف (عدد نوفمبر سنة 1930 م)، وهو أقوى ما كتبه الندوي في الوفيات.

جـ- ترجمة مفصلة نشرت في المجلة نفسها في عددي يناير وفبراير سنة 1931م. وقد أحلنا لهذه الترجمة والترجمة التالية على كتاب "مختصر حيات حميد".

5 - ترجمة المؤلف التي صدر بها تلميذه الشيخ أمين أحسن الإصلاحي رحمه الله كتاب (مجموعة تفاسير فراهي) وهو مجموعة أجزاء تفسير الفراهي التي ترجمها الإصلاحي إلى الأردية.

6 - مقال للدكتور شرف الدين الإصلاحي بعنوان (ترجمان القرآن مولانا حميد الدين الفراهي رحمه الله، نشر في مجلة معارف (عدد رجب 1411 هـ) لخص فيه كتابه الجليل الذي ألفه في سيرة الفراهي، ولا يزال مخطوطاً (1).

--------------------------------------------

(1) صدر مؤخراً بعنوان (ذكر فراهي) في 840 صفحة من الدائرة الحميدية بمدرسة الإصلاح، أعظم كره (الهند).
২ - গ্রন্থকারের প্রতি আল্লামা শিবলী নুমানী রাহিমাহুল্লাহ-এর পত্রাবলী, যা 'মাকাতিবে শিবলী' (শিবলীর পত্রাবলী) সংকলনের দ্বিতীয় খণ্ডে (পৃ. ১ - ৫৫) প্রকাশিত হয়েছে।

৩ - ১৩৪১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আল্লামা শরীফ আব্দুল হাই আল-হাসানী রচিত 'নুজহাতুল খাওয়াতির' (৮: ২৪৮-২৪৯); এই জীবনীতে গ্রন্থকারের পুত্র শেখ আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহ কিছু তথ্য সংযোজন করেছেন।

৪ - আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রাহিমাহুল্লাহ গ্রন্থকারের জীবনীর ওপর তিনটি প্রবন্ধ লিখেছেন, সেগুলো হলো:

ক- আরবি ভাষায় লিখিত একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, যা তিনি ২৭ শাবান ১৩৪৯ হিজরিতে লিখেছেন, যেন তা 'ইমআন ফী আকসামিল কুরআন' গ্রন্থের শেষে যুক্ত করা যায় (মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, কায়রো সংস্করণ)।

খ- উর্দু ভাষায় একটি প্রবন্ধ, যা তিনি গ্রন্থকারের মৃত্যুর পরপরই 'মাআরিফ' সাময়িকীতে (নভেম্বর ১৯৩০ সংখ্যা) প্রকাশ করেন; এটি শোকগাথা বা জীবনীমূলক রচনায় নদভীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ।

গ- ১৯৩১ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় একই সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি বিস্তারিত জীবনী। আমরা এই জীবনী এবং পরবর্তী জীবনীর ক্ষেত্রে 'মুখতাসার হায়াতে হামিদ' নামক গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।

৫ - গ্রন্থকারের জীবনী, যা তাঁর ছাত্র শেখ আমিন আহসান ইসলাহী রাহিমাহুল্লাহ 'মাজমুআয়ে তাফাসিরে ফরাহী' গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন। এটি ফরাহীর তাফসিরের বিভিন্ন অংশের সংকলন, যা ইসলাহী উর্দুতে অনুবাদ করেছেন।

৬ - ডক্টর শরফুদ্দিন ইসলাহী লিখিত 'তরজুমানুল কুরআন মাওলানা হামিদুদ্দিন ফরাহী রাহিমাহুল্লাহ' শীর্ষক একটি প্রবন্ধ, যা 'মাআরিফ' সাময়িকীতে (রজব ১৪১১ হিজরি সংখ্যা) প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি ফরাহীর জীবনীর ওপর রচিত তাঁর সুবৃহৎ গ্রন্থের সারাংশ তুলে ধরেছেন, যা বর্তমানেও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) সম্প্রতি এটি 'জিকরে ফরাহী' শিরোনামে ৮৪০ পৃষ্ঠায় মাদরাসায়ে ইসলাহ-এর দায়িরাতুল হামিদিয়্যাহ, আজমগড় (ভারত) থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌(2) اسمه ونسبه ومولده:

هو عبد الحميد بن عبد الكريم بن قربان قنبر بن تاج علي، حميد الدين، أبو أحمد، الأنصاري، الفراهي. وقد ذهب العلامة السيد سليمان الندوي في ترجمته إلى أن اسمه الحقيقي "حميد الدين"، ولكن لما كان هذا الاسم في العربية لقباً رأى فيه تمدحاً وتعاظماً، فسمى نفسه في أول مصنفاته العربية "عبد الحميد" (1). والحق أن عبد الحميد هو الاسم الذي سمي به بعد ميلاده، وظل معروفاً به -حسب الشواهد التي بين أيدينا- إلى سنة 1306 هـ إذ كان عمره 26 سنة. ومن ذلك:

1 - عنوان قطعتين في تاريخ ميلاده (2)، لشيخه محمد مهدي الذي درس عليه اللغة الفارسية في صغره، ونصه:

"تاريخ تولد عبد الحميد خلف حاجي صاحب ممدوح وتلميذ راقم"

والقطعة الأولى منها:

باشرفِ بخت شد عبد الحميد … رونقِ ميلاد بفضلِ ودود

فكر جو كردم بيِ تاريخِ سال … كفت خرد نوبرِ باغِ وجود

وسمى أخاه كذلك "عبد الرشيد" في قطعة أخرى في تاريخ ميلاده، وهو أيضاً اشتهر فيما بعد برشيد الدين.

2 - وللشيخ المذكور أيضاً قصيدة بالفارسية بمناسبة زواج الفراهي في 17 رجب سنة 1299 هـ، سماه في عنوانها "عبد الحميد".

--------------------------------------------

(1) حيات حميد (الندوي): 2.

(2) قرأت القطعتين في نسخة من ديوان الشيخ محمد مهدي منقولة من أصل المؤلف، وفي وثيقة مع قطعات أخرى في تاريخ ميلاد والد الفراهي وأخيه وعمه. وقد وقفت على نسخة الديوان عند كاتبها شيخنا بدر الدين الإصلاحي رحمه الله. أما الوثيقة فقد وقعت عليها عرضاً ضمن نسخة كتاب الدر النضيد للفراهي إذ كنا أنا والدكتور شرف الدين الإصلاحي نتصفح مخطوطات الفراهي المحفوظة عند الشيخ المذكور في شهر مارس سنة 1980م.
(২) তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে কুরবান কানবার ইবনে তাজ আলি, হামিদুদ্দিন, আবু আহমদ, আল-আনসারি, আল-ফারাহি। আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁর প্রকৃত নাম ছিল "হামিদুদ্দিন", কিন্তু যেহেতু আরবি ভাষায় এই নামটি একটি উপাধি, তাই তিনি এতে আত্মপ্রশংসা ও অহমিকার প্রকাশ দেখতে পান; ফলে তিনি তাঁর প্রাথমিক আরবি রচনাবলীতে নিজের নাম "আব্দুল হামিদ" ব্যবহার করেন (১)। তবে সত্য কথা হলো, আব্দুল হামিদ সেই নাম যা তাঁর জন্মের পর রাখা হয়েছিল, এবং আমাদের হাতে থাকা প্রমাণাদি অনুসারে ১৩০৬ হিজরি পর্যন্ত তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। এর স্বপক্ষে কিছু প্রমাণ হলো:

১ - তাঁর জন্মের তারিখ সংবলিত দুটি কাব্যাংশের শিরোনাম (২), যা তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ মাহদির লেখা, যাঁর কাছে তিনি শৈশবে ফারসি ভাষা শিখেছিলেন। এর পাঠ হলো:

"প্রশংসিত হাজি সাহেবের সুযোগ্য উত্তরসূরি এবং লেখকের ছাত্র আব্দুল হামিদের জন্ম তারিখ"

এর মধ্যে প্রথম কাব্যাংশটি হলো:

ভাগ্যের চরম উৎকর্ষে আব্দুল হামিদ আবির্ভূত হলেন … দয়াময়ের অনুগ্রহে জন্মের জৌলুস বিকশিত হলো।

যখন আমি জন্মসালের ইতিহাসের জন্য চিন্তা করলাম … তখন বুদ্ধি বলল, অস্তিত্বের বাগানে তিনি এক নবীন ফল।

একইভাবে তিনি তাঁর ভাইয়ের জন্মের তারিখ বিষয়ক অন্য একটি কাব্যাংশে তাঁর নাম "আব্দুর রশিদ" উল্লেখ করেছেন, যিনি পরবর্তীতে রশিদুদ্দিন নামেও প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

২ - উক্ত শায়খ ১৭ই রজব ১২৯৯ হিজরিতে আল-ফারাহির বিবাহ উপলক্ষে ফারসি ভাষায় একটি কবিতা লিখেছিলেন, যার শিরোনামে তিনি তাঁকে "আব্দুল হামিদ" বলে সম্বোধন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হায়াতে হামিদ (নদভী): ২।

(২) আমি এই কাব্যাংশ দুটি শায়খ মুহাম্মদ মাহদির দিওয়ানের একটি পাণ্ডুলিপিতে পড়েছি যা মূল লেখকের কপি থেকে সংগৃহীত, এবং এটি একটি দলিলে আল-ফারাহির পিতা, ভাই ও চাচার জন্ম তারিখ সংবলিত অন্যান্য কাব্যাংশের সাথে ছিল। আমি দিওয়ানের এই কপিটি এর লিপিকার আমাদের শায়খ বদরুদ্দিন ইসলাহী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে দেখেছি। আর দলিলটি আমি ঘটনাক্রমে আল-ফারাহির কিতাব 'আদ-দুররুন নাদিদ'-এর পাণ্ডুলিপির ভেতরে পেয়েছি যখন আমি এবং ডক্টর শারাফুদ্দিন ইসলাহী ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে উক্ত শায়খের কাছে সংরক্ষিত আল-ফারাহির পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনা করছিলাম।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
3 - في رسالة بعث بها الفراهي إلى والده من لاهور، حينما كان يدرس على العلامة فيض الحسن السهارنفوري عام 1300 هـ أو قبله، كتب اسمه "عبد الحميد" واسم أخيه "عبد الرشيد" (1).

4 - بهذا الاسم سماه ابن عمته العلامة شبلي النعماني في رسالة مؤرخة في 27 مارس عام 1884م (الموافق 1301 هـ) (2).

5 - في خزانة كتب الفراهي نسخة خطية من مثنوي جلال الدين الرومي (الدفتر الأول) ذكر الفراهي في آخرها بالفارسية أنه اشتراها سنة 1306 هـ، ثم كتب اسمه مركباً هكذا:

"محمد عبد الحميد أنصاري بسر عبد الكريم أنصاري" (3)

والجدير بالذكر أن هذا الاسم المركب هو الذي صدر به أول كتبه سنة 1891م. وهما رسالتان كلفه المسؤولون في كلية عليكره ترجمتهما من العربية إلى الفارسية لإقرار تدريسهما في الكلية التي كان هو أحد طلابها في السنة الأولى. فنشرت الرسالتان باسم "محمد عبد الحميد" مع كونه قد عوف في الكلية باسم "حميد الدين".

وقد غلب "حميد الدين" على "عبد الحميد" وخاصة بعد ما ثبت في أوراقه الرسمية، واشتهر به لكونه أقرب إلى ذوق أهك الفارسية والأردية وأكثر شيوعاً على ألسنتهم، فأخذ الفراهي نفسه يوقع مكاتباته بحميد الدين. وبهذا الاسم صدرت كتبه المعدودة في الأردية والفارسية، أما كتبه العربية -وهي جل مؤلفاته- فأثبت عليها اسمه هكذا: "المعلم عبد الحميد الفراهي". ولا يبعد أن يكون إيثاره اسمه الأول "عبد الحميد" على الاسم الثاني "حميد الدين" راجعاً إلى ما أشار إليه العلامة السيد سليمان الندوي من كونه في العربية من ألقاب

--------------------------------------------

(1) مكاتيب فراهي: 10.

(2) مكاتيب شبلي 1: 69.

(3) هذه النسخة محفوظة في مكتبة مدرسة الإصلاح.
৩ - ফারাহি লাহোর থেকে তার পিতার কাছে পাঠানো একটি পত্রে—যখন তিনি ১৩০০ হিজরি বা তার পূর্বে আল্লামা ফয়জুল হাসান সাহারানপুরীর নিকট অধ্যয়ন করছিলেন—নিজের নাম "আব্দুল হামিদ" এবং তার ভাইয়ের নাম "আব্দুর রশিদ" লিখেছিলেন (১)।

৪ - এই নামেই তার ফুফাতো ভাই আল্লামা শিবলী নোমানী ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে মার্চ (১৩০১ হিজরি মোতাবেক) তারিখের একটি পত্রে তাকে সম্বোধন করেছিলেন (২)।

৫ - ফারাহির ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে জালালুদ্দিন রুমির মসনভির (প্রথম খণ্ড) একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার শেষে ফারাহি ফারসি ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ১৩০৬ হিজরিতে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর তিনি তার নাম এভাবে যৌগিক রূপে লিখেছিলেন:

"মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ আনসারী বিন আব্দুল কারিম আনসারী" (৩)

উল্লেখ্য যে, এই যৌগিক নামটি দিয়েই ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে তার প্রথম বইগুলো প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলো ছিল দুটি পুস্তিকা যা আলীগড় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে আরবি থেকে ফারসিতে অনুবাদ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যাতে সেগুলো কলেজে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তখন তিনি সেখানে প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুস্তিকা দুটি "মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ" নামে প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও কলেজে তিনি "হামিদুদ্দিন" নামে পরিচিত ছিলেন।

"আব্দুল হামিদ" নামের ওপর "হামিদুদ্দিন" নামটি প্রাধান্য পায়, বিশেষ করে তার দাপ্তরিক কাগজপত্রে এটি স্থায়ী হওয়ার পর। এছাড়া এটি ফারসি ও উর্দুভাষীদের রুচির কাছাকাছি এবং তাদের মুখে অধিক প্রচলিত হওয়ার কারণে তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। ফলে ফারাহি নিজেও তার চিঠিপত্রে হামিদুদ্দিন নামে স্বাক্ষর করতে শুরু করেন। এই নামেই তার উর্দু ও ফারসি ভাষায় রচিত গুটিকতক বই প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার আরবি বইগুলো—যা তার অধিকাংশ রচনা—সেগুলোতে তিনি নিজের নাম এভাবে উল্লেখ করেছেন: "আল-মুয়াল্লিম আব্দুল হামিদ আল-ফারাহি"। দ্বিতীয় নাম "হামিদুদ্দিন"-এর পরিবর্তে তার প্রথম নাম "আব্দুল হামিদ"-কে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ সম্ভবত আল্লামা সৈয়দ সুলায়মান নদভী যা ইঙ্গিত করেছেন তা-ই; অর্থাৎ আরবি ভাষায় এটি উপাধিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে...

--------------------------------------------

(১) মাকাতীবে ফারাহি: ১০।

(২) মাকাতীবে শিবলী ১: ৬৯।

(৩) এই পাণ্ডুলিপিটি মাদরাসাতুল ইসলাহ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
المدح، فتجنبه الفراهي ورعاً وتواضعاً.

أما كنيته "أبو أحمد" فكنى بها نفسه في أول ديوانه العربي إذ سماه "ديوان أبي أحمد الأنصاري" (1). وكذلك لما أرسل قصيدة له إلى العلامة شبلي النعماني ضمن رسالة غير مؤرخة كتب عنوانها "قصيدة لأبي أحمد الأنصاري" (2)، وهي موجودة في ديوانه المطبوع بعنوان "في تطاول الطليان على طرابلس" (3). لم نجد هذه الكنية إلا في الموضعين المذكورين، ولم يكن من أبنائه من يسمى "أحمد"، فالظاهر أنه قصد بهذه الكنية التعمية على استخبارات الاستعمار البريطاني التي كانت تراقبه لأسباب من أكبرها قصائده العربية في وصف عداء الصليبيين للمسلمين وهجومهم على بلادهم، وتحريض المسلمين على جهادهم (4).

أما نسبة الأنصاري فقد نص عليما صاحب نزهة الخواطر والعلامة الندوي، ولكن الفراهي نفسه لم ينتسب إليها في كتاباته إلا قليلاً، ومن ذلك ما نقلناه آنفاً من آخر نسخته من كتاب المثنوي. ولعل ذلك كان قبل أن يختار لنفسه نسبة "الفراهي"، التي اقتصر عليها ابتعاداً مما قد تشم منه رائحة التفاخر بالنسب. أما وجود هذه النسبة في عنوان الديوان العربي فإنه -كما قلنا- بني على الإخفاء والإغماض دون الإعلام والإظهار.

و"الفراهي" نسبة إلى قريته التي كانت مسقط رأسه، واسمها "فَريها"، وهي من قرى (أعظم كره) أحد أضلاع (5) الإقليم الشمالي في الهند "أُتَّرا براديش".

--------------------------------------------

(1) نسخة منقولة من أصل المؤلف محفوظة في مكتبة دار المصنفين بمدينة أعظم كره.

(2) مكاتيب فراهي: 37.

(3) ديوان المعلم عبد الحميد الفراهي: 8 - 10.

(4) حيات حميد (الإصلاحي): 61.

(5) الجمهورية الهندية مقسمة إلى أقاليم أو ولايات، والجزء من الإقليم يسمى بالأردية (ضِلعاً).
প্রশংসা, যা আল-ফারাহি পরহেজগারী ও বিনয়বশত পরিহার করতেন।

আর তাঁর কুনিয়াহ "আবু আহমাদ" সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি তাঁর আরবি দিওয়ানের শুরুতে নিজেকে এই কুনিয়াহতে ভূষিত করেছিলেন, যেখানে তিনি এর নাম রেখেছিলেন "দিওয়ানু আবি আহমাদ আল-আনসারি" (১)। একইভাবে তিনি যখন আল্লামা শিবলী নুমানীর কাছে একটি তারিখবিহীন চিঠির সাথে নিজের একটি কাসিদা পাঠিয়েছিলেন, তখন শিরোনামে লিখেছিলেন "আবু আহমাদ আল-আনসারির একটি কাসিদা" (২), যা তাঁর মুদ্রিত দিওয়ানে "ত্রিপোলির ওপর ইতালীয়দের আগ্রাসন প্রসঙ্গে" (৩) শিরোনামে বিদ্যমান। আমরা উল্লিখিত এই দুটি স্থান ছাড়া আর কোথাও এই কুনিয়াহ খুঁজে পাইনি। তাঁর সন্তানদের মধ্যে কারো নামও "আহমাদ" ছিল না। তাই স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এই কুনিয়াহ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক গোয়েন্দা সংস্থাকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিলেন। তারা তাঁকে বিভিন্ন কারণে নজরে রাখত, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের শত্রুতা এবং তাদের দেশগুলোর ওপর হামলার বর্ণনা সম্বলিত তাঁর আরবি কাসিদাসমূহ, যেখানে তিনি মুসলমানদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করতেন (৪)।

আর আল-আনসারি বংশপরম্পরার বিষয়টি 'নুজহাতুল খাওয়াতির'-এর লেখক এবং আল্লামা নদভী উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আল-ফারাহি নিজে তাঁর লেখায় খুব কমই এই বংশনাম ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো যা আমরা ইতিপূর্বে তাঁর 'মাসনাভী' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির শেষ অংশ থেকে উদ্ধৃত করেছি। সম্ভবত এটি তাঁর জন্য "আল-ফারাহি" নিসবাহ (পরিচয়বাচক নাম) পছন্দ করার আগের ঘটনা। তিনি বংশগৌরবের সামান্যতম গন্ধ থেকেও দূরে থাকার জন্য কেবল "আল-ফারাহি" নিসবাহর ওপর সীমাবদ্ধ ছিলেন। আর আরবি দিওয়ানের শিরোনামে এই বংশনামের উপস্থিতি -যেমনটি আমরা বলেছি- আত্মপ্রকাশের পরিবর্তে আত্মগোপন ও গোপনীয়তার ওপর ভিত্তি করেই ছিল।

আর "আল-ফারাহি" হলো তাঁর জন্মভূমির গ্রামের নিসবাহ, যার নাম "ফারিহা"। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের (উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ) আজমগড় জেলার (৫) অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম।

--------------------------------------------

(১) আজমগড় শহরের দারুল মুসান্নিফীন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা একটি কপি।

(২) মাকাতিবে ফারাহি: ৩৭।

(৩) দিওয়ানে মুয়াল্লিম আব্দুল হামিদ আল-ফারাহি: ৮ - ১০।

(৪) হায়াতে হামিদ (ইসলাহি): ৬১।

(৫) ভারতীয় প্রজাতন্ত্র বিভিন্ন অঞ্চল বা রাজ্যে বিভক্ত এবং প্রদেশের অংশকে উর্দুতে 'জিলা' বলা হয়।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولد الفراهي في القرية المذكورة صباح يوم الأربعاء سادس جمادى الآخرة سنة 1280 هـ (1)، في أسرة كريمة معروفة بنسبها وعلمها ومكانتها الاجتماعية، ويعد أهلها من أعيان المنطقة ووجهائها، فنشأ الفراهي وترعرع في رخاء ورفاهية.

 

‌‌(3) شيوخه ورحلاته في طلب العلم:

بدأ الفراهي تحصيله العلمي في منزله كدأب أبناء البيوتات الشريفة، إذ عين له مؤدب يسمى الشيخ أحمد علي (2)، فقرأ عليه القرآن الكريم، وحفظه وهو ابن عشر سنين أو نحو ذلك.

ثم تعلم اللغة الفارسية في منزله أيضاً في مدة تسعة أشهر (3)، أخذها عن الشيخ محمد مهدي الذي كان من المؤدبين المشهورين في تلك الديار، وله ديوان شعر بالفارسية (4). وسرعان ما حصلت له بذكائه وتوقد ذهنه ملكة قوية في اللغة الفارسية، وامتلك ناصية البيان، فبدأ يقرض الشعر، ولم تمض مدة قليلة حتى أخذ يجاري فحول شعراء الفارسية. فقال -وهو ابن ست عشرة سنة- قصيدة صعبة الرديف عارض بها قصيدة للشاعر الفارسي المشهور خاقاني الشرواني الملقب بحسان العجم (ت 595 هـ) (5)، فلما عرضها ابن عمته العلامة شبلي النعماني على شيخه العلامة محمد فاروق العباسي -من جلة علماء الفارسية في عهده- (6) وسأله عن قائلها، قال: لا أدري ولكن الظاهر أنها

--------------------------------------------

(1) هذا التاريخ الدقيق لميلاد المؤلف ورد في الوثيقة التي سبق ذكرها.

(2) مقال الدكتور شرف الدين الإصلاحي، مجلة معارف عدد رجب 1411 هـ ص 89.

(3) الترجمة الذاتية للفراهي في مجلة الضياء المجلد الثاني، العدد السابع، ص 260.

(4) نزهة الخواطر 248:8. وهذا هو الصواب في اسمه، ويسميه عامة المترجمين للفراهي "مهدي حسين" وهو خطأ. وقد اطلعت على نسخة خطية من ديوانه عند الشيخ بدر الدين الإصلاحي رحمه الله، كما سبق.

(5) انظر ترجمته في لباب الألباب: 405.

(6) انظر ترجمته في نزهة الخواطر 476:8.
ফরাহী ১২৮০ হিজরি (১) সালের ৬ই জুমাদিউল আখিরা, বুধবার সকালে উল্লিখিত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন যারা তাদের বংশমর্যাদা, জ্ঞান ও সামাজিক মর্যাদার জন্য সুপরিচিত ছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই অঞ্চলের গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতেন। ফলে ফরাহী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সচ্ছলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন।

 

‌‌(৩) তাঁর শিক্ষকগণ এবং জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ:

ফরাহী অভিজাত পরিবারের সন্তানদের রীতি অনুযায়ী নিজ গৃহেই তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন। তাঁর জন্য শেখ আহমদ আলী (২) নামক একজন গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। তাঁর কাছে তিনি পবিত্র কুরআন পাঠ করেন এবং দশ বছর বা তার কাছাকাছি বয়সে তা হিফজ (মুখস্থ) সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি নিজ গৃহেই নয় মাস সময়ের মধ্যে (৩) ফারসি ভাষা শিক্ষা করেন। তিনি এই ভাষা শেখেন শেখ মুহাম্মদ মাহদীর নিকট থেকে, যিনি সেই অঞ্চলের প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন এবং ফারসি ভাষায় তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) রয়েছে (৪)। অতি দ্রুত তাঁর মেধা ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে ফারসি ভাষায় তাঁর এক শক্তিশালী দক্ষতা তৈরি হয় এবং তিনি এই ভাষার অলঙ্কারশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। ফলে তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফারসি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে কঠিন অন্ত্যমিল বিশিষ্ট একটি কসিদা রচনা করেন, যার মাধ্যমে তিনি 'হাসানুল আজম' উপাধিতে ভূষিত বিখ্যাত ফারসি কবি খাকানি শিরওয়ানির (মৃত্যু ৫৯৫ হিজরি) (৫) একটি কবিতার অনুকরণ করেন। যখন তাঁর ফুফাতো ভাই আল্লামা শিবলী নোমানী এই কবিতাটি তাঁর শিক্ষক আল্লামা মুহাম্মদ ফারুক আব্বাসীর—যিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফারসি পণ্ডিতদের অন্যতম ছিলেন (৬)—নিকট পেশ করেন এবং এর রচয়িতা সম্পর্কে জানতে চান, তখন তিনি বলেন: আমি জানি না, তবে এটি দেখে প্রতীয়মান হচ্ছে যে এটি...

--------------------------------------------

(১) লেখকের জন্মগ্রহণের এই সুনির্দিষ্ট তারিখটি পূর্বে উল্লিখিত দলিলে বর্ণিত হয়েছে।

(২) ডক্টর শরফুদ্দিন ইসলাহীর নিবন্ধ, মাআরিফ পত্রিকা, রজব সংখ্যা ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ৮৯।

(৩) আদ-দিয়া পত্রিকা, দ্বিতীয় ভলিউম, সপ্তম সংখ্যা, পৃষ্ঠা ২৬০-এ ফরাহীর আত্মজীবনী।

(৪) নুযহাতুল খাওয়াতির ৮:২৪৮। তাঁর নামের ক্ষেত্রে এটিই সঠিক তথ্য; ফরাহীর অধিকাংশ জীবনীকার তাঁকে "মেহেদী হোসেন" বলে উল্লেখ করেন যা ভুল। ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, আমি শেখ বদরুদ্দিন ইসলাহী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তাঁর কাব্যগ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি।

(৫) লুবাবুল আলবাব: ৪০৫-এ তাঁর জীবনী দেখুন।

(৬) নুযহাতুল খাওয়াতির ৮:৪৭৬-এ তাঁর জীবনী দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
لبعض الشعراء المتقدمين! (1).

بدأ الفراهي تعلم اللغة العربية، وله أربع عشرة سنة، فانتقل من قريته إلى مدينة (أعظم كره) وقرأ فيها على ابن عمته العلامة شبلي النعماني (ت 1332 هـ) الذي كان أكبر منه بست سنين (2).

ثم توجه معه إلى مدينة (لكناؤ) وحضر هناك مدة يسيرة في دروس العلامة الفقيه الشهير عبد الحي الأنصاري اللكنوي (ت 1304 هـ) (3)، كما أخذ عن الشيخ فضل الله بن نعمة الله الأنصاري (ت 1312 هـ) أحد الفضلاء البارعين في المعقولات (4).

ثم حداه حادي الشوق إلى التتلمذ على أديب العربية وشاعرها المفلق العلامة فيض الحسن السهارنفوري (ت 1304 هـ) (5) الذي كان مدرساً في الكلية الشرقية بمدينة (لاهور) -وقد درس عليه من قبل العلامة شبلي النعماني أيضاً- فسافر إلى (لاهور) وقرأ عليه -بصفة شخصية- كتب الأدب العربي وبعض كتب المعقولات. وقد أحب الشيخ تلميذه لفرط ذكائه وحسن أدبه، فأهدى إليه نسخة كتبها وصححها بخط يده من كتابه (رياض الفيض) وهو شرح للمعلقات السبع في ثلاث لغات: العربية والفارسية والأردية (6). وكان من حب الفراهي لشيخه أنه نشر ديوانه العربي سنة 1334 هـ على نفقته، وهو أول مطبوعات دار المصنفين بمدينة (أعظم كره).

وبعد ما تخرج في العلوم المتداولة من المنقول والمعقول وعلوم العربية، أقبل سنة 1300 هـ- وهو ابن عشرين سنة- على اللغة الإنجليزية والعلوم

--------------------------------------------

(1) حيات حميد (الندوي): 3، (الإصلاحي): 28.

(2) انظر في سيرته كتاب (حيات شبلي) للسيد سليمان الندوي والأعلام للزركلي 3: 355.

(3) انظر ترجمته في نزهة الخواطر 8: 250.

(4) نزهة الخواطر 248:8 وانظر ترجمته في 387:8.

(5) انظر ترجمته في نزهة الخواطر 8: 389.

(6) هذه النسخة النادرة محفوظة في مكتبة مدرسة الإصلاح، والكتاب مطبوع.
প্রাচীন কোনো কবির রচিত! (১)।

ফারাহি চৌদ্দ বছর বয়সে আরবি ভাষা শিক্ষা শুরু করেন। তিনি নিজ গ্রাম থেকে আজমগড় শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে তাঁর ফুফাতো ভাই আল্লামা শিবলী নুমানী (ওফাত ১৩৩২ হিজরি)-র কাছে পড়াশোনা করেন, যিনি তাঁর চেয়ে ছয় বছরের বড় ছিলেন (২)।

অতঃপর তিনি তাঁর সাথে লক্ষ্ণৌ শহরে গমন করেন এবং সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য প্রখ্যাত ফকিহ আল্লামা আব্দুল হাই আনসারী লখনভী (ওফাত ১৩০৪ হিজরি)-র দরসে উপস্থিত হন (৩)। এছাড়াও তিনি যুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী অন্যতম বিদগ্ধ পণ্ডিত শেখ ফজলুল্লাহ বিন নেয়ামাতুল্লাহ আনসারী (ওফাত ১৩১২ হিজরি)-র নিকট থেকেও জ্ঞান আহরণ করেন (৪)।

এরপর উচ্চতর জ্ঞানতৃষ্ণা তাঁকে প্রখ্যাত আরবি সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট কবি আল্লামা ফয়জুল হাসান সাহারানপুরী (ওফাত ১৩০৪ হিজরি)-র ছাত্রত্ব গ্রহণের প্রতি উৎসাহিত করে (৫), যিনি লাহোর শহরের ওরিয়েন্টাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। এর আগে আল্লামা শিবলী নুমানীও তাঁর নিকট পড়াশোনা করেছিলেন। তাই তিনি লাহোর সফর করেন এবং সেখানে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে আরবি সাহিত্য ও যুক্তিবিদ্যার কিছু কিতাব অধ্যয়ন করেন। শেখ তাঁর ছাত্রকে অত্যন্ত মেধা ও উত্তম শিষ্টাচারের কারণে অনেক ভালোবাসতেন। তাই তিনি নিজের হাতে লেখা ও সংশোধিত তাঁর গ্রন্থ 'রিয়াজুল ফয়জ'-এর একটি পাণ্ডুলিপি তাঁকে উপহার দেন। গ্রন্থটি ছিল তিনটি ভাষায় (আরবি, ফারসি ও উর্দু) সাব’আ মুয়াল্লাকার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৬)। আর উস্তাদের প্রতি ফারাহির ভালোবাসার নিদর্শন এই ছিল যে, তিনি ১৩৩৪ হিজরি সালে নিজ খরচে উস্তাদের আরবি কাব্যসমগ্র প্রকাশ করেন। এটি আজমগড় শহরের 'দারুল মুসান্নিফিন'-এর প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।

প্রচলিত মানকুল (বর্ণনাভিত্তিক), মাকুল (যুক্তিভিত্তিক) এবং আরবি ভাষার জ্ঞান অর্জনের পর, ১৩০০ হিজরি সালে—যখন তাঁর বয়স বিশ বছর—তিনি ইংরেজি ভাষা ও অন্যান্য বিজ্ঞানের প্রতি মনোনিবেশ করেন...

--------------------------------------------

(১) হায়াতে হামিদ (নাদভী): ৩, (ইসলাহী): ২৮।

(২) তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন সাইয়িদ সুলাইমান নাদভী রচিত 'হায়াতে শিবলী' এবং জিরিকলির 'আল-আলাম' ৩: ৩৫৫।

(৩) তাঁর জীবনী দেখুন 'নুজহাতুল খাওয়াতির' ৮: ২৫০।

(৪) নুজহাতুল খাওয়াতির ৮: ২৪৮ এবং তাঁর জীবনী দেখুন ৮: ৩৮৭।

(৫) তাঁর জীবনী দেখুন নুজহাতুল খাওয়াতির ৮: ৩৮৯।

(৬) এই বিরল পাণ্ডুলিপিটি মাদরাসাতুল ইসলাহ-এর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে এবং বইটি মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
الحديثة، فالتحق بثانوية (كرنَل غنْج) بمدينه (الله آباد) ثم بكلية (عليكره) التي تطورت فيما بعد إلى (جامعة عليكره). وكانت العربية والفارسية من المواد اللازمة لطلاب الكلية، ولكن الفراهي أعفي عنهما، بل كلّف من قبل المسؤولين ترجمة كتابين (1) من العربية إلى الفارسية لإدخالهما في المقررات الدراسية في الكلية التي كان هو أحد طلابها كما سبق.

وقد عني الفراهي في دراسته في الكلية بالفلسفة الحديثة ونال فيها درجة الامتياز مع اهتمامه بالإنجليزية والعلوم العصرية الأخرى. وقد أخذ الفلسفة من المستشرق الإنجليزي الشهير (توماس أرنولد) الذي كان من أساتذة الكلية، وعمل فيها مدرساً عشر سنوات (2). ومن مؤلفاته كتاب (الدعوة إلى الإسلام) الذي نال قبولاً عظيماً عند الباحثين المسلمين، ولكن الفراهي كان ينتقد هذا الكتاب انتقاداً شديداً ويرى أن الغرض من تأليفه تجريد المسلمين من روح الجهاد (3).

وفي أثناء طلبه في كلية عليكره، طلب إليه ترجمة تفسير سيد أحمد خان (مؤسس الكلية) إلى اللغة العربية، فرفضها قائلاً: "لن أشارك في نشر هذا الإثم" (4).

ثم درس سنتين علم القوانين الجارية (الحقوق)، ولكنه كان يكره الاشتغال به، فنبذه ولم يكمل تحصيله (5).

 

‌‌(4) مناصبه وأعماله التعليمية والإدارية:

تولى الفراهي بعد إكمال دراسته مناصب عدة تعليمية وإدارية. فعين سنة 1314 هـ مدرساً للعربية والفارسية بمدرسة الإسلام في مدينة (كراتشي)، ودرس فيها أكثر من تسع سنوات.

--------------------------------------------

(1) أحدهما جزء من طبقات ابن سعد، والآخر رسالة بدء الإسلام من تأليف العلامة شبلي النعماني باللغة العربية.

(2) انظر ترجمته في كتاب المستشرقون 84:2.

(3) حيات حميد (الإصلاحي): 34.

(4) مجلة معارف عدد رجب 1411 هـ، ص 92.

(5) الترجمة الذاتية، مجلة الضياء 2/ 7 ص 260.
আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি (এলাহাবাদ) শহরের (কর্নেলগঞ্জ) উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে (আলীগড়) কলেজে ভর্তি হন, যা পরবর্তীতে (আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়)-এ রূপান্তরিত হয়। আরবি ও ফারসি বিষয় দুটি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক ছিল, কিন্তু ফারাহিকে এই দুটি বিষয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল; বরং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে দুটি গ্রন্থ (১) আরবি থেকে ফারসিতে অনুবাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাতে সেগুলো কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায় যেখানে তিনি নিজেই একজন ছাত্র ছিলেন, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফারাহি কলেজে অধ্যয়নকালে আধুনিক দর্শনের প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং ইংরেজি ও অন্যান্য আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগের পাশাপাশি দর্শনে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলেজের অন্যতম শিক্ষক বিখ্যাত ইংরেজ প্রাচ্যবিদ (থমাস আর্নল্ড)-এর নিকট দর্শন পাঠ করেন, যিনি সেখানে দশ বছর শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন (২)। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে ‘দ্য প্রিচিং অফ ইসলাম’ (ইসলামের দাওয়াত) বইটি মুসলিম গবেষকদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছিল, কিন্তু ফারাহি এই বইটির কঠোর সমালোচনা করতেন এবং মনে করতেন যে এটি রচনার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের জিহাদী চেতনা থেকে রিক্ত করা (৩)।

আলীগড় কলেজে অধ্যয়নকালীন তাঁকে (কলেজের প্রতিষ্ঠাতা) সৈয়দ আহমদ খানের তাফসীর আরবি ভাষায় অনুবাদ করার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন: "আমি এই পাপাচার প্রচারে অংশগ্রহণ করব না" (৪)।

এরপর তিনি দুই বছর প্রচলিত আইনবিদ্যা (অধিকার শাস্ত্র) অধ্যয়ন করেন, কিন্তু তিনি এ বিষয়ে লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন, ফলে তিনি তা বর্জন করেন এবং পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি (৫)।

 

‌‌(৪) তাঁর পদমর্যাদা এবং শিক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মতৎপরতা:

ফারাহি শিক্ষা সমাপ্ত করার পর বেশ কিছু শিক্ষা ও প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ১৩১৪ হিজরি সনে (করাচি) শহরের মাদরাসাতুল ইসলামে আরবি ও ফারসি ভাষার শিক্ষক নিযুক্ত হন এবং সেখানে নয় বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেন।

--------------------------------------------

(১) তার একটি হলো ইবনে সা’দ-এর ‘তবকাত’-এর একটি অংশ, এবং অপরটি হলো আল্লামা শিবলী নুমানী কর্তৃক আরবি ভাষায় রচিত ‘বাদউল ইসলাম’ নামক পুস্তিকা।

(২) ‘আল-মুস্তাশরিকুন’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী দেখুন, ২:৮৪।

(৩) হায়াতে হামিদ (ইসলাহী): ৩৪।

(৪) মাআরিফ পত্রিকা, রজব ১৪১১ হিজরি সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৯২।

(৫) আত্মজীবনী, আল-জিয়া পত্রিকা, ২/৭, পৃষ্ঠা ২৬০।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم عيّن عام 1324 هـ أستاذاً مساعداً للعربية في كلية عليكره، وكان أستاذ العربية فيها حينذاك المستشرق اليهودي الألماني (جوزف هوروفيتس) ناشر الجزئين الأولين من طبقات ابن سعد وصاحب كتاب (المغازي الأولى ومؤلفوها) (1)، ولعل تعيينهما كان في وقت واحد. وقد أخذ عنه الفراهي اللغة العبرانية، كما استكمل المستشرق عليه العربية (2).

وبعد سنتين عيّن عام 1326 هـ أستاذاً للعربية بجامعة (الله آباد) وقضى هناك نحو ست سنوات، واختير عضواً في اللجنة العربية للعلوم الشرقية. ولما اقترح سنة 1331 هـ تأسيس جامعة عالمية في المدينة المنورة كان هو والعلامة شبلي النعماني من بين العلماء الذين اقترحت أسماؤهم للتدريس فيها (3).

ثم اختارته حكومة (حيدر آباد الدكن) عميداً لدار العلوم التي كانت كلية شرقية، فغادر إليها سنة 1332 هـ منتدباً من قبل حكومة ولايته، وكان -بالإضافة إلى مسؤوليته الإدارية- يدرّس الصفوف العليا في الكلية.

وكان الفراهي أحد المؤسسين للجامعة العثمانية بحيدر آباد، وهو الذي اقترح أن يكون تدريس العلوم الشرعية فيها في اللغة العربية، والعلوم العصرية باللغة الأردية، فوافقوا على الجزء الثاني ولكن لم يوافقوا على الجزء الأول من اقتراحه (4). وكانت له في حيدر آباد حلقة أسبوعية لتفسير القرآن الكريم يحضرها العلماء والباحثون وطلبة علم القرآن، ويعرضون عليه أسئلتهم فيجيب عنها (5).

مكث الفراهي بحيدر آباد إلى سنة 1337 هـ، ثم استقال من منصبه مع

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في كتاب المستشرقون 2:433.

(2) حيات حميد (الندوي): 8، (الإصلاحي): 36.

(3) مجلة معارف، عدد رجب 1411 هـ، ص 96.

(4) حيات حميد: 17.

(5) المرجع السابق: 18.
এরপর ১৩২৪ হিজরি সালে আলিগড় কলেজে আরবি ভাষার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। সে সময় সেখানে আরবির অধ্যাপক ছিলেন জার্মান ইহুদি প্রাচ্যবিদ (জোসেফ হোরোভিটস), যিনি ইবনে সা'দ-এর 'তাবাকাত'-এর প্রথম দুই খণ্ডের প্রকাশক এবং 'আল-মাগাজি আল-উলা ওয়া মুয়াল্লিফুহা' (প্রথম দিককার যুদ্ধাভিযানসমূহ ও সেগুলোর লেখকগণ) বইটির রচয়িতা ছিলেন (১)। সম্ভবত তাদের উভয়ের নিয়োগ একই সময়ে হয়েছিল। ফারাহি তাঁর কাছ থেকে হিব্রু ভাষা শিখেছিলেন, আর প্রাচ্যবিদ তাঁর কাছে আরবি ভাষা সম্পন্ন করেছিলেন (২)।

দুই বছর পর ১৩২৬ হিজরি সালে তিনি (এলাহাবাদ) বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবির অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সেখানে প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত করেন। তিনি প্রাচ্যবিদ্যার আরবি কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৩৩১ হিজরি সালে যখন মদিনা মুনাওয়ারায় একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়, তখন সেখানে অধ্যাপনার জন্য যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে তিনি এবং আল্লামা শিবলী নোমানীও ছিলেন (৩)।

এরপর (হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য) সরকার তাঁকে দারুল উলুমের অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করে, যা ছিল একটি শরয়ী কলেজ। ফলে তিনি তাঁর নিজ প্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকে প্রেষণে ১৩৩২ হিজরি সালে সেখানে গমন করেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি কলেজের উচ্চতর শ্রেণিগুলোতে পাঠদান করতেন।

ফারাহি হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। তিনিই প্রস্তাব করেছিলেন যে, সেখানে শরয়ী বিজ্ঞানসমূহ আরবি ভাষায় এবং আধুনিক বিজ্ঞানসমূহ উর্দু ভাষায় পাঠদান করা হোক। তারা তাঁর প্রস্তাবের দ্বিতীয় অংশের সাথে একমত হলেও প্রথম অংশের সাথে একমত হননি (৪)। হায়দ্রাবাদে তাঁর কুরআন তাফসিরের একটি সাপ্তাহিক মজলিস ছিল, যেখানে আলেম, গবেষক এবং কুরআন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হতেন। তারা তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন এবং তিনি সেগুলোর উত্তর দিতেন (৫)।

ফারাহি ১৩৩৭ হিজরি সাল পর্যন্ত হায়দ্রাবাদে অবস্থান করেন, এরপর তিনি তাঁর পদ থেকে ... সহ পদত্যাগ করেন

--------------------------------------------

(১) 'আল-মুস্তাশরিকুন' গ্রন্থে তাঁর জীবনী দেখুন, ২:৪৩৩।

(২) হায়াতে হামিদ (নাদভী): ৮, (ইসলাহি): ৩৬।

(৩) মাআরিফ সাময়িকী, রজব সংখ্যা ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ৯৬।

(৪) হায়াতে হামিদ: ১৭।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস: ১৮।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২০)
رغبة المسؤولين في بقائه هناك، وعاد إلى وطنه. وقد أشار إلى ذلك في ترجمته الذاتية قائلاً: "ولما كانت هذه المشاغل تمنعني عن التجرد لمطالعة القرآن المجيد، ولا يعجبني غيره من الكتب التي مللت النظر في أباطيلها، غير متون الحديث وما يعين على فهم القرآن، تركت الخدمة، ورجعت إلى وطني، وأنا بين خمسين وستين من عمري. فيا أسفا على عمر ضيعته في أشغال ضرها أكبر من نفعها! ونسأل الله الخاتمة على الإيمان" (1).

بعد عودته من حيدر آباد تولى الفراهي إدارة مدرسة إصلاح المسلمين التي أنشأتها جمعية إصلاح المسلمين في بلدة (سراي مير). وقد قامت هذه الجمعية في منطقة (أعظم كره) لإصلاح عقائد المسلمين وإزالة البدع المنتشرة وفض المنازعات والخصومات بين المسلمين، ثم أسست الجمعية مدرسة إصلاح المسلمين -التي سميت فيما بعد بمدرسة الإصلاح اختصاراً- لتخريج علماء ودعاة يحملون رسالتها، فيستمر عمل الدعوة والإصلاح. وقد أسند الإشراف على المدرسة إلى الفراهي وهو في حيدر آباد، فلما رجع إلى وطنه باشر إدارة المدرسة، ووضع فكرتها التعليمية، ورسم لها منهاجاً دراسياً فريداً يختلف عن مناهج المدارس الدينية الأخرى في نظامها، ومقرراتها الدراسية، وطريقة التدريس فيها. وفي السنوات الخمس الأخيرة من عمره قد وقف جزءاً كبيراً من وقته وجهده على خدمة هذه المدرسة فكان يقيم ثلاثة أيام من كل أسبوع في المدرسة، ويلقي دروساً في تفسير القرآن الكريم على أساتذتها وطلابها الكبار (2).

ولما توفي العلامة شبلي النعماني سنة 1332 هـ واجتمع تلامذته -وهو أحدهم- لتنفيذ فكرة أستاذهم لإنشاء مؤسسة دار المصنفين في مدينة أعظم كره، اختاروا الإمام الفراهي رحمه الله رئيساً لها والعلامة سليمان الندوي مديراً.

--------------------------------------------

(1) مجلة الضياء 2/ 7 ص 260.

(2) حيات حميد (الإصلاحي): 38.
সেখানে থাকার ব্যাপারে কর্মকর্তাদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি তার স্বদেশে ফিরে আসেন। তিনি তার আত্মজীবনীতে এর উল্লেখ করে বলেছেন: "যেহেতু এই কর্মব্যস্ততাগুলো আমাকে পবিত্র কুরআন অধ্যয়নে নিমগ্ন হতে বাধা দিচ্ছিল, এবং হাদীসের মূলপাঠ ও কুরআন অনুধাবনে সহায়ক বিষয়াদি ছাড়া অন্যান্য বইয়ের অসারতা দেখে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম যা আমার আর ভালো লাগছিল না, তাই আমি চাকুরিজীবন ছেড়ে দিয়ে স্বদেশে ফিরে আসি। তখন আমার বয়স ছিল পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। হায় আফসোস সেই জীবনের ওপর যা আমি এমন সব কাজে ব্যয় করেছি যার অপকার উপকারের চেয়েও বেশি ছিল! আমরা আল্লাহর কাছে ঈমানের সাথে মৃত্যুর প্রার্থনা করি।" (১)

হায়দ্রাবাদ থেকে ফিরে আসার পর ফারাহি 'মাদ্রাসা ইসলাহুল মুসলিমীন'-এর পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা 'সরাই মীর' নামক স্থানে 'জমিয়তে ইসলাহুল মুসলিমীন' কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সমিতিটি আজমগড় অঞ্চলে মুসলমানদের আকীদা সংস্কার, প্রচলিত বিদআত দূরীকরণ এবং মুসলমানদের মধ্যকার বিবাদ ও কলহ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল। অতঃপর সমিতিটি 'মাদ্রাসা ইসলাহুল মুসলিমীন' প্রতিষ্ঠা করে—যা পরবর্তীতে সংক্ষেপে 'মাদ্রাসাতুল ইসলাহ' নামে অভিহিত হয়—যাতে তাদের মিশন বহনকারী আলেম ও দাঈ তৈরি হয় এবং দাওয়াত ও সংস্কারমূলক কাজ অব্যাহত থাকে। ফারাহি যখন হায়দ্রাবাদে ছিলেন তখনই মাদ্রাসার তদারকির দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। দেশে ফিরে তিনি সরাসরি মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি এর শিক্ষাগত রূপরেখা প্রণয়ন করেন এবং একটি অনন্য পাঠ্যক্রম তৈরি করেন যা পদ্ধতি, পাঠ্যবই এবং পাঠদান রীতির দিক থেকে অন্যান্য দ্বীনি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম থেকে স্বতন্ত্র ছিল। তার জীবনের শেষ পাঁচ বছরে তিনি তার সময়ের এবং মেধার বড় একটি অংশ এই মাদ্রাসার সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তিনি তিন দিন মাদ্রাসায় অবস্থান করতেন এবং এর শিক্ষক ও উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআনের তাফসীরের ওপর দরস প্রদান করতেন (২)।

যখন আল্লামা শিবলী নুমানী ১৩৩২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তার ছাত্ররা—যাদের মধ্যে তিনি (ফারাহি) অন্যতম ছিলেন—তাদের উস্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজমগড় শহরে 'দারুল মুসান্নিফীন' প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমবেত হন, তখন তারা ইমাম ফারাহি (রহ.)-কে এর সভাপতি এবং আল্লামা সুলাইমান নদভীকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করেন।

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতুল আদ-দিয়া ২/ ৭, পৃষ্ঠা ২৬০।

(২) হায়াতে হামিদ (আল-ইসলাহী): ৩৮।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(5) صفاته وأخلاقه:

كان الفراهي رحمه الله معروفاً بفرط الذكاء ونفاذ البصر وسرعة الإدراك ودقة الاستنباط. وكان ورعه وزهده في الدنيا، وقصده في العيش، وعزوفه عن السمعة، وحسن تعبده، مع جود وغنى نفس وتواضع، موضع إجماع من معاصريه.

كان العلامة شبلي النعماني رحمه الله يقول: "من جلس إلى عبد الحميد انصرف قلبه عن الدنيا" (1).

ويقول السيد سليمان الندوي رحمه الله: "كان رحمه الله آية من آيات الله في حدة الذهن وكثرة الفضل وسعة العلم ودماثة الخلق وسداد الرأي والزهد في الدنيا والرغبة في مرضاة الله" (2).

ومما وصفه به صاحب نزهة الخواطر: "جودة فهم، ووفور ذكاء، وشهامة نفس، وانجماع لا سيما عن بني الدنيا، وعدم اشتغال بما لا يعنيه".

ويقول الأستاذ عبد الماجد الدريابادي رحمه الله: "لم تر عيني مثله في الصبر والشكر والقناعة والتوكل وغنى النفس". وقال في موضع آخر: "كانت شخصية الفراهي قوية جذابة، قلما رأينا مؤمناً قانتاً مثله، قيل في وصف أولياء الله إن الجلوس معهم يذكّر الإنسان بالله سبحانه، وكان يصدق هذا الوصف على الفراهي صدقاً تاماً. أما الصلاة فكأن قلبه معلق بأوقاتها. أقام في حيدر آباد سنوات عميداً لدار العلوم، يتقاضى مرتباً عالياً، وكانت صلته بطبيعة الحال بعلية القوم، لكن لم يتغير شيء مما كان عليه من القناعة والاقتصاد في المطعم والملبس والديانة والصدق والإخلاص. أما مجالسه فلا مجال فيها للغيبة ولغو القول والهزل. وبالجملة فلم يكن له نظير لا في العلم والفضل

--------------------------------------------

(1) حيات حميد: 55.

(2) ترجمة الفراهي الملحقة بكتابه إمعان في أقسام القرآن ط دار القلم: 15.
(৫) তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র:

ফরাহী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি, দ্রুত বোধশক্তি এবং সূক্ষ্ম তত্ত্ব উদ্ঘাটন ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর পরহেজগারিতা, দুনিয়াবিমুখতা, জীবনযাপনে পরিমিতিবোধ, সুখ্যাতির মোহমুক্তি এবং চমৎকার ইবাদতনিষ্ঠার পাশাপাশি তাঁর দানশীলতা, হৃদয়ের সচ্ছলতা ও বিনয় তাঁর সমসাময়িকদের নিকট সর্বসম্মত ছিল।

আল্লামা শিবলী নুমানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলতেন: "যে ব্যক্তি আব্দুল হামিদের মজলিসে বসেছে, তার অন্তর দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে গেছে" (১)।

সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মেধার প্রখরতা, অশেষ শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞানের প্রশস্ততা, চরিত্রের মাধুর্য, সঠিক চিন্তাধারা, দুনিয়াবিমুখতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ব্যাকুলতার ক্ষেত্রে আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম এক নিদর্শন ছিলেন" (২)।

'নুযহাতুল খাওয়াতির' গ্রন্থের লেখক তাঁর বর্ণনায় লিখেছেন: "উন্নত বুঝশক্তি, প্রচুর বুদ্ধিমত্তা, উন্নত মনোবল এবং বিশেষ করে দুনিয়াদারদের থেকে নির্লিপ্ত থাকা ও অনর্থক কাজে লিপ্ত না হওয়া ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য।"

উস্তাদ আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, অল্পেতুষ্টি, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং হৃদয়ের সচ্ছলতার ক্ষেত্রে আমার চোখ তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি।" তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "ফরাহীর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও আকর্ষণীয়; আমরা তাঁর মতো অত্যন্ত অনুগত বিশ্বাসী খুব কমই দেখেছি। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বর্ণনায় বলা হয়ে থাকে যে, তাঁদের মজলিসে বসা মানুষকে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, আর ফরাহীর ক্ষেত্রে এই বর্ণনাটি পূর্ণমাত্রায় সত্য ছিল। আর নামাজের ব্যাপারে অবস্থা এমন ছিল যে, মনে হতো তাঁর অন্তর নামাজের সময়ের সাথে আটকে আছে। তিনি হায়দ্রাবাদে দীর্ঘ বছর দারুল উলুমের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন এবং উচ্চ অংকের বেতন পেতেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর যোগাযোগ ছিল সমাজের অভিজাত শ্রেণির সাথে, কিন্তু তাঁর জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তন আসেনি; তিনি খাবার, পোশাক, ধর্মনিষ্ঠা, সত্যবাদিতা এবং আন্তরিকতার ক্ষেত্রে আগের মতোই পরিমিতিবোধ ও অল্পেতুষ্টির ওপর অটল ছিলেন। তাঁর মজলিসগুলোতে পরনিন্দা, অসার কথা ও ঠাট্টা-তামাশার কোনো স্থান ছিল না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না।"

--------------------------------------------

(১) হায়াতে হামিদ: ৫৫।

(২) ফরাহীর জীবনী, যা তাঁর 'ইমআন ফি আকসামিল কুরআন' গ্রন্থের সাথে যুক্ত, দারুল কলম সংস্করণ: ১৫।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২২)
ولا في الديانة والتقوى" (1).

وقد أقبلت الدنيا على الفراهي، فتهيأت له فرص لو اغتنمتها وسعى إلى ما يسعى إليه أهل الدنيا لنال أجلّ الرتب وأعلى المناصب، وحاز كل ما تطمع فيه النفوس من الأموال والألقاب وحسن الصيت، ولكنه كان زاهداً في كل ذلك، مقبلاً على الله، قائلاً للدنيا ما قاله علي بن أبي طالب رضي الله عنه. "يا دنيا غُرِّي غيري" (2). وكان من تيقظه وحذره في ذلك أنه قال في أثناء بعض تلك الفرص (3) التي يتمنى الناس حصولها في حياتهم مقطوعة رباعية في الفارسية يخاطب نفسه محذراً إياها، ترجمتها: "الجاهل مشغول بالبحث عن لذيذ المآكل، والعاقل مصروف همه إلى نيل الصيت والسمعة. أما أنت أيها الفراهي فاجتنب الاثنين، فيوشك أن ترى كليهما قد نشبت حلوقهما في الحبالة" (4).

وكان من ورعه وعدله أنه حكم في قضية -جعله الخصم حكماً فيها- على والده، مع كونه من أبرّ الناس به، وخرج بذلك جزء كبير من ضياعه إلى ملك الخصم (5).

 

‌‌(6) ثقافته وعلومه:

كان الفراهي عالماً ذا ثقافة واسعة متنوعة، فقده برع في العلوم النقلية والعقلية، ومهر في اللغات العربية والفارسية والإنجليزية، وتعلّم اللغة العبرانية. وانفرد من بين معاصريه من علماء الهند بأنه درس مع كل ذلك علوم الغرب وآدابه في اللغة الإنجليزية دراسة الناقد البصير، ثم لم يزده ذلك إلا قوة في الدين واستقامةً عليه علماً وعملاً.

--------------------------------------------

(1) مقال الدريابادي في صحيفته (صدق) عدد 19/ 6/ 1945 م.

(2) الرقة والبكاء: 198.

(3) مقال الأستاذ شير محمد في مجلة الضياء 2/ 7.

(4) نواي فهلوي: 40.

(5) حيات حميد (الإصلاحي): 53.
কিংবা দ্বীনদারি ও তাকওয়ার ক্ষেত্রেও নয়" (১)।

দুনিয়া ফারাহীর নিকট ধরা দিয়েছিল এবং তাঁর সামনে এমন সব সুযোগ তৈরি হয়েছিল যে, তিনি যদি সেগুলোকে কাজে লাগাতেন এবং দুনিয়াদারদের ন্যায় প্রচেষ্টা চালাতেন, তবে তিনি সুমহান মর্যাদা ও সর্বোচ্চ পদমর্যাদা লাভ করতেন। তিনি সেই সমস্ত ধন-সম্পদ, পদবি ও সুখ্যাতি অর্জন করতে পারতেন যার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মনে থাকে। কিন্তু তিনি এই সমস্ত কিছুর প্রতি বিমুখ (যাহিদ) ছিলেন এবং আল্লাহর প্রতি মনোযোগী ছিলেন। তিনি দুনিয়াকে উদ্দেশ্য করে তাই বলেছিলেন যা আলি ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: "হে দুনিয়া, আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দাও" (২)। দুনিয়াবি মোহের ব্যাপারে তাঁর সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি এমন ছিল যে, মানুষের জীবনে কাম্য সেই সব সুযোগের একটির সময় (৩) তিনি নিজেকে সতর্ক করে ফার্সি ভাষায় একটি রুবাই (চতুষ্পদী কবিতা) লিখেছিলেন, যার অনুবাদ হলো: "মূর্খ সুস্বাদু খাবারের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে, আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি খ্যাতি ও সুনাম অর্জনে সচেষ্ট হয়। কিন্তু হে ফারাহী! তুমি এই উভয়টিই পরিহার করো, কেননা শীঘ্রই দেখা যাবে যে এই উভয়টিই তাদের কণ্ঠনালি নিয়ে ফাঁদে আটকে পড়েছে" (৪)।

তাঁর খোদাভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার একটি নিদর্শন ছিল এই যে, একটি মামলার ফয়সালায়—যেখানে প্রতিপক্ষ তাঁকে সালিশ মেনেছিল—তিনি তাঁর পিতার বিরুদ্ধেই রায় প্রদান করেছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে তাঁর পিতার প্রতি সবচেয়ে বেশি সদাচারী। এর ফলে তাঁর ভূ-সম্পত্তির একটি বড় অংশ প্রতিপক্ষের মালিকানায় চলে যায় (৫)।

 

‌‌(৬) তাঁর জ্ঞান ও সংস্কৃতি:

ফারাহী ছিলেন ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময় পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন আলিম। তিনি বর্ণিত জ্ঞান (নাকলি) ও যুক্তিনির্ভর জ্ঞান (আকলি)—উভয় ক্ষেত্রেই পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি আরবি, ফার্সি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ছিলেন এবং হিব্রু ভাষাও শিখেছিলেন। ভারতের তৎকালীন আলিমদের মধ্যে তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন এই কারণে যে, এই সবকিছুর পাশাপাশি তিনি ইংরেজি ভাষায় পশ্চিমা বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে গভীর পর্যালোচনামূলক অধ্যয়ন করেছিলেন। আর এটি ইলম ও আমল উভয় ক্ষেত্রে দ্বীনের ওপর তাঁর দৃঢ়তা ও অবিচলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) দরিয়াবাদীর নিবন্ধ, তাঁর পত্রিকা (সিদক), সংখ্যা: ১৯/ ৬/ ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ।

(২) আর-রিক্কাহ ওয়াল বুকা: ১৯৮।

(৩) উস্তাদ শের মুহাম্মদের নিবন্ধ, আদ-দিয়া পত্রিকা, ২/ ৭।

(৪) নাওয়ায়ে পাহলভি: ৪০।

(৫) হায়াতে হামিদ (ইসলাহি): ৫৩।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
لكن العلم الذي غلب عليه هو علم القرآن الذي بلغ فيه إلى منزلة تتقاصر دونها الهمم. ونكتفي هما بلمحة موجزة عن ثقافته الواسعة التي امتازت في كل جوانبها بالكيف أكثر من الكم.

قد اعترف أقران الفراهي وشيوخه بعلو منزلته في معرفة اللغتين الفارسية والعربية فيقول الأستاذ عبد الماجد الدريابادي: "قد بذّ العلامة الفراهي في الآداب الفارسية والعربية أقرانه بل شيخه شبلي النعماني أيضاً" (1) وقد ذكرنا فيما سبق معارضته -وهو ابن ستة عشر عاماً- للشاعر الفارسي الشهير (خاقاني) بقصيدة صعبة الرديف بهرت أحد كبار علماء الفارسية وخيّل إليه أنها لبعض الشعراء المتقدمين.

وقد طبع ديوان شعره الفارسي عام 1903 م فأرسل العلامة شبلي النعماني نسخة منه إلى الأمير العالم صاحب المكتبة الشهيرة الشيخ حبيب الرحمن الشيرواني وكتب إليه: "طبع شيء من شعر حميد الدين، نرسل إليكم نسخة منه، ولعلكم تنظرون في القصيدتين اللتين في آخر الكتاب لتتذوقوا اللسان الفارسي الأصيل" (2). وقد طبع الديوان مرة أخرى في طبعة أوفى بعنوان (نواي فهلوي) سنة 1967 م.

للفراهي ديوان آخر ترجم فيه صحيفة أمثال سليمان إلى الفارسية الدريّة التي لا يشوبها شيء من ألفاظ العربية، وقد طبع في حياته في حيدر آباد بعنوان (خردنامه).

ومما يدل على علو كعبه في الآداب الفارسية رسائل العلامة شبلي النعماني إليه في أثناء تأليفه كتاب (شعر العجم)، يقول في بعضها: "الآبيات التي سترسلها إلي من شاهنامة الفردوسي، ينبغي أن تفسر الغريب من ألفاظها في مواقعها، فإن أكثر ألفاظها غير مألوفة الآن" (3). وكتب في رسالة أخرى:

--------------------------------------------

(1) مقاله (مولانا حميد الدين الفراهي) في صحيفة الداعي، عدد 3 ديسمبر 1976م.

(2) مكاتيب شبلي 1:124.

(3) المرجع السابق 2: 28، وكتاب شعر العجم في تاريخ الشعر الفارسي في خمسة مجلدات.
কিন্তু যে জ্ঞানটি তাঁর ওপর প্রবল ছিল, তা হলো কুরআনের জ্ঞান, যাতে তিনি এমন এক মর্যাদায় পৌঁছেছেন যেখানে পৌঁছাতে মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো খাটো হয়ে পড়ে। আমরা এখানে তাঁর সেই প্রশস্ত সংস্কৃতির একটি সংক্ষিপ্ত ঝলক তুলে ধরতেই ক্ষান্ত থাকব, যা এর প্রতিটি দিক থেকেই পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানে অধিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল।

ফারাহীর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর শিক্ষকগণ ফারসি ও আরবি উভয় ভাষা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদাকে স্বীকার করেছেন। অধ্যাপক আব্দুল মাজিদ দরিয়াবাদি বলেন: "আল্লামা ফারাহী ফারসি ও আরবি সাহিত্যে তাঁর সমসাময়িকদের এমনকি তাঁর শিক্ষক শিবলী নোমানীকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন" (১)। ইতিপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত ফারসি কবি (খাকানি)-র একটি কবিতার উত্তর—এমন এক কঠিন পদ্যছন্দে—লিখেছিলেন যা একজন বড় ফারসি পণ্ডিতকে বিস্মিত করেছিল এবং তাঁর মনে হয়েছিল যে এটি কোনো প্রাচীন কবির রচনা।

১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ফারসি কবিতার দেওয়ান মুদ্রিত হয়। আল্লামা শিবলী নোমানী এর একটি কপি প্রখ্যাত পাঠাগারের স্বত্বাধিকারী বিজ্ঞ আমীর শেখ হাবিবুর রহমান শিরওয়ানির নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁকে লেখেন: "হামিদুদ্দীনের কিছু কবিতা মুদ্রিত হয়েছে, আমি এর একটি কপি আপনার নিকট পাঠাচ্ছি; সম্ভবত আপনি বইয়ের শেষে থাকা কবিতা দুটির প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন যাতে আপনি প্রকৃত ফারসি ভাষার স্বাদ আস্বাদন করতে পারেন" (২)। ১৯৬৭ সালে 'নাওয়ায়ে পেহলভি' শিরোনামে আরও পূর্ণাঙ্গরূপে এই দেওয়ানটি পুনরায় মুদ্রিত হয়।

ফারাহীর আরেকটি দেওয়ান রয়েছে যাতে তিনি সুলাইমানের প্রবাদ সংকলনকে এমন এক খাঁটি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেছেন যাতে কোনো আরবি শব্দের মিশ্রণ নেই। এটি তাঁর জীবদ্দশাতেই হায়দ্রাবাদ থেকে 'খিরদনামা' শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

ফারসি সাহিত্যে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ পাওয়া যায় আল্লামা শিবলী নোমানীর সেইসব চিঠিপত্রে যা তিনি 'শেরুল আজম' গ্রন্থ রচনার সময় তাঁকে লিখেছিলেন। তিনি কোনো একটিতে বলেন: "ফেরদৌসীর শাহনামা থেকে আপনি আমাকে যেসব পঙক্তি পাঠাবেন, সেগুলোর দুর্লভ শব্দসমূহ যথাস্থানে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন, কেননা এর অধিকাংশ শব্দই বর্তমানে অপ্রচলিত" (৩)। তিনি অন্য এক চিঠিতে লিখেছিলেন:

--------------------------------------------

(১) আদ-দায়ী পত্রিকায় নিবন্ধ (মাওলানা হামিদুদ্দীন ফারাহী), সংখ্যা ৩ ডিসেম্বর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ।

(২) মাকাতীবে শিবলী ১:১২৪।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র ২: ২৮ এবং পাঁচ খণ্ডে ফারসি কবিতার ইতিহাসের ওপর রচিত 'শেরুল আজম' গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
"أرسل إلي أمثلة من التخييل في الشعر الفارسي حسب آراء النقاد الغربيين" (1).

أما الإنجليزية فقد أتقن الفراهي دراستها، وألّف فيها وحاضر، وقد اطلع بواسطتها على كتابات المستشرقين عن القرآن وتاريخ العرب، وعلى الأدب الإنجليزي شعراً ونثراً وبلاغةً، وعلى كتب الفلسفة الحديثة وما ترجم إليها من كتب الفلسفة والآداب اليونانية. ومن آثاره بالإنجليزية مقالة في عقيدة الشفاعة والكفارة، ردّ بها على بعض علماء النصارى (2).

وقد أقرت ندوة العلماء في اجتماعها السنوي الذي عقد في دلهي عام 1328 هـ إعداد ترجمة إنجليزية لمعاني القرآن الكريم، نظراً لأن التراجم الأخرى الموجودة في ذلك الحين قد تمت على أيدي النصارى. فشكّلت لجنة مؤلفة من العلامة الفراهي والنواب عماد الملك البلجرامي والشيخ محمد صالح، على أن يقوم عماد الملك بالترجمة ويراجعها الفراهي والشيخ محمد صالح (3).

وقد درس الفراهي رحمه الله اللغة العبرانية، والذي دعاه إلى ذلك انتشار جمعيات التنصير في عهده في الهند، والرد على اليهود والنصارى من خلال كتبهم يقتضي دراستها الدقيقة وبصورة مباشرة. فاستفاد الفراهي بمعرفته للغة العبرانية ووقوفه على الدراسات المتعلقة بصحف أهل الكتاب في اللغة الإنجليزية، في كشف كثير من تحريفاتهم بنصوص كتبهم، كما نرى في كتابه (الرأي الصحيح فيمن هو الذبيح) فقد جاء بثلاثة عشر دليلاً من التوراة نفسها للرد على زعمهم بأن الذبيح إسحاق عليه السلام، وناقش علماء أهل الكتاب، وفسّر بعض ما أشكل عليهم من كتبهم. ومن مؤلفاته التي لم يكملها (الطريف

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق 2: 18.

(2) ذكرها السيد سليمان الندوي في ترجمة الفراهي الملحقة بكتابه (إمعان في أقسام القرآن). انظر طبعة دار القلم: 19.

(3) حيات شبلي: 582.
"পাশ্চাত্য সমালোচকদের অভিমত অনুযায়ী পারস্য কবিতায় কল্পনার কিছু উদাহরণ আমার নিকট পাঠান" (১)।

আর ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রে, আল-ফারাহি এর অধ্যয়নে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, এতে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বক্তৃতা দিয়েছেন। এর মাধ্যমেই তিনি কুরআন এবং আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের রচনাবলি, ইংরেজি সাহিত্যের কবিতা, গদ্য ও অলঙ্কারশাস্ত্র এবং আধুনিক দর্শনের কিতাবসমূহ ও গ্রিক দর্শন ও সাহিত্যের অনূদিত গ্রন্থাবলি সম্পর্কে অবগত হন। ইংরেজিতে তার অন্যতম নিদর্শন হলো সুপারিশ ও প্রায়শ্চিত্তের আকিদা বিষয়ক একটি নিবন্ধ, যার মাধ্যমে তিনি কয়েকজন খ্রিস্টান পণ্ডিতের জবাব দিয়েছেন (২)।

১৩২৮ হিজরি সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত নদওয়াতুল উলামার বার্ষিক সভায় পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের একটি ইংরেজি অনুবাদ প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; কারণ তৎকালীন সময়ে বিদ্যমান অন্যান্য অনুবাদগুলো খ্রিস্টানদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে আল্লামা ফারাহি, নবাব ইমাদুল মুলক বিলগ্রামি এবং শায়খ মুহাম্মদ সালেহ-এর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়; এই শর্তে যে, ইমাদুল মুলক অনুবাদ করবেন এবং ফারাহি ও শায়খ মুহাম্মদ সালেহ তা নিরীক্ষণ করবেন (৩)।

ফারাহি (রহিমাহুল্লাহ) হিব্রু ভাষা শিক্ষা করেছিলেন। ভারতে তার সমসাময়িককালে খ্রিস্টান মিশনারি সংস্থাগুলোর ব্যাপক বিস্তার তাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কারণ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কিতাবসমূহের মাধ্যমে তাদের জবাব দেওয়ার জন্য সেই কিতাবগুলো সরাসরি ও সূক্ষ্মভাবে অধ্যয়ন করা আবশ্যক ছিল। ফারাহি তার হিব্রু ভাষার জ্ঞান এবং ইংরেজি ভাষায় আহলে কিতাবদের শাস্ত্র সংক্রান্ত গবেষণার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েই তাদের বহু বিকৃতি উন্মোচন করেছেন। যেমনটি আমরা তার ‘যবেহকৃত ব্যক্তি কে, সে বিষয়ে সঠিক অভিমত’ নামক কিতাবে দেখতে পাই। এতে তিনি তাওরাত থেকেই তেরটি প্রমাণ পেশ করেছেন তাদের এই দাবির খণ্ডনে যে, যবেহকৃত ব্যক্তি ছিলেন ইসহাক (আলাইহিস সালাম)। তিনি আহলে কিতাবদের পণ্ডিতদের সাথে আলোচনা করেছেন এবং তাদের কিতাবের জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার অসম্পূর্ণ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে (আত-তারিফ

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র ২: ১৮।

(২) সৈয়দ সুলায়মান নদভী এটি ফারাহির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যা তার (ইমআন ফী আকসামিল কুরআন) গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত। দেখুন দারুল কালাম সংস্করণ: ১৯।

(৩) হায়াতে শিবলী: ৫৮২।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
في التحريف) الذي كان يريد أن يجمع فيه جملة من تحريفاتهم. وقد استفاد أيضاً بمعرفته للغة العبرانية -وهي من أخوات العربية- في تحقيق بعض ألفاظ القرآن الكريم وأساليبه.

ومن ثم لما جاءت فكرة الرد على شبهات المستشرقين وافتراءاتهم على القرآن الكريم، وكتب بعض المسؤولين في حكومة (بهويال) إلى العلامة شبلي النعماني رد عليه بأنه لا يوجد في الهند كلها من يستطيع أن يقوم بهذا العمل مثل حميد الدين الفراهي (1). وكتب في رسالة أخرى: "يندر في المسلمين من يجيد الكتابة في اللغة الإنجليزية (مع تبحره في القرآن) ولذلك فإن حميد الدين هو الذي يستطيع أن يقوم بهذا العمل خير قيام" (2).

أما العلوم العقلية فدرسها الفراهي أيام طلبه إذ كانت جزءاً لازماً من نظام الدرس في عصره، ثم اهتم بالفلسفة الحديثة حينما دخل كلية عليكره، ونال فيها درجة الامتياز، وقد واصل اطلاعه على ما كتبه فلاسفة الغرب. يقول الأستاذ عبد الماجد الدريابادي الذي كان من المختصين في الفلسفة الحديثة: "إن الفراهي قد درس الفلسفة دراسة واسعة وعميقة جداً، وكان يقرأ أحدث ما يصدر في الغرب من كتب الفلسفة والمنطق، ولم يكن يكتفي بالاطلاع عليها، بل يقرؤها قراءة بحث ونقد ومقارنة" (3). ومن هنا كان أعرف بخطرها وضررها وضلالها. وقد نبّه على ذلك في كتبه (4)، ثم لما قرر المنهج الدراسي لمدرسة الإصلاح حذف منه كتب المنطق والفلسفة، ولم يترك إلا مبادئهما ليلمّ الطالب بالمصطلحات المستعملة في الفنين فيتمكن من الاستفادة من كتب علماء الإسلام في أصول الفقه والكلام. وكان من أعظم كتبه التي لم يكملها كتاب حجج القرآن، والأبواب الثلاثة الأولى منه في نقد الفلسفة والمنطق وعلم

--------------------------------------------

(1) مكاتيب شبلي 1: 25.

(2) المرجع السابق 1:254.

(3) مقالته في صحيفة الداعي، عدد 3 ديسمبر 1976 م.

(4) من ذلك قوله في كتاب المفردات: "ومضرة كتب الفلسفة أضلّ وأوغل" (ص 5).
(বিকৃতি বিষয়ে) যাতে তিনি তাদের বিকৃতিসমূহের একটি সংকলন করতে চেয়েছিলেন। তিনি হিব্রু ভাষায়—যা আরবির সমগোত্রীয়—তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের কিছু শব্দ ও শৈলী পর্যালোচনায় উপকৃত হয়েছিলেন।

অতঃপর যখন প্রাচ্যবিদদের সন্দেহ ও পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে তাদের অপবাদসমূহের খণ্ডনের চিন্তা সামনে এল, এবং ভোপাল সরকারের কিছু কর্মকর্তা আল্লামা শিবলী নোমানীকে পত্র লিখলেন, তখন তিনি উত্তরে জানালেন যে, সমগ্র ভারতে হামিদুদ্দিন ফারাহির (১) মতো এই কাজ করার সক্ষমতা আর কারো নেই। তিনি অন্য একটি পত্রে লিখেছেন: "মুসলিমদের মধ্যে এমন ব্যক্তি বিরল যিনি (কুরআনে গভীর ব্যুৎপত্তির পাশাপাশি) ইংরেজি ভাষায় দক্ষভাবে লিখতে পারেন, তাই হামিদুদ্দিনই সেই ব্যক্তি যিনি সর্বোত্তমভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন" (২)।

আকলি বা যুক্তিনির্ভর বিদ্যার কথা বলতে গেলে, ফারাহি তাঁর ছাত্রজীবনে এগুলো অধ্যয়ন করেছিলেন, কারণ এটি তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ ছিল। এরপর তিনি যখন আলীগড় কলেজে ভর্তি হন, তখন আধুনিক দর্শনের প্রতি আগ্রহী হন এবং সেখানে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি পশ্চিমা দার্শনিকদের রচনার ওপর তাঁর পঠন-পাঠন অব্যাহত রেখেছিলেন। উস্তাদ আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী—যিনি আধুনিক দর্শনের বিশেষজ্ঞ ছিলেন—বলেন: "ফারাহি দর্শন অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তিনি পশ্চিমে প্রকাশিত দর্শন ও যুক্তবিদ্যার সর্বশেষ বইগুলো পড়তেন। তিনি কেবল সেগুলো সাধারণ পাঠ করতেন না, বরং গবেষণা, সমালোচনা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের সাথে সেগুলো পাঠ করতেন" (৩)। এই কারণেই তিনি এর বিপদ, ক্ষতিকর দিক এবং বিভ্রান্তি সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন (৪)। অতঃপর যখন তিনি মাদরাসাতুল ইসলাহ-এর পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করেন, তখন তিনি তা থেকে যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের কিতাবগুলো বাদ দিয়ে দেন এবং কেবল এগুলোর প্রাথমিক মূলনীতিসমূহ অবশিষ্ট রাখেন, যাতে শিক্ষার্থী এই দুই শাস্ত্রের পরিভাষাগুলোর সাথে পরিচিত হতে পারে এবং উসুলুল ফিকহ ও ইলমুল কালামে ইসলামি পণ্ডিতদের রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার সক্ষমতা লাভ করে। তাঁর অসম্পূর্ণ মহান গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 'হুজাজুল কুরআন', যার প্রথম তিনটি অধ্যায় ছিল দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল... এর সমালোচনার ওপর।

--------------------------------------------

(১) মাকাতিবে শিবলী ১: ২৫।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র ১: ২৫৪।

(৩) আদ-দায়ী পত্রিকায় তাঁর নিবন্ধ, ৩ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সংখ্যা।

(৪) এর মধ্যে 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য হলো: "দর্শন শাস্ত্রের বইগুলোর ক্ষতি আরও বিভ্রান্তিকর ও গভীর" (পৃষ্ঠা ৫)।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
الكلام. والعلماء والباحثون الذين حضروا مجالسه ومحاضراته في نقد هذه العلوم وبيان زيفها، كانوا يشبهونه بشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في ذلك وفي تبحره في علوم القرآن.

أما العربية فكان فيها إماماً لا يشق له غبار، وكان له في كل علم من علومها من لغة، ونحو، وبلاغة، وعروض، تحقيقات واجتهادات واستدراكات على الأئمة. ونكتفي هنا بالإشارة إلى كتابه (جمهرة البلاغة)، الذي نقض فيه الأساس الذي يقوم عليه فن البلاغة عند أرسطاطاليس، وهو نظرية المحاكاة، التي يرى الفراهي أن فن البلاغة العربية تأثر بها، فجار عن قصد السبيل، وانتقد في ذلك الإمام عبد القاهر الجرجاني مع اعترافه بجلالته. وقصد في هذا الكتاب إلى تأسيس فن البلاغة على قواعد جديدة في ضوء القرآن الكريم وكلام العرب الأقحاح.

ولما أرسل الفراهي فصولاً من جمهرة البلاغة إلى العلامة شبلي النعماني أعجب به إعجاباً جعله يلخص مباحثه المهمة وخاصة نقده لنظرية المحاكاة في مجلة الندوة التي كان يصدرها باللغة الأردية، مع أن النعماني نفسه يعدّ من أشهر النقّاد والكتّاب ومن الأركان الخمسة للأدب الأردي، وقد نشر الكتاب بعد وفاة المؤلف، ونفد قبل أن يصل إلى البلاد العربية ليأخذ مكانه من البحث والنقاش، فهو كتاب فريد في تاريخ البلاغة العربية.

وللفراهي ديوان شعر لطيف في العربية، طبع سنة 1387 هـ، وقد ذكره الدكتور تقي الدين الهلالي رحمه الله فقال في مذكراته: "وللشيخ المذكور ديوان شعر، سمعته منه، بليغ مؤثر في استنهاض همم المسلمين وبث الحياة في قلوبهم، وذكر عداء الإفرنج لهم، وذكر حرب طرابلس والحرب الكبرى، والرجل فصيح في التكلم لغاية … ".

أما العلوم الشرعية فتشهد بطول باعه فيها الفصول التي سوّدها من كتبه: الرائع في أصول الشرائع، وإحكام الأصول بأحكام الرسول، وفقه القرآن، وكان
বক্তব্য। আলেম ও গবেষকগণ যারা এসব শাস্ত্রের সমালোচনা এবং সেগুলোর অসারতা বর্ণনায় তাঁর মজলিস ও বক্তৃতায় উপস্থিত হতেন, তারা এ বিষয়ে এবং কুরআনী উলূমে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁকে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে তুলনা করতেন।

আর আরবি ভাষার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এমন একজন ইমাম যার সমকক্ষ কেউ ছিল না। এই ভাষার প্রতিটি শাখা—ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং আরূয (ছন্দতত্ত্ব)—প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ইমামদের ওপর তাঁর বিভিন্ন তাহকীক (গবেষণা), ইজতিহাদ (উদ্ভাবন) এবং ইস্তিদরাক (সংশোধনী) রয়েছে। আমরা এখানে তাঁর 'জামহারাতুল বালাগাত' গ্রন্থটির প্রতি ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট মনে করছি, যাতে তিনি অ্যারিস্টটলের অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি তথা অনুকরণ তত্ত্ব (theory of mimesis) খণ্ডন করেছেন। ফারাহীর মতে, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র এই তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি ইমাম আব্দুল কাহের জুরজানী-এর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করার পাশাপাশি তাঁরও সমালোচনা করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি পবিত্র কুরআন এবং বিশুদ্ধ আরবদের বাচনভঙ্গির আলোকে নতুন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে অলঙ্কারশাস্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প করেছিলেন।

যখন ফারাহী 'জামহারাতুল বালাগাত'-এর কিছু অধ্যায় আল্লামা শিবলী নোমানীর কাছে পাঠালেন, তিনি এতে এতটাই মুগ্ধ হলেন যে তিনি এর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো, বিশেষ করে অনুকরণ তত্ত্বের ওপর তাঁর সমালোচনাকে 'আন-নাদওয়া' নামক উর্দু সাময়িকীতে সারসংক্ষেপ আকারে প্রকাশ করেন, যা তিনি উর্দু ভাষায় সম্পাদনা করতেন। অথচ নোমানী নিজেই ছিলেন অন্যতম বিখ্যাত সমালোচক ও লেখক এবং উর্দু সাহিত্যের পঞ্চ-স্তম্ভের একজন। গ্রন্থটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিল এবং আরব দেশগুলোতে পৌঁছে গবেষণা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার আগেই এর কপি শেষ হয়ে গিয়েছিল। এটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ইতিহাসে একটি অনন্য গ্রন্থ।

আরবি ভাষায় ফারাহীর একটি চমৎকার কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যা ১৩৮৭ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছিল। ড. তাকীউদ্দীন আল-হিলালী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর স্মৃতিকথায় এর উল্লেখ করে বলেছেন: "উল্লিখিত শায়খের একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যা আমি তাঁর কাছে শুনেছি; এটি অত্যন্ত সাবলীল এবং মুসলমানদের হিম্মত জাগিয়ে তুলতে ও তাদের হৃদয়ে প্রাণের সঞ্চার করতে বেশ প্রভাবশালী। এতে ইউরোপীয়দের শত্রুতা, ত্রিপোলি যুদ্ধ এবং মহাযুদ্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে। কথা বলার ক্ষেত্রে লোকটি অত্যন্ত বাগ্মী … "।

শরয়ী বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ মেলে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর পাণ্ডুলিপি বা অধ্যায়গুলো থেকে: 'আর-রায়ে' ফী উসূলিশ শারায়ে', 'ইহকামুল উসূল বি-আহকামির রাসূল' এবং 'ফিকহুল কুরআন'। তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
ينوي تدوين فن أصول الفقه على نحو جديد بعد تخليصه مما اختلط به من مباحث الفنون الأخرى، وله تعليقات على طرر كتب الحديث والفقه والأصول وغير ذلك. ولكن العلم الذي استحوذ على عقله وقلبه، فأقبل عليه إقبالاً منقطع النظير هو علم القرآن. وكل ما درسه من علوم المنقول والمعقول وآداب الأمم وتاريخها وفلسفتها سخره لخدمة القرآن الكريم والمنافحة عنه.

وقد شرع في تدبر القرآن الكريم أيام طلبه في كلية عليكره، كما ذكر في فاتحة نظام القرآن، وكان كتاب الله أحب الكتب إليه، والنظر فيه ألذ من كل ما في الدنيا (1). وكان يعكف كل يوم بعد قيام الليل على تدبر القرآن الكريم، ثم يشتغل بالبحث والنظر والتأليف، ويستمر على ذلك بعد صلاة الفجر إلى الساعة التاسعة صباحاً، وظل ذلك دأبه أكثر من ثلاثين سنة. ولما استقال من عمادة دار العلوم بحيدر آباد صار يقضي معظم وقته في تدبر القرآن والتأليف فيه.

فحاز السبق في علم القرآن وفتح الله عليه من علومه ما شاء، وبلغ في ذلك شأواً لم يبلغه إلا قليل من أهل العلم، فلقبه معاصروه بترجمان القرآن. يقول العلامة السيد سليمان الندوي: "ثم انقطع إلى تدبر القرآن ودرسه، والنظر فه من كل جهة، وجمع علومه من كل مكان، فقضى فيه أكثر عمره، ومات وهو مكب على أخذ ما فات من العلماء، ولف ما نشروه ولمّ ما شتتوه، وتحقيق ما لم يحققوه. فكان لسانه ينبع علماً بالقرآن، وصدره يتدفق بحثاً عن مشكلاته، وقلمه يجري كشفاً عن معضلاته" (2).

وقد ألف في تفسير القرآن وعلومه بضعة عشر كتاباً أجلّها تفسيره (نظام القرآن وتأويل الفرقان بالفرقان) الذي صدر منه أحد عشر جزءاً في حياته وجزءان بعد وفاته. ولعله لم يشرع في التفسير من أوله إلا في آخر حياته فوافاه الأجل وهو في تفسير الآيات (47 - 62) من سورة البقرة.

--------------------------------------------

(1) فاتحة نظام القرآن: 2.

(2) ترجمته الملحقة بكتابه إمعان في أقسام القرآن ط دمشق: 17.
তিনি উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রকে নতুনভাবে সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেন, এর সাথে মিশে যাওয়া অন্যান্য শাস্ত্রের আলোচনা থেকে একে মুক্ত করার পর। হাদিস, ফিকহ, উসুল এবং অন্যান্য গ্রন্থের প্রান্তটীকায় তাঁর মূল্যবান মন্তব্য রয়েছে। কিন্তু যে জ্ঞানটি তাঁর মন ও অন্তরকে সম্পূর্ণ অধিকার করে নিয়েছিল এবং যার প্রতি তিনি নজিরবিহীনভাবে নিবিষ্ট হয়েছিলেন, তা হলো কুরআন বিজ্ঞান। তিনি বর্ণিত ও যুক্তিনির্ভর জ্ঞান, বিভিন্ন জাতির সাহিত্য, ইতিহাস ও দর্শন যা কিছু অধ্যয়ন করেছিলেন, তার সবকিছুই পবিত্র কুরআনের সেবা এবং এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত করেছিলেন।

তিনি আলিগড় কলেজে ছাত্র থাকাকালীনই পবিত্র কুরআনের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন, যেমনটি তিনি ‘নিযামুল কুরআন’ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর কিতাবই ছিল তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং এর গভীর পর্যালোচনা ছিল তাঁর নিকট দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে অধিক আনন্দদায়ক (১)। প্রতিদিন শেষ রাতের ইবাদতের পর তিনি পবিত্র কুরআনের গবেষণায় নিমগ্ন হতেন। অতঃপর তিনি অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও গ্রন্থ রচনায় মগ্ন হতেন এবং ফজর নামাজের পর সকাল নয়টা পর্যন্ত এই কাজ অব্যাহত রাখতেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় এটিই ছিল তাঁর প্রাত্যহিক নিয়ম। হায়দ্রাবাদের দারুল উলুমের ডিন পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি তাঁর অধিকাংশ সময় পবিত্র কুরআনের গবেষণা ও এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করতেন।

ফলে তিনি কুরআন বিজ্ঞানে অগ্রগামিতা অর্জন করেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য এই বিজ্ঞানের যা কিছু চেয়েছিলেন তা উন্মোচন করে দেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছান যেখানে খুব কম আলেমই পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে তাঁর সমসাময়িকরা তাঁকে ‘তরজুমানুল কুরআন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী বলেন: “অতঃপর তিনি কুরআনের গভীর চিন্তা ও অধ্যয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেন এবং সব দিক থেকে এর ওপর দৃষ্টিপাত করেন। তিনি চারপাশ থেকে এর জ্ঞানসমূহ সংগ্রহ করেন এবং তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় এতেই ব্যয় করেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেন এমতাবস্থায় যে, তিনি পূর্ববর্তী আলেমদের থেকে যা বাদ পড়েছিল তা গ্রহণ করতে, তাঁদের প্রকাশিত কাজগুলোকে একত্রিত করতে, তাঁদের বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলোকে গুছিয়ে আনতে এবং যা তাঁরা বিশদভাবে যাচাই করেননি তা যাচাই করতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর জিহ্বা থেকে কুরআনের জ্ঞান নিঃসৃত হতো, তাঁর অন্তর কুরআনের জটিল বিষয়াবলির অনুসন্ধানে উদ্বেলিত হতো এবং তাঁর কলম এর গূঢ় সমস্যাবলির উন্মোচনে সচল থাকতো” (২)।

তিনি কুরআনের তাফসীর ও উলুমুল কুরআন বিষয়ে দশাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো তাঁর তাফসীর ‘নিযামুল কুরআন ওয়া তাবীলুল ফুরকান বিল ফুরকান’, যার এগারোটি খণ্ড তাঁর জীবদ্দশায় এবং দুটি খণ্ড তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভবত তিনি জীবনের শেষ ভাগ ব্যতীত কুরআনের শুরু থেকে তাফসীর লেখা আরম্ভ করেননি। ফলে সূরা বাকারার ৪৭ থেকে ৬২ নম্বর আয়াতের তাফসীর করা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু সমাগত হয়।

--------------------------------------------

(১) ফাতেহা নিযামুল কুরআন: ২।

(২) তাঁর জীবনী, যা তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘ইমআন ফি আকসামিল কুরআন’ এর সাথে সংযুক্ত, দামেস্ক সংস্করণ: ১৭।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكان للإمام الفراهي منهج فريد في التفسير، اشتهر به في شبه القارة الهندية، وقد أفاض القول في بيان أصوله في مقدمة تفسيره (فاتحة نظام القرآن) وكتابيه دلائل النظام والتكميل في أصول التأويل، وأبانت عنه أجزاء التفسير التي صدرت في حياته. وأهمها أصلان يدل عليهما عنوان التفسير نفسه: الأول نظام القرآن، والآخر تأويل الفرقان بالفرقان.

أما تأويل الفرقان بالفرقان فهو أصل معروف مجمع عليه ولا يحتاج إلى بيان، غير أن منهج الفراهي يتميز بالتمسك الشديد بهذا الأصل والاستفادة منه على أنحاء لم يفطن لها كثير من المفسرين.

أما "النظام" فالمقصود به ما يسميه الكتاب المعاصرون بالوحدة الموضوعية، فكل سورة لها موضوع معين -يسميه الفراهي عمود السورة- تدور عليه بأجزائها المترابطة فيما بينها ترابطاً معنوياً محكماً. ويختلف النظام عن التناسب الذي عني به جماعة من علمائنا القدامى، وعدّوه علماً شريفاً، والفرق بينهما "أن التناسب جزء من النظام، فإن التناسب بين الآيات بعضها مع بعض لا يكشف عن كون الكلام شيئاً واحداً مستقلاً بنفسه، وطالب التناسب ربما يقنع بمناسبة ما، فربما يغفل عن المناسبة التي ينتظم بها الكلام، فيصير شيئاً واحداً. وربما يطلب المناسبة بين الآيات المتجاورة مع عدم اتصالها، فإن الآية التالية ربما تكون متصلة بالتي قبلها على بعد منها. فإن عدم الاتصال بين آيات متجاورة يوجد كثيراً. ومنها ما ترى فيه اقتضاباً بيناً، وذلك إذا كانت الآية أو جملة من الآيات متصلة بالتي على بعد منها" (1).

ومراعاة النظام عند الفراهي ليس أمراً مقصوداً لذاته، وإنما هو المنهاج الصحيح لتدبر القرآن، والنظام هو الحكم عند تضارب الأقوال، وهو المرجح عند تعدد الاحتمالات، وهو الإقليد الذي تفتح به كنوز حكمة القرآن.

--------------------------------------------

(1) دلائل النظام: 87 - 89.
ইমাম ফারাহীর তাফসীরশাস্ত্রে একটি অনন্য পদ্ধতি ছিল, যার জন্য তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে সুপরিচিত। তিনি তাঁর তাফসীরের ভূমিকা (ফাতিহা নিযামুল কুরআন) এবং তাঁর ‘দালাইলুন নিযাম’ ও ‘আত-তাকমীল ফী উসূলিত তাবীল’ নামক গ্রন্থদ্বয়ে এর মূলনীতিসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত তাফসীরের অংশগুলো থেকেও তা সুস্পষ্ট হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুটি মূলনীতি, যা খোদ তাফসীরের শিরোনাম থেকেই প্রতীয়মান হয়: প্রথমটি হলো ‘নিযামুল কুরআন’ (কুরআনের সুশৃঙ্খল বিন্যাস), এবং অপরটি হলো ‘তাবীলুল ফুরকান বিল ফুরকান’ (কুরআন দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা)।

আর ‘তাবীলুল ফুরকান বিল ফুরকান’-এর বিষয়টি একটি সুপরিচিত ও সর্বসম্মত মূলনীতি, যা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। তবে ফারাহীর পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো এই মূলনীতিকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং একে এমন সব পন্থায় কাজে লাগানো যা অনেক মুফাসসির অনুধাবন করতে পারেননি।

আর ‘নিযাম’ (সুশৃঙ্খল বিন্যাস) বলতে উদ্দেশ্য হলো তা-ই, যাকে সমকালীন লেখকরা ‘বিষয়ভিত্তিক ঐক্য’ বলে অভিহিত করেন। প্রতিটি সূরার একটি নির্দিষ্ট বিষয় থাকে—যাকে ফারাহী ‘আমূদুত সূরা’ (সূরার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ) বলে অভিহিত করেন—যার চারপাশেই এর পরস্পর সুদৃঢ় অর্থগত বন্ধনে আবদ্ধ অংশগুলো আবর্তিত হয়। এই ‘নিযাম’ সেই ‘তানাসুব’ (পারস্পরিক সামঞ্জস্য) থেকে ভিন্ন, যার প্রতি আমাদের প্রাচীন আলেমদের একটি দল গুরুত্বারোপ করেছেন এবং একে একটি মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো: “তানাসুব হলো নিযাম-এর একটি অংশ। কেননা আয়াতসমূহের একটির সাথে অপরটির সামঞ্জস্য এটি প্রকাশ করে না যে, বক্তব্যটি একটি একক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিষয়। সামঞ্জস্য অন্বেষণকারী অনেক সময় সামান্য কোনো সামঞ্জস্য পেলেই সন্তুষ্ট হয়ে যান, ফলে তিনি হয়তো সেই মূল সামঞ্জস্যটি থেকে বিমুখ থাকেন যার মাধ্যমে পুরো বক্তব্যটি সুশৃঙ্খল হয়ে একটি একক বিষয়ে পরিণত হয়। আবার কখনো তিনি পাশাপাশি অবস্থিত আয়াতগুলোর মধ্যে সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করেন অথচ সেগুলোর মাঝে সরাসরি কোনো সংযোগ থাকে না; কারণ পরবর্তী আয়াতটি হয়তো তার আগের কোনো দূরবর্তী আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। কেননা পাশাপাশি অবস্থিত আয়াতগুলোর মধ্যে সংযোগহীনতা অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এর মধ্যে কোনোটিতে আপনি স্পষ্ট বিচ্ছেদ দেখতে পাবেন, আর তা তখনই ঘটে যখন কোনো একটি আয়াত বা একগুচ্ছ আয়াত তার থেকে কিছুটা দূরবর্তী কোনো আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়।” (১)।

ফারাহীর নিকট এই ‘নিযাম’-এর প্রতি লক্ষ্য রাখা স্রেফ কোনো উদ্দেশ্য নয়, বরং এটিই হলো কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার সঠিক পদ্ধতি। বিভিন্ন মতামতের সংঘর্ষের সময় ‘নিযাম’ হলো ফয়সালাকারী, একাধিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এটিই হলো অগ্রাধিকার দানকারী এবং এটিই সেই চাবিকাঠি যার মাধ্যমে কুরআনের হিকমতের ভাণ্ডার উন্মুক্ত হয়।

--------------------------------------------

(১) দালাইলুন নিযাম: ৮৭ - ৮৯।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي الكشف عن نظام القرآن لا يلجأ الإمام الفراهي إلى مناهج أهل الفلسفة والمنطق أو المتصوفة، وإنما يعتمد على القرآن نفسه. وفي ذلك يقول رحمه الله: "أجمع أهل التأويل من السلف إلى الخلف أن القرآن يفسر بعضه بعضاً، وأنه هو أوثق تعويلاً وأحسن تأويلاً، فنقول: كما أن القرآن يفسر مطالب آياته بعضها ببعض، فكذلك يدلك على نظام مطالبها ومناسبتها، بما يأتيك بنظائره، فتكثر الشواهد على رباط أمر مع أمر، وبذلك يحثك على التأمل في جامع وصلة بينها، ثم يأتي عليه بأمثلة كثيرة بعضها أوضح من بعض، حتى يتدرج بك على ما كان أدق وأغمض" (1).

وتبين من ذلك أن هذا الأصل -أي النظام- أيضاً راجع في حقيقة الأمر إلى الأصل السابق، وهو تفسير القرآن بالقرآن.

 

‌‌(7) تلامذته:

كان المؤلف رحمه الله -لما انفرد به من بين أقرانه من الجمع بين الثقافتين الإسلامية والغربية والتعمق فيهما- مرجعاً ومنتهى لكثير من العلماء الأجلاء، وأولهم شيخه وابن عمته العلامة شبلي النعماني رحمه الله. تشهد بذلك رسائله المنشورة ضمن الجزء الثاني من "مكاتيب شبلي" التي بلغ عددها 77 رسالة، وأكثرها تحتوي على مسائل علمية. ومن المؤسف أن أجوبة الفراهي رحمه الله قد ضاع جلها بل كلها، إذ لم نعثر إلا على جواب واحد في غضون نسخة كتابه الرائع في أصول الشرائع المحفوظة في خزانة الدائرة الحميدية، وهو في أربع صفحات بعنوان "حكمة بعض الشرائع المتعلقة بفرائض الزوجين" (2). وسؤال النعماني الذي أجاب عنه الفراهي مذكور في رسالتين له (3)، وهو عن قوله تعالى

--------------------------------------------

(1) الإتقان في علوم القرآن 3: 322.

(2) وقفت عليه في 5 مارس سنة 1980 م، وقد نشره الدكتور شرف الدين الإصلاحي في "مكاتيب فراهي": 42 - 47.

(3) مكاتيب شبلي 2: 37 - 38.
কুরআনের বিন্যাস বা শৃঙ্খলা (নিজাম) উন্মোচনে ইমাম ফারাহি দর্শনশাস্ত্র ও যুক্তিবিদ্যার অনুসারীদের কিংবা সূফীবাদীদের পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেন না; বরং তিনি কুরআনের ওপরই নির্ভর করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সালাফ থেকে খালফ পর্যন্ত সকল তাফসীরকারক এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কুরআনের একাংশ অন্য অংশের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং এটিই সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও সর্বোত্তম ব্যাখ্যা। সুতরাং আমরা বলি: কুরআন যেমন তার আয়াতের বিষয়বস্তুসমূহকে একে অপরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে, তেমনি এটি আপনাকে সেই বিষয়বস্তুর বিন্যাস ও পারস্পরিক প্রাসঙ্গিকতার দিকেও পথনির্দেশ করে। এটি করার জন্য কুরআন সমজাতীয় বিষয়সমূহ পেশ করে, ফলে এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়ের বন্ধনের স্বপক্ষে অসংখ্য প্রমাণ সাব্যস্ত হয়। এর মাধ্যমে এটি আপনাকে বিষয়গুলোর মধ্যকার সমন্বয় ও সংযোগ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর এটি এমন অনেক উদাহরণ পেশ করে যেগুলোর কিছু অন্যগুলোর তুলনায় স্পষ্টতর, যাতে ধাপে ধাপে এটি আপনাকে সূক্ষ্ম ও গভীরতর বিষয়গুলোর দিকে নিয়ে যেতে পারে" (১)।

এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, এই মূলনীতিটি—অর্থাৎ বিন্যাস বা নিজাম—প্রকৃতপক্ষে পূর্বোক্ত মূলনীতিরই অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা।

 

‌‌(৭) তাঁর ছাত্রগণ:

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ)—ইসলামী ও পাশ্চাত্য উভয় সংস্কৃতির বিরল সমন্বয় ও এগুলোতে গভীর পাণ্ডিত্যের কারণে সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য হওয়ার ফলে—বহু প্রথিতযশা আলেমের জন্য এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ও গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম ব্যক্তি হলেন তাঁর উস্তাদ ও ফুফাতো ভাই আল্লামা শিবলী নুমানী (রাহিমাহুল্লাহ)। "মাকাতিবে শিবলী"-র দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর ৭৭টি পত্র এর সাক্ষ্য দেয়, যার অধিকাংশ জুড়েই রয়েছে জ্ঞানগর্ভ মাসায়েল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ফারাহি (রাহিমাহুল্লাহ)-র উত্তরগুলোর অধিকাংশ বরং প্রায় সবটুকুই হারিয়ে গেছে। আমরা কেবল "দাইরাতুল হামিদিয়া" গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত তাঁর অনন্য গ্রন্থ "উসুলুশ শারায়ি"-র একটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে মাত্র একটি উত্তর খুঁজে পেয়েছি। চার পৃষ্ঠার সেই উত্তরটির শিরোনাম হলো: "দম্পতিদের কিছু শরয়ী বিধানের হিকমত" (২)। শিবলী নুমানীর সেই প্রশ্নটি, যার উত্তর ফারাহি দিয়েছিলেন, তাঁর দুটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে (৩)। প্রশ্নটি ছিল মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে...

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন ৩: ৩২২।

(২) আমি ১৯৮০ সালের ৫ই মার্চ এটি দেখেছি এবং ডক্টর শরফুদ্দীন ইসলাহী এটি "মাকাতিবে ফারাহি"-র ৪২-৪৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেছেন।

(৩) মাকাতিবে শিবলী ২: ৩৭-৩৮।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৩০)
في سورة الأحزاب {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ … } [الأحزاب: 50].

وقد درس الفراهي -كما علمنا- في كراتشي وعليكره والله آباد وحيدر آباد، فقرأ عليه في فصول الدراسة عدد كبير من الطلبة، ثم ألقى دروساً ومحاضرات في ندوة العلماء، والجامعة الملية الإسلامية، وحيدر آباد، ومدرسة الإصلاح؛ وأكثر الذين يحضرون فيها كانوا من العلماء والباحثين وطلبة العلم من الصفوف العليا.

وممن حضروا مجالس الفراهي واستفادوا من دروسه ومحاضراته في تفسير القرآن وغيره، ثم تأثروا بعض التأثر بأفكاره، وتبين ذلك في كتاباتهم، وأقروا بذلك هم أنفسهم أو بعض أقرانهم:

1 - العلامة صاحب الرئاستين أبو الكلام آزاد (ت 1377 هـ).

2 - العلامة السيد سليمان الندوي (ت 1373 هـ).

3 - الشيخ مناظر أحسن الكيلاني (ت 1375 هـ).

4 - الأستاذ عبد الله العمادي (ت 1366 هـ).

5 - الأستاذ عبد الماجد الدريابادي (ت 1397 هـ).

أما تلامذته الذين حملوا لواء فكره، وقاموا بنشره فهم الذين استفادوا منه في آخر حياته في مدرسة الإصلاح، ولا سيما صاحباه الشيخ أختر أحسن الإصلاحي (1320 - 1378 هـ) والشيخ أمين أحسن الإصلاحي المتوفى سنة 1418 هـ. وكان أوليهما أبعد غوراً وأثقب نظراً في علم القرآن والعربية، وأشبه بشيخه في الصلاح والورع وحسن السمت، ولكنه لم يؤلف شيئاً غير مقالات معدودة في تفسير بعض الآيات المشكلة نشرت في مجلة الإصلاح، وقد نذر حياته لخدمة مدرسة الإصلاح حسب المنهج الذي رسمه لها شيخه، فتخرج على يديه جيل متميز من العلماء العاملين. ثم اعتنى بصيانة مسودات شيخه وإعدادها للنشر، فأصدر فاتحة نظام القرآن وتفسير سورة الفيل ومفردات القرآن وجمهرة
সূরা আল-আহযাবে {হে নবী, নিশ্চয় আমি আপনার জন্য আপনার সেই স্ত্রীদের বৈধ করেছি যাদের আপনি মোহরানা প্রদান করেছেন … } [আল-আহযাব: ৫০]।

ফারাহি -যেমনটি আমরা জেনেছি- করাচি, আলীগড়, এলাহাবাদ এবং হায়দ্রাবাদে অধ্যয়ন করেছেন। পাঠদান চলাকালে তাঁর নিকট বিপুল সংখ্যক ছাত্র অধ্যয়ন করেছেন। অতঃপর তিনি নদওয়াতুল উলামা, জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া, হায়দ্রাবাদ এবং মাদরাসাতুল ইসলাহ-এ পাঠদান ও বক্তৃতা প্রদান করেন; আর সেখানে যারা উপস্থিত হতেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন উচ্চস্তরের আলেম, গবেষক এবং ইলম অন্বেষী ছাত্র।

যারা ফারাহির মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন এবং আল-কুরআনের তাফসীর ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর পাঠ ও বক্তৃতা থেকে উপকৃত হয়েছেন, অতঃপর তাঁর চিন্তাধারার দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছেন এবং তা তাঁদের লেখনিতে প্রকাশ পেয়েছে এবং তাঁরা নিজেরা অথবা তাঁদের কোনো কোনো সমসাময়িক ব্যক্তি তা স্বীকার করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - আল্লামা সাহিবুর রিয়াসাতাইন আবুল কালাম আজাদ (মৃত্যু ১৩৭৭ হি.)।

২ - আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী (মৃত্যু ১৩৭৩ হি.)।

৩ - শায়খ মুনাযির আহসান গিলানি (মৃত্যু ১৩৭৫ হি.)।

৪ - উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-ইমাদি (মৃত্যু ১৩৬৬ হি.)।

৫ - উস্তাদ আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি (মৃত্যু ১৩৯৭ হি.)।

আর তাঁর যে সকল ছাত্র তাঁর চিন্তাধারার ঝাণ্ডা বহন করেছেন এবং তা প্রসারে সচেষ্ট হয়েছেন, তাঁরা হলেন তারা যারা তাঁর জীবনের শেষ সময়ে মাদরাসাতুল ইসলাহ-এ তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে তাঁর দুই সহচর শায়খ আখতার আহসান ইসলাহি (১৩২০ - ১৩৭৮ হি.) এবং শায়খ আমিন আহসান ইসলাহি, যিনি ১৪১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের প্রথমজন আল-কুরআনের জ্ঞান ও আরবি ভাষায় অত্যন্ত গভীর জ্ঞান ও প্রখর দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন এবং সততা, পরহেযগারি ও উত্তম চরিত্রের দিক থেকে তাঁর উস্তাদের অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। তবে তিনি আল-ইসলাহ সাময়িকীতে প্রকাশিত কিছু জটিল আয়াতের তাফসীর বিষয়ক গুটি কয়েক প্রবন্ধ ছাড়া স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। তিনি তাঁর উস্তাদের নকশা করা মানহাজ অনুযায়ী মাদরাসাতুল ইসলাহ-এর সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, ফলে তাঁর হাত ধরে আমলদার আলেমদের এক অনন্য প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। এরপর তিনি তাঁর উস্তাদের পাণ্ডুলিপিগুলোর হিফাযত ও সেগুলো প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং 'ফাতিহা নিযামুল কুরআন', 'তাফসীর সূরাতুল ফিল', 'মুফরাদাতুল কুরআন' ও 'জামহুরা' প্রকাশ করেন।
(খণ্ড: ১) মুফরাদাতুল কুরআনি লিল ফরাহি (পৃষ্ঠা: ৩১)
البلاغة وغير ذلك. وتوفي في رحاب مدرسة الإصلاح في 24 ربيع الأول سنة 1378 هـ عن 58 سنة.

أما زميله الشيخ أمين أحسن الإصلاحي فكان مع تبحره في العلم خطيباً مفوهاً وكاتباً أديباً، وقد غادر سنة 1944 م مدرسة الإصلاح (الهند) إلى بنجاب (باكستان) للعمل مع الأستاذ أبي الأعلى المودودي في الجماعة الإسلامية، وكان الرجل الثاني فيها. ثم تركها سنة 1958م وانصرف إلى أعماله العلمية. وله مؤلفات جليلة كلها بالأردية وأعظمها تفسره (تدبر قرآن) في تسع مجلدات كبيرة، وقد ألفه على منهج شيخه، واستغرق تأليفه 29 عاماً. ومن أحسن مؤلفاته: حقيقة التوحيد، وحقيقة الشرك، وتزكية النفس، والدولة الإسلامية، والدعوة الإسلامية ومنهاجها، والكتاب الأخير هو الوحيد الذي ترجم إلى العربية (بغير إذنه وبعد حذف فصل منه) ونشر بالكويت. وهو الذي ترجم كتب شيخه إلى الأردية بأسلوبه الرائع، فتيسر لعامة الباحثين في شبه القارة الهندية الاستفادة من أفكار الفراهي ونتائج تدبره في القرآن الكريم.

 

‌‌(8) مصنفاته:

قبل أن نسرد أسماء مؤلفات الفراهي، يحسن أن نشير إلى منهجه في التأليف، فإنه يختلف عن منهج عامة المؤلفين الذين إذا عزموا على تأليف كتاب جمعوا مادته ثم رتبوها في صورة كتاب. أما الفراهي فإن الموضوعات التي رأى ضرورة الكتابة فيها وحلّ مشكلاتها كانت ماثلة بين عينيه، يديم النظر والبحث فيها، فإذا حقّق مسألة أو حلّ معضلة أو أحكم رأياً قيد ذلك وكتب عليه: "من كتاب … " حتى إذا اكتملت جوانب البحث أقبل على تأليفها وتنسيقها. ولذلك كان يؤلف كتباً عديدة في وقت واحد، وقد بقى أكثر مؤلفاته ناقصاً، لأسباب منها طريقته هذه في التأليف، وأعماله الإدارية، والأمراض التي قد أنهكته وكانت تعاوده حيناً بعد حين.

وقد قسم الشيخ أمين أحسن الإصلاحي آثار الفراهي إلى ثلاثة أقسام:
অলংকারশাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয়। তিনি ১৩৭৮ হিজরির ২৪শে রবিউল আউয়াল মাদরাসাতুল ইসলাহ প্রাঙ্গণে ৫৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

আর তাঁর সহকর্মী শায়খ আমিন আহসান ইসলাহির কথা বলতে গেলে, ইলমের গভীরতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সুবক্তা এবং সাহিত্যিক লেখক। তিনি ১৯৪৪ সালে মাদরাসাতুল ইসলাহ (ভারত) থেকে পাঞ্জাবে (পাকিস্তান) চলে যান উস্তাদ আবুল আ'লা মওদুদীর সাথে জামায়াতে ইসলামীতে কাজ করার জন্য, এবং সেখানে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি সেটি ত্যাগ করেন এবং তাঁর ইলমি কাজে মনোনিবেশ করেন। তাঁর বহু মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে যার সবগুলোই উর্দু ভাষায় রচিত, আর সেগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো তাঁর তাফসির (তাদাব্বুরে কুরআন) যা নয়টি বিশাল খণ্ডে বিভক্ত। তিনি তাঁর উস্তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি অনুসারে এটি রচনা করেছেন এবং এর রচনা সম্পন্ন করতে ২৯ বছর সময় লেগেছিল। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: হাকিকতুত তাওহীদ, হাকিকতুশ শিরক, তাজকিয়াতুন নাফস, আদ-দাওলাতুল ইসলামিয়্যাহ এবং আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া মিনহাজুহা। শেষোক্ত বইটিই একমাত্র যা আরবিতে অনূদিত হয়েছে (তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে এবং একটি অধ্যায় বর্জন করার পর) এবং কুয়েত থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনিই তাঁর উস্তাদের বইগুলো চমৎকার শৈলীতে উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন, ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ গবেষকদের জন্য ফরাহীর চিন্তাধারা এবং পবিত্র কুরআনে তাঁর তাদাব্বুরের (গভীর চিন্তার) ফলাফল থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়েছে।

 

‌‌(৮) তাঁর রচনাবলি:

ফরাহীর গ্রন্থাবলির নাম তালিকাভুক্ত করার আগে তাঁর রচনাশৈলী বা লিখন পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করা সমীচীন হবে। কেননা এটি সাধারণ লেখকদের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন ছিল, যারা কোনো গ্রন্থ রচনার সংকল্প করলে প্রথমে তার উপাদান সংগ্রহ করেন এবং তারপর সেটিকে একটি বইয়ের রূপ দেন। কিন্তু ফরাহীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল এমন যে, যে সমস্ত বিষয়ে তিনি লেখা এবং সেগুলোর সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন মনে করতেন, সেগুলো তাঁর চোখের সামনে ভাসত। তিনি নিরন্তর সেগুলোতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেন এবং গবেষণা করতেন। যখন তিনি কোনো মাসআলা যাচাই করতেন বা কোনো জটিলতা নিরসন করতেন অথবা কোনো সুদৃঢ় মতে উপনীত হতেন, তখন তিনি তা লিপিবদ্ধ করে নিতেন এবং তার ওপর লিখে রাখতেন: "অমুক কিতাব থেকে … "। এভাবে যখন গবেষণার সব দিক পূর্ণ হতো, তখন তিনি তা সংকলন ও বিন্যাস করতে শুরু করতেন। একারণেই তিনি একই সাথে একাধিক গ্রন্থ রচনা করতেন। তাঁর অধিকাংশ রচনাই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে যার কিছু কারণ হলো তাঁর এই রচনা পদ্ধতি, তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বসমূহ এবং রোগ-ব্যাধি যা তাঁকে দুর্বল করে ফেলেছিল এবং যা মাঝে মাঝেই ফিরে আসত।

শায়খ আমিন আহসান ইসলাহী ফরাহীর রচনাবলিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: