(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية العراقي - ابن العيني القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح ألفية العراقي في علوم الحديث
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد، زين الدين المعروف بابن العيني الحنفي (ت 893هـ)
دراسة وتحقيق: د. شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
الناشر: مركز النعمان للبحوث والدراسات الإسلامية وتحقيق التراث والترجمة، اليمن
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 383
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433
শারহ আলফিয়াতুল ইরাকি - ইবনুল আইনি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্রের ওপর আলফিয়াতুল ইরাকি-র ব্যাখ্যা
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ, যাইনুদ্দীন যিনি ইবনুল আইনি আল-হানাফি হিসেবে পরিচিত (ওফাত (ت) ৮৯৩ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা (دراسة وتحقيق): ড. শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল-নুমান
প্রকাশক: আল-নুমান সেন্টার ফর ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ এবং ঐতিহ্য সম্পাদনা (تحقيق التراث) ও অনুবাদ, ইয়েমেন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية العراقي في علوم الحديث
হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) ওপর আলফিয়া আল-ইরাকির ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة
المركز الرئيس: اليمن - صنعاء
ت: 733702792 - 00967
ص. ب: صنعاء (4173)
البريد الإلكتروني: Shady_noaman@hotmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রধান কেন্দ্র: ইয়েমেন - সানা
টেলিফোন: ০০৯৬৭ - ৭৩৩৭০২৭৯২
ডাক বাক্স: সানা (৪১৭৩)
ই-মেইল: Shady_noaman@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৩)
سلسلة أعمال حديثية
تنشر لأول مرة (4)
شرح ألفية العراقي في علوم الحديث
تصنيف الإمام
زين الدين أبي محمد عبد الرحيم بن أبي بكر العيني
المتوفى سنة (893هـ)
(ينشر لأول مرة)
دراسة وتحقيق
د. شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
হাদিস বিষয়ক রচনাবলি সিরিজ
প্রথমবারের মতো প্রকাশিত (৪)
হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) উপর আলফিয়্যাতুল ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ
ইমামের সংকলন
জয়নুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ইবনে আবি বকর আল-আইনি
মৃত্যু বছর (৮৯৩ হিজরি)
(প্রথমবারের মতো প্রকাশিত)
গবেষণা ও যাচাই-সম্পাদনা (تحقيق)
ডক্টর শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল নু'মান
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:
فبين يديك أخي القارئ الكريم أحد الأعمال التي تندرج تحت مشروعنا الذي أطلقنا عليه اسم «مشروع سلسلة أعمال حديثية تنشر لأول مرة»، والذي عمدنا فيه إلى إخراج كنوز تراثية لا تزال قابعة في عالم «ألَّا مطبوع»، فنزيح عنها-بحول الله وقوته- غبار الزمان، ونكشف الستار عن مكنونها وخباياها، لنخرجها إلى عالم «المطبوع» في حُلَّةٍ قشيبة-بعون الله وتوفيقه- ليعم الانتفاع بها بين أهل العلم وطلابه.
أما المجموعة الأولى من أعمال هذه السلسلة فهي:
1 - «قضاء الوطر من نزهة النظر» للَّقاني المالكي، طبع عن المكتبة الأثرية بالأردن في ثلاثة مجلدات.
2 - «الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة» للحافظ ابن قطلوبغا طبع عن مركز النعمان في تسعة مجلدات.
3 - «التكميل في الجرح والتعديل ومعرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل» للحافظ ابن كثير، في أربعة مجلدات.
4 - «تجريد الأسماء والكنى» للفراء، في مجلد.
5 - «شرح ألفية العراقي» للعيني، وهو الذي بين يديك.
মুকাদ্দিমা (المقدمة)সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
হে সম্মানিত পাঠক ভাই, আপনার সামনে উপস্থিত গ্রন্থটি আমাদের প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত অন্যতম একটি কাজ, যার নাম আমরা দিয়েছি «প্রথমবার প্রকাশিতব্য হাদিস বিষয়ক কর্ম-সিরিজ প্রকল্প»। এর মাধ্যমে আমরা এমন কিছু ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডার উদ্ধার করার সংকল্প করেছি যা এখনও «অমুদ্রিত» পাণ্ডুলিপির জগতে পড়ে রয়েছে। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা করে আমরা সেগুলোর ওপর থেকে সময়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলছি এবং সেগুলোর অভ্যন্তরীণ গূঢ় রহস্য ও লুকায়িত রত্নরাজি উন্মোচন করছি, যাতে আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যে সেগুলোকে এক নান্দনিক অবয়বে «মুদ্রিত» রূপে প্রকাশ করা যায় এবং আলেম সমাজ ও জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে এগুলোর দ্বারা উপকার সাধিত হয়।
এই সিরিজের অন্তর্ভুক্ত কাজের প্রথম সংকলনটি হলো:
1 - লাক্কানি আল-মালিকি রচিত «কাদাউল অতার মিন নুযহাতিন নাজর», এটি জর্ডানের আল-মাকতাবাতুল আসারিয়্যাহ থেকে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
2 - হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা রচিত «আস-সিকাতু মিম্মান লাম ইয়াকা' ফিল কুতুবিস সিত্তাহ», এটি মারকাযুন নু'মান থেকে নয় খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
3 - হাফেজ ইবনে কাসির রচিত «আত-তাকমিল ফিল জারহি ওয়াত-তাদিলি ওয়া মা’রিফাতিস সিকাত অদ্দুয়াফা ওয়াল মাজাহিল», চার খণ্ডে।
4 - আল-ফাররা রচিত «তাজরিদুল আসমা ওয়াল কুনা», এক খণ্ডে।
5 - আল-আইনি রচিত «শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি», যা বর্তমানে আপনার সম্মুখে উপস্থিত।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৬)
6 - «شرح الأجهوري على قسم الضعيف» من ألفية العراقي.
7 - «مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية» لابن عمار المالكي، في مجلد.
8 - «بهجة المحافل وأجمل الوسائل في التعريف برواة الشمائل» للقاني المالكي، في مجلد.
9 - «ذيل لب اللباب في الأنساب» لابن العجمي، في مجلد.
وأنا أعمل بِجِدٍّ في هذا المشروع بإزاء مشروعي الآخر «موسوعة العلامة الألباني» والذي صدر منه العمل الأول «جامع تراث الألباني في العقيدة» في تسعة مجلدات، سائلاً المولى عز وجل أن يُنْعِم عليِّ بالأسباب المعينة على إنجاز هذه الأعمال وأن يجعل ذلك في ميزان حسناتي يوم ألقاه.
وكما عودنا الإخوة القُرَّاء فقد قدمنا لهذا العمل بمقدمة نافعة نعدها مدخلاً جيدًا لمن رام حسن الاستفادة، والله من وراء القصد.
وكتب
شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
في صنعاء اليمن حرسها الله
في يوم السبت 30/ 3/1432هـ
الموافق 5/ 3/2011م
৬ - আল-ইরাকির আলফিয়্যাহ-এর দুর্বল (ضعيف) হাদিস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের ওপর «শারহুল আজহুরি»।
৭ - ইবনে আম্মার আল-মালিকি রচিত এক খণ্ডের গ্রন্থ «মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ»।
৮ - আল-লাক্কানি আল-মালিকি রচিত শামায়েল-এর বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয়ে «বাহজাতুল মাহাফিল ওয়া আজমালুল ওয়াসায়িল», এক খণ্ডে।
৯ - ইবনুল আজামি রচিত এক খণ্ডের গ্রন্থ «যাইলু লুব্বিল লুবাব ফিল আনসাব»।
আমি আমার অপর প্রকল্প «মাওসুআতুল আল্লামা আল-আলবানি» (আল্লামা আলবানি বিশ্বকোষ)-এর পাশাপাশি এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছি, যার প্রথম কাজ «জামিউ তুরাসিল আলবানি ফিল আকিদাহ» নয় খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমি মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এই কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দান করেন এবং যেদিন তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে, সেদিন যেন তিনি একে আমার নেক আমলের পাল্লায় কবুল করেন।
সম্মানিত পাঠকদের আমরা যেভাবে অভ্যস্ত করেছি, সেই ধারাবাহিকতায় এই কাজের শুরুতে আমরা একটি উপকারী ভূমিকা প্রদান করেছি; যারা এই গ্রন্থ থেকে উত্তমরূপে উপকৃত হতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার প্রবেশদ্বার হবে বলে আমরা মনে করি। আর আল্লাহ-ই প্রকৃত লক্ষ্য।
লিখেছেন
শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল নুমান
সানা, ইয়ামেন (আল্লাহ একে রক্ষা করুন)
শনিবার ৩০/৩/১৪৩২ হিজরি
মোতাবেক ৫/৩/২০১১ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الأول
ترجمة الناظم الإمام العراقي (1)
رحمه الله
اسمه ولقبه وكنيته:هو الإمام الحافظ الكبير زين الدين أبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم.
نسبه ومذهبه:الرازياني الأصل، المهراني، العراقي، المصري، الكُردي، الشافعي.
ورازيان (2) بلدة من أعمال إربل، والمهراني نسبة لمنشأة المهراني التي ولد فيها.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
গ্রন্থকার ইমাম ইরাকীর জীবনী (১)
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
তাঁর নাম, উপাধি ও উপনাম:তিনি হলেন মহান ইমাম, হাফিজ (حافظ) যয়নুদ্দীন আবুল ফজল আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবী বকর বিন ইবরাহীম।
তাঁর বংশ পরিচয় ও মাযহাব:মূলত রাযিয়ানী, আল-মিহরানী, আল-ইরাকী, আল-মিসরী, আল-কুর্দী, শাফিঈ।
আর রাযিয়ান (২) হলো ইরবিল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি শহর। আর 'মিহরানী' নিসবতটি (সম্বন্ধ) মুনশাআত আল-মিহরানীর দিকে, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৮)
مولده:ولد الحافظ العراقي في سنة (725هـ) في شهر جمادي الأولى، بمنشأة المهراني بين مصر والقاهرة على شاطئ النيل.
نشأته العلمية:تميز الحافظ العراقي بالذكاء المفرط، وسرعة الحافظة، فقد حفظ القرآن الكريم وله من العمر ثماني سنوات، وحفظ "التنبيه" وأكثر " الحاوي "، " والإلمام" إلى غير ذلك.
ثم أقبل على علم الحديث في سنة (742هـ) ولازمه وأكب عليه من سنة (752هـ) حتى غلب عليه وتوغل فيه، بحيث صار لا يعرف إلا به.
رحلاته:سافر الإمام العراقي إلى كثير من الأقطار الإسلامية داخل مصر وخارجها طلباً للعلم والتحصيل، فمن ذلك أنه سافر إلى مكة المكرمة، والمدينة المنورة، وبيت المقدس، والخليل، ودمشق، وحلب، والإسكندرية، وبعلبك، وحماة، وحمص، وصفد، وطرابلس، وغزة، ونابلس وغيرها.
شيوخه:تكبّد الإمام العراقي المشاق، وتجشم الصعاب في الأسفار التي طاف بها كثيراً من أقطار العالم الإسلامي، وكان هدفه الأسمى من ذلك
তাঁর জন্ম:হাফেজ (الحافظ) ইরাকি ৭২৫ হিজরি সনের জমাদিউল উলা মাসে নীল নদের তীরে মিসর ও কায়রোর মধ্যবর্তী মুনশাত আল-মাহরানিতে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর ইলমি বিকাশ:হাফেজ (الحافظ) ইরাকি প্রখর মেধা এবং দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং এরপর 'আত-তানবিহ', 'আল-হাভি'-এর অধিকাংশ এবং 'আল-ইলমাম' সহ আরও অন্যান্য গ্রন্থ মুখস্থ করেন।
অতঃপর তিনি ৭৪২ হিজরি সনে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং ৭৫২ হিজরি সন থেকে এতে একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন হন। শেষ পর্যন্ত এই শাস্ত্রটি তাঁর ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং তিনি এর গভীরে প্রবেশ করেন যে, তিনি কেবল এই শাস্ত্রের মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর সফরসমূহ:ইমাম ইরাকি ইলম অন্বেষণ ও অর্জনের উদ্দেশ্যে মিসরের অভ্যন্তরে এবং বাইরে অনেক ইসলামি ভূখণ্ডে সফর করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তিনি মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, বায়তুল মুকাদ্দাস, খলিল, দামেস্ক, আলেপ্পো, আলেকজান্দ্রিয়া, বালবিক, হামাত, হোমস, সাফাদ, ত্রিপোলি, গাজা এবং নাবলুসসহ আরও বহু স্থানে ভ্রমণ করেন।
তাঁর উস্তাদগণ:ইমাম ইরাকি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত পরিভ্রমণে অনেক কষ্ট ও প্রতিকূলতা সহ্য করেন। তাঁর এই সফরের পরম লক্ষ্য ছিল...
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ৯)
التحصيل ولقاء الحفاظ والاستفادة منهم، فلا غرو أن يكثر شيوخه كثرة يشق معها حصرهم والإحاطة بهم.
ومن أبرزهم:
أ- علي بن عثمان بن إبراهيم المارديني، علاء الدين، الشهير بابن التركماني الحنفي.
ب-محمد بن أحمد بن عبد المؤمن بن اللبان.
جـ- محمد بن أحمد بن عبد الوهاب العلائي، شهاب الدين، الشهير بابن بنت العز.
ومن استقرأ كتاب " الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة " للحافظ ابن حجر استخرج منه عدداً كبيراً وجماً غفيراً من شيوخه.
تلاميذه:تولى الإمام العراقي -رحمة الله- التدريس في مدارس عدة، فوفد إليه طلبة العلم من أنحاء كثيرة كي يتعلموا عليه، وينهلوا من معينه فكثروا كثرةً عظيمة، يصعب معها الحصر.
ومما استدعى كذلك كثرة طلبة الحافظ العراقي كثرةً مفرطة، أنه أحيىَ سنة الإملاء بعد أن كان دَرَس عهدها منذ عهد ابن الصلاح فأملى مجالس أربت على الأربعمائة مجلس، أتى فيها بالفوائد والمستجدات.
وقد ترجم لكثير من تلاميذه السخاويُّ في " الضوء اللامع " إلا أن أبرز تلاميذه هو الإمام الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، المتوفي
জ্ঞান অর্জন এবং হাফেজ (الحفاظ) দের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের নিকট থেকে উপকৃত হওয়া; তাই তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা অনেক হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়, যার ফলে তাঁদের গণনা করা এবং তাঁদের পূর্ণ বিবরণ আয়ত্ত করাও বেশ কঠিন।
এবং তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
ক- আলী ইবনে উসমান ইবনে ইবরাহিম আল-মারদিনী, আলাউদ্দিন, যিনি ইবনুত তুর্কমানি আল-হানাফি নামে প্রসিদ্ধ।
খ- মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল মুমিন ইবনুল লাব্বান।
গ- মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আল-আলাই, শিহাবুদ্দিন, যিনি ইবনু বিনতিল ইযয নামে প্রসিদ্ধ।
আর যারা হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার বিরচিত "আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মায়াতিস সামিনাহ" কিতাবটি নিবিড়ভাবে পাঠ করবেন, তারা সেখান থেকে তাঁর উস্তাদদের এক বিশাল ও বিপুল সংখ্যা উদ্ধার করতে পারবেন।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইমাম ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তাঁর নিকট জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং তাঁর ইলমের ঝরনাধারা থেকে সিক্ত হওয়ার জন্য বহু অঞ্চল থেকে ইলম অন্বেষণকারীরা আগমন করেন। এর ফলে তাঁদের সংখ্যা এতোই বৃদ্ধি পায় যে, তাঁদের গণনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হাফেজ (الحافظ) ইরাকির ছাত্রসংখ্যা অত্যধিক হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, তিনি ইবনুস সালাহ-এর সময়কাল থেকে বিলুপ্তপ্রায় শ্রুতিলেখন (الإملاء)-এর পদ্ধতিকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তিনি চারশোরও অধিক শ্রুতিলেখন (الإملاء) মজলিস পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি নানাবিধ ইলমি ফায়দা ও নতুন নতুন তাহকিক উপস্থাপন করেন।
আস-সাখাভি তাঁর "আদ-দউউল লামি" গ্রন্থে তাঁর ছাত্রদের অনেকের জীবনী বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম হাফেজ (الحافظ) আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি, যিনি ইন্তেকাল করেছেন—
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১০)
سنة (852هـ).
مؤلفاته:شرع الحافظ العراقي -رحمة الله- بالتصنيف في وقت مبكر، فولع بتخريج أحاديث " إحياء علوم الدين " للغزالي، وله من العمر قريب من العشرين سنة.
وألَّف رحمه الله المؤلفات النافعة الكثيرة في مختلف الفنون والعلوم الشرعية، ومن أشهرها:
1.الألفية الحديثية.
2.ألفية في علوم القرآن.
3.ألفية في غريب القرآن.
4.تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد في الأحكام.
5. التقييد والإيضاح.
6. شرح الألفية.
7. المغني عن حمل الأسفار في الأسفار في تخريج ما في الإحياء من أخبار.
وقد أورد مُحَقِّقَا «فتح المغيث» في مقدمة تحقيقهما كُلَّ ما وَقَفَا عليه من مصنفات العراقي فأوصلاها إلى (67) مصنفاً.
৮৫২ হিজরি সাল।
তাঁর রচনাবলি:হাফিজ আল-ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) খুব অল্প বয়সেই গ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করেন এবং গাজালির 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন' গ্রন্থের হাদিসসমূহের উৎস অনুসন্ধান (تخريج) করার প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়েন, তখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছরের কাছাকাছি।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন জ্ঞানশাখা ও শরিয়াহ বিজ্ঞানে অনেকগুলো উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো:
1.আলফিয়াতুল হাদিস।
2.আলফিয়াহ ফি উলুমিল কুরআন।
3.আলফিয়াহ ফি গরিবিল কুরআন।
4.তাকরিবুল আসানিদ ওয়া তারতিবুল মাসানিদ ফিল আহকাম।
5.আত-তাকয়িদ ওয়াল ইহজাহ।
6.শরহুল আলফিয়াহ।
7.আল-মুগনি আন হামলিল আসফার ফিল আসফার ফি তাখরিজি মা ফিল ইহয়া মিনা আল-আখবার।
'ফাতহুল মুগিস' গ্রন্থের দুই পাণ্ডুলিপি সম্পাদক (محقق) তাঁদের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) কর্মের ভূমিকায় হাফিজ ইরাকির যে সমস্ত রচনার সন্ধান পেয়েছেন তার সবকটি উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে ৬৭টি গ্রন্থে উপনীত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১১)
وفاته:توفي الحافظ العراقي نصف ليلة الأربعاء ثامن شعبان سنة (806هـ) بالقاهرة، ودفن صبيحة يوم الأربعاء بتربتهم خارج باب البرقية، وكانت جنازته مشهودة، وقدم للصلاة عليه الشيخ أحمد بن جوبان الذهبي، وله من العمر إحدى وثمانون سنة.
هذا وقد توسع الشيخ الفاضل أحمد معبد عبد الكريم في الكلام على الحافظ العراقي في كتابه الحافل " الحافظ العراقي وأثره في السنة " فجزاه الله خيراً.
তাঁর মৃত্যু:হাফিজ (الحافظ) ইরাকি ৮০৬ হিজরি সনের ৮ই শাবান বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন এবং বুধবার সকালে তাকে ‘বাব আল-বারকিয়াহ’ এর বাইরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল এবং শায়খ আহমদ বিন জুবান আল-জাহাবি তাঁর জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একাশি বছর।
উল্লেখ্য যে, বিদগ্ধ শায়খ আহমদ মাবাদ আব্দুল করিম তাঁর সমৃদ্ধ গ্রন্থ "আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস-সুন্নাহ"-তে হাফিজ (الحافظ) ইরাকি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثاني
ترجمة الشارح زين الدين العيني (1)
رحمه الله
اسمه ولقبه ونسبه وكنيته:
هو أبو محمد عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد، زين الدين الصَّالحي الحنفي، المعروف بالعَيني، نسبةً إلى رأس العَين، سكن صالحية دمشق.
مولده ونشأته وطلبه للعلم:ولد زين الدين العيني بدمشق سنة 837هـ.
ونشأ بها فحفظ القرآن وكُتُباً، واشتغل بالفقه وأصوله عند حميد الدين، وبكثير من العقليات عند حسين قاضي الجزيرة ويوسف الرومي في آخرين، وقدم القاهرة فأخذ بها في الفقه وأصوله عن الزين قاسم، والقراءات عن الشهاب بن أسد، وأخذ في العروض عن أبي الفضل المغربي، ولكنه لم يستكثر من الشيوخ، وقد سمع على الشاوي ونشوان وغيرهما، وحضر عند السخاوي بعض المجالس، واختص بابن مزهر
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যাকার জয়নুদ্দীন আল-আইনির জীবনী (১)
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন
তাঁর নাম, উপাধি, বংশপরিচয় ও উপনাম:
তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ, জয়নুদ্দীন আস-সালিহি আল-হানাফি, যিনি আল-আইনি নামে পরিচিত। রাস আল-আইন নামক স্থানের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে ‘আইনি’ বলা হয়; তিনি দামেস্কের সালিহিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণ:জয়নুদ্দীন আল-আইনি ৮৩৭ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং পবিত্র কুরআন ও বেশ কিছু গ্রন্থ মুখস্থ করেন। তিনি হামিদুদ্দীনের নিকট ফিকহ এবং এর মূলনীতি (أصول) চর্চায় মনোনিবেশ করেন। এছাড়া তিনি হুসাইন কাজী আল-জাজিরাহ, ইউসুফ আর-রুমি ও অন্যদের নিকট অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি কায়রো গমন করেন এবং সেখানে জয়ন কাসিমের নিকট ফিকহ ও এর মূলনীতি (أصول), শিহাব ইবনে আসাদের নিকট কিরাত এবং আবু ফজল আল-মাগরিবির নিকট ইলমুল আরুয (ছন্দতত্ত্ব) শিক্ষা করেন। তবে তিনি খুব বেশি শায়খের সান্নিধ্য গ্রহণ করেননি। তিনি আশ-শাওয়ি, নাশওয়ান ও অন্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন এবং আল-সাখাভির কিছু মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইবনে মুযহারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونوه به بحيث صار بأخرة يعد من أعيان مذهبه.
مصنفاته:صنف زين الدين العيني في العربية والعروض، بل وفي أصولهم، وكذا كتب في تفسير اللغة التركية مع نظمٍ ونثرٍ وعقلٍ ومداراة.
ومن مصنفاته:- تحفة المعاني في علم المعاني.
- مختصر تلخيص المفتاح.
-جهد المقل شرح تهذيب المنطق.
- الخصائص النبوية.
-الدرة المضية في اللغة التركية.
-شرح الألفية لابن مالك.
-شرح الألفية للعراقي في الحديث، وهو الذي بين يديك.
- شرح الجامع الصحيح للبخاري.
-شرح درر البحار للقونوي في الفروع.
-شرح الشمسية في المنطق.
-شرح فرائض المختار للموصلي.
-شرح المنار للنِّسَفي في الأصول.
এবং তিনি তাঁর মর্যাদা এমনভাবে তুলে ধরেছিলেন যে, শেষ জীবনে তিনি তাঁর মাযহাবের প্রধান ব্যক্তিদের অন্যতম হিসেবে গণ্য হন।
তাঁর রচনাবলি:জাইন উদ্দিন আল-আইনি আরবি ভাষা এবং ছন্দতত্ত্ব, এমনকি সেগুলোর মূলনীতি (الأصول) বিষয়েও গ্রন্থ রচনা করেছেন। তদ্রূপ তিনি তুর্কি ভাষার ব্যাখ্যায় কবিতা, গদ্য, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচার সম্বলিত গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:- তুহফাতুল মাআনি ফি ইলমিল মাআনি।
- মুখতাসার তালখিসুল মিফতাহ।
- জুহদুল মুকিল্ল শারহু তাহজিবিল মানতিক।
- আল-খাসাইসুন নাবাবিয়্যাহ।
- আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফিল লুগাতিত তুর্কিয়্যাহ।
- ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- হাদিস বিষয়ে আল-ইরাকির আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা বর্তমানে আপনার সম্মুখে রয়েছে।
- সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- শাখাগত মাসআলা (الفروع) বিষয়ে কুনাউয়ির দুরারুল বিহারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে আশ-শামসিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- মাওসিলির ফারায়িদুল মুখতারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- উসুল (الأصول) বিষয়ে নাসাফির আল-মানারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- شرح النقاية لصدر الشريعة.
-شرح الوشاح في معاني والبيان.
-مختصر مدارك التنزيل في التفسير للنسفي، وزاد فيه.
- نظم تلخيص المفتاح وغير ذلك.
أعماله:توجه زين الدين العيني للتدريس والإفتاء وأخذ عنه جماعة من الطلبة، وانتهى الأمر له في قضاء الحنفية بدمشق، وبالجملة فقد نال رياسة ووجاهة.
ثناء العلماء عليه:قال الحافظ السخاوي عن موته: تأسفتُ على فَقْدِه، ونِعْمَ الرجل كان رحمه الله وإيانا.
وفاته:توفي زين الدين العيني سنة (893هـ) ـ
- সদরুশ শরীয়াহ রচিত শারহুন নুকাওয়াহ-এর ব্যাখ্যা।
- মাআনি ও বায়ান শাস্ত্রের শারহুল উইশাহ-এর ব্যাখ্যা।
- নাসাফী রচিত তাফসির গ্রন্থ মাদারিকুত তানজিল-এর সংক্ষিপ্তসার এবং এতে তিনি কিছু সংযোজন করেছেন।
- তালখিসুল মিফতাহ-এর কাব্যরূপ এবং অন্যান্য।
তাঁর কর্মজীবন:যয়নুদ্দীন আল-আইনী শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং একদল শিক্ষার্থী তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরিশেষে দামেস্কে হানাফি বিচারব্যবস্থার (কাজি) দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়। মোটের ওপর, তিনি নেতৃত্ব ও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিলেন।
তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:হাফেজ (الحافظ) সাখাভী তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন: "আমি তাঁর বিয়োগে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। তিনি কতই না চমৎকার মানুষ ছিলেন! আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং আমাদের প্রতি রহম করুন।"
মৃত্যু:যয়নুদ্দীন আল-আইনী ৮৯৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثالث (1)
التعريف بالألفية
· نظم الإمام العراقي رحمه الله ألفيةً في علم المصطلح، اختصر فيها كتاب " معرفة أنواع علم الحديث " لابن الصلاح.
· ولم يكتف بالاختصار بل زاد بعض المسائل والأقوال والتعقبات على ما في كتاب ابن الصلاح، وقد نبه على هذا في ألفيته بقوله:
لخصت فيها ابن الصلاح أجمعه
وزدتها علماً تراه موضعه
· وتبلغ عدد أبيات هذه الألفية ألف بيت وبيتين حسب التعداد لها من خلال شرح مصنفها لها في كتابه " شرح التبصرة والتذكرة ".
· أما عن تسمية الألفية، فإن العراقي لم يصرح في نفس الألفية بتسميتها لكنه قال في إجازته لتلميذه ابن حجر: "وقرأ علي " الألفية " المسماة بـ"التبصرة والتذكرة " من نظمي" (2).
ففي هذه العبارة ذكرها رحمه الله بوصفها " الألفية "، وباسمها " التبصرة والتذكرة " وهما أشهر أسمائها التي عرفت بها من بعد العراقي
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (১)
আলফিয়্যাহ-র পরিচিতি
· ইমাম ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসের পরিভাষা বিজ্ঞান (علم المصطلح)-এর ওপর একটি আলফিয়্যাহ রচনা করেছেন, যাতে তিনি ইবনে সালাহ-র ‘মা’রিফাতু আনওয়া’ই উলুমিল হাদিস’ গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন।
· তিনি কেবল সংক্ষেপ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং ইবনে সালাহ-র কিতাবে থাকা বিষয়ের সাথে কিছু মাসআলা (مسألة), মতামত ও পর্যালোচনা (تعقب) যুক্ত করেছেন। তিনি তাঁর আলফিয়্যাহ-তে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন:
আমি এতে ইবনে সালাহ-র পুরো কিতাবকে সারসংক্ষেপ করেছি
এবং এতে এমন জ্ঞান বৃদ্ধি করেছি যা আপনি তার সঠিক স্থানেই দেখতে পাবেন
· এই আলফিয়্যাহ-র শ্লোক সংখ্যা এক হাজার দুইটিতে পৌঁছেছে; গ্রন্থকারের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শরহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ’-তে বর্ণিত গণনা অনুযায়ী।
· আলফিয়্যাহ-র নামকরণের ক্ষেত্রে, ইমাম ইরাকি স্বয়ং আলফিয়্যাহ-র ভেতরে এর নামকরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে তিনি তাঁর ছাত্র ইবনে হাজারকে প্রদানকৃত ইজাজত (إجازة)-নামায় বলেছেন: “সে আমার নিকট আমার রচিত ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ’ নামক ‘আলফিয়্যাহ’ পাঠ করেছে” (২)।
সুতরাং এই উক্তিটিতে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) একে ‘আলফিয়্যাহ’ বিশেষণে এবং ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ’ নামে উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইরাকির পরবর্তী সময়ে এই নাম দুটিই সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
علماً عليها.
· أما عن طبعاتها، فهذه أشهرها:
الأولى: كانت بالهند سنة (1300هـ) في (المطبع الفاروقي) بدلهي، باهتمام الأستاذ أبي سعيد محمد حسين الهزاوري.
الثانية: بمدينة الرباط بالمغرب.
الثالثة: بتحقيق الشيخ محمد حامد الفقي سنة (1372هـ) ضمن مجموع أسماه "النفائس".
الرابعة: بعناية الشيخ أحمد شاكر وأخيه علي شاكر ضمن مجموع سمياه " الروائع "، بمطبعة (دار المعارف) بمصر، سنة (1372هـ).
الخامسة: باسم " المقاصد المهمة " المسمى بـ"ألفية الحديث" في باكستان ومعها تعليقات لأبي الشفيق محمد رفيق الأثري، سماها "التعليقات الأثرية"، طبعها أعضاء (جمعية النشر والتأليف الأثرية)، سنة (1968هـ).
السادسة: بتحقيق عبد الله محمد الحكمي، في (دار المعالي) ، سنة (1415هـ).
السابعة: بتحقيق العربي الدايز الفرياطي، في (دار المنهاج)، سنة (1426هـ)، ثم الطبعة الثانية في سنة (1428هـ) وهي أجود هذه الطبعات، والله أعلم.
তার ওপর একটি চিহ্ন স্বরূপ।
· এর সংস্করণগুলোর ব্যাপারে বলা যায়, এগুলোই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ:
প্রথমটি: ১৩০০ হিজরি সনে ভারতের দিল্লির (আল-মাতবা আল-ফারুকি)-তে উস্তাদ আবু সাঈদ মুহাম্মদ হুসাইন আল-হাযারাভির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিল।
দ্বিতীয়টি: মরক্কোর রাবাত শহরে।
তৃতীয়টি: ১৩৭২ হিজরি সনে শেখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকির সম্পাদনায় (تحقيق) 'আন-নাফাইস' নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে।
চতুর্থটি: শেখ আহমদ শাকির ও তাঁর ভাই আলি শাকিরের তত্ত্বাবধানে 'আর-রাওয়ায়ি' নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মিশরের (দার আল-মাআরিফ) ছাপাখানায় ১৩৭২ হিজরি সনে।
পঞ্চমটি: পাকিস্তানে 'আল-মাকাসিদ আল-মুহিম্মাহ' নামে, যা 'আলফিয়াতুল হাদিস' হিসেবে পরিচিত; এর সাথে আবুশ শফিক মুহাম্মদ রফিক আল-আসারির টীকা (تعليقات) রয়েছে, যার নামকরণ তিনি করেছেন 'আত-তালিকাতুল আসারিয়্যাহ'। এটি ১৯৬৮ হিজরি সনে (জামিয়াতুন নাশর ওয়াত তালিফ আল-আসারিয়্যাহ)-র সদস্যদের দ্বারা মুদ্রিত।
ষষ্ঠটি: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-হাকামির সম্পাদনায় (تحقيق), (দার আল-মাআলি)-তে ১৪১৫ হিজরি সনে প্রকাশিত।
সপ্তমটি: আল-আরাবি আদ-দায়িজ আল-ফারয়াতির সম্পাদনায় (تحقيق), (দার আল-মিনহাজ)-এ ১৪২৬ হিজরি সনে প্রকাশিত, অতঃপর ১৪২৮ হিজরি সনে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়; আর এটিই এই সকল সংস্করণের মধ্যে সর্বোত্তম, আল্লাহ্ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الرابعالتعريف بشروح ألفية العراقيأتم الحافظ العراقي نظم الألفية يوم الخميس ثالث جمادي الآخرة سنة ثمان وستين وسبعمائة، ومنذ ذلك التاريخ ظهر اهتمام العلماء بها، فَقَلَّ أن تجد ترجمة من تراجم العلماء الذي طلبوا العلم بعد هذا التاريخ إلا ويذكر في ترجمته أنه حفظ أو قرأ ألفية الحديث، والمطالع لكتاب " الضوء اللامع " والتراجم المذكورة فيه يتضح له هذا بجلاء.
وما ذلك إلا نظراً لما تمتعت به ألفية العراقي من ثراء الأسلوب، واحتواء المعاني، وترتيب الموضوعات، لا سيما وقد كان وَكْد الحافظ العراقي الأول هو تلخيص كتاب ابن الصلاح الذي هو العمدة في باب علوم الحديث.
فلم يكن بدعاً من الأمر أن تتوالي الشروح والحواشي على هذه الألفية، تلك الشروح التي جاءت لتوضح غامضها، وتحل مشكلها، وتبين مجملها، وتقيد مطلقها.
ثم إن تلك الشروح تختلف طولاً واختصاراً، حسب إشباع الشارح للمادة العلمية، كما تختلف في المنهج الشكلي للشرح وطريقته حسب قدرات الشارح أو وجهة نظره العلمية.
চতুর্থ পরিচ্ছেদআলফিয়াতুল ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের (شروح) পরিচিতিহাফিজ ইরাকি ৭৬৮ হিজরি সনের ৩রা জমাদিউল আখিরা, বৃহস্পতিবার আলফিয়্যাহ কাব্যরচনার কাজ সমাপ্ত করেন। সেই সময় থেকে এর প্রতি আলেমদের ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। এই তারিখের পরে যারা ইলম অর্জন করেছেন, এমন আলেমদের জীবনীসমূহ (تراجم) পাঠ করলে দেখা যায় যে, খুব কম আলেমই আছেন যাঁদের জীবনীতে (ترجمة) তিনি 'আলফিয়াতুল হাদিস' মুখস্থ করেছেন বা পাঠ করেছেন—একথাটি উল্লেখ করা হয়নি। "আদ-দউউল লামি" গ্রন্থ এবং তাতে বর্ণিত জীবনীসমূহ (تراجم) পাঠ করলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
এর কারণ হলো আলফিয়াতুল ইরাকির শৈল্পিক সমৃদ্ধি, অর্থের ব্যাপকতা এবং বিষয়বস্তুর সুবিন্যস্ত বিন্যাস। বিশেষ করে হাফিজ ইরাকির প্রধান লক্ষ্য ছিল ইবনুস সালাহর কিতাবটির সারসংক্ষেপ করা, যা হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) এর ক্ষেত্রে মূল স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত।
তাই এই আলফিয়্যাহর ওপর একের পর এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) এবং পার্শ্বটীকা (حواشي) রচিত হওয়া কোনো অভিনব বিষয় ছিল না। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো (شروح) এর অস্পষ্ট বিষয়াবলি ব্যাখ্যা করতে, জটিল বিষয়গুলোর সমাধান দিতে, সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করতে এবং এর শর্তহীন (مطلق) বক্তব্যগুলোকে সীমাবদ্ধ করতে প্রণীত হয়েছে।
তদুপরি, ব্যাখ্যাকার কর্তৃক ইলমি উপাদানের বিস্তৃতি বা ব্যাপ্তির ওপর ভিত্তি করে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো (شروح) দৈর্ঘ্য ও সংক্ষেপণের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। অনুরূপভাবে ব্যাখ্যাকারীর যোগ্যতা বা তাঁর ইলমি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ব্যাখ্যার কাঠামোগত পদ্ধতি ও কৌশলের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا وقد أطال بعضُ الأفاضل النفس في ذكر شروح الألفية، ومن أنفس ما وقفت عليه في ذلك كلام الشيخ الفاضل أحمد معبد عبد الكريم -حفظه الله- على ما وقف عليه من هذه الشروح في كتابه الحافل "الحافظ العراقي وأثره في السنة " (1)، كذا الشيخان الفاضلان عبد الكريم الخضير ومحمد بن عبد الله الفهيد في مقدمة تحقيقهما على كتاب " فتح المغيث " للسخاوي (2).
كذا الأخ العربي الدايز الفرياطي في مقدمته على طبعته الثانيه من ألفية العراقي.
إلا أن كتاب الشيخ أحمد معبد تميز بالتوسع في الكلام على بعض هذه الشروح، والكلام على مناهج مؤلفيها، وعلى نسخها الخطية إن أمكن، إلى غير ذلك.
فاستفدت مما وقع عندهم جزاهم الله خيراً استفادةً عظيمة، إلا أنه قد وقعت لهم بعض الأوهام فصححتها على ما ظهر لي، كما استدركت عليهم ما لم يذكروه، والله أعلم بالصواب.
وإليك الكلام على هذه الشروح وغيرها من الأعمال التي تناولت ألفية العراقي:
--------------------------------------------
এই বিষয়ে কতিপয় বিদগ্ধ পণ্ডিত আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شروح) বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এই বিষয়ে আমি যা অবগত হয়েছি তার মধ্যে শেখ আহমদ মা'বাদ আব্দুল কারিম —আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন— তাঁর সমৃদ্ধ গ্রন্থ "আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ" (১)-এ উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ সম্পর্কে যা আলোচনা করেছেন তা অত্যন্ত মূল্যবান। একইভাবে দুই প্রাজ্ঞ শেখ আব্দুল কারিম আল-খুদাইর এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফুহাইদ আস-সাখাবি রচিত "ফাতহুল মুগিস" (২) গ্রন্থের তাঁদের সম্পাদিত (تحقيق) সংস্করণের ভূমিকায় এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অনুরূপভাবে ভ্রাতৃপ্রতিম আল-আরাবি আদ-দায়িজ আল-ফারইয়াতি আলফিয়্যাহ আল-ইরাকির দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় আলোচনা করেছেন।
তবে শেখ আহমদ মা'বাদের গ্রন্থটি এসব ব্যাখ্যাগ্রন্থের কয়েকটির বিস্তারিত বিবরণ, এগুলোর রচয়িতাদের কর্মপদ্ধতি (منهج) এবং সম্ভবপর ক্ষেত্রে সেগুলোর পাণ্ডুলিপি (نسخ خطية) ইত্যাদির আলোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
আমি তাঁদের আলোচনা থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। তবে তাঁদের কাজে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল (أوهام) পরিলক্ষিত হয়েছে যা আমার নিকট সঠিক প্রতীয়মান তথ্যের ভিত্তিতে সংশোধন করেছি। পাশাপাশি তাঁরা যা উল্লেখ করেননি, তা-ও আমি সংযোজন (استدراك) করেছি। আর আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।
এখানে উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং আলফিয়্যাহ আল-ইরাকি কেন্দ্রিক অন্যান্য কাজ সম্পর্কে আলোচনা পেশ করা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1) الشرح الكبير للعراقي:
- ذكره العراقي نفسه في شرحه المتوسط -الآتي ذكره- حيث قال"وشرعت في شرح لها -أي الألفية- بسطته وأوضحته، ثم رأيته كبير الحجم فاستطلته ومللته ثم شرعت في شرح متوسط لها" (1) وقد أكثر من العزو إليه في مواضع من شرحه المتوسط (2).
- وتكمن أهمية هذا الشرح في أنه شرح مُوَسَّع على الألفية، ثم إنه أول شرح كتب على "الألفية" على الإطلاق، حيث إن كل شروحات وتعليقات العلماء على الألفية جاءت متأخرة على شرحي العراقي الكبير والمتوسط.
-وقد نقل عن هذا الشرح عدد كبير من أهل العلم منهم البقاعي في " النكت الوفية " (3)، وابن قطلوبغا في حاشيته على "شرح العراقي"، والسخاوي في "فتح المغيث"، وزكريا الأنصاري في " فتح الباقي" (4)، وغيرهم، فحفظوا لنا جملاً ليست بالقليلة من هذا الشرح النفيس على "الألفية" الذي لم يُعثر على مخطوطاته حتى الآن فيما أعلم.
إلا أن الحافظ العراقي لم يتم هذا الشرح كما ألمح إليه بقوله: "وشرعت في شرح لها فاستطلته ومللته ثم شرعت في شرح لها متوسط"،
--------------------------------------------
1) আল-ইরাকির বৃহৎ ব্যাখ্যা:
- ইরাকি নিজেই তাঁর মধ্যম মানের ব্যাখ্যায়—যা পরবর্তীতে বর্ণিত হবে—এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন: "আমি এর (অর্থাৎ আলফিয়্যাহ-র) একটি ব্যাখ্যা রচনা শুরু করেছিলাম, যা আমি বিস্তারিত ও প্রাঞ্জল করেছিলাম। অতঃপর আমি দেখলাম যে এটি অনেক বৃহৎ হয়ে যাচ্ছে, তাই আমি একে দীর্ঘ মনে করলাম এবং ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি এর জন্য একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যা রচনা শুরু করি।" (১) তিনি তাঁর মধ্যম মানের ব্যাখ্যা গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এই বৃহৎ ব্যাখ্যার প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন (২)।
- এই ব্যাখ্যার গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এতে যে, এটি আলফিয়্যাহ-র ওপর একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা। তাছাড়া এটি আলফিয়্যাহ-র ওপর রচিত সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা; কারণ আলফিয়্যাহ-র ওপর আলেমদের পরবর্তী সকল ব্যাখ্যা ও টীকা ইরাকির বৃহৎ ও মধ্যম মানের ব্যাখ্যা দুটির পরেই রচিত হয়েছে।
- বহুসংখ্যক আলেম এই ব্যাখ্যা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন "আন-নুয়াত আল-ওয়াফিয়্যাহ" গ্রন্থে আল-বিকায়ি (৩), "শারহুল ইরাকি"-র ওপর তাঁর হাশিয়া-তে ইবনে কুতলুবুগা, "ফাতহুল মুগিস" গ্রন্থে আস-সাখাভি, "ফাতহুল বাকি" গ্রন্থে জাকারিয়া আল-আনসারি (৪) এবং আরও অনেকে। এভাবে তাঁরা আলফিয়্যাহ-র ওপর রচিত এই মূল্যবান ব্যাখ্যার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন, যেটির কোনো পাণ্ডুলিপি আমার জানামতে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তবে হাফিজ (الحافظ) ইরাকি এই ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করতে পারেননি, যেমনটি তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন: "আমি এর একটি ব্যাখ্যা রচনা শুরু করেছিলাম, কিন্তু একে দীর্ঘ মনে হওয়ায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম; অতঃপর আমি এর জন্য একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যা শুরু করি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد قال ابن فهد في " لحظ الألحاظ" (1):"وشرع في شرح مُطَوَّل عليها، كَتَبَ منه نحواً من سِتِّ كراريس، ثم تركه وعمل عليها شرحاً متوسطاً".
وقد حَدَّدَ لنا البقاعي موضع توقفه فقال (2): " لم يوجد منه إلا قطعة يسيرة، وصل فيها إلى الضعيف".
ويظهر هذا جلياً بمطالعة المواضع المذكورة التي نقل فيها الأئمة عن هذا الشرح، إذ أن أياً منها لم يتعد نوع" الضعيف " من الألفية.
2) شرح التبصرة والتذكرة للعراقي نفسه:
وهو الشرح المتوسط الذي قال فيه: " غير مفرِط ولا مفرِّط يوضح مشكلها ـ أي الألفية ـ، ويفتح مقفلها، ما كثر فأمل، ولا قصر فأخل" (3).
- ويعتبر هذا الشرح أول شرح كامل على الألفية.
- أما عن تسميته: فقد ذكره مصنفه عدة مرات بعبارة " شرح الألفية"، ووجد على كثير من نسخ الكتاب عبارة " شرح التبصرة والتذكرة " (4).
- أما تسميته بـ"فتح المغيث" والتي اشتهرت كثيرًا في هذا العصر، فقد أطنب الشيخ الفاضل أحمد معبد في ردها وبيان أن تسمية الكتاب بهذا
--------------------------------------------
ইবনে ফাহাদ 'লাহজ আল-আলহাজ' (১) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি এর ওপর একটি বিস্তারিত (مطول) ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন, যার প্রায় ছয়টি পরিচ্ছেদ (كراريس) লিখেছিলেন, অতঃপর তিনি সেটি বর্জন করে একটি মাঝারি মানের (متوسط) ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণয়ন করেন।"
আল-বিকাঈ তাঁর লেখনী স্থগিত করার স্থানটি নির্দিষ্ট করে বলেছেন (২): "এর সামান্য অংশই পাওয়া গেছে, যাতে তিনি দুর্বল (الضعيف) হাদিস সংক্রান্ত আলোচনা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।"
ইমামগণ এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে যেসব অংশ উদ্ধৃত করেছেন তা পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, কারণ সেগুলোর কোনোটিই আলফিয়্যাহ-র 'দুর্বল' (الضعيف) প্রকারটি অতিক্রম করেনি।
২) হাফেজ ইরাকি রচিত 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ:
এটি সেই মাঝারি মানের (متوسط) ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এটি অতিরঞ্জন ও অবহেলা বর্জিত যা এর (অর্থাৎ আলফিয়্যাহ-র) অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে এবং এর জটিলতাগুলো উন্মোচন করে; এটি এমন দীর্ঘ নয় যে বিরক্তির উদ্রেক করবে, আবার এমন সংক্ষিপ্তও নয় যে অপূর্ণতা থেকে যাবে" (৩)।
- এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে আলফিয়্যাহ-র ওপর রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এর নামকরণের ক্ষেত্রে: লেখক নিজেই একে কয়েকবার "শারহুল আলফিয়্যাহ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থের অনেক পাণ্ডুলিপিতে "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ" (৪) শিরোনামটি পাওয়া গেছে।
- তবে একে "ফাতহুল মুগীস" নামে অভিহিত করা—যা বর্তমান যুগে অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে—সম্মানিত শায়খ আহমদ মাবাদ এর খণ্ডন এবং এই নামে নামকরণের ভ্রান্তি বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২১)
الاسم الذي اشتهر به مؤخراً لا أصل له من الصحة، فليراجع هناك (1).
- أما عن طبعات الكتاب، فقد طبع فيما وقفت عليه أربع طبعات:
الطبعة الأولى: بالمطبعة الجديدة بمدينة " فاس" بالمغرب سنة (1354هـ)، وتقع هذه الطبعة في ثلاثة أجزاء كبيرة، وبهامشها شرح الشيخ زكريا الأنصاري، وعنوان هذه الطبعة " شرح ألفية العراقي المسماة بالتبصرة والتذكرة ".
الطبعة الثانية: بالقاهرة سنة (1355هـ)، وتقع في (4) أجزاء صغيرة، قام بتحقيق الشرح بعض أعضاء "جمعية النشر والتأليف الأزهرية" برئاسة الشيخ محمود حسن ربيع رحمه الله وقد عنونت هذه الطبعة بـ"فتح المغيث بشرح ألفية الحديث " وقد تقدم التنبيه على خطأ هذه التسمية، إلا أنه بعدما تم طبع الشرح تحقق الشيخ محمود ربيع أن " فتح المغيث " اسم لشرح السخاوي لا لشرح العراقي فأثبت ذلك في خاتمة الطبع (2).
الطبعة الثالثة: طبعة (دار الكتب العلمية)، وهي طبعة مخرجة عن الطبعة الفاسية، لم يكن فيها جديد إلا إعادة تنضيد حروفها.
الطبعة الرابعة: طبعة (دار الكتب العلمية) ببيروت، عام (1423هـ) بتحقيق عبد اللطيف الهميم وماهر ياسين الفحل، ذكرا في مقدمته أنهما حققاه على أربع نسخ خطية، وعنونت هذه الطبعة بـ" شرح التبصرة والتذكرة".
--------------------------------------------
সম্প্রতি যে নামে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই, সুতরাং সেখানে দেখে নেওয়া উচিত (১)।
- গ্রন্থটির সংস্করণগুলো সম্পর্কে বলতে গেলে, আমার জানামতে এটি চারবার মুদ্রিত হয়েছে:
প্রথম সংস্করণ: মরক্কোর "ফেজ" শহরের আল-মাতবাআ আল-জাদিদাহ (নতুন ছাপাখানা) থেকে ১৩৫৪ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে। এই সংস্করণটি তিনটি বড় খণ্ডে বিভক্ত এবং এর পার্শ্বটীকায় শায়খ জাকারিয়া আনসারীর ব্যাখ্যা (شرح) রয়েছে। এই সংস্করণের শিরোনাম হলো "শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি আল-মুসাম্মা বিত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাজকিরাহ"।
দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৩৫৫ হিজরি সনে কায়রোতে প্রকাশিত। এটি ৪টি ছোট খণ্ডে বিভক্ত। শায়খ মাহমুদ হাসান রবি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নেতৃত্বে "জামইয়াতুন নাশর ওয়াত তালিফ আল-আযহারিয়া"-এর কিছু সদস্য এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির (شرح) সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন। এই সংস্করণের শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল "ফাতহুল মুগিস বি-শারহি আলফিয়্যাতিল হাদিস"। এই নামকরণের ভুল সম্পর্কে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছে। তবে ব্যাখ্যাগ্রন্থটির (شرح) মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর শায়খ মাহমুদ রবি নিশ্চিত হন যে, "ফাতহুল মুগিস" নামটি সাখাভীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) নাম, ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) নয়। তাই তিনি মুদ্রণের শেষাংশে তা উল্লেখ করেছেন (২)।
তৃতীয় সংস্করণ: (দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর সংস্করণ। এটি ফেজ সংস্করণের আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে বর্ণবিন্যাস পুনরায় করা ছাড়া নতুন কিছু ছিল না।
চতুর্থ সংস্করণ: বৈরুতের (দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ) থেকে ১৪২৩ হিজরি সনে আব্দুল লতিফ আল-হামিম এবং মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল-এর সম্পাদনায় (تحقيق) প্রকাশিত। তাঁরা এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা চারটি পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ভিত্তিতে এটি সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন। এই সংস্করণের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ"।।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد وضع العلماء ممن جاء بعد العراقي على شرحه هذا حواشٍ عدة، منها:
3 - (أ) حاشية للشيخ قاسم بن قطلوبغا بن عبد الله الحنفي، المتوفي سنة (879هـ) (1).
4 - (ب) حاشية لبرهان الدين إبراهيم بن عمر بن حسان الرباط البقاعي الشافعي، المتوفي سنة (885هـ).
واسم هذه الحاشية " النكت الوفية بما في شرح الألفية "، وصفها السيوطي بأنها: "من مؤلفاته الحسنة" (2).
وطبع ما وجد منها بدار الرشد بالرياض بتحقيق ماهر ياسين الفحل سنة (1428هـ).
5 - (ج) "النكت على الألفية وشرح ناظمها " للسخاوي.
ذكره السخاوي نفسه في " فتح المغيث " وأحال على مواضع منه (3)، ووصفه بأنه " مصنف مبسوط مقرر مضبوط" (4).
وقد ذكر الكتاني أنها تقع في مجلد (5)، ولعله أراد القدر المبيض منها،
--------------------------------------------
আল-ইরাকির পরবর্তী আলেমগণ তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) ওপর বেশ কিছু টিকা (حاشية) রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
৩ - (ক) শায়খ কাসিম বিন কুতলুবুগা বিন আব্দুল্লাহ আল-হানাফীর একটি টিকা (حاشية), যিনি ৮৭৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
৪ - (খ) বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান আর-রিবাত আল-বিকাঈ আশ-শাফিঈর একটি টিকা (حاشية), যিনি ৮৮৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
এই টিকা (حاشية)-টির নাম হলো "আন-নুকাত আল-ওয়াফিয়্যাহ বিমা ফি শারহিল আলফিয়্যাহ", সুয়ূতী এটিকে তাঁর "উত্তম রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত" বলে অভিহিত করেছেন (২)।
এর যতটুকু অংশ পাওয়া গেছে, তা রিয়াদের দারুর রুশদ থেকে মাহের ইয়াসিন আল-ফাহলের সম্পাদনা (تحقيق) সহ ১৪২৮ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।
৫ - (গ) সাখাভীর "আন-নুকাত আলাল আলফিয়্যাহ ওয়া শারহু নাজিমিহা"।
সাখাভী নিজেই তাঁর ফাতহুল মুগিস-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর বিভিন্ন স্থানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন (৩), এবং তিনি এটিকে একটি "সুবিস্তৃত, সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুবিন্যস্ত গ্রন্থ (مصنف)" হিসেবে বর্ণনা করেছেন (৪)।
কাত্তানী উল্লেখ করেছেন যে এটি এক খণ্ডে (مجلد) সমাপ্ত (৫), সম্ভবত তিনি এর পরিমার্জিত (مبيض) পাণ্ডুলিপির অংশটি বুঝিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فقد ذكر السخاوي أنه بيض من هذه "النكت" قدر الربع في مجلد (1)، لا الكتاب كله (2).
6 - (د) "النكت على شرح الألفية" للحافظ ابن حجر.
ذكر السيوطي (3) ضمن تصانيف الحافظ ابن حجر " النكت على شرح ألفية العراقي "، ثم جاء الكتاني فذكر مما شرع فيه الحافظ وكتب منه اليسير " النكت على شرح ألفية العراقي" (4).
وقد تستفاد بعض هذه النكت من خلال حاشية البقاعي التي سبق ذكرها، لقول البقاعي في أولها (5) " قيدت فيها ما استفدته من تحقيق تلميذه -أي تلميذ العراقي- شيخنا شيخ الإسلام .. ابن حجر العسقلاني أيام سماعي لبحثها عليه بارك الله في حياته".
7 - (هـ) حاشية إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي الشهير بسبط ابن العجمي المتوفي سنة (841هـ).
- ذكر الإمام السخاوي هذه الحاشية في " الضوء اللامع" (6) إلا أن عبارته، رحمه الله فيها نوع خفاء مما جعل من جاء بعده يختلفون في
--------------------------------------------
সাখাভী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই "সূক্ষ্ম টীকা" (النكت) সমূহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এক খণ্ডে পরিচ্ছন্ন পাণ্ডুলিপিভুক্ত (بيض) করেছেন (১), পুরো গ্রন্থটি নয় (২)।
৬ - (দ) হাফিজ ইবনে হাজার রচিত "আন-নুকাত আলা শারহিল আলফিয়্যাহ" ।
সুয়ূতী (৩) হাফিজ ইবনে হাজারের গ্রন্থাবলির মধ্যে "আন-নুকাত আলা শারহিল আলফিয়্যাহ আল-ইরাকি" এর কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর কাত্তানী উল্লেখ করেছেন যে, হাফিজ ইবনে হাজার যা শুরু করেছিলেন এবং যার সামান্য অংশ লিখেছিলেন তার মধ্যে "আন-নুকাত আলা শারহিল আলফিয়্যাহ আল-ইরাকি" অন্যতম (৪)।
পূর্বে উল্লিখিত বিকায়ীর পাদটীকা (حاشية) এর মাধ্যমে এই সূক্ষ্ম টীকা (النكت) সমূহের কিছু অংশ থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব। কারণ বিকায়ী তার শুরুতে (৫) বলেছেন, "আমি এতে তা-ই লিপিবদ্ধ করেছি যা আমি তাঁর ছাত্র—অর্থাৎ ইরাকির ছাত্র—আমাদের শায়খ শাইখুল ইসলাম... ইবনে হাজার আসকালানীর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) থেকে তাঁর নিকট এর পাঠ শ্রবণকালীন দিনগুলোতে অর্জন করেছি, আল্লাহ তাঁর জীবনে বরকত দান করুন।"
৭ - (হ) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল আল-হালাবীর পাদটীকা (حاشية), যিনি সিবত ইবনুল আজামী নামে পরিচিত, মৃত্যু (৮৪১ হিজরি)।
- ইমাম সাখাভী এই পাদটীকা (حاشية) সম্পর্কে "আদ-দাও আল-লামি" (৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে যার ফলে তাঁর পরবর্তীগণ এ বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছেন যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فهمها، فإن السخاوي رحمه الله وهو يعدد مؤلفات ابن العجمي ذكر أن له " حواش على كل من: -وذكر بعض الكتب التي حشى عليها-، ثم قال " واليسير على ألفية العراقي وشرحها بل وزاد في المتن أبياتاً غير مستغنى عنها ".
- فمنهم من جعل " شرحها " فعلاً ماضياً، ففهم من العبارة أن ابن العجمي شرح " الألفية " وهذا صنيع صاحب "كشف الظنون" (1)، وصاحب «فهرس الفهارس» (2) وتبعهما عليه محققا "فتح المغيث" (3) فأوردوه في شراح الألفية.
- ومنهم من جعل "شرحها" مصدراً، واختلفوا أيضاً في فهمها على قولين:
فمنهم من فهم من العبارة أن ابن العجمي كتب حاشية يسيرة على الألفية وأخرى على شرحها وهو صنيع محقق " الكاشف " للذهبي، إذ ذكر في أثناء سرد مصنفات ابن العجمي: "حاشية على الألفية "، ثم ذكر: "حاشية على شرح الألفية "، ثم قال: "إنفرد السخاوي بذكر هذه الحاشية والحاشية السابقة وهي على الألفية نفسها" (4).
- ومنهم من فهم من العبارة أن ابن العجمي كتب حاشية على الألفية
--------------------------------------------
তা বোঝার ক্ষেত্রে; কেননা আল-সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) ইবনুল আজামির রচনাবলির তালিকা বর্ণনা করার সময় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর "কতকগুলো টীকা (حواش) রয়েছে এগুলোর উপর: -এরপর তিনি সেই বইগুলোর নাম উল্লেখ করেন যেগুলোর উপর ইবনুল আজামি টীকা লিখেছেন- তারপর তিনি বলেন: 'এবং আলফিয়্যাহ আল-ইরাকি ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرحها) উপর সামান্য কিছু, বরং তিনি এর মূল পাঠে (متن) এমন কিছু পঙ্ক্তি যোগ করেছেন যা অপরিহার্য'।"
- সুতরাং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ "শারাহাহা (شرحها)" শব্দটিকে অতীতকালের ক্রিয়া (فعل ماض) হিসেবে গণ্য করেছেন; ফলে তাঁরা এই বাক্য থেকে বুঝেছেন যে ইবনুল আজামি 'আলফিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন। এটিই 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক ও 'ফিহরিসুল ফাহারিস'-এর লেখকের গৃহীত পদ্ধতি, এবং তাঁদের অনুসরণ করে 'ফাতহুল মুগিস'-এর দুই মুহাক্কিক (সম্পাদক) তাঁকে আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকারদের (شراح) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
- আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ "শারহুহা (شرحها)" শব্দটিকে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এটি বোঝার ক্ষেত্রেও তাঁরা দুটি মতামতে (قولين) বিভক্ত হয়েছেন:
তন্মধ্যে কেউ কেউ এই বাক্য থেকে বুঝেছেন যে ইবনুল আজামি আলফিয়্যাহ-এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা (حاشية) এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) ওপর আরেকটি টীকা লিখেছেন। যাহাবীর 'আল-কাশিফ'-এর মুহাক্কিক (সম্পাদক) এই পদ্ধতিই অবলম্বন করেছেন; কারণ তিনি ইবনুল আজামির গ্রন্থতালিকা বর্ণনার সময় উল্লেখ করেছেন: "আলফিয়্যাহ-এর উপর টীকা (حاشية)", তারপর উল্লেখ করেছেন: "আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) উপর টীকা (حاشية)", অতঃপর বলেছেন: "আল-সাখাভী এককভাবে (انفرد) এই টীকাটি এবং পূর্ববর্তী টীকাটির কথা উল্লেখ করেছেন যা খোদ আলফিয়্যাহ-এর উপর লিখিত।" (৪)।
- আর তাঁদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যাঁরা এই বাক্য থেকে বুঝেছেন যে ইবনুল আজামি আলফিয়্যাহ-এর উপর একটি টীকা (حاشية) লিখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مع شرحها، فلم يكتب حاشية مستقلة على الألفية نفسها وهو ظاهر صنيع الشيخ أحمد معبد في كتابه " الحافظ العراقي" (1).
وعندي أن الفهم الثالث قريب، ويؤيده قول السخاوي في " الضوء اللامع" (2) أثناء سرد مؤلفاته: " والنكت على ألفية العراقي وشرحها "، ولا يريد أن له نكتاً مستقلة على الألفية نفسها، والأمر يسير، والله أعلم.
- وينبغي التنبيه هنا على أن الذي جاء في كلام الشوكاني في المطبوع من "البدر الطالع" (3) أثناء ذكر مصنفات ابن العجمي ملخِّصاً كلام السخاوي في " الضوء اللامع ": "والتيسير على ألفية العراقي وشرحها"، فلو صح هذا لكانت هذه تسمية هذه الحاشية، والله أعلم.
-أما زيادات ابن العجمي على الألفية المذكورة في كلام السخاوي السابق، فمنها نسخة في المكتبة التيمورية بمصر، برقم (139)، وقد عنونت في فهرس المكتبة (4) بـ"نظم ما فات العراقي في ألفيته".
- وبقي التنبيه هنا على أن صاحب " كشف الظنون " (5) قال في أثناء سرده شروح الألفية: " وشَرْح إبراهيم بن محمد الحلبي المتوفي سنة (955هـ)». وقد تقدم أن سبط ابن العجمي توفي سنة (841هـ)» كما في
--------------------------------------------
এর ব্যাখ্যার (شرح) সাথে; তাই তিনি মূল আলফিয়্যার ওপর স্বতন্ত্র কোনো টীকা (حاشية) লিখেননি। শাইখ আহমাদ মাবাদের তাঁর 'আল-হাফিজ আল-ইরাকি' গ্রন্থে (১) গৃহীত বাহ্যিক কর্মপদ্ধতি থেকে এটিই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
আমার নিকট তৃতীয় অনুধাবনটিই নিকটতর মনে হয় এবং আস-সাখাভি তাঁর 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে (২) তাঁর গ্রন্থতালিকা বর্ণনার সময় যা বলেছেন তা এটিকে সমর্থন করে: "আল-ইরাকির আলফিয়্যা ও এর ব্যাখ্যার (شرح) ওপর সূক্ষ্ম টীকা (النكت)"। এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চাননি যে মূল আলফিয়্যার ওপর তাঁর স্বতন্ত্র কোনো সূক্ষ্ম টীকা (نكت) রয়েছে। আর বিষয়টি সহজ, আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
- এখানে এই বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, আশ-শাওকানি তাঁর 'আল-বাদরুত তালি' এর মুদ্রিত কপিতে (৩) ইবনুল আজমির গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করার সময় আস-সাখাভির 'আদ-দাও আল-লামি'র বক্তব্যের সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে লিখেছেন: "ইরাকির আলফিয়্যা ও এর ব্যাখ্যার (شرح) ওপর আত-তায়সির"। যদি এটি সঠিক হয়, তবে এটিই হবে এই টীকার (حاشية) নাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
- আস-সাখাভির পূর্বোক্ত বক্তব্যে ইবনুল আজমির আলফিয়্যার ওপর যে অতিরিক্ত সংযোজনসমূহের (زيادات) কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের তায়মুরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে ১৩৯ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে। লাইব্রেরির ক্যাটালগে (فهرس) (৪) এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে "নাজমু মা ফাতা আল-ইরাকি ফি আলফিয়্যাতিহি"।
- এখানে আরও একটি বিষয় জানানো প্রয়োজন যে, 'কাশফুজ জুনুন' এর লেখক (৫) আলফিয়্যার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شروح) বর্ণনার সময় বলেছেন: "এবং ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-হালাবি (মৃ. ৯৫৫ হি.)-এর ব্যাখ্যা (شرح)"। আর এটি পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে সিবত ইবনুল আজমি ৮৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ترجمته من "الضوء اللامع" (1) وغيره، لذا فقد علق الشيخ الفاضل أحمد معبد على هذا بقوله (2): " فلعل صاحب " الكشف " قصد ذكر هذه الحاشية وأخطأ في تاريخ وفاة المؤلف".
- أقول: الظاهر عندي أن صاحب " الكشف " لم يخطئ في ذكر سنة وفاة سبط ابن العجمي، بل التبس عليه بآخر، أي أنه ظن أن صاحب هذه الحاشية ليس هو إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي المعروف بسبط ابن العجمي، بل ظن أنه إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الحلبي وهو آخر مترجم في " الكواكب السائرة " و"الشقائق النعمانية" وغيرها، وقد ذكره صاحب " الكشف " في غيرما موضع مؤرخاً سنة وفاته (955هـ) (3)، وفي الغالب يؤرخه في سنة (956هـ) (4) للخلاف في سنة وفاته والثاني هو الذي عليه الأكثر.
- أما سبط ابن العجمي فقد ذكره صاحب «الكشف» في مواضع كثيرة على الصواب في سنة وفاته، ولكنه في الغالب يميزه فيقول مثلاً إبراهيم بن محمد الحلبي المعروف بسبط ابن العجمي، أو يميزه بلقبه " برهان الدين" (5) مما يقوي ما قدمت من أن صاحب " الكشف " لم يرده أصلاً في ذكر شُرَّاح الألفية، لأنه لم يميزه كما هي عادته في ذكر إبراهيم بن محمد
--------------------------------------------
তাঁর জীবনী "আদ-দাউ আল-লামি" (১) এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। তাই শায়খ আল-ফাদিল আহমদ মাবাদ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন (২): "সম্ভবত 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক এই টীকাটি উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন এবং লেখকের মৃত্যু তারিখ বর্ণনায় ভুল করেছেন।"
- আমি বলছি: আমার নিকট এটিই প্রতীয়মান হয় যে, 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক সিবত ইবনে আল-আজামির মৃত্যু সাল বর্ণনায় ভুল করেননি, বরং অন্য একজনের সাথে তাঁর বিভ্রান্তি ঘটেছে। অর্থাৎ, তিনি ধারণা করেছেন যে, এই টীকাটির লেখক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন খলিল আল-হালাবি নন—যিনি সিবত ইবনে আল-আজামি হিসেবে পরিচিত—বরং তিনি মনে করেছেন যে, তিনি হলেন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হালাবি। এই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি হলেন সেই ব্যক্তি যার জীবনী 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়ারাহ', 'আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়্যাহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থে সর্বশেষ জীবনী হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক তাঁর মৃত্যু সাল ৯৫৫ হিজরি (৩) হিসেবে অনেক স্থানে উল্লেখ করেছেন; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি ৯৫৬ হিজরি (৪) উল্লেখ করেন, কারণ তাঁর মৃত্যু সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং দ্বিতীয় মতটিই অধিকাংশের নিকট গ্রহণযোগ্য।
- আর সিবত ইবনে আল-আজামির কথা বলতে গেলে, 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক অনেক স্থানেই তাঁর সঠিক মৃত্যু সাল উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সচরাচর তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করার জন্য বলতেন, যেমন: 'ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-হালাবি যিনি সিবত ইবনে আল-আজামি হিসেবে পরিচিত', অথবা তাঁর উপাধি 'বুরহানুদ্দিন' (৫) দ্বারা তাকে বিশেষিত করতেন। এটি আমার পূর্বে উপস্থাপিত মতকেই জোরালো করে যে, 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাকারকদের বর্ণনার ক্ষেত্রে মূলত তাকে উদ্দেশ্য করেননি; কারণ তিনি এখানে তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে পৃথকভাবে নির্দেশ করেননি, যেভাবে তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ নামধারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بن إبراهيم الحلبي، والله اعلم.
-والظاهر أنه قد تفطن مُحَقِّقَا" فتح المغيث" لهذا الذي قدمت من أن صاحب " الكشف " إنما أراد رجلاً آخر غير ابن العجمي فكان من صنيعهما -حفظهما الله- أنهما جعلا لإبراهيم بن محمد بن إبراهيم الحلبي شرحاً آخر على "الألفية"، غير شرح إبراهيم بن محمد بن خليل سبط ابن العجمي (1).
-وعندي في ذلك نظر كذلك، فإني لم أجد أحداً ممن ترجم لإبراهيم بن محمد بن إبراهيم ـ فيما وقفت عليه ـ ذكر أن له شرحاً على الألفية أو حاشية عليها، كصاحب " الكواكب السائرة " (2) أو " الشقائق النعمانية" (3) أو " إعلام النبلاء" (4)، فلم يذكر واحد منهم شيئاً من ذلك، والله أعلم.
وقد اختصر شرح العراقي المذكور كل من:
8 - (أ) الشيخ عزالدين أحمد بن إبراهيم بن نصر الله بن أحمد العسقلاني المصري، المتوفي سنة (876هـ) (5).
9 - (ب) السيد الشريف محمد أمين بن محمود البخاري الشهير بأمير باد
--------------------------------------------
...বিন ইবরাহিম আল-হালাবি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
-আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় যে, "ফাতহুল মুগিস" এর গবেষকদ্বয় আমার উপস্থাপিত এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন যে, "আল-কাশফ" এর লেখক ইবনুল আজামি ব্যতীত অন্য এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেছেন। তাই তাদের কর্মপদ্ধতি—আল্লাহ তাদের হিফাযত করুন—এমন ছিল যে, তারা ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-হালাবির জন্য "আল-আলফিয়্যাহ"-এর একটি পৃথক ব্যাখ্যাগ্রন্থ সাব্যস্ত করেছেন, যা ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল সিবত ইবনুল আজামির ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে ভিন্ন (১)।
-এ বিষয়ে আমারও সংশয় রয়েছে; কারণ আমি যাদের ওপর অবগত হয়েছি, তাদের মধ্যে ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিমের জীবনী রচনাকারীদের কাউকেই এমনটি উল্লেখ করতে দেখিনি যে, "আল-আলফিয়্যাহ"-এর ওপর তাঁর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা টীকাগ্রন্থ রয়েছে। যেমন—"আল-কাওয়াকিবুস সায়িরাহ" (২) বা "আশ-শাকাইকুন্নুমানিয়্যাহ" (৩) অথবা "ইলামুন নুবলা" (৪) এর লেখকগণের কেউ-ই এমন কিছু উল্লেখ করেননি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
উল্লিখিত ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি যারা সংক্ষেপ করেছেন তারা হলেন:
৮ - (ক) শায়খ ইজ্জুদ্দিন আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন নাসরুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আসকালানি আল-মিসরি, মৃত্যু (৮৭৬ হিজরি) (৫)।
৯ - (খ) সাইয়্যেদ শরীফ মুহাম্মাদ আমিন বিন মাহমুদ আল-বুখারি, যিনি আমির বাদ নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
شاه، نزيل مكة المكرمة، المتوفى حوالي سنة (987هـ) (1).
أما صاحب " هدية العارفين" فقد ذكر أن محمداً هذا له شرح على الألفية، إلا أن كلام صاحب " كشف الظنون " مقدم ـ والله أعلم ـ ووجه ذلك أنه وقف على الكتاب، ونقل من مقدمته فقال (2): " أوله ـ أي أول كتاب أمير باد شاه: الحمد لله الذي أسند حديث الوجود".
10 - (ج) الشمس محمد بن عمار بن محمد بن أحمد أبو ياسر، المتوفي سنة (844هـ) (3)، وقد ذكر هذا المختصر السخاوي رحمه الله في آخر شرحه "فتح المغيث " (4): فقال " واختصره ـ يعني شرح العراقي ـ الشمس بن عمار المالكي".
ويبدو أن هذا المختصر هو أقدم مختصرات شرح العراقي وهو الشرح الثاني لألفية العراقي بعد شرح مصنفها، حتى قال السخاوي: وما علمت عليها لسواه شرحاً.
أما عن نسخ الكتاب:
فمنه نسخة خطية في (المكتبة الأزهرية) بمصر، وهي برقم (1325) مصطلح، تقع في (187) ورقة وعدد السطور في الصفحة (17) سطراً، خطها واضح في الجملة إلا في بعض المواضع، وعليها تعليقات
--------------------------------------------
শাহ, যিনি মক্কাতুল মুকাররমায় বসবাস করতেন এবং আনুমানিক ৯৮৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
তবে 'হাদিয়াতুল আরিফীন'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এই মুহাম্মাদ আলফিয়ার ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) লিখেছেন। তবে 'কাশফুন জুনুন'-এর লেখকের বক্তব্য অগ্রগণ্য (مقدم) — আল্লাহই ভালো জানেন। এর কারণ হলো, তিনি কিতাবটি দেখেছেন এবং এর ভূমিকা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন (২): "এর শুরু — অর্থাৎ আমীর বাদ শাহর কিতাবের শুরু হলো: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অস্তিত্বের হাদিসটির সনদ বর্ণনা (أسند) করেছেন।"
১০ - (জ) আশ-শামস মুহাম্মাদ বিন আম্মার বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আবু ইয়াসির, যিনি ৮৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)। ইমাম সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) 'ফাতহুল মুগীস'-এর শেষে এই সংক্ষিপ্তসার (المختصر) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন (৪)। তিনি বলেছেন, "আশ-শামস বিন আম্মার আল-মালিকি এটি সংক্ষেপ করেছেন — অর্থাৎ ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) সংক্ষেপ করেছেন।"
প্রতীয়মান হয় যে, এই সংক্ষিপ্তসারটি (المختصر) ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) সংক্ষিপ্তসারগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম এবং এটি গ্রন্থকারের নিজের ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) পর ইরাকির আলফিয়ার দ্বিতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থ (الشرح)। এমনকি সাখাভী বলেছেন: "তিনি ব্যতীত অন্য কারো এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) আছে বলে আমার জানা নেই।"
কিতাবটির পাণ্ডুলিপি (نسخ) সম্পর্কে:
মিশরের 'আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়া'-তে এর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) সংরক্ষিত আছে। এর নম্বর হলো ১৩২৫ পরিভাষা (مصطلح), যা ১৮৭টি পত্র (ورقة) সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৭টি করে সারি (سطراً) রয়েছে। এর হস্তলিপি সামগ্রিকভাবে স্পষ্ট, তবে কিছু স্থান ব্যতীত। এতে টীকা (تعليقات) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি - ইবনুল আইনি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وتصحيحات كثيرة، وقد ذكر ناسخها وهو محمد بن عبد الواحد بن عبد الله بن محمد الأنصاري المالكي تاريخ الانتهاء من نسخها إلا أنه لم يتبين لي من ذلك سوى اليوم والشهر دون السنة وهو التاسع من شهر ذي الحجة الحرام (1)، واسم هذا المختصر هو " مفتاح السعيدية شرح الألفية الحديثية "، كما أثبت على طرة النسخة، وكما صرح به المؤلف في مقدمته (2) بقوله: " فقوي العزم، واستخرت الله تعالى في إبراز تعليقه موضحة ألفاظه ومعانيه ـ أي نظم الألفية ـ ومفصحة عن ألفاظه ومبانيه، آمًّا في ذلك شرح الناظم مع التذييل بفوائد ليس الإهمال مرجعها، راجياً بذلك النفع والانتفاع، والعون على التذكرة بالمغفرة والرحمة ونفي الابتداع، وسميتها " مفتاح السعيدية شرح الألفية الحديثة".اهـ.
إلا أن عنوان الكتاب يوحي بأنه شرح مستقل على الألفية، ولعله من أجل ذلك ذكر بعض من صنف في أسماء الكتب لابن عمار هذا شرحاً على الألفية، كصاحب "هدية العارفين"، ولكن قول ابن عمار: "آمًّا في ذلك شرح الناظم مع التذييل عليه بفوائد
… "، فيه تصريح منه بأن كتابه مستمد من كتاب الحافظ العراقي، وليس له فيه إلا بعض الفوائد والزوائد المفيدة.
كما أن الناظر في شرحه يجد مصداقية هذا من أنه جعل شرح العراقي إماماً له في شرحه، فهو يذكر ما ذكره الناظم ملخصاً إياه في الغالب، وفي
--------------------------------------------
এবং অনেক সংশোধন (تصحيح) রয়েছে। এর পাণ্ডুলিপিকার মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী আল-মালিকি এটি অনুলিপি করার সমাপ্তির তারিখ উল্লেখ করেছেন, তবে আমার কাছে বছরটি স্পষ্ট হয়নি, কেবল দিন ও মাসটি স্পষ্ট হয়েছে; আর তা হলো ৯ই জিলহজ আল-হারাম (১)। এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির (مختصر) নাম হলো "মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ শারহুল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ", যেমনটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং লেখক তার ভূমিকায় (২) স্পষ্টভাবে বলেছেন: "অতঃপর সংকল্প সুদৃঢ় হলো এবং আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম এমন একটি টীকা (تعليق) প্রকাশের ব্যাপারে যা এর (অর্থাৎ আলফিয়্যাহ কাব্যের) শব্দ ও অর্থসমূহকে—অর্থাৎ আলফিয়্যাহর কবিতাগুলোকে (نظم)—সুস্পষ্ট করবে এবং এর শব্দাবলী ও গঠনশৈলীকে বিশদভাবে বর্ণনা করবে। এক্ষেত্রে আমি মূল রচয়িতার ব্যাখ্যাগ্রন্থকে (شرح) মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং সাথে এমন কিছু ফায়দা বা উপকারী টীকা (تذييل) যোগ করেছি যা উপেক্ষা করার মতো নয়। এর মাধ্যমে আমি উপকার করা ও উপকৃত হওয়ার আশা রাখছি এবং ক্ষমা, রহমত ও বিদআত (ابتداع) প্রতিরোধের মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণের তাওফিক কামনা করছি। আর আমি এর নাম রেখেছি 'মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ শারহুল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ'।" সমাপ্ত।
তবে বইটির শিরোনাম দেখে মনে হয় এটি আলফিয়্যাহর ওপর একটি স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)। সম্ভবত একারণেই গ্রন্থপঞ্জি রচয়িতাদের কেউ কেউ ইবনে আম্মারের এই গ্রন্থটিকে আলফিয়্যাহর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেমন 'হাদিয়াতুল আরিফিন'-এর লেখক। কিন্তু ইবনে আম্মারের কথা: "এক্ষেত্রে আমি মূল রচয়িতার ব্যাখ্যাগ্রন্থকে (شرح) মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং সাথে কিছু উপকারী টীকা (تذييل) যোগ করেছি
… ", এতে তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট স্বীকৃতি রয়েছে যে, তার বইটি হাফিজ ইরাকির কিতাব থেকে সংগৃহীত, এবং এতে তার পক্ষ থেকে কিছু ফায়দা ও উপকারী অতিরিক্ত সংযোজন (زوائد) ছাড়া আর কিছু নেই।
তেমনিভাবে কেউ তার ব্যাখ্যাগ্রন্থটি (شرح) পর্যবেক্ষণ করলে এর সত্যতা খুঁজে পাবেন যে, তিনি ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থকে (شرح) নিজের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি মূল রচয়িতা (ناظم) যা উল্লেখ করেছেন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষেপে (ملخصا) উল্লেখ করেন।
--------------------------------------------