(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
أصول بلا أصول القسم: الفرق والردود
الكتاب: أُصُوْلٌ بِلَا أُصُوْلٍ - بحثٌ وافٍ في ردِّ عُدوانِ الصُّوفيةِ ومُدَّعِي المَهْدِيَّةِ على مصادر التلقى، والمرجعيةِ الشرعيةِ
المؤلف: محمد بن أحمد بن إسماعيل المقدم
الناشر: دار ابن الجوزي، القاهرة - جمهورية مصر العربية
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 299
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433
ভিত্তিহীন মূলনীতিসমূহ বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনসমূহ
বই: ভিত্তিহীন মূলনীতিসমূহ - জ্ঞানের উৎস ও শরয়ি মানদণ্ডের ওপর সূফীবাদ এবং মাহদী দাবিদারদের সীমালঙ্ঘন খণ্ডনকল্পে একটি বিস্তারিত গবেষণা
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী, কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
أُصُوْلٌ بِلَا أُصُوْلٍ
بحثٌ وافٍ في ردِّ عُدوانِ الصُّوفيةِ ومُدَّعِي المَهْدِيَّةِ على مصادر التلقى، والمرجعيةِ الشرعيةِ
تأليف
الدكتور
محمد بن أحمد إسماعيل المُقَدَّم
عفا الله عنه
نشر وتوزيع
دار ابن الجوزي
ت: 0020225061903
تليفاكس: 0020225061620
মূলনীতিহীন মূলনীতি
ইলম অর্জনের উৎসসমূহ ও শরীয়াহর প্রামাণিকতার ওপর সূফীবাদ এবং মাহদী দাবিদারদের আগ্রাসন খণ্ডনে একটি সবিস্তার গবেষণা
রচনায়
ডক্টর
মুহাম্মাদ বিন আহমাদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন
প্রকাশনা ও পরিবেশনায়
দার ইবনুল জাওযী
টেলিফোন: ০০২০২২৫০৬১৯০৩
টেলিফ্যাক্স: ০০২০২২৫০৬১৬২০
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২)
تنبيه
هذا الكتاب هو الباب الثالث من كتاب "المهدي" للمؤلف، الموسوم بـ "عدوان مُدَّعي، المهدية على مصادر التلقي".
وقد أُضيف إليه هنا زيادات وتنقيحات، وقد آثرنا فصله في كتاب مستقل لتقليص حجم الأصل، وتيسيرًا على القارئ.
সতর্কীকরণ
এই গ্রন্থটি লেখকের "আল-মাহদী" নামক গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদ, যা "জ্ঞানের উৎসসমূহের ওপর মাহদী দাবিদারদের সীমালঙ্ঘন" শিরোনামে অভিহিত।
এখানে এতে কিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জন যুক্ত করা হয়েছে; মূল গ্রন্থের কলেবর হ্রাস করতে এবং পাঠকের সুবিধার্থে আমরা এটিকে একটি স্বতন্ত্র বই হিসেবে পৃথক করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩)
أُصُوْلٌ بلا أُصُوْلٍ
ভিত্তিহীন মূলনীতিমালা
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
حُقوق الطبع محفوظة
الطبعه الأولى
1429 هـ - 2008 م
رقم الإيداع
14285/ 2002
دار ابن الجوزي
جمهورية مصر العربية - القاهرة
12 درب الأتراك - خلف الجامع الأزهر
ت: 0020225061903
تليفاكس: 0020225061620
e_mail:dar_ebn elgawzy@yahoo.com
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
নিবন্ধন নম্বর
১৪২৮৫/ ২০০২
দার ইবনুল জাওজি
আরব প্রজাতন্ত্র মিসর - কায়রো
১২ দরবুল আতরাক - আল-আজহার মসজিদের পেছনে
টেলিফোন: ০০২০২২৫০৬১৯০৩
টেলিফ্যাক্স: ০০২০২২৫০৬১৬২০
ইমেইল: dar_ebn elgawzy@yahoo.com
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه أحمده، والتوفيق للحمد من نعمه، وأشكره، والشكر كفيل بالمزيد من فضله وكرمه، وأستغفره، وأتوب إليه من الذنوب التي توجب زوالَ نعمه، وحلولَ نِقَمِه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده، لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله وخِيرتُه من خلقِه، افترض اللَّه على العباد طاعته ومحبته والقيامَ بحقوقه، وسدَّ الطرق كلَّها إليه وإلى جنته، فلم يَفتح لأحدٍ إلا من طريقه، فهو الميزان الراجح الذي على هديه توزن الأخلاق، والأقوال، والأعمال، والفرقان المبين الذي باتباعه يُمَيَّزُ أهلُ الهدى من أهل الضلال، فصلى اللَّه وملائكته وأنبياؤه ورسلُه والصالحون من عباده عليه وآلِهِ وأصحابِه، كما وحَّد اللَّه، وعَرَّف به، ودعا إليه، وسلَّم تسليمًا كثيرًا.
أمَّا بعدُ:
فإنه -باستقراء أحوال مدَّعي المهدية في مختلف العصور- نجد أن الجانب التنظيري لدعواهم استند إلى أصول بَنَوْهَا على شفا جُرُفٍ هارٍ، وتحكَّموا بها في الشريعة بدل أن يتحاكموا إليها، وقفزوا فوق المعايير الشرعية والعقلية؛ فأثمرت دعواهم فِتَنًا، وجرَّت على أهل الإسلام مِحَنًا، ومِن هنا انبعثت الهمة إلى محاولة زيادة المناعة -لدى الشباب بعامة وطلاب العلم بخاصة- ضد ما نُسَمِّيهِ "ظاهرة العبث بمصادر التلقي".
* وهذا العبث والعدوان تتعدد مظاهره وأشكاله:
- فمنها ما يكون بالحذف والإبطال؛ كإنكار حُجِّيَّة السنة، أو غيرها من الأدلة الشرعية المرجعية.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করছি; আর তাঁর প্রশংসা করার তাওফীক লাভ করাও তাঁরই অন্যতম অনুগ্রহ। আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; আর কৃতজ্ঞতা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতা বৃদ্ধির জামিন। আমি তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সেই সকল গুনাহ থেকে তাঁর নিকট তওবা করছি যা তাঁর নেয়ামত ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁর আজাবকে অনিবার্য করে তোলে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা, তাঁর রাসুল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ সত্তা। আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর হকসমূহ আদায় করাকে ফরজ করেছেন। তাঁর দিকে এবং তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছানোর সকল পথ তিনি রুদ্ধ করে দিয়েছেন; তাঁর (রাসুলের) পথ ব্যতীত কারো জন্য কোনো পথ তিনি উন্মুক্ত রাখেননি। অতএব, তিনি হলেন সেই সুউচ্চ মানদণ্ড, যাঁর হেদায়েতের আলোকে চরিত্র, কথা ও কাজ পরিমাপ করা হয়। তিনি হলেন সেই সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী (ফুরকান), যাঁর অনুসরণের মাধ্যমে হেদায়েতপ্রাপ্তদের থেকে পথভ্রষ্টদের পৃথক করা যায়। আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর নবী ও রাসুলগণ এবং তাঁর নেককার বান্দাগণ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে তিনি আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করেছেন, তাঁর পরিচয় প্রদান করেছেন এবং তাঁর দিকে আহ্বান করেছেন। আর আল্লাহ তাঁর ওপর অবারিত শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
বিভিন্ন যুগে মাহদী হওয়ার দাবিদারদের অবস্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, তাদের দাবির তাত্ত্বিক ভিত্তিটি তারা এমন এক নড়বড়ে খাদের কিনারে গড়ে তুলেছে যা ধসে পড়ার উপক্রম। তারা শরয়ি বিধানের সামনে আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে শরিয়তকেই নিজেদের অনুগত করতে চেয়েছে এবং শরয়ি ও যৌক্তিক মানদণ্ডসমূহকে উপেক্ষা করেছে। ফলে তাদের এই দাবি ফিতনার জন্ম দিয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর ওপর চরম বিপদ ও মুসিবত ডেকে এনেছে। এ কারণেই সাধারণ যুবক এবং বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানোর এক সংকল্প জাগ্রত হয়েছে—যাকে আমরা "জ্ঞান আহরণের উৎসসমূহ নিয়ে খামখেয়ালিপনার প্রবণতা" বলে অভিহিত করি।
* এই খামখেয়ালিপনা ও সীমালঙ্ঘনের নানাবিধ রূপ ও বহিঃপ্রকাশ রয়েছে:
- তার মধ্যে কিছু রয়েছে বর্জন ও বাতিলের মাধ্যমে; যেমন সুন্নাহর প্রামাণিকতা কিংবা শরিয়তের অন্যান্য মৌলিক দলিল অস্বীকার করা।
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
- ومنها ما يكون بالزيادة؛ باعتماد مصادر لتلقي الأحكام مُغَايِرَة للأدلة الشرعية المعصومة؛ كالكتاب والسنة والإجماع، وإضفاء الحجية على هذه المصادر المزعومة، الأمر الذي يترتب عليه فتنة في الأرض، وفساد كبير.
وبالرغم من تعدد مظاهر "العدوان على مصادر التلقي" على يد الصوفية بصفة عامة، إلا أننا نخص بالذكر هنا ما تورط فيه مُدَّعُو المهدية بصفة خاصة، وكان له أثر في تدعيم دعواهم؛ كاعتماد بعضهم على المنامات، أو التلبيس على الناس بخوارق العادات، أو ادِّعاء التلقي المباشر عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، أو دعاوى الإلهام والتحديث والكشف، أو زعم لقيا الخَضِرِ عليه السلام والأولياء، والتلقي عنهم.
إن تكرار ظاهرة "ادعاء المهدية" -المقترن بالاستجابة العاطفية الجارفة، والمندفعة من أتباع مُدَّعِيهَا- يعكس قصورًا أو تقصيرًا في هؤلاء الأتباع؛ حيث لم يُحْسنُوا ميزان النقد، والتمحيص والتفتيش الدقيق، قبل التورط في هذه الضلالات، "والعاقل ينظر قبل أن يمشيَ، والأحمق يمشِي قبل أن ينظُرَ"، كما أن هذا "التَّكْرَارَ" يعني أن فِئَاتٍ من الأمة لا تستنبط دروس وعبر التاريخ، وأنها تُلْدَغُ من نفس الجُحْرِ مرَّاتٍ ومرَّاتٍ؛ فأين هي من قول المعصوم صلى الله عليه وآله وسلم: "لا يُلْدَغُ المُؤْمِنُ مِنْ جُحر وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ" (1)؟!
أسأل اللَّه -تعالى- أن ينفع بها أهل الحق والإيمان، وأن يقمع بها أهل البدع والبهتان، إنه كريمٌ منَّان، والحمد لله رب العالمين.
محمد بن أحمد إسماعيل المقدَّم
ثغر الإسكندرية في
الجمعة 15 من جمادى الأولى 1429 هـ
الموافق 15 من مايو 2008 م
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো বৃদ্ধি বা সংযোজনের মাধ্যমে; অর্থাৎ এমন সব উৎসকে বিধান গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার মতো নির্ভুল শরয়ী দলীলসমূহের পরিপন্থী; এবং এই কল্পিত উৎসগুলোর ওপর প্রামাণিকতা আরোপ করা, যার ফলে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
সাধারণভাবে সুফিদের মাধ্যমে "শরীয়তের উৎসসমূহের ওপর এই সীমালঙ্ঘনের" নানাবিধ প্রকাশ ঘটলেও, আমরা এখানে বিশেষভাবে মাহদী দাবিদারদের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করছি, যা তাদের দাবিকে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল; যেমন কারও কারও স্বপ্নের ওপর নির্ভর করা, অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞান প্রাপ্তির দাবি করা, কিংবা ইলহাম, তাহদীস ও কাশফের দাবি করা, অথবা খিজির আলাইহিস সালাম ও ওলীদের সাথে সাক্ষাত এবং তাদের থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জনের দাবি করা।
"মাহদী দাবির" এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি—যা এসকল দাবিদারদের অনুসারীদের প্রবল আবেগপ্রবণ ও হঠকারী প্রতিক্রিয়ার সাথে যুক্ত—তা মূলত এই অনুসারীদের বুদ্ধিগত সীমাবদ্ধতা বা অবহেলারই প্রতিফলন; কারণ তারা এই বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হওয়ার আগে সমালোচনা, সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও নিবিড় অন্বেষণের মানদণ্ড সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। "বিজ্ঞ ব্যক্তি হাঁটার আগে দেখে নেন, আর নির্বোধ ব্যক্তি দেখার আগে হাঁটতে শুরু করেন।" তদুপরি, এই "পুনরাবৃত্তি" একথাই প্রমাণ করে যে, উম্মাহর নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী ইতিহাসের শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে না এবং তারা বারবার একই গর্ত থেকে দংশিত হয়; অথচ নিষ্পাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী কোথায়: "মুমিন একই গর্ত থেকে দুইবার দংশিত হয় না" (১)?!
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে সত্য ও ঈমানদারদের উপকৃত করেন এবং এর দ্বারা বিদআত ও অপবাদের অনুসারীদের দমন করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও দানশীল। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুহাম্মদ বিন আহমদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
আলেকজান্দ্রিয়া বন্দর নগরী
শুক্রবার, ১৫ই জুমাদাল উলা, ১৪২৯ হিজরী
মুতাবেক ১৫ই মে, ২০০৮ ঈসায়ী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
عُدوَانُ مُدَّعِي المَهدِيَّةِ عَلَى مَصَادِر التَّلَقِّي
* الفَصْلُ الأَوَّلُ: سُلْطَانُ المَنَامَاتِ.
* الفَصْلُ الثَّانِي: فِى دِلَالَاتُ خَوَارِقِ العَادَاتِ
* الفَصْلُ الثَّالِثُ: دَعْوَى رُؤْيَةِ النّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم بَعْدَ وَفَاتِهِ يَقَظَةً، وَالتَّلَقِّي عَنْهُ مُبَاشَرَةً.
* الفَصْلُ الرَّابعُ: الإِلْهَامُ والتَّحْدِيثُ والكَشْفُ.
* الفَصْلُ الخَامِسُ: ادِّعَاءُ لُقْيَا الخَضِرِ عليه السلام والتلَقِّي عَنْهُ.
দ্বীনি জ্ঞান আহরণের উৎসসমূহের ওপর মাহদী দাবিদারদের সীমালঙ্ঘন
* প্রথম পরিচ্ছেদ: স্বপ্নযোগের প্রামাণিকতা।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অলৌকিক ঘটনাবলির তাৎপর্য প্রসঙ্গে
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইন্তেকালের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে জাগ্রত অবস্থায় দর্শনের দাবি এবং তাঁর নিকট থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জন।
* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইলহাম, তাহদিস এবং কাশফ।
* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: খিজির আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের দাবি।
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الأول سُلطَانُ المَنَامَاتِ
প্রথম পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের প্রভাব ও মাহাত্ম্য
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول سُلطَانُ المَنَامَاتِ
كان "الحُلْم" -ولا يزال- من التجارب الإنسانية التي حَظِيَتْ باهتمامٍ بليغٍ في حياة البشر؛ إذ للحلم آثارُهُ وانطباعاتُهُ في نفس الحالم؛ فقد تلقى صديقًا أو قريبًا فتراه حزينًا كئيبًا، فتسبر غَوْر نفسه؛ لتعرف سرَّ كآبته وحزنه، فتعجب أشد العجب عندما تعلم أن سبب ذلك رؤيا مرعبة، أو منذرة بخطرٍ سيُدَاهِمُهُ، وقد تجده فرِحًا منشرح الصدر، بَاسِمَ الثغر، وما ذلك إلا لأنه رأى رؤيا مفرحة، أو مُبَشِّرَةً بحدث سارٍّ قادم.
يقول الدكتور عمر سليمان الأشقر -حفظه اللَّه-: " كانت الرؤى -وما زالت- ذاتَ تأثير لا على الأفراد العاديين فحسب، بل على النابغين والأذكياء، وكم أقَضَّت الرُّؤَى مضاجِعَ الجبابرة والملوك، وكم شغلت شعبًا بأكمله يَوْمًا مَا، وما رؤيا ملك مصر في عهد يوسف ببعيدة عن ذاكرتنا، فقد رأى سبع بَقَرَاتٍ سمانٍ يأكلهن سبع عجاف، وسبعَ سنبلاتٍ خُضْرٍ وأُخَرَ يابساتٍ، وكانت رؤيا حق، نفعت الناس نفعًا عظيمًا، عندما وُجِدَ الشخصُ الذي يُحسن تفسيرها، وتأويلها" (1).
تعريف الرؤيا:قال ابن منظور رحمه الله: "والرؤيا والحُلْم (2) عبارة عما يراه النائم في نومه من الأشياء، ولكن غلبت الرؤيا على ما يراه من الخير والشيء الحسن، وغلب الحلم على ما يراه من الشر والقبيح" (3).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: স্বপ্নের প্রভাব
"স্বপ্ন" মানুষের জীবনের এমন এক অভিজ্ঞতা ছিল—এবং এখনও আছে—যা অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে; কেননা স্বপ্নদ্রষ্টার মনে স্বপ্নের বিশেষ প্রভাব ও ছাপ পড়ে। আপনি হয়ত আপনার কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে দেখা করলেন এবং তাকে দুঃখিত ও বিষণ্ণ দেখলেন; এরপর যখন আপনি তার বিষণ্ণতার রহস্য জানতে তার অন্তরের গভীর অনুসন্ধান করলেন, তখন আপনি চরম বিস্ময়ের সাথে জানতে পারলেন যে, এর কারণ হলো একটি ভয়াবহ স্বপ্ন অথবা বিপদের কোনো পূর্বাভাস যা তার ওপর আপতিত হবে। আবার কখনও হয়ত তাকে আনন্দিত, উৎফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল দেখতে পান; আর এর কারণ হলো সে একটি খুশির স্বপ্ন দেখেছে অথবা কোনো আগত আনন্দদায়ক ঘটনার সুসংবাদ পেয়েছে।
ডক্টর উমর সুলাইমান আল-আশকার (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) বলেন: "স্বপ্নগুলো সাধারণ মানুষের ওপরই শুধু নয়, বরং মেধাবী ও বুদ্ধিমানদের ওপরেও প্রভাব বিস্তারকারী ছিল এবং এখনও আছে। কত স্বপ্ন প্রতাপশালী শাসক ও রাজাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এবং কত স্বপ্ন একদা একটি পুরো জাতিকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল। ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে মিশরের অধিপতির দেখা স্বপ্নটি আমাদের স্মৃতি থেকে খুব বেশি দূরে নয়; তিনি সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী দেখেছিলেন যাদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলছে এবং সাতটি সবুজ শস্যমঞ্জরী ও অন্যগুলো শুকনো দেখেছিলেন। সেটি ছিল একটি সত্য স্বপ্ন, যা মানুষের প্রভূত কল্যাণ বয়ে এনেছিল যখন এমন একজন ব্যক্তিকে পাওয়া গেল যিনি তার সঠিক ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য প্রদানে পারদর্শী ছিলেন।" (১)।
স্বপ্নের সংজ্ঞা:ইবন মানযুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "রু'ইয়া এবং হুলম (২) হলো ঘুমের মধ্যে মানুষ যা কিছু দেখে তার একটি বিবরণ। তবে সচরাচর 'রু'ইয়া' শব্দটি ভালো ও কল্যাণকর স্বপ্নের ক্ষেত্রে এবং 'হুলম' শব্দটি মন্দ ও অকল্যাণকর স্বপ্নের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "وظاهر قوله صلى الله عليه وسلم: (الرؤيا من اللَّه، والحلم من الشيطان) أن التي تضاف إلى اللَّه لا يُقال لها حُلم، والتي تضاف للشيطان لا يقال لها رؤيا، وهو تصرفٌ شرعي، وإلا فالكل يُسمى رؤيا" (1). اهـ.
والغالب استعمال الرؤيا في خصوص البشرى من اللَّه، مع أنها تُطلَق على عموم ما يراه النائم، قال رسول اللَّه صلى الله عليه وآله وسلم: "الرؤيا ثلاث (2): فالرؤيا الصالحة: بشرى من الله، ورؤيا: تحزين من الشيطان، ورؤيا: مما يُحَدِّثُ المرءُ نفسَه" الحديث (3).
وفي حديث عوف بن مالك رضي الله عنه مرفوعًا: "إن الرؤيا ثلاث:
منها أهاويلُ من الشيطان ليحزنُ بها ابن آدم، ومنها ما يَهُمُّ به الرجلُ في يَقَظته،
فيراه في منامه، ومنها جزء من ستةٍ وأربعين جزءًا من النبوة" (4).
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—'রুইয়া (স্বপ্ন) আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং হুলম (দুঃস্বপ্ন) শয়তানের পক্ষ থেকে'—এর বাহ্যিক অর্থ হলো, যা আল্লাহর দিকে সম্বোধন করা হয় তাকে 'হুলম' বলা হয় না এবং যা শয়তানের দিকে সম্বোধন করা হয় তাকে 'রুইয়া' বলা হয় না। এটি একটি শরয়ী পরিভাষা, অন্যথায় ভাষাগতভাবে সব কিছুকেই 'রুইয়া' বলা হয়।" (১)। সমাপ্ত।
সাধারণত 'রুইয়া' শব্দটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সুসংবাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি ঘুমন্ত ব্যক্তি যা দেখে তার সামগ্রিক অর্থেও ব্যবহৃত হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রুইয়া (স্বপ্ন) তিন প্রকার (২): তন্মধ্যে নেক স্বপ্ন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, এক প্রকার স্বপ্ন হলো শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্ক, আর এক প্রকার স্বপ্ন হলো যা মানুষ নিজের মনে মনে ভাবে (কল্পনার প্রতিফলন)।" হাদিস (৩)।
আউফ ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত মারফু হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই স্বপ্ন তিন প্রকার:
তার মধ্যে রয়েছে শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন যাতে সে আদম সন্তানকে ব্যথিত করতে পারে, আর কিছু হলো এমন বিষয় যা নিয়ে মানুষ তার জাগ্রত অবস্থায় চিন্তিত থাকে,
এবং ঘুমের ঘোরে তা দেখতে পায়, আর কিছু হলো নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
نقد موقف المدرسة النفسية المادية من المناماتمِن الناس مَن قد غلظ حجابهم، كالماديين الملاحدة، وكأتباع مدرسة التحليل النفسي، فهم ينكرون الرؤيا الصادقة، وليست الرؤى في زعمهم إلا انعكاسًا لما في النفس في حال اليقظة، أو لما يختبئ في سراديب العقل الباطن أو "اللاشعور" (1).
فعند فرويد: تعتبر الأحلام نافذة يطل منها على "العقل الباطن" فيعرف الكثير عن هذه المنطقة المستترة والهامة والمؤثرة في حياة الشخص (2).
- لقد استقر رأي فرويد على أن النوم يتميز بقلة تعرض الشخص للمؤثرات الخارجية، وابتعاده تمامًا عن الواقع، وفي هذا الجو الهادئ تنشط الصراعات الداخلية اللاشعورية، والرغبات غير المقبولة في الحياة العادية، حيث تجد هذه الأشياء مجالًا أكبر أثناء النوم لعملها، ولكن هذه الأشياء لا تظهر في الحلم بصورتها الفجة، حتى لا تزعج (الضمير) وتوقظه، وبالتالي تقطع نوم الشخص، وإنما تأخذ أشكالًا رمزية حتى تفرغ شِحْنَةَ اللاشعور دون إزْعاج للجهاز النفسي (3).
وبعبارة أخرى: الأحلام -عند فرويد- هي الطريق الملكي الموصِّل للَّاشعور، فالحلم "رغبة"، وكل الأحلام قسم واحد ناتج عن الرغبات المكبوتة في النفس، والتي تختبئ أثناء النهار في العقل الباطن واللاوعي، حتى
--------------------------------------------
স্বপ্নের বিষয়ে জড়বাদী মনস্তাত্ত্বিক দর্শনের অবস্থানের সমালোচনাকিছু মানুষের অন্তরাত্মার আবরণ অত্যন্ত স্থূল হয়ে পড়েছে, যেমন জড়বাদী নাস্তিক এবং মনোবিশ্লেষণবাদী ধারার অনুসারীবৃন্দ। তারা সত্য স্বপ্নকে অস্বীকার করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, স্বপ্ন জাগ্রত অবস্থারই প্রতিফলন মাত্র, অথবা অবচেতন মনের নিভৃত প্রকোষ্ঠে যা লুকিয়ে থাকে তারই বহিঃপ্রকাশ।
ফ্রয়েডের মতে: স্বপ্ন হচ্ছে ‘অবচেতন মনে’ উঁকি দেওয়ার একটি জানালা, যার মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের এই নিভৃত, গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী অঞ্চল সম্পর্কে অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়।
- ফ্রয়েড এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, নিদ্রার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বাহ্যিক প্রভাবক থেকে ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতা এবং বাস্তব জগৎ থেকে তার সম্পূর্ণ দূরত্ব। এই শান্ত পরিবেশে অবচেতন জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসমূহ এবং স্বাভাবিক জীবনে অগ্রহণযোগ্য আকাঙ্ক্ষাগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে; ঘুমের সময় এই বিষয়গুলো ক্রিয়াশীল হওয়ার ব্যাপক সুযোগ পায়। তবে এই বিষয়গুলো স্বপ্নে তাদের স্থূলরূপে প্রকাশ পায় না, যাতে তা ‘বিবেকের’ বিরক্তি ঘটিয়ে তাকে জাগ্রত করে না দেয় এবং পরিণামে ব্যক্তির ঘুম ভেঙে না যায়। বরং এগুলো বিভিন্ন রূপক আকার ধারণ করে অবচেতন মনের আবেগীয় ভার নিষ্কাসিত করে, যাতে মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
অন্য কথায়: ফ্রয়েডের নিকট স্বপ্ন হলো অবচেতন মনে পৌঁছানোর রাজপথ। স্বপ্ন হলো ‘আকাঙ্ক্ষা’, এবং সকল স্বপ্নই মূলত অন্তরে অবদমিত লালসার ফল, যা দিনের বেলা অবচেতন ও অবচেতন মনে লুকিয়ে থাকে, যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
إذا نام الإنسان وخفت الرقابة، انطلقت هذه الرغبات من العقل الباطن واللاوعي لتظهر في تلك الأحلام.
لقد قصر "فرويد" الأحلام على حديث النفس، مع بعض المؤثرات الخارجية على الشخص أثناء النوم، وألغى أي احتمال لاتصال النفس بعالَم الغيب تمشيًا مع إلحاده، وفسَّر ملاحظاته على مرضاه تفسيرًا لفظيًّا فلسفيًّا لا يدعمه دليل ولا برهان (1)، وهي مجرد آراء شخصية غير موضوعية وقابلة للنقاش.
إن "فرويد" لم يملك أدلة موضوعية على إثبات ما أثبته، ولا على إنكار ما أنكره، لكنه أفلح في أن يُوهم من يقرأ له أنه أمام حقائق، لا مجرد فروض ونظريات.
ومن هنا فإن "فرويد" و"الفرويديين" يقعون في مأزِق محرج أمام الرؤى الصادقة التي لا يفسرها حديث النفس، ولا رغبات الشعور (2).
إن الماديين الملحدين يزعمون أن القول بأن هناك رؤى تأتي من الغيب أو من إله أو من شيطان إنما هو من الخرافات البالية التي ينبغي طرحُها باعتبارها موروثات شعبية كالخرافات والأساطير، وتنحصر حجة هؤلاء في أنهم يجحدون ما وراء الحِس، فيقبعون داخل قمقم المادية الكثيفة، وينكرون الغيب لمجرد أننا لا نراه ولا ندركه بحواسنا.
"
فرويد" لم يعرف من الرؤى إلا أضغاث الأحلام:
يقول الأستاذ الدكتور "سعد الدين السيد صالح" في معرض نقده نظرية الأحلام الفرويدية:"زعم فرويد أن الحلم ما هو إلا تعبير عن رغبة جنسية مكبوتة، وبناءً على ذلك فسر كل ما يراه الرائي تفسيرًا جنسيًّا، ووضع نظريته في تفسير الأحلام، والتي
--------------------------------------------
যখন মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়, তখন এই কামনাগুলো অবচেতন ও অচেতন মন থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে সেই স্বপ্নগুলোতে প্রকাশিত হয়।
'ফ্রয়েড' স্বপ্নকে কেবল মনের কথোপকথন (হাদিসে নাফস) এবং ঘুমের সময় ব্যক্তির ওপর আপতিত কিছু বাহ্যিক প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর নাস্তিক্যবাদের সাথে সংগতি রেখে অদৃশ্যের জগতের (আলমে গায়েব) সাথে আত্মার সংযোগের যে কোনো সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর রোগীদের ওপর করা পর্যবেক্ষণগুলোকে এমন এক শাব্দিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যার স্বপক্ষে কোনো দলিল বা প্রমাণ নেই (১)। এগুলো নিছক ব্যক্তিগত ও বিষয়নিষ্ঠহীন অভিমত যা বিতর্কের অবকাশ রাখে।
'ফ্রয়েড' যা প্রমাণ করেছেন বা যা অস্বীকার করেছেন, তার স্বপক্ষে কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ তাঁর কাছে ছিল না। তবে তিনি তাঁর পাঠকদের মনে এই বিভ্রম সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন যে, তারা কেবল অনুমিতি বা তত্ত্বের সামনে নয়, বরং ধ্রুব সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
এখান থেকেই 'ফ্রয়েড' এবং 'ফ্রয়েডবাদীরা' সেই সত্য স্বপ্নগুলোর (রুইয়া সাদেকা) সামনে এক বিব্রতকর সংকটে পড়েন, যেগুলোকে না মনের কথোপকথন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, আর না অনুভূতির কামনা দিয়ে (২)।
বস্তুবাদী নাস্তিকরা দাবি করে যে, গায়েব (অদৃশ্য), আল্লাহ কিংবা শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো স্বপ্ন আসে—এমন কথা বলা হলো সেকেলে কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত, যা লোকজ ঐতিহ্য বা রূপকথার মতো বর্জন করা উচিত। তাদের যুক্তি কেবল ইন্দ্রিয়জাত বিষয়ের বাইরের সবকিছুকে অস্বীকার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা স্থূল জড়বাদের সংকীর্ণ কোঠরে আবদ্ধ থাকে এবং অদৃশ্য জগতকে কেবল এই অজুহাতে অস্বীকার করে যে, আমরা তা দেখতে পাই না বা ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি না।
"
ফ্রয়েড স্বপ্নের প্রকারভেদের মধ্যে কেবল অর্থহীন দুঃস্বপ্ন (আদগাসু আহলাম) সম্পর্কেই জানতেন:
অধ্যাপক ডক্টর 'সা'দউদ্দীন আস-সাইয়্যিদ সালিহ' ফ্রয়েডের স্বপ্নতত্ত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন:"ফ্রয়েড দাবি করেছেন যে, স্বপ্ন হলো অবদমিত যৌন কামনার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এর ওপর ভিত্তি করেই তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা যা কিছু দেখেন তার সবকিছুকে যৌনতার নিরিখে ব্যাখ্যা করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যায় তাঁর নিজস্ব তত্ত্ব প্রদান করেছেন, যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
نراها مجرد تبرير لنظريته الجنسية الفاسدة، فقد أخطأ فرويد في نواحٍ كثيرة منها:
1 - أن الإنسان له رغبات كثيرة، ونزعات متعددة غير نزعة الجنس، وبالتالي فقد تأتي الأحلام مواكبة لهذه الرغبات:
- فأحلام المؤمن الذي يشعر دائمًا بالخوف من اللَّه فيرى في منامه صورًا من عذاب النار أو نعيم الجنة، لا يمكن أن يكون سببها الجنس، وإنما الخوف، أو الطمع في عفو اللَّه.
- وأحلام الخوف والرعب التي يراها الجندي وسط المعارك لا يمكن تفسيرها على أساس من الجنس، لأن لها دوافع أخرى.
- وهناك أحلام تكون دوافعها الشعور بالعداء والكراهية أو الغضب أو السيطرة أو غير ذلك من المشاعر النفسية المتعددة، ولكن فرويد لا يضع اعتبارًا لكل هذه المشاعر في تفسير الأحلام التي يُرجِعها جميعًا إلى الشعور بالجنس فقط.
2 - ومن هنا يبدو لنا جهله في تفسير رموز الأحلام، حيث حلل كل الرموز تحليلًا جنسيَّا، مع أن مفسري الأحلام يقولون بأن هناك رموزًا ثابتة، وهناك رموزًا متغيرة من فرد إلى فرد، على حسب ظروف الشخص نفسه.
فبعض الرموز التي فسرها فرويد تفسيرًا جنسيَّا، وضع لها العلماء تفسيراتٍ أخرى لا تمت إلى الجنس بصلة، فقد فسر فرويد صعود السلم والطيران بأنه رمز للعملية الجنسية، بينما فسره العلماء بأنه رمز للطموح أو الرفعة، فأي التفسيرين أوقع؟
3 - وقد ركزت نظرية تفسير الأحلام عنده على نوع واحد من أنواع المنامات، وهي الأحلام، وهي في الإسلام لا تكون إلا من الشيطان، ولم يتحدث عن الرؤيا، وهي لا تكون إلا من اللَّه. كما أنه لم يتحدث عن "الأحلام التنبؤية". اهـ (1).
--------------------------------------------
আমরা একে কেবল তার ভ্রান্ত যৌন তত্ত্বের যৌক্তিকতা প্রমাণের অপচেষ্টা হিসেবেই দেখি; ফ্রয়েড অনেক ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মানুষের বহুমুখী আকাঙ্ক্ষা এবং যৌন প্রবৃত্তি ব্যতীত আরও অনেক ঝোঁক রয়েছে, ফলে স্বপ্নসমূহ এই সকল আকাঙ্ক্ষার অনুগামী হয়ে আসতে পারে:
- একজন মুমিনের স্বপ্ন, যে সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে এবং স্বপ্নে জাহান্নামের আজাব কিংবা জান্নাতের নেয়ামত দেখে, তা কোনোভাবেই যৌনতানির্ভর হতে পারে না; বরং এর কারণ হলো আল্লাহর ভয় অথবা তাঁর ক্ষমার প্রত্যাশা।
- যুদ্ধের ময়দানে একজন সৈনিক যে ভয় ও বিভীষিকাময় স্বপ্ন দেখে, সেটিকে যৌনতার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, কারণ এর পেছনে ভিন্ন উদ্দীপক বিদ্যমান।
- এমন অনেক স্বপ্ন রয়েছে যার নেপথ্যে কাজ করে শত্রুতা, ঘৃণা, ক্রোধ, আধিপত্য বা এ জাতীয় বিবিধ মানসিক অনুভূতি; কিন্তু ফ্রয়েড স্বপ্ন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই সমস্ত অনুভূতিকে কোনো গুরুত্বই দেননি, বরং তিনি সকল স্বপ্নকেই কেবল যৌন অনুভূতির দিকে পর্যবসিত করেছেন।
২ - এখান থেকেই স্বপ্নের প্রতীকের ব্যাখ্যা প্রদানে তার অজ্ঞতা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি সকল প্রতীককে যৌন বিশ্লেষণ করেছেন; অথচ স্বপ্ন বিশারদগণ বলেন যে, স্বপ্নের কিছু প্রতীক ধ্রুব বা অপরিবর্তনীয় এবং কিছু প্রতীক ব্যক্তির পারিপার্শ্বিক অবস্থাভেদে ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়।
ফ্রয়েড যে সকল প্রতীককে যৌন দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেছেন, বিশেষজ্ঞগণ সেগুলোর এমন সব ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যার সাথে যৌনতার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। ফ্রয়েড সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা বা আকাশে উড়াকে যৌন মিলনের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অথচ বিশেষজ্ঞগণ একে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা উচ্চ মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এমতাবস্থায় কোন ব্যাখ্যাটি অধিক যুক্তিযুক্ত?
৩ - তার স্বপ্ন ব্যাখ্যার তত্ত্বটি কেবল এক প্রকার স্বপ্নের ওপর নিবদ্ধ ছিল, যা হলো নিছক কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন; অথচ ইসলামি দৃষ্টিকোণে এ জাতীয় স্বপ্ন কেবল শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। তিনি 'সত্য স্বপ্ন' সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেননি, যা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। তদুপরি, তিনি 'ভবিষ্যদ্বাণীমূলক স্বপ্ন' সম্পর্কেও কোনো আলোকপাত করেননি। সমাপ্ত (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولقد رصد "المازَري" المتوفى سنة (536 هـ)، أقوال من سبقوا "فرويد" إلى شبيه هذا الكلام من معاصريه، فقال -رحمه الله تعالى-:
"كثُر كلام الناس في حقيقة الرؤيا، وقال فيها غير الإسلاميين أقاويل كثيرة منكرة، لأنهم حاولوا الوقوف على حقائق لا تُدْرَك بالعقل، ولا يقوم عليها برهان، وهم لا يصدقون بالسمع، فاضطربت أقوالهم" (1). اهـ.
إن قطع النفس عن عالم الروح وعن الغيب؛ وعن الصلة بخالقها عز وجل يُضَيِّق الرؤية أمامنا في موضوع الرؤية، ويحرمنا فرصة الفهم العميق، والإدراك الصحيح الدقيق (2).
ويقول الدكتور عمر الأشقر -حفظه اللَّه-:
"وكثيرٌ من الناس اليوم يُبَادِرُونَ بالتكذيب بالرؤى والأحلام، ويزعمون أن الرؤى المنامية ليست إلا انعكاسات لما يَجُولُ في فكر الإنسان في حال يقظته، وما يُخْتَزَنُ في فكره الباطن، فإذا ما استسلم للرقاد، وطاف في أودية الكرى، فإن عقله الباطن يعمل، فيحقق المرء في نومه ما لم يَسْتَطِعْ تحقيقه في عالم اليقظة.
ونحن لا نُنْكِرُ أن قِسْمًا كبيرًا من الرؤى ليس إلا انعكاسات لأحاديث النفس وخواطرها التي تمر بها في اليقظة، ولكننا نرفض رفضًا قاطعًا أن تكون جميع الرؤى كذلك، ونقول: إن هذا تَحكُّمٌ يَعْلَمُ كَذِبَهُ كلُّ من تفكر في رؤاه التي مرت به، أو التي سمع الناس يروونها، ويُحَدِّثُونَ بها عن أنفسهم، كيف بالله نُفَسِّرُ رؤيا امرأة رأت وليدها يسقط من سطح منزل، وفي الصباح يخرج فلا يعود؛ لأن سيارة داهمته، وأودت بحياته؟!
وكيف نُفَسِّرُ رؤيا رجل يري نفسه وقد سافر إلى بلد، وسكن منزلًا معينًا رأي
--------------------------------------------
৫৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী 'আল-মাযারি' তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে যারা ফ্রয়েডের এই ধরণের বক্তব্যের আগে একই কথা বলেছিলেন, তাদের মতামত পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"স্বপ্ন ও এর স্বরূপ সম্পর্কে মানুষের বক্তব্য অনেক। অমুসলিমরা এই বিষয়ে অনেক আপত্তিকর কথা বলেছে, কারণ তারা এমন সব সত্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করেছে যা নিছক বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবনযোগ্য নয় এবং যার সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। তারা ওহীর সংবাদের ওপর বিশ্বাস রাখে না, ফলে তাদের বক্তব্যগুলো অসংলগ্ন হয়ে পড়েছে।" (১) সমাপ্ত।
আত্মাকে রুহানি জগত, অদৃশ্যের সংবাদ এবং মহান স্রষ্টার সাথে সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা স্বপ্নের বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সংকীর্ণ করে দেয়। এটি আমাদের গভীর অনুধাবন এবং সঠিক ও সূক্ষ্ম উপলব্ধি লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে (২)।
ড. উমর আল-আশকার (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন-:
"বর্তমানে অনেক মানুষ স্বপ্নকে অস্বীকার করতে তৎপর হয়ে ওঠে এবং তারা দাবি করে যে, নিদ্রাকালীন স্বপ্নগুলো জাগ্রত অবস্থায় মানুষের মনে উদিত চিন্তার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ যা কিছু তার অবচেতন মনে জমা করে রাখে, নিদ্রায় নিমগ্ন হয়ে ঘুমের রাজ্যে বিচরণ করার সময় সেই অবচেতন মনই সক্রিয় হয়। ফলে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ যা অর্জন করতে পারে না, ঘুমের মধ্যে তা-ই চরিতার্থ করে।
আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, স্বপ্নের একটি বড় অংশ জাগ্রত অবস্থার মনের কথা বা চিন্তারই প্রতিফলন। তবে আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করি যে সকল স্বপ্নই এমন। আমরা বলব: এটি এমন এক একপাক্ষিক দাবি যার অসারতা সেই ব্যক্তিই বুঝতে পারবে যে তার নিজের দেখা স্বপ্ন অথবা অন্য মানুষের কাছে শোনা স্বপ্নের কথা নিয়ে চিন্তা করবে। আল্লাহর কসম! সেই মহিলার স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমরা কীভাবে দেব, যে স্বপ্নে দেখল তার শিশু সন্তানটি ছাদ থেকে পড়ে যাচ্ছে, আর পরদিন সকালে সেই শিশুটি বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে এলো না; কারণ একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে?!
আমরা এমন এক ব্যক্তির স্বপ্নেরই বা কী ব্যাখ্যা দেব যে নিজেকে কোনো এক দেশে ভ্রমণ করতে দেখল এবং একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে অবস্থান করতে দেখল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
في المنام معالمه، فلا تمضي شهور حتى يكون في ذلك المنزل الذي رآه في منامه؟
وكيف نُفَسِّرُ رؤيا رجل رأى أنه سافر، وتعطلت سيارته على صورة ما،
وينسى الرؤيا، ولا يذكرها إلا حينما يرى المشهد الذي رآه في المنام حقيقة ماثلة؟! أذكر أن "محمد أسد"؛ وكان كاتبًا يهوديًّا، ثم اعتنق الإسلام، حَدَّثَ في كتابه "الطريق إلى مكة" عن رؤيا رآها قبل إسلامه، وقام من منامه، وسَجَّلَهَا، وقد تحققت فيما بَعْدُ، على الرغم من طولها، وكثرة أحداثها.
إذن، ليس كل الرؤى انعكاسات لأحاديث النفس وخواطرها وهواجسها، بل الأمر أعمق من ذلك.
والإنسان ليس بِمُطيقٍ بعقله وفكره أن يصل إلى أعماق نفسه؛ ففي النفس الإنسانية مَجَاهِيلُ يعجز الإنسان عن الإحاطة بها، علي الرغم من أنها أقرب الأمور إليه.
والرؤى لها علاقة بالنفوس الإنسانية، وفيها جانب غيبي، لا يخضع للعلم المادي المبني على النظر والتأمل والبحث المادي" (1).
* * *
--------------------------------------------
স্বপ্নে তার নিশানাসমূহ; এরপর কয়েক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই সে সেই বাড়িতে অবস্থান করে যা সে স্বপ্নে দেখেছিল?
আর আমরা সেই ব্যক্তির স্বপ্নেরই বা কী ব্যাখ্যা দেব যে দেখল যে সে সফরে বেরিয়েছে এবং কোনো এক বিশেষ অবস্থায় তার গাড়িটি বিকল হয়ে পড়েছে,
অতঃপর সে স্বপ্নটি ভুলে যায় এবং ততক্ষণ পর্যন্ত তা স্মরণ করতে পারে না যতক্ষণ না সে স্বপ্নে দেখা সেই দৃশ্যটি চাক্ষুষ বাস্তবতায় দেখতে পায়?! আমার মনে পড়ছে, "মুহাম্মদ আসাদ"—যিনি একজন ইহুদি লেখক ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন—তাঁর "দ্য রোড টু মক্কা" নামক গ্রন্থে এমন এক স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে দেখেছিলেন। তিনি ঘুম থেকে জেগে সেটি লিখে রেখেছিলেন এবং দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ঘটনাবহুল হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তীকালে তা অবিকল বাস্তবায়িত হয়েছিল।
সুতরাং, সকল স্বপ্নই কেবল মনের খেয়াল, চিন্তা বা কুহকের প্রতিফলন নয়, বরং বিষয়টি এর চেয়েও অনেক গভীর।
আর মানুষের পক্ষে নিজের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি দিয়ে নিজ আত্মার গহীনে পৌঁছানো সম্ভব নয়; কেননা মানবাত্মার ভেতর এমন অনেক রহস্যময় জগত রয়েছে যা পরিবেষ্টন করতে মানুষ অক্ষম, যদিও তা তার অস্তিত্বের সবচাইতে নিকটবর্তী বিষয়।
আর স্বপ্নের সাথে মানবাত্মার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং এর মাঝে এমন এক অতীন্দ্রিয় দিক বিদ্যমান, যা পর্যবেক্ষণ, ধ্যান ও বস্তুগত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পার্থিব বিজ্ঞানের অধীন নয়" (১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القول الفصل، والمنهج الوسط في شأن الرؤىقال تعالى: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (62) الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ (63) لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (64) (1)} [يونس: 62 - 64].
وعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: سألت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم عن قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} قال: "هي الرؤيا الصالحة يراها المؤمن أو تُرى له" (2).
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كشف رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم السِّتْرَ ورأسه معصوب في مرضه الذي مات فيه، فقال: "اللهم هل بلغت؟ -ثلاث مرات- إنه لم يبق من مبشرات النبوة إلا الرؤيا يراها العبد الصالح أو تُرى له" (3).
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إن الرسالة والنبوة قد انقطعت فلا رسول بعدي ولا نبيَّ"، قال: فَشَقَّ ذلك على الناس، فقال: "لكن المُبَشِّراتُ"، قالوا: "يا رسول اللَّه، وما المبشرات؟ " قال: "رؤيا المسلم، وهي جزء من أجزاء النبوة" (4).
--------------------------------------------
স্বপ্ন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপন্থামহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। (৬২) যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। (৬৩) তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই হলো মহা সাফল্য। (৬৪) (১)} [ইউনুস: ৬২ - ৬৪]।
উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আল্লাহর বাণী {তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "এটি হলো নেক স্বপ্ন, যা মুমিন নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়" (২)।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ওফাতপূর্ব অসুস্থতার সময় পর্দার এক পাশ সরিয়ে দিলেন, তখন তাঁর মাথা পট্টি দিয়ে বাঁধা ছিল। এরপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? -তিনবার- নিশ্চয়ই নবুয়তের সুসংবাদ সমূহের মধ্যে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই একমাত্র স্বপ্ন ব্যতীত, যা কোনো নেক বান্দা নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়" (৩)।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই রিসালাত ও নবুয়ত সমাপ্ত হয়ে গেছে, তাই আমার পরে আর কোনো রাসূল নেই এবং কোনো নবীও নেই।" বর্ণনাকারী বলেন: বিষয়টি মানুষের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তখন তিনি বললেন: "তবে সুসংবাদসমূহ (মুবশশিরাত) বাকি আছে।" তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! মুবশশিরাত কী?" তিনি বললেন: "মুসলিমের স্বপ্ন, যা নবুয়তের অংশ সমূহের একটি অংশ" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قال: "الرؤيا الصالحة جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة" (1).
وقد أَغْنَانَا الرسول صلى الله عليه وسلم عن إتعاب النفس في هذا الموضوع، وقال لنا فيه الكلمة الحق؛ وهي الكلمة الفصل التي لا نحتاج معها إلي غيرها (2)؛ وذلك أنها تمثل الحقيقة، وتُفَسِّرُ الأمر تفسيرًا يدرك الإنسان صدقه عندما ينظر إلى رؤاه، ورؤى الناس في ضوء ما أخبر به المصطفى صلى الله عليه وسلم.
يقول الرسول صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي يرويه ابن ماجه:
"إنَّ الرُّؤيَا ثَلَاثٌ: مِنْهَا أَهَاوِيلُ مِنَ الشَّيْطَانِ ليَحْزُنَ بِهَا ابْنَ آدَمَ، وَمِنْهَا مَا يَهمُّ بِهِ الرَّجُلُ في يَقَظَتِهِ فَيَرَاهُ في مَنَامِهِ، ومِنْهَا جُزْءٌ مِنْ ستَّةٍ وأَرْبَعينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ" (3).
وفي الحديث الآخر عند الترمذي: "الرُّؤيَا ثَلَاث: الحْسَنَةُ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ، والرُّؤيَا يُحَدِّثُ الرَّجُلُ بِهَا نَفْسَهُ، والرُّؤيَا تَحْزِين مِنَ الشَّيْطَانِ" (4).
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নেক স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" (১)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে আমাদের নিজেদের ব্যতিব্যস্ত করার কষ্ট থেকে রেহাই দিয়েছেন এবং এই বিষয়ে আমাদের এমন এক সত্য বাণী শুনিয়েছেন, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তস্বরূপ এবং যার পর আমাদের অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই (২)। কারণ এটি প্রকৃত সত্যকে প্রতিফলিত করে এবং বিষয়টির এমন ব্যাখ্যা প্রদান করে যার সত্যতা মানুষ তখন উপলব্ধি করতে পারে যখন সে নিজের দেখা স্বপ্ন এবং অন্য মানুষের দেখা স্বপ্নসমূহকে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক বর্ণিত তথ্যের আলোকে প্রত্যক্ষ করে।
ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"স্বপ্ন তিন প্রকার: তার মধ্যে কিছু শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শনমূলক, যার মাধ্যমে সে আদম সন্তানকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করতে চায়; কিছু এমন যা মানুষ জাগ্রত অবস্থায় কল্পনা করে এবং পরবর্তীতে তা স্বপ্নে দেখে; আর কিছু হলো নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" (৩)।
তিরমিযীতে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে আছে: "স্বপ্ন তিন প্রকার: উত্তম স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, এমন স্বপ্ন যা মানুষ মনে মনে কল্পনা করে এবং এমন স্বপ্ন যা শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা সৃষ্টির কারণ।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالذي قَرَّرَهُ الرسول صلى الله عليه وسلم في الرؤيا أنها ثلاثة:
الأول: حَديث النفس؛ وهي التي أسماها العلماء المادِّيُّونَ بالانعكاسات النفسية؛ وهي خواطر النفس، وتطلعاتها التي تصبو إلى تحقيقها في واقع الحياة، فتراها في المنام، إذ تحلم بممارسة أمور لم تستطع تحقيقها في واقع الحياة.
النَّوْعُ الثَّانِي: من الرؤى التي أخبر بها الرسول صلى الله عليه وسلم:
هي الرؤيا التي يسببها الشيطان؛ فإنه قد يُمَثِّل للإنسان في منامه رؤيا مفزعة، تبلبل خواطره، وتُرْهِق نفسه، وتَجْعَلُهُ يجول في عوالِمَ بعيدة، حَذِرًا متخوفًا، وفي الحديث: "الرُّؤيَا الصَّالحِةُ مِنَ اللَّهِ، والحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا رَأي أَحَدُكم ما يحبُّ، فلا يُحدِّثْ بهِ إلَّا مَن يُحِب، وإذا رأى مَا يَكْرَهُ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ شَرِّهَا، وشَرِّ الشَّيْطَانِ، وَلْيَتْفُلْ ثَلَاثًا، وَلَا يُحَدِّثْ بِهَا أَحَدًا، فَإِنَّهَا لَا تَضُرُّهُ" متفق عليه (1).
وقد جاء رجل إلى الرسول صلى الله عليه وسلم فقال: "رَأَيْتُ في المنَامِ كَأَنَّ رَأسِي قَدْ قُطِع، قَالَ: فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وقَالَ: "إِذَا لَعِبَ الشَّيْطَانُ بِأَحَدِكمْ في مَنَامِهِ فَلَا يُحَدِّثْ بِهِ النَّاسَ" رواه مسلم (2).
والشيطان لديه القدرة على الوسوسة في صدور الناس {مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ (4) الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ (5)} [الناس: 4 - 5]، وفي الحديث: "إنَّ الشَيْطَانَ يَجْرِي مِن ابْنِ آدمَ مَجْرَى الدَّمِ"، فلديه القدرة على أن يُمَثِّلَ للنفس في منامها أمورًا تفْزِغهَا وتَحْزُنُهَا.
النَّوْعُ الثَّالِثُ: رؤيا لم يُفَكِّرْ بِهَا صاحبها يومًا، ولم تخطر على باله، وهي بَعِيدَةٌ كل البعد عن تفكيره، وقد يراها بصورة جلية، لا تحتاج إلي تفسير ولا إلى
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্ন সম্পর্কে যা সাব্যস্ত করেছেন তা হলো এই যে, স্বপ্ন তিন প্রকার:
প্রথমত: অবচেতন মনের খেয়াল বা কল্পনার প্রতিফলন; যাকে বস্তুবাদী বিজ্ঞানীরা মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করেছেন। এগুলো হলো মানুষের মনের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষা যা সে বাস্তব জীবনে অর্জন করতে চায়। ফলে সে তা ঘুমের মধ্যে দেখে থাকে; কারণ সে এমন সব বিষয় চর্চা করার স্বপ্ন দেখে যা বাস্তব জীবনে অর্জন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয় প্রকার: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে স্বপ্নগুলোর কথা সংবাদ দিয়েছেন তার মধ্য থেকে:
এটি হলো শয়তানের প্ররোচনায় সৃষ্ট স্বপ্ন; কারণ সে মানুষের ঘুমের মধ্যে এমন আতঙ্কজনক স্বপ্ন উপস্থাপন করতে পারে যা তার চিন্তাভাবনাকে এলোমেলো করে দেয়, তাকে মানসিক অবসাদগ্রস্ত করে এবং তাকে এক সুদূর জগতে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বিচরণ করায়। হাদীসে এসেছে: "উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন এমন কিছু দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে সে যেন তা কেবল তাকেই বলে যাকে সে ভালোবাসে। আর যদি সে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন আল্লাহর কাছে তার অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তিনবার থুতু ছিঁটায়। আর সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে; কেননা তা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যপূর্ণ (১)।
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন: এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং বললেন: "যখন শয়তান তোমাদের কারো সাথে ঘুমের মধ্যে তামাশা করে, তখন সে যেন মানুষের কাছে তা বর্ণনা না করে।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।
আর শয়তানের মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে; {আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে (৪), যে মানুষের হৃদয়ে কুমন্ত্রণা দেয় (৫)} [সূরা আন-নাস: ৪ - ৫], আর হাদীসে রয়েছে: "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্ত চলাচলের নালীতে বিচরণ করে।" অতএব, তার এই ক্ষমতা আছে যে সে মানুষের ঘুমের মধ্যে এমন সব বিষয় ফুটিয়ে তুলবে যা তাকে আতঙ্কিত ও ব্যথিত করবে।
তৃতীয় প্রকার: এমন স্বপ্ন যা সম্পর্কে স্বপ্নদ্রষ্টা কোনোদিন চিন্তাও করেনি এবং যা কখনো তার মনেও আসেনি; বরং এটি তার চিন্তাভাবনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে। কখনও সে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখে যা কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
تأويل، وقد تكون أمثالًا مضروبة، وأحداثًا مسبوكة، تحتاج إلي علم وتقدير، وفهم ثاقب، ونظر بعيد، وما كل من رُزِقَ علمًا رُزِقَ فَهْمًا بتأويل الأحلام والرؤى.
وهذا النوع من الرؤى هو البقية الباقية من حقيقة النبوة، فالوحي قد انقطع، والنبوة قد خُتِمَتْ، ولم يَبْقَ إلا هذه الرؤى، وهي المبشرات، يَقُولُ الرسول صلى الله عليه وسلم: "لَمْ يَبْقَ مِنَ النُّبُوَّةِ إِلَّا المُبَشّرَاتُ"، قَالُوا: وَمَا المُبَشِّرَاتُ؟ قَالَ: "الرُّويَا الصَّالِحةُ" رواه البخاري (1).
وزاد مالك برواية عطاء بن يسار: "يَرَاهَا الرَّجُلُ المُسْلِمُ، أوْ تُرَى لَهُ".
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "الرُّويَا الصَّالحِةُ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ" متفق عليه (2).
وإذا كانت الرؤيا من الرسول والأنبياء فهي حق لا تُكذَّبُ، بل هي وحي إلهي، وقد بادر خليل الرحمن إبراهيم إلى ذبح ولده عندما رأي في المنام أنه يذبحه، وما ذلك إلا لأن رؤياه وحي.
وغير الأنبياء تقع له الرؤيا الحق، وتكون دلائل الصدق عليها بينة، إلا أننا لا نستطيع أن نجزم بأنها رؤيا حق إلا إذا تحققت على النحو الذي رآه صاحبه في منامه.
* * *
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা, আর এগুলো অনেক সময় রূপক দৃষ্টান্ত বা সুবিন্যস্ত ঘটনাও হতে পারে, যা বিশেষ জ্ঞান, প্রজ্ঞা, তীক্ষ্ণ বোধশক্তি এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির মুখাপেক্ষী। আর যাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকেই যে স্বপ্ন ও দর্শনের ব্যাখ্যা করার বোধশক্তি দান করা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়।
আর এই ধরণের স্বপ্ন হলো নবুওয়তের হাকিকতের অবশিষ্ট অংশ। কেননা ওহি বন্ধ হয়ে গেছে এবং নবুওয়তের সমাপ্তি ঘটেছে। এখন কেবল এই স্বপ্নগুলোই অবশিষ্ট আছে, যা হলো 'মুবাশশিরাত' বা সুসংবাদ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "নবুওয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই 'মুবাশশিরাত' ব্যতীত।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: "মুবাশশিরাত কী?" তিনি বললেন: "নেককার ব্যক্তির সত্য স্বপ্ন।" ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
আতা ইবনে ইয়াসারের বর্ণনায় ইমাম মালেক বর্ধিত করেছেন: "যা একজন মুসলিম ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তাঁর জন্য অন্য কেউ দেখেন।"
আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নেককার ব্যক্তির সত্য স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" এটি সর্বসম্মত হাদিস (২)।
আর যদি স্বপ্ন রাসূল এবং নবীগণের পক্ষ থেকে হয়, তবে তা ধ্রুব সত্য যাতে কোনো মিথ্যার অবকাশ নেই; বরং তা হলো খোদায়ী ওহি। এই কারণেই খলিলুর রহমান ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম যখন স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি তাঁর সন্তানকে জবেহ করছেন, তখন তিনি তা পালনে দ্রুত তৎপর হয়েছিলেন। আর এটি কেবল এজন্যই ছিল যে, তাঁর দেখা স্বপ্ন ছিল ওহি।
নবীগণ ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও সত্য স্বপ্ন হতে পারে এবং এর সত্যতার প্রমাণসমূহ সুস্পষ্ট হয়ে থাকে। তবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে এটি সত্য স্বপ্ন, যতক্ষণ না তা স্বপ্নে দেখা ব্যক্তির দর্শনের অনুরূপ হুবহু বাস্তবায়িত হয়।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
تنبيه: حول معنى كون الرؤيا جزءًا من النبوة:معنى كون الرؤيا الصادقة أو الصالحة جزءًا من أجزاء النبوة: أنها شابهتها، أو شاركتها في الصلاح، والإخبار عن أمرٍ غيبي مستقبل (1).
ولا يُفهم من هذا أن رؤيا الكافر إذا كانت صادقة -كرؤيا الملك التي فسرها له يوسف عليه السلام، وكذلك رؤيا صاحبيه في السجن- أنَّها تكون من أجزاء النبوة، فإن أكثر الروايات جاءت مقيدة بالمسلم أو المؤمن.
ثم إنه ليس كل من صدق في حديث عن غيب كان ذلك من أجزاء النبوة، أو كان ذلك دليلًا على صلاحه واستقامته، وإلا لكان الكهان كذلك؟!
قال أبو العباس القرطبي: والرؤيا لا تكون من أجزاء النبوة إلا إذا وقعت من مسلم صادق صالح، وهو الذي يُناسب حاله حال النبي صلى الله عليه وسلم فأُكرِم بنوع مما أُكرم به الأنبياء، وهو الاطِّلاع على شيء من علم الغيب، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنه لم يبق من مبشرات النبوة إلا الرؤيا الصادقة في النوم، يراها الرجل الصالح أو تُرى له" (2).
فإن الكافر والكاذب والمخلِّط -وإن صدقت رؤياهم في بعض الأوقات- لا تكون من الوحي ولا من النبوة، إذ ليس كل من صدق في حديث عن غيب يكون خبره ذلك نبوة، وقد قدمنا أن الكاهن يُخبر بكلمة الحق وكذلك المنجم قد يحدِس فيصدق، لكن على الندور والقلِّة" (3).
* * *
--------------------------------------------
দ্রষ্টব্য: স্বপ্নের নবুওয়াতের অংশ হওয়ার তাৎপর্য প্রসঙ্গে:সত্য বা নেক স্বপ্ন নবুওয়াতের অংশ হওয়ার অর্থ হলো: এটি নবুওয়াতের সাদৃশ্যপূর্ণ, কিংবা কল্যাণ এবং ভবিষ্যতের অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের অংশীদার (১)।
এ থেকে এমনটি বোঝা সমীচীন নয় যে, কোনো কাফিরের স্বপ্ন যদি সত্য হয়—যেমন বাদশাহর স্বপ্ন যার ব্যাখ্যা ইউসুফ আলাইহিস সালাম দিয়েছিলেন এবং তাঁর কারাসঙ্গী দুজনের স্বপ্ন—তবে তাও নবুওয়াতের অংশ হবে। কেননা অধিকাংশ বর্ণনা একে মুসলিম বা মুমিনের সাথে শর্তযুক্ত করেছে।
তদুপরি, অদৃশ্য সম্পর্কে তথ্য দানে সত্যবাদী হওয়া মানেই সেটি নবুওয়াতের অংশ নয়, কিংবা তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নেককার হওয়া বা সততার প্রমাণও নয়; অন্যথায় গণক বা জ্যোতিষীদের অবস্থাও তো অনুরূপ হতো?!
আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবী বলেন: স্বপ্ন কেবল তখনই নবুওয়াতের অংশ হবে যখন তা একজন সত্যবাদী ও নেককার মুসলিমের মাধ্যমে ঘটবে; কারণ তার অবস্থা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে নবীদের যা দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে, তাকেও তার একটি ধরন দিয়ে অর্থাৎ অদৃশ্যের জ্ঞানের কিছু বিষয়ের অবগতি দিয়ে সম্মানিত করা হয়। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নবুওয়াতের সুসংবাদবাহী বিষয়গুলোর মধ্যে সত্য স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যা একজন নেককার ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তার জন্য দেখা হয়" (২)।
অতএব, কাফির, মিথ্যাবাদী এবং সত্য-মিথ্যা মিশ্রণকারীর স্বপ্ন—যদিও তা কখনো কখনো সত্য হতে পারে—তা ওহী বা নবুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ অদৃশ্যের খবরে সত্যবাদী হওয়া মানেই সেই খবর নবুওয়াত হওয়া নয়। আমরা ইতিপূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, গণক কখনো সত্য কথা বলে এবং জ্যোতিষীও কখনো অনুমানের ভিত্তিতে সত্য বলে ফেলে, তবে তা নিতান্তই দুর্লভ ও কদাচিৎ (৩)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
غلو المُفرِطين في شأن الرُّؤىبإزاء أهل "الجفاء والتفريط" الماديين في شأن الرؤى، وُجد على الطرف الآخر -وكلا طَرَفَيْ قصدِ الأمورِ ذميمُ- فريق الغلو والإفراط، وهؤلاء غَلَوْا في شأن الرؤى، وتمدد سلطانها، وتضخم تأثيرها على مسار حياتهم، كأنها وحي معصوم، فترى الواحد منهم ينتظر -في كل موقف- رؤيا تشير عليه بالطريق (1)، بل منهم من رأى أن الرؤية حجة شرعية يستمد منها الأحكام التكليفية تمامًا كما يستمدها علماء الشرع من القرآن والسنة.
(تضايق ناسٌ من وجود حاكم من الحُكَّام، وأصبحوا يتحدثون عن أمراضه، وقرب وفاته، فإذا بكثير منهم يرى في المنام أنه سيموت في شهر كذا، أو قبل شهر كذا، ثم يؤولها لهم واحد ممن على شاكلتهم، فيجزمون أنه لا يصلي العيد مع المسلمين، ويؤكدون بأن هذه الرؤى تواطأت، وأنه لا يمكن تكذيبها أو جحدها، ولا يمكن التشكيك في حصولها، فما الذي حدث؟ لقد صلى العيد وأعيادًا أخرى بعده.
وآخرون ثَقُلَ عليهم ما يُعَانيهِ المسلمون من اليهود فطاشت نفوسهم إلي أحلام رأوا فيها أن معارك واجتياحات يهودية لبلدان المسلمين؛ سوف تحصل في عام كذا وكذا، وبدءوا يضعون الخطط والاستراتيجيات، والتوقعات، لمواجهة هذا العدوان في هذا التاريخ) (2).
--------------------------------------------
স্বপ্ন সংক্রান্ত বিষয়ে অতিশয়োক্তিকারীদের বাড়াবাড়িস্বপ্নের বিষয়ে বস্তুুবাদী "উপেক্ষা ও অবহেলাকারী" দলের বিপরীতে অন্যপ্রান্তে একদলকে পাওয়া যায়—অথচ যে কোনো বিষয়ের দুই প্রান্তই নিন্দনীয়—যারা চরমপন্থা ও অতিশয়োক্তিতে লিপ্ত। তারা স্বপ্নের গুরুত্বের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, তাদের জীবনে স্বপ্নের প্রভাব ও আধিপত্য এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যেন তা কোনো এক অভ্রান্ত ওহি। আপনি তাদের কাউকে দেখবেন যে, সে প্রতিটি পরিস্থিতিতেই তার পথপ্রদর্শক হিসেবে একটি স্বপ্নের প্রতীক্ষায় থাকে (১); বরং তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা স্বপ্নকে একটি শরয়ি দলিল মনে করে, যেখান থেকে তারা বিধান আহরণ করে, ঠিক যেভাবে শরিয়ত বিশেষজ্ঞ আলেমগণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধান আহরণ করে থাকেন।
(কিছু লোক একজন শাসকের শাসনামলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল এবং তারা তার অসুস্থতা ও মৃত্যু সন্নিকট হওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। ফলে তাদের মধ্যে অনেকে স্বপ্নে দেখতে পেল যে, তিনি অমুক মাসে বা অমুক মাসের আগেই মারা যাবেন। এরপর তাদের মতোই একজন সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করল এবং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নিল যে, তিনি আর মুসলমানদের সাথে ঈদের নামাজ পড়তে পারবেন না। তারা জোর দিয়ে বলতে লাগল যে, এই স্বপ্নগুলো যেহেতু পরস্পরের সাথে মিলে যাচ্ছে, তাই একে অস্বীকার করার বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কোনো সুযোগ নেই এবং এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করাও অসম্ভব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হলো? তিনি সেই ঈদ এবং তার পরবর্তী আরও অনেক ঈদেই নামাজ পড়েছেন।
আবার অন্যদের নিকট ইহুদিদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল তা অসহ্য মনে হলো, তখন তাদের মন এমন সব স্বপ্নের দিকে ধাবিত হলো যেখানে তারা দেখতে পেল যে, অমুক অমুক বছর মুসলিম দেশগুলোতে ইহুদিদের পক্ষ থেকে আক্রমণ ও যুদ্ধ সংঘটিত হবে। ফলে তারা সেই নির্দিষ্ট তারিখে এই আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা, রণকৌশল ও আশাবাদ ব্যক্ত করতে শুরু করল) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(وفي بعض الجمعيات الإسلامية انشق فريق من أعضائها على قيادتهم، وناصبوها العِدْاء بناءً على رؤى رآها بعضهم، كأنما اعتبروها وحيًا.
وحكى أحد الصحافيين أن أحد حكام المسلمين -بعد أن قرر إجراء الانتخابات في بلده في موعد معين- عاد فألغاها نتيجة رؤيا رآها، حذَّرته من عواقبها. هكذا امتد سلطان المنامات لتتحكم في الدين والسياسة وسائر شئون الحياة) (1).
لقد كان من أسباب افتتان بعض الناس، ومتابعتهم لأولئك الذين احتلوا الحرم المكي، واعتصموا به، تلك الرؤى التي رآها بعض الكبار والصغار، والنساء والرجال، وهي في جملتها تشير إلى أن المدعو محمد عبد اللَّه القحطاني هو المهدي الذي بَشَّرَ به الرسول صلى الله عليه وسلم (2)، وقد تبين للناس اليوم أن تلك الرؤى لم تكن صادقة؛ لأن ذلك الرجل ليس هو المهدي، وإلا لو كان هو لم يقتل، ولبقي حتى يملأ الأرض عدلا كما مُلِئَتْ جورًا وظُلْمًا؛ فذلك من علاماته الثابتة في الأحاديث، ولو كان فينا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لعرَّفَنا بالرؤيا الباطلة إذا اشتبهت الأمور، أما ونحن
--------------------------------------------
কিছু ইসলামি সংগঠনে সদস্যদের একটি দল তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এমন কিছু স্বপ্নের ভিত্তিতে যা তাদের কেউ কেউ দেখেছিল, যেন তারা সেগুলোকে ওহি (ঐশী প্রত্যাদেশ) মনে করেছে।
জনৈক সাংবাদিক বর্ণনা করেছেন যে, একজন মুসলিম শাসক—তার দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর—একটি স্বপ্নের কারণে তা বাতিল করে দেন যা তিনি দেখেছিলেন এবং যা তাকে এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। এভাবেই স্বপ্নের কর্তৃত্ব ধর্ম, রাজনীতি এবং জীবনের অন্যান্য সকল বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রসারিত হয়েছে (১)।
মক্কা হারাম দখলকারী ও সেখানে অবস্থান গ্রহণকারীদের প্রতি কিছু মানুষের মুগ্ধ হওয়া এবং তাদের অনুসরণের অন্যতম কারণ ছিল সেই সব স্বপ্ন, যা বড়-ছোট এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকে দেখেছিল। সেগুলোর সারকথা ছিল এই যে, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাহতানি নামক ব্যক্তিই সেই মাহদি, যার সুসংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন (২)। আজ মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সেই স্বপ্নগুলো সত্য ছিল না; কারণ ওই ব্যক্তি মাহদি ছিলেন না। যদি তিনি মাহদি হতেন, তবে তিনি নিহত হতেন না এবং পৃথিবীকে ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ না করা পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন, যেমনিভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল; কেননা হাদিসসমূহে এটি তাঁর অন্যতম সুপ্রতিষ্ঠিত নিদর্শন। আর যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকতেন, তবে বিষয়গুলো অস্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি আমাদের মিথ্যা স্বপ্ন সম্পর্কে জানিয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لسنا بمعصومين، فإن الرؤى تبقى في مجال الظن، ولا ترقى إلى اليقين والجزم ما لم تتمثل في واقع مشهود، وعند ذلك يوافق الواقع الخبر.
لقد أوَّل أبو بكر الصِّدِّيق رضي الله عنه بين يدي الرسول صلى الله عليه وسلم رؤيا، فبين له الرسول صلى الله عليه وسلم أنه أصاب في تأويله وأخطأ (1)، فمن يضمنُ لنا ألا نقع في الخطأ، ومن يضمَنُ لنا أن نُصِيبَ كَبِدَ الحقيقة) (2).
* * *
--------------------------------------------
আমরা মাসুম বা নিষ্পাপ নই; স্বপ্ন মূলত ধারণার স্তরেই থেকে যায়, এবং যতক্ষণ না তা চাক্ষুষ বাস্তবতায় রূপান্তরিত হয় ততক্ষণ তা নিশ্চিত জ্ঞান বা দৃঢ় বিশ্বাসের স্তরে উন্নীত হয় না। আর যখন তা বাস্তব রূপ লাভ করে, তখন বাস্তবতা সংবাদের সাথে মিলে যায়।
আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় কিছু ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল করেছেন (১)। সুতরাং কে আমাদের নিশ্চয়তা দেবে যে আমরা ভুলের শিকার হব না, এবং কে আমাদের নিশ্চয়তা দেবে যে আমরা হুবহু সত্যে উপনীত হব? (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نماذج واقِعِيَةٌ مِن انحِرَاف النَّاسِ في التَّعَامُلِ مَعَ المَنَامَاتِ*
دِمَاءُ المُسْلِمِينَ لَا تُسْفَكُ بِالأَحْلامِ:حكى الحسن بن قحطبة قال: (اسْتُؤْذِن لشَرِيك بن عَبْدِ اللَّهِ القاضي على المهدي وأنا حاضر، فقال: "علي بالسيف"، فأُحْضِرَ.
قال الحسن: فاستقبلني رِعْدَةٌ لم أملكها، ودخل شَرِيْكٌ فسلَّم، فانتضى المهدي السيفَ، وقال: "لا سَلَّمَ الله عليك يا فاسقُ".
فقال شريك: "يا أمير المؤمنين، إن للفاسق علاماتٍ يُعرف بها: شرب الخمور، وسماع المعازف، وارتكاب المحظورات؟ فعلى أيِّ ذلك وجدتني؟ ".
قال: "قتَلَنِي اللَّهُ إن لم أقتُلْكَ".
قال: "ولمَ ذلك يا أمير المؤمنين، ودمي حرام عليك؟ ".
قال: "لأني رأيت في المنام كأني مقبل عليك أكلمك، وأنت تكلمني من قفاك، فأرسلت إلى المعبِّر، فسألته عنها، فقال: هذا رجل يطأ بساطك، وهو يُسِرُّ خلافك".
فقال شريك: "يا أمير المؤمنين، إن رؤياك ليست رؤيا يوسف بن يعقوب عليهما السلام، وإن دماء المسلمين لا تُسْفَك بالأحلام"، فَنكسَ المهدي رأسه، وأشار إليه بيده: أَنِ اخْرُجْ، فانصرف.
قال الحسن: فقمت فلحقته، فقال: "أما رأيت صاحِبَكَ وما أراد أن يصنع؟ "، فقلت: "اسكت -لله أبوك- ما ظننت أني أعيش حتى أرى مثلك" (1).
--------------------------------------------
স্বপ্নের বিষয়ে মানুষের বিচ্যুতির কিছু বাস্তব দৃষ্টান্ত*
স্বপ্নের কারণে মুসলিমদের রক্ত ঝরানো যাবে না:হাসান বিন কাহতাবা বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "কাদী শরীক বিন আবদুল্লাহর জন্য আল-মাহদীর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হলো, সে সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন: 'আমার কাছে তলোয়ার নিয়ে এসো', তখন তলোয়ার আনা হলো।
হাসান বলেন: আমার মাঝে এমন এক কম্পন সৃষ্টি হলো যা আমি সামলাতে পারছিলাম না। শরীক প্রবেশ করে সালাম দিলেন, তখন আল-মাহদী তলোয়ার কোষমুক্ত করলেন এবং বললেন: 'হে পাপাচারী, আল্লাহ তোমার ওপর শান্তি বর্ষণ না করুন'।
তখন শরীক বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, পাপাচারীর কিছু নিদর্শন থাকে যা দিয়ে তাকে চেনা যায়: মদ্যপান করা, বাদ্যযন্ত্র শোনা এবং নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া; আপনি এর কোনটি আমার মধ্যে পেয়েছেন?'
তিনি বললেন: 'আমি যদি তোমাকে হত্যা না করি তবে আল্লাহ যেন আমাকে হত্যা করেন'।
শরীক বললেন: 'কেন তা করবেন হে আমিরুল মুমিনিন, অথচ আমার রক্ত আপনার জন্য হারাম?'
তিনি বললেন: 'কারণ আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমার দিকে এগিয়ে গিয়ে তোমার সাথে কথা বলছি, আর তুমি আমার দিকে পিঠ ফিরিয়ে (ঘাড়ের দিক থেকে) কথা বলছো। আমি একজন স্বপ্ন বিশারদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: এ এমন এক ব্যক্তি যে আপনার সান্নিধ্যে থাকে অথচ গোপনে আপনার বিরোধিতা করে'।
তখন শরীক বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার স্বপ্ন ইউসুফ বিন ইয়াকুব (আলাইহিমাস সালাম)-এর স্বপ্নের মতো (ওহী) নয়। আর স্বপ্নের কারণে মুসলিমদের রক্ত প্রবাহিত করা যায় না'। তখন আল-মাহদী মাথা নিচু করলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করলেন যে, বেরিয়ে যাও। ফলে তিনি চলে গেলেন।
হাসান বলেন: আমি উঠে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি বললেন: 'তুমি কি তোমার সঙ্গীকে দেখলে না সে কী করতে চেয়েছিল?' আমি বললাম: 'চুপ থাকুন—আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন—আমি কল্পনাও করিনি যে আপনার মতো এমন অকুতোভয় ব্যক্তি দেখার আগ পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব' (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
*
لا يُطعَنُ في الرَّاوِي بِمجرد منام:روى ابن عساكر في "تاريخ دمشق" بإسناده عن أحمد بن محمد بن رشدين
أن بعضهم رأى الشافعي في المنام، فقال له: "كَذَبَ عليَّ يونس بن عبد الأعلى
في حديث الجَنَدِي .. ما هذا من حديثي، ولا حدَّثتُ به" (1)، عَلَّقَ الحافظ ابن
كثير رحمه الله في "الفتن والملاحم" (2): "يونس بن عبد الأعلى من
الثقات، لا يُطعَن فيه بمجرد منام".
الرُّؤْيَا تَسُرُّ، وَلَا تَغرُّ:عن المَرُّوذي قال: أدخلتُ إبراهيم الحُصْري على أبي عبد اللَّه - وكان رجلًا صالحًا، فقال: "إن أمي رأت لك منامًا، هو كذا وكذا، وذكرتِ الجنة"، فقال: "يا أخي، إن سهلَ بن سلامة (3) كان الناس يُخبرونه بمثل هذا، وخرج إلى سفك الدماء"، وقال: "الرؤيا تَسُرُّ المؤمنَ، ولا تَغُرُّه" (4).
وعن محمد بن يزيد قال: كانوا يرون لوهيب أنه من أهل الجنة، فإذا أُخْبِرَ بها اشتد بكاؤه، وقال: "قد خَشِيتُ أن يكون هذا من الشيطان" (5).
وعن مخلد بن الحسين: أن رجلًا قال للعلاء بن زياد: "رأيت كأنك في الجنة"؟ فقال له: "ويحك، أما وجد الشيطان أحدًا يسخر به، غيري وغيرَك" (6).
* * *
--------------------------------------------
কেবলমাত্র স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো বর্ণনাকারীকে অভিযুক্ত করা যাবে না:ইবনে আসাকির ‘তারিখু দামেশক’ গ্রন্থে তাঁর সনদে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুশদীন থেকে বর্ণনা করেছেন
যে, তাঁদের কেউ একজন ইমাম শাফেঈকে স্বপ্নে দেখেছিলেন। তিনি (ইমাম শাফেঈ) তাঁকে বলেছিলেন: "ইউনুস ইবনে আবদুল আ’লা আল-জানাদীর হাদীসের ব্যাপারে আমার নামে মিথ্যা বলেছে... এটি আমার বর্ণিত কোনো হাদীস নয় এবং আমি এটি বর্ণনা করিনি।" (১), হাফেয ইবনে
কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম’ (২) গ্রন্থে এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "ইউনুস ইবনে আবদুল আ’লা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, কেবলমাত্র একটি স্বপ্নের ভিত্তিতে তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।"
স্বপ্ন মুমিনকে আনন্দ দেয়, কিন্তু বিভ্রান্ত করে না:আল-মাররুযী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম আল-হুসরিকে আবু আবদুল্লাহর (ইমাম আহমদ বিন হাম্বল) কাছে নিয়ে গেলাম—তিনি একজন নেককার মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন: "আমার মা আপনার সম্পর্কে একটি স্বপ্ন দেখেছেন, তা এমন এমন... এবং তিনি জান্নাতের কথা উল্লেখ করেছেন।" ইমাম আহমদ বললেন: "হে আমার ভাই, সাহল বিন সালামাহকেও (৩) লোকেরা এই জাতীয় সংবাদ দিত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছিল।" তিনি আরও বলেন: "স্বপ্ন মুমিনকে আনন্দিত করে, কিন্তু তাকে বিভ্রান্ত বা অহংকারী করে তোলে না।" (৪)।
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকেরা উয়াইব সম্পর্কে ধারণা পোষণ করত যে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। যখনই তাকে এই সংবাদ দেওয়া হতো, সে কান্নায় ভেঙে পড়ত এবং বলত: "আমি আশঙ্কা করছি যে এটি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা কি না।" (৫)।
মাখলাদ ইবনে আল-হুসাইন থেকে বর্ণিত: জনৈক ব্যক্তি আল-আলা ইবনে যিয়াদকে বললেন: "আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আপনি জান্নাতে আছেন।" তিনি তাকে বললেন: "তোমার ধ্বংস হোক! শয়তান কি আমি আর তুমি ছাড়া উপহাস করার মতো আর কাউকে খুঁজে পায়নি?" (৬)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"
الفراغ" من أسباب ظاهرة الاستغراق في المنامات(ما أجمل الحادثة التي يذكرها المترجمون عن الإمام "عبد القادر الجيلاني" رحمه الله أنه كان نائمًا، فرأي نارًا عظيمة تتصاعد، ثم سمع منها صوتًا يقول له: يا عبد القادر .. أنا ربك .. وقد أحللتُ لك ما حرمت عليك". فقال الشيخ عبد القادر وهو في المنام:
- "اخسأ يا عدو اللَّه! ".
وعرف أن الشيطان عرض له ليصده عن دينه؛ لأن الحرام لا يكون حلالًا أبدًا، كما أن النجاسة لا تكون طهارة أبدًا، فلا يتحول المحرَّم بشريعة اللَّه إلى حلال؛ لأن رجلًا رأى في النوم من يُحِلّهُ له.
وإذا كُنَّا لا نقبل ونحن في اليقظة بكامل عقولنا وقوانا، من يُحَلِّلُ لنا الحرام، أو يُحَرِّمُ عَلَيْنَا الحلال .. فكيف نقبل ذلك في النوم حين يغيب إدراك الإنسان، ولا يعي ما حوله؟
إن الاشتغال بهذه الرؤى العابثة هو شأن الفارغين، فإذا فقد الناس العلم الصحيح، والتوجيه السليم، اتجهوا لمثل هذه الخرافات، يروون بها ظمأهم، وحاجتهم إلى الدين، ولذلك فإن لهذه الرؤى دلالة واضحة على مستوى الوعي، والفهم في المجتمع، خاصَّة في مجال "المرأة".
وليس الحل هو أن يَهُبَّ العلماء إذا سمعوا مثل هذه الأسطورة؛ ليبينوا كذبها، هذا -ولا شك- مطلوب، ولكن يَجِبُ أن نسبق الأحداث ونبذل جهودًا كافية لملء عقل المرأة والرجل بالعلم الصحيح، والعاطفة الحية .. فالوقاية خير من العلاج.
لعل من الملاحظ أن بعض "القُصَّاص" والوُعَّاظ يسردون كثيرًا من الأحلام في أحاديثهم، في الترغيب والترهيب .. وربما كان هذا المنهج، منهج المبالغة
"অবসর" হলো স্বপ্নে নিমগ্ন হওয়ার প্রপঞ্চের অন্যতম কারণ(ইমাম "আবদুল কাদির জিলানি" (রহ.) সম্পর্কে জীবনীকাররা যে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন তা কতই না চমৎকার! তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, এমতাবস্থায় দেখলেন এক বিশাল অগ্নিশিখা উপরে উঠে আসছে। অতঃপর তিনি সেখান থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন যা তাকে বলছিল: হে আবদুল কাদির .. আমি তোমার রব .. আমি তোমার জন্য তা হালাল করে দিয়েছি যা তোমার ওপর হারাম করা হয়েছিল। তখন শেখ আবদুল কাদির ঘুমের ঘোরেই বললেন:
- "দূর হ, ওরে আল্লাহর দুশমন!"।
তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে শয়তান তাকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার জন্য আত্মপ্রকাশ করেছে; কারণ হারাম কখনো হালাল হয় না, যেমন অপবিত্রতা কখনো পবিত্রতা হয় না। সুতরাং আল্লাহর শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো বিষয় হালালে রূপান্তরিত হতে পারে না কেবল এই কারণে যে, কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে কাউকে তা হালাল করতে দেখেছে।
আমরা যখন জাগ্রত অবস্থায় পূর্ণ জ্ঞান ও শক্তি নিয়ে অবস্থান করি, তখন যদি আমাদের জন্য কেউ হারামকে হালাল কিংবা হালালকে হারাম করে দেয় তবে তা আমরা গ্রহণ করি না। তাহলে ঘুমের মধ্যে যখন মানুষের উপলব্ধি লোপ পায় এবং সে তার চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকে না, তখন আমরা তা কীভাবে গ্রহণ করতে পারি?
এই ধরনের নিরর্থক স্বপ্নে মগ্ন থাকা মূলত লক্ষ্যহীন ব্যক্তিদের কাজ। যখন মানুষ সঠিক জ্ঞান এবং সঠিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলে, তখন তারা এই জাতীয় কুসংস্কারের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যার মাধ্যমে তারা তাদের তৃষ্ণা মেটাতে চায় এবং দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে চায়। একারণেই এই স্বপ্নগুলো সমাজে সচেতনতা ও উপলব্ধির স্তরের ওপর একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে, বিশেষ করে "নারী" মহলে।
সমাধান কেবল এটি নয় যে, আলেমরা এ জাতীয় আজগুবি গল্প শোনামাত্রই তার অসারতা প্রমাণের জন্য সচেষ্ট হবেন। এটি নিঃসন্দেহে কাম্য; তবে আমাদের উচিত ঘটনার পূর্বেই পদক্ষেপ নেওয়া এবং নারী-পুরুষের মনকে সঠিক জ্ঞান ও জীবন্ত আবেগ দিয়ে পূর্ণ করতে পর্যাপ্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করা। কারণ, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
সম্ভবত এটি লক্ষণীয় যে, কিছু "গল্পকার" ও উপদেশদাতা তাদের আলোচনায় নেক আমলের উৎসাহ প্রদান ও গুনাহের ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে প্রচুর স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেন। আর সম্ভবত এই পদ্ধতিটি ছিল অতিরঞ্জনের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في ذكر الرؤى ناتجًا عن قلة العلم بالنصوص الشرعية .. وناتجًا عن فراغ فكري وعاطفي لدى هذا المتحدث أيضًا.
وصف يومًا أحد الشعراء حاله وحال أصحابه في السجن، فقال:
إلى اللَّهِ فِيمَا نَابَنَا نَرْفَعُ الشَّكْوَى
… فَفِي يَدِهِ كَشْفُ الضرُورَةِ والبَلْوَى
خَرَجْنَا مِنَ الدُّنْيَا وإِنَّا لأَهْلُهَا
… فَلَسْنَا مِنَ الأَمْوَاتِ فِيَها وَلَا الأَحْيَا
إذَا جَاءَنَا السَّجَّانُ يَوْمًا لحاجَةٍ
… فَرِحْنَا وقُلْنَا: جَاءَ هذَا مِنَ الدُّنْيَا
ونَفْرَحُ بِالرُّؤيا فَجُلُّ حَدِيثِنَا
… إذَا نَحْنُ أَصْبَحْنَا الحَدِيثُ عَنِ الرُّؤْيَا
فَإنْ حَسُنَتْ لَمْ تَأْتِ عَجْلَى وأَبْطَأَتْ
… وإن قَبُحَتْ لَمْ تُحْتبسْ وَأتتْ عَجْلَى
يتحدَّثُون كثيرًا عن الرُّؤيَا، لماذا؟
أولًا: للفراغ، فليس لديهم أحاديث، عن الوقائع والمستجدات؛ لأنهم مَعْزُولُونَ لا يسمعونها، خاصة في الزمن الماضي، وليس لهم عمل يشغلهم، ويقضي على فراغهم، خاصة في الماضي - أيضًا.
وثَانيًا: لأنهم في حال كرب، والرؤيا قد تكون مُبَشِّرَةً، تُشْعِرُ السجينَ بقرب خلاصه.
وربما كان في قصة يوسف عليه السلام وصاحبيه ما يُشِيرُ إلي أن السجين تحدث له الرؤيا، ويتحدث عنها، أكثر من غيره، خاصة وهو يعلم أن الأبواب كلها قد أغْلِقَتْ، فيلجأ إلى اللَّه، ويَصْدُقُ معه، فيحدث له من صفاء القلب ما لا يحدث له فى غير سِجْنِهِ.
إنه لجدير بالداعية أن يقتصد في ذكر الرؤى والأحلام، فلا يجعلها لُحمَةَ وعظه وسُدَاهُ، ولا يقيمها مقامَ الأدلة الشرعية.
كان صلى الله عليه وسلم كما في "الصحيح"، إذا صَلَّى الفجرَ، التفت إلى أصحابه، فقال: "هَلْ رَأَي أحَدٌ مِنْكُمْ رُؤيَا؟ " (1).
--------------------------------------------
স্বপ্ন বর্ণনার আধিক্য মূলত শরয়ী দলীলসমূহের জ্ঞানের স্বল্পতা এবং একই সাথে বক্তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগীয় শূন্যতার ফল।
জনৈক কবি কারাগারে তার এবং তার সাথীদের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে একদা বলেছিলেন:
আমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে সে বিষয়ে আমরা আল্লাহর কাছেই অভিযোগ জানাই
… কারণ কষ্ট ও বিপদ দূর করা কেবল তাঁরই হাতে।
আমরা দুনিয়া থেকে বের হয়ে গেছি অথচ আমরা দুনিয়ারই বাসিন্দা
… সুতরাং আমরা দুনিয়ার মৃতদের অন্তর্ভুক্ত নই, আবার জীবিতদেরও নই।
কোনো প্রয়োজনে যখন কারারক্ষী আমাদের কাছে আসে
… তখন আমরা আনন্দিত হই এবং বলি: এই ব্যক্তি দুনিয়া থেকে এসেছে।
আমরা স্বপ্ন দেখে আনন্দিত হই, তাই সকালবেলা আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুই থাকে
… স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা।
স্বপ্নটি যদি ভালো হয় তবে তা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় না বরং দেরি করে আসে
… আর যদি তা মন্দ হয় তবে তা থেমে থাকে না বরং দ্রুত চলে আসে।
তারা স্বপ্ন সম্পর্কে কেন এত বেশি কথা বলেন?
প্রথমত: অবসর বা শূন্যতার কারণে; কেননা সমসাময়িক ঘটনাবলি ও নতুন কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের কোনো আলাপ নেই, কারণ তারা বিচ্ছিন্ন এবং এসব খবর তারা শুনতে পান না—বিশেষ করে অতীতকালে এটি বেশি ছিল। আবার তাদের ব্যস্ত রাখার মতো কোনো কাজও নেই যা তাদের অবসর দূর করবে, বিশেষ করে অতীতে এমনটিই ছিল।
দ্বিতীয়ত: তারা চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকেন, আর স্বপ্ন অনেক সময় সুসংবাদবাহী হয়, যা বন্দিকে তার মুক্তির নৈকট্য অনুভব করায়।
সম্ভবত ইউসুফ আলাইহিস সালাম ও তাঁর দুই সহবন্দির কাহিনীতে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, একজন বন্দি অন্যের তুলনায় বেশি স্বপ্ন দেখে এবং তা নিয়ে আলোচনা করে। বিশেষ করে যখন সে জানে যে সকল দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, তখন সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হয়; ফলে তার হৃদয়ে এমন স্বচ্ছতা তৈরি হয় যা কারাগারের বাইরে থাকাকালীন অর্জিত হয় না।
একজন দাঈর জন্য এটিই সমীচীন যে, তিনি স্বপ্ন ও দর্শনের বর্ণনায় পরিমিতিবোধ বজায় রাখবেন। তিনি যেন একেই তার উপদেশের মূল ভিত্তি বা বুনন না বানান এবং একে শরয়ী দলীলসমূহের স্থলাভিষিক্ত না করেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন সাহাবীদের দিকে ফিরে বসতেন এবং বলতেন: "তোমাদের কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছো?" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لكنه صلى الله عليه وسلم حَدَّدَ فائدة الرؤيا بـ "التبشير"، وما في معناه -والله أعلم- كالتحذير، أما التشريع فلا تشريع في يقظة ولا منام بعد موته عليه الصلاة والسلام.
وليس كل ما يراه الإنسان في المنام رؤيا، بل هناك "الحُلْم" (1)، وهو من الشيطان، وقد نَهَى النبي صلى الله عليه وسلم أن يُخْبِرَ الإنسان بتَلَاعُبِ الشيطان به في المنام (2).
وهناك حديث النفس، فَإِذَا شغل أمر من الأمور بال الإنسان تراءى له في المنام.
وقد يكون ما يراه بسبب اعتلال المزاج واختلاله، أو الشبع أو الجوع أو غيرهما.
وكان أحد الروائيين المشهورين يأكل أكلة ثقيلة، ثم ينام، فإذا استيقظ دوَّن ما رأي على شكل "رواية" أو قصة يتداولها الناس، ويتعجبون من خيال هذا الكاتب! (3).
ومرة أخرى يجب التأكيد أن الداعية أو الواعظ لا يجدر به أن يَتَسَاهَلَ في
--------------------------------------------
তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বপ্নের উপকারিতাকে ‘সুসংবাদ’ এবং এর সমার্থবোধক বিষয়—যেমন সতর্কবার্তা (আল্লাহই ভালো জানেন)—এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। আর শরয়ি বিধানের (তাশরি‘) ক্ষেত্রে কথা হলো, তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের পর জাগ্রত অবস্থায় হোক বা স্বপ্নে, নতুন কোনো বিধান প্রবর্তনের সুযোগ নেই।
মানুষ ঘুমের ঘোরে যা কিছু দেখে তার সবটুকুই ‘রুইয়া’ (স্বপ্ন) নয়, বরং সেখানে ‘হুলম’ (১) বা শয়তানি স্বপ্নও রয়েছে যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমের মধ্যে শয়তানের প্ররোচনা বা ক্রীড়া সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করেছেন (২)।
আবার মনের কল্পনাপ্রসূত চিন্তাও (হাদিসুন নাফস) রয়েছে; যখন কোনো বিষয় মানুষের চিন্তাজগতকে আচ্ছন্ন করে রাখে, তখন তা স্বপ্নে দৃশ্যমান হয়।
কখনো কখনো দেখা বিষয়টি শারীরিক মেজাজ বা প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতা, অতিভোজন, ক্ষুধা বা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে।
জনৈক প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ভারি খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন; এরপর ঘুম থেকে জেগে যা দেখতেন তা ‘উপন্যাস’ বা গল্পের আকারে লিখে রাখতেন যা মানুষের মাঝে প্রচার হতো। আর মানুষ সেই লেখকের কল্পনাশক্তির বিস্ময়কর প্রকাশ দেখে অভিভূত হতো! (৩)।
আরও একবার এ বিষয়ে জোর দেওয়া প্রয়োজন যে, একজন দাঈ বা ওয়ায়েজের (ধর্মোপদেশক) উচিত নয় যে তিনি কোনো বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলু বিলা উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حكاية الروايات الواهية، والموضوعة، والمشكوك فيها .. أن فلانًا رأى، وفلانًا رأى .. ورأى رجل صالح فيما يرى النائم .. ورأت امرأة صالحة.
وما يدرينا نحن عن صلاحها؟ وقد يكون الإنسان ظاهرُهُ الصلاح، لكن فيه "غفلة الصالحين"، فيحدِّث بكل ما يسمع.
وفي "مقدمة صحيح مسلم" عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: "كَفَى بِالمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّث بِكُلِّ مَا سَمِعَ" (1).
إن مما يؤخذ على بعض الدُّعَاة والمصلحين حَشْدَهِمْ لهذه الأقاصيص، وهذه الرؤى، والأحلام، وتوثيقهم لها، بدون تثبت، وعدم تقدير نوعية المخاطَبين، ومستوى عقولهم.
وخلاصة الأمر: ألَّا يستكثر الواعظ من سرد الرؤى، بل يجعلها كالمِلح، إن زاد ضَرَّ، وإن نقص ضر، على أن يكون وفق الضوابط التالية:
- لا يترتب عَلَيْهَا حَلَالٌ وَلَا حَرَامٌ وَلَا تَشْرِيعٌ.
- لَا تَكُونُ مُشْتَمِلَةً علَى تَهْوِيلٍ أوْ مُبَالَغَةٍ يَأبَاهَا العَقْلُ السَّلِيمُ، فَإِنَّ العُلَمَاءَ عَدُّوا المُبَالَغَةَ في الحَدِيثِ مِنَ الأَدِلَّةِ عَلَى وَضْعِهِ .. فَمَا بَالُكَ بِالرُّؤيَا؟
- أَلَّا يُرْبَط إِيَمانُ النَّاسِ بِهَا، بَلْ يُوَجَّهُونَ إلى الكِتَابِ والسُّنَّةِ، ويُرَبَّوْنَ على تَعْظِيمِهِمَا، والرُّؤَيَا لَا تَعْدُو أنْ تكُونَ مُبَشِّرَةً أو مُحَذِّرَةً.
- أَلَّا يَتَسَرَّعَ في التَّوْثيقِ في أُمُورٍ لَمْ يَطَّلِعْ عَلَيْهَا بِنَفْسِهِ، وَلَا يُبَالِغَ في حُسْنِ الظَّنِّ بِمُحَدِّثيهِ.
ْعلى أن يُشْرَحَ للناس الموقف الشرعي الصحيح من الرؤيا، وأنواع ما يراه الإنسان في المنام، وآداب الرؤيا .. إلخ). اهـ (2)
--------------------------------------------
ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং সন্দেহজনক বর্ণনাসমূহের অবতারণা করা.. যে অমুক দেখেছে, অমুক দেখেছে.. কোনো এক নেককার ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেছেন.. কোনো এক নেককার নারী দেখেছেন।
আমরা তাদের নেককার হওয়ার বিষয়ে কী জানি? কখনো কোনো মানুষের বাহ্যিক অবস্থা নেককার মনে হলেও তার মধ্যে "নেককারদের অসাবধানতা" বিদ্যমান থাকে, ফলে সে যা-ই শোনে তা-ই বর্ণনা করে বেড়ায়।
"সহিহ মুসলিমের ভূমিকা"য় আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই (যাচাই না করে) বর্ণনা করে" (১)।
কিছু দাঈ এবং সংস্কারকদের ক্ষেত্রে একটি আপত্তিকর বিষয় হলো এই যে, তারা এই ধরনের কিচ্ছা-কাহিনী, স্বপ্ন এবং কল্পনাসমূহ সংগ্রহ করেন এবং কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেগুলোকে প্রামাণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেন; উপরন্তু তারা শ্রোতাদের ধরন এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরের প্রতিও খেয়াল রাখেন না।
সারকথা হলো: ওয়াজকারীদের উচিত নয় অত্যধিক স্বপ্নের বর্ণনা দেওয়া, বরং বিষয়টিকে লবণের মতো ব্যবহার করা উচিত; যা বৃদ্ধি পেলে যেমন ক্ষতি করে, তেমনি কমে গেলেও ক্ষতি করে। তবে তা নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে:
- এর ওপর ভিত্তি করে কোনো হালাল, হারাম কিংবা নতুন কোনো শারয়ি বিধান সাব্যস্ত হবে না।
- এতে এমন কোনো আতঙ্ক বা অতিরঞ্জন থাকবে না যা সুস্থ বিবেক প্রত্যাখ্যান করে। কেননা উলামায়ে কেরাম হাদিসের মধ্যে অতিরঞ্জন থাকাকে তা বানোয়াট হওয়ার অন্যতম আলামত হিসেবে গণ্য করেছেন.. তবে স্বপ্নের অবস্থা কী হবে?
- মানুষের ইমানকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে না, বরং তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে পরিচালিত করতে হবে এবং সেই দুটির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতায় গড়ে তুলতে হবে। আর স্বপ্ন কেবল সুসংবাদ অথবা সতর্কবার্তার অতিরিক্ত কিছু নয়।
- যেসব বিষয় তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেননি, সেগুলোকে প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণে তাড়াহুড়ো করবেন না এবং বর্ণনাকারীদের প্রতি সুধারণা পোষণের ক্ষেত্রে কোনো অতিরঞ্জন করবেন না।
সেই সঙ্গে মানুষের সামনে স্বপ্নের ব্যাপারে সঠিক শারয়ি অবস্থান, মানুষ ঘুমের মধ্যে যা যা দেখে তার প্রকারভেদ এবং স্বপ্নের আদবসমূহ ইত্যাদি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে হবে। - সমাপ্ত (২)
--------------------------------------------