(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: -)
مجمع الزوائد ومنبع الفوائد ت حسين أسد القسم: كتب السنة
الكتاب: مَجْمَعُ الزَّوَائِدِ وَمَنْبَعُ الفَوَائِدِ
المؤلف: أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807 هـ)
حَقَّقَهُ وَخَرَّجَ أَحَادِيثَهُ: حسين سليم أسد الدّاراني [ت 1443 هـ]
الناشر: دَارُ المَأْمُون لِلتُّرَاثِ
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 ذو الحجة 1433
মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ - হুসাইন আসাদ তাহকীককৃত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ
লেখক: আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী ইবনে আবি বকর ইবনে সুলাইমান আল-হাইসামি (মৃ. ৮০৭ হি.)
তাহকীক ও হাদীস তাখরীজ: হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানি [মৃ. ১৪৪৩ হি.]
প্রকাশক: দারুল মামুন লিত-তুরাস
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩ যিলহজ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: -)
مَجْمَعُ الزَّوَائِدِ وَمَنْبَعُ الفَوَائِدِ
لِلحَافِظِ نُورِ الدِّينِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي بَكْر الهَيْثَمِي
المتَوَفَّى سنة 807 هـ
الجزْء الأوَّل
حَقَّقَهُ وَخَرَّجَ أَحَادِيثَهُ
حسين سليم أسد الدّاراني
دَارُ المَأْمُون لِلتُّرَاثِ
دمشق - ص. ب 4971 - بيروت - ص. ب 6433/ 113
মজমাউজ যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ
হাফেজ নূরুদ্দীন আলী ইবনে আবু বকর আল-হাইসামীর রচিত
মৃত্যু: ৮০৭ হিজরি
প্রথম খণ্ড
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও হাদিসের সূত্র যাচাই করেছেন
হুসাইন সেলিম আসাদ আদ-দারানি
দারুল মামুন লিত-তুরাস
দামেস্ক - পোস্ট বক্স: ৪৯৭১ - বৈরুত - পোস্ট বক্স: ৬৪৩৩/ ১১৩
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدِّمة التّحقيقإنَ الحَمد لله، نحمدُهُ وَنَسْتعينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرورِ أَنْفُسِنَا وَمِن سَيئاتٍ أَعْمَالِنَا.
مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ، فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ، فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70 - 71].
"وأحمد الله حمد الشاكرين على عظيم نعمائه وجميل بلائه، وأسأله تعالى أن يكف عنا نوائب الزمان، وأرغب إليه في التوفيق والعصمة، وأبرأ إليه من الحول والقوة، سائله يقيناً يملأ الصدر ويعمر القلب، ويستولي على النفس حتى يَكُفَّها إذا نزعت، ويردها إذا تطلعت. فالخير والشر بيده، والنعم كلها من عنده، لا سلطان لأحد مع سلطانه، نوجه رغباتنا إليه، ونخلص نِياتنا في التوكل عليه: أن يجعلنا ممَّن همُّه الصدق، وبغيته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলসমূহের মন্দতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে দাবি করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহজাব: ৭০ - ৭১]।
"আমি কৃতজ্ঞদের মতো আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর মহান নিয়ামতসমূহ এবং তাঁর সুন্দর পরীক্ষার জন্য। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের থেকে সময়ের বিপদ-আপদসমূহ দূর করে দেন। আমি তাঁর কাছে তাওফিক ও হিফাজত কামনা করি এবং নিজের যাবতীয় উপায়-উপকরণ ও শক্তি থেকে মুক্ত হয়ে কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী হই। আমি তাঁর কাছে এমন ইয়াকিন প্রার্থনা করি যা বক্ষকে পূর্ণ করবে, অন্তরকে আবাদ করবে এবং নফসের ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে যা তাকে মন্দ প্রবণতা থেকে বিরত রাখবে এবং জাগতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সময় তাকে ফিরিয়ে আনবে। সকল কল্যাণ ও অকল্যাণ তাঁরই হাতে এবং সকল নিয়ামত তাঁর পক্ষ থেকেই আসে। তাঁর সার্বভৌমত্বের সাথে অন্য কারও কোনো কর্তৃত্ব নেই। আমরা আমাদের সকল আকাঙ্ক্ষা তাঁর দিকেই নিবদ্ধ করি এবং তাঁর ওপর ভরসা করার ক্ষেত্রে আমাদের নিয়তকে খাঁটি করি; যেন তিনি আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের একমাত্র চিন্তা হলো সত্যনিষ্ঠা এবং যাদের লক্ষ্য হলো..."
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحق، وغرضه الصواب.
ونعوذ بالله من ادعاء شيء لا نعلمه، ونسأله متوجهين إليه تعالى أن لا يجعلنا مِمَّن يعجبهم أن يجادلوا بالباطل ويموهوا على السامع، ولا من الذين قال فيهم: {لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 188].
اللهم سدد خطانا، وخذ بيدنا إلى الحق والخير، اهدنا فيما اختلف فيه إلى الحق بإذنك يا أكرم مسؤول، ويا أسرع من يجيب" (1).
أما بعد فإن الحمد لله الذي خلق الإنسان وجهزه بجهاز الحس والفكر، ولفت نظره إلى عظيم هذه القدرة، وجزيل هذه النعمة اللذين يفرضان على الإنسان عميق الشكر والامتنان فقال تعالى: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [النحل: 78].
وقال أيضاً: {قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ} [الملك: 23].
لقد خلق الله الإنسان لعبادته في إطار إعمار الأرض واستثمار خيراتها، وحسن استخدامها، والعدل في توزيع خيراتها وعطاءاتها، ولكنه لم يتركه يتخبط في عشواء محاولاً أن يعبد ربه وفق ما يخترعه من طرق، أو ما يستحسنه ويروق له من أساليب، فأرسل له الرسل مبشرين ومنذرين، وختمهم بالرسول العظيم خاتم المرسلين، الذي أوتي القرآن ومثله معه:
القرآن العظيم، والسنة المطهرة وهما البرنامج العام للعقل الإنساني، فهو على الصراط المستقيم ما دام منفذاً ما أمرا به، مبتعداً عما نهيا عنه، لأن
--------------------------------------------
সত্য, এবং তার উদ্দেশ্য সঠিকতা।
আর আমরা যে বিষয়ে জানি না তা দাবি করা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর অভিমুখী হয়ে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন, যারা মিথ্যার মাধ্যমে বিতর্ক করা পছন্দ করে এবং শ্রোতার কাছে সত্যকে অস্পষ্ট করে দেয়। আর না তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "যারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে আনন্দিত হয় এবং যা তারা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, আপনি তাদের আজাব থেকে মুক্ত মনে করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব" [আল-ইমরান: ১৮৮]।
হে আল্লাহ, আমাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাদের হাত ধরে সত্য ও কল্যাণের দিকে নিয়ে যান। যে বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে তাতে আপনার অনুমতিতে আমাদের সত্যের দিশা দিন, হে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং হে দ্রুততম সাড়াদানকারী (১)।
অতপর, নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে পঞ্চেন্দ্রিয় ও চিন্তাশক্তি দিয়ে সজ্জিত করেছেন। আর এই মহান কুদরত ও বিশাল নেয়ামতের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা মানুষের ওপর গভীর কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার করাকে অপরিহার্য করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো" [আন-নাহল: ৭৮]।
وقال أيضاً: {বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় দান করেছেন; তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} [আল-মুলক: ২৩]।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীকে আবাদ করা, এর কল্যাণসমূহ কাজে লাগানো, সেগুলোর উত্তম ব্যবহার এবং এর প্রাপ্তি ও দানসমূহ বণ্টনের ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কাঠামোর মধ্যে। কিন্তু তিনি মানুষকে অন্ধকারে হাতড়ানোর জন্য ছেড়ে দেননি যে, সে তার রবের ইবাদত করবে নিজের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে কিংবা নিজের পছন্দনীয় ও রুচিসম্মত পন্থায়। বরং তিনি তাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসুলগণকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন মহান রাসুল, সর্বশেষ নবীকে দিয়ে, যাকে কুরআন এবং তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে:
মহাগ্রন্থ কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ; এ দুটি হলো মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির জন্য সাধারণ জীবনবিধান। মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক পথে থাকবে যতক্ষণ সে এই দুইয়ের আদেশ পালন করবে এবং তাদের নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকবে, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الله هو الذي خلق بعلمه وقدرته، وأرشد وهدى بلطفه ورحمته، فأرسل إلى الإنسان ما يحقق إنسانيته ويرشده إلى قيمة القيم في السلوك الإنساني والحياة البشرية بامتدادها الأفقي، وعمقها الشاقولي، ومن المسلم به أن مخترع الحاجة أعلم بما يصونها ويحفظها من التلف، وهو الأدرى بإصلاحها إن أصابها شيء من عطب، فالله هو الخالق، والله هو الهادي، والله على كل شيء قدير: {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ}.
وما أجمل وصف الرسول الكريم لما أتى به، وما أوجز عبارته وأعمقها تحذيراً من التفلتْ وترغيباً في الالتزام حيث قال: "أَلَا وَإِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَلَيْنِ: أَحَدُهُمَا كِتَابُ اللهِ عز وجل هُوَ حَبْلُ اللهِ، مَنِ اتَّبَعَهُ، كَانَ عَلَى الْهُدَى، وَمَنْ تَرَكَهُ، كَانَ عَلَى ضَلَالَةٍ"
… مسلم (2408) (37). وحيث قال: "تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ الله، وَسُنَّتِي".
لقد آمن الصحابة الكرام الإيمان العميق بصدق الرسالة وخيرها فاحتضنوها وأحاطوها بمقل العيون، بل زرعوها في سويداء القلوب، وحولوا ما جاء فيها من مبادئ إلى سلوك يومي لأنها دستور الإصلاح العام: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ}.
فهي تهذيب للنفس وسمو بها إلى عالم الأمن والأمان والسلامة والإسلام، ترسم لها أسلوب التعامل مع ذاتها، وتوضح لها أطر العلاقات مع الخلق الذين هم عيال الله، وتزرع في عمقها "أَن أَحَبَّ الْخَلْقِ إلَى الله أَنْفَعُهُمْ لِعِيَالِهِ".
وهي تهذيب للمجتمع حتى لا يُفْرِطَ ولا يُفَرِّط، فهو الحامي للفرد من كل طغيان، وهو الصاعد بالفرد من حدود الذات، فالمجتمع كالجسم يكون سليماً بسلامة أعضائه. ولكنه يضعف إذا اعتل أحد الأعضاء، فهو الذي
আল্লাহ তিনিই যিনি তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার দ্বারা পথ প্রদর্শন করেছেন। অতঃপর তিনি মানুষের কাছে এমন বিষয়াদি প্রেরণ করেছেন যা তার মানবতাকে সার্থক করে এবং তাকে মানবীয় আচরণ ও মানবজীবনের আনুভূমিক বিস্তৃতি ও উলম্ব গভীরতায় মূল্যের সর্বোচ্চ মানে পরিচালিত করে। এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, কোনো উদ্ভাবিত বস্তুর উদ্ভাবক সেই বস্তুটিকে ক্ষয় ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষা ও সংরক্ষণের বিষয়ে অধিক অবগত থাকেন, এবং তাতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সংস্কারের বিষয়ে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। সুতরাং আল্লাহই স্রষ্টা, আল্লাহই পথপ্রদর্শক এবং আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান: "যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত।"
রাসুল করীম (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তার বর্ণনা কতই না চমৎকার, আর বিচ্যুতি থেকে সতর্ক করতে এবং আনুগত্যে উৎসাহিত করতে তাঁর বাক্য কতই না সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর! যেখানে তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি: যার একটি হলো মহান আল্লাহর কিতাব, যা আল্লাহর রশি; যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করবে সে হেদায়েতের ওপর থাকবে, আর যে এটি পরিত্যাগ করবে সে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হবে।"
… মুসলিম (২৪০৮) (৩৭)। এবং যেখানে তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।"
সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এই রিসালাতের সত্যতা ও কল্যাণের প্রতি গভীর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, ফলে তাঁরা একে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন এবং চোখের মণির ন্যায় সযত্নে আগলে রেখেছিলেন। বরং তাঁরা একে হৃদয়ের অন্তঃস্থলে গেঁথে নিয়েছিলেন এবং এর মূলনীতিগুলোকে প্রাত্যহিক আচরণে রূপান্তর করেছিলেন। কারণ এটি হলো সামগ্রিক সংস্কারের মূলতন্ত্র: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিশা দেয় যা সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ় ও সঠিক।"
এটি আত্মার পরিশুদ্ধি এবং একে নিরাপত্তা, শান্তি ও ইসলামের জগতের উচ্চতায় আসীন করে। এটি মানুষের নিজের সাথে আচরণের পদ্ধতি চিত্রায়িত করে এবং সৃষ্টির সাথে সম্পর্কের কাঠামো স্পষ্ট করে, যারা হলো আল্লাহর পরিজন। এটি অন্তরের গভীরে প্রোথিত করে দেয় যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মাঝে সেই সবচেয়ে বেশি প্রিয় যে তাঁর পরিজনের (সৃষ্টির) জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।"
এটি সমাজেরও সংস্কার যাতে সমাজ সীমালঙ্ঘন কিংবা অবহেলা না করে। এটি ব্যক্তিকে সব ধরনের স্বৈরাচার থেকে রক্ষা করে এবং ব্যক্তিকে আমিত্বের গণ্ডি থেকে ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। সমাজ একটি দেহের মতো, যা তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থতার মাধ্যমে সুস্থ থাকে। কিন্তু যদি কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তা দুর্বল হয়ে যায়। তিনিই তো...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عليه أن يأخذ منه إذا احتاج، ولكن دون إرهاق، وهو الذي عليه أن يقدم له ما يحتاج إليه أمثاله نوعاً وكمّاً إذا عرض لهذا الفرد ما يجعله بحاجة إلى هذا الإمداد.
وهي التي تحدد العلاقة بين الخالق والمخلوق بأسلوب عملي واضح لا مجال فيه لاجتهاد مجتهد، أو افتراء متنطع، "صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي"، و"خُذُوا عَنِّي مَنَاسِكَكُمْ"، و"مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرَنَا هذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ، فَهُوَ رَدٌّ".
لذلك فإن الصحابة قد حملوا هذه الرسالة أمانة أغلى عندهم من أموالهم وأولادهم بل ومن أنفسهم، فوقَّعوا على صك البيع: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ
… } وهم مختارون فرحون بهذا الفوز العظيم.
ثم تلا أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم أولئك الذين: {اتَّبَعُوهُمْ بِإحْسَانٍ رَضِيَ الله عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
… } [التوبة: 100]. وهم الذين اختارهم الله عز وجل لإقامة دينه، وخصَّهم بحفظ فرائضه وحدوده، وأمره ونهيه، وأحكامه جميعها، وسنن رسوله المبينة لها، فحفظوا عن الصحابة ما فقهوه وأتقنوه علماً وعملاً، ثم علَّموه للأئمة الثقات الذين جمعوا السنة مما كتب الكاتبون (1) وحفظ الحافظون. وقد أخذ هؤلاء الأئمة عن كتب شيوخهم الذين يكتبون كما أخذوا عن الحفاظ الذي اكتفوا بالحفظ ولم يكتبوا، وجمعوا هذا إلى ذاك بالطرق المختلفة التي كانت معروفة آنذاك في التأليف والتصنيف.
لقد جمعوها بإفراد أبواب الفقه باباً باباً كما فعل الشعبي الذي روي عنه
--------------------------------------------
প্রয়োজন হলে তাকে তা থেকে গ্রহণ করতে হবে, তবে কোনো রূপ ক্লান্তিকর চাপ প্রয়োগ ছাড়াই। আর তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে তার সমপর্যায়ের মানুষদের যা প্রয়োজন—তা গুণগত ও পরিমাণগতভাবে প্রদান করতে হবে, যদি সেই ব্যক্তির নিকট এমন কিছু ঘটে যা তাকে এই সাহায্যের মুখাপেক্ষী করে তোলে।
এটিই স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্ককে একটি বাস্তব ও স্পষ্ট পদ্ধতিতে নির্ধারিত করে দেয়, যেখানে কোনো গবেষণাকারীর মনগড়া ইজতিহাদ কিংবা কোনো অতিশয় কট্টরবাদীর মিথ্যাচারের সুযোগ নেই; "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ", এবং "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো", এবং "যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের বিষয়ে নতুন কোনো কিছুর উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত"।
তাই সাহাবীগণ এই বার্তাকে এমন এক আমানত হিসেবে বহন করেছিলেন যা তাদের কাছে তাদের সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এমনকি নিজেদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় ছিল। ফলে তারা কেনাবেচার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য জান্নাত রয়েছে...} এবং তারা এই মহান সাফল্যে স্বেচ্ছায় আনন্দিত ছিলেন।
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সাহাবীগণের পরে এলেন সেই সব ব্যক্তিরা যারা: {নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে...} [আত-তাওবা: ১০০]। তারাই সেই সব লোক যাদেরকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর ফরযসমূহ, হদসমূহ, আদেশ-নিষেধ, তাঁর সমস্ত বিধান এবং সেগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনাকারী রাসূলের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য বিশিষ্ট করেছেন। ফলে তাঁরা সাহাবীগণের নিকট থেকে সেই জ্ঞান ও আমল সংরক্ষণ করেছেন যা সাহাবীগণ অনুধাবন ও আয়ত্ত করেছিলেন। অতঃপর তাঁরা তা সেই নির্ভরযোগ্য ইমামদের শিক্ষা দিয়েছিলেন যারা লেখকদের লিখিত পাণ্ডুলিপি (১) এবং হাফেযদের স্মৃতি থেকে সুন্নাহ সংকলন করেছিলেন। এই ইমামগণ তাঁদের সেই শিক্ষকদের কিতাব থেকে গ্রহণ করেছিলেন যারা লিখে রাখতেন, যেমন তাঁরা সেই সকল হাফেযদের থেকে গ্রহণ করেছিলেন যারা কেবল মুখস্থের উপর নির্ভর করতেন এবং লিখতেন না। তাঁরা এই উভয় পদ্ধতিকে সেই সময়ে সংকলন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিভিন্ন উপায়ে একত্রিত করেছিলেন।
তাঁরা ফিকহ-এর অধ্যায়গুলোকে একটি একটি করে আলাদা করে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে তা সংগ্রহ করেছিলেন, যেমনটি করেছিলেন শাবী, যাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أنه قال: هذا باب من الطلاق جسيم وساق فيه أحاديث.
كما جمعوها أبواباً وأحكاماً فمزجوا بين الحديث وفتاوى الصحابة كما فعل مالك في "الموطأ" وقد توخى جمع القوي من أحاديث أهل الحجاز ومزجه بأقوال الصحابة وفتاوى التابعين.
وقد استقصى هذا فجمع وأوعى عبدُ الرزاق (211) هـ، وأبو بكر بن أبي شيبة (235) هـ.
ثم رأى كثير من الأئمة أن يفردوا حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فأصبحتَ قلّما تجد إماماً من الحفاظ إلا وله مسند: كالطيالسي، والإمام أحمد، وإسحاق بن راهويه، والبزار وأبي يعلى الموصلي.
ومن الحفاظ من رتب على العلل فجمع لكل متن طرقه، واختلاف الرواة فيه بحيث يتضح إرسال ما يبدو متصلاً. ووقف ما يبدو أنه مرفوع.
ثم أصبح التأليف الأغلب الذي صار سائداً والتأليف على الأبواب بغير تمييز بين درجات الحديث. ثم بدا لبعض الحفاظ أن يتقيد بالصحيح، فكانت التجربة الفذة التي قام بها الإمام البخاري، والتي تابعه عليها مسلم بن الحجاج النيسابوري.
وقام حفاظ آخرون بإفراد الحديث الصحيح جملة، فكانت محصلة ذلك صحيح ابن خزيمة.
غير أن ابن حبان تلميذ ابن خزيمة قام بتجربة أوسع على غير الطريقة التي أصبحت مألوفة في التأليف، فابتاع طريقة رأى بعض العاملين في هذا الميدان الشريف أنها عسرة، ورأينا غير ذلك. فهجر ابن حبان، وهُجر صحيحه إلى أن قام ابن بلبان بإعادة ترتيبه على أبواب الفقه وقد بينا ذلك في مقدمتنا لهذا الصحيح -طبعة أولى- الذي قامت بنشره مؤسسة الرسالة.
ولقد اعتنى المحدثون بالكتب الستة، ووضعوا عليها الأطراف، كما
তিনি বলেন: এটি তালাকের একটি গুরুতর অধ্যায় এবং তিনি এতে হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন।
যেভাবে তারা এগুলোকে অধ্যায় ও বিধান হিসেবে সংকলিত করেছেন, ফলে তারা হাদিস এবং সাহাবীদের ফতোয়ার মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন; যেমনটি মালিক "মুয়াত্তা"-এ করেছেন। তিনি হিজাযবাসীদের হাদিসগুলোর মধ্যে শক্তিশালীগুলোকে সংকলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন এবং সেগুলোকে সাহাবীদের বাণী ও তাবিঈদের ফতোয়ার সাথে মিশ্রিত করেছিলেন।
আর আব্দুর রাজ্জাক (২১১ হি.) এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (২৩৫ হি.) এটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অন্বেষণ করেছেন, সংকলন করেছেন এবং সংরক্ষণ করেছেন।
এরপর অনেক ইমাম আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসগুলোকে পৃথক করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে আপনি খুব কম হাফেজে হাদিস ইমামই পাবেন যাদের নিজস্ব ‘মুসনাদ’ নেই: যেমন তায়ালিসি, ইমাম আহমাদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আল-বাযযার এবং আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি।
হাফেজদের মধ্যে কেউ কেউ ‘ইলাল’ (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এর ওপর ভিত্তি করে হাদিস সাজিয়েছেন, ফলে প্রতিটি মতনের (মূল পাঠ) জন্য এর বিভিন্ন সূত্রগুলো এবং এতে বর্ণনাকারীদের পার্থক্যগুলো সংকলন করেছেন, যাতে যা মুত্তাসিল (সংযুক্ত) মনে হয় তার ইরসাল (বিচ্ছিন্নতা) স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং যা মারফু (নবীজি পর্যন্ত পৌঁছানো) মনে হয় তার ওয়াকফ (সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা) প্রকাশ পায়।
এরপর সংকলনের যে ধারাটি প্রচলিত ও প্রধান হয়ে ওঠে তা হলো হাদিসের স্তরের মধ্যে পার্থক্য না করে অধ্যায়ভিত্তিক সংকলন। অতঃপর কিছু হাফেজে হাদিসের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, শুধু সহিহ হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। ফলে ইমাম বুখারি এক অনন্য প্রচেষ্টা পরিচালনা করেন এবং মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নিশাপুরি তাকে অনুসরণ করেন।
অন্যান্য হাফেজগণও সামগ্রিকভাবে সহিহ হাদিসকে পৃথক করার কাজ সম্পন্ন করেন, যার ফলাফল ছিল সহিহ ইবনে খুজাইমা।
তবে ইবনে খুজাইমার ছাত্র ইবনে হিব্বান সংকলনের সেই প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আরও ব্যাপক এক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি এমন এক পথ বেছে নেন যাকে এই মহান ক্ষেত্রের কিছু গবেষক কঠিন মনে করতেন, কিন্তু আমরা তা ভিন্নভাবে দেখেছি। ফলে ইবনে হিব্বানকে এবং তার সহিহ গ্রন্থটিকে বর্জন করা হয়েছিল (বা অবহেলিত ছিল), যতক্ষণ না ইবনে বালবান একে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী পুনরায় বিন্যস্ত করেন। আর আমরা এই সহিহ গ্রন্থের ‘মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ’ কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় এটি বর্ণনা করেছি।
আর মুহাদ্দিসগণ ‘কুতুবে সিত্তা’ (ছয়টি গ্রন্থ) এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং সেগুলোর ওপর ‘আতরাফ’ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন—
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وضعت المستخرجات على الصحيحين، والمستدرك عليهما. ثم رأى جماعة من الحفاظ أن يجمع بين الكتب المعروفة في موضع واحد، فجمع الحميدي بين الصحيحين، وجمع ابن الأثير الكتب الستة في "جامع الأصول" وجاء علي بن أبي بكر الهيثمي -بإشارة شيخه الحافظ العراقي وإرشاده- ليجعل من الزوائد تكملة لما وصل إليه من سبقه.
فم
ا الزوائد هذه، ومن الحافظ الهيثمي رحمه الله؟
أ- الزوائد
إذا أطلقت كلمة "الزوائد" أريد بها الأحاديث التي يزيد بها كتاب في الحديث مسنداً كان أو معجماً على الكتب الستة.
وقد قام علماء أفاضل باستخلاصها من المسانيد والمعاجم المرتبة على أسماء الشيوخ والتي لم ترتب على أبواب الفقه، لأن البحث فيها عن حديث ما صعب وعسير، ويستهلك الوقت الطويل والجهد الكبير، فأرادوا -جزاهم الله خيراً- أن يوفروا هذا الجهد، وهذا الوقت على الباحثين، فعرضوا هذه المسانيد، وتلك المعاجم على الكتب الستة، واستخلصوا منها ما زاد على ما جاء في هذه الكتب، ثم أضافوا إلى ذلك ما أخرجه بعض أصحاب الكتب الستة من طريق أخرى انفرد بها أصحاب المعاجم والمسانيد، أو أخرجوه وكان فيه بعض زيادة أو اختلاف في المتن أو الإسناد، وما أجمل أن يتحدث المصنف عن منهجه:
قال الهيثمي في مجمع البحرين 1/ 1: "فقد رأيت المعجم الأوسط، والمعجم الكبير لأبي القاسم الطبراني ذي العلم الغزير قد حويا من العلم ما لا يحصل لطالبه إلا بعد كشف كبير، فأردت أن أجمع كل شاردة، إلى باب من الفقه يحسن أن تكون فيه واردة، فجمعت ما انفرد به عن أهل الكتب الستة من حديث بتمامه وحديث شاركهم فيه بزيادة عنده،
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর উপর 'মুস্তাখরাজাত' এবং সেগুলোর উপর 'মুস্তাদরাক' রচিত হয়েছে। এরপর একদল হাফিজ (হাদিস বিশারদ) প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে আল-হুমাইদী সহীহাইনকে একত্রিত করেন এবং ইবনুল আসীর 'জামিঊল উসূল'-এ ছয়টি কিতাবকে (কুতুবে সিত্তা) একত্রিত করেন। অতঃপর আলী বিন আবু বকর আল-হাইসামি—তাঁর উস্তাদ হাফিজ আল-ইরাকির ইশারা ও নির্দেশনায়—তাঁর পূর্ববর্তীরা যে পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, তাকে পূর্ণতা দিতে 'জাওয়াইদ' সংকলন করেন।
তাহলে এই
জাওয়াইদ কী, এবং হাফিজ হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ) কে?
ক- জাওয়াইদ
যখন 'জাওয়াইদ' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়, তখন এর দ্বারা এমন হাদিসসমূহকে বোঝানো হয় যা কোনো হাদিসের কিতাব—তা মুসনাদ হোক বা মু'জাম—কুতুবে সিত্তার (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব) ওপর অতিরিক্ত হিসেবে নিয়ে আসে।
বেশ কয়েকজন বরেণ্য আলেম ঐ সকল মুসনাদ ও মু'জাম গ্রন্থ থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছেন যা শায়খদের (শিক্ষক) নামের ক্রমানুসারে সাজানো ছিল এবং ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত ছিল না। কারণ এগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট হাদিস খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য ছিল এবং এতে প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় হতো। তাই তারা—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—গবেষকদের এই শ্রম ও সময় বাঁচাতে চেয়েছেন। ফলশ্রুতিতে তারা এই মুসনাদ ও মু'জামগুলোকে কুতুবে সিত্তার সাথে মিলিয়ে দেখেছেন এবং ঐ কুতুবে সিত্তায় যা নেই এমন অতিরিক্ত হাদিসগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করেছেন। এরপর তারা এর সাথে যুক্ত করেছেন এমন হাদিস যা কুতুবে সিত্তার কোনো কোনো সংকলক ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন কিন্তু মু'জাম ও মুসনাদ সংকলকগণ তা বর্ণনায় একক ছিলেন, অথবা এমন হাদিস যা তারা বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাতে মতন (মূল পাঠ) বা সনদে কিছু অতিরিক্ত অংশ বা পার্থক্য ছিল। আর গ্রন্থকারের নিজের পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করা কতই না চমৎকার:
হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' ১/ ১-এ বলেছেন: "আমি দেখেছি যে অগাধ ইলমের অধিকারী আবুল কাসিম আত-তাবারানির 'আল-মু'জামুল আওসাত' এবং 'আল-মু'জামুল কাবীর' এমন ইলম ধারণ করে আছে যা অন্বেষণকারীর পক্ষে ব্যাপক অনুসন্ধান ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই আমি প্রতিটি বিক্ষিপ্ত হাদিসকে ফিকহী অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা করেছি যেখানে এটি থাকা সমীচীন। ফলে আমি ঐ সকল হাদিস একত্রিত করেছি যা কুতুবে সিত্তার সংকলকদের তুলনায় তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, চাই তা পূর্ণাঙ্গ হাদিস হোক অথবা এমন হাদিস যাতে তিনি তাদের সাথে শরিক ছিলেন কিন্তু তার কাছে অতিরিক্ত অংশ ছিল।"
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مميزاً لها بقولي: أخرجه فلان خلا كذا، أو: ذكرته لأجل كذا، ولم أره بهذا السياق، وشبه هذا".
وبذلك فقد وفروا على الباحث الجهد والوقت، ويسروا عليه الوصول إلى ما يريد من أقصر الطرق. وزودوا الباحثين بما يمكن أن يعتبر نسخة أخرى للأصول التي استخلصوا منها زوائدها، كما وثقوا نسبتها إلى أصحابها بالأسانيد المتصلة منهم إلى مؤلفيها. ولهذا كله فقد كانت كثيرة المنافع، غزيرة الفوائد.
ولم يذكر لنا مؤرخو السنة متى بدأ التأليف في هذا الباب، وأقدم ما وقعنا عليه في هذا الباب. ما قاله الحافظ ابن حجر في "لسان الميزان" 6/ 74 ترجمة مغلطاي: "ومن تخريجاته ترتيب (بيان الوهم والإيهام) لابن القطان، و (زوائد ابن حبان على الصحيحين)
… " وانظر مقدمة موارد الظمآن بتحقيقنا.
هذه هي التجربة الأولى التي وقعنا على ذكرها أثناء بحثنا، وأما التجربة الثانية التي وقعنا عليها فهي ضم زوائد الطبراني، وأبي يعلى إلى مسند أحمد الذي رتبه الحافظ ابن كثير على حروف المعجم.
ولم يذكر الهيثمي شيئاً عن الذين سبقوه في هذا الميدان، وليست لدينا تجاربهم لنعلم هل استفاد منها أم لا؟ ولنحدد مقدار هذه الفائدة إن كانت واقعة.
ولذلك فإننا نعدُّ الحافظ الهيثمي رائد هذا الميدان حتى نقع على ما يجعلنا نبدل رأينا، فقد أنضج تجربته حتى أصبحت المعين الذي نهل منه كل من جاء بعده، سواء اعترف بهذه الفائدة كالحافظ ابن حجر، أو تجاهلها كما فعل الشهاب البوصيري، غير أنهما معاً اعترفا بفضل الهيثمي في هذا المضمار وسبقه في مجال التأليف في هذا الباب المفيد.
"আমি এই বলে সেগুলোকে স্বতন্ত্র করেছি: ‘অমুক ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন কেবল অমুক বিষয় ব্যতীত’, অথবা: ‘আমি এটি অমুক কারণে উল্লেখ করেছি’, এবং ‘আমি এটি এই ধারাবাহিকতায় দেখিনি’, এবং এ জাতীয় বিষয়।"
এর মাধ্যমে তাঁরা গবেষকদের শ্রম ও সময় সাশ্রয় করেছেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ সুগম করেছেন। তাঁরা গবেষকদের কাছে এমন কিছু উপকরণ সরবরাহ করেছেন যা সেই মূল উৎসগুলোর বিকল্প পাণ্ডুলিপি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যেখান থেকে তাঁরা ‘যাওয়ায়েদ’ (অতিরিক্ত বর্ণনা) সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা মূল গ্রন্থকারদের সাথে নিজেদের নিরবচ্ছিন্ন সূত্রের মাধ্যমে সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতাও নিশ্চিত করেছেন। এই সবকিছুর কারণে এগুলো ছিল অত্যন্ত কল্যাণকর ও বহুবিধ উপকার সম্পন্ন।
সুন্নাহর ইতিহাসবিদগণ আমাদের কাছে উল্লেখ করেননি যে এই ধারার গ্রন্থ রচনা কবে শুরু হয়েছিল। এই বিষয়ে আমরা প্রাচীনতম যা পেয়েছি তা হলো হাফিজ ইবনে হাজার ‘লিসানুল মিজান’ (৬/৭৪) গ্রন্থে মুগলতাই-এর জীবনীতে যা বলেছেন: “এবং তাঁর বিন্যাস ও ব্যাখ্যা সংবলিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইবনুল কাত্তানের ‘বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম’-এর বিন্যাস এবং ‘সহীহাইন’-এর বিপরীতে ‘ইবনে হিব্বান-এর যাওয়ায়েদ’
… ”। এবং আমাদের তাহকীককৃত ‘মাওয়ারিদুজ জামআন’-এর ভূমিকা দেখুন।
আমাদের গবেষণাকালে আমরা যে প্রথম অভিজ্ঞতার বর্ণনা পেয়েছি তা হলো এটি। আর দ্বিতীয় যে অভিজ্ঞতাটি আমরা পেয়েছি তা হলো হাফিজ ইবনে কাসীর কর্তৃক আভিধানিক বর্ণানুক্রমে সাজানো ‘মুসনাদে আহমাদ’-এর সাথে তাবারানি ও আবু ইয়া’লার ‘যাওয়ায়েদ’ (অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো) সংযুক্ত করা।
আল-হায়সামী তাঁর পূর্বে এই ময়দানে যারা কাজ করেছেন তাদের সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি, আর আমাদের কাছেও তাদের সেই কাজগুলো নেই যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারতাম তিনি সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন কি না? অথবা যদি তিনি উপকৃত হয়ে থাকেন, তবে সেই উপকারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারতাম।
এই কারণে আমরা হাফিজ হায়সামীকেই এই ময়দানের পথিকৃৎ গণ্য করি, যতক্ষণ না এমন কিছু পাচ্ছি যা আমাদের মতামত পরিবর্তনে বাধ্য করবে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতাকে এতটা পরিপক্ক করেছিলেন যে তা পরবর্তী সকলের জন্য এক সুপেয় প্রস্রবণে পরিণত হয়েছিল যেখান থেকে সবাই উপকৃত হয়েছে; চাই তারা হাফিজ ইবনে হাজরের মতো এই উপকারের কথা স্বীকার করে থাকুক অথবা শিহাব আল-বুসিরির মতো তা এড়িয়ে গিয়ে থাকুক। তবে তাঁরা উভয়েই এই ময়দানে হায়সামীর শ্রেষ্ঠত্ব এবং এই উপকারী ধারার গ্রন্থ রচনায় তাঁর অগ্রগামিতার কথা স্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد أجمع مترجمو الهيثمي على أن العراقي هو من درب تلميذه على هذا الفن، قال محمد بن محمد بن فهد الهاشمي المكي في "لحظ الألحاظ" ص (239): " وأشار عليه بجمع ما في مسند الإمام أحمد من الأحاديث الزائدة على الكتب الستة، فأعانه بكتبه، وأرشده إلى التصرف في ذلك
… ".
وقد ذكر لنا الهيثمي فضل شيخه عليه وإشارته إليه في مقدمته لهذا الكتاب إذ قال: "وبعد فقد كنت جمعت زوائد مسند الإمام أحمد، وأبي يعلى الموصلي، وأبي بكر البزار، ومعاجيم الطبراني الثلاثة -رضي الله تعالى عن مؤلفيهم وأَرضاهم، وجعل الجنة مثواهم- كل واحد منهم في تصنيف مستقل، ما خلا المعجم الأوسط والصغير فإنهما في تصنيف واحد.
فقال لي سيدي وشيخي العلامة، شيخ الحفاظ بالمشرق والمغرب،
ومفيد الكبار ومَنْ دونهم، زين الدين أبو الفضل عبد الرحيم بن العراقي رضي الله عنه وأرضاه، وجعل الجنة مثوانا ومثواه. اجْمَعْ هذه التصانيف، واحذف أسانيدها لكي تجتمع أحاديث كل باب منهَا فىِ باب واحد من هذا.
فلما رأيت إشارته إلي بذلك صرفت همتي إليه، وسألت الله تسهيله والإعانة عليه. وأسأل الله تعالى النفع به إنه قريب مجيب". فأعانه الله ويسر له فكان هذا الكتاب.
وإنني أرى من الواجب علي أن أنقل هنا كلمة الناشر حسام الدين القدسي -اعترافاً بجهده، وطلباً للرحمة لنا وله- التي كتبها في نهاية الجزء الأول من طبعته. وفيها الكثير مما كنا نودّ إبرازه والحديث عنه فسبقنا رحمه الله إليه.
يقول الناشر: "بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله على توفيقه لطبع هذا الكتاب الذي جمع فيه مؤلفه الزيادات
আল-হাইসামীর জীবনীকারগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল-ইরাকীই সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর ছাত্রকে এই শিল্পে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাহাদ আল-হাশিমী আল-মাক্কী ‘লাহজুল আলহাজ’ (পৃ. ২৩৯) গ্রন্থে বলেছেন: “তিনি তাঁকে মুসনাদে ইমাম আহমাদে থাকা কুতুবুল সিত্তাহর অতিরিক্ত হাদিসগুলো একত্রিত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে নিজের কিতাবসমূহ দিয়ে সাহায্য করেন এবং তা বিন্যাসের পদ্ধতিতে তাঁকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন
… ”।
আল-হাইসামী এই গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর প্রতি তাঁর শাইখের অনুগ্রহ এবং তাঁর দেওয়া পরামর্শের কথা উল্লেখ করে বলেন: “অতঃপর, আমি মুসনাদে ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আবু বকর আল-বাযযার এবং তাবারানির তিনটি মু'জাম (আল্লাহ তাআলা তাঁদের গ্রন্থকারদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে তাঁদের আবাসস্থল করুন)-এর অতিরিক্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছিলাম। এদের প্রত্যেকটিকে স্বতন্ত্র সংকলনে বিন্যস্ত করেছিলাম, কেবল আল-মু'জামুল আওসাত ও আল-মু'জামুস সাগীর ব্যতীত; কেননা এ দুটিকে একটি সংকলনেই রাখা হয়েছিল।
তখন আমার সাইয়্যেদ এবং শাইখ, আল্লামা, পূর্ব ও পশ্চিমের হাফেজদের শাইখ,
এবং বড় ও ছোট সকলের জন্য উপকারী ব্যক্তিত্ব যয়নুদ্দীন আবুল ফজল আব্দুর রহীম ইবনুল ইরাকী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে আমাদের ও তাঁর আবাসস্থল করুন) আমাকে বললেন: এই সংকলনগুলোকে একত্রিত করো এবং সেগুলোর সনদসমূহ বিলুপ্ত করো, যাতে এর প্রতিটি অধ্যায়ের হাদিসগুলো এই গ্রন্থের একটি অধ্যায়ে একত্রিত হয়।
যখন আমি এ বিষয়ে তাঁর পরামর্শ দেখলাম, তখন আমি আমার সমস্ত মনোযোগ সেদিকে নিবদ্ধ করলাম এবং আল্লাহর কাছে তা সহজ করার ও সাহায্যের প্রার্থনা জানালাম। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে এর মাধ্যমে উপকারের প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী।” অতঃপর আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করলেন এবং তাঁর জন্য বিষয়টি সহজ করে দিলেন, যার ফলে এই কিতাবটি প্রস্তুত হলো।
আর আমি আমার ওপর এটি আবশ্যক মনে করছি যে, আমি এখানে প্রকাশক হুসামুদ্দীন আল-কুদসীর বক্তব্যটি উদ্ধৃত করি—তাঁর শ্রমের স্বীকৃতির জন্য এবং আমাদের ও তাঁর জন্য রহমত কামনায়—যা তিনি তাঁর মুদ্রিত সংস্করণের প্রথম খণ্ডের শেষে লিখেছিলেন। এতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আমরা প্রকাশ করতে এবং আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, তবে আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আমাদের আগেই তা করে গেছেন।
প্রকাশক বলেন: “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর প্রশংসা করছি এই কিতাবটি মুদ্রণের তাওফিক দান করার জন্য, যাতে এর লেখক অতিরিক্ত হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
على كتب السنن الستة من أعظم المعاجم والمسانيد: المعاجيم الثلاثة -الكبير، والأوسط والصغير- للطبراني، ومسند البزار. ومسند الإمام أحمد، ومسند أبي يعلى الموصلي.
ويذكر أحياناً بعض السنن المروية في غير هذه الكتب كصحيح ابن حبان، والأحاديث المختارة للضياء المقدسي، وغيرهما.
ورتبه على الكتب والأبواب، وتكلم على الأحاديث ورجالها تصحيحاً وتضعيفاً، وجرحاً وتعديلاً.
فهو -مع الكتب الستة- كمعلمة (دائرة معارف) للسنن النبوية التي هي الينبوع الفياض لسعادة العالمين، يرى المتبصر فيه كثيراً من الأحاديث التي لا وجود لها في الكتب المطبوعة، مما يساعد على حَلِّ المشكلات الفقهية والعلمية، وينير الطريق لفهم السنن التي اختلف الشراحُ فيها. كما يجد فيه أحاديث وفيرة تكشف عن وجوه الأحاديث التي يوهم ظاهرها التناقض، وهو خير مؤازر على تفسير السنن بالسنن.
وقد توفر الحافظ الهيثمي على تأليفه، وأعانه شيخه الحافظ الزين العراقي عليه بتحريره ونحو ذلك -كما يقول الحافظ السخاوي وغيره- ثم جاء الحافظ ابن حجر فقرأه على مؤلفه، واستدرك عليه في مواضع يسيرة، فهو إذاً كتأليف ثلاثة من أئمة الحفاظ الذين وقفوا حياتهم لخدمة السنة النبوية. رضي الله عنهم.
وقد عثرنا على الأصل العظيم لهذا الكتاب الذي عليه قراءةُ الحافظ ابن حجر على المؤلف، وفيه استدراكاته المذكورة. فقابلنا به. وأثبتنا استدراكاته كما نقلنا صورة خط الحافظ ابن حجر بهذه القراءة، وخط الصنف بإجازته له ولمن حضر القراءة، وختمنا أكثر الأجزاء بما وجد في آخرها من السماعات والبلاغات، والقراءات، وغيرها.
কুতুবুস সিত্তাহর (ছয়টি সুনান গ্রন্থের) অতিরিক্ত হিসেবে এটি শ্রেষ্ঠতম মু’জাম এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের সমাহার: তাবারানীর তিনটি মু’জাম—আল-কাবীর, আল-আওসাত এবং আস-সাগীর—তথা মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং মুসনাদে আবু ইয়া’লা আল-মাওসিলী।
এবং তিনি মাঝে মাঝে এই গ্রন্থগুলো ব্যতীত অন্য গ্রন্থে বর্ণিত কিছু সুন্নাহও উল্লেখ করেন, যেমন সহীহ ইবনে হিব্বান এবং দিয়া আল-মাকদিসীর আল-আহাদিস আল-মুখতারাহ ও অন্যান্য গ্রন্থ।
তিনি এটি কিতাব ও অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন এবং হাদীস ও তার বর্ণনাকারীদের সহীহ ও যয়ীফ হওয়া এবং জারাহ (সমালোচনা) ও তা'দীল (প্রশংসা) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
অতএব এটি—কুতুবুস সিত্তাহর পাশাপাশি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর একটি কোষগ্রন্থ (বিশ্বকোষ) স্বরূপ, যা বিশ্ববাসীর সৌভাগ্যের এক অফুরন্ত প্রস্রবণ। বিজ্ঞ পাঠক এতে এমন অনেক হাদীস দেখতে পাবেন যা অন্যান্য মুদ্রিত গ্রন্থে নেই, যা ফিকহী ও ইলমী জটিলতা নিরসনে সাহায্য করে এবং সেই সুন্নাহসমূহ বোঝার পথকে আলোকিত করে যেগুলোর ব্যাখ্যায় ব্যাখ্যাকারগণ মতভেদ করেছেন। একইভাবে এতে এমন প্রচুর হাদীস পাওয়া যায় যা সেই হাদীসগুলোর প্রকৃত অর্থ উন্মোচন করে যেগুলোর বাহ্যিক রূপ বৈপরীত্যের ভ্রম সৃষ্টি করে। এটি এক সুন্নাহর মাধ্যমে অন্য সুন্নাহর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম সহায়ক।
হাফেজ হাইসামী এটি সংকলনের জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন এবং তাঁর উস্তাদ হাফেজ জাইন আল-ইরাকী এটি পরিমার্জন ও সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁকে সহায়তা করেছেন—যেমনটি হাফেজ সাখাভী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর হাফেজ ইবনে হাজার আসেন এবং এটি লেখকের নিকট পাঠ করেন এবং সামান্য কিছু স্থানে সংশোধনী যোগ করেন। সুতরাং এটি মূলত এমন তিন হাফেজ ইমামের জ্ঞানগর্ভ রচনার নির্যাস যারা তাদের জীবনকে নববী সুন্নাহর খিদমতে উৎসর্গ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন।
আমরা এই কিতাবটির একটি অত্যন্ত মূল্যবান মূল পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি যা হাফেজ ইবনে হাজার খোদ লেখকের নিকট পাঠ করেছিলেন এবং তাতে তাঁর উল্লিখিত সংশোধনীগুলোও বিদ্যমান। আমরা সেটির সাথে বর্তমান পাণ্ডুলিপিটির তুলনা করেছি। আমরা তাঁর সংশোধনীগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি, সাথে সাথে এই পাঠের মজলিসে হাফেজ ইবনে হাজারের নিজ হস্তাক্ষরের প্রতিলিপি এবং লেখকের পক্ষ থেকে তাঁকে ও মজলিসে উপস্থিতদের জন্য প্রদত্ত ইজাযতের (অনুমতি) হস্তাক্ষরের ছবিও সংযুক্ত করেছি। এছাড়া আমরা কিতাবটির অধিকাংশ খণ্ডের সমাপ্তি ঘটিয়েছি এর শেষে প্রাপ্ত শ্রবণলিপি, পৌঁছানোর সংবাদ, পাঠলিপি এবং অন্যান্য বিষয়াদি উল্লেখ করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وزيادة على ذلك فإن هذا الأصل مكتوب بخط تلميذ المؤلف أحمد بن محمد الفوي. وعارضنا بعض أجزائه بثلاث نسخ غير الأصل في مصر والشام".
رحم الله حسام الدين القدسي، وأجزل ثوابه، وإنني سأقدم الدراسة الوافية -إن شاء الله وأراد لي ذلك- في نهاية الكتاب. حيث يكون العمل تاماً والإحصائيات مهيأة أسبابها، حيث يكون الرأي مدعماً بالإحصائيات. لأن التعميم لا يفيد عالماً، ولكنه يضر بدون شك شداة العلم ومدعيه.
نسأل الله التوفيق والسداد، والتثبت والرشاد إنه على ما يشاء قدير.
وقال السيد محمد بن جعفر الكتاني في "الرسالة المستطرفة" ص (129) وهو يتحدث عن "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد": "وهو من أنفع كتب الحديث، بل لم يوجد مثله كتاب، ولا صنف نظيره في هذا الباب".
وقال الأستاذ أحمد رافع الطهطاوي -هامش ذيل طبقات الحفاظ-: "وهو من أهم كتب السنن بعد الأصول الستة، ومن يطَّلعْ عليه، يخضع لجلالة قدر مؤلفه في الحديث".
وقال الشيخ محمد عابد السندي يصف هذا الكتاب: "وهو كتاب عظيم جليل القدر، كبير الشأن، لم أر أحداً سبقه إلى هذا المنهج الجلي، رضي الله عنه رضاء لا سخط بعده".
ب- علي بن أبي بكر الهيثمي (1)
إن دراسة حياة أيّ علم من أعلام الحديث أو الفقه أو الأدب دراسة علمية يتوصل بواسطتها الدارس إلى المكونات النفسية والفكرية، ومجالات
--------------------------------------------
এ ছাড়া, এই মূল পাণ্ডুলিপিটি লেখকের ছাত্র আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফাওয়ির হস্তলিপিতে লিখিত। আমরা এর কিছু অংশ মিশর ও শামে প্রাপ্ত মূল পাণ্ডুলিপি ব্যতীত অন্য তিনটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি।
আল্লাহ হুসামুদ্দিন আল-কুদসির প্রতি দয়া করুন এবং তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, আমি গ্রন্থের শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা উপস্থাপন করব। সেখানে কাজটি সম্পন্ন হবে এবং পরিসংখ্যানের উপকরণগুলো প্রস্তুত থাকবে, যার ফলে মতামতটি পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত হবে। কেননা সাধারণীকরণ কোনো আলিমের উপকারে আসে না, বরং তা নিঃসন্দেহে ইলম অন্বেষণকারী ও ইলমের দাবিদারদের ক্ষতি করে।
আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক, সঠিকতা, দৃঢ়তা ও হিদায়াত প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম।
সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-কাত্তানি "আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা" (পৃষ্ঠা ১২৯) গ্রন্থে "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ" সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "এটি হাদিসের অন্যতম উপকারী গ্রন্থ, বরং এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায় না এবং এই বিষয়ে এর অনুরূপ কিছু সংকলিত হয়নি"।
উস্তাদ আহমাদ রাফি আত-তাহতাউয়ি—"যাইলুত তাবাকাতিল হুফফাজ"-এর টীকায়—বলেছেন: "উসুলুস সিত্তা (ছয়টি মূল গ্রন্থ)-এর পর এটি সুনান গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি এটি অধ্যয়ন করবে, সে হাদিস শাস্ত্রে এর লেখকের সুউচ্চ মর্যাদার সামনে মস্তক অবনত করবে"।
শায়খ মুহাম্মাদ আবিদ আস-সিন্ধি এই কিতাবটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি একটি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ, যার গুরুত্ব অপরিসীম। আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই স্পষ্ট পদ্ধতির অনুসরণে তাঁর আগে অগ্রগামী হয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এমনভাবে সন্তুষ্ট হোন যার পর আর কোনো অসন্তুষ্টি নেই"।
খ- আলি ইবনে আবু বকর আল-হাইসামি (১)
হাদিস, ফিকহ বা সাহিত্যের কোনো মনীষীর জীবন নিয়ে বৈজ্ঞানিক পন্থায় গবেষণা করার মাধ্যমে গবেষক তার মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদান এবং ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে জানতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الإبداع أو التخلف، وحجم العطا وتناسبه مع الفترات التي كان خلالها، لهي أشق على الدارس من غزل الصوف بدون مغزل، ومن البحث عن إبرة في بيدر من القش.
وخاصة إذا أغفلت المصادرُ المراحل التي مرت بها حياته.
إن الفترة الزمنية التي عاشها الحافظ الهيثمي تمتد من ولادته سنة (735) هـ إلى سنة وفاته وهي سنة (807) هـ. وما أكثر ما مر بالبلاد الإسلامية من أحداث في هذه الفترة الطويله العصيبة.
لقد ورثت مصر العراق في الزعامتين: الدينية والسياسية للعالم الإسلامي، كما عقد لها لواء الزعامة الفكرية والحضارية، وصارت القاهرة خليفة بغداد منذ عام (656) هـ وطوال قرون طويلة.
قال العلامة ابن خلدون (732 - 808) هـ: "واختص العلم بالأمصار الموفورة الحضارة، ولا أوفر اليوم في الحضارة من مصر، فهي أم العالم، وإيوان الإسلام، وينبوع العلم والصنائع".
لقد وجد صلاح الدين نفسه أمام تيار ضخم عميق الجذور من الفكر
--------------------------------------------
সৃষ্টিশীলতা বা অনগ্রসরতা, এবং অবদানের পরিমাণ ও তা যে সময়ের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল তার সাথে এর সামঞ্জস্য নিরূপণ করা একজন গবেষকের জন্য টেকু ছাড়া পশম বোনা এবং খড়ের গাদা থেকে সূচ খোঁজার চেয়েও অধিকতর কঠিন।
বিশেষ করে যখন উৎসসমূহ তাঁর জীবনের অতিবাহিত পর্যায়গুলোকে উপেক্ষা করে।
হাফিজ আল-হাইসামী যে সময়কাল অতিবাহিত করেছেন, তা তাঁর জন্ম হিজরী (৭৩৫) সাল থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু হিজরী (৮০৭) সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সুদীর্ঘ ও সংকটময় সময়ে ইসলামী দেশগুলোতে কত যে ঘটনাপ্রবাহ অতিবাহিত হয়েছে!
মিশর মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ইরাকের উত্তরাধিকার লাভ করে, তেমনিভাবে এর হাতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও তামাদ্দুনিক নেতৃত্বের ঝাণ্ডাও অর্পিত হয়। (৬৫৬) হিজরী সাল থেকে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে কায়রো বাগদাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওঠে।
আল্লামা ইবনে খালদুন (৭৩২ - ৮০৮ হিজরী) বলেন: "জ্ঞান-বিজ্ঞান সেই সকল জনপদে বিশেষত্ব লাভ করে যেখানে সভ্যতার চরম উৎকর্ষ ঘটেছে। আর বর্তমান সময়ে সভ্যতার উৎকর্ষের দিক থেকে মিশরের চেয়ে সমৃদ্ধ আর কিছু নেই; এটি বিশ্বের জননী, ইসলামের মহাসৌধ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার উৎসধারা।"
সালাহউদ্দীন নিজেকে চিন্তাধারার এক বিশাল ও সুগভীর শিকড়যুক্ত স্রোতের সামনে দেখতে পান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفلسفي الوافد والهجين، فقابله بحرب لا تهدأ لإحلال الفكر السني، فركز على نشر الحديث والمذاهب الأربعة، وبنى المدارس في مصر والشام، واستدعى العلماء والفقهاء، وأغراهم بالحضور، وسار خلفاؤه على سننه ونهجوا نهجه.
واستمرت سياسة المماليك في نشر المذاهب الأربعة مع التعصب الشديد لها، وبناء المدارس، والجوامع، وجمع الكتب المختلفة في التفسير والحديث وعلوم القرآن، وعلوم اللغة، والتاريخ، والجغرافيا، والسير، والطب والصيدلة.
ومع هذا كله فإن المماليك لم يدَّعوا لأنفسهم السلطة الدينية، بل احتفظوا بالسلطة الزمنية والسياسية، وكثيراً ما كان يثور الخلاف بين السلطتين الدينية والزمنية، فيمتلئ صدر العلماء بالضيق لجهل المماليك وتهورهم وظلمهم، واقرأ معي نفثه قاضي القضاة تقي الدين بن دقيق العيد المصدور إذ قال:
أَهْلُ الْمَنَاصِبِ فِي الدُّنْيَا وَرِفْعَتِهَا
… أَهْلُ الْفَضَائِلِ مَرْذُولُونَ بَيْنَهُمُ
قَدْ أَنْزَلُونَا لأنَّا غَيْرُ جِنْسِهِمُ
… مَنَازِلَ الْوَحْشِ فِي الإهْمَالِ عِنْدَهُمُ
فَمَا لَهُمْ فِىِ تَوَقِّي ضُرِّنَا نَظَرٌ
… وَلَا لَهُمْ فِي تَرَقِّي قَدْرِنَا هِمَمُ
فَلَيْتَنَا لَوْ قَدِرْنَا أَنْ نُعَرِّفَهُمْ
… مِقْدَارَهُمْ عِنْدَنَا أَوْ لَوْ دَرَوهُ هُمُ
لَهُمْ مُريحَانِ: مِنْ جَهْلٍ وَفَرْطِ غِنىً
… وَعِنْدَنَا الْمُتْعِبَانِ: الْعِلْمُ، وَالْعَدَمُ
বহিরাগত ও সংকর দর্শনকে তিনি সুন্নি চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বিরামহীন যুদ্ধের মুখোমুখি করেন। ফলে তিনি হাদীস এবং চার মাযহাবের প্রসারে মনোনিবেশ করেন, মিশর ও শামে মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং আলেম ও ফকীহদের ডেকে পাঠান ও তাদের উপস্থিত হতে উৎসাহিত করেন। তার উত্তরসূরিরা তার আদর্শ ও পথ অনুসরণ করে চলেন।
মামলুকদের নীতি চার মাযহাবের প্রসারে অব্যাহত থাকে, যার সাথে ছিল এই মাযহাবগুলোর প্রতি চরম পক্ষালম্বন। তারা মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ নির্মাণ এবং তাফসীর, হাদীস, কুরআন বিজ্ঞান, ভাষা বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল, সীরাত, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ফার্মেসি সংক্রান্ত বিভিন্ন কিতাব সংগ্রহ করতে থাকেন।
এতৎসত্ত্বেও মামলুকরা নিজেদের জন্য ধর্মীয় কর্তৃত্ব দাবি করেনি; বরং তারা পার্থিব ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। প্রায়শই ধর্মীয় ও পার্থিব ক্ষমতার মধ্যে বিরোধ দেখা দিত, ফলে মামলুকদের অজ্ঞতা, হঠকারিতা ও অবিচারের কারণে আলেমদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে পড়ত। আমার সাথে কাযীউল কুযাত তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদের সেই মর্মপীড়িত আক্ষেপটি পড়ুন, যখন তিনি বলেছিলেন:
দুনিয়া ও এর উচ্চ পদের অধিকারীদের মাঝে
… গুণী মানুষেরা লাঞ্ছিত।
যেহেতু আমরা তাদের স্বজাতীয় নই, তাই তারা আমাদের
… তাদের অবহেলার পাত্র এবং বন্য পশুর স্তরে নামিয়ে দিয়েছে।
আমাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার কোনো চিন্তা তাদের নেই
… আর আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষাও তাদের নেই।
আফসোস! আমরা যদি তাদের কাছে আমাদের দৃষ্টিতে তাদের প্রকৃত মূল্য
… কতটুকু তা জানাতে পারতাম, অথবা তারা যদি নিজেরা তা জানত।
তাদের দুটি আরামের বস্তু রয়েছে: অজ্ঞতা ও অতিরিক্ত সম্পদ
… আর আমাদের কাছে রয়েছে দুটি কষ্টের বিষয়: জ্ঞান ও অভাব।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن مظاهر الحياة الدينية عند المماليك الاحتفال بليلة النصف من شعبان، والاهتمام الزائد بالمولد النبوي، وموالد الأولياء والصالحين، وكثيراً ما تتخذ مناسبات موالد الأولياء والشيوخ مجالاً للتحرر من الأخلاق والفضيلة، وارتكاب المفاسد والشرور. وتمكنت في الناس عقيدة الكرامات لأولياء الصوفية، وكثر الحديث عما يأتون من خوارق الأعمال والكرامة في عرف البسطاء والجاهلين من الناس. وأصبح الناس يعتقدون بالتنجيم والمنجمين وعلى رأس هؤلاء الناس سلاطينهم. وقد استطاع مشايخ الصوفيين أن يدخلوا فى روع السلاطين أن بمقدروهم الكشف والتصريف والإتيان بالخوارق، وقد أحب المماليك انتشار هذا الوهم، لأن سياستهم تتطلب أناساً منصرفين عن الدنيا، زاهدين في الحياة والمال والنعيم، وهذا شيء يجيد الحديث عنه أولئك المتصوفون.
وعلى الرغم من أن سوس الفساد انتشر في بناء هذا المجتمع، فساد العسف والجور، والمصادرة، والسخرة، وعمت السرقة، والتحلل الخلقي، والفساد السياسي، والفساد الاجتماعي، والظلم الاقتصادي، فإن المماليك كانوا مهتمين بالحفاظ مظهراً على أمور الدين ورعاية أوامره ونواهيه، حتى أظهر الكثير منهم التشدد في تطبيق أحكامه ومحاربة الخارجين عليه فأخذوهم بصورة لا يقرها الشرع نفسه.
وليس أدل على ذلك من أن جماعة من الأقباط تظاهروا بالإسلام، وتسللوا إلى الوزارة والدواين فتسلطوا عليها، وتشددوا في ظلم الرعية.
قال شهاب الدين الأعرج (ت 785) هـ:
وَكَيْفَ يَرُومُ الرِّزْقَ فِي مِصْرَ عَاقِلٌ
… وَمِنْ دُونِهِ الأتْرَاكُ بِالسَّيْفِ وَالتُّرْسِ
وَقَدْ جَمَعَتْهُ الْقُبْطُ مِنْ كُلِّ وُجْهَةٍ
… لَأنْفسِهِمْ بِالرُّبْعِ وَالثُّمْنِ وَالْخُمْسِ
মামলুকদের ধর্মীয় জীবনের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ ছিল শাবান মাসের মধ্যরাত্রি উদযাপন করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস ও অলি-বুজুর্গদের জন্মোৎসবের প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা। অনেক সময় অলি এবং মাশায়েখদের জন্মোৎসবের অনুষ্ঠানগুলো নৈতিকতা ও সচ্চরিত্র বিসর্জন এবং নানাবিধ অনিষ্ট ও পাপাচার সংঘটনের ক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত হতো। সাধারণ মানুষের মাঝে সুফি অলিদের কারামতের প্রতি বিশ্বাস গেঁথে গিয়েছিল এবং সাধারণ ও মূর্খ লোকদের পরিভাষায় তারা যেসব অলৌকিক কর্ম ও কারামত প্রদর্শন করত, তা নিয়ে আলোচনার আধিক্য পরিলক্ষিত হতো। মানুষ জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতিষীদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে শুরু করেছিল এবং এই শ্রেণির মানুষের শীর্ষে ছিলেন স্বয়ং সুলতানগণ। সুফি মাশায়েখগণ সুলতানদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, তারা আধ্যাত্মিক উন্মোচন, বিশ্ব পরিচালনায় হস্তক্ষেপ এবং অলৌকিক কিছু প্রদর্শনে সক্ষম। মামলুকগণ এই ভ্রান্ত ধারণার বিস্তারকে পছন্দ করত, কারণ তাদের রাজনীতির জন্য এমন এক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ছিল যারা দুনিয়া থেকে বিমুখ এবং জীবন, সম্পদ ও ভোগ-বিলাসের প্রতি অনাসক্ত হবে; আর এটিই ছিল সেই বিষয় যা নিয়ে উক্ত সুফিরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কথা বলতেন।
যদিও এই সমাজের অবকাঠামোতে দুর্নীতির ঘুণপোকা ছড়িয়ে পড়েছিল—যেমন অবিচার, জুলুম, জবরদখল ও বেগার শ্রমের বিস্তার ঘটেছিল, এবং চুরি, নৈতিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক পচন, সামাজিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক জুলুম সর্বত্র ছেয়ে গিয়েছিল—তথাপি মামলুকরা বাহ্যিকভাবে দ্বীনি বিষয়াবলি রক্ষা এবং এর আদেশ-নিষেধের তদারকির প্রতি যত্নশীল ছিল। এমনকি তাদের অনেকে শরীয়তের বিধান প্রয়োগে এবং এর বিরুদ্ধাচারীদের মোকাবিলায় এমন কঠোরতা প্রদর্শন করত যা স্বয়ং শরীয়তও সমর্থন করে না।
এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না যে, কিবতিদের একটি দল ইসলামের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল এবং তারা মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলোতে অনুপ্রবেশ করে সেগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং সাধারণ প্রজাদের ওপর চরম জুলুম চালিয়েছিল।
শিহাব উদ্দিন আল-আরাজ (মৃত্যু ৭৮৫ হিজরি) বলেন:
কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে মিশরে জীবিকার আশা করতে পারে
… অথচ তার সামনে তুর্কিরা তরবারি ও ঢাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আর কিবতিরা চারপাশ থেকে তা নিজেদের জন্য সংগ্রহ করেছে
… চার ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ ও পাঁচ ভাগের এক ভাগ হিসেবে।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فَلِلتُّرْكِ وَالسُّلطَانِ ثُلْثُ خَرَاجِهَا
… وَلِلْقِبْطِ نِصْفٌ وَالْخَلائِقُ فِي السُّدْسِ
وفوق كل ما تقدم فإن المماليك فعلوا ما عجز عنه غيرهم: لقد صَفَّوُا الجيوب الصليبية تصفية نهائية من المنطقة، ودحروا جيوش المغول التي كان الكثير من الناس يزعم أنها قضاء الله قدره الذي لا مرد له.
وإليك ما كتبه تيمورلنك في رسالته إلى السلطان برقوق (796) هـ:
{قُلِ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ} [الزمر: 46].
اعلموا أنا جند الله مخلوقون من سخطه ومسلطون على من حل عليه غضبه، لا نرق لشاكٍ، ولا نرحم لباكٍ، قد نزع الله الرحمة من قلوبنا، فالويل ثم الويل لمن لم يكن من حزبنا ومن جهتنا، قد خربنا البلاد، وأيتمنا الأولاد، وأظهرنا في الأرض الفساد، وذلت لنا أعزتها، وملكنا بالشوكة أزمتها، فإن خيل ذلك على السامع وأشكل، وقال: إن فيه عليه مشكل، فقل له:
{إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً} [النمل: 34] وذلك بكثرة عددنا وشدة بأسنا، فخيولنا سوابق، ورماحنا خوارق، وأسنتنا بوارق، وسيوفنا صواعق، وقلوبنا كالجبال، وجيوشنا كعدد الرمال، ونحن أبطال وأقيال، وملكنا لا يرام، وجارنا لا يضام، وعزنا أبداً لسؤدد منقام، فمن سالمنا، سلم، ومن رام حربنا، ندم، ومن تكلم فينا بما لا يعلم جُهل. وأنتم إن أطعتم أمرنا، وقبلتم شرطنا، فلكم ما لنا وعليكم ما علينا، وإن خالفتم، وعلى بغيكم تماديتم، فلا تلوموا إلا أنفسكم فالحُصون منا -مع تشديدها- لا تمنع، والمدائن بشدتها لقتالنا لا ترد ولا تنفع. ودعاؤكم علينا لا يستجاب فينا ولا يسمع.
তুর্কি ও সুলতানের জন্য এর খারাজের এক-তৃতীয়াংশ
… আর কিবতিদের জন্য অর্ধেক এবং সাধারণ মানুষের জন্য ষষ্ঠাংশ।
উপরোক্ত সবকিছুর ঊর্ধ্বে সত্য এই যে, মামলুকরা এমন কাজ সম্পাদন করেছে যা করতে অন্যরা অক্ষম ছিল: তারা এই অঞ্চল থেকে ক্রুসেডারদের ঘাঁটিগুলো চূড়ান্তভাবে নির্মূল করেছে এবং মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করেছে, যাদের সম্পর্কে অনেক লোক ধারণা করত যে তারা আল্লাহর এমন এক অমোঘ ফয়সালা ও তাকদির যাকে প্রতিহত করার কোনো উপায় নেই।
সুলতান বারকুকের নিকট ৭৯৬ হিজরিতে তৈমুর লং তাঁর চিঠিতে যা লিখেছিলেন তা নিচে দেওয়া হলো:
“বলুন, হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাতা, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে যাতে তারা মতভেদ করত।” [সূরা আয-যুমার: ৪৬]।
জেনে রেখো, আমরা আল্লাহর সৈন্য, তাঁর ক্রোধ থেকে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যাদের ওপর তাঁর গযব অবতীর্ণ হয়েছে তাদের ওপর আমাদের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা কোনো ফরিয়াদকারীর প্রতি নমনীয় হই না এবং কোনো ক্রন্দনকারীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করি না। আল্লাহ আমাদের অন্তর থেকে রহমত (দয়া) ছিনিয়ে নিয়েছেন। সুতরাং ধ্বংস, তারপরও ধ্বংস তাদের জন্য যারা আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমাদের পক্ষাবলম্বন করে না। আমরা দেশসমূহ বিরান করেছি, সন্তানদের এতিম করেছি এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়েছি। তাদের সম্মানিত ব্যক্তিদের আমরা লাঞ্ছিত করেছি এবং শক্তির মাধ্যমে আমরা তাদের শাসনভার গ্রহণ করেছি। যদি এই বর্ণনা শ্রবণকারীর নিকট অলীক বা জটিল মনে হয় এবং সে বলে যে এটি দুর্বোধ্য, তবে তাকে বলো:
“নিশ্চয়ই রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্মানিত অধিবাসীদের অপদস্থ করে।” [সূরা আন-নামল: ৩৪]। এটি আমাদের বিশাল সংখ্যাধিক্য এবং আমাদের প্রচণ্ড বিক্রমের কারণে। আমাদের অশ্বসমূহ অগ্রগামী, আমাদের বল্লমসমূহ বিদীর্ণকারী, আমাদের তীরের ফলকসমূহ দীপ্তিময় এবং আমাদের তলোয়ারসমূহ বজ্রের মতো। আমাদের অন্তর পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় এবং আমাদের সৈন্যবাহিনী বালুকণার ন্যায় অগণিত। আমরা বীর ও অধিপতি। আমাদের রাজত্ব দুষ্প্রাপ্য, আমাদের আশ্রয়প্রার্থী নিপীড়িত হয় না এবং আমাদের সম্মান সর্বদা সুউচ্চ। সুতরাং যে আমাদের সাথে সন্ধি করবে, সে নিরাপদ থাকবে; আর যে আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, সে অনুতপ্ত হবে; আর যে আমাদের সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করবে সে মূর্খ বলে গণ্য হবে। তোমরা যদি আমাদের আদেশ মান্য করো এবং আমাদের শর্ত মেনে নাও, তবে আমাদের যা অধিকার তোমাদেরও তাই হবে এবং আমাদের ওপর যা কর্তব্য তোমাদের ওপরও তাই বর্তাবে। কিন্তু যদি তোমরা বিরোধিতা করো এবং অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকো, তবে নিজেদের ছাড়া আর কাউকে নিন্দা করো না। কেননা আমাদের মোকাবিলায় কেল্লাসমূহ—সেগুলো যতই সুদৃঢ় হোক—রক্ষা করতে পারবে না এবং নগরীসমূহ তাদের কঠোরতা দিয়ে আমাদের যুদ্ধ প্রতিহত করতে পারবে না বা কোনো উপকারে আসবে না। আর আমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের প্রার্থনা কবুল করা হবে না এবং শোনাও হবে না।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فكيف يسمع الله دعاءكم وقد أكلتم الحرام، وظلمتم جميع الأنام، وأخذتم أموال الأيتام، وقبلتم الرشوة من الحكام، فأعدت لكم النار وبئس المصير: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا} [النساء: 10] فلما فعلتم ذلك، أوردتم أنفسكم موارد المهالك.
وقد قتلتم العلماء، وعصيتم رب الأرض والسماء، وأرقتم دم الأشراف، وهذا والله هو البغي والإسراف، فأنتم بذلك في النار خالدون.
وفي غد ينادى عليكم: {فَالْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَبِمَا كُنْتُمْ تَفْسُقُونَ} [الأحقاف: 20].
فأبشروا بالمذلة والهوان، يا أهل البغي والعدوان. وقد غلب عندكم أننا كفرة، وثبت عندنا أنكم -والله- الكفرة الفجرة، وقد سلطنا عليكم الإله، له أمور مقدرة، وأحكام محررة. فعزيزكم عندنا ذليل، وكثيركم لدينا قليل، لأننا ملكنا الأرض شرقاً وغرباً، وأخذنا منكم كل سفينة غصباً، وقد أوضحنا لكم الخطاب، فأسرعوا برد الجواب، قبل أن ينكشف الغطاء، وتضرم الحرب نارها، وتضع أوزارها، وتصير كل عين عليكم باكية، وينادي منادي الفراق: {فَهَلْ تَرَى لَهُمْ مِنْ بَاقِيَةٍ} [الحاقة: 8] وُيسْمِعُكُم صارخُ الفناء بعد أن يهزكم هزاً {هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا} [مريم: 98]، وقد أنصفناكم إذ راسلناكم، فلا تقتلوا المرسلين كما فعلتم بالأولين فتخالفوا -كعادتكم- سنن الماضين، وتعصوا رب العالمين "وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِينُ" وقد أوضحنا لكم الكلام، فأرسلوا برد الجواب والسلام".
في هذا الجو الذي يجمع المتناقضات: العلم إلى جانب الجهل، والتحقيق إلى جانب الإيمان العميق بالخرافة، والأمن النسبي، إلى جانب الخوف الذي يخلع القلوب، وبارقة من العدل إلى موجات متعاليات من الجور والظلم والعسف، وومضة من إنزال الناس منازلهم، إلى جانب
আল্লাহ কীভাবে তোমাদের দোয়া শুনবেন অথচ তোমরা হারাম ভক্ষণ করেছ, সমস্ত মানুষের ওপর জুলুম করেছ, এতিমদের সম্পদ আত্মসাৎ করেছ এবং শাসকদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেছ? তাই তোমাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য: ‘নিশ্চয় যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং তারা শীঘ্রই প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।’ [আন-নিসা: ১০] যখন তোমরা এসব করেছ, তখন তোমরা নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছ।
তোমরা আলেমদের হত্যা করেছ, জমিন ও আসমানের রবের অবাধ্য হয়েছ এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের রক্ত ঝরিয়েছ; আল্লাহর কসম, এটাই হলো সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি। এর ফলে তোমরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
আর আগামীকাল তোমাদেরকে ডেকে বলা হবে: ‘আজ তোমাদেরকে অপমানজনক আযাব প্রতিদান হিসেবে দেওয়া হবে, কারণ তোমরা জমিনে অন্যায়ভাবে অহংকার করতে এবং তোমরা পাপাচার করতে।’ [আল-আহকাফ: ২০]।
অতএব হে সীমালঙ্ঘনকারী ও অত্যাচারী সম্প্রদায়! তোমরা লাঞ্ছনা ও অপমানের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের ধারণা প্রবল যে আমরা কাফের, কিন্তু আমাদের কাছে এটা প্রমাণিত যে—আল্লাহর কসম—তোমরাই হলে পাপিষ্ঠ কাফের। ইলাহ আমাদের তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব দিয়েছেন, তাঁরই জন্য সমস্ত নির্ধারিত বিষয়াবলি এবং অকাট্য বিধানসমূহ। সুতরাং তোমাদের মধ্যকার শক্তিশালী ব্যক্তি আমাদের কাছে লাঞ্ছিত এবং তোমাদের আধিক্য আমাদের কাছে নগণ্য। কারণ আমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের মালিক হয়েছি এবং তোমাদের থেকে প্রতিটি নৌকা জোরপূর্বক দখল করেছি। আমরা তোমাদের কাছে বক্তব্য পরিষ্কার করেছি, তাই পর্দা উন্মোচিত হওয়ার আগে, যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত হওয়ার এবং তার বোঝা নামিয়ে রাখার আগে, প্রতিটি চোখ তোমাদের জন্য ক্রন্দনরত হওয়ার আগে এবং বিচ্ছেদের ঘোষক এই ঘোষণা দেওয়ার আগে দ্রুত উত্তর পাঠিয়ে দাও: ‘তুমি কি তাদের কাউকে অবশিষ্ট দেখতে পাও?’ [আল-হাক্কাহ: ৮] এবং ধ্বংসের চিৎকার তোমাদের প্রবলভাবে প্রকম্পিত করার পর তোমাদের শোনাবে: ‘তুমি কি তাদের কারও অস্তিত্ব অনুভব করো অথবা তাদের কোনো ক্ষীণ শব্দও শুনতে পাও?’ [মারইয়াম: ৯৮]। আমরা তোমাদের প্রতি ইনসাফ করেছি যেহেতু তোমাদের কাছে পত্র পাঠিয়েছি। সুতরাং তোমরা এই দূতদের হত্যা করো না যেমনটি তোমরা পূর্ববর্তীদের সাথে করেছিলে। অন্যথায় তোমরা—তোমাদের অভ্যাস অনুযায়ী—অতীতের নীতিমালার বিরোধিতা করবে এবং রব্বুল আলামীনের অবাধ্য হবে। ‘আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।’ আমরা তোমাদের কাছে বক্তব্য স্পষ্ট করেছি, সুতরাং উত্তরের জবাব পাঠিয়ে দাও। ইতি।
এমন এক পরিবেশে যেখানে বৈপরীত্যের সমাহার ঘটেছে: মূর্খতার পাশাপাশি জ্ঞান, কুসংস্কারের প্রতি গভীর বিশ্বাসের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান, হৃদয়ে কাঁপন ধরানো ভয়ের পাশাপাশি আপেক্ষিক নিরাপত্তা, এবং চরম অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের উত্তাল ঢেউয়ের পাশাপাশি ইনসাফের ক্ষণিক আভা, আর মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার এক ঝলকের পাশাপাশি—
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
احتقار من هو جدير بالاحترام، وإبعاد لمن حقه التقريب، وهجر لمن يجب وصله
…في هذا الجو الذي يقابل فيه ومْضةَ الضوء، سيلٌ لا يكاد ينتهي من الظلم والظلام، ويصارع كل داع إلى الحق فيه جيش من الدساسين الذين يثيرون العوام، ويوغرون صدور الحكام. سلاحهم نشر الخرافة والشعوذة، وغايتهم إغراق الناس في شطحات الوهم قتلاً للوعي، وتعطيلاً للعقل عن الكشف عن قوانين الحياة.
في هذا الجو الذي اعتزل فيه العرب السياسة، وهجروا -وللأسف الشديد- ساحات الجهاد إلى الزراعة والصناعة، وبقية الحرف التي يكسبون منها معاشهم، وكان من جملة ما انصرفوا إليه العلم الذي كان انصرافهم إليه غَيْرَةً على الدين، ورغبة في إعادة الإسلام التليد، يشجعهم على ذلك فئات من السلاطين تحدت أساليبهم واختلفت غاياتهم:
أ- فئة منهم صادقة الحب للدين، مخلصة لرب العالمين، أحسنت إلى العلماء العاملين وقربتهم وكانت لهم الحظوة في بلاطها.
ب- وفئة كانت -لجهلها- تعتقد أن الإحسان إلى العلماء، وعمارة المساجد والمدارس كفارةٌ لسيئاتها الأخلاقية وستاراً لظلمها، ولما تسببت فيه من ويلات ومجاعات واضطرابات.
ج- وفئة -لخبثها- كانت تستغل هذا استغلالاً لتخدع عامة الناس بأنها العين الساهرة على حفظ ما يحبون، وبأنها حريصة على إشادة ما به يرغبون.
في هذا الجو المشحون بالصراعات المحمومة، وفي صحراء الفسطاط المستلقية بينها وبين المقطم، في ذاك الجو، وفي هذه البقعة المنعزلة عن صخب الحياة وضجيجها ولد الحافظ الهيثمي سنة (735) هـ. فهل أثرت
যিনি সম্মানের যোগ্য তাকে অবজ্ঞা করা, যাকে নিকটবর্তী করা প্রাপ্য তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং যার সাথে সুসম্পর্ক রাখা আবশ্যক তাকে বর্জন করা
…এই পরিবেশে যেখানে এক ঝলক আলোর বিপরীতে অবিচার ও অন্ধকারের এক অন্তহীন স্রোত ধাবমান, এবং যেখানে সত্যের দিকে আহ্বানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রকারীদের এক বিশাল বাহিনীর সাথে লড়াই করতে হয়, যারা সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে এবং শাসকদের অন্তরকে বিষিয়ে তোলে। তাদের অস্ত্র হলো কুসংস্কার ও ভেলকিবাজির প্রচার, আর তাদের উদ্দেশ্য হলো সচেতনতাকে সমূলে বিনাশ করতে এবং জীবনের নিয়মাবলি উন্মোচনে বুদ্ধিবৃত্তিকে নিষ্ক্রিয় করতে মানুষকে কাল্পনিক বিভ্রমের মাঝে নিমজ্জিত করা।
এই পরিবেশে যেখানে আরবরা রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়েছিল এবং—অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়—জিহাদের ময়দান ছেড়ে কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল যা দিয়ে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করত। তারা যে সকল বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করেছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল জ্ঞান অর্জন, যার পেছনে তাদের মূল চালিকাশক্তি ছিল দ্বীনের প্রতি অনুরাগ এবং ঐতিহ্যবাহী ইসলামকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা। এই কাজে তাদেরকে সুলতানদের এমন কিছু গোষ্ঠী উৎসাহিত করেছিল যাদের কর্মপদ্ধতি ও লক্ষ্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন:
ক- তাদের মধ্যে একদল ছিল যারা দ্বীনের প্রতি ভালোবাসায় সত্যবাদী এবং রব্বুল আলামীনের প্রতি একনিষ্ঠ ছিল। তারা আমলকারী ওলামাদের প্রতি সদাচরণ করত ও তাদের নিকটবর্তী করত এবং তাদের দরবারে এই ওলামাগণ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
খ- আরেক দল ছিল যারা—তাদের অজ্ঞতার কারণে—মনে করত যে, ওলামাদের প্রতি সদাচরণ এবং মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ তাদের চারিত্রিক মন্দ কাজের কাফফারা এবং তাদের জুলুম ও তাদের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ ও বিশৃঙ্খলার জন্য একটি আবরণ হিসেবে কাজ করবে।
গ- এবং অন্য এক দল ছিল যারা—তাদের ধূর্ততার কারণে—এ বিষয়টিকে অপব্যবহার করত সাধারণ মানুষকে এই ধোঁকা দিতে যে, তারা মানুষের প্রিয় বিষয়গুলো রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী এবং যা তারা আকাঙ্ক্ষা করে তা প্রতিষ্ঠায় তারা অত্যন্ত আগ্রহী।
তীব্র দ্বন্দ্বে উত্তাল এই পরিবেশে এবং ফুসতাত ও মুকাত্তাম পাহাড়ের মধ্যবর্তী মরুপ্রান্তরে, সেই পরিবেশে এবং জীবনের কোলাহল ও হট্টগোল থেকে বিচ্ছিন্ন এই ভূখণ্ডে হাফেজ হাইসামি ৭৩৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তবে কি এটি প্রভাব ফেলেছিল
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذه البيئة بنفسه؟ وما آثارها؟.
نعم هناك من ينكر أثر البيئة على الإنسان، وهناك من يغالي في تصوير آثارها فيجعلها المصنع الذىِ يصبُّ جميع أفرادها بقوالب خاصة لا يتخلف عن الخضوع لقواعدها أحد. وهذا غلو يأباه العقل، ويرده واقع الناس، فهما بين إفراط وتفريط.
فالبيئة لابد أن تترك بصماتها على جانب أو أكثر من جوانب الشخصية الإنسانية التي تترعرع في أحضانها، وتتقلب بين ناسها عواطف وأفكاراً، ومشاعر وسلوكاً.
ولكن الذي لا شك فيه أن تأثير البيئة يختلف نوعاً كما يختلف باختلاف النفوس التي تتعرض له: فالحياة في الصحراء مثلاً تطبع الإنسان بالشجاعة، والكرم، والوضوح
… غير أن هذه الصفات لا يمكن أن تكون بدرجة واحدة عند جميع الأشخاص، فلو كان التأثير بدرجة واحدة، لكان سكانها جميعهم عنترة بن شداد شجاعة، وحاتماً الطائي كرماً وإيثاراً.
والظلم في البيئة الاجتماعية يؤثر في النفوس التي تكتوي بسياطه، ولكن تأثيره يكون في بعضها انعزالاً عن واقع الحياة، وهروباً من المواقف الإيجابية فيها، بينما يكون في أخرى ثورة عارمة، ومواقف أبية تمثل الرجولة الحقة، والانتصاف الجميل.
وهنا لا بد من السؤال: هل أثرت هذه البيئة بنفس الهيثمي؟ ما هذا الأثر؟ هل اعتزل تلك الصراعات وجانبها فانصرف إلى ما انصرف غيره من العرب، أم ركب موجها وخاض غمارها؟
وحتى ندرك هذا لابد من متابعة حياة هذا الإمام خطوة فخطوة، نرصد ما له وما عليه:
لقد نسبه تلميذه الحافظ ابن حجر فقال: "علي بن أبي بكر بن
এই পরিবেশ কি তাঁর নিজের ওপর প্রভাব ফেলেছিল? এবং এর প্রভাবসমূহ কী কী?
হ্যাঁ, এমন কিছু লোক আছে যারা মানুষের ওপর পরিবেশের প্রভাবকে অস্বীকার করে, আবার কেউ কেউ এর প্রভাবের চিত্রায়নে অতিরঞ্জন করে একে এমন এক কারখানা মনে করে যা এর প্রতিটি ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢেলে দেয়, যেখানকার নিয়ম মেনে চলতে কেউই বাদ থাকে না। এটি এমন এক চরমপন্থা যা বিবেক অস্বীকার করে এবং মানুষের বাস্তব জীবন একে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং এই উভয় মতবাদই হলো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির (ইফরাত ও তাফরিত) অন্তর্ভুক্ত।
অতএব, পরিবেশ অবশ্যই মানবীয় ব্যক্তিত্বের এক বা একাধিক দিকের ওপর তার ছাপ রেখে যায়, যা সেই পরিবেশের কোলে বেড়ে ওঠে এবং সেখানকার মানুষের মাঝে আবেগ, চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়।
তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরিবেশের প্রভাবের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হয়, যেমনটি এর সম্মুখীন হওয়া ব্যক্তিদের ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মরুভূমির জীবন মানুষকে সাহস, উদারতা এবং স্পষ্টবাদিতার গুণে গুণান্বিত করে
… তবে এই গুণাবলি সকল ব্যক্তির মধ্যে সমান মাত্রায় থাকা সম্ভব নয়। যদি প্রভাবটি সমান মাত্রার হতো, তবে মরুভূমির সকল অধিবাসী সাহসিকতায় আনতারা বিন শাদ্দাদ এবং দানশীলতা ও ত্যাগে হাতেম তাঈ হতো।
সামাজিক পরিবেশে বিদ্যমান জুলুম সেইসব আত্মার ওপর প্রভাব ফেলে যারা এর কশাঘাতে জর্জরিত হয়; কিন্তু এর প্রভাব কারো কারো ক্ষেত্রে জীবনের বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ইতিবাচক অবস্থান থেকে পলায়নের রূপ নেয়, আবার কারো ক্ষেত্রে এটি হয় প্রচণ্ড বিপ্লব এবং মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান যা প্রকৃত পুরুষত্ব ও সুনিপুণ ন্যায়বিচারের প্রতিনিধিত্ব করে।
আর এখানেই প্রশ্ন জাগে: এই পরিবেশ কি হাইসামীর সত্তায় কোনো প্রভাব ফেলেছিল? সেই প্রভাবটি কী ছিল? তিনি কি সেই সকল সংঘাত থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন এবং সেগুলোকে এড়িয়ে চলেছিলেন যেমনটি অন্যান্য আরবরা করেছিল, নাকি তিনি এর তরঙ্গে আরোহণ করেছিলেন এবং এর গভীরতায় অবগাহন করেছিলেন?
আর এটি উপলব্ধি করার জন্য আমাদের এই ইমামের জীবনকে ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, এবং তাঁর জীবনের ভালো-মন্দ দিকগুলো নিরূপণ করতে হবে:
তাঁর ছাত্র হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর বংশপরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "আলী ইবনে আবু বকর ইবনে..."
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
سليمان بن أبي بكر بن عمر بن صالح الهيثمي، الشيخ نور الدين أبو الحسن، ولد سنة خمس وثلاثين وسبع مئة" (1).
وتشح المصادر فتغفل ذكره: فلا نجد فيها ذكراً لطفولته المبكرة، ولا شيئاً يتعلق بظروف نشأته الأولى، وإنما تبدأ الحديث عنه حين بلغ الخامسة عشرة من العمر، حيث "صحب زين الدين العراقي وهو صغير فسمع معه ابتداء طلبه على أبي الفتح الميدومي، وابن المملوك، وابن القطرواني، وغيرهم من المصريين.
ومن ابن الخباز، وابن الحموي، وابن قيم الضيائية، وغيرهم من الشاميين.
ثم رحل معه جميع رحلاته، وحج معه جميع حجاته، ولم يكن يفارقه حضرًا، ولا سفراً، وتزوج ابنته، وتخرج به في الحديث، وقرأ عليه أكثر تصانيفه، وكتب عنه جميع مجالس املائه" (2).
تبدأ مصادر الترجمة بالحديث عنه منذ اتصاله بالحافظ العراقي، ولا تقدم لنا شيئاً عن طفولته الأولى وهي مرحلة التكوين الفعلي، ومجال العمل التربوي الفعال للأسرة حيث تتكون في هذه المرحلة البنية الأساسية للأفكار والأحاسيس والمشاعر، فهي مرحلة الأساس التي يقوم عليها بناء الشخصيّة الشامخ، كما أنها لا تقدم لنا شيئاً عن أسرته: مكانتها الاجتماعية، وعدد أفرادها، ووضعها الاقتصادي، ومستوى أفرادها العلمي، غير أنها تُجمع على أن حافظ عصره الإمام العراقي حدب عليه، ورعاه، وأحاطه بالعناية والاهتمام والرعاية التي لم يحظ بمثلها تلميذ من تلامذة هذا الحافظ على كثرتهم ونبوغ بعضهم، حتى إنه أسمعه جميع الشيوخ الذين سمعهم، ولم
--------------------------------------------
সুলায়মান বিন আবি বকর বিন উমর বিন সালিহ আল-হাইসামি, শেখ নুর উদ্দিন আবুল হাসান, তিনি সাতশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (১)।
তথ্যসূত্রগুলো সীমিত হওয়ার কারণে তাঁর কথা উল্লেখ করতে অবহেলা করেছে: তাই আমরা তাতে তাঁর শৈশবের প্রথম দিককার কোনো উল্লেখ পাই না, এবং তাঁর প্রাথমিক বেড়ে ওঠার পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত কোনো কিছুই খুঁজে পাই না। বরং তাঁর সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয় যখন তাঁর বয়স পনেরো বছর পূর্ণ হয়, যেখানে "তিনি অল্প বয়সেই জয়নুদ্দিন আল-ইরাকির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর শিক্ষাগ্রহণের শুরুতে তাঁর সাথে আবুল ফাতহ আল-মাইদুমি, ইবনুল মামলুক, ইবনুল ক্বাতরাওয়ানি এবং অন্যান্য মিশরীয় আলেমদের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন।
এবং ইবনুল খাব্বায, ইবনুল হামাভি, ইবনে কায়্যিম আদ-দিয়াঈয়াহ এবং অন্যান্য সিরীয় আলেমদের নিকট থেকেও।
অতঃপর তিনি তাঁর সকল সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন, তাঁর সাথে প্রতিটি হজ পালন করেছেন এবং বাড়িতে অবস্থানকালে কিংবা সফরে কখনোই তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। তিনি তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেন, তাঁর মাধ্যমেই ইলমে হাদিসে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন, তাঁর অধিকাংশ কিতাব তাঁর কাছে পাঠ করেন এবং তাঁর সকল ইমলা মজলিসের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন" (২)।
জীবনীগ্রন্থের উৎসগুলো হাফেজ আল-ইরাকির সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার সময় থেকেই তাঁর সম্পর্কে আলোচনা শুরু করে এবং তাঁর শৈশবকাল সম্পর্কে আমাদের কিছুই প্রদান করে না—যা মূলত প্রকৃত গঠনের পর্যায় এবং পরিবারের কার্যকর শিক্ষামূলক কার্যের ক্ষেত্র, যেখানে এই পর্যায়ে চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি ও আবেগের মৌলিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। কারণ এটিই সেই ভিত্তিপ্রস্তর যার উপর সুউচ্চ ব্যক্তিত্ব নির্মিত হয়। একইভাবে, এসব উৎস আমাদের তাঁর পরিবার সম্পর্কেও কিছু জানায় না: তাদের সামাজিক মর্যাদা, সদস্য সংখ্যা, অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা পরিবারের সদস্যদের শিক্ষার মান। তবে তারা এ বিষয়ে একমত যে, তাঁর যুগের হাফেজ ইমাম আল-ইরাকি তাঁর প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন, তাঁর যত্ন নিতেন এবং তাঁকে এমন নিবিড় তত্ত্বাবধান ও গুরুত্বের সাথে আগলে রাখতেন যা এই হাফেজের বহুসংখ্যক এবং অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রদের মাঝে আর কেউ পায়নি। এমনকি তিনি তাঁকে এমন সকল শায়খদের থেকে হাদিস শুনিয়েছেন যাদের কাছে তিনি নিজে শ্রবণ করেছিলেন, এবং তিনি তাঁকে কখনোই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ينفرد عنه "بغير ابن البابا، والتقي السبكي، وابن شاهد الجيش" (1).
كما أن الهيثمي لم ينفرد عنه -عن شيخه العراقي- بغير صحيح مسلم عن ابن عبد الهادي (2).
لقد شارك الهيثمي شيخه جميع شيوخه: بمصر، والقاهرة، والحرمين، وبيت المقدس، ودمشق، وحلب، وحماة، وحمص، وطرابلس، وغيرها، وصحبه في رحلاته، وحجاته، لأنه احتل من نفسه المكانة التي عجز غيره عن احتلالها، فـ "لم يكن الزين يعتمد في شيء من أموره إلا عليه" (3).
لقد اصطفاه من دون طلابه -وفيهم ابن حجر وغيره- وخصه بصحبته، زوجه ابنته، ولم يأمن أحدًا كما أمنه، فكان لا يطمئن إلى أحد اطمئنانه إليه، ولا يثق بأحد ثقته به.
وقد بادله الهيثمي حباً بحب، واخلص له إخلاصاً كان مضرب المثل، إلى جانب الوفاء والتضحية والاحتواء.
لقد وجد فيه -في العراقي- الأنموذج الإنساني الذي يتطلع إليه، والمثل الأعلى الذي يقتدي به فكراً، وثقافة، وأخلاقاً، وسلوكاً، فكان له الأخ الصادق، والابن البار، والصديق الصدوق، والصاحب الوفي، والتلميذ المطيع، والخادم الأمين الذي "لا يخاطبه إلا بسيدي حتى كان في أمر خدمته كالعبد" (4).
وقام بخدمته قياماً لا يصبر عليه غيره، فإن الحافظ ابن حجر وهو تلميذ للعراقي والهيثمي قال: "رأيت في خدمته لشيخنا وتأدبه معه، من غير
--------------------------------------------
তিনি (আল-ইরাকি) থেকে এককভাবে বর্ণনা করেননি "ইবনুল বাবা, তাকীউদ্দীন আস-সুবকী এবং ইবনু শাহিদুল জাইশ ব্যতীত" (১)।
তেমনিভাবে হাইতামী তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকি থেকে ইবনু আব্দুল হাদী কর্তৃক বর্ণিত সহীহ মুসলিম ব্যতীত অন্য কিছু এককভাবে বর্ণনা করেননি (২)।
হাইতামী তাঁর উস্তাদের সাথে তাঁর সকল উস্তাদের মজলিসে শরিক হয়েছিলেন: মিসর, কায়রো, হারামাইন (মক্কা ও মদিনা), বাইতুল মাকদিস, দামেস্ক, আলেপ্পো, হামাহ, হিমস, ত্রিপোলি এবং অন্যান্য স্থানে। তিনি তাঁর সফরে এবং হজ পালনের সময়ও তাঁর সঙ্গী ছিলেন। কারণ তিনি তাঁর উস্তাদের নিকট এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন যা অন্য কেউ অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। ফলে "যাইন (আল-ইরাকি) তাঁর কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই তাঁকে ছাড়া নির্ভর করতেন না" (৩)।
তিনি ইবনু হাজারসহ তাঁর অন্যান্য ছাত্রদের মধ্য থেকে তাঁকেই মনোনীত করেছিলেন এবং তাঁকে একান্ত সাহচর্যের জন্য বিশেষায়িত করেছিলেন। তিনি তাঁর কাছে নিজের কন্যাকে বিবাহ দিয়েছিলেন এবং অন্য কারো ওপর হাইতামীর মতো আস্থা রাখতেন না। তিনি হাইতামীর ওপর যেমন নিশ্চিন্ত বোধ করতেন তেমনটি আর কারো ওপর করতেন না এবং তাঁর প্রতি তাঁর যে অগাধ বিশ্বাস ছিল তা অন্য কারো প্রতি ছিল না।
হাইতামীও সেই ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসার মাধ্যমেই দিয়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি এমন নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন যা প্রবাদতুল্য হয়ে উঠেছিল; এর পাশাপাশি ছিল তাঁর আনুগত্য, আত্মত্যাগ ও পরম হৃদ্যতা।
তিনি আল-ইরাকির মধ্যে এমন এক মানবিক আদর্শ খুঁজে পেয়েছিলেন যার আকাঙ্ক্ষা তিনি করতেন এবং চিন্তা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও আচরণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন তাঁর জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ। ফলে তিনি তাঁর জন্য ছিলেন একজন সত্যবাদী ভাই, একজন সুসন্তান, একজন পরম বন্ধু, একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী, একজন অনুগত ছাত্র এবং একজন বিশ্বস্ত খাদেম, যিনি "তাঁকে সর্বদা 'সায়্যিদী' (আমার মনিব) বলে সম্বোধন করতেন, এমনকি তাঁর সেবার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দাসের মতো" (৪)।
তিনি তাঁর উস্তাদের সেবায় এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন যা অন্য কারোর পক্ষে ধৈর্যের সাথে করা সম্ভব ছিল না। হাফিয ইবনু হাজার, যিনি আল-ইরাকি ও আল-হাইতামী উভয়েরই ছাত্র ছিলেন, তিনি বলেছেন: "আমি আমাদের শায়খের প্রতি তাঁর সেবা এবং তাঁর সাথে তাঁর শিষ্টাচার প্রদর্শনের এমন বিষয় দেখেছি যা অন্য কারো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تكلف لذلك، ما لم أره لغيره، ولا أظن أحداً يقوى عليه" (1).
وكانت للهيثمي خصوصية عند العراقي يحسده من أجلها أقرانه، فهذا ابن حجر وهو واحد منهم يقول متحدثاً عن تلامذة العراقي: "ومن أخصهم به صهره: شيخنا نور الدين الهيثمي. وهو الذي دربه وعلمه كيف التخريج والتصنيف، وهو الذي يعمل له خطب كتبه، ويسميها له" (2).
وابن حجر زامل الهيثمي بالتلمذة على شيخهما العراقي، وتتلمذ على الهيثمي، فهو أقرب الناس إليه، وأعرف الناس به، ولكن غيرة التلامذة أمر معروف، وأقوال الأقران في بعضهم ينبغي التوقف عندها.
فالصفات التي وصفه بها تلامذته، والذين ترجموا له، هي أنه "كان هيناً، ليناً، خيراً، ديناً، محباً في أهل الخير، لا يسأم ولا يضجر من خدمة الشيخ وكتابه. الحديث.
وكان سليم الفطرة، كثير الخير، كثير الاحتمال للأذى خصوصاً من جماعة الشيخ" (3).
"وكان ساكناً، شديد الإنكار للمنكر" (4).
"وكان محباً للغرباء وأهل الدين والعلم والحديث، كثير التودد إلى الناس مع العبادة والاقتصاد والتعفف.
وكان -يرحمه الله تعالى- من محاسن القاهرة، ومن أهل الخير، غالب أوقاته في اشتغال وكتابة، كغير التلاوة بالليل والتهجد" (5).
--------------------------------------------
এর জন্য তিনি এমন শ্রম স্বীকার করেছেন যা আমি অন্য কারো ক্ষেত্রে দেখিনি এবং আমার মনে হয় না অন্য কেউ এর সামর্থ্য রাখে" (১)।
ইরাকির নিকট হাইসামির এমন বিশেষ মর্যাদা ছিল যার জন্য তাঁর সমসাময়িকরা তাঁকে ঈর্ষা করত। ইবনে হাজার, যিনি নিজেও তাঁদের একজন ছিলেন, তিনি ইরাকির ছাত্রদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন: "তাঁদের মধ্যে তাঁর (ইরাকির) সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাঁর জামাতা: আমাদের শাইখ নূরুদ্দিন হাইসামি। তিনিই তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং কীভাবে হাদিস তাখরিজ ও গ্রন্থনা করতে হয় তা শিখিয়েছেন। হাইসামিই তাঁর কিতাবসমূহের ভূমিকা লিখে দিতেন এবং সেগুলোর নামকরণ করতেন" (২)।
ইবনে হাজার তাঁদের শাইখ ইরাকির নিকট ছাত্র হিসেবে হাইসামির সহপাঠী ছিলেন, আবার তিনি হাইসামির কাছেও ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাই তিনি তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তাঁকে সবচেয়ে বেশি জানতেন। তবে ছাত্রদের মধ্যকার ঈর্ষা একটি পরিচিত বিষয়, আর একে অপরের সম্পর্কে সমসাময়িকদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
তাঁর ছাত্রগণ এবং যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা তাঁকে যে গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন তা হলো: "তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, কোমল স্বভাবের, কল্যাণকামী, ধর্মপ্রাণ এবং পুণ্যবানদের প্রতি অনুরাগী। তিনি শাইখের সেবা এবং হাদিস লিপিবদ্ধ করতে কখনো ক্লান্তিবোধ বা বিরক্তি প্রকাশ করতেন না।
তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ প্রকৃতির, অত্যন্ত কল্যাণকামী এবং অনেক কষ্ট সহ্যকারী, বিশেষ করে শাইখের সাথীদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টগুলো সহ্য করার ক্ষেত্রে" (৩)।
"তিনি ছিলেন ধীরস্থির প্রকৃতির এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে অত্যন্ত কঠোর" (৪)।
"তিনি মুসাফির, দ্বীনদার, আলিম এবং মুহাদ্দিসদের ভালোবাসতেন। ইবাদত, মিতব্যয়িতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার পাশাপাশি মানুষের সাথে অত্যন্ত হৃদ্যতা বজায় রাখতেন।
তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—ছিলেন কায়রোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সময়ের সিংহভাগ ব্যয় হতো জ্ঞানচর্চা ও লেখালেখিতে, এছাড়াও রাতে তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদের নিয়মিত অনুশীলন তো ছিলই" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
"وكان عجباً في الدين والتقوى، والزهد، والإقبال على العلم والعبادة، وخدمة الزين، وعدم مخالطة الناس في شيء من الأمور" (1).
ومما تقدم نخلص إلى أننا أمام إنسان ذكي، صبور، دؤوب، مطيع، وفيّ، أمين، ثقة، مجانب للناس مع حبه لهم، محب للعلماء والعلم، لا يدع لحظة من حياته تمر إلا في خدمتهما.
حدب عليه شيخ مشايخ عصره فأسمعه جل ما سمع، وكتب لشيخه معظم ما ألف، وقرأ عليه جل ما صنف حتى صار "لشدة ممارسته أكثر استحضاراً للمتون من شيخه" (2).
نقول: لقد حدب عليه شيخ خبر الحياة والأحياء وأفاد من تجربة عاشها. فقد كان العراقي مهتماً بعلم القراءات، فقال له قاضي القضاة عز الدين بن جماعة: "إنه علم كثير التعب، قليل الجدوى، وأنت متوقد الذهن، فينبغي صرف الهمة إلى غيره"، وأشار عليه بالاشتغال بعلم الحديث، فاستجاب الحافظ العراقي، ولم يبخل ببذل الجهد، فأصبح "الإمام الأوحد، العلامة الحجة، الحبر الناقد، عمدة الأنام، حافظ الإسلام، فريد دهره ووحيد عصره
… " (3).
إننا إذن أمام طاقة جبارة توفرت لها كل أسباب العطاء:
أسباب ذاتية: الذكاء، والصبر، والدأب، والوقت.
أسباب خارجية: شيوخ علماء ملؤوا الدنيا وشغلوا الناس، مع إشراف دائم وتوجيه مستمر من شيخ مشايخ العصر الذي فاق أقرانه علماً، ونضج تجربة وخبرة لا ينقطع مدة ستة وخمسين عاماً.
--------------------------------------------
"তিনি দীনদারী, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ), ইলম ও ইবাদতের প্রতি একাগ্রতা, শায়খ যয়নুদ্দীনের খিদমত এবং মানুষের সাথে জাগতিক কোনো বিষয়ে মেলামেশা না করার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন" (১)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, আমরা এমন একজন মানুষের সম্মুখীন, যিনি ছিলেন বুদ্ধিমান, ধৈর্যশীল, পরিশ্রমী, অনুগত, বিশ্বস্ত, আমানতদার এবং নির্ভরযোগ্য; তিনি মানুষকে ভালোবাসা সত্ত্বেও তাদের থেকে নির্জনতা অবলম্বন করতেন। তিনি ইলম ও উলামায়ে কেরামকে ভালোবাসতেন এবং নিজের জীবনের একটি মুহূর্তও এই উভয়ের খিদমত ছাড়া অতিবাহিত হতে দিতেন না।
তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ শায়খ (শায়খুল মাশায়েখ) তাঁর প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন, ফলে তিনি যা কিছু শ্রবণ করেছিলেন তার সিংহভাগই তাঁকে শুনিয়েছিলেন। তিনি তাঁর শায়খের সংকলিত অধিকাংশ কিতাব নিজ হাতে লিখেছিলেন এবং তাঁর কাছে শায়খের রচিত প্রায় সকল কিতাব পাঠ করেছিলেন। এমনকি ব্যাপক চর্চার কারণে তিনি "মূল পাঠ্য (মতন) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর শায়খের চেয়েও অধিক পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন" (২)।
আমরা বলি: তাঁর প্রতি এমন একজন শায়খ সদয় হয়েছিলেন যিনি জীবন ও জগৎ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। হাফিজ ইরাকি কিরাআত শাস্ত্রের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, তখন প্রধান বিচারপতি (কাযিল কুযাত) ইযযুদ্দীন ইবনুল জামাআহ তাঁকে বলেছিলেন: "এটি অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য বিষয় কিন্তু এর সুফল সীমিত, অথচ আপনার মেধা অত্যন্ত প্রখর; তাই আপনার উচিত এ ছাড়া অন্য বিষয়ে মনোনিবেশ করা।" তিনি তাঁকে ইলমে হাদিসে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। হাফিজ ইরাকি তাতে সাড়া দেন এবং কঠোর পরিশ্রমে কোনো কার্পণ্য করেননি। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন "একমাত্র ইমাম, অগাধ পণ্ডিত, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, সর্বসাধারণের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়, ইসলামের হাফিজ, তাঁর যুগের অনন্য এবং সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব
… " (৩)।
সুতরাং আমরা এমন এক বিশাল কর্মশক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যার জন্য জ্ঞান বিকাশের সকল উপকরণ বিদ্যমান ছিল:
ব্যক্তিগত কারণসমূহ: বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য, নিরবচ্ছিন্ন সাধনা এবং সময়ের সদ্ব্যবহার।
বাহ্যিক কারণসমূহ: এমন সব বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম যারা সারা পৃথিবীকে জ্ঞানে আলোকিত করেছিলেন এবং মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন; সাথে ছিল সমকালীন শ্রেষ্ঠ শায়খের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও নিরবচ্ছিন্ন দিকনির্দেশনা, যিনি ইলমের ক্ষেত্রে সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং যাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ধারা দীর্ঘ ছাপ্পান্ন বছর যাবত অব্যাহত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فما الآثار التي خلفتها هذه العبقرية التي توفرت لها هذه الظروف؟!.
يروي الحافظ ابن حجر أن العراقي "هو الذي دربه، وعلمه كيفية التخريج والتصنيف، وهو الذي يعمل له خطب الكتاب" (1). وأن الهيثمي "تخرج به في الحديث" (2).
وليس من شك عندنا أن العراقي تجام مقام الوالد من الهيثمي، وقد اختصه من دون تلاميذه فأمنه على علمه، وعلى عرضه، وبين أولئك التلاميذ من هو أرسخ قدماً، وأجل شأناً من الهيثمي، ولذلك فإننا لا نشك أيضاً أن الهيثمي يتمتع بصفات شخصية جذبت إليه العراقي، وجعلته يؤثره على بقية تلاميذه وفيهم ابن حجر، ويثق به أكثر من جميع رواده، ويطمئن إليه أكثر من أخص الناس به: أهله وولده.
ويجمع مترجمو الهيثمي -وعن الحافظ ابن حجر نقلوا لأنه أقدم من ترجم له- أن العراقي أشار عليه:
أولاً: أن يجمع ما في مسند أحمد من الأحاديث الزائدة على الكتب الست، وأرشده إلى التصرف بذلك، وعندما فرع من تسويده، راجعه الحافظ العراقي وسماه "غاية المقصد في زوائد أحمد" وهو في مجلدين.
ثم حبب إليه هذا التخريج فصنع "كشف الأستار عن زوائد البزار".
وقد حققه الأستاذ الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي في أربعة مجلدات، نشر مؤسسة الرسالة.
ثم أتبعه بزوائد مسند أبي يعلى الموصلي، وسماه "المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي" وقد حقق الجزء الأول منه الدكتور نايف بن هاشم الدعيس، وفيه (615) حديثاً.
--------------------------------------------
সুতরাং এই অনন্য প্রতিভা যার জন্য এই সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান ছিল, তা কী কী নিদর্শন রেখে গেছে?!.
হাফেজ ইবনে হাজার বর্ণনা করেন যে, আল-ইরাকিই "তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, তাকে হাদিসের উৎস নির্ণয় (তাখরিজ) ও গ্রন্থ সংকলনের পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন, এবং তিনিই তার গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিতেন" (১)। এবং আল-হাইসামি "তার মাধ্যমেই হাদিসশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন" (২)।
আমাদের কাছে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল-হাইসামির নিকট আল-ইরাকি ছিলেন পিতার সমতুল্য। তিনি তার অন্যান্য ছাত্রদের বাদ দিয়ে তাকেই বিশেষভাবে বেছে নিয়েছিলেন এবং তাকে তার জ্ঞান ও সম্মানের বিষয়ে বিশ্বস্ত মনে করতেন। অথচ সেই সব ছাত্রদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা আল-হাইসামির চেয়েও অধিক সুদৃঢ় ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাই আমরা এতেও কোনো সন্দেহ করি না যে, আল-হাইসামি এমন কিছু ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন যা আল-ইরাকিকে তার প্রতি আকৃষ্ট করেছিল এবং তাকে ইবনে হাজারসহ অন্যান্য ছাত্রদের ওপর প্রাধান্য দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি তাকে তার সকল অনুসারীদের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন এবং তার একান্ত আপনজন—পরিবার ও সন্তানদের চেয়েও তার ওপর অধিক আশ্বস্ত ছিলেন।
আল-হাইসামির জীবনীকারগণ একমত হয়েছেন—এবং তারা হাফেজ ইবনে হাজার থেকেই এটি বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনিই ছিলেন তার প্রাচীনতম জীবনীকার—যে আল-ইরাকি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন:
প্রথমত: মুসনাদে আহমাদ-এর সেই হাদিসগুলো সংগ্রহ করা যা কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি মৌলিক হাদিস গ্রন্থ)-এর অতিরিক্ত। তিনি তাকে এই কাজের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। যখন তিনি এর খসড়া প্রস্তুত শেষ করলেন, হাফেজ আল-ইরাকি তা পর্যালোচনা করেন এবং এর নাম দেন "গায়াতুল মাকসাদ ফি যাওয়াইদি আহমাদ", যা দুই খণ্ডে সমাপ্ত।
অতঃপর তিনি তার মধ্যে এই ধরণের সংকলনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন, ফলে তিনি "কাশফুল আস্তার আন যাওয়াইদিল বাজ্জার" রচনা করেন।
এটি উস্তাদ শেখ হাবিবুর রহমান আল-আযমি চার খণ্ডে সম্পাদনা করেছেন, যা মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ কর্তৃক প্রকাশিত।
এরপর তিনি মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির অতিরিক্ত হাদিসগুলো নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নাম দেন "আল-মাকসাদুল আলি ফি যাওয়াইদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি"। এর প্রথম খণ্ডটি ডক্টর নায়েফ বিন হাশেম আদ-দুআইস সম্পাদনা করেছেন এবং এতে ৬১৫টি হাদিস রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكان عمله الرابع جمع زوائد "المعجم الكبير" للطبراني. وسماه "البدر المنير في زوائد المعجم الكبير".
وختم ذلك بجمع زوائد المعجمين: الأوسط، والصغير، في مصنف واحد سماه "مجمع البحرين في زوائد المعجمين".
ثم جمع ما تقدم من أحاديث فحذف أسانيدها، ورتبها على أبواب الفقه، وتكلم على كل حديث منها بالصحة والضعف، جمع ذلك في كتاب واحد سماه "مجمع الزوائد، ومنبع الفوائد" وهو الكتاب الذي نحن بصدد تحقيقه، أعاننا الله على إتمامه.
وبعد أن رسخ قدمه في هذا المضمار الشريف، جمع زوائد ابن حبان على الصحيحين، وليس على الكتب الست كما تقدم، ورتبها على أبواب الفقه أيضاً في كتاب سماه "موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان". وقد حققناه بفضل الله مع الأستاذ عبده علي الكوشك، ونشرته دار الثقافة العربية.
ثم صنع "بغية الباحث عن زوائد الحارث". ورتب "ثقات ابن حبان" على الحروف، ورتب "ثقات العجلي" كذلك حتى تسهل العودة إليهما والفائدة منهما.
كما رتب أحاديث "الأفراد للدارقطني" على أبواب الفقه في مجلدين، ورتب أيضاً "الغيلانيات" و"الخلعيات"، و"فوائد تمام" على أبواب الفقه أيضاً. وسود ترتيب أحاديث "حلية الأولياء" لأبي نعيم على الأبواب، ولكنه انتقل إلى رحمة الله تعالى قبل إتمامها، فبيضها تلميذه الكبير الحافظ ابن حجر، تغمدهما الله في رحمته.
هذه هي مجموعة الآثار التي خلفها هذا الإمام، وهي -بحق- تفرض على من يطلع عليها أن يعترف بجلالة قدر صانعها، وبحفظه، وبقدرته على
তার চতুর্থ কাজ ছিল তাবারানির ‘আল-মুজামুল কাবীর’-এর অতিরিক্ত হাদিসগুলো (জাওয়াইদ) সংগ্রহ করা। তিনি এর নামকরণ করেছিলেন ‘আল-বদরুল মুনীর ফী জাওয়াইদিল মুজামিল কাবীর’।
তিনি মুজামদ্বয়—আল-আওসাত এবং আস-সাগীর—এর জাওয়াইদসমূহ একটি সংকলনে একত্রিত করার মাধ্যমে তার সেই কাজের সমাপ্তি টানেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘মাজমাউল বাহরাইন ফী জাওয়াইদিল মুজামাইন’।
এরপর তিনি পূর্বে বর্ণিত হাদিসগুলোকে একত্রিত করেন এবং সেগুলোর সনদসমূহ বাদ দিয়ে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। তিনি প্রতিটি হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এই সবকিছু তিনি একটি গ্রন্থে সংকলন করেন যার নাম দিয়েছেন ‘মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ’। এটি সেই গ্রন্থ যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা (তাহকীক) করছি; আল্লাহ আমাদের এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন।
এই সম্মানজনক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার পর, তিনি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর অতিরিক্ত ইবনে হিব্বানের হাদিসগুলো সংগ্রহ করেন—যা পূর্বে উল্লিখিত ছয়টি কিতাবের অতিরিক্ত নয়। তিনি এগুলোকেও ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন এবং এর নাম দেন ‘মাওয়ারিদুয যামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান’। আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা এটি উস্তাদ আবদু আলী আল-কুশাকের সাথে সম্পাদনা করেছি এবং এটি দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর তিনি ‘বুগইয়াতুল বাহিস আন জাওয়াইদিল হারিস’ রচনা করেন। তিনি ইবনে হিব্বানের ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থটিকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন এবং আল-ইজলীর ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থটিকেও একইভাবে বিন্যস্ত করেছেন যাতে এগুলোর ব্যবহার ও এ থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়।
এছাড়াও তিনি আদ-দারা কুতনীর ‘আল-আফরাদ’-এর হাদিসগুলোকে দুই খণ্ডে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। তিনি ‘আল-গায়লানিয়্যাত’, ‘আল-খুলা’ইয়্যাত’ এবং ‘ফাওয়াইদু তাম্মাম’-কেও একইভাবে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছেন। তিনি আবু নুয়াইমের ‘হিলইয়াতুল আওলিয়া’-এর হাদিসগুলোর অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসের খসড়া তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তা সম্পন্ন করার পূর্বেই তিনি মহান আল্লাহর রহমতের দিকে চলে যান। পরবর্তীতে তার প্রখ্যাত ছাত্র হাফিজ ইবনে হাজার সেটি চূড়ান্ত রূপ দান করেন। আল্লাহ তাদের উভয়কে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন।
এগুলোই হলো সেই কীর্তিসমূহ যা এই ইমাম রেখে গেছেন। আর এগুলো প্রকৃতপক্ষে যে কারো নিকট এটি স্বীকার করতে বাধ্য করে যে, এর রচয়িতা অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং তার মুখস্থশক্তি ও পারদর্শিতা ছিল অতুলনীয়।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الترتيب والتبويب، وبفائق الجهد المبذول فيها من أجل أن ييسر الوصول إلى الإفادة منها، رحم الله مصنفها ومرتبها.
وهنا يلوح على استحياء سؤال:
هل الآثار التي تركها الحافظ الهيثمي -على جلالها، وعظيم قدرها، وكبير فائدتها- تملأ الإطار الزمني الذي عاشه هذا الحافظ الجاد؟ وتكون الركيزة الأساسية التي اعتمد عليها تلامذته ومن ترجموا له ليصفوه بما وصفوه به؟
لقد عاش الهيثمي رحمه الله اثنتين وسبعين عاماً، أنفق منها ستة وخمسين عاماً في صحبة سيده وشيخه، حافظ الحفاظ في المشرق والمغرب، أبي الفضل العراقي.
وهو الذي "كان عجباً في الدين والتقوى، والزهد، والإقبال على العلم
… وعدم مخالطة الناس" (1).
وهو الذي أصبح "لشدة ممارسته أكثر استحضاراً للنصوص من شيخه" (2).
وهو الذي رتبه شيخه وسيده ثالث حفاظ العصر بعده، قال ابن حجر: "وسئل -يعني العراقي- عند موته عمن بقي من الحفاظ، فبدأ بي، وثنى بولده، وثلث بالشيخ نور الدين" (3).
وقد أجمل الأقفهسي صفاته فقال: "كان إماماً، عالماً، حافظاً، زاهداً، متواضعاً، متودداً إلى الناس، ذا عبادة وتقشف وورع".
نقول: إن رجلاً يدربه شيخه على عمل، ثم يراجعه له عند الانتهاء منه
--------------------------------------------
বিন্যাস ও পরিচ্ছেদবিন্যাস এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি সহজতর করার লক্ষ্যে এতে ব্যয় করা হয়েছে চরম প্রচেষ্টা। আল্লাহ এর লেখক ও বিন্যাসকারীকে রহম করুন।
আর এখানে সংকোচের সাথে একটি প্রশ্ন উদিত হয়:
হাফেজ আল-হাইসামি যে সকল কীর্তি রেখে গেছেন—তার মহিমা, উচ্চমর্যাদা এবং বিপুল উপকারিতা সত্ত্বেও—তা কি এই পরিশ্রমী হাফেজের জীবনকালের পরিধিকে পূর্ণ করে? এবং এগুলোই কি সেই মূল ভিত্তি যার ওপর তাঁর ছাত্ররা এবং তাঁর জীবনীকাররা তাঁকে সেই সকল বিশেষণে বিশেষিত করার জন্য নির্ভর করেছিলেন, যা দিয়ে তাঁরা তাঁকে বর্ণনা করেছেন?
আল-হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ) বাহাত্তর বছর বেঁচে ছিলেন, যার মধ্যে ছাপ্পান্ন বছরই ব্যয় করেছেন তাঁর অভিভাবক ও শিক্ষক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের হাফেজদের শ্রেষ্ঠ হাফেজ, আবুল ফজল আল-ইরাকির সাহচর্যে।
তিনি এমন ব্যক্তি ছিলেন যিনি "দীনদারী, খোদাভীতি, দুনিয়াবিমুখতা, ইলমের প্রতি একাগ্রতা ... এবং মানুষের সাথে মেলামেশা না করার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন" (১)।
তিনি এমন ব্যক্তি ছিলেন যিনি "অত্যধিক অনুশীলনের কারণে মূল পাঠ্যসমূহ (নসুস) উপস্থিত করার ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষকের চেয়েও বেশি পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন" (২)।
তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁকে তাঁর শিক্ষক ও অভিভাবক তাঁর পরবর্তী সমসাময়িক হাফেজদের মধ্যে তৃতীয় স্তরে স্থান দিয়েছেন। ইবনে হাজার বলেন: "তাঁকে—অর্থাৎ আল-ইরাকিকে—তাঁর মৃত্যুর সময় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, জীবিত হাফেজদের মধ্যে আর কে অবশিষ্ট আছেন? তিনি আমাকে দিয়ে শুরু করলেন, দ্বিতীয় অবস্থানে তাঁর পুত্রকে রাখলেন এবং তৃতীয় অবস্থানে শেখ নূরুদ্দিনকে (আল-হাইসামিকে) উল্লেখ করলেন" (৩)।
আল-আকফাহসি তাঁর গুণাবলি সংক্ষেপে বর্ণনা করে বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন ইমাম, আলিম, হাফেজ, দুনিয়াবিমুখ, বিনয়ী, মানুষের প্রতি আন্তরিক, ইবাদতগুজার, অনাড়ম্বর এবং পরহেজগার।"
আমরা বলি: একজন ব্যক্তি যাঁকে তাঁর শিক্ষক কোনো কাজের প্রশিক্ষণ দেন, অতঃপর কাজ শেষ হলে তা তাঁর জন্য পর্যালোচনা করে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويعينه حتى على كتابته، ويكتب له مقدمته، ويسميه له ولا يتقن من علوم الحديث إلا هذا الذي دربه فيه شيخه، لا يمكن أن يوصف بأنه ثالث حفاظ العصر بعد العراقي. وبأنه حافظ، وعالم، وإمام.
وإنني لأزعم أن المنافسة هي التي دفعت الحافظ ابن حجر إلى أن يعلل لماذا كان أول حفاظ العصر بعد العراقي بقوله: "لأن ولده تشاغل بفنون غير الحديث، والشيخ نور الدين كان يدري منه فناً واحداً" (1).
ويؤكد على ذلك، ويوضح المراد الحافظ السخاوي بقوله: "وأما في الحديث فالحق ما قاله شيخنا أنه كان يدري منه فناً واحداً. يعني الذي دربه فيه شيخهما العراقي" (2).
وإن عجبي لأشد من أن الحافظ ابن حجر يصرف الأذهان عن حقيقة استقرت فيها بتأويل لم يوفق فيه، ولا أظن أنه يوافق عليه. يقول: "وصار الهيثمي لشدة ممارسته أكثر استحضاراً للمتون من شيخه" هذه هي الحقيقة، والتعليل "حتى يظن من لا خبرة له أنه أحفظ منه، وليس الأمر كذلك، لأن الحفظ المعرفة" (3).
والإنصاف أن الهيثمي أكثر استحضاراً للمتون من شيخه العراقي، ولكن العراقي كان أتقن لفنون الحديث من تلميذه، وليس في ذلك حط من شأن العراقي حتى يسارع الحافظ إلى حصر الحفظ بأنه المعرفة، وليس هذا بمسلم له والله أعلم.
وأعود لأؤكد -وأرجو أن لا يجانبني التوفيق- أن المصنفات التي أغنى الهيثمي المكتبة الإسلامية بها -على جلالة قدرها وعظيم فوائدها-: لا تغطي المساحة الزمنية التي عاشها، والفترة الخصبة التي أَنفقها في صحبة شيخ
--------------------------------------------
এবং তিনি তাকে এমনকি তা লেখার ক্ষেত্রেও সাহায্য করেন, তার জন্য এর ভূমিকা লিখে দেন এবং এর নামকরণ করেন; অথচ তিনি হাদীস শাস্ত্রের সেই শাখাটি ছাড়া অন্য কিছুতে দক্ষ নন যে বিষয়ে তার উস্তাদ তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন—এমন ব্যক্তিকে ইরাকির পরে যুগের তৃতীয় হাফিয হিসেবে অভিহিত করা সম্ভব নয়, কিংবা তাকে হাফিয, আলিম ও ইমাম বলাও যায় না।
আর আমি মনে করি যে, প্রতিযোগিতার বিষয়টিই হাফিয ইবনে হাজারকে এই ব্যাখ্যা দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে যে, কেন ইরাকির পরে হাইসামিকে যুগের প্রথম পর্যায়ের হাফিয গণ্য করা হয়। তিনি বলেছেন: "কারণ তার (ইরাকির) পুত্র হাদীস ছাড়া অন্যান্য বিদ্যায় মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, আর শায়খ নূরুদ্দিন এর (হাদীসের) কেবল একটি শাখাই জানতেন" (১)।
হাফিয সাখাভীও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন: "আর হাদীস শাস্ত্রের ব্যাপারে সত্য হলো তা-ই যা আমাদের শায়খ বলেছেন যে, তিনি এর মাত্র একটি শাখা জানতেন। অর্থাৎ যে বিষয়ে তাদের উভয়ের উস্তাদ ইরাকি তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন" (২)।
আর আমার বিস্ময় কেবল তখনই বাড়ে যখন হাফিয ইবনে হাজার এমন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য থেকে মনকে সরিয়ে নিতে চান এমন এক ব্যাখ্যার মাধ্যমে যা সঠিক হয়নি এবং আমি মনে করি না যে তিনি নিজেও এতে একমত হতেন। তিনি বলেন: "অত্যধিক অনুশীলনের কারণে হাইসামি তার উস্তাদের চেয়ে মতুন (হাদীসের মূল পাঠ) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন।" এটিই সত্য, আর এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন: "এমনকি যার অভিজ্ঞতা নেই সে ধারণা করতে পারে যে হাইসামি তার চেয়েও বড় হাফিয ছিলেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কারণ হিফয বলতে গভীর জ্ঞান ও পরিচয় বুঝায়" (৩)।
ন্যায়বিচার হলো এই যে, হাইসামি তার উস্তাদ ইরাকির চেয়ে হাদীসের মূল পাঠ মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী ছিলেন, কিন্তু ইরাকি তার ছাত্রের তুলনায় হাদীসের শাখা-প্রশাখাগুলোতে অধিক দক্ষ ছিলেন। এতে ইরাকির মর্যাদার কোনো হানি হয় না যে হাফিযকে দ্রুত হিফযের সংজ্ঞাকে কেবল গভীর জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। আর এটি মেনে নেওয়ার মতো নয়, আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
আমি পুনরায় জোর দিয়ে বলতে চাই—এবং আশা করি আমি সঠিক পথেই আছি—যে, হাইসামি ইসলামি গ্রন্থাগারকে যেসব রচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন—সেগুলোর উচ্চ মর্যাদা এবং ব্যাপক উপকারিতা সত্ত্বেও—তা তার দীর্ঘ জীবন এবং তার উস্তাদের সান্নিধ্যে কাটানো ফলপ্রসূ সময়কালকে পুরোপুরি তুলে ধরে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يحرض كل طاقة فيه على العطاء، كما أنها لا تؤهله لأن يوصف بالأوصاف التي وصف بها وهو تلميذ لحافظ الدنيا العراقي، وشيخ لأمير المؤمنين في الحديث، شيخ الحفاظ ابن حجر العسقلاني.
إن تركة الرجل -ولا أمل من تكرار التوكيد على جلالتها وعظيم فوائدها- تعتمد في مجموعها على الترتيب الذي يمكن لرجل عادي أن يقوم به مع الإشراف، والتوجيه، ومد يد العون -كما زعم المترجمون له أن العراقي يفعل- فبماذا إذاً استحق شيخنا هذه الأوصاف؟
إنه ثالث حفاظ عصره، العالم، الحافظ، الإمام، الذي لا يكل ولا يمل من كتابة الحديث وتدوين العلم.
فقد سمع ما سمعه العراقي تقريباً، وسمع، وكتب، وقرأ كل ما أنتجه العراقي، فالجو مهيأ له لأن يتجاوز العراقي نفسه.
نعم هناك قدرات شخصية لا يمكن لباحث أن ينكرها، ولكن أن يكون البون شاسعاً بين شيخ وتلميذه كما هو الحال بين العراقي وصفيه من دون تلاميذه وفيهم ابن حجر، فهو أمر ليس بمقبول، مع أن الصفات التي وصف بها، والظروف العلمية التي عاشها، ورعاية وإشراف وتوجيه وتدريب حافظ جاد، بصير خبير، إن هذا كله لجدير بأن يجعل منه إماماً يملأ الدنيا ويشغل الناس.
ولكنني -والحق أقول- تعبت في البحث عن المعطيات التي تكون السلم الذي صعد عليه شيخنا حتى استحق هذا لاختيار من شيخ يحسن الاختيار والمنافسون عليه كثر، فأمنه على علمه والعلم دين، وأمنه على عرضه ولا يؤتمن على العرض إلا ذو خلق ودين، وليس الخلق إلا التطبيق لما جاء في كتاب الله، وما صح عن رسول الله.
بِمَ استحق هذه الألقاب والصفات، ودون الاتصاف بها خرط القتاد؟.
এটি তার মধ্যে থাকা প্রতিটি শক্তিকে বিলিয়ে দেওয়ার প্রেরণা জোগায়, যেমনটি এটি তাকে সেই সব বিশেষণে বিশেষিত হওয়ার যোগ্য করে তোলে না যার মাধ্যমে তাকে অভিহিত করা হয়েছে যখন তিনি ছিলেন হাফিজে দুনিয়া ইরাকির ছাত্র এবং আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস তথা হাফিজদের প্রধান ইবনে হাজার আসকালানির শিক্ষক।
নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির ইলমি উত্তরাধিকার—আর আমি এর মহিমা ও বিশাল উপযোগিতার কথা বারবার বলতে ক্লান্ত হব না—তার পুরোটাই নির্ভর করে সেই বিন্যাসের ওপর যা একজন সাধারণ মানুষ তত্ত্বাবধান, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারে—যেমনটি তার জীবনীকারগণ দাবি করেছেন যে ইরাকি এমনটি করতেন—তাহলে আমাদের শাইখ কিসের ভিত্তিতে এই বিশেষণের যোগ্য হলেন?
তিনি ছিলেন তার যুগের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ হাফিজ, বিজ্ঞ আলিম, হাফিজ ও ইমাম, যিনি হাদিস লিখনে এবং ইলম সংকলনে কখনও ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত হতেন না।
তিনি প্রায় তাই শ্রবণ করেছেন যা ইরাকি শ্রবণ করেছেন; তিনি শুনেছেন, লিখেছেন এবং ইরাকির প্রস্তুতকৃত প্রতিটি কাজ পাঠ করেছেন। ফলে পরিবেশটি তার জন্য এমনভাবে অনুকূলে ছিল যাতে তিনি স্বয়ং ইরাকিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
হ্যাঁ, সেখানে কিছু ব্যক্তিগত দক্ষতা ছিল যা কোনো গবেষক অস্বীকার করতে পারেন না। কিন্তু একজন শাইখ ও তার ছাত্রের মধ্যে ব্যবধান এতটা বিস্তর হবে, যেমনটি ইরাকি ও তার অন্যান্য ছাত্রদের বাদ দিয়ে কেবল তার এই নির্দিষ্ট ছাত্রের মধ্যে ছিল, অথচ সেই ছাত্রদের মাঝে ইবনে হাজারও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও তাকে যে সকল গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, তিনি যে ইলমি পরিবেশে বসবাস করেছেন এবং একজন একনিষ্ঠ, দূরদর্শী ও অভিজ্ঞ হাফিজের যে যত্ন, তত্ত্বাবধান, দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ তিনি পেয়েছেন, এ সবই তাকে এমন একজন ইমামে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিল যিনি সারা বিশ্বকে আলোকিত করবেন এবং মানুষকে ইলম নিয়ে ব্যস্ত রাখবেন।
তবে আমি—সত্যি বলতে কি—সেই সব উপকরণের সন্ধানে ক্লান্ত হয়ে গেছি যা সেই সিঁড়ি হিসেবে কাজ করেছিল যার মাধ্যমে আমাদের শাইখ আরোহণ করেছিলেন, এমনকি তিনি এমন একজন শাইখের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনের যোগ্য হয়েছিলেন যিনি নির্বাচনে পারদর্শী ছিলেন এবং যার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। ফলে তিনি তাকে তার ইলমের ব্যাপারে বিশ্বস্ত মনে করেছিলেন, আর ইলম হলো দ্বীন; এবং তিনি তাকে তার ব্যক্তিগত সম্মানের ব্যাপারে বিশ্বস্ত মনে করেছিলেন, আর উচ্চ নৈতিক চরিত্র ও দ্বীনদারি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকেও এমন বিশ্বস্ত মনে করা হয় না। আর নৈতিকতা তো আল্লাহর কিতাবে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল থেকে যা সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে তারই বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।
কিসের ভিত্তিতে তিনি এই উপাধি ও গুণাবলির যোগ্য হলেন, অথচ এই গুণাবলি অর্জন করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য ব্যাপার?
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ولكن كيف أقع عليها وهي غرقى في بحر شهرة العراقي الذي ابتلعها في جملة ما ابتلع.
لقد عاش الهيثمي في عصر كان العراقي فيه محط الآمال، ونهاية ما تتطلع إليه أحلام الرجال.
لقد كان كما قال النابغة للنعمان بن المنذر:
فَإنَّكَ شَمْسٌ وَالْمُلُوكُ كَوَاكِبٌ
… إذَا طَلَعَتْ لَمْ يَبْدُ مِنْهُنَّ كَوْكَبُ
لقد أخملت شهرة العراقي كل شهرة، وحالت مظلته دون تفتح براعم لو كانت في غير زمانه، لعطر الكون شذاها. ولذلك فإن كثيراً من الناس أصبحوا لا يرون إلا من خلال شيخه، ولا يرون فيه إلا ما دربه عليه سيده، أو صنعه من أجله.
نعم أفاد الهيثمي من شيخه، وهذا أمر مجمع عليه، ولكن السؤال الذي يتطلب الإجابة: هل أفاد العراقي وهو الحافظ العلم من تلميذه وخادمه، فصاحبه، فصهره الحافظ الهيثمي؟.
ولكي نجيب على هذا السؤال لابد أن نقول: لقد ولد الهيثمي لأسرة عاشت في الظل، على هامش الحياة، في صحراء استلقت بعيداً عن صخب الحياة وصراع المتصارعين، لا يزعجها عجيجهم، ولا يكدها ضجيجهم.
وقد مر بظروف مجهولة لأن أسرته ليس لها من الثراء، أو الوجاهة الاجتماعية شيء حتى يذكرها الذاكرون، ولم نستطع أن نعرف عنه شيئاً قبل صحبته علم الأعلام، وحافظ الإسلام الى عطف عليه، وأحسن إليه.
فالهيثمي إنسان نشأ فقيراً، والفقر يقصر الخيال، ولكنه ليس بسبة تضع من أقدار الرجال، نعم نشأ فقيراً لا يملك مالاً، ولكن أسرته التي لا تملك من المال والمكانة الاجتماعية أو العلمية ما يلفت إليها نظر الدارسين
কিন্তু আমি কীভাবে সেগুলোর দেখা পাব যখন সেগুলো ইরাকির খ্যাতির সাগরে নিমজ্জিত হয়ে গেছে, যা তার গ্রাস করা অন্যান্য সবকিছুর সাথে এগুলোকেও গিলে ফেলেছে।
হাইসামি এমন এক যুগে বসবাস করেছিলেন যখন ইরাকি ছিলেন সকল আশার কেন্দ্রবিন্দু এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষার চরম লক্ষ্য।
তিনি ঠিক তেমনই ছিলেন যেমনটি নাবিগা নুমান বিন মুনজিরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:
নিশ্চয়ই আপনি সূর্য আর অন্য রাজন্যবর্গ হলো নক্ষত্ররাজি
… যখন আপনার উদয় ঘটে, তখন তাদের কোনো নক্ষত্রই আর দৃশ্যমান থাকে না।
ইরাকির খ্যাতি অন্য সকল খ্যাতিকে ম্লান করে দিয়েছিল এবং তাঁর ছত্রছায়া এমন কিছু কুঁড়িকে প্রস্ফুটিত হতে বাধা দিয়েছিল, যা যদি অন্য কোনো যুগে হতো, তবে তার সুবাসে বিশ্ব মোহিত হতো। আর সেই কারণেই অনেক মানুষ তাঁর শাইখের মাধ্যম ছাড়া তাঁকে দেখতে পেত না এবং তাঁর মধ্যে তাঁর উস্তাদ তাঁকে যা শিখিয়েছেন বা তাঁর জন্য যা তৈরি করেছেন, তা ছাড়া অন্য কিছু দেখত না।
হ্যাঁ, হাইসামি তাঁর শাইখের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়; কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন তা হলো: হাফিজ ও প্রখ্যাত আলিম ইরাকি কি তাঁর ছাত্র, খাদেম, অতঃপর সঙ্গী এবং জামাতা হাফিজ হাইসামির কাছ থেকে উপকৃত হয়েছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আমাদের অবশ্যই বলতে হবে: হাইসামি এমন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যারা লোকচক্ষুর আড়ালে জীবনের প্রান্তিকে বসবাস করত; এমন এক মরুভূমিতে যা জীবনের কোলাহল এবং দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেকে দূরে নির্জনে পড়ে ছিল, যাদের চিৎকার তাদের বিচলিত করত না এবং যাদের শোরগোল তাদের ক্লান্ত করত না।
তিনি অজ্ঞাত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেন কারণ তাঁর পরিবারের এমন কোনো ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না যা মানুষ স্মরণ রাখবে। আর এই প্রখ্যাত মনীষী ও ইসলামের হাফিজের সান্নিধ্য লাভের পূর্বে আমরা তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারিনি, যিনি তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি সদয় আচরণ করেছিলেন।
হাইসামি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি দরিদ্র অবস্থায় বেড়ে উঠেছেন, আর দারিদ্র্য কল্পনাকে সংকুচিত করে দেয়। কিন্তু এটি এমন কোনো কলঙ্ক নয় যা মানুষের মর্যাদা কমিয়ে দেয়। হ্যাঁ, তিনি দরিদ্র হয়ে বেড়ে উঠেছেন যার কোনো ধন-সম্পদ ছিল না; কিন্তু তাঁর পরিবারের এমন কোনো অর্থ-সম্পদ, সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক মর্যাদা ছিল না যা গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والمؤرخين، عرفت كيف تغرسَ فيه الإخلاص، والتضحية والوفاء، فقد كبل الإحسان لسانه، والإحسان يستعبد قلوب الأحرار من الرجال، وجعله الوفاء، والتضحية، والاعتراف بالجميل يهجر الكثير مما تميل إليه النفوس وتشرئب إليه الأعناق. فهو لا ينظر إلى شيخه إلا من خلال نسيج سداه التقدير والاحترام، ولحمته الحياء لأنه رباه ورعاه، وأرشده وأعانه ثم أمنه على كل ما لم يأتمن غيره عليه من العلم والنسب، فكان يرى نفسه أنه جزء من شيخه، وامتداد له. فهو له محب لأن القلوب جبلت على حبّ من أحسن إليها، وهو له الخادم المطيع، لأنه وضع القول: "من علَّمني حرفاً كنت له عبداً" موضع التنفيذ، وقد نجح رحمه الله في هذين الأمرين أي نجاح!!
ولذلك فإنني لا أرى للهيثمي من الاستقلال عن شيخه إلا بمقدار ما للغصن في الشجرة من الاستقلال عن أمه، مع ارتباطه الأصيل بها، واعتماده في كل حياته عليها.
وكما أنه من المسلم به أن الغصن يستفيد من الشجرة، فإنه مما لا شك فيه أيضاً أن الشجرة تستمد من أغصانها ما يفيدها في استمرار حياتها.
ولذلك فإنني أزعم أن العراقىِ استفاد من الهيثمي، وأن الهيثمي شريك للعراقي -بنسبة ما، لا أستطيع معرفة شيء عنها الآن لقلة المصادر لدي- في هذا الميراث العظيم الذي تركه الحافظ العراقي.
وكان من المتوقع أن يرى الناس صورة الهيثمي، ورسوخ قدمه، واستقلاله عن شيخه وسيده العراقي، وأن ينثر ما في جعبته، بعد وفاة العراقي سنة (806) هـ ولكن يد المنون اختطفته بعد عام واحد، فاختاره الله للقائه سنة (807) هـ تغمده الله وإيانا برحمته وأسكنه وأسكننا فسيح جنته.
وهكذا انتهت حياة هذا الحافظ الجليل الذي ورث من بيئته المكانية
এবং ঐতিহাসিকগণ জানতে পেরেছেন কীভাবে তিনি তার মধ্যে ইখলাস (একনিষ্ঠতা), আত্মত্যাগ এবং আনুগত্য রোপণ করেছিলেন। অনুগ্রহ তার জিহ্বাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিল, আর অনুগ্রহ স্বাধীন পুরুষদের অন্তরকে দাসে পরিণত করে। আর আনুগত্য, আত্মত্যাগ এবং কৃতজ্ঞতাবোধ তাকে এমন অনেক কিছু বর্জন করতে বাধ্য করেছিল যার প্রতি মানুষের মন ধাবিত হয় এবং যার প্রতি মানুষ লালায়িত দৃষ্টিতে তাকায়। তিনি তার শাইখকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের বুনন এবং লজ্জাশীলতার কাঠামোর বাইরে অন্য কোনো দৃষ্টিতে দেখতেন না। কারণ তিনি তাকে লালন-পালন করেছেন, তত্ত্বাবধান করেছেন, পথপ্রদর্শন করেছেন এবং সাহায্য করেছেন; অতঃপর তিনি তাকে এমন সব জ্ঞান এবং বংশীয় মর্যাদার বিষয়ে আমানতদার বানিয়েছিলেন যা অন্য কাউকে বিশ্বাস করে দেননি। ফলে তিনি নিজেকে তার শাইখের একটি অংশ এবং তার সম্প্রসারণ হিসেবে মনে করতেন। তিনি ছিলেন তার প্রতি পরম অনুরক্ত, কারণ মানুষের অন্তর স্বভাবগতভাবেই তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে যে তার প্রতি অনুগ্রহ করে। তিনি ছিলেন তার এক অনুগত খাদেম, কারণ তিনি 'যে আমাকে একটি অক্ষর শিক্ষা দিয়েছে আমি তার দাসে পরিণত হয়েছি'—এই উক্তিটিকে বাস্তবে রূপদান করেছিলেন। আর আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, তিনি এই উভয় বিষয়েই পূর্ণ সফলতা অর্জন করেছিলেন।
তাই আমি হাইসামীর জন্য তার শাইখ থেকে এমন কোনো স্বতন্ত্রতা দেখি না, যা একটি বৃক্ষের শাখা তার মূল কাণ্ড থেকে প্রাপ্ত স্বতন্ত্রতার চেয়ে বেশি; যেখানে সেটির সাথে তার রয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন এবং সারা জীবন সেটির ওপর তার গভীর নির্ভরশীলতা।
এবং যেমনটা সর্বজনস্বীকৃত যে শাখা বৃক্ষ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে, তেমনি এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে বৃক্ষও তার শাখাগুলো থেকে এমন উপাদান গ্রহণ করে যা তার জীবনপ্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তাই আমি মনে করি যে, ইরাকী হাইসামী থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং হাফেয ইরাকী যে মহান ইলমী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন তাতে হাইসামীও একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় অংশীদার—যে সম্পর্কে পর্যাপ্ত উৎসের অভাবের কারণে বর্তমানে বিস্তারিত জানা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
এটা প্রত্যাশিত ছিল যে মানুষ ৮০৬ হিজরিতে ইরাকীর ইন্তেকালের পর হাইসামীর প্রকৃত চিত্র, তার পাণ্ডিত্যের সুদৃঢ় পদচারণা এবং তার শাইখ ও সায়্যিদ ইরাকী থেকে তার স্বতন্ত্র অবস্থানটি দেখতে পাবে এবং তার জ্ঞানভাণ্ডারে যা গচ্ছিত আছে তা তিনি অবারিত করবেন। কিন্তু মাত্র এক বছর পর মৃত্যুর হাত তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ ৮০৭ হিজরিতে তাকে নিজের সান্নিধ্যের জন্য বেছে নেন। আল্লাহ তাকে ও আমাদের তার রহমত দিয়ে আবৃত করুন এবং তাকে ও আমাদের জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে বসবাস করার তাওফিক দান করুন।
এভাবেই এই মহান হাফেযের জীবনাবসান ঘটে, যিনি তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন...