(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
عنوان الدراية فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية   (الغبريني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: عنوان الدّراية فيمن عُرف من العلماء في المائة السَّابعة ببجايَة

المؤلف: أحمد بن أحمد بن عبد الله بن محمد، أبو العباس الغِبْرِيني (ت 714 هـ)

حققه وعلق عليه: عادل نويهض

الناشر: منشورات دار الآفاق الجديدة، بيروت

الطبعة: الثانية، 1979 م

[وهي مطابقة في صفحاتها للطبعة الأولى 1969 م منشورات لجنة التأليف والترجمة والنشر - بيروت]

عدد الصفحات: 401

أعده للمكتبة الشاملة/ أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433

সপ্তম শতাব্দীতে বেজাইয়ায় সুপরিচিত আলেমগণের জ্ঞানগর্ভ পরিচিতি   (আল-গুবরিনী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সপ্তম শতাব্দীতে বেজাইয়ায় সুপরিচিত আলেমগণের জ্ঞানগর্ভ পরিচিতি

লেখক: আহমাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আবু আব্বাস আল-গুবরিনী (মৃত্যু ৭১৪ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: আদিল নুওয়াইহিদ

প্রকাশক: দারুল আ-ফাক আল-জাদিদাহ প্রকাশনী, বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ

[এটি এর পৃষ্ঠা বিন্যাসে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটি - বৈরুত এর প্রকাশনা]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০১

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ আবু ইয়াসির আল-জাযায়েরী

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ যুল হিজ্জাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ذخائر التراث العربي

عنوان الدراية

فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية

تأليف

أبو العباس الغبريني

أحمد بن أحمد عبد الله

(644هـ - 714هـ)

حققه وعلق عليه

عادل نويهض

ليسانس ودبلوم صحافة

رئيس مصلحة الصحافة والنشر (سابقا) في الجزائر

منشورات دار الآفاق الجديدة بيروت
আরবি ঐতিহ্যের সম্পদ ভাণ্ডার

উনওয়ান আদ-দিরায়াহ

সপ্তম শতাব্দীতে বেজাইয়া শহরের প্রখ্যাত আলেমগণের পরিচিতি প্রসঙ্গে

রচনায়

আবুল আব্বাস আল-গুবরিনী

আহমদ ইবনে আহমদ আবদুল্লাহ

(৬৪৪ হি. - ৭১৪ হি.)

সম্পাদনা ও টীকা সংযোজন

আদিল নুওয়াইহিদ

স্নাতক ও সাংবাদিকতা ডিপ্লোমা

আলজেরিয়ার প্রেস ও প্রকাশনা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান

দারুল আফাক আল-জাদিদাহ প্রকাশনী, বৈরুত
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
الطبعة الثانية

نيسان - (أبريل) 1979
দ্বিতীয় সংস্করণ

নিসান - (এপ্রিল) ১৯৭৯
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌كلمتنا

كتاب "عنوان الدراية فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية" للعلامة المؤرخ المحقق الشيخ أبي العباس الغبريني، من أهم المصادر التاريخية في المكتبة العربية عن الحياة العلمية في القرن السابع الهجري في بجاية، بالمغرب الأوسط، وسجل حافل بتراجم عشرات العلماء والمؤرخين والأدباء والشعراء وغيرهم ممن عرفتهم المدينة من مشاهير أعلام الجزائر وتونس والمغرب والأندلس.

وقد نشر هذا الكتاب لأول مرة في مدينة الجزائر سنة 1910 بعناية الأستاذ محمد بن أبي شنب.

و"دار الآفاق الجديدة" التي قدمت للعالمين، العربي والإسلامي، أنفس ما في تراثنا من مؤلفات، يسرها اليوم، أن تقدم هذا الكتاب في طبعة جديدة، أشرف على تحقيقها والتعليق على أصولها تعليقات وافية، الأستاذ عادل نويهض، فجاءت ضعف الكتاب الأصلي.

وفقنا الله، وأخذ بيدنا لما فيه خير العرب والمسلمين.

الناشر
আমাদের কথা

আল্লামা, ইতিহাসবিদ ও গবেষক শায়খ আবুল আব্বাস আল-গুবরিনী রচিত “উনওয়ানুদ দিরাইয়াহ ফী মান উরিফা মিনাল উলামা ফিল মিআতিল সাবিআতি বি-বিজায়াহ” গ্রন্থটি মধ্য মাগরিবের বিজায়া অঞ্চলের সপ্তম হিজরি শতকের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন সম্পর্কে আরবি গ্রন্থাগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস। এটি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো ও আন্দালুসের প্রখ্যাত মণীষীদের মধ্য থেকে ওই শহরে পরিচিতি লাভকারী বহু আলিম, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, কবি ও অন্যান্যদের জীবনীর এক সমৃদ্ধ সংকলন।

এই গ্রন্থটি সর্বপ্রথম ১৯১০ সালে আলজেরিয়া শহরে উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আবি শানাবের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিল।

“দার আল-আফাক আল-জাদিদাহ”, যারা আরব ও মুসলিম বিশ্বের নিকট আমাদের ঐতিহ্যের মূল্যবান রচনাসমূহ পেশ করেছে, আজ অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই গ্রন্থটি একটি নতুন সংস্করণে উপস্থাপন করছে। এর সম্পাদনা এবং মূল পাঠের ওপর বিস্তারিত টীকা প্রদানের কাজ তত্ত্বাবধান করেছেন উস্তাদ আদিল নুওয়াইহিদ, যার ফলে এটি মূল গ্রন্থের তুলনায় দ্বিগুণ কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন এবং আরব ও মুসলিমদের কল্যাণের পথে আমাদের হাত ধরুন।

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

بجاية مدينة مشهورة بالمغرب الأوسط، تقع شرقي الجزائر على شاطئ البحر الأبيض المتوسط، اختطها سنة 460 هـ الناصر بن علناس أشهر ملوك الدولة الحمادية وأعظمهم شأنا، ثم اتخذها عاصمة ملكه وسماها الناصرية باسمه.

بلغت بجاية- في عهد الحماديية- درجة كبيرة من التقدم والعمران، واحتلت مكانة مرموقة بين حواضر العلم في المغرب والمشرق، فأمها الكثير من علماء مصر والشام والأندلس، فانتعشت الثقافة العربية وازدهرت الحركة العلمية، حين قيل إن عدد المفتين فيها بلغ تسعين مفتيا في زمن واحد.

وبنهاية دولة بني حماد (547هـ) على أيدي الموحدين، ودخول المغرب الأوسط تحت نظام الحكم الجديد، أخذت بجاية تفتح صفحة جديدة من صفحات تاريخها الثقافي والسياسي والعمراني والعلمي. ففي هذا العصر، أصبحت معقلا من أهم معاقل الحركة العقلية التي عرفها الشمال الافريقي، ينتقل إليه عشاق الأدب وطلاب العلم والمعرفة من مختلف المدن والقرى … وقبلة تهوى إليها أفئدة المسلمين من بلاد الأندلس غربا إلى أصفهان في بلاد العجم شرقا، فاستهوت ألباب عدد غير قليل من مشاهير العلماء ومدرسي العلوم وأهل الفتوى والقضاء الأندلسيين والتونسيين والليبيين، كعبد الحق الاشبيلي وابن سيد الناس اليعمري وأحمد بن خالد المالقي وغيرهم، فزاروها وأقاموا بها واتخذوها وطنا. كما نبغ في هذا العصر عدد من العلماء والشعراء والكتاب الجزائريين الذين نشأوا في المدينة أو أخذوا عن شيوخها.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

বেজায়া মধ্য মাগরেবের একটি সুপ্রসিদ্ধ শহর, যা আলজেরিয়ার পূর্বে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত। ৪৬০ হিজরি সনে হাম্মাদি রাজবংশের সবচেয়ে বিখ্যাত ও প্রভাবশালী সুলতান নাসির ইবনে আলনাস এই শহরের পত্তন করেন। এরপর তিনি একে তাঁর রাজ্যের রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং নিজের নামানুসারে এর নামকরণ করেন 'নাসিরিয়্যাহ'।

হাম্মাদি শাসনামলে বেজায়া উন্নতি ও নগর সভ্যতায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের জ্ঞানকেন্দ্রগুলোর মধ্যে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল। ফলে মিশর, শাম ও আন্দালুসের বহু আলিম এখানে ভিড় জমান। এতে আরবি সংস্কৃতি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং জ্ঞানচর্চার আন্দোলন বিকশিত হয়; এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, এক সময়ে সেখানে মুফতিদের সংখ্যা নব্বই জনে পৌঁছেছিল।

মুওয়াহহিদুনদের হাতে হাম্মাদি সাম্রাজ্যের পতন (৫৪৭ হিজরি) এবং মধ্য মাগরেব নতুন শাসনব্যবস্থার অধীনে আসার পর বেজায়া তার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নগর ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে শুরু করে। এই যুগে এটি উত্তর আফ্রিকার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দুর্গে পরিণত হয়, যেখানে বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে সাহিত্যপ্রেমী ও জ্ঞানপিপাসুরা সমবেত হতে থাকেন ... এবং এটি পশ্চিমে আন্দালুস থেকে শুরু করে পূর্বে অনারব ভূখণ্ডের ইসফাহান পর্যন্ত মুসলিমদের হৃদয়ের মিলনস্থলে পরিণত হয়। ফলে আন্দালুসিয়া, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রখ্যাত আলিম, শিক্ষক, মুফতি ও বিচারক এই শহরের প্রতি আকৃষ্ট হন; যেমন আব্দুল হক আল-ইশবিলি, ইবনে সাইয়িদুন নাস আল-ইয়া’মুরি, আহমদ বিন খালিদ আল-মালিকি প্রমুখ। তাঁরা এখানে সফর করেছেন, অবস্থান করেছেন এবং একে স্থায়ী নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি এই যুগে আলজেরিয়ার অনেক আলিম, কবি ও লেখকও খ্যাতি অর্জন করেন, যাঁরা এই শহরেই বেড়ে উঠেছেন অথবা এখানকার শায়খদের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
دام حكم الموحدين للمغرب الأوسط ما يقرب من قرن (539 - 633هـ)، ثم تلاهم الحفصيون، وكانت مدينة بجاية هي عاصمة الجزائر الحفصية في هذا العهد.

وكتاب "عوان الدراية فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية" الذي صنفه فقيهها وقاضيها ومؤرخها أبو العباس الغبريني، وترجم فيه لأكثر من مائة وأربعين من رجال القرن السابع الهجري- وأكثرهم عاصر العهدين، الموحدي والحفصي- يعد أحفل سجل عن هذه الحقبة الذهبية التي عرفتها المدينة الإسلامية العربية، ففيه يتبين للقارىء ما كان لهذه المدينة من الصلات الوثيقة مع مراكز الحركات الثقافية في العالم الإسلامي، ومدى أثرها في الانتاج الأدبي من نثر وشعر وتاريخ … وفي العلوم الدينية من فقه وأصول وتصوف. الخ.

ولما كانت المكتبة العربية- وما تزال- في حاجة إلى بعث مثل هذا التراث النفيس الذي يبين عن أمجادنا في مختلف المجالات العلمية، وقع اختياري عليه ليكون أول كتاب أقوم بنشره من سلسلة كتب التراث الجزائري التي عقدت العزم على تحقيقها وطبعها.

واليوم إذ أقدم هذا الكتاب للقارئين العرب في أبهى حلة، بعد أن حققت أصوله وعلقت عليها حيث وجب التعليق، وترجمت لأعلامه المذكورين في متنه، أرجو أن يرضي رغبات المثقفين من أبناء هذه الأمة، ويقع موقع الرضى والقبول من الباحثين والدارسين والمؤرخين. كما أرجو أن أكون بعملي المتواضع هذا، قد أسديت للمكتبة الجزائرية بخاصة، والمكتبة العربية بعامة، يدا تذكر بالخير كلما ذكر العاملون في سبيل إحياء تراثنا. وقد بدأت عملي بتقديم المؤلف والكتاب إلى القراء ليكونوا على بينة من الرجل وكتابه قبل أن يقرأوه من بابه إلى محرابه.
মধ্য মাগরেবে মুওয়াহহিদুনদের শাসন প্রায় এক শতাব্দীকাল (৫৩৯ - ৬৩৩ হিজরি) স্থায়ী হয়েছিল, অতঃপর তাদের স্থলাভিষিক্ত হয় হাফসীয়রা। এই যুগে বেজাইয়া শহরটি হাফসীয় আলজেরিয়ার রাজধানী ছিল।

এবং "উইওয়ানুদ্দিরয়া ফিমান উরিফা মিনাল উলামা ফিল মিআতিল সাবিআতি বি বেজাইয়া" (সপ্তম শতাব্দীতে বেজাইয়ার সুপরিচিত আলেমদের জ্ঞানগর্ভ দর্পণ) নামক গ্রন্থটি, যা রচনা করেছেন এখানকার ফকিহ, কাজী ও ঐতিহাসিক আবুল আব্বাস আল-গুবরিনী। তিনি এতে সপ্তম হিজরি শতকের একশ চল্লিশেরও বেশি ব্যক্তির জীবনী বর্ণনা করেছেন—যাদের অধিকাংশই মুওয়াহহিদুন ও হাফসীয় উভয় যুগ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এটি এই ইসলামি আরব শহরটির সেই স্বর্ণযুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয় যে, ইসলামি বিশ্বের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুগুলোর সাথে এই শহরের কেমন সুদৃঢ় সম্পর্ক ছিল এবং গদ্য, পদ্য ও ইতিহাস … এবং ধর্মীয় বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ফিকহ, উসুল ও তাসাউফ ইত্যাদিতে এর প্রভাব কতখানি বিস্তৃত ছিল।

যেহেতু আরবি গ্রন্থাগার এই ধরনের অমূল্য ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের মুখাপেক্ষী ছিল—এবং এখনও আছে—যা বিভিন্ন জ্ঞানীয় ক্ষেত্রে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তুলে ধরে, তাই আমি আলজেরীয় ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ সিরিজের প্রথম প্রকাশনা হিসেবে এটিকেই নির্বাচন করেছি, যা আমি সম্পাদনা ও মুদ্রণের দৃঢ় সংকল্প করেছি।

আজ আমি এই গ্রন্থটি মূল পাণ্ডুলিপি যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন এবং গ্রন্থে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এক সুশোভিত অবয়বে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি। আমি আশা করি এটি এই উম্মাহর সংস্কৃতিমনা সন্তানদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এবং গবেষক, শিক্ষার্থী ও ঐতিহাসিকদের নিকট সমাদৃত হবে। সেই সাথে আমি প্রত্যাশা করি যে, আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি বিশেষত আলজেরীয় এবং সাধারণভাবে আরবি গ্রন্থাগারের প্রতি এমন এক কল্যাণকর অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছি, যা আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের স্মরণের সাথে সাথে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি আমার এই কাজ শুরু করেছি লেখক এবং গ্রন্থটির পরিচিতি উপস্থাপনের মাধ্যমে, যাতে পাঠকরা বইটি আদ্যোপান্ত পাঠ করার পূর্বেই লেখক এবং গ্রন্থটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
المؤلف

عقد غير واحد من المؤرخين المغاربة ترجمة للغبريني. أما في المؤلفات المشرقية فذكره لم يرد إلا في معاجم المؤلفين والمطبوعات. والذي بلغنا من خبره مما كتب عنه، ما ملخصه:

 

إسمه ونشأته:

هو أحمد بن أحمد (1) بن عبد الله بن محمد بن علي الغبريني، وكنيته أبو العباس، وقد غلبت عليه شهرته الغبريني، نسبة إلى " بني غبري" بطن من قبائل الأمازيغ "البربر" في المغرب الأوسط. وكان ميلاده في اواسط المائة السابعة سنة 644 - 1246م.

أما نشأته الأولى فقد كانت في موطن عشيرته الكائن في ضواحي أعزازقه في أعلى وادي سباو بالقرب من مدينة بحاية.- وقيل في بجاية بالذات-.

 

تعليمه:

انطلق منذ صغره نحو العلم فانكب على حفظ القرآن، وعلوم الفقه والتفسير والحديث والعربية والمنطق وغير ذلك من فنون العلم التي كانت سائدة في عصره، حتى بلغ عدد شيوخه الذين أخذ عنهم نحو السبعين شيخا. ومن خلال نظرة عجلى نلقيها على أسماء الكتب والفنون التي قرأها على هؤلاء الاعلام

--------------------------------------------

(1) كذا ورد اسمه في مقدمة الطبعة الأولى التي كتبها الاستاذ محمد بن أبي شنب وفي خاتمة الكتاب، وفى أكثر كتب التراجم والسير. أما في "الوفيات" لابن قنفذ القسنطيني ص: 35، ولقط الفرائد - خ- لابن القاضي المكناسي فهو فيهما أحمد بن محمد.
লেখক

মরক্কোর একাধিক ইতিহাসবিদ আল-গুবরিনীর জীবনী বর্ণনা করেছেন। তবে প্রাচ্যের গ্রন্থগুলোতে তাঁর উল্লেখ কেবল লেখকদের অভিধান এবং মুদ্রিত সংস্করণগুলোতেই পাওয়া যায়। তাঁর সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে এবং আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তার সারসংক্ষেপ হলো:

 

তাঁর নাম ও জন্ম:

তিনি হলেন আহমদ বিন আহমদ (১) বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-গুবরিনী। তাঁর উপনাম হলো আবুল আব্বাস। তিনি আল-গুবরিনী নামেই সমধিক পরিচিতি লাভ করেছেন, যা মধ্য মাগরিবের আমাজিঘ বা বারবার গোত্রগুলোর শাখা 'বনী গুবরী'র দিকে সম্পৃক্ত। তাঁর জন্ম হয়েছিল সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগে, ৬৪৪ হিজরী মোতাবেক ১২৪৬ খ্রিস্টাব্দে।

তাঁর প্রাথমিক জীবন অতিবাহিত হয়েছে বেজায়া শহরের নিকটবর্তী উচ্চ সাবাউ উপত্যকার আজাজগা শহরতলীতে অবস্থিত তাঁর বংশের আবাসভূমিতে—বলা হয়ে থাকে স্বয়ং বেজায়া শহরেই তিনি বড় হয়েছেন।

 

তাঁর শিক্ষা:

তিনি শৈশব থেকেই জ্ঞানার্জনের পথে ধাবিত হন এবং কুরআন হিফজ করা ছাড়াও ফিকহ, তাফসির, হাদিস, আরবি ভাষা, যুক্তিবিদ্যা এবং তাঁর যুগে প্রচলিত অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখাসমূহ আয়ত্ত করার পেছনে মনোনিবেশ করেন। তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় সত্তর জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসকল প্রখ্যাত মনীষীদের কাছে তিনি যে সকল কিতাব এবং শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন, তার ওপর সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে—

--------------------------------------------

(১) উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আবি শানাব কর্তৃক লিখিত প্রথম সংস্করণের ভূমিকা, গ্রন্থের পরিশিষ্ট এবং অধিকাংশ জীবনী ও ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর নাম এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবনে কুনফুজ আল-কুসান্তিনির 'আল-ওয়াফায়াত' (পৃষ্ঠা: ৩৫) এবং ইবনুল কাজী আল-মিকনাসির 'লাকতুল ফারাঈদ' (পাণ্ডুলিপি)—এই উভয় গ্রন্থে তাঁর নাম আহমদ বিন মুহাম্মদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
من شيوخ المغرب الاوسط " الجزائر" والأندلس، وافريقية "تونس" المذكورة في " برنامجه " الملحق في نهاية هذا الكتاب، ندرك كم بذل الرجل من جهد من أجل الحصول على المعرفة من مصادرها المختلفة.

 

في الحياة العامة:

اتفق المؤرخون وكتاب السيرة المغاربة على أن الغبريني ولي القضاء بمواضع عدة، آخرها مدينة بجاية، "فكان في حكمه شديدا، مهيبا ذا معرفة بأصول الفقه، وحفظ لفروعه، وقيام على النوازل، وتحقيق للمسائل (1).

ولكن ليس لدينا في كتب التاريخ والسير سند يركن إليه عن حياة الغبريني قبل ولايته لخطة القضاء، غير أن النباهي أورد جملة في ترجمته الوجيزة له، تعيننا عل الكشف عن تلك المرحلة من حياته.

يقول النباهي: "ولما ولي خطة القضاء، ترك حضور الولائم، ودخول الحمام، وسلك طريق اليأس من مداخلة الناس" (2).

وبناء على ما تقدم، ترانا محمولين للقول، أن الغبريني قد عاش في غمرة الاحداث التي مرت ببجاية بخاصة، وعلى المغرب الأوسط بعامة، فكان على اتصال بالمسؤولين وغيرهم من رجال الدولة، يجالس الكبراء، ويناقش الحكام، ويدلي برأيه في المسائل الهامة. ولا يبعد أن يكون قد لعب دورا في سياسة بلده، فقد كانت السياسة من مستلزمات من هم في منزلة الغبريني وجاهة وعلما ودراية.

أما كلام النباهي حول زهد الغبريني بعد ولايته للقضاء، فتؤيده شواهد كثيرة من كلام الغبريني نفسه في ثنايا هذا الكتاب. فبالرغم عما اشتهر به

--------------------------------------------

(1) قضاة الاندلس لأبي الحسن النباهي ص: 132.

(2) قضاة الاندلس ص: 132.
মধ্য মাগরেব (আলজেরিয়া), আল-আন্দালুস এবং আফ্রিকা (তিউনিসিয়া)-এর যে সকল শায়খদের নাম এই গ্রন্থের শেষে সংযুক্ত তার 'বর্ণনামূলক তালিকায়' উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, বিভিন্ন উৎস থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য এই ব্যক্তি কতটা প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন।

 

জনজীবনে:

মাগরেবের ঐতিহাসিক ও জীবনীকারগণ একমত যে, আল-গুবরিনী বিভিন্ন স্থানে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যার সর্বশেষ ছিল বেজাইয়া শহর। "তিনি বিচারকার্যে কঠোর ও প্রভাবশালী ছিলেন, উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলো তার মুখস্থ ছিল। তিনি সমসাময়িক সমস্যাবলি সমাধানে তৎপর এবং মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে পারদর্শী ছিলেন (১)।

কিন্তু বিচারপতির পদ গ্রহণের পূর্বে আল-গুবরিনীর জীবন সম্পর্কে ইতিহাস ও জীবনীর কিতাবসমূহে আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই; তবে আন-নাবাহী তার সংক্ষিপ্ত জীবনীতে একটি বাক্য উল্লেখ করেছেন, যা আমাদের জীবনের সেই পর্যায়টি উন্মোচনে সহায়তা করে।

আন-নাবাহী বলেন: "যখন তিনি বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তিনি ভোজসভায় উপস্থিত হওয়া ও হাম্মামে যাওয়া ত্যাগ করলেন এবং মানুষের সাথে মেলামেশা থেকে বিমুখ হওয়ার পথ বেছে নিলেন" (২)।

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আল-গুবরিনী বিশেষভাবে বেজাইয়া এবং সাধারণভাবে মধ্য মাগরেবে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির আবর্তে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে উঠাবসা করতেন, শাসকদের সাথে আলোচনা করতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলিতে নিজের মতামত প্রদান করতেন। এটি অসম্ভব নয় যে তিনি নিজ দেশের রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন; কারণ আল-গুবরিনীর মতো মর্যাদা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রাজনীতি ছিল এক প্রকার অনিবার্য বিষয়।

আর বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আল-গুবরিনীর দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে আন-নাবাহীর বক্তব্যের সমর্থনে খোদ আল-গুবরিনীর নিজের অনেক বক্তব্য এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান। যদিও তিনি যে বিষয়টির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আবুল হাসান আন-নাবাহী রচিত কুদাতুল আন্দালুস, পৃষ্ঠা: ১৩২।

(২) কুদাতুল আন্দালুস, পৃষ্ঠা: ১৩২।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
الرجل من إحاطة واسعة بثفافة وعلوم عصره، إلا أنه قد تأثر إلى حد كبير بسلوك فئة قليل من شيوخه من الزهاد والمتصوفين، المؤمنين بقدرة قيام بعض الناس بعمل المعجزات والخوارق، فآمن مثلهم وسلك سبيلهم، ثم عمد إلى تسجيل ما سمع منهم من قصص لا يقبلها عقل، ضمن إطار من التهليل والتكبير، بالاضافة إلى توبيخ المعرضين عنها والمنكرين لها وانذارهم بسوء العاقبة والمصير في الحياة الدنيا والآخرة.

وإذا علمنا أن الغبريني ألف معظم كتابه في السنوات الأخيرة من حياته، وبعد أن، سلك طريق اليأس من مداخلة الناس، أدركنا مدى أثر بعض هؤلاء الشيوخ في نفسه وعلى تفكيره وحياته .. ولعل قوله- بعد ان سرد قصة من هذه القصص- "وقد يقع في هذا انكار من ملحد لا علم له، وحقه الإعراض عنه وعدم الالتفات إليه، وإن زاد فيصفع في وجهه عوضا عن قفاه، كما جمع الله له الخزي في أولاه وآخراه" (1). لعل هذا القول أصدق برهان على صحة ما ذكرناه.

وهذه اللوحة البسيطة التي رسمناها لفترة من حياة الغبريني، تنطبق على غيره أيضا، فالرجل لم يكن أول المؤلفين في هذا الميدان. إنما سبقه بعض من ترجم لشيوخه وأتى على ذكر مثل هذه القصص والدعوة إلى تصديقها والايمان بها. ثم جاء بعده آخرون وساروا على نفس الطريق. ولا أكون مغاليا إذا قلت: أن في العالم الإسلامي وفي يوم الناس هذا، يوجد من يكتب مثل هذه القصص في مؤلفاته، إلا أننا نؤمن، أن هؤلاء المعاصرين الذين يقومون بهذا العمل، لا يقومون به عن إيمان خالص أو لوجه الله والوطن، إنما عن قصد سيء ونية خبيثة، ولوجه غير وجه الله والوطن. وهم يعلمون أن الإنسان العربي في هذا العصر، مهما كان مذهبه أو دينه الذي ينضوي تحت لوائه، يفحص ويحلل ويقارن دون أن تتغلب عليه رهبة التقديس، وأنه لا يستطيع تصديق مثل هذه القصص أو قبول نظرتها للحياة والفكر والوجود. ولذلك نجدهم يزرعون

--------------------------------------------

(1) راجع الترجمة رقم 5
এই ব্যক্তি তাঁর সমসাময়িক সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে ব্যাপক পাণ্ডিত্য রাখতেন, তবে তিনি তাঁর শিক্ষকদের মধ্যকার একদল অল্পসংখ্যক জাহিদ ও সুফীদের আচরণ দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, যারা বিশ্বাস করতেন যে কিছু মানুষের অলৌকিক ঘটনা ও কারামত ঘটানোর ক্ষমতা রয়েছে। ফলে তিনিও তাদের মতো বিশ্বাস স্থাপন করলেন এবং তাদের পথ অনুসরণ করলেন। অতঃপর তিনি তাদের কাছ থেকে শোনা এমন সব গল্প লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেন যা বিবেকগ্রাহ্য নয়; আর এসব তিনি করেছেন তাহলীল ও তাকবীরের আবহে, পাশাপাশি এসব গল্প থেকে বিমুখ ও অস্বীকারকারীদের তিরস্কার এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের শোচনীয় পরিণতি ও গন্তব্য সম্পর্কে সতর্ক করার মাধ্যমে।

আমরা যখন জানতে পারি যে, আল-গুবরিনী তাঁর কিতাবের অধিকাংশ তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে রচনা করেছেন—এবং তা মানুষের সাথে মেলামেশা থেকে নিরাশ হওয়ার পথ বেছে নেওয়ার পর—তখন আমরা তাঁর সত্তা, চিন্তা ও জীবনের ওপর এসব শাইখদের প্রভাবের মাত্রা উপলব্ধি করতে পারি। সম্ভবত তাঁর এই উক্তিটি—এজাতীয় একটি গল্প বর্ণনা করার পর—"এ বিষয়ে কোনো মূর্খ নাস্তিকের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি আসতে পারে, এমতাবস্থায় তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করাই হবে সঠিক কাজ। আর সে যদি বাড়াবাড়ি করে, তবে ঘাড়ের পরিবর্তে তার মুখে চড় মারা উচিত, যেমনটি আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার জন্য লাঞ্ছনা জমা করে রেখেছেন" (১)—সম্ভবত এই উক্তিটিই আমাদের উল্লিখিত কথার সত্যতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আল-গুবরিনীর জীবনের একটি অধ্যায় নিয়ে আমরা যে সংক্ষিপ্ত চিত্রটি অঙ্কন করেছি, তা অন্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কেননা, এই ব্যক্তিই এই ক্ষেত্রে প্রথম লেখক ছিলেন না; বরং তাঁর পূর্বেও এমন অনেকে গত হয়েছেন যারা তাঁদের শাইখদের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এ জাতীয় গল্পের অবতারণা করেছেন এবং সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস ও ঈমান আনার আহ্বান জানিয়েছেন। অতঃপর তাঁর পরে আরও অনেকে এসেছেন এবং একই পথে চলেছেন। আমি যদি বলি যে, বর্তমান যুগেও মুসলিম বিশ্বে এমন মানুষ রয়েছেন যারা তাঁদের রচনাশৈলীতে এ ধরনের গল্প লিখে থাকেন, তবে তা অত্যুক্তি হবে না। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, সমসাময়িক যারা এই কাজ করছেন, তারা তা কোনো খাঁটি ঈমান থেকে বা আল্লাহ ও দেশের সন্তুষ্টির জন্য করছেন না; বরং তা করছেন মন্দ উদ্দেশ্য ও খবিস নিয়তে এবং আল্লাহ ও দেশের স্বার্থ ব্যতিরেকে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। তারা জানেন যে, বর্তমান সময়ের আরব মানুষ—তার মাযহাব বা ধর্ম যা-ই হোক না কেন—পবিত্রতার ভয় দ্বারা অভিভূত না হয়ে সবকিছু পরীক্ষা, বিশ্লেষণ এবং তুলনা করে দেখে। আর তারা এ জাতীয় গল্প বিশ্বাস করতে অথবা জীবন, চিন্তা ও অস্তিত্ব সম্পর্কে এসব গল্পের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে সক্ষম নয়। একারণেই আমরা দেখি যে তারা বপন করছে...

--------------------------------------------

(১) ৫ নং জীবনী দেখুন
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
هذه الأشواك في الأماكن البعيدة عن التقدم والعمران، ويبتعدون عن مواطن العلم ومراكز التثقيف.

أما شيخنا الغبريني، الذي وقع تحت رهبة التقديس، شأنه شأن الكثيرين من رجالات الدين القدماء في العالم الإسلامي، الذين جنت عليهم شطحاتهم إلى حد الاغراق والمبالغه، التي يحانبها الإبداع الفكري، فإنه لم يكتف بسرد وتسجيل القصص التي اعتقد أنها حدثت في عصره، إنما عاد إلى الكتب القديمة المحشوة بمثا هذه القصص، ونقل مجموعة منها ثم جعل واحدة ذيلا لقصة من قصص بعض شيوخه، كأنه يقول لقارئه- وقد رأى عليه ملامح الشك- إن لم تصدق الحاضر فدونك حكايات من الماضي، أو بمعنى آخر، أراد- وهو الخبير بشؤون القضاء- أن يكثر من الأدلة والبينات التي تؤيد وجهة نظره، ويجعل منها حجة قوية في يده ضد خصمه الذي لا يؤمن بصحة مثل هذه القصص والحكايات ولا يصدقها؛ فسجلها في كتابه.

 

أسلوبه:

لا نعتقد أن الغبريني ترك من المؤلفات غير "عنوان الدراية" فلا هو نفسه ولا الذين ترجموا له أو أرخوا لعصره، ذكروا غير هذا الكتاب. ولذا نستطيع أن نحكم على أسلوبه النثري من خلال مضمون كتابه الوحيد.

تأثر الغبريني تأثرا قويا بالسجع، فلازمه في كتابه من عنوان الكتاب نفسه إلى آخر سطر من سطور صفحاته. كما أنه أغرم بالجمل القصيرة والتزيينات اللفظية. فعمد في كل ترجماته إلى صيغ وعبارات تكاد تكون واحدة في الأسلوب. فعبارة " الفقيه المجتهد المحصل المتقن" مثلا، وكذلك عبارة "الفقيه الصالح الزاهد الورع" نجدها وصفا أطلقه المؤلف على المترجم لهم دون تمييز أو تفريق بين أديب وشاعر ومحدث ومؤرخ، وهذا أبعد ما يكون عن الحقيقة، إذ من غير المعقول، أن يكون جميع الأشخاص على مستوى واحد في المعلومات
এই কন্টকসমূহ অগ্রগতি ও সভ্যতা থেকে দূরবর্তী স্থানসমূহে বিদ্যমান, এবং তারা জ্ঞানের উৎস ও শিক্ষা কেন্দ্রসমূহ থেকে দূরে অবস্থান করে।

আমাদের শায়খ আল-গুবরিনী, যিনি পবিত্রকরণের ভীতির কবলে পড়েছিলেন—যেমনটি ইসলামী বিশ্বের অনেক প্রাচীন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রেও ঘটেছে—যাদের আতিশয্যপূর্ণ আধ্যাত্মিক উক্তি (শাতাহাত) তাদের চরম বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জনের দিকে নিয়ে গিয়েছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি কেবল তাঁর সমসাময়িককালে ঘটেছে বলে বিশ্বাস করা গল্পগুলো বর্ণনা ও লিপিবদ্ধ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি এই জাতীয় গল্পে ঠাসা প্রাচীন গ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে গিয়েছেন এবং সেখান থেকে একগুচ্ছ কাহিনী সংগ্রহ করেছেন। অতঃপর তিনি কোনো একটি কাহিনীকে তাঁর জনৈক শায়খের কাহিনীর পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছেন; যেন তিনি তাঁর পাঠককে বলছেন—যার মধ্যে তিনি সন্দেহের ছাপ লক্ষ্য করেছেন—'যদি বর্তমানকে বিশ্বাস না করো, তবে অতীতের এই কাহিনীগুলো দেখো'। অন্য কথায়, বিচার বিভাগীয় বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়ার কারণে তিনি এমন প্রমাণ ও নিদর্শনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চেয়েছেন যা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে এবং একে তাঁর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দলিল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন, যারা এই জাতীয় গল্প ও কাহিনীর সত্যতায় বিশ্বাস করে না; তাই তিনি এগুলো তাঁর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।

 

তাঁর রচনাশৈলী:

আমরা মনে করি না যে আল-গুবরিনী ‘উনওয়ানুদ দিরায়া’ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থ রেখে গিয়েছেন। না তিনি নিজে, আর না তাঁর জীবনীকারগণ বা সমসাময়িক ইতিহাসবিদগণ এই গ্রন্থ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। অতএব, আমরা তাঁর একমাত্র গ্রন্থের বিষয়বস্তুর মাধ্যমে তাঁর গদ্যশৈলী সম্পর্কে বিচার করতে পারি।

আল-গুবরিনী অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যের (সাজ্‘) দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন, যা গ্রন্থের শিরোনাম থেকে শুরু করে পৃষ্ঠার শেষ পংক্তি পর্যন্ত বিদ্যমান। এছাড়াও তিনি ছোট বাক্য এবং শব্দালঙ্কারের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিটি জীবনীমূলক আলোচনায় এমন সব শব্দচয়ন ও বাক্যাংশ ব্যবহার করেছেন যা শৈলীর দিক থেকে প্রায় অভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, ‘পরিশ্রমী, জ্ঞান অর্জনকারী ও নিপুণ ফকীহ’ অথবা ‘সৎ, দুনিয়াবিমুখ ও মুত্তাকী ফকীহ’—এই বিশেষণগুলো লেখক যাদের জীবনী লিখেছেন তাদের সবার ক্ষেত্রেই কোনো বাছ-বিচার বা পার্থক্য ছাড়াই ব্যবহার করেছেন; চাই তিনি সাহিত্যিক, কবি, মুহাদ্দিস কিংবা ঐতিহাসিক হোন না কেন। এটি বাস্তবতা থেকে বহু দূরে, কারণ সকল ব্যক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে একই স্তরের হবেন—এটি অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
أو على درجة واحدة من الذكاء والاجتهاد والشاعرية و … الخ.

إن هذه الكلمات والنعوت والأوصاف العامة كثيرة في كتاب الغبريني، وما أبرز ما يلفت النظر فيه .. وقد يكون التزام المؤلف وتقيده بها معقولا، فيما لو اعتمد على وضع كل وصف أو نعت في مكانه اللائق به أو اللازم له. ولكنه لم يفعل.

 

نظمه:

من خلال محاولة نقوم بها لجمع التراث الجزائري، علمنا أن للغريني بعض القصائد والأبيات الشعرية لا تزال مخطوطة في مكتبات المغرب الأقصى، وحيث أنها لم تصل إلينا بعد لنتحقق منها، لا يمكننا الجزم بأنها له، فقد تكون نسبت إليه. ولم نجد له في المصادر التي أهتمت بحياته ووضعته في عداد المؤرخين سوى بيتين من الشعر ذكرهما النباهي هما:

لا تنكحن سرك المكنون خاطبه … واجعل لميته بين الحشا جدثا

ولا تقل نفثة المصدور راحته … كم نافث روحه من صدره نفثا

ونفهم مما ذكره هو نفسه من خلال ترجمته لأبي زكريا يحيى بن محجوبة السطيفي المتوفي سنة 677 هـ، أنه قال الشعر في شبابه. فهو يقول: "وكنت في زمن الشباب نظمت القصيدة الصوفية الهمزية التي مطلعها:

واحيرة العشاق بالرقباء … حرموا الوصول لطيبة الوسعاء

وهي نحو أربعين بيتا، فحملتها إليه (إلى السطيفي) وأنشدتها بين يديه، ففرح بها غاية الفرح وجعل يدعو ويقول: بصرك الله لمعانيها واطلعك الله على ما فيها، لأن الحال كان حال شبيبة، فاعتقد الشيخ رحمه الله أن ما أتيت به فيها إنما هو على سبيل الصناعة لا على سبيل الاطلاع والشهود. والله يؤتي الفضل من يشاء .. " فهل تكون هذه القصيدة من ضمن القصائد المخطوطة والموجودة
অথবা বুদ্ধিমত্তা, পরিশ্রম, কবিত্ব এবং … ইত্যাদির একই স্তরে।

আল-গাবরিনির কিতাবে এই শব্দাবলি, গুণাবলি এবং সাধারণ বিবরণগুলো প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, আর এতে যা সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো... লেখকের পক্ষ থেকে এগুলোর অনুসরণ এবং এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা যৌক্তিক হতে পারত, যদি তিনি প্রতিটি গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে তার উপযুক্ত বা প্রয়োজনীয় স্থানে রাখার ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

 

তাঁর কাব্যচর্চা:

আলজেরীয় ঐতিহ্য সংগ্রহের একটি প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, আল-গাবরিনির কিছু কাসিদা এবং কাব্যের চরণ মরক্কোর লাইব্রেরিগুলোতে এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। যেহেতু সেগুলো যাচাই করার জন্য এখনও আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, তাই আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে সেগুলো তাঁরই; সম্ভবত সেগুলো তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জীবনের প্রতি গুরুত্বারোপকারী এবং তাঁকে ঐতিহাসিকদের অন্তর্ভুক্তকারী উৎসগুলোতে আল-নাবাহি কর্তৃক বর্ণিত এই দুটি চরণ ব্যতীত আমরা তাঁর আর কোনো কবিতা পাইনি:

তোমার গোপন রহস্যের প্রার্থীকে তা জানিয়ো না … বরং তার মৃতদেহের জন্য পাঁজরের মাঝে একটি কবর তৈরি করো।

আর বলো না যে বুক ফেটে যাওয়া ব্যক্তির দীর্ঘশ্বাসই তার আরাম … কত দীর্ঘশ্বাস ত্যাগকারী তার বুক দিয়ে স্বীয় প্রাণই বায়ুর সাথে নির্গত করে দিয়েছে।

তিনি নিজে ৬৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া ইবনে মাহজুবা আস-সাতিফির জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন, তা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে তিনি তাঁর যৌবনকালে কবিতা রচনা করতেন। তিনি বলেন: "আমি যৌবনকালে সেই সুফিবাদী হামজিয়া কাসিদাটি রচনা করেছিলাম যার প্রারম্ভিক চরণ হলো:

হায়, প্রহরীদের কারণে প্রেমিকদের কী যে অস্থিরতা … প্রশস্ত মদিনায় পৌঁছানো থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে।

এটি ছিল প্রায় চল্লিশ চরণের। আমি তা নিয়ে তাঁর (আস-সাতিফি) কাছে গেলাম এবং তাঁর সামনে সেটি আবৃত্তি করলাম। তিনি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং দোয়া করতে করতে বললেন: আল্লাহ তোমাকে এর গূঢ় অর্থসমূহ অনুধাবন করার দৃষ্টি দান করুন এবং এর ভেতরে যা আছে তা দেখার তৌফিক দিন। কারণ সময়টি ছিল যৌবনকাল, তাই শায়খ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) মনে করেছিলেন যে আমি এতে যা কিছু নিয়ে এসেছি তা কেবল কাব্যিক অলংকার হিসেবে, চাক্ষুষ দর্শন ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির (শুহুদ) ভিত্তিতে নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহ দান করেন..." তবে কি এই কাসিদাটি সেই বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিভুক্ত কাসিদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে?
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
في المغرب؟ سيبقى السؤال دون جواب، لأن الخبر اليقين يكمن في المخطوطات. وهذه لا سبيل إليها الآن، ويوم يقدر لها أن ترى النور، نتحقق من شعره ونضعه في كفة الميزان.

 

وفاته:

أجمع أكثر المؤرخي على أن الغبريني قد توفي بمدينة بجاية سنة 714هـ، 1315 م. نتيجة لإصابته بالطاعون. غير أن إبن قنفذ القسنطيني في كتابه "الوفيات" وابن القاضي في كتابه "لقط الفرائد" الذي وضعه ذيلا لكتاب ابن قنفذ، والنباها في "المرقبة العليا" ذكروا أن وفاته كانت سنة 704هـ. ونحن استنادا لما ذكره الاستاذ محمد بن أبي شنب في الطبعة الأولى، ولما ذكره المؤرخون المغاربة عن سيرة الرجل، نقلا عن مخطوطات قديمة، نؤكد أن التاريخ الأول هو الصحيح.

 

هذا الكتاب وقيمته التاريخية:

ترك كثير من مشاهير الجزائريين مصنفات أسماها بعضهم بـ "الثبت" وأسماها البعض الآخربـ"البرنامج" أو " المشيخة"، ذكروا فيها أسماء العلوم التي أخذوها عن معاصريهم من علماء الفقه والحديث والتفسير واللغة والأدب والتاريخ وغيرها، كما ترجموا فيها لهؤلاء العلماء الأعلام. وهذه الكتب أو المصنفات وإن كانت لا تدخل في عداد كتب التراجم والسير بمفهومهما العلمي، إلا أنها حفظت لنا صفحات مجيدة عن حياة مشاهير المغرب الأوسط ابتداء من القرن الثالث الهجري، وأعطتنا صورة واضحة المعالم عن الحياة العقلية في عصر كل مؤلف من هؤلاء المؤلفين، يضاف إليها تلك المؤلفات التي وضعها الجزائريون خارج حدود وطنم وذكروا فيها أسماء من أخذوا عنهم أو سمعوا منهم من أعلام المشرق العربي وبعض الأقطار الإسلامية، والتي تبين لنا مدى إهتمام الجزائريين الأوائل بالعلم والحج إليه حيث كان .. ككتاب "نظم اللآلي في سلوك الأمالي" للمقري الجد، و" ثبت الندرومي" لمحمد بن محمد
মরক্কোতে? প্রশ্নটি উত্তরহীনই থেকে যাবে, কারণ নিশ্চিত সংবাদ পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যেই নিহিত রয়েছে। আর এখন সেগুলো হস্তগত করার কোনো উপায় নেই; যেদিন সেগুলো আলোর মুখ দেখার সৌভাগ্য লাভ করবে, সেদিন আমরা তাঁর কবিতা যাচাই করতে পারব এবং তা বিচারের পাল্লায় স্থাপন করতে পারব।

 

তাঁর মৃত্যু:

অধিকাংশ ঐতিহাসিক একমত হয়েছেন যে, আল-গুবরিনী ৭১৪ হিজরি মোতাবেক ১৩১৫ খ্রিস্টাব্দে বিজায়া শহরে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তবে ইবনুল কুনফুজ আল-কুসান্তিনী তাঁর ‘আল-ওয়াফায়াত’ গ্রন্থে, ইবনুল কাজী তাঁর ‘লাকতুল ফারায়েদ’ গ্রন্থে (যা তিনি ইবনুল কুনফুজের গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে লিখেছেন), এবং আন-নাবাহা ‘আল-মারকাবাতুল উলিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৭০৪ হিজরিতে। আমরা উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আবি শানাব প্রথম সংস্করণে যা উল্লেখ করেছেন এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মরক্কোর ঐতিহাসিকগণ এই ব্যক্তির জীবনী সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে নিশ্চিত করছি যে প্রথম তারিখটিই সঠিক।

 

এই গ্রন্থ এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

অনেক প্রসিদ্ধ আলজেরীয় পণ্ডিত এমন কিছু সংকলন রেখে গেছেন যেগুলোকে কেউ ‘আস-সাবাত’ নামে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ ‘আল-বারনামাজ’ বা ‘আল-মাশইয়াখাহ’ নামকরণ করেছেন। এতে তাঁরা ফিকহ, হাদিস, তাফসির, ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয়ের সেই সব ইলমের নাম উল্লেখ করেছেন যা তাঁরা তাঁদের সমসাময়িক আলেমদের কাছ থেকে অর্জন করেছিলেন। সেই সাথে তাঁরা এই বরেণ্য আলেমদের জীবনীও সেখানে তুলে ধরেছেন। এই বই বা সংকলনগুলো যদিও বৈজ্ঞানিক ধারণায় বিশুদ্ধ জীবনীগ্রন্থ বা সীরাত গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও এগুলো হিজরি তৃতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে মধ্য মাগরেবের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবন সম্পর্কে আমাদের জন্য গৌরবময় কিছু অধ্যায় সংরক্ষণ করে রেখেছে। এগুলো আমাদের কাছে সেই সব লেখকদের প্রত্যেকের যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সেই সব গ্রন্থ যা আলজেরীয়রা তাঁদের স্বদেশের সীমানার বাইরে রচনা করেছিলেন এবং সেখানে তাঁরা আরব প্রাচ্যের ও কিছু ইসলামী ভূখণ্ডের সেই সব বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন যাদের কাছ থেকে তাঁরা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন বা শুনেছিলেন। এই গ্রন্থগুলো আমাদের সামনে আদি আলজেরীয়দের জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং এর জন্য যেখানেই ইলম থাকুক না কেন সেখানে সফর করার বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে... যেমন আল-মাক্বরী আল-জাদ্দ এর গ্রন্থ ‘নাজমুল লাআলী ফী সুলুকিল আমালী’ এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদের ‘সাবাতুন নাদরূমী’।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
بن يحيى الندرومي. وهذا الكتاب الأخير وصل إليا مخطوطا … ذكر فيه مؤلفه من أخذ عنهم من علماء الحديث في بيت المقدس ودمشق ومكة المكرمة والقاهرة المعزية، أمثال صلاح الدين العلائي الدمشقي ومحمد بن محمد الربيعي المتوفي ببيت المقدس، وسليمان بن سالم الغزي والإمام اسماعيل بن عمر بن كثير وغيرهم.

إنما ميزة كتاب "عنوان الدراية" عن غيره من كتب التراجم والسير، هي الشمول في التعريف بغير شيوخ المؤلف، وتسجيله لبعض الأحداث التاريخية، وإثباته لبعض النماذج الشعرية والنثرية المنسوبة للمترجم لهم … زد على ذلك، أنه حفظ لنا صورة صادقة عن الحياة العقلية في مدينة بجاية في مدة قرن كامل، عكست لنا ما كان لهذه المدينة الخالدة من أثر يذكر في تنمية وإنتاج مختلف العلوم الإسلامية، ومدى صلاتها الوثيقة التي كانت تربطها مع مراكز النهضة العلمية الإسلامية في المغرب والمشرق. ولولا هذا الكتاب لظلت أكثر هذه الصفحات من تاريخ الحركة العلمية الجزائرية مجهولة.

ولكن لا بد من القول، أن الطريق التي اتبعها الغبريني في كتابته لتراجم أعلام المائة السابعة، كانت غير ذاتية في معظمها، فهو لم يعتمد على إنتاجهم من حيث قيمته الفنية، ولا على الحياة الشخصية أو العوامل التي ألهمتهم هذا الأدب أو هذا الإنتاج، مع أنه كان واسع الإلمام بكل ما كتبوه، متتبعا مراحل حياتهم مرحلة مرحلة، ولذلك لم يعكس- في بعض تراجمه- صورا واضحة على ضوء فن كتابة السير والتراجم، مما كان يساعدنا في يومنا هذا على معرفة ما كانت تنطوي عليه أحاسيسهم ونزواتهم، ومقام كل واحد من هؤلاء في عالم الدين والأدب والتاريخ .. الخ.

ومدى تجاوبهم مع مجتمعهم ومع المجتمعات الأخرى المجاورة لهم.

تبقى كلمة أخيرة، وهي أن هذا الكتاب- بشادة كبار العلماء- هو أصدق وأشمل سجل طبع عن الحياة العقلية في المائة السابعة للهجرة لا في بجاية وحدها إنما في المغرب الأوسط أيضا.

بيروت- لبنان

عادل نويهض
বিন ইয়াহইয়া আল-নাদরুমি। এই শেষোক্ত বইটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে আমার কাছে পৌঁছেছে … এতে লেখক হাদিস শাস্ত্রের সেই সকল আলিমদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের থেকে তিনি বাইতুল মাকদিস, দামেস্ক, মক্কা মুকাররমা এবং আল-কাহিরা আল-মুইয্যিয়াতে ইলম অর্জন করেছেন। যেমন: সালাহ উদ্দিন আল-আলাই আল-দিমাশকি, বাইতুল মাকদিসে ইন্তেকালকারী মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-রাবিয়ি, সুলায়মান বিন সালিম আল-গাযযি এবং ইমাম ইসমাইল বিন উমর বিন কাসিরসহ অন্যান্যগণ।

অন্যান্য জীবনী ও সীরাতগ্রন্থের তুলনায় 'উনওয়ান আল-দিরাইয়াহ' বইটির বৈশিষ্ট্য হলো লেখকের শাইখগণ ছাড়াও অন্যদের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা, কিছু ঐতিহাসিক ঘটনাবলির লিপিবিন্যাস এবং যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাদের সাথে সম্পর্কিত কিছু কাব্যিক ও গদ্যের নমুনা সাব্যস্ত করা … এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, এটি পূর্ণ এক শতাব্দীকাল ধরে বিজায়া শহরের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের একটি সত্যনিষ্ঠ চিত্র আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছে, যা বিভিন্ন ইসলামি শাস্ত্রের বিকাশ ও উৎপাদনে এই চিরন্তন শহরের উল্লেখযোগ্য প্রভাব এবং মাগরিব (পশ্চিম) ও মাশরিকের (পূর্ব) ইসলামি বৈজ্ঞানিক রেনেসাঁ কেন্দ্রগুলোর সাথে এর নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিফলিত করে। এই বইটি না থাকলে আলজেরীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের ইতিহাসের এই পৃষ্ঠাগুলোর অধিকাংশ অজানা থেকে যেত।

তবে এটি অবশ্যই বলতে হবে যে, সপ্তম শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আল-গুবরিনি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিনিষ্ঠ ছিল না; তিনি তাদের কর্মের শিল্পমান কিংবা ব্যক্তিগত জীবন অথবা সেই সকল উপাদানের ওপর নির্ভর করেননি যা তাদের এই সাহিত্য বা সৃষ্টিশীলতায় অনুপ্রাণিত করেছিল, যদিও তাদের লিখিত সকল বিষয়ে তার ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল এবং তিনি তাদের জীবনের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এই কারণে, তার কিছু জীবনীতে তিনি জীবনী রচনার শিল্পের আলোকে এমন কোনো স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলেননি, যা আজ আমাদের তাদের অনুভূতি ও আবেগ এবং দ্বীন, সাহিত্য ও ইতিহাসের জগতে তাদের প্রত্যেকের মর্যাদা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করতে পারত।

এবং তাদের নিজেদের সমাজ ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য সমাজের সাথে তাদের মিথস্ক্রিয়ার মাত্রা সম্পর্কেও।

একটি শেষ কথা বাকি থাকে, আর তা হলো—বড় বড় আলিমদের সাক্ষ্য অনুযায়ী—এই বইটি হিজরি সপ্তম শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের ওপর মুদ্রিত হওয়া সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ ও ব্যাপক দলিল, যা কেবল বিজায়া নয় বরং মধ্য মাগরিবেও অদ্বিতীয়।

বৈরুত- লেবানন

আদিল নুওয়াইহিদ
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

الحمد لله وحده

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين [أما بعد] فإن الكتاب المسمى "عنوان الدراية فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية" للعلامة المحقق، والفهامة المدقق، الجامع بين الدراية والرواية، قاضي القضاة ببجاية، الشيخ أبي العباس أحمد بن أحمد بن عبد الله الغبريني رحمه الله ورضي عنه كتاب تلوح أنوار الحقائق من سبل عباراته، ويعبق شذا عرف المعارف من بيان إشاراته، أورد فيه مؤلفه من تراجم علماء عصره، وأخبار أحبار مصره، ما يحتاجه المتشوق إلى فرائد الفوائد، والمتشوق إلى أوابد العوالد، مع ذكره وفياتهم ومؤلفاتهم، وسيرهم في مذاهبهم وعاداتهم، واستطراد الأحاديث الشريفة، والآثار الصالحة المنيفة، والمباحث الفقهية، والفتاوي الشرعية، وغير ذلك مما لا يحصى، ولا من غيره يستقصى، وقد اعتمدنا في التصحيح على أربع نسخ (الأولى) للمكتبة الدولية الجزائرية محفوظة تحت عدد 1734 (والثانية) للفقيه النبيه سيدي عبد الرزاق الأشرف قاضي (باتنه) الحالي (والثالثة) للعالم العلامة سيدي علي بن الحاج موسى، الإمام بمسجد ضريح سيدي عبد الرحمن الثعالبي بالجزائر (والرابعة) للفقيه النجيب والوجيه الأديب الشيخ سيدي أبي القاسم محمد الحفناوي المدرس بالمسجد الأعظم بالجزائر.

هذا وقد بذلنا غاية الجهد في تصحيح التحريف. وتصويب التصحيف.

وما العصمة والكمال، إلا للكبير المتعال.

محمد بن أبي شنب

المدرس بالمدرسة الثعالبية الدولية

وكلية الآداب العليا بالجزائر
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি। [অতঃপর] নিশ্চয়ই "উনওয়ানুদ দিরায়া ফীমান উরিফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআতি বিবিজায়া" (বিজায়ায় সপ্তম শতাব্দীতে পরিচিত আলিমগণের বৃত্তান্ত) নামক গ্রন্থটি—যা বিজ্ঞ গবেষক, সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত, শাস্ত্রীয় জ্ঞান ও বর্ণনাসূত্রের সমন্বয়কারী, বিজায়ার প্রধান বিচারপতি শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-গুবরিনী (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কর্তৃক রচিত—এমন এক কিতাব যার শব্দশৈলীর পথ ধরে সত্যের হাকীকতের আলো উদ্ভাসিত হয় এবং এর বিবৃতির ইশারা থেকে মারেফতের সুবাস বিচ্ছুরিত হয়। লেখক এতে তাঁর সমসাময়িক আলিমদের জীবনী এবং তাঁর শহরের মনীষীদের সংবাদসমূহ উল্লেখ করেছেন, যা দুর্লভ জ্ঞানান্বেষী এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহীদের জন্য একান্ত প্রয়োজন। এর সাথে তিনি তাঁদের মৃত্যুসন, গ্রন্থাবলি এবং তাঁদের মাযহাবী পথ ও রীতিনীতি বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি এতে হাদীসে শরীফ, পুণ্যবানদের আছার, ফিকহী গবেষণা, শরয়ী ফাতাওয়া এবং এমন অনেক বিষয় প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে যা গণনা করা অসম্ভব এবং অন্য কারো পক্ষেই এভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে সংগ্রহ করা দুষ্কর। আমরা এই গ্রন্থটি সংশোধনের ক্ষেত্রে চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি: (প্রথমটি) আলজেরীয় আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগারে ১৭৩৪ নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি; (দ্বিতীয়টি) বর্তমান বাতনার বিচারপতি বিজ্ঞ ফকীহ সিদি আব্দুর রাজ্জাক আল-আশরাফের কপি; (তৃতীয়টি) আলজিয়ার্সের সিদি আব্দুর রহমান আস-সা'লাবী মাযার মসজিদের ইমাম প্রখ্যাত আলিম সিদি আলী ইবনে হাজ মুসার কপি এবং (চতুর্থটি) আলজিয়ার্সের জামেউল আজমের শিক্ষক বিজ্ঞ ফকীহ ও সাহিত্যিক শায়খ সিদি আবুল কাসিম মুহাম্মদ আল-হাফনাওয়ীর কপি।

আমরা এই গ্রন্থে শব্দগত বিকৃতি ও মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।

আর ভুলহীনতা ও পূর্ণতা কেবল মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্যই।

মুহাম্মদ ইবনে আবি শানাব

শিক্ষক, আস-সা'লাবিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা

এবং উচ্চ কলা অনুষদ, আলজিয়ার্স
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌عنوان الدراية

فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية
জ্ঞানের শিরোনাম

সপ্তম শতাব্দীতে বিজায়ার পরিচিত আলেমগণের বর্ণনায়
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي حفظ الذكر بحفظ أهله، وشرفهم بوراثة أنبيائه ورسله، وجعل تفاوتهم في علي الدرجات بحسب تفاوتهم في حمله، وأسبغ عليهم سوابغ نعمه ووعدهم بالمزيد من فضله، وصلواته على سيدنا محمد نبيه المخصوص بما لم يختص به نبي من قبله، وعلى آله وصحبه المقتفين سننه القويم والمعتصمين بحبله، صلاة نرجو بها الفوز يوم يبين للمرء ما هو المقبول والمردود من قوله وفعله.

(أما بعد) فإنه لما كان طلب العلم اللدني فرضا على الكفاية حينا ومتعينا في الحال، ولم يكن بد في تحصيله من تلقيه عن الرجال، وكان التلقي أما بمباشرة أو عن سند ذي اتصال، وكان المباشر تكفي معرفته، والمسند عنه لا بد أن تعرف صفته، فلذلك اهتم العلماء بذكر الرجال، واستعملوا في تمييز أحوالهم الفكر والبال ليوضحوا سبيل التحمل، ويبينوا وسيلة التوصل، وقد اختلفت في ذلك مصادرهم ومواردهم، وان اتفقت في بعض الوجوه مقاصدهم، فمنهم من ذكر التجريح والتعديل في المحدثين، ومنهم من ذكر من يعرف بالحفظ والإتقان من المتقدمين، ومنهم من اقتصر على ذكر العلماء المجتهدين، ومنهم من ذكر المؤلفين والمصنفين، ومنهم من ذكر الصلحاء والمتعبدين، ومنهم من ذكر علماء وقته، ومنهم من اقتصر على ذكر مشيخته، وكل ذلك يحصل الإفادة، ويسهل للطالب مراده، وإنما ينبغي أن يعرض في هذا على سبيل المكاثرة، وطريق المباهلة والمفاخرة، كما قصده بعض من قصرت معرفته، ولم ترف إلى درجة أولي النهي درجته، وان يكون القصد في هذا إنما هو ما يتعلق بالأمور الدينية، ويوصل إلى سبيل المرضية، والله تعالى متولي صلاح النية والطوية، وذلك بحيث يعلم طالب العلم الأئمة الذين بهم يقتدى، وبسلوك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যিকর (স্মরণ/জ্ঞান) সংরক্ষণ করেছেন এর ধারকদের সংরক্ষণের মাধ্যমে, এবং তাঁদেরকে তাঁর নবী ও রাসূলগণের উত্তরাধিকার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তাঁদের জ্ঞান ধারণের তারতম্য অনুযায়ী তিনি তাঁদের উচ্চ মর্তবার স্তরে তারতম্য করেছেন। তিনি তাঁদের ওপর তাঁর নিআমতসমূহ পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে আরও বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এবং তাঁর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি সেই বিশেষিত নবী যাঁর পূর্বে অন্য কোনো নবীকে সেভাবে বিশেষিত করা হয়নি; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা তাঁর সুদৃঢ় সুন্নাহর অনুসারী এবং তাঁর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণকারী। এমন সালাত, যার মাধ্যমে আমরা সেই দিনে সফলতার আশা করি যেদিন মানুষের কথা ও কাজের মধ্য থেকে কোনটি কবুলযোগ্য আর কোনটি বর্জনীয় তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

(অতঃপর) যখন ‘ইলমে লাদুন্নী’ (খোদাপ্রদত্ত জ্ঞান) অন্বেষণ করা কোনো সময় ফরযে কিফায়া এবং কোনো সময় অবধারিত কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়, আর তা অর্জনের জন্য মনীষীগণের নিকট থেকে তা গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই; এবং এই গ্রহণ হয় সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে অথবা অবিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে; আর যার থেকে সরাসরি গ্রহণ করা হয় তার পরিচয় জানাই যথেষ্ট, কিন্তু যার থেকে সনদযোগে বর্ণনা করা হয় তার গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য জানা অপরিহার্য; তাই ওলামায়ে কিরাম বর্ণনাকারীদের (রিজাল) আলোচনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাঁদের অবস্থাসমূহ পৃথক করার ক্ষেত্রে চিন্তা ও প্রজ্ঞা ব্যয় করেছেন, যাতে তাঁরা ইলম অর্জনের পথকে স্পষ্ট করতে পারেন এবং তা প্রাপ্তির মাধ্যমকে ব্যক্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাঁদের উৎস ও তথ্যসূত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের উদ্দেশ্যসমূহ অভিন্ন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাদ্দিসগণের জারহ ও তা’দীল (দোষ-গুণ বিচার) উল্লেখ করেছেন; কেউ কেউ পূর্ববর্তীদের মধ্যে যাঁরা হিফয (স্মৃতিশক্তি) ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত ছিলেন তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন; কেউ কেউ শুধুমাত্র মুজতাহিদ আলেমদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন; কেউ কেউ গ্রন্থকার ও সংকলকদের কথা উল্লেখ করেছেন; কেউ কেউ নেককার ও ইবাদতগুজারদের কথা বর্ণনা করেছেন; কেউ কেউ তাঁর সমসাময়িক আলেমদের কথা উল্লেখ করেছেন; আবার কেউ কেউ শুধু তাঁর উস্তাদদের আলোচনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এর প্রত্যেকটিই উপকার সাধন করে এবং জ্ঞানান্বেষীর জন্য তার উদ্দেশ্য অর্জন সহজ করে দেয়। আর এটি আধিক্য প্রদর্শন কিংবা বাদানুবাদ ও অহমিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা অনুচিত, যেমনটি এমন কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্য করেছে যাদের জ্ঞান সীমিত এবং যাদের মর্যাদা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের স্তরে উন্নীত হয়নি। বরং এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধুমাত্র দ্বীনি বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ তাআলাই নিয়ত ও অন্তঃকরণের সংশোধনের মালিক। আর তা এই উদ্দেশ্যে যাতে জ্ঞানান্বেষী সেই ইমামদের সম্পর্কে জানতে পারে যাঁদের অনুসরণ করা হয় এবং যাঁদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
سننهم السوي يهتدى، واني قد رأيت أن أذكر في هذا التقييد من عرف من العلماء "ببجاية" في هذه المائة السابعة التي نحن في بقية العشر الذي هو خاتمتها ختمها الله بالخيرات، وجعل ما بعدها مبدءاَ للمسرات، أذكر منهم من اشتهر ذكره، ونبل قدره، وظهرت جلالته، وعرفت مرتبته في العلم ومكانته، وقد رأيت أن أصل بذكر علماء هذه المائة، ذكر الشيخ أبي مدين (1) والشيخ أبي علي المسيلي (2) والفقيه أبي محمد عبد الحق الاشبيلي (3) رحمهم الله ورضي عنهم، لقرب عهدهم بهذه المائة، لانهم كانوا في أعقاب المائة السادسة للتبرك بذكرهم، ولانتشار فخرهم .. وأبدأ بهم رضي الله عنهم، ثم أتلوهم بذكر مشيختي، وأعلام إفادتي، ثم أتلوهم بمن سواهم إلى أن يقع الإتيان على جميعهم رحمهم الله. وسميت هذا المجموع (عنوان الدراية فيمن عرف من العلماء في المائة السابعة ببجاية) والله تعالى يجعل السعي في هذا كله موصلا إلى الزلفي لديه، إنه ولي ذلك والقادر عليه، ولنأخذ في ذلك على الله متوكلين، وبه مستعينين.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته رقم 1.

(2) انظر ترجمته رقم 2.

(3) انظر ترجمته رقم 3.
তাদের সঠিক আদর্শের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করা যায়। আর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই নথিতে আমি সেই সকল আলেমদের কথা উল্লেখ করব যারা সপ্তম শতাব্দীতে "বিজায়া" শহরে পরিচিত ছিলেন; আমরা বর্তমানে এই শতাব্দীর শেষ দশকের অবশিষ্টাংশে রয়েছি, আল্লাহ একে কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করুন এবং এর পরবর্তী সময়কে আনন্দের সূচনা বানিয়ে দিন। আমি তাদের মধ্য থেকে তাদের কথা উল্লেখ করব যাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে, যাদের মর্যাদা উচ্চ হয়েছে, যাদের মহিমা প্রকাশ পেয়েছে এবং ইলমের ক্ষেত্রে যাদের স্তর ও অবস্থান সুপরিচিত হয়েছে। আমি এই শতাব্দীর আলেমদের আলোচনার সাথে শায়খ আবু মাদইয়ান (১), শায়খ আবু আলী আল-মাসিলি (২) এবং ফকিহ আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইশবিলি (৩)-এর আলোচনাও যুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি—আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—কারণ এই শতাব্দীর সাথে তাদের সময়ের নিকটবর্তী সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু তারা ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে ছিলেন, তাই তাদের স্মরণের মাধ্যমে বরকত লাভ এবং তাদের গৌরব প্রচারের উদ্দেশ্যেই এটি করা। আমি তাদের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) মাধ্যমেই শুরু করছি, এরপর আমার শায়খদের এবং আমার জ্ঞানার্জনের উৎস বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের কথা বর্ণনা করব। অতঃপর পর্যায়ক্রমে অন্যদের কথা উল্লেখ করব যতক্ষণ না সবার বিবরণ সমাপ্ত হয়, আল্লাহ তাদের সবার ওপর রহম করুন। আমি এই সংকলনটির নামকরণ করেছি "উনওয়ানুদ দিরায়া ফিমান উরিফা মিনাল উলামা ফিল মিআতিল সাবিআ বি-বিজায়া"। আল্লাহ তাআলা এই সমস্ত প্রচেষ্টাকে তাঁর নিকটতম সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ সক্ষম। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করে এটি শুরু করছি।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন নং ১।

(২) তার জীবনী দেখুন নং ২।

(৩) তার জীবনী দেখুন নং ৩।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌ذكر الأشياخ الثلاثة

ومن يستطرده ذكرهم معهم رضي الله عنهم
তিন শায়খের আলোচনা

এবং যাঁদের আলোচনা তাঁদের সাথে প্রাসঙ্গিকভাবে আসে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌1 - أبو مدين شعيب بن الحسين الأندلسي

594هـ - 1198م.

ــ

الشيخ الفقيه المحقق، الواصل القطب، شيخ مشائخ الإسلام في عصره، إمام العباد والزهاد وخاصة الخلصاء من فضلاء العباد، سيدي أبو مدين شعيب بن الحسين الأندلسي من ناحية اشبيلية، ومن حصين يقال له "منتوجب" فتح الله عليه بمواهب قلبية، وأسرار ربانية، استفادها بالتوجه والعمل، وارتقى إلى غاية ما يؤمل؛ كان الشيخ أبو يعزى رحمه الله تعالى، يثني
১ - আবু মাদইয়ান শুয়াইব বিন আল-হুসাইন আল-আন্দালুসি

৫৯৪ হিজরি - ১১৯৮ খ্রিস্টাব্দ।

--

শায়খ, ফকিহ, মুহাক্কিক, আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত কুতুব, স্বীয় যুগের শায়খুল ইসলামগণের শায়খ, ইবাদতকারী ও যাহিদগণের ইমাম এবং পুণ্যবান বান্দাদের মধ্যে বিশেষ একনিষ্ঠ মুখলিস ব্যক্তিবর্গের অন্যতম, আমার নেতা আবু মাদইয়ান শুয়াইব বিন আল-হুসাইন আল-আন্দালুসি। তিনি ইশবিলিয়্যাহ (সেভিল) অঞ্চলের "মানতাজাব" নামক এক দুর্গের অধিবাসী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য হৃদয়ের নিগূঢ় দান এবং রব্বানি রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন, যা তিনি একাগ্রতা ও আমলের মাধ্যমে অর্জন করেছেন এবং তিনি সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আরোহণ করেছেন; শায়খ আবু ইয়াযা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর প্রশংসা করতেন...
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
عليه ويشكره ويقول بلسانه: "إيشار أفان أندلسي" وكان الشيخ أبو يعزى ممن يتبرك بثنائه لعظم خطره، وجلالة قدره. رأيت من كلام الشيخ أبي مدين رضي الله عنه، إنه قال: طالعت أخبار الأولياء من عهد أويس القرني إلى زمننا، فما رأيت مثل الشيخ أبي يعزى، وطالعت كتب التذكير فما رأيت مثل كتاب الإحياء. قال الشيخ العارف محي الدين أبو بكر بن العربي الحاتمي الطائي المعروف بابن سراقة، أن الشيخ أبا مدين رحمه الله لم يمت حتى تقطب قبل أن يغر غر بثلاث ساعات، والقطبية للعارف هي منتهى مناله، وغاية آماله. قلت بلغ من ورعه رضي الله عنه، إنه كان لا يأكل البقلة المسماة ببقلة الروم لذكر اسم الروم عليها وإضافتها إليهم،
তাঁর ওপর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতেন এবং নিজ জিহ্বায় বলতেন: "ঈশার আফান আন্দালুসি"। শাইখ আবু ইয়া'যা এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁদের প্রশংসার মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা হতো, কারণ তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এবং মর্যাদা ছিল অত্যন্ত সুমহান। আমি শাইখ আবু মাদইয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত দেখেছি যে তিনি বলেছেন: "আমি ওয়াইস আল-কারনির যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত ওলিগণের ইতিবৃত্ত পাঠ করেছি, কিন্তু শাইখ আবু ইয়া'যার মতো কাউকে দেখিনি; এবং আমি উপদেশমূলক গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছি, কিন্তু ইহইয়া (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন) কিতাবের সমতুল্য কোনো কিতাব দেখিনি।" আরিফ শাইখ মুহিউদ্দীন আবু বকর বিন আল-আরাবি আল-হাতিমি আত-তাঈ, যিনি ইবনে সুরাকা নামে পরিচিত, তিনি উল্লেখ করেছেন যে শাইখ আবু মাদইয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পূর্বে কুতুবিয়্যাত (কুতুবের মাকাম) লাভ না করা পর্যন্ত ইন্তেকাল করেননি। আর একজন আরিফের জন্য কুতুবিয়্যাত হলো তাঁর পরম প্রাপ্তি এবং তাঁর সকল আশা-আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমি বলছি, তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খোদাভীতি ও পরহেজগারি এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে, তিনি 'বাকলাতুর রুম' (রোমীয় শাক) নামক শাকটি ভক্ষণ করতেন না, কারণ এতে রোমীয়দের নাম উল্লেখ ছিল এবং তাদের দিকে একে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وهذا تقدم كبير في باب التقوى، ومثل ما ذكر، ما روي عن الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه، إنه كان لا يأكل البطيخ، لأنه لم يبلغه كيف كان النبي صلى الله عليه وسلم يأكله بقشره أو بغير قشره، وهل تناوله رضا أو قطعا أو بالفم، ومثل ذلك ما يحكى عن المحاسبي الذي مات أبوه وترك كذا وكذا ألف درهم، فما أخذ منها شيئا وقال: أن أبي كان يقول بالقدر. وقال صلى الله عليه وسلم، لا يتوارث أهل ملتين. وكابن القاسم الذي مات أبوه وترك كذا وكذا ألف درهم، فأبى أن يأخذها وقال أن أبي كان تاجرا وكان لا يحسن العلم، فربما دخل عليه الربى وهو لا يشعر، وهو الذي اكترى دابة فسافر عليها فجاءه إنسان برسالة وقال له، تحمل هذه معك لفلان، فقال ما اشترطت على رب الدابة حمل هذا. وهذا كله من باب الورع رضي الله عنهم. سمعت عنه
এটি তাকওয়ার ক্ষেত্রে এক বিশাল অগ্রগতি। উল্লিখিত বর্ণনার মতোই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তরমুজ আহার করতেন না; কারণ আল্লাহর নবি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তা কীভাবে আহার করতেন—তিনি কি তা খোসাসহ আহার করতেন নাকি খোসা ছাড়া, কামড়ে খেতেন নাকি কেটে খেতেন—তা তাঁর নিকট পৌঁছেনি। অনুরূপভাবে আল-মুহাসিবী সম্পর্কেও বর্ণিত হয় যে, তাঁর পিতা মৃত্যুকালে বহু হাজার দিরহাম রেখে গেলেও তিনি তার কিছুই গ্রহণ করেননি এবং বলেছিলেন: "আমার পিতা তাকদির অস্বীকারকারী (কাদারিয়া) মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন।" অথচ নবি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "ভিন্ন দুই ধর্মের অনুসারীরা পরস্পর উত্তরাধিকারী হয় না।" ইবনুল কাসিমের ঘটনাটিও তদ্রূপ; তাঁর পিতা যখন বহু হাজার দিরহাম রেখে ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন: "আমার পিতা ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ইলম সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা ছিল না, ফলে হয়তো অলক্ষ্যেই তাঁর ওপর সুদের প্রভাব পড়েছিল।" তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি একবার একটি পশু ভাড়া করে সফর করছিলেন; তখন এক ব্যক্তি একটি চিঠি নিয়ে তাঁর নিকট এসে বলল, "এটি অমুক ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাথে নিয়ে যান।" তিনি উত্তরে বললেন, "পশুর মালিকের সাথে এই চিঠি বহনের ব্যাপারে আমি কোনো শর্ত বা চুক্তি করিনি।" আর এই সবকিছুই ছিল তাঁদের পরহেজগারি বা 'ওয়ারা' এর অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন। আমি তাঁর সম্পর্কে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
رضي الله عنه، إنه قرأ حتى انتهى إلى سورة تبارك الذي بيده الملك، فظهرت له معالم العلى، وتحلى من مواهب الله بأحسن الحلي، فكانت تلك السورة سدرة منتهاه، وغاية مرماه.

أخبرني بعض المشيخة رضي الله عنهم، أن الشيخين القاضيين، أبا علي المسيلي وأبا محمد عبد الحق الاشبيلي رضي الله عنهما، سمعا عنه إنه يأتي من العلم بفنون، وإنه اطلع من أمر الله على سره المكنون، مع إنه لم ينته بالقراءة إلا إلى السورة المذكورة فكانا يتعجبان، ويكادان يحيلان ما عنه يسمعان، فاتفق رأيهما على الاجتماع معه، والاطلاع على ما عنده، فسارا إليه إلى أحد مسجديه الذين كان يجلس فيهما مع بعض خواص أصحابه، فدخلا فألفياه يفيض في أمور، ويستخرج الدرر من قيعان البحور، فجلسا إلى أن فرغ من كلامه، ورجع إلى ما يخصه من مرامه، فسلما عليه وسلم عليهما ولم يكن لهما رؤية قبل فقال لهما أما هذا فالفقيه أبو محمد عبد الحق، وأما هذا فالفقيه أبو علي المسيلي، فقالا نعم، وكان هذا من جملة كراماته، وإن صح أن يقال في هذا إنه مما تقرر عنده من رسم الصفة، فأحق أن ينسب ذلك إلى طريق الكرامة، فسألاه حيث انتهى بدراسته، وعن مبلغ قراءته، وذكرا له أنهما سمعا عنه إنه انتهى إلى سورة تبارك الذي بيده الملك، وإنه لم يزد عليها، فأجابهما رضي الله عنه وقال لهما نعم كانت سورتي، فوجدتها سدرتي، ولو تعديتها لأحرقتني سبحات الوجه الكريم، ثم التفت إليهما مخاطبا بنزعة صوفية مشيرا عن يمينه ويساره وهو يقول "بي قل وعلي دل فأنا الكل" فانفصلا عنه وقد تأكد العلم
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন; তিনি পাঠ করতে করতে যখন ‘পুণ্যময় তিনি যাঁর হাতে (আল্লাহর হাতে) রাজত্ব’ সুরা পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তাঁর নিকট সুউচ্চ মাকামসমূহের নিদর্শনাবলি প্রকাশিত হলো এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ অলঙ্কারে সুশোভিত হলেন। এই সুরাটিই ছিল তাঁর সিদরাতুল মুনতাহা বা চূড়ান্ত সীমা এবং তাঁর লক্ষ্যের শেষ বিন্দু।

জনৈক শাইখ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাকে জানিয়েছেন যে, দুই শাইখ ও কাজী—আবু আলী আল-মাসিলী এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল হক আল-ইশবিলী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—তাঁর সম্পর্কে শুনেছিলেন যে, তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় ব্যুৎপত্তি রাখেন এবং আল্লাহর নির্দেশের গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত হয়েছেন; অথচ তিনি তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে কেবল উল্লিখিত সুরা পর্যন্তই পৌঁছেছিলেন। এতে তাঁরা বিস্মিত হলেন এবং তাঁর সম্পর্কে যা শুনছিলেন, তাকে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করতে লাগলেন। অতঃপর তাঁরা উভয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার এবং তাঁর নিকট কী আছে তা প্রত্যক্ষ করার ব্যাপারে একমত হলেন। তাঁরা তাঁর সেই দুই মসজিদের একটির দিকে যাত্রা করলেন, যেখানে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ কতিপয় সঙ্গীর সাথে বসতেন। তাঁরা প্রবেশ করে দেখলেন যে, তিনি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করছেন এবং সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে মুক্তা আহরণ করছেন। তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করা এবং নিজ লক্ষ্য সম্পর্কিত ব্যক্তিগত বিষয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত তাঁরা বসে রইলেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে সালাম দিলেন এবং তিনিও তাঁদের সালামের উত্তর দিলেন; ইতিপূর্বে তাঁদের সাথে তাঁর কোনো দেখা হয়নি। তিনি তাঁদেরকে বললেন, “ইনি হলেন ফকিহ আবু মুহাম্মদ আবদুল হক, আর ইনি হলেন ফকিহ আবু আলী আল-মাসিলী।” তাঁরা বললেন, “হ্যাঁ।” এটি ছিল তাঁর অলৌকিক ঘটনাবলি বা কারামতের অন্তর্ভুক্ত। যদি এটাকে তাঁর নিকট স্থিরীকৃত কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা হিসেবে ধরাও বৈধ হয়, তবুও একে কারামতের ধারার সাথেই সম্বন্ধযুক্ত করা অধিক যুক্তিসঙ্গত। তাঁরা তাঁর পাঠ্যক্রমের সমাপ্তি এবং তিলাওয়াতের পরিধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁরা তাঁর নিকট উল্লেখ করলেন যে, তাঁরা শুনেছেন যে তিনি কেবল ‘পুণ্যময় তিনি যাঁর হাতে রাজত্ব’ সুরা পর্যন্তই পৌঁছেছেন এবং এর অতিরিক্ত আর কিছু পড়েননি। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উত্তরে তাঁদেরকে বললেন, “হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার সুরা, এবং আমি একেই আমার সীমানা হিসেবে পেয়েছি। যদি আমি এটি অতিক্রম করতাম, তবে মহান আল্লাহর চেহারার নূরের প্রজ্জ্বলন আমাকে ভস্মীভূত করে দিত।” অতঃপর তিনি সূফীবাদী ভঙ্গিতে তাঁদের দিকে ফিরে তাঁর ডানে ও বামে ইশারা করে বলতে লাগলেন, “আমার মাধ্যমেই বলো এবং আমার মাধ্যমেই দিশা দাও, কারণ আমিই সব।” এরপর তাঁরা তাঁর নিকট থেকে বিদায় নিলেন এবং বিষয়টি তাঁদের নিকট সুনিশ্চিত ইলম হিসেবে সাব্যস্ত হলো।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عندهما بأن لله مواهب لا تسعها المكاسب وإن الفضل بيد الله يؤتيه من يشاء.

وأخبرني بعض الأصحاب أن بعض الطلبة وقع بينهم نزاع في بعض الأحاديث المروية عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو قوله عليه الصلاة والسلام: إذا مات المؤمن أعطي نصف الجنة: فتردد الكلام بينهم في أن مؤمنين إذا ماتا استحقا الجنة وبقي الناس أجمع دون شيء، فساروا إلى مجلس الشيخ أبي مدين رضي الله عنه ليطلعوا على ما عنده في المسألة، فلما استقر بهم الجلوس في مجلسه وكان حديثه في ذلك المجلس على رسالة القشيري رحمه الله، ترك كلامه الذي كان يتحدث فيه وقال نزيل عن أصحابنا الإشكال، ثم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا مات المؤمن أعطي نصف الجنة، أراد صلى الله عليه وسلم نصف جنته، وإذا كان بعد الحشر يعطى النصف الثاني من جنته، فبعد البعث تكمل له جنته، وفي القبر يعطى نصف جنته، وبين إنه يكشف له في القبر عن مقعده من الجنة وإنه يتنعم برؤيته، وإن أرواح المؤمنين تسرح في الجنة وفي يوم القيامة تتصل الأرواح بالأجساد ويجتمع الجميع في الجنة، وفي هذا من العلم ما لا ينتهي إلى حقيقته إلا أهل الصفاء وخاصة الأولياء، جعلنا الله منهم، وهذه إحدى كراماته رضي الله تعالى عنه حيث أخبرهم بما أتوا إليه قبل أن يخبروه.

وأخبرني الشيخ أبو محمد عبد الحق بن ربيع عن أبيه الفقيه أبي الزهر ربيع رحمه الله، أن والده أبا الزهر كان كتب لبعض الولاة ببجاية واكتسب معه مالا ثم رأى رؤيا مهولة وهي أن القيامة قد قامت وإنه يساق ليقذف به في النار
তাদের নিকট আল্লাহর এমন কিছু দান রয়েছে যা অর্জনের মাধ্যমে আয়ত্ত করা সম্ভব নয় এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।

আমার এক বন্ধু আমাকে জানিয়েছেন যে, কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তা হলো তাঁর (সা.) বাণী: "যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তাকে জান্নাতের অর্ধেক দেওয়া হয়।" তাদের মধ্যে এ নিয়ে কথা চালাচালি হচ্ছিল যে, যদি মাত্র দুইজন মুমিন মৃত্যুবরণ করে জান্নাতের হকদার হয়ে যায়, তবে বাকি সব মানুষ কি কিছুই পাবে না? তারা এ বিষয়ে শাইখ আবু মাদইয়ান (রা.)-এর কাছে কী সমাধান আছে তা জানতে তাঁর মজলিসে উপস্থিত হলেন। তারা যখন মজলিসে বসলেন, তখন শাইখ কুশাইরীর রিসালাহ (রহ.) নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি সেই আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে বললেন, "আমরা আমাদের বন্ধুদের থেকে জটিলতা দূর করব।" এরপর তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন কোনো মুমিন মৃত্যুবরণ করে, তাকে জান্নাতের অর্ধেক দেওয়া হয়; এর দ্বারা তিনি তাঁর (ব্যক্তিগত) জান্নাতের অর্ধেক বুঝিয়েছেন। আর যখন হাশরের পর সময় আসবে, তখন তাকে তার জান্নাতের দ্বিতীয় অর্ধেক অংশ দেওয়া হবে। সুতরাং পুনরুত্থানের পর তার জান্নাত পূর্ণ হবে, আর কবরে তাকে তার জান্নাতের অর্ধেক দেওয়া হয়।" তিনি আরও ব্যাখ্যা করলেন যে, কবরে তার সামনে জান্নাতে তার স্থান উন্মোচন করা হয় এবং সে তা দেখে আনন্দ উপভোগ করে। মুমিনদের রূহ জান্নাতে বিচরণ করে এবং কিয়ামতের দিন রূহ ও দেহ পুনরায় একত্রিত হয় এবং সবাই জান্নাতে সমবেত হবে। এই ইলমের মধ্যে এমন কিছু নিহিত রয়েছে যার হাকীকত পর্যন্ত কেবল পবিত্র আত্মার অধিকারী ব্যক্তিবর্গ এবং বিশেষ আউলিয়াগণ ছাড়া কেউ পৌঁছাতে পারে না; আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এটি ছিল তাঁর (রা.) অন্যতম কারামত যে, তারা কিছু বলার আগেই তিনি তাদের আগমনের কারণ জানিয়ে দিয়েছিলেন।

শাইখ আবু মুহাম্মদ আবদুল হক ইবনে রাবি’ তাঁর পিতা ফকীহ আবুয যাহর রাবি’ (রহ.) থেকে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আবুয যাহর বেজাইয়ার জনৈক গভর্নরের অধীনে কাজ করতেন এবং তাঁর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এরপর তিনি একটি ভয়াবহ স্বপ্ন দেখেন যে, কিয়ামত কায়েম হয়ে গেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার জন্য টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وانه سأل عن السبب فقيل بسبب ما اكتسبت من المال، فسأل واستغاث، فخلي عنه فتاب إلى الله تعالى ونزع نفسه عن الكتابة واشتغل بملازمة العبادة ولزوم القراءة، واستعمل حرفة الخياطة للمعيشة فلم يكفه ما ينتجه من ذلك فضاقت حاله وساءت، فسار يوما إلى والدته فأخبرها بضيق حاله وما انتهى إليه أمره ورغب أن يجد عندها فرجا فقالت له: يا بني، والله ما عندي شيء ولا أعلم لك نفعا سوى هذا الرسم، وهو رسم دار كانت لها، واغتصبها الموارقة حين دخولهم بجاية واستمر الغصب عليها، فخذه واطلب الدار وهي لك. فأخذت ذلك الرسم ومشيت به إلى الفقهاء استفتيهم فيه، فاستفتيتهم فأفتوني بجواز الطلب وإن الحق لمستحقه وجب، فقلت قد استفتيت فقهاء الدنيا ولا بد أن استفتي فقهاء الآخرة، قال فسرت إلى الشيخ أبي مدين رضي الله عنه بالمسجد المعروف الآن بمسجد الفقيه أبي زكرياء الزواوي رضي الله عنه بحومة اللؤلؤة فقصصت عليه القصة وسألته الفتيا فيها، فقال لي رضي الله عنه استفت ربك يفتك، فقلت له يا سيدي وهل بلغت أن يفتيني ربي؟ فقال لي استفت ربك يفتك، قال وكان هذا وهو ينتظر صلاة الصبح، فأقام المؤذن الصلاة وتعلقت نفسي بالفتيا، فلما كنت في الركعة الثانية من الصلاة عرض علي

আর তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলেন, তখন বলা হলো যে, তোমার উপার্জিত মালের কারণে (এই বিপদ)। তখন তিনি প্রার্থনা ও ফরিয়াদ করলেন। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেয়া হলো এবং তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করলেন। তিনি নিজেকে লেখালেখির কাজ থেকে সরিয়ে নিলেন এবং নিয়মিত ইবাদত ও তিলাওয়াতে আত্মনিয়োগ করলেন। জীবনধারণের জন্য তিনি দর্জির পেশা গ্রহণ করলেন, কিন্তু তাতে যা উৎপন্ন হতো তা তাঁর জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে তাঁর অবস্থা সংকীর্ণ ও শোচনীয় হয়ে পড়ল। একদিন তিনি তাঁর মায়ের কাছে গেলেন এবং নিজের দুরবস্থা ও পরিণতির কথা তাঁকে জানালেন। তিনি আশা করেছিলেন যে তাঁর মায়ের কাছে কোনো প্রতিকার পাবেন। মা তাঁকে বললেন: "হে বৎস, আল্লাহর কসম, আমার কাছে কিছুই নেই এবং এই দলিলটি ছাড়া তোমার উপকারে আসতে পারে এমন কিছু আমার জানা নেই।" এটি ছিল একটি বাড়ির দলিল যা তাঁর মালিকানাধীন ছিল, এবং যখন মোওয়ারিকা গোষ্ঠী বেজায়ায় প্রবেশ করে তখন তারা এটি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছিল এবং সেই দখলদারিত্ব অব্যাহত ছিল। "এটি গ্রহণ করো এবং বাড়িটি দাবি করো, তা তোমারই।" সুতরাং আমি সেই দলিলটি নিলাম এবং এই বিষয়ে ফতোয়া চাওয়ার জন্য ফকিহদের কাছে গেলাম। আমি তাঁদের কাছে ফতোয়া চাইলাম এবং তাঁরা আমাকে তা দাবি করার বৈধতার ফতোয়া দিলেন এবং বললেন যে, হকদারকে তাঁর প্রাপ্য ফিরিয়ে দেয়া ওয়াজিব। তখন আমি বললাম, আমি তো দুনিয়ার ফকিহদের কাছে ফতোয়া চাইলাম, এখন আমাকে অবশ্যই আখেরাতের ফকিহদের কাছে ফতোয়া চাইতে হবে। তিনি বলেন, এরপর আমি শেখ আবু মাদইয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন লুলুআ পাড়ার সেই মসজিদে ছিলেন যা বর্তমানে ফকিহ আবু জাকারিয়া আল-জাওয়াবি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মসজিদ নামে পরিচিত। আমি তাঁর কাছে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করলাম এবং এই বিষয়ে ফতোয়া জানতে চাইলাম। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন, "তোমার রবের কাছে ফতোয়া চাও, তিনি তোমাকে ফতোয়া দেবেন।" আমি তাঁকে বললাম, "হে আমার নেতা, আমি কি সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি যে আমার রব আমাকে ফতোয়া দেবেন?" তিনি আমাকে বললেন, "তোমার রবের কাছে ফতোয়া চাও, তিনি তোমাকে ফতোয়া দেবেন।" তিনি বলেন, এটি তখন ছিল যখন তিনি ফজর নামাজের অপেক্ষা করছিলেন। এরপর মুয়াজ্জিন নামাজের ইকামত দিলেন এবং আমার মন ফতোয়ার সাথে আটকে ছিল। যখন আমি নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে ছিলাম, তখন আমার সামনে প্রতিভাত হলো

(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
شبه سنة فرأيت مرجا مريعا مخضر الجناب، رائق الجلباب، وفي وسطه بركة ماء كأنها اللجين، وفي ذلك المرج طاووس لا يرى في طواويس الدنيا مثله، وإذا به يخاطبني بلسان فصيح، ونطق بين صريح، يقول لي اطلب حقا واجبا اطلب حقا واجبا، فأتممت الصلاة وجلست بمجلسه المبارك لاستماع الذكر، وبعد فراغه وانصراف الناس عنه أقبل علي وقال لي أفتاك ربك، فقلت له أفتاني يا سيدي. قلت وفي هذا له رضي الله عنه كرامات أحدها أحالته على فتيا ربه، والثانية صدور الفتيا له، والثالثة إخباره له بأن ربه أفتاه وأطلعه على ذلك. وكراماته رضي الله عنه وأحواله المباركة الصادرة عنه مما لا يحصى وصفه، ولا يسع نظمه ووصفه.

ولما اشتهر أمره ببجاية سعي به عند خلفاء بني عبد المؤمن بمراكش، فأمر بطلوعه إلى مراكش وكتب لوالي بجاية في ذلك وأمر أن يحمله خير محمل، فلما وصل إليه الأمر، اجتمع عليه أكابر أصحابه وعز عليهم فراقه وتألموا من حاله وانفوا عليه، فقال رضي الله عنه لا عليكم، شعيب شيخ كبير ضعيف لا قدرة له على المشي، منيته قدرت بغير هذه البلدة ولا بد من الوصول إلى محل منيته. فقيض الله له من يحمله برفق ويسوقه إلى مرام المقادير أحسن سوق، والقوم لا أراهم ولا يرونني، فطابت بذلك نفوسهم وذهب ضيرهم وبؤسهم، وارتحل رضي الله عنه إلى أن وصل تلمسان ونزل بها بالموضع المسمى بالعباد وهنالك قال لأصحابه رضي الله عنه: لا بأس بالنوم بهذا المكان، فوافته هناك منيته، وشرفت تلك البقاع تربته، وهذه من جملة كراماته رضي الله عنه وقبره هناك معمر مشهود، وحوض مورود، والدعاء عنده مستجاب، وهو
ঘুমের মতো আচ্ছন্ন অবস্থায় আমি একটি মনোরম চারণভূমি দেখলাম যার চারপাশ ছিল সবুজ-শ্যামল এবং যার অবয়ব ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তার ঠিক মাঝখানে ছিল একটি জলাধার যা দেখতে যেন গলিত রূপা। সেই চারণভূমিতে এমন এক ময়ূর ছিল যার তুল্য দুনিয়ার ময়ূরদের মধ্যে দেখা যায় না। হঠাৎ সে প্রাঞ্জল ভাষায় এবং স্পষ্ট বাক্যে আমার সাথে কথা বলতে লাগল, সে আমাকে বলছিল: "একটি ওয়াজিব হক অন্বেষণ করো, একটি ওয়াজিব হক অন্বেষণ করো।" অতঃপর আমি সালাত শেষ করলাম এবং যিকির শোনার জন্য তাঁর মুবারক মজলিসে বসলাম। তিনি ফারেগ হওয়ার পর এবং লোকজন তাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করার পর তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন এবং বললেন: "তোমার রব কি তোমাকে ফতোয়া দিয়েছেন?" আমি তাঁকে বললাম: "হে আমার সাইয়্যিদ, তিনি আমাকে ফতোয়া দিয়েছেন।" আমি বলি, এতে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বেশ কিছু কারামত বিদ্যমান; প্রথমত, তাকে তাঁর রবের ফতোয়ার দিকে সোপর্দ করা। দ্বিতীয়ত, তাঁর জন্য ফতোয়া জারি হওয়া। তৃতীয়ত, তাঁকে এই সংবাদ দেওয়া যে তাঁর রব তাঁকে ফতোয়া দিয়েছেন এবং তাঁকে সে বিষয়ে অবহিত করেছেন। তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) কারামতসমূহ এবং তাঁর থেকে প্রকাশিত মুবারক অবস্থাসমূহ এমন যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয় এবং তা সংকলন ও বর্ণনা করাও দুঃসাধ্য।

যখন বিজায়াতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, তখন মাররাকেশের বনী আবদুল মুমিন খলিফাদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হলো। ফলে খলিফা তাঁকে মাররাকেশে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বিজায়ার গভর্নরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যেন তাঁকে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নিয়ে আসা হয়। যখন এই আদেশ তাঁর নিকট পৌঁছাল, তখন তাঁর বড় বড় সাহাবাগণ তাঁর নিকট একত্রিত হলেন এবং তাঁর বিচ্ছেদ তাঁদের নিকট অত্যন্ত অসহনীয় মনে হলো। তাঁরা তাঁর এই অবস্থায় ব্যথিত হলেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তখন তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বললেন: "তোমরা বিচলিত হয়ো না; শুয়াইব একজন অতি বৃদ্ধ ও দুর্বল ব্যক্তি, যার হাঁটার ক্ষমতা নেই। তাঁর মৃত্যু এই শহর ব্যতীত অন্য জনপদে নির্ধারিত হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো অবধারিত।" অতঃপর আল্লাহ এমন একজনের ব্যবস্থা করলেন যে তাঁকে অত্যন্ত কোমলতার সাথে বহন করবে এবং তাঁকে তকদীরের গন্তব্যের দিকে সর্বোত্তম পন্থায় নিয়ে যাবে। "আর সেই সম্প্রদায়কে আমি দেখি না এবং তারাও আমাকে দেখে না।" এতে তাঁদের মন শান্ত হলো এবং তাঁদের উদ্বেগ ও কষ্ট দূরীভূত হলো। অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) যাত্রা করলেন এবং তিলিমসানে পৌঁছে 'উব্বাদ' নামক স্থানে অবতরণ করলেন। সেখানে তিনি তাঁর সাহাবাদের বললেন: "এই স্থানে নিদ্রা যাপনে কোনো অসুবিধা নেই।" সেখানেই তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো এবং তাঁর সমাধি সেই ভূমিকে সম্মানিত করল। এটি তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) অন্যতম কারামত। সেখানে তাঁর কবর আবাদ ও যিয়ারতগাহ হিসেবে সমাদৃত, যা বরকত লাভের স্থান এবং সেখানে দুআ কবুল হয়। আর তিনি...
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أحد المعالم التي عرف بالتجربة استجابة الدعاء عندها، وكذلك قبر الشيخ أبي زكريا يحيى الزواوي رضي الله عنه ببجاية، وقبر الشيخ أبي مروان اليحصبي ببونة وقبر معروف الكرخي ببغداد، نفعنا الله بخالص النيات، وأعاننا على الاعمال الصالحات.

ورأيت في فهرسة أبي عبد الله محمد بن عبد الحق التلمساني بعد ذكره لفضل الشيخ أبي مدين وبعد وصفه إياه ببعض أوصافه الجليلة، إنه قال ظهر فيه صدق قول رسول الله صلى الله عليه وسلم يموت المرء على ما عاش عليه، إذ كان من قوله عند آخر الرمق الله الحي. قلت هذه الخاتمة حسنا ومرتبة عليا، رحمه الله ورضي عنه. وتوفي في نحو التسعين وخمسمائة.

وذكر بعض العلماء قال: رأيت ذا القرنين في المنام فسألته عن قوله تعالى {حتى إذا بلغ مغرب الشمس وجدها تغرب في عين حمئة} ما هذه العين التي تغرب فيها الشمس والشمس أكبر من الدنيا نيفا وستين مرة، وقال لي أين
এটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দোয়া কবুলের জন্য পরিচিত নিদর্শনাদির অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে বেজাইয়াতে শেখ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আজ-জাওয়াউয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর কবর, বুনায় শেখ আবু মারওয়ান আল-ইয়াহসুবি-এর কবর এবং বাগদাদে মা’রুফ আল-কারখি-এর কবর। আল্লাহ আমাদের একনিষ্ঠ নিয়ত দ্বারা উপকৃত করুন এবং নেক আমলসমূহে আমাদের সাহায্য করুন।

আর আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল হক আত-তিলিমসানির 'ফিহরিস্ত'-এ দেখেছি যে, তিনি শেখ আবু মাদইয়ানের শ্রেষ্ঠত্ব উল্লেখ করার পর এবং তাঁর কিছু মহান গুণাবলি বর্ণনা করার পর বলেছেন: তাঁর মাঝে আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বাণীর সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে যে, 'মানুষ যেভাবে জীবন অতিবাহিত করে সেভাবেই সে মৃত্যুবরণ করে'। কেননা জীবনের শেষ মুহূর্তে তাঁর কথা ছিল: 'আল্লাহ চিরঞ্জীব'। আমি বলি, এটি একটি উত্তম সমাপ্তি এবং উচ্চ মর্যাদা, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি আনুমানিক পাঁচশত নব্বই হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে জুল-কারনাইনকে দেখেছি এবং তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী—"অবশেষে যখন তিনি সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি সেটাকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন"—বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এই জলাশয়টি কী যাতে সূর্য অস্ত যায়, অথচ সূর্য তো পৃথিবীর চেয়ে ষাট গুণেরও বেশি বড়? তিনি আমাকে বললেন, কোথায়...
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
تغيب السماوات والنجوم والقمر حين يعدم الخلق؟ فقلت لا أدري، فقال لي في عظمة الله وقدرته، والعين هي العظمة والقدرة، فقلت ما عندي غير هذا، فقال ولا عند جبريل، ثم قال لي، قل للشيخ أبي مدين أنت قطب والدراري دائرة بك، وأنت ستر لبجاية الناجية فبثك العلم في بجاية رحمة لهم وعناية، وكان سبب هذا إنه وقع ذكر في هذه العين التي تغرب فيها الشمس، فقال الشيخ أبو مدين لصاحب الرؤيا أن رأيت أحدا من الأنبياء فاسأله عن هذه العين، وقال بعضهم رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم ومعه أبو مدين وأبو حامد رضي الله عنهما، فسأل أبو حامد الشيخ أبا مدين بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له، ما روح الروح؟ فقال له أبو مدين المعرفة، فقال له فما روح المعرفة؟ قال اللذة، قال فما روح اللذة؟ قال نظرة إليه، فغشيهم نور عظيم فأخذتهم الملائكة وصعدت بهم حتى غابوا في الهواء.

وهنا أنا أثبت من كلامه المبارك ما يدل على علو مقامه، وبديع قصده ومرامه، ولولا الإطالة لألحقت كل كلمة منها بمعالمها، وبينت وجه ارتباطها بما هو من مراسلها، وفي حفظها أن شاء الله والعمل بها ما يرقى إلى منازل الأبرار، ويوصل إلى عالم المقربين الأخيار قال رضي الله عنه: الحق تعالى، مطلع على السرائر والضمائر في كل نفس، وقال: فأيما قلب رآه مؤثرا له حفظه من الطوراق والمحن ومتعاظلات الفتن. وقال: إياك أن تميل إلى غير الله فيسلبك لذة مناجاته. وقال: من رأيته يدعى مع الله حالا لا يكون على ظاهره منه شاهد فاحذره. وقال: من رزق حلاوة المناجاة زال عنه النوم. وقال: من عرف الله استفاد منه في اليقظة والنوم. وقال:
সৃষ্টিজগত যখন বিলুপ্ত হবে, তখন কি আসমানসমূহ, নক্ষত্ররাজি এবং চন্দ্র অদৃশ্য হয়ে যাবে? আমি বললাম, "আমি জানি না"। তখন তিনি আমাকে আল্লাহর মহিমা ও ক্ষমতা সম্পর্কে বললেন; আর সেই প্রস্রবণটিই হলো মহিমা ও ক্ষমতা। আমি বললাম, "আমার কাছে এর বাইরে আর কিছু নেই"। তিনি বললেন, "জিবরাঈলের কাছেও নেই"। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, "শাইখ আবু মাদইয়্যানকে বলো যে, আপনি হলেন কুতুব (কেন্দ্রবিন্দু) এবং নক্ষত্ররাজি আপনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আপনি নাজাতপ্রাপ্ত শহর বেজাইয়ার জন্য একটি রক্ষাকবচ। বেজাইয়াতে আপনার জ্ঞান প্রচার করা তাদের জন্য রহমত ও বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ।" এর কারণ ছিল এই যে, যে প্রস্রবণে সূর্য অস্ত যায়, তা নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। শাইখ আবু মাদইয়্যান স্বপ্নদ্রষ্টাকে বলেছিলেন, "আপনি যদি কোনো নবীকে দেখেন, তবে তাঁকে এই প্রস্রবণটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।" তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, "আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি এবং তাঁর সঙ্গে আবু মাদইয়্যান ও আবু হামিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন। আবু হামিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে শাইখ আবু মাদইয়্যানকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'রুহের রুহ কী?' আবু মাদইয়্যান তাঁকে বললেন, 'মা'রিফাত (আল্লাহর পরিচয়)'। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'মা'রিফাতের রুহ কী?' তিনি বললেন, 'স্বাদ'। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'স্বাদের রুহ কী?' তিনি বললেন, 'তাঁর (আল্লাহর) দিকে দৃষ্টিপাত করা'। এরপর এক বিশাল নূর তাঁদের আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং ফেরেশতারা তাঁদের নিয়ে উপরে আরোহণ করলেন, এমনকি তাঁরা শূন্যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।"

এখানে আমি তাঁর বরকতময় বাণী থেকে এমন কিছু লিপিবদ্ধ করছি যা তাঁর উচ্চ মর্যাদা এবং চমৎকার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের প্রমাণ দেয়। যদি দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকত, তবে আমি এর প্রতিটি শব্দকে তার মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত করতাম এবং এর সংশ্লিষ্টতার দিকগুলো ব্যাখ্যা করতাম। ইনশাআল্লাহ, এই বাণীগুলো সংরক্ষণ করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার মধ্যে এমন সব বিষয় রয়েছে যা নেককার বান্দাদের স্তরে উন্নীত করে এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জগতে পৌঁছে দেয়। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: সত্য স্বরূপ আল্লাহ তাআলা প্রতিটি প্রাণের গোপন রহস্য এবং অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি আরও বলেছেন: তিনি (আল্লাহ) যে হৃদয়কে তাঁর প্রতি অগ্রাধিকার দানকারী হিসেবে দেখেন, তাকে তিনি আপদ-বিপদ এবং জটিল ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। তিনি বলেছেন: সাবধান! আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় তিনি তোমাকে তাঁর সাথে নিভৃত আলাপের মিষ্টতা থেকে বঞ্চিত করবেন। তিনি বলেছেন: যার সম্পর্কে তুমি দেখবে যে সে আল্লাহর সাথে এমন কোনো আধ্যাত্মিক অবস্থার (হাল) দাবি করছে যার কোনো বাহ্যিক প্রমাণ তার মাঝে নেই, তার থেকে সতর্ক থেকো। তিনি আরও বলেছেন: যাকে নিভৃত আলাপের মিষ্টতা দান করা হয়েছে, তার থেকে ঘুম দূর হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে জাগ্রত ও নিদ্রা উভয় অবস্থায় তাঁর থেকে উপকৃত হয়। তিনি আরও বলেছেন:
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
لا يصلح سماع هذا العلم إلا لمن جمعت له أربعة، الزهد والعلم والتوكل واليقين. وقال: اجعل الصبر زادك، والرضى مطيتك، والحق مقصدك ووجهتك. وقال: من تعلق بدعوى الأماني لم يفارق التوانى. وقال: من اشتغل بطلب الدنيا ابتلي فيها بالذل. وقال: جعل الله تعالى قلوب أهل الدنيا محلا للغفلة والوسواس وقلوب العارفين محلا للذكر والاستيناس: وقال: لا ينفع مع الكبر عمل ولا يضر مع التواضع بطالة. وقال: الفترة الاشتغال بالخلق عن الخالق. وقال: أهل الصدق قليل في أهل الصلاح. وقال من لم يجد في قلبه زاجرا فهو خراب. وقال: توكل على الله حتى يكون الغالب على ذكرك، فإن الخلق لم يغنوا عنك شيئا. وقال: بالمحاسبة يصل العبد إلى درجة المراقبة. وقال: من أهمل الفرائض فقد ضيع نفسه. وقال: من عرف نفسه لم يغتر بثناء الناس عليه. وقال: الدعوى من رعونة النفس وقال: أبناء الدنيا يخدمهم العبيد والإماء وأبناء الآخرة يخدمهم الأحرار والكرماء. وقال: من خدم الصالحين ارتفع بخدمته. وقال: من حرم احترام الأولياء ابتلاه الله بالمقت من خلقه. وقال: ثمرة التصوف تسليم كلك وقال من ترك التدبير والاختيار طاب عيشه. وقال: مروءتك إعطاؤك عن تقصير غيرك. وقال: الغيبة عن الحق خيبة. وقال: التعظيم امتلاء القلب بإجلال الرب. وقال: المهمل في الأحوال لا يصلح لبساط الحق. وقال: كل حقيقة لا تمحو أثر العبد ورسمه فليست بحقيقة. وقال: ما عرف الحق من لم يؤثره وما أطاعه من لم
এই ইলম শ্রবণ করা কেবল তাদের জন্যই সমীচীন যাদের মাঝে চারটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে: যুহদ (সংসারবিরাগ), ইলম (জ্ঞান), তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা) এবং ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস)। তিনি বলেন: ধৈর্যকে তোমার পাথেয় করো, সন্তুষ্টিকে তোমার সওয়ারি বানাও এবং সত্যকে তোমার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যস্থল সাব্যস্ত করো। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি অলীক কামনার মোহে পড়ে, সে অলসতা থেকে মুক্ত হতে পারে না। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি দুনিয়া অন্বেষণে লিপ্ত হয়, সে তাতে লাঞ্ছনার দ্বারা পরীক্ষিত হয়। তিনি বলেন: মহান আল্লাহ দুনিয়াদারদের অন্তরকে উদাসীনতা ও কুমন্ত্রণার স্থানে পরিণত করেছেন এবং আরিফদের (আল্লাহওয়ালা) অন্তরকে জিকির ও মহব্বতের স্থানে পরিণত করেছেন। তিনি বলেন: অহংকারের সাথে কোনো আমল উপকারে আসে না এবং বিনয়ের সাথে কোনো নিষ্ক্রিয়তা ক্ষতি করে না। তিনি বলেন: ফাতরাহ (শিথিলতা) হলো স্রষ্টাকে ছেড়ে সৃষ্টির মাঝে মগ্ন হওয়া। তিনি বলেন: নেককারদের মাঝে সত্যনিষ্ঠ লোকের সংখ্যা খুবই কম। তিনি বলেন: যে নিজের অন্তরে কোনো সতর্ককারী পায় না, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত। তিনি বলেন: আল্লাহর ওপর এমনভাবে তাওয়াক্কুল করো যেন তা তোমার স্মরণে প্রবল হয়ে থাকে, কেননা সৃষ্টিজগত তোমার কোনো কাজেই আসবে না। তিনি বলেন: আত্ম-হিসাব নিকাশের মাধ্যমে বান্দা মুরাকাবার (ধ্যানমগ্নতা) স্তরে পৌঁছায়। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ফরজসমূহ পালনে অবহেলা করল, সে মূলত নিজেকেই ধ্বংস করল। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নিজের নফসকে চিনেছে, মানুষের প্রশংসায় সে প্রলুব্ধ হয় না। তিনি বলেন: কোনো কিছুর দাবি করা নফসের মূর্খতা থেকে উদ্ভূত। তিনি বলেন: দুনিয়াদারদের সেবা করে দাস-দাসীরা, আর পরকাল অন্বেষণকারীদের সেবা করে স্বাধীন ও সম্মানিত ব্যক্তিরা। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নেককারদের সেবা করল, সে নিজের সেবার মাধ্যমেই উচ্চ মর্যাদা লাভ করল। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ওলিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন থেকে বঞ্চিত হলো, আল্লাহ তাকে তাঁর সৃষ্টির নিকট ঘৃণিত হওয়ার পরীক্ষায় লিপ্ত করেন। তিনি বলেন: তাসাউউফের ফল হলো তোমার সর্বস্ব সমর্পণ করা। তিনি বলেন: যে নিজের পরিকল্পনা ও চয়ন ত্যাগ করল, তার জীবন সুখময় হলো। তিনি বলেন: অন্যের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তাকে দান করাই হলো তোমার প্রকৃত মহত্ত্ব। তিনি বলেন: সত্য থেকে বিমুখ হওয়াই হলো চরম ব্যর্থতা। তিনি বলেন: তা’জীম বা সম্মান প্রদর্শন হলো রবের মহিমায় অন্তর পরিপূর্ণ হওয়া। তিনি বলেন: আধ্যাত্মিক অবস্থায় অবহেলাকারী হকের সান্নিধ্য লাভের অযোগ্য। তিনি বলেন: প্রতিটি হাকীকত যা বান্দার আমিত্বের চিহ্ন ও অস্তিত্ব বিলীন করে না, তা প্রকৃত হাকীকত নয়। তিনি বলেন: যে সত্যকে অগ্রাধিকার দেয়নি সে সত্যকে চিনতে পারেনি, আর যে আনুগত্য করেনি সে...
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
يشكره. وقال المروءة موافقة الإخوان فيما لم يحظره العلم عليك. وقال: قوة العارف معروفة وقوة الغير فمعتادة مألوفة. وقال: من أراد الصفاء فليلزم الوفاء. وقال: أساس هذا الشأن على الزهد والاجتهاد. وقال: التدارك بالبلاء تحقيق بالرضى. وقال: الفقر أمارة على التوحيد ودلالة على التفريد [وحقيقة الفقر أن لا تشاهد سواه]. وقال: الزهد فريضة وفضيلة وقربة، فالفرض في الحرام، والفضل في التشابه، والقربة في الحلال. وقال: من قطع موصولا بربه قطع به. وقال: من شغل مشغولا بربه أدركه المقت [في الوقت] (يا نفس هذه موعظة لك أن اتعظت). وقال: من استكن إلى غير الله بسره نزع الله الرحمة من قلوبهم عليه وأليسه لباس الطمع فيهم. وقال: علامة الإخلاص أن يغيب عنك الخلق في مشاهدة الحق. وقال: احذر محبة المبتدعين فهو أبقى على دينك واحذر محبة النساء فهو أبقى على قلبك.

هذه كلمات طيبات ونبذ متخيرات من كلامه رضي الله عنه، وكل قضية منها لو اقتصر عليها المقتصر، وتمسك بمجردها الفطن اللبيب المختصر، لأغنته وحصلت له المراد وكفته، فإنها تضمنت من جوامع المعاني ما يطول فيه التفصيل، وتعظم به الإفادة لذوي التحصيل، والله موفقنا ومرشدنا بمنه.
তিনি তাঁর শোকর আদায় করেন। তিনি বলেন, পৌরুষ হলো ভ্রাতৃবর্গের সাথে এমন বিষয়ে একমত হওয়া যা জ্ঞান (শরীয়ত) তোমার ওপর নিষিদ্ধ করেনি। তিনি আরও বলেন: মারেফাত অর্জনকারীর শক্তি সুবিদিত, আর অন্যদের শক্তি অভ্যাসগত ও পরিচিত। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি স্বচ্ছতা চায়, সে যেন আনুগত্য ও অঙ্গীকার পালনে অবিচল থাকে। তিনি বলেন: এই পথের মূল ভিত্তি হলো দুনিয়াবিমুখতা ও কঠোর সাধনা। তিনি বলেন: বিপদের মাধ্যমে সংশোধন হওয়া হলো সন্তুষ্টির প্রকৃত রূপ। তিনি বলেন: দরিদ্রতা হলো তাওহীদের নিদর্শন এবং একত্ববাদের প্রমাণ [আর দরিদ্রতার প্রকৃত রহস্য হলো তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রত্যক্ষ না করা]। তিনি আরও বলেন: দুনিয়াবিমুখতা হলো ফরজ, ফজিলত এবং নৈকট্য লাভের উপায়; হারামের ক্ষেত্রে দুনিয়াবিমুখতা হলো ফরজ, সন্দেহযুক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ফজিলত, আর হালাল বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি নৈকট্য লাভের উপায়। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে, তাকেও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন কোনো ব্যক্তিকে অন্য কাজে লিপ্ত করে, তাৎক্ষণিকভাবে আল্লাহর ক্রোধ তাকে গ্রাস করে (হে নফস, এটি তোমার জন্য এক উপদেশ যদি তুমি তা গ্রহণ করো)। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার অন্তরের গোপন বিষয় নিয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়, আল্লাহ তাদের অন্তর থেকে তার প্রতি দয়া তুলে নেন এবং তাদের প্রতি লোভ-লালসার পোশাক তাকে পরিয়ে দেন। তিনি বলেন: ইখলাসের নিদর্শন হলো হকের দর্শনে সৃষ্টিজগত তোমার দৃষ্টি থেকে বিলীন হয়ে যাওয়া। তিনি বলেন: বিদআতিদের ভালোবাসা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ এটি তোমার দ্বীনের সুরক্ষার জন্য অধিক সহায়ক; আর নারীদের ভালোবাসা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ এটি তোমার অন্তরের সুরক্ষার জন্য অধিক সহায়ক।

এগুলো তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণী থেকে সংগৃহীত অত্যন্ত চমৎকার এবং নির্বাচিত কিছু অংশ। এগুলোর প্রতিটি বিষয় যদি কেউ কেবল নিজের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে এবং কোনো বুদ্ধিমান ও সারসংক্ষেপ প্রিয় ব্যক্তি যদি কেবল এটুকু আঁকড়ে ধরে, তবে এটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তার উদ্দেশ্য পূরণ করবে। কারণ এগুলো এমন সব ব্যাপক অর্থবহ বাণীর সমষ্টি যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনেক দীর্ঘ হবে এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য এর উপকারিতা হবে অপরিসীম। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের তাওফিক দানকারী ও সঠিক পথপ্রদর্শক।
(খণ্ড: ১) উনওয়ানুদ দিরায়াহ ফীমান আরাফা মিনাল উলামা ফিল মায়াতিস সাবিআ বিবিজাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌2 - أبو علي حسن بن علي بن محمد المسيلي

… نحو 580هـ

… 1185م

ــ

ومنهم الشيخ الفقيه الفاضل، العلم العامل العابد، المحقق المتقن المحصل المجتهد، الإمام أبو علي حسن بن علي بن محمد المسيلي كان يسمى أبا حامد الصغير، جمع بين العلم والعمل والورع، وبين علمي الظاهر والباطن، له المصنفات الحسنة والقصص العجيبة المستحسنة، له "التذكرة في أصول علم الدين" وهو كتاب حسن طالعته وكررت النظر فيه فرأيته من أجل الموضوعات في هذا الفن، وله "النبراس في الرد على منكر القياس" وهو كتاب مليح على ما أخبرت عنه، ولم أره، وأنا شديد الحرص عليه، ولقد اخبرني بعض الطلبة المتمسكين بالظاهر وهو من أنبلهم إنه رأى هذا الكتاب وإنه ما رأى في الكتب الموضوعة في هذا الشأن مثله، فأنشدته:

ومليحة شهدت لها أعداؤها … والحسن ما شهدت له الأعداء

فأعجبه ذلك. وله كتاب في علم التذكير سماه كتاب "التفكير فيما يشتمل عليه السور والآيات من المباد والغايات" وهو كتاب جليل سلك فيه مسلك أبي حامد في كتاب "الإحياء" وبه سمي أبا حامد الصغير، وكلامه
২ - আবু আলী হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মাসিলি

... আনুমানিক ৫৮০ হিজরি

... ১১৮৫ খ্রিস্টাব্দ

--

তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন শায়খ, ফকিহ, ফাজিল (বিদ্বান), আমলকারী আলেম, আবিদ (ইবাদতকারী), সূক্ষ্ম গবেষক, নিপুণ পরিপক্ব জ্ঞান অর্জনকারী, মুজতাহিদ, ইমাম আবু আলী হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মাসিলি। তাকে আবু হামিদ আস-সগির (ছোট আবু হামিদ) বলা হতো। তিনি ইলম ও আমল এবং পরহেজগারীর মধ্যে সমন্বয় করেছিলেন, একইসাথে জাহেরি (প্রকাশ্য) ও বাতিনি (তাত্ত্বিক) উভয় জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। তার বহু সুন্দর রচনা এবং চমৎকার ও প্রশংসনীয় ঘটনাবলি রয়েছে। তার 'আত-তাযকিরাহ ফি উসুল ইলমিদ দ্বীন' নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা অত্যন্ত চমৎকার। আমি এটি অধ্যয়ন করেছি এবং বারবার এটি পর্যালোচনা করেছি। আমি একে এই শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে দেখতে পেয়েছি। তার আরও একটি কিতাব রয়েছে 'আন-নিবরাস ফির রাদ্দি আলা মুনকিরিল কিয়াস' নামে। এটি একটি চমৎকার বই বলে আমাকে অবহিত করা হয়েছে, তবে আমি তা নিজে দেখিনি এবং আমি সেটি পাওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। জাহেরি মাযহাবের অনুসারী অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্র আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এই কিতাবটি দেখেছেন এবং এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে এর মতো আর কিছুই দেখেননি। তখন আমি তাকে এই কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনালাম:

এমন এক সুন্দরী নারী যার সপক্ষে তার শত্রুরাও সাক্ষ্য দেয় ... আর সৌন্দর্য তো সেটিই যার সপক্ষে শত্রুরাও সাক্ষ্য প্রদান করে

এটি তার নিকট অত্যন্ত ভালো লেগেছে। উপদেশমূলক জ্ঞানে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম দিয়েছেন 'আত-তাফকির ফিমা ইয়াশতামিলু আলাইহিস সুওয়ার ওয়াল আয়াত মিনাল মাবাদি ওয়াল গায়াত'। এটি একটি মহিমান্বিত গ্রন্থ যাতে তিনি 'ইহইয়া' কিতাবে আবু হামিদের অনুসৃত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। আর এই কারণেই তাকে আবু হামিদ আস-সগির বলা হতো। তার বক্তব্য...