(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: -)
علل الحديث - الفلاس   (أبو حفص الفلاس)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: كتاب فيه علل الحديث ومعرفة الفقهاء الثقات من الضعاف مما اجتمع عليه العلماء من أهل البصرة

المؤلف: أبو حفص الفلاس عمرو بن علي بن بحر السقّاء البصري (ت 249 هـ)

رواية: محمد بن عبد السلام الخشني القرطبي (ت 286 هـ)

دراسة وتحقيق وتعليق: محمد الطبراني

الناشر: مركز احسان لدراسات السنة النبوية، جدة - السعودية

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الصفحات: 329

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433

ইলালুল হাদিস - আল-ফাল্লাস   (আবু হাফস আল-ফাল্লাস)

বিভাগ: হাদিসের দোষ-ত্রুটি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী


গ্রন্থ: বসরার আলেমগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হাদিসের দোষ-ত্রুটি এবং নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল ফকিহদের পরিচয় বিষয়ক কিতাব

লেখক: আবু হাফস আল-ফাল্লাস আমর ইবনে আলি ইবনে বাহর আস-সাক্কা আল-বসরি (মৃত্যু ২৪৯ হি.)

বর্ণনা: মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সালাম আল-খুশানি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ২৮৬ হি.)

গবেষণা, তাহকিক ও টীকা: মুহাম্মদ আত-তাবরানি

প্রকাশক: মারকায ইহসান লি-দিরাসাত আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, জেদ্দা - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হি. - ২০১৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৯

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌قوس النور (1)

الحمد لله مزجي النعم ومديمها، والصلاة على هادي الخلائق وشفيعها، وبعد:

كانت كتب أبي حفص الصيرفي إلى سنوات خلت في حكم المعدوم، ما عرفها أحد ولا استهدى إليها بوجه، ولا نهض للتفتيش عنها ناهض، للظن أنها أعز من بيض الأنوق والأبلق العقوق، ثم لغلبة اليأس من وجدانها بما تباعد العهد بيننا وبين آخر المتملكين لها أو المحيلين عليها… لكن قدرا من سابغ النعمة أبقى نسخة يتيمة من كتاب العلل ردحا من الدهر قابعة في خزانة ابن يوسف بمراكش تحت رقم 684، يمر عليها أحاد العلماء وعامتهم مصبحهم وممساهم. ما التفتوا إليها قط ولا رعوها حق رعايتها، وزواهم عن التفرس فيها والبصارة بها، عرو المجموع عن عنوان، وشأن الناس من الزهادة في مكابدة الصعب من المراكب، والتولع بالمسلك السهل، ولا سيما مما انكشف حجابه ولاح بريقه؛ لأنه يعفيهم من ضنك الاختيار ومضايقه - وما كل أحد يحمد ارتياده -؛ فتراهم يتطارحون لأجل ذلك على الاشتغال بالكتاب الواحد يكشفه أحدهم تطارح الفراش، ولو وسعهم التنقير عن هذا الكثير النادر المتواري مما لم يعلم، لم يقع هذا التهارش، ولا نازعوا الكتاب صاحبه المضنى من التنقير عليه والسابق إلى إبدائه، ولا هموا بسرقته أو كادوا… وفي ذلك ما فيه من هذر الجهد والوقت بالتوارد على عمل لا يتعين فيه جمع، وإشعار برقة الدين والجراءة على الفرية، مما لا يناسب هذا العلم الشريف المنيف.

--------------------------------------------

(1) مشرع بدو الهلال؛ وهو اصطلاح فلكي قديم.

আলোর ধনু (১)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিয়ামতসমূহ দান করেন এবং তা নিরবচ্ছিন্ন রাখেন। আর সৃষ্টির পথপ্রদর্শক ও সুপারিশকারীর ওপর দরুদ বর্ষিত হোক। অতঃপর:

আবু হাফস আস-সাইরাফির কিতাবসমূহ বিগত কয়েক বছর আগ পর্যন্ত প্রায় বিলুপ্ত বলেই গণ্য হতো। কেউ সেগুলো চিনত না, কেউ সেগুলোর কোনো হদিস পায়নি এবং সেগুলো অনুসন্ধানের জন্য কেউ উদ্যমীও হয়নি। এর কারণ ছিল এই ধারণা যে, সেগুলো রূপকথার দুর্লভ বস্তুর চেয়েও বেশি দুর্লভ। তদুপরি, সেগুলো খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার চূড়ান্ত হতাশা বিরাজ করছিল, যেহেতু আমাদের কাল এবং সেগুলোর সর্বশেষ মালিক বা সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানকারীদের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান অনেক দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল... তবে অফুরন্ত অনুগ্রহের এক বিশেষ ফয়সালায় ‘কিতাবুল ইলাল’-এর একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি দীর্ঘকাল ধরে মারাকেশের ইবনে ইউসুফ লাইব্রেরিতে ৬৮৪ নম্বর ক্রমিকের অধীনে সংরক্ষিত ছিল। আলেমদের মধ্যে সাধারণ-বিশেষ অনেকেই দিনরাত এর পাশ দিয়ে যাতায়াত করতেন; কিন্তু তাঁরা কখনোই এর দিকে ভ্রূক্ষেপ করেননি এবং এর যথাযথ মূল্যায়নও করেননি। পাণ্ডুলিপিটির শিরোনামহীনতা এবং তা অনুধাবন করার মতো অন্তর্দৃষ্টির অভাবই তাঁদেরকে এটি চেনা থেকে বিরত রেখেছিল। আসলে মানুষের স্বভাবই হলো কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার পরিশ্রমে বিমুখ থাকা এবং সহজ পথের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত হওয়া; বিশেষ করে যা ইতিমধ্যেই উন্মোচিত হয়েছে এবং যার ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পেয়েছে। কারণ এটি তাঁদেরকে যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর পরিশ্রম ও সংকীর্ণতা থেকে রেহাই দেয়—যদিও সবার অনুসন্ধান সবসময় প্রশংসিত হয় না। একারণেই আপনি তাঁদের দেখবেন যে, কোনো একজন ব্যক্তি যখন একটি কিতাব উন্মোচন করেন, তখন পতঙ্গ যেমন আগুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাঁরাও সেই একই বিষয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অথচ তাঁরা যদি এই বিপুল পরিমাণ বিরল ও অপ্রকাশিত জ্ঞানভাণ্ডার সম্পর্কে অনুসন্ধানে সচেষ্ট হতেন, তবে এই কাড়াকাড়ি ও বিবাদ সৃষ্টি হতো না। এমনকি সেই ব্যক্তির সাথেও তাঁরা বিবাদে জড়াতেন না, যিনি এটি অনুসন্ধানে ক্লান্ত হয়েছেন এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন; কিংবা তাঁরা এটি তছরুপ করার সংকল্প করতেন না বা এর উপক্রম হতেন না... আর এসবের মাঝে রয়েছে প্রচেষ্টা ও সময়ের নিছক অপচয়, কারণ এমন কাজে সবাই মিলে ভিড় করা হচ্ছে যেখানে কোনো সমবেত প্রচেষ্টার আবশ্যকতা নেই। তদুপরি এটি দ্বীনদারির দুর্বলতা এবং মিথ্যাচারের দুঃসাহসেরই বহিঃপ্রকাশ, যা এই মহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ইলমের সাথে মোটেও মানানসই নয়।

--------------------------------------------

(১) উদীয়মান নতুন চাঁদের উদয়স্থল; এটি একটি প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক পরিভাষা।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৬)
وليس هذا الكتاب مما تخفى قيمته، إذ هي لائحة في جملة أمور:

- أنه ثالث كتاب في العلل - بعد كتابي علي بن المديني (ت 234 هـ) والإمام أحمد (ت 241 هـ)(1) - يقع العثور عليه ويكشف عنه اللثام لأول مرة، بعد أن ظل قرونا عديدة في حيز المفقود، ونسخته الأندلسية الإسناد، المغربية الوراقة والدار، هي الوحيدة في العالم فيما أحسب.

- أنه من أنفس الآثار النقدية لمدرسة شيوخ الإمام البخاري، في النصف الأول من القرن الثالث؛ بما احتجنه من أشهر الآراء النقدية لشيخي البصرة الأكبرين يحيى بن سعيد القطان وعبد الرحمن بن مهدي، وهو بذلك يعتبر أوسع مدونة مفردة تجمع أقوالهما(2)

- أنه يحتفظ بعنوان تفصيلي دال ونادر: «كتاب فيه علل الحديث ومعرفة الفقهاء الثقات من الضعاف مما اجتمع عليه العلماء من أهل البصرة»؛ زيدا على ما يطرح من قضايا تتعلق بمنهج التصنيف؛ ككونه يجعل وحده تمييز الرواة الثقات من الضعاف المختصين بصقع معين كالبصرة.

- أنه أنموذج يكشف عن إرهاصات تقعيد المنهج التاريخي عند المحدثين في البصرة، ومناخ القضايا التي كانت رائجة بها.

- أنه تضمن نصوصا وآثارا كثيرة استبد بها لا توجد في غيره؛ فهي من أفراده.

- أن عراض نصوصه على ما نقل منها، أسفر عن تصحيح كثير من الأوهام في العزو، وتعديل بعض من الأحكام النقدية

وكان من أعضل ما مر بنا في هذا الجزء، أن المؤلف كتبه على عين من متلق بعينه في زمن بعينه، افترض فيه جملة من الكفايات الفنية والمنهاجية، وقدرا من المعرفة بالنصوص والقضايا والتمثل الصناعي، فأداه ذلك إلى طي

--------------------------------------------

(1) برواية ابنه عبد الله وزياداته.

(2) أي: مما وصلنا.

এই বইটির গুরুত্ব এমন কিছু নয় যা গোপন থাকবে, কারণ এটি বেশ কিছু বিষয়ের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:

- 'ইলাল' (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি) বিষয়ের উপর এটি তৃতীয় গ্রন্থ—আলী ইবনুল মাদীনী (মৃত্যু: ২৩৪ হি.) এবং ইমাম আহমাদ (মৃত্যু: ২৪১ হি.)-এর গ্রন্থদ্বয়ের পরে(১)—যা খুঁজে পাওয়া গেছে এবং প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে এটি নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি এর সন্ধান পাওয়া যায়। আমার জানামতে, এর যে পাণ্ডুলিপিটি আন্দালুসিয়ান সনদ এবং মাগরেবি লিপিশৈলী ও সংরক্ষণের ধারক, সেটিই বিশ্বে এর একমাত্র কপি।

- এটি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধের ইমাম বুখারীর উস্তাদদের (শায়খদের) ইলমে নাকদ বা হাদিস যাচাই-বাছাই পদ্ধতির অন্যতম মূল্যবান নিদর্শন; কারণ এতে বসরার দুই শ্রেষ্ঠ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদীর প্রসিদ্ধতম সমালোচনামূলক মতামতগুলো সংকলিত হয়েছে। এ কারণে এটি তাদের উভয়ের উক্তি বা অভিমত সংগ্রহকারী সবচেয়ে বড় একক সংকলন হিসেবে বিবেচিত হয়।(২)

- এটি একটি বিস্তারিত ও বিরল শিরোনাম ধারণ করে: «হাদিসের ত্রুটি এবং নির্ভরযোগ্য ফকিহদের থেকে দুর্বলদের আলাদাভাবে চেনার কিতাব, যা বসরার আলেমগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংকলিত»; এর পাশাপাশি এটি গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিগত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে; যেমন এটি এককভাবে বসরা অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল রাবীদের আলাদা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

- এটি এমন একটি নমুনা যা বসরার মুহাদ্দিসগণের মাঝে ঐতিহাসিক পদ্ধতি বা মানহাজ নির্ধারণের প্রাথমিক লক্ষণ এবং সেখানে প্রচলিত বিভিন্ন বিষয়ের পরিবেশ উন্মোচন করে।

- এতে এমন অনেক নস বা পাঠ এবং আসার (বর্ণনা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা লেখক অনন্যভাবে উল্লেখ করেছেন এবং অন্য কোথাও পাওয়া যায় না; এগুলো কেবল এই কিতাবেরই বৈশিষ্ট্য।

- এর পাঠগুলোকে অন্যান্য সূত্রের উদ্ধৃতিগুলোর সাথে তুলনা করার ফলে রেফারেন্স বা সূত্রের ক্ষেত্রে অনেক বিভ্রান্তি সংশোধন করা সম্ভব হয়েছে এবং কিছু সমালোচনামূলক সিদ্ধান্তের পরিমার্জন হয়েছে।

এই খণ্ডটি নিয়ে কাজ করার সময় আমাদের কাছে সবচেয়ে কঠিন যে বিষয়টি ধরা পড়েছে তা হলো, লেখক এটি একজন সুনির্দিষ্ট শ্রোতা বা পাঠকের কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ সময়ে লিখেছিলেন। তিনি পাঠকের মধ্যে কিছু কারিগরি ও পদ্ধতিগত দক্ষতা এবং মূল পাঠ (নস), বিষয়াবলি ও শাস্ত্রীয় প্রয়োগের ওপর গভীর জ্ঞান থাকার কথা ধরে নিয়েছিলেন। এর ফলে তিনি অনেক বিষয় উহ্য রেখে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা এবং তাঁর অতিরিক্ত অংশসহ।

(২) অর্থাৎ: যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৭)
سياقات النصوص والإغماض في ذكر المتون باختصارها حينا والاجتزاء بطرف بعضها دون تمامها حينا، خصوصا فيما يورده حكاية لمجالس النقاد، وهي كما تعلم مثار لقضايا تروج بين ذوي الصنعة، وفيها من الاختزال والحوالة والتضمين والاقتصار على كنى الرواة ومجرد أسمائهم، واقتضاب النصوص والإيماء إليها برؤوس المسائل، وإرسال الاصطلاح لم يصر بعد مشكوكا، واشتراع الأحكام النقدية بعبارات طويت عن مجال التداول، وإيراد الإسناد مجردا عن مثنه تعويلا على اشتهاره وما هو بمشتهر اليوم. فإن انضاف إلى ما مر تضحيف ملبس أو سقط خفي، كان التفطن للمراد أبعد منالا وأعز إدراكا؛ فمنه أنه حكى عن شيخه القطان أنه كان يقول في الرهن: إن كان بأكثر مما يسوى، فهو بما فيه، وإن كان بأقل رد عليه الفضل(1). وفي المسألة استغلاق جره اختصار دعا إليه اشتهار المسألة في حينه؛ وتفصيلها: «في الرهن: يهلك في يدي المرتهن؛ إن كانت قيمته والدين سواء، ضاع بالدين، وإن كانت قيمته أقل من الدين، رد عليه»(2). وليس هذا مما يدرك بداهة.

ومن مصاعب تحقيق هذا السفير أيضا، التردد في اعتبار ما هو من كلام المؤلف جملة واحدة أو جملا؛ فإن بعض الفقرات تتضمن حكما نقديا على راو من الرواة تستحق أن تفرد برقم خاص، وبعضها أحيانا يتعلق بسؤال أو قضية تتعلق بأمثلة متعددة، فهل يسوغ إفرادها لأن كلا منها قضية بعينها أم يجوز الجمع بينها تعلة الخيط المعنوي الذي ينتظمها؟.

وكان من نتائج النظر في تصحيح الكتاب، أن مما يستعان به على إدراك سياق الخبر المروي في النقد خاصة طلبه من وجوه شتى لا من وجه واحد، فإن الحكاية المنقولة - للمثال ـ عن يحيى القطان، قد تجدها محكية لابن

--------------------------------------------

(1) العلل: ر: 58.

(2) ن: مزيد التعليق على المسألة في موضعها من الكتاب.

পাঠ্যের প্রাসঙ্গিকতা এবং মূল পাঠ (মতন) উল্লেখে অস্পষ্টতা—কখনো সংক্ষেপণের মাধ্যমে এবং কখনো পূর্ণাঙ্গতা ছাড়া কেবল কিছু অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে; বিশেষ করে সমালোচকদের (নাক্কাদ) মজলিসের বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি পরিলক্ষিত হয়। আর এগুলো আপনি জানেন যে, এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাঝে প্রচলিত বিভিন্ন বিষয়ের জন্ম দেয়। এতে রয়েছে সংক্ষিপ্তকরণ, উদ্ধৃতি দান, অন্তর্ভুক্তি এবং বর্ণনাকারীদের উপনাম (কুনিয়া) ও কেবল নামের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। এছাড়া পাঠ্যকে সংক্ষেপ করা এবং মূল বিষয়বস্তুর মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করা, এবং এমন পরিভাষার প্রয়োগ যা তখনো সন্দেহাতীত ছিল না, এবং এমন সব অভিব্যক্তির মাধ্যমে সমালোচনামূলক বিধান প্রণয়ন যা বর্তমানে প্রচলিত নয়, এবং মূল পাঠ (মতন) ছাড়াই কেবল সনদ উল্লেখ করা—তার প্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে, অথচ আজ তা আর প্রসিদ্ধ নয়। এর সাথে যদি বিভ্রান্তিকর লিপিক্রমিক ভুল (তাশহিফ) বা প্রচ্ছন্ন বিচ্যুতি (সাকত) যুক্ত হয়, তবে লেখকের উদ্দেশ্য অনুধাবন করা আরও দুরূহ এবং উপলব্ধির অসাধ্য হয়ে পড়ে। এর একটি উদাহরণ হলো—তিনি তাঁর উস্তাদ কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বন্ধক (রাহান) সম্পর্কে বলতেন: "যদি বন্ধকী বস্তুর মূল্য ঋণের চেয়ে বেশি হয়, তবে তা ঋণের বিনিময়ে গণ্য হবে; আর যদি তা ঋণের চেয়ে কম হয়, তবে অতিরিক্ত অংশ তাকে ফেরত দিতে হবে"(১)। এই মাসআলাটিতে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, যা সেই সময় মাসআলাটির প্রসিদ্ধির কারণে হওয়া সংক্ষেপণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: "বন্ধকী বস্তুর ক্ষেত্রে: তা বন্ধকগ্রহীতার (মুরতাহিন) হাতে নষ্ট হয়ে গেলে; যদি এর মূল্য এবং ঋণ সমান হয়, তবে তা ঋণের বিনিময়ে নষ্ট হয়েছে বলে গণ্য হবে। আর যদি এর মূল্য ঋণের চেয়ে কম হয়, তবে অতিরিক্ত অংশ তাকে ফেরত দিতে হবে"(২)। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা সাধারণ বুদ্ধিতেই বোঝা যায়।

এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (তাহকিক) অন্যতম একটি অসুবিধা হলো, লেখকের বক্তব্য কি একটি পূর্ণ বাক্য নাকি একাধিক বাক্য—তা নির্ধারণে দ্বিধা। কারণ কিছু অনুচ্ছেদে কোনো বর্ণনাকারীর ওপর এমন সমালোচনামূলক মন্তব্য থাকে যা একটি স্বতন্ত্র নম্বরের অধীনে আসার দাবি রাখে, আবার কখনো কিছু অংশ কোনো প্রশ্ন বা বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে যার একাধিক উদাহরণ রয়েছে। এমতাবস্থায়, প্রতিটি বিষয় আলাদা হওয়ার কারণে কি সেগুলোকে পৃথক করা সংগত, নাকি সেগুলোর মাঝে বিদ্যমান অর্থগত যোগসূত্রের কারণে সেগুলোকে একত্রে রাখা জায়েয?

কিতাবটি সংশোধনের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার একটি ফলাফল হলো এই যে—বিশেষ করে সমালোচনা (নাকদ) বিষয়ক বর্ণিত খবরের প্রেক্ষাপট অনুধাবনের ক্ষেত্রে যা সাহায্য করে তা হলো, এটি কেবল এক দিক থেকে না খুঁজে বরং বিভিন্ন দিক থেকে তালাশ করা। উদাহরণস্বরূপ, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে বর্ণিত ঘটনাটি আপনি ইবনে—

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাল: নং ৫৮।

(২) দ্রষ্টব্য: কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানে এই মাসআলা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৮)
المديني أو أبي موسى الزمن أو الفلاس أو بندار… ولا بد في واحد من الأسبقة أن يكون أوعب وأصرح في ذكر ما يميط لثام الغموض عن المعنى من غيره، وقد يزيد أحد مخارج الخبر زيادة لازمة بدونها لا يتضح المعنى.

فيكون ضرب كلام بعضهم ببعض، تحريا لإدراك مناخ النص الذي وقع فيه إنتاجه.

وغالب الظن - المؤسس على التقري وترداد النظر - أنه لو بلغنا تراث كثير من مجايلي الفلاس أمثال من ذكرنا، لوجدنا أن أحدهم وحده يقوم بعظم روايتهم، وينقل إسوة بهم ما ينقلونه، فلا يبقى لكل أحد منهم مما ينفرد به إلا الشيء القليل(1)، وقد خلصنا إلى هذه النتيجة بعد أن وقفنا كثيرا عند أخبار ونصوص في كتاب أبي حفص، لم تسعف بإضاءتها إلا مرويات أقرانه ومجايليه بالعراق خاصة، وهو ما قد نسميه بالقدر المشترك في الراوية الذي ينتجه في العادة اتحاد الشيوخ والزمان والمكان؛ فلهذا كان المعنى الذي ينتجه تسليط نص على نص آخر في موضوعه - وقد تحققت لهما شروط الوثاقة - أصح وأدق من المعنى الذي تنتجه قراءة نص معزول، مهما تسلحت القراءة بآليات قويمة.

ومن فوائد كتاب العلل، أنه يحدد أين ينتهي كلام المؤلف، لتخليصه من كلام من نقل عنه؛ لأن بعضا من النصوص النقدية التي تؤوب في أصلها إليه، تعزى أبعاض منها في العادة لناقليها، خاصة إذا طال النقل، فيظن لأول وهلة أن مبدأه فحسب للفلاس دون بقيته؛ كما في الخبر المتعلق بإرسال ابن جريج(2).

ومعلوم أن تصحيح النص دون التعليق عليه تفص أنيق من العهدة، ولكنه

--------------------------------------------

(1) يستثنى من هذا علي ابن المديني؛ لأنه في ظني لا يدخل تحت هذا النظر، ولو وصلنا تراثه كاملا لكان مستبدا بكثير من تراث هؤلاء المذكورين مجتمعين، ولا عكس.

(2) العلل: رقم 292.

আল-মাদিনী অথবা আবু মুসা আয-যামান অথবা আল-ফাল্লাস অথবা বান্দার... তবে তাদের অগ্রগামীদের একজনের ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক যে, তিনি অর্থের অস্পষ্টতার পর্দা উন্মোচনের বর্ণনায় অন্যদের তুলনায় অধিক বিস্তারিত ও স্পষ্ট হবেন। কখনও সংবাদের (হাদীসের) কোনো একটি সূত্র এমন কোনো জরুরি অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করতে পারে, যা ছাড়া অর্থ স্পষ্ট হয় না।

ফলে তাদের একজনের বক্তব্যকে অন্যজনের বক্তব্যের সাথে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন, যাতে টেক্সটটি যে প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করা যায়।

অনুসন্ধান ও বারবার পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে প্রবল ধারণা এই যে—যদি আমাদের কাছে আল-ফাল্লাসের সমসাময়িক অনেকের (যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি) ইলমী ঐতিহ্য পৌঁছাত, তবে আমরা দেখতে পেতাম যে তাদের মধ্যে কেউ একজন একাই তাদের বর্ণনার সিংহভাগ বহন করছেন এবং তাদের অনুসরণে তারা যা বর্ণনা করেন তিনিও তাই বর্ণনা করছেন। ফলে তাদের প্রত্যেকের জন্য এককভাবে স্বতন্ত্র বর্ণনার পরিমাণ খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকত(১)। আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি আবু হাফসের কিতাবের অনেক সংবাদ ও টেক্সট নিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর, যেগুলোর অর্থ কেবল তার সমসাময়িকদের এবং বিশেষ করে ইরাকের সমসাময়িকদের বর্ণনার সাহায্যেই স্পষ্ট হয়েছে। একে আমরা বর্ণনার 'সাধারণ অংশ' বলতে পারি, যা সাধারণত উস্তাদ, সময় ও স্থানের অভিন্নতার কারণে উৎপন্ন হয়। এই কারণেই একই বিষয়ের উপর একটি টেক্সটকে অন্য টেক্সটের ওপর প্রয়োগ করে যে অর্থ অর্জিত হয়—যদি উভয়ের নির্ভরযোগ্যতার শর্তাবলী পূর্ণ থাকে—তা কোনো বিচ্ছিন্ন টেক্সট পাঠ করে প্রাপ্ত অর্থের চেয়ে অনেক বেশি সঠিক ও সূক্ষ্ম হয়, সেই পাঠে যত শক্তিশালী পদ্ধতিই প্রয়োগ করা হোক না কেন।

কিতাবুল ইলালের অন্যতম উপকারিতা হলো, এটি নির্ধারণ করে দেয় যে গ্রন্থকারের কথা কোথায় শেষ হয়েছে, যাতে তার কথাকে তিনি যার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তার কথা থেকে পৃথক করা যায়। কারণ মূলত তার দিকে সম্পৃক্ত অনেক সমালোচনামূলক টেক্সটের কোনো কোনো অংশ সাধারণত বর্ণনাকারীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, বিশেষ করে যদি উদ্ধৃতি দীর্ঘ হয়। ফলে প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে যে কেবল শুরুটাই আল-ফাল্লাসের, বাকিটুকু নয়; যেমনটি ইবনে জুরাইজের মুরসাল বর্ণনা সম্পর্কিত সংবাদে দেখা যায়(২)।

এটি জানা কথা যে, কোনো টেক্সটের ওপর বিস্তারিত মন্তব্য না করে কেবল সেটি সংশোধন করা দায়িত্ব থেকে একটি চমৎকার নিষ্কৃতি মাত্র, কিন্তু এটি

--------------------------------------------

(১) এর ব্যতিক্রম হলেন আলী ইবনুল মাদিনী; কারণ আমার মতে তিনি এই পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত নন। যদি তার পূর্ণ ঐতিহ্য আমাদের কাছে পৌঁছাত, তবে তা উল্লিখিত এই সকলের সম্মিলিত ঐতিহ্যের অনেক বড় অংশের উপর একাই প্রাধান্য বিস্তার করত, কিন্তু এর বিপরীতটি সত্য হতো না।

(২) আল-ইলাল: নম্বর ২৯২।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৯)
مفوت لأمرين عظيمين: تمرس بفهم قضايا النصوص، وكشفها للشداة. فما كان من تعليقي على نصوص الكتاب فمن هاته البابة، وبدهي أن يحالفني الصواب لماما وأن يخالفني أكثر، وأنا في كلا الحالين أفزع إلى قصد سليم، ومرام عال؛ إن شاء الله.

ولعل قارئا يلم بعملنا هذا، فيسر النجوى: كم أسرف هذا المحقق على نفسه، وكم ألزم نفسه غير ملزم، وليست هاته الورقات بالكاد مما يحسن أن يستحيل سفرا. ولضريب هذا وغيره أقول: إن معاناة نصوص النقدة المتقدمين، ليس من اليسر بذاك، ورب كلمة يسبق إلى وهم القارئ العجلان حيدها عن الصواب، ويقترح تبعا لذلك ردها - اعتسافا ـ بزعمه إلى الجدد وهو الوجه الذي استقر عليه نظره، وبلغ إليه علمه -، فيفسد الأصل من حيث لا يرعوي، وإنما جنى عليه جهله بما تعني تلك الكلمة في الوقت الذي قيلت فيه، لانزوائها مع مر الزمن رويدا رويدا عن مجال التداول، ولو تلبث مليا واستشار طبقة المؤلفات الموافقة في الفن والتاريخ، لكانت ربما أنارت دربه، وأقالت عثاره.

ويخطئ من يظن أن هاته النصوص التي جلبها المؤلف طيعة بالبوح عما فيها، فإنها تحتاج لمعرفة عميقة بجملة القضايا التي كانت رائجة في رحبة الحديث، وبالمتون التي كانت متداولة، وبإدارك حاد للحيثيات والسياقات الخاصة التي تحكم إصدارا نقديا معينا.

وهذا الذي وصفته هو الذي جعل أكثر ما أخشاه أن أستهين بمعارضة نصوص الكتاب بالمنقول عنها ولو لدى متأخر، فيذهب بذلك عني صواب خفي، أو تنبيه نبيه، فإن المحقق مهما بلغت مدارج رقيه في الصنعة، لا يلتفت إلى كل معضلات النسخة إلا ببلاغ من نسخ هادية موفورة، فإن عدمت، نزلت الاقتباسات عن الأصل - إن وجدت - منزلتها، على أن هذا من الضرائر المرتكبة، لما يعتري المنقول في الغالب من أفانين التصرف.

وأما صنيعنا في التخريج، فالدلالة على الوجه الذي ذكره المؤلف
এটি দুটি মহান বিষয় থেকে বঞ্চিত করার নামান্তর: পাঠ্যের বিষয়সমূহ অনুধাবনে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং জ্ঞানপিপাসুদের নিকট তা উন্মোচন করা। কিতাবের পাঠ্যের ওপর আমার টিকাগুলো এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, আমি কদাচিৎ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়তো ভুল করেছি। তবে উভয় অবস্থায় আমি সুস্থ উদ্দেশ্য এবং মহান লক্ষ্যের দিকেই ধাবিত হয়েছি, ইনশাআল্লাহ।

সম্ভবত কোনো পাঠক আমাদের এই কাজের প্রতি নজর দেবেন এবং মনে মনে বলবেন: এই মুহাক্কিক নিজের ওপর কতটা বাড়াবাড়ি করেছেন, এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে নিজেকে কতটা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েছেন! এই সামান্য পাতাগুলো কি একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থে রূপান্তর করার যোগ্য? এ জাতীয় এবং অন্যান্য মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি বলব: পূর্ববর্তী সমালোচকদের পাঠ্য নিয়ে কাজ করা মোটেও সহজ কাজ নয়। অনেক সময় তড়িঘড়ি করা পাঠকের মনে কোনো শব্দ দেখে ভ্রম হতে পারে যে তা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত, এবং এর ফলে তিনি জবরদস্তিমূলকভাবে তার ধারণানুযায়ী সেটিকে আধুনিক রূপ প্রদানের প্রস্তাব দেন—যা তার দৃষ্টিতে স্থির হয়েছে এবং তার জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছেছে—ফলে তিনি নিজের অজান্তেই মূল পাঠকে বিকৃত করে ফেলেন। অথচ তার এই অপরাধের কারণ হলো শব্দটি যে সময়ে বলা হয়েছিল, সেই সময়ে তার অর্থ কী ছিল তা না জানা; কারণ সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে শব্দগুলো ব্যবহারিক ক্ষেত্র থেকে হারিয়ে যায়। যদি তিনি কিছুটা ধৈর্য ধরতেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সমসাময়িক গ্রন্থাবলি ও ইতিহাসের সাহায্য নিতেন, তবে হয়তো তা তার পথকে আলোকিত করত এবং তার পদস্খলন রোধ করত।

যারা মনে করেন লেখক কর্তৃক উপস্থাপিত এই পাঠ্যগুলো খুব সহজেই এর মধ্যকার গূঢ় রহস্য প্রকাশ করে দেবে, তারা ভুলের মধ্যে আছেন। বরং এর জন্য প্রয়োজন ইলমে হাদিসের অঙ্গনে প্রচলিত সকল বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, বহুল পঠিত মূল পাঠসমূহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং একটি নির্দিষ্ট সমালোচনামূলক সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিশেষ প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে প্রখর অন্তর্দৃষ্টি।

আমি যা বর্ণনা করলাম, তা-ই আমাকে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কিত করেছে এই ভেবে যে, মূল বইয়ের পাঠ্যকে তার থেকে উদ্ধৃত পাঠ্যের (এমনকি তা পরবর্তীকালের কারো কাছে হলেও) সাথে তুলনা করার বিষয়টিকে যেন আমি তুচ্ছজ্ঞান না করি। কারণ এতে করে কোনো সূক্ষ্ম সঠিক তথ্য বা বিজ্ঞ কারো সতর্কবার্তা আমার অগোচরে থেকে যেতে পারে। একজন মুহাক্কিক তার শিল্পনৈপুণ্যে যতই উচ্চ শিখরে পৌঁছান না কেন, তিনি পাণ্ডুলিপির সকল জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন না যতক্ষণ না পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির সাহায্য পান। আর যদি তা না পাওয়া যায়, তবে মূল থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিগুলোই—যদি তা পাওয়া যায়—তার স্থলাভিষিক্ত হয়। যদিও এটি একটি বাধ্যবাধকতা স্বরূপ করা হয়, কারণ উদ্ধৃত পাঠ্যে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ভাষান্তর বা পরিবর্তন ঘটে থাকে।

আর হাদিস ও উদ্ধৃতি যাচাইয়ের (তাখরিজ) ক্ষেত্রে আমাদের পদ্ধতি হলো—লেখক যে দিকটি উল্লেখ করেছেন তা নির্দেশ করা।
(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১০)
للحديث دون غيره، وجلب متابعاته وذكر نبذ من اختلاف لفظه أو الزيادة عليه، ومحاولة تقريب الحكم عليه - لا الحكم عليه، إذ ليس بمسطاعنا ذلك - دون سوق المعارضات أو المعاضدات، ولا التهمم بإيراد غيره من الوجوه؛ لأن ذلك خارج عن شرطنا، ولأنه يفضي - حتى مع إعماله - إلى خلط الصحيح بالضعيف، ضرورة أن طريق المؤلف إلى الحديث قد يصح أو يضعف، وقد توجد له طريق أو طرق أخرى يختلف الحكم عليها بحسبها ولا يسعنا تعاطيها. وما كان في المناقل من طريق المؤلف فلا أدرجه في التخريج البتة، وإنما أحيل عليه لتصحيح النص وتوثيقه.

وقد نشطت - بادي الرأي - لجمع كلام النقاد في الرواة المختلف فيهم ممن وقع ذكره في هذا الجزء، وقطعت في ذلك شوطا غير قصير، ولا سيما حين كانت أسماء هؤلاء تتخلل قضايا التاريخ والعلل في أول الكتاب ووسطه، لكن لما اختصت عظم مسائل آخر الكتاب بالحديث عنهم، وبدا أن الحواشي استأسدت على نص الفلاس وأخذت بخناقه، وصار التعليق عاقا لأصله، كففت عن سيرتي الأولى، واقتصرت على أن أحيل في كل راو إلى كتابين جمعا فأوعيا، وهما تهذيب الحافظ المزي، وإكماله للحافظ مغلطاي، وفيهما من النقول المحشورة، والمجلوبات النادرة، ما لا يخفى على العالمين.

وقد قر عندي أن لا أحشي على النص بنقل الأحكام النقدية إلا لطائفة من النقدة يجمعهم إطار زمني محدد هو زمن الفلاس أو بعيده بقليل، فلا تخرج هذه المناقل عن طبقة شيوخه وأقرانه وتلاميذه، إما بالأصالة من كتبهم، أو بسواها من الوسائط المأمونة وإن كانت متأخرة، ضرورة أن الاستئناس بهاته الأحكام، سواء أكانت مؤكدة لما عندنا أو مباينة له، أشد غناء في تبين الجو العلمي ومناخ القضايا من أحكام المتأخرين، التي لا تعدو أن تكون قراءة مسبورة لمجمل الأحكام التي وقفوا عليها، أداهم اجتهادهم المؤطر بقواعد الفن إلى اختيار أو ترجيح إنما أصبح ملزما في الغالب عند غياب كتب التأسيس أو ضياعها أو عدم الثقة بالناقل عنها، أما وأن نص الفلاس هذا ـ أو
শুধুমাত্র হাদিসের জন্য, এর অন্যান্য অনুসৃত বর্ণনা (মুতাবায়াত) সংগ্রহ করা, এর শব্দের ভিন্নতা বা অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করা এবং এর ওপর হুকুম বা মান নির্ণয়ের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করা—মূলত সরাসরি হুকুম প্রদান করা নয়, কারণ তা আমাদের সাধ্যায়ত্ত নয়—কোনো বিরোধী বা সাহায্যকারী বর্ণনা উপস্থাপন না করে এবং অন্যান্য সূত্রের বর্ণনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ না করে। কারণ তা আমাদের শর্তের বহির্ভূত, এবং কারণ তা—প্রয়োগ করা সত্ত্বেও—সহিহ ও জয়িফ বর্ণনার সংমিশ্রণ ঘটায়। কেননা হাদিস পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লেখকের সূত্র সহিহ হতে পারে আবার জয়িফও হতে পারে, আবার এর জন্য অন্য কোনো সূত্র বা পথ থাকতে পারে যার ভিত্তিতে এর মান ভিন্ন হতে পারে যা গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর লেখকের সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহের মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা আমি মোটেও তাখরিজের অন্তর্ভুক্ত করি না, বরং কেবল পাঠের সংশোধন ও প্রামাণিকতার জন্য সেগুলোর উদ্ধৃতি দেই।

আমি প্রাথমিকভাবে এই খণ্ডে উল্লিখিত বিতর্কিত রাবিদের (বর্ণনাকারী) ব্যাপারে সমালোচকদের মন্তব্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলাম এবং সে পথে বেশ খানিকটা পথ অগ্রসরও হয়েছিলাম। বিশেষ করে যখন এই ব্যক্তিদের নাম কিতাবের শুরু ও মাঝামাঝি সময়ে ইতিহাস ও ইল্লাত (ত্রুটি) সংক্রান্ত আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে আসছিল। কিন্তু যখন কিতাবের শেষাংশের অধিকাংশ মাসআলাই তাদের আলোচনার জন্য নির্ধারিত হয়ে গেল এবং দেখা গেল যে টীকাগুলো আল-ফাল্লাসের মূল পাঠের ওপর প্রবল হয়ে উঠেছে এবং একে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, এমনকি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তার মূলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন আমি আমার পূর্বের নীতি পরিহার করি। আমি প্রতিটি রাবির ক্ষেত্রে কেবল দুটি কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি যা অত্যন্ত ব্যাপক ও তথ্যসমৃদ্ধ; আর তা হলো হাফেজ মিযযীর ‘তহযীব’ এবং হাফেজ মুগলতাইয়ের ‘ইকমাল’। এই দুই কিতাবে উদ্ধৃতির যে বিশাল সমাহার এবং দুর্লভ সংগ্রহ রয়েছে, তা আলিমগণের নিকট অস্পষ্ট নয়।

আমার নিকট এটি স্থির হয়েছে যে, আমি মূল পাঠের ওপর একদল সমালোচক ব্যতীত অন্য কারও সমালোচনামূলক মন্তব্য যুক্ত করব না, যাদের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল অর্থাৎ আল-ফাল্লাসের যুগ বা তার অব্যবহিত পরের যুগ একত্রিত করেছে। ফলে এই উদ্ধৃতিগুলো তাঁর উস্তাদ, সমসাময়িক এবং ছাত্রদের স্তরের বাইরে যাবে না; চাই তা সরাসরি তাঁদের কিতাব থেকে হোক বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সাহায্যে হোক, যদিও তা পরবর্তী সময়ের হয়। কারণ এই হুকুম বা মন্তব্যগুলো থেকে সহযোগিতা নেওয়া—চাই তা আমাদের কাছে থাকা তথ্যের সমর্থক হোক বা বিরোধী—তদানীন্তন ইলমি পরিবেশ এবং মাসআলাগুলোর প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলিমদের দেওয়া হুকুমের চেয়ে অধিকতর ফলপ্রসূ। পরবর্তী যুগের হুকুমগুলো তাঁদের সামনে থাকা সামগ্রিক মন্তব্যগুলোর একটি পর্যবেক্ষণমূলক পাঠ ছাড়া আর কিছুই নয়। শাস্ত্রীয় নিয়মনীতির আলোকে তাঁদের ইজতিহাদ তাঁদেরকে এমন কোনো পছন্দ বা অগ্রাধিকারের দিকে নিয়ে গেছে যা সাধারণত তখনই বাধ্যতামূলক হয় যখন মৌলিক কিতাবসমূহ অনুপস্থিত থাকে, হারিয়ে যায় কিংবা সেগুলোর বর্ণনাকারীর ওপর আস্থা রাখা যায় না। তবে যেহেতু আল-ফাল্লাসের এই মূল পাঠটি—বা ওফাত...
(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১১)
ما يشبهه إن وجد - من فترة التأسيس، فلا يصح البتة محاكمة ما فيه إلا إلى ما يناظره ويماثله على مستوى البنية والدلالة. ودعانا إلى هذا التحديد المنهجي - وإن لم نفلح في طرده لصعوبته البالغة - محاولة استشراف أنماط تفكير محدثي القرن الثالث، ومشامة القضايا التي أسهمت في بناء أحكامهم، عقدية كانت أم فكرانية(1) أم صناعية. وليس هذا حاش الله طمرا للتراكم العلمي الخطير عند المتأخرين ولا إغفالا له، ولكنه قصد إلى التشبع بروح هاته النصوص يوم أن أنتجت، بالانفكاك «المؤقت»(2) عن سلطة القراءات المتأخرة، فإن تسليط أحكام «التقريب» للمثال اعتسافا على رواة هذا الجزء، مذهب بالكلية للفائدة المرجوة منه؛ لأننا نهدر بذلك فرصة الاستغلال والاستقلال العلمي في معرفة أصول وحيثيات ودلائل تبني مثل هذه الأحكام عند ناقد عظيم جهبذ كالحافظ ابن حجر رحمه الله، ومثل هذا هو الذي جعل الجانب النقدي في علم الحديث ضامرا أشد ما يكون الضمور، فإن رجونا من الكتاب أن يدلنا على مسالك أولئك، فلا تذهب بك الظنون في غير ذلك.

وإني أبرأ إلى الله جلت قدرته وتعالى اسمه أن أقع في إمام في الحديث أو منتسب إليه عامدا، إلا ما زاغ به القلم ولم أقصد إليه، فإن الكلام في حملة شريعة رسول الله شديد، وعقباه وخيمة، ونحن إن كان لنا شأن - ولا إخاله - فبشرف انتسابنا إليهم، وإصحارنا عن فضلهم، «نعوذ بالله من الحور بعد الكور».

هذا، ومن اشتغل بالحديث اليوم لقي الألاقي، لقلة عصبته، وفقدان المذاكرة فيه، وضعف الغناء في تعاطيه، وتأخر القداح الفهم للمنخرط فيه إلا بعد ردح، لارتكازه على النسيئة فلا ينتج للتو، فإن ظفرت فيه بعد هذا بمن يرفع عنك سامة الوحدان، وترقيت معه في أطوار البحث، خشي أن يكون

--------------------------------------------

(1) مصطلح نحته أ. د. طه عبد الرحمن.

(2) هذا احتراز لازم.

যদি এর সদৃশ কিছু পাওয়া যায়—প্রতিষ্ঠাকালের মধ্য হতে—তবে এর বিষয়বস্তুকে কেবল গঠন ও অর্থের স্তরে এর সমকক্ষ ও অনুরূপের মানদণ্ডেই বিচার করা সঠিক হবে। এই পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা আমাদের অনুসরণে বাধ্য করেছে—যদ্যপি এর চরম কাঠিন্যের কারণে আমরা এতে পুরোপুরি সফল হতে পারিনি—তৃতীয় শতাব্দীর মুহাদ্দিসগণের চিন্তাধারাকে পর্যবেক্ষণ করার এবং সেই বিষয়গুলোকে অনুধাবন করার প্রচেষ্টা যা তাদের সিদ্ধান্ত গঠনে অবদান রেখেছে, তা আকিদাগত হোক, বুদ্ধিবৃত্তিক(১) হোক কিংবা শাস্ত্রীয় পদ্ধতিগত হোক। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, এটি পরবর্তী আলেমগণের অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ইলমি ভাণ্ডারকে অবজ্ঞা করা বা তা উপেক্ষা করা নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো এই মূল পাঠগুলো যখন উৎপাদিত হয়েছিল সেই সময়ের মেজাজের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, যা পরবর্তী যুগের ব্যাখ্যার কর্তৃত্ব থেকে 'সাময়িক'(২) বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমেই সম্ভব। কেননা উদাহরণের জন্য 'তাকরীব'-এর সিদ্ধান্তগুলো এই খণ্ডের বর্ণনাকারীদের ওপর জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হলে তা থেকে কাঙ্ক্ষিত উপযোগিতা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়ে যাবে; কারণ এর ফলে আমরা হাফেজ ইবনে হাজার রহ.-এর মতো একজন মহান ও বিজ্ঞ সমালোচকের এই ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলনীতি, পরিপ্রেক্ষিত ও প্রমাণাদি জানার ক্ষেত্রে ইলমি সদ্ব্যবহার ও স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ নষ্ট করি। আর এই ধরণের কর্মপন্থা হাদিস শাস্ত্রের সমালোচনা-তত্ত্বকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। সুতরাং আমরা যদি এই কিতাব থেকে সেই মনীষীদের পথনির্দেশনা পাওয়ার আশা রাখি, তবে এর বাইরে অন্য কোনো ধারণা পোষণ করবেন না।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে—যাঁর কুদরত মহান এবং যাঁর নাম সুউচ্চ—আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাতে আমি হাদিস শাস্ত্রের কোনো ইমাম বা এর সাথে সম্পৃক্ত কারো প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে বিরূপ মন্তব্যে লিপ্ত না হই, তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কলম ফসকে যা ঘটে যায় তা ভিন্ন। কেননা রাসুলুল্লাহর শরিয়ত বহনকারীদের নিয়ে সমালোচনা করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আর আমাদের যদি কোনো মর্যাদা থেকে থাকে—যা আমি মনে করি না—তা কেবল তাঁদের সাথে আমাদের সম্পৃক্ততার সম্মান এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের কারণে। 'আমরা প্রাচুর্যের পর সংকীর্ণতায় নিপতিত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই'।

বস্তুত বর্তমানে যারা হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন, তারা নানা মুসিবতের সম্মুখীন হন; কারণ এর সাহায্যকারী অত্যন্ত নগণ্য, এতে পারস্পরিক পর্যালোচনার অভাব রয়েছে এবং এর চর্চায় উপযোগিতা কমে গিয়েছে। এতে লিপ্ত ব্যক্তিদের অনুধাবন ক্ষমতা দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার আগে শাণিত হয় না, কারণ এটি বিলম্বিত ফলের ওপর নির্ভরশীল এবং তৎক্ষণাৎ ফল দেয় না। এত কিছুর পর আপনি যদি এমন কাউকে পান যিনি আপনার একাকীত্বের ক্লান্তি দূর করবেন এবং যাঁর সাথে আপনি গবেষণার বিভিন্ন স্তরে উন্নীত হবেন, তবে ভয় হয় পাছে তিনি হয়ে যান...

--------------------------------------------

(১) প্রফেসর ড. ত্বহা আবদুর রহমান কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি পরিভাষা।

(২) এটি একটি প্রয়োজনীয় সতর্কতা।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك علة إدراكك، ومادة ترقيك، فيقطع الوصلة رجاء أن ينقطع مددك بذلك… ورجاؤنا أن لا ينقطع بالله، عليه التكلان، وله الشكران، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

و «المركز إحسان لدراسات السنة النبوية» سابغ الامتنان على احتفائه بالكتاب وتقديره له، ودعواتي له بالنجح المطرد لما هو بسبيله من الخير المقيم.

انتدبنا الله للخير، ورزقنا حبه، وأيدا على لزوم سبيله، وخيارا من أهله يتواصون بالحق والصبر.

 

وكتبه

محمد بن محمد الطبراني (الحسيني الصقلي)

أستاذ علوم القرآن والتفسير بكلية اللغة العربية

جامعة القاضي عياض، مراكش
এটাই আপনার উপলব্ধির কারণ এবং আপনার উন্নতির মূল উপকরণ, ফলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এই আশায় যে এর মাধ্যমে আপনার সাহায্য প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে যাবে… আর আমাদের আশা এই যে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হবে না, তাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা এবং তাঁরই জন্য সকল কৃতজ্ঞতা, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আর ‘ইহসান সেন্টার ফর প্রফেটিক সুন্নাহ স্টাডিজ’ (সুন্নাহ বিষয়ক গবেষণার জন্য ইহসান কেন্দ্র) কিতাবটির প্রতি তাদের সমাদর ও মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞতাভাজন, এবং তাদের এই অবিরাম কল্যাণের পথে নিরন্তর সাফল্যের জন্য আমার দুআ রইল।

আল্লাহ আমাদের কল্যাণের জন্য মনোনীত করুন, আমাদের তাঁর ভালোবাসা দান করুন, তাঁর পথে অটল থাকার শক্তি দিন এবং আমাদের তাঁর ঐ সকল উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।

 

এটি লিখেছেন

মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তাবারানি (আল-হুসাইনি আস-সিকিল্লি)

অধ্যাপক, উলূমুল কুরআন ও তাফসীর বিভাগ, আরবি ভাষা অনুষদ

আল-কাদি আইয়াজ বিশ্ববিদ্যালয়, মাররাকেশ
(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الدراسة
গবেষণা
(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تفاريق جديدة من أخبار عمرو بن علي (1)

‌‌1 - من فائت مصادر الترجمة:

346 هـ - مروج الذهب، للمسعودي: 4/ 82.

405 هـ - المعجم في مشتبه أسامي المحدثين للهروي، بزيادات البغوي: المخطوط: 158؛ المطبوع: 182؛ ر: 320.

500 هـ - معرفة رجال البخاري، للنحات من رواية عبد الرحمن بن عبد الله الوهراني (ت 411 هـ): 117؛ ر: 128.

578 هـ - الفوائد المنتخبة والحكايات المستغربة للحافظ ابن بشكوال: نسخة مكتبة الفاتيكان: و 36 و.

650 هـ - أسامي شيوخ البخاري للصغاني - بخطه ـ: نسخة السلميانية رقم 68: و 45 ظ ـ 46 و.

655 هـ - النخبة من مشتبه النسبة لابن باطيش المؤصلي: القرويين رقم 1248: و 136 و.

804 هـ - التلويح في معرفة رجال الصحيح، لابن الملقن: مخطوطة رئيس الكتاب رقم 119: المجلد الأول: و 162 ظ.

- العقد المذهب، له: 222؛ ر: 702.

909 هـ - تذكرة الحفاظ وتبصرة الأيقاظ، لابن عبد الهادي: 185؛ ر: 550. ضبط من غبر فيمن قيده ابن حجر: 225؛ ر: 1863(2)

--------------------------------------------

(1) هذا الفصل كالصلة للترجمة التي صنعناها للمؤلف في مقدمة تحقيق تاريخه.

(2) نشرة الكتاب يعوزها الضبط والتحقيق.

আমর বিন আলীর সংবাদ থেকে নতুন কিছু বিবিধ তথ্য(১)

‌‌১ - জীবনীর বাদ পড়া উৎসসমূহ থেকে:

৩৪৬ হিজরি - মাসউদী রচিত মুরুজুয যাহাব: ৪/ ৮২।

৪০৫ হিজরি - হারউয়ী রচিত আল-মুজাম ফি মুশতাবিহি আসাউল মুহাদ্দিসিন, বাগাউয়ীর অতিরিক্ত অংশসহ: পাণ্ডুলিপি: ১৫৮; মুদ্রিত: ১৮২; নং: ৩২০।

৫০০ হিজরি - আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াহরানীর (মৃত্যু ৪১১ হিজরি) বর্ণনা থেকে নুহাত রচিত মারিফাতু রিজালিল বুখারি: ১১৭; নং: ১২৮।

৫৭৮ হিজরি - হাফেজ ইবনে বাশকুওয়াল রচিত আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাখাবাহ ওয়াল হিকায়াতুল মুসতাগরাবাহ: ভ্যাটিকান লাইব্রেরির অনুলিপি: ৩৬ক।

৬৫০ হিজরি - সাগানী রচিত আসাউ শাইখিল বুখারি - তাঁর স্বহস্তে লিখিত: সুলায়মানিয়া অনুলিপি নং ৬৮: ৪৫খ - ৪৬ক।

৬৫৫ হিজরি - ইবনে বাতিশ আল-মাওসিলি রচিত আন-নুখবাতু মিন মুশতাবিহিন নিসবাহ: কারাউয়্যিন নং ১২৪৮: ১৩৬ক।

৮০৪ হিজরি - ইবনে মুলাক্কিন রচিত আত-তালউইহু ফি মারিফাতি রিজালিস সহিহ: রইসুল কুতুব পাণ্ডুলিপি নং ১১৯: প্রথম খণ্ড: ১৬২খ।

- তাঁর রচিত আল-ইকদুল মুযাহহ্যাব: ২২২; নং: ৭০২।

৯০৯ হিজরি - ইবনে আবদিল হাদি রচিত তাযকিরাতুল হুফফাজ ওয়া তাবসিরাতুল আইকাজ: ১৮৫; নং: ৫৫০। দাবতু মান গাবারা ফিমান কাইয়্যাদাহু ইবনে হাজার: ২২৫; নং: ১৮৬৩(২)

--------------------------------------------

(১) এই পরিচ্ছেদটি লেখকের সেই জীবনীর পরিপূরক স্বরূপ যা আমরা তাঁর ইতিহাসের সম্পাদনার ভূমিকায় প্রস্তুত করেছি।

(২) বইটির এই সংস্করণটিতে সঠিক বিন্যাস ও গবেষণালব্ধ সম্পাদনার অভাব রয়েছে।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১৮)
هـ ـ كتاب في رجال البخاري، لمؤلف غير معلوم: كوبريلي رقم 45: و 203 و.

 

‌‌2 - جده لأمه، بحر بن كنيز السقا ء:

جده هذا كان صديقا لعمرو بن عبيد، وما من ريب في أن الخط الجامع بينهما ما احتذياه معا من سبيل البر وتحري الاستقامة وإن كانا معا صنوين في الضعف والترك(1) - كل بحسبه!.. وإذ لم ينقل إلينا غمزه بشيء من معتقدات العدليين، فلعله صحب عمرا قبل استحكام النحلة فيه، أو قبل أن يرفع بها رأسه.

وكانت له أيضا صلة بالمنصور قبل توليه الخلافة، إما استقلالا وإما بواسطة ابن عبيد، مثلما ينبي عنه خبر ساقه البلاذري عن التوزي، عن أبي زيد؛ قال: «قدم المنصور البصرة قبل الخلافة، فقال عمرو بن عبيد لبحر بن كنز(2) السقاء: قد قدم هذا الرجل وكان زوارا إذا قدم بلدنا، فامض بنا إليه، فأتياه؛ فلما وقفا ببابه نادى عمرو: يا جارية. فأجابته جارية، فقال: قولي لأبي جعفر: أبو الفضل وأبو عثمان. فأذن لهما فدخلا عليه، فإذا هو على مصلى مخلق دارس، وإذا بين يديه طبق عليه قصعة فيها مرق لا لحم فيه.

فقال: يا جارية، أعندك شيء تزيديناه؟ قالت: لا. قال: أفعندك درهم نشتري به فاكهة لأبي عثمان؟ قالت: لا. قال: ارفعي؛ {قالوا أوذينا من قبل أن تأتينا ومن بعد ما جئتنا قال عسى ربكم أن يهلك عدوكم ويستخلفكم في الأرض فينظر كيف تعملون} [الأعراف: 129](3).

وقول عمرو للجارية: «قولي لأبي جعفر: أبو الفضل وأبو عثمان»؛ فيه

--------------------------------------------

(1) ن: كلام النقاد مستوفى عن بحر في كامل ابن عدي: 2/ 485؛ ر: 287؛ الضعفاء للعقيلي: 1/ 438؛ ر: 197. وقد خرج الفلاس من العهدة إذ قال عن جده: «ليس عندهم بقوي»؛ نقله البخاري في التاريخ الكبير: 2/ 128؛ ر: 1927.

(2) في مطبوعات أنساب الأشراف كلها: «كثير»؛ تصحيف.

(3) أنساب الأشراف: 4/ 234.

উ (ঙ) — বুখারীর রিজাল (বর্ণনাকারী) সম্পর্কিত একটি কিতাব, যার লেখক অজ্ঞাত: কোপরিলী নং ৪৫: পাতা ২০৩ ও।

 

‌‌২ - তাঁর মাতামহ, বাহর ইবনে কানিজ আস-সাক্কা :

তাঁর এই মাতামহ আমর ইবনুল উবাইদের বন্ধু ছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের উভয়ের মধ্যকার সংযোগকারী সূত্রটি ছিল নেক কাজ এবং সততা অন্বেষণের পথে তাদের পারস্পরিক অনুকরণ, যদিও তারা উভয়েই (হাদিস বর্ণনায়) দুর্বলতা এবং পরিত্যাজ্য হওয়ার দিক থেকে সহোদরের ন্যায় ছিলেন — প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান অনুযায়ী! যেহেতু তাঁর মাঝে আদলপন্থীদের (মু'তাযিলাদের) আকিদাহ সংক্রান্ত কোনো দোষ আমাদের কাছে বর্ণিত হয়নি, তাই সম্ভবত তিনি আমরের সাথে তার মাযহাব দৃঢ় হওয়ার আগে বা তার মাযহাব প্রচার করার আগে সম্পৃক্ত ছিলেন।

খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্বে আল-মানসুরের সাথেও তাঁর সম্পর্ক ছিল, হয় স্বাধীনভাবে অথবা ইবনে উবাইদের মাধ্যমে। যেমনটি আল-বালাযুরি আত-তাওযী থেকে, তিনি আবু যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: «আল-মানসুর খিলাফতের পূর্বে বসরায় এসেছিলেন। তখন আমর ইবনে উবাইদ বাহর ইবনে কানিজ আস-সাক্কাকে বললেন: এই ব্যক্তি এসেছেন এবং তিনি যখনই আমাদের শহরে আসতেন, তখন আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন; সুতরাং চলুন আমরা তাঁর কাছে যাই। অতঃপর তারা উভয়েই তাঁর কাছে আসলেন। যখন তারা তাঁর দরজায় দাঁড়ালেন, তখন আমর ডাক দিলেন: ওহে দাসী। একজন দাসী তাকে উত্তর দিল। তিনি বললেন: আবু জাফরকে বলো: আবুল ফযল এবং আবু উসমান। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন এবং তারা তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি একটি জীর্ণ ও পুরনো জায়নামাজে বসে ছিলেন এবং তাঁর সামনে একটি পাত্র ছিল যাতে ঝোল ছিল কিন্তু কোনো মাংস ছিল না।

অতঃপর তিনি বললেন: ওহে দাসী, তোমার কাছে কি এমন কিছু আছে যা আমাদের অতিরিক্ত দিতে পারো? সে বলল: না। তিনি বললেন: তোমার কাছে কি একটি দিরহাম আছে যা দিয়ে আমরা আবু উসমানের জন্য কিছু ফল কিনতে পারি? সে বলল: না। তিনি বললেন: তুলে নাও; {তারা বলল: আপনি আমাদের কাছে আসার পূর্বে এবং আপনি আসার পরেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি। তিনি বললেন: শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং তোমাদেরকে জমিনে স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতঃপর তিনি লক্ষ্য করবেন তোমরা কীভাবে আমল করো} [আল-আরাফ: ১২৯]।

আর আমরের সেই দাসীকে বলা: «আবু জাফরকে বলো: আবুল ফযল এবং আবু উসমান»; এর মধ্যে রয়েছে

--------------------------------------------

(১) টীকা: বাহর সম্পর্কে সমালোচকদের বিস্তারিত আলোচনা ইবনে আদির 'কামিল' ২/৪৮৫; নং ২৮৭; উকায়লীর 'আয-যুয়াফা' ১/৪৩৮; নং ১৯৭-এ রয়েছে। আর ফাল্লাস এই জিম্মাদারি থেকে মুক্ত হয়েছেন যখন তিনি তাঁর মাতামহ সম্পর্কে বলেছেন: «তাদের কাছে তিনি শক্তিশালী নন»; এটি বুখারী তাঁর 'তারিখুল কাবীর' ২/১২৮; নং ১৯২৭-এ উদ্ধৃত করেছেন।

(২) আনসাবুল আশরাফ-এর সমস্ত মুদ্রিত কপিতে: «কাসীর» রয়েছে; যা একটি মুদ্রণপ্রমাদ।

(৩) আনসাবুল আশরাফ: ৪/২৩৪।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
إذلال على المزور بتمكن الود؛ لإفضائه إليه بالكنيتين مجردتين، وفيه إشعار بأن بحرا كان من معارف المنصور أيضا، وإلا لكان سماه، فلما أطلق كنيته علم أنها كانت معهودة للمنصور.

وبالنظر إلى أن بحرا توفي سنة 160 هـ(1)، فقد عاصر من خلافة أبي جعفر المنصور، اثنتين وعشرين سنة، لست أظنه في كلها ممن درب على الوقوف ببابه، إلا أن يدلي إليه الخليفة بقديم المعرفة كما كان يفعل مع عمرو بن عبيد ويداريه، من غير أن يظفر منه بشيء، وهو القائل فيه:

كلكم طالب صيد… وهو ذو مي رويد

غير عمرو بن عبيد(2)

ويساعدنا على هذا الذي قدرنا أن الصفدي قال في ترجمته: «من أعيان البصرة»(3).

 

‌‌3 - جده لأبيه:

كنت ألمعت في تقديم التاريخ(4) إلى أن نسب الفلاس بعد والد الصلب يرتفع إلى جده من قبل أمه، وهذا مع مخالفته للمعتاد، عفى على ذكر والده وأرخى عليه ستورا من الإهمال، فلا نعلم عنه شيئا سوى أن اسمه عليا، وما من شيء فوق ذلك. لكن وجدت بعد في موضع فارد تسمية الفلاس لجده الآخر عند الدولابي في كناه(5) إذ قال: «حدثنا عمرو بن علي؛ قال: حدثني جدي أبو سفيان صالح بن مهران - وكان ثقة -…». وقوله: «جدي» ثابت في جميع نشرات كتاب الدولابي(6)، والحديث مخرج من طريق الدولابي عند

--------------------------------------------

(1) تاريخ مولد العلماء ووفياتهم: 1/ 373

(2) أنساب الأشراف: 4/ 232.

(3) الوافي بالوفيات: 10/ 51.

(4) 15 - 16.

(5) 2/ 622.

(6) طبعة حيدر آباد الدكن: 1/ 200؛ وطبعة دار ابن حزم.

আগন্তুকের ওপর গভীর হৃদ্যতার প্রমাণ; কারণ তাকে কেবল দুটি উপনাম (কুনিয়াত) দিয়ে সম্বোধন করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে বাহর-ও আল-মানসুরের পরিচিতদের একজন ছিলেন। অন্যথায় তিনি তার নাম উল্লেখ করতেন; কিন্তু যেহেতু তিনি কেবল তার উপনাম ব্যবহার করেছেন, তাই বোঝা যায় যে এটি আল-মানসুরের কাছে পরিচিত ছিল।

এই বিবেচনায় যে বাহর ১৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(১), তিনি আবু জাফর আল-মানসুরের খিলাফতের বাইশ বছর পেয়েছিলেন। আমি মনে করি না যে তিনি এই পুরো সময়টা তার দরবারে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে খলিফা হয়তো পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তার সাথে যোগাযোগ রাখতেন, যেমনটি তিনি আমর ইবন উবাইদের সাথে করতেন এবং তার সাথে নম্র ব্যবহার করতেন কোনো কিছু লাভ করার প্রত্যাশা ছাড়াই। আর তিনি তার সম্পর্কে বলতেন:

তোমাদের সবাই শিকারের সন্ধানী… আর সে হলো ধীরস্থির স্বভাবের অধিকারী

আমর ইবন উবাইদ ব্যতীত(২)

আমরা যা অনুমান করেছি তা সমর্থন করে আস-সাফাদির বক্তব্য, তিনি তার জীবনীতে বলেছেন: «তিনি বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন ছিলেন»(৩)।

 

‌‌৩ - তার পৈতৃক পিতামহ:

আমি ইতিহাসের ভূমিকায় ইঙ্গিত দিয়েছিলাম(৪) যে, আল-ফাল্লাসের বংশপরম্পরা তার আপন পিতার পর তার মাতামহের দিকে চলে যায়। এটি স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়ায় তার পিতার উল্লেখ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং অবহেলার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। ফলে আমরা তার নাম 'আলী' ছাড়া আর কিছুই জানি না এবং এর অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই। কিন্তু পরবর্তীতে আমি আদ-দুলাবির 'আল-কুনা' গ্রন্থে একটি একক স্থানে আল-ফাল্লাসের অন্য পিতামহের নামের উল্লেখ পেয়েছি(৫), যেখানে তিনি বলেছেন: «আমাদের নিকট আমর ইবন আলী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমার নিকট আমার পিতামহ আবু সুফিয়ান সালিহ ইবন মিহরান বর্ণনা করেছেন - আর তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন -…»। এবং তার এই «আমার পিতামহ» উক্তিটি আদ-দুলাবির গ্রন্থের সকল সংস্করণে সাব্যস্ত আছে(৬), আর হাদিসটি আদ-দুলাবির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) তারিখু মাওলিদিল উলামা ওয়া ওয়াফায়াতিহিম: ১/ ৩৭৩

(২) আনসাবুল আশরাফ: ৪/ ২৩২।

(৩) আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ১০/ ৫১।

(৪) ১৫ - ১৬।

(৫) ২/ ৬২২।

(৬) হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য সংস্করণ: ১/ ২০০; এবং দার ইবনে হাজম সংস্করণ।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২০)
أبي نعيم في أخبار أصبهان(1)، وليس فيه «جدي»، ورواه عن الفلاس تلميذه النسائي في صغرى السنن(2) وكبراها(3)، مجردا في الموضعين من الزيادة.

وأبو سفيان صالح بن مهران، هذا شيباني أصبهاني، وهو مولى زكريا بن مصقلة بن هبيرة الشيباني، ثم هو بعد خراساني الأصل، كان يقال له: الحكيم(4). فإذا تمخضت صحة الزيادة المتقدمة - وفي النفس منها شيء - أنتجت أن جد الفلاس مؤلى من أصبهان، ورد هو أو ابنه علي البصرة فاستوطنها وخطب هذا إلى بحر بن كثير بنته فأولدها عمرا…(5) وبين جدي الفلاس من جهة الأب والأم قواسم مشتركة لا تخفى لمن أنعم النظر في ترجمتيهما(6)، سوى أن الفلاس وثق الأول وضعف الثاني.

ولعل في شبهة معرفة الفلاس بالفارسية، ما يشفع لتصحيح الزيادة، فإن هذه المعرفة ميسورة لو كان خراساني الأصل إذ تلك لغة البلد، وإنما رتبنا هذه الشبهة على خبر وحيد مصحف ساقه ابن أبي حاتم في رسم عمر بن رياح أبي حفص الضرير؛ قال: سمعت أبي يقول: قال أبو حفص الصيرفي:

«هورد»»(7). قلت: فلعله قصد «هو: رد»، و «رد»، كلمة فارسية معناها: مرفوض. لكن هذا الاحتمال فيه بعض تمحل.

 

‌‌4 - علاقته بيحيى القطان وإعظامه له:

بدت شدة ملازمة الفلاس ليحيى في أمور شتى منها استفساد ما نقله عنه

--------------------------------------------

(1) 1/ 408.

(2) 3/ 219؛ ر: 1645.

(3) 2/ 127؛ ر: 1328.

(4) ن: ترجمته مستوفاة في الجرح والتعديل: 4/ 413؛ ر: 1815؛ أخبار أصبهان: 1/ 407 - 408؛ حلية الأولياء: 10/ 391؛ تهذيب الكمال: 13/ 93 - 94؛ ر: 2840.

(5) لو قطعنا بصحة هذا الخيط، لتعلقنا به في ربط علائق شتى، وأسسنا عليه خلاصات كثيرة، لكن صح العدول عن ذلك لأن الأساس غير متين.

(6) ن: عن الأول كتاب التاريخ: 16 - 17.

(7) الجرح والتعديل: 6/ 108؛ ر: 572. وصحفت فيه العبارة إلى «هوزد»؛ ولا معنى لها.

আবু নুআইম 'আখবারু আসবাহান'(১)-এ বর্ণনা করেছেন; আর তাতে 'আমার দাদা' শব্দটি নেই। আর এটি আল-ফাল্লাস থেকে তার ছাত্র আন-নাসায়ী তার 'আস-সুনান আস-সুগরা'(২) এবং 'আস-সুনান আল-কুবরা'(৩)-তে বর্ণনা করেছেন, উভয় স্থানেই তা অতিরিক্ত অংশ থেকে মুক্ত।

আর আবু সুফিয়ান সালিহ বিন মিহরান, ইনি শায়বানি আসবাহানি। তিনি যাকারিয়া বিন মাসকালাহ বিন হুবায়রা আশ-শায়বানির মাওলা (মুক্তদাস)। অতঃপর তিনি মূলগতভাবে খোরাসানি। তাকে 'আল-হাকিম'(৪) বলা হতো। যদি পূর্বোল্লিখিত অতিরিক্ত অংশের বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়—যদিও এ বিষয়ে মনে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে—তবে এর ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, আল-ফাল্লাসের দাদা আসবাহানের একজন মাওলা ছিলেন। তিনি বা তার ছেলে আলী বসরায় আগমন করেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। আর ইনি বাহর বিন কাসিরের কাছে তার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার গর্ভে আমর…(৫) জন্মগ্রহণ করেন। আল-ফাল্লাসের পিতৃকুল ও মাতৃকুলের উভয় দাদার মধ্যে কিছু অভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাদের উভয়ের জীবনী(৬) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারীর কাছে গোপন নয়। পার্থক্য শুধু এই যে, আল-ফাল্লাস প্রথমজনকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং দ্বিতীয়জনকে দুর্বল বলেছেন।

সম্ভবত ফারসি ভাষায় আল-ফাল্লাসের জ্ঞান থাকার যে ধারণাটি রয়েছে, তা অতিরিক্ত অংশের শুদ্ধতাকে সমর্থন করে। কারণ, যদি তিনি মূলগতভাবে খোরাসানি হয়ে থাকেন তবে এই জ্ঞান অর্জন করা সহজ ছিল, যেহেতু এটি সেই অঞ্চলের ভাষা। আমরা এই ধারণাটি শুধুমাত্র একটি বিকৃত (মুসাহহাফ) সংবাদের ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছি যা ইবনে আবি হাতিম 'উমর বিন রিয়াহ আবু হাফস আদ-দারির'-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবু হাফস আস-সাইরাফি বলেছেন:

«হু-রাদ»(৭)। আমি বলি: সম্ভবত তার উদ্দেশ্য ছিল «হুয়া: রাদ্দ» (সে প্রত্যাখ্যাত), আর «রাদ» একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ: প্রত্যাখ্যাত। তবে এই সম্ভাবনায় কিছুটা কষ্টকল্পনা রয়েছে।

 

‌‌৪ - ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের সাথে তার সম্পর্ক এবং তার প্রতি তার সম্মান প্রদর্শন:

বিভিন্ন বিষয়ে ইয়াহইয়ার সাথে আল-ফাল্লাসের নিবিড় সাহচর্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো তার থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করা।

--------------------------------------------

(১) ১/৪০৮।

(২) ৩/২১৯; নং: ১৬৪৫।

(৩) ২/১২৭; নং: ১৩২৮।

(৪) দ্রষ্টব্য: তার পূর্ণাঙ্গ জীবনী 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল': ৪/৪১৩; নং: ১৮১৫; 'আখবারু আসবাহান': ১/৪০৭-৪০৮; 'হিলয়াতুল আউলিয়া': ১০/৩৯১; 'তাহযিবুল কামাল': ১৩/৯৩-৯৪; নং: ২৮৪০।

(৫) যদি আমরা এই সূত্রের বিশুদ্ধতা নিশ্চিতভাবে ধরে নিতাম, তবে আমরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন সম্পর্ক স্থাপন করতাম এবং এর ওপর অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতাম। কিন্তু এর থেকে সরে আসাই সঠিক হয়েছে, কারণ ভিত্তিটি মজবুত নয়।

(৬) দ্রষ্টব্য: প্রথমজনের ব্যাপারে 'কিতাবুত তারিখ': ১৬-১৭।

(৭) 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল': ৬/১০৮; নং: ৫৭২। আর সেখানে বাক্যটি বিকৃত হয়ে "হু-যাদ" হয়ে গিয়েছে; যার কোনো অর্থ নেই।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২১)
في كتبه على ما نقله عن غيره؛ وحكايته عنه بعض معهود عباراته وأجوبته الخارجة عن مهيع الفن، والمتعلقة بشخصه فحسب، وكان يعجبه أن يثني عليه، فقد ذكر في كتابه أنه حدثه بحديث فاستحسنه(1)، وأخبره بآخر فاستحسنه أيضا واستعاده منه غير مرة(2). وهو يلحف في سؤاله فلا يتبرم به بل يسعفه مثلما في قوله: «سألت يحيى عن حديث ثور، عن حريز، عن أبي خداش. فقال لي: معاد سمعه من حريز، فسله عنه. فلم أدعه حتى حدثني به»(3).

وهو لا يني يعنى بنقل مواقف يحيى من قضايا مختلفة؛ كموقفه من المفاضلة بين علي وعثمان ا؛ مثلما يسفر عنه هذا الخبر: «سمعت معاذ بن معاذ يقول: حدثنا شعبة، عن حصين، قال: قلت لأبي وائل: علي أفضل أو عثمان؟ قال: علي؛ حتى أحدث ما أحدث. فأما اليوم، فعثمان. قال معاذ: فحدثت به بشر بن المفضل فقال: عثمان كان خيرا قبل وبعد. فغضب يحيى وقال: ما درى هذا عمر بن الخطاب، حين جعلها شورى بين ستة!»(4). وفيه إنكار ورد من يحيى لهذا الكلام بصنيع الفاروق رضي الله عنه، إذ لو كان ظهر له مفاضلة لم يلجأ إلى الشورى؛ فظهر أن عليا وعثمان ا عند يحيى كفرسي رهان أو وكركبتي بعير؛ أو الوقف، وهذا هو المشهور عنه، قال أبو زكريا يحيى بن معين: «قال يحيى بن سعيد: كان رأي سفيان الثوري: أبو بكر وعمر، ثم يقف. قال يحيى بن معين: وهو رأي يحيى بن سعيد»(5).

وأما أدبه معه فمضرب الأمثال؛ وناهيك به وبالجلة يقومون بين يدي يحيى ساعات طوالا لا يجرؤون يجلسون ما لم يأذن لهم؛ أسند الخطيب إلى إسحاق الشهيدي قوله: «كنت أرى يحيى القطان يصلي العصر ثم يستند إلى أصل منارة مسجده، فيقف بين يديه علي بن المديني، والشاذكوني، وعمرو بن علي، وأحمد بن حنبل، ويحيى بن معين وغيرهم؛ يسألونه عن الحديث، وهم

--------------------------------------------

(1) العلل: ر: 108.

(2) العلل: ر: 188

(3) العلل: ر: 70.

(4) العلل: ر: 48.

(5) من كلام ابن معين في الرجال، رواية الدقاق: 29؛ ر: 6 - 7.

তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে অন্যদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁর থেকে বর্ণিত কিছু প্রচলিত অভিব্যক্তি ও উত্তর যা শাস্ত্রীয় পদ্ধতির বাইরে এবং কেবল তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট; এবং তিনি তাঁর প্রশংসা করতে পছন্দ করতেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন যা তিনি পছন্দ করেছিলেন, এবং তাঁকে অন্য একটির সংবাদ দিয়েছিলেন যা তিনি পছন্দ করেছিলেন এবং তাঁর কাছে একাধিকবার তা পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রশ্নে জোরাজুরি করতেন, তবুও তিনি বিরক্ত হতেন না বরং তাঁকে সহযোগিতা করতেন, যেমনটি তাঁর এই কথায় ফুটে উঠেছে: «আমি ইয়াহইয়াকে সাওরের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যা হারিজ থেকে, তিনি আবু খাদাশ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাকে বললেন: মুয়ায এটি হারিজের থেকে শুনেছেন, তাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করো। কিন্তু আমি তাঁকে ছাড়িনি যতক্ষণ না তিনি আমাকে তা বর্ণনা করে শোনালেন»(1)।

তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ইয়াহইয়ার অবস্থানগুলো বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিরলস ছিলেন; যেমন আলী ও উসমান (রা.)-এর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান; যা এই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়: «আমি মুআয ইবনে মুআযকে বলতে শুনেছি: শু'বাহ হুসাইন থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ওয়াইলকে বললাম: আলী কি শ্রেষ্ঠ নাকি উসমান? তিনি বললেন: আলী; যতক্ষণ না তিনি যা করার করলেন। কিন্তু আজ উসমান (শ্রেষ্ঠ)। মুআয বলেন: আমি এটি বিশর ইবনুল মুফাজ্জালকে বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন: উসমান আগেও এবং পরেও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তখন ইয়াহইয়া রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: সে কি উমর ইবনুল খাত্তাব সম্পর্কে অবগত নয়, যখন তিনি একে ছয়জনের মধ্যে পরামর্শ সভায় (শূরা) ন্যস্ত করেছিলেন!»(4)। এতে উমর ফারুক (রা.)-এর কাজের মাধ্যমে ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে এই কথার অস্বীকৃতি ও প্রত্যাখ্যান রয়েছে, কেননা যদি তাঁর কাছে কোনো একজনের শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট হতো তবে তিনি পরামর্শ সভার আশ্রয় নিতেন না; ফলে স্পষ্ট হয় যে, আলী ও উসমান (রা.) ইয়াহইয়ার নিকট ছিলেন প্রতিযোগিতার দুই ঘোড়ার মতো অথবা উটের দুই হাঁটুর মতো; অথবা তিনি এ ব্যাপারে বিরত থাকতেন, আর এটিই তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ। আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: «ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: সুফিয়ান সাওরির অভিমত ছিল: আবু বকর ও উমর, এরপর তিনি বিরত থাকতেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: এটিই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের অভিমত»(5)।

আর তাঁর প্রতি তাঁর শিষ্টাচার ছিল প্রবাদতুল্য; আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইয়াহইয়ার সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন, তাঁর অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত বসার সাহস করতেন না; আল-খাতিব ইসহাক আশ-শাহিদি থেকে বর্ণনা করেছেন: «আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে আসরের নামাজ পড়তে দেখতাম, এরপর তিনি তাঁর মসজিদের মিনারের পাদদেশে হেলান দিতেন। তখন তাঁর সামনে আলী ইবনুল মাদিনি, আশ-শাযকুনি, আমর ইবনে আলী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং অন্যরা দাঁড়িয়ে থাকতেন; তাঁরা তাঁকে হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, এমতাবস্থায় তাঁরা

--------------------------------------------

(1) আল-ইলাল: নং ১০৮।

(2) আল-ইলাল: নং ১৮৮

(3) আল-ইলাল: নং ৭০।

(4) আল-ইলাল: নং ৪৮।

(5) মিন কালামি ইবনু মাঈন ফির-রিজাল, রিওয়ায়াতুদ দাক্কাক: ২৯; নং ৬ - ৭।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২২)
قيام على أرجلهم إلى أن تحين صلاة المغرب، لا يقول لواحد منهم: «اجلس»، ولا يجلسون هيبة وإعظاما(1).

ولازمه آخر حياته، وكان يتعاهده في مرضه، يدل له قوله: «قلت ليحيى في مرضه الذي مات فيه: يعافيك الله إن شاء الله. قال: أحبه إلي أحبه إلى الله!»(2).

ويميز الفلاس ممن نقل عن القطان أقواله في الرجال والعلل، أنه حكى عنه كثيرا من اختياراته الفقهية وفتاواه وانفرد بنقلها، فذكر أنه كان يرفع يديه في كل خفض ورفع. وأن ركبتيه كانت تقعان قبل يديه(3). وأنه كان لا يتوضأ مما غيرت النار(4). وأنه كان يكره النبيذ كله(5). وكان يقول في الرهن: إن كان بأكثر مما يسوى، فهو بما فيه، وإن كان بأقل رد عليه الفضل(6). وسئل عن السمك يعتلف العذرة، فلم ير به بأسا(7). وسأله الفلاس عن رجل ترك سجدة من ركعة، فذكرها وهو في الثانية. فقال: يسجدها إذا ذكرها، وعليه سجدتا السهو(8). وسأله أيضا عن امرأة في بطنها ولدان، فوضعت أحدهما. فقال: هي(9) نفساء. ونقل عن يحيى تذمره من إمامة القدرية، ووسمهم بإساءة الصلاة(10)، وتكرر له ضريبه في مثل قوله: «رآني يحيى مرة وأنا أجيء من قبل الجبل بعد ما صلينا الصبح، فقال: من أين جئت من ها هنا؟ فقلت: لم أدرك الصلاة معهم، فصليت في هذا المسجد. فقال: لا تصل فيه؛ فإن إمامهم معتزلي(11).»

 

‌‌5 - بعض صحبه ورفقائه في الطلب (12):

مثل هؤلاء الأعلام، تضيع كثير من تفاصيل حياتهم في غمرة أنشطتهم

--------------------------------------------

(1) الجامع: 1/ 185؛ ر: 299.

(2) العلل: ر: 168.

(3) العلل: ر: 55.

(4) العلل: ر: 56.

(5) العلل: ر: 57.

(6) العلل: ر: 58.

(7) العلل: ر: 59.

(8) العلل: ر: 161.

(9) العلل: ر: 162.

(10) العلل: ر: 160.

(11) العلل: ر: 35.

(12) ممن لم نذكرهم في التاريخ: 85 - 87.

মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতেন, তিনি তাদের কাউকে 'বসো' বলতেন না এবং তারাও সমীহ ও সম্মানের কারণে বসতেন না(১)।

তিনি তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর সাথে ছিলেন এবং তাঁর অসুস্থতার সময় তাঁর দেখাশোনা করতেন। এর প্রমাণ হলো তাঁর এই উক্তি: "আমি ইয়াহইয়াকে তাঁর মৃত্যুশয্যায় থাকাকালে বললাম: ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করবেন। তিনি বললেন: আমার নিকট তা-ই প্রিয় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়!"(২)।

আল-ফাল্লাস তাদের থেকে স্বতন্ত্র যারা আল-কাত্তান থেকে রাবী এবং 'ইলাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে তাঁর বাণী বর্ণনা করেছেন; কারণ তিনি তাঁর কাছ থেকে তাঁর অনেক ফিকহি পছন্দ ও ফতোয়া বর্ণনা করেছেন এবং তা এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আল-কাত্তান) প্রতিটি উঠা-নামার সময় হাত তুলতেন। আর তাঁর হাত রাখার আগে হাঁটু মাটিতে পড়ত(৩)। এবং তিনি আগুনের স্পর্শে পরিবর্তিত হওয়া খাবার খেয়ে অজু করতেন না(৪)। তিনি সব ধরণের নাবিজ অপছন্দ করতেন(৫)। বন্ধক রাখা বস্তু সম্পর্কে তিনি বলতেন: যদি এর মূল্য ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়, তবে তা ঋণের বিনিময়ে গণ্য হবে; আর যদি কম হয়, তবে অতিরিক্ত অংশ ফেরত দিতে হবে(৬)। তাঁকে এমন মাছ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা বিষ্ঠা খায়, তিনি এতে কোনো অসুবিধা দেখেননি(৭)। আল-ফাল্লাস তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে এক রাকাতে একটি সিজদা ছেড়ে দিয়েছে এবং দ্বিতীয় রাকাতে থাকা অবস্থায় তা স্মরণ করেছে। তিনি বললেন: যখনই সে স্মরণ করবে তখনই সে সিজদা করবে এবং তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে(৮)। তিনি তাঁকে এমন এক মহিলা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করেছিলেন যার গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে এবং সে একটি প্রসব করেছে। তিনি বললেন: সে(৯) নিফাসগ্রস্ত নারী। এবং ইয়াহইয়া থেকে কাদরিয়াদের ইমামতির ব্যাপারে তাঁর অসন্তুষ্টি বর্ণিত হয়েছে, এবং তিনি তাদের সালাত আদায়ের পদ্ধতিকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন(১০)। অনুরূপ আরও ঘটনা ঘটেছে যেমন তাঁর এই উক্তি: "একবার ইয়াহইয়া আমাকে দেখলেন যখন আমি ফজরের নামায শেষে পাহাড়ের দিক থেকে আসছিলাম। তিনি বললেন: তুমি এখান থেকে কোথা থেকে এলে? আমি বললাম: আমি তাদের সাথে নামায পাইনি, তাই আমি এই মসজিদে নামায পড়েছি। তিনি বললেন: ওখানে নামায পড়ো না; কারণ তাদের ইমাম একজন মুতাজিলি(১১)।"

 

‌‌৫ - ইলম অন্বেষণে তাঁর কিছু সঙ্গী ও সহকর্মী (১২):

এই ধরণের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জীবনের অনেক খুঁটিনাটি তাঁদের কর্মতৎপরতার ভিড়ে হারিয়ে যায়

--------------------------------------------

(১) আল-জামি: ১/ ১৮৫; র: ২৯৯।

(২) আল-ইলাল: র: ১৬৮।

(৩) আল-ইলাল: র: ৫৫।

(৪) আল-ইলাল: র: ৫৬।

(৫) আল-ইলাল: র: ৫৭।

(৬) আল-ইলাল: র: ৫৮।

(৭) আল-ইলাল: র: ৫৯।

(৮) আল-ইলাল: র: ১৬১।

(৯) আল-ইলাল: র: ১৬২।

(১০) আল-ইলাল: র: ১৬০।

(১১) আল-ইলাল: র: ৩৫।

(১২) যাদের কথা আমরা ইতিহাসে উল্লেখ করিনি: ৮৫ - ৮৭।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৩)
المتعددة، بمقتضى أنهم مقصودون للتعليم والفتوى، ويعسر على كاتب سيرهم أن يمين بيسر بين العابر من معارفهم، وبين المقيم الثابت، ومجلى ذلك أننا لم نظفر في تسمية أصدقائه إلا بعدد لا تنعقد عليه الخناصر، فعرفنا منهم - بعسر - أبا الآذان عمر بن إبراهيم، وهو بغدادي حلاه الخطيب البغدادي بالحافظ(1)؛ لقب بذلك لكبر آذانه، وكنيته أبو بكر(2)، مات سنة 286 هـ(3)، فيكون من طبقة تلاميذ الشيخ الأذنين إلى قلبه كالصاحب. قال محمد بن أحمد بن بخيت: «سألت عمرو بن علي، وهو متكئ على يد رجل… ثم زاملت أبا الآذان عمر بن إبراهيم في طريق مكة، فقال لي يوما: تذكر يوم سألت عمرو بن علي… وهو متكئ على يد رجل؟ أنا كنت ذلك الرجل…»(4).

وأما أبو قتادة، الذي قال عنه ابن عبد البر: «صاحب لعمرو بن علي الباهلي الصيرفي، سمع عاصما الكوزي»(5)؛ فمعرفة كالنكرة، ولم نجد ما يجلو عنه غبش الجهالة، فإن الكوزي هذا وضاع جرحه الفلاس نفسه(6).

وكان الإمام أحمد من طبقته، فلست أدري كيف كانت صلته به، وما من ريب أنهما اجتمعا في مجالس شتى، منها ذلك الذي جمعهما في التلقي عن ابن مهدي، وقد عرضا معا بالذكر لواحد من تلك المجالس؛ فقال عنه عمرو بن علي: «سمعت عبد الرحمن بن مهدي، وذكر ابن أبي عدي فأحسن الثناء عليه، ونظر في كتابه معي له عن جعفر بن ميمون…»(7). وقال عبد الله بن أحمد بن حنبل: «سمعت أبي يقول: حدث ابن أبي عدي عن جعفر بن ميمون أحاديث، فجعل ابن مهدي ينظر فيها، يطلع في كتاب مع

--------------------------------------------

(1) غنية الملتمس: 350؛ تارخ بغداد: 3/ 571.

(2) تهذيب الكمال: 35/ 58.

(3) وقيل غير ذلك.

(4) الكامل: 1/ 316؛ ر: 776.

(5) الاستغنا: 3/ 1522؛ ر: 2324.

(6) الجرح والتعديل: 6/ 344؛ ر: 1901.

(7) ن كتابنا هذا: رقم 35.

বিবিধ দিক থেকে, কারণ তারা শিক্ষা প্রদান ও ফতোয়া প্রদানের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। তাদের জীবনীকারের পক্ষে তাদের পরিচিতদের মধ্যে কে ক্ষণস্থায়ী আর কে স্থায়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত—তা সহজে পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন। এর বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, আমরা তার বন্ধুদের নাম অনুসন্ধানে কেবল গুটিকয়েক নাম ছাড়া আর কিছুই পাইনি যা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। তাদের মধ্যে আমরা—অনেক কষ্টে—আবু আল-আদান উমর ইবনে ইবরাহিমকে চিনতে পেরেছি। তিনি ছিলেন একজন বাগদাদী, যাকে আল-খতিব আল-বাগদাদী 'হাফিজ' উপাধিতে ভূষিত করেছেন(১); তার বড় কানের কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল এবং তার উপনাম (কুনিয়া) ছিল আবু বকর(২)। তিনি ২৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৩)। সুতরাং তিনি শাইখের সেই ছাত্রস্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তার হৃদয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, অনেকটা অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো। মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে বাখিত বলেন: «আমি আমর ইবনে আলীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি এক ব্যক্তির হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন… অতঃপর মক্কার পথে আবু আল-আদান উমর ইবনে ইবরাহিম আমার সফরসঙ্গী হলেন। একদিন তিনি আমাকে বললেন: তোমার কি সেই দিনের কথা মনে আছে যেদিন তুমি আমর ইবনে আলীকে জিজ্ঞাসা করেছিলে… যখন তিনি এক ব্যক্তির হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন? আমিই ছিলাম সেই ব্যক্তি…»(৪)।

আর আবু কাতাদাহ সম্পর্কে ইবনে আবদিল বার বলেছেন: «তিনি আমর ইবনে আলী আল-বাহিলি আস-সাইরাফির একজন সঙ্গী, তিনি আসিম আল-কুজি থেকে শুনেছেন»(৫); তার পরিচয় অনেকটা অপরিচিতের মতোই রয়ে গেছে, এবং আমরা এমন কিছু খুঁজে পাইনি যা তার পরিচয়হীনতার অস্পষ্টতা দূর করতে পারে। কারণ এই আল-কুজি ছিলেন একজন হাদীস জালকারী, যাকে খোদ আল-ফাল্লাসও ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন(৬)।

ইমাম আহমদও তার সমসাময়িক স্তরের ছিলেন, তবে তার সাথে ইমাম আহমদের সম্পর্ক কেমন ছিল তা আমার জানা নেই। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা বিভিন্ন মজলিসে একত্রিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি ছিল ইবনে মাহদির নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের মজলিস। তারা উভয়েই সেই মজলিসগুলোর একটির কথা উল্লেখ করেছেন। আমর ইবনে আলী সে সম্পর্কে বলেন: «আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদিকে ইবনে আবি আদীর কথা উল্লেখ করতে শুনেছি এবং তিনি তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জাফর ইবনে মাইমুনের সূত্রে বর্ণিত তার কিতাবটি আমার সাথে দেখেছিলেন…»(৭)। আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন: «আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ইবনে আবি আদী জাফর ইবনে মাইমুন থেকে কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন ইবনে মাহদি সেগুলো দেখতে শুরু করেন এবং একটি কিতাব পর্যবেক্ষণ করেন যা সাথে ছিল...»

--------------------------------------------

(১) গুনিয়াতুল মুলতামিস: ৩৫০; তারিখ বাগদাদ: ৩/৫৭১।

(২) তাহজিবুল কামাল: ৩৫/৫৮।

(৩) মতান্তরে অন্য কিছুও বলা হয়েছে।

(৪) আল-কামিল: ১/৩১৬; নং: ৭৭৬।

(৫) আল-ইস্তিগনা: ৩/১৫২২; নং: ২৩২৪।

(৬) আল-জারহ ওয়াত-তাদিল: ৬/৩৪৪; নং: ১৯০১।

(৭) আমাদের এই কিতাব থেকে: নং ৩৫।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৪)
إنسان. قلت: كان الكتاب معك؟ قال: لا؛ مع إنسان آخر(1). قلت: وأنت ترى أن ابن حنبل أبهم صاحب الكتاب لما سأله ابنه عنه، وكنى عنه «بإنسان آخر»؛ فلعله لم يذكره للحين فحسب، فقد كان الفلاس من مشاهير البصرة، فلست أدري علة الإبهام، على أن الإمام أحمد لم يذكر صاحبنا في علله غير مرتين، سماه في إحداهما وكناه في الأخرى(2).

 

‌‌6 - موقفه من أبي حنيفة:

كان أبو حنيفة من أعمدة الرأي والقائلين بالإرجاء، وكان المحدثون يرونه ضعيفا في الحديث، فناله منهم لأجل هذا نقد غير يسير، وخرج غيرهم بدعوى التعصب الفقهي عن النقد إلى النقض، فتولى رد هذه الكنائن المفوقة على طريق الإنصاف، الشيخ عبد الرحمن المعلمي اليماني رحمه الله في كتابه الحفيل «التنكيل» بأبدع وأوسع ما يتأتى، وأثبت من النقود والردود ما صح مما لا مدفع له، ووجه كثيرا منه. وقد كان الفلاس من زمرة من توجه بهذا النقد الحارق، لكنه ليس مؤقفا فرديا، بل يعكس وجهة نظر المدرسة البصرية كلها إذ له نظائر كثر، وإليك سياق كلامه، مجردا عن التعليق إلا حزة فلذ يسيرة:

قال عمرو(3): «وأبو حنيفة صاحب الرأي، واسمه النعمان بن ثابت، ليس بالحافظ، مضطرب الحديث، واهي الحديث». وزاد في تاريخ بغداد(4): «وصاحب هوى».

وقال(5): «حدثني أبو غادر الفلسطيني، أخبرني رجل أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) كتاب العلل ومعرفة الرجال (رواية عبد الله): 3/ 90؛ ر: 4323.

(2) ن: العلل ومعرفة الرجال (رواية عبد الله): 1/ 366؛ ر: 700؛ 3/ 154؛ ر: 4685.

(3) الكامل: 7/ 6. قلت: مثل هذه الأخبار حقيقة بالتثبت والنقد.

(4) تاريخ بغداد: 15/ 582.

(5) الكامل: 7/ 6.

একজন মানুষ। আমি বললাম: বইটি কি আপনার কাছে ছিল? তিনি বললেন: না; অন্য একজনের কাছে ছিল। আমি বললাম: আপনি দেখছেন যে ইবনে হানবাল যখন তাঁর পুত্র তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন তখন তিনি বইটির মালিকের নাম অস্পষ্ট রেখেছেন এবং তাঁকে «অন্য একজন মানুষ» বলে সম্বোধন করেছেন; সম্ভবত তিনি সেই মুহূর্তে এটি উল্লেখ করেননি, কারণ ফাল্লাস বসরার বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন, তাই অস্পষ্টতার কারণ আমি জানি না, যদিও ইমাম আহমাদ আমাদের এই ব্যক্তির কথা তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থে মাত্র দুবার উল্লেখ করেছেন, একস্থানে নাম ধরে ডেকেছেন এবং অন্যস্থানে উপনাম ব্যবহার করেছেন(১)。

 

‌‌৬ - আবু হানিফার প্রতি তাঁর অবস্থান:

আবু হানিফা ছিলেন রা'য় (যুক্তি-নির্ভর ফিকহ) এর অন্যতম স্তম্ভ এবং ইরজা মতবাদের প্রবক্তাদের একজন। মুহাদ্দিসগণ তাঁকে হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল মনে করতেন, যার ফলে তাঁদের পক্ষ থেকে তিনি প্রচুর সমালোচনার শিকার হন। আবার ফিকহী গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে অন্যেরা এই সমালোচনাকে সরাসরি খণ্ডন ও আক্রমণের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। শায়খ আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুবিশাল গ্রন্থ «আত-তানকিল»-এ অত্যন্ত চমৎকার ও বিস্তারিতভাবে এই নিক্ষিপ্ত তীরগুলোর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং সেই সমালোচনা ও খণ্ডনগুলোর মধ্যে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং অনেকগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফাল্লাসও সেই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা এই কঠোর সমালোচনা করেছিলেন, তবে এটি কেবল ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান ছিল না, বরং এটি সমগ্র বসরার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে কারণ এর আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। নিচে কোনো মন্তব্য ছাড়াই তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হলো, কেবল সামান্য কিছু টীকা ছাড়া:

আমর(৩) বলেছেন: «আর আবু হানিফা হলেন রা'য় পন্থী, তাঁর নাম নুমান ইবনে সাবিত, তিনি হাফেজ (হাদিস মুখস্থকারী) নন, তাঁর বর্ণিত হাদিস বিশৃঙ্খল ও অত্যন্ত দুর্বল»। তারিখু বাগদাদ-এ(৪) আরও যোগ করা হয়েছে: «এবং তিনি প্রবৃত্তির অনুসারী ছিলেন»।

তিনি(৫) বলেছেন: «আবু গাদির আল-ফিলিস্তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছেন...»

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল (আবদুল্লাহর বর্ণনা): ৩/ ৯০; হা: ৪৩২৩।

(২) প্রাগুক্ত: কিতাবুল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল (আবদুল্লাহর বর্ণনা): ১/ ৩৬৬; হা: ৭০০; ৩/ ১৫৪; হা: ৪৬৮৫।

(৩) আল-কামিল: ৭/ ৬। আমি (গ্রন্থাকার) বলছি: এই জাতীয় খবরগুলোর সত্যতা যাচাই ও পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।

(৪) তারিখু বাগদাদ: ১৫/ ৫৮২।

(৫) আল-কামিল: ৭/ ৬।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৫)
في المنام، فقلت: يا رسول الله، حديثنا(1) هذا عمن نأخذه؟ قال صلى الله عليه وسلم: «عن سفيان الثوري». فقلت: فأبو حنيفة؟ قال صلى الله عليه وسلم: «ليس هناك!». - يعني: ليس في موضع الأخذ عنه».

قلت: هذا أفدح من سابقه، ومتى كانت للرؤى صدقية في الأحكام؟ حتى ولو وقعت إناطتها بالرسول صلى الله عليه وسلم؛ وذاك ذريعة إلى فساد عظيم؛ هذا لو صح الخبر، أما وفيه جهالة أحد رواته كما في هذا، فلا عبرة به أصلا، ولا يصح أن يذكر، «ولكنها الأهواء عمت فأعمت».

وقال(2): «سمعت معاذ بن معاذ يقول: سمعت سفيان الثوري يقول: استتيب أبو حنيفة من الكفر مرتين».

وقال(3): «سمعت يحيى - يعني: القطان - وقال له جار له: حدثنا أبو يوسف، عن أبي حنيفة، عن جواب التيمي، فقال: مرجي، عن مرج، عن مرجئ».

 

‌‌7 - رقته:

من قوات ما قدمنا به كتاب التاريخ عند العروض لترجمته، الإشارة إلى ملمح مهم في شخصيته، وهو تلك الرقة التي لم يفلح صاحبنا في طيها عن الناس، فانكشفت في مواقف بإجهاشه بالبكاء وجريان عبرته، تعبيرا عن تأثره الديني العميق بمناقب وأحوال ونصوص؛ فمن ذلك ما شهده ابن أبي الدنيا وحكاه فقال(4): نا أبو حفص الصيرفي؛ قال: بلغني أن عمر بن ذر(5) كان إذا تلا {وأقسموا بالله جهد أيمنهم لا يبعث الله من يموت} [النحل: 38] قال:

--------------------------------------------

(1) تصحف في الكامل إلى «حدثنا».

(2) تاريخ بغداد: 15/ 524 - 525.

(3) تاريخ بغداد: 16/ 375.

(4) حسن الظن بالله (دار طيبة): 27؛ ر: 15؛ (طبعة مكتبة القرآن): 27 - 28؛ ر: 15.

(5) كثير من النقلة عن ابن أبي الدنيا يجعلونه «عمر بن الخطاب»؛ كابن رجب في رسائله (4/ 368) وليس ذلك في نشرات الكتاب. والمقصود أبو ذر الهمداني المرهبي الكوفي.

স্বপ্নে, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের এই হাদিস(১) আমরা কার কাছ থেকে গ্রহণ করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে।" আমি বললাম: তাহলে আবু হানিফা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেখানে নেই!" - অর্থাৎ: সে হাদিস গ্রহণের মতো কোনো অবস্থানে নেই।

আমি বললাম: এটি পূর্ববর্তীটির চেয়েও গুরুতর, আর স্বপ্নের কি বিধানের ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্যতা আছে? এমনকি যদি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সম্পৃক্ত করা হয় তবুও; এবং এটি মহা বিপর্যয়ের একটি পথ; এটি কেবল তখনই হতো যদি খবরটি সহিহ হতো, কিন্তু এতে যখন কোনো এক বর্ণনাকারীর পরিচয় অজ্ঞাত রয়েছে যেমনটি এখানে আছে, তখন এর কোনো গুরুত্বই নেই এবং এটি উল্লেখ করাও সঠিক নয়, "কিন্তু প্রবৃত্তি মানুষকে অন্ধ করে দিয়েছে, ফলে তা আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে।"

এবং তিনি বলেছেন(২): "আমি মুয়াজ ইবনে মুয়াজকে বলতে শুনেছি: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে বলতে শুনেছি: আবু হানিফাকে কুফর থেকে দুইবার তওবা করানো হয়েছে।"

এবং তিনি বলেছেন(৩): "আমি ইয়াহইয়াকে শুনেছি - অর্থাৎ আল-কাত্তান - তার এক প্রতিবেশী তাকে বলছিলেন: আমাদের কাছে আবু ইউসুফ বর্ণনা করেছেন আবু হানিফা থেকে, তিনি জওয়াব আত-তাইমি থেকে। তখন তিনি বললেন: একজন মুরজিআ, আরেকজন মুরজিআ থেকে, সে আরেকজন মুরজিআ থেকে।"

 

‌‌৭ - তার কোমলতা:

ইতিহাস গ্রন্থটি উপস্থাপন করার সময় তার জীবনীর আলোচনায় আমরা যা পেশ করেছি তার অন্যতম শক্তি হলো তার ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করা, আর তা হলো সেই কোমলতা যা আমাদের এই ব্যক্তিত্ব মানুষের নিকট গোপন রাখতে সফল হননি। ফলে তা বিভিন্ন অবস্থায় তার ফুঁপিয়ে কান্না এবং অশ্রু প্রবাহিত হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা ছিল বিভিন্ন মহিমা, অবস্থা ও উদ্ধৃতি দ্বারা তার গভীর ধর্মীয় প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্যে একটি হলো যা ইবনে আবিদ দুনিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং বর্ণনা করে বলেছেন(৪): আবু হাফস আস-সাইরাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, উমর ইবনে যার(৫) যখন তিলাওয়াত করতেন {আর তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলত: আল্লাহ তাকে পুনরুত্থিত করবেন না যে মারা যায়} [নাহল: ৩৮] তখন তিনি বলতেন:

--------------------------------------------

(১) 'আল-কামিল' গ্রন্থে শব্দ বিভ্রাটে "হাদ্দাসানা" (তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) হয়েছে।

(২) তারিখে বাগদাদ: ১৫/ ৫২৪ - ৫২৫।

(৩) তারিখে বাগদাদ: ১৬/ ৩৭৫।

(৪) হুসনুয যাননি বিল্লাহ (দার তাইয়্যেবা): ২৭; নং: ১৫; (মাকতাবাতুল কুরআন সংস্করণ): ২৭ - ২৮; নং: ১৫।

(৫) ইবনে আবিদ দুনিয়া থেকে উদ্ধৃত অনেক বর্ণনাকারী একে "উমর ইবনুল খাত্তাব" হিসেবে উল্লেখ করেছেন; যেমন ইবনে রজব তার রিসালাহসমূহে (৪/ ৩৬৮), তবে বইটির মূল সংস্করণগুলোতে এমনটি নেই। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবু যার আল-হামদানি আল-মুরহিবি আল-কুফি।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৬)
ونحن نقسم بالله جهد أيماننا ليبعث من يموت؛ أتراك تجمع بين [أهل](1) القسمين(2) في دار واحدة(3). قال أبو بكر: وبكى أبو حفص(4) بكاء شديدا». وشدة بكائه هاته تجد تفسيرها في العرق الذي ينزعه إلى جده بحر، وإلى صحبته لأهل الحديث مذ كان حدثا يتردد إلى مجالسهم.

وحضر تلميذه ابن أبي خيثمة موقفا مماثلا - حين ورد الشيخ بغداد آخر عمره وحدث بها عند باب خراسان - فقال: «… فلما أصبحنا، اجتمع عليه الخلق ورقوه سطحا، فكان أول شيء حدثنا به، قال: حدثنا فلان بن فلان منذ سبعين سنة، قال: حدثنا فلان - لصاحبه - منذ سبعين سنة، وأرسل عينيه بالبكاء، وقال: ادعوا الله أن يردني إلى أهلي»(5).

 

‌‌8 - اهتمامه بمسالك الرواية ومخارج الأخبار ودقته في ضبط المتون:

فمنه ما أورده محمد بن عبد السلام بن سعدان في أحاديثه، قال:

«حدثنا يوسف؛ قال: حدثنا محمد بن موسى الحلواني؛ قال: حدثنا عمرو بن علي؛ قال: حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد بن سيرين، عن أنس أنه كان إذا حدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أو كما قال». قال عمرو بن علي: «هذا حديث عبد الرحمن، سمعه أصحاب حماد من عبد الرحمن»»(6). فلم يكتف برواية الحديث عن ابن مهدي، حتى زاد عليه علم أنه عند أصحاب حماد عنه بإفادة عبد الرحمن.

وكان ضابطا لحديث شيوخه، يردهم إلى الجدد إذا وهموا فيه؛ فعنه قال: «نا أبو عاصم، نا عثمان بن الأسود، عن ابن أبي مليكة، «أن

--------------------------------------------

(1) مستدرك عن سير أعلام النبلاء: 6/ 387.

(2) في طبعة مكتبة القرآن: المرأين المقسمين.

(3) قلت: يروى ضريبه أيضا عن عون بن عبد الله كما في حلية الأولياء: 4/ 263.

(4) هو: الفلاس.

(5) تارخ بغداد: 14/ 122 - 123؛ تهذيب الكمال: 10/ 234، رت: 4145.

(6) من أحاديث محمد بن عبد السلام بن سعدان: مكتبة فيض الله، ضمن مجموع 506.

আমরা আল্লাহর নামে আমাদের সর্বোচ্চ দৃঢ়তার সাথে শপথ করি যে, তিনি মৃতদের পুনরুত্থিত করবেন; আপনি কি মনে করেন যে আপনি [উভয়](১) শপথকারীর দলকে(২) এক আবাসে(৩) একত্রিত করবেন? আবু বকর বলেন: আবু হাফস(৪) অত্যন্ত তীব্রভাবে ক্রন্দন করলেন। তাঁর এই ক্রন্দনের তীব্রতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যা তিনি তাঁর পিতামহ বাহরের নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন এবং তাঁর শৈশব থেকেই হাদিস বিশারদদের মজলিসগুলোতে যাতায়াতের মাধ্যমে তাঁদের যে সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন তার মধ্যে।

তাঁর ছাত্র ইবনে আবি খাইসামা অনুরূপ একটি পরিস্থিতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন—যখন শাইখ তাঁর জীবনের শেষ ভাগে বাগদাদে এসেছিলেন এবং খোরাসান তোরণে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন—তিনি বললেন: «... যখন সকাল হলো, সৃষ্টিজগত (মানুষ) তাঁর কাছে একত্রিত হলো এবং তাঁরা তাঁকে একটি ছাদে উঠাল। তিনি আমাদের কাছে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি বর্ণনা করলেন তা হলো, তিনি বললেন: অমুকের পুত্র অমুক সত্তর বছর আগে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: অমুক—তাঁর সাথীর নিকট থেকে—সত্তর বছর আগে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। এরপর তাঁর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমাকে আমার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন»(৫)।

 

‌‌৮ - বর্ণনার পথসমূহ ও সংবাদের উৎসসমূহের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ এবং মতন (মূল পাঠ) সংরক্ষণে তাঁর সূক্ষ্মতা:

এর মধ্যে রয়েছে যা মুহাম্মদ ইবন আবদুস সালাম ইবন সাদান তাঁর হাদিসসমূহে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

«ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন মুসা আল-হালওয়ানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমর ইবন আলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবদুর রহমান ইবন মাহদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবন যায়েদ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন সিরিন থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: "অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন"। আমর ইবন আলি বলেন: "এটি আবদুর রহমানের বর্ণিত হাদিস, হাম্মাদের ছাত্ররা এটি আবদুর রহমানের নিকট থেকে শুনেছেন"»(৬)। তিনি কেবল ইবন মাহদি থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং এর সাথে এই জ্ঞানও যোগ করেছেন যে, এটি আবদুর রহমানের তথ্যমতে হাম্মাদের অন্যান্য ছাত্রদের কাছেও বিদ্যমান।

তিনি তাঁর শাইখদের হাদিসের প্রতি অত্যন্ত সজাগ ছিলেন, তাঁরা যদি কোনো ভ্রান্তিতে পড়তেন তবে তিনি তাঁদের সঠিক পাঠে ফিরিয়ে আনতেন; তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবনুল আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, যে...

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা থেকে সংগৃহীত: ৬/ ৩৮৭।

(২) মাকতাবাতুল কুরআন সংস্করণে রয়েছে: শপথকারী দুই ব্যক্তি।

(৩) আমি বলছি: এর অনুরূপ বর্ণনা আউন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে যেমনটি হিলয়াতুল আউলিয়াতে রয়েছে: ৪/ ২৬৩।

(৪) তিনি হলেন: আল-ফাল্লাস।

(৫) তারিখু বাগদাদ: ১৪/ ১২২-১২৩; তাহজিবুল কামাল: ১০/ ২৩৪, ক্রমিক: ৪১৪৫।

(৬) মুহাম্মদ ইবন আবদুস সালাম ইবন সাদানের হাদিসসমূহ থেকে: ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরি, সংকলন নং ৫০৬ এর অন্তর্ভুক্ত।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوج ميمونة وهو محرم». قال أبو حفص: فلما كان بعد قال: «عن عائشة»؛ فقلت لأبي عاصم: أنت أمللته علينا من الدفتر، وليس فيه عائشة. فقال: دعوا عائشة حتى أنظر فيه!(1). فانظر دقته إذ كان ذاكرا للحديث مستحضرا كيفية تلقيه عن شيخه إملاء.

ومنه أيضا؛ قوله: «سمعت رجلا من أصحابنا ثقة يقول: سمعت يحيى بن سعيد يقول في سجوده: «اللهم اغفر لخالد بن الحارث، ولمعاذ بن معاذ». فذكرته ليحيى، فلم ينكره(2). وفيه أن الفلاس لم يكتف برواية الثقة عن يحيى حتى سمعه منه رأسا، وقد كان في إمكانه مع ذلك إسقاط الواسطة فلم يفعل، فدل على تحريه.

وإنه ليبدو هذا الإمعان في ضبط مخارج الرواية في بعض حكاياته في هذا الجزء؛ كقوله: سمعت رجلا يسأل يحيى عن حديث عبد الله بن السائب، عن زاذان في الأمانة، فقال له يحيى: هو عن سفيان والأعمش؛ فأيهما تريد؟ قال: حديث الأعمش. قال: تريد الاسم! أنا سمعت سفيان يقول: أنا ذهبت بالأعمش إلى عبد الله بن السائب حتى سمعه»(3). فأظهرت حكايته أن سفيانا تقدم الأعمش في تلقيه حديث عبد الله بن السائب، وهو الذي دل الأعمش عليه.

وهذا الضبط والتحري والإدراك هو ما عبر عنه بالبصارة في الحديث، في حكمه النقدي على أبي حذيفة موسى بن مسعود حين قال عنه: «لا يحدث عنه من يبصر الحديث»(4).

 

‌‌9 - وصف آخر مجلس للإملاء عقده الفلاس قبل موته بيوم:

من مخطوط الفوائد المنتخبة والحكايات المستغربة للحافظ ابن يشكوال (ت 578 هـ)؛ قال:

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي: 2/ 12؛ ر: 1028.

(2) العلل: ر: 145.

(3) العلل: ر: 130.

(4) المعلم لابن خلفون: 311؛ ر: 266.

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম অবস্থায় মাইমুনাকে বিয়ে করেছেন।" আবু হাফস বলেন: যখন এর পর তিনি বললেন: "আয়েশা থেকে বর্ণিত"; তখন আমি আবু আসিমকে বললাম: আপনি আপনার খাতা থেকে আমাদের এটি লিখিয়েছেন, অথচ সেখানে আয়েশার উল্লেখ নেই। তখন তিনি বললেন: আয়েশাকে বাদ দাও যতক্ষণ না আমি এটি পুনরায় দেখি!(১)। তার সূক্ষ্মতা লক্ষ্য করুন, কেননা তিনি হাদীসটি স্মরণে রেখেছিলেন এবং তার শাইখের নিকট থেকে এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে গ্রহণের পদ্ধতিটি যথাযথভাবে উপস্থিত রেখেছিলেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে; তার উক্তি: "আমি আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে তার সাজদাহয় বলতে শুনেছি: হে আল্লাহ, আপনি খালিদ ইবনুল হারিস এবং মুয়ায ইবনে মুয়াযকে ক্ষমা করুন।" এরপর আমি ইয়াহইয়ার কাছে এটি উল্লেখ করলাম, তিনি তা অস্বীকার করেননি(২)। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আল-ফাল্লাস ইয়াহইয়া থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বর্ণনার ওপরই তুষ্ট হননি, যতক্ষণ না তিনি স্বয়ং সরাসরি তার থেকে তা শুনেছেন। অথচ তার পক্ষে মধ্যস্থতাকারীকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি, যা তার সত্যানুসন্ধানেরই প্রমাণ দেয়।

বর্ণনার উৎসসমূহ নির্ভুলভাবে সংরক্ষণে এই গভীরতা তার এই অংশের কিছু কাহিনীতে প্রকাশ পায়; যেমন তার উক্তি: আমি এক ব্যক্তিকে ইয়াহইয়াকে আমানত সংক্রান্ত আব্দুল্লাহ ইবনে সায়িবের সূত্রে যাদান থেকে বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তখন ইয়াহইয়া তাকে বললেন: এটি সুফিয়ান এবং আমাশ থেকে বর্ণিত; তুমি কোনটি চাও? সে বলল: আমাশের হাদীসটি। তিনি বললেন: তুমি কি নাম চাচ্ছ! আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: আমিই আমাশকে আব্দুল্লাহ ইবনে সায়িবের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম যাতে সে তার থেকে শুনতে পায়"(৩)। তার এই কাহিনীটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে সায়িবের হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে সুফিয়ান আমাশের অগ্রগামী ছিলেন এবং তিনিই আমাশকে তার পথপ্রদর্শন করেছিলেন।

আর এই নির্ভুলতা, সত্যানুসন্ধান ও প্রজ্ঞা হলো তাই যাকে তিনি হাদীস শাস্ত্রে 'ব্যুৎপত্তি' (বসারাহ) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন, যখন তিনি আবু হুযায়ফা মুসা ইবনে মাসউদের ওপর সমালোচনামূলক রায় দিতে গিয়ে বলেন: "যে ব্যক্তি হাদীসে ব্যুৎপত্তি রাখে, সে তার থেকে বর্ণনা করে না"(৪)।

 

‌‌৯ - মৃত্যুর একদিন পূর্বে আল-ফাল্লাস কর্তৃক আয়োজিত সর্বশেষ শ্রুতিলিখন (ইমলা) মজলিসের বর্ণনা:

হাফেজ ইবনে ইশকুওয়ালের (মৃত্যু ৫৭৮ হিজরী) 'আল-ফাওয়ায়েদ আল-মুনতাখাবাহ ওয়াল হিকায়াত আল-মুসতাগরাবাহ' পাণ্ডুলিপি থেকে; তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আখলাকির রাবি: ২/১২; হা: ১০২৮।

(২) আল-ইলাল: হা: ১৪৫।

(৩) আল-ইলাল: হা: ১৩০।

(৪) আল-মুয়াল্লিম লি ইবনি খালফুন: ৩১১; হা: ২৬৬।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৮)
«قرأت على القاضي الشهيد أبي عبد الله محمد بن أحمد بن خلف حملا له ونقلت من كتابه بخطه؛ قال: نا أبو علي حسين بن محمد الغساني؛ قال: نا أبو عمر النمري؛ قال: حدثنا أبو الوليد عبد الله بن محمد بن يوسف الفرضي؛ قال: نا أبو زكريا العابدي؛ قال: حدثنا أبو قتيبة محمد بن عبد الله بن مخلد الباهلي بالبصرة - في سكة بني وديعة -؛ قال: حدثني سهل بن نوح الجناني المحدث بالبصرة؛ قال: كنت أكتب عن عمرو بن علي الفلاس. قال: وكان يحدثنا في الجامع، فإذا أملى علينا ورقة كأنما قد عمل معنا كبيرا، فلما كان ذات يوم جلس لنا إلى الظهر، ثم قال لنا: من كان عنده بياض وإلا يدع بعض ما عنده عند البقال ويأخذ بياضا، ثم ارجعوا؛ فرجعنا إليه، فأملى علينا إلى العصر، ثم قال: صلوا واجلسوا. فقلت: للشيخ قصة! فجلسنا إلى المغرب، ثم قال للمستملي: قل للناس ينصتوا. فأنصت الناس. ثم قال: رأيت البارحة في المنام رب العزة وهو يقول: اخرج منها في غد بسلام. فلما أن كان في غد جتنا مبادرين وقد توفي رحمه الله»(1).

وفي هذا الخبر على وجازته: إقلال الفلاس في مجالس الإملاء، وأن تلاميذه كانوا يكتبون، وأنهم من الكثرة بحيث احتيج معهم إلى ممل؛ وفيه من المبشرات رؤية الصيرفي رب العزة في المنام، وحديثه إليه، وإعلامه بأن خروجه من الدنيا بسلام، ثم تصديق الرؤيا بموته في الوقت الذي أعلم به.

ومن مرويات الفلاس في آخر سني عمره، ما ساقه الخطيب بسنده إليه؛ قال: قال أبو حفص الفلاس البصري، سنة تسع وأربعين بسر من رأى: «ثنا يحيى بن سعيد القطان، أنا عبد الملك بن جريج، عن عطاء؛ قال: أرسل ابن الزبير إلى عبد الله بن عباس - وكان الذي بينهما حسنا - فقال: إن هذا العيد

--------------------------------------------

(1) نسخة مكتبة الفاتيكان: 36 و.

«আমি শহীদ কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে খালাফের কাছে পাঠ করেছি এবং তাঁর হস্তলিখিত কিতাব থেকে অনুলিপি করেছি; তিনি বলেছেন: আবু আলী হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-গাসসানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: আবু উমর আন-নামারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: আবু আল-ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারাদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেছেন: আবু যাকারিয়া আল-আবিদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেছেন: বসরার বনু ওয়াদিয়া পল্লীতে আবু কুতায়বা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাখলাদ আল-বাহিলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেছেন: বসরার হাদীস বিশারদ সাহল ইবনে নূহ আল-জুনানী আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমি আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাসের নিকট থেকে হাদীস লিখতাম। তিনি বলেন: তিনি আমাদের জামে মসজিদে হাদীস শোনাতেন, যখন তিনি আমাদের একটি পৃষ্ঠা লিখে দিতেন তখন মনে হতো যেন তিনি আমাদের সাথে অনেক বড় কোনো কাজ সম্পন্ন করেছেন। একদিন তিনি যোহর পর্যন্ত আমাদের সাথে বসলেন, এরপর আমাদের বললেন: যার কাছে সাদা কাগজ আছে সে ছাড়া বাকিরা যেন তাদের কিছু আসবাব পসারির কাছে গচ্ছিত রেখে সাদা কাগজ নিয়ে আসে, এরপর ফিরে আসে। অতঃপর আমরা তাঁর কাছে ফিরে এলাম এবং তিনি আছর পর্যন্ত আমাদের হাদীস লিখে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: তোমরা সালাত আদায় করো এবং বসো। আমি মনে মনে বললাম: শায়খের নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো ব্যাপার আছে! সুতরাং আমরা মাগরিব পর্যন্ত বসে রইলাম। এরপর তিনি মুস্তামলীকে (শ্রুতিলিপিকার) বললেন: মানুষকে চুপ থাকতে বলো। মানুষ নিস্তব্ধ হলো। এরপর তিনি বললেন: আমি গত রাতে স্বপ্নে মহান রবকে দেখেছি এবং তিনি বলছেন: আগামীকাল এখান থেকে শান্তিতে প্রস্থান করো। পরদিন যখন আমরা দ্রুত তাঁর কাছে আসলাম, তখন তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন»(১).

এই বিবরণটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এতে রয়েছে: ইলমি মজলিসে আল-ফাল্লাসের স্বল্পতা, তাঁর ছাত্ররা বর্ণনা লিখে নিতেন এবং তাঁদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে তাঁদের জন্য একজন মুস্তামলীর প্রয়োজন হতো। এতে সুসংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো স্বপ্নে আল-সাইরাফীর মহান রবকে দর্শন করা, তাঁর সাথে মহান রবের কথা বলা এবং তাঁকে এই সংবাদ দেওয়া যে দুনিয়া থেকে তাঁর প্রস্থান হবে শান্তিময়। অতঃপর যে সময়ে তাঁকে জানানো হয়েছিল ঠিক সেই সময়ে তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে স্বপ্নের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া।

আল-ফাল্লাসের জীবনের শেষ বছরগুলোর বর্ণনাসমূহের মধ্যে খতীব তাঁর নিজস্ব সনদসহ যা উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: আবু হাফস আল-ফাল্লাস আল-বাসরী ২৪৯ হিজরীতে সামাররায় বলেছেন: «ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন আতা থেকে; তিনি বলেন: ইবনে যুবায়ের আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস—তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল হৃদ্যতাপূর্ণ—এর নিকট সংবাদ পাঠালেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই এই ঈদ...»

--------------------------------------------

(১) ভ্যাটিকান লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি: ৩৬ উ.

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ২৯)
قد حضر؛ فكيف أصنع؟ قال: فأرسل إليه عبد الله بن العباس: «ابدأ بالصلاة قبل الخطبة، ولا تؤذن، ولا تقم»؛ قال: فساء الذي بينهما، فأذن وأقام وخطب قبل الصلاة»(1).

 

‌‌10 - الفلاس في الأراجيز الحديثية التعليمية:

وقفت على أراجيز في أسماء الرجال وضبطها، تسمي الفلاس فيمن تسميه؛ أولها منظومة «القناعة فيمن روى له الجماعة»، لابن بردس البعلبكي (ت 786 هـ)، تاتي - غير مسماة ولا معزوة(2) - أول مجموع رقم 414 بالخزانة الحسنية(3)، بقيت منها 11 ورقة، وهي مرتبة على حروف المعجم، وقد ذهب منها من الحروف إلى حرف العين، وتاريخ نظمها 776 هـ. وذكر الفلاس فيها:

«عمرو بن عثمان بن عفان أتى… والصيرفي عمرو أبو حفص اثبتا»(4)

والرجز الثاني: التبيان لبديعة البيان في وفيات المحدثين الأعيان، لابن ناصر الدين (ت 842 هـ)؛ وفيه:

بعد فتى صباح البزار… وعمرو الفلاس، ذا الخيار(5)

--------------------------------------------

(1) الكفاية: 243.

(2) وليس على النسخة ما يستفاد منه تعيين المؤلف، وهذا إنما وقع لنا من طريق آخر.

(3) رصيد مراكش.

(4) و 4 و. والمنظومة مطبوعة في دار النوادر، ورقم البيت فيها 260.

(5) 2/ 690 - 691؛ ر: 499.

তিনি উপস্থিত হয়েছেন; আমি এখন কী করব? তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তার কাছে লোক পাঠালেন: «খুতবার আগে সালাত শুরু করুন, আযান দেবেন না এবং ইকামতও দেবেন না»; তিনি বললেন: এতে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক তিক্ত হয়ে গেল। ফলে তিনি আযান দিলেন, ইকামত দিলেন এবং সালাতের আগে খুতবা দিলেন»(১).

 

‌‌১০ - হাদিস বিষয়ক শিক্ষামূলক কাব্যসমূহে (আরাজীজ) আল-ফাল্লাস:

আমি রাবীদের নাম এবং সেগুলোর সঠিক উচ্চারণ বিষয়ক কিছু কাব্যগ্রন্থ (আরাজীজ) পেয়েছি, যেগুলোতে অন্যান্যদের সাথে আল-ফাল্লাসের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ইবনে বারদিস আল-বালবাক্কী (মৃত্যু ৭৮৬ হিজরী) রচিত ‘আল-কানাআহ ফীমান রাওয়া লাহু আল-জামাআহ’ নামক কাব্য। এটি আল-খিজানা আল-হাসানিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত ৪১৪ নম্বর সংকলনের শুরুতে অনামী ও অনুল্লিখিত অবস্থায় রয়েছে(২)—যা মাররাকেশ সংগ্রহশালার অন্তর্ভুক্ত(৩)। এর মাত্র ১১টি পৃষ্ঠা অবশিষ্ট আছে। এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো, তবে এর শুরুর অংশ থেকে ‘আইন’ বর্ণ পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। এটি ৭৭৬ হিজরীতে রচিত। তিনি এতে আল-ফাল্লাসের কথা এভাবে উল্লেখ করেছেন:

«আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান এসেছেন… এবং আস-সাইরাফী আমর আবু হাফস সুপ্রতিষ্ঠিত»(৪)

দ্বিতীয় কাব্যটি হলো: ইবনে নাসির আদ-দীন (মৃত্যু ৮৪২ হিজরী) রচিত ‘আত-তিবইয়ান লি-বাদীআত আল-বায়ান ফী ওয়াফাইয়াত আল-মুহাদ্দিসীন আল-আইয়ান’; এতে রয়েছে:

সাব্বাহ আল-বায্যারের পর… এবং আমর আল-ফাল্লাস, যিনি মনোনীত(৫)

--------------------------------------------

(১) আল-কিফায়াহ: ২৪৩।

(২) পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু নেই যা থেকে লেখককে চিহ্নিত করা যায়, এটি অন্য একটি মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

(৩) মাররাকেশ সংগ্রহশালা।

(৪) ৪ নং পৃষ্ঠা। কাব্যটি দারুন নাওয়াদির থেকে মুদ্রিত হয়েছে এবং এতে পঙক্তি নম্বর ২৬০।

(৫) ২/ ৬৯০ - ৬৯১; দ্রষ্টব্য: ৪৯৯।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩০)
من التبيان؛ نسخة الإسكوريال رقم 1861: 84 ظ.

والثالث: منظومة لأبي العرفان محمد بن علي الصبان (ت 1206 هـ) في ضبط رجال البخاري ومسلم والموطأ: نسخة المكتبة الأزهرية رقم 23: و 60 و. وفيها:

فهد بفتح، ثم فلاس تشد… بالفتح فالسكون، فروي ورد

 

‌‌11 - ثناء الأئمة عليه:

- ابن ناصر الدين (ت 842 هـ): كان لهذا الشأن أحد الفرسان، ومن الثقات المتقنين، والحفاظ الناقدين(1).

--------------------------------------------

(1) بديعية التبيان: 2/ 691.

আত-তিবইয়ান থেকে; এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি নং ১৮৬১: ৮৪ পৃষ্ঠার উল্টো পিঠ।

এবং তৃতীয়টি: বুখারি, মুসলিম এবং মুওয়াত্তার বর্ণনাকারীদের নাম নির্ভুলভাবে নির্ধারণে আবুল ইরফান মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাব্বানের (মৃত্যু ১২০৬ হি.) একটি কাব্যগ্রন্থ: আল-আজহারিয়া লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি নং ২৩: পৃষ্ঠা ৬০। এবং এতে রয়েছে:

ফাতহা সহকারে 'ফাহদ', অতঃপর তাশদীদ সহ 'ফাল্লাস'... ফাতহা ও সুকুন সহকারে, যা বর্ণিত ও উল্লেখিত হয়েছে

 

‌‌১১ - তাঁর প্রতি ইমামগণের প্রশংসা:

- ইবনে নাসিরুদ্দিন (মৃত্যু ৮৪২ হি.): তিনি এই শাস্ত্রের (হাদিস শাস্ত্রের) অন্যতম পারদর্শী অশ্বারোহী, নির্ভরযোগ্য ও সুদক্ষ ব্যক্তিত্ব এবং সমালোচক হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন(১).

--------------------------------------------

(১) বদিইয়াতুত তিবইয়ান: ২/৬৯১।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩১)
- الداودي (ت 945 هـ): الحافظ الإمام… أحد الأئمة الأعلام… أكثر وأتقن وجود وأحسن(1).

- محمد بن عبد الرحمن، ابن الغزي (ت 1167 هـ): الإمام الحافظ العلم الشيخ… صاحب الجرح والتعديل(2).

--------------------------------------------

(1) طبقات المفسرين: 2/ 19 - 20؛ ر: 395.

(2) ديوان الإسلام: 3/ 425 - 426؛ ر: 1628.

- দাওউদী (মৃ. ৯৪৫ হি.): হাফিজ, ইমাম… প্রখ্যাত ইমামগণের অন্যতম… তিনি অধিক লিখেছেন, সুনিপুণ করেছেন, উৎকর্ষ দান করেছেন এবং সুন্দর করেছেন(১)।

- মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান, ইবনুল গাজ্জি (মৃ. ১১৬৭ হি.): ইমাম, হাফিজ, প্রথিতযশা শায়খ… আল-জারহ ওয়াত-তাদিল বিশেষজ্ঞ(২)।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল মুফাসসিরিন: ২/ ১৯ - ২০; ক্রম: ৩৯৫।

(২) দিওয়ানুল ইসলাম: ৩/ ৪২৫ - ৪২৬; ক্রম: ১৬২৮।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌لمحات عن الكتاب ومنهجه

‌‌1 - هل هذا هو كتاب الضعفاء؟

من محاذير ذكر الضعفاء في عنوان كتابنا هذا أن المجتزئ به دون بقية كتب المؤلف قد يتوهمه المذكور كثيرا في تضاعيف كتب الرجال باسم «الضعفاء» أو «تضعيف الرجال»، وهو ما تفيده أيضا عبارة ابن خلفون الأونبي: «وله كتاب في الضعفاء من أهل البصرة»(1)، مع أن المغايرة بين كتابي العلل والضعفاء متحققة، وأدنى ما يكفي في إثباتها أن الخطيب البغدادي تملك الكتابين معا وورد بهما دمشق، وسماهما دون أن ينسقهما معا، بل ذكر الثاني متراخيا عن الأول بعنوانين(2)، فلعل كتاب الضعفاء أشمل من كتابنا الذي قصره الفلاس على ثقات وضعفاء أهل البصرة، منضافا إلى ذكر قضايا عللية؛ فليس مخلصا للضعفاء، بدليل أن كثيرا من كلام الصيرفي في ضعفة الرواة لا يتضمنه الجزء الذي بين يديك. فضلا عن أن أقوال الفلاس المنقولة عنه خارج كتابي التاريخ والعلل، أكثر دلالة على شخصيته في الجرح والتعديل، وهي أطول نفسا وأوسع مدى في تحرره الظاهري من النقل، وهجومه على النقد، بخلاف ما في كتاب العلل، فإنه استمسك بعصم الرواية عن شيوخه فحسب، التزاما بشرطه الذي بسطه في عنوان الكتاب الطويل، وهو الاحتكام إلى أقوال مشايخ البصرة.

ويزيد دلالة على تمام المغايرة بين الوضعين، ميز ابن خير الإشبيلي (ت 575 هـ) بينهما؛ وإدلاؤه إليهما بسندين متباينين؛ فقال عن تضعيف الرجال:

--------------------------------------------

(1) المعلم: 440؛ ر: 372.

(2) تسمية ما ورد به الخطيب دمشق من الكتب من روايته: 291.

‌‌গ্রন্থ এবং এর পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত

‌‌১ - এটি কি কিতাবুল দুআফা?

আমাদের এই গ্রন্থের শিরোনামে 'দুআফা' (দুর্বল বর্ণনাকারী) উল্লেখ করার একটি ঝুঁকি হলো, লেখকের অন্যান্য গ্রন্থ বাদ দিয়ে যারা কেবল এই অংশটি গ্রহণ করবেন, তারা হয়তো রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে 'আদ-দুআফা' বা 'তাদঈফুর রিজাল' নামে বারবার উল্লিখিত গ্রন্থের সাথে এটিকে গুলিয়ে ফেলতে পারেন। ইবনে খালফুন আল-আওনাবীর এই উক্তিটিও একই অর্থ প্রদান করে: "বসরাবাসীদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের নিয়ে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে"(১)। অথচ 'ইলাল' এবং 'দুআফা' গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে যে ভিন্নতা রয়েছে তা সুপ্রতিষ্ঠিত। এটি প্রমাণের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, খতীব বাগদাদী একই সাথে উভয় গ্রন্থের মালিক ছিলেন এবং তিনি সেগুলো নিয়ে দামেস্কে এসেছিলেন। তিনি গ্রন্থ দুটির নাম উল্লেখ করেছেন সেগুলোকে একত্রে না মিলিয়েই; বরং প্রথমটির থেকে দ্বিতীয়টিকে পৃথক করে দুটি ভিন্ন শিরোনামে উল্লেখ করেছেন(২)। সম্ভবত 'কিতাবুল দুআফা' আমাদের এই গ্রন্থের চেয়ে বেশি ব্যাপক, যেটিকে ফাল্লাস কেবল বসরার নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, সাথে ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সংক্রান্ত বিষয়াবলীও যুক্ত করেছেন। সুতরাং এটি কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীদের জন্য নিবেদিত নয়; এর প্রমাণ হলো বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা সম্পর্কে সাইরাফীর অনেক বক্তব্য আপনার হাতে থাকা এই খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত নেই। এছাড়া 'তারিখ' এবং 'ইলাল' গ্রন্থের বাইরে ফাল্লাসের যে উদ্ধৃতিগুলো বর্ণিত হয়েছে, তা জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার) বিষয়ে তার ব্যক্তিত্বকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। সেগুলো বর্ণনার গণ্ডি থেকে তার আপাত মুক্তি এবং সমালোচনায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর দীর্ঘ ও বিস্তৃত। 'কিতাবুল ইলাল'-এর বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ সেখানে তিনি কেবল তার শিক্ষকদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার রজ্জুই আঁকড়ে ধরেছেন। তিনি তার গ্রন্থের দীর্ঘ শিরোনামে যে শর্তটি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তা পালনের উদ্দেশ্যেই এমনটি করেছেন; আর সেই শর্তটি হলো বসরার মাশায়েখদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে বিচার করা।

উভয় রচনার মধ্যে যে পূর্ণ পার্থক্য বিদ্যমান, তার প্রমাণ আরও বৃদ্ধি পায় ইবনে খাইর আল-ইশবিলীর (মৃত্যু ৫৭৫ হিজরী) বক্তব্যের মাধ্যমে; তিনি এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং দুটি ভিন্ন সনদে এগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি 'তাদঈফুর রিজাল' সম্পর্কে বলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-মুআল্লিম: ৪৪০; র: ৩৭২।

(২) খতীব দামেস্কে যেসব কিতাব নিয়ে এসেছিলেন সেগুলোর নামকরণ: ২৯১।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
إنه جزء صغير، وزاد: «حدثني به أبو محمد بن عتاب رحمه الله عن أبي عمر ابن عبد البر الحافظ، عن أبي الوليد ابن الفرضي؛ قال: حدثنا محمد بن محمد بن أبي دليم، وأحمد بن عبد الله بن عبد الرحيم؛ قالا: حدثنا محمد بن قاسم؛ قال: حدثنا محمد بن أحمد بن زهير بن حرب؛ عن أبي حفص الفلاس رحمه الله»(1).

 

‌‌2 - من قضايا العنوان:

‌‌أ - اسم الكتاب:

إن عاكسنا الحظ في العثور على العنوان التام لكتاب التاريخ - وقد رجحنا أنه مفصل طويل(2) -، فقد أسعفنا في هذا الجزء، فأعثرنا على التسمية مبسوطة مفصلة: «كتاب فيه: علل الحديث ومعرفة الفقهاء الثقات من الضعاف، مما اجتمع عليه العلماء من أهل البصرة»(3). ولنا عليه ملاحظات نبديها ولا نبتديها، وننشئ الإشارة إليها دون إيغال، فرارا من خلاصات جازمة تستلزم استقراء المثل واطرادها وإدمان النظر فيها، وهو قصد مباين لما نؤم إليه، من تيسير النص للذكر، وتوطئة أكنافه لمريده.

--------------------------------------------

(1) فهرسة ابن خير: 265؛ ر: 360./

(2) ن: تقديمنا لكتاب التاريخ: 94.

(3) النسخة الخطية: 46 و.

এটি একটি ক্ষুদ্র খণ্ড, এবং তিনি আরও বলেন: «আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) হাফেজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার থেকে, তিনি আবু আল-ওয়ালিদ ইবনুল ফারাজি থেকে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি দুলাইম এবং আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ বিন কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুহাইর বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আবু হাফস আল-ফাল্লাস (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে»(১).

 

‌‌২ - শিরোনাম সংক্রান্ত কতিপয় বিষয়:

‌‌ক - গ্রন্থের নাম:

যদিও 'কিতাবুত তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ)-এর পূর্ণ শিরোনাম খুঁজে পেতে ভাগ্য আমাদের সহায় হয়নি — এবং আমরা এটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত হওয়ার মত পোষণ করেছি(২) — তবুও এই খণ্ডটি আমাদের সাহায্য করেছে, ফলে আমরা এর বিস্তারিত ও সুবিন্যস্ত নামকরণ খুঁজে পেয়েছি: «এমন একটি কিতাব যাতে রয়েছে: হাদিসের ত্রুটিসমূহ এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ফকিহগণের পরিচিতি, যে বিষয়ে বসরাবাসী আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন»(৩)। এর ওপর আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা আমরা পেশ করছি কিন্তু আমরাই এর সূচনাকারী নই, এবং আমরা গভীরে না গিয়ে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করছি; যাতে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে হয় যার জন্য সদৃশ বিষয়গুলোর পর্যালোচনামূলক গবেষণা, সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দীর্ঘকাল ব্যাপী গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। আর এটি আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যের বিপরীত, যা হলো পাঠকদের জন্য মূল পাঠ্যটি সহজবোধ্য করা এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এর প্রাঙ্গণকে সুগম করা।

--------------------------------------------

(১) ইবনে খায়েরের ফেহরাসত: ২৬৫; র: ৩৬০।/

(২) কিতাবুত তারিখের প্রতি আমাদের ভূমিকা: ৯৪।

(৩) পাণ্ডুলিপি: ৪৬ ও।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ومن تلك الملاحظات:

 

‌‌ب - ذكر الفقاهة في الحديث:

وقع في هذا الجزء ما يشفع لتسمية الفقهاء في العنوان؛ فعن حذيفة بن أسيد قال: «لقد رأيت أبا بكر وعمر، وما يضحيان؛ إرادة أن يستن بهما. ثم أتيتكم فحملتموني على الجفاء بعدما فقهت السنة»(1). وأورد العبارة للتمثيل مجردة عن العزو، أبو علي الفارسي في الحجة(2) عند قوله تعالى: {ولا يكادون يفقهون قولا} [الكهف: 93]. وجميع من روى كلام أبي سريحة قال: «علمت السنة»، ولم يتابع أيهم الفلاس على «فقهت» - فهي من أفراده - ولكنها دالة وأقوم من أختها؛ وفيها ظهور مبكر لمصطلح «فقه السنة».

ويظهر أن التقارب بين المحدث والفقيه كان شديدا لحد التباسهما، فلا يذكر الأول في طبقات الرجال إلا ذكر الثاني مثلما عند ابن سعد وابن خياط وابن زنجويه في مسارد طبقاتهم، ولعل صاحبنا جرى على هذا السبيل أيضا، فلذلك أفرد في التاريخ بابا لذكر من مات من أهل البصرة من الفقهاء(3)، غالب من سموا في تضاعيفه من أهل الحديث، وقال في خبر آخر(4): سمعت أزهر السمان يقول: قدم علينا محمد بن عمرو، فما تخلف عنه أحد، وما سمعت منه حرفا. ورأيت كبار أصحاب الحديث؛ رأيت حماد بن سلمة، وحماد بن زيد، وفقهاء البصرة ومشيخة البصرة عنده.

ثم إن وجاهة ذكر الفقهاء في عنوان الكتاب، تتأسس على أن في الجزء مسائل فقهية ليحيى وقضايا تتعلق بأحاديث تروج عند الفقهاء دون غيرهم، كما يعلم بتصفحه.

--------------------------------------------

(1) العلل: رقم 73.

(2) الحجة: 5/ 172.

(3) 282

(4) 268

এবং সেই পর্যবেক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌খ - হাদীসের ক্ষেত্রে ফিকহ বা প্রজ্ঞার উল্লেখ:

এই খণ্ডে এমন কিছু বিষয় এসেছে যা শিরোনামে ফকীহগণের নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করে; হুযাইফা বিন আসীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি আবু বকর ও উমরকে দেখেছি যে তারা কুরবানী করতেন না; এই উদ্দেশ্যে যেন মানুষ তাদের অনুসরণ না করে (একে আবশ্যক মনে না করে)। অতঃপর আমি তোমাদের নিকট আসলাম এবং তোমরা আমাকে রূঢ় আচরণের দিকে ঠেলে দিলে যখন আমি সুন্নাহর মর্ম অনুধাবন (ফাকাহাত) করেছি»(১)। আবু আলী আল-ফারিসি ‘আল-হুজ্জাহ’(২) গ্রন্থে মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: {তারা কোনো কথা বুঝতেই পারত না} [সূরা কাহাফ: ৯৩]—বক্তব্যটি কোনো সূত্র উল্লেখ ছাড়াই উদাহরণস্বরূপ পেশ করেছেন। আবু সারীহার কথা যারা বর্ণনা করেছেন তারা সবাই বলেছেন: «আমি সুন্নাহ জেনেছি», আল-ফাল্লাসকে তাদের কেউই «আমি অনুধাবন করেছি (ফাকাহাত)» শব্দে অনুসরণ করেননি—এটি তার একক বর্ণনা—তবে এটি অর্থবহ এবং এর সমার্থক শব্দের চেয়ে অধিক সুদৃঢ়; এবং এর মধ্যে ‘ফিকহুস সুন্নাহ’ পরিভাষার প্রাথমিক প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।

এবং এটা প্রতীয়মান হয় যে, মুহাদ্দিস এবং ফকীহর মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা এতটাই প্রবল ছিল যে তারা প্রায় একীভূত হয়ে যেতেন। তাই রিজাল শাস্ত্রের তবাকাত (স্তরবিন্যাস) গ্রন্থগুলোতে প্রথমটির (মুহাদ্দিস) উল্লেখ থাকলে দ্বিতীয়টিরও (ফকীহ) উল্লেখ থাকত, যেমনটি ইবনে সাদ, ইবনে খইয়াত এবং ইবনে যানজাওয়াইহ-এর তবাকাত সমূহের তালিকায় দেখা যায়। সম্ভবত আমাদের গ্রন্থকারও এই পথই অনুসরণ করেছেন, তাই তিনি ইতিহাসে বসরার অধিবাসী ফকীহগণের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আলোচনার জন্য একটি আলাদা অধ্যায়(৩) বরাদ্দ করেছেন, যেখানে যাদের নাম উল্লেখিত হয়েছে তাদের অধিকাংশই হাদীস বিশারদদের (আহলুল হাদীস) অন্তর্ভুক্ত। তিনি অন্য এক বর্ণনায়(৪) বলেছেন: আমি আযহার আস-সাম্মানকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মাদ ইবন আমর আমাদের নিকট আসলেন, তখন কেউ তার থেকে অনুপস্থিত থাকেনি, অথচ আমি তার থেকে একটি বর্ণও শুনিনি। আমি হাদীসের বড় বড় ইমামদের দেখেছি; আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং বসরার ফকীহ ও বসরার শায়খদের তার নিকট উপস্থিত দেখেছি।

তদুপরি, বইয়ের শিরোনামে ফকীহগণের উল্লেখের যৌক্তিকতা এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, এই খণ্ডে ইয়াহইয়ার কিছু ফিকহী মাসআলা এবং এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা অন্যদের তুলনায় ফকীহদের নিকট অধিক প্রচলিত হাদীসসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বইটি পাঠ করলেই জানা যায়।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাল: নম্বর ৭৩।

(২) আল-হুজ্জাহ: ৫/ ১৭২।

(৩) ২৮২

(৪) ২৬৮

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌ج - البعد البلداني في التصنيف:

هذا أول كتاب يصلنا يختص بنقود أهل الرواية من طريق مشايخ البصريين، وقد تلته كتب بمعنى أعم لم تصلنا؛ منها أخبار البصرة، لعمر بن شبة(1)، وابن أبي خيثمة(2)، ولا يظن بهاته أن تكون مقصورة على تبيان أقوال علماء البصرة دون غيرهم. وفي هذا الإفراد على هذا الوجه ترفيع من المؤلف ببلده، وإعلاء لشأو مشايخه، وإقرار منه لسدنة علم الحديث منهم؛ أعني: شعبة ويحيى وعبد الرحمن.

وقد عرف البصريون بالتحرز في الرواية وتحري الألفاظ، حتى قال الإمام أحمد: «ما رأيت قوما سود الرؤوس في هذا الشأن مثل أهل البصرة - يعني: الحديث والألفاظ -، كأنهم تعلموه من شعبة»(3)، وقد أدرك هذا الأمر كبار النقدة كابن المبارك، فقد قال له ابن مهدي: «أهل الكوفة ليس يبصرون الحديث. فقال: كيف؟!». ثم لقيه بعد ذلك، فقال له: «وجدت الأمر على ما قلت». وعلله أبو عبد الله بأنهم كانوا يسألونه عن رأي حماد والزهري، وأحاديث الصغار(4).

والملاحظ أن أبا حفص يقصد بالبصريين من كان من البصرة أصالة أو ورد عليها أو مات بها ممن ليس من أهلها صليبة، فيقع له تسامح في تعيين البصريين، بوقوع اسمهم على الكوفيين والمؤصليين وغيرهم من الطارئين على البصرة وما صاقبها. فقد أورد خبرا عن المغيرة بن زياد(5)، وهذا مؤصلي وكذلك ذكر أبا معشر نجيح بن عبد الرحمن السندي، وهو مدني(6). وإسماعيل المكي(7)، لكنه بصري الأصل، وإنما يقال له المكي؛ لأنه سكن مكة(8). وذكر

--------------------------------------------

(1) الإنابة لمغلطاي: 1/ 362.

(2) الإنابة: 1/ 56.

(3) سؤالات أبي داود: 200؛ ر: 140.

(4) سؤالات أبي داود: 201؛ ر: 142.

(5) العلل: ر: 222.

(6) العلل: ر: 258.

(7) العلل: ر: 223.

(8) سؤالات أبي داود: 172؛ ر: 28.

গ - গ্রন্থ সংকলনে আঞ্চলিক মাত্রা:

এটি আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম গ্রন্থ যা বসরার মাশায়েখদের (শিক্ষকগণের) সূত্রে বর্ণিত হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট। এরপর আরও ব্যাপক অর্থবোধক কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি; তার মধ্যে উমর ইবনে শাব্বাহ(১) এবং ইবনে আবি খাইসামার(২) 'আখবারুল বসরা' (বসরার ইতিবৃত্ত) অন্যতম। এই গ্রন্থগুলো কেবল বসরার ওলামাদের বক্তব্য বর্ণনার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে ধারণা করা হয় না। এভাবে এককভাবে (বসরাকে) প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে লেখক নিজ শহরকে সম্মানিত করেছেন, নিজ শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে হাদিস শাস্ত্রের রক্ষকদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন; আমি বুঝাতে চাচ্ছি: শু'বাহ, ইয়াহইয়া এবং আব্দুর রহমান।

বসরার অধিবাসীগণ বর্ণনা গ্রহণে সতর্কতা এবং শব্দ চয়নে সূক্ষ্মতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এমনকি ইমাম আহমাদ বলেছেন: «আমি এই শাস্ত্রে—অর্থাৎ হাদিস এবং এর শব্দ চয়নে—বসরার অধিবাসীদের মতো বিচক্ষণ কোনো জাতি দেখিনি; যেন তারা এটি শু'বাহর কাছ থেকে শিখেছেন»(৩)। ইবনুল মুবারকের মতো বড় বড় সমালোচকগণ এই বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। ইবনে মাহদী তাকে বলেছিলেন: «কুফার অধিবাসীদের হাদিস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কীভাবে?!»। এরপর পরবর্তী সময়ে তিনি তার সাথে দেখা করে তাকে বললেন: «আমি বিষয়টি আপনার বর্ণনামতোই পেয়েছি»। আবু আব্দুল্লাহ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তারা তাকে হাম্মাদ ও যুহরীর মতামত এবং কনিষ্ঠ বর্ণনাকারীদের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন(৪)।

লক্ষ্যণীয় যে, আবু হাফস 'বসরী' বলতে তাদের বুঝিয়েছেন যারা মূলত বসরার অধিবাসী ছিলেন, অথবা যারা সেখানে আগমন করেছিলেন কিংবা সেখানে মৃত্যুবরণ করেছিলেন অথচ পৈতৃক সূত্রে বসরার অধিবাসী ছিলেন না। তাই বসরী নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন; ফলে কুফী, মসূলী এবং বসরা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আগত অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও এই নামটি ব্যবহার করেছেন। যেমন তিনি মুগীরা ইবনে যিয়াদ(৫) থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন মসূলের অধিবাসী। একইভাবে তিনি আবু মা'শার নাজ্বীহ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সিনদীকে উল্লেখ করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন মদিনাবাসী(৬)। এছাড়া ইসমাইল আল-মাক্কীকে(৭) উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি মূলে বসরার অধিবাসী ছিলেন, কিন্তু মক্কায় বসবাস করার কারণে তাকে মাক্কী বলা হয়(৮)। এবং তিনি উল্লেখ করেছেন

--------------------------------------------

(১) আল-ইনাবাহ লি-মুগলতায়: ১/ ৩৬২।

(২) আল-ইনাবাহ: ১/ ৫৬।

(৩) সুয়ালাত আবু দাউদ: ২০০; নং: ১৪০।

(৪) সুয়ালাত আবু দাউদ: ২০১; নং: ১৪২।

(৫) আল-ইলাল: নং: ২২২।

(৬) আল-ইলাল: নং: ২৫৮।

(৭) আল-ইলাল: নং: ২২৩।

(৮) সুয়ালাত আবু দাউদ: ১৭২; নং: ২৮।

(খণ্ড: ১) ইলালুল হাদীস - আল-ফাল্লাস (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عبد الكريم المعلم(1)، وهذا وإن كان بصريا؛ فقد نزح إلى مكة(2).

والظاهر أنه يدخل في هذا الاختصاص المكاني الرواة المنقودون والنقدة المفيدون، ولذلك لا يذكر من الرواة غير البصريين، فإن ذكرهم فعرضا في سياق اقترانهم بالغير؛ كذكره لعبد الكريم الجزري، في قوله: «وكان يحيى وعبد الرحمن، لا يحدثان عن عبد الرحمن بن زياد بن أنعم(3).

وقد نقل المؤلف عن مشايخه البصريين، يحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي، ومعاذ بن معاذ العنبري، وسليمان بن داود الطيالسي، وأمية بن خالد، وعفان بن مسلم، وسلم بن قتيبة، ويزيد بن زريع، وعبد الأعلى بن عبد الأعلى السامي، ومحمد بن جعفر غندر، وإبراهيم بن عرعرة، وعبد الله بن سلمة الأفطس، والضحاك بن مخلد، وزياد بن الربيع، ومحمد بن أبي عدي، وميمون بن زيد العدوي، وهشام بن عبد الملك الطيالسي، وبشر بن المفضل الرقاشي، وأزهر بن سعد السمان، وعبد الوهاب بن عبد المجيد الثقفي، ومعتمر بن سليمان التيمي، وصفوان بن عيسى الزهري، وعبيد الله بن عبد المجيد الحنفي، وحاتم بن وردان، وحيان بن عبد الله الدارمي، ومعاذ بن هشام الدستوائي… فهؤلاء ستة وعشرون شيخا من مشايخ أهل البصرة، لم يسم من غيرهم سوى خمسة: حسين بن حفص الأصبهاني، وعبد الله بن نمير الكوفي، ومحمد بن خازم الكوفي، ووكيع بن الجراح الرؤاسي الكوفي، ويزيد بن هارون الواسطي.

ومما مر نفهم مقصود المؤلف من عبارته: مما اجتمع عليه العلماء من أهل البصرة»، ومع ذلك ففيها تسامح ولا شك؛ لأن عمدة المؤلف هما شيخاه يحيى وعبد الرحمن، ونصيبهما من مرويات الكتاب كبير راجح لا يقاربه نصيب آخر، فالاعتبار أغلبي.

--------------------------------------------

(1) العلل: 232.

(2) سؤالات أبي داود: 191؛ ر: 111.

(3) العلل: ر: 219.

আব্দুল কারিম আল-মুআল্লিম(১), আর তিনি যদিও বসরাবাসী ছিলেন; তবে তিনি মক্কায় চলে গিয়েছিলেন(২)।

প্রকাশ্যত মনে হয় যে, এই স্থানিক বিশেষত্বের মধ্যে সমালোচিত বর্ণনাকারী এবং উপকারী সমালোচকগণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই কারণে তিনি বসরাবাসী ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেন না; যদি তাদের উল্লেখ করেনও, তবে তা অন্যের সাথে সংশ্লিষ্টতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিকক্রমে করেন; যেমন আব্দুল কারিম আল-জাজারী সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন: «ইয়াহইয়া এবং আব্দুর রহমান, তাঁরা দুজনে আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আন’আম থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না(৩)।

লেখক তাঁর বসরাবাসী উস্তাদদের থেকে বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, মুআয ইবনে মুআয আল-আনবারী, সুলাইমান ইবনে দাঊদ আত-তায়ালিসি, উমাইয়া ইবনে খালিদ, আফফান ইবনে মুসলিম, সালাম ইবনে কুতাইবা, ইয়াযিদ ইবনে যুরাই’, আব্দুল আ’লা ইবনে আব্দুল আ’লা আস-সামি, মুহাম্মদ ইবনে জা’ফর গুন্দার, ইবরাহীম ইবনে আরআরাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-আফতাস, আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ, যিয়াদ ইবনে আর-রাবী’, মুহাম্মদ ইবনে আবি আদী, মাইমুন ইবনে যাইদ আল-আদাউই, হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক আত-তায়ালিসি, বিশর ইবনে আল-মুফাদদাল আর-রাক্কাশি, আযহার ইবনে সা’দ আস-সাম্মান, আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল মাজিদ আস-সাকাফি, মু’তামির ইবনে সুলাইমান আত-তাইমি, সাফওয়ান ইবনে ঈসা আজ-জুহরি, উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মাজিদ আল-হানাফি, হাতিম ইবনে ওয়ারদান, হাইয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দারিমি এবং মুআয ইবনে হিশাম আদ-দুস্তুওয়ায়ি… এঁরা হলেন বসরার অধিবাসী উস্তাদদের মধ্য থেকে ছাব্বিশ জন উস্তাদ। তিনি অন্য অঞ্চল থেকে কেবল পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেছেন: হুসাইন ইবনে হাফস আল-আসফাহানি, আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর আল-কুফি, মুহাম্মদ ইবনে খাযিম আল-কুফি, ওয়াকি’ ইবনে আল-জাররাহ আর-রুআসি আল-কুফি এবং ইয়াযিদ ইবনে হারুন আল-ওয়াসিতি।

পূর্বের আলোচনা থেকে আমরা লেখকের এই উক্তির উদ্দেশ্য বুঝতে পারি: «বসরার আলেমগণ যা কিছুর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন», তা সত্ত্বেও এতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ লেখকের মূল ভিত্তি হলেন তাঁর দুই উস্তাদ ইয়াহইয়া এবং আব্দুর রহমান। কিতাবটিতে তাঁদের বর্ণিত বর্ণনার অংশ এতই বেশি যে অন্য কোনো অংশের সাথে তার তুলনা চলে না, তাই এখানে সংখ্যাধিক্যকেই বিবেচনা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাল: ২৩২।

(২) সুয়ালাত আবি দাউদ: ১৯১; নং: ১১১।

(৩) আল-ইলাল: নং: ২১৯।