(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: -)
اختلاف أبي حنيفة وابن أبي ليلى القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: اختلاف أبي حنيفة وابن أبي ليلى
المؤلف: أبو يوسف يعقوب بن إبراهيم الأنصاري (ت 182 هـ)
عني بتصحيحه والتعليق عليه: أبو الوفا الأفغاني، المدرس بالمدرسة النظامية بالهند [ت 1395 هـ]
عني بنشره: لجنة إحياء المعارف النعمانية، بحيدر آباد الدكن بالهند
أشرف على طبعه: رضوان محمد رضوان، وكيل لجنة إحياء المعارف النعمانية بمصر
الناشر: مطبعة الوفاء
الطبعة: الأولى، 1357 هـ
عدد الصفحات: 226
إهداء من دار الفلاح للبحث العلمي وتحقيق التراث الإسلامي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433
আবু হানিফা ও ইবনে আবি লায়লার মতভেদ বিভাগ: হানাফি ফিকহ
বই: আবু হানিফা ও ইবনে আবি লায়লার মতভেদ
লেখক: আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আল-আনসারি (মৃত্যু ১৮২ হিজরি)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: আবুল ওয়াফা আল-আফগানি, ভারতের মাদরাসা নিজামিয়ার শিক্ষক [মৃত্যু ১৩৯৫ হিজরি]
প্রকাশনা তত্ত্বাবধানে: লাজনা ইহইয়াইল মাআরিফ আন-নুমানিয়া, হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য, ভারত
মুদ্রণ তত্ত্বাবধান: রিদওয়ান মুহাম্মদ রিদওয়ান, মিশরে লাজনা ইহইয়াইল মাআরিফ আন-নুমানিয়ার প্রতিনিধি
প্রকাশক: মাতবাআতুল ওয়াফা
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৫৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৬
দারুল ফালাহ লুল বুহুসিল ইলমিয়া ওয়া তাহকিকিত তুরাসিল ইসলামি-এর পক্ষ থেকে উপহার
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: -)
اختلاف أبي حَنيفة وابن أبي ليلى
للإمام أبي يوسف يعقوب بن إبراهيم الأنصاري
المتوفى سنة 182 من الهجرة
عنى بتصحيحه والتعليق عليه
أبو الوفا الأفغاني
المدرس بالمدرسة النظامية بالهند
عنيت بنشره لجنة إحياء المعارف النعمانية
بحيدر آباد الدكن بالهند
الطبعة الأولى: حق النشر والنقل محفوظ
أشرف على طبعه
رضوان محمد رضوان
وكيل لجنة إحياء المعارف النعمانية بمصر
مطبعة الوفاء
1357
আবু হানিফা এবং ইবনে আবি লায়লার মধ্যে মতপার্থক্য
ইমাম আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আল-আনসারী কৃত
মৃত্যু হিজরী ১৮২ সন
সংশোধন এবং টীকা প্রদানে যত্নবান হয়েছেন
আবু আল-ওয়াফা আল-আফগানী
ভারতের মাদ্রাসা নিজামিয়ার শিক্ষক
প্রকাশের যত্ন নিয়েছে লাজনাতু ইহয়াইল মা’আরিফ আন-নু’মানিয়্যাহ
হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য, ভারত
প্রথম সংস্করণ: প্রকাশ ও উদ্ধৃতি প্রদানের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
মুদ্রণ তত্ত্বাবধানে ছিলেন
রেদওয়ান মুহাম্মদ রেদওয়ান
মিশরে লাজনাতু ইহয়াইল মা’আরিফ আন-নু’মানিয়্যাহর প্রতিনিধি
আল-ওয়াফা প্রেস
১৩৫৭
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال محمد بن الحسن عن أبي يوسف قال: إذا أسلم الرجل إلى الخياط ثوبا فخاطه قباء فقال رب الثوب: أمرتك بقميص، وقال الخياط: أمرتني بقباء، فإن أبا حنيفة رضى الله عنه كان يقول: القول قول رب الثوب ويضمن الخياط قيمة الثوب. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি দর্জির নিকট একটি কাপড় অর্পণ করে এবং সে তা ক্ববা হিসেবে সেলাই করে, অতঃপর কাপড়ের মালিক বলে: আমি তোমাকে কামিজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলাম, আর দর্জি বলে: আপনি আমাকে ক্ববা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন; এমতাবস্থায় ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: বক্তব্য কাপড়ের মালিকেরটাই গ্রহণযোগ্য হবে এবং দর্জি কাপড়ের মূল্যের ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। আমরা এটিই গ্রহণ করি। আর ইবন আবি লায়লা বলতেন:
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১০)
القول قول الخياط في ذلك، ولو أن الثوب ضاع من عند الخياط ولم يختلف رب الثوب والخياط في عمله، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه قال: لا ضمان عليه ولا على القصار والصباغ وما أشبه ذلك من العمال إلا فيما جنت أيديهم. وبلغنا عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: لا ضمان عليهم. وكان ابن أبي ليلى يقول: هم ضامنون لما هلك عندهم وإن لم تجن أيديهم فيه. قال أبو يوسف: هم ضامنون إلا أن يجيء شيء غالب.
এ বিষয়ে দর্জির বক্তব্যই গ্রাহ্য হবে। আর যদি দর্জির কাছ থেকে কাপড়টি হারিয়ে যায় এবং কাপড়ের মালিক ও দর্জি তার কাজের ব্যাপারে দ্বিমত না করেন, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলেছেন: তার ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে না এবং ধোপা, রংরেজ ও এই জাতীয় কর্মীদের ওপরও কোনো দায়বদ্ধতা নেই, যদি না তাদের হাতের মাধ্যমে কোনো ক্ষতি বা অপরাধ সংঘটিত হয়। আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: তাদের ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: তাদের নিকট যা বিনষ্ট হবে তার জন্য তারা দায়বদ্ধ থাকবে, যদিও তাতে তাদের হাতের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকে। ইমাম আবু ইউসুফ বলেছেন: তারা দায়বদ্ধ থাকবে, যদি না কোনো অপ্রতিরোধ্য কারণ বা বিপর্যয় ঘটে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১১)
باب الغصبقال أبو يسوف: وإذا اغتصب الرجل الجارية فباعها وأعتقها المشتري فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: البيع والعتق فيها باطل لا يجوز، لأنه باع مالا يملك وأعتق مالا يملك. وبهذا نأخذ، وكان ابن أبي ليلى يقول: عتقه جائز وعلى الغاصب القيمة.
قال: وإذا اشترى الرجل الجارية فوطئها ثم اطلع المشتري على عيب كان بها دلسه البائع له، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: ليس له أن يردها بعد الوطء، وكذلك بلنا عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
জবরদখল অধ্যায়আবু ইউসুফ বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি দাসী জবরদখল করে তা বিক্রি করে দেয় এবং ক্রেতা তাকে মুক্ত করে দেয়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযিআল্লাহু আনহু) বলতেন: এই বিক্রয় ও মুক্তি প্রদান বাতিল, তা বৈধ নয়; কারণ সে এমন সম্পদ বিক্রি করেছে যার সে মালিক নয় এবং এমন সম্পদ মুক্ত করেছে যার সে মালিক নয়। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: তার মুক্ত করা বৈধ এবং জবরদখলকারীর ওপর উক্ত দাসীর মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি দাসী ক্রয় করে তার সাথে সহবাস করে, অতঃপর ক্রেতা এমন কোনো ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হয় যা বিক্রেতা তার কাছে গোপন করেছিল, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযিআল্লাহু আনহু) বলতেন: সহবাসের পর তার জন্য দাসীটি ফেরত দেওয়ার অধিকার নেই। আমাদের নিকট আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকেও অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال أبو يوسف: ولكنه يقول يرجع عليه بفضل ما بين الصحة والعب من الثمن. وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى يقول: يردها ويرد معها مهر مثلها: والمهر في قوله يأخذ العشر من قيمتها ونصف العشر فيجعل المهر نصف ذلك. ولو أن المشتري لم يطأ الجارية ولكنه حدث بها عيب عنده لم يكن له أن يردها في قول أبي حنيفة، ولكنه يرجع بفضل ما بين العيب والصحة.
আবু ইউসুফ বলেন: তবে তিনি বলেন যে, মূল্যের সুস্থ অবস্থা ও ত্রুটির মধ্যকার যে পার্থক্য রয়েছে, সে পরিমাণ অর্থ সে ফেরত পাবে। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবন আবি লায়লা বলতেন: সে তাকে ফেরত দেবে এবং তার সাথে মহরে মিসিলও প্রদান করবে। তাঁর মতে মহর হলো, সে তার মূল্যের দশমাংশ এবং দশমাংশের অর্ধেক গ্রহণ করবে, অতঃপর মহরকে তার অর্ধেক নির্ধারণ করা হবে। আর যদি ক্রেতা ক্রীতদাসীর সাথে সহবাস না করে থাকে, কিন্তু তার নিকট থাকাকালীন তাতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হয়, তবে আবু হানিফার মতে তার জন্য তাকে ফেরত দেওয়ার অধিকার থাকবে না, বরং সে ত্রুটিপূর্ণ ও সুস্থ অবস্থার মূল্যের যে পার্থক্য, তা ফেরত পাবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى يقول: يردها ويرد ما نقصها العيب الذي حدث عنده.
قال: وإذا اشترى الجارية فوطئها فاستحقها رجل فقضى له بها القاضي، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: على الواطئ مهر مثلها على مثل ما يتزوج به الجرل مثلها يحكم به ذوا عدل ويرجع بالثمن على الذي باعه ولا يرجع بالمهر. وبه نأخذ، وكان أبي ليلى يقول: على الواطئ المهر، على ما ذكرت لك من قوله، ويرجع على البائع بالثمن والمهر لأنه قد غره منها.
قال محمد: وكيف يرجع عليه في قول ابن أبي ليلى بما أحدث وهو الذي وطئ؟ أرأيت لو باعه ثوبا فخرقه أو أهلكه فاستحقه رجل وضمنه بالقيمة أليس إنما يرجع على البائع بالثمن وإن كانت القيمة أكثر منه؟
قال: وإذا اشترى الرجلان جارية فوجدا بها عيبا فرضى أحدهما بالعيب ولم يرض الآخر، فإن أبا حنيفة رضي الله تعالى عنه كان يقول: ليس لواحد منهما أن يرد حتى يجتمعا على الرد جميعا، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: لأحدهما أن يرد حصته وإن رضى الآخر بالعيب. وبه نأخذ.
قال: وإذا اشترى الرجل أرضا فيها نخل وفيه ثمر ولم يشترط شيئا، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: الثمر للبائع إلا أن يشترط ذلك المشتري. وكذلك بلغنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول:
আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: সে তা ফেরত দিবে এবং তার নিকট থাকাকালীন যে ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে তার ফলে যতটুকু মূল্য হ্রাস পেয়েছে তা-ও ফেরত দিবে।
তিনি বলেন: যখন কেউ একজন দাসী ক্রয় করে এবং তার সাথে সহবাস করে, অতঃপর অন্য জনৈক ব্যক্তি তার মালিকানা দাবি করে এবং বিচারক তার পক্ষে মালিকানার ফয়সালা করেন, তখন ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: সহবাসকারীর ওপর মোহরে মিসিল (অনুরূপ মোহর) প্রদান করা আবশ্যক হবে, যা দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এই মর্মে নির্ধারণ করবেন যে, তার মতো নারীকে সাধারণত কত মোহরে বিবাহ করা হয়। আর সে বিক্রেতার কাছ থেকে বিক্রয়মূল্য ফেরত পাবে, কিন্তু মোহরের টাকা ফেরত পাবে না। আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: সহবাসকারীর ওপর মোহর ওয়াজিব হবে—যেমনটি আমি তোমার নিকট তাঁর উক্তি থেকে উল্লেখ করেছি—এবং সে বিক্রেতার কাছ থেকে মূল্য ও মোহর উভয়ই ফেরত পাবে, কারণ সে (বিক্রেতা) তাকে প্রতারিত করেছে।
ইমাম মুহাম্মদ বলেন: ইবনে আবি লায়লার উক্তি অনুযায়ী সে (ক্রেতা) নিজের কৃত কাজের জন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ ফেরত পাবে, অথচ সে নিজেই সহবাস করেছে? তোমার কি মনে হয় না যে, যদি কেউ কারো নিকট একটি কাপড় বিক্রি করে এবং ক্রেতা তা ছিঁড়ে ফেলে বা নষ্ট করে ফেলে, অতঃপর অন্য কেউ তার মালিকানা দাবি করে এবং ক্রেতাকে তার মূল্যের জরিমানা দিতে হয়, তবে ক্রেতা কি বিক্রেতার কাছ থেকে কেবল বিক্রয়মূল্যটিই ফেরত পাবে না, যদিও কাপড়ের বাজারমূল্য সেই বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়?
তিনি বলেন: যদি দুই ব্যক্তি একটি দাসী ক্রয় করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি দেখতে পায়, অতঃপর তাদের একজন সেই ত্রুটিতে সন্তুষ্ট হয় কিন্তু অন্যজন সন্তুষ্ট না হয়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: তাদের কারো জন্যই তা ফেরত দেওয়ার অধিকার নেই যতক্ষণ না তারা উভয়ে একত্রে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়। ইবনে আবি লায়লা (রহ.) বলতেন: তাদের একজনের জন্য তার অংশ ফেরত দেওয়ার অধিকার আছে যদিও অন্যজন ত্রুটিতে সন্তুষ্ট থাকে। আমরা এটিই গ্রহণ করি।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি এমন জমি ক্রয় করে যাতে খেজুর গাছ রয়েছে এবং তাতে ফল ধরেছে, অথচ সে (ফলের ব্যাপারে) কোনো শর্ত করেনি, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা তা নিজের জন্য শর্ত করে নেয়। অনুরূপভাবে আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে তিনি বলতেন:
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
((من اشترى نخلا له ثمر مؤبرة فثمره للبائع إلا أن يشترط ذلك المشتري، ومن اشترى عبدا وله مال فماله للبائع إلا أن يشترط ذلك المشتري))، وبه نأخذ وكان ابن أبي ليلى يقول: الثمرة للمشتري وإن لم يشترط، لأن ثمرة النخل من النخل.
((যে ব্যক্তি পরাগায়িত ফলবিশিষ্ট খেজুর গাছ ক্রয় করে, তবে তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য, যদি না ক্রেতা তা নিজের জন্য শর্ত করে নেয়; আর যে ব্যক্তি কোনো দাস ক্রয় করে যার নিকট সম্পদ রয়েছে, তবে সেই সম্পদ বিক্রেতার প্রাপ্য, যদি না ক্রেতা তা নিজের জন্য শর্ত করে নেয়))। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। ইবন আবি লায়লা বলতেন: ফল ক্রেতার প্রাপ্য, যদিও সে শর্ত না করে থাকে; কারণ খেজুর গাছের ফল খেজুর গাছেরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
باب الاختلاف في العيبقال أبو يوسف: وإذا اشترى الرجل من الرجل الجارية أو الدابة أو الثوب أو غير ذلك فوجد المشتري به عيبا وقال: بعتني وهذا العيب به فأنكر ذلك البائع، فعلى المشتري البينة، فإن لم تكن له بينة فعلى البائع اليمين بالله لقد باعه وما هذا العيب به. فإن قال البائع: أنا أرد اليمين عليه، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا أرد اليمين عليه ولا يحولها عن الموضع الذي وضعها رسول الله صلى الله عليه وسلم. وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول مثل قول أبي حنيفة رضي الله عنه، إلا أنه إذا اتهم المدعى رد اليمين عليه فيقال: احلف وردها، فإن أبى أن يحلف لم يقبل منه وقضى عليه.
قال: وإذا باع الرجل بيعًا فبرئ من كل عيب، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: البراءة من كل ذلك جائزة ولا يستطيع المشتري أن يرده بعيب كائنا ما كان. ألا ترى أنه لو أبرأه من الشجاج برئ من كل شجة، ولو أبرأه من القروح برئ من كل قرحة؟ وبهذا نأخذ. وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: لا يبرأ من ذلك حتى يسمى العيوب كلها بأسمائها، ولم يذكر أن يضع يده عليها.
খুঁত বা ত্রুটি সংক্রান্ত মতপার্থক্য পরিচ্ছেদআবু ইউসুফ বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো দাসী, পশু, বস্ত্র বা অন্য কিছু ক্রয় করে এবং ক্রেতা তাতে কোনো খুঁত বা ত্রুটি খুঁজে পায় ও বলে, ‘আপনি আমার কাছে এটি এই ত্রুটিসহ বিক্রয় করেছেন’, কিন্তু বিক্রেতা তা অস্বীকার করে, তবে প্রমাণের দায়িত্ব ক্রেতার ওপর বর্তাবে। আর যদি তার কাছে কোনো প্রমাণ না থাকে, তবে বিক্রেতা আল্লাহর নামে শপথ করবে যে, সে যখন এটি বিক্রয় করেছিল তখন এতে এই ত্রুটি ছিল না। যদি বিক্রেতা বলে, ‘আমি শপথটি তার (ক্রেতার) দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি’, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: আমি তার ওপর শপথ ফিরিয়ে দেব না এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেখানে শপথকে নির্ধারণ করেছেন সেখান থেকে তা পরিবর্তন করব না। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুরূপ মত পোষণ করতেন; তবে পার্থক্য এই যে, যদি দাবিদারের ব্যাপারে সন্দেহ করা হতো, তবে তিনি তার দিকে শপথ ফিরিয়ে দিতেন এবং বলা হতো: ‘শপথ করুন এবং এটি ফেরত দিন’। যদি সে শপথ করতে অস্বীকার করত, তবে তার দাবি গ্রহণ করা হতো না এবং তার বিপক্ষে ফয়সালা দেওয়া হতো।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কিছু বিক্রয় করার সময় সমস্ত ত্রুটি থেকে দায়মুক্ত থাকার শর্তারোপ করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: এ ধরনের সমস্ত দায়মুক্তি বৈধ এবং ক্রেতা কোনো ত্রুটির কারণেই তা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে না, তা যে ধরনেরই হোক না কেন। আপনি কি দেখেন না যে, যদি সে তাকে মাথার যখম থেকে দায়মুক্ত করে, তবে সে প্রতিটি যখম থেকেই দায়মুক্ত হবে; আর যদি তাকে ক্ষত থেকে দায়মুক্ত করে, তবে সে প্রতিটি ক্ষত থেকেই দায়মুক্ত হবে? আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: বিক্রেতা ততক্ষণ পর্যন্ত দায়মুক্ত হবে না যতক্ষণ না সে সমস্ত ত্রুটির নাম একে একে উল্লেখ করে, তবে তিনি সেগুলোর ওপর হাত রাখার কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال: وإذا اشترى الرجل دابة أو خادما أو دارا أو ثوبا أو غير ذلك فادعى فيه رجل دعوى، ولم يكن للمدعى على دعواه بينة فأراد أن يستحلف المشتري الذي في يديه ذلك المتاع على دعواه، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: اليمين عليه ألبتة بالله ما لهذا فيه حق. وبهذا نأخذ وكان ابن أبي ليلى يقول: عليه أن يحلف بالله ما يعلم أن لهذا فيه حقا.
قال وإذا اشترى المشترى بيعًا على أن البائع بالخيار شهرًا أو على أن المشترى بالخيار شهرا، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: البيع فاسد ولا يكون الخيار فوق ثلاثة أيام. بلغنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول: ((من اشترى شاة محفلة فهو بخير النظرين ثلاثة أيام إن شاء ردها ورد معها صاعا من تمر أو صاعا من شعير)) فجعل الخيار كله
তিনি বললেন: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো পশু, সেবক, ঘর, পোশাক অথবা অন্য কিছু ক্রয় করে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি সে বিষয়ে কোনো দাবি উত্থাপন করে, অথচ দাবিদারের কাছে তার দাবির সপক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই, এমতাবস্থায় সে যদি ওই মালের দখলদার ক্রেতাকে তার দাবির ওপর শপথ করাতে চায়; তবে আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলতেন: তাকে অবশ্যই আল্লাহর নামে এই বলে শপথ করতে হবে যে, এতে এই ব্যক্তির কোনো হক নেই। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: তাকে আল্লাহর নামে এই বলে শপথ করতে হবে যে, সে জানে না যে এতে এই ব্যক্তির কোনো হক আছে।
তিনি বললেন: যদি ক্রেতা কোনো পণ্য এই শর্তে ক্রয় করে যে বিক্রেতার এক মাসের ইখতিয়ার থাকবে অথবা ক্রেতার এক মাসের ইখতিয়ার থাকবে, তবে আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলতেন: এই ক্রয়-বিক্রয় ফাসিদ এবং ইখতিয়ার তিন দিনের বেশি হতে পারে না। আমাদের কাছে আল্লাহর রাসুলের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) পক্ষ থেকে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে তিনি বলতেন: "যে ব্যক্তি ওলানে দুধ জমানো কোনো বকরি ক্রয় করবে, সে তিন দিন পর্যন্ত দুটি সিদ্ধান্তের মধ্যে যেটি উত্তম তা গ্রহণের ইখতিয়ার পাবে; সে চাইলে তা রেখে দিতে পারে অথবা চাইলে এক সা' খেজুর বা এক সা' যবসহ সেটি ফেরত দিতে পারে।" সুতরাং তিনি সম্পূর্ণ ইখতিয়ারকে নির্ধারণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على قول رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكان ابن أبي ليلى يقول: الخيار جائز شهرًا كان أو سنة. وبه نأخذ.
قال: وإذا اشترى الرجل بيعًا على أن البائع بالخيار يومًا وقبضه المشترى فهلك عنده، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: المشتري ضامن بالقيمة لأنه أخذه على بيع، وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: هو أمين في ذلك لا شيء عليه فيه. ولو أن الخيار كان للمشتري فهلك عنده فهو عليه بثمن الذي اشتراه به في قولهما.
قال: وإذا اشترى الرجل الجارية فباع نصفها ولم يبع النصف الآخر ثم وجد بها عيبًا قد كان البائع دلسه له، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يستطيع أن يرد ما بقى منها ولا يرجع بما نقصها العيب، ويقول: رد الجارية كلها كما أخذتها وإلا فلا حق لك. وبه نأخذ. وكان ابن
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ওপর ভিত্তি করে। ইবন আবি লায়লা বলতেন: ইখতিয়ার (চুক্তির শর্ত) বৈধ, চাই তা এক মাস হোক বা এক বছর। আর আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কিছু এই শর্তে ক্রয় করল যে বিক্রেতার একদিনের ইখতিয়ার থাকবে এবং ক্রেতা তা হস্তগত করল, অতঃপর সেটি তার নিকট থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়ে গেল, তখন ইমাম আবু হানিফা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: ক্রেতা এর মূল্যের জামিন (ক্ষতিপূরণ দানে বাধ্য) হবে, কারণ সে এটি ক্রয়ের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে। আর আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। ইবন আবি লায়লা বলতেন: সে এই ক্ষেত্রে আমানতদার, তার ওপর কোনো দায় নেই। আর যদি ইখতিয়ার ক্রেতার থাকতো এবং সেটি তার নিকট থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়ে যেত, তবে তাদের উভয়ের মতেই ক্রেতার ওপর সেই মূল্যই ধার্য হতো যে মূল্যে সে তা ক্রয় করেছিল।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো দাসী ক্রয় করল, অতঃপর তার অর্ধেক বিক্রি করে দিল এবং বাকি অর্ধেক বিক্রি করল না, এরপর সে তাতে এমন কোনো ত্রুটি দেখতে পেল যা বিক্রেতা তার কাছে গোপন করেছিল, তখন ইমাম আবু হানিফা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: সে দাসীটির অবশিষ্টাংশ ফেরত দিতে পারবে না এবং ত্রুটির কারণে মূল্য হ্রাসের দাবিও করতে পারবে না। তিনি বলতেন: দাসীটি যেভাবে গ্রহণ করেছিলে সেভাবেই সম্পূর্ণ ফেরত দাও, নতুবা তোমার কোনো অধিকার নেই। আর আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবন...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أبي ليلى رحمه الله يقول: يرد ما في يده منها على البائع بقدر ثمنها، وكذلك قولهما في الثياب وفي كل بيع.
قال: وإذا اشترى الرجل عبدًا واشترط فيه شرطا أن يبيعه من فلان أو يهبه لفلان أو على أن يعتقه، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: البيع في هذا فاسد. وبه نأخذ. وقد بلغنا عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه نحو من ذلك وكان ابن أبي ليلى يقول: البيع جائز والشرط باطل.
আবু লায়লা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ক্রেতার হাতে থাকা বস্তু থেকে যা অবশিষ্ট আছে তা মূল্যের অনুপাতে বিক্রেতার নিকট ফেরত দেওয়া হবে। কাপড় এবং প্রতিটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের বক্তব্যও অনুরূপ।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো দাস ক্রয় করে এবং তাতে এই শর্তারোপ করে যে, সে তাকে অমুকের কাছে বিক্রয় করবে কিংবা অমুককে দান করবে অথবা তাকে মুক্ত করে দেবে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: এই ক্ষেত্রে বিক্রয়টি ফাসেদ। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতেও আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণনা পৌঁছেছে। ইবনে আবু লায়লা বলতেন: বিক্রয়টি বৈধ এবং শর্তটি বাতিল।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال: وإذا كان لرجل على رجل مال من [ثمن] بيع فحل المال فأخره عنه إلى أجل آخر، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: تأخيره جائز وهو إلى الأجل الآخر الذي أخره عنه وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: له أن يرجع في ذلك إلا أن يكون ذلك على وجه الصلح منهما.
قال: ولو أن رجلا كان له على رجل مال فتغيب عنه المطلوب حتى حط عنه بعد ذلك المال على أن يعطيه بعضه ثم ظهر له بعد. فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: ما حط عنه من ذلك المال فهو جائز. وكان ابن أبي ليلى يقول: له أن يرجع فيما حط عنه لأنه تغيب عنه وبه نأخذ، ولو أن الطالب قال: إن ظهر لي فله مما عليه كذا وكذا، ولم يكن قوله هذا يوجب عليه شيئا في قولهم جميعًا.
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রয়লব্ধ মূল্যের পাওনা থাকে এবং পাওনা পরিশোধের সময় উপস্থিত হয়, অতঃপর পাওনাদার তাকে অপর একটি সময় পর্যন্ত অবকাশ দেয়, তবে ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলতেন: এই বিলম্বকরণ বৈধ এবং তা সেই পরবর্তী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গণ্য হবে যা পর্যন্ত সে বিলম্ব করেছে; আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: পাওনাদারের অধিকার রয়েছে তা থেকে ফিরে আসার (তৎক্ষণাৎ দাবি করার), যদি না তা তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো আপস-নিষ্পত্তির ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির কাছে পাওনা থাকে, অতঃপর দেনাদার ব্যক্তি পাওনাদারের কাছ থেকে আত্মগোপন করে, যার ফলে পাওনাদার ঋণের কিছু অংশ এই শর্তে মওকুফ করে দেয় যে সে তাকে পাওনার কিয়দংশ প্রদান করবে, অতঃপর দেনাদার ব্যক্তি প্রকাশ পায় (তার অবস্থান জানা যায়)। তবে ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলতেন: ঋণের যে অংশ সে মওকুফ করেছে তা বৈধ (কার্যকর)। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: পাওনাদার যা মওকুফ করেছে তা পুনরায় দাবি করার অধিকার রাখে, কারণ দেনাদার তার থেকে আত্মগোপন করেছিল; আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। আর যদি পাওনাদার বলে: 'যদি সে আমার সামনে উপস্থিত হয় তবে তার ওপর ধার্য পাওনা থেকে এত এত পরিমাণ মওকুফ', তবে তাদের সকলের মতেই তার এই কথা তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক করে না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال: وإذا بع الرجل الرجل بيعًا إلى العطاء. فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول في ذلك: البيع فاسد. كان ابن أبي ليلى يقول: البيع جائز والمال حال. وكذلك قولهما في كل مبيع إلى أجل لا يعرف، فإن استهلكه المشتري فعليه القيمة في قول أبي حنيفة رضي الله عنه، وإن حدث به عيب رده ورد ما نقصه العيب، وإن كان قائمًا بعينه فقال المشتري: لا اريد الأجل وأنا أنقد لك المال، جاز ذلك له في هذا كله في قول أبي حنيفة وبه نأخذ.
باب بيع الثمار قبل أن يبدو صلاحهاقال أبو يوسف: وإذا اشترى الرجل ثمرًا قبل أن يبلغ من أصناف الغلة كلها، فإن أبا حنفة رضي الله عنه قال: إذا لم يشترط ترك ذلك الثمر إلى أن يبلغ فإن البيع جائز، ألا ترى أنه لو اشترى قصيلا يقصله على دوابه قبل أن يبلغ كان ذلك جائزًا؟
قال: ولو اشترى شيئا من الطلع حين يخرج فقطعه كان جائزًا.
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির কাছে অনুদান বা বেতন (আতা) প্রদানের সময় পর্যন্ত মেয়াদে কোনো কিছু বিক্রয় করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) এ বিষয়ে বলতেন: এই ক্রয়-বিক্রয় ফাসিদ (অকার্যকর)। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: এই ক্রয়-বিক্রয় বৈধ এবং মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রদেয়। অজ্ঞাত মেয়াদের শর্তে প্রতিটি বিক্রয়যোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রেও তাঁদের বক্তব্য অনুরূপ। ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর মতানুসারে, যদি ক্রেতা পণ্যটি ভোগ বা ব্যবহার করে ফেলে, তবে তার ওপর উক্ত পণ্যের বাজারমূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক হবে। আর যদি পণ্যটিতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হয়, তবে সে তা ফেরত দেবে এবং ত্রুটির কারণে মূল্যের যে ক্ষতি হয়েছে তাও প্রদান করবে। আর যদি পণ্যটি অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে এবং ক্রেতা বলে: ‘আমি আর সময় চাচ্ছি না, আমি আপনাকে এখনই নগদ অর্থ পরিশোধ করছি’, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে এই সব ক্ষেত্রেই তা তার জন্য বৈধ হবে এবং আমরা এটিই গ্রহণ করি।
ফল পাকার বা উপযুক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রয় করার অধ্যায়ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি সব ধরনের ফসলের অন্তর্ভুক্ত কোনো ফল তা পরিপক্ক হওয়ার আগে ক্রয় করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: যদি ফলটি পাকা পর্যন্ত রেখে দেওয়ার শর্ত না করা হয়, তবে সেই ক্রয়-বিক্রয় বৈধ। আপনি কি দেখেন না যে, যদি কেউ পশুদের খাওয়ানোর জন্য কাঁচা শস্য পাকার আগেই তা কাটার উদ্দেশ্যে ক্রয় করে, তবে তা বৈধ হয়?
তিনি বলেন: যদি কেউ খেজুরের মোচা বের হওয়ার সময় তা ক্রয় করে এবং কেটে ফেলে, তবে তাও বৈধ হবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإذا اشتراه ولم يشترط تركه فعليه أن يقطعه، فإذا استأذن صاحبه في تركه فأذن له في ذلك فلا بأس بذلك. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: لا خير في بيع شيء من ذلك حتى يبلغ. ولا بأس إذا اشترى شيئا من ذلك قد بلغ أن يشترط على البائع تركه إلى أجل. وكان أبو حنيفة رضي الله عنه يقول: لا خير في هذا الشرط.
قال: وإذا اشترى الرجل أرضا فيها نخل فيها حمل فلم يذكر النخل ولا الحمل، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: النخل للمشتري تبعًا للأرض والثمرة للبائع إلا أن يشترط المشترى. بلغنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من اشترى نخلا مؤبرًا فثمرته للبائع إلا أن يستثنيه المشتري)). وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: الثمرة للمشتري.
قال: وإذا اشترى الرجل مائة ذراع مكسرة من دار غير مقسومة أو عشرة أجربة من أرض غير مقسومة، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان
যখন সে তা ক্রয় করে এবং তা রেখে দেওয়ার শর্ত না করে, তখন তার ওপর তা কেটে নেওয়া আবশ্যক। অতঃপর যদি সে মালিকের নিকট তা রেখে দেওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে এবং মালিক তাকে সেই অনুমতি প্রদান করে, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: এই জাতীয় কোনো কিছু পরিপক্ক হওয়ার আগে তা বিক্রয় করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। তবে যখন তা পরিপক্ক হয়ে যায় এবং তা ক্রয় করে বিক্রেতার ওপর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত রেখে দেওয়ার শর্তারোপ করা হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। আর আবু হানিফা (রাজিআল্লাহু আনহু) বলতেন: এই শর্তের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি এমন জমি ক্রয় করে যাতে খেজুর গাছ এবং ফল রয়েছে, কিন্তু সে খেজুর গাছ কিংবা ফলের কথা উল্লেখ করেনি, তবে আবু হানিফা (রাজিআল্লাহু আনহু) বলতেন: খেজুর গাছ জমির অনুগামী হিসেবে ক্রেতার হবে এবং ফল বিক্রেতার মালিকানায় থাকবে, যদি না ক্রেতা তা পাওয়ার শর্তারোপ করে। আমাদের কাছে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি পরাগায়নকৃত খেজুর গাছ ক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা তা নিজের জন্য রাখার শর্ত করে।" আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: ফল ক্রেতার হবে।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো অবিভক্ত গৃহ থেকে একশত বর্গহাত অথবা কোনো অবিভক্ত জমি থেকে দশ জারিব ক্রয় করে, তখন আবু হানিফা (রাজিআল্লাহু আনহু)...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২২)
يقول في ذلك كله: البيع باطل، ولا يجوز لأنه لا يعلم ما اشترى كم هو من الدار، وكم هو من الأرض، وأين موضعه من الدار والأرض؟. وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: هو جائز في البيع. وبه نأخذ، وإن كانت الدار لا تكون مائة ذراع، فالمشتري بالخيار إن شاء ردها، وإن شاء رجع بما نقصت الدار على البائع في قول ابن أبي ليلى.
قال: وإن كانت الآجام محظورة وقد حظر فيها سمك فاشتراه رجل
তিনি এ সবকিছুর ব্যাপারে বলেন: এই বিক্রয়চুক্তি বাতিল এবং তা বৈধ নয়; কারণ ক্রেতা যা ক্রয় করেছে বাড়ির কতটুকু অংশ সেটি, আর জমির কতটুকু অংশ সেটি, এবং বাড়ি ও জমির মধ্যে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান কোথায়—তা অজ্ঞাত। ইবনে আবি লায়লা (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: কেনাবেচায় এটি বৈধ। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর যদি বাড়িটি একশ হাত পরিমাণ না হয়, তবে ইবনে আবি লায়লার মতানুসারে ক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে; সে চাইলে তা ফেরত দিতে পারে, অথবা চাইলে যতটুকু ঘাটতি হয়েছে তার মূল্য বিক্রেতার নিকট থেকে ফেরত নিতে পারে।
তিনি বলেন: যদি জলাশয়টি বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা থাকে এবং তাতে মাছও আটকে রাখা হয়, আর কোনো ব্যক্তি তা ক্রয় করে...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يجوز ذلك. بلغنا عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: لا تشتروا السمك في الماء فإنه غرر. وكذلك بلغنا عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وإبراهيم النخعي. وبه نأخذ. وكان ابن ابي ليلى يقول في هذا: شراؤه جائز لا بأس به. وكذلك بلغنا عن عمر ابن عبد العزيز.
قال: وإذا حبس الرجل في الدين وفلسه القاضي فباع في السجن واشترى وأعتق أو تصدق بصدقة أو وهب هبة، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: هذا كله جائز، ولا يباع شيء من ماله في الدين، وليس بعد
নিশ্চয়ই ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: এটি জায়েজ নয়। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: তোমরা পানিতে থাকা মাছ ক্রয় করো না, কারণ এতে ধোঁকা বা অনিশ্চয়তা রয়েছে। একইভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং ইব্রাহিম নাখয়ি থেকেও আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা এ বিষয়ে বলতেন: এটি ক্রয় করা জায়েজ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকেও আমাদের নিকট অনুরূপ পৌঁছেছে।
তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তিকে যদি ঋণের দায়ে কারারুদ্ধ করা হয় এবং বিচারক তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন, এমতাবস্থায় সে কারাগারে থাকা অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয় করলে, দাস মুক্ত করলে, সাদাকা দিলে কিংবা কোনো কিছু হেবা বা দান করলে, ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: এই সব কিছুই জায়েজ এবং ঋণের দায়ে তার কোনো সম্পদ বিক্রি করা হবে না, আর এর পরে...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التفليس شيء، ألا ترى أن الرجل قد يفلس اليوم ويصيب غدًا مالا؟ وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: لا يجوز بيعه ولاش راؤه ولا عتقه ولا هبته ولا صدقته بعد التفليس، فيبيع ماله ويقضيه الغرماء. وقال أبو يوسف رحمه الله تعالى مثل قول ابن أبي ليلى ما خلا العتاقة في الحجر، وليس من قبيل التفليس ولا نجيز شيئا سوى العتاقة من ذلك أبدًا حتى يقضى دينه.
قال: وإذا أعطى الرجل الرجل متاعا يبيعه ولم يسم بالنقد ولا بالنسيئة فباعه بالنسيئة، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: هو جائز. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقل: البيع جائز والمأمور ضامن لقيمة المتاع حتى يدفعه لرب المتاع، فإذا خرج الثمن من عند المشترى وفيه فضل عن القيمة، فإنه يرد ذلك الفضل على رب المتاع، وإن كان أقل من القيمة لم يضمن غير القيمة الماضية، ولم يرجع البائع على رب المتاع بشيء، والله تعالى أعلم.
قال: وإذا اختلف البيعان فقال البائع: بعتك وأنا بالخيار، وقال المشتري: بعتني ولم يكن لك خيار، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: القول قول البائع مع يمينه. وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: القول قول المشتري. وبه نأخذ.
দেউলিয়াত্ব একটি ভিন্ন বিষয়; আপনি কি দেখছেন না যে, এক ব্যক্তি আজ দেউলিয়া হতে পারে এবং আগামীকাল সম্পদ অর্জন করতে পারে? ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: দেউলিয়া হওয়ার পর তার ক্রয়-বিক্রয়, দাস মুক্তি, দান বা সদকা জায়েজ নয়। বরং তার সম্পদ বিক্রি করা হবে এবং পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনে আবি লায়লার মতই বলেছেন, তবে হজর (লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা) অবস্থায় দাস মুক্তির বিষয়টি ছাড়া। এটি দেউলিয়াত্বের পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা দাস মুক্তি ছাড়া এ জাতীয় কোনো কিছুকেই কখনোই বৈধতা দেই না।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিক্রয় করার জন্য কোনো পণ্য দেয় এবং নগদে নাকি বাকিতে তা নির্দিষ্ট না করে দেয়, অতঃপর সে পণ্যটি বাকিতে বিক্রয় করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: এটি জায়েজ। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: বিক্রয়টি জায়েজ, তবে আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি পণ্যের মূল্যের জিম্মাদার হবে যতক্ষণ না সে তা পণ্যের মালিককে বুঝিয়ে দেয়। অতঃপর যদি ক্রেতার কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল্য পণ্যের মূল্যের চেয়ে বেশি হয়, তবে সে ওই অতিরিক্ত অংশ পণ্যের মালিককে ফেরত দেবে। আর যদি তা মূল্যের চেয়ে কম হয়, তবে সে কেবল পূর্বনির্ধারিত মূল্যেরই জিম্মাদার হবে এবং বিক্রেতা পণ্যের মালিকের কাছে অন্য কোনো কিছুর দাবি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে না। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
তিনি বলেন: যখন ক্রেতা ও বিক্রেতা মতবিরোধ করে এবং বিক্রেতা বলে: ‘আমি তোমার কাছে বিক্রি করেছি এবং আমার ইখতিয়ার (চুক্তি বহাল বা বাতিলের অধিকার) সংরক্ষিত ছিল’, আর ক্রেতা বলে: ‘আপনি আমার কাছে বিক্রি করেছেন এবং আপনার কোনো ইখতিয়ার ছিল না’, এমতাবস্থায় ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: শপথসহ বিক্রেতার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: ক্রেতার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال: وإذا باع الرجل جارية بجارية وقبض كل واحد منهما ثم وجد أحدهما بالجارية التي قبض عيبا، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: يردها ويأخذ جاريته لأن البيع قد انتقض، وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: يردها ويأخذ قيمتها صحيحة، وكذلك قولهما في جميع الرقيق والحيوان والعروض.
قال: وإذا اشترى الرجل بيعًا لغيره بأمره فوجد به عيبا، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: يخاصم المشتري ولا نبالي أحضر الأمر أم لا، ولا نكلف المشتري أن يحضر المر، ولا نرى على المشتري يمينًا إن قال البائع [إن] الآمر قد رضى بالعيب، وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: لا يستطيع المشتري أن يرد السلعة التي بها العيب حتى يحضر الآمر فيحلف ما رضي بالعيب، ولو كان غائبا بغير ذلك البلد. وكذلك الرجل معه مال مضاربة أتى بلادًا يتجر فيها بذلك المال، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: ما اشترى من ذلك فوجد به عيبا فله أن يرده ولا يستحلف على رضا الآمر بالعيب، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: لا يستطيع المشتري المضارب أن يرد شيئا من ذلك حتى يحضر رب المال
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি দাসীর বিনিময়ে অন্য একটি দাসী বিক্রি করে এবং উভয়েই তা কব্জা (হস্তগত) করে নেয়, অতঃপর তাদের একজন তার কব্জা করা দাসীর মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখতে পায়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: সে এটি ফেরত দেবে এবং তার নিজের দাসীটি ফেরত নেবে, কারণ এই বিক্রয়চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেছে। আর আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। ইবন আবি লায়লা (রহ.) বলতেন: সে এটি ফেরত দেবে এবং তার (দাসীর) ত্রুটিমুক্ত অবস্থার সমমূল্য গ্রহণ করবে। দাস-দাসী, গবাদি পশু এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও তাদের উভয়ের অভিমত একই রূপ।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের নির্দেশে তার জন্য কোনো পণ্য ক্রয় করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি দেখতে পায়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: ক্রেতা নিজেই বিবাদ (বা দাবি) করতে পারবে, এতে নির্দেশদাতা উপস্থিত থাকল কি না তাতে আমরা ভ্রুক্ষেপ করি না। আমরা ক্রেতাকে নির্দেশদাতাকে উপস্থিত করতে বাধ্য করি না এবং ক্রেতার ওপর কোনো শপথও ধার্য করি না যদি বিক্রেতা দাবি করে যে, নির্দেশদাতা এই ত্রুটিতে সন্তুষ্ট ছিলেন। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। ইবন আবি লায়লা বলতেন: ক্রেতা ত্রুটিযুক্ত পণ্যটি ফেরত দিতে সক্ষম হবে না যতক্ষণ না নির্দেশদাতা উপস্থিত হয়ে শপথ করেন যে তিনি এই ত্রুটিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না, যদিও তিনি অন্য কোনো শহরে অবস্থান করেন। অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তির কাছে মুদারাবার অর্থ থাকলে এবং সে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে কোনো দেশে গেলে; ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: সে যা ক্রয় করবে এবং তাতে কোনো ত্রুটি পাবে, তবে তা ফেরত দেওয়ার অধিকার তার থাকবে এবং নির্দেশদাতার সন্তুষ্টির বিষয়ে তাকে শপথ করানো হবে না। ইবন আবি লায়লা (রহ.) বলতেন: মুদারিব ক্রেতা কোনো কিছুই ফেরত দিতে পারবে না যতক্ষণ না পুঁজির মালিক উপস্থিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فيحلف بالله ما رضي بالعيب وإن لم ير المتاع وإن كان غائبًا، أرأيت رجلا أمر رجلا فباع له متاعا أو سلعة فوجد المشتري به عيبا أيخاصم البائع في ذلك أو نكلفه أن يحضر الآمر رب المتاع؟ ألا ترى أن خصمه في هذا البائع ولا نكلفه أن يحضر الآمر ولا خصومة بينه وبينه، فكذلك إذا أمره فاشترى له فهو مثل أمره بالبيع، أرأيت لو اشترى متاعا ولم يره أكان للمشترى الخيار إذا رآه أم لا يكون له خيار حتى يحضر الآمر؟ أرأيت لو اشتر عبدًا فوجده أعمى قبل أن يقبضه فقال: لا حاجة لي فيه، أما كان له أن يرده بهذا حتى يحضر الآمر؟ بلى له أن يرده ولا يحضر الآمر.
قال: وإذا باع الرجل ثوبا مرابحة على شيء مسمى فباع المشتري الثوب ثم وجد البائع قد خانه في المرابحة وزاد عليه في المرابحة، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: البيع جائز لأنه قد باع الثوب، ولو كان عنده الثوب كان له أن يرده ويأخذ ما نقد إن شاء ولا يحطه شيئا. وكان ابن أبي ليلى يقول: تحط عنه تلك الخيانة وحصتها من الربح. وبه نأخذ.
قال: وإذا اشترى الرجل للرجل سلعة فظهر فيها عيب قبل أن ينقد الثمن، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: له أن يردها إن أقام البينة
সে আল্লাহর নামে কসম করবে যে সে ত্রুটিতে সন্তুষ্ট হয়নি, যদিও সে পণ্যটি দেখেনি এবং যদিও তা অনুপস্থিত ছিল। আপনি কি সেই ব্যক্তির বিষয়ে ভেবে দেখেছেন যাকে অন্য এক ব্যক্তি আদেশ দিয়েছিল, ফলে সে তার জন্য একটি পণ্য বা দ্রব্য বিক্রয় করল, অতঃপর ক্রেতা তাতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পেল? এমতাবস্থায় সে কি বিক্রেতার সাথেই বিবাদ করবে, নাকি আমরা তাকে নির্দেশ দেব যেন সে আদেশকারী তথা পণ্যের মালিককে উপস্থিত করে? আপনি কি দেখছেন না যে, এই ক্ষেত্রে ক্রেতার প্রতিপক্ষ হলো বিক্রেতা এবং আমরা ক্রেতাকে আদেশকারীকে উপস্থিত করতে বাধ্য করি না, আর তাদের উভয়ের মাঝে কোনো সরাসরি বিবাদও নেই? ঠিক তেমনি, যদি সে তাকে আদেশ দেয় এবং সে তার জন্য কিছু ক্রয় করে, তবে এটি তাকে বিক্রয় করার আদেশ দেওয়ার মতোই। আপনার কি অভিমত, যদি সে কোনো পণ্য ক্রয় করে এবং তা না দেখে থাকে, তবে সেটি দেখার পর ক্রেতার কি ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকার থাকবে না যতক্ষণ না আদেশকারী উপস্থিত হয়? আপনি কি মনে করেন যদি সে একজন দাস ক্রয় করে এবং তাকে হস্তগত করার পূর্বেই অন্ধ দেখতে পায় এবং বলে: "এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই", তবে আদেশকারী উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত কি তার এটি ফেরত দেওয়ার অধিকার থাকবে না? অবশ্যই, আদেশকারীকে উপস্থিত করা ছাড়াই তার এটি ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি একটি কাপড় নির্দিষ্ট লাভে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয় করে, অতঃপর ক্রেতা কাপড়টি বিক্রয় করে দেয় এবং পরে জানতে পারে যে মূল বিক্রেতা মুরাবাহার ক্ষেত্রে তার সাথে খেয়ানত করেছে এবং মুরাবাহার মূল্যে অতিরিক্ত যোগ করেছে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: বিক্রয়টি বৈধ যেহেতু সে কাপড়টি বিক্রয় করে দিয়েছে। আর যদি কাপড়টি তার নিকট বিদ্যমান থাকত, তবে চাইলে সে সেটি ফেরত দিতে পারত এবং যা নগদ প্রদান করেছে তা গ্রহণ করতে পারত, কিন্তু তিনি মূল্য থেকে কিছুই হ্রাস করতেন না। ইবন আবি লায়লা বলতেন: তার থেকে সেই খেয়ানতকৃত অংশ এবং মুনাফার আনুপাতিক অংশ কমিয়ে দেওয়া হবে। আর আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো দ্রব্য ক্রয় করে এবং মূল্য পরিশোধ করার পূর্বেই তাতে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: যদি সে প্রমাণ পেশ করতে পারে তবে তা ফেরত দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
على العيب، وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: لا أقبل شهودًا على العيب حتى ينقد الثمن.
قال: وإذا باع الرجل على ابنه وهو كبير دارًا أو متاعا من غير حاجة ولا عذر، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يجوز ذلك على ابنه. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: بيعه عليه جائز.
قال: وإذا باع الرجل متاعا لرجل والرجل حاضر ساكت، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يجوز ذلك عليه، وليس سكوته إقرارًا بالبيع، وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: سكوته إقرار بالبيع.
قال: وإذا باع الرجل نصيبًا من داره ولم يسم ثلثًا أو ربعًا أو نحو ذلك أو كذا وكذا سهما، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يجوز البيع على هذا الوجه. وقال أبو يوسف رحمه الله: له الخيار إذا علم إن شاء أخذو إن شاء ترك. وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: إذا كانت الدار
ত্রুটির ওপর, এবং এটিই আমরা গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা (রহ.) বলতেন: মূল্য পরিশোধ না করা পর্যন্ত আমি ত্রুটির ওপর সাক্ষ্য গ্রহণ করি না।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি তার প্রাপ্তবয়স্ক পুত্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজন বা ওজর ছাড়াই কোনো ঘর বা আসবাবপত্র বিক্রি করে দেয়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযি.) বলতেন: তার পুত্রের ওপর এটি বৈধ হবে না। এবং আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: তার ওপর এই বিক্রয় বৈধ।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির আসবাবপত্র বিক্রি করে এবং মালিক সেখানে উপস্থিত থেকে নীরব থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযি.) বলতেন: এটি তার ওপর বৈধ হবে না এবং তার নীরবতা বিক্রয়ের স্বীকৃতি নয়। আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা বলতেন: তার নীরবতা বিক্রয়ের স্বীকৃতি।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি তার ঘরের কোনো অংশ বিক্রি করে এবং সেটি এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ বা অনুরূপ কিছু কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক অংশ হিসেবে উল্লেখ না করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযি.) বলতেন: এই পদ্ধতিতে বিক্রয় বৈধ নয়। আবু ইউসুফ (রহ.) বলতেন: সে জানতে পারলে তার এখতিয়ার থাকবে; চাইলে গ্রহণ করবে এবং চাইলে বর্জন করবে। ইবনে আবি লায়লা (রহ.) বলতেন: যখন ঘরটি...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بين اثنين أو ثلاثة أجزت بيع النصيب وإن لم يسم، وإن كانت أسهما كثيرة لم يجز حتى يسمى.
قال: وإذا ختم الرجل على شراء. فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: ليس ذلك بتسليم للبيع حتى يقول: سلمت. وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: ذلك تسليم للبيع.
قال: وإذا بيع الرقيق والمتاع في عسكر الخوارج وهو متاع من متاع المسلمين أو رقيق من رقيقهم قد غلبوهم عليه، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يجوز ويرد على أهله وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: هو جائز. وإن كان المتاع قائما بعينه والرقيق قائما بعينه وقتل الخوارج قبل أن يبيعوه رد على أهله في قولهم جميعًا.
قال: وإذا باع الرجل المسلم الدابة من النصراني فادعاها نصراني آخر وأقام عليها بينة من النصارى، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا تجوز شهادتهم، من قبل أن يرجع بذلك على المسلم وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: شهادتهم جائزة على النصراني ولا يرجع على المسلم بشيء. وبه نأخذ.
দুই বা তিনজনের মাঝে অংশীদারিত্ব থাকলে আমি অংশ বিক্রি করা বৈধ মনে করি, যদিও তা নির্দিষ্ট না করা হয়। তবে যদি অংশগুলো অনেক বেশি হয়, তবে নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত তা বৈধ হবে না।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি ক্রয় কার্যের ওপর মোহর অঙ্কিত করে, তখন আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: যতক্ষণ সে না বলবে ‘আমি সমর্পণ করলাম’, ততক্ষণ তা বিক্রয় সমর্পণ হিসেবে গণ্য হবে না। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: সেটি বিক্রয় সমর্পণ হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি বলেন: যখন খারিজিদের সৈন্যদলে গোলাম বা আসবাবপত্র বিক্রি করা হয়, অথচ সেগুলো মুসলমানদের সম্পদ বা গোলাম ছিল যা তারা জোরপূর্বক দখল করেছিল; তখন আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: এটি বৈধ নয় এবং তা তার প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে; আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: এটি বৈধ। তবে যদি সেই আসবাবপত্র বা গোলামটি অবিকল বিদ্যমান থাকে এবং সেটি বিক্রি করার আগেই খারিজিরা নিহত হয়, তবে তাদের উভয়ের মতেই তা প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন: যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি কোনো খ্রিস্টানের নিকট একটি পশু বিক্রি করেন এবং অন্য কোনো খ্রিস্টান সেটি নিজের বলে দাবি করে খ্রিস্টানদের মধ্য থেকেই সাক্ষী উপস্থাপন করে, তবে আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এর দ্বারা বিষয়টি পুনরায় মুসলিম ব্যক্তির ওপর বর্তাবে। আর ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: খ্রিস্টানের বিপক্ষে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে এবং মুসলিম ব্যক্তির ওপর কোনো দায় বর্তাবে না। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال: وإذا باع الرجل بيعًا من بعض ورثته وهو مريض، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا يجوز بيعه ذلك إذا مات من مرضه. وكان ابن أبي ليلى يقول: بيعه جائز بالقيمة. وبه نأخذ.
قال: وإذا استهلك الرجل مالا لولده وولده كبير والرجل غنى، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: هو دين على الأب، وبه نأخذ وكان ابن أبي ليلى يقول: لا يكون له دين على ابيه، وما استهلك أبوه من شيء لابنه فلا ضمان عليه فيه.
قال: وإذا اشترى رجل جارية بعبد وزاد معها مائة درهم ثم وجد بالعبد عيبًا وقد ماتت الجارية عند المشترى، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: يرد العبد ويأخذ منه مائة درهم وقيمة الجارية صحيحة، فإن كانت الجارية هي التي وجد بها العيب وقد مات العبد، ردت الجارية وقسم قيمة العبد على المائة الدرهم وعلى قيمة الجارية فيكون له ما أصاب المائة الدرهم ويرد ما أصاب قيمة الجارية من قيمة العبد. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول في هذا: إن وجد بالعبد عيبا رده وأخذ قيمته صحيحًا. وكذلك الدراهم التي هي في يديه.
قال: وإذا اشترى الرجل ثوبين من رجل وقبضهما فهلك أحدهما ووجد بالثوب الآخر عيبًا فأراد رده فاختلفا في قيمة الهالك، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: القول قول البائع مع يمينه. وبه نأخذ وكان ابن أبي ليلى يقول: القول قول المشترى.
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার কোনো উত্তরাধিকারীর কাছে কোনো কিছু বিক্রয় করে এবং সে অসুস্থ থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: যদি সে ওই অসুস্থতায় মারা যায় তবে তার সেই বিক্রয় বৈধ হবে না। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: বাজারমূল্যে তার সেই বিক্রয় বৈধ। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার সন্তানের সম্পদ বিনষ্ট করে, অথচ সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক এবং পিতা সম্পদশালী, তখন ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: এটি পিতার ওপর ঋণ হিসেবে গণ্য হবে; আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: পিতার ওপর কোনো ঋণ হবে না; পিতা তার সন্তানের যা কিছু বিনষ্ট করেছে তার জন্য তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি দাসের বিনিময়ে একটি দাসী ক্রয় করে এবং সাথে অতিরিক্ত একশত দিরহাম প্রদান করে, অতঃপর দাসের মধ্যে ত্রুটি পাওয়া যায় এবং ক্রেতার নিকট দাসীটি মারা গিয়ে থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: দাসটি ফেরত দেওয়া হবে এবং তার থেকে একশত দিরহাম ও দাসীটির ত্রুটিমুক্ত অবস্থার মূল্য বুঝে নেওয়া হবে। আর যদি দাসীর মধ্যে ত্রুটি পাওয়া যায় এবং দাসটি মারা গিয়ে থাকে, তবে দাসী ফেরত দেওয়া হবে এবং দাসের মূল্যকে একশত দিরহাম ও দাসীর মূল্যের অনুপাতে বণ্টন করা হবে; অতঃপর একশত দিরহামের ভাগে যা পড়বে তা সে পাবে এবং দাসের মূল্যের যে অংশ দাসীর মূল্যের বিপরীতে পড়বে তা সে ফেরত দেবে। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। ইবনে আবি লায়লা এই বিষয়ে বলতেন: যদি দাসের মধ্যে ত্রুটি পাওয়া যায় তবে সে তা ফেরত দেবে এবং সুস্থ অবস্থার মূল্য বুঝে নেবে। তার হাতে থাকা দিরহামগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি কাপড় ক্রয় করে এবং উভয়টি হস্তগত করে, অতঃপর একটি নষ্ট হয়ে যায় এবং অপর কাপড়টিতে ত্রুটি পাওয়া যায় এবং সে তা ফেরত দিতে চায়, এমতাবস্থায় তারা নষ্ট হয়ে যাওয়া কাপড়ের মূল্যের ব্যাপারে মতবিরোধ করে, তখন ইমাম আবু হানিফা (রা.) বলতেন: শপথসহ বিক্রেতার বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: ক্রেতার বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
باب المضاربةقال أبو يوسف رضي الله عنه: وإذا أعطى الرجل الرجل ثوبًا يبيعه على أن ما كان فيه من ربح فبينهما نصفان، أو أعطاه دارًا يبنيها ويؤاجرها على أن أجرتها بينهما نصفان، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول في ذلك كله: فاسد، وللذي باع أجر مثله على رب الثوب ولباني الدار أجر مثله على رب الدار. وبه نأخذ. وكان ابن ابي ليلى يقول: هو جائز والأجر والربح بينهما نصفان. وكان ابن أبي ليلى يجعل هذا بمنزلة الأرض للزراعة والنخل للعاملة.
قال: وإذا كان مع الرجل مال مضاربة فادانه ولم يأمره بذلك زب المال ولم ينه، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا ضمان على المضارب، وما ادان من ذلك فهو جائز. وبه نأخذ، وكان ابن أبي ليلى رحمه الله يقول: المضارب ضامن إلا أن يأتي بالبينة أن رب المال أذن له في النسيئة، ولو أقرضه قرضًا ضمن في قولهما جميعًا، لأن القرض ليس من المضاربة. حدثا أبو حنيفة عن حميد بن عبد الله بن عبيد الأنصاري. عن أبيه عن جده أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه
মুদারাবাহ (অংশীদারিত্বের কারবার) অধ্যায়আবু ইউসুফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে একটি কাপড় বিক্রয় করার জন্য এই শর্তে প্রদান করে যে, তার থেকে যে মুনাফা অর্জিত হবে তা উভয়ের মাঝে অর্ধেক করে বণ্টিত হবে; অথবা তাকে একটি ঘর প্রদান করে যেন সে তা নির্মাণ করে ভাড়া দেয় এই শর্তে যে, তার ভাড়া উভয়ের মাঝে অর্ধেক হবে; তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই সবকিছুর ক্ষেত্রেই বলতেন: এটি ফাসেদ (বাতিলযোগ্য)। যে ব্যক্তি কাপড় বিক্রয় করেছে, সে কাপড়ের মালিকের নিকট থেকে তার কাজের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক (আজরে মিসল) পাবে এবং যে ব্যক্তি ঘরটি নির্মাণ করেছে, সে ঘরের মালিকের নিকট থেকে তার কাজের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক পাবে। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: এটি জায়েজ এবং পারিশ্রমিক ও মুনাফা তাদের উভয়ের মাঝে অর্ধেক করে বণ্টিত হবে। ইবনে আবি লায়লা বিষয়টিকে চাষাবাদের জন্য জমি এবং শ্রমিকের জন্য খেজুর বাগানের সমতুল্য মনে করতেন।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তির নিকট মুদারাবাহর সম্পদ থাকে এবং সে তা ধারে লেনদেন করে, অথচ সম্পদের মালিক তাকে এর আদেশ দেননি এবং নিষেধও করেননি; তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: মুদারিবের (ব্যবসায়িক অংশীদার) ওপর কোনো দায়বদ্ধতা (জামানত) বর্তাবে না এবং সে যা ধারে লেনদেন করেছে তা বৈধ হবে। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: মুদারিব দায়ী হবে, যতক্ষণ না সে প্রমাণ পেশ করতে পারে যে, সম্পদের মালিক তাকে বাকিতে লেনদেন করার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর যদি সে কাউকে ঋণ হিসেবে প্রদান করে, তবে তাদের উভয়ের মতেই সে দায়ী হবে; কারণ ঋণ প্রদান করা মুদারাবাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। ইমাম আবু হানিফা আমাদের নিকট হুমায়দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দ আল-আনসারী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أعطى مال يتيم مضاربة فكان يعمل به في العراق ولا يدري كيف قاطعه على الربح. حدثنا أبو حنيفة عن عبد الله بن علي عن العلاء بن عبد الرحمن
তিনি এক এতিমের সম্পদ মুদারাবাহ (মুনাফা অংশীদারিত্ব) ভিত্তিতে প্রদান করেছিলেন এবং তিনি তা নিয়ে ইরাকে ব্যবসা করতেন, কিন্তু তিনি জানতেন না লাভের বিষয়ে কীভাবে চুক্তি নির্ধারিত হয়েছিল। আমাদের নিকট আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আলী থেকে, তিনি আল-আলা বিন আবদুর রহমান থেকে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ابن يعقوب عن أبيه أن عثمان بن عفان رضي الله عنه أعطى مالا مقارضة يعني مضاربة وحدثنا أبو حنيفة عن حماد عن إبراهيم أن
ইবনে ইয়াকুব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুকারাদাহ অর্থাৎ মুদারাবাহ হিসেবে সম্পদ প্রদান করেছেন। আবু হানিফা আমাদের নিকট হাম্মাদ থেকে এবং তিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أعطى زيد بن خليدة مالا مقارضة.
باب السلمقال أبو يوسف: وإذا كان لرجل على رجل طعام أسلم إليه فيه فأخذ بعض طعامهوبعض رأس ماله، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: هو جائز. بلغنا عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما أنه قال: ذلك المعروف الحسن الجميل. وبه نأخذ. وكان ابن ابي ليلى يقول: إذا أخذ بعض رأس ماله فقد فسد السلم ويأخذ رأس ماله كله.
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যায়েদ বিন খুলাইদাহকে মুকারাদা (মুনাফা অংশীদারিত্ব) ভিত্তিতে কিছু অর্থ প্রদান করেছিলেন।
সালাম (অগ্রিম ক্রয়) অধ্যায়আবু ইউসুফ বলেন: যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট অগ্রিম ক্রয় (সালাম) চুক্তির মাধ্যমে খাদ্য পাওনা থাকে, অতঃপর সে সেই খাদ্যের কিছু অংশ এবং তার মূলধনের কিছু অংশ গ্রহণ করে, তবে আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: এটি বৈধ। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: এটি একটি উত্তম, সুন্দর ও চমৎকার বিষয়। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। আর ইবন আবি লায়লা বলতেন: যখন সে তার মূলধনের কিছু অংশ গ্রহণ করে, তখন সালাম চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায় এবং তাকে তার পূর্ণ মূলধনই গ্রহণ করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قال: وإذا أسلم الرجل في اللحم، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا خير فيه لأنه غير معروف. وبه نأخذ. وكان ابن ابي ليلى يقول: لا بأس به. ثم رجع أبو يوسف إلى قول ابن أبي ليلى وقال: إذا بين مواضع اللحم فقال: أفخاذ وجنوب ونحو هذا، فهو جائز.
তিনি বলেন: আর যদি কোনো ব্যক্তি গোশতের ক্ষেত্রে সালাম (অগ্রিম ক্রয়) চুক্তি করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাদিআল্লাহু আনহু) বলতেন: এতে কোনো কল্যাণ নেই, কারণ তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিচিত নয়। আর আমরা এটিই গ্রহণ করি। ইবন আবু লায়লা বলতেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই। অতঃপর আবু ইউসুফ ইবন আবু লায়লার মতের দিকে ফিরে আসেন এবং বলেন: যদি গোশতের অংশসমূহ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, যেমন সে বলল: উরু, পার্শ্বদেশ এবং এই জাতীয় কিছু, তবে তা জায়েজ।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
باب الشفعةقال أبو يوسف رضي الله عنه: إذا تزوجت امرأة على شقص من دار، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لا شفعة في ذلك لأحد. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: للشفيع الشفعة بالقيمة وتأخذ المرأة قيمة ذلك منه. وقال أبو حنيفة رضي الله عنه: كيف يكون ذلك وليس هذا شراء يكون فيه شفعة إنما هذا نكاح؟ أرأيت لو طلقها قبل أن يدخل بها كم للشفيع منها، وبم يأخذ بالقيمة أو بالمهر؟ وكذلك إذا اختلعت بشقص من دار في قولهما جميعًا.
অগ্রক্রয়াধিকার (শুফ'আ) অধ্যায়আবু ইউসুফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যদি কোনো নারী কোনো গৃহের একটি অংশের বিনিময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: এতে কারো জন্য কোনো অগ্রক্রয়াধিকার থাকবে না। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: অগ্রক্রয়াধিকারের অধিকারী ব্যক্তি মূল্যের বিনিময়ে অগ্রক্রয়াধিকার লাভ করবে এবং নারীটি তার নিকট হতে এর মূল্য গ্রহণ করবে। ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এটি কীভাবে হতে পারে অথচ এটি কোনো ক্রয়-বিক্রয় নয় যে তাতে অগ্রক্রয়াধিকার প্রযোজ্য হবে? এটি তো কেবল একটি বিবাহ। আপনি কি ভেবে দেখেছেন, স্বামী যদি সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক প্রদান করে, তবে অগ্রক্রয়াধিকার লাভকারীর জন্য তা থেকে কতটুকু পাওনা হবে? আর সে কি তা মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করবে নাকি মোহরের বিনিময়ে? অনুরূপভাবে নারী যদি ঘরের কোনো অংশের বিনিময়ে খুলা’ (বিবাহ বিচ্ছেদ) করে, তবে তাঁদের উভয়ের মতেই একই হুকুম প্রযোজ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফু আবি হানীফা ওয়াবনু আবি লায়লা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال أبو يوسف: وإذا اشترى الرجل دارًا وبنى فيها بناء ثم جاء الشفيع يطلبها بالشفعة، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: يأخذ الشفيع الدار ويأخذ صاحب البناء النقض. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يجعل الدار والبناء للشفيع ويجعل عليه قيمة البناء وثمن الدار الذي اشتراها به صاحب البناء وإلا فلا شفعة له.
قال: وإذا اشترى الرجل أرضا أو دارًا، فإن أبا حنيفة رضي الله عنه كان يقول: لصاحب الشفعة الشفعة حين علم، فإن طلب الشفعة وإلا فلا شفعة له. وبه نأخذ. وكان ابن أبي ليلى يقول: هو بالخيار ثلاثة أيام بعد علمه.
আবু ইউসুফ বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি ঘর ক্রয় করে এবং তাতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে, অতঃপর শুফআর অধিকারপ্রার্থী ব্যক্তি এসে শুফআর মাধ্যমে সেটি দাবি করে, তবে আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: শুফআর দাবিদার ঘরটি গ্রহণ করবে এবং স্থাপনার মালিক স্থাপনার উপকরণসমূহ (ধ্বংসাবশেষ) নিয়ে যাবে। এবং আমরা এটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা ঘর ও স্থাপনা উভয়টি শুফআর দাবিদারের জন্য সাব্যস্ত করতেন এবং তার ওপর স্থাপনার মূল্য ও ঘরের সেই মূল্য ধার্য করতেন যা দিয়ে ক্রেতা সেটি ক্রয় করেছিল; অন্যথায় তার জন্য কোনো শুফআর অধিকার থাকবে না।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি জমি বা ঘর ক্রয় করে, তবে আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: শুফআর অধিকারীর জন্য শুফআর অধিকার তখনই সাব্যস্ত হবে যখন সে বিষয়টি জানতে পারবে। যদি সে তখনই শুফআ দাবি করে (তবে তা কার্যকর হবে), অন্যথায় তার জন্য আর কোনো শুফআর অধিকার থাকবে না। এবং আমরা এটিই গ্রহণ করি। আর ইবনে আবি লায়লা বলতেন: জানার পর তিন দিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে।