(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
نظرة تاريخية في حدوث المذاهب الفقهية الأربعة القسم: أصول الفقه
الكتاب: نظرة تاريخية في حدوث المذاهب الفقهية الأربعة (الحنفي - المالكي - الشافعي - الحنبلي) وانتشارها عند جمهور المسلمين
المؤلف: أحمد تيمور باشا [ت 1348 هـ]
تقديم: الشيخ محمد أبو زهرة
الناشر: دار القادري للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1990 م
عدد الصفحات: 93
أعده للمكتبة الشاملة: توفيق بن محمد القريشي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1433
চতুর্বিধ ফিকহি মাজহাবের উৎপত্তির ঐতিহাসিক রূপরেখা বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
বই: চতুর্বিধ ফিকহি মাজহাবের (হানাফি - মালিকি - শাফিঈ - হাম্বলি) উৎপত্তির ঐতিহাসিক রূপরেখা এবং মুসলিম জনসাধারণের মাঝে সেগুলোর প্রচার ও প্রসার
লেখক: আহমদ তায়মুর পাশা [মৃত্যু ১৩৪৮ হি.]
উপস্থাপনা: শায়খ মুহাম্মাদ আবু জাহরা
প্রকাশক: দারুল কাদরি লিট-তিবাআতি ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হি. - ১৯৯০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
মাকতাবা শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
نظرة تاريخية في حدوث المذاهب الفقهية الأربعة:
الحنفي - المالكي - الشافعي - الحنبلي
وانتشارها عند جمهور المسلمين
تأليف
العلامة أحمد تيمور باشا
- عدد الأجزاء: 1.
- عدد الصفحات: 96.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
চার ফিকহি মাজহাবের উৎপত্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
হানাফি - মালিকি - শাফেয়ি - হাম্বলি
এবং মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে এগুলোর বিস্তার
রচনায়
আল্লামা আহমাদ তাইমুর পাশা
- খণ্ড সংখ্যা: ১।
- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬।
মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি — আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন —।
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
نظرة تاريخية في حدوث المذاهب الفقهية الأربعة:الحنفي - المالكي - الشافعي - الحنبلي
وانتشارها عند جمهور المسلمين
تأليف
العلامة أحمد تيمور باشا
تقديم
الشيخ محمد أبو زهرة
دار القادري
চার ফিকহি মাজহাবের উদ্ভবের একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা:হানাফি - মালিকি - শাফেয়ি - হাম্বলি
এবং সাধারণ মুসলিম জনসাধারণের মাঝে এগুলোর বিস্তার
রচনা
আল্লামা আহমাদ তাইমুর পাশা
উপস্থাপনা
শায়খ মুহাম্মাদ আবু জাহরা
দার আল-কাদরি
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১)
نظرة تاريخية في حدوث المذاهب الفقهية الأربعة:
الحنفي - المالكي - الشافعي - الحنبلي
وانتشارها عند جمهور المسلمين
চারটি ফিকহি (فقهي) মাজহাবের (مذهب) উৎপত্তির ওপর একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা:
হানাফি - মালিকি - শাফিয়ি - হাম্বলি
এবং মুসলিম জনসাধারণের (جمهور) নিকট এগুলোর বিস্তার।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الأولى:
1411 هـ - 1990 م
دارالقادري للطباعة والنشر والتوزيع
بيروت - لبنان.
প্রথম সংস্করণ:
১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
দার আল-কাদরি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
বৈরুত - লেবানন।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةُ النَّاشِرِ:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد: فإن دراسة تاريخ التشريع الإسلامي أصبحت عِلْمًا مستقلاً في العصر الحديث، وأول من كتب في هذا المجال الشيخ محمد الخضري - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -، وذلك في كتابه الرائد " تاريخ التشريع الإسلامي " وتبعه الشيخ السبكي والشيخ السايس والشيخ البربري في كتابهم القيم الذي يحمل العنوان نفسه، إلى أن جاء العلامة الجليل الشيخ محمد أبو زهرة فكتب " تاريخ المذاهب الإسلامية " العقدية والفقهية، ثم أفرد لكل إمام من أئمة المذاهب تصنيفًا مستقلاً تكلم فيه عن حياته وفقهه وآرائه التي انفرد بها، فسد بعمله الجليل ثغرة في مكتبتنا
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রকাশকের ভূমিকা:যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর।
অতঃপর: আধুনিক যুগে ইসলামী বিধান প্রণয়নের ইতিহাসের অধ্যয়ন একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যিনি লেখনী ধারণ করেছেন তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ আল-খুদরি - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন -। আর তা হলো তাঁর অগ্রগামী গ্রন্থ "তারিখুত তাশরি আল-ইসলামি"-তে। এরপর শায়খ আস-সুবকি, শায়খ আস-সাইস এবং শায়খ আল-বারবারি তাঁদের একই শিরোনামের মূল্যবান গ্রন্থে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। পরিশেষে বরেণ্য আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবু জাহরা আগমন করলেন এবং আকিদা ও ফিকহ বিষয়ক "তারিখুল মাজাহিব আল-ইসলামিয়া" রচনা করলেন। এরপর তিনি মাযহাবসমূহের ইমামদের প্রত্যেকের জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি তাঁদের জীবন, ফিকহ এবং তাঁদের সেই সকল অনন্য মতামত নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলোতে তাঁরা একক ছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর এই মহান কর্মের দ্বারা আমাদের গ্রন্থাগারের একটি শূন্যস্থান পূরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الإسلامية كان يستغلها المستشرقون وأذنابهم للنيل من الشريعة الإسلامية الغراء.
وتأتي أهمية دراسة تاريخ التشريع من النواحي التالية:
الأولى: أنها توضح كيفية نشأة هذه المذاهب، وكيف ازدهرت وما هي الآفات الدخيلة عليها. فنحن نعلم أن الأئمة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ - عاشوا في قرن واحد تقريبًا في بيئات متقاربة، فالإمام أبو حنيفة قد التقى بالإمام مالك في مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم وافترقا عن صداقة حميمة وإعجاب كل منهما بصاحبه في علمه وورعه ودينه (1). كما أن الإمام الشافعي تتلمذ على يدي الإمام مالك من جهة وعلى يدي الإمام محمد بن الحسن الشيباني صاحب الإمام أبي حنيفة، وكان يُكِنُّ لهما الإعجاب الكثير والاحترام الكبير، أما الإمام أحمد بن حنبل فقد تتلمذ أولاً على الإمام القاضي أبي يوسف يعقوب بن إبراهيم كبير أصحاب الإمام أبي حنيفة ثم على يدي الإمام الشافعي وذلك قبل أن يستقل بمذهب خاص به.
فهؤلاء هم الأئمة كانوا على قلبٍ واحدٍ وعلمًا وغاية، وإن اختلفت الطرق التي أوصلتهم إلى مقصدهم الواحد ولم يكن اختلافهم عن تشهي وإظهار للذات بل كان ضرورة أملاها عليهم الدين والورع ونشدان الحق، ومع ذلك فقد اتفقت أصولهم التي عليها أسسوا فقههم وإن اختلفوا في الفروع.
--------------------------------------------
ইসলামি বিষয়াবলি প্রাচ্যবিদ ও তাদের লেজুড়বৃত্তি করা অনুসারীরা মহান ইসলামি শরিয়তের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত।
আর আইন প্রণয়নের ইতিহাস (تاريخ التشريع) অধ্যয়নের গুরুত্ব নিম্নোক্ত দিকগুলো থেকে ফুটে ওঠে:
প্রথমত: এটি এই মাজহাবগুলোর উৎপত্তির ধরণ, এগুলোর বিকাশ এবং এতে প্রবিষ্ট ক্ষতিকারক বিষয়গুলো স্পষ্ট করে। আমরা জানি যে, ইমামগণ —আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন— প্রায় একই শতাব্দীতে এবং কাছাকাছি পরিবেশে বসবাস করেছেন। ইমাম আবু হানিফা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নগরীতে ইমাম মালিকের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাঁরা একে অপরের জ্ঞান, খোদাভীতি ও দ্বীনদারির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও নিবিড় বন্ধুত্ব নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন (১)। একইভাবে ইমাম শাফেয়ী একদিকে ইমাম মালিকের নিকট এবং অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফার সহচর ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানীর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন; তিনি তাঁদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তি পোষণ করতেন। আর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রথমে ইমাম আবু হানিফার প্রধান সহচর ইমাম কাজী আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিমের নিকট এবং পরবর্তীতে ইমাম শাফেয়ীর নিকট শিক্ষা লাভ করেন; আর এটি ছিল তাঁর নিজস্ব স্বতন্ত্র মাজহাব প্রতিষ্ঠার পূর্বের কথা।
সুতরাং এই ইমামগণ এক হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁদের জ্ঞান ও লক্ষ্য ছিল অভিন্ন, যদিও সেই অভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানোর পথগুলো ভিন্ন ছিল। তাঁদের এই মতপার্থক্য কোনো খেয়ালখুশি বা আত্মপ্রদর্শনের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল দ্বীন, তাকওয়া এবং সত্য অন্বেষণের এক অপরিহার্যতা। তা সত্ত্বেও, তাঁদের সেই মূলনীতি (أصول) গুলো অভিন্ন ছিল যার ওপর ভিত্তি করে তাঁরা তাঁদের ফিকহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যদিও শাখা-প্রশাখা (فروع) গত মাসআলায় তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والأئمة وإن تشابهوا في السجايا من دين وورع وتقوى وذكاء واستعداد عظيم للحفظ والفهم والاستنباط فإنهم تميزوا بأن احتفظ كل واحد منهم بخصيصة تَفَوُّقٍ بها على الآخرين، فالإمام أبي حنيفة أعلى الأئمة جميعًا مقدرة على استنباط علل الأحكام والقياس عليها، واستخراج القواعد الناظمة للفروع. والإمام مالك أعلم الأئمة جميعًا بالسنن العلمية والعُرْفِ الذي كان في عصر التشريع، ومن هنا كان عمل أهل المدينة بمثابة الحديث المتواتر المنقول نَقْلاً عَمَلِيًّا، وكذلك الإمام الشافعي كان أكثر الأئمة قدرة على استنباط الأحكام من النصوص، كيف لا وهو الذي احتج اللغويون بكلامه، وقال فيه الجاحظ: «نظرت في كلام هؤلاء النبغة فلم أر أحسن تأليفًا من المُطَّلَبِيِّ كأن لسانه ينثر الدر». أما الإمام أحمد فهو أكثر الأئمة حفظًا للنصوص سواء كانت أحاديث نبوية أو آثارًا عن الصحابة أو فتاوى للصحابة أو التابعين، ومن هنا جاءت المذاهب الفقهية الأربعة مكملة لبعضها البعض فما أشبهها بمائدة عليها أطايب الطعام من صنوف شتى يتخير الآكل ما لذ وطاب.
أما آفتها الدخيلة عليها فهو التعصب المذهبي الذي يزعم أن الحق محصور في مذهب من هذه المذاهب ليوجب على المسلمين المتذهب به؛ كالذي فعله صاحب كتاب " مغيث الخلق في بيان المذهب الحق " في حصر الحق في المذهب الشافعي، وكالذي فعله صاحب " النكت الظريفة في ترجيح مذهب أبي حنيفة " فهو أمر لا يتفق مع الدين أولاً ولا مع المذاهب ثانيًا، فلو عرضت هذه العصبيات على الأئمة
ইমামগণ যদিও দ্বীনদারী, পরহেজগারী, তাকওয়া, বুদ্ধিমত্তা এবং মুখস্থ রাখা, উপলব্ধি করা ও মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করার মহান যোগ্যতার মতো চারিত্রিক গুণাবলিতে সদৃশ ছিলেন, তবুও তাঁরা প্রত্যেকেই এমন এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন যার মাধ্যমে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। ইমাম আবূ হানীফা আহকামের কারণসমূহ (علل) এবং তার ওপর তুলনা (القياس) করার ক্ষেত্রে এবং শাখা-প্রশাখার মাসআলা বিন্যস্তকারী মূলনীতিসমূহ বের করার ক্ষেত্রে সকল ইমামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। আর ইমাম মালিক ব্যবহারিক সুন্নাহ (السنن) এবং বিধান প্রণয়নের যুগের প্রচলিত প্রথা (العرف) সম্পর্কে সকল ইমামের মধ্যে অধিক পরিজ্ঞাত ছিলেন; এখান থেকেই মদীনার অধিবাসীদের আমলকে কর্মগতভাবে বর্ণিত মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ইমাম শাফেয়ী মূল পাঠসমূহ (النصوص) থেকে বিধান উদ্ভাবন (استنباط) করার ক্ষেত্রে সকল ইমামের চেয়ে অধিক পারদর্শী ছিলেন। কেনই বা হবে না, অথচ ভাষাবিদগণ তাঁর বক্তব্যকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর সম্পর্কে জাহিজ বলেছেন: «আমি এই সকল প্রতিভাধরদের বক্তব্যের দিকে দৃষ্টিপাত করেছি, কিন্তু মুত্তালিবী (ইমাম শাফেয়ী)-র চেয়ে উত্তম রচনা আর দেখিনি; মনে হয় যেন তাঁর জবান থেকে মুক্তা ঝরছে।» আর ইমাম আহমাদ মূল পাঠসমূহ (النصوص) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সকল ইমামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, চাই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস হোক কিংবা সাহাবীগণের আসার (آثارًا) অথবা সাহাবী ও তাবিঈগণের ফতোয়া হোক। এ কারণেই এই চারটি ফিকহী মাযহাব একে অপরের পরিপূরক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এদের উদাহরণ যেন নানা পদের সুস্বাদু খাবারে সাজানো একটি দস্তরখান, যেখানে ভোজনকারী তার পছন্দমতো উপাদেয় খাবার বেছে নিতে পারে।
তবে এর মধ্যে অনুপ্রবেশ করা আপদটি হলো মাযহাবী গোঁড়ামি, যা দাবি করে যে সত্য কেবল এই মাযহাবগুলোর কোনো একটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এটি মুসলমানদের ওপর সেই মাযহাব অনুসরণ করাকে আবশ্যিক করে দেয়; যেমনটি করেছেন "মুগীসুল খালক ফী বয়ানিল মাযহাবিল হাক" কিতাবের লেখক সত্যকে শাফেয়ী মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে এবং যেমনটি করেছেন "আন-নুকাতুয যরীফাহ ফী তারজীহি মাযহাবি আবী হানীফাহ" কিতাবের লেখক। এটি এমন একটি বিষয় যা প্রথমত দ্বীনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং দ্বিতীয়ত মাযহাবগুলোর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদি এই গোঁড়ামিগুলো ইমামগণের সামনে পেশ করা হতো...
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أنفسهم لحاربوها أشد المحاربة وَعَزَّرُوا أصحابهاعلى رؤوس الأشهاد.
إن في سيرة الأئمة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد قدورة لكل مسلم غيور على الحق ناصح لدينه ليتعلم منهم آداب العلم والتلقي والحوار والاتفاق على الحق والاختلاف في طلبه، وما أجد المسلمين اليوم أن لا يقتصروا في تعلم أحكام دينهم على مذهب واحد بل يجعلوا المذاهب الأربعة مذهبًا واحدًا وأقوال الأئمة أقوالاً في المذهب، المذهب الإسلامي الجامع ويتخيروا منها ما قويت حجته ووضحت دلالته.
الثانية: أن التشريع الإسلامي كان يتطور استجابة للأوضاع الاجتماعية والسياسية والفكرية والاقتصادية المتطورة عبر العصور فهو الصورة المدونة عنها ودراسته مفيدة جِدًّا لمعرفة تلك الأوضاع عبر القرون وعبر الأفكار الإسلامية كلها. وفي هذا دلالة على صلاحية الشريعة الإسلامية لكل زمان ومكان.
الثالثة: أن دراسة تاريخ التشريع هو جزء من دراسة تاريخنا العام الذي هو جزء من شخصية الأمة بل مَعْلَمٌ من أهم معالمها الأصيلة.
الرابعة والأخيرة: أن هذا الجانب من الدراسات كان مَرْتَعًا للمستشرقين لنفثوا سمومهم ويكيدوا للأمة ويطعنوا في دينها فدراسته من قبل المسلمين أنفسهم يقطع الطريق على أدعياء العلم وأعدائه من المستشرقين وأذنابهم ويكشف زيفهم وذيفانهم، وإضاءة هذه النقاط المجهولة من تاريخنا الفكري كافية لحمل خفافيش الاستشراق على الفرار
তারা নিজেরাই এর বিরুদ্ধে কঠোরতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন এবং প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে এর হোতাদের শাস্তি (عزروا) দিতেন।
নিশ্চয়ই ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমদের জীবনীতে সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ এবং দ্বীনের প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আদর্শ রয়েছে; যেন তারা তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জনের পদ্ধতি, জ্ঞান আহরণ, সংলাপ, সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সত্য অনুসন্ধানে মতপার্থক্যের শিষ্টাচার শিক্ষা লাভ করতে পারে। আমি মনে করি যে, বর্তমান সময়ের মুসলমানদের জন্য উচিত হবে না তাদের দ্বীনি বিধান শিক্ষার ক্ষেত্রে কেবল একটি মাযহাবের (مذهب) ওপর সীমাবদ্ধ থাকা, বরং তারা যেন চারটি মাযহাবকে একটি সমন্বিত মাযহাব (مذهب) হিসেবে গণ্য করে এবং ইমামদের বক্তব্যসমূহকে সেই সমন্বিত ইসলামি মাযহাবের (مذهب) বিভিন্ন বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে। আর সেখান থেকে তারা সেই মতটিকেই গ্রহণ করে যার দলিল (حجة) শক্তিশালী এবং প্রমাণ (دلالة) সুস্পষ্ট।
দ্বিতীয়ত: ইসলামি শরিয়ত প্রণয়ন বা তাশরি (تشريع) যুগ পরম্পরায় বিবর্তিত সামাজিক, রাজনৈতিক, চিন্তাগত ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাহিদাকে ধারণ করে বিকাশ লাভ করেছে। এটি মূলত সেই পরিস্থিতিরই একটি লিপিবদ্ধ রূপ এবং শতাব্দীকাল ধরে সেই সব অবস্থা এবং সামগ্রিক ইসলামি চিন্তাধারা সম্পর্কে জানার জন্য এর অধ্যয়ন অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এতে প্রতিটি কাল ও স্থানের জন্য ইসলামি শরিয়তের উপযোগিতার প্রমাণ (دلالة) নিহিত রয়েছে।
তৃতীয়ত: আইন প্রণয়নের ইতিহাস (تاريخ التشريع) অধ্যয়ন আমাদের সামগ্রিক ইতিহাস অধ্যয়নেরই একটি অংশ, যা এই উম্মাহর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত; বরং এটি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক নিদর্শন।
চতুর্থ ও শেষত: গবেষণার এই দিকটি প্রাচ্যবিদদের (مستشرقين) বিচরণক্ষেত্র ছিল, যেন তারা তাদের বিষবাষ্প ছড়াতে পারে, উম্মাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে এবং তার দ্বীনকে আক্রমণ করতে পারে। তাই খোদ মুসলমানদের পক্ষ থেকে এর অধ্যয়ন জ্ঞানের দাবিদার এবং জ্ঞানের শত্রু প্রাচ্যবিদ (مستشرقين) ও তাদের অনুসারীদের পথ রুদ্ধ করবে এবং তাদের মিথ্যাচার ও বিষাক্ততা উন্মোচন করবে। আমাদের চিন্তাগত ইতিহাসের এই অজ্ঞাত বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা প্রাচ্যবাদের (استشراق) বাদুড়দের বিতাড়িত করার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
من الساحة وإبطال سحرهم ومكرهم فهم لا يتواجدون إلا في الأماكن المظلمة، أما تحت الأنوار الساطعة فليس لهم جرأة على الظهور (1).
لكل ما سلف يأتي كتاب " نظرة عامة في نشأة المذاهب الفقهية الأربعة " لأحمد تيمور باشا في مقدمة الدراسات التي ينبغي على المسلمين أن يتعرفوا عليها لما لهذه الدراسة من خصائص كثيرة شرحها وَبَيَّنَهَا الشيخ محمد أبو زهرة في مقدمته للكتاب: ص 19 - 46.
سبق أن نشر الكتاب لأول مرة في مجلة " الزهراء " التي كان يصدرها العلامة محب الدين الخطيب بالقاهرة ثم نشرها مرة ثانية في رسالة مستقلة سنة 1344 هـ - 1926 م، وطبعت في المطبعة السلفية بالقاهرة، وكذلك الطبعة الثالثة سنة 1351 هـ - 1933 م، أما الطبعة الرابعة فقد أشرفت عليها لجنة نشر المؤلفات التيمورية وطبعتها في مطابع سجل العرب بالقاهرة سنة 1389 هـ - 1969 م.
ولما لهذا الكتاب من أهمية ونظرًا لنفاده من الأسواق حرصنا على إعادة طبعه فحافظنا على مقدمة الشيخ محمد أبو زهرة - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - لأنها أغنت الكتاب بما فيها من عِلْمٍ، وصححنا الأغلاط المطبعية وغيرها، ونبهنا على ذلك في مواضعه.
ثم إن الشيخ محمد أبو زهرة ذكر في مقدمته سبعة أحاديث أذكر هنا تخريجها باختصار
--------------------------------------------
ময়দান থেকে এবং তাদের জাদু ও চক্রান্ত নস্যাৎ করার জন্য; কেননা তারা কেবল অন্ধকার স্থানেই অবস্থান করে। পক্ষান্তরে উজ্জ্বল আলোর নিচে তাদের আত্মপ্রকাশ করার সাহস নেই (১)।
উপরোল্লিখিত সকল কারণে আহমদ তাইমুর পাশার "নজরা আম্মাহ ফী নাশআত আল-মাজাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ" (চার ফিকহি মাজহাবের উদ্ভব সংক্রান্ত একটি সাধারণ আলোচনা) গ্রন্থটি সেই সব গবেষণার অগ্রভাগে আসে যা মুসলমানদের জেনে রাখা উচিত। কেননা এ গবেষণার অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ১৯ - ৪৬) ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করেছেন।
গ্রন্থটি সর্বপ্রথম কায়রো থেকে আল্লামা মুহিবুদ্দীন আল-খাতিব সম্পাদিত "আজ-জাহরা" সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ১৩৪৪ হিজরি - ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা হিসেবে এটি দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয় এবং কায়রোর আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ-তে মুদ্রিত হয়। একইভাবে তৃতীয় সংস্করণটি ১৩৫১ হিজরি - ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। আর চতুর্থ সংস্করণটি "লাইনা নাশর আল-মুআল্লাফাত আত-তাইমুরিয়্যাহ" (তাইমুরি রচনা প্রকাশনা কমিটি)-এর তত্ত্বাবধানে ১৩৮৯ হিজরি - ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর "সিজিল্লুল আরব" প্রেসে মুদ্রিত হয়।
এই গ্রন্থের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং বাজারে এর দুষ্প্রাপ্যতার কারণে আমরা এটি পুনঃমুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এর ভূমিকাটি অপরিবর্তিত রেখেছি; কারণ এটি এর জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রন্থটিকে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা মুদ্রণজনিত এবং অন্যান্য ভুল সংশোধন করেছি এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে সে সম্পর্কে অবহিত করেছি।
অতঃপর শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা তাঁর ভূমিকায় সাতটি হাদিস উল্লেখ করেছেন; আমি এখানে সংক্ষেপে সেগুলোর উৎস যাচাই (تخريج) উল্লেখ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
1 - ص (20) «أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمُ اقْتَدَيْتُمُ اهْتَدَيْتُمْ» قال الألباني في " الأحاديث الضعيفة والموضوعة ": رقم (58) و (59) و (60) و (61): حديث موضوع.
2 - ص (20) «نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي، فَوَعَاهَا [ثُمَّ بَلَّغَهَا عَنِّي] (*)، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرُ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ». أخرجه الإمام أحمد وابن ماجه من حديث أنس. قال الألباني في " صحيح الجامع " رقم (6641): صحيح.
3 - ص (21): «لِلْمُجْتَهِدِ إِذَا أَصَابَ أَجْرَانِ وَإِذَا أَخْطَأَ أَجْرٌ وَاحِدٌ» (**). أخرجه البخاري في الاعتصام - باب أجر الحاكم إذا اجتهد فأصاب أو أخطأ، رقم 7352، ومسلم في الأقضية - باب بيان أجر الحاكم إذا اجتهد فأصاب أو أخطأ، رقم (1716). وغيرهما من حديث عمرو بن العاص رضي الله عنه ولفظه: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ [ثُمَّ أَصَابَ] فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ [ثُمَّ] أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ».
4 - ص (21) حديث معاذ، أخرجه أبو داود في الأقضية - باب اجتهاد الرأي في القضاء رقم (3592) و (3593). والترمذي في الأحكام - باب ما جاء في القاضي كيف يقضي رقم (1327) و (1328) وقال: حديث لا نعرفه إلا من هذا الوجه وليس إسناده عندي بمتصل. وقال الألباني في " الضعيفة " رقم (881): منكر، وَأُعِلَّ هَذَا الحَدِيثُ بعلل ثلاث: الإرسال، وجهالة أصحاب معاذ، وجهالة الحارث بن عمرو. اهـ مختصرًا.
--------------------------------------------
১ - পৃষ্ঠা (২০) «আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তাদের মধ্যে যাকেই তোমরা অনুসরণ করবে, সঠিক পথ পাবে» আলবানী "আল-আহাদিস আদ-দইফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ"-তে বলেছেন: নম্বর (৫৮), (৫৯), (৬০) ও (৬১): জাল (موضوع) হাদিস।
২ - পৃষ্ঠা (২০) «আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে [এরপর তা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দিয়েছে] (*), কেননা অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে ফকিহ (বিজ্ঞ) নন, আবার অনেক জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও অধিক ফকিহ (বিজ্ঞ)»। ইমাম আহমাদ এবং ইবনে মাজাহ এটি আনাস-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আলবানী "সহিহ আল-জামি" নম্বর (৬৬৪১)-এ বলেছেন: সহিহ (صحيح)।
৩ - পৃষ্ঠা (২১): «মুজতাহিদের জন্য (গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তে) যদি সঠিক হয় তবে দুটি সওয়াব এবং যদি ভুল হয় তবে একটি সওয়াব রয়েছে» (**)। বুখারি এটি আল-ইতিসাম - অনুচ্ছেদ: বিচারক যখন ইজতিহাদ করে সঠিক বা ভুল করেন তার সওয়াব, হাদিস নম্বর ৭৩৫২ এবং মুসলিম এটি আল-আকদিয়াহ - অনুচ্ছেদ: বিচারক যখন ইজতিহাদ করে সঠিক বা ভুল করেন তার সওয়াবের বর্ণনা, নম্বর (১৭১৬)-এ বর্ণনা করেছেন। আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে অন্যান্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: «যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (গবেষণা) করেন [অতঃপর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান], তবে তার জন্য দুটি সওয়াব। আর যখন তিনি বিচার করেন এবং ইজতিহাদ করেন [অতঃপর] ভুল করেন, তবে তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে»।
৪ - পৃষ্ঠা (২১) মুআয-এর হাদিস, আবু দাউদ এটি আল-আকদিয়াহ - বিচারকার্যে নিজের রায়ের ইজতিহাদ অনুচ্ছেদ নম্বর (৩৫৯২) ও (৩৫৯৩) এবং তিরমিজি আল-আহকাম - বিচারক কীভাবে বিচার করবেন অনুচ্ছেদ নম্বর (১৩২৭) ও (১৩২৮)-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি আমরা এই সূত্র ছাড়া জানি না এবং আমার মতে এর সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل) নয়। আলবানী "আদ-দইফাহ" নম্বর (৮৮১)-এ বলেছেন: অস্বীকৃত (منكر), এবং এই হাদিসটি তিনটি ত্রুটির কারণে ত্রুটিযুক্ত বলে গণ্য হয়েছে: বিচ্ছিন্নতা (إرسال), মুআযের সাথীদের পরিচয়হীনতা (جهالة) এবং হারিস বিন আমরের পরিচয়হীনতা (جهالة)। সংক্ষেপিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
5 - ص (22): «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ». حديث صحيح متواتر رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم ثمانية وتسعون صحابيًا وقد أشار إلى تخريجه في دواوين السنة السيوطي في " الجامع الصغير ". وأشير هنا إلى أن الحديث أخرجه البخاري في العلم - باب إثم من كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، رقم (107) من حديث الزبير بن العوام رضي الله عنه ولكن ليس فيه لفظ «مُتَعَمِّدًا». وأخرجه باللفظ المذكور مسلم في المقدمة - باب تغليظ الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم رقم (4) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه. انظر كلام الحافظ في " الفتح ": 1/ 200 ط. السلفية.
6 - ص (26) «إِنَّ المَلَائِكَةَ تَحُفُّ بِأَهْلِ العِلْمِ». معنى حديث أخرجه ابن حبان من حديث أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما مَعًا ولفظه: «مَا جَلَسَ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَاّ حَفَّتْهُمُ المَلَائِكَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَتَنَزَّلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ». قال الألباني في " صحيح الجامع " رقم (5484): صحيح.
7 - ص (40): «مَنْ لَمْ يَهْتَمَّ بِأَمْرِ المُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ». قال السخاوي في " المقاصد " رقم (1182): رواه البيهقي في " الشعب " من حديث وهب بن راشد حدثنا فرقد السبخي عن أنس رفعه: «مَنْ أَصْبَحَ لَا يَهْتَمُّ لِلْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ»، وهو عند الطبراني وأبي نعيم في " الحلية ". قلتُ: قال في " الميزان " وهب بن راشد قال ابن عدي: ليس حديثه بالمستقيم، أحاديثه كلها فيها نظر، وقال النسائي: متروك. اهـ.
5 - পৃষ্ঠা (২২): «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।» এটি একটি সহিহ (صحيح) মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আটানব্বই জন সাহাবি বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতি তার "আল-জামি আস-সগির"-এ সুন্নাহর দিওয়ানসমূহে এর উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আমি এখানে উল্লেখ করছি যে, হাদিসটি বুখারি 'ইলম' অধ্যায়ে—অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপকারীর গুনাহ, নম্বর (১০৭)—যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে «ইচ্ছাকৃতভাবে» শব্দটি নেই। আর মুসলিম এটি উল্লিখিত শব্দসহ 'মুকাদ্দিমা' (ভূমিকা) অংশে—অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা বলার কঠোরতা, নম্বর (৪)—আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফিজের বক্তব্য দেখুন "ফাতহুল বারি": ১/২০০, আস-সালাফিয়্যাহ সংস্করণ।
6 - পৃষ্ঠা (২৬) «নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞানীদের (আহলে ইলম) বেষ্টন করে রাখে।» এটি একটি হাদিসের মর্মার্থ যা ইবনে হিব্বান আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি হলো: «কোনো সম্প্রদায় যখন আল্লাহর জিকির করতে বসে, তখন ফেরেশতারা তাদের বেষ্টন করে ফেলে, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে, তাদের ওপর প্রশান্তি বর্ষিত হয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন।» আলবানি "সহিহ আল-জামি" নম্বর (৫৪৮৪)-এ বলেছেন: সহিহ (صحيح)।
7 - পৃষ্ঠা (৪০): «যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।» সাখাবি "আল-মাকাসিদ" নম্বর (১১৮২)-তে বলেছেন: বায়হাকি "শুআবুল ঈমান"-এ ওয়াহাব ইবনে রাশিদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের কাছে ফারকাদ আস-সাবখি বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে: «যে ব্যক্তি সকালে উঠে মুসলিমদের কল্যাণে গুরুত্ব দেয় না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়», এটি তাবারানি এবং আবু নুআইম "আল-হিলয়াহ"-তে বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: "আল-মিজান"-এ ওয়াহাব ইবনে রাশিদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ইবনে আদি বলেছেন: তার হাদিস সঠিক (مستقيم) নয়, তার সকল হাদিসেই আপত্তি (فيه نظر) রয়েছে, আর নাসায়ি বলেছেন: পরিত্যাজ্য (متروك)। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد تطرق الأستاذ أحمد تيمور باشا لعقائد الحنفية وذكر في ص 60 كلام السبكي أن الحنفية أكثرهم أشاعرة لا يخرج منهم إلا من لحق بالمعتزلة.
قلتُ: في هذا الكلام نظر بل أغلبهم مَاتُرِيدِيَّةٌ ومنهم أثريون سلفيون كالطحاوي وابن أبي العز الحنفي شارح " الطحاوية " وَمُلَاّ علي القاري.
ثم قال: وكأنه يريد أن خلافهم في هذه المسائل لا يخرجهم عن كونهم أشعرية وإن تسموا بالماتريدية لتصريحه بعد ذلك بأنها كالمسائل التي اختلف فيها الأشاعرة فيما بينهم ولأن المسائل الثلاث عشرة لم تثبت جميعها عن الشيخ ولا عن الإمام أبي حنيفة.
قلتُ: بل الخلاف وقع بينهم في أربعين مسألة استوفاها شرحًا واستدلالاً الشيخ زاده - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - في كتابه " نظم الفرائد وجمع الفوائد في بيان المسائل التي وقع فيها الخلاف بين الماتريدية والأشعرية في العقائد مع ذكر أدلة الفريقين " (*) وهو كتاب مطبوع في مصر بالمطبعة الأدبية سنة 1317 هـ.
كما تطرق لعقائد المالكية ص (69) وأزيد فأقول إن الإمام الباقلاني وهو من مؤسسي المذهب الأشعري كان مالكيًا.
ثم قال عن عقائد الحنابلة ص (84): إن أكثر فضلاء متقدميهم أشاعرة لم يخرج منهم عن عقيدة الأشعري إلا من لحق بأهل التجسيم. اهـ.
--------------------------------------------
অধ্যাপক আহমদ তাইমুর পাশা হানাফিদের আকিদা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ৬০ পৃষ্ঠায় সুবকির বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, হানাফিদের অধিকাংশ হলেন আশআরি (أشاعرة), তাদের মধ্যে কেবল তারাই এর বাইরে যারা মুতাজিলাদের (المعتزلة) সাথে যুক্ত হয়েছে।
আমি বলব: এই বক্তব্যের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, বরং তাদের অধিকাংশ হলেন মাতুরিদি (ماتريدية) এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আসারি (أثريون) ও সালাফি (سلفيون), যেমন তহাবি এবং 'আকিদাহ আত-তহাবিইয়াহ' এর ব্যাখ্যাকার ইবন আবিল ইজ্জ আল-হানাফি ও মোল্লা আলী আল-ক্বারী।
এরপর তিনি বলেন: সম্ভবত তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই বিষয়গুলোতে তাদের মতপার্থক্য তাদের আশআরি হওয়া থেকে বের করে দেয় না, যদিও তারা মাতুরিদি নামে অভিহিত হন। কারণ তিনি এর পরে স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলো ঠিক সেই বিষয়গুলোর মতোই যেগুলোতে আশআরিরা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য করেছেন। আর এ কারণে যে, তেরোটি বিষয়ের কোনোটিই শেখ বা ইমাম আবু হানিফা থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রমাণিত (ثبتت) হয়নি।
আমি বলব: বরং তাদের মধ্যে মতপার্থক্য হয়েছে চল্লিশটি বিষয়ে, যা শেখ জাদাহ —রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা— তাঁর কিতাব 'নাজমুল ফারায়িদ ওয়া জামউল ফাওয়াইদ ফি বায়ানি আল-মাসায়িল আল্লাতি ওয়াকাআ ফিহাল খিলাফু বাইনাল মাতুরিদিয়্যাতি ওয়াল আশআরিয়্যাতি ফিল আকায়িদি মাআ জিকর আদিল্লাতিল ফারিকাইন' (*) এ বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলীলসহ উল্লেখ করেছেন। এটি ১৩১৭ হিজরিতে মিশরের মাতবাআ আল-আদাবিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত একটি কিতাব।
তিনি ৬৯ পৃষ্ঠায় মালিকিদের আকিদা নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং আমি এর সাথে যোগ করে বলছি যে, ইমাম বাকিলানি, যিনি আশআরি মাযহাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি একজন মালিকি ছিলেন।
এরপর তিনি ৮৪ পৃষ্ঠায় হাম্বলিদের আকিদা সম্পর্কে বলেন: তাদের পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠ আলেমদের অধিকাংশ ছিলেন আশআরি; তাদের মধ্য থেকে কেবল তারাই আশআরির আকিদা থেকে বের হয়েছেন যারা তাজসিমপন্থীদের (أهل التجسيم) সাথে যুক্ত হয়েছে। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قلتُ: في هذا الكلام نظر بل أكثر الحنابلة أثريون سلفيون ابتعدوا عن علم الكلام ومقالاته ولم يخوضوا فيها خاض فيه الأشاعرة أو الماتريدية وبقوا في بر الأمان مع النصوص وآثار السلف فهم سلفيون أثريون ومن نظر في كتبهم (1) عرف ذلك عنهم.
وختامًا أقول: ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم وتب علينا إنك أنت التواب الرحيم.
عبد البديع القادري
دمشق: 4/ 6 / 1410 هـ.
1/ 1 / 1990 م.
আমি বলি: এই বক্তব্যে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে; বরং অধিকাংশ হাম্বলিগণই ছিলেন আসারি (أثريون) ও সালাফি (سلفيون)। তারা ইলমুল কালাম (علم الكلام) এবং এর বিভিন্ন মতবাদ থেকে দূরে অবস্থান করেছেন এবং আশআরি বা মাতুরিদিরা যেভাবে তাতে লিপ্ত হয়েছে, তারা সেভাবে লিপ্ত হননি। তারা (কুরআন ও সুন্নাহর) নসসমূহ (نصوص) এবং সালাফদের আছার (آثار) এর সাথে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করেছেন। সুতরাং তারা সালাফি (سلفيون) ও আসারি (أثريون)। যারা তাদের কিতাবসমূহ (১) পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা তাদের সম্পর্কে এই বিষয়টি অবগত হয়েছেন।
পরিশেষে আমি বলি: হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। আর আমাদের তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
আব্দুল বদি আল-কাদরি
দামেস্ক: ৪/ ৬ / ১৪১০ হি.
১/ ১ / ১৯৯০ খ্রি.
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أحمد تيمور باشا(1288 - 1348 هـ = 1871 - 1930 م)
أحمد بن إسماعيل بن محمد تيمور، عالم بالأدب، باحث، مؤرخ مصري من أعضاء المجمع العلمي العربي، مولده ووفاته بالقاهرة من بيت فضل ووجاهة. كردي الأصل، مات أبوه وعمره ثلاثة أشهر، فربته أخته «عائشة» وسمي حين ولد «أحمد توفيق» ودعي في طفولته بتوفيق، ثم اقتصروا على أحمد تيمور، تلقى مبادئ العلوم في مدرسة فرنسية، وأخذ الأدب عن علماء عصره، وجمع مكتبة قيمة، وكان رَضِيَّ النفس كريمها، متواضعًا في انقباض عن الناس، توفيت زوجته وهو في التاسعة والعشرين من عمره، فلم يتزوج بعدها مخافة أن تسيء الثانية إلى أولاده وانقطع إلى خزانة كتبه ينقب فيها ويعلق ويفهرس إلى أن أصيب بفقد ابن له اسمه «محمد» سنة 1340 هـ فجزع ولازمته نوبات قلبية انتهت بوفاته، من كتبه:
1 - " التصوير عند العرب ".
2 - " نظرة تاريخية في حدوث المذاهب الفقهية ".
আহমদ তয়মুর পাশা(১২৮৮ - ১৩৪৮ হিজরি = ১৮৭১ - ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ)
আহমদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ তয়মুর; তিনি একজন সাহিত্য বিশারদ, গবেষক এবং মিশরীয় ইতিহাসবিদ। তিনি ‘আরব সায়েন্টিফিক একাডেমি’র সদস্য ছিলেন। কায়রোর এক সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু। তিনি মূলগতভাবে কুর্দি ছিলেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র তিন মাস তখন তাঁর পিতার মৃত্যু হয়, এরপর তাঁর বোন ‘আয়েশা’ তাঁকে লালন-পালন করেন। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ‘আহমদ তাওফিক’ এবং শৈশবে তাঁকে তাওফিক নামে ডাকা হতো, পরবর্তীতে কেবল ‘আহমদ তয়মুর’ নামে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। তিনি একটি ফরাসি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং সমকালীন আলেমদের নিকট সাহিত্য পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি একটি মূল্যবান লাইব্রেরি সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিতৃপ্ত আত্মা ও মহানুভব ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং মানুষের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে কিছুটা সংকুচিত ও বিনয়ী স্বভাবের ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ঊনত্রিশ বছর, এরপর সন্তানদের প্রতি সৎমায়ের দুর্ব্যবহারের আশঙ্কায় তিনি আর বিবাহ করেননি। তিনি তাঁর কুতুবখানায় (লাইব্রেরি) নিজেকে নিবদ্ধ করেন এবং সেখানে গবেষণা, টীকা লিখন ও নির্ঘণ্ট তৈরির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। অতঃপর ১৩৪০ হিজরিতে তাঁর ‘মুহাম্মদ’ নামক এক পুত্রের মৃত্যুতে তিনি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হন, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:
১ - "আত-তাসউয়ির ইনদাল আরব" (আরবদের মাঝে চিত্রশিল্প)।
২ - "নাজরাতুন তারিখিয়্যাহ ফি হুদুসিল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ" (ফেকহি মাযহাবগুলোর উৎপত্তির ওপর ঐতিহাসিক দৃষ্টিপাত)।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - " تصحيح لسان العرب ".
4 - " اليزيدية ومنشأ نحلتهم ".
5 - " تاريخ العلم العثماني ".
6 - " ضبط الأعلام ".
7 - " البرقيات للرسالة والمقالة ".
8 - " لعب العرب ".
9 - " قبر السيوطي ".
10 - " أبو العلاء المعري وعقيدته ".
11 - " الألقاب والرتب ".
12 - " معجم الفوائد " (وهو الأم لمؤلفاته) (مخطوط).
13 - " الآثار النبوية ".
14 - " أعيان القرن الرابع عشر ".
15 - " الأمثال العامية المصرية ".
16 - " الكنايات العامية المصرية ".
17 - " تراجم المهندسين العرب ".
18 - " نقد القسم التاريخي من دائرة معارف فريد وجدي ".
19 - " التذكرة التيمورية ".
20 - " السماع والقياس ".
21 - " أبيات المعاني والعادت ". (مخطوط).
22 - " المنتخبات من الشعر العربي ".
23 - " تاريخ الأسرة العربية التيمورية ".
3 - " লিসানুল আরবের সংশোধন ".
4 - " ইয়াজিদি সম্প্রদায় এবং তাদের মতবাদের উৎস ".
5 - " উসমানীয় পতাকার ইতিহাস ".
6 - " নামসমূহের শুদ্ধ উচ্চারণ (ضبط) ".
7 - " আল-রিসালা ও আল-মাকালা পত্রিকার তারবার্তাসমূহ ".
8 - " আরবদের ক্রীড়া ".
9 - " সুয়ূতির সমাধি ".
10 - " আবু আল-আলা আল-মাআরি এবং তার আকিদাহ (عقيدة) ".
11 - " উপাধি ও পদমর্যাদা ".
12 - " মুজামুল ফাওয়াইদ " (যা তার রচনার মূল উৎস) (পাণ্ডুলিপি (مخطوط)).
13 - " নবীজির নিদর্শনাবলী (آثار) ".
14 - " চতুর্দশ শতাব্দীর বরেণ্য ব্যক্তিত্বগণ ".
15 - " মিশরীয় চলিত প্রবাদ ".
16 - " মিশরীয় চলিত বাগধারা ".
17 - " আরব প্রকৌশলীদের জীবনী (تراجم) ".
18 - " ফরিদ ওয়াজদির বিশ্বকোষের ঐতিহাসিক অংশের সমালোচনা ".
19 - " আত-তাযকিরা আল-তয়মুরিয়া ".
20 - " শ্রবণ ও কিয়াস (قياس) ".
21 - " অর্থ ও প্রথা-বিষয়ক কাব্যমালা ". (পাণ্ডুলিপি (مخطوط)).
22 - " নির্বাচিত আরবি কবিতা ".
23 - " আরবীয় তাইমুরিয়া পরিবারের ইতিহাস ".
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
24 - " أسرار العربية ".
25 - أوهام شعراء العرب في المعاني ".
26 - " ذيل طبقات الأطباء ". (مخطوط).
27 - " مفتاح الخزانة ". (مخطوط).
28 - " فهرس لخزانة الأدب للبغدادي ".
29 - " ذيل تاريخ الجبرتي ". (مخطوط).
30 - " الألفاظ العامية المصرية ". (مخطوط).
31 - " قاموس الكلمات العامة "، 6 أجزاء. (مخطوط).
نقلت مكتبته إلى دار الكتب المصرية وهي نحو 18 ألف مجلد، أحد الأعلام 1/ 100.
24 - "আসরারুল আরাবিয়্যাহ" ।
25 - "আওহামু শুআরাইল আরাব ফিল মাআনি" ।
26 - "যায়লু তাবাকাতিল আতিব্বা" । (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।
27 - "মিফতাহুল খাজানাহ" । (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।
28 - "ফিহরিসু লি-খাজানাতিল আদাব লিল-বাগদাদি" ।
29 - "যায়লু তারিখিল জাবারতি" । (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।
30 - "আল-আলফাজুল আমমিয়্যাহ আল-মিসরিয়্যাহ" । (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।
31 - "কামুসুল কালিমাতিল আম্মাহ", ৬ খণ্ড। (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।
তাঁর গ্রন্থাগারটি মিসরের দারুল কুতুব-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার খণ্ড বই রয়েছে, আল-আ'লাম ১/ ১০০।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
محمد أبو زهرة:
1316 - 1394 هـ - 1898 - 1974 م
محمد بن أحمد أبو زهرة: أكبر علماء الشريعة الإسلامية في عصره. مولده بمدينة المحلة الكبرى، وتربى بالجامع الأحمدي وتعلم بمدرسة القضاء الشرعي (1916 - 1925) وتولى تدريس العلوم الشرعية والعربية ثلاث سنوات، وعلم في المدارس الثانوية سنتين ونصفًا، وبدأ اتجاهه إلى البحث العلمي في كلية أصول الدين (1933) وَعُيِّنَ أستاذًا محاضرًا للدراسات العليا في الجامعة (1935) وعضوًا للمجلس الأعلى للبحوث العلمية، وكان وكيلاً لكلية الحقوق بجامعة القاهرة، ووكيلاً لمعهد الدراسات الإسلامية وأصدر من تأليفه أكثر من أربعين كتابًا منها المطبوعة الآتية:
1 - " الخطابة ".
2 - " تاريخ الجدل في الإسلام ".
3 - " أصول الفقه ".
4 - " الملكية ونظرية العقد في الشريعة الإسلامية ".
মুহাম্মদ আবু জাহরা:
১৩১৬ - ১৩৯৪ হিজরি - ১৮৯৮ - ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ
মুহাম্মদ বিন আহমদ আবু জাহরা: তাঁর সময়ের ইসলামি শরীয়তের সর্বশ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্যতম। তাঁর জন্ম মাহাল্লা আল-কুবরা শহরে। তিনি আল-জামে আল-আহমদিতে লালিত-পালিত হন এবং মাদরাসাতুল কাদা আশ-শারয়িতে (১৯১৬ - ১৯২৫) শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তিন বছর শরয়ি ও আরবি ইলমসমূহ পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং আড়াই বছর মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩৩ সালে উসুল আদ-দিন (أصول الدين) অনুষদে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতি তাঁর ঝোঁক শুরু হয় এবং ১৯৩৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণার লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণা উচ্চ পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের উপ-ডিন ও ইসলামি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে চল্লিশটিরও অধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মুদ্রিত গ্রন্থ হলো:
১ - "আল-খুতাবাহ" (বক্তৃতাশৈলী)।
২ - "তারিখুল জাদাল ফিল ইসলাম" (ইসলামে বিতর্ক শাস্ত্রের ইতিহাস)।
৩ - "উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)"।
৪ - "ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী মালিকানা ও চুক্তি তত্ত্ব"।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
5 - " مذكرات في الوقف ".
6 - " أبو حنيفة ".
7 - " مالك ".
8 - " الشافعي ".
9 - " أحمد بن حنبل ".
10 - " الإمام زيد ".
11 - " الإمام جعفر الصادق ".
12 - " ابن حزم ".
13 - " ابن تيمية ".
14 - " الأحوال الشخصية ".
15 - " الجريمة والعقوبة في الفقه الإسلامي ".
16 - " الوحدة الإسلامية ".
17 - " تنظيم الإسلام للمجتمع ".
18 - " محاضرات في النصرانية ".
19 - " خاتم النبيين " (3 أجزاء).
20 - " المعجزة الكبرى " (القرآن).
5 - " ওয়াকফ সংক্রান্ত স্মৃতিকথা " .
6 - " আবু হানিফা " .
7 - " মালিক " .
8 - " শাফেয়ি " .
9 - " আহমাদ বিন হাম্বল " .
10 - " ইমাম যায়িদ " .
11 - " ইমাম জাফর আস-সাদিক " .
12 - " ইবনে হাজম " .
13 - " ইবনে তাইমিয়্যাহ " .
14 - " ব্যক্তিগত আইন " .
15 - " ইসলামি ফিকহে অপরাধ ও দণ্ডবিধি " .
16 - " ইসলামি ঐক্য " .
17 - " সমাজ গঠনে ইসলাম " .
18 - " খ্রিস্টধর্ম বিষয়ক বক্তৃতামালা " .
19 - " খাতামুন্নাবিয়্যীন " (৩ খণ্ড) .
20 - " সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা " (আল-কুরআন) .
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
دِرَاسَةٌ تَحْلِيلِيَّةٌ فِي تَارِيخِ الفِقْهِ الإِسْلَامِيِّ:بقلم الشيخ محمد أبو زهرة.
بسم الله الرحمن الرحيم
1 - الحمد لله رب العالمين. وصلى الله على نبيه محمد صلى الله تعالى عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد فقد بعث الله تعالى سيدنا محمدًا النبي الأمين. فبلغ رسالة ربه، ووضح شريعته، حتى ترك الناس من بعده على المحجة البيضاء التي ليلها كنهارها، لا يضل فيها الساري. ولا يختفي (1) الحق لطالبه من غير مصباح سَوِيٍّ، كتاب الله تعالى وسنة رسوله، إلا أن يؤتى فهمًا سليمًا، وقلبًا مشرقًا بنور الإخلاص، فإنه بهذا الاتجاه القويم يسير في الطريق إلى فهم مصادر الشرع وموارده لا عوج فيه
--------------------------------------------
ইসলামী ফিকহের ইতিহাসের ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন:শেখ মুহাম্মদ আবু জোহরা-এর লেখনী.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
১ - যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
অতঃপর, মহান আল্লাহ আমাদের নেতা বিশ্বস্ত (الأمين) নবী মুহাম্মদকে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর শরিয়ত (شريعة) সুস্পষ্ট করেছেন, এমনকি তিনি তাঁর পরবর্তী মানুষদের এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র পথ (المحجة البيضاء)-এর ওপর রেখে গেছেন যার রাত তার দিনের মতোই উজ্জ্বল; সেখানে কোনো পথিক পথভ্রষ্ট হয় না। আর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) নামক সঠিক প্রদীপ ব্যতীত সত্য অন্বেষণকারীর নিকট সত্য গোপন (يختفي) (১) থাকে না; যদি না তাকে সঠিক প্রজ্ঞা এবং ইখলাস (الإخلاص)-এর নূরে আলোকিত হৃদয় দান করা হয়। নিশ্চয়ই এই সঠিক পন্থার অনুসরণে সে শরিয়তের (الشرع) উৎস ও ভিত্তিগুলো অনুধাবনের পথে কোনো বক্রতা ছাড়াই অগ্রসর হতে পারবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَلَا أَمْتَ، يتعرف فيه الغايات الباعثة، والنتائج المترتبة، ويربط بين الحقائق الإسلامية في سلك علمي منتظم كالخرز في عقده، لا تنبو واحدة عن أختها.
2 - وما انتقل النبي - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - إلى الرفيق الأعلى حتى أنار الوجود الإنساني بالحقائق الإسلامية عقيدة وخلقًا وشريعة، ونقلها إلينا أصحابه الذين كانوا من بعده كالنجوم كاملاً.
ولقد صدق رسول الله - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - إذ قال: «أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ فَبِأَيِّهِمُ اقْتَدَيْتُمُ اهْتَدَيْتُمْ».
فكانوا حَمَلَةَ علم الرسول - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - نقلوه إلى الأخلاف، واستجابوا للرسول، وهو يدعوهم إلى نقل كلامه إذ كما قال: «نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي، فَوَعَاهَا كَمَا سَمِعَهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَا فِقْهَ لَهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ» أو كما قال - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -.
وإن أولئك العِلْيَةِ من أصحاب رسول الله عليه الصلاة والسلام هم الذين شاهدوا وعاينوا، ورأوا منازل الوحي، وعلموا مُدْرَكَاتِ النبوة علم المحس السامع المعاين، واستطاعوا بأمانة الله أن ينقلوه إلى الأخلاف مجملاً بغبار (1) الرسول عليه الصلاة والسلام مشرقًا بنور
--------------------------------------------
এবং কোনো বক্রতা নেই, যাতে প্রেরণা দানকারী লক্ষ্যসমূহ এবং আনুষঙ্গিক ফলাফলসমূহ চেনা যায়, এবং যা ইসলামী সত্যসমূহকে একটি সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংযুক্ত করে যেমন হারের মধ্যে পুঁতি গাঁথা থাকে, যার একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।
2 - নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ততক্ষণ পর্যন্ত মহান বন্ধুর (রফিক আল-আলা) সান্নিধ্যে গমন করেননি, যতক্ষণ না তিনি আকিদা, আখলাক এবং শরিয়তের ইসলামী সত্যগুলোর মাধ্যমে মানব অস্তিত্বকে আলোকিত করেছেন। আর তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহাবীগণ তা আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, যাঁরা ছিলেন নক্ষত্রতুল্য।
রাসূলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- সত্যই বলেছেন যখন তিনি ইরশাদ করেছেন: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।"
ফলে তাঁরা ছিলেন রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর ইলমের বাহক, তাঁরা তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা রাসূলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, যখন তিনি তাঁর কথা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর যেভাবে শুনেছে সেভাবেই তা সংরক্ষণ করেছে। কেননা অনেক ফিকহের বাহক নিজে ফকীহ নন, আবার অনেক ফিকহের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন যিনি তাঁর চেয়ে অধিক সমঝদার (ফকীহ)।" অথবা রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- যেমনটি বলেছেন।
রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সেই উচ্চমর্যাদাবান সাহাবীগণই হলেন তাঁরা, যাঁরা (ঘটনাপ্রবাহ) প্রত্যক্ষ করেছেন এবং স্বচক্ষে দেখেছেন। তাঁরা ওহী নাযিলের প্রেক্ষাপটগুলো দেখেছেন এবং নবুওয়াতের মর্মার্থসমূহ শ্রবণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীর ন্যায় লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে অনুধাবন করেছেন। আল্লাহর আমানতদারিতার সাথে তাঁরা তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন, যা রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পবিত্র পরশে (১) সংগৃহীত এবং নূরের আলোয় উদ্ভাসিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
النبوة وروعته!! حتى إنه لم ينته عهد الصحابة حتى نقلوا كلام الرسول - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كاملاً غير منقوص، وإذا كان قد غاب عن بعضهم أحاديث فإنه لا يغيب عن جميعهم، وكما يقول الإمام الشافعي: إن كل الصحابة قد رَوَوْا كل أخبار الرسول، وأحاديثه، وفتاويه.
فإذا كان عصر النبي عليه الصلاة والسلام هو عصر تبليغ الشريعة فعصر الصحابة هو عصر حفظها، ونقلها للأخلاف غَضَّةً خِصْبَةً كما بَيَّنَهَا النبي الأمين.
ولم يكن عمل الصحابة - رَضِيَ اللهُ تبارك وتعالى عَنْهُمْ - أن ينقلوا فقط، بل كان عليهم أن يستنبطوا، وأن يجتهدوا آراءهم فيما لم يعلموا من النبي عليه الصلاة والسلام فيه أمرًا.
وقد وجههم عليه السلام إلى ذلك فحث على الاجتهاد، وجعل له ثوابًا فقال عليه السلام:
«لِلْمُجْتَهِدِ إِذَا أَصَابَ أَجْرَانِ، وَإِذَا أَخْطَأَ أَجْرٌ وَاحِدٌ» (*)، فهو مثوب في الحالين.
ولذا قرر العلماء أن الاجتهاد فرض كفاية على من يحسنه. ولقد قال محمد - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فيما روى الثقات لمعاذ بن جبل وقد أرسله قاضيًا على اليمن. قال له: «بِمَ تَقْضِي؟».
قَالَ: «بِكِتَابِ اللَّهِ».
--------------------------------------------
নবুওয়তের মহিমা ও সৌন্দর্য!! এমনকি সাহাবীগণের যুগ শেষ হওয়ার পূর্বেই তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী পূর্ণাঙ্গ ও কোনো প্রকার ঘাটতি ছাড়াই পৌঁছে দিয়েছেন। যদি তাঁদের কারও কাছে কিছু হাদিস অজানা থেকেও থাকে, তবে তা তাঁদের সকলের নিকট থেকে অজানা থাকেনি। যেমন ইমাম শাফেয়ী বলেন: সকল সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যাবতীয় সংবাদ, হাদিস ও ফতোয়া বর্ণনা করেছেন।
নবি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর যুগ যদি হয় শরিয়ত প্রচারের যুগ, তবে সাহাবীগণের যুগ হলো তা সংরক্ষণের যুগ এবং নবি আল-আমিন যেভাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছিলেন, সেভাবেই পরবর্তী প্রজন্মের নিকট অবিকৃত ও ফলপ্রসূভাবে পৌঁছে দেওয়ার যুগ।
সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু তাবারাকা ওয়া তায়ালা আনহুম) কাজ কেবল বর্ণনা করে যাওয়াই ছিল না, বরং তাঁদের দায়িত্ব ছিল মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) করা এবং যে বিষয়ে তাঁরা নবি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর নিকট থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ জানতেন না, সে বিষয়ে নিজেদের রায়ের মাধ্যমে গবেষণা (اجتهاد) করা।
রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাঁদেরকে সেই পথেই পরিচালিত করেছেন এবং গবেষণা (اجتهاد) করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি এর জন্য সওয়াব নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছেন:
«একজন গবেষক (مجتهد) যখন গবেষণা করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তাঁর জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। আর যদি তিনি গবেষণা করতে গিয়ে ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে একটি সওয়াব» (*), অতএব উভয় অবস্থাতেই তিনি সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন।
আর এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এতে পারদর্শী তার জন্য গবেষণা (اجتهاد) করা ফরযে কিফায়া (فرض كفاية)। নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীগণ মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামেনের বিচারক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: «তুমি কিসের ভিত্তিতে ফয়সালা করবে?».
তিনি উত্তর দিলেন: «আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟» قَالَ: «بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ».
قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟» قَالَ: «أَجْتَهِدُ [رَأْيِي] وَلَا آلُو». فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْتَبِطًا «الحَمْدُ لِلَّهِ الذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ».
وما كان اجتهاد الصحابة إلا قبسة من نور النبوة لأنهم أعرف الناس بمقاصد الشريعة وغاياتها، فليس رأيهم الرأي، ولكنه الاتباع والاهتداء، حتى قال الإمام مالك: «هُوَ رَأْيٌ وَمَا هُوَ بِالرَّأْيِ»، وذلك لأنه ليس تهجمًا على الحقائق، ولكنه مُقَيَّدٌ بما علموا من أمر الرسالة والشريعة، وما أدركوا من أقوال، وشاهدوا من أعمال.
ولقد ذكر الإمام ابن قيم الجوزية: أن آراء الصحابة كثير منها سُنَّةٌ، لأن كثيرين منهم كانوا يؤثرون أن يفتوا ناسبين القول لأنفسهم عن أن ينسبوه للنبي عليه الصلاة والسلام، وإما مُسْتَلْهَمَةٌ من وحيها، أو نابعة من نبعها، وهي في كل الأحوال نور من نورها.
তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: "যদি তুমি সেখানেও না পাও?" তিনি (মুআয) বললেন: "রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী।"
তিনি বললেন: "যদি সেখানেও না পাও?" তিনি বললেন: "আমি আমার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করব এবং কোনো ত্রুটি করব না।" তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ সন্তুষ্ট হয়ে বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দিয়েছেন যা আল্লাহর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।"
সাহাবিগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) নবুওয়াতের নূর থেকে বিচ্ছুরিত একটি শিখা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কেননা তাঁরা শরিয়তের উদ্দেশ্য (مقاصد الشريعة) ও লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। সুতরাং তাঁদের রায় (رأي) কেবল সাধারণ অভিমত ছিল না, বরং তা ছিল অনুসরণ (اتباع) ও হিদায়াতপ্রাপ্তি। এমনকি ইমাম মালিক বলেছেন: "এটি একটি রায় (رأي), আবার এটি কেবল রায় (رأي) নয়।" আর এটি এ কারণে যে, তা সত্যের ওপর কোনো অনধিকার চর্চা ছিল না, বরং তা ছিল রিসালাত ও শরিয়তের বিষয়ে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান এবং তাঁরা যা কিছু বাণী হিসেবে লাভ করেছিলেন ও কর্ম হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তার দ্বারা সীমাবদ্ধ।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবিগণের বহু অভিমত মূলত সুন্নাহ (سنة)। কারণ তাঁদের মধ্যে অনেকেই সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকে সম্বন্ধ করার চেয়ে নিজেদের নামে ফতোয়া (فتوى) প্রদানকে অগ্রাধিকার দিতেন। আর তাঁদের সেই অভিমতগুলো হয় ওহির (وحي) শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত, না হয় নবুওয়াতের উৎস থেকে উৎসারিত; এবং সর্বাবস্থায় তা নবুওয়াতের নূর থেকে প্রাপ্ত এক নূর।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - ترك الصحابة ثروة مثرية من الفقه النبوي بالنص عن النبي عليه الصلاة والسلام، أو بالتخريج عليه، أو بالتطبيق على ما عرفوا من مقاصد الإسلام، وحمل ذلك العلم من بعدهم تلاميذهم من التابعين.
وكان لكل صحابي تابعون يلازمونه، ومنهم من يختص واحدًا منهم بالملازمة أو يغلب عليه ذلك.
فناقل علم ابن عباس رضي الله عنهما عكرمة مولاه، وناقل تفسيره مجاهد.
وناقل علم عمر - سعيد بن المسيب مع غيره ممن عاصروه، وناقل علم ابن عمر مولاه نافع.
وفي العراق ناقل علم عبد الله بن مسعود علقمة، وإبراهيم النخعي، ونقل آل البيت وغيرهم علم عَلِيٍّ - كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ -، فوق ما كان معلومًا له بين الصحابة من فتاوى تَنْفُذُ إلى لب الحقائق، وما كان له من آراء تشرق في مدلهم الأمور، حتى كان يقول عمر رضي الله عنه كلما عضل أمر: «مَسْأَلَةٌ وَلَا أَبَا حَسَنَ لَهَا».
وكان أولئك التابعون ينقلون أحاديث الرسول عليه الصلاة والسلام والآثار المروية عنه من أعمال وتقريرات، وينقلون علم الصحابة الذي تخرجوا عليه، ويعتبرون ما أجمع عليه الصحابة حجة
3 - সাহাবায়ে কেরাম সরাসরি পাঠ (بالنص), কিংবা তাঁর বাণীর ভিত্তিতে আহরণ (بالتخريج), অথবা ইসলামের উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে তাঁদের অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে নববী ফিকহ-এর এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার রেখে গেছেন। আর তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ছাত্র তাবিঈগণ (التابعين) সেই জ্ঞান বহন করেছেন।
প্রত্যেক সাহাবীর এমন কিছু তাবিঈ (التابعين) অনুসারী ছিলেন যারা তাঁর সাথে সর্বক্ষণ লেগে থাকতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো এক সাহাবীর একনিষ্ঠ সান্নিধ্য গ্রহণ করতেন অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর সাথেই থাকতেন।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ইলমের বাহক ছিলেন তাঁর মুক্তদাস ইকরিমা এবং তাঁর তাফসীরের বাহক ছিলেন মুজাহিদ।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইলমের বাহক ছিলেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব এবং তাঁর সমসাময়িক অন্যান্যগণ। আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইলমের বাহক ছিলেন তাঁর মুক্তদাস নাফে।
ইরাকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইলমের বাহক ছিলেন আলকামা ও ইব্রাহিম নাখয়ী। আহলে বাইত ও অন্যান্যগণ আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর ইলম বর্ণনা করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের মাঝে তাঁর এমন সব ফতোয়া প্রসিদ্ধ ছিল যা সত্যের মূলে পৌঁছে যেত এবং জটিল বিষয়ে তাঁর এমন সব মতামত ছিল যা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয়ে আলো ছড়াত। এমনকি কোনো জটিল সমস্যার সৃষ্টি হলে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "এটি এমন এক সমস্যা যার সমাধানের জন্য আবুল হাসান (আলী) নেই।"
সেই তাবিঈগণ (التابعين) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ এবং তাঁর কর্ম ও মৌনসম্মতি (تقريرات) সংক্রান্ত বর্ণিত বর্ণনা (الآثار) বর্ণনা করতেন। তাঁরা সাহাবায়ে কেরামের সেই ইলমও বর্ণনা করতেন যা তাঁরা অর্জন করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম যে বিষয়ে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করতেন সেটিকে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করতেন।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قطعية لا مناص من اتباعها، وإن اختلفوا كان لهم أن يختاروا من بينها، ولا يخرجوا عن كلها، وفي الغالب كان كل تلميذ يتبع شيخه من الصحابة.
وكان لهم مع ذلك اجتهاد فيما لا يعرف فيه من قبلهم رأي في أمر من الأمور، فإنهم حينئذٍ يجتهدون آراءهم كما سلك شيوخهم من الصحابة.
وأخذت في عهد التابعين مناهج الاجتهاد تتميز من غير انحراف ولا خروج عن الرَّبْقَةِ، بل الجميع متعلقون بالكتاب والسنة وعلم الصحابة يعتبرونها المنجاة من هاوية الباطل.
فكان لفقهاء العراق نهج في الاجتهاد بعد النصوص وأقوال الصحابة، وغلب عليهم الاجتهاد بالقياس.
وكان لفقهاء الحجاز نهج، ويغلب فيه الأخذ بالمصلحة، وكان لكل منهج مدرسة قائمة بذاتها، ابتدأت تتكون في عهد التابعين، ثم نمت من بعدهم حتى تكاملت.
ولا بد أن ننبه هنا أن الصحابة اختلفوا كما نوهنا، وأن التابعين اختلفوا كما قررنا. وإن الاختلاف في الفروع الفقهية لا ضرر فيه على المسلمين، ولا على الحقائق الإسلامية ما دام القصد الوصول إلى الحق، وليس في واحد من الآراء هدم لنص، أو نقض لأصل، أو مصادمة لمقصد من المقاصد الشرعية.
সুনিশ্চিত (قطعية), যা অনুসরণ করা ব্যতিরেকে কোনো গত্যন্তর নেই। আর যদি তারা মতভেদ করতেন, তবে তাদের জন্য সেই মতগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচন করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা সেই মতের সামগ্রিক গণ্ডি থেকে বিচ্যুত হতেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ছাত্র তার সাহাবী শিক্ষকের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন।
এতৎসত্ত্বেও যেসব বিষয়ে তাদের পূর্বসূরিদের কোনো অভিমত জানা ছিল না, সেসব ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব গবেষণা (اجتهاد) করার অবকাশ ছিল। এমতাবস্থায় তারা তাদের নিজস্ব মতানুসারে গবেষণা (اجتهاد) করতেন, যেভাবে তাদের সাহাবী শিক্ষকগণ পথ চলেছিলেন।
তাবেয়িদের যুগে গবেষণার (اجتهاد) পদ্ধতিগুলো কোনো বিচ্যুতি কিংবা মূল গণ্ডি থেকে বের হওয়া ছাড়াই স্বতন্ত্র রূপ পরিগ্রহ করতে শুরু করে। বরং সবাই কিতাব ও সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের ইলমের সাথে দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, যা তারা বাতিলের অতল গহ্বর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র পথ হিসেবে গণ্য করতেন।
ইরাকের ফকিহগণের গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্রে নস (نصوص) এবং সাহাবীগণের বক্তব্যের পর একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা ছিল, আর তাদের ওপর কিয়াস (قياس) ভিত্তিক গবেষণার (اجتهاد) প্রভাব প্রবল ছিল।
তদ্রূপ হিজাজের ফকিহগণেরও একটি কর্মপন্থা ছিল, যাতে জনকল্যাণ বা মাসলাহাত (مصلحة) গ্রহণের বিষয়টি প্রাধান্য পেত। প্রতিটি কর্মপন্থার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিদ্যাপীঠ বা ধারা বিদ্যমান ছিল, যা তাবেয়িদের যুগে গঠিত হতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে উত্তরসূরিদের হাত ধরে বিকাশ লাভ করে পূর্ণতা পায়।
এখানে আমাদের অবশ্যই সতর্ক করতে হবে যে, সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি এবং তাবেয়িগণও মতভেদ করেছেন যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ব্যক্ত করেছি। ফিকহি শাখা-প্রশাখা বা ফুরু (فروع) সংক্রান্ত মতভেদ মুসলমানদের জন্য কিংবা ইসলামি জীবনদর্শনের জন্য ক্ষতিকর নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত লক্ষ্য হয় সত্যে উপনীত হওয়া। আর এই অভিমতগুলোর কোনোটিই কোনো নস (نص) নস্যাৎ করে না, কোনো মূলনীতি (أصل) খণ্ডন করে না এবং শরয়ি উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد شرعية) কোনোটির সাথেও সাংঘর্ষিক নয়।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويروى في ذلك أن عمر بن عبد العزيز قال: «مَا يَسُرُّنِي بِاخْتِلَافِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - حُمُرُ النَّعَمِ، وَلَوْ كَانَ رَأْيًا وَاحِدًا لَكَانَ النَّاس فِي ضِيقٍ».
4 - جاء بعد هؤلاء التابعين الطبقة الأولى من الأئمة المجتهدين - كربيعة الرأي ومالك بن أنس وأبي حنيفة والأوزاعي، وسفيان الثوري، والليث بن سعد، وغيرهم كثير.
وهؤلاء التقوا بالتابعين وأخذوا عنهم، ودرسوا الآثار وأوجه الاستنباط عليهم، فأبو حنيفة تلقى عن إبراهيم النخعي، وعطاء، وحماد بن أبي سليمان، وغيرهم. ومالك تلقى عن نافع، وابن شهاب الزهري، والقاسم بن محمد، وغيرهم من التابعين الذين اشتهروا بالفقه، وَسُمُّوا بالفقهاء السبعة مثل عروة بن الزبير، وسليمان بن يسار.
وإن عين الفقه قد تفتحت بعد ذلك بهؤلاء الأئمة، فقد كثر التلاميذ، وكثر الدارسون وصار ثمة علماء أعلام تتذاكر بهم الركبان، والفتاوى تنقل عنهم من مكان إلى مكان.
وكان موسم الحج مجالاً يتدارس فيه أهل الفقه، بل إن بعضهم كان يقصد من القربى إلى الله تعالى النُّجْعَةَ إلى العلم ليتزود مع زَادِ التقوى زَادَ العلم، وهو من التقوى، ما دام يقصده لوجه الله لا يرجو
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণের মতপার্থক্য আমাকে ততটা আনন্দিত করে না যতটা মূল্যবান লাল উটসমূহ করে; আর যদি তাঁদের অভিমত অভিন্ন হতো, তবে মানুষ সংকীর্ণতার মধ্যে নিপতিত হতো।"
৪ - এই তাবেঈ (التابعين)গণের পর মুজতাহিদ (المجتهدين) ইমামগণের প্রথম স্তরের (الطبقة) আগমন ঘটে—যেমন রবীআত আল-রাঈ, মালিক ইবনে আনাস, আবু হানিফা, আওযায়ী, সুফিয়ান সাওরি, লাইস বিন সা’দ এবং আরও অনেকে।
তাঁরা তাবেঈ (التابعين)গণের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁরা তাঁদের নিকট আছার (الآثار) এবং ইস্তিনবাত (الاستنباط) বা বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ অধ্যয়ন করেছেন। ইমাম আবু হানিফা ইব্রাহিম নাখয়ী, আতা এবং হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান ও অন্যান্যদের থেকে শিক্ষা লাভ করেন। ইমাম মালিক নাফে’, ইবনে শিহাব যুহরি, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ এবং ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ অন্যান্য তাবেঈ (التابعين)গণের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, যাঁদের ‘সাত ফকীহ’ (الفقهاء السبعة) হিসেবে অভিহিত করা হতো, যেমন: উরওয়া বিন যুবায়ের এবং সুলাইমান বিন ইয়াসার।
নিশ্চয়ই এই ইমামগণের মাধ্যমে ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছিল, ফলে ছাত্র এবং গবেষকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেখানে এমন প্রথিতযশা আলেমদের উদ্ভব ঘটেছিল যাদের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁদের ফতোয়া (الفتاوى) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হতে শুরু করেছিল।
হজের মৌসুম ছিল ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পারস্পরিক জ্ঞানচর্চার একটি ক্ষেত্র; বরং তাঁদের কেউ কেউ মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ইলমের অন্বেষণে সফর করাকে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতেন, যেন তাকওয়ার পাথেয়র সাথে ইলমের পাথেয়ও সংগ্রহ করতে পারেন। আর এটিও তাকওয়ারই অন্তর্ভুক্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করেন এবং এর মাধ্যমে অন্য কিছু প্রত্যাশা না করেন।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سواه، فإن الملائكة تحف بأهل العلم كما وردت بذلك الآثار عن النبي - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -.
وكان بجوار هؤلاء من جانب إسلامي آخر أهل البيت يدونون أحاديث عَلِيٍّ وأبنائه وفقههم. وكان من بينهم أئمة أعلام أسهموا في البناء الفقهي بأوفر سهم على رأسهم زيد بن علي زين العابدين، وأخوه محمد الباقر، وابن أخيه جعفر الصادق، ومنهم عبد الله بن حسن، وكان شيخًا لأبي حنيفة رضي الله عنهما، وكان لآل البيت مقام معلوم عند الإمامين: أبي حنيفة ومالك.
5 - تكونت من الاجتهاد، والإخلاص، والنية المحتسبة مجموعة من الفقه هي أعظم ذخيرة إلاسلامية، وهي أعظم ما دُوِّنَ من قواعد التعامل الإسلامي بين الآحاد وبين الجماعات والدول.
وقدرت الأجيال من بعدهم ثمرات ما بذلوا، ونقلها تلاميذهم جيلاً بعد جيل، وتدارسوها وَخَرَّجُوا عليها، وأقاموا على ما وُرِثَ مِنْهَا غروسًا من العلم صارت كَدَوْحَاتٍ تُظِلُّ من يستظل بها، وهم فيما صنعوا لم يخرجوا من كتاب الله ولا سنة رسوله، ولم يَتَحَيَّفُوا طريقهم، ولم يسلكوا غير سبيل المؤمنين.
ولقد سارت تلك المجموعة الفقهية مسار النور في الأرض، فلقد وجدنا أوروبا في عهد نهضتها - تنقل آراءهم. فمذهب مالك
অন্যথায়, ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীদের বেষ্টন করে রাখে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত আসার (الآثار)-সমূহে বর্ণিত হয়েছে।
এদের পাশাপাশি অন্য এক ইসলামী ধারায় আহলে বাইতগণ আলী (রা.) ও তাঁর সন্তানদের হাদিস ও ফিকহ সংকলন করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এমন অনেক প্রখ্যাত ইমাম, যারা ফিকহী কাঠামো বিনির্মাণে সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন যায়দ ইবনে আলী যাইনুল আবেদীন, তাঁর ভাই মুহাম্মদ আল-বাকির এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র জাফর আস-সাদিক। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান, যিনি আবু হানীফা (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর শায়খ ছিলেন। ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম মালিক—এই দুই ইমামের নিকট আহলে বাইতের এক সুউচ্চ মর্যাদা ছিল।
৫ - ইজতিহাদ (الاجتهاد), ইখলাস ও সওয়াব অর্জনের নিয়তের মাধ্যমে ফিকহশাস্ত্রের এমন এক ভাণ্ডার গড়ে উঠেছে যা ইসলামের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ। ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বিধান হিসেবে সংকলিত বিষয়গুলোর মধ্যে এটিই শ্রেষ্ঠতম।
তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মগুলো তাঁদের পরিশ্রমের ফলকে মূল্যায়ন করেছে এবং তাঁদের ছাত্ররা বংশপরম্পরায় তা স্থানান্তর করেছে। তাঁরা এগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছেন এবং এর ভিত্তিতে তাখরিজ (تخريج) করেছেন। তাঁরা এই উত্তরাধিকারের ওপর ইলমের এমন বৃক্ষ রোপণ করেছেন, যা বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের ছায়া দান করছে। তাঁরা যা কিছু করেছেন তাতে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর বাইরে যাননি, নিজেদের পথ থেকে বিচ্যুত হননি এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ অনুসরণ করেননি।
ফিকহশাস্ত্রের এই সংকলনটি পৃথিবীতে আলোকরশ্মির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি আমরা দেখি যে, ইউরোপ তাদের রেনেসাঁ বা জাগরণের যুগে তাঁদের অভিমতগুলো গ্রহণ করেছে। যেমন ইমাম মালিকের মাযহাব (مذهب) —
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يجتاز الأندلس حتى يصل إلى وسط فرنسا أو أعلى من ذلك، وفي وسط أوروبا تترجم كتب المذاهب الإسلامية، وفي إنجلترا يترجم مثلها.
ولندع الذين يسمون بالمستشرقين وأكثرهم لغويون، وليسوا فقهاء، وأكثرهم يتعرضون للفقه على غير بَيِّنَةٍ، ومن غير سلطان من العلم، وبقلب لا يرجو للإسلام وقارًا بل يتتبع الأوهام ليجعل منها حقائق، يحرفون القول عن مواضعه، لندع هؤلاء فهم أعجز من أن ينالوا من هذا الدين الشامخ العظيم.
وإن المنصفين منهم عدد قليل. وهو يحاولون أن يفهموا الفقه الإسلامي كما هو، على أنه قانون إنساني عادل يصلح غذاء للمادة القانونية في هذا العالم.
وإذا كان ذلك الفقه العظيم يسير في طريق يضع المغرضون فيه الأشواء والأحجار في أوروبا لمنعوا أقوامهم عنه، فإن المؤتمرات القانونية استطاعت بإرشاد علماء المسلمين، وإرادات طلاب الحقائق، أن يقرروا إقرارًا متواضعًا بأن يعترفوا بأنه شريعة قائمة بذاتها صالحة للتطبيق ومعالجة أدواء العالم الاجتماعية.
وإذا كان القرار متواضعًا لا يخرج عن الصلاحية، فإن ابتداء له خط يسير فيه إلى الانتهاء. «وَأَوَّلُ الغَيْثِ قَطْرٌ ثُمَّ يَنْهَمِرُ».
এটি আন্দালুস অতিক্রম করে মধ্য ফ্রান্স বা তারও ওপর পর্যন্ত পৌঁছে যায়; মধ্য ইউরোপে ইসলামি মাযহাবগুলোর কিতাবসমূহ অনুবাদ করা হয় এবং ইংল্যান্ডেও অনুরূপ অনুবাদ সম্পন্ন হয়।
আমরা তাদের কথা বাদ দেই যাদের প্রাচ্যবিদ (مستشرقون) বলা হয়; তাদের অধিকাংশ হলো ভাষাবিদ, তারা ফকিহ (فقهاء) নয়। তাদের অধিকাংশই কোনো স্পষ্ট প্রমাণ (بينة) ও সুদৃঢ় জ্ঞান ছাড়াই ফিকহ (فقه) চর্চায় লিপ্ত হয়। তারা এমন অন্তরের অধিকারী যা ইসলামের কোনো মর্যাদা আশা করে না, বরং তারা কাল্পনিক বিষয়গুলো অনুসরণ করে সেগুলোকে ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়; তারা বক্তব্যকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করে। আমরা তাদের বর্জন করি, কারণ এই সুউচ্চ মহান দ্বীনের কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্য তাদের নেই।
তবে তাদের মধ্যে ন্যায়নিষ্ঠদের সংখ্যা অতি সামান্য। তারা ইসলামি ফিকহকে (فقه) তার প্রকৃত রূপেই বোঝার চেষ্টা করেন; একে একটি ন্যায়নিষ্ঠ মানবিক আইন হিসেবে গণ্য করেন, যা এই বিশ্বের আইনি উপাদানের খোরাক হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
যদিও সেই মহান ফিকহ (فقه) এমন এক পথে অগ্রসর হচ্ছিল যেখানে ইউরোপের সংকীর্ণমনা ব্যক্তিরা কণ্টক ও পাথর বিছিয়ে দিয়েছিল যাতে তাদের জাতিসমূহকে এটি থেকে দূরে রাখা যায়, তথাপি মুসলিম আলেমদের (علماء) দিকনির্দেশনা এবং সত্যপিপাসুদের ইচ্ছাশক্তির বদৌলতে আইনি সম্মেলনগুলো এই বিনম্র স্বীকৃতি প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে যে, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শরিয়াহ (شريعة) যা বর্তমান সমাজব্যবস্থায় প্রয়োগযোগ্য এবং বিশ্বের সামাজিক ব্যাধিগুলোর নিরাময়ে কার্যকর।
যদিও এই সিদ্ধান্তটি ছিল বিনম্র এবং কেবল ‘যোগ্যতা’ প্রমাণের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবুও এর সূচনার এমন একটি গতিপথ রয়েছে যা তাকে পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। “বৃষ্টির শুরু হয় এক বিন্দু জল দিয়ে, অতঃপর তা প্রবল ধারায় বর্ষিত হয়।”
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأئمة:
6 - برز أولئك الأئمة في التاريخ الإسلامي على أنهم شراح الفقه الإسلامي، وَمَتْنُهُ كتاب الله تعالى وَسُنَّةُ رسوله - صَلََّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، وما نقل عن أصحابه رضي الله عنهم، وهي شاهد النور، ومطلع الرسالة ومنار الشريعة المحمدية على صاحبها أفضل الصلاة وأتم التسليم.
وما فرضوا هذه الآراء على الأجيال، بل قدموها لهم على أن ما كان من النصوص فله حكمها لا تغيير فيه ولا تبديل، وقد أجمعوا عليه، إلا ما يكون النص فيه قابلاً للاختلاف في فهمه.
أما ما يكون رأيًا فإنه رأي يقدم ليدرس، ويقول أبو حنيفة وهو ممن أكثر من الرأي، وَقَدَّرَ مسائل واستنبط حكمها: وهذا أحسن ما وصلنا إليه فمن رأى خيرًا منه فليأخذ به.
ويقول وقد سئل عما استنبطه من فقه:
«أَهَذَا هُوَ الحَقُّ الذِي لَا شَكَّ فِيهِ؟ فَيُجِيبُ: لَا أَدْرِي لَعَلَّهُ البَاطِلُ الذِي لَا شَكَّ فِيهِ».
وكلهم وحالهم جميعًا تصورها مقالة الفقهاء على لسان كل واحد منهم: «رَأْيُنَا صَوَابٌ يَحْتَمِلُ الخَطَأَ، وَرَأْيُ غَيْرِنَا خَطَأٌ يَحْتَمِلُ الصَّوَابَ».
غير أن الأئمة الأعلام منهم من طُوِيَ مذهبه في لجة التاريخ، كالأوزاعي فقيه الشام الذي عاصر أبا حنيفة، وكابن شبرمة فقيه البصرة
ইমামগণ:
6 - ইসলামী ইতিহাসে সেই সকল ইমাম ইসলামী ফিকহ (فقه)-এর ব্যাখ্যাকার হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। আর সেই ফিকহ-এর মূল পাঠ (متن) হলো মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) এবং যা তাঁর সাহাবীগণের নিকট থেকে বর্ণিত (نقل) হয়েছে। এগুলো হলো নূরের সাক্ষ্য, রিসালাতের উদয়স্থল এবং মুহাম্মাদী শরীয়তের আলোকবর্তিকা; তাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।
তাঁরা এই সকল রায় (رأي) পরবর্তী প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেননি, বরং তাঁদের নিকট তা এভাবে পেশ করেছেন যে, যা অকাট্য দলীল (نصوص) থেকে সাব্যস্ত তার বিধান অপরিবর্তনীয় এবং তাঁরা এর ওপর ঐক্যমতে (أجمعوا) পৌঁছেছেন; তবে যে দলীল (نص) অনুধাবনের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের অবকাশ রয়েছে তা এর ব্যতিক্রম।
আর যা ব্যক্তিগত রায় (رأي) হিসেবে সাব্যস্ত, তা পর্যালোচনার জন্যই পেশ করা হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা—যিনি রায়ের (رأي) অধিক ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন মাসআলা পর্যালোচনা করে তার বিধান উদ্ভাবন (استنباط) করতেন—তিনি বলতেন: "এটিই আমাদের নিকট পৌঁছানো সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত; সুতরাং যে ব্যক্তি এর চেয়ে উত্তম কিছু পাবে, সে যেন সেটিই গ্রহণ করে।"
তাঁকে তাঁর উদ্ভাবিত (استنباط) ফিকহ (فقه) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন:
«এটিই কি সেই সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই? তিনি উত্তর দিতেন: আমি জানি না, হতে পারে এটিই সেই অসারতা (باطل) যাতে কোনো সন্দেহ নেই।»
তাঁদের সবার অবস্থা ফকীহগণের (فقهاء) সেই উক্তির মাধ্যমে চিত্রিত হয়েছে যা তাঁদের প্রত্যেকেরই মুখনিঃসৃত: «আমাদের রায় (رأي) সঠিক তবে তা ভুলের সম্ভাবনা রাখে, আর অন্যের রায় (رأي) ভুল তবে তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।»
তবে প্রখ্যাত ইমামগণের মধ্যে এমনও কেউ কেউ ছিলেন যাঁদের মাযহাব (مذهب) ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে; যেমন সিরিয়ার ফকীহ (فقيه) ইমাম আওযায়ী, যিনি ইমাম আবু হানিফার সমসাময়িক ছিলেন এবং বসরার ফকীহ (فقيه) ইবনে শুবরুমা।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুন তারীখিয়্যাহ ফী হুদূছিল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ আল-আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقاضيها، وكابن أبي ليلى فقيه الكوفة وقاضيها، وكالليث بن سعد فقيه مصر الذي قال فيه الشافعي: «إِنَّهُ كَانَ أَفْقَهَ مِنْ مَالِكٍ إِلَاّ أَنَّ أَصْحَابَهُ لَمْ يَقُومُوا بِهِ».
وغيرهم كثير، لا تجد لهم مذهبًا مدونًا قائمًا بذاته، وقد تجد لهم أقوالاً كثيرة مدونة في كتب غيرهم من أصحاب المذاهب، وخصوصًا أهل المذهب الحنفي، ومن ذلك " اختلاف [أبي حنفية] وابن أبي ليلى " (*) لأبي يوسف صاحب أبي حنيفة و" الرد على سير الأوزاعي " له رضي الله عنهما. وتجد آراء مبثوثة لهؤلاء الأئمة في الفقه الإسلامي المقارن، ككتاب " المغني " لابن قدامة، و" المحلى " لابن حزم، و" بداية المجتهد " لابن رشد، و" المجموع " للنووي "، و" المبسوط " (1) للسرخسي.
وإن لواحد من هؤلاء الذين طوت لجنة التاريخ مذاهبهم، وهو الليث بن سعد رسالة قيمة في مجاوبة بينه وبين الإمام مالك تفيض علمًا، وقد تعرضت لمسائل فقهية كثيرة تناولها بعقل مدرك، وفقه عميق، وهي منبعثة من قلب مؤمن مخلص تفيض محبة ومودة لمالك الذي التقى به في العلم والمذاكرة (2).
وإن نسيان مناهج هؤلاء وما وصلوا إليه من حلول في الفروع سببه أمران:
--------------------------------------------
এবং তাঁর (শহরের) বিচারক, এবং ইবনে আবি লায়লার মতো কুফার ফকিহ (فقيه) ও তাঁর বিচারক, এবং লাইস বিন সা'দের মতো মিসরের ফকিহ (فقيه), যার সম্পর্কে শাফিঈ বলেছেন: «নিশ্চয়ই তিনি মালিকের চেয়েও বেশি প্রাজ্ঞ ফকিহ (أفقه) ছিলেন, কিন্তু তাঁর ছাত্ররা তাঁর (ইলম সংরক্ষণের) দায়িত্ব পালন করেনি»।
এবং তাদের মতো আরও অনেকে আছেন, যাদের কোনো সংকলিত স্বতন্ত্র মাযহাব খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীদের কিতাবসমূহে তাদের অনেক সংকলিত মতামত পাওয়া যায়, বিশেষ করে হানাফি মাযহাবের অনুসারীদের কিতাবে। এর মধ্যে ইমাম আবু হানিফার ছাত্র আবু ইউসুফ রচিত "ইখতিলাফ আবি হানিফা ওয়া ইবনু আবি লায়লা" এবং তাঁরই রচিত "আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ" অন্যতম। এবং তুলনামূলক ইসলামি ফিকহের কিতাবসমূহে এই ইমামদের বিক্ষিপ্ত মতামত পাওয়া যায়, যেমন ইবনে কুদামার "আল-মুগনি", ইবনে হাজমের "আল-মুহাল্লা", ইবনে রুশদের "বিদায়াতুল মুজতাহিদ", নববীর "আল-মাজমু" এবং সারাখসির "আল-মাবসুত" (১)।
আর যাদের মাযহাবকে ইতিহাসের কালস্রোত হারিয়ে ফেলেছে, তাদেরই একজন হলেন লাইস বিন সা'দ। তাঁর ও ইমাম মালিকের মধ্যে জ্ঞানগর্ভ পত্রবিনিময়ের একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা ইলমে ভরপুর। এতে অনেক ফিকহী মাসআলা আলোচনা করা হয়েছে যা তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও গভীর প্রজ্ঞার সাথে গ্রহণ করেছেন। এটি ইমাম মালিকের প্রতি ভালোবাসা ও হৃদ্যতাপূর্ণ এক মুখলিস মুমিন হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ, যার সাথে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ও ইলমি মুজাকারা (مذاكرة) (২) হতো।
এই মনীষীদের কর্মপন্থা এবং শাখা-প্রশাখাগত (فروع) মাসআলায় তাঁদের উদ্ভাবিত সমাধানগুলো বিস্মৃত হওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:
--------------------------------------------