(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
المال والحكم في الإسلام   (عبد القادر عودة)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: المال والحكم في الإسلام

المؤلف: عبد القادر عودة (ت 1373هـ)

الناشر: المختار الإسلامي للطباعة والنشر والتوزيع، القاهرة

الطبعة: الخامسة، 1397 هـ - 1977 م

عدد الصفحات: 109

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 ذو القعدة 1433

ইসলামে সম্পদ ও শাসন   (আব্দুল কাদের আওদাহ)

বিভাগ: সিয়াসাতে শারইয়াহ ও বিচার ব্যবস্থা


বই: ইসলামে সম্পদ ও শাসন

লেখক: আব্দুল কাদের আওদাহ (মৃত্যু ১৩৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মুখতার আল-ইসলামি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ، কায়রো

সংস্করণ: পঞ্চম، ১৩৯৭ হিজরি - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯

শামেলা সংস্করণ প্রস্তুতি: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ জিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
الشهيد عبد القادر عودة

 

المال والحكم في الإسلام

 

المختار الإسلامي للطباعة والنشر والتوزيع - القاهرة.
শহীদ আব্দুল কাদের আওদাহ

 

ইসলামে সম্পদ ও শাসনব্যবস্থা

 

আল-মুখতার আল-ইসলামি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র - কায়রো।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة

 

الطبعة الخامسة:

1397 هـ - 1977 م
স্বত্ব সংরক্ষিত

 

পঞ্চম সংস্করণ:

১৩৯৭ হিজরি - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

{وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104].

 

{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

{তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের (معروف) আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।} [আল ইমরান: ১০৪]।

 

{বলুন, ‘এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে আমরা সুস্পষ্ট প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।’} [ইউসুফ: ১০৮]।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
من نور كتاب الله:

 

• {وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ} [الشعراء: 227].

 

• {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: 169].

 

• {وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا} [الإسراء: 19].

 

• {وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي القَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا} [الإسراء: 33].

 

• {يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ، ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً، فَادْخُلِي فِي عِبَادِي، وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 27 - 29].

 

• {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً} [الأحزاب: 23].
আল্লাহর কিতাবের নূর হতে:

 

• {আর যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে তারা ফিরে যাবে।} [আশ-শুআরা: ২২৭]।

 

• {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত।} [আলে ইমরান: ১৬৯]।

 

• {আর যারা পরকাল কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় এর জন্য যথাযথ চেষ্টা চালায়, তাদেরই প্রচেষ্টা হবে প্রশংসিত।} [আল-ইসরা: ১৯]।

 

• {আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন যথাযথ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার অভিভাবককে কর্তৃত্ব দিয়েছি; সুতরাং সে যেন হত্যায় সীমা অতিক্রম না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্যপ্রাপ্ত।} [আল-ইসরা: ৩৩]।

 

• {হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।} [আল-ফাজর: ২৭ - ২৯]।

 

• {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর নিকট কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ তার অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, আর কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি।} [আল-আহজাব: ২৩]।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تَقْدِيمُ المُؤَلِّفِ:

الحمد لله نستعينه ونستغفره ونعوذ به من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا. من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

والصلاة والسلام على سيدنا محمد عبده ورسوله الذي أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره الكافرون.

 

وبعد، فإن المسلمين في كل أنحاء العالم قد جهلوا الإسلام وانحرفوا عن طريقه الواضح، حتى لم يعد في الدنيا كلها بلد يقام فيه الإسلام كما أنزله الله، سواء في الحكم، والسياسة، أو الاقتصاد والاجتماع، أو غير ذلك مما يمس مصالح الأفراد والجماعات، ويقوم عليه نظام الجماعة، ويدعو إلى صلاحها وإسعادها.

 

ولقد ظل المسلمون ينحرفون عن الإسلام حتى هجروا أحكامه، ثم اتخذوا لأنفسهم أحكامًا تقوم على أهوائهم ومنافعهم، فأدى ذلك إلى التحلل والفساد، وملأ بلادهم بالشرور والآثام، وعاد على جماعتهم بالبؤس والشقاء.

 

وفي ظلال هذه المحنة التي امتحن بها الإسلام نبت دعاة الإسلام الحقيقيون فدعوا الناس إلى الإسلام الصحيح، وَرَبُّوا
‌লেখকের ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ (পাপসমূহ) থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; যাকে তিনি হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।

 

অতঃপর, সারা বিশ্বের মুসলিমরা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়েছে এবং এর সুস্পষ্ট পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এমনকি বর্তমানে পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ অবশিষ্ট নেই যেখানে আল্লাহ যেভাবে ইসলাম অবতীর্ণ করেছেন সেভাবে তা প্রতিষ্ঠিত আছে—চাই তা শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতির ক্ষেত্রে হোক, কিংবা অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার ক্ষেত্রে হোক, অথবা ব্যক্তি ও সমষ্টির স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন কোনো বিষয় হোক যার ওপর সামষ্টিক শৃঙ্খলা আবর্তিত হয় এবং যা সমাজের সংশোধন ও সৌভাগ্যের দিকে আহ্বান করে।

 

মুসলিমরা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হতে হতে শেষ পর্যন্ত এর বিধানসমূহ পরিত্যাগ করল। অতঃপর তারা নিজেদের জন্য এমন সব বিধান গ্রহণ করল যা তাদের খেয়াল-খুশি ও বৈষয়িক স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর ফলে তা নৈতিক অবক্ষয় ও ফাসাদের দিকে নিয়ে গেল, তাদের দেশসমূহকে পাপাচার ও মন্দের দ্বারা পূর্ণ করে দিল এবং তাদের সামষ্টিক জীবনে দুর্ভোগ ও দুর্দশা বয়ে আনল।

 

ইসলামের ওপর আপতিত এই সংকটের ছায়াতলে ইসলামের প্রকৃত আহ্বানকারীদের উন্মেষ ঘটল। তাঁরা মানুষকে সঠিক ইসলামের দিকে আহ্বান জানালেন এবং মানুষকে গড়ে তুললেন...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
الشباب عليه، وجعلوا كل مسلم داعية إلى الإسلام بعمله وقوله وسيرته، وصبروا على ما امتحنوا به حتى فتح الله عليهم، فانتشر الوعي الإسلامي، وتيقظ المسلمون، وتحقق ذوو البصائر أن لا حياة للمسلمين بغير الإسلام، وأن صلاح حالهم وسعادة جماعاتهم لن تكون إلا إذا رجعوا للإسلام وأقاموا أمرهم عليه، وحكموه في كل شؤونهم.

 

والمسلمون اليوم أحوج ما يكونون إلى معرفة حقائق الإسلام وقد تكالب عليهم الاستعمار والشيوعية، وزينت لهم الديمقراطية والاشتراكية، ليعلموا أن لا عاصم لهم من الاستعمار والشيوعية إلا الإسلام، وأنه لا يحقق العدالة والمساواة في بلادهم إلا الإسلام.

 

وواجب كل مسلم مستطيع أن يبين للمسلمين ما خفي عليهم من أحكام الإسلام، وأن يعرضه عليهم في لغة سهلة يهضمونها، وفي أسلوب عصري يقبلون عليه.

 

وإني لأرجو أن أكون قد قدمت للمسلمين في هذا الكتاب ما يجب أن يعمله كل مسلم عن نظرية الإسلام في الحكم، وأسلوبه في الشورى، كما أرجو أن يعلم المسلمون بعد الاطلاع على هذا الكتاب أن أسلوب الإسلام في الحكم هو خير ما عرفه العالم وأن كل نظريات الشورى الوضعية ليست شيئًا يذكر بجانب نظرية الإسلام.

 

واللهَ أسألُ أن يوفقنا جميعًا إلى الخير، وأن يجمع كلمتنا على الإسلام.

 

عبد القادر عودة.
যুবক সমাজ এর ওপর গড়ে উঠেছিল এবং তারা প্রত্যেক মুসলিমকে তাদের কর্ম, কথা ও চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের দাঈতে পরিণত করেছিলেন। তারা তাদের ওপর আসা পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেন। ফলে ইসলামী সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ে, মুসলিমরা জাগ্রত হয় এবং দূরদর্শী ব্যক্তিরা উপলব্ধি করেন যে, ইসলাম ব্যতীত মুসলিমদের কোনো জীবন নেই। আর তাদের অবস্থার সংশোধন ও সমাজের কল্যাণ তখনই সম্ভব হবে যখন তারা ইসলামের দিকে ফিরে আসবে, তাদের বিষয়াদি এর ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে এবং তাদের সকল বিষয়ে ইসলামকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করবে।

 

আজকের মুসলিমরা ইসলামের প্রকৃত সত্যগুলো জানার জন্য সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, কারণ সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্যবাদ তাদের ওপর চেপে বসেছে এবং তাদের সামনে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে সুশোভিত করা হয়েছে। যাতে তারা জানতে পারে যে, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্যবাদ থেকে ইসলাম ব্যতীত কোনো রক্ষাকারী নেই এবং তাদের ভূখণ্ডে ইসলাম ব্যতীত আর কিছুই ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

 

প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমের দায়িত্ব হলো মুসলিমদের কাছে ইসলামের সেই বিধান (أحكام) গুলো বর্ণনা করা যা তাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং তা তাদের সামনে এমন সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা যা তারা সহজে অনুধাবন করতে পারে এবং এমন আধুনিক শৈলীতে যা তারা গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়।

 

আমি আশা করি যে, এই বইটিতে আমি মুসলিমদের সামনে তা-ই পেশ করেছি যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ইসলামের শাসনতত্ত্ব এবং এর পরামর্শ (الشورى) পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আমি আরও আশা করি যে, এই বইটি পড়ার পর মুসলিমরা জানতে পারবে যে, ইসলামের শাসন পদ্ধতি হলো বিশ্বের জানা সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি এবং মানুষের তৈরি সকল পরামর্শ (الشورى) মতবাদ ইসলামের মতবাদের সামনে উল্লেখ করার মতো কিছুই নয়।

 

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে কল্যাণের তৌফিক দান করেন এবং ইসলামের ওপর আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেন।

 

আব্দুল কাদের আওদাহ।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الخَلْقُ وَالتَّسْخِيرُ:

• هذا الكون خلقه الله.

 

• هذا الكون مسخر للبشر.

 

• البشر مسخر بعضهم لبعض.
‌সৃষ্টি ও বশীভূতকরণ:

• এই মহাবিশ্ব আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।

 

• এই মহাবিশ্ব মানবজাতির কল্যাণে বশীভূত করা হয়েছে।

 

• মানুষকে একে অপরের তরে বশীভূত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌هَذَا الكَوْنُ خَلَقَهُ اللهُ:

هذا الكون الذي نعيش فيه، ونعمره، ونتسلط على ما فيه من حيوان ونبات وجماد، ونحاول أن نحصل على ما فيه من خيرات، ونستغل ما فيه من قوى، هذا الكون ليس من صنع البشر ولا من عمل أيديهم، وما في استطاعتهم خلقه ولا خلق ما دونه، وما كانوا في يوم من الأيام أهلاً لذلك ولن يكونوا، فما هم إلا بشر خلقهم خالق كل مخلوق، {بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ} [المائدة: 18]. وما في قدرة المخلوقات أن تخلق ولو تظاهرت على الخلق، ولو اجتمع كل البشر على أن يخلقوا أحقر الذباب على الخلق وأضعفه لعجزوا، ولو سلبهم أضعف الذباب وأحقره شيئًا لما منعوه عنه ولا استنقذوه منه {إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ} [الحج: 73].

 

هذا الكون الذي نعيش فيه ونعمره خلقه الله الذي خلق الناس من تراب ثم سوهم بشرًا وصورهم ذكورًا وإناثًا فأحسن صورهم وجعل لهم السمع والأبصار والأفئدة لعلهم ينظرون ويتفكرون فيذكروا نعمة الله عليهم، ويشكروه على ما خلقهم ورزقهم وأسبغ عليهم من فضله {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَاجًا} [فاطر: 11]. {يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ، الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ، فِي أَيِّ صُورَةٍ
এই মহাবিশ্ব আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন:

আমরা এই যে মহাবিশ্বে বসবাস করছি, একে আবাদ করছি এবং এর মধ্যকার প্রাণী, উদ্ভিদ ও জড় পদার্থের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছি; আর এর মধ্যকার কল্যাণসমূহ আহরণের চেষ্টা করছি ও এর শক্তিসমূহকে কাজে লাগাচ্ছি—এই মহাবিশ্ব মানুষের তৈরি নয় এবং তাদের হাতের কাজও নয়। এটি বা এর চেয়ে ক্ষুদ্র কোনো কিছু সৃষ্টি করার সক্ষমতাও তাদের নেই। তারা কোনোদিন এর যোগ্য ছিল না এবং কখনো হবেও না। তারা তো কেবল মানুষ, যাদেরকে প্রত্যেক সৃষ্টির স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন, {বরং তোমরা তাঁরই সৃষ্ট মানুষদের অন্তর্ভুক্ত} [আল-মায়েদাহ: ১৮]। সৃষ্টির সকল উপাদান যদি একে অপরকে সাহায্যও করে, তবুও কোনো কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা মাখলুকাতের নেই। যদি সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়ে অতি তুচ্ছ ও দুর্বল একটি মাছিও সৃষ্টি করতে চায়, তবে তারা তাতে অক্ষম হবে। আর যদি অতি দুর্বল ও তুচ্ছ সেই মাছিটি তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তা তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। {তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এজন্য সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও অন্বেষিত—উভয়ই কতই না দুর্বল!} [আল-হাজ্জ: ৭৩]।

 

এই মহাবিশ্ব যাতে আমরা বসবাস করছি ও আবাদ করছি, তা মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদেরকে সুঠাম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং পুরুষ ও নারী হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তারপর তিনি তাদের অবয়বকে অতি সুন্দর করেছেন এবং তাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ দান করেছেন; যাতে তারা পর্যবেক্ষণ করে ও চিন্তা-গবেষণা করে, ফলে তারা তাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করে এবং তিনি তাদের যে সৃষ্টি করেছেন, রিযিক দিয়েছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা ধন্য করেছেন, সেজন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। {আর আল্লাহ তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় বিভক্ত করেছেন} [ফাতির: ১১]। {হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন; যে আকৃতিতে...}
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
مَا شَاءَ رَكَّبَكَ} [الانفطار: 6 - 8]. {وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ} [غافر: 64]. {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [النحل: 78].

 

هذا الكون الذي نعيش فيه خلقه الله - جَلَّ شَأْنُهُ - خالق كل شيء مما نعلم ومما لا نعلم، ومما ندرك ومما لا ندرك، ومما نستطيع تصوره ومما نعجز عن تصوره والإحاطة بكنهه {ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ} [الأنعام: 102].

 

فهو الذي خلق السماوات والأرض وما فيهما من مخلوقات وما بينهما من أجرام لا يحيط بها العلم، ولا يدركها الوصف، ولا يحصيها العد، وهو القادر على أن يخلق غيرها إن شاء، إذ الخلق متعلق بمشيئته، وراجع لأمره {وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ} [المائدة: 17]، {لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [المائدة: 120].

 

وهو الذي خلق الأزواج كلها من النبات والحيوان والإنسان، ومما نحيط بعلمه ومما لا نعلم عنه شيئًا، ورتب على اتصالها اللقاح والإحبال فالإثمار والإنسال حفظًا للنوع واستبقاء للحياة {سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الأَرْضُ وَمِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ} [يس: 36].

 

وهو الذي جعل الظلمات والنور، وخلق الليل والنهار والشمس والقمر والنجوم وهو الذي ربط الظلمات بالليل، والنور بالنهار. وجعل الشمس دليلاً على النهار، وجعل
যেভাবে চেয়েছেন আপনাকে গঠন করেছেন} [ইনফিতার: ৬-৮]। {এবং তিনি তোমাদের আকৃতি দান করেছেন এবং তোমাদের আকৃতিসমূহকে অতি উত্তম করেছেন} [গাফির: ৬৪]। {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন যখন তোমরা কিছুই জানতে না; আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ এবং অন্তরসমূহ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর} [নাহল: ৭৮]।

 

আমরা যে মহাবিশ্বে বাস করি তা সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ -তাঁর শান মহিমান্বিত হোক- যিনি আমাদের জানা এবং অজানা, আমাদের বোধগম্য এবং অবোধগম্য, এবং যার স্বরূপ আমরা কল্পনা করতে পারি কিংবা যা কল্পনা করতে বা যার মূল সত্তা অনুধাবনে আমরা অক্ষম, এমন সবকিছুরই স্রষ্টা। {তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি সব কিছুর স্রষ্টা, সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত কর} [আন'আম: ১০২]।

 

তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যে বিদ্যমান সকল সৃষ্টি এবং এমন সব জ্যোতিষ্ক সৃষ্টি করেছেন যা জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করা যায় না, বর্ণনায় প্রকাশ করা যায় না এবং সংখ্যায় গণনা করা যায় না। তিনি চাইলে এগুলো ছাড়া অন্য কিছুও সৃষ্টি করতে সক্ষম, কেননা সৃষ্টি তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল এবং তাঁর নির্দেশের অনুগামী। {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার রাজত্ব আল্লাহরই; তিনি যা চান তা-ই সৃষ্টি করেন} [মায়িদাহ: ১৭], {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে তার রাজত্ব আল্লাহরই; আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান} [মায়িদাহ: ১২০]।

 

তিনিই উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ এবং যাদের আমরা জানি এবং যাদের সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না, তাদের সকল জোড়া সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি প্রজাতি সংরক্ষণ ও জীবন টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে তাদের মিলনের বিন্যাসে পরাগযোগ, গর্ভধারণ, ফলদান ও বংশবৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছেন। {পবিত্র ও মহান সেই সত্তা, যিনি সবকিছুর জোড়া সৃষ্টি করেছেন—যা পৃথিবী উৎপন্ন করে তা থেকে, তাদের নিজেদের মধ্য থেকে এবং তারা যা জানে না তা থেকেও} [ইয়াসিন: ৩৬]।

 

তিনিই অন্ধকার ও আলো নির্ধারণ করেছেন এবং রাত, দিন, সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন। তিনিই অন্ধকারকে রাতের সাথে এবং আলোকে দিনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি সূর্যকে দিনের পরিচালক বানিয়েছেন এবং...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
القمر والنجوم لنهتدي بها في ظلمات البر والبحر: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ} [الأنعام: 1]. {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ} [الأنبياء: 33].

 

وهو الذي خلق الموت والحياة. وجعل بعد الموت البعث والنشور ليبلو الناس فيما آتاهم وليجزيهم بما كانوا يعملون: {الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاض} [الملك: 2].

 

‌‌هذا الكون مسخر للبشر:

والله الذي خلق هذا الكون قد سخره لخدمة البشر وسلطهم عليه بما وهبهم من أبصار وأسماع وعقول تساعدهم على استخدام ما في الكون من خيرات، واكتشاف ما فيه من قوى، واستغلال ذلك كله في سبيل نفعهم واسعاد أنفسهم {أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً} [لقمان: 20].

 

فالله قد سخر للبشر - وهم يعيشون على وجه الأرض - كل ما في السماوات وما في الأرض، وكل ما في البر وما في البحر، فالسحاب مسخر لخدمتهم يحمل الماء المتجمع من البحار والأنهار ثم يرسله مَطَرًا يحيي به الأرض بعد موتها، وتنبت فيها من كل الثمرات رزقًا للعباد، والبحار والأنهار مسخرة لخدمة البشر، منها يتكون السحاب، وعلى
চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি যাতে আমরা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে সেগুলোর সাহায্যে পথ খুঁজে পেতে পারি: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন} [আল-আন'আম: ১]। {এবং তিনিই সেই সত্তা যিনি রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন} [আল-আম্বিয়া: ৩৩]।

 

আর তিনিই সেই সত্তা যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। আর মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও হাশর নির্ধারণ করেছেন যাতে তিনি মানুষকে তাদের যা প্রদান করেছেন সে বিষয়ে পরীক্ষা করতে পারেন এবং তারা যা আমল করত তার প্রতিদান দিতে পারেন: {যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, আমলের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম} [আল-মুলক: ২]।

 

‌‌এই মহাবিশ্ব মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত:

আর আল্লাহ, যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তিনি একে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন এবং তাদের ওপর একে অর্পণ করেছেন সেই দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে যা তাদের মহাবিশ্বের কল্যাণসমূহ ব্যবহার করতে, এর অভ্যন্তরীণ শক্তিসমূহ আবিষ্কার করতে এবং এসব কিছুকে তাদের নিজেদের উপকার ও সুখের পথে সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। {তোমরা কি দেখ না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন এবং তোমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন?} [লুকমান: ২০]।

 

সুতরাং আল্লাহ মানুষের জন্য—যখন তারা ভূপৃষ্ঠে বসবাস করে—আসমান ও জমিনের সবকিছু এবং স্থল ও সমুদ্রের সবকিছু অনুগত করে দিয়েছেন। মেঘমালা তাদের সেবায় নিয়োজিত যা সমুদ্র ও নদ-নদী থেকে সঞ্চিত পানি বহন করে, অতঃপর তা বৃষ্টি হিসেবে বর্ষণ করে যার মাধ্যমে তিনি মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন এবং তাতে বান্দাদের রিজিক হিসেবে সকল প্রকার ফলমূল উৎপন্ন হয়। আর সমুদ্র ও নদ-নদী মানুষের সেবায় নিয়োজিত, এগুলো থেকেই মেঘমালা সৃষ্টি হয় এবং...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
مائها يعيش النبات والإنسان وكل الحيوان، وعليها تسير الفلك تحمل الناس إلى بلد لم يكونوا بالغيه بغيرها، وفي أعماقها تعيش مخلوقات أخرى يتخذ منها الناس طعامًا وحلية، والشمس والقمر مسخران لخدمة البشر، يمدان الكون بالضوء والحرارة، وهما ضرورتان من ضرورات الحياة، وكل ما في الكون من صغير وكبير، ومعلوم ومجهول، مسخر لخدمة البشر، لهم الحق في استطلاع أسراره والسيطرة عليه، واستغلال منافعه ما استطاعوا لذلك سبيلاً، فالكون مذلل لهم بإذن الله، وهم مسلطون عليه بأمر الله {اللَّهُ الَّذِي سَخَّرَ لَكُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِيَ الْفُلْكُ فِيهِ بِأَمْرِهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [الجاثية: 12]،. {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ وَسَخَّرَ لَكُمُ الْفُلْكَ لِتَجْرِيَ فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَسَخَّرَ لَكُمُ الأَنْهَارَ، وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِ وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ، وَآتَاكُمْ مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ} [إبراهيم: 23 - 34]

 

‌‌البشر مسخر بعضهم لبعض:

وإذا كان الله - جَلَّ شَأْنُهُ - قد سَخَّرَ الكون للبشر، فإنه قد سَخَّرَ بعض البشر لبعض ليستطيعوا أن يعضئسوا في جماعة منظمة متعاونة، وليكونوا أقدر على استغلال الكون
এর পানি দ্বারা উদ্ভিদ, মানুষ এবং সকল প্রাণী বেঁচে থাকে। আর এর ওপর দিয়ে জলযান চলাচল করে, যা মানুষকে এমন ভূখণ্ডে বহন করে নিয়ে যায় যেখানে তারা তা ব্যতীত পৌঁছাতে পারত না। এর গভীরতায় বাস করে অন্যান্য সৃষ্টি, যা থেকে মানুষ খাদ্য এবং অলংকার গ্রহণ করে। সূর্য ও চন্দ্র মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত, যা মহাবিশ্বে আলো ও উত্তাপ সরবরাহ করে। এ দুটি জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। মহাবিশ্বের ছোট-বড়, জানা-অজানা সবকিছুই মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাদের অধিকার রয়েছে এর রহস্য উদঘাটন করার, এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করার এবং যথাসম্ভব এর উপযোগিতা ভোগ করার। সুতরাং মহাবিশ্ব আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের জন্য বশীভূত এবং আল্লাহর আদেশে তারা এর ওপর কর্তৃত্বশীল। "আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তাঁরই আদেশে তাতে জলযান চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" [আল-জাসিয়া: ১২]। "আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকাস্বরূপ ফলমূল উৎপাদন করেছেন। আর তিনি জলযানকে তোমাদের জন্য বশীভূত করেছেন, যাতে তাঁরই আদেশে তা সমুদ্রে চলাচল করে এবং তিনি নদীসমূহকে তোমাদের জন্য বশীভূত করেছেন। আর তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন, যা সর্বদা আবর্তনশীল এবং তিনি রাত ও দিনকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন। আর তোমরা তাঁর কাছে যা চেয়েছ, তিনি তার সবকিছু থেকেই তোমাদের দান করেছেন। তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অতিশয় জালেম ও অকৃতজ্ঞ।" [ইব্রাহিম: ২৩ - ৩৪]

 

‌‌মানুষ একে অপরের জন্য নিয়োজিত:

মহান আল্লাহ যখন মহাবিশ্বকে মানুষের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন, তখন তিনি কিছু মানুষকে অন্যদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন, যাতে তারা একটি সুশৃঙ্খল ও সহযোগিতামূলক সমাজে বসবাস করতে পারে এবং মহাবিশ্বের সম্পদ আহরণে অধিকতর সক্ষম হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
المسخر لهم والانتفاع بخيراته، والمساهمة في بناء حياة إنسانية مرضية {نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} [الزخرف: 32].

 

وما سخر الله بعض البشر لبعض إلا لتتم حكمته فيهم وليبلوهم فيما آتاهم، فمن أحسن فلنفسه ومن أساء فعليها ومن كفر فعليه كفره، ومن آمن نفعه ايمانه: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ إِنَّ رَبَّكَ سَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ} [الأنعام: 165].

{هُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ فِي الأَرْضِ فَمَنْ كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُ وَلَا يَزِيدُ الْكَافِرِينَ كُفْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ إِلَاّ مَقْتًا وَلَا يَزِيدُ الْكَافِرِينَ كُفْرُهُمْ إِلَاّ خَسَارًا} [فاطر: 39].

 

ولم يجعل الله تسخير بعض البشر لبعض قائمًا على التحكم تعالى الله عن ذلك علوًا كبيرًا، وإنما ربط التسخير بطبائعهم وظروف إمكانهم، فجعلهم درجات بما اختلفوا من قوة وضعف، وعلم وجهل، وجد وخمول، وغير ذلك من وجوه الاختلاف المشتقة من طبائعهم ومعارفهم وظروفهم وبيناتهم، ولن يمنع ذلك من كان في درجة دنيا أن يرتفع بعمله وإيمانه إلى درجة أعلى من درجته وأن يصل إلى القمة في عشيرته وأمته، فإن العبرة في الإسلام بالأعمال والإيمان، ولن يضيع الله عمل مؤمن: {أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى} [آل عمران: 195]. ما دام العامل قد أحسن عمله ووصل به
মানুষের সেবায় যা নিয়োজিত করা হয়েছে তা এবং তার কল্যাণসমূহ ভোগ করা এবং একটি সন্তোষজনক মানবিক জীবন গঠনে অবদান রাখা [আল্লাহ তাআলা বলেন]: "আমিই তাদের মধ্যে তাদের পার্থিব জীবনের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যাতে একে অপরের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিতে পারে। আর আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহ তারা যা জমা করে তার চেয়ে অনেক উত্তম।" [আয-জুখরুফ: ৩২]।

 

আর আল্লাহ মানুষের একজনকে অন্যজনের জন্য নিয়োজিত করেছেন কেবল তাদের মধ্যে তাঁর হিকমত পূর্ণ করার জন্য এবং তিনি তাদের যা দান করেছেন সে বিষয়ে তাদের পরীক্ষা করার জন্য। সুতরাং যে ব্যক্তি নেক আমল করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করবে, আর যে মন্দ কাজ করবে তার দায় তার ওপরই বর্তাবে; যে কুফরি করবে তার কুফরি তার ওপরই পড়বে, আর যে ঈমান আনবে তার ঈমান তাকে উপকৃত করবে: "তিনিই তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি করেছেন এবং তোমাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন সে বিষয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি প্রদানকারী এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [আল-আনআম: ১৬৫]।

"তিনিই তোমাদেরকে জমিনে প্রতিনিধি করেছেন। সুতরাং যে কুফরি করবে তার কুফরি তারই ওপর পড়বে। কাফিরদের কুফরি কেবল তাদের প্রতিপালকের নিকট ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফিরদের কুফরি কেবল তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।" [ফাতির: ৩৯]।

 

আর আল্লাহ মানুষের একজনের ওপর অন্যজনের এই নির্ভরশীলতাকে স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেননি—আল্লাহ তাআলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। বরং তিনি এই পারস্পরিক উপযোগিতাকে তাদের প্রকৃতি এবং সক্ষমতার পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। ফলে তিনি শক্তি ও দুর্বলতা, জ্ঞান ও অজ্ঞতা, কর্মতৎপরতা ও স্থবিরতা এবং তাদের প্রকৃতি, জ্ঞান ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে উদ্ভূত অন্যান্য পার্থক্যের ভিত্তিতে তাদেরকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। আর এই ব্যবস্থা নিম্নস্তরের কোনো ব্যক্তিকে তার কর্ম ও ঈমানের মাধ্যমে উচ্চতর স্তরে আরোহণ করতে এবং তার বংশ ও জাতির মধ্যে শীর্ষে পৌঁছাতে বাধা দেয় না। কারণ ইসলামে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো আমল ও ঈমান, আর আল্লাহ কোনো মুমিনের আমল বিনষ্ট করেন না: "আমি তোমাদের মধ্যে কোনো আমলকারীর আমলই বিনষ্ট করি না, সে পুরুষ হোক বা নারী।" [আল-ইমরান: ১৯৫]। যতক্ষণ পর্যন্ত আমলকারী ব্যক্তি তার কাজ যথাযথভাবে সম্পাদন করবে এবং এর মাধ্যমে পৌঁছাবে...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
إلى درجة الإحسان: {إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلاً} [الكهف: 30].

 

ولقد آلى الله على نفسه لَيُحْيِيَنَّ حياة طيبة كل من عمل عملاً صالحًا وهو مؤمن فقال - جَلَّ شَأْنُهُ -:" {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل: 97]. ودعا اللهُ المؤمنين إلى العمل وحثهم عليه: {وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ} [التوبة: 105]. ورتب على العمل درجاتهم فمن رفعه العمل فلا يحطه شيء، ومن حطه العمل فلا يرفعه شيء: {وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ} [الأنعام: 132].
এহসান (الإحسان) এর স্তর (درجة) পর্যন্ত: {নিশ্চয়ই আমরা তাঁর প্রতিদান নষ্ট করি না, যে উত্তম আমল করে} [আল-কাহাফ: ৩০]।

 

এবং আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর এটি অবধারিত করেছেন যে, মুমিন অবস্থায় যে ব্যক্তিই নেক আমল করবে, তাকে তিনি অবশ্যই এক পবিত্র জীবন দান করবেন। সুতরাং—তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক—তিনি বলেছেন: {যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি অবশ্যই তাকে এক পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের কৃত সর্বোত্তম আমল অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করব} [আন-নাহল: ৯৭]। আর আল্লাহ মুমিনদের আমল করার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করেছেন: {আর আপনি বলুন, তোমরা আমল করো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল প্রত্যক্ষ করবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও} [আত-তাওবাহ: ১০৫]। আর তিনি আমলের ভিত্তিতে তাদের মর্যাদার স্তরসমূহ (درجات) নির্ধারণ করেছেন; সুতরাং আমল যাকে উচ্চাসীন করে তাকে কোনো কিছুই অবনমিত করতে পারে না, আর আমল যাকে অবনমিত করে তাকে কোনো কিছুই উচ্চাসীন করতে পারে না: {এবং প্রত্যেকের জন্য তাদের আমল অনুযায়ী মর্যাদা (درجات) রয়েছে এবং তারা যা করে সে সম্পর্কে আপনার প্রতিপালক অনবহিত নন} [আল-আন‘আম: ১৩২]।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الاستخلاف في الأرض:

 

• البشر مستخلفون في الأرض.

 

• استخلاف البشر مقيد بقيود.

 

• أنواع الاستخلاف.

 

• سنة الله في استخلاف الحكم.

 

• أمثلة من المستخلفين السابقين.

 

• مركز المستخلفين في الأرض.

 

• واجبات المستخلفين في الأرض.
পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব (الاستخلاف):

 

• মানুষ পৃথিবীতে প্রতিনিধি (مستخلفون) হিসেবে নিয়োজিত।

 

• মানুষের প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ।

 

• প্রতিনিধিত্বের (الاستخلاف) প্রকারভেদ।

 

• শাসনক্ষমতার প্রতিনিধিত্বের (استخلاف) ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি (سنة)।

 

• পূর্ববর্তী প্রতিনিধিদের (المستخلفين) মধ্য থেকে কতিপয় উদাহরণ।

 

• পৃথিবীতে প্রতিনিধিদের (المستخلفين) অবস্থান ও মর্যাদা।

 

• পৃথিবীতে প্রতিনিধিদের (المستخلفين) দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌البَشَرُ مُسْتَخْلَفُونَ فِي الأَرْضِ:

ولقد خلق الله البشر في الأرض واستعمرهم فيها {هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا} [هود: 61].

فلا حرج أن نقول أن مكان البشر في الأرض هو مكان المستعمر فيها، المسلط عليها، وأن الأرض بما فيها مسخرة لهم، مُذَلَّلَةُ بإذن ربهم، وأن حقوقهم وواجباتهم يحددها الله الذي استعمرهم في الأرض، ومنحهم حق التسلط عليها، ولكننا نفضل أن نصفهم بصفة الاستخلاف التي وصفهم بها الله أكثر من مرة.

 

والقرآن صريح في أن الله - جَلَّ شَأْنُهُ - خلق آدم أبا البشر ليكون خليفة في الأرض {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 30].

 

والمفسرون مختلفون في ماهية خلافة الآدميين (1) خلفوا جنسًا سابقًا كان يسكن الأرض فأفسد فيها وسفك الدماء، ومن ثم فالخلافة على هذا الرأي خلافة جنس سابق، والبعض يرى أن الخلافة عن الله - جَلَّ شَأْنُهُ -

--------------------------------------------

(1) " تفسير المنار ": جـ 1 ص 257 - 261.
পৃথিবীতে মানবজাতি প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত:

নিশ্চয়ই আল্লাহ পৃথিবীতে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তাদের আবাদকারী হিসেবে বসতি দান করেছেন: {তিনি তোমাদেরকে জমিন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদেরকে আবাদকারী করেছেন} [হূদ: ৬১]।

সুতরাং এটা বলতে কোনো বাধা নেই যে, পৃথিবীতে মানুষের অবস্থান হলো আবাদকারীর অবস্থান, যারা এর ওপর কর্তৃত্বশীল। আর পৃথিবী এবং এতে যা কিছু আছে সব কিছুই তাদের অনুগত করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের রবের অনুমতিক্রমে তাদের জন্য সহজসাধ্য করা হয়েছে। তাদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয় সেই আল্লাহর মাধ্যমে যিনি তাদেরকে পৃথিবীতে আবাদকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং এর ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার দান করেছেন। তবে আমরা তাদেরকে প্রতিনিধিত্ত্বের গুণে বিশেষিত করাকেই অধিক পছন্দ করি, যে গুণে আল্লাহ তাদেরকে একাধিকবার অভিহিত করেছেন।

 

আর কুরআন এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ মানবজাতির পিতা আদমকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন: {আর যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি’। তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি’। তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না’} [আল-বাকারাহ: ৩০]।

 

মুফাসসিরগণ মানুষের এই প্রতিনিধিত্ত্বের স্বরূপ নিয়ে (১) ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন; কেউ মনে করেন যে, তারা এমন এক পূর্ববর্তী জাতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যারা পৃথিবীতে বাস করত এবং সেখানে বিপর্যয় ও রক্তপাত ঘটিয়েছিল। এই মত অনুযায়ী, এই প্রতিনিধিত্ত্ব হলো পূর্ববর্তী কোনো জাতির স্থলাভিষিক্ত হওয়া। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এই প্রতিনিধিত্ত্ব হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত প্রতিনিধিত্ত্ব—

--------------------------------------------

(১) "তাফসীর আল-মানার": ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৭ - ২৬১।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
لا عن جنس آخر، وأن الله سلط الإنسان على الأرض يقيم فيها سننه، ويظهر عجائب صنعه، وأسرار خليقته، وبدائع حكمه، ومنافع أحكامه. وسنرى فيما بعد أن هذا الاختلاف لا أهمية له في بحثنا.

 

‌‌اِسْتِخْلَافُ البَشَرِ مُقَيَّدٌ بِقُيُودٍ:

ولا جدال في أن الله أوجب على البشر حين أسكنهم الأرض أن يطيعوا أمره وأن ينتهوا بنهيه، وأنه عهد إليهم ألا يعبدوا إلا إياه، وألا يخشوا غيره، وأن يتحلوا بالتقوى، وأن يحذروا فتنة الشيطان، وأعلمهم من اتبع هدى الله فقد اهتدى، ومن كفر بآيات الله وكذب برسله فقد ضل وغوى، وأنه جعل للمهتدين الأمن، فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون، وجعل للكافرين المكذبين النار هم فيها خالدون، " {قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ، وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 38، 39].

 

{قَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ، قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ، يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ، يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ، وَإِذَا فَعَلُوا
অন্য কোনো প্রজাতির পরিবর্তে নয়; আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করেছেন যাতে সে সেখানে তাঁর সুন্নাহসমূহ (سنن) প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁর নিপুণ কারুকার্য, তাঁর সৃষ্টির রহস্য, তাঁর হিকমতের অনন্য নির্দশনাবলি এবং তাঁর বিধানাবলির কল্যাণসমূহ প্রকাশ করে। আমরা পরবর্তীতে দেখব যে, আমাদের এই গবেষণায় এ পার্থক্যের কোনো গুরুত্ব নেই।

 

‌‌মানুষের প্রতিনিধিত্ব কিছু শর্তের অধীন:

এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, আল্লাহ যখন মানুষকে পৃথিবীতে বসবাস করতে দিলেন, তখন তাদের ওপর তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক করেছেন। তিনি তাদের থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না, তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করবে এবং শয়তানের ফিতনা (فتنة) থেকে সতর্ক থাকবে। তিনি তাদের অবগত করেছেন যে, যারা আল্লাহর হেদায়েত (هدى) অনুসরণ করবে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে, আর যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করবে এবং তাঁর রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে তারা পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হবে। তিনি হেদায়েতপ্রাপ্তদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন, ফলে তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা অস্বীকারকারী ও মিথ্যারোপকারী, তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন জাহান্নাম, যেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। " {আমরা বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসবে, তখন যারা আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। আর যারা কুফরি করবে ও আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।} [আল-বাকারা: ৩৮, ৩৯]।

 

{তিনি বললেন, তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু। পৃথিবীতে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের জন্য অবস্থান ও জীবিকা রয়েছে। তিনি বললেন, সেখানেই তোমরা জীবন অতিবাহিত করবে, সেখানেই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের বের করা হবে। হে বনী আদম, আমরা তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান অবৃত করে এবং যা শোভাবর্ধক; আর তাকওয়ার (تقوى) পোশাকই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। হে বনী আদম, শয়তান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল—তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য তাদের পোশাক হরণ করেছিল। নিশ্চয়ই সে এবং তার দল তোমাদের এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমরা শয়তানদের তাদের অভিভাবক বানিয়েছি যারা ঈমান আনে না। আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে...}
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ، قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ، فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ} [الأعراف: 24 - 30].

 

وغدًا يحاسب الله البشر على زيفهم وضلالهم، وعلى تركهم طاعة الله واتباعهم الشيطان، ويسألهم فلا يجدوا لأنفسهم حُجَّةً. ثم يقذف بهم أفواجًا إلى النار يَصْلَوْنَ حَرَّهَا جزاء ما عصوا الله وكفروا بآياته ولم يقوموا بعهده {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ، وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ، وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلاًّ كَثِيرًا أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ، اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ} [يس: 60 - 64].

 

‌‌أَنْوَاعُ الاِسْتِخْلَافِ:

واستخلاف البشر في الأرض نوعان: استخلاف عام، واستخلاف خاص.

 

فالاستخلاف العام هو استخلاف البشر في الأرض باعتبارهم مستعمرين فيها ومسلطين عليها {هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا} [هود: 61]، وقد بدأ هذا الاستخلاف بآدم عليه السلام ومن بعده كل ذريته فهم جميعًا مستعمرون في
...যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে, তখন তারা বলে: "আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এই পথেই পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন।" আপনি বলুন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর নামে এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না?" আপনি বলুন: "আমার রব ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক সিজদার সময় তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখো এবং তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো। তিনি যেভাবে তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, সেভাবেই তোমরা ফিরে আসবে।" একদলকে তিনি হিদায়াত দিয়েছেন এবং অন্য দলের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে আছে [আল-আরাফ: ২৮ - ৩০]।

 

আগামীকাল আল্লাহ মানবজাতিকে তাদের মিথ্যাচার ও পথভ্রষ্টতার জন্য এবং আল্লাহর আনুগত্য বর্জন করে শয়তানের অনুসরণ করার কারণে হিসাব নেবেন। তিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, কিন্তু তারা নিজেদের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাবে না। অতঃপর তাদের দলে দলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে যেখানে তারা এর উত্তাপ ভোগ করবে; এটি তাদের আল্লাহর অবাধ্যতা, তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা এবং তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ না করার প্রতিদান। {হে বনী আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর আমারই ইবাদত করো, এটিই সরল পথ। আর সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবে কি তোমরা অনুধাবন করোনি? আজ তোমরা এতে দগ্ধ হও, যেহেতু তোমরা কুফরি করতে} [ইয়াসিন: ৬০ - ৬৪]।

 

‌‌প্রতিনিধিত্বের প্রকারভেদ:

পৃথিবীতে মানুষের প্রতিনিধিত্ব বা খিলাফত দুই প্রকার: সাধারণ প্রতিনিধিত্ব এবং বিশেষ প্রতিনিধিত্ব।

 

সাধারণ প্রতিনিধিত্ব হলো পৃথিবীতে মানুষের সেই প্রতিনিধিত্ব যেখানে তাদের আবাদকারী ও কর্তৃত্বশীল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে— {তিনিই তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদের আবাদ করেছেন} [হূদ: ৬১]। এই প্রতিনিধিত্ব আদম আলাইহিস সালামের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং তাঁর পরবর্তী সকল বংশধরই এর অন্তর্ভুক্ত, ফলে তারা সবাই এতে আবাদকারী...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
الأرض، استعمرهم الله - جَلَّ شَأْنُهُ - فيها، وَسَخَّرَ لهم وسلطهم عليها بإذنه {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً} [البقرة: 30].

 

والاستخلاف الخاص هو الاستخلاف في الحكم، وهو نوعان: استخلاف الدول واستخلاف الأفراد، والاستخلاف في الحكم هو بنوعيه مِنَّةٌ أخرى يمن الله بها على من يشاء من عباده أُمَمًا وَأَفْرَادًا بعد أن مَنَّ عليهم جميعًا بنعمة الاستخلاف في الأرض {وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ} [القصص: 5]، {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} [السجدة: 24].

 

واستخلاف الدول معناه الأول تحرير الأمة واستقلالها بحكم نفسها وجعلها دولة لها من السلطان ما يحمي مصالح الأمة وَيُعْلِي كلمتها، ومعناه الثاني اتساع سلطان الدولة حتى يشمل فوق أبناء الأمة أممًا وشعوبًا أخرى.

 

واستخلاف الدول إذا كان بإذن الله وبأمره مِنَّةً يَمُنُّ بها على الأمم، إلَاّ أن للاستخلاف مسبباته التي تباشرها الأمم والشعوب فتؤهلهم للاستخلاف، وتمكن لهم في الأرض، وتتم بذلك سُنَّةُ اللهِ في خلقه ولن تجد لسنته تحويلاً. فلا يمكن أن يجيء الاستخلاف اعتباطًا وبلا عمل، وإنما يجيء نتيجة العمل الشاق والجهد المستمر، ولقد وعد الله - جَلَّ شَأْنُهُ - الذين آمنوا وعملوا الصالحات بالاستخلاف في الأرض، فلم يجعل الإيمان وحده
পৃথিবী, আল্লাহ — মহিমান্বিত তিনি — তাঁদের সেখানে আবাদ করেছেন, তাঁদের জন্য তা অনুগত করেছেন এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁদের সেখানে আধিপত্য দিয়েছেন। [স্মরণ করো] যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, "নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (خليفة) নিয়োগ করতে যাচ্ছি।" [আল-বাকারাহ: ৩০]।

 

আর বিশেষ প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) হলো শাসন ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব, যা দুই প্রকার: রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিত্ব এবং ব্যক্তিবর্গের প্রতিনিধিত্ব। শাসন ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব তার উভয় প্রকারেই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য অনুগ্রহ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে জাতি কিংবা ব্যক্তি নির্বিশেষে যাকে ইচ্ছা দান করেন; তাঁদের সকলকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের নেয়ামত প্রদানের পর। [আল্লাহ বলেন:] "আর আমি ইচ্ছা করলাম যে, পৃথিবীতে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা (أئمة) বানাতে এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী (وارثين) করতে।" [আল-কাসাস: ৫]। "এবং আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা (أئمة) মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশে পথপ্রদর্শন করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত।" [আস-সাজদাহ: ২৪]।

 

রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিত্বের প্রথম অর্থ হলো উম্মতের মুক্তি এবং স্বশাসনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন এবং একে এমন এক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা যার এমন কর্তৃত্ব থাকবে যা উম্মতের স্বার্থসমূহ রক্ষা করবে ও তার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখবে। আর এর দ্বিতীয় অর্থ হলো রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের বিস্তৃতি ঘটানো, যাতে তা উম্মতের সন্তানদের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীর ওপরও পরিব্যপ্ত হয়।

 

রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিত্ব যদিও আল্লাহর অনুমতি ও তাঁর নির্দেশে উম্মতদের প্রতি প্রদত্ত একটি অনুগ্রহ, তবুও প্রতিনিধিত্বের (استخلاف) এমন কিছু কার্যকারণ রয়েছে যা জাতি ও গোষ্ঠীসমূহ যখন সম্পাদন করে, তখন তা তাদেরকে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য করে তোলে এবং পৃথিবীতে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করে। আর এভাবেই তাঁর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর রীতি (سنة) বাস্তবায়িত হয়, আর তুমি তাঁর রীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবে না। সুতরাং প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) আকস্মিকভাবে কিংবা কর্মহীনভাবে আসা সম্ভব নয়; বরং এটি কঠোর পরিশ্রম ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ আসে। আল্লাহ — মহিমান্বিত তিনি — সেই সব ব্যক্তিদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের (استخلاف) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে। তিনি কেবল ঈমানকেই...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
هو الذي يرشح المؤمنين للاستخلاف، وإنما وعد المؤمنين بالاستخلاف إذا عملوا الصالحات، والمقصود بالصالحات كل ما يصلح شأنهم في الدنيا من الإعداد والاستعداد والتفوق، وما يصلح شأنهم في الآخرة من الطاعة واجتناب المعاصي. {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ} [النور: 55].

 

واستخلاف الأفراد هو الاستخلاف في الرئاسة وَقَدْ يُسَمَّى المُسْتَخْلَفُ خَلِيفَةً كما سمي داوود عليه السلام {يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} [ص: 26].

 

وَقَدْ يُسَمَّى المُسْتَخْلَفُ إِمَامًا كما سمي ابراهيم عليه السلام وبعض رؤساء بني إسرائيل:" {وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ} [البقرة: 124]. {وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ} [الأنبياء: 73].

 

وَقَدْ يُسَمَّى المُسْتَخْلَفُ مَلِكًا {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنْبِيَاءَ وَجَعَلَكُمْ مُلُوكًا وَآتَاكُمْ مَا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ} [المائدة: 20]، {وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا} [البقرة: 247].
তিনিই মুমিনদের খেলাফতের জন্য মনোনীত করেন; আর তিনি মুমিনদের খেলাফতের প্রতিশ্রুতি তখনই দিয়েছেন যখন তারা সৎকর্ম সম্পাদন করবে। আর সৎকর্ম বলতে উদ্দেশ্য হলো সেইসব কাজ, যা দুনিয়াতে তাদের অবস্থার সংশোধন করে—যেমন প্রস্তুতি, উপকরণ গ্রহণ ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন; এবং যা আখিরাতে তাদের অবস্থার সংশোধন করে—যেমন আনুগত্য ও পাপাচার বর্জন। {আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে খেলাফত দান করবেন, যেমন তিনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের।} [আন-নূর: ৫৫]।

 

ব্যক্তিগত খেলাফত হলো নেতৃত্বের ক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্ত হওয়া। কখনো স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে 'খলিফা' বলা হয়, যেমন দাউদ আলাইহিস সালামকে অভিহিত করা হয়েছে: {হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা করেছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, যা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি; কারণ তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছে।} [সোয়াদ: ২৬]।

 

কখনো স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে 'ইমাম' বলা হয়, যেমন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং বনী ইসরাঈলের কয়েকজন নেতাকে বলা হয়েছে: {স্মরণ করো, যখন ইবরাহিমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বাণী দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন। তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম করছি।’ তিনি বললেন, ‘আমার বংশধরদের থেকেও?’ তিনি বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।’} [আল-বাকারা: ১২৪]। {এবং আমি তাদের ইমাম করেছিলাম, তারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত। আমি তাদের প্রতি সৎকাজ করার, নামাজ কায়েম করার এবং জাকাত প্রদান করার ওহি প্রেরণ করেছিলাম; এবং তারা ছিল আমারই ইবাদতকারী।} [আল-আম্বিয়া: ৭৩]।

 

কখনো স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে 'রাজা' বলা হয়: {স্মরণ করো, যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবী পাঠিয়েছেন এবং তোমাদের রাজা বানিয়েছেন; আর তোমাদের এমন কিছু দান করেছেন যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দেননি।} [আল-মায়িদাহ: ২০], {এবং তাদের নবী তাদের বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালুতকে তোমাদের জন্য রাজা হিসেবে পাঠিয়েছেন।} [আল-বাকারা: ২৪৭]।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌سُنَّةُ اللهِ فِي اِسْتِخْلَافِ الحُكْمِ:

وَسُنَّةُ اللهِ - جَلَّ شَأْنُهُ - في استخلاف الدول والأفراد أن يستخلف الأمة ما كانت أَهْلاً للاستخلاف، وأن يستخلف الأفراد ما كانوا أَهْلاً لذلك، يبتليهم جميعًا فيما آتاهم {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ} [الأنعام: 165]، فإن استقام المُسْتَخْلَفُونَ على أمر الله، ودعوا إليه، وعبدوه وحده لا شريك له، وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وفعلوا الخيرات واجتنبوا السيئات، وأمروا بالمعروف وَنَهَوْا عن المنكر {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} [الحج: 41]، {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} [السجدة: 24]، {وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ} [الأنبياء: 73]، إذا فعل المستخلفون ذلك مكن الله لهم في الأرض، وآتاهم من كل شيء سَبَبًا، كما مكن لذي القرنين وقومه {إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الأَرْضِ وَآتَيْنَاهُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا} [الكهف: 84]، وكما مَكَّنَ ليوسف في الأرض يتبوأ منها حيث يشاء مِمَّا لم يكن يحلم به أو يتخيله {وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ} [يوسف: 56]، وكما مكن لبني إسرائيل في الأرض على ضعفهم وقوة أعدائهم، بعد أن عبدهم الفراعنة واستعبدوهم، وساموهم سوء العذاب يذبحون أبناءهم ويستحيون نساءهم، فمنحهم الله - جَلَّ شَأْنُهُ - القوة وَبَوَّأَهُمْ
‌‌শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরে আল্লাহর সুন্নাত:

আল্লাহ তাআলা —তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক— রাষ্ট্র ও ব্যক্তিদের স্থলাভিষিক্ত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর সুন্নাত হলো, তিনি কোনো উম্মতকে ততক্ষণ পর্যন্ত স্থলাভিষিক্ত করেন যতক্ষণ তারা এর যোগ্য থাকে এবং কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত স্থলাভিষিক্ত করেন যতক্ষণ সে এর উপযুক্ত থাকে। তিনি তাদের যা কিছু দিয়েছেন সে বিষয়ে তাদের সকলকে পরীক্ষা করেন; {আর তিনিই তোমাদেরকে জমিনে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং মর্যাদায় তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন সে বিষয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন} [আল-আন’আম: ১৬৫]। অতঃপর যদি স্থলাভিষিক্তগণ আল্লাহর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকে, তাঁর দিকে দাওয়াত দেয়, শরিকহীনভাবে কেবল তাঁরই ইবাদত করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে, নেক কাজ করে, পাপাচার থেকে বিরত থাকে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করে; {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করে; আর সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহরই ইখতিয়ারে} [আল-হজ্জ: ৪১], {এবং আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছি যারা আমার নির্দেশে পথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত} [আস-সাজদাহ: ২৪], {আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা আমার নির্দেশে পথ প্রদর্শন করত এবং আমি তাদের প্রতি নেক কাজ করার, সালাত কায়েম করার ও জাকাত প্রদান করার ওহি পাঠিয়েছিলাম; আর তারা ছিল আমারই ইবাদতকারী} [আল-আম্বিয়া: ৭৩]। স্থলাভিষিক্তগণ যখন এসব কাজ সম্পাদন করেন, তখন আল্লাহ জমিনে তাদের ক্ষমতা সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং তাদের প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করেন, যেভাবে তিনি যুল-কারনাইন ও তাঁর কওমকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন; {নিশ্চয়ই আমি তাকে জমিনে ক্ষমতা দান করেছিলাম এবং তাকে প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দিয়েছিলাম} [আল-কাহফ: ৮৪]। আর যেভাবে তিনি ইউসুফকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যেখান থেকে তিনি যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারতেন—যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি বা ভাবেননি; {আর এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করলাম, সেখানে সে যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারত} [ইউসুফ: ৫৬]। আর যেভাবে তিনি বনী ইসরাইলকে তাদের দুর্বলতা এবং শত্রুদের প্রবল শক্তি থাকা সত্ত্বেও জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন—ফিরআউনরা তাদের গোলাম বানিয়ে রাখার এবং তাদের ওপর নিকৃষ্ট আজাব চালিয়ে তাদের পুত্রদের জবেহ ও নারীদের জীবিত রাখার পর। অতঃপর আল্লাহ —তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক— তাদের শক্তি দান করলেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত করলেন
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
السلطان، ورزقهم من الطيبات وجعل فيهم النبوة والملك، وآتاهم مَا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا من العالمين {وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ} [يونس: 93]، {يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنْبِيَاءَ وَجَعَلَكُمْ مُلُوكًا وَآتَاكُمْ مَا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ} [المائدة: 20]، وكما مكن لقوم يونس لما آمنوا فأصلح لهم أحوالهم في الحياة الدنيا ومتعهم إلى حين، {فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَاّ قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ} [يونس: 98]

 

والله - جَلَّ شَأْنُهُ - غني عن العالمين، رحيم بهم، فإذا أمرهم أن يأتوا أو يدعوا فإنما يأمرهم بما فيه صلاحهم، بما يؤدي إلى نفعهم، وهو القادر على أن يذهب بالمكذبين ويستخلف أناسًا غيرهم، ولن يعجزه ذلك وقد جاءوا من ذرية غيرهم: {وَرَبُّكَ الْغَنِيُّ ذُو الرَّحْمَةِ إِنْ يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَسْتَخْلِفْ مِنْ بَعْدِكُمْ مَا يَشَاءُ كَمَا أَنْشَأَكُمْ مِنْ ذُرِّيَّةِ قَوْمٍ آخَرِينَ} [الأنعام: 133].

 

وما استقام المستخلفون في الأرض على أمر الله فهم عند وعد الله لهم في تمكين وعزة، يأتيهم رزقهم رَغَدًا من كل مكان، حتى إذا ما كفروا بأنعم الله وكذبوا بآياته وخرجوا على ما أرسل به رسله، وظلموا وبغوا وافتتنوا بالقوة والسلطان والعلم، أخذهم اللهُ بغتة وهم لا يشعرون، فسلبهم نعمتهم، وأذهب دولتهم واستخلف غيرهم، ولم تغن عنهم عقولهم ولا علومهم ولا أموالهم من شيء، لما جاء أمر ربك وحاق بهم ما كانوا به يستهزئون {وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَمَّا
কর্তৃত্ব, এবং তাদের পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে জীবিকা দান করেছেন এবং তাদের মধ্যে নবুওয়াত ও রাজত্ব দান করেছেন। আর তাদের এমন কিছু দিয়েছেন যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি। {আর আমি অবশ্যই বনী ইসরাঈলকে উত্তম আবাসস্থলে বসবাস করতে দিয়েছি এবং তাদের পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে জীবিকা দান করেছি} [ইউনূস: ৯৩], {হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবিগণকে পাঠিয়েছেন এবং তোমাদের রাজত্ব দান করেছেন আর তোমাদের এমন কিছু দিয়েছেন যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি} [আল-মায়িদাহ: ২০]। যেভাবে তিনি ইউনূসের সম্প্রদায়কে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যখন তারা ঈমান এনেছিল, ফলে তিনি দুনিয়ার জীবনে তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছিলেন এবং এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিয়েছিলেন। {যদি কোনো জনপদ ঈমান আনত, তবে তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত; কিন্তু ইউনূসের সম্প্রদায় ব্যতীত, যখন তারা ঈমান আনল, আমি তাদের ওপর থেকে পার্থিব জীবনের অপমানজনক আজাব দূর করলাম এবং এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিলাম} [ইউনূস: ৯৮]

 

আর আল্লাহ -যাঁর মহিমা সুমহান- বিশ্বজগত থেকে অমুখাপেক্ষী এবং তাদের প্রতি পরম দয়ালু। তিনি যখনই তাদের কোনো কিছু সম্পাদন করতে বা বর্জন করতে আদেশ দেন, তখন তিনি কেবল তাদের কল্যাণের জন্যই আদেশ দেন, যা তাদের উপকারে আসে। তিনি মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের অপসারিত করতে এবং তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করতে পূর্ণ সক্ষম। এটি তাঁকে বিন্দুমাত্র অক্ষম করবে না, কারণ তারা অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে আগত: {আর তোমার রব অমুখাপেক্ষী, দয়ার আধার। তিনি যদি চান তবে তোমাদের অপসৃত করবেন এবং তোমাদের পর যাকে ইচ্ছা স্থলাভিষিক্ত করবেন, যেমন তোমাদের অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে সৃষ্টি করেছেন} [আল-আনআম: ১৩৩]।

 

পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত হওয়া জাতিসমূহ যতক্ষণ আল্লাহর বিধানের ওপর অটল থাকে, তারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতা ও সম্মানের ওপর আসীন থাকে। সকল স্থান থেকে তাদের কাছে স্বচ্ছন্দে প্রচুর জীবিকা আসতে থাকে। অতঃপর যখন তারা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অস্বীকার করে, তাঁর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তাঁর রাসুলগণ যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা থেকে বিচ্যুত হয় এবং যখন তারা জুলুম, সীমালঙ্ঘন এবং ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও জ্ঞানের মোহে প্রলুব্ধ হয়, তখন আল্লাহ তাদের আকস্মিকভাবে পাকড়াও করেন এমন অবস্থায় যে তারা টেরও পায় না। অতঃপর তিনি তাদের নেয়ামত ছিনিয়ে নেন, তাদের রাজত্ব বিলীন করে দেন এবং অন্য কোনো জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করেন। তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা, তাদের জ্ঞান কিংবা তাদের ধন-সম্পদ কোনো কিছুই তাদের উপকারে আসে না যখন তোমার রবের নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করত তা-ই তাদের পরিবেষ্টন করে। {আর আমি তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি যখন...}
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ظَلَمُوا وَجَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ وَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ، ثُمَّ جَعَلْنَاكُمْ خَلَائِفَ فِي الأَرْضِ مِنْ بَعْدِهِمْ لِنَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} [يونس: 13، 14]، {أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّنْ لَكُمْ وَأَرْسَلْنَا السَّمَاءَ عَلَيْهِمْ مِدْرَارًا وَجَعَلْنَا الأَنْهَارَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَأَنْشَأْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ} [الأنعام: 6]، {وَلَقَدْ مَكَّنَّاهُمْ فِيمَا إِنْ مَكَّنَّاكُمْ فِيهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْئِدَتُهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِذْ كَانُوا يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} [الأحقاف: 26].

 

‌‌أَمْثِلَةٌ مِنَ المُسْتَخْلَفِينَ السَّابِقِينَ:

ولقد ضرب اللهُ لنا من الأمثلة ما فيه مزدجر، وَبَيَّنَ لنا من أخبار السابقين ما فيه غناء لكل ذي لب، فهؤلاء قوم نوح كذبوه واستضعفوه ومن معه فاستحلف الله هؤلاء الضعفاء وأهلك الأقوياء الذين غرتهم قوتهم وحملهم الغرور على تكذيب آيات الله {فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِينَ} [يونس: 73].

 

وهذا هود يدعو قومه عَادًا ويذكرهم ما حدث لقوم نوح ويخوفهم منه فيقول لهم: {وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ} [الأعراف: 69] أي اذكروا كيف استخلفكم اللهُ في الأرض بعد أن أهلك قوم نوح بمثل ما تفعلون، فلما
তারা যুলুম করেছিল এবং তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিলেন, কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি। এরপর তাদের পর আমি তোমাদেরকে যমীনে স্থলাভিষিক্ত করেছি, যাতে আমি প্রত্যক্ষ করি তোমরা কেমন আমল করো [ইউনূস: ১৩, ১৪]। "তারা কি দেখেনি যে, তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি? আমি তাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেভাবে তোমাদেরকেও করিনি; আর আমি তাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম এবং তাদের পাদদেশে নদীসমূহ প্রবহমান করেছিলাম; অতঃপর তাদের পাপের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদের পর অন্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি" [আল-আন‘আম: ৬]। "আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে সক্ষমতা দিয়েছিলাম যে বিষয়ে তোমাদেরকে দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়; কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসেনি, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছিল। আর যা নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত, তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করল" [আল-আহক্বাফ: ২৬]।

 

‌‌পূর্ববর্তী স্থলাভিষিক্তদের কিছু উদাহরণ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের নিকট এমন সব উদাহরণ পেশ করেছেন যাতে পর্যাপ্ত শিক্ষা রয়েছে এবং পূর্ববর্তীদের সংবাদ থেকে আমাদের জন্য এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন যা প্রত্যেক বুদ্ধিমানের জন্য যথেষ্ট। এরা নূহের কওম; তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের দুর্বল মনে করেছিল। ফলে আল্লাহ এই দুর্বলদেরই স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং সেই শক্তিশালী সম্প্রদায়কে ধ্বংস করলেন যাদেরকে তাদের শক্তি বিভ্রান্ত করেছিল এবং অহংকার আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতে প্ররোচিত করেছিল। "অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে আমি তাঁকে ও তাঁর সাথে যারা নৌকায় ছিল তাদের রক্ষা করলাম এবং তাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলাম; আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল তাদের ডুবিয়ে দিলাম। সুতরাং লক্ষ্য করো, যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল" [ইউনূস: ৭৩]।

 

আর এই যে হূদ (আ.), তিনি তাঁর কওম আদ-কে দাওয়াত দিচ্ছেন এবং নূহের কওমের সাথে যা ঘটেছিল তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের সতর্ক করছেন। তিনি তাদের বলছেন: "স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পর স্থলাভিষিক্ত করেছেন" [আল-আ‘রাফ: ৬৯]। অর্থাৎ, নূহের কওম তোমাদের মতোই কর্ম করার কারণে তাদের ধ্বংস করার পর আল্লাহ কীভাবে তোমাদেরকে যমীনে স্থলাভিষিক্ত করেছেন তা স্মরণ করো। অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
يئس من إصلاحهم قال لهم: {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ مَا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا إِنَّ رَبِّي عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ} [هود: 57].

 

وهذا صالح يُذَكِّرُ قومه بما أنعم اللهُ عليهم، وجعلهم خلفاء من بعد عَادٍ، ويحذرهم عاقبة البغي والفساد في الأرض {وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ عَادٍ وَبَوَّأَكُمْ فِي الأَرْضِ تَتَّخِذُونَ مِنْ سُهُولِهَا قُصُورًا وَتَنْحِتُونَ الْجِبَالَ بُيُوتًا فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ} [الأعراف: 74].

 

وموسى يشكو له قومه ما نالهم من أذى فرعون وما أصابهم من بغيه وبطشه، فيبشرهم بأن سُنَّةَ اللهِ لا بد آتية، ويظهر خشيته من أن تأتيهم نعمة الله فيكفروا بها ويفعلوا ما كان يفعله غيرهم من المعاصي {قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 129].

 

وقارون وفرعون وهامان، تجبروا في الأرض واستكبروا بغير الحق، ونسوا نعمة الله عليهم، فلم ينفعهم ما يملكون وما يعبدون من دون الله شيئًا، وأخذهم الله بذنوبهم، فمنهم من أخذته الصيحة، ومنهم من خسفت به الأرض، ومنهم من غرق {وَقَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الأَرْضِ وَمَا كَانُوا سَابِقِينَ، فَكُلاًّ أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ
যখন তিনি তাদের সংশোধনের ব্যাপারে আশাহত হলেন, তখন তাদের বললেন: {অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি যা দিয়ে আমাকে তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছে এবং আমার পালনকর্তা তোমাদের পরিবর্তে অন্য কোনো জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা প্রতিটি বিষয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী।} [হুদ: ৫৭]।

 

আর এই যে সালিহ (আ.), তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর সেই নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যা আল্লাহ তাদের দান করেছেন এবং আদ সম্প্রদায়ের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর তিনি তাদের পৃথিবীতে বিদ্রোহ ও ফাসাদ সৃষ্টির পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করছেন: {আর তোমরা স্মরণ করো যখন তিনি তোমাদের আদ সম্প্রদায়ের পর স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদের পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতলে অট্টালিকা নির্মাণ করছ এবং পাহাড় খোদাই করে ঘর তৈরি করছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।} [আল-আরাফ: ৭৪]।

 

এবং মূসা (আ.)-এর নিকট তাঁর সম্প্রদায় ফেরাউনের পক্ষ থেকে পাওয়া কষ্ট এবং তার বিদ্রোহ ও নির্যাতনের অভিযোগ করে; তখন তিনি তাদের সুসংবাদ দেন যে, আল্লাহর সুন্নাহ অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। তিনি এই আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন যে, তাদের নিকট আল্লাহর নেয়ামত আসার পর তারা যেন তা অস্বীকার না করে এবং অন্যদের মতো পাপে লিপ্ত না হয়: {তারা বলল, আপনি আমাদের কাছে আসার আগে আমাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে এবং আপনার আসার পরেও। তিনি বললেন, শীঘ্রই তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করবেন, তারপর তিনি দেখবেন তোমরা কেমন কাজ করো।} [আল-আরাফ: ১২৯]।

 

আর কারুন, ফেরাউন ও হামান—তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে স্বৈরাচারী আচরণ করেছিল ও অহংকার করেছিল এবং তারা তাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতসমূহ ভুলে গিয়েছিল। সুতরাং তাদের সহায়-সম্পদ এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের উপাসনা করত, তা তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহ তাদের পাপের কারণে তাদের পাকড়াও করলেন; ফলে তাদের কারো ওপর প্রচণ্ড শব্দ এসে আঘাত করল, কাউকে ভূগর্ভে প্রোথিত করা হলো এবং কাউকে ডুবিয়ে মারা হলো: {আর কারুন, ফেরাউন ও হামান—নিশ্চয়ই মূসা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিলেন, কিন্তু তারা পৃথিবীতে অহংকার করেছিল, অথচ তারা (আল্লাহকে) অতিক্রম করতে পারেনি। সুতরাং তাদের প্রত্যেককেই আমি তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি; তাদের কারো ওপর আমি পাথরকুচিসহ ঝঞ্ঝা প্রেরণ করেছি, কাউকে প্রচণ্ড গর্জন এসে পাকড়াও করেছে, কাউকে আমি জমিনে ধসিয়ে দিয়েছি এবং কাউকে আমি ডুবিয়ে দিয়েছি। আর আল্লাহ তো এমন নন যে...}
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} [العنكبوت: 39، 40].

 

‌‌مَرْكَزُ المُسْتَخْلَفِينَ فِي الأَرْضِ:

علمنا أن الله - جَلَّ شَأْنُهُ - استخلف البشر في الأرض، وسخر لهم ما في السماوات والأرض جميعًا وألزمهم أن يتبعوا هُدَاهُ وأن يطيعوا أمره وينتهوا بنهيه، ومقتضى ذلك أن الاستخلاف في الأرض رتب للبشر حقوقًا وألزمهم واجبات، فإذا أردنا أن نحدد مركز المستخلفين في الأرض فينبغي أن نعرف معنى الاستخلاف اللغوي وأن نستخرج معناه الفقهي.

 

والاستخلاف لغة هو إقامة خلف يقوم مقام المستخلف أو مقام الغير على شيء ما، فإذا طبقنا هذا المعنى اللغوي على استخلاف الله - جَلَّ شَأْنُهُ - لآدم وذريته في الأرض قلنا أن البشر إما خلفاء لله أو لغيره.

 

وهذه النتيجة هي التي انتهى إليها المفسرون في تفسيرهم لقوله تعالى {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 30]، فبعض المفسرين كما قلنا من قبل يرى أن البشر خلفوا خَلْقًا آخر كان يسكن الأرض فأفسد فيها وسفك الدماء والبعض يرى أن الخلافة عن الله - جَلَّ شَأْنُهُ - لا عن خلق آخر.

 

ولكن الكثيرين لا يجيزون أن يقال لبشر خليفة الله، وَحُجَّتُهُمْ أنه إنما يستخلف من يغيب أو يموت، والله لا يغيب
যাতে তাদের প্রতি জুলুম করেন; বরং তারা নিজেরা নিজেদের ওপরই জুলুম করছিল।} [আল-আনকাবুত: ৩৯, ৪০]।

 

‌‌পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্তদের (المستخلفين) অবস্থান:

আমরা জেনেছি যে, আল্লাহ -তাঁর শান সুমহান- মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত (استخلف) করেছেন এবং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাদের অধীন করে দিয়েছেন। তিনি তাদের ওপর তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করা, তাঁর আদেশ পালন করা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকাকে আবশ্যিক করেছেন। এর দাবি হলো, পৃথিবীতে এই স্থলাভিষিক্ত হওয়া (الاستخلاف) মানুষের জন্য কিছু অধিকার নির্ধারণ করেছে এবং তাদের ওপর কিছু কর্তব্য অর্পণ করেছে। সুতরাং, যদি আমরা পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্তদের (المستخلفين) অবস্থান নির্ধারণ করতে চাই, তবে আমাদের স্থলাভিষিক্তকরণের (الاستخلاف) শাব্দিক অর্থ জানতে হবে এবং এর ফিকহী (فقهي) অর্থ বের করতে হবে।

 

আভিধানিকভাবে স্থলাভিষিক্তকরণ (الاستخلاف) হলো এমন এক উত্তরসূরি (خلف) নির্ধারণ করা, যে কোনো বিষয়ে স্থলাভিষিক্তকারী (المستخلف) বা অন্য কারো স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করে। আমরা যদি এই শাব্দিক অর্থটি আদম ও তাঁর বংশধরদের জন্য আল্লাহর -তাঁর শান সুমহান- স্থলাভিষিক্তকরণের (استخلاف) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি, তবে আমরা বলতে পারি যে মানুষ হয় আল্লাহর স্থলাভিষিক্ত (خلفاء), নয়তো অন্য কারো।

 

মুফাসসিরগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীর করার ক্ষেত্রে এই ফলাফলেই উপনীত হয়েছেন: {আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে একজন স্থলাভিষিক্ত (خليفة) সৃষ্টি করছি।’ তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করি।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।’} [আল-বাকারা: ৩০]। যেমনটি আমরা আগে বলেছি, কিছু মুফাসসির মনে করেন যে মানুষ অন্য কোনো সৃষ্টির স্থলাভিষিক্ত (خلفوا) হয়েছে যারা আগে পৃথিবীতে বাস করত এবং সেখানে বিপর্যয় ও রক্তপাত ঘটিয়েছিল। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এই খেলাফত (الخلافة) সরাসরি আল্লাহর -তাঁর শান সুমহান- পক্ষ থেকে, অন্য কোনো সৃষ্টির পক্ষ থেকে নয়।

 

কিন্তু অনেকে কোনো মানুষকে 'আল্লাহর খলিফা' বা আল্লাহর স্থলাভিষিক্ত (خليفة الله) বলা বৈধ মনে করেন না। তাদের যুক্তি (حجتهم) হলো, স্থলাভিষিক্ত (يستخلف) কেবল তারই করা হয় যে অনুপস্থিত থাকে বা মারা যায়, অথচ আল্লাহ কখনো অনুপস্থিত হন না।
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا يموت، كما يحتجون بأن أبا بكر قيل له يا خليفة الله، فقال: «لَسْتُ خَلِيفَةَ اللهِ وَلَكِنِّي خَلِيفَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم» بينما يجيز غيرهم أن يقال لبشر خليفة الله ما دام قائمًا بأمر الله في خلقه، ولقوله - جَلَّ شَأْنُهُ - {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ} [الأنعام: 165]. ولا شك أن الرأي الأخير هو الأصح، فما ينبغي أن يقاس بالبشر من ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، وإذا كان شأن الله أَنْ يُسْتَخْلَفَ وهو شاهد لا يغيب حتى لا يموت، ويكفي قوله: {إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً} [البقرة: 30]، وقوله: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الأَرْضِ} [الأنعام: 165]، ليجوز القول بأن البشر خلفاء الله خصوصًا وأنه استخلفهم في ملكه وسخره لهم {لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ} [المائدة: 120]، {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا مِنْهُ} [الجاثية: 13].

 

وإذا صح هذا فلا يهمنا أن نتحقق مِمَّا إذا كان البشر خَلَفُوا خَلْقًا سَابِقًا عليهم أم لا، لأن هذا الخلق السابق إنما استخلفه الله في الأرض كما استخلف البشر فإذا خلف البشر من كانوا خلفاء لله فالبشر قد صاروا بذلك خلفاء للهِ أيضًا، ومن ثم تنتهي في كل الأحوال إلى أن خلافة البشر عن الله - جَلَّ شَأْنُهُ - وليست عن غيره.

 

أما معنى الاستخلاف الفقهي فهو النيابة أو القوامة بحسب مدركات البشر الفقهية ذلك أن الله استخلف البشر في الأرض بقوله: {إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً} [البقرة: 30]. وقد حدد اللهُ - جَلَّ شَأْنُهُ -
এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন না; যেমন তারা এই মর্মে দলিল পেশ করেন যে, আবু বকর (রা.)-কে যখন বলা হয়েছিল "হে আল্লাহর খলিফা (প্রতিনিধি)", তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি আল্লাহর খলিফা নই, বরং আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর খলিফা (প্রতিনিধি)।" অপরদিকে অন্যরা কোনো মানুষের ক্ষেত্রে 'আল্লাহর খলিফা' বলা বৈধ মনে করেন যতক্ষণ না পর্যন্ত সে আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মাঝে তাঁর নির্দেশ পালন করে। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তিনিই তোমাদেরকে জমিনের খলিফা (স্থলাভিষিক্ত (خلائف)) করেছেন এবং তোমাদের কয়েকজনকে অন্যদের ওপর বিভিন্ন স্তরে উন্নীত করেছেন" [আল-আন’আম: ১৬৫]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে পরবর্তী মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح), কারণ যাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তাঁর সাথে মানুষের তুলনা করা সংগত নয়। আর আল্লাহর শান যদি এমন হয় যে তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করেন অথচ তিনি প্রত্যক্ষদর্শী এবং কখনও অনুপস্থিত হন না কিংবা মারা যান না, তবে মানুষের জন্য 'আল্লাহর খলিফা' হওয়া বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই বাণীই যথেষ্ট: "নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি (خليفة)) নিয়োগ করছি" [আল-বাকারাহ: ৩০] এবং তাঁর বাণী: "তিনিই তোমাদেরকে জমিনের খলিফা (স্থলাভিষিক্ত (خلائف)) করেছেন" [আল-আন’আম: ১৬৫]। বিশেষত যেহেতু তিনি তাদেরকে তাঁর রাজত্বের মধ্যে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তা তাদের অনুগত করে দিয়েছেন: "আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং এতে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই" [আল-মায়িদাহ: ১২০], "তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবকিছুকে তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন" [আল-জাছিয়াহ: ১৩]।

 

আর যদি এটি সঠিক (صح) হয়, তবে মানুষ তাদের পূর্ববর্তী কোনো সৃষ্টির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে কি না তা যাচাই করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ সেই পূর্ববর্তী সৃষ্টিকেও আল্লাহ পৃথিবীতে সেভাবেই স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন যেভাবে মানুষকে করেছেন। সুতরাং মানুষ যদি এমন কোনো সৃষ্টির স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকে যারা আল্লাহর খলিফা ছিল, তবে মানুষও এর মাধ্যমে আল্লাহর খলিফা হিসেবে গণ্য হবে। ফলত সব অবস্থাতেই এটি প্রমাণিত হয় যে, মানুষের খিলাফত (প্রতিনিধিত্ব) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই, অন্য কারও পক্ষ থেকে নয়।

 

আর ফিকহশাস্ত্রীয় অর্থে 'ইস্তিখলাফ' (স্থলাভিষিক্তকরণ (استخلاف)) এর অর্থ হলো মানুষের ফিকহশাস্ত্রীয় উপলব্ধি অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব বা তত্ত্বাবধান। কেননা আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি (خليفة)) নিয়োগ করছি" [আল-বাকারাহ: ৩০]। আর মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وظيفة البشر في هذا الاستخلاف بقوله: {هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا} [هود: 61]. والاستعمار معناه التمكين والتسلط، وهذان المعنيان ظاهران في قوله تعالى: {وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ قَلِيلاً مَا تَشْكُرُونَ} [الأعراف: 10]. وقوله: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ} [الحج: 41]. وقوله: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا مِنْهُ} [الجاثية: 13].

 

والبشر في تسلطهم على الكون وانتفاعهم بما سخر الله لهم من مخلوقات مقيدون بطاعة الله والاهتداء بهديه والابتعاد عما نهى عنه.

{فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 38]. {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ، وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} [يس: 60، 61].

 

والبشر بعد ذلك ليسوا إلا بعض ما خلق الله {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ} [الروم: 40]. خلقهم من تراب وجعلهم بشرًا ينتشرون في الأرض {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ إِذَا أَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُونَ} [الروم: 20]. وما خلقهم ليعبدوه حق عبادته {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]. وسماهم عباده وعبيده، وهو القاهر فوقهم، يجيزهم بما قدمت أيديهم، فمن أحسن
এই প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে মানুষের ভূমিকা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই তোমাদেরকে জমিন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদের আবাদকারী বানিয়েছেন} [হুদ: ৬১]। আবাদ করার অর্থ হলো সক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদান; এই দুটি অর্থই মহান আল্লাহর এই বাণীতে সুস্পষ্ট: {আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে জমিনে সক্ষমতা দান করেছি এবং সেখানে তোমাদের জন্য জীবনোপকরণ নির্ধারণ করেছি; তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} [আ'রাফ: ১০]। এবং তাঁর বাণী: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে সক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে} [হজ: ৪১]। এবং তাঁর বাণী: {আর তিনি আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুকে নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন} [জাসিয়া: ১৩]।

 

মহাবিশ্বের ওপর মানুষের কর্তৃত্ব এবং আল্লাহর অনুগত সৃষ্টিরাজি থেকে তাদের উপকার লাভের বিষয়টি আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর হেদায়েত অনুসরণ এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার শর্তে সীমাবদ্ধ।

{অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসবে, তখন যারা আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না} [বাকারা: ৩৮]। {হে বনী আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? আর তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো, এটাই সরল পথ} [ইয়াসিন: ৬০, ৬১]।

 

বস্তুত মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির একটি অংশ মাত্র; {আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিজিক দিয়েছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দান করবেন এবং পুনরায় জীবিত করবেন} [রূম: ৪০]। তিনি তাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মানুষরূপে জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন; {তাঁর নিদর্শনাবলির অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর এখন তোমরা মানুষ হিসেবে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছ} [রূম: ২০]। আর তিনি তাদের কেবল তাঁর যথাযথ ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন; {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [যারিয়াত: ৫৬]। তিনি তাদের স্বীয় দাস ও বান্দা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি তাদের ওপর প্রবল পরাক্রমশালী। তারা নিজ হাতে যা অগ্রিম পাঠিয়েছে সে অনুযায়ী তিনি তাদের প্রতিদান দেবেন; সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তম কাজ করবে
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
فلنفسه ومن أساء فعليها {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ} [الأنعام: 18]. {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا وَمَا رَبُّكَ بِظَلَاّمٍ لِلْعَبِيدِ} [فصلت: 46].

فاستخلاف البشر في الأرض معناه أن الله - جَلَّ شَأْنُهُ - أسكنهم الأرض واستعمرهم فيها ومنحهم حق التسلط على ما في الكون للانتفاع بما فيه من خيرات في حدود أمر الله ونهيه، وإذا كان الله قد أسكن عبيده في أرضه وسخر لهم ما في الكون منحة منه فإن ما في أيدي هؤلاء العبيد من ملك الله إنما هو من الناحية الفقهية عارية ينتفع بها البشر، والقيام على العارية في فقه البشر نيابة، وإن كانت نيابة العبد عن ربه والمملوك عن مالكه، وإذن فكل فرد من أفراد البشر يعتبر نائبًا عن ربه - جَلَّ شَأْنُهُ - فيما سخر الله للبشر من الكون وما سلطهم عليه وهو مقيد في كل تصرفاته بحدود هذه النيابة.

 

وهكذا لا يكاد معنى استخلاف البشر في الأرض لغة يختلف عنه فقهًا، ونتيجة ذلك أن مركز المستخلفين في الأرض هو مركز الخليفة أو النائب، وأن الخلافة أو النيابة هي عن الله - جَلَّ شَأْنُهُ -، وهي قائمة في حدود ما سخر الله للبشر من مخلوقاته وما سلطهم عليه من ملكه، وما خولهم في ذلك كله من الاستغلال والانتفاع.

 

ويجب أن لا يفوتنا أن تسخير الكون للبشر وتسليطهم على ملك الله لا يخرج هذا الذي سخر لهم وسلطوا عليه من سلطان الله، ولا يحد من هذا السلطان شيئًا، فالبشر مثلاً يحرثون،
...তবে তা তার নিজের জন্যই, আর যে মন্দ কাজ করবে তা তারই ওপর বর্তাবে। {আর তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী এবং তিনিই প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত।} [আল-আনআম: ১৮]। {যে ব্যক্তি সৎকাজ করবে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই করবে, আর যে মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল তাকেই ভোগ করতে হবে। আর আপনার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও জুলুমকারী নন।} [ফুসসিলাত: ৪৬]।

পৃথিবীতে মানুষের প্রতিনিধি নিয়োগের (استخلاف) অর্থ হলো এই যে, আল্লাহ -মহিমান্বিত তাঁর সত্তা- তাদের পৃথিবীতে বসবাস করিয়েছেন, একে তাদের দ্বারা আবাদ করিয়েছেন এবং বিশ্বজগতের যা কিছু আছে তার ওপর তাদের কর্তৃত্বের অধিকার দান করেছেন, যেন তারা আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের সীমার মধ্যে থেকে এর কল্যাণসমূহ ভোগ করতে পারে। আর আল্লাহ যেহেতু তাঁর বান্দাদের পৃথিবীতে বসবাস করতে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক বিশেষ দান হিসেবে বিশ্বজগতের সবকিছুকে তাদের অনুগত করে দিয়েছেন, তাই এই বান্দাদের হাতে থাকা আল্লাহর এই মালিকানা ফিকহী (فقهي) দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ধার বা কর্জ (عارية) মাত্র, যা মানুষ ব্যবহার করে। আর মানুষের ফিকহশাস্ত্রে এই ধারের ওপর কর্তৃত্ব করা মূলত একটি প্রতিনিধিত্ব (نيابة); যদিও তা রবের পক্ষ থেকে বান্দার এবং মালিকের পক্ষ থেকে দাসের প্রতিনিধিত্ব (نيابة)। সুতরাং, মানবজাতির প্রতিটি সদস্যই তার রবের -মহিমান্বিত তাঁর সত্তা- একজন প্রতিনিধি (نائب) হিসেবে গণ্য হবে, আল্লাহ মানুষের জন্য বিশ্বজগতের যা কিছু অনুগত করেছেন এবং যার ওপর তাদের কর্তৃত্ব দিয়েছেন সে বিষয়ে; এবং সে তার প্রতিটি আচরণে এই প্রতিনিধিত্বের (نيابة) সীমানা দ্বারা আবদ্ধ।

 

এভাবে আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীতে মানুষের প্রতিনিধি নিয়োগের (استخلاف) অর্থটি ফিকহী (فقهي) অর্থের চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়। এর ফলশ্রুতিতে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্তদের (مستخلفين) অবস্থান হলো খলিফা (خليفة) বা প্রতিনিধির (نائب) অবস্থান। আর এই খেলাফত (خلافة) বা প্রতিনিধিত্ব (نيابة) হলো আল্লাহর -মহিমান্বিত তাঁর সত্তা- পক্ষ থেকে। এটি আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে যা কিছু অনুগত করেছেন এবং তাঁর রাজত্ব থেকে যে কর্তৃত্ব দান করেছেন, তার সীমা এবং এ সবকিছুর যথাযথ ব্যবহার ও ভোগের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

 

আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখা উচিত যে, বিশ্বজগতকে মানুষের অনুগত করে দেওয়া এবং আল্লাহর মালিকানাধীন বিষয়ের ওপর তাদের কর্তৃত্ব দান করা—এই অনুগত ও কর্তৃত্বাধীন বিষয়গুলোকে আল্লাহর আধিপত্যের বাইরে নিয়ে যায় না এবং তাঁর এই আধিপত্যকে বিন্দুমাত্রও সীমিত করে না। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ চাষাবাদ করে,
(খণ্ড: ১) আল মালু ওয়াল হুকমু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
الأرض، ويلقون فيها الحب ولكنهم يرجون الإثبات والإثمار من الله، وما يحرثون ويلقون الحب إلا بما منحهم الله من حياة، وبما ركب فيهم من عقول، وبما علمهم من علم، فهم يستخدمون نعمة الله للانتفاع بنعمة الله، وما لهم في ذلك من سلطان إلا سلطانًا منحهم الله اياه.

 

‌‌وَاجِبَاتُ المُسْتَخْلَفِينَ فِي الأَرْضِ:

والبشر لم يستعمروا في الأرض ولم يستخلفوا عليها ليفعلوا ما يشاءون دون قيد ولا شرط، وليتركوا ما يشاءون دون حسيب ولا رقيب، إنما استعمرهم الله في الأرض واستخلفهم عليها ليعبدوه وحده لا شريك له، وليطيعوا أمره، وينتهوا بنهيه، فإذا كان استخلافهم في الأرض قد منحهم بعض الحقوق، فإنه قد حَمَّلَهُمْ كثيرًا من الواجبات.

 

ولقد أوجب الله على البشر عامة يوم أسكنهم الأرض أن يهتدوا بهديه، وأن يتبعوا أمره. {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 38]. وعهد إليهم ألا يعبدوا الشيطان، وأن يعبدوا الله {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ، وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} [يس: 60، 61]. وكل من هذين النصين أمر عام باتباع ما أنزل الله وتحريم ما عداه.

 

ووعد الله - جَلَّ شَأْنُهُ - المؤمنين به، المهتدين بهيده، أن يبدل خوفهم أمنًا، وضعفهم قوة، وأن يستخلفهم في الحكم كما
জমিন, এবং তারা তাতে বীজ বপন করে কিন্তু তারা আল্লাহর কাছে তা অঙ্কুরিত ও ফলবতী হওয়ার আশা রাখে। আল্লাহ তাদের যে জীবন দান করেছেন, তাদের মধ্যে যে বিচারবুদ্ধি স্থাপন করেছেন এবং তাদের যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন তা ব্যতিরেকে তারা চাষাবাদ করতে বা বীজ বপন করতে পারত না। সুতরাং তারা আল্লাহর নেয়ামত থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য আল্লাহরই নেয়ামত ব্যবহার করছে; এতে তাদের নিজস্ব কোনো কর্তৃত্ব নেই, কেবল সেই কর্তৃত্বটুকু ছাড়া যা আল্লাহ তাদের দান করেছেন।

 

‌‌জমিনে প্রতিনিধিদের দায়িত্বসমূহ:

মানুষকে পৃথিবীতে আবাদ করার জন্য বা সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ করার জন্য পাঠানো হয়নি যেন তারা কোনো বাধানিষেধ বা শর্ত ছাড়াই যা খুশি তা করে, এবং কোনো জবাবদিহিতা বা তদারকি ছাড়াই যা ইচ্ছা বর্জন করে। বরং আল্লাহ তাদের পৃথিবীতে আবাদ করেছেন এবং সেখানে প্রতিনিধি করেছেন কেবল তাঁরই ইবাদত করার জন্য যার কোনো শরিক নেই, এবং যেন তারা তাঁর নির্দেশ মেনে চলে ও তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকে। সুতরাং জমিনে তাদের এই প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) যদি তাদের কিছু অধিকার দান করে থাকে, তবে তা তাদের ওপর অনেক দায়িত্বও অর্পণ করেছে।

 

আর আল্লাহ যখন সাধারণভাবে মানুষকে পৃথিবীতে বসবাস করালেন, তখন তাদের ওপর তাঁর হিদায়াত গ্রহণ করা এবং তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করা আবশ্যক করে দিয়েছেন। {অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসে, তবে যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [আল-বাকারা: ৩৮]। তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা শয়তানের ইবাদত না করে এবং কেবল আল্লাহর ইবাদত করে। {হে বনী আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? আর তোমরা আমারই ইবাদত করো, এটিই সরল পথ} [ইয়াসীন: ৬০, ৬১]। এই দুটি মূল পাঠের (نص) প্রতিটিই আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসরণ করার এবং তা ব্যতীত অন্য সব কিছুকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একটি সাধারণ নির্দেশ।

 

আর আল্লাহ—তাঁর মহিমা সুমহান—তাঁর প্রতি ঈমানদার ও তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্তদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তাদের ভয়কে নিরাপত্তায় এবং তাদের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করে দেবেন এবং তিনি তাদের শাসনকর্তৃত্বে স্থলাভিষিক্ত করবেন যেভাবে...