(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: -)
إظهار الحق والصواب في حكم الحجاب   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إظهار الحق والصواب في حكم الحجاب والتبرج، والسفور، والخلوة بالمرأة الأجنبية، وسفرها بدون محرم، والاختلاط

في ضوء الكتاب والسنة وآثار السلف الصالح

المؤلف: د. سعيد بن على بن وهف القحطاني

تقديم: معالي العلامة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 811

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

হিজাবের বিধানের ক্ষেত্রে সত্য ও সঠিক বিষয়কে প্রকাশ করা   (সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ


গ্রন্থ: হিজাব, সৌন্দর্য প্রদর্শন, বেপর্দা থাকা, বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান, মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার বিধানের ক্ষেত্রে সত্য ও সঠিক বিষয়কে প্রকাশ করা

কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের আছারের আলোকে

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি

উপস্থাপনা: মহামান্য আল্লামা শায়খ ডক্টর সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান

প্রকাশক: সাফীর মুদ্রণালয়, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কাদা ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

92

إظهار الحق والصواب

في حكم الحجاب

والتبرج، والسفور، والخلوة بالمرأة الأجنبية، وسفرها بدون محرم، والاختلاط

في ضوء الكتاب والسنة وآثار السلف الصالح

 

تقديم معالي العلامة الشيخ الدكتور

صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء

 

تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি-এর রচনাসমগ্র

৯২

সত্য ও সঠিক বিষয়ের প্রকাশ

হিজাবের বিধান প্রসঙ্গে

এবং বেপর্দা হওয়া, সৌন্দর্য প্রদর্শন করা, পরনারীর সাথে নির্জনতা, মাহরাম ব্যতীত তার সফর এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা প্রসঙ্গে

কুরআন, সুন্নাহ এবং সলফে সালেহীনদের কর্মপন্থার আলোকে

 

উপস্থাপনায়: বিজ্ঞ আল্লামা শাইখ ডক্টর

সালিহ বিন ফাউজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাউজান

সদস্য, জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ এবং সদস্য, স্থায়ী ফতোয়া কমিটি

 

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২)
تقديم معالي العلامة الشيخ الدكتور: صالح بن فوزان الفوزان عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد للَّه وبعد: فقد تصفحت رسالة (إظهار الحق والصواب في حكم الحجاب) والسفور، وما يَتْبَعُ ذلك من مسائل تتعلق في حماية المرأة من دعوات الغربيين والمستغربين، فوجدت هذه الرسالة، والحمد للَّه، مفيدة في موضوعها، وشاملة لكُلّ متطلبات الموضوع، فجزى اللَّه مؤلفها: الشيخ سعيد بن علي بن وهف القحطاني خير الجزاء، ونفع بما كتب.

وصلى اللَّه وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.

 

كتبه

صالح بن فوزان الفوزان

عضو هيئة كبار العلماء

في 6/ 11/ 1432هـ
মহামান্য আল্লামা শায়খ ডক্টর: সালেহ ইবন ফাউজান আল-ফাউজান, সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য এবং ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্তৃক ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অতঃপর: আমি ‘ইজহারুল হক ওয়াস সাওয়াব ফি হুকমিল হিজাব’ (পর্দাপ্রথা ও বেপর্দা হওয়ার বিধান এবং সত্য ও সঠিক বিষয়ের প্রকাশ) নামক পুস্তিকাটি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি যা নারীদেরকে পশ্চিমাদের ও পশ্চিমা ভাবধারায় প্রভাবিতদের আহ্বান থেকে সুরক্ষার সাথে সম্পর্কিত, তা পাঠ করেছি। আমি এই পুস্তিকাটিকে, আল্লাহর প্রশংসায়, এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী এবং এই বিষয়ের সকল প্রয়োজনীয় দিকসমূহের পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ হিসেবে পেয়েছি। আল্লাহ তাআলা এর লেখক শায়খ সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানি-কে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর রচনার মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করুন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

এটি লিখেছেন

সালেহ ইবন ফাউজান আল-ফাউজান

সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য

৬/১১/১৪৩২ হিজরি তারিখে
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً. أما بعد:

فهذه رسالة في «إظهار الحق والصواب في حكم الحجاب، والتبرج، والسفور، وخلوة الأجنبي بالمرأة، وسفر المرأة بدون محرم، والاختلاط»، وقد قسمتها إلى مباحث على النحو الآتي:

المبحث الأول: الحجاب.

المبحث الثاني: التبرج.

المبحث الثالث: السفور.

المبحث الرابع: الخلوة بالمرأة.

المبحث الخامس: سفر المرأة بدون محرم.

المبحث السادس: شبه دعاة السفور، والرد عليها.

المبحث السابع: الفتاوى المحققة المعتمدة في الحجاب والسفور.

المبحث الثامن: الاختلاط
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘হিজাব (পর্দা), তাবাররুজ (বেপর্দা হওয়া), সুফুর (মুখমণ্ডল অনাবৃত রাখা), পরপুরুষের সাথে নারীর নির্জনে অবস্থান, মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর এবং অবাধ মেলামেশার বিধানের ক্ষেত্রে সত্য ও সঠিক বিষয় উন্মোচন’ বিষয়ক একটি পুস্তিকা। আমি একে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হিজাব (পর্দা)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাবাররুজ (সৌন্দর্য প্রদর্শন)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুফুর (মুখমণ্ডল অনাবৃত রাখা)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার প্রবক্তাদের সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: হিজাব ও সুফুর বিষয়ে যাচাইকৃত ও নির্ভরযোগ্য ফতোয়াসমূহ।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: অবাধ মেলামেশা।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৪)
واللَّه أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً نافعًا، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وينفع به من انتهى إليه، وأن يجعله حجةً لنا، لا حجةً علينا؛ فإنه عز وجل خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا باللَّه العلي العظيم، وصلى اللَّه وسلّم، على نبيِّنا محمد، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليمًا كثيرًا.

المؤلف أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر في عصر الأحد الموافق 9/ 8/1432هـ
আল্লাহর কাছে আমি প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে বরকতময় ও কল্যাণকর করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন এবং যাদের কাছে এটি পৌঁছাবে তাদেরও এর দ্বারা উপকৃত করেন। তিনি যেন একে আমাদের পক্ষে দলিল বানান, আমাদের বিপক্ষে নয়; কেননা তিনি মহান ও পরাক্রমশালী, তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার ওপর; আর বর্ষিত হোক প্রচুর শান্তি।

লেখক আবু আবদুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি

রবিবার আসর সময়ে ৯/৮/১৪৩২ হিজরি তারিখে এটি লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول: الحجاب

‌‌المطلب الأول: التعريفات: الحجاب، والجلباب، والنقاب، والخمار، والاعتجار، والمقنعة، والبرقع، ودرجات الحجاب

‌‌أولاً: تعريف الحجاب لغة وشرعاً:

‌‌1 - الحجاب لغة: السِّتْرُ، يقال: حَجَبَ الشيءَ يَحْجُبُه حَجْباً وحِجاباً، وحَجَّبَه: سَترَه، وقد احْتَجَبَ، وتحَجَّبَ إِذا اكْتنَّ من وراءِ حِجابٍ، وامرأَة مَحْجُوبةٌ: قد سُتِرَتْ بِسِترٍ … والحاجِبُ: البَوَّابُ صِفةٌ غالِبةٌ، وجمعُه: حَجَبةٌ، وحُجَّابٌ … وحَجَبَه أَي مَنَعَه عن الدخول.

والحِجابُ اسمُ ما احْتُجِبَ به، وكلُّ ما حالَ بين شيئين حِجابٌ، والجمع: حُجُبٌ لا غير، وقوله تعالى: {وَمِنْ بَيْنِنَا وَبَيْنِكَ حِجَابٌ} (1) معناه: ومن بينِنا وبينِك حاجِزٌ في النِّحْلَةِ والدِّين، وهو مثل قوله تعالى: {قُلُوبُنَا فِي أَكِنَّةٍ} (2) إِلَاّ أَنَّ معنى هذا: لا نُوافِقُك في مذهب، [ويقال]: واحْتَجَبَ المَلِكُ عن الناس، ومَلِكٌ مُحَجَّبٌ … وكُلُّ شيءٍ مَنَع شيئاً فقد حَجَبَه، كما تحْجُبُ الإِخْوةُ الأُمَّ

--------------------------------------------

(1) سورة فصلت، الآية: 5.

(2) سورة فصلت، الآية: 5.
প্রথম পরিচ্ছেদ: হিজাব

প্রথম অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞাসমূহ: হিজাব, জিলবাব, নিকাব, খিমার, ইতিজার, মাকনাআ, বোরকা এবং হিজাবের স্তরসমূহ

প্রথমত: আভিধানিক ও শরয়ি অর্থে হিজাবের সংজ্ঞা:

১ - আভিধানিক অর্থে হিজাব: আবরণ বা পর্দা। বলা হয়: সে বস্তুটিকে আবৃত করেছে, আবৃত করা। সে তাকে পর্দা করেছে অর্থাৎ ঢেকে দিয়েছে। আর সে পর্দা গ্রহণ করেছে বা পর্দার আড়ালে গিয়েছে যখন সে কোনো পর্দার অন্তরালে আত্মগোপন করে। আর পর্দানশীন নারী বলতে তাকে বোঝায় যাকে পর্দার মাধ্যমে আবৃত করা হয়েছে … আর 'হাজিব' অর্থ হলো দ্বাররক্ষক, যা একটি বহুল ব্যবহৃত গুণবাচক নাম; এর বহুবচন হলো: 'হাজাবাহ' এবং 'হুজজাব' … আর 'হাজাবাহু' অর্থ সে তাকে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করল।

হিজাব হলো সেই বস্তুর নাম যার মাধ্যমে পর্দা করা হয়। দুটি বস্তুর মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে এমন প্রতিটি জিনিসই হিজাব। এর বহুবচন কেবল 'হুজুব'। মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে একটি পর্দা} (১) - এর অর্থ হলো: আমাদের এবং আপনার মাঝে আদর্শ ও ধর্মের ক্ষেত্রে একটি অন্তরায় বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {আমাদের অন্তরসমূহ আবরণের মধ্যে রয়েছে} (২), তবে এর অর্থ হলো: আমরা আপনার মতাদর্শের সাথে একমত নই। [বলা হয়]: রাজা জনগণের নিকট থেকে পর্দার আড়ালে চলে গেছেন এবং পর্দার অন্তরালে থাকা রাজা … আর যে কোনো বস্তু যা অন্য কোনো বস্তুকে বাধা প্রদান করে, সেটিই তাকে আবৃত বা বঞ্চিত করে; যেমন ভাইয়েরা মাকে (উত্তরাধিকারের অংশে) সীমিত বা বঞ্চিত করে থাকে।

--------------------------------------------

(১) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৫।

(২) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৫।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৬)
عن فَريضَتِها؛ فإِن الإِخْوة يحْجُبونَ الأُمَّ عن الثُّلُثِ إِلى السُّدُسِ.

والحاجِبانِ: العَظْمانِ اللَّذانِ فوقَ العَيْنَينِ بِلَحْمِهما وشَعَرهِما: صِفةٌ غالِبةٌ، والجمع حَواجِبُ، وقيل: الحاجِبُ: الشعَرُ النابِتُ على العَظْم، سُمِّي بذلك؛ لأَنه يَحْجُب عن العين شُعاعَ الشمس.

وقولُه في حديثِ الصلاةِ: «حِين توارَتْ بالحِجابِ» (1): الحِجابُ ههنا: الأُفُقُ، يريد حين غابَتِ الشمسُ في الأُفُق، واسْتَتَرَتْ به، ومنه قوله تعالى: {حَتَّى توَارَتْ بِالحِجَابِ} (2)، وغير ذلك (3).

وقال العلامة الفيومي: «حَجَبَهُ حجباً، من باب قتل: منعه، ومنه قيل للستر: «حِجَابٌ»؛ لأنه يمنع المشاهدة، وقيل للبواب: حَاجِبٌ؛ لأنه يمنع من الدخول، والأصل في الحِجَابِ: جسم حائل بين جسدين، وقد استعمل في المعاني، فقيل: «العَجْزُ حِجَابٌ» بين الإنسان ومراده، و «المَعْصِيَةُ حِجَابٌ» بين العبد وربه … » (4).

فعلى ما تقدم يكون الحجاب لغة: الستر: وهو كل ما حال بين شيئين، سواء كان هذا الستر جداراً أو غيره، أو عباءة أو غيرها.

وهو مصدر يدور معناه لغة: على الستر، والحيلولة، والمنع (5).

--------------------------------------------

(1) انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير، مادة «حجب».

(2) سورة ص، الآية: 32.

(3) انظر: لسان العرب، لابن منظور، فصل الحاء، باب الباء، 1/ 298.

(4) المصباح المنير، مادة «حجب»، 1/ 121.

(5) حراسة الفضيلة لبكر أبو زيد، ص 27.
তাদের নির্ধারিত অংশ থেকে; কারণ ভাইয়েরা মাতাকে এক-তৃতীয়াংশ থেকে ষষ্ঠাংশে সরিয়ে দেয় (হাজব করে)।

আর ভ্রুদ্বয়: চোখের উপরের সেই হাড় দুটি যা মাংস ও লোম দ্বারা আবৃত: এটি একটি প্রাধান্য বিস্তারকারী বিশেষণ, এর বহুবচন হলো 'হাওয়াাজিব'। বলা হয়ে থাকে: 'হাজিব' হলো হাড়ের উপর গজানো লোম, এর এই নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি চোখ থেকে সূর্যের প্রখর রশ্মিকে আড়াল (হাজব) করে রাখে।

সালাত সংক্রান্ত হাদিসে তাঁর উক্তি: "যখন তা পর্দার (হিজাব) আড়ালে চলে গেল": এখানে 'হিজাব' বলতে দিগন্ত বোঝানো হয়েছে। তিনি বুঝিয়েছেন যখন সূর্য দিগন্তরেখায় অস্তমিত হয়ে তার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {যতক্ষণ না তা পর্দার অন্তরালে অদৃশ্য হলো}, এবং আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

আল্লামা ফাইয়ুমি বলেছেন: "সে তাকে বাধা দিল, 'কাতলা' ক্রিয়ামূলের ওজনে: অর্থাৎ তাকে বরণ করল। এখান থেকেই আবরণকে 'হিজাব' বলা হয়; কারণ তা দর্শনে বাধা দেয়। আর দারোয়ানকে 'হাজিব' বলা হয়; কারণ সে প্রবেশে বাধা দেয়। হিজাবের মূল অর্থ হলো: দুটি দেহের মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধক কোনো শরীর বা বস্তু। তবে এটি বিমূর্ত অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয়: 'অক্ষমতা হলো মানুষ ও তার লক্ষ্যের মাঝে হিজাব' এবং 'পাপ হলো বান্দা ও তার রবের মাঝে হিজাব'..."

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আভিধানিক অর্থে হিজাব হলো: আবরণ বা পর্দা; যা দুটি জিনিসের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, চাই সেই পর্দা দেয়াল হোক বা অন্য কিছু, কিংবা চাদর হোক বা অন্য কিছু।

এটি একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার) যার আভিধানিক অর্থ আবর্তিত হয়: আবরণ, অন্তরায় এবং বাধার অর্থের চারপাশে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার, ইবনুল আসির, 'হা-জিম-বা' অধ্যায়।

(২) সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৩২।

(৩) দেখুন: লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর, ফাসলুল হা, বাবুল বা, ১/২৯৮।

(৪) আল-মিসবাহুল মুনীর, 'হা-জিম-বা' অধ্যায়, ১/১২১।

(৫) বকর আবু যায়িদ রচিত হিরাাসাতুল ফাদিলাহ, পৃষ্ঠা ২৭।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌2 - الحجاب شرعاً: ورد عدة تعريفات شرعية للحجاب على النحو الآتي: قيل: هو ما تلبسه المرأة من الثياب والعباءة، وما اتخذته من حوائل بينها وبين الرجال الأجانب (1).

قال اللَّه تعالى: {فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَابًا} (2) أي ساتراً، ومن ذلك قوله تعالى: {فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} (3) أي من وراء ساتر يمنع الرؤية، وقوله عز وجل: {وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ} (4) أي سور، وقول اللَّه تعالى: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} (5) أي من حيث لا يراه، وقال عز وجل: {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} (6) أي عن ربهم مستورون، فلا يرونه عز وجل.

وقيل: «الحجاب: لباس شرعي سابغٌ، تستتر به المرأة المسلمة؛ ليمنع الرجال الأجانب من رؤية شيء من بدنها» (7).

وقيل: «الحجاب: هو ساتر يستر الجسم فلا يشف، ولا يصف» (8).

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم لغة الفقهاء للروَّاس، ص 153.

(2) سورة مريم، الآية: 17.

(3) سورة الأحزاب، الآية: 53.

(4) سورة الأعراف، الآية: 46.

(5) سورة الشورى، الآية: 51.

(6) سورة المطففين، الآية: 15.

(7) حجاب المرأة المسلمة بين انتحال المبطلين وتأويل الجاهلين، للدكتور محمد فؤاد البرازي، ص 30.

(8) إعداد المرأة المسلمة، ص 106، وعودة الحجاب، لمحمد القدم، ص 70.
২ - শরীয়তের পরিভাষায় হিজাব: হিজাবের বেশ কিছু শরয়ী সংজ্ঞা নিম্নরূপে বর্ণিত হয়েছে: বলা হয়েছে: এটি হলো সেই পোশাক বা আবা (চাদর) যা নারী পরিধান করে, এবং যা সে নিজের এবং পরপুরুষের মাঝে আড়াল হিসেবে গ্রহণ করে (১)।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর সে তাদের থেকে অন্তরাল (হিজাব) গ্রহণ করল} (২) অর্থাৎ পর্দা বা আবরণ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যখন তাদের কাছে কিছু চাইবে, তখন পর্দার (হিজাব) আড়াল থেকে চাইবে} (৩) অর্থাৎ এমন এক আবরণের আড়াল থেকে যা দৃষ্টির অন্তরায় হয়। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং এই দুইয়ের মাঝে একটি অন্তরাল (হিজাব) থাকবে} (৪) অর্থাৎ একটি প্রাচীর। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহী ব্যতীত কিংবা পর্দার (হিজাব) আড়াল ব্যতীত} (৫) অর্থাৎ এমন অবস্থা থেকে যেখানে সে তাঁকে দেখতে পায় না। এবং তিনি আরও বলেছেন: {কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে} (৬) অর্থাৎ তারা তাদের রব থেকে আবৃত থাকবে, ফলে তারা মহান আল্লাহকে দেখতে পাবে না।

আরও বলা হয়েছে: «হিজাব হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ শরয়ী পোশাক, যার মাধ্যমে মুসলিম নারী নিজেকে আবৃত করে; যাতে পরপুরুষ তার শরীরের কোনো অংশ দেখতে না পারে» (৭)।

আরও বলা হয়েছে: «হিজাব হলো এমন এক আবরণ যা শরীরকে ঢেকে রাখে, ফলে তা স্বচ্ছ হয় না এবং দেহের গঠন বর্ণনা (প্রকাশ) করে না» (৮)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: রওয়াস কৃত মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃ. ১৫৩।

(২) সূরা মারইয়াম, আয়াত: ১৭।

(৩) সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৩।

(৪) সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৪৬।

(৫) সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫১।

(৬) সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত: ১৫।

(৭) ড. মুহাম্মদ ফুয়াদ আল-বারাজি কৃত 'হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ বাইনা ইনতিহালিল মুবতিহীন ওয়া তাওয়ীলিল জাহিলীন', পৃ. ৩০।

(৮) ই'দাদুল মারআতিল মুসলিমাহ, পৃ. ১০৬; এবং মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দাম কৃত 'আওদাতুল হিজাব', পৃ. ৭০।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৮)
وقيل: «الحجاب: حجب المرأة المسلمة من غير القواعد من النساء عن أنظار الرجال غير المحارم لها» (1).

وقيل: «الحجاب لفظ ينتظم جملة من الأحكام الشرعية الاجتماعية المتعلقة بوضع المرأة في المجتمع الإسلامي من حيث علاقتها بمن لا يحلُّ لها أن تظهر زينتها أمامهم» (2).

وقيل: «ما تلبسه المرأة من الثياب لستر العورة عن الأجانب» (3).

وقيل: ستر المرأة جميع بدنها بما يمنع الأجانب عن رؤية شيء من بدنها، وزينتها التي تتزين بها، ويكون استتارها باللباس والبيوت (4).

وقيل: «ستر المرأة جميع بدنها، ومنه الوجه، والكفان، والقدمان، وستر زينتها المكتسبة بما يمنع الأجانب عن رؤية شيء من ذلك … » (5).

والتعريف المختار: الحجاب شرعاً: ما يستر جميع بدن المرأة المسلمة عن الرجال الأجانب: من لباسٍ واسعٍ سابغٍ يغطي جميع بدنها ووجهها، أو حائل يحول بينها وبينهم، ويمنع رؤية شيء من بدنها.

--------------------------------------------

(1) فصل الخطاب، للشيخ أبي بكر الجزائري، ص 26، وعودة الحجاب لمحمد المقدم، ص 70.

(2) عودة الخطاب لمحمد المقدم، ص 71.

(3) معجم لغة الفقهاء، للروَّاس، ص 153.

(4) حراسة الفضيلة، لبكر أبو زيد، ص 27.

(5) المرجع السابق، ص 29.
এবং বলা হয়েছে: «হিজাব হলো: বৃদ্ধা নয় এমন মুসলিম নারীকে তার জন্য যারা মাহরাম নয় এমন পুরুষদের দৃষ্টি থেকে আড়াল করা» (১)।

এবং বলা হয়েছে: «হিজাব এমন একটি শব্দ যা ইসলামি সমাজে নারীর অবস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট একগুচ্ছ সামাজিক শারঈ বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা এমন ব্যক্তিদের সাথে তার সম্পর্কের প্রেক্ষিত থেকে নির্ধারিত হয় যাদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ করা তার জন্য বৈধ নয়» (২)।

এবং বলা হয়েছে: «পরপুরুষের নিকট সতর ঢাকার জন্য নারী যে পোশাক পরিধান করে» (৩)।

এবং বলা হয়েছে: নারীর পূর্ণ শরীরকে এমনভাবে আবৃত করা যা পরপুরুষদের তার শরীরের কোনো অংশ এবং তার পরিহিত সৌন্দর্য দেখা থেকে বিরত রাখে; আর এই আবরণ পোশাক এবং গৃহ—উভয় মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় (৪)।

এবং বলা হয়েছে: «নারীর পূর্ণ শরীর আবৃত করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো মুখমণ্ডল, দুই হাতের তালু এবং দুই পা; এছাড়া তার বাহ্যিক সৌন্দর্যকেও এমনভাবে ঢেকে রাখা যা পরপুরুষদের এসবের কোনো কিছু দেখা থেকে বাধা দেয় … » (৫)।

মনোনীত সংজ্ঞা: শরীয়তের পরিভাষায় হিজাব হলো: যা মুসলিম নারীর পূর্ণ শরীরকে পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে; তা হতে পারে এমন প্রশস্ত ও দীর্ঘ পোশাক যা তার পূর্ণ শরীর ও মুখমণ্ডলকে ঢেকে রাখে, অথবা এমন কোনো অন্তরায় যা তার ও তাদের মাঝে আড়াল তৈরি করে এবং তার শরীরের কোনো অংশ দেখা যাওয়াকে প্রতিরোধ করে।

--------------------------------------------

(১) ফাসলুল খিতাব, শায়খ আবু বকর আল-জাযায়িরি, পৃষ্ঠা ২৬; এবং আওদাতুল হিজাব, মুহাম্মাদ আল-মুকাদ্দিম, পৃষ্ঠা ৭০।

(২) আওদাতুল খিতাব, মুহাম্মাদ আল-মুকাদ্দিম, পৃষ্ঠা ৭১।

(৩) মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা, আর-রাওয়াস, পৃষ্ঠা ১৫৩।

(৪) হিরাসা আল-ফাদিলাহ, বকর আবু যায়েদ, পৃষ্ঠা ২৭।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৯।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثانياً: تعريف الجلباب لغةً واصطلاحاً:

‌‌1 - الجلباب في اللغة: قال ابن منظور: «الجِلْبابُ: القَمِيصُ. والجِلْبابُ: ثوب أَوسَعُ من الخِمار، دون الرِّداءِ، تُغَطِّي به المرأَةُ رأْسَها وصَدْرَها، وقيل: هو ثوب واسِع، دون المِلْحَفةِ، تَلْبَسه المرأَةُ، وقيل: هو المِلْحفةُ. قالت: جَنُوبُ أُختُ عَمْرٍو ذي الكَلْب تَرْثِيه:

تَمْشِي النُّسورُ إليه وهي لاهِيةٌ … مَشْيَ العَذارَى عليهنَّ الجَلابِيبُ

 

وقيل: هو ما تُغَطِّي به المرأَةُ الثيابَ من فَوقُ، كالمِلْحَفةِ؛ وقيل: هو الخِمارُ، وفي حديث أُم عطيةَ: «لِتُلْبِسْها صاحِبَتُها من جِلْبابِها» (1) أَي إِزارها.

وقد تجَلْبَب، قال يصِفُ الشَّيْب:

حتى اكْتَسَى الرأْسُ قِناعاً أَشْهَبا … أَكْرَهَ جِلْبابٍ لِمَنْ تجَلْبَبا

 

وفي التنزيل العزيز: {يُدْنِينَ علَيْهِنَّ من جَلابِيبِهِنَّ} (2) قال ابن السِّكِّيت: قالت العامرية: الجِلْبابُ: الخِمارُ، وقيل: جِلْبابُ المرأَةِ: مُلاءَتُها التي تَشْتَمِلُ بها، واحدها جِلْبابٌ، والجماعة جَلابِيبُ، وقد تَجلْبَبَتْ؛ وأَنشد:

--------------------------------------------

(1) انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر، مادة (جلب)، والحديث أخرجه مسلم، برقم 890، ويأتي تخريجه.

(2) سورة الأحزاب، الآية: 59.
দ্বিতীয়ত: ভাষাগত ও পারিভাষিক অর্থে জিলবাবের সংজ্ঞা:

১ - ভাষাগত অর্থে জিলবাব: ইবনে মানজুর বলেন: «জিলবাব হলো: কামিস বা জামা। জিলবাব হলো: খিমার অপেক্ষা প্রশস্ত এবং রিদা (চাদর) অপেক্ষা ছোট একটি কাপড়, যা দিয়ে নারী তার মাথা ও বুক ঢেকে রাখে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি প্রশস্ত কাপড়, যা মিলহাফাহ্ অপেক্ষা ছোট, যা নারী পরিধান করে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটিই মিলহাফাহ্। আমর যিল কালব-এর বোন জুনুব তাকে নিয়ে রচিত শোকগাথায় বলেন:

শকুনগুলো তার দিকে উদাসীনভাবে হেঁটে যাচ্ছে … যেভাবে কুমারীরা জিলবাব পরিহিত অবস্থায় হেঁটে যায়

 

কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন পোশাক যা দিয়ে নারী ওপর থেকে তার অন্যান্য পোশাক ঢেকে রাখে, যেমন মিলহাফাহ্। আবার কেউ বলেছেন: এটি খিমার। উম্মে আতিয়্যাহ-এর হাদিসে এসেছে: «তার বান্ধবী যেন তাকে নিজের জিলবাব থেকে পরিধান করায়» (১) অর্থাৎ তার ইযার (নিচের চাদর) থেকে।

তাজালবাবা (জিলবাব পরিধান করা) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়, কবি বার্ধক্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

এমনকি মাথা একটি ধূসর ঘোমটা পরিধান করল … যা জিলবাব পরিধানকারীর জন্য অত্যন্ত অপছন্দনীয় জিলবাব

 

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে: {তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} (২) ইবনুস সিক্কীত বলেন: আল-আমিরিয়্যাহ বলেছেন: জিলবাব হলো খিমার। কেউ কেউ বলেছেন: নারীর জিলবাব হলো তার বড় চাদর যা সে নিজের ওপর জড়িয়ে নেয়। এর একবচন জিলবাব এবং বহুবচন জালাবীব। সে জিলবাব পরিধান করেছে (তাজালবাবাত) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও আবৃত্তি করেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার, ‘জিম-লাম-বা’ মূলধাতু; হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, নম্বর ৮৯০, এর তাখরীজ সামনে আসবে।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১০)
والعَيْشُ داجٍ كَنَفا جِلْبابه

وقال آخر:

مُجَلْبَبٌ من سَوادِ الليلِ جِلْبابا

ابن الأَعرابي: الجِلْبابُ: الإِزارُ.

قال أَبو عبيد: قال الأَزهريّ: معنى قول ابن الأَعرابي الجِلْبابُ الإِزار لم يُرِدْ به إِزارَ الحَقْوِ ولكنه أَراد إِزاراً يُشْتَمَلُ به فيُجَلِّلُ جميعَ الجَسَدِ وكذلك إِزارُ الليلِ وهو الثَّوْبُ السابِغُ الذي يَشْتَمِلُ به النائم فيُغَطِّي جَسَدَه كلَّه وقال ابن الأَثير أَي ليَزْهَدْ في الدنيا وليَصْبِرْ على الفَقْر والقِلَّة والجِلْبابُ أَيضاً الرِّداءُ وقيل هو كالمِقْنَعةِ تُغَطِّي به المرأَةُ رأْسَها وظهرها وصَدْرَها والجمع جَلابِيبُ» (1).

وقال الحافظ ابن حجر: «الجِلباب - وهُو بِكَسرِ الجِيم، وسُكُون اللَاّم، وبِمُوحَّدَتَينِ بَينهما أَلِفٌ - قِيلَ: هُو المقَنعَة، أَو الخِمار، أَو أَعرَضُ مِنهُ، وقِيلَ: الثَّوب الواسِع يَكُون دُون الرِّداءِ، وقِيلَ: الإِزار، وقِيلَ: المِلحَفَة، وقِيلَ: المُلاءَة، وقِيلَ: القَمِيص» (2).

وقال الزبيدي: «والجِلْبَابُ، كَسِرْدَابٍ، و (الجِلِبَّابُ) كَسِنِمَّارٍ مثَّلَ به سيبويهِ ولم يُفَسِّرْه أَحدٌ، قال السيرافيّ: وأَظُنُّه يعْنِي الجِلْبَاب،

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، مادة: (جلب).

(2) فتح الباري، 1/ 424، وانظر: المجموع شرح المهذب، 3/ 172، ومشارق الأنوار عن صحاح الآثار، 1/ 403.
এবং জীবন ছিল তার জিলবাবের দুই পার্শ্বের ন্যায় অন্ধকারাচ্ছন্ন।

এবং অন্যজন বলেছেন:

রাতের অন্ধকার থেকে পরিহিত একটি জিলবাব।

ইবনুল আরাবী বলেছেন: জিলবাব হলো ইজার (পরিধেয় বস্ত্র)।

আবু উবাইদ বলেন: আল-আযহারী বলেছেন: ইবনুল আরাবীর বক্তব্য ‘জিলবাব হলো ইজার’-এর অর্থ এই নয় যে এটি কোমরে বাঁধার ইজার, বরং তিনি এমন এক ইজার বুঝিয়েছেন যা দিয়ে শরীর পেঁচিয়ে আবৃত করা হয়, ফলে তা পুরো দেহকে ঢেকে ফেলে। একইভাবে ‘রাতের ইজার’, যা হলো একটি প্রশস্ত কাপড় যা ঘুমন্ত ব্যক্তি গায়ে জড়ায় এবং তা তার পুরো দেহকে ঢেকে দেয়। এবং ইবনুল আসীর বলেছেন, অর্থাৎ সে যেন দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হয় এবং দারিদ্র্য ও অভাবের ওপর ধৈর্য ধারণ করে। জিলবাবকে রিদাও (চাদর) বলা হয়। আবার বলা হয়েছে, এটি মিকনাবাহর (মাথা ও বুক ঢাকার ওড়না) মতো যা দিয়ে নারী তার মাথা, পিঠ ও বুক ঢেকে রাখে। এর বহুবচন হলো জালাবীব। (১)।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: ‘জিলবাব — যা জীমে কাসরা (জের), লামে সুকুন এবং মাঝখানে আলিফসহ দুটি ‘বা’ যোগে গঠিত — বলা হয়েছে: এটি হলো মিকনাবাহ, অথবা খিমার, কিংবা তার চেয়েও প্রশস্ত কোনো কাপড়। আবার বলা হয়েছে: এটি রিদার চেয়ে ছোট এক ধরনের প্রশস্ত কাপড়। কেউ বলেছেন: ইজার, কেউ বলেছেন: মিলহাফাহ, কেউ বলেছেন: মুলাআহ, আবার কেউ বলেছেন: কামিস (জামা)।’ (২)।

যুবায়দী বলেন: ‘জিলবাব, সিরদাব-এর ওজনে, এবং জিলিববাব, সিনিম্মার-এর ওজনে, সিবওয়াইহ এটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন কিন্তু কেউ এর ব্যাখ্যা দেননি। সিরাফী বলেন: আমি মনে করি তিনি জিলবাবই বুঝিয়েছেন,

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, মূলশব্দ: (জাব)।

(২) ফাতহুল বারী, ১/৪২৪, এবং দেখুন: আল-মাজমু’ শারহুল মুহাযযাব, ৩/১৭২, এবং মাশারিকুল আনোয়ার আন সিহাহিল আসার, ১/৪০৩।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১১)
وهو يُذَكَّر ويُؤَنَّثُ: (القَمِيصُ) مُطْلَقاً، وخَصَّه بعضُهم بالمُشْتَمِلِ على البدَنِ كُلِّه، وفَسَّره الجوهريُّ بالمِلْحَفَةِ، قاله شيخُنا».

ثم ذكر ما أوردناه عن ابن منظور، ثم قال:

«وقال تعالى: {يُدْنِينَ عليْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ} (1).

وقِيل: هو ما تُغطَّى بهِ المرْأَةٌ، أَو هو ما تُغطِّي به ثِيابَها مِن فَوْقُ كالمِلْحَفةِ، أَو هو الخِمارُ، كذا في المحكم، ونقلَه ابنُ السِّكِّيت عن العامِريَّة، وقيل: هو الإِزارُ، قاله ابنُ الأَعرابيّ، وقد جاءَ ذِكرُه في حدِيثِ أُمِّ عَطِيَّةَ (2).

وقيل: جِلْبابُها: مُلاءَتُها تَشْتمِلُ بِها، وقال الخَفاجِيُّ في العِناية: قِيل: هو في الأَصْلِ المِلْحَفَةُ، ثم اسْتُعِير لِغَيْرِهَا منَ الثِّيَابِ.

ونَقَلَ الحافظُ ابنُ حَجرٍ في المُقَدَّمة عن النَّضْرِ: الجِلْبَابُ: ثَوْبٌ أَقْصرُ مِنَ الخِمَارِ، وأَعْرضُ منه، وهو المِقْنَعَة، قاله شيخُنا، والجمْعُ جَلَابِيبُ.

وقَدْ تَجَلْبَبْتُ، قال يَصِفُ الشَّيْبَ:

حتَّى اكْتَسَى الرَّأْسُ قِنَاعاً أَشْهَبَا … أَكْرَهَ جِلْبَابٍ لِمَنْ تَجَلْبَبا

 

وقال آخَرُ:

مُجَلْبَبٌ مِنْ سَوَادِ اللَّيْلِ جِلْبَابَا

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 59.

(2) مسلم، برقم 890، ويأتي تخريجه.
এটি (জিলবাব শব্দটি) পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়: এটি সাধারণভাবে (কামিস বা জামা), তবে কেউ কেউ একে পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাকের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন এবং জাওহারী একে 'মিলহাফাহ' (বড় চাদর) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, আমাদের শাইখ এটি বলেছেন।

অতঃপর তিনি ইবনে মানযুর থেকে আমাদের উদ্ধৃত বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন:

«আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা যেন তাদের জিলবাবের (চাদর) কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} (১)।

বলা হয়েছে: এটি এমন কিছু যা দিয়ে নারী নিজেকে আবৃত করে, অথবা এটি এমন যা সে তার কাপড়ের ওপর থেকে চাদরের (মিলহাফাহ) মতো পরিধান করে, অথবা এটি হলো খিমার (ওড়না)। "আল-মুহকাম" গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে সিক্কীত একে আল-আমিরিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আরও বলা হয়েছে: এটি হলো ইযার (নিচের অংশের কাপড়), ইবনুল আরাবী এটি বলেছেন এবং উম্মু আতিয়্যার (২) হাদিসেও এর উল্লেখ এসেছে।

বলা হয়েছে: তার জিলবাব হলো তার সেই চাদর (মুলাআহ) যা দিয়ে সে নিজেকে জড়িয়ে রাখে। খাফাজী "আল-ইনায়াহ" গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে এটি মূলত চাদর (মিলহাফাহ), অতঃপর তা অন্য কাপড়ের ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

হাফিয ইবনে হাজার "মুকাদ্দিমাহ" গ্রন্থে আন-নাদর থেকে বর্ণনা করেছেন: জিলবাব হলো এমন একটি কাপড় যা খিমার বা ওড়নার চেয়ে ছোট কিন্তু তার চেয়ে প্রশস্ত, এবং তা হলো মিকনাআহ (মাথা ঢাকার কাপড়)। আমাদের শাইখ এটি বলেছেন এবং এর বহুবচন হলো জালাবীব।

এবং আমি জিলবাব পরিধান করেছি (তাজালবাবতু)। বার্ধক্যের বর্ণনায় কবি বলেন:

যতক্ষণ না মস্তক ধূসর এক অবগুণ্ঠনে আবৃত হলো … যা পরিধানকারীর জন্য অত্যন্ত অপ্রিয় জিলবাব।

 

অন্য একজন বলেন:

রাতের অন্ধকার থেকে একটি জিলবাব পরিহিত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯।

(২) মুসলিম, হাদিস নং ৮৯০, এর বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১২)
والمتأمل في المعاني يجد أنَّ «الإزار»، و «المُلاءة»، و «الرداء» ألفاظ متعددة لمسمَّىً واحدٍ هو: «الجلباب» كما أوضحه «شيخ الإسلام ابن تيمية» بقوله: «الجلباب: هو الملاءة، وهو الذي يسميه ابن مسعود وغيره: «الرداء»، وتسميه العامة: «الإزار»، وهو الإزار الكبير الذي يغطي رأسها وسائر بدنها» (1) اهـ.

لهذا نجد «ابن الأثير» يقول: «والجلباب: الإزار والرداء، وقيل: الملحفة، وقيل: هو كالمقنعة تغطي به المرأة رأسها وظهرها وصدرها، وجمعه جلابيب».

ثم قال بعد ثلاثة أسطر: «ومنه حديث أم عطية: لتُلبِسَها صاحبتها من جلبابها، أي إزارها» (2). اهـ.

فهذه المعاني المختلفة للجلباب - وإن اختلفت ألفاظها - فإنها تدل جميعها على غطاء جميع البدن بما في ذلك الوجه والكفان.

قال برهان الدين البقاعي رحمه الله: «والجلباب: القميص، وثوب واسع دون المِلحفة تلبسه المرأة، والملحفة: ما سَتَر اللباس، أو الخمار، وهو كل ما غطَّى الرأس.

وقال البغوي: الجلباب: الملاءة التي تشتمل بها المرأة فوق الدرع والخمار، وقال حمزة الكرماني: قال الخليل: كل ما تستتر به

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ابن تيمية، 22/ 109 - 111.

(2) النهاية في غريب الحديث والأثر، 1/ 283.
অর্থগুলো নিয়ে গভীর পর্যালোচনাকারী দেখতে পাবেন যে, «ইজার», «মুলাআহ» এবং «রিদা» মূলত একটি বিষয়েরই বহুবিধ শব্দ, আর তা হলো: «জিলবাব»। যেমনটি «শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ» তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: «জিলবাব হলো মুলাআহ; আর ইবনে মাসউদ ও অন্যান্যরা একেই «রিদা» নামে অভিহিত করেছেন এবং সাধারণ মানুষ একে «ইজার» বলে থাকে। এটি হলো সেই বড় চাদর যা নারীর মাথা এবং তার সমগ্র শরীরকে আবৃত করে ফেলে» (১) সমাপ্ত।

এজন্যই আমরা দেখি «ইবনুল আসীর» বলছেন: «জিলবাব হলো ইজার ও রিদা। কেউ কেউ বলেছেন এটি হলো মিলহাফাহ। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি মাকনা’আহ-এর মতো যা দিয়ে নারী তার মাথা, পিঠ ও বুক ঢেকে রাখে। এর বহুবচন হলো জালাবিব»।

অতঃপর তিন লাইন পরে তিনি বলেছেন: «এরই অন্তর্ভুক্ত হলো উম্মে আতিয়্যাহর হাদিস: তার বান্ধবী যেন তাকে নিজের জিলবাব থেকে পরিধান করায়, অর্থাৎ তার ইজার থেকে» (২) সমাপ্ত।

সুতরাং জিলবাবের এই বিভিন্ন অর্থগুলো—যদিও শব্দগতভাবে পৃথক—তবুও এগুলো মুখমণ্ডল ও হাতের কবজিসহ সমগ্র শরীর আবৃত করার প্রতিই নির্দেশ করে।

বুরহানুদ্দিন আল-বিকাঈ (রহ.) বলেছেন: «জিলবাব হলো কামিজ এবং মিলহাফাহ-এর চেয়ে ছোট প্রশস্ত কাপড় যা নারী পরিধান করে। আর মিলহাফাহ হলো যা পোশাককে ঢেকে রাখে, অথবা তা হলো খিমার—যা মাথা ঢেকে রাখে এমন প্রতিটি বস্তুকে বলা হয়।

আল-বাগাভী বলেছেন: জিলবাব হলো সেই মুলাআহ (চাদর) যা নারী তার জামা ও ওড়নার ওপর দিয়ে জড়িয়ে নেয়। হামজা আল-কিরমানি বলেছেন: আল-খালিল বলেছেন: যা কিছু দিয়ে নিজেকে আবৃত করা হয়...

--------------------------------------------

(১) মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২২/ ১০৯ - ১১১।

(২) আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ১/ ২৮৩।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
من دثار وشعار وكساء فهو جلباب، والكل يصح إرادته هنا، فإن كان المراد القميص فإدناؤه إسباغه حتى يغطي يديها ورجليها، وإن كان ما يغطي الرأس فإدناؤه ستر وجهها وعنقها، وإن كان المراد ما يغطي الثياب فإدناؤه تطويله وتوسيعه بحيث يستر جميع بدنها وثيابها، وإن كان المراد ما دون المِلحفة فالمراد ستر الوجه واليدين» (1). ا. هـ.

 

‌‌2 - الجلباب في الاصطلاح:

ذكر النووي رحمه الله معاني الجلباب المتعددة في اللغة، ثم قال: «وقال آخرون: هو الملاءة التي تلتحف بها المرأة فوق ثيابها، وهذا هو الصحيح، وهو مراد الشافعي رحمه الله، والمصنف والأصحاب هنا، وهو مراد المحاملي وغيره بقولهم: هو الإزار، وليس مرادهم الإزار المعروف الذي هو المئزر» (2). ا. هـ.

وعَرَّفه ابن حزم بقوله: «والجلباب في لغة العرب التي خاطَبنا بها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، هو ما غَطَّى جميع الجسم لا بعضه» (3) ا. هـ.

وإليه ذهب القرطبي حيث قال: «والصحيح أنه الثوب الذي يستر جميع البدن».

--------------------------------------------

(1) نظم الدرر في تناسب الآيات والسور، 15/ 411 - 412.

(2) المجموع شرح المهذب، 3/ 172.

(3) المحلى، 3/ 212.
গায়ের চাদর, অন্তর্বাস বা পোশাক যাই হোক না কেন, তা জিলবাব। এখানে এর সবকটি অর্থই গ্রহণ করা সঠিক। যদি এর দ্বারা কামিজ (জামা) উদ্দেশ্য হয়, তবে তা ঝুলিয়ে দেওয়া বলতে বোঝায় একে পূর্ণ করা যাতে তা নারীর হাত ও পা ঢেকে দেয়। আর যদি এর দ্বারা যা মাথা ঢেকে রাখে তা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা ঝুলিয়ে দেওয়া বলতে মুখমণ্ডল ও ঘাড় ঢেকে রাখা বোঝায়। আর যদি এর দ্বারা যা সাধারণ পোশাকের ওপর পরিধান করা হয় তা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা ঝুলিয়ে দেওয়া বলতে একে লম্বা ও প্রশস্ত করা বোঝায় যাতে এটি তার পূর্ণ শরীর ও পোশাককে ঢেকে রাখে। আর যদি এর দ্বারা বড় চাদরের চেয়ে ছোট কিছু উদ্দেশ্য হয়, তবে এর দ্বারা মুখমণ্ডল ও দুই হাত ঢেকে রাখা উদ্দেশ্য। (১) সমাপ্ত।

 

‌‌২ - পারিভাষিক অর্থে জিলবাব:

ইমাম নববী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ভাষার অভিধানে জিলবাবের বিভিন্ন অর্থ উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: «অন্যান্যরা বলেছেন: এটি হলো সেই চাদর যা নারী তার পোশাকের ওপর দিয়ে জড়িয়ে নেয়। আর এটিই সঠিক মত; ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), গ্রন্থকার এবং আমাদের শাফেয়ী সাথীগণ এখানে এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। ইমাম মাহামেলি ও অন্যান্যদের বক্তব্যের উদ্দেশ্যও এটিই যখন তাঁরা একে ‘ইজার’ বলেছেন; তবে তাঁদের উদ্দেশ্য প্রচলিত ‘ইজার’ তথা লুঙ্গি নয়» (২)। সমাপ্ত।

ইবনে হাজম একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «আরবদের ভাষায়—যেই ভাষায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে কথা বলেছেন—জিলবাব হলো তা, যা পুরো শরীর ঢেকে ফেলে, আংশিক নয়» (৩) সমাপ্ত।

ইমাম কুরতুবীও এই মত গ্রহণ করেছেন, তিনি বলেন: «সঠিক মত হলো, এটি এমন পোশাক যা সমস্ত শরীরকে ঢেকে দেয়»।

--------------------------------------------

(১) নাজমুদ দুরার ফি তানাসুবিল আয়াত ওয়াস সুওয়ার, ১৫/ ৪১১ - ৪১২।

(২) আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব, ৩/ ১৭২।

(৩) আল-মুহাল্লা, ৩/ ২১২।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم أيَّدَ ذلك بقوله: «وفي صحيح مسلم عن أم عطية، قلت: يا رسول الله! إحدانا لا يكون لها جلباب، قال: لِتُلْبِسْها أختها من جلبابها» (1).

 

‌‌والتعريف المختار: «الجلباب: هو الملاءة التي تلتحف بها المرأة فوق ثيابها، تستر جميع بدنها وملابسها، ووجهها، وتبدي عيناً واحدة، أو العينين فقط».

وعلى هذا يكون الجلباب فوق الدرع والخمار؛ لقول عائشة رضي الله عنها: «لا بدَّ للمرأة من ثلاثة أثواب تصلِّي فيهنّ: درعٌ، وجلبابٌ، وخمارٌ، وكانت عائشة تحلُّ إزارها فتجلبب به» (2).

وقال ابن عمر رضي الله عنهما: «إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ، فَلْتُصَلِّ فِي ثِيَابِهَا كُلِّهَا: الدِّرْعُ، وَالْخِمَارُ، وَالْمِلْحَفَةُ» (3).

 

‌‌ثالثاً: تعريف النقابِ لغةً واصطلاحاً:

‌‌1 - النقاب في اللغة: قال ابن منظور: «النِّقابُ: القِناع على مارِنِ الأَنْفِ، والجمع نُقُبٌ، وقد تَنَقَّبَتِ المرأَةُ، وانْتَقَبَتْ، وإِنها لَحَسَنة النِّقْبة، بالكسر.

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن، 3/ 372، والحديث أخرجه مسلم، كتاب صلاة العيدين، باب ذكر خروج النساء في العيدين إلى المصلى وشهود الخطبة، 2/ 605، برقم 890.

(2) أخرجه ابن سعد، 8/ 48 - 49، وصحح الألباني إسناده على شرط مسلم، في الحجاب، ص 62.

(3) ابن أبي شيبة في المصنف، وصحح سنده الألباني في الحجاب، ص 62، وانظر: فتح الباري، 1/ 424.
অতঃপর তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বলেন: «সহীহ মুসলিমে উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কারো জিলবাব থাকে না। তিনি বললেন: তার বোন যেন তাকে নিজের জিলবাব থেকে একটি পরিয়ে দেয়» (১)।

 

‌‌পছন্দনীয় সংজ্ঞা: «জিলবাব হলো এমন একটি চাদর যা একজন নারী তার পোশাকের ওপর দিয়ে পরিধান করে, যা তার পুরো শরীর, পোশাক এবং মুখমণ্ডল আবৃত করে এবং কেবল একটি চোখ অথবা উভয় চোখ খোলা রাখে»।

এর ওপর ভিত্তি করে জিলবাব হবে দির' (কামিজ) এবং খিমারের (মাথার ওড়না) ওপর দিয়ে; কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: «নারীর জন্য তিনটি কাপড়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক: দির', জিলবাব এবং খিমার। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজের ইজার খুলতেন এবং তা দিয়ে জিলবাব হিসেবে শরীর আবৃত করতেন» (২)।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: «যখন কোনো নারী সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন তার পূর্ণ পোশাকে সালাত আদায় করে: দির', খিমার এবং মিলহাফাহ (চাদর)» (৩)।

 

‌‌তৃতীয়ত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নিকাবের সংজ্ঞা:

‌‌১ - অভিধানে নিকাব: ইবনু মানযুর বলেন: «নিকাব হলো নাকের নরম হাড় পর্যন্ত ঢাকা আবরণ, এর বহুবচন হলো নুকুব। বলা হয়, নারীটি নিকাব পরেছে এবং সে নিকাব পরিহিতা। তার নিকাব পরার ভঙ্গিটি সুন্দর (নিকবাহ)।»

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ৩/ ৩৭২; এবং হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাতিল ঈদাইন, অধ্যায়: দুই ঈদের দিন নারীদের ঈদগাহে গমন এবং খুতবায় উপস্থিত হওয়ার বর্ণনা, ২/ ৬০৫, হাদিস নং ৮৯০।

(২) ইবনু সাদ এটি বর্ণনা করেছেন, ৮/ ৪৮ - ৪৯; এবং আলবানী একে সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী এর সনদকে সহীহ বলেছেন, আল-হিজাব, পৃ. ৬২।

(৩) ইবনু আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী আল-হিজাব (পৃ. ৬২) গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ বলেছেন; দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/ ৪২৪।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
والنِّقابُ: نِقابُ المرأَة. التهذيب: والنِّقابُ على وُجُوهٍ؛ قال الفراء: إِذا أَدْنَتِ المرأَةُ نِقابَها إِلى عَيْنها، فتلك الوَصْوَصَةُ، فإِن أَنْزَلَتْه دون ذلك إِلى المَحْجِرِ فهو النِّقابُ، فإِن كان على طَرَفِ الأَنْفِ، فهو اللِّفَامُ» (1).

وقد ذكر الزَّبيدي نحو هذا، ثم قال: «وفي حديث ابن سِيرِين: النِّقاب مُحْدَثٌ، أَراد: أَنَّ النساءَ ما كُنَّ يَنْتَقِبْنَ، أَي يَخْتَمِرْن. قال أَبو عبيد: ليس هذا وجهَ الحديث، ولكنِ النِّقابُ عند العرب هو الذي يبدو منه مَحْجِرُ العين، ومعناهُ: أَنَّ إِبداءَهُنَّ المَحَاجِرَ مُحْدَثٌ، إِنما كان النِّقابُ لاصِقاً بالعين، وكانت تَبْدُو إِحدى العينين، والأُخْرَى مستورة. والنِّقابُ لا يبدو منه إِلا العينان، وكان اسمه عندهم الوَصْوَصَةَ، والبُرْقُعَ، وكان من لباسِ النساءِ، ثم أَحْدَثْنَ النِّقابَ بعدُ» (2).

وجاء في المعجم الوسيط: النِّقابُ: القِناعُ تجعله المرأةُ على مارنِ أنفِها تستر بها وجهها» (3).

وسمي النقاب نقاباً لأنّ فيه نَقبين على العينين تنظر المرأة منهما (4).

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، مادة: (نقب).

(2) تاج العروس، مادة: (نقب). وانظر: النهاية لابن الأثير، 5/ 103.

(3) المعجم الوسيط، مادة: (نقب).

(4) فتح الملك المعبود تكملة المنهل العذب المورود، 1/ 133.
এবং নিকাব হলো: নারীর নিকাব। আত-তাহজিব-এ বর্ণিত হয়েছে: নিকাব বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে; আল-ফাররা বলেছেন: নারী যখন তার নিকাব চোখের কাছাকাছি নিয়ে আসে, তখন তাকে 'ওয়াসওয়াসাহ' বলা হয়। আর যদি সেটিকে এর নিচে চোখের কোটর পর্যন্ত নামিয়ে আনে, তবে তা হলো 'নিকাব'। আর যদি তা নাকের অগ্রভাগে থাকে, তবে তাকে 'লিফাম' বলা হয় (১)।

আজ-জাবিদিও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: “ইবনে সিরিনের হাদিসে এসেছে: নিকাব হলো একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, নারীরা আগে নিকাব পরিধান করত না, অর্থাৎ তারা খিমার (মাথার ওড়না) পরিধান করত। আবু উবাইদ বলেছেন: হাদিসটির ব্যাখ্যা এমন নয়, বরং আরবদের নিকট নিকাব হলো যাতে চোখের কোটর প্রকাশিত হয়। এর অর্থ হলো: তাদের চোখের কোটর প্রকাশ করাটা নব-উদ্ভাবিত বিষয়। মূলত নিকাব ছিল চোখের সাথে লেগে থাকা, যেখান থেকে একটি চোখ দেখা যেত এবং অন্যটি ঢাকা থাকত। আর নিকাব থেকে কেবল উভয় চোখই দৃশ্যমান হয়, যা তাদের নিকট 'ওয়াসওয়াসাহ' ও 'বুরকু' নামে পরিচিত ছিল। এটি নারীদের পোশাকের অংশ ছিল, অতঃপর তারা পরবর্তীতে নিকাব উদ্ভাবন করেছে” (২)।

আল-মু’জামুল ওয়াসিত-এ এসেছে: নিকাব হলো এমন একটি আবরণ যা নারী তার নাকের নরম অংশের ওপর রাখে এবং এর দ্বারা সে তার মুখমণ্ডল আবৃত করে (৩)।

নিকাবকে নিকাব বলা হয় কারণ এতে চোখের সামনে দুটি ছিদ্র থাকে যা দিয়ে নারী দেখতে পায় (৪)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, শব্দমূল: (নাকাব)।

(২) তাজুল আরুস, শব্দমূল: (নাকাব)। এবং দেখুন: আন-নিহায়াহ লি ইবনিল আসির, ৫/১০৩।

(৩) আল-মু’জামুল ওয়াসিত, শব্দমূল: (নাকাব)।

(৪) ফাতহুল মালিকিল মাবুদ তাকমিলাতুল মানহালিল আযবিল মাওরুদ, ১/১৩৩।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌2 - النقاب في الاصطلاح: عَرَّفَ الحافظُ ابن حجر النقاب بقوله: «الخمارُ: الذي يُشدُّ على الأنف، أو تحت المحاجر» (1).

وقال السِّندي: «والنقابُ معروف للنساء، لا يبدو منه إلا العينان» (2).

وعرَّفه شهاب الدين القسطلاني بقوله: «هو: الخمار الذي تشده المرأة على الأنف أو تحت المحاجر، فإن قرب من العين حتى لا تبدو أجفانها فهو الوصواص - بفتح الواو، وسكون الصاد الأولى- فإن نزل إلى طرف الأنف فهو اللِّفام - بكسر اللام، وبالفاء- فإن نزل إلى الفم، ولم يكن على الأرنبة منه شيء فهو اللِّثام - بالمثلثة» (3).

وبالرجوع إلى معاني «النقاب» في اللغة، وتعريفاته عند علماء الشرع، يمكن تعريفه بقولنا: «النقاب: هو الخمار الذي تشده المرأة على الأنف، أو تحت المحاجر، تستر به وجهها، ولا يبدو منه إلا عيناها»، فهو بهذا الاعتبار خاص بالوجه لا غير.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، 4/ 53.

(2) حاشية السندي على النسائي، 5/ 133.

(3) إرشاد الساري، 3/ 312، والزرقاني على الموطأ، 2/ 233. ونقله عنه الكاندهلوي في أوجز المسالك، 6/ 194، والمحشَّى بحاشية كشف المغطَّى عن وجه الموطأ، ص 334، لمحمد إشفاق الرحمن الكاندهلوي، لكن من غير أن يعزوه لأحد.
২ - পারিভাষিক অর্থে নিকাব: হাফিজ ইবনে হাজার নিকাবের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: «খিমার (ওড়না): যা নাকের উপরে অথবা চোখের কোটরের নিচে বাঁধা হয়» (১)।

সিন্দি বলেছেন: «আর নিকাব নারীদের নিকট সুপরিচিত, যা থেকে দুই চোখ ব্যতীত আর কিছুই প্রকাশ পায় না» (২)।

এবং শিহাবুদ্দিন আল-কাসতাল্লানি এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: «এটি হলো সেই খিমার যা নারী নাকের উপরে অথবা চোখের কোটরের নিচে বাঁধে; যদি তা চোখের এত কাছে হয় যে তার চোখের পাতা দেখা না যায়, তবে তা হলো আল-ওয়াসওয়াস -ওয়াও বর্ণে ফাতহাহ (জবর) এবং প্রথম সোয়াদ বর্ণে সুকুন (জজম) যোগে-। আর যদি তা নাকের প্রান্ত পর্যন্ত নেমে আসে তবে তা হলো আল-লিফাম -লাম বর্ণে কাসরাহ (যের) এবং ফা বর্ণ যোগে-। আর যদি তা মুখ পর্যন্ত নেমে আসে এবং নাকের অগ্রভাগে এর কিছু না থাকে তবে তা হলো আল-লিছাম -তিন নুকতা বিশিষ্ট ছা বর্ণ যোগে-» (৩)।

অভিধানে «নিকাব» শব্দের অর্থসমূহ এবং শরয়ি আলেমদের নিকট এর সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনা করলে একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়: «নিকাব: এটি হলো সেই খিমার যা নারী নাকের উপরে অথবা চোখের কোটরের নিচে বাঁধে, যার মাধ্যমে সে তার মুখমণ্ডল আবৃত করে এবং তা থেকে তার দুই চোখ ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ পায় না», অতএব এই বিবেচনায় এটি কেবল মুখমণ্ডলের সাথেই সুনির্দিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি, ৪/৫৩।

(২) নাসায়ি-এর ওপর হাশিয়ায়ে সিন্দি, ৫/১৩৩।

(৩) ইরশাদুস সারি, ৩/৩১২; এবং মুওয়াত্তার ওপর আজ-জারকানি, ২/২৩৩। আল-কান্ধলভি এটি আওজাযুল মাসালিক, ৬/১৯৪-এ উদ্ধৃত করেছেন এবং মুহাম্মদ ইশফাকুর রহমান আল-কান্ধলভি কর্তৃক কাশফুল মুগাত্তা আন ওয়াজহিল মুওয়াত্তা-এর টীকায় ৩৩৪ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তিনি তা কারো প্রতি সম্বন্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌رابعاً: تعريف الخمارِ لغة واصطلاحاً:

‌‌1 - الخمار في اللغة: قال ابن منظور: «الخِمَارُ للمرأَة وهو النَّصِيفُ.

وقيل: الخمار ما تغطي به المرأَة رَأْسها، وجمعه أَخْمِرَةٌ، وخُمْرٌ، وخُمُرٌ، والخِمِرُّ - بكسر الخاء والميم، وتشديد الراء- لغة في الخمار.

عن ثعلب، وأَنشد:

ثم أَمالَتْ جانِبَ الخِمِرِّ

والخِمْرَةُ: من الخِمار كاللِّحْفَةِ من اللِّحَافِ، يقال: إِنها لحسنةُ الخِمْرَةِ.

وفي المثل: إِنَّ الْعَوَانَ لا تُعَلَّمُ الخِمْرَةَ، أَي إِن المرأَة المجرّبة لا تُعَلَّمُ كيف تفعل، وتَخَمَّرَتْ بالخِمار واخْتَمَرَتْ: لَبِسَتْه.

وخَمَّرَتْ به رأْسَها: غَطَّتْه.

وفي حديث أُم سلمة: «أَنه صلى الله عليه وسلم كان يمسح على الخُفِّ والخِمار» (1)؛ أَرادت بالخمار العمامة لأَن الرجل يغطي بها رأْسه كما

--------------------------------------------

(1) ذكره صاحب النهاية في غريب الحديث والأثر، 2/ 148، مادة (خمر)، وقال: «أراد به العمامه لأن الرجل يُغَطّي بهِا رأسَه كما أن المرأه تغطِّيه بخمارها».
চতুর্থত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে খিমারের সংজ্ঞা:

১ - আভিধানিক অর্থে খিমার: ইবনে মঞ্জুর বলেন: «খিমার হলো নারীর জন্য ব্যবহৃত বস্ত্র, যা নাসিফ (মাথা ও মুখ ঢাকার কাপড়) হিসেবে পরিচিত।

আর বলা হয়েছে: খিমার হলো তা, যা দিয়ে নারী তার মাথা আবৃত করে। এর বহুবচন হলো আখমিরাহ, খুমর এবং খুমুর। আর খিমির—খা এবং মিম বর্ণে কাসরা (জের) এবং রা বর্ণে তাশদিদ যোগে—খিমার শব্দেরই একটি ভাষাগত রূপ।

সা'লাব থেকে বর্ণিত, তিনি একটি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

অতঃপর সে তার ওড়নার এক পাশ হেলিয়ে দিল

আর 'খিমরাহ' শব্দটি খিমার পরার ধরন বা অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি চাদর বা লিহাফ ব্যবহারের ধরন বোঝাতে 'লিহফাহ' ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে: নিশ্চয়ই তার ওড়না পরার ধরন অত্যন্ত সুন্দর।

আর প্রবাদে বলা হয়: অভিজ্ঞ নারীকে ওড়না পরা শেখাতে হয় না। অর্থাৎ অভিজ্ঞ নারীকে কোনো কাজ কীভাবে করতে হয় তা শেখানোর প্রয়োজন নেই। আর সে ওড়না পরিধান করেছে এবং সে নিজেকে ওড়না দ্বারা আবৃত করেছে—উভয়টিই ওড়না পরিধান করা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর সে এর মাধ্যমে তার মাথা ঢেকেছে বা আবৃত করেছে।

উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজা এবং খিমারের ওপর মাসেহ করতেন» (১); এখানে খিমার দ্বারা তিনি পাগড়ি উদ্দেশ্য করেছেন, কারণ পুরুষ এর দ্বারা তার মাথা আবৃত করে যেমনটি...

--------------------------------------------

(১) 'আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার' গ্রন্থের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন, ২/১৪৮, 'খ-ম-র' অনুচ্ছেদ। তিনি বলেছেন: «তিনি এর দ্বারা পাগড়ি উদ্দেশ্য করেছেন, কারণ পুরুষ এর দ্বারা তার মাথা আবৃত করে যেমন নারী তার ওড়না বা খিমার দিয়ে মাথা আবৃত করে থাকে»।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَن المرأَة تغطيه بخمارها» (1).

وذكر الزبيدي نحو ذلك، وفيه:

«قِيل: كُلُّ ما سَتَرَ شَيْئاً فَهْو خِمَارُه، ومنه خِمَارُ المَرْأَةِ تُغَطِّي به رَأْسَها، جمعه: أَخْمِرَةٌ، وخُمْرٌ - بضم فسكون- وخُمُرٌ بضَمَّتَين …

وتَخَمَّرَتْ بِه أَي الخِمَار، واخْتَمَرتْ: لَبِسَتْه، وخَمَّرتْ به رَأْسَها: غَطَّتْه، والتَّخْمِيرُ: التَّغْطِيَة. وكُلُّ مُغَطًّى ومُخَمَّرٌ» (2).

ويُسمَّى الخمار بالنصيف، فيقال: «وقد نَصَّفَتِ المرأَةُ رأْسها بالخمار، وانتَصَفَت الجارية، وتَنَصَّفت: أَي اختمرت، ونصَّفْتها أَنا تَنْصيفاً، ومنه الحديث في صفة الحور العين: «ولَنَصِيفُ إحداهن على رأْسها خير من الدنيا وما فيها» (3)، وهو الخِمار، وقيل: المِعْجَر .. [والاعتجار في لغة العرب: هو لف الخمار على الرأس مع تغطية الوجه] (4)، وقال أَبو سعيد: النصِيف ثوب تتجلَّل به المرأَة فوق ثيابها كلها، سُمِّيَ نصيفاً لأَنه نصَفٌ بين الناس وبينها، فحَجز أَبصارهم عنها» (5).

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، مادة (خَمَرَ)، 4/ 257 - 258.

(2) تاج العروس، مادة (خَمَرَ).

(3) أخرجه أبو نعيم في الحلية، 1/ 245. وهو في البخاري: بلفظ: «وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا»، كتاب الجهاد والسير، باب الحور البعين وصفتهن، برقم 2796.

(4) ما بين المعقوفين من النهاية في غريب الحديث والأثر، 3/ 185.

(5) لسان العرب، لابن منظور، مادة: نصف، 9/ 332.
যে নারী তার খিমার (মাথার কাপড়) দিয়ে তা ঢেকে রাখে (১)।

এবং আয-যাবیدی অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, সেখানে আছে:

«বলা হয়েছে: যা কিছু কোনো কিছুকে আবৃত করে, তাই তার খিমার। আর এখান থেকেই নারীর খিমার শব্দটি এসেছে, যা দিয়ে সে তার মাথা ঢেকে রাখে। এর বহুবচন হলো: আখমিরাহ, খুম্র —পেশ এবং সাকিন যোগে— এবং খুমুরু —দুইটি পেশ যোগে— …

আর সে তা দিয়ে 'তাখাম্মারাত' করেছে অর্থাৎ খিমার ব্যবহার করেছে, এবং 'ইখতামারাত' করেছে অর্থাৎ তা পরিধান করেছে। সে তার মাথা তা দিয়ে 'খাম্মারাত' করেছে অর্থাৎ ঢেকে রেখেছে। আর 'তাখমীর' অর্থ হলো আবৃত করা। আর প্রতিটি আবৃত বস্তুই 'মুখাম্মার'» (২)।

খিমারকে 'নাসিফ'ও বলা হয়। যেমন বলা হয়: «নারী তার মাথা খিমার দিয়ে 'নাসসাফাত' করেছে। আর তরুণী 'ইনতাসাফাত' এবং 'তানাসসাফাত' করেছে: অর্থাৎ সে খিমার পরিধান করেছে। আর আমি তাকে 'তানসীফ' করিয়েছি। এ থেকেই হুরুল ঈনদের বর্ণনায় হাদিসে এসেছে: ‘তাদের একজনের মাথার নাসিফ দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম’ (৩), আর এটিই হলো খিমার, আবার কারো মতে তা হলো 'মি’জার' ... [আর আরবদের ভাষায় 'ইতিজার' হলো: চেহারাসহ মাথা খিমার দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা] (৪)। আর আবু সাঈদ বলেন: নাসিফ হলো এমন এক কাপড় যা নারী তার সকল পোশাকের ওপর পরিধান করে। একে নাসিফ বলা হয় কারণ এটি মানুষের দৃষ্টি এবং তার নিজের মাঝে অর্ধেক (বা আড়াল) হিসেবে কাজ করে, ফলে তাদের দৃষ্টিকে তার থেকে সরিয়ে রাখে» (৫)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, শব্দমূল (খ-ম-র), ৪/ ২৫৭ - ২৫৮।

(২) তাজুল আরূস, শব্দমূল (খ-ম-র)।

(৩) এটি আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ১/ ২৪৫। এটি বুখারিতে এই শব্দে রয়েছে: «তার মাথার নাসিফ দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম», কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, পরিচ্ছেদ: হুরুল ঈন ও তাদের গুণাবলি, হাদিস নং ২৭৯৬।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার থেকে নেওয়া, ৩/ ১৮৫।

(৫) ইবনুল মানযুরের লিসানুল আরব, শব্দমূল: ন-স-ফ, ৯/ ৩৩২।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌2 - الخمار في الاصطلاح: قال الحافظ ابن حجر عند شرحه لقول أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها: يَرحَم اللَّه نِساء المُهاجِرات الأول، لما أنزل اللَّه: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} (1) شققن مروطهن فاختمرن بها».

قوله: «(فاختَمَرنَ) أَي غَطَّينَ وُجُوهَهُنَّ؛ وصِفَةُ ذَلِكَ: أَن تَضَع الخِمار عَلَى رَأسها، وتَرمِيَهُ مِنَ الجانِب الأَيمَن عَلَى العاتِق الأَيسَر، وهُو التَّقَنُّع.

قالَ الفَرّاء: كانُوا فِي الجاهِلِيَّة تُسدِل المَرأَة خِمارها مِن ورائِها، وتَكشِف ما قُدّامها، فَأُمِرنَ بِالاستِتارِ» (2).

وقال الحافظ ابن حجر أيضاً في كتاب (الأشربة) عند تعريف الخَمْر: «ومِنهُ خِمار المَرأَة لأَنَّهُ يَستُر وجهها» (3).

وقيل: الخمار ما تغطي به المرأة رأسها، ووجهها، وعنقها، وجيبها، وسُمّي: الغدفة، ومادة «غدف» أصل صحيح، يدل على سِتْرٍ وتغطية، يقال: أغدفت المرأة قناعها: أي أرسلته على وجهها» (4).

--------------------------------------------

(1) سورة النور، الآية: 31.

(2) فتح الباري، 8/ 490.

(3) فتح الباري، 10/ 48.

(4) حراسة الفضيلة، ص 30.
২ - পারিভাষিক অর্থে খিমার: হাফেজ ইবনে হাজার উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-এর উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন: "আল্লাহ প্রথম হিজরতকারী নারীদের ওপর রহম করুন, যখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {এবং তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত করে} (১), তখন তারা তাদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে নিজেদের আবৃত করে নিলেন।"

তাঁর উক্তি: "(তারা আবৃত করে নিলেন) অর্থাৎ তারা তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে নিলেন; আর এর পদ্ধতি হলো: নারী তার মাথার ওপর ওড়না রাখবে এবং তা ডান দিক থেকে বাম কাঁধের ওপর টেনে দেবে, আর এটিই হলো তাকান্নু (মুখমণ্ডল আবৃত করা)।

আল-ফাররা বলেন: "জাহেলিয়াতের যুগে নারীরা তাদের ওড়না পেছন দিকে ঝুলিয়ে রাখত এবং সামনের দিক উন্মুক্ত রাখত, অতঃপর তাদের পর্দা করার বা আবৃত হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়" (২)।

হাফেজ ইবনে হাজার (পানীয়) গ্রন্থে 'খমর' (মদ)-এর সংজ্ঞায় আরও বলেন: "আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নারীর 'খিমার', কারণ তা তার মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে" (৩)।

আরও বলা হয়েছে: খিমার হলো যা দ্বারা নারী তার মাথা, মুখমণ্ডল, ঘাড় এবং বক্ষদেশ আবৃত করে। একে 'গুদফাহ'ও বলা হয়। 'গ-দ-ফ' মূলটি একটি বিশুদ্ধ ভাষাতাত্ত্বিক মূল, যা আবরণ ও আচ্ছাদন নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে: 'নারী তার ওড়না নিচু করেছে' অর্থাৎ সে তা তার মুখমণ্ডলের ওপর ঝুলিয়ে দিয়েছে (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১।

(২) ফাতহুল বারী, ৮/ ৪৯০।

(৩) ফাতহুল বারী, ১০/ ৪৮।

(৪) হিরাসাতুল ফাদিলাহ, পৃষ্ঠা: ৩০।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২০)
وباستقراء معاني «الخمار» في اللغة، وتحديداته في الاصطلاح، يمكننا أن نقول في تعريفه:

«هو ما تغطي به المرأة رأسها ووجهها، تستتر به عن أعين الرجال الأجانب».

 

‌‌خامساً: تعريف الاعتجار لغة واصطلاحاً:

‌‌1 - الاعتجار لغة: «المعجر، والعجِارُ: ثوب تَلُفُّه المرأَة على استدارة رأْسها، ثم تَجَلبَبُ فوقه بجلِبابِها، والجمع المَعاجرُ، ومنه أُخِذَ الاعَتِجارُ: وهو لَيُّ الثوب على الرأْس من غير إِدارة تحت الحنَك، وفي بعض العبارات: الاعْتِجارُ: لَفُّ العمامة دون التَّلَحِّي …

والعِجْرة - بالكسر-: نوع من العِمَّة، يقال: فلان حسَنُ العِجْرة.

قال ابن منظور: «عن النبي صلى الله عليه وسلم أَنه دخل مكة يوم الفتح مُعْتَجِراً بعمامةٍ سَوْداءَ، المعنى أَنه لَفَّها على رأْسه ولم يَتَلَحَّ بها» (1).

وقال الإمام ابن الأثير رحمه الله: «الاعْتِجارُ بالعَمامة: هو أن يَلُفَّها على رَأسِه ويَرُدّ طَرَفها على وجْهِه ولا يَعْمل منها شيئًا تحت ذَقْنِه … ».

وقال رحمه الله: «وفي حديث عُبيد الله بن عَدِيّ بن الخِيار: «جاء

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، لابن منظور، مادة: (عجر)، 4/ 544، والحديث عند الطبري في تهذيب الآثار، 1/ 65، وأخبار مكة، للفاكهي، 5/ 215.
অভিধানে ‘খিমার’-এর অর্থসমূহ পর্যালোচনা এবং পরিভাষায় এর প্রয়োগসমূহ নির্ধারণের মাধ্যমে আমরা এর সংজ্ঞায় বলতে পারি:

«তা হলো যা দ্বারা নারী তার মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করে এবং এর মাধ্যমে সে গায়র-মাহরাম পুরুষদের দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখে।»

 

‌‌পঞ্চম: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ইতিজারের সংজ্ঞা:

‌‌১ - আভিধানিক অর্থে ইতিজার: «মি’জার এবং ইজার হলো এমন একটি বস্ত্র যা নারী তার মাথার চারপাশে পেঁচিয়ে পরিধান করে, অতঃপর তার ওপর জিলবাব পরিধান করে। এর বহুবচন হলো মাআজির। এখান থেকেই ‘ইতিজার’ শব্দটি গৃহীত হয়েছে: আর তা হলো চিবুকের নিচ দিয়ে না ঘুরিয়ে মাথার ওপর কাপড় পেঁচানো। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: ইতিজার হলো চিবুকের নিচে পাগড়ির অংশ না পেঁচিয়ে তা মাথায় প্যাঁচানো …

আর ইজরাহ (নীচের ‘ই’ কার দিয়ে) হলো এক প্রকারের পাগড়ি বা শিরোবেষ্টন। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তির পাগড়ি বাঁধার পদ্ধতিটি সুন্দর।

ইবনে মানযুর বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন মাথায় একটি কালো পাগড়ি ইতিজার অবস্থায় পরিহিত হয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। এর অর্থ হলো, তিনি তা মাথার ওপর পেঁচিয়েছিলেন এবং চিবুকের নিচ দিয়ে তা প্যাঁচাননি» (১)।

ইমাম ইবনুল আসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «পাগড়ি দ্বারা ইতিজার করা হলো তা মাথার ওপর পেঁচানো এবং এর প্রান্তভাগ চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া, আর চিবুকের নিচে এর কোনো অংশ না রাখা … »।

তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «উবাইদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনুল খিয়ার-এর হাদিসে রয়েছে: «তিনি আসলেন

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর, শব্দমূল: (আ-জ-রা), ৪/ ৫৪৪; হাদিসটি তাবারির তহযীবুল আসার, ১/ ৬৫; আখবারু মাক্কাহ, ফাকিহি, ৫/ ২১৫।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২১)
وهو مُعْتَجِرٌ بِعمَامَتِهِ، ما يَرَى وحْشِيٌّ منه إلَاّ عَيْنَيْه ورِجْلَيْه» (1).

 

‌‌2 - واعتجار المرأة في الاصطلاح: هو لفّ الخمار على رأسها، وردُّها طرفه على وجهها. واللَّه تعالى أعلم (2).

‌‌سادساً: تعريف القناع والمقنعة: لغة واصطلاحاً:

‌‌1 - القناع والمقنعة لغة: قال ابن منظور رحمه الله: والمقنع، والمِقْنَعةُ … ما تُغَطِّي به المرأَةُ رأْسَها، وفي الصحاح: ما تُقَنِّعُ به المرأَةُ رأْسَها … وفي حديث عمر رضي الله عنه: أَنه رأَى جاريةً عليها قِناعٌ فضربها بالدِّرّة، وقال: أَتشَبَّهِين بالحَرائِر؟ وقد كان يومئذ من لُبْسِهِنَّ … والقِناعُ أَوْسَعُ من المِقْنعةِ، وقد تَقَنَّعَتْ به وقَنَّعَتْ رأْسَها، وقَنَّعْتُها أَلبستها القِناعَ، فتَقنَّعَتْ … وما تتَقَنَّعُ به المرأَةُ من ثوب تُغَطِّي رأْسَها ومحاسِنَها، وأَلقى عن وجْهه قِناعَ الحياءِ … قال الأَزهري: ولا فرق عند الثقات من أَهل اللغة بين القِناعِ والمِقْنَعةِ، وهو مثل اللِّحافِ والمِلْحفةِ … وفي الحديث: «أَتاه رجل مُقَنَّعٌ بالحديد» (3)، وهو المُتَغَطِّي بالسِّلاحِ … » (4).

--------------------------------------------

(1) النهاية في غريب الأثر، باب العين مع الجيم، (3/ 185).

(2) انظر: تفسير ابن كثير، 10/ 212، فقد ذكر حديث عائشة: أن نساء الأنصار اعتجرن بمروطهن عندما نزلت: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} فأصبحن وراء رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبح معتجرات كأن على رؤوسهن الغربان». أخرجه أبو داود، برقم 4102، وسيأتي تخريجه إن شاء الله.

(3) البخاري، كتاب الجهاد والسير، باب عمل صالح قبل القتال، برقم 2808، ومسلم، كتاب الإمارة، باب ثبوت الجنة للشهيد، برقم 1900، دون ذكر التقنع بالحديد.

(4) لسان العرب، مادة (قنع)، 8/ 300 - 301 بتصرف، وانظر: النهاية في غريب الحديث، لابن الأثير، مادة (قنع)، 4/ 114.
তিনি তাঁর পাগড়ি দিয়ে মাথা ও মুখ পেঁচিয়ে রেখেছিলেন, ওয়াহশি তাঁর কেবল চোখ ও পা দুটি দেখতে পাচ্ছিলেন» (১)।

 

‌‌২ - পারিভাষিক অর্থে নারীর ই'তিজার: এটি হলো মাথার ওপর ওড়না পেঁচিয়ে নেওয়া এবং এর এক প্রান্ত চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ (২)।

‌‌ষষ্ঠত: কিন'আ এবং মিকনা'আ-এর সংজ্ঞা: আভিধানিক ও পারিভাষিক:

‌‌১ - আভিধানিক অর্থে কিন'আ এবং মিকনা'আ: ইবনে মানজুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল-মিকনা' এবং আল-মিকনা'আ … যা দিয়ে নারী তার মাথা আবৃত করে। আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যা দিয়ে নারী তার মাথা ঢেকে রাখে … উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: তিনি এক দাসীকে দেখলেন যার মাথায় কিন'আ ছিল, তখন তিনি তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: তুমি কি স্বাধীন নারীদের সদৃশ হতে চাও? অথচ সে সময় এটি তাদের পোশাকের অন্তর্ভুক্ত ছিল … কিন'আ হলো মিকনা'আ-এর চেয়ে বেশি প্রশস্ত। সে এটি দিয়ে নিজেকে আবৃত করেছে এবং তার মাথা ঢেকেছে। আমি তাকে কিন'আ পরিয়ে দিয়েছি, ফলে সে নিজেকে আবৃত করেছে … নারী যে কাপড় দিয়ে তার মাথা ও সৌন্দর্য ঢেকে রাখে তাকেই মিকনা'আ বলা হয়। তিনি তার মুখমণ্ডল থেকে লজ্জার আবরণ সরিয়ে ফেললেন … আল-আজহারি বলেন: ভাষা বিশেষজ্ঞদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মতে কিন'আ এবং মিকনা'আ-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যেমন এটি লিহাফ এবং মিলহাফাহ-এর মতো … হাদিসে এসেছে: «লোহার বর্মাবৃত এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এলো» (৩), আর সে হলো এমন ব্যক্তি যে অস্ত্র দ্বারা নিজেকে ঢেকে রেখেছে … » (৪)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল আসার, আইন ও জীম অধ্যায়, (৩/ ১৮৫)।

(২) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১০/ ২১২; সেখানে তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর হাদিস উল্লেখ করেছেন: 'যখন এই আয়াত নাজিল হলো- {তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ ঢেকে রাখে}, তখন আনসারী মহিলারা তাদের চাদর দিয়ে মাথা ও মুখ পেঁচিয়ে নিলেন। অতঃপর তারা যখন সকালে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে সালাত আদায় করতে আসলেন, তখন তাদের মাথায় যেন কাক বসে ছিল।' এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৪১০২, এবং ইনশাআল্লাহ সামনে এর সূত্র উল্লেখ করা হবে।

(৩) বুখারি, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, যুদ্ধের আগে নেক আমল অধ্যায়, হাদিস নং ২৮০৮; এবং মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া অধ্যায়, হাদিস নং ১৯০০; তবে সেখানে লোহার বর্মাবৃত হওয়ার কথা উল্লেখ নেই।

(৪) লিসানুল আরব, শব্দমূল (কানা'আ), ৮/ ৩০০ - ৩০১ (সংক্ষেপিত), এবং দেখুন: ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস, শব্দমূল (কানা'আ), ৪/ ১১৪।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌2 - القناع في الاصطلاح: قناع المرأة: هو ما تستر به المرأة وجهها (1).

ويدل على هذا المعنى رواية أنس: «مرَّت بعُمَرَ رضي الله عنه جاريةٌ مُتَنقِبّةً فَعلاهَا بِالدِّرَّةِ، وَقَالَ: يَا لَكَاعِ، تَتَشَبَّهِينَ بِالْحَرَائِرِ؟ ألقي القناع» (2).

ويدل على ذلك المقنع الكندي، سُمّي مقنعاً؛ لأنه كان لا يخرج إلا على وجهه ستر (3)، ومنه ما قال أحمد بن يعقوب في تاريخه: «كانت العرب تحضر سوق عكاظ وعلى وجوهها البراقع، فيقال: إن أول عربي كشف قناعه ظريف بن غنم العنبري» (4).

ولعل التعريف المختار اصطلاحاً: القناع ما تستر به المرأة رأسها ووجهها، والعلم عند اللَّه تعالى.

 

‌‌سابعاً: تعريف البرقع لغة واصطلاحاً:

‌‌1 - البرقع لغة: البرقوع لغة في البرقُع، قال الليث: جمع البُرْقُع البَراقِعُ، قال: وتَلْبَسُها الدوابُّ، وتلبسها نساء الأَعراب، وفيه خَرْقان

--------------------------------------------

(1) معجم لغة الفقهاء، لمحمد روَّاس، ص 338، مادة (قنع).

(2) انظر: فتح البيان للنواب صديق حسن خان، 7/ 316، وعودة الحجاب، 3/ 215.

(3) انظر: الأغاني، ترجمة المقنع، 17/ 60.

(4) تاريخ اليعقوبي، ط أوروبة، 2/ 315، نقله المقدم في عودة الحجاب، 3/ 215.
২ - পারিভাষিক অর্থে কিনা (মুখাবরণ): নারীর কিনা হলো যা দ্বারা নারী তার মুখমণ্ডল আবৃত করে (১)।

আনাস (রা.)-এর বর্ণনা এই অর্থটি নির্দেশ করে: "উমর (রা.)-এর পাশ দিয়ে একজন দাসী নেকাব পরা অবস্থায় অতিক্রম করলে তিনি তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: ওরে হতভাগী, তুই কি স্বাধীন নারীদের অনুকরণ করছিস? কিনা (মুখের পর্দা) ফেলে দে" (২)।

আল-মুকান্না আল-কিন্দি-এর উদাহরণও এই অর্থ নির্দেশ করে; তাকে 'মুকান্না' (আবৃতকারী) বলা হতো কারণ তিনি মুখে পর্দা ছাড়া বের হতেন না (৩), এবং এই প্রসঙ্গে আহমদ বিন ইয়াকুব তার ইতিহাসে বলেন: "আরবরা ওকাযের বাজারে উপস্থিত হতো এমতাবস্থায় যে তাদের মুখে বোরকা থাকত। বলা হয় যে, প্রথম আরব ব্যক্তি যে নিজের কিনা উন্মোচন করেছিল সে হলো যারিফ বিন গানাম আল-আনবারি" (৪)।

সম্ভবত পরিভাষায় মনোনীত সংজ্ঞাটি হলো: কিনা হলো যা দ্বারা নারী তার মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করে। আর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর নিকট।

 

সপ্তম: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বোরকার (আল-বুরকু) সংজ্ঞা:

১ - আভিধানিক অর্থে বোরকা: 'আল-বারকু' শব্দটি 'আল-বুরকু' এরই একটি আভিধানিক রূপ। আল-লাইস বলেন: 'আল-বুরকু' এর বহুবচন হলো 'আল-বারাকি'। তিনি বলেন: চতুষ্পদ জন্তুরা এটি পরিধান করে এবং গ্রাম্য (বেদুইন) মহিলারাও এটি পরিধান করে, আর এতে দুটি ছিদ্র থাকে।

--------------------------------------------

(১) মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, মুহাম্মদ রওয়াস, পৃষ্ঠা ৩৩৮, অনুচ্ছেদ: (কানা-আ)।

(২) দেখুন: ফাতহুল বায়ান, নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান, ৭/৩১৬; এবং আওদাতুল হিজাব, ৩/২১৫।

(৩) দেখুন: আল-আগানি, আল-মুকান্না-এর জীবনী, ১৭/৬০।

(৪) তারিখ আল-ইয়াকুবি, ইউরোপীয় মুদ্রণ, ২/৩১৫; আল-মুকাদ্দাম কর্তৃক আওদাতুল হিজাব-এ উদ্ধৃত, ৩/২১৫।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
للعينين، قال توْبةُ بن الحُمَيِّر:

وكنتُ إِذا ما جِئتُ ليْلى تَبَرْقَعَتْ … فقدْ رابَني منها الغَداةَ سُفُورُها

 

قال الأَزهري: فتح الباء في بَرْقُوع نادر، لم يجئ فَعْلول إِلا صَعْفُوقٌ، والصواب: بُرقوع - بضم الباء-، وجوع يُرقوع - بالياء- صحيح، وقال شمر: بُرقع مُوَصْوَصٌ: إِذا كان صغير العينين …

ويقالُ: بَرْقَعه فتَبَرْقَع: أَي أَلْبسه البُرْقُعَ فلَبِسَه» (1).

 

‌‌2 - البرقع اصطلاحاً: برقع المرأة ما تستر به وجهها (2).

وقيل: البرقع: القناع الذي تغطي به المرأة وجهها (3).

 

‌‌والتعريف المختار اصطلاحاً: البرقع هو: قناع فيه خرقان للعينين، تلبسه المرأة تستر به وجهها، واشتهر بذلك نساء الأعراب، والله أعلم.

‌‌ثامناً: درجات الحجاب:

الحجاب الشرعي درجتان، هما:

 

‌‌الدرجة الأولى: حجاب الأشخاص في البيوت بالجدر والخدر، وأمثالها، بحيث لا يرى الرجال شيئاً من أشخاصهن، ولا لباسهن، ولا

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، لابن منظور، مادة (برقع)، 8/ 9.

(2) القاموس الفقهي لغة واصطلاحاُ، لسعدي أبو جيب، ص 73.

(3) معجم لغة الفقهاء، لمحمد روَّاس، ص 87، مادة (برقع).
চোখের জন্য, তাওবা বিন আল-হুমাইয়ির বলেছেন:

আমি যখনই লায়লার কাছে আসতাম সে নিকাব পরিধান করত … আজ সকালে তার অনাবৃত মুখমণ্ডল আমাকে সংশয়ে ফেলেছে

 

আল-আযহারী বলেছেন: 'বারকু' শব্দে 'বা' বর্ণে ফাতহাহ (যবর) হওয়া বিরল, 'ফালুল' ছন্দে 'সা'ফুক' ব্যতীত আর কোনো শব্দ আসেনি; বরং সঠিক হলো: 'বুরকু' —'বা' বর্ণে দাম্মাহ (পেশ) যোগে—, এবং 'জু ইউরকু' —'ইয়া' যোগে— সঠিক। শাম্মার বলেছেন: 'বুরকা মুওয়াসওয়াস' হলো: যখন এর চোখের ছিদ্রগুলো ছোট হয় …

বলা হয়: সে তাকে বুরকা পরাল এবং সে বুরকা পরল: অর্থাৎ সে তাকে বুরকা পরিধান করাল এবং সে তা পরিধান করল। (১)।

 

‌‌২ - পারিভাষিক অর্থে বুরকা: নারীর বুরকা হলো তা, যার মাধ্যমে সে তার মুখমণ্ডল আড়াল করে (২)।

কেউ কেউ বলেছেন: বুরকা হলো সেই নেকাব যা দিয়ে নারী তার মুখমণ্ডল আবৃত করে (৩)।

 

‌‌পারিভাষিক ক্ষেত্রে মনোনীত সংজ্ঞা: বুরকা হলো এমন একটি নেকাব যাতে চোখের জন্য দুটি ছিদ্র থাকে, যা নারী তার মুখমণ্ডল ঢাকার জন্য পরিধান করে। গ্রাম্য আরব নারীরা এর জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌অষ্টম: হিজাবের স্তরসমূহ:

শরয়ী হিজাবের স্তর দুটি, যথা:

 

‌‌প্রথম স্তর: ঘরবাড়িতে দেয়াল ও পর্দার অন্তরালে ব্যক্তিদের হিজাব, এবং তদ্রূপ বিষয়াদি, যাতে পরপুরুষগণ তাদের অবয়ব বা পোশাকের কোনো কিছুই দেখতে না পায় এবং...

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর, শব্দমূল (বুরকা), ৮/৯।

(২) আল-কামুস আল-ফিকহী লুগাতান ওয়া ইস্তিলাহান, সা'দী আবু জাইব, পৃ. ৭৩।

(৩) মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা, মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃ. ৮৭, শব্দমূল (বুরকা)।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
زينتهن الظاهرة ولا الباطنة، ولا شيئاً من جسدهن من الوجه والكفين وسائر البدن، وقد أمر الله عز وجل بهذه الدرجة (1) من الحجاب فقال: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} (2)، وَقال سبحانه وتعالى: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} (3).

ويرشح هذه الدرجة أحاديثُ تحبّب إلى المرأة القرار في البيت، وعدمَ الخروج حتى إلى صلاة الجماعة مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؛ فإن قرارها في بيتها أعظم لها في الأجر عند اللَّه تعالى.

 

‌‌الدرجة الثانية: خروجهن من البيوت مستورات بالجلباب، الذي يغطي جميع البدن مع الوجه والكفين، ومن أدلتها قوله تعالى:

{يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الآية (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: «جواهر القرآن» لمفتي عموم باكستان العلامة محمد شفيع، و «أحكام الحجاب في القرآن» للشيخ المفسر الأستاذ أمين أحسن الإصلاحي.

(2) سورة الأحزاب، الآية: 53.

(3) سورة الأحزاب، الاية: 33.

(4) سورة الأحزاب، الآية: 59.
তাদের প্রকাশ্য কিংবা গোপন কোনো সৌন্দর্যই নয়, এবং তাদের মুখমণ্ডল, দুই হাতের তালু কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশই প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পর্দার এই স্তরের (১) নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন: {আর যখন তোমরা তাদের নিকট কোনো আসবাবপত্র চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে} (২)। এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িও না} (৩)।

পর্দার এই স্তরটিকে সেই সকল হাদিস আরও সুদৃঢ় করে যা নারীকে ঘরে অবস্থানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জামাতে সালাত আদায়ের জন্য বের না হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে; কেননা তার নিজ ঘরে অবস্থান করা আল্লাহ তাআলার নিকট তার জন্য অধিক সওয়াবের কাজ।

 

‌‌দ্বিতীয় স্তর: জিলবাব দ্বারা আবৃত হয়ে তাদের ঘর থেকে বের হওয়া, যা মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালুসহ পুরো শরীরকে ঢেকে রাখে। এর দলীলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:

{হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} (আয়াতের অংশবিশেষ) (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পাকিস্তানের গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা মুহাম্মদ শফী-এর ‘জাওয়াহিরুল কুরআন’ এবং মুফাসসির শায়খ অধ্যাপক আমিন আহসান ইসলাহী-এর ‘আহকামুল হিজাব ফিল কুরআন’।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩।

(৪) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المطلب الثاني: فضائل الحجاب

‌‌أولًا: الحجاب طاعة لله عز وجل وطاعة لرسول الله صلى الله عليه وسلم -: فقد أوجب اللَّه تعالى طاعته وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم فقال: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} (1).

وقال عز وجل: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (2).

وقد أمر اللَّه سبحانه وتعالى النساء بالحجاب فقال عز وجل:

{وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} (3).

وقال سبحانه: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} (4)، وقال تبارك وتعالى: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} (5).

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 36.

(2) سورة النساء، الآية: 65.

(3) سورة النور، الآية: 31.

(4) سورة الأحزاب، الآية: 33.

(5) سورة الأحزاب، الآية: 53.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিজাবের মর্যাদা

প্রথমত: হিজাব মহান আল্লাহর আনুগত্য এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য -: আল্লাহ তাআলা তাঁর এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা আবশ্যক করেছেন। তিনি বলেছেন: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে অন্য কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো" (১)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "সুতরাং আপনার রবের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেয়, অতঃপর আপনার দেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়" (২)।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নারীদেরকে হিজাবের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

"এবং আপনি মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত। তারা যেন তাদের মাথার ওড়না তাদের বক্ষদেশের ওপর ফেলে রাখে" (৩)।

তিনি আরও বলেছেন: "আর তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াত যুগের মতো সাজসজ্জা প্রদর্শন করে বেড়াবে না" (৪)। বরকতময় মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর তোমরা যখন তাদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র" (৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৩৬।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫।

(৩) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১।

(৪) সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৩৩।

(৫) সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৩।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} (1).

وعن عبد اللَّه بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «المرأة عورة» (2) يعني أنه يجب سترها.

وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه: أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن أختٍ له نذرت أن تحج حافية غير مختمرة، فقال: «مروها فلتختمر، ولتركب، ولتصم ثلاثة أيام» (3).

قال الخطابي رحمه الله: «أما أمره إياها بالاختمار؛ فلأن النذر لم ينعقد فيه؛ لأن ذلك معصية، والنساء مأمورات بالاختمار

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 59.

(2) أخرجه الترمذي، كتاب الرضاع، باب حدثنا محمد بن بشار، 3/ 476، برقم 1173، وابن خزيمة، 1/ 93، 1685، مسند البزار، 5/ 427، برقم 427، والطبراني في المعجم الكبير، 9/ 295، برقم 9481، والمعجم الأوسط، 3/ 189، برقم 2890، ومصنف ابن أبي شيبة 2/ 384، برقم 7698، وصححه العلامة الألباني في إرواء الغليل 1/ 303.

(3) رواه الإمام أحمد في المسند، 28/ 540، برقم 17306، سنن أبي داود، كتاب الأيمان والنذور، باب من رأى عليه كفارة إذا كان في معصية، 3/ 231، رقم 3295، سنن ابن ماجه، كتاب الكفارات، باب من نذر أن يحج ماشياً، 1/ 689، برقم 2134، سنن الترمذي، كتاب الأيمان والنذور، باب حدثنا محمود بن غيلان، 4/ 116، برقم 1544، وحسنه، سنن النسائي، كتاب الأيمان والنذور، إذا حلفت المرأة لتمشي حافية غير مختمرة، 7/ 20، برقم 3815، وفي الكبرى له، 3/ 163، برقم 4783، والدارمي،

 

1/ 166، وضعفه الألباني في إرواء الغليل، 8/ 218، برقم 2592، وقال محققو المسند: «صحيح دون قوله: «ولتصم ثلاثة أيام».
মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়} (১)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নারী হলো গোপনীয় (আওরাত)» (২) অর্থাৎ তাকে আবৃত রাখা আবশ্যক।

উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর এক বোন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যে খালি পায়ে এবং ওড়না ছাড়াই হজ্জ করার মানত করেছিল। তখন তিনি বললেন: «তাকে নির্দেশ দাও সে যেন ওড়না পরে, সওয়ারিতে আরোহণ করে এবং তিন দিন রোজা রাখে» (৩)।

ইমাম খাত্তাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: «তাকে ওড়না পরার নির্দেশ দেওয়ার কারণ হলো, সেই মানত পূর্ণ করা যাবে না; কারণ তা একটি পাপাচার, আর নারীদের ওড়না পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯।

(২) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন, দুগ্ধপান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ৩/৪৭৬, হাদীস নং ১১৭৩; ইবনে খুজাইমা, ১/৯৩, ১৬৮৫; মুসনাদে বাজ্জার, ৫/৪২৭, হাদীস নং ৪২৭; তাবারানি তার আল-মুজামুল কাবীর গ্রন্থে, ৯/২৯৫, হাদীস নং ৯৪৮১; এবং আল-মুজামুল আওসাত গ্রন্থে, ৩/১৮৯, হাদীস নং ২৮৯০; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ২/৩৮৪, হাদীস নং ৭৬৯৮; এবং আল্লামা আলবানি একে ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে ১/৩০৩ সহীহ বলেছেন।

(৩) ইমাম আহমদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ২৮/৫৪০, হাদীস নং ১৭৩০৬; সুনানে আবু দাউদ, শপথ ও মানত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পাপাচারের কাজে কসম করলে যার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়, ৩/২৩১, নম্বর ৩২৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, কাফফারা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে হজ্জ করার মানত করে, ১/৬৮৯, হাদীস নং ২১৩৪; সুনানে তিরমিজি, শপথ ও মানত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ৪/১১৬, হাদীস নং ১৫৪৪ এবং তিনি একে হাসান বলেছেন; সুনানে নাসাঈ, শপথ ও মানত অধ্যায়, ওড়না ছাড়া খালি পায়ে হাঁটার কসম করলে, ৭/২০, হাদীস নং ৩৮১৫; এবং তাঁর রচিত আল-কুবরা গ্রন্থে, ৩/১৬৩, হাদীস নং ৪৭৮৩; এবং দারেমি,

 

১/১৬৬; তবে আলবানি ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে (৮/২১৮, হাদীস নং ২৫৯২) একে যয়ীফ বলেছেন; আর মুসনাদের গবেষকগণ বলেছেন: «'তিন দিন রোজা রাখবে' অংশটি ছাড়া হাদীসটি সহীহ»।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
والاستتار» (1).

 

‌‌ثانيَا: الحجاب إيمان واللَّه سبحانه وتعالى لم يخاطب بالحجاب إلا المؤمنات، فقد قال سبحانه: {وَقُل لِلِمُؤمِنَاتِ} (2)، وقال عز وجل: {وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ} (3).

ودخل نسوة من بني تميم على أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها، عليهن ثياب رقاق، فقالت عائشة: «إن كنتن مؤمنات، فليس هذا بلباس المؤمنات، وإن كنتن غير مؤمنات فتمتعن به» (4)، وأُدْخِلت امرأة عروس على عائشة رضي الله عنها وعليها خمار قبطي معصفر، فلما رأتها قالت: «لم تؤمن بسورة النور امرأة تلبس هذا» (5).

 

‌‌ثالثا: الحجاب طهارة: بَيَّن اللَّه سبحانه الحكمة من تشريع الحجاب، وأجملها قي قوله تعالى: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} (6)، فنص سبحانه على أن الحجاب طهارة لقلوب المؤمنين والمؤمنات.

وبيان ذلك أنه إذا لم تر العين لم يشته القلب، أما إذا رأت العين

--------------------------------------------

(1) معالم السنن، 4/ 55.

(2) سورة النور، الآية: 31.

(3) سورة الأحزاب، الآية: 59.

(4) تفسير القرطبي، 14/ 244.

(5) المرجع السابق.

(6) سورة الأحزاب، الآية: 53.
এবং আবরণ" (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: হিজাব হলো ঈমান এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা হিজাব বা পর্দার বিষয়ে কেবল মুমিন নারীদেরই সম্বোধন করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং আপনি মুমিন নারীদের বলুন} (২), এবং তিনি আরও বলেছেন: {এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে} (৩)।

বনু তামীম গোত্রের কিছু নারী উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করলেন, তাদের পরিধানে ছিল পাতলা কাপড়। তখন আয়েশা বললেন: "যদি তোমরা মুমিন নারী হয়ে থাকো, তবে এটি মুমিন নারীদের পোশাক নয়। আর যদি তোমরা মুমিন না হও, তবে এটি দ্বারা আনন্দ করো" (৪)। জনৈক নববধূকে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার নিকট নিয়ে আসা হলো যার পরনে ছিল কুসুম-রঙা কিবতি ওড়না। তিনি তাকে দেখে বললেন: "যে নারী এটি পরিধান করে, সে সূরা আন-নূরের প্রতি ঈমান আনেনি" (৫)।

 

‌‌তৃতীয়ত: হিজাব হলো পবিত্রতা: আল্লাহ সুবহানাহু হিজাব বিধান করার হিকমত বর্ণনা করেছেন এবং তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে সংক্ষেপে ব্যক্ত করেছেন: {আর যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র} (৬)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হিজাব মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের অন্তরের জন্য পবিত্রতাস্বরূপ।

এর ব্যাখ্যা হলো, চোখ যখন কিছু দেখে না তখন অন্তর তা কামনা করে না। কিন্তু যখন চোখ দেখে...

--------------------------------------------

(১) মাআলিমুস সুনান, ৪/ ৫৫।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১।

(৩) সূরা আল-আহ্যাব, আয়াত: ৫৯।

(৪) তাফসীরে কুরতুবী, ১৪/ ২৪৪।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস।

(৬) সূরা আল-আহ্যাব, আয়াত: ৫৩।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
فقد يشتهي القلب، وقد لا يشتهي، فالقلب عند عدم الرؤية أطهر، وعدم الفتنة حينئذ أظهر؛ لأن الرؤية سبب التعلق والفتنة، فكان الحجاب أطهر للقلب، وأنفى للريبة، وأبعد للتهمة، وأقوى في الحماية والعصمة.

 

‌‌رابعاً: الحجاب عِفَّةٌ رغَب الإسلام في التعفف (1)، وعظَّم شأنه، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يأمر به، وَيَحُثُّ عليه، ففي الحديث أن هرقل سأل أبا سفيان: ماذا يأمركم؟ - يعني رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فقال: قلت: يقول «اعبدوا اللَّه وحده، ولا تشركوا به شيئاً، واتركوا ما يقول آباؤكم، ويأمرنا بالصلاة، والصدق، والعفاف، والصلة» (2).

وكان من دعا النبي صلى الله عليه وسلم: «أسألك الهدى والتقى والعفة» (3)،، وفي لفظ آخر: «إني أسألك الهدى والتقى والعفاف» (4) الحديث.

--------------------------------------------

(1) العفة: حصول حالة للنفس تمتنع بها عن غلبة الشهوة، والمتعفف: المتعاطي لذلك بضرب من الممارسة والقهر، انظر: "المفردات " للراغب (ص 507).

(2) جزء من حديث طويل رواه البخاري، في كتاب بدء الوحي وغيره، 1/ 9، برقم 7، ومسلم في كتاب الجهاد، باب كتاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى هرقل يدعوه إلى الإسلام، 3/ 1393، برقم 1773، والإمام أحمد،4/ 198، برقم 2370.

(3) رواه الإمام أحمد، 6/ 216، برقم 3692، وبالأرقام: 4073، و4195، و4420.

(4) رواه مسلم في كتاب الذكر، باب ما يقول عند النوم وأخذ المضجع، برقم 2721، والترمذي في الدعوات، باب حدثنا محمود بن غيلان، برقم 3489، وابن ماجه في أبواب الدعاء، باب دعاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، 2/ 1260، برقم 2832، والإمام أحمد، 7/ 63، برقم 3950، و4162.
কখনো অন্তর লালসাগ্রস্ত হতে পারে, আবার কখনো নাও হতে পারে। তাই দর্শন না করার অবস্থায় অন্তর অধিকতর পবিত্র থাকে এবং তখন ফেতনা বা প্রলোভন না থাকাটা অধিকতর স্পষ্ট হয়; কারণ দর্শনই হলো আসক্তি ও ফেতনার কারণ। সুতরাং হিজাব বা পর্দা অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতাস্বরূপ, সংশয় দূরকারী, অপবাদ থেকে দূরবর্তী এবং সুরক্ষা ও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী।

 

‌‌চতুর্থত: হিজাব হলো চারিত্রিক পবিত্রতা ইসলাম চারিত্রিক পবিত্রতা বা শুদ্ধতা অর্জনে উৎসাহিত করেছে (১) এবং এর মর্যাদাকে মহান করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তিনি তোমাদের কী আদেশ দেন?" - অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবু সুফিয়ান বলেন: আমি বললাম: তিনি বলেন, "তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলত তা বর্জন করো। আর তিনি আমাদের সালাত, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার আদেশ দেন।" (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি দোয়া ছিল এই যে: "আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া এবং চারিত্রিক পবিত্রতা প্রার্থনা করছি" (৩)। অন্য শব্দে এসেছে: "নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া এবং পবিত্রতা যাঞ্চা করছি" (৪)- হাদিস শেষ হলো।

--------------------------------------------

(১) ইফফাত বা পবিত্রতা: নফসের এমন এক অবস্থা অর্জিত হওয়া যার দ্বারা সে প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বিরত থাকে। আর মুতাআফফিফ (পবিত্রতা অর্জনকারী): যে ব্যক্তি সাধনা ও নফস দমনের মাধ্যমে তা চর্চা করে। দেখুন: রাগেবের "আল-মুফরাদাত" (পৃষ্ঠা ৫০৭)।

(২) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ, ওহির সূচনা অধ্যায় ও অন্যান্য স্থানে, ১/৯, হাদিস নং ৭; এবং মুসলিম কর্তৃক জিহাদ অধ্যায়ে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হেরাক্লিয়াসকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে প্রেরিত পত্রের অনুচ্ছেদ, ৩/১৩৯৩, হাদিস নং ১৭৭৩; এবং ইমাম আহমদ, ৪/১৯৮, হাদিস নং ২৩৭০।

(৩) ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন, ৬/২১৬, হাদিস নং ৩৬৯২, এবং নং: ৪০৭৩, ৪১৯৫ এবং ৪৪২০।

(৪) মুসলিম বর্ণনা করেছেন জিকির অধ্যায়ে, ঘুমানোর সময় এবং বিছানায় যাওয়ার সময় যা বলতে হয় অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৭২১; এবং তিরমিজি দোয়া অধ্যায়ে, মাহমুদ ইবনে গাইলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৪৮৯; এবং ইবনে মাজাহ দোয়া অধ্যায়ে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়া অনুচ্ছেদ, ২/১২৬০, হাদিস নং ২৮৩২; এবং ইমাম আহমদ, ৭/৬৩, হাদিস নং ৩৯৫০ ও ৪১৬২।
(খণ্ড: ১) ইজহারুল হাক্কি ওয়াস সাওয়াবি ফী হুকমিল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
والعفة صفة من صفات الحور العين التي أشار إليها قوله تعالى: {حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ} (1)، وقوله عز وجل: {وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابٌ} (2)، وقوله جل وعلا: {وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ} (3).

فقوله جل وعلا: {قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ} يعني: أنهن عفيفات لا ينظرن إلى غير أزواجهن، (عِينٌ) أي: حسان الأعين، جميلات المظهر، عفيفات تقيات نقيات.

فقد جعل سبحانه عفّتهن قرينة حجابهن وقرارهن في خيامهن، وامتدحهن بالعفة مع الجمال، فأعظم ما تكون العفة إذا ما اقترنت بالجمال، وقد وصف بهما يوسف عليه السلام في قول امرأة العزيز: {فَذَلِكُنَّ الَّذِي لُمْتُنَّنِي فِيهِ وَلَقَدْ رَاوَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ فَاسْتَعْصَمَ} (4).

 

‌‌خامساً: الحجاب سِتْرٌ: عن يعلى بن شداد بن أوس رضي الله عنه قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «إن اللَّه تعالى حَيِيٌّ ستير، يحب الحياء والستر» (5) الحديث.

--------------------------------------------

(1) سورة الرحمن، الآية: 72.

(2) سورة ص، الآية: 52.

(3) سورة الصافات، الآية: 48.

(4) سورة يوسف، الآية: 32.

(5) رواه أبو داود، في الحمام: باب النهي عن التعري، 4/ 70، برقم 4014، و4015 والنسائي في الغسل، باب الاستتار عند الاغتسال، 1/ 200، برقم 406، ورواه الإمام أحمد، 29/ 483، برقم 17968، وصححه الألباني في إرواء الغليل، برقم 2335.
পবিত্রতা ও সতীত্ব হলো হুরুল ঈনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যার প্রতি মহান আল্লাহর এই বাণী ইঙ্গিত করে: "তাঁবুসমূহে অবস্থানকারিণী হুরগণ" (১), এবং মহামহিম আল্লাহর বাণী: "তাদের নিকট থাকবে অবনত দৃষ্টিসম্পন্না সমবয়সীগণ" (২), এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের নিকট থাকবে অবনত দৃষ্টিসম্পন্না ডাগর চোখবিশিষ্টা নারীগণ" (৩)।

সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: "অবনত দৃষ্টিসম্পন্না" অর্থ: তারা সতী-সাধ্বী, যারা নিজ স্বামী ব্যতীত অন্য কারো দিকে দৃষ্টিপাত করে না; "ডাগর চোখবিশিষ্টা" অর্থ: সুন্দর চোখের অধিকারিণী, বাহ্যিক সৌন্দর্যে মণ্ডিত, পবিত্রা, পরহেযগার ও পরিচ্ছন্ন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাদের সতীত্বকে তাদের পর্দা এবং তাঁবুতে অবস্থানের সাথে যুক্ত করেছেন এবং সৌন্দর্যের পাশাপাশি সতীত্বের জন্যও তাদের প্রশংসা করেছেন। সতীত্ব যখন সৌন্দর্যের সাথে মিলিত হয়, তখন তা মহত্তম রূপ লাভ করে। ইউসুফ আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে আযীযের স্ত্রীর বাণীতে এই উভয় গুণের বর্ণনা পাওয়া যায়: "এ-ই সে, যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করেছ। আমিই তাকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে পবিত্র থেকেছে।" (৪)।

 

‌‌পঞ্চম: পর্দা হলো একটি আবরণ: ইয়ালা ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত লজ্জাশীল ও পর্দা পছন্দকারী, তিনি লজ্জা ও আবরণকে ভালোবাসেন" (৫) - হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রহমান, আয়াত: ৭২।

(২) সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৫২।

(৩) সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ৪৮।

(৪) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৩২।

(৫) আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, গোসলখানা অধ্যায়: নগ্ন হওয়ার নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ, ৪/ ৭০, হাদীস নং ৪০১৪ ও ৪০১৫; নাসাঈ বর্ণনা করেছেন, গোসল অধ্যায়: গোসলের সময় পর্দা অবলম্বন পরিচ্ছেদ, ১/ ২০০, হাদীস নং ৪০৬; ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন, ২৯/ ৪৮৩, হাদীস নং ১৭৯৬৮ এবং আলবানী ইরওয়াউল গালীল-এ একে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ২৩৩৫।