(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
نور الشيب وحكم تغييره في ضوء الكتاب والسنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: نور الشيب وحكم تغييره في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 18
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
বার্ধক্যের শুভ্রতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তা পরিবর্তনের বিধান বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: বার্ধক্যের শুভ্রতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তা পরিবর্তনের বিধান
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
13
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
نور الشيب
وحكم تغييره
في ضوء الكتاب والسنة
تأليف الفقير إلى الله تعالى
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
13
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র
বার্ধক্যের শুভ্র জ্যোতি
এবং তা পরিবর্তনের বিধান
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وصلى الله عليه وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليمًا كثيرًا. أما بعد:
فهذه كلمات مختصرة بيّنت فيها بإيجاز فضل من شاب شيبة في الإسلام، وأوردت الأحاديث التي جاءت تبيّن حكم صبغ الشيب بالسواد، وبالحناء مع الكتم، وبالصفرة، وذكرت بعض أقوال أهل العلم في ذلك؛ ليتبيّن الحق لطالبه؛ وليتضح أنه لا قول لأحد من الناس مع قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأن سنته أحق بالاتباع، ولو خالفها من خالفها، قال الله عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এগুলো কিছু সংক্ষিপ্ত কথা যাতে আমি ইসলামের অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার ফযিলত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। আর বার্ধক্যের শুভ্রতা (সাদা চুল) কালো রঙ দ্বারা, কাতামসহ মেহেদি দ্বারা এবং হলুদ রঙ দ্বারা রাঙানোর বিধান সম্পর্কে যেসব হাদিস বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমগণের কিছু বক্তব্যও আমি উদ্ধৃত করেছি; যাতে সত্যান্বেষীর নিকট সত্য উন্মোচিত হয় এবং এটি স্পষ্ট হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীর বিপরীতে অন্য কারও কথার কোনো গুরুত্ব নেই। তাঁর সুন্নাহই অনুসরণের অধিক যোগ্য, যদিও কোনো বিরোধিতাকারী তাঁর বিরোধিতা করে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা দিয়েছেন...}
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (1).
واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه عز وجل خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلّم على عبده، ورسوله الأمين؛ نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
حرر في يوم الثلاثاء الموافق 27/ 3/1419هـ
--------------------------------------------
{...সুতরাং রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।} (১)।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একনিষ্ঠভাবে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা আমার জীবনে ও মরণের পরে আমাকে উপকৃত করেন; আর এটি যার নিকট পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন। কেননা তিনি মহান ও পরাক্রমশালী, তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থীত এবং মহত্তম আশা-ভরসার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত (الأمين) রাসূল—আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
লিখিত হয়েছে মঙ্গলবার, ২৭/ ৩/ ১৪১৯ হিজরি মোতাবেক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الأحاديث في نور الشيب، وحكم تغييره كثيرة، منها:
1 - عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جدّه أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن نتف الشيب، وقال: ((إنه نور المسلم)) (1).
2 - وعن كعب بن مُرّة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((مَنْ شاب شيبةً في الإسلام كانت له نوراً يوم القيامة)) (2).
3 - وعن عمرو بن عبسة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من شاب شيبة في سبيل الله كانت له نوراً يوم
--------------------------------------------
পাকা চুলের জ্যোতি এবং তা পরিবর্তনের বিধান সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
১ - আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাকা চুল উপড়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি মুসলিমের জ্যোতি।" (১)।
২ - কাব ইবনে মুররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "ইসলামে থাকা অবস্থায় যার একটি চুল পেকেছে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি হবে।" (২)।
৩ - আমর ইবনে আবাসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর পথে যার একটি চুল পেকেছে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
القيامة)) (1).
4 - وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جدّه عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الشيب نور المؤمن، لا يشيب رجلٌ شيبةً في الإسلام إلا كانت له بكل شيبة حسنة، ورُفِع بها درجة)) (2).
5 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه يرفعه: ((لا تنتفوا الشيب؛ فإنه نورٌ يوم القيامة، ومن شاب شيبة في الإسلام، كُتب له بها حسنة، وحُطّ عنه بها خطيئة، ورُفِع له بها درجة)) (3).
وقد جاءت الأحاديث الكثيرة في هذا المعنى عن أكثر من عشرة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، وهذه الأحاديث
--------------------------------------------
কিয়ামতের দিন)) (১)।
৪ - এবং আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((বার্ধক্য বা সাদা চুল মুমিনের জন্য নূর; ইসলামে থাকাবস্থায় কোনো ব্যক্তির একটি চুলও সাদা হয় না, তবে তার প্রতিটি সাদা চুলের বিনিময়ে একটি করে নেকি লেখা হয় এবং এর মাধ্যমে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়)) (২)।
৫ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হাদিসটিকে মারফু (يرفع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((তোমরা সাদা চুল উপড়ে ফেলো না; কারণ তা কিয়ামতের দিন নূর হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইসলামে থাকাবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তার বিনিময়ে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়, তার একটি পাপ মোচন করা হয় এবং এর মাধ্যমে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়)) (৩)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দশ জনেরও বেশি সাহাবীর নিকট থেকে এই মর্মে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে, এবং এই হাদিসগুলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الخمسة السابقة تبيّن فضل الشيب، وأنه لا يُنتف؛ لأنه نور المسلم، ووقاره؛ لأن الوقار يمنع الشخص عن الغرور والطرب، ويميل إلى الطاعة والتوبة، وتنكسر نفسه عن الشهوات، فيصير ذلك نوراً يسعى بين يديه في ظلمات الحشر إلى أن يدخله الجنة (1).
فالشيب يصير نفسه نوراً يهتدي به صاحبه، ويسعى بين يديه يوم القيامة، والشيب وإن لم يكن من كسب العبد، لكنه إذا كان بسبب من نحو جهاد أو خوف من الله ينزل منزلة سعيه، فيُكره نتف الشيب من نحو: لحية، وشارب، وعنفقة، وحاجب، قال النووي: لو قيل يحرم لم يبعد (2).
ومن غيّر بالسواد لا يحصل على هذا النور إلاّ أن يتوب أو يعفو الله عنه (3).
وهذا الشعر الأبيض يؤدي إلى نور الأعمال الصالحة،
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী পাঁচটি হাদিস পাকা চুলের ফযিলত বর্ণনা করে এবং এটি উপড়ে ফেলা অনুচিত; কারণ এটি একজন মুসলিমের জন্য নূর ও গাম্ভীর্যস্বরূপ। কেননা গাম্ভীর্য মানুষকে অহংকার ও চপলতা থেকে বিরত রাখে এবং আনুগত্য ও তওবার প্রতি ধাবিত করে। এর মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তির তাড়না দমিত হয়, ফলে হাশরের অন্ধকারের মধ্যে এটি তার সামনে একটি নূর হয়ে ধাবিত হয়, যতক্ষণ না তা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায় (১)।
সাদা চুল নিজেই একটি নূর হয়ে যায় যার মাধ্যমে তার অধিকারী ব্যক্তি পথনির্দেশ লাভ করে এবং কিয়ামতের দিন এটি তার সামনে চলতে থাকে। পাকা চুল যদিও বান্দার স্বোপার্জিত বিষয় নয়, তবে তা যদি জিহাদ কিংবা আল্লাহর ভয়ের মতো কোনো কারণে হয়, তবে তা তার স্বীয় প্রচেষ্টার সমমর্যাদায় গণ্য হয়। তাই দাড়ি, গোঁফ, নিচের ঠোঁটের নিচের চুল (عنفقة) এবং ভ্রু থেকে সাদা চুল তুলে ফেলা অপছন্দনীয় (مكروه); ইমাম নববী বলেছেন: যদি একে নিষিদ্ধ (حرام) বলা হতো, তবে তা অবাস্তব হতো না (২)।
আর যে ব্যক্তি কালো কলপের মাধ্যমে এটি পরিবর্তন করবে, সে এই নূর লাভ করবে না; যদি না সে তওবা করে অথবা আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন (৩)।
আর এই সাদা চুল নেক আমলের নূরের দিকে পরিচালিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فيصير نوراً في قبر المسلم، ويسعى بين يديه في ظلمات حشره (1)، ويحصل هذا الفضل بشعرة واحدة بيضاء، تكون ضياء ومخلصاً عن ظلمات الموقف، وشدائده (2).
وهذا الفضل في هذه الأحاديث يرغِّب المسلم في ترك نتف الشيب، وأعظم من النتف التغيير بالسواد، فقد نهى عنه النبي صلى الله عليه وسلم، وحذّر منه.
6 - فعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: أُتي بأبي قحافة يوم فتح مكة ورأسه ولحيته كالثغامة بياضاً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((غيِّروا هذا بشيء واجتنبوا السواد)) (3)، والثغامة نبت أبيض الزهر، والثمر، شُبِّه بياض الشيب به، وقيل: شجرة تبيضّ كأنها الثلجة، أو كأنها الملح (4).
وقوله صلى الله عليه وسلم: ((غيّروا هذا بشيء)) أمرٌ بتغيير الشيب، قال
--------------------------------------------
এটি মুসলিমের কবরে নূর (জ্যোতি) হিসেবে পর্যবসিত হবে এবং হাশরের ময়দানের অন্ধকারে তার সম্মুখভাগে ধাবিত হবে (১)। আর এই ফযীলত একটি মাত্র সাদা চুলের মাধ্যমেও অর্জিত হয়, যা কিয়ামতের ময়দানের অন্ধকার ও এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি এবং আলোকবর্তিকা স্বরূপ হবে (২)।
হাদিসসমূহে বর্ণিত এই ফযীলত মুসলিমকে পাকা চুল উপড়ে ফেলা বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর চুল উপড়ে ফেলার চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো কালো রঙ ব্যবহারের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করা; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করতে নিষেধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
৬ - জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফাকে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট) নিয়ে আসা হলো, তখন তার মাথা ও দাড়ি 'সুগামাহ' উদ্ভিদের মতো ধবধবে সাদা ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা একে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো এবং কালো রঙ পরিহার করো" (৩)। 'সুগামাহ' হলো সাদা ফুল ও ফলবিশিষ্ট একটি উদ্ভিদ, বার্ধক্যের শুভ্রতাকে যার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন একটি বৃক্ষ যা বরফের মতো বা লবণের মতো সাদা হয়ে যায় (৪)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা একে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো" এটি পাকা চুল পরিবর্তনের একটি নির্দেশ, তিনি বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
به جماعة من: الخلفاء، والصحابة، لكن لم يَصِر أحد إلى أنه للوجوب، وإنما هو مستحبٌّ (1).
قال الإمام القرطبي رحمه الله: ((أما قولهم: إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يخضب فليس بصحيح، بل قد صحّ عنه أنه خضب بالحنّاء، وبالصّفرة)) (2)، ولعل القرطبي رحمه الله يشير إلى:
7 - حديث أبي رمثة رضي الله عنه حيث قال: ((أتيت أنا وأبي النبيَّ صلى الله عليه وسلم، وكان قد لطّخ لحيته بالحنّاء)) (3).
8 - وعنه رضي الله عنه قال: ((أتيت النبي صلى الله عليه وسلم ورأيته قد لطّخ لحيته بالصّفرة)) (4).
--------------------------------------------
খলিফাগণ এবং সাহাবীগণের একটি দল এটি করেছেন, তবে কেউ এটিকে ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার পক্ষে মত দেননি, বরং এটি মুস্তাহাব (مستحب) (১)।
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তাদের এই দাবি যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খিযাব ব্যবহার করেননি, তা সহিহ (صحيح) নয়; বরং তাঁর থেকে সহিহ (صحّ) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মেহেদি এবং পীতবর্ণের রঙ দিয়ে খিযাব ব্যবহার করেছেন)) (২), সম্ভবত কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন:
৭ - আবু রিমসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস যেখানে তিনি বলেছেন: ((আমি এবং আমার পিতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম, তিনি তখন তাঁর দাড়ি মেহেদি দ্বারা রঞ্জিত করেছিলেন)) (৩)।
৮ - তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং দেখলাম তিনি তাঁর দাড়ি পীতবর্ণের রঙ দিয়ে রঞ্জিত করেছেন)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - وعن زيد بن أسلم قال: ((رأيت ابن عمر يُصفِّر لحيته، فقلت: يا أبا عبد الرحمن، تُصفِّر لحيتك بالخلوق؛ قال: إني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يُصفِّر بها لحيته ولم يكن شيء من الصبغ أحب إليه منها)) (1)، وهذا من فعله صلى الله عليه وسلم، أما من قوله فقد ثبت عنه أحاديث:
10 - فعن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن أحسن ما غيرتم به الشيب: الحناءُ والكتم)) (2).
11 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: مرَّ على النبي صلى الله عليه وسلم رجل قد خضب بالحناء فقال: ((ما أحسن هذا؟))، قال: فمر آخر قد خضب بالحناء والكتم فقال: ((هذا أحسن من هذا))، قال: فمر آخر قد خضب بالصفرة فقال: ((هذا أحسن من هذا كله)) (3).
--------------------------------------------
9 - জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি ইবনে উমর (রা.)-কে তাঁর দাড়ি হলুদ রঙে রাঙাতে দেখেছি, তখন আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আপনি ‘খালুক’ (এক প্রকার সুগন্ধি মিশ্রিত রঙ) দিয়ে দাড়ি হলুদ করছেন? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এটি দিয়ে দাড়ি হলুদ করতে দেখেছি এবং কোনো রঙই তাঁর নিকট এটির চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল না)) (১)। এটি ছিল নবী (ﷺ)-এর কর্মগত সুন্নাহ; আর তাঁর বাণী থেকেও বেশ কিছু হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে:
10 - আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ((বার্ধক্য (সাদা চুল-দাড়ি) পরিবর্তনের জন্য তোমরা যা ব্যবহার করো, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মেহেদি ও কাতাম (এক প্রকার উদ্ভিদ যা রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হয়))) (২)।
11 - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (ﷺ)-এর নিকট দিয়ে জনৈক ব্যক্তি অতিক্রম করলেন যিনি মেহেদি দিয়ে খিযাব (রঙ) করেছিলেন, তখন তিনি বললেন: ((এটি কতই না সুন্দর?))। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অন্য এক ব্যক্তি অতিক্রম করলেন যিনি মেহেদি ও কাতাম দিয়ে খিযাব করেছিলেন, তখন তিনি বললেন: ((এটি ঐটির চেয়েও সুন্দর))। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অন্য এক ব্যক্তি অতিক্রম করলেন যিনি হলুদ রঙ দিয়ে খিযাব করেছিলেন, তখন তিনি বললেন: ((এটি ওই সবকটির চেয়ে সুন্দর)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
12 - وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يلبس النعال السبتية، ويصفِّر لحيته بالورس والزعفران، وكان ابن عمر يفعله)) (1).
وسمعت شيخنا العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((وقد جاء التصفير عن ابن عمر في الصحيحين، ويستثنى من التزعفر: ما كان في اللحية، أو الشارب، أو الرأس)) (2)، وسمعته أيضاً يقول: ((والسنة الخضاب بالحناء أو بالصفرة، أو بالحناء والكتم)) (3).
قال الإمام القرطبي رحمه الله: ((وأما الصباغ بالحناء بحتاً، وبالحناء والكتم، فلا ينبغي أن يختلف فيه؛ لصحة
--------------------------------------------
12 - ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পশমহীন চামড়ার জুতা পরিধান করতেন এবং ওয়ারস ও জাফরান দ্বারা তাঁর দাড়ি হলুদ রঙে রঞ্জিত করতেন, আর ইবনে উমরও (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তা করতেন)) (১)।
আমি আমাদের শায়খ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে দাড়ি হলুদ রঙে রঞ্জিত করার বিষয়টি সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে। আর জাফরান ব্যবহারের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, দাড়ি, গোঁফ বা মাথার চুলের ক্ষেত্রে তা এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে)) (২)। আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি: ((সুন্নাত হলো মেহেদি অথবা হলুদ রঙ দ্বারা, অথবা মেহেদি ও কাতাম দ্বারা খেজাব লাগানো)) (৩)।
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((আর শুধুমাত্র মেহেদি দ্বারা রঞ্জিত করা এবং মেহেদি ও কাতাম দ্বারা রঞ্জিত করার বিষয়ে কোনো মতভেদ থাকা উচিত নয়; কারণ এর বিশুদ্ধতা (صحة) সর্বজনবিদিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأحاديث بذلك، غير أنه قد قال بعض العلماء: إن الأمر في ذلك محمول على حالين:
* أحدهما: عادة البلد، فمن كانت عادة موضعه ترك الصبغ فخروجه عن المعتاد شهرة تَقْبُح وتكره.
* وثانيهما: اختلاف حال الناس في شيبهم، فربَّ شيبة نقية هي أجمل بيضاء منها مصبوغة، وبالعكس فمن قبَّحه الخضاب اجتنبه، ومن حسنه استعمله، وللخضاب فائدتان:
إحداهما: تنظيف الشعر مما يتعلق به من الغبار والدخان.
والأخرى: مخالفة أهل الكتاب (1)؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إن اليهود والنصارى لا يصبغون فخالفوهم)) (2)، ثم قال رحمه الله: ((ولكن هذا الصباغ بغير السواد، تمسكاً بقوله
--------------------------------------------
এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো বিদ্যমান, তবে কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এ বিষয়টি দুটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল:
* প্রথমত: সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রচলিত রীতি; যার এলাকার রীতি হলো কলপ বর্জন করা, তবে তার জন্য প্রচলিত রীতির বাইরে যাওয়াটা হবে এমন এক লোক-প্রসিদ্ধি (شهرة), যা কদর্য ও অপছন্দনীয় (مكروه)।
* দ্বিতীয়ত: বার্ধক্যের শুভ্রতার ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থার ভিন্নতা। অনেক সময় পরিচ্ছন্ন শুভ্র চুল কলপ করা চুলের চেয়ে বেশি সুন্দর দেখায়, আবার কখনও এর বিপরীতও হয়। সুতরাং কলপ যার সৌন্দর্য নষ্ট করে তার জন্য এটি বর্জন করা উচিত, আর যার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তার এটি ব্যবহার করা উচিত। কলপ করার দুটি উপকারিতা রয়েছে:
একটি হলো: চুলে লেগে থাকা ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে চুল পরিষ্কার রাখা।
অন্যটি হলো: আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করা (১); রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: ((নিশ্চয়ই ইহুদি ও নাসারারা কলপ করে না, অতএব তোমরা তাদের বিরোধিতা করো)) (২)। অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তবে এই কলপ হতে হবে কালো রঙ ছাড়া অন্য রঙে, তাঁর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- صلى الله عليه وسلم: ((واجتنبوا السواد))، والله أعلم (1)، وقال رحمه الله: ((وقوله صلى الله عليه وسلم: ((واجتنبوا السواد)) أمر باجتناب السواد، وكرهه جماعة منهم: علي بن أبي طالب، ومالك، وهو الظاهر من هذا الحديث، وقد عُلِّلَ ذلك بأنه من باب التدليس على النساء؛ وبأنه سواد في الوجه، فيكره؛ لأنه تشبه بسيما أهل النار)) (2)، ثم ذكر رحمه الله جماعة كثيرة من السلف كانوا يخضبون بالسواد، وقال: ((ولا أدري عذر هؤلاء عن حديث أبي قحافة ما هو؟ فأقل درجاته الكراهة كما ذهب إليه مالك)) (3).
قلت: أما عذر السلف الذين كانوا يخضبون بالسواد، فيحمل على أنه لم يبلغهم حديث النهي الصريح عن الصبغ بالسواد، والله أعلم. وقال الإمام النووي رحمه الله: ((ومذهبنا استحباب خضاب الشيب للرجل والمرأة
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কালো রঙ পরিহার করো," এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন (১)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: 'তোমরা কালো রঙ পরিহার করো' হলো কালো রঙ বর্জন করার একটি নির্দেশ। একদল আলিম একে অপছন্দ (مكروه) করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আলী ইবনে আবু তালিব এবং মালিক (রহিমাহুমাল্লাহ)। এই হাদিসের বাহ্যিক প্রকাশ এটাই। এর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, এটি নারীদের সাথে প্রতারণা (تدليس)-এর অন্তর্ভুক্ত; এবং যেহেতু এটি চেহারায় কালো আভা তৈরি করে, তাই এটি অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ এটি জাহান্নামীদের নিদর্শনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ" (২)। এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সালাফদের এমন এক বিশাল জামাতের কথা উল্লেখ করেছেন যারা কালো রঙের খিযাব ব্যবহার করতেন এবং বললেন: "আবু কুহাফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সংক্রান্ত হাদিস থাকা সত্ত্বেও তাদের পক্ষ থেকে এর কী ওজর বা ব্যাখ্যা ছিল তা আমার জানা নেই। তবে এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো অপছন্দনীয় (كراهة), যেমনটি ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) মত ব্যক্ত করেছেন" (৩)।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যেসকল সালাফ কালো রঙ দিয়ে খিযাব লাগাতেন, তাদের ওজর বা যুক্তি হিসেবে এটিই ধরে নেওয়া হবে যে, কালো রঙ ব্যবহারের ব্যাপারে সরাসরি (صريح) নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি হয়তো তাদের নিকট পৌঁছেনি, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমাদের মাযহাব অনুযায়ী পুরুষ ও মহিলার জন্য সাদা চুলে খিযাব লাগানো মুস্তাহাব (مستحب)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بصفرة، أو حمرة، ويحرم خضابه بالسواد على الأصح)) (1).
ويؤكد اختيار الإمام النووي ومن سلك مسلكه في تحريم الخضاب بالسواد ما ثبت عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يكون قوم يخضبون في آخر الزمان بالسواد كحواصل الحمام، لا يريحون رائحة الجنة)) (2)، وسمعت سماحة العلامة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول عن هذا الحديث: ((إسناده جيد، وهذا يدل على تحريم تغيير الشيب بالسواد، ويقتضي أنه كبيرة؛ لأنه وعيد)) (3).
وقوله صلى الله عليه وسلم: ((كحواصل الحمام)) أي كصدور الحمام في
--------------------------------------------
হলুদ বা লাল বর্ণ দ্বারা, আর সর্বাধিক বিশুদ্ধ অভিমত (الأصح) অনুযায়ী কালো রঙ দ্বারা খেজাব লাগানো হারাম।
ইমাম নববী এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন, কালো রঙ দিয়ে খেজাব লাগানো হারাম হওয়ার ব্যাপারে তাদের পছন্দকে সমর্থন করে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শেষ জামানায় এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যারা কবুতরের সিনার মতো কালো রঙ দিয়ে খেজাব লাগাবে; তারা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" আর আমি প্রখ্যাত আলিম ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে এই হাদিস সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "এর সনদ (إسناد) উত্তম (جيد), আর এটি সাদা চুল কালো রঙ দিয়ে পরিবর্তন করা হারাম হওয়ার ওপর দলিল পেশ করে, এবং এটি দাবি করে যে তা একটি কবিরা গুনাহ (كبيرة); কারণ এতে শাস্তির ধমক (وعيد) এসেছে।"
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "কবুতরের সিনার মতো" অর্থাৎ কবুতরের বুকের মতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الغالب؛ لأن صدور بعض الحمام ليست بسود (1).
ومما يدل على قُبح الخضاب بالسواد ما بيَّنه بعض السلف الذين كانوا يخضبون بالسواد حيث قيل: إنه قال:
نُسَوِّدُ أعلاها وتأبى أصُولُها … ولا خير في الأعلى إذا فسد الأصل (2)
وقال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((والصواب أن الأحاديث في هذا الباب لا اختلاف بينها بوجه؛ فإن الذي نهى عنه النبي صلى الله عليه وسلم من تغيير الشيب أمران:
أحدهما: نتفه.
والثاني: خضابه بالسواد
… والذي أذن فيه: هو صبغه وتغييره بغير السواد: كالحناء والصفرة، وهو الذي عمله الصحابة رضي الله عنهم
…وأما الخضاب بالسواد فكرهه جماعة من أهل العلم، وهو الصواب بلا ريب لِمَا تقدم، وقيل للإمام أحمد: تكره
--------------------------------------------
অধিকাংশ ক্ষেত্রে; কারণ কিছু কবুতরের বক্ষদেশ কালো নয় (১)।
আর কালো রঙ দিয়ে খেজাব লাগানোর কদর্যতার ওপর যা প্রমাণ পেশ করে, তা হলো কিছু পূর্বসূরি (سلف) যারা কালো রঙ ব্যবহার করতেন তাদের বর্ণনা, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
আমরা এর উপরিভাগ কালো করি কিন্তু এর মূল অংশ তা অস্বীকার করে … আর উপরিভাগে কোনো কল্যাণ নেই যদি মূল অংশ নষ্ট হয়ে যায় (২)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সঠিক (صواب) মত হলো এই যে, এই অধ্যায়ের হাদিসগুলোর মধ্যে কোনোভাবেই কোনো বিরোধ নেই; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তনের বিষয়ে যা নিষেধ করেছেন তা দুটি বিষয়:
একটি হলো: তা উপড়ে ফেলা।
আর দ্বিতীয়টি হলো: তা কালো রঙ দিয়ে খেজাব লাগানো
… আর যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা হলো: কালো ছাড়া অন্য রঙ দিয়ে তা রাঙানো ও পরিবর্তন করা: যেমন মেহেদি ও হলুদ রঙ, আর এটিই সাহাবী (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গণ আমল করেছেন
…আর কালো রঙ দিয়ে খেজাব লাগানোর বিষয়টিকে একদল আলিম অপছন্দ (كره) করেছেন এবং পূর্বোক্ত দলীলের ভিত্তিতে এটিই নিঃসন্দেহে সঠিক (صواب)। ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি অপছন্দ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الخضاب بالسواد؟ قال: إي والله، وهذه المسألة من المسائل التي حلف عليها
… ورخص فيه آخرون، منهم أصحاب أبي حنيفة، وروي ذلك عن الحسن، والحسين، وسعد بن أبي وقاص، وعبد الله بن جعفر، وعقبه بن عامر، وفي ثبوته عنهم نظر، ولو ثبت فلا قول لأحد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسنته أحق بالاتباع، ولو خالفها من خالفها)) (1).
و
يستخلص من الأحاديث الواردة في الشيب وخضابه ما يأتي:
أولاً: الشيب نور المسلم في الدنيا والآخرة.
ثانياً: المنع من نتف الشيب ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم -.
ثالثاً: الشيب تُزاد به الحسنات.
رابعاً: الشيب تُرفع به الدرجات.
خامساً: الشيب تُحطّ به الخطايا.
سادساً: تحريم صبغ الشيب بالسواد.
--------------------------------------------
কালো রঙ দিয়ে খিযাব (চুলে রঙ করা)? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, এবং এটি এমন একটি মাসআলা যেটির ব্যাপারে শপথ করা হয়েছে
… এবং অন্যগণ এতে অনুমতি দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ রয়েছেন। এটি হাসান, হুসাইন, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর এবং উকবাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণিত হয়েছে; তবে তাঁদের থেকে এর প্রামাণিকতার (ثبوته) বিষয়ে সংশয় রয়েছে। আর যদি এটি প্রমাণিতও (ثبت) হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে কারো কথা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর সুন্নাহই অনুসরণের অধিকতর যোগ্য, যদিও কেউ তার বিরোধিতা করে থাকে।
ও
বার্ধক্যের শুভ্রতা এবং তাতে খিযাব লাগানো সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে নিম্নোক্ত নির্যাস পাওয়া যায়:ما يأتي:
প্রথমত: বার্ধক্যের শুভ্রতা দুনিয়া ও আখিরাতে মুসলিমের জন্য নূর।.
দ্বিতীয়ত: পাকা চুল উপড়ে ফেলার নিষেধাজ্ঞা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت)। -.
তৃতীয়ত: বার্ধক্যের শুভ্রতার কারণে নেক আমল বৃদ্ধি করা হয়।.
চতুর্থত: বার্ধক্যের শুভ্রতার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়।.
পঞ্চমত: বার্ধক্যের শুভ্রতার কারণে গুনাহসমূহ মোচন করা হয়।.
ষষ্ঠত: সাদা চুলে কালো রঙ লাগানো হারাম।.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سابعاً: صبغ الشيب بالحناء، أو الصفرة، أو الحناء والكتم سنة مؤكدة.
ثامناً: الحناء: لونه أحمر، والحناء والكتم: لونه بين السواد والحمرة.
تاسعاً: من صبغ الشيب بالسواد من السلف فلا دليل له من كتاب ولا سنة.
عاشراً: لا قول لأحد مع قول رسول الله صلى الله عليه وسلم كائناً من كان.
الحادي عشر: الشيب له أسباب غير كبر السن، فقد يكون مبكراً؛ لخوف الله عز وجل، أو لغيره من الأسباب، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال أبو بكر رضي الله عنه: يا رسول الله قد شبت؟ قال: ((شيبتني هودٌ، والواقعة، والمرسلات، وعمّ يتساءلون، وإذا الشمس كوِّرت)) (1).
وعن أبي جحيفة رضي الله عنه، قال: قالوا: يا رسول الله، نراك
--------------------------------------------
সপ্তম: মেহেদি, পীতবর্ণ অথবা মেহেদি ও কাতাম দ্বারা পাকা চুলে খিজাব লাগানো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة).
অষ্টম: মেহেদি: এর রঙ লাল, এবং মেহেদি ও কাতাম: এর রঙ কালো ও লালের মাঝামাঝি.
নবম: সালাফদের মধ্য থেকে যারা চুলে কালো রঙ ব্যবহার করেছেন, তাদের স্বপক্ষে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল নেই.
দশম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সামনে অন্য কারো কথার কোনো গুরুত্ব নেই, তিনি যে-ই হোন না কেন.
একাদশ: বার্ধক্য ছাড়াও চুল পাকার অন্যান্য কারণ রয়েছে, ফলে তা অকালপক্কও হতে পারে; মহান আল্লাহর ভয়ের কারণে অথবা অন্য কোনো কারণে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চুল তো পেকে গেছে? তিনি বললেন: "সূরা হুদ, ওয়াকিয়াহ, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসায়ালুন এবং ইযাশ শামসু কুয়্যিরাত আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে (অর্থাৎ চুল পাকিয়ে দিয়েছে)" (১)।
আবু জুহাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে দেখছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুশ শাইব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহী ফী দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قد شبت؟ قال: ((شيبتني هودٌ وأخواتها)) (1)، والله عز وجل الموفق للصواب.
وصلى الله، وسلّم على نبيّنا محمد، وآله وصحبه أجمعين.
--------------------------------------------
আপনি কি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন? তিনি বললেন: ((সুরা হুদ এবং তার সমজাতীয় সুরাগুলো আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে)) (১), আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------