(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
مواقف لا تنسى - من سيرة والدتي رحمها الله   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مواقف لا تنسى - من سيرة والدتي رحمها الله تعالى (1345 هـ - 1428 هـ)

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 33

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

অবিস্মরণীয় ঘটনাবলী - আমার মায়ের জীবনী থেকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)   (সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: অবিস্মরণীয় ঘটনাবলী - আমার মায়ের জীবনী থেকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) (১৩৪৫ হিজরী - ১৪২৮ হিজরী)

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

مواقف لا تنسى

من سيرة والدتي رحمها الله تعالى

(1345 هـ- 1428هـ)

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির রচনাসমগ্র

 

অবিস্মরণীয় কিছু স্মৃতি

আমার মায়ের জীবনী থেকে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

(১৩৪৫ হিজরি - ১৪২৮ হিজরি)

 

আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلَّم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه كلمات مختصرات من سيرة والدتي الغالية العزيزة الكريمة: نشطا بنت سعيد بن محمد بن جازعة: آل جحيش من آل سليمان، من عبيدة، قحطان، رحمها الله تعالى، ورفع منزلتها، بينت فيها سيرتها الجميلة، ومواقفها الحكيمة التي لا تنسى إن شاء الله تعالى، لعلّ الله أن يشرح صدر من قرأها إلى أن يدعوَ لها، ويستغفر لها، ويترحَّم عليها.

والله تعالى أسأل أن يجعل هذه الكلمات اليسيرات خالصةً لوجهه الكريم، وبِرّاً بوالدتي الغالية، وسبباً للدعاء لها، وأن يغفر لها، ويُعلي درجتها، وأن يجزيها عنِّي خير ما جزى والدة عن ولدها، وأن يجمعنا بها في الفردوس الأعلى مع نبيّنا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، ووالدينا، ومشايخنا، وذرّياتنا، وأزواجنا، وأحبابنا في الله جميعاً، وكل من قرأ هذه الرسالة من المؤمنين الصادقين؛ إنه تعالى على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير، وإذا أراد شيئاً فإنما يقول له كن فيكون، لا إله إلا هو، ولا ربّ سواه، ولا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

উপস্থাপনা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এগুলো হচ্ছে আমার পরম শ্রদ্ধেয়, প্রিয় ও মহীয়সী মাতা নাশতাহ বিনতে সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন জাযিআহ— আল জুহাইশ, আল সুলাইমান বংশীয়, উবাইদাহ থেকে, কাহতান গোত্রের— (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) তাঁর জীবনী থেকে কিছু সংক্ষিপ্ত কথা। এতে আমি তাঁর সুন্দর জীবনচরিত এবং তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানসমূহ তুলে ধরেছি যা ইনশাআল্লাহ বিস্মৃত হওয়ার নয়। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা এটি পাঠকারীর অন্তরকে তাঁর জন্য দুআ করতে, ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং রহমতের আবেদন করার জন্য প্রশস্ত করে দেবেন।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সামান্য কথাগুলোকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন, আমার প্রিয় মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের মাধ্যম বানান এবং তাঁর জন্য দুআ করার কারণ হিসেবে কবুল করেন। আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে ক্ষমা করেন, তাঁর মর্যাদা উচ্চকিত করেন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁকে এমন উত্তম প্রতিদান দান করেন যা একজন মা তাঁর সন্তানের পক্ষ থেকে পেয়ে থাকেন। তিনি যেন আমাদের সবাইকে তাঁর সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমাদের পিতামাতা, আমাদের শায়খগণ, আমাদের বংশধরগণ, আমাদের স্ত্রীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের সকল প্রিয়জনদের সাথে একত্রিত করেন; এবং সেই সাথে সকল সত্যবাদী মুমিনদের যারা এই রিসালাহটি পাঠ করবে। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং দুআ কবুলের যোগ্য। তিনি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো রব নেই।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
حول ولا قوة إلاّ بالله العليّ العظيم.

وصلّى الله على عبده، ورسوله، وخليله، وأمينه على وحيه، نبينا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

قاله وكتبه ابنها: أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر بعد ظهر يوم الأحد الموافق 4/ 9/ 1428هـ
সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।

এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) এবং তাঁর ওহীর আমানতদার—আমাদের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।

এটি বলেছেন ও লিখেছেন তাঁর পুত্র: আবু আবদুর রহমান

সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহতানি

সম্পাদিত হয়েছে ১৪২৮ হিজরি সনের ৪/৯ তারিখ মোতাবেক রবিবার জোহরের পর।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
*‌‌ أولاً: ولادتها: وُلِدَتْ رحمها الله تعالى في ضواحي العرين التابع لأبها، يبعد عن أبها شرقاً 125 كيلو تقريباً في البادية، وكان والدها من أهل الأغنام الذين يتتبّعون مواقع القطر، وشعف الجبال في هذه البلاد المذكورة، وكان زمن ولادتها على حسب إخبار كبار السن من أقربائها عام 1345هـ تقريباً.

*‌‌ ثانياً: نشأتها: نشأتْ بتوفيق الله تعالى ورعايته، وفضله، وإحسانه على ما نشأ عليه أهل التوحيد، وكانت في مجتمع أمّيّ لا يقرأ، ولا يكتب، إلا أنهم على فطرة التوحيد، فلا يعرفون في الرخاء ولا في الشدة الالتجاء إلَاّ إلى الله وحده، ولا يصرفون شيئاً من العبادات إلا له وحده لا شريك له.

وَتَربَّتْ مع والدها، وكانت ترعى البهم ((صغار الأغنام)) في طفولتها، وكان والدها رحمه الله رجلاً صالحاً، كريماً، شجاعاً، من الذاكرين الله كثيراً، وقد عُرف بالإصابة في الرمي، فلا يُخطئ في رميه، سواء كان ذلك في رمي الصيد أو غيره، وقد ثبت عندي أنه: أثناء اصطياده للصيد قيل له: اجعل طلقة البندقية في أسفل قرن الغزال، فرماه فوقعت في المكان الذي حُدِّد له أسفل قرنها.

وقد عُرِفَ عنه إجابة الدعوة في مواقف كثيرة، منها: أن الوالدة نشطا رحمها الله كانت ذات يوم في صغرها تأكل من قطعة لحم قد وضعتها في يدها، فجاءت حدأةٌ فاختطفت قطعة اللحم من يدها، فأغضب ذلك والدها؛ لأن اللحم في ذاك الوقت كان عزيزاً، وربما لا يأكلون اللحم إلا من عيد الأضحى إلى عيد الأضحى لقلّة ما في اليد،
প্রথমত: তাঁর জন্ম: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আভার অধীনস্থ আরিনের পার্শ্ববর্তী মরু অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন, যা আভা থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাঁর পিতা ছিলেন মেষপালকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বৃষ্টিপাতের স্থান এবং উল্লিখিত অঞ্চলের পাহাড়ের চূড়াগুলো অনুসরণ করতেন। তাঁর বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়দের তথ্যমতে তাঁর জন্ম হয়েছিল আনুমানিক ১৩৪৫ হিজরি সনে।

দ্বিতীয়ত: তাঁর বেড়ে ওঠা: আল্লাহ তাআলার তাওফিক, তত্ত্বাবধান, অনুগ্রহ ও ইহসানের মাধ্যমে তিনি সেই আদর্শের ওপর বেড়ে ওঠেন যার ওপর তাওহিদপন্থীরা বেড়ে ওঠেন। তিনি একটি নিরক্ষর সমাজে ছিলেন যারা পড়তে বা লিখতে জানতেন না, তবে তারা তাওহিদের ফিতরাতের (স্বভাবজাত প্রকৃতি) ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তারা সুখ কিংবা দুঃখ—কোনো অবস্থাতেই একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা জানতেন না এবং কোনো ইবাদতই একমাত্র তাঁর জন্য ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করতেন না, যাঁর কোনো শরিক নেই।

তিনি তাঁর পিতার নিকট লালিত-পালিত হন এবং শৈশবে ভেড়া-ছাগলের বাচ্চা (ছোট মেষ) চরাতেন। তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ছিলেন একজন নেককার, দানশীল ও সাহসী ব্যক্তি এবং আল্লাহর অধিক জিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি লক্ষ্যভেদে পারদর্শিতার জন্য পরিচিত ছিলেন, শিকার করা বা অন্য কিছুতে তাঁর লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো না। আমার কাছে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, শিকার করার সময় তাঁকে বলা হয়েছিল: বন্দুকের গুলিটি হরিণের শিংয়ের নিচে লাগান। তিনি তা নিক্ষেপ করলেন এবং তা শিংয়ের নিচেই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে লাগল।

অনেক ক্ষেত্রে তাঁর দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টিও পরিচিত ছিল। তার মধ্যে একটি হলো: জননী নাশতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) শৈশবে একদিন তাঁর হাতে রাখা এক টুকরো গোশত খাচ্ছিলেন। এমন সময় একটি চিল এসে তাঁর হাত থেকে গোশতের টুকরোটি ছিনিয়ে নিল। এতে তাঁর পিতা রাগান্বিত হলেন; কারণ সেই সময়ে গোশত ছিল অত্যন্ত দুর্লভ। হাতে অর্থকড়ি কম থাকার কারণে সম্ভবত এক ঈদুল আজহা থেকে অন্য ঈদুল আজহা আসা পর্যন্ত তারা আর গোশত খেতে পেতেন না,
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وشدّة الحال عند أهل البادية، فعند ذلك دعا والدها على الحدأة، فقال: ((اللهم إن كان أجلها في السماء فأنزله عليها، وإن كان في الأرض فابعثه إليها))، أو كما قال في دعائه رحمه الله، وفوراً وقعت الحدأة قريباً من بيت الشَّعْر الذي كانوا يسكنونه في ذلك الوقت، وإذا هي قد قُتلت، ونظروا فإذا الذي قتلها صقر هجم عليها، وضربها ضربة قضت عليها؛ من أجل قطعة اللحم التي كانت معها، استجابةً لدعوةِ والد الطفلة الصغيرة التي أخذت قطعة اللحم من يدها، وكانت أغلى ما تملك، وأحبَّ إليها من الحلوى للأطفال في عصرنا هذا.

 

*‌‌ ثالثاً: زواجها؛ بعد أن أمضت مع والدها خمساً وعشرين سنة في حدود عام 1370هـ تقريباً، زوّجها من ابن أخته علي بن وهف بن محمد رحمه الله، وكانت أمُّه مهرة بنت محمد بن جازعة عمة الوالدة، رحم الله الجميع رحمةً واسعة، وكانت الوالدة هي الزوجة الثانية للوالد رحمه الله، حيث كان قد تزوج قبلها بنت عمه صالحة بنت دغش بن محمد رحمة الله على الجميع، وختم لزوجة أبي صالحة بخير.

وبقيت الوالدة لم تحمل عند الوالد علي بن وهف لمدة سنتين تقريباً، وكانت ترعى الأغنام عند زوجها: الوالد علي، كما كانت ترعاها عند والدها، فيسرحون بالأغنام من بيوت الشعر إلى الجبال والأودية بعد ارتفاع الشمس، وبعد ما يحلبون الأغنام، ويُرضعون البهم ((صغار الأغنام))، ثم يعودون قبل غروب الشمس، ويسمّونه الرّواح، فيقولون: راحت الأغنام إذا وصلت البيوت بعد الرعي مساءً، ويقولون: سرحت
মরুবাসীদের জীবনযাত্রার সেই কঠিন সময়ে, তার পিতা চিলটির বিরুদ্ধে দুআ করে বললেন: ((হে আল্লাহ! যদি এর মৃত্যু আকাশে নির্ধারিত থাকে তবে তা এর উপর অবতীর্ণ করুন, আর যদি জমিনে থাকে তবে তা এর কাছে পাঠিয়ে দিন)), অথবা তিনি তার দুআয় যেমনটি বলেছিলেন (রাহিমাহুল্লাহ)। তৎক্ষণাৎ চিলটি সেই পশমের তাঁবুর কাছে এসে পড়ল যেখানে তারা সেই সময় বসবাস করত। দেখা গেল সেটি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তারা লক্ষ্য করল যে, একটি বাজপাখি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এমন এক আঘাত হেনেছে যা তাকে শেষ করে দিয়েছে; আর এটি হয়েছিল সেই গোশতের টুকরোটির কারণে যা তার সাথে ছিল। এটি ছিল সেই ছোট্ট মেয়েটির পিতার দুআর প্রতি উত্তর, যার হাত থেকে চিলটি গোশতের টুকরোটি কেড়ে নিয়েছিল। আর সেই গোশতের টুকরোটি ছিল তার নিকট অতি মূল্যবান এবং বর্তমান যুগের শিশুদের কাছে মিষ্টির চেয়েও অধিক প্রিয়।

 

*‌‌ তৃতীয়ত: তাঁর বিবাহ; পিতার সাথে প্রায় পঁচিশ বছর অতিবাহিত করার পর আনুমানিক ১৩৭০ হিজরীর দিকে, তিনি তাঁকে তাঁর ভাগ্নে আলী বিন ওয়াহাফ বিন মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে বিবাহ দেন। তাঁর (আলী বিন ওয়াহাফের) মাতা ছিলেন মাহরাহ বিনতে মুহাম্মাদ বিন জাযিআহ, যিনি ছিলেন মাতার ফুফু। আল্লাহ সবার ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন। মাতা ছিলেন পিতার দ্বিতীয় স্ত্রী, যেহেতু তিনি এর আগে তাঁর চাচাতো বোন সালিহাহ বিনতে দাগাশ বিন মুহাম্মাদকে বিবাহ করেছিলেন—আল্লাহ সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি পিতার স্ত্রী সালিহার জন্য কল্যাণকর পরিসমাপ্তির ব্যবস্থা করেছিলেন।

মাতা প্রায় দুই বছর যাবৎ পিতা আলী বিন ওয়াহাফের গৃহে গর্ভধারণ করেননি। তিনি তাঁর স্বামী আলীর নিকটও বকরি চরাতেন, যেমনটি তিনি তাঁর পিতার নিকট চরাতেন। সূর্য ওঠার পর, বকরি দোহন এবং শাবকদের (বকরির ছানা) দুধ খাওয়ানোর কাজ শেষ করে তারা পশমের তাঁবু থেকে বকরিগুলো নিয়ে পাহাড় ও উপত্যকার দিকে বের হয়ে যেতেন। এরপর তারা সূর্যাস্তের পূর্বে ফিরে আসতেন, যাকে তারা 'রাওয়াহ' বলতেন। সন্ধ্যায় চারণভূমি থেকে বকরিগুলো ঘরে ফিরলে তারা বলতেন: 'বকরিগুলো ফিরে এসেছে' (রাহাতিল আগনাম)। আর তারা 'সারাহাত' বলতেন যখন (সকালে চারণভূমির উদ্দেশ্যে বের হতো)...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إذا ذهبت صباحاً.

 

*‌‌ رابعاً: بعد سنتين من زواجها تقريباً حملت بابنها الأكبر، وهو بكرها: سعيد، كاتب هذه الأسطر: عفا الله عني، وتجاوز، وغفر، وعن والدتي الغالية، ووالدي العزيز، وعن ذريتهما، وجميع المؤمنين المخلصين.

وكانت ولادتها ببكرها سعيد في شهر الفطر 25/ 10/ عام 1372 تقريباً، كما أخبرتني الوالدة رحمها الله، وكانت حالة الوضع صعبة جداً، فقد أخبرتني الوالدة رحمها الله أنها سرحت بالأغنام في ذلك اليوم من شهر الفطر من ذلك العام، وكان الوقت صيفاً، وفي حرٍّ شديد، فكانت تُطْلَقُ طلقاً شديداً في الرّمضاء الحارّة الشديدة في منتصف النهار، فدخلت رحمها الله تحت سدرة تستظلّ، ويسمّون السّدْر ((العِلْب))، فوضعت تحت شجرة السدرة وقت الظهر تقريباً، وهي عند الأغنام، وليس معها أحد إلا الله عز وجل، وقد جَهَّزَت سكّيناً معها؛ لتقطع السرَّ للمولود، وفعلاً قطعت السرّ، وقد كانت بكراً لا تُحسن القطع للسرِّ رحمها الله، فلم تربط السرّ، بل قطعته، وتركته ينزف دماً، وحملت الطفل الغالي عندها جداً، بعد أن لَفَّته في خرقة، وقامت تسوق الغنم حتى وصلت بيت الشعر قبل غروب الشمس، وعندما رأتها عمّتها أخت أبيها، وهي أمُّ زوجها، مهرة بنت محمد بن جازعة استقبلتها، ودعت لها وبرّكت، وهالها ما رأت من الدماء المتدفّقة من سرِّ المولود، فما كان من عمّتها مهرة إلا أن ربطت السرّ، فوقفت الدماء، وقد كاد الطفل أن يموت لولا رحمة الله تعالى، وأنه تعالى جعل جدتي مهرة المذكورة سبباً في حياة الطفل، رحمها الله، وقد كانت جدتي
যদি আপনি সকালে যান।

 

*‌‌ চতুর্থত: তাঁর বিবাহের প্রায় দুই বছর পর তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রকে গর্ভে ধারণ করেন, যে তাঁর প্রথম সন্তান: সাঈদ, এই পংক্তিগুলোর লেখক। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ত্রুটিগুলো মার্জনা করুন এবং আমাকে, আমার প্রিয়তমা জননীকে, আমার শ্রদ্ধেয় পিতাকে, তাঁদের বংশধরদের এবং সকল নিষ্ঠাবান মুমিনদের মাফ করে দিন।

আমার মা (রাহিমাহাল্লাহ) আমাকে যেমনটি জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রথম সন্তান সাঈদের জন্ম হয়েছিল আনুমানিক ১৩৭২ হিজরি সালের ২৫শে শাওয়াল। প্রসবের সময়টি ছিল অত্যন্ত সংকটময়। জননী (রাহিমাহাল্লাহ) আমাকে জানিয়েছিলেন যে, সেই বছরের শাওয়াল মাসের সেই দিনটিতে তিনি ছাগল চড়াতে গিয়েছিলেন। সময়টি ছিল গ্রীষ্মকাল এবং প্রচণ্ড উত্তাপ। ভরদুপুরে তপ্ত মরু-বালুকার উপরে তাঁর তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়। তখন তিনি (রাহিমাহাল্লাহ) ছায়া নেওয়ার জন্য একটি সিদর (কুল) গাছের নিচে আশ্রয় নেন—তারা সিদর গাছকে 'আল-ইলব' বলে থাকে। যোহরের সময় নাগাদ তিনি সেই সিদর গাছের নিচেই সন্তান প্রসব করেন। তখন তিনি বকরিদের মাঝে ছিলেন এবং মহান আল্লাহ ছাড়া তাঁর সাথে আর কেউ ছিল না। তিনি নবজাতকের নাড়ি কাটার জন্য নিজের সাথে একটি ছুরি প্রস্তুত রেখেছিলেন। তিনি সত্যিই নাড়িটি কেটেছিলেন, কিন্তু তিনি (রাহিমাহাল্লাহ) প্রথমবার মা হওয়ায় নাড়ি কাটার কাজে দক্ষ ছিলেন না। ফলে তিনি নাড়িটি বাঁধেননি, বরং কেবল কেটে রক্তক্ষরণরত অবস্থায় রেখে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় সন্তানকে একটি ন্যাকড়ায় জড়িয়ে নিলেন এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বকরিগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে পশমি তাঁবুতে পৌঁছালেন। যখন তাঁর ফুফু (পিতার বোন), যিনি তাঁর শাশুড়িও ছিলেন—মোহরা বিনতে মুহাম্মদ বিন জাযিআহ—তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং তাঁর জন্য দুআ ও বরকত প্রার্থনা করলেন। কিন্তু নবজাতকের নাড়ি থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। অতঃপর তাঁর ফুফু মোহরা দ্রুত নাড়িটি বেঁধে দিলেন, ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলো। আল্লাহর রহমত না থাকলে শিশুটি প্রায় মারাই যেত; মহান আল্লাহ আমার উক্ত দাদী মোহরাকে শিশুটির জীবন রক্ষার উসিলা বানিয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন। আমার দাদী ছিলেন
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
مهرة من الذاكرات الله كثيراً، وخاصة في آخر حياتها، ومما سمعته من ذكرها في طفولتي: أنها كانت تستغفر الله كثيراً، وتسبّح، وتهلِّل، وتكبّر، ومن ذلك أنها كانت تقول: ((أستغفر الله ألفاً في ألف، عدد حروف القرآن حرفاً حرفاً، والملائكة تكتب، والله يعفو … ))، وكنت أسمع دويَّ صوتها بالذكر في غرفتها كدويّ صوت النحل، وكانت إذا شربت لبناً أو حليباً قالت بعد الشرب: ((الحمد لله الذي أخرجه لي من بين فرثٍ ودمٍ))، أو: ((الحمد لله الذي سقاني هذا من بين فرثٍ ودمٍ)).

وقد كانت لا تقرأ ولا تكتب، ولكن دعاءها هذا مقتبس من قول الله تعالى: (وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُسْقِيكُمْ مِمَّا فِي بُطُونِهِ مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَناً خَالِصاً سَائِغاً لِلشَّارِبِينَ) (1)، وقوله تعالى: (وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُسْقِيكُمْ مِمَّا فِي بُطُونِهَا وَلَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ) (2).

وكان مكان حادثة الولادة المذكورة -كما أخبرتني الوالدة رحمها الله، وكما أخبرتني أمي من الرضاعة زوجة أبي صالحة بنت دغش أحسن الله لنا ولها الخاتمة - في جبال السّود شرق وادي العلوبي أسفل العرين، في ظهر جبال السّود، في شِعبٍ يُقال له شوحطة، وَسَيْلُه يقع في وادي الإسلي، ووادي الإسلي في الجهة الغربية الجنوبية لوادي الأمواه، وسيل الإسلي يقع في وادي العَوَص غرب الأمواه، وسيل وادي العَوَص يقع في تثليث.

--------------------------------------------

(1) سورة النحل، الآية: 66.

(2) سورة المؤمنون، الآية: 21.
মাহরাহ আল্লাহর অধিক জিকিরকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বিশেষ করে তার জীবনের শেষ ভাগে। আমার শৈশবে তার জিকির সম্পর্কে যা শুনেছি তার মধ্যে ছিল: তিনি আল্লাহর নিকট অনেক বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতেন, তাসবিহ পাঠ করতেন, তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতেন। এর মধ্যে একটি ছিল এই যে, তিনি বলতেন: "আমি আল্লাহর নিকট হাজার গুণ হাজার বার ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কুরআনের প্রতিটি অক্ষরের সংখ্যা অনুপাতে, যখন ফেরেশতারা তা লিখছেন এবং আল্লাহ ক্ষমা করছেন ..."। আমি তার কক্ষ থেকে তার জিকিরের আওয়াজ মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শুনতে পেতাম। তিনি যখন দুগ্ধ বা দুধ পান করতেন, তখন পানের পর বলতেন: "সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে এটি আমার জন্য বের করেছেন", অথবা: "সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে আমাকে এটি পান করিয়েছেন"।

তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না, কিন্তু তার এই দোয়া আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে উদ্ধৃত: (আর তোমাদের জন্য গবাদি পশুর মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে; তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে আমি তোমাদের পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু) (১), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তোমাদের জন্য গবাদি পশুর মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে; তাদের উদরে যা আছে তা থেকে আমি তোমাদের পান করাই এবং তোমাদের জন্য তাতে অনেক উপকারিতা রয়েছে এবং তা থেকে তোমরা আহার করো) (২)।

উল্লিখিত জন্মের স্থানটি ছিল—যেমনটি আমার মা (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) আমাকে জানিয়েছেন এবং যেমনটি আমার দুধমাতা তথা আমার পিতার স্ত্রী সালিহা বিনতে দাগাশ (আল্লাহ আমাদের ও তার পরিণাম ভালো করুন) আমাকে জানিয়েছেন—আল-আরিনের নিচে ওয়াদি আল-আলুবির পূর্বে জিবাল আস-সুদ-এ, জিবাল আস-সুদ-এর উপরিভাগে, 'শুহাতাহ' নামক এক উপত্যকায়। এর প্রবাহ (বৃষ্টির পানি) ওয়াদি আল-ইসলি-তে গিয়ে পড়ে, আর ওয়াদি আল-ইসলি হলো ওয়াদি আল-আমওয়াহ-এর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। আল-ইসলি-র প্রবাহ ওয়াদি আল-আওয়াস-এ পড়ে যা আল-আমওয়াহ-এর পশ্চিমে অবস্থিত, আর ওয়াদি আল-আওয়াস-এর প্রবাহ তাসলিথ-এ গিয়ে মিলিত হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬৬।

(২) সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ২১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
واستمرَّت الوالدة مع الوالد، ومع أمي من الرضاعة زوجة أبي صالحة، ومع عمتها أخت أبيها أم زوجها مهرة، يتنقَّلون من شِعبٍ إلى شِعبٍ يتتبعون مواقع القطر، وشعف الجبال بأغنامهم، وكانوا يحملون الماء على الحمير في القِرَب، وربما حملوها على الإبل، لكن الجمال في الغالب يحملون عليها الأثاث وبيوت الشَّعْر، ويركبون عليها، أما الماء فيحملونه على الحمير في الغالب.

ولم تحمل الوالدة بعد ولدها الأول إلا بعد سنتين تقريباً، ثم حملت بالأخ الشقيق حسين أبي عليّ، مؤذّن الجامع الكبير بطريب، ومغسِّل الأموات هناك، أمدَّ الله في عمره على طاعته، ووضعت حملها في أسفل وادي العلوبي، وهو وادٍ في أسفل وادي العرين، يبعد عنه ثلاثين كيلو تقريباً، وسيله يصبُّ في وادي عرقة، وسيل عرقة يصبُّ في وادي تثليث، وقد كان مكان ولادة الأخ حسين شمال شرق وادي العلوبي، في شِعبٍ يقال له كُرَيْشة، وبداية سيل شعب كريشة تبدأ من أعلى جبال السود، ونهايته تصبُّ في وادي عرقة، وهي معروفة الآن بعرقة آل سليمان.

وكان ذلك ليلاً، حين جاء الوالدة الطلقُ، فتركتني في وسط الغنم، وأمرت راعيةً عندنا أن تُشْغِلَني عنها ((والراعية هي رفعة بنت جبران بن محمد بن جازعة، وهي بنت عم الوالدة، وهي أم زوجتي أم عبد الرحمن))، فوضعت الوالدة في الجبل، وكان من عادة النساء إذا أردن الوضع أن تذهب إحداهن لأعلى الجبل، لتستتر عن الناس، وتبتعد عنهم حتى لا يسمعوا ما يحصل عند الوضع، والله أعلم.
মাতা তাঁর স্বামীর সাথে এবং আমার দুধমা—পিতার স্ত্রী সালিহার সাথে—এবং তাঁর ফুফু (পিতার বোন ও শাশুড়ি) মাহরার সাথে বসবাস করতে থাকেন। তাঁরা এক উপত্যকা থেকে অন্য উপত্যকায় বিচরণ করতেন এবং তাঁদের মেষপাল নিয়ে বৃষ্টির স্থানগুলো ও পাহাড়ের চূড়াগুলো অনুসরণ করতেন। তাঁরা চামড়ার মশকে করে গাধার পিঠে পানি বহন করতেন, কখনো কখনো উটের পিঠেও নিতেন। তবে উটগুলো সাধারণত আসবাবপত্র ও পশমের তৈরি তাঁবু বহন এবং আরোহণের কাজে ব্যবহৃত হতো। আর পানি সাধারণত গাধার পিঠেই বহন করা হতো।

প্রথম সন্তানের পর মাতা প্রায় দুই বছর পর্যন্ত আর গর্ভধারণ করেননি। এরপর তিনি সহোদর ভাই হুসাইন আবু আলীর গর্ভধারণ করেন, যিনি তারিবের বড় মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং সেখানকার মৃতদেহ গোসল করানোর দায়িত্বে ছিলেন—আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন। মাতা তাঁকে ‘ওয়াদি আল-আলুবি’র নিম্নভাগে জন্ম দেন, যা ‘ওয়াদি আল-আরিন’-এর নিম্নভাগের একটি উপত্যকা এবং সেখান থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর প্রবাহ ‘ওয়াদি আরকা’তে গিয়ে পড়ে এবং আরকার প্রবাহ ‘ওয়াদি তাছলিছ’-এ গিয়ে মিলিত হয়। ভাই হুসাইনের জন্মস্থান ছিল ওয়াদি আল-আলুবির উত্তর-পূর্ব দিকে ‘কুরাইশা’ নামক একটি উপত্যকায়। কুরাইশা উপত্যকার প্রবাহের শুরু সুূদ পাহাড়ের উপরিভাগ থেকে এবং এর শেষ সীমানা ওয়াদি আরকায় গিয়ে মিশেছে, যা বর্তমানে ‘আরকা আল সুলায়মান’ নামে পরিচিত।

ঘটনাটি ছিল রাতের বেলা, যখন মাতার প্রসব বেদনা শুরু হয়। তখন তিনি আমাকে মেষপালের মধ্যে রেখে যান এবং আমাদের এক রাখাল নারীকে নির্দেশ দেন যেন সে আমাকে ব্যস্ত রাখে (সেই রাখাল নারী ছিলেন রিফআ বিনতে জুবরান বিন মুহাম্মাদ বিন জাযআহ, তিনি মাতার চাচাতো বোন এবং আমার স্ত্রী উম্মু আবদির রহমানের মা)। অতঃপর মাতা পাহাড়ের ওপর সন্তান প্রসব করেন। তখনকার নারীদের অভ্যাস ছিল যে, যখন তাঁদের প্রসবের সময় হতো, তখন তাঁদের কেউ পাহাড়ের উঁচুতে চলে যেতেন যেন মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে থাকা যায় এবং তাঁদের থেকে দূরে থাকা যায় যাতে প্রসবকালীন কোনো আওয়াজ কেউ শুনতে না পায়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وكان ذلك الزمن يُعرَف بخريف كويع، وهو سيل شديد قلع الأشجار، وأهلك كثيراً من الناس، وحصل به دمار عظيم، ومات فيه خلق كثير، منهم رجل يقال له: كويع، فأرّخوا به هذه الحادثة، وهو عام 1375هـ.

ثم لم تحمل الوالدة بعد الأخ حسين مدة ست سنين تقريباً، واستمرّوا على ما هم عليه من رعي الأغنام، والتنقلات من مكان إلى مكان على حسب الأمطار، ومواقع القطر، وشعف الجبال، والأودية، والشعاب.

وفي عام 1382هـ وضعت الوالدة الأخ الشقيق الدكتور سعداً أبا عبد العزيز، الأستاذ المشارك بجامعة الملك سعود، أمدَّ الله في عمره على طاعته.

وكنت على علمٍ بما يحدث، وكانت الولادة آنذاك في شعبٍ يقال له قرضة، في حدباء يُقال لها: البيضاء، وشِعب قرضة وحدباء البيضاء بداية سيلهما من جبال السود جنوب شعب شوحطة الذي وُلِدْتُ فيه، فإذا ذهب الذاهب إلى جبال السود من أعلى قرضة، وتجاوز الجبل، وقع في شعب شوحطة.

وشعب قرضة مع حدباء البيضاء يقع سيلهما في وادي العلوبي الذي سبق ذكره.

وفي يومٍ من الأيام من عام 1382هـ وَلَدت أمي رحمها الله الأخ سعداً داخل بيت الشَّعْر، وليس معها أحدٌ إلاّ الله تعالى، وأظن أن الأغنام كانت محيطة بها في ذلك البيت، وأظن أن ذلك كان وقت العصر،
সেই সময়টি কুওয়াই-এর শরৎ হিসেবে পরিচিত ছিল, যা ছিল একটি প্রবল প্লাবন যা গাছপালা উপড়ে ফেলেছিল এবং অনেক মানুষকে ধ্বংস করেছিল। এর মাধ্যমে এক মহাবিপর্যয় সাধিত হয়েছিল এবং সেখানে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল, যাদের মধ্যে কুওয়াই নামক এক ব্যক্তিও ছিল। ফলে তারা এই ঘটনার ইতিহাস সেই ব্যক্তির নামে নামকরণ করেছিল, আর সেটি ছিল ১৩৭৫ হিজরি সাল।

অতঃপর ভাই হুসাইনের পর মাতা প্রায় ছয় বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ করেননি। তারা তাদের মেষ চরানো এবং বৃষ্টিপাত, বৃষ্টির স্থান, পাহাড়ের চূড়া, উপত্যকা ও গিরিপথ অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবর জীবনের ওপরই অবিচল ছিলেন।

১৩৮২ হিজরি সালে মাতা আমার সহোদর ভাই ডক্টর সা'দ আবু আব্দুল আজিজকে জন্ম দেন, যিনি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক; আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁর জীবনকে দীর্ঘায়িত করুন।

যা কিছু ঘটছিল সে সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম। সেই সময় জন্ম হয়েছিল 'ক্বরদাহ' নামক এক গিরিখাতে, 'আল-বায়দা' নামক এক মালভূমিতে। ক্বরদাহ গিরিখাত এবং আল-বায়দা মালভূমির প্রবাহের শুরু ছিল 'সুদ' পাহাড় থেকে, যা 'শুহাত্বাহ' গিরিখাতের দক্ষিণে অবস্থিত যেখানে আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম। সুতরাং যদি কেউ ক্বরদাহর উপরিভাগ থেকে সুদ পাহাড়ের দিকে যায় এবং পাহাড়টি অতিক্রম করে, তবে সে শুহাত্বাহ গিরিখাতে গিয়ে পৌঁছাবে।

ক্বরদাহ গিরিখাত ও আল-বায়দা মালভূমির প্রবাহ পূর্বে উল্লেখিত 'আল-উলুবী' উপত্যকায় গিয়ে পতিত হয়।

১৩৮২ হিজরি সালের একদিন আমার মা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পশমের তাঁবুর ভেতরে ভাই সা'দকে জন্ম দেন। তখন মহান আল্লাহ ছাড়া তাঁর সাথে আর কেউ ছিল না। আমার ধারণা মেষগুলো সেই তাঁবুর চারপাশে তাঁকে ঘিরে ছিল এবং আমি মনে করি সেটি ছিল আসরের সময়।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن شدة التعب الذي حصل لها خرج الطفل أسود، والله المستعان.

ولكن أخبرني الأخ الشقيق حسين أنه كان عند الوالدة في ذلك اليوم، وكان في السابعة من عمره قال: ذهبتَ أنتَ يا أخي سعيد عند الغنم ترعاها في الجبال صباحاً، وبقيتُ أنا عند الوالدة في بيت الشعر، وفي الضحى أخرَجَتْني من البيت، فامتنعتُ، فأخذت ترميني بالحجارة حتى خرجتُ، وحينما كنتُ خارج البيت سمعتُ صوت الطفل يصرخ صُراخاً عظيماً، فجئتُ مسرعاً، وجاء الكلب من خارج البيت ينبح نُباحاً عظيماً لشدة صياح الصبي، وكاد الكلب أن يخطف الطفل من بين يدي الوالدة، فرمتْه رحمها الله بالتراب حتى خرج من البيت، ثم جئتَ أنت يا أخي سعيد بالأغنام وقت العصر.

وقد أخبرتني الوالدة رحمها الله أنها عندما وضعت الأخ سعداً، وسمع الأخ حسين صياح الطفل، ونباح الكلب، ورأى الكلب يقترب وينبح، فزع الأخ حسين فزعاً شديداً، وجاء إليها وقال: يا أمي لا تعطيهِ الكلب، وذكرت رحمها الله: أنها طلبت من الأخ حسين أن يعطيها السكين؛ لتقطع سرّ الطفل، ففزع وقال: يا أمي، لا تذبحيه، اتركيه معنا! فقالت له: لا، يا ولدي إنما أريد أن أقطع سرّه، فأعطاها السكين، فقطعت سرّه!.

وهذا يدلّ على أن الأخ حسين كان في سنِّ التمييز، ويدلّ على شدّة الحال، وعلى صبر الوالدة رحمها الله تعالى.

واستمرت الوالدة مع الوالد في رعي الأغنام، والانتقال من مكان
এবং তার যে তীব্র ক্লান্তি হয়েছিল, তার কারণে শিশুটি কৃষ্ণাঙ্গ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

কিন্তু সহোদর ভ্রাতা হুসাইন আমাকে জানিয়েছেন যে, সেদিন তিনি মাতার নিকটেই ছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল সাত বছর। তিনি বললেন: হে আমার ভ্রাতা সাঈদ, তুমি প্রাতঃকালে পাহাড়ে ছাগল চরাতে গিয়েছিলে, আর আমি পশমের তাঁবুতে মাতার নিকট অবস্থান করছিলাম। পূর্বাহ্ণে তিনি আমাকে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছিলেন, আমি অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে পাথর ছুড়ে মারতে শুরু করেন যতক্ষণ না আমি বের হলাম। আমি যখন ঘরের বাইরে ছিলাম, তখন শিশুর উচ্চৈঃস্বরে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম, তাই আমি দ্রুত ছুটে এলাম। তখন বাইরে থেকে একটি কুকুর এসে শিশুর তীব্র ক্রন্দনের কারণে প্রচণ্ডভাবে ঘেউ ঘেউ করছিল। কুকুরটি মাতার নিকট হতে শিশুটিকে প্রায় ছিনিয়ে নেওয়ার উপক্রম করেছিল। তখন মাতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সেটির দিকে মাটি নিক্ষেপ করলেন যতক্ষণ না সেটি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। অতঃপর অপরাহ্ণে হে আমার ভ্রাতা সাঈদ, তুমি মেষপাল নিয়ে ফিরে এলে।

মাতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমাকে জানিয়েছিলেন যে, যখন তিনি ভ্রাতা সা’দকে প্রসব করেন এবং ভ্রাতা হুসাইন শিশুর কান্না ও কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনতে পান এবং দেখেন যে কুকুরটি নিকটে এসে ঘেউ ঘেউ করছে, তখন ভ্রাতা হুসাইন অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর নিকট এসে বললেন: হে আম্মা, একে কুকুরের নিকট দেবেন না। মাতা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হুসাইনের নিকট একটি ছুরি চেয়েছিলেন শিশুর নাভি কাটার জন্য; তখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে বললেন: হে আম্মা, একে জবাই করবেন না, একে আমাদের সাথেই থাকতে দিন! তখন তিনি তাকে বললেন: না হে বৎস, আমি তো কেবল ওর নাভি কাটতে চাচ্ছি। অতঃপর তিনি তাঁকে ছুরি দিলেন এবং তিনি ওর নাভি কর্তন করলেন।

এটি প্রমাণ করে যে, ভ্রাতা হুসাইন তখন বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন বয়সে (তাময়িজ) পদার্পণ করেছিলেন, এবং এটি পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও মাতার (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) ধৈর্যের পরিচায়ক।

মাতা পিতার সাথে মেষপাল চড়ানো এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের কাজে অব্যাহত থাকলেন...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
إلى مكان.

 

*‌‌ خامساً: في عام 1384 أو 1385هـ تقريباً حصل الوالد على قطعة أرض زراعية في وادي الغرس، وهو وادٍ في أعلى وادي العرين، في شعب يقال له البقلة، فحفر هناك بئراً، وغرس نخلاً، وفي هذا الزمن حملت الوالدة بالأخ هادي أبي سعد، أمدَّ الله في عمره على طاعته، ووَضَعَتْه في عام 1386هـ تقريباً، وأذكر أن حالة الوضع كانت وهي عند والدها سعيد بن محمد بن جازعة المذكور، وعند والدتها نورة بنت حسن، وكانت جدتي نورة من النساء الصالحات، الذاكرات لله تعالى، رحم الله الجميع.

وبعد إنجاب الأخ هادي استمرت الوالدة مع الوالد في حياة قرويّةٍ جديدة، في قرية البقلة بالغرس، وشاركت الوالدة الوالد علي بن وهف في بناء قصر من الطين، واستمرّت الوالدة تزرع في هذه المزرعة: البر، والشعير، والذرة، والطماطم، أما أمِّي من الرضاعة زوجة أبي صالحة بنت دغش فبقيت في البادية عند أغنامها وأغنام الوالد أحياناً.

 

*‌‌ سادساً: في عام 1400هـ انتقلت الوالدة نشطا رحمها الله إلى الرياض معي أنا ولدها: سعيد، وانتقل معها الأخ هادي، وقبله الأخ سعد، وبقي الوالد في مزرعةٍ له أخرى في وادي العلوبي المذكور آنفاً يسكن فيها، ويخدم أمَّه: مهرة بنت محمد بن جازعة، حيث بلغت من الكِبَرِ عتِيّاً، فكان الوالد لا يفارقها أبداً، ولا يسافر مطلقاً، بل رابط عندها عدد سنين، وجعل نفسه لها مقام الخادمة في كل شيء، حتى اشتهر بذلك بين الناس في برِّ أمه، فلا
একটি স্থানে।

 

*‌‌ পঞ্চম: প্রায় ১৩৮৪ বা ১৩৮৫ হিজরি সালে পিতা ওয়াদি আল-গারসে এক খণ্ড কৃষিজমি লাভ করেন, যা ওয়াদি আল-আরিনের উপরিভাগের একটি উপত্যকা, আল-বাকলা নামক একটি গিরিপথে অবস্থিত। সেখানে তিনি একটি কূপ খনন করেন এবং খেজুর গাছ রোপণ করেন। এই সময়ে মাতা ভাই হাদি আবু সা’দকে গর্ভে ধারণ করেন, আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন, এবং প্রায় ১৩৮৬ হিজরি সালে তাঁকে প্রসব করেন। আমার মনে পড়ে যে, প্রসবের সময় তিনি তাঁর পিতা উল্লিখিত সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন জাযিআহ-এর নিকট ছিলেন এবং তাঁর মা নূরা বিনতে হাসানের নিকট। আমার নানী নূরা ছিলেন নেককার এবং আল্লাহ তাআলার যিকিরকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ সকলের প্রতি রহম করুন।

ভাই হাদির জন্মের পর, মাতা পিতার সাথে গারসের বাকলা গ্রামে এক নতুন গ্রাম্য জীবন অতিবাহিত করতে থাকেন। মাতা আমার পিতা আলি বিন ওয়াহাফের সাথে মাটির একটি ঘর নির্মাণে অংশগ্রহণ করেন এবং মাতা এই খামারে গম, যব, ভুট্টা ও টমেটো চাষ অব্যাহত রাখেন। পক্ষান্তরে আমার দুধমা, অর্থাৎ পিতার স্ত্রী সালিহা বিনতে দাগাশ মরুভূমিতে তাঁর এবং মাঝেমধ্যে পিতার ছাগলপালের কাছে অবস্থান করতেন।

 

*‌‌ ষষ্ঠ: ১৪০০ হিজরি সালে মাতা নাশতা (রহিমাহাল্লাহ) তাঁর সন্তান আমার সাথে অর্থাৎ সাঈদের সাথে রিয়াদে চলে আসেন। তাঁর সাথে ভাই হাদি এবং তার আগে ভাই সা’দ চলে আসেন। আর পিতা তাঁর পূর্বে উল্লেখিত ওয়াদি আল-আলুবির অন্য একটি খামারে থেকে যান, সেখানে বসবাস করেন এবং তাঁর মা মাহরা বিনতে মুহাম্মদ বিন জাযিআহ-এর সেবা করতেন। যেহেতু তিনি বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছেছিলেন, তাই পিতা কখনোই তাঁকে ছেড়ে যেতেন না এবং কক্ষনো সফর করতেন না। বরং তিনি বহু বছর তাঁর কাছেই অবস্থান করেন এবং সব বিষয়ে নিজেকে তাঁর সেবকের স্থানে নিয়োজিত করেন, এমনকি মায়ের প্রতি এই সদাচরণের কারণে তিনি মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন, ফলে...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
يرون أن أحداً منهم يبلغ منزلته في خدمة أمِّه وبرِّها، وكان يسرُّه أن يخدمها سروراً كثيراً، وآثر خدمتها، ولم يرغب أن يخدمها غيره، لا خادمة ولا غيرها، حتى ماتت في الشهر السادس من عام 1406 هـ عن عمر يقارب 150 مائة وخمسين سنة كما يذكر أخوها جدي لأمي سعيد بن محمد بن جازعة الذي توفي عام 1419هـ، وهو ممن بايع الملك عبد العزيز رحمه الله بعد عام 1319هـ، فقد ذكر: أنه أصغر من أخته مهرة، وقال: عمرها 150 سنة تقريباً، وقال: ((بايعت الملك عبد العزيز رحمه الله وأنا قد تزوّجت ثم طلّقت، وقد بلغت من العمر خمسين سنة تقريباً))، وقد مات رحمه الله عن عمر يقارب مائة وعشرين سنة تقريباً.

وبعد أن ماتت أمُّ الوالد علي رحمه الله، صار يتنقَّل بين الرياض وبين مزرعته المذكورة، وكان رجلاً صالحاً، من الذاكرين الله تعالى، ومن ذلك أنه كان يستيقظ آخر الليل، ويصلي، ويذكر الله إلى طلوع الفجر، وكان من ذكره قبل الفجر: أنه كان يقول: ((لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد، وهو على كل شيء قدير)) مائة مرة كل يوم قبل الفجر، وقد قال له بعض أبنائه: ((ألا تجعل هذا التهليل بعد طلوع الفجر؟))، فردَّ عليه قائلاً: يا ولدي أخاف أن أنشغل عنه، وكان يقول في هذا الوقت: ((سبحان الله وبحمده، سبحان الله العظيم)) مائة مرة، ويقول: ((سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم)).

وقد كان رحمه الله أُمّيّاً لا يقرأ، ولا يكتب، ولكنه يحفظ من القرآن ما تصحُّ به صلاته، وبعض قصار السور، والحمد لله. ثم منَّ الله تعالى عليه بعد السبعين من عمره، فدرس في مدرسة مكافحة الأمية الليلية
তারা মনে করেন যে, তাদের মাঝে কেউই তার মায়ের সেবা এবং তার প্রতি সদাচরণের ক্ষেত্রে তার স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে মায়ের সেবা করতে পেরে আনন্দিত হতেন এবং মায়ের সেবাকেই অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি চাইতেন না যে তার পরিবর্তে অন্য কেউ তার মায়ের সেবা করুক, কোনো পরিচারিকা বা অন্য কেউ নয়। শেষ পর্যন্ত ১৪০৬ হিজরি সনের ষষ্ঠ মাসে প্রায় ১৫০ (একশ পঞ্চাশ) বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন, যেমনটি তার ভাই—আমার মাতামহ সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন জাযআহ উল্লেখ করেছেন, যিনি ১৪১৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ১৩১৯ হিজরির পর বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার বোন মাহরার চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন এবং বলেছেন: তার বয়স ছিল প্রায় ১৫০ বছর। তিনি আরও বলেছেন: "আমি যখন বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাতে বায়আত হই, তখন আমি বিবাহ করেছি এবং পুনরায় তালাকও দিয়েছি, আর আমার বয়স তখন প্রায় পঞ্চাশ বছর হয়েছিল।" তিনি (সাঈদ) প্রায় একশ বিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

পিতা আলী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাতা ইন্তেকাল করার পর তিনি রিয়াদ এবং তার উল্লেখিত খামারের মধ্যে যাতায়াত করতেন। তিনি একজন নেককার মানুষ ছিলেন এবং আল্লাহ তাআলাকে অধিক স্মরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এর অংশ হিসেবে তিনি শেষ রাতে জাগ্রত হতেন, সালাত আদায় করতেন এবং ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করতেন। ফজর হওয়ার আগে তার জিকিরের মধ্যে ছিল: তিনি প্রতিদিন ফজরের আগে একশ বার বলতেন, "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসা তারই, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।" তার সন্তানদের কেউ কেউ তাকে বলেছিলেন: "আপনি কি এই তাহলীল (জিকির) ফজর উদয় হওয়ার পরে করতে পারেন না?" উত্তরে তিনি বলেছিলেন: হে বৎস, আমি আশঙ্কা করি যে আমি এটি থেকে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। তিনি এই সময়ে একশ বার বলতেন: "আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তার, মহান আল্লাহ অতি পবিত্র।" আরও বলতেন: "আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে মহান এবং সুউচ্চ মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।"

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নিরক্ষর ছিলেন, পড়তে বা লিখতে পারতেন না; তবে আল-হামদুলিল্লাহ, তিনি কুরআনের ততটুকু মুখস্থ রেখেছিলেন যা দিয়ে তার সালাত শুদ্ধ হয় এবং কিছু ছোট সূরা। এরপর সত্তর বছর বয়সের পর আল্লাহ তাআলা তার ওপর অনুগ্রহ করেন, ফলে তিনি বয়স্ক শিক্ষা নৈশ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بالعلوبي، لمدة سنة تقريباً، وذلك عام 1405هـ تقريباً، فحفظ أكثر سوَر جزء عمّ يتساءلون تلقيناً من بعض المدرسين في هذه المدرسة، وكنت أسمعه كثيراً يكرر في قراءته عن ظهر قلب من سورة الأعلى إلى سورة الناس، وخاصّةً في خَلَواتِهِ، أو إذا كان جالساً في المسجد، وأحياناً يطلب من بعض أولاده، أو أحفاده: أن يسمِّعوا له ما يحفظ؛ ليثبِّت حفظه، رحمه الله تعالى.

وكان يحفظ مختصراً للأصول الثلاثة، فإذا قلنا له: من ربك؟ قال: ربي الله الذي رباني وربَّى جميع العالمين بنعمه، وهو معبودي، ليس لي معبود سواه.

وإذا قلنا: ما دينك؟ قال: ديني الإسلام: وهو الاستسلام لله بالتوحيد، والانقياد له بالطاعة، والبراءة من الشرك وأهله.

وإذا قلنا له: من نبيك؟ قال: نبيي محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم، وهاشم من قريش، وقريش من العرب، والعرب من ذرية إسماعيل بن إبراهيم عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة، وأتمُّ التسليم، نُبّئ بـ (اقرأ)، وأُرسل بـ (المدثر)، وبلده مكة، وهاجر إلى المدينة، وبها توفي، لا خير إلا دلّ أمّته عليه، ولا شرَّ إلا حذّرها منه، من أطاعه دخل الجنة، ومن عصاه دخل النار.

وكان بعد أن توفيت والدته يعتمر كل سنة في رمضان، إلا سنة واحدة - على ما أظن -، وآخر حجّة حجّها عام 1416هـ، ثم رجع إلى مزرعته، وتوفي رحمه الله بسبب حادث مروري وهو يقود سيارته في
আল-আলুবী-তে, প্রায় এক বছর যাবত, আর এটি ছিল আনুমানিক ১৪০৫ হিজরি সালের দিকে। তিনি এই মাদ্রাসার কিছু শিক্ষকের নিকট থেকে শুনে শুনে জুয আম্মার অধিকাংশ সূরা মুখস্থ করেন। আমি তাঁকে অনেক সময় সূরা আল-আলা থেকে সূরা আন-নাস পর্যন্ত মুখস্থ তিলাওয়াত পুনরাবৃত্তি করতে শুনতাম, বিশেষ করে তাঁর নির্জন মুহূর্তে অথবা তিনি যখন মসজিদে বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে তিনি তাঁর কোনো সন্তান বা নাতিদের নিকট যা মুখস্থ করেছেন তা পড়ে শোনানোর জন্য বলতেন, যাতে তাঁর মুখস্থ বিষয়গুলো দৃঢ় হয়; আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

তিনি আল-উসুলুস সালাসাহ-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ মুখস্থ রাখতেন। আমরা যখন তাঁকে বলতাম: 'আপনার রব কে?' তিনি বলতেন: 'আমার রব হচ্ছেন আল্লাহ, যিনি আমাকে এবং সমস্ত জগতবাসীকে তাঁর নিয়ামতসমূহ দিয়ে লালন-পালন করেছেন। তিনি আমার একমাত্র মাবুদ, তিনি ব্যতীত আমার আর কোনো মাবুদ নেই।'

আমরা যখন বলতাম: 'আপনার দ্বীন কী?' তিনি বলতেন: 'আমার দ্বীন হলো ইসলাম; আর তা হলো তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগত হওয়া এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা।'

আমরা যখন তাঁকে বলতাম: 'আপনার নবী কে?' তিনি বলতেন: 'আমার নবী মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম। আর হাশিম কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত, কুরাইশরা আরবদের অন্তর্ভুক্ত এবং আরবরা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধর—তাঁদের উভয়ের উপর এবং আমাদের নবীর উপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক। তাঁকে 'ইকরা' এর মাধ্যমে নবুওয়াত দান করা হয়েছে এবং 'আল-মুদ্দাসসির' এর মাধ্যমে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁর শহর হলো মক্কা, তিনি মদীনায় হিজরত করেছেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন। এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি তাঁর উম্মতকে বাতলে দেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।'

তাঁর মাতা ইন্তেকাল করার পর তিনি প্রতি বছর রমজান মাসে উমরাহ পালন করতেন, মাত্র এক বছর বাদে—আমার মনে হয়—এবং তাঁর শেষ হজ ছিল ১৪১৬ হিজরি সালে। এরপর তিনি তাঁর খামারে ফিরে আসেন এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, এক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন যখন তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
سوق المضه على طريق الرياض، في يوم السبت 27/ 3/ 1417هـ عن ثلاث وثمانين سنة تقريباً؛ لأنه أخبرني رحمه الله أن والده وهف رحمه الله حضر فتح أبها حينما فتحها الملك عبد العزيز رحمه الله بقيادة ابنه الملك فيصل، وكان ذلك عام 1342هـ تقريباً، وكانوا يقولون: ضربة أبها، أي: فتح أبها، ويذكرون أن الجيش اجتمع في حِجلى بين مدينة أبها وخميس مشيط.

قال الوالد رحمه الله: ((رجع إلينا والدي وهف رحمه الله من ضربة أبها فأصابه مرض الجدري، وأصابني، فمات، وشفاني الله، وعمري ثمان سنوات تقريباً)). فعلى هذا يكون ميلاد الوالد علي بن وهف رحمه الله عام 1334هـ تقريباً.

وكانت نعمةً من الله تعالى عليَّ حينما انتقلتِ الوالدةُ معي في مدينة الرياض؛ لِما رأيتُ من دينها، وخلقها الكريم، ومساعدتها لي، بالقول، والفعل، والرأي.

وبَقيتْ تصنع لي الطعام من وقت انتقالها إليَّ لمدة ثلاث سنوات، فقد عشت أعزباً إلى شهر شوال عام 1402هـ، حيث تزوجت بعد ذلك بأم عبد الرحمن في ذلك الشهر.

 

*‌‌ سابعاً: كانت الوالدة تشتاق إلى تعلُّم القرآن الكريم بعد انتقالها إلى الرياض، ولكنها أميّة لا تقرأ، ولا تكتب، وكانت تحفظ ما تصحُّ به صلاتها، ولله الحمد: الفاتحة، وتحفظ من قصار السور ما تيسّر، وتعرضها عليَّ، وهي معذورة في تأخّرها في تعلّم القرآن إلى هذه السن المتأخرة
রিয়াদ রোডের আল-মাজাহ বাজার, শনিবার ২৭/০৩/১৪১৭ হিজরি তারিখে আনুমানিক তিরাশি বছর বয়সে [তিনি ইন্তেকাল করেন]; কারণ তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তাঁর পিতা ওয়াহফ (রহিমাহুল্লাহ) আভা বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন যখন বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পুত্র বাদশাহ ফয়সালের নেতৃত্বে তা বিজয় করেন। সেটি ছিল আনুমানিক ১৩৪২ হিজরি সাল। তাঁরা একে 'আভা অভিযান' অর্থাৎ আভা বিজয় বলতেন এবং তাঁরা উল্লেখ করতেন যে, আভা শহর ও খামিস মুশাইতের মধ্যবর্তী হিজলা নামক স্থানে সেনাবাহিনী একত্রিত হয়েছিল।

পিতা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমার পিতা ওয়াহফ (রহিমাহুল্লাহ) আভা অভিযান থেকে আমাদের কাছে ফিরে আসার পর গুটিবসন্তে আক্রান্ত হন এবং আমিও আক্রান্ত হই। তিনি মৃত্যুবরণ করেন আর আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেন; তখন আমার বয়স ছিল প্রায় আট বছর।" সেই অনুযায়ী পিতা আলী বিন ওয়াহফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম আনুমানিক ১৩৩৪ হিজরি সালে।

মাতা যখন আমার সাথে রিয়াদ শহরে স্থানান্তরিত হলেন তখন সেটি আমার ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত ছিল; কারণ আমি তাঁর দ্বীনদারী, মহৎ চরিত্র এবং কথা, কাজ ও সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছি।

আমার কাছে আসার পর থেকে তিন বছর পর্যন্ত তিনি আমার জন্য খাবার তৈরি করতেন। আমি ১৪০২ হিজরি সালের শাওয়াল মাস পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলাম, এরপর সেই মাসে আমি উম্মু আবদুর রহমানকে বিবাহ করি।

 

*‌‌ সপ্তম: রিয়াদে আসার পর মা পবিত্র কুরআন শেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, কিন্তু তিনি নিরক্ষর ছিলেন, পড়তে বা লিখতে পারতেন না। আলহামদুলিল্লাহ, তাঁর সালাত শুদ্ধ হওয়ার মতো সূরা তাঁর মুখস্থ ছিল: সূরা ফাতিহা এবং ছোট সূরাগুলোর মধ্যে যা সহজ ছিল তা তিনি মুখস্থ রাখতেন এবং আমাকে শুনাতেন। এই বৃদ্ধ বয়সে কুরআন শেখায় বিলম্বের ক্ষেত্রে তিনি ওজরগ্রস্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
رحمها الله؛ لأنها كانت في مجتمعٍ أمّيٍّ في البادية، لا يعرفون القراءة، ولا الكتابة. وفي عام 1403هـ طلبت منّي أن أعلمها القراءة؛ لكي تقرأ القرآن، فبدأتْ تتعلّمُ في ذلك الوقت الأحرفَ الهجائية، وكانت تتعلّم معها زوجتي أمُّ عبد الرحمن، وكانت في الرابعة عشرة من عمرها، فكانت الوالدة رحمها الله تداعبني وتقول: ((أنت تهتم بالطالبة الصغيرة أكثر من اهتمامك بالطالبة الكبيرة))، وقد استفادت هذه المداعبة من ابنها الثالث الأخ سعد، حيث كان يداعبها عن طريق الهاتف من ألمانيا، أو من بريطانيا؛ لأنه تنقّل بين هاتين الدولتين، حيث كان في دورة هناك، فكان يقول لها: هل الأخ سعيد يهتمّ بالطالبة الصغيرة أكثر من الطالبة الكبيرة؟ فأعجبها ذلك، وصارت تداعبني بذلك رحمها الله.

 

*‌‌ ثامناً: بعد أن تعلّمتِ الوالدة الأحرف الهجائية قراءةً وكتابةً، بدأت تَتَهَجَّى القرآن الكريم، وتطلب من يتابع لها القراءة في المصحف.

ثم يسّر الله تعالى مدرسةً لتحفيظ القرآن في إسكان أفراد القوات المسلحة، حيث كنت إماماً وخطيباً لجامع هذا الإسكان، فسجّلت الوالدة في هذه المدرسة النسائية، وبدأت تحفظ القرآن الكريم بعد الستين من عمرها.

وفي عام 1412هـ حصلت على شهادة لحفظ جزأين من القرآن الكريم.

وفي 25/ 10/1413هـ حصلت على شهادة تفوّق في حفظ ثلاثة أجزاء بتقدير ممتاز، وذلك في تمام السابعة والستين من عمرها رحمها الله.

وفي 29/ 7/1417هـ حصلت على شهادة تفوّق في حفظ أربعة
আল্লাহ তাকে রহম করুন; কারণ তিনি মরুভূমির এক নিরক্ষর সমাজে ছিলেন, যেখানে তারা পড়তে বা লিখতে জানত না। ১৪০৩ হিজরি সালে তিনি আমাকে তাকে পড়া শেখানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি কুরআন পড়তে পারেন। তখন তিনি বর্ণমালা শিখতে শুরু করেন এবং তার সাথে আমার স্ত্রী উম্মে আব্দুর রহমানও শিখতেন, যাঁর বয়স তখন ছিল চৌদ্দ বছর। মা (আল্লাহ তাকে রহম করুন) আমার সাথে রসিকতা করে বলতেন: "তুমি বড় ছাত্রীর চেয়ে ছোট ছাত্রীর প্রতি বেশি মনোযোগ দিচ্ছ।" এই রসিকতাটি তিনি তার তৃতীয় পুত্র ভাই সা'দের কাছ থেকে পেয়েছিলেন, যিনি জার্মানি অথবা ব্রিটেন থেকে ফোনের মাধ্যমে তার সাথে রসিকতা করতেন; কারণ তিনি সেখানে একটি কোর্সে থাকার কারণে ওই দুই দেশের মাঝে যাতায়াত করতেন। তিনি তাকে বলতেন: ভাই সাঈদ কি বড় ছাত্রীর চেয়ে ছোট ছাত্রীর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? বিষয়টি তাকে আনন্দিত করত এবং তিনি এটা নিয়ে আমার সাথে রসিকতা করতেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন)।

 

*‌‌ অষ্টম: মা যখন পড়া ও লেখার বর্ণমালা শিখে নিলেন, তখন তিনি পবিত্র কুরআন বানান করে পড়তে শুরু করলেন এবং মুসহাফ দেখে তার পড়া অনুসরণ করে দেওয়ার জন্য কাউকে অনুরোধ করতেন।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা সশস্ত্র বাহিনীর আবাসন এলাকায় একটি হিফযুল কুরআন মাদরাসা সহজ করে দিলেন, যেখানে আমি সেই আবাসনের জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলাম। ফলে মা এই মহিলা মাদরাসায় ভর্তি হলেন এবং ষাট বছর বয়সের পর পবিত্র কুরআন মুখস্থ করতে শুরু করলেন।

১৪১২ হিজরি সালে তিনি পবিত্র কুরআনের দুই পারা মুখস্থ করার সনদ লাভ করেন।

২৫/১০/১৪১৩ হিজরি তারিখে তিনি সাতষট্টি বছর পূর্ণ বয়সে 'মুমতায' মানসহ তিন পারা মুখস্থ করার শ্রেষ্ঠত্বের সনদ অর্জন করেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন)।

২৯/০৭/১৪১৭ হিজরি তারিখে তিনি চার পারা মুখস্থ করার শ্রেষ্ঠত্বের সনদ অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أجزاء بتقدير ممتاز.

وفي عام 1418هـ حفظت خمسة أجزاء، وحصلت على شهادة بتقدير ممتاز.

وفي عام 1423هـ تقريباً كمَّلت حفظ ثمانية أجزاء من سورة (يس) إلى سورة (الناس)،وذلك في تمام الثامنة والسبعين من عمرها، وكانت تراجع ما حفظت كثيراً خشية النسيان؛ لكبر سنها رحمها الله تعالى.

وقد وجدنا عندها بعد موتها رحمها الله ثلاث عشرة شهادة في القرآن، ما بين شهادة تفوّق، ودورة، ومسابقة، وكلها في الأجزاء الثمانية المذكورة، وكلها ما بين عام 1412هـ إلى قبيل عام 1423هـ، وهذا يدلّ على حرصها رحمها الله تعالى، وغفر لها.

 

*‌‌ تاسعاً: صلاتها: كانت تحافظ على الصلوات الخمس في أوقاتها في أول الوقت ولله الحمد، وتَنْهَى عن تأخيرها عن وقتها.

*‌‌ عاشراً: نوافل الصلاة: كانت رحمها الله تحافظ على كثير من النوافل، ومنها:

صلاة الليل في السحر، فكانت تستيقظ قبل صلاة الفجر بساعة كاملة، ثم تتوضأ وتصلّي، وتدعو، وتذكر الله حتى يؤذّن مؤذّن الفجر، فإذا أذّن الفجر صلت سُنّة الفجر، ثم بعد ذلك تصلّي الفريضة إذا تأكدت من طلوع الفجر، ثم تبدأ بأذكار أدبار الصلاة، وأذكار الصباح، ثم تقرأ ما تيسّر مراجعته مما تحفظ من القرآن.

كانت تحافظ على سنة الوضوء، فإذا توضأت في أي وقت من ليلٍ أو
চমৎকার গ্রেডসহ পারাগুলো।

এবং ১৪১৮ হিজরীতে তিনি পাঁচ পারা মুখস্থ করেন এবং চমৎকার (মুমতাজ) গ্রেডসহ একটি সনদ লাভ করেন।

এবং প্রায় ১৪২৩ হিজরীতে তিনি সূরা (ইয়াসিন) থেকে সূরা (আন-নাস) পর্যন্ত মোট আট পারা মুখস্থ সম্পন্ন করেন, আর তখন তাঁর বয়স ছিল পূর্ণ আটাত্তর বছর। বার্ধক্যের কারণে ভুলে যাওয়ার ভয়ে তিনি তাঁর মুখস্থ অংশগুলো অনেক বেশি পুনরাবৃত্তি করতেন; আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহমত দান করুন।

তাঁর মৃত্যুর পর—আল্লাহ তাঁকে রহমত দান করুন—আমরা তাঁর কাছে কুরআনের তেরটি সনদ পাই, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের সনদ, কোর্স এবং প্রতিযোগিতার সনদ ছিল। এর সবগুলোই ছিল উল্লিখিত আট পারার ওপর এবং এগুলোর সময়কাল ছিল ১৪১২ হিজরী থেকে ১৪২৩ হিজরীর ঠিক পূর্ব পর্যন্ত। এটি তাঁর একাগ্রতার প্রমাণ দেয়, আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহমত করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।

 

*‌‌ নবম: তাঁর সালাত: আলহামদুলিল্লাহ, তিনি ওয়াক্তের শুরুতেই নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন এবং সালাত নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে আদায় করতে নিষেধ করতেন।

*‌‌ দশম: নফল সালাত: আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন, তিনি অনেক নফল ইবাদত নিয়মিত পালন করতেন, যার মধ্যে রয়েছে:

শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সালাত; তিনি ফজরের সালাতের পূর্ণ এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে জাগতেন, এরপর অজু করে সালাত আদায় করতেন, দোয়া করতেন এবং ফজরের মুয়াজ্জিন আজান দেওয়া পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করতেন। যখন ফজরের আজান হতো, তখন তিনি ফজরের সুন্নাত সালাত আদায় করতেন। এরপর ফজর উদিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ফরজ সালাত আদায় করতেন। অতঃপর সালাত পরবর্তী জিকিরসমূহ ও সকালের জিকিরসমূহ শুরু করতেন এবং এরপর কুরআন থেকে মুখস্থ করা অংশগুলো যতটুকু সহজ হয় তিলাওয়াত করতেন।

তিনি অজুর সুন্নাত পালনে সচেষ্ট ছিলেন; ফলে রাত বা দিনের যেকোনো সময় অজু করলে তিনি...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
نهارٍ صلّت ركعتين.

كانت تحافظ على ركعتي الضحى إذا اشتدّ النهار ضحىً.

 

*‌‌ الحادي عشر: صيامها: كانت رحمها الله تصوم رمضان، وتُتبعه ستاً من شوال كل سنة، وكانت تصوم ما تيسّر لها من صيام التطوع: كيوم عرفة، فلا تترك صيامه أبداً إن لم تكن في الحج، وصيام يوم عاشوراء مع يومٍ قبله أو يومٍ بعده، وكانت تصوم ما تيسّر لها من عشر ذي الحجة، وما تيسّر من أيام الشهور الأخرى، رحمها الله.

*‌‌ الثاني عشر: ذكرها لله تعالى: كانت رحمها الله تذكر الله كثيراً: وتدعو دعاء الصباح والمساء، وخاصة سيّد الاستغفار، وقد كانت تقول: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير مائة مرة، في اليوم، وغير ذلك من الأذكار والدعوات التي تذكر الله بها رحمها الله.

وكانت تكثر من قول: سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

وكانت إذا صلت الفجر، وأدّت أذكار أدبار الصلاة، وأذكار الصباح، قرأت من القرآن مما تحفظ، مراجِعةً ما تيسّر لها.

وكانت تستمع إلى إذاعة القرآن الكريم كثيراً، وتحبّ الاستماع لبرنامج ((نور على الدرب))، وقد استفادت من هذه الإذاعة، ومن هذا البرنامج كثيراً ولله الحمد، وكانت تنقل بعض ما تسمع من الفوائد
দিনের বেলায় তিনি দুই রাকাত (সালাত) আদায় করতেন।

যখন দিনের তাপ বৃদ্ধি পেত অর্থাৎ চাশতের সময় হতো, তখন তিনি নিয়মিত দুই রাকাত চাশতের সালাত আদায় করার প্রতি যত্নবান হতেন।

 

*‌‌ একাদশ: তাঁর রোজা: আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি রমজানের রোজা রাখতেন এবং প্রতি বছর তার সাথে শাওয়ালের ছয়টি রোজা পালন করতেন। এছাড়া তিনি সাধ্যানুযায়ী নফল রোজা পালন করতেন: যেমন আরাফার দিনের রোজা—হজে না থাকলে তিনি কখনোই এই রোজা ত্যাগ করতেন না; এবং আশুরার রোজা এর আগের একদিন বা পরের একদিনসহ পালন করতেন। আর তিনি জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের যতটুকু সম্ভব রোজা রাখতেন এবং অন্যান্য মাসের দিনগুলোতেও সাধ্যমতো রোজা রাখতেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন।

*‌‌ দ্বাদশ: মহান আল্লাহর জিকির: আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি প্রচুর পরিমাণে আল্লাহর জিকির করতেন: সকাল ও সন্ধ্যার দোয়াগুলো পাঠ করতেন এবং বিশেষভাবে সাইয়িদুল ইস্তিগফার পাঠ করতেন। তিনি প্রতিদিন একশ বার বলতেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" এছাড়াও আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আরও বিভিন্ন জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ করতেন।

তিনি অধিক পরিমাণে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলতেন।

তিনি যখন ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং সালাত পরবর্তী জিকির ও সকালের জিকিরসমূহ সম্পন্ন করতেন, তখন নিজের মুখস্থ অংশ থেকে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতেন এবং যতটুকু সম্ভব তা পুনরাবৃত্তি করতেন।

তিনি অধিক পরিমাণে 'রেডিও কুরআনুল কারীম' শুনতেন এবং 'নূরুন আলাদ দরব' অনুষ্ঠানটি শুনতে পছন্দ করতেন। তিনি এই রেডিও এবং এই অনুষ্ঠান থেকে অনেক উপকৃত হয়েছিলেন, আল্লাহর শুকরিয়া। আর তিনি যা শুনতেন তা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়গুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
لغيرها من النساء والمحارم، وتفيدهم بذلك، جزاها الله خيراً، وغفر لها.

 

*‌‌ الثالث عشر: حجّها: حجّت حجّة الإسلام عام 1398هـ بمرافقة الوالد علي بن وهف رحمهما الله، والأخ حسين، وبعض أولادها.

وحجّت عام 1403 بمرافقة الأخ هادي، وأم عبد الرحمن، وبعض محارمها.

ثم حجّت عام 1408هـ، بمرافقة بعض أولادها، والابن عبد الرحمن، والابن عبد العزيز، وهم صغار، ومعهم الأسرة، وأم عبد الرحمن، وأم عبد العزيز، وبعض محارمها.

ثم حجّت عام 1416هـ بمرافقة الوالد علي بن وهف رحمهما الله، وأم عبد الكريم، وبعض محارمها.

ولا أذكر، فربما حجّت ما بين 1398 هـ إلى عام 1416هـ حجّة، لكني أُنسيت فلا أدري؟

وحصل موقف عظيم في حجّها عام 1416هـ، فقد أُصيبت قبل الحج بمرض في الرُّكَبِ، واحتكاكٍ في عظام الرُّكب، وكانت تتلقّى العلاج الطبيعي في المستشفى العسكري، واستمرّ معها الاحتكاك حتى نهاية الحج، وفي أيام التشريق كانت تنزل مع درج جمرة العقبة ترمي الجمار، ثم تُجهد نفسها مع الوالد علي بن وهف رحمهما الله في صعود هذا الدرج العالي، ولم تنتهِ أيام التشريق إلا وقد شُفيت تماماً من هذا الاحتكاك في الرُّكب إلى أن تُوفيّت رحمها الله تعالى، فقد أعطاها الله العافية في رُكَبها مدّةَ اثنتي
অন্যান্য নারী এবং মাহরামদের জন্য এবং তিনি তাদের এর মাধ্যমে উপকৃত করতেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাকে ক্ষমা করুন।

 

*‌‌ ত্রয়োদশ: তার হজ্জ: তিনি ১৩৯৮ হিজরি সালে পিতা আলী বিন ওয়াহাফ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন), ভাই হুসাইন এবং তার কিছু সন্তানের সাথে হজ্জাতুল ইসলাম (ফরজ হজ্জ) পালন করেন।

এবং তিনি ১৪০৩ হিজরিতে ভাই হাদি, উম্মে আবদুর রহমান এবং তার কিছু মাহরামের সাথে হজ্জ পালন করেন।

অতঃপর তিনি ১৪০৮ হিজরিতে তার কিছু সন্তান, পুত্র আবদুর রহমান এবং পুত্র আবদুল আজিজ—যখন তারা ছোট ছিলেন—তাদের পরিবার, উম্মে আবদুর রহমান, উম্মে আবদুল আজিজ এবং তার কিছু মাহরামের সাথে হজ্জ পালন করেন।

এরপর তিনি ১৪১৬ হিজরিতে পিতা আলী বিন ওয়াহাফ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন), উম্মে আবদুল কারিম এবং তার কিছু মাহরামের সাথে হজ্জ পালন করেন।

আমার মনে পড়ছে না, সম্ভবত ১৩৯৮ হিজরি থেকে ১৪১৬ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে তিনি আরও একবার হজ্জ করেছিলেন, কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি তাই আমি জানি না?

১৪১৬ হিজরির হজ্জে এক মহান ঘটনা ঘটেছিল; হজ্জের আগে তিনি হাঁটুতে রোগ এবং হাঁটুর হাড়ের ঘর্ষণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি সামরিক হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি নিচ্ছিলেন এবং হজ্জের শেষ পর্যন্ত এই ঘর্ষণ তার সাথে ছিল। আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে তিনি জামরাতুল আকাবার সিঁড়ি দিয়ে নামতেন কঙ্কর নিক্ষেপ করার জন্য, এরপর পিতা আলী বিন ওয়াহাফের (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) সাথে অনেক কষ্ট করে এই উঁচু সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেন। আইয়ামে তাশরিক শেষ হতে না হতেই তিনি হাঁটুর এই ঘর্ষণ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান, যা তার মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল—আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন। আল্লাহ তাকে বারো...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
عشرة سنة حتى تُوفيّت، وهذا ببركة الطاعة لله تعالى، وقبل ذلك بفضل الله (. حيث كان هذا الصعود لهذا الدرج العالي من أسباب شفائها العاجل الدائم.

 

*‌‌ الرابع عشر: عُمَرُها: اعتمرت كثيراً رحمها الله تعالى، ومن هذه العمر أربع عُمَرٍ مع حجاتها الأربع، وكانت تعتمر كثيراً، ولكن الذي أذكر من عمرها أنها كانت تعتمر كلَّ رمضان لمدة سِتٍّ وعشرين سنة مع محارمها، من عام 1400هـ إلى رمضان عام 1426هـ.

ثم بدأ معها المرض في بداية عام 1427هـ، فلم تعتمر بعد ذلك. وكانت تعتمر في الإجازات: إجازات الربيع والصيف، لكني لا أدري كم عددها، تقبَّل الله منها، ولا تسافر رحمها الله إلا مع محرم للحج والعمرة أو غيرها، وكانت تنهى النساء عن السفر بدون محرم رحمها الله تعالى.

 

*‌‌ الخامس عشر: صدقاتها، وكرمها: كانت رحمها الله كريمةً كرماً ظاهراً، لا تكنز ككنز العجائز، فقد تصدّقت بكلّ ما تملك في حال صحتها ولله الحمد، وأرجو الله أن تدخل في قول النبي صلى الله عليه وسلم حينما سُئل: أي الصدقة أعظم أجراً؟ قال: ((أن تصدَّق وأنت صحيح شحيح، تخشى الفقر وتأمل الغنى، ولا تُمهل حتى إذا بلغت الحلقوم قلت: لفلانٍ كذا، ولفلانٍ كذا، وقد كان لفلان)) متفق على صحته، ومن ذلك ما يأتي:

1 - قد يسّر الله تعالى لذرّية الوالد علي بن وهف رحمه الله أن يتنازلوا
দশ বছর যাবত তিনি বেঁচে ছিলেন মৃত্যু অবধি, আর এটি মহান আল্লাহর আনুগত্যের বরকতে এবং তার পূর্বে আল্লাহর অনুগ্রহে সম্ভব হয়েছিল। এই উচ্চ সিঁড়িতে আরোহণ করাই ছিল তাঁর দ্রুত ও স্থায়ী আরোগ্যের অন্যতম কারণ।

 

*‌‌ চতুর্দশ: তাঁর উমরাহসমূহ: আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন, তিনি বহুবার উমরাহ করেছেন। এসব উমরাহর মধ্যে তাঁর চারটি হজের সাথে চারটি উমরাহ ছিল। তিনি অনেক উমরাহ করতেন। তবে তাঁর উমরাহসমূহের ব্যাপারে আমার যা মনে পড়ে তা হলো, তিনি ১৪০০ হিজরি থেকে ১৪২৬ হিজরির রমজান পর্যন্ত দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর ধরে তাঁর মাহরামদের সাথে প্রত্যেক রমজানে উমরাহ পালন করতেন।

এরপর ১৪২৭ হিজরির শুরুতে তাঁর অসুস্থতা শুরু হয়, ফলে এরপর তিনি আর উমরাহ করতে পারেননি। তিনি ছুটির দিনগুলোতেও উমরাহ করতেন: যেমন বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে, তবে সেগুলোর সংখ্যা আমার জানা নেই। আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন, তিনি হজ, উমরাহ বা অন্য কোনো সফরের উদ্দেশ্যে মাহরাম ছাড়া ভ্রমণ করতেন না। আর আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি নারীদের মাহরাম ছাড়া সফর করতে নিষেধ করতেন।

 

*‌‌ পঞ্চদশ: তাঁর দান-সদকা ও মহানুভবতা: আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন, তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। তিনি সাধারণ বৃদ্ধাদের মতো সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখতেন না। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি সুস্থ অবস্থায় তাঁর মালিকানাধীন সব কিছু দান করে দিয়েছিলেন। আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সেই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেন, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন সদকায় সওয়াব বেশি? তিনি বলেছিলেন: ((তুমি যখন সুস্থ ও সম্পদের প্রতি লালায়িত থাকো, দারিদ্র্যের ভয় করো এবং সচ্ছলতার আশা রাখো—এমতাবস্থায় দান করা। আর তুমি দানকে এতটা বিলম্ব করবে না যে, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে তখন বলবে: অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু, অথচ তা তো অমুকের হয়েই গেছে)) এটি বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্যপূর্ণ (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। তাঁর দান-সদকার মধ্যে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

১ - মহান আল্লাহ পিতা আলী বিন ওয়াহফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর সন্তানদের জন্য সহজ করে দিয়েছিলেন যে, তারা যেন ত্যাগ করে...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عن إرثهم منه، ويتصدّقوا به في بناء مسجدٍ على نيةِ والدهم رحمه الله تعالى في المنطقة الجنوبية في مركز طريب - مخطط الدخل المحدود- بجوار المحكمة العامة هناك، جزاهم الله خيراً، وأصلحهم، وعندما علِمَت الوالدة بذلك كانت تشارك في هذا المسجد، فمرةً تعطي ألفي ريال، وتقول للمشرف على البناء من محارمها: خذ هذا مكان مصلٍّ، ومرة تقول: خذ هذا مكان مصلٍ أو مُصَلِّيين صدقة عن أمّي، ومرةً صدقة عن أبي، ومرةً صدقة عن نفسها، حتى كان جميع ما شاركت به في هذا المسجد أربعين ألف ريال، من آخرها جميع المكيّفات للتبريد من صدقاتها إلا قليلاً، وكانت تأمر من يأخذ المشاركة منها بعدم الإخبار، ولم يخبر المشرف على بناء هذا المسجد بما فعلت إلا بعد موتها رحمها الله، وتقَبَّل منها، وعفا عن المشرف بإخباره عن هذا السرِّ بعد موتها.

2 - قبل موتها رحمها الله تعالى بسنة تقريباً جمعت ما عندها من ذهب ونقود، وكان ذلك بعد رمضان عام 1427هـ، وسلَّمت هذا المبلغ لبعض أولادها، فكان جميع ثمن الذهب وما معه: ستة عشر ألفاً وخمسمائة ريال 16500، وقالت: تصدّق به حيث شئتَ؛ لأنها تعلم رحمها الله أن أولادها كلهم أغنياء، وليسوا بحاجة إلى شيء من المال، فجعل ولدها بأمرها هذا المال مشاركةً في مسجد عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه في المنطقة الجنوبية في مخطط الدخل المحدود في طريب على بُعد خمسمائة متر شمالاً من مسجد علي بن وهف رحمه الله المذكور آنفاً، واستلمه المقاول في يوم 25/ 10/1427هـ، وكانت تقول لمن تعطيه
তাদের উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে, এবং তারা তাদের পিতার নিয়তে একটি মসজিদ নির্মাণে তা সদকা করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। মসজিদটি দক্ষিণ অঞ্চলের তারীব সেন্টারে - আদ-দাখল আল-মাহদুদ প্রকল্পে - সেখানকার জেনারেল কোর্টের পাশে অবস্থিত। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের সংশোধন করুন। যখন মা এটি জানতে পারলেন, তখন তিনি এই মসজিদে অংশগ্রহণ করতে লাগলেন। কখনো তিনি দুই হাজার রিয়াল দিতেন এবং তাঁর মাহরামদের মধ্য থেকে নির্মাণ তদারককারীকে বলতেন: "এটি একজন নামাজির জায়গার জন্য গ্রহণ করুন।" আবার কখনো বলতেন: "এটি আমার মায়ের পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে একজন বা দুজন নামাজির জায়গার জন্য গ্রহণ করুন।" কখনো তাঁর পিতার পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে, আবার কখনো নিজের পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে দিতেন। এভাবে এই মসজিদে তাঁর মোট অংশগ্রহণের পরিমাণ দাঁড়ায় চল্লিশ হাজার রিয়াল। এর শেষ দিকের অনুদান ছিল শীতলীকরণের জন্য ব্যবহৃত সবকটি এসি, যা সামান্য কিছু বাদে সবই ছিল তাঁর দান। যারা তাঁর পক্ষ থেকে এই অনুদান গ্রহণ করত, তিনি তাদের কাউকে না জানানোর নির্দেশ দিতেন। এই মসজিদ নির্মাণের তদারককারী ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর আগে এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানাননি। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর তাঁর মৃত্যুর পর এই গোপন বিষয়টি প্রকাশ করার কারণে তদারককারীকে আল্লাহ ক্ষমা করুন।

২ - তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক বছর আগে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি তাঁর কাছে থাকা সমস্ত স্বর্ণ ও নগদ অর্থ একত্রিত করেন। এটি ছিল ১৪২৭ হিজরি সালের রমজানের পরের ঘটনা। তিনি এই অর্থ তাঁর সন্তানদের কয়েকজনের হাতে তুলে দেন। স্বর্ণের মূল্য এবং তৎসংশ্লিষ্ট অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ষোলো হাজার পাঁচশত (১৬,৫০০) রিয়াল। তিনি বললেন: "তুমি যেখানে ইচ্ছা এটি সদকা করে দাও।" কারণ তিনি জানতেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—যে তাঁর সকল সন্তানই সচ্ছল এবং তাদের এই অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই। অতঃপর তাঁর সন্তান তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী এই অর্থ দক্ষিণ অঞ্চলের তারীবের আদ-দাখল আল-মাহদুদ প্রকল্পে অবস্থিত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদে অংশগ্রহণের জন্য প্রদান করেন, যা পূর্বে উল্লিখিত আলী বিন ওয়াহফ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মসজিদ থেকে উত্তর দিকে পাঁচশ মিটার দূরে অবস্থিত। ঠিকাদার এটি ২৫/১০/১৪২৭ হিজরি তারিখে গ্রহণ করেন। তিনি যাকে এই অর্থ দিতেন তাকে বলতেন
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الصَّدَقَةَ من أولادها: لا تخبر أحداً بهذا، ولكنه جزاه الله خيراً حفظ سرّها حتى ماتت، وأُمنت فتنة الرياء في حقها رحمها الله تعالى، وعفا عن ولدها، فقد أخبر بسرّها بعد موتها رجاء نشر محاسنها؛ للدعاء لها؛ وللاقتداء بها في النفقة، والكرم، والرغبة فيما عند الله تعالى والدار الآخرة.

وكانت لا دخلَ لها، ولا مرتَّب، إلا ما يُهدَى لها من أولادها، فقد كانوا بارِّين بها جزاهم الله خيراً، وكانت تتصدَّق بكل ما يأتيها رغبةً فيما عند الله تعالى، حتى الشؤون الاجتماعية وافقت بعض أولادها على إيقافه؛ لأنه كان من الزكاة، كما أخبر بذلك وكيل وزارة الشؤون الاجتماعية، فقال: ((ما يُصرف من الشؤون الاجتماعية للمحتاجين سنوياً هو من الزكاة))، فعند ذلك أوقفت هذا الدخل، وأغناها الله عنه، والحمد لله.

3 - لم تترك شيئاً من مالها بعد موتها، وإنما تصدّقتْ به كله، ولم نجد ريالاً واحداً، ولا قرشاً بعدها، وهذا خلاف ما عليه العجائز الكبيرات في الغالب، وحُبّهن للكنز، حتى أن بعض العجائز توجد المبالغ الكبيرة تحت مخداتِهِنَّ عند موتهن، ولم يكن شيء من ذلك للوالدة رحمها الله تعالى.

4 - ومن كرمها وجودها رحمها الله: أنها كانت تُعِينُ أولادها على الزواج بما تملك، فأعانت أولادها الأربعة، وكل واحد تعطيه وقت زواجه ما تملك من مال، وكانت تعدل بينهم رحمها الله تعالى.
সন্তানদের পক্ষ থেকে সদকা: "কাউকে এ বিষয়ে কিছু বলবেন না।" তবে তিনি—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—তার মৃত্যু পর্যন্ত সেই গোপন কথাটি রক্ষা করেছিলেন। ফলে তার ক্ষেত্রে লোকদেখানোর (রিয়া) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা গেল, আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন। আর তিনি (আল্লাহ) তার পুত্রকে ক্ষমা করুন; কেননা সে তার মৃত্যুর পর তার সেই গোপন বিষয়টি প্রকাশ করেছে তার গুণাবলি প্রচারের আশায়, তার জন্য দুআ কামনায় এবং দান-সদকা, উদারতা ও আল্লাহ তাআলা ও পরকালের কাছে যা রয়েছে তাতে অনুরাগের ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে।

তার নিজস্ব কোনো আয় বা বেতন ছিল না, কেবল তার সন্তানরা তাকে যা উপহার দিত তা ছাড়া। সন্তানরা তার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিল, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাআলার কাছে যা রয়েছে তার আশায় তার কাছে যা আসত তার সবই তিনি সদকা করে দিতেন। এমনকি সামাজিক কল্যাণ ভাতাও তিনি তার সন্তানদের কারো কারো সম্মতিতে বন্ধ করে দিয়েছিলেন; কারণ এটি ছিল জাকাতের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "অভাবীদের জন্য সামাজিক কল্যাণ খাত থেকে বার্ষিক যা প্রদান করা হয় তা জাকাত থেকে দেওয়া হয়।" এরপর তিনি এই আয় বন্ধ করে দেন এবং আল্লাহ তাকে এর থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেন, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

৩ - মৃত্যুর পর তিনি তার সম্পদের কিছুই রেখে যাননি, বরং তার পুরোটাই সদকা করে দিয়েছিলেন। আমরা তার চলে যাওয়ার পর একটি রিয়াল বা একটি পয়সাও খুঁজে পাইনি। এটি সাধারণত বৃদ্ধা নারীদের সাধারণ স্বভাবের বিপরীত, যাদের সম্পদ জমানোর প্রতি মোহ থাকে; এমনকি কোনো কোনো বৃদ্ধার মৃত্যুর সময় তাদের বালিশের নিচে বড় অংকের অর্থ পাওয়া যায়। কিন্তু মহীয়সী মায়ের ক্ষেত্রে এর কিছুই ছিল না, আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন।

৪ - তার উদারতা ও মহানুভবতার একটি দিক ছিল—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—যে তিনি তার সন্তানদের বিয়েতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করতেন। তিনি তার চার সন্তানকে সাহায্য করেছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের বিয়ের সময় নিজের কাছে থাকা সম্পদ থেকে দান করতেন। তিনি সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা করতেন, আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
5 - في سنةٍ من السنين احتاج بعض الناس العاملين في المملكة من خارجها، لمبلغٍ من المال، ولم يجد من يُقرضه، وكان بحاجة شديدة جداً، فبلغها ذلك، فأرسلت أحد أولادها بمبلغ خمسمائة (500) ريال، وقالت: أعطه هذا المبلغ صدقةً، ولا تخبر أحداً.

6 - أخبرني ابن أخيها: محمد بن علي بن سعيد بن جازعة: أنها سافرت معه من الرياض إلى المنطقة الجنوبية، فكانت تُلْزِمه في الطريق بأن تدفع هي ثمن البنزين عند المحطات، فتعطيه ابن أخيها المذكور ليدفعه عنها لصاحب المحطة، وكذلك كانت تقوم بإعطاء ثمن بعض ما يحتاجونه في الطريق، من باب المشاركة في نفقة السفر، رحمها الله تعالى.

7 - كانت تكرم نساء أولادها عندما تضع الواحدة مِنْهُنَّ، فتقدِّم لها خدمةً خاصةً من صنع الأطعمة المناسبة لهُنَّ، وتُقدِّم لهُنَّ الهدايا الخاصة، ولأولادهِنَّ الصغار، وأذكر أنها هي القابلة للابن عبد الرحمن بن سعيد: ابن ابنها عند وِلَادته في البيت رحمه الله في 27/ 11/ 1403هـ، فقامت بما تحتاجه المرأة عند وِلَادَتِها، فقطعت سرّه، وربطته، وعملت الإسعافات الأوَّلية التي تحتاجها المرأة، والطفل المولود الجديد.

ثم تكرَّرَ هذا لها مع الابن عبد الرحيم بن سعيد رحمه الله عام 1410هـ، وفعلت معه ومع أُمِّه ما فعلته عند وِلادة شقيقه عبد الرحمن، رحم الله الجميع.

 

*‌‌ السادس عشر: أمرها بالمعروف ونهيها عن المنكر:
৫ - কোনো এক বছরে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা কর্মরত কিছু লোকের অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল। তারা কাউকেও খুঁজে পাচ্ছিল না যে তাদের ঋণ দেবে, অথচ তাদের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি যখন তিনি জানতে পারলেন, তখন তিনি তার এক সন্তানকে পাঁচশত (৫০০) রিয়াল দিয়ে পাঠালেন এবং বললেন: তাকে এই অর্থটি সদকা হিসেবে দিয়ে দাও এবং কাউকে কিছু জানাবে না।

৬ - তার ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন আলী বিন সাঈদ বিন জাযিআহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি তার সাথে রিয়াদ থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে সফর করেছিলেন। পথে তিনি তাকে বাধ্য করতেন যেন পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানির মূল্য তিনি নিজেই পরিশোধ করেন। তিনি তার উক্ত ভ্রাতুষ্পুত্রকে টাকা দিতেন যাতে তিনি তা পাম্পের মালিককে তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করেন। একইভাবে সফরের খরচে অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে পথে তাদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের মূল্যও তিনি পরিশোধ করতেন, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন।

৭ - তিনি তার পুত্রবধূদের অত্যন্ত সম্মান করতেন যখন তাদের কেউ সন্তান প্রসব করত। তিনি তাদের জন্য উপযুক্ত খাবার তৈরি করে বিশেষ সেবা প্রদান করতেন এবং তাদের ও তাদের ছোট সন্তানদের বিশেষ উপহার দিতেন। আমার মনে পড়ে, তিনি তার নাতি আবদুর রহমান বিন সাঈদের জন্মের সময় ধাত্রীর কাজ করেছিলেন যখন ২৭/১১/১৪০৩ হিজরী তারিখে বাড়িতে তার জন্ম হয়েছিল (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন)। সন্তান প্রসবের সময় একজন মহিলার যা যা প্রয়োজন হয় তিনি তার সবটুকুই করেছিলেন; তিনি নাভি কেটেছিলেন, তা বেঁধেছিলেন এবং মা ও নবজাতক শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছিলেন।

এরপর ১৪১০ হিজরীতে নাতি আবদুর রহীম বিন সাঈদের (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) ক্ষেত্রেও তিনি একই কাজ পুনরায় করেন। তিনি তার এবং তার মায়ের সাথে তেমনটিই করেছিলেন যা তার ভাই আবদুর রহমানের জন্মের সময় করেছিলেন, আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ ষোড়শ: তার সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ:
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كانت الوالدة رحمها الله تعالى تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر، ولا تسكت عن منكر محرم إلا نهت عنه، وكانت تستخدم حكمة القوة بالقول مع غير أولادها، أما مع أولادها فبالقول والفعل، وأذكر من ذلك ما يأتي:

1 - كانت تقول لأولادها في الصغر: اتقوا الله، الذي لا يصلي ويموت على ذلك يُدخله الله النار، أو كما قالت رحمها الله.

2 - وكان معها عصا صغيرة حينما كان أولادها صغاراً، وفي رأس هذه العصا سيرٌ ملفوف مربوط برأس العصا، يسمونها ((العَرَقَة))، تضرب بها أولادها عندما يحتاجون إلى تأديب.

3 - وأذكر أنها كانت توقظ أولادها الصغار لصلاة الفجر قبل بلوغهم، وبعده كذلك، وإذا تأخروا عن الاستيقاظ تأتي إليهم المرة الثانية بماءٍ باردٍ في إناء، ثم تدفق هذا الماء البارد على وجوههم بقوة، فما يكون من أحدهم إلا أن يقوم فوراً فزعاً خائفاً مما حصل له، ثم يتوضأ ويذهب إلى المسجد بعد هذا الأدب القوي الحكيم، وكانت قوية في شخصيتها، فلا يستطيع أحد من أولادها أن يراجعها، أو يتردَّدَ في امتثال أمرها؛ لقوتها في الحق، وشجاعتها رحمها الله.

4 - كانت تأمر بعض محارمها بإعفاء اللحية، وتقبِّح وتنفِّر من حلقها، ومن إسبال الثياب، وتقول: ((لا تتشبهوا بالنساء، اتقوا الله، هذا حرام لا يجوز)).

وأذكر أنها هجرت بعض محارمها مرّات حينما لم يمتثل لذلك، ولكن
মরহুমা মা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎ কাজে বাধা প্রদান করতেন। তিনি কোনো নিষিদ্ধ কাজ দেখলে তা থেকে নিষেধ না করে চুপ থাকতেন না। তিনি তাঁর সন্তানদের ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে কথার মাধ্যমে প্রজ্ঞাপূর্ণ শক্তি ব্যবহার করতেন, আর তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রে কথা ও কাজের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করতেন। সেই বিষয়ে আমি যা স্মরণ করতে পারি তা হলো:

১ - তিনি তাঁর সন্তানদের শৈশবে বলতেন: আল্লাহকে ভয় করো। যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে না এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।

২ - তাঁর সন্তানদের শৈশবে তাঁর নিকট একটি ছোট লাঠি থাকত। সেই লাঠির মাথায় একটি চামড়ার ফিতা পেঁচিয়ে বাঁধা থাকত, যাকে তারা 'আল-আরাকাহ' বলত। যখন তাঁর সন্তানদের শাসনের প্রয়োজন হতো, তখন তিনি তা দিয়ে তাদের প্রহার করতেন।

৩ - আমার মনে পড়ে যে, তিনি তাঁর ছোট সন্তানদের বালেগ হওয়ার আগে এবং পরেও ফজরের সালাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। তারা ঘুম থেকে উঠতে দেরি করলে তিনি দ্বিতীয়বার একটি পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে আসতেন। অতঃপর সজোরে সেই ঠান্ডা পানি তাদের মুখে ছিটিয়ে দিতেন। তখন যা ঘটেছে তাতে ভীত ও শঙ্কিত হয়ে তাদের প্রত্যেকে তৎক্ষণাৎ উঠে পড়ত। এরপর এই শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ শাসনের পর তারা অযু করে মসজিদে যেত। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত দৃঢ়, ফলে তাঁর সন্তানদের কেউ তাঁর প্রতিউত্তর করার বা তাঁর আদেশ পালনে দ্বিধা করার সাহস পেত না; কারণ হকের পথে তিনি ছিলেন আপসহীন ও সাহসী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।

৪ - তিনি তাঁর কয়েকজন মাহরামকে দাড়ি লম্বা রাখার আদেশ দিতেন এবং দাড়ি মুণ্ডন করা ও টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরাকে অত্যন্ত কুৎসিত ও নিন্দনীয় কাজ হিসেবে তুলে ধরতেন। তিনি বলতেন: "তোমরা নারীদের সদৃশ হয়ো না, আল্লাহকে ভয় করো। এটি হারাম, যা বৈধ নয়।"

আমার মনে পড়ে যে, যখন কেউ তা পালন করত না, তখন তিনি কয়েকবার তাঁর কোনো কোনো মাহরামের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন (হিজরত) করেছিলেন, কিন্তু...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قد رأت رحمها الله أن تتراجع عن هجرها حينما رأت أن الأصلح عدم الهجر إلا عند المصلحة الراجحة.

5 - كانت في أول الأمر لا تدخل بيت بعض محارمها إذا أدخل التلفاز في بيته؛ لأنها شاهدت بعض البرامج التي لا تليق، وأقسمت بالله أن لا تدخل البيت الذي فيه تلفاز [أي من بيوت بعض محارمها المقرَّبين]،ولكن عندما اختلط الأمر، وعمَّ كل بيت إلا القليل، كفَّرتْ عن يمينها، ولازمت النصح مع كراهتها لذلك، رحمها الله تعالى.

6 - أخبرني الأخ الشقيق الدكتور أبو عبد العزيز سعد أنها اتصلت به وهو مبتعث إلى أمريكا، والوالدة في المملكة العربية السعودية، وقال: ونصحتنا، وحذَّرتنا من الاختلاط بالنساء، وقد كان أولادي معي وزوجتي، والحمد لله، وكان معنا الدكتور سعد بن هادي بن مرعي

آل حشاش، آل سلطان، آل سليمان؛ ولكن لحرص الوالدة على نصيحتنا وتحذيرنا، غفر الله لها.

7 - كانت مرة في المستشفى قبل موتها بشهر أو شهرين، جاء إليها أحد أقاربها المحارم، وكان ابن أختها، وكان له لحية جميلة قد أعفاها، وكان بعض محارمها جالساً، ومنهم من قد قصَّر من لحيته، فتناولت لحية ابن أختها بيدها، وقبَضَتْها، وقبَّلتها من باب الدعوة للحاضرين، وأشارت إليه بيدها، وكأنها تقول: اقتدوا به.

وفعلتها مرة أخرى وهي على السرير أيضاً في المستشفى مع ابنها حسين، وكان ذا لحية طويلة جميلة، فقبّلتها، وكأني فهمت منها أنها تدعو
আল্লাহ তাকে রহম করুন, তিনি তার সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসাকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন যখন তিনি দেখলেন যে কেবল প্রবল জনকল্যাণের ক্ষেত্রেই সম্পর্কচ্ছেদ করা সমীচীন।

৫ - শুরুর দিকে তিনি তার কিছু মাহরাম আত্মীয়দের বাড়িতে প্রবেশ করতেন না যদি তারা বাড়িতে টেলিভিশন রাখত; কারণ তিনি সেখানে কিছু অনুপযুক্ত অনুষ্ঠান দেখেছিলেন এবং আল্লাহর নামে শপথ করেছিলেন যে, যে বাড়িতে টেলিভিশন আছে [অর্থাৎ তার নিকটাত্মীয় মাহরামদের ঘরগুলোর কোনোটিতে] সেখানে তিনি প্রবেশ করবেন না। কিন্তু যখন বিষয়টি সাধারণ হয়ে গেল এবং অল্প কিছু বাড়ি ছাড়া সবখানেই এটি ছড়িয়ে পড়ল, তখন তিনি তার শপথের কাফফারা আদায় করলেন এবং বিষয়টি অপছন্দ করা সত্ত্বেও নসিহত প্রদান অব্যাহত রাখলেন, আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন।

৬ - আমার সহোদর ভাই ডক্টর আবু আব্দুল আজিজ সাদ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন গবেষণার কাজে আমেরিকায় ছিলেন এবং মা সৌদি আরবে ছিলেন, তখন মা তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন: মা আমাদের উপদেশ দিয়েছিলেন এবং নারীদের সাথে মেলামেশা থেকে সতর্ক করেছিলেন; আলহামদুলিল্লাহ, তখন আমার সাথে আমার সন্তান ও স্ত্রী ছিল। আমাদের সাথে ডক্টর সাদ বিন হাদি বিন মারয়িও ছিলেন—

আল হাশশাশ, আল সুলতান, আল সুলাইমান; কিন্তু আমাদের উপদেশ দিতে এবং সতর্ক করতে মায়ের প্রবল আগ্রহের কারণেই তিনি এমনটি করেছিলেন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

৭ - মৃত্যুর এক বা দুই মাস আগে তিনি যখন হাসপাতালে ছিলেন, তখন তার এক মাহরাম আত্মীয় তার কাছে আসেন, যিনি ছিলেন তার ভাগ্নে। তার একটি সুন্দর দাড়ি ছিল যা তিনি লম্বা করেছিলেন। সেখানে তার আরও কিছু মাহরাম আত্মীয় বসা ছিলেন, যাদের কেউ কেউ দাড়ি ছোট করেছিলেন। তখন তিনি তার ভাগ্নের দাড়ি নিজের হাত দিয়ে ধরলেন, সেটি মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং উপস্থিতদের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেটি চুম্বন করলেন। তিনি হাত দিয়ে তার দিকে ইশারা করলেন, যেন তিনি বলছিলেন: তোমরা তাকে অনুসরণ করো।

তিনি হাসপাতালের বিছানায় থাকা অবস্থায় আবারও তার ছেলে হোসেনের সাথে একই কাজ করেছিলেন, যার দীর্ঘ ও সুন্দর দাড়ি ছিল। তিনি সেটি চুম্বন করলেন এবং আমি যেন বুঝতে পারলাম যে তিনি এর মাধ্যমে দাওয়াত দিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الحاضرين من محارمها للاقتداء به، رحمها الله تعالى.

8 - أذكر في الصغر أن بعض محارمها تخاصموا على قطعة أرض، وعلى حدود زراعية بينهم، فنصحتهم وقالت: تموتون ويبقى التراب، لا تختصموا وأنتم تموتون وتتركون التراب، وفعلاً ماتوا كلهم قبلها، وبقي التراب مهجوراً، رحم الله الجميع.

9 - بعد أن كبر أولادها، وتزوَّجوا كانت تتصل ببعضهم إذا أذن المؤذن لصلاة الفجر، وتقول: ((صلّوا))، وإذا لم يردُّوا عليها أبلغت أهاليهم، وقالت: أيقظوا فلاناً لصلاة الصبح لا تفوته الصلاة، وهذا من حرصها على أولادها حتى وهم كبار، رحمة الله عليها.

وقد أخبرني ابن أخيها: حسين بن علي بن سعيد بن جازعة، فقال: تزوج فلان من أولاد عمتي نشطا، وسافر بزوجته إلى مدينة الرياض، وبقيت عمتي عند أهلها في المنطقة الجنوبية، فكانت تتصل بابنها المتزوج وقت صلاة الفجر من بلادها في العرين في المنطقة الجنوبية، وتقول: صلُّوا، لا تفوتكم الصلاة مع الجماعة، وهذا من حرصها على أولادها حتى ولو كانوا في بلاد غير بلادها، رحمها الله تعالى.

10 - شاركت في دورة لتغسيل الأموات مرَّاتٍ عديدةً في مغسلة الأموات بجامع الراجحي بالربوة بمدينة الرياض، وآخر دورة شاركت فيها عام 1425هـ، أو عام 1426هـ بعد أن تجاوز عمرها ثمانين سنة.

ومن المناسبات العجيبة أن بعض النساء اللواتي اشتركن معها في الدورة، وبعض من كان يغسّل معها من المدرّبات غسّلنها بعد موتها في
উপস্থিত মাহরামদের মধ্যে যারা তাঁকে অনুসরণ করত, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

৮ - ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যে, তাঁর মাহরাম আত্মীয়দের মধ্যে কয়েকজন একখণ্ড জমি এবং তাদের মধ্যকার কৃষিজমির সীমানা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল। তখন তিনি তাদের উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন: “তোমরা মারা যাবে আর এই মাটি পড়ে থাকবে; তোমরা যখন মারাই যাবে এবং মাটি পেছনে ফেলে যাবেই, তবে কেন বিবাদ করছ?” বাস্তবিকই তারা সবাই তাঁর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিল এবং সেই মাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। আল্লাহ তাদের সবার ওপর রহম করুন।

৯ - তাঁর সন্তানরা বড় হওয়ার এবং বিবাহ করার পর, মুয়াজ্জিন যখন ফজরের নামাজের আজান দিতেন, তখন তিনি তাদের কয়েকজনকে ফোন করতেন এবং বলতেন: “নামাজ পড়ো।” যদি তারা সাড়া না দিত, তবে তিনি তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দিতেন এবং বলতেন: “অমুককে ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দাও যেন তার নামাজ ছুটে না যায়।” এটি ছিল সন্তানদের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও একাগ্রতার বহিঃপ্রকাশ, এমনকি তারা বড় হয়ে যাওয়ার পরেও। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হুসাইন ইবনে আলী ইবনে সাঈদ ইবনে জাযিআহ আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার ফুফু নাশতার সন্তানদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি বিবাহ করেন এবং তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে রিয়াদ শহরে চলে যান। আর আমার ফুফু দক্ষিণ অঞ্চলের তাঁর আত্মীয়-স্বজনের কাছেই থেকে যান। তিনি দক্ষিণ অঞ্চলের আরীন নামক এলাকা থেকে ফজরের নামাজের সময় তাঁর বিবাহিত ছেলের কাছে ফোন করতেন এবং বলতেন: “তোমরা নামাজ পড়ো, জামাতের সাথে নামাজ যেন তোমাদের ছুটে না যায়।” এটি ছিল তাঁর সন্তানদের প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপের প্রমাণ, যদিও তারা তাঁর নিজের এলাকা ছাড়া অন্য স্থানে অবস্থান করত। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

১০ - তিনি রিয়াদ শহরের রাবওয়াহ এলাকায় অবস্থিত রাজহী জামে মসজিদের মৃতদেহ ধোয়ার কেন্দ্রে বহুবার মৃতদেহ গোসল করানোর কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সর্বশেষ যে কোর্সে তিনি অংশ নিয়েছিলেন তা ছিল ১৪২৫ হিজরি অথবা ১৪২৬ হিজরির দিকে, যখন তাঁর বয়স আশি বছর পেরিয়ে গিয়েছিল।

এক আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যে সকল নারী তাঁর সাথে সেই কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং যে সকল প্রশিক্ষক তাঁর সাথে মৃতদেহ গোসল করাতেন, তাঁরাই তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে গোসল করিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مغسلة الراجحي نفسها، وترحَّمنَ عليها ودعونَ لها.

11 - كانت حريصة على أهل بيت أولادها، وخاصة في غيابهم، فكانت تراقب سير الأولاد، وتأمرهم بالصلاة، وبعد صلاة العشاء تتفقّد الأبواب، فتغلق المفتوح منها، وبعد نوم أهل البيت كذلك تنظر في صنابير المياه، وتُغلق ما لم يُغلق منها، وتنظر للأنوار الكهربائية فتطفئ ما لا حاجة له، وتحذِّر من التبذير والإسراف، رحمها الله تعالى.

 

*‌‌ السابع عشر: برُّها بأمها وأبيها رحمهم الله تعالى: كانت بارةً بأمها، وأبيها، وقد أُصيبت أمُّها بمرضٍ أقعدها في حدود عام 1412هـ، فذهبت إلى أمها ولازمتها، وكانت هي الخادمة لأمها في جميع ما تحتاجه، وكان والدها بجوارها في المنزل، فكانت تخدم الجميع: أمها، وأباها، وبقيت على هذه الحال حتى سقطت من مكانٍ عالٍ عام 1414هـ، فانكسرت فخذها، وبعد أن تعالجت وجبرت رجعت إلى خدمة أمها حتى ماتت أمها، رحمة الله على الجميع.

وكان برُّها موصولاً لأقاربها، فقد مرضت أختها أم مهدي بن عبد الله بن حضرم، وأم سعيد بن عبد الله بن حضرم، وأُقعدت، فلازمتها الوالدة حتى ماتت أم مهدي، رحمهما الله جميعاً.

 

*‌‌ الثامن عشر: ذريتها: لها من الأولاد الذكور أربعة، هم: سعيد أبو عبد الرحمن؛ كاتب هذه الأسطر، وحسين أبو علي، وسعد أبو عبد العزيز، وهادي أبو سعد، وليس لها بنات، وقد كانت ترغب في أن يكون لها بنات، وتتمنَّى ذلك، ولكن قدر الله، وما شاء فعل.
রাজহি গোসলখানাতেই তারা এটি সম্পন্ন করেছে, এবং তারা তাঁর জন্য করুণা প্রার্থনা করেছে ও তাঁর জন্য দোয়া করেছে।

১১ - তিনি তাঁর সন্তানদের পরিবারের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, বিশেষ করে তাদের অনুপস্থিতিতে। তিনি সন্তানদের চালচলন পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তাদের সালাতের নির্দেশ দিতেন। এশার সালাতের পর তিনি দরজাগুলো পরীক্ষা করতেন এবং যে দরজাগুলো খোলা থাকত সেগুলো বন্ধ করে দিতেন। একইভাবে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি পানির কলগুলো দেখতেন এবং যেগুলো বন্ধ করা হয়নি তা বন্ধ করে দিতেন। বৈদ্যুতিক আলোগুলো দেখতেন এবং অপ্রয়োজনীয়গুলো নিভিয়ে দিতেন। তিনি অপচয় ও অপব্যয় থেকে সতর্ক করতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

*‌‌ ১৭: তাঁর পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন: তিনি তাঁর পিতা ও মাতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ও সদাচারী ছিলেন। ১৪১২ হিজরির দিকে তাঁর মা এক রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন, তখন তিনি তাঁর মায়ের কাছে চলে যান এবং তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন। তিনি তাঁর মায়ের সকল প্রয়োজনীয় কাজে সেবিকা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর পিতা সেই বাড়িতেই তাঁর সন্নিকটে ছিলেন, ফলে তিনি মা এবং বাবা উভয়েরই সেবা করতেন। ১৪১৪ হিজরিতে একটি উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এভাবেই নিয়োজিত ছিলেন; সেই দুর্ঘটনায় তাঁর উরু ভেঙে গিয়েছিল। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে তিনি পুনরায় তাঁর মায়ের সেবায় ফিরে আসেন এবং তাঁর মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখেন। সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

তাঁর এই সদাচরণ আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষেত্রেও প্রসারিত ছিল। তাঁর বোন উম্মু মাহদী বিনতে আবদুল্লাহ বিন হাদরাম এবং উম্মু সাঈদ বিনতে আবদুল্লাহ বিন হাদরাম অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হলে মা (প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় চরিত্র) উম্মু মাহদীর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

*‌‌ ১৮: তাঁর সন্তান-সন্ততি: তাঁর চারজন পুত্র সন্তান ছিল, তাঁরা হলেন: সাঈদ আবু আবদুর রহমান; যিনি এই পঙক্তিগুলোর লেখক, হুসাইন আবু আলী, সাদ আবু আবদুল আজিজ এবং হাদী আবু সাদ। তাঁর কোনো কন্যা সন্তান ছিল না। তাঁর কন্যা সন্তান লাভের প্রবল ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তবে আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعدد أحفادها الموجودين الآن إلى 4/ 9/ 1428هـ (57) سبعة وخمسون، فأصبح مجموع ذريتها قبل موتها (61) واحداً وستين، أصلحهم الله تعالى، وغفر للميت منهم (1).

 

*‌‌ التاسع عشر: مرضها العظيم: قد عافى الله تعالى الوالدة من الأمراض الخطيرة مدة إحدى وثمانين سنة، ولله الحمد، وفي أواخر شهر ذي الحجة عام 1426هـ أصابها مرض عظيم قوي خطير في ظهرها، ثم انتقل المرض بإذن الله تعالى إلى كبدها وباطنيّتها، وكان المرض قوياً شديداً خطيراً، فاحتسبت وصبرت كثيراً.

وانتقلت مرة إلى ابنها حسين بالمنطقة الجنوبية، فاشتدَّ مرضُها، وطلبنا منها الموافقة على نقلها إلى الرياض، فأبدت رغبتها في البقاء هناك، إلا أنها قالت: عندكم في الرياض مسجد الراجحي؟ فوافقت على نقلها إلى الرياض من أجل إذا ماتت أن يُصلّى عليها في مسجد الراجحي؛ لأنها تعلم رحمها الله تعالى كثرة المصلين في هذا الجامع على الجنائز، فأُدخلت مدينة الملك فهد الطبية بالرياض في بداية شعبان عام 1427هـ، وكانت تقول في مرضها: ((الله يحسن الخاتمة))، وتكرَّر ذلك كثيراً، وأحياناً تقول: ((يا الله بالذي فيه الخير))! وكأنها تريد بقولها هذا قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي)) (2).

--------------------------------------------

(1) ووُلِد بعد ذلك ثمانية من أحفادها، فأصبح عدد ذريتها 69 نسمة إلى تاريخ 22/ 12/1430هـ.

(2) متفق عليه: صحيح البخاري، برقم 5671، وصحيح مسلم، برقم 2680.
এবং ৪/ ৯/ ১৪২৮ হিজরি পর্যন্ত তাঁর বিদ্যমান নাতি-নাতনির সংখ্যা ছিল (৫৭) সাতান্ন জন, ফলে তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর মোট বংশধরের সংখ্যা হয়েছিল (৬১) একষট্টি জন। আল্লাহ তাআলা তাদের সংশোধন করুন এবং তাদের মধ্য থেকে যারা মারা গেছেন তাদের ক্ষমা করুন (১)।

 

*‌‌ ঊনবিংশ: তাঁর কঠিন রোগ: আল্লাহ তাআলা মাতাকে একাশি বছর পর্যন্ত সকল কঠিন রোগ থেকে মুক্ত রেখেছিলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর। আর ১৪২৬ হিজরি সনের যিলহজ মাসের শেষের দিকে তাঁর পিঠে একটি বড়, শক্তিশালী ও বিপজ্জনক রোগ আক্রমণ করে। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় রোগটি তাঁর লিভার এবং শরীরের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি ছিল খুবই শক্তিশালী, তীব্র ও বিপজ্জনক, কিন্তু তিনি সওয়াবের আশায় অনেক ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।

একবার তিনি দক্ষিণ অঞ্চলে তাঁর ছেলে হুসাইনের কাছে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর রোগ আরও বেড়ে যায়। আমরা তাকে রিয়াদে স্থানান্তরের ব্যাপারে সম্মতি চাইলে তিনি সেখানেই থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের রিয়াদে কি রাজহি মসজিদ আছে? অতঃপর তিনি রিয়াদে স্থানান্তরিত হতে রাজি হলেন এই উদ্দেশ্যে যে, যদি তিনি মারা যান তবে যেন রাজহি মসজিদে তাঁর জানাজা পড়া হয়। কারণ তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—জানতেন যে এই জামে মসজিদে জানাজায় মুসল্লিদের সংখ্যা অনেক বেশি হয়। অতঃপর ১৪২৭ হিজরি সনের শাবান মাসের শুরুতে তাকে রিয়াদের কিং ফাহদ মেডিকেল সিটিতে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় তিনি বলতেন: "আল্লাহ শেষ পরিণাম ভালো করুন", এবং তিনি এটি বারবার বলতেন। মাঝে মাঝে বলতেন: "হে আল্লাহ! যাতে কল্যাণ আছে তাই দিন"! মনে হচ্ছিল যেন তিনি তাঁর এই কথার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি বুঝাতে চাচ্ছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয়, আর আমাকে মৃত্যু দিন যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়" (২)।

--------------------------------------------

(১) এরপরে তাঁর আরও আটজন নাতি-নাতনি জন্মগ্রহণ করেন, ফলে ২২/ ১২/ ১৪৩০ হিজরি তারিখ পর্যন্ত তাঁর মোট বংশধরের সংখ্যা হয়েছিল ৬৯ জন।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৬৭১; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৮০।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وكانت إذا اشتدَّ عليها المرض فبلغ منتهاه في الألَمِ تقول: ((الحمد لله، الحمد لله، الحمد لله … )) ولا نُحصِي تكرار حمدها لله، فذكَّرتْني بحمدها المتكرِّر لله بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (( … إِنَّ الْمُؤْمِنَ بِكُلِّ خَيْرٍ عَلَى كُلِّ حَالٍ، إِنَّ نَفْسَهُ تَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ وَهُوَ يَحْمَدُ الله)) (1).

وذكَّرتني أيضاً بقول النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه (قال: ((قَالَ الله (: إِنَّ الْمُؤْمِنَ عِنْدِي بِمَنْزِلَةِ كُلِّ خَيْرٍ يَحْمَدُنِي وَأَنَا أَنْزِعُ نَفْسَهُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ)) (2). ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: ((بمنزلة كل خير)): أي: في منزلةٍ يستحقُّ فيها كلَّ خير.

وكُنَّا إذا سألناها عن حالها وهي على سريرها في المستشفى في أشدِّ المرض، فقلنا: كيف حالك يا أمي؟ فتقول: ((الحمد لله)).

والله أسأل أن يجعل لها أوفر الحظِّ والنّصيب من قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ما يزال البلاء بالمؤمن والمؤمنة: في نفسه، وماله، وولده حتى يلقَى الله وما عليه خطيئة)) (3).

وخرجت أياماً من المستشفى في عام 1427هـ بعد رمضان، وفي 1/ 1/1428هـ كلَّفت على نفسها، فصامت سبعة وعشرين يوماً قضاءً

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام أحمد، برقم 2475، الشمائل المحمدية، برقم 316،وصححه العلامة الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة، 4/ 173.

(2) رواه الإمام أحمد في المسند، برقم 8492، والبيهقي في شعب الإيمان، برقم 4175، وصححه الشيخ الألباني في صحيح الجامع الصغير، برقم 1910.

(3) رواه الترمذي، برقم 2399، والحاكم في المستدرك، 4/ 314، وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة، 5/ 349.
এবং যখন তাঁর অসুস্থতা তীব্রতর হতো এবং ব্যথার চরম সীমায় পৌঁছাত, তখন তিনি বলতেন: "আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ …" আর আল্লাহর প্রতি তাঁর এই প্রশংসার পুনরাবৃত্তি আমরা গণনা করতে পারতাম না। আল্লাহর প্রতি তাঁর এই বারবার প্রশংসা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিত: (( … নিশ্চয়ই মুমিন সর্বাবস্থায় কল্যাণের মাঝেই থাকে; তাঁর প্রাণ তাঁর দুই পাঁজরের মাঝখান থেকে বেরিয়ে যায় এমতাবস্থায় যে, সে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে)) (১)।

এটি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীর কথাও স্মরণ করিয়ে দিত যা তিনি তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন (তিনি বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা বলেছেন: নিশ্চয়ই মুমিন আমার নিকট এমন এক মর্যাদায় আসীন যে সে সর্বদা কল্যাণের অধিকারী; সে আমার প্রশংসা করে এমতাবস্থায় যে আমি তাঁর প্রাণ তাঁর দুই পাঁজরের মাঝখান থেকে কবজ করি)) (২)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "সর্বদা কল্যাণের অধিকারী"-এর অর্থ হলো: এমন এক স্তরে থাকা যেখানে সে প্রতিটি কল্যাণের যোগ্য হয়।

যখন তিনি হাসপাতালের বিছানায় চরম অসুস্থ অবস্থায় থাকতেন এবং আমরা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম যে, ‘মা, আপনার কেমন লাগছে?’, তখন তিনি বলতেন: "আলহামদুলিল্লাহ"।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর পূর্ণ অংশ ও সৌভাগ্য দান করেন: ((মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর ওপর তাঁর জান, মাল এবং সন্তানের ক্ষেত্রে বিপদ-আপদ লেগেই থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তাঁর ওপর আর কোনো গুনাহ থাকে না)) (৩)।

তিনি ১৪২৭ হিজরীর রমজানের পর কয়েক দিন হাসপাতালের বাইরে কাটালেন, এবং ১/১/১৪২৮ হিজরীতে তিনি নিজ থেকে কষ্ট স্বীকার করে ক্বাযা হিসেবে সাতাশ দিন রোজা রাখলেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৪৭৫; শামায়েলে মুহাম্মাদিয়া, হাদীস নং ৩১৬; এবং আল্লামা আলবানী একে সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহাহ ৪/১৭৩-এ সহীহ বলেছেন।

(২) ইমাম আহমাদ আল-মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৮৪৯২; বাইহাকী শুআবুল ঈমানে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৪১৭৫; এবং শায়খ আলবানী সহীহুল জামি আস-সাগীর, হাদীস নং ১৯১০-এ একে সহীহ বলেছেন।

(৩) তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৩৯৯; হাকিম আল-মুস্তাদরাকে বর্ণনা করেছেন ৪/৩১৪; এবং আলবানী সিলসিলাতুস সহীহাহ ৫/৩৪৯-এ একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফু লা তুনসা - মিন সিরাতি ওয়ালিদাতি রাহিমাহাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
لرمضان عام 1427هـ، وكنا نقول لها: الصيام يشقُّ عليك وأنتِ معذورة لا حرج عليك، فتقول: لا، الصيام سهل عليَّ، ولا تحرموني من قضاء الدين: تعني رحمها الله قضاء دين رمضان.

ويُرجى لها الخير، فقد كان آخر عمرها معموراً بالعبادات، ومن أعظمها توفيق الله لها بدراسة القرآن، وحفظ ثمانية أجزاء، وأعمالها الصالحة، في آخر حياتها، غفر الله لها ورحمها.

وأسأل الله العظيم أن يجعل لها أوفر الحظِّ والنّصيب من قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا أراد الله بعبدٍ خيراً استعمله))، فقيل: كيف يستعمله يا رسول الله؟ قال: ((يوفِّقَه لِعَمَلٍ صالحٍ قبل الموت)) (1).

 

*‌‌ العشرون: اشتدّ مرضُها، وأُدخلت المستشفى في الشهر الرابع: ربيع الثاني من عام 1428هـ تقريباً، وبقيت فيه، وكان بعض أولادها يلقّنها: لا إله إلا الله، فكانت تقولها ولله الحمد، وآخر ما فُهِم من كلامها قبل موتها: ((لا إله إلا الله))، ثم أُغمي عليها بعد ذلك لمدة ثلاثة أيام تقريباً، وفي يوم الجمعة بعد صلاة العصر في الساعة الخامسة وأربعين دقيقة (5.40)، وقبل صلاة المغرب بخمسين دقيقة الموافق 27/ 7/1428هـ خرجت روحها عن ثلاث وثمانين سنة تقريباً، رحمها الله تعالى وغفر لها، وأسكنها فسيح الجنّات في الفردوس الأعلى؛ إنه تعالى على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير، لا إله إلا هو، ولا رب سواه.

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي، برقم 3142، وصححه، والحاكم، 1/ 341، وصححه، ووافقه الذهبي، وصححه الألباني في مشكاة المصابيح، برقم 5288.
১৪২৭ হিজরি সালের রমজানের জন্য, আমরা তাকে বলতাম: সিয়াম পালন আপনার জন্য কষ্টকর এবং আপনি ওজরপ্রাপ্ত, আপনার জন্য কোনো গুনাহ নেই। তখন তিনি বলতেন: না, সিয়াম পালন আমার জন্য সহজ, আর তোমরা আমাকে ঋণ পরিশোধ করা থেকে বঞ্চিত করো না। তিনি—আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর দ্বারা রমজানের কাজা রোজা আদায় করাকে বুঝিয়েছেন।

তার জন্য কল্যাণের আশা করা যায়, কেননা তার জীবনের শেষ সময়টুকু ইবাদতে পরিপূর্ণ ছিল। তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিল কুরআন অধ্যয়ন ও আট পারা মুখস্থ করার ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত তাওফিক এবং জীবনের শেষভাগে তার নেক আমলসমূহ। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর এই বাণী থেকে পূর্ণ সৌভাগ্য ও অংশ দান করেন: “যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে কাজে লাগান।” জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তাকে কীভাবে কাজে লাগান? তিনি বললেন: “মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমল করার তাওফিক দান করেন” (১)।

 

*‌‌ ২০তম: তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং আনুমানিক ১৪২৮ হিজরির চতুর্থ মাস রবিউস সানি মাসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানেই অবস্থান করেন এবং তার কোনো কোনো সন্তান তাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়ার অনুরোধ করছিল। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি তা বলছিলেন। মৃত্যুর আগে তার কথা থেকে সর্বশেষ যা বোঝা গিয়েছিল তা হলো: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। এরপর প্রায় তিন দিন তিনি অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর ২৭/০৭/১৪২৮ হিজরি মোতাবেক শুক্রবার আসরের সালাতের পর ৫টা ৪০ মিনিটে এবং মাগরিবের সালাতের ৫০ মিনিট পূর্বে আনুমানিক ৮৩ বছর বয়সে তার রূহ বের হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন, তাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকামে তাকে স্থান দিন। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো রব নেই।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী, হাদিস নং ৩১৪২, এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন; হাকেম, ১/৩৪১, এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন ও যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন; আলবানি মিশকাতুল মাসাবিহ-এ একে সহিহ বলেছেন, হাদিস নং ৫২৮৮।