(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: -)
مواقف العلماء عبر العصور في الدعوة إلى الله تعالى القسم: كتب عامة
الكتاب: مواقف العلماء عبر العصور في الدعوة إلى اللَّه تعالى
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 46
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে যুগ পরম্পরায় আলেমদের অবস্থান বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ
কিতাব: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে যুগ পরম্পরায় আলেমদের অবস্থান
লেখক: ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহফ আল-কাহত্বানি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
مواقف العلماء عبر العصور
في الدعوة إلى اللَّه تعالى
تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র
যুগে যুগে আলেমগণের অবস্থান
আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে
আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী দাসের রচনা
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((مواقف العلماء في الدعوة إلى اللَّه تعالى عبر العصور)) بيّنت فيها نماذج من المواقف المشرّفة في الدعوة إلى اللَّه تعالى. واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.
وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি "যুগে যুগে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের অবস্থান" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি আল্লাহর দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে কিছু গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সামান্য কাজটিকে বরকতময়, কল্যাণকর এবং একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আর এর মাধ্যমে যেন আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন, এবং যার নিকটই এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের সবার ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
লেখক
লিখিত হয়েছে ২৫/০২/১৪২৫ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে।
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৪)
تمهيد:بعد أن انقرضت القرون المفضّلة - التي امتدحها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بقوله:)) خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم
… ((الحديث (1)، بعد ذلك جاء أناس يشهدون ولا يستشهدون، وينذرون ولا يوفون، ويظهر فيهم الضعف والخور، والبدع والخرافات، والصد عن دين اللَّه، ولكن - وللَّه الحمد والمنة - لا يزال حفظ اللَّه لهذا الدين قائماً، لقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2)، وتكفل اللَّه باستمرار الحفظ إلى قيام الساعة، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((لا تزال طائفة من أمتي قائمة بأمر اللَّه، لا يضرهم من خذلهم أو خالفهم حتى يأتي أمر اللَّه وهم ظاهرون على الناس)) (3).
وبيّن صلى الله عليه وسلم أن اللَّه يبعث لأمته على رأس كل قرن من يجدد لها دينها، ويبيّن لها أحكام الكتاب والسنة، فقال صلى الله عليه وسلم: ((إن اللَّه يبعث
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা:শ্রেষ্ঠ যুগসমূহ (القرون المفضلة)—যাদের প্রশংসা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষের মাঝে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে...” হাদিস (১)—অতিক্রান্ত হওয়ার পর এমন একদল লোকের আগমন ঘটল যারা সাক্ষ্য দেয় কিন্তু তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হয় না, তারা মানত করে কিন্তু তা পূর্ণ করে না এবং তাদের মাঝে দুর্বলতা (الضعف) ও হীনবলতা, বিদআত (البدع) ও কুসংস্কার এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখতা প্রকাশ পায়। তবে—সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই—আল্লাহর পক্ষ থেকে এই দ্বীনের সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে জারি রয়েছে। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (২)। আর কিয়ামত পর্যন্ত এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যারা তাদের অপদস্থ করতে চাইবে কিংবা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এমতাবস্থায় তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে)) (৩)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শিরোভাগে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য দ্বীনের সংস্কার করবেন এবং তাদের নিকট কিতাব ও সুন্নাহর বিধানাবলি সুস্পষ্ট করবেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রেরণ করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৫)
لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها)) (1).
وسأتناول - إن شاء اللَّه - في هذه المباحث نماذج من أبطال الرجال وحكمائهم، وأبيّن بعض مواقفهم التي تظهر فيها الحكمة في الدعوة إلى اللَّه - تعالى - في المباحث الآتية:
المبحث الأول: مواقف إمام علماء الأندلس: منذر بن سعيد البلُّوطي رحمه اللَّه تعالى.
المبحث الثاني: مواقف سلطان العلماء: العز عبد العزيز بن عبد السلام رحمه اللَّه تعالى.
المبحث الثالث: مواقف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه اللَّه تعالى.
المبحث الرابع: مواقف الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه اللَّه تعالى.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই এই উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছরের শুরুতে এমন ব্যক্তিকে পাঠানো হবে, যিনি তাদের দ্বীনকে সংস্কার (يجدد) করবেন)) (১)।
এবং আমি ইনশাআল্লাহ—এই আলোচনাগুলোতে মহৎ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করব এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের এমন কিছু অবস্থান ব্যাখ্যা করব যাতে হিকমত বা প্রজ্ঞা ফুটে উঠেছে, যা নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোতে বর্ণিত হবে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আন্দালুসের আলেমদের ইমাম মুনজির বিন সাঈদ আল-বাল্লুতি (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুলতানুল উলামা আল-ইযয আব্দুল আজিজ বিন আব্দুস সালাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الأول: مواقف الإمام منذر بن سعيد البلُّوطي:منذر بن سعيد (1) البلُّوطي له مواقف حكيمة في دعوته إلى اللَّه - تعالى - تدلُّ على حكمته، وفضله، وأنه لا تأخذه في اللَّه لومة لائم، ومن هذه المواقف الحكيمة على سبيل المثال ما يأتي:
1 - موقفه الحكيم مع سلطان الأندلس:دخل المنذر بن سعيد يوماً على الناصر لدين اللَّه (2) وقد فرغ من
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম (إمام) মুনজির বিন সাঈদ আল-বাল্লুতীর অবস্থানসমূহ:মুনজির বিন সাঈদ (১) আল-বাল্লুতীর আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, যা তাঁর প্রজ্ঞা (حكمة) ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দেয় এবং তিনি যে আল্লাহর পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় পেতেন না, তা ফুটে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানগুলোর মধ্যে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলো:
১ - আন্দালুসের সুলতানের সাথে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান:একদিন মুনজির বিন সাঈদ আন-নাসির লি-দ্বীনিল্লাহর (২) নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি (সুলতান) সবেমাত্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৭)
بناء المدينة الزهراء وقصورها، حيث ساق إليها أنهاراً، نقب لها الجبل، وأنشأها مدوَّرةً، وعدة أبراجها ثلاث مئة بُرج، شرفاتها من حجر واحد، وقسَّمها أثلاثاً: فالثلث المسند إلى الجبل قصورهُ، والثلث الثاني دور المماليك والخدم، والثلث الثالث بساتين تحت القصور. وعمل مجلساً مُشرفاً على البساتين، صَفّح عُمُدَه بالذهب، ورصَّعه بالياقوت، واللؤلؤ، وفرشه بمنقوش الرخام، وصنع قدَّامه بحرةً مستديرة ملأها زئبقاً، فكان النور ينعكس منه إلى المجلس، وقعد في هذه القبة المزخرفة بالذهب والبناء البديع الذي لم يُسبق إليه، وجلس عنده جماعة من الأعيان رؤوس دولته وأمراؤه، فقال لهم: هل بلغكم أن أحداً بنى مثل هذا البناء؟ فقال له الجماعة: لم نرَ ولم نسمع بمثله، وجعل جميع من حضر يثنون على ذلك البناء ويمدحونه وأثنوا وبالغوا، ومنذر بن سعيد القاضي ساكت مطرق لا يتكلم. فالتفت إليه الملك وقال: ما تقول أنت يا أبا الحكم؟ فبكى القاضي وانحدرت دموعه على لحيته، وقال: واللَّه ما كنت أظن يا أمير المؤمنين أن الشيطان أخزاه اللَّه يبلغ منك هذا المبلغ المهلك لصاحبه في الدنيا والآخرة، ولا أنك تمكنه من قيادك هذا التمكين مع ما آتاك اللَّه وفضلك به على كثير من الناس، حتى أنزلك منازل الكافرين والفاسقين. فقال له الخليفة: انظر ما تقول وكيف أنزلني منازل الكافرين؟ فقال: قال اللَّه - تعالى -: {وَلَوْلا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فَضَّةٍ
মদিনাতুজ জাহরা এবং এর প্রাসাদসমূহ নির্মাণ; যেখানে তিনি নদীসমূহ প্রবাহিত করেছিলেন, যার জন্য পাহাড় খনন করা হয়েছিল এবং একে গোলাকার অবয়বে নির্মাণ করা হয়েছিল। এর বুরুজ বা মিনার সংখ্যা ছিল তিনশত, যার প্রতিটি কার্নিশ বা বারান্দা ছিল একটি অখণ্ড পাথর দ্বারা নির্মিত। তিনি একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছিলেন: পাহাড় সংলগ্ন এক-তৃতীয়াংশ ছিল তাঁর প্রাসাদসমূহ, দ্বিতীয় এক-তৃতীয়াংশ ছিল দাস ও ভৃত্যদের আবাসস্থল এবং তৃতীয় এক-তৃতীয়াংশ ছিল প্রাসাদের পাদদেশে অবস্থিত উদ্যানসমূহ। তিনি উদ্যানসমূহের দিকে মুখ করা একটি দরবার কক্ষ তৈরি করেছিলেন, যার স্তম্ভগুলো স্বর্ণের পাত দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং তাতে ইয়াকুত ও মুক্তা খচিত ছিল। এর মেঝে ছিল নকশাকৃত মার্বেল পাথর দিয়ে আচ্ছাদিত। এর সামনে তিনি একটি বৃত্তাকার জলাধার নির্মাণ করেছিলেন যা পারদ দ্বারা পূর্ণ ছিল; ফলে সেখান থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে দরবারে পড়ত। তিনি স্বর্ণালঙ্কৃত এই গম্বুজে এবং এই অভূতপূর্ব নির্মাণশৈলীর মধ্যে বসলেন যা ইতিপূর্বে আর কখনও করা হয়নি। তাঁর নিকট রাষ্ট্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নেতৃবৃন্দ ও আমীরগণের একটি দল উপবিষ্ট ছিল। তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি কখনও শুনেছ যে, কেউ এমন প্রাসাদ নির্মাণ করেছে?" উপস্থিত সকলে বলল: "আমরা এর মতো কোনো কিছু দেখিওনি এবং শুনিওনি।" উপস্থিত সবাই সেই প্রাসাদের ভূয়সী প্রশংসা ও গুণগান করতে লাগল এবং এক্ষেত্রে তারা অতিশয়োক্তিতে লিপ্ত হলো। তবে বিচারক মুনযির ইবনে সাঈদ নীরব ছিলেন এবং মাথা নিচু করে ছিলেন, কোনো কথা বলছিলেন না। বাদশাহ তাঁর দিকে ফিরে বললেন: "হে আবু আল-হাকাম, আপনার অভিমত কী?" তখন বিচারক কেঁদে দিলেন এবং তাঁর দাড়ি বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি ভাবতেও পারিনি যে, শয়তান—আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন—আপনার ওপর এমন প্রভাব বিস্তার করবে যা দুনিয়া ও আখেরাতে তার অধিকারীর জন্য ধ্বংসাত্মক। আর আমি এটিও ভাবিনি যে, আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন এবং অনেক মানুষের ওপর আপনাকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তা সত্ত্বেও আপনি আপনার নিয়ন্ত্রণ শয়তানের হাতে এভাবে তুলে দেবেন, এমনকি সে আপনাকে কাফেরদের (كافرين) ও পাপাচারীদের (فاسقين) স্তরে নামিয়ে আনবে।" খলিফা বললেন: "দেখুন আপনি কী বলছেন! কীভাবে সে আমাকে কাফেরদের (كافرين) স্তরে নামিয়ে আনল?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন— {আর যদি মানুষ এক মতাদর্শী জাতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যারা পরম করুণাময়কে অস্বীকার করে, আমি তাদের গৃহের ছাদসমূহ রূপার করে দিতাম...}"
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ * وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِؤُونَ * وَزُخْرُفًا وَإِن كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةُ عِندَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ} (1). فنكس الناصر رأسه طويلاً، وبكى، ثم قال: جزاك اللَّه عنا خيراً وعن المسلمين، وأكثر في المسلمين مثلك، الذي قلت هو الحق. ثم قام عن المجلس وأمر بنقض سقف القبة، ونزع الذهب والجواهر (2).
اللَّه أبكر، ما أحكمه من موقف! نُزِعَ بسببه الذهب والجواهر، وغُيّر به المنكر، وتأثر به الخليفة!
وقد خطب منذر بن سعيد خطبة عظيمة في يوم الجمعة عندما حضر الناصر في جامع الزهراء (3)، فأدخل في خطبته قوله – تعالى -: {أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ، وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ، وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ، وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ، أَمَدَّكُم بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ، وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ، إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ} (4). واسترسل يقول: ولا تقولوا: {سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ الْوَاعِظِينَ، إِنْ هَذَا إِلاّ خُلُقُ الأَوَّلِينَ، وَمَا
--------------------------------------------
এবং (তাদের জন্য দিতাম) সিঁড়ি, যার উপরে তারা আরোহণ করত। আর তাদের গৃহের জন্য (দিতাম) দ্বারসমূহ এবং পালঙ্কসমূহ, যার উপরে তারা হেলান দিয়ে বসত। আর স্বর্ণালঙ্কার। আর এ সব তো পার্থিব জীবনের ভোগসামগ্রী মাত্র। আর আপনার প্রতিপালকের নিকট পরকাল তো মুত্তাকীদের জন্য (১)। তখন নাসির দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন এবং কাঁদলেন। তারপর বললেন: আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে এবং মুসলমানদের পক্ষ থেকে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং মুসলমানদের মাঝে আপনার মতো ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিন; আপনি যা বলেছেন তা-ই সত্য। অতঃপর তিনি মজলিস থেকে উঠে গেলেন এবং গম্বুজের ছাদ ভেঙে ফেলার ও স্বর্ণ ও রত্নরাজি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন (২)।
আল্লাহ সর্বমহান! কতই না প্রজ্ঞাপূর্ণ এক অবস্থান! যার কারণে স্বর্ণ ও রত্নরাজি অপসারিত হলো, এর মাধ্যমে অপছন্দনীয় বা অন্যায় (منكر) পরিবর্তিত হলো এবং খলিফা এর দ্বারা প্রভাবিত হলেন!
মুন্দজিল বিন সাঈদ জুমার দিনে এক মহান খুতবা প্রদান করেছিলেন যখন খলিফা নাসির জামে জাহরায় (৩) উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর খুতবায় মহান আল্লাহর এই বাণী অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন: {তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে একটি করে নিদর্শন নির্মাণ করছ অনর্থক খেলার ছলে? এবং তোমরা কি বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করছ এই আশায় যে তোমরা চিরকাল সেখানে থাকবে? আর যখন তোমরা কাউকে পাকড়াও কর তখন কঠোরভাবে পাকড়াও কর। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। আর তোমরা সেই সত্তাকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে সে সব দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জান। তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন চতুষ্পদ প্রাণী ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে, আর বাগানসমূহ ও ঝর্ণাধারা দিয়ে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের আজাবের ভয় করছি} (৪)। তিনি অবিরত বলে চললেন: আর তোমরা বলো না: {আমাদের জন্য উভয়ই সমান—তুমি আমাদের উপদেশ দাও বা উপদেশ দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হও। এটি তো পূর্ববর্তীদের স্বভাব ছাড়া আর কিছুই নয় এবং আমরা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৯)
نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ} (1). {قُلْ مَتَاعُ الدَّنْيَا قَلِيلٌ وَالآخِرَةُ خَيْرٌ لِّمَنِ اتَّقَى وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلاً} (2).
وقد قيل: إن الناس ضجوا بالبكاء، وتأثر الخليفة بهذه الخطبة.
فرحم اللَّه المنذر ما أحكمه! وجزاه اللَّه خيراً.
2 - موقفه الحكيم في تأثيره على الناس:أصاب الناس قحط في بعض السنين، فأمر القاضي: منذر بن سعيد بالبروز إلى الاستسقاء بالناس، فصام أياماً وتأهب. وقيل: إن عبد الرحمن الناصر هو الذي أمره بالاستسقاء للناس، فلما جاءته الرسالة قال للرسول: كيف تركت الملك؟ فقال: تركته أخشع ما يكون، وأكثره دعاءً وتضرعاً، ففرح منذر بن سعيد بذلك وأمر غلامه أن يحمل ما يقيهم من المطر، وقال: سُقيتم واللَّه إذا خشع جبار الأرض رحم جبَّار السماء. ثم قال لغلامه: نادِ في الناس بالصلاة، فجاء الناس إلى محل الاستسقاء، ثم خرج القاضي منذر، راجلاً، متخشعاً، ثم وصل المصلى وقام ليخطب، والناس ينظرون إليه يسمعون ما يقول، فلما رأى الحال بكى، وافتتح خطبته بقوله تعالى: {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَن عَمِلَ مِنكُمْ
--------------------------------------------
...আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।} (১)। {বলুন, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস অতি সামান্য এবং যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম; তোমাদের প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না।} (২)।
বলা হয়ে থাকে যে, উপস্থিত জনতা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এবং খলিফা এই খুতবার মাধ্যমে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
আল্লাহ তাআলা মুনজিরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি কতই না প্রজ্ঞাবান ছিলেন! আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
২ - মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান:কোনো এক বছর মানুষের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তখন কাজি মুনজির ইবনে সাঈদকে লোকেদের নিয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তিনি কয়েক দিন রোজা রাখলেন এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। বলা হয়ে থাকে যে, আব্দুর রহমান আন-নাসিরই তাঁকে লোকেদের নিয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন তাঁর কাছে বার্তা পৌঁছাল, তিনি বার্তাবাহককে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি বাদশাহকে কোন অবস্থায় রেখে এসেছ?" সে বলল: "আমি তাঁকে অত্যন্ত বিনয়ী এবং রোনাজারি ও প্রার্থনায় মশগুল অবস্থায় রেখে এসেছি।" এতে মুনজির ইবনে সাঈদ আনন্দিত হলেন এবং তাঁর গোলামকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার সরঞ্জাম সাথে নিতে বললেন। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, তোমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে; যখন জমিনের প্রতাপশালী বিনয়ী হয়, তখন আসমানের মহাপ্রতাপশালী রহমত বর্ষণ করেন।" এরপর তিনি তাঁর গোলামকে লোকেদের মাঝে সালাতের জন্য ঘোষণা দিতে বললেন। এরপর লোকেরা বৃষ্টির প্রার্থনার স্থানে সমবেত হলো। এরপর কাজি মুনজির অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে পায়ে হেঁটে বের হলেন। অতঃপর তিনি ঈদগাহে পৌঁছে খুতবা প্রদানের জন্য দাঁড়ালেন। লোকেরা তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল এবং তিনি কী বলছিলেন তা শুনছিল। যখন তিনি পরিস্থিতি লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে খুতবা শুরু করলেন: {তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমাদের প্রতিপালক নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন; তোমাদের মধ্যে যে কেউ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১০)
سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِن بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (1). ثم أعادها مراراً فضح الناس بالبكاء والنحيب والتوبة، والإنابة، وقال: استغفروا ربكم، وتوبوا إليه، وتقربوا بالأعمال الصالحات لديه، فجأروا بالدعاء والتضرع، وخطب فأبلغ، فلم ينفض القوم حتى نزل غيث عظيم (2).
وأخبار هذا القاضي كثيرة حسنة جداً، ومنها: أنه استسقى مرّةً فقام يهتف بالخلق: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ، إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ} (3). فهذا الموقف من أعظم المواقف الإيمانية الحكيمة؛ لأن الداعية إذا صدق مع اللَّه – تعالى – وتأثر بما يدعو إليه، تأثر الناس في الغالب؛ ولهذا صدق منذر ففتح اللَّه له قلوب الناس، واستجاب اللَّه لهم فأنزل عليهم الغيث بفضله وكرمه.
فحري بالدعاة إلى اللَّه – تعالى – أن يسلكوا مسالك الحكمة في دعوتهم إلى اللَّه تعالى.
--------------------------------------------
...অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর এরপর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (১)। অতঃপর তিনি এটি বারবার পুনরাবৃত্তি করলেন, ফলে মানুষ রোদন, বিলাপ, তওবা ও আল্লাহর অভিমুখী হওয়ার মাধ্যমে উচ্চস্বরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তাঁর কাছে তওবা করো এবং নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করো। তখন তারা উচ্চস্বরে প্রার্থনা ও রোনাজারি শুরু করল। তিনি এমন এক বলিষ্ঠ খুতবা প্রদান করলেন যে, সেই মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বেই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হলো (২)।
এই বিচারকের ঘটনাবলি অনেক এবং অত্যন্ত উত্তম (حسن جداً)। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: তিনি একবার বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে গিয়ে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে বললেন: {হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, চির প্রশংসিত। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের অপসারিত করতে পারেন এবং এক নতুন সৃষ্টি নিয়ে আসতে পারেন} (৩)। ঈমানী প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে এটি এক মহান অবস্থান; কেননা একজন দায়ী (আহ্বায়ক) যখন আল্লাহর প্রতি সত্যনিষ্ঠ হন এবং নিজে যা প্রচার করেন তার দ্বারা প্রভাবিত হন, তখন সাধারণত মানুষও প্রভাবিত হয়। এই কারণেই মুনজির সত্যনিষ্ঠ ছিলেন, ফলে আল্লাহ মানুষের অন্তরসমূহ তাঁর জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ায় বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলেন।
অতএব আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের জন্য উচিত হলো আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পথ অনুসরণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: مواقف سلطان العلماء: العز بن عبد السلامالعزُّ بن عبد السلام، الملقب بسلطان العلماء (1)، له مواقف حكيمة كثيرة في دعوته إلى اللَّه - تعالى -، فقد أزال بإنكاره الحكيم كثيراً من المنكرات، وباشر تبطيل بعضها بنفسه، ومن ذلك: إبطاله كثيراً من البدع المنتشرة: كصلاة الرغائب، وصلاة ليلة النصف من شعبان، وبدعة دق المنبر بالسيف (2)، وحكمته في بيع الملوك الأرقاء وصرف ثمنهم في بيت مال المسلمين (3)، وذوده الحكيم عن أموال المسلمين، ومن ذلك أن السلطان وعساكره - عندما دهمت التتار البلاد عقب وقعة بغداد - استشاروا الشيخ فقال: اخرجوا وأنا أضمن لكم على اللَّه النصر. فقال السلطان: إن المال في خزانتي
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুলতানুল উলামা আল-ইয ইবনে আবদুস সালামের কিছু অবস্থানসুলতানুল উলামা (১) উপাধিতে ভূষিত আল-ইয ইবনে আবদুস সালামের আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান ছিল। তিনি তাঁর বিজ্ঞজনোচিত আপত্তির মাধ্যমে অনেক অস্বীকৃত বিষয় (منكرات) নির্মূল করেছেন এবং নিজেই সেগুলোর কতকাংশ বাতিল করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো: প্রচলিত অনেক নব উদ্ভাবিত প্রথা (بدع) বাতিল করা; যেমন: সালাতুর রাগায়েব, মধ্য শাবানের (শবে বরাত) সালাত এবং তলোয়ার দিয়ে মিম্বরে আঘাত করার নব উদ্ভাবিত প্রথা (بدعة) (২)। এছাড়া ক্রীতদাস রাজাদের বিক্রি করা এবং তাদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ মুসলমানদের বায়তুল মালে ব্যয় করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত (৩), এবং মুসলমানদের সম্পদ রক্ষায় তাঁর বিজ্ঞোচিত ভূমিকা। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো, বাগদাদ পতনের পর তাতাররা যখন দেশ আক্রমণ করল, তখন সুলতান ও তাঁর সেনাবাহিনী শাইখের পরামর্শ চাইলে তিনি বললেন: "আপনারা অভিযানে বের হোন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের বিজয়ের জামিন হচ্ছি।" তখন সুলতান বললেন: "আমার রাজকোষে সম্পদ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১২)
قليل وأنا أريد أن أقترض من التجار، فقال الشيخ عز الدين: إذا أحضرت ما عندك وعند حريمك، وأحضر الأمراء ما عندهم من الحلي الحرام وضربته سكة ونقداً، وفرقته في الجيش، ولم يقم بكفايتهم ذلك الوقت اطلب القرض، وأما قبل ذلك فلا. فأحضر السلطان والعسكر ما عندهم من ذلك وامتثلوا أمره فانتصروا بإذن اللَّه - تعالى - (1).
ومن أعظم مواقفه الحكيمة التي تجلت حكمته فيها في دعوته إلى اللَّه - تعالى - موقفه مع سلطان الديار المصرية: أيوب بن الكامل (2)، فقد دخل سلطان العلماء مرة إلى هذا السلطان في يوم عيد، فشاهد العسكر مصطفين بين يديه، وقد خرج على قومه في زينته، وأخذت الأمراء تُقبِّل الأرض بين يديه، والعز بن عبد السلام يرى هذا الموكب العظيم، فالتفت رحمه الله إلى السلطان وناداه: يا أيوب! ما حجتك عند اللَّه إذا قال لك: ألم أُبوِّئ لك ملك مصر ثم تبيح الخمور؟! فقال: هل جرى هذا؟ فقال العز: نعم الخانة الفلانية يباع فيها الخمور، وغيرها من المنكرات، وأنت تتقلب في نعمة هذه المملكة، يناديه كذلك بأعلى صوته والعساكر واقفون.
--------------------------------------------
সামান্য এবং আমি বণিকদের কাছ থেকে ঋণ নিতে চাই। তখন শাইখ ইযযুদ্দিন বললেন: "যখন আপনি আপনার কাছে এবং আপনার পরিবারের কাছে যা আছে তা উপস্থিত করবেন, এবং আমিরগণ তাদের কাছে থাকা হারাম অলঙ্কারাদি উপস্থিত করবেন এবং আপনি তা মুদ্রা ও নগদে রূপান্তর করবেন এবং তা সেনাবাহিনীর মধ্যে বণ্টন করবেন, আর যদি সেই সময় তা তাদের জন্য পর্যাপ্ত না হয় তবে আপনি ঋণের আবেদন করবেন; কিন্তু তার আগে নয়।" তখন সুলতান ও সেনাবাহিনী তাদের কাছে থাকা সেই সব সম্পদ উপস্থিত করলেন এবং তাঁর নির্দেশ পালন করলেন, ফলে মহান আল্লাহর অনুমতিতে তারা জয়লাভ করলেন (১)।
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি মহান অবস্থান ছিল মিশরের সুলতান আইয়ুব বিন আল-কামিল (২) এর সাথে তাঁর আচরণ, যেখানে তাঁর হিকমত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল। সুলতানুল উলামা একবার ঈদের দিনে এই সুলতানের নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি দেখলেন সেনাবাহিনী তাঁর সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে, আর সুলতান সুসজ্জিত হয়ে তাঁর প্রজাদের সামনে বের হয়েছেন। আমিরগণ তাঁর সামনে ভূমি চুম্বন করছিলেন। ইয ইবনে আব্দুস সালাম যখন এই বিশাল শোভাযাত্রা দেখলেন, তখন তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) সুলতানের দিকে ফিরে তাকে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বললেন: "হে আইয়ুব! আল্লাহর কাছে আপনার প্রমাণ (حجة) কী হবে যখন তিনি আপনাকে বলবেন: আমি কি আপনাকে মিশরের রাজত্ব দান করিনি, অতঃপর আপনি মদ কেন বৈধ করে দিলেন?!" সুলতান বললেন: "এমন কি ঘটেছে?" তখন ইয বললেন: "হ্যাঁ, অমুক দোকানে মদ বিক্রি হচ্ছে এবং অন্যান্য গর্হিত কাজ (منكرات) চলছে, আর আপনি এই রাজ্যের নেয়ামতের মধ্যে ডুবে আছেন।" সৈন্যরা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তিনি উচ্চকণ্ঠে তাঁকে এভাবে আহ্বান করছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقال السلطان أيوب: يا سيدي! أنا ما عملته هذا من زمان أبي. فقال العزُّ: أنت من الذين يقولون: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ} (1)، فرسم السلطان بإبطال تلك الخانة ومنع بيع الخمور. ورجع العزُّ منتصراً، مسروراً؛ لتغيير هذا المنكر، وقال له بعض تلاميذه (الباجي): يا سيدي كيف الحال؟ فقال العز بن عبد السلام: يا بني رأيته في تلك العظمة، فأردت أن أهينه؛ لئلا تكبر عليه نفسه فتؤذيه. فقال له: يا سيدي؟ أما خفته؟ فقال: واللَّه يا بني لقد استحضرت هيبة اللَّه – تعالى – فصار السلطان قدَّامي كالقط (2)!
اللَّه أكبر، ما أحكم هذا الموقف! الذي بسببه أُزيلت أم المنكرات، وأم الخبائث، مع ما أُزيل معها من المنكرات الأخرى، وانتشار الخير بين الناس.
فرحم اللَّه العز بن عبد السلام، وجزاه اللَّه خيراً، ورفع درجته.
--------------------------------------------
সুলতান আইয়ুব বললেন: "হে আমার শায়খ! আমি তো এটি আমার পিতার যুগ থেকে করে আসছি।" তখন আল-ইযয বললেন: "আপনি তো তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা বলে: {আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এক মতাদর্শে পেয়েছি} (১)।" এরপর সুলতান সেই আড্ডাখানাটি বাতিল করার এবং মদ্যপান বিক্রয় নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করলেন। আল-ইযয এই অনাচার (منكر) পরিবর্তনের মাধ্যমে বিজয়ী ও আনন্দিত চিত্তে ফিরে এলেন। তাঁর জনৈক ছাত্র (আল-বাজি) তাঁকে বললেন: "হে আমার শায়খ! তখন আপনার অবস্থা কেমন ছিল?" ইযয ইবনে আবদুস সালাম বললেন: "হে বৎস! আমি তাকে সেই রাজকীয় মহিমায় দেখলাম, তাই আমি তাকে তুচ্ছ করতে চাইলাম; যাতে তার অহমিকা বৃদ্ধি পেয়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।" ছাত্রটি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "হে আমার শায়খ! আপনি কি তাকে ভয় পাননি?" তিনি উত্তর দিলেন: "আল্লাহর শপথ হে বৎস! আমি যখন মহান আল্লাহর প্রতাপকে উপস্থিত করলাম, তখন সুলতান আমার সামনে একটি বিড়ালের মতো হয়ে গেলেন (২)!"
আল্লাহু আকবার! কতই না প্রজ্ঞাপূর্ণ এই অবস্থান! যার কারণে সকল অনাচারের (منكر) মূল এবং সকল পাপাচারের জননী দূরীভূত হলো, সেই সাথে অন্যান্য অনাচারগুলোও (منكر) অপসারিত হলো এবং মানুষের মাঝে কল্যাণের প্রচার ঘটল।
আল্লাহ তাআলা ইযয ইবনে আবদুস সালামের ওপর রহম করুন, তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثالث: من مواقف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله -
منذ نهاية القرن الرابع الهجري بدأت عوامل الضعف والانحلال تدب في كيان الأمة الإسلامية، وتوالت عليهم المحن والنكبات، فتعرضوا لموجات التتار من الشرق، والحروب الصليبية من الغرب، وبقيت بلاد الشام حوالي قرنين من الزمان تحت حكم الأوربيين، فاحتل الصليبيون دمشق وما جاورها سنة 491هـ، وبيت المقدس سنة 492هـ، وظلت الحرب مستمرة بين المسلمين والإفرنج مدة طويلة، ثم احتل الإفرنج مدينة دمياط بمصر، وخرج التتار من أطراف الصين، فاحتلوا بلاد تركستان، ثم منها إلى بلاد ما وراء النهر، مثل سمرقند، وبخارى، وغيرهما، ثم عبرت طائفة منهم إلى خراسان، وإلى حد العراق، ثم تمكن التتار عام 657هـأو 656هـمن احتلال بغداد، وبذلك سقطت هيبة الخلافة الإسلامية، وانتهت الخلافة العباسية، وبعد ذلك احتل التتار بلاد الشام، ثم جاء بعد ذلك دور المماليك في القيادة الإسلامية (1).
ومن هذا يعلم أن شيخ الإسلام (2) ظهر في عصر قد اضطربت
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কতিপয় অবস্থান-
চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ থেকে মুসলিম উম্মাহর সত্তায় দুর্বলতা ও অবক্ষয়ের কারণসমূহ দানা বাঁধতে শুরু করে এবং তাদের ওপর একের পর এক পরীক্ষা ও বিপর্যয় নেমে আসে। ফলে তারা প্রাচ্য থেকে তাতারীদের আক্রমণ এবং পাশ্চাত্য থেকে ক্রুসেডার যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। শাম (সিরিয়া) অঞ্চল প্রায় দুই শতাব্দীকাল ইউরোপীয়দের শাসনাধীনে ছিল; ক্রুসেডাররা ৪৯১ হিজরিতে দামেস্ক ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং ৪৯২ হিজরিতে বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে নেয়। মুসলিম ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। এরপর ইউরোপীয়রা মিশরের দিময়াত শহর দখল করে এবং তাতারীরা চীনের সীমান্ত থেকে বেরিয়ে তুর্কিস্তান দখল করে। সেখান থেকে তারা মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চল, যেমন সমরকন্দ, বুখারা ইত্যাদি জয় করে। অতঃপর তাদের একটি দল খোরাসান হয়ে ইরাকের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অবশেষে তাতারীরা ৬৫৬ বা ৬৫৭ হিজরিতে বাগদাদ দখলে সক্ষম হয়, যার ফলে ইসলামী খিলাফতের গাম্ভীর্য ধূলিসাৎ হয় এবং আব্বাসীয় খিলাফতের অবসান ঘটে। এরপর তাতারীরা শাম দেশ দখল করে নেয় এবং পরবর্তীতে ইসলামী নেতৃত্বে মামলুকদের যুগ শুরু হয় (১)।
এ থেকে জানা যায় যে, শায়খুল ইসলাম (২) এমন এক যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন যা ছিল অত্যন্ত অশান্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فيه السياسة والحكم، وظهرت فيه انحرافات في العادات والتقاليد والسلوك والحياة، واشتدت فيه غربة الإسلام، وتفرقت كلمة المسلمين، وظهرت الفرق المخالفة لما كان عليه السلف الصالح في العقائد والفروع، وخيَّم الجمود الفكري والتقليد الأعمى، فأثر في الجو العلمي، وظهرت فرق الشيعة، والصوفية المنحرفة، والقبورية، ونفاة الصفات: كالجهمية، والمعتزلة، والقدرية، وطغى علم الكلام والفلسفة حتى حلَاّ محل الكتاب والسنة لدى الأكثرية من المتعلمين في الاستدلال، هذا كله في داخل المجتمع الإسلامي في ذلك العصر، مع تكالب أعدائه من الخارج، فحصل من البلاء ما اللَّه به عليم (1).
في هذا الجو المعتم عاش شيخ الإسلام، فكيف يعمل حتى يصلح هذه المفاسد ويظهر النور في هذه الظلمات؟ ما هو الموقف الحكيم الذي سلكه حتى أنار اللَّه به الطريق لهذا المجتمع وألزمهم بالكتاب والسنة والإجماع وعقيدة السلف الصالح الصافية النقية؟
وبالنظر في ذلك نجد أن الشيخ ‘ وقف مواقف حكيمة لإظهار علم الكتاب والسنة، وقمع أهل البدع والأهواء.
--------------------------------------------
এতে রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থার বিষয়াবলী রয়েছে; সে সময় আচার-আচরণ, রীতিনীতি, স্বভাব ও জীবনযাত্রায় বিচ্যুতির প্রকাশ ঘটেছিল এবং ইসলামের নিঃসঙ্গতা তীব্রতর হয়েছিল। মুসলিমদের ঐক্য খণ্ডিত হয়েছিল এবং আকিদা ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে সালাফ আস-সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তার বিরোধী বিভিন্ন ফিরকা বা দলের উদ্ভব ঘটেছিল। বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও অন্ধ অনুকরণ জেঁকে বসেছিল, যা ইলমি পরিবেশকে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় শিয়া, পথভ্রষ্ট সুফি, মাজারপূজারী এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী—যেমন: জাহমিয়া, মুতাজিলা ও কাদরিয়াদের ন্যায় বিভিন্ন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। ইলমুল কালাম ও দর্শন শাস্ত্রের এমন প্রাবল্য দেখা দিয়েছিল যে, শিক্ষিত সমাজের অধিকাংশের নিকট তা দলিলের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর স্থলাভিষিক্ত হয়ে পড়েছিল। এই সবই ছিল সেই যুগের মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, যার সাথে যুক্ত হয়েছিল বহিঃশত্রুদের সম্মিলিত আক্রমণ। ফলে এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল যা কেবল আল্লাহই সম্যক অবগত (১)।
এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে শাইখুল ইসলাম জীবন অতিবাহিত করেছেন। এই সকল ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সংশোধনে এবং এই অন্ধকারের মাঝে আলোর দিশা দেখাতে তিনি কীভাবে কাজ করেছিলেন? তিনি কোন প্রজ্ঞাপূর্ণ নীতি অবলম্বন করেছিলেন যার মাধ্যমে আল্লাহ এই সমাজের জন্য পথকে আলোকিত করেছিলেন এবং তাদেরকে কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা (إجماع) এবং সালাফ আস-সালেহীনের স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকিদার অনুসরণে বাধ্য করেছিলেন?
এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, শাইখ (রহ.) কিতাব ও সুন্নাহর ইলম প্রকাশ করতে এবং বিদআত (بدعة) ও প্রবৃত্তিপূজারীদের দমনে অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن مواقفه في رفع وإزالة هذا البلاء الواقع ما يلي:
1 - عنايته بالعلم قبل العمل:عندما علم شيخ الإسلام أنه لا يزيل هذه الظلمات إلا نور علم الكتاب والسنة، بدأ بطلب العلم النافع، فتعلم وتفقه، وهذا مما يدل على حكمته؛ لأنه لا حكيم إلا بالعلم النافع، وفاقد الشيء لا يُعطيه.
2 - بث النور ونشر العلم ونفع الأمة:بعد أن تسلح بسلاح علم الكتاب والسنة بدأ يبث النور بنشر العلم في هذا المجتمع المعتم، ويؤسس أركاناً من تلاميذه حتى يستفيد الناس، وكان يحضر المحافل ويناظر ويفحم الكبار، ويأتي بما يُحار منه أعيان البلد في العلم والمواقف الحكيمة في دعوته إلى اللَّه.
3 - مواقفه الحكيمة مع قازان وقوات التتار:لم يقتصر الشيخ تقي الدين على طلب العلم النافع وتعليمه الناس، وترسيخ العقيدة في أذهانهم، وحثهم على الجهاد في سبيل اللَّه تعالى، بل قد قام بتطبيق ما يدعو إليه، ويرغب في ثوابه من الجهاد في سبيل اللَّه - تعالى - فقد هجم التتار على دمشق، وكانت حينئذ ولاية تابعة لسلطان المماليك في مصر، فجهز السلطان جيشاً ليرد التتار عن بلاد الشام، فكانت الوقعة بين الجيش وقوات (قازان) في 27 ربيع الأول 699هـ، ولكن كانت الغلبة لجيش التتار، وعادت
এবং এই বিদ্যমান বালা-মুসিবত দূর ও নিরসনের ক্ষেত্রে তাঁর পদক্ষেপগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১ - আমলের পূর্বে ইলমের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ:শাইখুল ইসলাম যখন উপলব্ধি করলেন যে, কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের নূর ব্যতীত এই অন্ধকার দূরীভূত হবে না, তখন তিনি উপকারী ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। ফলে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন এবং দ্বীনের গভীর ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। এটি তাঁর প্রজ্ঞারই পরিচয় দেয়; কারণ উপকারী ইলম ব্যতীত কেউ প্রজ্ঞাবান হতে পারে না এবং যার নিজের কাছে কিছু নেই সে অন্যকে তা দিতে পারে না।
২ - নূর বিচ্ছুরণ, ইলম প্রচার এবং উম্মাহর কল্যাণ সাধন:কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের হাতিয়ারে সজ্জিত হওয়ার পর তিনি এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে ইলম প্রচারের মাধ্যমে নূর বিচ্ছুরণ করতে শুরু করেন এবং একদল সুযোগ্য ছাত্র তৈরি করেন যাতে মানুষ উপকৃত হতে পারে। তিনি বিভিন্ন মজলিসে উপস্থিত হতেন, শাস্ত্রীয় বিতর্ক করতেন এবং বড় বড় পণ্ডিতদের নিরুত্তর করে দিতেন। তিনি ইলম ও প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানের মাধ্যমে এমন সব বিষয়ের অবতারণা করতেন যা দেখে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আল্লাহর পথে তাঁর দাওয়াতের ক্ষেত্রে বিস্মিত হতেন।
৩ - কাজান ও তাতার বাহিনীর সাথে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান:শাইখ তাকিউদ্দীন কেবল উপকারী ইলম অন্বেষণ, মানুষকে শিক্ষা প্রদান, তাদের হৃদয়ে আকিদা বদ্ধমূল করা এবং আল্লাহর পথে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি যার দাওয়াত দিতেন এবং যার সওয়াবের আশা করতেন, সেই আল্লাহর পথে জিহাদকে তিনি বাস্তবে রূপদান করেছেন। তাতারীরা যখন দামেস্কে আক্রমণ করল—যা তখন মিশরের মামলুক সুলতানের অধীনস্থ একটি প্রদেশ ছিল—তখন সুলতান শাম দেশ থেকে তাতারীদের প্রতিহত করার জন্য এক সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন। অতঃপর ৬৯৯ হিজরীর ২৭শে রবিউল আউয়াল তারিখে সেনাবাহিনী ও কাজান বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তবে তাতার বাহিনীই জয়ী হয় এবং
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عساكر السلطان إلى مصر، ودخل التتار إلى دمشق، وعاثوا في الأرض فساداً، وحينئذ اجتمع الشيخ تقي الدين بأعيان البلد، واتفقوا على السير إلى قازان في يوم الاثنين الثالث من ربيع الثاني سنة 699هـ) (1) والتحدث إليه، فلما وصلوا إلى قازان قائد التتار في بلدة النبك، المجاورة لدمشق، قابله الشيخ، وطلب منه الأمان لأهل دمشق، ورد الأسرى من المسلمين وأهل الذمة، ثم تكلم معه كلام الأبطال الشجعان، فأنزل اللَّه الرعب في قلب السلطان، وسأل: من هذا الشيخ؟ فإني لم أر مثله، ولا أثبت قلباً منه، ولا أوقع منه حديثاً في قلبي، ولا رأيتني أعظم انقياداً لأحد منه، فأُخبر بما له وما هو عليه من العلم والعمل، ثم قال له الشيخ بواسطة الترجمان: ((إنك تزعم أنك مسلم، ومعك قاض، وإمام وشيخ، ومؤذنون، فغزوتنا، وأبوك وجدك كانا كافرين، وما عملا الذي عملت عاهدا فوفّيا، وأنت عاهدت فغدرت، وقلت فما وفيّت، وجُرْتَ)).
ثم قدم لهم قازان طعاماً فأكلوا، ولم يأكل ابن تيمية، فسُئل عن ذلك؟ فقال: كيف آكل من طعامكم، وكله مما نهبتم من أغنام الناس، وطبختموه بما قطعتم من أشجار الناس، فطلب منه قازان الدعاء، فقال في دعائه: ((اللَّهم إن كان عبدك هذا إنما يقاتل لتكون كلمتك هي العليا؛ وليكون الدين كله لك، فانصره وأيده، وملّكه
--------------------------------------------
সুলতানের সেনাবাহিনী মিসরের দিকে প্রস্থান করল এবং তাতারীরা দামেস্কে প্রবেশ করে সেখানে ব্যাপক ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করল। সেই সময় শায়খ তাকিউদ্দীন নগরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একত্রিত হলেন এবং সোমবার, ৩ রবিউস সানি ৬৯৯ হিজরি তারিখে গাজান খানের কাছে গিয়ে তাঁর সাথে আলোচনার ব্যাপারে একমত হলেন। (১) যখন তারা দামেস্কের নিকটবর্তী 'নাবক' নামক স্থানে তাতার সেনাপতি গাজান খানের কাছে পৌঁছালেন, শায়খ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং দামেস্কবাসীর জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলেন। সেইসাথে মুসলিম ও জিম্মি (أهل الذمة) বন্দীদের মুক্তির দাবি জানালেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে বীর যোদ্ধাদের ন্যায় কথা বললেন, ফলে আল্লাহ সুলতানের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন। সুলতান জিজ্ঞেস করলেন, "এই শায়খ কে? আমি তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি, না তাঁর চেয়ে অধিক অটল হৃদয়ের অধিকারী কাউকে দেখেছি, আর না তাঁর কথার মতো কারো কথা আমার হৃদয়ে এতটা প্রভাব ফেলেছে। আমি নিজেকে তাঁর চেয়ে অন্য কারো সামনে এতটা অনুগত হতে দেখিনি।" তাঁকে শায়খের ইলম ও আমল সম্পর্কে জানানো হলো। এরপর শায়খ দোভাষীর মাধ্যমে তাকে বললেন, "তুমি দাবি করো যে তুমি একজন মুসলিম, তোমার সাথে কাজী, ইমাম, শায়খ এবং মুয়াজ্জিনরা রয়েছে, অথচ তুমি আমাদের ওপর আক্রমণ করেছ। তোমার বাবা ও দাদা কাফির (كافر) হওয়া সত্ত্বেও তারা যা করেছ তেমনটা করেননি; তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতেন, অথচ তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেছ, কথা দিয়ে তা রক্ষা করোনি এবং জুলুম করেছ।"
অতঃপর গাজান খান তাঁদের সামনে খাবার পেশ করলেন, সকলে আহার করলেও ইবনে তাইমিয়্যাহ কিছুই খেলেন না। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আমি তোমাদের খাবার কীভাবে খাব? এর সবই তোমরা মানুষের নিকট থেকে লুণ্ঠন করা ছাগল দিয়ে তৈরি করেছ এবং তা রান্না করেছ মানুষের বাগান থেকে কেটে আনা কাঠ দিয়ে।" তখন গাজান খান তাঁর নিকট দোয়ার আবেদন করলেন। তিনি তাঁর দোয়ায় বললেন: "হে আল্লাহ, যদি তোমার এই বান্দা কেবল তোমার কালিমা সমুন্নত করার লক্ষ্যে এবং দ্বীনকে পুরোপুরি তোমার জন্য নিবেদিত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে থাকে, তবে তাকে সাহায্য করো, শক্তিশালী করো এবং তাকে রাজত্ব দান করো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
البلاد والعباد، وإن كان إنما قام رياءً وسمعةً وطلباً للدنيا ولتكون كلمته هي العليا، وليذل الإسلام وأهله، فاخذله وزلزله ودمّره واقطع دابره))، وقازان يرفع يديه ويؤمن على دعائه.
وقد خاف الناس على الشيخ القتل في هذا الموقف، ولكن اللَّه أنزل الرعب في قلوب أعدائه (1).
وقد أجابه قازان إلى حقن دماء المسلمين، وبلغه ما أراد، ورد عليه الأسرى من المسلمين، فلم يقبل الشيخ حتى رد جميع الأسرى من المسلمين ومن أهل الذمة من اليهود والنصارى، ثم رجع الشيخ مكرماً معززاً، قد وفقه اللَّه ونصره لحسن قصده وإخلاصه في نيته، فنفع اللَّه به المسلمين وأعزهم ونصرهم (2).
ولم يكن هذا الموقف هو الوحيد، بل له مواقف حكيمة ظهرت فيها شجاعته، منها حثه السلطان على الجهاد، وذلك أنه ركب إلى مصر يطلب من السلطان أن يُرسل جيوشاً، أو يتخلى عن الشام ويولّي عليه ابن تيمية غيره، فأجابه السلطان وأرسل الجيوش، وذلك سنة 700هـثم رجع الشيخ من مصر إلى الشام، ووصل في 27 من جمادى الأولى سنة 700هـ، وحث جميع الناس على الجهاد في سبيل اللَّه، فوصلت الجيوش، ورجع جيش التتار، وعبر الفرات (3)،
--------------------------------------------
দেশ ও জনগণের (মঙ্গলের জন্য); আর তিনি যদি কেবল লোকদেখানো (প্রদর্শনী), সুখ্যাতি অর্জন এবং পার্থিব স্বার্থের জন্য এবং স্বীয় শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে আর ইসলাম ও মুসলিমদের লাঞ্ছিত করতে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে আপনি তাঁকে অপদস্থ করুন, তাঁকে প্রকম্পিত করুন, তাঁকে ধ্বংস করুন এবং তাঁর নাম-নিশানা মুছে দিন।" আর গাজান খান তখন তাঁর হাত তুলে ধরছিলেন এবং তাঁর দোয়ায় 'আমীন' বলছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে লোকেরা শায়খের জীবননাশের আশঙ্কা করছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর শত্রুদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিয়েছিলেন (১)।
গাজান খান মুসলিমদের রক্তপাত না করার আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন এবং শায়খ যা চেয়েছিলেন তা মঞ্জুর করেছিলেন। তিনি তাঁর নিকট মুসলিম বন্দীদের ফিরিয়ে দেন। কিন্তু শায়খ ততক্ষণ পর্যন্ত তা গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না সকল মুসলিম বন্দী এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে জিম্মি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়। অতঃপর শায়খ অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে প্রত্যাবর্তন করেন। আল্লাহ তাঁর সৎ উদ্দেশ্য ও নিয়তের একনিষ্ঠতার কারণে তাঁকে তাওফিক দান করেন ও সাহায্য করেন। ফলে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন, তাঁদের সম্মানিত করেন এবং বিজয় দান করেন (২)।
এই অবস্থানটিই একমাত্র ছিল না, বরং তাঁর আরও অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান ছিল যেখানে তাঁর বীরত্ব প্রকাশিত হয়েছিল। তন্মধ্যে একটি হলো সুলতানকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করা। আর তা ছিল এই যে, তিনি মিশরে গিয়ে সুলতানের কাছে সেনাবাহিনী প্রেরণের আবেদন করেন, নতুবা তিনি যেন সিরিয়ার (শাম) দায়িত্ব ত্যাগ করেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ সেখানে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার ব্যবস্থা করেন। সুলতান তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। এটি ছিল ৭০০ হিজরি সনের ঘটনা। অতঃপর শায়খ মিশর থেকে সিরিয়ায় ফিরে আসেন এবং ২৭শে জমাদিউল উলা ৭০০ হিজরিতে পৌঁছান। তিনি সকল মানুষকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয় এবং তাতার বাহিনী পশ্চাদপসরণ করে ফোরাত নদী পার হয়ে যায় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكفى اللَّه المؤمنين القتال.
ولم يقتصر ابن تيمية على ما سبق، بل له مواقف أخرى تدل على بطولته وحكمته، فقد جاء التتار بجموعهم مرة أخرى بعد أن عبروا الفرات، فجاءوا سنة 702هـوهجموا على الديار الشامية، فقام ابن تيمية وحث سلطان مصر على الجهاد ورغب فيه، وحث الناس أيضاً ورغبهم في الجهاد في سبيل اللَّه، ووعدهم بالنصر من اللَّه – عز وجل – وكان يحلف باللَّه العظيم: إنكم في هذه الكرة منصورون. فيقول له الأمراء ومن معهم: قل – إن شاء اللَّه – فيقول: - إن شاء اللَّه – تحقيقاً لا تعليقاً. وكان يتأول قوله تعالى: {ذَلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنصُرَنَّهُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ} (1)، وقد كان اللَّه عند حسن ظنه به؛ فإنه كان يحلف لهذه الآية، وثقة باللَّه – تعالى – وأنه لا يخلف وعده، ثم التقى المسلمون بالتتار في يوم السبت الثاني من رمضان سنة 702هـفي وقعة)) شقحب ((، فامتد القتال من عصر يوم السبت إلى الساعة الثانية من يوم الأحد، واشترك ابن تيمية في المعركة بلسانه ويديه وسيفه، وبكل ما يملك من قوة وبلاغة في تثبيت الأمراء والجنود وجميع الجيش، وقد كان السلطان يقول لابن تيمية في هذه المعركة: يا خالد بن الوليد! فيقول ابن تيمية: قل يا {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ * إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ মুমিনদের যুদ্ধ হতে রক্ষা করলেন।
ইবনে তাইমিয়া কেবল পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তাঁর আরও কিছু অবস্থান ছিল যা তাঁর বীরত্ব ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। তাতাররা তাদের বিশাল বাহিনী নিয়ে ফোরাত নদী পার হয়ে পুনরায় ৭০২ হিজরি সনে আগমন করল এবং শামের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালাল। তখন ইবনে তাইমিয়া উঠে দাঁড়ালেন এবং মিশরের সুলতানকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করলেন। তিনি মানুষকেও আল্লাহর পথে জিহাদে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করলেন এবং তাঁদের আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেন। তিনি মহান আল্লাহর নামে শপথ করে বলতেন: “নিশ্চয়ই আপনারা এই অভিযানে বিজয় লাভ করবেন।” তখন আমিরগণ এবং তাঁদের সঙ্গীরা তাঁকে বলতেন: “বলুন—ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)।” জবাবে তিনি বলতেন: “ইনশাআল্লাহ—এটি সুনিশ্চিতকরণের জন্য বলছি, কেবল শর্তযুক্ত করার জন্য নয়।” তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা করতেন: {এটাই স্থির। আর কেউ আক্রান্ত হয়ে যার দ্বারা সে নিপীড়িত হয়েছে, তারই সমান প্রতিশোধ গ্রহণ করলে এবং পুনরায় সে নির্যাতিত হলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপ মোচনকারী ও ক্ষমাশীল।} (১)। আল্লাহ তাঁর প্রতি ইবনে তাইমিয়ার সুধারণা পূর্ণ করেছিলেন; কারণ তিনি এই আয়াতের ওপর ভিত্তি করে এবং আল্লাহর প্রতি রাখা সুদৃঢ় আস্থা (ثقة) থেকে শপথ করতেন যে, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। অতঃপর ৭০২ হিজরি সনের রমজান মাসের দ্বিতীয় শনিবার ‘শাকহাব’-এর যুদ্ধে মুসলিমগণ তাতারদের মুখোমুখি হলেন। শনিবার আসর থেকে শুরু করে রবিবার বেলা দ্বিতীয় প্রহর পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল। ইবনে তাইমিয়া তাঁর বাগ্মিতা, হাত ও তরবারির মাধ্যমে এবং তাঁর সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে আমির, সৈন্য ও সমগ্র বাহিনীকে অটল রাখার মাধ্যমে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এই যুদ্ধ চলাকালীন সুলতান ইবনে তাইমিয়াকে বলতেন: “হে খালিদ বিন ওয়ালিদ!” তখন ইবনে তাইমিয়া বলতেন: “বলুন—হে {প্রতিফল দিবসের মালিক! আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২০)
نَسْتَعِينُ} (1)، واشتدت المعركة، وحلف ابن تيمية للناس باللَّه الذي لا إله إلا هو إنكم لمنصورون، وأمر الناس بالإفطار، وأفطر هو أمامهم، ثم أنزل اللَّه النصر على المسلمين، ثم هرب التتار، واقتحموا الجبال والتلول والآكام، وصاروا يتساقطون في الأودية، وهربوا ليلاً، وغرق منهم خلق كثير في الفرات بسبب الظلام، وعاد الشيخ ومن معه إلى دمشق في اليوم الخامس من رمضان سنة 702هـ، وقد نصرهم اللَّه تعالى (2).
وله مواقف بطولية فذة حكيمة مع السلاطين، تدل على صدقه وإخلاصه وشجاعته في الحق (3).
وقد
ظهرت حكمة ابن تيمية رضي الله عنه في أثناء لقائه مع التتار وقائدهم في النقاط الآتية:
1 - طلبه الأمان لأهل دمشق على دمائهم وأعراضهم وأموالهم، فأجابه قازان إلى ذلك.
--------------------------------------------
(আমরা) সাহায্য চাই} (১), এবং যুদ্ধ তীব্রতর হলো, আর ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই আল্লাহর নামে শপথ করলেন যার ছাড়া কোনো ইলাহ নেই যে, নিশ্চয়ই তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। তিনি লোকদের ইফতার করার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি নিজে তাদের সামনে ইফতার করলেন। অতঃপর আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দান করলেন। তারপর তাতারীরা পলায়ন করল এবং তারা পাহাড়, টিলা ও উচ্চভূমিতে আশ্রয় নিল। তারা উপত্যকাগুলোতে পতিত হতে লাগল এবং রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেল। অন্ধকারের কারণে তাদের বিশাল এক বাহিনী ফুরাত নদীতে ডুবে মারা গেল। শাইখ এবং তার সঙ্গীরা ৭০২ হিজরি সালের রমজান মাসের পঞ্চম দিনে দামেস্কে ফিরে এলেন, আর আল্লাহ তাআলা তাদের বিজয় দান করেছিলেন (২)।
সুলতানদের সাথে তার কিছু অনন্য বীরত্বপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, যা সত্যের পথে তার সততা, একনিষ্ঠতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দেয় (৩)।
তাতার ও তাদের সেনাপতির সাথে সাক্ষাতের সময়
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রজ্ঞা ফুটে উঠেছে নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে:
১ - দামেস্কবাসীদের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করা, আর কাযান তার সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২১)
2 - إصراره على رد جميع الأسرى من المسلمين وأهل الذمة.
3 - جرأته وشجاعته في الكلام مع قازان حتى أنزل اللَّه الرعب في قلبه.
4 - تذكيره لقازان بنقضه للعهد، ولا سيما وهو يدعي الإسلام.
5 - عدم أكله من الطعام الذي قدمه قازان؛ لأنه من أغنام الناس المنتهبة، وقد أوقد عليه بما قطع من أشجارهم.
6 - دعاؤه الذي دل على حكمته وعدله ونصرته لدين اللَّه تعالى.
7 - حثه سلطان المسلمين على الجهاد في سبيل اللَّه - تعالى - أو يتخلى عن الشام، ويولي غيره ممن يحمي حوزة الدين، ويذب عن أعراض المسلمين وأموالهم.
8 - حثه الناس على الجهاد وإقسامه بأن اللَّه سينزل النصر على المسلمين، وهذا يدل على ثقته باللَّه - تعالى - وبوعده، وأنه لا يخلف الميعاد، ولهذا ازداد المسلمون شجاعة وإقداماً، فأنزل اللَّه النصر، وهزم أعداء المسلمين.
9 - مشاركته الفعلية في الدفاع عن المسلمين بلسانه ويده وسيفه.
10 - قوله لسلطان المسلمين حينما قال له عند اشتداد المعركة:)) يا خالد بن الوليد ((، فقال ابن تيمية: قل: يا {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ * إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}.
فرحم اللَّه ابن تيمية وغفر له.
২ - মুসলিম এবং জিম্মি হওয়া সত্ত্বেও সকল বন্দীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ় সংকল্প।৩ - গাজানের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্ব, যার ফলে মহান আল্লাহ তার হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করেছিলেন।৪ - গাজানকে তার অঙ্গীকার ভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, বিশেষ করে যখন সে ইসলামের দাবি করছিল।৫ - গাজানের পরিবেশন করা খাবার গ্রহণে তাঁর অস্বীকৃতি; কারণ তা ছিল জনগণের লুণ্ঠিত মেষ থেকে সংগৃহীত এবং তাদের গাছপালা কেটে তা রান্না করার জন্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।৬ - তাঁর প্রার্থনা, যা তাঁর প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার এবং মহান আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্যের প্রমাণ বহন করে।৭ - মহান আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য মুসলিম সুলতানকে উৎসাহিত করা অথবা সিরিয়া ত্যাগ করে এমন কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা যে দ্বীনের সীমানা রক্ষা করবে এবং মুসলিমদের সম্মান ও সম্পদ রক্ষা করবে।৮ - মানুষকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করা এবং এই মর্মে শপথ করা যে মহান আল্লাহ মুসলিমদের ওপর বিজয় দান করবেন। এটি মহান আল্লাহর ওপর তাঁর অগাধ আস্থা (ثقة) ও তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়, আর নিশ্চয়ই তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। এর ফলে মুসলিমদের সাহস ও বীরত্ব বৃদ্ধি পায়, অতঃপর আল্লাহ বিজয় দান করেন এবং মুসলিমদের শত্রুদের পরাজিত করেন।৯ - নিজের জবান, হাত এবং তলোয়ার দ্বারা মুসলিমদের প্রতিরক্ষায় তাঁর কার্যকর অংশগ্রহণ।১০ - যুদ্ধের তীব্রতার সময় মুসলিম সুলতান যখন তাঁকে বলেছিলেন: "হে খালিদ বিন ওয়ালিদ", তখন সুলতানের প্রতি তাঁর উক্তি; ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছিলেন: "বলুন: হে বিচার দিবসের মালিক, আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই।"মহান আল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهكذا ينبغي لكل داعية إلى اللَّه أن يظهر من عمله ما يصدق قوله، رغبة فيما عند اللَّه والدار الآخرة، وبذلك يفتح اللَّه له قلوب العباد وأسماعهم، وتظهر دعوته إلى اللَّه، ويظهر أثرها، وأثر إخلاص صاحبها مع اللَّه عز وجل.
4 - مناظراته الحكيمة:من مواقفه الحكيمة مناظراته التي غلب فيها خصومه وأعجزهم، وانقادوا له طوعاً أو كرهاً، فقد كان شيخ الإسلام على عقيدة السلف الصالح، ويعض على هذه العقيدة بالنواجذ، ويبذل جهده ووقته، وفكره في إرجاع جميع الطوائف المنحرفة إلى هذه العقيدة، ويرى رأي إمام دار الهجرة مالك بن أنس من أنه لا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلح أولها، وهو رأي كل حكيم عليم بداء الأمة ودوائها قديماً وحديثاً.
وكان الشيخ رضي الله عنه شديد الانتصار لمذهب السلف والدفاع عنه بالحجج النقلية والعقلية، وقد عقدت له مناظرات في مصر والشام، وكان معظمها يحوم حول هذه القضية (1)، ومن هذه المناظرات على سبيل المثال لا الحصر، ما يأتي:
(أ) المناظرة الأولى: في العقيدة الواسطية التي كتبها لرضى الدين الواسطي، من أصحاب الشافعي، حينما طلب منه بإلحاح أن يكتب
--------------------------------------------
এভাবেই আল্লাহ্র পথে আহ্বানকারী প্রত্যেকের জন্য বাঞ্ছনীয় যেন তার কর্মে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তার কথাকে সত্যয়ন করে, যা হবে আল্লাহ্র নিকট গচ্ছিত প্রতিদান ও পরকালের প্রতি আকাঙ্ক্ষা থেকে; আর এভাবেই আল্লাহ্ তার জন্য বান্দাদের অন্তর ও কর্ণসমূহ উন্মুক্ত করে দেন, এবং আল্লাহ্র পথে তার দাওয়াত ও তার প্রভাব প্রকাশিত হয়, আর আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি সেই ব্যক্তির নিষ্ঠার প্রভাবও জাহির হয়।
৪ - তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ মুনাজারা (বিতর্ক)সমূহ:তাঁর বিজ্ঞোচিত অবস্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর সেই মুনাজারা বা বিতর্কসমূহ যেখানে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষদের পরাস্ত ও নিরুত্তর করেছিলেন এবং তারা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিল। মূলত শাইখুল ইসলাম সালাফে সালেহীনের আকিদাহর ওপর অটল ছিলেন এবং এই আকিদাহকে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তিনি তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা, সময় ও চিন্তাশক্তি সকল বিচ্যুত (منحرفة) দলকে এই আকিদাহর দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যয় করেছিলেন। তিনি হিজরতের আবাসস্থলের ইমাম (ইমামে দারে হিজরাহ) মালিক ইবনে আনাসের এই মত পোষণ করতেন যে: "এই উম্মতের শেষাংশ ততক্ষণ সংশোধিত হবে না, যতক্ষণ না তা সেই জিনিসের মাধ্যমে সংশোধিত হয় যার দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।" এটি প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের এমন প্রত্যেক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির অভিমত, যারা উম্মতের ব্যাধি ও প্রতিকার সম্পর্কে সম্যক অবগত।
শাইখ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সালাফের মাজহাবের একনিষ্ঠ সাহায্যকারী ছিলেন এবং উদ্ধৃতিমূলক (نقلية) ও যুক্তিনির্ভর (عقلية) প্রমাণের মাধ্যমে এর প্রতিরক্ষা করতেন। মিশর ও শামে তাঁর অনেক মুনাজারা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেগুলোর অধিকাংশ এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো (১)। উদাহরণস্বরূপ সেই মুনাজারাগুলো থেকে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:
(ক) প্রথম মুনাজারা: আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ প্রসঙ্গে যা তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী রাযীউদ্দীন ওয়াসিতির জন্য লিখেছিলেন, যখন তিনি এটি লেখার জন্য তাঁর কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
له عقيدة تكون عمدة له ولأهل بيته في مدينة واسط، فكتبها الشيخ، وانتشرت بين الناس، مما أدى إلى ثورة كثير من علماء الجهمية والاتحادية والرافضة، وغيرهم من ذوي الأحقاد، فسعى هؤلاء إلى السلطان في البلاد المصرية، فكتب السلطان إلى نائبه على بلاد الشام يأمره بجمع قُضاة المذاهب الأربعة، وغيرهم من نوابهم، والمفتين، والمشايخ، وعندما وصل الكتاب إلى أمير الشام جمع قضاة المذاهب الأربعة والعلماء، والشيخ تقي الدين في قصر الولاية بدمشق، وذلك يوم الاثنين الثامن من رجب سنة 705هـ، ثم بدأ المجلس وقراءة العقيدة الواسطية من أولها، ومناقشة الشيخ ومناظرته بحضور الأمير، فناظرهم الشيخ، ورد عليهم، وبيَّن لهم مذهب السلف الصالح، وأن هذه العقيدة هي عقيدة أهل السنة والجماعة، وهي التي يدل عليها الكتاب والسنة وإجماع السلف، وصار يُناظر أصحاب المذاهب، فكان أعلم بمذاهبهم منهم، وأعجزهم أمام الأمير، ثم انتهى المجلس الأول.
واجتمعوا للمجلس الثاني يوم الجمعة بعد الصلاة الثاني عشر من رجب سنة 705هـ، وقد أحضر قُضاة المذاهب الأربعة، معهم صفي الدين الهندي، وتكلم مع الشيخ تقي الدين كلاماً كثيراً، ولكن ساقيته لاطمت بحراً عميقاً، ثم استلم من ناظره عقبه، فكان كالبحر الزاخر، حتى إن هؤلاء القضاة والعلماء عجزوا عن مناظرته؛ لأنه كان يرد عليهم بالكتاب والسنة والآثار عن السلف الصالح، وكان
ওয়াসিত শহরের জনৈক ব্যক্তির জন্য একটি আকিদাহ বা বিশ্বাসমালার প্রয়োজন ছিল যা তার ও তার পরিবার-পরিজনের জন্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে; শাইখ সেটি রচনা করেন এবং তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে জাহমিয়া, ইত্তিহাদিয়া ও রাফেজি মতবাদের অনেক আলেম এবং অন্যান্য বিদ্বেষ পোষণকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা মিশরের সুলতানের নিকট এই বিষয়ে প্ররোচনা দেয়। সুলতান তখন সিরিয়ার নায়েবের নিকট পত্র লিখে চার মাজহাবের বিচারকগণ, তাদের প্রতিনিধিগণ, মুফতিবৃন্দ এবং মাশায়েখদের একত্রিত করার নির্দেশ দেন। সিরিয়ার আমিরের নিকট পত্র পৌঁছালে তিনি দামেস্কের শাসন প্রাসাদে ৭০৫ হিজরি সালের ৮ই রজব সোমবার চার মাজহাবের বিচারকগণ, ওলামায়ে কেরাম এবং শাইখ তাকিউদ্দীনকে একত্রিত করেন। অতঃপর সভা শুরু হয় এবং 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' শুরু থেকে পাঠ করা হয়। আমিরের উপস্থিতিতে শাইখের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। শাইখ তাদের সাথে বিতর্ক করেন, তাদের অভিযোগ খণ্ডন করেন এবং তাদের নিকট সালাফে সালেহীনের মানহাজ স্পষ্ট করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই আকিদাহই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত। তিনি বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীদের সাথে বিতর্ক করতে থাকেন; তিনি তাদের নিজ নিজ মাজহাব সম্পর্কে তাদের চেয়েও বেশি প্রাজ্ঞ ছিলেন এবং আমিরের সামনে তাদের অক্ষমতা প্রমাণ করেন। অতঃপর প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়।
অতঃপর ৭০৫ হিজরি সালের ১২ই রজব শুক্রবার জুমার সালাতের পর দ্বিতীয় অধিবেশনের জন্য তারা পুনরায় সমবেত হন। সেখানে চার মাজহাবের বিচারকদের সাথে সফিউদ্দীন আল-হিন্দি উপস্থিত ছিলেন। তিনি শাইখ তাকিউদ্দীনের সাথে দীর্ঘ বাক্যবিনিময় করেন, কিন্তু তার ক্ষুদ্র জলস্রোত যেন এক অতল সমুদ্রের সাথে আছড়ে পড়ছিল। অতঃপর শাইখ যখন বিতর্কের ভার গ্রহণ করলেন, তখন তিনি যেন উত্তাল সমুদ্রে রূপ নিলেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, সেই বিচারক ও আলেমগণ তার সাথে বিতর্ক করতে অপরাগ হয়ে পড়েন; কারণ তিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বর্ণনা (الآثار) দ্বারা তাদের প্রত্যুত্তর দিচ্ছিলেন এবং তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يلزمهم بالكتاب والسنة، ويدعوهم إلى التمسك بمذهب السلف الصالح، ويبين لهم أنه لم يضع هذه العقيدة من ذات نفسه، وليس لأحد أن يُشرِّع للناس ما لم يأذن به اللَّه، وإنما العقيدة تؤخذ من كتاب اللَّه، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإجماع سلف هذه الأمة، فما أثبته اللَّه لنفسه أو أثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم وجب على كل مسلم أن يُثبته للَّه من غير تحريف ولا تعطيل ولا تمثيل ولا تكييف، وما نفاه عن نفسه، أو نفاه عنه رسوله صلى الله عليه وسلم وجب نفيه عنه، لأنه تعالى أعلم بنفسه.
وانتهى هذا المجلس بعجز المجلس أمام الأمير عن ابن تيمية، فخرج الشيخ والناس يحملون له الشمع إلى منزله على عادتهم في ذلك.
ثم عُقد المجلس الثالث في اليوم السابع من شعبان سنة 705هـفي القصر، واجتمع الجماعة كلهم على الرضى بالعقيدة الواسطية، وأخذ بعضهم يمدح الشيخ ويُثني عليه، وكان هذا كله أمام رئيس المجلس نائب السلطان (1).
فأظهر اللَّه الحق، وأبطل الباطل، وظهرت حكمة ابن تيمية أمام الجميع، فجزاه اللَّه خير الجزاء.
--------------------------------------------
তিনি তাদের কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হওয়ার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অবগত করেন এবং তাদেরকে নেককার পূর্বসূরিগণের (সালাফ আস-সালেহ) আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করেন যে, তিনি এই আকিদা (عقيدة) নিজ থেকে উদ্ভাবন করেননি। আর আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে মানুষের জন্য কোনো বিধান প্রবর্তনের অধিকার কারো নেই। মূলত আকিদা (عقيدة) গ্রহণ করা হয় আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং এই উম্মতের পূর্বসূরিদের সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) থেকে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা অপরিহার্য; আর তা হতে হবে কোনো প্রকার বিকৃতি (تحريف), অর্থহীন করা (تعطيل), সাদৃশ্য প্রদান (تمثيل) কিংবা ধরণ নির্ধারণ (تكييف) ছাড়াই। আর আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তা থেকে যা নাকচ করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে যা নাকচ করেছেন, তা নাকচ করাও আবশ্যক; কারণ মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।
এই সভাটি আমিরের সম্মুখে ইবনে তাইমিয়ার মোকাবেলায় সভার সদস্যদের অক্ষমতার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। অতঃপর শায়খ বের হলেন এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে তাঁকে তাঁর বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছে দিল।
অতঃপর ৭০৫ হিজরি সালের ৭ই শাবান রাজপ্রাসাদে তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সকলেই আকিদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশে একমত হন। এমনকি কেউ কেউ শায়খের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে শুরু করেন। এই পুরো ঘটনাটি সভার প্রধান তথা সুলতানের নায়েব বা প্রতিনিধির সামনেই সম্পন্ন হয়েছিল (১)।
এভাবে আল্লাহ সত্যকে প্রকাশিত করলেন এবং মিথ্যাকে বিলুপ্ত করলেন। সকলের সামনে ইবনে তাইমিয়ার প্রজ্ঞা প্রতিভাত হলো। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(ب) المناظرة الثانية التي أعز اللَّه بها أهل السنة وخذل بها أهل البدع والخرافات، وذلك أن الطائفة الأحمدية البطائحية (1) كانوا يُخالفون الشيخ تقي الدين في عقيدة السلف الصالح، وكان يأمرهم باتّباع الكتاب والسنة، وينكر عليهم فعلهم وأحوالهم الشيطانية.
وفي يوم السبت تاسع جمادى الأولى سنة 705هـحضر هؤلاء المبتدعة في جموع هائلة إلى قصر نائب دمشق، يسألون نائب السلطان أن يكفّ عنهم الشيخ ابن تيمية ومذهبه السلفي، وعندما رآهم الناس اجتمع عليهم جمٌّ غفير، ولكن الأمير لم يقبل منهم إلا بحضور الشيخ ومناظرته، فأرسل إليه ووصل، وسأله الأمير، فأخبره ابن تيمية أن هؤلاء من أهل البدع، وقد أفسدوا من دين المسلمين ما اللَّه به عليم، وذكر له جميع ما يعرف عنهم، وأنه ينهاهم عن البدع وهم يأتون بأحوال شيطانية، ومنها دخولهم النار، واستعد الشيخ أنهم إن دخلوا النار في هذا اليوم فسيدخل معهم، ومن احترق فعليه لعنة اللَّه، ولكن بعد غسل الأجسام بالخل والماء الحار؛ لأنهم يطلون أجسامهم بأدوية يصنعونها من دهن الضفادع
--------------------------------------------
(খ) দ্বিতীয় বিতর্ক (مناظرة) যার মাধ্যমে আল্লাহ আহলে সুন্নাহকে (أهل السنة) সম্মানিত করেছেন এবং বিদআত (بدع) ও কুসংস্কারপন্থীদের অপদস্থ করেছেন। ঘটনাটি ছিল এই যে, আহমদিয়া বাতাইহিয়া (১) সম্প্রদায় সালফে সালেহীনের আকিদার (عقيدة) বিষয়ে শেখ তকিউদ্দিনের বিরোধিতা করত। তিনি তাদের কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দিতেন এবং তাদের শয়তানি কার্যকলাপ ও অবস্থার প্রতিবাদ করতেন।
৭০৫ হিজরির ৯ই জুমাদাল উলা শনিবার, এই বিদআতীরা (مبتدعة) বিশাল জনসমাবেশ নিয়ে দামেস্কের নায়েবে সুলতানের প্রাসাদে উপস্থিত হলো। তারা নায়েবে সুলতানের কাছে অনুরোধ করল যেন তিনি শেখ ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর সালাফী মাযহাব (مذهب) থেকে তাদের নিবৃত্ত করেন। যখন মানুষ তাদের দেখল, তখন সেখানে এক বিশাল জনসমাবেশ হলো। কিন্তু আমির শেখের উপস্থিতি ও তাঁর সাথে বিতর্ক (مناظرة) ছাড়া তাদের কোনো দাবি গ্রহণ করতে রাজি হলেন না। তাই তিনি শেখকে ডেকে পাঠালেন এবং তিনি পৌঁছালেন। আমির তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে ইবনে তাইমিয়া তাঁকে অবহিত করলেন যে, এরা বিদআতী (أهل البدع) এবং এরা মুসলমানদের দ্বীনের এতটাই ক্ষতিসাধন করেছে যা আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি তাদের সম্পর্কে যা জানতেন সব বর্ণনা করলেন এবং বললেন যে, তিনি তাদের বিদআত (بدع) থেকে নিষেধ করেন অথচ তারা শয়তানি কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। যার একটি হলো তাদের আগুনে প্রবেশ করা। শেখ প্রস্তাব দিলেন যে, যদি তারা আজ আগুনে প্রবেশ করে তবে তিনিও তাদের সাথে প্রবেশ করবেন; আর যে পুড়ে যাবে তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক। তবে এটি হতে হবে সিরকা ও গরম পানি দিয়ে শরীর ধৌত করার পর; কারণ তারা ব্যাঙের চর্বি দিয়ে তৈরি বিশেষ প্রলেপ শরীরে মেখে নেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وباطن قشر النارنج فإذا غسلت الأجسام بطلت الحيلة، وحضر شيوخهم الأكابر يطلبون من الأمير الإصلاح، والعفو عن الماضي والتوبة، واتباع الكتاب والسنة، فقبل منهم ابن تيمية، ولكن عارض شيخ آخر من الصوفية، فناظره ابن تيمية فغلبه أمام الجموع الغفيرة.
وتحداهم ابن تيمية في مشارق الأرض ومغاربها بأي شيء يصنعونه في النار من حيلهم فسيصنع مثلهم بشرط الغسل.
ولحكمة ابن تيمية قال: يكفي في ذلك قنديل يوقد داخل أصبع المناظر منهم وابن تيمية بعد الغسل، وعندما سمع الصوفية ذلك انهزموا أمام الجموع، وأقروا بالتزام الكتاب والسنة، وطلب ابن تيمية من الأمير أن يضرب عنق من خالف منهم الكتاب والسنة، فأعلن الأمير ذلك للناس، وأن من خالف الكتاب والسنة ضُرب عنقه، وطلب الصوفية من اليخ الكتب الصحيحة. فبُذلت لهم، وتفرق الجميع على التوبة (1)، وسُمعَ الناس يقولون: {فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ * فَغُلِبُواْ هُنَالِكَ وَانقَلَبُواْ صَاغِرِينَ} (2).
وهذا موقف حكيم يدل على حكمة الشيخ ابن تيمية وإخلاصه
--------------------------------------------
এবং কমলালেবুর খোসার ভেতরের অংশ; যখন শরীর ধুয়ে ফেলা হলো তখন সেই চাতুর্য বৃথা হয়ে গেল। তাদের প্রধান শায়খরা উপস্থিত হয়ে আমিরের কাছে সংশোধন, অতীতের জন্য ক্ষমা ও তওবা এবং কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের আবেদন জানালেন। ইবনে তাইমিয়াহ তাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করলেন, কিন্তু সূফীদের মধ্য থেকে অন্য একজন শায়খ বিরোধিতা করলেন। অতঃপর ইবনে তাইমিয়াহ তার সাথে মুনাজারা করলেন এবং বিশাল জনসমাবেশের সামনে তাকে পরাজিত করলেন।
ইবনে তাইমিয়াহ পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে তাদের এই মর্মে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন যে, আগুনের মাধ্যমে তারা তাদের যে কোনো কৌশলে যা কিছু করবে, শরীর ধৌত করার শর্তে তিনিও তাদের মতো করে দেখাবেন।
ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে বললেন: এ ক্ষেত্রে একটি প্রদীপই যথেষ্ট যা তাদের মধ্য থেকে মুনাজারা কারীর আঙুলের ভেতরে এবং ধৌত করার পর ইবনে তাইমিয়াহর আঙুলের ভেতরে জ্বালানো হবে। সূফীরা যখন এই প্রস্তাব শুনল, তখন তারা বিশাল জনসমাবেশের সামনে পরাজিত হলো এবং কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার করল। ইবনে তাইমিয়াহ আমিরের কাছে দাবি জানালেন যেন তাদের মধ্যে যারা কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করবে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়। তখন আমির জনগণের সামনে তা ঘোষণা করলেন যে, যে কেউ কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করবে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে। সূফীরা শায়খের কাছে সহিহ (صحيحة) কিতাবসমূহ চাইল। তখন তাদের জন্য তা সরবরাহ করা হলো এবং সবাই তওবার ওপর ভিত্তি করে বিদায় নিল (1), আর মানুষকে বলতে শোনা গেল: {ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল। আর সেখানে তারা পরাজিত হলো এবং লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল} (2)।
এটি একটি বিজ্ঞোচিত অবস্থান যা শায়খ ইবনে তাইমিয়াহর প্রজ্ঞা ও ইখলাসের প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وصدقه مع اللَّه، ولهذا تاب على يديه هذا الجم الغفير، جعله اللَّه في موازين حسناته يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى اللَّه بقلب سليم، وهذا ما يطمع فيه الداعية المخلص.
5 - مواقفه في إصلاح أهل السجون:ومن مواقفه الحكيمة ما فعله في السجون من أعمال حكيمة جبارة، وجهود مشكورة مسددة، نفع اللَّه بها الناس، وأنقذهم بها من الضلال إلى الهدى.
ومن هذه المواقف الحكيمة ما يأتي:
(أ) عندما سجن في سجن القُضاة بمصر، في الثامن عشر من شوال سنة 707هـأخذ يعلم السجناء ويرشدهم ويعظهم بالأساليب الحكيمة، فهدى اللَّه على يديه خلقاً كثيراً، وقد كانت تأتيه الفتاوى المشكلة فيكتب عليها بما يُحيّر العقول من الكتاب والسنة.
(ب) وسجن في الإسكندرية في أول يوم من ربيع الأول سنة 709هـفنزل بها ببرج متسع، فوجد بها منكرات عظيمة، فنفع اللَّه به أهل الإسكندرية، فقد بيّن لهم الحق وحذرهم من البدع والمنكرات.
(ج) وسجن في قلعة دمشق مرات، وآخر ذلك في ستة عشر من شوال سنة 726هـففرح بذلك وقال: أنا كنت منتظراً لذلك، وهذا فيه خير كثير ومصلحة كبيرة، وأقبل في هذه المدة على التلاوة وتصنيف الكتب، والرد على المخالفين، وكتب في مسألة زيارة
আল্লাহর প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতা; আর এই কারণেই তাঁর হাতে অগণিত মানুষ তওবা করেছেন। আল্লাহ এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় জমা করুন সেই দিনে, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। একজন একনিষ্ঠ দাঈর পরম আকাঙ্ক্ষা তো এটাই।
৫ - কারাবন্দীদের সংশোধনে তাঁর অবস্থানসমূহ:তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কারাগারে তাঁর সম্পাদিত অত্যন্ত দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি এবং প্রশংসনীয় ও সঠিক প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণ সাধন করেছেন এবং তাদেরকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের পথে আনয়ন করেছেন।
এই প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানগুলোর কিছু বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
(ক) যখন তিনি ৭০৭ হিজরির ১৮ই শাওয়াল মিশরের কাজীদের কারাগারে বন্দি হন, তখন তিনি অত্যন্ত হিকমতের সাথে কয়েদিদের শিক্ষা দান, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং নসিহত করা শুরু করেন। ফলে আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর হাতে অসংখ্য মানুষ হেদায়েত লাভ করে। তাঁর নিকট অত্যন্ত জটিল ফতোয়া আসত এবং তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সেগুলোর এমন সমাধান দিতেন যা মানুষের বুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে দিত।
(খ) এবং ৭০৯ হিজরির ১লা রবিউল আউয়াল তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় কারাবরণ করেন, সেখানে তিনি একটি প্রশস্ত দুর্গে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি অনেক বড় বড় বর্জনীয় (منكرات) বিষয় দেখতে পান। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে আলেকজান্দ্রিয়াবাসীর প্রভূত কল্যাণ সাধন করেন; তিনি তাদের সামনে সত্য সুস্পষ্ট করেন এবং তাদেরকে বিদআত ও বর্জনীয় (منكرات) কাজ থেকে সতর্ক করেন।
(গ) তিনি দামেস্ক দুর্গে কয়েকবার কারাবরণ করেন, এবং এর সর্বশেষটি ছিল ৭২৬ হিজরির ১৬ই শাওয়াল। এতে তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি তো এরই অপেক্ষায় ছিলাম। এর মাঝে প্রভূত কল্যাণ ও বৃহৎ স্বার্থ নিহিত রয়েছে।" এই বন্দিকালীন সময়ে তিনি কুরআন তেলাওয়াত, কিতাব রচনা এবং বিরোধীদের জবাব প্রদানে মনোনিবেশ করেন। তিনি জিয়ারত সংক্রান্ত মাসআলায় কিতাব রচনা করেন...
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
القبور البدعية، وبيَّن الزيارة الشرعية.
وكان رضي الله عنه داعية عظيماً حكيماً أينما كان، ولهذا كان لا يهمه الإفراج عنه من السجن مادام باستطاعته نشر العلم بقلمه ولسانه، ولهذا كان يقول: ((ما يصنع أعدائي بي؟! إن جنتي وبستاني في صدري، أي رحت فهي لا تفارقني، إن حبسي خلوة، وقتلي شهادة، وإخراجي من بلدي سياحة)).
(د) ومن أعظم ما يدل على حكمة ابن تيمية وقوته في الحق وثباته عليه ما فعله في آخر حياته في سجن قلعة دمشق من كتابته بالفحم.
ففي التاسع من جمادى الآخرة سنة 728هـمُنع الشيخ من جميع أدوات الكتابة، وأرسلت جميع مسوداته وأوراقه إلى المكتبة العادلية، وكان ذلك في نحو ستين مجلداً، فصار يكتب بالفحم، وقد كان ذلك له صدمة عنيفة آلمته كثيراً، ولكنه ثبت واستخدم الفحم، وهذا يدل على قوة عزيمته، مع أنه ختم القرآن مدة إقامته بالقلعة ثمانين مرة، ولكنه بعد هذه الصدمة لم يبق إلا يسيراً، حيث مات رحمه الله يوم الاثنين في 20 من ذي القعدة سنة 728هـ (1).
وبفضل اللَّه - تعالى - ثم بهذه الخطوات الحكيمة أنار ابن تيمية الأرض التي مشى عليها أمة محمد صلى الله عليه وسلم، فقد نشر علم الكتاب
--------------------------------------------
বিদআতি কবরসমূহ এবং তিনি শরয়ী যিয়ারত স্পষ্ট করেছেন।
তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যেখানেই থাকতেন না কেন, একজন মহান ও প্রজ্ঞাবান দাঈ ছিলেন; এ কারণেই কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে গুরুত্ববহ ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাঁর কলম ও জবানের মাধ্যমে ইলম প্রচার করতে পারতেন। এ কারণে তিনি বলতেন: "আমার শত্রুরা আমার কী করবে?! আমার জান্নাত ও বাগান তো আমার বক্ষেই আছে; আমি যেখানেই যাই না কেন, তা আমার সাথেই থাকে। আমার কারাবাস হলো নির্জনতা, আমার হত্যা হওয়া হলো শাহাদাত, আর আমার দেশ থেকে বহিষ্কার হওয়া হলো পর্যটন।"
(ঘ) ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রজ্ঞা এবং সত্যের ওপর তাঁর শক্তি ও অবিচলতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হলো তাঁর জীবনের শেষভাগে দামেস্কের দুর্গের কারাগারে কয়লা দিয়ে তাঁর লেখালেখি।
৭২৮ হিজরির ৯ই জমাদিউল আখিরা তারিখে শাইখকে সকল প্রকার লিখন সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাঁর সমস্ত পাণ্ডুলিপি ও কাগজপত্র আল-মাকতাবাতুল আদিলিয়্যাহতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা ছিল প্রায় ষাট খণ্ডের মতো। ফলে তিনি কয়লা দিয়ে লিখতে শুরু করেন। এটি ছিল তাঁর জন্য এক তীব্র আঘাত যা তাঁকে প্রচণ্ড ব্যথিত করেছিল, কিন্তু তিনি অবিচল ছিলেন এবং কয়লা ব্যবহার করেই কাজ চালিয়ে যান। এটি তাঁর দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দেয়। সেই সাথে তিনি দুর্গে অবস্থানকালে আশি বার কুরআন খতম করেছিলেন। তবে এই আঘাতের পর তিনি মাত্র অল্প কিছুদিন বেঁচে ছিলেন; তিনি ৭২৮ হিজরির ২০শে যিলকদ সোমবার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইন্তেকাল করেন (১)।
মহান আল্লাহর অনুগ্রহে এবং পরবর্তীতে এই প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপসমূহের মাধ্যমে ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই ভূমিকে আলোকিত করেছিলেন যেখানে উম্মতে মুহাম্মাদী বিচরণ করে। তিনি কিতাবের ইলম প্রচার করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والسنة، وجاهد بلسانه ويده، وناظر وغلب جميع خصومه، وعمل أعماله الحكيمة في السجون، فحولها – بفضل اللَّه – من بيئة فاسدة إلى بيئة صالحة مؤمنة، فجزاه اللَّه عن أمة محمد صلى الله عليه وسلم خير الجزاء.
এবং সুন্নাহ; তিনি তাঁর জিহ্বা ও হাত দ্বারা জিহাদ করেছেন, বিতর্ক করেছেন এবং তাঁর সকল প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করেছেন। তিনি কারাগারসমূহের অভ্যন্তরেও তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করেছেন, যার ফলে তিনি সেগুলোকে—আল্লাহর অনুগ্রহে—একটি কলুষিত পরিবেশ থেকে একটি পুণ্যবান ও মুমিন পরিবেশে রূপান্তরিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদীর পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
মাওয়াকিফুল উলামা আবরাল উসুরি ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الرابع: مواقف الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله -
كانت حالة المسلمين قُبيل دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهّاب (1) رضي الله عنه حالة لا يرضاها مؤمن، حيث كان الشرك الأكبر قد انتشر في نجد خاصة، وفي غيرها من بلاد المسلمين عامة.
لقد كان في بلدان نجد من الشرك الأكبر والأصغر ما اللَّه به عليم، حيث عدل الناس إلى عبادة الأولياء والصالحين والمجانين: أحيائهم وأمواتهم، يستغيثون بهم في النوازل والحوادث، ويستعينون بهم على قضاء الحاجات، وتفريج الشدائد والكربات، وعبدوا القباب والأحجار والأشجار والغيران، واشتهر في نجد: السحرة والكهنة والعرافون، وسؤالهم وتصديقهم (2).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ-
শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (১) (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দাওয়াতের ঠিক পূর্বমুহূর্তে মুসলমানদের অবস্থা এমন ছিল যা কোনো মুমিনের নিকট সন্তোষজনক ছিল না। সেই সময়ে বিশেষ করে নজদে এবং সাধারণভাবে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডে বড় শিরক (الشرك الأكبر) ছড়িয়ে পড়েছিল।
নজদ অঞ্চলের শহরগুলোতে বড় শিরক (الشرك الأكبر) ও ছোট শিরক (الشرك الأصغر)-এর এমন ব্যাপকতা ছিল যা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। সেখানে মানুষ অলি-আউলিয়া, নেককার ব্যক্তি এবং উন্মাদদের ইবাদতের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল—তারা জীবিত হোক কিংবা মৃত। বিপদ-আপদ ও দুর্ঘটনায় তারা তাদের কাছেই ফরিয়াদ জানাত এবং প্রয়োজন পূরণ ও দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত। তারা গম্বুজ, পাথর, বৃক্ষ এবং গুহার পূজা করত। সে সময়ে নজদে যাদুকর, গণক ও ভবিষ্যৎদ্রষ্টাদের ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং মানুষ তাদের কাছে নানাবিধ প্রশ্ন করত ও তাদের কথা বিশ্বাস করত (২)।
--------------------------------------------