(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: -)
مواقف الصحابة - رضي الله عنهم - في الدعوة إلى الله تعالى   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: مواقف الصحابة - رضي الله عنهم - في الدعوة إلى اللَّه تعالى

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 69

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

আল্লাহ তায়ালার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরাম - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - এর অবস্থানসমূহ   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: আল্লাহ তায়ালার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরাম - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - এর অবস্থানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: মুয়াসসাসাতুল জুরাইসি ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

مواقف الصحابة رضي الله عنهم

في الدعوة إلى اللَّه تعالى

 

تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির রচনাবলি

 

সাহাবীগণের (الصحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অবস্থানসমূহ

আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে

 

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلّى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((مواقف الصحابة رضي الله عنهم في الدعوة إلى اللَّه تعالى)) بينت فيها نماذج من مواقفهم المشرفة في الدعوة إلى اللَّه سبحانه وتعالى على سبيل الاختصار.

واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا وإمامنا محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দুরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি 'আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অবস্থান' সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি সংক্ষেপে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানের কিছু নমুনা তুলে ধরেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সামান্য কাজটিকে বরকতময়, কল্যাণকর এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর এর মাধ্যমে যেন তিনি আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি যাঞ্চাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মহান আশাস্থল। আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী ও ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর দুরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

লেখক

২৫/০২/১৪২৫ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المبحث الأول: مواقف أبي بكر الصديق رضي الله عنه -

له رضي الله عنه مواقف حكيمة تدل على عظم شأنه وصدقه مع اللَّه عز وجل ومن هذه المواقف على سبيل المثال لا الحصر ما يأتي:

 

‌‌المطلب الأول: دفاعه عن النبي صلى الله عليه وسلم والقيام بنصرته:

عن عروة بن الزبير رضي الله عنه قال: قلت لعبد اللَّه بن عمرو بن العاص: أخبرني بأشد ما صنع المشركون برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؟ قال: بينما رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يصلي في حجر الكعبة، إذ أقبل عقبة بن أبي مُعيط، فأخذ بمنكب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ولوى ثوبه في عنقه، فخنقه خنقاً شديداً، فأقبل أبو بكر، فأخذ بمنكبه ودفعه عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وقال: {أَتَقْتُلُونَ رَجُلا أَن يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُم بِالْبَيِّنَاتِ مِن رَّبِّكُمْ} (1).

وهو أشجع الصحابة رضي الله عنه فقد رُوي عن علي رضي الله عنه أنه خطب، فقال: أيها الناس أخبروني من أشجع الناس؟ قالوا: أنت يا أمير المؤمنين! قال: أما إني ما بارزت أحداً إلا انتصفت منه، ولكن أخبروني بأشجع الناس! قالوا: لا نعلم، فمن؟ قال: أبو بكر. إنه لما كان يوم بدر، جعلنا لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم عريشاً، فقلنا: من يكون مع

--------------------------------------------

(1) سورة غافر، الآية: 28.

والحديث في البخاري مع الفتح، كتاب المناقب، باب ما لقي النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه من المشركين بمكة، 7/ 165، 7/ 22، 8/ 533 (رقم 3856).
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থানসমূহ-

আল্লাহ তাআলার প্রতি তাঁর সুমহান মর্যাদা ও সততার পরিচায়ক তাঁর বেশ কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে তার মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে উপস্থাপন করা হলো:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিরক্ষা এবং তাঁর সাহায্যে আত্মনিয়োগ:

উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে বললাম, মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সর্বাপেক্ষা নিষ্ঠুর যে আচরণ করেছিল সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবার হাতীমে (হিজর) সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় উকবাহ ইবনে আবি মুআইত এগিয়ে এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাঁধ ধরল এবং তাঁর গলায় চাদর পেঁচিয়ে সজোরে শ্বাসরোধ করতে লাগল। তখন আবু বকর এগিয়ে এলেন এবং তার কাঁধ ধরে তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন: "তোমরা কি এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে যে বলে আমার রব আল্লাহ? অথচ তিনি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছেন" (১)।

তিনি সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী ছিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি একদিন খুতবা প্রদানকালে বললেন: হে লোকসকল! আমাকে অবহিত করুন যে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী কে? তারা বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি! তিনি বললেন: শোনো, আমি যার সঙ্গেই দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি তার থেকে নিজের হক আদায় করে নিয়েছি (বিজয়ী হয়েছি), কিন্তু তোমরা আমাকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি সম্পর্কে বলো। তারা বলল: আমরা জানি না, তবে তিনি কে? তিনি বললেন: তিনি হলেন আবু বকর। বদরের যুদ্ধের দিন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি ছাউনি তৈরি করেছিলাম, তখন আমরা বললাম: তাঁর সাথে কে থাকবে...

--------------------------------------------

(১) সূরা গাফির, আয়াত: ২৮।

হাদিসটি ফাতহুল বারীসহ বুখারিতে রয়েছে, মানাকিব অধ্যায়, মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মুশরিকদের পক্ষ থেকে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন অনুচ্ছেদ, ৭/১৬৫, ৭/২২, ৮/৫৩৩ (হাদিস নং ৩৮৫৬)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৫)
الرسول صلى الله عليه وسلم لئلا يهوي عليه أحد من المشركين، فواللَّه ما دنا منه أحد إلا أبو بكر، شاهراً بالسيف على رأس رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لا يهوي إليه أحد إلا أهوى إليه، فهذا أشجع الناس.

قال علي رضي الله عنه: ولقد رأيت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأخذته قريش، فهذا يحاده، وهذا يتلتله (1)، وهم يقولون: أنت الذي جعلت الآلهة إلهاً واحداً، فواللَّه ما دنا منا أحد إلا أبو بكر، يضرب هذا، ويُجاهد هذا، ويتلتل هذا، وهو يقول: ويلكم، {أَتَقْتُلُونَ رَجُلا أَن يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ}، ثم رفع عليٌّ بردةً كانت عليه، ثم بكى حتى اخضلت لحيته، ثم قال علي: أنشدكم اللَّه، أمؤمن آل فرعون خير أم أبو بكر؟ فسكت القوم. ثم قال: ألا تجيبوني؟ فواللَّه لساعة من أبي بكر خير من ملء الأرض من مثل مؤمن آل فرعون، ذاك رجل يكتم إيمانه، وهذا رجل أعلن إيمانه (2).

--------------------------------------------

(1) يتلتله: يزعزعه ويزلزله. انظر: مختار الصحاح، مادة: تلل، ص33، والمعجم الوسيط، 1/ 87.

(2) ذكره ابن كثير، وعزاه إلى البزار، انظر: البداية والنهاية، 3/ 272، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد، 9/ 47: وفيه من لم أعرفه، ولكن لبعض هذا المتن شواهد في الأحاديث الصحيحة انظرها في صحيح مسلم، كتاب الجهاد والسير، باب الإمداد بالملائكة في غزوة بدر، 3/ 1383 (رقم 1763)، والبخاري مع الفتح، كتاب المغازي، باب قوله تعالى: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ … }، 7/ 287 (رقم 3953)، وكتاب فضائل الصحابة، باب فضل أبي بكر رضي الله عنه، 7/ 22 (رقم 3678)، وانظر: حياة الصحابة للعلامة محمد يوسف الكاندهلوي 1/ 540، وحلية الأولياء، 1/ 32، وانظر: تاريخ الخلفاء للحافظ جلال الدين السيوطي، ص37.
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাঁড়িয়ে যাতে মুশরিকদের কেউ তাঁর ওপর চড়াও হতে না পারে। আল্লাহর কসম! আবু বকর ছাড়া আর কেউ তাঁর কাছে অগ্রসর হননি। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিয়রে খোলা তলোয়ার হাতে অতন্দ্র পাহারায় নিয়ত ছিলেন; যে কেউ তাঁর দিকে চড়াও হতে আসত, তিনি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তিনিই মানুষের মাঝে সর্বাপেক্ষা সাহসী।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, কুরাইশরা তাঁকে পাকড়াও করেছিল। কেউ তাঁকে ধাক্কা দিচ্ছিল, কেউ তাঁকে ঝাকুনি দিচ্ছিল (১), আর তারা বলছিল: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি সমস্ত উপাস্যকে এক ইলাহে পরিণত করেছেন? আল্লাহর কসম! আবু বকর ছাড়া আমাদের আর কেউ সামনে অগ্রসর হয়নি। তিনি একে আঘাত করছিলেন, ওর সাথে লড়াই করছিলেন এবং তাকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। আর তিনি বলছিলেন: ধিক তোমাদের! {তোমরা কি একজন মানুষকে একারণে হত্যা করবে যে তিনি বলেন আমার রব আল্লাহ?} এরপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পরিহিত চাদরটি তুললেন এবং এত কাঁদলেন যে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। অতঃপর আলী বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, ফেরাউনের বংশের মুমিন ব্যক্তিটি কি শ্রেষ্ঠ নাকি আবু বকর? উপস্থিত লোকজন নীরব রইল। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি আমাকে উত্তর দেবে না? আল্লাহর কসম! আবু বকরের জীবনের একটি মুহূর্ত ফেরাউনের বংশের সেই মুমিন ব্যক্তির মতো পৃথিবী পূর্ণ লোকের চেয়েও উত্তম। সেই ব্যক্তি তার ঈমান গোপন রাখতেন, আর এই ব্যক্তি নিজের ঈমান প্রকাশ করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) يتلتله: তাকে নাড়াচ্ছিল এবং অস্থির করে তুলছিল। দেখুন: মুখতারুস সিহাহ, মূল শব্দ: تلل, পৃষ্ঠা: ৩৩; আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, ১/৮৭।

(২) ইবনে কাসির এটি উল্লেখ করেছেন এবং আল-বজ্জারের দিকে নিসবত করেছেন। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২৭২। আল-হায়সামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (৯/৪৭) বলেছেন: "এতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে আমি চিনি না (من لم أعرفه), তবে এই মূলপাঠের (متن) কিছু অংশের সমর্থক বর্ণনা (شواهد) সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহে বিদ্যমান। দেখুন: সহিহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য পাঠানো সংক্রান্ত অধ্যায়, ৩/১৩৮৩ (হাদিস নং ১৭৬৩); এবং ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুল মাগাযি, মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে...} সংক্রান্ত অধ্যায়, ৭/২৮৭ (হাদিস নং ৩৯৫৩); এবং কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা সংক্রান্ত অধ্যায়, ৭/২২ (হাদিস নং ৩৬৭৮)। আরও দেখুন: আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী রচিত হায়াতুস সাহাবা, ১/৫৪০; হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/৩২; এবং হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ৩৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المطلب الثاني: تصديقه للنبي صلى الله عليه وسلم والحرص على حمايته

عن جابر بن عبد اللَّه رضي الله عنه أنه سمع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يقول: ((لما كذبني قريش قمت في الحجر، فجلَّى اللَّه لي بيت المقدس فطفقت أخبرهم عن آياته وأنا أنظر إليه)) (1).

وقد افتتن ناس كثير عقب الإسراء، فجاء ناس إلى أبي بكر فذكروا له قصة الإسراء بالنبي صلى الله عليه وسلم إلى بيت المقدس، فقال أبو بكر: أشهد أنه صادق، فقالوا: وتصدقه بأنه أتى الشام في ليلة واحدة ثم رجع إلى مكة؟ قال: نعم، إني أصدقه بأبعد من ذلك، أصدقه بخبر السماء، فسُمّي بذلك الصديق (2).

وقد كان رضي الله عنه يحرص على حماية النبي صلى الله عليه وسلم أشد الحرص، فقد ذكر رجال على عهد عمر رضي الله عنه فكأنهم فضلوا عمر على أبي بكر، فبلغ ذلك عمر، فقال: واللَّه لليلة من عمري من أبي بكر خير من آل عمر، وليوم من أبي بكر خير من آل عمر، لقد خرج رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ليلة انطلق إلى الغار ومعه أبو بكر، فجعل يمشى ساعة بين يديه، وساعة خلفه، حتى فطن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا أبا بكر ما لك تمشي ساعة خلفي، وساعة بين يدي؟)) فقال: يا رسول اللَّه، أذكر الطلب فأمشي خلفك، ثم أذكر الرصد فأمشي بين يديك، فقال: ((يا

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب مناقب الأنصار، باب حديث الإسراء، 7/ 196، (رقم 3886).

(2) انظر: فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 7/ 199، وعزاه إلى البيهقي في الدلائل.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী (সা.)-এর প্রতি তাঁর বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁকে রক্ষা করার ঐকান্তিক আগ্রহ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তখন আমি হাতীমে (কাবা প্রাঙ্গণে) দাঁড়ালাম। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমার সামনে বায়তুল মুকাদ্দাসকে উন্মোচিত করে দিলেন, আর আমি তার দিকে তাকিয়ে তাদের কাছে এর নিদর্শনগুলো বর্ণনা করতে শুরু করলাম" (১)।

ইসরা (নৈশভ্রমণ)-এর ঘটনার পরপরই অনেক মানুষ ফিতনায় পতিত হলো। একদল লোক আবু বকর (রা.)-এর কাছে এসে তাঁর কাছে নবী (সা.)-এর বায়তুল মুকাদ্দাসে ইসরা বা নৈশভ্রমণের ঘটনা উল্লেখ করল। আবু বকর (রা.) বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি সত্যবাদী (صادق)।" তারা বলল: "আপনি কি তাঁকে এ বিষয়েও বিশ্বাস করেন যে, তিনি এক রাতে শামে গিয়ে আবার মক্কায় ফিরে এসেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমি তাঁর এর চাইতেও দূরবর্তী বিষয়ের সংবাদে বিশ্বাস করি; আমি আসমান থেকে আসা খবরের (ওহি) বিষয়ে তাঁকে বিশ্বাস করি।" এই কারণেই তাঁর নাম রাখা হয়েছে মহা-সত্যবাদী (الصديق) (২)।

তিনি (রা.) নবী (সা.)-কে রক্ষা করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। উমর (রা.)-এর যুগে কিছু লোকের উল্লেখ পাওয়া যায় যারা যেন উমর (রা.)-কে আবু বকর (রা.)-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিচ্ছিল। এ খবর উমর (রা.)-এর কানে পৌঁছালে তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! আবু বকরের জীবনের একটি রাত উমরের বংশধরদের চেয়ে উত্তম এবং আবু বকরের একটি দিন উমরের বংশধরদের চেয়ে উত্তম। নবী (সা.) যখন গুহার (সাওর) অভিমুখে বের হয়েছিলেন, তখন আবু বকর তাঁর সাথে ছিলেন। তিনি কখনো নবী (সা.)-এর সামনে হাঁটতেন, আবার কখনো পিছনে হাঁটতেন। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন: 'হে আবু বকর! তোমার কী হয়েছে যে, তুমি কখনো আমার পিছনে হাঁটছো আবার কখনো সামনে?' তিনি উত্তর দিলেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! যখন আমি পিছু ধাওয়াকারী শত্রুর কথা ভাবি তখন আপনার পিছনে হাঁটি, আর যখন ওত পেতে থাকা বিপদের কথা ভাবি তখন আপনার সামনে হাঁটি'।" তিনি বললেন: "হে...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুল মানাকিবিল আনসার, বাবু হাদিসিল ইসরা, ৭/১৯৬, (নং ৩৮৮৬)।

(২) দ্রষ্টব্য: ফাতহুল বারী বি-শারহি সহিহিল বুখারি, ৭/১৯৯; তিনি এটি বাইহাকির 'দালায়িল' গ্রন্থের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৭)
أبا بكر، لو كان شيء لأحببت أن يكون بك دوني؟)) قال: نعم، والذي بعثك بالحق، فلما انتهيا إلى الغار قال أبو بكر: مكانك يا رسول اللَّه حتى أستبرئ لك الغار، فدخل فاستبرأه، حتى إذا كان ذكر أنه لم يستبرئ الجحرة (1)، فقال: مكانك يا رسول اللَّه حتى أستبرئ، فدخل فاستبرأ، ثم قال: انزل يا رسول اللَّه، فنزل. ثم قال عمر: والذي نفسي بيده لتلك الليلة خير من آل عمر (2).

وعندما دخل أبو بكر الغار مع النبي صلى الله عليه وسلم صار يخاف عليه من قريش حينما رآهم، فقال – رضي الله عنه وأرضاه –: يا رسول اللَّه، لو أن أحدهم نظر إلى ما تحت قدميه لأبصرنا، فقال: ((يا أبا بكر، ما ظنك باثنين اللَّه ثالثهما، لا تحزن فإن اللَّه معنا)) (3).

ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((إن أمنَّ الناس عليَّ في صحبته وماله أبو بكر، ولو كنت متخذاً خليلاً غير ربي لاتخذت أبا بكر، ولكن أخُوّةُ الإسلام ومودَّته)) (4).

--------------------------------------------

(1) الجحرة: مفردها: جحر، وهو المكان الذي تحفره السباع والهوام لأنفسها. انظر: المعجم الوسيط، مادة (جحر)، 1/ 180.

(2) الحاكم في المستدرك، وقال: هذا حديث صحيح لولا إرسال فيه. ووافقه الذهبي، 3/ 6، وذكره ابن كثير في البداية والنهاية، 3/ 180، وعزاه إلى البيهقي، وانظر: حياة الصحابة، 1/ 339، وحلية الأولياء، 1/ 33.

(3) البخاري مع الفتح، كتاب فضائل الصحابة، باب مناقب المهاجرين وفضلهم، 7/ 8، (رقم 3653)، وكتاب مناقب الأنصار، باب هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، ومسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب من فضائل أبي بكر الصديق رضي الله عنه، 4/ 1854، (رقم 2381).

(4) البخاري مع الفتح، كتاب فضائل الصحابة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم سدوا الأبواب إلا باب أبي بكر، 7/ 12، (رقم 3654)، ومسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب فضل أبي بكر الصديق رضي الله عنه، 4/ 1854، (رقم 2382).
"হে আবু বকর, যদি কোনো বিপদ আসত তবে কি তুমি পছন্দ করতে যে তা আমার পরিবর্তে তোমার ওপর আসুক?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন।" অতঃপর যখন তাঁরা গুহার নিকট পৌঁছালেন, আবু বকর বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আপনার স্থানে অবস্থান করুন যতক্ষণ না আমি আপনার জন্য গুহাটি পরীক্ষা করে নিরাপদ করি।" তিনি প্রবেশ করলেন এবং তা পরীক্ষা করলেন, এমনকি যখন তাঁর স্মরণে এল যে তিনি গর্তগুলো পরীক্ষা করেননি (১), তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আপনার স্থানে থাকুন যতক্ষণ না আমি পরীক্ষা করি।" তিনি প্রবেশ করলেন ও পরীক্ষা করলেন, অতঃপর বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অবতরণ করুন।" তখন তিনি অবতরণ করলেন। অতঃপর ওমর (রা.) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই সেই রাতটি ওমরের বংশধরদের সকল পুণ্য অপেক্ষা উত্তম (২)।"

আর যখন আবু বকর (রা.) নবী (সা.)-এর সাথে গুহায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি কুরাইশদের দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিরাপত্তার বিষয়ে আশঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তখন তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, তাদের কেউ যদি নিজের পায়ের নিচের দিকে তাকাত তবে অবশ্যই আমাদের দেখে ফেলত।" তিনি (সা.) বললেন: "হে আবু বকর, সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ? তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন" (৩)।

এ কারণেই নবী (সা.) বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে তাঁর সাহচর্য এবং সম্পদের দিক থেকে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী হলো আবু বকর। আমি যদি আমার প্রতিপালক ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তবে অবশ্যই আবু বকরকে গ্রহণ করতাম। কিন্তু (আমাদের মাঝে) ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বিদ্যমান" (৪)।

--------------------------------------------

(১) গর্তসমূহ: এর একবচন হলো 'জুহর', আর তা হলো এমন গর্ত যা হিংস্র প্রাণী ও পোকামাকড় নিজেদের জন্য খনন করে। দেখুন: আল-মু’জাম আল-ওয়াসিত, শব্দ: (জুহর), ১/১৮০।

(2) হাকেম তাঁর আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح), যদি এতে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) না থাকত। ইমাম জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, ৩/৬। ইবনে কাসির এটি আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ৩/১৮০ এবং একে বায়হাকির দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আরও দেখুন: হায়াতুস সাহাবা, ১/৩৩৯ এবং হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/৩৩।

(3) বুখারি মা’আল ফাতহ, সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায়, মুহাজিরদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব পরিচ্ছেদ, ৭/৮, (হাদিস নং ৩৬৫৩); এবং আনসারদের মর্যাদা অধ্যায়, নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের হিজরত পরিচ্ছেদ; এবং মুসলিম, সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায়, আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ, ৪/১৮৫৪, (হাদিস নং ২৩৮১)।

(4) বুখারি মা’আল ফাতহ, সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায়, নবী (সা.)-এর বাণী: 'আবু বকরের প্রবেশপথ ব্যতীত সকল প্রবেশপথ বন্ধ করে দাও' পরিচ্ছেদ, ৭/১২, (হাদিস নং ৩৬৫৪); এবং মুসলিম, সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায়, আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ, ৪/১৮৫৪, (হাদিস নং ২৩৮২)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال: ((لو كنت متخذاً خليلاً لاتخذت أبا بكر خليلاً، ولكنه أخي وصاحبي، وقد اتخذ اللَّه عز وجل صاحبكم خليلاً)) (1).

 

‌‌المطلب الثالث: إنفاقه ماله في سبيل اللَّه تعالى

عندما أسلم أبو بكر رضي الله عنه كان من أثرى أثرياء قريش، فكانت عنده أموال كثيرة، وقد كان في منزله يوم أسلم أربعون ألف درهم أو دينار، فاستخدم أمواله كلها في طاعة اللَّه، ومن ذلك ما يأتي:

 

‌‌(أ) إنفاق المال في إعتاق الرّقاب:

أعتق رضي الله عنه رقاباً كثيرة، حُفِظَ منهم سبع رقاب: بلال، وعامر بن فهيرة، وزنيرة، والهندية وبنتها، وكانتا لامرأة من بني عبد الدار، وجارية بني مؤمل، وأم عبيس، رضي اللَّه عن الجميع.

وقد كانت هذه الرقاب يُعذّب معظمها على إسلامها، فأنقذها اللَّه بأبي بكر الصديق رضي الله عنه وأخذ رضي الله عنه ينفق أمواله في خدمة الإسلام والمسلمين (2).

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب فضائل الصحابة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: لو كنت متخذاً خليلاً، 7/ 17، (رقم 3656)، ومسلم واللفظ له، كتاب فضائل الصحابة، باب فضائل أبي بكر الصديق صلى الله عليه وسلم، 4/ 1855، (رقم 2383).

(2) انظر: سيرة ابن هشام، 1/ 340، والإصابة في تمييز الصحابة، 2/ 243، والكامل في التاريخ لابن الأثير، 2/ 290، والبداية والنهاية، 3/ 58، وتاريخ الخلفاء للسيوطي، ص38.
এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) বলেছেন: ((আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী; আর মহান আল্লাহ্ তোমাদের এই সঙ্গীকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন)) (১)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে তাঁর সম্পদ ব্যয় করা

আবু বকর (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি কুরাইশদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর নিকট প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল। তিনি যেদিন ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন তাঁর গৃহে চল্লিশ হাজার দিরহাম অথবা দিনার ছিল। তিনি তাঁর সমুদয় সম্পদ আল্লাহর আনুগত্যের পথে ব্যয় করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

‌‌(ক) দাসমুক্তকরণে অর্থ ব্যয়:

তিনি (রা.) অনেক দাস-দাসীকে মুক্ত করেছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজনের নাম সংরক্ষিত আছে: বিলাল, আমির বিন ফুহাইরাহ, যান্নিরাহ, আল-হিন্দিয়্যাহ ও তাঁর কন্যা (যাঁরা বনু আবদুদ দারের এক মহিলার দাসী ছিলেন), বনু মুআম্মিলের দাসী এবং উম্মু উবাইস—আল্লাহ্ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

এই দাসদের অধিকাংশকেই ইসলাম গ্রহণ করার কারণে নিদারুণ নির্যাতন করা হতো। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধার করেন। তিনি (রা.) ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় তাঁর সম্পদ ব্যয় করতে থাকেন (২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবাহ (সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: নবি (ﷺ)-এর বাণী: ‘আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম’, ৭/১৭, (হাদিস নং ৩৬৫৬); এবং মুসলিম (শব্দাবলি তাঁর), কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবাহ, আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ, ৪/১৮৫৫, (হাদিস নং ২৩৮৩)।

(২) দেখুন: সিরাতে ইবনে হিশাম, ১/৩৪০; আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ, ২/২৪৩; ইবনুল আসিরের আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/২৯০; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/৫৮; এবং সুয়ূতির তারিখুল খুলাফা, পৃ. ৩৮।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌(ب) أخذه جميع ماله يوم الهجرة لإنفاقه على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم -:

حمل الباقي من ماله عندما هاجر مع النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة، ولم يبق لأهله شيئاً، فعن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنه قالت: لما خرج رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وخرج أبو بكر معه، احتمل أبو بكر معه ماله كله، خمسة آلاف أو ستة آلاف درهم، فانطلق بها معه، قالت: فدخل علينا جدي أبو قحافة، وقد ذهب بصره، فقال: واللَّه إني لأراه قد فجعكم بماله مع نفسه، قالت: كلا يا أبت، قد ترك لنا خيراً كثيراً، قالت: فأخذت أحجاراً فجعلتها في كوة (1) في البيت - كان أبي يجعل فيها ماله - ثم جعلت عليها ثوباً، ثم أخذت بيده فقلت: ضع يدك يا أبت على هذا المال، قالت: فوضع يده عليه، فقال: لا بأس، إن ترك لكم هذا فقد أحسن، وفي هذا لكم بلاغ، قالت: ولا واللَّه ما ترك لنا شيئاً، ولكن أردت أن أسكِّن الشيخ بذلك (((2).

 

‌‌(جـ) تصدُّقه بماله كله في غزوة تبوك:

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: أمرنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أن نتصدق، فوافق ذلك مالاً عندي، فقلت: اليوم أسبق أبا بكر إن سبقته يوماً،

--------------------------------------------

(1) الكوة: ثقب في الحائط. انظر: القاموس المحيط، باب الواو، فصل الكاف، ص1713.

(2) أخرجه أحمد، 6/ 350، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد 6/ 59: <ورجال أحمد رجال الصحيح غير ابن إسحاق، وقد صرح بالسماع، وعزاه للطبراني أيضاً، وانظر أيضاً: البداية والنهاية، 3/ 179، وتاريخ الخلفاء للإمام للسيوطي ص39، وحياة الصحابة للكاندهلوي، 2/ 164.
‌(খ) হিজরতের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ব্যয় করার উদ্দেশ্যে তাঁর সমস্ত সম্পদ সাথে নিয়ে যাওয়া -:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদিনায় হিজরত করার সময় তিনি তাঁর অবশিষ্ট সমস্ত সম্পদ সাথে নিয়েছিলেন এবং তাঁর পরিবারের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি। আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং আবু বকর (রা.) তাঁর সাথে বের হলেন, আবু বকর (রা.) তাঁর সমস্ত সম্পদ সাথে নিলেন, যা ছিল পাঁচ হাজার বা ছয় হাজার দিরহাম। তিনি তা নিয়ে রওয়ানা হলেন। আসমা (রা.) বলেন: এরপর আমার দাদা আবু কুহাফা আমাদের কাছে আসলেন, তখন তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি মনে করি সে তার নিজের সাথে সম্পদ নিয়ে গিয়ে তোমাদেরকে বিপদে ফেলেছে। আসমা (রা.) বললেন: কক্ষনোই নয় হে বাবা, তিনি আমাদের জন্য অনেক কল্যাণ রেখে গেছেন। তিনি বলেন: এরপর আমি কিছু পাথর নিয়ে ঘরের একটি কুলুঙ্গিতে (১) রাখলাম—যেখানে আমার বাবা তাঁর সম্পদ রাখতেন—এরপর আমি তার ওপর একটি কাপড় বিছিয়ে দিলাম। তারপর তাঁর হাত ধরে বললাম: হে বাবা, এই সম্পদের ওপর আপনার হাত রাখুন। তিনি বলেন: এরপর তিনি তার ওপর হাত রাখলেন এবং বললেন: কোনো সমস্যা নেই, যদি তিনি তোমাদের জন্য এটি রেখে থাকেন তবে তিনি ভালো করেছেন এবং এতে তোমাদের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। আসমা (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি, কিন্তু আমি এর মাধ্যমে বৃদ্ধ মানুষটিকে শান্ত করতে চেয়েছিলাম (২)।

 

‌‌(গ) তাবুক যুদ্ধে তাঁর সমস্ত সম্পদ সদকা করা:

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আমার কাছে কিছু সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম: আজ আমি আবু বকরের চেয়ে এগিয়ে যাব যদি কোনোদিন তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারি।

--------------------------------------------

(১) কুলুঙ্গি (الكوة): দেয়ালের গর্ত বা ছিদ্র। দেখুন: আল-কামুস আল-মুহিত, বাবুল ওয়াও, ফাসলুল কাফ, পৃষ্ঠা: ১৭১৩।

(২) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন, ৬/৩৫০; এবং হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ ৬/৫৯-এ বলেছেন: "আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী (رجال الصحيح), ইবনে ইসহাক ব্যতীত; তবে তিনি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন (صرح بالسماع)"। তিনি এটি তাবারানির দিকেও নিসবত করেছেন। আরও দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৭৯; ইমাম সুয়ুতির তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৩৯; এবং কান্ধলভীর হায়াতুস সাহাবাহ, ২/১৬৪।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১০)
فجئت بنصف مالي، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((ما أبقيت لأهلك؟)) قلت: مثله. قال: وأتى أبو بكر رضي الله عنه بكل ما عنده، فقال له رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((ما أبقيت لأهلك؟)) قال: أبقيت لهم اللَّه ورسوله، قلت: واللَّه لا أسبقه إلى شيء أبداً)) (1).

وأبو بكر رضي الله عنه أولى الأمة بقوله تعالى: {وَسَيُجَنَّبُهَا الأَتْقَى، الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّى، وَمَا لأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَى، إِلا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الأَعْلَى، وَلَسَوْفَ يَرْضَى} (2).

 

‌‌المطلب الرابع: موقف أبي بكر عقب وفاة النبي صلى الله عليه وسلم - (3):

أُصيب المسلمون يوم وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم بمصيبة عظيمة، وهزّة

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في كتاب المناقب، باب في مناقب أبي بكر وعمر رضي الله عنه، 5/ 614، (رقم 3675)،وقال: <هذا حديث حسن صحيح>، وأبو داود في الزكاة، باب الرخصة في ذلك - أي الرخصة في إخراج المال كله، 2/ 129، (رقم 1678)، والدارمي في الزكاة، باب الرجل يتصدق بجميع ما عنده، 1/ 329، (رقم 1667)، والحاكم وصححه على شرط مسلم، ووافقه الذهبي، 1/ 414، وأبو نعيم في الحلية، 1/ 32.

(2) سورة الليل، الآيات: 17 - 21.

وقد ذكر غير واحد من المفسرين أن هذه الآيات نزلت في أبي بكر الصديق رضي الله عنه حتى إن بعضهم حكى الإجماع من المفسرين على ذلك. انظر: تفسير ابن كثير، 4/ 522.

(3) انظر له مواقف حكيمة في البخاري مع الفتح في كتاب مناقب الأنصار، باب أيام الجاهلية، 7/ 149، وأبي نعيم في الحلية، 1/ 31، وأحمد في الزهد بمعناه، ص164، وانظر: حياة الصحابة، 2/ 611، 612، وأعلام المرسلين لخالد البيطار، 1/ 30، وصحيح الجامع الصغير للألباني، 4/ 172، برقم 4395، وانظر أيضاً: فتح الباري، 7/ 14، فقد ذكر لأبي بكر عجائب في الورع.
অতঃপর আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে এলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" আমি বললাম: এর সমপরিমাণ। তিনি (রাবি) বলেন: আর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার কাছে যা ছিল তার সবটুকুই নিয়ে আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: "তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" তিনি বললেন: "আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।" আমি (উমর) বললাম: "আল্লাহর কসম, আমি কখনোই কোনো বিষয়ে তাঁর অগ্রগামী হতে পারব না।" (১)।

আর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উম্মতের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীর সবচেয়ে বেশি হকদার: {আর তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে, যে পবিত্রতা অর্জনের জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে। এবং তার প্রতি কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে। কেবল তার মহান রবের সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়। আর অচিরেই সে সন্তুষ্ট হবে।} (২)।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকরের অবস্থান - (৩):

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের দিনে মুসলমানগণ এক মহা বিপদের সম্মুখীন হন এবং এক প্রচণ্ড আলোড়নের শিকার হন...

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন মানাকিব অধ্যায়ে, আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মর্যাদা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে, ৫/৬১৪, (হাদিস নং ৩৬৭৫), এবং তিনি বলেছেন: "এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)"; এবং আবু দাউদ জাকাত অধ্যায়ে, এ সংক্রান্ত অনুমতি—অর্থাৎ পুরো সম্পদ দান করে দেওয়ার অনুমতি বিষয়ক অনুচ্ছেদে, ২/১২৯, (হাদিস নং ১৬৭৮); এবং দারেমি জাকাত অধ্যায়ে, কোনো ব্যক্তি তার কাছে থাকা সব সম্পদ সদকা করা বিষয়ক অনুচ্ছেদে, ১/৩২৯, (হাদিস নং ১৬৬৭); এবং হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, ১/৪১৪; এবং আবু নুয়াইম হিলইয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে, ১/৩২।

(২) সূরা আল-লাইল, আয়াত: ১৭-২১। একাধিক মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতগুলো আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শানে নাজিল হয়েছে, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে মুফাসসিরগণের ঐকমত্য (الإجماع) বর্ণনা করেছেন। দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির, ৪/৫২২।

(৩) ফাতহুল বারীসহ সাহিহ বুখারিতে আনসারদের মর্যাদা অধ্যায়ে, জাহিলিয়াত যুগের দিনগুলো নামক অনুচ্ছেদে তাঁর বিজ্ঞোচিত অবস্থানগুলো দেখুন, ৭/১৪৯; এবং আবু নুয়াইম হিলইয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে, ১/৩১; এবং আহমদ তাঁর যুহদ গ্রন্থে সমার্থে বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা ১৬৪; এবং দেখুন: হায়াতুস সাহাবা, ২/৬১১, ৬১২; এবং খালিদ আল-বিতার রচিত আ'লামুল মুরসালিন, ১/৩০; এবং আলবানীর সহিহুল জামিউস সাগির, ৪/১৭২, হাদিস নং ৪৩9৫; আরও দেখুন: ফাতহুল বারী, ৭/১৪, সেখানে আবু বকরের তাকওয়া ও পরহেজগারির বিস্ময়কর ঘটনাবলি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১১)
عنيفة، أفقدت الكثير منهم صوابهم، حتى إن عمر أنكر موت النبي صلى الله عليه وسلم وخرج إلى الناس وخطبهم، وقال: واللَّه ما مات رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وليبعثنه اللَّه فليقطعن أيدي رجال وأرجلهم.

وأقبل أبو بكر رضي الله عنه على فرس من مسكنه بالسُّنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يُكلّم الناس حتى دخل على عائشة رضي الله عنها فتيمم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وهو مغشى بثوب حبرة، فكشف عن وجهه، ثم أكبّ عليه فقبله وبكى، ثم قال: بأبي أنت وأمي، واللَّه لا يجمع اللَّه عليك موتتين، أما الموتة التي كُتبتْ لك فقد متها (1)، ثم خرج أبو بكر - وعمر يُكلم الناس - فقال: أيها الحالف على رسْلِك، وقال: اجلس يا عمر، فأبي عمر أن يجلس، فلما تكلم أبو بكر أقبل الناس إليه وتركوا عمر، فجلس عمر رضي الله عنه فحمد اللَّه أبو بكر وأثنى عليه، وقال: أما بعد، فمن كان منكم يعبد محمداً صلى الله عليه وسلم فإن محمداً صلى الله عليه وسلم قد مات، ومن كان منكم يعبد اللَّه فإن اللَّه حي لا يموت، قال اللَّه - تعالى -: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ} (2). وقال: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَاّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَن

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الجنائز، باب الدخول على الميت بعد الموت إذا أدرج في أكفانه، 3/ 133، (رقم 1241، 1242)، وكتاب المغازي، باب مرض النبي صلى الله عليه وسلم ووفاته، 8/ 145، (رقم 4452 - 4454).

(2) سورة الزمر، الآية: 30.
তীব্র ছিল, যা তাদের অনেকের বিবেক-বুদ্ধি আচ্ছন্ন করে দিয়েছিল, এমনকি উমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যু অস্বীকার করেন এবং মানুষের সামনে বেরিয়ে এসে ভাষণ দেন। তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেননি। অবশ্যই আল্লাহ তাঁকে পুনরায় পাঠাবেন, অতঃপর তিনি কিছু লোকের হাত ও পা কেটে দেবেন।"

আবু বকর (রা.) সুনহে অবস্থিত তাঁর বাসস্থান থেকে ঘোড়ায় চড়ে আসলেন। তিনি অবতরণ করে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং লোকজনের সাথে কোনো কথা না বলে সোজা আয়েশা (রা.)-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি একটি ডোরাকাটা চাদর (হিবারাহ) দিয়ে আবৃত ছিলেন। আবু বকর (রা.) তাঁর চেহারা মোবারক উন্মুক্ত করলেন, এরপর তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়ে তাঁকে চুম্বন করলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর বললেন: "আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনার ওপর দুটি মৃত্যু একত্র করবেন না। আপনার জন্য যে মৃত্যু নির্ধারিত ছিল, তা তো আপনি বরণ করেছেন (১)।" অতঃপর আবু বকর (রা.) বাইরে আসলেন—ততক্ষণে উমর (রা.) লোকদের সাথে কথা বলছিলেন—তখন তিনি বললেন: "হে শপথকারী! তুমি শান্ত হও।" তিনি আরও বললেন: "উমর, বসো।" কিন্তু উমর (রা.) বসতে অস্বীকার করলেন। যখন আবু বকর (রা.) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন লোকজন উমরকে ছেড়ে তাঁর দিকে এগিয়ে এল। তখন উমর (রা.) বসে পড়লেন। আবু বকর (রা.) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন এবং বললেন: "অতঃপর, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইবাদত করতে, তারা জেনে রাখো যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে, তারা জেনে রাখো যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মরবেন না।" মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল} (২)। এবং তিনি বললেন: {আর মুহাম্মাদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছুই নন, যাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন। সুতরাং যদি তিনি মারা যান কিংবা তাঁকে হত্যা করা হয়, তবে কি তোমরা তোমাদের পিঠটান দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে? আর যে...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুল জানাইয, পরিচ্ছেদ: কাফন পরানোর পর মৃত্যুর পর মৃতের নিকট প্রবেশ করা, ৩/১৩৩, (হাদিস নং ১২৪১, ১২৪২), এবং কিতাবুল মাগাযী, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা ও তাঁর ইন্তেকাল, ৮/১৪৫, (হাদিস নং ৪৪৫২ - ৪৪৫৪)।

(২) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩০।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১২)
يَنقَلِبْ عَلَىَ عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ} (1).

فواللَّه لكأن الناس لم يكونوا يعلمون أن اللَّه أنزل الآية حتى تلاها أبو بكر رضي الله عنه وقال عمر: واللَّه ما هو إلا أن سمعت أبا بكر تلاها فعقرت حتى ما تقلني رجلاي، وحتى أهويت إلى الأرض حين سمعته تلاها، علمت أن النبي صلى الله عليه وسلم قد مات.

وقال الراوي: فتلقاها الناس كلهم، فما أسمع بشراً من الناس إلا يتلوها، ونشج الناس يبكون (2).

إن المصيبة عظيمة، والأمر كبير، والحادث جليل، والخلاف واقع؛ ولكن أبا بكر - رضي الله عنه بفضل اللَّه تعالى - حل الخلاف، وألف بين القلوب وثبّتها، ولا يقدر على هذا إلا من أوتي قلباً ثابتاً، وشجاعة فائقةً، وعقلاً راجحاً، وحكمة بالغةً، رضي الله عنه وأرضاه.

وفي اليوم الثاني - يوم الثلاثاء - خطب أبو بكر الناس، وبين لهم ما عليهم، وما لهم، فقام رضي الله عنه وأرضاه - فحمد اللَّه وأثنى عليه بالذي هو أهله، ثم قال: أيها الناس، فإني قد وُلِّيتُ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 144.

(2) انظر: البخاري مع الفتح، وقد صغت هذه الألفاظ من مواضع متفرقة منه، من كتاب الجنائز، باب الدخول على الميت إذا أدرج في أكفانه، 3/ 113، (رقم 1241، 1242)، وكتاب فضائل الصحابة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: لو كنت متخذاً خليلاً، 7/ 19، (رقم 3667)، وكتاب المغازي، باب مرض النبي صلى الله عليه وسلم ووفاته، 8/ 145، (رقم 4454)، وانظر: البداية والنهاية لابن كثير، 5/ 241، 242، وحلية الأولياء، 1/ 29.
...যে ব্যক্তি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন।} (১)।

আল্লাহর কসম, আবু বকর (রা.) যখন এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন মানুষ জানতই না যে আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করেছেন। ওমর (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম, আমি যখনই আবু বকরকে এটি তিলাওয়াত করতে শুনলাম, তখনই আমি নিস্তেজ হয়ে পড়লাম এবং আমার পা দু’টি আমাকে আর ধরে রাখতে পারছিল না। এমনকি যখন শুনলাম তিনি এটি তিলাওয়াত করছেন, তখন আমি মাটিতে পড়ে গেলাম এবং নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন।

বর্ণনাকারী (الراوي) বলেন: অতঃপর সকল মানুষ আয়াতটি গ্রহণ করল, আমি যে কোনো মানুষের কাছ থেকেই এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতে শুনছিলাম এবং মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ল (২)।

নিশ্চয়ই বিপদ ছিল অত্যন্ত মহান, বিষয়টি ছিল গুরুতর, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত শোকাবহ এবং মতভেদও তৈরি হয়েছিল; কিন্তু আবু বকর (রা.)—আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে—বিবাদের অবসান ঘটালেন, অন্তরগুলোকে জুড়ে দিলেন এবং তাদের অবিচল রাখলেন। যাকে অবিচল হৃদয়, অনন্য সাহস, প্রখর বিচারবুদ্ধি এবং পূর্ণ প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তিনি ছাড়া আর কারো পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব ছিল না। আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন।

পরদিন—অর্থাৎ মঙ্গলবার—আবু বকর (রা.) মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাদের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ বর্ণনা করলেন। তিনি (রা.) দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেন: হে লোকসকল! আমাকে আপনাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪৪।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি, আমি এই শব্দগুলোকে এর বিভিন্ন স্থান থেকে চয়ন করেছি; কিতাবুল জানাইজ, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তিকে কাফন পরানোর পর তার নিকট প্রবেশ করা, ৩/১১৩, (হাদিস নং ১২৪১, ১২৪২); কিতাব ফাযাইলুস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, ৭/১৯, (হাদিস নং ৩৬৬৭); এবং কিতাবুল মাগাজি, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রোগ ও ওফাত, ৮/১৪৫, (হাদিস নং ৪৪৫৪)। আরও দেখুন: ইবনে কাসিরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৫/২৪১, ২৪২; এবং হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/২৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৩)
عليكم ولست بخيركم، فإن أحسنت فأعينوني، وإن أسأت فقوِّموني، الصدق أمانة، والكذب خيانة، والضعيف فيكم قويٌّ عندي حتى أريح عليه (1) حقه إن شاء اللَّه، والقوي فيكم ضعيف عندي حتى آخذ الحق منه إن شاء اللَّه، لا يدع قوم الجهاد في سبيل اللَّه إلا ضربهم اللَّه بالذل، ولا تشيع الفاحشة في قوم قط إلا عمَّهم اللَّه بالبلاء، أطيعوني ما أطعت اللَّه ورسوله فيكم، فإذا عصيت اللَّه ورسوله فلا طاعة لي عليكم، قوموا إلى صلاتكم يرحمكم اللَّه (2).

وقوله رضي الله عنه: ولِّيت عليكم ولست بخيركم: من باب التواضع، وإلا فإن الصحابة كلهم مُجمعون على أنه أفضلهم وخيرهم، رضي الله عنهم أجمعين (3).

 

‌‌المطلب الخامس: موقفه رضي الله عنه في إنفاذ جيش أسامة بن زيد رضي الله عنه -:

ظهرت حكمة الصديق رضي الله عنه أثناء تنفيذ جيش أسامة بن زيد رضي الله عنه من عدة وجوه:

 

‌‌(أ) تنفيذ بعث أسامة رضي الله عنه - على الرغم من شدة الأحوال ومعارضة

--------------------------------------------

(1) والمعنى: حتى أرد عليه حقه. انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر لابن الأثير، باب الراء مع الواو، 2/ 273.

وانظر: التاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 57، وفي البداية والنهاية قال: حتى أزيح علته إن شاء الله، 5/ 248.

(2) انظر: سيرة ابن هشام،4/ 340،وابن كثير في البداية والنهاية،5/ 248، قال: <وهذا إسناد صحيح>.

(3) انظر: البداية والنهاية، 5/ 248.
আমি আপনাদের ওপর শাসক নিযুক্ত হয়েছি, অথচ আমি আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। সুতরাং আমি যদি ভালো কাজ করি তবে আপনারা আমাকে সহায়তা করুন, আর যদি আমি ভুল করি তবে আমাকে সংশোধন করে দিন। সত্য হলো আমানত এবং মিথ্যা হলো খেয়ানত। আপনাদের মধ্যে যে দুর্বল সে আমার কাছে শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি ইনশাআল্লাহ তার প্রাপ্য অধিকার (হক) তাকে ফিরিয়ে দিই (১), আর আপনাদের মধ্যে যে শক্তিশালী সে আমার কাছে দুর্বল যতক্ষণ না আমি ইনশাআল্লাহ তার কাছ থেকে পাওনা আদায় করে নিই। কোনো জাতি আল্লাহর পথে জিহাদ বর্জন করে না, তবে আল্লাহ তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেন। আর কোনো জাতির মধ্যে যখনই অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর ব্যাপকভাবে বিপদ-আপদ নাজিল করেন। আমি যতক্ষণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করি, ততক্ষণ আপনারা আমার আনুগত্য করুন। আর আমি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হই, তবে আমার প্রতি আপনাদের আনুগত্যের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনারা আপনাদের সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হোন, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন (২)।

আর তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই উক্তি: 'আমি আপনাদের ওপর শাসক নিযুক্ত হয়েছি অথচ আমি আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই'—এটি ছিল বিনয়বশত। নতুবা সকল সাহাবী এ বিষয়ে একমত ছিলেন যে, তিনিই তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ব্যক্তি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) (৩)।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাহিনী প্রেরণের ক্ষেত্রে তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অবস্থান -:

উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাহিনী প্রেরণের সময় সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রজ্ঞা কয়েকটি দিক থেকে ফুটে উঠেছিল:

 

‌‌(ক) উসামার বাহিনী প্রেরণ বাস্তবায়ন করা - পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং বিরোধিতা সত্ত্বেও

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ হলো: যতক্ষণ না আমি তার প্রাপ্য অধিকার তাকে ফিরিয়ে দিই। দেখুন: ইবনে আল-আসীর কৃত আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, বাব আর-রা মা’আল ওয়াও, ২/২৭৩।

আরও দেখুন: মাহমুদ শাকির কৃত আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/৫৭; এবং আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইনশাআল্লাহ যতক্ষণ না আমি তার অভিযোগ বা অসুবিধা দূর করি, ৫/২৪৮।

(২) দেখুন: সিরাতে ইবনে হিশাম, ৪/৩৪০; এবং ইবনে কাসীর কৃত আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫/২৪৮, তিনি বলেছেন: <এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)>।

(৩) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫/২৪৮।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৪)
بعض الصحابة، وذلك امتثالاً لأمر النبي صلى الله عليه وسلم.

بعث النبي صلى الله عليه وسلم أسامة بن زيد رضي الله عنه في مرضه الذي توفي فيه (1)، وندب الناس إلى غزو الروم، وكان تجهيز جيش أسامة قبل وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بيومين، وكان ذلك يوم السبت، وقد كان ابتداء ذلك قبل مرض النبي صلى الله عليه وسلم، ثم اشتد به مرضه، فأمر بإنفاذ جيش أسامة، وتوفي صلى الله عليه وسلم فعَظُم الخطب، واشتد الحال، وظهر النفاق بالمدينة، وارتدت أحياء من العرب حول المدينة، وامتنع آخرون من دفع الزكاة، ولم يبق للجمعة مقام في بلد سوى مكة والمدينة، وكانت جواثا من البحرين أول قرية أقامت الجمعة بعد رجوع الناس إلى الحق؛ وثبتت ثقيف بالطائف على الإسلام لم يرتدوا.

وعندما وقعت هذه الأمور أشار كثير من الناس على أبي بكر الصديق ألا ينفذ جيش أسامة لاحتياجه إليه فيما هو أهم؛ لأن ما جُهِّز بسببه في حال السلامة.

وكان من جملة من أشار بذلك عمر بن الخطاب رضي الله عنه فامتنع الصديق من ذلك، وأبى أشد الإباء إلا أن ينفذ جيش أسامة، وقال كلمته العظيمة: واللَّه لا أحل عقدة عقدها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ولو أن الطير تخطفنا والسباع من حول المدينة، ولو أن الكلاب جرت

--------------------------------------------

(1) انظر: البخاري مع الفتح، كتاب المغازي، باب بعث النبي صلى الله عليه وسلم أسامة بن زيد رضي الله عنه، 8/ 151، 152.
কতিপয় সাহাবী, আর তা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের আনুগত্য স্বরূপ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যে অসুস্থতায় ইন্তেকাল করেন সেই সময়ে উসামা ইবনে যায়েদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে প্রেরণ করেছিলেন (১), এবং তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। উসামার বাহিনী প্রস্তুত করার বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের দুই দিন আগে সম্পন্ন হয়েছিল, আর তা ছিল শনিবার। মূলত এর সূচনা হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থতার পূর্বে। অতঃপর তাঁর অসুস্থতা তীব্রতর হলে তিনি উসামার বাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে দাঁড়ায় এবং অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। মদিনায় মুনাফিকী (النفاق) প্রকাশ পায় এবং মদিনার আশপাশের বিভিন্ন আরব গোত্র ধর্মত্যাগী (ارتدت) হয়ে যায়। অন্যরা যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। মক্কা ও মদিনা ব্যতীত অন্য কোনো জনপদে জুমার নামাজ কায়েম রাখার মতো পরিস্থিতি অবশিষ্ট রইল না। বাহরাইনের জুওয়াসা ছিল প্রথম গ্রাম যেখানে মানুষ সত্যের পথে ফিরে আসার পর জুমার নামাজ কায়েম করেছিল। আর তায়েফের সাকীফ গোত্র ইসলামের ওপর অবিচল ছিল, তারা ধর্মত্যাগী (ارتدت) হয়নি।

যখন এই বিষয়গুলো ঘটল, তখন অনেক লোক আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুকে পরামর্শ দিলেন যেন তিনি উসামার বাহিনীকে অভিযানে না পাঠান, কারণ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর এই বাহিনীর প্রয়োজন ছিল; যেহেতু বাহিনীটি মূলত শান্তি ও নিরাপত্তার অবস্থায় প্রেরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

যাঁরা এই পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। কিন্তু সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু তা মানতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং উসামার বাহিনীকে অভিযানে পাঠানোর বিষয়ে চরম দৃঢ়তা প্রদর্শন করলেন। তিনি তাঁর সেই মহান উক্তিটি করলেন: "আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বন্ধন তৈরি করেছেন আমি তা খুলব না, এমনকি যদি পাখিরা আমাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যায় এবং মদিনার চারপাশ থেকে হিংস্র প্রাণীরা আমাদের ঘিরে ফেলে, আর এমনকি যদি কুকুরগুলো টেনে নিয়ে যায়..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উসামা ইবনে যায়েদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে প্রেরণের অধ্যায়, ৮/ ১৫১, ১৫২।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৫)
بأرجل أمهات المؤمنين، لأجهزنَّ جيش أسامة، وأمر الحرس أن يكونوا حول المدينة.

 

‌‌(ب) ثم إن بعض الناس أشار على أبي بكر أن يولي الجيش رجلاً أقدم سنًّا من أسامة؛ فغضب رضي الله عنه لذلك، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم هو الذي أَمَّر أسامة على الجيش، فلا يريد رضي الله عنه أن يغير شيئاً فعله رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

‌‌(جـ) وخرج أبو بكر رضي الله عنه - يشيع الجيش ويودع أسامة وجيشه، وأبو بكر يسير على قدميه، وأسامة راكباً، فقال له أسامة: يا خليفة رسول اللَّه، إما أن تركب، وإما أن أنزل، فقال أبو بكر: واللَّه لستُ براكب ولستَ بنازل، وما عليَّ أن أغبر قدمي ساعة في سبيل اللَّه.

(د) واستأذن أبو بكر رضي الله عنه من أسامة لعمر بن الخطاب، وقد كان عمر من ضمن الجنود في جيش أسامة، فأذِنَ أسامة لعمر بن الخطاب - رضي اللَّه عن الجميع وأرضاهم.

فكان خروج أسامة إلى الروم بأرض الشام في ذلك الوقت من أكبر المصالح، فساروا لا يمرون بحي من أحياء العرب إلا أُرعبوا منهم وأخذهم الخوف والفزع، وقالوا: ما خرج هؤلاء القوم إلا وبهم منعة شديدة، وسنتركهم حتى يلقوا الروم، فلقوا الروم فهزموهم وقتلوهم، وبقوا أربعين يوماً - وقيل سبعين يوماً - ثم أتوا سالمين غانمين، وعندما رجعوا جهزهم أبو بكر مع الجيش لقتال
...উম্মুল মুমিনীনগণের পদযুগল [বন্য পশু দ্বারা] ছিন্নভিন্ন হলেও আমি অবশ্যই উসামার বাহিনীকে সুসজ্জিত করব এবং তিনি প্রহরীদের মদিনার চতুষ্পার্শ্বে মোতায়েন থাকার নির্দেশ দিলেন।

 

‌‌(খ) অতঃপর কিছু লোক আবু বকর (রা.)-কে পরামর্শ দিলেন যে, তিনি যেন উসামার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কাউকে বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেন; এতে তিনি (রা.) রাগান্বিত হলেন। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং উসামাকে বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন। তাই তিনি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর করা কোনো সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করতে চাইলেন না।

‌‌(গ) আবু বকর (রা.) বের হলেন - বাহিনীকে বিদায় জানাতে এবং উসামা ও তাঁর বাহিনীকে বিদায় দিতে। আবু বকর (রা.) পায়ে হেঁটে চলছিলেন আর উসামা ছিলেন আরোহী। উসামা তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুলের খলিফা! হয় আপনি আরোহণ করুন, না হয় আমি নেমে যাই। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি আরোহণ করব না এবং তুমিও নামবে না। আল্লাহর পথে আমার পা দুখানি কিছুক্ষণ ধূলিধূসরিত হতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

(ঘ) আবু বকর (রা.) উমর ইবনুল খাত্তাবের জন্য উসামার নিকট অনুমতি চাইলেন। উমর উসামার বাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন। উসামা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জন্য অনুমতি দিলেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন।

তৎকালীন সময়ে শামের ভূখণ্ডে রোমানদের বিরুদ্ধে উসামার এই বাহিনীর অভিযান প্রেরণ ছিল অন্যতম বৃহৎ জনকল্যাণমূলক কাজ। তাঁরা যখনই আরবদের কোনো জনপদ বা গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখনই আরবরা তাঁদের দেখে আতঙ্কিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত। তারা বলত: নিশ্চয়ই এই দলটি প্রবল শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে বের হয়েছে; আমরা তাদের ছেড়ে দেব যতক্ষণ না তারা রোমানদের মোকাবিলা করে। অতঃপর তাঁরা রোমানদের মুখোমুখি হলেন এবং তাঁদের পরাজিত ও কতল করলেন। তাঁরা সেখানে চল্লিশ দিন—মতান্তরে সত্তর দিন—অবস্থান করেন। এরপর তাঁরা নিরাপদ অবস্থায় গনিমতের মালসহ ফিরে আসেন। যখন তাঁরা ফিরে আসলেন, আবু বকর (রা.) তাঁদের যুদ্ধের জন্য অন্য বাহিনীর সাথে প্রস্তুত করলেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৬)
أهل الردة ومانعي الزكاة (1).

اللَّه أكبر ما أعظم هذا الموقف، وما أحكمه! فقد ظهرت حكمته وشجاعته وطاعته لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وهي سبب النصر والفلاح، وبتنفيذ هذا الجيش أدخل اللَّه الرعب في قلوب المرتدين، واليهود، والنصارى، وهذا كله بفضل اللَّه، ثم بامتثال أمر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بإنفاذ جيش أسامة بن زيد {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (2).

وهذا مما يؤكد على كل مسلم أن يعتني بأمر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ويبتعد عن نهيه، وذلك كله هو مدار السعادة والفلاح، والفوز والنجاح في الدنيا والآخرة.

 

‌‌المطلب السادس: موقف أبي بكر رضي الله عنه مع أهل الردة ومانعي الزكاة:

عندما توفي رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ارتدت أحياء كثيرة من العرب، وظهر النفاق، وقد كان أهل الردة على قسمين:

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الإمام الطبري، 2/ 246، والكامل في التاريخ لابن الأثير، 2/ 226، وتاريخ الإسلام للإمام الذهبي - عهد الخلفاء الراشدين، ص19، والبداية والنهاية، 6/ 304، 305، وفتح الباري، 8/ 152، وتاريخ الخلفاء لجلال الدين السيوطي، ص74، وحياة الصحابة للعلامة محمد يوسف الكاندهلوي، 1/ 423، 425، 427، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 64.

(2) سورة النور، الآية: 63.
মুরতাদ ও যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীগণ (১)।

আল্লাহু আকবার! এই অবস্থানটি কতই না মহান এবং কতই না প্রজ্ঞাপূর্ণ! এর মাধ্যমে তাঁর প্রজ্ঞা, সাহসিকতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে, যা ছিল বিজয় ও সফলতার মূল কারণ। এই সেনাবাহিনী প্রেরণের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুরতাদদের (مرتدين), ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিয়েছিলেন। এসবই ছিল আল্লাহর অনুগ্রহ, আর তারপর উসামা ইবনে যায়েদের বাহিনীকে পাঠানোর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের ফল। "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে" (২)।

এটি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এ বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের প্রতি যত্নশীল হয় এবং তাঁর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকে। আর এ সবকিছুর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইহকাল ও পরকালের সুখ, সমৃদ্ধি, বিজয় ও সফলতা।

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুরতাদ (أهل الردة) ও যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের বিষয়ে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থান:

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন আরবের অনেক গোত্র মুরতাদ (ارتدت) হয়ে গেল এবং মুনাফকি (نفاق) প্রকাশ পেল। আর এই মুরতাদগণ (أهل الردة) ছিল দুই প্রকার:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখুল ইমাম আত-তাবারী, ২/ ২৪৬; ইবনুল আসীরের আল-কামিল ফিত-তারিখ, ২/ ২২৬; ইমাম আয-যাহাবীর তারিখুল ইসলাম - আহদ আল-খুলাফা আর-রাশিদিন, পৃ. ১৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৬/ ৩০৪, ৩০৫; ফাতহুল বারী, ৮/ ১৫২; জালালুদ্দিন সুয়ুতির তারিখুল খুলাফা, পৃ. ৭৪; আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভীর হায়াতুস সাহাবাহ, ১/ ৪২৩, ৪২৫, ৪২৭; মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামী, ৩/ ৬৪।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌القسم الأول: ارتدوا عن الدين، ونابذوا الملة، وهذه الفرقة طائفتان:

مُدّعو النبوة وأتباعهم.

والطائفة الأخرى ارتدوا عن الدين، وتركوا الصلاة والزكاة، وعادوا إلى ما كانوا عليه في الجاهلية.

 

‌‌القسم الثاني: هم الذين فرقوا بين الصلاة والزكاة، فأنكروا فرض الزكاة ووجوب أدائها.

وهذا القسم هو الذي وقع فيه الخلاف، فثبت أبو بكر رضي الله عنه ثم وافقه جميع الصحابة على قتال جميع المرتدين ومانعي الزكاة (1).

فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: لما توفي رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم واستخلف أبو بكر بعده، وكفر من كفر من العرب، قال عمر بن الخطاب لأبي بكر: كيف تقاتل الناس وقد قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا اللَّه، فمن قال: لا إله إلا اللَّه فقد عصم مني ماله ونفسه إلا بحقه، وحسابه على اللَّه))؟! فقال أبو بكر: واللَّه لأقاتلن من فرَّق بين الصلاة والزكاة، فإن الزكاة حق المال، واللَّه لو منعوني عِقالاً (2) كانوا يؤدونه إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه،

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح النووي على مسلم، 1/ 202، والبداية والنهاية، 6/ 311، وتاريخ الإسلام للذهبي - عهد الخلفاء الراشدين، ص27، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 67.

(2) العقال: هو الحبل الذي يعقل به البعير، والعناق: هي السخلة من الغنم. انظر: النهاية في غريب الحديث لابن الأثير 3/ 280، 3/ 311.
‌‌প্রথম অংশ: তারা দীন থেকে ধর্মত্যাগ (ارتدوا) করেছে এবং মিল্লাত বা ধর্মাদর্শের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এই দলটি আবার দুই শ্রেণিতে বিভক্ত:

নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার এবং তাদের অনুসারীগণ।

আর অন্য দলটি দীন থেকে ধর্মত্যাগ (ارتدوا) করেছে, সালাত ও জাকাত বর্জন করেছে এবং তারা জাহেলিয়াতের যুগে যে অবস্থায় ছিল সেদিকেই ফিরে গেছে।

 

‌‌দ্বিতীয় অংশ: তারা হলো ঐ সমস্ত লোক যারা সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছে। তারা জাকাতের আবশ্যকতা (فرض) এবং তা আদায় করার বাধ্যবাধকতা (وجوب) অস্বীকার করেছে।

এই অংশটি নিয়েই মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল। অতঃপর আবু বকর (রা.) নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং পরবর্তী সময়ে সকল সাহাবী সমস্ত ধর্মত্যাগী (المرتدين) ও জাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন (১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর (রা.) স্থলাভিষিক্ত হলেন, আর আরবদের মধ্যে যারা কুফরি করার ছিল তারা কুফরি করল, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আবু বকর (রা.)-কে বললেন: আপনি কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)। সুতরাং যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে আমার পক্ষ থেকে তার ধন-সম্পদ ও প্রাণ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হকের (حق) ক্ষেত্র ব্যতীত; আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" তখন আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা জাকাত হলো সম্পদের হক (حق)। আল্লাহর শপথ, তারা যদি আমাকে একটি উটের রশি (عقال) দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রদান করত, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শরহু নববী আলা মুসলিম, ১/ ২০২; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬/ ৩১১; জাহাবীর তারিখুল ইসলাম - আহদুল খুলাফা ইর-রাশিদীন, পৃ. ২৭; এবং মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/ ৬৭।

(২) ইকাল (عقال): এটি হলো সেই রশি যা দিয়ে উটকে বাঁধা হয়। আর আনাক হলো ছাগল বা ভেড়ার বাচ্চা। দেখুন: ইবনুল আসীরের আন-নিহায়া ফী গারিবিল হাদিস, ৩/ ২৮০, ৩/ ৩১১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৮)
فقال عمر بن الخطاب: فواللَّه ما هو إلا أن رأيت اللَّه عز وجل قد شرح صدر أبي بكر للقتال، فعرفت أنه الحق (1).

وفي رواية: أن أبا بكر رضي الله عنه قال:)) واللَّه لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة، فإن الزكاة حق المال، واللَّه لو منعوني عَناقاً كانوا يؤدونها إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعها … (((2).

وفي هذا الموقف الحكيم لأبي بكر أدلّ دليل على شجاعته رضي الله عنه وتقدّمه في الشجاعة والعلم على غيره، فإنه ثبت للقتال في هذا الموطن العظيم الذي هو أكبر نعمة أنعم اللَّه – تعالى – بها على المسلمين بعد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، واستنبط رضي الله عنه من العلم بحكمته، ودقيق نظره، ورصانة فكره، ما لم يُشاركه في الابتداء به غيره، فلهذا وغيره مما أكرمه اللَّه به، أجمع أهل العلم بالحق على أنه أفضل أمة

--------------------------------------------

(1) مسلم بلفظه في كتاب الإيمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله، 1/ 51، (رقم 20)، والبخاري مع الفتح في كتاب الزكاة، باب وجوب الزكاة، 3/ 262، (رقم 1399)، 12/ 275، 13/ 250، 3/ 321، 322.

(2) البخاري مع الفتح، كتاب الزكاة، باب وجوب الزكاة، 3/ 262، 12/ 275، 13/ 250، (رقم 1399)، ورواية العناق عند البخاري دون مسلم. وما ذهب إليه أبو بكر رضي الله عنه قد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنه، حيث جاء فيه ذكر الشهادتين، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة.

وقد أخرجه مسلم في كتاب الإيمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، 1/ 53، (رقم 22)، وأبو داود في كتاب الزكاة، 2/ 93، (رقم 1556)، والترمذي في الإيمان، باب ما جاء بني الإسلام على خمس، 5/ 3، (رقم 2609، 2610)، والنسائي في الزكاة، باب عقوبة مانع الزكاة، 5/ 14، (رقم 3938).
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন: আল্লাহর কসম, আমি কেবল এটাই লক্ষ্য করেছি যে, মহান আল্লাহ আবু বকর (রা.)-এর বক্ষকে যুদ্ধের জন্য উন্মোচিত করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সত্য (১)।

অন্য একটি বর্ণনা (رواية) মতে: আবু বকর (রা.) বলেছিলেন: “আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কেননা যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি আমাকে একটি ছাগলছানাও দিতে অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট প্রদান করত, তবে তা প্রদান না করার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব … ” (২)।

আবু বকর (রা.)-এর এই প্রাজ্ঞোচিত অবস্থানে তাঁর সাহসিকতার সুস্পষ্ট দলিল এবং বীরত্ব ও ইলমের ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর তাঁর অগ্রগামিতার প্রমাণ নিহিত। কেননা তিনি এই মহান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সংকল্পে অটল ছিলেন, যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলমানদের ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত ছিল। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা, সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি এবং সুগভীর চিন্তাশক্তির মাধ্যমে ইলম থেকে এমন কিছু বিষয় উদ্ভাবন করেছিলেন যার সূচনায় অন্য কেউ তাঁর অংশীদার ছিল না। এ কারণে এবং আল্লাহ তাঁকে যা কিছু দিয়ে সম্মানিত করেছেন তার প্রেক্ষিতে, সত্যনিষ্ঠ আলেম সমাজ এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তিনি এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর শব্দবিন্যাসেই এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ১/৫১, (হাদিস নং ২০); এবং বুখারি ফাতহুল বারী সহ কিতাবুয যাকাত, অনুচ্ছেদ: যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, ৩/২৬২, (হাদিস নং ১৩৯৯), ১২/২৭৫, ১৩/২৫০, ৩/৩২১, ৩২২।

(২) বুখারি ফাতহুল বারী সহ, কিতাবুয যাকাত, অনুচ্ছেদ: যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, ৩/২৬২, ১২/২৭৫, ১৩/২৫০, (হাদিস নং ১৩৯৯)। ছাগলছানা সংক্রান্ত বর্ণনাটি (رواية) বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, মুসলিমে নয়। আবু বকর (রা.) যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে নবী (সা.) হতে প্রমাণিত (ثابت), যেখানে কালিমা শাহাদাত দ্বয়, সালাত কায়েম এবং যাকাত প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ১/৫৩, (হাদিস নং ২২); আবু দাউদ কিতাবুয যাকাত-এ, ২/৯৩, (হাদিস নং ১৫৫৬); তিরমিজি ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর, ৫/৩, (হাদিস নং ২৬০৯, ২৬১০); এবং নাসায়ি যাকাত অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: যাকাত দান অস্বীকারকারীর শাস্তি, ৫/১৪, (হাদিস নং ৩৯৩৮)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৯)
محمد صلى الله عليه وسلم (1).

فرضي اللَّه عن أبي بكر وأرضاه، وجزاه عن أمة محمد خير الجزاء؛ فإنه قد قام بما يجب عليه نحوها، من ترسيخ معاني الإسلام في قلوب ونفوس وحياة أمة محمد صلى الله عليه وسلم، وأمرها بالثبات على دين اللَّه الذي جاء به النبي صلى الله عليه وسلم من غير زيادة ولا نقص، وطبق ذلك تطبيقاً عمليّا على نفسه، وعلى جميع من بايعه، وقاتل من أنكر شيئاً من ذلك، فقد أعز اللَّه به الإسلام والمسلمين، وخذل به أعداء اللَّه وأعداء الدين، ولهذا لم ينقص الدين في حياته كما قال رضي الله عنه لعمر بن الخطاب حينما أشكل عليه قتال مانعي الزكاة: إنه قد انقطع الوحي وتمّ الدين، أفينقص وأنا حيّ؟ واللَّه لأقاتلنّ من فرّق بين الصلاة والزكاة، أليس قد قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((إلا بحقها))، ومن حقها: إيتاء الزكاة، واللَّه لو خذلني الناس كلهم لجاهدتهم بنفسي)) (2).

وصدق رضي الله عنه، فقد حفظ اللَّه به الدين، ولم ينقص وهو حي، ولهذا كانت خلافته مليئة بالأعمال الجليلة التي تحتاج إلى السنوات الطوال لإنجازها على الرغم من قصر مدة خلافته رضي الله عنه، فهي لم تزد

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح النووي على مسلم، 1/ 211.

(2) انظر: تاريخ الطبري، 2/ 245، 246، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 68، وأعلام المسلمين لخالد البيطار، ص75، وحياة الصحابة، 1/ 434.
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (১)।

আল্লাহ তাআলা আবু বকর (রা.)-এর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, আর মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন; কেননা তিনি উম্মতের প্রতি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কলব ও নফসের গভীরে এবং তাদের জীবনে ইসলামের মর্মবাণী সুদৃঢ় করেছেন। তিনি উম্মতকে আল্লাহর দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রকার বৃদ্ধি (زيادة) বা হ্রাস (نقص) ছাড়াই নিয়ে এসেছিলেন। তিনি তা নিজের ওপর এবং তাঁর নিকট যারা বায়আত গ্রহণ করেছিলেন তাদের সকলের ওপর বাস্তবিকভাবে প্রয়োগ করেছেন। যারা এর কোনো অংশ অস্বীকার করেছিল, তিনি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্মানিত করেছেন এবং আল্লাহর শত্রু ও দ্বীনের শত্রুদের লাঞ্ছিত করেছেন। এ কারণেই তাঁর জীবদ্দশায় দ্বীনের কোনো ঘাটতি হয়নি, যেমনটি তিনি (রা.) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—যখন যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয়টি উমর (রা.)-এর কাছে অস্পষ্ট ছিল: "নিশ্চয়ই ওহি (وحي) বন্ধ হয়ে গেছে এবং দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে। এমতাবস্থায় আমি বেঁচে থাকতে কি দ্বীনের কোনো অবনতি হবে? আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে লড়াই করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি: 'কিন্তু তার হক আদায় ব্যতীত'? আর যাকাত প্রদান করা সেই হকেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কসম! যদি সব মানুষ আমাকে ছেড়ে যায়, তবে আমি একাই তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ (جهاد) চালিয়ে যাব।" (২)।

তিনি (রা.) সত্যই বলেছেন; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় দ্বীনের কোনো কমতি হয়নি। এ কারণেই তাঁর খিলাফতকাল (خلافة) এমন সব মহান কার্যাবলীতে পূর্ণ ছিল যা সম্পন্ন করতে দীর্ঘ বছরের প্রয়োজন, অথচ তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। সেটি এর চেয়ে বেশি ছিল না...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শরহে নববী আলা মুসলিম, ১/ ২১১।

(২) দেখুন: তারিখুত তাবারী, ২/ ২৪৫, ২৪৬; মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামী, ৩/ ৬৮; খালিদ আল-বিতার রচিত আলামুল মুসলিমিন, পৃষ্ঠা ৭৫; এবং হায়াতুস সাহাবা, ১/ ৪৩৪।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২০)
على سنتين وثلاثة أشهر وعشرة أيام، وهذا يدل على حكمة أبي بكر العظيمة ووعيه التام بالإسلام، وعزيمته الثابتة الراسخة كالجبال الرواسي، وإيمانه الذي لو وُزِنَ وإيمان الأمة كلها (1) لرجح إيمان أبي بكر بإيمان أمة محمد صلى الله عليه وسلم، ولهذا يُعدّ رضي الله عنه هو الذي أرسى الدعائم بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم. وأثبت المفاهيم، فرضي اللَّه عنه وأرضاه (2).

 

‌‌المبحث الثاني: مواقف عمر بن الخطاب رضي الله عنه -:

لعمر رضي الله عنه مواقف مشرفة حكيمة كثيرة جدًّا، منها على سبيل المثال لا الحصر ما يأتي:

 

‌‌المطلب الأول: موقفه في إظهار الإسلام وهجرته:

عندما أسلم عمر رضي الله عنه على يد النبي صلى الله عليه وسلم أراد أن يَعلم قريش بإسلامه، فسأل عن أنقلهم للحديث، لينقل خبر إسلامه إلى قريش، فقيل له: جميل بن معمر الجمحي، فذهب عمر رضي الله عنه إلى جميل، وقال له: أعلمت يا جميل أنّي قد أسلمت، ودخلت في دين محمد؟ فقام جميل بن معمر يجر رداءه مُسرعاً حتى قام على باب المسجد، ثم صرخ بأعلى صوته: يا معشر قريش، ألا إن عمر بن الخطاب قد

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوط، ص59.

(2) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي، ص73، والتاريخ الإسلامي، لمحمود شاكر 3/ 61.
দুই বছর তিন মাস এবং দশ দিনব্যাপী; এটি আবু বকরের মহান প্রজ্ঞা, ইসলাম সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ সচেতনতা এবং অটল পাহাড়ের ন্যায় তাঁর সুদৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দেয়। তাঁর ঈমান এমন ছিল যে, যদি তাঁর ঈমানকে সমগ্র উম্মতের (১) ঈমানের সাথে ওজন করা হতো, তবে উম্মতে মুহাম্মাদীর ঈমানের বিপরীতে আবু বকরের ঈমানই ভারী হতো। এই কারণেই তাঁকে (রা.) সেই ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর ইসলামের ভিত্তিগুলোকে সুসংহত করেছিলেন এবং এর মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন (২)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থানসমূহ -:

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনেক গৌরবোজ্জ্বল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, যার মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হলো (তবে এগুলিই সব নয়):

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলাম প্রকাশ এবং তাঁর হিজরতকালীন অবস্থান:

যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি চাইলেন কুরাইশরা যেন তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর জানতে পারে। তাই তিনি তাদের মধ্যে সংবাদ আদান-প্রদানে সবচেয়ে তৎপর ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যাতে সে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সংবাদ কুরাইশদের নিকট পৌঁছে দেয়। তাঁকে জামিল বিন মামার আল-জুমাহি-এর কথা বলা হলো। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জামিলের নিকট গিয়ে বললেন: "হে জামিল! তুমি কি জানো যে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মাদের দ্বীনে প্রবেশ করেছি?" জামিল বিন মামার তৎক্ষণাৎ নিজের চাদর টেনে দ্রুতবেগে মসজিদের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। তারপর সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলল: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! জেনে রাখো যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তো...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতি, পৃষ্ঠা ৫৯।

(২) দেখুন: তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতি, পৃষ্ঠা ৭৩; এবং আত-তারিখুল ইসলামি, মাহমুদ শাকির ৩/৬১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২১)
صبأ، فقال عمر وهو واقف خلفه: كذب، ولكني قد أسلمت وشهدت أن لا إله إلا اللَّه، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، فثار عليه قريش من أنديتهم حول الكعبة، وقاتلهم وقاتلوه، واستمر القتال بينهم وبينه في هذا الموقف حتى قامت الشمس على رؤوسهم، وقد تعب عمر رضي الله عنه فقعد وقاموا على رأسه، وهو يقول: افعلوا ما بدا لكم، فأحلف باللَّه أن لو قد كنا ثلاثمائة رجل لتركناها لكم، أو لتركتموها لنا، وبينما هم على ذلك إذ أقبل شيخ من قريش عليه حلّة حبرة، وقميص مُوشّح، حتى وقف عليهم، فقال: ما شأنكم؟ قالوا: صبأ عمر، فقال: فمه، رجل اختار لنفسه أمراً فماذا تريدون؟ أترون بني عديّ بن كعب يسلمون لكم صاحبهم هكذا؟ خلُّوا عن الرجل! قال عبد اللَّه بن عمر: فواللَّه لكأنما كانوا ثوباً كشط عنه، قال: فقلت لأبي بعد أن هاجر إلى المدينة: يا أبت من الرجل الذي زجر القوم عنك بمكة يوم أسلمت وهم يقاتلونك، -جزاه اللَّه خيرا؟ - قال: يا بُنيَّ ذلك العاص بن وائل – لا جزاه اللَّه خيراً – (1).

وبإسلام عمر وإظهاره إسلامه رضي الله عنه أعز اللَّه به الإسلام، وفرّق به

--------------------------------------------

(1) انظر: سيرة ابن هشام، 1/ 370، والبداية والنهاية لابن كثير، وقال: هذا إسناد جيد قوي، 3/ 82، وانظر بعض القصة في البخاري مع الفتح، 7/ 177، وانظر: قصة إسلام عمر في البداية والنهاية 3/ 79 - 81، وسيرة ابن هشام، 1/ 364 - 371، وتاريخ الخلفاء للسيوطي، 109 - 115، وفتح الباري، 7/ 48، ومناقب عمر لابن الجوزي، ص12 - 18، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 121 - 125.
(সে) বলল, "সে ধর্মত্যাগ করেছে।" তখন উমর (রা.) তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে বললেন, "সে মিথ্যা বলেছে; বরং আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" অতঃপর কাবার চারপাশের সভাস্থলগুলো থেকে কুরাইশরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করল এবং তিনিও তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। এ অবস্থায় তাদের ও তাঁর মধ্যে লড়াই চলতে থাকল যতক্ষণ না সূর্য মাথার উপরে এল। উমর (রা.) ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন এবং তারা তাঁর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইল। তখন তিনি বলছিলেন, "তোমাদের যা মনে চায় তা-ই করো। আল্লাহর কসম! আমরা যদি তিনশ জন লোক হতাম, তবে হয় আমরা তোমাদের জন্য মক্কা ছেড়ে দিতাম, নয়তো তোমরা আমাদের জন্য তা ছেড়ে দিতে।" তারা যখন এ অবস্থায় ছিল, তখন কুরাইশদের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁর পরনে ছিল কারুকার্যখচিত ইয়ামেনি চাদর ও নকশা করা জামা। তিনি তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, "তোমাদের কী হয়েছে?" তারা বলল, "উমর ধর্মত্যাগ করেছে।" তিনি বললেন, "তাতে কী হয়েছে? একজন মানুষ নিজের জন্য একটি পথ বেছে নিয়েছে, এখন তোমরা কী চাও? তোমরা কি মনে করো বনু আদি বিন কাব তাদের সঙ্গীকে এভাবে তোমাদের হাতে তুলে দেবে? লোকটিকে ছেড়ে দাও!" আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেন, "আল্লাহর কসম! সেই বৃদ্ধের কথায় তারা যেন গা থেকে খুলে ফেলা কাপড়ের মতো তাঁর কাছ থেকে সরে গেল।" আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, "মদিনায় হিজরত করার পর আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'হে আব্বাজান! মক্কায় আপনার ইসলাম গ্রহণের দিনে যখন লোকেরা আপনার সাথে লড়াই করছিল, তখন কোন সে ব্যক্তি যে তাদেরকে আপনার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন?' তিনি বললেন, 'হে বৎস! সে ছিল আস বিন ওয়ায়েল—আল্লাহ তাকে কল্যাণ দান না করুন—(১)'।

উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ এবং তাঁর ইসলাম প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী করলেন এবং তাঁর মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/৩৭০; ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, যেখানে তিনি বলেছেন: এর বর্ণনাপরম্পরা (إسناد) উত্তম (جيد) শক্তিশালী (قوي), ৩/৮২। গল্পের কিছু অংশ বুখারীতে ফাতহুল বারী সহ দেখুন, ৭/১৭৭। আরও দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ায় উমরের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা, ৩/৭৯-৮১; সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/৩৬৪-৩৭১; সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা, ১০৯-১১৫; ফাতহুল বারী, ৭/৪৮; ইবনুল জাওযী রচিত মানাকিবে উমর, পৃ. ১২-১৮ এবং মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/১২১-১২৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২২)
بين الحق والباطل، فسُمِّي الفاروق رضي الله عنه وأظهر الصحابة صلاتهم حول الكعبة، وقريش ينظرون إليهم (1).

قال عبد اللَّه بن مسعود رضي الله عنه: ((مازلنا أعزّة منذ أسلم عمر)) (2).

وقال رضي الله عنه أيضاً: ((كان إسلام عمر فتحاً، وهجرته نصراً، وإمارته رحمةً، واللَّه ما استطعنا أن نُصلّي حول البيت ظاهرين حتى أسلم عمر، فلما أسلم عمر قاتلهم حتى تركونا نصلي)) (3).

وقد كان عمر رضي الله عنه يتعرّض لرؤوس الكفر، ويعلن أمامهم إسلامه، بل يذهب إلى بيوتهم، ويطرق أبوابهم، ليخبرهم بأنه قد أسلم، لعلّهم يقومون بشيء ضدّه فيُصيبه ما يُصيب إخوانه من المسلمين، ويستطيع في الوقت نفسه أن ينتقم من تلك الرؤوس، ولم يُرد عمر أن يكون هو في نعمة وعافية وراحة، والمسلمون في إيذاء وتعذيب، فعندما أعلن إسلامه، وبدأت قريش تقاتله وثب على عتبة بن ربيعة فبرك عليه، وأدخل إصبعه في عينه، فجعل عتبة يصيح،

--------------------------------------------

(1) انظر: مناقب عمر بن الخطاب لابن الجوزي، ص18 - 19، وتاريخ الخلفاء للسيوطي، ص113 - 115، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 124، وفتح الباري شرح صحيح البخاري، 7/ 44.

(2) البخاري مع الفتح، في كتاب فضائل الصحابة، باب مناقب عمر، 7/ 41، رقم (3684)، ومناقب الأنصار، 7/ 177، (رقم 3836).

(3) ذكره ابن حجر في فتح الباري، 7/ 48، وعزاه إلى الطبراني وابن أبي شيبة، وذكره السيوطي في تاريخ الخلفاء، ص115، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد: <رجاله رجال الصحيح إلا أن القاسم لم يدرك جده ابن مسعود>، 9/ 62، وانظر: البداية والنهاية، 3/ 79.
সত্য ও মিথ্যার মাঝে [পার্থক্যকারী], তাই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। সাহাবীগণ কাবার চারপাশে তাঁদের নামাজ প্রকাশ্য করলেন এবং কুরাইশরা তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকল (১)।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "উমর ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে আমরা সর্বদাই সম্মানিত ছিলাম" (২)।

তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আরও বলেন: "উমরের ইসলাম গ্রহণ ছিল একটি বিজয়, তাঁর হিজরত ছিল এক সাহায্য এবং তাঁর নেতৃত্ব ছিল রহমত। আল্লাহর শপথ, উমর ইসলাম গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত আমরা বাইতুল্লাহর চারপাশে প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে সক্ষম ছিলাম না। যখন উমর ইসলাম গ্রহণ করলেন, তিনি তাদের সাথে লড়াই করলেন যতক্ষণ না তারা আমাদের নামাজ পড়ার সুযোগ দিল" (৩)।

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুফরের বড় বড় নেতাদের মুখোমুখি হতেন এবং তাদের সামনে নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করতেন; এমনকি তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়তেন যেন তাদের জানাতে পারেন যে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সম্ভবত তারা তাঁর বিরুদ্ধে কিছু করবে এবং তাঁর অন্য মুসলিম ভাইদের ওপর যা ঘটছে তা তাঁর ওপরেও ঘটবে। একই সময়ে তিনি সেই নেতাদের ওপর প্রতিশোধও নিতে সক্ষম হতেন। উমর চাননি যে তিনি সুখ ও শান্তিতে থাকবেন আর মুসলিমরা কষ্ট ও নির্যাতনে থাকবেন। তাই যখন তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করলেন এবং কুরাইশরা তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুরু করল, তিনি উতবা ইবনে রবিআর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাকে মাটিতে চেপে ধরলেন। তিনি তার চোখের মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে দিলেন, ফলে উতবা চিৎকার করতে লাগল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মানাকিব উমর ইবনুল খাত্তাব (ইবনুল জাওযি রচিত), পৃষ্ঠা ১৮-১৯; তারিখুল খুলাফা (সুয়ুতি রচিত), পৃষ্ঠা ১১৩-১১৫; আত-তারিখুল ইসলামি (মাহমুদ শাকির রচিত), ৩/ ১২৪; এবং ফাতহুল বারী শারহ সহীহ বুখারী, ৭/ ৪৪।

(২) বুখারী মা আল-ফাতহ, ফাদায়িলুস সাহাবা অধ্যায়, উমরের মর্যাদা পরিচ্ছেদ, ৭/ ৪১, নম্বর (৩৬৮৪); এবং মানাকিবুল আনসার, ৭/ ১৭৭, (নম্বর ৩৮৩৬)।

(৩) ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে এটি উল্লেখ করেছেন (৭/ ৪৮) এবং তাবারানি ও ইবনে আবি শায়বার দিকে সম্বন্ধ করেছেন। সুয়ুতি এটি তারিখুল খুলাফাতে (পৃষ্ঠা ১১৫) উল্লেখ করেছেন। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদে বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সহীহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে কাসেম তাঁর দাদা ইবনে মাসউদকে পাননি", ৯/ ৬২। আরও দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/ ৭৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فتنحى الناس عن عمر، وقام عمر، فجعل أحد لا يدنو منه إلا أخذ شريف من دنا منه، حتى تراجع الناس عنه (1).

وعندما اشتد أذى المشركين على المسلمين، وأذن لهم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بالهجرة من مكة إلى المدينة، وابتدأت وفود المسلمين متجهة إلى المدينة وكلها مختفية في هجرتها وانتقالها، إلا هجرة عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقد رُوي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: ما علمت أن أحداً من المهاجرين هاجر إلا مختفياً، إلا عمر بن الخطاب، فإنه لما هم بالهجرة تقلد سيفه، وتنكب قوسه، وانتضى في يده أسهماً وأتى الكعبة، وأشراف قريش بفنائها، فطاف سبعاً متمكناً، ثم أتى المقام فصلى ركعتين، ثم أتى حلقهم، ثم وقف على الحلق واحدة واحدة، فقال: شاهت الوجوه، من أراد أن تَثْكَله أمه وييتم ولده، وترمل زوجته، فليلقني خلف هذا الوادي، فما تبعه منهم من أحد (2).

 

‌‌المطلب الثاني: موقفه الحكيم في تثبيته الناس على بيعة أبي بكر رضي الله عنه -

عقب وفاة النبي صلى الله عليه وسلم اجتمعت الأنصار إلى سعد بن عبادة في

--------------------------------------------

(1) انظر: التاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 125، وأعلام المسلمين لخالد البيطار، 2/ 22، 23.

(2) انظر: تاريخ الخلفاء للإمام السيوطي، ص115، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 125، وأعلام المسلمين، 2/ 25.
মানুষ উমর (রা.)-এর নিকট হতে সরে গেল এবং উমর (রা.) উঠে দাঁড়ালেন। তখন তাঁর নিকটবর্তী হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা সম্ভ্রান্ত ছিল, তিনি তাদের পাকড়াও করতে শুরু করলেন, যতক্ষণ না লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেল (১)।

আর যখন মুসলমানদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতন চরম আকার ধারণ করল এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদেরকে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার অনুমতি প্রদান করলেন, তখন মুসলমানদের কাফেলাগুলো মদিনার অভিমুখে যাত্রা শুরু করল। তাদের হিজরত ও স্থানান্তরের প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত সংগোপনে সম্পন্ন হচ্ছিল, কেবল উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হিজরত ব্যতীত। কেননা আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণিত (رُوي) হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমার জানামতে উমর ইবনুল খাত্তাব ব্যতীত মুহাজিরদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি গোপনে হিজরত করেননি। উমর (রা.) যখন হিজরতের সংকল্প করলেন, তখন তিনি তাঁর তলোয়ার ধারণ করলেন, ধনুক কাঁধে ঝোলালেন এবং হাতে কিছু তীর নিয়ে কাবার প্রাঙ্গণে এলেন; তখন কুরাইশদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সেখানে অবস্থান করছিল। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে সাতবার তওয়াফ সম্পন্ন করলেন, অতঃপর মাকামে ইব্রাহিমে এসে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি তাদের প্রতিটি মজলিসে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন: 'এই চেহারাগুলো কদাকার হোক! যে ব্যক্তি চায় যে তার মা সন্তানহারা হোক, তার সন্তান এতিম হোক এবং তার স্ত্রী বিধবা হোক, সে যেন এই উপত্যকার পশ্চাতে আমার মুখোমুখি হয়।' তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে অনুসরণ করার সাহস করেনি (২)।"

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রা.)-এর বায়াতের ওপর মানুষকে অবিচল রাখার ক্ষেত্রে তাঁর প্রাজ্ঞ অবস্থান -

নবী (সা.)-এর ওফাতের পর আনসারগণ সাদ ইবনে উবাদাহর নিকট সমবেত হলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/১২৫ এবং খালিদ আল-বিত্তারের আলামুল মুসলিমিন, ২/২২, ২৩।

(২) দেখুন: ইমাম সুয়ুতির তারিখুল খুলাফা, পৃ. ১১৫, মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/১২৫ এবং আলামুল মুসলিমিন, ২/২৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৪)
سقيفة بني ساعدة، فقالوا: منا أمير ومنكم أمير، فذهب إليهم أبو بكر وعمر بن الخطاب وأبو عبيدة بن الجراح، فذهب عمر يتكلم، فأسكته أبو بكر، وكان عمر يقول: واللَّه ما أردت بذلك إلا أني قد هيأت كلاماً قد أعجبني، خشيت أن لا يبلغه أبو بكر، ثم تكلم أبو بكر، فتكلم أبلغ الناس، فقال في كلامه: نحن الأمراء وأنتم الوزراء، فقال حباب بن المنذر: لا واللَّه لا نفعل، منا أمير ومنكم أمير، فقال أبو بكر: لا، ولكنا الأمراء، وأنتم الوزراء، هم أوسط العرب داراً، وأعربهم أحساباً، فبايعوا عمر، أو أبا عبيدة، فقال عمر: بل نبايعك أنت، فأنت سيدنا وخيرنا، وأحبنا إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فأخذ عمر بيده فبايعه وبايعه الناس (((1).

فرضي اللَّه عن عمر وأرضاه، فإنه عندما ارتفعت الأصوات في السقيفة وكثر اللَّغَطُ، وخشي عمر الاختلاف، ومن أخطر الأمور التي خشيها عمر أن يُبْدأ بالبيعة لأحد الأنصار، فتحدث الفتنة العظيمة؛ لأنه ليس من اليسير أن يبايع أحد بعد البدء بالبيعة لأحد الأنصار، فأسرع عمر رضي الله عنه إخماداً للفتنة، فقال لأبي بكر: ابسط يدك، فبسط يده فبايعه، وبايعه المهاجرون، ثم الأنصار (2).

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب فضائل الصحابة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم لو كنت متخذاً خليلاً، 7/ 20، (رقم 3668).

(2) انظر: فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 7/ 32، وسيرة ابن هشام، 4/ 339، والبداية والنهاية، 5/ 246، 6/ 301، وحياة الصحابة، 2/ 11، وتاريخ الخلفاء، ص51.
বনু সায়েদাহর সকিফাহ (চত্বর); তারা বলল: "আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবেন।" তখন আবু বকর, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ তাদের কাছে গেলেন। উমর কথা বলতে চাইলেন, কিন্তু আবু বকর তাকে থামিয়ে দিলেন। উমর বলতেন: "আল্লাহর কসম, আমি এর মাধ্যমে কেবল এটাই চেয়েছিলাম যে, আমি মনে মনে কিছু কথা গুছিয়ে রেখেছিলাম যা আমার কাছে চমৎকার মনে হয়েছিল; আমি আশঙ্কা করছিলাম যে আবু বকর হয়তো সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না।" অতঃপর আবু বকর কথা বললেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাবে বক্তব্য দিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বললেন: "আমরা হলাম আমির এবং তোমরা হলে উজির।" তখন হুবাব ইবনুল মুনজির বললেন: "না, আল্লাহর কসম, আমরা এমনটি করব না; আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবেন।" আবু বকর বললেন: "না, বরং আমরা হলাম আমির এবং তোমরা উজির। তারা (কুরাইশরা) আরবদের মধ্যে ভূখণ্ডগতভাবে সবচেয়ে কেন্দ্রীয় এবং বংশমর্যাদায় সবচেয়ে বিশুদ্ধ। সুতরাং তোমরা উমর অথবা আবু উবাইদাহর হাতে বায়আত গ্রহণ করো।" তখন উমর বললেন: "বরং আমরা আপনার হাতেই বায়আত গ্রহণ করব; কেননা আপনি আমাদের নেতা, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়।" অতঃপর উমর তার হাত ধরলেন এবং তার হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন এবং লোকেরাও তার হাতে বায়আত গ্রহণ করল (১)।

আল্লাহ উমরের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাকে সন্তুষ্ট রাখুন; কেননা যখন সকিফাহতে শোরগোল বেড়ে গেল এবং হট্টগোল বৃদ্ধি পেল, তখন উমর মতভেদের আশঙ্কা করলেন। উমর যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করে ভয় পাচ্ছিলেন তা হলো আনসারদের কারো হাতে বায়আত শুরু হয়ে যাওয়া, যার ফলে এক মহা ফিতনা তৈরি হতো; কারণ আনসারদের কারো হাতে বায়আত শুরু হওয়ার পর অন্য কারো হাতে বায়আত গ্রহণ করা সহজ ছিল না। তাই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ফিতনা দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন এবং আবু বকরকে বললেন: "আপনার হাত প্রসারিত করুন।" তিনি হাত প্রসারিত করলেন এবং উমর তার হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন, এরপর মুহাজিরগণ এবং তারপর আনসারগণ তার হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন (২)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ: 'আমি যদি কাউকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করতাম', ৭/২০, (নম্বর ৩৬৬৮)।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী শারহু সহিহ বুখারি, ৭/৩২, সীরাতে ইবনে হিশাম, ৪/৩৩৯, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৫/২৪৬, ৬/৩০১, হায়াতুস সাহাবাহ, ২/১১ এবং তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৫১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعندما كان يوم الثلاثاء جلس أبو بكر على المنبر، فقام عمر فتكلم قبل أبي بكر، فحمد اللَّه وأثنى عليه بما هو أهله، ثم قال: أيها الناس، إني كنت قلت لكم بالأمس مقالة ما كانت، وما وجدتها في كتاب اللَّه، ولا كانت عهداً عهده إليّ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ولكني قد كنت أرى أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم سيدبر أمرنا، يقول: يكون آخرنا، وإن اللَّه قد أبقى فيكم كتابه الذي به هدى اللَّه رسوله صلى الله عليه وسلم، فإن اعتصمتم به هداكم اللَّه لما كان هداه له، وإن اللَّه قد جمع أمركم على خيركم صاحب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ثاني اثنين إذ هما في الغار، فقوموا فبايعوه، فبايع الناس أبا بكر بيعته العامة بعد بيعة السقيفة (1).

فكان عمر رضي الله عنه يذود ويقوي، ويشجع الناس على بيعة أبي بكر حتى جمعهم اللَّه عليه، وأنقذهم من الاختلاف والفرقة والفتنة.

فهذا الموقف الذي وقفه عمر مع الناس من أجل جمعهم على إمامة أبي بكر، موقف عظيم من أعظم مواقف الحكمة، التي ينبغي أن تسجل بماء الذهب من مواقف عمر الحكيمة.

 

‌‌المطلب الثالث: موقفه الحكيم في إصلاح الأهل قبل الناس

كان عمر رضي الله عنه مع أهله قوياً، فكان إذا أراد أن يأمر المسلمين بشيء أو ينهاهم عن شيء مما فيه صلاحهم ونجاحهم وفلاحهم،

--------------------------------------------

(1) انظر: سيرة ابن هشام، 4/ 340، والبداية والنهاية، 5/ 248، 6/ 301، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 57.
মঙ্গলবার যখন আবু বকর মিম্বরে বসলেন, ওমর দাঁড়িয়ে আবু বকরের আগে কথা বললেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন যেভাবে তাঁর করা উচিত, তারপর তিনি বললেন: "হে লোকসকল, গতকাল আমি তোমাদের কাছে এমন এক কথা বলেছিলাম যা সঠিক ছিল না, তা আমি আল্লাহর কিতাবেও পাইনি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আমাকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে আমি মনে করতাম যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিষয়টি পরিচালনা করবেন—অর্থাৎ তিনি আমাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে থাকবেন। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের মাঝে তাঁর সেই কিতাব অবশিষ্ট রেখেছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসুলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়াত দান করেছিলেন। সুতরাং তোমরা যদি তা আঁকড়ে ধরো, তবে আল্লাহ তোমাদেরকেও সেই পথে পরিচালিত করবেন যার দিকে তিনি তাঁকে পরিচালিত করেছিলেন। আল্লাহ তোমাদের বিষয়গুলোকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তির ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছেন, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথী এবং 'গুহার মধ্যে থাকা দুইজনের দ্বিতীয়জন'। অতএব, তোমরা ওঠো এবং তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করো।" অতঃপর সাকিফার বাইয়াতের পর জনগণ আবু বকরের নিকট সাধারণ বাইয়াত গ্রহণ করল (১)।

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকজনকে আবু বকরের বাইয়াতের প্রতি উদ্বুদ্ধ ও শক্তিশালী করছিলেন এবং উৎসাহিত করছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর ওপর ঐক্যবদ্ধ করলেন এবং তাঁদেরকে মতবিরোধ, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করলেন।

আবু বকরের ইমামতের ওপর জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ওমর যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ এক মহান অবস্থান, যা ওমরের বিজ্ঞোচিত পদক্ষেপগুলোর মাঝে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করার যোগ্য।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জনগণের পূর্বে নিজ পরিবারের সংশোধনে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পরিবারের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি যখনই মুসলমানদের কোনো বিষয়ে আদেশ দিতে বা কোনো কিছু থেকে নিষেধ করতে চাইতেন—যাতে তাদের কল্যাণ, সফলতা ও মুক্তি নিহিত থাকত—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিরাতে ইবনে হিশাম, ৪/৩৪০; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৫/২৪৮, ৬/৩০১; এবং মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/৫৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৬)
بدأ بأهله، وتقدم إليهم بالوعظ لهم، والوعيد على خلافهم أمره، فعن سالم بن عبد اللَّه بن عمر قال:)) كان عمر إذا صعد المنبر فنهى الناس عن شيء جمع أهله، فقال: إني نهيت الناس عن كذا وكذا، وإن الناس ينظرون إليكم نظر الطير إلى اللحم، وأقسم باللَّه لا أجد أحداً منكم فعله إلا أضعفت عليه العقوبة (((1).

وهذا من أعظم مواقف الحكمة؛ لأن الناس ينظرون إلى الداعية ومدى تطبيقه العملي والقولي لما يدعو إليه، كما ينظرون إلى تطبيقه ذلك على أهله ومن تحت يده.

 

‌‌المطلب الرابع: موقفه الحكيم في دعوته بتواضعه للَّه تعالى

كان عمر رضي الله عنه وأرضاه - مع قوته في دين اللَّه، وشجاعته، وشدته على أعداء اللَّه، وهيبة الناس له، وفرار الشيطان منه، كان مع ذلك كله متواضعاً، وقَّافاً عند حدود اللَّه، وقد كان يقول: أحبّ الناس إليّ من أهدى إليّ عيوبي (2). ومن ذلك ما يلي:

 

‌‌(أ) عندما مر بالجابية على طريق إيلياء وجلس عندهم، قيل له: أنت ملك العرب، وهذه بلاد لا تصلح بها الإبل، فلو لبست شيئاً

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الأمم والملوك للإمام الطبري، 2/ 68، والكامل في التاريخ لابن الأثير، 3/ 31، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 3/ 404، وأعلام المسلمين للبيطار، 2/ 54.

(2) انظر: مناقب أمير المؤمنين عمر بن الخطاب لابن الجوزي، ص154، وأعلام المسلمين لخالد البيطار، ص59.
তিনি তাঁর পরিবারকে দিয়েই শুরু করতেন এবং তাদের উপদেশ দিতেন ও তাঁর নির্দেশের অবাধ্য হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করতেন। সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর (রা.) যখন মিম্বরে আরোহণ করতেন এবং মানুষকে কোনো বিষয়ে নিষেধ করতেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারকে একত্রিত করতেন এবং বলতেন: "আমি মানুষকে অমুক অমুক বিষয়ে নিষেধ করেছি। নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের দিকে সেভাবে তাকিয়ে থাকে যেভাবে শিকারি পাখি গোশতের দিকে তাকিয়ে থাকে। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের কাউকে এই কাজ করতে দেখলে তার জন্য শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ করে দেব।" (১)।

এটি প্রজ্ঞার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিক; কারণ মানুষ একজন আহ্বায়ক (داعية) এর দিকে এবং তিনি যা দাওয়াত দিচ্ছেন তার বাস্তব ও বাচনিক প্রয়োগের মাত্রার দিকে লক্ষ্য রাখে। ঠিক একইভাবে তারা তাঁর পরিবার ও তাঁর অধীনস্থদের ওপর সেই দাওয়াতের প্রয়োগের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রদর্শনের মাধ্যমে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান

ওমর (রা.) আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাঁর কঠোরতা, বীরত্ব, আল্লাহর শত্রুদের প্রতি কঠোর মনোভাব, মানুষের অন্তরে তাঁর প্রভাব এবং তাঁর থেকে শয়তানের পলায়ন করা সত্ত্বেও—এই সবকিছুর সাথে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমার নিকট এসে থেমে যেতেন (وقافا)। তিনি বলতেন: "আমার নিকট সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে প্রিয়, যে আমার ত্রুটিগুলো আমার সামনে তুলে ধরে।" (২)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

‌‌(ক) যখন তিনি ইলিয়ার পথে জাবিয়া অতিক্রম করছিলেন এবং তাদের নিকট অবস্থান করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি আরবদের বাদশাহ, আর এটি এমন এক এলাকা যা উটের জন্য উপযোগী নয়, তাই আপনি যদি বিশেষ কিছু পরিধান করতেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইমাম তাবারির তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ২/৬৮; ইবনুল আসিরের আল-কামিল ফিত তারিখ, ৩/৩১; মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৩/৪০৪ এবং আল-বাইতারের আ’লামুল মুসলিমিন, ২/৫৪।

(২) দেখুন: ইবনুল জাওযির মানাকিবে আমিরুল মুমিনিন ওমর ইবনুল খাত্তাব, পৃ. ১৫৪ এবং খালিদ আল-বাইতারের আ’লামুল মুসলিমিন, পৃ. ৫৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৭)
غير هذا – يعنون قميصه المرقع – وركبت برذوناً (1)، لكان ذلك أعظم في أعين الروم، فقال: نحن قوم أعزنا اللَّه بالإسلام، فلا نطلب غير اللَّه بديلاً.

ثم سار عمر من الجابية إلى بيت المقدس، وقد تعبت دابته، فأتوه ببرذون فجعل يهملج به، فقال: لمن معه: احبسوا، احبسوا، فنزل عنه، وضرب وجهه، وقال: لا علّم اللَّه من علّمك، هذا من الخيلاء، ما كنت أظن الناس يركبون الشياطين، هاتوا جملي، ثم نزل وركب الجمل، ثم لم يركب برذوناً قبله ولا بعده (2).

 

‌‌(ب) ولما قدم عمر بن الخطاب رضي الله عنه الشام عرضت له مخاضة، فنزل عن بعيره، ونزع خُفَّيه، وأمسكهما بيده، وخاض الماء ومعه بعيره، فقال له أبو عبيدة: قد صنعت اليوم صنعاً عظيماً عند أهل الأرض، صنعت كذا وكذا، فصك عمر في صدره، وقال: أوَّه، لو غيرك يقولها يا أبا عبيدة، إنكم كنتم أذَّل الناس، وأحقر الناس، وأقلّ الناس، فأعزكم اللَّه بالإسلام، فمهما تطلبوا العزة بغيره يُذلكم اللَّه (3).

--------------------------------------------

(1) البرذون: الدابة، ويطلق على غير العربي من الخيل والبغال. انظر: القاموس المحيط، باب النون، فصل الباء، ص1522، والمعجم الوسيط، مادة: برذن، 1/ 48، ومختار الصحاح، مادة (برذن)، ص18.

(2) انظر: البداية والنهاية، 7/ 57، 7/ 60، 7/ 135، ومناقب أمير المؤمنين عمر بن الخطاب لابن الجوزي، ص150، 151.

(3) انظر: البداية والنهاية لابن كثير، 7/ 60، وأعلام المسلمين لخالد البيطار، ص59، ومناقب أمير المؤمنين عمر بن الخطاب لابن الجوزي، ص150.
...এর পরিবর্তে – তারা তাঁর তালি দেওয়া জামার কথা বুঝিয়েছেন – এবং আপনি যদি একটি তুর্কি ঘোড়ায় (برذون) আরোহণ করতেন, তবে তা রোমানদের দৃষ্টিতে অধিক মর্যাদাপূর্ণ হতো। তখন তিনি বললেন: আমরা এমন এক জাতি যাদেরকে আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাই আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প তালাশ করি না।

অতঃপর উমর আল-জাবিয়া থেকে বায়তুল মাকদিসের দিকে যাত্রা করলেন, পথিমধ্যে তাঁর সওয়ারি ক্লান্ত হয়ে পড়লে তারা তাঁর নিকট একটি তুর্কি ঘোড়া (برذون) নিয়ে এল। যখন তিনি তাতে আরোহণ করলেন, সেটি দুলকি চালে চলতে শুরু করল। তখন তিনি তাঁর সাথে থাকা লোকদের বললেন: থামাও, থামাও! এরপর তিনি তা থেকে নেমে পড়লেন এবং সেটির মুখে আঘাত করে বললেন: যে তোমাকে এটি শিখিয়েছে আল্লাহ তাকে জ্ঞান না দিন; এটি এক প্রকার অহংকার (خيلاء)। আমি জানতাম না যে মানুষ শয়তানের পিঠে চড়ে। আমার উট নিয়ে এসো। এরপর তিনি নেমে উটের পিঠে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি আর কখনো তুর্কি ঘোড়ায় (برذون) আরোহণ করেননি।

 

‌‌(খ) উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন সিরিয়ায় আগমন করলেন, তাঁর সামনে একটি অগভীর জলাশয় পড়ল। তখন তিনি তাঁর উট থেকে নেমে পড়লেন এবং তাঁর চামড়ার মোজা (خف) জোড়া খুলে হাতে নিলেন এবং উটসহ পানি পার হলেন। তখন আবু উবাইদাহ তাঁকে বললেন: আপনি আজ পৃথিবীবাসীর নিকট এক বিরাট কাজ করেছেন, আপনি এমন এমন কাজ করেছেন। তখন উমর তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং বললেন: হায়! ওহে আবু উবাইদাহ, যদি আপনি ছাড়া অন্য কেউ এ কথা বলত! তোমরা ছিলে সবচেয়ে লাঞ্ছিত, তুচ্ছ এবং নগণ্য মানুষ; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং তোমরা যখনই ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে সম্মান অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তোমাদের অপদস্থ করবেন।

--------------------------------------------

(১) তুর্কি ঘোড়া (برذون): সওয়ারি পশু, এটি মূলত অনারব ঘোড়া বা খচ্চরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। দেখুন: আল-কামুস আল-মুহিত, বাবুন নুন, ফাসলুল বা, পৃষ্ঠা ১৫২২; আল-মু’জাম আল-ওয়াসিত, মূলশব্দ: বারযানা, ১/৪৮; এবং মুখতারুস সিহাহ, মূলশব্দ: বারযানা, পৃষ্ঠা ১৮।

(২) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৫৭, ৭/৬০, ৭/১৩৫ এবং ইবনুল জাওযী রচিত মানাকিব আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব, পৃষ্ঠা ১৫০, ১৫১।

(৩) দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৬০; খালিদ আল-বাইতার রচিত আ’লামুল মুসলিমিন, পৃষ্ঠা ৫৯ এবং ইবনুল জাওযী রচিত মানাকিব আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব, পৃষ্ঠা ১৫০।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وله مواقف حكيمة في دعوته إلى اللَّه إلى اللَّه – تعالى – لا يتسع المقام لذكرها (1).

وهذه المواقف العظيمة يبين فيها للناس بقوله وفعله أن العزة والرفعة والتمكين لا تأتي عن طريق الكبر، والغطرسة، والإعجاب بالنفس أو الجاه أو السلطان، وإنما يأتي ذلك كله لمن تمسك بالإسلام، ولهذا قال لأبي عبيدة في الخبر السابق: ((إنكم كنتم أذلّ الناس، وأحقرَ الناس، وأقلّ الناس، فأعزكم اللَّه بالإسلام، فمهما تطلبوا العزة من غير اللَّه يذلّكم اللَّه)).

رضي اللَّه عن الفاروق وأرضاه، وجزاه عن أمة محمد خير الجزاء، فقد قام بالأعمال العظيمة، وسلك مسلك الحكمة التي من أُوتيها فقد أُوتي خيراً كثيراً، ونفَّذ وصية رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في

--------------------------------------------

(1) ومن حصره على التواضع أنه كان يدرب نفسه عليه، ولذلك إذا أنكر نفسه أدبها وجازاها وخاطبها يخوفها بالله، فعن أنس رضي الله عنه قال: كنت مع عمر، فدخل حائطاً لحاجته فسمعته يقول: - وبيني وبينه جدار الحائط –: <عمر بن الخطاب أمير المؤمنين، بخ بخ، والله لتتقين الله يا ابن الخطاب، أو ليعذبنك>.

وقيل: إنه حمل قربة على عاتقه فقيل له في ذلك، فقال: إن نفسي أعجبتني فأردت أن أذلها. وكان يسمع الآية من القرآن فيغشى عليه فيحمل صريعاً إلى منزله، فيعاد أياماً ليس به مرض إلا الخوف من الله عز وجل، انظر: البداية والنهاية، 7/ 135.

وانظر مواقف له أخرى في: تاريخ الطبري، 2/ 567، 568، والكامل في التاريخ لابن الأثير، 3/ 30، ومناقب عمر بن الخطاب لابن الجوزي، ص69، والبداية والنهاية، 3/ 135، وحياة الصحابة للعلامة الكاندهلوي، 2/ 97.
আল্লাহর দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে তাঁর এমন সব প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা এখানে সবিস্তারে উল্লেখ করার সুযোগ নেই (১)।

এই মহান অবস্থানগুলোর মাধ্যমে তিনি তাঁর কথা ও কাজের দ্বারা মানুষের নিকট এটি স্পষ্ট করেছেন যে, মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং আধিপত্য অহংকার, দম্ভ, আত্মতৃপ্তি, সামাজিক মর্যাদা বা ক্ষমতার মাধ্যমে আসে না; বরং এই সবকিছু কেবল তাদের জন্যই আসে যারা ইসলামকে আঁকড়ে ধরে। এই কারণেই তিনি পূর্বোক্ত সংবাদ (الخبر)-এর মধ্যে আবু উবায়দাকে বলেছিলেন: "তোমরা ছিলে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে লাঞ্ছিত, তুচ্ছ এবং নগণ্য; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং তোমরা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর মধ্যে সম্মান খোঁজ, তবে আল্লাহ তোমাদের লাঞ্ছিত করবেন।"

আল্লাহ ফারূক (রা.)-এর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, আর উম্মতে মুহাম্মাদীর পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি মহান সব কাজ সম্পাদন করেছেন এবং প্রজ্ঞার পথ অনুসরণ করেছেন, যাকে তা প্রদান করা হয়েছে তাকে মূলত প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসিয়ত বাস্তবায়ন করেছেন...

--------------------------------------------

(১) বিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর একাগ্রতার একটি দিক ছিল যে, তিনি নিজেকে এর ওপর প্রশিক্ষিত করতেন। তাই যখনই তাঁর মনে আত্মগরিমার উদ্রেক হতো, তিনি নিজের শাসন করতেন, নিজেকে শাস্তি দিতেন এবং আল্লাহর ভয় দেখিয়ে নিজের সাথে কথা বলতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি ওমরের সাথে ছিলাম, তিনি তাঁর প্রয়োজনে একটি বাগানে প্রবেশ করলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম—তখন আমার ও তাঁর মাঝে বাগানের দেয়াল অন্তরায় ছিল—: 'ওমর ইবনুল খাত্তাব আমিরুল মুমিনীন! চমৎকার, চমৎকার! আল্লাহর শপথ, হে খাত্তাবের পুত্র! হয় তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, নয়তো তিনি অবশ্যই তোমাকে শাস্তি দেবেন'।"

বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার নিজের কাঁধে পানির মশক বহন করেছিলেন। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমার মনে আত্মতৃপ্তি জেগেছিল, তাই আমি নিজেকে তুচ্ছ প্রমাণ করতে চেয়েছি।" তিনি কোরআনের আয়াত শুনলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যেতেন এবং তাঁকে অচেতন অবস্থায় তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর বেশ কয়েকদিন অসুস্থ মানুষের মতো তাঁকে দেখতে যাওয়া হতো, অথচ মহান আল্লাহর ভয় ছাড়া তাঁর অন্য কোনো অসুখ ছিল না। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/১৩৫।

তাঁর অন্যান্য অবস্থানের জন্য দেখুন: তারিখুত তাবারী, ২/৫৬৭, ৫৬৮; ইবনুল আসীরের আল-কামিল ফিত তারিখ, ৩/৩০; ইবনুল জাওযীর মানাকিবে ওমর ইবনুল খাত্তাব, পৃষ্ঠা ৬৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/১৩৫ এবং আল্লামা কান্ধলভীর হায়াতুস সাহাবা, ২/৯৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৯)
المشركين، من: يهود، ونصارى، ومجوس، وغيرهم من المشركين، حيث قال صلى الله عليه وسلم قُبيل موته: ((أخرجوا المشركين من جزيرة العرب)) (1).

فطهَّر رضي الله عنه جزيرة العرب من المشركين، ولم يترك أحداً منهم فيها، طبقاً لأمر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌المبحث الثالث: مواقف عثمان بن عفان رضي الله عنه -

لعثمان رضي الله عنه مواقف حكيمة كثيرة، منها على سبيل المثال لا الحصر ما يأتي:

 

‌‌المطلب الأول: إنفاقه الأموال العظيمة الكثيرة في سبيل اللَّه تعالى

كان عثمان رضي الله عنه من الأغنياء الذين أغناهم اللَّه عز وجل، وكان صاحب تجارة وأموال طائلة؛ ولكنه استخدم هذه الأموال في طاعة اللَّه عز وجل ابتغاء مرضاته وما عنده، وصار سبَّاقاً لكل خير، ينفق ولا يخشى الفقر.

ومما أنفقه رضي الله عنه من نفقاته الكثيرة على سبيل المثال ما يأتي:

 

‌‌(أ) عندما قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة المنورة وجد أن الماء العذب قليل، وليس بالمدينة ما يستعذب غير بئر رومة، فقال رسول اللَّه

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الجزية والموادعة، باب إخراج اليهود من جزيرة العرب، 6/ 271، (رقم 3168)، ومسلم، كتاب الوصية، باب الوصية لمن ليس له شيء يوصي فيه (رقم 1637).
মুশরিকদের থেকে, যথা: ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক এবং অন্যান্য মুশরিকদের মধ্য হতে; যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ইন্তেকালের কিছুক্ষণ পূর্বে বলেছিলেন: "তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও" (১)।

অতঃপর তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ পালনার্থে আরব উপদ্বীপকে মুশরিকমুক্ত করেন এবং সেখানে তাদের কাউকেই অবশিষ্ট রাখেননি।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উসমান ইবন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানসমূহ -

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান বা পদক্ষেপ রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ (সবগুলো নয়) কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর পথে তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ ব্যয়

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহপ্রাপ্ত ধনীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বিপুল ব্যবসা ও সম্পদের মালিক ছিলেন; কিন্তু তিনি এই সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন প্রতিদানের আশায় তাঁরই আনুগত্যের পথে ব্যবহার করতেন। তিনি প্রতিটি কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী ছিলেন এবং দারিদ্র্যের ভয় না করেই দান করতেন।

তাঁর অসংখ্য ব্যয়ের মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কিছু নিচে তুলে ধরা হলো:

 

‌‌(ক) যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন যে সেখানে সুপেয় পানির অভাব রয়েছে এবং 'বিরে রুমা' (রুমা কূপ) ব্যতীত মদিনায় অন্য কোনো সুপেয় পানির উৎস নেই। তখন রাসূলুল্লাহ

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি (ফাতহুল বারীসহ), কিতাবুল জিজয়া ওয়াল মুওয়াদাআ, অনুচ্ছেদ: আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদিদের বহিষ্কার, ৬/২৭১, (হাদিস নং ৩১৬৮), এবং সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ওয়াসিয়্যাহ, অনুচ্ছেদ: যার ওসিয়ত করার মতো কিছু নেই তার ওসিয়ত (হাদিস নং ১৬৩৭)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুস সাহাবাহ - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৩০)
- صلى الله عليه وسلم: ((من يشتري بئر رومة فيجعل دلوه مع دلاء المسلمين بخير له منها في الجنة)) (1).

وقال صلى الله عليه وسلم: ((من حفر بئر رومة فله الجنة)) (2).

وقد كانت رومة قبل قدوم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة لا يشرب منها أحد إلا بثمن، فلما قدم المهاجرون المدينة استنكروا الماء، وكانت لرجل من بني غفار عين يقال لها رومة، وكان يبيع منها القربة بمد، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: ((تبيعنيها بعين في الجنة؟)) فقال: يا رسول اللَّه! ليس لي ولا لعيالي غيرها، فبلغ ذلك عثمان رضي الله عنه فاشتراها بخمس وثلاثين ألف درهم، ثم أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أتجعل لي فيها ما جعلت له؟ قال: ((نعم))، قال: قد جعلتها للمسلمين (3).

وقيل: كانت رومة ركية ليهودي يبيع للمسلمين ماءها، فاشتراها عثمان بن عفان من اليهودي بعشرين ألف درهم، فجعلها للغني والفقير وابن السبيل (4).

--------------------------------------------

(1) النسائي في كتاب الوصايا، باب وقف المساجد، 6/ 235، (رقم 3605)، وانظر: صحيح النسائي 2/ 766، وأخرجه الترمذي في المناقب، باب مناقب عثمان رضي الله عنه، 5/ 627، (رقم 3699)، وانظر: صحيح الترمذي، 3/ 209، وتحفة الأحوذي، 10/ 196، وفتح الباري، 7/ 54.

(2) البخاري مع الفتح، كتاب الوصايا، باب إذا وقف أرضاً أو بئراً، 5/ 407، (رقم 2778)، 7/ 52، 8/ 111، وانظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي، ص151.

(3) ذكره ابن حجر في فتح الباري، 5/ 407، وعزاه بسنده إلى البغوي في الصحابة، وانظر: تحفة الأحوذي بشرح سنن الترمذي، 10/ 196.

(4) انظر: تحفة الأحوذي بشرح سنن الترمذي، 10/ 190، وأعلام المسلمين لخالد البيطار، 3/ 39، وفتح الباري، 5/ 408.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি রুমাহ কূপ ক্রয় করবে এবং নিজের বালতিটি মুসলমানদের বালতিগুলোর সাথে অন্তর্ভুক্ত করবে, তার জন্য জান্নাতে এর চেয়েও উত্তম প্রতিদান রয়েছে)) (১)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: ((যে ব্যক্তি রুমাহ কূপ খনন করবে, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত)) (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমনের পূর্বে রুমাহ কূপ থেকে মূল্য পরিশোধ করা ব্যতীত কেউ পানি পান করতে পারত না। যখন মুহাজিরগণ মদীনায় আসলেন, তারা পানির অভাব বোধ করলেন। বনী গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির একটি ঝর্ণা ছিল যাকে রুমাহ বলা হতো। সে এক 'মুদ' (এক প্রকার পরিমাপ) এর বিনিময়ে এক মশক পানি বিক্রি করত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: ((তুমি কি জান্নাতের একটি ঝর্ণার বিনিময়ে এটি আমার কাছে বিক্রি করবে?)) সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ও আমার পরিবারের জন্য এটি ছাড়া আর কিছুই নেই। এই সংবাদ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছালে তিনি পঁয়ত্রিশ হাজার দিরহাম দিয়ে এটি ক্রয় করেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আপনি তার জন্য যা নির্ধারণ করেছিলেন, তা কি আমার জন্যও করবেন? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ))। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি এটি মুসলমানদের জন্য উৎসর্গ করলাম (৩)।

বর্ণিত আছে যে: রুমাহ ছিল একজন ইহুদির মালিকানাধীন একটি কূপ, যে মুসলমানদের নিকট এর পানি বিক্রি করত। উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু ইহুদির নিকট থেকে বিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে সেটি ক্রয় করেন এবং তা ধনী, দরিদ্র ও মুসাফিরদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) নাসায়ী, কিতাবুল ওয়াসায়া, পরিচ্ছেদ: মসজিদসমূহ ওয়াকফ (وقف) করা, ৬/২৩৫, (হাদিস নং ৩৬০৫), এবং দেখুন: সহীহ নাসায়ী ২/৭৬৬; এবং এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি, মানাকিব অধ্যায়, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা পরিচ্ছেদ, ৫/৬২৭, (হাদিস নং ৩৬৯৯); এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/২০৯, তুহফাতুল আহওয়াযী, ১০/১৯৬ এবং ফাতহুল বারী, ৭/৫৪।

(২) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, পরিচ্ছেদ: যখন কেউ জমি বা কূপ ওয়াকফ (وقف) করে, ৫/৪০৭, (হাদিস নং ২৭৭৮), ৭/৫২, ৮/১১১; এবং দেখুন: সুয়ুতির তারিখুল খুলাফা, পৃ. ১৫১।

(৩) ইবনে হাজার এটি ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন, ৫/৪০৭, এবং তিনি এটি নিজ সনদে বাগাভীর কিতাবু আস-সাহাবায় উদ্ধৃত করেছেন; আরও দেখুন: তুহফাতুল আহওয়াযী শারহ সুনান তিরমিজি, ১০/১৯৬।

(৪) দেখুন: তুহফাতুল আহওয়াযী শারহ সুনান তিরমিজি, ১০/১৯০, খালিদ আল-বীতারের আলামুল মুসলিমিন, ৩/৩৯ এবং ফাতহুল বারী, ৫/৪০৮।