(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: -)
مواقف التابعين وأتباعهم في الدعوة إلى الله تعالى   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: مواقف التابعين وأتباعهم في الدعوة إلى اللَّه تعالى

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 37

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাবেয়ীগণ (التابعين) ও তাদের অনুসারীগণের (أتباعهم) কর্মপন্থা   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাবেয়ীগণ (التابعين) ও তাদের অনুসারীগণের (أتباعهم) কর্মপন্থা

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরায়সি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

مواقف التابعين وأتباعهم

في الدعوة إلى اللَّه تعالى

 

تأليف الفقير إلى اللَّه

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানির গ্রন্থমালা

 

তাবেয়িগণ (التابعين) এবং তাদের অনুসারীদের (أتباعهم) অবস্থান

আল্লাহ তাআলার প্রতি দাওয়াতের ক্ষেত্রে

 

আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী দাসের রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلّى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((مواقف التابعين وأتباعهم في الدعوة إلى اللَّه تعالى)) بينت فيها نماذج من المواقف المشرفة في الدعوة إلى اللَّه سبحانه وتعالى.

واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا وإمامنا محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি "আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীনদের অবস্থান" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে দাওয়াতের পথে তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল কিছু দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই নগণ্য কাজটিকে বরকতময়, উপকারী এবং কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আর এর মাধ্যমে যেন তিনি আমাকে আমার জীবনে ও মরণোত্তর জীবনে উপকৃত করেন, এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি যাঞ্চাকারীর জন্য সর্বোত্তম এবং প্রার্থিত হিসেবে মহান। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক!

আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসুল, আমাদের নবী ও ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।

লেখক

লিখিত হয়েছে বৃহস্পতিবার চাশতের সময়, ২৫/০২/১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المبحث الأول: مواقف التابعين

‌‌توطئة:

التابعون هم من القرون المفضلة بنص النبي صلى الله عليه وسلم، فعن عبد اللَّه بن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يجيء أقوام تسبق شهادة أحدهم يمينه، ويمينه شهادته)) (1).

وللتابعين مواقف حكيمة يستفيد منها الدعاة إلى اللَّه تعالى، وسأذكر - بعون اللَّه تعالى - نماذج منها على سبيل المثال في المطالب الآتية:

المطلب الأول: موقف سعيد بن المسيب رحمه اللَّه تعالى.

المطلب الثاني: مواقف الحسن بن يسار البصري رحمه الله.

المطلب الثالث: مواقف عمر بن عبد العزيز رحمه اللَّه تعالى.

المطلب الرابع: مواقف أبي حنيفة النعمان بن ثابت رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الشهادات، باب لا يشهد على شهادة جور إذا أشهد، 5/ 259، (رقم 2652)، ومسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب فضائل الصحابة ثم الذين يلونهم … ، 4/ 1964، (رقم 2533)، وفي رواية من حديث عمران بن حصين رضي الله عنه: <ثم يكون بعدهم قوم يشهدون ولا يستشهدون، ويخونون ولا يؤتمنون، وينذرون ولا يوفون، ويظهر فيهم السمن>. البخاري مع الفتح، كتاب الشهادات، الباب السابق، 5/ 258، (رقم 2651)، ومسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب فضائل الصحابة، 4/ 1962، (رقم 2535).
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাবেয়ীগণের (التابعون) অবস্থান

‌‌ভূমিকা:

তাবেয়ীগণ (التابعون) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ যুগের অন্তর্ভুক্ত। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যাদের সাক্ষ্য তাদের শপথের আগে এবং শপথ সাক্ষ্যের আগে চলে যাবে)) (১)।

তাবেয়ীগণের (التابعون) এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা থেকে আল্লাহর পথে আহ্বানকারীগণ (দাঈগণ) উপকৃত হতে পারেন। আমি মহান আল্লাহর সাহায্যে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলোতে উদাহরণ হিসেবে কিছু নমুনা উল্লেখ করব:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.)-এর অবস্থান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাসান বিন ইয়াসার আল-বসরী (রহ.)-এর অবস্থানসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর অবস্থানসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত (রহ.)-এর অবস্থানসমূহ।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারী, কিতাবুশ শাহাদাত, পরিচ্ছেদ: মিথ্যা সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্য না দেওয়া যখন তাকে সাক্ষী করা হয়, ৫/২৫৯, (হাদিস নং ২৬৫২), এবং মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবাহ, পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তীগণের মর্যাদা … , ৪/১৯৬৪, (হাদিস নং ২৫৩৩)। ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: <অতঃপর তাদের পরে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা সাক্ষ্য দিবে কিন্তু তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, তারা খিয়ানত করবে এবং তাদের বিশ্বস্ত মনে করা হবে না, তারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না এবং তাদের মাঝে স্থূলতা প্রকাশ পাবে>। ফাতহুল বারীসহ বুখারী, কিতাবুশ শাহাদাত, পূর্বোক্ত পরিচ্ছেদ, ৫/২৫৮, (হাদিস নং ২৬৫১), এবং মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবাহ, পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের মর্যাদা, ৪/১৯৬২, (হাদিস নং ২৫৩৫)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المطلب الأول: من مواقف سعيد بن المسيب رحمه الله -

لسعيد بن المسيب (1) مواقف حكيمة، تدل على علمه وحكمته ورغبته فيما عند اللَّه تعالى (2).

ومن هذه المواقف الحكيمة التي صدع فيها بالحق في دعوته إلى اللَّه، ولم تأخذه في اللَّه لومة لائم ما فعله مع الحجاج بن يوسف الثقفي (3) عندما أساء صلاته.

1 - صلَّى الحجاج مرة بجنب سعيد بن المسيب - قبل أن يلي شيئاً من أمور المسلمين - فجعل يرفع قبل الإمام، ويقع قبله في السجود، فلما سلم أخذ سعيد بطرف ردائه، وبقي يقول الذّكر بعد

--------------------------------------------

(1) سعيد بن المسيب، هو سيد التابعين على الإطلاق في زمانه، وعالم أهل المدينة، ولد لسنتين من خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وقيل لأربع مضين منها، وتوفي سنة 94هـ، وله 75 سنة رحمه الله. انظر: سير أعلام النبلاء، 4/ 217 - 246، والبداية والنهاية لابن كثير، 9/ 99.

(2) ومن مواقفه الحكيمة التي كان بها قدوة حسنة لغيره من الدعاة، زواجه ابنته فاطمة لرجل فقير، ومنعها من الزواج بابن الخليفة، فقد خطب عبد الملك بن مروان ابنته للوليد، فمنع من ذلك، وزوَّجها تلميذه كثير بن المطلب بن أبي وداعة القرشي السهمي على درهمين، وساعده بعشرين ألف، وهذا يدل على كمال إيمان سعيد بن المسيب، واهتمامه بالباقي، والنفور من المناصب المزيفة، واختياره الزوج الصالح لابنته، انظر هذه القصة الحكيمة في: سير أعلام النبلاء، 4/ 233، وطبقات ابن سعد، 5/ 138، وحلية الأولياء، 2/ 167، والبداية والنهاية، 9/ 100.

(3) الحجاج بن يوسف الثقفي، ولي العراق والمشرق عشرين سنة، وتوفي سنة 95هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، 4/ 343.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু দৃষ্টান্তমূলক অবস্থান -

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (১)-এর কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, যা তাঁর ইলম, প্রজ্ঞা এবং মহান আল্লাহর নিকট যা রয়েছে (পরকাল) সেটির প্রতি তাঁর অনুরাগের প্রমাণ দেয় (২)।

আর এই সমস্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানের মধ্যে—যেখানে তিনি আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে পরোয়া করেননি—একটি হলো হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি (৩)-এর সাথে তাঁর আচরণ, যখন সে তার সালাত ত্রুটিপূর্ণভাবে আদায় করেছিল।

১ - হাজ্জাজ একবার সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের পাশে সালাত আদায় করলেন—এটি ছিল তাঁর মুসলিমদের কোনো শাসনভার গ্রহণের আগের ঘটনা—তখন তিনি ইমামের আগেই মাথা তুলছিলেন এবং ইমামের আগেই সিজদায় যাচ্ছিলেন। যখন সালাম ফেরানো হলো, তখন সাঈদ তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরলেন এবং এরপর নিজের জিকির পাঠ করতে থাকলেন...

--------------------------------------------

(১) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব: তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ তাবেঈ (التابعين) এবং মদিনার আলেম। তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের দ্বিতীয় বছরে জন্মগ্রহণ করেন, কারো মতে চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর। তিনি ৯৪ হিজরিতে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (রহিমাহুল্লাহ)। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/২১৭-২৪৬; এবং ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৯/৯৯।

(২) তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম—যার মাধ্যমে তিনি অন্য দাঈদের জন্য এক অনন্য আদর্শ হয়ে আছেন—তাঁর কন্যা ফাতিমাকে এক দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বিবাহ প্রদান এবং খলিফার পুত্রের সাথে বিবাহ দিতে অস্বীকার করা। আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাঁর পুত্র ওয়ালীদের জন্য সাঈদের কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁর ছাত্র কাসীর ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদায়া আল-কুরাশি আস-সাহমির নিকট মাত্র দুই দিরহাম মোহরের বিনিময়ে তাকে বিবাহ দেন এবং তাকে বিশ হাজার (দিরহাম) দিয়ে সাহায্য করেন। এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের ঈমানের পূর্ণতা, অবিনশ্বর আখিরাতের প্রতি গুরুত্ব প্রদান, কৃত্রিম পদমর্যাদার প্রতি অনীহা এবং কন্যার জন্য সৎ পাত্র নির্বাচনের পরিচয় বহন করে। এই প্রজ্ঞাপূর্ণ ঘটনাটি দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/২৩৩; তাবাকাত ইবনে সাদ, ৫/১৩৮; হিলয়াতুল আউলিয়া, ২/১৬৭; এবং আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৯/১০০।

(৩) হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি: তিনি বিশ বছর যাবত ইরাক ও প্রাচ্য অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন এবং ৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/৩৪৩।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৬)
الصلاة، والحجاج ما زال ينازعه رداءه حتى قضى سعيد ذكره، ثم أقبل عليه يؤنبه ويؤدبه بالكلام، فلم يقل له الحجاج شيئاً حتى صار نائباً على الحجاز، وعندما أتى المدينة نائباً عليها، فلما دخل المسجد قصد مجلس سعيد بن المسيب حتى جلس بين يديه، فقال له: أنت صاحب الكلمات؟ فضرب سعيد صدره بيده وقال: نعم. قال: فجزاك اللَّه من معلم ومؤدب خيراً، ما صليت بعدك صلاة إلا وأنا أذكر قولك، ثم قام ومضى (1).

2 – قيل لسعيد بن المسيب: ما شأن الحجاج لا يبعث إليك ولا يحركك ولا يؤذيك؟ قال: واللَّه ما أدري، إلا أنه دخل ذات يوم مع أبيه المسجد فصلى صلاة لا يتم ركوعها ولا سجودها، فأخذت كفًّا من حصى فحصبته بها. قال الحجاج: فما زلت أحسن الصلاة (2).

وهذا من أعظم المواقف الحكيمة لسعيد بن المسيب ‘، فإن الحكمة وضع كل شيء في موضعه، وقد تنفع الشدة والقوة إذا كانت الحكمة تقتضي ذلك، فسعيد رأى أن من الحكمة استخدام هذا الأسلوب مع الحجاج؛ ليحسن صلاته، فنفع اللَّه بذلك الحجاج كما ذكر هو عن نفسه، وأنه ما زال يحسن الصلاة بعد ذلك، فرحم اللَّه سعيد بن المسيب، وجزاه خير الجزاء.

--------------------------------------------

(1) انظر: البداية والنهاية، 9/ 119، وسير أعلام النبلاء للذهبي، 4/ 226.

(2) انظر: الطبقات لابن سعد، 5/ 129، وحلية الأولياء لأبي نعيم، 2/ 165، وسير أعلام النبلاء، 4/ 226.
সালাত, আর হাজ্জাজ তখনও তার চাদর নিয়ে টানাটানি করছিল যতক্ষণ না সাঈদ তাঁর জিকির শেষ করলেন। এরপর তিনি তার দিকে এগিয়ে এলেন এবং তাকে তিরস্কার করে কথার মাধ্যমে শাসন করলেন। হাজ্জাজ তখন তাকে কিছুই বলেনি যতক্ষণ না সে হিজাজের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হলো। যখন সে মদিনার গভর্নর হয়ে সেখানে আসল, তখন সে মসজিদে প্রবেশ করে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের মজলিসের দিকে অগ্রসর হলো এবং তাঁর সামনে গিয়ে বসল। এরপর সে তাকে বলল: আপনিই কি সেই কথার মালিক? সাঈদ নিজের বুকে হাত মেরে বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আল্লাহ আপনাকে একজন শিক্ষক ও শিষ্টাচার দানকারী হিসেবে উত্তম প্রতিদান দিন; আপনার সেই ঘটনার পর আমি যখনই সালাত আদায় করেছি, তখনই আপনার কথা স্মরণ করেছি। এরপর সে উঠে চলে গেল (১)।

২ – সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে জিজ্ঞেস করা হলো: হাজ্জাজের ব্যাপারটি কী যে সে আপনার কাছে কাউকে পাঠায় না, আপনাকে কোনোভাবে উত্যক্ত করে না এবং আপনাকে কষ্টও দেয় না? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি জানি না; তবে একদিন সে তার পিতার সাথে মসজিদে প্রবেশ করল এবং এমনভাবে সালাত আদায় করল যার রুকু ও সেজদা সে পূর্ণ করছিল না। তখন আমি এক মুষ্টি কঙ্কর নিয়ে তাকে ছুড়ে মারলাম। হাজ্জাজ বলেছিল: এরপর থেকে আমি সর্বদা সুন্দরভাবে সালাত আদায় করছি (২)।

এটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান; কারণ প্রজ্ঞা হলো প্রতিটি বস্তুকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করা। আর কঠোরতা ও শক্তি প্রয়োগ কখনো কখনো উপকারে আসে যদি প্রজ্ঞা সেটির দাবি রাখে। সাঈদ মনে করেছিলেন যে, হাজ্জাজের সালাত সংশোধন করার জন্য তার সাথে এই পদ্ধতি অবলম্বন করাটাই প্রজ্ঞার দাবি। ফলে আল্লাহ এর মাধ্যমে হাজ্জাজকে উপকৃত করেছেন, যেমনটি সে নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছে যে, এরপর থেকে সে সর্বদা সুন্দরভাবে সালাত আদায় করেছে। আল্লাহ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/১১৯, এবং আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/২২৬।

(২) দেখুন: ইবনে সা’দের আত-তাবাকাত, ৫/১২৯, আবু নুআইমের হিলয়াতুল আউলিয়া, ২/১৬৫, এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/২২৬।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المطلب الثاني: من مواقف الحسن البصري رحمه الله -

للحسن البصري (1) رحمه الله مواقف حكيمة في دعوته إلى اللَّه عز وجل ومنها على سبيل المثال ما يلي:

 

‌‌1 - موقفه مع الحجاج بن يوسف الثقفي:

من حكمة الحسن أنه لا يرى الخروج على الأئمة العُصاة من المسلمين، فقد جاء جماعة من المسلمين إلى الحسن البصري، يستفتونه في الخروج على الحجاج، فقالوا: يا أبا سعيد، ما تقول في قتال هذا الطاغية الذي سفك الدم الحرام، وأخذ المال الحرام، … وفعل ما فعل؟ فقال الحسن: أرى أن لا تقاتلوه؛ فإنها إن تك عقوبة من اللَّه فما أنتم برادي عقوبة اللَّه بأسيافكم، وإن يكن بلاء فاصبروا حتى يحكم اللَّه وهو خير الحاكمين. وخرجوا من عند الحسن ولم يوافقوه، فخرجوا على الحجاج فقتلوا جميعاً (2)؛ ولهذا كان الحسن: يقول لو أن الناس إذا ابتلوا من قبل سلطانهم صبروا ما لبثوا أن

--------------------------------------------

(1) هو الحسن بن أبي الحسن يسار البصري، أبو سعيد مولى الأنصار، وأمه خيرة مولاة أم سلمة أم المؤمنين رحمه الله، وأبو الحسن يسار من سبي ميسان - وهي بين البصرة وواسط - سكن المدينة، وأعتق وتزوج بها في خلافة عمر، فولد له بها الحسن لسنتين بقيتا من خلافة عمر رضي الله عنه، وتوفي الحسن سنة 110هـ وكان عمره 88 سنة رحمه الله. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي، 4/ 563 - 587، وتهذيب التهذيب لابن حجر، 2/ 231.

(2) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد، 7/ 163 - 165، والبداية والنهاية لابن كثير، 9/ 135.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-হাসান আল-বসরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কতিপয় অবস্থান -

মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে আল-হাসান আল-বসরী (১) (রহিমাহুল্লাহ)-এর অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলো:

 

‌‌১ - হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফীর সাথে তাঁর অবস্থান:

আল-হাসান আল-বসরীর প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, তিনি মুসলিমদের অবাধ্য শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা সমর্থন করতেন না। একদল মুসলিম আল-হাসান আল-বসরীর নিকট এসে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করার বিষয়ে ফতোয়া (فتوى) প্রার্থনা করলেন। তারা বললেন: "হে আবু সাঈদ! এই জালেম (طاغية) সম্পর্কে আপনি কী বলেন, যে পবিত্র রক্ত প্রবাহিত করেছে, অবৈধভাবে সম্পদ হরণ করেছে, … এবং আরও যা যা করেছে?" আল-হাসান বললেন: "আমার অভিমত হলো তোমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো না। কারণ এটি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি (عقوبة) হয়ে থাকে, তবে তোমরা তোমাদের তলোয়ার দিয়ে আল্লাহর শাস্তি (عقوبة) প্রতিহত করতে পারবে না। আর যদি এটি কোনো পরীক্ষা (بلاء) হয়ে থাকে, তবে ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন, আর তিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।" তারা আল-হাসানের নিকট থেকে চলে গেল কিন্তু তাঁর সাথে একমত হলো না। এরপর তারা হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করল এবং তারা সকলেই নিহত হলো (২)। এই কারণেই আল-হাসান বলতেন: "মানুষ যদি তাদের শাসকের পক্ষ থেকে পরীক্ষার (بلاء) সম্মুখীন হয়ে ধৈর্য ধারণ করত, তবে তারা দীর্ঘকাল কষ্ট ভোগ করত না..."

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল-হাসান বিন আবিল হাসান ইয়াসার আল-বসরী, আবু সাঈদ; তিনি আনসারদের আযাদকৃত দাস (مولى) ছিলেন। তাঁর মাতা খায়রা ছিলেন উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামাহ (রা)-এর আযাদকৃত দাসী (مولاة)। তাঁর পিতা আবুল হাসান ইয়াসার মায়সান নামক অঞ্চলের যুদ্ধবন্দীদের (سبي) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—যা বসরা ও ওয়াসিতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তিনি মদিনায় বসবাস করেন এবং উমর (রা)-এর খিলাফতকালে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সেখানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উমর (রা)-এর খিলাফতের দুই বছর অবশিষ্ট থাকাকালীন সেখানে আল-হাসান জন্মগ্রহণ করেন। আল-হাসান ১১০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দেখুন: আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/ ৫৬৩ - ৫৮৭, এবং ইবনে হাজারের তাহযীবুত তাহযীব, ২/ ২৩১।

(২) দেখুন: ইবনে সা'দের আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৭/ ১৬৩ - ১৬৫, এবং ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/ ১৩৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৮)
يفرج عنهم، ولكنهم يجزعون إلى السيف فيوكلون إليه، فواللَّه ما جاءوا بيوم خير قط (1).

ومع ذلك كله فقد أراد الحجاج أن يقتل الحسن البصري مراراً، ولكن اللَّه عصمه منه.

بعث الحجاج إلى الحسن مرة – وقد همّ به – فجاء الحسن إليه، فلما قام بين يديه قال: يا حجاج، كم بينك وبين آدم من أب؟ قال: كثير. قال: فأين هم؟ قال: ماتوا. فنكس الحجاج رأسه، وخرج الحسن (2).

وهذا من حكمة الحسن في دعوته إلى اللَّه، فإن الخروج على الأئمة المسلمين – ولو كانوا فسّاقاً – يسبب شراً كبيراً، وفتنة عظيمة، وإزهاقاً للأرواح، وفساداً كبيراً، فسدَّ الحسن الباب أمام هذه المفاسد.

 

‌‌2– موقف الحسن من عمر بن هبيرة:

عندما ولي عمر بن هبيرة (3) العراق أرسل إلى الحسن فقدم إليه، فقال له: إن أمير المؤمنين يزيد بن عبد الملك (4) ينفذ كتباً أعرف أن

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات ابن سعد، 7/ 164.

(2) انظر: البداية والنهاية، 9/ 135.

(3) هو عمر بن هبيرة بن معاوية بن بن سُكَين، الأمير أبو المثنى أمير العراقين، مات سنة 107هـ. انظر سير أعلام النبلاء، 4/ 562.

(4) هو يزيد بن عبد الملك بن مروان الخليفة، استخلف بعهد عقده له أخوه سليمان، بعد عمر بن عبد العزيز، ولد سنة 71هـ. وكانت خلافته أربعة أعوام، توفي سنة 105هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، 5/ 150 - 152.
তারা বিপদ হতে মুক্তি পায়, কিন্তু তারা তলোয়ারের (বিদ্রোহের) আশ্রয় নেয়, ফলে তাদের সেই তলোয়ারের ওপরই সোপর্দ করা হয়। আল্লাহর শপথ, তারা কখনোই কোনো কল্যাণকর দিন বয়ে আনেনি (১)।

এতৎসত্ত্বেও হাজ্জাজ কয়েকবার হাসান বসরীকে হত্যা করার সংকল্প করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাকে তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন।

একবার হাজ্জাজ হাসানের নিকট লোক পাঠাল—অথচ সে তার ক্ষতি করার সংকল্প করেছিল—অতঃপর হাসান তার কাছে এলেন। যখন তিনি তার সামনে দাঁড়ালেন, তিনি বললেন: হে হাজ্জাজ, তোমার ও আদমের মধ্যে কতজন পিতৃপুরুষ অতিবাহিত হয়েছে? সে বলল: অনেক। তিনি বললেন: তবে তারা এখন কোথায়? সে বলল: তারা মারা গেছেন। তখন হাজ্জাজ তার মাথা অবনত করল এবং হাসান সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন (২)।

এটি আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হাসান (বসরী)-এর প্রজ্ঞা (حكمة)-এর পরিচায়ক; কেননা মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা—যদিও তারা পাপাচারী (فساق) হয়—তা ভয়াবহ অনিষ্ট, মহা ফিতনা (فتنة), প্রাণহানি এবং ব্যাপক বিপর্যয়ের কারণ হয়। তাই হাসান এই সকল অনিষ্টের দ্বার রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন।

 

‌‌২– উমর ইবনে হুবায়রার প্রতি হাসানের অবস্থান:

যখন উমর ইবনে হুবায়রা (৩) ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত হলেন, তিনি হাসানের নিকট লোক পাঠালেন এবং হাসান তার কাছে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে বললেন: আমীরুল মুমিনীন ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক (৪) এমন কিছু ফরমান পাঠান যা সম্পর্কে আমি জানি যে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ, ৭/১৬৪।

(২) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৯/১৩৫।

(৩) তিনি হলেন উমর ইবনে হুবায়রা ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে সুকাইন, আমীর আবু আল-মুসান্না, দুই ইরাকের (কুফা ও বসরা) গভর্নর; তিনি ১০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/৫৬২।

(৪) তিনি হলেন খলিফা ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান। উমর ইবনে আব্দুল আজিজের পর তার ভাই সুলাইমানের কৃত অঙ্গীকার অনুযায়ী তিনি স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি ৭১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার খেলাফতকাল ছিল চার বছর এবং তিনি ১০৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১৫০-১৫২।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৯)
في إنفاذها الهلكة، واستفتاه: ماذا يصنع أمام هذه الكتب؟ فقال الحسن: يا عمر بن هبيرة، يوشك أن ينزل بك ملك من ملائكة اللَّه – تعالى – فظ غليظ، لا يعصي اللَّه ما أمره، فيخرجك من سعة قصرك إلى ضيق قبرك، يا عمر بن هبيرة إن تتق اللَّه يعصمك من يزيد بن عبد الملك، ولا يعصمك يزيد بن عبد الملك من اللَّه عز وجل، يا عمر بن هبيرة لا تأمن أن ينظر اللَّه إليك على أقبح ما تعمل في طاعة يزيد بن عبد الملك نظرة مقت، فيغلق بها باب المغفرة دونك، يا عمر بن هبيرة لقد أدركت ناساً من صدر هذه الأمة كانوا واللَّه على الدنيا وهي مقبلة أشدّ إدباراً من إقبالكم عليها وهي مدبرة، يا عمر بن هبيرة إني أخوفك مقاماً خوفكه اللَّه – تعالى – فقال: {ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَخَافَ وَعِيدِ} (1) يا عمر بن هبيرة إن تك مع اللَّه في طاعته كفاك بائقة يزيد بن عبد الملك، وإن تك مع يزيد بن عبد الملك على معاصي اللَّه وكلك اللَّه إليه، فبكى عمر بن هبيرة وقام بعبرته (2).

وهذا يدل على حكمة الحسن ‘ وما له في النفوس من مكانة

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم، الآية: 14.

(2) انظر: حلية الأولياء، 2/ 149.
সেগুলো কার্যকর করার মধ্যে ধ্বংস নিহিত রয়েছে। তিনি তাঁর নিকট ফাতাওয়া চাইলেন: এই নির্দেশনামাগুলোর ব্যাপারে তিনি কী করবেন? তখন হাসান বললেন: হে উমর ইবনে হুবাইরাহ! অচিরেই তোমার নিকট মহান আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্য হতে একজন কঠোর ও কর্কশ ফেরেশতা অবতীর্ণ হবেন, যিনি আল্লাহ তাঁকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তার অবাধ্য হন না। তিনি তোমাকে তোমার প্রাসাদের প্রশস্ততা থেকে কবরের সংকীর্ণতায় বের করে নিয়ে যাবেন। হে উমর ইবনে হুবাইরাহ! তুমি যদি আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাকে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের হাত থেকে রক্ষা করবেন; কিন্তু ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক তোমাকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা করতে পারবে না। হে উমর ইবনে হুবাইরাহ! এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থেকো না যে, ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের আনুগত্য করতে গিয়ে তুমি যে নিকৃষ্টতম কাজ করছ, তার কারণে আল্লাহ তোমার দিকে অত্যন্ত ক্রোধের দৃষ্টিতে তাকাবেন, যার ফলে তিনি তোমার জন্য ক্ষমার দরজা বন্ধ করে দেবেন। হে উমর ইবনে হুবাইরাহ! আমি এই উম্মতের প্রথম যুগের এমন কিছু মানুষকে দেখেছি, আল্লাহর কসম, দুনিয়া যখন তাঁদের দিকে আসছিল, তখন তাঁরা দুনিয়া থেকে বিমুখতায় তোমাদের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ছিলেন, অথচ তোমরা এর দিকে ধাবিত হচ্ছ যখন দুনিয়া তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। হে উমর ইবনে হুবাইরাহ! আমি তোমাকে এমন এক অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করছি যা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তোমাকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: {এ (পুরস্কার) তার জন্য, যে আমার সম্মুখে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার শাস্তির হুমকিকে ভয় করে} (১) হে উমর ইবনে হুবাইরাহ! তুমি যদি আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকো, তবে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট হবেন। আর যদি তুমি আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের সাথে থাকো, তবে আল্লাহ তোমাকে তার হাতেই সঁপে দেবেন। তখন উমর ইবনে হুবাইরাহ কেঁদে ফেললেন এবং অশ্রুসিক্ত অবস্থায় উঠে দাঁড়ালেন (২)।

এটি হাসানের প্রজ্ঞা এবং মানুষের হৃদয়ে তাঁর যে সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে, তার পরিচয় বহন করে।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ১৪।

(২) দ্রষ্টব্য: হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/ ১৪৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১০)
وتقدير، فقد جهر بالحق في هذا الموقف ولم تأخذه في اللَّه لومة لائم.

وهكذا ينبغي للدعاة إلى اللَّه - تعالى - ولكن لابد من الحكمة، وبالتي هي أحسن، فإن ذلك أدعى لقبول الدعوة، واللَّه المستعان.

 

‌‌3 - موقفه مع القراء:

خرج الحسن من عند ابن هبيرة يوماً فإذا هو بالقراء على الباب (1) فقال: ما يجلسكم هاهنا؟ تريدون الدخول على هؤلاء الخبثاء؟ أما واللَّه ما مجالستهم مجالسة الأبرار، تفرقوا فرَّق اللَّه بين أرواحكم وأجسادكم، قد فرطحتم (2) نعالكم، وشمرتم ثيابكم، وجززتم شعوركم، فضحتم القراء فضحكم (3) اللَّه، واللَّه لو زهدتم

--------------------------------------------

(1) لسائل يسأل: كيف يخرج الحسن من عند ابن هبيرة ويلوم القراء على وقوفهم ببابه رغبة في الدخول عليه؟

ويجاب على ذلك: أن الحسن لم يدخل على ابن هبيرة ليسأله مالاً أو شيئاً من أمور الدنيا، إنما ذلك لله ومن أجل الله والدعوة إليه، والذي قبّحه الحسن هو الرغبة في الدنيا والطمع في أموال الأمراء والسلاطين، أما من دخل عليهم ليأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر ويخوّفهم بالله، فإن هذا من أعظم الجهاد وفضله.

(2) كل شيء عرّضته فقد فرطحته. وفرطح الشيء: بسطه ووسّعه. ورأس مفرطح: عريض. انظر: المعجم الوسيط، مادة (فرطح)، 2/ 684.

(3) لعل الحسن استخدم أسلوب الشدة مع القراء لأنهم أقدموا على شيء لا ينبغي لهم الإقدام عليه على الرغم من معرفتهم حقيقته وأنه لا ينبغي لطلاب العلم والدعاة إلى الله فعله.

والحكمة هي وضع الشيء في موضعه، ومن ذلك استخدام أسلوب القوة والشدة والغلظة في مواضعها.
এবং সম্মান; তিনি এই পরিস্থিতিতে সত্য উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে তোয়াক্কা করেননি।

আল্লাহর -তাআলা- পথে আহ্বানকারীদের জন্য এমনই হওয়া উচিত। তবে হিকমত (الحكمة) এবং সর্বোত্তম পন্থার অনুসরণ আবশ্যক, কারণ এটি দাওয়াত কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

 

‌‌৩ - কারীদের (القراء) সাথে তাঁর অবস্থান:

একদিন হাসান ইবনে হুবায়রার নিকট থেকে বের হলেন এবং দেখলেন যে দরজার সামনে কারীগণ (القراء) অবস্থান করছেন (১)। তিনি বললেন: "তোমরা কেন এখানে বসে আছ? তোমরা কি এই খবিসদের কাছে প্রবেশ করতে চাও? আল্লাহর কসম! এদের মজলিস তো পুণ্যবানদের মজলিস নয়। তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও, আল্লাহ তোমাদের রুহ ও দেহের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটান। তোমরা তোমাদের জুতা চওড়া করেছ (২), কাপড় গুটিয়ে নিয়েছ এবং চুল ছেঁটেছ; তোমরা কারীদের (القراء) লজ্জিত করেছ, আল্লাহ তোমাদের লজ্জিত করুন। আল্লাহর কসম! যদি তোমরা দুনিয়াবিমুখতা (زهد) অবলম্বন করতে..."

--------------------------------------------

(১) জনৈক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: হাসান কেন ইবনে হুবায়রার নিকট থেকে বের হওয়ার সময় কারীদের (القراء) তাঁর দরজায় প্রবেশের প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তিরস্কার করলেন?

এর উত্তরে বলা যায়: হাসান ইবনে হুবায়রার কাছে কোনো ধন-সম্পদ বা পার্থিব স্বার্থের জন্য যাননি, বরং তা ছিল কেবল আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে। হাসান যে বিষয়টিকে নিকৃষ্ট মনে করেছেন তা হলো পার্থিব লালসা এবং আমির ও সুলতানদের সম্পদের প্রতি লোভ। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তাদের কাছে সৎকাজের আদেশ দিতে, অসৎকাজে নিষেধ করতে এবং আল্লাহর ভয় দেখাতে যায়, তা অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিহাদ (الجهاد) ও ফজিলাতপূর্ণ কাজ।

(২) কোনো কিছুকে চওড়া করা হলে তাকে 'ফারতাহতাহু' বলা হয়। 'ফারতাহা' (فرطح) অর্থ হলো কোনো কিছুকে প্রশস্ত বা বিস্তৃত করা। 'মুকররাহ' মাথা বলতে চওড়া মাথা বোঝায়। দেখুন: আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, শব্দমূল: (فرطح), ২/৬৮৪।

(৩) সম্ভবত হাসান কারীদের (القراء) সাথে কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন কারণ তারা এমন এক কাজে অগ্রসর হয়েছিলেন যা তাদের জন্য সমীচীন নয়, যদিও তারা এর প্রকৃত অবস্থা এবং এটি যে তালিবে ইলম (طلاب العلم) ও আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের জন্য শোভনীয় নয়, তা জানতেন।

আর হিকমত (الحكمة) হলো কোনো কিছুকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো যথাস্থানে শক্তি, কঠোরতা ও রূঢ়তা প্রদর্শন করা।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১১)
فيما عندهم لرغبوا فيما عندكم، ولكنكم رغبتم فيما عندهم فزهدوا فيكم، أبعد اللَّه من أبعد (1).

وهذا الموقف حكيم عظيم؛ لأن الداعية إلى اللَّه ينبغي أن يستغني عن الناس وعن أموالهم وصدقاتهم، وخاصة الأكابر والسلاطين، فلا يقف على أبوابهم ولا يسألهم، حتى يكون لدعوته ولعلمه الأثر في نفوسهم وفي نفوس غيرهم، ولهذا وجَّه الحسن القراء لذلك؛ لأن من استغنى باللَّه افتقر الناس إليه (2).

 

‌‌المطلب الثالث: من مواقف عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه -:

يرى كثير من العلماء أن عمر بن عبد العزيز (3) من المجددين على رأس المائة الأولى، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إن اللَّه يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يُجدّد لها دينها)) (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: حلية الأولياء، 2/ 150، وسير أعلام النبلاء، 4/ 586.

(2) انظر: حلية الأولياء، 2/ 173، والبداية والنهاية، 9/ 100.

(3) عمر بن عبد العزيز بن مروان بن الحكم، وأمه أم عاصم ليلى بنت عاصم بن عمر بن الخطاب، ولد سنة 63هـ، وقيل 61هـ، أرسله والده إلى المدينة يتفقه في الدين، فلما توفي والده أخذه عمه عبد الملك بن مروان، وزوجه بنته فاطمة، وعندما ولي الوليد بن عبد الملك ولاه المدينة ومكة والطائف من سنة 86هـ إلى 93هـ، ثم قدم الشام، وبقي فيها حتى ولي الخلافة في 10/ 2/99هـ، فأصلح الله به العباد والبلاد، ثم مات مسموماً في 25/ 7/101هـ. انظر: البداية والنهاية، 9/ 92 - 96، وسير أعلام النبلاء، 5/ 122.

(4) رواه أبو داود، كتاب الملاحم، باب ما يذكر في قرن المائة، 4/ 109، (رقم 4291)، والحاكم، 4/ 522، وانظر: سلسلة الأحاديث الصحيحة، 2/ 150، برقم 599.
তারা যদি তোমাদের নিকট যা আছে তার প্রতি অনুরাগী হতো, তবে তারা অবশ্যই তোমাদের নিকট যা আছে তার প্রতি লালায়িত হতো; কিন্তু তোমরাই তাদের কাছে যা আছে তার প্রতি লালায়িত হলে, ফলে তারা তোমাদের প্রতি বিমুখ হয়ে গেল। আল্লাহ তাকেই (রহমত থেকে) দূর করে দিন যে দূরে সরে গেছে (১)।

এবং এই অবস্থানটি অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও মহান; কারণ আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য উচিত মানুষের নিকট থেকে এবং তাদের ধন-সম্পদ ও দান-সদকা থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা, বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও শাসকদের থেকে। অতএব তিনি যেন তাদের দ্বারে ধর্ণা না দেন এবং তাদের কাছে কিছু প্রার্থনা না করেন, যাতে করে তাঁর দাওয়াত ও ইলমের প্রভাব তাদের অন্তরে এবং অন্যদের অন্তরে অনুভূত হয়। এ কারণেই হাসান (বসরি) কারীগণকে এই নির্দেশ প্রদান করেছেন; কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর মাধ্যমে অমুখাপেক্ষিতা লাভ করে, মানুষ তার প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে (২)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কতিপয় অবস্থান -:

অনেক আলেম মনে করেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (৩) প্রথম শতাব্দীর শুরুতে আগত সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন” (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১৫০; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/৫৮৬।

(২) দেখুন: হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১৭৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/১০০।

(৩) উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম। তাঁর মাতা উম্মে আসিম লায়লা বিনতে আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি ৬৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ৬১ হিজরি। তাঁর পিতা তাঁকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য মদীনায় প্রেরণ করেন। যখন তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর চাচা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাঁকে নিজের কাছে গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিজ কন্যা ফাতিমার সাথে তাঁর বিবাহ দেন। ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক যখন রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি তাঁকে ৮৬ হিজরি থেকে ৯৩ হিজরি পর্যন্ত মদীনা, মক্কা ও তায়েফের গভর্নর নিযুক্ত করেন। অতঃপর তিনি সিরিয়ায় আগমন করেন এবং ১০/২/৯৯ হিজরিতে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বান্দাদের ও জনপদসমূহের সংস্কার করেন। এরপর ১০১ হিজরির ২৫/৭ তারিখে বিষপ্রয়োগে তাঁর মৃত্যু হয়। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/৯২-৯৬; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২২।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুল মালাহিম, শতাব্দীর আলোচনার পরিচ্ছেদ, ৪/১০৯, (হাদিস নং ৪২৯১); এবং হাকেম, ৪/৫২২। আরও দেখুন: সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা, ২/১৫০, হাদিস নং ৫৯৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১২)
على هذا كان رحمه الله أول المجددين (1)، وله رحمه الله مواقف كثيرة حكيمة في دعوته إلى اللَّه، منها ما يلي:

 

‌‌(أ) من مواقفه الحكيمة قبل الخلافة:

له رحمه الله مواقف كثيرة قبل الخلافة مع الخلفاء منها:

 

‌‌1 - أقبل سليمان بن عبد الملك (2) إلى جيشه ومعه عمر بن عبد العزيز، وفي ذلك المعسكر: الخيول والجمال والبغال والأثقال والرجال، فقال سليمان: ما تقول يا عمر في هذا؟ فقال: أرى دنيا يأكل بعضها بعضاً، وأنت المسؤول عن ذلك كله، فلما اقتربا من المعسكر إذا غراب قد أخذ لقمة في فيه من فسطاط سليمان وهو طائر بها، ونعب نعبةً، فقال له سليمان: ما هذا يا عمر؟ فقال: لا أدري. فقال: ما ظنك أنه يقول؟ قال عمر: كأنه يقول: من أين جاءت وأين يُذهَبُ بها؟ فقال له سليمان: ما أعجبك؟ فقال: عمر: أعجب ممن عرف اللَّه فعصاه، ومن عرف الشيطان فأطاعه، ومن عرف الدنيا فركن إليها (3).

وهذه كلمات حكيمة في الدعوة إلى اللَّه موجهة إلى خليفة المسلمين، استغل عمر توجيهها إليه في الفرصة المناسبة، ملتزماً

--------------------------------------------

(1) انظر: البداية والنهاية، 9/ 207، وعون المعبود، 11/ 387.

(2) سليمان بن عبد الملك بن مروان، بويع بالخلافة بعد أخيه الوليد، له أعمال جليلة، وتوفي عاشر صفر، سنة 99هـ. سير أعلام النبلاء، 5/ 111.

(3) انظر: مناقب عمر، لابن الجوزي، ص52، والبداية والنهاية، 9/ 195.
এ কারণেই তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন প্রথম সংস্কারক (المجددين) (১), এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান ছিল, যার মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্তর্ভুক্ত:

 

‌‌(ক) খিলাফত লাভের পূর্ববর্তী কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান:

খলিফাদের সাথে খিলাফত লাভের পূর্বে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌১ - সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক (২) তাঁর সেনাবাহিনীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর সাথে ওমর বিন আব্দুল আজিজও ছিলেন। সেই শিবিরে ঘোড়া, উট, খচ্চর, মালপত্র এবং মানুষজন ছিল। সুলাইমান বললেন: হে ওমর! এ সম্পর্কে তোমার অভিমত কী? তিনি বললেন: আমি এমন এক দুনিয়া দেখছি যার একাংশ অন্য অংশকে গ্রাস করছে, আর এ সবকিছুর জন্য আপনিই জিজ্ঞাসিত হবেন। যখন তাঁরা শিবিরের কাছে পৌঁছালেন, তখন একটি কাক সুলাইমানের তাবু থেকে মুখে এক লোকমা খাবার নিয়ে উড়ে গেল এবং কা কা করে ডেকে উঠল। সুলাইমান তাঁকে বললেন: হে ওমর, এটি কী? তিনি বললেন: আমি জানি না। সুলাইমান বললেন: তোমার কী মনে হয় এটি কী বলছে? ওমর বললেন: সে যেন বলছে: এটি কোথা থেকে এল এবং এটি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? তখন সুলাইমান তাঁকে বললেন: তোমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় কী? ওমর বললেন: আমি সেই ব্যক্তিকে দেখে বিস্মিত হই যে আল্লাহকে চিনেও তাঁর অবাধ্য হয়, যে শয়তানকে চিনেও তার আনুগত্য করে, এবং যে দুনিয়াকে চিনেও তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে (৩)।

আর আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এগুলো ছিল অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা যা মুসলিমদের খলিফার প্রতি নির্দেশিত ছিল। ওমর উপযুক্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই উপদেশগুলো দিয়েছিলেন এবং এতে অবিচল ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২০৭, এবং আউনুল মাবুদ, ১১/৩৮৭।

(২) সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান, তাঁর ভাই ওয়ালিদের পর খিলাফতের বায়াত (بويع) গ্রহণ করেন। তাঁর অনেক মহৎ কাজ রয়েছে এবং তিনি ৯৯ হিজরির ১০ই সফর মৃত্যুবরণ করেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১১১।

(৩) দেখুন: মানাকিব ওমর, ইবনুল জাওজি কৃত, পৃষ্ঠা ৫২, এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/১৯৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৩)
طريق الحكمة في ذلك كله.

 

‌‌2 – وحجّ سليمان بن عبد الملك ومعه عمر بن عبد العزيز فأصابهم برق ورعد، حتى كادت أن تنخلع قلوبهم، فنظر سليمان إلى عمر وهو يضحك، فقال سليمان: يا أبا حفص، هل رأيت مثل هذه الليلة قط أو سمعت بها؟ فقال: يا أمير المؤمنين، هذا صوت رحمة اللَّه، فكيف لو سمعت صوت عذاب اللَّه؟ فقال: هذه المائة ألف درهم، فتصدق بها. فقال: أو خير من ذلك يا أمير المؤمنين؟ قال: وما هو؟ قال: قوم صحبوك في مظالم لهم لم يصلوا إليك، فجلس سليمان فرد المظالم (1).

اللَّه أكبر! ما أحكم هذا الموقف وأعظمه! فقد استطاع عمر بن عبد العزيز بعون اللَّه – تعالى – ثم بحكمته أن يؤثر على سليمان حتى جلس ورد المظالم.

 

‌‌3 – ومن أعظم مواقف الحكمة مع سليمان بن عبد الملك أن سليمان قال له: يا أبا حفص، إنا قد ولينا ما ترى، ولم يكن لنا بتدبيره علم، فما رأيت من مصلحة العامة فمر به، فكان من ذلك أن عمر أمر بعزل عمال الحجاج، وأقيمت الصلاة في أوقاتها بعدما كانت أُميتت عن وقتها، مع أمور جليلة كان يسمع من عمر فيها، فقد قيل: إن سليمان حج فرأى الخلائق بالموقف فقال لعمر: أما ترى هذا الخلق الذي

--------------------------------------------

(1) انظر: مناقب عمر، لابن الجوزي، ص52، 53، وسير أعلام النبلاء، 5/ 121.
এসবের মধ্যেই রয়েছে প্রজ্ঞার পথ।

 

২ – সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক হজ সম্পাদন করলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ। একদা তারা বজ্রপাত ও মেঘের গর্জনের সম্মুখীন হলেন, এমনকি তাতে তাদের অন্তরসমূহ বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হলো। সুলাইমান উমরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে তিনি হাসছেন। সুলাইমান বললেন: হে আবু হাফস, আপনি কি কখনো এমন রাত দেখেছেন কিংবা এর কথা শুনেছেন? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি তো আল্লাহর রহমতের ধ্বনি; তাহলে আপনি যদি আল্লাহর আযাবের ধ্বনি শুনতেন তবে কী অবস্থা হতো? তখন সুলাইমান বললেন: এই এক লক্ষ দিরহাম নিন এবং এগুলো সদকা করে দিন। উমর বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এর চেয়েও উত্তম কিছু আছে কি? তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কী? উমর বললেন: এমন একদল মানুষ যারা তাদের ওপর কৃত অবিচারের প্রতিকার পাওয়ার আশায় আপনার সান্নিধ্য চেয়েছিল কিন্তু আপনার নিকট পৌঁছাতে পারেনি। অতঃপর সুলাইমান বসলেন এবং যাবতীয় অন্যায়ের প্রতিকার করলেন (১)।

আল্লাহু আকবার! এই অবস্থানটি কতই না প্রজ্ঞাপূর্ণ ও মহান! উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আল্লাহ তাআলার সাহায্যে এবং পরবর্তীতে তাঁর হিকমতের মাধ্যমে সুলাইমানকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যার ফলে তিনি বসলেন এবং যাবতীয় জুলুমের প্রতিকার করলেন।

 

৩ – সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের সাথে প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘটনা হলো— সুলাইমান তাঁকে বলেছিলেন: হে আবু হাফস, আপনি যা দেখছেন আমাদের সেই শাসনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, অথচ এর পরিচালনার ব্যাপারে আমাদের কোনো ইলম ছিল না। সুতরাং জনস্বার্থে আপনি যা সমীচীন মনে করেন, তারই নির্দেশ প্রদান করুন। এরই ফলশ্রুতিতে উমর হাজ্জাজের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সালাত তার সঠিক সময়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল, অথচ এর আগে তা সময়ের ব্যাপারে প্রায় গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছিল। এর পাশাপাশি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি উমরের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। বলা হয়ে থাকে: সুলাইমান হজ করলেন এবং আরাফাতের ময়দানে জনসমুদ্র দেখে উমরকে বললেন: আপনি কি এই সৃষ্টিরাজি দেখছেন যারা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল জাওজি রচিত মানাকিব উমর, পৃষ্ঠা ৫২, ৫৩ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৪)
لا يُحصي عددهم إلا اللَّه؟ قال: هؤلاء اليوم رعيتك، وهم غداً خصماؤك، فبكى سليمان بكاءً شديداً (1).

فرحم اللَّه عمر، فقد كان حكيماً في مواعظه وترقيقه للقلوب، وربطها بخالقها، وتخويفها من عقابه، وترغيبها في ثوابه، ويستخدم في ذلك الوقت المناسب، في الحال المناسب.

وله رحمه الله مواقف كثيرة مع الخلفاء، ولولا الإطالة لذكرتها (2).

 

‌‌(ب) مواقفه بعد أن ولي الخلافة:

بعد أن مات معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه سنة ستين للَّهجرة النبوية، بدأ الظلم، واتسع الخرق والخلاف بين العلماء والخلفاء، فصار بعض الناس في وادٍ، وبعض حكامهم في وادٍ آخر، ثم ازدادت الأحوال سوءاً بتسلم بعض الولاة الظلمة الحكم أمثال الحجاج، وصاروا يجمعون الأموال وينفقونها في غير حلها بلا حساب ولا نظام، وقد كان الشاعر يدخل على الخليفة أو الوالي فيمدحه، فيكيل له بلا حساب، وقد كان سليمان بن عبد الملك أمثل الخلفاء (3).

وعندما تسلم عمر بن عبد العزيز الخلافة قام بالمواقف الحكيمة

--------------------------------------------

(1) انظر: سيرة ومناقب عمر بن عبد العزيز، لابن الجوزي، ص53، وسير أعلام النبلاء، 5/ 121.

(2) انظر: بقية مواقفه مع الولاة في مناقب عمر بن عبد العزيز، لابن الجوزي، ص46 - 53، والبداية والنهاية، 9/ 195، وسير أعلام النبلاء، 5/ 114 - 147.

(3) انظر: البداية والنهاية، 8/ 146 - 345، 9/ 2 - 177، وسير أعلام النبلاء، 5/ 125.
“তাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারে না?” তিনি বললেন: “আজ তারা আপনার প্রজা, আর আগামীকাল তারা আপনার প্রতিপক্ষ।” তখন সুলাইমান অত্যন্ত তীব্রভাবে কেঁদে উঠলেন (১)।

আল্লাহ উমরের প্রতি রহম করুন, কেননা তিনি তাঁর উপদেশ প্রদান এবং হৃদয়কে কোমল করার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তিনি হৃদয়কে তাঁর স্রষ্টার সাথে জুড়ে দিতেন, আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখাতেন এবং তাঁর সওয়াবের প্রতি উৎসাহিত করতেন। তিনি এক্ষেত্রে সঠিক সময় এবং যথাযথ অবস্থা নির্বাচন করতেন।

খলিফাদের সাথে তাঁর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বহু ঘটনা রয়েছে, দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি তা উল্লেখ করছি না (২)।

 

‌‌(খ) খেলাফতের দায়িত্ব লাভের পর তাঁর পদক্ষেপসমূহ:

হিজরি ষাট সনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইন্তেকালের পর জুলুম শুরু হয় এবং আলেম ও খলিফাদের মধ্যে দূরত্ব ও বিভেদ বৃদ্ধি পায়। ফলে সাধারণ মানুষ একদিকে এবং তাদের কিছু শাসক অন্যদিকে অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে হাজ্জাজের মতো কিছু জালিম গভর্নর ক্ষমতা গ্রহণ করলে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তারা সম্পদ জমা করতে শুরু করেন এবং তা কোনো হিসাব বা নিয়ম ছাড়াই অবৈধ পথে ব্যয় করতে থাকেন। কোনো কবি খলিফা বা গভর্নরের কাছে এসে তাঁর প্রশংসা করলে তিনি তাঁকে অঢেল দান করতেন। সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক খলিফাদের মধ্যে উত্তম আদর্শের অধিকারী ছিলেন (৩)।

যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল জাওজি রচিত সিরাত ওয়া মানাকিব উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, পৃষ্ঠা ৫৩; এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/ ১২১।

(২) দেখুন: গভর্নরদের সাথে তাঁর বাকি ঘটনাগুলো ইবনুল জাওজি রচিত মানাকিব উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, পৃষ্ঠা ৪৬ - ৫৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/ ১৯৫; এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/ ১১৪ - ১৪৭।

(৩) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/ ১৪৬ - ৩৪৫, ৯/ ২ - ১৭৭; এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/ ১২৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৫)
لإنقاذ الأمة مما حل بها، فكانت مواقفه الحكيمة لإصلاح ما فسد من أمور الناس كالآتي:

1 - بدأ بالتغيير مع نفسه، فغير طريق حياته حتى أنكره من عرفه من قبل، فعندما رجع من قبر سليمان أوتي بمراكب الخلافة: بالبراذين والخيل والبغال، فقال: ما هذا؟ فقالوا: مراكب الخلافة. فقال: ما لي ولها، نحُّوها عني، قربوا مني بغلتي، فقُرِّبت إليه بغلته، وأمر بمراكب الخلافة أن تباع ويُجعل ثمنها في بيت مال المسلمين، وقال: تكفيني بغلتي هذه الشهباء (1).

وكان دخله قبل الخلافة أربعين ألف دينار، فترك ذلك كله إلا أربعمائة دينار في كل سنة، ونظر إلى ما في يديه من أرض أو متاع فخرج منه، حتى إنه رد فصّ خاتم كان في يده إلى بيت المال، وقال: هذا مما أعطانيه الوليد بن عبد الملك من غير حقه (2).

2 - بعد أن بدأ بنفسه بدأ بأهله، فسأل زوجته فاطمة بنت عبد الملك عن الجوهر الذي عندها، من أين صار إليها؟ فقالت: أعطانيه أمير المؤمنين، فقال: إما أن ترديه إلى بيت المال، وإما أن تأذنيني في فراقك، فإني أكره أن أكون أنا وأنت وهو في بيت، قالت: لا، بل

--------------------------------------------

(1) انظر: مناقب عمر بن عبد العزيز، لابن الجوزي، ص62، 65، وسير أعلام النبلاء، 5/ 126، وتاريخ الخلفاء للسيوطي، ص231.

(2) انظر: طبقات ابن سعد، 5/ 341 - 344، ومناقب عمر بن عبد العزيز، لابن الجوزي، ص132، والبداية والنهاية، 9/ 208، وسير أعلام النبلاء، 5/ 128.
উম্মত যে সংকটে নিপতিত হয়েছিল তা থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য মানুষের কলুষিত বিষয়াগুলির সংশোধনে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপসমূহ ছিল নিম্নরূপ:

১ - তিনি নিজেকে দিয়ে পরিবর্তন শুরু করেন। তিনি তাঁর জীবনধারা এমনভাবে পরিবর্তন করেন যে, যারা তাঁকে আগে চিনতেন তারা পর্যন্ত তাঁকে চিনতে পারছিলেন না। যখন তিনি সুলায়মানের কবর থেকে ফিরে এলেন, তখন তাঁর নিকট খেলাফতের সওয়ারি: উন্নত জাতের তুর্কি ঘোড়া, সাধারণ ঘোড়া ও খচ্চর আনা হলো। তিনি বললেন, "এসব কী?" তারা বলল, "খেলাফতের সওয়ারি।" তিনি বললেন, "এসবের সাথে আমার কী সম্পর্ক? এগুলো আমার থেকে সরিয়ে নাও এবং আমার খচ্চরটি নিয়ে এসো।" তাঁর খচ্চরটি তাঁর নিকট আনা হলো এবং তিনি খেলাফতের সওয়ারিগুলো বিক্রি করে তার মূল্য মুসলিমদের বায়তুল মালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, "আমার এই ধূসর খচ্চরটিই আমার জন্য যথেষ্ট।" (১)

খেলাফতের পূর্বে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল চল্লিশ হাজার দিনার, তিনি প্রতি বছর মাত্র চারশ দিনার ব্যতীত তার সবটুকুই ত্যাগ করলেন। তাঁর নিকট থাকা জমি বা আসবাবপত্রের প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করলেন এবং সেসব থেকে নিজেকে মুক্ত করলেন। এমনকি তিনি তাঁর হাতে থাকা একটি আংটির পাথরও বায়তুল মালে ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, "এটি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক আমাকে দিয়েছিলেন যা আমার জন্য বৈধ ছিল না।" (২)

২ - নিজের সংশোধনের পর তিনি তাঁর পরিবার থেকে সংস্কার শুরু করলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালিককে তাঁর নিকট গচ্ছিত মণি-মুক্তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এগুলো তিনি কোত্থেকে পেলেন? তিনি বললেন, "আমিরুল মুমিনিন আমাকে এগুলো দান করেছেন।" তিনি বললেন, "হয় তুমি এগুলো বায়তুল মালে ফিরিয়ে দাও, নতুবা আমাকে তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুমতি দাও; কেননা আমি অপছন্দ করি যে আমি, তুমি এবং এই সম্পদ একই ঘরে অবস্থান করি।" তিনি বললেন, "না, বরং..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মানাকিব উমর বিন আব্দুল আজিজ, ইবনুল জাওযি কৃত, পৃ. ৬২, ৬৫; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২৬; তারিখুল খুলাফা লিল-সুয়ুতি, পৃ. ২৩১।

(২) দেখুন: তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৫/৩৪১-৩৪৪; মানাকিব উমর বিন আব্দুল আজিজ, ইবনুল জাওযি কৃত, পৃ. ১৩২; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২০৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২৮।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৬)
أختارك على أضعافه لو كان لي، فوضعته في بيت المال (1).

3 - بعد أن أصلح عمر نفسه وأهله، بدأ بإصلاح أوضاع بني أمية، فأخذ ما بأيديهم من المظالم وردها إلى أهلها، وإلى بيت المال إن لم يكن لها أهل، وسمى أموالهم أموال مظالم، وأمر مناديه أن يُنادي في الناس: من كانت له مظلمة فليرفعها، وجاء كل من كانت له مظلمة فجعل يرد المظالم مظلمة مظلمة (2)، وأخذ جميع الأموال التي أخذها بنو مروان بغير استحقاق، فوضعها في بيت مال المسلمين (3).

4 - كتب إلى الولاة على الأمصار الإسلامية يأمرهم بطاعة اللَّه، وينهاهم عن معصيته، ويخوفهم من عقابه، ويرغبهم في ثوابه، ويزهدهم في الدنيا، ويضرب لهم الأمثال بمن مضى ممن كان قبلهم من الخلفاء والولاة، وأنهم قد ذهبوا إلى ما قدموا من عمل، فمنهم الرابح، ومنهم الخاسر، وأمرهم بالعدل مع الرعية، ونهاهم عن الظلم، وأمرهم برد جميع المظالم إلى أهلها، وعزل بعضهم عن الولاية وولَّى من هو أصلح منه، واستدعى بعضهم إلى الحضور لديه

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات ابن سعد، 5/ 393، وسيرة عمر لابن الجوزي، ص127، وسير أعلام النبلاء، 5/ 129، والبداية والنهاية، 9/ 208.

(2) انظر: طبقات ابن سعد، 5/ 341 - 344، ومناقب عمر لابن الجوزي، ص125 - 127، والبداية والنهاية، 9/ 200 - 213.

(3) انظر: مناقب عمر بن عبد العزيز لابن الجوزي، ص133 - 141، وطبقات ابن سعد، 5/ 341 - 344، والبداية والنهاية، 9/ 213، وسير أعلام النبلاء، 5/ 129.
যদি আমার নিকট থাকত, তবে আমি তোমাকে এর কয়েক গুণ বেশি প্রদান করতাম, কিন্তু আমি তা বাইতুল মালে জমা করে দিয়েছি (১)।

৩ - ওমর নিজের এবং তাঁর পরিবারের সংশোধন করার পর বনু উমাইয়্যার অবস্থার সংস্কার শুরু করলেন। তিনি তাদের হাতে থাকা অন্যায়ভাবে দখলকৃত সম্পদসমূহ গ্রহণ করলেন এবং সেগুলো তাদের প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দিলেন, আর যাদের কোনো মালিক নেই তা বাইতুল মালে জমা দিলেন। তিনি তাদের এই সম্পদগুলোকে 'অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ' হিসেবে অভিহিত করলেন এবং তাঁর ঘোষণাকারীকে মানুষের মাঝে এই ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন: "কারো ওপর কোনো জুলুম হয়ে থাকলে সে যেন তা পেশ করে।" অতঃপর যাদের ওপর জুলুম হয়েছিল তারা এল এবং তিনি প্রতিটি অভিযোগ একে একে নিষ্পত্তি করে তাদের প্রাপ্য ফিরিয়ে দিতে লাগলেন (২)। মারওয়ান বংশীয়রা অন্যায্যভাবে যে সকল সম্পদ গ্রহণ করেছিল, তিনি তার সবই গ্রহণ করলেন এবং মুসলিমদের বাইতুল মালে জমা দিলেন (৩)।

৪ - তিনি ইসলামি সাম্রাজ্যের প্রদেশগুলোর গভর্নরদের নিকট পত্র লিখলেন, যাতে তাদের আল্লাহর আনুগত্য করার নির্দেশ দিলেন, তাঁর অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করলেন, তাঁর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলেন, তাঁর পুরস্কারের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হওয়ার নসিহত করলেন। তিনি তাদের সামনে পূর্ববর্তী খলিফা ও গভর্নরদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন এবং জানালেন যে, তারা তাদের কৃতকর্ম নিয়ে চলে গেছেন—যাদের মধ্যে কেউ সফলকাম, আর কেউ ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি তাদের প্রজাদের প্রতি ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিলেন এবং জুলুম করতে নিষেধ করলেন। তিনি সমস্ত অন্যায়ভাবে দখলকৃত সম্পদ প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে কাউকে গভর্নর পদ থেকে অপসারিত করলেন এবং তাদের স্থলে অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলেন, আর কাউকে কাউকে নিজের দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলব করলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ, ৫/৩৯৩; সিরাতে ওমর - ইবনুল জাওজি, পৃ. ১২৭; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২৯; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২০৮।

(২) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ, ৫/৩৪১-৩৪৪; মানাকিবে ওমর - ইবনুল জাওজি, পৃ. ১২৫-১২৭; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২০০-২১৩।

(৩) দেখুন: মানাকিবে ওমর ইবনে আবদুল আজিজ - ইবনুল জাওজি, পৃ. ১৩৩-১৪১; তাবাকাত ইবনে সাদ, ৫/৩৪১-৩৪৪; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২১৩; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৭)
ليحاسبه على جوره وظلمه، وحذر الولاة من أخذ الرشوة والهدية من الرعية (1)، وأمر الولاة بوضع الجزية عمن أسلم من اليهود والنصارى حيث كان بنو أمية لا يضعون الجزية عمن أسلم، فأسلم بذلك خلق كثير، ومن هؤلاء أهل خراسان، فقد أسلم منها أربعة آلاف في وقت قصير بسبب هذه الحكمة العظيمة (2).

5 - من أعظم مواقفه الحكيمة في إصلاح الأوضاع في الدولة الأموية ما أحياه في النفوس من خوف اللَّه ومراقبته، وغرس ذلك في نفوس الناس، ومن ذلك أنه في يوم الجمعة يخطب الناس، فبكى يوماً، وبكى الناس معه حتى ارتج المسجد بالبكاء، وصار لحيطانه صوت بالبكاء (3).

6 - فقَّه الناس في دين اللَّه، وغرس في قلوبهم حب الكتاب والسنة، وكان يرسل المرشدين إلى البادية ليُفقِّهوا الناس في الدين (4).

7 - لم يكتف عمر بن عبد العزيز بالخطوات الحكيمة السابقة في إصلاح

--------------------------------------------

(1) انظر: مناقب عمر بن عبد العزيز لابن الجوزي، 133 - 141، وطبقات ابن سعد، 5/ 341 - 344، والبداية والنهاية، 9/ 213، وسير أعلام النبلاء، 5/ 129.

(2) انظر: طبقات ابن سعد، 5/ 341 - 344، وسيرة عمر لابن الجوزي، ص100 - 124، 206، 222، وسير أعلام النبلاء، 5/ 126 - 137، 5/ 147، والبداية والنهاية، 9/ 188.

(3) انظر: سيرة عمر لابن الجوزي، ص218، 222، 225، وسير أعلام النبلاء، 5/ 137، 138، والبداية والنهاية، 9/ 204.

(4) انظر: سيرة ومناقب عمر بن عبد العزيز الخليفة الزاهد، ص92.
যাতে তাকে তার অত্যাচার ও অবিচারের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়; তিনি গভর্নরদেরকে প্রজাদের কাছ থেকে ঘুষ ও উপঢৌকন গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করেন (১)। তিনি ইহুদি ও নাসারাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের ওপর থেকে জিজিয়া (جزية) প্রত্যাহার করার জন্য গভর্নরদের আদেশ দেন; যেখানে বনু উমাইয়্যাহ ইতিপূর্বে নওমুসলিমদের ওপর থেকে জিজিয়া (جزية) প্রত্যাহার করত না। এর ফলে অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে, যাদের মধ্যে খুরাসানবাসীও ছিল; এই মহান প্রজ্ঞার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে চার হাজার মানুষ ইসলাম কবুল করে (২)।

৫ - উমাইয়্যাহ রাষ্ট্রের অবস্থা সংশোধনের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম মহৎ প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান ছিল মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও তাঁর সার্বক্ষণিক নজরদারির চেতনা (مراقبة) পুনরুজ্জীবিত করা এবং মানুষের হৃদয়ে তা গেঁথে দেওয়া। এর একটি উদাহরণ হলো—এক জুমআর দিনে তিনি যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেলেন; তাঁর সাথে উপস্থিত লোকজনও কাঁদতে শুরু করে, এমনকি কান্নার রোলে পুরো মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং মসজিদের দেয়ালগুলো থেকেও কান্নার আওয়াজ আসতে থাকে (৩)।

৬ - তিনি মানুষকে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তাদের অন্তরে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা বপন করেন। তিনি মরুঅঞ্চলের মানুষদের দ্বীনী শিক্ষা প্রদানের জন্য সেখানে নির্দেশক বা ধর্মীয় শিক্ষক পাঠাতেন (৪)।

৭ - উমর ইবনে আবদুল আজিজ সংস্কারের ক্ষেত্রে কেবল পূর্বোক্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মানাকিব উমর ইবনে আবদুল আজিজ, ইবনুল জাওযী, ১৩৩ - ১৪১; তাবাকাত ইবনে সাদ, ৫/৩৪১ - ৩৪৪; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২১৩; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২৯।

(২) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ, ৫/৩৪১ - ৩৪৪; সিরাত উমর, ইবনুল জাওযী, পৃ. ১০০ - ১২৪, ২০৬, ২২২; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১২৬ - ১৩৭, ৫/১৪৭; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/১৮৮।

(৩) দেখুন: সিরাত উমর, ইবনুল জাওযী, পৃ. ২১৮, ২২২, ২২৫; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/১৩৭, ১৩৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২০৪।

(৪) দেখুন: সিরাত ওয়া মানাকিব উমর ইবনে আবদুল আজিজ আল-খলিফা আজ-জাহিদ, পৃ. ৯২।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৮)
أوضاع المسلمين في الدولة الأموية، بل اهتم بأمور غير المسلمين، فأرسل الدعاة إلى اللَّه عز وجل ليبلغوا الناس دعوة الإسلام، ومن ذلك أنه أرسل إلى أفريقيا مجموعة من الدعاة، فأسلم على أيديهم أمم هائلة من البربر وغيرهم.

وبتوفيق اللَّه ثم بهذه الخطوات الحكيمة السبع، ظهرت مواقف عمر الحكيمة في إصلاح الأمة وتجديد الدين، ونفع اللَّه به البلاد والعباد، وأنقذ اللَّه به من الظلم (1).

 

‌‌المطلب الرابع: من مواقف أبي حنيفة النعمان بن ثابت رحمه الله -:

الإمام أبو حنيفة النعمان بن ثابت (2) له مواقف حكيمة كثيرة (3).

منها موقفه العظيم الحكيم مع الملحدين في دعوتهم إلى اللَّه - تعالى - وأنه رب كل شيء ومليكه.

يذكر أنه اجتمع طائفة من الملاحدة بأبي حنيفة رحمه الله فقالوا: ما الدلالة على وجود الصانع؟ فقال: دعوني، فخاطري مشغول بأمر

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي، ص238، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 4/ 246.

(2) هو الإمام النعمان بن ثابت بن زوطي التميمي الكوفي، أحد أئمة الإسلام والسادة الأعلام، ولد سنة 80هـ. في حياة الصغار من الصحابة، ورأى أنس بن مالك لما قدم عليهم الكوفة، توفي رحمه الله سنة 150هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، 6/ 390، والبداية والنهاية، 10/ 107.

(3) انظر: نماذج من مواقف أبي حنيفة الحكيمة في سير أعلام النبلاء، 6/ 402، وأعلام المسلمين - أبو حنيفة، لوهبي سليمان غاوجي، 5/ 355، 5/ 121، 354.
উমাইয়া খিলাফতে মুসলিমদের অবস্থা, বরং তিনি অমুসলিমদের বিষয়ের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছিলেন। ফলে তিনি মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করার জন্য একদল দাঈ প্রেরণ করেন যাতে তারা মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পারেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আফ্রিকায় একদল দাঈ প্রেরণ করেন, যাদের আহবানে বার্বার ও অন্যান্য জাতির এক বিশাল জনগোষ্ঠী ইসলাম গ্রহণ করে।

আল্লাহর তাওফীক এবং এই সাতটি বিজ্ঞতাপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে উম্মাহর সংস্কার এবং দ্বীন পুনর্জীবনের ক্ষেত্রে ওমরের প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানগুলো ফুটে ওঠে। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধন করেন এবং তাঁর মাধ্যমে জুলুম থেকে রক্ষা করেন (১)।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান -:

ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত (২)-এর অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান (৩) রয়েছে।

তার মধ্যে একটি হলো নাস্তিকদের মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিজ্ঞতাপূর্ণ অবস্থান—যে আল্লাহই প্রতিটি জিনিসের রব এবং মালিক।

বর্ণিত আছে যে, একদল নাস্তিক আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট সমবেত হয়ে জিজ্ঞেস করল: ‘সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ কী?’ তিনি বললেন: ‘আমাকে অবকাশ দাও, কারণ আমার মন একটি বিষয়ে ব্যস্ত আছে...’

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা, পৃ. ২৩৮; এবং মাহমুদ শাকের রচিত আত-তারীখুল ইসলামী, ৪/ ২৪৬।

(২) তিনি হলেন ইমাম নুমান ইবনে সাবিত ইবনে জুতী আত-তামীমী আল-কুফী; ইসলামের অন্যতম ইমাম ও শ্রেষ্ঠ মনীষী। তিনি ৮০ হিজরিতে কনিষ্ঠ সাহাবী (صحابة)-গণের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। আনাস ইবনে মালিক যখন কুফায় আসেন, তখন তিনি তাঁকে দেখেছিলেন। তিনি ১৫০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (রহিমাহুল্লাহ)। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৬/ ৩৯০; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/ ১০৭।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৬/ ৪০২-এ আবু হানিফার প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানের কিছু নমুনা; এবং ওয়াহবি সুলাইমান গাওয়িজী রচিত আলামুল মুসলিমিন - আবু হানিফা, ৫/ ৩৫৫, ৫/ ১২১, ৩৫৪।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ১৯)
غريب. قالوا: وما هو؟ قال: بلغني أن في دجلة سفينة عظيمة مملوءة من أصناف الأمتعة العجيبة، وهي ذاهبة وراجعة من غير أحد يحركها ولا يقوم عليها، فقالوا له: أمجنون أنت؟ قال: وما ذاك؟ قالوا: إن هذا لا يصدقه عاقل. فقال له: كيف صدقت عقولكم أن هذا العالم بما فيه من الأنواع والأصناف والحوادث العجيبة، وهذا الفلك الدوَّار السيَّار يجري، وتحدث هذه الحوادث من غير محدث، وتتحرك هذه المتحركات بغير محرك؟ فرجعوا على أنفسهم بالملام (1).

وهذا من أعظم مواقف الحكمة في الدعوة إلى اللَّه، فقد استدل على الخالق بوجود المخلوق، فليس هناك من مخلوق إلا وله خالق ومدبر وهو اللَّه عز وجل، كما أنه ليس هناك من صنعة إلا ولها صانع، وللَّه المثل الأعلى وهو العزيز الحكيم.

--------------------------------------------

(1) انظر: درء تعارض العقل والنقل لابن تيمية، 3/ 127، والرياض الناضرة للسعدي، ص258.
অদ্ভুত (غريب)। তারা বলল: সেটি কী? তিনি বললেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, দজলা নদীতে একটি বিশাল জাহাজ রয়েছে যা বিভিন্ন প্রকার বিস্ময়কর উপাচারে পরিপূর্ণ; সেটি কোনো চালক বা তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই আসা-যাওয়া করছে। তখন তারা তাকে বলল: আপনি কি উন্মাদ হয়ে গেছেন? তিনি বললেন: কেন? তারা বলল: কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটি বিশ্বাস করবে না। তখন তিনি তাদের বললেন: তবে তোমাদের বুদ্ধি কীভাবে এটি মেনে নিল যে, এই মহাবিশ্ব এবং এর মধ্যকার যাবতীয় বৈচিত্র্য ও বিস্ময়কর ঘটনাবলি এবং এই ঘূর্ণায়মান কক্ষপথ কোনো উদ্ভাবক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, আর এই গতিশীল বস্তুসমূহ কোনো চালক ছাড়াই গতিশীল হচ্ছে? তখন তারা আত্মগ্লানিতে লিপ্ত হয়ে ফিরে গেল (১)।

এটি আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক নিদর্শন। এখানে সৃষ্টির অস্তিত্ব দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। কেননা প্রতিটি সৃষ্টিরই একজন স্রষ্টা ও পরিচালক রয়েছেন এবং তিনি হলেন মহান আল্লাহ। যেমন প্রতিটি কারুকার্য বা শিল্পেরই একজন কারিগর থাকে; আর আল্লাহর জন্যই মহত্তম উদাহরণ, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি', ৩/১২৭; এবং আল-সাদীর 'আর-রিয়াদুন নাদিরাহ', পৃষ্ঠা ২৫৮।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثاني: مواقف أتباع التابعين

‌‌توطئة:

أتباع التابعين هم من القرون المفضلة التي امتدحها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بقوله: ((خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم … )) (1).

ولتابعي التابعين مواقف حكيمة يستفيد منها الدعاة إلى اللَّه - تعالى - وسأذكر منها - بعون اللَّه تعالى - نماذج في المطالب الآتية:

المطلب الأول: مواقف الإمام مالك بن أنس رحمه اللَّه تعالى.

المطلب الثاني: مواقف الإمام الشافعي رحمه اللَّه تعالى.

المطلب الثالث: مواقف الإمام أحمد بن حنبل رحمه اللَّه تعالى.

 

‌‌المطلب الأول: من مواقف الإمام مالك بن أنس رحمه الله -:

للإمام مالك بن أنس (2) رحمه الله مواقف حكيمة مشرفة، منها على

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، 5/ 259، (رقم 2652)، ومسلم، 4/ 1964، وتقدم تخريجه.

(2) الإمام مالك بن أنس بن أبي عامر بن عمرو، إمام دار الهجرة، ولد سنة 93هـ عام موت أنس بن مالك بن النضر، خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وطلب العلم بصدق وإخلاص، فكان أحد الأئمة الأربعة، فنفع الله به المسلمين، وتوفي عام 179هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، 8/ 49 - 135، والبداية والنهاية، 10/ 174، وتهذيب التهذيب، 10/ 5.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাবি-তাবিঈদের (أتباع التابعين) অবস্থানসমূহ

ভূমিকা:

তাবি-তাবিঈগণ (أتباع التابعين) হলেন সেই সকল শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত যাদের প্রশংসা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বলে করেছেন: ((মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী … )) (১)।

তাবি-তাবিঈদের (أتباع التابعين) অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা থেকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীরা উপকৃত হতে পারেন। আমি আল্লাহর সাহায্যে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলোতে সেগুলোর কিছু নমুনা উল্লেখ করব:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ।

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থানসমূহ থেকে:

ইমাম মালিক ইবনে আনাস (২) (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ আল-বুখারি, ৫/২৫৯, (নং ২৬৫২), এবং মুসলিম, ৪/১৯৬৪; এবং পূর্বে এর উৎসের অনুসন্ধান (تخريج) করা হয়েছে।

(২) ইমাম মালিক ইবনে আনাস ইবনে আবি আমির ইবনে আমর, হিজরতের বাসভূমির ইমাম (إمام دار الهجرة); তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম আনাস ইবনে মালিক ইবনুন নাদর-এর ইন্তেকালের বছর ৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত সততা ও একনিষ্ঠার সাথে জ্ঞান অন্বেষণ করেন এবং চার ইমামের অন্যতম একজন হিসেবে গণ্য হন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেছেন এবং তিনি ১৭৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৪৯-১৩৫, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/১৭৪, এবং তাহজিবুত তাহজিব, ১০/৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২১)
سبيل المثال ما يلي:

1 - من أعظم مواقف الحكمة التي وقفها: موقفه مع من سأله عن الاستواء. فقد جاء إليه رجل، وقال: يا أبا عبد اللَّه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (1) كيف استوى؟ فما وجد مالك من شيء ما وجد من مسألته، فنظر إلى الأرض، وجعل ينكت بعود في يده حتى علاه الرحضاء (2)، ثم رفع رأسه ورمى بالعود، وقال: ((الكيف منه غير معقول، والاستواء منه غير مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وأظنك صاحب بدعة ((وأمر به فأُخرج (3).

وهذا موقف حكيم مُسدّد؛ لأنه أجاب بالإجابة الصحيحة بعد التأمل والتفكر، فكانت هذه الإجابة قاعدة ثابتة لأهل السنة والجماعة، تُجرى عليها صفات اللَّه - تعالى - كلها، فالكيف للصفة مجهول لنا لا نعرف كيفيتها؛ لأن اللَّه لم يخبرنا بالكيفية، والصفة معلومة بدليلها من الكتاب والسنة الصحيحة أو بأحدهما، والإيمان بالصفة - التي تثبت بالدليل - واجب، والسؤال عن كيفية الصفة بدعة، وليس المراد بنفي الكيفية تفويض المعنى المراد من

--------------------------------------------

(1) سورة طه، الآية: 5.

(2) العرق إثر الحمى، أو عرق يغسل الجلد كثرة. انظر: المعجم الوسيط، مادة (رحض)، 1/ 334.

(3) أبو نعيم في الحلية، 6/ 325، وانظر: سير أعلام النبلاء، 8/ 100، 101، 106، ومجموع فتاوى ابن تيمية، 5/ 26، 5/ 144.
উদাহরণস্বরূপ নিম্নরূপ:

১ - তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো: সেই ব্যক্তির প্রতি তাঁর অবস্থান, যে তাঁকে 'ইস্তিওয়া' (আরশে অধিষ্ঠিত হওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: হে আবু আবদিল্লাহ! {পরম দয়াময় আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন} (১); তিনি কীভাবে সমাসীন হয়েছেন? ইমাম মালিক এই প্রশ্নে যতটা বিচলিত হয়েছিলেন, অন্য কিছুতে তা হননি। তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন এবং হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলেন, এমনকি তিনি ঘামে ভিজে গেলেন (২)। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং কাঠিটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: "এর ধরণ বা প্রকৃতি বুদ্ধিগম্য নয়, আর এর 'ইস্তিওয়া' (সমাসীন হওয়া) অজ্ঞাত নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত (بدعة)। আর আমার মনে হয় তুমি একজন বিদআতী (صاحب بدعة) লোক।" অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে তাকে বের করে দেওয়া হলো (৩)।

এটি একটি অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও সঠিক অবস্থান; কারণ তিনি গভীর চিন্তা ও গবেষণার পর সঠিক (صحيحة) উত্তরটি দিয়েছিলেন। এই উত্তরটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতিতে পরিণত হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে মহান আল্লাহর সকল সিফাত বা গুণাবলির ব্যাখ্যা করা হয়। সুতরাং গুণের প্রকৃতি বা ধরণ আমাদের নিকট অজ্ঞাত, আমরা এর ধরণ জানি না; কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই ধরণ সম্পর্কে অবহিত করেননি। আর গুণটি কুরআন এবং সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ অথবা এই উভয়ের কোনো একটির দলিলের মাধ্যমে সুনিশ্চিতভাবে জানা যায়। আর দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত গুণের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, এবং গুণের ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত (بدعة)। আর ধরণ বা প্রকৃতি অস্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, সিফাত থেকে উদ্দিষ্ট অর্থকে সোপর্দ (তাফউইয) করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা ত্বহা, আয়াত: ৫।

(২) জ্বরের কারণে হওয়া ঘাম, অথবা এমন ঘাম যা অধিক হওয়ার কারণে ত্বক ধুয়ে দেয়। দেখুন: আল-মুজামুল ওয়াসিত, শব্দমূল: (রহদ্ব), ১/৩৩৪।

(৩) আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে, ৬/৩২৫; আরও দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/১০০, ১০১, ১০৬ এবং মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৫/২৬, ৫/১৪৪।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২২)
الصفات، بل كل صفة من صفات اللَّه - تعالى - تدل على معنى حقيقي نؤمن به ونثبته للَّه كما يليق بجلاله (1).

2 - من مواقفه الحكيمة ما رد به على بعض العبَّاد حينما كتب إليه يعظه ويحضه على الانفراد والعزلة عن الناس، ويحضه على العمل، فكتب إليه مالك: ((إن اللَّه قسم الأعمال كما قسم الأرزاق، فرب رجل فُتحَ له في الصلاة ولم يُفتح له في الصوم، وآخر فتح له في الصدقة ولم يفتح له في الصوم، وآخر فتح له في الجهاد، فنشر العلم من أفضل أعمال البر، وقد رضيت بما فُتحَ لي فيه، وما أظن ما أنا فيه بدون ما أنت فيه، وأرجو أن يكون كلانا على خير وبر)) (2).

وهذا الرد الحكيم المسدد مما يدل على فقه الإمام مالك وحكمته، فإن نشر العلم خير أعمال البر، وأفضل من نوافل الصلاة والصوم والصدقة وغير ذلك من نوافل العبادات، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((من دل على خير فله مثل أجر فاعله)) (3).

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((فواللَّه لأن يهدي اللَّه بك رجلاً واحداً خير لك من أن يكون لك حمر النعم)) (4).

فرحم اللَّه مالكاً فقد نطق بالحكمة، وطبق ما كان يقوله ويرغِّب

--------------------------------------------

(1) انظر: فتاوى ابن تيمية، 5/ 5 - 121.

(2) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي، 8/ 114.

(3) مسلم، كتاب الإمارة، باب فضل إعانة الغازي في سبيل الله، 3/ 1506، (رقم 1893).

(4) البخاري مع الفتح، 7/ 476، ومسلم، 4/ 1871، وتقدم تخريجه.
গুণাবলী; বরং আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি গুণই একটি প্রকৃত অর্থ নির্দেশ করে যার প্রতি আমরা ঈমান রাখি এবং আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করি যেভাবে তাঁর মহিমার জন্য উপযোগী (১)।

২ - তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানসমূহের মধ্যে একটি হলো জনৈক ইবাদতকারীর প্রতি তাঁর দেয়া উত্তর, যখন সেই ব্যক্তি তাঁকে নসিহত করে এবং মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ও নির্জনে থাকার এবং আমল বা ইবাদতে মগ্ন হওয়ার উৎসাহ দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তখন মালিক তাকে লিখেছিলেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ আমলসমূহকে সেভাবেই বণ্টন করেছেন যেভাবে তিনি রিজিক বণ্টন করেছেন। অনেক ব্যক্তি এমন আছে যার জন্য নামাজের দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে কিন্তু রোজার দ্বার খোলেনি। আবার অন্য কারো জন্য সদকার দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে কিন্তু রোজার দ্বার খোলেনি। আবার অন্য কারো জন্য জিহাদের দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে। আর ইলম বা জ্ঞান প্রচার করা সর্বোত্তম নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আমার জন্য যা উন্মুক্ত করেছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট আছি। আমি মনে করি না যে আমি যে অবস্থায় আছি তা আপনার অবস্থার চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ। আর আমি আশা করি আমরা উভয়েই কল্যাণ ও পুণ্যের ওপর রয়েছি)) (২)।

এই প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সঠিক উত্তরটি ইমাম মালিকের ফিকহ এবং প্রজ্ঞার পরিচায়ক। কেননা জ্ঞান প্রচার করা সর্বোত্তম নেক কাজ এবং এটি নফল নামাজ, রোজা, সদকা ও অন্যান্য নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখাবে, সে উক্ত আমলকারীর সমান সওয়াব পাবে)) (৩)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট পাওয়ার চেয়েও উত্তম)) (৪)।

আল্লাহ মালিকের প্রতি রহম করুন, তিনি প্রজ্ঞার সাথে কথা বলেছেন এবং তিনি যা বলতেন ও যে বিষয়ে উৎসাহিত করতেন তা প্রয়োগ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৫/৫ - ১২১।

(২) দেখুন: যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/১১৪।

(৩) মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারীকে সাহায্য করার ফজিলত অধ্যায়, ৩/১৫০৬, (নম্বর ১৮৯৩)।

(৪) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, ৭/৪৭৬ এবং মুসলিম, ৪/১৮৭১; এবং এর তাখরিজ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فيه الناس، فكان هو أولى به حيث قال: ((بلغني أنه ما زهد أحد في الدنيا واتقى إلا نطق بالحكمة)) (1).

ولهذا قال الإمام الذهبي (2): ((إلى فقه مالك المنتهى، فعامة آرائه مسددة)) (3).

ولكن الإمام مالك قد أنصف حينما رسم للناس قاعدة يسيرون عليها، حيث قال: ((كل أحد يؤخذ من قوله ويترك إلا صاحب هذا القبر صلى الله عليه وسلم)) (4).

وهذا كلام حكيم وعظيم، يدل على أن جميع الناس ليسوا معصومين من الخطأ، إنما الذي عُصِمَ في تبليغ الشريعة هو محمد صلى الله عليه وسلم.

3 - والإمام مالك كان يصدع بالحق ولا تأخذه في اللَّه لومة لائم، ومن ذلك قول الإمام الشافعي: ((كان مالك إذا جاءه بعض أهل الأهواء، قال: أما إني على بينة من ربي وديني، وأما أنت فشاك،

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي، 8/ 109.

(2) هو الإمام شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي، ولد رحمه الله في شهر ربيع الآخر سنة 673هـ، بدأ طلب العلم مبكراً، ورحل في طلبه، وبرع فيه، ثم عمي قبل موته بأربع سنين أو أكثر بماء نزل في عينيه، وتوفي رحمه الله ليلة الاثنين من ذي القعدة قبل نصف الليل سنة 748هـ، وله آثار علمية بلغت نحو من 215 مؤلفاً رحمه الله. انظر: البداية والنهاية، 14/ 225، ومقدمة سير أعلام النبلاء، 1/ 12 - 140.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء، 8/ 92.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي، 8/ 93.
মানুষের মধ্যে তিনি ছিলেন এর সবচেয়ে যোগ্য, যেখানে তিনি বলেছেন: ((আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কোনো ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি বিরাগ (زهد) পোষণ এবং তাকওয়া অবলম্বন করলে অবশ্যই সে প্রজ্ঞার কথা বলে)) (১)।

এই কারণেই ইমাম যাহাবী (২) বলেছেন: ((ফিকহ শাস্ত্রের চূড়ান্ত সীমা মালিক পর্যন্তই, তাঁর অধিকাংশ মতামতের ভিত্তি সুদৃঢ়)) (৩)।

তবে ইমাম মালিক ন্যায়নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন যখন তিনি মানুষের জন্য একটি মূলনীতি এঁকে দিয়েছেন যার ওপর তারা চলবে। তিনি বলেছিলেন: ((এই কবরের অধিবাসী অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেক ব্যক্তির কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে)) (৪)।

এটি একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং মহান বাণী, যা নির্দেশ করে যে সমস্ত মানুষ ভুল-ভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত (معصوم) নন; বরং শরীয়ত প্রচারের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই সুরক্ষিত (معصوم) রাখা হয়েছে।

৩ - ইমাম মালিক সত্য প্রকাশে ছিলেন দ্বিধাহীন এবং আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। এর উদাহরণ হিসেবে ইমাম শাফিঈ-এর উক্তিটি উল্লেখযোগ্য: ((মালিকের কাছে যখন প্রবৃত্তি পূজারী (أهل الأهواء) কোনো লোক আসত, তখন তিনি বলতেন: আমি তো আমার প্রতিপালক ও আমার দ্বীনের সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর অটল আছি, আর তুমি হলে একজন সংশয়বাদী,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/১০৯।

(২) তিনি হলেন ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আল-যাহাবী। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৬৭৩ হিজরির রবিউস সানি মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশব থেকেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন এবং এর সন্ধানে দেশ-দেশান্তর সফর করেন ও তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। অতঃপর মৃত্যুর চার বছর বা তারও বেশি সময় আগে চোখের সমস্যার কারণে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তিনি ৭৪৮ হিজরির জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগের সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ২১৫টি। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৪/২২৫ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর ভূমিকা, ১/১২-১৪০।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৯২।

(৪) দেখুন: যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৯৩।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৪)
اذهب إلى شاك مثلك فخاصمه)) (1).

وهذا الكلام من الدعوة إلى اللَّه بالحكمة؛ لأن من الناس من يحتاجون إلى الغلظة أحياناً، ولا يخرج ذلك عن الحكمة؛ لأن اللَّه - تعالى - وهو أحكم الحاكمين - قال لأحكم الناس أجمعين: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} (2) وقال: {وَلا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} (3).

وللإمام مالك مواقف حكيمة كثيرة لا يتسع المقام لذكرها (4).

 

‌‌المطلب الثاني: من مواقف الإمام الشافعي رحمه الله -

للإمام الشافعي (5) رحمه الله مواقف حكيمة تدل على حكمته وصدقه

--------------------------------------------

(1) انظر: حلية الأولياء، 6/ 324، وسير أعلام النبلاء، 8/ 99.

(2) سورة التحريم، الآية: 9.

(3) سورة العنكبوت، الآية: 46.

(4) انظر: مواقف له حكيمة في: حلية الأولياء، 6/ 325، وسير أعلام النبلاء، 8/ 94، 98، 99، وانظر: مواقفه مع بني أمية وحكمه في طلاق المكره وعدم وقوعه في سير أعلام النبلاء، 8/ 80، 95، 96.

(5) هو محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن السائب، يلتقي مع النبي صلى الله عليه وسلم في عبد مناف، ولد في غزة، وقيل: بعسقلان، سنة 150هـ، ومات أبوه وهو صغير فحملته أمه إلى مكة وهو ابن سنتين، فنشأ بها وقرأ القرآن، ورحل إلى مالك في المدينة وعرض عليه الموطأ بعض حفظه له، ثم رجع إلى مكة، ورحل إلى اليمن، ثم حمل إلى العراق سنة 184، ثم عاد إلى مكة ثلاث مرات، ثم رحل من العراق إلى مصر، وبقي فيها حتى توفي سنة 204هـ. انظر: البداية والنهاية، 10/ 251.
"তোমার মতো কোনো সংশয়বাদীর কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক করো" (১)।

এই কথাটি প্রজ্ঞার (হিকমত) সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত; কারণ মানুষের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছে যাদের মাঝে মাঝে কঠোরতার প্রয়োজন হয় এবং এটি প্রজ্ঞার পরিপন্থী নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা—যিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক—সকল মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে বলেছেন: "হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন" (২)। এবং তিনি আরও বলেছেন: "আর তোমরা উত্তম পন্থা অবলম্বন না করে আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না; তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কথা ভিন্ন" (৩)।

ইমাম মালিকের এমন অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা এখানে বর্ণনা করার অবকাশ নেই (৪)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কতিপয় অবস্থান -

ইমাম শাফেয়ী (৫) (রহিমাহুল্লাহ)-এর এমন কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা তাঁর প্রজ্ঞা ও সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হিলয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩২৪ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৯৯।

(২) সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৯।

(৩) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৬।

(৪) দেখুন তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থানসমূহ: হিলয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩২৫ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৯৪, ৯৮, ৯৯। আরও দেখুন: বনু উমাইয়াদের সাথে তাঁর অবস্থান এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৮০, ৯৫, ৯৬-এ জোরপূর্বক তালাক প্রদান এবং তা কার্যকর না হওয়ার ব্যাপারে তাঁর ফয়সালা।

(৫) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস ইবনে আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে সায়িব, আবদ মানাফের বংশে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর বংশধারা মিলিত হয়েছে। তিনি হিজরি ১৫০ সনে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে আসকালানে। শৈশবেই তাঁর পিতা মারা যান, ফলে তাঁর মা তাঁকে দুই বছর বয়সে মক্কায় নিয়ে আসেন। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং কুরআন পাঠ করেন। এরপর মদীনায় ইমাম মালিকের কাছে যান এবং তাঁর কাছে মুখস্থ মুয়াত্তা পাঠ করে শোনান। অতঃপর তিনি মক্কায় ফিরে আসেন এবং ইয়ামেন সফর করেন। পরবর্তীতে ১৮৪ হিজরিতে তাঁকে ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি তিনবার মক্কায় ফিরে আসেন এবং পরিশেষে ইরাক থেকে মিশরে পাড়ি জমান। সেখানে ২০৪ হিজরিতে ইন্তেকাল পর্যন্ত অবস্থান করেন। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/২৫১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإخلاصه، ومن مواقفه رحمه الله.

موقفه مع أهل الكلام ودفاعه عن علم الكتاب والسنة:

وقف الشافعي رحمه الله موقفاً حكيماً مسدداً مع أهل الكلام (1)، فقال رحمه الله:

((حكمي في أهل الكلام: أن يضربوا بالجريد والنعال، ويحملوا على الإبل، ويطاف بهم في الأسواق والعشائر، ينادى عليهم ويقال: هذا جزاء من ترك الكتاب والسنة، وأقبل على علم الكلام)) (2).

وقال: ((مذهبي في أهل الكلام تقنيع رؤوسهم بالسياط، وتشريدهم في البلاد)) (3).

--------------------------------------------

(1) العلم بالدين علمان: العلم بالأمور الخبرية الاعتقادية، كالعلم بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وأخبار الأنبياء، وأحوال الملائكة وصفاتهم وأعمالهم، ويدخل في ذلك الجنة والنار … والجدال في هذا القسم بالعقل يسمى: كلاماً.

الثاني: الأمور العملية من أعمال الجوارح والقلوب كالواجبات والمحرمات والمستحبات والمكروهات والمباحات، وهذا من جهة كونه علماً واعتقاداً أو خبراً صادقاً أو كاذباً يدخل في القسم الأول، ومن جهة كونه مأموراً به أو منهياً عنه يدخل في القسم الثاني. انظر: فتاوى ابن تيمية، 11/ 335، 336، 19/ 134.

فالجدال في علم العقائد يسمى كلاماً، والسلف الصالح حينما يذمون علماء الكلام فهم يريدون من يتكلم في الدين بغير طريقة المرسلين، عليهم الصلاة والسلام، وهذا هو الذي ذمه الشافعي رحمه الله. انظر: فتاوى ابن تيمية، 12/ 460، 461.

(2) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي، 10/ 29، والبداية والنهاية، 10/ 254، وفتاوى ابن تيمية، 16/ 473.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء، 10/ 29.
এবং তাঁর ইখলাস (নিষ্ঠা), আর তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন অবস্থান থেকে।

তাত্ত্বিক বিতার্কিকদের (أهل الكلام) প্রতি তাঁর অবস্থান এবং কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের স্বপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা:

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) তাত্ত্বিক বিতার্কিকদের (أهل الكلام) সাথে এক প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সঠিক অবস্থান নিয়েছিলেন (১), তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“তাত্ত্বিক বিতার্কিকদের (أهل الكلام) ব্যাপারে আমার ফয়সালা হলো: তাদের খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে প্রহার করা হবে, উটের পিঠে আরোহণ করানো হবে এবং বাজারে ও বিভিন্ন গোত্রের মাঝে ঘোরানো হবে। আর তাদের সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া হবে এবং বলা হবে: এটিই সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে কিতাব ও সুন্নাহকে বর্জন করেছে এবং তত্ত্বতাত্ত্বিক বিতর্ক বা কালাম শাস্ত্রের (علم الكلام) দিকে মনোনিবেশ করেছে” (২)।

তিনি আরও বলেন: “তাত্ত্বিক বিতার্কিকদের (أهل الكلام) ব্যাপারে আমার অভিমত হলো চাবুক দিয়ে তাদের মাথায় আঘাত করা এবং তাদের দেশান্তর করা” (৩)।

--------------------------------------------

(১) দ্বীনী জ্ঞান দুই প্রকার: প্রথমটি হলো সংবাদভিত্তিক বিশ্বাসগত বিষয়াবলি (الأمور الخبرية الاعتقادية) সংক্রান্ত জ্ঞান, যেমন আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান, নবীদের সংবাদসমূহ, ফেরেশতাদের অবস্থা, গুণাবলি ও কর্মকাণ্ডের জ্ঞান এবং এর মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামও অন্তর্ভুক্ত... আর এই ক্ষেত্রে নিছক যুক্তিনির্ভর বিতর্ককে বলা হয়: কালাম (كلام)।

দ্বিতীয়টি: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অন্তরের কর্ম সংশ্লিষ্ট আমলী বিষয়াবলি, যেমন: ওয়াজিব (الواجبات), হারাম (المحرمات), মুস্তাহাব (المستحبات), মাকরূহ (المكروهات) এবং মুবাহ (المباحات) বিষয়সমূহ। এই দিক থেকে এটি একটি জ্ঞান ও বিশ্বাস অথবা এটি সত্য বা মিথ্যা সংবাদ হওয়ার বিবেচনায় প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে, আর এটি পালনীয় বা বর্জনীয় হওয়ার বিবেচনায় দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে। দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ১১/৩৩৫, ৩৩৬; ১৯/১৩৪।

সুতরাং আকীদা সংক্রান্ত ইলমের ক্ষেত্রে বিতর্ককে বলা হয় কালাম (كلام)। পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح) যখন তাত্ত্বিক বিতার্কিকদের (علماء الكلام) নিন্দা করেন, তখন তাঁরা তাদেরই উদ্দেশ্য করেন যারা রাসূলগণের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অনুসৃত পদ্ধতি ব্যতীত দ্বীনের বিষয়ে কথা বলে। আর এটিই সেই বিষয় যার নিন্দা ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) করেছেন। দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ১২/৪৬০, ৪৬১।

(২) দেখুন: আয-যাহাবির সিয়ার আলামুন নুবালা, ১০/২৯; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/২৫৪; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ১৬/৪৭৩।

(৩) দেখুন: সিয়ার আলামুন নুবালা, ১০/২৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال: ((حكمي في أهل الكلام حكم عمر في صبيغ)) (1).

وغرس الشافعي في نفوس الناس بغض الكلام وأهله، وحب الكتاب والسنة والتمسك بهما، قال يونس بن عبد الأعلى الصدفي (2): قلت للشافعي: إن صاحبنا الليث (3) كان يقول: إذا رأيتم الرجل يمشي على الماء فلا تغتروا به حتى تعرضوا أمره على الكتاب والسنة. فقال الشافعي رحمه الله: قصر الليث رحمه الله، بل إذا رأيتم الرجل يمشي على الماء ويطير في الهواء فلا تغتروا به حتى تعرضوا أمره على الكتاب (4).

وجاء رجل من أهل الكلام إلى الشافعي - وهو في مصر - فسأله عن مسألة من الكلام فقال له الشافعي: أتدري أين أنت؟ قال الرجل: نعم. قال: هذا الموضع الذي أغرق اللَّه فيه فرعون، أبلغك أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أمر بالسؤال عن ذلك؟ قال: لا. قال: هل تكلم فيه الصحابة؟

--------------------------------------------

(1) قدم صبيغ بن عسل الحنظلي المدينة فجعل يسأل عن متشابه القرآن، فأرسل إليه عمر، وقال له: من أنت؟ قال: أنا عبد الله صبيغ، قال: وأنا عبد الله عمر، فضربه بعراجين النخل حتى دمي رأسه، فقال: حسبك يا أمير المؤمنين، فقد ذهب الذي كنت أجد في رأسي. انظر: الإصابة في تمييز الصحابة لابن حجر، 2/ 198.

(2) يونس بن عبد الأعلى بن ميسرة، شيخ البخاري، أبو موسى الصدفي، ولد سنة 170هـ، وتوفي سنة 264هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، 12/ 348.

(3) هو الليث بن عاصم بن كليب، الإمام القدوة العابد المصري، ولد سنة 115هـ، وتوفي سنة 211هـ. انظر: تهذيب التهذيب، 8/ 419، وسير أعلام النبلاء للذهبي، 10/ 188.

(4) أي: والسنة. انظر: شرح العقيدة الطحاوية، ص510، وسير أعلام النبلاء، 10/ 23.
তিনি বলেছেন: "কালামশাস্ত্রের অনুসারীদের (أهل الكلام) ব্যাপারে আমার ফয়সালা হলো সাবীগের ব্যাপারে উমরের ফয়সালার মতো।" (১)

শাফেয়ী মানুষের অন্তরে কালামশাস্ত্র (الكلام) ও এর অনুসারীদের প্রতি ঘৃণা এবং কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা ও এই দুইটিকে আঁকড়ে ধরার বিষয়টি বপন করেছিলেন। ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আস-সাদাফী (২) বলেন: আমি শাফেয়ীকে বললাম: আমাদের সাথী লাইস (৩) বলতেন: "যখন তোমরা দেখবে কোনো ব্যক্তি পানির ওপর দিয়ে হাঁটছে, তখন তোমরা তাকে দেখে ধোঁকায় পড়ো না, যতক্ষণ না তোমরা তার বিষয়টি কিতাব ও সুন্নাহর মানদণ্ডে বিচার করো।" তখন শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বললেন: "লাইস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অল্পই বলেছেন; বরং যখন তোমরা দেখবে কোনো ব্যক্তি পানির ওপর দিয়ে হাঁটছে এবং শূন্যে উড়ছে, তবুও তোমরা তাকে দেখে ধোঁকায় পড়ো না, যতক্ষণ না তার বিষয়টি কিতাবের (৪) সামনে উপস্থাপন করো।"

কালামশাস্ত্রের অনুসারীদের (أهل الكلام) মধ্য হতে এক ব্যক্তি শাফেয়ীর নিকট এলেন—তখন তিনি মিসরে অবস্থান করছিলেন—অতঃপর তিনি তাঁকে কালামশাস্ত্রের একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। শাফেয়ী তাকে বললেন: "তুমি কি জানো তুমি কোথায় আছো?" লোকটি বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "এটি সেই স্থান যেখানে আল্লাহ ফেরাউনকে ডুবিয়েছিলেন। তোমার কাছে কি এমন কোনো সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বিষয়ে প্রশ্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন?" সে বলল: "না।" তিনি বললেন: "সাহাবীগণ (الصحابة) কি এই বিষয়ে কোনো কথা বলেছেন?"

--------------------------------------------

(১) সাবীগ ইবনে আসাল আল-হানজালী মদিনায় আসলেন এবং কুরআনের রূপক আয়াতসমূহ (متشابه القرآن) সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। তখন উমর তাকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে বললেন: "তুমি কে?" সে বলল: "আমি আল্লাহর বান্দা সাবীগ।" তিনি বললেন: "আর আমি আল্লাহর বান্দা উমর।" অতঃপর তিনি তাকে খেজুরের ডাল দিয়ে মারলেন এমনকি তার মাথা রক্তাক্ত হয়ে গেল। তখন সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, আমার মাথায় যা (খটকা) ছিল তা দূর হয়ে গেছে।" দেখুন: ইবনে হাজারের আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ, ২/১৯৮।

(২) ইউনুস ইবনে আবদিল আলা ইবনে মাইসারা, বুখারীর শিক্ষক (شيخ), আবু মুসা আস-সাদাফী, তিনি ১৭০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১২/৩৪৮।

(৩) তিনি হলেন লাইস ইবনে আসিম ইবনে কুলাইব, আদর্শ ইমাম (الإمام القدوة) ও ইবাদতগুজার (العابد) মিসরীয়, ১১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব, ৮/৪১৯ এবং জাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১০/১৮৮।

(৪) অর্থাৎ: এবং সুন্নাহ। দেখুন: শারহু আকীদাতিত তহাবিয়া, পৃ. ৫১০ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১০/২৩।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: لا. قال: هل تدري كم نجماً في السماء؟ قال: لا. قال: فكوكب منها تعرف جنسه، طلوعه، أفوله، مم خُلق؟ قال: لا. قال: فشيء تراه بعينك من الخلق لست تعرفه، تتكلم في علم خالقه؟ ثم سأله الشافعي عن مسألة من الوضوء فأخطأ فيها، ففرعها على أربعة أوجه، فلم يصب في شيء من ذلك، فقال له: شيء تحتاج إليه في اليوم خمس مرات تدع علمه، وتتكلف علم الخالق؟ إذا هجس في ضميرك ذلك فارجع إلى اللَّه، وإلى قوله – تعالى –: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَاّ إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} الآية (1)، فاستدل بالمخلوق على الخالق، ولا تتكلف علم ما لم يبلغه عقلك.

فتاب الرجل (2) على يد الشافعي من علم الكلام، وأقبل على فقه الكتاب والسنة (3)، وكان يقول بعد التوبة: ((أنا خلق من أخلاق الشافعي)) (4).

وقد أصبح هذا الرجل (المزني) علماً من أعلام الإسلام في فقه

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآيتان: 163 - 164.

(2) وهذا الرجل الذي تاب من علم الكلام على يد الشافعي، هو المزني، الإمام العلامة علم الزهاد، أبو إبراهيم إسماعيل بن يحيى بن عمرو بن مسلم المزني المصري، تلميذ الشافعي، ولد سنة 175هـ، وله المختصر في الفقه، وقد شرحه عدة من العلماء، توفي ‘ سنة 264هـ. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي، 12/ 492.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء، 10/ 25، 26، 31، 32.

(4) انظر: المرجع السابق، 12/ 492.
তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তুমি কি জানো আকাশে কতগুলো নক্ষত্র আছে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে এগুলোর কোনো একটি গ্রহ সম্পর্কে কি তুমি জানো—তার ধরন, উদয়, অস্ত এবং তা কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: সৃষ্টির এমন কিছু যা তুমি নিজের চোখে দেখছ অথচ তা সম্পর্কে তুমি জানো না, এমতাবস্থায় তুমি কি তার স্রষ্টা সম্পর্কিত জ্ঞানে কথা বলছ? এরপর শাফি'ই তাকে ওযুর একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তিনি তাতে ভুল করলেন। তিনি বিষয়টিকে চারটি উপ-শাখার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করলেন, কিন্তু তার কোনোটিতেই তিনি সঠিক হতে পারেননি। তখন তিনি তাকে বললেন: যে বিষয়টি তোমার দিনে পাঁচবার প্রয়োজন হয় তার জ্ঞান তুমি ছেড়ে দিচ্ছ, অথচ স্রষ্টা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের কৃত্রিম চেষ্টা করছ? যখন তোমার হৃদয়ে এমন কোনো ভাবনার উদয় হবে, তখন আল্লাহর দিকে এবং তাঁর এই বাণীর দিকে ফিরে এসো—{আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে...} আয়াত (১)। সুতরাং সৃষ্টির মাধ্যমে স্রষ্টাকে চিনে নাও এবং এমন জ্ঞান অর্জনের দুঃসাহস করো না যেখানে তোমার বুদ্ধি পৌঁছাতে পারে না।

অতঃপর সেই ব্যক্তি শাফি'ই-এর হাতে কালামশাস্ত্র (علم الكلام) থেকে তওবা করলেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) ফিকহ (فقه) চর্চায় আত্মনিয়োগ করলেন। তওবার পর তিনি বলতেন: "আমি শাফি'ই-এর চারিত্রিক আদর্শের একটি ফসল" (৪)।

আর এই ব্যক্তি (আল-মুজানি) ফিকহশাস্ত্রে (فقه) ইসলামের অন্যতম এক দিকপাল হয়ে উঠেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৩ - ১৬৪।

(২) আর এই ব্যক্তি যিনি শাফি'ই-এর হাতে কালামশাস্ত্র (علم الكلام) থেকে তওবা করেছিলেন, তিনি হলেন আল-মুজানি; যিনি ছিলেন সুমহান ইমাম (إمام), আল্লামা (علامة) এবং যাহিদদের (زهاد) আদর্শ, আবু ইবরাহিম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আমর ইবনে মুসলিম আল-মুজানি আল-মিসরি। তিনি শাফি'ই-এর ছাত্র ছিলেন, ১৭৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। ফিকহশাস্ত্রে (فقه) তাঁর 'আল-মুখতাসার' নামক গ্রন্থ রয়েছে, যা অনেক আলেম ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি ২৬৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবি রচিত সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ১২/৪৯২।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ১০/২৫, ২৬, ৩১, ৩২।

(৪) দেখুন: পূর্বোক্ত সূত্র, ১২/৪৯২।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشافعي.

فهذه المواقف الحكيمة في الدفاع عن الكتاب والسنة، وذم الكلام وأهله، والرد عليهم بأسلوب الحكمة، يدل دلالة واضحة على حكمة الشافعي رحمه الله.

ومما يدل على حكمته أيضاً أن اللَّه تفضّل عليه وهدى على يديه كثيراً من أهل الكلام فتركوا باطلهم، وأقبلوا إلى علم الكتاب والسنة، وذلك فضل اللَّه يؤتيه من يشاء واللَّه ذو الفضل العظيم.

 

‌‌المطلب الثالث: من مواقف الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله -

للإمام أحمد (1) رحمه الله مواقف حكيمة تدل على حكمته وصدقه مع اللَّه، وإخلاصه، ومن مواقفه رحمه الله:

موقفه الحكيم الذي حفظ اللَّه به القرآن الكريم:

كان الناس أمة واحدة، ودينهم قائماً، حتى ظهرت الخوارج، وكفَّرتْ سادات الصحابة، ثم ظهرت الروافض والنواصب، وفي

--------------------------------------------

(1) الإمام حقاً، وشيخ الإسلام صدقاً، أو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، أحد الأئمة الأعلام، ولد ببغداد سنة 164هـ، وتوفي أبوه وهو ابن ثلاث سنين فكفلته أمه، وبدأ بطلب العلم، وحج سنة 187هـ، ثم رحل إلى صنعاء ليأخذ العلم عن عبد الرزاق صاحب المصنف، ثم عاد إلى بغداد وواصل طلب العلم والتعليم، وتوفي يوم الجمعة 12/ 4/241هـ، وحضر جنازته ألف ألفٍ وخمسمائة ألف. انظر: سير أعلام النبلاء، 11/ 177، 11/ 340، والبداية والنهاية، 10/ 325، 10/ 342، وتهذيب التهذيب، لابن حجر، 1/ 62.
আশ-শাফেয়ি।

কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিরক্ষায়, কালাম শাস্ত্র ও এর অনুসারীদের নিন্দায় এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতিতে তাদের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞোচিত অবস্থানগুলো ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হিকমতের (প্রজ্ঞার) সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

তাঁর প্রজ্ঞার আরেকটি প্রমাণ হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে কালাম শাস্ত্রের অনেক অনুসারীকে হেদায়েত দান করেছেন। ফলে তারা তাদের বাতিল পথ পরিহার করে কুরআন ও সুন্নাহর ইলমের দিকে ধাবিত হয়েছে। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান -

ইমাম আহমদ (১) (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এমন কিছু বিজ্ঞোচিত অবস্থান রয়েছে যা আল্লাহর প্রতি তাঁর সত্যবাদিতা, একনিষ্ঠতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। তাঁর অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:

তাঁর সেই প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনকে রক্ষা করেছেন:

মানুষ একই উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তাদের দ্বীন সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল, যতক্ষণ না খাওয়ারিজদের উদ্ভব ঘটে এবং তারা শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগণকে কাফের সাব্যস্ত করে। এরপর রাফেজি ও নাসিবিদের উদ্ভব ঘটে এবং...

--------------------------------------------

(১) তিনি প্রকৃত ইমাম এবং সত্যনিষ্ঠ শায়খুল ইসলাম, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানি। তিনি প্রখ্যাত ইমামদের একজন। তিনি ১৬৪ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর তিন বছর বয়সে পিতা ইন্তেকাল করলে তাঁর মা তাঁর লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেন। তিনি ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং ১৮৭ হিজরিতে হজ সম্পাদন করেন। এরপর তিনি 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থের রচয়িতা আব্দুর রাজ্জাকের নিকট থেকে ইলম অর্জনের জন্য সানআ অভিমুখে সফর করেন। অতঃপর তিনি বাগদাদে ফিরে এসে ইলম অর্জন ও শিক্ষাদান অব্যাহত রাখেন। তিনি শুক্রবার, ১২/৪/২৪১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জানাজায় পনের লক্ষ মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ১১/১৭৭, ১১/৩৪০; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/৩২৫, ১০/৩৪২ এবং ইবনে হাজারের তাহজিবুত তাহজিব, ১/৬২।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ২৯)
أواخر زمن الصحابة ظهرت القدرية، ثم ظهرت المعتزلة بالبصرة، والجهمية والمشبهة بخراسان في أثناء عصر التابعين مع ظهور السنة وأهلها؛ لأن الخلفاء والملوك والولاة لم يكن لهم دور في إظهار البدع والدعوة إليها، إلى ظهور المأمون (1)، فاستجلب كتب الأوائل، وعرب حكمة اليونان، ورفع الجهمية والمعتزلة والشيعة رؤوسهم، وأظهر المأمون عام 212هـ القول بخلق القرآن، وحمل الأئمة على القول بذلك، ثم امتحن العلماء وعذبهم عام 218هـ (2).

وفي آخر حياته قبل موته بأشهر خرج إلى طرطوس لغزو الروم، وكتب إلى نائبه ببغداد يأمره أن يدعو الناس ويلزمهم بالقول بخلق القرآن، فألزم الناس بذلك، وبعث بجماعة من أهل الحديث إلى المأمون، فامتحنهم بخلق القرآن، فأجابوه وأظهروا موافقته وهم كارهون، فردهم إلى بغداد، وأمر بإشهار أمرهم بين الفقهاء ففعل نائبه ذلك، وأحضر خلقاً كثيراً من أئمة الحديث والفقهاء وأئمة المساجد وغيرهم، ودعاهم إلى القول بخلق القرآن عن أمر المأمون، وذكر لهم موافقة أولئك المحدثين له على ذلك، فأجاب

--------------------------------------------

(1) المأمون، هو عبد الله بن هارون الرشيد، ولد سنة 170هـ، وبويع بالخلافة في 25 محرم عام 198هـ، وكان داعية للقول بخلق القرآن فقصمه الله بدعوة الإمام أحمد، وتوفي في 25 محرم، سنة 218هـ. انظر: البداية والنهاية، 10/ 274.

(2) سير أعلام النبلاء، 11/ 236، وتاريخ الخلفاء للسيوطي، ص306، والتاريخ الإسلامي لمحمود شاكر، 5/ 197 - 200.
সাহাবীদের (صحابة) যুগের শেষভাগে কদরিয়া (القدرية) মতবাদের উদ্ভব ঘটে। এরপর তাবেয়ীদের (تابعين) যুগে সুন্নাহ (سنة) ও সুন্নাহর অনুসারীদের (أهل السنة) বিকাশের পাশাপাশি বসরায় মুতাজিলা (المعتزلة) এবং খোরাসানে জাহমিয়া (الجهمية) ও মুসাব্বিহা (المشبهة) মতবাদের প্রকাশ ঘটে। কেননা খলিফা, বাদশাহ ও গভর্নরদের বিদআত (بدعة) প্রকাশে বা সেদিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা ছিল না; যতক্ষণ না আল-মামুনের আবির্ভাব ঘটে। তিনি পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহ সংগ্রহ করেন এবং গ্রিক দর্শনকে আরবিতে অনুবাদ করান। এর ফলে জাহমিয়া (الجهمية), মুতাজিলা (المعتزلة) ও শিয়াগণ (الشيعة) মাথাচারা দিয়ে ওঠে। আল-মামুন ২১২ হিজরিতে কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদ প্রকাশ্যে আনেন এবং ইমামদের তা বলতে বাধ্য করেন। এরপর ২১৮ হিজরিতে তিনি আলেমদের পরীক্ষা (محنة) নেন এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালান।

আর জীবনের শেষ দিকে, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে তিনি রোম অভিযানের উদ্দেশ্যে তারতুসের দিকে বের হন। তিনি বাগদাদে তার প্রতিনিধির কাছে চিঠি লিখে আদেশ করেন যেন তিনি জনগণকে আহ্বান করেন এবং তাদের কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদ মেনে নিতে বাধ্য করেন। ফলে তিনি লোকজনকে তা মানতে বাধ্য করেন এবং একদল আহলে হাদিসকে (أهل الحديث) আল-মামুনের কাছে পাঠান। মামুন কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) বিষয়ে তাদের পরীক্ষা নেন। তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার কাছে ইতিবাচক উত্তর প্রদান করেন এবং তার সাথে একমত পোষণ করেন। এরপর তিনি তাদের বাগদাদে ফেরত পাঠান এবং ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে তাদের ইতিবাচক সম্মতির বিষয়টি প্রচার করার আদেশ দেন। তার প্রতিনিধি তাই করলেন। তিনি হাদিসের ইমাম, ফকিহ (فقهاء), মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্যদের এক বিশাল সমাবেশ উপস্থিত করেন এবং আল-মামুনের নির্দেশে তাদের কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদের দিকে আহ্বান জানান। তিনি তাদের কাছে ঐ সকল মুহাদ্দিসদের (محدثين) সম্মতির কথা উল্লেখ করেন, ফলে তারা উত্তর দিলেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মামুন হলেন আবদুল্লাহ ইবনে হারুনুর রশিদ। তিনি ১৭০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮ হিজরির ২৫শে মহরম খিলাফতের বায়াত (بيعة) গ্রহণ করেন। তিনি কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদের প্রচারক ছিলেন; অতঃপর ইমাম আহমাদের দোয়ার ফলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন। তিনি ২১৮ হিজরির ২৫শে মহরম মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/২৭৪।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১১/২৩৬; সুয়ুতির তারিখুল খুলাফা, পৃ. ৩০৬; এবং মাহমুদ শাকিরের আত-তারিখুল ইসলামি, ৫/১৯৭ - ২০০।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাবিঈনা ওয়া আতবায়িহিম ফীদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা (পৃষ্ঠা: ৩০)
منهم جماعة (1)، ومازال يُهدد من امتنع منهم بالضرب وقطع الأرزاق، حتى أجابوه إلى ذلك كلهم أجمعون إلى أحمد بن حنبل ومحمد بن نوح (2)، ولاشك أن أكثر المحدثين الذين أجابوا إلى ذلك تأولوا قوله تعالى: {إِلَاّ مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالإِيمَانِ} (3).

ثم قُيِّد الإمام أحمد ومحمد بن نوح بالحديد، وحملا إلى المأمون، وعندما وصلا إلى جيش الخليفة ونزلا دونه بمرحلة جاء خادم من الجيش وهو يمسح دموعه بطرف ثوبه، ويقول للإمام أحمد: يعز عليَّ يا أبا عبد اللَّه أن المأمون قد سل سيفاً لم يسله قبل ذلك، ويقسم لئن لم تُجبه إلى القول بخلق القرآن ليقتلنك بذلك السيف، فجثا الإمام أحمد على ركبتيه، ورمق بطرفه إلى السماء، وقال: اللَّهم فإن يكن القرآن كلامك غير مخلوق فاكفنا مؤونته. فجاء الصريخ بموت المأمون في الثلث الأخير من الليل، ففرح أحمد، ثم جاء الخبر بأن المعتصم قد ولي الخلافة، وقد انضم إليه

--------------------------------------------

(1) انظر: البداية والنهاية، 10/ 272، 331.

(2) محمد بن نوح، قال عنه أحمد ما رأيت أحداً على حداثة سنة وقدر علمه أقوم بأمر الله من محمد بن نوح، قال لي ذات يوم: يا أبا عبد الله، الله الله، إنك لست مثلي، أنت رجل يقتدى به: قد مد الخلق أعناقهم إليك لما يكون منك، فاتق الله، واثبت لأمر الله، … فمات وصليت عليه ودفنته.

انظر: سير أعلام النبلاء، 11/ 242.

(3) سورة النحل، الآية: 106.
তাদের মধ্যে একটি দল ছিল (১); যারা এটি মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল, তিনি তাদের প্রহার এবং জীবিকা বন্ধ করার হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না আহমদ ইবনে হাম্বল এবং মুহাম্মদ ইবনে নুহ (২) ব্যতীত তারা সকলেই তাতে সম্মতি প্রদান করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অধিকাংশ হাদিস বিশারদ (المحدثون) যারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন, তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা (تأويل) করেছিলেন: {তবে তার জন্য ছাড় রয়েছে যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল রয়েছে} (৩)।

এরপর ইমাম আহমদ এবং মুহাম্মদ ইবনে নুহকে শিকল দিয়ে বাঁধা হলো এবং মামুনের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা যখন খলিফার বাহিনীর কাছাকাছি পৌঁছালেন এবং সেখান থেকে এক মঞ্জিল দূরে অবস্থান গ্রহণ করলেন, তখন বাহিনী থেকে একজন খাদেম আসলেন, তিনি তার কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে চোখের পানি মুছছিলেন এবং ইমাম আহমদকে বলছিলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমার কাছে এটা অত্যন্ত কষ্টের বিষয় যে, মামুন এমন এক তলোয়ার কোষমুক্ত করেছেন যা তিনি ইতিপূর্বে কখনো করেননি; তিনি শপথ করেছেন যে, আপনি যদি কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদ গ্রহণ না করেন, তবে তিনি অবশ্যই আপনাকে সেই তলোয়ার দিয়ে হত্যা করবেন। তখন ইমাম আহমদ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বললেন: হে আল্লাহ! যদি কুরআন আপনার কালাম হয়ে থাকে এবং তা অসৃষ্ট (غير مخلوق) হয়, তবে আপনি আমাদের জন্য তার অনিষ্টতা মোকাবিলায় যথেষ্ট হয়ে যান। এরপর রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মামুনের মৃত্যুর খবর নিয়ে এক ঘোষক আসলো, এতে আহমদ আনন্দিত হলেন। এরপর সংবাদ এলো যে, মুতাসিম খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তার সাথে যোগ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১০/ ২৭২, ৩৩১।

(২) মুহাম্মদ ইবনে নুহ; তার সম্পর্কে আহমদ বলেছেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে নুহের চেয়ে অল্প বয়সে এবং তার ইলমের মর্তবায় আল্লাহর নির্দেশের ওপর এতোটা দৃঢ় আর কাউকে দেখিনি। তিনি একদিন আমাকে বলেছিলেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আল্লাহকে ভয় করুন! আল্লাহকে ভয় করুন! আপনি আমার মতো নন; আপনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যাকে অনুসরণ করা হয়। মানুষ আপনার সিদ্ধান্তের দিকে তাদের ঘাড় উঁচিয়ে (অধীর আগ্রহে) তাকিয়ে আছে; সুতরাং আল্লাহকে ভয় করুন এবং আল্লাহর নির্দেশের ওপর অটল থাকুন...।" এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন, আমি তার জানাজা পড়েছি এবং তাকে দাফন করেছি।

দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১১/ ২৪২।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১০৬।