(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
مفهوم الحكمة في الدعوة إلى الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: مفهوم الحكمة في الدعوة إلى اللَّه تعالى في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 129

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের ধারণা   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের ধারণা

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফীর মুদ্রণালয়, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

مفهوم الحكمة

في الدعوة إلى اللَّه تعالى

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানির গ্রন্থাবলি

 

হিকমাহ-এর ধারণা

মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী দাসের রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلّى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((مفهوم الحكمة في الدعوة إلى اللَّه تعالى)) بينت فيها مفهوم الحكمة وضوابطها، وأنواعها، وأركانها، ودرجاتها، وطرق اكتسابها، وقد قسمت البحث إلى تمهيد وأربعة مباحث وتحت كل مبحث مطالب، على النحو الآتي:

التمهيد: أهمية الحكمة في الدعوة إلى اللَّه تعالى.

المبحث الأول: مفهوم الحكمة: لغةً وشرعاً.

المبحث الثاني: أنواع الحكمة.

المبحث الثالث: أركان الحكمة.

المبحث الرابع: طرق اكتساب الحكمة.

واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অসংখ্য দরুদ ও অগণিত সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার ধারণা’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি প্রজ্ঞার স্বরূপ, এর নীতিমালা, প্রকারভেদ, রুকন বা স্তম্ভসমূহ, স্তরসমূহ এবং তা অর্জনের উপায়সমূহ বর্ণনা করেছি। আমি এই গবেষণাকর্মটিকে একটি প্রারম্ভিকা ও চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

প্রারম্ভিকা: আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার গুরুত্ব।

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞার আভিধানিক ও শরয়ি ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞার প্রকারভেদ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞার রুকন বা স্তম্ভসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞা অর্জনের উপায়সমূহ।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সামান্য কাজটিকে বরকতময়, ফলপ্রসূ এবং একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আর এর মাধ্যমে যেন আমাকে আমার ইহকালীন জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন এবং যেন...
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا وإمامنا

محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

المؤلف

حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
এর দ্বারা যেন তিনি তাকে উপকৃত করেন যার কাছে এটি পৌঁছাবে; কেননা আল্লাহ তাআলাই সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী ও ইমাম—

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

 

লেখক

লিখিত হয়েছে বৃহস্পতিবারের চাশতের সময়, ২৫/০২/১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التمهيد: أهمية الحكمة في الدعوة إلى اللَّه تعالى:

1 - من الناس من يظن أو يعتقد أن الحكمة تقتصر على الكلام اللين، والرفق، والعفو، والحلم … فحسب. وهذا نقص وقصور ظاهر لمفهوم الحكمة؛ فإن الحكمة قد تكون:

- باستخدام الرفق واللين، والحلم والعفو، مع بيان الحق علماً وعملاً واعتقاداً بالأدلة، وهذه المرتبة تستخدم لجميع الأذكياء من البشر الذين يقبلون الحق ولا يعاندون.

- وتارة تكون الحكمة باستخدام الموعظة الحسنة المشتملة على الترغيب في الحق والترهيب من الباطل، وهذه المرتبة تستخدم مع القابل للحق المعترف به، ولكن عنده غفلة وشهوات وأهواء تصده عن اتباع الحق.

- وتارة تكون الحكمة باستخدام الجدال بالتي هي أحسن، بحُسنِ خلق، ولطف، ولين كلام، ودعوة إلى الحق، وتحسينه بالأدلة العقلية والنقلية، ورد الباطل بأقرب طريق وأنسب عبارة، وأن لا يكون القصد من ذلك مجرد المجادلة والمغالبة وحب العلو، بل لابدَّ أن يكون القصد بيان الحق وهداية الخلق، وهذه المرتبة تستخدم لكل معاند جاحد.

- وتارة تكون الحكمة باستخدام القوة: بالكلام القوي، وبالضرب
ভূমিকা: আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার (الحكمة) গুরুত্ব:

1 - মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মনে করে বা বিশ্বাস করে যে, প্রজ্ঞা (الحكمة) কেবল কোমল কথা, নম্রতা, ক্ষমা ও ধৈর্যশীলতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ... এটি প্রজ্ঞার (الحكمة) ধারণার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা; কেননা প্রজ্ঞা (الحكمة) নিম্নরূপ হতে পারে:

- নম্রতা ও কোমলতা এবং ধৈর্য ও ক্ষমার ব্যবহারের মাধ্যমে, সেই সাথে জ্ঞান, আমল ও আকিদাগতভাবে দলিলের ভিত্তিতে সত্যকে স্পষ্ট করার মাধ্যমে। এই স্তরটি মানবজাতির এমন সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য ব্যবহৃত হয় যারা সত্যকে গ্রহণ করে এবং হঠকারিতা করে না।

- আবার কখনো প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো উত্তম উপদেশের (الموعظة الحسنة) ব্যবহারের মাধ্যমে, যা সত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং বাতিলের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শনের সমন্বয়ে গঠিত। এই স্তরটি সত্য গ্রহণকারী ও সত্যকে স্বীকার করে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে যার মধ্যে অসতর্কতা, কুপ্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশি রয়েছে যা তাকে সত্য অনুসরণে বাধা দেয়।

- আবার কখনো প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের (الجدال بالتي هي أحسن) ব্যবহারের মাধ্যমে; যা সুন্দর চরিত্র, বিনয় ও কোমল কথা এবং সত্যের দিকে আহ্বানের মাধ্যমে করা হয়। যেখানে সত্যকে যুক্তিনির্ভর (عقلية) ও উদ্ধৃতিমূলক (نقلية) দলিলের মাধ্যমে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং সংক্ষিপ্ততম পথ ও উপযুক্ত বাক্যের মাধ্যমে বাতিলকে খণ্ডন করা হয়। এর উদ্দেশ্য যেন কেবল বিতর্ক করা, বিজয়ী হওয়া বা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার লিপ্সা না হয়; বরং অবশ্যই উদ্দেশ্য হতে হবে সত্যকে স্পষ্ট করা এবং সৃষ্টিজগতকে সঠিক পথ প্রদর্শন করা। এই স্তরটি প্রত্যেক একগুঁয়ে ও অস্বীকারকারীর জন্য ব্যবহৃত হয়।

- আবার কখনো প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে: যেমন কঠোর বাক্য এবং প্রহারের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
والتأديب وإقامة الحدود لمن كان له قوة وسلطة مشروعة، وبالجهاد في سبيل اللَّه تعالى بالسيف والسنان تحت لواء ولي أمر المسلمين مع مراعاة الضوابط والشروط التي دلَّ عليها الكتاب والسنة. وهذه المرتبة تستخدم لكل معاند جاحد ظلم وطغى، ولم يرجع للحق بل رده ووقف في طريقه (1).

وما أحسن ما قاله الشاعر:

 

دعا المصطفى دهراً بمكةَ لم يُجب … وقد لان منه جانبٌ وخطابُ

فلما دعا والسيفُ صلتٌ بِكفِّهِ … له أسلموا واستسلموا وأنابوا (2)

 

وصدق هذا القائل، فقد قال قولاً صادقاً مطابقاً للحق (3)؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن من الشِّعرِ حكمة)) (4).

2 - الحكمة تجعل الداعي إلى اللَّه يُقَدِّر الأمور قدرها، فلا يزهد في الدنيا والناس بحاجة إلى النشاط والجد والعمل، ولا يدعو إلى التبتل والانقطاع والمسلمون في حاجة إلى الدفاع عن عقيدتهم

--------------------------------------------

(1) انظر: مفتاح دار السعادة لابن القيم، 1/ 194، وتفسير ابن كثير، 3/ 416، و4/ 315، وفتاوى ابن تيمية، 2/ 45، و19/ 164.

(2) ذكر سماحة الشيخ العلامة عبد العزيز بن عبد اللَّه ابن باز رضي الله عنه في مجموع فتاواه، 3/ 184، و204: أن هذا الشعر يُروى لحسان بن ثابت رضي الله عنه.

(3) انظر: فتح الباري، 10/ 540، 6/ 531، وشرح النووي على صحيح مسلم، 2/ 33، وعون المعبود شرح سنن أبي داود، 13/ 354.

(4) البخاري مع الفتح، كتاب الأدب، باب ما يجوز من الشِّعر والرَّجَزِ والحداءِ وما يكره منه،

10/ 537، (رقم 6145).
এবং যার বৈধ শক্তি ও কর্তৃত্ব আছে তার পক্ষ হতে আদব শিক্ষা দেওয়া ও দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করার মাধ্যমে, আর আল্লাহ তাআলার পথে তলোয়ার ও অস্ত্রের সাহায্যে মুসলিমদের শাসক বা অভিভাবকের পতাকাতলে জিহাদ (جهاد) করার মাধ্যমে; এক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত বিধি-বিধান ও শর্তাবলির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। এই স্তরটি প্রতিটি একগুঁয়ে, অস্বীকারকারী, জালেম ও সীমালঙ্ঘনকারীর জন্য ব্যবহৃত হয়, যে সত্যের দিকে ফিরে আসে না বরং তা প্রত্যাখ্যান করে এবং এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় (১)।

আর কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

 

মুস্তফা (সা.) মক্কায় দীর্ঘকাল দাওয়াত দিলেন কিন্তু সাড়া পেলেন না … অথচ তাঁর আচরণ ও ভাষণ ছিল অত্যন্ত কোমল।

কিন্তু যখন তিনি হাতে উন্মুক্ত তলোয়ার নিয়ে আহ্বান করলেন … তখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল, আত্মসমর্পণ করল এবং সত্যের পথে ফিরে এল (২)।

 

এই বক্তা সত্য বলেছেন, কেননা তিনি সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ যথার্থ কথাই বলেছেন (৩); এই কারণেই নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মধ্যে হিকমত বা প্রজ্ঞা (حكمة) রয়েছে" (৪)।

২ - হিকমত বা প্রজ্ঞা (حكمة) আল্লাহর পথে আহ্বানকারীকে প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেয়, ফলে তিনি যখন মানুষের কর্মচাঞ্চল্য, নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতার প্রয়োজন থাকে তখন দুনিয়াবিমুখতার কথা বলেন না, আর তিনি সংসারবিরাগ ও জনবিচ্ছিন্নতার দিকেও আহ্বান জানান না যখন মুসলিমদের তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাস (عقيدة) রক্ষার প্রয়োজন থাকে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের মিফতাহু দারিস সা’আদাহ, ১/১৯৪; তাফসিরে ইবনে কাসীর, ৩/৪১৬ এবং ৪/৩১৫; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২/৪৫ এবং ১৯/১৬৪।

(২) শাইখ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহ.) তাঁর মাজমু’ ফাতাওয়া, ৩/১৮৪ এবং ২০৪-এ উল্লেখ করেছেন যে: এই কবিতাটি হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর বলে বর্ণিত।

(৩) দেখুন: ফাতহুল বারী, ১০/৫৪০, ৬/৫৩১; সহীহ মুসলিম-এর শারহে নববী, ২/৩৩; সুনান আবি দাউদ-এর শারহ আওনুল মাবুদ, ১৩/৩৫৪।

(৪) সহীহ বুখারী মা’আল ফাতহ, কিতাবুল আদব, কবিতা, যুদ্ধসংগীত ও হুদা-এর মধ্যে যা জায়েজ এবং যা অপছন্দনীয় সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ, ১০/৫৩৭, (হাদিস নং ৬১৪৫)।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وبلادهم، ولا يبدأ بتعليم الناس البيع والشراء، وهم في مسيس الحاجة إلى تعلم الوضوء والصلاة.

3 - الحكمة تجعل الداعية إلى اللَّه يتأمل ويراعي أحوال المدعوين وظروفهم وأخلاقهم وطبائعهم، والوسائل التي يؤتون من قبلها، والقدر الذي يبين لهم في كل مرة حتى لا يثقل عليهم، ولا يشق بالتكاليف قبل استعداد النفوس لها، والطريقة التي يخاطبهم بها، والتنويع والتشويق في هذه الطريقة حسب مقتضياتها، ويدعو إلى اللَّه بالعلم لا بالجهل، ويبدأ بالمهم فالذي يليه، ويُعلم العامة ما يحتاجونه بألفاظ وعبارات قريبة من أفهامهم ومستوياتهم، ويخاطبهم على قدر عقولهم، فالحكمة تجعل الداعية ينظر ببصيرة المؤمن، فيرى حاجة الناس فيعالجها بحسب ما يقتضيه الحال، وبذلك ينفذ إلى قلوب الناس من أوسع الأبواب، وتنشرح له صدورهم، ويرون فيه المنقذ الحريص على سعادتهم ورفاهيتهم وأمنهم واطمئنانهم، وهذا كله من الدعوة إلى اللَّه بالحكمة التي هي الطريق الوحيد للنجاح.

والمهم أن تكون أقوال الداعية إلى اللَّه - تعالى - وأفعاله وتدبيراته وأفكاره نابعة من الحكمة، موافقة للصواب، غير متقدمة على أوانها ولا متأخرة، لا زيادة فيها عما ينبغي ولا نقص، مجتهداً في معرفة نفعه وصلاحه، سالكاً أقرب طريق يوصل إلى ذلك.
এবং তাদের দেশসমূহ; আর তিনি মানুষকে ক্রয়-বিক্রয় শিক্ষা দেওয়া শুরু করবেন না যখন তারা ওযু ও সালাত শেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মুখাপেক্ষী।

৩ - হিকমত (প্রজ্ঞা) আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীকে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের অবস্থা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, চরিত্র ও প্রকৃতি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা ও তা বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া কোন পন্থায় তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানো যায় এবং প্রতি দফায় কতটুকু বর্ণনা করা উচিত তাও হিকমত নির্ধারণ করে দেয়, যাতে তা তাদের নিকট বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় এবং মানসিক প্রস্তুতি আসার আগেই শরয়ি বিধানের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তাদের কষ্ট না দেওয়া হয়। হিকমত আরও নির্ধারণ করে তাদের সম্বোধন করার পদ্ধতি এবং পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী সেই পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করা। তিনি অজ্ঞতা নয় বরং ইলমের সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেবেন এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করে ক্রমান্বয়ে পরের বিষয়গুলোর দিকে যাবেন। সাধারণ মানুষকে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এমন শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে শিক্ষা দেবেন যা তাদের বোধগম্য ও স্তরের অনুকূল এবং তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা অনুযায়ী তাদের সাথে কথা বলবেন। সুতরাং হিকমত একজন দাঈকে মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার শক্তি দান করে, ফলে তিনি মানুষের প্রয়োজন উপলব্ধি করেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তার চিকিৎসা করেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ের প্রশস্ততম দুয়ার দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন, তাদের বক্ষ তার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং তারা তার মাঝে এমন একজন হিতাকাঙ্ক্ষী ত্রাণকর্তাকে খুঁজে পায় যে তাদের সুখ, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও প্রশান্তির জন্য ব্যাকুল। আর এই সব কিছুই হলো হিকমতের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত, যা সফলতার একমাত্র পথ।

আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর কথা, কাজ, ব্যবস্থাপনা ও চিন্তা যেন হিকমত থেকে উৎসারিত হয় এবং সঠিক পন্থার অনুসারী হয়; তা যেন সময়ের আগে বা পরে না হয় এবং তাতে প্রয়োজনীয় বিষয়ের অতিরিক্ত বা কোনো কমতি না থাকে। তিনি মানুষের কল্যাণ ও সংশোধনের পথ নির্ণয়ে সচেষ্ট থাকবেন এবং লক্ষ্য অর্জনে নিকটতম পথটি বেছে নেবেন।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الأول: مفهوم الحكمة: لغةً وشرعاً

‌‌المطلب الأول: مفهوم الحكمة في اللغة:

جاءت كلمة الحكمة في اللغة بعدة معان، منها:

1 - تستعمل بمعنى: العدل، والعلم، والحلم، والنبوة، والقرآن، والإنجيل.

وأحكم الأمر: أتقنه فاستحكم، ومنعه عن الفساد (1).

2 - والحكمة عبارة عن معرفة أفضل الأشياء بأفضل العلوم، ويُقال لمن يحسن دقائق الصناعات ويتقنها: حكيم (2).

3 - والحكيم: المتقن للأمور، يقال للرجل إذا كان حكيماً: قد أحكمته التجارب (3).

4 - والحَكَمُ والحكيم هما بمعنى: الحاكم والقاضي، والحكيم

--------------------------------------------

(1) القاموس المحيط، لمجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزآبادي، المتوفى سنة 817هـ، باب الميم، فصل الحاء، ص1415، وانظر: لسان العرب لابن منظور، باب الميم، فصل الحاء 12/ 143، ومختار الصحاح، مادة: حكم ص62.

(2) النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير، باب الحاء مع الكاف، مادة حكم 1/ 119، وانظر: لسان العرب لابن منظور، باب الميم، فصل الحاء، 12/ 140، والمعجم الوسيط، مادة: حكم، 1/ 190.

(3) انظر: لسان العرب لابن منظور، باب الميم، فصل الحاء، 12/ 143، ومختار الصحاح، مادة: حكم، ص62.
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞার (الحكمة) ধারণা: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ

প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিধানে প্রজ্ঞার (الحكمة) ধারণা:

অভিধানে প্রজ্ঞা (الحكمة) শব্দটি বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - এটি ন্যায়পরায়ণতা (العدل), জ্ঞান (العلم), সহনশীলতা (الحلم), নব্যুয়ত (النبوة), কুরআন এবং ইঞ্জিল অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর কোনো বিষয়কে 'আহকামা' (أحكم) করার অর্থ হলো—সেটিকে সুনিপুণ ও সুদৃঢ় করা এবং সেটিকে বিপর্যয় বা ত্রুটি থেকে রক্ষা করা (১)।

২ - প্রজ্ঞা (الحكمة) বলতে সর্বোত্তম জ্ঞানের মাধ্যমে সর্বোত্তম বিষয়াবলি জানাকে বোঝায়। আর যিনি শিল্পের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উত্তমরূপে জানেন এবং তা সুনিপুণভাবে সম্পাদন করেন, তাকে প্রজ্ঞাবান (حكيم) বলা হয় (২)।

৩ - আর আল-হাকিম (الحكيم) হলেন তিনি, যিনি সকল বিষয়ে পারদর্শী। কোনো ব্যক্তি যখন প্রজ্ঞাবান (حكيماً) হন, তখন বলা হয়: অভিজ্ঞতাসমূহ তাকে সুদৃঢ় (أحكمته) করেছে (৩)।

৪ - আল-হাকাম (الحَكَمُ) এবং আল-হাকিম (الحكيم) শব্দ দুটি শাসক (الحاكم) ও বিচারক (القاضي) অর্থ প্রকাশ করে; আর আল-হাকিম (الحكيم)

--------------------------------------------

(১) আল-কামুসুল মুহিত, মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি, মৃত্যু ৮১৭ হিজরি, বাবুল মিম, ফাসলুল হা, পৃষ্ঠা ১৪১৫; আরও দেখুন: লিসানুল আরব, ইবনুল মানজুর, বাবুল মিম, ফাসলুল হা ১২/১৪৩; মুখতারুস সিহাহ, মূল শব্দ: হ-ক-ম, পৃষ্ঠা ৬২।

(২) আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ইবনুল আসির, বাবুল হা মা'আল কাফ, মূল শব্দ: হ-ক-ম ১/১১৯; আরও দেখুন: লিসানুল আরব, ইবনুল মানজুর, বাবুল মিম, ফাসলুল হা ১২/১৪০; আল-মু'জামুল ওয়াসিত, মূল শব্দ: হ-ক-ম ১/১৯০।

(৩) দেখুন: লিসানুল আরব, ইবনুল মানজুর, বাবুল মিম, ফাসলুল হা ১২/১৪৩; মুখতারুস সিহাহ, মূল শব্দ: হ-ক-ম, পৃষ্ঠা ৬২।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
فعيل بمعنى فاعل، أو هو الذي يُحكِمُ الأشياء ويتقنها، فهو فعيل بمعنى مفعل (1).

5 - والحكمة: إصابة الحق بالعلم والعقل (2).

6 - والحكيم: المانع من الفساد، ومنه سُمِّيت حَكَمة اللجام؛ لأنها تمنع الفرَس من الجري والذهاب في غير قصد، والسورة المحكمة، الممنوعة من التغيير وكل التبديل، وأن يلحق بها ما يخرج عنها، ويزداد عليها ما ليس منها.

والحكمة من هذا؛ لأنها تمنع صاحبها من الجهل، ويقال: أحكم الشيء، إذا أتقنه، ومنعه من الخروج عما يريد، فهو محكم وحكيم على التكثير (3).

7 - والحَكَمَةُ: ما أحاط بحنكي الفرَس، سُمِّيت بذلك؛ لأنها تمنعه من الجري الشديد، وتذلل الدابة لراكبها، حتى تمنعها من الجماح، ومن كثير من الجهل، ومنه اشتقاق الحكمة؛ لأنها تمنع صاحبها من أخلاق الأراذل (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير باب الحاء مع الكاف، مادة: حكم،

1/ 419.

(2) المفردات في غريب القرآن، للراغب الأصفهاني، كتاب الحاء، مادة: حكم، ص127.

(3) انظر: الجامع لأحكام القرآن للقرطبي، 1/ 288، بتصرف يسير.

(4) انظر: المصباح المنير، لأحمد بن محمد الفيومي، المتوفى سنة 770هـ، مادة: الحكم،

1/ 145، وتاج العروس، 8/ 253.
'ফাঈল' (فعيل) ওজনটি 'ফায়িল' (فاعل) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অথবা তিনি সেই সত্তা যিনি বিষয়সমূহকে সুসংহত ও সুনিপুণ করেন; সুতরাং এটি 'মুফয়িল' (مفعل) অর্থে 'ফাঈল' (فعيل) ওজন (১)।

৫ - আর হিকমত (الحكمة): জ্ঞান ও বুদ্ধির মাধ্যমে সত্যে উপনীত হওয়া (২)।

৬ - আর হাকিম (الحكيم): অনিষ্ট থেকে নিবৃত্তকারী। এখান থেকেই ঘোড়ার লাগামের মুখবন্ধনীকে 'হাকামাহ' বলা হয়; কেননা এটি ঘোড়াকে লক্ষ্যহীনভাবে দৌড়ানো এবং উদ্দেশ্যহীন পথে যাওয়া থেকে বিরত রাখে। আর সুসংহত (محكمة) সুরা হলো তা-ই যা পরিবর্তন এবং সকল প্রকার রদবদল থেকে সংরক্ষিত, এবং যা তার অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু তাতে যুক্ত হওয়া বা তার থেকে কোনো কিছু বৃদ্ধি পাওয়া থেকে মুক্ত।

এর থেকেই হিকমত (الحكمة) এর নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি তার অধিকারীকে অজ্ঞতা থেকে বিরত রাখে। বলা হয়: সে বিষয়টিকে সুসংহত (أحكم) করেছে, যখন সে সেটিকে সুনিপুণ করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের বাইরে যাওয়া থেকে সেটিকে রক্ষা করেছে; সুতরাং আতিশয্য বুঝাতে তা সুসংহত (محكم) এবং প্রজ্ঞাময় (حكيم) (৩)।

৭ - আর 'হাকামাহ' (الحَكَمَةُ): যা ঘোড়ার চোয়ালের চারপাশ বেষ্টন করে থাকে; একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি ঘোড়াকে তীব্র গতিতে দৌড়ানো থেকে বিরত রাখে এবং আরোহীর জন্য পশুকে অনুগত করে তোলে, এমনকি তাকে অবাধ্যতা ও বহু মূর্খতা থেকে নিবৃত্ত করে। হিকমত (الحكمة) শব্দটির উৎপত্তি এখান থেকেই; কেননা এটি তার অধিকারীকে নিকৃষ্ট চরিত্র থেকে বিরত রাখে (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস ওয়াল আসার, ইবনুল আসীর, হা এবং কাফ অধ্যায়, মূলধাতু: হাকাম, ১/ ৪১৯।

(২) আল-মুফরাদাত ফী গারীবিল কুরআন, রাগেব আল-ইসফাহানী, হা অধ্যায়, মূলধাতু: হাকাম, পৃ. ১২৭।

(৩) দেখুন: আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, ১/ ২৮৮, সামান্য পরিমার্জিত।

(৪) দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনীর, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ফায়্যূমী, মৃত্যু ৭৭০ হিজরি, মূলধাতু: আল-হাকাম, ১/ ১৪৫, এবং তাজুল আরূস, ৮/ ২৫৩।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
8 - والحُكْمُ: هو المنع من الظلم، وسميت حكمة الدابة، لأنها تمنعها، يقال: حكمت الدابة وأحكمتها، ويقال: حكمت السفيه وأحكمته: إذا أخذت على يديه، والحكمة هذا قياسها؛ لأنها تمنع من الجهل، وتقول: حكمت فلاناً تحكيماً: منعته عما يريد (1).

ومما تقدم يتضح ويتبين أن الحكمة يظهر فيها معنى المنع، فقد استعملت في عدة معان تتضمن معنى المنع:

فالعدل: يمنع صاحبه من الوقوع في الظلم.

والحلم: يمنع صاحبه من الوقوع في الغضب.

والعلم: يمنع صاحبه من الوقوع في الجهل.

والنُّبُوّة، والقرآن، والإنجيل: فالنبي إنما بُعِثَ لمنع من بعث إليهم من عبادة غير اللَّه، ومن الوقوع في المعاصي والآثام، والقرآن والإنجيل وجميع الكتب السماوية أنزلها اللَّه تتضمن ما يمنع الناس من الوقوع في الشرك وكل منكر وقبيح.

ومن فسر الحكمة بالمعرفة فهو مبني على أن المعرفة الصحيحة فيها معنى المنع، والتحديد، والفصل بين الأشياء، وكذلك الإتقان، فيه منع للشيء المتقن من تطرق الخلل والفساد إليه، وفي هذا المعنى قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((الإحكام هو الفصل والتمييز والفرق والتحديد الذي به يتحقق الشيء ويحصل

--------------------------------------------

(1) مقاييس اللغة لأبي الحسين أحمد بن فارس، 2/ 91، باب الحاء والكاف، مادة: حكم.
৮ - আর আল-হুকম (الحكم): এর অর্থ হলো জুলুম বা অন্যায় থেকে বিরত রাখা (المنع)। ঘোড়ার লাগামকে 'হিকমাতুদ দাব্বাহ' বলা হয় কারণ এটি তাকে নিয়ন্ত্রণ করে (বিরত রাখে)। বলা হয়: 'আমি পশুকে নিয়ন্ত্রণ করেছি (حكمت الدابة) এবং একে বশ করেছি (أحكمتها)'। আরও বলা হয়: 'আমি নির্বোধকে নিবৃত্ত করেছি (حكمت السفيه) এবং তাকে থামিয়েছি (أحكمته)', অর্থাৎ যখন আপনি তাকে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখেন। আর প্রজ্ঞা বা হিকমাহ (الحكمة)-এর ব্যুৎপত্তিগত ভিত্তিও এটিই; কারণ এটি মূর্খতা থেকে বিরত রাখে। আপনি যখন বলেন: 'আমি অমুককে দৃঢ়ভাবে বিরত রেখেছি (حكمت فلاناً تحكيماً)', এর অর্থ হলো আপনি তাকে তার মন্দ ইচ্ছা থেকে নিবৃত্ত করেছেন (১)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট ও প্রতীয়মান হয় যে, হিকমাহ (الحكمة) শব্দের মধ্যে 'বিরত রাখা' বা 'প্রতিরোধ করা' (المنع)-এর অর্থ বিদ্যমান। এটি এমন কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যার সবকটির মধ্যেই নিবৃত্ত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

ন্যায়বিচার (العدل): এটি এর অধিকারীকে জুলুমে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে।

সহনশীলতা (الحلم): এটি এর অধিকারীকে ক্রোধের বশবর্তী হওয়া থেকে রক্ষা করে।

জ্ঞান (العلم): এটি এর অধিকারীকে মূর্খতায় নিপতিত হওয়া থেকে বিরত রাখে।

নবুওয়াত (النبوة), কুরআন ও ইনজিল: কেননা নবীকে তো প্রেরণ করা হয়েছে যাদের কাছে তিনি প্রেরিত হয়েছেন তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করা এবং গুনাহ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখার জন্য। আর কুরআন, ইনজিল এবং সমস্ত আসমানি কিতাব আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন এমন সব বিষয়সহ যা মানুষকে শিরক এবং প্রতিটি অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ থেকে নিবৃত্ত রাখে।

আর যারা হিকমাহ (الحكمة)-কে প্রজ্ঞা বা গভীর জ্ঞান (المعرفة) দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের ভিত্তি হলো এই যে, সঠিক জ্ঞানের মধ্যে নিবৃত্ত করা, সীমাবদ্ধ করা এবং বিষয়সমূহের মধ্যে পার্থক্য করার অর্থ নিহিত রয়েছে। একইভাবে কর্মনিপুণতা (الإتقان)-এর মধ্যেও এটি বিদ্যমান, যা নিপুণভাবে সম্পন্ন করা বিষয়টিকে ত্রুটি ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। এই অর্থেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সুসংহত করা (الإحكام) হলো বিচ্ছেদ, স্বাতন্ত্র্যদান, পার্থক্যকরণ এবং সুনির্দিষ্ট করা, যার মাধ্যমে কোনো বিষয় বাস্তব রূপ লাভ করে এবং অর্জিত হয়..."

--------------------------------------------

(১) মাকায়িসুল লুগাহ, আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে ফারিস, ২/৯১, বাব আল-হা ওয়াল কাফ, মাদ্দাহ: হাকাম।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
إتقانه؛ ولهذا دخل فيه معنى المنع كما دخل في الحد بالمنع جزء معناه لا جميع معناه)) (1).

 

‌‌المطلب الثاني: مفهوم الحكمة في الاصطلاح الشرعي

ذكر العلماء مفهوم الحكمة في القرآن الكريم والسنة النبوية (2)،

--------------------------------------------

(1) مجموعة الرسائل الكبرى، لابن تيمية، 2/ 7.

(2) جاء لفظ: الحكمة في كتاب الله - تعالى - في أكثر من تسعة عشر موضعاً، انظر: سورة البقرة، الآيات: 129، 151، 231، 251، 269، وآل عمران: 48، 81، 164، والنساء: 54، 113، والمائدة: 110، والنحل 125، والإسراء: 39، ولقمان: 12، والأحزاب: 34، ص: 20، والزخرف: 63، والقمر: 5، والجمعة: 2.

وجاء لفظ الحكمة في السنة النبوية في عدة مواضع، انظر معظمها في: البخاري مع الفتح، كتاب العلم، باب الاغتباط في العلم والحكمة، 1/ 165، برقم 73، وكتاب فضائل الصحابة، باب ذكر عن ابن عباس رضي الله عنه، 7/ 100، برقم 3756، وكتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، برقم 7270، وكتاب المغازي، باب قدوم الأشعريين وأهل اليمن، 8/ 98، 99، برقم 4388، و4390، وكتاب الأدب، باب ما يجوز من الشعر والرجز والحداء وما يكره منه، 10/ 537، برقم 6145، وباب الحياء، 10/ 521، برقم 6117. ومسلم، كتاب الإيمان، باب تفاضل أهل الإيمان فيه ورجحان أهل اليمن فيه، 1/ 71 - 73، برقم 51، وباب عدد شعب الإيمان، 1/ 64، برقم 37، وكتاب صلاة المسافرين، باب فضل من يقوم بالقرآن ويعلمه وفضل من تعلم حكمة من فقه وغيره فعمل بها وعلمها، 1/ 559، برقم 816، والترمذي، كتاب العلم، باب ما جاء في فضل العلم على العبادة 51، برقم 2687، وكتاب البر والصلة، باب ما جاء في التجارب، 4/ 379، برقم 2033، وابن ماجه في كتاب الزهد، باب الحكمة 2/ 1395، برقم 4169، والدارمي في المقدمة، باب من هاب الفتيا مخافة السقط، 1/ 75، برقم 293، وباب التوبيخ لمن يطلب العلم لغير الله، 1/ 90، برقم 395، وباب فضل العلم والعالم، 1/ 84، برقم 357، وكتاب فضائل القرآن، وباب فضل من قرأ القرآن، 2/ 312، برقم 3330.
এর সুনিপুণতা; আর একারণেই এতে প্রতিবন্ধকতার অর্থ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমনটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার অর্থটি তার সংজ্ঞার আংশিক অর্থ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ অর্থ হিসেবে নয়)) (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি পরিভাষা (اصطلاح)-য় হিকমাহ (প্রজ্ঞা)-র ধারণা

উলামায়ে কেরাম পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে হিকমাহ-র ধারণা বর্ণনা করেছেন (২),

--------------------------------------------

(১) মাজমুআতুর রাসায়িল আল-কুবরা, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২/ ৭।

(২) আল্লাহ তাআলার কিতাবে 'হিকমাহ' শব্দটি উনিশটিরও বেশি স্থানে এসেছে, দেখুন: সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৯, ১৫১, ২৩১, ২৫১, ২৬৯; আল-ইমরান: ৪৮, ৮১, ১৬৪; আন-নিসা: ৫৪, ১১৩; আল-মায়িদাহ: ১১০; আন-নাহল: ১২৫; আল-ইসরা: ৩৯; লুকমান: ১২; আল-আহযাব: ৩৪; সদ: ২০; আয-জুখরুফ: ৬৩; আল-কামার: ৫ এবং আল-জুমুআহ: ২।

রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর বেশ কিছু স্থানে হিকমাহ শব্দটি এসেছে, এর অধিকাংশ দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুল ইলম, ইলম ও হিকমাহ অর্জনে ঈর্ষা করা অনুচ্ছেদ, ১/ ১৬৫, হাদিস নং ৭৩; এবং কিতাব ফাযাইলুস সাহাবা, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা অনুচ্ছেদ, ৭/ ১০০, হাদিস নং ৩৭৫৬; এবং কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, হাদিস নং ৭২৭০; এবং কিতাবুল মাগাযি, আশআরি ও ইয়ামেনবাসীদের আগমন অনুচ্ছেদ, ৮/ ৯৮, ৯৯, হাদিস নং ৪৩৮৮ ও ৪৩৯০; এবং কিতাবুল আদাব, বৈধ ও অপছন্দনীয় কবিতা, রাজায ও হুদা অনুচ্ছেদ, ১০/ ৫৩৭, হাদিস নং ৬১৪৫, এবং লজ্জার অনুচ্ছেদ, ১০/ ৫২১, হাদিস নং ৬১১৭। মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ঈমানদারদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও ইয়ামেনবাসীদের প্রাধান্য অনুচ্ছেদ, ১/ ৭১-৭৩, হাদিস নং ৫১, এবং ঈমানের শাখা সমূহের সংখ্যা অনুচ্ছেদ, ১/ ৬৪, হাদিস নং ৩৭; এবং কিতাব সালাতুল মুসাফিরিন, কুরআন পাঠকারী ও হিকমাহ তথা ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞান অর্জনকারী, তা আমলকারী ও শিক্ষাদানকারীর মর্যাদা অনুচ্ছেদ, ১/ ৫৫৯, হাদিস নং ৮১৬। তিরমিজি, কিতাবুল ইলম, ইবাদতের ওপর ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৬৮৭; এবং কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, অভিজ্ঞতা বিষয়ক অনুচ্ছেদ, ৪/ ৩৭৯, হাদিস নং ২০৩৩; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুজ যুহদ, হিকমাহ অনুচ্ছেদ, ২/ ১৩৯৫, হাদিস নং ৪১৬৯; এবং দারেমি, আল-মুকাদ্দিমাহ, ভুলের আশঙ্কায় ফতোয়া প্রদানে ভীতি অনুচ্ছেদ, ১/ ৭৫, হাদিস নং ২৯৩; এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণকারীর তিরস্কার অনুচ্ছেদ, ১/ ৯০, হাদিস নং ৩৯৫; এবং ইলম ও আলিমের মর্যাদা অনুচ্ছেদ, ১/ ৮৪, হাদিস নং ৩৫৭; এবং কিতাব ফাযাইলুল কুরআন, কুরআন পাঠকারীর মর্যাদা অনুচ্ছেদ, ২/ ৩১২, হাদিস নং ৩৩৩০।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
واختلفوا على أقوال كثيرة، فقيل: الحكمة: النبوة، وقيل: القرآن والفقه به: ناسخه ومنسوخه، ومحكمه ومتشابهه، ومقدمه ومؤخره، وحلاله وحرامه، وأمثاله. وقيل: الإصابة في القول والفعل، وقيل: معرفة الحق والعمل به، وقيل: العلم النافع والعمل الصالح، وقيل: الخشية للَّه، وقيل: السنة، وقيل: الورع في دين اللَّه، وقيل: العلم والعمل به، ولا يسمى الرجل حكيماً إلا إذا جمع بينهما، وقيل: وضع كل شيء في موضعه. وقيل: سرعة الجواب مع الإصابة (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير مفهوم الحكمة في القرآن الكريم والسنة النبوية في المصادر التالية: جامع البيان في تفسير القرآن، لأبي جعفر محمد بن جرير الطبري، 1/ 436، 3/ 60، 61، وتفسير غرائب القرآن للنيسابوري المطبوع بهامش تفسير الطبري، 1/ 413، وتفسير البغوي، 1/ 256، 1/ 116، وزاد المسير في علم التفسير لابن الجوزي، 1/ 324، 1/ 146، والجامع لأحكام القرآن للقرطبي، 2/ 131، 3/ 60، 61، وتفسير القرآن العظيم لابن كثير، 1/ 184، 1/ 323، وروح المعاني في تفسير القرآن العظيم والسبع المثاني للألوسي، 1/ 387، 3/ 41، وفتح القدير للشوكاني، 1/ 289، 1/ 144، وتفسير المنار لمحمد رشيد رضا، 1/ 472، 2/ 29، 3/ 75، 3/ 263، وتفسير المراغي، 1/ 214، 2/ 19، 3/ 41، وتفسير السعدي، 1/ 173، 1/ 290، 6/ 154، وفي ظلال القرآن لسيد قطب، 1/ 312، 1/ 139، 399، 2/ 997، وصفوة المفاهيم والآثار لعبد الرحمن الدوسري، 2/ 360، 416، 3/ 498، 499، ودرء تعارض العقل والنقل لابن تيمية، 6/ 66، 67،

9/ 22/ 23، ومجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 19/ 170، ومدارج السالكين لابن القيم، 2/ 478، 479، والتفسير القيم لابن القيم، ص227، وفتح الباري بشرح صحيح البخاري لابن حجر العسقلاني، 1/ 67، 70، 6/ 531، 7/ 100، 10/ 522، 529/ 540، وشرح النووي على صحيح مسلم، 2/ 7/ 33، 6/ 98، 15/ 12، وتحفة الأحوذي شرح سنن الترمذي، 6/ 182، 7/ 58، 10/ 327، وعون المعبود شرح سنن أبي داود، 13/ 354، 355.
তারা এ বিষয়ে অনেকগুলো মতে বিভক্ত হয়েছেন। বলা হয়েছে: 'হিকমাহ' হলো নবুওয়াত। আবার বলা হয়েছে: এটি হলো কুরআন এবং তার গভীর জ্ঞান; তথা কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ), সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه), অগ্রবর্তী (مقدم) ও পরবর্তী (مؤخر), হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) এবং এর উদাহরণসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। কেউ কেউ বলেছেন: কথা ও কাজে সঠিকতা অর্জন করা। আবার বলা হয়েছে: সত্যকে চেনা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। কেউ বলেছেন: উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল। কেউ বলেছেন: আল্লাহভীতি। কেউ বলেছেন: সুন্নাহ (سنة)। কেউ বলেছেন: আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে পরহেজগারি। কেউ বলেছেন: জ্ঞান এবং সে অনুযায়ী আমল; আর কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত 'হাকিম' (প্রজ্ঞাবান) বলা হয় না, যতক্ষণ না তিনি এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটান। কেউ বলেছেন: প্রত্যেক বস্তুকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করা। আবার বলা হয়েছে: সঠিক হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত উত্তর প্রদান করা (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে 'হিকমাহ'-এর সংজ্ঞার জন্য নিম্নোক্ত উৎসসমূহ: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারির 'জামেউল বয়ান ফি তাফসিরিল কুরআন', ১/৪৩৬, ৩/৬০, ৬১; তাবারির তাফসিরের পার্শ্বটীকা হিসেবে মুদ্রিত নিশাপুরীর 'তাফসিরু গারাইবুল কুরআন', ১/৪১৩; 'তাফসিরে বাগভী', ১/২৫৬, ১/১১৬; ইবনুল জাওযীর 'যাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির', ১/৩২৪, ১/১৪৬; কুরতুবীর 'আল-জামে লি আহকামিল কুরআন', ২/১৩১, ৩/৬০, ৬১; ইবনে কাসীরের 'তাফসিরুল কুরআনিল আজিম', ১/১৮৪, ১/৩২৩; আলূসীর 'রুহুল মাআনী ফি তাফসিরিল কুরআনিল আজিম ওয়াস সাবয়িল মাসানি', ১/৩৮৭, ৩/৪১; শাওকানীর 'ফাতহুল কাদির', ১/২৮৯, ১/১৪৪; মুহাম্মদ রশিদ রিদার 'তাফসিরে মানার', ১/৪৭২, ২/২৯, ৩/৭৫, ৩/২৬৩; 'তাফসিরে মারাগী', ১/২১৪, ২/১৯, ৩/৪১; 'তাফসিরে সাদী', ১/১৭৩, ১/২৯০, ৬/১৫৪; সাইয়্যেদ কুতুবের 'ফি জিলালিল কুরআন', ১/৩১২, ১/১৩৯, ৩৯৯, ২/৯৯৭; আবদুর রহমান আদ-দাওসারীর 'সাফওয়াতুল মাফাহিম ওয়াল আসার', ২/৩৬০, ৪১৬, ৩/৪৯৮, ৪৯৯; ইবনে তাইমিয়্যার 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি', ৬/৬৬, ৬৭,

৯/২২/২৩, এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার 'মাজমুউল ফাতাওয়া', ১৯/১৭০; ইবনুল কাইয়্যিমের 'মাদারিজুস সালিকিন', ২/৪৭৮, ৪৭৯; ইবনুল কাইয়্যিমের 'আত-তাফসিরুল কাইয়্যিম', পৃষ্ঠা ২২৭; ইবনে হাজার আল-আসকালানীর 'ফাতহুল বারী শারহু সহিহ বুখারি', ১/৬৭, ৭০, ৬/৫৩১, ৭/১০০, ১০/৫২২, ৫২৯/৫৪০; সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম', ২/৭/৩৩, 6/৯৮, ১৫/১২; সুনানে তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তুহফাতুল আহওয়াযী শারহু সুনানে তিরমিযী', ৬/১৮২, ৭/৫৮, ১০/৩২৭; সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আওনুল মাবুদ শারহু সুনানে আবি দাউদ', ১৩/৩৫৪, ৩৫৫।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد ذكر بعضهم تسعة وعشرين قولاً في تعريف الحكمة (1).

((وهذه الأقوال كلها قريب بعضها من بعض؛ لأن الحكمة مصدر من الإحكام، وهو الإتقان في قول أو فعل، فكل ما ذكر فهو نوع من الحكمة التي هي الجنس، فكتاب اللَّه حكمة، وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم حكمة، وكل ما ذكر من التفصيل فهو حكمة. وأصل الحكمة ما يمتنع به من السفه. فقيل للعلم حكمة؛ لأنه يمتنع به من السفه، وبه يعلم الامتناع من السفه الذي هو كلُّ فعلٍ قبيح … )) (2).

وعند التأمل والنظر نجد أن التعريف الشامل الذي يجمع ويضم جميع هذا الأقوال في تعريف الحكمة هو: ((الإصابة في الأقوال والأفعال، ووضع كل شيء في موضعه)).

فجميع الأقوال تدخل في هذا التعريف؛ لأن الحكمة مأخوذة

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير البحر المحيط، لمحمد بن يوسف، أبو حيان الأندلسي، 2/ 320.

(2) الجامع لأحكام القرآن للقرطبي، 3/ 330، وانظر: البحر المحيط، 2/ 320، قال الإمام النووي رضي الله عنه: وأما الحكمة ففيها أقوال كثيرة مضطربة قد اقتصر كل من قائليها على بعض صفات الحكمة، وقد صفا لنا منها: أن الحكمة عبارة عن العلم المتصف بالأحكام، المشتمل على المعرفة بالله تبارك وتعالى المصحوب بنفاذ البصيرة، وتهذيب النفس، وتحقيق الحق والعمل به، والصد عن اتباع الهوى والباطل، والحكيم من له ذلك. قال أبو بكر بن دريد: <كل كلمة وعظتك وزجرتك أو دعتك إلى مكرمة أو نهتك عن قبيح فهي حكمة وحكم>، شرح النووي على صحيح مسلم، 2/ 33.
কেউ কেউ হিকমাহ-এর সংজ্ঞায় ঊনত্রিশটি মত উল্লেখ করেছেন (১)।

((এবং এই সকল মতামতের প্রত্যেকটিই একে অপরের নিকটবর্তী; কারণ হিকমাহ শব্দটি 'ইহকাম' থেকে উৎপন্ন একটি ক্রিয়ামূল, যার অর্থ হলো কোনো কথা বা কাজে নিপুণতা আনা। সুতরাং যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা হিকমাহ-এরই প্রকারভেদ যা মূলত একটি মূল শ্রেণী। আল্লাহর কিতাব হলো হিকমাহ, তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ হলো হিকমাহ এবং বিস্তারিত যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তার সবই হিকমাহ। হিকমাহ-এর মূল অর্থ হলো যা দ্বারা মূর্খতা থেকে বিরত থাকা যায়। এ কারণে জ্ঞানকে হিকমাহ বলা হয়; কেননা এর মাধ্যমে মূর্খতা থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং এর দ্বারা মূর্খতা—যা প্রতিটি মন্দ কাজের সমষ্টি—তা হতে বিরত থাকার বিষয়টি জানা যায় … )) (২)।

গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, হিকমাহ-এর সংজ্ঞায় এই সকল মতামতকে একত্রিত ও অন্তর্ভুক্তকারী ব্যাপক সংজ্ঞাটি হলো: ((কথা ও কাজে সঠিক হওয়া এবং প্রত্যেক বস্তুকে তার যথাস্থানে স্থাপন করা))।

সুতরাং সকল মতামতই এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত; কারণ হিকমাহ শব্দটি গৃহীত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির আল-বাহরুল মুহিত, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি রচিত, ২/৩২০।

(২) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন লিল কুরতুবি, ৩/৩৩০; এবং দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত, ২/৩২০। ইমাম নববী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আর হিকমাহ-এর বর্ণনায় অনেকগুলো পরস্পর বিরোধী (مضطربة) মতামত রয়েছে যার প্রত্যেক প্রবক্তাই হিকমাহ-এর নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তবে আমাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো: হিকমাহ এমন এক ইলম বা জ্ঞান যা সুসংহত বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত এবং যা মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পরিচয় সম্বলিত; সাথে থাকবে প্রখর অন্তর্দৃষ্টি, আত্মশুদ্ধি, সত্য উদঘাটন ও তদনুযায়ী আমল করা এবং কুপ্রবৃত্তি ও বাতিলের অনুসরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। আর যার মাঝে এই গুণগুলো বিদ্যমান, তিনিই হলেন হাকীম (প্রজ্ঞাবান)। আবু বকর ইবনে দুরাইদ বলেন: <যে কথা তোমাকে উপদেশ দেয় ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে অথবা তোমাকে কোনো মহৎ কাজের প্রতি আহ্বান জানায় অথবা কোনো মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, তাই হলো হিকমাহ ও হুকম>। শারহুন নববী আলা সহিহ মুসলিম, ২/৩৩।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
من الحكم وفصل القضاء الذي هو بمعنى الفصل بين الحق والباطل، يقال: إن فلاناً لحكيم بيِّن الحكمة، يعني: أنه لبين الإصابة في القول والفعل، فجميع التعاريف داخلة في هذا القول؛ لأن الإصابة في الأمور إنما تكون عن فهم بها، وعلم، ومعرفة، والمصيب عن فهم منه بمواضع الصواب يكون في جميع أموره: فهماً، خاشياً للَّه، فقيهاً، عالماً، عاملاً بعلمه، ورعاً في دينه … والحكمة أعم من النبوة، والنبوة بعض معانيها وأعلى أقسامها؛ لأن الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - مسددون، مفهمون، وموفقون لإصابة الصواب في الأقوال، والأفعال، والاعتقادات، وفي جميع الأمور (1).

والحكمة في كتاب اللَّه نوعان (2): مفردة، ومقرونة بالكتاب.

فالمفردة كقوله تعالى: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (3). وقوله تعالى: {يُؤتِي الْحِكْمَةَ مَن يَشَاءُ وَمَن يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (4)، وقوله سبحانه: {وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ أَنِ اشْكُرْ للَّهِ وَمَن يَشْكُرْ

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري، 1/ 436، 3/ 61.

(2) انظر: مدارج السالكين، لابن القيم 2/ 478، والتفسير القيم لابن القيم، ص227.

(3) سورة النحل، الآية: 125.

(4) سورة البقرة، الآية: 269.
প্রজ্ঞা (الحكمة) এবং চূড়ান্ত ফয়সালা থেকে, যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যের অর্থ প্রদান করে। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সুনিশ্চিতভাবেই প্রজ্ঞাবান এবং তার প্রজ্ঞা সুস্পষ্ট। অর্থাৎ: কথা ও কাজে তার সঠিকতা (الإصابة) অত্যন্ত স্পষ্ট। সুতরাং প্রজ্ঞার সকল সংজ্ঞাই এই বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; কারণ বিষয়সমূহে সঠিকতা (الإصابة) কেবল সে বিষয়ে উপলব্ধি, জ্ঞান এবং পরিচয়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর যে ব্যক্তি নিজ উপলব্ধির মাধ্যমে সঠিকতার ক্ষেত্রসমূহ অনুধাবনে সক্ষম হয়, সে তার সকল বিষয়েই সমঝদার, আল্লাহকে ভয়কারী, ফকিহ (فقيه), আলেম, নিজ জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী এবং দ্বীনের বিষয়ে পরহেযগার (ورع) হয়ে থাকে … আর প্রজ্ঞা (الحكمة) নবুওয়াতের চেয়েও অধিক ব্যাপক; নবুওয়াত হলো প্রজ্ঞার অন্যতম অর্থ এবং এর সর্বোচ্চ স্তর। কারণ নবীগণ—তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—কথা, কাজ, আকিদাহ এবং যাবতীয় বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে (الصواب) উপনীত হওয়ার জন্য আল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত (مسددون), সমঝদার এবং তাওফিকপ্রাপ্ত হন (১)।

আল্লাহর কিতাবে প্রজ্ঞা (الحكمة) দুই প্রকার (২): একক (مفردة), এবং কিতাবের সাথে যুক্ত (مقرونة)।

এককভাবে আসার উদাহরণ যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে প্রজ্ঞা (الحكمة) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো অত্যন্ত সুন্দর পন্থায়} (৩)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করেন; আর যাকে প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করা হয়, তাকে মূলত প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়} (৪)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি অবশ্যই লোকমানকে প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করেছিলাম এই মর্মে যে, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে তাবারি, ১/৪৩৬, ৩/৬১।

(২) দেখুন: ইবনুল কায়্যিমের মাদারিজুস সালিকিন ২/৪৭৮, এবং ইবনুল কায়্যিমের আত-তাফসিরুল কায়্যিম, পৃ. ২২৭।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৫।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬৯।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ} (1).

وهذه الحكمة فُسِّرت بما تقدم من أقوال العلماء في تعريف الحكمة، وهذا النوع كثير في كتاب اللَّه تعالى.

أما الحكمة المقرونة بالكتاب، فهي السنة من: أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وتقريراته، وسيرته، كقوله تعالى: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ العَزِيزُ الحَكِيمُ} (2)، وقوله: {وَاذْكُرُواْ نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنزَلَ عَلَيْكُمْ مِّنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِ وَاتَّقُواْ اللَّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (3)، {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُّبِينٍ} (4)، {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُّبِينٍ} (5). وغير ذلك من الآيات.

--------------------------------------------

(1) سورة لقمان، الآية: 12.

(2) سورة البقرة، الآية: 129.

(3) سورة البقرة، الآية: 231.

(4) سورة آل عمران، الآية: 164.

(5) سورة الجمعة، الآية: 2.
...সে তো কেবল নিজের জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে; আর কেউ অকৃতজ্ঞ হলে আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, পরম প্রশংসিত।} (১)।

এই হিকমতের ব্যাখ্যা উলামায়ে কেরামের সেই সকল বক্তব্যের আলোকে করা হয়েছে যা হিকমতের সংজ্ঞায় ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর মহান আল্লাহর কিতাবে এই প্রকারের প্রয়োগ প্রচুর রয়েছে।

পক্ষান্তরে কিতাবের (কুরআন) সাথে সংযুক্ত হয়ে যে হিকমত এসেছে, তা হলো সুন্নাহ (السنة); যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী (أقوال), কর্ম (أفعال), মৌনসম্মতি (تقريرات) এবং সীরাত বা জীবনচরিত নিয়ে গঠিত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (২), এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের প্রতি আল্লাহর যে নিয়ামত রয়েছে তা স্মরণ করো এবং কিতাব ও হিকমতের মধ্য থেকে যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন, যার দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} (৩), {আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাঁর আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল} (৪), {তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল} (৫)। এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা লুকমান, আয়াত: ১২।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৯।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩১।

(৪) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪।

(৫) সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ২।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وممن فسر الحكمة المقرونة بالكتاب بالسنة: الإمام الشافعي والإمام ابن القيم، وغيرهما من الأئمة (1).

 

‌‌المطلب الثالث: العلاقة بين التعريف اللغوي والشرعي

عند التأمل والنظر نجد علاقةً قويةً بين المعنى اللغوي والشرعي، فكلاهما يجعل العلم النافع، والعمل الصالح الصواب المحكم المتقن أصلاً من أصول الحكمة، وعلى هذا فيكون التعريف الجامع المانع للحكمة هو: ((الإصابة في القول والعمل والاعتقاد ووضع كل شيء في موضعه بإحكام وإتقان)). واللَّه أعلم.

وبهذا التعريف يتبيَّن ويتَّضح أن الحكمة في الدعوة إلى اللَّه لا تقتصر على الكلام اللين، أو الترغيب، أو الحلم، أو الرفق، أو العفو … بل هي إتقان الأمور وإحكامها بأن تنزل جميع الأمور منازلها، فيوضع القول الحكيم والتعليم والتربية في مواضعها، وتوضع الموعظة في موضعها، والمجادلة بالتي هي أحسن في موضعها، ومجادلة الظالم المعاند في موضعها، كما قال عز وجل {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} (2)، ويُوضع الزجر والقوة، والغلظة، والشدة، والسيف في مواضعها، وهذا هو عين الحكمة. وقد قال أحكم الحاكمين لسيد

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين لابن القيم، 2/ 478، والتفسير القيم، ص227.

(2) سورة العنكبوت، الآية: 46.
ইমাম শাফিঈ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যান্য ইমামগণ ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা কিতাবের সাথে সংযুক্ত 'হিকমাহ'-কে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন (১)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যকার সম্পর্ক

গভীর চিন্তা ও পর্যবেক্ষণে আমরা শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক খুঁজে পাই। উভয় অর্থই উপকারী জ্ঞান এবং সঠিক, সুদৃঢ় ও নিপুণ সৎ কাজকে হিকমতের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে। এর ভিত্তিতে হিকমতের একটি সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ (جامع مانع) সংজ্ঞা হলো: ((কথা, কাজ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এবং প্রতিটি বিষয়কে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও নিপুণভাবে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করা))। আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

এই সংজ্ঞার মাধ্যমে স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞা কেবল কোমল কথা, উৎসাহ প্রদান, সহনশীলতা, নম্রতা কিংবা ক্ষমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়... বরং এটি হলো সকল কাজ সুচারু ও সুসংহতভাবে আঞ্জাম দেওয়া এবং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে রাখা। সুতরাং প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা, শিক্ষা ও লালন-পালনকে (তরবিয়ত) তার উপযুক্ত স্থানে রাখতে হবে; নসিহতকে তার সঠিক জায়গায়, উত্তম পন্থায় বিতর্ককে তার যথাযথ স্থানে এবং জালিম ও একগুঁয়েদের সাথে বিতর্ককে তার উপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করতে হবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ব্যতীত} (২)। তদ্রূপ ধমক, শক্তি প্রয়োগ, কঠোরতা, দৃঢ়তা এবং তরবারির ব্যবহারকে তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে; আর এটিই হলো প্রকৃত হিকমত। আর বিচারকদের শ্রেষ্ঠ বিচারক (আহকামুল হাকিমিন) তাঁর নেতাকে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের মাদারিজুস সালিকিন, ২/ ৪৭৮ এবং আত-তাফসীরুল কাইয়্যিম, পৃ. ২২৭।

(২) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৬।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الحكماء والناس أجمعين: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} (1).

كل ذلك بإحكام وإتقان ومراعاة لأحوال المدعوين، والأزمان، والأماكن في مختلف العصور والبلدان، وبإحسان القصد والرغبة فيما عند الكريم المنان (2).

ومن أراد البرهان العملي على ذلك فعليه أن ينظر إلى ما كان عليه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ومعاملته لأصناف الناس، وهو الذي أعطاه اللَّه من الحكمة ما لم يعطِ أحداً من العالمين (3).

 

‌‌المبحث الثاني: أنواع الحكمة ودرجاتها

‌‌المطلب الأول: أنواع الحكمة

الحكمة نوعان:

 

‌‌النوع الأول: حكمة علمية نظرية، وهي الاطلاع على بواطن الأشياء، ومعرفة ارتباط الأسباب بمسبباتها، خلقاً وأمراً، وقدراً

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 73، وانظر: سورة التحريم، الآية: 9.

(2) انظر: فتاوى شيخ الإسلام، 19/ 164، ومفتاح دار السعادة لابن القيم، 1/ 194، والتفسير القيم، ص344، وتفسير ابن كثير 3/ 416، وزاد الداعية إلى الله للشيخ محمد بن صالح العثيمين رضي الله عنه، ص15.

(3) انظر: التفسير القيم لابن القيم، ص344، الهامش.
বিজ্ঞজন এবং সকল মানুষ: {হে নবী, আপনি কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন} (১)।

এ সবকিছুই সুদৃঢ়তা ও নিপুণতার সাথে এবং বিভিন্ন যুগে ও জনপদে দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবস্থা, সময় ও স্থানের প্রতি লক্ষ্য রেখে, এবং মহান দাতা ও করুণাময় আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তার প্রতি উত্তম উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে হতে হবে (২)।

আর যারা এ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রমাণ চায়, তাদের উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে তাঁর আচরণের প্রতি দৃষ্টিপাত করা; তিনি এমন এক সত্তা যাঁকে আল্লাহ এমন হিকমত বা প্রজ্ঞা দান করেছেন যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দান করেননি (৩)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিকমতের প্রকারভেদ ও তার স্তরসমূহ

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: হিকমতের প্রকারভেদ

হিকমত দুই প্রকার:

 

‌‌প্রথম প্রকার: তাত্ত্বিক ইলমি হিকমত; আর তা হলো সৃষ্টি, আদেশ এবং তাকদির (قدر)-এর ক্ষেত্রে বস্তুর অভ্যন্তরীণ রহস্য সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং কার্যকারণের সাথে ফলাফলের সম্পর্ক অনুধাবন করা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭৩; এবং দেখুন: সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৯।

(২) দেখুন: ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম, ১৯/১৬৪; ইবনুল কায়্যিমের মিফতাহু দারিস সাআদাহ, ১/১৯৪; আত-তাফসীরুল কায়্যিম, পৃ. ৩৪৪; তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/৪১৬; এবং শাইখ মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমীন (রা.)-এর যাদুদ দাঈয়া ইলাল্লাহ, পৃ. ১৫।

(৩) দেখুন: ইবনুল কায়্যিম রচিত আত-তাফসীরুল কায়্যিম, পৃ. ৩৪৪, টীকা।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وشرعاً.

 

‌‌النوع الثاني: حكمة عملية، وهي وضع الشيء في موضعه (1).

فالحكمة النظرية مرجعها إلى العلم والإدراك، والحكمة العملية مرجعها إلى فعل العدل والصواب، ولا يمكن خروج الحكمة عن هذين المعنيين؛ لأن كمال الإنسان في أمرين: أن يعرف الحق لذاته، وأن يعمل به، وهذا هو العلم النافع والعمل الصالح.

وقد أعطى اللَّه عز وجل أنبياءه ورسله ومن شاء من عباده الصالحين هذين النوعين، قال تعالى عن إبراهيم صلى الله عليه وسلم: {رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا}، وهو الحكمة النظرية، {وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ} (2)، وهو الحكمة العملية.

وقال تعالى لموسى صلى الله عليه وسلم: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا}، وهو الحكمة النظرية، {فَاعْبُدْنِي} (3)، وهو الحكمة العملية.

وقال عن عيسى صلى الله عليه وسلم: {إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا}، وهو الحكمة النظرية، {وَأَوْصَانِي بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا} (4)، وهو الحكمة العملية.

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين لابن القيم، 2/ 478.

(2) سورة الشعراء، الآية: 83.

(3) سورة طه، الآية: 14.

(4) سورة مريم، الآيتان: 30 - 31.
এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: ব্যবহারিক প্রজ্ঞা (আমলি হিকমত), আর তা হলো কোনো বস্তুকে তার যথাস্থানে স্থাপন করা (১)।

সুতরাং তাত্ত্বিক প্রজ্ঞার মূল ভিত্তি হলো জ্ঞান ও উপলব্ধি, আর ব্যবহারিক প্রজ্ঞার মূল ভিত্তি হলো ন্যায় ও সঠিক কাজ সম্পাদন করা। প্রজ্ঞা বা হিকমত এই দুটি অর্থের বাইরে হওয়া সম্ভব নয়; কারণ মানুষের পূর্ণতা দুটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত: সত্যকে তার প্রকৃত স্বরূপসহ জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। আর এটিই হলো উপকারী জ্ঞান এবং সৎকর্ম।

মহান আল্লাহ তাঁর নবীগণ, রাসূলগণ এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁদেরকে ইচ্ছা করেছেন তাঁদেরকে এই দুই প্রকার প্রজ্ঞা দান করেছেন। ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন}, আর এটি হলো তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা, {এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন} (২), এটি হলো ব্যবহারিক প্রজ্ঞা।

আল্লাহ তাআলা মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছেন: {নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই}, এটি হলো তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা, {অতএব আমার ইবাদত করো} (৩), এটি হলো ব্যবহারিক প্রজ্ঞা।

ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনি ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দান করেছেন এবং আমাকে নবী করেছেন}, এটি হলো তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা, {এবং তিনি আমাকে সালাত ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি} (৪), এটি হলো ব্যবহারিক প্রজ্ঞা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম-এর মাদারিজুস সালিকিন, ২/ ৪৭৮।

(২) সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: ৮৩।

(৩) সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৪।

(৪) সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩০ - ৩১।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال في شأن محمد صلى الله عليه وسلم: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ}، وهو الحكمة النظرية، {وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ} (1)، وهو الحكمة العملية.

وقال في جميع الأنبياء: {يُنَزِّلُ الْمَلآئِكَةَ بِالْرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنذِرُواْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ أَنَاْ}، وهو الحكمة النظرية، ثم قال: {فَاتَّقُونِ} (2)، وهو الحكمة العملية (3).

 

‌‌المطلب الثاني: درجات الحكمة العملية

الحكمة العملية لها ثلاث درجات:

 

‌‌الدرجة الأولى: ((أن تعطي كل شيء حقه، ولا تعدِّيه حده، ولا تعجله عن وقته، ولا تؤخِّره عنه)).

لما كانت الأشياء لها مراتب وحقوق تقتضيها، ولها حدود ونهايات تصل إليها ولا تتعداها، ولها أوقات لا تتقدم عنها ولا تتأخر، كانت الحكمة مراعاة هذه الجهات الثلاث بأن تعطي كل مرتبة حقها الذي أحقه اللَّه لها بشرعه وقدره، ولا تتعدى بها حدها فتكون متعدياً مخالفاً للحكمة، ولا تطلب تعجيلها عن وقتها فتخالف الحكمة، ولا تؤخرها عنه فتفوتها، وهذا حكم عام لجميع

--------------------------------------------

(1) سورة محمد، الآية: 19.

(2) سورة النحل، الآية: 2.

(3) انظر: التفسير الكبير للفخر الرازي، 7/ 68.
আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে বলেছেন: {অতএব জেনে নিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই}, যা হলো তত্ত্বীয় প্রজ্ঞা (الحكمة النظرية); {এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} (১), যা হলো ব্যবহারিক প্রজ্ঞা (الحكمة العملية)।

এবং তিনি সকল নবী সম্পর্কে বলেছেন: {তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার প্রতি ইচ্ছা আপন নির্দেশে রূহসহ (ওহী) ফেরেশতা পাঠান এই মর্মে যে, তোমরা সতর্ক করো—আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই}, যা হলো তত্ত্বীয় প্রজ্ঞা (الحكمة النظرية)। অতঃপর তিনি বলেন: {অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো} (২), যা হলো ব্যবহারিক প্রজ্ঞা (الحكمة العملية) (৩)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ব্যবহারিক প্রজ্ঞার (الحكمة العملية) স্তরসমূহ

ব্যবহারিক প্রজ্ঞার (الحكمة العملية) তিনটি স্তর রয়েছে:

 

‌‌প্রথম স্তর: ((প্রত্যেক বস্তুকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা, তার সীমা অতিক্রম না করা, সময়ের আগে তা ত্বরান্বিত না করা এবং সময় থেকে তা বিলম্বিত না করা))।

যেহেতু বস্তুসমূহের বিভিন্ন স্তর ও অধিকার রয়েছে যা সেগুলো দাবি করে, এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট সীমা ও সমাপ্তি রয়েছে যা পর্যন্ত সেগুলো পৌঁছায় কিন্তু অতিক্রম করে না, এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে যা থেকে সেগুলো অগ্রবর্তী বা পরবর্তী হয় না—তাই প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো এই তিনটি দিকের প্রতি লক্ষ্য রাখা। তা এভাবে যে, প্রতিটি স্তরকে তার সেই অধিকার প্রদান করা যা আল্লাহ তাঁর শরিয়ত ও তাকদীরের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। আর তার সীমা লঙ্ঘন না করা, অন্যথায় আপনি প্রজ্ঞা (الحكمة) পরিপন্থী সীমা লঙ্ঘনকারী হয়ে যাবেন। এবং সময়ের আগে তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করা যা প্রজ্ঞার (الحكمة) পরিপন্থী হবে, আবার তা থেকে বিলম্বও না করা যার ফলে তা ছুটে যায়। এটি একটি সাধারণ বিধান যা সবকিছুর জন্য প্রযোজ্য...

--------------------------------------------

(১) সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯।

(২) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ২।

(৩) দেখুন: ফখর রাযীর আত-তাফসীর আল-কাবীর, ৭/ ৬৮।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الأسباب مع مسبباتها شرعاً وقدراً، فإضاعتها تعطيل للحكمة بمنزلة إضاعة البذر وسقي الأرض، وتعدي الحق كسقيها فوق حاجتها، بحيث يغرق البذر والزرع ويفسد، وتعجيلها قبل وقتها كحصاده قبل إدراكه وكماله، وهذا يكون فعل ما ينبغي على الوجه الأكمل في الوقت المناسب (1).

 

‌‌الدرجة الثانية: معرفة عدل اللَّه في وعيده، وإحسانه في وعده، وعدله في أحكامه الشرعية والكونية الجارية على الخلائق، فإنه لا ظلم فيها ولا جور، قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا} (2)، وكذلك معرفة بره في منعه، فإنه سبحانه هو الجواد الذي لا ينقص خزائنه الإنفاق، ولا يغيض ما في يمينه سعة عطائه، فهو سبحانه لا يضع بره وفضله إلا في موضعه ووقته بقدر ما تقتضيه حكمته، فما أعطى إلا بحكمته ولا منع إلا بحكمته، ولا أضل إلا بحكمته.

‌‌الدرجة الثالثة: البصيرة، وهي قوة الإدراك، والفطنة، والعلم، والخبرة (3).

والبصيرة هي أعلى درجات العلم التي تكون نسبة العلوم فيها إلى القلب كنسبة المرئي إلى البصر، وهذه الخصيصة التي اختص بها الصحابة عن سائر الأمة ثم المخلصين من أتباع النبي صلى الله عليه وسلم، وهي

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين، 2/ 479.

(2) سورة النساء، الآية: 40، وانظر: مدارج السالكين، 2/ 481.

(3) المعجم الوسيط، مادة: بصر، 1/ 59.
শরীয়ত ও তাকদীরের বিধানে কারণসমূহ (الأسباب) এবং সেগুলোর ফলাফল বা প্রভাবের (مسببات) মধ্যে নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে; আর এগুলোকে উপেক্ষা করা হলো হিকমত বা প্রজ্ঞাকে (الحكمة) অকেজো করে দেওয়ার নামান্তর, যা বীজ নষ্ট করা এবং ভূমিতে সেচ দেওয়ার সমতুল্য। হকের সীমালঙ্ঘন করা জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেচ দেওয়ার মতো, যাতে বীজ ও ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। আর নির্দিষ্ট সময়ের আগে তাড়াহুড়ো করা হলো ফসল পাকার ও পূর্ণতা পাওয়ার আগেই তা কর্তন করার মতো। এটি হলো উপযুক্ত সময়ে যথাযথভাবে কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পাদন করা (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় স্তর: আল্লাহর শাস্তির সতর্কবাণীতে (وعيد) তাঁর ইনসাফ, তাঁর পুরস্কারের প্রতিশ্রুতিতে (وعد) তাঁর ইহসান বা অনুগ্রহ এবং মাখলুকের ওপর কার্যকর তাঁর শরয়ী ও সৃষ্টিগত বিধানে আল্লাহর ইনসাফ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; কারণ এতে কোনো জুলুম বা অবিচার নেই। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তিনি তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার দান করেন" (২)। অনুরূপভাবে তাঁর কোনো কিছু প্রদান না করার বা বারণ করার মধ্যেও তাঁর কল্যাণ নিহিত আছে তা জানা। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা এমন মহান দাতা, যার ভাণ্ডার ব্যয়ের ফলে কমে না এবং তাঁর দানের প্রশস্ততা তাঁর ডান হাতে যা আছে তা সংকুচিত করে না। তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর কল্যাণ ও অনুগ্রহ কেবল যথাস্থানে এবং যথাসময়ে তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞার (حكمته) দাবি অনুযায়ীই প্রদান করেন। তিনি যা দান করেন তা হিকমতের সাথেই দান করেন, আর যা প্রতিহত করেন তাও হিকমতের সাথেই করেন; এমনকি তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাও তাঁর হিকমতের মাধ্যমেই ঘটে থাকে।

‌‌তৃতীয় স্তর: বসিরাহ বা অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة), যা হলো অনুধাবন শক্তি (قوة الإدراك), প্রখর মেধা (الفطنة), জ্ঞান (العلم) এবং অভিজ্ঞতা (الخبرة) (৩)।

আর বসিরাহ বা অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة) হলো ইলম বা জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর, যেখানে হৃদয়ের সাথে ইলমের সম্পর্ক ঠিক তেমন হয় যেমন চাক্ষুষ দৃষ্টির সাথে দৃশ্যমান বস্তুর সম্পর্ক। এটি এমন একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য (خصيصة), যা সাহাবীগণকে সমগ্র উম্মতের মাঝে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে এবং পরবর্তীকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ অনুসারীদের মাঝেও তা বিদ্যমান রয়েছে। আর তা হলো

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন, ২/ ৪৭৯।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪০; এবং দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন, ২/ ৪৮১।

(৩) আল-মু'জামুল ওয়াসিত, মূলশব্দ: বা-স-রা (بصر), ১/ ৫৯।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أعلى درجات العلماء (1)، قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (2)، فقد أمر اللَّه رسوله صلى الله عليه وسلم، أن يخبر الناس أن هذه طريقته ومسلكه وسنته وهي الدعوة إلى شهادة أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، يدعو إلى اللَّه على بصيرة من ذلك، ويقين وبرهان، وعلم، وكل من اتبعه يدعو إلى ما دعا إليه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، على بصيرة ويقين، وبرهان عقلي وشرعي (3)، والبصيرة في الدعوة إلى اللَّه في ثلاثة أمور:

 

‌‌الأمر الأول: أن يكون الداعية على بصيرة فيما يدعو إليه بأن يكون عالماً بالحكم الشرعي فيما يدعو إليه؛ لأنه قد يدعو إلى شيء يظنه واجباً وهو في شرع اللَّه غير واجب فيلزم عباد اللَّه بما لم يلزمهم اللَّه به، وقد يدعو إلى ترك شيء يظنه محرماً، وهو في دين اللَّه غير محرم، فيحرم على عباد اللَّه ما أحله اللَّه لهم.

‌‌الأمر الثاني: أن يكون على بصيرة بحال المدعو، فلابد من معرفة حال المدعو: الدينية، والاجتماعية، والاعتقادية، والنفسية، والعلمية، والاقتصادية حتى يقدم له ما يناسبه.

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين، 2/ 482.

(2) سورة يوسف، الآية: 108.

(3) انظر: تفسير ابن كثير 2/ 496، وتفسير السعدي، 4/ 63.
আলেমদের সর্বোচ্চ স্তর (১), মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত জ্ঞান (بصيرة)-এর ভিত্তিতে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} (২)। আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি মানুষকে অবহিত করেন যে, এটিই তাঁর তরীকা, পথ ও সুন্নাহ; আর তা হলো এই সাক্ষ্য প্রদানের দিকে দাওয়াত দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি পূর্ণ প্রজ্ঞা (بصيرة), নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين), প্রমাণ (برهان) ও জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। আর তাঁর অনুসারী প্রত্যেকেই সেই বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেবেন যার দিকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াত দিয়েছেন—পূর্ণ প্রজ্ঞা (بصيرة), নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) এবং যৌক্তিক ও শরয়ী প্রমাণের (برهان) ভিত্তিতে (৩)। আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা (بصيرة) তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল:

 

‌‌প্রথম বিষয়: দাঈ যেন যা দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে পূর্ণ প্রজ্ঞাসম্পন্ন (بصيرة) হন, অর্থাৎ তিনি যেন সেই বিষয়ের শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। কারণ, তিনি হয়তো এমন কোনো বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেবেন যাকে তিনি ওয়াজিব মনে করছেন অথচ আল্লাহর শরয়তে তা ওয়াজিব নয়; ফলে তিনি আল্লাহর বান্দাদের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করে দেবেন যা আল্লাহ আবশ্যক করেননি। আবার হয়তো এমন কোনো কাজ ত্যাগের দাওয়াত দেবেন যা তিনি হারাম মনে করছেন অথচ আল্লাহর দ্বীনে তা হারাম নয়; ফলে তিনি আল্লাহর বান্দাদের ওপর তা হারাম করে দেবেন যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছেন।

‌‌দ্বিতীয় বিষয়: মাদউ বা দাওয়াত গ্রহণকারী (المدعو)-র অবস্থা সম্পর্কে প্রজ্ঞাসম্পন্ন (بصيرة) হওয়া। অতএব দাওয়াত গ্রহণকারীর ধর্মীয়, সামাজিক, আকিদাগত, মনস্তাত্ত্বিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানা অপরিহার্য, যেন তার জন্য উপযুক্ত পন্থায় দাওয়াত পেশ করা যায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন, ২/ ৪৮২।

(২) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮।

(৩) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির ২/ ৪৯৬ এবং তাফসিরে সাদী, ৪/ ৬৩।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الأمر الثالث: أن يكون على بصيرة في كيفية الدعوة (1)، وقد رسم اللَّه عز وجل طرق الدعوة ومسالكها في آيات كثيرة منها: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ … } (2)، وهذه الآية قاعدة قوية متينة في الدعوة إلى اللَّه تعالى، ثم تكون هذه القاعدة متفرعة إلى ثلاثة أبواب: وهي الدعوة إلى اللَّه: بالحكمة، والموعظة الحسنة، والجدال بالتي هي أحسن (3)، قال تعالى: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (4). قلت: والباب الرابع: الدعوة إلى اللَّه باستخدام القوة عند الحاجة إليها، كما قال تعالى: {وَلا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} (5).

ولاشك أن أحسن الطرق في دعوة الناس طريقة القرآن، ومخاطبته لهم ودعوته، ومجادلتهم (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد الداعية إلى الله، للشيخ محمد بن صالح العثيمين رضي الله عنه، ص7.

(2) سورة يوسف، الآية: 108.

(3) هذا التقسيم الجيد للقاعدة والثلاثة أبواب، للشيخ عبد القادر شيبة الحمد في محاضرة بعنوان: طرق الدعوة إلى الله، ألقيت بجامع الراجحي بالربوة، بالرياض، عام 1408هـ.

(4) سورة النحل، الآية: 125.

(5) سورة العنكبوت، الآية: 46.

(6) انظر: فتاوى ابن تيمية، 19/ 158 - 173.
তৃতীয় বিষয়টি: দাওয়াতের (دعوة) পদ্ধতির ব্যাপারে সুগভীর প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) অধিকারী হওয়া (১), আর মহান আল্লাহ অনেক আয়াতে দাওয়াতের (دعوة) পথ ও পন্থাগুলো অঙ্কন করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি সুগভীর প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে … } (২)। আর এই আয়াতটি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও সুদৃঢ় মূলনীতি (قاعدة)। অতঃপর এই মূলনীতিটি (قاعدة) তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত হয়: আর তা হলো হিকমত (حكمة), উত্তম উপদেশ (موعظة حسنة) এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের (جدال) মাধ্যমে আল্লাহর দিকে দাওয়াত (دعوة) প্রদান করা (৩)। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি আপনার রবের পথে হিকমত (حكمة) ও উত্তম উপদেশের (موعظة حسنة) মাধ্যমে দাওয়াত দিন এবং তাদের সাথে বিতর্ক (جدال) করুন সর্বোত্তম পন্থায়} (৪)। আমি বলছি: চতুর্থ অধ্যায়টি হলো—প্রয়োজনের সময় শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে দাওয়াত (دعوة) প্রদান করা, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা আহলে কিতাবদের সাথে সর্বোত্তম পন্থা ছাড়া বিতর্ক (جدال) করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করে তাদের ব্যতীত} (৫)।

নিঃসন্দেহে মানুষকে দাওয়াত (دعوة) দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো কুরআনের পদ্ধতি, এর সম্বোধন, এর দাওয়াত (دعوة) এবং এর বিতর্ক (جدال) করার পদ্ধতি (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জাদুদ দায়িয়া ইলাল্লাহ, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি, পৃষ্ঠা ৭।

(২) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮।

(৩) মূলনীতি ও তিনটি অধ্যায়ের এই চমৎকার বিন্যাসটি শায়খ আব্দুল কাদির শাইবাহ আল-হামদ এর, যা ১৪০৮ হিজরিতে রিয়াদের রুবওয়াহ-তে অবস্থিত জামে আর-রাজহী-তে 'আল্লাহর পথে দাওয়াতের (دعوة) পদ্ধতিসমূহ' শীর্ষক এক বক্তৃতায় প্রদান করা হয়েছে।

(৪) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৫।

(৫) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৬।

(৬) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১৯/ ১৫৮ - ১৭৩।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثالث: أركان الحكمة

‌‌توطئة:

للحكمة أركان ودعائم تقوم عليها، وكل خلل في الداعية إلى اللَّه فسببه الإخلال بالحكمة، فأكمل الناس: أوفرهم منها نصيباً، وأنقصهم وأبعدهم عن الكمال أقلهم منها ميراثاً.

وأركان الحكمة التي تقوم عليها، ثلاثة هي: العلم، والحلم، والأناة.

وآفاتها وأضدادها، ومعاول هدمها: الجهل، والطيش، والعجلة، فلا حكمة لجاهلٍ، وطائشٍ، وعجولٍ (1).

وسأتحدث عن هذه الأركان بالتفصيل - إن شاء اللَّه تعالى - في المطالب الآتية:

‌‌المطلب الأول: العلم.

المطلب الثاني: الحلم.

المطلب الثالث: الأناة.

 

المطلب الأول: العلم:

العلم من أعظم أركان الحكمة، ولهذا أمر اللَّه به، وأوجبه قبل

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين لابن القيم، 2/ 480.
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হিকমতের (প্রজ্ঞার) স্তম্ভসমূহ

‌ভূমিকা:

হিকমতের নির্দিষ্ট কিছু স্তম্ভ ও ভিত্তি রয়েছে যার ওপর এটি দণ্ডায়মান। আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (দাঈর) মাঝে যেকোনো ত্রুটির মূল কারণ হলো হিকমতের পরিপন্থী কাজ করা। অতএব, মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই পূর্ণাঙ্গ, যার এই হিকমতের অংশ সবচেয়ে বেশি; আর সেই ব্যক্তিই ত্রুটিপূর্ণ ও পূর্ণতা থেকে সবচেয়ে দূরে, যার এই হিকমতের উত্তরাধিকার সবচেয়ে কম।

হিকমত যে তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা হলো: জ্ঞান (العلم), সহনশীলতা (الحلم) এবং ধীরস্থিরতা (الأناة)।

এর আপদ, বিপরীত বিষয় এবং ধ্বংসকারী উপাদানসমূহ হলো: মূর্খতা (الجهل), অস্থিরতা (الطيش) এবং তাড়াহুড়ো (العجلة)। সুতরাং মূর্খ, অস্থির এবং তাড়াহুড়োকারী ব্যক্তির কোনো হিকমত নেই (১)।

আমি এই স্তম্ভগুলো সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করব:

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: জ্ঞান (العلم).

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সহনশীলতা (الحلم).

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ধীরস্থিরতা (الأناة).

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: জ্ঞান (العلم):

জ্ঞান (العلم) হিকমতের অন্যতম মহান স্তম্ভ, একারণেই আল্লাহ তাআলা এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে অপরিহার্য করেছেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম রচিত মাদারিজুস সালিকিন, ২/৪৮০।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
القول والعمل، فقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} (1).

وقد بوَّب الإمام البخاري رضي الله عنه لهذه الآية بقوله: ((بابٌ: العلم قبل القول والعمل)) (2).

وذلك أن اللَّه أمر نبيه بأمرين: بالعلم، ثم العمل، والمبدوء به العلم في قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ}، ثم أعقبه بالعمل في قوله: {وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ}، فدل ذلك على أن مرتبة العلم مقدمة على مرتبة العمل، وأن العلم شرط في صحة القول والعمل، فلا يعتبران إلا به، فهو مقدم عليهما؛ لأنه مصحح للنية المصححة للعمل (3).

والعمل ما قام عليه الدليل، والنافع منه ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، وقد يكون علم من غير الرسول صلى الله عليه وسلم، لكن في أمور دنيوية، مثل: الطب، والحساب، والفلاحة، والتجارة (4).

ولا يكون الداعية إلى اللَّه حكيماً إلا بالعلم الشرعي، وإن لم

--------------------------------------------

(1) سورة محمد، الآية: 19.

(2) البخاري مع الفتح، كتاب العلم، باب العلم قبل القول والعمل 1/ 159.

(3) انظر: فتح الباري 1/ 160، وحاشية ثلاثة الأصول لمحمد بن عبد الوهاب رضي الله عنه، جمع عبد الرحمن بن قاسم الحنبلي رضي الله عنه، ص15.

(4) فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 13/ 136، 6/ 388.
কথন ও কর্ম। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত।" (১)।

ইমাম বুখারী (রা.) এই আয়াতের প্রেক্ষিতে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করে বলেছেন: "অধ্যায়: কথা ও কাজের আগে জ্ঞান অর্জন" (২)।

এর কারণ হলো আল্লাহ তাঁর নবীকে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন: জ্ঞান অর্জন এবং অতঃপর আমল। এখানে আল্লাহ তাআলার বাণী "সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" এর মাধ্যমে প্রথমে জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে এবং এর পরপরই "আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন" বাণীর মাধ্যমে আমলের বিষয়টি এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞানের মর্যাদা আমলের মর্যাদার অগ্রবর্তী এবং কথা ও কাজের শুদ্ধতা (صحة) লাভের জন্য জ্ঞান অর্জন একটি শর্ত (شرط), আর জ্ঞান ছাড়া এই দুটি গ্রহণযোগ্য হয় না। সুতরাং জ্ঞান এই দুটির আগে আসে; কারণ জ্ঞানই নিয়তকে (نية) সংশোধন করে, যা পুনরায় আমলকে সংশোধন করে (৩)।

আর আমল তা-ই যার স্বপক্ষে দলীল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমলের মধ্যে কল্যাণকর তা-ই যা রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়ে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যতিরেকে অন্যের থেকেও জ্ঞান অর্জিত হতে পারে, তবে তা পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে; যেমন: চিকিৎসা বিজ্ঞান, গণিত, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য (৪)।

আর আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ততক্ষণ পর্যন্ত প্রজ্ঞাবান (حكيم) হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি শরয়ি জ্ঞান (العلم الشرعي) অর্জন করেন, যদিও তিনি...

--------------------------------------------

(১) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৯।

(২) ফাতহুল বারীসহ বুখারী, কিতাবুল ইলম (জ্ঞানের অধ্যায়), কথা ও কাজের আগে জ্ঞান অর্জন পরিচ্ছেদ ১/ ১৫৯।

(৩) দ্রষ্টব্য: ফাতহুল বারী ১/ ১৬০ এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রা.) রচিত ‘থালাথাতুল উসুল’-এর টীকাগ্রন্থ, সংকলন: আব্দুর রহমান বিন কাসিম আল-হাম্বলী (রা.), পৃষ্ঠা: ১৫।

(৪) ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১৩/ ১৩৬, ৬/ ৩৮৮।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
يصحب الداعية من أول قدم يضعه في الطريق إلى آخر قدم ينتهي إليه، فسلوكه على غير طريق، وهو مقطوع عليه طريق الوصول، ومسدود عليه سبيل الهدى والفلاح، وهذا إجماع من العارفين.

ولاشك أنه لا ينهى عن العلم إلا قُطَّاع الطريق، ونوّاب إبليس وشرطه (1).

وقد قسم الإمام ابن تيمية رضي الله عنه العلم النافع - الذي هو أحد دعائم الحكمة وأسسها - إلى ثلاثة أقسام، فقال رحمه الله: ((والعلم الممدوح الذي دل عليه الكتاب والسنة هو العلم الذي ورثه الأنبياء)) كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الأنبياء لم يورِّثوا درهماً ولا ديناراً، وإنما ورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظٍّ وافرٍ)) (2).

وهذا العلم ثلاثة أقسام:

 

‌‌القسم الأول: علم باللَّه، وأسمائه، وصفاته، وما يتبع ذلك، وفي مثله أنزل اللَّه سورة الإخلاص وآية الكرسي ونحوهما.

‌‌القسم الثاني: علم بما أخبر اللَّه به مما كان من الأمور الماضية،

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين للإمام ابن القيم، 2/ 464.

(2) سنن أبي داود، كتاب العلم، باب الحث على طلب العلم، 3/ 317، (رقم 3641)، والترمذي، كتاب العلم، باب ما جاء في فضل الفقه على العبادة، 5/ 49، (رقم 2683)، وابن ماجه في المقدمة، باب فضل العلماء والحث على طلب العلم، 1/ 80، (رقم 223)، وانظر: صحيح ابن ماجه للألباني، 1/ 43.
দাওয়াত দানকারী (দাঈ)-র পথের প্রথম পদক্ষেপ থেকে শুরু করে শেষ পদক্ষেপ পর্যন্ত ইলম (জ্ঞান) তার সঙ্গী হওয়া আবশ্যক। ইলম ব্যতীত তার পথচলা সঠিক পথে হবে না, তার গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং হিদায়াত ও সফলতার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। এটি বিজ্ঞজনদের ঐকমত্য (إجماع)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কেবল পথিমধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী, ইবলিসের প্রতিনিধি ও তার বাহিনীই ইলম অর্জন থেকে বিরত রাখে (১)।

ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উপকারী ইলমকে—যা হিকমত বা প্রজ্ঞার অন্যতম স্তম্ভ ও ভিত্তি—তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রশংসনীয় ইলম, যার প্রতি কিতাব ও সুন্নাহ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে, তা হলো সেই ইলম যা নবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন।" যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নবীগণ দিরহাম বা দিনার উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা ইলমকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা সম্পদ লাভ করল" (২)।

আর এই ইলম তিন প্রকার:

 

‌‌প্রথম প্রকার: আল্লাহ তাআলা, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির জ্ঞান। আর এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ সূরা আল-ইখলাস, আয়াতুল কুরসি এবং এ জাতীয় আয়াতসমূহ নাযিল করেছেন।

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: আল্লাহ তাআলা অতীত বিষয়াবলি সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন সেই সংক্রান্ত জ্ঞান,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের মাদারিজুস সালিকীন, ২/৪৬৪।

(২) সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল ইলম, ইলম অন্বেষণে উদ্বুদ্ধকরণ অধ্যায়, ৩/৩১৭, (হাদিস নং ৩৬৪১); তিরমিজি, কিতাবুল ইলম, ইবাদতের ওপর ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্ব সংক্রান্ত অধ্যায়, ৫/৪৯, (হাদিস নং ২৬৮৩); এবং ইবনে মাজাহ-র মুকাদ্দিমা, ওলামাদের মর্যাদা ও ইলম অর্জনে উদ্বুদ্ধকরণ অধ্যায়, ১/৮০, (হাদিস নং ২২৩)। আরও দেখুন: আলবানী রচিত সহিহ ইবনে মাজাহ, ১/৪৩।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وما يكون من الأمور المستقبلة، وما هو كائن من الأمور الحاضرة، وفي مثل هذا أنزل اللَّه آيات القصص، والوعد، والوعيد، وصفة الجنة والنار، ونحو ذلك.

 

‌‌القسم الثالث: العلم بما أمر اللَّه به من العلوم المتعلقة بالقلوب والجوارح من الإيمان باللَّه من معارف القلوب وأحوالها، وأقوال الجوارح وأعمالها، وهذا يندرج فيه: العلم بأصول الإيمان وقواعد الإسلام، ويندرج فيه العلم بالأقوال والأفعال الظاهرة، ويندرج فيه ما وجد في كتب الفقهاء من العلم بأحكام الأفعال الظاهرة، فإن ذلك جزءٌ من جزءٍ من علم الدين.

والناس إنما يغلطون في هذه المسائل؛ لأنهم لا يفهمون مسميات الأسماء الواردة في الكتاب والسنة، ولا يعرفون حقائق الأمور الموجودة، فرُبَّ رجل يحفظ حروف العلم التي أعظمها حفظ حروف القرآن ولا يكون له من الفهم، بل ولا من الإيمان ما يتميز به على من أوتي القرآن ولم يؤت حفظ حروف العلم، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن كمثل الأُترُجة، ريحها طيب وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن كمثل التمرة، لا ريح لها وطعمها حلو، ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن كمثل الريحانة، ريحها طيب، وطعمها مر، ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة، ليس لها ريح وطعمها مر)) (1).

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الأطعمة، باب ذكر الطعام، 9/ 555، (رقم 5427)، ومسلم في صلاة المسافرين، باب فضيلة حافظ القرآن، 1/ 549، (رقم 797).
এবং যা ভবিষ্যতে ঘটবে এবং যা বর্তমানে বিদ্যমান, আর এ ধরনের বিষয়েই আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন কাহিনী, প্রতিশ্রুতি, সতর্কবার্তা, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ সম্পর্কিত আয়াতসমূহ।

 

‌‌তৃতীয় বিভাগ: আল্লাহ যেসব বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন সে সংক্রান্ত জ্ঞান, যা অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অন্তরের মারিফাত ও তার অবস্থা, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কথা ও কাজসমূহ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ঈমানের মূলনীতি ও ইসলামের নিয়মকানুন সম্পর্কিত জ্ঞান; আরও অন্তর্ভুক্ত হলো প্রকাশ্য কথা ও কাজ সম্পর্কিত জ্ঞান এবং ফকীহগণের কিতাবসমূহে বর্ণিত প্রকাশ্য কার্যাবলীর বিধান সম্পর্কিত জ্ঞান; কেননা তা দ্বীনি ইলমের একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র।

মানুষ মূলত এই সকল বিষয়ে ভুল করে; কারণ তারা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহয় বর্ণিত শব্দসমূহের মর্মার্থ বুঝতে পারে না এবং বিদ্যমান বিষয়গুলোর বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নয়। ফলে এমন অনেক ব্যক্তি আছে যে ইলমের শব্দাবলি মুখস্থ করে (যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো কুরআনের শব্দাবলি মুখস্থ করা), কিন্তু তার মাঝে এমন কোনো বোধ নেই, এমনকি এমন কোনো ঈমানও নেই যা দ্বারা সে এমন ব্যক্তির চেয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারে যাকে কুরআন (এর ইলম) দান করা হয়েছে কিন্তু সে ইলমের শব্দাবলি মুখস্থ করেনি। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো উতরুজাহ-এর (লেবুজাতীয় ফল) মতো, যার সুঘ্রাণ চমৎকার এবং স্বাদও মিষ্টি। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো সুঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রাইহানাহ-এর (সুগন্ধি লতা) মতো, যার সুঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো হানজালাহ-এর (মাকাল ফল) মতো, যার কোনো সুঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত।" (১)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাবুল আত-ইমাহ, বাবু জিকরিত তা'আম, ৯/৫৫৫, (নম্বর ৫৪২৭), এবং মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরিন অধ্যায়, বাবু ফাদিলাতি হাফিজিল কুরআন, ১/৫৪৯, (নম্বর ৭৯৭)।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فقد يكون الرجل حافظاً لحروف القرآن وسوره، ولا يكون مؤمناً، بل يكون منافقاً، فالمؤمن الذي لا يحفظ حروفه وسوره خير منه، وإن كان ذلك المنافق ينتفع به الغير كما ينتفع بالريحان، وأما الذي أُوتي العلم والإيمان، فهو مؤمن حكيمٌ وعليمٌ، فهو أفضل من المؤمن الذي ليس مثله في العلم مثل اشتراكهما في الإيمان، فهذا أصل تجب معرفته (1).

والعلم لابد فيه من إقرار القلب، ومعرفته، بمعنى ما طلب منه علمه، وتمامه أن يعمل بمقتضاه؛ فإن العلم النافع - الذي هو أعظم أركان الحكمة التي من أُوتيها فقد أُوتيَ خيراً كثيراً - هو ما كان مقروناً بالعمل، أما العلم بلا عمل، فهو حجة على صاحبه يوم القيامة؛ ولهذا حذر اللَّه المؤمنين من أن يقولوا ما لا يفعلون، رحمةً بهم، وفضلاً منه وإحساناً، فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ * كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ} (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: فتاوى ابن تيمية، 11/ 396، 397 بتصرف، والفتاوى أيضاً، 7/ 21 - 25، وقال ابن تيمية رضي الله عنه: <العلوم خمسة: فعلم هو حياة الدين، وهو علم التوحيد، وعلم هو غذاء الدين، وهو علم التذكر بمعاني القرآن والحديث، وعلم هو دواء الدين، وهو علم الفتوى إذا نزل بالعبد نازلة احتاج إلى من يشفيه منها كما قال ابن مسعود، وعلم هو داء الدين، وهو الكلام المحدث، وعلم هو هلاك الدين، وهو علم السحر ونحوه>. انظر: فتاوى ابن تيمية، 10/ 145.

(2) سورة الصف، الآيتان: 2 - 3.
কোনো ব্যক্তি কুরআনের শব্দ ও সূরাসমূহের মুখস্থকারী (حافظ) হতে পারেন, অথচ তিনি মুমিন নন, বরং তিনি মুনাফিক (منافق); সুতরাং যে মুমিন কুরআনের শব্দ ও সূরাসমূহ মুখস্থ করেননি তিনি তার চেয়ে উত্তম, যদিও সেই মুনাফিক দ্বারা অন্যরা উপকৃত হয় যেমন সুগন্ধি লতা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। আর যাকে জ্ঞান ও ঈমান দান করা হয়েছে, তিনি একজন প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানী মুমিন। তিনি সেই মুমিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যার মাঝে তার মতো জ্ঞান নেই, যদিও ঈমানের ক্ষেত্রে তারা উভয়ে সম অংশীদার। এটি একটি মৌলিক নীতি (أصل) যা জানা আবশ্যক (১)।

আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে অন্তরের স্বীকৃতি ও তার মর্মার্থ উপলব্ধি করা অপরিহার্য যা তার নিকট চাওয়া হয়েছে, আর এর পূর্ণতা হলো সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা। কেননা উপকারী জ্ঞান — যা হিকমতের শ্রেষ্ঠ স্তম্ভ এবং যাকে তা দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে — তা হলো যা আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর আমলহীন জ্ঞান কিয়ামতের দিন তার অধিকারীর বিরুদ্ধে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। এই কারণেই আল্লাহ মুমিনদেরকে তারা যা করেন না তা বলা থেকে সতর্ক করেছেন—তাদের প্রতি দয়া, অনুগ্রহ ও ইহসান স্বরূপ। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় ক্রোধের বিষয়} (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১১/ ৩৯৬, ৩৯৭ (সামান্য পরিমার্জিত), এবং ফাতাওয়া, ৭/ ২১ - ২৫। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রা.) বলেছেন: <জ্ঞানসমূহ (العلوم) পাঁচ প্রকার: এক প্রকার জ্ঞান হলো দ্বীনের জীবন, আর তা হলো তাওহিদের জ্ঞান (علم التوحيد); এক প্রকার জ্ঞান হলো দ্বীনের খাদ্য, আর তা হলো কুরআন ও হাদিসের মর্মার্থ স্মরণ করার জ্ঞান; এক প্রকার জ্ঞান হলো দ্বীনের ঔষধ, আর তা হলো ফতোয়ার জ্ঞান (علم الفتوى); যখন কোনো বান্দার ওপর কোনো সমস্যা আপতিত হয় তখন তার এমন কারো প্রয়োজন হয় যে তাকে তা থেকে আরোগ্য দান করবে যেমনটি ইবনে মাসউদ বলেছেন; এক প্রকার জ্ঞান হলো দ্বীনের ব্যাধি, আর তা হলো নব-উদ্ভাবিত কালাম শাস্ত্র (الكلام المحدث); এবং এক প্রকার জ্ঞান হলো দ্বীনের ধ্বংস, আর তা হলো জাদুর জ্ঞান (علم السحر) ও তার অনুরূপ>। দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১০/ ১৪৫।

(২) সূরা আস-সাফ, আয়াত: ২ - ৩।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وحذَّرهم عن كتمان العلم، وأمرهم بتبليغه للبشرية على حسب الطاقة والجهد، وعلى حسب العلم الذي أعطاهم اللَّه عز وجل لا يُكلف اللَّه نفساً إلا وسعها، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ الَّلاعِنُونَ} (1).

وهذه الآية، وإن كانت نازلة في أهل الكتاب وما كتموه من شأن الرسول صلى الله عليه وسلم وصفاته، فإن حكمها عام لكل من اتصف بكتمان ما أنزل اللَّه من البينات الدالات على الحق، المظهرات له، والعلم الذي تحصل به الهداية إلى الصراط المستقيم، ويتبين به طريق أهل النعيم من طريق أهل الجحيم، ومن نبذ ذلك وجمع بين المفسدتين: كَتْم ما أنزل اللَّه، والغش لعباد اللَّه، لعنه اللَّه، ولعنه جميع الخليقة؛ لسعيهم في غش الخلق وفساد أديانهم، وإبعادهم عن رحمة اللَّه، فجُوزوا من جنس عملهم، كما أن معلم الناس الخير يستغفر له كل شيء حتى الحوت في الماء، والطير في الهواء؛ لسعيه في مصلحة الخلق وإصلاح أديانهم؛ ولأنه قربهم من رحمة اللَّه، فَجُوزيَ من جنس عمله (2).

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 159.

(2) انظر: تفسير عبد الرحمن بن ناصر السعدي، 1/ 186، وتفسير البغوي، 1/ 134، وابن كثير، 1/ 200.
এবং তিনি তাদেরকে জ্ঞান গোপন করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং তাদের সামর্থ্য ও প্রচেষ্টা অনুযায়ী এবং আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান অনুযায়ী তা মানবতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন; আল্লাহ কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় যারা গোপন করে আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ নাযিল করেছি—কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর—তাদেরকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদেরকে অভিসম্পাত করে।} (১)।

আর এই আয়াতটি যদিও আহলে কিতাব এবং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কে যা গোপন করেছিল সে বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, তবুও এর বিধান সেই প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য যারা আল্লাহর নাযিলকৃত সেই সকল সুস্পষ্ট নিদর্শন গোপন করার বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যা সত্যের প্রমাণবাহী ও সত্যকে উন্মোচনকারী, এবং সেই জ্ঞান যা দ্বারা সরল পথের দিশা অর্জিত হয় এবং যার মাধ্যমে জান্নাতবাসীদের পথ জাহান্নামবাসীদের পথ থেকে পৃথক করা যায়। আর যে ব্যক্তি তা বর্জন করল এবং দুটি অনিষ্টকে একত্রিত করল: আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয় গোপন করা এবং আল্লাহর বান্দাদের সাথে প্রতারণা করা; আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগত তাকে অভিসম্পাত করে; কারণ তারা সৃষ্টিকে প্রতারিত করতে, তাদের দ্বীনকে কলুষিত করতে এবং তাদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। তাই তাদেরকে তাদের কর্মের অনুরূপ প্রতিদান দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেয়, তার জন্য প্রতিটি বস্তু এমনকি পানির মাছ এবং শূন্যের পাখিও ক্ষমা প্রার্থনা করে; কারণ সে সৃষ্টির কল্যাণ কামনায় ও তাদের দ্বীন সংশোধনে সচেষ্ট ছিল এবং সে তাদেরকে আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী করেছে, তাই তাকেও তার কর্মের অনুরূপ প্রতিদান দেওয়া হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৯।

(২) দ্রষ্টব্য: তাফসীরে আব্দুর রহমান বিন নাসের আস-সা’দী, ১/১৮৬; তাফসীরে বাগাভী, ১/১৩৪ এবং ইবনে কাসীর, ১/২০০।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد بين صلى الله عليه وسلم أن ((من سُئِل عن علمٍ يَعْلَمُهُ فَكتَمَهُ أُلْجِمَ يوم القيامة بلجام من نار)) (1).

فتبين بذلك وغيره: أن العلم النافع الذي هو أحد أركان الحكمة لا يكون إلا مع العمل به؛ ولهذا قال سفيان (2) في العمل بالعلم والحرص عليه: ((أجهل الناس من ترك ما يعلم، وأعلم الناس من عمل بما يعلم، وأفضل الناس أخشعهم للَّه)) (3).

وقال رضي الله عنه: ((يُرادُ للعلم: الحفظ، والعمل، والاستماع، والإنصات، والنشر)) (4).

وقال الصحابي الجليل عبد اللَّه بن مسعود رضي الله عنه: ((تعلموا، تعلموا فإذا علمتم فاعملوا)) (5).

وقال رضي الله عنه: ((إن الناس أحسنوا القول كلهم، فمن وافق فعله قوله

--------------------------------------------

(1) الترمذي، في العلم، باب ما جاء في كتمان العلم، 5/ 29، (رقم 2651)، وأبو داود في العلم، باب كراهية منع العلم، 3/ 321، (رقم 3658)، وابن ماجه في المقدمة، باب من سئل عن علم فكتمه، 1/ 98، (رقم 261)، وأحمد، 2/ 263، 305، وانظر: صحيح ابن ماجه، 1/ 49، وصحيح الترمذي، 2/ 336.

(2) سفيان بن عيينة بن أبي عمران، الإمام الكبير شيخ الإسلام، ولد سنة 107هـ، في النصف من شعبان، وعاش (91) سنة. انظر: سير أعلام النبلاء، 8/ 454 - 474.

(3) أخرجه الدارمي في سننه، في المقدمة، باب في فضل العلم والعالم، 1/ 81، (رقم 337).

(4) المصدر السابق، 1/ 81.

(5) أخرجه ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله، 1/ 195.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, "যাকে এমন কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা সে জানে, আর সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।" (১)।

এর মাধ্যমে এবং অন্যান্য দলীলের দ্বারা এটা স্পষ্ট হয় যে: উপকারী জ্ঞান—যা হিকমতের অন্যতম রুকন (ركن)—তা কেবল আমল করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়; এই কারণে সুফিয়ান (২) ইলম অনুযায়ী আমল করা এবং তার প্রতি একাগ্রতা সম্পর্কে বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অজ্ঞ সে, যে তার জানামতে যা আছে তা বর্জন করে; আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী সে, যে তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে; এবং মানুষের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সে, যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।" (৩)।

তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "ইলমের উদ্দেশ্য হলো: মুখস্থ করা, আমল করা, শ্রবণ করা, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রচার করা।" (৪)।

মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, জ্ঞান অর্জন করো; অতঃপর যখন তোমরা জ্ঞান অর্জন করবে, তখন সে অনুযায়ী আমল করো।" (৫)।

তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "নিশ্চয়ই সকল মানুষই সুন্দর কথা বলে, সুতরাং যার কাজ তার কথার সাথে মিলে যায়

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি, ইলম অধ্যায়, ইলম গোপন করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদ, ৫/২৯, (হাদিস নং ২৬৫১); আবু দাউদ, ইলম অধ্যায়, ইলম প্রদানে অনীহা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৩/৩২১, (হাদিস নং ৩৬৫৮); ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমা, যাকে ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে তা গোপন করে এমন ব্যক্তি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১/৯৮, (হাদিস নং ২৬১); আহমদ, ২/২৬৩, ৩০৫; এবং দেখুন: সহিহ ইবনে মাজাহ, ১/৪৯, সহিহ তিরমিজি, ২/৩৩৬।

(২) সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ ইবনে আবি ইমরান, সুমহান ইমাম (إمام) এবং শায়খুল ইসলাম (شيخ الإسلام), তিনি ১০৭ হিজরি সালের শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯১ বছর জীবিত ছিলেন। দেখুন: সিয়ার আলাম আন-নুবালা, ৮/৪৫৪-৪৭৪।

(৩) দারেমি তার সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, মুকাদ্দিমা, ইলম ও আলেমের মর্যাদা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১/৮১, (হাদিস নং ৩৩৭)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, ১/৮১।

(৫) ইবনে আবদিল বার এটি জামি বয়ান আল-ইলম ওয়া ফাদলিহি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ১/১৯৫।
(খণ্ড: ১) মাফহুমুল হিকমাতি ফিদ দাওওয়াতি ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فذلك الذي أصاب حظه، ومن خالف قوله فعله فإنما يوبخ نفسه)) (1).

وقال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: ((يا حملة العلم اعملوا به، فإنما العالم من علم ثم عمل، ووافق علمه عمله، وسيكون أقواماً يحملون العلم لا يجاوز تراقيهم، تخالف سريرتهم علانيتهم، ويخالف عملهم علمهم، يقعدون حلقاً فيباهي بعضهم بعضاً، حتى أن الرجل ليغضب على جليسه أن يجلس إلى غيره ويدعه، أولئك لا تصعد أعمالهم في مجالسهم تلك إلى اللَّه عز وجل)) (2).

وقال أبو الدرداء رضي الله عنه: ((لا تكون تقيّاً حتى تكون عالماً، ولا تكون بالعلم جميلاً حتى تكون به عاملاً)) (3).

ولهذا قال الشاعر:

 

إذا العلم لم تعمل به كان حجةً … عليك ولم تعذر بما أنت جاهله

فإن كنت قد أوتيت علماً فإنما … يصدق قولَ المرء ما هو فاعله (4)

 

وبهذا يتضح أن العلم لا يكون من دعائم الحكمة إلا باقترانه بالعمل. وقد كان علم السلف الصالح - وعلى رأسهم أصحاب

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، 2/ 6.

(2) أخرجه ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله، 2/ 7.

(3) المرجع السابق، 2/ 7.

(4) المرجع السابق، 2/ 7.
সে-ই ব্যক্তি যে তার সৌভাগ্য লাভ করেছে; আর যার কথা তার কাজের পরিপন্থী হয়, সে তো কেবল নিজেকেই তিরস্কৃত করে। (১)

আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেছেন: "হে ইলম বহনকারীরা! তোমরা তা অনুযায়ী আমল করো। কেননা প্রকৃত আলেম (العالم) তো সেই যে ইলম অর্জন করে অতঃপর আমল করে এবং যার ইলম তার আমলের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা ইলম বহন করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের গোপন বিষয় তাদের প্রকাশ্য বিষয়ের পরিপন্থী হবে এবং তাদের কর্ম তাদের ইলমের বিপরীত হবে। তারা মজলিসে চক্রাকারে বসবে এবং একে অপরের নিকট গর্ব প্রকাশ করবে। এমনকি একজন ব্যক্তি তার সঙ্গীর ওপর রাগান্বিত হবে এই কারণে যে, সে তাকে ছেড়ে অন্যের কাছে গিয়ে বসেছে। তাদের ওইসব মজলিসে কৃত আমলসমূহ মহান আল্লাহর নিকট উন্নীত হবে না।" (২)

আবু দারদা (রা.) বলেছেন: "তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকী হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি আলেম (عالماً) হবে। আর তুমি ইলম দ্বারা ততক্ষণ পর্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি তদানুযায়ী আমলকারী হবে।" (৩)

এ কারণেই কবি বলেছেন:

 

যখন তুমি ইলম অনুযায়ী আমল করো না, তখন তা তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হয় এবং তোমার অজ্ঞতার কারণে তোমাকে ক্ষমা করা হবে না।

যদি তোমাকে ইলম দান করা হয়ে থাকে, তবে জেনে রাখো—মানুষের কথাকে কেবল তার কাজই সত্য বলে প্রমাণ করে। (৪)

 

এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, আমলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া ইলম হিকমতের (প্রজ্ঞার) অন্যতম ভিত্তি হতে পারে না। আর সালাফে সালেহীন—যাদের শীর্ষে ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম—তাদের ইলম ছিল...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৬।

(২) ইবনে আব্দুল বার এটি জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ২/৭।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৭।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৭।