(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
مصارف الزكاة في الإسلام   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مصارف الزكاة في الإسلام - مفهوم, وشروط، وأنواع، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

ইসলামে জাকাতের খাতসমূহ   (সাঈদ বিন ওহাফ আল-কাহ্তানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: ইসলামে জাকাতের খাতসমূহ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, শর্তাবলি, প্রকারভেদ, এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওহাফ আল-কাহ্তানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জুল ক্বদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
49

رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

مصارف الزكاة في الإسلام

مفهوم، وشروط، وأنواع، وأحكام

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
49

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহলানির রিসালাসমূহ

 

ইসলামে জাকাতের খাতসমূহ

ধারণা, শর্তাবলি, প্রকারভেদ এবং বিধানসমূহ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহলানি
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((مصارف الزكاة في الإسلام)) بيَّنت فيها مفهوم المصارف: لغة، واصطلاحاً، وأن الله حصر مصارف الزكاة بلا تعميم في العطاء، وذكرت أنواع المصارف الثمانية، وبيَّنت مفهوم كل مصرف: لغةً، واصطلاحاً، ونصيب كل نوع من المصارف، والأدلة على ذلك من الكتاب والسنة، وفضل الدفع لكل مصرف، ثم ذكرت أصناف وأنواع من لا يصحّ دفع الزكاة إليهم بالأدلة.

وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبدالله ابن باز - رفع الله منزلته، وغفر له، ورحمه -.

واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوّة إلا بالله العليّ العظيم، وصلّى الله وسلّم على نبيّنا محمّد وآله، وأصحابه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف/ أبو عبدالرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر بعد عصر يوم الأحد، 14/ 4/1426هـ الرياض
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি 'ইসলামে জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ' বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি ব্যয়ের খাতসমূহের শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা বর্ণনা করেছি। আল্লাহ তাআলা যে জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সাধারণীকরণ ছাড়াই এর ব্যয়ের খাতগুলোকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন তা স্পষ্ট করেছি। আমি আট প্রকার ব্যয়ের খাতের কথা উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি খাতের শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা এবং প্রতিটি খাতের অংশ বর্ণনা করেছি। কিতাব ও সুন্নাহ (السنة) থেকে এর স্বপক্ষে দলিলসমূহ এবং প্রতিটি খাতে জাকাত প্রদানের ফযিলত আলোচনা করেছি। এরপর দলিলসহ যাদের জাকাত প্রদান করা বৈধ নয় তাদের শ্রেণী ও প্রকারসমূহ উল্লেখ করেছি।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ - আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর ওপর রহম করুন - এর উপস্থাপনা ও অগ্রাধিকারমূলক মতামাত (ترجيحات) থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলকে বরকতময়, উপকারী এবং কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। এটি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকারে আসে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে সেও যেন এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং পরম সম্মানিত আশার স্থল। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লেখক/ আবু আব্দুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি

রিয়াদ, ১৪/০৪/১৪২৬ হিজরি, রবিবার আসর পরবর্তী সময়ে লিখিত।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
مصارف الزكاة في الإسلام

 

‌‌أولاً: المفهوم: لغة واصطلاحاً.

‌‌مفهوم المصارف لغة: مَصْرِفُ: مفرد وجمعه مصارف، وصَرَفَ المال: أنفقه، والصرف: الدفع.

‌‌ومفهوم المصارف اصطلاحاً: الجهات التي تصرف فيها الأشياء: ومنه: مصارف الزكاة: المستحقون لها.

فظهر بذلك: أن مصارف الزكاة: أهل الزكاة ومستحقوها: أي الأصناف الذين تصرف لهم الصدقات المذكورة في قوله تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ … } الآية (1) (2).

والخلاصة: أن مصارف الزكاة: هم أهل الزكاة. ومن العلماء من يعبر عن مصارف الزكاة: بأصناف أهل الزكاة، ومنهم من يقول: الأصناف الذين تدفع إليهم الزكاة، ومنهم من يقول: مصارف الزكاة، وهي كلمات مترادفة معناها واحد (3).

ومنهم من قال: المصارف: جمع مصرف، وهو في اللغة المعدل، قال

--------------------------------------------

(1) انظر: القاموس الفقهي لغة واصطلاحاً، السعدي أبو جيب، ص210، ومعجم لغة الفقهاء، لمحمد رواس، ص403.

وانظر: مصارف الزكاة وتمليكها، لخالد عبدالرزاق العاني، ص21، وص128.

(2) سورة التوبة، الآية: 60.

(3) انظر: منار السبيل، 1/ 266، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 205، والكافي، لابن قدامة، 2/ 193، وكتاب الفروع، لابن مفلح، 4/ 297، ومنتهى الإرادات، للفتوحي، 1/ 515، والمغني لابن قدامة، 4/ 124 - 131، والإقناع لطالب الانتفاع، لموسى بن أحمد الحجاوي، 1/ 467، وشرح الزركشي على مختصر الخرقي، 2/ 446 و448 ومختصر الفقه الإسلامي للتويجري، ص612، والروض المربع، 3/ 208.
ইসলামে জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ (مصارف الزكاة)

 

‌‌প্রথমত: ধারণা: আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً).

‌‌ব্যয়ের খাতের (مصارف) আভিধানিক ধারণা: 'মাসরিফ' (مَصْرِفُ): এটি একবচন এবং এর বহুবচন হলো 'মাসারিফ' (مصارف); 'সারফ' (صَرَفَ) অর্থ সম্পদ ব্যয় করা, আর 'সারফ' (الصرف) অর্থ হলো প্রদান করা।

‌‌ব্যয়ের খাতের (مصارف) পারিভাষিক ধারণা: যে সকল খাতে বা উদ্দেশ্যে বস্তুসমূহ ব্যয় করা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ (مصارف الزكاة): যারা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত (المستحقون)।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে: জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ (مصارف الزكاة) বলতে জাকাতের হকদার (أهل الزكاة) ও পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের বোঝায়: অর্থাৎ সেই সকল শ্রেণী (الأصناف) যাদের জন্য সদকা ব্যয় করা হবে, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: {নিশ্চয়ই সদকা হলো ফকির ও মিসকিনদের জন্য … } আয়াত (১) (২)।

সারকথা: জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ (مصارف الزكاة) হলো জাকাতের হকদারগণ (أهل الزكاة)। ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহকে (مصارف الزكاة) 'জাকাতের হকদারদের শ্রেণীসমূহ' (أصناف أهل الزكاة) হিসেবে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ বলেন: 'যে সকল শ্রেণীকে (الأصناف) জাকাত প্রদান করা হয়', আবার কেউ বলেন: 'জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ' (مصارف الزكاة)। এগুলো সমার্থক (مترادفة) শব্দ যার অর্থ অভিন্ন (৩)।

কেউ কেউ বলেন: 'মাসারিফ' (المصارف) হলো 'মাসরিফ' (مصرف) এর বহুবচন, আভিধানিক (لغة) অর্থে যা পরিবর্তনের স্থান (المعدل), তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কামুস আল-ফিকহি লুগাতান ওয়া ইস্তিলাহান, সা'দি আবু জিব, পৃষ্ঠা ২১০; এবং মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা, মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃষ্ঠা ৪০৩।

আরো দেখুন: মাসারিফুয যাকাত ওয়া তামলিকুহা, খালিদ আব্দুল রাজ্জাক আল-আনি, পৃষ্ঠা ২১ এবং ১২৮।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০।

(৩) দেখুন: মানারুস সাবিল, ১/২৬৬; আশ-শারহুল কাবীর মা'আল মুকনি ওয়াল ইনসাফ, ৭/২০৫; আল-কাফি, ইবনে কুদামা, ২/১৯৩; কিতাবুল ফুরু, ইবনে মুফলিহ, ৪/২৯৭; মুনতাহাল ইরাদাত, আল-ফুতুহি, ১/৫১৫; আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৪/১২৪ - ১৩১; আল-ইকনা লিতালিবিল ইনতিফা, মুসা বিন আহমদ আল-হাজ্জাউই, ১/৪৬৭; শারহুয যারকাশি আলা মুখতাসারিল খারকি, ২/৪৪৬ ও ৪৪৮; মুখতাসারুল ফিকহিল ইসলামি লিত-তুওয়াইজারি, পৃষ্ঠা ৬১২; আর-রওদুল মুরবি, ৩/২০৮।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
تعالى: {وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا} (1) أي معدلاً، والمصرف اسم مكان.

وهو في الاصطلاح: مسلم [أو مؤلف] يصح في الشريعة [الإسلامية] صرف الزكاة إليه (2) والمراد: الأصناف الثمانية الذين تصرف لهم الزكاة.

 

‌‌ثانياً: حصر الله تعالى أهل الزكاة بلا تعميم في العطاء:

الأصناف الذين تدفع إليهم الزكاة ثمانية، ذكرهم الله تعالى في قوله سبحانه: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ الله وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ الله وَالله عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (3) فلا يجوز صرف الزكاة المفروضة إلى غيرهم: من بناء مسجد، أو إصلاح طريق، أو كفن ميت، أو غير ذلك من أعمال البر؛ لأن الله تعالى خص هذه الأصناف الثمانية بها في قوله: {إنَّمَا} وهي للحصر، تثبت المذكور، وتنفي ما عداه (4) قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ولا نعلم خلافاً بين أهل العلم في أنه لا يجوز دفع هذه الزكاة إلى غير هذه الأصناف (5) إلا ما روي عن أنس والحسن)) (6).

--------------------------------------------

(1) سورة الكهف، الآية: 53.

(2) انظر: مصارف الزكاة وتمليكها، ص128.

(3) سورة التوبة، الآية: 60.

(4) الكافي لابن قدامة، 2/ 193، والمغني، 4/ 124، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 7/ 205، ومنار السبيل، 1/ 266، وكتاب الفروع، 4/ 297.

(5) الشرح الكبير، مع المقنع والإنصاف، 7/ 206.

(6) قالا: ما أعطيت في الجسور، والطرق، فهي صدقة ماضية، قال في الشرح الكبير، 7/ 206: والصحيح الأول وانظر: الإجماع لابن المنذر، ص57.
মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী: {এবং তারা তা থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা পাবে না} (১) অর্থাৎ বিমুখ হওয়ার স্থান, আর 'মাসরিফ' হলো একটি স্থানবাচক বিশেষ্য।

আর এটি পারিভাষিক অর্থে: এমন একজন মুসলিম [অথবা যার হৃদয় জয় করা কাম্য] যাকে [ইসলামী] শরয়ি বিধান অনুযায়ী জাকাত প্রদান করা সঠিক; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সেই আটটি শ্রেণি যাদেরকে জাকাত প্রদান করা হয়। (২)

 

‌‌দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ তায়ালা জাকাত গ্রহণের উপযুক্তদের নির্দিষ্ট করেছেন এবং প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা রাখেননি:

যাদেরকে জাকাত প্রদান করা হবে তারা আটটি শ্রেণি, মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে তা উল্লেখ করেছেন: {সাদাকাহ তো কেবল অভাবগ্রস্ত (فقير), সম্বলহীন (مسكين), জাকাত আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা প্রয়োজন তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্ত (غارم) ব্যক্তিদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আবশ্যিক বিধান (فريضة); আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} (৩) সুতরাং নির্ধারিত জাকাত এদের ছাড়া অন্য কোথাও ব্যয় করা বৈধ নয়: যেমন মসজিদ নির্মাণ, রাস্তা মেরামত, মৃত ব্যক্তির কাফন বা এ জাতীয় অন্যান্য নেকির কাজে; কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বাণী {নিশ্চয়ই (إنما)} এর মাধ্যমে এই আটটি শ্রেণির জন্যই একে নির্দিষ্ট করেছেন। আর এই শব্দটি সীমাবদ্ধকরণের (حصر) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা উল্লেখিত বিষয়কে সাব্যস্ত করে এবং তদ্ব্যতীত অন্য সবকিছুকে নাকচ করে। (৪) ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বিদ্বানদের মধ্যে আমরা এমন কোনো মতভেদ জানি না যে, এই আটটি শ্রেণি ছাড়া অন্য কাউকে এই জাকাত প্রদান করা বৈধ নয় (৫); কেবল আনাস এবং হাসান থেকে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে তা ব্যতীত।" (৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫৩।

(২) দেখুন: মাসারিফুয যাকাত ওয়া তামলিকুহা, পৃষ্ঠা ১২৮।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০।

(৪) ইবনে কুদামা রচিত আল-কাফি, ২/১৯৩; আল-মুগনি, ৪/১২৪; আশ-শারহুল কাবির ও আল-ইনসাফ সহ আল-মুকনি, ৭/২০৫; মানারুস সাবিল, ১/২৬৬; কিতাবুল ফুরু, ৪/২৯৭।

(৫) আশ-শারহুল কাবির, আল-মুকনি ও আল-ইনসাফ সহ, ৭/২০৬।

(৬) তারা উভয়ে বলেছেন: কালভার্ট ও রাস্তাঘাটে যা প্রদান করা হয়, তা প্রদানকৃত সদকা হিসেবে গণ্য হবে। আশ-শারহুল কাবির, ৭/২০৬-এ বলা হয়েছে: এবং প্রথম মতটিই সঠিক (صحيح)। আরও দেখুন: ইবনুল মুনযির রচিত আল-ইজমা, পৃষ্ঠা ৫৭।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
ولا يجب على الصحيح تعميم الأصناف بالزكاة؛ لأن النبي * قال لمعاذٍ رضي الله عنه (( … فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم، فتردّ في فقرائهم)) (1) فهو أمر صلى الله عليه وسلم بردها في صنفٍ واحدٍ، والأدلة كثيرة في السنة، فتبيَّن بهذا أن مراد الآية: بيان الصرف دون التعميم؛ ولذلك لا يجب تعميم كل صنف (2).

 

‌‌ثالثاً: أنواع مصارف الزكاة ومفهوم كل مصرف:

‌‌المصرف الأول: الفقراء، وفيه مسائل:

‌‌المسألة الأولى:‌‌ مفهوم الفقير: لغة، واصطلاحاً.

مفهوم الفقير لغة: فعيلٌ بمعنى فاعلٌ، يقال: فَقِرَ يَفْقَرُ، من باب تَعِبَ: إذا قلَّ مالُه، ولم يقولوا: فَقُر بالضم، استغنوا عنه: بافتقر (3)، فالفقير بالكسر: جمعه: فقراء: المحتاج ضد الغني (4).

قال الإمام ابن الأثير رحمه الله: ((قد تكرر ذكر: الفَقْر والفقير، والفُقَراء في الحديث)) وقد اختلف الناس فيه وفي المسكين، فقيل: الفقير الذي لا شيء له، والمسكين الذي له بعض ما يكفيه، وإليه ذهب الشافعي، وقيل فيهما: بالعكس وإليه ذهب أبو حنيفة (5).

 

‌‌مفهوم الفقر اصطلاحاً: من لا يملك نصاباً نامياً فائضاً

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم 395، ومسلم، برقم 19، وتقدم تخريجه.

(2) الكافي، لابن قدامة، 2/ 193 - 194.

(3) المصباح المنير، للفيومي، ص478، مادة (فقر).

(4) معجم لغة الفقهاء، مادة (فقير)، ص317.

(5) النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير، مادة (فقر)، 3/ 462.
বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে জাকাতের ক্ষেত্রে সকল শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলেছিলেন, ((...তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে)) (১)। এতে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল একটি শ্রেণীতে জাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সুন্নাহর মাঝে এ বিষয়ে অনেক দলিল রয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, আয়াতের উদ্দেশ্য হলো ব্যয়ের খাতসমূহ বর্ণনা করা, সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা নয়; এই কারণেই প্রতিটি শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক নয় (২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ এবং প্রতিটি খাতের ধারণা:

‌‌প্রথম খাত: দরিদ্রগণ (فقراء), এতে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে:

‌‌প্রথম মাসয়ালা:‌‌ فقير (ফকির)-এর ধারণা: শাব্দিক ও পারিভাষিক (اصطلاحاً)।

শাব্দিক অর্থে ফকিরের ধারণা: এটি ‘ফায়িল’ (فاعل) অর্থে ‘ফায়িল’ (فعيل) ওজনে ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়: فَقِرَ يَفْقَرُ (ফাকিরা ইয়াফকারু), যা ‘তাবি’ (تعب) এর বাব থেকে এসেছে: যার অর্থ হলো সম্পদ কমে যাওয়া। তারা ‘ফাকুরা’ (فَقُر) পেশ দিয়ে বলেনি, বরং এর পরিবর্তে ‘ইফতাকোরা’ (افتقر) ব্যবহার করেছে (৩)। সুতরাং ‘ফাকির’ (فقير) যার বহুবচন হলো ‘ফুকারা’ (فقراء): এর অর্থ হলো অভাবী, যা ধনীর বিপরীত (৪)।

ইমাম ইবনুল আসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: ((হাদিসে ফাক্র (দারিদ্র্য), ফাকির (দরিদ্র) এবং ফুকারা (দরিদ্রগণ) শব্দগুলোর উল্লেখ বারবার এসেছে))। ফাকির এবং মিসকিন (অভাবী)-এর সংজ্ঞায় মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: ফাকির হলো ওই ব্যক্তি যার কিছুই নেই, আর মিসকিন হলো যার কাছে প্রয়োজনের কিছু অংশ আছে; ইমাম শাফিঈ এই মতের দিকে গিয়েছেন। আবার এই দুইয়ের ক্ষেত্রে এর বিপরীত মতও প্রদান করা হয়েছে, যেটির দিকে আবু হানিফা গিয়েছেন (৫)।

 

‌‌পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে দারিদ্র্যের ধারণা: যার নিকট বর্ধনশীল ও প্রয়োজনাতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ৩৯৫; মুসলিম, হাদিস নং ১৯; এর তাখরিজ (تخريجه) আগে অতিবাহিত হয়েছে।

(২) আল-কাফি, ইবনে কুদামা কৃত, ২/১৯৩ - ১৯৪।

(৩) আল-মিসবাহুল মুনির, ফাইয়ুমি কৃত, পৃষ্ঠা ৪৭৮, মূলশব্দ: (فقر)।

(৪) মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা, মূলশব্দ: (فقير), পৃষ্ঠা ৩১৭।

(৫) আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ইবনুল আসির কৃত, মূলশব্দ: (فقر), ৩/৪৬২।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
عن حاجاته (1) والفقير ضد الغني (2) ، وهو: عبارة عن فقد ما يحتاج إليه، أما فقد ما لا حاجة إليه فلا يسمى فقراً (3).

والصواب أن مفهوم الفقراء اصطلاحاً: هم من لا يجدون شيئاً من الكفاية مطلقاً، أو يجدون بعض الكفاية دون نصفها من كسب وغيره، مما لا يقع موقعاً من الكفاية، وإن تفرَّغ قادر على التكسب للعلم الشرعي لا للعبادة وتعذر أن يجمع بين التكسب والاشتغال بالعلم، أُعطي من الزكاة بقدر حاجته، وحتى لو لم يكن العلم لازماً له، فعُلم بذلك: أن الفقير: هو من لا مال له ولا كسب أصلاً، أو من له مال أو كسب أقل من نصف ما يكفيه لنفسه، ومن تجب عليه نفقته، من غير إسرافٍ ولا تقتير، والفقراء أشد حاجة من المساكين؛ لأن الله تعالى بدأ بهم، والعرب إنما تبدأ بالأهم فالمهم (4)؛ ولأن الله تعالى قال: {أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ} (5) فقد أخبر الله عز وجل أن المساكين لهم سفينة يعملون فيها، ومع ذلك وصفهم بالمسكنة، أما الفقراء فقد لا يكون لهم مال أصلاً، كما قال سبحانه: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ

--------------------------------------------

(1) معجم لغة الفقهاء، لمحمد روَّاس، ص317.

(2) القاموس الفقهي: لغة واصطلاحاً، لسعدي أبو جيب، ص289.

(3) التعريفات، للجرجاني، ص216.

(4) انظر: المغني لابن قدامة، 4/ 123، 127، والشرح الكبير، 7/ 206، والكافي، 2/ 195، ومنار السبيل، 1/ 266، والروض المربع، 3/ 310، ومصارف الزكاة وتمليكها، للدكتور/ خالد بن عبدالرزاق، ص143.

(5) سورة الكهف، الآية: 79.
...তার প্রয়োজনসমূহ থেকে (১)। আর দরিদ্র (فقير) হলো ধনীর বিপরীত (২), আর তা হলো: যা তার প্রয়োজন তা না থাকার নাম; পক্ষান্তরে যা তার প্রয়োজন নেই, তা না থাকাকে দারিদ্র্য (فقر) বলা হয় না (৩)।

সঠিক মত হলো, পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে দরিদ্রদের (فقراء) ধারণা হলো: তারা এমন ব্যক্তি যারা জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম কোনো সংস্থানই পায় না, অথবা উপার্জিত সম্পদ বা অন্য কোনো উৎস থেকে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অর্ধেকেরও কম সংস্থান পায়, যা জীবনধারণের পর্যাপ্ততা হিসেবে গণ্য নয়। যদি উপার্জনে সক্ষম কোনো ব্যক্তি ইবাদতের জন্য নয় বরং শরয়ী জ্ঞান (علم شرعي) অর্জনে নিজেকে পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন এবং তার পক্ষে উপার্জন ও জ্ঞানচর্চার মধ্যে সমন্বয় করা দুঃসাধ্য হয়, তবে তাকে তার প্রয়োজন অনুপাতে জাকাত থেকে প্রদান করা হবে; এমনকি যদি সেই জ্ঞান অর্জন তার জন্য আবশ্যকীয় (لازم) না-ও হয়। এর মাধ্যমে জানা গেল যে: দরিদ্র (فقير) হলো ওই ব্যক্তি যার কোনো সম্পদ নেই এবং যার মৌলিকভাবে কোনো উপার্জনের মাধ্যমও নেই, অথবা যার সম্পদ বা উপার্জনের মাধ্যম তার নিজের ও তার ভরণপোষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অপচয় বা কার্পণ্য ব্যতিরেকে যা প্রয়োজন, তার অর্ধেকেরও কম। দরিদ্রগণ (فقراء) অভাবগ্রস্তদের (مساكين) তুলনায় অধিক অভাবী; কারণ মহান আল্লাহ তাদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন, আর আরবরা সাধারণত অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দ্বারা আলোচনা শুরু করে (৪); এবং যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর ঐ নৌকাটি ছিল কতগুলো অভাবগ্রস্ত (مسكين) লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত} (৫)। এখানে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সংবাদ দিয়েছেন যে, অভাবগ্রস্তদের (مساكين) একটি নৌকা ছিল যাতে তারা কাজ করত, তা সত্ত্বেও তিনি তাদের অভাবগ্রস্ততা (مسكنة) গুণে বিশেষিত করেছেন। পক্ষান্তরে দরিদ্রদের (فقراء) হয়তো কোনো সম্পদই থাকে না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {ঐসব হিজরতকারী দরিদ্রদের (فقراء) জন্য যারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মুজাম লুগাত আল-ফুকাহা, মুহাম্মদ রওয়াস, পৃ. ৩১৭।

(২) আল-কামুস আল-ফিকহী: লুগাতান ওয়া ইসতিলাহান, সা'দী আবু জিব, পৃ. ২৮৯।

(৩) আত-তারিফাত, জুরজানী, পৃ. ২১৬।

(৪) দেখুন: আল-মুগনী ইবনে কুদামা, ৪/১২৩, ১২৭; আশ-শারহুল কাবীর, ৭/২০৬; আল-কাফী, ২/১৯৫; মানারুস সাবীল, ১/২৬৬; আর-রওদুল মুরবি', ৩/৩১০; মাসারিফুয যাকাত ওয়া তামলিকুহা, ডক্টর খালিদ বিন আবদুর রাজ্জাক, পৃ. ১৪৩।

(৫) সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৭৯।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
وَأَمْوَالِهِمْ} (1) وقد يكون لهم المال القليل دون نصف الكفاية، ولكنهم أشد حاجة من المساكين)) (2) (3).

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية: 8.

(2) انظر: الشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 207، وفتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، 10/ 6.

(3) اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في أيهما أشد حاجة، وأسوأ حالاً: الفقير أم المسكين؟ فقال الإمام أحمد رحمه الله، والإمام الشافعي رحمه الله، وغيرهما: إن الفقير أشد حاجة من المسكين؛ لأدلة منها:

1 - قول الله تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ} [سورة التوبة، 60] فبدأ بالفقراء، وإنما يبدأ بالأهم فالأهم؛ لأن الزكاة شرعت لدفع الحاجة، فمن كان أحوج بدئ به.

2 - قول الله تعالى: {أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ} [سورة الكهف، 79] فقد وصف بالمسكنة من له سفينة.

3 - قول الله تعالى: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ} [سورة الحشر، الآية: 8] فقد يكون الفقير لا مال له أصلاً.

4 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: ((ليس المسكين بهذا الطوَّاف الذي يطوف على الناس، فترده التمرة والتمرتان واللقمة واللقمتان، ولكن المسكين الذي لا يجد غنىً يغنيه ولا يُفطن له فيتصدق عليه، ولا يقوم فيسأل الناس [متفق عليه: البخاري، برقم 1479، ومسلم، برقم 1039].

وذهب الإمام أبو حنيفة رحمه الله ومن معه من المالكية وغيرهم إلى أن المسكين أشد حاجة لقول الله تعالى: {أَوْ مِسْكِينًا ذَا مَتْرَبَةٍ} [سورة البلد 16] وهو المطروح على التراب لشدة حاجته.

والصواب أن إطلاق المسكين يدخل فيه الفقير، وإطلاق الفقير يدخل فيه المسكين؛ فإذا اجتمعا افترقا، وإذا افترقا اجتمعاً، مثل: لفظ الإسلام، والإيمان، ثم المسكين ذا متربة قيد بذلك فدل على أنه يوجد مسكين لا بهذه الصفة، واستدل أبو حنيفة رحمه الله أيضاً: بأن الله تعالى جعل الكفارات للمساكين، ولكن نوقش بأن المسكين إذا أطلق دخل فيه الفقير، والله تعالى أعلم. [الشرح الكبير لابن قدامة، 7/ 207 - 210، وحاشية الروض المربع للأساتذة: الطيار والغصن، والمشيقح، 4/ 211 - 212، والموسوعة الفقهية، 23/ 312، والصواب القول الأول: قول الإمام أحمد والشافعي رحمهما الله تعالى.
...এবং তাদের সম্পদ} (১) তাদের সামান্য সম্পদ থাকতে পারে যা প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম, কিন্তু তারা মিসকিনদের চেয়েও বেশি অভাবগ্রস্ত। (২) (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৮।

(২) দেখুন: আশ-শারহুল কাবীর মাআল মুকনি ওয়াল ইনসাফ, ৭/ ২০৭, এবং ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, ১০/ ৬।

(৩) আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, কে বেশি অভাবগ্রস্ত এবং কার অবস্থা বেশি শোচনীয়: ফকির নাকি মিসকিন? ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) এবং ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) ও অন্যান্যরা বলেছেন: ফকির মিসকিনের চেয়েও বেশি অভাবগ্রস্ত; এর সপক্ষে কিছু দলিল হলো:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সদকা (যাকাত) হলো ফকির ও মিসকিনদের জন্য} [সূরা আত-তাওবাহ, ৬০]। এখানে ফকিরদের দিয়ে শুরু করা হয়েছে, আর সাধারণত অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়েই শুরু করা হয়; কারণ অভাব দূর করার জন্যই যাকাত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই যে বেশি অভাবগ্রস্ত তাকে দিয়েই শুরু করা হয়েছে।

২ - মহান আল্লাহর বাণী: {নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে, সেটি ছিল কিছু মিসকিনের, যারা সমুদ্রে কাজ করত} [সূরা আল-কাহাফ, ৭৯]। এখানে যার নৌকা আছে তাকেও মিসকিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {সেই দরিদ্র (ফকির) মুহাজিরদের জন্য যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে} [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৮]। এখানে ফকির এমন হতে পারে যার কোনো সম্পদই নেই।

৪ - আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস: ((মিসকিন সেই ব্যক্তি নয় যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়, যাকে একটি বা দুটি খেজুর অথবা এক বা দুই লোকমা খাবার ফিরিয়ে দেয়। বরং মিসকিন সেই ব্যক্তি যার এমন কোনো সচ্ছলতা নেই যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারে, অথচ তার অভাব সম্পর্কে মানুষের ধারণাও নেই যে তাকে সদকা দেবে, আর সে নিজেও মানুষের কাছে হাত পাতে না। [মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪৭৯, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১০৩৯]।

অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) এবং তাঁর অনুসারী মালিকি ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, মিসকিনই বেশি অভাবগ্রস্ত। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা ধূলিধূসরিত মিসকিন} [সূরা আল-বালাদ, ১৬]। এখানে চরম অভাবের কারণে সে মাটির সাথে মিশে থাকা বা ধূলিধূসরিত।

সঠিক মত হলো, সাধারণভাবে 'মিসকিন' শব্দ ব্যবহার করলে তাতে 'ফকির' অন্তর্ভুক্ত হয় এবং 'ফকির' শব্দ ব্যবহার করলে তাতে 'মিসকিন' অন্তর্ভুক্ত হয়। যখন শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয় তখন তারা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, আর যখন পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তারা একই অর্থ প্রকাশ করে; যেমন: ইসলাম ও ঈমান শব্দ দুটি। আর "ধূলিধূসরিত মিসকিন" কথাটি একটি বিশেষ অবস্থার বর্ণনা, যা প্রমাণ করে যে এমন মিসকিনও আছে যে এই পর্যায়ের অভাবগ্রস্ত নয়। আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) আরও দলিল দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা কাফফারা মিসকিনদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তবে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মিসকিন শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তাতে ফকিরও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। [আশ-শারহুল কাবীর লি ইবনি কুদামা, ৭/ ২০৭ - ২১০, এবং হাশিয়াহ আর-রওদুল মুরবি - তায়ইয়ার, গুসন এবং মুশাইকিহ, ৪/ ২১১ - ২১২, এবং আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/ ৩১২। সঠিক হলো প্রথম মতটি: ইমাম আহমাদ ও শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত করুন)-এর মত।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المسألة الثانية: نصيب الفقراء من الزكاة: يُعطى الفقير من الزكاة ما يُكَمِّلُ له كفايته من النفقة حولاً كاملاً، والمعتبر: كفايته وكفاية من يمونه: من الأكل، والشرب، والسكن، والكسوة، والإعفاف بالزواج إن لم يستطع الزواج إلا بأخذه من الزكاة؛ فإنه يعطى ما يكفيه للمهر ولو كان كثيراً، من غير إسرافٍ ولا تقتير (1).

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((فيأخذ منها - أي الزكاة - كل حول: ما يكفيه إلى مثله - أي إلى الحول الثاني - ويعتبر وجود الكفاية له، ولعائلته، ومن يمونه؛ لأن كل واحد منهم مقصودٌ دفع حاجاته، فيعتبر له ما يعتبر للمنفرد)) وقال: (( … وهذا؛ لأن الدفع إنما هو إلى العيال، وهذا نائب عنهم في الأخذ)) (2).

قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((الفقراء والمساكين: وهم الذين لا يجدون كفايتهم، وكفاية عائلاتهم: لا من نقود حاضرةٍ، ولا من رواتب ثابتة، ولا من صناعة قائمة، ولا من غلةٍ كافية، ولا من نفقاتٍ على غيرهم واجبة، فهم في حاجة إلى مواساةٍ ومعونةٍ، قال العلماء: فيعطون من الزكاة ما يكفيهم وعائلاتهم لمدة سنة كاملة، حتى يأتي حول الزكاة مرة ثانية، ويُعطى الفقير لزواجٍ يحتاج إليه ما يكفي لزواجه، [ويعطى] طالب العلم [الشرعي] الفقير؛ لشراء كتبٍ يحتاجها، ويعطى من له راتب لا يكفيه وعائلته من الزكاة ما يكمل كفايتهم؛ لأنه ذو حاجة، وأما من كان له كفاية فلا يجوز إعطاؤه من الزكاة وإن سألها، بل

--------------------------------------------

(1) انظر: الشرح الممتع، لابن عثيمين، 6/ 220.

(2) المغني، لابن قدامة، 4/ 123.
‌‌দ্বিতীয় মাসআলা: জাকাতের ক্ষেত্রে দরিদ্রদের অংশ: একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে জাকাত থেকে ততটুকু প্রদান করা হবে, যা তার পুরো বছরের জীবনধারণের ব্যয় নির্বাহে পর্যাপ্ত হয়। এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড হলো: তার নিজের এবং তার ভরণপোষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয়, আবাসন, বস্ত্র এবং বিবাহের মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা—যদি জাকাত গ্রহণ ব্যতীত তার পক্ষে বিবাহ করা সম্ভব না হয়। তাকে মোহরানার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে, যদিও তা অধিক হয়, তবে তা অপব্যয় কিংবা কার্পণ্য ব্যতিরেকে হতে হবে (১)।

ইমাম ইবনে কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি জাকাত থেকে প্রতি বছর নিজের এবং পরবর্তী বছর পর্যন্ত সময়ের পর্যাপ্ত সংস্থান গ্রহণ করবেন। এক্ষেত্রে তার নিজের, তার পরিবার ও তার পোষ্যদের পর্যাপ্ততা বিবেচনা করা হবে; কারণ তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন পূরণ করাই এখানে উদ্দেশ্য। অতএব, একজন একাকী ব্যক্তির ক্ষেত্রে যা বিবেচনা করা হয়, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেও তাই বিবেচনা করা হবে।" তিনি আরও বলেন: " … আর এটি এ কারণে যে, জাকাত মূলত পরিবারের সদস্যদেরই প্রদান করা হয়, আর তিনি (পরিবারের প্রধান) তা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হন" (২)।

আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "দরিদ্র ও অভাবী: তারা হলো সেই সব ব্যক্তি যারা নিজেদের ও তাদের পরিবারের পর্যাপ্ত সংস্থান পায় না; চাই তাদের নিকট নগদ অর্থ না থাকুক, কোনো স্থায়ী বেতন না থাকুক, কোনো প্রতিষ্ঠিত পেশা না থাকুক, কোনো পর্যাপ্ত ফলন না থাকুক, কিংবা অন্য কারো ওপর তাদের ভরণপোষণ ওয়াজিব না হোক। তারা সহানুভূতি ও সাহায্যের মুখাপেক্ষী। উলামায়ে কেরাম বলেন: তাদেরকে জাকাত থেকে পুরো এক বছর তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে, যেন পুনরায় জাকাতের সময় উপস্থিত হয়। দরিদ্র ব্যক্তিকে তার প্রয়োজনীয় বিয়ের খরচ বাবদ পর্যাপ্ত অর্থ প্রদান করা হবে। [শরিয়ত নির্দেশিত] ইলম অন্বেষণকারী দরিদ্র ছাত্রকে তার প্রয়োজনীয় কিতাবাদি ক্রয়ের জন্য অর্থ প্রদান করা হবে। যার বেতন তার নিজের ও পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তাকে জাকাত থেকে সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে যা তার পর্যাপ্ততা পূর্ণ করে; কারণ সে অভাবী। তবে যার পর্যাপ্ত সচ্ছলতা রয়েছে, তাকে জাকাত থেকে প্রদান করা বৈধ নয়, যদিও সে তা প্রার্থনা করে। বরং..."

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন, ৬/২২০।

(২) আল-মুগনি, ইবনে কুদামাহ, ৪/১২৩।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
الواجب نصحه وتحذيره من سؤال ما لا يحلُّ له … )) (1) (2).

--------------------------------------------

(1) مجالس شهر رمضان، للعلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله، ص81 - 82، وانظر: الشرح الممتع له، 4/ 219 - 223.

(2) اختلف العلماء رحمهم الله في المقدار الذي يعطى للفقير والمسكين من الزكاة على النحو الآتي:

القول الأول: يعطى الفقير كفايته، وكفاية من يعولهم سنة كاملة، وبه قال الحنابلة، والمالكية، وأحد قولي الشافعي. [وتقدم تفصيل ذلك في متن هذه الرسالة].

القول الثاني: يُعطى كلٌّ من الفقير والمسكين كفاية العمر، وهو ما تحصل به الكفاية على الدوام. وبه قال الشافعية في الأصح عندهم، وبه قال بعض الحنابلة، وهو رواية عن الإمام أحمد، وذكر النووي أنه مذهب الشافعي.

القول الثالث: لا يجوز أن يُعطى الرجل من الزكاة أكثر من خمسين درهماً، وكذلك يعطى كل من تحت نفقته كل واحد مثل ذلك، ولا يتجاوز ما يعطى كل واحد منهم خمسين درهماً. وهو رواية عن أحمد، ولكن رُدَّ بأن حديث ابن مسعود في هذه المسألة ضعيف.

القول الرابع: لا تجوز الزيادة في العطاء على نصاب النقود: أي ما يساوي مائتي درهمٍ، فاضلاً عما يحتاج إليه من مسكن، وخادم، وأثاث، وفرس، وإذا كان له من يعوله فيأخذ كل واحد منهم مقدار النصاب، وهذا مذهب أبي حنيفة رحمه الله.

والصواب القول الأول: هو أن الفقير أو المسكين يُعطى ما يكفيه ويكفي من ينفق عليهم سنة كاملة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم ((حبس لأهله قوت سنة)) [متفق عليه: البخاري، كتاب النفقات، باب حبس الرجل قوت سنة على أهله، برقم 5357، ومسلم، كتاب الجهاد والسير، باب حكم الفيء، برقم 1756، ولفظ مسلم هنا: ((كانت أموال بني النضير مما أفاء الله على رسوله، مما لم يوجف عليه المسلمون بخيلٍ ولا ركابٍ، فكانت للنبي صلى الله عليه وسلم خاصة، فكان ينفق على أهله نفقة سنة [أي يعزل لهم نفقة سنة، ولكنه كان ينفقه قبل انقضاء السنة في وجوه الخير] وما بقي يجعله في الكراع [أي الدواب التي تصلح للحرب] والسلاح وعدة في سبيل الله [انظر: المغني، لابن قدامة، 4/ 117 - 130، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 205 - 222، ومصارف الزكاة وتمليكها، ص168 - 185، والموسوعة الفقهية الكويتية، 23/ 316 - 317، وكتاب الفروع لابن مفلح، 4/ 297 - 330، والكافي لابن قدامة، 2/ 195، والشرح الممتع، 6/ 320 – 322، ومنتهى الإرادات، 1/ 515، وشرح الزركشي على مختصر الخرقي، 2/ 442 - 450، وحاشية الروض المربع، للأساتذة بإشراف الطيار، 4/ 213، والمجموع للنووي، 6/ 203، و 6/ 199].
কর্তব্য হলো তাকে নসিহত করা এবং তার জন্য যা চাওয়া হালাল নয় তা থেকে তাকে সতর্ক করা … )) (১) (২)।

--------------------------------------------

(১) মাজালিসু শাহরি রমাদান, আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রহিমাহুল্লাহ, পৃষ্ঠা ৮১ - ৮২, এবং দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি, ৪/ ২১৯ - ২২৩।

(২) জাকাত থেকে ফকির ও মিসকিনকে কী পরিমাণ প্রদান করা হবে সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম রহিমাহুল্লাহ নিম্নোক্তভাবে মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত: ফকিরকে তার নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের পুরো এক বছরের পর্যাপ্ত ভরণপোষণ দেওয়া হবে। হাম্বলি ও মালিকি মাযহাবের আলেমগণ এবং ইমাম শাফিয়ির একটি মত এটাই। [এই রিসালার মূল পাঠ্যে এর বিস্তারিত বিবরণ গত হয়েছে]।

দ্বিতীয় মত: ফকির ও মিসকিন প্রত্যেককে সারা জীবনের পর্যাপ্ত ভরণপোষণ দেওয়া হবে, যা দ্বারা স্থায়ীভাবে সচ্ছলতা অর্জিত হয়। শাফেয়ি মাযহাবের অধিক বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী এটিই সঠিক এবং কিছু হাম্বলি আলেমও এই মত ব্যক্ত করেছেন; এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা এবং ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন যে এটিই শাফিয়ি মাযহাব।

তৃতীয় মত: কোনো ব্যক্তিকে জাকাত থেকে পঞ্চাশ দিরহামের বেশি দেওয়া জায়েজ নয়। একইভাবে তার ভরণপোষণে থাকা প্রত্যেকেও একই পরিমাণ পাবে এবং তাদের কাউকেই পঞ্চাশ দিরহামের বেশি দেওয়া হবে না। এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা, তবে এটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কারণ এই বিষয়ে ইবনে মাসউদের হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)।

চতুর্থ মত: মুদ্রার নিসাবের অতিরিক্ত প্রদান করা জায়েজ নয়; অর্থাৎ দুইশত দিরহামের সমপরিমাণ, যা তার প্রয়োজনীয় বাসস্থান, সেবক, আসবাবপত্র এবং বাহন বাদে অতিরিক্ত থাকবে। আর যদি তার ওপর নির্ভরশীল কেউ থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকে নিসাব পরিমাণ গ্রহণ করতে পারবে। এটি ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ-এর মাযহাব।

সঠিক মত হলো প্রথমটি: তা হলো ফকির বা মিসকিনকে তার নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের পুরো এক বছরের পর্যাপ্ত ভরণপোষণ দেওয়া হবে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ((তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খাবার সঞ্চয় করে রাখতেন)) [ঐক্যমতে পৌঁছেছেন (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুন নাফাকাত, পরিচ্ছেদ: ব্যক্তির পরিবারের জন্য এক বছরের খাবার জমা রাখা, হাদিস নম্বর ৫৩৫৭, এবং মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, পরিচ্ছেদ: ফায়-এর বিধান, হাদিস নম্বর ১৭৫৬; আর এখানে মুসলিমের শব্দ হলো: ((বনু নাজিরের সম্পদ ছিল আল্লাহ তাঁর রাসুলকে যা 'ফায়' হিসেবে দান করেছিলেন, যার জন্য মুসলমানদের ঘোড়া বা উট দৌড়াতে হয়নি। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। তিনি তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের ভরণপোষণ ব্যয় করতেন [অর্থাৎ এক বছরের ভরণপোষণ আলাদা করে রাখতেন, কিন্তু বছর শেষ হওয়ার আগেই তা বিভিন্ন কল্যাণের পথে ব্যয় করে ফেলতেন] এবং যা অবশিষ্ট থাকত তা তিনি যুদ্ধাশ্ব [অর্থাৎ যুদ্ধের উপযুক্ত পশুসমূহ], অস্ত্রশস্ত্র ও আল্লাহর পথে যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে প্রস্তুত রাখতেন।)) [দেখুন: আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৪/ ১১৭ - ১৩০, এবং আশ-শারহুল কাবীর মা'আল মুকনি ওয়াল ইনসাফ, ৭/ ২০৫ - ২২২, এবং মাসারিফুয যাকাত ওয়া তামলিকুহা, পৃষ্ঠা ১৬৮ - ১৮৫, এবং আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, ২৩/ ৩১৬ - ৩১৭, এবং কিতাবুল ফুরু ইবনে মুফলিহ, ৪/ ২৯৭ - ৩৩০, এবং আল-কাফি ইবনে কুদামা, ২/ ১৯৫, এবং আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ৩২০ – ৩২২, এবং মুনতাহাল ইরাদাত, ১/ ৫১৫, এবং শারহুয যারকাশি আলা মুখতাসারিল খারকি, ২/ ৪৪২ - ৪৫০, এবং হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি, তায়্যারের তত্ত্বাবধানে একদল শিক্ষক কর্তৃক সম্পাদিত, ৪/ ২১৩, এবং আল-মাজমু নববী, ৬/ ২০৩, এবং ৬/ ১৯৯]।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وإذا كان للمرأة الفقيرة زوج موسر ينفق عليها لم يجز دفع الزكاة إليها؛ لأن الكفاية حاصلةٌ لها بما يصلها من النفقة الواجبة، فأشبهت من له عقار يستغني بأجرته، وإن لم ينفق عليها وتعذر ذلك جاز الدفع إليها، كما لو تعطلت منفعة العقار، وقد نصَّ أحمد على هذا)) (1).

وقد يملك الإنسان نصاباً من أي نوع من أنواع المال - ولكن هذا المال لا يقوم بكفايته؛ لكثرة عياله، أو لغلاء السعر - فهو غني من حيث إنه يملك نصاباً فتجب الزكاة في ماله، وفقير من حيث إن ما يملكه لا يقوم بكفايته، فيُعطى من الزكاة كالفقير - ما يكمِّل له كفايته.

مثال ذلك: رجل عنده عشرون ألف ريال، ولكن له أربع زوجات، وله من كل زوجة عشرة أولاد، وله أب وأم تحت رعايته ينفق على الجميع، والسكن بالإيجار، وهذا المبلغ لا يقوم بكفايته سنة كاملة، فله أن يأخذ ما يكمل كفايته لمدة عام.

قال ابن قدامة رحمه الله: ((قال الميموني: ذاكرت أبا عبدالله - أحمد بن حنبل - فقلت: قد يكون للرجل: الإبل، والغنم، تجب فيها الزكاة، وهو فقير، ويكون له أربعون شاة، وتكون له الضيعة - المزرعة - لا تكفيه، فَيُعطى من الزكاة؟ قال: ((نعم)). وذكر قول عمر: أعطوهم وإن راحت عليهم الإبل كذا وكذا)) (2) … وقال في رواية محمد بن الحكم: إذا كان له

--------------------------------------------

(1) المغني، لابن قدامة، 4/ 123، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 7/ 286. وكتاب الفروع لابن مفلح، 4/ 299، ومجموع فتاوى ابن باز، 14/ 269 - 270.

(2) أخرجه ابن أبي شيبة، كتاب الزكاة، باب من قال ترد الصدقة في الفقراء، 3/ 205.
ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((“যদি কোনো দরিদ্র নারীর এমন একজন সচ্ছল স্বামী থাকে যে তার ভরণপোষণ বহন করে, তবে তাকে জাকাত প্রদান করা বৈধ নয়; কারণ ওয়াজিব ভরণপোষণের মাধ্যমেই তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সে ওই ব্যক্তির সদৃশ যার এমন স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে যার ভাড়া দিয়ে সে সচ্ছল থাকে। আর যদি স্বামী তার ভরণপোষণ না দেয় এবং তা পাওয়া অসম্ভব হয়, তবে তাকে জাকাত প্রদান করা বৈধ, যেমনটি স্থাবর সম্পত্তির উপযোগিতা নষ্ট হয়ে গেলে হয়ে থাকে। ইমাম আহমাদ এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।”)) (১)

মানুষ কখনো যেকোনো প্রকার সম্পদের নিসাব পরিমাণ মালিক হতে পারে—কিন্তু এই সম্পদ তার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট নয়; তার পরিবারের আধিক্য কিংবা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে। এমতাবস্থায় সে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার দিক থেকে ধনী, ফলে তার সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়; কিন্তু যা তার মালিকানাধীন রয়েছে তা তার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট না হওয়ার দিক থেকে সে দরিদ্র। এমতাবস্থায় তাকে দরিদ্র ব্যক্তির ন্যায় জাকাত প্রদান করা হবে—যা তার প্রয়োজনীয় অভাব পূরণ করবে।

এর উদাহরণ: এক ব্যক্তির কাছে বিশ হাজার রিয়াল আছে, কিন্তু তার চারজন স্ত্রী এবং প্রত্যেক স্ত্রীর দশজন করে সন্তান আছে। তার অধীনে তার পিতা ও মাতা রয়েছেন যাদের তিনি ভরণপোষণ করেন এবং বাসস্থানটি ভাড়ায় চালিত। এই পরিমাণ অর্থ এক বছরের জন্য তার প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। সুতরাং এক বছরের জন্য তার যতটুকু প্রয়োজন তা জাকাত থেকে গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ।

ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((“আল-মাইমুনি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ—আহমাদ বিন হাম্বল—এর সাথে আলোচনা করছিলাম। আমি বললাম: কখনো কোনো ব্যক্তির উট ও বকরি থাকতে পারে যাতে জাকাত ওয়াজিব হয়, অথচ সে দরিদ্র। আবার কারো চল্লিশটি বকরি থাকতে পারে এবং তার কৃষি খামার থাকতে পারে যা তার জন্য যথেষ্ট নয়, তাকে কি জাকাত দেওয়া হবে? তিনি বললেন: “হ্যাঁ”। এবং তিনি ওমরের (রা.) উক্তিটি উল্লেখ করেন: ‘তোমরা তাদের প্রদান করো যদিও তাদের কাছে এত এত সংখ্যক উট বিচরণ করে ফিরে আসে’।”)) (২) … এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হাকামের বর্ণনা (رواية)-এ বলেছেন: যদি তার থাকে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি, ইবনে কুদামা কৃত, ৪/১২৩; এবং আল-মুকনি মা'আশ শারহিল কাবির ওয়াল ইনসাফ, ৭/২৮৬; এবং কিতাবুল ফুরু, ইবনে মুফলিহ কৃত, ৪/২৯৯; এবং মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/২৬৯-২৭০।

(২) এটি ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন (أخرجه), কিতাবুজ জাকাত, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি বলেছে সদকা দরিদ্রদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, ৩/২০৫।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
عقار يستغله، أو ضيعة تساوي عشرة آلاف أو أقل أو أكثر لا تقيمه يأخذ من الزكاة، وهذا قول الشافعي (1)؛ لأنه لا يملك ما يغنيه، ولا يقدر على كسب ما يكفيه، فجاز له الأخذ من الزكاة، كما لو كان ما يملكه لا تجب فيه الزكاة؛ لأن الفقر عبارة عن الحاجة، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى الله} (2) أي المحتاجون إليه)) (3)، والله تعالى أعلم (4).

--------------------------------------------

(1) وقال أصحاب الرأي: ليس له أن يأخذ منها إذا ملك نصاباً زكوياً؛ لأنه تجب عليه الزكاة فلم تجب له، للخبر [المغني لابن قدامة، 4/ 122].

(2) سورة فاطر، الآية: 15.

(3) المغني لابن قدامة، 4/ 121 - 122.

(4) اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في حدِّ الغنى المانع من أخذ الزكاة على أقوال:

القول الأول: قول الجمهور: من المالكية، والشافعية، ورواية عن الإمام أحمد: أن الغنى ما تحصل به الكفاية، فإذا لم يكن محتاجاً حرمت عليه الصدقة، وإن لم يملك شيئاً، وإن كان محتاجاً حلَّت له الصدقة وإن كان يملك نصاباً أو نُصُباً، والأثمان وغيرها في هذا سواء؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم لقبيصة: ((لا تحل المسألة إلا لأحد ثلاثة: رجل أصابته فاقة حتى يقول ثلاثة من ذوي الحجا من قومه: قد أصابت فلاناً فاقة، فحلت له المسألة، حتى يصيب قواماً من عيش أو سداداً من عيش [مسلم، برقم 1044] فمدَّ إباحة المسألة إلى وجود إصابة القوام أو السداد؛ لأن الحاجة هي الفقر، والغنى ضدها.

القول الثاني: رواية عن الإمام أحمد وهي الظاهر من مذهبه: أن من ملك خمسين درهماً أو قيمتها من الذهب، أو وجد ما تحصل به الكفاية على الدوام: من كسب، أو تجارة أو عقار، أو نحو ذلك، فهو غني لا يحل دفع الزكاة إليه. أما إذا ملك من العروض، أو السائمة، أو العقار ما لا تحصل به الكفاية لم يكن غنيًّا، حتى ولو ملك نصباً، ففي هذه الرواية: التفريق بين الأثمان وغيرها.

القول الثالث: قول الحسن، وأبي عبيد: الغِنى ملك أوقية، وهي: أربعون درهماً.

القول الرابع: قول أبي حنيفة: الغنى الموجب للزكاة هو المانع من أخذها، فمن ملك نصاباً من أي أنواع المال فهو غني لا تدفع إليه الزكاة حتى ولو كان لا يكفيه.

والصواب إن شاء الله: القول الأول، والله أعلم.

[المغني لابن قدامة، 4/ 118 - 121، والموسوعة الفقهية الكويتية، 23/ 313، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 216 - 221، ومصارف الزكاة، ص166 - 191.
এমন কোনো স্থাবর সম্পত্তি যা থেকে সে আয় করে, অথবা এমন কোনো জমি যার মূল্য দশ হাজার বা তার কম বা বেশি কিন্তু তা তাকে স্বাবলম্বী করে না, তবে সে জাকাত গ্রহণ করতে পারবে। এটি ইমাম শাফেয়ীর অভিমত (১); কারণ সে এমন কিছুর মালিক নয় যা তাকে অভাবমুক্ত করে এবং সে তার পর্যাপ্ত জীবিকা উপার্জনেও সক্ষম নয়। ফলে তার জন্য জাকাত গ্রহণ করা বৈধ, যেমনটি বৈধ হতো যদি তার মালিকানাধীন সম্পদে জাকাত ওয়াজিব না হতো; কারণ দারিদ্র্য মূলত অভাবেরই নামান্তর। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মানুষ! তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী} (২) অর্থাৎ তাঁর প্রতি অভাবী (৩), আর আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) আর রায়পন্থী আলেমগণ (أصحاب الرأي) বলেছেন: যদি কেউ জাকাতযোগ্য নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে তার জন্য জাকাত গ্রহণ করা বৈধ নয়; কারণ যার ওপর জাকাত ওয়াজিব, তার জন্য জাকাত গ্রহণ জায়েজ নয়, যা একটি সংবাদের (خبر) মাধ্যমে জানা যায়। [ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি, ৪/১২২]।

(২) সূরা ফাতির, আয়াত: ১৫।

(三) ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি, ৪/১২১ - ১২২।

(৪) জাকাত গ্রহণে বাধা প্রদানকারী ধনাঢ্যতার সীমা নির্ধারণে আলেমগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কয়েকটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত: যা মালেকী, শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: ধনাঢ্যতা হলো যা দ্বারা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়। সুতরাং যদি কেউ অভাবী না হয়, তবে তার জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম, যদিও সে কোনো কিছুর মালিক না হয়। আর যদি সে অভাবী হয়, তবে তার জন্য সদকা গ্রহণ করা হালাল, যদিও সে নেসাব বা প্রচুর সম্পদের মালিক হয়, এক্ষেত্রে নগদ অর্থ বা অন্য কিছু সবই সমান; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবিসাহকে বলেছিলেন: "তিন শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ নয়: এমন ব্যক্তি যে চরম দারিদ্র্যে আক্রান্ত হয়েছে, এমনকি তার গোত্রের তিনজন বিচক্ষণ ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, অমুক ব্যক্তি দারিদ্র্যে নিপতিত হয়েছে, তবে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত বা সুসংগত জীবিকা লাভ করে [মুসলিম, নম্বর ১০৪৪]। এখানে তিনি সাহায্য প্রার্থনার বৈধতাকে পর্যাপ্ত জীবিকা অর্জন পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন; কারণ অভাবই হলো দারিদ্র্য, আর ধনাঢ্যতা হলো তার বিপরীত।

দ্বিতীয় মত: ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা (رواية), যা তাঁর মাযহাবের স্পষ্ট অভিমত: যে ব্যক্তি পঞ্চাশ দিরহাম বা সমমূল্যের স্বর্ণের মালিক হবে, অথবা যার স্থায়ীভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে—যেমন: উপার্জন, ব্যবসা বা স্থাবর সম্পত্তি ইত্যাদি—সে ধনাঢ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে জাকাত দেওয়া বৈধ হবে না। তবে যদি সে এমন আসবাবপত্র, গবাদি পশু বা স্থাবর সম্পত্তির মালিক হয় যা দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রয়োজন পূরণ হয় না, তবে সে ধনাঢ্য হিসেবে গণ্য হবে না, যদিও সে নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়। এই বর্ণনাতে (رواية) নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।

第三 মত: হাসান ও আবু উবাইদের মত: ধনাঢ্যতা হলো এক উকিয়া পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া, যা হলো চল্লিশ দিরহাম।

চতুর্থ মত: আবু হানিফার মত: যে ধনাঢ্যতা জাকাত ওয়াজিব করে, তাই জাকাত গ্রহণে বাধা প্রদানকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি যেকোনো ধরনের মালের নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, সে ধনাঢ্য এবং তাকে জাকাত প্রদান করা যাবে না, যদিও তা তার জন্য পর্যাপ্ত না হয়।

ইনশাআল্লাহ সঠিক মত হলো: প্রথম মতটি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

[ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি, ৪/১১৮ - ১২১; কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষ, ২৩/৩১৩; আল-মুজনি ও আল-ইনসাফ সহ আশ-শারহুল কাবীর, ৭/২১৬ - ২২১; মাসারিফুয যাকাত, পৃষ্ঠা ১৬৬ - ১৯১]।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المسألة الثالثة: ما جاء من الآيات القرآنية، التي ظاهرها الحث والترغيب في الإحسان إلى الفقراء وإعطائهم حقوقهم على النحو الآتي:

1 - قال الله تعالى: {الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَالله يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَالله وَاسِعٌ عَلِيمٌ} (1).

2 - قال الله عز وجل: {إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَالله بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} (2).

3 - قال الله تبارك وتعالى: {لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ الله لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ الله بِهِ عَلِيمٌ} (3).

4 - وقال سبحانه: {وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ} (4).

5 - وقال تعالى: {إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاله أَوْلَى بِهِمَا} (5).

6 - وقال تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ … } (6).

7 - وقال تعالى: {وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 268.

(2) سورة البقرة الآية: 271.

(3) سورة البقرة الآية: 273.

(4) سورة النساء، الآية: 6.

(5) سورة النساء، الآية: 135.

(6) سورة التوبة، الآية: 60.
‌তৃতীয় মাসআলা: কুরআনের সেই সকল আয়াত যা বাহ্যিকভাবে দরিদ্রদের প্রতি অনুগ্রহ করা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রদানের ব্যাপারে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে, তা নিম্নরূপ:

১ - আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়; আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।} (১)।

২ - মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান-সদকা কর, তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপন কর এবং অভাবগ্রস্তদের দান কর, তবে তা তোমাদের জন্য আরও বেশি কল্যাণকর এবং তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।} (২)।

৩ - বরকতময় মহান আল্লাহ বলেছেন: {(সদকা) সেই অভাবগ্রস্তদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে আবদ্ধ যে, তারা জমিনে চলাফেরা (উপার্জন) করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা তাদের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে; তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে যাচ্ঞা করে না। আর তোমরা যে ধন-সম্পদ ব্যয় কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবশ্যই সম্যক পরিজ্ঞাত।} (৩)।

৪ - এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: {আর যে সম্পদশালী সে যেন বিরত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে।} (৪)।

৫ - এবং তিনি তাআলা বলেছেন: {যদি সে বিত্তবান হয় কিংবা দরিদ্র, তবে আল্লাহই তাদের উভয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী।} (৫)।

৬ - এবং তিনি তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই সদকা কেবল অভাবগ্রস্ত ও মিসকিনদের জন্য...} (৬)।

৭ - এবং তিনি তাআলা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দাও এবং তোমাদের দাসদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল...}

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬৮।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭১।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৩।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬।

(৫) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৫।

(৬) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ الله مِنْ فَضْلِهِ والله وَاسِعٌ عَلِيم} (1).

8 - وقال تعالى: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ الله فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ} (2)

9 - قال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى الله والله هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} (3).

10 - قال سبحانه وتعالى: {فَمِنْكُمْ مَنْ يَبْخَلُ وَمَنْ يَبْخَلْ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَنْ نَفْسِهِ والله الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاء} (4).

11 - وقال سبحانه وتعالى: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ الله وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ الله وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} (5) (6).

 

‌‌والمصرف الثاني: المساكين وفيه مسائل:

‌‌المسألة الأولى:‌‌ مفهوم المساكين لغة واصطلاحاً:

مفهوم المساكين لغةً: مفرده مسكين وجمعه مساكين، يقال: ((سكن المتحرك سكوناً: أي ذهبت حركته، ويتعدى بالتضعيف فيقال:

--------------------------------------------

(1) سورة النور، الآية: 32.

(2) سورة الحج الآية: 28.

(3) سورة فاطر الآية: 15.

(4) سورة محمد، الآية: 38.

(5) سورة الحشر الآية: 8

(6) وانظر: سورة آل عمران، الآية: 182، وسورة القصص، الآية: 24.
...এবং তোমাদের দাসীগণ; তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ (১)।

৮ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তারা তাদের জন্য রাখা কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সেইসব চতুষ্পদ জন্তুর ওপর যা তিনি তাদের রিযিক হিসেবে দান করেছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ অভাবী ব্যক্তিকে আহার করাও} (২)

৯ - তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {হে মানুষ! তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, চিরপ্রশংসিত} (৩)।

১০ - তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ কৃপণতা করে; আর যে কৃপণতা করে, সে তো মূলত নিজের প্রতিই কৃপণতা করে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবী} (৪)।

১১ - এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {সেই অভাবী মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী} (৫) (৬)।

 

‌‌দ্বিতীয় খাত: মিসকিনগণ; আর এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

‌‌প্রথম মাসআলা:‌‌ আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মিসকিনের ধারণা:

আভিধানিক অর্থে মিসকিনের ধারণা: এর একবচন ‘মিসকিন’ এবং বহুবচন ‘মাসা-কীন’। বলা হয়: "গতিশীল বস্তু স্থির (سكونا) হয়েছে: অর্থাৎ তার গতি চলে গেছে; আর তা দ্বিত্বকরণ (تضعيف)-এর মাধ্যমে সকর্মক হয়, তখন বলা হয়:

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩২।

(২) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ২৮।

(৩) সূরা ফাতির, আয়াত: ১৫।

(৪) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩৮।

(৫) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৮।

(৬) এবং দেখুন: সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮২, এবং সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৪।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
(سكَّنته) والمسكين مأخوذ من هذا؛ لسكونه إلى الناس، وهو بفتح الميم في لغة بني أسد، وبكسرها عند غيرهم)).

والمسكين أيضاً: الذليل المقهور وإن كان غنيًّا، قال الله تعالى:

{وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ} (1) (2).

والأصل في المسكين: أنه من المسكنة والخضوع والذل (3). قال الإمام ابن الأثير رحمه الله تعالى: ((وقد تكرر في الحديث ذكر: المسكين، والمساكين، والمسكنة، والتمسكن وكلها يدور معناها على: الخضوع، والذلة، وقلة المال، والحالة السيئة، واستكان: إذا خضع، والمسكنة: فقر النفس، وتمسكن: إذا تشبَّه بالمساكين، وهو جمع المسكين، وهو الذي لا شيء له، وقيل: هو الذي له بعض الشيء، وقد تقع المسكنة على الضعف)) (4).

 

‌‌مفهوم المساكين اصطلاحاً: المساكين: هم الذين يجدون أكثر الكفاية أو نصفها: من كسب أو غيره، مما لا يقع موقعاً من الكفاية، فعُلم بذلك أن المسكين: هو من له مال يبلغ نصف كفايته فأكثر، لكنه لا يكفيه لنفسه ومن تجب عليه نفقته من غير إسراف ولا تقتير، والمسكين أحسن حالاً من الفقير؛ لأن الله تعالى قال: {أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 112.

(2) المصباح المنير في غريب الشرح الكبير، للرافعي، تأليف أحمد بن محمد الفيومي، 1/ 283.

(3) لسان العرب، لابن منظور، باب النون، فصل السين، 3/ 216.

(4) النهاية في غريب الحديث والأثر، لأبي السعادات المبارك بن محمد الجزري، باب السين مع الكاف، مادة (سكن)، 2/ 385.
((আমি তাকে শান্ত করেছি) আর মিসকিন শব্দটি এখান থেকেই গৃহীত হয়েছে; মানুষের প্রতি তার স্থিরতা বা মুখাপেক্ষিতার কারণে। বনু আসাদ গোত্রের ভাষায় এটি 'মিম' বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে এবং অন্যদের নিকট কাসরা (যের) যোগে পঠিত হয়)।

মিসকিন তাকেও বলা হয় যে অপমানিত ও পর্যুদস্ত, যদিও সে সম্পদশালী হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{আর তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য (مسكنة) চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে} (১) (২)।

আর মিসকিনের মূল অর্থ হলো: এটি মূলত দারিদ্র্য (مسكنة), বিনয় ও হীনতা থেকে উৎসারিত (৩)। ইমাম ইবনুল আসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((হাদিসে মিসকিন, মাসাকিন, মাসকানাহ এবং তামাসকুন শব্দগুলোর উল্লেখ বারবার এসেছে। এগুলোর সকল অর্থের কেন্দ্রবিন্দু হলো: বিনয়, হীনতা, সম্পদের স্বল্পতা এবং শোচনীয় অবস্থা। 'ইস্তাকানা' (استكان) শব্দটি তখন ব্যবহৃত হয় যখন কেউ বিনয় প্রকাশ করে। আর 'মাসকানাহ' হলো অন্তরের দারিদ্র্য। 'তামাসকানা' (تمسكن) বলা হয় যখন কেউ মিসকিনদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। এটি (মাসাকিন) হলো মিসকিন শব্দের বহুবচন। আর মিসকিন সে-ই যার কিছুই নেই; আবার বলা হয়েছে: যার সামান্য কিছু আছে। কখনো কখনো 'মাসকানাহ' শব্দটি দুর্বলতা (ضعف) অর্থেও ব্যবহৃত হয়)) (৪)।

 

‌‌পরিভাষায় মাসাকিন-এর ধারণা: মাসাকিন হলেন তারা, যারা তাদের অধিকাংশ প্রয়োজনীয়তা বা অর্ধেক প্রয়োজনীয়তা পূরণের মাধ্যম খুঁজে পান: সেটা উপার্জন বা অন্য কোনো উপায়েই হোক, যা পূর্ণ প্রয়োজনীয়তা মেটাতে যথেষ্ট নয়। এ থেকে জানা গেল যে, মিসকিন হলেন তিনি যার কাছে এমন সম্পদ আছে যা তার প্রয়োজনীয়তার অর্ধেক বা তার বেশি, কিন্তু তা তার নিজের এবং যাদের ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক তাদের জন্য অপচয় বা কার্পণ্য ছাড়াই যথেষ্ট নয়। আর মিসকিন অভাবী (فقير)-এর চেয়ে উত্তম অবস্থায় থাকে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নৌকাটির কথা যদি বলি, তা ছিল কয়েকজন মিসকিনের...

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১২।

(২) আল-মিসবাহুল মুনির ফি গরিবিল শারহিল কবির, রাফেয়ি রচিত, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ফাইয়ুমি কৃত, ১/ ২৮৩।

(৩) লিসানুল আরব, ইবনে মনজুর রচিত, বাবুন নুন, ফাসলুস সিন, ৩/ ২১৬।

(৪) আন-নিহায়া ফি গরিবিল হাদিসি ওয়াল আসার, আবুল সা’দাত আল-মুবারাক বিন মুহাম্মাদ আল-জাযারি রচিত, বাবুস সিন মাআল কাফ, মাদ্দাহ (সাকানা), ২/ ৩৮৫।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ} (1) فأخبر أنهم مساكين، وأن لهم سفينة، وقال تعالى: {لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ الله لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ الله بِهِ عَلِيمٌ} (2) فهذه الحال التي أخبر بها عن الفقراء هي دون الحال التي أخبر بها عن المساكين (3) (4).

 

‌‌المسألة الثانية: هذه التعريفات السابقة، للفقير، والمسكين: تكون إذا جمع بين لفظ ((الفقير والمسكين)) كما في قول الله تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ} (5) أما إذا أطلق لفظ أحدهما ولم يذكر معه الآخر دخل أحدهما في الآخر، فالفقير: هو المسكين، والمسكين هو الفقير؛ ولهذا قيل: إذا اجتمعا افترقا، وإذا افترقا اجتمعا، مثل: لفظ الإسلام، ولفظ الإيمان (6).

‌‌المسألة الثالثة: نصيب المساكين من الزكاة: يعطى المسكين من الزكاة ما يُكمِّل له كفايته، وكفاية من يعوله من النفقة حولاً كاملاً، والمعتبر: كفايته وكفاية من يمونه: من الأكل، والشرب، والمسكن،

--------------------------------------------

(1) سورة الكهف، الآية: 79.

(2) سورة البقرة، الآية: 273.

(3) لسان العرب لابن منظور، 13/ 215.

(4) المغني لابن قدامة، 4/ 123، 127، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 206، والكافي، 2/ 195، ومنار السبيل، 1/ 266، والروض المربع من حاشية ابن قاسم، 3/ 310، ومصارف الزكاة وتمليكها، ص143.

(5) سورة التوبة، الآية: 60.

(6) انظر: الموسوعة الفقهية الكويتية، 23/ 312، والمغني، لابن قدامة، 9/ 306.
{...তারা সমুদ্রে কাজ করত} (১)। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তারা হলো অভাবগ্রস্ত, অথচ তাদের একটি নৌকা ছিল। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সেই দরিদ্রদের জন্য যারা আল্লাহর পথে অবরুদ্ধ হয়েছে, তারা জমিনে চলাফেরা করতে সক্ষম নয়, তাদের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদের সচ্ছল মনে করে। তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে যাঞ্চা করে না। আর তোমরা উত্তম যা কিছু ব্যয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত} (২)। দরিদ্রদের সম্পর্কে এখানে যে অবস্থার সংবাদ দেওয়া হয়েছে, তা অভাবগ্রস্তদের সম্পর্কে বর্ণিত অবস্থার চেয়েও নিম্নতর (৩) (৪)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তের এই পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ তখন প্রযোজ্য হয় যখন 'দরিদ্র' ও 'অভাবগ্রস্ত' শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {নিশ্চয়ই সদাকাত হলো কেবল দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের জন্য} (৫)। তবে যখন এদের কোনো একটি শব্দ এককভাবে ব্যবহৃত হয় এবং অপরটি উল্লেখ করা না হয়, তখন একটির অর্থ অন্যটির মাঝে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সুতরাং দরিদ্রই হলো অভাবগ্রস্ত, আর অভাবগ্রস্তই হলো দরিদ্র। একারণেই বলা হয়েছে: যখন শব্দ দুটি একত্রিত হয় তখন অর্থের দিক থেকে পৃথক হয়ে যায়, আর যখন শব্দগতভাবে পৃথক থাকে তখন অর্থের দিক থেকে এক হয়ে যায়; যেমন: ‘ইসলাম’ ও ‘ঈমান’ শব্দদ্বয় (৬)।

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাকাতের মালের মধ্যে অভাবগ্রস্তদের অংশ: অভাবগ্রস্তকে জাকাত থেকে ততটুকু প্রদান করা হবে যা তার এবং তার পরিবার-পরিজনের এক বছরের প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে বিবেচ্য হলো: তার এবং তার ভরণপোষণে থাকা ব্যক্তিদের খাবার, পানীয় ও বাসস্থানের পর্যাপ্ততা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৭৯।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৩।

(৩) ইবনুন মানজুরের লিসানুল আরব, ১৩/ ২১৫।

(৪) ইবনু কুদামার আল-মুগনি, ৪/ ১২৩, ১২৭; আল-মুকনি ও আল-ইনসাফ সংবলিত আশ-শারহুল কাবির, ৭/ ২০৬; আল-কাফি, ২/ ১৯৫; মানারুস সাবিল, ১/ ২৬৬; ইবনু কাসিমের হাশিয়া সংবলিত আর-রওদুল মুরবি, ৩/ ৩১০; মাসারিফুয জাকাত ওয়া তামলিকুহা, পৃষ্ঠা ১৪৩।

(৫) সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৬০।

(৬) দেখুন: আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, ২৩/ ৩১২; ইবনু কুদামার আল-মুগনি, ৯/ ৩০৬।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
والكسوة، والإعفاف بالزواج إن لم يستطع الزواج إلا بأخذه من الزكاة، على نحو ما تقدم فيما يستحقه الفقير من الزكاة (1).

 

‌‌المسألة الرابعة: ما جاء من الآيات القرآنية، التي فيها الحث والترغيب في الإحسان إلى المساكين وإعطائهم حقوقهم، على النحو الآتي:

1 - قال تعالى: {وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ} (2).

2 - قال تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آَمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآَتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآَتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ} (3).

3 - وقال تعالى: {يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ الله بِهِ عَلِيمٌ} (4).

4 - وقال تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} الآية (5).

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع، 6/ 220.

(2) سورة البقرة، الآية: 83.

(3) سورة البقرة الآية: 177.

(4) سورة البقرة الآية: 215.

(5) سورة البقرة، الآية: 184.
এবং পোশাক-পরিচ্ছদ, আর বিবাহের মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জন—যদি সে জাকাত থেকে গ্রহণ করা ছাড়া বিবাহ করতে সক্ষম না হয়, যেমনটি দরিদ্র ব্যক্তির জাকাত থেকে যা প্রাপ্য সে বিষয়ে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (১)।

 

‌‌চতুর্থ মাসআলা: পবিত্র কুরআনের যে সকল আয়াত বর্ণিত হয়েছে, যাতে মিসকিনদের প্রতি সদাচরণ করার এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রদানের ব্যাপারে উৎসাহ ও প্রেরণা দেওয়া হয়েছে, তা নিম্নরূপ:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: {এবং নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের প্রতি (সদাচরণ করবে)} (২)।

২ - মহান আল্লাহ বলেন: {পূর্ব বা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্যবান সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর ভালোবাসায় সম্পদ দান করেছে নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসমুক্তির জন্য; আর নামাজ কায়েম করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে; আর যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করে এবং দারিদ্র্য, দুঃখ-কষ্ট ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে; তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকি} (৩)।

৩ - মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, তোমরা যে উত্তম সম্পদ ব্যয় করো তা যেন হয় পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য। আর তোমরা ভালো যা কিছু করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত} (৪)।

৪ - মহান আল্লাহ বলেন: {আর যাদের জন্য তা (রোজা রাখা) অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য হলো ফিদইয়া প্রদান করা—একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো} আয়াত (৫)।

--------------------------------------------

(১) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ২২০।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮৩।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭৭।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৫।

(৫) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
5 - وقال تعالى: {وَآَتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ} (1).

6 - وقال تعالى: {فَآَتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ الله وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (2).

7 - وقال تعالى: {فَانْطَلَقُوا وَهُمْ يَتَخَافَتُونَ* أَنْ لَا يَدْخُلَنَّهَا الْيَوْمَ عَلَيْكُمْ مِسْكِينٌ} (3).

8 - وقال تعالى: {وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ} (4).

9 - وقال سبحانه: {وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ} (5).

10 - وقال تعالى: {وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ} (6)

11 - وقال تعالى: {وَلَا تَحَاضُّونَ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ} (7).

12 - وقال تعالى: {فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا} (8).

13 - وقال سبحانه: {وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا} (9).

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء، الآية: 26.

(2) سورة الروم، الآية: 38.

(3) سورة القلم، الآيتان: 23 - 24.

(4) سورة الحاقة، الآية: 34.

(5) سورة الماعون، الآية: 3.

(6) سورة المدثر، الآية: 44.

(7) سورة الفجر الآية: 18.

(8) سورة المجادلة الآية: 4.

(9) سورة الإنسان، الآية: 8.
5 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য দান করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও} (১)।

6 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটি উত্তম এবং তারাই সফলকাম} (২)।

7 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তারা নিম্নস্বরে কথা বলতে বলতে চলল— আজ যেন তোমাদের কাছে কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে না পারে} (৩)।

8 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং সে অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না} (৪)।

9 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং সে অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করে না} (৫)।

10 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করতাম না} (৬)

11 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তোমরা অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত করো না} (৭)।

12 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তবে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদান করতে হবে} (৮)।

13 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীদের আহার্য দান করে} (৯)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৬।

(২) সূরা আর-রুম, আয়াত: ৩৮।

(৩) সূরা আল-কলম, আয়াত: ২৩ - ২৪।

(৪) সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৩৪।

(৫) সূরা আল-মাউন, আয়াত: ৩।

(৬) সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪৪।

(৭) সূরা আল-ফজর, আয়াত: ১৮।

(৮) সূরা আল-মুজাদিলা, আয়াত: ৪।

(৯) সূরা আল-ইনসান, আয়াত: ৮।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
14 - وقال تعالى: {فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ*وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ*فَكُّ رَقَبَةٍ* أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ *يَتِيمًا ذَا مَقْرَبَةٍ * أَوْ مِسْكِينًا ذَا مَتْرَبَةٍ} (1).

15 - وقال تعالى: {وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا} (2).

16 - وقال تعالى: { … وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ} (3)

17 - وقال تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ} (4).

18 - وقال سبحانه: {أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ} (5).

19 - وقال تعالى: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ} (6).

20 - وقال سبحانه: {وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ} الآية (7).

21 - وقال تعالى: {فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى

--------------------------------------------

(1) سورة البلد، الآيات: 11 - 16.

(2) سورة النساء، الآية: 8.

(3) سورة النساء، الآية: 36.

(4) سورة المائدة، الآية: 89.

(5) سورة المائدة، الآية: 95.

(6) سورة الأنفال الآية: 41.

(7) سورة النور، الآية: 22.
14 - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর সে বন্ধুর গিরিপথে প্রবেশ করেনি। আর আপনি কি জানেন সেই গিরিপথটি কী? তা হলো দাসমুক্তি, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান করা— নিকটাত্মীয় এতিমকে অথবা ধূলিধূসরিত মিসকীনকে।} (১)।

15 - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন বণ্টনের সময় আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও মিসকীনরা উপস্থিত হয়, তখন তোমরা তাদেরকে তা থেকে কিছু প্রদান করো এবং তাদের সাথে সদালাপ করো।} (২)।

16 - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: { … এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করো, আর নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকীনদের সাথেও।} (৩)

17 - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {এর কাফফারা হলো দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাবার দান করা যা তোমরা নিজেদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো, অথবা তাদের বস্ত্রদান করা।} (৪)।

18 - এবং সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেন: {অথবা কাফফারা হলো মিসকীনদের অন্নদান করা।} (৫)।

19 - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই এর এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য এবং এতিম ও মিসকীনদের জন্য।} (৬)।

20 - এবং সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদাবান ও বিত্তশালী, তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা নিকটাত্মীয় ও মিসকীনদের দান করবে না।}—আয়াত (৭)।

21 - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তা আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, নিকটাত্মীয়দের জন্য এবং এতিমদের জন্য...}

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বালাদ, আয়াত: ১১ - ১৬।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬।

(৪) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৮৯।

(৫) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৯৫।

(৬) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৪১।

(৭) সূরা আন-নূর, আয়াত: ২২।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْمَسَاكِينِ} (1).

 

‌‌المسألة الخامسة: ما جاء من الأحاديث في المسكين.

1 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ليس المسكين الذي يطوف على الناس، تردُّه اللقمة واللقمتان)). وفي رواية: ((الأكلةُ والأكلتان، والتمرة والتمرتان، ولكن المسكين الذي لا يجد غنىً يغنيه، ولا يُفطنُ له فيتصدق عليه، [ويستحيي أو] لا يقومُ فيسأل الناس [إلحافاً])). وفي لفظٍ: ((إنما المسكين الذي يتعفف، واقرأوا إن شئتم يعني قوله تعالى: {لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا} (2).

2 - عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تحلُّ الصدقةُ لغني، ولا لذي مرةٍ (3) سويٍّ)) (4) (5).

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية: 7.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب قول الله عز وجل: {لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا}، برقم 1476، ورقم 1479، وكتاب التفسير، بابٌ، {لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا} يقال: ألحف عليَّ، وألحَّ عليَّ، وأحفاني بالمسألة {فَيُحْفِكُمْ} [محمد: 37] يجهدكم، برقم 4539، والألفاظ ملفقة من هذه المواضع من البخاري، وأخرجه مسلم، في كتاب الزكاة، باب المسكين الذي لا يجد غنى ولا يفطن له فيتصدق عليه، برقم 1039.

(3) المرة: القوة وشدة العقد، وهي القوة على الكسب والعمل [نيل الأوطار للشوكاني، 3/ 69].

(4) سوي: صحيح وسليم الأعضاء [نيل الأوطار للشوكاني، 3/ 69].

(5) أبو داود، كتاب الزكاة، باب من يعطى من الصدقة وحد الغنى، برقم 1634، والترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء من لا تحل له الصدقة، برقم 652، وأحمد، 2/ 192، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 454، وفي الإرواء، برقم 877.
এবং মিসকিনদের} (১)।

 

‌‌পঞ্চম মাসআলা: মিসকিন সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ।

১ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সেই ব্যক্তি মিসকিন নয় যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় এবং যাকে এক বা দুই লোকমা খাবার ফিরিয়ে দেয়।” অন্য বর্ণনায় আছে: “এক বা দুই গ্রাস খাবার, কিংবা একটি বা দুইটি খেজুর; বরং প্রকৃত মিসকিন সেই ব্যক্তি যার কাছে এমন কোনো সম্পদ নেই যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারে, আর তার অবস্থা সম্পর্কেও কেউ অবগত নয় যে তাকে সদকা করা হবে, এবং সে নিজে থেকেও মানুষের কাছে অভাব প্রকাশ করে সাহায্য প্রার্থনা করে না।” অন্য শব্দে এসেছে: “প্রকৃত মিসকিন তো সেই ব্যক্তি যে (মানুষের নিকট হাত পাতা থেকে) নিজেকে বিরত রাখে। তোমরা চাইলে আল্লাহর এই বাণীটি পাঠ করতে পারো: {তারা মানুষের কাছে পীড়াপীড়ি করে ভিক্ষা চায় না} (২)।”

২ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো অভাবমুক্ত (ধনী) ব্যক্তির জন্য সদকা বৈধ নয় এবং কোনো দৈহিকভাবে শক্তিশালী ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্যও নয়” (৩) (৪) (৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা মানুষের কাছে পীড়াপীড়ি করে ভিক্ষা চায় না}, হাদিস নম্বর ১৪৭৬ ও ১৪৭৯; এবং তাফসির অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: {তারা মানুষের কাছে পীড়াপীড়ি করে ভিক্ষা চায় না}, হাদিস নম্বর ৪৫৩৯। শব্দগুলো বুখারির উল্লিখিত স্থানসমূহ থেকে সংকলিত। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সেই মিসকিন যার অভাব দূর করার মতো সামর্থ্য নেই এবং যার অবস্থা সম্পর্কে কেউ অবগত নয় যে তাকে সদকা প্রদান করবে, হাদিস নম্বর ১০৩৯।

(৩) আল-মিররাহ (المرة): শক্তি ও দৃঢ়তা, যা দ্বারা উপার্জন ও কাজ করার সামর্থ্য বুঝায় [শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ৩/৬৯]।

(৪) সাবিই (سوي): সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পন্ন ব্যক্তি [শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ৩/৬৯]।

(৫) আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কাদের সদকা প্রদান করা হবে এবং সচ্ছলতার সীমা, হাদিস নম্বর ১৬৩৪; তিরমিজি, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যাদের জন্য সদকা বৈধ নয়, হাদিস নম্বর ৬৫২; আহমদ, ২/১৯২; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/৪৫৪ এবং আল-ইরওয়া, হাদিস নম্বর ৮৭৭।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
3 - عن عبيد الله بن عدي بن الخيار قال: أخبرني رجلان أنهما أتيا النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، وهو يقسم الصدقة، فسألاه منها، فرفع فينا البصر وخفضه، فرآنا جلدين (1)، فقال: ((إن شئتما أعطيتكما، ولا حظَّ فيها لغني ولا لقوي مكتسب)) (2) (3).

قال الإمام الشوكاني رحمه الله تعالى: ((وفيه دليل على أنه يستحب للإمام، أو المالك: الوعظ، والتحذير، وتعريف الناس بأن الصدقة لا تحلُّ لغني، ولا لذي قوة على الكسب، كما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك برفقٍ)) (4).

 

‌‌المصرِف الثالث: العاملون عليها، وفيه: مسائل:

‌‌المسألة الأولى: مفهوم العاملين لغةً: عَمِلَ، من باب طَرِبَ، وأعمله، واستعمله، بمعنىً، واستعمله أيضاً: طلب إليه العمل، واعتمل، اضطرب في العمل، والتعميل: تولية العمل، يقال: عمَّله على البصرة، والعمالة: رِزقُ العامل (5) ويقال: عملته أعملُهُ عملاً: صنعته، وعملت على الصدقة: سعيت في جمعها، والفاعل عاملٌ والجمع: عُمَّال، وعاملون، ويتعدى إلى ثانٍ بالهمزة، فيقال: أعملته كذا واستعملته: أي جعلته عاملاً، واستعملته: سألته أن يعمل (6).

--------------------------------------------

(1) جلْدَين: قويين شديدين، [نيل الأوطار للشوكاني، 3/ 69].

(2) مكتسب: يكتسب قدر كفايته. [نيل الأوطار، 3/ 69].

(3) أبو داود كتاب الزكاة، باب من يعطى من الصدقة وحد الغني، برقم: 1633، والنسائي، كتاب الزكاة، باب مسألة القوي المكتسب، برقم: 2597، وأحمد في المسند، برقم 17972، ورقم 17973، وصححه الألباني، في صحيح سنن أبي داود، 1/ 454.

(4) نيل الأوطار، للشوكاني، 3/ 69.

(5) مختار الصحاح، لمحمد بن أبي بكر بن عبدالقادر، الرازي، ص191.

(6) المصباح المنير، للفيومي، 2/ 430.
3 - উবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে আল-খিয়ার হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে দুই ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা বিদায় হজের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিলেন, যখন তিনি সাদাকা বণ্টন করছিলেন। তারা তাঁর কাছে সাদাকা চাইলেন। তিনি আমাদের প্রতি দৃষ্টি উঁচু করলেন এবং নিচু করলেন (অর্থাৎ খুঁটিয়ে দেখলেন), এরপর তিনি আমাদের শক্তিশালী ও সুঠামদেহী (১) দেখলেন। তিনি বললেন: ((তোমরা চাইলে আমি তোমাদের দিতে পারি, তবে এতে কোনো ধনীর কিংবা উপার্জনক্ষম শক্তিশালীর কোনো অংশ নেই)) (২) (৩)।

ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: ((এতে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, ইমাম (শাসক) বা মালিকের জন্য উপদেশ প্রদান, সতর্ক করা এবং মানুষকে এটা জানানো মুস্তাহাব যে, কোনো ধনী কিংবা উপার্জনক্ষম ব্যক্তির জন্য সাদাকা হালাল নয়; যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নম্রতার সাথে করেছিলেন)) (৪)।

 

‌‌তৃতীয় খাত: যাকাত আদায়কারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীবৃন্দ, এবং এতে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে:

‌‌প্রথম মাসয়ালা: শাব্দিক অর্থে 'আমিলিন' (কর্মচারীবৃন্দ)-এর ধারণা: 'আমিলা' শব্দটি 'ত্বরিবা' বাব থেকে এসেছে। 'আ'মালাহু' এবং 'ইস্তামালাহু' একই অর্থ প্রকাশ করে। 'ইস্তামালাহু' অর্থ তার কাছে কাজ চাওয়া। 'ই'তামালা' অর্থ কাজে সচেষ্ট হওয়া বা ব্যস্ত থাকা। 'তামিল' অর্থ কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা। যেমন বলা হয়: 'আম্মালাহু আলাল বাসরাহ' (সে তাকে বসরার দায়িত্ব প্রদান করেছে)। 'আমাল্যহ' অর্থ শ্রমিকের পারিশ্রমিক (৫)। আরও বলা হয়: 'আমিলাতুহু আ'মালুহু আমালান' অর্থাৎ আমি এটি তৈরি করেছি। 'আমিলাতু আলাস সাদাকাহ' অর্থাৎ আমি তা সংগ্রহের জন্য সচেষ্ট হয়েছি। এর কর্তা হলো 'আমিল' (কর্মী) এবং এর বহুবচন হলো 'উম্মাল' ও 'আমিলুন'। এটি 'হামজাহ' যোগে দ্বিতীয় কর্মের দিকে ধাবিত হয়, যেমন বলা হয়: 'আ'মালতুহু কাযা' এবং 'ইস্তামালতুহু', অর্থাৎ আমি তাকে কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেছি। 'ইস্তামালতুহু' অর্থ আমি তাকে কাজ করার অনুরোধ করেছি (৬)।

--------------------------------------------

(১) জিলদাইন: শক্তিশালী ও কঠোর পরিশ্রমী। [শাওকানী রচিত নাইলুল আওতার, ৩/৬৯]।

(২) মুকতাসিব: যে নিজের প্রয়োজন পরিমাণ উপার্জনে সক্ষম। [নাইলুল আওতার, ৩/৬৯]।

(৩) আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: কাকে সাদাকা প্রদান করা হবে এবং ধনীর সীমা, নম্বর: ১৬৩৩; নাসায়ী, যাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: উপার্জনক্ষম শক্তিশালীর যাচনা করার বিষয়টি, নম্বর: ২৫৯৭; আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ, নম্বর: ১৭৯৭২ ও ১৭৯৭৩; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন, সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/৪৫৪।

(৪) নাইলুল আওতার, শাওকানী রচিত, ৩/৬৯।

(৫) মুখতারুস সিহাহ, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল কাদির আর-রাজি রচিত, পৃ. ১৯১।

(৬) আল-মিসবাহুল মুনির, আল-ফাইয়ুমি রচিত, ২/৪৩০।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
قال ابن الأثير رحمه الله: ((والعامل: هو الذي يتولى أمور الرجل في ماله وملكه، وعَمَلِهِ، ومنه قيل للذي يستخرج الزكاة: عامل، والذي يأخذه العامل من الأجرة يقال له: عُمالة)) (1).

 

‌‌مفهوم العاملين اصطلاحاً: العاملون عليها: هم السعاة الذين يبعثهم الإمام؛ لأخذ الزكاة من أربابها: كجبَّائها، وحفَّاظها، وكتَّابها، وقسامها بين مستحقيها، وشُرط كونه: مكلفاً، مسلماً، أميناً، كافياً، قادراً، عالماً بفرائض الصدقة (2). إلا إذا كتب الإمام له ما يأخذ من الصدقات، ويكون من غير ذوي القربى (3) قال المرداوي: رحمه الله: ((العاملون عليها: وهم الجباة لها، والحافظون لها، [و] العامل على الزكاة: هو الجابي لها، والحافظ، والكاتب، والقاسم، والحاشر، والكيَّال، والوزَّان، والعدَّاد، والساعي، والراعي، والسائق، والحمّال، ومن يحتاج إليه فيها، غير قاضٍ ووالٍ .... [و] أجرة كيل الزكاة ووزنها، ومؤنة دفعها على المالك)) (4).

وقال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((الجباة: جمع جابي، وهم الذين يأخذونها من أهلها، والحفاظ: الذين يقومون على حفظها، والقاسمون لها:

--------------------------------------------

(1) النهاية في غريب الحديث والأثر، 3/ 300.

(2) الروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 3/ 312، ومنار السبيل، 1/ 267، ومنتهى الإرادات، للفتوحي، 1/ 515، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 222 - 226.

(3) الشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 7/ 225، والإقناع لطالب الانتفاع، لموسى بن أحمد الحجَّاوي، 1/ 469.

(4) الإنصاف مع المقنع والشرح الكبير، 7/ 222، والمغني لابن قدامة، 4/ 108، و9/ 312.
ইবনুল আসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল-আমিল (কর্মকর্তা) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কোনো ব্যক্তির সম্পদ, মালিকানা ও কর্মতৎপরতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ কারণেই জাকাত আদায়কারীকে 'আমিল' বলা হয়। আর আমিল পারিশ্রমিক হিসেবে যা গ্রহণ করেন, তাকে 'উমালাহ' বলা হয়" (১)।

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে আমিলিনের ধারণা: জাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (العاملون عليها): তারা হলেন সেই সকল সংগ্রাহক যাদের ইমাম (শাসক) প্রেরণ করেন মালিকদের নিকট থেকে জাকাত আদায়ের জন্য; যেমন: জাকাত আদায়কারী, হিফাজতকারী, লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং হকদারদের মাঝে বণ্টনকারী। তার জন্য শর্ত হলো: তিনি যেন শরয়ি দায়িত্ব পালনে বাধ্য (مكلف), মুসলিম (مسلم), আমানতদার (أمين), দক্ষ, সামর্থ্যবান এবং সদকার বিধানাবলি সম্পর্কে সম্যক অবগত হন (২)। তবে শর্ত হলো ইমাম যদি তার জন্য যা গ্রহণ করবেন তা লিখে দেন এবং তিনি যেন (নবী ﷺ-এর) নিকটাত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত না হন (৩)। আল-মারদাভি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা: তারা হলেন জাকাত আদায়কারী ও এর সংরক্ষণকারী। আর জাকাতের আমিল হলেন: সেই ব্যক্তি যিনি তা সংগ্রহ করেন, সংরক্ষণ করেন, হিসাব লেখেন, বণ্টন করেন, জমাকারক, পরিমাপকারী, ওজনকারী, গণনাকারী, সংগ্রাহক, রাখাল, চালক, বাহক এবং সেখানে যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়; তবে তিনি বিচারক বা প্রশাসক নন... আর জাকাত পরিমাপ ও ওজন করার পারিশ্রমিক এবং তা প্রদানের আনুষঙ্গিক খরচ মালিকের ওপর বর্তাবে" (৪)।

আর আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জুবাহ (الجباة): এটি 'জাবি' শব্দের বহুবচন, তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা জাকাতদাতাদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেন। আর হুফফাজ (الحفاظ): যারা তা সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। আর কাসিমুন (القاسمون) যারা তা বণ্টন করেন:

--------------------------------------------

(১) আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ৩/৩০০।

(২) আর-রাওদুল মুরবি' মা'আ হাশিয়াত ইবনি কাসিম, ৩/৩১২; মানারুস সাবিল, ১/২৬৭; মুনতাহাল ইরাদাত লিল ফুতুহি, ১/৫১৫; আশ-শারহুল কাবীর মা'আল মুকনি' ওয়াল ইনসাফ, ৭/২২২ - ২২৬।

(৩) আশ-শারহুল কাবীর মা'আল মুকনি' ওয়াল ইনসাফ, ৭/২২৫; আল-ইকনা' লিতালিবিল ইনতিফা' লি মুসা বিন আহমাদ আল-হাজ্জাউয়ি, ১/৪৬৯।

(৪) আল-ইনসাফ মা'আল মুকনি' ওয়াশ-শারহিল কাবীর, ৭/২২২; আল-মুগনি লি ইবনি কুদামাহ, ৪/১০৮ এবং ৯/৩১২।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
الذين يقسمونها في أهلها)) (1)، وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((يعني العاملين على الزكاة وهم: السعاة الذين يبعثهم الإمام؛ لأخذها من أربابها، وجمعها، وحفظها، ونقلها، ومن يعينهم ممن يسوقها ويرعاها، ويحملها، وكذلك الحاسب، والكاتب، والكيَّال، والوزَّان، والعدَّاد، وكل من يحتاج إليه فيها؛ فإنه يُعطى أجرته منها؛ لأن ذلك من مؤنتها)) (2).

 

‌‌المسألة الثانية: نصيب العاملين عليها: من الزكاة؛ لقوله تعالى: {وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا} فقد جعل الله تعالى للعاملين عليها نصيباً منها - أي من الزكاة - فيعطى العامل على الزكاة بقدر أجرته من الزكاة، حتى لو كان غنيًّا، إلا إذا كان له مرتب من بيت مال المسلمين، فلا يُعطى من الزكاة؛ لأنه إنما أُعطي من الزكاة بقدر أجرته، وقد حصل ذلك له؛ وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يبعث على الصدقة سعاة ويعطيهم عمالتهم (3). ومن هذه الأحاديث حديث أبي حميد الساعدي في قصة استعمال النبي صلى الله عليه وسلم ابن اللتبية (4) ولا يجوز أن يكون العمال على الصدقة من أقرباء النبي صلى الله عليه وسلم الذين تحرم عليهم الصدقة؛ لحديث عبدالمطلب بن ربيعة ابن الحارث أنه انطلق هو والفضل بن العباس يسألان رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ليستعملهما على الصدقة، فقال أحدهما: يا رسول

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع، 6/ 225.

(2) المغني لابن قدامة، 9/ 312.

(3) المغني لابن قدامة، 4/ 107، و9/ 312.

(4) متفق عليه: البخاري، برقم 925، وفي كتاب الزكاة، باب قوله تعالى: {وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا} [التوبة 60] وكتاب الهبة، باب من لم يقبل الهدية، برقم 2597، 6636، 6979، وكتاب الأحكام، باب هدايا العمال، برقم: 7174، وباب محاسبة الإمام عماله، برقم: 7197، ومسلم، كتاب الإمارة، باب تحريم هدايا العمال، برقم: 1832.
((যারা তা (যাকাত) এর হকদারদের মধ্যে বণ্টন করেন)) (১), এবং ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((অর্থাৎ যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, তারা হলেন: সেই সংগ্রাহক যাদেরকে ইমাম নিয়োগ করেন; মালিকদের নিকট থেকে তা গ্রহণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং স্থানান্তরের জন্য। এছাড়া যারা তাদের সাহায্য করেন যেমন পশুপাল চালক, রাখাল, বহনকারী এবং একইভাবে হিসাবরক্ষক, লেখক, পরিমাপক, ওজনকারী, গণনাকারী এবং যাকাত সংশ্লিষ্ট কাজে যাদের প্রয়োজন হয়; তাদের এর মধ্য থেকেই পারিশ্রমিক দেওয়া হবে; কারণ এটি এর ব্যয়েরই অন্তর্ভুক্ত)) (২)।

 

‌‌দ্বিতীয় মাসয়ালা: যাকাত আদায়কারী কর্মচারীদের অংশ: যাকাত থেকে; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {এবং যাকাত আদায়কারী কর্মচারীরা}। মহান আল্লাহ তাদের জন্য যাকাত থেকে একটি অংশ নির্ধারণ করেছেন—অর্থাৎ যাকাত থেকে—সুতরাং যাকাত আদায়কারী কর্মচারীকে যাকাত থেকে তার পারিশ্রমিক অনুযায়ী অংশ প্রদান করা হবে, এমনকি তিনি ধনী হলেও। তবে যদি মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তার বেতন নির্ধারিত থাকে, তবে তাকে যাকাত থেকে দেওয়া হবে না; কারণ তাকে যাকাত থেকে দেওয়া হয় তার পারিশ্রমিক হিসেবে, যা সে ইতিমধ্যেই লাভ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকা সংগ্রহের জন্য সংগ্রাহকদের পাঠাতেন এবং তাদের পারিশ্রমিক প্রদান করতেন (৩)। এই হাদিসগুলোর মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ইবনুল লুতবিয়্যাহকে নিয়োগ করার ঘটনায় বর্ণিত আবু হুমায়দ আস-সায়েদী বর্ণিত হাদিস (৪)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে যাকাত আদায়কারী হওয়া বৈধ নয়, যাদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম; আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবিআ ইবনে হারিস বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি এবং ফজল ইবনুল আব্বাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবেদন করার জন্য গিয়েছিলেন যেন তিনি তাদের সদকা আদায়ের কাজে নিয়োগ করেন। তখন তাদের একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল...

--------------------------------------------

(১) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/২২৫।

(২) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৯/৩১২।

(৩) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৪/১০৭ এবং ৯/৩১২।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, নম্বর ৯২৫, এবং যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং যাকাত আদায়কারী কর্মচারীরা} [আত-তাওবাহ: ৬০] এবং হিবা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি উপহার গ্রহণ করেনি, নম্বর ২৫৯৭, ৬৬৩৬, ৬৯৭৯, এবং আহকাম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কর্মচারীদের পাওয়া উপহার, নম্বর: ৭১৭৪, এবং পরিচ্ছেদ: ইমাম কর্তৃক কর্মচারীদের হিসাব গ্রহণ, নম্বর: ৭১৯৭, এবং মুসলিম, ইমারাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কর্মচারীদের উপহার গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা, নম্বর: ১৮৩২।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
الله أنت أبر الناس وأوصل الناس، وقد بلغنا النكاح فجئنا لتؤمرنا على بعض هذه الصدقات، فنؤدِّي إليك كما يؤدي الناس، ونصيب كما يصيبون، فقال لهما النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الصدقة لا تنبغي لآل محمد، إنما هي أوساخ الناس)) .. ثم شفع لهما في النكاح فزوجهما، وأمر بالصداق لهما من الخمس، وفي رواية: ((إن هذه الصدقات إنما هي أوساخ الناس، وإنها لا تحل لمحمد ولا لآل محمد)) (1) والمعنى أن هذه الصدقات تطهير لأموال الناس ونفوسهم، كما قال تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} فهي كغسالة الأوساخ (2). ويجوز أن يكون عمال الصدقة من الأغنياء؛ لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تحل الصدقة لغنيٍّ إلا لخمسة: لغازٍ في سبيل الله، أو لعاملٍ عليها، أو لغارمٍ، أو لرجل اشتراها بماله، أو لرجل كان له جار مسكين، فتصدق على المسكين فأهداها المسكينُ للغني)) (3)؛ ولحديث عبدالله بن السعدي أنه قدم على عمر ابن الخطاب رضي الله عنه في خلافته، فقال له عمر: ألم أحدّث أنك تلي من أعمال الناس أعمالاً، فإذا أعطيت العمالة كرهتها؟ فقلت: بلى، فقال عمر: ما تريد إلا ذلك؟ فقلت: إن لي أفراساً، وأعبداً، وأنا بخير، وأريد أن تكون عمالتي صدقةً على المسلمين، قال عمر: لا تفعل؛ فإني كنت أردتُ الذي أردتَ، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطيني العطاء، فأقول: أعطه أفقر إليه مني، حتى

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الزكاة، باب ترك استعمال آل النبي على الصدقة، برقم 1072.

(2) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 179.

(3) أبو داود، كتاب الزكاة، باب من يجوز له أخذ الصدقة وهو غني، برقم: 1635، 1636، وابن ماجه، كتاب الزكاة، باب من تحل له الصدقة برقم 1841، وأحمد، 30/ 97، برقم 11538، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 455، وصحيح سنن ابن ماجه، 2/ 116، وإرواء الغليل، برقم 870.
আল্লাহর কসম! আপনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পুণ্যবান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি রক্ষাকারী। আমাদের বিয়ের বয়স হয়েছে, তাই আমরা আপনার কাছে এসেছি যাতে আপনি আমাদের এই সদকা আদায়ের কোনো কাজে নিয়োজিত করেন। এতে আমরা মানুষের কাছ থেকে তা আদায় করে আপনার কাছে পৌঁছে দেব যেমন অন্যেরা আদায় করে থাকে এবং অন্যেরা যেমন এর অংশ পায়, আমরাও তেমন পাব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: "নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারের জন্য সদকা শোভনীয় নয়, এটি মানুষের সম্পদের ময়লা মাত্র।" অতঃপর তিনি তাদের বিয়ের ব্যাপারে সুপারিশ করলেন এবং তাদের বিয়ে দিলেন, আর 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) থেকে তাদের মোহরানা প্রদানের নির্দেশ দিলেন। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "নিশ্চয়ই এই সদকাগুলো মানুষের সম্পদের ময়লা, আর তা মুহাম্মদ এবং তার পরিবারের জন্য হালাল নয়।" (১) এর অর্থ হলো, এই সদকা মানুষের সম্পদ ও আত্মাকে পবিত্র করার মাধ্যম, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করবেন}। সুতরাং এটি ধৌত করা ময়লার মতো। (২) সদকা আদায়কারীগণ সম্পদশালী হওয়া জায়েজ; আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পাঁচ প্রকার ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোনো ধনী ব্যক্তির জন্য সদকা হালাল নয়: আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী, সদকা আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, এমন ব্যক্তি যে নিজের সম্পদ দিয়ে তা ক্রয় করেছে, অথবা এমন ব্যক্তি যার একজন দরিদ্র প্রতিবেশী ছিল, অতঃপর সেই দরিদ্র ব্যক্তিকে সদকা দেওয়া হলো এবং সে তা ওই ধনী ব্যক্তিকে উপহার হিসেবে প্রদান করল।" (৩); আর আবদুল্লাহ ইবনে আস-সা’দি (রা.)-এর হাদিসের কারণে যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে এসেছিলেন। তখন উমর (রা.) তাঁকে বললেন: "আমাকে কি জানানো হয়নি যে, আপনি মানুষের বিভিন্ন জনহিতকর কাজের দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু যখন আপনাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তখন আপনি তা অপছন্দ করেন?" আমি বললাম: "জি, হ্যাঁ।" উমর (রা.) বললেন: "আপনি এর মাধ্যমে কী চান?" আমি বললাম: "আমার কাছে ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি সচ্ছল অবস্থায় আছি। আমি চাই আমার পারিশ্রমিক মুসলমানদের জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হোক।" উমর (রা.) বললেন: "এমন করবেন না; কারণ আমিও আপনার মতোই ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোনো কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম: এটি আমার চেয়েও বেশি অভাবী ব্যক্তিকে দান করুন, যতক্ষণ না..."

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, বাব: নবী পরিবারের সদকা আদায়ের কাজে নিয়োগ না দেওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর: ১০৭২।

(২) শরহে নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৭/ ১৭৯।

(৩) আবু দাউদ, কিতাবুয যাকাত, বাব: ধনী ব্যক্তির জন্য সদকা নেওয়া যে ক্ষেত্রে জায়েজ, হাদিস নম্বর: ১৬৩৫, ১৬৩৬; ইবনে মাজাহ, কিতাবুয যাকাত, বাব: যার জন্য সদকা হালাল, হাদিস নম্বর: ১৮৪১; আহমাদ, ৩০/ ৯৭, হাদিস নম্বর: ১১৫৩৮; আলবানী একে সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/ ৪৫৫, সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ, ২/ ১১৬ এবং ইরওয়াউল গালীল, হাদিস নম্বর: ৮৭০-এ সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
أعطاني مرة مالاً، فقلت: أعطه أفقر إليه مني، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((خذه فتموله وتصدق به، فما جاءك من هذا المال، وأنت غير مشرف (1) ولا سائلٍ، فخذه، وإلا فلا تتبعه نفسك)) (2).

وينبغي أن تكون أجرة العامل على الزكاة بقدر الكفاية (3)؛ لحديث المستورد بن شدّاد رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((من كان لنا عاملاً فليكتسب زوجة، فإن لم يكن له خادم فليكتسب خادماً، فإن لم يكن له مسكن فليكتسب مسكناً)) قال أبو بكر: أُخبرت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من اتخذ غير ذلك فهو غالٌّ أو سارقٌ)) (4)، وبوَّب ابن خزيمة رحمه الله في صحيحه (باب إذن الإمام للعامل بالتزويج، واتخاذ الخادم، والمسكن، من الصدقة)، ثم ذكر حديث المستورد بن شداد رضي الله عنه (5)، وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم فضل العامل على الصدقة بالحق، فقال: ((العامل على الصدقة بالحق: كالغازي في سبيل الله حتى يرجع إلى بيته)) (6).

وحذَّر النبي صلى الله عليه وسلم العمال من الغلول، فعن بريدة ابن الحصيب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من استعملناه على عمل فرزقناه رزقاً ثم أخذ بعد ذلك

--------------------------------------------

(1) غير مشرف: غير متطلع إليه.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الأحكام، باب رزق الحكام والعاملين عليها، برقم 7163، وبرقم: 7164، وبرقم 1473، ومسلم، كتاب الزكاة، باب جواز الأخذ بغير سؤال ولا تطلع، برقم 1045.

(3) فقه السنة، 1/ 387.

(4) أبو داود، كتاب الخراج، باب في أرزاق العمال، برقم 2945، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 2/ 230.

(5) صحيح ابن خزيمة، 4/ 70.

(6) أبو داود، كتاب الخراج، باب في السعاية على الصدقة، برقم 2936، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 2/ 228.
তিনি আমাকে একদা কিছু সম্পদ দান করলেন, তখন আমি বললাম: "এটি এমন কাউকে দিন যে আমার চেয়েও বেশি এর মুখাপেক্ষী।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এটি গ্রহণ করো, একে নিজের সম্পদভুক্ত করো এবং তা সদকা করো। এই সম্পদের মধ্য থেকে যা তোমার নিকট আসে এমন অবস্থায় যে তুমি সেটির প্রত্যাশী (১) ছিলে না এবং যাচনাও করোনি, তা গ্রহণ করো। অন্যথায় নিজের নফসকে সেটির পেছনে অনুগামী করো না" (২)।

এবং জাকাত আদায়কারী কর্মচারীর পারিশ্রমিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয় (৩); মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমাদের কোনো কাজের দায়িত্বশীল হবে, সে যেন একজন স্ত্রী গ্রহণ করে (বিবাহ করে)। যদি তার কোনো খাদেম না থাকে, তবে সে যেন একজন খাদেম গ্রহণ করে। আর যদি তার কোনো আবাসস্থল না থাকে, তবে সে যেন একটি আবাসস্থল গ্রহণ করে।" আবু বকর বলেন: আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করবে, সে আত্মসাৎকারী অথবা চোর" (৪)। ইবনে খুজাইমাহ (রহ.) তাঁর সহিহ গ্রন্থে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন (অধ্যায়: জাকাতের মাল থেকে কর্মচারীর বিবাহ, খাদেম ও আবাসস্থল গ্রহণের বিষয়ে ইমামের অনুমতি প্রদান), অতঃপর তিনি মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রা.) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন (৫)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ন্যায়ের সাথে জাকাত আদায়কারী কর্মচারীর মর্যাদা বর্ণনা করে বলেছেন: "ন্যায়ের সাথে জাকাত আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়, যতক্ষণ না সে তার ঘরে ফিরে আসে" (৬)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্মচারীদের আত্মসাৎ থেকে সতর্ক করেছেন। বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা যাকে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করি এবং তাকে জীবিকা (পারিশ্রমিক) দান করি, অতঃপর সে যদি এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করে...

--------------------------------------------

(১) প্রত্যাশী না হওয়া: সেটির দিকে লালায়িত না হওয়া।

(২) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আহকাম, অধ্যায়: বিচারক ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিক, হাদিস নং ৭১6৩, ৭১৬৪, ১৪৭৩; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: যাচনা ও প্রত্যাশা ব্যতিরেকে গ্রহণ করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১০৪৫।

(৩) ফিকহুস সুন্নাহ, ১/ ৩৮৭।

(৪) আবু দাউদ, কিতাবুল খারাজ, অধ্যায়: কর্মচারীদের পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৯৪৫; এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে, ২/ ২৩০।

(৫) সহিহ ইবনে খুজাইমাহ, ৪/ ৭০।

(৬) আবু দাউদ, কিতাবুল খারাজ, অধ্যায়: জাকাত আদায়ের জন্য প্রচেষ্টাকারী প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৯৩৬; এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে, ২/ ২২৮।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
فهو غلول)) (1) وعن أبي مسعود رضي الله عنه قال: بعثني النبي صلى الله عليه وسلم ساعياً، ثم قال: ((انطلق أبا مسعود ولا ألفينك يوم القيامة تجيء وعلى ظهرك بعير من إبل الصدقة له رُغاءٌ قد غَلَلْتَه)) قال: إذاً لا أنطلق! قال: ((إذاً لا أُكرهكَ)) (2) والله سبحانه وتعالى الموفق (3).

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ويُعطى منها: أجر الحاسب، والكاتب، والحاشر، والخازن، والحافظ، والراعي، ونحوهم، فكلهم معدودون من العاملين، ويدفع إليهم من حصة العاملين عليها، فأما أجر الوزَّان والكيَّال؛ ليقبض الساعي الزكاة فعلى ربِّ المال؛ ولأنه من مؤنة دفع الزكاة)) (4) (5).

 

‌‌المسألة الثالثة: فضل الصدق والأمانة في حفظ الصدقة:

عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((الخازن، المسلم، الأمين الذي يُعطي ما أمر به: كاملاً، موفَّراً، طيبةً به نفسه، فيدفعه إلى الذي أمر له به، أحد المتصدقين)) (6) وهذه الأوصاف لابد من اعتبارها في تحصيل أجر الصدقة

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الخراج، بابٌ في أرزاق العمال، برقم 2943، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 2/ 230.

(2) أبو داود، كتاب الخراج، بابٌ في غلول الصدقة، برقم 2947، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود،2/ 232.

(3) انظر: بقية أحاديث عمال الصدقة في زكاة بهيمة الأنعام للمؤلف في فقرة عمال الصدقة الذين يرسلهم الإمام، ص49 - 54.

(4) المغني لابن قدامة، 4/ 108.

(5) وانظر: زيادة التفصيل في أجرة العاملين عليها المغني، 4/ 107 - 109، 130، و9/ 312 - 315.

(6) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب أجر الخادم إذا تصدق بأمر صاحبه غير مفسدٍ، برقم: 1438، وكتاب الإجارة، باب استئجار الرجل الصالح، برقم 2260، وكتاب الوكالة، باب وكالة الأمين في الخزانة ونحوها، برقم 2319، ومن كتاب الزكاة، باب أجر الخازن الأمين، برقم 1023.
তাহলে তা আত্মসাৎ (غلول)। (১) আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জাকাত সংগ্রাহক হিসেবে প্রেরণ করেন, অতঃপর বললেন: “হে আবু মাসউদ, যাও! আমি যেন কিয়ামতের দিন তোমাকে এমন অবস্থায় না পাই যে, তুমি আসছ আর তোমার পিঠে সদকার উট চিৎকার করছে যা তুমি আত্মসাৎ (غللته) করেছ।” তিনি বললেন: তবে আমি যাব না! তিনি বললেন: “তাহলে আমি তোমাকে বাধ্য করব না।” (২) আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাওফিকদাতা (৩)।

ইমাম ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ বলেন: “জাকাতের মাল থেকে হিসাবরক্ষক, লেখক, সংগ্রাহক, কোষাধ্যক্ষ, রক্ষক, রাখাল এবং তাদের সমজাতীয় ব্যক্তিদের পারিশ্রমিক প্রদান করা হবে। কারণ তারা সকলেই জাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের (العاملين) অন্তর্ভুক্ত। তাই তাদেরকে জাকাত কর্মীদের জন্য নির্ধারিত অংশ থেকে প্রদান করা হবে। তবে জাকাত সংগ্রাহক কর্তৃক জাকাত গ্রহণের জন্য ওজনকারী ও পরিমাপকারীর পারিশ্রমিক মালের মালিকের ওপর বর্তাবে; কারণ এটি জাকাত প্রদানের ব্যয়ের (مؤنة) অন্তর্ভুক্ত।” (৪) (৫)।

 

‌‌তৃতীয় মাসআলা: সদকা সংরক্ষণে সততা ও বিশ্বস্ততার মর্যাদা:

আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “সেই মুসলিম আমানতদার কোষাধ্যক্ষ (الخازن), যাকে যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গরূপে, সন্তুষ্টচিত্তে সেই ব্যক্তিকে প্রদান করে যাকে দেওয়ার নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছে, সেও দানকারীদের (المتصدقين) একজন হিসেবে গণ্য হবে।” (৬) সদকার সওয়াব অর্জনের জন্য এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুল খারাজ, পরিচ্ছেদ: কর্মীদের পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৯৪৩ এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে, ২/ ২৩০।

(২) আবু দাউদ, কিতাবুল খারাজ, পরিচ্ছেদ: সদকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৯৪৭ এবং আলবানী একে হাসান (حسن) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে, ২/ ২৩২।

(৩) দেখুন: লেখকের ‘জাকাতু বাহিমাতিল আনআম’ গ্রন্থের জাকাত আদায়কারী কর্মীদের অবশিষ্ট হাদিসসমূহ, অনুচ্ছেদ: ইমাম কর্তৃক প্রেরিত জাকাত সংগ্রাহক কর্মী, পৃ. ৪৯ - ৫৪।

(৪) আল-মুগনি ইবনে কুদামা, ৪/ ১০৮।

(৫) আরও দেখুন: আল-মুগনি, ৪/ ১০৭ - ১০৯, ১৩০ এবং ৯/ ৩১২ - ৩১৫ গ্রন্থে জাকাত কর্মীদের পারিশ্রমিক বিষয়ক বিস্তারিত বিবরণ।

(৬) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: ভৃত্য যখন তার মালিকের নির্দেশে অনিষ্ট না করে দান করে তখন তার সওয়াব, হাদিস নং: ১৪৩৮; এবং কিতাবুল ইজারা, পরিচ্ছেদ: নেককার ব্যক্তিকে শ্রমিক নিয়োগ করা, হাদিস নং ২২৬০; এবং কিতাবুল ওয়াকালাহ, পরিচ্ছেদ: ভাণ্ডার ইত্যাদিতে বিশ্বস্ত ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব, হাদিস নং ২৩১৯; এবং কিতাবুজ জাকাত থেকে, পরিচ্ছেদ: বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষের সওয়াব, হাদিস নং ১০২৩।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
للخازن؛ فإنه إن لم يكن مسلماً لم تصح منه نية التقرب، وإن لم يكن أميناً كان عليه وزر الخيانة، فكيف يحصل له أجر الصدقة، وإن لم تكن نفسه بذلك طيبة لم يكن له نية، فلا يؤجر، ومعنى قوله: ((أحد المتصدقين)) بالتثنية، ومعناه أن الخازن بما فعل متصدق، وصاحب المال متصدق آخر، فهما متصدقان، ويصح أن يقال: على الجمع، فتكسر القاف ((المتصدقين)) ويكون معناه أنه متصدق من جملة المتصدقين (1) وقد تقدم قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((العامل على الصدقة بالحق: كالغازي في سبيل الله حتى يرجع إلى بيته)) (2).

 

‌‌المصرِف الرابع: المؤلفة قلوبهم، وفيه مسائل:

‌‌المسألة الأولى:‌‌ مفهوم المؤلفة قلوبهم لغة واصطلاحاً:

مفهوم المؤلفة قلوبهم لغة: يقال ألفتُ الشيء، وألِفْتُ فلاناً: إذا أنسِتُ به، وألَّفتُ بينهم: إذا جمعت بينهم بعد تفرُّقٍ، وألَّفتُ الشيء تأليفاً: إذا وصلت بعضه ببعض، ومنه تأليف الكتب، والإلف: الأليف، وتألفه على الإسلام، ومنه المؤلفة قلوبهم، أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم بتألفهم: أي بمقاربتهم وإعطائهم؛ ليرغِّبوا مَنْ وراءهم في الإسلام، وعلى هذا فالمؤلفة قلوبهم جمع مؤلف، من التأليف، وهو جمع القلوب (3).

 

‌‌مفهوم المؤلفة قلوبهم اصطلاحاً: المؤلفة قلوبهم: جمع مؤلف:

--------------------------------------------

(1) نيل الأوطار للشوكاني، 3/ 76.

(2) أبو داود، برقم 2936، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 2/ 228، وتقدم تخريجه.

(3) لسان العرب، باب الفاء، فصل الألف، 9/ 10 - 11، وانظر: مصارف الزكاة، وتمليكها، ص239.
কোষাধ্যক্ষের জন্য; কেননা সে যদি মুসলিম না হয়, তবে তার পক্ষ থেকে নৈকট্য অর্জনের নিয়ত সঠিক (صحيح) হবে না। আর সে যদি আমানতদার না হয়, তবে তার ওপর খিয়ানতের গুনাহ বর্তাবে; এমতাবস্থায় সে কীভাবে সদকার সওয়াব লাভ করবে? আর যদি এতে তার মন সন্তুষ্ট না থাকে, তবে তার কোনো নিয়ত থাকবে না, ফলে সে সওয়াব পাবে না। আর তাঁর বাণী: ((দুইজন দানকারীর একজন)) দ্বিবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো—কোষাধ্যক্ষ তার কাজের মাধ্যমে একজন দানকারী এবং সম্পদের মালিক অপরজন দানকারী; ফলে তারা উভয়েই দানকারী। এটি বহুবচন হিসেবে ‘ক্বাফ’ বর্ণে কাসরা (যের) দিয়ে ((আল-মুতাসাদদিক্বীন)) পড়াও সঠিক (صحيح), তখন এর অর্থ হবে—সে অনেক দানকারীর অন্তর্ভুক্ত একজন দানকারী। (১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী ইতিপূর্বে গত হয়েছে: ((ন্যায়সঙ্গতভাবে সদকা আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর ন্যায়, যতক্ষণ না সে নিজ ঘরে ফিরে আসে))। (২)

 

‌‌চতুর্থ খাত: আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম (যাদের অন্তর জয় করা হয়), এ প্রসঙ্গে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

‌‌প্রথম মাসআলা:‌‌ আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম এর ধারণা:

আভিধানিক অর্থে আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম: বলা হয়ে থাকে ‘আমি কোনো জিনিসের প্রতি অনুরাগী হয়েছি’ বা ‘অমুক ব্যক্তির সাথে হৃদ্যতা গড়েছি’—যখন আমি তার সাথে পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ হই। আর ‘আমি তাদের মধ্যে তালিফ (সমন্বয়) করেছি’—যখন আমি বিচ্ছিন্নতার পর তাদের একত্রিত করি। আর ‘আমি কোনো বিষয়কে তালিফ (সংকলন) করেছি’—যখন আমি এর এক অংশকে অন্য অংশের সাথে জুড়ে দিই; গ্রন্থ সংকলন এখান থেকেই এসেছে। ‘আল-ইফ’ অর্থ হলো পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ। কাউকে ইসলামের প্রতি অনুরাগী করে তোলাও এর অন্তর্ভুক্ত; আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম পরিভাষাটি এখান থেকেই এসেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের মন জয় করার নির্দেশ দিয়েছেন: অর্থাৎ তাদের নিকটবর্তী করা এবং প্রদানের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা; যাতে তারা তাদের অনুসারীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহী করতে পারে। এ প্রেক্ষিতে ‘আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম’ হলো ‘মুআল্লাফ’ শব্দের বহুবচন, যা ‘তালিফ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অন্তরসমূহকে একত্রিত করা। (৩)

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম: আল-মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম হলো ‘মুআল্লাফ’ এর বহুবচন:

--------------------------------------------

(১) শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ৩/৭৬।

(২) আবু দাউদ, হাদিস নং ২৯৩৬; আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করেছেন, ২/২২৮; এবং এর তাখরিজ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) লিসানুল আরব, বাবুল ফা, ফাসলুল আলিফ, ৯/১০-১১; এবং দেখুন: মাসারিফুয যাকাত ওয়া তামলিকুহা, পৃষ্ঠা ২৩৯।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو السيد المطاع في عشيرته، ممن يُرجى إسلامه، أو كف شره، أو يرجى بعطيته قوة إيمانه، أو إسلام نظيره، أو جباية الزكاة ممن لا يعطيها (1).

 

‌‌المسألة الثانية: أقسام المؤلفة قلوبهم، وأنواعهم:

المؤلفة قلوبهم قسمان:

 

‌‌القسم الأول: كفار، وهم نوعان:

‌‌النوع الأول: من يُخشى شره، ويرجى بعطيته كفّ شره، وكف شر غيره معه.

‌‌النوع الثاني: من يُرجى إسلامه، فيعطى؛ لتقوى نيته في الإسلام، وتميل نفسه إليه فيسلم، ومن هذا النوع ما فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم مع صفوان؛ فإنه صلى الله عليه وسلم غزا غزوة فتح مكة، ثم خرج صلى الله عليه وسلم بمن معه من المسلمين، وأعطى رسول الله * يومئذ صفوان بن أمية: مائة من الغنم، ثم مائة، ثم مائة، قال صفوان: والله لقد أعطاني رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أعطاني، وإنه لأبغض الناس إليَّ، فما برح يعطيني حتى إنه لأحب الناس إليَّ (2).

وقال أنس رضي الله عنه: ((إن كان الرجل يسلم ما يريد إلا الدنيا، فما يسلم حتى يكون الإسلام أحب إليه من الدنيا وما عليها)) (3).

وعنه رضي الله عنه قال: ((ما سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الإسلام شيئاً إلا أعطاه، فجاء رجل فأعطاه غنماً بين جبلين، فرجع إلى قومه فقال: يا قوم،

--------------------------------------------

(1) انظر: الروض المربع، 3/ 314، والكافي لابن قدامة، 2/ 197.

(2) مسلم، كتاب الفضائل، باب ما سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً قط فقال: لا، وكثرة عطائه، برقم 2313.

(3) المرجع السابق، في الكتاب والباب المشار إليهما آنفاً، برقم 58 - (2312).
তিনি তার গোত্রে এমন একজন মান্যবর নেতা, যার ইসলাম গ্রহণ করার আশা করা যায়, অথবা যার অনিষ্ট থেকে বাঁচার প্রত্যাশা করা হয়, অথবা যাকে প্রদানের মাধ্যমে তার ঈমান মজবুত হওয়ার আশা করা যায়, অথবা তার সমপর্যায়ের কারো ইসলাম গ্রহণের প্রত্যাশা থাকে, অথবা এমন ব্যক্তিদের থেকে জাকাত আদায়ের আশা করা যায় যারা তা প্রদান করে না (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় মাসআলাহ: মুয়াল্লাফাতুল কুলুবের (যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য) বিভাগ ও প্রকারসমূহ:

মুয়াল্লাফাতুল কুলুব দুই প্রকার:

 

‌‌প্রথম ভাগ: কাফির, তারা আবার দুই প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: যার অনিষ্টের ভয় থাকে, আর তাকে প্রদানের মাধ্যমে তার এবং তার সাথে অন্যদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার আশা করা হয়।

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: যার ইসলাম গ্রহণের আশা করা যায়, তাকে দান করা হয় যাতে ইসলামের প্রতি তার সংকল্প দৃঢ় হয় এবং তার মন ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়ে ও সে ইসলাম গ্রহণ করে। এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ানের সাথে করেছিলেন; কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে থাকা মুসলিমদের নিয়ে বের হন। সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ান ইবনে উমাইয়াহকে একশটি ছাগল দান করেন, এরপর আরও একশটি, অতঃপর আরও একশটি। সাফওয়ান বলেন: আল্লাহর শপথ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা দান করার তা করেছেন, অথচ তিনি আমার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় ছিলেন। তিনি আমাকে দিতেই থাকলেন যতক্ষণ না তিনি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষে পরিণত হলেন (২)।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ((কোনো ব্যক্তি যখন ইসলাম গ্রহণ করত তখন সে কেবল দুনিয়াই চাইত, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর ইসলাম তার কাছে দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে উঠত)) (৩)।

তার (আনাস রা.) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: ((ইসলামের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যা-ই চাওয়া হতো, তিনি তা-ই দিতেন। এক ব্যক্তি তার কাছে এলে তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণকারী ছাগলপাল দান করেন। এরপর সেই লোক তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল: হে আমার সম্প্রদায়,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রওদুল মুরবি, ৩/ ৩১৪; এবং ইবন কুদামাহ রচিত আল-কাফি, ২/ ১৯৭।

(২) মুসলিম, কিতাবুল ফাদায়িল, অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যা-ই চাওয়া হতো তিনি কখনো ‘না’ বলতেন না এবং তার প্রচুর দানশীলতা সম্পর্কে, হাদিস নং ২৩১৩।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র, উল্লিখিত কিতাব ও অধ্যায়, হাদিস নং ৫৮ - (২৩১২)।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
أسلموا؛ فإن محمداً يعطي عطاءً لا يخشى الفاقة)) (1).

 

‌‌القسم الثاني: المسلمون وهم أربعة أنواع:

‌‌النوع الأول: قومٌ من سادات المسلمين لهم نظراء من الكفار، ومن المسلمين الذين لهم نية حسنة في الإسلام، فإذا أعطوا رُجي إسلام نظرائهم وحُسنُ نيَّاتهم، فيجوز إعطاؤهم.

‌‌النوع الثاني: قومٌ في طرف بلاد الإسلام إذا أعطوا دفعوا عمن يليهم من المسلمين.

‌‌النوع الثالث: قومٌ إذا أعطوا جبوا الزكاة ممن لا يعطيها إلا أن يخاف، فكل هؤلاء يعطون من الزكاة؛ لأنهم من المؤلفة قلوبهم، فيدخلون في عموم الآية.

‌‌النوع الرابع: قومٌ ساداتٌ مطاعون في قومهم، يرجى بعطيتهم قوة إيمانهم، ومناصحتهم في الجهاد؛ فإنهم يعطون؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إني لأعطي الرجل وغيره أحب إليَّ منه خشية أن يكب في النار على وجهه)) (2)، ولذلك كان صلى الله عليه وسلم ((يعطي رجالاً من قريش مائة من الإبل)) وقال في ذلك: ((إني لأعطي رجالاً حديثٌ عهدهم بكفر)) (3).

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، قال: بعث عليٌّ رضي الله عنه وهو باليمن بذهيبةٍ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقسمها رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أربعة نفر: الأقرع بن حابس الحنظلي، وعيينة بن بدر الفزاري، وعلقمة بن علاثة العامري، ثم أحد

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الفضائل، باب ما سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً قط فقال: لا، وكثرة عطائه، برقم 2312.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الإيمان، باب إذا لم يكن الإسلام على الحقيقة، برقم 27، ومسلم، كتاب الإيمان، باب تأليف قلب من يخاف على إيمانه؛ لضعفه، برقم: 150.

(3) البخاري، كتاب فرض الخمس، باب ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يعطي المؤلفة قلوبهم، برقم: 3147.
"তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো; কারণ মুহাম্মদ এমনভাবে দান করেন যে তিনি দারিদ্র্যের আশঙ্কা করেন না" (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় বিভাগ: মুসলিমগণ, তারা চার প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: মুসলিমদের এমন একদল নেতা যাদের সমপর্যায়ের কাফির ব্যক্তি বিদ্যমান রয়েছে, এবং এমন মুসলিমদের মধ্য থেকে যাদের ইসলামে উত্তম নিয়ত রয়েছে। যখন তাদের দান করা হয়, তখন তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ইসলাম গ্রহণ এবং তাদের নিয়ত সুন্দর হওয়ার আশা করা যায়; তাই তাদের দান করা বৈধ।

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: ইসলামি ভূখণ্ডের সীমান্ত এলাকার একদল লোক, যাদের দান করা হলে তারা তাদের পার্শ্ববর্তী মুসলিমদের রক্ষা করেন।

‌‌তৃতীয় প্রকার: এমন একদল লোক যাদের দান করা হলে তারা তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করেন যারা (কর্তৃপক্ষকে) ভয় না পেলে তা প্রদান করে না। এই সকলকে যাকাত থেকে প্রদান করা হবে; কারণ তারা অন্তর জয় করা ব্যক্তিদের (المؤلفة قلوبهم) অন্তর্ভুক্ত, ফলে তারা আয়াতের সাধারণ হুকুমের আওতায় পড়েন।

‌‌চতুর্থ প্রকার: এমন একদল নেতা যারা নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে মান্যবর, তাদের প্রদানের মাধ্যমে তাদের ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি এবং জিহাদের ক্ষেত্রে তাদের একনিষ্ঠতা আশা করা হয়; তাই তাদের দান করা হয়। একারণেই নবী (সা.) বলেছেন: "আমি এক ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে তার চেয়ে অধিক প্রিয়, এই ভয়ে যে তাকে যেন অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা না হয়" (২)। এজন্যই তিনি (সা.) "কুরাইশের কিছু লোককে একশটি করে উট প্রদান করতেন" এবং এ প্রসঙ্গে বলতেন: "আমি এমন কিছু লোককে দান করি যারা কুফর থেকে সদ্য ফিরেছে" (৩)।

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রা.) যখন ইয়ামেনে ছিলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু স্বর্ণখণ্ড পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তা চার ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করে দিলেন: আকরা ইবনে হাবিস আল-হানজালি, উয়াইনা ইবনে বদর আল-ফাজারি, আলকামা ইবনে উলাসা আল-আমিরি, অতঃপর অন্যজন...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, ফাজায়েল অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো ‘না’ বলতেন না এবং তাঁর অধিক দানশীলতা, হাদিস নম্বর ২৩১২।

(২) ঐকমত্য পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যখন ইসলাম প্রকৃত পর্যায়ের হয় না, হাদিস নম্বর ২৭; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ঈমানের দুর্বলতার কারণে যার ঈমান বিনষ্ট হওয়ার ভয় থাকে তার অন্তর জয় করা, হাদিস নম্বর ১৫০।

(৩) বুখারি, খুমুস নির্ধারণ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী (সা.) যাদের অন্তর জয় করা আবশ্যক (المؤلفة قلوبهم) তাদের যা দান করতেন, হাদিস নম্বর ৩১৪৭।
(খণ্ড: ১) মাসারিফুয যাকাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
بني كلاب، وزيد الخير الطائي ثم أحد بني نبهان، فغضبت قريش والأنصار، قالوا: يعطي صناديد أهل نجد ويدعنا؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إني إنما فعلت ذلك؛ لأتألفهم)) (1).

وعن عمرو بن تغلب رضي الله عنه قال: أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم قوماً ومنع آخرين، فكأنهم عتبوا عليه، فحمد الله وأثنى عليه، ثم قال: ((أما بعد: فوالله إني لأعطي الرجل وأدع الرجل، والذي أدع أحب إليَّ من الذي أُعطي، ولكني أعطي أقواماً؛ لما أرى في قلوبهم من الجزع والهلع، وأكل أقواماً إلى ما جعل الله في قلوبهم من الغنى والخير، منهم عمرو ابن تغلب)) قال عمرو: فوالله ما أحب أن لي بكلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم حُمْرُ النَّعَم)) (2).

 

‌‌المسألة الثالثة: نصيب المؤلفة قلوبهم من الزكاة، يُعطى المؤلفة قلوبهم من الزكاة ما يحصل به التأليف؛ لترغيبهم في الإسلام، أو كف شرهم، أو قوة إيمانهم، أو إسلام نظيرهم، لدخولهم في عموم قول الله تعالى: {وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ} (3) (4).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب أحاديث الأنبياء، باب قول الله تعالى: {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا} [الأعراف، 65 برقم 3344، ومسلم، كتاب الزكاة، باب ذكر الخوارج وصفاتهم، برقم: 1064.

(2) البخاري، كتاب الجمعة، باب من قال في الخطبة بعد الثناء: أما بعد، برقم 923، وكتاب فرض الخمس باب ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يعطي المؤلفة قلوبهم وغيرهم من الخمس برقم 3145، وكتاب التوحيد، باب قول الله تعالى: {إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا* إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا*وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا} [المعارج، الآيات: 19 – 21] برقم: 7535.

(3) سورة التوبة، الآية: 60.

(4) انظر: المغني، لابن قدامة، 9/ 316 – 318، و4/ 130، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 3/ 315، والمقنع والشرح الكبير مع الإنصاف، 7/ 231، والكافي، 2/ 197، ومنار السبيل، 1/ 267، وكتاب الفروع، لابن مفلح، 4/ 329 - 330، وفتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 25/ 40، ومجموع فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية، 10/ 27.
বনু কিলাব এবং জায়েদ আল-খাইর আত-তাঈ, অতঃপর বনু নাবহান গোত্রের একজনকে (দান করলেন)। এতে কুরাইশ এবং আনসারগণ রাগান্বিত হলেন, তারা বললেন: "তিনি নজদবাসীদের নেতাদের দান করছেন আর আমাদের বাদ দিচ্ছেন?" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি তো এটা করেছি কেবল তাদের অন্তর আকৃষ্ট করার জন্য।" (১)।

আমর বিন তাগলিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক দলকে প্রদান করলেন এবং অন্য এক দলকে বিরত রাখলেন। এতে তারা যেন তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হলো। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: "অতঃপর (আম্মা বাদ): আল্লাহর শপথ, আমি একজনকে দেই আর একজনকে দেই না; অথচ যাকে আমি দেই না সে আমার নিকট যাকে আমি দেই তার চেয়ে অধিক প্রিয়। কিন্তু আমি কিছু লোককে দান করি তাদের অন্তরে অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা প্রত্যক্ষ করার কারণে। আর কিছু লোককে আল্লাহ তাদের অন্তরে যে সচ্ছলতা ও কল্যাণ দান করেছেন তার ওপর ছেড়ে দেই, আমর বিন তাগলিব তাদেরই একজন।" আমর (রা.) বলেন: "আল্লাহর শপথ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উট লাভ করাকেও পছন্দ করতাম না।" (২)।

 

‌‌তৃতীয় মাসআলা: জাকাতের সম্পদে মুআল্লাফাতুল কুলুবের (যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন) অংশ, মুআল্লাফাতুল কুলুবদের জাকাত থেকে সেই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করা হবে যার দ্বারা তাদের অন্তর আকৃষ্ট হয়; যেন ইসলামের প্রতি তাদের অনুরাগী করা যায়, অথবা তাদের অনিষ্টতা রোধ করা যায়, অথবা তাদের ঈমান মজবুত করা যায়, কিংবা তাদের সমমনাদের ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কেননা তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাধারণ নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত: {আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা হয়} (৩) (৪)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাব আহাদিসিল আম্বিয়া, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {আর আদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি} [আল-আরাফ, ৬৫], হাদিস নং ৩৩৪৪; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: খাওয়ারিজদের বিবরণ ও তাদের বৈশিষ্ট্য, হাদিস নং ১০৬৪।

(২) বুখারি, কিতাবুল জুমুআ, অধ্যায়: প্রশংসার পর খুতবায় যারা 'আম্মা বাদ' বলেন, হাদিস নং ৯২৩; কিতাব ফারযুল খুমুস, অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআল্লাফাতুল কুলুব ও অন্যদের খুমুস থেকে যা দান করতেন, হাদিস নং ৩১৪৫; এবং কিতাবুত তাওহিদ, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে...} [আল-মাআরিজ, আয়াত: ১৯-২১], হাদিস নং ৭৫৩৫।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০।

(৪) দ্রষ্টব্য: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি, ৯/৩১৬–৩১৮, এবং ৪/১৩০; ইবনে কাসিম-এর হাশিয়াসহ আর-রাওদুল মুরব্বি, ৩/৩১৫; আল-ইনসাফসহ আল-মুকনি ও আশ-শারহুল কাবীর, ৭/২৩১; আল-কাফি, ২/১৯৭; মানারুস সাবিল, ১/২৬৭; ইবনে মুফলিহ রচিত কিতাবুল ফুরু, ৪/৩২৯-৩৩০; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর ফাতাওয়া, ২৫/৪০; মাজমু' ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ, ১০/২৭।