(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كيفية دعوة عصاة المسلمين إلى الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة القسم: كتب عامة
الكتاب: كيفية دعوة عصاة المسلمين إلى اللَّه تعالى في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 72
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পাপাচারী মুসলিমদের আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতি বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পাপাচারী মুসলিমদের আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতি
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির মুদ্রণালয়, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
كيفية دعوة عصاة المسلمين إلى اللَّه تعالى
في ضوء الكتاب والسنة
تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র
মুসলিম পাপীদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
আল্লাহ তায়ালার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((كيفية دعوة عصاة المسلمين إلى اللَّه تعالى)) بيّنت فيها بإيجاز الأساليب والوسائل والطرق المناسبة في كيفية دعوتهم إلى اللَّه تعالى على حسب أحوالهم، وعقولهم، ومجتمعاتهم.
واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.
وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর অজস্র ধারায় দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি "পাপী মুসলিমদের আল্লাহর পথে ডাকার পদ্ধতি" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; এতে আমি তাদের অবস্থা, মেধা ও সমাজের প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর দিকে ডাকার উপযুক্ত পদ্ধতি, উপকরণ ও পন্থাগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সামান্য আমলটিকে বরকতময়, উপকারী এবং একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আর এর মাধ্যমে যেন তিনি আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আবেদন গ্রহণকারী এবং শ্রেষ্ঠতম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
আল্লাহ দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।
লেখক
২৫/০২/১৪২৫ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
توطئة:إن من حكمة القول في الدعوة إلى اللَّه - تعالى - أن يُخاطب الناس على قدر عقولهم، وأحوالهم، وعقائدهم، وأوضاعهم، وليس من الحكمة أن يُخاطب المسلم - في توجيهه وإرشاده وحثّه على الالتزام والتمسك بدينه - كما يُخاطب الملحد، أو الوثني، أو اليهودي، أو النصراني، أو غيرهم من الكفار.
ولا شك أن المسلمين ينقسمون إلى قسمين:
القسم الأول من المسلمين: وهم الذين ينقادون للحق ولا يعاندون، فهؤلاء يكفي في دعوتهم بالقول الحكيم أن يبيَّن لهم الحق علماً وعملاً واعتقاداً، وحينئذ ينقادون لذلك - بإذن اللَّه تعالى -.
أما
القسم الثاني من المسلمين: وهم الذين عندهم غفلة وشهوات وأهواء، وهم عُصاة المسلمين، فهذا القسم تكون دعوتهم بالحكمة القولية حسب المباحث الآتية:
المبحث الأول: الموعظة الحسنة وأنواعها.
المبحث الثاني: الترغيب والترهيب.
المبحث الثالث: حكمة القول التصويرية.
المبحث الرابع: الدعوة بالقوة القولية والفعلية.
উপক্রমণিকা:আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে বাচনভঙ্গির প্রজ্ঞা হলো মানুষকে তাদের মেধা, অবস্থা, আকিদা এবং পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী সম্বোধন করা। একজন মুসলিমকে—তার দ্বীনের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান, নসিহত দান এবং দ্বীনের ওপর অবিচল ও তা আঁকড়ে ধরার অনুপ্রেরণা দেওয়ার ক্ষেত্রে—সেভাবে সম্বোধন করা প্রজ্ঞার পরিচয় নয়, যেভাবে একজন নাস্তিক, পৌত্তলিক, ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অন্যান্য কাফেরদের সম্বোধন করা হয়।
নিঃসন্দেহে মুসলিমগণ দুই ভাগে বিভক্ত:
মুসলিমদের প্রথম শ্রেণি: যারা হকের অনুগামী হয় এবং একগুঁয়েমি করে না, তাদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে ইলম, আমল এবং আকিদাগতভাবে সত্যকে সুস্পষ্ট করে তোলাই যথেষ্ট; এর মাধ্যমেই তারা—আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়—তার অনুগত হয়।
আর
মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণি: যাদের মধ্যে উদাসীনতা, নফসের লালসা ও কুপ্রবৃত্তি বিদ্যমান, তারা হলো পাপাচারী মুসলিম; এই শ্রেণির দাওয়াতের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বাচনিক প্রজ্ঞা অবলম্বন করতে হবে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: উত্তম উপদেশ এবং এর প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চিত্রায়িত বাচনিক প্রজ্ঞা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বাচনিক ও ব্যবহারিক শক্তির মাধ্যমে দাওয়াহ।
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: الموعظة الحسنة وأنواعها:الموعظة: هي الأمر والنهي المقرون بالترغيب والترهيب، والقول الحق الذي يُلين القلوب، ويؤثر في النفوس، ويكبح جماح النفوس المتمردة، ويزيد النفوس المهذبة إيماناً وهداية (1)، قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُواْ مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا} (2)، وقال سبحانه: {يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَن تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ} (3).
والداعية إلى اللَّه - تعالى - ينبغي أن يكون وعظه للناس بالقول الحكيم على نوعين: تعليم، وتأديب.
النوع الأول: وعظ التعليم:وهذا النوع يكون ببيان عقائد التوحيد، وبيان الأحكام الشرعية الخمسة: من الواجب، والحرام، والمسنون، والمكروه، والمباح، ويراعى في ذلك كله ما يُناسب كل طبقة، والحث على التمسك بها، والتحذير من التهاون فيها.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: উত্তম উপদেশ (الموعظة) ও এর প্রকারভেদ:উপদেশ (الموعظة): এটি হলো এমন আদেশ ও নিষেধ যা উৎসাহ প্রদান (الترغيب) এবং ভীতি প্রদর্শনের (الترهيب) সাথে যুক্ত, এবং এমন সত্য কথা যা অন্তরকে কোমল করে, আত্মায় প্রভাব ফেলে, অবাধ্য আত্মার লাগাম টেনে ধরে এবং মার্জিত আত্মার ঈমান ও হিদায়াত বৃদ্ধি করে (১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তারা তা-ই করত যার উপদেশ (الموعظة) তাদের দেওয়া হয়েছে, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো এবং (দ্বীনের ওপর) তাদের সুদৃঢ় রাখতে অধিকতর কার্যকর হতো} (২)। তিনি আরও বলেন: {আল্লাহ তোমাদের উপদেশ (الموعظة) দিচ্ছেন যেন তোমরা আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি না করো, যদি তোমরা মুমিন হও} (৩)।
আর আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর উচিত মানুষকে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথার মাধ্যমে দুই পদ্ধতিতে উপদেশ প্রদান করা: শিক্ষা প্রদান এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া।
প্রথম প্রকার: শিক্ষামূলক উপদেশ:এই প্রকারটি হলো তাওহীদের আকিদা বর্ণনা এবং পাঁচটি শরয়ি বিধান বর্ণনার মাধ্যমে: ওয়াজিব (الواجب), হারাম (الحرام), মাসনুন (المسنون), মাকরূহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح)। এ সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্তরের মানুষের জন্য যা উপযুক্ত সেটির প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তা আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহিত করা ও সে বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শনের ব্যাপারে সতর্ক করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومن تدبر أسلوب القرآن علم أن الأحكام ينبغي أن تُساق إلى الناس مساق الوعظ الذي يليِّن القلوب، ويبعثها على العمل، ولا تسرد سرداً خالية من وسائل التأثير، ومما يوضح ذلك قوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُواْ النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىَ يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ * نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُواْ حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ وَقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُمْ وَاتَّقُواْ اللَّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّكُم مُّلَاقُوهُ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} (1).
فالأمر بتقوى اللَّه بعد النهي عن إتيان النساء في المحيض، والأمر بإتيانهن في موضع الحرث، والأمر بالتقديم لأنفسنا تحذيراً من مخالفة هذا الهدي الإلهي، وقوله: {وَاعْلَمُواْ أَنَّكُم مُّلَاقُوهُ} إنذار للذين يُخالفون عن أمره بأنهم يُلاقون جزاء مخالفتهم في الآخرة، ويحاسبون على أعمالهم. وقوله تعالى: {وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} تبشير للطائعين الذين يقفون عند الحدود، ويتبعون هدى اللَّه – تعالى – والمبشر به عام يشمل منافع الدنيا، ونعيم الآخرة، وحصول كل خير، واندفاع كل شر – رتّب على الإيمان – داخل في هذه الآية.
ومما يزيد ذلك وضوحاً وبياناً أن اللَّه عز وجل بعد أن ذكر أحكام
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি কুরআনের রচনাশৈলী নিয়ে চিন্তা করবে সে বুঝতে পারবে যে, বিধানসমূহ মানুষের কাছে এমন উপদেশ হিসেবে পেশ করা উচিত যা হৃদয়কে নরম করে এবং আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে। এগুলো প্রভাব সৃষ্টিকারী মাধ্যমসমূহ ব্যতিরেকে কেবল নিছক বর্ণনা হিসেবে পেশ করা উচিত নয়। আর মহান আল্লাহর এই বাণী বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়: {আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুকালে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে যেও না। অতঃপর তারা যখন পবিত্র হয়, তখন তাদের কাছে সেই স্থান দিয়ে গমন করো যা আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো এবং নিজেদের জন্য আগাম নেক আমল পাঠাও। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, তোমরা তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও} (১)।
সুতরাং ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীদের কাছে গমনে নিষেধ এবং তাদের শস্যক্ষেত্রে গমনের নির্দেশের পর আল্লাহকে ভয় করার নির্দেশ দেওয়া এবং নিজেদের জন্য আগাম নেক আমল প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই খোদায়ী হিদায়াতের বিরুদ্ধাচরণ থেকে সতর্ক করার জন্য। আর তাঁর বাণী: {আর জেনে রাখো যে, তোমরা তাঁর সাক্ষাৎ পাবে} এটি সেই সব লোকদের জন্য সতর্কবাণী যারা তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করে; তারা পরকালে তাদের অবাধ্যতার প্রতিফল ভোগ করবে এবং তাদের কর্মের হিসাব গ্রহণ করা হবে। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও} এটি সেই অনুগতদের জন্য সুসংবাদ যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমানার ওপর অটল থাকে এবং মহান আল্লাহর হিদায়াত অনুসরণ করে। এই সুসংবাদটি ব্যাপক যা দুনিয়ার কল্যাণ এবং আখিরাতের নেয়ামতকে শামিল করে; আর ঈমানের ওপর ভিত্তি করে সকল কল্যাণ লাভ এবং সকল অকল্যাণ দূর হওয়া এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও বিশদ করে যে, মহান আল্লাহ বিধানাবলি উল্লেখ করার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفرائض وتقسيم التركات ختم ذلك بقوله: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ} (1).
وهذان مثالان يُبينان أن الداعية إلى اللَّه إذا سلك في هذا النوع طريقة القرآن الكريم؛ فإنه سيجتذب الأسماع، ويأخذ بمجامع القلوب ويلينها، وحينئذ تستقبل العقائد والأحكام بإذن اللَّه عز وجل للعمل والتطبيق برغبة واشتياق (2).
النوع الثاني: وعظ التأديب:وهذا يكون بتحديد الأخلاق الحسنة: كالحلم والأناة، والشجاعة، والوفاء، والصبر، والكرم
… ، وبيان آثارها ومنافعها في المجتمع، والحثّ على التخلق بها والتزامها، وتعريف وتحديد الأخلاق السيئة: كالغضب، والعجلة، والغدر، والجزع، والجبن، والبخل،
… والتحذير عن الاتصاف بها من طريقي: الترغيب والترهيب.
وينبغي للداعية إلى اللَّه أن يستشهد في كل من النوعين بما جاء
--------------------------------------------
উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) এবং সম্পদ বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়াদি তিনি এই বাণীর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন: {এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই মহাসাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি} (১)।
এই উদাহরণ দুটি স্পষ্ট করে যে, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (দাঈ) যদি এই বিষয়ের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তবে তিনি শ্রোতাদের শ্রবণকে আকৃষ্ট করবেন এবং মানুষের হৃদয়ের অন্তঃস্থল জয় করবেন ও তা বিগলিত করবেন। আর তখনই আল্লাহর ইচ্ছায় আকীদা ও বিধানসমূহ আমল ও বাস্তবায়নের জন্য প্রবল আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষার সাথে গৃহীত হবে (২)।
দ্বিতীয় প্রকার: শিষ্টাচারমূলক উপদেশ (وعظ التأديب):এটি উত্তম চরিত্রসমূহ নির্ধারণের মাধ্যমে হয়ে থাকে: যেমন সহনশীলতা (الحلم), ধীরস্থিরতা, সাহসিকতা, বিশ্বস্ততা, ধৈর্য (الصبر) এবং উদারতা
… , এবং সমাজে এগুলোর প্রভাব ও উপকারিতা বর্ণনা করা, আর এগুলোর মাধ্যমে চরিত্র গঠন ও তা আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা। এছাড়া মন্দ স্বভাবগুলো চিহ্নিত ও সংজ্ঞায়িত করা: যেমন ক্রোধ, তাড়াহুড়ো, বিশ্বাসঘাতকতা, অস্থিরতা, ভীরুতা, কৃপণতা,
… এবং উৎসাহ প্রদান (الترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (الترهيب)-এর মাধ্যমে এই মন্দ গুণাবলি থেকে সতর্ক করা।
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (দাঈ) উচিত উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে সেই সব দলীল উপস্থাপন করা যা বর্ণিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فيه من الكتاب والسنة الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وآثار الصحابة والتابعين والأئمة المجتهدين، وأحوالهم في ذلك؛ فإن لهذا شأناً عظيماً يوصّل إلى الغاية المقصودة متى صدر من قلب سليم نقيّ متخلّق بما يدعو إليه؛ لأن الموعظة في الغالب إذا صدرت من القلب وقعت في القلب، وإن خرجت من اللسان لم تتجاوز الآذان.
وإذا أراد الداعية أن تكون موعظته مُؤثرة بليغة، فإن عليه الآتي:
1 - ينظر إلى المنكرات المنتشرة، ولا سيما ما كان منها قريب العهد، وحديثه على ألسنة الناس.
2 - ثم يقدم من هذه المنكرات أكبرها ضرراً، وأسوأها أثراً، فيجعلها محور خطابته، وموضع موعظته.
3 - ثم يفكر فيما ينشأ عن هذا المنكر من الأضرار: الخلقية، والاجتماعية، والصحية، والمالية.
4 - ثم يستحضر ما جاء في ذلك من الآيات، والأحاديث الصحيحة، أو الحسنة، وأقوال الصحابة، والأبيات الشعرية الحكيمة.
5 - ثم يأخذ في كتابة الموضوع إن شاء كتابته، ويضمنه ما فيه من تلك المضارّ، وما ورد فيه عن الشارع، محذراً من الوقوع فيه، حاثّاً على التوبة منه.
أما إذا أراد الحثّ على العمل الصالح النافع، فيتبع ما يلي:
এতে রয়েছে কিতাব (কুরআন) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রমাণিত (ثابتة) সুন্নাহ, সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসার (آثار) এবং মুজতাহিদ ইমামগণের জীবনী ও এ সংক্রান্ত তাঁদের অবস্থা; কেননা এর এক মহান মর্যাদা রয়েছে যা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়, যখন তা এমন এক সুস্থ ও নির্মল অন্তর থেকে নির্গত হয় যা সেই আদর্শে আদর্শবান যার দিকে সে আহ্বান জানাচ্ছে। কারণ নসিহত সাধারণত যখন অন্তর থেকে নির্গত হয়, তখন তা অন্তরে গিয়েই পৌঁছে; আর যদি কেবল জিহ্বা থেকে বের হয়, তবে তা কর্ণকুহর অতিক্রম করে না।
আর যদি একজন দাঈ চান যে তাঁর নসিহত প্রভাবশালী ও সাবলীল হোক, তবে তাঁর করণীয় নিম্নরূপ:
১ - সমাজে ছড়িয়ে পড়া অন্যায় কাজগুলোর (منكرات) প্রতি লক্ষ্য করা, বিশেষ করে সেগুলোর প্রতি যেগুলো অতি সাম্প্রতিক এবং যা নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
২ - অতঃপর এই অন্যায় কাজগুলোর (منكرات) মধ্য থেকে যেটির ক্ষতি সবচেয়ে বেশি এবং প্রভাব সবচেয়ে নিকৃষ্ট, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং সেটাকেই তাঁর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ও উপদেশের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা।
৩ - এরপর এই অন্যায় কাজ (منكر) থেকে উদ্ভূত অপকারিতাগুলো নিয়ে চিন্তা করা: চারিত্রিক, সামাজিক, স্বাস্থ্যগত এবং আর্থিক ক্ষতিসমূহ।
৪ - অতঃপর এ বিষয়ে বর্ণিত আয়াতসমূহ, সহিহ (صحيحة) অথবা হাসান (حسنة) হাদিসসমূহ, সাহাবীদের বাণী এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কাব্যখণ্ডগুলো সংগ্রহ করা।
৫ - এরপর তিনি যদি বিষয়টি লিখে নিতে চান তবে তা লিখতে শুরু করা এবং তাতে সেই সকল অপকারিতাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা, যা এ বিষয়ে শরিয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে; সেগুলোতে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করা এবং তা থেকে তওবা করার প্রতি উৎসাহিত করা।
পক্ষান্তরে যদি তিনি কোনো কল্যাণকর নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত করতে চান, তবে নিম্নোক্ত পন্থা অনুসরণ করবেন:
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
1 - يفكر في مزاياه وآثاره الحسنة تفكيراً عميقاً.
2 - يستحضر ما يُناسبه من الكتاب وصحيح السنة وآثار الصحابة.
3 - ثم يسلك في الكتابة المسلك السابق.
فإذا كتب الموضوع، فإن شاء حفظه وألقاه، وإن شاء ذكر مضمونه، وذِكْرُ المضمون أحسن الأمرين، حتى لا يكون مقيداً بعبارة خاصة، ويتخيّر من العبارات ما يُؤدي إلى المعاني التي حصل عليها ببحثه وتفكيره.
وإن شاء عدم الكتابة واكتفى برسم الموضوع في مخيلته وتسطيره في ذاكرته التي قواها بالمران والتجارب والممارسة كان ذلك أحسن وأكمل، وبتوفيق اللَّه عز وجل ثم بإعداد الموضوع واستحضاره بأدلته تماماً، وتقسيمه بحسب نقطه إلى أقسام، يكون الداعية في مأمن من الزلل بإذن اللَّه تعالى.
وبعد ذلك ينبغي أن يراعي في حال التأدية والإلقاء استعداد السامعين، فينزل في العبارة مع العامة على قدر عقولهم متجنباً الألفاظ البعيدة عن أفهامهم، ويتوسط مع أوساط الناس، ويتأنق مع الخاصة، فيكون مع جميع الطبقات حكيماً يضع الأشياء في مواضعها، وبكل حال عليه أن يختار المعاني النفيسة، وتنسيقها، وشرحها بالدقة، وإبلاغها أذهان السامعين، وإنفاذها في قلوبهم، ودفع السآمة والملل عنهم، بإيراد الشواهد عليه من الحكم النثرية
১ - এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং উত্তম প্রভাবসমূহ সম্পর্কে গভীর চিন্তা করা.
২ - কুরআন, সহিহ (صحيح) সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আসার (آثار) থেকে এর সাথে সংগতিপূর্ণ বিষয়সমূহ উপস্থিত করা.
৩ - অতঃপর লিখনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পদ্ধতি অনুসরণ করা.
যখন সে বিষয়টি লিখে ফেলবে, তখন চাইলে সে তা মুখস্থ করে প্রদান করতে পারে, আবার চাইলে এর সারমর্ম বর্ণনা করতে পারে। আর সারমর্ম বর্ণনা করা উভয় পদ্ধতির মধ্যে অধিক উত্তম, যাতে সে কোনো বিশেষ শব্দমালার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং সে এমন সব শব্দ চয়ন করবে যা তার গবেষণা ও চিন্তার মাধ্যমে লব্ধ অর্থসমূহকে ফুটিয়ে তোলে।
আর যদি সে না লেখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কেবল তার কল্পনাপটে বিষয়টি অঙ্কন করে ও স্বীয় স্মৃতিশক্তিতে তা গেঁথে নেয়—যা সে অনুশীলন, অভিজ্ঞতা ও চর্চার মাধ্যমে শক্তিশালী করেছে—তবে তা হবে আরও উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ। আল্লাহ তাআলার তাওফিক, অতঃপর বিষয়টি প্রস্তুত করা, এর দলিলসমূহ (أدلة) পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থিত করা এবং এর মূল পয়েন্ট অনুযায়ী বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করার মাধ্যমে একজন দাঈ আল্লাহর ইচ্ছায় পদস্খলন থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন।
এরপর বক্তব্য প্রদান ও উপস্থাপনার সময় শ্রোতাদের মানসিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর অনুযায়ী শব্দ চয়ন করবে এবং তাদের বোধগম্যতার বাইরের শব্দাবলি পরিহার করবে। মধ্যম স্তরের মানুষের সাথে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে মার্জিত ভাষা ব্যবহার করবে। এভাবে সে সকল স্তরের মানুষের সাথে একজন প্রজ্ঞাবান (حكيم) ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করবে, যে প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযোগ্য স্থানে রাখে। সর্বাবস্থায় তার কর্তব্য হলো চমৎকার অর্থসমূহ নির্বাচন করা, সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করা, সূক্ষ্মভাবে ব্যাখ্যা করা, শ্রোতাদের মস্তিস্কে তা পৌঁছে দেওয়া ও তাদের হৃদয়ে প্রোথিত করা এবং গদ্যের প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তি থেকে শওয়াহেদ (شواهد) উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর করা।
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
والشعرية، والفكاهات الأدبية، بشرط التزام ظلال الكتاب والسنة، وبذلك يكون الداعية موفقاً مؤثراً بإذن اللَّه – تعالى – إذا قصد إبلاغ الناس بإخلاص وصدق ورغبة فيما عند اللَّه – تعالى - (1).
--------------------------------------------
এবং কাব্যিকতা ও সাহিত্যিক রসালাপ, কিতাব ও সুন্নাহর ছায়া অনুসরণের শর্তে; আর এর মাধ্যমেই দাঈ মহান আল্লাহর অনুমতিতে সফল ও প্রভাবশালী হবেন—যদি তার উদ্দেশ্য হয় নিষ্ঠা, সত্যবাদিতা এবং মহান আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তার প্রতি আকাঙ্ক্ষার সাথে মানুষের নিকট (বাণী) পৌঁছে দেওয়া (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: الترغيب والترهيبمن حكمة القول في أسلوب الدعوة إلى اللَّه - تعالى - مع عصاة المسلمين وغيرهم: أن يسلك الداعية في دعوته إلى اللَّه مسلكي: الترغيب والترهيب؛ لأنه أسلوب له تأثيره في نفوس كثير من البشر؛ فإن الإنسان جُبِلَ على حب الخير، والرغبة في الحصول على كل محبوب، كما طُبِعَ على بغض الشر، وما يُصيبه من بلاء في النفس، أو المال، أو الأهل، وحينئذ فغريزة حب الإنسان لنفسه تدفعه إلى أن يحقق لها كل خير، ويحميها من كل شر، سواء كان ذلك عاجلاً أو آجلاً؛ ولذلك فالترغيب والترهيب يفيض بهما بحرا الكتاب والسنة (1)، قال تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يِهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا * وأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} (2).
فالقرآن يهدي لأقوم الطرق، وأوضح السبل، ومن هدايته الترغيب بوعد الطائعين الحافظين لحدود اللَّه - تعالى - بعظيم الخير، وتبشيرهم بحسن المثوبة، والترهيب بوعيد المخالفين الذين تعدوا حدود اللَّه - تعالى - بشديد العذاب، وإنذارهم بسوء العاقبة،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উৎসাহ প্রদান (الترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (الترهيب)আল্লাহ তাআলা-এর পথে দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপূর্ণ নীতি হলো—চাই তা অবাধ্য মুসলিমদের সাথে হোক বা অন্যদের সাথে—দায়ী যেন আল্লাহর দিকে তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান (الترغيب) এবং ভীতি প্রদর্শন (الترهيب)—এই উভয় পন্থা অবলম্বন করেন; কেননা এটি এমন একটি পদ্ধতি যার প্রভাব বহু মানুষের অন্তরে অনস্বীকার্য। কারণ মানুষকে স্বভাবগতভাবেই কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিটি প্রিয় বস্তু অর্জনের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনভাবে তাকে মন্দের প্রতি ঘৃণা এবং নিজের জীবন, সম্পদ বা পরিবারের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ অপছন্দ করার প্রকৃতি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, মানুষের আত্মপ্রেমের প্রবৃত্তি তাকে নিজের জন্য সব কল্যাণ অর্জন করতে এবং সব অনিষ্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করে, তা ইহকাল হোক বা পরকাল। এ কারণেই কিতাব ও সুন্নাহর বিশাল ভাণ্ডার উৎসাহ প্রদান (الترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (الترهيب)-এ পরিপূর্ণ (১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং মুমিনদের যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} (২)।
বস্তুত কুরআন অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথের দিশা দেয়। কুরআনের হিদায়াতের অন্যতম দিক হলো সেই সব অনুগতদের মহাকল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উৎসাহ প্রদান (الترغيب) করা যারা আল্লাহ তাআলা-এর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে এবং তাদেরকে উত্তম প্রতিদানের সুসংবাদ দেওয়া। আর সেই সব বিরুদ্ধাচরণকারীদের কঠোর শাস্তির ধমক দিয়ে ভীতি প্রদর্শন (الترهيب) করা যারা আল্লাহ তাআলা-এর সীমালঙ্ঘন করেছে এবং তাদেরকে অশুভ পরিণতির ভয় দেখানো,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن المعلوم يقيناً أن الوعد بالخير يعمّ خير الدنيا والآخرة وسعادتهما، والوعيد يشمل نقم الدنيا والآخرة وشقاءهما (1).
وهذا يجعل الداعية إلى اللَّه - تعالى - يهتم اهتماماً بالغاً بهذين الأسلوبين الحكيمين، وسأتناول ذلك - بإذن اللَّه تعالى- بشيء من الإيضاح في المسلكين الآتيين:
المسلك الأول: الترغيب والتبشير.
المسلك الثاني: الترهيب والإنذار.
المسلك الأول: الترغيب والتبشير:
من الحكمة القولية في الدعوة إلى اللَّه أن يذكر الداعية إلى اللَّه من هذا المسلك ما يُفيد في حمل الناس على التشمير عن ساعد الجد في طاعة اللَّه - تعالى - لنيل السعادة في الدنيا والآخرة.
والترغيب قسمان:
القسم الأول: الترغيب في جنس الطاعات.
القسم الثاني: الترغيب في أنواع الطاعات.
القسم الأول: الترغيب في جنس الطاعات:
وهذا القسم له أنواع وصور متعددة، أذكر منها على سبيل المثال ما يلي:
--------------------------------------------
এটি সুনিশ্চিতভাবে সুবিদিত যে, কল্যাণের প্রতিশ্রুতি (الوعد) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও সৌভাগ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর সতর্কবাণী (الوعيد) দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তি ও দুর্ভাগ্যকে শামিল করে (১)।
আর এটি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীকে (দাঈ) এই দুটি প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দুটি পন্থায় এ বিষয়ে কিছুটা ব্যাখ্যা প্রদান করব:
প্রথম পন্থা: উৎসাহ প্রদান (الترغيب) এবং সুসংবাদ দান (التبشير).
দ্বিতীয় পন্থা: ভীতি প্রদর্শন (الترهيب) এবং সতর্কীকরণ (الإنذار)।
প্রথম পন্থা: উৎসাহ প্রদান (الترغيب) এবং সুসংবাদ দান (التبشير):
আল্লাহর দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে বাচনিক প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হলো, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এই পন্থার এমন সব বিষয় উল্লেখ করবেন যা মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য অর্জনের লক্ষ্যে মহান আল্লাহর আনুগত্যে কোমর বেঁধে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করে।
আর উৎসাহ প্রদান (الترغيب) দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: সাধারণ ইবাদতসমূহের প্রতি উৎসাহ প্রদান (الترغيب).
দ্বিতীয় প্রকার: বিশেষ বিশেষ ইবাদতসমূহের প্রতি উৎসাহ প্রদান (الترغيب)।
প্রথম প্রকার: সাধারণ ইবাদতসমূহের প্রতি উৎসাহ প্রদান (الترغيب):
এই প্রকারের বিভিন্ন ধরণ ও রূপ রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ আমি নিমোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
النوع الأول: الترغيب بالوعد بالخير العاجل في الدنيا:عندما يتحقق الإيمان والاستقامة عليه بطاعة اللَّه - تعالى - وتقواه تحصل السعادة والبركات العاجلة في الدنيا قبل الآخرة، وما في الآخرة أعظم، ومن صور هذه الخيرات ما يأتي:
1 - الترغيب بالوعد بالحياة الطيبة والسلامة من كل مكروه، قال تعالى ترغيباً في صالح العمل مع الإخلاص فيه والمتابعة: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} (1).
2 - الترغيب بالوعد بالاستخلاف في الأرض والتمكين: قال تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (2).
3 - الترغيب بالوعد بالإمداد بأنواع الخيرات والزيادة مع الشكر، قال تعالى عن نوح صلى الله عليه وسلم: {فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا، يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ
--------------------------------------------
প্রথম প্রকার: দুনিয়াতে দ্রুত প্রতিশ্রুত কল্যাণের মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান:যখন মহান আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে ঈমান এবং তার ওপর অবিচলতা অর্জিত হয়, তখন পরকালের পূর্বেই দুনিয়াতে তাৎক্ষণিক সুখ ও বরকত অর্জিত হয়; আর পরকালের প্রতিদান তো আরও মহান। এই কল্যাণগুলোর কিছু স্বরূপ নিচে দেওয়া হলো:
১ - উত্তম জীবন এবং সকল প্রকার অপ্রীতিকর বিষয় থেকে নিরাপদ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উৎসাহ প্রদান, আল্লাহ তাআলা ইখলাস ও (সুন্নাহর) অনুসরণের সাথে সৎকর্মের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে অবশ্যই এক উত্তম জীবন দান করব এবং আমি অবশ্যই তাদের ভালো কাজের উত্তম প্রতিদান দেব যা তারা করত।” (১)।
২ - পৃথিবীতে খেলাফত (কর্তৃত্ব) লাভ এবং প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উৎসাহ প্রদান: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করবেন যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়ের পরিবর্তে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা দান করবেন; তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে তারাই তো পাপাচারী।” (২)।
৩ - বিভিন্ন প্রকার কল্যাণ এবং শুকরিয়ার মাধ্যমে প্রাচুর্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উৎসাহ প্রদান, নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “অতঃপর আমি বলেছি: তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا} (1)، {وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِن شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ} (2).
4 - الترغيب بالمد في العمر إلى استيفاء الآجال، وعدم المعاجلة بالعقوبة، قال تعالى: {يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى} (3)، فمن عبد اللَّه واتقاه، وأطاع رسوله صلى الله عليه وسلم، وتاب من جميع المعاصي، غفر اللَّه له ذنوبه، ومدّ في عمره، ودفع عنه الهلاك إلى حين استيفاء أجله (4).
5 - الترغيب بالوعد بأنواع التأييد والنصر والتوفيق:
(أ) الوعد بولاية اللَّه - تعالى -: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوُرِ} (5).
(ب) الوعد بالدفاع عنهم: {إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ} (6).
--------------------------------------------
এবং তিনি তোমাদের জন্য জান্নাতসমূহ দান করবেন এবং তোমাদের জন্য নহরসমূহ প্রবাহিত করবেন} (১), {আর যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব’} (২)।
৪ - নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত আয়ু বৃদ্ধি করা এবং দ্রুত শাস্তি প্রদান না করার প্রতি উৎসাহ দান, মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করছেন যাতে তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন} (৩)। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁকে ভয় করবে, তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করবে এবং সকল পাপাচার থেকে তাওবা করবে, আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, তার আয়ু বৃদ্ধি করে দেবেন এবং নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার থেকে ধ্বংস বা বিপদাপদ প্রতিহত করবেন (৪)।
৫ - বিভিন্ন প্রকার সমর্থন, সাহায্য এবং তাওফিকের ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে উৎসাহিতকরণ:
(ক) মহান আল্লাহর অভিভাবকত্ব লাভের প্রতিশ্রুতি -: {যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক; তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন} (৫)।
(খ) মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করার প্রতিশ্রুতি: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদেরকে রক্ষা করেন; আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(ج) الوعد بالكفاية: {وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} (1).
(د) الوعد بالنصر: {وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} (2).
(هـ) الوعد بالعزة والعلو: {وَللَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ} (3)، {وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ} (4).
(و) الوعد بمحبة اللَّه للمؤمنين: وهذا باب واسع، قد ذكر اللَّه فيه أنه يحب التوابين، والمتطهرين، والمتقين، والمحسنين، والصابرين، والمتوكلين، والمقسطين، والذين يقاتلون في سبيله صفّاً كأنهم بنيان مرصوص (5).
(ز) الوعد بمحبة عباد اللَّه للمؤمنين {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا} (6).
--------------------------------------------
(গ) পর্যাপ্ততার প্রতিশ্রুতি: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট} (১)।
(ঘ) সাহায্যের প্রতিশ্রুতি: {আর মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব} (২)।
(ঙ) মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিশ্রুতি: {আর সম্মান তো আল্লাহরই জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুমিনদের জন্য} (৩), {আর তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই হবে বিজয়ী যদি তোমরা মুমিন হও} (৪)।
(চ) মুমিনদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি: এটি একটি বিস্তৃত পরিচ্ছেদ, যেখানে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে তিনি তওবাকারী, পবিত্রতা অর্জনকারী, মুত্তাকি, মুহসিন, ধৈর্যশীল, তাওয়াক্কুলকারী, ইনসাফকারী এবং যারা তাঁর পথে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে তাদের ভালোবাসেন (৫)।
(ছ) মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বান্দাদের ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, পরম করুণাময় তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(ح) الوعد بالهداية والتوفيق، قال تعالى: {وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ} (1).
(ط) الوعد بعدم تسليط الأعداء عليهم: {وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلاً} (2).
(ي) الوعد بالأمن، قال تعالى: {الَّذِينَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ} (3).
(ك) الوعد بحفظ سعي المؤمنين: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلاً} (4).
(ل) الوعد بازديادهم من العلم والفهم: {وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُم مَّن يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} (5).
النوع الثاني: الترغيب بذكر سنة اللَّه تعالى فيمن مضى من عباده المخلصين:من حكمة القول مع عُصاة المؤمنين في دعوتهم إلى اللَّه عز وجل أن
--------------------------------------------
(হ) হেদায়াত (هداية) ও তাওফিকের (توفيق) প্রতিশ্রুতি, মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সরল পথের দিকে হেদায়াত (هداية) দানকারী} (১)।
(ত) মুমিনদের ওপর শত্রুদের আধিপত্য না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি: {আর আল্লাহ কখনোই মুমিনদের ওপর কাফিরদের জন্য কোনো পথ রাখবেন না} (২)।
(য়) নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি, মহান আল্লাহ বলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (ظلم) সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা রয়েছে এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত (مهتدون)} (৩)।
(ক) মুমিনদের কর্মপ্রচেষ্টাকে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি উত্তম আমলকারীর শ্রমফল বিনষ্ট করি না} (৪)।
(ল) তাদের ইলম ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি: {আর যখনই কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল?’ বস্তুত যারা মুমিন, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দ প্রকাশ করে} (৫)।
দ্বিতীয় প্রকার: মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ (مخلصين) বান্দাদের ক্ষেত্রে তাঁর চিরন্তন নীতি বা সুন্নাহ (سنة) আলোচনার মাধ্যমে উৎসাহিত করা:পাপিষ্ঠ (عصاة) মুমিনদেরকে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে হিকমতের (حكمة) দাবি হলো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يبين لهم أن سنة اللَّه لا تتخلف في نصرة عباده المؤمنين ورحمته بهم حين يتجهون إليه - سبحانه - بإظهار كمال العبودية له، والافتقار إليه، وهم في حالة من الكرب أو الضيق أو الحاجة، فتدركهم رحمته سبحانه: {إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ} (1)، {أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ} (2).
وفي ذكر الداعية إلى اللَّه سنة اللَّه فيمن مضى من عباده المؤمنين إطماع لعباد اللَّه في الحصول على أمثالها للمؤمنين إذا اتجهوا إلى اللَّه - تعالى - بقلوب صادقة، وترغيب للمعرضين في انقيادهم لأمر اللَّه - تعالى - حتى يكونوا من المحسنين، فتصيبهم رحمة اللَّه - تعالى - (3)، وهذا النوع له أمثلة كثيرة جداً، منها ما يلي:
1 - إجابة اللَّه لدعوة آدم وحواء بعد أن وقَعَا في المعصية، ثم تابا إلى اللَّه: {قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (4)، {فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ
… } (5).
--------------------------------------------
এটি তাদের নিকট স্পষ্ট করে যে, মুমিন বান্দাদের সাহায্য করার এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি (سنة) কখনো ব্যত্যয় ঘটে না, যখন তারা তাঁর দিকে রুজু হয়—তিনি সুউচ্চ ও পবিত্র—একান্ত দাসত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে; এমতাবস্থায় যে তারা কোনো বিপদ, সংকীর্ণতা বা অভাবের মধ্যে থাকে। তখন আল্লাহর রহমত তাদের নিকট পৌঁছে যায়: {নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী} (১), {নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন} (২)।
আর আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর বর্ণনায় পূর্ববর্তী মুমিন বান্দাদের প্রতি আল্লাহর যে রীতি (سنة) অতিবাহিত হয়েছে, তাতে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের জন্য অনুরূপ অনুগ্রহ লাভের আকাঙ্ক্ষা নিহিত রয়েছে যদি তারা সত্য হৃদয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে ধাবিত হয়। এছাড়া এটি বিমুখদের জন্য আল্লাহ তাআলার নির্দেশের প্রতি অনুগত হওয়ার ক্ষেত্রে এক প্রকার উৎসাহদান যাতে তারা সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং আল্লাহ তাআলার রহমত তাদের ওপর বর্ষিত হয় (৩)। এই প্রকারের অনেক উদাহরণ রয়েছে, যার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
১ - আদম ও হাওয়ার অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ার পর আল্লাহ কর্তৃক তাদের দোয়ার কবুলিয়ত, অতঃপর তারা আল্লাহর নিকট তওবা করেছিলেন: {তারা বলল: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} (৪), {অতঃপর আদম তার রবের নিকট থেকে কিছু বাণী প্রাপ্ত হলেন, ফলে তিনি তার তওবা কবুল করলেন
… } (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - إجابته تعالى لنبيه أيوب بعد أن بلغ به الضر منتهاه: {وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ* فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِن ضُرٍّ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ} (1).
3 - استجابته تعالى ليونس: {فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لاّ إِلَهَ إِلاّ أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ* فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ} (2)، {فَلَوْلا أَنَّهُ كَانَ مِنْ الْمُسَبِّحِينَ* لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} (3).
4 - إنجاؤه تعالى لأنبيائه وعباده المؤمنين عند حلول العذاب بأقوامهم المكذبين، وهذا باب واسع، ومن ذلك إنجاء نوح (4)، وهود (5)، وصالح (6)، وإبراهيم ولوط (7)، وشعيب (8)، وموسى
--------------------------------------------
২ - মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবী আইয়ুব (আ.)-এর দুআ কবুল করা, যখন তাঁর কষ্ট চরমে পৌঁছেছিল: {আর স্মরণ করুন আইয়ুবের কথা, যখন তিনি তাঁর প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিলেন, ‘আমি কষ্টে নিপতিত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁর কষ্ট দূর করে দিলাম। আমি তাঁকে দান করলাম তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁদের সাথে তাঁদের সমপরিমাণ আরও, আমার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত হিসেবে এবং ইবাদতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।} (১)।
৩ - মহান আল্লাহ কর্তৃক ইউনুস (আ.)-এর ডাকে সাড়া দান: {অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্য থেকে ডেকে বললেন, ‘আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র-মহান, আমি তো জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’ তখন আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদের নাজাত দিয়ে থাকি।} (২), {যদি তিনি তসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতেন, তবে তাঁকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হতো।} (৩)।
৪ - মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবীগণ ও মুমিন বান্দাদের মুক্তি দান যখন তাঁদের মিথ্যাচারী সম্প্রদায়ের ওপর আজাব আপতিত হয়েছিল, এবং এটি একটি বিস্তৃত বিষয়; এর অন্তর্ভুক্ত হলো নূহ (৪), হুদ (৫), সালেহ (৬), ইব্রাহিম ও লুত (৭), শুয়াইব (৮) এবং মূসা-এর মুক্তিলাভ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهارون (1)، والآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر من بني إسرائيل (2)، وغيرهم، فقد أنجى سبحانه هؤلاء ومن تبعهم وأهلك أعداءهم.
النوع الثالث: الترغيب بالوعد بالخير الآجل الأعظم في الآخرة:جاء في كتاب اللَّه - تعالى - وفي سنة رسوله صلى الله عليه وسلم الوعد بالخير الآجل، والنعيم المقيم والرضوان، والأمن التام، والرحمة والمغفرة وتكفير السيئات، كل ذلك لمن تحقق فيه شرط الإيمان والعمل الصالح، وهذا باب واسع يزخر به بحر الكتاب والسنة، ولا يتسع المقام لذكر الأمثلة على ذلك.
فعلى الداعية العناية بكتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم حتى يقدم للناس القول الحكيم الذي يرضي الرب الحكيم (3).
النوع الرابع: الترغيب بذكر أحوال المؤمنين في الجنة وما أعد اللَّه لهم:وهذا النوع من الترغيب يزخر به كتاب اللَّه - تعالى - وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا يحصر ما أعد اللَّه لعباده المؤمنين في جنات النعيم من النعيم المقيم الذي لا يحول ولا يزول، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه تبارك وتعالى: ((قال اللَّه: أعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رأت،
--------------------------------------------
এবং হারুন (১), এবং বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে যারা সৎকাজের আদেশ দিতেন ও অসৎকাজে নিষেধ করতেন (২) এবং অন্যান্যরা; মহান আল্লাহ তাঁদেরকে এবং তাঁদের অনুসারীদেরকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁদের শত্রুদের ধ্বংস করেছেন।
তৃতীয় প্রকার: পরকালে মহত্তম ও চিরস্থায়ী কল্যাণের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে উৎসাহিতকরণ (ترغيب):আল্লাহ তাআলার কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে পরকালীন কল্যাণ, চিরস্থায়ী নিয়ামত, সন্তুষ্টি, পূর্ণ নিরাপত্তা, রহমত, ক্ষমা এবং পাপ মোচনের প্রতিশ্রুতি এসেছে। এই সবকিছুই তাদের জন্য যাদের মধ্যে ঈমান ও নেক আমলের শর্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি একটি বিশাল অধ্যায় যা কুরআন ও সুন্নাহর সাগরে পরিপূর্ণ, এবং এখানে এর উদাহরণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাশ নেই।
সুতরাং একজন দাঈর (داعية) উচিত আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া, যাতে তিনি মানুষের সামনে এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা পেশ করতে পারেন যা প্রজ্ঞাময় রব্বকে সন্তুষ্ট করে (৩)।
চতুর্থ প্রকার: জান্নাতে মুমিনদের অবস্থা এবং আল্লাহ তাদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তা উল্লেখ করার মাধ্যমে উৎসাহিতকরণ (ترغيب):এ ধরনের উৎসাহিতকরণ (ترغيب) আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য নিআমতে ভরপুর জান্নাতে এমন চিরস্থায়ী নিআমত প্রস্তুত করে রেখেছেন যা কখনো পরিবর্তন বা শেষ হওয়ার নয়, তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বরকতময় পালনকর্তা থেকে যা বর্ণনা (يرويه) করেছেন তাতে বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولا أذن سمعت، ولا خطر على قلب بشر، فاقرأوا إن شئتم: {فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا
يَعْمَلُونَ})) (1)، وهذا مما يجعل العاقل يشمِّر عن ساعد الجدَّ؛ ليسعد بهذا الفوز العظيم، والسعادة الأبدية، والنعيم الدائم الذي يعجز دونه الوصف، ومن هذا النعيم على سبيل المثال (2):
ما ذكر اللَّه من نعيم أهل الجنة وصفاتهم، ومن ذلك:
رضوانه تعالى؛ فإنه أكبر النعيم (3)، وأنهار الجنة (4)، ومساكن أهلها (5)، وزوجاتهم (6)، وحُليهم (7)،
--------------------------------------------
কোন কান তা শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে তা উদিত হয়নি। তোমরা চাইলে পাঠ করো: {কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের আমলের পুরস্কার স্বরূপ
}) (১)। আর এটিই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে কঠোর প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে; যেন সে এই মহাসাফল্য, চিরন্তন সুখ এবং সেই অবিরাম নেয়ামত লাভে ধন্য হতে পারে যা বর্ণনা করা অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ এই নেয়ামতসমূহের মধ্য থেকে কিছু হলো (২):
জান্নাতবাসীদের নেয়ামত ও তাদের গুণাবলি সম্পর্কে আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন, যেমন:
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি; যা সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত (৩), জান্নাতের নহরসমূহ (৪), জান্নাতবাসীদের আবাসস্থল (৫), তাদের স্ত্রীগণ (৬) এবং তাদের অলঙ্কারাদি (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وطعامهم (1)، وشرابهم (2)، وصفاتهم (3)، وأطوالهم (4)، وفواكههم (5)، ولباسهم (6)، وأعظم نعيم أهل الجنة النظر إلى وجه اللَّه الكريم (7)، فالداعية إذا استخدم هذا النوع من الترغيب يجذب قلوب الناس إلى الرغبة في هذا النعيم الدائم.
القسم الثاني: الترغيب في أنواع الطاعات:وهذا القسم مهمٌّ جدّاً لا يقل أهمية عن القسم الأول، والناس يحتاجون إليه؛ ليشمروا عن ساعد الجد في عمل أنواع الطاعات، فينبغي للداعية إلى اللَّه أن لا يغفل هذا الجانب، ويهتم بترغيب الناس بالأقوال الحكيمة في أنواع البر والإحسان، وجميع أنواع الطاعات: كحثهم على تحقيق كلمة الإخلاص، والصلاة، والزكاة، والصوم، والحج، والجهاد لإعلاء كلمة اللَّه، وبر الوالدين، وصلة الأرحام، وإصلاح ذات البين، وإطعام الطعام، وإفشاء السلام، والصلاة بالليل والناس نيام، وغير ذلك.
--------------------------------------------
এবং তাদের খাদ্য (১), তাদের পানীয় (২), তাদের বৈশিষ্ট্য (৩), তাদের উচ্চতা (৪), তাদের ফলমূল (৫), তাদের পোশাক (৬), আর জান্নাতবাসীদের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো মহান আল্লাহর মহিমান্বিত চেহারার দিকে নজর করা (৭)। সুতরাং দাওয়াতদানকারী (দাঈ) যখন এই ধরণের উৎসাহ প্রদান (ترغيب) পদ্ধতি ব্যবহার করেন, তখন তা মানুষের অন্তরকে এই চিরস্থায়ী নিয়ামতের আকাঙ্ক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন প্রকার আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান (ترغيب):এই পরিচ্ছেদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রথম পরিচ্ছেদের তুলনায় কোনো অংশে কম নয় এবং মানুষের এটি প্রয়োজন; যাতে তারা পূর্ণ উদ্যমে বিভিন্ন প্রকার আনুগত্যের কাজে সচেষ্ট হতে পারে। সুতরাং আল্লাহর দিকে দাওয়াতদানকারীর (দাঈ) উচিত হবে এই দিকটি উপেক্ষা না করা এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার পুণ্য ও ইহসান এবং সব ধরণের আনুগত্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করা। যেমন: তাদের কালিমায়ে ইখলাস (إخلاص) বাস্তবায়ন, সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, মানুষের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করা, খাদ্য দান করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং রাতের বেলা যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করা ইত্যাদির প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكذلك ينبغي ترغيب الناس في أنواع الفضائل النفسية: كالشجاعة، والعفة، والصدق، والوفاء، والأمانة، والإخلاص، والحلم، والتواضع، والكرم، والصبر، وطهارة الضمير، وحبّ الخير للناس، والعدل والإحسان، وغير ذلك مما ينفع الأمة في العاجل والآجل بذكر ما جاء فيها من الترغيب من الكتاب والسنة الصحيحة والحسنة والآثار الثابتة مع شرح ذلك شرحاً وافياً حسبما تدعو إليه الحاجة (1).
ومن أمثلة الترغيب في هذه الأنواع: قوله تعالى: {لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّآئِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُواْ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ والضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ} (2)، وقال تعالى: {الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالأَسْحَارِ} (3)، وقال تعالى: {الَّذِينَ
--------------------------------------------
একইভাবে মানুষের মনে বিভিন্ন প্রকার আত্মিক গুণাবলির প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করা উচিত: যেমন সাহস, পবিত্রতা, সত্যবাদিতা, আনুগত্য, আমানতদারি, একনিষ্ঠতা, সহিষ্ণুতা, বিনয়, উদারতা, ধৈর্য, হৃদয়ের স্বচ্ছতা, মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতা, ন্যায়বিচার ও সদাচরণ এবং উম্মাহর ইহকাল ও পরকালে যা কিছু উপকারে আসে এমন অন্যান্য বিষয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা উচিত। এই উৎসাহ প্রদান করতে হবে কুরআন এবং সহিহ (صحيحة) ও হাসান (حسنة) সুন্নাহ এবং সুসাব্যস্ত বর্ণনাসমূহ (الآثار الثابتة) থেকে প্রাপ্ত দলিলের বর্ণনার মাধ্যমে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে (১)।
এই প্রকারের গুণাবলির প্রতি উৎসাহিত করার কিছু উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পূণ্য কেবল পূর্ব বা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে নয়; বরং পুণ্যবান সে যে ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবিগণের প্রতি। আর যে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার টানে নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, যাচনাকারী এবং দাসমুক্তির জন্য সম্পদ দান করে এবং যে নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর যারা প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণ করে এবং যারা অর্থকষ্ট, দুঃখ-কষ্ট ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে। তারাই হলো সত্যবাদী এবং তারাই হলো মুত্তাকি} (২)। এবং আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: {যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা অবশ্যই ঈমান এনেছি, সুতরাং আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। তারা হলো ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দানশীল এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী} (৩)। এবং আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: {যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ* وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُواْ فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُواْ أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُواْ اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُواْ لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَاّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّواْ عَلَى مَا فَعَلُواْ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} (1)، وغير ذلك كثير من كتاب اللَّه تعالى (2).
وكذا قد جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم الترغيب في أنواع الطاعات من الأحاديث ما لا يُحصى، ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم لعبد اللَّه بن عمرو: ((أربع إذا كنَّ فيك فلا عليك ما فاتك من الدنيا: حفظ أمانةٍ، وصدقُ حديثٍ، وحُسنُ خليقةٍ، وعفّةٌ في طعمةٍ)) (3).
ومن هذا النوع حديث معاذ بن جبل حينما سأل النبي صلى الله عليه وسلم عما يدخله الجنة ويباعده عن النار، فعدّ له النبي صلى الله عليه وسلم اثنتي عشرة خصلة من أنواع الطاعات (4).
--------------------------------------------
{যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ মুহসিনদের (সদাচারীদের) ভালোবাসেন। আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা কিছু করেছে তাতে জেনে-বুঝে অটল থাকে না।} (১), এবং মহান আল্লাহর কিতাবে এ ধরনের আরও অনেক আয়াত রয়েছে (২)।
অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন ধরণের ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদানমূলক অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.)-এর বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((চারটি গুণ যখন তোমার মধ্যে থাকবে, তখন দুনিয়ার যা কিছু তোমার থেকে ছুটে গেল তাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই: আমানত রক্ষা করা, সত্য কথা বলা, উত্তম চরিত্র এবং পবিত্র আহার।)) (৩)।
এই প্রকারের আরেকটি হাদিস হলো মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)-এর হাদিস, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এমন আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বারোটি আনুগত্যের কাজের কথা উল্লেখ করেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فالداعية إذا استخدم هذه الأنواع وُفِّقَ بإذن اللَّه عز وجل للصواب (1).
المسلك الثاني: الترهيب والإنذار:من حكمة القول أن يذكر الداعية إلى اللَّه من هذا المسلك الأمور النافعة المفيدة في حمل الناس على ترك الجرائم والذنوب، والتحذير والإنذار من كل المعاصي، والإصرار عليها.
والترهيب قسمان:
القسم الأول: الترهيب بذكر الوعيد بالعذاب والعقوبات على جنس المعاصي والذنوب.
القسم الثاني: الترهيب بذكر الوعيد والعقوبات على أنواع الذنوب وآحادها.
القسم الأول: الترهيب بذكر الوعيد بالعذاب والعقوبات على جنس المعاصي والذنوب:
وهذا القسم له أنواع وصور متعددة، أذكر منها على سبيل المثال ما يلي:
النوع الأول: الترهيب بذكر الوعيد بالحرمان من الخير العاجل، أو الأخذ بالعذاب العاجل:
الإصرار على المعاصي والسيئات من أسباب الابتلاء بالفقر،
--------------------------------------------
সুতরাং দাওয়াত প্রদানকারী যখন এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করবেন, তখন মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি সঠিক দিশা লাভে সমর্থ হবেন (১)।
দ্বিতীয় পথ: ভীতিপ্রদর্শন (الترهيب) ও সতর্কীকরণ (الإنذار):কথার প্রজ্ঞার দাবি হলো, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এই পদ্ধতির মাধ্যমে এমন সব কল্যাণকর ও ফলপ্রসূ বিষয়াবলি উল্লেখ করবেন, যা মানুষকে অপরাধ ও পাপ বর্জনে উদ্বুদ্ধ করে এবং সকল প্রকার গুনাহ ও তাতে অবিচল থাকার ভয়াবহতা সম্পর্কে ভীতি ও সতর্কবার্তা প্রদান করে।
এবং ভীতিপ্রদর্শন (الترهيب) দুই প্রকার:
প্রথম ভাগ: সাধারণ পাপাচার ও গুনাহের ওপর আযাব ও শাস্তির ধমকি উল্লেখ করার মাধ্যমে ভীতিপ্রদর্শন (الترهيب)।
দ্বিতীয় ভাগ: নির্দিষ্ট প্রকারের পাপ ও প্রতিটি গুনাহের জন্য আলাদাভাবে বর্ণিত ধমকি ও শাস্তির কথা উল্লেখ করে ভীতিপ্রদর্শন (الترهيب)।
প্রথম ভাগ: সাধারণ পাপাচার ও গুনাহের ওপর আযাব ও শাস্তির ধমকি উল্লেখ করার মাধ্যমে ভীতিপ্রদর্শন (الترهيب):
এই ভাগের বিভিন্ন প্রকার ও পদ্ধতি রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ আমি নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করছি:
প্রথম প্রকার: পার্থিব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া অথবা দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তিতে আক্রান্ত হওয়ার ধমকি উল্লেখ করে ভীতিপ্রদর্শন (الترهيب):
পাপাচার ও মন্দ কাজে অবিচল থাকা দারিদ্র্যের পরীক্ষায় নিপতিত হওয়ার অন্যতম কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والضيق في العيش، والإصابة بالأمراض والأسقام، والحرمان من الخيرات العاجلة والآجلة، وهي أعظم الأسباب في إهلاك الأمم والجماعات والأفراد بالدمار والهلاك (1)، قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ} (2).
وهو سبحانه يعفو عن كثير من السيئات فلا يُجازي عليها {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِن دَابَّةٍ وَلَكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِ بَصِيرًا} (3).
وكل ما يحدث في الأرض من المصائب، وقلة الثمار، وقحط الأمطار، فإنما هو من عقوبة بعض ما عمل الناس من الذنوب (4): {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} (5).
ويمكن للداعية أن يستخدم هذا النوع في دعوته على ضربين:
الضرب الأول: ذكر ما حل بالقرى من الأخذ بالدمار أو الحرمان من الخيرات التي كانت بين أيديهم بسبب ظلمهم أنفسهم
--------------------------------------------
জীবনযাপনের সংকীর্ণতা, রোগ-ব্যাধি ও অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়া এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া—এগুলোই হলো ধ্বংস ও বিনাশের মাধ্যমে জাতি, গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিদের ধ্বংস করার অন্যতম প্রধান কারণ (১)। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে, তা তোমাদেরই হাতের কামাই এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন" (২)।
আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনেক মন্দ কাজ ক্ষমা করে দেন, ফলে সেগুলোর জন্য শাস্তি দেন না। "আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো জীবজন্তুকেই অবশিষ্ট রাখতেন না; কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাদের সেই সময় আসবে, তখন জেনে রেখো আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি সম্যক দ্রষ্টা" (৩)।
পৃথিবীতে সংঘটিত যাবতীয় বিপদ-আপদ, ফল-ফসলের স্বল্পতা এবং অনাবৃষ্টি—এগুলো মানুষের কৃত কিছু গুনাহের শাস্তি মাত্র (৪): "মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদের তাদের কিছু কাজের স্বাদ আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে" (৫)।
একজন আহ্বানকারী (داعية) দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি দুই পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারেন:
প্রথম পদ্ধতি: জনপদগুলোর ওপর যে ধ্বংসলীলা নেমে এসেছিল অথবা তারা তাদের হাতে থাকা যেসব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তা উল্লেখ করা; যা তাদের নিজেদের প্রতি জুলুম করার কারণে ঘটেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
واستكبارهم، وعدم شكرهم للَّه الرزَّاق، ومن ذلك ما حل بفرعون وقومه: {كَمْ تَرَكُوا مِن جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ، وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ، وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ} (1)، وغير ذلك كثير مما حل بالقرى المكذبة للرسل عليهم الصلاة والسلام (2).
الضرب الثاني: الترهيب بذكر ما وقع لجماعات أو أفراد من الأخذ العاجل أو الحرمان من الخيرات، ومن ذلك ما حلَّ بالجماعات والأفراد الآتي ذكرهم:
1 - ما ذكره اللَّه عن قوم سبأ، وما كانوا فيه من النعم والغبطة والسرور، فلم يشكروا اللَّه، فحل بهم الدمار والخراب والحرمان (3).
2 - وما ذكر اللَّه في قصة قارون (4).
3 - وصاحب الجنتين الذي تكبّر على صاحبه الفقير (5).
4 - وأصحاب الجنة الذين تعاهدوا أن يحرموا الفقراء والمساكين فحرمهم اللَّه جنتهم ودمرها (6)، وغير ذلك من الأمثلة كثير.
--------------------------------------------
তাদের অহংকার এবং রিযিকদাতা আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা; এর অন্তর্ভুক্ত হলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের ওপর যা আপতিত হয়েছিল: {তারা কত উদ্যান ও প্রস্রবণ পেছনে ছেড়ে গিয়েছিল, কত শস্যক্ষেত্র ও মনোরম স্থান এবং কত বিলাস-সামগ্রী, যাতে তারা আমোদ-প্রমোদ করত} (১), এবং এছাড়া আরও অনেক কিছু যা রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রতি মিথ্যারোপকারী জনপদগুলোর ওপর আপতিত হয়েছিল (২)।
দ্বিতীয় প্রকার: বিপদ ও অকল্যাণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পাকড়াও অথবা নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে ভীতিপ্রদর্শন; এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল গোষ্ঠী ও ব্যক্তি যাদের ওপর আজাব আপতিত হয়েছে এবং যাদের কথা নিম্নে বর্ণিত হলো:
১ - সাবা সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন এবং তারা যে নিয়ামত, সুখ ও আনন্দের মধ্যে ছিল, কিন্তু তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেনি; ফলে তাদের ওপর ধ্বংস, বিপর্যয় ও বঞ্চনা নেমে এসেছিল (৩)।
২ - এবং কারূনের ঘটনায় আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন (৪)।
৩ - এবং দুই বাগানের মালিক, যে তার দরিদ্র সঙ্গীর ওপর অহংকার করেছিল (৫)।
৪ - এবং বাগানের মালিকরা যারা দরিদ্র ও মিসকিনদের বঞ্চিত করার শপথ করেছিল; ফলে আল্লাহ তাদের বাগান থেকে তাদের বঞ্চিত করেন এবং তা ধ্বংস করে দেন (৬), এছাড়া আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النوع الثاني: الترهيب بالإنذار من حلول العذاب العاجل:هذا النوع يُوجهه الداعية إلى المعرضين عن طاعة اللَّه إذا ظلوا على إصرارهم وعنادهم واستكبارهم عن قبول الحق بعد وضوحه، ولزوم الحجة، ومن ذلك قوله تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصَارَكُمْ وَخَتَمَ عَلَى قُلُوبِكُم مَّنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِهِ
… } إلى قوله تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ بَغْتَةً أَوْ جَهْرَةً هَلْ يُهْلَكُ إِلَاّ الْقَوْمُ الظَّالِمُونَ} (1)، وقال سبحانه: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (2)، {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعاً وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ} (3).
وغير ذلك كثير في كتاب اللَّه – تعالى – وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم (4).
النوع الثالث: الترهيب بذكر مصير الأمم التي كذبت رسلها:وهذا النوع له أعظم الأثر والوقع في النفوس؛ لأنه من أعظم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় প্রকার: আশু আজাব নেমে আসার সতর্কবার্তা প্রদানের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন:এই প্রকারটি একজন দাঈ (আহ্বায়ক) আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ ব্যক্তিদের প্রতি প্রয়োগ করেন, যখন তারা সত্য স্পষ্ট হওয়ার এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও তা গ্রহণে নিজেদের জেদ, হঠকারিতা ও অহংকারে অবিচল থাকে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন ইলাহ আছে যে তোমাদের তা ফিরিয়ে দিবে
… } মহান আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: {বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর আজাব আকস্মিকভাবে বা প্রকাশ্যে চলে আসে, তবে জালিম কওম ছাড়া আর কি কেউ ধ্বংস হবে?} (১), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে} (২), {বলুন, তিনিই সক্ষম তোমাদের ওপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে আজাব পাঠাতে কিংবা তোমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত করে দ্বন্দ্বে লিপ্ত করতে এবং তোমাদের এক দলকে অন্য দলের দাপট আস্বাদন করাতে} (৩)।
এ ছাড়াও মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহতে এ জাতীয় আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে (৪)।
তৃতীয় প্রকার: সেই সব জাতির পরিণাম উল্লেখের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন যারা তাদের রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল:আর এই প্রকারটির অন্তরে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া রয়েছে; কেননা এটি অন্যতম মহান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العبر لمن اعتبر؛ ولأنه يُبين سنة اللَّه عز وجل فيمن كذب الرسل عليهم الصلاة والسلام أو وقفَ من دعوتهم موقف الإعراض والاستكبار، ثم بعد إقامة الحجة عليهم وقع بهم الدمار والهلاك، وهذا باب واسع لا يمكن حصره، ومن ذلك قوله عز وجل لمحمد صلى الله عليه وسلم: {وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَعَادٌ وَثَمُودُ* وَقَوْمُ إِبْرَاهِيمَ وَقَوْمُ لُوطٍ، وَأَصْحَابُ مَدْيَنَ وَكُذِّبَ مُوسَى فَأَمْلَيْتُ لِلْكَافِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ* فَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَبِئْرٍ مُّعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَّشِيدٍ} الآية (1)، {وَقَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَلَقَدْ جَاءَهُم مُّوسَى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الأَرْضِ وَمَا كَانُوا سَابِقِينَ* فَكُلا أَخَذْنَا بِذَنبِهِ فَمِنْهُم مَّنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُم مَّنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُم مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الأَرْضَ وَمِنْهُم مَّنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} (2).
ومن أنواع عذاب بعض هؤلاء المكذبين على سبيل المثال:
1 - قوم نوح: أهلكهم اللَّه عز وجل بالغرق {فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُّنْهَمِرٍ، وَفَجَّرْنَا الأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ} (3).
--------------------------------------------
উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষা; আর যেহেতু এটি মহান আল্লাহর সেই নীতিকে বর্ণনা করে যারা রাসূলগণের (তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল অথবা তাদের দাওয়াতের বিপরীতে বিমুখতা ও অহংকারের অবস্থান নিয়েছিল, অতঃপর তাদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের ওপর ধ্বংস ও বিনাশ নেমে এসেছিল। এটি একটি বিস্তৃত বিষয় যা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী মনে করে, তবে তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়, আদ ও সামূদ সম্প্রদায়ও (রাসূলগণকে) মিথ্যা বলেছিল। * আর ইবরাহীমের সম্প্রদায় ও লূতের সম্প্রদায়ও। * আর মাদইয়ানবাসীরাও; এবং মূসাকেও মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। তখন আমি কাফিরদেরকে অবকাশ দিয়েছিলাম, অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। সুতরাং কেমন ছিল আমার পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যানের (শাস্তি)? * কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যখন তারা ছিল জালিম; ফলে সেগুলো তাদের ছাদের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে, আর কত পরিত্যক্ত কূপ ও সুউচ্চ প্রাসাদ!} আয়াত (১), {আর কারূন, ফিরআউন ও হামানকে; মূসা তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল, কিন্তু তারা জমিনে অহংকার করেছিল, অথচ তারা (আযাব থেকে) পলায়ন করতে সক্ষম ছিল না। * সুতরাং তাদের প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছি; তাদের কারো ওপর আমি পাথরকুচিসহ প্রবল বাতাস পাঠিয়েছি, কাউকে পাকড়াও করেছে বিকট চিৎকার, কাউকে আমি জমিনে ধসিয়ে দিয়েছি এবং তাদের কাউকে আমি ডুবিয়ে দিয়েছি। আর আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার ছিলেন না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।} (২)।
উদাহরণস্বরূপ, এই মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের কয়েকজনের শাস্তির প্রকারভেদ হলো:
১ - নূহের কওম: মহান আল্লাহ তাদের নিমজ্জিত করার মাধ্যমে ধ্বংস করেছেন {অতঃপর আমি আসমানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিলাম প্রবল বর্ষণশীল পানির মাধ্যমে। * আর আমি জমিন থেকে প্রস্রবণসমূহ উৎসারিত করলাম, ফলে পানি মিলিত হলো এক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী।} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
2 - عاد قوم هود: سلط اللَّه عليهم الريح فألقتهم موتى على وجه الأرض كأنهم أعجاز نخلٍ منقعر، خاوية، فدمرت الريح كل شيء بأمر ربها (1).
3 - ثمود قوم صالح: أرسل اللَّه عليهم الصيحة حتى قطعت قلوبهم في أجوافهم، وماتوا عن آخرهم فأصبحوا في دارهم جاثمين (2).
4 - قوم لوط: رفع اللَّه قراهم إلى السماء، ثم قلبها عليهم فجعل عاليها سافلها، ثم أتبعهم بحجارة أمطرها عليهم، ولإخوانهم أمثالها (3).
5 - مدين قوم شعيب: أظلتهم سحابة وأمطرت عليهم شرراً من نار، ولهباً ووهجاً، ثم جاءتهم صيحة من السماء، ورجفة من الأرض من أسفل منهم (4).
6 - فرعون وقومه: أغرقهم اللَّه في البحر (5).
7 - قارون: خسف اللَّه به وبداره الأرض (6).
--------------------------------------------
২ - আদ জাতি, হূদ (আ.)-এর সম্প্রদায়: আল্লাহ তাদের ওপর এমন প্রবল বাতাস প্রবাহিত করেছিলেন যা তাদেরকে ভূপৃষ্ঠে মৃত অবস্থায় এমনভাবে আছড়ে ফেলেছিল যেন তারা উপড়ে পড়া অন্তঃসারশূন্য খেজুর গাছের কাণ্ড; সেই বাতাস তার রবের আদেশে সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল (১)।
৩ - সামূদ জাতি, সালেহ (আ.)-এর সম্প্রদায়: আল্লাহ তাদের ওপর প্রচণ্ড গর্জন পাঠিয়েছিলেন যা তাদের পাঁজরের ভেতরে তাদের হৃদপিণ্ডকে বিদীর্ণ করে দিয়েছিল; তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেল এবং নিজ আবাসে উপুড় হয়ে পড়ে রইল (২)।
৪ - লূত (আ.)-এর সম্প্রদায়: আল্লাহ তাদের জনপদসমূহকে আকাশের দিকে উত্তোলন করলেন, অতঃপর তা উল্টে দিলেন এবং তার উপরিভাগকে নিচে করে দিলেন; এরপর তিনি তাদের ওপর কঙ্করবৃষ্টি বর্ষণ করলেন এবং তাদের সমমনা পাপাচারীদের জন্যও অনুরূপ শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে (৩)।
৫ - মাদইয়ান, শুআইব (আ.)-এর সম্প্রদায়: একটি মেঘ তাদের ওপর ছায়া দান করল এবং তাদের ওপর আগুনের স্ফুলিঙ্গ, শিখা ও উত্তাপ বর্ষণ করল; অতঃপর আকাশ থেকে এক প্রচণ্ড গর্জন এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে জমিন ধসে পড়ার প্রকম্পন তাদের আঘাত করল (৪)।
৬ - ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়: আল্লাহ তাদেরকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করলেন (৫)।
৭ - কারুন: আল্লাহ তাকে এবং তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দিলেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওওয়াতি উসাতিল মুসলিমীনা ইলাল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
النوع الرابع: الترهيب بالوعيد بالعذاب الآجل في الآخرة:الوعيد بالعذاب الآجل يوم القيامة هو من الأقوال العظيمة الحكيمة التي تلينُ لها قلوب أهل العقول، حين تُذكّر ببطش اللَّه ونقمته وعذابه الأليم، لمن حادّ اللَّه ورسوله وتعدى حدوده، {وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ} (1)، {وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا} (2)، {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} (3).
وهذا النوع كثير في كتاب اللَّه - تعالى - وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم (4).
النوع الخامس: الترهيب بوصف حال الكفار والمجرمين وما أعد اللَّه لهم من عذاب في الآخرة:من المعلوم يقيناً أن وصف الداعية الحكيم أحوال الكفار والمنافقين والعُصاة وهم يتلقون أنواعاً من العذاب الأليم، وذكره لبعض ما أعد اللَّه لهم في الآخرة من أصناف العذاب والعقاب، مما يُثير الخوف والرعب والفزع في النفوس، ويحملها على أن تفر إلى
--------------------------------------------
চতুর্থ প্রকার: আখেরাতে বিলম্বিত শাস্তির হুমকির মাধ্যমে ভীতিপ্রদর্শন:কিয়ামত দিবসে বিলম্বিত শাস্তির হুমকি হলো সেই সকল মহান প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত যা জ্ঞানীদের অন্তরকে বিগলিত করে, যখন তাদের আল্লাহর কঠোর পাকড়াও, প্রতিশোধ এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—সেসব ব্যক্তিদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করে; {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি} (১), {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} (২), {আর কারও কাছে সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায় আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কত মন্দ আবাস!} (৩)।
আর এই প্রকারটি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে (৪)।
পঞ্চম প্রকার: কাফের ও অপরাধীদের অবস্থা এবং আখেরাতে আল্লাহ তাদের জন্য যে শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন তার বর্ণনার মাধ্যমে ভীতিপ্রদর্শন:এটি নিশ্চিতভাবে সুবিদিত যে, একজন প্রজ্ঞাবান দাঈ যখন কাফের, মুনাফিক এবং পাপাচারীদের অবস্থা বর্ণনা করেন—যখন তারা বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুখীন হবে—এবং আল্লাহ আখেরাতে তাদের জন্য যে বিভিন্ন প্রকার আজাব ও দণ্ড প্রস্তুত রেখেছেন তার কিছু উল্লেখ করেন, তখন তা মনে ভয়, আতঙ্ক ও ত্রাসের সঞ্চার করে এবং তা তাকে এ দিকে ধাবিত করে যে, সে পলায়ন করে...
--------------------------------------------