(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
كيفية دعوة أهل الكتاب إلى الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: كيفية دعوة أهل الكتاب إلى اللَّه تعالى في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 96

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আহলে কিতাবদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি   (সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আহলে কিতাবদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলি বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল ক্বা’দাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

كيفية دعوة أهل الكتاب إلى اللَّه تعالى

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির রচনাবলি সিরিজ

 

আহলে কিতাবদেরকে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতি

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((كيفية دعوة أهل الكتاب إلى اللَّه تعالى)) بيّنت فيها الطرق المُثلَى في كيفية دعوتهم بالأساليب والوسائل المناسبة على حسب ما تقتضيه الحكمة في دعوته إلى اللَّه تعالى.

واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘আহলে কিতাবদেরকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের (প্রজ্ঞা) দাবি অনুযায়ী উপযুক্ত শৈলী ও মাধ্যমসমূহের আলোকে তাঁদের দাওয়াত দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই নগণ্য কাজটিকে বরকতময় ও কল্যাণকর করেন এবং একে একান্তভাবে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার ইহকালে ও পরকালে উপকার করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সবার ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

লেখক

রচিত হয়েছে: ২৫/০২/১৪২৫ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্ন।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تمهيد:

إن من حكمة القول في دعوة أهل الكتاب إلى اللَّه - تعالى - أن يُجَادَلُوا بالتي هي أحسن، بحسن خلق ولُطْفٍ ولين كلام، ودعوة إلى الحق، وتحسينه بالأدلة العقلية والنقلية، ورد الباطل بأقرب طريق وأنسب عبارة، وأن لا يكون القصد من ذلك مجرد المجادلة والمغالبة وحب العلو، بل لابد أن يكون القصد بيان الحق، وهداية الخلق، كما قال عز وجل (1)، {وَلا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْنَا وَأُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (2)، وقال عز وجل: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْاْ إِلَى كَلَمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَاّ نَعْبُدَ إِلَاّ اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُولُواْ اشْهَدُواْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (3).

ونظير ذلك من الدعوة بالقول الحكيم قوله عز وجل لموسى وهارون: {اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى، فَقُولا لَهُ قَوْلا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 372، 3/ 416، وفتح القدير للشوكاني، 1/ 348، والسعدي، 1/ 389، 6/ 92، وأضواء البيان، 3/ 385.

(2) سورة العنكبوت، الآية: 46.

(3) سورة آل عمران، الآية: 64.

(4) سورة طه، الآيتان: 43 - 44.
ভূমিকা:

আহলে কিতাবদের মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর একটি দাবি হলো, তাদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করা; যা হবে সচ্চরিত্র, নম্রতা ও কোমল বাণীর মাধ্যমে। এর উদ্দেশ্য হবে সত্যের দিকে আহ্বান করা এবং যৌক্তিক ও বর্ণনাগত (نقلي) দলিলের মাধ্যমে সত্যকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। আর বাতিলের খণ্ডন করতে হবে নিকটতম পথ ও উপযুক্ত বাণীর মাধ্যমে। এর উদ্দেশ্য যেন কেবল বিতর্ক করা, পরাভূত করা বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা না হয়; বরং অবশ্যই সত্যের স্পষ্টীকরণ এবং সৃষ্টির হিদায়াতই উদ্দেশ্য হতে হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন (১), {তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘনকারী তারা ছাড়া। আর বলো, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর। আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো এক এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী} (২)। এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করবে না। তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয়ই আমরা মুসলিম} (৩)।

প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে দাওয়াতের অনুরূপ দৃষ্টান্ত হলো মুসা ও হারুন (আ.)-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা উভয়েই ফিরআউনের কাছে যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে। তোমরা তার সাথে নরম কথা বলো, হয়তো সে শিক্ষা গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১/৩৭২, ৩/৪১৬; শাওকানির ফাতহুল কাদির, ১/৩৪৮; আস-সাদি, ১/৩৮৯, ৬/৯২; এবং আদওয়াউল বায়ান, ৩/৩৮৫।

(২) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৬।

(৩) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৬৪।

(৪) সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ৪৩-৪৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ومن ذلك القول اللين كقوله تعالى لموسى: {اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى، فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَى أَن تَزَكَّى، وَأَهْدِيَكَ إِلَى رَبِّكَ فَتَخْشَى} (1).

وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يستخدم القول الحكيم في دعوته إلى اللَّه عز وجل ومن ذلك ما روته عائشة رضي الله عنها قالت: دخل رهط من اليهود على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فقالوا: السَّامُ (2) عليك. قالت عائشة: ففهمتها، فقلت: وعليكم السَّامُ واللعنة! قالت: فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((مهلاً يا عائشة، إن اللَّه يحب الرّفق في الأمر كله)). فقلت: يا رسول اللَّه! أولم تسمع ما قالوا: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((قد قلت: وعليكم)) (3).

وكان صلى الله عليه وسلم يستخدم ذلك حتى في رسائله، ففي كتابه إلى هرقل:

((بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، من محمد رسول اللَّه، إلى هرقل عظيم الروم.

سلام على من اتبع الهدى. أما بعد:

فإني أدعوك بدعاية الإسلام، أسلم تسلم، وأسلم يؤتك اللَّه

--------------------------------------------

(1) سورة النازعات، الآيات: 17 - 19.

(2) السام: الموت، وقيل: الموت العاجل، وقيل: تسأمون دينكم. انظر: الفتح، 11/ 42، 43، 10/ 135.

(3) البخاري مع الفتح، كتاب الأدب، باب الرفق في الأمر كله، 10/ 449، (رقم 6024)، 11/ 42، ومسلم كتاب السلام، باب النهي عن ابتداء أهل الكتاب بالسلام وكيف الرد عليهم، 4/ 1706، (رقم 2165).
এর মধ্যে রয়েছে নম্র ভাষা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী যা তিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন: {তুমি ফিরআউনের নিকট যাও, নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘন করেছে। অতঃপর তাকে বলো, তোমার কি পবিত্র হওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে? এবং আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথপ্রদর্শন করব যাতে তুমি তাঁকে ভয় করো} (১)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা ব্যবহার করতেন। এর একটি প্রমাণ যা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদল ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: আস-সামু (২) আলাইকুম (আপনার মৃত্যু হোক)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি তা বুঝতে পেরে বললাম: তোমাদের ওপরও মৃত্যু ও অভিশাপ বর্ষিত হোক! তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আয়েশা, শান্ত হও! নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে নম্রতা পছন্দ করেন।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি শোনেননি তারা কী বলেছে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি তো বলেছি: 'ওয়া আলাইকুম' (তোমাদের ওপরও)" (৩)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনকি তাঁর চিঠিপত্রগুলোতেও এটি ব্যবহার করতেন। যেমন হেরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত তাঁর চিঠিতে ছিল:

((পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসের প্রতি।

শান্তি তাদের ওপর যারা হিদায়াত অনুসরণ করে। অতঃপর:

আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে আহ্বান জানাচ্ছি। ইসলাম কবুল করুন, শান্তিতে থাকবেন; এবং ইসলাম কবুল করুন, আল্লাহ আপনাকে

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাজিআত, আয়াত: ১৭ - ১৯।

(২) আস-সাম: মৃত্যু; কেউ কেউ বলেছেন: দ্রুত মৃত্যু; আবার কেউ কেউ বলেছেন: তোমরা তোমাদের দ্বীনের প্রতি বিরক্ত হবে। দেখুন: আল-ফাতহ, ১১/ ৪২, ৪৩, ১০/ ১৩৫।

(৩) ফাতহসহ বুখারি, আদব অধ্যায়, প্রতিটি বিষয়ে নম্রতা পরিচ্ছেদ, ১০/ ৪৪৯, (হাদিস নং ৬০২৪), ১১/ ৪২; এবং মুসলিম, সালাম অধ্যায়, আহলে কিতাবদের সালাম প্রদানের সূচনা নিষিদ্ধ হওয়া এবং তাদের উত্তর প্রদানের পদ্ধতি পরিচ্ছেদ, ৪/ ১৭০৬, (হাদিস নং ২১৬৫)।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
أجرك مرتين، فإن توليتَ فإن عليك إثم الأريسيين (1)، و {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْاْ إِلَى كَلَمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَاّ نَعْبُدَ إِلَاّ اللَّهَ} إلى قوله: {اشْهَدُواْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (2).

وعلى أساس دعوة أهل الكتاب بالجدال بالتي هي أحسن القول الحكيم، فسأتحدث عن ذلك بإذن اللَّه - تعالى - في المباحث الآتية:

 

‌‌المبحث الأول: حكمة القول مع اليهود.

المبحث الثاني: حكمة القول مع النصارى.

المبحث الثالث: البراهين على إثبات الرسالة المحمدية وعمومها.

المبحث الأول: حكمة القول مع اليهود

من حكمة القول مع اليهود في دعوتهم إلى اللَّه عز وجل أن يسلك معهم الداعية المسلم المسالك الآتية:

المسلك الأول: الأدلة العقلية والنقلية على نسخ الإسلام لجميع الشرائع.

--------------------------------------------

(1) الأريسيين: أي إثم الفلاحين، والمعنى: فإن لم تدخل في الإسلام فإن عليك إثمك وإثمهم إذا لم يسلموا تقليداً لك. انظر: فتح الباري، 1/ 39.

(2) البخاري مع الفتح واللفظ له، كتاب التفسير، باب: قل يا أهل الكتاب … ، 8/ 215، (رقم 4553)، وكتاب بدء الوحي، باب حدثنا أبو اليمان الحكم بن نافع، 1/ 32، (رقم 7)، ومسلم في كتاب الجهاد، باب كتاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى هرقل يدعوه إلى الإسلام، 3/ 1396، (رقم 1773).
আপনার প্রতিদান দ্বিগুণ হবে, তবে আপনি যদি বিমুখ হন তবে আপনার ওপর আরিসিয়ীনদের (১) পাপ বর্তাবে। আর {হে আহলে কিতাব (أهل الكتاب), এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত না করি...} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম} (২)।

উত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে আহলে কিতাবকে (أهل الكتاب) প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াত প্রদানের মূলনীতির ভিত্তিতে আমি আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা করব:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের সাথে কথা বলার প্রজ্ঞা.

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খ্রিস্টানদের সাথে কথা বলার প্রজ্ঞা.

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাম্মাদি রিসালাতের সত্যতা ও এর সার্বজনীনতার প্রমাণসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের সাথে কথা বলার প্রজ্ঞা

ইহুদিদেরকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বলার অন্যতম দিক হলো, মুসলিম দাঈ তাদের সাথে নিম্নোক্ত পথগুলো অবলম্বন করবেন:

প্রথম পথ: ইসলাম কর্তৃক সকল শরীয়ত রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার স্বপক্ষে যৌক্তিক ও বর্ণিত প্রমাণাদি (الأدلة النقلية)।

--------------------------------------------

(১) আরিসিয়ীন: অর্থাৎ কৃষকদের পাপ। এর অর্থ হলো: আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ না করেন, তবে আপনার নিজের পাপ এবং তাদের পাপও আপনার ওপর বর্তাবে যদি তারা আপনার অন্ধ অনুসরণের কারণে ইসলাম গ্রহণ না করে। দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/ ৩৯।

(২) ফাতহুল বারীসহ বুখারি এবং শব্দচয়ন তাঁরই, কিতাবুত তাফসির, অধ্যায়: বলো হে আহলে কিতাব... , ৮/ ২১৫, (হাদিস নং ৪৫৫৩), এবং কিতাব বাদউল ওহী, অধ্যায়: আবু আল-ইয়ামান হাকাম ইবনে নাফি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ১/ ৩২, (হাদিস নং ৭), এবং মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ, অধ্যায়: হিরাক্লিয়াসের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত পত্র, ৩/ ১৩৯৬, (হাদিস নং ১৭৭৩)।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
المسلك الثاني: الأدلة القطعية على وقوع التحريف والتبديل في التوراة.

المسلك الثالث: إثبات اعتراف المنصفين من علماء اليهود.

المسلك الرابع: الأدلة على ثبات رسالة عيسى ومحمد عليهما الصلاة والسلام.

 

المسلك الأول: الأدلة العقلية والنقلية على نسخ (1) الإسلام لجميع الشرائع:

دعوة الرسل - عليهم الصلاة والسلام - إلى توحيد اللَّه تعالى دعوة واحدة، فقد اتفقوا جميعاً على دعوة الناس إلى إفراد اللَّه بالعبادة، لا إله إلا هو، ولا ربّ سواهُ، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللَّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ} (2)، {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَاْ فَاعْبُدُونِ} (3).

فأصل دين الأنبياء صلى اللَّه عليهم وسلم واحد، وهو التوحيد، وإن اختلفت فروع الشرائع (4)، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((أنا أولى الناس بعيسى ابن مريم في الدنيا والآخرة، والأنبياء إخوة لعلات (5)،

--------------------------------------------

(1) النسخ في اللغة: الإزالة، وفي الاصطلاح: رفع حكم شرعي بدليل شرعي متأخر عنه. انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 150، ومناهل العرفان، 2/ 71.

(2) سورة النحل، الآية: 36.

(3) سورة الأنبياء، الآية: 25.

(4) انظر: فتح الباري، 6/ 489.

(5) أولاد العلات: الإخوة من أب وأمهاتهم شتى. (الضرائر). فتح الباري، 6/ 489.
দ্বিতীয় পন্থা: তাওরাতের মধ্যে বিকৃতি ও পরিবর্তনের সংঘটনের ব্যাপারে অকাট্য দলিল (أدلة قطعية) সমূহ।

তৃতীয় পন্থা: ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্যে যারা ন্যায়নিষ্ঠ, তাদের স্বীকৃতির প্রমাণ।

চতুর্থ পন্থা: ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর রিসালাত বা বার্তার স্থায়িত্বের প্রমাণাদি।

 

প্রথম পন্থা: ইসলাম কর্তৃক সকল শরীয়ত রহিতকরণের (نسخ) (১) সপক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক (أدلة عقلية) এবং বর্ণনাভিত্তিক (أدلة نقلية) দলিলসমূহ:

রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) মহান আল্লাহর একত্ববাদের (توحيد) দিকে যে দাওয়াত দিয়েছেন তা অভিন্ন। তাঁরা সকলে মানুষকে আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ করার আহ্বানের ওপর একমত হয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো পালনকর্তা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} (২), {আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহি নাজিল করিনি যে, আমি ছাড়া আর কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো} (৩)।

নবীগণের (সাল্লাল্লাহু আলাইহিম ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের মূল ভিত্তি এক, আর তা হলো একত্ববাদ (توحيد), যদিও শরীয়তের শাখা-প্রশাখা ভিন্ন হতে পারে (৪); একারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি দুনিয়া ও আখিরাতে মারইয়াম-তনয় ঈসার সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং নবীগণ হলেন বৈমাত্রেয় ভাই (إخوة لعلات) (৫),

--------------------------------------------

(১) অভিধানে নাসখ (النسخ) অর্থ: অপসারণ বা বিলুপ্তি। আর পরিভাষায়: পরবর্তী কোনো শারয়ি দলিলের (دليل شرعي) মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো শারয়ি বিধানকে (حكم شرعي) তুলে নেওয়া বা রহিত করা। দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১/১৫০ এবং মানাহিলুল ইরফান, ২/৭১।

(২) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬।

(৩) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫।

(৪) দেখুন: ফাতহুল বারী, ৬/৪৮৯।

(৫) আওলাদে আল্লাত (أولاد العلات): তাঁরা হলেন ঐ সকল ভাই যাদের পিতা এক কিন্তু মা ভিন্ন ভিন্ন। (আদ-দারাইর)। ফাতহুল বারী, ৬/৪৮৯।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أمهاتهم شتى ودينهم واحد، [وليس بيني وبين عيسى نبي])) (1).

ثم ختم اللَّه - تعالى - الشرائع كلها بشريعة محمد صلى الله عليه وسلم، فأرسله اللَّه إلى جميع الثقلين: من إنس وجن، ونسخت شريعته جميع الشرائع السابقة، {وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (2).

وقال صلى الله عليه وسلم: ((والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة: يهودي أو نصراني، ثم يموت ولم يؤمن بالذي أُرسلت به إلا كان من أصحاب النار)) (3).

واللَّه - تعالى - حكيم عليم {لا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} (4)، ولا غرابة في أن يرفع شرع بآخر مراعاة لمصلحة العباد عن علم سابق من علام الغيوب تبارك وتعالى، ولكن اليهود والنصارى (5) أنكروا نسخ الشريعة الإسلامية لجميع الشرائع

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الأنبياء، باب قول الله - تعالى- {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ … }، 6/ 477 (رقم 3442)، ومسلم، كتاب الفضائل، باب فضائل عيسى صلى الله عليه وسلم، 4/ 1837، (رقم 2365)، وما بين المعقوفين من البخاري، 6/ 478، ومسلم، 4/ 1837.

(2) سورة آل عمران، الآية: 85.

(3) مسلم، كتاب الإيمان، باب وجوب الإيمان برسالة محمد صلى الله عليه وسلم إلى جميع الناس ونسخ الملل بملته، 1/ 134، (رقم 153).

(4) سورة الأنبياء، الآية: 23.

(5) لتداخل أقوال النصارى مع اليهود في النسخ، فسأذكر الرد عليهم جميعاً في هذا المسلك - إن شاء الله تعالى -.
তাদের মায়েরা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু তাদের দ্বীন এক, [আর আমার ও ঈসার মাঝে কোনো নবী নেই]। (১)

অতঃপর আল্লাহ তাআলা সমস্ত শরিয়তকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরিয়তের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে মানব ও জিন—উভয় সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর শরিয়ত পূর্ববর্তী সকল শরিয়তকে রহিত (نسخ) করেছে, {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তবে তা তার থেকে কখনো কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (২)।

আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এই উম্মতের যে কেউ—সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান—আমার কথা শুনবে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে" (৩)।

আর আল্লাহ তাআলা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে} (৪)। আল্লাহ তাআলার পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী বান্দাদের কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রেখে এক শরিয়তকে অন্য শরিয়ত দ্বারা রহিত (رفع) করার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। কিন্তু ইহুদি ও খ্রিস্টানরা (৫) সমস্ত শরিয়তকে ইসলামি শরিয়ত দ্বারা রহিত (نسخ) করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাবুল আম্বিয়া, অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর কিতাবে মারিয়ামের কথা স্মরণ করুন...}, ৬/৪৭৭ (হাদিস নং ৩৪৪২), এবং সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফাদায়িল, অধ্যায়: ঈসা আলাইহিস সালামের ফজিলত, ৪/১৮৩৭, (হাদিস নং ২৩৬৫), এবং ব্র্যাকেটের মধ্যবর্তী অংশটুকু সহিহ বুখারি, ৬/৪৭৮ এবং সহিহ মুসলিম, ৪/১৮৩৭ থেকে।

(২) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫।

(৩) সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: সকল মানুষের প্রতি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা এবং তাঁর মিল্লাত দ্বারা অন্য সকল ধর্ম রহিত (نسخ) হওয়া প্রসঙ্গে, ১/১৩৪, (হাদিস নং ১৫৩)।

(৪) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৩।

(৫) রহিতকরণ (نسخ) প্রসঙ্গে ইহুদিদের বক্তব্যের সাথে খ্রিস্টানদের বক্তব্যের মিল থাকার কারণে, আমি ইনশাআল্লাহ এই পদ্ধতিতে তাদের সকলের খণ্ডন একত্রে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
السابقة (1)، فيكون الرد عليهم بالقول الحكيم كالآتي:

 

‌‌أولاً: الأدلة العقلية:

1 - ليس هنالك محظور في النسخ عقلاً، وكل ما لم يترتب عليه محظور كان جائزاً عقلاً، فالنسخ جائز عقلاً.

2 - اللَّه - تعالى - يأمر بالشيء على قدر ما تقتضيه المصلحة، فقد يأمر بالشيء في وقت، وينهى عنه في وقت آخر؛ لأنه - سبحانه - أعلم بمصالح عباده، والطبيب الحكيم يأمر المريض بشرب الدواء، أو استعمال دواء خاص في بعض الأزمنة، وينهاه عنه في زمن آخر، بسبب اختلاف مصلحته عند اختلاف مزاجه، والملك الذي يُشفق على رعيته ينقلهم في بعض الأزمنة إلى نوع من السياسة غير النوع الأول، لما في ذلك من المصالح، وقد يسوس الوالد الحكيم ولده في وقت باللطف، وفي وقت آخر بالتأديب،

--------------------------------------------

(1) ثم افترق اليهود والنصارى إلى ثلاث طوائف:

(أ) طائفة الشمعونية من اليهود، قالوا: النسخ ممتنع عقلاً وسمعاً، وعلى هذا القول إجماع النصارى المتأخرين.

(ب) وطائفة العنانية من اليهود، قالوا: النسخ جائز عقلاً، لكنه لم يقع سمعاً فهو ممتنع.

(ج) طائفة العيسوية من اليهود، قالوا: النسخ جائز عقلاً وواقع سمعاً، إلا أن الشريعة الإسلامية لم تنسخ ما قبلها من الشرائع، وإنما هي للعرب خاصة، وعلى هذا القول إجماع النصارى المتقدمين. انظر: مناهل العرفان للزرقاني، 1/ 82، 83.
পূর্ববর্তী (১), সুতরাং তাদের প্রতি বিজ্ঞোচিত উত্তর নিম্নরূপ:

 

‌‌প্রথমত: যৌক্তিক প্রমাণসমূহ:

১ - যৌক্তিকভাবে রহিতকরণের (النسخ) ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আর যে বিষয়ের পরিণামে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় না, তা যৌক্তিকভাবে বৈধ। সুতরাং রহিতকরণ (النسخ) যৌক্তিকভাবে বৈধ।

২ - মহান আল্লাহ কোনো বিষয়ের নির্দেশ দেন জনকল্যাণের চাহিদানুযায়ী। তিনি কোনো বিষয়ে এক সময় নির্দেশ দেন এবং অন্য সময়ে তা থেকে নিষেধ করেন; কারণ তিনি—সুবহানাহু—তাঁর বান্দাদের কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। একজন বিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে কোনো ঔষধ পান করার বা কোনো বিশেষ ঔষধ নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন এবং অন্য সময়ে তা থেকে নিষেধ করেন, কারণ রোগীর মেজাজ বা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে তার কল্যাণের ধারাও পরিবর্তিত হয়। আর যে রাজা তাঁর প্রজাদের প্রতি দয়াশীল, তিনি কোনো কোনো সময় তাদের জন্য প্রথম প্রকারের পরিচালনা পদ্ধতি পরিবর্তন করে অন্য প্রকারের পদ্ধতি অবলম্বন করেন, কারণ এতে জনকল্যাণ নিহিত থাকে। অনুরূপভাবে একজন বিজ্ঞ পিতা তাঁর সন্তানকে কোনো সময় কোমলতার সাথে পরিচালনা করেন, আবার কোনো সময় শাসনের মাধ্যমে শিষ্টাচার শিক্ষা দেন।

--------------------------------------------

(১) অতপর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়েছে:

(ক) ইহুদিদের শামউনিয়া সম্প্রদায়; তারা বলে: রহিতকরণ (النسخ) যুক্তি ও শ্রুতি (سمع) উভয় দিক থেকেই অসম্ভব। আর পরবর্তীকালের খ্রিস্টানদের ঐকমত্য (إجماع) এই মতের উপরেই।

(খ) ইহুদিদের আনানিয়া সম্প্রদায়; তারা বলে: রহিতকরণ (النسخ) যৌক্তিকভাবে বৈধ, কিন্তু শ্রুতির (سمع) ভিত্তিতে তা সংঘটিত হয়নি, তাই এটি অসম্ভব।

(গ) ইহুদিদের ঈসাউয়িয়া সম্প্রদায়; তারা বলে: রহিতকরণ (النسخ) যৌক্তিকভাবে বৈধ এবং শ্রুতির (سمع) ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। তবে ইসলামি শরিয়ত তার পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহকে রহিত করেনি, বরং এটি কেবল আরবদের জন্য খাস। আর পূর্ববর্তী খ্রিস্টানদের ঐকমত্য (إجماع) এই মতের উপরেই। দ্রষ্টব্য: মানাহিলুল ইরফান লিজ যুরকানি, ১/ ৮২, ৮৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
على قدر ما يرى في ذلك من المصلحة (1)، واللَّه عز وجل { … وَلَهُ الْمَثَلُ الأَعْلَى فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (2)، وهو سبحانه لا يفعل شيئاً إلا لحكمة بالغة، فهو يُحيي ثم يُميت ثم يُحيي، وينقل الدولة من قوم أعزّة إلى قوم أذلّة، ومن قوم أذلة إلى أعزة، ويُعطي من شاء ما شاء، ويمنع من شاء (3) {لا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} (4).

3 - يلزم من يقول بوقوع النسخ سمعاً وجوازه عقلاً أنهم ما داموا يجوزون أن يأمر الشارع عباده بأمر مؤقت ينتهي بانتهاء وقته، وقد وقع ذلك سمعاً فليجوزوا نسخ الشريعة الإسلامية للأديان السابقة (5).

 

‌‌ثانياً: الأدلة النقلية السمعية، وهي نوعان:

‌‌النوع الأول: ما تقوم به الحجة على منكري النسخ من اليهود والنصارى الذين لم يعترفوا برسالة محمد صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: الداعي إلى الإسلام، لكمال الدين عبد الرحمن بن محمد الأنباري النحوي المتوفى سنة 577هـ، ص319، ومناهل العرفان للزرقاني، 2/ 83.

(2) سورة الروم، الآية: 27.

(3) انظر: الفصل في الملل والأهواء والنحل، 1/ 180.

(4) سورة الأنبياء، الآية: 23.

(5) انظر: مناهل العرفان، 2/ 86.
তাতে যে পরিমাণ জনকল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন (১), এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা { ... আসমান ও জমিনে তাঁরই মহান মর্যাদা এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়} (২)। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুগভীর প্রজ্ঞা ব্যতীত কোনো কিছু করেন না; তিনি জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দান করেন, পুনরায় জীবন দান করেন। তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা এক শক্তিশালী জাতি থেকে লাঞ্ছিত জাতির কাছে স্থানান্তর করেন এবং লাঞ্ছিত জাতি থেকে শক্তিশালী জাতির কাছে। তিনি যাকে ইচ্ছা যা ইচ্ছা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন (৩) {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে} (৪)।

৩ - যারা শ্রুতির (سمع) ভিত্তিতে রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হওয়া এবং যুক্তির (عقل) ভিত্তিতে তা বৈধ হওয়ার প্রবক্তা, তাদের জন্য এটি আবশ্যক যে—যতক্ষণ পর্যন্ত তারা এই বিষয়টি বৈধ মনে করেন যে বিধাতা তাঁর বান্দাদের এমন কোনো সাময়িক নির্দেশ দিতে পারেন যা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়, এবং শ্রুতির (سمع) মাধ্যমে তা সংঘটিত হওয়া প্রমাণিত, তবে তারা যেন পূর্ববর্তী ধর্মসমূহের বিধান ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক রহিতকরণকে (نسخ) বৈধ মনে করেন (৫)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: শ্রুতিজাত বর্ণনামূলক (الأدلة النقلية السمعية) প্রমাণাদি, আর তা দুই প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: যার মাধ্যমে ইহুদি ও নাসারাদের মধ্য থেকে রহিতকরণ (نسخ) অস্বীকারকারীদের ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রিসালাতকে স্বীকার করেনি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দায়ী ইলাল ইসলাম, কামালুদ্দীন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-আনবারী আন-নাহবী (মৃত্যু ৫৭৭ হিজরি), পৃ. ৩১৯ এবং যুরকানি রচিত মানাহিলুল ইরফান, ২/ ৮৩।

(২) সূরা আর-রুম, আয়াত: ২৭।

(৩) দেখুন: আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, ১/ ১৮০।

(৪) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৩।

(৫) দেখুন: মানাহিলুল ইরফান, ২/ ৮৬।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
النوع الثاني: ما تقوم به الحجة على من آمن برسالة محمد صلى الله عليه وسلم، ولكنهم قالوا: إنها خاصة بالعرب (1).

النوع الأول: تقوم الحجة على من أنكروا نبوة محمد صلى الله عليه وسلم مطلقاً بالأدلة الواردة في التوراة والإنجيل، والداعية المسلم إذ يُورد الأدلة من كتبهم لا يعتقد أن هذه النصوص كما أُنزلت، بل يحتمل أن تكون مما وقع عليه التحريف والتغيير؛ فإن اليهود والنصارى قد غيَّروا وبدَّلوا كثيراً من كتبهم، ولكن المسلم يقيم الحجة عليهم بما بين أيديهم من التوراة والإنجيل (2)، لا لثبوتها ولكن لإلزامهم بالتسليم، أو يعترفوا بالتحريف، ومن ذلك ما يلي:

1 - جاء في التوراة: إن اللَّه - تعالى - أمر آدم أن يزوج بناته من

--------------------------------------------

(1) انظر: درء تعارض العقل والنقل، لابن تيمية، 7/ 27.

(2) تنقسم أخبار اليهود والنصارى إلى ثلاثة أقسام:

(أ) ما علم صحته بنقله عن النبي صلى الله عليه وسلم نقلاً صحيحاً أو كان له شاهد صحيح من الشرع يؤيده، فهذا القسم صحيح مقبول.

(ب) ما علم كذبه لكونه يناقض ما عرف من شريعة محمد صلى الله عليه وسلم، أو لا يتفق مع العقل الصحيح، وهذا القسم لا يصح قبوله ولا روايته.

(ج) ما هو مسكوت عنه، وليس من النوع الأول ولا الثاني، وهذا القسم يتوقف عنه المسلم فلا يصدقه ولا يكذبه، ويجوز حكايته، لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم، وقولوا آمنا بالله وما أنزل … "، البخاري مع الفتح، 8/ 170، (رقم 4485)، 13/ 116، وقوله صلى الله عليه وسلم: "حدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج … " في البخاري مع الفتح، 6/ 496، (رقم 3461)، وانظر: التفسير والمفسرون للذهبي، 1/ 179.
দ্বিতীয় প্রকার: যার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় যারা মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতের ওপর ঈমান এনেছে, কিন্তু তারা বলেছে যে এটি কেবল আরবদের জন্য নির্দিষ্ট (১)।

প্রথম প্রকার: যারা মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতকে নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত করা হয়। একজন মুসলিম দাঈ যখন তাদের কিতাবসমূহ থেকে দলিল পেশ করেন, তখন তিনি এই বিশ্বাস করেন না যে এই পাঠ্যগুলো (نصوص) অবতীর্ণ রূপেই বিদ্যমান রয়েছে, বরং সম্ভাবনা রয়েছে যে এগুলোতে বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে; কেননা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের কিতাবসমূহের অনেক কিছু পরিবর্তন ও রদবদল করেছে। তবে মুসলিমরা তাদের নিকট বিদ্যমান তাওরাত ও ইঞ্জিলের মাধ্যমেই তাদের ওপর প্রমাণ (حجة) সাব্যস্ত করেন (২), এটি তার সাব্যস্ততার (ثبوت) কারণে নয় বরং তাদেরকে মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য অথবা তারা যেন বিকৃতির (تحريف) কথা স্বীকার করে নেয় সেজন্য। এর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:

১ - তাওরাতে এসেছে: আল্লাহ তাআলা আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর কন্যাদের বিবাহ দেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দরউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৭/ ২৭।

(২) ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের সংবাদসমূহ (أخبار) তিন ভাগে বিভক্ত:

(ক) যার সঠিকতা (صحة) নবী (সা.) থেকে সঠিক (صحيح) বর্ণনার (نقل) মাধ্যমে জানা গেছে অথবা যার সপক্ষে শরিয়তের কোনো সঠিক (صحيح) সাক্ষী (شاهد) বিদ্যমান রয়েছে, এই প্রকারটি সঠিক (صحيح) ও গ্রহণযোগ্য (مقبول)।

(খ) যার মিথ্যা (كذب) হওয়া নিশ্চিত, কারণ তা মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত থেকে যা জানা গেছে তার পরিপন্থী অথবা সঠিক বিবেকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; এই প্রকারটি গ্রহণ করা কিংবা বর্ণনা (رواية) করা সঠিক (صحيح) নয়।

(গ) যে বিষয়ে নীরবতা পালন করা হয়েছে, যা প্রথম বা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়; এই প্রকারের ক্ষেত্রে মুসলিমরা সিদ্ধান্তহীনতায় বিরত (يتوقف) থাকবে, সেটিকে সত্যও বলবে না আবার মিথ্যাও বলবে না। তবে এটি বর্ণনা করা জায়েজ, কেননা নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের সত্য বলে বিশ্বাস করো না আবার মিথ্যাও বলো না, বরং বলো আমরা আল্লাহর ওপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছি...", সহিহ বুখারি ফাতহুল বারীসহ, ৮/ ১৭০, (নং ৪৪৮৫), ১৩/ ১১৬, এবং নবী (সা.)-এর বাণী: "তোমরা বনি ইসরাইল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই...", সহিহ বুখারি ফাতহুল বারীসহ, ৬/ ৪৯৬, (নং ৩৪৬১), এবং দেখুন: আত-তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন, যাহাবী, ১/ ১৭৯।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بنيه، وورد أنه كان يولد له في كل بطن من البطون ذكر وأنثى، فكان يزوج توأمة هذا للآخر، ويزوج توأمة الآخر لهذا، إقامة لاختلاف البطون مقام اختلاف الآباء والأمهات والأنساب، ثم حرَّم اللَّه ذلك بإجماع المتدينين من المسلمين واليهود والنصارى (1).

2 - جاء في السفر الأول من التوراة: إن اللَّه - تعالى - قال لنوح عند خروجه من السفينة: ((إني جعلت كل دابة مأكلاً لك ولذريتك، وأطلقت ذلك لكم كنبات العشب، ما خلا الدم فلا تأكلوه))، ثم اعترفوا بعد ذلك بأن اللَّه حرَّم كثيراً على أصحاب الشرائع، من ذلك الخنزير في شريعة موسى، وهذا عين النسخ (2).

3 - أمر اللَّه إبراهيم صلى الله عليه وسلم بذبح ولده، ثم نسخ هذا الحكم قبل العمل به، وقد أقرّ منكرو النسخ بذلك (3).

4 - الجمع بين الأختين كان مباحاً في شريعة يعقوب صلى الله عليه وسلم، ثم حُرِّم في شريعة موسى صلى الله عليه وسلم (4).

5 - أمر اللَّه - تعالى - من عَبَدَ العجلَ من بني إسرائيل أن

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 152، 383، ومناهل العرفان للزرقاني، 2/ 87، وإظهار الحق، لرحمة الله الهندي، 1/ 513.

(2) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 152، 383، ومناهل العرفان، 2/ 87، وإظهار الحق، 1/ 515.

(3) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 152، 383، ومناهل العرفان، 2/ 87، وإظهار الحق، 1/ 315.

(4) انظر: الفصل في الملل والأهواء والنحل لابن حزم، 1/ 181، والداعي إلى الإسلام للأنباري، ص324، وابن كثير، 1/ 152، 383، ومناهل العرفان، 2/ 88، وإظهار الحق، 1/ 515.
তাঁর সন্তানদের সম্পর্কে; বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর প্রতিটি গর্ভে একটি পুত্র ও একটি কন্যা জন্মগ্রহণ করত। তখন তিনি একজনের যমজ বোনকে অন্যজনের সাথে এবং অন্যজনের যমজ বোনকে অপরজনের সাথে বিয়ে দিতেন। ভিন্ন ভিন্ন গর্ভকে ভিন্ন ভিন্ন পিতা-মাতা ও বংশের পার্থক্যের স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমেই এটি করা হতো। অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে তা নিষিদ্ধ করে দেন (১)।

২ - তাওরাতের প্রথম খণ্ডে এসেছে: আল্লাহ তাআলা কিশতি থেকে বের হওয়ার সময় নুহ (আ.)-কে বলেছিলেন: “আমি প্রতিটি জীবজন্তুকে তোমার ও তোমার বংশধরদের জন্য খাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছি। ঘাস-লতা-পাতার মতো তা তোমাদের জন্য অবারিত করেছি; তবে রক্ত ব্যতীত, তোমরা তা ভক্ষণ করো না।” এরপর তারা স্বীকার করে নিয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা শরিয়তপন্থীদের ওপর অনেক কিছুই হারাম করেছেন; যেমন মুসা (আ.)-এর শরিয়তে শূকর হারাম করা হয়েছে। আর এটিই হলো প্রকৃত রহিতকরণ (نسخ) (২)।

৩ - আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আ.)-কে তাঁর সন্তান জবাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর সে অনুযায়ী আমল করার পূর্বেই এই বিধানটি রহিতকরণ (نسخ) করা হয়। যারা রহিতকরণ (نسخ) অস্বীকারকারী, তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছে (৩)।

৪ - দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা ইয়াকুব (আ.)-এর শরিয়তে বৈধ (مباح) ছিল, অতঃপর মুসা (আ.)-এর শরিয়তে তা হারাম করা হয় (৪)।

৫ - আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলের মধ্যে যারা বাছুর পূজা করেছিল তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১/ ১৫২, ৩৮৩; মানাহিলুল ইরফান লিজ-যারকানি, ২/ ৮৭; এবং ইযহারুল হক, রাহমাতুল্লাহ আল-হিন্দি, ১/ ৫১৩।

(২) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১/ ১৫২, ৩৮৩; মানাহিলুল ইরফান, ২/ ৮৭; এবং ইযহারুল হক, ১/ ৫১৫।

(৩) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১/ ১৫২, ৩৮৩; মানাহিলুল ইরফান, ২/ ৮৭; এবং ইযহারুল হক, ১/ ৩১৫।

(৪) দেখুন: আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল ইবনে হাজম, ১/ ১৮১; আদ-দায়ি ইলাল ইসলাম আল-আনবারি, পৃ. ৩২৪; ইবনে কাসির, ১/ ১৫২, ৩৮৩; মানাহিলুল ইরফান, ২/ ৮৮; এবং ইযহারুল হক, ১/ ৫১৫।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
يقتتلوا، ثم أمرهم برفع السيف عنهم (1).

وغير ذلك كثير.

 

‌‌النوع الثاني: تقوم الحجة به على من آمن بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم واعترف بها؛ ولكنه جعلها خاصة بالعرب دون غيرهم، فهؤلاء متى سلّموا واعترفوا برسالته صلى الله عليه وسلم وأنه صادقٌ فيما بلغه عن اللَّه عز وجل من الكتاب والسنة وجب عليهم الإيمان والتصديق بكل ما ثبت عنه، وما جاء به من عموم الرسالة، والنسخ الثابت بالكتاب والسنة (2)، ومن هذا النوع ما يأتي:

1 - قال تعالى: {مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ} (3).

2 - وقال تعالى: {كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلاًّ لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَاّ مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ مِن قَبْلِ أَن تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ قُلْ فَأْتُواْ بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ* فَمَنِ افْتَرَىَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ مِن بَعْدِ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ * قُلْ صَدَقَ اللَّهُ فَاتَّبِعُواْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا

--------------------------------------------

(1) ابن كثير، 1/ 152، ومناهل العرفان، 2/ 87، وانظر ذلك من القرآن في سورة البقرة، الآية: 54.

(2) انظر: الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح لابن تيمية، 1/ 37، 1/ 31 - 176، ودرء تعارض العقل والنقل، 7/ 27.

(3) سورة البقرة، الآيتان: 106 - 107.
একে অপরের সাথে যুদ্ধ করবে, তারপর তিনি তাদের থেকে তলোয়ার তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন (১)।

এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু রয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: এর মাধ্যমে ওই সকল ব্যক্তির ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তা স্বীকার করেছে; কিন্তু তারা একে অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল আরবদের জন্য সুনির্দিষ্ট মনে করেছে। ফলে তারা যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতকে মেনে নিয়েছে ও স্বীকার করেছে এবং এ কথা মেনে নিয়েছে যে তিনি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে মহান আল্লাহর পক্ষ হতে যা কিছু পৌঁছে দিয়েছেন তাতে তিনি সত্যবাদী, তখন তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, তাঁর রিসালাতের ব্যাপকতা এবং কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) রহিতকরণ (نسخ)-এর প্রতি ঈমান আনা ও বিশ্বাস করা তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে যায় (২)। এই প্রকারের কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: {আমি যখন কোনো আয়াত রহিত (نسخ) করি অথবা তা ভুলিয়ে দিই, তখন আমি তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের কোনো আয়াত নিয়ে আসি। তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান? তুমি কি জানো না যে, আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই? আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই} (৩)।

২ - মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বনী ইসরাঈল নিজেদের জন্য যা হারাম করেছিল তা ব্যতীত সব খাদ্যই বনী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। আপনি বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো। এরপর যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, তারাই জালিম। আপনি বলুন, আল্লাহ সত্য বলেছেন; সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করো এবং তিনি...

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর, ১/ ১৫২, এবং মানাহিলুল ইরফান, ২/ ৮৭; আর কুরআনের এ বিষয়টি দেখুন সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৫৪।

(২) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ, ১/ ৩৭, ১/ ৩১ - ১৭৬; এবং দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি, ৭/ ২৭।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১০৬ - ১০৭।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (1).

3 - وقال تعالى: {فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَن سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا * وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُواْ عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} (2).

4 - وقال سبحانه: {وَعَلَى الَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلَاّ مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ذَلِكَ جَزَيْنَاهُم بِبَغْيِهِمْ وِإِنَّا لَصَادِقُونَ} (3).

5 - وقال عز وجل: {وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَّكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُواْ إِنَّمَا أَنتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} (4).

6 - وقال جل وعلا: {لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ، يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِندَهُ أُمُّ الْكِتَابِ} (5).

7 - إجماع سلف الأمة على أن النسخ وقع في الشريعة

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآيات: 93 - 95.

(2) سورة النساء، الآيتان: 160 - 161.

(3) سورة الأنعام، الآية: 146.

(4) سورة النحل، الآية: 101.

(5) سورة الرعد، الآيتان: 38 - 39.
...তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন} (১)।

৩ - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {বস্তুত ইহুদীদের যুলুমের কারণে আমি তাদের জন্য এমন অনেক পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছি যা তাদের জন্য হালাল ছিল; এবং আল্লাহর পথে অনেককে বাধা দেওয়ার কারণে। আর তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, যদিও তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার কারণে। আর আমি তাদের মধ্যে যারা কাফির তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি} (২)।

৪ - এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {আর যারা ইহুদী হয়েছে তাদের জন্য আমি নখবিশিষ্ট প্রত্যেক পশু হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে তাদের জন্য উভয়ের চর্বি হারাম করেছিলাম; তবে তাদের পিঠে বা নাড়ী-ভুঁড়িতে যা আছে অথবা যা হাড়ের সাথে মিশে আছে তা ব্যতীত। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদের এই শাস্তি দিয়েছিলাম, আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী} (৩)।

৫ - এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {যখন আমি এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য আয়াত স্থলাভিষিক্ত করি—আর আল্লাহ যা নাযিল করেন সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন—তখন তারা বলে, ‘আপনি তো কেবল একজন মিথ্যা রচনাকারী’; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না} (৪)।

৬ - এবং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ বলেন: {প্রত্যেক নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি কিতাব (বিধান) রয়েছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা তা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা তা বহাল রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব} (৫)।

৭ - উম্মতের পূর্বসূরীদের (সালাফ) ঐকমত্য (إجماع) এই যে, শরীয়তে রহিতকরণ (النسخ) সংঘটিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৯৩ - ৯৫।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬০ - ১৬১।

(৩) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৪৬।

(৪) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১০১।

(৫) সূরা আর-রাদ, আয়াত: ৩৮ - ৩৯।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الإسلامية، كما أن النسخ وقع بها لجميع الشرائع السابقة (1).

وبهذه الأدلة العقلية والنقلية السمعية - التي دلت على جواز النسخ عقلاً ووقوعه (2) نقلاً وسمعاً - سقطت أقوال منكري النسخ وأقوال من أنكر عموم رسالة النبي صلى الله عليه وسلم (3)، وللَّه الحمد والمنة.

 

‌‌المسلك الثاني: الأدلة القطعية على وقوع التحريف والتبديل في التوراة:

من حكمة القول في دعوة اليهود إلى اللَّه عز وجل أن يبيَّن لهم بالجدال بالتي هي أحسن أن الكتب التي بأيديهم قد دخلها التحريف والتبديل والتغيير (4).

واليهود والنصارى يُقرّون أن التوراة كانت طول مملكة بني إسرائيل عند الكاهن الأكبر الهاروني وحده، وتقرّ اليهود أن سبعين

--------------------------------------------

(1) تفسير البغوي، 3/ 22، 84، 1/ 326، وابن كثير، 1/ 151، 382، 585، 2/ 186، 520، 587، والشوكاني، 1/ 361، وإغاثة اللهفان لابن القيم، 2/ 321 - 328، والسعدي، 1/ 401، 4/ 116، 241، ومناهل العرفان، 2/ 89.

(2) وهناك شبهات لمنكرين النسخ قد تضمن الرد عليها الأدلة السابقة، وانظر أيضاً الرد عليها في الفصل لابن حزم، 1/ 181 - 200، والداعي إلى الإسلام للأنباري، ص317 - 340، ومناهل العرفان، 2/ 93 - 104.

(3) وستأتي الأدلة القطعية على إثبات رسالة محمد صلى الله عليه وسلم وشمولها - إن شاء الله تعالى -.

(4) لاشك أنه يجب على كل مسلم الإيمان بكل كتاب أنزله الله، وبكل نبي أرسله، وهذا هو أصل دين المسلمين، فمن كفر بنبي واحد أو كتاب واحد فهو كافر حلال الدم عند المسلمين. انظر: الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح لشيخ الإسلام ابن تيمية، 1/ 33، ولكن الكلام الآن هو في بيان وقوع التحريف والتبديل في التوراة.
ইসলামি (শরিয়তে), যেমনটি পূর্ববর্তী সকল শরিয়তের ক্ষেত্রেও রহিতকরণ (النسخ) কার্যকর হয়েছিল (১)।

আর এই সকল যৌক্তিক এবং বর্ণনাগত শ্রুত প্রমাণের মাধ্যমে—যা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে রহিতকরণ (النسخ) এর বৈধতা এবং বর্ণনাগত ও শ্রুতভাবে এর সংঘটন (২) প্রমাণ করেছে—রহিতকরণ (النسخ) অস্বীকারকারীদের বক্তব্য এবং যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালতের সার্বজনীনতাকে অস্বীকার করে তাদের বক্তব্য অসার সাব্যস্ত হয়েছে (৩); সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য।

 

‌‌দ্বিতীয় পথ: তাওরাতে বিকৃতি (التحريف) এবং পরিবর্তনের (التبديل) স্বপক্ষে অকাট্য প্রমাণসমূহ:

ইহুদিদেরকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে হিকমতপূর্ণ পন্থা হলো, উত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে তাদের সামনে স্পষ্ট করে দেওয়া যে, তাদের হাতে থাকা কিতাবসমূহে বিকৃতি (التحريف), রদবদল (التبديل) এবং পরিবর্তন প্রবেশ করেছে (৪)।

ইহুদি এবং খ্রিস্টানরা স্বীকার করে যে, বনী ইসরায়েলের রাজত্বকাল জুড়ে তাওরাত কেবল হারুনী বংশীয় প্রধান পুরোহিতের কাছেই সংরক্ষিত ছিল। ইহুদিরা আরও স্বীকার করে যে, সত্তর

--------------------------------------------

(১) তাফসির আল-বাগউই, ৩/২২, ৮৪, ১/৩২৬; এবং ইবনে কাসির, ১/১৫১, ৩৮২, ৫৮৫, ২/১৮৬, ৫২০, ৫৮৭; এবং আশ-শাওকানি, ১/৩৬১; এবং ইবনুল কাইয়্যিমের ইগাসাতুল লাহফান, ২/৩২১-৩২৮; এবং আস-সাদি, ১/৪০১, ৪/১১৬, ২৪১; এবং মানাহিলুল ইরফান, ২/৮৯।

(২) রহিতকরণ (النسخ) অস্বীকারকারীদের কিছু সংশয় রয়েছে যেগুলোর উত্তর পূর্বোক্ত প্রমাণাদির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; আরও দেখুন এগুলোর খণ্ডন ইবনে হাজমের আল-ফাসল, ১/১৮১-২০০; আল-আনবারির আদ-দায়ী ইলাল ইসলাম, পৃ. ৩১৭-৩৪০; এবং মানাহিলুল ইরফান, ২/৯৩-১০৪।

(৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালতের প্রমাণ এবং এর ব্যাপকতা সম্পর্কে অকাট্য দলিলসমূহ—ইনশাআল্লাহ তাআলা—সামনে আসবে।

(৪) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ প্রেরিত প্রতিটি কিতাব এবং প্রতিটি নবীর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। আর এটাই হলো মুসলিমদের দ্বীনের মূল ভিত্তি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো একজন নবীকে অথবা একটি কিতাবকে অস্বীকার করবে, সে মুসলিমদের নিকট কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য হবে। দেখুন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ, ১/৩৩। তবে বর্তমান আলোচনাটি তাওরাতে বিকৃতি (التحريف) এবং পরিবর্তনের (التبديل) বিষয়টি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كاهناً اجتمعوا على اتفاق من جميعهم على تبديل ثلاثة عشرة حرفاً من التوراة، وذلك بعد المسيح صلى الله عليه وسلم في عصر القياصرة الذين كانوا تحت قهرهم، ومن رضي بتبديل موضع واحد من كتاب اللَّه فلا يؤمن من تحريف غيره.

واليهود تقر أيضاً أن السامرة حرفوا مواضع التوراة، وبدَّلوها تبديلاً ظاهراً، وزادوا ونقصُوا والسامرة تدَّعي على اليهود بأن التوراة التي بأيديهم محرّفة مبدّلة (1).

والذي يحكم بين الجميع هو كلام اللَّه عز وجل المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم، المهيمن على ما سبقه من الكتب المصدِّق لها، فقد سجل التحريف وأثبته على أهل الكتاب، ونسب إليهم أنواعاً من التحريف للتوراة، كالآتي:

 

‌‌النوع الأول: إلباس الحق بالباطل:

كان بنو إسرائيل يخلطون الحق بالباطل، بحيث لا يتميز الحق من الباطل، وقد سجل القرآن الكريم هذا الجرم عليهم، قال سبحانه: {يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُواْ بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ * وَآمِنُواْ بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُواْ أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلَا تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَإِيَّايَ

--------------------------------------------

(1) انظر: الفصل لابن حزم، 1/ 102، 187، 197، والجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح، 2/ 18، وهداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى لابن القيم، ص581.
পুরোহিতগণ তাওরাতের তেরটি বর্ণ পরিবর্তনের (تبديل) বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। এটি ছিল ঈসা আলাইহিস সালামের পরবর্তী রোমান সম্রাটদের যুগে, যখন তারা তাদের দমনের অধীনে ছিল। যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোনো একটি স্থানেও পরিবর্তনের (تبديل) বিষয়ে সম্মত হলো, সে এর অন্যান্য ক্ষেত্রে বিকৃতি (تحريف) ঘটানোর বিষয়েও নিরাপদ থাকল না।

ইহুদিরা আরও স্বীকার করে যে, সামেরীরা তাওরাতের বিভিন্ন স্থানে বিকৃতি (تحريف) সাধন করেছে এবং তাতে প্রকাশ্য পরিবর্তন (تبديل) ঘটিয়েছে। তারা এতে সংযোজন ও বিয়োজন করেছে। অন্যদিকে সামেরীরা ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাবি করে যে, তাদের হাতে থাকা তাওরাত বিকৃত (محرفة) ও পরিবর্তিত (مبدلة)। (১)।

আর যা সকলের মাঝে ফয়সালা করবে তা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ মহান আল্লাহর কালাম, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর রক্ষক (مهيمن) এবং সেগুলোর সত্যায়নকারী। এটি আহলে কিতাবদের বিকৃতি (تحريف) নথিভুক্ত করেছে এবং তাদের ওপর তা সাব্যস্ত করেছে। তাদের প্রতি তাওরাতের নিম্নোক্ত প্রকারের বিকৃতিসমূহ (تحريف) আরোপ করা হয়েছে:

 

‌‌প্রথম প্রকার: সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ:

বনী ইসরাঈলরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করত, যাতে সত্য থেকে মিথ্যাকে পৃথক করা যেত না। পবিত্র কুরআন তাদের এই অপরাধের কথা উল্লেখ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদের দান করেছি এবং আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো, তবে আমি তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো। আর আমি যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আনো, যা তোমাদের নিকট থাকা বিষয়ের সত্যায়নকারী; এবং তোমরা এতে প্রথম অস্বীকারকারী (বা কাফির) হয়ো না। আর আমার আয়াতের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না এবং কেবল আমাকেই...}

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজমের আল-ফিসাল, ১/১০২, ১৮৭, ১৯৭; আল-জাওয়াব আস-সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ, ২/১৮; এবং ইবনুল কাইয়্যিমের হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউইবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা, পৃ. ৫৮১।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَاتَّقُونِ * وَلَا تَلْبِسُواْ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ} الآية (1)، وقال سبحانه: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ} الآية (2).

ومن أبلغ الصور وأقبحها في إلباس الحق ادعاء الكهنة والأحبار في التوراة التي بأيديهم أن هارون صلى الله عليه وسلم هو الذي جمع الذهب من بني إسرائيل واشترك معهم في صناعة العجل الذهبي، ووافقهم على عبادته من دون اللَّه – تعالى – وفي الوقت نفسه يبرئون السامري.

فهارون صلى الله عليه وسلم الذي تحمل المشاق في سبيل إقرار فرعون بالتوحيد جعلوه داعية إلى الشرك والكفر، ولكن القرآن الكريم كان لهذه الدعوى بالمرصاد، فكذبهم، وبين حقيقة الأمر (3)، قال تعالى: {فَكَذَلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ، فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَذَا إِلَهُكُمْ وَإِلَهُ مُوسَى … } إلى قوله تعالى: {وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِن قَبْلُ يَا قَوْمِ إِنَّمَا فُتِنتُم بِهِ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ فَاتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوا أَمْرِي، قَالُوا لَن نَّبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى … } الآيات (4)، فهذا هو الصدق حقّاً، إنما عمل لهم العجل السامري، أما هارون فنهاهم ولكنهم عصوا وكادوا يقتلونه (5).

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآيات: 40 - 42.

(2) سورة آل عمران، الآية: 71.

(3) انظر: الفصل لابن حزم، 1/ 256، وهداية الحيارى لابن القيم، ص582.

(4) انظر: سورة طه، الآيات: 87 - 91.

(5) انظر: الفصل في الملل والأهواء والنحل لابن حزم، 1/ 456، وهداية الحيارى، ص582.
...অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো। * আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না} আয়াত (১), এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {হে আহলে কিতাব! কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ?} আয়াত (২)।

সত্যকে আড়াল করার অন্যতম প্রকট ও জঘন্য উদাহরণ হলো তাওরাতে বিদ্যমান যাজক ও পণ্ডিতদের এই দাবি যে, হারুন (আলাইহিস সালাম)-ই বনী ইসরাঈলের নিকট থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন এবং তাদের সাথে স্বর্ণের বাছুর নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি তিনি আল্লাহর পরিবর্তে সেই বাছুরের ইবাদত করার ব্যাপারেও তাদের সাথে একমত হয়েছিলেন—অথচ একই সময়ে তারা সামেরীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে।

সুতরাং যে হারুন (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনকে তাওহীদের প্রতি স্বীকৃতি প্রদানে বাধ্য করতে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছিলেন, তারা তাঁকেই শিরক ও কুফরের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে চিত্রিত করেছে। তবে পবিত্র কুরআন এই দাবির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিল, ফলশ্রুতিতে তা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং প্রকৃত সত্য উন্মোচন করেছে (৩)। মহান আল্লাহ বলেন: {সেভাবেই সামেরী (কুণ্ডে) তা নিক্ষেপ করল। অতঃপর সে তাদের জন্য একটি বাছুর বের করে আনল, যা ছিল একটি প্রাণহীন দেহ এবং তার থেকে হাম্বা রব বের হতো। তারা বলল, এটিই তোমাদের উপাস্য এবং মূসারও উপাস্য...} মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {আর ইতিপূর্বেই হারুন তাদের বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! এর দ্বারা কেবল তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। আর তোমাদের রব তো পরম করুণাময়; সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ মেনে চলো। তারা বলল, মূসা আমাদের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এর ইবাদতেই নিমগ্ন থাকব...} আয়াতসমূহ (৪)। বস্তুত এটিই ধ্রুব সত্য; কেননা সামেরী-ই তাদের জন্য বাছুরটি তৈরি করেছিল, আর হারুন তো তাদের নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁর অবাধ্য হয়েছিল এবং এমনকি তাঁকে হত্যা করার উপক্রম করেছিল (৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪০ - ৪২।

(২) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭১।

(৩) দেখুন: ইবনে হাজম রচিত আল-ফাসল, ১/ ২৫৬; এবং ইবনুল কাইয়্যিম রচিত হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫৮২।

(৪) দেখুন: সূরা ত্বহা, আয়াত: ৮৭ - ৯১।

(৫) দেখুন: ইবনে হাজম রচিত আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, ১/ ৪৫৬; এবং হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫৮২।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌النوع الثاني: كتمان الحق:

لاشك أن اللَّه حق، ولا يقول إلا حقّاً، والتوراة التي أنزلت على موسى كلها حق؛ لأنها كلام اللَّه – تعالى – ولكن بني إسرائيل كانوا يكتمون الحق، قاصدين بذلك إخضاع كتاب اللَّه لأهوائهم وشهواتهم، فالآيات التي يرون فيها منفعة لهم عاجلة أو تكون في جانب حجتهم يقرونها، أما الآيات التي يرون أن فيها دليلاً عليهم فيكتمونها، ولهذا سجل اللَّه عليهم هذا الكتم في كتابه، فقال سبحانه: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} (1).

ومن أعظم ما كتمه أهل الكتاب هو ما وجدوه في كتبهم من صفات محمد صلى الله عليه وسلم، واختيار اللَّه له رسولاً إلى الناس أجمعين، وقد كانوا يعرفونه في كتبهم كما يعرفون أبناءهم، ولكنهم إذا سُئِلُوا عن ذلك كتموه (2)، قال تعالى: {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} (3)، {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءهُمُ الَّذِينَ خَسِرُواْ أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ} (4).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 71، وانظر: سورة البقرة، الآية: 42.

(2) انظر: تفسير البغوي، 1/ 67، 162، 315، وابن كثير، 1/ 85، 95، 374.

(3) سورة البقرة، الآية: 146.

(4) سورة الأنعام، الآية: 20.
দ্বিতীয় প্রকার: সত্য গোপন করা:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহ সত্য, আর তিনি সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বলেন না। মূসার ওপর অবতীর্ণ তাওরাত সামগ্রিকভাবেই সত্য; কেননা তা মহান আল্লাহর বাণী। কিন্তু বনী ইসরাঈল সত্যকে গোপন করত, যার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর কিতাবকে তাদের খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির অনুগত করা। সুতরাং তারা সেই আয়াতগুলো পাঠ করত যেগুলোর মধ্যে তারা তাৎক্ষণিক পার্থিব স্বার্থ খুঁজে পেত অথবা যা তাদের সপক্ষে দলিল হিসেবে গণ্য হতো। আর যে আয়াতগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকত, সেগুলো তারা গোপন করত। এ কারণেই আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাদের এই সত্য গোপনের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {হে আহলে কিতাব, কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ এবং সত্য গোপন করছ, অথচ তোমরা তা জান?} (১)।

আহলে কিতাব যা কিছু গোপন করেছিল তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি যা তারা তাদের কিতাবে পেয়েছিল এবং সমস্ত মানুষের নিকট রাসূল হিসেবে তাঁর প্রতি আল্লাহর মনোনয়ন। তারা তাদের কিতাবে তাঁকে তেমনই চিনত যেমন তারা নিজেদের সন্তানদের চিনত; কিন্তু যখন তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তারা তা গোপন করত (২)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (রাসূলকে) তেমনভাবেই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে; আর তাদের একটি দল অবশ্যই জেনে-শুনে সত্য গোপন করে।} (৩), {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে তেমনই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। যারা নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে, তারা ঈমান আনবে না।} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭১; এবং দেখুন: সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪২।

(২) দেখুন: তাফসিরে বাগাওয়ী, ১/ ৬৭, ১৬২, ৩১৫; এবং ইবনে কাসির, ১/ ৮৫, ৯৫, ৩৭৪।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৬।

(৪) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ২০।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد بيَّن عز وجل صفاته صلى الله عليه وسلم الكاملة في التوراة والإنجيل، فقال عز وجل: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ * الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} (1).

ومع هذه الأوصاف العظيمة التي كانوا يعرفونها مكتوبة عندهم، أنكروا نبوته صلى الله عليه وسلم، وكتموا ما علموه (2).

 

‌‌النوع الثالث: إخفاء الحق:

الإخفاء قريب من الكتمان (3)، وقد كان أهل الكتاب يخفون من أحكام التوراة الشيء الكثير، قال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِّمَّا كُنتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُوا عَن كَثِيرٍ

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف، الآيتان: 156 - 157.

(2) انظر الأمثلة من نصوص التوراة التي بينت صفات النبي صلى الله عليه وسلم واضحة جلية، ولكن اليهود كتموا ذلك، في: الملل والأهواء والنحل لابن حزم،1/ 201 - 329، والجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح، 3/ 299 - 332، وهداية الحيارى لابن القيم، ص522 - 580، وإغاثة اللهفان لابن القيم، 2/ 351 - 363، وإظهار الحق لرحمة الله الهندي، 1/ 335 - 508.

(3) انظر: هداية الحيارى لابن القيم، ص524، ويمكن أن يقال الفرق بين الكتمان والإخفاء: بأن الكتمان هو ما كتموه من أوصاف النبي وأمته حقداً وكراهة، والإخفاء هو إخفاء كل ما فيه خزي لهم ومخالفة، والله أعلم. انظر: التوراة دراسة وتحليل لمحمد شلبي، ص80.
মহান আল্লাহ তাওরাত ও ইঞ্জিলে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: {আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা আমাদের আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে। * যারা অনুসরণ করে সেই রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও মন্দকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন; আর তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারণ করেন যা তাদের ওপর ছিল।} (১)।

তাদের নিকট লিখিত এই সুমহান বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে এবং তারা যা জানত তা গোপন করেছে। (২)।

 

‌তৃতীয় প্রকার: সত্য গোপন করা:

গোপন করা এবং লুকিয়ে রাখা একে অপরের নিকটবর্তী বিষয় (৩), আর আহলে কিতাবগণ তাওরাতের বিধানাবলির অনেক কিছুই গোপন করত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে আহলে কিতাব! তোমাদের নিকট আমাদের রসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা কিছু গোপন করতে তার অনেক কিছুই তিনি তোমাদের নিকট প্রকাশ করছেন এবং অনেক কিছুই তিনি মার্জনা করছেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৬ - ১৫৭।

(২) তাওরাতের সেই সকল পাঠের উদাহরণের জন্য দেখুন যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু ইয়াহুদিরা তা গোপন করেছে: ইবনে হাজম-এর আল-ফাসাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, ১/ ২০১ - ৩২৯; আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দলা দ্বীনাল মাসীহ, ৩/ ২৯৯ - ৩৩২; ইবনুল কাইয়্যিম-এর হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫২২ - ৫৮০; ইবনুল কাইয়্যিম-এর ইগাসাতুল লাহফান, ২/ ৩৫১ - ৩৬৩; এবং রাহমাতুল্লাহ আল-হিন্দীর ইজহারুল হক, ১/ ৩৩৫ - ৫০৮।

(৩) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম-এর হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫২৪। গোপন করা এবং লুকিয়ে রাখার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে বলা যেতে পারে যে: গোপন করা হলো বিদ্বেষ ও ঘৃণাবশত নবী এবং তাঁর উম্মতের বৈশিষ্ট্যসমূহ লুকিয়ে রাখা, আর লুকিয়ে রাখা বলতে তাদের জন্য অবমাননাকর এবং (তাদের আদর্শের) পরিপন্থী সবকিছু গোপন করাকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। দেখুন: মুহাম্মদ শালবী-এর তাওরাত: দিরাসাহ ওয়া তাহলীল, পৃ. ৮০।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ} (1).

ومن الأحكام التي أخفاها اليهود حكم رجم الزاني المحصن، فقد جاءوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم برجل وامرأة قد زنيا، فقال لهم: ((كيف تفعلون بمن زنى منكم؟)). قالوا: نُحَمِّمهما ونضربهما. فقال: ((لا تجدون في التوراة الرجم؟)) فقالوا: لا نجد فيها شيئاً. فقال لهم عبد اللَّه بن سلام: كذبتم، فأتوا بالتوراة فاتلوها إن كنتم صادقين، فوضع مدراسها الذي يدرسها منكم كفه على آية الرجم، فطفق يقرأ ما دون يده وما وراءها، ولا يقرأ آية الرجم، فنزع يده (2) عن آية الرجم، فقال: ما هذه؟ فلما رأوا ذلك قالوا: هي آية الرجم، فأمر بهما رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فرجما … الحديث (3).

ولهذا قال سبحانه: {يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُواْ} إلى قوله: {وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِن بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُوْلَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ} (4)، وقال: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوْتُواْ نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية: 15.

(2) وفي رواية أخرى للبخاري: قال عبد الله بن سلام: ارفع يدك، فرفع يده، فإذا فيها آية الرجم. انظر: البخاري مع الفتح، 2/ 166.

(3) البخاري مع الفتح، كتاب التفسير، سورة آل عمران، باب: {قُلْ فَأْتُواْ بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ}، 8/ 224، (رقم 4556)، 12/ 166، 13/ 516.

(4) سورة المائدة، الآيات: 41 - 43.
"নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি এবং উজ্জ্বল কিতাব এসেছে" (১)।

আর ইহুদিরা যেসব বিধান গোপন করেছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক পুরুষ ও এক নারীকে নিয়ে এল যারা ব্যভিচার করেছিল। তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ব্যভিচার করলে তোমরা তার সাথে কী রূপ আচরণ করো?" তারা বলল: আমরা তাদের মুখ কালো করে দিই এবং তাদের প্রহার করি। তিনি বললেন: " তোমরা কি তাওরাতে পাথর নিক্ষেপের বিধান পাও না?" তারা বলল: আমরা তাতে এ সংক্রান্ত কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) তাদের বললেন: তোমরা মিথ্যা বলেছো, তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও। এরপর তাদের মধ্য থেকে তাওরাত পাঠকারী ব্যক্তিটি পাথর নিক্ষেপের আয়াতের ওপর তার হাতের তালু রাখল এবং তার হাতের আগের ও পরের অংশ পাঠ করতে শুরু করল, কিন্তু পাথর নিক্ষেপের আয়াতটি পাঠ করল না। তখন তিনি তার হাত সরিয়ে দিলেন (২) পাথর নিক্ষেপের আয়াতটি থেকে এবং বললেন: এটি কী? যখন তারা তা দেখল, তখন তারা বলল: এটি পাথর নিক্ষেপের আয়াত। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে পাথর নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের পাথর নিক্ষেপ করা হলো... হাদিস (৩)।

এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: "তারা বলে, যদি তোমাদের এই (বিধান) দেওয়া হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তা না দেওয়া হয় তবে সতর্ক থেকো" — তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "আর তারা আপনাকে কীভাবে বিচারক নিয়োগ করে? অথচ তাদের কাছে রয়েছে তাওরাত, যাতে আল্লাহর বিধান বিদ্যমান। এরপরও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়; মূলত তারা মুমিন নয়" (৪)। এবং তিনি বলেছেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একাংশ দেওয়া হয়েছে? তাদের আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৫।

(২) আর বুখারীর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন: তোমার হাত তোলো। তখন সে হাত তুলল এবং দেখা গেল সেখানে পাথর নিক্ষেপের আয়াত রয়েছে। দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারী, ২/১৬৬।

(৩) ফাতহুল বারীসহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, সূরা আলে ইমরান, অধ্যায়: {বলো, তবে তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও}, ৮/২২৪, (নম্বর ৪৫৫৬), ১২/১৬৬, ১৩/৫১৬।

(৪) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪১ - ৪৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِّنْهُمْ وَهُم مُّعْرِضُونَ} (1).

فأنكر سبحانه على أهل الكتاب المتمسكين فيما يزعمون بكتابيهم: التوراة والإنجيل، وإذا دعوا إلى التحاكم إلى ما فيهما من طاعة اللَّه فيما أمرهم به فيهما من اتباع محمد صلى الله عليه وسلم تولوا وهم معرضون عنهما، وهذا في غاية ما يكون من ذمهم (2).

 

‌‌النوع الرابع: ليُّ اللسان:

من أنواع تحريف اليهود للتوراة: ليُّ اللسان، فهم يلوون ألسنتهم ويعطفونها بالتحريف، ليلبسوا على السامع اللفظ المنزل بغيره، ويفلتون ألسنتهم حين يقرءون كلام اللَّه – تعالى – لإمالته عما أنزله اللَّه عليه إلى اللفظ الذي يريدونه (3)، قال تعالى: {وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُم بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} (4).

ومن التحريف بليِّ اللسان ما كان يفعله اليهود مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بقولهم: {وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ} ويقصدون معنى: اسمع لا

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 23.

(2) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 356، وأضواء البيان للشنقيطي، 2/ 57.

(3) انظر: تفسير البغوي، 1/ 320، وابن كثير، 1/ 377، وهداية الحيارى، ص524، وفتح القدير للشوكاني، 1/ 354.

(4) سورة آل عمران، الآية: 78.
...যাতে তাদের মধ্যে মীমাংসা করা যায়; অতঃপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা বিমুখ হয়। (১)।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই আহলে কিতাবদের ভর্ৎসনা করেছেন যারা তাদের দাবি অনুযায়ী তাদের কিতাবদ্বয়—তাওরাত ও ইনজিলের অনুসারী। আর যখন তাদেরকে সেই কিতাবদ্বয়ে বিদ্যমান আল্লাহর আনুগত্য অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের নির্দেশের দিকে ফয়সালার জন্য আহ্বান জানানো হয়, তখন তারা তা থেকে বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এটি তাদের চরম নিন্দনীয় অবস্থার বহিঃপ্রকাশ (২)।

 

‌‌চতুর্থ প্রকার: জিহ্বা বাঁকানো (لي اللسان):

তাওরাতের ক্ষেত্রে ইহুদিদের বিকৃতির (تحريف) অন্যতম প্রকার হলো জিহ্বা বাঁকানো। তারা বিকৃতির (تحريف) উদ্দেশ্যে তাদের জিহ্বাকে বাঁকায় ও পরিবর্তন করে, যাতে শ্রোতার নিকট অবতীর্ণ শব্দকে অন্য শব্দের সাথে গুলিয়ে ফেলে। তারা মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করার সময় তাদের জিহ্বাকে দ্রুত চালনা করে যাতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা থেকে সরিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত শব্দের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় (৩)। মহান আল্লাহ বলেন: “আর তাদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে, যারা কিতাব পাঠকালে জিহ্বা বাঁকায় (لي اللسان), যাতে তোমরা তাকে কিতাবের অংশ মনে করো, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা (الكذب) আরোপ করে।” (৪)।

জিহ্বা বাঁকানোর মাধ্যমে বিকৃতির (تحريف) আরেকটি উদাহরণ হলো যা ইহুদিরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে করত। তারা বলত: “শোনো, যেন তোমাকে শোনানো না হয়”, তারা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করত: শোনো না...

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ২৩।

(২) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, ১/ ৩৫৬; এবং আশ-শানকিতির আদওয়াউল বায়ান, ২/ ৫৭।

(৩) দেখুন: তাফসির আল-বাগউই, ১/ ৩২০; ইবনে কাসির, ১/ ৩৭৭; হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫২৪; এবং আশ-শাওকানির ফাতহুল কাদির, ১/ ৩৫৪।

(৪) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭৮।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
سمعت، أي: يدعون على النبي صلى الله عليه وسلم وقد كان المسلمون يقولون للنبي صلى الله عليه وسلم راعنا، من المراعاة، والمعنى فَرِّغ سمعك لكل منا، فلما سمع اليهود هذه اللفظة اغتنموا الفرصة في التحريف، لأن معناها عندهم السبّ والطعن بمعنى: يا أحمق (1)، ولكن اللَّه عز وجل كشف سترهم، فقال: {مِّنَ الَّذِينَ هَادُواْ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِن لَّعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَاّ قَلِيلاً} (2).

ونهى اللَّه المؤمنين عن صفات اليهود فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَا تَقُولُواْ رَاعِنَا وَقُولُواْ انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ْوَلِلكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (3).

 

‌‌النوع الخامس: تحريف الكلام عن مواضعه:

أثبت اللَّه عز وجل على أهل الكتاب هذا النوع من التحريف، فقال عز وجل: {مِّنَ الَّذِينَ هَادُواْ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ … } (4)، {فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَاقَهُمْ لَعنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير البغوي،1/ 102، 438، وابن كثير، 1/ 149، 508، وفتح القدير للشوكاني، 1/ 124، 474.

(2) سورة النساء، الآية: 46.

(3) سورة البقرة، الآية: 104.

(4) سورة النساء، الآية: 46.
শুনেছি—অর্থাৎ তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে বদদোয়া করত। অথচ মুসলিমগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ‘রা‘ইনা’ বলতেন, যা ‘মুরাআত’ (বিবেচনা করা) শব্দ থেকে আগত। এর অর্থ ছিল—আমাদের প্রত্যেকের কথা শোনার জন্য আপনার কর্ণ উন্মুক্ত রাখুন। যখন ইহুদিরা এই শব্দটি শুনল, তারা বিকৃতি (تحريف) ঘটানোর সুযোগ গ্রহণ করল। কারণ তাদের নিকট এর অর্থ ছিল গালি ও কটূক্তি, যার অর্থ হলো: হে নির্বোধ (১); কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের গোপন রহস্য ফাঁস করে দিলেন এবং বললেন: {ইহুদীদের মধ্যে কিছু লোক শব্দগুলোকে সেগুলোর নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃত (يُحَرِّفُونَ) করে এবং বলে: ‘আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম’; আর ‘শোনো না-শোনার মতো’ এবং নিজেদের জিহ্বা বাঁকিয়ে ও দ্বীনের প্রতি বিদ্রূপ করে বলে ‘রা‘ইনা’। যদি তারা বলত: ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম’, আর ‘শোনো ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখো’, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর ও অধিক সংগত হতো। কিন্তু তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাদের লানত করেছেন, তাই তারা অল্পই ঈমান আনে} (২)।

আর আল্লাহ মুমিনদেরকে ইহুদিদের স্বভাব অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রা‘ইনা’ বলো না, বরং ‘উনযুরনা’ বলো এবং শোনো। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} (৩)।

 

‌‌পঞ্চম প্রকার: কথাকে তার নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃতি (تحريف) করা:

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আহলে কিতাবের ওপর এই প্রকারের বিকৃতি (تحريف) সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ করেছেন: {ইহুদীদের মধ্যে যারা শব্দগুলোকে তাদের স্থান থেকে বিকৃত (يُحَرِّفُونَ) করে...} (৪), {তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের লানত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি, তারা শব্দগুলোকে তাদের স্থান থেকে বিকৃত (يُحَرِّفُونَ) করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীর আল-বাগভী, ১/১০২, ৪৩৮; ইবনে কাসীর, ১/১৪৯, ৫০৮ এবং শাওকানি রচিত ফাতহুল কাদির, ১/১২৪, ৪৭৪।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৬।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১০৪।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৬।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
مَّوَاضِعِهِ وَنَسُواْ حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِ … } (1)، وقال عز وجل: {وَمِنَ الَّذِينَ هِادُواْ سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِن بَعْدِ مَوَاضِعِهِ … } (2).

وهذا النوع من التحريف له أربع صور كالآتي:

 

‌‌1 - تحريف التبديل: وهو وضع كلمة مكان كلمة، أو جملة مكان جملة.

‌‌2 - تحريف بالزيادة: ويكون بزيادة كلمة أو جملة.

‌‌3 - تحريف بالنقص: وهو إسقاط كلمة، أو جملة من الكلام المنزل على موسى صلى الله عليه وسلم.

‌‌4 - تحريف المعنى: تبقى الكلمة أو الجملة كما هي، ولكنهم يجعلونها محتملة لمعنيين، ثم يختارون المعنى الذي يتّفق مع أهوائهم وأغراضهم (3).

وهذه الصور لها أمثلة كثيرة من التوراة لا يتسع المقام لذكرها (4).

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية: 13.

(2) سورة المائدة، الآية: 41.

(3) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 377، وإغاثة اللهفان لابن القيم، 2/ 360، 361، وإظهار الحق لرحمة الله الهندي، 1/ 337 - 508، والتوراة: دراسة وتحليل، للدكتور/ محمد شلبي شتيوي، ص83.

(4) انظر: الأمثلة على تحريف التبديل في الفصل لابن حزم، 1/ 207 - 244، وإغاثة اللهفان 2/ 342 - 344، وهداية الحيارى، ص582، والمناظرة الكبرى، ص465 - 475، والأمثلة على تحريف الزيادة في: إظهار الحق، 1/ 338 - 347، والتوراة دراسة وتحليل، ص90 - 94، وأمثلة النقص في: إظهار الحق، 1/ 414 - 456، والتوراة دراسة وتحليل، 95 - 98، وأمثلة التأويل في إغاثة اللهفان من مصائد الشيطان، 2/ 331، 332، 361 - 362، وهداية الحيارى، ص526 - 539.
...শব্দগুলোকে তাদের যথার্থ স্থান থেকে পরিবর্তন করে এবং তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি বড় অংশ তারা ভুলে গিয়েছে … } (১), এবং মহান আল্লাহ বলেন: { আর যারা ইয়াহুদি হয়েছে, তারা মিথ্যার প্রতি অত্যন্ত শ্রবণকারী, তারা অন্য এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি কর্ণপাতকারী যারা তোমার কাছে আসেনি। তারা শব্দগুলোকে তাদের যথার্থ স্থান থেকে বিকৃত (يحرفون) করে দেয় … } (২)।

এই প্রকারের বিকৃতির (التحريف) চারটি রূপ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

 

‌‌১ - পরিবর্তনজনিত বিকৃতি (تحريف التبديل): এটি হলো এক শব্দের স্থলে অন্য শব্দ অথবা এক বাক্যের স্থলে অন্য বাক্য স্থাপন করা।

‌‌২ - সংযোজনজনিত বিকৃতি (تحريف بالزيادة): এটি কোনো শব্দ বা বাক্য বৃদ্ধির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

‌‌৩ - বিয়োজনজনিত বিকৃতি (تحريف بالنقص): এটি হলো মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ কালাম থেকে কোনো শব্দ বা বাক্য বাদ দেওয়া।

‌‌৪ - অর্থগত বিকৃতি (تحريف المعنى): শব্দ বা বাক্যটি অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু তারা সেটিকে দুটি অর্থের সম্ভাবনাময় করে তোলে, অতঃপর এমন অর্থ গ্রহণ করে যা তাদের খেয়াল-খুশি ও উদ্দেশ্যের অনুকূলে যায় (৩)।

তৌরাতের মধ্যে এই রূপগুলোর বহু উদাহরণ রয়েছে, যা এখানে উল্লেখ করার পরিসর নেই (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৩।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪১।

(৩) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/৩৭৭; ইবনুল কাইয়্যিমের ইগাসাতুল লাহফান, ২/৩৬০, ৩৬১; রাহমাতুল্লাহ আল-হিন্দির ইজহারুল হক, ১/৩৩৭-৫০৮ এবং ড. মুহাম্মাদ শালবি শাতিওয়ি-এর আত-তাওরাহ: দিরাসাতুন ওয়া তাহলিল, পৃ. ৮৩।

(৪) দেখুন: পরিবর্তনজনিত বিকৃতির (تحريف التبديل) উদাহরণসমূহের জন্য ইবনে হাজমের আল-ফাসল, ১/২০৭-২৪৪; ইগাসাতুল লাহফান ২/৩৪২-৩৪৪; হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫৮২; আল-মুনাজারাতুল কুবরা, পৃ. ৪৬৫-৪৭৫। সংযোজনজনিত বিকৃতির (تحريف الزيادة) উদাহরণের জন্য: ইজহারুল হক, ১/৩৩৮-৩৪৭; আত-তাওরাহ দিরাসাতুন ওয়া তাহলিল, পৃ. ৯০-৯৪। বিয়োজনজনিত বিকৃতির (تحريف بالنقص) উদাহরণের জন্য: ইজহারুল হক, ১/৪১৪-৪৫৬; আত-তাওরাহ দিরাসাতুন ওয়া তাহলিল, ৯৫-৯৮। এবং ব্যাখ্যার (التأويل) উদাহরণের জন্য: ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শাইতান, ২/৩৩১, ৩৩২, ৩৬১-৩৬২; হিদায়াতুল হায়ারা, পৃ. ৫২৬-৫৩৯।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد بيَّن اللَّه عز وجل أن أهل الكتاب يعلمون أن ما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم هو الحق، لما يجدونه في كتبهم من نعته صلى الله عليه وسلم وأمته، وما شرفه اللَّه به من الشريعة الكاملة (1)، قال سبحانه: {وَإِنَّ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ} (2)، {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} (3).

ومن رحمة اللَّه - تعالى - بهم وكرمه أنه عندما ذكر ما فعلوه من العظائم دعاهم إلى التوبة، فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ آمِنُواْ بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَى أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً} (4)، فلو آمنوا باللَّه وملائكته وجميع كتبه ورسله لكفَّر عنهم

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير، 1/ 194.

(2) سورة البقرة، الآية: 144.

(3) سورة آل عمران، الآية: 71، وانظر: آل عمران، الآيتان: 98 - 99.

(4) سورة النساء، الآية: 47.
মহান আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, আহলে কিতাবগণ জানে যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য; কারণ তারা তাদের কিতাবসমূহে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর উম্মতের গুণাবলি এবং আল্লাহ তাঁকে যে পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত দ্বারা সম্মানিত করেছেন তার বিবরণ পায় (১)। তিনি পবিত্র সত্তা ইরশাদ করেন: {আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য; আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন} (২), {হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ এবং সত্যকে গোপন করছ, অথচ তোমরা তা জানো?} (৩)।

আর তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত ও অনুগ্রহের পরিচয় এই যে, তিনি যখন তাদের কৃত অপরাধসমূহ উল্লেখ করেছেন, তখন তাদেরকে তাওবার দিকে আহ্বান করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {হে ঐ সকল লোক যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে! আমি যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আনো, যা তোমাদের নিকট থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী; আমি চেহারাগুলোকে বিকৃত করে দেওয়ার এবং সেগুলোকে তাদের পিছনের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে, অথবা তাদেরকে লানত করার আগে যেমন আমি আসহাবে সাবতকে লানত করেছিলাম। আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়েই থাকে} (৪)। সুতরাং তারা যদি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং তাঁর সমস্ত কিতাব ও রাসুলদের প্রতি ঈমান আনত, তবে তিনি তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিতেন।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/১৯৪।

(২) সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৪৪।

(৩) সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭১; এবং দেখুন: আলে ইমরান, আয়াত: ৯৮ - ৯৯।

(৪) সুরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৭।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
سيئاتهم وأدخلهم الجنة (1)، قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُواْ وَاتَّقَوْاْ لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلأدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ، وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُواْ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيهِم مِّن رَّبِّهِمْ لأكَلُواْ مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم مِّنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ} (2)، {وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ} (3).

 

‌‌المسلك الثالث: إثبات اعتراف المنصفين من علماء اليهود:

لاشك أن من حكمة القول مع أهل الكتاب في دعوتهم إلى اللَّه عز وجل الاستشهاد عليهم بشهادة علماء أهل الكتاب المنصفين، الذين وفقهم اللَّه - تعالى - وقبلوا الحق، وبيّنوه ولم يكتموه، وهذا من باب قوله تعالى: {وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ أَهْلِهَا} (4).

وأذكر على سبيل المثال من هؤلاء العلماء الذين يعترف اليهود بأنهم كانوا منهم فأقروا بالإسلام وأنه الدين الحق ما يلي:

 

‌‌1 - عبد اللَّه بن سلام رضي الله عنه وأرضاه:

لو لم يسلم من اليهود في زمن النبي صلى الله عليه وسلم إلا سيد اليهود على الإطلاق وابن سيدهم، وعالمهم وابن عالمهم، وخيرهم وابن

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير السعدي، 2/ 319.

(2) سورة المائدة، الآيتان: 65 - 66.

(3) سورة آل عمران، الآية: 110.

(4) سورة يوسف، الآية: 26.
তাদের পাপসমূহ এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাতেন (১), আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি কিতাবীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমরা তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদের সুখময় জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাতাম। আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা কায়েম করত, তবে তারা তাদের মাথার উপর থেকে এবং পায়ের নিচ থেকে রিযিক ভোগ করত। তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে, আর তাদের অধিকাংশ যা করছে তা অতি মন্দ} (২), {যদি কিতাবীরা ঈমান আনত তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে মুমিন রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই পাপাচারী} (৩)।

 

‌‌তৃতীয় পন্থা: ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ তাদের স্বীকৃতির প্রমাণ:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহলে কিতাবদের মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে হিকমতের একটি অংশ হলো তাদের বিরুদ্ধে আহলে কিতাবদের সেইসব ন্যায়পরায়ণ পণ্ডিতদের সাক্ষ্যকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা, যাদের আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করেছেন এবং তারা সত্য গ্রহণ করেছেন, তা বর্ণনা করেছেন এবং গোপন করেননি। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {এবং তার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল} (৪)।

আমি উদাহরণস্বরূপ এমন কয়েকজন পণ্ডিতের কথা উল্লেখ করছি যাদের সম্পর্কে ইহুদিরা স্বীকার করে যে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর তারা ইসলামের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এটি যে সত্য দ্বীন তা মেনে নিয়েছেন:

 

‌‌১ - আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু):

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ইহুদিদের মধ্য থেকে যদি অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ না-ও করতেন, কেবল ইহুদিদের একচ্ছত্র নেতা ও তাদের নেতার পুত্র, তাদের আলেম ও তাদের আলেমের পুত্র এবং তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পুত্র

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে সাদি, ২/ ৩১৯।

(২) সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৫ - ৬৬।

(৩) সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০।

(৪) সুরা ইউসুফ, আয়াত: ২৬।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
خيرهم، باعترافهم وشهادتهم، لكان في مقابلة كل يهودي على وجه الأرض، فكيف وقد تابعه من الأحبار والرُّهبان من لا يُحصي عددهم إلا اللَّه (1).

وقد آمن هذا الرجل باللَّه وبرسوله صلى الله عليه وسلم، فعن أنس رضي الله عنه قال: بلغ عبد اللَّه بن سلام مقدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة فأتاه فقال: إني سائلك عن ثلاث لا يعلمهن إلا نبيٌّ، قال: ما أول أشراط الساعة؟ وما أول طعام يأكله أهل الجنة، وما بال الولد ينزع إلى أبيه أو إلى أمه؟ فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((خبَّرني بهنَّ آنفاً جبريلُ)) قال ابن سلام: ذاك عدو اليهود من الملائكة، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((أما أول أشرط الساعة فنار تحشر الناس من المشرق إلى المغرب، وأما أول طعام يأكله أهل الجنة فزيت كبد الحوت، وأما الشبه في الولد فإن الرجل إذا غشي المرأة فسبقها ماؤه كان الشبه له، وإذا سبق ماؤها كان الشبه لها))، [قال: أشهد أن لا إله إلا اللَّه، وأنك رسول اللَّه] قال: يا رسول اللَّه، إن اليهود قوم بُهْتٌ، إن علموا بإسلامي قبل أن تسألهم بَهَتُوني عندك، فادعهم [فاسألهم عني قبل أن يعلموا بإسلامي]، [فأرسل نبي اللَّه صلى الله عليه وسلم فأقبلوا]، فدخلوا عليه فقال لهم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((يا معشر اليهود، ويلكم اتقوا اللَّه، فواللَّه الذي لا إله إلا هو إنكم لتعلمون أني رسول اللَّه حقاً، وأني جئتكم بحق، فأسلِمُوا))، قالوا: ما

--------------------------------------------

(1) انظر: هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى، ص514، 525.
তাদেরই স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এমনকি তিনি পৃথিবীর প্রতিটি ইহুদির বিপরীতে দাঁড়ানোর যোগ্য ছিলেন। তাহলে বর্তমান অবস্থা কী হবে, যখন বহু সংখ্যক আলেম ও ধর্মযাজক তাঁর অনুসরণ করেছেন যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না (১)।

আর এই ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ঈমান এনেছিলেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মদিনায় আগমনের খবর পেলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে এসে বললেন: ‘আমি আপনাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যা নবী ছাড়া আর কেউ জানে না।’ তিনি বললেন: ‘কিয়ামতের প্রথম আলামত (أشراط الساعة) কী? জান্নাতিরা প্রথম কোন খাবার খাবে? আর সন্তান কেন তার পিতার সদৃশ হয় কিংবা তার মাতার সদৃশ হয়?’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) এইমাত্র আমাকে এ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।’ ইবনে সালাম বললেন: ‘ফেরেশতাদের মধ্যে তিনি তো ইহুদিদের শত্রু।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘কিয়ামতের প্রথম আলামত (أشراط الساعة) হলো আগুন, যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে হাশরের ময়দানে একত্রিত করবে। জান্নাতিরা প্রথম যে খাবার খাবে তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তানের সাদৃশ্যের বিষয়টি হলো, যখন পুরুষ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং তার বীর্য আগে নির্গত হয়, তখন সন্তান তার সদৃশ হয়। আর যখন স্ত্রীর বীর্য আগে নির্গত হয়, তখন সন্তান তার সদৃশ হয়।’ [তিনি বললেন: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল’]। তিনি বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদিরা হলো অপবাদ প্রদানকারী (بُهْتٌ) জাতি। তারা যদি আমার ইসলাম গ্রহণের খবর পায় আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করার আগে, তবে তারা আপনার কাছে আমার সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেবে। অতএব আপনি তাদের ডাকুন [এবং আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জানার আগে আমার সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করুন]।’ [অতঃপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোক পাঠালেন এবং তারা উপস্থিত হলো]। অতঃপর তারা তাঁর কাছে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন: ‘হে ইহুদি সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য আক্ষেপ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তোমরা অবশ্যই জানো যে আমি সত্যই আল্লাহর রাসূল এবং আমি তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছি। সুতরাং তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো।’ তারা বলল: ‘আমরা...’

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউবিতিল ইয়াহুদ ওয়ান নাসারা, পৃষ্ঠা ৫১৪, ৫২৫।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
نعلمه – قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم، قالها ثلاث مراراً – فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((فأي رجل فيكم عبد اللَّه بن سلام؟)) قالوا: ذاك سيدنا وابن سيدنا، وأعلمنا وابن أعلمنا، وأخبرنا وابن أخبرنا، [خيرنا وابن خيرنا، وأفضلنا وابن أفضلنا]، قال: ((أفرأيتم إن أسلم؟)) قالوا: أعاذه اللَّه من ذلك، حاشا للَّه ما كان ليسلم، قال: ((أفرأيتم إن أسلم؟)) قالوا: حاشا للَّه ما كان ليسلم، قال: ((أفرأيتم إن أسلم؟)) قالوا: حاشا للَّه ما كان ليسلم، قال: ((يا ابن سلام اخرج عليهم))، [فخرج عليهم عبد اللَّه فقال: أشهد أن لا إله إلا اللَّه وأشهد أن محمداً رسول اللَّه]، [معشر اليهود، اتقوا اللَّه، فواللَّه الذي لا إله إلا هو إنكم لتعلمون أنه رسول اللَّه، وأنه جاء بحق، فقالوا: كذبت]، [شرُّنا وابن شرِّنا، ووقعوا فيه]، [فأخرجهم رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم] (1).

وعن عبد اللَّه بن سلام رضي الله عنه قال: لما قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة انجفل الناس قبله، وقيل قدم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، قدم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، قدم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ثلاثاً، فجئت في الناس لأنظر، فلما تبيّنت وجهه عرفت أن وجهه ليس بوجه كذّاب، فكان أول شيء سمعته تكلم به

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الأنبياء، باب خلق آدم وذريته، 6/ 362، (رقم 3329)، ومناقب الأنصار، باب هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه إلى المدينة، 7/ 250، (رقم 3911)، وباب حدثني حامد بن عمر، عن بشر بن المفضل 7/ 272 (رقم 3938)، وكتاب التفسير، سورة البقرة، باب قوله: {مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ}. 8/ 165، (رقم 4480)، وألفاظ الحديث من المواضع الأربعة، وانظر: البداية والنهاية، 3/ 210.
আমরা তাকে জানি না – তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথাটি তিনবার বলল – অতপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((তোমাদের মাঝে আবদুল্লাহ বিন সালাম কেমন লোক?)) তারা বলল: "তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার পুত্র, আমাদের মাঝে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং সবচেয়ে জ্ঞানীর পুত্র, এবং আমাদের সংবাদ প্রদানকারী এবং আমাদের সংবাদ প্রদানকারীর পুত্র, [আমাদের মাঝে সর্বোত্তম এবং আমাদের সর্বোত্তমের পুত্র, আমাদের মাঝে সবচেয়ে মর্যাদাবান এবং আমাদের মর্যাদাবানের পুত্র]"। তিনি বললেন: ((তোমরা কী মনে করো, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে?)) তারা বলল: "আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করুন, আল্লাহর পানাহ, সে কখনোই ইসলাম গ্রহণ করার মতো নয়"। তিনি পুনরায় বললেন: ((তোমরা কী মনে করো, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে?)) তারা বলল: "আল্লাহর পানাহ, সে কখনোই ইসলাম গ্রহণ করার মতো নয়"। তিনি পুনরায় বললেন: ((তোমরা কী মনে করো, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে?)) তারা বলল: "আল্লাহর পানাহ, সে কখনোই ইসলাম গ্রহণ করার মতো নয়"। তিনি বললেন: ((হে ইবনে সালাম! তাদের সামনে বেরিয়ে আসো))। [অতপর আবদুল্লাহ তাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল]। [হে ইহুদি সম্প্রদায়! আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তোমরা অবশ্যই জানো যে তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন। তখন তারা বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ]। [তারা আরও বলল: সে আমাদের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং সবচেয়ে নিকৃষ্টের পুত্র, এবং তারা তার কুৎসা রটনা শুরু করল]। [অতপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বের করে দিলেন] (১)।

এবং আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন, তখন মানুষ দ্রুতবেগে তাঁর দিকে ছুটে গেল। বলা হচ্ছিল—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন (এভাবে তিনবার)। আমিও দেখার জন্য মানুষের সাথে আসলাম। যখন আমি তাঁর চেহারা স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করলাম, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তাঁর চেহারা কোনো মিথ্যাবাদী (كذاب)-এর চেহারা নয়। আমি তাঁর থেকে প্রথম যে কথাটি শুনতে পেলাম তা হলো—

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুল আম্বিয়া, আদম ও তাঁর বংশধরের সৃষ্টি অধ্যায়, ৬/৩৬২, (নম্বর ৩৩২৯); এবং মানাকিবে আনসার, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের মদিনায় হিজরত অধ্যায়, ৭/২৫০, (নম্বর ৩৯১১); এবং অধ্যায়: হামিদ ইবনে উমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল মুফাযযাল থেকে, ৭/২৭২ (নম্বর ৩৯৩৮); এবং কিতাবুত তাফসির, সূরা আল-বাকারা, আল্লাহর বাণী: {যে জিবরাঈলের শত্রু হবে} সংক্রান্ত অধ্যায়, ৮/১৬৫, (নম্বর ৪৪৮০); হাদিসের শব্দসমূহ উক্ত চারটি স্থান থেকে সংকলিত, আরও দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২১০।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أن قال: ((يا أيها الناس، أفشُوا السلام، وأطعِمُوا الطعامَ، وصِلُوا الأرحامَ، وصلُّوا بالليلِ والناسُ نيامٌ، تدخُلُوا الجنّةَ بسلام)) (1).

وقد أثنى اللَّه على هذا العالم الرباني، فعن سعد بن أبي وقاص قال: ما سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لأحد يمشي (2) على الأرض إنه من أهل الجنة إلا لعبد اللَّه بن سلام، قال: وفيه نزلت هذه الآية (3): {وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى مِثْلِهِ} (4).

 

‌‌2 - زيد بن سعنة، أحد أحبار اليهود رضي الله عنه:

قال رضي الله عنه: ما من علامات النبوة شيءٌ إلا وقد عرفتها في وجه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حين نظرت إليه إلا اثنتين لم أخبرهما منه: يسبق حلمه جهله، ولا تزيده شدة الجهل عليه إلا حلماً، وقد اختبرتهما، فأشهدك يا عمر أني قد رضيت باللَّه ربّاً، وبالإسلام ديناً، وبمحمد

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه في كتاب الأطعمة، باب إطعام الطعام، 2/ 1083، (رقم 3251) بلفظه، والترمذي في صفة القيامة، باب حدثنا محمد بن بشار، 4/ 652، (2485)، وأحمد في المسند، 4/ 451، وانظر: صحيح ابن ماجه، 2/ 222.

(2) قد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه شهد لأناس كثير بالجنة، ومنهم العشرة المبشرون بالجنة، فقيل بأن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه يعني من الأحياء، لأن عبد الله بن سلام رضي الله عنه عاش بعد موتهم، ولم يتأخر معه من العشرة غير سعد وسعيد، ويؤخذ هذا من قول سعد رضي الله عنه: يمشي على الأرض. انظر: فتح الباري، 7/ 129، 130.

(3) البخاري مع الفتح، كتاب مناقب الأنصار، باب مناقب عبد الله بن سلام، 7/ 128، (رقم (3812)، ومسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب فضائل عبد الله بن سلام، 4/ 1930، (رقم 2483).

(4) سورة الأحقاف، الآية: 10.
তিনি বললেন: ((হে লোকসকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, অন্ন দান করো, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখো এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করো; তাহলে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে)) (১)।

আল্লাহ তাআলা এই রব্বানি আলিমের প্রশংসা করেছেন। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পৃথিবীতে বিচরণকারী (২) কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে জান্নাতি বলতে শুনিনি, আবদুল্লাহ বিন সালাম ব্যতীত। তিনি বলেন: তাঁর সম্পর্কেই এই আয়াতটি (৩) অবতীর্ণ হয়েছে: {আর বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিয়েছে} (৪)।

 

‌‌২ - যায়েদ বিন সা’নাহ, ইহুদি পণ্ডিতদের অন্যতম (রাযিয়াল্লাহু আনহু):

তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: নবুওয়াতের এমন কোনো নিদর্শন নেই যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা দেখার সময় তাঁর মধ্যে লক্ষ্য করিনি, কেবল দুটি বিষয় ব্যতীত যা আমি তখনো যাচাই করতে পারিনি: তাঁর সহনশীলতা তাঁর ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পায়, আর তাঁর প্রতি অজ্ঞতাসুলভ আচরণের আধিক্য তাঁর সহনশীলতাকে কেবল বৃদ্ধিই করে। আমি এই দুটি গুণও পরীক্ষা করে নিয়েছি। হে উমর, আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদকে

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, কিতাবুল আত-ইমাহ (খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়), বাবু ইত-আমিত তয়াম (অন্ন দান পরিচ্ছেদ), ২/১০৮৩, (হাদিস নং ৩২৫১) তাঁর শব্দে; তিরমিজি, সিফাতুল কিয়ামা (কিয়ামত অধ্যায়), বাবু হাদ্দাসানা মুহাম্মদ বিন বাশশার (মুহাম্মদ বিন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন পরিচ্ছেদ), ৪/৬৫২, (২৪৮৫); আহমাদ, মুসনাদ, ৪/৪৫১; এবং দেখুন: সহিহ ইবনে মাজাহ, ২/২২২।

(২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি অনেক লোককেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে দশজন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিও (আশারায়ে মুবাশশারাহ) রয়েছেন। তাই বলা হয়েছে যে, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাধ্যমে জীবিতদের উদ্দেশ্য করেছেন, কারণ আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের ইন্তেকালের পরও জীবিত ছিলেন এবং দশজনের মধ্যে সাদ ও সাঈদ ব্যতীত আর কেউ তাঁর সাথে পরবর্তী সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিলেন না। এটি সাদের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই কথা থেকে বোঝা যায়: "পৃথিবীতে বিচরণকারী"। দেখুন: ফাতহুল বারি, ৭/১২৯, ১৩০।

(৩) বুখারি (ফাতহুল বারিসহ), কিতাবুন মানাক্বিবিল আনসার (আনসারদের মর্যাদা অধ্যায়), বাবু মানাক্বিবি আবদিল্লাহ বিন সালাম (আবদুল্লাহ বিন সালামের মর্যাদা পরিচ্ছেদ), ৭/১২৮, (হাদিস নং ৩৮১২); মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবাহ (সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায়), বাবু ফাদায়িলি আবদিল্লাহ বিন সালাম (আবদুল্লাহ বিন সালামের মর্যাদা পরিচ্ছেদ), ৪/১৯৩০, (হাদিস নং ২৪৮৩)।

(৪) সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ১০।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
نبيّاً، وأشهدك أن شطر مالي - فإني أكثرها مالاً - صدقة على أمة محمد صلى الله عليه وسلم. قال عمر: أو على بعضهم، فإنك لا تسعهم. قلت: أو على بعضهم. فخرج عمر وزيد إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فقال زيد: أشهد أن لا إله إلا اللَّه وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وآمن به، وصدّقه، وبايعه، وشهد معه مشاهد كثيرة، ثم توفي في غزوة تبوك مُقبلاً غير مدبر (1)، رضي الله عنه ورحمه.

 

‌‌3 - من أسلم عند الموت:

أتى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وعمر على رجل من اليهود ناشر التوراة يقرؤها يُعزِّي بها نفسه على ابن له في الموت كأحسن الفتيان وأجمله، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: ((أنشدك بالذي أنزل التوراة، هل تجد في كتابك هذا صفتي ومخرجي))؟ فقال برأسه هكذا، أي: لا. فقال ابنه: إي والذي أنزل التوراة إنا لنجد في كتابنا صفتك ومخرجك، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وأنك رسول اللَّه. فقال: ((أقيموا اليهودي عن أخيكم))، ثم وليَ كفنه، وحنطهُ، وصلى عليه صلى الله عليه وسلم (2).

هذه ثلاثة أمثلة لاعترافات أحبار اليهود بأن محمداً صلى الله عليه وسلم حقّاً،

--------------------------------------------

(1) ذكره الهيثمي في مجمع الزوائد، وعزاه إلى الطبراني، وقال: "رجاله ثقات"، 8/ 240، وتقدم تخريجه كاملاً مطولاً في مواقف النبي صلى الله عليه وسلم الفردية، والقصة هنا مختصرة، فارجع إليها في المجمع، 8/ 239، 240.

(2) أحمد في المسند، 5/ 411، وقال ابن كثير: هذا حديث جيد قوي، له شواهد في الصحيح عن أنس رضي الله عنه، انظر: تفسير ابن كثير، 2/ 252، ومجمع الزوائد، 8/ 234.
নবী হিসেবে, এবং আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে আমার সম্পদের অর্ধেক—কেননা আমি তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদের অধিকারী—মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্য সদকাহ। উমর (রা.) বললেন: অথবা তাদের একাংশের জন্য, কারণ আপনি তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। আমি বললাম: অথবা তাদের একাংশের জন্য। এরপর উমর ও যায়েদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলেন। যায়েদ বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন, তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করলেন, তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি তাবুক যুদ্ধে সম্মুখপানে অগ্রসরমান অবস্থায় পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে (১) ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

‌‌৩ - মৃত্যুর সময় যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন:

রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং আবু বকর ও উমর এক ইহুদি ব্যক্তির কাছে এলেন, যে তাওরাত মেলে ধরে পাঠ করছিল এবং এর মাধ্যমে সে তার মৃত্যুশয্যায় থাকা এক পুত্রের বিয়োগব্যথায় নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, যে ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও সুশ্রী এক যুবক। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আমি তোমাকে সেই সত্তার শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি যিনি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, তুমি কি তোমার এই কিতাবে আমার বৈশিষ্ট্য ও আমার আবির্ভাবের কথা খুঁজে পাও?" সে তার মাথা এভাবে নাড়ল, যার অর্থ: না। তখন তার পুত্র বলল: "হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম যিনি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, আমরা অবশ্যই আমাদের কিতাবে আপনার বৈশিষ্ট্য ও আপনার আবির্ভাবের বিবরণ পাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল।" তিনি (সা.) বললেন: "তোমাদের এই ভাইয়ের কাছ থেকে ইহুদি লোকটিকে সরিয়ে দাও।" অতঃপর তিনি তার কাফন ও সুগন্ধি ব্যবহারের দায়িত্ব নিলেন এবং তার জানাজার সালাত আদায় করলেন (সা.) (২)।

এগুলো হলো ইহুদি পণ্ডিতদের স্বীকারোক্তির তিনটি উদাহরণ যে মুহাম্মদ (সা.) সত্যই আল্লাহর রাসূল,

--------------------------------------------

(১) হায়সামি একে মাজমাউজ জাওয়ায়েদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাবারানির দিকে নিসবত করেছেন এবং বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)", ৮/ ২৪০; এবং এর পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত তাহরিজ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যক্তিগত ঘটনাবলি অধ্যায়ে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এখানে ঘটনাটি সংক্ষিপ্ত, তাই মাজমাউজ জাওয়ায়েদ-এ বিস্তারিত দেখুন, ৮/ ২৩৯, ২৪০।

(২) আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ, ৫/ ৪১১; এবং ইবনে কাসির বলেছেন: এটি একটি উত্তম (جيد) ও শক্তিশালী (قوي) হাদিস, সহিহ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে এর জন্য অনেক সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/ ২৫২, এবং মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, ৮/ ২৩৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতু আহলিল কিতাবি ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأن صفته موجودة في التوراة، ويعرفه اليهود كما يعرفون أبناءهم {وَقُلِ الْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ فَمَن شَاءَ فَلْيُؤْمِن وَمَن شَاءَ فَلْيَكْفُرْ} (1).

 

‌‌المسلك الرابع: الأدلة على إثبات رسالة عيسى ومحمد عليهما الصلاة والسلام:

من حكمة القول مع اليهود في دعوتهم إلى اللَّه - تعالى - إثبات نبوة عيسى ومحمد عليهما الصلاة والسلام، وذلك بما ظهر على يديهما من المعجزات الباهرات، والآيات البينات الظاهرة التي لا يقدر أحد أن يأتي بمثلها، كالآتي:

 

‌‌(أ) البراهين والبينات على صدق نبوة عيسى ابن مريم صلى الله عليه وسلم -:

ثبتت نبوة عيسى صلى الله عليه وسلم بما ظهر على يده من المعجزات الخارقة للعادات من: إحياء الموتى، وإخراجهم من قبورهم، وإبراء الأكمه، والأبرص، وخلق الطير من الطين بإذن اللَّه، والإخبار بالغيوب، وإنزال الطعام من السماء، وولادته من أم بغير أبٍ، وكلامه في المهد (2)، وغير ذلك من المعجزات (3).

ومعجزات عيسى لم تكن دون معجزات موسى عليهما الصلاة والسلام، فكلا الرسولين اشتركا في المعجزات والآيات الظاهرة، فإن قيل: إن أحدهما قد تعلمها بحيلة، فالآخر يمكن أن يُقال ذلك

--------------------------------------------

(1) سورة الكهف، الآية: 29.

(2) انظر الأدلة على هذه المعجزات في آل عمران، الآية 49، وسورة المائدة، الآية: 110، والآيتان: 114 - 115.

(3) انظر: كتاب الداعي إلى الإسلام، للأنباري ص347، وإغاثة اللهفان لابن القيم، 2/ 347.
এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য তাওরাতে বিদ্যমান, এবং ইহুদিরা তাঁকে সেভাবেই চেনে যেভাবে তারা তাদের সন্তানদের চেনে। {আর বলুন: সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক} (১)।

 

‌‌চতুর্থ পদ্ধতি: ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর রিসালাত প্রমাণের দলিলসমূহ:

ইহুদিদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে হিকমতপূর্ণ কথার অন্তর্ভুক্ত হলো ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণ করা। আর তা তাঁদের হাতে প্রকাশিত উজ্জ্বল অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (المعجزات) এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহের (الآيات البينات) মাধ্যমে, যার সমতুল্য কিছু আনয়নে কেউ সক্ষম নয়। যেমন:

 

‌‌(ক) ঈসা ইবনে মারইয়াম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ ও সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ:

ঈসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণিত হয়েছে তাঁর হাতে প্রকাশিত অভ্যাস বহির্ভূত অলৌকিক নিদর্শনসমূহের (المعجزات الخارقة للعادات) মাধ্যমে, যেমন: মৃতকে জীবিত করা, তাদেরকে কবর থেকে বের করে আনা, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করা, আল্লাহর নির্দেশে কাদা মাটি থেকে পাখি তৈরি করা, অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান করা, আসমান থেকে খাবার অবতীর্ণ করা, পিতা ছাড়া মায়ের গর্ভ থেকে তাঁর জন্ম এবং দোলনায় থাকা অবস্থায় তাঁর কথা বলা (২), এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (المعجزات) (৩)।

ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (المعجزات) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর অলৌকিক নিদর্শনসমূহের (المعجزات) চেয়ে কম ছিল না। বরং উভয় রাসূলই অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (المعجزات) ও প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীর (الآيات الظاهرة) ক্ষেত্রে অংশীদার ছিলেন। যদি বলা হয় যে, তাঁদের একজন কৌশলে তা শিখেছেন, তবে অন্যজনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বলা সম্ভব হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ২৯।

(২) এই অলৌকিক নিদর্শনসমূহের (المعجزات) দলিল দেখুন: সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৪৯; এবং সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১১০ এবং ১১৪ - ১১৫ নং আয়াত।

(৩) দেখুন: আল-আনবারী রচিত কিতাবুদ দায়ি ইলাল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ৩৪৭; এবং ইবনুল কাইয়্যিম রচিত ইগাসাতুল লাহফান, ২/ ৩৪৭।