(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
كيفية دعوة الوثنيين إلى الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: كيفية دعوة الوثنيين إلى اللَّه تعالى في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 76

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মূর্তিপূজকদের আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতি   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


কিতাব: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মূর্তিপূজকদের আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতি

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস، রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরায়সী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

كيفية دعوة الوثنيين إلى اللَّه تعالى

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র

 

মূর্তিপূজকদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করার পদ্ধতি

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত

ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনি
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((كيفية دعوة الوثنيين المشركين إلى اللَّه تعالى)) بيّنت فيها بإيجاز الأساليب والوسائل والطرق الحكيمة في دعوتهم إلى اللَّه تعالى.

واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা ‘মূর্তিপূজক মুশরিকদের আল্লাহর পথে ডাকার পদ্ধতি’ প্রসঙ্গে। এতে আমি সংক্ষেপে তাদেরকে মহান আল্লাহর দিকে ডাকার প্রজ্ঞাপূর্ণ কর্মপন্থা, উপায় ও পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সামান্য কাজটিকে বরকতময়, ফলপ্রসূ এবং কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির নিমিত্তে কবুল করেন। এর মাধ্যমে যেন আমাকে আমার ইহকালীন জীবনে ও মরণোত্তরকালে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থিতদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আকাঙ্ক্ষিতদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের ওপর।

লেখক

২৫/০২/১৪২৫ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تمهيد:

الوثني: من يتدين بعبادة الوثن (1)، يقال: رجل وثنيٌّ، وقوم وثنيُّون، وامرأة وثنية، ونساء وثنيَّات (2)، واسم الوثن يتناول كل معبود من دون اللَّه. سواء كان ذلك المعبود قبراً، أو مشهداً، أو صورة، أو غير ذلك (3).

وكل من دعا نبيّاً أو وليّاً أو ملكاً أو جنيّاً، أو صرف له شيئاً من

--------------------------------------------

(1) الوثن: الصنم، والجمع وثن وأوثان وهو التمثال يعبد، سواء كان من خشب، أو حجر، أو نحاس، أو فضة أو غير ذلك. وقد كان الوثنيون يزعمون أن عبادته تقربهم إلى الله - تعالى -، كما بين - سبحانه - ذلك عنهم بقوله: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى}. (سورة الزمر، الآية: 3). انظر: القاموس المحيط، باب النون، فصل الواو، ص1597، وباب الميم فصل الصاد ص1460، والمعجم الوسيط، مادة (وثن) 2/ 1012، ومادة (صنم) 1/ 526، والمصباح المنير، مادة (وثن) ص647، 648 ومادة (صنم)، ص349 ومختار الصحاح، مادة (وثن)، ص295، ومادة (صنم)، ص156.

(2) انظر: المعجم الوسيط، مادة (وثن) 2/ 1012، والمصباح المنير، مادة (وثن) ص648.

قال ابن الأثير: الفرق بين الوثن والصنم أن الوثن كل ما له جثة معمولة من جواهر الأرض، أو من خشب، أو حجارة كصورة الآدمي تعمل وتنصب فتعبد. والصنم: الصورة بلا جثة، ومنهم من لم يفرق بينهما، وأطلقهما على المعنيين. انظر: النهاية في غريب الحديث 5/ 151 و3/ 56 ثم قال: وقد يطلق الوثن على غير الصورة، ومنه حديث عدي بن حاتم قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وفي عنقي صليب من ذهب، فقال لي: >يا عدي اطرح عنك هذا الوثن<. أخرجه الترمذي في كتاب التفسير، باب سورة التوبة 5/ 278، برقم 3095، وانظر: صحيح الترمذي 3/ 56.

(3) انظر: فتح المجيد، شرح كتاب التوحيد، للشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب، ص244.
‌ভূমিকা:

পৌত্তলিক: যে ব্যক্তি মূর্তিপূজাকে (১) ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে; বলা হয়: পৌত্তলিক পুরুষ, পৌত্তলিক সম্প্রদায়, পৌত্তলিক নারী এবং পৌত্তলিক নারীগণ (২)। আর 'ওয়াসান' (মূর্তি) শব্দটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল উপাস্যকেই অন্তর্ভুক্ত করে; চাই সেই উপাস্য কোনো কবর হোক, কোনো মাজার (স্মৃতিস্তম্ভ), কোনো প্রতিকৃতি কিংবা অন্য কিছু (৩)।

আর যে ব্যক্তি কোনো নবী, ওলি, ফেরেশতা বা জিনকে আহ্বান করে অথবা তাদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে এমন কিছু যা...

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াসান: প্রতিমা, এর বহুবচন হলো 'ওয়াসান' ও 'আউসান'; এটি এমন ভাস্কর্য যার উপাসনা করা হয়, চাই তা কাঠ, পাথর, তামা, রুপা বা অন্য কোনো কিছুর তৈরি হোক। আর পৌত্তলিকরা দাবি করত যে, তাদের উপাসনা তাদেরকে মহান আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেবে; যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {আমরা তাদের উপাসনা কেবল এজন্যই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়}। (সূরা আল-জুমার, আয়াত: ৩)। দেখুন: আল-কামুস আল-মুহিত, 'নুন' পরিচ্ছেদ, 'ওয়াও' অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৫৯৭; এবং 'মিম' পরিচ্ছেদ, 'সোয়াদ' অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৪৬০; আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, শব্দমূল (وثن) ২/১০১২ এবং শব্দমূল (صنم) ১/৫২৬; আল-মিসবাহুল মুনীর, শব্দমূল (وثن) পৃ. ৬৪৭, ৬৪৮ এবং শব্দমূল (صنم) পৃ. ৩৪৯; মুখতারুস সিহাহ, শব্দমূল (وثن) পৃ. ২৯৫ এবং শব্দমূল (صنم) পৃ. ১৫৬।

(২) দেখুন: আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, শব্দমূল (وثن) ২/১০১২; আল-মিসবাহুল মুনীর, শব্দমূল (وثن) পৃ. ৬৪৮।

ইবনুল আসির বলেছেন: 'ওয়াসান' ও 'সানাম'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, 'ওয়াসান' হলো সেই সমস্ত বস্তু যার একটি দেহ বা অবয়ব আছে যা ভূ-গর্ভস্থ খনিজ পদার্থ, কাঠ বা পাথর দিয়ে তৈরি, যেমন কোনো মানুষের প্রতিকৃতি তৈরি করে স্থাপন করা হয় এবং উপাসনা করা হয়। আর 'সানাম' হলো অবয়বহীন প্রতিকৃতি। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি এবং উভয় শব্দকে একই অর্থে ব্যবহার করেছেন। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ৫/১৫১ এবং ৩/৫৬। এরপর তিনি বলেন: কখনও কখনও প্রতিকৃতি ছাড়াও অন্য কিছুর ক্ষেত্রেও 'ওয়াসান' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন আদি ইবনে হাতিম-এর হাদিস, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলাম এমতাবস্থায় যে আমার গলায় একটি স্বর্ণের ক্রুশ ছিল। তখন তিনি আমাকে বললেন: "হে আদি! তোমার থেকে এই মূর্তিটি ফেলে দাও।" তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) 'কিতাবুত তাফসির', সূরা আত-তাওবা অধ্যায় ৫/২৭৮, হাদিস নং ৩০৯৫-এ; আরও দেখুন: সহিহ তিরমিযি ৩/৫৬।

(৩) দেখুন: ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ, শায়খ আবদুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রচিত, পৃ. ২৪৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
العبادة فقد اتخذه إلهاً من دون اللَّه (1)، وهذا هو حقيقة الشرك الأكبر، الذي قال اللَّه - تعالى - فيه: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا} (2).

والمشركون يُدعَون إلى اللَّه - تعالى - بالحكمة القولية على حسب عقولهم وأفهامهم.

وسأبين ذلك - بإذن اللَّه تعالى - في المباحث الآتية:

 

‌‌المبحث الأول: الحجج والبراهين العقلية القطعية على إثبات ألوهية اللَّه تعالى.

المبحث الثاني: ضعف جميع المعبودات من دون اللَّه من كل الوجوه.

المبحث الثالث: ضرب الأمثال الحكيمة.

المبحث الرابع: الكمال المطلق للإله المستحق للعبادة وحده.

المبحث الخامس: التوحيد دعوة جميع الرسل، عليهم الصلاة والسلام.

المبحث السادس: الغلو في الصالحين سبب كفر بني آدم.

المبحث السابع: الشفاعة المثبتة والمنفية.

المبحث الثامن: الإله الحق سخر جميع ما في الكون لعباده.

المبحث التاسع: البعث بعد الموت.

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح المجيد، شرح كتاب التوحيد، ص242.

(2) سورة النساء، الآية: 48.
ইবাদত; ফলে সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে (১), আর এটাই বড় শিরক (الشرك الأكبر)-এর বাস্তবতা, যে বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে, সে এক মহাপাপ রচনা করে} (২)।

আর মুশরিকদেরকে তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী বাচনিক হিকমতের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা হবে।

আমি তা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী আলোচনাগুলোতে ব্যাখ্যা করব:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর উলুহিয়্যাত (উপাসত্ব) প্রমাণের ক্ষেত্রে অকাট্য (قطعي) বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তি ও প্রমাণসমূহ.

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ব্যতীত সকল উপাস্যের সর্বতোমুখী দুর্বলতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞাপূর্ণ উদাহরণ পেশ করা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: একমাত্র ইবাদতের যোগ্য উপাস্যের জন্য নিরঙ্কুশ পূর্ণতা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ হলো সকল রাসূলের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) দাওয়াত।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নেককার লোকদের ব্যাপারে অতিশয়তা (غلو) হলো আদম সন্তানের কুফরির কারণ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সাব্যস্তকৃত ও অস্বীকৃত সুপারিশ (شفاعة)।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: সত্য ইলাহ মহাবিশ্বের সবকিছু তাঁর বান্দাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন।

নবম পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর পর পুনরুত্থান।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল মাজিদ, শারহু কিতাবিত তাওহিদ, পৃষ্ঠা ২৪২।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الأول: الحجج العقلية القطعية على إثبات ألوهية اللَّه تعالى

من البراهين القطعية التي ينبغي للدعاة إلى اللَّه تبيينها وتوضيحها لمن اتخذ من دون اللَّه آلهة أخرى، قوله تعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِّنَ الأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ * لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلاّ اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ * لا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} (1).

فقد أنكر – سبحانه – على من اتخذ من دونه آلهة من الأرض، سواء كانت أحجاراً أو خشباً، أو غير ذلك من الأوثان التي تعبد من دون اللَّه! فهل هم يحيون الأموات ويبعثونهم؟ والجواب: كلا، لا يقدرون على شيء من ذلك، ولو كانت في السماوات والأرض آلهة تستحق العبادة غير اللَّه لفسدتا وفسد ما فيهما من المخلوقات؛ لأن تعدد الآلهة يقتضي التمانع والتنازع والاختلاف، فيحدث بسببه الهلاك، فلو فُرِضَ وجود إلهين، وأراد أحدهما أن يخلق شيئاً والآخر لا يريد ذلك، أو أراد أن يُعطي والآخر أراد أن يمنع، أو أراد أحدهما تحريك جسم والآخر يريد تسكينه، فحينئذ يختل نظام العالم، وتفسد الحياة!، وذلك:

- لأنه يستحيل وجود مرادهما معاً، وهو من أبطل الباطل؛ فإنه لو وجد مرادهما جميعاً للزم اجتماع الضدين، وأن يكون الشيء

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء، الآيات: 21 – 23.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) প্রমাণের ক্ষেত্রে অকাট্য যৌক্তিক দলীলসমূহ

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের (দাঈদের) জন্য যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে, তাদের কাছে যে সকল অকাট্য প্রমাণাদি বর্ণনা ও স্পষ্ট করা উচিত, তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {তারা কি জমিন থেকে এমন সব উপাস্য গ্রহণ করেছে যারা (মৃতদের) পুনরুত্থিত করবে? যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব আরশের অধিপতি আল্লাহ তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে পবিত্র। তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে} (১)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে জমিন থেকে উপাস্য গ্রহণ করেছে, তারা পাথর হোক বা কাঠ, অথবা অন্য যেকোনো প্রতিমা যা আল্লাহর পরিবর্তে পূজা করা হয়! তারা কি মৃতদের জীবিত করতে এবং তাদের পুনরুত্থিত করতে সক্ষম? উত্তর হলো: না, তারা এর কোনো কিছুর ওপরই ক্ষমতা রাখে না। আর যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আরও উপাস্য থাকত, তবে আসমান-জমিন এবং তাতে বিদ্যমান সৃষ্টিরাজি ধ্বংস হয়ে যেত; কারণ উপাস্যের বহুত্ব পারস্পরিক প্রতিবন্ধকতা, বিবাদ ও মতভেদ সৃষ্টি করে, যার ফলে ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে দুইজন ইলাহ বিদ্যমান, এবং তাদের একজন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চাইলেন অথচ অন্যজন তা চাইলেন না, অথবা একজন দান করতে চাইলেন আর অন্যজন তা রোধ করতে চাইলেন, অথবা একজন কোনো বস্তুকে গতিশীল করতে চাইলেন আর অন্যজন তা স্থির রাখতে চাইলেন, তবে সেই মুহূর্তে মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ত এবং জীবন বিপন্ন হতো! আর তা এই কারণে যে:

- কারণ তাদের উভয়ের ইচ্ছা একযোগে বাস্তবায়িত হওয়া অসম্ভব, যা সর্বৈব মিথ্যা; কেননা যদি তাদের উভয়ের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হতো, তবে তা দুটি বিপরীতমুখী বিষয়ের একত্রীকরণ ঘটাত, আর তা হলো একই বস্তু

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২১ – ২৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الواحد حيّاً ميتاً، متحركاً ساكناً.

- وإذا لم يحصل مراد واحد منهما لزم عجز كل منهما، وذلك يناقض الربوبية.

- وإن وُجِدَ مراد أحدهما ونفذ دون مراد الآخر، كان النافذ مراده هو الإله القادر، والآخر عاجز ضعيف مخذول.

- واتفاقهما على مراد واحد في جميع الأمور غير ممكن.

وحينئذ يتعين أن القاهر الغالب على أمره هو الذي يوجد مراده وحده من غير مُمانع ولا مُدافع، ولا مُنازع ولا مُخالف ولا شريك، وهو اللَّه الخالق الإله الواحد، لا إله إلا هو، ولا رب سواه؛ ولهذا ذكر – سبحانه – دليل التمانع في قوله عز وجل: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ * عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} (1).

وإتقان العالم العلوي والسفلي، وانتظامه منذ خلقه، واتساقه، وارتباط بعضه ببعض في غاية الدقة والكمال: {مَّا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِن تَفَاوُتٍ} (2). وكل ذلك مسخر، ومدبر بالحكمة لمصالح الخلق كلهم – يدل على أن مدبره واحد، وربه واحد،

--------------------------------------------

(1) سورة المؤمنون، الآيتان: 91 - 92.

(2) سورة الملك، الآية: 3.
একই সত্তা একাধারে জীবিত ও মৃত এবং সচল ও অচল হবে।

- আর যদি তাদের কারোরই ইচ্ছা বাস্তবায়িত না হয়, তবে তাদের উভয়েরই অক্ষমতা সাব্যস্ত হবে, যা রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের ধারণার পরিপন্থী।

- আর যদি তাদের একজনের ইচ্ছা বাস্তবায়িত ও কার্যকর হয় এবং অন্যজনেরটি না হয়, তবে যাঁর ইচ্ছা কার্যকর হলো তিনিই হচ্ছেন সর্বশক্তিমান ইলাহ, আর অন্যজন অক্ষম, দুর্বল (ضعيف) ও লাঞ্ছিত।

- আর সকল বিষয়ে তাঁদের উভয়ের একমত হওয়া অসম্ভব।

এমতাবস্থায় এটি সুনিশ্চিত যে, যিনি প্রবল ও স্বীয় কর্মে বিজয়ী, একমাত্র যাঁর ইচ্ছাই কোনো প্রকার বাধা দানকারী, প্রতিরোধকারী, প্রতিদ্বন্দ্বী, বিরোধী অথবা অংশীদার ছাড়াই বাস্তবায়িত হয়, তিনিই হচ্ছেন স্রষ্টা আল্লাহ, অদ্বিতীয় ইলাহ; তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। একারণেই তিনি—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—পারস্পরিক বাধার দলিল উল্লেখ করে এরশাদ করেছেন: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ অতি পবিত্র। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, সুতরাং তারা যা শরিক করে তিনি তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে।} (১)।

ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের নিখুঁত গঠন, সৃষ্টির সূচনা থেকে এর সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, সামঞ্জস্যতা এবং এর একটি অংশের সাথে অন্যটির অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত যোগসূত্র: {তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না} (২)। আর এ সব কিছুই সকল সৃষ্টির কল্যাণে প্রজ্ঞার সাথে নিয়োজিত ও পরিচালিত—যা প্রমাণ করে যে, এর পরিচালক একজনই এবং এর পালনকর্তাও একজনই।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৯১-৯২।

(২) সূরা আল-মুলক, আয়াত: ৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإلهه واحد، لا معبود غيره، ولا خالق سواه (1).

 

‌‌المبحث الثاني: ضعف جميع المعبودات من دون اللَّه من كل الوجوه

من المعلوم عند جميع العقلاء أن كل ما عُبِدَ من دون اللَّه من الآلهة ضعيف من كل الوجوه، وعاجز ومخذول، وهذه الآلهة لا تملك لنفسها ولا لغيرها شيئاً من ضر أو نفع، أو حياة أو موت، أو إعطاء أو منع، أو خفض أو رفع، أو عز أو ذل، وأنها لا تتصف بأي صفة من الصفات التي يتصف بها الإله الحق، فكيف يعبد من هذه حاله؟ وكيف يُرجى أو يُخاف من هذه صفاته؟ وكيف يُسأل من لا يسمع ولا يبصر ولا يعلم شيئاً (2).

وقد بيّن اللَّه عز وجل ضعف وعجز كل ما عبد من دونه أكمل بيان، فقال – سبحانه -: {قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} (3)، {أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئاً

--------------------------------------------

(1) انظر: درء تعارض العقل والنقل لابن تيمية، 9/ 352، 354، 337 - 382، 1/ 35 - 37، وتفسير البغوي، 3/ 241، 316، وابن كثير، 3/ 255، 176، وفتح القدير للشوكاني، 3/ 402، 496، وتفسير عبد الرحمن السعدي، 5/ 220، 374، وأيسر التفاسير لأبي بكر جابر الجزائري، 3/ 99، ومناهج الجدل في القرآن الكريم للدكتور زاهر بن عواض، الألمعي ص158 - 161.

(2) انظر: تفسير ابن كثير، 2/ 83، 219، 277، 417، 3/ 47، 211، 310، وتفسير السعدي، 2/ 327، 420، 3/ 290، 451، 5/ 279، 457، 6/ 153، وأضواء البيان للشنقيطي، 2/ 482، 3/ 101، 322، 598، 5/ 44، 6/ 268.

(3) سورة المائدة، الآية: 76.
এবং তাঁর ইলাহ এক, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো স্রষ্টা নেই (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল উপাস্যের সকল দিক থেকে দুর্বলতা (ضعف)

সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটি সুবিদিত যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য যাদের ইলাহ হিসেবে উপাসনা করা হয়, তারা সকল দিক থেকেই দুর্বল (ضعيف), অক্ষম ও লাঞ্ছিত। এই উপাস্যরা নিজেদের জন্য বা অন্যদের জন্য কোনো ক্ষতি বা উপকার, জীবন বা মৃত্যু, দান বা বারণ, অবনতি বা উন্নতি, অথবা সম্মান বা লাঞ্ছনার কোনো কিছুরই মালিক নয়। আর তারা এমন কোনো গুণে গুণান্বিত নয় যা প্রকৃত ইলাহ-এর গুণাবলি হতে পারে। অতএব, যার অবস্থা এমন তার ইবাদত কীভাবে করা যায়? আর যার গুণাবলি এমন তার নিকট কীভাবে আশা করা যায় বা তাকে কীভাবে ভয় করা যায়? আর যে শোনে না, দেখে না এবং কিছুই জানে না তার কাছে কীভাবে প্রার্থনা করা যায় (২)?

আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর ব্যতীত ইবাদতকৃত সকল কিছুর দুর্বলতা ও অক্ষমতা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সুবহানাহু বলেন: {বলুন, তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করো যা তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? আর আল্লাহ তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা} (৩), {তারা কি এমন কিছুকে শরিক সাব্যস্ত করে যা কিছুই সৃষ্টি করে না...}

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত দাউ তাআরুদ আল-আকল ওয়ান-নাকল, ৯/৩৫২, ৩৫৪, ৩৩৭-৩৮২, ১/৩৫-৩৭; এবং তাফসিরে বাগাওয়ী, ৩/২৪১, ৩১৬; এবং ইবনে কাসীর, ৩/২৫৫, ১৭৬; এবং শাওকানী রচিত ফাতহুল কাদির, ৩/৪০২, ৪৯৬; এবং তাফসিরে আব্দুর রহমান আস-সাদী, ৫/২২০, ৩৭৪; এবং আবু বকর জাবের আল-জাযায়েরী রচিত আয়সারুত তাফাসীর, ৩/৯৯; এবং ড. যাহের বিন আওয়াদ আল-লামায়ী রচিত মানাহিজুল জাদাল ফিল কুরআনিল কারিম, পৃ. ১৫৮-১৬১।

(২) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসীর, ২/৮৩, ২১৯, ২৭৭, ৪১৭, ৩/৪৭, ২১১, ৩১০; এবং তাফসিরে সাদী, ২/৩২৭, ৪২০, ৩/২৯০, ৪৫১, ৫/২৭৯, ৪৫৭, ৬/১৫৩; এবং শিনকীতি রচিত আদওয়াউল বায়ান, ২/৪৮২, ৩/১০১, ৩২২, ৫৯৮, ৫/৪৪, ৬/২৬৮।

(৩) সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৭৬।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَهُمْ يُخْلَقُونَ * وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ، وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَتَّبِعُوكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَامِتُونَ * إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُواْ لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا قُلِ ادْعُواْ شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ * إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ* وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلآ أَنفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ * وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَسْمَعُواْ وَتَرَاهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ} (1).

وهي مع هذه الصفات لا تملك كشف الضر عن عابديها ولا تحويله إلى غيرهم {قُلِ ادْعُواْ الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلاً} (2).

ومن المعلوم يقيناً أن ما يعبده المشركون من دون اللَّه من: الأنبياء أو الصالحين أو الملائكة أو الجن الذين أسلموا، أنهم في شغل شاغل عنهم باهتمامهم بالافتقار إلى اللَّه بالعمل الصالح، والتنافس في القُرب من ربهم، يرجون رحمته ويخافون عذابه،

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف، الآيات: 191 - 198.

(2) سورة الإسراء، الآية: 56.
...আর তাদের সৃষ্টি করা হয়; তারা না তাদের (উপাসকদের) কোনো সাহায্য করতে পারে এবং না তারা নিজেদের সাহায্য করতে পারে। আর যদি তোমরা তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করো, তবে তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না; তোমরা তাদের ডাকো কিংবা তোমরা নীরব থাকো—উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। নিশ্চয়ই আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে আহ্বান করো, তারা তোমাদের মতোই বান্দা; সুতরাং তোমরা তাদের ডাকো, অতঃপর তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তাদের কি এমন পা আছে যা দিয়ে তারা চলাফেরা করে? নাকি তাদের এমন হাত আছে যা দিয়ে তারা কোনো কিছু ধরে? নাকি তাদের এমন চোখ আছে যা দিয়ে তারা দর্শন করে? নাকি তাদের এমন কান আছে যা দিয়ে তারা শ্রবণ করে? বলো, তোমরা তোমাদের শরিকদের ডাকো, অতঃপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে কোনো অবকাশ দিও না। নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হলেন সেই আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি নেককার (صالح) বান্দাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা না তোমাদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারে। আর যদি তুমি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করো, তারা শুনবে না; এবং তুমি দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে অথচ তারা কিছুই দেখছে না।} (১)।

এই সকল গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের ইবাদতকারীদের থেকে বিপদ দূর করার কিংবা তা অন্যের দিকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা রাখে না। {বলো, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের (উপাস্য) মনে করো তাদের ডাকো; তারা তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করার অথবা তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না।} (২)।

আর এটি সুনিশ্চিতভাবে পরিজ্ঞাত যে, মুশরিকরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করে—যেমন: নবীগণ, কিংবা নেককার (صالح) ব্যক্তিবর্গ, কিংবা ফেরেশতাগণ অথবা ইসলাম গ্রহণকারী জিনগণ—তারা সকলেই আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে সৎকর্ম সম্পাদন এবং তাদের রবের নৈকট্য লাভের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকার কারণে তাদের (উপাসকদের) দিক থেকে বিমুখ। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় করে,

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৯১ - ১৯৮।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৫৬।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فكيف يُعبَدُ من هذه حاله؟ (1) قال تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} (2).

وقد أوضح وبيَّن سبحانه أن ما عُبِدَ من دونه قد توفرت فيهم جميع أسباب العجز وعدم إجابة الدعاء من كل وجه؛ فإنهم لا يملكون مثقال ذرة في السموات ولا في الأرض لا على وجه الاستقلال، ولا على وجه الاشتراك، وليس للَّه من هذه المعبودات من ظهير يساعده على ملكه وتدبيره، ولا تنفع الشفاعة عنده إلا لمن أذن له (3)، قال عز وجل: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ * وَلا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلاّ لِمَنْ أَذِنَ لَهُ .. } (4).

 

‌‌المبحث الثالث: ضرب الأمثلة الحكيمة

ضرب الأمثال من أوضح وأقوى أساليب الإيضاح والبيان في إبراز الحقائق المعقولة في صورة الأمر المحسوس، وهذا من أعظم ما يُردُّ به على الوثنيين في إبطال عقيدتهم وتسويتهم المخلوق

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير، 3/ 48، وتفسير السعدي، 4/ 291.

(2) سورة الإسراء، الآية: 57.

(3) انظر: تفسير ابن كثير، 3/ 37، وتفسير السعدي، 6/ 274.

(4) سورة سبأ، الآيتان: 22 - 23.
অতএব যার অবস্থা এমন, তাকে কীভাবে উপাসনা করা যায়? (১) আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার রবের আজাব অত্যন্ত ভয়াবহ} (২)।

মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করা হয়, তাদের মধ্যে সব দিক থেকেই অক্ষমতা এবং দোয়া কবুল করতে না পারার সকল কারণ বিদ্যমান রয়েছে। কেননা আসমানসমূহ ও জমিনে তারা অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয়—না স্বতন্ত্রভাবে, আর না অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। আর এই উপাস্যদের মধ্য থেকে আল্লাহর রাজত্ব ও ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করার মতো কোনো সাহায্যকারী নেই। তাঁর কাছে সুপারিশ কোনো উপকারে আসবে না, তবে তাকে ছাড়া যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন (৩)। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা যাদের আহ্বান করো যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (উপাস্য) মনে করতে। তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, আর তাদের মধ্য থেকে তাঁর (আল্লাহর) কোনো সাহায্যকারীও নেই। তাঁর কাছে সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না, তবে যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন তাকে ছাড়া...} (৪)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রজ্ঞাপূর্ণ উদাহরণ পেশ করা

যৌক্তিক সত্যসমূহকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত পেশ করা অন্যতম স্পষ্ট ও শক্তিশালী বর্ণনাভঙ্গি। মূর্তিপূজকদের আকিদা বাতিল করতে এবং সৃষ্টজীবকে (স্রষ্টার সাথে) সমান করার প্রতিবাদে এটি একটি অনন্য মাধ্যম।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির, ৩/ ৪৮; এবং তাফসিরে সাদি, ৪/ ২৯১।

(২) সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৫৭।

(৩) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির, ৩/ ৩৭; এবং তাফসিরে সাদি, ৬/ ২৭৪।

(৪) সুরা সাবা, আয়াত: ২২ - ২৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بالخالق في العبادة والتعظيم؛ ولكثرة هذا النوع في القرآن الكريم فسأقتصر على ثلاثة أمثلة توضح المقصود كالآتي:

1 - قال اللَّه عز وجل: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِن يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ * مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} (1).

حق على كل عبد أن يستمع لهذا المثل، ويتدبره حق تدبره، فإنه يقطع مواد الشرك من قلبه، فالآلهة التي تُعبد من دون اللَّه لن تقدر على خلق الذباب ولو اجتمعوا كلهم لخلقه، فكيف بما هو أكبر منه، بل لا يقدرون على الانتصار من الذباب إذا سلبهم شيئاً مما عليهم من طيب ونحوه، فيستنقذوه منه، فلا هم قادرون على خلق الذباب الذي هو أضعف المخلوقات، ولا على الانتصار منه واسترجاع ما سلبهم إياه، فلا أعجز من هذه الآلهة الباطلة، ولا أضعف منها، فكيف يستحسن عاقل عبادتها من دون اللَّه؟!

وهذا المثل من أبلغ ما أنزل اللَّه – تعالى – في بطلان الشرك وتجهيل أهله (2).

--------------------------------------------

(1) سورة الحج، الآيتان: 73 - 74.

(2) انظر: أمثال القرآن لابن القيم، ص47، والتفسير القيم لابن القيم، ص368، وتفسير البغوي، 3/ 298، وابن كثير، 3/ 236، وفتح القدير للشوكاني، 3/ 470، وتفسير السعدي، 5/ 326.
সৃষ্টিকর্তার সাথে ইবাদত ও মহত্ত্বে (শরিক করা); আর পবিত্র কুরআনে এই প্রকারের আধিক্যের কারণে আমি নিম্নোক্ত তিনটি উদাহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব যা বিষয়টি নিম্নরূপে স্পষ্ট করবে:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! একটি উপমা পেশ করা হলো, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে সকলে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী এবং যার কাছে অন্বেষণ করা হয়—উভয়েই দুর্বল। তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি; নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।} (১)।

প্রত্যেক বান্দার ওপর আবশ্যিক হলো এই উপমাটি মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং যথাযথভাবে তা অনুধাবন করা। কেননা এটি তার অন্তর থেকে শিরকের উপাদানসমূহকে সমূলে উৎপাটন করে। আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করা হয়, তারা একটি মাছি সৃষ্টি করতেও সক্ষম হবে না, যদিও তারা সকলে মিলে তা সৃষ্টির জন্য সমবেত হয়। তাহলে মাছির চেয়ে বড় কোনো কিছুর ক্ষেত্রে অবস্থা কেমন হবে? বরং তারা মাছির বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতেও সক্ষম নয়, যখন সে তাদের ওপর থাকা সুগন্ধি বা অনুরূপ কোনো বস্তু ছিনিয়ে নেয়; তারা তা উদ্ধার করতে পারে না। সুতরাং তারা সবচেয়ে দুর্বল সৃষ্টি মাছি সৃষ্টি করতেও সক্ষম নয়, আর না তার বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে ছিনিয়ে নেওয়া বস্তু ফিরে পেতে সক্ষম। অতএব, এই বাতিল উপাস্যদের চেয়ে অধিক অক্ষম ও দুর্বল আর কেউ নেই। এমতাবস্থায় কোনো বিবেকবান ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ইবাদত করাকে কীভাবে সমীচীন মনে করতে পারে?!

শিরকের অসারতা এবং মুশরিকদের মূর্খতা প্রমাণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, এটি তার মধ্যে অন্যতম প্রাঞ্জল উপমা (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৩ - ৭৪।

(২) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের আমছালুল কুরআন, পৃ. ৪৭; ইবনুল কাইয়্যিমের আত-তাফসীরুল কাইয়্যিম, পৃ. ৩৬৮; তাফসীরে বাগভী, ৩/ ২৯৮; ইবনে কাসীর, ৩/ ২৩৬; শাওকানির ফাতহুল কাদীর, ৩/ ৪৭০; এবং তাফসীরে সাদী, ৫/ ৩২৬।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
2 - ومن أحسن الأمثال وأدلها على بطلان الشرك، وخسارة صاحبه، وحصوله على ضد مقصوده، قوله تعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنكَبُوتِ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ * إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ مِن شَيْءٍ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ * وَتِلْكَ الأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلاّ الْعَالِمُونَ} (1).

فهذا مثل ضربه اللَّه لمن عبد معه غيره يقصد به التعزز والتقوي والنفع، فبين – سبحانه – أن هؤلاء ضعفاء، وأن الذين اتخذوهم أولياء من دون اللَّه أضعف منهم، فهم في ضعفهم وما قصدوه من اتخاذ الأولياء كالعنكبوت التي هي من أضعف الحيوانات، اتخذت بيتاً وهو من أضعف البيوت، فما ازدادت باتخاذه إلا ضعفاً، وكذلك من اتخذ من دون اللَّه أولياء، فإنهم ضعفاء، وازدادوا باتخاذهم ضعفاً إلى ضعفهم (2).

3 - ومن أبلغ الأمثال التي تُبيّن أن المشرك قد تشتت شمله واحتار في أمره، ما بيَّنه تعالى بقوله: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً رَّجُلاً فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلاً سَلَمًا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلاً الْحَمْدُ للَّهِ

--------------------------------------------

(1) سورة العنكبوت، الآيات: 41 – 43.

(2) انظر: تفسير البغوي، 3/ 468، وأمثال القرآن لابن القيم، ص21، وفتح القدير للشوكاني، 4/ 204.
২ - শিরকের অসারতা, এর অনুসারীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তার উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল লাভের বিষয়ে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সুস্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের উদাহরণ মাকড়সার মতো, যে নিজের জন্য একটি ঘর তৈরি করে। আর ঘরগুলোর মধ্যে মাকড়সার ঘরই সবচেয়ে দুর্বল, যদি তারা জানত। তারা আল্লাহর পরিবর্তে যা কিছুকে আহ্বান করে আল্লাহ তা জানেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর আমি মানুষের জন্য এসব উদাহরণ পেশ করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীগণই তা বুঝতে পারে} (১)।

এটি এমন একটি উদাহরণ যা আল্লাহ তাদের জন্য পেশ করেছেন যারা তাঁর পাশাপাশি অন্যের ইবাদত করে এবং এর মাধ্যমে সম্মান, শক্তি ও উপকার লাভের প্রত্যাশা করে। ফলে সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এরা সবাই দুর্বল, আর তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে তারা তাদের চেয়েও অধিকতর দুর্বল। তারা তাদের এই দুর্বলতায় এবং অভিভাবক গ্রহণের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে সেই মাকড়সার ন্যায়, যা প্রাণিকুলের মধ্যে অত্যন্ত দুর্বল এবং সে একটি ঘর তৈরি করেছে যা ঘরগুলোর মধ্যে দুর্বলতম। এই ঘর নির্মাণের ফলে তার দুর্বলতা বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই হয়নি। একইভাবে যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তারাও মূলত দুর্বল এবং এই গ্রহণের ফলে তাদের পূর্বের দুর্বলতার সাথে আরও দুর্বলতা যুক্ত হয়েছে (২)।

৩ - মুশরিকের অবস্থা যে অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত এবং সে যে তার বিষয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তা পরিস্ফুটকারী অলঙ্কারপূর্ণ উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো যা মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {আল্লাহ একটি উদাহরণ পেশ করছেন: এক ব্যক্তি, যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী একাধিক অংশীদার, আর অন্য এক ব্যক্তি যে কেবল একজনের অনুগত; এই দুই ব্যক্তির অবস্থা কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর...}

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪১–৪৩।

(২) দেখুন: তাফসিরে বাগাওয়ী, ৩/ ৪৬৮, আমছালুল কুরআন লিবনিল কায়্যিম, পৃষ্ঠা ২১, এবং ফাতহুল কাদির লিশ-শাওকানি, ৪/ ২০৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} (1).

فهذا مثل ضربه اللَّه - تعالى - للمشرك والموحد، فالمشرك لمَّا كان يعبد آلهة شتى شُبِّهَ بعبد يملكه جماعة متنازعون مختلفون، سيئة أخلاقهم، يتنافسون في خدمته، لا يمكنه أن يبلغ رضاهم أجمعين، فهو في عذاب.

والموحِّد لما كان يعبد اللَّه وحده لا شريك له، فمثله كمثل عبد لرجل واحد، قد سلم له، وعلم مقاصده، وعرف الطريق إلى رضاه، فهو في راحة من تشاحن الخلطاء فيه واختلافهم، بل هو سالم لمالكه من غير تنازع فيه، مع رأفة مالكه به، ورحمته له، وشفقته عليه، وإحسانه إليه، وتوليه لمصالحه، فهل يستوي هذان العبدان؟ والجواب: كلا، لا يستويان أبداً (2).

 

‌‌المبحث الرابع: الكمال المطلق للإله الحق المستحق للعبادة وحده

بعد أن عرفنا صفات الآلهة الباطلة، وأنها لا تملك لنفسها ولا لغيرها ضرّاً ولا نفعاً، فهي لا تستحق العبادة، وإنما الذي يستحق العبادة وحده من يملك القدرة على كل شيء، والإحاطة بكل شي، وكمال السلطان والغلبة والقهر والهيمنة على كل شيء، والعلم بكل

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر، الآية: 29.

(2) انظر: تفسير البغوي، 4/ 78، وابن كثير، 4/ 52، والتفسير القيم، ص423، وفتح القدير للشوكاني، 4/ 462، وتفسير السعدي، 6/ 468، وتفسير الجزائري، 4/ 43.
...বরং তাদের অধিকাংশই জানে না} (১)।

এটি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক মুশরিক ও একত্ববাদীর জন্য পেশকৃত একটি দৃষ্টান্ত। মুশরিক যেহেতু বহু উপাস্যের ইবাদত করে, তাকে এমন এক দাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে যাকে বিবাদমান ও মতপার্থক্যকারী একদল লোক মালিকানাভুক্ত করেছে, যাদের চরিত্র অত্যন্ত মন্দ এবং তারা তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তার পক্ষে তাদের সকলের সন্তুষ্টি অর্জন করা অসম্ভব, ফলে সে যন্ত্রণার মধ্যে থাকে।

আর একত্ববাদী যেহেতু অংশীদারহীন এক আল্লাহর ইবাদত করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক দাসের মতো যে মাত্র একজন মালিকের অনুগত। সে তার মালিকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের পথ জানে। ফলে সে অংশীদারদের পারস্পরিক রেষারেষি ও বিরোধ থেকে শান্তিতে থাকে। বরং সে কোনো প্রকার বিবাদ ছাড়াই তার মালিকের জন্য একনিষ্ঠ থাকে, পাশাপাশি তার মালিকও তার প্রতি দয়াশীল, করুণাময়, সহানুভূতিশীল, সদাচারী এবং তার স্বার্থের তদারককারী। তাহলে কি এই দুই দাস সমান হতে পারে? উত্তর হলো: কক্ষনো না, তারা কখনোই সমান হতে পারে না (২)।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: একমাত্র ইবাদতের হকদার সত্য ইলাহের নিরঙ্কুশ পূর্ণতা

বাতিল উপাস্যদের বৈশিষ্ট্যগুলো জানার পর—যে তারা নিজেদের কিংবা অন্যের জন্য কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখে না—তাই তারা ইবাদতের যোগ্য নয়। বরং একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য যিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ সক্ষমতা রাখেন, সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং যাঁর রয়েছে সবকিছুর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব, আধিপত্য, প্রতাপ ও শাসন এবং সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞান...

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২৯।

(২) দেখুন: তাফসিরে বাগাওয়ী, ৪/৭৮; ইবনে কাসীর, ৪/৫২; আত-তাফসীরুল কাইয়্যিম, পৃষ্ঠা ৪২৩; শাওকানী রচিত ফাতহুল কাদীর, ৪/৪৬২; তাফসিরে সাদী, ৬/৪৬৮ এবং তাফসিরে জাযায়িরী, ৪/৪৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
شيء، ويملك الدنيا والآخرة، والنفع والضر، والعطاء والمنع بيده وحده، فمن كان هذا شأنه فإنه حقيق بأن يُذكر فلا يُنسى، ويُشكر فلا يُكفر، ويُطاع فلا يُعصى، ولا يُشرك معه غيره (1).

وصفات الكمال المطلق للَّه - تعالى - لا يحيط بها أحد، ولكن منها على سبيل المثال.

 

‌‌1 - المتفرد بالألوهية: لا يستحق الألوهية إلا اللَّه وحده، الحي الذي لا يموت أبداً، القيوم الذي قام بنفسه، واستغنى عن جميع المخلوقات، وهي مفتقرة إليه في كل شيء، ومن كمال حياته وقيوميته أنه لا تأخذه سنة ولا نوم، وجميع ما في السماوات والأرض عبيده، وتحت قهره وسلطانه: {إِن كُلُّ مَن فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ إِلاّ آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا * لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا} (2).

ومن تمام ملكه وعظمته وكبريائه أنه لا يشفع عنده أحد إلا بإذنه، فكل الوجهاء والشفعاء عبيد له، لا يقدمون على شفاعة حتى يأذن لهم، ولا يأذن إلا لمن ارتضى، وعلمه تعالى محيط بجميع الكائنات، ولا يطلع أحد على شيء من علمه إلا ما أطلعهم عليه، ومن عظمته أن كرسيه وسع السموات والأرض، وأنه قد حفظهما

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير البغوي، 1/ 237، 3/ 71، 2/ 88، 372، وابن كثير، 1/ 309، 2/ 572، 3/ 42، 2/ 127، 435، 570، 1/ 344، 2/ 138، وتفسير السعدي، 1/ 313، 7/ 686، 2/ 381، 3/ 397، 4/ 204، 6/ 364، 1/ 356، 2/ 372، وأضواء البيان، 2/ 187، 3/ 271.

(2) سورة مريم، الآيتان: 93 - 94.
সবকিছু, এবং তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক। কল্যাণ ও অকল্যাণ এবং দান ও বারণ একমাত্র তাঁরই হাতে। যাঁর মর্যাদা এমন, তিনি এই যোগ্য যে তাঁকে স্মরণ করা হবে এবং বিস্মৃত হওয়া হবে না, তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে এবং অকৃতজ্ঞতা করা হবে না, তাঁর আনুগত্য করা হবে এবং অবাধ্যতা করা হবে না, আর তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা হবে না (১)।

মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণাবলি কেউ পরিবেষ্টন করতে পারে না, তবে উদাহরণস্বরূপ তার কিছু নিচে দেওয়া হলো।

 

‌‌১ - উলুহিয়্যাত বা উপাসনায় একক: আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি চিরঞ্জীব যিনি কখনও মৃত্যুবরণ করেন না, তিনি আল-কাইয়ূম (যিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ), যিনি নিজে প্রতিষ্ঠিত এবং সমস্ত মাখলুকাত বা সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী, আর সৃষ্টিজগত সবকিছুর জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। তাঁর জীবন ও কাইয়ূমিয়্যতের পূর্ণতা হলো এই যে, তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁর বান্দা এবং তাঁর পরাক্রম ও কর্তৃত্বাধীন: {আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই যে পরম করুণাময়ের নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না। তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদের সঠিকভাবে গণনা করেছেন} (২)।

তাঁর রাজত্ব, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণতা হলো এই যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। সকল মর্যাদাবান ও সুপারিশকারী তাঁর বান্দা, তারা তাঁর অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত সুপারিশ করতে অগ্রসর হয় না এবং তিনি যাঁর প্রতি সন্তুষ্ট কেবল তাকেই অনুমতি দেন। মহান আল্লাহর জ্ঞান সমস্ত সৃষ্টিজগতকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তিনি তাদের যতটুকু অবহিত করেন সেটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই কেউ জানতে পারে না। তাঁর মহিমা হলো যে, তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং তিনি এ দুটিকে রক্ষা করেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে বাগাওয়ী, ১/ ২৩৭, ৩/ ৭১, ২/ ৮৮, ৩৭২; ইবনে কাসির, ১/ ৩০৯, ২/ ৫৭২, ৩/ ৪২, ২/ ১২৭, ৪৩৫, ৫৭০, ১/ ৩৪৪, ২/ ১৩৮; তাফসিরে সাদী, ১/ ৩১৩, ৭/ ৬৮৬, ২/ ৩৮১, ৩/ ৩৯৭, ৪/ ২০৪, ৬/ ৩৬৪, ১/ ৩৫৬, ২/ ৩৭২; এবং আদওয়াউল বায়ান, ২/ ১৮৭, ৩/ ২৭১।

(২) সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৯৩ - ৯৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وما فيهما من مخلوقات، ولا يثقله حفظهما، بل ذلك سهل عليه يسير لديه، وهو القاهر لكل شيء، العلي بذاته على جميع مخلوقاته، والعلي بعظمته وصفاته، العلي الذي قهر المخلوقات، ودانت له الموجودات، العظيم الجامع لصفات العظمة والكبرياء، وقد دل على هذه الصفات العظيمة قوله تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ … } الآية (1).

 

‌‌2 - وهو الإله الذي خضع كل شيء لسلطانه، فانقادت له المخلوقات بأسرها: جماداتها وحيواناتها، وإنسها وجنّها وملائكتها {وَلَهُ أَسْلَمَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ} (2).

‌‌3 - وهو الإله الذي بيده النفع والضر، فلو اجتمع الخلق على أن ينفعوا مخلوقاً لم ينفعوه إلا بما كتبه اللَّه له، ولو اجتمعوا على أن يضروه بشيء لم يضروه إذا لم يرد اللَّه ذلك {وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَاّ هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضْلِهِ يُصَيبُ بِهِ مَن

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 255.

(2) سورة آل عمران، الآية: 83.
এবং এ দুটির মধ্যে যা কিছু সৃষ্টি রয়েছে, আর এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না; বরং তা তাঁর নিকট অত্যন্ত সহজ ও অনায়াসসাধ্য। তিনি সবকিছুর ওপর প্রবল পরাক্রান্ত, স্বীয় সত্তায় তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে সুউচ্চ, এবং স্বীয় মহিমা ও গুণাবলিতে সুউচ্চ। তিনি সেই সুউচ্চ সত্তা যিনি সমস্ত সৃষ্টিকে পরাভূত করেছেন এবং বিদ্যমান সকল বস্তু তাঁর নিকট নতি স্বীকার করেছে। তিনি সেই মহান সত্তা যিনি মহিমা ও গাম্ভীর্যের সমস্ত গুণাবলির আধার। আর এই মহান গুণাবলির ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী প্রমাণ বহন করে: {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন … } আয়াত (১)।

 

‌‌২ - তিনিই সেই ইলাহ যার কর্তৃত্বের কাছে সবকিছু নতি স্বীকার করেছে, ফলে সমগ্র সৃষ্টি তাঁর অনুগত হয়েছে: জড় পদার্থ, জীবজন্তু, মানুষ, জিন এবং ফেরেশতাকুল। {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁরই অনুগত হয়েছে এবং তাঁরই নিকট তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে} (২)।

‌‌৩ - তিনিই সেই ইলাহ যার হাতে উপকার ও অপকার নিহিত, যদি সমগ্র সৃষ্টি কোনো সৃষ্টির উপকার করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা তাঁর কোনো উপকার করতে পারবে না আল্লাহ যা তার জন্য লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত। আর যদি তারা তাঁর কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যদি না আল্লাহ তা চান। {আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্ট দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫।

(২) সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৮৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} (1).

 

‌‌4 - وهو القادر على كل شيء، ولا يعجزه شيء، {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (2).

‌‌5 - إحاطة علمه بكل شيء، شامل للغيوب كلها: يعلم ما كان، وما يكون، وما لم يكن لو كان كيف يكون (3)، {إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَىَ عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ} (4)، {وَمَا يَعْزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِن ذَلِكَ وَلا أَكْبَرَ إِلَاّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} (5)، {وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَاّ هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَاّ يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَاّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} (6)، {إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (7).

ولا شك أن من عرف هذه الصفات وغيرها من صفات الكمال

--------------------------------------------

(1) سورة يونس، الآية: 107.

(2) سورة يس، الآية: 82.

(3) انظر: تفسير ابن كثير، 1/ 344، 2/ 138، والسعدي، 2/ 356، 2/ 372.

(4) سورة آل عمران، الآية: 5.

(5) سورة يونس، الآية: 61.

(6) سورة الأنعام، الآية: 59.

(7) سورة الأنفال، الآية: 75.
তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা (তা প্রদান করেন), আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (১)।

 

‌‌৪ - তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল, এবং কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না, {তাঁর নির্দেশ তো কেবল এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলেন: ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়} (২)।

‌‌৫ - সবকিছুর ওপর তাঁর জ্ঞানের পরিবেষ্টন, যা সমস্ত অদৃশ্যের বিষয়কে শামিল করে: তিনি জানেন যা হয়েছে, যা হবে, এবং যা ঘটেনি তা যদি ঘটত তবে কেমন হতো (৩), {নিশ্চয় আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই গোপন থাকে না} (৪), {আর আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই আপনার রবের অগোচর নয় এবং এর চেয়ে ছোট বা বড় এমন কিছু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই} (৫), {আর তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনিই জানেন। তাঁর অগোচরে একটি পাতাও ঝরে না এবং জমিনের অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণা অথবা এমন কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই} (৬), {নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} (৭)।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি এই গুণাবলি এবং অন্যান্য পূর্ণতা প্রকাশক গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে...

--------------------------------------------

(১) সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৭।

(২) সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৮২।

(৩) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/ ৩৪৪, ২/ ১৩৮ এবং আস-সা’দী, ২/ ৩৫৬, ২/ ৩৭২।

(৪) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৫।

(৫) সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬১।

(৬) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৫৯।

(৭) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭৫।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والعظمة، فإنه سيعبد اللَّه وحده؛ لأنه الإله المستحق للعبادة.

 

‌‌المبحث الخامس: التوحيد دعوة جميع الرسل عليهم الصلاة والسلام

يجب أن يُبلّغ كل من أشرك باللَّه - تعالى - أن الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - دعوا أقوامهم إلى عبادة اللَّه وحده دون ما سواه، وأن الحجة قد قامت على جميع الأمم، وما من أمة إلا بعث اللَّه فيهم رسولاً، وكلهم يدعون إلى عبادة اللَّه وحده لا شريك له (1)، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللَّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ فَسِيرُواْ فِي الأَرْضِ فَانظُرُواْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} (2)، {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلاّ أَنَاْ فَاعْبُدُونِ} (3)، وقال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رُّسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِن دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} (4).

فبيّن سبحانه في هذه الآيات عن طريق العموم أن جميع الرسل

--------------------------------------------

(1) انظر: درء تعارض العقل والنقل لابن تيمية، 9/ 344، وتفسير ابن كثير، 2/ 567، والسعدي، 4/ 202، وأضواء البيان للشنقيطي، 3/ 268.

(2) سورة النحل، الآية: 36.

(3) سورة الأنبياء، الآية: 25.

(4) سورة الزخرف، الآية: 45.
এবং মহিমা, ফলে সে কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করবে; কেননা তিনিই ইবাদতের যোগ্য একমাত্র উপাস্য।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ সকল রাসূল আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের দাওয়াত

আল্লাহ তাআলার সাথে শিরককারী প্রত্যেকের নিকট এই বার্তা পৌঁছানো আবশ্যক যে, নবীগণ আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁদের কওমকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু বর্জন করে কেবল তাঁরই ইবাদত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর সমস্ত উম্মতের উপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন কোনো উম্মত নেই যাদের নিকট আল্লাহ কোনো রাসূল প্রেরণ করেননি এবং তাঁরা সকলেই আল্লাহর ইবাদত করার দাওয়াত দিয়েছেন যার কোনো শরিক নেই (১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু লোককে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কিছু লোকের উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কী হয়েছে।” (২), “আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তাঁর প্রতি এই ওহিই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।” (৩), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: “আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাঁদের জিজ্ঞেস করুন, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত এমন কোনো উপাস্য স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হবে?” (৪)।

সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আয়াতগুলোতে সাধারণভাবে বর্ণনা করেছেন যে, সকল রাসূল

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত দাউ তাআরিদ আল-আকল ওয়ান-নাকল, ৯/ ৩৪৪; তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/ ৫৬৭; আস-সা'দি, ৪/ ২০২ এবং শিনকিতি রচিত আদওয়াউল বায়ান, ৩/ ২৬৮।

(২) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬।

(৩) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫।

(৪) সূরা আজ-জুখরুখ, আয়াত: ৪৫।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
دعوا إلى ((لا إله إلا اللَّه))، وخلع جميع المعبودات من دون اللَّه (1)، وفصَّل ذلك في مواضع أخرى من كتابه، كقوله تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُواْ اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (2)، {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُوداً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُواْ اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (3)، {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُواْ اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (4)، {وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُواْ اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (5)، {وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُواْ اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ} (6).

وهذا بلاغ مبين من اللَّه لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد.

فالداعية إلى اللَّه – تعالى – يقوم بإيصال هذه الحكم القولية إلى الناس، ويبين لهم ذلك، فمن أبصر فلنفسه ومن عمي فعليها، وما

--------------------------------------------

(1) انظر: أضواء البيان في إيضاح القرآن بالقرآن، 3/ 268.

(2) سورة الأعراف، الآية: 59.

(3) سورة الأعراف، الآية: 65.

(4) سورة الأعراف، الآية: 73.

(5) سورة الأعراف، الآية: 85.

(6) سورة المائدة، الآية: 72.
তারা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’—এই কালিমার দিকে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সমস্ত উপাস্যকে বর্জন করার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন (১)। এবং তিনি তাঁর কিতাবের অন্যান্য স্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছি, অতঃপর তিনি বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} (২), {আর আদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই হূদকে (প্রেরণ করেছি), তিনি বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} (৩), {আর সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে (প্রেরণ করেছি), তিনি বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} (৪), {আর মাদইয়ানবাসীর নিকট তাদের ভাই শুআইবকে (প্রেরণ করেছি), তিনি বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} (৫), {আর মসীহ বলেছিলেন: হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব ও তোমাদের রব। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} (৬)।

আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট বার্তা সেই ব্যক্তির জন্য, যার হৃদয় রয়েছে অথবা যে উপস্থিত মনে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে।

সুতরাং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী মহান আল্লাহর এই বাচনিক প্রজ্ঞাসমূহ মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের নিকট তা বর্ণনা করেন। অতঃপর যে ব্যক্তি সত্য দেখবে তা তার নিজের কল্যাণের জন্য, আর যে অন্ধ সাজবে তার প্রতিফল তাকেই ভোগ করতে হবে এবং যা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদওয়াউল বায়ান ফী ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন, ৩/ ২৬৮।

(২) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৫৯।

(৩) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৬৫।

(৪) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৭৩।

(৫) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৮৫।

(৬) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৭২।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ربك بظلام للعبيد.

 

‌‌المبحث السادس: الغلو في الصالحين سبب شرك البشر

من أعظم الحكم القولية في دعوة من تعلق بغير اللَّه - تعالى -، أن يبين لهم أن الغلو في الصالحين هو سبب الشرك باللَّه - تعالى - فقد كان الناس منذ أُهبط آدم صلى الله عليه وسلم إلى الأرض على الإسلام، قال ابن عباس رحمه الله: ((كان بين آدم ونوح عشرة قرون كلهم على الإسلام)) (1).

وبعد ذلك تعلق الناس بالصالحين، ودب الشرك في الأرض، فبعث اللَّه نوحاً صلى الله عليه وسلم يدعو إلى عبادة اللَّه وحده، وينهى عن عبادة ما سواه (2)، وردّ عليه قومه: {وَقَالُوا لا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلا سُوَاعًا وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} (3).

وهذه أسماء رجال صالحين من قوم نوح، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون فيها أنصاباً، وسموها بأسمائهم، ففعلوا، ولم تُعبد حتى إذا هلك

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبري في تفسيره، (4/ 275، رقم 4048)، والحاكم في المستدرك، كتاب التاريخ، 2/ 546 - 547، وقال: هذا حديث صحيح على شرط البخاري ولم يخرجاه ووافقه الذهبي، وذكره ابن كثير في البداية والنهاية، 1/ 101، وعزاه إلى البخاري، وانظر: فتح الباري، 6/ 372.

(2) انظر: البداية والنهاية لابن كثير، 1/ 106.

(3) سورة نوح، الآية: 23.
আপনার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি মোটেও অবিচারকারী নন।

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নেককারদের প্রতি অতি বাড়াবাড়ি (الغلو) হলো মানবজাতির শিরকের কারণ

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের প্রতি যারা আসক্ত, তাদের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল হলো তাদের সামনে এটি স্পষ্ট করা যে, নেককারদের প্রতি অতি বাড়াবাড়ি (الغلو) করাই হলো আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করার মূল কারণ। আদম (আলাইহিস সালাম) পৃথিবীতে অবতরণের পর থেকে মানুষ ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইবনে আব্বাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আদম এবং নূহের মাঝে দশটি প্রজন্ম (قرون) অতিবাহিত হয়েছে, যাদের সবাই ইসলামের ওপর ছিলেন” (১)।

এরপর মানুষ নেককারদের প্রতি অতি-আসক্ত হয়ে পড়ে এবং পৃথিবীতে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে। তখন আল্লাহ তাআলা নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে প্রেরণ করেন, যিনি কেবল এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদত করতে নিষেধ করেন (২)। কিন্তু তার কওম তাকে প্রত্যাখ্যান করে বলল: {আর তারা বলল, ‘তোমরা কখনো তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না এবং বর্জন করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়াঊক ও নাসরকে’} (৩)।

এগুলো ছিল নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের কিছু নেককার লোকের নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন শয়তান তাদের কওমের অন্তরে এই কুমন্ত্রণা দিল যে, তারা যেখানে বসে মজলিস করত, সেখানে যেন কিছু স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করে এবং সেগুলোকে তাদের নামেই নামকরণ করে। তারা তা-ই করল। তখনো সেগুলোর ইবাদত করা হতো না, কিন্তু যখন সেই প্রজন্ম মৃত্যুবরণ করল...

--------------------------------------------

(১) এটি তাবারী তার তাফসিরে (৪/২৭৫, নং ৪০৪৮) এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক-এ, ইতিহাস অধ্যায় (২/৫৪৬-৫৪৭) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি বুখারীর শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح), কিন্তু তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইবনে কাসির এটি আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে (১/১০১) উল্লেখ করেছেন এবং একে বুখারীর দিকে নিসবত করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী, ৬/৩৭২।

(২) দেখুন: ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/১০৬।

(৩) সূরা নূহ, আয়াত: ২৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أولئك ونُسِيَ العلم عُبِدت (((1).

وهذا سببه الغلو في الصالحين، فإن الشيطان يدعو إلى الغلو في الصالحين وإلى عبادة القبور، ويُلقي في قلوب الناس أن البناء والعكوف عليها من محبة أهلها من الأنبياء والصالحين، وأن الدعاء عندها مستجاب، ثم ينقلهم من هذه المرتبة إلى الدعاء بها والإقسام على اللَّه بها، وشأن اللَّه أعظم من أن يُسأل بأحد من خلقه، فإذا تقرر ذلك عندهم نقلهم إلى دعاء صاحب القبر وعبادته وسؤاله الشفاعة من دون اللَّه، واتخاذ قبره وثناً تعلق عليه الستور، ويطاف به، ويستلم ويقبل، ويذبح عنده، ثم ينقلهم من ذلك إلى مرتبة رابعة: وهي دعاء الناس إلى عبادته واتخاذه عيداً، ثم ينقلهم إلى أن من نهى عن ذلك فقد تنقَّص أهل هذه الرتب العالية من الأنبياء والصالحين، وعند ذلك يغضبون (2).

ولهذا حذَّر اللَّه عباده من الغلو في الدين، والإفراط بالتعظيم بالقول أو الفعل أو الاعتقاد، ورفع المخلوق عن منزلته التي أنزله اللَّه – تعالى – كما قال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ} (3)، ولهذا حذَّر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب التفسير، سورة نوح، 8/ 667، برقم 4920.

(2) انظر: تفسير الطبري، 29/ 62، وفتح المجيد شرح كتاب التوحيد، ص246.

(3) سورة النساء، الآية: 171.
...সেই ব্যক্তিবর্গ; অতঃপর যখন জ্ঞান বিস্মৃত হলো, তখন তাদের ইবাদত করা শুরু হলো (((১)।

আর এর কারণ হলো নেককারদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা। কেননা শয়তান নেককারদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করতে এবং কবর পূজার দিকে আহ্বান জানায়। সে মানুষের অন্তরে এই কুমন্ত্রণা দেয় যে, কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ ও সেখানে অবস্থান করা হলো নবী ও নেককারদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং সেখানে দোয়া কবুল হয়। অতঃপর সে তাদেরকে এই পর্যায় থেকে তাদের অসিলায় দোয়া করা এবং আল্লাহর নামে কসম করার দিকে নিয়ে যায়। অথচ আল্লাহর শান এতই মহান যে, তাঁর সৃষ্টির কারো দোহাই দিয়ে তাঁর কাছে চাওয়া সমীচীন নয়। যখন তাদের মাঝে এটি বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন সে তাদেরকে কবরের বাসিন্দার কাছে দোয়া করা, তার ইবাদত করা এবং আল্লাহকে ছেড়ে তার কাছে সুপারিশ কামনার দিকে ধাবিত করে। তখন তার কবরকে মূর্তিতে পরিণত করা হয় যার ওপর পর্দা ঝুলানো হয়, তার চারপাশে তাওয়াফ করা হয়, একে স্পর্শ ও চুম্বন করা হয় এবং সেখানে পশু জবেহ করা হয়। অতঃপর সে তাদেরকে সেখান থেকে চতুর্থ একটি স্তরে নিয়ে যায়: আর তা হলো মানুষকে তার ইবাদতের দিকে আহ্বান করা এবং কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করা। এরপর সে তাদেরকে এই ধারণার দিকে ধাবিত করে যে, যে ব্যক্তিই এ কাজ থেকে নিষেধ করবে সে মূলত এই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবী ও নেককারদের অবমাননা করল; আর তখনই তারা ক্রোধান্বিত হয় (২)।

এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা এবং কথা, কাজ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অতিশয় ভক্তি প্রদর্শন ও মাখলুককে আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া থেকে সতর্ক করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। নিশ্চয়ই মারইয়াম-পুত্র ঈসা মাসীহ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ} (৩)। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ বুখারি, কিতাবুত তাফসির, সূরা নূহ, ৮/ ৬৬৭, নম্বর ৪৯২০।

(২) দেখুন: তাফসির তাবারী, ২৯/ ৬২, এবং ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ, পৃ. ২৪৬।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عن الإطراء، فقال: ((لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم، فإنما أنا عبده، فقولوا: عبد اللَّه ورسوله)) (1)، وقال: ((إياكم والغلو في الدين، فإنما أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين)) (2).

وحذر صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ المساجد على القبور؛ لأن عبادة اللَّه عند قبور الصالحين وسيلة إلى عبادتهم، ولهذا لما ذكرت أم حبيبة وأم سلمة رضي الله عنهما لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كنيسة في الحبشة فيها تصاوير قال: ((إن أولئك إذا كان فيهم الرجل الصالح فمات بنوا على قبره مسجداً، وصوروا فيه تلك الصور، أولئك شرار الخلق عند اللَّه يوم القيامة)).

ومن حرص النبي صلى الله عليه وسلم على أمته أنه عندما نزل به الموت قال: ((لَعْنَةُ اللَّه على اليهود والنصارى، اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد)). قالت عائشة رضي الله عنها: يحذر ما صنعوا (3).

وقال قبل أن يموت بخمس: ((ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور

--------------------------------------------

(1) البخاري مع الفتح، كتاب الأنبياء، باب قوله تعالى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ … }، 6/ 478، (رقم 3445)، 12/ 144، وانظر شرحه في الفتح، 12/ 149.

(2) النسائي، كتاب مناسك الحج، باب التقاط الحصى، 5/ 268، (رقم 3055)، وابن ماجه، كتاب المناسك، باب قدر حصى الرمي، 2/ 1008، (رقم 3029)، وأحمد، 1/ 347.

(3) البخاري مع الفتح، كتاب الصلاة، باب حدثنا أبو اليمان، 1/ 532، (رقم 435، 436)، 3/ 200، 6/ 494، 7/ 186، 8/ 140، 10/ 277، ومسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب النهي عن بناء المساجد على القبور واتخاذ الصور فيها، 1/ 377، (رقم 531).
অতিরিক্ত প্রশংসা সম্পর্কে তিনি বলেছেন: ((তোমরা আমার অতিরিক্ত প্রশংসা করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবনে মারিয়ামের করেছিল। আমি তো কেবল তাঁর এক বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।)) (১) এবং তিনি আরও বলেছেন: ((তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা বা বাড়াবাড়ি (الغلو) করা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীদের দ্বীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়িই (الغلو) ধ্বংস করেছে।)) (২)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা থেকে সতর্ক করেছেন; কারণ নেককার ব্যক্তিদের কবরের নিকট আল্লাহর ইবাদত করা তাঁদের ইবাদত করার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই যখন উম্মে হাবিবা ও উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হাবশায় দেখা একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন যাতে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ছিল, তখন তিনি বললেন: ((তাদের মধ্যে যখন কোনো নেককার লোক থাকত এবং সে মারা যেত, তখন তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে সেসব ছবি অঙ্কন করত। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তারাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম।))

নিজ উম্মতের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গভীর মমত্ববোধ ও ব্যাকুলতার বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো তখন তিনি বললেন: ((ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের ওপর আল্লাহর লানত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।)) আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: তারা যা করেছিল সে সম্পর্কে তিনি উম্মতকে সতর্ক করছিলেন (৩)।

এবং ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে তিনি বললেন: ((জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করো না।

--------------------------------------------

(১) বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাবুল আম্বিয়া, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {আর কিতাবে মারিয়ামের কথা উল্লেখ করুন...}, ৬/৪৭৮, (নং ৩৪৪৫), ১২/১৪৪, এবং ফাতহুল বারীতে এর ব্যাখ্যা দেখুন, ১২/১৪৯।

(২) নাসায়ি, কিতাবুল মানাসিকিল হজ, অধ্যায়: কঙ্কর সংগ্রহ করা, ৫/২৬৮, (নং ৩০৫৫), এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুল মানাসিক, অধ্যায়: কঙ্কর নিক্ষেপের পরিমাণ, ২/১০০৮, (নং ৩০২৯), এবং আহমাদ, ১/৩৪৭।

(৩) বুখারি মাআল ফাতহ, কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ১/৫৩২, (নং ৪৩৫, ৪৩৬), ৩/২০০, ৬/৪৯৪, ৭/১৮৬, ৮/১৪০, ১০/২৭৭, এবং মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, অধ্যায়: কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ এবং তাতে ছবি রাখা নিষেধ করা প্রসঙ্গে, ১/৩৭৭, (নং ৫৩১)।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مساجد، فإني أنهاكم عن ذلك)) (1).

وحذّر صلى الله عليه وسلم أمته عن اتخاذ قبره وثناً يعبد من دون اللَّه، ومن باب أولى غيره من الخلق، فقال: ((اللَّهم لا تجعل قبري وثناً يُعبد، اشتد غضب اللَّه على قوم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد)) (2).

ولعن صلى الله عليه وسلم من اتخذ المساجد على القبور؛ لينفِّر عن هذا الفعل، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((لعن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج)) (3).

ولم يترك صلى الله عليه وسلم باباً من أبواب الشرك التي تُوصّل إليه إلا سدّه (4)، قال صلى الله عليه وسلم: ((لا تجلسوا على القبور، ولا تصلوا إليها)) (5).

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب النهي عن بناء المساجد على القبور، 1/ 377، (رقم 532).

(2) الموطأ للإمام مالك، كتاب قصر الصلاة في السفر، باب جامع الصلاة، 1/ 172، وهو عنده مرسل، ولفظ أحمد، 2/ 246: >اللهم لا تجعل قبري وثناً يُعبد، ولعن الله قوماً اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد<، وأبو نعيم في الحلية، 7/ 317، وانظر: فتح المجيد، ص150.

(3) النسائي، كتاب الجنائز، باب التغليظ في اتخاذ السرج على القبور، 4/ 94، (رقم 2041)، وأبو داود، كتاب الجنائز، باب في زيارة النساء القبور، 3/ 218، (رقم 3236)، والترمذي، كتاب الصلاة، باب كراهية أن يتخذ على القبر مسجداً، 2/ 136، (رقم 320)، وابن ماجه في الجنائز، باب النهي عن زيارة النساء للقبور، 1/ 502، (رقم 1575)، وأحمد، 1/ 229، 287، 324، 2/ 337، 3/ 442، 443، والحاكم، 1/ 374، وانظر ما نقله صاحب فتح المجيد في تصحيح الحديث عن ابن تيمية، ص276.

(4) انظر: فتح المجيد، ص281.

(5) مسلم، كتاب الجنائز، باب النهي عن الجلوس على القبر والصلاة عليه، 2/ 668، (رقم 972).
মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করো না; আমি তোমাদেরকে এ কাজ থেকে নিষেধ করছি)) (১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে তাঁর কবরকে আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য মূর্তিতে পরিণত করা থেকে সতর্ক করেছেন। আর মাখলুকের মধ্যে অন্য কেউ হলে তো তা আরও অগ্রগণ্যভাবেই পরিত্যাজ্য। তাই তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার পূজা করা হয়। সেই জাতির প্রতি আল্লাহর প্রচণ্ড ক্রোধ অবতীর্ণ হয়েছে, যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে" (২)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন যে কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে, যেন মানুষকে এই কাজ থেকে বিমুখ করা যায়। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর জিয়ারতকারী নারী এবং যারা কবরের ওপর মসজিদ ও বাতি নির্মাণ করে, তাদের অভিশাপ দিয়েছেন" (৩)।

শিরকের দিকে নিয়ে যায় এমন কোনো পথই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্ধ না করে ছাড়েননি (৪)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কবরের ওপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ো না" (৫)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণের নিষেধাজ্ঞার অধ্যায়, ১/৩৭৭, (হাদিস নং ৫৩২)।

(২) ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, কিতাবু কাসরিস সালাতি ফিস সাফার, বাবু জামিউস সালাত, ১/১৭২। তাঁর নিকট এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণিত। আহমাদ-এর শব্দ নিম্নরূপ, ২/২৪৬: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার পূজা করা হয়; আর আল্লাহ সেই জাতির ওপর অভিশাপ দিন যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" এবং আবু নুয়াইম আল-হিলইয়া গ্রন্থে, ৭/৩১৭; আরও দেখুন: ফাতহুল মাজিদ, পৃষ্ঠা ১৫০।

(৩) নাসায়ি, কিতাবুল জানাইজ, কবরের ওপর বাতি স্থাপনের কঠোরতা সংক্রান্ত অধ্যায়, ৪/৯৪, (হাদিস নং ২০৪১); আবু দাউদ, কিতাবুল জানাইজ, নারীদের কবর জিয়ারত সংক্রান্ত অধ্যায়, ৩/২১৮, (হাদিস নং ৩২৩৬); তিরমিজি, কিতাবুস সালাত, কবরের ওপর মসজিদ বানানো মাকরূহ হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়, ২/১৩৬, (হাদিস নং ৩২০); ইবনে মাজাহ, কিতাবুল জানাইজ, নারীদের কবর জিয়ারত নিষেধাজ্ঞার অধ্যায়, ১/৫০২, (হাদিস নং ১৫৭৫); আহমাদ, ১/২২৯, ২৮৭, ৩২৪, ২/৩৩৭, ৩/৪৪২, ৪৪৩; হাকেম, ১/৩৭৪। ইবনে তাইমিয়াহ থেকে হাদিসটির বিশুদ্ধায়ন (تصحيح) সম্পর্কে ফাতহুল মাজিদ গ্রন্থকার যা বর্ণনা করেছেন তা দেখুন, পৃষ্ঠা ২৭৬।

(৪) দেখুন: ফাতহুল মাজিদ, পৃষ্ঠা ২৮১।

(৫) মুসলিম, কিতাবুল জানাইজ, কবরের ওপর বসা ও কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞার অধ্যায়, ২/৬৬৮, (হাদিস নং ৯৭২)।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد بيّن صلى الله عليه وسلم أن القبور ليست مواضع للصلاة، وأن من صلى عليه وسلم فستبلغه صلاته، سواء كان بعيداً عن قبره أو قريباً، فلا حاجة لاتخاذ قبره عيداً: ((لا تجعلوا بيوتكم قبوراً، ولا تجعلوا قبري عيداً، وصلوا عليّ، فإن صلاتكم تبلغني حيث كنتم)) (1).

وقال صلى الله عليه وسلم: ((إن للَّه ملائكة سياحين يبلغوني من أمتي السلام)) (2).

وإذا كان قبر النبي صلى الله عليه وسلم أفضل قبر على وجه الأرض وقد نهى عن اتخاذه عيداً، فغيره أولى بالنهي كائناً ما كان (3).

وقد كان صلى الله عليه وسلم يطهر الأرض من وسائل الشرك، فيبعث بعض أصحابه إلى هدم القباب المشرفة على القبور، وطمس الصور، فعن أبي الهياج الأسدي قال: قال لي علي بن أبي طالب: ((ألا أبعثك على ما بعثني عليه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؟ أن لا تدع تمثالاً إلا طمسته، ولا قبراً مشرفاً إلا سويته)) (4).

وكما سد صلى الله عليه وسلم كل باب يوصّل إلى الشرك، فقد حمى التوحيد عما يقرب منه ويخالطه من الشرك وأسبابه، فقال صلى الله عليه وسلم: ((لا تشدوا

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب المناسك، باب زيارة القبور، 2/ 218، (رقم 2042) بإسناد حسن، وأحمد، 2/ 357، وانظر: صحيح سنن أبي داود، 1/ 383.

(2) النسائي في السهو، باب السلام على النبي صلى الله عليه وسلم، 3/ 43، (رقم 1280)، وأحمد، 1/ 452، وإسماعيل القاضي في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، برقم 21، ص24، وسنده صحيح.

(3) انظر: الدرر السنية في الأجوبة النجدية لعبد الرحمن بن قاسم، 6/ 165 - 174.

(4) مسلم، كتاب الجنائز، الأمر بتسوية القبر، 1/ 666، (رقم 969).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে কবর সালাত আদায়ের স্থান নয়। আর কেউ যদি তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করে, তবে তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, সে তাঁর কবর থেকে দূরে থাকুক বা কাছে। সুতরাং তাঁর কবরকে উৎসবে (عيد) পরিণত করার কোনো প্রয়োজন নেই: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না এবং আমার কবরকে উৎসবে (عيد) পরিণত করো না। তোমরা আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।" (১)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, যারা আমার কাছে আমার উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন।" (২)।

যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্তম কবর হওয়া সত্ত্বেও সেটিকে উৎসবে (عيد) পরিণত করতে নিষেধ করা হয়, তবে অন্য যে কারো কবরকে উৎসবে পরিণত করা আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হবে। (৩)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিরকের মাধ্যমগুলো থেকে যমীনকে পবিত্র করতেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের কবরের ওপর নির্মিত গম্বুজ ধ্বংস করতে এবং প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলতে পাঠাতেন। আবুল হাইয়াজ আল-আসাদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী বিন আবি তালিব (রা.) আমাকে বললেন: "আমি কি তোমাকে এমন এক কাজে পাঠাব না, যে কাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো—কোনো প্রতিকৃতিই রাখবে না বরং তা ধ্বংস করে দেবে এবং কোনো উঁচু (مشرف) কবরই রাখবে না বরং তা সমান (سويته) করে দেবে।" (৪)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমন শিরকের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিটি পথ বন্ধ করেছেন, তেমনি তাওহীদকে এর নিকটবর্তী বিষয় এবং শিরকের উপায়সমূহ থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ভ্রমণ করো না (لا تشدوا)

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুল মানাসিক, বাব যিয়ারাতুল কুবুর, ২/২১৮, (হাদিস নং ২০৪২) হাসান (حسن) সনদ (إسناد) সহ; আহমদ, ২/৩৫৭; এবং দেখুন: সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/৩৮৩।

(২) নাসাঈ, আস-সাহউ অধ্যায়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সালাম পেশ অনুচ্ছেদ, ৩/৪৩, (হাদিস নং ১২৮০); আহমদ, ১/৪৫২; এবং দরুদ পাঠের ফযিলত বিষয়ে ইসমাঈল আল-কাদি, হাদিস নং ২১, পৃষ্ঠা ২৪; এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)।

(৩) দেখুন: আব্দুর রহমান বিন কাসিম রচিত আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ফিল আজওয়িবাতুন নাজদিয়্যাহ, ৬/১৬৫ - ১৭৪।

(৪) মুসলিম, কিতাবুল জানাইয, কবর সমান করার নির্দেশ অনুচ্ছেদ, ১/৬৬৬, (হাদিস নং ৯৬৯)।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: مسجدي هذا، والمسجد الحرام، والمسجد الأقصى)).

فدخل في هذا النهي شدّ الرحال لزيارة القبور والمشاهد، وهو الذي فهمه الصحابة رضي الله عنهم من قول النبي صلى الله عليه وسلم، ولهذا عندما ذهب أبو هريرة رضي الله عنه إلى الطور، فلقيه بصرة بن أبي بصرة الغفاري، فقال: من أين جئت؟ قال: من الطور، فقال: لو أدركتك قبل أن تخرج إليه ما خرجت إليه، سمعت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا تعمل المطي إلا إلى ثلاثة مساجد … )) (1).

ولهذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ((وقد اتفق الأئمة على أنه لو نذر أن يسافر إلى قبره صلى الله عليه وسلم أو غيره من الأنبياء والصالحين لم يكن عليه أن يوفي بنذره، بل ينهى عن ذلك)) (2).

 

فتبين أن‌‌ زيارة القبور نوعان:

‌‌النوع الأول: زيارة شرعية يقصد بها السلام عليهم، والدعاء لهم، كما يقصد الصلاة على أحدهم إذا مات صلاة الجنازة؛ ولتذكر الموت؛ ولاتباع سنة النبي صلى الله عليه وسلم، بشرط عدم شد الرحال.

--------------------------------------------

(1) النسائي، كتاب الجمعة، باب الساعة التي يستجاب فيها الدعاء يوم الجمعة، 3/ 114، (رقم 1428)، ومالك في الموطأ، كتاب الجمعة، باب الساعة التي في يوم الجمعة، 1/ 109، وأحمد في المسند، 6/ 7، 397، وانظر: فتح المجيد، ص289، وصحيح النسائي، 1/ 309.

(2) انظر: فتاوى ابن تيمية، 1/ 234.
((তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা (شد الرحال) যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা।))

এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হলো কবর ও মাজার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা (شد الرحال), আর এটিই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বুঝেছিলেন। এ কারণেই যখন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তূর পাহাড়ে গিয়েছিলেন, তখন বাশরাহ ইবনে আবি বাশরাহ আল-গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? তিনি বললেন: তূর থেকে। তখন তিনি বললেন: আপনি সেখানে যাওয়ার আগে যদি আপনার সাথে আমার দেখা হতো, তবে আপনি সেখানে যেতেন না; আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ((তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও বাহন চালনা করা যাবে না...)) (১)।

আর এ কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ((ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যদি কেউ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর অথবা অন্য কোনো নবি বা নেককার বান্দাদের কবরের দিকে সফর করার মানত করে, তবে তার সেই মানত পূর্ণ করা আবশ্যক নয়, বরং এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে)) (২)।

 

সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, কবর যিয়ারত দুই প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: শরয়ি যিয়ারত (زيارة شرعية) যার উদ্দেশ্য হলো তাদের প্রতি সালাম পেশ করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা, যেমনটি কারো মৃত্যুর পর জানাজার নামাজের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করা হয়; এছাড়া মৃত্যুস্মরণ এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের উদ্দেশ্যেও এটি করা হয়, তবে শর্ত হলো সফর করা (شد الرحال) যাবে না।

--------------------------------------------

(১) নাসায়ি, কিতাবুল জুমুআহ, অনুচ্ছেদ: জুমার দিনে যে সময়ে দোয়া কবুল হয়, ৩/ ১১৪, (হাদিস নং ১৪২৮), এবং মালেক কৃত মুয়াত্তা, কিতাবুল জুমুআহ, অনুচ্ছেদ: জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত, ১/ ১০৯, এবং আহমাদ কৃত মুসনাদ, ৬/ ৭, ৩৯৭, এবং দেখুন: ফাতহুল মাজিদ, পৃষ্ঠা ২৮৯, এবং সহিহ নাসায়ি, ১/ ৩০৯।

(২) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১/ ২৩৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌النوع الثاني: زيارة شركية وبدعية (1)، وهذا النوع ثلاثة أنواع:

‌‌1 - من يسأل الميت حاجته، وهؤلاء من جنس عُبَّاد الأصنام.

‌‌2 - من سأل اللَّه - تعالى - بالميت، كمن يقول: أتوسل إليك بنبيك، أو بحق الشيخ فلان، وهذا من البدع المحدثة في الإسلام، ولا يصل إلى الشرك الأكبر، فهو لا يُخرِجُ عن الإسلام كما يُخرِج الأول.

‌‌3 - من يظنّ أن الدعاء عند القبور مُستجاب، أو أنه أفضل من الدعاء في المسجد، وهذا من المنكرات بالإجماع (2).

فإذا سلك الداعية هذه المسالك في دعوة الوثنيين بالحكمة القولية وُفّق بإذن اللَّه تعالى.

 

‌‌المبحث السابع: الشفاعة المثبتة والمنفية

‌‌الشفاعة لغة: يُقال: شفع الشيء: ضمَّ مثله إليه، فجعل الوتر شفعاً (3).

‌‌واصطلاحاً: التوسط للغير بجلب منفعة أو دفع مضرةٍ (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: فتاوى ابن تيمية، 1/ 233، والبداية والنهاية، 14/ 123.

(2) انظر: الدرر السنية في الأجوبة النجدية، 6/ 165 - 174.

(3) انظر: القاموس المحيط، باب العين، فصل الشين، ص947، والنهاية في غريب الحديث، 2/ 485، والمعجم الوسيط، 1/ 487.

(4) انظر: شرح لمعة الاعتقاد للشيخ محمد بن صالح العثيمين، ص80.
‌দ্বিতীয় প্রকার: শিরকি ও বিদআতি যিয়ারত (১), আর এই প্রকারটি তিন ধরনের:

‌‌১ - যারা মৃত ব্যক্তির কাছে নিজের হাজত বা প্রয়োজন প্রার্থনা করে; এরা মূর্তি পূজকদের সমগোত্রীয়।

‌‌২ - যারা মৃত ব্যক্তির উসিলায় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, যেমন কেউ বলে: আমি আপনার কাছে আপনার নবীর উসিলায় অথবা অমুক শায়খের হকের উসিলায় প্রার্থনা করছি। এটি ইসলামে উদ্ভাবিত নতুন বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে তা বড় শিরক পর্যন্ত পৌঁছে না; সুতরাং এটি ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, যেভাবে প্রথম প্রকারটি বের করে দেয়।

‌‌৩ - যারা মনে করে যে কবরের নিকট দুআ কবুল হয়, অথবা তা মসজিদে দুআ করার চেয়ে উত্তম; আর এটি সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) গর্হিত বিষয় (منكرات) সমূহের অন্তর্ভুক্ত (২)।

যদি কোনো দাঈ মূর্তিপূজকদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও হিকমতের সাথে এই পথগুলো অনুসরণ করেন, তবে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি সফল হবেন।

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: সাব্যস্তকৃত ও প্রত্যাখ্যাত সুপারিশ

‌‌সুপারিশের আভিধানিক অর্থ: বলা হয়: কোনো কিছুকে 'শাফআ' করা অর্থাৎ তার সাথে তার অনুরূপ আরেকটি বিষয় যুক্ত করা; ফলে এটি বেজোড়কে জোড়ে পরিণত করে (৩)।

‌‌পারিভাষিক অর্থ: অন্যের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনা অথবা অকল্যাণ রোধ করার উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতা করা (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১/২৩৩; এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৪/১২৩।

(২) দেখুন: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ, ৬/১৬৫ - ১৭৪।

(৩) দেখুন: আল-কামুস আল-মুহিত, বাবুল আইন, ফাসলুশ শিন, পৃষ্ঠা ৯৪৭; আন-নিহায়া ফী গরিবিল হাদিস, ২/৪৮৫; এবং আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত, ১/৪৮৭।

(৪) দেখুন: শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রচিত শারহু লুমআতিল ই'তিকাদ, পৃষ্ঠা ৮০।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
من الحكمة القولية في دعوة من يتعلق بغير اللَّه - تعالى - ويطلب الشفاعة منه أن يبين له أن الشفاعة ملك للَّه وحده {قُل للَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا لَّهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} (1).

 

ويمكن أن‌‌ يرد على من طلب الشفاعة من غير اللَّه - تعالى - بالأقوال الحكيمة الآتية:

‌‌أولاً: ليس المخلوق كالخالق، فكل من قال: إن الأنبياء والصالحين والملائكة أو غيرهم من المخلوقين لهم عند اللَّه جاهٌ عظيمٌ ومقاماتٌ عاليةٌ، فهم يشفعون لنا عنده كما يتقرب إلى الوجهاء والوزراء عند الملوك والسلاطين، ليجعلوهم وسائط لقضاء حاجاتهم، فهذا القول من أبطل الباطل؛ لأنه شبه اللَّه العظيم ملك الملوك بالملوك الفقراء المحتاجين للوزراء والوجهاء في تكميل ملكهم ونفوذ قوتهم، فإن الوسائط بين الملوك وبين الناس على أحد وجوه ثلاثة:

‌‌1 - إما لإخبارهم عن أحوال الناس بما لا يعرفونه.

‌‌2 - أو يكون الملكُ عاجزاً عن تدبير رعيته فلابدّ له من أعوان؛ لذُلِّهِ وعجزه.

‌‌3 - أو يكون الملك لا يريد نفع رعيته والإحسان إليهم، فإذا خاطبه من ينصحه ويعظه تحركت إرادته وهمّته في قضاء حوائج رعيته.

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر، الآية: 44.
আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী এবং তাদের নিকট সুপারিশ (شفاعة) প্রার্থনাকারীকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য হলো, তাকে এটা স্পষ্ট করে দেওয়া যে, সুপারিশ (شفاعة) কেবল আল্লাহরই মালিকানাধীন {বলুন, সকল সুপারিশ (شفاعة) আল্লাহরই মালিকানাধীন, আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই; তারপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে} (১)।

 

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের নিকট সুপারিশ (شفاعة) প্রার্থনাকারীকে নিচের প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাগুলোর মাধ্যমে উত্তর দেওয়া সম্ভব:

‌প্রথমত: সৃষ্টজীব স্রষ্টার সমতুল্য নয়, সুতরাং যে ব্যক্তিই বলবে যে, নবীগণ, নেককারগণ, ফেরেশতাগণ অথবা অন্য কোনো সৃষ্টজীবের আল্লাহর কাছে মহান মর্যাদা ও উচ্চ মাকাম রয়েছে, তাই তারা তাঁর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ (شفاعة) করবেন—যেমনভাবে রাজা-বাদশাহদের কাছে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উজির-নাজিরদের মাধ্যমে সান্নিধ্য গ্রহণ করা হয় যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য তাদের মাধ্যম বানাতে পারে—তবে এই কথাটি বাতিলদের মধ্যে নিকৃষ্টতম বাতিল; কারণ, সে রাজাধিরাজ মহান আল্লাহকে সেই দরিদ্র রাজাদের সাথে তুলনা করেছে যারা তাদের রাজত্ব পূর্ণ করতে এবং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারে উজির ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মুখাপেক্ষী। কেননা, রাজা এবং প্রজাদের মধ্যে মাধ্যম হওয়ার বিষয়টি তিনটি সুরতের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত:

‌১ - হয় তাদের কাছে জনগণের এমন অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ পৌঁছানো যা তারা জানেন না।

‌২ - অথবা রাজা তার প্রজাদের পরিচালনা করতে অক্ষম, তাই তার হীনতা ও অক্ষমতার কারণে অবশ্যই সহযোগীদের প্রয়োজন।

‌৩ - অথবা রাজা তার প্রজাদের উপকার করতে এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চান না, এমতাবস্থায় যখন তাকে কেউ উপদেশ দেয় বা নসিহত করে, তখন প্রজাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য তার ইচ্ছা ও সংকল্প জাগ্রত হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪৪।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
واللَّه عز وجل ليس كخلقه الضعفاء، فهو تعالى لا تخفى عليه خافية، وغني عن كل ما سواه، وأرحم بعباده من الوالدة بولدها، ومعلوم أن الشافع عند ملوك الدنيا قد يكون له ملك مستقل، وقد يكن شريكاً لهم، وقد يكون معاوناً لهم، فالملوك يقبلون شفاعته لأحد ثلاثة أمور:

(أ) تارة لحاجتهم إليه. (ب) وتارة لخوفهم منه.

(ج) وتارة لجزاء إحسانه إليهم.

وشفاعة العباد بعضهم عند بعض من هذا الجنس، فلا يقبل أحد شفاعة أحد إلا لرغبة أو رهبة، واللَّه عز وجل لا يرجو أحداً ولا يخافه، ولا يحتاج إليه (1)، ولهذا قطع اللَّه جميع أنواع التعلقات بغيره، وبين بطلانها، فقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ * وَلا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلاّ لِمَنْ أَذِنَ لَهُ .. } (2).

فقد سدّت هذه الآية على المشركين جميع الطرق التي دخلوا منها إلى الشرك أبلغ سد وأحكمه، فإن العابد إنما يتعلق بالمعبود لما يرجو من نفعه، وحينئذ فلابد أن يكون المعبود مالكاً للأسباب

--------------------------------------------

(1) انظر: فتاوى ابن تيمية، 1/ 126 - 129.

(2) سورة سبأ، الآيتان: 22 - 23.
আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁর দুর্বল সৃষ্টির মতো নন। তিনি মহান, তাঁর নিকট কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকে না এবং তিনি তাঁর ব্যতিরেকে অন্য সব কিছু হতে অমুখাপেক্ষী। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি জননীর চেয়েও অধিক দয়ালু। আর এটি সুপরিচিত যে, পার্থিব রাজন্যবর্গের নিকট সুপারিশকারী ব্যক্তি কখনো স্বাধীন রাজত্বের অধিকারী হতে পারে, কখনো হতে পারে তাদের অংশীদার, আবার কখনো হতে পারে তাদের সাহায্যকারী। ফলে রাজারা তিনটি বিষয়ের কোনো একটির কারণে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে থাকেন:

(ক) কখনো তার প্রতি তাদের মুখাপেক্ষিতার কারণে। (খ) কখনো তাকে ভয় পাওয়ার কারণে।

(গ) আবার কখনো তাদের প্রতি তার কৃত অনুগ্রহের প্রতিদান স্বরূপ।

বান্দাদের একে অপরের নিকট সুপারিশ মূলত এই জাতীয়ই হয়ে থাকে। তাই স্বার্থসিদ্ধির আকাঙ্ক্ষা অথবা ভীতি ছাড়া কেউ কারো সুপারিশ গ্রহণ করে না। অথচ আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা কারো নিকট প্রত্যাশা রাখেন না, কাউকে ভয় পান না এবং কারো মুখাপেক্ষীও নন (১)। একারণেই আল্লাহ তাআলা অন্যের সাথে সকল প্রকার সম্পর্কের ভিত্তি ছিন্ন করেছেন এবং এর অসারতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, ‘ তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (ইলাহ) মনে করতে তাদেরকে ডাকো; তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়। আর তাঁর নিকট সুপারিশ কোনো উপকারে আসে না, তবে যার জন্য তিনি অনুমতি দেন তার জন্য ছাড়া...’} (২)।

এই আয়াতটি মুশরিকদের শিরকে প্রবেশের সকল পথ অত্যন্ত জোরালো ও সুনিপুণভাবে রুদ্ধ করে দিয়েছে। কারণ ইবাদতকারী কেবল উপকারের আশাতেই মাবুদের প্রতি আসক্ত হয়; আর এমতাবস্থায় মাবুদকে অবশ্যই উপায়-উপকরণের মালিক হতে হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১/ ১২৬ - ১২৯।

(২) সূরা সাবা, আয়াত: ২২ - ২৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
التي ينتفع بها عابده، أو يكون شريكاً لمالكها، أو ظهيراً أو وزيراً أو معاوناً له، أو وجيهاً ذا حرمة وقدر يشفع عنده، فإذا انتفت هذه الأمور الأربعة من كل وجه انتفت أسباب الشرك وانقطعت مواده (1).

 

‌‌ثانياً: الشفاعة شفاعتان:

‌‌(أ) شفاعة مثبتة: وهي التي تطلب من اللَّه، ولها شرطان:

‌‌الشرط الأول: إذن اللَّه للشافع أن يشفع، لقوله تعالى: {مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ} (2).

‌‌الشرط الثاني: رضا اللَّه عن الشافع والمشفوع له، لقوله تعالى: {وَلا يَشْفَعُونَ إِلاّ لِمَنِ ارْتَضَى} (3)، {يَومَئِذٍ لَاّ تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إلاّ مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَرَضِيَ لَهُ قَولاً} (4).

‌‌(ب) الشفاعة المنفية: وهي التي تطلب من غير اللَّه فيما لا يقدر عليه إلا اللَّه، والشفاعة بغير إذنه ورضاه، والشفاعة للكفار: {فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} (5)، ويستثنى شفاعته صلى الله عليه وسلم في تخفيف

--------------------------------------------

(1) انظر: التفسير القيم، لابن القيم، ص408.

(2) سورة البقرة، الآية: 255.

(3) سورة الأنبياء، الآية: 28.

(4) سورة طه، الآية: 109.

(5) سورة المدثر، الآية: 48.
যা দ্বারা তাঁর ইবাদতকারী উপকৃত হয়, অথবা সে তাঁর মালিকের অংশীদার হয়, অথবা সাহায্যকারী, মন্ত্রী বা সহযোগী হয়, অথবা এমন মর্যাদাবান ও সম্মানীয় ব্যক্তি হয় যার সুপারিশ তাঁর নিকট কার্যকর হয়। সুতরাং যখন এই চারটি বিষয় সবদিক থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন শিরকের কারণসমূহ দূরীভূত হয় এবং এর উৎসসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সুপারিশ (شفاعة) দুই প্রকার:

‌‌(ক) সাব্যস্তকৃত সুপারিশ (شفاعة مثبتة): এটি হলো সেই সুপারিশ যা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা হয়, এবং এর জন্য দুটি শর্ত রয়েছে:

‌‌প্রথম শর্ত: সুপারিশকারীর সুপারিশ করার জন্য আল্লাহর অনুমতি লাভ করা, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} (২)।

‌‌দ্বিতীয় শর্ত: সুপারিশকারী এবং যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তারা সুপারিশ করে না কেবল তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট} (৩), {সেই দিন কোনো সুপারিশ উপকারে আসবে না, তবে পরম দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন তার ব্যতীত} (৪)।

‌‌(খ) অস্বীকৃত সুপারিশ (شفاعة منفية): এটি হলো সেই সুপারিশ যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট এমন বিষয়ে প্রার্থনা করা হয় যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সক্ষম নয়, এবং আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীত সুপারিশ, আর কাফেরদের জন্য সুপারিশ: {অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না} (৫), আর এর ব্যতিক্রম হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুপারিশ (শাস্তি) লঘু করার ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাফসীরুল কায়্যিম, ইবনুল কায়্যিম, পৃ. ৪০৮।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫।

(৩) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৮।

(৪) সূরা ত্বহা, আয়াত: ১০৯।

(৫) সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪৮।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
عذاب أبي طالب (1).

 

‌‌ثالثاً: الاحتجاج على من طلب الشفاعة من غير اللَّه بالنص والإجماع، فلم يكن النبي صلى الله عليه وسلم ولا الأنبياء من قبله شرعوا للناس أن يدعوا الملائكة، أو الأنبياء، أو الصالحين، ولا يطلبوا منهم الشفاعة، ولم يفعل ذلك أحد من الصحابة ولا التابعين لهم بإحسان، ولم يستحبّ ذلك أحد من أئمة المسلمين، لا الأئمة الأربعة ولا غيرهم، ولا مجتهد يعتمد على قوله في الدين، ولا من يعتبر قوله في مسائل الإجماع، فالحمد للَّه رب العالمين (2).

‌‌المبحث الثامن: الإله الحق سخر جميع ما في الكون لعباده

من الحكمة في دعوة المشركين إلى اللَّه - تعالى - لفت أنظارهم وقلوبهم إلى نعم اللَّه العظيمة: الظاهرة والباطنة، والدينية والدنيوية. فقد أسبغ على عباده جميع النعم {وَمَا بِكُم مِّن نِّعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} (3)، وسخر هذا الكون وما فيه من مخلوقات لهذا الإنسان.

--------------------------------------------

(1) انظر: البخاري مع الفتح، مناقب الأنصار، باب قصة أبي طالب، 7/ 173، ومسلم، كتاب الإيمان، باب أهون أهل النار عذاباً، برقم 211، 1/ 195.

(2) انظر: فتاوى ابن تيمية، 1/ 112، 158، 14/ 399 - 414، 1/ 108 - 165، 14/ 380، 409، 1/ 160 - 166، 195، 228، 229، 241، ودرء تعارض العقل والنقل، 5/ 147، وأضواء البيان، 1/ 137.

(3) سورة النحل، الآية: 53.
আবু তালিবের আযাব (১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: অকাট্য দলিল (نص) এবং ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তিতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট সুপারিশ (شفاعة) প্রার্থনাকারীর বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তাঁর পূর্ববর্তী কোনো নবি মানুষের জন্য ফেরেশতা, নবি বা নেককার বান্দাদের নিকট দুআ করার কিংবা তাঁদের নিকট সুপারিশ (شفاعة) চাওয়ার বিধান প্রবর্তন করেননি। সাহাবী (صحابة) বা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণের (تابعين) কেউ এমনটি করেননি এবং মুসলিমদের ইমামগণের কেউই একে মুস্তাহাব বা উত্তম মনে করেননি; না চার ইমাম, না অন্য কেউ। দ্বীনের ব্যাপারে যাঁর কথা নির্ভরযোগ্য এমন কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) বা ঐক্যমতের (إجماع) মাসআলায় যাঁর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, তাঁদের কেউই একে বৈধ বলেননি। সুতরাং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য (২)।

‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: সত্য ইলাহ মহাবিশ্বের সবকিছুকে তাঁর বান্দাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন

মুশরিকদের মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার অন্যতম হিকমত হলো তাদের দৃষ্টি ও অন্তরকে আল্লাহর মহান নেয়ামতসমূহের দিকে ধাবিত করা; যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং দ্বীনি ও পার্থিব। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর সকল নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন— {তোমাদের কাছে যে নেয়ামতই আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে} (৩), এবং তিনি এই মহাবিশ্ব ও এর মধ্যকার সকল সৃষ্টিকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বুখারি মাআল ফাতহ, মানাকিবুল আনসার, আবু তালিবের কাহিনী পরিচ্ছেদ, ৭/১৭৩; এবং মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২১১, ১/১৯৫।

(২) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ১/১১২, ১৫৮, ১৪/৩৯৯ - ৪১৪, ১/১০৮ - ১৬৫, ১৪/৩৮০, ৪০৯, ১/১৬০ - ১৬৬, ১৯৫, ২২৮, ২২৯, ২৪১; এবং দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি, ৫/১৪৭; এবং আদওয়াউল বায়ান, ১/১৩৭।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৫৩।
(খণ্ড: ১) কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল ওয়াসানিয়্যীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد بين سبحانه هذه النعم، وامتن بها على عباده، وأنه المستحق للعبادة وحده، ومما امتن به عليهم ما يأتي:

 

‌‌أولاً: على وجه الإجمال:

قال تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا … } (1)، {أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً} (2) الآية. {وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا مِّنْهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لَّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} (3).

فقد شمل هذا الامتنان جميع النعم: الظاهرة والباطنة، الحسيّة والمعنوية، فجميع ما في السموات والأرض قد سُخّر لهذا الإنسان، وهو شامل لأجرام السموات والأرض، وما أودع فيهما من: الشمس والقمر والكواكب، والثوابت والسيارات، والجبال والبحار والأنهار، وأنواع الحيوانات، وأصناف الأشجار والثمار، وأجناس المعادن، وغير ذلك مما هو من مصالح بني آدم، ومصالح ما هو من ضروراتهم للانتفاع والاستمتاع والاعتبار.

وكل ذلك دالّ على أن اللَّه وحده هو المعبود الذي لا تنبغي العبادة والذل والمحبة إلا له، وهذه أدلة عقلية لا تقبل ريباً ولا شكًّا

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 29.

(2) سورة لقمان، الآية: 20.

(3) سورة الجاثية، الآية: 13.
মহান আল্লাহ এই নেয়ামতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি এর মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। আর তিনিই যে একমাত্র ইবাদতের যোগ্য তাও স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাদের প্রতি যে সকল অনুগ্রহ করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু নিম্নে দেওয়া হলো:

 

‌‌প্রথমত: সামগ্রিকভাবে:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন … } (১), {তোমরা কি দেখনি যে, আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তোমাদের জন্য নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন?} (২) - আয়াতাংশ। {এবং তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবটুকুকে নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করে দিয়েছেন; নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে} (৩)।

এই অনুগ্রহ প্রদর্শন সকল নেয়ামতকে শামিল করে: প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আত্মিক। সুতরাং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুই মানুষের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। এটি আসমান ও জমিনের সকল সুবিশাল জ্যোতিষ্কমণ্ডলী এবং তাতে যা কিছু গচ্ছিত রয়েছে—যেমন: সূর্য, চন্দ্র, গ্রহসমূহ, স্থির নক্ষত্র ও পরিভ্রমণকারী জ্যোতিষ্কসমূহ, পাহাড়-পর্বত, সাগর ও নদীসমূহ, বিভিন্ন প্রকারের প্রাণী, নানা প্রকারের বৃক্ষ ও ফলমূল, বিভিন্ন প্রকারের খনিজ সম্পদ এবং এছাড়াও বনী আদমের কল্যাণ ও তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে তারা উপকার লাভ, জীবন উপভোগ ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

আর এই সবকিছু একথারই প্রমাণ বহন করে যে, আল্লাহই একমাত্র মা’বুদ, যাঁর জন্য ব্যতীত অন্য কারো প্রতি ইবাদত, বিনয় ও ভালোবাসা সমীচীন নয়। আর এগুলো হলো যৌক্তিক দলিল যা কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয় গ্রহণ করে না।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৯।

(২) সূরা লুকমান, আয়াত: ২০।

(৩) সূরা আল-জাসিয়া, আয়াত: ১৩।