(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كيفية دعوة الملحدين إلى الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة القسم: كتب عامة
الكتاب: كيفية دعوة الملحدين إلى اللَّه تعالى في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 32
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নাস্তিকদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নাস্তিকদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরায়সি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
كيفية دعوة الملحدين إلى اللَّه تعالى
في ضوء الكتاب والسنة
تأليف الفقير إلى اللَّه تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানির রচনাবলি
নাস্তিকদের মহান আল্লাহর দিকে ডাকার পদ্ধতি
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দার সংকলন
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في)) كيفية دعوة الملحدين إلى اللَّه تعالى ((بينت فيها بإيجاز الأساليب والطرق في كيفية دعوتهم إلى اللَّه تعالى. واللَّه تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل اليسير مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول وهو حسبنا ونعم الوكيل.
وصلى اللَّه وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد بن عبد اللَّه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر ضحى يوم الخميس 25/ 2/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি "নাস্তিকদের আল্লাহর দিকে আহ্বানের পদ্ধতি" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; যেখানে আমি সংক্ষেপে তাঁদের আল্লাহর পথে ডাকার পন্থা ও পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সামান্য কাজটিকে বরকতময়, উপকারী ও কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। আর যেন এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পর উপকৃত করেন এবং একে প্রত্যেকের জন্য উপকারী করেন যার নিকট এটি পৌঁছাবে; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আশার স্থল হিসেবে পরম মহান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
লেখক
২৫/০২/১৪২৫ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تمهيد: إنزال الناس منازلهم:الداعية الحكيم هو الذي يدرس الواقع، وأحوال الناس، ومعتقداتهم، وينزل الناس منازلهم، ثم يدعوهم على قدر عقولهم وأفهامهم وطبائعهم وأخلاقهم ومستواهم العلمي والاجتماعي، والوسائل التي يؤتون من جهتها، ولهذا قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: ((حدثوا الناس بما يعرفون، أتحبون أن يكذب اللَّه ورسوله)) (1).
وذُكر عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: ((أمرنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أن نُنزل الناس منازلهم)) (2).
وقال عبد اللَّه بن مسعود رضي الله عنه: ((ما أنت بمحدث قوماً حديثاً لا تبلغه عقولهم إلا كان لبعضهم فتنة)) (3).
وقد بيَّن النبي صلى الله عليه وسلم ذلك للدعاة إلى اللَّه عز وجل فقال لمعاذ بن جبل حينما بعثه إلى اليمن - داعياً ومعلماً وقاضياً -: ((إنك تأتي قوماً أهل كتاب
… )) الحديث (4).
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা: মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা:একজন প্রজ্ঞাবান দাঈ হলেন তিনি, যিনি বাস্তব পরিস্থিতি, মানুষের অবস্থা এবং তাদের আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে অধ্যয়ন করেন এবং মানুষকে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তাদের মেধা, বোধশক্তি, স্বভাব, চরিত্র, জ্ঞানগত ও সামাজিক স্তর এবং যেসব উপায়ে তাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানো সম্ভব, সে অনুযায়ী তাদের আহ্বান করেন। এই কারণেই আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “মানুষের নিকট তাদের জানাশোনা বা বোধগম্য বিষয় অনুযায়ী কথা বলো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হোক?” (১)।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করি” (২)।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “তুমি যখনই কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তি অনুধাবন করতে সক্ষম নয়, তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনা স্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে” (৩)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের জন্য বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে দাঈ, শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ...” হাদিস (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فبيَّن صلى الله عليه وسلم لمعاذ عقيدة القوم الذين سوف يقدم عليهم حتى يعرف حالهم، ويستعد لهم، ويقدم لهم ما يناسبهم، وما يصلح أحوالهم.
وقال صلى الله عليه وسلم لعائشة ’: ((يا عائشة، لولا قومك حديثٌ عهدهم بكفر لنقضت الكعبة وجعلت لها بابين: باب يدخل الناس، وباب يخرجون)) (1).
فترك صلى الله عليه وسلم هذه المصلحة؛ لأمن الوقوع في المفاسد (2).
فدراسة البيئة والمكان الذي تبلغ فيه الدعوة أمر مهمٌّ جداً، فإن الداعية يحتاج في دعوته إلى معرفة أحوال المدعوين: الاعتقادية، والنفسية، والاجتماعية، والاقتصادية، ومعرفة مراكز الضلال ومواطن الانحراف معرفة جيدة، ويحتاج إلى معرفة لغتهم، ولهجتهم، وعاداتهم، والإحاطة بمشكلاتهم ونزعاتهم الخلقية، وثقافتهم، ومستواهم الجدلي، والشبه التي انتشرت في مجتمعهم، ومذاهبهم (3).
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াজের নিকট সেই সম্প্রদায়ের আকিদাহ বর্ণনা করেছেন যাদের কাছে তিনি পৌঁছাবেন, যাতে তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন, তাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং তাদের জন্য যা উপযোগী ও যা তাদের অবস্থার সংশোধন করে তা পেশ করতে পারেন।
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়শা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: ((হে আয়শা! তোমার কওম যদি কুফরি যুগ থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা নতুন না হতো, তবে আমি কাবা ভেঙে ফেলতাম এবং এর জন্য দুটি দরজা তৈরি করতাম: একটি দরজা দিয়ে মানুষ প্রবেশ করত এবং অন্যটি দিয়ে বের হতো)) (১)।
সুতরাং অনিষ্ট ঘটার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকার লক্ষ্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই কল্যাণকর বিষয়টি বর্জন করেছিলেন (২)।
অতএব যে পরিবেশ ও স্থানে দাওয়াত প্রচার করা হবে তা নিয়ে অধ্যয়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা একজন দাঈর জন্য দাওয়াতের ক্ষেত্রে দাওয়াতপ্রাপ্তদের আকিদাগত, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানা আবশ্যক। এছাড়া বিভ্রান্তির কেন্দ্রসমূহ এবং বিচ্যুতির স্থানসমূহ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা এবং তাদের ভাষা, উপভাষা, রীতিনীতি, তাদের সমস্যা ও চারিত্রিক প্রবণতা, সংস্কৃতি, বিতর্কের মান এবং তাদের সমাজে প্রচলিত সংশয় ও মতবাদসমূহ সম্পর্কে পরিবেষ্টিত জ্ঞান রাখা প্রয়োজন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والداعية الحكيم يكون مدركاً لما حوله، مقدراً للظروف التي يدعو فيها، مراعياً لحاجات الناس ومشاعرهم، وكل أحوالهم.
والداعية إلى اللَّه – تعالى – لا ينجح في دعوته، ولا يكون موفقاً في تبليغه ولا مسدداً في قوله وفعله حتى يعرف من يدعوهم، وهل هذا المجتمع من المسلمين العُصاة، أو من المسلمين الذين انتشرت فيهم البدع والخرافات؟ هل هذا المجتمع من أهل الكتاب؟ فإذا كانوا منهم، فهل هم من اليهود أم من النصارى؟ هل هذا المجتمع من الملحدين الطبيعيين والماديين والدهريين؟ أم من الوثنيين المشركين؟
فإذا عرف الداعية هذا كله، فكيف يدعو كل فئة من هذه الفئات بالحكمة؟ وماذا يقدم معهم؟ وماذا يؤخر؟ وما القضايا التي يعطيها أهمية وأولوية قبل غيرها؟ وما الأفكار الضرورية التي يطرحها ويبدأ بها؟
وهكذا، فالداعية الحكيم كالطبيب الحكيم الذي يشخص المرض، ويعرف الداء ويحدده، ثم يعطي الدواء المناسب على حسب حال المريض ومرضه، مراعياً في ذلك: قوة المريض وضعفه، وتحمله للعلاج، وقد يحتاج المريض إلى عملية جراحية فيشق بطنه، أو يقطع شيئاً من أعضائه، من أجل استئصال المرض
একজন প্রজ্ঞাবান দাঈ তাঁর চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকেন, যে পরিস্থিতিতে তিনি দাওয়াত দিচ্ছেন তা উপলব্ধি করেন এবং মানুষের প্রয়োজন, অনুভূতি ও তাদের সার্বিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখেন।
মহান আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতে সফল হতে পারেন না, তাঁর প্রচারকার্যে কামিয়াব হতে পারেন না এবং তাঁর কথা ও কাজে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রাপ্ত হন না, যতক্ষণ না তিনি যাদের দাওয়াত দিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত হন। এই সমাজ কি পাপিষ্ঠ মুসলমানদের, নাকি এমন মুসলমানদের যাদের মধ্যে বিদআত (بدعة) ও কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে? এই সমাজ কি আহলে কিতাবদের? যদি তারা আহলে কিতাব হয়, তবে তারা কি ইহুদি নাকি খ্রিস্টান? এই সমাজ কি প্রকৃতিবাদী নাস্তিক, বস্তুাবাদী ও কালবাদীদের? নাকি মূর্তিপূজারী মুশরিকদের?
যখন একজন দাঈ এই সব বিষয় জানতে পারেন, তখন তিনি কীভাবে এই দলগুলোর প্রত্যেকটিকে হিকমতের সাথে দাওয়াত দেবেন? তাদের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি আগে উপস্থাপন করবেন আর কোনটি পরে? কোন বিষয়গুলোকে তিনি অন্য বিষয়ের তুলনায় গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেবেন? এবং কোন প্রয়োজনীয় চিন্তাগুলো তিনি পেশ করবেন ও কী দিয়ে শুরু করবেন?
এভাবেই, একজন প্রজ্ঞাবান দাঈ হলেন একজন বিজ্ঞ চিকিৎসকের মতো, যিনি রোগ নির্ণয় করেন, ব্যাধি শনাক্ত ও সুনির্দিষ্ট করেন, অতঃপর রোগীর অবস্থা ও রোগের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ প্রদান করেন। এক্ষেত্রে তিনি রোগীর সামর্থ্য ও দুর্বলতা এবং চিকিৎসা সহ্য করার ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য রাখেন। কখনো কখনো রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, তখন রোগ নির্মূল করার জন্য পেট চিরতে হয় অথবা শরীরের কোনো অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়।
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
طلباً لصحة المريض، وهكذا الداعية الحكيم يعرف أمراض المجتمع، ويحدد الداء، ويعرف الدواء، وينظر ما هي الشبه والعوائق فيزيلها، ثم يقدم المادة المناسبة بدءاً بأمور العقيدة الإسلامية الصحيحة الصافية، مع تشويق المدعو إلى القبول والإجابة.
المبحث الأول: مفهوم الإلحاد
الإلحاد في الأصل هو: الميل والعدول عن الشيء، والظلم والجور، والجدال والمراء، يقال: لحد في الدين لحداً، وألحد إلحاداً، لمن مال وعدل ومارى وجادل وظلم (1).
واللحد: الشق الذي يعمل في جانب القبر لموضع الميت؛ لأنه قد أُميل عن وسط القبر إلى جانبه (2).
والإلحاد: هو الميل عن الحق، والانحراف عنه بشتى الاعتقادات، والتأويل الفاسد، والمنحرف عن صراط اللَّه والمعاكس لحكمه يسمى ملحداً (3).
--------------------------------------------
রোগীর আরোগ্য কামনায়; অনুরূপভাবে একজন প্রজ্ঞাবান দাঈ সমাজের ব্যাধিগুলো চিহ্নিত করেন, রোগ নির্ধারণ করেন এবং এর নিরাময় সম্পর্কে অবগত থাকেন। তিনি সংশয় ও প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং তা দূর করেন। অতঃপর তিনি যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাকে সত্য গ্রহণ ও আহ্বানে সাড়া দিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সঠিক (صحيحة) ও স্বচ্ছ ইসলামি আকিদার বিষয়াদি দিয়ে দাওয়াতের কাজ শুরু করেন।
প্রথম পরিচ্ছেদ: নাস্তিকতার ধারণা
নাস্তিকতা মূলত হলো: কোনো কিছু থেকে বিচ্যুত হওয়া ও সরে যাওয়া, জুলুম ও অবিচার এবং ঝগড়া ও বিতর্ক করা। বলা হয়ে থাকে: সে দীনের মধ্যে বিচ্যুতি ঘটিয়েছে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে, বিমুখ হয়েছে, বিতর্ক করেছে, ঝগড়া করেছে এবং জুলুম করেছে (১)।
আর লাহদ হলো: মৃত ব্যক্তিকে রাখার জন্য কবরের একপাশে যে গর্ত তৈরি করা হয়; কারণ তা কবরের মাঝখান থেকে একপাশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (২)।
আর নাস্তিকতা হলো: সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তা থেকে দূরে সরে যাওয়া। আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্যুত এবং তাঁর বিধানের বিরুদ্ধাচরণকারীকে নাস্তিক বলা হয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
والمراد بالملحدين في هذا المبحث: هو المعنى المصطلح عليه في هذا العصر، وهم: من أنكروا وجود رب خالق لهذا الكون، متصرف فيه، يدبر أمره بعلمه وحكمته، ويجري أحداثه بإرادته وقدرته، واعتبار الكون أو مادته الأولى أزلية، واعتبار تغيراته قد تمت بالمصادفة، أو بمقتضى طبيعة المادة وقوانينها، واعتبار الحياة - وما تستتبع من شعور وفكر حتى قمتها الإنسان - من أثر التطور الذاتي للمادة (1).
المبحث الثاني: الأدلة الفطريةالفطر: الشق، والجمع منه فُطورٌ (2)، قال تعالى: {فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِن فُطُورٍ} (3)، وفطر اللَّه العالم: أوجده ابتداء (4)، وفطر الخلق: خلقهم وبدأهم (5)، {إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ} (6)، والفطرة: الخلقة التي خُلِقَ عليها كل موجود أول
--------------------------------------------
এই পরিচ্ছেদে 'নাস্তিক' (الملحدين) বলতে বর্তমান যুগে প্রচলিত পারিভাষিক অর্থটিই উদ্দেশ্য, আর তারা হলো: যারা এই মহাবিশ্বের অস্তিত্বদাতা রবের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, যিনি মহাবিশ্বের সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রক, স্বীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা এর কার্যাদি পরিচালনা করেন এবং নিজ ইচ্ছা ও ক্ষমতায় এর ঘটনাপ্রবাহ ঘটান; আর তারা মহাবিশ্ব বা এর আদি বস্তুকে অনাদি মনে করে এবং এর পরিবর্তনসমূহ দৈবক্রমে অথবা বস্তুর প্রকৃতি ও নিয়মানুযায়ী সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করে; আর তারা জীবনকে—এবং এর আনুষঙ্গিক অনুভূতি ও চিন্তা থেকে শুরু করে এর চরম শিখর মানুষ পর্যন্ত—বস্তুর স্বয়ংক্রিয় বিবর্তনের ফল বলে গণ্য করে (১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বভাবজাত প্রমাণসমূহ (الأدلة الفطرية)'ফাতর' (الفطر) অর্থ: বিদীর্ণ করা, আর এর বহুবচন হলো 'ফুতুর' (فطور) (২)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তুমি পুনরায় দৃষ্টি ফিরাও, তুমি কি কোনো ফাটল (فطور) দেখতে পাচ্ছ?" (৩)। আর 'আল্লাহ জগৎ সৃষ্টি করেছেন' বলতে বোঝায়: তিনি তা প্রারম্ভিকভাবে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন (৪)। আর 'তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন' বলতে বোঝায়: তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন ও শুরু করেছেন (৫)। "নিশ্চয়ই আমি আমার মুখমণ্ডল সেই সত্তার দিকে ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন" (৬)। আর 'ফিতরাত' (الفطرة) হলো: সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি যার ওপর প্রতিটি আদি সৃষ্টিকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
خلقة (1)، والخلقة التي خلق عليها المولود في رحم أمه، والدين (2)، والطبيعة السليمة التي لم تُشَبْ بعيبٍ (3)، قال الرسول صلى الله عليه وسلم: ((ما من مولود إلا يولد على الفطرة، فأبواه يُهوِّدانه، أو ينصِّرانه، أو يمجِّسانه، كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء هل تحسون بها من جَدْعَاء)) (4)، ثم يقول أبو هريرة رضي الله عنه: {فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} (5).
فمن حكمة القول مع الملحدين أن يستخدم الداعية إلى اللَّه - تعالى - في دعوته لهم الأدلة الفطرية، فيوضح ويبين لهم أن المولود يولد على نوع من الجبلة والطبع المتهيئ لقبول الدين، فلو تُرِكَ عليها لاستمر على لزومها ولم يفارقها إلى غَيرها، وإنما يعدل عنها من يعدل؛ لآفة من آفات البشر والتقليد
… وكل مولود يولد
--------------------------------------------
সৃষ্টি (১), এবং মায়ের গর্ভে থাকাকালীন নবজাতককে যে প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে তা, এবং ধর্ম (২), এবং সেই সুস্থ প্রকৃতি যা কোনো খুঁত দ্বারা কলুষিত হয়নি (৩), রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতকই সহজাত স্বভাব (الفطرة) এর ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায়, অথবা খ্রিস্টান বানায়, অথবা অগ্নিপূজক বানায়; যেমন একটি চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়, তোমরা কি সেখানে কোনো কান-কাটা বা খুঁতযুক্ত বাচ্চা দেখতে পাও?" (৪), তারপর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "আল্লাহর দেওয়া সেই প্রকৃতি (الفطرة), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই।" (৫)।
নাস্তিকদের সাথে আলোচনার প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতি হলো, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী (দাঈ) যেন তাদের কাছে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টিগত বা স্বভাবজাত প্রমাণাদি ব্যবহার করেন। ফলে তিনি তাদের নিকট এটি স্পষ্ট করবেন যে, নবজাতক এমন এক স্বভাব ও প্রকৃতির ওপর জন্মগ্রহণ করে যা দ্বীন কবুল করার জন্য প্রস্তুত। যদি তাকে সেই প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে সে তার ওপরই অটল থাকতো এবং তা ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হতো না। আর যে ব্যক্তি এ থেকে বিচ্যুত হয়, সে মানুষের কোনো আপদ বা অন্ধ অনুকরণের কারণে বিচ্যুত হয়
… এবং প্রত্যেক নবজাতকই জন্মগ্রহণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
على معرفة اللَّه والإقرار به، فلا تجد أحداً إلا وهو يقرّ بأن له صانعاً وإن سماه بغير اسمه، أو عبد معه غيره (1).
والمقصود بفطرة اللَّه التي فطر الناس عليها: فطرة الإسلام (2)، والسلامة من الاعتقادات الباطلة، والقبول للعقائد الصحيحة؛ فإن حقيقة الإسلام هو الاستسلام للَّه وحده.
وقد ضرب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مثل ذلك فقال: ((كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء، هل تحسون فيها من جدعاء؟)).
فأوضح أن سلامة القلب من النقص كسلامة البدن، وأن العيب حادث طارئ (3)، قال صلى الله عليه وسلم: ((إني خلقتُ عبادي كلهم حُنفاء، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يُشركوا بي ما لم أنزل به سلطاناً
… )) (4).
وقد مثل شيخ الإسلام ابن تيمية الفطرة مع الحق بمثل يوضح ذلك، فقال: ((ومثل الفطرة مع الحق مثل ضوء العين مع الشمس، وكل ذل عين لو ترك بغير حجاب لرأى الشمس، والاعتقادات الباطلة
--------------------------------------------
আল্লাহর পরিচয় এবং তাঁর স্বীকৃতির ওপর (মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে), ফলে আপনি এমন কাউকে পাবেন না যে এটা স্বীকার করে না যে তার একজন স্রষ্টা রয়েছেন, যদিও সে তাঁকে অন্য নামে ডাকে অথবা তাঁর সাথে অন্যদের ইবাদত করে (১)।
আর 'ফিতরাতুল্লাহ' (আল্লাহর ফিতরাত) যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ইসলামের ফিতরাত (২), বাতিল বিশ্বাসসমূহ থেকে মুক্ত থাকা এবং সঠিক আকিদাহসমূহ গ্রহণ করা; কেননা ইসলামের প্রকৃত অর্থই হলো একমাত্র আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একটি উদাহরণ পেশ করে বলেছেন: "যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়, তোমরা কি সেখানে কোনো কান-কাটা বা অঙ্গহীন কিছু অনুভব করো?"
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ত্রুটি থেকে অন্তরের সুস্থতা শারীরিক সুস্থতার মতোই এবং দোষ হলো পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া বিষয় (৩), তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (حنفاء) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে। আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম, তারা তা তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছে এবং তাদের নির্দেশ দিয়েছে আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করতে যার স্বপক্ষে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি..." (৪)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ হকের সাথে ফিতরাতের সম্পর্কের একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, তিনি বলেছেন: "হকের সাথে ফিতরাতের উদাহরণ হলো সূর্যের সাথে চোখের আলোর উদাহরণের মতো। প্রত্যেক চোখকে যদি কোনো আবরণ ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সে সূর্য দেখতে পাবে। আর বাতিল বিশ্বাসসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
العارضة من: تهودٍ، وتنصرٍ، وتمجسٍ، مثل حجاب يحول بين البصر ورؤية الشمس، وكذلك كل ذي حس سليم يحب الحلو، إلا أن يعرض في طبيعته فساد يحرفه حتى يجعل الحلو في فمه مرًّا)) (1).
وليس المراد بقوله صلى الله عليه وسلم: ((يولد على الفطرة)) أنه خرج من بطن أمه يعلم الدين ويعتقد الإسلام بالفعل؛ لأن اللَّه يقول: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ الْسَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (2).
ولكن المراد أن فطرته مقتضية لمعرفة دين الإسلام ومحبته، وقبوله وإرادته للحق، وإقراره بالربوبية، فلو خُلّي من غير معارض ومن غير مغيِّر لما كان إلا مسلماً ولم يعدل عن ذلك إلى غيره، كما أنه يولد على محبة ما يلائم بدنه من ارتضاع اللبن حتى يصرفه عنه صارف، ومن ثم شُبِّهت الفطرة باللبن، فهي تستلزم معرفة اللَّه ومحبته وتوحيده (3).
ويدل على ذلك رواية مسلم: ((ما من مولو يُولَدُ إلا وهو على هذه الملة حتى يُبيِّن عنه لسانه)) (4).
--------------------------------------------
সাংস্কৃতিক আপদ যেমন: ইহুদিকরণ (تهود), খ্রিষ্টীয়করণ (تنصر) ও অগ্নিপূজারি হওয়া (تمجس)—একটি আবরণের মতো যা দৃষ্টিশক্তি এবং সূর্য দেখার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তেমনিভাবে প্রতিটি সুস্থ বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিই মিষ্টান্ন পছন্দ করে, যদি না তার স্বভাবজাত প্রকৃতিতে এমন কোনো বিকৃতি ঘটে যা তাকে বিভ্রান্ত করে, এমনকি তার মুখে মিষ্টিকেও তিক্ত করে দেয় (১)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—'প্রতিটি সন্তান ফিতরাতের (الفطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে'—এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, সে তার মায়ের পেট থেকে দ্বীন সম্পর্কে জেনে এবং বাস্তবে ইসলামে বিশ্বাসী হয়ে বের হয়েছে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না এবং তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (২)।
বরং এর উদ্দেশ্য হলো, তার ফিতরাত (الفطرة) ইসলাম ধর্মকে জানা ও তাকে ভালোবাসা এবং সত্য গ্রহণ ও কামনার সাথে সাথে রুবুবিয়্যাত (الربوبية) বা আল্লাহর প্রভুত্বের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি রাখে। সুতরাং যদি তাকে কোনো প্রতিবন্ধক বা পরিবর্তনকারী ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে সে মুসলিম হিসেবেই গড়ে উঠত এবং তা থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য কিছুর দিকে যেত না। যেমনটি সে তার শরীরের জন্য উপযুক্ত দুগ্ধপানের আসক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যতক্ষণ না কোনো বিমুখকারী তাকে তা থেকে ফিরিয়ে নেয়। এ কারণেই ফিতরাতকে (الفطرة) দুধের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ফলে তা আল্লাহর মারিফত (معرفة - পরিচয়), ভালোবাসা ও তাওহীদকে (توحيد - একত্ববাদ) আবশ্যক করে (৩)।
সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনা এর প্রমাণ দেয়: "এমন কোনো নবজাতক নেই যে এই মিল্লাত বা আদর্শের ওপর জন্মগ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তার জিহ্বা তার পক্ষ থেকে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد أخبر اللَّه عز وجل أنه استخرج ذرية بني آدم من أصلابهم شاهدين على أنفسهم أن اللَّه ربهم ومليكهم وأنه لا إله إلا هو {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُواْ بَلَى شَهِدْنَا} الآية (1).
وهذا يدل دلالة قاطعة على أن كل إنسان قد فُطِرَ على الإيمان بخالقه من غير سبق تفكير أو تعليم (2).
ومما يبين ذلك ويوضحه أن العاقل إذا رجع إلى نفسه وعقله أدنى رجوع عرف افتقاره إلى الخالق - تعالى - في تكوينه وبقائه وتقلبه في أحواله (3)، وإذا نظر إلى الخلائق علم فقرهم كلهم إلى الخالق في كل شيء: فقراء إليه في الخلق والإيجاد، وفي البقاء والرزق والإمداد، وفقراء إليه في جلب المنافع ودفع المضار.
فانظر إلى حالة الناس إذا كربتهم الشدائد، ووقعوا في المهالك، وأشرفوا على الأخطار، كيف تجد قلوبهم معلقة باللَّه، وأصواتهم مرتفعة بسؤاله، وأفئدتهم تنظر إلى إغاثته، لا تلتفت يمنة ولا يسرة إلا إليه (4).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আদম সন্তানদের তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে বংশধর হিসেবে বের করেছেন এবং তাদেরকে নিজেদের ওপর সাক্ষী করেছেন যে, আল্লাহ তাদের রব ও অধিপতি এবং তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। {আর যখন আপনার রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদেরকে নিজেদের ওপর সাক্ষী করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি’} আয়াত (১)।
এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, প্রতিটি মানুষ কোনো পূর্বচিন্তা বা শিক্ষা ছাড়াই তার স্রষ্টার প্রতি ঈমানের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি হয়েছে (২)।
যা এই বিষয়টিকে আরও সুস্পষ্ট করে তা হলো, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যদি তার নিজের সত্তা ও বিবেকের দিকে সামান্যতম দৃষ্টিপাত করে, তবে সে তার সৃষ্টিপ্রক্রিয়া, স্থায়িত্ব এবং অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মহান স্রষ্টার—তাআলা—প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা অনুভব করতে পারে (৩)। আর যখন সে সৃষ্টিজগতের দিকে তাকায়, তখন সে প্রতিটি বিষয়ে স্রষ্টার প্রতি তাদের সামগ্রিক মুখাপেক্ষিতা উপলব্ধি করে: সৃষ্টি ও অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনার ক্ষেত্রে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী; স্থায়িত্ব, রিজিক ও জীবনোপকরণের ক্ষেত্রে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী; এবং কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ দূর করার ক্ষেত্রেও তারা কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী।
অতএব, মানুষের সেই অবস্থার দিকে লক্ষ করুন যখন তারা কঠিন বিপদে পড়ে, ধ্বংসের মুখে পতিত হয় এবং বিপদের সম্মুখীন হয়—আপনি দেখতে পাবেন কীভাবে তাদের অন্তর আল্লাহর সাথে নিবিষ্ট হয়ে আছে, তাদের কণ্ঠস্বর তাঁর কাছে প্রার্থনায় উচ্চকিত হচ্ছে এবং তাদের হৃদয় তাঁর সাহায্যের অপেক্ষায় ব্যাকুল হচ্ছে; তারা ডানে কিংবা বামে ভ্রুক্ষেপ না করে কেবল তাঁরই অভিমুখী হয় (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومما يزيد ذلك وضوحاً أن الخلق متى شاهدوا شيئاً من الحوادث المتجددة كالرعد والصواعق، والبرق والزلازل، والبراكين المتفجرة الثائرة، والريح الشديدة، وانهمار الأمطار الغزيرة، وفيضانات الأنهار، واضطراب الأمواج في البحار والمحيطات، متى شاهدوا ذلك دعوا اللَّه وسألوه وافتقروا إليه؛ لأنهم يعلمون أن هذه الحوادث المتجددة لم تتجدد بنفسها، بل لها مُحدث أحدثها، وإن كانوا يعلمون هذا في سائر المحدثات؛ لكن ما اعتادوا حدوثه صار مألوفاً لهم، بخلاف المتجدد، ولو لم يكن إلا خلق الإنسان، فإنه من أعظم الآيات، فكلٌّ يعلم أنه لم يحدث نفسه، ولا أبواه أحدثاه، ولا أحد من البشر أحدثه، ويعلم أنه لابد له من خالق خلقه، وأن هذا الخالق موجود، حي، عليم، قدير، سميع، بصير، حكيم، حفيظ (1)، {وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ} (2)، وقال - سبحانه - تذكيراً لهذا الإنسان الجاحد: {وَإِذَا مَسَّكُمُ الْضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَن تَدْعُونَ إِلَاّ إِيَّاهُ} (3)، {وَمَا بِكُم مِّن نِّعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ} (4).
--------------------------------------------
বিষয়টিকে যা আরও স্পষ্ট করে দেয় তা হলো, সৃষ্টিজগত যখনই নতুন কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার প্রত্যক্ষ করে যেমন বজ্রধ্বনি, বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো, ভূমিকম্প, উদ্গিরণকারী আগ্নেয়গিরি, প্রবল বাতাস, মুষলধারে বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর বন্যা এবং সাগর ও মহাসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা—যখনই তারা এগুলো প্রত্যক্ষ করে, তারা আল্লাহকে ডাকে, তাঁর কাছে প্রার্থনা করে এবং তাঁর মুখাপেক্ষী হয়; কারণ তারা জানে যে, এই নতুন ঘটনাগুলো নিজে নিজে উদ্ভূত হয়নি, বরং এদের একজন উদ্ভাবক রয়েছেন যিনি এগুলো ঘটিয়েছেন। যদিও তারা অন্যান্য সকল নশ্বর সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি জানে; কিন্তু যে বিষয়গুলোর সৃষ্টিতে তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছে তা তাদের কাছে মূর্ত হয়ে উঠেছে, যা নতুন বিষয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন। আর যদি কেবল মানুষের সৃষ্টির কথাই ধরা হয়, তবে তা মহান নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কারণ প্রত্যেকেই জানে যে সে নিজেকে সৃষ্টি করেনি, তার পিতামাতাও তাকে সৃষ্টি করেননি এবং কোনো মানুষও তাকে সৃষ্টি করেনি। সে জানে যে তার জন্য একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই স্রষ্টা বিদ্যমান, চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, প্রজ্ঞাময় ও পরম রক্ষণাবেক্ষণকারী (১), {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন রয়েছে), তোমরা কি তা প্রত্যক্ষ করবে না?} (২), এবং তিনি—মহিমান্বিত—অকৃতজ্ঞ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন: {যখন সমুদ্রে তোমাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তখন তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদের ডাকতে তারা সবাই বিলীন হয়ে যায়} (৩), {তোমাদের নিকট যে নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; অতঃপর যখন তোমাদের ওপর কোনো দুঃখ-কষ্ট আপতিত হয় তখন তোমরা তাঁর কাছেই আর্তনাদ করো} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فبين هذا أن الناس إذا غفلوا عن هذه الفطرة في حال السراء فلا شك أنهم يلوذون إليها في حال الضراء، لعلمهم الفطري أن اللَّه الذي يكشف الشدائد، ولا ملجأ منه إلا إليه، فيسألونه بلسان المقال ولسان الحال، فهل هذه الأمور تحصل إلا لأن الخليقة مفطورة على الاعتراف بربوبية اللَّه ووحدانيته، وأنه النافع والضار، وملكوت كل شيء بيده، إلا من فسدت فطرته بالعقائد الفاسدة (1).
المبحث الثالث: البراهين والأدلة العقليةإذا كان الماديون والطبيعيون والدهريون يتظاهرون بإنكار وجود اللَّه - تعالى - فإن من الحكمة في دعوة هؤلاء إلى اللَّه - تعالى - أن تُقدّم لهم البراهين والأدلة العقلية القطعية في المسالك الآتية:
المسلك الأول: التقسيم العقلي الحكيم:يستدل على كل من أنكر وجود اللَّه - تعالى - وربوبيته بأمر لا يمكنهم إلا التسليم للحق والانقياد له، أو الخروج عن موجب العقل إلى الجنون والفطر المنحرفة، فيقال لكل من أنكر ذلك:
الأمور الممكن تقسيمها في العقل ثلاثة لا رابع لها:
1 - إما أن تُوجد هذه المخلوقات بنفسها صُدقة من غير مُحدث ولا
--------------------------------------------
এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে, মানুষ যখন সুসময়ে এই স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তখন তারা নিঃসন্দেহে বিপদের সময় এরই আশ্রয় গ্রহণ করে। কেননা তাদের স্বভাবজাত জ্ঞান (فطرة) এই যে, আল্লাহই বিপদসমূহ দূর করেন এবং তাঁর পাকড়াও থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তখন তারা জবানের ভাষায় কিংবা অবস্থার ভাষায় তাঁরই কাছে প্রার্থনা করে। তবে এই বিষয়গুলো কি এ কারণেই ঘটে না যে, সৃষ্টিজগৎ আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (ربوبية) ও তাঁর একত্ববাদের (وحدانية) স্বীকৃতির ওপর স্বভাবগতভাবেই (فطرة) সৃষ্ট এবং একমাত্র তিনিই কল্যাণ ও অকল্যাণকারী আর সবকিছুর রাজত্ব তাঁরই হাতে? কেবল তারাই এর ব্যতিক্রম যাদের স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة) ভ্রান্ত আকিদার কারণে কলুষিত হয়ে গেছে (১)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ ও দলিলসমূহযদি বস্তুবাদী, প্রকৃতিবাদী এবং কালবাদীরা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করার ভান করে, তবে তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো তাদের সামনে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলোতে অকাট্য (قطعية) বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণসমূহ উপস্থাপন করা:
প্রথম পদ্ধতি: প্রজ্ঞাপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিভাজন:যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও রুবুবিয়্যাত (ربوبية) অস্বীকার করে, তার বিরুদ্ধে এমন বিষয় দ্বারা দলিল পেশ করা হয় যা সত্যের সামনে আত্মসমর্পণ ও অনুগত হওয়া ছাড়া তার আর কোনো পথ রাখে না; অথবা সে বিবেকের দাবি থেকে বিচ্যুত হয়ে উন্মাদনা ও বিকৃত স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) দিকে ধাবিত হয়। অতএব, যারা এটি অস্বীকার করে তাদের বলা হয়:
বিবেকের নিরিখে সম্ভাব্য বিষয়াবলির বিভাজন তিনটি, যার চতুর্থ কোনো পথ নেই:
১ - হয় এই সৃষ্টিসমূহ কোনো স্রষ্টা (محدث) ছাড়াই আকস্মিকভাবে নিজে নিজে অস্তিত্ব লাভ করেছে অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
خالق خلقَهَها، فهذا مُحالٌ ممتنع تجزم العقول ببطلانه ضرورة، ويُعلم يقيناً أن من ظن ذلك لهو إلى الجنون أقرب منه إلى العقل؛ لأن كل من له عقل يعرف أنه لا يمكن أن يوجد شيء من غير مُوجدٍ ولا مُحدثٍ، فلابد لكل حادث من مُحدث، ولا سبيل إلى إنكار ذلك، فإن وجود الشيء من غير مُوجد مُحالٌ وباطلٌ بالمشاهدة والحسّ والفطرة السليمة.
2 - وإما أن تكون هذه المخلوقات الباهرة هي المحدثة الخالقة لنفسها، فهذا أيضاً مُحالٌ ممتنع بضرورة العقل، وكل عاقل يجزم أن الشيء لا يُحدثُ نفسه ولا يخلقه؛ لأنه قبل وجوده معدوم فكيف يكون خالقاً؟!
فإذا بطلَ هذان القسمان عقلاً وفطرةً، وبان استحالتهما، تعين القسم الثالث:
3 - وهو أن هذه المخلوقات بأجمعها: علويها وسفليّها، وهذه الحوادث لابد لها من مُحدث ينتهي إليه الخلق والملك والتدبير، وهو اللَّه العظيم الخالق لكل شيء، المتصرف في كل شيء، المدبر للأمور كلها (1)، ولهذا ذكر اللَّه – تعالى – هذا الدليل العقلي
--------------------------------------------
একজন স্রষ্টা তাকে সৃষ্টি করেছেন, এটি অসম্ভব (محال) ও অকল্পনীয় যা বিবেক অপরিহার্যভাবেই বাতিল বলে গণ্য করে। নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, যে ব্যক্তি এমন ধারণা পোষণ করে সে সুস্থ বিবেকের চেয়ে উন্মাদনারই নিকটতর; কারণ, বিবেকসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানে যে, কোনো উদ্ভাবক (موجد) বা কোনো সৃষ্টিকর্তা (محدث) ব্যতীত কোনো কিছুর অস্তিত্ব সম্ভব নয়। সুতরাং প্রতিটি নতুন সৃষ্টির (حادث) জন্য অবশ্যই একজন উদ্ভাবক (محدث) প্রয়োজন, এবং এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কেননা কোনো উদ্ভাবক ব্যতীত কোনো বস্তুর অস্তিত্ব লাভ করা পর্যবেক্ষণ, ইন্দ্রিয়ানুভূতি এবং সুস্থ স্বভাবজাত প্রবণতার (فطرة) মাধ্যমে অসম্ভব (محال) ও বাতিল বলে প্রমাণিত।
২ - অথবা এই বিস্ময়কর সৃষ্টিসমূহ নিজেরাই নিজেদের উদ্ভাবনকারী ও স্রষ্টা; এটিও বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতায় অসম্ভব (محال)। প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই এটি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, কোনো বস্তু নিজেকে নিজে উদ্ভাবন বা সৃষ্টি করতে পারে না; কারণ তার অস্তিত্ব লাভের পূর্বে তো সে অবিদ্যমান (معدوم) ছিল, সুতরাং সে কীভাবে স্রষ্টা হতে পারে?!
যখন এই দুটি সম্ভাবনা বুদ্ধি ও স্বভাবজাত বিবেকের আলোকে বাতিল হয়ে গেল এবং এগুলোর অসম্ভব হওয়া স্পষ্ট হলো, তখন তৃতীয় বিষয়টি নির্ধারিত হলো:
৩ - আর তা হলো, এই সমগ্র সৃষ্টিজগত—এর ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত—এবং এই সকল সৃষ্টির জন্য অবশ্যই একজন উদ্ভাবক (محدث) রয়েছেন, যাঁর নিকট সৃষ্টি, রাজত্ব ও পরিচালনার যাবতীয় ধারা সমাপ্ত হয়। তিনি হলেন মহান আল্লাহ, যিনি সবকিছুর স্রষ্টা, সবকিছুর নিয়ন্ত্রক এবং সকল বিষয়ের পরিচালক (১)। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এই বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والبرهان القطعي، فقال: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} (1)، ولذلك تأثر جبير بن مطعم بسماعها من النبي صلى الله عليه وسلم تأثراً عظيماً، قال رضي الله عنه: ((سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في المغرب بالطور، فلما بلغ هذه الآية: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بَل لاّ يُوقِنُونَ * أَمْ عِندَهُمْ خَزَائِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ الْمُصَيْطِرُونَ} (2) كاد قلبي أن يطير)) (3)، ((وذلك أول ما وقرَ الإيمانُ في قلبي)) (4).
فالمخلوق لابد له من خالق، والمصنوع لابد له من صانع، والمفعول لابد له من فاعل، وهذه قضايا بدهية جلية واضحة، يشترك في العلم بها جميع العُقلاء، وهي أعظم القضايا العقلية، فمن ارتاب فيها أو شكّ في دلالتها فقد برهن على ضلاله، واختلال عقله (5).
--------------------------------------------
এবং সুনিশ্চিত (قطعي) প্রমাণ; তিনি (আল্লাহ) বলেন: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?} (১), এ কারণেই জুবায়ের ইবনুল মুতয়িম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে এটি শুনে অত্যন্ত অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ((আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না। নাকি তাদের কাছে তোমার রবের ভাণ্ডার রয়েছে, নাকি তারা এর নিয়ন্ত্রক?} (২), তখন আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল)) (৩), ((এবং এটিই ছিল প্রথমবার যখন আমার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছিল)) (৪)।
সুতরাং সৃষ্টির জন্য অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকতে হবে, নির্মিত বস্তুর জন্য একজন নির্মাতা থাকা আবশ্যক এবং কার্যের জন্য একজন কর্তা থাকা অপরিহার্য। আর এগুলো হচ্ছে স্বতঃসিদ্ধ, সুষ্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বিষয়, যার জ্ঞানে সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তিই একমত; আর এগুলো হলো সর্বশ্রেষ্ঠ যৌক্তিক বিষয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে অথবা এর নির্দেশনার (دلالة) ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে, সে মূলত নিজের পথভ্রষ্টতা ও মস্তিষ্ক বিকৃতির প্রমাণই পেশ করল (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المسلك الثاني: العدم لا يخلق شيئاً:من القواعد العقلية التي ينبغي للداعية إلى اللَّه أن لا يغفلها في دعوته مع الملحدين قاعدة: العدم لا يخلق شيئاً، فالعدم الذي لا وجود له لا يستطيع أن يصنع شيئاً؛ لأنه غير موجود.
وإذا تأمل العاقل في المخلوقات التي تولد في كل يوم، من إنسان وحيوان، وتفكر في كل ما يحدث في الوجود من رياح وأمطار، وليل ونهار، وما يجري في كل حين من حركات منتظمة للشمس والقمر والنجوم والكواكب، إذا تأمل العاقلُ في هذا وغيره من التغيرات المحكمة التي تجري في الوجود في كل لحظة، فإن العقل يجزم بأن هذا كله ليس من صنع العدم، وإنما هو من صنع الخالق الموجود سبحانه وتعالى (1).
المسلك الثالث: الطبيعة الصماء لا تملك قدرة، وفاقد الشيء لا يعطيهمن المعلوم عند جميع العُقلاء أن الذي لا يملك مالاً لا يسأل الناسُ منه المال، والجاهلُ لا يأتي منه العلم؛ لأن فاقد الشيء لا يُعطيه.
فمن زعم أن الطبيعة (2) خلقته أو خلقت شيئاً فقد خالف العقل
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পদ্ধতি (مسلك): শূন্যতা (عدم) কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না:বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতিসমূহের (القواعد العقلية) মধ্যে একটি হলো—যা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (داعية) জন্য নাস্তিকদের (ملحدين) সাথে দাওয়াতি কাজে উপেক্ষা করা উচিত নয়—শূন্যতা (عدم) কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। কেননা যে শূন্যতার (عدم) কোনো অস্তিত্ব নেই, তা কোনো কিছু তৈরি করতে সক্ষম নয়; কারণ তা বিদ্যমান নয়।
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি (عاقل) যদি প্রতিদিন জন্ম নেওয়া মানুষ ও পশুপাখিসহ সকল সৃষ্টিসমূহের (مخلوقات) প্রতি লক্ষ্য করেন এবং মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটে—যেমন বাতাস, বৃষ্টি, দিবা-রাত্রি এবং সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র ও গ্রহরাজির সুশৃঙ্খল গতিবিধি নিয়ে চিন্তা করেন; যদি তিনি এই মহাবিশ্বে প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলা সুনিপুণ পরিবর্তনসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, তবে বিবেক নিশ্চিতভাবেই রায় দিবে যে, এ সবকিছুর নির্মাতা শূন্যতা (عدم) নয়, বরং এগুলো বিদ্যমান স্রষ্টা (خالق) সুবহানাহু ওয়া তাআলার (১) সৃষ্টি।
তৃতীয় পদ্ধতি (مسلك): নির্বাক প্রকৃতি (طبيعة) কোনো ক্ষমতার অধিকারী নয়, আর রিক্ত ব্যক্তি কিছু দিতে পারে নাসকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটি সুবিদিত যে, যার কাছে সম্পদ নেই, মানুষ তার কাছে সম্পদ চায় না এবং অজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞান আসে না; কারণ যার কাছে যা নেই, সে তা দিতে পারে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে, প্রকৃতি (২) (طبيعة) তাকে সৃষ্টি করেছে অথবা কোনো কিছু সৃষ্টি করেছে, সে বিবেকের বিরোধিতা করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وحارب الحق، لأن الكون يشهد أن خالقه حكيم عليم خبير، هاد رزّاق، حافظ رحيم، واحد أحد، والطبيعة الجامدة لا تملك مثقال ذرة من ذلك.
ومن العجيب أن كل من زعم أن الطبيعة تخلق شيئاً فقد خالف مقتضى العقول؛ لأن الطبيعة لا تملك خبرة، ولهم خبرة، ولا تملك إرادة، ولهم إرادة، ولا تملك علماً، ولهم علم! أما علموا أن فاقد الشيء لا يُعطيه: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ
… } (1)، فلابد أن يكون الخالق كاملاً كمالاً مطلقاً، بحيث يكون:
1 - مستغنياً عن غيره.
2 - ويكون أولاً ليس له بداية.
3 - وآخراً ليس له نهاية.
4 - لا يحدّه زمان.
5 - لا يحدّه مكان.
6 - قادراً على كل شيء.
7 - عالماً بكل شيء، ما كان، وما يكون، وما لم يكن لو كان كيف يكون.
--------------------------------------------
এবং সে সত্যের বিরোধিতা করল; কারণ এই মহাবিশ্ব সাক্ষ্য দেয় যে এর স্রষ্টা প্রজ্ঞাময় (حكيم), সর্বজ্ঞ (عليم), সম্যক অবগত (خبير), পথপ্রদর্শক (هاد), রিযিকদাতা (رزاق), সংরক্ষণকারী (حافظ), পরম দয়ালু (رحيم), অদ্বিতীয় (واحد) ও এক (أحد); আর জড় প্রকৃতি এর অণু পরিমাণও ধারণ করে না।
আর আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যে ব্যক্তিই দাবি করে যে প্রকৃতি কিছু সৃষ্টি করে, সে বিবেকের দাবিকেই লঙ্ঘন করল; কারণ প্রকৃতির কোনো অভিজ্ঞতা (خبرة) নেই, অথচ তাদের (মানুষের) অভিজ্ঞতা আছে; প্রকৃতির কোনো ইচ্ছা (إرادة) নেই, অথচ তাদের ইচ্ছা আছে; প্রকৃতির কোনো জ্ঞান (علم) নেই, অথচ তাদের জ্ঞান আছে! তারা কি জানে না যে, রিক্তহস্ত ব্যক্তি কিছু দান করতে পারে না: {হে মানুষ! একটি উপমা পেশ করা হলো, মনোযোগ দিয়ে তা শোনো; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে সকলে একত্রিত হয়...} (১), সুতরাং স্রষ্টাকে অবশ্যই পরম পূর্ণতার (كمال مطلق) অধিকারী হতে হবে, যেন তিনি হন:
১ - অন্যের মুখাপেক্ষীহীন (مستغني)।
২ - অনাদি (أول), যার কোনো শুরু নেই।
৩ - অনন্ত (آخر), যার কোনো শেষ নেই।
৪ - সময় যাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না।
৫ - স্থান যাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না।
৬ - সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (قادر)।
৭ - সর্বজ্ঞ (عالم); যা হয়েছে, যা হবে এবং যা ঘটেনি তা যদি ঘটত তবে কেমন হতো—সে সম্পর্কেও তিনি অবগত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذه الخصائص لا يمكن أن تكون إلا للَّه الكامل من كل الوجوه، وبذلك يسقط – بحمد اللَّه تعالى – قول الماديين؛ لأن المادة لا تتصف بشيء من ذلك (1).
المسلك الرابع: الصدفة العمياء لا تملك حياة:يعتقد الملحدون بالصدفة (2)، وهي أن جميع الأشياء والمخلوقات تم تكوينها على ما هي عليه بطريق الصدفة، والمقابلة، وليس ذلك بطريق القصد والإرادة والتدبير.
ومن حكمة القول مع هؤلاء أن يُقال لهم: من أين حصل لهذا العالم هذا النظام العجيب، والترتيب الحكيم الذي حارت فيه العقول؟ كيف ينسب ذلك إلى الاتفاق والمصادفة ومجرد البخت؟ وكيف اجتمعت تلك الأجزاء على اختلاف أشكالها، وتبايُن مواردها وقواعدها، وكيف حُفظت وبَقيت على تآلفها، وكيف تجددت المرة بعد المرة؟!
إن مثل من يقول أو يعتقد أن هذا النظام والإبداع والإتقان وُجِدَ بطريق الصدفة لا غير، كمثل من وضع حروف الهجاء: أ، ب،
--------------------------------------------
এবং এই বৈশিষ্ট্যসমূহ কেবল সর্বদিক দিয়ে পরিপূর্ণ মহান আল্লাহর জন্যই হওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে—আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসহ—বস্তুবাদীদের বক্তব্য অসার প্রমাণিত হয়; কারণ বস্তু এসবের কোনোটি দ্বারা বিশেষিত হওয়ার যোগ্য নয় (১)।
চতুর্থ পদ্ধতি: অন্ধ আকস্মিকতা প্রাণের অধিকারী হতে পারে না:নাস্তিকরা আকস্মিকতায় (২) বিশ্বাস করে; আর তা হলো এই যে, সমস্ত বস্তু ও সৃষ্টি বর্তমানে যেভাবে রয়েছে, তা কেবল আকস্মিকতা ও দৈবক্রমে গঠিত হয়েছে; কোনো উদ্দেশ্য, ইচ্ছা বা পরিকল্পনার মাধ্যমে নয়।
তাদের সাথে যুক্তিনির্ভর আলোচনার একটি দিক হলো তাদের বলা: এই মহাবিশ্ব এমন এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা ও সুনিপুণ বিন্যাস কোত্থেকে লাভ করল যাতে বুদ্ধিমানদের বিবেক স্তম্ভিত হয়ে যায়? কীভাবে একে দৈব ঘটনা, আকস্মিকতা বা নিছক ভাগ্যের দিকে সম্বন্ধ করা যায়? কীভাবে সেই অংশগুলো তাদের বিভিন্ন আকৃতি এবং ভিন্ন ভিন্ন উৎস ও মূলনীতি থাকা সত্ত্বেও একত্রিত হলো? কীভাবে সেগুলো সংরক্ষিত হলো এবং তাদের এই সুসমন্বয় বজায় থাকল এবং কীভাবে তা বারবার নবায়ন হলো?!
নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি বলে বা বিশ্বাস করে যে, এই শৃঙ্খলা, উদ্ভাবন ও নিপুণতা কেবল আকস্মিক পথেই অস্তিত্ব লাভ করেছে, তার উদাহরণ ওই ব্যক্তির মতো যে বর্ণমালার অক্ষরগুলো যেমন: আলিফ (أ), বা (ب)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ت
… ، في صندوق ثم جعل يحركه طمعاً منه أن تتألف هذه الحروف من تلقاء نفسها، فيتركب منها قصيدة بليغة، أو كتاب دقيق في الهندسة، أليس ذلك من السّفه المبين ونقص العقل؟! فإنه لو داوم على تحريك هذا الصندوق السنين والدهور لم يحصل إلا على حروف.
ومثله كمن يقول: إن رجلاً أعمى غرزت له إبرة في لوحة، وأُعطي ألف إبرة، وقيل له: ارم هذه الإبر واحدة بعد الثانية، لتدخل الإبرة الأولى في ثُقب الإبرة المغروسة في اللوحة، وتدخل الإبرة الثانية في ثقب الأولى، والثالثة في ثقب الثانية، وهكذا بطريق الصدفة، حتى دخلت كل الإبر في بعضها بطريق الصدفة، فهل عاقل يصدق بهذه العملية والتي قبلها؟ لا يمكن أن يُصدّق عاقل بهذا، لأنه من قبيل المستحيل الذي لا تقبله العقول ولا تُقرّه، فكيف يُصدّق عاقل أن الكون كله بما فيه من إبداع وتنظيم في كل ذرة من ذراته وُجِدَ بطريق الصدفة؟
إن مخلوقاً يُصدّق بهذه التخيلات لمجنون قطعاً، لا تصلح نسبته إلى العُقلاء، ولا يُذكر في عدادهم أبداً {أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ} (1).
وهذا فيه دلالة عقلية قاطعة على أن اللَّه هو الخالق لكل شيء، وأن
--------------------------------------------
...
… , একটি বাক্সের মধ্যে, অতঃপর সে সেটিকে নাড়াচাড়া করতে লাগল এই আশায় যে, এই বর্ণগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিন্যস্ত হবে এবং তা থেকে একটি সাবলীল কবিতা কিংবা প্রকৌশলবিদ্যার কোনো সূক্ষ্ম কিতাব রচিত হবে। এটি কি স্পষ্ট নির্বুদ্ধিতা এবং জ্ঞানবুদ্ধির স্বল্পতা নয়?! কেননা সে যদি সুদীর্ঘ কাল ধরেও সেই বাক্সটি নাড়াচাড়া করতে থাকে, তবে বিক্ষিপ্ত কিছু বর্ণ ছাড়া কিছুই অর্জিত হবে না।
এবং এর দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে বলে: জনৈক অন্ধ ব্যক্তির জন্য একটি কাষ্ঠফলকে একটি সুঁই গেঁথে দেওয়া হলো এবং তাকে এক হাজার সুঁই প্রদান করা হলো। তাকে বলা হলো: এই সুঁইগুলো একটির পর একটি নিক্ষেপ করো, যেন প্রথম সুঁইটি ফলকে প্রোথিত সুঁইয়ের ছিদ্রে প্রবেশ করে, দ্বিতীয়টি প্রথমটির ছিদ্রে এবং তৃতীয়টি দ্বিতীয়টির ছিদ্রে প্রবেশ করে—এভাবে দৈবক্রমে (بطريق الصدفة), যতক্ষণ না সবগুলো সুঁই দৈবক্রমে (بطريق الصدفة) একটি অপরটির ভেতরে ঢুকে যায়। তবে কি কোনো সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী ব্যক্তি এই প্রক্রিয়া এবং এর পূর্ববর্তী প্রক্রিয়াটি বিশ্বাস করবে? কোনো বিবেকবানের পক্ষে এটি বিশ্বাস করা সম্ভব নয়; কেননা এটি অসম্ভব (المستحيل) পর্যায়ের বিষয় যা বুদ্ধি গ্রহণ করে না এবং সমর্থনও করে না। এমতাবস্থায় একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে বিশ্বাস করতে পারেন যে, এই বিশাল মহাবিশ্ব—তার প্রতিটি অণু-পরমাণুতে বিদ্যমান নৈপুণ্য ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসসহ—আকস্মিক ঘটনাচক্রে (بطريق الصدفة) অস্তিত্ব লাভ করেছে?
যে সৃষ্টি এই জাতীয় অলীক কল্পনা বিশ্বাস করে, সে নিশ্চিতভাবেই উন্মাদ। তাকে জ্ঞানীদের (العقلاء) অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন নয় এবং কখনোই তাদের তালিকায় গণ্য করা যাবে না। {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে?} (১)।
আর এর মধ্যে এক অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল (دلالة عقلية قاطعة) নিহিত রয়েছে যে, আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الصدفة لا وجود لها ولا تصرف في مخلوقات اللَّه – تعالى – وبهذا تبطل شبه أهل الإلحاد والعناد الذين قالوا بالصدفة، وللَّه الحمد (1).
المسلك الخامس: المناظرات العقلية الحكيمة:من الحكمة في دعوة الملحدين والطبيعيين الماديين أن يُناظروا بالمناظرات العقلية الحكيمة التي تُوضح لهم الحق، وتجعلهم يُسلِّمون ويقرُّون بأن اللَّه هو الحق، وأن ما يدعون من دونه هو الباطل.
ومن المناظرات التي أفحم بها المسلمون الملحدين ما ذُكِرَ عن أبي حنيفة – رحمه اللَّه تعالى – أنه اجتمع بطائفة من الملحدين وناظرهم فغلبهم، ورجعوا على أنفسهم بالملام، وقيل: إنهم رجعوا إلى الحق وأسلموا على يديه (2).
المسلك السادس: مبدأ السببية:إنّ الواقع والعقول السليمة تشهد أن الإنسان منذ فتح عينيه لم
--------------------------------------------
আকস্মিকতা বা দৈবঘটনার কোনো অস্তিত্ব নেই এবং আল্লাহর—তাআলা—সৃষ্টির ওপর এর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এর মাধ্যমেই নাস্তিক ও হঠকারীদের সংশয় অসার প্রমাণিত হয় যারা আকস্মিকতার কথা বলে; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য (১)।
পঞ্চম পথ: প্রজ্ঞাপূর্ণ যৌক্তিক বিতর্ক:নাস্তিক ও জড়বাদী প্রকৃতিবাদীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি হলো, তাদের সাথে এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ যৌক্তিক বিতর্ক করা যা তাদের কাছে সত্যকে স্পষ্ট করে তুলবে এবং তাদের নতি স্বীকার করতে ও এটি স্বীকার করে নিতে বাধ্য করবে যে আল্লাহ-ই সত্য, আর তিনি ব্যতীত তারা যাকে ডাকে তা মিথ্যা।
মুসলমানরা যেসব বিতর্কের মাধ্যমে নাস্তিকদের নিরুত্তর করে দিয়েছিলেন, তার মধ্যে একটি হলো ইমাম আবু হানিফা—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—সম্পর্কিত বর্ণনা। তিনি একদল নাস্তিকের সাথে একত্রিত হয়ে তাদের সাথে বিতর্ক করেন এবং তাদের ওপর জয়লাভ করেন। ফলে তারা লজ্জিত হয়ে নিজেদেরই তিরস্কার করতে থাকে। বলা হয়ে থাকে যে, তারা সত্যের পথে ফিরে এসেছিল এবং তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল (২)।
ষষ্ঠ পথ: কার্যকারণ নীতি:বাস্তবতা এবং সুস্থ বিবেক সাক্ষ্য দেয় যে, মানুষ যখন থেকে চোখ মেলেছে তখন থেকে সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
يُشاهد أن حادثاً حدث من غير سبب، أو أن شيئاً وُجد من غير موجد، حتى أصبح هذا المعنى بحكم الواقع لا يتصور العقل خلافه، ولا يأبى الإقرار به إلا عقل مفقود أو مريض كشأن المعتوهين، أو عقل قاصر كشأن الطفل الذي يكسر الإناء، ثم يقول: إنه انكسر بنفسه (1).
ولذلك أدرك الأعرابي هذه السببية عندما سُئِل: ما الدليل على وجود الرّبّ؟ فقال: - سبحان اللَّه – إن البعرة تدل على البعير، والأثر يدل على المسير، فسماء ذاتُ أبراج، وأرضٌ ذات فجاجٍ، وبحارٌ ذات أمواج، ليل داج، ونهار ساجٍ، ألا يدل ذلك على اللطيف الخبير (2).
فكل مخلوق لابد له من خالق، وكل أثر لابد له من مؤثر، وكل محدَثٍ لابد له من مُحدِثٍ، وهذا هو قياس الشمول.
أما قياس التمثيل فكقول: هذا مُحدَث فيحتاج إلى مُحدِثٍ (3).
وبناء على هذه القاعدة فعالمنا هذا، من أرض وسماوات، وإنسان وحيوان، وليل ونهار، وشمس وقمر، لابدّ له من مُحدث، ثم إن هذا العالم لا يبقى إلا بسبب يحفظه ويبقيه، كما أنه لم
--------------------------------------------
দেখা যায় যে, কোনো কারণ (سبب) ছাড়াই কোনো ঘটনা ঘটে না, অথবা কোনো সৃষ্টিকর্তা (موجد) ছাড়া কোনো কিছু অস্তিত্ব লাভ করে না। এমনকি বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বুদ্ধি এর বিপরীত কিছু কল্পনা করতে পারে না। কেবল অপ্রকৃতিস্থ বা অসুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি যেমন উন্মাদ, অথবা অপরিণত বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি যেমন এমন শিশু যে পাত্র ভেঙে ফেলে বলে যে এটি এমনিতেই ভেঙে গেছে (১)—তারাই কেবল এটি স্বীকার করতে অস্বীকার করে।
এ কারণেই একজন বেদুইন এই কার্যকারণ (السببية) সম্পর্কটি অনুধাবন করেছিলেন যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রবের অস্তিত্বের প্রমাণ কী? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: সুবহানাল্লাহ! উটের বিষ্ঠা উটের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, আর পায়ের চিহ্ন পথচারীর অস্তিত্ব জানান দেয়। সুতরাং নক্ষত্ররাজি খচিত আকাশ, সুপ্রশস্ত পথবিশিষ্ট পৃথিবী, উত্তাল ঢেউয়ের সমুদ্র, অন্ধকার রাত এবং শান্ত দিন—এসব কি সেই সূক্ষ্মদর্শী (اللطيف) ও সর্বজ্ঞ (الخبير)-এর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় না? (২)।
সুতরাং প্রতিটি সৃষ্টির জন্য অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকতে হবে, প্রতিটি কর্মের জন্য একজন কর্তা থাকতে হবে এবং প্রতিটি উদ্ভূত বিষয়ের (محدَث) জন্য অবশ্যই একজন উদ্ভাবক (مُحدِث) থাকতে হবে। আর এটিই হলো ব্যাপকতাভিত্তিক অনুমান (قياس الشمول)।
আর সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (قياس التمثيل) উদাহরণ হলো যেমন বলা: এটি উদ্ভূত (محدَث), অতএব এর একজন উদ্ভাবক (مُحدِث) প্রয়োজন (৩)।
এই নিয়মের ভিত্তিতেই আমাদের এই মহাবিশ্ব—যা পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী, মানুষ ও প্রাণী, রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র দ্বারা গঠিত—এর জন্য অবশ্যই একজন উদ্ভাবক (مُحدث) থাকতে হবে। তদুপরি, এই মহাবিশ্ব এমন একটি কারণ (سبب) ব্যতীত টিকে থাকতে পারে না যা একে রক্ষা করে ও টিকিয়ে রাখে, যেমনটি এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يحدث إلا بسبب أحدثه، وهذا لا يقدر عليه إلا اللَّه الواحد القهَّار (1).
المسلك السابع: التفكر في المصنوع يدل على بعض صفات الصانع:من القواعد التي يُردّ بها على الملحدين قاعدة التفكر في المصنوع يدلّ على بعض صفات الصانع؛ لأن كل شيء يُوجد في المصنوع يدلّ على قدرة أو علم أو خبرة، أو حكمة عند الصانع.
ومن هنا نعلم أن التفكر في المخلوق يدلّ على بعض صفات الخالق.
إذا علم هذا فإنه يقال لمن أنكر وجود اللَّه – تعالى – وربوبيته: تفكر في خلقك ونفسك، وانظر مبدأ خلقك من نطفة، ثم علقه، ثم مُضغة، ثم عظاماً، فكُسيت العظام لحماً، حتى صرت بشراً كامل الأعضاء الظاهرة والباطنة، أما يضطرك هذا التفكر والنظر إلى الاعتراف بالرب القادر على كل شيء، وأحاط علمه بكل شيء، الحكيم في كل ما خلقه وصنعه وأتقنه؟ فلو اجتمع الخلق كلهم على النطفة التي جعلها اللَّه مبدأ خلق الإنسان على أن ينقلوها في تلك الأطوار المتنوعة، أو يحفظوها في ذلك القرار المكين، ويجعلوا لها سمعاً وبصراً وعقلاً وقوىً باطنة وظاهرة، وينموها هذه التنمية العجيبة، ويركبوها هذا التركيب المنظم، ويرتبوا الأعضاء
--------------------------------------------
ঘটে না যদি না কোনো উদ্ভবকারী তা উদ্ভব করে থাকেন, আর এটি একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত কারো পক্ষে সম্ভব নয় যিনি একক ও মহা প্রতাপশালী (১)।
সপ্তম পদ্ধতি: সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা স্রষ্টার কিছু গুণাবলির পরিচয় দেয়:নাস্তিকদের (الملحدين) খণ্ডন করার অন্যতম একটি মূলনীতি (قاعدة) হলো, সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা স্রষ্টার কিছু গুণাবলির পরিচয় দেয়; কারণ সৃষ্টিতে বিদ্যমান প্রতিটি বস্তু স্রষ্টার সক্ষমতা (قدرة), জ্ঞান (علم), অভিজ্ঞতা (خبرة) অথবা প্রজ্ঞার (حكمة) প্রমাণ বহন করে।
আর এখান থেকেই আমরা জানতে পারি যে, সৃষ্টি (مخلوق) সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা স্রষ্টার (خالق) কিছু গুণাবলির পরিচয় দেয়।
যখন এটি জানা গেল, তখন আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর প্রভুত্ব (ربوبية) অস্বীকারকারীদের উদ্দেশ্যে বলা হবে: আপনার সৃষ্টি ও নিজের সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করুন। আপনার সৃষ্টির সূচনা লক্ষ্য করুন—যা একটি বীর্যবিন্দু (نطفة) থেকে শুরু হয়েছিল, অতঃপর তা জমাট রক্ত (علقة), এরপর মাংসপিণ্ড (مضغة), তারপর হাড় বা অস্থিতে পরিণত হলো; এরপর সেই হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করা হলো। পরিশেষে আপনি প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পন্ন একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হলেন। এই চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ কি আপনাকে সেই রবের (رب) প্রতি স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করে না, যিনি সর্ববিষয়ে সক্ষম (قادر), যাঁর জ্ঞান (علم) সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি ও নির্মাণে প্রজ্ঞাময় (حكيم) এবং তা সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছেন? যদি সমস্ত সৃষ্টিজগত সেই বীর্যবিন্দুর (نطفة) ওপর একত্রিত হয়—যাকে আল্লাহ মানুষের সৃষ্টির সূচনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—যাতে তারা সেটিকে বিভিন্ন স্তরে (أطوار) পরিবর্তিত করতে পারে, অথবা সেই নিরাপদ আশ্রয়ে (قرار مكين) তা সংরক্ষণ করতে পারে, আর তাতে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, বুদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তিসমূহ প্রদান করতে পারে, আর তার এই বিস্ময়কর বিকাশ ঘটাতে পারে এবং এই সুশৃঙ্খল অবয়বে তাকে গঠন করতে পারে ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সুবিন্যস্ত করতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هذا الترتيب المحكم، فهل في اقتدارهم وفي استطاعتهم وعلومهم أن يصلوا إلى ذلك؟ {أَفَرَأَيْتُم مَّا تُمْنُونَ * أَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ} (1).
ولا شك أن العاقل المنصف إذا تفكر في ذلك دلّه وأوصله إلى الاعتراف بعظمة الخالق، وقدرة القادر، وحكمة الحكيم، وخبرة الخبير، وعلم العليم.
وهذا دليل عقلي تضطر فيه العقول الصحيحة إلى معرفة ربها وعبوديته (2)، {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ * ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ * ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} (3)، {وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ} (4).
المبحث الرابع: الأدلة الحسية المشاهدةمن الأدلة التي تدل على وجود اللَّه - تعالى - وربوبيته، وأنه
--------------------------------------------
এই সুনিপুণ বিন্যাস; তাদের সামর্থ্য, ক্ষমতা ও জ্ঞানে কি এমন কোনো সক্ষমতা আছে যে তারা এ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে? {তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, না আমিই স্রষ্টা?} (১)।
নিঃসন্দেহে একজন বিবেকসম্পন্ন ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যখন এই বিষয়ে চিন্তা করবে, তখন এটি তাকে মহান স্রষ্টার মহিমা, সর্বশক্তিমানের ক্ষমতা, প্রজ্ঞাময়ের হিকমত, সম্যক পরিজ্ঞাত সত্তার অভিজ্ঞতা এবং সর্বজ্ঞের জ্ঞানের স্বীকৃতির দিকে পরিচালিত করবে ও পৌঁছে দেবে।
আর এটি হলো একটি যৌক্তিক দলিল, যেখানে সুস্থ বিবেকসমূহ তাদের রবের পরিচয় লাভ এবং তাঁর দাসত্বের প্রতি ধাবিত হতে বাধ্য হয় (২), {আমি তো মানুষকে মাটির উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর আমি তাকে বীর্যরূপে এক সুরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। তারপর আমি বীর্যকে রক্তপিণ্ডে পরিণত করেছি, এরপর রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি, তারপর মাংসপিণ্ডকে হাড়রূপে গঠন করেছি এবং হাড়কে মাংস দিয়ে ঢেকে দিয়েছি; এরপর আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিতে রূপ দান করেছি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না বরকতময়!} (৩), {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও কি নিদর্শনাবলি নেই? তবে কি তোমরা দেখবে না?} (৪)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দৃশ্যমান ইন্দ্রিয়জাত প্রমাণাদিআল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও তাঁর প্রভুত্বের প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخالق لكل شيء المستحق للعبادة، الأدلة التي يسمعها الناس ويشاهدونها ويلمسونها، وهي على نوعين:
النوع الأول: إجابة اللَّه - تعالى - للدعوات في جميع الأوقات، فلا يُحصي الخلق ما يُعطيه اللَّه للسائلين، وما يُجيب به أدعية الداعين، ويرفع به كرب المكروبين، فتحصل المطالب الكثيرة بأسباب دعاء بعض العباد لربهم، والطمع في فضله والرجاء لرحمته، وهذا برهان مُشاهد محسوسٌ، لا ينكره إلا مُكابرٌ (1).
فكم خرج المؤمنون يطلبون - بقلوب وجلةٍ تائبةٍ - من ربهم أن يسقيهم الغيث، فكانت الإجابة على الفور في كثير من الأحيان، فيأتي الغيث إلى المدينة أو القرية التي خرجت تدعو ربها، والقرى أو المدن التي بجوارها لا يأتيها بشيء، وكم رأى المضطرون تفريجاً لحالة الكرب بدعائهم (2) {أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ
… } (3)، وعلى هذا يشهد مئات الملايين من المسلمين، ومن رأى هذه الإجابات من المنصفين في مشارق الأرض ومغاربها.
--------------------------------------------
সবকিছুর স্রষ্টা এবং ইবাদতের যোগ্য মহান সত্তা, এমন প্রমাণাদি যা মানুষ শ্রবণ করে, প্রত্যক্ষ করে এবং অনুভব করে; আর তা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দোয়া কবুল হওয়া, আল্লাহ সাহায্যপ্রার্থনাকারীদের যা দান করেন, আহ্বানকারীদের দোয়া কবুল করে যা প্রদান করেন এবং বিপদগ্রস্তদের দুঃখ-কষ্ট যেভাবে দূর করেন, সৃষ্টিজগত তা গণনা করতে সক্ষম নয়। ফলে কিছু বান্দার তাদের রবের নিকট প্রার্থনা করা এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও করুণার আশার মাধ্যমে অনেক উদ্দেশ্য হাসিল হয়। এটি একটি দৃশ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ, যা কেবল হঠকারী ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ অস্বীকার করে না (১)।
কতই না মুমিন ভীত ও তওবাকারী অন্তরে তাদের রবের নিকট বৃষ্টির প্রার্থনা করতে বের হয়েছেন, অতঃপর অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রার্থনা কবুল হয়েছে। ফলে যে শহর বা গ্রামে মানুষ তাদের রবের নিকট দোয়ার জন্য বের হয়েছিল সেখানে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, অথচ তাদের পার্শ্ববর্তী গ্রাম বা শহরগুলোতে কিছুই বর্ষিত হয় না। কতই না নিরুপায় ব্যক্তি তাদের দোয়ার মাধ্যমে বিপদ থেকে মুক্তি পেতে দেখেছেন (২) {নয় কি তিনি, যিনি নিরুপায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন
… } (৩), এর ওপর পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের কোটি কোটি মুসলিম এবং সত্যনিষ্ঠ প্রত্যক্ষকারীরা সাক্ষ্য প্রদান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فمن الذي سمع دعاء المستغيثين فأجابهم، فأنشأ السحاب وأنزل المطر؟! هل هو وثن لا يقدر على فعل شيء؟! أم طبيعة صمّاء لا تملك إرادة ولا تدبيراً، أم أن العدم الذي أنشأ وصمم، وأوجد وكوَّن، وقدَّر وأتقن، وسمع فأجاب، وهو العدم الذي لا وجود له؟!!
والحقيقة أن ذلك كله شاهد يتحدث إلى العقول البشرية أن لها ربّاً حكيماً قادراً سميعاً بصيراً مجيباً (1)، فعن أنس رضي الله عنه أن رجلاً دخل المسجد يوم الجمعة، ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يخطب، ثم قال: يا رسول اللَّه هلكت الأموال، وانقطعت السبل، فادع اللَّه أن يُغيثنا، فرفع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يديه، ثم قال: ((اللَّهم أغثنا، اللَّهم أغثنا، اللَّهم أغثنا)). قال أنس: ولا واللَّه ما نرى في السماء من سحاب ولا قزعة، وما بيننا وبين سلع من بيت ولا دار، فطلعت من ورائه سحابة مثل الترس، فلما توسطت السماء انتشرت ثم أمطرت، فلا واللَّه ما رأينا الشمس سبتاً، ثم دخل رجل من ذلك الباب في الجمعة المقبلة، ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قائم يخطب، فقال: يا رسول اللَّه، هلكت الأموال، وانقطعت السبل، فادع اللَّه يمسكها عنَّا، فرفع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يديه، ثم قال: ((اللَّهم حوالينا ولا علينا، اللَّهم على الآكام والظَّرَاب وبُطُونِ الأودية ومنابت الشجر))، فأقلعت وخرجنا نمشي في
--------------------------------------------
তবে কে সেই সত্তা, যিনি আর্তনাদকারীদের প্রার্থনা শ্রবণ করেছেন এবং তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, অতঃপর মেঘমালা সৃষ্টি করেছেন এবং বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন?! তিনি কি এমন কোনো প্রতিমা যিনি কোনো কিছু করতে সক্ষম নন?! নাকি কোনো জড় প্রকৃতি যার কোনো ইচ্ছা বা পরিচালনা শক্তি নেই, নাকি সেই অনস্তিত্ব যা সৃষ্টি ও নকশা করেছে, অস্তিত্ব দান ও গঠন করেছে, সুপরিমিত ও নিখুঁত করেছে এবং শ্রবণ করে উত্তর দিয়েছে; অথচ তা এমন এক অনস্তিত্ব যার কোনো অস্তিত্বই নেই?!!
প্রকৃতপক্ষে এ সব কিছুই মানব বিবেকের কাছে এই সাক্ষ্য দেয় যে, তাদের একজন প্রজ্ঞাবান, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও দোয়ায় সাড়াদানকারী রব রয়েছেন (১)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি জুমার দিন মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং পথঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, সুতরাং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত তুললেন এবং বললেন: ((হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন))। আনাস (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম! আমরা আকাশে কোনো মেঘ বা মেঘের সামান্য চিহ্নও দেখতে পাচ্ছিলাম না, আর আমাদের ও 'সাল' পাহাড়ের মাঝখানে কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। হঠাৎ পাহাড়ের পেছন থেকে ঢালের মতো একখণ্ড মেঘ উদিত হলো। যখন তা আকাশের মাঝখানে পৌঁছাল, তখন তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি শুরু হলো। আল্লাহর কসম! আমরা এক সপ্তাহ সূর্য দেখতে পাইনি। অতঃপর পরবর্তী জুমায় সেই একই দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পথঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সুতরাং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের থেকে বৃষ্টি থামিয়ে দেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত তুললেন এবং বললেন: ((হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশ দিয়ে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, উপত্যকার তলদেশ এবং বৃক্ষলতা জন্মানোর স্থানে বর্ষণ করুন))। অতঃপর বৃষ্টি থেমে গেল এবং আমরা বের হয়ে হাঁটতে শুরু করলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الشمس)) (1).
وهذا الحديث آية من آيات اللَّه تدل على وجوده، وأنه القادر على كل شيء، وقد حصل هذا للمسلمين كثيراً، ولهذا قال الشاعر:
وكم أصاب المسلمين من جفافٍ
… فنفروا ثقالهم مع الخفاف
وطلبوا من الإله الفرجا
… فحققوا الفوز ونالوا المخرجا
فهل طبيعة أجابت أم وثن
… أم أنه السميع كشَّاف المحن (2)
وما زالت إجابة الداعين أمراً مشهوداً إلى يومنا هذا لمن صدق مع اللَّه، وأتى بشروط الإجابة.
النوع الثاني: معجزات الأنبياء الحسية، وهي آيات يُشاهدها الناس أو يسمعون بها، وهي من أعظم البراهين القاطعة على وجود مرسلهم؛ لأنها أمور خارجة عن نطاق البشر، يجريها اللَّه – تعالى – تأييداً لرسله، ونصراً لهم.
ومن أمثلة ذلك: آية موسى صلى الله عليه وسلم حين أمره اللَّه – تعالى – أن يضرب بعصاه البحر، فضربه فانفلق اثني عشر طريقاً يابساً، والماء بينها كالجبال، قال تعالى: {فَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ
--------------------------------------------
সূর্য)) (১)।
আর এই হাদিসটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এমন একটি নিদর্শন যা তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং তিনি যে সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান তাও সাব্যস্ত করে। আর এটি মুসলমানদের জন্য বহুবার ঘটেছে, এ কারণেই কবি বলেছেন:
কতবার যে মুসলমানদের ওপর অনাবৃষ্টি আপতিত হয়েছে
… তখন তারা তাদের সামর্থ্যবান ও অক্ষম নির্বিশেষে সকলে (প্রার্থনার জন্য) বেরিয়ে পড়েছে।
তারা মাবুদের নিকট সংকটের অবসান প্রার্থনা করেছে
… ফলে তারা সফলতা লাভ করেছে এবং বিপদ থেকে উত্তরণের পথ পেয়েছে।
তবে কি প্রকৃতি এর জবাব দিয়েছে নাকি কোনো প্রতিমা
… নাকি তিনি সেই সর্বশ্রোতা, যিনি সকল বিপদ দূরকারী (২)
আর দোয়াকারীদের ডাকে সাড়া দেওয়ার বিষয়টি আজ অবধি তাদের জন্য একটি প্রত্যক্ষ বিষয় হয়ে আছে, যারা আল্লাহর সাথে সত্যবাদিতা বজায় রেখেছে এবং দোয়া কবুলের শর্তাবলি পূরণ করেছে।
দ্বিতীয় প্রকার: নবীদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহ; এগুলো এমন নিদর্শন যা মানুষ প্রত্যক্ষ করে অথবা সে সম্পর্কে শ্রবণ করে। এগুলো তাদের প্রেরণকারীর অস্তিত্বের ব্যাপারে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অকাট্য প্রমাণ; কারণ এগুলো মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়, যা মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলদের সমর্থনে এবং তাঁদের সাহায্যের জন্য প্রকাশ করে থাকেন।
এর একটি উদাহরণ হলো: মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিদর্শন, যখন মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করার নির্দেশ দিলেন। তখন তিনি আঘাত করলেন এবং সমুদ্র বারোটি শুষ্ক পথে বিভক্ত হয়ে গেল, আর (দুই পাশে) পানিগুলো পাহাড়ের মতো হয়ে থাকল। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি মুসার প্রতি ওহি প্রেরণ করলাম যে, তুমি তোমার লাঠি দ্বারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْبَحْرَ فَانفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ} (1).
ومن آيات عيسى صلى الله عليه وسلم أنه كان يُحيي الموتى، ويُخرجهم من قبورهم بإذن اللَّه، قال تعالى: {وَأُحْيِي الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللَّهِ} (2)، {وَإِذْ تُخْرِجُ الْمَوتَى بِإِذْنِي} (3).
ومن آيات محمد صلى الله عليه وسلم انشقاق القمر، فقد طلبت منه قريش آية، فأشار إلى القمر، فانفلق فرقتين، فرآه الناس حقيقة في عهده صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُ * وَإِن يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ} (4).
وهذه الآيات المحسوسة تدل دلالة قاطعة على وجود اللَّه - تعالى - (5).
المبحث الخامس: الأدلة الشرعيةطريق الهداية الكاملة هو ما جاء عن اللَّه - تعالى - أو عن رسله عليهم الصلاة والسلام، وهي تجمع بين الأدلة النقلية والعقلية،
--------------------------------------------
...সমুদ্রকে; ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়ের ন্যায় হয়ে গেল (১)।
আর ঈসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শনসমূহের (آيات) অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করতেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তাদেরকে কবর থেকে বের করে আনতেন। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং আমি আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করি" (২), "এবং যখন তুমি আমার অনুমতিক্রমে মৃতকে বের করে আনতে" (৩)।
আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শনসমূহের (آيات) অন্তর্ভুক্ত হলো চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়া। কুরাইশরা তাঁর নিকট একটি নিদর্শন (آية) দাবি করেছিল, তখন তিনি চন্দ্রের দিকে ইশারা করলেন এবং তা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। ফলে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুগে মানুষ তা বাস্তবিকভাবেই প্রত্যক্ষ করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: "কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। আর তারা যদি কোনো নিদর্শন (آية) দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটি তো এক চিরাচরিত জাদু" (৪)।
আর এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নিদর্শনসমূহ (الآيات المحسوسة) আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের ওপর অকাট্য প্রমাণ (دلالة قاطعة) পেশ করে - (৫)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শরয়ি প্রমাণাদি (الأدلة الشرعية)পূর্ণাঙ্গ হিদায়াতের পথ হলো যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অথবা তাঁর রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পক্ষ থেকে এসেছে, যা বর্ণনাগত প্রমাণ (الأدلة النقلية) ও যুক্তিনির্ভর প্রমাণের (الأدلة العقلية) সমন্বয় ঘটায়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهي من أعظم الأدلة التي تهدي لمعرفة اللَّه – تعالى – والإيمان به عز وجل وتبعث المهتدي بها إلى العمل المزكّي للنفس، والمهيئ له إلى سعادة الدارين، بخلاف الهداية العقلية وحدها، فإنها – وإن أنقذت صاحبها من القلق النفسي والحيرة الفكرية – لا تزكِّي نفسه، ولا تُقوِّم أخلاقه، ولا تهيئه لسعادة الدارين، ولا تُخرجه من دائرة الكفر حتى يؤمن بالأدلة الشرعية ويعمل بمقتضاها (1).
والكتب السماوية كلها تنطق بأن اللَّه هو الخالق لكل شيء، المستحق للعبادة، وما جاءت به من الأحكام المتضمنة لمصالح العباد، دليل على أنها من رب حكيم عليم بمصالح خلقه، وما جاءت به من الأخبار الكونية التي شهد الواقع بصدقها، دليل على أنها من رب قادر على إيجاد ما أخبر به (2).
ودلالة القرآن الكريم نوعان:
(أ) خبر اللَّه الصادق، فما أخبر اللَّه – تعالى – به، أو أخبر به رسوله صلى الله عليه وسلم فهو حق وصدق (3)، ولا يمكن أن يكون في ذلك شيء مُناقض لدليل عقلي ولا سمعي (4)، لأن ما أثبته السمع الصحيح لم
--------------------------------------------
এটি মহান আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভ এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল, যা হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আত্মশুদ্ধিমূলক আমলের দিকে ধাবিত করে এবং তাকে উভয় জগতের সৌভাগ্যের জন্য প্রস্তুত করে। কেবল বুদ্ধিভিত্তিক হিদায়াতের বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ তা—যদিও তার অধিকারীকে মানসিক উদ্বেগ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে—কিন্তু তার আত্মশুদ্ধি করে না, তার চরিত্র সংশোধন করে না এবং তাকে উভয় জগতের সৌভাগ্যের জন্য প্রস্তুত করে না। এমনকি এটি তাকে কুফরির গণ্ডি থেকে বের করতে পারে না যতক্ষণ না সে শরয়ি দলিলসমূহের (الأدلة الشرعية) প্রতি ঈমান আনে এবং তদনুযায়ী আমল করে (১)।
সমস্ত আসমানি কিতাব এই ঘোষণা দেয় যে, আল্লাহ সকল কিছুর স্রষ্টা এবং একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। এই কিতাবসমূহ বান্দাদের কল্যাণ সংবলিত যেসকল বিধান নিয়ে এসেছে, তা এই কথার প্রমাণ যে এগুলো এমন এক প্রজ্ঞাময় রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি তাঁর সৃষ্টির কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। আর বিশ্বজগত সম্পর্কে এসকল কিতাব যে সংবাদসমূহ প্রদান করেছে এবং বাস্তবতা যেগুলোর সত্যতার সাক্ষ্য দিয়েছে, তা এ কথার প্রমাণ যে এগুলো এমন এক রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত যিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা বাস্তবে রূপ দিতে পূর্ণ সক্ষম (২)।
কুরআনুল কারিমের নির্দেশনার ধরন দুই প্রকার:
(ক) আল্লাহর সত্য সংবাদ, আল্লাহ তাআলা যা সংবাদ দিয়েছেন কিংবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন তা চিরন্তন সত্য ও যথার্থ (৩)। এতে এমন কিছু থাকা সম্ভব নয় যা কোনো যৌক্তিক দলিলের (دليل عقلي) অথবা শ্রুত দলিলের (دليل سمعي) পরিপন্থী হতে পারে (৪); কারণ বিশুদ্ধ শ্রুত দলিল (السمع الصحيح) যা সাব্যস্ত করেছে তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফিয়্যাতু দাওয়াতিল মুলহিদীনা ইলাল্লাহি তায়ালা ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ينفه العقل الصريح (1)، والمعقول الصريح يوافق ما جاءت به الرسل ولا يناقضه (2)، وكل ما عارض الشرع من العقليات فليس دليلاً صحيحاً (3).
(ب) دلالة القرآن بضرب الأمثال، وبيان الأدلة العقلية الدالة على المطلوب، فهذه دلالة شرعية عقلية، فهي شرعية لأن الشرع دل عليها وأرشد إليها وأثبتها، وعقلية لأنها تعلم صحتها بالعقل (4)، كقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ * الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ فَلَا تَجْعَلُواْ للَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} (5).
ويمكن أن أقتصر في الأدلة الشرعية التي تثبت وجود اللَّه - تعالى - وأنه رب كل شيء ومليكه ومدبره، و
يستلزم ذلك أنه المستحق للعبادة وحده دون ما سواه على ذكر طريقين (6).
--------------------------------------------
স্পষ্ট বিবেক একে প্রত্যাখ্যান করে (১), এবং সুস্থ বিবেকপ্রসূত বিষয় রাসূলগণের আনীত বার্তার অনুকূল হয় এবং এর সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না (২), আর বুদ্ধিভিত্তিক যা কিছু শরীয়তের পরিপন্থী হয়, তা সঠিক (صحيح) দলিল নয় (৩)।
(খ) উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমে কুরআনের নির্দেশনা, এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্দেশক বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণাদির বর্ণনা। সুতরাং এগুলো শরয়ী বুদ্ধিভিত্তিক নির্দেশনা; এটি শরয়ী কারণ শরীয়ত একে নির্দেশ করেছে, এর দিকে পথ দেখিয়েছে এবং একে সাব্যস্ত করেছে; আর এটি বুদ্ধিভিত্তিক কারণ বিবেকের মাধ্যমে এর বিশুদ্ধতা জানা যায় (৪), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ স্বরূপ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দিয়ে তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেছেন। অতএব তোমরা জেনেশুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করো না} (৫)।
আর মহান আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণকারী শরয়ী দলীলসমূহ—এবং তিনি যে প্রতিটি জিনিসের রব, মালিক ও পরিচালক—তা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমি
দুটি পদ্ধতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে পারি, যা এ বিষয়টি অনিবার্য করে যে, একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য, তিনি ছাড়া অন্য কেউ নয় (৬)।
--------------------------------------------