(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: -)
قيام الليل لسعيد بن وهف القحطاني القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قيام الليل - فضله، وآدابه، والأسباب المعينة عليه في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 103
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির কিয়ামুল লাইল বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: কিয়ামুল লাইল - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ফজিলত, আদবসমূহ, এবং এর সহায়ক কারণসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: -)
29
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
قيام الليل
فضله، وآدابه، والأسباب المعينة عليه
في ضوء الكتاب والسنة
29
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র
কিয়ামুল লাইল
এর ফজিলত, আদব এবং এর সহায়ক উপকরণসমূহ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن
… الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهدِهِ الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً. أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة ((في قيام الليل)) أوضحت فيها:
مفهوم التهجد، وفضل قيام الليل، وأفضل أوقاته، وعدد ركعاته، وآداب قيام الليل، والأسباب المعينة عليه، وبيّنت مفهوم صلاة التراويح، وحكمها، وفضلها، ووقتها، وعدد ركعاتها، ومشروعية الجماعة فيها، ثم أوضحت الوتر، وحكمه، وفضله، ووقته، وأنواعه، وعدده، والقراءة فيه، والقنوت في الوتر،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
…
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি রাতের সালাত (قيام الليل) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি স্পষ্ট করেছি:
তাহাজ্জুদের (التهجد) ধারণা, রাতের সালাতের (قيام الليل) মর্যাদা, এর সর্বোত্তম সময়সমূহ, এর রাকাত সংখ্যা, রাতের সালাতের (قيام الليل) আদবসমূহ (آداب) এবং এর জন্য সহায়ক কারণসমূহ। আমি আরও বর্ণনা করেছি তারাবিহ সালাতের ধারণা, এর বিধান (حكم), মর্যাদা, সময়, রাকাত সংখ্যা এবং এতে জামায়াতের (الجماعة) বৈধতা (مشروعية)। এরপর আমি বিতর (الوتر), এর বিধান (حكم), মর্যাদা, সময়, প্রকারভেদ, সংখ্যা, তাতে কিরাত পাঠ এবং বিতরের (الوتر) কুনুত (القنوت) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
والدعاء بعد السلام من الوتر، وأن الوتر من صلاة الليل وهو آخره، وحكم قضاء سنة الوتر لمن نام عنها أونسيها، وكل مسألة قرنتها بدليلها.
وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام العلاّمة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، نوّر ضريحه، ورفع درجاته في الفردوس الأعلى.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً، مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العليّ العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر في ضحى يوم الجمعة
9/ 1/1421هـ
বিতর সালাতের সালামের পরবর্তী দুআ, বিতর যে রাতের সালাতের অন্তর্ভুক্ত এবং এটিই তার সর্বশেষ অংশ হওয়া সংক্রান্ত আলোচনা, এবং যে ব্যক্তি বিতরের সুন্নাহ (سنة) থেকে ঘুমিয়ে পড়েছে বা ভুলে গেছে তার কাজা (قضاء) করার বিধান; প্রতিটি মাসআলা আমি তার দলিলের সাথে সম্পৃক্ত করেছি।
আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ ইবন বাজ-এর সিদ্ধান্তসমূহ (تقريرات) ও অগ্রাধিকারসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চকিত করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলকে কবুল করেন, বরকতময় করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন। তিনি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। আল্লাহ রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের আদর্শ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সকলের ওপর।
গ্রন্থকার
লিখিত হয়েছে জুমার দিন পূর্বাহ্ণে
৯/ ১/ ১৪২১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: التهجد وقيام الليل
أولاً: مفهوم التهجد، يقال: هجد الرجل إذا نام بالليل، وهجد إذا صلى بالليل. وأما المتهجِّد فهو القائم إلى الصلاة من النوم (1).
ثانياً: صلاة التهجد سنة مؤكدة (2)، ثابتة بالكتاب والسنة، وإجماع الأمة، قال الله عز وجل في صفة عباد الرحمن: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} (3)، وقال عز وجل في صفة المتقين: {كَانُوا قَلِيلا مِّنَ الليل مَا يَهْجَعُونَ*وَبِالأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} (4) وقال تعالى في أصحاب الإيمان الكامل: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ * فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাহাজ্জুদ (التهجد) ও কিয়ামুল লাইল (قيام الليل)
প্রথমত: তাহাজ্জুদ (التهجد)-এর ধারণা (مفهوم), বলা হয়: ব্যক্তি যখন রাতে ঘুমায় তখন তাকে ‘হাজাদা’ (هجد) বলা হয়, আবার যখন সে রাতে সালাত আদায় করে তখনও তাকে ‘হাজাদা’ (هجد) বলা হয়। আর মুতাহাজ্জিদ (المتهجد) হলেন তিনি, যিনি ঘুম থেকে উঠে সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হন (১)।
দ্বিতীয়ত: তাহাজ্জুদের সালাত সুনিশ্চিত সুন্নাহ (سنة مؤكدة) (২), যা কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা ‘ইবাদুর রহমান’-এর বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় বলেন: {এবং যারা তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} (৩)। তিনি আয্যা ওয়া জাল্লা মুত্তাকীদের (المتقين) গুণাবলীতে বলেন: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত} (৪)। আল্লাহ তাআলা পূর্ণ ঈমানদারদের সম্পর্কে বলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে আলাদা থাকে, তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকেন ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা হতে তারা ব্যয় করে। সুতরাং কোনো ব্যক্তিই জানে না তাদের জন্য (চোখ জুড়ানো) কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (1). وقال سبحانه: {يَتْلُونَ آيَاتِ الله آنَاء الليل وَهُمْ يَسْجُدُونَ} (2). وقال سبحانه وتعالى: {وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالأَسْحَارِ} (3) ووصف الله عز وجل أهل الإيمان الكامل الذين يقومون بالليل بالعلم، ورفع مكانتهم على غيرهم، فقال تعالى: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ الليل سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الأَلْبَابِ} (4)؛ ولعظم شأن صلاة الليل قال الله لنبيه صلى الله عليه وسلم: {يَا أَيُّهَا الْمُزَمِّل * قُمِ الليل إِلا قَلِيلا * نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلا * أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلا} (5). وقال سبحانه للنبي صلى الله عليه وسلم: {وَمِنَ الليل فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ
--------------------------------------------
...তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর যা সংরক্ষিত রয়েছে, যা তারা আমল করত তার বিনিময়স্বরূপ} (১)। এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: {তারা রাতের প্রহরে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তারা সিজদাবনত হয়} (২)। এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {এবং যারা শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনা করে} (৩)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল সেই সকল পূর্ণ ঈমানদারদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন যারা রাতের বেলা ইলমের সাথে সালাতে দাঁড়ান এবং অন্যদের ওপর তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন; অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান হয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, পরকালকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান যে তা করে না?)। বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? কেবল বোধশক্তিসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে} (৪); এবং রাতের সালাতের মাহাত্ম্যের কারণে আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন: {হে বস্ত্রাবৃত * রাতে সালাতে দণ্ডায়মান হোন সামান্য সময় বাদে * তার অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কিছু কম করুন * অথবা তার চেয়ে বৃদ্ধি করুন এবং স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করুন} (৫)। এবং তিনি সুবহানাহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন: {এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন যা আপনার জন্য অতিরিক্ত (نافلة) ইবাদত; আশা করা যায় আপনার রব আপনাকে পাঠাবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا} (1)، وقال عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنزِيلا * فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلا تُطِعْ مِنْهُمْ آثِمًا أَوْ كَفُورًا * وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلا * وَمِنَ الليل فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ لَيْلا طَوِيلا} (2). وقال سبحانه وتعالى: {وَمِنَ الليل فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَارَ السُّجُود} (3). وقال عز وجل: {وَمِنَ الليل فَسَبِّحْهُ وَإِدْبَارَ النُّجُوم} (4)، وحث عليها النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: ((أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم، وأفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة الليل)) (5).
ثالثاً: فضل قيام الليل عظيم؛ للأمور الآتية:
1 - عناية النبي صلى الله عليه وسلم بقيام الليل حتى تفطرت قدماه، فقد كان يجتهد في القيام اجتهاداً عظيماً، فعن عائشة رضي الله عنها أن
--------------------------------------------
আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন} (১), এবং মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি পর্যায়ক্রমে কুরআন অবতীর্ণ করেছি * অতএব আপনার প্রতিপালকের নির্দেশের জন্য ধৈর্য ধারণ করুন এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করবেন না * আর সকাল-সন্ধ্যায় আপনার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করুন * এবং রাতের কিয়দংশ তাঁর প্রতি সিজদাবনত হোন এবং রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন} (২)। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {এবং রাতের একাংশে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং সিজদার পরেও} (৩)। এবং মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: {এবং রাতের একাংশে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তারকারাজির অস্তমিত হওয়ার সময়েও} (৪), এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি উৎসাহিত করে তাঁর বাণীর মাধ্যমে বলেছেন: ((রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররম এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ)) (৫)।
তৃতীয়ত: কিয়ামুল লাইলের মর্যাদা অপরিসীম; নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য:
১ - কিয়ামুল লাইলের প্রতি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, এমনকি তাঁর পদযুগল ফেটে যেত, নিশ্চয়ই তিনি কিয়ামের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
النبي صلى الله عليه وسلم كان يقوم من الليل حتى تتفطَّر قدماه، فقالت عائشة: لم تصنعُ هذا يا رسول الله وقد غفر الله لك ما تقدَّمَ من ذنبك وما تأخر؟ قال: ((أفلا أحبُّ أن أكون عبداً شكُوراً)) (1)، وعن المغيرة رضي الله عنه قال: ((قام النبي صلى الله عليه وسلم حتى تورَّمت قدماه، فقيل له: غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟ قال: ((أفلا أكون عبداً شكوراً)) (2).
وقد أحسن القائل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم حين قال:
وفينا رسول الله يتلو كتابه
… إذا انشق معروف من الفجر ساطع
يبيت يجافي جنبه عن فراشه
… إذا استثقلت بالكافرين المضاجع (3)
2 - من أعظم أسباب دخول الجنة، فعن عبد الله بن سلام رضي الله عنه قال: لما قَدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة انجفل الناس قِبَلَهُ، وقيل:
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না তাঁর পদদ্বয় বিদীর্ণ হয়ে যেত। তখন আয়েশা (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কেন এমন করছেন অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করব না?" (১), এবং মুগীরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সালাতে) দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না তাঁর দুই পা ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো: আল্লাহ কি আপনার পূর্বাপর গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?" (২)।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে প্রবক্তা কতই না সুন্দর বলেছেন যখন তিনি বলেছেন:
আমাদের মাঝে রয়েছেন আল্লাহর রাসুল, যিনি পাঠ করেন তাঁর কিতাব
… যখন সুবহে সাদিকের উজ্জ্বল শুভ্রতা বিচ্ছুরিত হয়
তিনি রাত অতিবাহিত করেন শয্যা হতে তাঁর পার্শ্বদেশ পৃথক রেখে
… যখন কাফেরদের নিকট তাদের শয্যাগুলো অত্যন্ত ভারী অনুভূত হয় (৩)
২ - জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম মহান কারণসমূহ, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন, তখন মানুষ তাঁর দিকে দ্রুত ধাবিত হলো এবং বলা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
قدِم رسول الله صلى الله عليه وسلم، قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم، قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثاً، فجئت في الناس، لأنظر، فلما تبيَّنتُ وجْهَهُ عرفتُ أن وجهه ليس بوجه كذَّاب، فكان أول شيء سمعتُه تكلَّم به أن قال: ((يا أيها الناس، أفشوا السلام، وأطعموا الطعام، وصِلوا الأرحام، وصلُّوا بالليل والناسُ نيام، تدخلوا الجنة بسلام)) (1).
وقد أحسن القائل حين قال:
ألهتك لذةُ نومةٍ عن خير عيشٍ
… مع الخيرات في غرف الجنان
تعيش مُخلَّداً لا موت فيها
… وتنعم في الجنان مع الحسان
تيقظ من منامك إنَّ خيراً
… من النوم التهجدُ بالقران (2)
3 - قيام الليل من أسباب رفع الدرجات في غرف الجنة؛
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন—এ কথাটি তিনবার বলা হলো। আমি মানুষের সাথে আসলাম দেখার জন্য। যখন আমি তাঁর চেহারা স্পষ্ট দেখতে পেলাম, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তাঁর চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর (كذاب) চেহারা নয়। প্রথম যে কথাটি আমি তাঁর থেকে বলতে শুনেছিলাম তা হলো: ((হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, অন্ন দান করো, রক্তীয় সম্পর্ক বজায় রাখো এবং রাতে সালাত আদায় করো যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে; তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে)) (১)।
এবং বক্তা কতই না সুন্দর বলেছেন যখন তিনি বলেছেন:
ঘুমের স্বাদ তোমাকে উত্তম জীবন থেকে বিমুখ রেখেছে
… যা জান্নাতের কক্ষগুলোতে কল্যাণময়ীদের সাথে অর্জিত হয়
যেখানে তুমি চিরকাল অবস্থান করবে, কোনো মৃত্যু নেই
… এবং হুরদের সাথে জান্নাতে নেয়ামত ভোগ করবে
তোমার ঘুম থেকে জাগ্রত হও, নিশ্চয়ই
… ঘুমের চেয়ে কুরআনের সাথে তাহাজ্জুদ আদায় করা অনেক উত্তম (২)
৩ - রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) জান্নাতের কক্ষগুলোতে মর্যাদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
لحديث أبي مالك الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن في الجنة غُرفاً يُرى ظاهرُها من باطنها، وباطنها من ظاهرها، أعدَّها الله تعالى لمن أطعم الطعام، وألانَ الكلام، وتابع الصيام (1)، وأفشى السلام، وصلى بالليل والناس نيام)) (2).
4 - المحافظون على قيام الليل محسنون مستحقون لرحمة الله وجنته؛ لأنهم {كَانُوا قَلِيلا مِّنَ الليل مَا يَهْجَعُونَ، وَبِالأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} (3).
5 - مدح الله أهل قيام الليل في جملة عباده الأبرار عباد الرحمن، فقال عز وجل: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} (4).
--------------------------------------------
আবু মালিক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন কিছু কক্ষ রয়েছে যার ভেতর থেকে বাহির এবং বাহির থেকে ভেতর দেখা যায়। আল্লাহ তাআলা তা প্রস্তুত করে রেখেছেন ঐ ব্যক্তির জন্য যে অন্ন দান করে, নরম ভাষায় কথা বলে, নিয়মিত রোজা (১) পালন করে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে নামাজ আদায় করে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।" (২)।
৪ - কিয়ামুল লাইলে যত্নবান ব্যক্তিরা পুণ্যবান এবং তারা আল্লাহর রহমত ও তাঁর জান্নাতের হকদার; কারণ তারা {রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত, আর শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত} (৩)।
৫ - আল্লাহ তাআলা কিয়ামুল লাইল পালনকারীদের তাঁর নেককার বান্দা ও ‘ইবাদুর রহমান’-দের অন্তর্ভুক্ত করে প্রশংসা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
6 - شهد لهم بالإيمان الكامل فقال سبحانه: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لا يَسْتَكْبِرُونَ*تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ ُنفِقُونَ} (1).
7 - نفى الله التسوية بينهم وبين غيرهم ممن لم يتصف بوصفهم، فقال تعالى: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ الليل سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الأَلْبَابِ} (2).
8 - قيام الليل مكفِّر للسيئات ومنهاة للآثام، لحديث أبي أمامة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((عليكم بقيام الليل فإنه دأب الصالحين قبلكم، وهو قُربة إلى ربكم، ومكفِّر للسيئات، ومنهاة للآثام)) (3).
--------------------------------------------
৬ - তাদের জন্য পূর্ণ ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যারা এর দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তারা অহংকার করে না। তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ভয় ও আশার সাথে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে} (১)।
৭ - আল্লাহ তাদের এবং অন্যদের মাঝে সমতা নাকচ করেছেন যারা তাদের গুণে গুণান্বিত নয়, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালকে ভয় করে এবং তার রবের রহমতের আশা রাখে (সে কি তার সমান)? বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে} (২)।
৮ - কিয়ামুল লাইল পাপরাশি মোচনকারী এবং পাপাচার থেকে নিবৃত্তকারী; আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ((তোমরা কিয়ামুল লাইল পালন করো, কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের রীতি, তোমাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায়, পাপ মোচনকারী এবং পাপাচার থেকে নিবৃত্তকারী)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
9 - قيام الليل أفضل الصلاة بعد الفريضة؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه يرفعه، وفيه: ((أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم، وأفضل الصلاة بعد المكتوبة صلاة الليل)) (1).
10 - شرف المؤمن قيام الليل؛ لحديث سهل بن سعد رضي الله عنه قال: جاء جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا محمد عش ما شئت فإنك ميت، وأحببْ من شئت فإنك مفارقه، واعمل ما شئت فإنك مجزيٌّ به)) ثم قال: ((يا محمد شرف المؤمن قيام الليل، وعزُّه استغناؤه عن الناس)) (2).
11 - قيام الليل يُغْبَطُ عليه صاحبه؛ لعظيم ثوابه، فهو خير من الدنيا وما فيها؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه
--------------------------------------------
৯ - ফরজের পর রাতের নামাজ (কিয়ামুল লাইল) সর্বোত্তম সালাত; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত মারফূ (مرفوع) হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((রমজানের পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজা সর্বোত্তম, এবং ফরজ নামাজের পর রাতের নামাজ সর্বোত্তম)) (১)।
১০ - মুমিনের মর্যাদা হলো রাতের নামাজ; সাহল বিন সাদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: জিবরাইল (আ.) নবীর (সা.) নিকট এসে বললেন: ((হে মুহাম্মদ, আপনি যতদিন ইচ্ছা বেঁচে থাকুন, নিশ্চয় আপনি মৃত্যুবরণ করবেন; যাকে ইচ্ছা ভালোবাসুন, নিশ্চয় আপনি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন; আর যা ইচ্ছা আমল করুন, নিশ্চয় আপনি তার প্রতিদান পাবেন))। অতঃপর তিনি বললেন: ((হে মুহাম্মদ, মুমিনের মর্যাদা হলো রাতের নামাজ, আর তার সম্মান হলো মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা)) (২)।
১১ - রাতের নামাজ পালনকারী ঈর্ষণীয়; এর মহান সওয়াবের কারণে, কেননা এটি দুনিয়া ও এর মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম; আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((দুইটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা নেই: এক ব্যক্তি যাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الله القرآن فهو يقوم به آناء الليل وآناء النهار، ورجل آتاه الله مالاً فهو ينفقه آناء الليل وآناء النهار)) (1)؛ ولحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله مالاً فسلَّطه على هلكته في الحق، ورجل آتاه الله الحكمة فهو يقضي بها ويعلِّمها)) (2).
12 - قراءة القرآن في قيام الليل غنيمة عظيمة؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من قام بعشر آيات لم يكتب من الغافلين، ومن قام بمائة آية كتب من القانتين، ومن قام بألف آية كتب من المقنطرين (3)) (4).
--------------------------------------------
...আল্লাহ তাকে কুরআন দান করেছেন, ফলে তিনি রাত ও দিনের প্রহরগুলোতে তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন (তিলাওয়াত করেন); আর সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, ফলে তিনি তা রাত ও দিনের প্রহরগুলোতে ব্যয় করেন)) (১); এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: ((কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা (حسد) করা বৈধ: এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে সত্যের পথে তা বিলিয়ে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন; আর এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ প্রজ্ঞা (حكمة) দান করেছেন, যার মাধ্যমে সে ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়)) (২)।
১২ - কিয়ামুল লাইলে কুরআন পাঠ এক মহান প্রাপ্তি (غنيمة); আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি দশটি আয়াত দিয়ে কিয়াম (সালাত) করল, তাকে উদাসীনদের (غافلين) তালিকাভুক্ত করা হবে না; যে ব্যক্তি একশ আয়াত দিয়ে কিয়াম করল, তাকে অনুগতদের (قانتين) অন্তর্ভুক্ত করা হবে; আর যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত দিয়ে কিয়াম করল, তাকে অঢেল সওয়াব অর্জনকারী (مقنطرين) (৩)-দের অন্তর্ভুক্ত করা হবে)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أيحب أحدكم إذا رجع إلى أهله أن يجد فيه ثلاث خَلِفاتٍ عظام سمانٍ؟)) قلنا: نعم، قال: ((ثلاث آيات يقرأ بهن أحدكم في صلاته خير له من ثلاث خلفات عظام سمان)) (1).
وقد حدد النبي صلى الله عليه وسلم أقصى مدة وأدنى زمن يُختم فيه القرآن لعبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عندما سأله، فقال له: ((في أربعين يوماً))،ثم قال: ((في شهر))،ثم قال: ((في خمس عشرة)) ثم قال: ((في عشر))،ثم قال: ((في سبع)) (2). قال: إني أقوى من ذلك، قال: ((لا يفقه من قرأه في أقل من ثلاث)) (3).
رابعاً: أفضل أوقات قيام الليل الثلث الآخر، وصلاة الليل تجوز في أوله، وأوسطه، وآخره؛ لحديث أنس رضي الله عنه قال:
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন তার পরিবারের কাছে ফিরে যায়, তখন কি সে এটা পছন্দ করে যে সেখানে সে তিনটি বড় ও হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উটনী পাবে?)) আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((তোমাদের কেউ তার সালাতে যে তিনটি আয়াত পাঠ করে, তা তার জন্য তিনটি বড় ও হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উটনীর চেয়েও উত্তম)) (১)।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তাঁর জন্য কুরআন খতম করার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে বলেছিলেন: ((চল্লিশ দিনে)), তারপর বললেন: ((এক মাসে)), তারপর বললেন: ((পনের দিনে)), তারপর বললেন: ((দশ দিনে)), তারপর বললেন: ((সাত দিনে)) (২)। তিনি (আবদুল্লাহ) বললেন: আমি এর চেয়েও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি (রাসূল) বললেন: ((যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন পাঠ করে, সে তা অনুধাবন করতে পারে না)) (৩)।
চতুর্থত: কিয়ামুল লাইলের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, এবং রাতের সালাত এর শুরুতে, মধ্যভাগে ও শেষভাগে পড়া বৈধ; আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفطر من الشهر حتى نظن أن لا يصوم منه، ويصوم حتى نظن أن لا يفطر، وكان لا تشاء أن تراه من الليل مصلياً إلا رأيته، ولا نائماً إلا رأيته)) (1). وهذا يدل على التيسير، فعلى حسب ما تيسر للمسلم يقوم، ولكن الأفضل أن يكون القيام في الثلث الآخر من الليل؛ لحديث عمرو بن عبسة رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((أقرب ما يكون الربُّ من العبد في جوف الليل الآخر، فإن استطعت أن تكون ممن يذكر الله في تلك الساعة فكن)) (2). ومما يزيد ذلك وضوحاً حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر
--------------------------------------------
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসের কোনো এক অংশে সিয়াম পালন থেকে বিরত থাকতেন, এমনকি আমাদের মনে হতো তিনি হয়তো এ মাসে আর সিয়াম পালন করবেন না; আবার তিনি (টানা) সিয়াম পালন করতেন, এমনকি আমাদের মনে হতো তিনি হয়তো আর সিয়াম ত্যাগ করবেন না। আর রাতের বেলা আপনি যখনই তাঁকে সালাতরত অবস্থায় দেখতে চাইতেন, তখনই তাঁকে সে অবস্থায় দেখতে পেতেন; আবার যখনই তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইতেন, তখনই তাঁকে সে অবস্থায় দেখতে পেতেন" (১)। এটি সহজীকরণের প্রমাণ বহন করে। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য যতটুকু সহজ হয়, সে অনুযায়ী সে কিয়াম (রাতের সালাত) আদায় করবে। তবে রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে কিয়াম করা উত্তম; আমর ইবনে আবাসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস এর কারণে, যাতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "রাতের শেষাংশে প্রতিপালক বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি যদি সেই সময়ে আল্লাহকে স্মরণকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো, তবে তাই হও" (২)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই হাদিস বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমাদের প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তায়ালা প্রতি রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فيقول: من يدعوني فأستجيب له؟ من يسألني فأعطيه؟ من يستغفرني فأغفر له؟ [فلا يزال كذلك حتى يضيء الفجر])) (1).
وعن جابر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن في الليل لساعةً لا يوافقها عبدٌ مسلم يسأل الله خيراً من أمر الدنيا والآخرة إلا أعطاه إياه، وذلك كل ليلة)) (2).
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: ((أحبُّ الصلاة إلى الله صلاةُ داود عليه السلام، وأحبُّ الصيام إلى الله صيامُ داود، وكان ينام نصفَ الليل، ويقوم ثلثَه، وينام سُدسَه، ويصوم يوماً ويُفطر يوماً، ولا يفرُّ إذا لاقى)) (3).
وعن عائشة رضي الله عنها قالت حينما سُئلت: أي العمل كان
--------------------------------------------
তিনি বলেন: “কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? [ভোর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে]” (১)।
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই রাতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময়ে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে তা দান করেন। আর এটি প্রতি রাতেই ঘটে” (২)।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সালাত হলো দাউদ (আ.)-এর সালাত এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সিয়াম হলো দাউদ (আ.)-এর সিয়াম। তিনি রাতের অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, এক-তৃতীয়াংশ সময় ইবাদতে দাঁড়িয়ে কাটাতেন এবং এক-ষষ্ঠাংশ সময় ঘুমাতেন। তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন রোজা ভঙ্গ করতেন, আর শত্রুর মোকাবিলাকালে তিনি পলায়ন করতেন না” (৩)।
আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন আমলটি ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أحبَّ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالت: الدائم، قلت: متى كان يقوم؟ قالت: كان يقوم إذا سمع الصارخ (1). وفي حديثها الآخر رضي الله عنها: ((إن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليوقظه الله من الليل فما يجيء السَّحر حتى يفرغ من حزبه)) (2).
خامساً: عدد ركعات قيام الليل، ليس له عددٌ مخصوص؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى)) (3).
ولكن الأفضل أن يقتصر على إحدى عشرة ركعة؛ أو ثلاث عشرة ركعة، لفعل النبي صلى الله عليه وسلم، فعن عائشة رضي الله عنها قالت: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي ما بين أن يفرغ من صلاة العشاء إلى الفجر إحدى عشرة ركعة يسلِّم بين كل ركعتين ويوتر بواحدة)) (4)؛ ولحديثها الآخر: ((ما كان
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কোন আমলটি সবচেয়ে প্রিয় ছিল? তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: নিয়মিত (আমল); আমি বললাম: তিনি কখন (সালাতের জন্য) উঠতেন? তিনি বললেন: তিনি মোরগের ডাক শুনলে উঠতেন (১)। তাঁর (রা.) বর্ণিত অপর এক হাদিসে রয়েছে: "আল্লাহ তাআলা যখনই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাতে জাগ্রত করতেন, শেষ রাত (সেহরির সময়) আসার আগেই তিনি তাঁর প্রাত্যহিক আমল (হিজব) সম্পন্ন করে নিতেন" (২)।
পঞ্চম: কিয়ামুল লাইলের রাকাত সংখ্যা; এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রাতের সালাত দুই দুই রাকাত করে, অতঃপর তোমাদের কেউ যদি সুবহে সাদিকের আশঙ্কা করে তবে সে যেন এক রাকাত সালাত আদায় করে নেয়, যা তার ইতিপূর্বে পঠিত সালাতকে বিতর (বিজোড়) করে দিবে" (৩)।
তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমলের প্রেক্ষিতে এগারো রাকাত বা তেরো রাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার সালাত শেষ করার পর থেকে ফজর পর্যন্ত এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন; তিনি প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন" (৪); এবং তাঁর বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে: "তিনি (রমজান বা রমজান ব্যতীত অন্য সময়ে)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة)) (1).
سادساً: آداب قيام الليل:
1 - ينوي عند نومه قيام الليل وينوي بنومه التَّقوِّي على الطاعة ليحصل على الثواب على نومه؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ما من امرئ تكون له صلاة بليل فغلبه عليها نوم إلا كتب الله له أجر صلاته، وكان نومُه صدقةً عليه)) (2)؛ولحديث أبي الدرداء رضي الله عنه يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من أتى فراشه وهو ينوي أن يقوم يصلي من الليل فغلبتْهُ عيناه حتى أصبح، كُتبَ له ما نوى، وكان نومُهُ صدقةً عليه من ربه عز وجل)) (3).
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান কিংবা রমজানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করতেন না (১)।
ষষ্ঠত: কিয়ামুল লাইলের আদবসমূহ:
১ - ঘুমানোর সময় কিয়ামুল লাইলের নিয়ত করা এবং ঘুমের মাধ্যমে ইবাদতের শক্তি অর্জনের নিয়ত করা যাতে ঘুমের মাধ্যমেও সওয়াব লাভ করা যায়; আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার রাতে সালাত আদায়ের অভ্যাস রয়েছে, কিন্তু তার ওপর ঘুম প্রবল হয়ে পড়ল, তবে আল্লাহ তার জন্য তার সালাতের সওয়াব লিখে দেন এবং তার ঘুম তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়" (২); এবং আবু দারদা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিছানায় গেল এই নিয়তে যে সে রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়াবে, কিন্তু সকাল হওয়া পর্যন্ত তার চোখ দুটিতে ঘুম চেপে থাকল, তবে সে যা নিয়ত করেছিল তার জন্য তা-ই লিখে দেওয়া হয় এবং তার ঘুম তার মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - يمسح النوم عن وجهه عند الاستيقاظ، ويذكر الله، ويشوص فاه بالسواك ويقول: ((لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، ربِّ اغفر لي))؛لحديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من تعارَّ من الليل فقال: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، الحمد لله، وسبحان الله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله، ثم قال: اللهم اغفر لي، أو دعا استجيب [له] (1)) (2).
وفي حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((
… استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يمسح النوم عن وجهه بيده ثم قرأ العشر
--------------------------------------------
২ - ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ মুছে ফেলা এবং আল্লাহর জিকির করা, এবং মেসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা ও বলা: ((আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বমহান, এবং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন)); উবাদাহ বিন সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি রাতে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠে বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ অতি পবিত্র, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বমহান, এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। এরপর সে বলে: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, অথবা কোনো দোয়া করে, তবে তার দোয়া কবুল করা হবে [তার জন্য] (১))) (২)।
এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: (( ...রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত হলেন এবং নিজ হাত দিয়ে তাঁর চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। এরপর তিনি (সূরা আল-ইমরানের শেষ) দশটি আয়াত পাঠ করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الآيات الخواتيم من سورة آل عمران
… )) (1)، وعن حذيفة رضي الله عنه قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل يشوص فاه بالسواك)) (2)، ويقول أذكار الاستيقاظ من النوم الأخرى (3)، ويتوضأ كما أمره الله تعالى.
3 - يفتتح تهجّدَه بركعتين خفيفتين؛ لفعل النبي صلى الله عليه وسلم وقوله، لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل ليصلي افتتح صلاته بركعتين خفيفتين)) (4)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا قام أحدكم من الليل فليفتتح صلاته بركعتين خفيفتين)) (5).
4 - يُستحبُّ أن يكون تهجدُه في بيته؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان
--------------------------------------------
সূরা আল-ইমরানের শেষ আয়াতসমূহ
… )) (১), এবং হুজাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রাতে জাগ্রত হতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ পরিষ্কার করতেন)) (২), এবং ঘুম থেকে ওঠার অন্যান্য জিকিরসমূহ পাঠ করতেন (৩), এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে অজু করতেন।
৩ - তিনি তাঁর তাহাজ্জুদ দুই রাআত সংক্ষিপ্ত (خفيفة) সালাতের মাধ্যমে শুরু করতেন; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাজ ও বাণীর কারণে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রাতে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাঁর সালাত দুই রাআত সংক্ষিপ্ত (خفيفة) সালাত দিয়ে শুরু করতেন)) (৪); এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন রাতে (সালাতের জন্য) দাঁড়াবে, সে যেন তার সালাত দুই রাআত সংক্ষিপ্ত (خفيفة) সালাত দিয়ে শুরু করে)) (৫)।
৪ - তাহাজ্জুদ নিজ ঘরে পড়া বাঞ্ছনীয় (مستحب); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
يتهجَّد في بيته؛ ولحديث زيد بن ثابت رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((
… فعليكم بالصلاة في بيوتكم، فإن خير صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة)) (1).
5 - المداومة على قيام الليل وعدم قطعه، يُستحب أن يكون للمسلم ركعات معلومة يداوم عليها، فإذا نشط طوَّلها وإذا لم ينشط خفَّفها، وإذا فاتته قضاها؛ لحديث عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((خذوا من الأعمال ما تطيقون فإن الله لا يملُّ حتى تملّوا)) وكان يقول: ((أحب العمل إلى الله ما داوم عليه صاحبه وإن قلّ)) (2)؛ ولحديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال لي النبي صلى الله عليه وسلم: ((يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم الليل فترك قيام الليل)) (3)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((
… وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلى صلاة أحبّ أن يداوم عليها،
--------------------------------------------
তিনি তাঁর ঘরে তাহাজ্জুদ আদায় করবেন; আর যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যে, নবী (সা.) বলেছেন: ((
… তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় করো, কারণ ফরজ সালাত ব্যতীত মানুষের শ্রেষ্ঠ সালাত হলো তার ঘরে (আদায়কৃত সালাত))) (১)।
৫ - কিয়ামুল লাইল নিয়মিত পালন করা এবং তা বিচ্ছিন্ন না করা, একজন মুসলিমের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত থাকা মুস্তাহাব যা সে নিয়মিত পালন করবে; যদি সে প্রাণবন্ত বোধ করে তবে তা দীর্ঘ করবে, আর যদি প্রাণবন্ত না থাকে তবে তা সংক্ষেপ করবে, আর যদি তা ছুটে যায় তবে তা কাজা করে নেবে; আয়েশা (রা.) বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী যে, তিনি বলেছেন: ((তোমরা ততটুকু আমলই গ্রহণ করো যতটুকু পালনের সামর্থ্য তোমাদের আছে, কেননা আল্লাহ প্রতিদান দিতে ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ো)) এবং তিনি বলতেন: ((আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল তা-ই যা আমলকারী নিয়মিত পালন করে, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়)) (২); আর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: নবী (সা.) আমাকে বলেছেন: ((হে আব্দুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে রাতে সালাত আদায় করত অথচ পরবর্তীতে কিয়ামুল লাইল ছেড়ে দিয়েছে)) (৩); আর আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: ((
… রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি তা নিয়মিত পালন করতে পছন্দ করতেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة)) (1)، ولحديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من نام عن حزبه أو عن شيء منه فقرأه فيما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر كُتِبَ له كأنما قرأه من الليل)) (2).
6 - إذا غلبه النعاس ينبغي له أن يترك الصلاة وينام حتى يذهب عنه النوم؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا نعس أحدُكم في الصلاة فليرقدْ حتى يذهب عنه النوم؛ فإن أحدَكم إذا صلى وهو ناعس لعله يذهب يستغفر فيسبّ نفسه)) (3)؛ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه يرفعه: ((إذا قام أحدكم من الليل فاستعجم القرآن على لسانه فلم يدرِ ما يقول فليضطجع)) (4).
--------------------------------------------
আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ঘুম অথবা ব্যথার কারণে রাতের সালাত (কিয়াম) আদায় করতে পারতেন না, তখন দিনের বেলা বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন (১)। এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার রাতের নির্ধারিত আমল (হিজব) অথবা তার কোনো অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে যায়, অতঃপর সে তা ফজর ও যোহরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নেয়, তবে তার আমলনামায় তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হবে যেন সে তা রাতেই পড়েছে" (২)।
৬ - যখন কারও ওপর তন্দ্রা প্রবল হয়, তখন তার উচিত সালাত ছেড়ে দেওয়া এবং ঘুমিয়ে যাওয়া যতক্ষণ না তার তন্দ্রাভাব দূর হয়; আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন সালাত অবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে যতক্ষণ না তার তন্দ্রা দূর হয়; কারণ তোমাদের কেউ যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত আদায় করে, তখন সম্ভবত সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকেই গালি দিয়ে ফেলে" (৩); এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত মারফু (يرفعه) হাদিসের কারণে: "তোমাদের কেউ যখন রাতে (সালাতে) দাঁড়ায় এবং কুরআন তার রসনায় অস্পষ্ট হয়ে যায়, ফলে সে কী বলছে তা বুঝতে পারে না, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
7 - يُستحب له أن يوقظ أهله؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي من الليل فإذا أوتر قال لعائشة رضي الله عنها: ((قومي فأوتري يا عائشة)) (1)؛ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((رحم الله رجلاً قام من الليل فصلى، ثم أيقظ امرأته فصلت، فإن أبت نضح في وجهها الماء، ورحم الله امرأة قامت من الليل فصلت، ثم أيقظت زوجها، فإن أبى نضحت في وجهه الماء)) (2).وعن أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إذا استيقظ الرجل من الليل وأيقظ امرأته فصليا ركعتين كُتبا من الذاكرين الله كثيراً والذاكرات)) (3).
--------------------------------------------
৭ - তার জন্য নিজ পরিবারকে জাগ্রত করা মুস্তাহাব; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর যখন বিতর আদায় করতেন তখন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতেন: ((হে আয়েশা! ওঠো এবং বিতর আদায় করো)) (১); এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর দয়া করুন যে রাতে উঠে সালাত আদায় করে, তারপর তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয় এবং সেও সালাত আদায় করে। যদি সে অস্বীকার করে, তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আর আল্লাহ সেই নারীর ওপর দয়া করুন যে রাতে উঠে সালাত আদায় করে, তারপর তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয় এবং সেও সালাত আদায় করে। যদি সে অস্বীকার করে, তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়)) (২)। এবং আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যখন কোনো ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয় এবং তার স্ত্রীকে জাগ্রত করে, অতঃপর তারা উভয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তবে তাদের উভয়কে ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী’-দের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিখে নেওয়া হয়)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم طرقه وفاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم ليلةً فقال: ((ألا تصليان؟)) فقلت: يا رسول الله، إنما أنفسنا بيد الله فإذا شاء أن يبعثنا بعثنا، فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قلت له ذلك، ولم يرجع إليَّ شيئاً، ثم سمعته وهو مدبرٌ يضرب فخذه ويقول: {وَكَانَ الإنسان أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلاً} (1).
قال ابن بطال رحمه الله: ((فيه فضيلة صلاة الليل، وإيقاظ النائمين من الأهل والقرابة لذلك)) (2)، وقال الطبري رحمه الله: ((لولا ما علم النبي صلى الله عليه وسلم من عِظَمِ فضل الصلاة في الليل ما كان يُزعج ابنَتَه وابنَ عمه، في وقت جعله الله لخلقه سكناً، لكنه اختار لهما إحراز تلك
--------------------------------------------
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) এক রাতে তাঁর এবং নবী (সা.)-এর কন্যা ফাতিমার নিকট আসলেন এবং বললেন: ((তোমরা কি সালাত আদায় করবে না?)) তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের প্রাণ তো আল্লাহর হাতে; তিনি যখন আমাদের জাগাতে চান, তখন আমাদের জাগিয়ে দেন। যখন আমি তাঁকে এ কথা বললাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) ফিরে গেলেন এবং আমাকে কোনো প্রতিউত্তর করলেন না। অতঃপর আমি তাঁকে ফিরে যাওয়ার সময় নিজের উরুতে হাত মারতে মারতে বলতে শুনলাম: {আর মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয়} (১)।
ইবনে বাত্তাল (রহ.) বলেন: ((এর মধ্যে রাতের সালাতের ফজিলত এবং তার জন্য পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার বিষয়টি বিদ্যমান)) (২)। তাবারী (রহ.) বলেন: ((নবী (সা.) যদি রাতের সালাতের ফজিলতের মহানুভবতা সম্পর্কে অবগত না থাকতেন, তবে তিনি তাঁর কন্যা এবং চাচাতো ভাইকে এমন এক সময়ে জাগাতেন না, যে সময়টিকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির জন্য বিশ্রামের সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; কিন্তু তিনি তাদের জন্য সেই (মর্যাদা) অর্জনকেই পছন্দ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفضيلة على الدَّعة والسكون، امتثالاً لقول الله تعالى (1): {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} (2). وقول علي رضي الله عنه: ((إنما أنفسنا بيد الله)) اقتبس علي رضي الله عنه ذلك من قوله تعالى: {الله يَتَوَفَّى الأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لآَيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} (3)، وقوله ((بعثنا)) المقصود: أيقظنا (4)، وقوله: ((طرقه))، ذكر النووي رحمه الله أن الطرق هو الإتيان في الليل، وأن ضرب النبي صلى الله عليه وسلم لفخذه المختار في معناه: أنه من سرعة جوابه وعدم موافقته به على الاعتذار، ولهذا ضرب فخذه، والحديث فيه: الحث على صلاة الليل، وأمر الإنسان صاحبه بها، وتعهد الإمام
--------------------------------------------
আয়েশ ও স্থবিরতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর আনুগত্যস্বরূপ (১): {আর আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং তার ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিযিক চাই না, আমিই আপনাকে রিযিক দান করি; আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ার জন্য} (২)। আর আলী (রা.)-এর উক্তি: "নিশ্চয়ই আমাদের প্রাণ আল্লাহর হাতে"—আলী (রা.) এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে উদ্ধৃত করেছেন: {আল্লাহই প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু হয়নি তাদের ঘুমের সময়; এরপর তিনি যার জন্য মৃত্যু অবধারিত করেছেন তার প্রাণ রেখে দেন এবং অন্যগুলো এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাঠিয়ে দেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে} (৩)। এবং তাঁর শব্দ "আমাদের পাঠিয়েছেন (بعثنا)" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আমাদের জাগ্রত করেছেন (৪)। আর তাঁর শব্দ "তরাকাহু (طرقه)" এর ক্ষেত্রে ইমাম নববী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, 'তরাক' হলো রাতের বেলা আসা। নবী (সা.)-এর নিজ উরুতে আঘাত করার অর্থের ক্ষেত্রে মনোনীত (المختار) ব্যাখ্যা হলো: এটি ছিল তাঁর দ্রুত উত্তরের কারণে এবং ওজরের (অজুহাতের) সাথে একমত না হওয়ার কারণে; একারণেই তিনি তাঁর উরুতে আঘাত করেছিলেন। হাদিসটিতে রয়েছে: রাতের সালাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান, কোনো ব্যক্তির তার সঙ্গীকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া এবং ইমামের পক্ষ থেকে তদারকি করা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والكبير رعيته، بالنظر في مصالح دينهم ودنياهم، وأنه ينبغي للناصح إذا لم تقبل نصيحته أو اعتذر إليه بما لا يرتضيه أن ينكف ولا يُعنِّف إلا لمصلحة (1).
وعن أم سلمة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت: استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فزعاً، فقال: ((سبحان الله ماذا أنزل الله من الخزائن؟ وماذا أُنزِل من الفتن؟ أيقظوا صواحب يوسف - يريد أزواجه - لكي يصلين، رُبَّ كاسية في الدنيا عارية في الآخرة)). وفي لفظ: ((ماذا أنزل الليلة؟)) (2). قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((
… فيه التحريض على صلاة الليل وعدم الإيجاب، يُؤخذ من ترك إلزامهن بذلك)) (3). وفي الحديث استحباب ذكر الله عند الاستيقاظ،
--------------------------------------------
এবং বড়রা (নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ) তাদের অধীনস্থদের দ্বীন ও দুনিয়াবি স্বার্থ পর্যালোচনার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। আর উপদেশদাতার ক্ষেত্রে উচিত হলো, যখন তার উপদেশ গ্রহণ করা না হয় অথবা তার কাছে এমন কোনো ওজর পেশ করা হয় যা সন্তোষজনক নয়, তখন সে যেন বিরত থাকে এবং কঠোরতা অবলম্বন না করে, যদি না তাতে কোনো কল্যাণ থাকে (১)।
উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আতঙ্কিত অবস্থায় জেগে উঠলেন এবং বললেন: "সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর রহমতের কতই না ভাণ্ডার অবতীর্ণ করা হয়েছে? আর কতই না ফিতনা (فتن) অবতীর্ণ করা হয়েছে? তোমরা ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গিনীদের (صواحب يوسف) —অর্থাৎ তাঁর স্ত্রীদের— জাগিয়ে তোলো যাতে তারা সালাত আদায় করে। দুনিয়াতে অনেক বস্ত্র পরিহিতা নারী পরকালে নগ্ন থাকবে।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আজ রাতে কী অবতীর্ণ হয়েছে?" (২)। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "... এতে রাতের সালাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং তা আবশ্যক (إيجاب) না হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, যা তাদের ওপর এটি বাধ্যতামূলক না করা থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে" (৩)। আর এই হাদিসে ঘুম থেকে জাগার সময় আল্লাহর জিকির মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وإيقاظ الرجل أهله بالليل للعبادة، لا سيما عند آية تَحدُثُ (1)، قال ابن الأثير رحمه الله: ((رب كاسية في الدنيا عارية في الآخرة)) هذا كناية عما يقدمه الإنسان لنفسه من الأعمال الصالحة، يقول: ((رُبَّ غني في الدنيا لا يفعل خيراً، وهو فقير في الآخرة، ورُبَّ مكتسٍ في الدنيا ذي ثروة ونعمة عارٍ في الآخرة شقيٌّ)) (2).
وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنه، أن أباه عمر بن الخطاب كان يصلي من الليل ما شاء الله، حتى إذا كان من آخر الليل أيقظ أهله للصلاة، يقول لهم: الصلاة الصلاة، ثم يتلو هذه الآية: {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} (3).
--------------------------------------------
এবং রাতে ইবাদতের জন্য কোনো ব্যক্তির তার পরিবারকে জাগিয়ে তোলা, বিশেষ করে কোনো নির্দশন প্রকাশ পাওয়ার সময় (১); ইবনুল আসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা পরকালে উলঙ্গ থাকবে।" এটি মানুষ তার নিজের জন্য যে নেক আমলগুলো পেশ করে, তার একটি রূপক বর্ণনা। তিনি বলেন: "দুনিয়াতে এমন অনেক ধনী ব্যক্তি রয়েছে যে কোনো কল্যাণকর কাজ করে না, অথচ সে পরকালে দরিদ্র; আর দুনিয়াতে সম্পদ ও নেয়ামত ভোগকারী অনেক পোশাক পরিহিত ব্যক্তি পরকালে হবে বস্ত্রহীন ও হতভাগ্য" (২)।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব রাতে আল্লাহ যতটুকু চাইতেন সালাত আদায় করতেন। এমনকি যখন রাতের শেষ ভাগ হতো, তিনি তাঁর পরিবারকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন এবং বলতেন: সালাত, সালাত। এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন: {তুমি তোমার পরিবারকে সালাতের আদেশ দাও এবং তার ওপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না, আমিই তোমাকে রিযিক দান করি। আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ার জন্য} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
8 - يقرأ المتهجد جزءاً من القرآن أو أكثر، أو أقل على حسب ما تيسر مع التدبر لما يقرأ، وهو مُخيَّر بين الجهر بالقراءة والإسرار بها، إلا أنه إن كان الجهر أنشط له في القراءة، أو كان بحضرته من يستمع قراءته، أو ينتفع بها فالجهر أفضل، وإن كان قريباً منه من يتهجد، أو من يتضرر برفع صوته، فالإسرار أولى، وإن لم يكن لا هذا ولا هذا، فليفعل ما شاء (1).
وقد دلت الأحاديث على هذا كله، فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: ((صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فأطال حتى هممت بأمر سوءٍ، قيل: وما هممت به؟ قال: هممت أن أجلس وأدعه)) (2). وعن حذيفة رضي الله عنه قال: ((صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فافتتح البقرة فقلت: يركع عند المائة،
--------------------------------------------
৮ - তাহাজ্জুদ আদায়কারী কোরআনের এক জুজ (পারা) বা তার চেয়ে বেশি তিলাওয়াত করবেন, অথবা তিলাওয়াতকৃত বিষয়ের ওপর গভীর অনুধাবনসহ যতটুকু সহজসাধ্য হয় তার চেয়ে কমও হতে পারে। তিনি উচ্চস্বরে অথবা নিচুস্বরে পড়ার ব্যাপারে ইখতিয়ার সম্পন্ন। তবে যদি উচ্চস্বরে পাঠ তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁকে অধিকতর সক্রিয় রাখে অথবা সেখানে যদি এমন কেউ উপস্থিত থাকে যে তাঁর তিলাওয়াত শুনবে বা এর দ্বারা উপকৃত হবে, তবে উচ্চস্বরে পাঠ করাই উত্তম। আর যদি তাঁর নিকটে এমন কেউ থাকে যে তাহাজ্জুদ পড়ছে অথবা উচ্চস্বরের কারণে কারো অসুবিধা হয়, তবে নিচুস্বরে পাঠ করাই শ্রেয়। আর যদি এগুলোর কোনটিই না হয়, তবে তিনি যেভাবে ইচ্ছা করবেন (১)।
হাদিসসমূহ এ সবকিছুর ওপরই প্রমাণ পেশ করেছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি (কিয়াম) এত দীর্ঘ করলেন যে আমি একটি মন্দ কাজের সংকল্প করলাম। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কিসের সংকল্প করেছিলেন? তিনি বললেন: আমি সংকল্প করেছিলাম যে বসে পড়ব এবং তাঁকে ছেড়ে দেব" (২)। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক রাতে আমি নবী (সা.)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল-বাকারাহ শুরু করলেন। আমি (মনে মনে) বললাম: তিনি একশ আয়াতের মাথায় রুকু করবেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم مضى فقلت: يصلي بها في ركعة، فمضى فقلت: يركع بها، ثم افتتح النساء فقرأها، ثم افتتح آل عمران فقرأها، يقرأ مترسلاً، إذا مرَّ بآية فيها تسبيح سبَّح، وإذا مر بسؤال سأل، وإذا مر بتعوُّذٍ تعوَّذ
… )) (1)، وعن عوف بن مالك الأشجعي رضي الله عنه قال: قمت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فقرأ سورة البقرة، لا يمر بآية رحمة إلا وقف فسأل، ولا يمر بآية عذاب إلا وقف فتعوَّذ، ثم ركع بقدر قيامه، يقول في ركوعه: ((سبحان ذي الجبروت، والملكوت، والكبرياء، والعظمة)) ثم سجد بقدر قيامه، ثم قال في سجوده مثل ذلك، ثم قام فقرأ بآل عمران، ثم قرأ سورة سورة)) (2). وعن حذيفة رضي الله عنه أنه رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل فصلى أربع ركعات، فقرأ فيهن: البقرة، وآل
--------------------------------------------
তারপর তিনি এগিয়ে চললেন, তখন আমি ভাবলাম: তিনি হয়তো এক রাকাতেই এটি পাঠ করবেন। কিন্তু তিনি এগিয়ে চললেন, তখন আমি ভাবলাম: তিনি এটি শেষ করে রুকু করবেন। এরপর তিনি সূরা আন-নিসা শুরু করে তা পাঠ করলেন, তারপর তিনি সূরা আলে ইমরান শুরু করে তা পাঠ করলেন। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে (مترسلاً) পাঠ করছিলেন। যখন তিনি তসবিহ সম্বলিত কোনো আয়াতের ওপর দিয়ে যেতেন, তখন তসবিহ পাঠ করতেন; যখন কোনো যাচ্ঞা বা প্রার্থনার আয়াতের ওপর দিয়ে যেতেন, তখন প্রার্থনা করতেন এবং যখন আশ্রয় প্রার্থনার আয়াতের ওপর দিয়ে যেতেন, তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন
… )) (১), এবং আউফ বিন মালিক আল-আশজাঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এক রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন। তিনি রহমতের কোনো আয়াত অতিক্রম করার সময় থেমে প্রার্থনা করতেন এবং আযাবের কোনো আয়াত অতিক্রম করার সময় থেমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এরপর তিনি তাঁর দণ্ডায়মান হওয়ার সমপরিমাণ সময় রুকু করলেন। তিনি রুকুতে বলতেন: “পরাক্রম, রাজত্ব, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী সত্তা পবিত্র।” এরপর তিনি দণ্ডায়মান হওয়ার সমপরিমাণ সময় সিজদা করলেন এবং সিজদাতেও অনুরূপ বললেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে সূরা আলে ইমরান পাঠ করলেন, তারপর একটি একটি করে সূরা পাঠ করলেন)) (২)। এবং হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাতে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তাতে পাঠ করলেন: আল-বাকারা এবং আলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামুল লাইলি লিসাঈদ ইবনু ওয়াহফ আল-কাহত্বানী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عمران، والنساء، والمائدة أو الأنعام)) (1).
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رجلاً قرأ المفصَّل في ركعة فقال له: ((هذَّاً كهذِّ الشعر؟ لقد عرفت النظائر التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرن بينهن، فذكر عشرين سورة من المفصل سورتين من آل حم في كل ركعة)) (2).وفي لفظ: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأهن اثنتين اثنتين في كل ركعة)) وقال: ((عشرون سورة من أول المفصل على تأليف ابن مسعود آخرهن من الحواميم: {حم}،الدخان، و {عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ} (3). وفي لفظ لمسلم: ((عشرون سورة في عشر ركعات من المفصل في تآليف عبد الله)) (4). وفي لفظ لمسلم: ((
… هذّاً كهذِّ الشعر، إن
--------------------------------------------
আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ অথবা আল-আনআম)) (১)।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি এক রাকাআতে মুফাসসাল (المفصل) অংশটি তিলাওয়াত করল। তখন তিনি তাকে বললেন: ((কবিতা আবৃত্তির মতো দ্রুত তিলাওয়াত করলে? আমি সেই সমগোত্রীয় সূরাগুলো সম্পর্কে জানি যেগুলোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একত্রে মিলিয়ে পড়তেন। অতঃপর তিনি মুফাসসাল (المفصل) অংশ থেকে বিশটি সূরার কথা উল্লেখ করলেন, প্রতি রাকাআতে আল-হা-মীম গুচ্ছের দুটি করে সূরা)) (২)। অন্য এক বর্ণনায় আছে: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি রাকাআতে দুটি করে সূরা পড়তেন)) এবং তিনি বললেন: ((ইবনে মাসউদের বিন্যাস অনুযায়ী মুফাসসালের (المفصل) শুরু থেকে বিশটি সূরা, যার শেষগুলো হা-মীম গুচ্ছের সূরা থেকে: হা-মীম আদ-দুখান এবং 'আম্মা ইয়াতাসায়ালুন (৩)। মুসলিম-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: ((আবদুল্লাহর বিন্যাস অনুযায়ী মুফাসসাল (المفصل) থেকে বিশটি সূরা দশ রাকাআতে)) (৪)। মুসলিম-এর অন্য এক বর্ণনায় আছে: ((
… কবিতার মতো দ্রুত আবৃত্তি করা, নিশ্চয়...
--------------------------------------------