(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
غزوة فتح مكة في ضوء السنة المطهرة   (عبد الرحمن بن وهف القحطاني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: غزوة فتح مكة في ضوء السنة المطهرة

المؤلف: عبد الرحمن بن سعيد بن علي بن وهف القحطاني (ت 1422هـ)

تحقيق: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 139

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

পবিত্র সুন্নাহর আলোকে মক্কা বিজয় অভিযান   (আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহফ আল-কাহথানি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে মক্কা বিজয় অভিযান

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহফ আল-কাহথানি (মৃত. ১৪২২ হিজরি)

সম্পাদনা: ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহফ আল-কাহথানি

প্রকাশক: সাফীর প্রকাশনী، রিয়াদ

পরিবেশনা: আল-জুরাইসী ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং ফাউন্ডেশন، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুলকাদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
غزوة فتح مكة

في ضوء الكتاب والسنة

 

إعداد

عبد الرحمن بن سعيد بن علي بن وهف القحطاني رحمه الله تعالى

(1403 - 1422هـ)

 

تحقيق الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
মক্কা বিজয় অভিযান

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

রচনায়

আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহতানি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন)

(১৪০৩ - ১৪২২ হিজরি)

 

আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক সম্পাদিত

ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلّى الله عليه وعلى آله وأصحابه، وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة في ((غزوة فتح مكة)) كتبها الابن: عبد الرحمن بن سعيد بن علي بن وهف القحطاني رحمه الله تعالى، وهي رسالة نافعة جداً، بيَّن فيها رحمه الله تعالى: الأسباب التي دعت إلى غزوة الفتح، وتاريخ غزوة فتح مكة، وعدد الجيش النبوي، وذكر قصة قدوم أبي سفيان إلى المدينة للمفاوضات مع النبي صلى الله عليه وسلم، وبيّن إعداد النبي الكريم صلى الله عليه وسلم لغزوة الفتح، وتجهيز الجيش لذلك، وأوضح ما حصل من محاولة نقل خبر الغزو من قبل الصحابي الجليل حاطب بن أبي بلتعة رضي الله عنه، وحكمة النبي الكريم أمام هذا التصرف، ثم بيّن توزيع النبي صلى الله عليه وسلم للجيش، وعمل لذلك جدولاً منظماً، بيّن فيه أسماء قبائل كل كتيبة، وعدد أفرادها، وعدد الألوية، وأسماء من يحملها، ثم ذكر صفة زحف الجيش، وما حصل من إفطار النبي صلى الله عليه وسلم في هذه الغزوة في رمضان عندما قرب من مكة، وأمره أصحابه بذلك، ليتقووا على الجهاد، وذكر رحمه الله خروج أبي سفيان للاستطلاع، ثم إسلامه، والعرض العسكري الذي عمله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গবেষকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি হচ্ছে ‘মক্কা বিজয় যুদ্ধ’ বিষয়ক একটি পুস্তিকা, যা লিখেছেন স্নেহাস্পদ: আব্দুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহফ আল-কাহত্বানি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী পুস্তিকা। এতে তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মক্কা বিজয়ের কারণসমূহ, মক্কা বিজয়ের তারিখ এবং নববী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে আবু সুফিয়ানের মদিনায় আগমনের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি মক্কা বিজয়ের জন্য নবী করিম (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর প্রস্তুতি এবং এ উদ্দেশ্যে সৈন্যবাহিনী সুসজ্জিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। মহান সাহাবী হাতিব ইবনে আবি বালতাআ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) কর্তৃক যুদ্ধের সংবাদ পাচারের চেষ্টা এবং এই পরিস্থিতির সামনে নবী করিমের বিজ্ঞোচিত আচরণের বিষয়টিও ফুটিয়ে তুলেছেন। অতঃপর তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কর্তৃক সৈন্যবাহিনীর বিন্যাস বর্ণনা করেছেন এবং এর জন্য একটি সুশৃঙ্খল ছক তৈরি করেছেন; যেখানে প্রতিটি দলের গোত্রীয় নাম, সৈন্য সংখ্যা, পতাকার সংখ্যা এবং পতাকাবাহীদের নাম উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি সৈন্যবাহিনীর অগ্রযাত্রার বিবরণ দিয়েছেন এবং মক্কার নিকটবর্তী হওয়ার পর এই সফরে রমজান মাসে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর রোজা ভঙ্গ করার ঘটনা এবং জিহাদের জন্য শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে তাঁর সাহাবীদের রোজা ভঙ্গের নির্দেশ প্রদানের কথা বর্ণনা করেছেন। লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আরও উল্লেখ করেছেন সংবাদ সংগ্রহের জন্য আবু সুফিয়ানের বের হওয়া, অতঃপর তাঁর ইসলাম গ্রহণ এবং তাঁর সামনে যে সামরিক কুচকাওয়াজ প্রদর্শিত হয়েছিল সেই বিবরণ।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
النبي صلى الله عليه وسلم أمام أبي سفيان، ثم بيّن الترتيبات التي عملها النبي صلى الله عليه وسلم لدخول مكة، وما حصل من بعض المشابكات مع خالد بن الوليد، ثم نجاحه رضي الله عنه في ذلك، وذكر رحمه الله صفة دخول النبي صلى الله عليه وسلم المسجد الحرام، وتحطيمه للأصنام، وإهداره صلى الله عليه وسلم لدماء فئة قليلة من الناس قد آذوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، والمؤمنين، ومع ذلك عفا عن بعض هؤلاء صلى الله عليه وسلم، ثم ذكر رحمه الله الآثار الاستراتيجية للفتح، والدروس المستفادة من الفتح، ومقومات الانتصار في الفتح، ثم ذكر الخاتمة، ثم التوصيات، ثم قائمة المراجع التي رجع إليها رحمه الله.

وعندما رأيت هذا الترتيب الجميل، والاختصار المفيد؛ ولأهمية الموضوع، أحببت أن أعتني بإخراج هذه الرسالة التي أسأل الله بوجهه الكريم أن ينفع بها الابن عبد الرحمن، وأن يجعلها له من العمل الذي لا ينقطع، وأن يبلّغه وشقيقه عبد الرحيم منازل الشهداء؛ فإنه ـ الكريم، الرؤوف الرحيم، ذو الفضل والجود والإحسان والامتنان.

وأصل هذه الرسالة بحث أعده الابن عبد الرحمن رحمه الله في الصف الثالث الثانوي - الفصل الأول في العام الدراسي 1421 - 1422هـ في ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم بالرياض، أشرف عليه الأستاذ محمد السليم حفظه الله تعالى، وجزاه خيراً.

وعندما توفي الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، ذهبت إلى المدرسة، وطلبت هذا البحث، فدفعه إليَّ وكيل المدرسة الشيخ محمد العوشن، جزاه الله خيراً، وفرحت بذلك فرحاً عظيماً؛ لعل الله عز وجل أن ينفع به كاتبه الابن
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু সুফিয়ানের সামনে ছিলেন। এরপর তিনি মক্কায় প্রবেশের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা করেন এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সংঘটিত কিছু সংঘর্ষ ও তাতে তাঁর সফলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদে হারামে প্রবেশের ধরন, মূর্তিসমূহ ভেঙে ফেলা এবং যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুমিনদের কষ্ট দিয়েছিল এমন এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর রক্ত বৈধ ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করেছেন। তা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কয়েকজনকে ক্ষমা করেছিলেন। এরপর তিনি বিজয়ের কৌশলগত প্রভাব, বিজয় থেকে অর্জিত শিক্ষা এবং বিজয়ের সফলতার ভিত্তিসমূহ আলোচনা করেন। এরপর তিনি উপসংহার, সুপারিশমালা এবং পরিশেষে যে সকল সূত্রের উদ্ধৃতি তিনি দিয়েছেন তার তালিকা উল্লেখ করেছেন।

যখন আমি এই চমৎকার বিন্যাস এবং সারগর্ভ সংক্ষিপ্ত রূপটি দেখলাম, তখন বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে এই পুস্তিকাটি প্রকাশের উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হলাম। আল্লাহর মহান চেহারার উসিলায় আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে পুত্র আব্দুর রহমানকে উপকৃত করেন এবং একে তার জন্য এমন এক আমলে পরিণত করেন যা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। আর তাকে ও তার সহোদর ভাই আব্দুর রহিমকে যেন শহীদদের মর্যাদা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু, অতিশয় করুণাময়, মহানুভব, পরম দাতা এবং অশেষ অনুগ্রহ ও দয়াশীল।

মূলত এই পুস্তিকাটি একটি গবেষণা কর্ম, যা পুত্র আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) ১৪২১-১৪২২ হিজরি শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারে রিয়াদের 'আবু আমর আল-বাসরী তাহফিজুল কুরআন' মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণিতে (তৃতীয় মাধ্যমিক) থাকাকালীন প্রস্তুত করেছিলেন। এটি উস্তাদ মুহাম্মদ আস-সালিম (হাফিযাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

যখন পুত্র আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি সেই বিদ্যালয়ে গেলাম এবং এই গবেষণা কর্মটি চাইলাম। বিদ্যালয়ের উপ-প্রধান শায়খ মুহাম্মদ আল-আওশান (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন) এটি আমার হাতে তুলে দিলেন। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম; আশা করি আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে এর লেখক আমার পুত্রকে উপকৃত করবেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
عبد الرحمن رحمه الله، وأن يكون له من العمل الذي لا ينقطع.

وعملي في هذه الرسالة على النحو الآتي:

1 - قمت بمطابقة الرسالة على أصلها المخطوط بخط الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى.

2 - خرَّجت جميع الأحاديث، وقابلتها على مصادرها الأصلية من كتب السنة.

3 - إذا أضفت كلمة أو جملة جعلتها بين معقوفين هكذا [ … ].

4 - إذا أضفت شيئاً من الفوائد جعلتها في الحاشية؛ لرغبتي في بقاء الرسالة على أصلها، لعل الله أن ينفع بها كاتبها.

5 - ذكرت في الحاشية جميع الأحاديث في غزوة فتح مكة التي أوردها البخاري، ومسلم، وأبو داود، والنسائي، والترمذي، وابن ماجه [الكتب الستة]، التي ذكرها ابن الأثير رحمه الله في جامع الأصول من أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، وقد قسمتها في حواشي الكتاب تحت الأبواب المناسبة لها من البحث، رغبة في أن يكون البحث مدعوماً بالأدلة من السنة النبوية المطهرة.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله من العمل المقبول للابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى

وصلى الله وسلم على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن سار على دربهم إلى يوم الدين.

أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر في شهر شعبان 1423هـ.
আব্দুর রহমান—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এবং তাঁর জন্য যেন এমন আমল হয় যা অবিচ্ছিন্ন থাকে।

এই পুস্তিকায় আমার কাজের পদ্ধতি নিম্নরূপ:

১ - আমি এই পুস্তিকাটিকে পুত্র আব্দুর রহমান—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—এর হস্তলিখিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি।

২ - আমি সমস্ত হাদিসের তাখরিজ (উৎস চিহ্নিতকরণ) করেছি এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহের মূল উৎসের সাথে তা তুলনা করেছি।

৩ - আমি যদি কোনো শব্দ বা বাক্য যোগ করি, তবে তা এভাবে তৃতীয় বন্ধনী [ … ] এর মধ্যে রেখেছি।

৪ - আমি যদি কোনো জ্ঞানগর্ভ বিষয় যোগ করে থাকি, তবে তা টীকায় উল্লেখ করেছি; কারণ আমার উদ্দেশ্য হলো পুস্তিকাটিকে তার আসল রূপে রাখা, যাতে আল্লাহ এর দ্বারা এর লেখককে উপকৃত করেন।

৫ - আমি টীকায় মক্কা বিজয় যুদ্ধ সম্পর্কিত সেই সকল হাদিস উল্লেখ করেছি যা বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযি এবং ইবনে মাজাহ [কুতুবুস সিত্তা] বর্ণনা করেছেন এবং যা ইবনুল আসির—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—'জামিঊল উসুল মিন আহাদিসির রাসুল' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এ উল্লেখ করেছেন। আমি সেগুলোকে এই গবেষণার সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদসমূহের অধীনে কিতাবের টীকায় বিন্যস্ত করেছি, যাতে গবেষণাটি পবিত্র সুন্নাহর দলিল দ্বারা সমৃদ্ধ হয়।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং একে পুত্র আব্দুর রহমান—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—এর জন্য কবুলযোগ্য আমল হিসেবে গণ্য করেন।

আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

আবু আব্দুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনি

শাবান মাস, ১৪২৩ হিজরিতে লিখিত।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
* مولد الابن عبد الرحمن رحمه الله، ونشأته، وطلبه للعلم، وأخلاقه، وما قال عنه العلماء، وطلاب العلم، والأساتذة، ومعلموه، وزملاؤه، ووفاته رحمه الله تعالى:

 

‌‌أولاً: مولده: ولد رحمه الله قبل صلاة الظهر في اليوم السابع والعشرين من ذي القعدة: 27/ 11/1403هـ في سكن جامع الفاروق بإسكان القوات المسلمة طريق الخرج في مدينة الرياض.

‌‌ثانياً: نشأته: نشأ بتوفيق الله تعالى ورعايته وفضله وإحسانه على ما نشأ عليه أهل التوحيد، وكان يتّصف بالذكاء منذ الطفولة المبكرة، فلم يدخل المدرسة إلا وهو يحفظ جزء عمّ، ويقرأ الأحرف العربية، وفي السنة الثانية الابتدائية اختبر في الجماعة الخيرية في خمسة أجزاء، فاجتاز بتقدير ممتاز، وكان يدرس في الفترة الصباحية في المدرسة، وفي الفترة المسائية بعد العصر في الجامع في حلقات القرآن الكريم على الشيخ حافظ قاري غلام محمد بن فيض الله، جزاه الله خيراً.

وكان الابن عبد الرحمن رحمه الله لا يحب اللعب في طفولته كما يحبه الأطفال، حتى في المدرسة، وقد أخبرني رحمه الله أنه يجلس والطلاب يعلبون في ملعب المدرسة، وقد كان رحمه الله يذهب من البيت في سيارة ويرجع إليه، ثم من البيت إلى المسجد، ولا يختلط مع أبناء الجيران، وكان ملازماً لي مدة حياته إلا إذا سافرت، وكان يحب أن يصلي دائماً خلف الإمام من صغره إلى أن مات رحمه الله تعالى.
পুত্র আবদুর রহমানের (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) জন্ম, বেড়ে ওঠা, ইলম অর্জন, তার চরিত্র, আলেম সমাজ, তালিবে ইলম, উস্তাদগণ, শিক্ষকগণ ও সহপাঠীদের তার সম্পর্কে বক্তব্য এবং তার মৃত্যু (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন):

 

‌‌প্রথমত: তার জন্ম: তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ১৪০৩ হিজরির জিলকদ মাসের সাতাশ তারিখে (২৭/১১/১৪০৩ হি.) যোহরের নামাজের পূর্বে রিয়াদ শহরের খারজ রোডে অবস্থিত মুসলিম বাহিনীর আবাসন এলাকার জামে ফারুকের বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন।

‌‌দ্বিতীয়ত: তার বেড়ে ওঠা: আল্লাহ তাআলার তাওফিক, তত্ত্বাবধান, অনুগ্রহ ও ইহসানের বদৌলতে তিনি সেই আদর্শের ওপর বেড়ে ওঠেন যার ওপর তাওহিদপন্থীরা বেড়ে ওঠেন। শৈশবের শুরু থেকেই তিনি প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি যখন মাদরাসায় ভর্তি হন, তার আগেই তিনি আম্মাপারা (জুয আম্মা) হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন এবং আরবি বর্ণমালা পড়তে পারতেন। প্রাথমিক স্তরের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি 'জামাআতে খাইরিয়া'তে পাঁচ পারার পরীক্ষা দেন এবং চমৎকার (মুমতায) ফলাফলসহ উত্তীর্ণ হন। তিনি সকালের শিফটে মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন এবং আসরের পর সান্ধ্যকালীন শিফটে মসজিদে শায়খ হাফেজ ক্বারী গোলাম মুহাম্মদ বিন ফয়জুল্লাহর (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন) কুরআনুল কারিমের হালকায় অধ্যয়ন করতেন।

পুত্র আবদুর রহমান (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) শৈশবে অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা পছন্দ করতেন না, এমনকি মাদরাসায় থাকাকালীনও নয়। তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) আমাকে জানিয়েছিলেন যে, যখন অন্য ছাত্ররা মাদরাসার মাঠে খেলাধুলা করত, তখন তিনি বসে থাকতেন। তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) গাড়িযোগে বাড়ি থেকে যেতেন এবং বাড়িতে ফিরে আসতেন। এরপর বাড়ি থেকে মসজিদে যেতেন। তিনি প্রতিবেশীদের সন্তানদের সাথে মিশতেন না। আমি সফরে থাকা ব্যতীত সারাজীবন তিনি আমার সাথেই থাকতেন। শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন) সর্বদা ইমামের পেছনে নামাজ পড়তে পছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
* دخل‌‌ المدرسة الابتدائية في أوائل عام 1410هـ [مدرسة الإمام حمزة لتحفيظ القرآن الكريم] في حي الغبيراء بمدينة الرياض، وكان يثني على كثير من مدرسيها ويخصّ منهم الأستاذ سعيد بن سعد الطيشان، والأستاذ محمد بن سالم الهيشة، جزاهما الله خيراً، وتخرّج من هذه المدرسة عام 1415هـ.

*‌‌ ثم درس المتوسطة في المتوسطة الثانية لتحفيظ القرآن الكريم، وختم حفظ القرآن في الخامسة عشرة من عمره في هذه المدرسة [بتقدير ممتاز، وقد أخذ الدرجة كاملة 100%]، وذلك عام 1418هـ، وكان رحمه الله يثني على مديرها الشيخ حمّاد بن عبد الرحمن العمر حفظه الله، ويذكر من حسن خُلُقه وتربيته، وعنايته بالطلاب الشيء الكثير، كما يُثني كثيراً على مدرّس القرآن الكريم بهذه المدرسة: الشيخ إبراهيم التويم حفظه الله، ويذكر حرصه على نفع الطلاب واستقامتهم، ويثني على كثير من مدرّسي هذه المدرسة.

* ثم اختبر بعد ذلك في الجماعة الخيرية لتحفيظ القرآن فاجتاز بتقدير ممتاز أيضاً ولله الحمد، وذلك عام 1419هـ.

 

*‌‌ ثم انتقل إلى المرحلة الثانوية عام 1419هـفدرس في ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم، وتعلّم فيها القراءات السبع مع مراجعة القرآن الكريم، وكان يثني كثيراً على الشيخ عادل بن عبد الله السنيد حفظه الله مدرّس القراءات، وقد أثّر على الابن عبد الرحمن في الإخلاص، وعلى الشيخ بدر بن ناصر العوَّاد حفظه الله مدرّس المواد الشرعية، وقد أثّر على
* তিনি ১৪১০ হিজরি সালের শুরুর দিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে [মাদরাসাতুল ইমাম হামজাহ লি-তাহফিজিল কুরআনিল কারিম] ভর্তি হন, যা রিয়াদ শহরের আল-গুবাইরা এলাকায় অবস্থিত। তিনি এই মাদরাসার অনেক শিক্ষকের প্রশংসা করতেন এবং বিশেষভাবে উস্তাদ সাঈদ বিন সাদ আত-তাইশান এবং উস্তাদ মুহাম্মদ বিন সালিম আল-হাইশাহ-এর কথা উল্লেখ করতেন, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি ১৪১৫ হিজরি সালে এই মাদরাসা থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

* অতঃপর তিনি মাধ্যমিক স্তরে আল-মুতাওয়াসসিতাহ আস-সানিয়াহ লি-তাহফিজিল কুরআনিল কারিমে পড়াশোনা করেন এবং এই মাদরাসায় পনেরো বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন [চমৎকার (মুমতাজ) ফলাফলের সাথে এবং তিনি ১০০% পূর্ণ নম্বর অর্জন করেছিলেন]। এটি ছিল ১৪১৮ হিজরি সালের ঘটনা। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি এর পরিচালক শায়খ হাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-উমর (হাফিজাহুল্লাহ)-এর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর উত্তম চরিত্র, শিষ্টাচার ও ছাত্রদের প্রতি তাঁর গভীর যত্নের কথা প্রচুর স্মরণ করতেন। একইভাবে তিনি এই মাদরাসার পবিত্র কুরআনুল কারিমের শিক্ষক শায়খ ইব্রাহিম আত-তুওয়াইম (হাফিজাহুল্লাহ)-এরও অনেক প্রশংসা করতেন এবং ছাত্রদের উপকারে ও তাদের সঠিক পথে অটল রাখতে তাঁর আগ্রহের কথা উল্লেখ করতেন। এছাড়াও তিনি এই মাদরাসার অনেক শিক্ষকের প্রশংসা করতেন।

* এরপর তিনি আল-জামাআতুল খাইরিয়্যাহ লি-তাহফিজিল কুরআনে পরীক্ষা দেন এবং আল্লাহর প্রশংসায় সেখানেও চমৎকার (মুমতাজ) ফলাফলের সাথে উত্তীর্ণ হন। এটি ছিল ১৪১৯ হিজরি সালের ঘটনা।

 

* অতঃপর তিনি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১৪১৯ হিজরি সালে উন্নীত হন এবং ছানাউইয়্যাহ আবি আমর আল-বাসরি লি-তাহফিজিল কুরআনিল কারিম-এ পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন পর্যালোচনার পাশাপাশি সাত ক্বিরাত শিক্ষা করেন। তিনি ক্বিরাতের শিক্ষক শায়খ আদিল বিন আবদুল্লাহ আস-সুনাইদ (হাফিজাহুল্লাহ)-এর অনেক প্রশংসা করতেন, যিনি সন্তান আবদুর রহমানের ইখলাসের (নিষ্ঠা) ওপর প্রভাব ফেলেছিলেন। এছাড়াও তিনি শরয়ী বিষয়ের শিক্ষক শায়খ বদর বিন নাসির আল-আওয়াদ (হাফিজাহুল্লাহ)-এর প্রশংসা করতেন, যিনি প্রভাব ফেলেছিলেন...
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الابن عبد الرحمن في البلاغة والشعر والأساليب الرائعة، ويشكرهما ويقول: ((هذان من العلماء))؛ لتأثره بتربيتهما؛ ولغزارة علمهما، وحرصهما على نفع الطلاب جزاهما الله خيراً، كما يُثني على وكيل هذه المدرسة: الشيخ محمد العوشن ويقول: ((هذا الرجل عليه سمت العلماء))، كما يُثني على كثير من مدرّسي هذه المدرسة جزاهم الله خيراً.

 

*‌‌ ثم تخرّج من هذه الثانوية عام 1422هـ، وكان من العشرة الأوائل على مدارس تحفيظ القرآن الكريم بمدينة الرياض، بتقدير ممتاز.

وأخبرني وكيل هذه المدرسة الشيخ محمد العوشن حفظه الله أن الابن عبد الرحمن رحمه الله أوصى بكتابه تقريب المعاني في شرح حرز الأماني في القراءات السبع للصف الثالث ثانوي في مدرسة أبي عمرو، وكان الابن عبد الرحمن قد كتب على هذا الكتاب بخط يده: ((هذا التقريب أُوصي به لطلاب ثالث ثانوي بعد مغادرتي المدرسة على خير إن شاء الله تعالى، والسلام عليكم)) (1).

 

*‌‌ ثم انتقل إلى المرحلة الجامعية، فدخل جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية في كلية الشريعة، قسم الشريعة، وذلك في 13 من جمادى الثاني عام 1422هـ، فدرّس بها بقيّة جمادى، ورجب، وشعبان، وستة عشر يوماً من رمضان رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) نقل من خطه رحمه الله على الغلاف الداخلي من الكتاب المذكور.
পুত্র আবদুর রহমান অলঙ্কারশাস্ত্র, কবিতা এবং চমৎকার রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন: "তাঁরা দুজনেই আলেমদের অন্তর্ভুক্ত"; এটি তাঁদের লালন-পালন দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া, তাঁদের ইলমের প্রাচুর্য এবং শিক্ষার্থীদের উপকারে তাঁদের আগ্রহের কারণে। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। পাশাপাশি তিনি এই মাদরাসার উপ-প্রধান শাইখ মুহাম্মাদ আল-আওশানের প্রশংসা করে বলেন: "এই ব্যক্তির মাঝে আলেমদের বৈশিষ্ট্য ও গাম্ভীর্য বিদ্যমান।" একইভাবে তিনি এই মাদরাসার অনেক শিক্ষকেরও প্রশংসা করেন, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

*‌‌ এরপর তিনি ১৪২২ হিজরিতে এই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হন এবং তিনি রিয়াদ শহরের পবিত্র কুরআন হিফজ মাদরাসাগুলোর মধ্যে প্রথম দশজনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ও 'মুমতাজ' (চমৎকার) গ্রেড অর্জন করেন।

এই মাদরাসার উপ-প্রধান শাইখ মুহাম্মাদ আল-আওশান (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) আমাকে অবহিত করেছেন যে, পুত্র আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবু আমর মাদরাসার দ্বাদশ শ্রেণীর (তৃতীয় মাধ্যমিক) সাত কিরাত বিষয়ক গ্রন্থ 'তাকরীবুল মাআনী ফী শারহি হিরযিল আমানী' কিতাবটি অছিয়ত করে যান। পুত্র আবদুর রহমান নিজ হাতে এই কিতাবের ওপর লিখেছিলেন: "ইনশাআল্লাহ তাআলা, ভালোভাবে মাদরাসা ত্যাগের পর দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য আমি এই 'তাকরীব' কিতাবটির অছিয়ত করছি। আসসালামু আলাইকুম" (১)।

 

*‌‌ এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পদার্পণ করেন এবং ১৪২২ হিজরির ১৩ই জুমাদাল উখরা তারিখে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের শরীয়াহ বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তিনি জুমাদাল উখরার অবশিষ্ট দিনগুলো, রজব, শাবান এবং রমজানের ১৬ দিন পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

--------------------------------------------

(১) উল্লিখিত কিতাবের ভেতরের প্রচ্ছদে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজ হাতের লেখা থেকে অনূদিত।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌وكان من مشايخه في كلية الشريعة قسم الشريعة:

1 - الشيخ د. عبد الله بن مبارك البوصي يدرسه في الفقه.

2 - الشيخ د. عبد الحكيم العجلان، في الفقه أيضاً.

3 - الشيخ د. محمد المديميغ، في العقيدة ((الطحاوية)).

4 - الشيخ د. ناصر الجديع، في العقيدة ((الطحاوية)).

5 - الشيخ د. عبد العزيز العسكر في العقيدة ((الطحاوية)).

6 - الشيخ د. محمد الدريويش، في العقيدة ((الطحاوية)).

7 - الشيخ د. محمد بن عبد العزيز المبارك، في أصول الفقه.

8 - الشيخ د. إسماعيل بن خليل، في الحديث ((بلوغ المرام)).

9 - الشيخ د. محمد بن عبد الله الفهيد، في مصطلح الحديث.

10 - الشيخ د. فراج الحمد، في النحو ((أوضح المسالك)).

11 - الشيخ د. إبراهيم الفايز، في ((النظم)).

12 - الشيخ د. عبد الله العمرو، في ((النظم)).

13 - الشيخ د. شريف في ((علوم القرآن)).

14 - الشيخ د. جمعة، في ((التفسير)).

15 - الشيخ د. الزناتي، في ((التفسير)) أيضاً.
এবং শরীআহ অনুষদের শরীআহ বিভাগে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন:

১ - শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন মুবারক আল-বূসী, তাঁকে ফিকহ পড়াতেন।

২ - শেখ ড. আব্দুল হাকিম আল-আজলান, তিনিও ফিকহ শাস্ত্রে।

৩ - শেখ ড. মুহাম্মাদ আল-মুদাইমিগ, আকিদাহ ((ত্বহাবিইয়াহ)) শাস্ত্রে।

৪ - শেখ ড. নাসির আল-জুদাই, আকিদাহ ((ত্বহাবিইয়াহ)) শাস্ত্রে।

৫ - শেখ ড. আব্দুল আজিজ আল-আসকার, আকিদাহ ((ত্বহাবিইয়াহ)) শাস্ত্রে।

৬ - শেখ ড. মুহাম্মাদ আদ-দুরিওয়িশ, আকিদাহ ((ত্বহাবিইয়াহ)) শাস্ত্রে।

৭ - শেখ ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মুবারক, উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে।

৮ - শেখ ড. ইসমাইল বিন খলীল, হাদিস শাস্ত্রে ((বুলুগুল মারাম))।

৯ - শেখ ড. মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-ফুহাইদ, মুস্তালাহুল হাদিস শাস্ত্রে।

১০ - শেখ ড. ফাররাজ আল-হামাদ, নাহু শাস্ত্রে ((আওদাহুল মাসালিক))।

১১ - শেখ ড. ইবরাহীম আল-ফায়েয, ((আন-নাজম)) শাস্ত্রে।

১২ - শেখ ড. আবদুল্লাহ আল-আমরো, ((আন-নাজম)) শাস্ত্রে।

১৩ - শেখ ড. শরীফ, ((উলূমুল কুরআন)) শাস্ত্রে।

14 - শেখ ড. জুমআহ, ((তাফসীর)) শাস্ত্রে।

১৫ - শেখ ড. আয-যানাতি, তিনিও ((তাফসীর)) শাস্ত্রে।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أما زملاؤه في كلية الشريعة قسم الشريعة فهم كثير جداً، لكن من أبرزهم وأحبهم إليه:

1 - عادل بن عبد الله المطرودي، وهو ممن يحفظ القرآن الكريم وصحيح البخاري ومسلم، وحفظ بعد ذلك السنن زاده الله علماً.

2 - عبد الرحمن بن عبد العزيز بن سليمان الشبيب.

3 - * ياسر بن محمد الحقيل، وهو قرين عبد الرحمن في البلاغة والشعر.

4 - تركي بن عبد الله الهويمل.

5 - عبد الله بن سعيد بن عبد الله بن بجاد القحطاني.

6 - عبد الرحمن بن سعود الدحيم.

7 - عبد العزيز بن سعد بن محمد الحمدِّي.

8 - عبد الحليم بن فاروق الأفغاني.

9 - عبد الحميد بن عبد الله المشعل.

10 - سلمان بن محمد بن ظافر الشهري.

11 - * يزيد بن علي المحسن.

12 - * عبد السلام بن سليمان الربيش.

13 - * عبد الرحمن بن سعد المبارك.

14 - * تركي بن إبراهيم المهنا.

15 - * متعب بن خالد الجندل.
‌শরীয়াহ অনুষদভুক্ত শরীয়াহ বিভাগে তাঁর সহপাঠীরা সংখ্যায় অনেক, তবে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলেন:

১ - আদিল বিন আবদুল্লাহ আল-মাতরূদী; তিনি সেই ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত যারা পবিত্র কুরআন, সহীহ আল-বুখারী এবং মুসলিম হিফজ করেছেন। এরপর তিনি সুনান গ্রন্থসমূহও হিফজ করেন, আল্লাহ তাঁর জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।

২ - আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ বিন সুলাইমান আশ-শাবীব।

৩ - * ইয়াসির বিন মুহাম্মদ আল-হুকাইল; তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র ও কবিতায় আবদুর রহমানের সমকক্ষ।

৪ - তুর্কি বিন আবদুল্লাহ আল-হুওয়াইমিল।

৫ - আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিজাদ আল-কাহতানি।

৬ - আবদুর রহমান বিন সাউদ আদ-দুহাইম।

৭ - আবদুল আজিজ বিন সা'দ বিন মুহাম্মদ আল-হামাদি।

৮ - আবদুল হালীম বিন ফারুক আল-আফগানি।

৯ - আবদুল হামীদ বিন আবদুল্লাহ আল-মাশআল।

১০ - সালমান বিন মুহাম্মদ বিন জাফির আশ-শেহরি।

১১ - * ইয়াজিদ বিন আলী আল-মুহসিন।

১২ - * আবদুস সালাম বিন সুলাইমান আর-রুবাইশ।

১৩ - * আবদুর রহমান বিন সা'দ আল-মুবারক।

১৪ - * তুর্কি বিন ইব্রাহিম আল-মুহান্না।

১৫ - * মুতয়িব বিন খালিদ আল-জানদাল।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
16 - * علي بن محمد المهوس.

17 - * عبد الله بن سليمان الرميان.

18 - * عبد الرحمن بن محمد الحمود.

19 - عبد الرحمن بن حمود البدراني.

20 - * عبد الله بن صالح الهزاني.

21 - * عبد الرحمن بن عبد العزيز الجلعود (1).

--------------------------------------------

(1) كل اسم أمامه نجمة فهو زميل لعبد الرحمن رحمه الله في ثانوية أبي عمرو لتحفيظ القرآن الكريم، ثم في كلية الشريعة، قسم الشريعة.
১৬ - * আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মাহওয়াস।

১৭ - * আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-রুমাইয়ান।

১৮ - * আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-হামুদ।

১৯ - আবদুর রহমান ইবনে হামুদ আল-বাদরানি।

২০ - * আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-হাযযানি।

২১ - * আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জালউদ (১)।

--------------------------------------------

(১) যে সকল নামের সামনে তারকা চিহ্ন রয়েছে, তারা আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সহপাঠী ছিলেন আবি আমর তাহফিজুল কুরআন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে শরীয়াহ অনুষদের শরীয়াহ বিভাগে।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ثالثاً: طلبه للعلم خارج المدارس النظامية:

راجع القرآن مرات عديدة على شيخه في جامع الفاروق بإسكان أفراد القوات المسلحة، وعلى مجموعة من المدرسين، وكان يحضر معي الدروس الليلية، وفجر الخميس عند سماحة شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله تعالى، وذلك في السنوات الأخيرة في حياة شيخنا رحمه الله تعالى، ومن أهم طلبه للعلم ما يأتي:

1 - حفظ بعد حفظه القرآن الكريم: الأربعين النووية للإمام النووي رحمه الله.

2 - قرأ كتاب التوحيد للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وذلك على فضيلة الشيخ عبد الله بن صالح القصير حفظه الله عام 1420هـفي مدينة الباحة، ولم يكمله؛ لطول نفس الشيخ في الشرح، ثم قرأ هذا الكتاب عليّ من أوله إلى آخره وذلك عام 1422هـ في مدينة الباحة قبل موته بأشهر، واستمع لشرحه كاملاً، وبدأ يحفظ هذا الكتاب، فحفظ قبل موته سبعة عشر باباً سمَّعها عليَّ واستمع لشرحها، وآخر هذه الأبواب {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ الله يَهْدِي مَن يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (1).

3 - قرأ القواعد الحسان لتفسير القرآن للعلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله، على فضيلة الشيخ د. عبد الله بن عبد العزيز الخضير حفظه الله، وذلك عام 1420هـفي مدينة الباحة.

--------------------------------------------

(1) سورة القصصِ، الآية: 56.
তৃতীয়ত: আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ:

তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আবাসন এলাকায় অবস্থিত আল-ফারুক জামে মসজিদে তাঁর শায়খের নিকট এবং একদল শিক্ষকের নিকট কয়েকবার কুরআন পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি আমার সাথে রাতের পাঠদানগুলোতে এবং আমাদের মহান শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনের শেষ বছরগুলোতে তাঁর নিকট বৃহস্পতিবার ফজরের পাঠে উপস্থিত থাকতেন। তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিম্নরূপ:

১ - পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার পর তিনি মুখস্থ করেন: ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর আল-আরবাউন আন-নববিয়্যাহ (চল্লিশ হাদিস)।

২ - তিনি ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহা শহরে সম্মানিত শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সলিহ আল-কুসাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নিকট শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুত তাওহীদ পাঠ করেন, তবে শায়খের ব্যাখ্যার দীর্ঘতার কারণে তা শেষ করতে পারেননি। এরপর তিনি তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বে ১৪২২ হিজরিতে আল-বাহা শহরে আমার কাছে এই কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন এবং এর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা শ্রবণ করেন। তিনি এই কিতাবটি মুখস্থ করতে শুরু করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে সতেরোটি অধ্যায় মুখস্থ করে আমাকে শুনিয়েছিলেন ও সেগুলোর ব্যাখ্যা শুনেছিলেন। এই অধ্যায়গুলোর সর্বশেষটি ছিল: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়াত দান করেন এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত} (১)।

৩ - তিনি ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহা শহরে সম্মানিত শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুদাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নিকট আল্লামা আব্দুর রহমান বিন নাসের আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি-তাফসীরিল কুরআন’ পাঠ করেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - قرأ نخبة الفكر للحافظ ابن حجر على فضيلة الشيخ منصور السماري حفظه الله، وذلك عام 1420هـفي مدينة الباحة.

5 - قرأ عليَّ كتاب بلوغ المرام إلى نهاية كتاب الجنائز ثلاث مرات: المرة الأولى مستمعاً في الطائف عام 1420هـ، والمرة الثانية قرأه عليَّ بنفسه في الباحة عام 1420هـ، والمرة الثالثة في مدينة الرياض، وقد وصل إلى نهاية كتاب الزكاة، وبدأ في الصيام إلى الحديث رقم 676 [حديث حفصة أم المؤمنين رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من لم يُبَيِّت الصيام قبل الفجر فلا صيام له)) (1).

6 - قرأ عليَّ كتاب ((منهاج السالكين وتوضيح الفقه في الدين)) للعلامة السعدي رحمه الله، وصل فيه إلى نهاية كتاب الزكاة قبل موته رحمه الله.

7 - قرأ عليَّ كتاب ((كشف الشبهات)) كاملاً، للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، واستمع لشرحه.

8 - سَمِعَ ثلاثة الأصول للإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، خمس مرات، مع شرحها.

9 - قرأ عليَّ ((الدروس المهمة لعامة الأمة)) للإمام ابن باز رحمه الله مرتين، ولم يكمل الثانية؛ لموته رحمه الله.

10 - حفظ عليَّ الرحبية في الفرائض إلى باب الحساب عام 1420هـ، وراجعها مرات.

--------------------------------------------

(1) رواه الخمسة.
৪ - তিনি ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহা শহরে হাফেজ ইবনে হাজার-এর 'নুখবাতুল ফিকার' কিতাবটি সম্মানিত শায়খ মানসুর আস-সামারি (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন)-এর নিকট পাঠ করেছেন।

৫ - তিনি আমার নিকট 'বুলুগুল মারাম' কিতাবটি জানাজা পর্বের শেষ পর্যন্ত তিনবার পাঠ করেছেন: প্রথমবার ১৪২০ হিজরিতে তায়েফে শ্রবণকারী হিসেবে, দ্বিতীয়বার ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহায় নিজে আমার কাছে পাঠ করেছেন এবং তৃতীয়বার রিয়াদ শহরে, যেখানে তিনি জাকাত পর্বের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং সিয়াম পর্ব শুরু করে ৬৭৬ নম্বর হাদিস পর্যন্ত পাঠ করেছেন [উম্মুল মুমিনীন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা হবে না"] (১)।

৬ - তিনি আল্লামা সা’দী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'মিনহাজুস সালিকীন ওয়া তাওদিহুল ফিকহি ফিদ দীন' কিতাবটি আমার নিকট পাঠ করেছেন, তাঁর ইন্তেকালের আগে তিনি এর জাকাত পর্বের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

৭ - তিনি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'কাশফুশ শুবুহাত' কিতাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে আমার নিকট পাঠ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা শ্রবণ করেছেন।

৮ - তিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'সালাতুল উসুল' (তিনটি মূলনীতি) কিতাবটি ব্যাখ্যাসহ পাঁচবার শ্রবণ করেছেন।

৯ - তিনি ইমাম ইবনে বাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ' কিতাবটি আমার নিকট দুবার পাঠ করেছেন, তবে তাঁর ইন্তেকালের কারণে দ্বিতীয়বার সম্পন্ন করতে পারেননি, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

১০ - তিনি ১৪২০ হিজরিতে ফরায়েজ শাস্ত্রের 'আর-রাহবিয়াহ' কিতাবটি হিসাব অধ্যায় পর্যন্ত আমার নিকট মুখস্থ শুনিয়েছেন এবং এটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

--------------------------------------------

(১) পাঁচজন (ইমাম) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
11 - قرأ عليَّ ((الفوائد الجلية في المباحث الفرضية)) للعلامة ابن باز رحمه الله إلى باب الحساب.

12 - قرأ عليَّ ((الدرر البهية في المسائل الفقهية)) للإمام الشوكاني إلى نهاية كتاب الحج، وذلك عام 1422هـفي مدينة الباحة قبل وفاته رحمه الله بأشهر.

13 - سَمِعَ ((العقيدة الواسطية مع شرحها)) ثلاث مرات: الأولى سمعها من الشيخ الدكتور حمد الشتوي في الطائف عام 1420هـ، والثانية والثالثة سمعها في دروسي في الرياض.

14 - سَمِعَ ((القواعد الخمس الكبرى)) من الدكتور علي بن راشد الدبيان، وذلك في الطائف عام 1420هـ.

15 - سَمِعَ الفرائض إلى باب الحساب من الشيخ بدر الجويان، وذلك في الطائف عام 1420هـ.

 

16 - له ثلاثة‌‌ بحوث مفيدة:

‌‌الأول: الجنة والنار من الكتاب والسنة المطهرة، وقد طُبع ولله الحمد ثلاث طبعات: الطبعة الأولى سبعة آلاف نسخة، والطبعة الثانية عشرة آلاف نسخة، والطبعة الثالثة عشرون ألف نسخة، ولله الحمد.

‌‌الثاني: غزوة فتح مكة في السنة المطهرة، وقد طبع والله الحمد.

‌‌الثالث: أبراج الزجاج في سيرة الحجاج، وقد طبع ولله الحمد.
১১ - তিনি আমার কাছে আল্লামা ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-ফাওয়ায়িদুল জালিয়্যাহ ফিল মাবাহিসিল ফারদিয়্যাহ’ কিতাবটি হিসাব অধ্যায় পর্যন্ত পাঠ করেছেন।

১২ - তিনি আমার কাছে ইমাম শাওকানী-র ‘আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ফিল মাসায়িলিল ফিকহিয়্যাহ’ কিতাবটি হজ অধ্যায় শেষ হওয়া পর্যন্ত পাঠ করেছেন; আর তা ছিল ১৪২২ হিজরি সালে বাহাহ শহরে, তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

১৩ - তিনি ‘আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ এবং এর ব্যাখ্যা তিনবার শ্রবণ করেছেন: প্রথমবার ১৪২০ হিজরিতে তায়েফে শায়খ ডক্টর হামাদ আশ-শিতউয়ীর নিকট থেকে, এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার রিয়াদে আমার দরসগুলোতে তিনি এটি শ্রবণ করেছেন।

১৪ - তিনি ১৪২০ হিজরিতে তায়েফে ডক্টর আলী বিন রাশিদ আদ-দুবইয়ান-এর নিকট ‘আল-কাওয়ায়িদুল খামসুল কুবরা’ শ্রবণ করেছেন।

১৫ - তিনি ১৪২০ হিজরিতে তায়েফে শায়খ বদর আল-জুওয়ায়ান-এর নিকট ফারায়েয (উত্তরাধিকার শাস্ত্র) এর হিসাব অধ্যায় পর্যন্ত শ্রবণ করেছেন।

 

১৬ - তাঁর তিনটি‌ ‌উপকারী গবেষণা রয়েছে:

‌‌প্রথম: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জান্নাত ও জাহান্নাম, আল্লাহর প্রশংসায় এটি তিনবার মুদ্রিত হয়েছে: প্রথম মুদ্রণে সাত হাজার কপি, দ্বিতীয় মুদ্রণে দশ হাজার কপি এবং তৃতীয় মুদ্রণে বিশ হাজার কপি, আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা।

‌‌দ্বিতীয়: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে মক্কা বিজয় যুদ্ধ, এটিও আল্লাহর প্রশংসায় মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌তৃতীয়: আবরাজুয যুজাজ ফি সিরাতিল হাজ্জাজ (হাজ্জাজের জীবনীতে কাঁচের মিনারসমূহ), এটিও আল্লাহর প্রশংসায় মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
17 - وُجد له تعليقات مفيدة على بعض كتبه التي قرأها في الحلقات العلمية رحمه الله منها ما وُجد على كتاب منهج السالكين وتوضيح الفقه في الدين للعلامة السعدي رحمه الله، فقد كتب الابن عبد الرحمن رحمه الله على مقدمة هذا الكتاب الكلمة المفيدة الآتية:

 

‌‌أ - فضل العلم:

1 - العلم إرث الأنبياء عليهم الصلاة والسلام.

2 - العلم يبقى والمال يفنى.

3 - العلم لا يتعب صاحبه في الحراسة.

4 - العلم يوصل إلى أن يكون صاحبه من الشهداء على الحق.

5 - أهل العلم أحد صنفي ولاة الأمر.

6 - لم يرغِّب النبي صلى الله عليه وسلم في أن يغبط أحدٌ أحداً على شيء إلا على العلم [صاحب القرآن الذي يعمل به]،وصاحب المال [الذي ينفقه في الحق].

7 - العلم طريق إلى الجنة.

8 - من وُفِّق للعلم فقد أراد الله به خيراً.

9 - إن الله يرفع صاحب العلم بعلمه.

 

‌‌ب - آداب طالب العلم:

1 - الإخلاص لله سبحانه.

2 - ينوي بطلب العلم رفع الجهل عن نفسه، وعن غيره.
17 - ইলমি হালকাসমূহে তিনি যেসকল কিতাব পাঠ করেছিলেন, তার মধ্য থেকে কিছু কিতাবে তাঁর অত্যন্ত উপকারী কিছু টীকা পাওয়া গিয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তন্মধ্যে আল্লামা সাদী (রাহিমাহুল্লাহ)-র কিতাব 'মানহাজুস সালিকিন ওয়া তাওযীহুল ফিকহি ফিদ দীন'-এর ওপর লিখিত কিছু টীকাও পাওয়া যায়। তাঁর পুত্র আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের মুখবন্ধে নিচের গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী কথাগুলো লিখেছেন:

 

‌‌ক - ইলমের ফযিলত বা মর্যাদা:

1 - ইলম হচ্ছে নবিগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) উত্তরাধিকার।

2 - ইলম বাকি থাকে, আর সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায়।

3 - ইলম তার অধিকারীকে তা পাহারা দেওয়ার পরিশ্রমে ক্লান্ত করে না।

4 - ইলম তার অধিকারীকে সত্যের ওপর সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার স্তরে পৌঁছে দেয়।

5 - আলেম সমাজ হচ্ছেন উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষীয় দুই প্রকার ব্যক্তির মধ্যে এক প্রকার।

6 - নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো বিষয়ের ওপর কাউকে ঈর্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেননি, কেবল ইলম [কুরআনওয়ালা যে ব্যক্তি সে অনুযায়ী আমল করে] এবং সম্পদশালী ব্যক্তি [যে তা সত্য পথে ব্যয় করে] ব্যতীত।

7 - ইলম হচ্ছে জান্নাতের পথ।

8 - যাকে ইলম অর্জনের তাওফিক দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তার জন্য প্রভূত কল্যাণ চেয়েছেন।

9 - নিশ্চয়ই আল্লাহ ইলমওয়ালা ব্যক্তিকে তার ইলমের কারণে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।

 

‌‌খ - ইলম অন্বেষণকারীর আদবসমূহ:

1 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অবলম্বন করা।

2 - ইলম অন্বেষণের মাধ্যমে নিজের এবং অন্যের থেকে অজ্ঞতা দূর করার নিয়ত করা।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - ينوي بذلك الدِّفاع عن الدين بالعلم.

4 - العمل بالعلم.

5 - العبادة مبنية على: الإخلاص، والمتابعة للنبي صلى الله عليه وسلم.

6 - الدعوة إلى العلم.

7 - الصبر على التعلم.

 

‌‌جـ - عقبات في طريق العلم:

1 - فساد النية.

2 - حب الشهرة.

3 - التفريط في حلقات العلم.

4 - التذرّع بكثرة الأشغال.

5 - التفريط في طلب العلم في الصغر.

6 - العزوف عن طلب العلم.

7 - تزكية النفس.

8 - عدم العمل بالعلم.

9 - اليأس [واحتقار الذات].

10 - التسويف في طلب العلم (1).

--------------------------------------------

(1) وهذه الفضائل والآداب ملخص لما في كتاب العلم للعلامة ابن عثيمين رحمه الله تعالى.
৩ - এর মাধ্যমে ইলমের সাহায্যে দ্বীন রক্ষার নিয়ত করা।

৪ - ইলম অনুযায়ী আমল করা।

৫ - ইবাদত ইখলাস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

৬ - ইলমের দিকে দাওয়াত দেওয়া।

৭ - ইলম অর্জনে ধৈর্য ধারণ করা।

 

‌‌জ - ইলমের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ:

১ - নিয়ত নষ্ট হওয়া।

২ - প্রসিদ্ধি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা।

৩ - ইলমের মজলিসসমূহের প্রতি অবহেলা করা।

৪ - ব্যস্ততার অজুহাত দেখানো।

৫ - শৈশবকালে ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে অবহেলা করা।

৬ - ইলম অন্বেষণ থেকে বিমুখ থাকা।

৭ - নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করা (আত্মপ্রশংসা)।

৮ - ইলম অনুযায়ী আমল না করা।

৯ - হতাশ হওয়া [এবং নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করা]।

১০ - ইলম অন্বেষণে গড়িমসি করা (১)।

--------------------------------------------

(১) এই ফজিলত ও আদবসমূহ আল্লামা ইবনে উসাইমিন রহমতুল্লাহি তাআলার 'কিতাবুল ইলম'-এর সংক্ষিপ্তসার।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أسأل الله بوجهه الكريم أن يجعل العمل بهذه الآداب والفضائل في موازين حسنات الابن عبد الرحمن، فإنه جواد كريم.

وهناك تعليقات أخرى على بعض كتبه رحمه الله تعالى.

وكان رحمه الله تعالى يحضر جميع دروسي التي تُلقى في جامع علي بن أبي طالب رضي الله عنه في إسكان طريق الخرج، وفي جامع الفاروق المذكور آنفاً، وكانت الدروس ولله الحمد في: العقيدة، والحديث، والفقه، والتفسير، وكان يستمع لإذاعة القرآن الكريم، وخاصة قبل أن ينام، وكان من الصغر يحب الاطلاع، وزيارة المكتبات، وشراء الأشرطة والكتيبات النافعة، وقد عُيّن مؤذناً لجامع الفاروق بإسكان أفراد القوات المسلحة في 14/ 6/1421هـ، وقد أعطاه الله جمال الصوت وحُسنه في القراءة والأذان، فارتاح الناس له وأحبوه في الله تعالى، وقد أخبرني الثقات من جماعة الجامع أنهم كانوا يخشعون عندما يصلي بهم عبد الرحمن في الصلوات الجهرية؛ لحسن صوته، وذلك عندما أسافر؛ لأني إمام الجامع المذكور.

وكان يُدرِّس القرآن الكريم للطلاب في الجامع الذي يؤذّن فيه، حيث كلفه مدير مدرسة جامع علي بن أبي طالب رضي الله عنه لتحفيظ القرآن الكريم الشيخ خالد بن ضيف الله البلادي حفظه الله، فأسند إليه تدريس حلقة مستقلة [حلقة الإمام الذهبي رحمه الله].

وتلاميذه في هذه الحلقة هم:
আমি আল্লাহর নিকট তাঁর সম্মানিত চেহারার উসিলায় প্রার্থনা করছি, যেন তিনি এই আদব ও ফজিলতগুলো পালনের আমলকে পুত্র আব্দুর রহমানের নেক আমলের পাল্লায় ভারী করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতিশয় দয়ালু।

এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) কিছু বইয়ের উপর আরও কিছু টীকা রয়েছে।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) আল-খারজ রোড হাউজিং-এর আলী ইবন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) জামে মসজিদে এবং পূর্বে উল্লেখিত আল-ফারুক জামে মসজিদে আমার প্রদানকৃত সকল দরসে উপস্থিত থাকতেন। আর আল্লাহর শুকরিয়া যে, সেই দরসগুলো ছিল: আকিদাহ, হাদিস, ফিকহ এবং তাফসির বিষয়ের ওপর। তিনি পবিত্র কুরআন রেডিও শুনতেন, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনা করতে, লাইব্রেরি পরিদর্শন করতে এবং উপকারী ক্যাসেট ও পুস্তিকা ক্রয় করতে ভালোবাসতেন। তাঁকে ১৪/০৬/১৪২১ হিজরি তারিখে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আবাসনস্থ আল-ফারুক জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে কিরাত এবং আজানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার কণ্ঠ দান করেছিলেন। ফলে মানুষ তাঁর প্রতি প্রশান্তি বোধ করত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁকে ভালোবাসত। মসজিদ জামাআতের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ আমাকে জানিয়েছেন যে, আমি যখন সফরে থাকতাম তখন আব্দুর রহমান যখন জাহরি (উচ্চস্বরের) সালাতগুলোতে ইমামতি করতেন, তখন তাঁর সুন্দর কণ্ঠের কারণে তাঁরা অত্যন্ত বিনম্রতা অনুভব করতেন; কারণ আমি ছিলাম উক্ত মসজিদের ইমাম।

তিনি যে মসজিদে আজান দিতেন সেখানেই শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআন শিক্ষা দিতেন। সেখানে আলী ইবন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) জামে মসজিদের তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক শায়খ খালিদ বিন দাইফুল্লাহ আল-বিলাদি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) তাঁকে একটি স্বতন্ত্র হালকার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন [ইমাম আয-যাহাবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) হালকাহ]।

উক্ত হালকায় তাঁর ছাত্ররা হলেন:
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - إبراهيم بن عبد الله بن حسين القحطاني.

2 - إبراهيم بن محمد بن سعيد القرني.

3 - إبراهيم بن حسن بن محمد عسيري.

4 - أحمد بن فايع بن محمد عسيري.

5 - أحمد بن محمد بن عوضة عسيري.

6 - أحمد بن محمد بن زين الدين.

7 - أحمد بن عبد الرحمن بن سالم السريحي.

8 - ثامر بن مصلح بن عطا الله العنزي.

9 - سلطان بن ناصر بن مسفر الغامدي.

10 - خالد بن علي بن مرعي القرني.

11 - سلطان بن محمد بن علي عسيري.

12 - سلمان بن عبد الله الأسمري.

13 - بدر بن سلمان الشهري.

14 - عبد الله بن علي بن عبد الله العمري.

15 - محمد بن أحمد بن محمد المجرشي.

16 - أنور بن حنتول بن يحيى سرحي.

17 - مجاهد بن صالح بن حمدان العمري.
১ - ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন আল-কাহত্বানি।

২ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-ক্বরানি।

৩ - ইবরাহীম বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ আসিরি।

৪ - আহমাদ বিন ফায়ে’ বিন মুহাম্মাদ আসিরি।

৫ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আওদাহ আসিরি।

৬ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন যাইনুদ্দীন।

৭ - আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন সালিম আস-সুরিহি।

৮ - থামির বিন মুসলিহ বিন আতাউল্লাহ আল-আনাজি।

৯ - সুলতান বিন নাসির বিন মুসফার আল-গামিদি।

১০ - খালিদ বিন আলী বিন মারয়ি আল-ক্বরানি।

১১ - সুলতান বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আসিরি।

১২ - সালমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসমারি।

১৩ - বদর বিন সালমান আশ-শাহরি।

১৪ - আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-আমরি।

১৫ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাজরাশি।

১৬ - আনোয়ার বিন হানতুল বিন ইয়াহইয়া সারহি।

১৭ - মুজাহিদ বিন সালিহ বিন হামদান আল-আমরি।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكان الطلاب يحبونه في الله تعالى ويجلُّونه؛ لحُسن خُلُقه، وإحسانه إليهم.

وقد أمَّ الناس في صلاة العشاء والتراويح في مسجد الزبير بن العوام رضي الله عنه، بإسكان طريق الخرج، ثلاث سنوات: 1420هـ، 1421هـ، وسبع عشرة ليلة من رمضان عام 1422هـ؛ حيث توفي رحمه الله بعد صلاة التراويح في هذه الليلة.
আর শিক্ষার্থীরা তাঁর উত্তম চরিত্র এবং তাদের প্রতি তাঁর সদাচরণের কারণে তাঁকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসত এবং তাঁকে সম্মান করত।

তিনি আল-খারজ রোডের আবাসন এলাকায় অবস্থিত জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মসজিদে তিন বছর যাবৎ এশা ও তারাবিহর নামাজে মানুষের ইমামতি করেছিলেন: ১৪২০ হিজরি, ১৪২১ হিজরি এবং ১৪২২ হিজরির রমজানের সতেরো রাত পর্যন্ত; আর এই রাতেই তারাবিহর নামাজের পর তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌رابعاً: الحِكَمُ التي كتبها رحمه الله قبل وفاته:

رسائل هاتفية أرسلها عبد الرحمن رحمه الله تعالى بهاتفه الجوال إلى جوال: زميله الشاب الصالح، أيمن بن عبد الله العاصمي قبل وفاته بيوم أو يومين 14 - 15 رمضان 1422هـكما يقول: الأخ أيمن، وكانت وفاة عبد الرحمن وأخيه بعد صلاة العشاء والتراويح ليلة الأحد 17/ 9/1422هـ.

الرسالة الأولى يقول فيها: ((المستأنس بالله: جنته في صدره، وبستانه في قلبه، ونزهته في رضى ربه)).

الرسالة الثانية قال فيها: ((اللهمّ إنك أعطيتنا الإسلام من غير أن نسألك فلا تحرمنا الجنة ونحن نسألك)).

الرسالة الثالثة: قال: ((فائدة: العزة في القناعة، والذلّ في المعصية، والهيبة في قيام الليل)) (1).

كما سبق وأن أرسل رسالة مكتوبة بخطّ يده لأيمن العاصمي قبل وفاته بحوالي شهرين تقريباً قال: بسم الله الرحمن الرحيم، الأخ أيمن … حفظه الله:

حسبك خمسة:

 

إذا ما مات ذو علم وتقوى … فقد ثلمت من الإسلام ثلمة

وموت الحاكم العدل المولَّى … بحكم الشرع منقصة ونقمة

--------------------------------------------

(1) نقلت جميع هذه الرسائل، من جوال الأخ الشاب الصالح أيمن بن عبد الله العاصمي وفقه الله.
চতুর্থ: মৃত্যুর পূর্বে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যে হিকমতগুলো লিখেছিলেন:

আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহু তা'আলা) তার মৃত্যুর এক বা দুই দিন আগে ১৪-১৫ রমজান ১৪২২ হিজরিতে তার মোবাইল ফোন থেকে তার সহকর্মী সৎ যুবক আয়মান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসিমির মোবাইলে কিছু খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি ভাই আয়মান বলেন। আব্দুর রহমান এবং তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছিল ১৭/৯/১৪২২ হিজরি রবিবার দিবাগত রাতে এশা ও তারাবিহ সালাতের পর।

প্রথম বার্তাটিতে তিনি বলেন: ((আল্লাহর সাথে সখ্যতা অর্জনকারীর জান্নাত তার বক্ষে, তার বাগান তার অন্তরে এবং তার আনন্দভ্রমণ তার রবের সন্তুষ্টির মাঝে।))

দ্বিতীয় বার্তাটিতে তিনি বলেন: ((হে আল্লাহ, আমরা না চাইতেই আপনি আমাদের ইসলাম দান করেছেন, সুতরাং আমরা যখন আপনার কাছে প্রার্থনা করছি তখন আমাদের জান্নাত থেকে বঞ্চিত করবেন না।))

তৃতীয় বার্তা: তিনি বলেন: ((উপকারিতা: অল্পে তুষ্টির মাঝে রয়েছে সম্মান, পাপাচারের মাঝে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং রাতের সালাতের (কিয়ামুল লাইল) মাঝে রয়েছে গাম্ভীর্য।)) (১)।

এর আগে তিনি তার মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পূর্বে আয়মান আল-আসিমির কাছে নিজ হাতে লেখা একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। ভাই আয়মান ... আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন:

আপনার জন্য পাঁচটিই যথেষ্ট:

 

যখন কোনো জ্ঞান ও তাকওয়াসম্পন্ন ব্যক্তির মৃত্যু হয় ... তখন ইসলামের মাঝে একটি ফাটল তৈরি হয়

আর শরয়ি বিধান অনুযায়ী নিযুক্ত ন্যায়পরায়ণ শাসকের মৃত্যু ... একটি অপূরণীয় ক্ষতি ও বিপদস্বরূপ

--------------------------------------------

(১) এই সকল বার্তা সৎ যুবক ভাই আয়মান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসিমির (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) মোবাইল ফোন থেকে নকল করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وموت العابد القوّام ليلاً … يناجي ربه في كل ظلمة

وموت فتى كثير الجود مَحْلٌ … فإن بقاءه خصب ونعمة

وموت الفارس الضرغام هدم … فكم شهدت له بالنصر عزمة

فحسبك خمسة يُبكى عليهم … وباقي الناس تخفيف ورحمة

وباقي الناس هم همج رعاع … وفي إيجادهم لله حكمه (1)

 

وقد وجد مكتوباً على الغلاف الداخلي من كتاب أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك للإمام ابن هشام رحمه الله تعالى، المقرر عليه في كلية الشريعة بخط يده رحمه الله يقول:

 

عرفت أن الحياة رحلة وطريق … فأحسنت اختيار الرفيق وتوليت القيادة

 

وكان الابن عبد الرحمن يقول الشعر، وقد وجد من شعره بعض الأبيات في جوال زميله الشاب الصالح ياسر بن محمد الحقيل، أرسل إليَّ بها، وهي خمسة وأربعون بيتاً، وهذا نصّ بعضها في رسالة الأخ ياسر إليَّ، قال:

بسم الله الرحمن الرحيم

هذه الرسائل التي كانت بيني وبين عبد الرحمن رحمه الله وقد رمزت للتي كتبها عبد الرحمن بـ (ع)، والتي أرسلتها له بـ (ي).

 

ي - ألا فَارْدُدْ سَرِيعاً دُونَ خوفٍ … فخَيْرُ الرَّدِّ عَاجِلُهُ المُبِينا

--------------------------------------------

(1) وجدنا هذه الرسالة بخط يد الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، وعليها توقيعه، وهي محفوظة عند الأخ أيمن العاصمي وفقه الله تعالى.
আর রাতভর ইবাদতকারী আবেদ ব্যক্তির মৃত্যু … যে প্রত্যেক অন্ধকারে তার রবের সাথে সংলাপে মগ্ন থাকে।

আর দানশীল যুবকের মৃত্যু হলো এক দুর্ভিক্ষ … কেননা তার বেঁচে থাকা ছিল প্রাচুর্য ও নেয়ামত।

আর সাহসী সিংহসম বীর যোদ্ধার মৃত্যু হলো এক ধ্বংস … যার সংকল্প কতই না বিজয়ের সাক্ষী হয়েছে।

ব্যাস, এই পাঁচ শ্রেণির জন্যই কাঁদতে হয় … আর বাকি মানুষ তো আপদমুক্তি ও করুণাস্বরূপ।

আর বাকি মানুষগুলো তো কেবলই মূর্খ ইতর … তবে তাদের সৃষ্টিতে আল্লাহর হিকমত রয়েছে (১)

 

ইমাম ইবনু হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাহ ইবনু মালিক' কিতাবটি, যা শরীয়াহ ফ্যাকাল্টিতে তার পাঠ্য ছিল, সেটির ভেতরের প্রচ্ছদে তার নিজের হাতের লেখায় (রাহিমাহুল্লাহ) লেখা পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি বলেন:

 

আমি জেনেছি যে জীবন এক সফর ও পথ … তাই তুমি উত্তম সঙ্গী বেছে নিয়েছো এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছো।

 

পুত্র আবদুর রহমান কবিতা লিখতেন। তার কবিতার কিছু পঙ্ক্তি তার সহপাঠী সৎ যুবক ইয়াসির বিন মুহাম্মাদ আল-হুকাইলের মোবাইলে পাওয়া গেছে, যা সে আমার কাছে পাঠিয়েছে। কবিতাটি মোট পঁয়তাল্লিশ পঙ্ক্তির। আমার কাছে পাঠানো ভাই ইয়াসিরের বার্তার কিছু অংশের পাঠ এখানে দেওয়া হলো, তিনি বলেন:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

এগুলো সেই বার্তা যা আমার এবং আবদুর রহমানের (রাহিমাহুল্লাহ) মধ্যে আদান-প্রদান হয়েছিল। আবদুর রহমান যেগুলো লিখেছে সেগুলোকে আমি (আ) এবং আমি তাকে যেগুলো পাঠিয়েছি সেগুলোকে (ই) দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

 

ই - ওহে, কোনো ভয় ছাড়াই দ্রুত উত্তর দাও … কারণ সর্বোত্তম উত্তর হলো স্পষ্ট ও দ্রুত উত্তর।

--------------------------------------------

(১) আমরা এই বার্তাটি পুত্র আবদুর রহমানের (রাহিমাহুল্লাহ) হাতের লেখায় পেয়েছি এবং এতে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এটি ভাই আয়মান আল-আসিমির (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) নিকট সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ع - أنا لا أرهب الرَّدَّ المُقَفَّى … ولا أخشى سُبَابَ الشِّعْرِ فِينا

ع - ألا فانْشُرْ سَلامي في رُبَاكُم … وعَطِّر صحْبَنَا بالياسَمِينا

ي - قد انتشَرَ السَّلامُ كَخَيْرِ غَيثٍ … وعَمَّ العِطْرُ أرْجَاءَ المدينه

ع - رأيتُ الوُدَّ يَتْبَعهُ انقِطَاعٌ … وخَيْرُ الوُدِّ ما يُفشِي السَّكينه

ي - ألا فاعمَلْ حِسَاناً ما استطعتَ … فَخَيْرُ النَّاسِ مَنْ سَكَنَ المدينه

ي - رسولُ الله يُرفلُ في رُبَاهَا … ومَسْجِدُهُ نَحِنُّ له حَنِينَا

ع - ولا تَنْسَ بِمَكَّةَ خَيْرَ بَيْتٍ … يطُوفُ به صِحَابٌ تابعونا

ي - ولا تنسَ بنجدٍ خيرَ قومٍ … همُ للدِّينِ خيرُ الخَادِمِينا

ع - تَمَنَّ الخيرَ تكسَبْ مُجْتَناهُ … ولوْ طَالَتْ عواقِبُهُ سِنينا

ع - رأيتُ العِلْمَ لا يأتي رِجالاً … همُ في الصُّبْحِ شرُّ النَّائمينا (1)

ي -ألا فَاغْضُضْ بِطَرْفِكَ عَنْ مَرِيضٍ … بكُلِّ الَّليلِ إكثارُ الأنِينَا

 

قال الأخ ياسر: من آخر الرسائل التي أرسلها إليَّ عبد الرحمن كانت تهنئة بشهر رمضان وهي (بنسيم الرحمة، وعبير التوبة، ورجاء المغفرة، وبعد الزحمة أقول كل عام وأنت بخير) وكانت بتاريخ يوم الجمعة 1/ 9/1422هـالموافق 16/ 11/2001م.

كتبه ياسر بن محمد الحقيل

بتاريخ 25/ 1/1423هـ

--------------------------------------------

(1) قال الأخ ياسر أرسلها إلي عبد الرحمن رحمه الله عندما كنت غائباً يوماً عن الدراسة في الجامعة بسبب المرض.
আইন - আমি অন্ত্যমিলযুক্ত উত্তরের পরোয়া করি না … এবং আমাদের বিষয়ে কাব্যের গালিগালাজকেও ভয় করি না।

আইন - শোন! তোমাদের উঁচু ভূমিগুলোতে আমার সালাম ছড়িয়ে দাও … আর জুঁই ফুলের সুঘ্রাণে আমাদের বন্ধুদের সুরভিত করো।

ইয়া - শান্তি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বোত্তম বৃষ্টির মতো … আর শহরের চারদিকে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে।

আইন - আমি ভালোবাসা দেখেছি যার পিছু পিছু আসে বিচ্ছিন্নতা … অথচ সর্বোত্তম ভালোবাসা হলো তা, যা প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়।

ইয়া - শোন! সাধ্যমতো সৎকর্ম করো … কেননা শ্রেষ্ঠ মানুষ তিনি, যিনি মদীনায় বসবাস করেছেন।

ইয়া - আল্লাহর রাসূল তাঁর উচ্চভূমিগুলোতে পদচারণা করেন … এবং তাঁর মসজিদের জন্য আমরা গভীর ব্যাকুলতায় আকুল হই।

আইন - মক্কায় অবস্থিত সর্বোত্তম ঘরটির কথা ভুলে যেও না … যা সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ তাওয়াফ করেন।

ইয়া - নজদের সেই সর্বোত্তম কওমের কথা ভুলে যেও না … তারা দ্বীনের জন্য সর্বোত্তম খাদেম।

আইন - কল্যাণের কামনা করো, তবেই তুমি এর ফসল লাভ করবে … যদিও এর পরিণাম আসতে বহু বছর সময় লাগে।

আইন - আমি দেখেছি যে জ্ঞান এমন ব্যক্তিদের কাছে আসে না … যারা সকালবেলা ঘুমানোর দিক থেকে নিকৃষ্টতম। (১)

ইয়া - শোন! এমন অসুস্থ ব্যক্তির দিক থেকে নজর ফিরিয়ে নাও … যে সারা রাত অতিমাত্রায় যন্ত্রণায় কাতরায়।

 

ভাই ইয়াসির বলেন: আবদুর রহমান আমার কাছে যে শেষ বার্তাগুলো পাঠিয়েছিলেন তার একটি ছিল রমজান মাসের শুভেচ্ছা বার্তা, আর তা হলো: (রহমতের বাতাস, তওবার সুঘ্রাণ এবং ক্ষমার প্রত্যাশা নিয়ে, ব্যস্ততার ভিড়ে আমি বলছি—প্রতি বছর আপনি ভালো থাকুন)। এটি ছিল ১/৯/১৪২২ হিজরি মোতাবেক ১৬/১১/২০০১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার।

লিখেছেন ইয়াসির বিন মুহাম্মদ আল-হুকাইল

তারিখ: ২৫/১/১৪২৩ হিজরি

--------------------------------------------

(১) ভাই ইয়াসির বলেন: আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) এটি আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন যখন আমি অসুস্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনায় একদিন অনুপস্থিত ছিলাম।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
زميل عبد الرحمن رحمه الله في ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم، ثم في كلية الشريعة، والمدرس في مدرسة تحفيظ القرآن الكريم في جامع القدس بحي القدس بالرياض.
আব্দুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সহপাঠী—প্রথমে আবু আমর আল-বসরি পবিত্র কুরআন হিফজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, অতঃপর শরিয়াহ অনুষদে; এবং রিয়াদের আল-কুদস এলাকার জামে আল-কুদস সংলগ্ন পবিত্র কুরআন হিফজ মাদরাসার শিক্ষক।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌خامساً: أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر:

* وكان رحمه الله تعالى: يأمر أهل بيتنا بالمعروف وينهاهم عن المنكر إذا رأى شيئاً، وأخبرني بعض الأهل بعد موت عبد الرحمن رحمه الله أنه كان إذا لاحظ عليهم شيئاً أخذهم على انفراد، ونصحهم سراً.

* وأخبرتني والدته جبر الله قلبها وربط عليه؛ {لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (1) أن عبد الرحمن رحمه الله رأى بعض أهل البيت أخطأ فشرب بشماله، فقال: ((هذا لا يجوز، ألا تحبون الجنة، وتخافون من النار؟))، وقد أثر ذلك في نفوسهم بعد موته رحمه الله تعالى.

* كما أخبرني الأخ زمراوي محمد خيري السوداني، وفقه الله، أنه كان سائراً مع الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، فرأى الابن عبد الرحمن رجلاً يقرأ مجلة فيها صور غير مناسبة، فنصحه وقال له: ((ما وجدت شيئاً تقرأه غير هذا؟)).

* وأخبرني الشاب سعيد بن أحمد بن سعيد الشهري قال: الله يرحم عبد الرحمن قد نصحني أن أحفظ القرآن عندما سألته عن تفسير آية قبل ثلاث سنوات، فأخبرني بتفسيرها، ثم قال: ((احفظ القرآن)).

* وأخبرني زائد بن سعد الدوسري (2) بقوله: كنت مارّاً بسيارتي، فمررت بعبد الرحمن رحمه الله وهو أمام باب بيته، يريد أن يذهب إلى

--------------------------------------------

(1) سورة القصص، الآية: 10.

(2) وقد توفي زائد رحمه الله في حادث مروري في أول شهر رجب عام 1423هـ.
পঞ্চম: তাঁর সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ:

* তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের পরিবারের সদস্যদের সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং কোনো কিছু (অনুচিত) দেখলে তাদের অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। আব্দুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মারা যাওয়ার পর পরিবারের কিছু সদস্য আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন তাদের মধ্যে কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করতেন, তখন তাদের নিভৃতে ডেকে নিতেন এবং গোপনে উপদেশ দিতেন।

* তাঁর মাতা—আল্লাহ তাঁর অন্তরকে সান্ত্বনা দিন ও তাতে ধৈর্য দান করুন; {যাতে তিনি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হন} (১)—আমাকে জানিয়েছেন যে, আব্দুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পরিবারের কোনো এক সদস্যকে ভুলবশত বাম হাতে পান করতে দেখে বলেছিলেন: “এটা বৈধ নয়, তোমরা কি জান্নাতকে ভালোবাসো না এবং জাহান্নামকে ভয় করো না?” তাঁর মৃত্যুর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পর এই বিষয়টি তাদের অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

* ভাই জিমরাবি মুহাম্মদ খাইরি সুদানি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন সন্তান আব্দুর রহমানের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সাথে হাঁটছিলেন, তখন আব্দুর রহমান এক ব্যক্তিকে এমন একটি সাময়িকী পড়তে দেখলেন যাতে অশোভন ছবি ছিল। তিনি তাকে নসিহত করে বললেন: “আপনি কি এটি ছাড়া পড়ার মতো অন্য কিছু পাননি?”

* তরুণ সাঈদ বিন আহমদ বিন সাঈদ আল-শাহরি আমাকে বলেছেন: আল্লাহ আব্দুর রহমানের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিন বছর আগে যখন আমি তাকে একটি আয়াতের তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি আমাকে কুরআন হিফজ করার নসিহত করেছিলেন। তিনি আমাকে এর তাফসির বলে দিলেন এবং তারপর বললেন: “কুরআন হিফজ করো।”

* জায়েদ বিন সাদ আদ-দাওসারি (২) আমাকে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে জানিয়েছেন: আমি আমার গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আব্দুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, তিনি তখন তাঁর ঘরের দরজার সামনে ছিলেন এবং যেতে চাচ্ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ১০।

(২) জায়েদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ১৪২৩ হিজরির রজব মাসের শুরুতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الصلاة، فسلّمت عليه، وكنت أستمع إلى شريط أغنية في سيارتي، فرد عليَّ السلام ونصحني بقوله: ((الغناء حرام لا يجوز سماعه وأنت في شهر عظيم)). قال الأخ زائد: وكان ذلك في رمضان قبل وفاة عبد الرحمن رحمه الله بيومين، وقد تركت الغناء بسبب نصيحة عبد الرحمن، وإذا ملتُ إلى الغناء أخذت شريط أمراض القلوب واستمعت إليه.

* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله قد رأى رجلاً من المصلين ضرب ولده على وجهه، وكان رجلاً صالحاً، فقال له الابن عبد الرحمن: لا يجوز الضرب على الوجه، فما كان من هذا الرجل إلا أن قال لعبد الرحمن: جزاك الله خيراً، وقبَّل رأس عبد الرحمن، وكنت حاضراً شاهداً.

* كان بعض المشايخ يشرح حديث التشهد، فقال الشيخ: ((والسلام علينا وعلى عباد الله الصالحين))، فردّ عليه الابن عبد الرحمن فقال: ((السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين)) ليس فيها واو، فقبَّل هذا الشيخ يد الابن عبد الرحمن ودعا له، ولم يخطئ الشيخ مرة أخرى في إضافة الواو.

* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله يدرِّس في الجامع في تحفيظ القرآن، فرأى كثيراً من طلاب التحفيظ يسبلون الثياب، فأفزعه ذلك، وطلب من مدير المدرسة الشيخ خالد البلادي - حفظه الله - أن ينصح الطلاب عن طريق المكبرات في الجامع، ويحذّرهم من الإسبال، وخاصة لأنهم يتعلمون القرآن الكريم، فأخذ الشيخ خالد المكبّر وحذّرهم من الإسبال، أخبرني بذلك الشيخ خالد البلادي، والأخ هانئ بن نايف الربيعي.
...সালাত, আমি তাঁকে সালাম দিলাম। আমি আমার গাড়িতে একটি গানের ক্যাসেট শুনছিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং আমাকে এই বলে উপদেশ দিলেন: "গান গাওয়া হারাম, এটি শোনা বৈধ নয়, বিশেষ করে যখন আপনি একটি মহান মাসে রয়েছেন।" ভাই জায়েদ বলেন: এটি ছিল রমজান মাসে আবদুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইন্তেকালের দুই দিন আগে। আবদুর রহমানের উপদেশের কারণে আমি গান শোনা ছেড়ে দিয়েছি। এখন যখনই আমার গানের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়, আমি ‘আমরাজুল কুলুব’ (অন্তরসমূহের ব্যাধি) বিষয়ক ক্যাসেটটি নিয়ে তা শ্রবণ করি।

* আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন মুসল্লিকে দেখেছিলেন যে তিনি তাঁর সন্তানের মুখে আঘাত করছেন। লোকটি একজন নেককার মানুষ ছিলেন। আবদুর রহমান তাঁকে বললেন: "মুখে আঘাত করা বৈধ নয়।" এতে সেই ব্যক্তি আবদুর রহমানকে কেবল এইটুকুই বললেন: "জাজাকাল্লাহু খাইরান" (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন) এবং আবদুর রহমানের কপালে চুম্বন করলেন। আমি সেখানে উপস্থিত থেকে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি।

* জনৈক শাইখ তাশাহহুদের হাদিস ব্যাখ্যা করছিলেন। তখন শাইখ বললেন: "ওয়াস-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।" আবদুর রহমান তাঁকে সংশোধন করে বললেন: "আস-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন"—এর শুরুতে 'ওয়াও' নেই। তখন সেই শাইখ আবদুর রহমানের হাতে চুম্বন করলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এরপর শাইখ অতিরিক্ত 'ওয়াও' যুক্ত করার ভুল আর কখনও করেননি।

* আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মসজিদে হিফজুল কোরআন বিভাগে পড়াতেন। তিনি দেখলেন যে হিফজ বিভাগের অনেক ছাত্র টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে (ইসবাল) পরছে। বিষয়টি তাঁকে আতঙ্কিত করল। তিনি মাদ্রাসার পরিচালক শাইখ খালিদ আল-বিলাদি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—এর কাছে অনুরোধ করলেন যেন তিনি মসজিদের মাইকে ছাত্রদের উপদেশ দেন এবং তাদের 'ইসবাল' সম্পর্কে সতর্ক করেন; বিশেষ করে যেহেতু তারা পবিত্র কোরআন শিক্ষা করছে। অতঃপর শাইখ খালিদ মাইক হাতে নিলেন এবং তাদের ইসবাল সম্পর্কে সতর্ক করলেন। আমাকে এ সংবাদ শাইখ খালিদ আল-বিলাদি এবং ভাই হানি বিন নায়েফ আল-রুবাইয়ি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
* أخبرني الأخ عبد الله بن علي بن عبد الله القرني أنه طلب من الابن عبد الرحمن رحمه الله أن يكتب له موعظة قصيرة يعظ فيها زملاء الأخ

عبد الله غير المستقيمين في الثانوية وفي غيرها، قال الأخ عبد الله: ((فوافق عبد الرحمن رحمه الله إلا أنه كان مشغولاً، ثم ذكَّرته مرات))، فقال عبد الرحمن رحمه الله: ((سأكتبها إن شاء الله، ولكن لا أستطيع أن أطبعها على جهاز الكمبيوتر لأني مشغول، ولكني سأعطيها عبد الرحيم يطبعها لك)).

قال الأخ عبد الله: ((فكتبها عبد الرحمن رحمه الله بخطّ يده ثم سلَّمها لشقيقه عبد الرحيم رحمه الله، فطبعها عبد الرحيم رحمه الله على الكمبيوتر ثم سلّمها لي، وهذا نصّها:

((بسم الله الرحمن الرحيم

** أخي الحبيب، حاول أن تجيب على هذه الأسئلة بكل صراحة؟

س/ كم مضى من عمرك؟ وهل الباقي من عمرك أكثر أم أقل؟

وحاول أن تحسب عمرك بالساعات والدقائق حسب المعادلة الآتية:

العمر بالسنوات ×360= (العمر بالأيام) × 24 = (العمر بالساعات).

س/ ماذا فعلت في هذه الساعات الماضية من عمرك؟ وهل أنت مستعد للقاء الله بهذه الأعمال؟؟)).
ভাই আবদুল্লাহ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ আল-ক্বরনী আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি পুত্র আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি তার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত উপদেশ লিখে দেন, যার মাধ্যমে তিনি ভাই আবদুল্লাহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং অন্যান্য স্থানের সেই সকল সহপাঠীদের উপদেশ দিতে পারেন যারা সঠিক পথে নেই।

ভাই আবদুল্লাহ বলেন: "আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) এতে সম্মত হয়েছিলেন, তবে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। অতঃপর আমি তাকে কয়েকবার স্মরণ করিয়ে দিই।" তখন আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন: "ইনশাআল্লাহ আমি তা লিখব, তবে আমি তা কম্পিউটারে টাইপ করতে পারব না কারণ আমি ব্যস্ত। তবে আমি তা আবদুর রহিমকে দেব, সে তোমার জন্য তা টাইপ করে দেবে।"

ভাই আবদুল্লাহ বলেন: "অতঃপর আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) নিজ হস্তাক্ষরে তা লিখলেন এবং এরপর তাঁর সহোদর আবদুর রহিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তা হস্তান্তর করলেন। অতঃপর আবদুর রহিম (রাহিমাহুল্লাহ) তা কম্পিউটারে টাইপ করে আমার নিকট সমর্পণ করলেন। আর এটি হলো তার মূল পাঠ:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমার প্রিয় ভাই, অত্যন্ত সততার সাথে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো তো?

প্রশ্ন: তোমার জীবনের কতটা সময় অতিবাহিত হয়েছে? আর তোমার জীবনের অবশিষ্ট অংশ কি (অতিক্রান্ত অংশের চেয়ে) বেশি নাকি কম?

আর নিচের সমীকরণ অনুযায়ী ঘণ্টা ও মিনিটের হিসাবে তোমার বয়স গণনা করার চেষ্টা করো:

বছর হিসেবে বয়স × ৩৬০ = (দিন হিসেবে বয়স) × ২৪ = (ঘণ্টা হিসেবে বয়স)।

প্রশ্ন: তোমার জীবনের এই বিগত ঘণ্টাগুলোতে তুমি কী করেছ? আর তুমি কি এই আমলগুলো নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রস্তুত??"
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌سادساً: أخلاقه العظيمة رحمه الله تعالى:

* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله لا يقهقه إذا ضحك، وإنما يبتسم ابتساماً بدون قهقهة مدة حياته رحمه الله.

* كان رحمه الله بارّاً بوالديه لا يعصي لهما أمراً، وكان يخفض جناحه لأمه كثيراً، ويكرمها أكرمه الله بالفردوس الأعلى من الجنة في أعلى منازل الشهداء، وكان إذا نادته أمه أو ناداه أبوه أجاب بقوله: ((لبيك))، وإذا ذهب إلى المدرسة أو الكلية طلب من أمه الدعاء، فإذا دعت له قال أحياناً: هل هذا الدعاء من قلبك؟ ثم يُقبّل رأسها أحياناً إذا ذهب، وإذا رجع من الدراسة، وإذا كنت في مكتبتي الخاصة دخل عليّ وسلّم ثم مدّ يده للمصافحة، وربما قبل رأسي أحياناً.

* كان الابن عبد الرحمن سليم الصدر، فلا يحمل الحسد، ولا البغضاء لأحد من الناس، ومن أبرز الأمثلة على ذلك أنه كان يرسل لزميله في الصف الثالث الثانوي محمد حسان بشور بعض الفوائد، ويرسل له محمد عن طريق الناسوخ بعض الفوائد كذلك، ومحمد حسان هذا هو الذي ينافسه على الترتيب الأول في الصف الثالث ثانوي، فشكرتهما على ذلك الخلق الكريم.

* كان رحمه الله يبغض الغيبة، ولا ينقل النميمة، وقد قال في مقابلة أجرتها معه ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم حينما وُجِّه له أسئلة منها: ((كلمة عتاب توجهها لصديق؟))، فقال: ((أولئك
ষষ্ঠত: তাঁর সুমহান চরিত্র, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন:

* পুত্র আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) হাসার সময় কখনো অট্টহাসি দিতেন না; বরং তিনি তাঁর সারা জীবন অট্টহাসি ছাড়াই কেবল মুচকি হাসতেন (রাহিমাহুল্লাহ)।

* তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতামাতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ও সদ্ব্যবহারকারী ছিলেন, কোনো বিষয়েই তাঁদের অবাধ্য হতেন না। তিনি তাঁর মায়ের সামনে অত্যন্ত বিনয়াবনত থাকতেন এবং তাঁকে সম্মান করতেন—আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকামে শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করুন। যখনই তাঁর মা বা বাবা তাঁকে ডাকতেন, তিনি ‘লাব্বাইক’ (আমি উপস্থিত) বলে উত্তর দিতেন। তিনি যখন স্কুল বা কলেজে যেতেন, তখন মায়ের কাছে দোয়া চাইতেন। মা যখন তাঁর জন্য দোয়া করতেন, তখন তিনি মাঝেমধ্যে বলতেন: "এই দোয়াটি কি আপনার অন্তরের গভীর থেকে?" এরপর যাওয়ার সময় এবং পড়াশোনা থেকে ফেরার সময় কখনো কখনো তিনি তাঁর মায়ের মাথায় চুমু খেতেন। আমি যখন আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে থাকতাম, তখন তিনি আমার কাছে আসতেন, সালাম দিতেন এবং মুসাফাহার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেন; কখনো কখনো আমার মাথায় চুমু খেতেন।

* পুত্র আব্দুর রহমান অত্যন্ত স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন; তিনি কারও প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করতেন না। এর অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো—তিনি তাঁর দ্বাদশ শ্রেণির সহপাঠী মুহাম্মদ হাসান বাশশুরের কাছে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় লিখে পাঠাতেন এবং মুহাম্মদও ফ্যাক্সের মাধ্যমে তাঁর কাছে অনুরূপ কিছু বিষয় পাঠাতেন। অথচ এই মুহাম্মদ হাসানই দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আমি তাঁদের এই মহান চরিত্রের জন্য উভয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম।

* তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) গিবত বা পরনিন্দা ঘৃণা করতেন এবং চোগলখুরি করতেন না। ‘আবু আমর আল-বাসরি হিফজুল কুরআন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ কর্তৃক আয়োজিত একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল: "বন্ধুর প্রতি কোনো অনুযোগ বা অভিমান আছে কি?" তিনি বলেছিলেন: "সেসব লোক...
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأصدقاء الذين يأكلون لحوم الناس، ويقعون في أعراضهم، أنصحهم أن يبتعدوا عن ذلك)).

* وكان رحمه الله يهتمّ بأمور المسلمين ويرحمهم، وكان يؤلمه ما يحصل للإخوة في فلسطين، والشيشان، وغيرهما من بلدان المسلمين، وقد كان يستمع الأخبار في المذياع من إذاعة القرآن الكريم، وقد قال في المقابلة التي أجرتها معه ثانوية أبي عمرو لتحفيظ القرآن الكريم حينما وُجِّه له أسئلة منها: ((موقف معبِّر أثَّر في حياتك؟))، فقال: ((الحملة الروسية اللعينة على جمهورية الشيشان!)).

* كان الابن عبد الرحمن - رحمه الله تعالى - في المجالس الخاصة والعامّة التي يحضرها لا يتكلّم إلا بخير أو يصمت، ولا يثرثر، بل يلزم السكوت، وإذا أعجبه شيء تبسَّم، وإذا سُئل عن شيء أجاب بهدوءٍ وأدب.

* كان إذا سار في طريقه إلى المسجد لا ينظر يمنة ولا يسرة، فلا ينظر في المارِّين ولا في السيارات العابرة، وإنما كان ينظر أمامهُ، ويمضي في سيره، وقد أخبرني الشيخ سالم بن عامر الشهري مؤذِّن مسجد عمر بن عبد العزيز بإسكان أفراد القوات المسلحة، أنه كان يمرُّ على سيارته في الطريق العام، ويرى عبد الرحمن رحمه الله يسير إلى الجامع فيحبّ أن يسلّم على عبد الرحمن رحمه الله مع الإشارة باليد، ولكن يقول: إن عبد الرحمن رحمه الله سائر في طريقه لا ينظر يمنةً ولا يسرةً، لا إلى سيارات ولا إلى غيرها، وهكذا أخبرني الشيخ سالم بن علي الخشرمي
সেই বন্ধুরা যারা মানুষের গোশত খায় এবং তাদের মান-সম্মানে আঘাত হানে, আমি তাদের উপদেশ দিচ্ছি যে তারা যেন এ থেকে দূরে থাকে।)).

* আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন; তিনি মুসলমানদের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন এবং তাঁদের প্রতি দয়াশীল ছিলেন। ফিলিস্তিন, চেচনিয়া এবং অন্যান্য মুসলিম দেশে ভাইদের ওপর যা ঘটছে, তা তাঁকে ব্যথিত করত। তিনি ‘ইযাআতুল কুরআনিল কারীম’ রেডিও থেকে সংবাদ শুনতেন। আবু আমর হিফযুল কুরআন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃক তাঁর সাথে নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: “আপনার জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো স্মরণীয় ঘটনা কোনটি?” তখন তিনি বলেছিলেন: “চেচেন প্রজাতন্ত্রের ওপর অভিশপ্ত রুশ হামলা!”

* পুত্র আবদুর রহমান—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি যেসব ব্যক্তিগত ও সাধারণ মজলিসে উপস্থিত হতেন, সেখানে কল্যাণকর কথা ছাড়া অন্য কিছু বলতেন না অথবা নীরব থাকতেন। তিনি অনর্থক কথা বলতেন না বরং চুপ থাকাকেই আবশ্যক করে নিয়েছিলেন। কোনো কিছু তাঁর ভালো লাগলে তিনি মুচকি হাসতেন এবং কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে শান্তভাবে ও আদবের সাথে উত্তর দিতেন।

* যখন তিনি মসজিদের পথে হাঁটতেন, তখন ডানে বা বামে তাকাতেন না। তিনি পথচারী কিংবা অতিক্রমকারী গাড়িগুলোর দিকেও তাকাতেন না; বরং তিনি কেবল সামনের দিকে তাকিয়ে পথ চলতেন। সশস্ত্র বাহিনীর আবাসন এলাকার উমর ইবনুল আজিজ মসজিদের মুয়াজ্জিন শায়খ সালিম বিন আমির আল-শেহরি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন মহাসড়কে গাড়ি চালিয়ে যেতেন এবং আবদুর রহমানকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জামে মসজিদের দিকে হেঁটে যেতে দেখতেন, তখন তিনি হাত ইশারায় আবদুর রহমানকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সালাম দিতে চাইতেন। কিন্তু তিনি বলেন: আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজ পথে চলতেন, তিনি ডানে-বামে, গাড়ি কিংবা অন্য কিছুর দিকেও তাকাতেন না। একইভাবে শায়খ সালিম বিন আলী আল-খাশরামি আমাকে জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الشهري إمام مسجد خالد بن الوليد بإسكان أفراد القوات المسلحة، يقول: ((إذا مررت مع الشارع العام على سيارتي ورأيت عبد الرحمن في طريقه إلى الجامع، فأريد السلام عليه مع الإشارة؛ لأنه لا يسمعني، ولكنه لا ينظر إليّ، ولا إلى أحد من المارّين، وإنما يمشي وينظر أمامه!)).

* وكذلك إذا كان داخل المسجد لا ينظر يمنة ولا يسرة، ولا يكثر الالتفات، بل يؤذن، ثم يصلي تحية المسجد، ثم يقرأ القرآن يراجعه.

* كان عبد الرحمن رحمه الله يصلي الرواتب كاملة: أربعاً قبل الظهر، وركعتين بعدها، ويصلي أربعاً قبل العصر نافلة، ويصلي ركعتين بعد المغرب، وركعتين بعد العشاء، وكان يحافظ على صلاة الوتر، وركعتين قبل الفجر، وكنت أشاهده يخشع في صلاته ولله الحمد، وقد أخبرني الشيخ حسن بن شريف المشيخي أنه شاهد عبد الرحمن رحمه الله يبكي في دعاء القنوت في رمضان خلف الشيخ خلوفة بن محمد الشهري القاضي بمحكمة الطائف الآن، وقد كان الشيخ خلوفة يُؤذِّن في جامع الفاروق، ويُصلِّي بالناس التراويح في غيابي، وكان عُمْرُ عبد الرحمن اثني عشر عاماً آنذاك تقريباً، فقد كان صغير السن، ومع ذلك يحصل له هذا الخشوع رحمه الله تعالى.

* وكان رحمه الله يصوم مع رمضان ستّاً من شوال، ويصوم يوم عاشوراء مع يوم قبله ويوم بعده أو يصوم يوماً قبله، ويصوم تسعة أيام من العشر الأول من ذي الحجة.
আশ-শাহরি, যিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আবাসন এলাকার খালিদ বিন ওয়ালিদ মসজিদের ইমাম, তিনি বলেন: ((আমি যখন আমার গাড়িতে প্রধান রাস্তা দিয়ে চলি এবং আব্দুর রহমানকে মসজিদের পথে দেখি, তখন আমি ইশারার মাধ্যমে তাকে সালাম দিতে চাই; কারণ সে আমাকে শুনতে পায় না, কিন্তু সে আমার দিকে তাকায় না, এমনকি পথচারীদের কারো দিকেও তাকায় না, বরং সে কেবল সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে থাকে!)).

* একইভাবে সে যখন মসজিদের ভেতরে থাকত, তখন ডানে বা বামে তাকাত না এবং বারবার এদিক-ওদিক ফিরে তাকাত না; বরং সে আযান দিত, তারপর তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ পড়ত এবং এরপর কুরআন তিলাওয়াত ও তা পুনরায় স্মরণ করত।

* আব্দুর রহমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পূর্ণ সুন্নতে মুয়াক্কাদা (রাওয়াতীব) নামাজগুলো আদায় করতেন: যোহরের পূর্বে চার রাকাত এবং পরে দুই রাকাত, আসরের পূর্বে নফল হিসেবে চার রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত এবং এশার পরে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। তিনি বিতর নামাজ এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাত নামাজের প্রতি সর্বদা যত্নশীল ছিলেন। আমি তাঁকে তাঁর নামাজে অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে দেখতাম, সকল প্রশংসা আল্লাহর। শায়খ হাসান বিন শরীফ আল-মাশাইখি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আব্দুর রহমানকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রমজান মাসে দোয়ায়ে কুনূতের সময় কাঁদতে দেখেছেন শায়খ খালুফাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাহরির পেছনে—যিনি বর্তমানে তায়েফ আদালতের বিচারক। শায়খ খালুফাহ আল-ফারুক মসজিদে আযান দিতেন এবং আমার অনুপস্থিতিতে মানুষকে নিয়ে তারাবিহ নামাজ পড়াতেন। সে সময় আব্দুর রহমানের বয়স ছিল প্রায় বারো বছর। তিনি অল্পবয়সী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে এই একাগ্রতা ও খুশু প্রকাশ পেত, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

* তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রমজানের সাথে শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখতেন। এছাড়া তিনি আশুরার রোজা রাখতেন তার আগের একদিন ও পরের একদিনসহ, অথবা তার আগের একদিনসহ। আর তিনি জিলহজ মাসের প্রথম দশকের নয় দিন রোজা রাখতেন।
(খণ্ড: ১) গাযওয়াতু ফাতহি মাক্কাতা ফী যাউইস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله يراجع القرآن كثيراً ولله الحمد، وقد أخبرني أنه يراجع كل يوم جزأين بين الأذان والإقامة للصلوات الخمس؛ لأنه كان يُؤذِّن في جامع الفاروق كما تقدم، أما قبل ذلك فكان يراجع على المدرسين تسميعاً، ويُسمِّع القرآن كاملاً في إجازة الصيف مرات عديدة، وشارك في مسابقات كثيرة، وفاز فيها، جعل الله ذلك كله في موازين حسناته.

* كان رحمه الله يحافظ على أذكار الصباح بعد صلاة الفجر، وأذكار المساء بعد صلاة المغرب، وخاصة: سيد الاستغفار، وآية الكرسي، والمعوذات الثلاث، ثلاث مرات، و ((بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم)) ثلاث مرات، وغير ذلك، كما يحافظ على أذكار أدبار الصلوات ولله الحمد والمنّة.

* كان رحمه الله يحب الاطلاع والقراءة والاستماع لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك قصص الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، وقد اشترى قصص الأنبياء من القرآن الكريم للشيخ حسن أيوب، وهو لا يزال في الصف السادس ابتدائي، وعمره تقريباً اثنا عشر عاماً، وقد كرّر استماع هذه الأشرطة أكثر من مرة، وكانت تشتمل على قصة عشرين نبيّاً في عشرين شريطاً، وقد طلب مني أن اشتري له كتاب الشجرة النبوية في سيرة خير البرية صلى الله عليه وسلم، لابن عبد الهادي المقدسي (ابن المبرّد)، 840 - 909هـ، فلم يدخل هذا الكتاب مكتبتي لولا الله ثم الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، وقد اشترى قبل موته بشهر أو شهرين كتاب: استجلاب ارتقاء الغرف بحبِّ
পুত্র আব্দুর রহমান (আল্লাহ তাকে রহমত করুন) প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত রিভিশন দিতেন, আল্লাহরই প্রশংসা। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দুই পারা করে রিভিশন দেন; কারণ তিনি ইতিপূর্বে বর্ণিত ফারুক জামে মসজিদে আযান দিতেন। এর আগে তিনি শিক্ষকদের কাছে শুনিয়ে রিভিশন দিতেন এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বহুবার সম্পূর্ণ কুরআন শুনিয়েছেন। তিনি অনেক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাতে বিজয়ী হয়েছেন। আল্লাহ এই সবকিছুকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় ভারী করে দিন।

তিনি (আল্লাহ তাকে রহমত করুন) ফজর সালাতের পর সকালের যিকর এবং মাগরিব সালাতের পর সন্ধ্যার যিকরগুলোর প্রতি যত্নবান ছিলেন; বিশেষ করে: সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, আয়াতুল কুরসী এবং মুআউওয়াযাত (তিনটি সূরা) তিনবার করে, আর "আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ" তিনবার, এবং অন্যান্য যিকরসমূহ। একইভাবে তিনি সালাত পরবর্তী যিকরগুলোর প্রতিও যত্নবান ছিলেন, আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ।

তিনি (আল্লাহ তাকে রহমত করুন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কাহিনীগুলো দেখা, পড়া ও শোনার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। যখন তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন এবং বয়স ছিল প্রায় বারো বছর, তখন তিনি শাইখ হাসান আইয়ুবের 'কুরআনুল কারীম থেকে নবীদের কাহিনী' ক্রয় করেছিলেন। তিনি এই অডিও ক্যাসেটগুলো বারবার শুনতেন; যেখানে বিশটি ক্যাসেটে বিশজন নবীর কাহিনী অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি আমার কাছে ইবনে আব্দুল হাদী আল-মাকদিসী (ইবনে মুবাররাদ, ৮৪০ - ৯০৯ হিজরি) রচিত 'আশ-শাজরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী সীরাতি খাইরিল বারিয়্যাহ' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বইটি কিনে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং এরপর পুত্র আব্দুর রহমানের (আল্লাহ তাআলা তাকে রহমত করুন) আগ্রহ না থাকলে এই বইটি আমার লাইব্রেরিতে আসত না। তিনি তাঁর মৃত্যুর এক বা দুই মাস আগে 'ইসতিজলাব ইরতিকাউল গুরফ বি-হুব্বি...' বইটি ক্রয় করেছিলেন।