(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
عظمة القرآن وتعظيمه وأثره في النفوس في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عظمة القرآن وتعظيمه وأثره في النفوس في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم، وعظمة، وأثر، وتدبر، وفضائل، وعلم، وعمل، وتعاهد، وآداب، وأخلاق

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 150

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআনের মহিমা, এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের অন্তরে এর প্রভাব   (সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানি)

বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও উসুলুত তাফসির


গ্রন্থ: কুরআনের মহিমা, এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের অন্তরে এর প্রভাব - সংজ্ঞা, মহিমা, প্রভাব, গভীর অনুধাবন, ফজিলত, জ্ঞান, আমল, নিয়মিত তিলাওয়াত, আদব ও আখলাক

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

عظمة القرآن

وتعظيمه وأثره في النفوس

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানির রচনাবলি সিরিজ

 

কুরআনের মহিমা

এর মর্যাদা এবং হৃদয়ের ওপর এর প্রভাব

কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহামহিম আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((عظمة القرآن الكريم، وتعظيمه، وأثره في النفوس)) بيّنت فيها بإيجاز: كل ما يحتاجه المسلم من معرفة كتاب الله تعالى، وعظمته، وتعظيمه، وصفاته، وتأثيره في النفوس، والأرواح، والقلوب، وفضائله، وفضائل قراءته، وتعلمه، وتعليمه، ومدارسته، وآداب تلاوته، وتدبّره، والعمل به، وفضل العاملين به، وأخلاقهم، والأمر بتعاهده، ومراجعته، وقرنت ذلك بالأدلة من الكتاب والسنة، فما كان من صواب فمن الله الواحد المنَّان، وما كان من خطأ أو تقصير: فمني ومن الشيطان، والله بريء منه ورسوله صلى الله عليه وسلم (1).

--------------------------------------------

(1) اقتداء بما قاله عبد الله بن مسعود رضي الله عنه. أخرجه أبو داود، كتاب النكاح، باب فيمن تزوج ولم يسمِّ صداقاً حتى مات، برقم 2116، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 2/ 397، وانظر: كتاب الروح، لابن القيم، ص 30.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর।

অতঃপর:

এটি কুরআনুল কারীমের শ্রেষ্ঠত্ব, এর সম্মান এবং অন্তরের ওপর এর প্রভাব বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; এতে আমি সংক্ষেপে একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, এর মাহাত্ম্য, এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এর গুণাবলি, নফস, রুহ ও অন্তরের ওপর এর প্রভাব, এর ফজিলতসমূহ, এটি তিলাওয়াত, শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষা দান ও পারস্পরিক আলোচনার ফজিলত, তিলাওয়াতের আদবসমূহ, এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা ও তদানুযায়ী আমল করার গুরুত্ব, আমলকারীদের ফজিলত ও তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও তা পুনরাবৃত্তি করার নির্দেশ বর্ণনা করেছি। আমি এই বিষয়গুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহাদাতা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল বা ত্রুটি হয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা থেকে মুক্ত (১)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা বলেছিলেন তার অনুসরণ স্বরূপ। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুন নিকাহ, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি বিবাহ করল কিন্তু মোহর নির্ধারণের পূর্বেই মারা গেল, হাদিস নং ২১১৬; আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলে সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ২/৩৯৭-এ। আরও দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম রচিত কিতাবুর রুহ, পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، رفع الله منزلته، وغفر له، وجزاه عني وعن المسلمين خيراً.

وقد قسمت البحث إلى عدة مباحث على النحو الآتي:

المبحث الأول: مفهوم القرآن العظيم.

المبحث الثاني: القرآن العظيم أنزل في شهر رمضان.

المبحث الثالث: عظمة القرآن الكريم وصفاته.

المبحث الرابع: تأثير القرآن في النفوس والقلوب جاء على أنواع.

المبحث الخامس: تدبر القرآن العظيم.

المبحث السادس: فضل تلاوة القرآن اللفظية.

المبحث السابع: فضل قراءة القرآن في الصلاة.

المبحث الثامن: فضل تعلم القرآن وتعليمه، ومدارسته.

المبحث التاسع: فضل حافظ القرآن العامل به.

المبحث العاشر: فضائل سور معينة مخصصة.

المبحث الحادي عشر: وجوب العمل بالقرآن وبيان فضله.

المبحث الثاني عشر: الأمر بتعاهد القرآن ومراجعته.

المبحث الثالث عشر: آداب تلاوة القرآن العظيم.

المبحث الرابع عشر: أخلاق العامل لله بالقرآن.
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ-এর সিদ্ধান্তসমূহ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অভিমতসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং আমার ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি গবেষণাটিকে নিম্নলিখিত কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান কুরআনের ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মহান কুরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারিমের মাহাত্ম্য ও এর গুণাবলি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আত্মা ও হৃদয়ে কুরআনের প্রভাবের বিভিন্ন প্রকারভেদ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মহান কুরআনের মর্ম অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণা (تدبر)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআনের মৌখিক তিলাওয়াতের ফজিলত।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সালাতে কুরআন পাঠের ফজিলত।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: কুরআন শিক্ষা করা, শিক্ষা দেওয়া এবং তা যৌথভাবে অধ্যয়নের ফজিলত।

নবম পরিচ্ছেদ: কুরআনের ঐ হাফেজের ফজিলত যে তদানুযায়ী আমল করে।

দশম পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট কিছু সূরার বিশেষ ফজিলতসমূহ।

একাদশ পরিচ্ছেদ: কুরআন অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং এর ফজিলতের বর্ণনা।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: নিয়মিত কুরআন চর্চা এবং তা পুনরাবৃত্তি করার নির্দেশ।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: মহান কুরআন তিলাওয়াতের আদবসমূহ।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কুরআন অনুযায়ী আমলকারীর চরিত্র।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الخامس عشر: أخلاق العامل للدنيا بالقرآن.

المبحث السادس عشر: أخلاق معلم القرآن.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، مقرّباً لمؤلفه، وقارئه، وناشره من الفردوس الأعلى، أعلى جنات النعيم،، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كلَّ من انتهى إليه؛ إنه سميع مجيب، قريب، خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم، وبارك على خيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبينا وإمامنا وأسوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

حرر بعد ظهر يوم الأربعاء 19/ 6/1428هـ.
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: কুরআনের মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ অন্বেষণকারীর চরিত্র।

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: কুরআন শিক্ষকের চরিত্র।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সামান্য আমলটিকে বরকতময়, উপকারী এবং তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ (خالص) করেন; যা এর লেখক, পাঠক এবং প্রকাশককে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম তথা নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের নিকটবর্তী করে দেবে। আর তিনি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে এর দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, কবুলকারী এবং অতি নিকটবর্তী; তিনি সর্বোত্তম যাচিত সত্তা এবং শ্রেষ্ঠ আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, তাঁর ওহীর নির্ভরযোগ্য (أمين) আমানতদার, আমাদের নবী, ইমাম ও আদর্শ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার (إحسان) সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।

আবু আবদুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি

 

১৯/০৬/১৪২৮ হিজরি, বুধবার জোহরের পর লিখিত।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المبحث الأول: تعريف القرآن العظيم

القرآن كلام الله: حروفه، ومعانيه، منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وهو المعجزة العُظمى، المتعبّد بتلاوته، المبدوء في المصحف بفاتحة الكتاب المختوم بسورة الناس، تكلم الله به، وسمعه جبريل من الله تعالى، وسمعه محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم من جبريل، وسمعه الصحابة من محمد صلى الله عليه وسلم (1)، قال الله تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِين * نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِين * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِين *بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِين} (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: مناهل العرفان في علوم القرآن للزرقاني، 1/ 19، ومباحث في علوم القرآن، للشيخ مناع خليل القطان، ص 17 وما بعدها، ودراسات في علوم القرآن، لبكر إسماعيل، ص 10.

(2) سورة الشعراء، الآيات: 192 - 195 ..
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান কুরআনের সংজ্ঞা

কুরআন আল্লাহর বাণী: এর শব্দ ও অর্থসমূহ তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (منزل), যা সৃষ্টি নয়। তাঁর নিকট থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। এটি এক মহান অলৌকিক নিদর্শন (معجزة), যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য। যা মুসহাফে সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা নাস দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এটি পাঠ করেছেন, জিবরাঈল (আ.) আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে তা শুনেছেন, মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট থেকে তা শুনেছেন এবং সাহাবী (صحابة)গণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে তা শুনেছেন (১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যুরকানি রচিত মানাহিলুল ইরফান ফি উলূমিল কুরআন, ১/১৯; শায়খ মান্না খলিল আল-কাত্তান রচিত মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন, ১৭ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ; এবং বকর ইসমাইল রচিত দিরাসাত ফি উলূমিল কুরআন, ১০ পৃষ্ঠা।

(২) সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: ১৯২ - ১৯৫ ..
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الثاني: القرآن العظيم أنزل في شهر رمضان

القرآن أنزله الله تعالى في شهر رمضان، كما قال عز وجل: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} (1) وكان هذا الإنزال في ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان كما قال سبحانه وتعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْر} (2)، وقال عز وجل: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِين} (3).

ولأهمية هذا القرآن العظيم والاهتمام به في رمضان وغيره، فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يعرضه على جبريل في كل عام مرة في شهر رمضان، وعرضه في العام الذي توفي فيه مرتين (4).

وهذا يؤكد الأهمية العظمى بالقرآن في رمضان وفي غيره.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية:185.

(2) سورة القدر، الآية: 1.

(3) سورة الدخان، الآية: 3.

(4) البخاري، كتاب فضائل القرآن ، باب كان جبريل يعرض القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم، برقم 4997، ورقم 4998.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মহিমান্বিত কুরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে

মহান আল্লাহ রমজান মাসে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যেমনটি তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত হয়ে বলেছেন: "রমজান মাসই সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী।" (১) আর এই অবতরণ রমজানের শেষ দশকের লাইলাতুল কদরে সংঘটিত হয়েছিল, যেমনটি পবিত্র ও মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি একে অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে (লাইলাতুল কদরে)।" (২) এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি একে এক বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।" (৩)।

এই মহিমান্বিত কুরআনের গুরুত্ব এবং রমজান ও অন্যান্য সময়ে এর প্রতি বিশেষ যত্নের কারণে নবী (সা.) প্রতি বছর রমজান মাসে একবার জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট তা পেশ করতেন। আর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি তা দুবার পেশ করেছিলেন (৪)।

এটি রমজান এবং অন্যান্য সময়ে কুরআনের অপরিসীম গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫।

(২) সূরা আল-কদর, আয়াত: ১।

(৩) সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩।

(৪) বুখারি, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন, পরিচ্ছেদ: জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-এর নিকট কুরআন পেশ করতেন, হাদিস নম্বর ৪৯৯৭ এবং ৪৯৯৮।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الثالث: عظمة القرآن الكريم وصفاته

له صفات عظيمة يعجز البشر عن حصرها، ولكن منها الصفات الآتية:

 

‌‌1 - كتاب عام للعالمين: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} (1).

‌‌2 - المعجزة العظمى، الذي تحدَّى الله به الإنس والجن على أن يأتوا بمثله، أو بعشر سور من مثله، أو سورة واحدة، فعجزوا مجتمعين ومتفرقين عن الإتيان بشيء من ذلك، قال الله عز وجل: {قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُواْ بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (2)، وقوله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَل لَاّ يُؤْمِنُون* فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِين} (3)،وبعد هذا التحدّي عجزوا أن يأتوا بمثله، فمدَّ لهم في الحبل وتحدَّاهم بعشر سور مثله: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُواْ بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُواْ مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ الله إِن كُنتُمْ صَادِقِين} (4) فعجزوا، فأرخى لهم في الحبل، وتحدّاهم بسورة مثله، قال الله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُواْ بِسُورَةٍ مِّثْلِهِ وَادْعُواْ مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ الله إِن كُنتُمْ صَادِقِين} (5).

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، الآية: 1.

(2) سورة الإسراء، الآية: 88.

(3) سورة الطور، الآيتان: 33، 34.

(4) سورة هود، الآية: 13.

(5) سورة يونس، الآية: 38.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মহিমা ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

এর এমন সব মহান বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা মানুষের সাধ্যাতীত, তবে সেগুলোর মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

 

১ - বিশ্ববাসীর জন্য একটি সর্বজনীন কিতাব: {পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারেন} (১)।

২ - শ্রেষ্ঠ মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন), যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষ ও জিন জাতিকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছেন, অথবা এর সদৃশ দশটি সূরা, কিংবা একটি সূরা নিয়ে আসার জন্য; কিন্তু তারা সম্মিলিতভাবে বা পৃথকভাবে এর সামান্যতম কিছু আনয়নেও অক্ষম হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (২)। মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে রটনা করেছে? বরং তারা ঈমান আনবে না। অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে এর মতো একটি কথা (হাদিস) নিয়ে আসুক} (৩)। এই চ্যালেঞ্জের পর তারা যখন এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম হলো, তখন তিনি বিষয়টি আরও প্রসারিত করলেন এবং তাদের প্রতি এর সদৃশ দশটি সূরার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে রটনা করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর মতো রটানো দশটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} (৪)। এতেও তারা অক্ষম হলো, তখন তিনি চ্যালেঞ্জটিকে আরও শিথিল করলেন এবং এর মতো মাত্র একটি সূরার চ্যালেঞ্জ দিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি রটনা করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} (৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ১।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮৮।

(৩) সূরা আত-তূর, আয়াত: ৩৩, ৩৪।

(৪) সূরা হুদ, আয়াত: ১৩।

(٥) সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩৮।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد سمع هذا التحدِّي من سمع القرآن وعرفه الخاص والعام، ولم يتقدم أحد على أن يأتي بسورة مثله من حين بعث النبي صلى الله عليه وسلم إلى هذا اليوم (1) وإلى قيام الساعة، والقرآن يشتمل على آلاف المعجزات؛ لأنه مائة وأربع عشرة سورة، وقد وقع التحدي بسورة واحدة، وأقصر سورة في القرآن سورة الكوثر، وهي ثلاث آيات قصار، والقرآن يزيد بالاتفاق على ستة آلاف آية ومائتي آية، ومقدار سورة الكوثر من آيات أو آية طويلة على ترتيب كلماتها له حكم السورة الواحدة، ويقع بذلك التحدي والإعجاز؛ ولهذا كان القرآن يُغني عن جميع المعجزات الحسِّية والمعنوية؛ لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد، وإعجازه في وجوه كثيرة: الإعجاز البلاغي والبياني، والإخبار عن الغيوب بأنواعها، والإعجاز التشريعي، والإعجاز العلمي الحديث؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((ما من الأنبياء نبي إلا أُعطي من الآيات على ما مثله آمن البشر، وإنما كان الذي أُتيته وحياً أوحاه الله إليَّ، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة)) (2).

 

‌‌3 - هدى للمتقين: {الم * ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِين} (3).

‌‌4 - هدى للناس جميعاً: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ

--------------------------------------------

(1) انظر: الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح لابن تيمية، 4/ 71 - 77، والبداية والنهاية لابن كثير، 6/ 95.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب فضائل القرآن، باب كيف نزل الوحي، برقم 4981، ومسلم، كتاب الإيمان، باب وجوب الإيمان برسالة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم إلى جميع الناس، برقم 152.

(3) سورة البقرة، الآية: 1 - 2.
যারা কুরআন শুনেছেন এবং এটি সম্পর্কে জানেন, চাই তারা বিশিষ্ট হোন বা সাধারণ, তারা সকলেই এই চ্যালেঞ্জের কথা শুনেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত (১) এবং কিয়ামত পর্যন্ত এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। কুরআন হাজার হাজার মুজিজাকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ এটি একশত চৌদ্দটি সূরা নিয়ে গঠিত এবং চ্যালেঞ্জটি ছিল মাত্র একটি সূরার মাধ্যমে। কুরআনের সংক্ষিপ্ততম সূরা হলো সূরা আল-কাওসার, যা তিনটি ছোট আয়াত বিশিষ্ট। কুরআন সর্বসম্মতভাবে ছয় হাজার দুইশ’রও বেশি আয়াত সমৃদ্ধ। সূরা আল-কাওসারের সমপরিমাণ আয়াত বা তার শব্দ বিন্যাস অনুযায়ী কোনো দীর্ঘ আয়াতও একটি সূরার হুকুম রাখে এবং এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ও অলৌকিকত্ব সাব্যস্ত হয়। এই কারণেই যার হৃদয় আছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে, তার জন্য কুরআন সমস্ত বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক মুজিজার বিপরীতে যথেষ্ট। এর অলৌকিকত্ব বহুবিধ: আলঙ্কারিক ও বর্ণনাশৈলীগত অলৌকিকত্ব, বিভিন্ন প্রকার গায়েবি সংবাদের খবর দেওয়া, বিধানগত অলৌকিকত্ব এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন কোনো নিদর্শন দেওয়া হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। কিন্তু আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহি, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে তাদের মধ্যে সর্বাধিক” (২)।

 

‌‌৩ - মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক: {আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক} (৩)।

‌‌৪ - সকল মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক: {রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে যা মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়ার আল-জাওয়াব আস-সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীন আল-মাসিহ, ৪/ ৭১ - ৭৭, এবং ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬/ ৯৫।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাব ফাদায়িল আল-কুরআন, অধ্যায়: কীভাবে ওহি নাজিল হলো, হাদিস নং ৪৯৮১, এবং মুসলিম, কিতাব আল-ঈমান, অধ্যায়: সকল মানুষের প্রতি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা, হাদিস নং ১৫২।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১ - ২।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} (1).

 

‌‌5 - يهدي للتي هي أقوم: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يِهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا * وأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} (2).

‌‌6 - روحٌ وحياةٌ: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الإِيمَانُ} (3).

‌‌7 - نور: يهدي به الله من يشاء من عباده: {وَلَكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا نَّهْدِي بِهِ مَنْ نَّشَاء مِنْ عِبَادِنَا} (4)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءكُم بُرْهَانٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَأَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا * فَأََمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ بِالله وَاعْتَصَمُواْ بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِّنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطًا مُّسْتَقِيمًا} (5).

‌‌8 - فرقان: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} (6).

‌‌9 - شفاء لما في الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِين} (7)، {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلَا

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 185.

(2) سورة الإسراء، الآيتان: 9 - 10.

(3) سورة الشورى، الآية: 52.

(4) سورة الشورى، الآية: 52.

(5) سورة النساء الآيتان: 174 - 175.

(6) سورة الفرقان، الآية: 1.

(7) سورة يونس، الآية: 57.
এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ} (১)।

 

‌‌৫ - যা সুদৃঢ় ও সঠিক তার দিকে পথ প্রদর্শন করে: {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিকে হিদায়াত করে যা অধিকতর সুদৃঢ় এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ প্রদান করে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} (২)।

‌‌৬ - রুহ ও জীবন: {আর এভাবেই আমি আমার নির্দেশে আপনার প্রতি রুহ (ওহি) অবতীর্ণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী।} (৩)।

‌‌৭ - নূর (আলো): এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন: {কিন্তু আমি একে নূর করেছি, যার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি।} (৪)، {হে লোকসকল! তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসে পৌঁছেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি উজ্জ্বল আলো অবতীর্ণ করেছি। সুতরাং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তিনি অচিরেই তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং তাদেরকে তাঁর দিকে সরল পথের দিশা দেবেন।} (৫)।

‌‌৮ - ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী): {কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।} (৬)।

‌‌৯ - অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত: {হে লোকসকল! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট উপদেশ এবং অন্তরের রোগের শিফা (আরোগ্য) এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে।} (৭)، {আর আমি কুরআনে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য শিফা (আরোগ্য) ও রহমত এবং এটি জালেমদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না...

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫।

(২) সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৯ - ১০।

(৩) সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৫২।

(৪) সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৫২।

(৫) সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭৪ - ১৭৫।

(৬) সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ১।

(৭) সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৭।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إَلَاّ خَسَارًا} (1)، {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُوْلَئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيد} (2).

 

‌‌10 - القرآن تبيانٌ لكل شيء: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِين} (3).

‌‌11 - لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيز * لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيد} (4).

‌‌12 - تكفَّل الله بحفظه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُون} (5).

‌‌13 - كتابٌ واضحٌ مبين: {قَدْ جَاءكُم مِّنَ الله نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِين * يَهْدِي بِهِ الله مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُم مِّنِ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيم} (6).

‌‌14 - أُحْكِمَتْ آياته: {الَر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِير} (7).

‌‌15 - فُصِّلت آياته: {كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّقَوْمٍ يَعْلَمُون * بَشِيرًا وَنَذِيرًا

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء، الآية:82.

(2) سورة فصلت، الآية: 44.

(3) سورة النحل، الآية: 89.

(4) سورة فصلت، الآية: 1.

(5) سورة الحجر، الآية: 9.

(6) سورة المائدة، الآية: 16.

(7) سورة هود، الآية: 1.
...আর তা জালিমদের কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে} (১), {বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও প্রতিষেধক। আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব। তারা এমন যেন তাদেরকে এক দূরবর্তী স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে} (২)।

 

‌‌১০ - কুরআন প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাবটি নাজিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়েত, রহমত ও সুসংবাদ} (৩)।

‌‌১১ - এর সম্মুখ বা পশ্চাৎ থেকে কোনো বাতিল এতে আসতে পারে না: {আর নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এর সম্মুখ বা পশ্চাৎ থেকে কোনো মিথ্যা এতে আসতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} (৪)।

‌‌১২ - আল্লাহ এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} (৫)।

‌‌১৩ - এক সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল কিতাব: {অবশ্যই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিতে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন} (৬)।

‌‌১৪ - এর আয়াতসমূহ সুসংহত করা হয়েছে: {আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুসংহত করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে} (৭)।

‌‌১৫ - এর আয়াতসমূহ সবিস্তারে বর্ণিত: {এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে, আরবি কুরআন হিসেবে সে জাতির জন্য যারা জানে। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮২।

(২) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৪৪।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯।

(৪) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ১।

(৫) সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯।

(৬) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৬।

(৭) সূরা হুদ, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُون} (1).

 

‌‌16 - تذكرةٌ لمن يخشى: {مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى * إِلَاّ تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَى * تَنزِيلاً مِّمَّنْ خَلَقَ الأَرْضَ وَالسَّمَوَاتِ الْعُلَى} (2).

‌‌17 - ما تَنَزَّلت به الشياطين: {وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِين * وَمَا يَنبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُون * إِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُولُون} (3).

‌‌18 - آياتٌ بيِّناتٌ في صدور أهل العلم: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} (4).

‌‌19 - ذِكْرٌ وقرآنٌ مبين: {إِنْ هُوَ إِلَاّ ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُّبِين * لِيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِين} (5).

‌‌20 - أحسن الحديث: {الله نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ الله ذَلِكَ هُدَى الله يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاء وَمَن يُضْلِلْ الله فَمَا لَهُ مِنْ هَاد} (6).

‌‌21 - عليٌّ حكيم: {وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيم} (7).

--------------------------------------------

(1) فصلت، الآيات: 2 - 4.

(2) سورة طه، الآيات: 2 - 4.

(3) سورة الشعراء، الآيات: 209 - 212.

(4) سورة العنكبوت، الآية: 49.

(5) سورة يس، الآيتان: 69 - 70.

(6) سورة الزمر، الآية: 23.

(7) سورة الزخرف، الآية: 4.
কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিমুখ হয়েছে, তাই তারা শোনে না} (১)।

 

‌‌১৬ - আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ: {আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি যাতে আপনি কষ্ট পান। * বরং এটি কেবল তার জন্য উপদেশ যে ভয় করে। * এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি পৃথিবী ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন} (২)।

‌‌১৭ - শয়তানরা যা নিয়ে অবতীর্ণ হয় না: {শয়তানরা এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়নি। * আর তারা এর যোগ্যও নয় এবং তারা এর সামর্থ্যও রাখে না। * নিশ্চয়ই তাদেরকে শ্রবণ করা থেকে দূরে রাখা হয়েছে} (৩)।

‌‌১৮ - জ্ঞানীদের হৃদয়ে সংরক্ষিত সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ: {বরং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ} (৪)।

‌‌১৯ - উপদেশ ও সুস্পষ্ট কুরআন: {এটি তো কেবল একটি উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। * যাতে সে সতর্ক করতে পারে তাকে, যে জীবিত এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হয়} (৫)।

‌‌২০ - সর্বোত্তম বাণী: {আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন এমন এক কিতাবরূপে, যার আয়াতসমূহ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়। এতে তাদের চামড়া শিহরিত হয় যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়। এটিই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই} (৬)।

‌‌২১ - উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাময়: {আর নিশ্চয়ই তা আমাদের কাছে মূল কিতাবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাময়} (৭)।

--------------------------------------------

(১) ফুসসিলাত, আয়াত: ২ - ৪।

(২) সূরা ত্বহা, আয়াত: ২ - ৪।

(৩) সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: ২০৯ - ২১২।

(৪) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৯।

(৫) সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬৯ - ৭০।

(৬) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২৩।

(৭) সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৪।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌22 - بصائرُ للناس: {هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّقَوْمِ يُوقِنُون} (1).

‌‌23 - قرآنٌ مجيدٌ: {وَالْقُرْآنِ الْمَجِيد} ((2).

‌‌24 - قرآنٌ كريمٌ: {إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيم*فِي كِتَابٍ مَّكْنُون * لَاّ يَمَسُّهُ إِلَاّ الْمُطَهَّرُون*تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِين} (3).

‌‌25 - لو أنزله الله على الجبال لخشعت، وتصدَّعت من خشيته تعالى: {لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ الله وَتِلْكَ الأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُون} (4).

‌‌26 - يهدي إلى الحقِّ وإلى طريقٍ مستقيم، ومصدِّقٌ لما بين يديه: {قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُّسْتَقِيم} (5).

‌‌27 - يهدي إلى الرُّشد: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا*يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ} (6).

‌‌28 - في لوحٍ محفوظ: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيد * فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظ} (7).

‌‌29 - القرآن وصيَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم -، فقد أوصى به في عدة أحاديث منها الأحاديث الآتية:

--------------------------------------------

(1) سورة الجاثية، الآية: 20.

(2) سورة ق، الآية: 2.

(3) سورة الواقعة، الآيات: 77 - 80.

(4) سورة الحشر، الآية: 21.

(5) سورة الأحقاف، الآية: 30.

(6) سورة الجن، الآيتان: 1 - 2.

(7) سورة البروج، الآيتان: 21 - 22.
‌‌২২ - মানুষের জন্য উজ্জ্বল পথনির্দেশ: {এটি মানুষের জন্য উজ্জ্বল পথনির্দেশ এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য হেদায়াত ও রহমত} (১)।

‌‌২৩ - মহিমান্বিত কুরআন: {শপথ মহিমান্বিত কুরআনের} (২)।

‌‌২৪ - সম্মানিত কুরআন: {নিশ্চয় এটি সম্মানিত কুরআন * যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে * পবিত্রগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না * এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} (৩)।

‌‌২৫ - আল্লাহ যদি এটি পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতেন, তবে তা বিনীত হতো, এবং মহান আল্লাহর ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে যেত: {যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে; আমি মানুষের জন্য এসব দৃষ্টান্ত পেশ করি যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} (৪)।

‌‌২৬ - এটি সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে এবং তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী: {তারা বলল, হে আমাদের কওম! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শুনেছি যা মূসার পরে অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, যা সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে} (৫)।

‌‌২৭ - সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে: {আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি * যা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে, তাই আমরা তাতে ঈমান এনেছি} (৬)।

‌‌২৮ - লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত: {বরং এটি মহিমান্বিত কুরআন * যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত} (৭)।

‌‌২৯ - কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়ত - তিনি বেশ কিছু হাদিসে এ বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, যার মধ্যে নিম্নোক্ত হাদিসসমূহ অন্তর্ভুক্ত:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-জাছিয়াহ, আয়াত: ২০।

(২) সূরা ক্বাফ, আয়াত: ২।

(৩) সূরা আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৭৭ - ৮০।

(৪) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ২১।

(৫) সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৩০।

(৬) সূরা আল-জিন, আয়াত: ১ - ২।

(৭) সূরা আল-বুরুজ, আয়াত: ২১ - ২২।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الحديث الأول: حديث عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنه،فقد سُئل: هل أوصى رسول لله صلى الله عليه وسلم؛قال: ((أوصى بكتاب الله عز وجل)) (1).

والمراد بالوصية بكتاب الله: حفظه حِسَّاً ومعنىً، فيُكرم، ويُصان، ويُتّبع ما فيه، فَيُعمل بأوامره، ويجتنب نواهيه، ويداوم على تلاوته، وتعلُّمه، وتعليمه، ونحو ذلك (2).

الحديث الثاني: حديث جابر رضي الله عنهما في صفة حجة النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في خطبته في عرفات: (( … وقد تركت فيكم ما لن تضلُّوا بعده إن اعتصمتم به: كتاب الله، وأنتم تُسألون عني فماذا أنتم قائلون؟)) قالوا: نشهد أنك قد بلغت، وأديت ونصحت، فقال بأصبعه السبابة يرفعها إلى السماء وينكتها إلى الناس: ((اللهم اشهد، اللهم اشهد، اللهم اشهد … )) (3).

الحديث الثالث: حديث ابن عباس رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب الناس في حجة الوداع فقال: ((إن الشيطان قد يئس أن يعبد بأرضكم، ولكن رضي أن يُطاع فيما سوى ذلك مما تحاقرون من أعمالكم فاحذروا، إني قد تركت فيكم ما إن اعتصمتم به فلن تضلُّوا أبداً: كتاب الله وسنة نبيه … )) (4).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الوصايا، باب الوصايا، برقم 2740، ومسلم، كتاب الوصية، باب ترك الوصية لمن ليس له شيء يوصي فيه، برقم 1634.

(2) فتح الباري، لابن حجر، 9/ 67.

(3) مسلم، كتاب الحج، باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم، برقم 1218.

(4) الحاكم، 1/ 93، وصححه ووافقه الذهبي، وصححه الألباني في صحيح الترغيب والترهيب،

1/ 124، وفي الأحاديث الصحيحة، برقم 472.
প্রথম হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) কি কোনো অসিয়ত করেছিলেন? তিনি বললেন: ((তিনি মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অসিয়ত করেছেন)) (১)।

আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অসিয়ত করার অর্থ হলো: বাহ্যিকভাবে এবং অর্থগতভাবে এর সংরক্ষণ করা। সুতরাং একে সম্মান করা হবে, এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং এতে যা আছে তা অনুসরণ করা হবে। ফলে এর আদেশসমূহ পালন করা হবে এবং এর নিষেধসমূহ বর্জন করা হবে। আর এর তিলাওয়াত, শিক্ষা এবং শিক্ষাদানের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে অবিচল থাকতে হবে ইত্যাদি (২)।

দ্বিতীয় হাদিস: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত নবি (সা.)-এর হজের বিবরণ সংবলিত হাদিস। তাতে আছে যে, নবি (সা.) আরাফাতের ময়দানে তাঁর ভাষণে বলেছিলেন: (( … আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা এরপর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব। আর তোমাদের আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে?)) তারা বললেন: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছেন, (আমানত) আদায় করেছেন এবং নসিহত করেছেন। তখন তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল আকাশের দিকে তুললেন এবং মানুষের দিকে ইশারা করে বললেন: ((হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন … )) (৩)।

তৃতীয় হাদিস: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে লোকেদের উদ্দেশ্যে বললেন: ((নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের এই জমিনে তার ইবাদত করা হবে—এ ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে। কিন্তু তোমাদের কর্মের মাঝে যেগুলোকে তোমরা তুচ্ছ মনে করো, সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে—এতেই সে সন্তুষ্ট। সুতরাং তোমরা সতর্ক থেকো। আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবির সুন্নাহ … )) (৪)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, পরিচ্ছেদ: অসিয়তসমূহ, হাদিস নং ২৭৪০; মুসলিম, কিতাবুল ওয়াসিয়্যাহ, পরিচ্ছেদ: যার অসিয়ত করার মতো কিছু নেই তার অসিয়ত বর্জন, হাদিস নং ১৬৩৪।

(২) ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার রচিত, ৯/ ৬৭।

(৩) মুসলিম, কিতাবুল হাজ্জ, পরিচ্ছেদ: নবি (সা.)-এর হজ, হাদিস নং ১২১৮।

(৪) আল-হাকিম, ১/ ৯৩; তিনি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন এবং আল-জাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আলবানি 'সহিহ আল-তারগিব ওয়াত-তারহিব'-এ একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন,

১/ ১২৪; এবং 'আল-আহাদিস আস-সহিহাহ' গ্রন্থে, হাদিস নং ৪৭২।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحديث الرابع: حديث زيد بن أرقم رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لهم في غدير خم [بين مكة والمدينة] (1)، وفيه: (( … وأنا تارك فيكم ثقلين: أولهما كتاب الله فيه الهدى والنور [هو حبل الله من اتبعه كان على الهدى، ومن تركه كان على الضلالة] فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به))، فحث على كتاب الله، ورغَّب فيه … )) (2).

الحديث الخامس: حديث أبي ذر رضي الله عنه، قال: قلت: يا رسول الله أوصني قال: ((أوصيك بتقوى الله؛ فإنه رأس الأمر كلِّه))، (قلت: يا رسول الله زدني، قال: ((عليك بتلاوة القرآن وذكر الله؛ فإنه نورٌ لك في الأرض وذخرٌ لك في السماء)) (3).

فقد جاءت هذه الأحاديث تدل على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أوصى بكتاب الله تعالى في عِدَّةِ مواقف: في خطبة عرفات، وفي خطبة أيام منى، وفي خطبته في غدير خم بين مكة والمدينة، وعند موته صلى الله عليه وسلم، وهذا يدل على أهمية كتاب الله عز وجل.

 

‌‌30 - والقرآن العظيم: من ابتغى الهُدى من غيره أضلّه الله، وهو حبل الله المتين، ونوره المبين، والذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا تتشعَّب معه الآراء، ولا يشبع

--------------------------------------------

(1) اسم لفيضة على ثلاثة أميال من الجحفة، غدير يقال له: غدير خم. [شرح النووي على صحيح مسلم].

(2) مسلم، كتاب فضائل الصحابة رضي الله عنهم، باب من فضائل علي بن أبي طالب رضي الله عنه، برقم 2408.

(3) ابن حبان في صحيحه مطولاً، برقم 361، 2/ 78، وحسنه الألباني لغيره في صحيح الترغيب والترهيب، 2/ 164، برقم 1422.
চতুর্থ হাদিস: যায়িদ বিন আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গাদীরে খুম নামক স্থানে [মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী] (১) তাঁদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন, এবং তাতে রয়েছে: (( … আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি: তাদের প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যাতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর [এটি আল্লাহর রশি, যে ব্যক্তি এটি অনুসরণ করবে সে হেদায়েতের ওপর থাকবে এবং যে ব্যক্তি তা বর্জন করবে সে পথভ্রষ্টতার ওপর থাকবে]। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো))। অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং এর প্রতি অনুপ্রাণিত করলেন … )) (২)।

পঞ্চম হাদিস: আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: ((আমি তোমাকে আল্লাহভীতির অসিয়ত করছি; কেননা এটিই সকল বিষয়ের মূল))। (আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: ((তোমার জন্য কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির করা আবশ্যক; কেননা এটি জমিনে তোমার জন্য নূর এবং আসমানে তোমার জন্য পাথেয়)) (৩)।

এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেশ কয়েকটি স্থানে আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন: আরাফাতের খুতবায়, মিনার দিনগুলোর খুতবায়, মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী গাদীরে খুমের খুতবায় এবং তাঁর ইন্তেকালের সময় (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); এটি মহান আল্লাহর কিতাবের গুরুত্ব নির্দেশ করে।

 

‌‌৩০ - এবং সুমহান কুরআন: যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন, এটি আল্লাহর মজবুত রশি, তাঁর সুস্পষ্ট নূর এবং প্রজ্ঞাময় উপদেশ। এটিই সরল পথ এবং এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না, এর কারণে জিহ্বা বিভ্রান্ত হয় না, এর উপস্থিতিতে মতামতসমূহ বহুধা বিভক্ত হয় না এবং (উলামাগণ এটি থেকে) তৃপ্ত হন না...

--------------------------------------------

(১) জুহফা থেকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত একটি প্লাবিত নিচু ভূমির নাম, এটি একটি জলাশয় যাকে গাদীরে খুম বলা হয়। [সহিহ মুসলিমের শরহু নববী]।

(২) মুসলিম, কিতাব ফাযায়িলুস সাহাবা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), আলি বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নং ২৪০৮।

(৩) ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৩৬১, ২/ ৭৮; এবং আলবানী একে অন্যান্য সূত্রের সমর্থনে হাসান (حسنه لغيره) হিসেবে সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব-এ উল্লেখ করেছেন, ২/ ১৬৪, হাদিস নং ১৪২২।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
منه العلماء، ولا يملّه الأتقياء، ولا يخلق على كثرة الردِّ، ولا تنقضي عجائبه، من عَلِم علمه سبق، ومن قال به صدق، ومن حكم به عدل، ومن عمل به أُجِر، ومن دعا إليه هُدِيَ إلى صراط مستقيم (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: الترمذي، برقم 2906، وكل ما جاء في هذا الأثر فمعناه صحيح حتى ولو لم يأتِ في حديث، لكن المعنى تدل عليه عموم الأدلة من الكتاب والسنة.
আলেমগণ এটি থেকে তৃপ্ত হন না, এবং মুত্তাকীগণ এতে বিরক্ত হন না; বারবার পাঠেও এটি পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়সমূহ শেষ হয় না। যে ব্যক্তি এর জ্ঞান অর্জন করল সে অগ্রগামী হলো, যে এর দ্বারা কথা বলল সে সত্য বলল, যে এর মাধ্যমে বিচার করল সে ন্যায়বিচার করল, যে এর ওপর আমল করল সে পুণ্যপ্রাপ্ত হলো এবং যে এর দিকে আহ্বান করল সে সরল পথের দিকে পরিচালিত হলো (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তিরমিযী, নম্বর ২৯০৬। এই আসারে (أثر) যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার অর্থ বিশুদ্ধ (صحيح), যদিও তা কোনো হাদিস হিসেবে সরাসরি বর্ণিত হয়নি; তবে কুরআন ও সুন্নাহর সাধারণ দলীলসমূহ এই অর্থের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الرابع: تأثير القرآن في النفوس والقلوب جاء على أنواع:

‌‌النوع الأول: تأثير القرآن في القلوب والنفوس كما جاء في القرآن الكريم

القرآن العظيم مُؤثِّر في القلوب والنفوس والأرواح؛ لأنه كلام العليم الخبير بما يصلح هذه القلوب والنفوس في الدنيا والآخرة، ومن هذا التأثير ما يأتي:

 

‌‌1 - تأثيره على علماء أهل الكتاب وغيرهم من أهل العقول، قال الله تعالى: {وَإِذَا سَمِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُواْ مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِين} (1).

‌‌2 - الذين أوتوا العلم من قبله يتأثَّرون به، قال الله تعالى: {قُلْ آمِنُواْ بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُواْ إِنَّ الَّذِينَ أُوتُواْ الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ سُجَّدًا * وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولا * وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا} (2).

‌‌3 - الذين أنعم الله عليهم إذا تتلى عليهم آيات الرحمن خرُّوا سُجَّداً وبُكِيّاُ: قال تعالى: {أُوْلَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ الله عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا} (3).

‌‌4 - من علامات الإيمان التأثر بالقرآن وزيادة الإيمان، قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية: 83.

(2) سورة الإسراء، الآيات: 107 - 109.

(3) سورة مريم، الآية: 58.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আত্মা ও হৃদয়ের ওপর কোরআনের প্রভাবের বিভিন্ন প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হৃদয় ও আত্মার ওপর কোরআনের প্রভাব

মহাগ্রন্থ কোরআন হৃদয়, আত্মা ও রুহের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী; কারণ এটি সেই মহান সত্তার বাণী যিনি ইহকাল ও পরকালে এই হৃদয় ও আত্মার সংশোধনের বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। এই প্রভাবের কতিপয় দিক নিম্নরূপ:

 

‌‌১ - আহলে কিতাব এবং অন্যান্য বুদ্ধিমান আলেমদের ওপর এর প্রভাব, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন তারা রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শ্রবণ করে, তখন আপনি তাদের চোখগুলোকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখবেন; কারণ তারা সত্যকে চিনতে পেরেছে। তারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আপনি আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন'} (১)।

‌‌২ - যাদেরকে ইতিপূর্বে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা এর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, তোমরা এতে ঈমান আনো বা না আনো; নিশ্চয়ই যাদেরকে এর পূর্বে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে যখন এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে * এবং তারা বলে, 'আমাদের প্রতিপালক পবিত্র ও মহান, আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই কার্যকর হবে' * এবং তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে} (২)।

‌‌৩ - আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে রোদন করতে থাকে: আল্লাহ তাআলা বলেন: {এরাই তারা—নবীদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন—আদমের বংশধর হতে, এবং যাদেরকে আমি নুহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধর হতে, এবং ইব্রাহিম ও ইসরাঈলের বংশধর হতে এবং যাদেরকে আমি হিদায়াত দান করেছি ও মনোনীত করেছি তাদের অন্তর্ভুক্ত। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ত} (৩)।

‌‌৪ - ঈমানের অন্যতম লক্ষণ হলো কোরআনের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া এবং ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া, আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুমিন তো তারাই, যখন আল্লাহর জিকির করা হয় তখন তাদের হৃদয় প্রকম্পিত হয়, আর যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৮৩।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াতসমূহ: ১০৭ - ১০৯।

(৩) সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৮।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُون} (1).

 

‌‌5 - المُؤمنون الصادقون في إيمانهم، الخائفون من ربهم تقشَعِرُّ جلودهم عند قراءة القرآن، قال سبحانه: {اللهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللهِ ذَلِكَ هُدَى اللهُ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاء وَمَن يُضْلِلْ اللهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَاد} (2).

‌‌6 - الصادقون مع الله تخشع قلوبهم لذكر الله، قال عز وجل: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ الله وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُون} (3). وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: ((مَا كَانَ بَيْنَ إِسْلَامِنَا وَبَيْنَ أَنْ عَاتَبَنَا اللهُ بِهَذِهِ الْآيَةِ {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللهِ} إِلَّا أَرْبَعُ سِنِينَ)) (4)، وثبت أيضاً من حديث عامر بن عبد الله ابن الزبير رضي الله عنهما أن أباه أخبره أنه لم يكن بين إسلامهم وبين أن أنزلت هذه الآية يعاتبهم الله بها إلا أربع سنين (5).

‌‌النوع الثاني: تأثير القرآن في القلوب والنفوس كما جاء ذلك في سنة النبي صلى الله عليه وسلم -:

وجاءت الأحاديث تدل على خشوع النبي صلى الله عليه وسلم وتأثُّره بقراءة القرآن

--------------------------------------------

(1) سورة الأنفال، الآية: 2.

(2) سورة الزمر، الآية: 23.

(3) سورة الحديد، الآية: 16.

(4) مسلم، كتاب التفسير، باب في قوله تعالى: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ الله}، برقم: 3027.

(5) ابن ماجه، كتاب الزهد، باب الحزن والبكاء، برقم 4192، وحسنه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 3/ 369.
...তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে। (১)।

 

‌‌৫ - মুমিনগণ তাদের ঈমানে সত্যবাদী, তারা তাদের রবকে ভয় করে এবং কুরআন তিলাওয়াতের সময় তাদের চামড়া রোমাঞ্চিত হয়, মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ সর্বোত্তম কথা নাযিল করেছেন, যা একটি কিতাব, এর বিষয়বস্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়। এতে তাদের চামড়া রোমাঞ্চিত হয় যারা তাদের রবকে ভয় করে, অতঃপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।} (২)।

‌‌৬ - আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ সত্যবাদীদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনীত হয়, মহান আল্লাহ বলেন: {যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি এখনও সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় বিগলিত হবে? এবং তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদের আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গিয়েছিল; আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।} (৩)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমাদের ইসলাম গ্রহণ এবং এই আয়াতের {যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি এখনও সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় বিগলিত হবে?} মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের তিরস্কার করার মধ্যবর্তী সময় ছিল মাত্র চার বছর।” (৪)। আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকেও এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তার পিতা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের ইসলাম গ্রহণ এবং এই আয়াত নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক তাদের তিরস্কার করার মধ্যবর্তী সময় চার বছর ছাড়া আর কিছু ছিল না। (৫)।

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: অন্তরে ও মনে কুরআনের প্রভাব, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহয় এসেছে:

বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় এবং কুরআন তিলাওয়াতের দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২।

(২) সূরা আজ-যুমার, আয়াত: ২৩।

(৩) সূরা আল-হাদিদ, আয়াত: ১৬।

(৪) মুসলিম, কিতাবুত তাফসির, অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী {যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি এখনও সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় বিগলিত হবে?}, হাদিস নং: ৩০২৭।

(৫) ইবনে মাজাহ, কিতাবুয যুহদ, অনুচ্ছেদ: দুঃখ ও রোদন, হাদিস নং: ৪১৯২; এবং আলবানি একে সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ গ্রন্থে হাসান (حسن) বলেছেন, ৩/ ৩৬৯।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الكريم ومن ذلك:

1 - أَمَرَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم أن يُقرأ عليه القرآن فبكى، فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((اقرأ عليَّ القرآن))،قال: فقلت: يا رسول الله أأقرأ عليك وعليك أنزل؟ فقال: ((إني أشتهي أن أسمعه من غيري))، وفي لفظ للبخاري: ((فإني أحب أن أسمعه من غيري))، فقرأت عليه النساء حتى إذا بلغت: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاء شَهِيدًا} (1)، وفي لفظ للبخاري: ((فقال حسبك الآن))، فرفعت رأسي، أو غمزني رجلٌ فرفعت رأسي، فرأيت دموعه تسيل))، وفي لفظ للبخاري: ((فالتفت إليه فإذا عيناه تذرفان)) (2).

2 - وعن أنس بن مالك رضي الله عنه:أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأبيّ بن كعب: ((إن الله عز وجل أمرني أن أقرأ عليك))، قال: آلله سمَّاني لك؟ قال: ((الله سمَّاك لي))، قال فجعل أُبيّ يبكي))، وفي رواية: ((إن الله أمرني أن أقرأ عليك:

{لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا} (3) قال: وسمَّاني لك؟ قال: ((نعم)) قال: فبكى (4).

--------------------------------------------

(1) سورة النساء الآية: 41.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب التفسير، باب {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاء شَهِيدًا}، برقم 4582، وكتاب فضائل القرآن، باب من أحب أن يسمع القرآن من غيره، برقم 5049، وباب قول المقرئ للقارئ: حسبك، برقم 5050، وباب البكاء عند قراءة القرآن، برقم 5055، ورقم 5056، مسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب فضل استماع القرآن، وطلب القراءة من حافظه للاستماع، والبكاء عند القراءة والتدبر، برقم 800.

(3) سورة البينة، الآية: 1.

(4) مسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب استحباب قراءة القرآن على أهل الفضل والحُذَّاق فيه وإن كان القارئ أفضل من المقروء عليه، برقم 245 - (799) و246 - (799).
সম্মানিত (আল-কুরআন)। এর মধ্যে রয়েছে:

১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁর সামনে কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: ((আমার সামনে কুরআন পাঠ করো))। তিনি বলেন, আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার সামনে পাঠ করব অথচ আপনার ওপরই তা অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: ((আমি অন্যের কাছ থেকে তা শুনতে পছন্দ করি))। বুখারীর একটি পাঠে (لفظ) রয়েছে: ((নিশ্চয়ই আমি অন্যের কাছ থেকে তা শুনতে ভালোবাসি))। এরপর আমি তাঁর সামনে সূরা আন-নিসা পাঠ করলাম, যতক্ষণ না আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম: {অতঃপর তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের সবার ওপর সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?} (১)। বুখারীর অন্য একটি পাঠে (لفظ) রয়েছে: ((তিনি বললেন, এখন তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট))। তখন আমি আমার মাথা তুললাম, অথবা এক ব্যক্তি আমাকে ইশারা করল ফলে আমি মাথা তুললাম, তখন দেখলাম তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। বুখারীর আরেকটি পাঠে (لفظ) রয়েছে: ((আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তখন দেখলাম তাঁর দুচোখ থেকে অশ্রু ঝরছে)) (২)।

২ - আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাবকে বললেন: ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমার সামনে পাঠ করতে))। তিনি বললেন: আল্লাহ কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: ((আল্লাহ আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন))। তিনি (আনাস) বলেন: তখন উবাই কাঁদতে লাগলেন। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমার সামনে পাঠ করতে:

{যারা কুফরী করেছে তারা ছিল না...} (৩)। তিনি বললেন: তিনি কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ))। তখন তিনি কেঁদে দিলেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪১।

(২) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, পরিচ্ছেদ: {অতঃপর তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের সবার ওপর সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?}, হাদিস নং ৪৫৮২; এবং কিতাবু ফাদাইলিল কুরআন, পরিচ্ছেদ: অন্যের কাছ থেকে কুরআন শুনতে যে পছন্দ করে, হাদিস নং ৫০৪৯; এবং পরিচ্ছেদ: ক্বারীর প্রতি শ্রোতার উক্তি: তোমার জন্য যথেষ্ট, হাদিস নং ৫০৫০; এবং পরিচ্ছেদ: কুরআন পাঠের সময় ক্রন্দন করা, হাদিস নং ৫০৫৫ ও ৫০৫৬; মুসলিম, কিতাবু সালাতিল মুসাফিরিন, পরিচ্ছেদ: কুরআন শ্রবণের ফযিলত এবং শোনার জন্য হাফেযের কাছে পাঠ করার অনুরোধ জানানো এবং পাঠ ও গবেষণার সময় ক্রন্দন করা, হাদিস নং ৮০০।

(৩) সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ১।

(৪) মুসলিম, কিতাবু সালাতিল মুসাফিরিন, পরিচ্ছেদ: ফযিলতপূর্ণ ও পারদর্শী ব্যক্তিদের সামনে কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব (استحباب) যদিও পাঠকারী পাঠ শ্রবণকারীর চেয়ে উত্তম হয়, হাদিস নং ২৪৫ - (৭৯৯) ও ২৪৬ - (৭৯৯)।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - وعن عائشة رضي الله عنها في حديث طويل ذكرت فيه صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل وأنه بكى مرات، قالت: ((فجاء بلال يؤذنه بالصلاة فلما رآه يبكي، قال: يا رسول الله لم تبكي وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟ قال: ((أفلا أكون عبداً شكوراً؛ لقد نزلت عليَّ الليلة آية ويل لمن قرأها ولم يتفكر فيها {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ … } (1) الآية كلها (2).

4 - عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم تلا قول الله عز وجل في إبراهيم: {رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي} (3) الآية، وقال عيسى عليه السلام: {إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم} (4) الآية. فرفع يديه وقال: ((اللهم أمتي أمتي))، وبكى فقال الله عز وجل: ((يا جبريل اذهب إلى محمد وربُّك أعلم فسله ما يبكيك؟ فأتاه جبريل عليه السلام فسأله، فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم بما قال وهو أعلم، فقال الله: يا جبريل! اذهب إلى محمد فقل: إنا سنرضيك في أمتك ولا نسوؤك)) (5).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية 190.

(2) ابن حبان في صحيحه، برقم 620، وقال شعيب الأرنؤوط في تحقيقه لصحيح ابن حبان: ((إسناده صحيح على شرط مسلم))، وقال الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة برقم 86: ((وهذا إ سناد جيد)).

(3) سورة إبراهيم، الآية: 36.

(4) سورة المائدة، الآية: 118.

(5) مسلم، كتاب الإيمان، باب دعاء النبي صلى الله عليه وسلم لأمته، وبكائه شفقة عليهم، برقم 202.
3 - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাতের সালাত এবং তাঁর কয়েকবার কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ((অতঃপর বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে সালাতের সংবাদ দিতে এলেন। যখন তিনি তাঁকে কাঁদতে দেখলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন কাঁদছেন অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: ((আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? আজ রাতে আমার ওপর এমন এক আয়াত নাযিল হয়েছে, দুর্ভোগ তার জন্য যে এটি পাঠ করল অথচ তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করল না: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে... } (১) পুরো আয়াতটি (২)।

4 - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করলেন: {হে আমার রব! নিশ্চয়ই এই প্রতিমাগুলো অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত} (৩) - এই আয়াতটি; এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: {আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (৪) - এই আয়াতটি। অতঃপর তিনি তাঁর উভয় হাত তুললেন এবং বললেন: ((হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত)), আর তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন মহান আল্লাহ বললেন: ((হে জিবরাঈল! মুহাম্মাদের কাছে যাও—যদিও তোমার রব অধিক অবগত—তাকে জিজ্ঞেস করো কিসে তাকে কাঁদাচ্ছে?)) জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে যা বলেছিলেন তা জানালেন—যদিও আল্লাহ অধিক অবগত। অতঃপর আল্লাহ বললেন: হে জিবরাঈল! মুহাম্মাদের কাছে গিয়ে বলো: আমরা শীঘ্রই তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব এবং তোমাকে ব্যথিত করব না)) (৫)।

--------------------------------------------

(1) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৯০।

(2) ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে, হাদিস নম্বর ৬২০; শুয়াইব আল-আরনাউত সহীহ ইবনে হিব্বান-এর তাহকিকে বলেছেন: ((এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সঠিক (صحيح))), এবং আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা-তে (হাদিস নম্বর ৮৬) বলেছেন: ((এই সনদ (إسناد) উত্তম (جيد)))।

(3) সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৩৬।

(4) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১১৮।

(5) মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের জন্য দুআ এবং তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কান্নাকাটি সম্পর্কিত অধ্যায়, হাদিস নম্বর ২০২।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
5 - وعن أبي ذر رضي الله عنه،قال: قام النبي صلى الله عليه وسلم بآية حتى أصبح يردِّدها، والآية: {إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم} (1) (2)، ولم يكن النبي صلى الله عليه وسلم يبكي بشهيق ورفع صوت، كما لم يكن ضحكه قهقهةً، ولكن كانت تدمع عيناه حتى تهملان، ويسمع لصدره أزيز، وكان بكاؤه: تارة رحمة للميت، وتارة خوفاً على أمَّتِهِ وشفقة عليها، وتارة خشيةً لله تعالى، وتارة عند سماع القرآن، وهو بكاءُ اشتياقٍ ومحبةٍ وإجلالٍ (3) (4).

 

‌‌النوع الثالث: تأثير القرآن الكريم على القلوب والأرواح والنفوس كما جاء في الآثار عن السلف الصالح:

1 - ثبت عن جبير بن مطعم رضي الله عنه:أنه قال: ((سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في المغرب بالطُّور، فلمَّا بلغ هذه الآية: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُون* أَمْ خَلَقُوا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بَل لَاّ يُوقِنُون * أَمْ عِندَهُمْ خَزَائِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ الْمُصَيْطِرُون} (5) كاد قلبي أن يطير [وذلك أول ما وقر الإيمان في

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية: 118.

(2) أخرجه: النسائي، كتاب الافتتاح، باب ترديد الآية، برقم 1010، وابن ماجه، كتاب إقامة الصلوات، باب ما جاء في القراءة في صلاة الليل، برقم 1350، وأحمد، 1/ 241، وصححه البوصيري في مصباح الزجاجة، 1/ 242، وحسنه الألباني في صحيح ابن ماجه، 1/ 401.

(3) زاد المعاد لابن القيم، 1/ 183.

(4) وانظر المواضع التي بكى فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم في كتاب رحمة للعالمين للمؤلف، ص82 - 93، فقد جمعت مما صح من بكائه صلى الله عليه وسلم ستة عشر موضعاً وغيرها كثير.

(5) سورة الطور، الآيات: 35 - 37.
৫ - আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) একটি আয়াত পাঠ করে দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করলেন এবং সেটি বারবার পুনরাবৃত্তি করছিলেন। আয়াতটি হলো: {যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা; আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (১) (২)। নবী (সা.) উচ্চস্বরে শব্দ করে বা আওয়াজ করে কাঁদতেন না, যেমন তাঁর হাসি অট্টহাসি ছিল না। তবে তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ত এবং তাঁর বুক থেকে কান্নার শব্দ (হাঁড়িতে পানি ফুটলে যেমন আওয়াজ হয়) শোনা যেত। তাঁর কান্না ছিল: কখনো মৃতের প্রতি দয়া স্বরূপ, কখনো তাঁর উম্মতের প্রতি ভয় ও মমত্ববোধ থেকে, কখনো মহান আল্লাহর ভয়ে, আবার কখনো কুরআন শ্রবণের সময়; আর এই কান্না ছিল অনুরাগ, ভালোবাসা ও মহত্ত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ (৩) (৪)।

 

‌‌তৃতীয় প্রকার: অন্তর, রুহ এবং নফসের ওপর আল-কুরআনের প্রভাব, যা সলফে সালেহীনদের বর্ণিত বর্ণনা (آثار) সমূহে এসেছে:

১ - জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) হতে প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি বলেছেন: ((আমি নবী (সা.)-কে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তুর তিলাওয়াত করতে শুনেছি। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছলেন: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না কি তারা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না। না কি তাদের নিকট আপনার প্রতিপালকের ধনভাণ্ডার রয়েছে, না কি তারা এর নিয়ন্ত্রক?} (৫) তখন আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো [আর এটিই ছিল প্রথমবার যখন ঈমান আমার অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছিল

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১১৮।

(২) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه): নাসাঈ, কিতাবুল ইফতিতাহ, আয়াত পুনরাবৃত্তি করা অধ্যায়, হাদিস নম্বর ১০১০; ইবনে মাজাহ, কিতাব ইকামাতুস সালাত, রাতে সালাতে তিলাওয়াত বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নম্বর ১৩৫০; এবং আহমাদ, ১/২৪১। বুসিরি মিসবাহুজ জুজাজাহ গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, ১/২৪২; এবং আলবানি সহিহ ইবনে মাজাহ গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলেছেন, ১/৪০১।

(৩) ইবনুল কাইয়্যিমের যাদুল মা’আদ, ১/১৮৩।

(৪) রাসূলুল্লাহ (সা.) যেসব স্থানে কেঁদেছিলেন, সে বিষয়ে লেখকের রাহমাতুল্লিল আলামিন গ্রন্থের ৮২-৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন; সেখানে তাঁর কান্নার বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা হতে ১৬টি স্থান ও আরও অনেক কিছু একত্রিত করা হয়েছে।

(৫) সূরা আত-তুর, আয়াত: ৩৫-৩৭।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قلبي])) (1). وهذا من أعظم البراهين على تأثير القرآن في القلوب.

2 - ذُكِر عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه صلى بالجماعة صلاة الصبح، فقرأ سورة يوسف فبكى حتى سالت دموعه على ترقوته، وفي رواية: أنه كان في صلاة العشاء، فيدل على تكريره منه، وفي رواية أنه بكى حتى سُمِعَ بكاؤه من وراء الصفوف (2).

3 - وذُكِر أنه قدم أُناس من أهل اليمن على أبي بكر الصديق رضي الله عنه، فجعلوا يقرؤون القرآن ويبكون فقال أبو بكر الصديق رضي الله عنه: ((هكذا كنَّا، ثم قست القلوب)) (3).

4 - وذُكِرَ عن أبي رجاء قال: رأيت ابن عباس وتحت عينيه مثل الشراك (4) البالي من الدموع (5).

والذي جعل النبي صلى الله عليه وسلم يبكي من خشية الله تعالى، هو علمه بالله تعالى، وأسمائه، وصفاته، وعظمته، وعلمه بما أخبر الله به من أمور الآخرة؛ ولهذا كان أبو هريرة رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلاً ولبكيتم كثيراً))،وفي لفظ: قال: قال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب التفسير، سورة الطور، بابٌ: حدثنا عبد الله بن يوسف، برقم 4854، وما بين المعقوفين من الطرف رقم 4023 من كتاب المغازي، وأخرجه مسلم، بنحوه، كتاب الصلاة باب القراءة في الصبح، برقم 463.

(2) ذكره النووي في التبيان في آداب حملة القرآن، ص69.

(3) أبو نعيم في حلية الأولياءـ، 1/ 34، وذكره النووي في التبيان في آداب حملة القرآن، ص69.

(4) الشراك: هو السير الرقيق الذي يكون في النعل على ظهر القدم، [التبيان للنووي، ص168].

(5) ذكره الإمام النووي التبيان في آداب حملة القرآن، ص69.
আমার অন্তর])) (১)। আর এটি অন্তরের ওপর কুরআনের প্রভাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

২ - আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করলেন। তখন তিনি এতই কাঁদলেন যে তাঁর চোখের পানি কণ্ঠনালি পর্যন্ত গড়িয়ে পড়ল। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে যে, তিনি এটি এশার সালাতে করেছিলেন, যা তাঁর পক্ষ থেকে এই আমলের পুনরাবৃত্তির প্রমাণ দেয়। আবার অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে যে, তিনি এতই কাঁদছিলেন যে কাতারের পেছন থেকেও তাঁর কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল (২)।

৩ - বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়ামেন থেকে একদল লোক আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কাছে আসলেন। তাঁরা কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তখন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বললেন: "আমরাও এমনই ছিলাম, অতঃপর অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গেছে" (৩)।

৪ - আবু রাজা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে দেখেছি, তাঁর চোখের নিচে কান্নার কারণে জীর্ণ ফিতার (৪) মতো দাগ পড়ে গিয়েছিল (৫)।

আর যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মহান আল্লাহর ভয়ে কাঁদিয়েছিল, তা হলো মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও তাঁর মহিমা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং পরকালের বিষয়াদি সম্পর্কে আল্লাহর দেওয়া সংবাদ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান। এজন্যই আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে।" অন্য একটি পাঠে (لفظ) এসেছে যে, আবুল কাসিম (সা.) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুত তাফসির, সূরা আত-তূর, অনুচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৪৮৫৪; আর বন্ধনীভুক্ত অংশটি কিতাবুল মাগাজি-এর ৪০২৩ নং হাদিস থেকে নেওয়া হয়েছে। মুসলিমও অনুরূপভাবে (بنحوه) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه), কিতাবুস সালাত, ফজরে তিলাওয়াত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৬৩।

(২) ইমাম নববী এটি আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, পৃ. ৬৯।

(৩) আবু নুয়াইম হিলয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে, ১/৩৪; এবং নববী এটি আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, পৃ. ৬৯।

(৪) শিরাক: এটি হলো জুতোর পাতলা ফিতা যা পায়ের উপরিভাগে থাকে, [নববীর তিবইয়ান, পৃ. ১৬৮]।

(৫) ইমাম নববী এটি আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, পৃ. ৬৯।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
((والذي نفسي بيده لو تعلمون ما أعلم لبكيتم كثيراً ولضحكتم قليلاً)) (1).

وعن أنس رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلاً ولبكيتم كثيراً)) (2).

وعن أبي ذر رضي الله عنه في حديث طويل عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه قوله صلى الله عليه وسلم:

(( … والله لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلاً ولبكيتم كثيراً، وما تلذذتم بالنساء على الفُرُشات، ولخرجتم إلى الصُّعُداتِ تجأرون إلى الله … )) (3).

وهكذا أصحابه رضي الله عنهم وأتباعهم بإحسان: علمهم بالله تعالى وبما أخبر به عن الدار الآخرة جعلهم يخشون الله تعالى ويتأثرون بكلامه عز وجل.

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الرقاق، باب قوله صلى الله عليه وسلم: ((لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلاً ولبكيتم كثيراً))، برقم 6485.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الرقاق، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((لو تعلمون ما أعلم، لضحكتم قليلاً ولبكيتم كثيراً))، برقم 6486، وأطرافه في البخاري، 93 ذكرت هناك، ومسلم كتاب الفضائل، باب توقيره، صلى الله عليه وسلم وترك إكثار سؤاله عما لا ضرورة إليه، برقم 1337.

(3) ابن ماجه، كتاب الزهد، باب الحزن والبكاء، برقم 4190، وحسنه الألباني في صحيح ابن ماجه، 3/ 368، وفي سلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 1722.
"সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই তোমরা অধিক কাঁদতে এবং অল্প হাসতে" (১)।

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই তোমরা অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে" (২)।

আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে তাঁর এ বাণী রয়েছে:

(( … আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই তোমরা অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে, আর বিছানায় নারীদের সাথে আনন্দ উপভোগ করতে পারতে না এবং মহান আল্লাহর নিকট আর্তনাদ করতে করতে তোমরা উঁচু রাস্তাগুলোতে বেরিয়ে পড়তে … )) (৩)।

অনুরূপভাবে তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁদের অনুসারীগণ: আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে এবং পরকাল সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন সে বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান তাঁদেরকে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে বাধ্য করেছে এবং তাঁরা মহান আল্লাহর বাণীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুর রিকাক, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই তোমরা অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে", হাদিস নং ৬৪৮৫।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুর রিকাক, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই তোমরা অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে", হাদিস নং ৬৪৮৬, এবং এর অন্যান্য অংশসমূহ বুখারি, ৯৩-এ সেখানে উল্লিখিত হয়েছে, এবং মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং প্রয়োজনহীন বিষয়ে অধিক প্রশ্ন বর্জন, হাদিস নং ১৩৩৭।

(৩) ইবনে মাজাহ, কিতাবুয যুহদ, পরিচ্ছেদ: বিষণ্ণতা ও কান্না, হাদিস নং ৪১৯০, এবং আলবানি এটিকে সহিহ ইবনে মাজাহ, ৩/৩৬৮-এ এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ-তে হাদিস নং ১৭২২-এর অধীনে হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الخامس: تدبر القرآن العظيم: علاج لجميع أمراض القلوب والأرواح

لا شك أن تدبُّر القرآن الكريم هو العلاج الأعظم للقلوب، والحث على التدبر جاء على أنواع:

 

‌‌النوع الأول: حض القرآن الكريم على التدبر:

1 - قال الله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ الله لَوَجَدُواْ فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (1)، فقد أمر الله تعالى بتدبر كتابه، وهو التأمُّل في معانيه، وتحديد الفكر فيه، وفي مبادئه وعواقبه، ولوازم ذلك؛ فإن تدبر كتاب الله مفتاحٌ للعلوم والمعارف، وبه يُستنتج كل خير، وتُستخرج كل العلوم، وبه يزداد الإيمان في القلب، وترسخ شجرته؛ فإنه يُعرِّف بالرب المعبود وماله من صفات الكمال، وما ينزَّه عنه من صفات النقص، ويُعرِّف الطريق الموصل إليه، وصفة أهلها، ومالهم عند القدوم عليه، ويعرِّف العدو الذي هو العدو على الحقيقة والطريق الموصلة إلى العذاب، وصفة أهلها، وما لهم عند وجود أسباب العقاب، وكلما ازداد العبد تأملاً فيه ازداد: علماً، وعملاً، وبصيرة (2).

2 - قال الله تعالى: {كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُوا الأَلْبَاب} (3)،فهذا الكتاب فيه خيرٌ كثيرٌ، وعِلْم غزير، فيه كل هدى من

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 82.

(2) تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، للسعدي، ص189 - 190.

(3) سورة ص، الآية: 29.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মহাগ্রন্থ কুরআনের গভীর অনুধাবন (تدبر): অন্তর ও আত্মার সকল ব্যাধির মহৌষধ

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআনের গভীর অনুধাবন (تدبر) হলো অন্তরের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা। আর গভীর অনুধাবন (تدبر) করার প্রতি এই উৎসাহদান বিভিন্নভাবে এসেছে:

 

প্রথম প্রকার: পবিত্র কুরআন গভীর অনুধাবন (تدبر) করার প্রতি উৎসাহিত করা:

১ - মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত} (১), মহান আল্লাহ তাঁর কিতাব গভীর অনুধাবনের (تدبر) নির্দেশ দিয়েছেন, আর তা হলো এর অর্থের প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করা এবং এর মৌলিক বিষয়াদি, ফলাফল ও এর অপরিহার্য বিষয়সমূহ নিয়ে চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাব নিয়ে গভীর চিন্তা করা (تدبر) জ্ঞান-বিজ্ঞানের চাবিকাঠি; এর মাধ্যমেই সকল কল্যাণ আহরণ করা যায় এবং সমস্ত জ্ঞান নির্যাস হিসেবে বের করে আনা সম্ভব। এর দ্বারাই অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং ঈমানের বৃক্ষ সুদৃঢ় হয়। কারণ এটি মাবুদ পালনকর্তা এবং তাঁর যেসকল পরিপূর্ণ গুণাবলি রয়েছে এবং যেসকল ত্রুটিযুক্ত বৈশিষ্ট্য থেকে তিনি পবিত্র, সে সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি তাঁর কাছে পৌঁছার পথ, সেই পথের অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তাদের জন্য কী পুরস্কার রয়েছে, তাও জানিয়ে দেয়। এটি প্রকৃত শত্রু কে এবং শাস্তির দিকে নিয়ে যাওয়া পথ, সেই পথের পথিকদের অবস্থা এবং শাস্তির কারণসমূহ বিদ্যমান থাকলে তাদের পরিণাম কী হবে, তাও চিনিয়ে দেয়। বান্দা এটি নিয়ে যত বেশি চিন্তা-ভাবনা করবে, তত বেশি তার জ্ঞান, আমল এবং অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) বৃদ্ধি পাবে (২)।

২ - মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে} (৩), সুতরাং এই কিতাবে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ এবং অগাধ জ্ঞান। এতে রয়েছে সকল হিদায়াত...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮২।

(২) তাইসীরুল কারীমুর রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, আস-সা’দী, পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০।

(৩) সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ضلالة، وشفاء من كل داء، ونور يُستضاء به في الظلمات، وكل حكم يحتاج إليه المكلَّفون، وهذا كله من بركته والحكمة من إنزاله؛ ليتدبر الناس آياته، وفي هذه الآية: الحثُّ على تدبر القرآن، وأنه من أفضل الأعمال، ومن فضائل التدبر: أنَّ العَبْدَ يصل به إلى درجة اليقين، والعلم بأن القرآن كلام الله تعالى؛ لأنه يراه يصدق بعضه بعضاً … (1).

3 - قال الله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (2)، فَهلَاّ يتدبر هؤلاء المعرضون لكتاب الله ويتأمَّلونه حق التأمُّل؛ فإنهم لو تدبروه لدلهم على كل خير ولحذَّرهم من كل شر، ولملأ قلوبهم من الإيمان، وأفئدتهم من الإيقان؛ ولأوصلهم إلى المطالب العالية، والمواهب الغالية … {أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} أي قد أُغْلِقَ على ما فيها من الشر، وأقفلت فلا يدخلها خير أبداً، هذا هو الواقع … (3).

 

‌‌النوع الثاني: حض النبي صلى الله عليه وسلم على تدبر القرآن:

ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من ترغيب في القرآن، وبيان فضائله، وبيان فضائل حافظ القرآن، يستفاد منه الحث على تدبر القرآن. وقد جاء تدبر القرآن من فعله صلى الله عليه وسلم أيضاً في أحاديث كثيرة ومنها:

1 - حديث حذيفة رضي الله عنه، قال: صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فافتتح البقرة، فقلت: يركع عند المائة، ثم مضى يصلي، فقلت: يُصلِّي بها في

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، للسعدي، ص190وَص712.

(2) سورة محمد، الآية: 24.

(3) انظر: تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، للسعدي، ص788.
পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি, সকল ব্যাধির নিরাময়, অন্ধকারের মাঝে আলো দানকারী জ্যোতি এবং দায়বদ্ধ (المكلَّفون) ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সকল বিধান। এই সবকিছুই এর বরকত এবং এটি অবতীর্ণ করার হিকমত; যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে। এই আয়াতে কুরআন নিয়ে গবেষণার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং এটি সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। গবেষণার অন্যতম ফজিলত হলো: বান্দা এর মাধ্যমে দৃঢ় বিশ্বাসের (اليقين) স্তরে উপনীত হতে পারে এবং এই জ্ঞান লাভ করে যে, কুরআন মহান আল্লাহর বাণী; কারণ সে দেখে যে এর এক অংশ অপর অংশকে সত্যায়ন করছে … (১)।

৩ - মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?} (২), আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হওয়া এই ব্যক্তিরা কেন কুরআন নিয়ে চিন্তা করে না এবং একে যথাযথভাবে অনুধাবন করে না? তারা যদি এটি নিয়ে গবেষণা করত তবে তা তাদেরকে সকল কল্যাণের পথ দেখাত এবং সকল মন্দ থেকে সতর্ক করত। আর তাদের অন্তরকে ঈমান দিয়ে এবং হৃদয়কে সুদৃঢ় বিশ্বাস (الإيقان) দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিত; আর তাদেরকে উচ্চতর লক্ষ্য ও মূল্যবান প্রাপ্তির দিকে পৌঁছে দিত … {নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে} অর্থাৎ অন্তরের ভেতরে থাকা মন্দের কারণে তা রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং এমনভাবে তালাবদ্ধ হয়েছে যে, তাতে কখনো কোনো কল্যাণ প্রবেশ করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা … (৩)।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: কুরআন নিয়ে গবেষণার বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উৎসাহ প্রদান:

কুরআনের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, এর ফজিলত এবং হাফেজে কুরআনের মর্যাদার বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, তা থেকে কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমল থেকেও অনেক হাদিসে কুরআন নিয়ে গবেষণার বিষয়টি এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: এক রাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন। আমি মনে মনে বললাম: তিনি একশ আয়াতের মাথায় রুকু (يركع) করবেন। কিন্তু তিনি পাঠ চালিয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম: তিনি এটি দিয়ে পুরো সালাত শেষ করবেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাইসিরুল কারীমিল রাহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, আস-সাদী, পৃষ্ঠা ১৯০ ও ৭১২।

(২) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪।

(৩) দেখুন: তাইসিরুল কারীমিল রাহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, আস-সাদী, পৃষ্ঠা ৭৮৮।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ركعة، فمضَى، فقلت: يركع بها، ثم افتتح النساء فقرأها، ثم افتتح آل عمران فقرأها، يقرأ مترسِّلاً، إذا مرَّ بآية تسبيح سبَّح، وإذا مرَّ بسؤالٍ سأل، وإذا مرَّ بتعوّذ تعوّذ … )) (1).

2 - حديث عوف بن مالك رضي الله عنه،قال: قمت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فقرأ سورة البقرة، لا يَمُرُّ بآية رحمة إلا وقف فسأل، ولا يمر بآية عذاب إلا وقف وتعوذ … )) (2).

3 - عن أبي جحيفة رضي الله عنه، قال: قالوا: يا رسول الله نراك قد شبت قال: ((قد شيَّبتني هود وأخواتها)) (3)، وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال أبو بكر: يا رسول الله قد شبت قال: ((شيَّبتني: هود، والواقعة، والمرسلات، وعم يتساءلون، وإذا الشمس كوِّرت)) (4).

وهذا يدل على كمال تدبره صلى الله عليه وسلم للقرآن حق التدبر.

 

‌‌النوع الثالث: حث الصحابة رضي الله عنه على تدبر القرآن:

1 - قال أمير المؤمنين عثمان رضي الله عنه: ((لو طَهُرَتْ قلوبكم ما شبعتم من كلام ربكم)) (5).

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب استحباب تطويل القراءة في صلاة الليل، برقم772.

(2) أبو داود، كتاب الصلاة، باب ما يقول الرجل في ركوعه وسجوده، برقم 873، واللفظ له، والنسائي، كتاب التطبيق، باب نوع آخر من الذكر في الركوع، برقم 1048، وصححه الألباني في صحيح أبي داود،1/ 247،وفي صحيح النسائي، 1/ 342.

(3) الترمذي، في الشمائل المحمدية، برقم 42، وصححه الألباني في مختصر الشمائل، ص40.

(4) الترمذي، في الشمائل المحمدية، برقم 41، وصححه الألباني في مختصر الشمائل، ص40.

(5) رواه الإمام أحمد في زوائد الزهد، ص128.
রাকাত, তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। আমি (মনে মনে) বললাম: তিনি হয়তো এর দ্বারা রুকু করবেন। অতঃপর তিনি সূরা আন-নিসা শুরু করে তা পাঠ করলেন। এরপর তিনি সূরা আল-ইমরান শুরু করে তা পাঠ করলেন। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করছিলেন। যখনই তিনি তাসবিহ-র কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন, তাসবিহ পাঠ করতেন; যখন কোনো যাঞ্চার আয়াত আসত, তখন প্রার্থনা করতেন; আর যখন কোনো আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত আসত, তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন … )) (১)।

২ - আউফ ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি এক রাতে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন; তিনি রহমতের কোনো আয়াত অতিক্রম করার সময় না থেমে যেতেন না এবং প্রার্থনা করতেন, আর আজাবের কোনো আয়াত অতিক্রম করার সময় না থেমে যেতেন না এবং আশ্রয় প্রার্থনা করতেন … )) (২)।

৩ - আবু জুহাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা দেখছি আপনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তিনি বললেন: ((সূরা হুদ এবং তার সমজাতীয় সূরাগুলো আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে)) (৩)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তিনি বললেন: ((সূরা হুদ, ওয়াকিয়াহ, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসাআলুন এবং ইযাশ শামসু কুউয়িরাত আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে)) (৪)।

এটি কুরআনুল কারীমের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যথাযথ অনুধাবনের পূর্ণতার ওপর প্রমাণ বহন করে।

 

‌‌তৃতীয় প্রকার: সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে কুরআন অনুধাবনে উদ্বুদ্ধকরণ:

১ - আমিরুল মুমিনিন উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ((যদি তোমাদের অন্তরসমূহ পবিত্র হতো, তবে তোমরা তোমাদের রবের কালাম থেকে তৃপ্ত হতে না)) (৫)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাব সালাতিল মুসাফিরিন, বাব ইসতিহবাব তাতউইলিল কিরাআহ ফি সালাতিল লাইল, নম্বর ৭৭২।

(২) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, বাব মা ইয়াকুলুর রাজুলু ফি রুকুয়িহি ওয়া সুজুদিহি, নম্বর ৮৭৩, শব্দগুলো তাঁরই; এবং নাসায়ি, কিতাবুত তাতবিক, বাব নাওউন আখারু মিনায যিকর ফির রুকু, নম্বর ১০৪৮; আলবানি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ আবু দাউদ, ১/ ২৪৭ এবং সহিহ নাসায়ি, ১/ ৩৪২-এ।

(৩) তিরমিজি, শামায়িলে মুহাম্মাদিয়াহ-এ, নম্বর ৪২; আলবানি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন মুখতাসারুশ শামায়িল, পৃষ্ঠা ৪০-এ।

(৪) তিরমিজি, শামায়িলে মুহাম্মাদিয়াহ-এ, নম্বর ৪১; আলবানি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন মুখতাসারুশ শামায়িল, পৃষ্ঠা ৪০-এ।

(৫) ইমাম আহমাদ এটি যাওয়ায়িদুয যুহদ-এ বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা ১২৮।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - وقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: ((من أحب القرآن فهو يحب الله ورسوله)) (1).

3 - وقال خبَّاب بن الأرتِّ رضي الله عنه: ((تقرَّبْ إلى الله ما استطعت واعلم أنك لن تتقرب بشيء أحبّ إليه من كلامه)) (2).

4 - وقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: ((من أراد العلم، فليقرأ القرآن؛ فإن فيه علم الأولّين والآخرين)) (3).

5 - وقال الحسن بن علي رضي الله عنهما: ((إنَّ من كان قبلكم رأوا القرآن رسائل من ربهم، فكانوا يتدبَّرونها بالليل، ويتفقَّدونها في النهار)) (4).

 

‌‌النوع الرابع: حث العلماء على تدبر القرآن وتعظيمهم لذلك:

لا شك أن من أحبَّ القرآن تدبَّره، وأقبل على التلذّذ بتلاوته، وهذا دليل على محبته للمتكلِّم به سبحانه؛ ولهذا قال أبو عبيد رحمه الله: ((لا يسأل عبدٌ نفسه إلا بالقرآن، فإن كان يحب القرآن فهو يحب الله ورسوله)) (5).

وقد تكلم العلماء رحمهم الله تعالى في الحث على تدبر القرآن العظيم، ومن أبرز من حث على ذلك من الأئمة ابن القيم رحمه الله في كتبه، فقد

--------------------------------------------

(1) رواه الطبراني في المعجم الكبير، برقم 8658،وقال الهيثمي في مجمع الزوائد،7/ 165: ((رجاله ثقات)).

(2) رواه الحاكم، وصححه ووافقه الذهبي، 2/ 441.

(3) مصنف بن أبي شيبة، 10/ 485، والمعجم الكبير للطبراني، 9/ 136، وشعب الإيمان للبيهقي، 2/ 332.

(4) التبيان للنووي، ص 28.

(5) مسند ابن الجعد، برقم 1956.
২ - এবং আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ((যে ব্যক্তি কুরআনকে ভালোবাসে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে)) (১)।

৩ - এবং খাব্বাব বিন আল-আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ((তুমি সাধ্যমতো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহর কাছে তাঁর কালামের চেয়ে প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমেই তুমি তাঁর নিকটবর্তী হতে পারবে না)) (২)।

৪ - এবং আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ((যে ব্যক্তি ইলম বা জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন কুরআন পাঠ করে; কারণ এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান নিহিত রয়েছে)) (৩)।

৫ - এবং আল-হাসান বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: ((তোমাদের পূর্ববর্তীরা কুরআনকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত পত্র হিসেবে গণ্য করতেন, তাই তাঁরা রাতে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতেন এবং দিনে তা অনুসন্ধান করতেন)) (৪)।

 

‌‌চতুর্থ প্রকার: কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করার প্রতি উলামায়ে কেরামের উৎসাহ প্রদান এবং এ বিষয়ে তাঁদের গুরুত্বারোপ:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি কুরআনকে ভালোবাসে, সে এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং এর তিলাওয়াতের মাধুর্য গ্রহণে মনোনিবেশ করে। এটি এই কালামের বক্তা মহান আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসারই প্রমাণ। এই কারণেই আবু উবায়দ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ((বান্দা যেন কেবল কুরআনের মাধ্যমেই নিজেকে যাচাই করে; যদি সে কুরআনকে ভালোবাসে, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে)) (৫)।

উলামায়ে কেরাম রাহিমাহুমুল্লাহ মহান কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছেন। আইম্মাহ বা ইমামগণের মধ্যে যারা এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর গ্রন্থসমূহে; তিনি...

--------------------------------------------

(১) তাবারানি এটি আল-মুজাম আল-কাবির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৮৬৫৮ এবং হাইসামি মাজমা উজ-জাওয়াইদ গ্রন্থে (৭/১৬৫) বলেছেন: ((এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)))।

(২) হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, ২/৪৪১।

(৩) মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, ১০/৪৮৫, তাবারানির আল-মুজাম আল-কাবির, ৯/১৩৬ এবং বায়হাকির শুআব আল-ইমান, ২/৩৩২।

(৪) নববীর আল-তিবইয়ান, পৃষ্ঠা ২৮।

(৫) মুসনাদ ইবনুল জাদ, হাদিস নং ১৯৫৬।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ذكر رحمه الله: أنّ تدبر القرآن مع الخشوع عند قراءته هو المقصود والمطلوب، فبه تنشرح الصدور، وتستنير القلوب، قال رحمه الله: ((إذا أردت الانتفاع بالقرآن فاجمع قلبك عند تلاوته، وسماعه، وألقِ سمعك، واحْضُر حضور من يخاطبه به من تكلم به، منه إليه، فتمام التأثير موقوف على: مؤثر مقتضٍ، ومحلٍ قابلٍ، وشرطٍ لحصول الأثر، وانتفاء المانع الذي يمنع منه، وقد تضمن ذلك كله قوله تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيد})) (1).

فقوله: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى} إشارة إلى ما تقدم من أول السورة إلى ها هنا، وهذا هو المؤثر.

وقوله: {لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ} القلب الحي، وهذا هو المحل القابل، كما قال الله تعالى: {لِيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا} (2).

وقوله تعالى: {أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ} أي وجّه سمعه وأصغى حاسة سمعه إلى ما يقال له، وهذا شرط التأثر بالكلام.

وقوله تعالى: {وَهُوَ شَهِيد} أي شاهد القلب حاضر غير غائب، واستمع كتاب الله، وشاهد القلب والفهم ليس بغافل ولا ساهٍ، وهذا إشارة إلى المانع من حصول التأثير، وهو سهو القلب وغيبته عما يقال له، والنظر فيه، وتأمله.

فإذا حصل المؤثر: وهو القرآن، والمحل القابل: وهو القلب الحي،

--------------------------------------------

(1) سورة ق، الآية: 37.

(2) سورة يس، الآية: 70.
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উল্লেখ করেছেন যে: তিলাওয়াতের সময় বিনম্রতার সাথে কুরআনের মর্ম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করাই হলো মূল উদ্দেশ্য ও কাম্য। এর মাধ্যমেই বক্ষসমূহ উন্মোচিত হয় এবং অন্তরসমূহ আলোকিত হয়। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "তুমি যখন কুরআন থেকে উপকৃত হতে চাও, তখন তার তিলাওয়াত ও শ্রবণের সময় তোমার অন্তরকে একাগ্র করো, কান পেতে দাও এবং এমনভাবে উপস্থিত হও যেমন সেই ব্যক্তি উপস্থিত হয় যাকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সম্বোধন করছেন। কেননা প্রভাবের পূর্ণতা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল: একটি প্রভাবশালী কার্যকারণ, একটি গ্রহণক্ষম আধার, প্রভাব তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত এবং সেই প্রতিবন্ধকের অনুপস্থিতি যা একে বাধা প্রদান করে। মহান আল্লাহর এই বাণীতে এ সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: {নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার রয়েছে অন্তর অথবা যে মনোযোগের সাথে কান পেতে দেয়} (১)।

সুতরাং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে} এটি সূরার শুরু থেকে এ পর্যন্ত যা আলোচিত হয়েছে তার দিকে ইঙ্গিত, আর এটিই হলো প্রভাবশালী কার্যকারণ।

আর তাঁর বাণী: {যার রয়েছে অন্তর} দ্বারা জীবিত অন্তরকে বোঝানো হয়েছে, আর এটিই হলো গ্রহণক্ষম আধার। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে তিনি সতর্ক করতে পারেন তাকে, যে জীবিত} (২)।

মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা যে কান পেতে দেয়} অর্থাৎ যে তার শ্রবণশক্তিকে যা বলা হচ্ছে তার দিকে নিবদ্ধ করে এবং মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে; আর এটি বাণীর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার শর্ত।

মহান আল্লাহর বাণী: {মনোযোগের সাথে} অর্থাৎ যার অন্তর উপস্থিত ও সচেতন, অনুপস্থিত নয়। সে আল্লাহর কিতাব শ্রবণ করে এমতাবস্থায় যে তার অন্তর ও বোধশক্তি জাগ্রত, সে অসতর্ক বা উদাসীন নয়। এটি প্রভাব অর্জনে প্রতিবন্ধকতার প্রতি ইঙ্গিত, আর তা হলো অন্তরের বিচ্যুতি এবং যা বলা হচ্ছে তা থেকে বিমুখ থাকা, তাতে লক্ষ্য না করা এবং চিন্তা-গবেষণা না করা।

অতএব যখন প্রভাবশালী কার্যকারণ তথা কুরআন বিদ্যমান থাকে এবং গ্রহণক্ষম আধার তথা জীবিত অন্তর পাওয়া যায়...

--------------------------------------------

(১) সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৩৭।

(২) সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৭০।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ووجد الشرط: وهو الإصغاء، وانتفى المانع: وهو اشتغال القلب وذهوله عن معنى الخطاب وانصرافه عنه إلى شيء آخر حصل الأثر، وهو: الانتفاع، والتذكر (1).

فلا بد من تدبر القرآن، وتعقّله، والتفكر في معانيه وقد أمر الله بذلك.

قال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((القرآن حياة القلوب، وشفاء لما في الصدور … فبا لجملة فلا شيء أنفع للقلب من قراءة القرآن بالتدبر، والتفكر … وهذا الذي يورث المحبة، والشوق، والخوف، والرجاء، والإنابة، والتوكل، والرضا، والتفويض، والشكر، والصبر، وسائر الأحوال التي بها حياة القلب وكماله. وكذلك يزجر عن جميع الصفات والأفعال المذمومة التي بها فساد القلب وهلاكه فلو علم الناس ما في قراءة القرآن بالتدبر لاشتغلوا بها عن كل ما سواها))؛ فإن العبد إذا قرأه بالتدبر حتى مرَّ بآية وهو محتاج إليها في شفاء قلبه كررها ولو مائة مرة، ولو ليلة، فقراءة آية بتفكُّرٍ وتفهُّمٍ خير من قراءة ختمةٍ بغير تَدَبُّرٍ وتفَهُّمٍ، وأنفع للقلب، وأدعى إلى حصول الإيمان، وذوق حلاوة الإيمان والقرآن، وهذه كانت عادة السلف يردِّد أحدهم الآية إلى الصباح، وقد تقدم أنه ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قام بآية يُردِّدُها إلى الصباح وهي قوله تعالى: {إِن تُعَذِّبْهُمْ

--------------------------------------------

(1) انظر: الفوائد لابن القيم، ص5، ص6، ص156، وانظر: فوائد في تدبر القرآن، في تفسير السعدي، 2/ 112وَ 7/ 70.
শর্তটি পূরণ হয়েছে: আর তা হলো মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা, এবং প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হয়েছে: আর তা হলো অন্তরের অন্য কাজে লিপ্ত থাকা ও সম্বোধনের মর্মার্থ থেকে বিমুখ হওয়া এবং তা থেকে অন্য কিছুর দিকে মনোনিবেশ করা; ফলে প্রভাব অর্জিত হয়েছে, আর তা হলো: উপকৃত হওয়া এবং উপদেশ গ্রহণ করা (১)।

সুতরাং কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা (تدبر) করা, তা অনুধাবন করা এবং এর অর্থগুলো নিয়ে গবেষণা করা অপরিহার্য; আর আল্লাহ তাআলা এরই নির্দেশ দিয়েছেন।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((কুরআন হলো অন্তরের জীবন এবং বক্ষসমূহে যা আছে তার আরোগ্য … সারকথা হলো, গভীরভাবে চিন্তা (تدبر) ও গবেষণার সাথে কুরআন পাঠ করার চেয়ে অন্তরের জন্য অধিক উপকারী আর কিছু নেই … আর এটিই মহব্বত, আকাঙ্ক্ষা, ভয়, আশা, প্রত্যাবর্তন, তাওয়াক্কুল, সন্তুষ্টি, সঁপে দেওয়া (تفويض), শুকরিয়া, সবর এবং অন্যান্য সকল অবস্থার জন্ম দেয় যার মাধ্যমে অন্তরের জীবন ও পূর্ণতা লাভ হয়। তেমনিভাবে এটি সকল নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য ও কাজ থেকে বিরত রাখে যার মাধ্যমে অন্তরের বিপর্যয় ও ধ্বংস সাধিত হয়। যদি মানুষ জানত যে গভীরভাবে চিন্তার (تدبر) সাথে কুরআন পাঠে কী নিহিত রয়েছে, তবে তারা অন্য সব কিছু ছেড়ে এর মধ্যেই মশগুল থাকত)); কেননা বান্দা যখন গভীরভাবে চিন্তার (تدبر) সাথে তা পাঠ করে এবং এমন কোনো আয়াতের ওপর দিয়ে যায় যার দ্বারা তার অন্তরের আরোগ্য প্রয়োজন, সে তা বারবার পাঠ করে—যদিও তা একশবার হয়, এমনকি সারারাতব্যাপী হয়। সুতরাং চিন্তা ও অনুধাবনের সাথে একটি আয়াত পাঠ করা গভীরভাবে চিন্তা (تدبر) ও অনুধাবন ছাড়া পুরো খতম পড়ার চেয়ে উত্তম এবং এটি অন্তরের জন্য অধিক উপকারী এবং ঈমান লাভ ও ঈমান ও কুরআনের মিষ্টতা আস্বাদনের জন্য অধিক সহায়ক। আর এটিই ছিল সালাফদের অভ্যাস, তাদের কেউ কেউ একটি আয়াত সকাল পর্যন্ত বারবার পাঠ করতেন। এবং পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি একটি আয়াত নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সকাল পর্যন্ত তা বারবার পড়ছিলেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কায়্যিম রচিত আল-ফাওয়াইদ, পৃষ্ঠা ৫, পৃষ্ঠা ৬, পৃষ্ঠা ১৫৬ এবং দেখুন: ফাওয়াইদ ফি তাদাব্বুরিল কুরআন, তাফসির আস-সা’দি-তে, ২/ ১১২ ও ৭/ ৭০।
(খণ্ড: ১) আযমাতুল কুরআনি ওয়া তাযীমুহু ওয়া আসারুহু ফিন নুফূসি ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم} (1).

وقد أخبر الله تعالى في القرآن: أن أهل العلم هم الذين ينتفعون بالقرآن، فقال تعالى: {وَتِلْكَ الأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَاّ الْعَالِمُون} (2) وفي القرآن الكريم بضعة وأربعون مثلاً (3)،وقد كان بعض السلف الصالح، وهو عمرو بن مرة: إذا مرَّ بِمَثَلٍ من أمثال القرآن ولم يفهمه يبكي ويقول: ((لست من العالمين)) (4)،ولابد لمن تدبر القرآن أن يجاهد بقلبه وفكره؛ لينال هذا العلم العظيم، وقد قال يحيى بن أبي كثير: ((لا يُنال العلم براحة الجسم)) (5)،ولا ينال العلم إلا بهجر اللذات وتطليق الراحة، ولا ينال درجة وراثة النبوة مع الراحة (6)، ولا شك أن التأمل في القرآن هو: تحديد ناظر القلب إلى معانيه وجمع الفكر على تبصره، وتعقله، وهو المقصود بإنزاله، لا مجرد تلاوته بلا فهم، قال الله تعالى: {كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُوا الأَلْبَاب} (7)،وقال تعالى:

--------------------------------------------

(1) انظر: مفتاح دار السعادة، 1/ 553 - 554، والآية من سورة المائدة، آية: 118.

(2) سورة العنكبوت، الآية: 43.

(3) أعلام الموقعين، لابن القيم، 1/ 163 - 211، جمع رحمه الله جميع الأمثال في القرآن هناك، وانظر: مفتاح دار السعادة لابن القيم، 1/ 226.

(4) مفتاح دار السعادة، لابن القيم، 1/ 226.

(5) صحيح مسلم، برقم 175 - (612) ..

(6) ابن القيم، في مفتاح دار السعادة، 1/ 446.

(7) سورة ص، الآية: 29.
"কেননা তারা আপনার বান্দা; আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" (১)।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে সংবাদ দিয়েছেন যে, আলেমগণই মূলত কুরআন দ্বারা উপকৃত হন। তিনি ইরশাদ করেছেন: "আর এই সকল দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি, কিন্তু জ্ঞানীগণ ব্যতীত আর কেউ তা বোঝে না" (২)। পবিত্র কুরআনে চল্লিশটিরও বেশি দৃষ্টান্ত রয়েছে (৩)। সালাফে সালেহীনের অন্তর্ভুক্ত জনৈক ব্যক্তি, তথা আমর ইবনে মুররাহ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন কুরআনের কোনো দৃষ্টান্তের পাশ দিয়ে যেতেন এবং সেটি বুঝতে পারতেন না, তখন কাঁদতেন এবং বলতেন: "আমি জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত নই" (৪)। আর যে ব্যক্তি কুরআনের বিষয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে, তাকে অবশ্যই তার অন্তর ও চিন্তাশক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে; যেন সে এই মহান জ্ঞান অর্জন করতে পারে। ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির বলেছেন: "শরীরের আরাম-আয়েশের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা যায় না" (৫)। আনন্দ-উল্লাস ত্যাগ করা এবং আরামকে বিদায় জানানো ব্যতীত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়; আরাম-আয়েশের সাথে নবুওয়াতের উত্তরাধিকারের মর্যাদা লাভ করা যায় না (৬)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআনের গভীর পর্যবেক্ষণ হলো: হৃদয়ের দৃষ্টিকে এর অর্থের দিকে নিবদ্ধ করা এবং এর মর্মার্থ ও উপলব্ধির ওপর চিন্তাশক্তিকে কেন্দ্রীভূত করা। এটিই কুরআন অবতীর্ণ করার মূল উদ্দেশ্য, নিছক না বুঝে তিলাওয়াত করা নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে" (৭)। এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মিফতাহু দাইরিস সাআদাহ, ১/ ৫৫৩-৫৫৪; এবং আয়াতটি সূরা আল-মায়িদার ১১৮ নম্বর আয়াত।

(২) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৩।

(৩) ইবনুল কাইয়্যিম প্রণীত আলামুল মুওয়াক্কিয়িন, ১/ ১৬৩-২১১; তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সেখানে কুরআনের সকল দৃষ্টান্ত একত্রিত করেছেন। আরও দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম প্রণীত মিফতাহু দাইরিস সাআদাহ, ১/ ২২৬।

(৪) ইবনুল কাইয়্যিম প্রণীত মিফতাহু দাইরিস সাআদাহ, ১/ ২২৬।

(৫) সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭৫ - (৬১২)।

(৬) ইবনুল কাইয়্যিম, মিফতাহু দাইরিস সাআদাহ গ্রন্থে, ১/ ৪৪৬।

(৭) সূরা সাদ, আয়াত: ২৯।