(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
طهور المسلم في ضوء الكتاب والسنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: طهور المسلم في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم، وفضائل، وآداب، وأحكام
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 182
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিমের পবিত্রতা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিমের পবিত্রতা - সংজ্ঞা، ফজিলত، আদব، ও বিধানসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
19
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
_
طهور المسلم في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم، وفضائل، وآداب، وأحكام
19
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির গ্রন্থাবলি
_
কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে মুসলিমের পবিত্রতা - সংজ্ঞা, ফজিলত (فضائل), শিষ্টাচার (آداب) ও বিধানসমূহ (أحكام)
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن
… الرحيم
قال الله تعالى:
{إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
… } البقرة: 222.
وقال صلى الله عليه وسلم:
((الطهور شطر الإيمان)).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর
… নামে।
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
{নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের
… ভালোবাসেন} আল-বাকারা: ২২২।
এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
((পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক))।
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهدِهِ الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً. أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((طهور المسلم)) بينت فيها: مفهوم، وفضائل، وآداب، وأحكام الطهارة التي هي شطر الإيمان، ومفتاح الصلاة، وذكرت فيها كل ما يحتاجه المسلم في طهارته ونظافته ونزاهته، كل ذلك مقروناً بالأدلة من الكتاب والسنة، فما كان من صواب فمن الله الواحد المنّان، وما كان من خطأ أو تقصير فمني ومن الشيطان، والله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি 'মুসলমানের পবিত্রতা' বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি পবিত্রতার সংজ্ঞা, ফযিলত, আদব ও বিধি-বিধানসমূহ বর্ণনা করেছি; যা ঈমানের অর্ধেক এবং সালাতের চাবিকাঠি। একজন মুসলমানের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং নির্মলতার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমি তার সবকিছুই এতে উল্লেখ করেছি। এই সবকিছুর বর্ণনায় আমি কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহ উপস্থাপন করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহান দাতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল বা ত্রুটি হয়েছে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بريء منه ورسوله صلى الله عليه وسلم (1).
وقد عرضت ما أشكل عليّ من مسائله الخلافية على سماحة الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، رحمه الله تعالى، وأعظم مثوبته، فأخذت بما يُرجحه (2)، غفر الله له ورحمه.
وقد قسمت البحث إلى تسعة مباحث وتحت كل مبحث مطالب ومسالك في الغالب مرقَّمة على النحو الآتي:
- المبحث الأول: مفهوم الطهارة وأنواعها.
- المبحث الثاني: أنواع النجاسات ووجوب تطهيرها أو زوالها.
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ) এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে দায়মুক্ত (১)।
আমি এই বিষয়ের মতপার্থক্যপূর্ণ (الخلافية) মাসআলাগুলোর মধ্যে যা আমার নিকট অস্পষ্ট ছিল, তা মহামান্য ইমাম আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা)-এর নিকট পেশ করেছি—আল্লাহ তাঁর সওয়াব বৃদ্ধি করুন—অতঃপর তিনি যেটিকে প্রাধান্য (يُرجحه) দিয়েছেন আমি সেটিই গ্রহণ করেছি (২), আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন ও তাঁর প্রতি দয়া করুন।
আমি গবেষণাটিকে নয়টি অধ্যায়ে (مباحث) বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে সাধারণ কিছু অনুচ্ছেদ ও পদ্ধতি রয়েছে, যা সাধারণত নিম্নোক্ত উপায়ে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে:
- প্রথম অধ্যায় (المبحث الأول): পবিত্রতার (الطهارة) ধারণা ও এর প্রকারভেদ।
- দ্বিতীয় অধ্যায় (المبحث الثاني): অপবিত্রতার (النجاسات) প্রকারভেদ এবং তা পবিত্র করা অথবা দূর করার আবশ্যকতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
- المبحث الثالث: سنن الفطرة وأنواعها.
- المبحث الرابع: آداب قضاء الحاجة.
- المبحث الخامس: الوضوء.
- المبحث السادس: المسح على الخفين والعمائم والجبيرة.
- المبحث السابع: الغسل.
- المبحث الثامن: التيمم.
- المبحث التاسع: الحيض والنفاس والاستحاضة والسلس.
وأسأل الله العظيم بأسمائه الحسنى وصفاته العُلا أن يجعل هذا العمل القليل مباركاً خالصاً لوجهه الكريم، مقرباً لمؤلفه، وقارئه، وطابعه، وناشره من جنات النعيم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه، إنه خير مسئول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيد الناس أجمعين، نبينا محمد
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিতরাতের সুন্নাতসমূহ এবং এর প্রকারভেদ।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শৌচকার্য সম্পাদনের আদবসমূহ।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অজু।
- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: চামড়ার মোজা, পাগড়ি এবং জখমের পট্টির ওপর মাসাহ করা।
- সপ্তম পরিচ্ছেদ: গোসল।
- অষ্টম পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম।
- নবম পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাব, নেফাস, ইস্তিহাযা এবং প্রস্রাব বা বায়ু নিঃসরণের ব্যাধি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করি যেন তিনি এই নগণ্য কাজটিকে বরকতময় এবং একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; আর এর লেখক, পাঠক, মুদ্রণকারী ও প্রকাশককে জান্নাতুন নাঈমের নিকটবর্তী করেন। তিনি যেন আমাকে আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সমস্ত মানুষের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাঙ্গীন দরুদ ও সালাম।
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر يوم الإثنين يوم التروية 8/ 12/1415هـ
এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সহচরবৃন্দ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যাঁরা তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের প্রতি (সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক)।
লেখক
সোমবার, তারউইয়ার দিন, ৮/১২/১৪১৫ হিজরি তারিখে এটি লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأول: تعريف الطهارة وأنواعها
1 ـ مفهوم الطهارة:- الطهارة لغة: النظافة والنزاهة عن الأقذار الحسية والمعنوية.
- وشرعاً: ارتفاع الحدث بالماء أو التراب الطهورين المباحين، وزوال النجاسة والخبث، فالطهارة هي زوال الوصف القائم بالبدن المانع من الصلاة ونحوها (1).
2 - الطهارة نوعان: معنوية وحسية:
النوع الأول: الطهارة الباطنة المعنوية، وهي: الطهارة من الشرك والمعاصي، وتكون بالتوحيد والأعمال الصالحة، وهي أهم من طهارة البدن، بل لا يمكن أن تقوم طهارة البدن مع وجود نجس الشرك
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্রতার (طهارة) সংজ্ঞা ও তার প্রকারভেদ১ ـ পবিত্রতার (طهارة) ধারণা:- আভিধানিক অর্থে পবিত্রতা (طهارة): দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নোংরামি হতে পরিচ্ছন্ন ও বিমুক্ত থাকা।
- শরিয়তের পরিভাষায়: বৈধ ও পবিত্র (طهور) পানি অথবা মাটির মাধ্যমে অপবিত্রতা (حدث) দূর করা এবং নাপাকি (نجاسة) ও মলীনতা (خبث) দূরীভূত করা। মূলত পবিত্রতা (طهارة) হলো শরীরের ওপর বিদ্যমান এমন একটি অবস্থার অবসান ঘটানো, যা নামাজ বা অনুরূপ ইবাদত পালনে বাধা প্রদান করে (১)।
২ - পবিত্রতা (طهارة) দুই প্রকার: আত্মিক ও শারীরিক:প্রথম প্রকার: অভ্যন্তরীণ বা আত্মিক পবিত্রতা (طهارة), আর তা হলো: শিরক (شرك) ও পাপাচার হতে পবিত্র হওয়া। এটি তাওহিদ (توحيد) ও নেক আমলের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি শারীরিক পবিত্রতার (طهارة) চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ; বরং শিরকের (شرك) নাপাকি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় শরীরের পবিত্রতা (طهارة) সম্ভব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
{إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} (1)، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن المؤمن لا ينجس)) (2)، فيجب على كل مُكلَّفٍ أن يُطَهِّرَ قلبه من نجاسة الشِّرك، والشَّكِّ، وذلك بالإخلاص والتوحيد، واليقين. ويُطَهِّر نفسه وقلبه من أقذار المعاصي، وآثار الحسد، والحقد، والغلّ، والغِشّ، والكبر، والعجب، والرِّياء والسُّمعة
… وذلك بالتوبة الصادقة من جميع الذنوب والمعاصي. وهذه الطهارة هي شطر الإيمان والشطر الثاني هي الطهارة الحسية.
النوع الثاني: الطهارة الحسية: وهي الطهارة من الأحداث والأنجاس، وهذا هو شطر الإيمان الثاني، قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((الطهور شطر الإيمان)) (3). وتكون بما شرع
الله من الوضوء، والغسل، أو التيمم عند فقد الماء.
--------------------------------------------
{নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র (نجس)} (১), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মুমিন অপবিত্র হয় না)) (২)। সুতরাং প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর আবশ্যক হলো তার অন্তরকে শিরক ও সন্দেহের নাপাকি (نجاسة) থেকে পবিত্র করা; আর তা ইখলাস, তাওহীদ এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) মাধ্যমে। এবং নিজের নফস ও অন্তরকে পাপাচারের আবর্জনা এবং হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা, প্রতারণা, অহংকার, আত্মমুগ্ধতা, রিয়া (رِياء) ও সুমআহ (سُمعة)-এর প্রভাব থেকে পবিত্র করা
… আর তা হবে সকল গুনাহ ও পাপাচার থেকে একনিষ্ঠ তওবার মাধ্যমে। আর এই পবিত্রতা (طهارة) হলো ঈমানের অর্ধাংশ এবং দ্বিতীয় অর্ধাংশ হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতা।
দ্বিতীয় প্রকার: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতা: আর তা হলো অপবিত্রতা (أحداث) ও নাপাকি (أنجاس) থেকে পবিত্র হওয়া। এটি হলো ঈমানের দ্বিতীয় অর্ধাংশ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ)) (৩)। আর তা সম্পাদিত হয় আল্লাহর বিধান অনুযায়ী
ওযু, গোসল অথবা পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وزوال النجاسة أو إزالتها من اللِّباس، والبدن، ومكان الصلاة (1).
3 - تكون الطهارة بطهورين:
الأول: الطهارة بالماء، وهي الأصل، فكلُّ ماءٍ نزل من السماء، أو خرج من الأرض وهو باقٍ على أصل خلقته فهو طهور، يُطهِّر من الأحداث والأخباث، ولو تغير طعمه، أو لونه، أو ريحه بشيء طاهر، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إن الماء طَهورٌ لا ينجِّسُهُ شيء)) (2)، ومن ذلك: ماء المطر، ومياه العيون، والآبار، والأنهار، والأودية، والثلوج
الذائبة، والبحار، قال صلى الله عليه وسلم في ماء البحر: ((هو الطّهور ماؤه
--------------------------------------------
এবং পোশাক, শরীর ও নামাজের স্থান থেকে অপবিত্রতা দূর হওয়া অথবা তা দূরীভূত করা (১)।
৩ - পবিত্রতা (طهارة) অর্জিত হয় দুই প্রকার পবিত্রকারী (طهور) বস্তু দ্বারা:
প্রথমটি: পানি দ্বারা পবিত্রতা (طهارة) অর্জন, এটিই মূল ভিত্তি। সুতরাং আকাশ থেকে যা কিছু বর্ষিত হয় অথবা যা জমিন থেকে নির্গত হয় এবং যা তার সৃষ্টির মূল প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট থাকে, তাই পবিত্রকারী (طهور); যা হাদাস (أحداث) ও নাপাকি (أخباث) থেকে পবিত্র করে, যদিও কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে এর স্বাদ, বর্ণ বা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী (طهور), কোনো কিছুই একে নাপাক করতে পারে না" (২)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বৃষ্টির পানি, ঝরনা, কূপ, নদী, উপত্যকা, গলিত বরফ এবং সমুদ্রের পানি। সমুদ্রের পানি সম্পর্কে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এর পানি পবিত্রকারী (طهور)..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحِلُّ ميتته)) (1).
أما ماء زمزم فقد ثبت من حديث علي رضي الله عنه: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعا بسجلٍ من زمزم فشرب منه وتوضأ)) (2)، فإن تغير: لون الماء، أو طعمه، أو ريحه بنجاسة فهو نجس بالإجماع يجب اجتنابه (3).
الثاني: الطهارة بالصعيد الطاهر، وهو بدل عن الطهارة بالماء، إذا تعذر استعمال الماء لأعضاء الطهارة، أو بعضها لعدمه، أو خوف ضرر باستعماله فيقوم التراب
الطاهر مقام الماء (4).
--------------------------------------------
((তার মৃত জীব হালাল)) (১)।
আর জমজমের পানির বিষয়ে আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি জমজমের পানি চাইলেন, এরপর তিনি তা থেকে পান করলেন এবং অজু করলেন)) (২)। যদি নাপাকির কারণে পানির রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) তা অপবিত্র (نجس) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা বর্জন করা ওয়াজিব (৩)।
দ্বিতীয়: পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন, যা পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প; যখন পবিত্রতার অঙ্গসমূহে বা এর কোনো অংশে পানির অনুপস্থিতির কারণে পানি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়, অথবা ব্যবহারের ফলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তখন পবিত্র মাটি পানির স্থলাভিষিক্ত হবে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثاني: أنواع النجاسات ووجوب تطهيرها أو زوالهاالنجاسة: هي القذارة التي يجب على المسلم أن يتنزَّه عنها ويغسل ما أصابه منها، قال الله تعالى: {وَثِيَابَكَ
فَطَهِّرْ} (1)، وقال سبحانه: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُواْ النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىَ يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} (2) ومن هذه النجاسات ما يأتي:
1 - بول الآدمي وغائطه، ويكون تطهيره بالغسل والإزالة على النحو الآتي:
أ - تطهير بول الغلام والجارية .. قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((بول الغلام يُنضَح (3) وبول الجارية يُغْسَل)) (4) وهذا
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাপাকির প্রকারভেদ এবং তা পবিত্র করা বা দূর করার আবশ্যকতানাপাকি (নাজাসাত): এটি এমন অপবিত্রতা যা থেকে বেঁচে থাকা এবং যা শরীরে বা পোশাকে লাগলে তা ধৌত করা একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আপনার পোশাক পবিত্র করুন} (১), এবং তিনি আরও বলেন: {লোকেরা আপনার নিকট ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা হলো কষ্টদায়ক বস্তু। সুতরাং ঋতুস্রাবকালে তোমরা স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট ঠিক সেভাবেই গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।} (২) এই নাপাকিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - মানুষের প্রস্রাব ও মল, এবং এগুলো ধৌতকরণ ও দূরীকরণের মাধ্যমে পবিত্র করার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
ক - বালক ও বালিকার প্রস্রাব পবিত্র করা .. নবী (সা.) বলেছেন: "বালকের প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং বালিকার প্রস্রাব ধৌত করতে হবে।" (৪) এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
((ما لم يطعما، فإن طعما غُسِلا جميعاً)) (1).
ب- تطهير النعل يكون بالدَّلك في الأرض؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إذا وَطِئَ أحدكم بنعليه الأذى؛ فإن التراب له طهور)) (2).
ج - تطهير ذيل ثوب المرأة: يُطَهِّرُهُ التراب، فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أن المرأة إذا مشت في الطريق القذر، وبعده مكان طاهر أطيب منه، فإن ذيل ثوبها
يطهر بذلك؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((يطهره ما بعده)) (3).
--------------------------------------------
((যতক্ষণ না তারা খাবার গ্রহণ করে, কিন্তু যখন তারা খাবার গ্রহণ করবে, তখন উভয়ই ধৌত করা হবে)) (১)।
খ- জুতোর পবিত্রতা অর্জন: জমিনে ঘর্ষণের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়; কারণ নবী (সা.)-এর বাণী: ((তোমাদের কেউ যখন তার জুতো দিয়ে কোনো অপবিত্রতা মাড়ায়, তখন মাটি তার জন্য পবিত্রকারী হয়)) (২)।
গ- নারীর পোশাকের নিম্নাংশ পবিত্র করা: মাটি একে পবিত্র করে দেয়। নবী (সা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে, নারী যখন কোনো নোংরা রাস্তায় চলে এবং এরপর কোনো পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন স্থানে পৌঁছায়, তখন তার পোশাকের নিম্নাংশ
এর মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যায়; এ কারণেই নবী (সা.) বলেছেন: ((এর পরবর্তী অংশ একে পবিত্র করে দেয়)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
د - تطهير الأرض والفراش، إذا أصاب البول أو الغائط الأرض أو الفراش، فإن الغائط يزال ويصب مكانه ماء، أما البول فيكاثر بالماء؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم في الأعرابي الذي بال في المسجد: ((دعوه وأهريقوا على بوله سجلاً من ماء أو ذنوبًا من ماء، فإنما بعثتم ميسرين ولم تبعثوا معسرين)) (1)، وتزال آثار الغائط والبول بالاستنجاء أو الاستجمار كما سيأتي إن شاء الله تعالى.
2 - دم الحيض، يُطهر بالدَّلْك والغسل، قال صلى الله عليه وسلم في دم الحيض يصيب الثوب: ((تَحتُّهُ، ثم تَقْرُصُه بالماء، ثم
تَنْضَحُهُ، ثم تُصلي فيه)) (2).
--------------------------------------------
ঘ - মাটি ও বিছানা পবিত্রকরণ, যদি পেশাব বা পায়খানা মাটি অথবা বিছানায় লাগে, তবে পায়খানা অপসারণ করতে হবে এবং তার স্থানে পানি ঢালতে হবে; আর পেশাবের ক্ষেত্রে তার ওপর অধিক পরিমাণে পানি প্রবাহিত করতে হবে। একারণেই সেই গ্রাম্য ব্যক্তির ব্যাপারে, যে মসজিদে পেশাব করেছিল, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের ওপর এক বালতি বা এক বড় বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদের সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা আরোপকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি)) (১)। আর পায়খানা ও পেশাবের চিহ্ন ইস্তিনজা অথবা ইস্তিজমারের মাধ্যমে দূর করা হয়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচনা করা হবে।
২ - ঋতুস্রাবের রক্ত, এটি ঘর্ষণ এবং ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র করা হয়। পোশাকে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তুমি তা খুঁটিয়ে তুলে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে, এরপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দেবে, তারপর তাতে সালাত আদায় করবে)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - ولوغ الكلب في الإناء (1)، قال صلى الله عليه وسلم: ((طهور إناء
--------------------------------------------
৩ - পাত্রে কুকুরের মুখ দেওয়া (১), রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ((তোমাদের কারো পাত্রের পবিত্রকরণ (طهور) হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أحدكم إذا ولغ فيه الكلب أن يغسله سبع مرات أُولاهنَّ بالتُّراب))، وفي رواية: ((فليرقه
… )) الحديث (1).
4 - الدم المسفوح ولحم الخنزير والميتة، {قُل لَاّ أَجِدُ فِي مَا أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَاّ أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ} (2).
وجلد الميتة - التي يؤكل لحمها في حياتها (3) بعد ذكاتها
- يطهر بالدباغ، كما قال صلى الله عليه وسلم: ((إذا دُبغ الإهاب فقد طَهُر)) (4).
--------------------------------------------
তোমাদের কারো (পাত্রে) যখন কুকুর মুখ দেয়, সে যেন তা সাতবার ধৌত করে, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "সে যেন তা ঢেলে ফেলে দেয়..." হাদিস (১)।
৪ - প্রবাহিত রক্ত (الدم المسفوح), শূকরের গোশত ও মৃত প্রাণী (الميتة), {বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে কোনো আহারকারীর জন্য আহার করা হারাম এমন কিছু আমি পাই না, যদি না তা মৃত (ميتة) হয় অথবা প্রবাহিত রক্ত (دما مسفوحا) হয় কিংবা শূকরের গোশত (لحم خنزير) হয়—নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (رجس)—অথবা যা অবাধ্যতা (فسقا) হিসেবে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে} (২)।
আর মৃত প্রাণীর চামড়া—জীবিত অবস্থায় যার গোশত খাওয়া বৈধ ছিল (৩)—তা জবেহ (ذكاتها) করার পর চামড়া পাকা করার (الدباغ) মাধ্যমে পবিত্র হয়।
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন পশুর কাঁচা চামড়াকে (الإهاب) পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أما ميتة الجراد والسمك، فقد جاء عنه صلى الله عليه وسلم: ((أُحلّ لنا ميتتان ودمان: أما الميتتان فالحوت والجراد، وأما الدمان الكبد والطحال)) (1).
5 - الوَدْيُ: ماء أبيض ثخين، يخرج كَدِراً بعد البول، ويُطهّرُ بغسل الذكر، ثم الوضوء (2)، وإذا أصاب
--------------------------------------------
পঙ্গপাল ও মাছের মৃতদেহ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী এবং দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে: মৃত প্রাণী দুটি হলো মাছ ও পঙ্গপাল, আর রক্ত দুটি হলো কলিজা ও প্লীহা" (১)।
৫ - ওয়াদী (الوَدْيُ): এটি একটি ঘন সাদা তরল, যা প্রস্রাবের পর ঘোলাটে অবস্থায় নির্গত হয়। এটি পুরুষাঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র করা হয়, অতঃপর অজু (الوضوء) করতে হয় (২), এবং যদি এটি লাগে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
البدن منه شيء غُسل.
6 - المذي: وهو ماء أبيض لزج يخرج عند التفكير بالجماع أو عند الملاعبة، وهو من النجاسات التي يشق الاحتراز عنها فخُفِّف تطهيره، فمن حصل له ذلك: ((فليغسل ذكره وأنثييه (1) وليتوضأ وضوءه للصلاة)) (2)، ويغسل ما أصاب البدن، ويرش كفَّاً من ماء على ما أصاب
الثوب أو السراويل؛ لحديث سهل بن حنيف رضي الله عنه (3).
7 - المني: هو ما يخرج دفقاً بِلَذَّةٍ، ويوجب
--------------------------------------------
শরীরের কোনো অংশে তা লাগলে তা ধৌত করা।
৬ - মযী: এটি একটি সাদা আঠালো তরল যা সহবাসের চিন্তা অথবা মেলামেশার (আলিঙ্গনের) সময় নির্গত হয়। এটি এমন অপবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত যা থেকে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য, তাই এর পবিত্রতা অর্জনের বিধান সহজ করা হয়েছে। সুতরাং যার এটি নির্গত হয় সে যেন: ((তার লিঙ্গ ও অণ্ডকোষদ্বয় (১) ধৌত করে এবং সালাতের ওজুর ন্যায় ওজু করে)) (২), এবং শরীরের যে অংশে তা লেগেছে তা ধুয়ে ফেলে, আর কাপড় বা পায়জামার যে অংশে লেগেছে সেখানে এক অঞ্জলি পানি ছিটিয়ে দেয়; সাহল বিন হুনাইফ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৩)।
৭ - মণি: এটি যা কামভাবের সাথে সজোরে নির্গত হয় এবং যা আবশ্যক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الغسل، وهو طاهر على الصحيح (1)، ولكن يستحب غسله إذا كان رطباً، وفركه إذا كان يابساً، فقد ثبت عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت لرجل يغسل ثوبه من المني: ((إنما كان يجزئك إن رأيته أن تغسل مكانه، فإن لم تَرَ نضحت حوله، ولقد رأيتني أفركه من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيصلِّي فيه)) (2)، وفي رواية: ((وإني لأحكُّهُ من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم يابساً بظفري)) (3)، وقالت: ((إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يغسل
المني، ثم يخرج إلى الصلاة في ذلك الثوب، وأنا أنظر إلى أثر الغسل فيه)) (4).
8 - الجلاّلة: وهي الدابة التي تأكل العذرة، فإذا حُبِست حتى يزول عنها اسم الجلاّلة فلحومها وألبانها طاهرة حلال بعد الحبس، فقد ثبت عن ابن عمر، رضي الله
--------------------------------------------
ধৌত করা, এবং বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এটি পবিত্র (১), কিন্তু এটি আর্দ্র থাকলে ধৌত করা এবং শুষ্ক থাকলে ঘষে তুলে ফেলা মুস্তাহাব। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে তার পোশাক হতে বীর্য ধৌত করতে দেখে বলেছিলেন: ((যদি তুমি তা দেখতে পেতে তবে সেই স্থানটি ধৌত করাই তোমার জন্য যথেষ্ট হতো, আর যদি দেখতে না পেতে তবে তার চারপাশে পানি ছিটিয়ে দিতে; অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে এটি ঘষে নিতাম, অতঃপর তিনি সেই কাপড় পরেই সালাত আদায় করতেন)) (২), এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: ((আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে এটি শুকনো অবস্থায় আমার নখ দিয়ে খুঁটে তুলে ফেলতাম)) (৩), এবং তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্য ধৌত
করতেন, অতঃপর সেই কাপড় পরেই সালাতের জন্য বের হতেন, আর আমি সেখানে ধৌত করার চিহ্ন দেখতে পেতাম)) (৪)।
৮ - আল-জাল্লালাহ: এটি এমন পশু যা বিষ্ঠা ভক্ষণ করে; যদি একে আটকে রাখা হয় যতক্ষণ না তার থেকে আল-জাল্লালাহ নাম ঘুচে যায়, তবে আটকে রাখার পর তার গোশত ও দুধ পবিত্র এবং হালাল। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عنهما، أنه قال: ((نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لحوم الجلاّلة وألبانها)) (1)، وكان ابن عمر إذا أراد أكل الجلاّلة حبسها ثلاثاً (2)، وعنه يرفعه: ((نهى عن الجلاّلة في الإبل أن يركب عليها، أو يشرب من ألبانها)) (3).
9 - الفأرة: إذا وقعت الفأرة في السمن - سواء كان مائعاً أو جامداً - تُلْقَى وما حولها، فعن ميمونة رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سُئل عن فأرة سقطت في سمن فقال: ((ألقوها وما حولها فاطرحوه، وكلوا سمنكم)) (4)،
--------------------------------------------
তাদের থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাল্লালাহ (নোংরা ভক্ষণকারী প্রাণী)-এর গোশত এবং তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন)) (১), আর ইবনে উমর (রা.) যখন জাল্লালাহ খাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন সেটিকে তিন দিন আটকে রাখতেন (২)। এবং তাঁর থেকেই মরফূ (يرفعه) হিসেবে বর্ণিত: ((তিনি জাল্লালাহ উটের পিঠে আরোহণ করতে অথবা তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন)) (৩)।
৯ - ইঁদুর: ইঁদুর যখন ঘি-এর মধ্যে পড়ে—তা তরল হোক বা জমাটবদ্ধ—তখন সেটিকে এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দিতে হয়। মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘি-এর মধ্যে পড়ে যাওয়া ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ((তোমরা সেটিকে এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও এবং তোমাদের ঘি খাও)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذا إذا لم يكن في السمن المتبقي أثر النجاسة في طعمه، أو لونه، أو رائحته، وإلا أُلقي ما تبقى، فيكون كالماء: إذا لم يتغير أحد أوصافه بنجاسة فهو طهور والله أعلم (1).
10 - بول وروث ما يؤكل لحمه: نجس؛ لحديث جابر رضي الله عنه: ((نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يُتمسح بعظم أو ببعر)) (2)، وثبت أنه صلى الله عليه وسلم امتنع من الاستجمار بالروث،
وقال: ((هذا ركس)) (3).
أما بول وروث مأكول اللحم فطاهر؛ لأمر النبي صلى الله عليه وسلم الصحابة بالشرب من بول الإبل (4)، ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
এটি তখন প্রযোজ্য যখন অবশিষ্ট ঘিয়ে নাপাকির (نجاسة) কোনো প্রভাব এর স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধে অবশিষ্ট না থাকে। অন্যথায় অবশিষ্ট অংশটুকু ফেলে দিতে হবে। এমতাবস্থায় এটি পানির ন্যায় গণ্য হবে: যদি নাপাকির (نجاسة) কারণে এর কোনো একটি গুণ পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র (طهور)। আর আল্লাহই ভালো জানেন (১)।
১০ - যে সকল পশুর গোশত খাওয়া হয় না তাদের প্রস্রাব ও গোবর: নাপাক (نجس); জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) হাড় বা গোবর দিয়ে মুছতে (ইস্তিঞ্জা করতে) নিষেধ করেছেন" (২)। এবং এটি প্রমাণিত যে, তিনি (সা.) গোবর দিয়ে ইস্তিজমার (পাথর বা সমজাতীয় বস্তু দিয়ে পবিত্রতা অর্জন) করা থেকে বিরত থেকেছেন এবং বলেছেন: "এটি অপবিত্র (ركس)" (৩)।
পক্ষান্তরে যে সকল পশুর গোশত খাওয়া হয় তাদের প্রস্রাব ও গোবর পবিত্র; কারণ নবী (সা.) সাহাবীগণকে উটের প্রস্রাব পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৪), আর একারণেই নবী (সা.) ছিলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
((يصلي في مرابض الغنم قبل أن يبني المسجد)) (1).
11 - إذا كان في الثوب أو البدن أو البقعة نجاسة، وذكرها المصلي في الصلاة أو بعد الصلاة؛ فإن ذلك فيه تفصيل:
أ - إذا ذكر ذلك وهو في الصلاة، أزال النجاسة، أو ألقى ما عليه نجاسة بشرط عدم كشف العورة، واستمر في صلاته، وصلاته صحيحة.
ب- إذا لم يستطع إزالتها أثناء الصلاة بحيث لو ألقى ما عليه النجاسة انكشفت عورته، أو كانت النجاسة على بدنه، فحينئذ ينصرف من صلاته ثم يزيل النجاسة ثم يعيد الصلاة.
ج- إذا ذكر بعد الانصراف من الصلاة أنه صلى في ثوب فيه نجاسة، أو صلى على بقعة فيها نجاسة، أو صلى
--------------------------------------------
((তিনি মসজিদ নির্মাণের পূর্বে বকরির খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতেন)) (১)।
১১ - যদি পোশাকে, শরীরে অথবা স্থানে অপবিত্রতা থাকে, এবং সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় বা সালাত শেষ করার পর তা স্মরণ করেন; তবে এ ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে:
ক - যদি তিনি সালাতরত অবস্থায় তা স্মরণ করেন, তবে তিনি অপবিত্রতা দূর করবেন অথবা অপবিত্রতাযুক্ত অংশটি শরীর থেকে সরিয়ে ফেলবেন—এই শর্তে যে সতর অনাবৃত হবে না—এবং তার সালাত অব্যাহত রাখবেন; এমতাবস্থায় তার সালাত বিশুদ্ধ (صحيح) হবে।
খ- যদি তিনি সালাত চলাকালীন তা দূর করতে সক্ষম না হন, যেমন—যদি তিনি অপবিত্রতাযুক্ত পোশাকটি সরিয়ে ফেলেন তবে সতর অনাবৃত হয়ে যাবে, অথবা অপবিত্রতাটি সরাসরি শরীরের ওপর থাকে; তবে এমতাবস্থায় তিনি সালাত ভঙ্গ করবেন, অতঃপর অপবিত্রতা দূর করে পুনরায় সালাত আদায় করবেন।
গ- যদি সালাত সমাপ্ত করার পর তার স্মরণে আসে যে, তিনি অপবিত্রতাযুক্ত পোশাকে সালাত আদায় করেছেন, অথবা অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করেছেন, অথবা তিনি সালাত আদায় করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي جسده نجاسة، فصلاته صحيحة، ويدل على ذلك كله حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، حيث قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، فلما كان في بعض صلاته خلع نعليه فوضعهما عن يساره، فلما رأى الناس ذلك خلعوا نعالهم، فلما قضى صلاته صلى الله عليه وسلم قال: ((ما بالكم ألقيتم نعالكم؟)) قالوا: رأيناك ألقيت نعليك فألقينا نعالنا. فقال صلى الله عليه وسلم: ((إن جبريل أتاني فأخبرني أن فيهما قذراً
- أو قال أذى - فألقيتهما، فإذا جاء أحدكم إلى المسجد فلينظر في نعليه فإن رأى فيهما قذراً -أو قال: أذىً -
فليمسحهما وليصلّ فيهما)) (1).
وهذا خاص بإزالة النجاسة، أما من صلَّى وذكر وهو في صلاته أو بعد الانصراف منها أنه على غير وضوء، أو ذكر أنَّ عليه جنابة؛ فإنَّ صلاته باطلة من أولها؛ سواء ذكر أثناء الصلاة أو بعد الانصراف منها، وعليه أن يرفع
--------------------------------------------
এবং তার শরীরে অপবিত্রতা (نجاسة) থাকলেও তার নামাজ শুদ্ধ (صحيحة)। এই সবকিছুর প্রমাণ হলো আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: একদা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। যখন তিনি নামাজের একাংশ পূর্ণ করলেন, তখন তিনি তাঁর জুতো জোড়া খুলে নিজের বাম পাশে রাখলেন। যখন লোকজন তা দেখল, তারা তাদের জুতো জোড়াও খুলে ফেলল। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নামাজ শেষ করলেন, তিনি বললেন: «তোমাদের কী হলো যে তোমরা তোমাদের জুতো জোড়া খুলে ফেললে?» তারা বলল: আমরা আপনাকে আপনার জুতো খুলতে দেখে আমাদের জুতোও খুলে ফেলেছি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমার কাছে এসে আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তাতে ময়লা (قذر)
—অথবা তিনি বলেছেন অপবিত্রতা (أذى)—রয়েছে, তাই আমি তা খুলে ফেলেছি। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসবে, তখন সে যেন তার জুতো জোড়ার দিকে লক্ষ্য করে। যদি সে তাতে ময়লা (قذر)—অথবা তিনি বলেছেন অপবিত্রতা (أذى)—
দেখতে পায়, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে এবং তাতে নামাজ আদায় করে নেয়» (১)।
আর এটি কেবল অপবিত্রতা (نجاسة) দূর করার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নামাজ পড়ল এবং নামাজরত অবস্থায় অথবা নামাজ শেষ করার পর স্মরণ করল যে সে অযু (وضوء) ছাড়াই ছিল, অথবা স্মরণ করল যে তার ওপর জানাবাত (جنابة) তথা গোসল ফরজ ছিল; তবে তার নামাজ শুরু থেকেই বাতিল (باطلة); চাই সে নামাজের ভেতরে স্মরণ করুক বা নামাজ শেষ করার পর। এবং তার ওপর আবশ্যক হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحدث ثم يُعيد الصلاة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تُقبل صلاة بغير طهور
… )) (1).
12 - الخمر: جماهير العلماء على أن الخمر نَجِسَة العين. قال شيخ الإسلام ابن تيمية، رحمه الله تعالى: ((
… والمائعات المسكِّرة كلها نَجِسة؛ لأنَّ الله سمَّاها رِجساً، والرِّجس هو القَذِر والنّجس الذي يجب اجتنابه، وأمر باجتنابه مطلقاً وهو يَعُمُّ الشُّرب، والمسّ وغير
ذلك، وأمر بإراقتها ولعن النبي صلى الله عليه وسلم عينها
… )) (2) وقال الشنقيطي رحمه الله: ((وجماهير العلماء على أن الخمر نّجِسَة العين لما ذكرنا، وخالف في ذلك ربيعة، والليث، والمزني صاحب الشافعي وبعض المتأخرين من البغداديين والقرويين كما نقله عنهم القرطبي في تفسيره، واستدلُّوا لطهارة عينها بأنَّ المذكورات معها في الآية (3):
--------------------------------------------
ওযু ভঙ্গ হওয়া (الحدث), এরপর সে সালাত পুনরায় আদায় করবে; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: ((পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করা হয় না
… )) (১)।
১২ - মদ: অধিকাংশ আলেম (جماهير العلماء) এই মত পোষণ করেন যে, মদ সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة العين)। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((
… এবং সমস্ত নেশাজাতীয় তরল অপবিত্র (نجسة); কারণ আল্লাহ এগুলোকে 'রিজস' (অপবিত্রতা) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর 'রিজস' হলো নোংরা ও অপবিত্র (النجس) যা পরিহার করা আবশ্যক, এবং তিনি এটি সাধারণভাবে পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন যা পান করা, স্পর্শ করা এবং অন্যান্য বিষয়কেও
অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এটি ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের সত্তাকে অভিশাপ দিয়েছেন
… )) (২)। এবং শানকিতি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে জমহুর আলেমগণ (جماهير العلماء) একমত যে মদ সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة العين)। তবে রাবিআহ, লাইস, শাফেয়ী রহ.-এর অনুসারী মুজানি এবং বাগদাদ ও কাইরুয়ানের পরবর্তীকালের কিছু আলেম এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমনটি কুরতুবি তার তাফসির গ্রন্থে তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা মদের সত্তা পবিত্র (طهارة) হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন এই মর্মে যে, আয়াতে মদের সাথে অন্য যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে (৩):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من مال مَيْسرَ، ومال قِمَار، وأَنْصاب، وأزْلام ليست نجسة العين وإن كانت محرمة الاستعمال، وأُجيب من جهة الجمهور بأنَّ قوله: {رجس} يقتضي نجاسة العين في الكل، فما أخرجه إجماع أو نص خرج بذلك، وما لم يخرجه نص ولا إجماع لزم الحكم بنجاسته؛ لأن خروج بعض ما تناوله العام بمخصص من المخصصات لايسقط الاحتجاج به في الباقي كما هو مقرر في
الأصول .. وعلى هذا فالمسكِّر الذي عمَّت به البلوَى اليوم بالتَّطيُّب به المعروف في اللِّسان الدارج: (بالكلونيا) نجس لا تجوز الصَّلاة به، ويُؤَيِّدُهُ أنَّ قوله تعالى: {فَاجْتَنِبُوهُ} يقتضي الاجتناب المطلق الذي لا ينتفع معه بشيء من المسكِّر، وما معه في الآية بوجهٍ من الوجوه .. فلا يخفى على منصف أن التضمخ بالطيب المذكور والتّلذُّذ بريحه واستطابته واستحسانه - مع أنه
মায়সির ও কিমার (জুয়া), আনসাব (পূজার বেদী) এবং আযলাম (ভাগ্য নির্ধারক তীর) থেকে অর্জিত সম্পদ সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة العين) নয়, যদিও এগুলোর ব্যবহার হারাম। জুমহুর (جمهور) উলামাগণের পক্ষ থেকে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহর বাণী: {অপবিত্র (رجس)} সবকিছুর ক্ষেত্রে সত্তাগত অপবিত্রতা (نجاسة العين) দাবি করে। সুতরাং যা ঐকমত্য (إجماع) অথবা অকাট্য প্রমাণ (نص) দ্বারা পৃথক করা হয়েছে তা এর বাইরে থাকবে, আর যা অকাট্য প্রমাণ (نص) বা ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা পৃথক করা হয়নি তার ব্যাপারে অপবিত্রতার হুকুম প্রদান করা আবশ্যক; কেননা কোনো বিশেষত্ব দানকারী (مخصص) দ্বারা সাধারণ (عام) নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশ বিশেষায়িত হয়ে গেলে অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে তা দলিল হিসেবে পেশ করা (احتجاج) বাতিল হয়ে যায় না, যেমনটি উসুল
(أصول) শাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। এর ভিত্তিতে, বর্তমানে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে যে মাদকদ্রব্য সর্বজনীন সমস্যায় (عمت به البلوى) পরিণত হয়েছে এবং প্রচলিত ভাষায় যাকে ‘কলোনিয়া’ বলা হয়, তা অপবিত্র এবং তা মেখে সালাত আদায় করা জায়েয নয়। একে সমর্থন করে মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো}, যা নিরঙ্কুশ বর্জন দাবি করে যার ফলে মাদকদ্রব্য এবং আয়াতের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয় থেকে কোনোভাবেই উপকৃত হওয়া যাবে না। কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তির নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, উক্ত সুগন্ধি শরীরে মাখা, এর সুঘ্রাণ উপভোগ করা এবং একে উত্তম ও পছন্দনীয় মনে করা - যদিও এটি...
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مسكر، والله يُصَرِّحُ في كتابه بأنَّ الخمر رجس - فيه ما فيه، فليس لمسلم أن يتطيب بما سمع ربه يقول فيه: {إنَّهُ رِجْسٌ} كما هو واضح، ويُؤَيِّدُهُ أنّه صلى الله عليه وسلم، أمر بإراقة الخمر، فلو كانت فيها منفعة أخرى لبيّنها كما بيَّن جواز الانتفاع بجلود الميتة، ولَما أراقها (1).
13 - والخلاصة: أنَّ الأصل في الأشياء: الطَّهارة والإباحة، فإذا شكَّ المسلم في نجاسة ماء، أو ثوب، أو بُقعة أو غيرها فهو طاهر، وكذلك إذا تيقَّن الطهارة ثم شك هل تنجس أم لا؟ بنى على ما تَيَقَّنَهُ من طهارةٍ، وكذلك إذا تَيقَّن النجاسة وشكَّ في الطهارة بنى على ما تيقَّنه، وكذلك إذا تيقَّن الحدث وشكَّ في زواله بنى على ما تيقّنه، وإذا شكَّ في عدد الركعات، أو الأطواف، أو
--------------------------------------------
মাদকদ্রব্য; আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে মদ অপবিত্র (رجس) - এতে যা পর্যালোচনার আছে তা রয়েছে। সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য এমন বস্তু দিয়ে সুগন্ধি মাখা সমীচীন নয় যার সম্পর্কে সে তার প্রতিপালককে বলতে শুনেছে: {নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (رجس)}, যেমনটি সুস্পষ্ট। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদ ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি এতে অন্য কোনো উপকারিতা থাকত, তবে তিনি তা বর্ণনা করতেন যেভাবে তিনি মৃত পশুর চামড়া ব্যবহারের বৈধতা বর্ণনা করেছেন; তিনি তা ঢেলে ফেলতেন না (১)।
১৩ - সারকথা: বস্তুর ক্ষেত্রে মূল মূলনীতি হলো: পবিত্রতা (الطهارة) ও বৈধতা (الإباحة)। সুতরাং যদি কোনো মুসলিম পানি, পোশাক, স্থান বা অন্য কিছুর অপবিত্রতা (نجاسة) সম্পর্কে সংশয়ে পতিত হয়, তবে তা পবিত্র (طاهر) বলে গণ্য হবে। তদ্রূপ সে যদি পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে এবং এরপর অপবিত্র হয়েছে কি না সে বিষয়ে সংশয় পোষণ করে, তবে সে তার নিশ্চিত পবিত্রতার (الطهارة) ওপর ভিত্তি করবে। একইভাবে যদি সে অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে এবং পবিত্রতার বিষয়ে সংশয় বোধ করে, তবে সে তার নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে। ঠিক তেমনিভাবে যদি সে হাদাস (الحدث) বা অপবিত্র অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে এবং তা দূর হওয়া সম্পর্কে সংশয় বোধ করে, তবে সে তার নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে। আর যদি সে রাকাত সংখ্যা বা তাওয়াফ সংখ্যা নিয়ে সন্দেহে পতিত হয়, অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الطلقات بنى على اليقين وهو الأقل، وهذه قاعة عظيمة وهي استصحاب الحال المعلوم واطِّراح الشكّ (1)؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم، للرجل الذي يُخيَّل إليه أنه يجد الشيء في الصلاة: ((لا ينصرف حتى يسمع صوتاً أو يجد ريحاً)) (2).
14 - وجميع الأواني مباحة؛ لأن الأصل فيها الإباحة (3) إلا ما خصَّه الدليل بالتَّحريم، كآنية الذَّهب والفضّة وما فيه شيء منهما - إلا الضبَّة اليسيرة من
--------------------------------------------
তালাকের সংখ্যার ক্ষেত্রেও নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর ভিত্তি করতে হবে, আর তা হলো সর্বনিম্ন সংখ্যা। এটি একটি মহান মূলনীতি, আর তা হলো বিদ্যমান অবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب الحال) এবং সংশয়কে (شك) বর্জন করা (১); এই কারণেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যার মনে হয় যে সে সালাতের মধ্যে কিছু অনুভব করছে: "সে যেন সালাত ছেড়ে না যায় যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো ঘ্রাণ পায়" (২)।
১৪ - এবং সকল প্রকার পাত্রই বৈধ (مباح); কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে মূল নীতি (الأصل) হলো বৈধতা (إباحة) (৩), তবে দলিল (دليل) দ্বারা যেগুলোকে নিষিদ্ধকরণের (تحريم) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলো ব্যতীত। যেমন: সোনা ও রূপার পাত্র এবং যাতে এ দুটির কোনো কিছু রয়েছে—সামান্য রূপার জোড়া লাগানো অংশ ব্যতীত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفضة في الإناء للحاجة (1) -؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تشربوا في آنية الذهب والفضة ولا تأكلوا في صحافهما فإنها لهم في الدنيا ولكم في الآخرة)) (2).
--------------------------------------------
প্রয়োজনে পাত্রে রূপার ব্যবহার (১) -; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর থালায় আহার করো না, কারণ তা দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثالث: سنن الفطرةالفطرة المقصودة في هذا المبحث: هي السُّنَّة عند أكثر أهل العلم.
قالوا: والمعنى: إنها من سنن الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، ولا شكَّ أنّ بعض الخصال واجبة وبعضها مُستحبة، ولا يمتنع قرن الواجب بغيره (1)، ومن هذه الخصال ما يلي:
1 - الختان: وهو قطع جميع الجلدة التي تُغطِّي حشفة الرجل حتى تنكشف جميع الحشفة، وأما المرأة فَيُقطع الجزء الأعلى من اللَّحمة التي كالنَّواة، وهي تُشبه عُرف الدِّيك، وهي في أعلى الفرج فوق محل الإيلاج، ويُستحبُّ أن لا تُؤخذ كُلُّها؛ لأنَّ المقصود تقليل
شهوتها (2)؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لبعض الختَّانات في المدينة: ((إذا
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিতরাতের সুন্নতসমূহ (سنن الفطرة)এই পরিচ্ছেদে উদ্দেশ্যকৃত ফিতরাত হলো: অধিকাংশ আলেমগণের (أهل العلم) মতে এটি হলো সুন্নত (السنة)।
তাঁরা বলেন: এর অর্থ হলো, এগুলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নতসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর কিছু বৈশিষ্ট্য ওয়াজিব (واجبة) এবং কিছু মুস্তাহাব (مستحبة)। আর ওয়াজিবকে (الواجب) অন্যটির সাথে একত্রে উল্লেখ করাতে কোনো বাধা নেই (১)। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
১ - খতনা (الختان): তা হলো পুরুষের লিঙ্গাগ্রের ত্বক (লিঙ্গমুণ্ডুর আবরণ) সম্পূর্ণ কেটে ফেলা যাতে পুরো লিঙ্গাগ্র উন্মুক্ত হয়। আর নারীর ক্ষেত্রে, বীজের মতো মাংসপিণ্ডের উপরের অংশটুকু কেটে ফেলা হয়, যা মোরগের ঝুঁটির মতো দেখায়। এটি যৌনাঙ্গের উপরের অংশে প্রবেশের জায়গার উপরে অবস্থিত। আর এটি সম্পূর্ণ না কাটা মুস্তাহাব (يستحب); কারণ এর উদ্দেশ্য হলো তার কামভাব হ্রাস করা (২); মদিনার কিছু খতনাকারিনীর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: ((যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
خفضت (1) فأشمِّي (2) ولا تنهكي (3) فإنه أسرى للوجه وأحظى عند الزوج)) (4).
والختان يجب على الرجال، ويُستحب في حق النساء على الصحيح من أقوال أهل العلم (5)؛ ولهذا ((اختتن
إبراهيم عليه السلام وهو ابن ثمانين سنة بالقَدُّوم)) (6)؛ ولحديث:
--------------------------------------------
((যখন তুমি খতনা (خفضت) করো (১), তখন সামান্য অংশ কাটো (২) এবং সমূলে উৎপাটন করো না (৩); কেননা তা চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং স্বামীর নিকট অধিক তৃপ্তিদায়ক হয়)) (৪)।
আর খতনা পুরুষদের জন্য আবশ্যক (واجب), এবং আলেমগণের বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে নারীদের ক্ষেত্রে তা মুস্তাহাব (مستحب) (৫); একারণেই ((ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আশি বছর বয়সে কুঠার (بالقدوم) দিয়ে খতনা করেছিলেন)) (৬); এবং এই হাদিসের কারণে:
--------------------------------------------