(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
طهور المسلم في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: طهور المسلم في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم، وفضائل، وآداب، وأحكام

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 182

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিমের পবিত্রতা   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিমের পবিত্রতা - সংজ্ঞা، ফজিলত، আদব، ও বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
19

سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

_

طهور المسلم في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم، وفضائل، وآداب، وأحكام
19

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির গ্রন্থাবলি

_

কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে মুসলিমের পবিত্রতা - সংজ্ঞা, ফজিলত (فضائل), শিষ্টাচার (آداب) ও বিধানসমূহ (أحكام)
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن … الرحيم

 

قال الله تعالى:

{إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ … } البقرة: 222.

وقال صلى الله عليه وسلم:

((الطهور شطر الإيمان)).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর … নামে।

 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

{নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের … ভালোবাসেন} আল-বাকারা: ২২২।

এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

((পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক))।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهدِهِ الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً. أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((طهور المسلم)) بينت فيها: مفهوم، وفضائل، وآداب، وأحكام الطهارة التي هي شطر الإيمان، ومفتاح الصلاة، وذكرت فيها كل ما يحتاجه المسلم في طهارته ونظافته ونزاهته، كل ذلك مقروناً بالأدلة من الكتاب والسنة، فما كان من صواب فمن الله الواحد المنّان، وما كان من خطأ أو تقصير فمني ومن الشيطان، والله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি 'মুসলমানের পবিত্রতা' বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি পবিত্রতার সংজ্ঞা, ফযিলত, আদব ও বিধি-বিধানসমূহ বর্ণনা করেছি; যা ঈমানের অর্ধেক এবং সালাতের চাবিকাঠি। একজন মুসলমানের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং নির্মলতার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমি তার সবকিছুই এতে উল্লেখ করেছি। এই সবকিছুর বর্ণনায় আমি কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহ উপস্থাপন করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহান দাতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল বা ত্রুটি হয়েছে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আর আল্লাহ...
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بريء منه ورسوله صلى الله عليه وسلم (1).

 

وقد عرضت ما أشكل عليّ من مسائله الخلافية على سماحة الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، رحمه الله تعالى، وأعظم مثوبته، فأخذت بما يُرجحه (2)، غفر الله له ورحمه.

وقد قسمت البحث إلى تسعة مباحث وتحت كل مبحث مطالب ومسالك في الغالب مرقَّمة على النحو الآتي:

- المبحث الأول: مفهوم الطهارة وأنواعها.

- المبحث الثاني: أنواع النجاسات ووجوب تطهيرها أو زوالها.

--------------------------------------------

(1) اقتداء بما قاله عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أخرجه أبو داود في كتاب النكاح، باب فيمن تزوج ولم يسمِّ صداقاً حتى مات، برقم 2116، وصححه الألباني في صحيح أبي داود، 2/ 397، وانظر: الروح لابن القيم ص 30.

(2) سواء كان ذلك عن طريق المقابلة والاستفتاء أو الرجوع إلى مؤلفاته وترجيحاته وتقريراته عند العجز عن المقابلة.
তিনি (আল্লাহ) এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে দায়মুক্ত (১)।

 

আমি এই বিষয়ের মতপার্থক্যপূর্ণ (الخلافية) মাসআলাগুলোর মধ্যে যা আমার নিকট অস্পষ্ট ছিল, তা মহামান্য ইমাম আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা)-এর নিকট পেশ করেছি—আল্লাহ তাঁর সওয়াব বৃদ্ধি করুন—অতঃপর তিনি যেটিকে প্রাধান্য (يُرجحه) দিয়েছেন আমি সেটিই গ্রহণ করেছি (২), আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন ও তাঁর প্রতি দয়া করুন।

আমি গবেষণাটিকে নয়টি অধ্যায়ে (مباحث) বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে সাধারণ কিছু অনুচ্ছেদ ও পদ্ধতি রয়েছে, যা সাধারণত নিম্নোক্ত উপায়ে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে:

- প্রথম অধ্যায় (المبحث الأول): পবিত্রতার (الطهارة) ধারণা ও এর প্রকারভেদ।

- দ্বিতীয় অধ্যায় (المبحث الثاني): অপবিত্রতার (النجاسات) প্রকারভেদ এবং তা পবিত্র করা অথবা দূর করার আবশ্যকতা।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যা বলেছেন তাঁর অনুসরণ করে; আবু দাউদ এটি কিতাবুন নিকাহ-এর 'যে ব্যক্তি বিবাহ করল এবং মোহর নির্ধারণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করল' অধ্যায়ে ২১১৬ নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ আবু দাউদ-এর ২/৩৯৭ পৃষ্ঠায়। আরও দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের আর-রূহ, পৃষ্ঠা ৩০।

(২) চাই তা সরাসরি সাক্ষাৎ ও ফতওয়া জিজ্ঞাসার মাধ্যমে হোক অথবা সরাসরি সাক্ষাতে অক্ষম হলে তাঁর রচনাবলি, অগ্রাধিকারমূলক অভিমত (ترجيحاته) ও সিদ্ধান্তসমূহ (تقريراته) পর্যালোচনার মাধ্যমে হোক।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
- المبحث الثالث: سنن الفطرة وأنواعها.

- المبحث الرابع: آداب قضاء الحاجة.

- المبحث الخامس: الوضوء.

- المبحث السادس: المسح على الخفين والعمائم والجبيرة.

- المبحث السابع: الغسل.

- المبحث الثامن: التيمم.

- المبحث التاسع: الحيض والنفاس والاستحاضة والسلس.

وأسأل الله العظيم بأسمائه الحسنى وصفاته العُلا أن يجعل هذا العمل القليل مباركاً خالصاً لوجهه الكريم، مقرباً لمؤلفه، وقارئه، وطابعه، وناشره من جنات النعيم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه، إنه خير مسئول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيد الناس أجمعين، نبينا محمد
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিতরাতের সুন্নাতসমূহ এবং এর প্রকারভেদ।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শৌচকার্য সম্পাদনের আদবসমূহ।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অজু।

- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: চামড়ার মোজা, পাগড়ি এবং জখমের পট্টির ওপর মাসাহ করা।

- সপ্তম পরিচ্ছেদ: গোসল।

- অষ্টম পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম।

- নবম পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাব, নেফাস, ইস্তিহাযা এবং প্রস্রাব বা বায়ু নিঃসরণের ব্যাধি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করি যেন তিনি এই নগণ্য কাজটিকে বরকতময় এবং একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; আর এর লেখক, পাঠক, মুদ্রণকারী ও প্রকাশককে জান্নাতুন নাঈমের নিকটবর্তী করেন। তিনি যেন আমাকে আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সমস্ত মানুষের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাঙ্গীন দরুদ ও সালাম।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر يوم الإثنين يوم التروية 8/ 12/1415هـ
এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সহচরবৃন্দ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যাঁরা তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের প্রতি (সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক)।

লেখক

সোমবার, তারউইয়ার দিন, ৮/১২/১৪১৫ হিজরি তারিখে এটি লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الأول: تعريف الطهارة وأنواعها

‌‌1 ـ مفهوم الطهارة:

- الطهارة لغة: النظافة والنزاهة عن الأقذار الحسية والمعنوية.

- وشرعاً: ارتفاع الحدث بالماء أو التراب الطهورين المباحين، وزوال النجاسة والخبث، فالطهارة هي زوال الوصف القائم بالبدن المانع من الصلاة ونحوها (1).

 

‌‌2 - الطهارة نوعان: معنوية وحسية:

‌‌النوع الأول: الطهارة الباطنة المعنوية، وهي: الطهارة من الشرك والمعاصي، وتكون بالتوحيد والأعمال الصالحة، وهي أهم من طهارة البدن، بل لا يمكن أن تقوم طهارة البدن مع وجود نجس الشرك

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني لابن قدامة 1/ 12،وتوضيح الأحكام من بلوغ المرام لعبد الله البسام،

1/ 87.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্রতার (طهارة) সংজ্ঞা ও তার প্রকারভেদ

১ ـ পবিত্রতার (طهارة) ধারণা:

- আভিধানিক অর্থে পবিত্রতা (طهارة): দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নোংরামি হতে পরিচ্ছন্ন ও বিমুক্ত থাকা।

- শরিয়তের পরিভাষায়: বৈধ ও পবিত্র (طهور) পানি অথবা মাটির মাধ্যমে অপবিত্রতা (حدث) দূর করা এবং নাপাকি (نجاسة) ও মলীনতা (خبث) দূরীভূত করা। মূলত পবিত্রতা (طهارة) হলো শরীরের ওপর বিদ্যমান এমন একটি অবস্থার অবসান ঘটানো, যা নামাজ বা অনুরূপ ইবাদত পালনে বাধা প্রদান করে (১)।

 

২ - পবিত্রতা (طهارة) দুই প্রকার: আত্মিক ও শারীরিক:

প্রথম প্রকার: অভ্যন্তরীণ বা আত্মিক পবিত্রতা (طهارة), আর তা হলো: শিরক (شرك) ও পাপাচার হতে পবিত্র হওয়া। এটি তাওহিদ (توحيد) ও নেক আমলের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি শারীরিক পবিত্রতার (طهارة) চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ; বরং শিরকের (شرك) নাপাকি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় শরীরের পবিত্রতা (طهارة) সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামা প্রণীত আল-মুগনি ১/১২, এবং আবদুল্লাহ আল-বাসসাম প্রণীত তাওদিহুল আহকাম মিন বুলুগিল মারাম, ১/৮৭।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
{إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} (1)، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن المؤمن لا ينجس)) (2)، فيجب على كل مُكلَّفٍ أن يُطَهِّرَ قلبه من نجاسة الشِّرك، والشَّكِّ، وذلك بالإخلاص والتوحيد، واليقين. ويُطَهِّر نفسه وقلبه من أقذار المعاصي، وآثار الحسد، والحقد، والغلّ، والغِشّ، والكبر، والعجب، والرِّياء والسُّمعة … وذلك بالتوبة الصادقة من جميع الذنوب والمعاصي. وهذه الطهارة هي شطر الإيمان والشطر الثاني هي الطهارة الحسية.

 

‌‌النوع الثاني: الطهارة الحسية: وهي الطهارة من الأحداث والأنجاس، وهذا هو شطر الإيمان الثاني، قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((الطهور شطر الإيمان)) (3). وتكون بما شرع

الله من الوضوء، والغسل، أو التيمم عند فقد الماء.

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 28.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الغسل، باب عرق الجنب وأن المسلم لا ينجس، برقم 283، ومسلم في كتاب الحيض، باب الدليل على أن المسلم لا ينجس، برقم 371 من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب فضل الوضوء، برقم 223.
{নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র (نجس)} (১), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মুমিন অপবিত্র হয় না)) (২)। সুতরাং প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর আবশ্যক হলো তার অন্তরকে শিরক ও সন্দেহের নাপাকি (نجاسة) থেকে পবিত্র করা; আর তা ইখলাস, তাওহীদ এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) মাধ্যমে। এবং নিজের নফস ও অন্তরকে পাপাচারের আবর্জনা এবং হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা, প্রতারণা, অহংকার, আত্মমুগ্ধতা, রিয়া (رِياء) ও সুমআহ (سُمعة)-এর প্রভাব থেকে পবিত্র করা … আর তা হবে সকল গুনাহ ও পাপাচার থেকে একনিষ্ঠ তওবার মাধ্যমে। আর এই পবিত্রতা (طهارة) হলো ঈমানের অর্ধাংশ এবং দ্বিতীয় অর্ধাংশ হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতা।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতা: আর তা হলো অপবিত্রতা (أحداث) ও নাপাকি (أنجاس) থেকে পবিত্র হওয়া। এটি হলো ঈমানের দ্বিতীয় অর্ধাংশ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ)) (৩)। আর তা সম্পাদিত হয় আল্লাহর বিধান অনুযায়ী

ওযু, গোসল অথবা পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৮।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): ইমাম বুখারী এটি কিতাবুল গোসল, পরিচ্ছেদ: জুনুব ব্যক্তির ঘাম এবং মুসলিম অপবিত্র হয় না, হাদিস নং ২৮৩; এবং ইমাম মুসলিম কিতাবুল হায়েয, পরিচ্ছেদ: মুসলিম যে অপবিত্র হয় না তার প্রমাণ, হাদিস নং ৩৭১-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম মুসলিম এটি কিতাবুত তাহারাহ, পরিচ্ছেদ: ওযুর ফযিলত, হাদিস নং ২২৩-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وزوال النجاسة أو إزالتها من اللِّباس، والبدن، ومكان الصلاة (1).

 

‌‌3 - تكون الطهارة بطهورين:

‌‌الأول: الطهارة بالماء، وهي الأصل، فكلُّ ماءٍ نزل من السماء، أو خرج من الأرض وهو باقٍ على أصل خلقته فهو طهور، يُطهِّر من الأحداث والأخباث، ولو تغير طعمه، أو لونه، أو ريحه بشيء طاهر، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إن الماء طَهورٌ لا ينجِّسُهُ شيء)) (2)، ومن ذلك: ماء المطر، ومياه العيون، والآبار، والأنهار، والأودية، والثلوج

الذائبة، والبحار، قال صلى الله عليه وسلم في ماء البحر: ((هو الطّهور ماؤه

--------------------------------------------

(1) انظر: الشرح الممتع على زاد المستقنع لابن عثيمين 1/ 19، ومنهاج المسلم لأبي بكر الجزائري ص170، وشرح عمدة الأحكام للمقدسي لسماحة العلامة ابن باز ص2 مخطوط في مكتبتي الخاصة.

(2) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب ما جاء في بئر بضاعة، برقم 67، والترمذي في كتاب الطهارة، باب ما جاء أن الماء لا ينجسه شيء، برقم 66، والنسائي في كتاب المياه، باب ذكر بئر بضاعة، برقم 325، وصححه أحمد، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود 1/ 16.
এবং পোশাক, শরীর ও নামাজের স্থান থেকে অপবিত্রতা দূর হওয়া অথবা তা দূরীভূত করা (১)।

 

‌‌৩ - পবিত্রতা (طهارة) অর্জিত হয় দুই প্রকার পবিত্রকারী (طهور) বস্তু দ্বারা:

‌‌প্রথমটি: পানি দ্বারা পবিত্রতা (طهارة) অর্জন, এটিই মূল ভিত্তি। সুতরাং আকাশ থেকে যা কিছু বর্ষিত হয় অথবা যা জমিন থেকে নির্গত হয় এবং যা তার সৃষ্টির মূল প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট থাকে, তাই পবিত্রকারী (طهور); যা হাদাস (أحداث) ও নাপাকি (أخباث) থেকে পবিত্র করে, যদিও কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে এর স্বাদ, বর্ণ বা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী (طهور), কোনো কিছুই একে নাপাক করতে পারে না" (২)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বৃষ্টির পানি, ঝরনা, কূপ, নদী, উপত্যকা, গলিত বরফ এবং সমুদ্রের পানি। সমুদ্রের পানি সম্পর্কে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এর পানি পবিত্রকারী (طهور)..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে উসাইমীন কৃত আশ-শারহুল মুমতি আলা জাদিল মুসতাকনি ১/১৯, আবু বকর আল-জাযাইরি কৃত মিনহাজুল মুসলিম পৃ. ১৭০ এবং সমকালীন বিজ্ঞ আল্লামা ইবনে বায কৃত শারহু উমদাতিল আহকাম লিল মাকদিসি পৃ. ২ (যা আমার নিজস্ব লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ 'কিতাবুত তাহারাত' (পবিত্রতা অধ্যায়), 'বি'রে বুদ্বাআহ' সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৬৭; তিরমিযী 'কিতাবুত তাহারাত', 'পানিকে কোনো কিছু নাপাক করতে পারে না' সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৬৬; নাসায়ী 'কিতাবুল মিয়াহ' (পানি অধ্যায়), 'বি'রে বুদ্বাআহ' এর বিবরণ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩২৫। ইমাম আহমাদ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আলবানী একে সহিহ সুনান আবু দাউদ ১/১৬-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الحِلُّ ميتته)) (1).

أما ماء زمزم فقد ثبت من حديث علي رضي الله عنه: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعا بسجلٍ من زمزم فشرب منه وتوضأ)) (2)، فإن تغير: لون الماء، أو طعمه، أو ريحه بنجاسة فهو نجس بالإجماع يجب اجتنابه (3).

 

‌‌الثاني: الطهارة بالصعيد الطاهر، وهو بدل عن الطهارة بالماء، إذا تعذر استعمال الماء لأعضاء الطهارة، أو بعضها لعدمه، أو خوف ضرر باستعماله فيقوم التراب

الطاهر مقام الماء (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب الوضوء بماء البحر، برقم 83، والترمذي في كتاب الطهارة، باب ما جاء في ماء البحر أنه طهور، برقم 69، والنسائي في كتاب المياه، باب الوضوء بماء البحر، برقم 331، وابن ماجه في كتاب الطهارة وسننها، باب الوضوء بماء البحر، برقم 386. وقال الترمذي: ((هذا حديث حسن صحيح))، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 19، وسلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 480.

(2) أخرجه الإمام أحمد في ((زوائد المسند)) 1/ 76، وحسنه الألباني في إرواء الغليل،

1/ 45، برقم 13، وتمام المنة ص 46.

(3) انظر فتاوى ابن تيمية 21/ 30، وسبل السلام شرح بلوغ المرام للصنعاني 1/ 22.

(4) انظر: منهاج السالكين وتوضيح الفقه في الدين للعلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي، ص 13.
((তার মৃত জীব হালাল)) (১)।

আর জমজমের পানির বিষয়ে আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি জমজমের পানি চাইলেন, এরপর তিনি তা থেকে পান করলেন এবং অজু করলেন)) (২)। যদি নাপাকির কারণে পানির রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) তা অপবিত্র (نجس) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা বর্জন করা ওয়াজিব (৩)।

 

‌‌দ্বিতীয়: পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন, যা পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প; যখন পবিত্রতার অঙ্গসমূহে বা এর কোনো অংশে পানির অনুপস্থিতির কারণে পানি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়, অথবা ব্যবহারের ফলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তখন পবিত্র মাটি পানির স্থলাভিষিক্ত হবে (৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ পবিত্রতা অধ্যায়ে, সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু পরিচ্ছেদে, নং ৮৩; তিরমিযি পবিত্রতা অধ্যায়ে, সমুদ্রের পানির পবিত্রতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে, নং ৬৯; নাসায়ি পানি অধ্যায়ে, সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু পরিচ্ছেদে, নং ৩৩১; এবং ইবনে মাজাহ পবিত্রতা ও তার সুন্নতসমূহ অধ্যায়ে, সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু পরিচ্ছেদে, নং ৩৮৬-তে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযি বলেছেন: ((এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح))); আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/১৯ এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ, নং ৪৮০-এ সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

(২) এটি ইমাম আহমদ যাওযাইদুল মুসনাদ ১/৭৬-এ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে ইরওয়াউল গালিল, ১/৪৫, নং ১৩ এবং তামামুল মিন্নাহ পৃষ্ঠা ৪৬-এ হাসান (حسن) বলেছেন।

(৩) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২১/৩০ এবং সানআনি রচিত সুবুলুস সালাম শারহু বুলুগিল মারাম ১/২২।

(৪) দেখুন: আল্লামা আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদি রচিত মিনহাজুস সালিকিন ওয়া তাওযিহুল ফিকহি ফিদ-দিন, পৃষ্ঠা ১৩।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثاني: أنواع النجاسات ووجوب تطهيرها أو زوالها

النجاسة: هي القذارة التي يجب على المسلم أن يتنزَّه عنها ويغسل ما أصابه منها، قال الله تعالى: {وَثِيَابَكَ

فَطَهِّرْ} (1)، وقال سبحانه: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُواْ النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىَ يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} (2) ومن هذه النجاسات ما يأتي:

 

‌‌1 - بول الآدمي وغائطه، ويكون تطهيره بالغسل والإزالة على النحو الآتي:

‌‌أ - تطهير بول الغلام والجارية .. قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((بول الغلام يُنضَح (3) وبول الجارية يُغْسَل)) (4) وهذا

--------------------------------------------

(1) سورة المدثر، الآية: 4.

(2) سورة البقرة، الآية: 222.

(3) النضح: هو البل بالماء والرش. فبول الغلام الذي لم يطعم ولم يأكل يكفي فيه أن يرش فيُتبع بالماء دون فرك ولا عصر حتى يشمله كله. انظر: النهاية في غريب الحديث، 5/ 69، والقاموس المحيط، ص313، والمصباح المنير، 2/ 609، والشرح الممتع، 1/ 372.

(4) أخرجه أحمد في المسند، 1/ 76، وأبو داود في كتاب الطهارة، باب بول الصبي يصيب الثوب، برقم 610، والترمذي في كتاب الجمعة، باب ما ذكر في نضح بول الغلام الرضيع، برقم 610، وابن ماجه في كتاب الطهارة وسننها، باب ما جاء في بول الصبي الذي لم يطعم، برقم 525. وصححه الألباني في إرواء الغليل 1/ 188، برقم 166.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাপাকির প্রকারভেদ এবং তা পবিত্র করা বা দূর করার আবশ্যকতা

নাপাকি (নাজাসাত): এটি এমন অপবিত্রতা যা থেকে বেঁচে থাকা এবং যা শরীরে বা পোশাকে লাগলে তা ধৌত করা একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আপনার পোশাক পবিত্র করুন} (১), এবং তিনি আরও বলেন: {লোকেরা আপনার নিকট ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা হলো কষ্টদায়ক বস্তু। সুতরাং ঋতুস্রাবকালে তোমরা স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট ঠিক সেভাবেই গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।} (২) এই নাপাকিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

১ - মানুষের প্রস্রাব ও মল, এবং এগুলো ধৌতকরণ ও দূরীকরণের মাধ্যমে পবিত্র করার পদ্ধতি নিম্নরূপ:

ক - বালক ও বালিকার প্রস্রাব পবিত্র করা .. নবী (সা.) বলেছেন: "বালকের প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং বালিকার প্রস্রাব ধৌত করতে হবে।" (৪) এটি

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২।

(৩) আন-নাদহ: এটি হলো পানি দিয়ে ভেজানো এবং ছিটানো। সুতরাং যে দুগ্ধপোষ্য বালক এখনও অন্য কোনো খাবার গ্রহণ শুরু করেনি, তার প্রস্রাবের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে ঘষা বা নিংড়ানো ছাড়াই আক্রান্ত স্থানে পানি প্রবাহিত করতে হবে যাতে তা পুরো অংশকে শামিল করে। দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, ৫/৬৯, আল-কামুস আল-মুহিত, পৃ. ৩১৩, আল-মিসবাহুল মুনির, ২/৬০৯, আশ-শারহুল মুমতি, ১/৩৭২।

(৪) এটি আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ১/৭৬; আবু দাউদ, কিতাবুত তাহারাহ, অধ্যায়: শিশুর প্রস্রাব পোশাকে লাগলে, হাদিস নং ৬১০; তিরমিজি, কিতাবুল জুমুআ, অধ্যায়: দুগ্ধপোষ্য বালকের প্রস্রাবে পানি ছিটানো প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ৬১০; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তাহারাহ ওয়া সুনানুহা, অধ্যায়: যে শিশু অন্য খাবার খায় না তার প্রস্রাব প্রসঙ্গে যা এসেছে, হাদিস নং ৫২৫। আলবানী এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন ইরওয়াউল গালিল গ্রন্থে, ১/১৮৮, হাদিস নং ১৬৬।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
((ما لم يطعما، فإن طعما غُسِلا جميعاً)) (1).

 

‌‌ب- تطهير النعل يكون بالدَّلك في الأرض؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إذا وَطِئَ أحدكم بنعليه الأذى؛ فإن التراب له طهور)) (2).

‌‌ج - تطهير ذيل ثوب المرأة: يُطَهِّرُهُ التراب، فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أن المرأة إذا مشت في الطريق القذر، وبعده مكان طاهر أطيب منه، فإن ذيل ثوبها

يطهر بذلك؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: ((يطهره ما بعده)) (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب بول الصبي يصيب الثوب، برقم 378، وصححه الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 76، برقم 364، وأصل نضح بول الغلام الصغير الذي لم يأكل الطعام. متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب بول الصبيان، برقم 223، ومسلم في كتاب الطهارة، باب حكم بول الطفل الرضيع وكيفية غسله، برقم 287 من حديث أم قيس بنت محصن.

(2) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب في الأذى يصيب النعل، برقم 385، وصححه الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 77، برقم 371.

(3) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب في الأذى يصيب الذيل، برقم 383، والترمذي في كتاب الطهارة، باب ما جاء في الوضوء من الموطَئ، برقم 143.
((যতক্ষণ না তারা খাবার গ্রহণ করে, কিন্তু যখন তারা খাবার গ্রহণ করবে, তখন উভয়ই ধৌত করা হবে)) (১)।

 

‌‌খ- জুতোর পবিত্রতা অর্জন: জমিনে ঘর্ষণের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়; কারণ নবী (সা.)-এর বাণী: ((তোমাদের কেউ যখন তার জুতো দিয়ে কোনো অপবিত্রতা মাড়ায়, তখন মাটি তার জন্য পবিত্রকারী হয়)) (২)।

‌‌গ- নারীর পোশাকের নিম্নাংশ পবিত্র করা: মাটি একে পবিত্র করে দেয়। নবী (সা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে, নারী যখন কোনো নোংরা রাস্তায় চলে এবং এরপর কোনো পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন স্থানে পৌঁছায়, তখন তার পোশাকের নিম্নাংশ

এর মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যায়; এ কারণেই নবী (সা.) বলেছেন: ((এর পরবর্তী অংশ একে পবিত্র করে দেয়)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা অধ্যায়ে, 'পোশাকে শিশুর প্রস্রাব লাগা' অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩৭৮; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/৭৬, হাদিস নম্বর ৩৬৪। আর যে শিশু খাবার গ্রহণ শুরু করেনি তার প্রস্রাবে পানি ছিটানোর মূল বিষয়টি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন অজু অধ্যায়ে, 'শিশুদের প্রস্রাব' অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ২২৩ এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা অধ্যায়ে, 'দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রস্রাবের বিধান ও তা ধোয়ার পদ্ধতি' অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ২৮৭-এ উম্মে কায়স বিনতে মিহসান-এর বর্ণিত হাদিস থেকে।

(২) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা অধ্যায়ে, 'জুতোর নিচে লাগা ময়লা' অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩৮৫; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/৭৭, হাদিস নম্বর ৩৭১।

(৩) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা অধ্যায়ে, 'পোশাকের নিম্নাংশে ময়লা লাগা' অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩৮৩ এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা অধ্যায়ে, 'মাটির উপর দিয়ে হাঁটার পর অজু' অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ১৪৩।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌د - تطهير الأرض والفراش، إذا أصاب البول أو الغائط الأرض أو الفراش، فإن الغائط يزال ويصب مكانه ماء، أما البول فيكاثر بالماء؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم في الأعرابي الذي بال في المسجد: ((دعوه وأهريقوا على بوله سجلاً من ماء أو ذنوبًا من ماء، فإنما بعثتم ميسرين ولم تبعثوا معسرين)) (1)، وتزال آثار الغائط والبول بالاستنجاء أو الاستجمار كما سيأتي إن شاء الله تعالى.

‌‌2 - دم الحيض، يُطهر بالدَّلْك والغسل، قال صلى الله عليه وسلم في دم الحيض يصيب الثوب: ((تَحتُّهُ، ثم تَقْرُصُه بالماء، ثم

تَنْضَحُهُ، ثم تُصلي فيه)) (2).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب صب الماء على البول في المسجد، برقم 220، ومسلم في كتاب الطهارة، باب وجوب غسل البول وغيره من النجاسات إذا حصلت في المسجد، برقم 284.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب غسل الدم، برقم 227، ومسلم في كتاب الطهارة، باب نجاسة الدم وكيفية غسله، برقم 291.
ঘ - মাটি ও বিছানা পবিত্রকরণ, যদি পেশাব বা পায়খানা মাটি অথবা বিছানায় লাগে, তবে পায়খানা অপসারণ করতে হবে এবং তার স্থানে পানি ঢালতে হবে; আর পেশাবের ক্ষেত্রে তার ওপর অধিক পরিমাণে পানি প্রবাহিত করতে হবে। একারণেই সেই গ্রাম্য ব্যক্তির ব্যাপারে, যে মসজিদে পেশাব করেছিল, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের ওপর এক বালতি বা এক বড় বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদের সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা আরোপকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি)) (১)। আর পায়খানা ও পেশাবের চিহ্ন ইস্তিনজা অথবা ইস্তিজমারের মাধ্যমে দূর করা হয়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচনা করা হবে।

‌‌২ - ঋতুস্রাবের রক্ত, এটি ঘর্ষণ এবং ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র করা হয়। পোশাকে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তুমি তা খুঁটিয়ে তুলে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে, এরপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দেবে, তারপর তাতে সালাত আদায় করবে)) (২)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি ওজু অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: মসজিদে পেশাবের ওপর পানি ঢালা, হাদিস নম্বর ২২০; এবং মুসলিম পবিত্রতা অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: মসজিদে পেশাব বা অন্য কোনো নাপাকি পড়লে তা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ২৮৪-এ সংকলন করেছেন।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি ওজু অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: রক্ত ধৌত করা, হাদিস নম্বর ২২৭; এবং মুসলিম পবিত্রতা অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: রক্তের নাপাকি এবং তা ধৌত করার পদ্ধতি, হাদিস নম্বর ২৯১-এ সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌3 - ولوغ الكلب في الإناء (1)، قال صلى الله عليه وسلم: ((طهور إناء

--------------------------------------------

(1) آسار البهائم، والحيوانات، والسباع فيه تفصيل: ولا شك أن السؤر: هو الفضلة وبقية الشراب أو الطعام. ومعلوم أن الحيوان قسمان: نجس وطاهر. فالقسم الأول نجس وهو نوعان: النوع الأول نجس قولاً واحداً: وهو الكلب والخنزير وما تولد منهما أو من أحدهما فهو نجس عينه وسؤره وجميع ما خرج منه. النوع الثاني مختلف فيه، وهو الحمار الأهلي والبغل، وجوارح الطير: كالصقر والحدأة، وسباع البهائم: كالذئب، والنمر. والأسد. والراجح كما ذهب إليه أكثر أهل العلم أن آسار هذه الحيوانات طاهر؛ لأنه يشق التحرز منها غالباً. انظر: فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، 5/ 380، والمغني، 1/ 68، والشرح الممتع، 1/ 396. القسم الثاني: طاهر في نفسه وسؤره وعرقه وهو ثلاثة أنواع: النوع الأول الآدمي فهو طاهر وسؤره طاهر؛ لأن المؤمن لا ينجس، وحيضة المرأة ليست في يدها. النوع الثاني مأكول اللحم: طاهر وسؤره طاهر بالإجماع، إلا الجلاّلة مختلف في سؤرها، فتكون من النوع الثاني من القسم الأول، وتقدم الترجيح. النوع الثالث: الهرة سؤرها طاهر؛ لأنها من الطوافين. انظر: المغني لابن قدامة، 1/ 64 - 70، ومعلوم أن الحيوان نوعان: ما ليس له نفس سائلة، وما له نفس سائلة: النوع الأول: ما ليس له نفس سائلة، أي لا يسيل دمه إذا قتل أو جرح، وهو على قسمين: الأول: ما يتولد من الطاهر فهو طاهر، حياً وميتاً: كالديدان، والذباب ونحو ذلك، ولكن الذباب إذا وقع في الإناء يغمس فيه؛ لأن في أحد جناحيه داء وفي الآخر دواء. والثاني ما يتولد من النجس كالصراصير متولدة من نجاسة البالوعة فهو نجس حياً وميتاً. النوع الثاني ما له نفس سائلة، وهو ثلاثة أقسام: الأول ما تباح ميتته وهو السمك والجراد، وجميع حيوانات البحر التي لا تعيش إلا في الماء فهو طاهر حياً وميتاً. الثاني ما لا تباح ميتته كحيوان البر المأكول، وحيوان البحر الذي يعيش في البر كالضفدع والتمساح ونحو ذلك فهذا نجس بعد الموت. النوع الثالث: الآدمي طاهر حياً وميتاً. المغني، 1/ 59 - 63، والشرح الممتع، 1/ 74 و77، و378، و393 - 397.
৩ - পাত্রে কুকুরের মুখ দেওয়া (১), রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ((তোমাদের কারো পাত্রের পবিত্রকরণ (طهور) হলো...

--------------------------------------------

(১) চতুষ্পদ জন্তু, অন্যান্য প্রাণী এবং হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্টের (سؤر) বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উচ্ছিষ্ট (سؤر) হলো পানাহার করার পর পাত্রে অবশিষ্ট অংশ। এটি সুপরিচিত যে, প্রাণী দুই প্রকার: অপবিত্র (نجس) এবং পবিত্র (طاهر)। প্রথম প্রকারটি অপবিত্র (نجس), যা আবার দুই ধরনের: প্রথম ধরনটি সর্বসম্মতভাবে অপবিত্র (نجس); আর তা হলো কুকুর ও শূকর এবং এ দুটির কোনো একটি থেকে যা জন্ম নেয়। সুতরাং এদের মূল সত্তা, উচ্ছিষ্ট (سؤر) এবং এদের দেহ থেকে নিঃসৃত সবকিছুই অপবিত্র (نجس)। দ্বিতীয় ধরনটির ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, আর তা হলো গৃহপালিত গাধা, খচ্চর এবং শিকারি পাখি: যেমন বাজপাখি ও চিল, এবং হিংস্র চতুষ্পদ প্রাণী: যেমন নেকড়ে, চিতা ও সিংহ। অধিকাংশ আলিমের মতে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি হলো এই প্রাণীগুলোর উচ্ছিষ্ট (سؤر) পবিত্র (طاهر); কারণ এগুলো থেকে সচরাচর বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন। দেখুন: ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা, ৫/৩৮০; আল-মুগনি, ১/৬৮; আশ-শারহুল মুমতি, ১/৩৯৬। দ্বিতীয় প্রকার: যা স্বয়ং পবিত্র (طاهر) এবং এর উচ্ছিষ্ট (سؤر) ও ঘামও পবিত্র (طاهر)। এটি তিন ধরনের: প্রথম ধরনটি হলো মানুষ; সে পবিত্র (طاهر) এবং তার উচ্ছিষ্টও (سؤر) পবিত্র (طاهر); কারণ মুমিন অপবিত্র (نجس) হয় না, আর নারীর ঋতুকালীন রক্ত (حيضة) তার হাতে লেগে থাকে না। দ্বিতীয় ধরনটি হলো ভক্ষণযোগ্য পশু: এগুলো পবিত্র (طاهر) এবং এগুলোর উচ্ছিষ্ট (سؤر) ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে পবিত্র (طاهر); তবে 'জাল্লালাহ' (নাজাসাত ভক্ষণকারী প্রাণী) এর উচ্ছিষ্টের (سؤر) ব্যাপারে মতভেদ আছে, যা প্রথম প্রকারের দ্বিতীয় ধরনের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং এর অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় ধরন: বিড়াল; এর উচ্ছিষ্ট (سؤر) পবিত্র (طاهر); কারণ এটি মানুষের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী প্রাণী। দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ১/৬৪-৭০। উল্লেখ্য যে, প্রাণী দুই ধরনের: যার প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) নেই এবং যার প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) আছে। প্রথম প্রকার: যার প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) নেই, অর্থাৎ যাকে হত্যা করলে বা আঘাত করলে রক্ত প্রবাহিত হয় না। এটি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, যা পবিত্র (طاهر) বস্তু থেকে জন্মায়, তা জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র (طاهر); যেমন: কৃমি, মাছি ও অনুরূপ পতঙ্গ। তবে মাছি পাত্রে পড়লে তাকে ডুবিয়ে দিতে হবে; কারণ এর এক ডানায় রোগ এবং অন্য ডানায় নিরাময় রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যা অপবিত্র (نجس) বস্তু থেকে জন্মায়, যেমন নর্দমার অপবিত্রতা থেকে সৃষ্ট তেলাপোকা; এগুলো জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় অপবিত্র (نجس)। দ্বিতীয় প্রকার: যাদের প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) আছে, তা তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, যার মৃতদেহ হালাল, যেমন মাছ ও পঙ্গপাল এবং সমুদ্রের সকল প্রাণী যা পানি ছাড়া বাঁচে না; এগুলো জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র (طاهر)। দ্বিতীয়ত, যার মৃতদেহ হালাল নয়, যেমন স্থলের ভক্ষণযোগ্য প্রাণী এবং সমুদ্রের প্রাণী যা স্থলেও বাস করে (যেমন: ব্যাঙ, কুমির ইত্যাদি); এগুলো মৃত্যুর পর অপবিত্র (نجس) হয়ে যায়। তৃতীয় ধরন: মানুষ; সে জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র (طاهر)। আল-মুগনি, ১/৫৯-৬৩; আশ-শারহুল মুমতি, ১/৭৪, ৭৭, ৩৭৮, ৩৯৩-৩৯৭।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أحدكم إذا ولغ فيه الكلب أن يغسله سبع مرات أُولاهنَّ بالتُّراب))، وفي رواية: ((فليرقه … )) الحديث (1).

 

‌‌4 - الدم المسفوح ولحم الخنزير والميتة، {قُل لَاّ أَجِدُ فِي مَا أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَاّ أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ} (2).

وجلد الميتة - التي يؤكل لحمها في حياتها (3) بعد ذكاتها

- يطهر بالدباغ، كما قال صلى الله عليه وسلم: ((إذا دُبغ الإهاب فقد طَهُر)) (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب حكم ولوغ الكلب، برقم 279.

(2) سورة الأنعام، الآية: 145.

(3) قال سماحة شيخنا ابن باز في شرحه لبلوغ المرام حديث رقم 20: واختلف في إهاب ما لا يؤكل لحمه هل يطهر بالدبغ أم لا؟ فقيل: حديث الدباغ عام لجميع الجلود، حتى جلود السباع. وقيل: إنه خاص بما يؤكل لحمه، وأحسن الأقوال وأقربها، وأظهرها أن الدباغ خاص بما يؤكل لحمه، وإن كان القول الآخر قوياً. وانظر: فتاوى ابن تيمية 21/ 90 - 96، والفتاوى الإسلامية 1/ 202، وتهذيب السنن 6/ 64 - 72، وزاد المعاد 5/ 754 - 756، والشرح الممتع 1/ 75.

(4) أخرجه مسلم في كتاب الحيض، باب طهارة جلود الميتة بالدباغ، برقم 366، وأما حديث عبد الله بن عكيم قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم، كتب إلينا ((لا تنتفعوا من الميتة بإهاب ولا عصب))، أخرجه أحمد وأبو داود في كتاب اللباس، باب من روى أن لا ينتفع بإهاب الميتة، برقم 4128، والترمذي في كتاب اللباس، باب ما جاء في جلود الميتة إذا دبغت برقم 1729، والنسائي في كتاب الفرع، باب ما يدبغ به جلود الميتة، برقم 4249، وابن ماجه في كتاب اللباس، باب من قال لا ينتفع من الميتة بإهاب ولا عصب، برقم 3613. وصححه الألباني في الإرواء 1/ 76 - 77. فهذا الحديث قيل فيه: إنه ضعيف، ولا يقابل الحديث الصحيح في مسلم، ولو صح وثبت أنه بعد حديث ميمونة لكان محمولاً على الإهاب قبل الدبغ، فحينئذ يحصل الجمع بينه وبين حديث ميمونة. ورجح هذا سماحة العلامة ابن باز في شرحه لبلوغ المرام، حديث رقم 23، والعلامة ابن عثيمين في الشرح الممتع، 1/ 71، وانظر: التلخيص الحبير،

1/ 47.
তোমাদের কারো (পাত্রে) যখন কুকুর মুখ দেয়, সে যেন তা সাতবার ধৌত করে, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "সে যেন তা ঢেলে ফেলে দেয়..." হাদিস (১)।

 

‌‌৪ - প্রবাহিত রক্ত (الدم المسفوح), শূকরের গোশত ও মৃত প্রাণী (الميتة), {বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে কোনো আহারকারীর জন্য আহার করা হারাম এমন কিছু আমি পাই না, যদি না তা মৃত (ميتة) হয় অথবা প্রবাহিত রক্ত (دما مسفوحا) হয় কিংবা শূকরের গোশত (لحم خنزير) হয়—নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (رجس)—অথবা যা অবাধ্যতা (فسقا) হিসেবে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে} (২)।

আর মৃত প্রাণীর চামড়া—জীবিত অবস্থায় যার গোশত খাওয়া বৈধ ছিল (৩)—তা জবেহ (ذكاتها) করার পর চামড়া পাকা করার (الدباغ) মাধ্যমে পবিত্র হয়।

যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন পশুর কাঁচা চামড়াকে (الإهاب) পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়" (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি পবিত্রতা অধ্যায়ে (كتاب الطهارة), কুকুরের মুখ দেওয়ার বিধান পরিচ্ছেদে (باب حكم ولوغ الكلب), ২৭৯ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।

(২) সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৪৫।

(৩) আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ ইবনে বাজ বুলুগুল মারাম-এর ব্যাখ্যায় ২০ নম্বর হাদিসের আলোচনায় বলেছেন: যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না, তার কাঁচা চামড়া (إهاب) কি পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয় কি না, এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: পাকা করার হাদিসটি সকল চামড়ার জন্য সাধারণ (عام), এমনকি হিংস্র প্রাণীর চামড়ার ক্ষেত্রেও। আবার বলা হয়েছে: এটি কেবল ওই সব প্রাণীর জন্য যার গোশত খাওয়া হয়। আর সবচেয়ে উত্তম, নিকটতর এবং স্পষ্ট মত হলো যে, পাকা করার বিধানটি কেবল ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর চামড়ার জন্য নির্দিষ্ট, যদিও অন্য মতটিও শক্তিশালী (قويا)। দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২১/৯০-৯৬, আল-ফাতাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ ১/২০২, তাহযীবুস সুনান ৬/৬৪-৭২, যাদুল মা'আদ ৫/৭৫৪-৭৫৬, আশ-শারহুল মুমতি' ১/৭৫।

(৪) মুসলিম এটি হায়েয অধ্যায়ে (كتاب الحيض), পাকা করার মাধ্যমে মৃত প্রাণীর চামড়া পবিত্র হওয়া পরিচ্ছেদে (باب طهارة جلود الميتة بالدباغ), ৩৬৬ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল্লাহ ইবনে উকাইমের হাদিসের ক্ষেত্রে, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে লিখে পাঠিয়েছেন যে, "তোমরা মৃত প্রাণীর কাঁচা চামড়া (إهاب) ও স্নায়ু (عصب) থেকে উপকৃত হয়ো না।" এটি আহমাদ ও আবু দাউদ পোশাক অধ্যায়ে (كتاب اللباس), মৃত প্রাণীর কাঁচা চামড়া থেকে উপকৃত না হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদে (باب من روى أن لا ينتفع بإهاب الميتة), ৪১২৮ নম্বর হাদিসে, তিরমিজি পোশাক অধ্যায়ে (كتاب اللباس), চামড়া পাকা করা হলে যা বর্ণিত হয়েছে পরিচ্ছেদে (باب ما جاء في جلود الميتة إذا دبغت), ১৭২৯ নম্বর হাদিসে, নাসাঈ পশুর অতিরিক্ত অংশ অধ্যায়ে (كتاب الفرع), যা দিয়ে চামড়া পাকা করা হয় পরিচ্ছেদে (باب ما يدبغ به جلود الميتة), ৪২৪৯ নম্বর হাদিসে এবং ইবনে মাজাহ পোশাক অধ্যায়ে (كتاب اللباس), যে ব্যক্তি বলেছে মৃত প্রাণীর কাঁচা চামড়া ও স্নায়ু থেকে উপকৃত হওয়া যাবে না পরিচ্ছেদে (باب من قال لا ينتفع من الميتة بإهاب ولا عصب), ৩৬১৩ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন। আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১/৭৬-৭৭ এ একে সহিহ (صححه) বলেছেন। এই হাদিসটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি দুর্বল (ضعيف) এবং এটি মুসলিমের সহিহ (الصحيح) হাদিসের সমকক্ষ নয়। যদি এটি সহিহ (صح) সাব্যস্ত হতো এবং প্রমাণিত হতো যে এটি মায়মুনাহ (রা.)-এর হাদিসের পরবর্তী সময়ের, তবে একে পাকা করার পূর্বের কাঁচা চামড়ার (الإهاب) ওপর প্রয়োগ করা হতো। সেক্ষেত্রে এই হাদিস ও মায়মুনাহ (রা.)-এর হাদিসের মাঝে সমন্বয় (الجمع) সাধিত হতো। শ্রদ্ধেয় আল্লামা ইবনে বাজ বুলুগুল মারাম-এর ব্যাখ্যায় ২৩ নম্বর হাদিসে এবং আল্লামা ইবনে উসাইমীন আশ-শারহুল মুমতি'-তে (১/৭১) একেই প্রাধান্য (رجح) দিয়েছেন। দেখুন: আত-তালখীসুল হাবীর ১/৪৭।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أما ميتة الجراد والسمك، فقد جاء عنه صلى الله عليه وسلم: ((أُحلّ لنا ميتتان ودمان: أما الميتتان فالحوت والجراد، وأما الدمان الكبد والطحال)) (1).

 

‌‌5 - الوَدْيُ: ماء أبيض ثخين، يخرج كَدِراً بعد البول، ويُطهّرُ بغسل الذكر، ثم الوضوء (2)، وإذا أصاب

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند 2/ 97، وابن ماجه في كتاب الصيد، باب صيد الحيتان والجراد، برقم 3218، وفي كتاب الأطعمة، باب الكبد والطحال، برقم 3314، والدارقطني في كتاب الأشربة وغيرها، باب الصيد والذبائح والأطعمة وغير ذلك، برقم 4687.

(2) المغني لابن قدامة 1/ 233، قال الإمام العلامة ابن باز: غسل الأنثيين خاص بالمذي دون الودي.
পঙ্গপাল ও মাছের মৃতদেহ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী এবং দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে: মৃত প্রাণী দুটি হলো মাছ ও পঙ্গপাল, আর রক্ত দুটি হলো কলিজা ও প্লীহা" (১)।

 

‌‌৫ - ওয়াদী (الوَدْيُ): এটি একটি ঘন সাদা তরল, যা প্রস্রাবের পর ঘোলাটে অবস্থায় নির্গত হয়। এটি পুরুষাঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র করা হয়, অতঃপর অজু (الوضوء) করতে হয় (২), এবং যদি এটি লাগে...

--------------------------------------------

(১) আহমদ মুসনাদ ২/৯৭; ইবনে মাজাহ, শিকার অধ্যায়, মাছ ও পঙ্গপাল শিকার পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩২১৮; এবং খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়, কলিজা ও প্লীহা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৩১৪; এবং দারাকুতনি, পানীয় ও অন্যান্য অধ্যায়, শিকার, জবেহ ও খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৬৮৭।

(২) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ১/২৩৩; ইমাম আল্লামা ইবনে বাজ বলেছেন: অণ্ডকোষ ধৌত করা কেবল মাযী (المذي)-র ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, ওয়াদী (الوَدْيُ)-র জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
البدن منه شيء غُسل.

 

‌‌6 - المذي: وهو ماء أبيض لزج يخرج عند التفكير بالجماع أو عند الملاعبة، وهو من النجاسات التي يشق الاحتراز عنها فخُفِّف تطهيره، فمن حصل له ذلك: ((فليغسل ذكره وأنثييه (1) وليتوضأ وضوءه للصلاة)) (2)، ويغسل ما أصاب البدن، ويرش كفَّاً من ماء على ما أصاب

الثوب أو السراويل؛ لحديث سهل بن حنيف رضي الله عنه (3).

 

‌‌7 - المني: هو ما يخرج دفقاً بِلَذَّةٍ، ويوجب

--------------------------------------------

(1) أنثييه: خصيتيه.

(2) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب في المذي، برقم 206، 208، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 41، برقم 190 - 192، وأصله متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الغسل، باب غسل المذي والوضوء منه، برقم 269، ومسلم في كتاب الحيض، باب المذي، برقم 303.

(3) أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة، باب في المذي، برقم 210، والترمذي في كتاب الطهارة، باب ما جاء في المذي يصيب الثوب، برقم 115، وابن ماجه في كتاب الطهارة وسننها، باب الوضوء من المذي، برقم 506، وحسنه الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 142.
শরীরের কোনো অংশে তা লাগলে তা ধৌত করা।

 

‌‌৬ - মযী: এটি একটি সাদা আঠালো তরল যা সহবাসের চিন্তা অথবা মেলামেশার (আলিঙ্গনের) সময় নির্গত হয়। এটি এমন অপবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত যা থেকে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য, তাই এর পবিত্রতা অর্জনের বিধান সহজ করা হয়েছে। সুতরাং যার এটি নির্গত হয় সে যেন: ((তার লিঙ্গ ও অণ্ডকোষদ্বয় (১) ধৌত করে এবং সালাতের ওজুর ন্যায় ওজু করে)) (২), এবং শরীরের যে অংশে তা লেগেছে তা ধুয়ে ফেলে, আর কাপড় বা পায়জামার যে অংশে লেগেছে সেখানে এক অঞ্জলি পানি ছিটিয়ে দেয়; সাহল বিন হুনাইফ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৩)।

 

‌‌৭ - মণি: এটি যা কামভাবের সাথে সজোরে নির্গত হয় এবং যা আবশ্যক

--------------------------------------------

(১) উনছায়াইন: অর্থাৎ অণ্ডকোষদ্বয়।

(২) আবু দাউদ এটি কিতাবুত তাহারাহ, অনুচ্ছেদ: মযী প্রসঙ্গে, ২০৬ ও ২০৮ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/৪১, ১৯০-১৯২ নম্বর হাদিসে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এর মূল বর্ণনাটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): ইমাম বুখারি এটি কিতাবুল গোসল, অনুচ্ছেদ: মযী ধৌত করা এবং তা থেকে ওজু করা প্রসঙ্গে, ২৬৯ নম্বর এবং মুসলিম এটি কিতাবুল হায়েজ, অনুচ্ছেদ: মযী প্রসঙ্গে, ৩০৩ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।

(৩) আবু দাউদ এটি কিতাবুত তাহারাহ, অনুচ্ছেদ: মযী প্রসঙ্গে, ২১০ নম্বর, তিরমিজি কিতাবুত তাহারাহ, অনুচ্ছেদ: কাপড়ে মযী লাগলে যা করণীয়, ১১৫ নম্বর এবং ইবনে মাজাহ কিতাবুত তাহারাহ ও এর সুন্নাতসমূহ, অনুচ্ছেদ: মযীর কারণে ওজু করা প্রসঙ্গে, ৫০৬ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে সহিহ আবু দাউদ, ১/১৪২-এ হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الغسل، وهو طاهر على الصحيح (1)، ولكن يستحب غسله إذا كان رطباً، وفركه إذا كان يابساً، فقد ثبت عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت لرجل يغسل ثوبه من المني: ((إنما كان يجزئك إن رأيته أن تغسل مكانه، فإن لم تَرَ نضحت حوله، ولقد رأيتني أفركه من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيصلِّي فيه)) (2)، وفي رواية: ((وإني لأحكُّهُ من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم يابساً بظفري)) (3)، وقالت: ((إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يغسل

المني، ثم يخرج إلى الصلاة في ذلك الثوب، وأنا أنظر إلى أثر الغسل فيه)) (4).

 

‌‌8 - الجلاّلة: وهي الدابة التي تأكل العذرة، فإذا حُبِست حتى يزول عنها اسم الجلاّلة فلحومها وألبانها طاهرة حلال بعد الحبس، فقد ثبت عن ابن عمر، رضي الله

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم 3/ 197 - 199، وهو الذي يرجحه ويفتي به سماحة شيخنا ابن باز رحمه الله تعالى.

(2) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب حكم المني، برقم 288.

(3) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب حكم المني، برقم 290.

(4) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب حكم المني، برقم 289.
ধৌত করা, এবং বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এটি পবিত্র (১), কিন্তু এটি আর্দ্র থাকলে ধৌত করা এবং শুষ্ক থাকলে ঘষে তুলে ফেলা মুস্তাহাব। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে তার পোশাক হতে বীর্য ধৌত করতে দেখে বলেছিলেন: ((যদি তুমি তা দেখতে পেতে তবে সেই স্থানটি ধৌত করাই তোমার জন্য যথেষ্ট হতো, আর যদি দেখতে না পেতে তবে তার চারপাশে পানি ছিটিয়ে দিতে; অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে এটি ঘষে নিতাম, অতঃপর তিনি সেই কাপড় পরেই সালাত আদায় করতেন)) (২), এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: ((আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে এটি শুকনো অবস্থায় আমার নখ দিয়ে খুঁটে তুলে ফেলতাম)) (৩), এবং তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্য ধৌত

করতেন, অতঃপর সেই কাপড় পরেই সালাতের জন্য বের হতেন, আর আমি সেখানে ধৌত করার চিহ্ন দেখতে পেতাম)) (৪)।

 

‌‌৮ - আল-জাল্লালাহ: এটি এমন পশু যা বিষ্ঠা ভক্ষণ করে; যদি একে আটকে রাখা হয় যতক্ষণ না তার থেকে আল-জাল্লালাহ নাম ঘুচে যায়, তবে আটকে রাখার পর তার গোশত ও দুধ পবিত্র এবং হালাল। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সহিহ মুসলিমের ওপর শরহে নববী ৩/ ১৯৭ - ১৯৯; এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ ইবনে বাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি একেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এই মর্মে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন তাহারাত অধ্যায়, বীর্যের বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৮৮।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন তাহারাত অধ্যায়, বীর্যের বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৯০।

(৪) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন তাহারাত অধ্যায়, বীর্যের বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৮৯।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
عنهما، أنه قال: ((نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لحوم الجلاّلة وألبانها)) (1)، وكان ابن عمر إذا أراد أكل الجلاّلة حبسها ثلاثاً (2)، وعنه يرفعه: ((نهى عن الجلاّلة في الإبل أن يركب عليها، أو يشرب من ألبانها)) (3).

 

‌‌9 - الفأرة: إذا وقعت الفأرة في السمن - سواء كان مائعاً أو جامداً - تُلْقَى وما حولها، فعن ميمونة رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سُئل عن فأرة سقطت في سمن فقال: ((ألقوها وما حولها فاطرحوه، وكلوا سمنكم)) (4)،

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود في كتاب الأطعمة، باب النهي عن أكل الجلالة وألبانها، برقم 3785، والترمذي في كتاب الأطعمة، باب ما جاء في أكل لحوم الجلالة وألبانها، برقم 1824، وابن ماجه في كتاب الذبائح، باب النهي عن لحوم الجلالة، برقم 3189، وانظر: إرواء الغليل للألباني، 8/ 149 - 151.

(2) أخرجه ابن أبي شيبة ولفظه: "أنه كان يحبس الدجاجة الجلاّلة ثلاثاً"، انظر: إرواء الغليل 8/ 151، برقم 2505.

(3) أخرجه أبو داود في كتاب الأطعمة، باب النهي عن أكل الجلالة وألبانها، برقم 3787.

(4) أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب ما يقع من النجاسات في السمن والماء، برقم 235، ورقم 5538، و5539، و5540.
তাদের থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাল্লালাহ (নোংরা ভক্ষণকারী প্রাণী)-এর গোশত এবং তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন)) (১), আর ইবনে উমর (রা.) যখন জাল্লালাহ খাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন সেটিকে তিন দিন আটকে রাখতেন (২)। এবং তাঁর থেকেই মরফূ (يرفعه) হিসেবে বর্ণিত: ((তিনি জাল্লালাহ উটের পিঠে আরোহণ করতে অথবা তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন)) (৩)।

 

‌‌৯ - ইঁদুর: ইঁদুর যখন ঘি-এর মধ্যে পড়ে—তা তরল হোক বা জমাটবদ্ধ—তখন সেটিকে এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দিতে হয়। মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘি-এর মধ্যে পড়ে যাওয়া ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ((তোমরা সেটিকে এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও এবং তোমাদের ঘি খাও)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ কিতাবুল আতইমাহ (খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়), জাল্লালাহ প্রাণীর গোশত এবং তার দুধ পান করার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩৭৮৫; তিরমিজি কিতাবুল আতইমাহ-এ, জাল্লালাহ প্রাণীর গোশত এবং তার দুধ খাওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে সেই পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ১৮২৪; ইবনে মাজাহ কিতাবুজ জাবাইহ (যবাই অধ্যায়), জাল্লালাহ প্রাণীর গোশত নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ক পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩১৮৯; এবং দেখুন: আলবানীর ইরওয়াউল গালীল, ৮/ ১৪৯ - ১৫১।

(২) এটি ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দ হলো: "তিনি জাল্লালাহ মুরগিকে তিন দিন আটকে রাখতেন", দেখুন: ইরওয়াউল গালীল ৮/ ১৫১, হাদিস নম্বর ২৫০৫।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ কিতাবুল আতইমাহ, জাল্লালাহ প্রাণীর গোশত এবং তার দুধ পান করার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩৭৮৭।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী কিতাবুল ওজু, ঘি এবং পানিতে নাপাকি পড়ার বিধান বিষয়ক পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ২৩৫, এবং নম্বর ৫৫৩৮, ৫৫৩৯ ও ৫৫৪০।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
هذا إذا لم يكن في السمن المتبقي أثر النجاسة في طعمه، أو لونه، أو رائحته، وإلا أُلقي ما تبقى، فيكون كالماء: إذا لم يتغير أحد أوصافه بنجاسة فهو طهور والله أعلم (1).

 

‌‌10 - بول وروث ما يؤكل لحمه: نجس؛ لحديث جابر رضي الله عنه: ((نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يُتمسح بعظم أو ببعر)) (2)، وثبت أنه صلى الله عليه وسلم امتنع من الاستجمار بالروث،

وقال: ((هذا ركس)) (3).

أما بول وروث مأكول اللحم فطاهر؛ لأمر النبي صلى الله عليه وسلم الصحابة بالشرب من بول الإبل (4)، ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) انظر فتاوى ابن تيمية، 21/ 19 - 21 و38 - 39، و488 - 502، ورجح هذا القول ابن باز في شرح بلوغ المرام، مخطوط.

(2) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب الاستطابة، برقم 263.

(3) أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب لا يستنجى بروث، رقم 156.

(4) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب أبوال الإبل والدواب والغنم ومرابضها، برقم 233، ومسلم في كتاب القسامة، باب حكم المحاربين والمرتدين، برقم 1671.
এটি তখন প্রযোজ্য যখন অবশিষ্ট ঘিয়ে নাপাকির (نجاسة) কোনো প্রভাব এর স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধে অবশিষ্ট না থাকে। অন্যথায় অবশিষ্ট অংশটুকু ফেলে দিতে হবে। এমতাবস্থায় এটি পানির ন্যায় গণ্য হবে: যদি নাপাকির (نجاسة) কারণে এর কোনো একটি গুণ পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র (طهور)। আর আল্লাহই ভালো জানেন (১)।

 

‌‌১০ - যে সকল পশুর গোশত খাওয়া হয় না তাদের প্রস্রাব ও গোবর: নাপাক (نجس); জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) হাড় বা গোবর দিয়ে মুছতে (ইস্তিঞ্জা করতে) নিষেধ করেছেন" (২)। এবং এটি প্রমাণিত যে, তিনি (সা.) গোবর দিয়ে ইস্তিজমার (পাথর বা সমজাতীয় বস্তু দিয়ে পবিত্রতা অর্জন) করা থেকে বিরত থেকেছেন এবং বলেছেন: "এটি অপবিত্র (ركس)" (৩)।

পক্ষান্তরে যে সকল পশুর গোশত খাওয়া হয় তাদের প্রস্রাব ও গোবর পবিত্র; কারণ নবী (সা.) সাহাবীগণকে উটের প্রস্রাব পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৪), আর একারণেই নবী (সা.) ছিলেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ, ২১/ ১৯-২১ এবং ৩৮-৩৯, এবং ৪৮৮-৫০২; ইবনে বাজ শারহু বুলুগুল মারাম (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তাহারাহ, বাবুল ইস্তিতাবাহ, হাদিস নং ২৬৩।

(৩) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ওজু, বাবু লা ইয়াসতাঞ্জি বি-রাওস, হাদিস নং ১৫৬।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ওজু, বাব আবওয়ালিল ইবিলি ওয়াদ দাআববি ওয়াল গানামি ওয়া মারাবিদিহা, হাদিস নং ২৩৩; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল কাসামাহ, বাবু হুকমিল মুহারিবিনা ওয়াল মুরতাদ্দীন, হাদিস নং ১৬৭১।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
((يصلي في مرابض الغنم قبل أن يبني المسجد)) (1).

 

‌‌11 - إذا كان في الثوب أو البدن أو البقعة نجاسة، وذكرها المصلي في الصلاة أو بعد الصلاة؛ فإن ذلك فيه تفصيل:

أ - إذا ذكر ذلك وهو في الصلاة، أزال النجاسة، أو ألقى ما عليه نجاسة بشرط عدم كشف العورة، واستمر في صلاته، وصلاته صحيحة.

ب- إذا لم يستطع إزالتها أثناء الصلاة بحيث لو ألقى ما عليه النجاسة انكشفت عورته، أو كانت النجاسة على بدنه، فحينئذ ينصرف من صلاته ثم يزيل النجاسة ثم يعيد الصلاة.

ج- إذا ذكر بعد الانصراف من الصلاة أنه صلى في ثوب فيه نجاسة، أو صلى على بقعة فيها نجاسة، أو صلى

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب أبوال الإبل والدواب والغنم ومرابضها، برقم 234، ومسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب ابتناء مسجد النبي صلى الله عليه وسلم،برقم 524،وانظر: شرح العمدة ((كتاب الطهارة)) لابن تيمية، ص108.
((তিনি মসজিদ নির্মাণের পূর্বে বকরির খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতেন)) (১)।

 

‌‌১১ - যদি পোশাকে, শরীরে অথবা স্থানে অপবিত্রতা থাকে, এবং সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় বা সালাত শেষ করার পর তা স্মরণ করেন; তবে এ ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে:

ক - যদি তিনি সালাতরত অবস্থায় তা স্মরণ করেন, তবে তিনি অপবিত্রতা দূর করবেন অথবা অপবিত্রতাযুক্ত অংশটি শরীর থেকে সরিয়ে ফেলবেন—এই শর্তে যে সতর অনাবৃত হবে না—এবং তার সালাত অব্যাহত রাখবেন; এমতাবস্থায় তার সালাত বিশুদ্ধ (صحيح) হবে।

খ- যদি তিনি সালাত চলাকালীন তা দূর করতে সক্ষম না হন, যেমন—যদি তিনি অপবিত্রতাযুক্ত পোশাকটি সরিয়ে ফেলেন তবে সতর অনাবৃত হয়ে যাবে, অথবা অপবিত্রতাটি সরাসরি শরীরের ওপর থাকে; তবে এমতাবস্থায় তিনি সালাত ভঙ্গ করবেন, অতঃপর অপবিত্রতা দূর করে পুনরায় সালাত আদায় করবেন।

গ- যদি সালাত সমাপ্ত করার পর তার স্মরণে আসে যে, তিনি অপবিত্রতাযুক্ত পোশাকে সালাত আদায় করেছেন, অথবা অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করেছেন, অথবা তিনি সালাত আদায় করেছেন—

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি 'কিতাবুল ওজু'-এর 'উটের প্রস্রাব, চতুষ্পদ জন্তু ও বকরির প্রস্রাব এবং তাদের খোঁয়াড়' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ২৩৪; এবং মুসলিম 'কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত'-এর 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ নির্মাণ' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ৫২৪। আরও দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত শারহুল উমদাহ (কিতাবুত তাহারাহ), পৃষ্ঠা ১০৮।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي جسده نجاسة، فصلاته صحيحة، ويدل على ذلك كله حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، حيث قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، فلما كان في بعض صلاته خلع نعليه فوضعهما عن يساره، فلما رأى الناس ذلك خلعوا نعالهم، فلما قضى صلاته صلى الله عليه وسلم قال: ((ما بالكم ألقيتم نعالكم؟)) قالوا: رأيناك ألقيت نعليك فألقينا نعالنا. فقال صلى الله عليه وسلم: ((إن جبريل أتاني فأخبرني أن فيهما قذراً

- أو قال أذى - فألقيتهما، فإذا جاء أحدكم إلى المسجد فلينظر في نعليه فإن رأى فيهما قذراً -أو قال: أذىً -

فليمسحهما وليصلّ فيهما)) (1).

وهذا خاص بإزالة النجاسة، أما من صلَّى وذكر وهو في صلاته أو بعد الانصراف منها أنه على غير وضوء، أو ذكر أنَّ عليه جنابة؛ فإنَّ صلاته باطلة من أولها؛ سواء ذكر أثناء الصلاة أو بعد الانصراف منها، وعليه أن يرفع

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند 3/ 20، 92، وأبو داود في كتاب الصلاة، باب الصلاة في النعل، برقم 650، وصححه الألباني في الإرواء برقم 284.
এবং তার শরীরে অপবিত্রতা (نجاسة) থাকলেও তার নামাজ শুদ্ধ (صحيحة)। এই সবকিছুর প্রমাণ হলো আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: একদা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। যখন তিনি নামাজের একাংশ পূর্ণ করলেন, তখন তিনি তাঁর জুতো জোড়া খুলে নিজের বাম পাশে রাখলেন। যখন লোকজন তা দেখল, তারা তাদের জুতো জোড়াও খুলে ফেলল। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নামাজ শেষ করলেন, তিনি বললেন: «তোমাদের কী হলো যে তোমরা তোমাদের জুতো জোড়া খুলে ফেললে?» তারা বলল: আমরা আপনাকে আপনার জুতো খুলতে দেখে আমাদের জুতোও খুলে ফেলেছি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমার কাছে এসে আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তাতে ময়লা (قذر)

—অথবা তিনি বলেছেন অপবিত্রতা (أذى)—রয়েছে, তাই আমি তা খুলে ফেলেছি। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসবে, তখন সে যেন তার জুতো জোড়ার দিকে লক্ষ্য করে। যদি সে তাতে ময়লা (قذر)—অথবা তিনি বলেছেন অপবিত্রতা (أذى)—

দেখতে পায়, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে এবং তাতে নামাজ আদায় করে নেয়» (১)।

আর এটি কেবল অপবিত্রতা (نجاسة) দূর করার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নামাজ পড়ল এবং নামাজরত অবস্থায় অথবা নামাজ শেষ করার পর স্মরণ করল যে সে অযু (وضوء) ছাড়াই ছিল, অথবা স্মরণ করল যে তার ওপর জানাবাত (جنابة) তথা গোসল ফরজ ছিল; তবে তার নামাজ শুরু থেকেই বাতিল (باطلة); চাই সে নামাজের ভেতরে স্মরণ করুক বা নামাজ শেষ করার পর। এবং তার ওপর আবশ্যক হলো

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম আহমাদ মুসনাদ-এ ৩/২০, ৯২ এবং আবু দাউদ কিতাবুস সালাত-এর 'জুতো পরে নামাজ পড়া' অনুচ্ছেদে ৬৫০ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন। আলবানি একে ইরওয়া গ্রন্থে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, হাদিস নম্বর ২৮৪।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الحدث ثم يُعيد الصلاة؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تُقبل صلاة بغير طهور … )) (1).

 

‌‌12 - الخمر: جماهير العلماء على أن الخمر نَجِسَة العين. قال شيخ الإسلام ابن تيمية، رحمه الله تعالى: (( … والمائعات المسكِّرة كلها نَجِسة؛ لأنَّ الله سمَّاها رِجساً، والرِّجس هو القَذِر والنّجس الذي يجب اجتنابه، وأمر باجتنابه مطلقاً وهو يَعُمُّ الشُّرب، والمسّ وغير

ذلك، وأمر بإراقتها ولعن النبي صلى الله عليه وسلم عينها … )) (2) وقال الشنقيطي رحمه الله: ((وجماهير العلماء على أن الخمر نّجِسَة العين لما ذكرنا، وخالف في ذلك ربيعة، والليث، والمزني صاحب الشافعي وبعض المتأخرين من البغداديين والقرويين كما نقله عنهم القرطبي في تفسيره، واستدلُّوا لطهارة عينها بأنَّ المذكورات معها في الآية (3):

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في كتاب الطهارة، باب وجوب الطهارة للصلاة، برقم 224.

(2) شرح العمدة في الفقه، (كتاب الطهارة)، لشيخ الإسلام ص 109.

(3) {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}. المائدة، الآية: 90.
ওযু ভঙ্গ হওয়া (الحدث), এরপর সে সালাত পুনরায় আদায় করবে; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: ((পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করা হয় না … )) (১)।

 

‌‌১২ - মদ: অধিকাংশ আলেম (جماهير العلماء) এই মত পোষণ করেন যে, মদ সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة العين)। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (( … এবং সমস্ত নেশাজাতীয় তরল অপবিত্র (نجسة); কারণ আল্লাহ এগুলোকে 'রিজস' (অপবিত্রতা) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর 'রিজস' হলো নোংরা ও অপবিত্র (النجس) যা পরিহার করা আবশ্যক, এবং তিনি এটি সাধারণভাবে পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন যা পান করা, স্পর্শ করা এবং অন্যান্য বিষয়কেও

অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এটি ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের সত্তাকে অভিশাপ দিয়েছেন … )) (২)। এবং শানকিতি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে জমহুর আলেমগণ (جماهير العلماء) একমত যে মদ সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة العين)। তবে রাবিআহ, লাইস, শাফেয়ী রহ.-এর অনুসারী মুজানি এবং বাগদাদ ও কাইরুয়ানের পরবর্তীকালের কিছু আলেম এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমনটি কুরতুবি তার তাফসির গ্রন্থে তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা মদের সত্তা পবিত্র (طهارة) হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন এই মর্মে যে, আয়াতে মদের সাথে অন্য যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে (৩):

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি কিতাবুত তাহারাহ, সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকতা পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ২২৪।

(২) শায়খুল ইসলাম প্রণীত শারহুল উমদাহ ফিল ফিকহ, (কিতাবুত তাহারাহ), পৃষ্ঠা ১০৯।

(৩) {হে মুমিনগণ, মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীর—এসবই শয়তানের কাজ ও অপবিত্র বস্তু। অতএব তোমরা এসব বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো}। সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৯০।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
من مال مَيْسرَ، ومال قِمَار، وأَنْصاب، وأزْلام ليست نجسة العين وإن كانت محرمة الاستعمال، وأُجيب من جهة الجمهور بأنَّ قوله: {رجس} يقتضي نجاسة العين في الكل، فما أخرجه إجماع أو نص خرج بذلك، وما لم يخرجه نص ولا إجماع لزم الحكم بنجاسته؛ لأن خروج بعض ما تناوله العام بمخصص من المخصصات لايسقط الاحتجاج به في الباقي كما هو مقرر في

الأصول .. وعلى هذا فالمسكِّر الذي عمَّت به البلوَى اليوم بالتَّطيُّب به المعروف في اللِّسان الدارج: (بالكلونيا) نجس لا تجوز الصَّلاة به، ويُؤَيِّدُهُ أنَّ قوله تعالى: {فَاجْتَنِبُوهُ} يقتضي الاجتناب المطلق الذي لا ينتفع معه بشيء من المسكِّر، وما معه في الآية بوجهٍ من الوجوه .. فلا يخفى على منصف أن التضمخ بالطيب المذكور والتّلذُّذ بريحه واستطابته واستحسانه - مع أنه
মায়সির ও কিমার (জুয়া), আনসাব (পূজার বেদী) এবং আযলাম (ভাগ্য নির্ধারক তীর) থেকে অর্জিত সম্পদ সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة العين) নয়, যদিও এগুলোর ব্যবহার হারাম। জুমহুর (جمهور) উলামাগণের পক্ষ থেকে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহর বাণী: {অপবিত্র (رجس)} সবকিছুর ক্ষেত্রে সত্তাগত অপবিত্রতা (نجاسة العين) দাবি করে। সুতরাং যা ঐকমত্য (إجماع) অথবা অকাট্য প্রমাণ (نص) দ্বারা পৃথক করা হয়েছে তা এর বাইরে থাকবে, আর যা অকাট্য প্রমাণ (نص) বা ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা পৃথক করা হয়নি তার ব্যাপারে অপবিত্রতার হুকুম প্রদান করা আবশ্যক; কেননা কোনো বিশেষত্ব দানকারী (مخصص) দ্বারা সাধারণ (عام) নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশ বিশেষায়িত হয়ে গেলে অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে তা দলিল হিসেবে পেশ করা (احتجاج) বাতিল হয়ে যায় না, যেমনটি উসুল

(أصول) শাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। এর ভিত্তিতে, বর্তমানে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে যে মাদকদ্রব্য সর্বজনীন সমস্যায় (عمت به البلوى) পরিণত হয়েছে এবং প্রচলিত ভাষায় যাকে ‘কলোনিয়া’ বলা হয়, তা অপবিত্র এবং তা মেখে সালাত আদায় করা জায়েয নয়। একে সমর্থন করে মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো}, যা নিরঙ্কুশ বর্জন দাবি করে যার ফলে মাদকদ্রব্য এবং আয়াতের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয় থেকে কোনোভাবেই উপকৃত হওয়া যাবে না। কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তির নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, উক্ত সুগন্ধি শরীরে মাখা, এর সুঘ্রাণ উপভোগ করা এবং একে উত্তম ও পছন্দনীয় মনে করা - যদিও এটি...
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
مسكر، والله يُصَرِّحُ في كتابه بأنَّ الخمر رجس - فيه ما فيه، فليس لمسلم أن يتطيب بما سمع ربه يقول فيه: {إنَّهُ رِجْسٌ} كما هو واضح، ويُؤَيِّدُهُ أنّه صلى الله عليه وسلم، أمر بإراقة الخمر، فلو كانت فيها منفعة أخرى لبيّنها كما بيَّن جواز الانتفاع بجلود الميتة، ولَما أراقها (1).

 

13 - والخلاصة: أنَّ الأصل في الأشياء: الطَّهارة والإباحة، فإذا شكَّ المسلم في نجاسة ماء، أو ثوب، أو بُقعة أو غيرها فهو طاهر، وكذلك إذا تيقَّن الطهارة ثم شك هل تنجس أم لا؟ بنى على ما تَيَقَّنَهُ من طهارةٍ، وكذلك إذا تَيقَّن النجاسة وشكَّ في الطهارة بنى على ما تيقَّنه، وكذلك إذا تيقَّن الحدث وشكَّ في زواله بنى على ما تيقّنه، وإذا شكَّ في عدد الركعات، أو الأطواف، أو

--------------------------------------------

(1) أضواء البيان في إيضاح القرآن 2/ 129، بتصرف يسير جداً، وانظر: الشرح الممتع لابن عثيمين 1/ 366، فقد رجح عدم النجاسة. أما سماحة شيخنا عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، فيرجح ما يراه الجمهور، وأن الخمر نجسة، ولا يجوز التطيب بالمسكر؛ ولأن التطيب به وسيلة إلى استخدامه وبيعه وشرائه وشربه.
মাদকদ্রব্য; আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে মদ অপবিত্র (رجس) - এতে যা পর্যালোচনার আছে তা রয়েছে। সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য এমন বস্তু দিয়ে সুগন্ধি মাখা সমীচীন নয় যার সম্পর্কে সে তার প্রতিপালককে বলতে শুনেছে: {নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (رجس)}, যেমনটি সুস্পষ্ট। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদ ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি এতে অন্য কোনো উপকারিতা থাকত, তবে তিনি তা বর্ণনা করতেন যেভাবে তিনি মৃত পশুর চামড়া ব্যবহারের বৈধতা বর্ণনা করেছেন; তিনি তা ঢেলে ফেলতেন না (১)।

 

১৩ - সারকথা: বস্তুর ক্ষেত্রে মূল মূলনীতি হলো: পবিত্রতা (الطهارة) ও বৈধতা (الإباحة)। সুতরাং যদি কোনো মুসলিম পানি, পোশাক, স্থান বা অন্য কিছুর অপবিত্রতা (نجاسة) সম্পর্কে সংশয়ে পতিত হয়, তবে তা পবিত্র (طاهر) বলে গণ্য হবে। তদ্রূপ সে যদি পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে এবং এরপর অপবিত্র হয়েছে কি না সে বিষয়ে সংশয় পোষণ করে, তবে সে তার নিশ্চিত পবিত্রতার (الطهارة) ওপর ভিত্তি করবে। একইভাবে যদি সে অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে এবং পবিত্রতার বিষয়ে সংশয় বোধ করে, তবে সে তার নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে। ঠিক তেমনিভাবে যদি সে হাদাস (الحدث) বা অপবিত্র অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে এবং তা দূর হওয়া সম্পর্কে সংশয় বোধ করে, তবে সে তার নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে। আর যদি সে রাকাত সংখ্যা বা তাওয়াফ সংখ্যা নিয়ে সন্দেহে পতিত হয়, অথবা...

--------------------------------------------

(১) আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআন ২/ ১২৯, সামান্য পরিমার্জনসহ; আরও দেখুন: ইবনে উসাইমীনের আশ-শারহুল মুমতি ১/ ৩৬৬, তিনি এখানে অপবিত্র না হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, মদ অপবিত্র (نجسة) এবং মাদকদ্রব্য দ্বারা সুগন্ধি মাখা জায়েয নয়; কারণ এর মাধ্যমে সুগন্ধি মাখা মূলত এটি ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় ও পান করার একটি মাধ্যম।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الطلقات بنى على اليقين وهو الأقل، وهذه قاعة عظيمة وهي استصحاب الحال المعلوم واطِّراح الشكّ (1)؛ ولهذا قال صلى الله عليه وسلم، للرجل الذي يُخيَّل إليه أنه يجد الشيء في الصلاة: ((لا ينصرف حتى يسمع صوتاً أو يجد ريحاً)) (2).

 

‌‌14 - وجميع الأواني مباحة؛ لأن الأصل فيها الإباحة (3) إلا ما خصَّه الدليل بالتَّحريم، كآنية الذَّهب والفضّة وما فيه شيء منهما - إلا الضبَّة اليسيرة من

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح العمدة ((كتاب الطهارة)) لابن تيمية ص83، ومنهج السالكين وتوضيح الفقه في الدين لعبد الرحمن السعدي ص6.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب من لا يتوضأ من الشك حتى يستيقن، برقم 237، ومسلم في كتاب الحيض، باب الدليل على أن من تيقن الطهارة ثم شك فله أن يصلي بطهارته تلك، برقم 361.

 

(3) حتى‌‌ آنية الكفار سواء كانوا من أهل الكتاب أو من غيرهم؛ لأن الله أحل لنا ذبائح أهل الكتاب؛ ولأن النبي صلى الله عليه وسلم أكل من الشاة المسمومة التي أهديت له في خيبر، واستعمل الماء من مزادة امرأة مشركة، وأما حديث أبي ثعلبة عند البخاري برقم 5496، ومسلم برقم 1930: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تأكلوا فيها إلا أن لا تجدوا غيرها فاغسلوها وكلوا فيها))، فرجح سماحة شيخنا ابن باز رحمه الله تعالى أن الأمر بالغسل للاستحباب، إلا إذا رأى المسلم أثر الخمر أو لحم الخنزير في الإناء وجب عليه أن يغسله. وانظر: الشرح الممتع، 1/ 69.
তালাকের সংখ্যার ক্ষেত্রেও নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর ভিত্তি করতে হবে, আর তা হলো সর্বনিম্ন সংখ্যা। এটি একটি মহান মূলনীতি, আর তা হলো বিদ্যমান অবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب الحال) এবং সংশয়কে (شك) বর্জন করা (১); এই কারণেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যার মনে হয় যে সে সালাতের মধ্যে কিছু অনুভব করছে: "সে যেন সালাত ছেড়ে না যায় যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো ঘ্রাণ পায়" (২)।

 

‌‌১৪ - এবং সকল প্রকার পাত্রই বৈধ (مباح); কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে মূল নীতি (الأصل) হলো বৈধতা (إباحة) (৩), তবে দলিল (دليل) দ্বারা যেগুলোকে নিষিদ্ধকরণের (تحريم) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলো ব্যতীত। যেমন: সোনা ও রূপার পাত্র এবং যাতে এ দুটির কোনো কিছু রয়েছে—সামান্য রূপার জোড়া লাগানো অংশ ব্যতীত

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত শারহুল উমদাহ (পবিত্রতা অধ্যায়), পৃষ্ঠা ৮৩; এবং আবদুর রহমান আস-সা’দী রচিত মানহাজুস সালিকিন ওয়া তাওদিহুল ফিকহি ফিদ দিন, পৃষ্ঠা ৬।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি এটি অজু অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশয়ের কারণে যে অজু করে না, হাদিস নং ২৩৭; এবং মুসলিম এটি হায়েজ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর সংশয়ে ভোগে তার ওই পবিত্রতা অনুযায়ী সালাত আদায়ের দলিল, হাদিস নং ৩৬১।

 

(৩) এমনকি কাফেরদের পাত্রও (বৈধ), তারা আহলে কিতাব হোক বা অন্য কেউ; কেননা আল্লাহ আমাদের জন্য আহলে কিতাবদের জবাইকৃত পশু হালাল করেছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারে তাঁকে উপহার দেওয়া বিষযুক্ত বকরির গোশত খেয়েছিলেন এবং একজন মুশরিক মহিলার মশক থেকে পানি ব্যবহার করেছিলেন। আর বুখারি (হাদিস নং ৫৪৯৬) এবং মুসলিমে (হাদিস নং ১৯৩০) বর্ণিত আবু সা’লাবার হাদিসের ব্যাপারে, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সেগুলোতে আহার করো না যতক্ষণ না তোমরা অন্য কোনো পাত্র পাও; তবে (অন্য পাত্র না পেলে) সেগুলো ধুয়ে নাও এবং তাতে আহার করো।" আমাদের সম্মানীয় শায়খ ইবনে বাজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, ধোয়ার এই নির্দেশটি পছন্দনীয় (استحباب) হওয়ার জন্য; তবে মুসলিম যদি পাত্রে মদের চিহ্ন বা শুকরের গোশতের আলামত দেখে, তবে সেটি ধোয়া তার জন্য আবশ্যক (واجب) হবে। দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি’, ১/ ৬৯।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الفضة في الإناء للحاجة (1) -؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تشربوا في آنية الذهب والفضة ولا تأكلوا في صحافهما فإنها لهم في الدنيا ولكم في الآخرة)) (2).

--------------------------------------------

(1) لحديث أنس رضي الله عنه: ((أن قدح النبي صلى الله عليه وسلم انكسر فاتخذ مكان الشَّعْب سلسلة من فضة)) أخرجه البخاري في كتاب فرض الخمس، باب ما ذكر من درع النبي صلى الله عليه وسلم، برقم 3109، وفي كتاب الأشربة، باب الشرب من قدح النبي صلى الله عليه وسلم وآنيته، برقم 5638. وانظر: الشرح الممتع 1/ 64.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري في كتاب الأطعمة، باب الأكل من إناء مفضض، برقم 5426، ومسلم في كتاب اللباس والزينة، باب تحريم استعمال إناء الذهب والفضة على الرجال والنساء، برقم 2067.
প্রয়োজনে পাত্রে রূপার ব্যবহার (১) -; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর থালায় আহার করো না, কারণ তা দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য)) (২)।

--------------------------------------------

(১) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পেয়ালা ভেঙে গিয়েছিল, তখন তিনি ফাটলের স্থানে রূপার একটি শিকল লাগিয়ে নিয়েছিলেন)) এটি বুখারি 'কিতাব ফারদুল খুমুস', 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩১০৯; এবং 'কিতাবুল আশরিবা', 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেয়ালা ও পাত্র হতে পান করা' পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৫৬৩৮-এ বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি ১/৬৪।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি 'কিতাবুল আত-ইমাহ', 'রূপাখচিত পাত্রে আহার করা' পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৫৪২৬; এবং মুসলিম 'কিতাবুল লিবাস ওয়াজ যিনাহ', 'পুরুষ ও নারীদের জন্য সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহারের নিষিদ্ধতার পরিচ্ছেদ', হাদিস নম্বর ২০৬৭-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الثالث: سنن الفطرة

الفطرة المقصودة في هذا المبحث: هي السُّنَّة عند أكثر أهل العلم.

قالوا: والمعنى: إنها من سنن الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، ولا شكَّ أنّ بعض الخصال واجبة وبعضها مُستحبة، ولا يمتنع قرن الواجب بغيره (1)، ومن هذه الخصال ما يلي:

 

‌‌1 - الختان: وهو قطع جميع الجلدة التي تُغطِّي حشفة الرجل حتى تنكشف جميع الحشفة، وأما المرأة فَيُقطع الجزء الأعلى من اللَّحمة التي كالنَّواة، وهي تُشبه عُرف الدِّيك، وهي في أعلى الفرج فوق محل الإيلاج، ويُستحبُّ أن لا تُؤخذ كُلُّها؛ لأنَّ المقصود تقليل

شهوتها (2)؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لبعض الختَّانات في المدينة: ((إذا

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 3/ 148، وفتح الباري، 10/ 340، والنهاية في غريب الحديث والأثر لابن الأثير، 3/ 457، والمغني لابن قدامة

1/ 114، ومعالم السنن، 6/ 101.

(2) انظر: المراجع السابقة، نفس الجزء والصفحة، والروض المربع بحاشية ابن القاسم

1/ 160، والشرح الممتع 1/ 134.
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিতরাতের সুন্নতসমূহ (سنن الفطرة)

এই পরিচ্ছেদে উদ্দেশ্যকৃত ফিতরাত হলো: অধিকাংশ আলেমগণের (أهل العلم) মতে এটি হলো সুন্নত (السنة)।

তাঁরা বলেন: এর অর্থ হলো, এগুলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নতসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর কিছু বৈশিষ্ট্য ওয়াজিব (واجبة) এবং কিছু মুস্তাহাব (مستحبة)। আর ওয়াজিবকে (الواجب) অন্যটির সাথে একত্রে উল্লেখ করাতে কোনো বাধা নেই (১)। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

 

‌‌১ - খতনা (الختان): তা হলো পুরুষের লিঙ্গাগ্রের ত্বক (লিঙ্গমুণ্ডুর আবরণ) সম্পূর্ণ কেটে ফেলা যাতে পুরো লিঙ্গাগ্র উন্মুক্ত হয়। আর নারীর ক্ষেত্রে, বীজের মতো মাংসপিণ্ডের উপরের অংশটুকু কেটে ফেলা হয়, যা মোরগের ঝুঁটির মতো দেখায়। এটি যৌনাঙ্গের উপরের অংশে প্রবেশের জায়গার উপরে অবস্থিত। আর এটি সম্পূর্ণ না কাটা মুস্তাহাব (يستحب); কারণ এর উদ্দেশ্য হলো তার কামভাব হ্রাস করা (২); মদিনার কিছু খতনাকারিনীর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: ((যখন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সহীহ মুসলিমের উপর শারহুন নববী, ৩/ ১৪৮; ফাতহুল বারী, ১০/ ৩৪০; ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ৩/ ৪৫৭; ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ১/ ১১৪; মাআলিমুস সুনান, ৬/ ১০১।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎসসমূহ, একই খণ্ড ও পৃষ্ঠা; ইবনুল কাসিমের হাশিয়াহসহ আর-রওদুল মুরবি, ১/ ১৬০; আশ-শারহুল মুমতি, ১/ ১৩৪।
(খণ্ড: ১) তুহুরুল মুসলিম ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
خفضت (1) فأشمِّي (2) ولا تنهكي (3) فإنه أسرى للوجه وأحظى عند الزوج)) (4).

والختان يجب على الرجال، ويُستحب في حق النساء على الصحيح من أقوال أهل العلم (5)؛ ولهذا ((اختتن

إبراهيم عليه السلام وهو ابن ثمانين سنة بالقَدُّوم)) (6)؛ ولحديث:

--------------------------------------------

(1) الخفض للنساء كالختان للرجال، انظر: النهاية في غريب الحديث 2/ 54.

(2) شبه القطع اليسير بإشمام الرائحة، والنهك بالمبالغة فيه؛ أي اقطعي بعض النواة ولا تستأصليها، النهاية 2/ 503 و5/ 137.

(3) أي: لا تبالغي في استقصاء الختان. النهاية في غريب الحديث 5/ 137.

(4) أخرجه الخطيب البغدادي في تاريخه (5/ 327، 328)، والطبراني في الأوسط، واللفظ للطبراني، وذكره الهيثمي في المجمع، 5/ 175، وقال: رواه الطبراني في الأوسط، وإسناده حسن، وذكر الألباني له طرقاً كثيرة، وقال: وبالجملة فالحديث بهذه الطرق والشواهد صحيح، والله أعلم. انظر: سلسة الأحاديث الصحيحة

2/ 357. وعند أبي داود بلفظ: ((لا تنهكي، فإن ذلك أحظى للمرأة وأحب إلى البعل)) في كتاب الأدب، باب ما جاء في الختان، برقم 5271.

(5) انظر: المغني لابن قدامة، 1/ 115، والشرح الممتع، 1/ 133، وشرح النووي،

3/ 148، والفتح، 10/ 340، وشرح العمدة، ص243. وهو الذي يفتي به شيخنا العلامة ابن باز.

(6) أخرجه البخاري في كتاب أحاديث الأنبياء، باب قول الله تعالى: {وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً} برقم 3356، ومسلم في كتاب الفضائل، باب من فضائل إبراهيم الخليل عليه السلام، برقم 2370. ووقع في رواية البخاري بتشديد الدال، بينما وقع في رواية مسلم بتخفيفها. انظر: حاشية صحيح مسلم (2/ 1839).
((যখন তুমি খতনা (خفضت) করো (১), তখন সামান্য অংশ কাটো (২) এবং সমূলে উৎপাটন করো না (৩); কেননা তা চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং স্বামীর নিকট অধিক তৃপ্তিদায়ক হয়)) (৪)।

আর খতনা পুরুষদের জন্য আবশ্যক (واجب), এবং আলেমগণের বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে নারীদের ক্ষেত্রে তা মুস্তাহাব (مستحب) (৫); একারণেই ((ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আশি বছর বয়সে কুঠার (بالقدوم) দিয়ে খতনা করেছিলেন)) (৬); এবং এই হাদিসের কারণে:

--------------------------------------------

(১) নারীদের ক্ষেত্রে খাফদ (الخفض) হলো পুরুষদের খতনার ন্যায়, দেখুন: আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদিস ২/ ৫৪।

(২) সামান্য অংশ কাটাকে ঘ্রাণ নেয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'নাহক' বলতে তাতে বাড়াবাড়ি করাকে বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ কিছু অংশ কাটবে এবং তা সমূলে উৎপাটন করবে না, আন-নিহায়া ২/ ৫০৩ এবং ৫/ ১৩৭।

(৩) অর্থাৎ: খতনার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করো না। আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদিস ৫/ ১৩৭।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন খতিব বাগদাদী তাঁর তারিখে (৫/ ৩২৭, ৩২৮) এবং তাবারানি আল-আওসাত-এ, আর শব্দগুলো তাবারানির। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (৫/ ১৭৫) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। আলবানি এর অনেকগুলো সূত্র (طرق) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সারকথা হলো, এই বিভিন্ন সূত্র (طرق) এবং সমর্থক বর্ণনার (شواهد) ভিত্তিতে হাদিসটি সহিহ (صحيح), আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন: সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা ২/ ৩৫৭। আবু দাউদে শব্দগুলো হলো: ((অত্যধিক গভীর করো না, কেননা তা নারীর জন্য অধিক তৃপ্তিদায়ক এবং স্বামীর নিকট অধিক প্রিয়)) আদব অধ্যায়, খতনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, নম্বর ৫২৭১।

(৫) দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি ১/ ১১৫, আশ-শারহুল মুমতি ১/ ১৩৩, শরহে নববী ৩/ ১৪৮, আল-ফাতহ ১০/ ৩৪০, এবং শারহুল উমদাহ পৃ. ২৪৩। এটিই আমাদের শায়খ আল্লামা ইবনে বায ফতোয়া দিতেন।

(৬) এটি বুখারি আম্বিয়া (আ.)-গণের হাদিস অধ্যায়, আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ইব্রাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন} পরিচ্ছেদ, নম্বর ৩৩৫৬; এবং মুসলিম ফাযায়েল অধ্যায়, ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের ফযীলত পরিচ্ছেদ, নম্বর ২৩৭০-এ বর্ণনা করেছেন। বুখারির বর্ণনায় 'দাল' বর্ণটি তাশদীদসহ এসেছে, আর মুসলিমের বর্ণনায় তাশদীদ ছাড়া এসেছে। দেখুন: হাশিয়া সহিহ মুসলিম (২/ ১৮৩৯)।