(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: -)
صلاة المريض   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة المريض - مفهوم، وفضائل، وآداب، وكيفية، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 42

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

অসুস্থ ব্যক্তির সালাত   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: অসুস্থ ব্যক্তির সালাত - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, ফজিলত, আদব, পদ্ধতি, এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: -)
33

سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

_

صلاة المريض

مفهوم، وفضائل، وآداب، وكيفية، وأحكام

في ضوء الكتاب والسنة
33

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির গ্রন্থাবলি

_

অসুস্থ ব্যক্তির সালাত

সংজ্ঞা, ফজিলত, আদব, পদ্ধতি ও বিধানসমূহ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد.

فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة المريض)) بيّنت فيها: مفهوم المرض، ووجوب الصبر، وفضله، والآداب التي ينبغي للمريض أن يلتزمها، وأوضحت يسر الشريعة الإسلامية وسماحتها، وكيفية طهارة المريض بالتفصيل، وكيفية صلاته بإيجاز وتفصيل، وحكم الصلاة: في السفينة، والباخرة، والقطار، والطائرة، والسيارة، بإيجاز وبيان مفصَّل، كما أوضحت حكم صلاة النافلة في السفر
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক ও আমাদের আমলসমূহের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হবে, তাদের সকলের ওপর শান্তি ও অগণিত সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর।

এটি ‘অসুস্থ ব্যক্তির সালাত’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি অসুস্থতার সংজ্ঞা, ধৈর্য ধারণের আবশ্যকতা ও এর ফযিলত এবং অসুস্থ ব্যক্তির পালনীয় শিষ্টাচারসমূহ বর্ণনা করেছি। আমি আরও স্পষ্ট করেছি ইসলামি শরিয়তের সহজতা ও উদারতা, অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জনের বিস্তারিত পদ্ধতি এবং তার সালাত আদায়ের নিয়মাবলি সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে। সেই সাথে নৌকা, জাহাজ, ট্রেন, বিমান ও গাড়িতে সালাত আদায়ের বিধান সংক্ষেপে ও বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছি। পাশাপাশি সফরে নফল সালাত আদায়ের বিধানও ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৪)
على جميع وسائل النقل، وقرنت كل مسألة بدليلها ما استطعت إلى ذلك سبيلاً.

وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله ورفع درجاته في الفردوس الأعلى.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً، مباركًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله وخيرته من خلقه، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

حرر بين المغرب والعشاء يوم السبت الموافق 15/ 12/1421هـ.
সকল প্রকার যানবাহনের ক্ষেত্রে; এবং আমি সাধ্যমতো প্রতিটি মাসআলার সাথে তার দলিল সংযুক্ত করেছি।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চকিত করুন)-এর বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকারসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে কবুল করেন, বরকতময় করেন এবং তা কেবলমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন; আর এর মাধ্যমে যেন তিনি আমার জীবনে ও মরণোত্তর সময়ে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশাস্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন তাঁর বান্দা, রাসুল এবং সৃষ্টির মধ্যে তাঁর মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব—আমাদের নবী, ইমাম ও আদর্শ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

এটি ১৫/১২/১৪২১ হিজরি রোজ শনিবার মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أولاً: مفهوم المرض: المرض: السُّقم، نقيض الصحة، ويقال: المرض والسُّقم في البدن والدين جميعًا، كما يقال الصحة في البدن والدين جميعًا، والمرض في القلب يطلق على كل ما خرج به الإنسان عن الصحة في الدين، وأصل المرض: النقصان، يقال: بدن مريض: ناقص القوة، ويقال: قلب مريض: ناقص الدين، والمرض في القلب: فتورٌ عن الحق، وفي الأبدان، فتورُ الأعضاء (1)، والمرض: جمع أمراض؛ فساد المزاج وسوء الصحة بعد اعتدالها، ومرض الموت: العلة التي يقرر الأطباء أنها علة مميتة (2). وعلى هذا فالمريض: هو الذي اعتلت صحته، سواء كانت في جزء من بدنه أو في جميع بدنه (3).

‌‌ثانيًا: صبر المريض واحتسابه. المريض يجب عليه

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان العرب لابن منظور، باب الضاد، فصل الميم، 7/ 231 - 232، والقاموس المحيط للفيروزآبادي، باب الضاد، فصل الميم، ص843، والمعجم الوسيط، 2/ 863، ومختار الصحاح، مادة ((مرض))، ص259.

(2) انظر: معجم لغة الفقهاء، للأستاذ الدكتور محمد روّاس، ص391.

(3) انظر: الشرح الممتع لابن عثيمين، 4/ 459.
প্রথমত: রোগের ধারণা: রোগ হলো অসুস্থতা, যা সুস্থতার বিপরীত। বলা হয়ে থাকে: রোগ ও অসুস্থতা শরীর ও দ্বীন—উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে, যেমন শরীর ও দ্বীন উভয় ক্ষেত্রে সুস্থতা কথাটিও ব্যবহৃত হয়। আর অন্তরের রোগ বলতে এমন প্রতিটি বিষয়কে বোঝায় যার দ্বারা মানুষ দ্বীনি সুস্থতা থেকে বিচ্যুত হয়। রোগের আভিধানিক মূল অর্থ হলো: ঘাটতি বা হ্রাস পাওয়া। বলা হয়: 'রোগাক্রান্ত শরীর' অর্থাৎ যার শক্তি হ্রাস পেয়েছে, আর বলা হয়: 'রোগাক্রান্ত অন্তর' অর্থাৎ যার দ্বীনদারিতে ঘাটতি রয়েছে। অন্তরের রোগ হলো সত্যের প্রতি উদাসীনতা, আর শরীরের ক্ষেত্রে তা হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শিথিলতা (১)। রোগ (যার বহুবচন আমরাজ) হলো মেজাজের ভারসাম্যহীনতা এবং স্বাভাবিক অবস্থার পর স্বাস্থ্যের অবনতি। আর মৃত্যুশয্যার রোগ হলো এমন ব্যাধি যা চিকিৎসকরা প্রাণঘাতী বলে নির্ধারণ করেন (২)। সে অনুযায়ী, অসুস্থ ব্যক্তি হলেন তিনি, যার স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয়েছে, তা শরীরের কোনো একটি অংশে হোক বা সম্পূর্ণ শরীরে (৩)।

দ্বিতীয়ত: অসুস্থ ব্যক্তির ধৈর্য ও সওয়াবের প্রত্যাশা। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল মঞ্জুর রচিত লিসানুল আরব, বাব আদ-দদ, ফাসল আল-মিম, ৭/২৩১-২৩২; এবং ফিরোজাবাদীর আল-কামুস আল-মুহিত, বাব আদ-দদ, ফাসল আল-মিম, পৃষ্ঠা: ৮৪৩; আল-মু’জাম আল-ওয়াসিত, ২/৮৬৩; মুখতারুস সিহাহ, মূলশব্দ 'মরজ', পৃষ্ঠা: ২৫৯।

(২) দেখুন: প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ রওয়াস রচিত মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃষ্ঠা: ৩৯১।

(৩) দেখুন: ইবনে উসাইমীন রচিত আশ-শারহুল মুমতি’, ৪/৪৫৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৬)
أن يصبر ويحتسب على الله عز وجل الثواب الذي وعده سبحانه الصابرين، قال الله عز وجل: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ} (1). وقال عز وجل: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ} (2). وقال سبحانه وتعالى: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ} (3). وقال عز وجل: {مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الأَرْضِ وَلا فِي أَنفُسِكُمْ إِلا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى الله يَسِيرٌ * لِكَيْلا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَالله لا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ} (4). وقال تعالى: {مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلا بِإِذْنِ الله وَمَن يُؤْمِن بِالله يَهْدِ قَلْبَهُ وَالله بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (5). وقال تعالى:

{وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوفْ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الأَمَوَالِ وَالأنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ*الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُواْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعونَ*أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ} (6). وقال تعالى: {وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الأُمُورِ} (7). وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ الله مَعَ الصَّابِرِينَ} (8). وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (( … والصبر ضياء)) (9). وعن صهيب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((عجبًا لأمر المؤمن إن أمره كله خير، وليس ذلك لأحدٍ إلا للمؤمن، إن أصابته سرَّاء شكر فكان خيرًا له، وإن أصابته ضّراء صبر فكان خيرًا له)) (10). وعن أنس رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن الله

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر، الآية: 10.

(2) سورة محمد، الآية: 31.

(3) سورة الأنبياء، الآية: 35.

(4) سورة الحديد، الآيتان: 22 - 23.

(5) سورة التغابن، الآية: 11.

(6) سورة البقرة، الآيات: 155 - 157.

(7) سورة الشورى، الآية: 43.

(8) سورة البقرة، الآية: 153.

(9) مسلم، كتاب الطهارة، باب فضل الوضوء، برقم 223، من حديث أبي مالك الأشعري رضي الله عنه.

(10) مسلم، كتاب الزهد والرقائق، باب المؤمن أمره كله خير، برقم 2999.
তিনি যেন ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট সেই সওয়াবের আশা রাখেন যার প্রতিশ্রুতি তিনি ধৈর্যশীলদের দিয়েছেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {ধৈর্যশীলদেরকে তো তাদের পুরস্কার পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই} (১)। তিনি আরও বলেন: {আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের জেনে নেই এবং আমি তোমাদের অবস্থাসমূহ যাচাই করি} (২)। তিনি আরও বলেন: {প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আর আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে} (৩)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {পৃথিবীতে এবং তোমাদের ব্যক্তিগতভাবে যে বিপদই আপতিত হয়, তা আমি সংঘটিত করার আগেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষে এটি খুবই সহজ। যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিত না হও এবং যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত না হও। আর আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না} (৪)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়াত দান করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} (৫)। তিনি আরও বলেন:

{আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা নিজেদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে বলে: ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ তাদের ওপরই তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত} (৬)। তিনি আরও বলেন: {আর যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয়ই তা দৃঢ়সংকল্পের কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত} (৭)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন} (৮)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((...আর ধৈর্য হলো এক আলোকবর্তিকা)) (৯)। সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মুমিনের বিষয়টি কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ছাড়া আর কারো জন্য নয়। যদি তার কাছে কোনো সুখকর বিষয় পৌঁছে তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার ওপর কোনো বিপদ আপতিত হয় তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়)) (১০)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১০।

(২) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩১।

(৩) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫।

(৪) সূরা আল-হাদীদ, আয়াতদ্বয়: ২২ - ২৩।

(৫) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১১।

(৬) সূরা আল-বাকারা, আয়াতসমূহ: ১৫৫ - ১৫৭।

(৭) সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪৩।

(৮) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৩।

(৯) মুসলিম, কিতাবুত তাহারাত (পবিত্রতা অধ্যায়), ওযুর ফযীলত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২২৩, আবু মালিক আল-আশআরি (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে।

(১০) মুসলিম, কিতাবুষ যুহদ ওয়ার রাকাইক (বৈরাগ্য ও চিত্তশুদ্ধি অধ্যায়), মুমিনের প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৯৯৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৭)
- عز وجل قال: إذا ابتليت عبدي بحبيبتيه فصبر عوَّضته منهما الجنة)) يريد عينيه (1).

وعن عائشة رضي الله عنها أنها سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الطاعون فأخبرها ((أنه كان عذابًا يبعثه الله على من شاء فجعله رحمة للمؤمنين (2)، فليس من عبد يقع في الطاعون فيمكث في بلده صابرًا محتسبًا يعلم أنه لا يصيبه إلا ما كتب الله له إلا كان له مثل أجر الشهيد)) (3). وقال صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب المرض، باب فضل من ذهب بصره، برقم 5653.

(2) الطاعون: قيل هو الموت العام، وقيل: المرض العام الذي يفسد له الهواء، وتفسد به الأمزجة والأبدان، وقيل: هو الوباء، وقيل: هو المرض الذي يعم الكثير من الناس في جهة من الجهات، وقيل: أصل الطاعون: القروح الخارجة في الجسد، والوباء عموم الأمراض، فسميت طاعونًا لشبهها بها في الهلاك، وإلا فكل طاعون وباء، وليس كل وباء طاعونًا، انظر: فتح الباري لابن حجر، 10/ 180، وقال النووي في تهذيب الأسماء واللغات، 3/ 186: ((مرض معروف هو بثر وورم مؤلم جدًا يخرج مع لهب ويسودّ ما حواليه، أو يخضرّ أو يحمرّ حمرة بنفسجية كدرة يحصل معه خفقان القلب والقيء، ويخرج في المراق والآباط غالبًا والأيدي والأصابع وسائر الجسد)) ورجح ابن حجر في فتح الباري، 10/ 181 ((أن الطاعون يكون من طعن الجن وقرعه))، واستشهد لذلك بأدلة وصحح بعضها.

(3) البخاري، كتاب الطب، باب أجر الصابر على الطاعون، برقم 5734.
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "আমি যখন আমার কোনো বান্দাকে তার অতি প্রিয় দুটি বস্তু দ্বারা পরীক্ষায় ফেলি, আর সে তাতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আমি তাকে ওই দুটির পরিবর্তে জান্নাত দান করি।" তিনি তার দুই চোখ উদ্দেশ্য করেছেন (১)।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহামারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, "এটি ছিল একটি আজাব, যা আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা প্রেরণ করতেন। অতঃপর আল্লাহ একে মুমিনদের জন্য রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন (২)। অতএব, মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটার পর কোনো বান্দা যদি ধৈর্য সহকারে ও সওয়াবের আশায় নিজ এলাকায় অবস্থান করে এবং এ কথা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু তাকে স্পর্শ করবে না, তবে তার জন্য একজন শহীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে" (৩)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুল মারদ, দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব পরিচ্ছেদ, নম্বর ৫৬৫৩।

(২) মহামারি: বলা হয়েছে এটি হলো ব্যাপক মৃত্যু; আবার বলা হয়েছে এটি এমন সাধারণ রোগ যার কারণে বাতাস দূষিত হয় এবং এর ফলে শারীরিক মেজাজ ও দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। কেউ বলেন এটি হলো ওবা (সংক্রামক ব্যাধি)। আবার বলা হয়েছে এটি এমন রোগ যা কোনো অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষকে আক্রান্ত করে। কেউ কেউ বলেন মহামারির মূল উৎস হলো শরীরের বাইরের অংশে প্রকাশ পাওয়া ক্ষত। আর 'ওবা' হলো সাধারণ রোগসমূহ; ধ্বংসাত্মক হওয়ার দিক থেকে সাদৃশ্য থাকার কারণে একে মহামারি বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রতিটি মহামারিই ওবা, কিন্তু প্রতিটি ওবা মহামারি নয়। দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি, ১০/১৮০। ইমাম নববী তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত-এ (৩/১৮৬) বলেছেন: "এটি একটি পরিচিত রোগ, যা হলো ফোঁড়া ও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ফোলা, যা প্রচণ্ড জ্বালাপোড়ার সাথে প্রকাশ পায় এবং এর চারপাশ কালো, সবুজ অথবা গাঢ় বেগুনি বর্ণ ধারণ করে। এর সাথে হৃদকম্পন ও বমি হতে পারে এবং এটি সাধারণত পেটের নিচের নরম অংশে ও বগলে এবং হাত, আঙুল ও শরীরের অন্যান্য অংশে প্রকাশ পায়।" ইবনে হাজার ফাতহুল বারি-তে (১০/১৮১) এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, "মহামারি জিনদের আঘাতের কারণে হয়" এবং তিনি এর সপক্ষে বিভিন্ন দলিল পেশ করেছেন এবং সেগুলোর কয়েকটিকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

(৩) বুখারি, কিতাবুত তিব্ব, মহামারিতে ধৈর্য ধারণকারীর সওয়াব পরিচ্ছেদ, নম্বর ৫৭৩৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৯)
(( … إنما الصبر عند الصدمة الأولى)) (1).

وعن أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ما يصيب المسلم من نصب (2)، ولا وصب (3)، ولا هم، ولا حزن، ولا أذى، ولا غمّ، حتى الشوكة يُشاكها إلا كفر الله بها من خطاياه)) (4).

وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما من مسلم يُصيبه أذى من مرض فما سواه إلاّ حطَّ الله سيئاته كما تحطّ الشجرة ورقها)) (5).

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما من

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الجائز، باب زيارة القبور، برقم 1283، ومسلم، كتاب الجنائز، باب الصبر على المصيبة عند الصدمة الأولى، برقم 926.

(2) النصب: التعب.

(3) الوصب: المرض.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب المرضى، باب ما جاء في كفارة المرض، برقم 5641، 5642، ومسلم، كتاب البر والصلة، باب ثواب المؤمن فيما يصيبه، برقم 2573.

(5) متفق عليه: البخاري، كتاب المرضى، باب شدة المرض، برقم 5647، 5648، ومسلم، كتاب البر والصلة، باب ثواب المؤمن فيما يصيبه، برقم 2571.
(( … ধৈর্য তো কেবল বিপদের প্রথম আঘাতেই)) (১)।

আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মুসলিমের ওপর যে ক্লান্তি (النصب) (২), রোগ (الوصب) (৩), দুশ্চিন্তা, শোক, কষ্ট কিংবা দুঃখ আপতিত হয়, এমনকি তার শরীরে যে কাঁটা ফোটে—তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন)) (৪)।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((কোনো মুসলিম যখন রোগ বা অন্য কোনো কষ্টের শিকার হয়, তখন আল্লাহ তার পাপগুলোকে এমনভাবে ঝরিয়ে দেন যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়)) (৫)।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে কোনো

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল জানাইজ, কবর জিয়ারত অধ্যায়, নং ১২৮৩; এবং মুসলিম, কিতাবুল জানাইজ, বিপদের প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধারণ করা সংক্রান্ত অধ্যায়, নং ৯২৬।

(২) ক্লান্তি (النصب)।

(৩) রোগ (الوصب)।

(৪) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল মারদা, রোগের কাফফারা বিষয়ক অধ্যায়, নং ৫৬৪১, ৫৬৪২; এবং মুসলিম, কিতাবুল বির ওয়াস সিলাহ, মুমিনের বিপদে প্রাপ্ত সওয়াব বিষয়ক অধ্যায়, নং ২৫৭৩।

(৫) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল মারদা, রোগের তীব্রতা বিষয়ক অধ্যায়, নং ৫৬৪৭, ৫৬৪৮; এবং মুসলিম, কিতাবুল বির ওয়াস সিলাহ, মুমিনের বিপদে প্রাপ্ত সওয়াব বিষয়ক অধ্যায়, নং ২৫৭১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১০)
مسلم يشاك شوكة فما فوقها، إلا كُتب له بها درجة ومُحيت عنه بها خطيئة)) (1).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من يُرد الله به خيرًا يُصبْ (2) منه)) (3).

وعن أنس رضي الله عنه يرفعه: ((إن عِظم الجزاء مع عظم البلاء، وإن الله إذا أحب قومًا ابتلاهم فمن رضي فله الرضى، ومن سخط فله السُّخط)) (4).

وعن مصعب بن سعد عن أبيه رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب البر والصلة، باب ثواب المؤمن فيما يصيبه، برقم 2572.

(2) يصب منه: معناه يبتليه بالمصائب، ليثيبه عليها، وقيل: يوجه إليه البلاء فيصيبه. فتح الباري لابن حجر، 10/ 108، وسمعت شيخنا ابن باز رحمه الله يقول أثناء تقريره على صحيح البخاري، الحديث رقم 5645: ((أي يصيبه بالمصائب بأنواعها، وحتى يتذكر فيتوب، ويرجع إلى ربه)).

(3) البخاري، كتاب المرضى، باب ما جاء في كفارة المرض، برقم 5645.

(4) الترمذي، كتاب الزهد، باب ما جاء في الصبر على البلاء، برقم 2396، وابن ماجه، كتاب الفتن، باب الصبر على البلاء، برقم 4031، وحسنه الألباني في صحيح الترمذي، 2/ 564، وفي صحيح ابن ماجه، 3/ 320، وفي الصحيحة، برقم 146.
একজন মুসলিমকে কোনো কাঁটা বিদ্ধ হওয়া বা তার চেয়ে বেশি কিছু স্পর্শ করা হলে, তার বিনিময়ে তার জন্য একটি মর্যাদা (درجة) লেখা হয় এবং তার একটি পাপ (خطيئة) মুছে ফেলা হয় (১)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি বিপদে (يُصبْ منه) ফেলেন" (৩)।

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (يرفعه) সূত্রে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই বিপদের বিশালতার সাথে প্রতিদানের বিশালতা সম্পৃক্ত। আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় (ابتلاهم) ফেলেন। সুতরাং যে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য সন্তুষ্টি (الرضى) থাকে, আর যে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য অসন্তুষ্টি (السخط) থাকে" (৪)।

মুসআব ইবনে সাদ তার পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি, মুমিন যে বিপদে আক্রান্ত হয় তার সওয়াবের অধ্যায়, হাদিস নং ২৫৭২।

(২) ইউসাব মিনহু (يصب منه): এর অর্থ হলো তাকে বিপদে (مصائب) ফেলেন যাতে তাকে এর বিনিময়ে প্রতিদান দিতে পারেন। আবার বলা হয়েছে: তার দিকে বিপদ প্রেরণ করা হয় যা তাকে স্পর্শ করে। ফাতহুল বারী ইবনে হাজার, ১০/ ১০৮; এবং আমি আমাদের শায়খ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৬৪৫-এর উপর আলোচনার সময় বলতে শুনেছি: "অর্থাৎ তাকে বিভিন্ন প্রকার বিপদে ফেলেন যেন সে শিক্ষা গ্রহণ করে তওবা (توب) করে এবং তার রবের দিকে ফিরে আসে।"

(৩) বুখারি, কিতাবুল মারদা, রোগের কাফফারা অধ্যায়, হাদিস নং ৫৬৪৫।

(৪) তিরমিজি, কিতাবুজ জুহদ, বিপদে ধৈর্য ধারণের অধ্যায়, হাদিস নং ২৩৯৬; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, বিপদে ধৈর্য ধারণের অধ্যায়, হাদিস নং ৪০৩১; আলবানী একে সহিহ তিরমিজি, ২/ ৫৬৪; সহিহ ইবনে মাজাহ, ৩/ ৩২০ এবং আস-সহিহাহ, হাদিস নং ১৪৬-এ হাসান (حسنه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১১)
الله، أي الناس أشدُّ بلاءً؟ قال: ((الأنبياء ثم الأمثل فالأمثل، فيبتلى الرجل على حسب دينه، فإن كان في دينه صُلبًا، اشتدَّ بلاؤه، وإن كان في دينه رقةٌ ابتلي على حسب دينه، فما يبرحُ البلاء بالعبد حتى يتركه يمشي على الأرض ما عليه خطيئة)) (1).

 

‌‌ثالثًا: المسلم يسأل الله العفو والعافية في الدنيا والآخرة، ولا يسأل البلاء؛ لحديث العباس بن عبد المطلب رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول الله علمني شيئًا أسأله الله؟ قال: ((سل الله العافية))، فمكثت أيامًا ثم جئت فقلت: يا رسول الله علمني شيئًا أسأله الله، فقال لي: ((يا عباسُ يا عمَّ رسول الله: ((سل الله العافية في الدنيا والآخرة)) (2)؛

--------------------------------------------

(1) الترمذي، كتاب الزهد، باب ما جاء في الصبر على البلاء، برقم 2398، وابن ماجه في كتاب الفتن، باب الصبر على البلاء، برقم 4023، وقال الألباني في صحيح الترمذي، 2/ 565، وفي صحيح ابن ماجه، 3/ 318، وفي الصحيحة، برقم 143، 2280: ((حسن صحيح)).

(2) الترمذي، كتاب الدعوات، بابٌ: حدثنا يوسف بن عيسى، برقم 3514، وقال: هذا حديث صحيح، وصححه الألباني في صحيح الترمذي، 3/ 446، وفي سلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 1523.
(হে আল্লাহর) রাসূল! মানুষের মধ্যে কার পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন? তিনি বললেন: ((নবীগণ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ। মানুষকে তার দ্বীনের দৃঢ়তা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়; যদি সে তার দ্বীনে অবিচল হয়, তবে তার পরীক্ষা কঠিন হয়, আর যদি তার দ্বীনে শিথিলতা থাকে, তবে তাকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। বান্দার ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে, যতক্ষণ না তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে জমিনে বিচরণ করে অথচ তার কোনো পাপ অবশিষ্ট থাকে না)) (১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: একজন মুসলিম দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করবেন, বিপদ বা পরীক্ষা কামনা করবেন না; আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব? তিনি বললেন: ((আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন))। অতঃপর আমি কয়েক দিন অতিবাহিত করলাম, তারপর পুনরায় এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব? তখন তিনি আমাকে বললেন: ((হে আব্বাস! হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন)) (২);

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি, কিতাবুয যুহদ, অনুচ্ছেদ: বিপদে ধৈর্য ধারণ প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ২৩৯৮; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, অনুচ্ছেদ: বিপদে ধৈর্য ধারণ, হাদিস নং ৪০২৩; আলবানী সহিহ তিরমিজি, ২/৫৬৫, সহিহ ইবনে মাজাহ, ৩/৩১৮ এবং আস-সহিহাহ, হাদিস নং ১৪৩, ২২৮০-তে একে "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" বলেছেন।

(২) তিরমিজি, কিতাবুদ দাওয়াত, অনুচ্ছেদ: ইউসুফ ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৩৫১৪; এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) হাদিস বলেছেন, আর আলবানী সহিহ তিরমিজি, ৩/৪৪৬ এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ, হাদিস নং ১৫২৩-এ একে সহিহ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১২)
ولحديث أبي بكر الصديق رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال على المنبر: ((سلوا الله العفو والعافية؛ فإن أحدًا لم يُعْطَ بعد اليقين خيرًا من العافية)) (1)؛ ولحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: كان من دعاء رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((اللهم إني أعوذ بك من زوال نعمتك، وتحول عافيتك، وفجاءة نقمتك، وجميع سخطك)) (2)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يتعوذ من سوء القضاء، ومن درك الشقاء، ومن شماتة الأعداء، ومن جهد البلاء)) (3).

 

‌‌رابعًا: الاجتهاد في حال الصحة في الأعمال الصالحة؛ لتكتب له كاملة في حال عجزه عن العمل؛ لحديث أبي

--------------------------------------------

(1) الترمذي، كتاب الدعوات، بابٌ: حدثنا محمد بن بشار، برقم 3558، وابن ماجه، كتاب الدعاء، باب الدعاء بالعفو والعافية، برقم 3849، وقال الألباني في صحيح سنن الترمذي، 3/ 464: ((حسن صحيح))،وفي صحيح ابن ماجه،3/ 259: ((صحيح)).

(2) مسلم، كتاب الرقاق، باب أكثر أهل الجنة الفقراء، برقم 2739.

(3) مسلم، كتاب الذكر والدعاء، بابٌ: في التعوذ من سوء القضاء ودرك الشقاء، وغيره، برقم 2707.
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছেন: ((তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করো; কেননা নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকিন) পর সুস্থতার চেয়ে উত্তম কিছু কাউকে প্রদান করা হয়নি)) (১); এবং আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর দোয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল: ((হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার নিয়ামতের বিলুপ্তি, আপনার প্রদানকৃত সুস্থতার পরিবর্তন, আপনার আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)) (২); এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সা.) ((মন্দ ফয়সালা, দুর্ভাগ্যের স্পর্শ, শত্রুর উপহাস এবং কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন)) (৩)।

 

‌‌চতুর্থত: সুস্থ অবস্থায় নেক আমলের ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ব্যয় করা; যাতে আমল করতে অক্ষম হওয়ার অবস্থায় তার জন্য পূর্ণ সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়; আবু... বর্ণিত হাদিসের কারণে

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি, কিতাবুদ দাওয়াত, অধ্যায়: মুহাম্মাদ বিন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৩৫৫৮; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুদ দুআ, অধ্যায়: ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনার পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৮৪৯। আলবানী সহীহ সুনানে তিরমিজি, ৩/৪৬৪ গ্রন্থে একে হাসান সহীহ (حسن صحيح) বলেছেন এবং সহীহ ইবনে মাজাহ, ৩/২৫৯ গ্রন্থে একে সহীহ (صحيح) বলেছেন।

(২) মুসলিম, কিতাবুর রিকাক, অধ্যায়: জান্নাতবাসীদের অধিকাংশ দরিদ্র, হাদিস নং ২৭৩৯।

(৩) মুসলিম, কিতাবুজ জিকর ওয়াদ দুআ, অধ্যায়: মন্দ ফয়সালা ও দুর্ভাগ্যের স্পর্শ ইত্যাদি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৭০৭।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৩)
موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا مرض العبد أو سافر كُتِبَ له مثل ما كان يعمل مقيمًا صحيحًا)) (1)

 

‌‌خامسًا: يُسْر الشريعة الإسلامية وسهولتها؛ وكمالها، قال الله عز وجل: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} (2). وقال سبحانه: {يُرِيدُ الله بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} (3). وقال تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (4). وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((دعوني ما تركتكم؛ فإنما هلك من كان قبلكم بكثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيء فأتوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه)) (5).

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الجهاد والسير، بابٌ: يكتب للمسافر مثل ما كان يعمل في الإقامة، برقم 2996.

(2) سورة الحج، الآية: 78.

(3) سورة البقرة، الآية: 185.

(4) سورة التغابن، الآية: 16.

(5) متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: البخاري، كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب الاقتداء بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم، برقم 7288، ومسلم، كتاب الحج، باب فرض الحج مرة في العمر، برقم 1337.
আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যখন কোনো বান্দা অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য ঠিক তেমনই আমল লেখা হয় যা সে সুস্থ ও অবস্থানরত অবস্থায় করত)) (১)

 

‌‌পঞ্চম: ইসলামি শরীয়তের সহজতা ও সাবলীলতা; এবং এর পূর্ণতা, আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং দ্বীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} (২)। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কোনো কঠিনতা চান না} (৩)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যমতো} (৪)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছি সে অবস্থায় আমাকে থাকতে দাও; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাঁদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন তোমরা তা সাধ্যমতো পালন করো, আর যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো)) (৫)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, অধ্যায়: মুসাফিরের জন্য তেমনই আমল লেখা হয় যা সে অবস্থানরত অবস্থায় করত, হাদিস নং ২৯৯৬।

(২) সূরা আল-হজ, আয়াত: ৭৮।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫।

(৪) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।

(৫) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের অনুসরণ, হাদিস নং ৭২৮৮, এবং মুসলিম, কিতাবুল হজ, অধ্যায়: জীবনে একবার হজ ফরজ হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১৩৩৭।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال صلى الله عليه وسلم: ((إن الدين يسر)) (1).

 

‌‌سادسًا: كيفية طهارة المريض على النحو الآتي:

‌‌1 - يجب على المريض أن يتوضأ من الحدث الأصغر: (نواقض الوضوء)، ويغتسل من الحدث الأكبر: (موجبات الغسل).

‌‌2 - يجب أن يزيل ما على السبيلين من النجاسة بالماء قبل الوضوء؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يستنجي بالماء (2).

والاستجمار بالحجارة، أو ما يقوم مقامها يقوم مقام الاستنجاء بالماء، ويقوم مقام الحجارة ما في معناها من كل جامد طاهر ليس له حرمة: كالخشب، والخرق، والمناديل، وكل ما أنقى به فهو كالحجارة على الصحيح (3)؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إذا ذهب أحدكم إلى الغائط فليذهب معه

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الإيمان، بابٌ: الدين يسر، برقم 39 من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) متفق عليه من حديث أنس رضي الله عنه، البخاري، كتاب الوضوء، باب الاستنجاء بالماء، برقم 150، ومسلم، كتاب الطهارة، باب الاستنجاء بالماء من التبرز، برقم 271.

(3) انظر: المغني لابن قدامة، 1/ 213.
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ)) (১)।

 

‌‌ষষ্ঠত: অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি নিম্নরূপ:

‌‌১ - অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ছোট অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) থেকে ওযু করা আবশ্যক (واجب): (ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (نواقض الوضوء)), এবং বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) থেকে গোসল করা আবশ্যক (واجب): (গোসল ওয়াজিবকারী বিষয়সমূহ (موجبات الغسل))।

‌‌২ - ওযুর পূর্বে দুই রাস্তা (السبيلين) থেকে নাপাকি (النجاسة) পানি দ্বারা দূর করা আবশ্যক (واجب) ; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতেন (২)।

আর পাথর দ্বারা কুলুখ ব্যবহার করা (الاستجمار), অথবা যা এর স্থলাভিষিক্ত হয়, তা পানি দ্বারা ইস্তিনজা করার স্থলাভিষিক্ত হবে। আর পাথরের সমার্থবোধক এমন প্রতিটি কঠিন ও পবিত্র বস্তু যার কোনো বিশেষ শারীয়তসম্মত মর্যাদা নেই তা পাথরের স্থলাভিষিক্ত হবে: যেমন কাঠ, নেকড়া, টিস্যু পেপার এবং যা কিছু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয় তা বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে পাথরের মতোই গণ্য হবে (৩); কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন সাথে নিয়ে যায়...

--------------------------------------------

(১) বুখারি, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: দ্বীন সহজ, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে, হাদিস নং ৩৯।

(২) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه); বুখারি, ওযু অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা, হাদিস নং ১৫০; মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মলত্যাগের পর পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা, হাদিস নং ২৭১।

(৩) দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি, ১/২১৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৫)
بثلاثة أحجار يستطيب بهن؛ فإنها تجزئ عنه)) (1). ولابد في الاستجمار من ثلاثة أحجار أو ما يقوم مقامها فأكثر؛ لحديث سلمان رضي الله عنه يرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم: ((لقد نهانا أن نستقبل القبلة بغائط أو بول، أو نستنجي باليمين، أو نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، أو نستنجي برجيع (2) أو بعظم)) (3). فإن لم تكفِ ثلاثة أحجار زاد رابعًا، وخامسًا حتى ينقي المحل، والأفضل أن يقطع الاستجمار على وتر؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه: ((ومن استجمر فليوتر)) (4).

والأفضل أن يستجمر الإنسان بالحجارة ثم يتبعها بالماء؛ لأن الحجارة تزيل عين النجاسة والماء يطهر

--------------------------------------------

(1) أبو داود، من حديث عائشة رضي الله عنها برقم 40، وحسنه الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 10، وتقدم تخريجه في الطهارة في آداب قضاء الحاجة.

(2) الرجيع: الروث والعذرة.

(3) مسلم، برقم 262، وتقدم تخريجه في الطهارة، في آداب قضاء الحاجة.

(4) متفق عليه: البخاري، برقم 162، ومسلم، برقم 237، وتقدم تخريجه في الطهارة، آداب قضاء الحاجة.
তিনটি পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে; কারণ তা তার জন্য যথেষ্ট (تجزئ) হবে (১)। আর ইস্তিঝমার (استجمار) করার ক্ষেত্রে তিনটি পাথর বা তার স্থলাভিষিক্ত বা তার চেয়ে বেশি হওয়া আবশ্যক; সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয়ই তিনি আমাদের পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, অথবা ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে, অথবা তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে, অথবা গোবর (رجيع) (২) বা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন” (৩)। যদি তিনটি পাথরে যথেষ্ট না হয়, তবে চতুর্থ এবং পঞ্চম পাথর যোগ করবে যতক্ষণ না স্থানটি পরিষ্কার হয়। আর উত্তম হলো ইস্তিঝমার (استجمار) প্রক্রিয়াটি বেজোড় (وتر) সংখ্যায় শেষ করা; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: “আর যে ব্যক্তি ইস্তিঝমার (استجمر) করবে সে যেন তা বেজোড় (وتر) সংখ্যায় করে” (৪)।

আর উত্তম হলো মানুষ প্রথমে পাথর দিয়ে ইস্তিঝমার করবে এবং পরে পানি ব্যবহার করবে; কেননা পাথর নাপাকির মূল উপাদান দূর করে আর পানি তাকে পবিত্র করে।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে, নম্বর ৪০; আলবানী একে সহিহ আবু দাউদ ১/১০-এ হাসান (حسن) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর উৎস বর্ণনা বা তাখরিজ (تخريج) পবিত্রতা অধ্যায়ের হাজত পূরণের শিষ্টাচার অনুচ্ছেদে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) রাজী' (الرجيع): গোবর ও বিষ্ঠা।

(৩) মুসলিম, নম্বর ২৬২; এর তাখরিজ (تخريج) পবিত্রতা অধ্যায়ের হাজত পূরণের শিষ্টাচার অনুচ্ছেদে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, নম্বর ১৬২ এবং মুসলিম, নম্বর ২৩৭; এর তাখরিজ (تخريج) পবিত্রতা অধ্যায়ের হাজত পূরণের শিষ্টাচার অনুচ্ছেদে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৬)
المحل، فيكون أبلغ في الطهارة، وهو مخير بين الاستجمار بالحجارة، أو الاستنجاء بالماء أو الجمع بينهما وهو الأفضل، وإن أراد الاقتصار على أحدهما فالماء أفضل؛ لأنه يطهر المحل ويزيل العين والأثر.

والاستنجاء يكون من الخارج الرطب من السبيلين: كالبول والغائط، أما النوم، والريح، وأكل لحم الإبل، ومس الفرج فلا يُستنجى منها؛ لأن الاستنجاء إنما شرع لإزالة النجاسة من السبيلين (1).

 

‌‌3 - إذا كان المريض لا يستطيع الحركة؛ فإنه يوضئه شخص آخر، وإذا كان عليه حدث أكبر ساعده في الغسل، ولا ينظر إلى عورته.

‌‌4 - فإن كان المريض لا يستطيع أن يتطهر بالماء؛ لخوفه تلف النفس، أو تلف عضو، أو حدوث مرض، أو لعجزه، أو خوف زيادة المرض أو تأخر برئه؛ فإنه يتيمم؛

--------------------------------------------

(1) انظر: فتاوى سماحة الشيخ ابن باز، 12/ 236.
স্থানটি, ফলে এটি পবিত্রতার ক্ষেত্রে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হয়। আর সে পাথর ব্যবহারের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন (استجمار) অথবা পানি ব্যবহারের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন (استنجاء)-এর মধ্যে ইখতিয়ার রাখে, কিংবা এই দুইয়ের সমন্বয় করতে পারে এবং সেটিই সর্বোত্তম। আর যদি সে কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায়, তবে পানিই উত্তম; কেননা এটি সংশ্লিষ্ট স্থানটিকে পবিত্র করে এবং অপবিত্রতার মূল বস্তু ও তার চিহ্ন উভয়ই দূর করে।

আর পানি ব্যবহারের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন (استنجاء) কেবল দুই পথ দিয়ে নির্গত সিক্ত বস্তুর ক্ষেত্রে হয়: যেমন প্রস্রাব ও মল। তবে ঘুম, বায়ু নিঃসরণ, উটের গোশত খাওয়া এবং গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন (استنجاء) করতে হয় না; কারণ পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন (استنجاء) কেবল দুই পথের অপবিত্রতা দূর করার জন্যই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে (১)।

 

‌‌৩ - যদি অসুস্থ ব্যক্তি নড়াচড়া করতে সক্ষম না হয়; তবে অন্য কোনো ব্যক্তি তাকে অজু করিয়ে দেবে, আর যদি তার ওপর বড় অপবিত্রতা (حدث أكبر) থাকে তবে তাকে গোসলে সাহায্য করবে, তবে সে তার লজ্জাস্থানের (عورة) দিকে তাকাবে না।

‌‌৪ - আর যদি অসুস্থ ব্যক্তি পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে সক্ষম না হয়; প্রাণের বিনাশ, কোনো অঙ্গহানি বা রোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায়, কিংবা অক্ষমতার দরুন অথবা রোগ বৃদ্ধি বা আরোগ্য লাভে বিলম্ব হওয়ার ভয়ে; তবে সে তায়াম্মুম (تيمم) করবে;

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতাওয়া সামাহাতুশ শাইখ ইবনে বাজ, ১২/২৩৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৭)
لقول الله تعالى: {وَلَا تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ الله كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} (1).

وكيفية التيمم: أن ينوي رفع الحدث، ثم يضرب بيديه على التراب الطاهر ضربة واحدة فيمسح جميع وجهه، بباطن أصابعه، ثم يمسح كفيه براحتيه؛ لقول الله تعالى: {وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّن الْغَآئِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُواْ مَاءً فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ الله كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا} (2)؛ ولقوله تعالى: {وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مَّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُواْ مَاءً فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ الله لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 29.

(2) سورة النساء، الآية: 43.

(3) سورة المائدة، الآية 6.
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু" (১)।

তায়াম্মুমের পদ্ধতি হলো: অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা, অতঃপর পবিত্র মাটিতে দুই হাত দিয়ে একবার আঘাত করা এবং আঙুলের ভেতরের অংশ দিয়ে নিজের পুরো মুখমণ্ডল মাসাহ করা, এরপর হাতের তালু দিয়ে উভয় হাত মাসাহ করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমরা যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সঙ্গত হও এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসাহ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত মার্জনাকারী ও পরম ক্ষমাশীল" (২); এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমরা যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সঙ্গত হও এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসাহ করো। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো" (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৩।

(৩) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌5 - فإن لم يستطع أن يتيمم بنفسه؛ فإنه ييممه من عنده من المرافقين أو الحاضرين، يحضر التراب الطاهر ثم ييممه به.

‌‌6 - من به جروح أو كسر أو مرض يضره استعمال الماء؛ فإنه يتيمم سواء كان محدثًا حدثًا أصغر أو أكبر، لكن لو أمكنه أن يغسل الصحيح من جسده أو أعضائه وجب عليه ذلك وتيمم للباقي؛ لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (1)؛ ولقوله سبحانه وتعالى: {لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} (2).

‌‌7 - إذا كان في بعض أعضاء الطهارة جرح يستطيع أن يغسله بالماء غسله، فإن كان الغسل بالماء يؤثر عليه مسحه بالماء مسحًا، فإن كان المسح يؤثر عليه أيضًا فإنه يشد عليه جبيرة أو لزقة ويمسح عليها، فإن عجز فحينئذ يتيمم عنه بعد الطهارة.

--------------------------------------------

(1) سورة التغابن، الآية: 16.

(2) سورة البقرة، الآية: 286.
‌৫ - যদি সে নিজে তায়াম্মুম করতে সক্ষম না হয়, তবে তার নিকট উপস্থিত কোনো সফরসঙ্গী বা অন্য কেউ তাকে তায়াম্মুম করিয়ে দিবে। সে পবিত্র মাটি উপস্থিত করবে এবং তা দিয়ে তাকে তায়াম্মুম করাবে।

‌‌৬ - যার কোনো ক্ষত, হাড় ভাঙা বা এমন অসুস্থতা রয়েছে যাতে পানি ব্যবহার করা তার জন্য ক্ষতিকর; তবে সে তায়াম্মুম করবে, চাই তা ছোট নাপাকি (حدث أصغر) হোক বা বড় নাপাকি (حدث أكبر)। তবে যদি তার শরীরের সুস্থ অংশ বা অঙ্গসমূহ ধৌত করা সম্ভব হয়, তবে তার জন্য তা ধৌত করা আবশ্যক হবে এবং অবশিষ্ট অংশের জন্য সে তায়াম্মুম করবে; কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করো} (১); এবং মহান পবিত্র আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না} (২)।

‌‌৭ - যদি পবিত্রতা অর্জনের কোনো অঙ্গে ক্ষত থাকে এবং তা পানি দিয়ে ধোয়া সম্ভব হয় তবে সে তা ধুয়ে নেবে। যদি পানি দিয়ে ধোয়া ক্ষতিকর হয় তবে সে পানির দ্বারা মাসেহ (مسح) করবে। আর যদি মাসেহ করাও ক্ষতিকর হয় তবে সে তার উপরে পট্টি (جبيرة) বা ব্যান্ডেজ (لزقة) বাঁধবে এবং তার ওপর মাসেহ করবে। যদি এতেও সে অক্ষম হয় তবে পবিত্রতা অর্জনের পর সে উক্ত অঙ্গের জন্য তায়াম্মুম করবে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ১৯)
أما إذا كان الجرح مستورًا بجبس أو لزقة أو جبيرة، أو ما أشبه ذلك ففي هذا الحال يمسح على الساتر ويغنيه عن الغسل، ولا يشترط لبس الجبيرة على طهارة على القول الراجح، وليس للمسح على الجبيرة توقيت؛ لأن مسحها لضرورة فيقدر بقدرها، ويمسح عليها في الحدث الأكبر والأصغر (1). والصواب أنه إذا مسح على العضو يكفيه عن التيمم، فلا يجمع بين المسح والتيمم إلا إذا كان هناك عضو آخر لم يستطع المسح عليه (2).

 

‌‌8 - إذا تيمم لصلاة وبقي على طهارته إلى وقت الصلاة الأخرى؛ فإنه يصليها بالتيمم الأول؛ ولا يعيد التيمم للصلاة الثانية؛ لأنه لم يزل على طهارته ولم يحصل ما يبطلها من نواقض الطهارة؛ لأن التيمم لا يبطل إلا بما يبطل الوضوء.

--------------------------------------------

(1) انظر: ما تقدم في الطهارة: المسح على الجبائر.

(2) انظر: فتاوى العلامة ابن باز،12/ 240،وفتاوى العلامة ابن عثيمين،11/ 155، 172.
কিন্তু যদি ক্ষতস্থান প্লাস্টার, আঠালো ব্যান্ডেজ বা পট্টি অথবা এজাতীয় কিছু দিয়ে ঢাকা থাকে, তবে এমতাবস্থায় সেই আবরণের ওপর মাসেহ করা হবে এবং এটি ধৌত করার বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে। অগ্রগণ্য মত (القول الراجح) অনুযায়ী, পবিত্র অবস্থায় পট্টি পরিধান করা শর্ত নয়। পট্টির ওপর মাসেহ করার কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই; কারণ এর ওপর মাসেহ করা প্রয়োজনের খাতিরে, তাই এটি প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বড় এবং ছোট উভয় অপবিত্রতার (حدث) ক্ষেত্রে এর ওপর মাসেহ করা যাবে (১)। সঠিক (الصواب) অভিমত হলো, যখন কোনো ব্যক্তি অঙ্গের ওপর মাসেহ করবে, তখন তা তায়াম্মুমের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। সুতরাং মাসেহ এবং তায়াম্মুম উভয়টি একত্রে করতে হবে না, তবে যদি এমন অন্য কোনো অঙ্গ থাকে যার ওপর মাসেহ করা সম্ভব নয় (২)।

 

‌‌৮ - যদি কেউ কোনো সালাতের জন্য তায়াম্মুম করে এবং পরবর্তী সালাতের ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত পবিত্র থাকে; তবে সে প্রথম তায়াম্মুম দিয়েই সালাত আদায় করবে; দ্বিতীয় সালাতের জন্য তায়াম্মুম পুনরায় করবে না; কারণ সে তখনও পবিত্র অবস্থায় আছে এবং পবিত্রতা বিনষ্টকারী (نواقض) কোনো কিছু ঘটেনি; কেননা ওজু যা দ্বারা ভঙ্গ হয় তায়াম্মুমও কেবল তা দ্বারাই ভঙ্গ হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পবিত্রতা অধ্যায়ে ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে: পট্টির ওপর মাসেহ করা।

(২) দেখুন: ফাতাওয়া আল্লামা ইবনে বাজ, ১২/২৪০ এবং ফাতাওয়া আল্লামা ইবনে উসাইমীন, ১১/১৫৫, ১৭২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌9 - يجب على المريض أن يطهر بدنه وثيابه، وموضع صلاته من النجاسات، فإن عجز عن شيء من ذلك ولم يجد من يقوم بتطهير النجاسة صلى على حسب حاله وصلاته صحيحة ولا إعادة عليه، ولكن لو استطاع أن يبدل ثيابه النجسة بثياب أخرى طاهرة أو يفرش على الفراش النجس فراشًا طاهرًا وجب عليه ذلك.

‌‌10 - لا يجوز للمريض أن يؤخر الصلاة عن وقتها من أجل العجز عن الطهارة، بل يتطهر بقدر ما يستطيع، ويطهر بدنه وثوبه والبقعة التي يصلي عليها؛ فإن عجز عن استعمال الماء تيمم، فإن عجز عن استعمال التيمم سقطت عنه الطهارة وصلى على حسب حاله (1).

‌‌11 - المريض المصاب بسلس البول، أو استمرار خروج الدم، أو الريح، ولم يبرأ بمعالجته، عليه أن يتوضأ لكل

--------------------------------------------

(1) انظر: ما تقدم في الطهارة: التيمم، ومن يجوز له التيمم، ونواقض التيمم ومبطلاته، وفاقد الطهورين: الماء والتراب. وانظر: فتاوى العلامة ابن باز، 12/ 239، وفتاوى العلامة ابن عثيمين، 11/ 156.
‌‌৯ - অসুস্থ ব্যক্তির জন্য তার শরীর, পোশাক এবং সালাত আদায়ের স্থান নাপাকি থেকে পবিত্র করা আবশ্যক। যদি সে এর কোনো কিছু করতে অক্ষম হয় এবং এমন কাউকে না পায় যে নাপাকি পরিষ্কার করে দেবে, তবে সে তার অবস্থানুযায়ী সালাত আদায় করবে এবং তার সালাত সহীহ (صحيحة) হবে এবং তার আর পুনরায় তা আদায় করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি সে অপবিত্র পোশাক পরিবর্তন করে অন্য পবিত্র পোশাক পরতে সক্ষম হয় অথবা অপবিত্র বিছানার ওপর কোনো পবিত্র কাপড় বিছিয়ে দিতে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য তা করা আবশ্যক।

‌‌১০ - পবিত্রতা অর্জনে অক্ষমতার কারণে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করা বৈধ নয়, বরং সে তার সাধ্যানুযায়ী পবিত্রতা অর্জন করবে এবং তার শরীর, কাপড় ও সালাত আদায়ের স্থান পবিত্র করবে; সে যদি পানি ব্যবহারে অক্ষম হয় তবে তায়াম্মুম করবে, আর যদি তায়াম্মুম করতেও অক্ষম হয় তবে তার ওপর থেকে পবিত্রতা অর্জনের বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে এবং সে তার অবস্থানুযায়ী সালাত আদায় করবে (১)।

‌‌১১ - প্রস্রাব ঝরা, অবিরাম রক্তক্ষরণ বা বায়ু নির্গত হওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত রোগী, যে চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেনি, তার জন্য আবশ্যক হলো প্রতিটির জন্য...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: পবিত্রতা অধ্যায়ে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে: তায়াম্মুম, যাদের জন্য তায়াম্মুম বৈধ, তায়াম্মুম ভঙ্গকারী ও বাতিলকারী বিষয়সমূহ এবং দুই পবিত্রকারী বস্তু (পানি ও মাটি) হারানো ব্যক্তি। আরও দেখুন: ফাতাওয়া আল্লামা ইবনে বাজ, ১২/২৩৯; ফাতাওয়া আল্লামা ইবনে উসাইমিন, ১১/১৫৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২১)
صلاة بعد دخول وقتها، ويغسل ما يصيب بدنه، وثوبه، أو يجعل للصلاة ثوبًا طاهرًا إن تيسر له ذلك، ويحتاط لنفسه احتياطًا يمنع انتشار البول أو الدم في ثوبه أو جسمه، أو مكان صلاته، وله أن يفعل في وقت الصلاة ما تيسر من صلاة، وقراءة في المصحف حتى يخرج الوقت فإذا خرج الوقت فعليه أن يعيد الوضوء أو التيمم إن عجز عن الوضوء؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر المستحاضة أن تتوضأ لوقت كل صلاة (1)؛ولقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (2)، وهذا فيه الدلالة على يسر الشريعة وسماحتها (3).

 

‌‌سابعًا: كيفية صلاة المريض على النحو الآتي:

‌‌1 - يجب على المريض الذي لا يخاف زيادة مرضه أن

--------------------------------------------

(1) تقدمت الأدلة في الطهارة في أحكام السلس والاستحاضة، وانظر فتاوى العلامة ابن باز، 12/ 240.

(2) سورة التغابن، الآية: 16.

(3) انظر: مجموع فتاوى العلامة ابن باز، 12/ 235 - 241، ومجموع فتاوى ورسائل العلامة ابن عثيمين، 11/ 154 - 156.
ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সালাত আদায় করবে, এবং তার শরীর ও কাপড়ে যা লাগে তা ধুয়ে ফেলবে, অথবা সালাতের জন্য সম্ভব হলে একটি পবিত্র কাপড় সংগ্রহ করবে। সে নিজের ব্যাপারে এমন সতর্কতা অবলম্বন করবে যা তার কাপড়, শরীর বা সালাতের স্থানে প্রস্রাব বা রক্ত ছড়িয়ে পড়াকে রোধ করে। সালাতের ওয়াক্ত থাকাকালীন সে সালাত আদায় এবং মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত যা সম্ভব তা করতে পারবে যতক্ষণ না ওয়াক্ত শেষ হয়। যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তখন তার জন্য পুনরায় অজু করা অথবা অজু করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করা আবশ্যক; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিহাযাগ্রস্ত (مستحاضة) নারীকে প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করার নির্দেশ দিয়েছেন (১); আর মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} (২), এবং এটি শরয়ি বিধানের সহজতা ও উদারতার প্রমাণ (৩)।

 

‌‌সপ্তম: অসুস্থ ব্যক্তির সালাত আদায়ের পদ্ধতি নিম্নরূপ:

‌‌১ - যে রোগীর রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা নেই তার জন্য আবশ্যক যে

--------------------------------------------

(১) পবিত্রতা অধ্যায়ে প্রস্রাব ঝরা বা سلس (سلس) এবং ইস্তিহাযা (استحاضة) সংক্রান্ত বিধানে এর প্রমাণাদি পূর্বে আলোচিত হয়েছে; আরও দেখুন: আল্লামা ইবনে বাযের ফাতাওয়া, ১২/ ২৪০।

(২) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।

(৩) দেখুন: আল্লামা ইবনে বাযের মাজমুউ ফাতাওয়া, ১২/ ২৩৫ - ২৪১, এবং আল্লামা ইবনে উসাইমীনের মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, ১১/ ১৫৪ - ১৫৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২২)
يصلي الفريضة قائمًا؛ لقول الله تعالى: {وَقُومُواْ لله قَانِتِينَ} (1).

 

‌‌2 - إن قدر المريض على القيام بأن يتكئ على عصا أو يستند إلى حائط أو يعتمد على أحد جانبيه لزمه القيام؛ لحديث وابصة رضي الله عنه عن أم قيس رضي الله عنها: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أسنَّ وحمل اللحم اتخذ عمودًا في مصلاه يعتمد عليه (2)؛ ولأنه قادر على القيام من غير ضرر؛ لحديث عمران بن حصين رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: ((صلّ قائمًا … )) (3).

‌‌3 - إن قدر المريض على القيام إلا أنه يكون منحنيًا على هيئة الراكع؛ كالأحدب، أو الكبير الذي انحنى ظهره وهو يستطيع القيام لزمه القيام؛ لحديث عمران رضي الله عنه المتقدم.

‌‌4 - المريض الذي يقدر على القيام لكنه يعجز عن

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 238.

(2) أبو داود، كتاب الصلاة، باب الرجل يعتمد في الصلاة على عصا، برقم 948، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 264، وفي الأحاديث الصحيحة، برقم 319.

(3) البخاري، برقم 1117، وتقدم تخريجه في صفة الصلاة.
ফরজ সালাত দাঁড়িয়ে আদায় করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে বিনীতভাবে দাঁড়াও} (১)।

 

‌‌২ - অসুস্থ ব্যক্তি যদি লাঠির ওপর ভর দিয়ে অথবা দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে কিংবা তাঁর এক পাশের কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়, তবে তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক; ওয়াবিসা (রা.) কর্তৃক উম্মে কায়াস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে একটি খুঁটি গ্রহণ করেছিলেন যার ওপর তিনি ভর দিতেন (২); এবং যেহেতু তিনি কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই দাঁড়াতে সক্ষম; ইমরান ইবন হুসাইন (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে নবি (সা.) তাঁকে বলেছিলেন: ((তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো...)) (৩)।

‌‌৩ - অসুস্থ ব্যক্তি যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় তবে কেবল রুকুকারীর মতো ঝুঁকে থাকে; যেমন কুব্জ ব্যক্তি অথবা এমন বৃদ্ধ যার পিঠ নুয়ে গেছে, এমতাবস্থায় সে যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় তবে তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক; ইমরান (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে।

‌‌৪ - এমন অসুস্থ ব্যক্তি যে দাঁড়াতে সক্ষম কিন্তু সে অক্ষম...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮।

(২) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: সালাতে লাঠির ওপর ভর দেওয়া, হাদিস নং ৯৪৮, এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/ ২৬৪ এবং আল-আহাদিস আস-সহিহাহ-তে, হাদিস নং ৩১৯।

(৩) বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, এবং এর তাখরিজ (تخريج) 'সালাতের বৈশিষ্ট্য' অধ্যায়ে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৩)
الركوع أو السجود لا يسقط عنه القيام، وعليه أن يصلي قائمًا ويومئ بالركوع قائمًا إن عجز عنه، وإن لم يمكنه أن يحني ظهره حنى رقبته، وإن تقوّس ظهره فصار كأنه راكع زاد في انحنائه قليلاً، ثم يجلس فيومئ بالسجود جالسًا إن عجز عنه ويقرب وجهه إلى الأرض في السجود أكثر ما يمكنه؛ لقول الله تعالى: {وَقُومُواْ لله قَانِتِينَ} (1)؛ ولقول النبي صلى الله عليه وسلم لعمران بن حصين رضي الله عنهما: ((صلّ قائمًا)) (2)؛ ولأن القيام ركن قدر عليه فلزمه الإتيان به (3).

 

‌‌5 - المريض الذي يزيد القيام في مرضه، أو يشق عليه مشقة شديدة، أو يضره، أو يخاف زيادة مرضه يصلي قاعدًا؛ لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (4)؛

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 238.

(2) البخاري، برقم 1117، وتقدم تخريجه.

(3) انظر: المغني لابن قدامة، 2/ 572، 575، 576، والشرح الكبير، لعبد الرحمن بن قدامة، 5/ 13، والإنصاف للمرداوي مع الشرح الكبير، 5/ 5.

(4) سورة التغابن، الآية: 16.
রুকু বা সিজদা করার অক্ষমতা কিয়ামের (দাঁড়ানো) আবশ্যকতাকে রহিত করে না; বরং তার ওপর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া আবশ্যক এবং রুকু করতে অক্ষম হলে দাঁড়িয়ে ইশারার মাধ্যমে রুকু করবে। যদি তার পক্ষে পিঠ বাঁকানো সম্ভব না হয়, তবে সে ঘাড় বাঁকাবে। আর যদি তার পিঠ (বার্ধক্য বা অন্য কারণে) ধনুকের ন্যায় আগে থেকেই বাঁকা হয়ে থাকে ফলে তাকে রুকুকারী ব্যক্তির মতো মনে হয়, তবে সে রুকুর জন্য সামান্য একটু বেশি ঝুঁকবে। অতঃপর সিজদা করতে অক্ষম হলে বসে ইশারার মাধ্যমে সিজদা করবে এবং সিজদার সময় চেহারাকে যমিনের যতটা সম্ভব নিকটবর্তী করবে। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} (১); এবং ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((দাঁড়িয়ে নামাজ পড়)) (২); আর এ কারণে যে, কিয়াম হচ্ছে একটি রুকন যা পালনে সে সক্ষম, তাই এটি আদায় করা তার জন্য আবশ্যক (৩)।

 

‌‌৫ - এমন অসুস্থ ব্যক্তি যার দাঁড়িয়ে থাকা রোগ বৃদ্ধি করে, অথবা দাঁড়িয়ে থাকা যার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়, অথবা দাঁড়িয়ে থাকা যার ক্ষতি সাধন করে, কিংবা রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে—সে বসে নামাজ পড়বে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} (৪);

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮।

(২) বুখারি, নম্বর: ১১১৭, এবং এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ২/৫৭২, ৫৭৫, ৫৭৬; এবং আব্দুর রহমান ইবনে কুদামা রচিত আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১৩; এবং আল-মারদাউয়ি রচিত আল-ইনসাফ ও আশ-শারহুল কাবীর, ৫/৫।

(৪) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولقوله عز وجل: {لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} (1)؛ ولقوله سبحانه وتعالى: {يُرِيدُ الله بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} (2)، ولقوله سبحانه: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} (3)؛ ولحديث عمران بن حصين رضي الله عنهما وفيه: ((صلّ قائمًا، فإن لم تستطع فقاعدًا … )) (4)؛ ولحديث أنس رضي الله عنه قال: سقط النبي صلى الله عليه وسلم عن فرس فجُحش شقه الأيمن فدخلنا عليه نعوده فحضرت الصلاة فصلى بنا قاعدًا (5).

وقد أجمع العلماء على أن من لا يطيق القيام له أن يصلي جالسًا (6).

 

‌‌6 - الأفضل للمريض إذا صلى جالسًا أن يكون متربعًا في موضع القيام، والصحيح أنه إذا ركع يركع وهو

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 286.

(2) سورة البقرة، الآية: 185.

(3) سورة الحج، الآية: 78.

(4) البخاري، برقم 1117، وتقدم تخريجه.

(5) متفق عليه: البخاري، برقم 689،ومسلم، برقم 411،وتقدم تخريجه في الإمامة في الاقتداء.

(6) المغني لابن قدامة، 2/ 570، والشرح الكبير، 5/ 6، والإنصاف، 5/ 6.
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না} (১); এবং পবিত্র ও মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না} (২); এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} (৩); এবং ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যাতে রয়েছে: ((দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি না পারো তবে বসে... … )) (৪); এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি বলেন: নবী (সা.) ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন এবং তাঁর শরীরের ডান অংশ ছিলে গেল। আমরা তাঁর সেবা করতে তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। অতঃপর সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন (৫)।

নিশ্চয়ই আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন যে, যার দাঁড়িয়ে থাকার সামর্থ্য নেই, সে বসে সালাত আদায় করবে (৬)।

 

‌‌৬ - অসুস্থ ব্যক্তি যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন কিয়ামের (দাঁড়ানো) স্থানে বাবু হয়ে বসা উত্তম। আর বিশুদ্ধ (صحيح) মত এই যে, যখন সে রুকু করবে তখন সে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫।

(৩) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৮।

(৪) বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, এবং এর উদ্ধৃতি (تخريج) পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

(৫) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ৬৮৯ এবং মুসলিম, হাদিস নং ৪১১। ইমামত অধ্যায়ে ইকতিদা (অনুসরণ) পরিচ্ছেদে এর উদ্ধৃতি (تخريج) পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

(৬) ইবন কুদামার আল-মুগনি, ২/৫৭০; আশ-শারহুল কাবীর, ৫/৬; এবং আল-ইনসাফ, ৫/৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৫)
متربع؛ لأن الراكع قائم؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي متربعًا)) (1)، والسنة له أن يجعل يديه على ركبتيه في حال الركوع، أما في حال السجود فالواجب أن يسجد على الأرض، فإن لم يستطع وجب عليه أن يجعل يديه على الأرض وأومأ بالسجود؛ لما ثبت عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((أمرت أن أسجد على سبعة أعظم: على الجبهة - وأشار بيده على أنفه - واليدين، والركبتين، وأطراف القدمين)) (2)؛ فإن لم يستطع جعل يديه على ركبتيه وأومأ بالسجود وجعله أخفض من الركوع؛ لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (3)؛ ولقوله صلى الله عليه وسلم: (( … وإذا أمرتكم بشيء فأتوا

--------------------------------------------

(1) النسائي، كتاب قيام الليل، باب كيف صلاة القاعد، برقم 1662، وابن خزيمة، برقم 1238، والحاكم وصححه ووافقه الذهبي، 1/ 258، وصححه الألباني في صحيح النسائي، 1/ 538.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الأذان، باب السجود على الأنف في الطين، برقم 812، ومسلم، في كتاب الصلاة، باب أعضاء السجود برقم 490.

(3) سورة التغابن، الآية: 16.
বাবু হয়ে বসা অবস্থায়; কারণ রুকুকারী ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত; আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: ((আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বাবু হয়ে বসে সালাত আদায় করতে দেখেছি)) (১), আর রুকুর সময় তার জন্য সুন্নত হলো দুই হাত দুই হাঁটুর ওপর রাখা। তবে সিজদার সময় জমিনের ওপর সিজদা করা ওয়াজিব। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে জমিনের ওপর দুই হাত রাখা তার ওপর ওয়াজিব এবং সে সিজদার জন্য ইশারা করবে; যেহেতু ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আমাকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন—দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অগ্রভাগ)) (২); আর যদি সে সক্ষম না হয়, তবে দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখবে এবং সিজদার জন্য ইশারা করবে এবং সিজদাকে রুকুর চেয়ে বেশি নিচু করবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো} (৩); এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: (( … আর যখন আমি তোমাদের কোনো কিছুর নির্দেশ দেই, তখন তোমরা তা পালন করো...

--------------------------------------------

(১) নাসাঈ, কিতাব কিয়ামুল লাইল, বাব কাইফা সালাতুল কাঈদ, হাদিস নং ১৬৬২, ইবনে খুজাইমাহ, হাদিস নং ১২৩৮, এবং হাকেম একে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/ ২৫8, এবং আলবানী একে সহিহ নাসাঈ গ্রন্থে সহিহ (صححه) বলেছেন, ১/ ৫৩৮।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আজান, বাব আস-সুজুদু আলাল আনফি ফিত-তীন, হাদিস নং ৮১২, এবং মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব আ’দাউস সুজুদ, হাদিস নং ৪৯০।

(৩) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৬)
منه ما استطعتم (1)) (2).

 

‌‌7 - إن عجز المريض عن الصلاة قاعدًا صلى على جنبه مستقبل القبلة بوجهه، والأفضل أن يصلي على جنبه الأيمن؛ لحديث عمران رضي الله عنه وفيه: ((صلّ قائمًا فإن لم تستطع فقاعدًا، فإن لم تستطع فعلى جنب)) (3)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يعجبه التيمن في تنعُّله، وترجُّله، وطهوره، وفي شأنه كله)) (4).

‌‌8 - فإن عجز المريض عن الصلاة على جنبه صلى مستلقيًا رجلاه إلى القبلة؛ لحديث عمران بن حصين رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال له: ((صلِّ قائمًا، فإن لم تستطع

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم 7288،ومسلم، برقم 1337،وتقدم تخريجه في أول المبحث.

(2) انظر: المغني لابن قدامة، 2/ 572، ومجموع فتاوى العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، 12/ 242 - 247، ومجموع فتاوى العلامة محمد بن صالح العثيمين،

11/ 329.

(3) البخاري، برقم 1117، وتقدم تخريجه.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الوضوء، باب التيمن في الوضوء والغسل، برقم 168، ومسلم، كتاب الطهارة، باب التيمن في الطهور وغيره، برقم 168.
সাধ্য অনুযায়ী তা থেকে (১)) (২)।

 

‌‌৭ - যদি অসুস্থ ব্যক্তি বসে সালাত আদায়ে অক্ষম হন, তবে তিনি পার্শ্বদেশের ওপর ভর দিয়ে কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করবেন, এবং ডান পার্শ্বের ওপর ভর দিয়ে সালাত আদায় করা উত্তম; ইমরান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি সক্ষম না হও তবে পার্শ্বদেশের ওপর ভর দিয়ে)) (৩); এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জুতা পরিধানে, চুল আঁচড়াতে, পবিত্রতা অর্জনে এবং তাঁর সকল কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন)) (৪)।

‌‌৮ - যদি অসুস্থ ব্যক্তি পার্শ্বদেশের ওপর ভর দিয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম হন, তবে তিনি চিত হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা রেখে সালাত আদায় করবেন; ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের কারণে যে, তিনি তাঁকে বলেছিলেন: ((দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি সক্ষম না হও

--------------------------------------------

(১) ঐক্যবদ্ধভাবে স্বীকৃত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ৭২৮৮, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৩৩৭, এবং আলোচনার শুরুতে এর উৎস বিশ্লেষণ অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) দেখুন: ইবনে কুদামা প্রণীত আল-মুগনি, ২/ ৫৭২, এবং আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বায-এর মাজমুউ ফাতাওয়া, ১২/ ২৪২ - ২৪৭, এবং আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন-এর মাজমুউ ফাতাওয়া,

১১/ ৩২৯।

(৩) বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, এবং এর উৎস বিশ্লেষণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) ঐক্যবদ্ধভাবে স্বীকৃত (متفق عليه): বুখারি, ওজু অধ্যায়, ওজু ও গোসলে ডান দিক থেকে শুরু করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৬৮, এবং মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, পবিত্রতা অর্জন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৬৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৭)
فقاعدًا، فإن لم تستطع فعلى جنب)) (1)، زاد النسائي: ((فإن لم تستطع فمستلقياً لا يكلف الله نفسًا إلا وسعها)) (2). وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((وزاد النسائي: ((فإن لم تستطع فمستلقيًا))، ثم قال: فكانت الصفات: ((قائمًا، جالسًا، على جنب، مستلقيًا)) (3).

 

‌‌9 - فإن عجز المريض عن الصلاة إلى القبلة ولم يوجد من يوجهه إليها صلى على حسب حاله؛ لقوله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} (4).

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 1117.

(2) عزاه إليه ابن حجر في التلخيص الحبير، 1/ 225 برقم 334، وعزاه إليه أيضًا المجد ابن تيمية في منتقى الأخبار، برقم 1507، وقال شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز: ((وزاد النسائي)) ثم ذكر الزيادة، انظر: مجموع الفتاوى،

12/ 242، وقال في الفتاوى أيضًا بعد أن ساق اللفظ كاملاً: ((وهذا لفظ النسائي))، 12/ 247، ولم يعزه المزي في تحفة الأشراف إلى النسائي، 8/ 185، برقم 10833.

(3) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 347.

(4) سورة البقرة، الآية: 286.
বসাবস্থায় (قاعدًا), আর যদি সক্ষম না হও তবে পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে (على جنب)) (১), নাসায়ি অতিরিক্ত বৃদ্ধি (زاد) করেছেন: ((যদি তাতেও সক্ষম না হও তবে চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় (مستلقيًا), আল্লাহ কোন প্রাণের ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না)) (২)। আর আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((নাসায়ি অতিরিক্ত বৃদ্ধি (زاد) করেছেন: ((যদি তাতেও সক্ষম না হও তবে চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় (مستلقيًا))), তারপর তিনি বলেন: সুতরাং পদ্ধতিগুলো ছিল: ((দণ্ডায়মান (قائمًا), উপবিষ্ট (جالسًا), পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে (على جنب), চিৎ হয়ে শোয়া (مستلقيًا))) (৩)।

 

‌‌৯ - যদি রোগী কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায়ে অক্ষম হয় এবং তাকে কিবলামুখী করার মতো কেউ না থাকে, তবে সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সালাত আদায় করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আল্লাহ কোন প্রাণের ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না} (৪)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, নং ১১১৭।

(২) ইবনু হাজার ‘আত-তালখিসুল হাবির’ গ্রন্থে এটি তার (নাসায়ি) দিকে সম্বন্ধ (عزاه) করেছেন, ১/২২৫, নং ৩৩৪; আল-মাজদ ইবনু তাইমিয়্যাহ ‘মুনতাক আল-আখবার’ গ্রন্থেও এটি তার দিকে সম্বন্ধ (عزاه) করেছেন, নং ১৫০৭। আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ বলেছেন: ((নাসায়ি অতিরিক্ত বৃদ্ধি (زاد) করেছেন)) তারপর তিনি সেই বর্ধিত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেছেন, দেখুন: মাজমু'উল ফাতাওয়া, ১২/২৪২। ফাতাওয়ার অন্য এক স্থানে পূর্ণ শব্দবিন্যাস (لفظ) উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: ((এটি নাসায়ির শব্দবিন্যাস (لفظ))), ১২/২৪৭। তবে আল-মিযযি ‘তুহফাতুল আশরাফ’ গ্রন্থে এটি নাসায়ির দিকে সম্বন্ধ (عزاه) করেননি, ৮/১৮৫, নং ১০৮৩৩।

(৩) আমি এটি তার নিকট থেকে ‘বুলুগুল মারাম’-এর ওপর আলোচনার সময় শুনেছি, হাদিস নং ৩৪৭।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌10 - فإن عجز المريض عن الصلاة مستلقيًا صلى على حسب حاله على أي حال كان؛ لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (1).

‌‌11 - فإن عجز المريض عن جميع الأحوال السابقة صلى بقلبه: فيكبِّر، ويقرأ، وينوي الركوع والسجود، والقيام والقعود بقلبه، فإن الصلاة لا تسقط عنه مادام عقله ثابتًا بأي حال من الأحوال؛ للأدلة السابقة (2).

‌‌12 - إذا قدر المريض في أثناء صلاته على ما كان عاجزًا عنه: من قيام أو قعود، أو ركوع، أو سجود، أو إيماء انتقل إليه وبنى على ما مضى من صلاته، وهكذا لو كان قادرًا فعجز أثناء الصلاة أتم صلاته على حسب حاله؛ لأن ما مضى من الصلاة كان صحيحًا فبنى عليه كما لو لم

--------------------------------------------

(1) سورة التغابن، الآية: 16.

(2) انظر: المغني لابن قدامة، 2/ 576، ومجموع فتاوى ابن باز، 12/ 243، ومجموع فتاوى ابن عثيمين، 11/ 232.
১০ - যদি অসুস্থ ব্যক্তি শুয়ে নামাজ আদায় করতে অক্ষম হন, তবে তিনি তার অবস্থা অনুযায়ী যেভাবে সম্ভব সেভাবেই নামাজ আদায় করবেন; তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} (১)।

১১ - যদি অসুস্থ ব্যক্তি পূর্ববর্তী সকল পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে অক্ষম হন, তবে তিনি অন্তরের মাধ্যমে নামাজ আদায় করবেন: তিনি তাকবির বলবেন, কিরাত পাঠ করবেন এবং রুকু, সিজদা, দাঁড়ানো ও বসা মনে মনে নিয়ত করবেন। কেননা যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিবেক-বুদ্ধি স্থির থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই তার ওপর থেকে নামাজ রহিত হবে না; পূর্ববর্তী দলীলসমূহের কারণে (২)।

১২ - অসুস্থ ব্যক্তি যদি নামাজের মধ্যে এমন কোনো বিষয়ের সক্ষমতা ফিরে পান যা করতে তিনি আগে অক্ষম ছিলেন: যেমন দাঁড়ানো, বসা, রুকু, সিজদা কিংবা ইশারা করা, তবে তিনি সেই অবস্থানে চলে যাবেন এবং নামাজের অতিক্রান্ত অংশের ওপর ভিত্তি করে তা পূর্ণ করবেন। একইভাবে যদি তিনি সক্ষম থাকা অবস্থায় নামাজ শুরু করেন এবং নামাজের মাঝখানে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তিনি তার অবস্থা অনুযায়ী নামাজ পূর্ণ করবেন; কারণ নামাজের যতটুকু অংশ অতিক্রান্ত হয়েছে তা সঠিক (صحيح) ছিল, তাই তিনি তার ওপর ভিত্তি করবেন যেমনটি যদি...

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।

(২) দেখুন: ইবন কুদামা-র আল-মুগনী, ২/৫৭৬; মাজমু' ফাতাওয়া ইবন বায, ১২/২৪৩ এবং মাজমু' ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন, ১১/২৩২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ২৯)
يتغير حاله (1).

 

‌‌13 - إن عجز المريض عن السجود على الأرض؛ فإنه يومئ بالسجود في الهواء ولا يتخذ شيئًا يسجد عليه؛ لحديث جابر رضي الله عنه يرفعه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد مريضًا فرآه يصلي على وسادة فأخذها فرمى بها، فأخذ عودًا ليصلي عليه فأخذه فرمى به، قال: ((صلِّ على الأرض إن استطعت وإلا فأومِ إيماءً واجعل سجودك أخفض من ركوعك)) (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني لابن قدامة، 2/ 577، والشرح الكبير، 5/ 15، والإنصاف، 5/ 15، ومجموع فتاوى ابن باز، 12/ 243.

(2) البيهقي في السنن الكبرى، 2/ 306، قال الحافظ ابن حجر في بلوغ المرام: ((رواه البيهقي بسند قوي، ولكن صحح أبو حاتم وقفه))، وسمعت شيخنا الإمام ابن باز يقول أثناء تقريره على الحديث رقم 348 من بلوغ المرام: ((إسناده قوي))، ومال إلى رفعه؛ لأنه يقدم قول من رفع على من وقف إذا كان من رفع ثقة؛ للقاعدة، وانظر: التلخيص الحبير لابن حجر، 1/ 226 - 227، والحديث رواه الطبراني عن ابن عمر رضي الله عنهما في المعجم الكبير، 12/ 269، برقم 13082، وذكره الألباني في الأحاديث الصحيحة، وذكر طرقه ثم قال في الحديث رقم 323 في المجلد الأول: ((والذي لا شك فيه أن الحديث بمجموع طرقه صحيح والله تعالى هو الموفق))، ثم ذكر رواية أخرى عن ابن عمر موقوفًا، ثم قال: ((وسنده صحيح على شرط الشيخين)). وانظر: صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم للألباني، ص68.
তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটে (১)।

 

‌‌১৩ - যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি জমিনে সেজদা করতে অক্ষম হন, তবে তিনি ইশারার মাধ্যমে শূন্যে সেজদা করবেন এবং সেজদা করার জন্য (উঁচু) কোনো বস্তু গ্রহণ করবেন না; জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যা তিনি মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। তিনি তাকে একটি বালিশের ওপর নামাজ পড়তে দেখে সেটি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন। এরপর লোকটি একটি কাঠখণ্ড নিলেন তার ওপর সেজদা করার জন্য, তিনি সেটিও নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন। তিনি বললেন: "তুমি জমিনের ওপর নামাজ আদায় করো যদি সক্ষম হও, অন্যথায় ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করো এবং তোমার সেজদাকে রুকু অপেক্ষা নিচু করো।" (২)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইবনে কুদামা প্রণীত আল-মুগনি, ২/৫৭৭; আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১৫; আল-ইনসাফ, ৫/১৫ এবং মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১২/২৪৩।

(২) আল-বায়হাকি আস-সুনানুল কুবরা-তে, ২/৩০৬; হাফিজ ইবনে হাজার বুলুগুল মারাম-এ বলেন: "বায়হাকি এটি একটি শক্তিশালী (قوي) সনদে বর্ণনা করেছেন, তবে আবু হাতিম একে মাওকুফ (وقفه) হওয়াকে সঠিক বলেছেন।" আমি আমাদের শাইখ ইমাম ইবনে বাজকে বুলুগুল মারাম-এর ৩৪৮ নম্বর হাদিসের ওপর আলোচনাকালে বলতে শুনেছি: "এর সনদ শক্তিশালী (قوي)।" তিনি হাদিসটিকে মারফু (رفع) হিসেবে গণ্য করার দিকে ঝুঁকেছেন; কারণ নিয়ম অনুযায়ী, যদি মারফু (رفع)কারী বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তবে মাওকুফ (وقف)কারীর তুলনায় তাঁর বর্ণনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার প্রণীত আত-তালখিসুল হাবীর, ১/২২৬-২২৭। হাদিসটি তাবারানি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল-মু'জামুল কাবীর-এ (১২/২৬৯, নং ১৩০৮২) বর্ণনা করেছেন। আলবানি এটি আল-আহাদিসুস সাহিহা-তে উল্লেখ করেছেন এবং এর বিভিন্ন সূত্র বর্ণনা করে প্রথম খণ্ডের ৩২৩ নম্বর হাদিসের আলোচনায় বলেছেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে সহিহ (صحيح), আর আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।" অতঃপর তিনি ইবনে উমর থেকে আরেকটি মাওকুফ (موقوفًا) বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন: "এর সনদ শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহিহ (صحيح)।" দ্রষ্টব্য: আলবানি প্রণীত সিফাতু সালাতিন নবী, পৃ. ৬৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌14 - يجب على المريض أن يصلي كل صلاة في وقتها، ويفعل كل ما يقدر عليه مما يجب فيها؛ فإن شق عليه فعل كل صلاة في وقتها فله الجمع بين الظهر والعصر، وبين المغرب والعشاء، إما جمع تقديم بحيث يقدم العصر مع الظهر، والعشاء مع المغرب، وإما جمع تأخير بحيث يؤخر الظهر مع العصر، والمغرب مع العشاء، حسبما يكون أيسر له، أما صلاة الفجر فلا تجمع مع ما قبلها ولا مع ما بعدها؛ لأن وقتها منفصل عما قبلها وعما بعدها (1)، ومما يدل على جواز الجمع للمريض الذي يشق عليه فعل الصلاة في وقتها ويضعف عن ذلك حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الظهر والعصر جميعًا، والمغرب والعشاء جميعًا في غير خوف ولا سفر)). وفي لفظ: ((جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الظهر والعصر والمغرب

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 135، وفتاوى العلامة ابن باز، 12/ 244، ومجموع فتاوى العلامة ابن عثيمين، 11/ 230.
১৪ - অসুস্থ ব্যক্তির জন্য প্রতিটি সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ওয়াজিব, এবং সালাতের ওয়াজিব কার্যাবলীর মধ্যে যা কিছু করতে সে সক্ষম তা পালন করবে; যদি প্রতিটি সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তবে তার জন্য জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার মধ্যে একত্রীকরণ (جمع) করার সুযোগ রয়েছে। হয় তা আগাম একত্রীকরণ (جمع تقديم) করার মাধ্যমে—যেখানে আসরকে জোহরের সাথে এবং এশাকে মাগরিবের সাথে এগিয়ে আনা হয়—অথবা বিলম্বিত একত্রীকরণ (جمع تأخير) করার মাধ্যমে—যেখানে জোহরকে আসরের সাথে এবং মাগরিবকে এশার সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তার জন্য যা সহজতর হয় সে অনুযায়ী। তবে ফজর সালাত তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কোনো সালাতের সাথে একত্র করা যাবে না; কারণ এর সময় তার পূর্বের ও পরের সময় থেকে পৃথক (১)। যে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করা কষ্টকর এবং সে এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার জন্য সালাত একত্র করার বৈধতার ওপর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসটি প্রমাণ পেশ করে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভয় বা সফর ছাড়াই জোহর ও আসর একত্রে এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন।" এবং অন্য একটি শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জোহর, আসর এবং মাগরিব...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/১৩৫; আল্লামা ইবনে বাযের ফাতাওয়া, ১২/২৪৪; এবং আল্লামা ইবনে উসাইমীনের মাজমুউ ফাতাওয়া, ১১/২৩০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল মারীয (পৃষ্ঠা: ৩১)
والعشاء بالمدينة في غير خوف ولا مطر)) فسئل ابن عباس لم فعل ذلك؟ فقال: ((أراد أن لا يحرج أحدًا من أمته))، وفي لفظ: ((أراد أن لا يحرج أمته)) (1). والصواب في تأويل هذا الحديث قول من قال: هو محمول على الجمع بعذر المرض أو نحوه مما هو في معناه من الأعذار (2).

وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر حمنة بنت جحش رضي الله عنها لما كانت مستحاضة بتأخير الظهر وتعجيل العصر، وتأخير المغرب وتعجيل العشاء (3)، وهذا هو الجمع الصوري.

 

‌‌15 - لا يجوز للمريض ترك الصلاة بأي حال من الأحوال مادام عقله ثابتًا، بل يجب على المكلف أن

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب صلاة المسافرين وقصرها، باب الجمع بين الصلاتين في الحضر، برقم 49 - (705)، 50 - (705)، 54 - (705).

(2) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 226، والمغني لابن قدامة، 3/ 135، وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول بهذا القول.

(3) أبو داود، برقم 287، والترمذي، برقم 128، وابن ماجه، برقم 627، وحسنه الألباني في إرواء الغليل، برقم 188، وتقدم تخريجه في الطهارة في أحكام المستحاضة.
...এবং মদীনায় এশার সালাত কোনো ভয় বা বৃষ্টি ছাড়াই আদায় করেছেন)) তখন ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করা হলো কেন তিনি তা করেছেন? তিনি বললেন: ((তিনি চেয়েছেন যেন তাঁর উম্মতের কেউ কষ্টে না পড়ে)), অন্য শব্দে রয়েছে: ((তিনি চেয়েছেন যেন তাঁর উম্মত কষ্টে না পড়ে)) (১)। আর এই হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো যারা বলেন: এটি অসুস্থতার ওজর বা সমজাতীয় ওজরের কারণে দুই সালাত একত্রীকরণের (الجمع) ওপর নির্ভরশীল (২)।

এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামনাহ বিনতে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে যখন তিনি ইস্তিহাজাগ্রস্ত ছিলেন, তখন যোহরের সালাত বিলম্ব করতে এবং আসরের সালাত দ্রুত আদায় করতে এবং মাগরিবের সালাত বিলম্ব করতে ও এশার সালাত দ্রুত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৩), আর এটিই হলো দৃশ্যত একত্রীকরণ (الجمع الصوري)।

 

‌‌১৫ - রোগীর জন্য কোনো অবস্থাতেই সালাত বর্জন করা বৈধ নয় যতক্ষণ তার বুদ্ধি-বিবেচনা স্থির থাকে, বরং মুকাল্লাফ (শরয়ী বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর ওয়াজিব হলো যে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, মুসাফিরের সালাত ও তার কসর অধ্যায়, মুকিম অবস্থায় দুই সালাত একত্র করা পরিচ্ছেদ, নম্বর ৪৯ - (৭০৫), ৫০ - (৭০৫), ৫৪ - (৭০৫)।

(২) দেখুন: শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৫/২২৬; এবং ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, ৩/১৩৫; আমি আমাদের শায়খ ইমাম ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এই মত পোষণ করতে শুনেছি।

(৩) আবু দাউদ, নম্বর ২৮৭; তিরমিজি, নম্বর ১২৮; ইবনে মাজাহ, নম্বর ৬২৭; আলবানী ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলেছেন, নম্বর ১৮৮; এবং পবিত্রতা অধ্যায়ে ইস্তিহাজাগ্রস্ত মহিলার বিধানের আলোচনায় এর উৎস নির্দেশ (تخريج) পূর্বে করা হয়েছে।