(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة الكسوف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة الكسوف - مَفهُومٌ، وَأسبابٌ، وَآدَابٌ، وَآياتٌ، وَحِكَم، وَأحْكامٌ في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 65
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
সালাতুল কুসুফ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সালাতুল কুসুফ - কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, কারণসমূহ, আদবসমূহ, নিদর্শনসমূহ, হিকমত এবং বিধানসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: -)
38
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
_
صلاة الكسوف
مَفهُومٌ، وَأسبابٌ، وَآدَابٌ، وَآياتٌ، وَحِكَم، وَأحْكامٌ
في ضوء الكتاب والسنة
38
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির গ্রন্থাবলী সিরিজ
_
সালাতুল কুসুফ (সূর্যগ্রহণের নামাজ)
ধারণা (مفهوم), কারণসমূহ, আদব (آداب), নিদর্শনসমূহ, প্রজ্ঞা (حكم) ও বিধানসমূহ (أحكام)
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد.
فهذه رسالة مختصرة في: ((صلاة الكسوف)) وما يتعلق بها من أحكام، بيَّنت فيها بتوفيق الله تعالى: مفهوم الكسوف والخسوف، وأن ذلك من آيات الله التي يُخوِّف بهما عباده، وبيَّنت أسباب الكسوف الحسّيَّة والشرعيَّة، وفوائد الكسوف وحِكمه، وحُكم صلاة الكسوف، وآداب صلاة الكسوف: الواجبة والمستحبة، وصفة صلاة الكسوف، ووقتها، وأنها لا تُدرَك الركعة إلا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ সালাত ও অগণিত সালাম বর্ষণ করুন তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:
এটি 'সালাতুল কুসুফ' (সূর্যগ্রহণের সালাত) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি মহান আল্লাহর তৌফিকে বর্ণনা করেছি: সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের ধারণা, আর এ দুটি যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের ভয় প্রদর্শন করেন। আমি আরও ব্যাখ্যা করেছি সূর্যগ্রহণের বাহ্যিক ও শরয়ি কারণসমূহ, সূর্যগ্রহণের উপকারিতা ও হিকমতসমূহ, সূর্যগ্রহণের সালাতের বিধান, সূর্যগ্রহণের সালাতের আবশ্যিক ও মুস্তাহাব আদবসমূহ, সূর্যগ্রহণের সালাতের পদ্ধতি ও সময়, এবং রাকাত প্রাপ্ত হওয়া যায় না কেবল...
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بإدراك الركوع الأول، وذكرت خلاف العلماء في الصلاة للآيات، وقد قرنت كل مسألة بدليلها أو تعليلها على قدر الإمكان، وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله تعالى.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل مباركًا، نافعًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد بن عبد الله وعلى آله، وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أبو عبد الرحمن
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
حرر بعد عصر يوم الإثنين
الموافق 18/ 1/1423هـ
প্রথম রুকূ (ركوع) প্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে; আর আমি নিদর্শনসমূহের নামাজের ক্ষেত্রে আলেমগণের মতভেদ উল্লেখ করেছি। আমি প্রতিটি মাসআলাকে তার দলিল (دليل) বা যৌক্তিক ব্যাখ্যার (تعليل) সাথে যথাসম্ভব সম্পৃক্ত করেছি। আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকার (ترجيحات) মূলক মতসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে বরকতময়, উপকারী এবং শুধুমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে এর দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকটই এটি পৌঁছাবে তাকেও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, সবার ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
আবু আব্দুর রহমান
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি
সোমবার আসরের পর লিখিত
১৮/০১/১৪২৩ হিজরি মোতাবেক
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولاً: مفهوم الكسوف، والخسوف:
الكسوف لغة: التغير إلى سواد، يقال: كسفت حاله إذا تغيرت، وكسف وجهه إذا تغير، وكسفت الشمس: اسودَّت، وذهب شعاعها (1).
و
الخسوف لغة: النقصان، يقال: خسف المكان يخسف خسوفًا، إذا ذهب في الأرض، ويقال: عينٌ خاسفة: إذا غابت حدقتها، منقول من خسف القمر، وبئر مخسوفة: إذا غاب ماؤها ونزف، منقول من خسف الله القمر، وتُصوِّرَ من خسف القمر مهانة تلحقه فاستعير الخسف للذل، فقيل: تحمل فلان خسفًا (2).
فكسوف الشمس والقمر وخسوفهما: تغيرهما ونقصان ضوئهما فهما بمعنى واحد وكلاهما صحت به الأحاديث، وجاء القرآن بلفظ الخسوف للقمر (3).
--------------------------------------------
প্রথমত: কুসূফ এবং খুসূফ-এর ধারণা:আভিধানিক অর্থে কুসূফ (الكسوف): কালো বর্ণে পরিবর্তিত হওয়া; বলা হয়ে থাকে: তার অবস্থা ‘কাসাফাত’ হয়েছে যখন তা পরিবর্তিত হয়, এবং তার চেহারা ‘কাসাফা’ হয়েছে যখন তা বিবর্ণ হয়। আর সূর্য ‘কাসাফাত’ হয়েছে মানে তা কালো হয়ে গেছে এবং তার রশ্মি দূরীভূত হয়েছে (১)।
এবং
আভিধানিক অর্থে খুসূফ (الخسوف): হ্রাস পাওয়া; বলা হয়: স্থানটি ধসে গেছে (খাসাফাল মাকানু), যখন তা জমিনে দেবে যায়। আরও বলা হয়: কোটরগত চোখ (আইনুন খাসিফাহ), যখন তার মণি অদৃশ্য হয়ে যায়; এটি ‘খাসাফাল কামারু’ (চাঁদ গ্রহণ হওয়া) থেকে গৃহীত। আর শুষ্ক কূপ (বি’রুন মাখসূফাহ), যখন তার পানি অদৃশ্য হয়ে যায় ও নিঃশেষ হয়ে যায়; এটি ‘খাসাফাল্লাহুল কামারা’ (আল্লাহ চাঁদকে গ্রহণ লাগিয়েছেন) থেকে গৃহীত। চন্দ্রগ্রহণের মাধ্যমে তাতে যে অপূর্ণতা প্রকাশ পায় তা থেকে অপমান বা লাঞ্ছনার রূপক হিসেবে ‘খুসূফ’ শব্দটি ধার করা হয়েছে। তাই বলা হয়: অমুক ব্যক্তি লাঞ্ছনা (খুসূফ) সহ্য করেছে (২)।
অতএব, সূর্য ও চন্দ্রের কুসূফ ও খুসূফ হলো: সেগুলোর পরিবর্তন ও আলোর হ্রাস পাওয়া। সুতরাং শব্দ দুটি একই অর্থ বহন করে এবং উভয় শব্দই সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহে প্রমাণিত হয়েছে। তবে কুরআনে চাঁদের জন্য ‘খুসূফ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الكسوف أو الخسوف في الاصطلاح: احتجاب ضوء الشمس أو القمر أو بعضه بسبب معتاد يخوف الله به عباده، فعلى هذا يكون الكسوف والخسوف مترادفين أي بمعنى واحد، فَيُقال: كسفت الشمس وخسفت، وكسف القمر وخسف (1)، وقيل: الكسوف للشمس، والخسوف للقمر (2).
--------------------------------------------
পারিভাষিক অর্থে কুসুফ (الكسوف) বা খুসুফ (الخسوف): সূর্য বা চন্দ্রের আলো অথবা তার অংশবিশেষের এমন এক স্বাভাবিক কারণে আড়ালে চলে যাওয়া যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভয় প্রদর্শন করেন। এই সংজ্ঞানুযায়ী কুসুফ (الكسوف) এবং খুসুফ (الخসوف) পরস্পর সমার্থক (مترادفين) অর্থাৎ একই অর্থবোধক। সুতরাং বলা হয়: সূর্যের কুসুফ হয়েছে এবং খুসুফ হয়েছে, আবার চন্দ্রের কুসুফ হয়েছে এবং খুসুফ হয়েছে (১)। কেউ কেউ বলেছেন: কুসুফ (الكسوف) সূর্যের জন্য এবং খুসুফ (الخسوف) চন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত হয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولعل هذا إذا اجتمعت الكلمتان فقيل: كسوف وخسوف، أما إذا انفردت كل واحدة عن الأخرى فهما بمعنى واحد؛ ولهذا نظائر في اللغة العربية، والله تعالى أعلم (1).
--------------------------------------------
সম্ভবত বিষয়টি তখনই প্রযোজ্য যখন শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয়ে বলা হয়: কুসুফ (সূর্যগ্রহণ) এবং খুসুফ (চন্দ্রগ্রহণ); কিন্তু যখন শব্দ দুটির প্রতিটি পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয় তখন সেগুলো একই অর্থ প্রদান করে। আরবি ভাষায় এর বহু অনুরূপ দৃষ্টান্ত রয়েছে, আর মহান আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثانيًا: الكسوف أو الخسوف: آيتان من آيات الله يخوف الله بهما عباده؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إنَّ الشمس والقمر لا يخسفان لموت أحد ولا لحياته ولكنهما آيتان من آيات الله فإذا رأيتموهما فصلوا)) (1)؛ ولحديث أبي مسعود رضي الله عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الشمس والقمر لا ينكسفان لموت أحدٍ من الناس، ولكنهما آيتان من آيات الله، فإذا رأيتموهما فقوموا فصلُّوا)) (2).
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: قوله: ((آيتان)): أي علامتان، ((من آيات الله)) أي الدالة على وحدانية الله، وعظيم قدرته، أو على تخويف العباد من بأس الله وسطوته، ويؤيده قوله تعالى: {وَمَا مَنَعَنَا أَن نُّرْسِلَ بِالآيَاتِ إِلَاّ أَن كَذَّبَ بِهَا الأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সূর্যগ্রহণ অথবা চন্দ্রগ্রহণ: আল্লাহর নিদর্শনসমূহের (آيات) মধ্যে দুটি নিদর্শন (آيتان) আল্লাহ তাআলা এ দুটির মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান; ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের কারণে যে, তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে গ্রহণপ্রাপ্ত হয় না, বরং তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের (آيات) মধ্যে দুটি নিদর্শন (آيتان)। সুতরাং যখন তোমরা তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে)) (১); এবং আবু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র মানুষের মধ্য হতে কারো মৃত্যুর কারণে গ্রহণপ্রাপ্ত হয় না, বরং তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের (آيات) মধ্যে দুটি নিদর্শন (آيتان)। সুতরাং যখন তোমরা তা দেখবে, তখন তোমরা দাড়াও এবং সালাত আদায় করো)) (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর উক্তি: ((দুটি নিদর্শন (آيتان))): অর্থাৎ দুটি চিহ্ন, ((আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য হতে (من آيات الله))) অর্থাৎ যা আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর মহান ক্ষমতার প্রমাণ দানকারী, অথবা বান্দাদের আল্লাহর শাস্তি ও প্রতাপ থেকে ভয় প্রদর্শনের জন্য, এবং মহান আল্লাহর বাণী একে সমর্থন করে: {আর নিদর্শনসমূহ (الآيات) পাঠানো থেকে আমাকে কেবল এটাই বিরত রেখেছে যে, পূর্ববর্তীরা তাতে মিথ্যারোপ করেছিল। আর আমি সামুদ জাতিকে উষ্ট্রী প্রদান করেছিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مُبْصِرَةً فَظَلَمُواْ بِهَا وَمَا نُرْسِلُ بِالآيَاتِ إِلَاّ تَخْوِيفًا} (1) (2)؛ ولحديث أبي بكرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله، لا ينكسفان لموت أحد، ولكن الله تعالى يُخوِّف بهما عباده)) (3).
وعن عائشة رضي الله عنها ترفعه: ((إن الشمس والقمر لا ينكسفان لموت أحد ولا لحياته، ولكنهما من آيات الله يخوف الله بهما عباده، فإذا رأيتم كسوفًا فاذكروا الله حتى ينجليا)) (4).
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: ((وكأن بعض الناس ظن أن كسوفها [أي الشمس] كان؛ لأن إبراهيم مات فخطبهم النبي صلى الله عليه وسلم وقال: ((إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا يخسفان لموت أحد ولا لحياته فإذا رأيتموهما فافزعوا إلى الصلاة)) (5). وفي رواية في الصحيح:
--------------------------------------------
...নিদর্শন স্বরূপ, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আর আমি ভীতি প্রদর্শনের জন্যই নিদর্শনসমূহ প্রেরণ করি} (১) (২); এবং আবু বকরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এগুলোর গ্রহণ লাগে না, বরং আল্লাহ তাআলা এগুলোর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান)) (৩)।
এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি হাদিসটিকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে গ্রহণ লাগে না, বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। সুতরাং যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে, তখন আল্লাহর জিকির করো যতক্ষণ না তা দূরীভূত হয়)) (৪)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: ((মনে হয় কিছু লোক ধারণা করেছিল যে, এর [অর্থাৎ সূর্যের] গ্রহণ হয়েছিল; কারণ ইব্রাহিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তেকাল করেছিলেন। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: ((নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে এগুলোর গ্রহণ লাগে না। সুতরাং যখন তোমরা এ দুটি দেখবে, তখন নামাজের দিকে ধাবিত হও)) (৫)। এবং সহিহ (صحيح) গ্রন্থের একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
((ولكنهما آيتان من آيات الله يخوف بهما عباده)) (1). وهذا بيان منه صلى الله عليه وسلم أنهما سبب لنزول عذاب بالناس؛ فإن الله تعالى إنما يخوف عباده بما يخافونه إذا عصوه، وعصوا رسله، وإنما يخاف الناس مما يضرهم فلولا إمكان حصول الضرر بالناس عند الخسوف ما كان ذلك تخويفًا، قال تعالى:
{وَمَا مَنَعَنَا أَن نُّرْسِلَ بِالآيَاتِ إِلَاّ أَن كَذَّبَ بِهَا الأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُواْ بِهَا وَمَا نُرْسِلُ بِالآيَاتِ إِلَاّ تَخْوِيفًا} (2)، وأمر النبي صلى الله عليه وسلم بما يزيل الخوف: أمر بالصلاة، والدعاء، والاستغفار، والصدقة، والعتق، حتى يُكشف ما بالناس، وصلى بالمسلمين صلاة الكسوف صلاة طويلة)) (3).
وهذا يؤكد الاستعداد بالمراقبة لله تعالى والالتجاء إليه سبحانه، وخاصة عند اختلاف الأحوال وحدوث ما
--------------------------------------------
((কিন্তু এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের ভয় প্রদর্শন করেন)) (১)। আর এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে একটি বর্ণনা যে, এই দুটি মানুষের ওপর আজাব নাযিল হওয়ার কারণ। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কেবল সেই বিষয় দিয়েই ভয় দেখান যা তারা ভয় পায় যখন তারা তাঁর এবং তাঁর রাসুলদের অবাধ্য হয়। আর মানুষ কেবল তা থেকেই ভয় পায় যা তাদের ক্ষতি করে; সুতরাং চন্দ্রগ্রহণের (خسوف) সময় মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তা ভয় দেখানোর বিষয় হতো না। মহান আল্লাহ বলেন:
{আর নিদর্শনসমূহ পাঠানো থেকে আমাকে কেবল একথাই বিরত রেখেছে যে, পূর্ববর্তীরা সেগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর আমি সামুদ জাতিকে স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে উটনী দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আর আমি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই কেবল নিদর্শনসমূহ প্রেরণ করি} (২), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সব কাজের নির্দেশ দিয়েছেন যা ভয় দূর করে: তিনি সালাত, দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار), সদকা ও দাসমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যতক্ষণ না মানুষের ওপর আপতিত বিপদ দূর হয়। এবং তিনি মুসলমানদের নিয়ে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণের সালাত (صلاة الكسوف) আদায় করেছিলেন)) (৩)।
এবং এটি আল্লাহ তাআলার পর্যবেক্ষণে (مراقبة) থাকার প্রস্তুতি এবং তাঁর প্রতি আশ্রয় গ্রহণের বিষয়টিকে জোরালো করে, বিশেষ করে অবস্থার পরিবর্তন ও কোনো বিষয়ের উদ্ভবকালে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
يخاف بسببه (1).
ثالثًا: أسباب الكسوف الحسّيَّة والشرعية:
السبب الحسي (2)، قال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((وفي قوله صلى الله عليه وسلم: ((لا ينكسفان لموت أحد ولا لحياته)) (3)، قولان:
أحدهما: أن موت الميت وحياته لا يكون سببًا انكسافهما، كما كان يقوله كثير من جهال العرب وغيرهم عند الانكساف، أن ذلك لموت عظيم، أو ولادة عظيم، فأبطل النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، وأخبر أن موت الميت وحياته لا يؤثر في كسوفهما البتة.
والثاني: أنه لا يحصل عن انكسافهما موت ولا حياة، فلا يكون انكسافهما سببًا لموت ميت ولا لحياة حي، وإنما ذلك تخويف من الله لعباده أجرى العادة بحصوله في أوقات معلومة، بالحساب: طلوع الهلال، وإبداره، وسراره.
--------------------------------------------
এর কারণে ভীত হওয়া হয় (১)।
তৃতীয়ত: সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং শরীয়াহগত কারণসমূহ:
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কারণ (২), ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: ((কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে এই দুটির গ্রহণ হয় না)) (৩), এর ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: কারো মৃত্যু বা জীবন এই দুটির গ্রহণের কারণ নয়, যেমনটি আরবের অনেক মূর্খ লোক এবং অন্যরা গ্রহণের সময় বলত—যে এটি কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু বা কোনো মহান ব্যক্তির জন্মের কারণে হয়েছে। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বাতিল করে দেন এবং অবহিত করেন যে, কারো মৃত্যু বা জীবন এ দুটির গ্রহণের ওপর মোটেও কোনো প্রভাব ফেলে না।
দ্বিতীয়টি: এদের গ্রহণের ফলে কোনো মৃত্যু বা জীবনের উদ্ভব হয় না, সুতরাং এদের গ্রহণ কোনো মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নয় এবং কোনো জীবিত ব্যক্তির জীবনের কারণও নয়। বরং এটি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য ভীতি প্রদর্শন, যা তিনি হিসাবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত হওয়াকে একটি নিয়মে পরিণত করেছেন: নতুন চাঁদের উদয় হওয়া, চাঁদের পূর্ণ রূপ ধারণ করা এবং মাসের শেষে চাঁদের অদৃশ্য হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فأما
سبب كسوف الشمس: فهو توسط القمر بين جرم الشمس وبين أبصارنا.
وأما
سبب خسوف القمر: ((فهو توسط الأرض بينه وبين الشمس حتى يصير القمر ممنوعًا من اكتساب النور من الشمس، ويبقى ظلام ظل الأرض في ممره؛ لأن القمر لا ضوء له أبدًا، وأنه يكتسب الضوء من الشمس
… )) (1).
و
العلم بوقت الكسوف ليس من علم الغيب، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((الكسوف والخسوف لهما أوقات مقدرة، كما لطلوع الهلال وقت مقدر، وذلك ما أجرى الله عادته بالليل والنهار، والشتاء والصيف، وسائر ما يتبع جريان الشمس والقمر، وذلك من آيات الله
… وكما أن العادة التي أجراها الله تعالى أن الهلال لا يستهل إلا ليلة ثلاثين من الشهر، أو ليلة إحدى وثلاثين، وأن الشهر لا يكون إلا ثلاثين أو تسعة
--------------------------------------------
বস্তুত
সূর্যগ্রহণের কারণ হলো: সূর্য এবং আমাদের দৃষ্টির মাঝে চাঁদের অবস্থান।
আর
চন্দ্রগ্রহণের কারণ হলো: ((তা হলো সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে পৃথিবীর অবস্থান, যার ফলে চাঁদ সূর্য থেকে আলো গ্রহণ করতে বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর কক্ষপথে পৃথিবীর ছায়ার অন্ধকার থেকে যায়; কারণ চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই এবং এটি সূর্য থেকে আলো গ্রহণ করে
… )) (১)।
এবং
গ্রহণের সময় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অদৃশ্যের জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয়, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের নির্ধারিত সময় রয়েছে, যেমনটি নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার নির্ধারিত সময় থাকে। আর এটি হলো আল্লাহর সেই চিরাচরিত নিয়ম যা তিনি রাত ও দিন, শীত ও গ্রীষ্ম এবং সূর্য ও চন্দ্রের গতিপথের অনুসরণে চলমান রেখেছেন। আর এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত
… এবং মহান আল্লাহ যে নিয়ম নির্ধারণ করেছেন তা হলো নতুন চাঁদ মাসের ৩০তম রাত অথবা ৩১তম রাত ব্যতীত উদিত হয় না, এবং মাস ৩০ অথবা ঊনত্রিশ দিনের বেশি হয় না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وعشرين، فمن ظن أن الشهر يكون أكثر من ذلك أو أقل، فهو غالط، فكذلك أجرى الله العادة أن الشمس لا تكسف إلا وقت الاستسرار، وأن القمر لا يخسف إلا وقت الإبدار، ووقت إبداره: الليالي البيض التي يستحب صيام أيامها: ليلة الثالث عشر، والرابع عشر، والخامس عشر، فالقمر لا يخسف إلا في هذه الليالي، والهلال يستسر آخر الشهر إما ليلة وإما ليلتين، كما يستسر ليلة تسع وعشرين، وثلاثين، والشمس لا تكسف إلا وقت استسراره، وللشمس والقمر ليالي معتادة من عرفها عرف الكسوف والخسوف
… وليس خبر الحاسب بذلك من علم الغيب، ومن قال من الفقهاء إن الشمس تكسف في وقت الاستسرار فقد غلط، وقال ما ليس له به علم
… (1)) (2).
--------------------------------------------
...এবং বিশ (দিন); সুতরাং যে ব্যক্তি মনে করে যে মাস এর চেয়ে বেশি বা কম হয়, তবে সে ভুল করছে। একইভাবে আল্লাহ তাআলা এই নিয়ম নির্ধারণ করেছেন যে, সূর্যগ্রহণ কেবল চাঁদ লুক্কায়িত থাকার সময় (ইস্তিসরার) ছাড়া সংঘটিত হয় না এবং চন্দ্রগ্রহণ কেবল পূর্ণিমার সময় (ইবদার) ছাড়া হয় না। আর পূর্ণিমার সময় হলো: ‘আইয়ামে বিজ’ (শ্বেত রজনীসমূহ), যে দিনগুলোতে রোজা রাখা মুস্তাহাব—অর্থাৎ তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখের রাত। সুতরাং চন্দ্রগ্রহণ কেবল এই রাতগুলোতেই হয়ে থাকে। আর মাসের শেষে নতুন চাঁদ এক বা দুই রাত অদৃশ্য থাকে, যেমন তা উনত্রিশ ও ত্রিশ তারিখের রাতে অদৃশ্য থাকে। আর সূর্যগ্রহণ কেবল চাঁদ অদৃশ্য থাকার সময়েই ঘটে। সূর্য ও চন্দ্রের জন্য কিছু নির্ধারিত রাত রয়েছে, যা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে জানতে পারে
… আর জ্যোতির্বিজ্ঞানীর এ সংক্রান্ত সংবাদ অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞানের (ইলমুল গায়িব) অন্তর্ভুক্ত নয়। ফকিহদের মধ্যে যারা বলেছেন যে, সূর্য কেবল চাঁদ অদৃশ্য থাকার সময়ে গ্রহণ লাগে, তারা ভুল করেছেন এবং এমন কথা বলেছেন যে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই
… (১)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
و
لا يُكذَّب المخبر بالكسوف ولا يُصدَّق، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((وأما تصديق المخبر بذلك وتكذيبه، فلا يجوز أن يصدق إلا أن يعلم صدقه، ولا يكذب إلا أن يعلم كذبه (1)، ولكن إذا تواطأ خبر أهل الحساب على ذلك فلا يكادون يخطئون، ومع هذا فلا يترتب على خبرهم علم شرعي، فإن صلاة الكسوف
--------------------------------------------
এবং
সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে সংবাদদাতাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না এবং সত্য হিসেবেও গ্রহণ করা যাবে না, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর এ সংক্রান্ত সংবাদদাতার সংবাদ সত্য বলে গ্রহণ করা বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো—তার সত্যবাদিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সত্য বলা যাবে না এবং তার মিথ্যাচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না (১), তবে যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সংবাদ এ বিষয়ে একমত হয়, তখন তারা সাধারণত ভুল করেন না। তা সত্ত্বেও তাদের সংবাদের ওপর কোনো শরয়ি জ্ঞান নির্ভর করে না। কেননা সূর্যগ্রহণের নামাজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والخسوف لا تُصلَّى إلا إذا شاهدنا ذلك، وإذا جوَّز الإنسان صدق المخبر بذلك أو غلب على ظنه فنوى أن يُصلي الكسوف والخسوف عند ذلك، واستعد ذلك الوقت لرؤية ذلك كان هذا حثًّا من باب المسارعة إلى طاعة الله تعالى وعبادته؛ فإن الصلاة عند الكسوف متفق عليها بين المسلمين، وقد تواترت بها السنن عن النبي صلى الله عليه وسلم، ورواها أهل الصحيح، والسنن، والمسانيد من وجوه كثيرة)) (1).
السبب الشرعي: هو تخويف الله تعالى لعباده؛ لحديث أبي بكرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا ينكسفان لموت أحد، ولكن الله تعالى يخوِّف بهما عباده)) (2).
وهذا السبب هو الذي يفيد؛ ليرجعوا إلى الله تعالى، أما السبب الحسي فليس ذا فائدة كبيرة؛ ولهذا لم يبينه النبي صلى الله عليه وسلم (3).
--------------------------------------------
এবং চন্দ্রগ্রহণ তখনই পড়া হবে যখন আমরা তা প্রত্যক্ষ করব। আর যদি কোনো ব্যক্তি সংবাদদাতার সত্যবাদিতা মেনে নেয় অথবা তার মনে প্রবল ধারণা হয় এবং সেই অনুযায়ী সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সালাত আদায়ের নিয়ত করে এবং তা দেখার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তবে এটি মহান আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার একটি উৎসাহজনক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। কেননা সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায়ের বিষয়টি মুসলমানদের মধ্যে সর্বসম্মত এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ সম্পর্কিত সুন্নাহসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) হয়েছে। সহিহ, সুনান এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ বহু সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
শরয়ি কারণ: তা হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দাদের ভয় প্রদর্শন; আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন, কারো মৃত্যুর কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না; বরং মহান আল্লাহ এগুলোর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান)) (২)।
আর এই কারণটিই মূলত ফলপ্রসূ; যাতে তারা মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। পক্ষান্তরে বাহ্যিক বা ইন্দ্রিয়গত কারণটি খুব বেশি উপকারী নয়; আর এই কারণেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বর্ণনা করেননি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال شيخ الإسلام رحمه الله عن الحديث السابق: ((فذكر أن حِكْمَةَ ذلك تخويف العباد كما يكون تخويفهم في سائر الآيات: كالرياح الشديدة، والزلازل، والجدب، والأمطار المتواترة، ونحو ذلك من الأسباب التي قد تكون عذابًا؛ كما عذب الله أُممًا بالريح، والصيحة، والطوفان، وقال تعالى: {فَكُلاً أَخَذْنَا بِذَنبِهِ فَمِنْهُم مَّنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُم مَّنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُم مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الأَرْضَ وَمِنْهُم مَّنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ الله لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} (1)، وقد قال:
{وَمَا مَنَعَنَا أَن نُّرْسِلَ بِالآيَاتِ إِلَاّ أَن كَذَّبَ بِهَا الأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُواْ بِهَا وَمَا نُرْسِلُ بِالآيَاتِ إِلَاّ تَخْوِيفًا} (2)، وإخباره بأنه يخوف عباده بذلك يبين أنه قد يكون سببًا لعذاب ينزل: كالريح العاصفة الشديدة، وإنما يكون ذلك إذا كان الله قد جعل ذلك سببًا لِمَا ينزل
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) পূর্ববর্তী হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: ((তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর তাৎপর্য হলো বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করা, যেমনটি অন্যান্য নিদর্শনের মাধ্যমে তাদের ভয় দেখানো হয়: যেমন প্রবল বাতাস, ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি এবং ক্রমাগত (متواترة) বৃষ্টিপাত, এবং এই জাতীয় অন্যান্য কারণ যা শাস্তির রূপ নিতে পারে; যেমন আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন উম্মতকে বাতাস, প্রচণ্ড গর্জন এবং প্লাবনের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করেছেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি; তাদের কারও ওপর আমি পাঠিয়েছি প্রচণ্ড পাথুরে ঝড়, কাউকে আঘাত করেছে মহানাদ, কাউকে আমি ধসিয়ে দিয়েছি মাটির নিচে আর কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার ছিলেন না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল} (১), এবং তিনি আরও বলেছেন:
{পূর্ববর্তীগণ কর্তৃক নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করাই আমাকে নিদর্শন পাঠানো থেকে বিরত রেখেছে। আমি সামুদ জাতিকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম নিদর্শনস্বরূপ, যা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনের জন্যই নিদর্শনসমূহ পাঠিয়ে থাকি} (২)। আর তিনি যে এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখানোর সংবাদ দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে যে এটি নাযিলকৃত কোনো আযাবের কারণ হতে পারে, যেমন প্রবল ঘূর্ণিঝড়; আর এটি তখনই ঘটে যখন আল্লাহ সেটিকে কোনো শাস্তি নাযিলের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في الأرض)) (1).
وقد سبق أن شيخ الإسلام ذكر: أن النبي صلى الله عليه وسلم بيّن أن كسوف الشمس والقمر سبب لنزول عذاب بالناس (2).
وقال الإمام ابن القيم رحمه الله تعالى: ((نعم لا ننكر أنه سبحانه يحدث عند الكسوفين من أقضيته وأقداره ما يكون بلاء لقوم ومصيبة لهم، ويجعل الكسوف سببًا لذلك؛ ولهذا أمر النبي صلى الله عليه وسلم عند الكسوف بالفزع إلى ذكر الله، والصلاة، والعتاقة، والصدقة، والصيام؛ لأن هذه الأشياء تدفع موجب الكسف الذي جعله الله سببًا لِمَا جعله، فلولا انعقاد سبب التخويف لَمَا أمر بدفع موجبه بهذه العبادات، ولله تعالى في أيام دهره أوقات يحدث فيها ما يشاء من البلاء، والنعماء، ويقضي من الأسباب ما يدفع موجب تلك الأسباب لمن قام به، أو يقلله، أو يخففه، فمن فزع إلى تلك الأسباب أو بعضها اندفع عنه
--------------------------------------------
জমিনে)) (১)।
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাইখুল ইসলাম বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ মানুষের ওপর আজাব বা শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার একটি কারণ (২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: "হ্যাঁ, আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, মহান আল্লাহ দুই গ্রহণের সময় তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয় সৃষ্টি করেন যা কোনো সম্প্রদায়ের জন্য পরীক্ষা ও বিপদাপদ হয়ে থাকে, এবং তিনি গ্রহণকে তার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেন। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গ্রহণের সময় আল্লাহর জিকির, সালাত, দাসমুক্তি, সদকা এবং সিয়ামের প্রতি ব্যাকুল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ এই বিষয়গুলো গ্রহণের সেই প্রভাবকে প্রতিহত করে যা আল্লাহ কোনো উদ্দেশ্যে কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। যদি ভীতি প্রদর্শনের কারণ সৃষ্টি না হতো, তবে তিনি এসব ইবাদতের মাধ্যমে তার প্রভাবকে দূর করার নির্দেশ দিতেন না। আল্লাহ তায়ালার জন্য সময়ের আবর্তনে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে যাতে তিনি পরীক্ষা ও নেয়ামতের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, এবং তিনি এমন কিছু উপায়ের ফয়সালা করেন যা সেসব কার্যের প্রভাবকে সেই ব্যক্তির জন্য প্রতিহত করে যে তা সম্পাদন করে, অথবা তা হ্রাস করে কিংবা লাঘব করে। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই উপায়গুলোর বা সেগুলোর কোনো একটির দিকে ধাবিত হয়, তা তার থেকে দূরীভূত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الشر الذي جعل الله الكسوف سببًا له أو بعضه؛ ولهذا قلّ ما تسلم أطراف الأرض حيث يخفى الإيمان وما جاءت به الرسل من شر عظيم يحصل بسبب الكسوف، وتسلم منه الأماكن التي يظهر فيها نور النبوة والقيام بما جاءت به الرسل، أو يقل فيها جدًا، ولمَّا كسفت الشمس على عهد النبي صلى الله عليه وسلم قام فزعًا مسرعًا يجرُّ رداءه، ونادى في الناس: الصلاة جامعة، وخطبهم بتلك الخطبة البليغة، وأخبر أنه لم يرَ كيومه ذلك في الخير والشر، وأمرهم عند حصول مثل تلك الحالة: بالعتاقة، والصدقة، والصلاة، والتوبة، فصلوات الله وسلامه على أعلم الخلق بالله، وبأمره، وشأنه، وتعريفه أمور مخلوقاته، وتدبيره، وأنصحهم للأمة، ومن دعاهم إلى ما فيه سعادتهم: في معاشهم، ومعادهم، ونهاهم عما فيه: هلاكهم: في معاشهم ومعادهم)) (1).
و
العلم بوقت الكسوف لا ينافي الخوف؛ ولهذا قال
--------------------------------------------
সেই অমঙ্গল যার জন্য আল্লাহ তাআলা সূর্যগ্রহণকে একটি কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন অথবা তার কিয়দংশ; একারণেই পৃথিবীর প্রান্তিক অঞ্চলসমূহ—যেখানে ঈমান এবং রসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা অনুপস্থিত থাকে—সেখানে সূর্যগ্রহণের ফলে সৃষ্ট বড় ধরনের অনিষ্ট থেকে খুব কমই নিষ্কৃতি পায়। পক্ষান্তরে, সেই সকল স্থান এই অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে যেখানে নবুওয়াতের নূর এবং রসূলগণের আনীত বিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রকাশ পায়, অথবা সেখানে অনিষ্টের মাত্রা অত্যন্ত নগণ্য হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে যখন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, তখন তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দ্রুতবেগে নিজের চাদর টেনে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন এবং লোকজনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন: 'নামাজ সমবেত হতে যাচ্ছে'। অতঃপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত সাবলীল ও মর্মস্পর্শী খুতবা প্রদান করেন এবং অবহিত করেন যে, কল্যাণ ও অকল্যাণের বিচারে তিনি সেই দিনের ন্যায় আর কোনো দিন দেখেননি। এ জাতীয় পরিস্থিতি উদ্ভূত হলে তিনি তাদের দাসমুক্তি, দান-সদকা, নামাজ এবং তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতএব, আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আল্লাহর সৃষ্টিজগতের সেই মহান সত্তার ওপর যিনি আল্লাহ সম্পর্কে, তাঁর নির্দেশ ও শান সম্পর্কে এবং তাঁর সৃষ্টিজগত ও পরিচালনার নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত; আর যিনি উম্মতের প্রতি সর্বাধিক হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তাদের এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সৌভাগ্য নিহিত, আর তাদের সেই সব বিষয় থেকে বারণ করেছেন যাতে রয়েছে তাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক বিনাশ। (১)
এবং
গ্রহণের সময় সম্পর্কে অবগত থাকা ভীতির পরিপন্থী নয়; একারণেই তিনি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((وأما كون الكسوف أو غيره قد يكون سببًا لحادث في الأرض من عذاب يقتضي موتًا أو غيره: فهذا قد أثبته الحديث نفسه)) (1). وقال رحمه الله: ((فإذا كان الكسوف له أجل مسمى لم ينافي ذلك أن يكون عند أجله يجعله الله سببًا لِمَا يقتضيه من عذاب وغيره لمن يعذب الله في ذلك الوقت، أو لغيره ممن ينزل الله به ذلك، كما أن تعذيب الله لمن عذبه بالريح الشديدة الباردة: كقوم عاد كانت في الوقت المناسب وهو آخر الشتاء كما ذكر ذلك أهل التفسير، وقصص الأنبياء، وكذلك الأوقات التي يُنزل الله فيها الرحمة: كالعشر الآخرة من رمضان، والأُول من ذي الحجة، وكجوف الليل، وغير ذلك: هي أوقات محدودة لا تتقدم ولا تتأخر، وينزل فيها من الرحمة ما لا ينزل في غيرها)) (2).
و
لا تنافي بين اجتماع السبب الحسي والشرعي، ويكون
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আর সূর্যগ্রহণ বা অন্য কিছু পৃথিবীতে আযাবের ন্যায় এমন কোনো ঘটনার কারণ হওয়া যা মৃত্যু বা অন্য কিছুর দাবি রাখে—এটি খোদ হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত)) (১)। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: ((সূর্যগ্রহণের যদি একটি সুনির্ধারিত সময় থাকে, তবে তা এই বিষয়ের পরিপন্থী নয় যে, আল্লাহ তার নির্ধারিত সময়ে সেটিকে আযাব বা অন্য কিছুর কারণ বানাবেন তাদের জন্য যাদের আল্লাহ সেই সময়ে শাস্তি দিতে চান, অথবা অন্য যাদের ওপর আল্লাহ তা নাজিল করেন। যেমন আল্লাহ তাআলা যাদেরকে তীব্র শীতল বায়ু দ্বারা শাস্তি দিয়েছিলেন—যেমন কওমে আদ—তা ছিল একটি উপযুক্ত সময়ে, আর তা ছিল শীতকালের শেষাংশ, যেমনটি তাফসিরবিদগণ এবং আম্বিয়াগণের কাহিনী বর্ণনাকারীগণ উল্লেখ করেছেন। তদ্রূপ সেই সময়গুলো যাতে আল্লাহ রহমত নাজিল করেন: যেমন রমজানের শেষ দশ দিন, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন, রাতের শেষ ভাগ ইত্যাদি—এগুলো সুনির্ধারিত সময় যা আগে বা পরে হয় না, আর এ সকল সময়ে এমন রহমত নাজিল হয় যা অন্য সময়ে হয় না)) (২)।
এবং
বাহ্যিক ও শরয়ি কারণ একত্রিত হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, এবং তা হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحسي معلومًا معروفًا للناس قبل أن يقع، والشرعي معلومًا بطريق الوحي؛ ((لأنه حتى الأمور العظيمة: كالخسف بالأرض، والزلازل، والصواعق، وشبهها التي يحس الناس بضررها وأنها عقوبة لها أسباب طبيعية، يُقدِّر الله هذه الأسباب الطبيعية حتى تكون المسببات، وتكون الحكمة من ذلك: هو تخويف العباد، فالزلازل لها أسباب، والصواعق لها أسباب، والبراكين لها أسباب، والعواصف لها أسباب، لكن يُقَدِّر الله هذه الأسباب من أجل استقامة الناس على دين الله
… )) (1).
رابعًا: فوائد الكسوف وحِكَمَهُ: للكسوف حِكَمٌ عظيمةٌ منها، سبع فوائد: قال ابن الملقن رحمه الله تعالى: ((ونقل المحب الطبري في أحكامه عن بعضهم أن في الكسوف سبع فوائد:
الأولى: ظهور التصرف في الشمس والقمر، وهما خلقان عظيمان.
--------------------------------------------
সংবেদনশীল (الحسي) বিষয়টি সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই মানুষের নিকট সুপরিচিত ও জ্ঞাত থাকে, আর শরয়ি (الشرعي) বিষয়টি ওহির মাধ্যমে জ্ঞাত হওয়া যায়; ((কেননা এমনকি বড় বড় বিষয়গুলোও: যেমন ভূমিধস, ভূমিকম্প, বজ্রপাত এবং এর সদৃশ বিষয়সমূহ যেগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মানুষ অনুভব করে এবং যেগুলো যে এক প্রকার শাস্তি, সেগুলোর প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে; আল্লাহ এই প্রাকৃতিক কারণগুলো নির্ধারণ করেন যাতে ফলাফলগুলো প্রকাশ পায়, আর এর পেছনে হিকমত (حكمة) হলো: বান্দাদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা। সুতরাং ভূমিকম্পের কারণ রয়েছে, বজ্রপাতের কারণ রয়েছে, আগ্নেয়গিরির কারণ রয়েছে, ঝড়েরও কারণ রয়েছে, কিন্তু আল্লাহ এই কারণসমূহ নির্ধারণ করেন যাতে মানুষ আল্লাহর দ্বীনের ওপর অবিচল থাকে
… )) (১)।
চতুর্থ: সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের উপকারিতা ও এর হিকমতসমূহ: গ্রহণের অনেক মহান হিকমত রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি উপকারিতা রয়েছে: ইবনুল মুলাক্কিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((মুহিব্ব আত-তাবারী তাঁর আহকাম গ্রন্থে কারো কারো থেকে বর্ণনা (نقل) করেছেন যে, গ্রহণে সাতটি উপকারিতা রয়েছে:
প্রথম: সূর্য ও চন্দ্রের ওপর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের প্রকাশ, আর এ দুটি মহান সৃষ্টি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الثانية: أن يتبين بتغيُّرهما تَغيُّر شأن ما بعدهما (1).
الثالثة: إزعاج القلوب الساكنة بالغفلة وإيقاظها.
الرابعة: ليرى الناس نموذج ما سيجري في القيامة، قال تعالى: {وَخَسَفَ الْقَمَرُ، وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ} (2).
الخامسة: أنهما موجودان في حال الكمال، ويكسفان ثم يلطف بهما، ويعادان إلى ما كانا عليه، تنبيهًا على خوف المكر ورجاء العفو.
السادسة: إعلام بأنه قد يؤخذ من لا ذنب له؛ ليحذر من له ذنب.
السابعة: أن الناس قد أَنسوا بالصلوات المفروضات، فيأتونها من غير انزعاج ولا خوف، فأتى بهذه الآية سببًا لهذه الصلاة؛ ليفعلها بانزعاج، وخوف، ولعل تركه يصير عادة لهم في المفروضات)) (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাদের (সূর্য ও চন্দ্রের) পরিবর্তনের মাধ্যমে পরবর্তী পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রকাশ পাওয়া (১)।
তৃতীয়ত: উদাসীনতার কারণে নিশ্চল হয়ে পড়া হৃদয়গুলোকে প্রকম্পিত করা এবং সেগুলোকে জাগ্রত করা।
চতুর্থত: মানুষ যেন কিয়ামতের দিন যা ঘটবে তার একটি নমুনা দেখতে পায়; মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে" (২)।
পঞ্চমত: এই দুটি (জ্যোতিষ্ক) পূর্ণ অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, এরপর সেগুলোতে গ্রহণ লাগে, অত:পর এগুলোর প্রতি দয়া করা হয় এবং পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়; যা আল্লাহর কৌশলের (المكر) ভয় এবং তাঁর ক্ষমার আশার বিষয়ে সতর্ককারী।
ষষ্ঠত: এটি জানান দেওয়া যে, কখনও কখনও নিরপরাধ ব্যক্তিকেও পাকড়াও করা হতে পারে; যাতে অপরাধী ব্যক্তি সতর্ক হয়।
সপ্তমত: মানুষ ফরয (المفروضات) সালাতসমূহে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাই তারা কোনো প্রকার বিচলিত হওয়া বা ভয় ছাড়াই সেগুলো আদায় করে; ফলে এই নিদর্শনটি (آية) এই সালাতের কারণ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে; যাতে তারা তা বিচলিত মনে ও ভয়ে আদায় করে, এবং সম্ভবত এই অবস্থাটি বর্জন করা তাদের জন্য ফরয (المفروضات) সালাতসমূহেও অভ্যাসে পরিণত হবে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
خامسًا: حُكم صلاة الكسوف: صلاة الكسوف: قيل: سنة مؤكدة، قال الإمام النووي رحمه الله: ((وأجمع العلماء على أنها سنة)) (1). وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((وصلاة الكسوف سنة مؤكدة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعلها وأمر بها)) (2). وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((فالجمهور على أنها سنة مؤكدة، وصرح أبو عوانة في صحيحه بوجوبها، ولم أره لغيره، إلا ما حُكي عن مالك أنه أجراها مجرى الجمعة، ونقل الزين بن المنير عن أبي حنيفة أنه أوجبها، وكذا نقل عن بعض مصنفي الحنفية أنها واجبة)) (3)، وقال العلامة السعدي رحمه الله: ((وقال بعض العلماء بوجوب صلاة الكسوف؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعلها وأمر بها)) (4). وقال
--------------------------------------------
পঞ্চম: সূর্যগ্রহণের নামাজের বিধান: সূর্যগ্রহণের নামাজ: বলা হয়েছে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة)। ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এটি একটি সুন্নাত (سنة))) (১)। ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((সূর্যগ্রহণের নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করেছেন এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন)) (২)। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((অধিকাংশ আলেম বা জুমহুর (الجمهور)-এর মতে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة)। তবে আবু আওয়ানা তার সহিহ গ্রন্থে এটি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি ছাড়া আর কারো কাছে আমি দেখিনি। তবে ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এটিকে জুমার নামাজের ন্যায় গণ্য করেছেন। আর যায়ন ইবনুল মুনির ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটিকে ওয়াজিব (واجب) বলেছেন। একইভাবে হানাফি মাযহাবের কোনো কোনো লেখক থেকেও এটি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে)) (৩)। আল্লামা সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((কোনো কোনো আলেম সূর্যগ্রহণের নামাজ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার কথা বলেছেন; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এটি করেছেন এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((وقال بعض أهل العلم: إنها واجبة؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا رأيتم ذلك فصلوا)) قال ابن القيم في كتاب الصلاة وهو قول قوي (1)، أي القول بالوجوب، وصدق رحمه الله؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بها، وخرج فزعًا، وقال: إنها تخويف، وخطب خطبة عظيمة، وعُرِضت عليه الجنة والنار، وكل هذه القرائن العظيمة تشعر بوجوبها؛ لأنها قرائن عظيمة، ولو قلنا: إنها ليست بواجبة، وأن الناس مع وجود الكسوف إذا تركوها مع هذا الأمر من النبي صلى الله عليه وسلم والتأكيد فلا إثم عليهم لكان في هذا شيء من النظر، كيف يكون تخويفًا ثم لا نبالي وكأنه أمر عادي، أين الخوف؟ وهذا القول قوي جدًّا، ولا أرى أن الناس يرون الكسوف في الشمس أو القمر ثم لا يبالون به، كل في تجارته، كل في لهوه، كل في مزرعته، فهذا شيء يخشى أن تنزل بسببه العقوبة التي أنذرنا الله إياها بهذا الكسوف، فالقول بالوجوب أقوى من القول
--------------------------------------------
আল্লামা ইবনে উসাইমীন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: ((বিজ্ঞ আলেমদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি আবশ্যকীয় (واجب); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: ((যখন তোমরা তা দেখবে তখন সালাত আদায় করো))। ইবনুল কাইয়্যিম 'কিতাবুস সালাত'-এ বলেছেন যে, এটি একটি শক্তিশালী (قوي) মত (১), অর্থাৎ আবশ্যকীয় (واجب) হওয়ার মতটি। তিনি সত্যই বলেছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বের হয়েছিলেন, একে ভীতি প্রদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একটি মহান খুতবা প্রদান করেছেন যাতে তাঁর সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম পেশ করা হয়েছিল। এই সকল মহান আলামত এর আবশ্যকীয়তা (واجب) নির্দেশ করে; কারণ এগুলো অত্যন্ত জোরালো প্রমাণ। আমরা যদি বলি যে এটি আবশ্যকীয় (واجب) নয়, আর মানুষ সূর্যগ্রহণের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নির্দেশ ও তাকিদ থাকা সত্ত্বেও যদি তা বর্জন করে তবে তাদের কোনো গুনাহ হবে না—তবে এই যুক্তিতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। এটি ভীতি প্রদর্শনের বিষয় হওয়া সত্ত্বেও আমরা কীভাবে গাফেল থাকতে পারি যেন এটি একটি সাধারণ ব্যাপার? ভীতি কোথায়? এই মতটি অত্যন্ত শক্তিশালী (قوي)। আমি মনে করি না যে মানুষ সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ দেখবে অথচ সে ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ করবে না—সবাই নিজ নিজ ব্যবসা, আমোদ-প্রমোদ বা কৃষিকাজে মগ্ন থাকবে; এমনটি হলে আশঙ্কা থাকে যে এর ফলে সেই শাস্তি নেমে আসতে পারে যার ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের এই গ্রহণের মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। অতএব, আবশ্যকীয় (واجب) হওয়ার মতটি অন্য মতের চেয়ে অধিক শক্তিশালী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بالاستحباب)) (1).
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((وهي سنة مؤكدة، وقيل بالوجوب وهو قول قوي)) (2).
سادسًا: آداب صلاة الكسوف، لصلاة الكسوف آداب عظيمة ينبغي العناية بها، ومنها:
1 - الخوف من الله تعالى عند كسوف الشمس أو القمر؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله، لا ينكسفان لموت أحد، ولكن الله يخوِّف بهما عباده)) (3)؛ ولحديث أبي بردة عن أبي موسى قال: خسفت الشمس فقام النبي صلى الله عليه وسلم فَزِعًا يخشى أن تكون الساعة، فأتى المسجد فصلى بأطول قيام، وركوع، وسجود رأيته قط
--------------------------------------------
মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার কথা বলা হয়েছে (১)।
আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: "এটি সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة) এবং কারো কারো মতে এটি ওয়াজিব (وجوب), যা একটি শক্তিশালী মত" (২)।
ষষ্ঠত: কুসূফ বা সূর্যগ্রহণের সালাতের আদবসমূহ; কুসূফ বা সূর্যগ্রহণের সালাতের মহান কিছু আদব রয়েছে যেগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত, তার মধ্যে রয়েছে:
১ - সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মহান আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহণ লাগে না, বরং আল্লাহ এগুলোর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান" (৩); এবং আবু মুসা থেকে বর্ণিত আবু বুরদার হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: সূর্যগ্রহণ হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন এই ভয়ে যে, কিয়ামত শুরু হয়ে গেল কি না। অতঃপর তিনি মসজিদে আসলেন এবং আমার দেখা দীর্ঘতম কিয়াম (قيام), রুকু (ركوع) ও সেজদা (سجود) সহকারে সালাত আদায় করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يفعله، وقال: ((هذه الآيات التي يرسل الله لا تكون لموت أحد ولا لحياته، ولكن يخوِّف الله بها عباده، فإذا رأيتم شيئًا من ذلك فافزعوا إلى ذكر الله ودعائه، واستغفاره)) (1).
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((فلعله [صلى الله عليه وسلم] خشي أن يكون الكسوف مقدمة لبعض الأشراط: كطلوع الشمس من مغربها، ولا يستحيل أن يتخلل بين الطلوع والطلوع المذكور أشياء مما ذكر، وتقع متتالية بعضها إثر بعض، مع استحضار قوله تعالى: {وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَاّ كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ (2)} (3).
فينبغي للمؤمن أن يخاف من نزول عقوبة عند كسوف الشمس أو القمر، وقد خاف النبي صلى الله عليه وسلم عند كسوف الشمس، فخرج فزعًا يجرُّ رداءه، وقد كان من هديه صلى الله عليه وسلم أنه يعتني بما يحدث من الظواهر الكونية التي يجريها الله تعالى ويحثّ
--------------------------------------------
তিনি এটি করতেন এবং বলতেন: ((আল্লাহ প্রেরিত এই নিদর্শনসমূহ কারও মৃত্যু বা জীবনের জন্য হয় না, বরং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন এর কিছু দেখবে, তখন আল্লাহর জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারের প্রতি ধাবিত হও)) (১)।
হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সম্ভবত তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই গ্রহণ কিয়ামতের কিছু আলামতের (أشراط) ভূমিকা হতে পারে: যেমন পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়। আর উল্লিখিত সেই উদয় এবং সূর্যগ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে বর্ণিত বিষয়গুলোর অনুপ্রবেশ ঘটা অসম্ভব নয়, যা একের পর এক পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হবে। সেই সাথে মহান আল্লাহর এই বাণী স্মর্তব্য: {আর কিয়ামতের বিষয়টি তো কেবল চোখের পলকের মতো অথবা তার চেয়েও নিকটতর (২)} (৩)।
অতএব সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মুমিনের উচিত শাস্তি নাযিল হওয়ার ভয় করা। সূর্যগ্রহণের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভীত হয়েছিলেন এবং তিনি চাদর টানতে টানতে আতঙ্কিত অবস্থায় বের হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা যেসব মহাজাগতিক ঘটনা ঘটান সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তিনি উৎসাহ দিতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الناس على الدعاء والحذر من نزول العقوبات، فعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان يوم الريح والغيم عُرِفَ ذلك في وجهه، وأقبل وأدبر، فإذا مطرت سُرّ بِهِ وذهب عنه ذلك، فسألته فقال: ((إني خشيت أن يكون عذابًا سُلِّط على أمتي)) ويقول إذا رأى المطر: ((رحمة)) (1).
وفي رواية: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا عصفت الريح قال: ((اللهم إني أسألك خيرها وخير ما فيها وخير ما أرسلت به، وأعوذ بك من شرها وشر ما فيها وشر ما أُرسلت به))، وإذا تخيلت السماء (2) تغير لونه، وخرج ودخل، وأقبل وأدبر، فإذا مطرت سُرِّي عنه (3) فعرفتُ ذلك في وجهه، فسألته فقال: ((لعله يا عائشة كما قال قوم عاد:
{فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُّسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ
--------------------------------------------
মানুষের উচিত দোয়া করা এবং বিপদ বা শাস্তি অবতরণ থেকে সতর্ক থাকা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন প্রবল বাতাস ও মেঘাচ্ছন্ন দিন হতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় উদ্বেগের চিহ্ন দেখা যেত। তিনি অস্থির হয়ে সামনে-পেছনে পায়চারি করতেন। অতঃপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন তিনি আনন্দিত হতেন এবং তাঁর সেই উদ্বেগ দূর হয়ে যেত। আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি আশঙ্কা করছিলাম যে এটি আমার উম্মতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো শাস্তি (عذاب) কি না।" আর বৃষ্টি দেখলে তিনি বলতেন: "(এটি) রহমত।" (১)
এবং একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহিত হতো, তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ, এর মাঝে নিহিত কল্যাণ এবং এটি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট, এর মাঝে নিহিত অনিষ্ট এবং এটি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" আর যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো (تخيلت) (২), তখন তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত, তিনি বাইরে বের হতেন এবং ভেতরে প্রবেশ করতেন এবং পায়চারি করতেন। অতঃপর যখন বৃষ্টি হতো তখন তাঁর সেই অস্থিরতা কেটে যেত (سُرِّي عنه) (৩)। আমি তাঁর চেহারায় তা লক্ষ্য করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "হে আয়েশা! হতে পারে এটি তেমনি যেমনটি আদ জাতি বলেছিল:
{অতঃপর তারা যখন তাদের উপত্যকার অভিমুখে মেঘ আসতে দেখল, তখন বলল, এটি তো মেঘ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مُّمْطِرُنَا بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُم بِهِ رِيحٌ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌ} (1)).
وفي رواية عن عائشة رضي الله عنها أيضًا أنها قالت: ((ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم مستجمعًا ضاحكًا حتى أرى من لهواته، إنما كان يَتَبَسَّمُ، قالت: وكان إذا رأى غيمًا أو ريحًا عُرِف ذلك في وجهه، فقالت: يا رسول الله أرى الناس إذا رأوا الغيم فرحوا رجاء أن يكون فيه المطر، وأراك إذا رأيتَهُ عرفتُ في وجهك الكراهية؟ قالت: فقال: ((يا عائشة ما يُؤمِّنني أن يكون فيه عذاب، قد عُذِّب قوم بالريح، وقد رأى قوم العذاب فقالوا: {هَذَا عَارِضٌ مُّمْطِرُنَا} (2)) (3).
قال الإمام النووي رحمه الله تعالى في ذكره لفوائد روايات هذا الحديث: ((فيه الاستعداد بالمراقبة لله والالتجاء إليه عند اختلاف الأحوال وحدوث ما يخاف بسببه، وكان خوفه صلى الله عليه وسلم أن يعاقبوا بعصيان العصاة،
--------------------------------------------
...আমাদের বৃষ্টি দানকারী। বরং এটি সেই বস্তু যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করছিলে; এটি এক ঝঞ্ঝাবায়ু, যাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} (১))।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত (رواية) অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এও রয়েছে যে, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কখনও এমনভাবে অট্টহাসি হাসতে দেখিনি যাতে তাঁর আলজিভ দেখা যায়; বরং তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।” তিনি বলেন: “যখন তিনি মেঘ বা বাতাস দেখতেন, তখন তাঁর চেহারায় (উদ্বেগের) ছাপ ফুটে উঠত। তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখি যে মানুষ মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়, কিন্তু আপনাকে দেখি যে যখন আপনি মেঘ দেখেন তখন আপনার চেহারায় অপছন্দনীয়তার ভাব ফুটে ওঠে? তিনি বলেন: হে আয়েশা! এতে যে আজাব নেই, সে ব্যাপারে আমি কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারি? অথচ একটি সম্প্রদায়কে বাতাসের মাধ্যমে আজাব দেওয়া হয়েছিল। আর এক সম্প্রদায় আজাব দেখে বলেছিল: {এটি একটি মেঘ যা আমাদের বৃষ্টি দান করবে} (২)” (৩)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসের বর্ণনাগুলোর (رواية) শিক্ষা ও তাৎপর্য আলোচনায় বলেন: “এতে অবস্থার পরিবর্তন এবং ভীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হলে আল্লাহর বিশেষ নজরদারির (المراقبة) কথা স্মরণে রেখে প্রস্তুতি গ্রহণ এবং তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ ও আশ্রয় গ্রহণের শিক্ষা রয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভয় ছিল পাপাচারীদের পাপাচারের কারণে সকলকে শাস্তি প্রদান করা নিয়ে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وسروره؛ لزوال سبب الخوف)) (1)، وقال صلى الله عليه وسلم: ((نُصِرتُ بالصَّبا وأهلكت عاد بالدَّبور (2)) (3).
فهذا من هدي النبي صلى الله عليه وسلم وشدة خوفه من عذاب الله تعالى، وشفقته على أمته، فإذا كانت هذه حاله عليه الصلاة والسلام حينما يحدث الكسوف، أو الغيم والريح؛ لأن هذه من آيات الله التي قد تكون دالة على حدوث بلية أو نازلة، أو عذاب، فكيف بحالنا في هذه الأزمان التي كَثُرت فيها المعاصي، والغفلة، والإعراض، واللهو، وغير ذلك، ولا حول ولا قوة إلا بالله. فيجب علينا أن نلجأ إلى الله عز وجل ونلوذ به ونعتصم بحبله في جميع أحوالنا: في الرخاء والشدة، والسراء والضراء، وقد قال الله تعالى: {فَفِرُّوا إِلَى الله إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ} (4)، قال العلامة السعدي رحمه
--------------------------------------------
এবং তাঁর আনন্দ; ভয়ের কারণ দূরীভূত হওয়ার জন্য (১)। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে পুবালি বাতাসের (الصَّبا) মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে এবং আদ জাতিকে পশ্চিমা বাতাসের (الدَّبور) মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে (২)” (৩)।
এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ এবং মহান আল্লাহর আজাবের ব্যাপারে তাঁর তীব্র ভীতি ও তাঁর উম্মতের প্রতি দয়ার বহিঃপ্রকাশ। যদি সূর্যগ্রহণ (الكسوف), অথবা মেঘ ও প্রবল বাতাসের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা এমন হতো—কেননা এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা কোনো বিপদ, দুর্যোগ (نازلة) অথবা আজাব আসার ইঙ্গিতবাহী হতে পারে—তবে বর্তমান সময়ে আমাদের কী অবস্থা হওয়া উচিত যখন পাপাচার, উদাসীনতা, বিমুখতা, খেল-তামাশা এবং আরও অনেক কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে! আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই। সুতরাং আমাদের ওপর আবশ্যক হলো সকল অবস্থায় মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, তাঁর শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা: সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতায় এবং সুসময় ও দুঃসময়ে। আর মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী (نذير مبين)} (৪), আল্লামা সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الله: ((فلما دعا العباد إلى النظر لآياته الموجبة لخشيته، والإنابة إليه أمر بما هو المقصود من ذلك: وهو الفرار إليه: أي الفرار مما يكرهه الله ظاهرًا وباطنًا، إلى ما يحبه ظاهرًا وباطنًا: فرار من الجهل إلى العلم، ومن الكفر إلى الإيمان، ومن المعصية إلى الطاعة، ومن الغفلة إلى ذكر الله، فمن استكمل هذه الأمور فقد استكمل الدين كله، وقد زال عنه المرهوب، وحصل له نهاية المراد والمطلوب، وسمى الله الرجوع إليه فرارًا؛ لأن في الرجوع لغيره أنواع المخاوف والمكاره، وفي الرجوع إليه أنواع المحاب، والأمن والسرور، والسعادة، والفوز، فيفرُّ العبد من قضائه، وقدره، إلى قضائه وقدره، وكل من خفت منه فررت منه إلا الله تعالى، فإنه بحسب الخوف منه يكون الفرار إليه)) (1).
ولشدة خوف النبي صلى الله عليه وسلم من الله عز وجل بكى في سجود صلاة الكسوف فينبغي الاقتداء به عليه الصلاة والسلام (2).
--------------------------------------------
আল্লাহ: ((যখন তিনি বান্দাদের তাঁর এমন সব নিদর্শনাদির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানালেন যা তাঁর প্রতি ভীতি সৃষ্টি করে এবং তাঁর অভিমুখী হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে, তখন তিনি সেই নির্দেশের প্রকৃত উদ্দেশ্যের কথা বর্ণনা করেছেন: আর তা হলো তাঁর দিকে পলায়ন করা। অর্থাৎ, প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা থেকে পলায়ন করে যা তিনি প্রকাশ্য ও গোপনে ভালোবাসেন তার দিকে ধাবিত হওয়া। অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে, কুফরি থেকে ঈমানের দিকে, অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে এবং গাফিলতি থেকে আল্লাহর স্মরণের দিকে পলায়ন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিষয়গুলো পূর্ণ করল, সে যেন সমগ্র দ্বীনকেই পূর্ণতা দান করল। এর ফলে তার সকল ভীতি দূরীভূত হলো এবং সে তার চরম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লাভ করল। আর আল্লাহ তাঁর দিকে ফিরে আসাকে 'পলায়ন' হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাঝে রয়েছে হরেক রকমের ভয় ও অপছন্দনীয় বিষয়। পক্ষান্তরে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাঝে রয়েছে বিবিধ ভালোবাসা, নিরাপত্তা, প্রশান্তি, সৌভাগ্য ও সফলতা। অতএব বান্দা তাঁর ফয়সালা ও তকদির থেকে পলায়ন করে তাঁরই ফয়সালা ও তকদিরের দিকে আশ্রয় নেয়। আল্লাহ ছাড়া আর যাকে তুমি ভয় পাও তার থেকে তুমি দূরে পালিয়ে যাও, কিন্তু মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; তাঁকে যতটা ভয় করা হয়, পলায়ন তাঁর দিকেই ততটা ত্বরান্বিত হয়।)) (১)।
মহান আল্লাহর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অত্যধিক ভীতির কারণে তিনি সূর্যগ্রহণের নামাজের সেজদায় ক্রন্দন করেছিলেন। সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল কুসূফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - استحضار ما رآه النبي من الأمور العظيمة في صلاة الكسوف؛ فإن ذلك يثمر الخوف من الله عز وجل، فقد رأى النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الكسوف: الجنة والنار، وهمَّ أن يأخذ عنقودًا من الجنة فيريهم إياه، ورأى بعض عذاب أهل النار، فرأى: امرأة تعذب في هِرَّة، ورأى عمرو بن مالك بن لُحي يجرّ أمعاءه في النار وكان أول من غيّر دين إبراهيم صلى الله عليه وسلم، ورأى فيها سارق الحاج يعذب، ورأى أكثر أهل النار النساء بكفرهن لإحسان العشير، وأُوحي إليه أن الناس يفتنون في قبورهم، ورأى فيها سارق بدنتي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وغير ذلك. فعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال حين خطب الناس بعد صلاة الكسوف: ((يا أمة محمد والله ما من أحد أغير من الله أن يزني عبده أو تزني أمته، يا أمة محمد والله لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلاً، ولبكيتم كثيرًا)). وفي رواية: ((ثم أمرهم أن يتعوذوا من عذاب القبر)).
وفي رواية: ((لقد رأيت في مقامي هذا كل شيء وُعِدْتُهُ
২ - কুসুফের (সূর্যগ্রহণ) সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মহান বিষয়সমূহ দেখেছিলেন তা অন্তরে উপস্থিত করা; কেননা এটি মহান আল্লাহর প্রতি ভীতি উদ্রেক করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুসুফের সালাতে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছিলেন। তিনি জান্নাত থেকে একটি আঙুরের থোকা গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন যেন তিনি তাঁদের তা দেখাতে পারেন। তিনি জাহান্নামবাসীদের কিছু শাস্তি দেখেছিলেন; তিনি এক মহিলাকে দেখেছিলেন যাকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি আমর ইবনে মালিক ইবনে লুহাইকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে বেড়াতে দেখেন; সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে ইব্রাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীন পরিবর্তন করেছিল। তিনি সেখানে হাজীদের মালামাল লুণ্ঠনকারী চোরকে শাস্তি পেতে দেখেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন যে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী, কারণ তারা তাদের স্বামীর অনুগ্রহ অস্বীকার করে। তাঁর নিকট ওহী পাঠানো হয়েছিল যে মানুষকে তাদের কবরে পরীক্ষা (فتنة) করা হবে। তিনি সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুটি উট চোরকে এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু দেখেছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুসুফের সালাতের পর যখন মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন তখন তিনি বলেছিলেন: "হে মুহাম্মাদের উম্মত! আল্লাহর কসম, যখন তাঁর কোনো বান্দা বা বান্দি ব্যভিচার করে তখন আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ আর কেউ পোষণ করে না। হে মুহাম্মাদের উম্মত! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা অবশ্যই অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।" একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "অতঃপর তিনি তাদের কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিলেন।" এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আমি আমার এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আমাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিটি বিষয়ই প্রত্যক্ষ করেছি...