(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة العيدين القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة العيدين - مفهوم، وفضائل، وآداب، وشروط، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 169
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
দুই ঈদের সালাত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: দুই ঈদের সালাত - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, ফজিলত, আদব, শর্ত এবং বিধানসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: -)
37
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
_
صلاة العيدين
مفهوم، وفضائل، وآداب، وشروط، وأحكام
في ضوء الكتاب والسنة
৩৭
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহনতানির রচনাসমগ্র
_
দুই ঈদের সালাত
সংজ্ঞা, ফজিলত, আদব, শর্তাবলি ও বিধিবিধান
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلّى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في: ((صلاة العيدين)) وما يتعلق بهما من أحكام، بينت فيها بتوفيق الله عز وجل: مفهوم صلاة العيدين، وحكمهما، وآدابهما، وشروط وجوبهما، ووقتهما، وأن خطبة صلاة العيدين بعد الصلاة، وذكرت التكبير أيام العيدين، وأنواعه، وحكم اجتماع العيد والجمعة، وبينت أحكام زكاة الفطر، وأحكام الأضحية، وذكرت بعض المنكرات التي تحصل أيام العيدين، كل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলসমূহের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
এটি ‘দুই ঈদের সালাত’ এবং এ সংক্রান্ত বিধিবিধান বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি মহান আল্লাহর তাওফিকে বর্ণনা করেছি: দুই ঈদের সালাতের ধারণা, এর বিধান (حكم), এর আদবসমূহ, এটি ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি ও সময় এবং দুই ঈদের সালাতের খুতবা যে সালাতের পরে হতে হয় সে সম্পর্কে। আমি দুই ঈদের দিনগুলোতে তাকবীর পাঠ, এর প্রকারভেদ এবং ঈদ ও জুমুআ একই দিনে একত্রিত হওয়ার বিধান (حكم) উল্লেখ করেছি। এছাড়া আমি যাকাতুল ফিতর ও কোরবানির বিধানসমূহ বর্ণনা করেছি এবং ঈদের দিনগুলোতে সংঘটিত হওয়া কিছু বর্জনীয় (منكر) কাজও উল্লেখ করেছি, সব...
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৪)
ذلك مقروناً بالأدلة من الكتاب والسنة.
وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله تعالى، ورفع درجاته في جنات النعيم.
والله أسألُ أن يجعل هذا العمل القليل: مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم، وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، نبيناً، وإمامنا، وقدوتنا، محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
ليلة السبت الموافق 5/ 7/1422هـ
এটি কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)-র দলিলসমূহ (أدلة)-র সাথে সংশ্লিষ্ট।
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর উপস্থাপিত সিদ্ধান্তসমূহ ও অগ্রাধিকারসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ জান্নাতুন নাঈমে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই নগণ্য আমলটিকে বরকতময়, উপকারী এবং কেবলমাত্র তাঁর সম্মানিত সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মহানতম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের আদর্শ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।
লেখক
শনিবার রাত, ৫/৭/১৪২২ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولاً: مفهوم العيدين: العيدُ: كل يوم فيه جمع، والعيد: ما عاد عليك، ويقال: عيَّدوا: شهدوا العيد. واشتقاقه من عاد يعود، كأنهم عادوا إليه، وقيل اشتقاقه من العادة؛ لأنهم اعتادوه، والجمع: أعياد، ويقال: عيَّد المسلمون: شهدوا عيدهم، قال الأزهري: ((العيد عند العرب: الوقت الذي يعود فيه الفرح والحزن)). وقال ابن الأعرابي: ((سمي العيد عيداً؛ لأنه يعود كل سنة بفرح مجدَّد)) (1). قال الإمام النووي رحمه الله: ((قالوا: وسمي عيداً، لعوده، وتكرره، وقيل: لعود السرور فيه، وقيل: تفاؤلاً بعوده على من أدركه، كما سميت القافلة حين خروجها تفاؤلاً لقفولها سالمة، وهو رجوعها وحقيقتها الراجعة)) (2). وقيل: سمي عيداً؛ لكثرة عوائد الله تعالى على عباده في ذلك اليوم؛ لأن له عوائد الإحسان على عباده في ذلك اليوم كل عام (3).
--------------------------------------------
প্রথমত: দুই ঈদের ধারণা: ঈদ: এমন প্রতিটি দিন যাতে জনসমাবেশ ঘটে। ঈদ: যা আপনার নিকট বারবার ফিরে আসে। বলা হয়: তারা ঈদ উদযাপন করেছে, অর্থাৎ তারা ঈদে উপস্থিত হয়েছে। এর বুৎপত্তি 'আদা ইয়াউদু' থেকে, যেন তারা এর দিকে বারবার ফিরে আসে। আবার বলা হয় এর বুৎপত্তি 'আদাহ' (অভ্যাস) থেকে; কারণ তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। এর বহুবচন হলো: আয়াদ। বলা হয়: মুসলিমগণ ঈদ উদযাপন করেছেন, অর্থাৎ তারা তাদের ঈদে উপস্থিত হয়েছেন। আল-আজহারি বলেন: "আরবদের নিকট ঈদ হলো সেই সময়, যাতে আনন্দ ও দুঃখের পুনরাবৃত্তি ঘটে।" ইবনুল আরাবি বলেন: "ঈদকে ঈদ বলা হয় কারণ এটি প্রতি বছর নতুন আনন্দ নিয়ে ফিরে আসে" (১)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বিদ্বানগণ বলেন: এর পুনরাগমন ও পুনরাবৃত্তির কারণে একে ঈদ নামকরণ করা হয়েছে। বলা হয়: এতে আনন্দ ফিরে আসার কারণে। আবার এ-ও বলা হয় যে, যে ব্যক্তি এটি লাভ করেছে তার কাছে এর পুনরায় ফিরে আসার শুভকামনা স্বরূপ এই নামকরণ করা হয়েছে; যেমন কাফেলা যখন যাত্রা শুরু করে তখন তাদের নিরাপদে ফিরে আসার শুভাশা (তাকাউল) ব্যক্ত করে তাদের 'কাফিলাহ' নামকরণ করা হয়, যার প্রকৃত অর্থ হলো ফিরে আসা" (২)। আরও বলা হয়: একে ঈদ বলা হয়েছে কারণ সেই দিনে বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর অফুরন্ত দান ও অনুগ্রহের পুনরাবৃত্তি ঘটে; কেননা প্রতি বছর সেই দিনে তাঁর বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর ইহসানের দান রয়েছে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৬)
واصطلاحاً: العيد: جمع أعياد: يوم الاحتفال بذكرى سارَّة، أو إعادة الاحتفال بذكرى سارة وأحد العيدين: يوم الفطر، والآخر يوم الأضحى (1)، والمسلمون لهم ثلاثة أعياد لا رابع لها: عيد الفطر، وعيد الأضحى، ويوم الجمعة (2).
ثانياً: الأصل في صلاة العيدين: الكتاب، والسنة، والإجماع:
1 - أما الكتاب فقول الله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (3). والمشهور في التفسير أن المراد بذلك صلاة العيد (4).
2 - وأما السنة، فثبت بالتواتر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يُصلِّي صلاة العيدين (5)، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((شهدت العيد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأبي بكر، وعمر،
--------------------------------------------
পরিভাষায়: ঈদ (عيد): বহুবচন আ'ইয়াদ (أعياد); এটি আনন্দদায়ক কোনো স্মৃতি উদযাপনের দিন, অথবা কোনো সুখদ স্মৃতি উদযাপনের পুনরাবৃত্তি। দুই ঈদের একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আযহা (১)। মুসলমানদের জন্য তিনটি ঈদ রয়েছে যার চতুর্থ কোনোটি নেই: ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং জুমার দিন (২)।
দ্বিতীয়ত: দুই ঈদের নামাজের মূল ভিত্তি: কিতাব, সুন্নাহ এবং ঐকমত্য (إجماع):
১ - কিতাবের দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন} (৩)। তাফসিরের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মত হলো যে, এখানে ঈদের নামাজই উদ্দেশ্য (৪)।
২ - আর সুন্নাহর দলিল হলো, মুতাওয়াতির (تواتر) সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই ঈদের নামাজ আদায় করতেন (৫)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমরের সাথে ঈদে উপস্থিত হয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وعثمان رضي الله عنهم، فكلهم كانوا يصلون قبل الخطبة)) (1). وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأبو بكر، وعمر رضي الله عنهما يصلون العيدين قبل الخطبة)) (2).
3 - وأما الإجماع، فأجمع المسلمون على صلاة العيدين (3).
ثالثاً: حكم صلاة العيدين: قيل: صلاة العيد فرض كفاية، والصواب أن صلاة العيد فرض عين (4)؛ لقول
--------------------------------------------
এবং উসমান (রা.), তাঁরা সকলেই খুতবার আগে সালাত আদায় করতেন (১)। আর ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.), আবু বকর এবং উমর (রা.) দুই ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করতেন" (২)।
৩ - আর ইজমা (الإجماع) প্রসঙ্গে, মুসলিম উম্মাহ দুই ঈদের সালাতের ব্যাপারে ঐকমত্য বা ইজমা (الإجماع) পোষণ করেছেন (৩)।
তৃতীয়ত: দুই ঈদের সালাতের বিধান: বলা হয়েছে: ঈদের সালাত হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), তবে সঠিক মত হলো ঈদের সালাত ফরজে আইন (فرض عين) (৪); কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَر ْ} (1)؛ ولحديث أم عطية قالت: أمرنا - تعني النبي صلى الله عليه وسلم أن نُخرج في العيدين: العواتق (2)، وذوات الخدور (3)، وأمر الحيَّض أن يعتزلن مصلى المسلمين (4)، ومما يؤكد فرضيتها، وأنها واجبة على الأعيان: أن النبي صلى الله عليه وسلم واظب عليها، وقد اشتهر في السِّير أن أول صلاة صلاها رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم عيد الفطر في السنة الثانية للهجرة، ولم يزل يواظب عليها حتى فارق الدنيا، صلوات الله وسلامه عليه، وواظب عليها الخلفاء بعد النبي صلى الله عليه وسلم، وهي من أعلام الدين وشعائره الظاهرة،
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} (১); এবং উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা দুই ঈদে যুবতী (العواتق) (২) এবং পর্দানশীন কুমারীদের (ذوات الخدور) (৩) নিয়ে বের হই; আর ঋতুবর্তী নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন মুসলমানদের সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকে (৪)। এর ফরযিয়্যাত বা আবশ্যকতা এবং এটি যে প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে অপরিহার্য (واجبة على الأعيان) তার অন্যতম প্রমাণ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি নিয়মিত আদায় করেছেন। সীরাত গ্রন্থসমূহে এটি প্রসিদ্ধ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে ঈদুল ফিতরের দিন প্রথম ঈদের সালাত আদায় করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এটি নিয়মিত পালন করেছেন, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর খলিফাগণও এটি নিয়মিত পালন করেছেন। এটি দ্বীনের অন্যতম নিদর্শন এবং এর প্রকাশ্য প্রতীকসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا كله يؤيد الوجوب (1).
قال العلامة السعدي رحمه الله: ((والصحيح أن صلاة العيد فرض عين، والدليل الذي استدلوا به على فرض الكفاية هو دليل على أنها فرض عين؛ ولأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يُحرِّض عليها حتى يأمر بإخراج العواتق وذوات الخدور، وأمر الحيَّض أن يعتزلن المصلى، ولولا رجحان مصلحتها على كثير من الواجبات لم يحضَّ أمته هذا الحضّ عليها، فدل على أنها من آكد فروض الأعيان)) (2).
وقال شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله: ((صلاة العيد فرض كفاية عند كثير من أهل العلم ويجوز التخلف من بعض الأفراد عنها، لكن حضوره لها ومشاركته لإخوانه المسلمين سنة مؤكدة لا ينبغي تركها إلا لعذر شرعي. وذهب بعض أهل العلم إلى أن صلاة العيد فرض عين: كصلاة الجمعة، فلا يجوز
--------------------------------------------
এবং এই সবকিছুই আবশ্যকতাকে (الوجوب) সমর্থন করে (১)।
আল্লামা আস-সাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, ঈদের সালাত ফরজে আইন (فرض عين); আর তারা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হওয়ার পক্ষে যে দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, তা মূলত এটি ফরজে আইন (فرض عين) হওয়ারই প্রমাণ। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন, এমনকি তিনি যুবতী এবং পর্দানশীন নারীদের বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং ঋতুবর্তী নারীদের সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিতেন। যদি অনেক ওয়াজিব (الواجبات) বিষয়ের তুলনায় এর কল্যাণ ও গুরুত্ব অধিক না হতো, তবে তিনি স্বীয় উম্মতকে এর প্রতি এমন জোরালো তাগিদ দিতেন না। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরজে আইনগুলোর (فروض الأعيان) অন্তর্ভুক্ত)) (২)।
আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((অনেক আলেমের নিকট ঈদের সালাত হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) এবং কিছু ব্যক্তির পক্ষে এতে অনুপস্থিত থাকা বৈধ, তবে এতে উপস্থিত হওয়া এবং মুসলিম ভাইদের সাথে অংশগ্রহণ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), যা শরয়ী ওজর ব্যতীত বর্জন করা অনুচিত। আবার কিছু আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, ঈদের সালাত জুমার সালাতের ন্যায় ফরজে আইন (فرض عين); সুতরাং তা বর্জন করা জায়েজ নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১০)
لأي مكلف من الرجال الأحرار المستوطنين أن يتخلف عنها، وهذا القول أظهر في الأدلة وأقرب إلى الصواب، ويسن للنساء حضورها مع العناية بالحجاب والستر، وعدم التطيُّب)) (1)، وقال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله في القول: إن صلاة العيد فرض عين: ((وهذا عندي أقرب الأقوال)) (2)، واختار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى القول بأن صلاة العيد فرض عين (3)، وقال رحمه الله: ((
… ولهذا رجحنا أن صلاة العيد واجبة على الأعيان كقول أبي حنيفة وغيره، وهو أحد أقوال الشافعي وأحد القولين في مذهب أحمد)) (4)، واختاره تلميذه الإمام ابن القيم رحمه الله (5).
رابعاً: آداب صلاة العيد على النحو الآتي:--------------------------------------------
কোনো মুকাল্লাফ (শরয়ী বিধান পালনে বাধ্য), স্বাধীন ও স্থায়ীভাবে বসবাসকারী পুরুষের জন্য তা থেকে অনুপস্থিত থাকা বৈধ নয়। এই অভিমতটিই দলীল-প্রমাণের দিক থেকে অধিক সুস্পষ্ট এবং সঠিকতার অধিক নিকটবর্তী। আর মহিলাদের জন্য পর্দার প্রতি বিশেষ যত্নবান হয়ে এবং সুগন্ধি ব্যবহার না করে এতে উপস্থিত হওয়া সুন্নাত (يسن) (১)। আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) ঈদের নামাজ ফরজে আইন (فرض عين) হওয়ার বিষয়ে বলেছেন: ((এটি আমার নিকট সবচেয়ে শক্তিশালী অভিমত)) (২)। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তা'আলা) ঈদের নামাজ ফরজে আইন (فرض عين) হওয়ার মতটি গ্রহণ করেছেন (৩)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((
… এজন্যই আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি যে, ঈদের নামাজ প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব (واجبة على الأعيان), যেমনটি ইমাম আবু হানিফা ও অন্যান্যদের অভিমত। এটি ইমাম শাফেয়ীর অন্যতম একটি মত এবং ইমাম আহমদের মাযহাবের দুটি মতের একটি)) (৪)। তাঁর ছাত্র ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এটিই পছন্দ করেছেন (৫)।
চতুর্থত: ঈদের নামাজের শিষ্টাচারসমূহ নিম্নরূপ:--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - الغسل يوم العيد، ثبت من فعل الصحابة رضي الله عنهم، فعن نافع أن عبد الله بن عمر كان يغتسل يوم الفطر قبل أن يغدو إلى المصلى (1).
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((لم يرد في ذلك حديث صحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم))، وقال العلامة محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله: ((وأحسن ما يستدل به على استحباب الاغتسال للعيدين، ما روى البيهقي من طريق الشافعي عن زاذان، قال: سأل رجل عليَّاً عن الغسل؟ قال: ((اغتسل كل يوم إن شئت)) فقال: لا، الغسل الذي هو الغسل؟ قال: ((يوم الجمعة، ويوم عرفة (2)، ويوم النحر، ويوم الفطر)) (3). وعن سعيد بن المسيب أنه قال: ((سنة الفطر ثلاث: المشي
--------------------------------------------
১ - ঈদের দিনে গোসল করা, এটি সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত। নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন (১)।
এবং আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: ((এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়নি))। আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহ.) বলেছেন: ((দুই ঈদের গোসল মুস্তাহাব হওয়ার স্বপক্ষে সবচেয়ে উত্তম দলিল হলো ইমাম বায়হাকী ইমাম শাফেঈর সূত্রে যাদান থেকে যা বর্ণনা করেছেন। তিনি (যাদান) বলেন: এক ব্যক্তি আলী (রা.)-কে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন? তিনি বললেন: ((তুমি চাইলে প্রতিদিন গোসল করতে পার))। তখন লোকটি বলল: না, আমি সেই গোসলের কথা বলছি যা বিশেষ (শরয়ি) গোসল? তিনি বললেন: ((জুমার দিন, আরাফার দিন (২), কোরবানির দিন এবং ঈদুল ফিতরের দিন)) (৩)। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ((ঈদুল ফিতরের সুন্নত হলো তিনটি: পায়ে হেঁটে যাওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১২)
إلى المصلى، والأكل قبل الخروج، والاغتسال)) (1).
قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((يستحب أن يتطهر بالغسل للعيد، وكان ابن عمر يغتسل يوم الفطر، وروي ذلك عن علي رضي الله عنه، وبه قال: علقمة، وعروة، وعطاء، والنخعي، والشعبي، وقتادة، وأبو الزناد، ومالك، والشافعي، وابن المنذر
… )) (2)، وقال ابن قدامة أيضاً: ((وروي أيضاً أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في جمعة من الجمع: ((إن هذا يوم عيد جعله الله للمسلمين، فمن جاء إلى الجمعة فليغتسل، وإن كان طيبٌ فليمسَّ منه، وعليكم بالسواك)) (3)، فلعل هذه الأشياء بكون الجمعة عيداً؛ ولأنه يوم يجتمع الناس فيه للصلاة فاستحب الغسل فيه كيوم الجمعة، وإن اقتصر على الوضوء أجزأه؛ لأنه إذا لم
--------------------------------------------
ঈদগাহের অভিমুখে যাত্রা, বের হওয়ার আগে খাবার গ্রহণ এবং গোসল করা)) (১)।
ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ঈদের জন্য গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা মুস্তাহাব। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ঈদুল ফিতরের দিন গোসল করতেন। আর এটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আলকামা, উরওয়াহ, আতা, আন-নাখায়ী, আশ-শা’বী, কাতাদাহ, আবুয যিনাদ, মালিক, শাফেয়ী এবং ইবনুল মুনযিরও এই মত পোষণ করেছেন... )) (২)। ইবনে কুদামা আরও বলেন: ((বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনগুলোর কোনো এক জুমায় বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই এটি ঈদের দিন যা আল্লাহ মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জুমায় আসবে সে যেন গোসল করে, আর যদি সুগন্ধি থাকে তবে সে যেন তা ব্যবহার করে, আর তোমরা মিসওয়াক করো”)) (৩)। সম্ভবত এই বিষয়গুলো জুমার দিন ঈদ হওয়ার কারণে; এবং যেহেতু এটি এমন একটি দিন যেখানে মানুষ সালাতের জন্য সমবেত হয়, তাই জুমার দিনের মতো এই দিনেও গোসল করা মুস্তাহাব। তবে যদি কেউ কেবল ওযুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা যথেষ্ট হবে; কারণ যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يجب الغسل للجمعة مع الأمر به فيها فغيرها أولى)) (1).
2 - يستحب أن يتنظف، ويتطيب، ويتسوك، كما ذكر في الجمعة؛ لحديث ابن عباس المذكور آنفاً، وفيه: ((وإن كان طيب فليمسَّ منه وعليكم بالسواك)) (2).
3 - يلبس أحسن ما يجد؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: أخذ عمر جبة (3) من إستبرق (4) تباع في السوق، فأخذها فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله ابتع هذه فتجمَّل بها للعيد والوفود، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنما هذه لباس من لا خَلاقَ (5) له)) (6)، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((وهذا يدل على أن التجمُّل عندهم في
--------------------------------------------
জুমার জন্য গোসল করা যখন আবশ্যক (واجب) হিসেবে আদিষ্ট, তখন অন্যটির (ঈদের) ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য)) (১)।
২ - পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মেসওয়াক করা মুস্তাহাব (مستحب), যেমনটি জুমার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে; ইবনে আব্বাস থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসটির কারণে, যাতে রয়েছে: ((আর যদি সুগন্ধি থাকে তবে সে যেন তা ব্যবহার করে এবং তোমরা মেসওয়াক করবে)) (২)।
৩ - প্রাপ্ত পোশাকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তমটি পরিধান করা; ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: উমর (রা.) ইস্তাবরাক (৪) (মোটা রেশম) দিয়ে তৈরি একটি জুব্বা (৩) নিলেন যা বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। অতঃপর তিনি সেটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি ক্রয় করুন এবং এর মাধ্যমে ঈদ ও প্রতিনিধিদলের (সাক্ষাতের) জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত হোন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: ((এটি তো কেবল তারই পোশাক যার (পরকালে) কোনো অংশ (خلاق) নেই)) (৬), ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন: ((এটি প্রমাণ করে যে, তাদের নিকট সৌন্দর্য অবলম্বন করার বিষয়টি ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذه المواضع كان مشهوراً
… وقال مالك: سمعت أهل العلم يستحبون الطيب والزينة في كل عيد، والإمام بذلك أحق؛ لأنه المنظور إليه من بينهم)) (1). وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((روى ابن أبي الدنيا والبيهقي بإسناد صحيح إلى ابن عمر أنه كان يلبس أحسن ثيابه في العيدين)) (2)، وقال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((وكان يلبس للخروج إليهما أجمل ثيابه، فكان له حلة يلبسها للعيدين والجمعة، ومرة كان يلبس بُردين أخضرين (3)، ومرة بُرداً أحمر، وليس هو أحمر مُصمتاً (4) كما يظنه بعض الناس، فإنه لو كان كذلك لم يكن برداً، وإنما فيه خطوط حمر كالبرود اليمنية فسمي أحمر باعتبار ما فيه من ذلك
… )) (5).
4 - يستحب أن يأكل قبل خروجه إلى المصلى في عيد
--------------------------------------------
এই স্থানগুলোতে এটি প্রসিদ্ধ ছিল
… এবং ইমাম মালিক বলেছেন: আমি জ্ঞানীদের বলতে শুনেছি যে তারা প্রতিটি ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার এবং সাজসজ্জা করা মুস্তাহাব (مستحب) মনে করতেন এবং ইমাম এই কাজের জন্য অধিক হকদার; কারণ তাদের মধ্যে তিনিই সবার দৃষ্টির কেন্দ্রে থাকেন)) (১)। এবং হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকি একটি সহিহ (صحيح) সনদের (إسناد) মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দুই ঈদে নিজের সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন)) (২), এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((তিনি ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য তাঁর সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। তাঁর একটি বিশেষ পোশাক (حلة) ছিল যা তিনি দুই ঈদ ও জুমুআর দিনে পরিধান করতেন। কোনো কোনো সময় তিনি দুটি সবুজ রঙের ডোরাকাটা চাদর (بُرد) পরিধান করতেন (৩), এবং কোনো সময় একটি লাল রঙের ডোরাকাটা চাদর (بُرد) পরিধান করতেন। তবে সেটি নিরেট লাল (مصمت) ছিল না (৪) যেমনটি কিছু মানুষ ধারণা করে থাকে; কারণ সেটি যদি নিরেট লাল হতো তবে তাকে ‘বুরদ’ বলা হতো না। বরং তাতে ইয়েমেনি বুরদের মতো লাল রেখা ছিল, তাই সেই বৈশিষ্ট্যের কারণেই তাকে লাল বলা হয়েছে
… )) (৫)।
৪ - ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহে (مصلى) বের হওয়ার পূর্বে কিছু আহার করা মুস্তাহাব (مستحب) --------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفطر تمرات، والأفضل أن تكون وتراً،
أما عيد الأضحى فالأفضل أن لا يأكل حتى يرجع من المصلى، فيأكل من أضحيته (1)، فعن أنس رضي الله عنه قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يغدو يوم الفطر حتى يأكل تمرات، ويأكلهن وتراً)) (2).
وعن بريدة رضي الله عنه قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يخرج يوم الفطر حتى يطعم، ولا يطعم يوم الأضحى حتى يصلي)) (3)، وقد قيل: الحكمة في الأكل قبل صلاة الفطر: أن لا يظن ظان لزوم الصوم حتى يصلي العيد، فكأنه أراد سد هذه الذريعة، وقيل: لما وقع وجوب الفطر عقب وجوب الصوم استحب تعجيل الفطر مبادرة إلى امتثال أمر الله تعالى، ويشعر بذلك اقتصاره على القليل من ذلك، ولو كان لغير الامتثال لأكل قدر الشبع، وقيل: لأن الشيطان
--------------------------------------------
ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর আহার করা এবং তা বেজোড় (وتراً) সংখ্যায় হওয়া উত্তম।
পক্ষান্তরে ঈদুল আযহার ক্ষেত্রে উত্তম হলো ঈদগাহ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত কিছু না খাওয়া, অতঃপর স্বীয় কুরবানীর গোশত থেকে আহার করা (১)। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর আহার না করে বের হতেন না এবং তিনি সেগুলো বেজোড় (وتراً) সংখ্যায় খেতেন" (২)।
বুরাইদাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু আহার না করে বের হতেন না এবং ঈদুল আযহার দিন সালাত আদায় না করা পর্যন্ত আহার করতেন না" (৩)। বলা হয়ে থাকে যে: ঈদুল ফিতরের সালাতের পূর্বে আহার করার পেছনের রহস্য হলো—যেন কেউ এমন ধারণা না করে যে ঈদের সালাত আদায় পর্যন্ত রোজা রাখা আবশ্যক; ফলে তিনি যেন এই অছিলা বন্ধ (سد هذه الذريعة) করতে চেয়েছিলেন। আরও বলা হয়েছে: সিয়াম পালনের আবশ্যকতা শেষ হওয়ার পরপরই যেহেতু রোজা ভঙ্গের আবশ্যকতা আসে, তাই মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে ত্বরান্বিত হওয়ার উদ্দেশ্যে আগেভাগেই আহার করা মুস্তাহাব (مستحب) করা হয়েছে। অল্প পরিমাণ আহার করার বিষয়টিও এটিই নির্দেশ করে, কারণ যদি তা আনুগত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে না হয়ে অন্য কোনো কারণে হতো তবে পেট ভরে আহার করা হতো। আরও বলা হয়েছে: কারণ শয়তান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الذي يُحبس في رمضان لا يطلق إلا بعد صلاة العيد، فاستحب تعجيل الفطر بِداراً إلى السلامة من وسوسته، وقيل: وقع أكله صلى الله عليه وسلم في كل من العيدين في الوقت المشروع لإخراج صدقتهما الخاصة بهما، فإخراج صدقة الفطر قبل الغدوِّ إلى المصلى، وإخراج صدقة الأضحية بعد ذبحها، فاجتمعا من جهة وافترقا من جهة أخرى (1)، وذكر ابن قدامة رحمه الله أن الحكمة من الإفطار يوم الفطر؛ لأن يوم الفطر حرم فيه الصيام عقب وجوبه فاستحب تعجيل الفطر؛ لإظهار المبادرة إلى طاعة الله تعالى، وامتثال أمره في الفطر على خلاف العادة، والأضحى بخلافه؛ ولأن في الأضحى شرع الأضحية، والأكل منها، فاستحب أن يكون فطره على شيء منها (2).
5 - يخرج إلى العيد ماشياً وعليه السكينة والوقار، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وممن استحب المشي: عمر بن
--------------------------------------------
রমজান মাসে যাকে বন্দি রাখা হয়, তাকে ঈদের নামাজের পর ব্যতীত মুক্তি দেওয়া হয় না। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকার লক্ষ্যে দ্রুত আহার গ্রহণের মাধ্যমে ইফতার করার বিষয়টি মুস্তাহাব সাব্যস্ত করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় ঈদের দিনই সংশ্লিষ্ট সদকা আদায়ের জন্য শরিয়ত নির্ধারিত সময়ে খাবার গ্রহণ করতেন। ঈদুল ফিতরের সদকা (সদকাতুল ফিতর) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা হয়, আর ঈদুল আজহার সদকা (কোরবানি) আদায় করা হয় পশু জবেহ করার পর। ফলে বিষয় দুটি এক দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও অন্য দিক থেকে ভিন্নতর (১)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, ঈদুল ফিতরের দিন আহার গ্রহণের হিকমত হলো—যেহেতু সিয়াম পালনের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার পরপরই ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা হারাম করা হয়েছে, সেহেতু অভ্যাসের বিপরীতে আল্লাহর আনুগত্যে দ্রুত সাড়া প্রদান এবং তাঁর নির্দেশ পালনের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য দ্রুত আহার গ্রহণ করা মুস্তাহাব। তবে ঈদুল আজহার বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ ঈদুল আজহায় কোরবানি করা এবং তা থেকে আহার করা বিধিবদ্ধ। তাই কোরবানির পশুর কিছু অংশ দিয়ে আহারের সূচনা করা মুস্তাহাব (২)।
৫ - প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে হেঁটে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া, ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((যাঁরা হেঁটে যাওয়াকে মুস্তাহাব বলেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উমর বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عبد العزيز، والنخعي، والثوري، والشافعي وغيرهم)) (1)، وقد جاء في ذلك أخبار: فعن سعد أن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يخرج إلى العيد ماشياً ويرجع ماشياً)) (2)، وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج إلى العيد ماشياً ويرجع ماشياً)) (3).
وعن علي رضي الله عنه قال: ((من السنة أن تخرج إلى العيد ماشياً
… )) (4)، قال الإمام الترمذي رحمه الله: ((والعمل على هذا الحديث عند أكثر أهل العلم: يستحبون أن يخرج الرجل إلى العيد ماشياً، وأن يأكل شيئاً قبل أن يخرج لصلاة الفطر،
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ, নাখঈ, সাওরি, শাফিঈ এবং অন্যান্যরা)) (১), এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু বর্ণনা এসেছে: সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ((ঈদের নামাজে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরে আসতেন)) (২)। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরে আসতেন)) (৩)।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((সুন্নাত হলো তুমি ঈদের নামাজে পায়ে হেঁটে যাবে
… )) (৪), ইমাম তিরমিযী (রহ.) বলেন: ((অধিকাংশ আলেম এই হাদিসের ওপর আমল করেন: তারা মুস্তাহাব (مستحب) মনে করেন যে ব্যক্তি ঈদের নামাজে পায়ে হেঁটে যাবে এবং ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে কিছু আহার করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ويستحب أن لا يركب إلا من عذر)) (1)، وعن أبي رافع رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأتي العيد ماشياً)) (2)، وعن سعيد بن المسيب أنه قال: ((سنة الفطر ثلاث: المشي إلى الصلاة، والأكل قبل الخروج، والاغتسال)) (3).
6 - السنة أن تُصلَّى صلاة العيدين في المصلى، ولا يُصلى في المسجد إلا لحاجة؛ لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى فأول شيء يبدأ به الصلاة)) (4)، والمصلى بالمدينة قال عنه الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((هو موضع بالمدينة معروف بينه وبين باب المسجد ألف ذراع، قاله عمر بن شبة في
--------------------------------------------
এবং কোনো ওজর ব্যতীত সওয়ার না হওয়া মুস্তাহাব (১), আবু রাফে (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) পায়ে হেঁটে ঈদের নামাজে আসতেন (২), এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) হতে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "ঈদুল ফিতরের সুন্নত তিনটি: নামাজের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া, বের হওয়ার পূর্বে আহার করা এবং গোসল করা" (৩)।
৬ - সুন্নত হলো ঈদগাহে দুই ঈদের নামাজ আদায় করা, এবং কোনো প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদে নামাজ আদায় না করা; আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "নবী (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহের দিকে বের হতেন, আর তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি শুরু করতেন তা হলো নামাজ" (৪)। মদিনার ঈদগাহ সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "এটি মদিনার একটি পরিচিত স্থান, যার এবং মসজিদের দরজার মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো এক হাজার হাত; ওমর ইবনে শাব্বাহ এটি বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أخبار المدينة، عن أبي غسان الكناني صاحب مالك)) (1).
وقال الإمام النووي رحمه الله عن حديث أبي سعيد رضي الله عنه: ((هذا دليل لمن قال باستحباب الخروج لصلاة العيد إلى المصلى وأنه أفضل من فعلها في المسجد، وعلى هذا عمل الناس في معظم الأمصار، وأما أهل مكة فلا يصلونها إلا في المسجد من الزمن الأول)) (2). قال العلامة ابن الحاج المالكي: ((والسنة الماضية في صلاة العيدين أن تكون في المصلى؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((صلاة في مسجدي هذا خير من ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام)) (3)، ثم هو مع هذه الفضيلة العظيمة خرج صلى الله عليه وسلم وتركه (4)، وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((السنة أن يُصلَّى العيد في المصلى،
--------------------------------------------
'আখবারুল মদিনা', মালিকের সাথী আবু গাসসান আল-কিনানি থেকে বর্ণিত (১)।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে বলেন: ((এটি তাদের জন্য দলিল যারা ঈদের সালাতের জন্য ঈদগাহে (مصلى) বের হওয়াকে পছন্দনীয় (استحباب) মনে করেন এবং একে মসজিদে আদায় করার চেয়ে উত্তম (أفضل) মনে করেন। অধিকাংশ জনপদে (أمصار) মানুষের আমল এমনই ছিল। তবে মক্কাবাসীগণ আদি কাল থেকে কেবল মসজিদেই সালাত আদায় করেন)) (২)। আল্লামা ইবনুল হাজ আল-মালিকি বলেন: ((দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (سنة) হলো তা ঈদগাহে (مصلى) হওয়া; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমার এই মসজিদে এক সালাত অন্য সব স্থানে হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম, কেবল মসজিদুল হারাম ব্যতীত)) (৩)। অতঃপর তিনি এত বিশাল মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও (মসজিদ থেকে) বের হতেন এবং তা পরিহার করতেন (৪)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((সুন্নাহ (سنة) হলো ঈদের সালাত ঈদগাহে (مصلى) আদায় করা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২০)
أمر بذلك علي رضي الله عنه، واستحسنه الأوزاعي، وأصحاب الرأي، وهو قول ابن المنذر)) (1)، وقال رحمه الله بعد أن ذكر بعض الأقوال المخالفة: ((ولنا أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخرج إلى المصلى ويدع مسجده، وكذلك الخلفاء بعده ولا يترك النبي صلى الله عليه وسلم الأفضل مع قربه، ويتكلف الناقص مع بعده، ولا يشرع لأمته ترك الفضائل؛ ولأننا قد أُمرنا باتباع النبي صلى الله عليه وسلم، والاقتداء به، ولا يجوز أن يكون المأمور به هو الناقص والمنهي عنه هو الكامل، ولم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه صلّى العيد بمسجده إلا من عذر؛ ولأن هذا إجماع المسلمين)) (2).
وإن حصل عذر يمنع الخروج إلى المصلى: من مطر، أو خوف، أو ضعف، أو مرض، أو غير ذلك صلى في المسجد ولا حرج عليه إن شاء الله تعالى (3).وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((فإذا أصاب الأرض دحض صلوا في المسجد، أما مكة فيصلى العيد في المسجد
--------------------------------------------
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইমাম আওযায়ী ও আহলুর রায়গণ একে উত্তম বলেছেন, আর এটিই ইবনে মুনযিরের অভিমত (১)। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) কিছু ভিন্নমত উল্লেখ করার পর বলেন: "আমাদের দলীল হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদগাহের দিকে বের হতেন এবং তাঁর মসজিদ ত্যাগ করতেন, অনুরূপভাবে তাঁর পরবর্তী খলিফাগণও তাই করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও উত্তম (الأفضل) বিষয়টি পরিহার করতেন না এবং দূরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও অনুত্তম (الناقص) বিষয়টি কষ্ট করে গ্রহণ করতেন না। আর তিনি তাঁর উম্মতের জন্য ফযিলতসমূহ (الفضائل) বর্জন করার বিধান দেবেন না। কেননা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ ও অনুকরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় যা আদিষ্ট হয়েছে তা অনুত্তম (الناقص) এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা পরিপূর্ণ (الكامل) হওয়া বৈধ নয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে, ওজর (عذر) ব্যতীত তিনি তাঁর মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করেছেন; কেননা এটি মুসলমানদের ঐকমত্য (إجماع)" (২)।
আর যদি ঈদগাহে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ওজর (عذر) দেখা দেয় যা তাকে বাধা প্রদান করে—যেমন: বৃষ্টি, ভয়-ভীতি, দুর্বলতা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কিছু—তবে তিনি মসজিদে সালাত আদায় করবেন এবং ইনশাআল্লাহ এতে কোনো সমস্যা নেই (৩)। আমি আমাদের শাইখ ইমাম ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: "যখন ভূমি পিচ্ছিল হয়ে যায় তখন তারা মসজিদে সালাত আদায় করবেন। তবে মক্কার ক্ষেত্রে মসজিদে (হারামে) ঈদের সালাত আদায় করা হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২১)
مطلقاً، ومن صلى في المسجد صلى تحية المسجد)) (1).
7 - السنة أن يذهب إلى المصلى من طريق ويرجع من طريق آخر؛ لحديث جابر رضي الله عنه قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا كان يوم عيد خالف الطريق)) (2).
وأعظم الحكم التي يعتمدها المسلم: متابعة النبي صلى الله عليه وسلم، وهذه الحكمة أعلى حكمة يقنع بها المؤمن: أن يقال: هذا أمر الله ورسوله، ودليل ذلك قول الله تعالى (3): {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ الله أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو الله وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ الله كَثِيرًا} (4)، وقول الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى الله وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ الله وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالا مُّبِينًا} (5)، وقول عائشة رضي الله عنها وقد سُئلت: لماذا
--------------------------------------------
সাধারণভাবে, এবং যে মসজিদে সালাত আদায় করবে, সে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করবে)) (১)।
৭ - সুন্নাত (السنة) হলো ঈদগাহে এক পথে যাওয়া এবং অন্য পথে ফিরে আসা; জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঈদের দিন হতো, তখন পথ পরিবর্তন করতেন" (২)।
আর একজন মুসলিম যে মহান হিকমতের (حكمة) ওপর নির্ভর করে তা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ (متابعة); আর এটিই সর্বোচ্চ হিকমত (حكمة) যা দ্বারা একজন মুমিন সন্তুষ্ট হয়: যে বলা হবে, এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী (৩): {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ (أسوة) রয়েছে} (৪), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ের ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করে, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো} (৫), এবং আয়েশা (রা.)-এর উক্তি যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২২)
تقضي الحائض الصوم ولا تقضي الصلاة؟ قالت: ((كان يصيبنا ذلك فنؤمر بقضاء الصوم ولا نؤمر بقضاء الصلاة)) (1)، ولم تذكر سوى ذلك من الحكم؛ لأن المؤمن لسانه وحاله: سمعنا وأطعنا (2).
ولا مانع من وجود الحكم الأخرى؛ فإن الله تعالى لا يشرع شيئاً إلا لحكمة: علمناها أو لم نعلمها. ومما قيل في حكمة مخالفة الطريق يوم العيد، ما يأتي:
1 - قيل: يفعل ذلك؛ ليشهد له الطريقان.
2 - وقيل: ليشهد له سكانهما من الجن والإنس.
3 - وقيل: لإظهار شعار الإسلام في الطريقين.
4 - وقيل: لإظهار ذكر الله تعالى.
5 - وقيل: ليغيظ أعداء الإسلام.
6 - وقيل: ليدخل السرور على أهل الطريقين، أو لينتفع به أهل الطريقين في الاستفتاء أو التعلم
--------------------------------------------
ঋতুবতী নারী কি সিয়ামের কাজা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাজা আদায় করবে না? তিনি বললেন: “আমাদের জীবনে এমনটি ঘটত, তখন আমাদের সিয়ামের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো এবং সালাতের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না” (১)। তিনি এর বাইরে অন্য কোনো হিকমত বা প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করেননি; কারণ একজন মুমিনের কথা ও অবস্থা হলো: আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি (২)।
অন্যান্য হিকমত থাকাতে কোনো বাধা নেই; কেননা মহান আল্লাহ কোনো হিকমত ছাড়া কোনো বিধান প্রণয়ন করেন না: তা আমরা জানি বা না জানি। ঈদের দিন পথ পরিবর্তন করার হিকমত সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা নিম্নরূপ:
১ - বলা হয়েছে: এমনটি করা হয় যাতে উভয় রাস্তা তার জন্য সাক্ষ্য প্রদান করে।
২ - আরও বলা হয়েছে: যাতে উভয় রাস্তার বাসিন্দা জিন ও মানুষ তার জন্য সাক্ষ্য দেয়।
৩ - বলা হয়েছে: উভয় পথে ইসলামের নিদর্শন প্রকাশ করার জন্য।
৪ - বলা হয়েছে: মহান আল্লাহর জিকির বা মহিমা প্রকাশ করার জন্য।
৫ - বলা হয়েছে: ইসলামের শত্রুদের রাগান্বিত করার জন্য।
৬ - বলা হয়েছে: উভয় রাস্তার বাসিন্দাদের মনে আনন্দ দেওয়ার জন্য, অথবা যাতে উভয় রাস্তার অধিবাসীরা ফতোয়া জিজ্ঞাসা বা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والاقتداء والاسترشاد، أو الصدقة والسلام عليهم.
7 - وقيل: لزيارة الأقرباء وصلة الأرحام.
8 - وقيل: ليتفاءل بتغيير الحال إلى المغفرة والرضا.
9 - وقيل: لتخفيف الزحام.
10 - وقيل: لأن الملائكة تقف في الطرقات، فأراد أن يشهد له فريقان منهم (1)، قال الإمام ابن القيم رحمه الله بعد أن ذكر كثيراً من هذه الحكم: ((وقيل وهو الأصح: إنه لذلك كله ولغيره من الحكم التي لا يخلو فعله [صلى الله عليه وسلم] عنها (2).
8 - يستحب للمأموم التبكير إلى مصلى العيد بعد صلاة الصبح، أما الإمام فيستحب له أن يتأخر إلى وقت الصلاة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعل ذلك، فعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى، فأول شيء يبدأ به الصلاة
… )) (3)،
--------------------------------------------
অনুসরণ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ, অথবা দান-সদকাহ করা এবং তাঁদের প্রতি সালাম প্রদান করা।
৭ - এবং বলা হয়েছে: আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার জন্য।
৮ - এবং বলা হয়েছে: অবস্থার পরিবর্তন হয়ে ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে ধাবিত হওয়ার শুভলক্ষণ গ্রহণের জন্য।
৯ - এবং বলা হয়েছে: ভিড় কমানোর জন্য।
১০ - এবং বলা হয়েছে: কারণ ফেরেশতাগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন, তাই তিনি চেয়েছিলেন যাতে তাঁদের উভয় দল তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে (১)। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) এ জাতীয় অনেক হিকমত উল্লেখ করার পর বলেন: “এবং বলা হয়েছে—আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح)—যে, এসব কারণে এবং অন্যান্য এমন সব হিকমতের জন্য যা তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কর্মকাণ্ড থেকে বাদ পড়ে না (২)।”
৮ - সুবহে সাদিকের নামাজের পর মুক্তাদির জন্য দ্রুত ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব (يستحب), তবে ইমামের জন্য নামাজের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব (يستحب); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করতেন। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে ঈদগাহের দিকে বের হতেন। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি শুরু করতেন তা হলো নামাজ...” (৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولأن الإمام يُنتظر ولا يَنتظر، ولو جاء إلى المصلى وقعد في مكان مستتر عن الناس فلا بأس. قال الإمام مالك: مضت السنّة أن يخرج الإمام من منزله قدر ما يبلغ مصلاّه، وقد حلّت الصلاة، فأما غيره فيستحب له التبكير، والدنوُّ من الإمام، ليحصل له: أجر التبكير، وانتظار الصلاة، والدنوِّ من الإمام من غير تخطي رقاب الناس، ولا أذى لأحد، قال عطاء بن السائب: كان عبدالرحمن بن أبي ليلى، وعبد الله بن معقل، يصليان الفجر يوم العيد وعليهما ثيابهما ثم يندفعان إلى الجبَّانة أحدهما يُكبّر والآخر يُهلّل)) (1).
قال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله: ((و
الدليل على سنية الخروج بعد صلاة الصبح ما يلي:
أ - عمل الصحابة رضي الله عنهم -؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخرج إلى المصلى إذا طلعت الشمس ويجد الناس قد حضروا، وهذا يستلزم أن يكونوا قد تقدموا.
--------------------------------------------
যেহেতু ইমাম (الإمام) এর জন্য অপেক্ষা করা হয়, তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করেন না। আর যদি তিনি ঈদগাহে এসে মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে কোনো স্থানে বসেন, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। ইমাম মালিক বলেন: সুন্নত (السنة) এভাবে চলে আসছে যে, ইমাম তার বাড়ি থেকে এমন সময়ে বের হবেন যেন তিনি যখন ঈদগাহে পৌঁছাবেন তখনই সালাতের সময় হয়ে যায়। পক্ষান্তরে ইমাম ব্যতীত অন্যদের জন্য অতি ভোরে যাওয়া এবং ইমামের নিকটবর্তী হওয়া মুস্তাহাব (يستحب), যাতে তারা অতি ভোরে আসার সওয়াব, সালাতের জন্য অপেক্ষার সওয়াব এবং মানুষের কাঁধ না টপকিয়ে কিংবা কাউকে কষ্ট না দিয়ে ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার সওয়াব অর্জন করতে পারে। আতা ইবনে সাইব বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মা'কিল ঈদের দিন ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং তাদের পরনে (ঈদের) পোশাক থাকত, অতঃপর তারা ঈদগাহের (الجبَّانة) দিকে অগ্রসর হতেন; তাদের একজন তাকবীর (يُكبّر) পাঠ করতেন এবং অন্যজন তাহলীল (يُهلّل) পাঠ করতেন (১)।
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((সুবহে সাদিকের সালাতের পর বের হওয়া সুন্নত (سنية) হওয়ার দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
ক - সাহাবীগণের (رضي الله عنهم) আমল -; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্য উদিত হওয়ার পর যখন ঈদগাহে বের হতেন, তখন দেখতেন যে মানুষ ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন। আর এটি এটাই প্রমাণ করে যে, তারা নিশ্চয়ই আগেভাগে আগমন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ب - ولأن ذلك أسبق إلى الخير.
ج - ولأنه إذا وصل المسجد وانتظر الصلاة؛ فإنه لا يزال في صلاة.
د - ولأنه إذا تقدم يحصل له الدنوّ من الإمام، كل هذه العلل مقصودة في الشرع)) (1).
9 - يُكبّر في طريقه إلى مُصلّى العيد ويرفع صوته بالتكبير؛ لقول الله تعالى: {وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ الله عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (2)،وقد جاء أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخرج يوم الفطر فيكبّر حتى يأتي المصلى، وحتى يقضي صلاته فإذا قضى الصلاة قطع التكبير)) (3).وقد صحّ عن ابن عمر موقوفاً أنه ((كان يجهر بالتكبير يوم الفطر [ويوم
--------------------------------------------
খ - এবং একারণে যে, এটি কল্যাণের দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত.
গ - এবং একারণে যে, যখন সে মসজিদে পৌঁছায় এবং নামাজের অপেক্ষা করে, তখন সে নামাজেই রত থাকে.
ঘ - এবং একারণে যে, যখন সে সামনে অগ্রসর হয়, তখন ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ পায়, এই সকল কারণ (علل) শরিয়তে কাঙ্ক্ষিত)) (১)।
৯ - ঈদের নামাজের স্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তাকবির পাঠ করবে এবং তাকবিরের সাথে আওয়াজ উচ্চ করবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং তোমাদেরকে যে হিদায়াত দেওয়া হয়েছে তার জন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা (তাকবির) করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (২), এবং বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং তাকবির পাঠ করতেন যতক্ষণ না তিনি ঈদগাহে আসতেন এবং যতক্ষণ না তিনি নামাজ শেষ করতেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করতেন, তাকবির পাঠ বন্ধ করতেন)) (৩)। এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণিত মুকুফ (موقوف) হিসেবে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি ঈদুল ফিতরের দিন উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করতেন [এবং দিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأضحى] إذا غدا إلى المصلى حتى يخرج الإمام فيكبر بتكبيره)) (1)، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ويكبر في طريق العيد ويرفع صوته بالتكبير، وهو معنى قول الخرقي: ((مظهرين للتكبير)) قال أحمد: يكبر جهراً إذا خرج من بيته حتى يأتي المصلى، روي ذلك عن علي، وابن عمر، وأبي أمامة، وأبي رهم [كلثوم بن الحصين الصحابي] وناس من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم،وهو قول عمر بن عبد العزيز، وأبان بن عثمان، وأبي بكر بن محمد، وفعله النخعي، وسعيد بن جبير، وعبد الرحمن بن أبي ليلى، وبه قال الحكم، وحماد، ومالك، وإسحاق، وأبو ثور، وابن المنذر وإذا ثبت هذا فإنه يكبر حتى يأتي المصلى
… وقال القاضي [في رواية عن الإمام أحمد] حتى يخرج الإمام)).وقال ابن أبي موسى:
--------------------------------------------
কোরবানির ঈদ] যখন সে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হবে যতক্ষণ না ইমাম বের হন, এরপর সে ইমামের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলবে (১), ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এবং সে ঈদের পথে তাকবীর বলবে এবং তাকবীরের মাধ্যমে নিজ আওয়াজ উচ্চ করবে, আর এটিই খিরাকির এই উক্তির মর্মার্থ: ((তাকবীর প্রকাশকারী হিসেবে)) আহমদ বলেছেন: যখন সে নিজ ঘর থেকে বের হবে তখন সে উচ্চস্বরে তাকবীর বলবে যতক্ষণ না সে ঈদগাহে পৌঁছায়, এটি আলী, ইবনে উমর, আবু উমামা, আবু রুহম [সাহাবী কুলসুম ইবনুল হুসাইন] এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর এটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, আবান ইবনে উসমান, এবং আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদের অভিমত, আর নাখায়ী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা এটি আমল করতেন, এবং আল-হাকাম, হাম্মাদ, মালিক, ইসহাক, আবু সাওর এবং ইবনুল মুনযিরও এই মত পোষণ করেছেন। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন সে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকবীর বলবে
… এবং কাজী [ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনায়] বলেছেন, যতক্ষণ না ইমাম বের হন))। এবং ইবনে আবি মুসা বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
((يكبر الناس في خروجهم من منازلهم لصلاتي العيدين جهراً، حتى يأتي الإمام المصلى، ويكبر الناس بتكبير الإمام في خطبته، وينصتون فيما سوى ذلك)) (1).
وقال العلامة الألباني عن حديث الزهري وابن عمر: ((وفي الحديث دليل على مشروعية ما جرى عليه عمل المسلمين من التكبير جهراً في الطريق إلى المصلى، وإن كان كثير منهم بدأوا يتساهلون بهذه السنة حتى كادت أن تصبح في خبر كان، وذلك لضعف الوازع الديني منهم، وخجلهم من الصدع بالسنة والجهر بها، ومن المؤسف أن فيهم من يتولى إرشاد الناس وتعليمهم، فكان الإرشاد عندهم محصور بتعليم الناس ما يعلمون، وأما ما هم بأمسّ الحاجة إلى معرفته فذلك مما لا يلتفتون إليه
… ومما يحسن التذكير به بهذه المناسبة أن الجهر بالتكبير هنا لا يشرع فيه الاجتماع بصوت واحد، كما يفعله البعض، وكذلك كل ذكر يشرع فيه رفع الصوت أو لا يشرع، فلا يشرع فيه الاجتماع المذكور
…--------------------------------------------
((মানুষ তাদের ঘর থেকে দুই ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় উচ্চস্বরে (جهراً) তাকবির পাঠ করবে, যতক্ষণ না ইমাম ঈদগাহে উপস্থিত হন। ইমাম তাঁর খুতবার মধ্যে তাকবির পাঠ করলে মানুষও তাকবির বলবে এবং এ ব্যতীত অন্য সময়ে তারা চুপ থাকবে)) (১)।
আল্লামা আলবানী যুহরী ও ইবনে উমরের হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: ((এই হাদিসের মধ্যে মুসলিমদের ঈদগাহের পথে উচ্চস্বরে (جهراً) তাকবির পাঠের যে আমল চলে আসছে, তার বৈধতার (مشروعية) প্রমাণ রয়েছে। যদিও তাদের মধ্যে অনেকে এই সুন্নতের প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন শুরু করেছেন, এমনকি এটি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর এর কারণ হলো তাদের ধর্মীয় প্রেরণার দুর্বলতা এবং সুন্নাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা ও উচ্চস্বরে (جهراً) তা পালনের ক্ষেত্রে তাদের লজ্জা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও আছেন যারা মানুষের পথপ্রদর্শন ও শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেন, অথচ তাদের নিকট নির্দেশনা কেবল মানুষকে তা-ই শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ যা তারা ইতিমধ্যে জানে। আর যে বিষয়গুলো জানার তাদের একান্ত প্রয়োজন, সেগুলোর দিকে তারা ভ্রুক্ষেপ করেন না
… এই প্রেক্ষাপটে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভালো যে, এখানে উচ্চস্বরে (جهراً) তাকবির পাঠের ক্ষেত্রে সমস্বরে বা সম্মিলিতভাবে (الاجتماع) পাঠ করা বিধিবদ্ধ (يشرع) নয়, যেমনটি কেউ কেউ করে থাকেন। অনুরূপভাবে প্রতিটি জিকর (ذكر), যেখানে আওয়াজ উঁচু করা বিধিবদ্ধ (يشرع) কিংবা বিধিবদ্ধ (يشرع) নয়, সেখানেও উক্ত সম্মিলিত পন্থা বিধিবদ্ধ (يشرع) নয়
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فلتكن على حذر من ذلك، ولتذكر دائماً قوله صلى الله عليه وسلم: ((وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم)) (1).
10 - السنة أن لا يُصلَّى قبل صلاة العيد ولا بعدها؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج يوم الفطر فصلى ركعتين لم يصلِّ قبلها ولا بعدها، ومعه بلال)) (2)، قال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((ولم يكن هو [صلى الله عليه وسلم] ولا أصحابه يصلون إذا انتهوا إلى المصلى شيئاً قبل الصلاة ولا بعدها)) (3)، وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى: ((والحاصل أن صلاة العيد لم يثبت لها سنة قبلها ولا بعدها خلافاً لمن قاسها على الجمعة)) (4).
وأما حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم لا
--------------------------------------------
অতএব এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং সর্বদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী স্মরণ করুন: "আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ।" (১)
১০ - সুন্নাহ হলো ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো সালাত আদায় না করা; ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন বের হয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, তিনি এর আগে বা পরে কোনো সালাত আদায় করেননি এবং তাঁর সাথে বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন।" (২), ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কিংবা তাঁর সাহাবীগণ যখন ঈদগাহে পৌঁছাতেন, তখন সালাতের আগে বা পরে কোনো কিছুই আদায় করতেন না।" (৩), এবং হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সারকথা হলো, ঈদের সালাতের জন্য এর আগে বা পরে কোনো সুন্নাহ সাব্যস্ত (ثابت) হয়নি, তাদের মতের বিপরীতে যারা একে জুমুআর সালাতের সাথে তুলনা (قياس) করেছেন।" (৪)।
আর আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يصلي قبل العيد شيئاً فإذا رجع إلى منزله صلى ركعتين)) (1)،فقال عنه العلامة الألباني رحمه الله: ((والتوفيق بين هذا الحديث والأحاديث المتقدمة النافية للصلاة بعد العيد بأن النفي إنما وقع على الصلاة في المصلى، كما أفاد الحافظ في التلخيص)) (2).
ولكن إذا احتاج الناس إلى الصلاة في المسجد؛ لخوف، أو مطر، أو برد شديد، أو ريح شديدة، أو غير ذلك من الأعذار فلا يجلس المسلم حتى يصلي ركعتين، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين)) (3).
11 - السنة: أنه لا أذان ولا إقامة لصلاة العيدين؛ لحديث جابر بن سمرة رضي الله عنه، قال: ((صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم العيدين غير مرة ولا مرتين بغير أذان ولا إقامة)) (4)،
--------------------------------------------
"ঈদের পূর্বে কোনো সালাত আদায় করতেন না, তবে যখন তিনি ঘরে ফিরতেন তখন দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন" (১)। আল্লামা আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এই হাদিস এবং পূর্ববর্তী হাদিসগুলো—যেগুলোতে ঈদের পরে সালাত না পড়ার কথা এসেছে—সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় হলো, সালাত না পড়ার বিষয়টি মূলত ঈদগাহের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমনটি হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আত-তালখিস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন" (২)।
কিন্তু যদি ভীতি, বৃষ্টি, তীব্র শীত, প্রবল বাতাস কিংবা অন্য কোনো ওজরের কারণে মানুষের মসজিদে সালাত আদায়ের প্রয়োজন হয়, তবে একজন মুসলিম দুই রাকাত সালাত আদায় না করে বসবে না। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করে না বসে" (৩)।
১১ - সুন্নাত: দুই ঈদের সালাতের জন্য কোনো আযান ও ইকামত নেই; জাবির ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে দুই ঈদের সালাত একবার বা দুইবার নয়, বরং অনেকবার আযান ও ইকামত ছাড়াই আদায় করেছি" (৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল ঈদাঈন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولحديث ابن عباس وجابر بن عبد الله رضي الله عنهم، قالا: ((لم يكن يؤذن يوم الفطر، ولا يوم الأضحى)) (1)، ولمسلم عن عطاء قال: أخبرني جابر بن عبد الله الأنصاري، أن لا أذان للصلاة يوم الفطر حين يخرج الإمام ولا بعدما يخرج، ولا إقامة، ولا نداء، ولا شيء، لا نداء يومئذٍ ولا إقامة)) (2).
قال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((وكان صلى الله عليه وسلم إذا انتهى إلى المصلى أخذ في الصلاة، من غير أذان، ولا إقامة، ولا قول: الصلاة جامعة، والسنة أن لا يُفعل شيء من ذلك)) (3).
وقال الإمام الصنعاني رحمه الله في تعليقه على أحاديث نفي الأذان والإقامة لصلاة العيد: ((وهو دليل على عدم شرعيتهما في صلاة العيد فإنهما بدعة)) (4).
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী তাঁরা উভয়ে বলেন: ((ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন আজান দেওয়া হতো না)) (১)। আর সহিহ মুসলিমে আতা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ঈদুল ফিতরের দিন যখন ইমাম (সালাতের জন্য) বের হন তখন এবং তাঁর বের হওয়ার পরেও কোনো আজান নেই, কোনো ইকামাত নেই, কোনো আহ্বান নেই এবং অন্য কিছুই নেই। সেদিন কোনো আহ্বান বা ইকামাত কিছুই নেই (২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ঈদগাহে পৌঁছাতেন, তখন আজান, ইকামাত এবং 'আস-সালাতু জামিআহ' বলা ছাড়াই সালাত শুরু করতেন। আর সুন্নাত (سنة) হলো এর কোনোটিই না করা)) (৩)।
ইমাম সানআনী (রহ.) ঈদের সালাতে আজান ও ইকামাত না থাকার হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় বলেন: ((এটি ঈদের সালাতে এই দুটির শারয়ি বিধান না থাকার প্রমাণ, কেননা এ দুটি হলো নব উদ্ভাবন (بدعة))) (৪)।
--------------------------------------------