(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة الخوف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة الخوف - مفهوم، وسماحة، وأنواع، وكيفية، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 42
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
সালাতুল খউফ বিভাগ: ফিকহী মাসয়ালাসমূহ
গ্রন্থ: সালাতুল খউফ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধারণা, উদারতা, প্রকারভেদ, পদ্ধতি, ও বিধিবিধান
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরায়সী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
35
_
صلاة الخوف
مفهوم، وسماحة، وأنواع، وكيفية، وأحكام
في ضوء الكتاب والسنة
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র
৩৫
_
ভয়ের সালাত (صلاة الخوف)
ধারণা (مفهوم), মাহাত্ম্য (سماحة), প্রকারভেদ (أنواع), পদ্ধতি (كيفية) এবং বিধিবিধান (أحكام)
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد.
فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة الخوف)) بيّنت فيها: مفهوم صلاة الخوف، وسماحة الإسلام ويسر الشريعة ومحاسنها مع الكمال ورفع الحرج، وأن الأصل في مشروعية صلاة الخوف: الكتاب، والسنة، وإجماع الصحابة رضي الله عنهم، وأوضحت أنواع صلاة الخوف، وأنها كلها مشروعة يختار المسلمون الصفة التي يحتاجون إليها، وبيّنت أن صلاة الخوف في الحضر تُؤدّى بدون قصرٍ لعددها، وذكرت صلاة الخوف حال المسايفة والتحام
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি ‘সালাতুল খাওফ’ (ভীতিপ্রদকালীন সালাত) বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি সালাতুল খাওফের ধারণা, ইসলামের উদারতা, শরীয়তের সহজসাধ্যতা ও এর সৌন্দর্য এবং সেই সাথে এর পূর্ণতা ও কাঠিন্য দূর করার বিষয়টি বর্ণনা করেছি। সালাতুল খাওফ বৈধ হওয়ার মূল ভিত্তি হলো: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ঐকমত্য (إجماع)। আমি সালাতুল খাওফের বিভিন্ন পদ্ধতিও স্পষ্ট করেছি এবং দেখিয়েছি যে এর সবগুলোই শরীয়তসম্মত (مشروع); মুসলমানরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদ্ধতি বেছে নিতে পারে। আমি আরও বর্ণনা করেছি যে, আবাসে বা অবস্থানকালীন অবস্থায় সালাতুল খাওফ রাকাত সংখ্যা সংক্ষিপ্ত (قصر) না করেই আদায় করতে হয়। এছাড়াও আমি মুখোমুখি তলোয়ার যুদ্ধ ও প্রচণ্ড লড়াই চলাকালীন অবস্থার সালাতুল খাওফ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الحرب، وذكرت أقوال العلماء في ذلك.
وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز قدس الله روحه، ونوَّر ضريحه، ورفع درجاته في جنات النعيم.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً عنده، مباركًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر بعد عصر يوم الأربعاء الموافق 17/ 1/1422هـ.
যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা, এবং আমি এ বিষয়ে আলেমদের অভিমতসমূহ উল্লেখ করেছি।
আর আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ-এর সিদ্ধান্ত (تقريرات) ও অগ্রাধিকারমূলক (ترجيحات) মতসমূহ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন, তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে তাঁর নিকট কবুলকৃত, বরকতময় এবং একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান, শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক (نعم الوكيل)। আর আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের আদর্শ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
লেখক
১৭/১/১৪২২ হিজরি, বুধবার আসরের পর লিখিত।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولاً: مفهوم صلاة الخوف: الصلاة: لغة الدعاء، و
اصطلاحًا: عبادة لله ذات أقوال وأفعال معلومة، مخصوصة، مفتتحة بالتكبير مختتمة بالتسليم، وسميت صلاة لاشتمالها على: دعاء العبادة، ودعاء المسألة (1).
و
الخوف لغة: الفزع والذُّعر، قال ابن فارس رحمه الله: ((الخاء، والواو، والفاء أصل واحد يدل على الذُّعر والفزع، يقال: خفت الشيء خوفًا، وخيفة .. )) (2) مصدر خاف.
واصطلاحًا: اضطراب في النفس؛ لتوقع نزول مكروه، أو فوات محبوب، ومنه إخافة السبيل (3).
قال الإمام الحافظ المعروف بابن الملقن رحمه الله: ((والخوف غمٌّ على ما سيكون، والحزن غمٌّ على ما مضى)) (4).
--------------------------------------------
প্রথমত: সালাতুল খাওফের (ভয়ের সালাত) ধারণা: সালাত: শাব্দিক অর্থে (لغة) দুআ, এবং
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): আল্লাহর এমন এক ইবাদত যা বিশেষ কিছু কথা ও কার্যাবলি সংবলিত, যা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। একে সালাত নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ইবাদতের দুআ এবং প্রার্থনার দুআ (১)।
এবং
খাওফ শাব্দিক অর্থে (لغة): আতঙ্ক ও ভীতি। ইবনে ফারিস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((খা, ওয়াও এবং ফা একটি মূল ধাতু (أصل) যা ভীতি ও আতঙ্ক নির্দেশ করে; বলা হয়: আমি বিষয়টি নিয়ে ভয় পেয়েছি (খাউফান ও খিফাতান)...)) (২) এটি 'খাফা' ক্রিয়ার মূল শব্দ (مصدر)।
এবং পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): কোনো অপছন্দনীয় বিষয় ঘটার আশঙ্কা বা প্রিয় কোনো কিছু হারানোর উদ্বেগের কারণে মনের অস্থিরতা; পথভীতি প্রদর্শন (রাস্তা অনিরাপদ করা) এর অন্তর্ভুক্ত (৩)।
ইমাম হাফিজ (الحافظ), যিনি ইবনুল মুলাক্কিন (রহিমাহুল্লাহ) নামে সুপরিচিত, তিনি বলেন: ((ভয় হলো ভবিষ্যতে যা ঘটবে সেটির ব্যাপারে দুশ্চিন্তা, আর দুঃখ হলো যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার জন্য মনোকষ্ট)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثانيًا: سماحة الإسلام ويسر الشريعة ومحاسنها مع الكمال ورفع الحرج، لا شك أن دين الإسلام: دين الرحمة، والبركة، والإحسان، والحكمة، ودين فطرة، ودين العقل، والصلاح، والفلاح، والشرع الإسلامي لا يأتي بما تحيله العقول، ولا بما ينقضه العلم الصحيح، وهذا من أكبر الأدلة على أن ما عند الله عز وجل محكم ثابت، صالح لكل زمان ومكان (1).
وقد دلت الأدلة من القرآن العظيم، والسنة النبوية الشريفة على يسر الشريعة الإسلامية وسماحتها، وعلى رفع الحرج،
ومن هذه الأدلة ما يأتي:
أ - من القرآن الكريم آيات كثيرة وهي على نوعين:
النوع الأول: الآيات الكريمة التي تنص على نفي الحرج، ومنها:
1 - قال الله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ইসলামের উদারতা ও শরিয়তের সহজবোধ্যতা এবং এর পূর্ণতার পাশাপাশি সৌন্দর্যসমূহ ও সংকীর্ণতা দূর করা (رفع الحرج); এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইসলাম ধর্ম হলো রহমত, বরকত, ইহসান, হিকমত, ফিতরাত (فطرة), বিবেক, সংশোধন ও সফলতার ধর্ম। আর ইসলামি শরিয়ত এমন কিছু নিয়ে আসে না যা বুদ্ধি বা বিবেক অসম্ভব মনে করে, আর না এমন কিছু যা সঠিক জ্ঞান (العلم الصحيح) দ্বারা খণ্ডিত হয়। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তা সুদৃঢ় (محكم) ও অটল হওয়ার এবং সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী হওয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রমাণ (১)।
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাতে নববী থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি ইসলামি শরিয়তের সহজতা ও উদারতা এবং সংকীর্ণতা দূর করার বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করেছে।
আর এই প্রমাণাদির মধ্যে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো রয়েছে:
ক - পবিত্র কুরআন থেকে অসংখ্য আয়াত রয়েছে এবং সেগুলো দুই প্রকারের:
প্রথম প্রকার: সেই সকল সম্মানিত আয়াত যা সংকীর্ণতা দূর করার (نفي الحرج) ওপর সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
حَرَجٍ} (1)، أي لم يجعل عليكم في الدين مشقةً، وعسراً، بل يسره غاية التيسير، وسهّله غاية السهولة، فلم يُلزم إلا بما هو سهل على النفوس: لا يُثقلها، ثم إذا عرض بعض الأسباب الموجبة للتخفيف خفَّف سبحانه وتعالى ما أمر به: إما بإسقاطه، أو إسقاط بعضه، ويؤخذ من هذه الآية قاعدة شرعية: وهي أن المشقة تجلب التيسير، والضرورات تبيح المحظورات، فيدخل في ذلك من الأحكام الفرعية شيء كثير معروف في كتب الأحكام (2).
2 - قال الله عز وجل: {مَا يُرِيدُ الله لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (3) لم يجعل الله سبحانه وتعالى علينا فيما شرع لنا من حرج، ولا مشقة، ولا عسر، وإنما هو رحمة منه بعباده (4).
3 - قال تعالى: {لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى
--------------------------------------------
সংকীর্ণতা} (১), অর্থাৎ তিনি দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ওপর কোনো কষ্ট ও কাঠিন্য সৃষ্টি করেননি, বরং একে সর্বোচ্চ সহজ করেছেন এবং অত্যন্ত সহজসাধ্য করেছেন। ফলে তিনি কেবল এমন বিষয়ই আবশ্যক করেছেন যা নফসের জন্য সহজ: যা তাকে ভারাক্রান্ত করে না। অতঃপর যখন লাঘব করার মতো কোনো কারণ উপস্থিত হয়, তখন মহান আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা শিথিল করেন: হয় তা রহিত করার মাধ্যমে, অথবা তার কিছু অংশ রহিত করার মাধ্যমে। এই আয়াত থেকে একটি শরয়ি মূলনীতি গৃহীত হয়: আর তা হলো ‘কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে’ এবং ‘প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে’। এর অধীনে শাখা-প্রশাখা সংবলিত বিধিবিধানের এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় যা বিধিবিধানের গ্রন্থগুলোতে সুপরিচিত (২)।
২ - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (৩)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তাতে কোনো সংকীর্ণতা, কষ্ট বা কাঠিন্য রাখেননি। বরং এটি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এক রহমত (৪)।
৩ - মহান আল্লাহ বলেন: {দুর্বলদের ওপর কোনো গুনাহ নেই এবং অসুস্থদের ওপরও নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُواْ لله وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَالله غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (1)، وهذه الآية أصل في سقوط التكاليف عن العاجز، فكل من عجز عن شيء سقط عنه، فتارة إلى بدل هو فعل، وتارة إلى عزم هو غرم، ولا فرق بين العجز من جهة المال، والعجز من جهة القوة (2)،ويستدل بهذه الآية على قاعدة وهي: أن من أحسن إلى غيره في نفسه أو في ماله، ونحو ذلك، ثم ترتب على إحسانه نقص أو تلف أنه غير ضامن، ولا سبيل على المحسنين، كما أنه يدل على أن غير المحسن وهو السيئ: كالمفرط والمتعدي أن عليه الضمان (3).
4 - قال الله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} (4)، فأصل الأوامر
--------------------------------------------
{আর তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই যারা ব্যয় করার মতো কিছু পায় না, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অকৃত্রিম অনুরাগী থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের অবকাশ নেই। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (১); এই আয়াতটি অক্ষম (العاجز) ব্যক্তির ওপর থেকে শরিয়তের বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি মূল ভিত্তি (أصل)। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কাজ করতে অক্ষম হয়, তার ওপর থেকে সেই দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়; কখনো তা কোনো আমল বা কাজের বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হয়, আবার কখনো তা দৃঢ় সংকল্পের দিকে পর্যবসিত হয়। সম্পদের দিক থেকে অক্ষম হওয়া এবং শারীরিক শক্তির দিক থেকে অক্ষম হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (২)। এই আয়াতের মাধ্যমে একটি মূলনীতি (قاعدة) সাব্যস্ত করা হয় যে, যে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে অথবা অন্যের সম্পদের ক্ষেত্রে অন্যের প্রতি কল্যাণ বা ইহসান করে, অতঃপর তার সেই ইহসানের ফলে কোনো ঘাটতি বা বিনাশ ঘটে, তবে সে দায়বদ্ধ (ضامن) হবে না এবং সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই। তদ্রূপ এটি এই বিষয়ের ওপরও প্রমাণ বহন করে যে, যে ব্যক্তি সৎকর্মশীল নয় বরং মন্দ কাজ করে—যেমন: অবহেলাকারী (المفرط) এবং সীমা লঙ্ঘনকারী (المتعدي)—তার ওপর ক্ষতিপূরণ বা দায়বদ্ধতা (الضمان) বর্তাবে (৩)।
৪ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেন না। সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে} (৪), সুতরাং নির্দেশসমূহের মূল ভিত্তি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والنواهي ليست الأمور التي تشق على النفوس، بل هي غذاء للأرواح، ودواء للأبدان، وحمية عن الضرر، فالله أمر العباد بما أمرهم به رحمة وإحسانًا، ومع هذا إذا حصل بعض الأعذار التي هي مظنة المشقة حصل التخفيف والتسهيل، إما بإسقاطه عن المكلف أو إسقاط بعضه، كما في التخفيف عن المريض، والمسافر، والخائف، وغيرهم (1) وغير ذلك من الآيات.
النوع الثاني: الآيات التي تدل على التيسير والتخفيف، ومنها:
1 - قال الله عز وجل: {يُرِيدُ الله بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} (2) أي يريد الله تعالى أن ييسِّر عليكم الطرق الموصلة إلى رضوانه أعظم تيسير، ويسهِّلها أبلغ تسهيل؛ ولهذا كان جميع ما أمر به عباده في غاية السهولة في أصله، وإذا حصلت بعض العوارض الموجبة لثقله سهَّله تسهيلاً آخر: إما بإسقاطه، أو تخفيفه بأنواع التخفيفات،
--------------------------------------------
আর নিষেধসমূহ এমন কোনো বিষয় নয় যা আত্মার জন্য কষ্টকর হয়, বরং এগুলো হলো রুহের খোরাক, শরীরের ঔষধ এবং ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তা দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবেই দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও যখন এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যা কষ্টের কারণ হতে পারে, তখন সেখানে লাঘব করা (التخفيف) এবং সহজীকরণ (التسهيل) কার্যকর হয়; হয় তা মুকাল্লাফ বা বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির উপর থেকে দায়িত্বটি রহিত করার মাধ্যমে অথবা তার অংশবিশেষ কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। যেমনটি অসুস্থ, মুসাফির, ভীত ব্যক্তি এবং অন্যদের ক্ষেত্রে লাঘব করার (التخفيف) বিষয়ে হয়েছে (১) এবং এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: ওই সকল আয়াত যা সহজীকরণ (التيسير) ও লাঘব করার (التخفيف) প্রতি নির্দেশ করে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কোনো কষ্ট বা জটিলতা চান না} (২) অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথসমূহকে অত্যন্ত সহজ করতে চান এবং সেগুলোকে সর্বোচ্চ সাবলীল করতে চান; এই কারণেই তিনি তাঁর বান্দাদেরকে যা কিছু আদেশ করেছেন তা মূলত অত্যন্ত সহজ। আর যখন কোনো ভারবোধ সৃষ্টিকারী পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে, তখন তিনি তা অন্যভাবে সহজ করে দেন: হয় তা রহিত করার মাধ্যমে, অথবা বিভিন্ন প্রকার লাঘব করার (التخفيف) পদ্ধতির মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهذه جملة لا يمكن تفصيلها؛ لأن تفاصيلها جميع الشرعيات، ويدخل فيها جميع الرخص والتخفيفات (1).
2 - قال تبارك وتعالى: {يُرِيدُ الله أَن يُخَفِّفَ عَنكُمْ وَخُلِقَ الإِنسَانُ ضَعِيفًا} (2) أي بسهولة ما أمركم به وما نهاكم عنه، ثم مع حصول المشقة في بعض الشرائع أباح لكم ما تقتضيه حاجاتكم، وذلك لرحمته التامة، وإحسانه الشامل، وعلمه، وحكمته بضعف الإنسان من جميع الوجوه: ضعف البنية، وضعف الإرادة، وضعف العزيمة، وضعف الإيمان، وضعف الصبر، فناسب ذلك أن يخفف الله عنه ما يَضْعُف عنه، وما لا يطيقه إيمانه وصبره وقوته (3).
3 - قال تعالى: {وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَى} (4) وهذه بشارة كبيرة أن الله عز وجل ييسِّر رسوله صلى الله عليه وسلم لليسرى في جميع أموره،
--------------------------------------------
এটি এমন একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যা বিস্তারিত বর্ণনা করা সম্ভব নয়; কারণ এর বিস্তারিত বিবরণের অন্তর্ভুক্ত হলো সকল শরিয়তসম্মত বিষয়াদি, এবং এর মধ্যে সকল প্রকার বৈধ ছাড় (رخصة) ও লাঘব (تخفيف) অন্তর্ভুক্ত হয় (১)।
২ - মহান ও বরকতময় আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের থেকে (বোঝা) হালকা করতে চান এবং মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে} (২)। অর্থাৎ তিনি তোমাদের যা আদেশ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন তা সহজ করার মাধ্যমে। অতঃপর কিছু শরিয়তসম্মত বিধানে কাঠিন্য দেখা দিলে তিনি তোমাদের প্রয়োজনের নিরিখে তা তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন; আর এটি তাঁর পূর্ণাঙ্গ রহমত, ব্যাপক অনুগ্রহ, জ্ঞান এবং মানুষের সর্বমুখী দুর্বলতা (ضعف) সংক্রান্ত হিকমতের কারণে: যেমন দৈহিক দুর্বলতা, ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা, সংকল্পের দুর্বলতা, ইমানের দুর্বলতা এবং ধৈর্যের দুর্বলতা। ফলে এটিই সমীচীন ছিল যে, আল্লাহ মানুষের জন্য সেই সব বিষয় লাঘব (تخفيف) করে দেবেন যা পালনে সে দুর্বল (ضعف) এবং যা তার ইমান, ধৈর্য ও শক্তি সহ্য করতে পারে না (৩)।
৩ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব} (৪)। এটি একটি বিশাল সুসংবাদ যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সকল কাজে সহজতার জন্য পথ সুগম করে দেবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ويجعل شرعه ودينه يسرًا (1).
4 - قال عز وجل: {فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا * إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا} (2) هذه بشارة عظيمة أنه كل ما وُجد عسر وصعوبة فإن اليسر يقارنه، حتى لو دخل العسر جحر ضب لدخل عليه اليسر فأخرجه، كما قال الله تعالى: {سَيَجْعَلُ الله بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا} (3) وتعريف ((العسر)) في الآيتين يدل أنه واحد، وتنكير ((اليسر)) يدل على تكراره، فلن يغلب عسرٌ يسرين، وفي تعريف العسر بالألف واللام الدالة على استغراق العموم يدل على أن كل عسر وإن بلغ من الصعوبة ما بلغ فإن في آخره التيسير ملازم له (4).
ب - الأدلة من السنة على اليسر والسماحة والسهولة كثيرة منها:
--------------------------------------------
এবং তিনি তাঁর শরিয়ত ও দ্বীনকে সহজ করেছেন (১)।
৪ - মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে} (২) এটি এক মহান সুসংবাদ যে, যখনই কোনো কষ্ট ও কঠিন অবস্থা দেখা দেয়, স্বস্তি তার সাথী হয়। এমনকি কষ্ট যদি কোনো গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে, তবে স্বস্তিও সেখানে প্রবেশ করে তাকে বের করে আনবে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ কষ্টের পর স্বস্তি দান করবেন} (৩) এবং এই দুই আয়াতে 'আল-উসর' (কষ্ট) শব্দটিকে নির্দিষ্ট (معرفة) রূপে ব্যবহার করা প্রমাণ করে যে এটি একটিই, আর 'ইউসর' (স্বস্তি) শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (نكرة) রূপে ব্যবহার করা এর পুনরাবৃত্তি বোঝায়। সুতরাং একটি কষ্ট কখনোই দুটি স্বস্তির ওপর প্রবল হতে পারবে না। আর 'আল-উসর' শব্দে আলিফ এবং লাম যুক্ত হওয়া যা সাধারণ ব্যাপকতা (استغراق العموم) বোঝায়, তা একথাই প্রমাণ করে যে প্রত্যেক কষ্ট চাই তা যতই কঠিন হোক না কেন, পরিশেষে স্বস্তি তার অনিবার্য সাথী (৪)।
খ - সুন্নাহ থেকে সহজসাধ্যতা, উদারতা ও সরলতার প্রমাণসমূহ অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
1 - عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الدين يسر، ولن يشادَّ الدين أحدٌّ إلا غلبه (1)، فسددوا، وقاربوا، وأبشروا، واستعينوا: بالغدوة، والروحة، وشيء من الدُّلجة (2) [القصد القصد (3) تبلغوا))] (4).
--------------------------------------------
১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে (১)। অতএব তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষাংশে ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো (২) [পরিমিতিবোধ বজায় রাখো, পরিমিতিবোধ বজায় রাখো (৩); তবেই তোমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে] (৪)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - قال الإمام البخاري رحمه الله: بابٌ: الدين يسرٌ، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((أحب الدين إلى الله الحنيفية السمحة)) (1)، والمقصود أن أحب خصال الدين الحنيفية، وخصال الدين كلها محبوبة، لكن ما كان منها سمحًا - أي سهلاً - فهو أحب إلى الله تعالى، والحنيفية: ملة إبراهيم، والحنيف في اللغة ما كان على ملة إبراهيم، وسمي إبراهيم حنيفًا؛ لميله عن الباطل إلى الحق؛ لأن أصل الحنف الميل، والسمحة: السهلة: أي إنها مبنية على السهولة (2).
3 - وعن أسامة بن شريك رضي الله عنه قال: شهدتُ الأعراب
--------------------------------------------
2 - ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: অনুচ্ছেদ: দ্বীন সহজ। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন হলো সহজ ও একনিষ্ঠতা (হানিফিয়াতুস সামহা)।" (১) এর উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের সবচেয়ে প্রিয় বৈশিষ্ট্য হলো একনিষ্ঠতা (হানিফিয়াহ)। দ্বীনের সকল বৈশিষ্ট্যই প্রিয়, তবে তার মধ্যে যা সহজ—অর্থাৎ সাবলীল—তা মহান আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। আর 'হানিফিয়াহ' হলো ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আদর্শ। আভিধানিক অর্থে 'হানিফ' হলো যা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে 'হানিফ' বলা হয়েছে বাতিল থেকে হকের দিকে তাঁর ঝুঁকে থাকার কারণে; কেননা 'হানিফ' শব্দের মূল অর্থ হলো ঝোঁকা। আর 'সামহা' অর্থ সহজ; অর্থাৎ এটি সহজবোধ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত (২)।
3 - উসামা ইবনে শারীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বেদুইনদের উপস্থিত হতে দেখলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يسألون النبي صلى الله عليه وسلم: أعلينا حرج في كذا؟ أعلينا حرج في كذا؟ فقال لهم: ((عباد الله وضع الله الحرج إلا من اقترض من عرض أخيه شيئًا فذلك الذي حرج)) (1)، فقالوا:
يا رسول الله، هل علينا جناح أن نتداوى؟ قال: ((تداووا عباد الله، فإن الله سبحانه لم يضع داءً إلا وضع معه شفاء، إلا الهرم)) قالوا: يا رسول الله، ما خير ما أُعطي العبد؟ قال: ((خلق حسن)) (2).
4 - وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يسِّروا ولا تعسِّروا، وبشِّروا ولا تنفِّروا)) (3).
5 - وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه ومعاذ بن جبل إلى اليمن فقال: ((يسِّرا ولا تُعسِّرا، وبشِّرا
--------------------------------------------
তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করছিলেন: অমুক কাজে কি আমাদের কোনো গুনাহ আছে? অমুক কাজে কি আমাদের কোনো গুনাহ আছে? তিনি তাদের বললেন: "হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহ তাআলা সংকীর্ণতা বা গুনাহ তুলে নিয়েছেন, তবে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মানহানি করবে, সেই মূলত গুনাহগার হবে" (১)। তারা বললেন:
হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য কি চিকিৎসা গ্রহণ করা বৈধ? তিনি বললেন: "হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময় তিনি দান করেননি, কেবল বার্ধক্য ব্যতীত।" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! মানুষকে দান করা শ্রেষ্ঠ বস্তু কী? তিনি বললেন: "উত্তম চরিত্র" (২)।
৪ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও এবং বিতৃষ্ণ করো না" (৩)।
৫ - আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এবং মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং বললেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না, সুসংবাদ দাও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا تُنفِّرا، وتطاوعا ولا تختلفا)) (1).
قال الإمام النووي رحمه الله: ((إنما جمع هذه الألفاظ بين الشيء وضده؛ لأنه قد يفعلهما في وقتين، فلو اقتصر على ((يسِّروا)) لصدق ذلك على من يسر مرة أو مرات وعسر في معظم الحالات، فإذا قال ((ولا تُعسِّروا)) انتفى التعسير في جميع الأحوال من جميع وجوهه وهذا هو المطلوب، وكذلك يقال في ((يسِّرا ولا تُعسِّرا، وتطاوعا ولا تختلفا)) (2). وغير ذلك من السنة كثير (3).
ج - منهج الصحابة رضي الله عنهم ومن تبعهم بإحسان: اتباع اليُسر والسماحة، والصحابة رضي الله عنهم هم الذين يطبقون الكتاب والسنة، وقد جاء عنهم أخبار كثيرة طبقوا فيها الإسلام كما جاء، وعملوا بالتيسير وتركوا التعسير؛ وذلك لفهم الكتاب والسنة، وعدم التنطع في الدين؛
--------------------------------------------
এবং বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না; তোমরা পরস্পরের অনুগত হও এবং মতভেদ করো না)) (১)।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তিনি কেবল এই শব্দগুলো এবং এদের বিপরীত শব্দগুলোকে একত্রিত করেছেন; কারণ কোনো ব্যক্তি হয়তো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এ উভয়টিই করতে পারে। সুতরাং তিনি যদি কেবল 'সহজ করো' বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সত্য হতো যে এক বা একাধিকবার সহজ করেছে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কঠিন করেছে। তবে তিনি যখন বললেন 'কঠিন করো না', তখন সকল অবস্থায় এবং সকল দিক থেকে কাঠিন্য আরোপের বিষয়টি নাকচ হয়ে গেল, আর এটাই কাম্য। অনুরূপভাবে ‘তোমরা উভয়ে সহজ করো এবং কঠিন করো না, এবং পরস্পরের অনুগত থাকো ও মতভেদ করো না’ (২) এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।)) সুন্নাহ থেকে এর আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে (৩)।
গ - সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের কর্মপন্থা (منهج): সহজসাধ্যতা ও উদারতা অনুসরণ করা। সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন তাঁরাই যারা কিতাব ও সুন্নাহর বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তাঁদের থেকে অনেক বর্ণনা (أخبار) বর্ণিত হয়েছে যেখানে তাঁরা ইসলামকে যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবেই প্রয়োগ করেছেন এবং তাঁরা সহজ করার নীতি অনুসরণ করেছেন ও কাঠিন্য বর্জন করেছেন। আর এটি ছিল কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক উপলব্ধি এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করার ফল;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولهذا جاء عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: ((من كان منكم مستنًّا فليستنَّ بمن قد مات؛ فإن الحي لا تؤمن عليه الفتنة، أولئك أصحاب محمد؛ فإنهم كانوا أبرَّ هذه الأمة قلوبًا، وأعمقها علمًا، وأقلَّها تكلُّفًا، وأقومَها هديًا، اختارهم الله تعالى لصحبة نبيه، [ولإقامة دينه] فاعرفوا لهم فضلهم، واتبعوهم في آثارهم؛ فإنهم كانوا على الهدى المستقيم)) (1).
وما تقدم من أدلة الكتاب والسنة، وهدي الصحابة يدل على رفع الحرج عن الأمة، وأن الإسلام دين اليسر والسماحة (2).
ثالثًا: الأصل في مشروعية صلاة الخوف: الكتاب والسنة، والإجماع:--------------------------------------------
এ কারণেই ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কারো অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা ইন্তেকাল করেছেন; কারণ জীবিত ব্যক্তি ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়। তারা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ; তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতা বা লৌকিকতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত এবং হিদায়াতের ওপর সবচেয়ে সুদৃঢ়। মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য এবং [তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার] জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো; কারণ তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।" (১)।
কুরআন ও সুন্নাহর পূর্বোক্ত দলিলসমূহ এবং সাহাবীগণের আদর্শ এই উম্মতের ওপর থেকে কষ্ট লাঘব করার প্রমাণ দেয় এবং এ কথা স্পষ্ট করে যে, ইসলাম হলো সহজ ও সহনশীলতার দ্বীন (২)।
তৃতীয়ত: সালাতুল খাওফ (ভয়কালীন সালাত) বিধিবদ্ধ হওয়ার মূল ভিত্তি: কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع):--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - أما الكتاب؛ فلقول الله تعالى: {وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُواْ أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُواْ فَلْيَكُونُواْ مِن وَرَآئِكُمْ وَلْتَأْتِ طَآئِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّواْ فَلْيُصَلُّواْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُواْ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَى أَن تَضَعُواْ أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُواْ حِذْرَكُمْ إِنَّ الله أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا} (1).
2 - وأما السنة، فقد ثبتت الأحاديث الصحيحة أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى بأصحابه صلاة الخوف مرات متعددة على صفات متنوعة (2).
3 - وأما الإجماع، فأجمع الصحابة على فعلها، فكان
--------------------------------------------
1 - প্রথমত কিতাব (কুরআন); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যখন আপনি তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করবেন, তখন তাদের একদল যেন আপনার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখে। অতঃপর যখন তারা সিজদাহ সম্পন্ন করবে, তখন তারা যেন তোমাদের পেছনে অবস্থান নেয়। আর অপর একদল যারা সালাত আদায় করেনি, তারা যেন আপনার সাথে সালাত আদায় করে এবং তারা যেন তাদের সতর্কতা ও অস্ত্রশস্ত্র গ্রহণ করে। কাফিররা কামনা করে যে, তোমরা যদি তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্পর্কে অসতর্ক হও, তবে তারা তোমাদের ওপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ থাকো, তবে তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র রেখে দেওয়াতে কোনো গুনাহ নেই, তবে তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন} (১)।
2 - দ্বিতীয়ত সুন্নাহ; কেননা সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে একাধিকবার ভীতি অবস্থার সালাত (সালাতুল খাউফ) আদায় করেছেন (২)।
3 - তৃতীয়ত ইজমা (الإجماع); কেননা সাহাবীগণ এটি আমল করার ব্যাপারে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন, ফলে এটি ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الصحابة في الخوف يصلون صلاة الخوف، جاء ذلك عن علي رضي الله عنه ليلة صِفِّين، وجاء عن أبي هريرة، وأبي موسى الأشعري، وعن سعيد بن العاص، وحذيفة رضي الله عنهم (1) ولا ينظر إلى الأقوال الشاذة التي تخالف ذلك (2).
رابعًا: أنواع صلاة الخوف: جاءت صلاة الخوف في
--------------------------------------------
সাহাবীগণ ভীতির সময় সালাতুল খউফ আদায় করতেন। এটি সিফফিনের রাতে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর আবু হুরায়রা, আবু মুসা আল-আশআরি, সাঈদ ইবনুল আস এবং হুযাইফা (রা.) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে (১)। এর বিপরীত যে সকল বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত রয়েছে, সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না (২)।
চতুর্থত: সালাতুল খউফের প্রকারভেদ: সালাতুল খউফ বর্ণিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أحاديث كثيرة، وأشكال متباينة (1)، والصواب أن كل صفة ثبتت عن النبي صلى الله عليه وسلم جائزة حسب مواطنها، يتحرَّى المسلمون فيها ما هو أحوط للصلاة وأبلغ في الحراسة، فهي على اختلاف صورها متفقة المعنى، ومن هذه الأنواع الثابتة في الأحاديث الصفات الآتية:
--------------------------------------------
অনেক হাদিস এবং বিভিন্ন পদ্ধতি (১)। সঠিক অভিমত এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত (ثابت) হওয়া প্রতিটি পদ্ধতিই নিজ নিজ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বৈধ (جائز)। মুসলিমগণ নামাজের ক্ষেত্রে যা অধিকতর সতর্কতামূলক এবং পাহারার ক্ষেত্রে যা অধিক কার্যকর, তা-ই অনুসন্ধান করবেন। সুতরাং নামাজের বাহ্যিক রূপভেদ থাকলেও এর মূল অর্থ ও উদ্দেশ্য অভিন্ন। হাদিসসমূহে সাব্যস্ত (ثابت) হওয়া এই প্রকারগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো উল্লেখযোগ্য:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
النوع الأول: ما يوافق ظاهر القرآن: يقسم الأمير أو القائد من معه إلى طائفتين: طائفة وجاه العدو؛ لئلا يهجم، وطائفة تصلي معه، فيصلي بهذه الطائفة ركعة، فإذا قام إلى الركعة الثانية نووا الانفراد وأتموا لأنفسهم ركعة والإمام واقف، وسلموا قبل ركوعه، ثم ذهبوا إلى الطائفة التي وجاه العدو، ثم تأتي الطائفة التي كانت تحرس وجاه العدو إلى الإمام فتجده ينتظرها واقفًا في الركعة الثانية فتدخل معه فيها وتصلي معه هذه الركعة، فإذا جلس للتشهد قامت فقضت ركعة والإمام ينتظرها في التشهد، فإذا تشهدت سلم بهم؛ لحديث صالح بن خوَّات عمن صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) يوم ذات الرقاع (2)
--------------------------------------------
প্রথম প্রকার: যা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: আমীর বা নেতা তাঁর সাথে থাকা লোকদের দুই ভাগে বিভক্ত করবেন: এক দল শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করবে যাতে তারা আক্রমণ করতে না পারে এবং অন্য দল তাঁর সাথে সালাত আদায় করবে। তিনি এই দলের সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করবেন। অতঃপর তিনি যখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন, তখন তারা ইমাম থেকে পৃথক হওয়ার (انفراد) নিয়ত করবে এবং ইমাম দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারা নিজেদের এক রাকাত পূর্ণ করে নেবে। তারা ইমাম রুকুতে যাওয়ার আগেই সালাম ফিরিয়ে নেবে। এরপর তারা শত্রুর মোকাবিলায় নিয়োজিত দলের জায়গায় চলে যাবে এবং পাহারায় নিয়োজিত দলটি ইমামের কাছে আসবে। তারা ইমামকে দ্বিতীয় রাকাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় পাবে এবং তাঁর সাথে সালাতে শামিল হয়ে এই রাকাতটি আদায় করবে। যখন ইমাম তাশাহহুদ (تشهد)-এর জন্য বসবেন, তখন তারা দাঁড়িয়ে তাদের অবশিষ্ট এক রাকাত পূর্ণ করবে এবং ইমাম তাশাহহুদ (تشهد) অবস্থায় তাদের জন্য অপেক্ষা করবেন। তারা যখন তাশাহহুদ (تشهد) শেষ করবে, তখন তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরাবেন। এর ভিত্তি হলো সালিহ ইবনে খাওওয়াত-এর বর্ণিত হাদিস, যা তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ‘জাতুর রিকা’ যুদ্ধের দিনে সালাত আদায় করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
صلاة الخوف، أن طائفة صفت معه وطائفة وجاه (1) العدو فصلى بالذين معه ركعة، ثم ثبت قائمًا وأتموا لأنفسهم، ثم انصرفوا وصفوا وجاه العدو، وجاءت الطائفة الأخرى فصلى بهم الركعة التي بقيت من صلاته، ثم ثبت جالسًا وأتموا لأنفسهم، ثم سلم بهم)) (2)، وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((وهذا أيسر الأنواع، والصحابي المبهم في سند الحديث هو سهل بن أبي حثمة)) (3) وهذا النوع اختاره الإمام أحمد بن حنبل، لموافقته ظاهر القرآن، وأقر جميع الأنواع الأخرى، وأن كل حديث صح في صلاة الخوف يجوز العمل به (4).
--------------------------------------------
ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থার সালাত (সালাতুল খাওফ), একদল তাঁর সাথে সারিবদ্ধ হলো এবং অন্য একদল শত্রুর মুখোমুখি (১) অবস্থান করল। এরপর তিনি তাঁর সাথে থাকা দলটিকে নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি দাঁড়িয়ে স্থির থাকলেন এবং তারা নিজেরাই নিজেদের সালাত পূর্ণ করে নিল। এরপর তারা চলে গেল এবং শত্রুর মুখোমুখি হয়ে সারিবদ্ধ হলো। অতঃপর অন্য দলটি এল এবং তিনি তাদের নিয়ে তাঁর সালাতের অবশিষ্ট রাকাতটি আদায় করলেন। এরপর তিনি বসে স্থির থাকলেন এবং তারা নিজেরাই নিজেদের সালাত পূর্ণ করে নিল। এরপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন (২)। আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((“এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এবং হাদিসের সনদে যে অস্পষ্ট (مبهم) সাহাবী রয়েছেন, তিনি হলেন সাহল বিন আবু হাসমাহ”)) (৩)। এই পদ্ধতিটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল পছন্দ করেছেন, কারণ এটি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তিনি অন্য সকল পদ্ধতিকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এই মর্মে অভিমত দিয়েছেন যে, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থার সালাত সম্পর্কে যে হাদিসই বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, তার ওপর আমল করা বৈধ (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
النوع الثاني: إذا كان العدو في جهة القبلة ولا يخفى بعضهم على المسلمين صف الإمام المسلمين خلفه صفين، فيكبر ويكبروا جميعًا، ثم يركع فيركعوا جميعًا، ثم يرفع من الركوع ويرفعوا جميعًا معه، ثم ينحدر فيسجد ويسجد معه الصف الأول الذي يليه، ويبقى الصف الثاني قائمًا يحرس مواجهة العدو، فإذا صلى بالصف الأول سجدتين وقام إلى الركعة الثانية سجد الصف الثاني الذي كان يحرس سجدتين، ثم قاموا فتقدموا إلى مكان الصف الأول، وتأخر الصف الأول مكانهم، ثم يركع الإمام ويركعوا معه جميعًا، ثم يرفع ويرفعوا جميعًا، ثم يسجد ويسجد معه الصف الأول الذي كان في الركعة الأولى هو الثاني، فإذا سجد سجدتين وجلس للتشهد سجد الصف الثاني ولحقوه في التشهد، وتشهدوا جميعًا، ثم سلم بهم جميعًا (1)؛ لحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف فصفنا
--------------------------------------------
দ্বিতীয় প্রকার: যদি শত্রু কিবলার (قبلة) দিকে থাকে এবং তারা (শত্রুরা) মুসলমানদের নিকট অস্পষ্ট না থাকে, তবে ইমাম তাঁর পেছনে মুসলমানদের দুই সারিতে কাতারবদ্ধ করবেন। অতঃপর তিনি তাকবির (تكبير) দেবেন এবং তারা সকলে একসাথে তাকবির (تكبير) দেবে। এরপর তিনি রুকু (ركوع) করবেন এবং তারা সকলে একসাথে রুকু (ركوع) করবে। তারপর তিনি রুকু (ركوع) থেকে মাথা তুলবেন এবং তাঁরাও সকলে তাঁর সাথে মাথা তুলবেন। অতঃপর তিনি সিজদাহর (سجود) দিকে অবনত হবেন এবং তাঁর নিকটবর্তী প্রথম কাতারটি তাঁর সাথে সিজদাহ (سجود) করবে, আর দ্বিতীয় কাতারটি শত্রুর মোকাবেলায় পাহারারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবে। যখন তিনি প্রথম কাতারকে নিয়ে দুটি সিজদাহ (سجدة) শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতের (ركعة) জন্য দাঁড়াবেন, তখন পাহারারত দ্বিতীয় কাতারটি দুটি সিজদাহ (سجدة) সম্পন্ন করবে। অতঃপর তারা দাঁড়িয়ে প্রথম কাতারের জায়গায় অগ্রসর হবে এবং প্রথম কাতারটি পিছিয়ে তাদের (দ্বিতীয় কাতারের) জায়গায় চলে যাবে। এরপর ইমাম রুকু (ركوع) করবেন এবং তারা সকলে তাঁর সাথে রুকু (ركوع) করবে। তারপর তিনি মাথা তুলবেন এবং তারাও সকলে মাথা তুলবে। এরপর তিনি সিজদাহ (سجود) করবেন এবং তাঁর সাথে সেই প্রথম কাতারটি সিজদাহ (سجود) করবে যারা প্রথম রাকাতে (ركعة) দ্বিতীয় কাতার ছিল। যখন তিনি দুটি সিজদাহ (سجدة) শেষ করে তাশাহহুদের (تشهد) জন্য বসবেন, তখন দ্বিতীয় কাতারটি সিজদাহ (سجدة) করবে এবং তাশাহহুদে (تشهد) তাঁর সাথে মিলিত হবে; আর তারা সকলে একসাথে তাশাহহুদ (تشهد) পাঠ করবে। অতঃপর তিনি তাদের সকলকে নিয়ে সালাম (تسليم) ফেরাবেন (১); জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ভয়কালীন নামাজ (صلاة الخوف) প্রত্যক্ষ করেছি, তখন আমরা কাতারবদ্ধ হলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صفين: صف خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم والعدو بيننا وبين القبلة فكبر النبي صلى الله عليه وسلم وكبرنا جميعًا، ثم ركع وركعنا جميعًا، ثم رفع رأسه من الركوع ورفعنا جميعًا، ثم انحدر بالسجود والصف الذي يليه، وقام الصف المؤخر في نحر العدو (1) فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم السجود وقام الصف الذي يليه، انحدر الصف المؤخر بالسجود وقاموا، ثم تقدم الصف المؤخر وتأخر الصف المقدم، ثم ركع النبي صلى الله عليه وسلم وركعنا جميعًا، ثم رفع رأسه من الركوع ورفعنا جميعًا، ثم انحدر بالسجود والصف الذي يليه الذي كان مؤخرًا في الركعة الأولى، وقام الصف المؤخر في نحر العدو، فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم السجود والصف الذي يليه انحدر الصف المؤخر بالسجود فسجدوا، ثم سلم النبي صلى الله عليه وسلم، وسلمنا جميعًا)) (2).
--------------------------------------------
দুইটি কাতার (صفين): এক কাতার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে দাঁড়াল এবং শত্রু আমাদের ও কিবলার মাঝখানে ছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলেন এবং আমরা সবাই তাকবীর দিলাম। এরপর তিনি রুকু করলেন এবং আমরা সবাই রুকু করলাম। তারপর তিনি রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠালেন এবং আমরাও সবাই মাথা উঠালাম। এরপর তিনি এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতারটি সিজদায় অবনত হলেন, আর পেছনের কাতারটি শত্রুর মুখোমুখি (في نحر العدو) দাঁড়িয়ে রইল (১)। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা সম্পন্ন করলেন এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতারটি দাঁড়িয়ে গেল, তখন পেছনের কাতারটি সিজদায় অবনত হলো এবং তারাও দাঁড়িয়ে গেল। এরপর পেছনের কাতারটি সামনে এগিয়ে এল এবং সামনের কাতারটি পেছনে চলে গেল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন এবং আমরা সবাই রুকু করলাম। এরপর তিনি রুকু থেকে মাথা উঠালেন এবং আমরা সবাই মাথা উঠালাম। এরপর তিনি এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতার—যা প্রথম রাকাতে পেছনে ছিল—সিজদায় অবনত হলেন এবং পেছনের কাতারটি শত্রুর মুখোমুখি (في نحر العدو) দাঁড়িয়ে রইল। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতার সিজদা শেষ করলেন, তখন পেছনের কাতারটি সিজদায় অবনত হলো এবং সিজদা করল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরালেন এবং আমরাও সবাই সালাম ফেরালাম (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النوع الثالث: يقسم الإمام أصحابه إلى طائفتين: فرقة تجاه العدو وفرقة تصلي معه، فيصلي بإحدى الطائفتين ركعة ثم تنصرف قبل أن تسلم وهي في صلاتها إلى مكان الفرقة الأخرى، ثم تأتي الفرقة الأخرى إلى مكان هذه خلف الإمام فتصلي معه الركعة الثانية، ثم يسلم وحده، وتقضي كل طائفة ركعة؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، قال: غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم قِبَل نجدٍ فوازينا (1) العدو، فصاففناهم، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي لنا، فقامت طائفة معه وأقبلت طائفة على العدو، فركع رسول الله صلى الله عليه وسلم بمن معه وسجد سجدتين، ثم انصرفوا مكان الطائفة (2) التي لم تصلِّ، فجاؤوا فركع رسول الله صلى الله عليه وسلم بهم ركعة وسجد سجدتين، ثم سلَّم، فقام كل واحد منهم فركع لنفسه
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রকার: ইমাম তাঁর সঙ্গীদের দুই দলে বিভক্ত করবেন: একদল শত্রুর মোকাবিলায় থাকবে এবং অন্য দল তাঁর সাথে সালাত আদায় করবে। তিনি দুই দলের একটির সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করবেন, তারপর তারা সালাম ফিরানোর পূর্বেই তাদের সালাত অবস্থায় থাকা অবস্থাতেই অন্য দলের অবস্থানে চলে যাবে। এরপর অন্য দলটি এদের স্থানে ইমামের পেছনে আসবে এবং তাঁর সাথে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করবে। অতঃপর তিনি একাকী সালাম ফিরাবেন এবং প্রত্যেক দল এক রাকাত করে পূর্ণ করবে; আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নজদের দিকে এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখি (১) হলাম এবং তাদের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সালাত পড়ানোর জন্য দাঁড়ালেন, তখন একদল তাঁর সাথে দাঁড়াল এবং অন্য দল শত্রুর দিকে মুখ করে রইল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে যারা ছিল তাদের নিয়ে রুকু করলেন এবং দুটি সেজদা করলেন। তারপর তারা সেই দলের (২) জায়গায় চলে গেল যারা সালাত আদায় করেনি। এরপর তারা এল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে এক রাকাত রুকু ও দুটি সেজদা করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর তাদের প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ জন্য এক রাকাত আদায় করে নিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ركعة (1) وسجد سجدتين)) وفي لفظ لمسلم: ((ثم سلم النبي صلى الله عليه وسلم، ثم قضى هؤلاء ركعة وهؤلاء ركعة)) وفي لفظ لمسلم أيضًا: ((ثم قضت الطائفتان: ركعة ركعة)) (2)، وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((صلى بهم
--------------------------------------------
এক রাকাত (1) এবং দুটি সিজদা করলেন)) এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: ((অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরালেন, তারপর এরা এক রাকাত আদায় করল এবং তারা এক রাকাত আদায় করল)) এবং মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আরও রয়েছে: ((অতঃপর উভয় দল এক রাকাত করে আদায় করল)) (2), এবং আমি আমাদের শায়খ ইমাম ইবনে বাজ রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি: ((তিনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ركعة ثم انصرفوا، وجاءت الطائفة الثانية فركع بهم ركعة ثم سلم، فقام كل واحد فركع لنفسه ركعة، قضوا الركعة كلهم بعد سلام النبي صلى الله عليه وسلم، وسمح لهم في هذه الحركة؛ للحاجة، وانصراف الطائفة الأولى قبل سلامهم، وهذا جائز والنوع الأول أسهل)) (1).
النوع الرابع: أن يصلي الإمام بكل طائفة صلاة منفردة: فيصلي بالطائفة الأولى ركعتين ثم يسلم بها، ثم تأتي الطائفة الثانية فيصلي بهم ركعتين ثم يسلم بهم؛ لحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى بطائفة من أصحابه ركعتين، ثم سلم، ثم صلى بآخرين أيضًا ركعتين، ثم سلم)) (2)؛ ولحديث أبي بكرة رضي الله عنه، قال: صلى النبي صلى الله عليه وسلم في خوفٍ الظهر فصف بعضهم خلفه وبعضهم بإزاء العدو، فصلى بهم ركعتين ثم سلم، فانطلق الذين صلوا معه فوقفوا موقف أصحابهم، ثم جاء أولئك
--------------------------------------------
এক রাকাত, অতঃপর তারা চলে গেলেন। এবং দ্বিতীয় দল আসল, তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত পড়লেন এরপর সালাম ফিরালেন। এরপর প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ এক রাকাত পড়ে নিলেন। তারা সবাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাম ফেরানোর পর নিজ নিজ রাকাত পূর্ণ করলেন। প্রয়োজনের খাতিরে এই চলাফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সালাম ফেরানোর পূর্বেই প্রথম দলের চলে যাওয়ার বিষয়টিও (অনুমোদিত); এটি বৈধ এবং প্রথম প্রকারটি অধিক সহজ)) (১)।
চতুর্থ প্রকার: ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে পৃথকভাবে সালাত আদায় করবেন: তিনি প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরাবেন, এরপর দ্বিতীয় দল আসবে এবং তিনি তাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন ও সালাম ফিরাবেন; জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের এক দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন, পুনরায় অন্য দলের সাথেও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন)) (২); এবং আবু বাকরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীতিকর অবস্থায় যোহরের সালাত আদায় করলেন, তাদের একদল তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলো এবং অন্য দল শত্রুর মুখোমুখি থাকল। তিনি তাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছিল তারা চলে গিয়ে তাদের সাথীদের অবস্থানে গিয়ে দাঁড়াল, অতঃপর তারা আসল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فصلوا خلفه، فصلى بهم ركعتين، ثم سلم، فكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أربعًا، ولأصحابه ركعتين)) وبذلك كان يفتي الحسن، قال أبو داود في المغرب؛ يكون للإمام ستُّ ركعات، وللقوم ثلاث ثلاث)) (1).
وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((يصلي بالطائفة الأولى ركعتين، ثم يسلم، ويصلي بالطائفة الثانية ركعتين، ثم يسلم، وروى مسلم ما رواه النسائي وأبو داود، ورواه البخاري معلقًا مجزومًا به، وهذا دليل على جواز إمامة المتنفل)) (2).
وعن جابر رضي الله عنه، قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بذات الرقاع، فإذا أتينا على شجرة ظليلة تركناها للنبي صلى الله عليه وسلم، فجاء رجل من المشركين وسيف النبي صلى الله عليه وسلم معلق بالشجرة فاخترطه فقال له: تخافني؟ فقال له: ((لا)) قال: فمن يمنعك مني؟ قال:
--------------------------------------------
...তারা তাঁর পেছনে নামাজ পড়লেন, তিনি তাঁদের নিয়ে দুই রাকাত পড়লেন, এরপর সালাম ফেরালেন। সুতরাং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য ছিল চার রাকাত এবং তাঁর সাহাবীদের জন্য ছিল দুই রাকাত। আর হাসান (বসরি) এ ফতোয়াই দিতেন। আবু দাউদ মাগরিবের বর্ণনায় বলেছেন: ইমামের জন্য হবে ছয় রাকাত এবং মুক্তাদীদের জন্য হবে তিন তিন রাকাত করে (১)।
আমি আমাদের শায়খ ইমাম ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: "তিনি প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন, এরপর সালাম ফেরাবেন। এরপর দ্বিতীয় দলের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন এবং সালাম ফেরাবেন। মুসলিম সেটিই বর্ণনা করেছেন যা নাসাঈ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর বুখারি এটি মুআল্লাক (معلقًا) হিসেবে এবং মজজুম (مجزومًا) বা দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন। আর এটি নফল নামাজ আদায়কারীর ইমামতি জায়েজ হওয়ার দলিল" (২)।
জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে জাতুর রিকা নামক স্থানে ছিলাম। যখন আমরা একটি ঘন ছায়াযুক্ত গাছের কাছে আসলাম, আমরা সেটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশ্রামের জন্য ছেড়ে দিলাম। এমতাবস্থায় মুশরিকদের এক ব্যক্তি আসলো এবং তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তরবারিটি গাছে ঝুলানো ছিল। সে সেটি খাপমুক্ত করল এবং তাঁকে বলল: "আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "না"। সে বলল: "তবে আমার হাত থেকে আপনাকে কে রক্ষা করবে?" তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
((الله)) فتهدده أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وأقيمت الصلاة فصلى بطائفة ركعتين، ثم تأخروا وصلى بالطائفة الأخرى ركعتين، وكان للنبي صلى الله عليه وسلم أربعٌ وللقوم ركعتان)) (1)، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وهذا مثل الوجه الذي قبله (2) إلا أنه لا يسلم في الركعتين الأوليين)) (3). وقال الإمام النووي رحمه الله عن حديث جابر هذا ((صلى بطائفة ركعتين ثم تأخروا وصلى بالطائفة الأخرى ركعتين، فكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أربع ركعات وللقوم ركعتان)). قال [النووي] ((صلى بالطائفة الأولى ركعتين وسلم وسلموا، وبالثانية كذلك .. )) (4).
--------------------------------------------
((আল্লাহ)) এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাকে (শত্রুকে) ভীতি প্রদর্শন করলেন এবং সালাত শুরু করা হলো। তিনি একদলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর তারা পেছনে সরে গেলেন এবং তিনি অন্য দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চার রাকাত হলো এবং লোকজনের জন্য হলো দুই রাকাত)) (১)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এটি পূর্ববর্তী পদ্ধতির (وجه) অনুরূপ (২), তবে পার্থক্য হলো তিনি প্রথম দুই রাকাতে সালাম (تسليم) ফেরাননি)) (৩)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) জাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই হাদিস সম্পর্কে বলেন: ((তিনি একদলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তারা পেছনে সরে গেলেন এবং তিনি অন্য দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চার রাকাত এবং লোকজনের জন্য দুই রাকাত হলো))। [নববী] বলেন: ((তিনি প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম (تسليم) ফেরালেন ও তারাও সালাম ফেরাল, আর দ্বিতীয় দলের সাথেও একইভাবে...)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز ابن باز رحمه الله يقول: ((هذه صفة من أنواع صلاة الخوف: صلى ركعتين ثم سلم، ثم صلى بطائفة أخرى ركعتين ثم سلم، وهذا هو الصواب، ومن قال: إنه صلى بدون سلام فقد غلط، ومن أهم شيء عند طالب العلم إذا أشكل عليه بعض الأحاديث أن يجمع الروايات وطرقها حتى يتضح له الأمر)) (1).
النوع الخامس: يصلي الإمام بإحدى الطائفتين ركعة ثم تذهب ولا تقضي شيئًا، ثم تأتي الطائفة الأخرى فتصف خلفه ويصلي بهم ركعة ثم يسلم ولا تقضي شيئًا؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف بذي قرد: أرض من أرض بني سليم (2)، فصلى الناس خلفه صَفَّين: صفًّا يوازي العدو، وصفًّا خلفه، فصلى
--------------------------------------------
আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((এটি সালাতুল খাওফ (ভয়ের নামাজ)-এর অন্যতম পদ্ধতি: তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়লেন অতঃপর সালাম ফিরালেন, এরপর অপর একটি দলের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন এবং সালাম ফিরালেন। আর এটাই সঠিক (الصواب)। আর যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি সালাম ছাড়াই নামাজ পড়েছেন, সে ভুল করেছে। একজন ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখন তার কাছে কোনো হাদিস অস্পষ্ট মনে হয়, তখন সে যেন বর্ণনাসমূহ (روايات) ও এর সূত্রগুলো (طرق) একত্রিত করে, যাতে বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।)) (১)।
পঞ্চম প্রকার: ইমাম দুই দলের একটি দলের সাথে এক রাকাত নামাজ পড়বেন, এরপর তারা চলে যাবে এবং তারা কোনো কিছুই কাজা (قضاء) করবে না, তারপর অন্য দলটি আসবে এবং তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হবে, তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত নামাজ পড়বেন এবং সালাম ফিরাবেন, আর তারাও কোনো কিছুই কাজা (قضاء) করবে না; ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'জু-কারাদ' নামক স্থানে সালাতুল খাওফ আদায় করেছিলেন; যা বনু সুলাইম গোত্রের একটি এলাকা (২)। তখন মানুষ তাঁর পেছনে দুই কাতারে নামাজ আদায় করেছিল: এক কাতার ছিল শত্রুর মুখোমুখি এবং অপর কাতার ছিল তাঁর পেছনে। এরপর তিনি নামাজ পড়ালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল খাউফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بالصف الذي يليه ركعة، ثم نهض هؤلاء إلى مصاف هؤلاء، وهؤلاء إلى مصاف هؤلاء فصلى بهم ركعة أخرى)). ولفظ النسائي: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى بذي قرد فصفّ الناس خلفه صَفَّين: صفًّا خلفه وصفًّا موازي العدو، فصلى بالذين خلفه ركعة ثم انصرف هؤلاء إلى مكان هؤلاء، وجاء أولئك فصلى بهم ركعة ولم يقضوا)) (1)؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الخوف بهؤلاء ركعة، وبهؤلاء ركعة، ولم يقضوا)) (2)، وسمعت شيخنا الإمام يقول: ((صلى بطائفة ركعة وبطائفة ركعة، ولم يقضوا فكان له ركعتان)) (3).
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((فرض الله الصلاة على
--------------------------------------------
পেছনের সারির সাথে এক রাকাত পড়লেন, এরপর তারা অন্যদের অবস্থানে সরে গেল এবং অন্যরা এদের অবস্থানে এল, অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে আরও এক রাকাত সালাত আদায় করলেন))। আন-নাসায়ী-র শব্দে রয়েছে: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যি-কারাদ নামক স্থানে সালাত আদায় করলেন এবং লোকসকল তাঁর পেছনে দুই সারিতে কাতারবদ্ধ হলো: এক সারি তাঁর পেছনে এবং অন্য এক সারি শত্রুর মুখোমুখি। তিনি তাঁর পেছনের সারির সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তারা অন্যদের জায়গায় চলে গেল এবং অন্যরা আসল। তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারা আর কোনো সালাত পুনরায় আদায় করেনি)) (১); হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দলের সাথে এক রাকাত এবং ঐ দলের সাথে এক রাকাত ভয়ের সালাত আদায় করেছেন এবং তারা সালাত পুনরায় আদায় করেনি)) (২)। আমি আমাদের শাইখ ইমামকে বলতে শুনেছি: ((তিনি এক দলের সাথে এক রাকাত এবং অন্য দলের সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করেছেন এবং তারা সালাত পুনরায় আদায় করেনি, ফলে তাঁর সালাত হয়েছিল দুই রাকাত)) (৩)।
আর ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আল্লাহ তাআলা সালাত ফরজ করেছেন...
--------------------------------------------