(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: -)
صلاة الخوف   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة الخوف - مفهوم، وسماحة، وأنواع، وكيفية، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 42

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

সালাতুল খউফ   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: ফিকহী মাসয়ালাসমূহ


গ্রন্থ: সালাতুল খউফ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধারণা, উদারতা, প্রকারভেদ, পদ্ধতি, ও বিধিবিধান

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরায়সী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

35

_

صلاة الخوف

مفهوم، وسماحة، وأنواع، وكيفية، وأحكام

في ضوء الكتاب والسنة
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র

৩৫

_

ভয়ের সালাত (صلاة الخوف)

ধারণা (مفهوم), মাহাত্ম্য (سماحة), প্রকারভেদ (أنواع), পদ্ধতি (كيفية) এবং বিধিবিধান (أحكام)

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد.

فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة الخوف)) بيّنت فيها: مفهوم صلاة الخوف، وسماحة الإسلام ويسر الشريعة ومحاسنها مع الكمال ورفع الحرج، وأن الأصل في مشروعية صلاة الخوف: الكتاب، والسنة، وإجماع الصحابة رضي الله عنهم، وأوضحت أنواع صلاة الخوف، وأنها كلها مشروعة يختار المسلمون الصفة التي يحتاجون إليها، وبيّنت أن صلاة الخوف في الحضر تُؤدّى بدون قصرٍ لعددها، وذكرت صلاة الخوف حال المسايفة والتحام
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘সালাতুল খাওফ’ (ভীতিপ্রদকালীন সালাত) বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি সালাতুল খাওফের ধারণা, ইসলামের উদারতা, শরীয়তের সহজসাধ্যতা ও এর সৌন্দর্য এবং সেই সাথে এর পূর্ণতা ও কাঠিন্য দূর করার বিষয়টি বর্ণনা করেছি। সালাতুল খাওফ বৈধ হওয়ার মূল ভিত্তি হলো: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ঐকমত্য (إجماع)। আমি সালাতুল খাওফের বিভিন্ন পদ্ধতিও স্পষ্ট করেছি এবং দেখিয়েছি যে এর সবগুলোই শরীয়তসম্মত (مشروع); মুসলমানরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদ্ধতি বেছে নিতে পারে। আমি আরও বর্ণনা করেছি যে, আবাসে বা অবস্থানকালীন অবস্থায় সালাতুল খাওফ রাকাত সংখ্যা সংক্ষিপ্ত (قصر) না করেই আদায় করতে হয়। এছাড়াও আমি মুখোমুখি তলোয়ার যুদ্ধ ও প্রচণ্ড লড়াই চলাকালীন অবস্থার সালাতুল খাওফ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৪)
الحرب، وذكرت أقوال العلماء في ذلك.

وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز قدس الله روحه، ونوَّر ضريحه، ورفع درجاته في جنات النعيم.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً عنده، مباركًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر بعد عصر يوم الأربعاء الموافق 17/ 1/1422هـ.
যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা, এবং আমি এ বিষয়ে আলেমদের অভিমতসমূহ উল্লেখ করেছি।

আর আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ-এর সিদ্ধান্ত (تقريرات) ও অগ্রাধিকারমূলক (ترجيحات) মতসমূহ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন, তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে তাঁর নিকট কবুলকৃত, বরকতময় এবং একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান, শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক (نعم الوكيل)। আর আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের আদর্শ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।

লেখক

১৭/১/১৪২২ হিজরি, বুধবার আসরের পর লিখিত।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أولاً: مفهوم صلاة الخوف: الصلاة: لغة الدعاء، و‌‌اصطلاحًا: عبادة لله ذات أقوال وأفعال معلومة، مخصوصة، مفتتحة بالتكبير مختتمة بالتسليم، وسميت صلاة لاشتمالها على: دعاء العبادة، ودعاء المسألة (1).

و‌‌الخوف لغة: الفزع والذُّعر، قال ابن فارس رحمه الله: ((الخاء، والواو، والفاء أصل واحد يدل على الذُّعر والفزع، يقال: خفت الشيء خوفًا، وخيفة .. )) (2) مصدر خاف.

واصطلاحًا: اضطراب في النفس؛ لتوقع نزول مكروه، أو فوات محبوب، ومنه إخافة السبيل (3).

قال الإمام الحافظ المعروف بابن الملقن رحمه الله: ((والخوف غمٌّ على ما سيكون، والحزن غمٌّ على ما مضى)) (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان العرب، لابن منظور، باب الياء، فصل الصاد، 14/ 465، والمغني لابن قدامة، 3/ 5، وتقدم التفصيل في مفهوم الصلاة في منزلة الصلاة في الإسلام.

(2) معجم المقاييس في اللغة؛ لابن فارس، كتاب الخاء، باب الخاء والواو، وما يثلثهما، ص336.

(3) معجم لغة الفقهاء، للأستاذ الدكتور محمد رواس، ص180.

(4) الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، 4/ 281، 349.
‌‌প্রথমত: সালাতুল খাওফের (ভয়ের সালাত) ধারণা: সালাত: শাব্দিক অর্থে (لغة) দুআ, এবং‌ ‌পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): আল্লাহর এমন এক ইবাদত যা বিশেষ কিছু কথা ও কার্যাবলি সংবলিত, যা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। একে সালাত নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ইবাদতের দুআ এবং প্রার্থনার দুআ (১)।

এবং‌ ‌খাওফ শাব্দিক অর্থে (لغة): আতঙ্ক ও ভীতি। ইবনে ফারিস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((খা, ওয়াও এবং ফা একটি মূল ধাতু (أصل) যা ভীতি ও আতঙ্ক নির্দেশ করে; বলা হয়: আমি বিষয়টি নিয়ে ভয় পেয়েছি (খাউফান ও খিফাতান)...)) (২) এটি 'খাফা' ক্রিয়ার মূল শব্দ (مصدر)।

এবং পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): কোনো অপছন্দনীয় বিষয় ঘটার আশঙ্কা বা প্রিয় কোনো কিছু হারানোর উদ্বেগের কারণে মনের অস্থিরতা; পথভীতি প্রদর্শন (রাস্তা অনিরাপদ করা) এর অন্তর্ভুক্ত (৩)।

ইমাম হাফিজ (الحافظ), যিনি ইবনুল মুলাক্কিন (রহিমাহুল্লাহ) নামে সুপরিচিত, তিনি বলেন: ((ভয় হলো ভবিষ্যতে যা ঘটবে সেটির ব্যাপারে দুশ্চিন্তা, আর দুঃখ হলো যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার জন্য মনোকষ্ট)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব, বাব আল-ইয়া, ফাসল আস-সাদ, ১৪/৪৬৫; ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/৫; এবং ইসলামে সালাতের মর্যাদা অধ্যায়ে সালাতের ধারণার বিস্তারিত বিবরণ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(২) ইবনে ফারিস রচিত মুজামু মাকায়িসিল লুগাহ, কিতাবুল খা, বাবুল খা ওয়াল ওয়াও ওয়া মা ইউসাল্লিসুহুমা, পৃষ্ঠা ৩৩৬।

(৩) প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ রাওয়াস রচিত মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ১৮০।

(৪) আল-ইলাম বি-ফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম, ৪/২৮১, ৩৪৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ثانيًا: سماحة الإسلام ويسر الشريعة ومحاسنها مع الكمال ورفع الحرج، لا شك أن دين الإسلام: دين الرحمة، والبركة، والإحسان، والحكمة، ودين فطرة، ودين العقل، والصلاح، والفلاح، والشرع الإسلامي لا يأتي بما تحيله العقول، ولا بما ينقضه العلم الصحيح، وهذا من أكبر الأدلة على أن ما عند الله عز وجل محكم ثابت، صالح لكل زمان ومكان (1).

وقد دلت الأدلة من القرآن العظيم، والسنة النبوية الشريفة على يسر الشريعة الإسلامية وسماحتها، وعلى رفع الحرج،‌‌ ومن هذه الأدلة ما يأتي:

‌‌أ - من القرآن الكريم آيات كثيرة وهي على نوعين:

‌‌النوع الأول: الآيات الكريمة التي تنص على نفي الحرج، ومنها:

1 - قال الله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ

--------------------------------------------

(1) انظر: الدرة المختصرة في محاسن الدين الإسلامي، للعلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي، ص17، 19، 39.
দ্বিতীয়ত: ইসলামের উদারতা ও শরিয়তের সহজবোধ্যতা এবং এর পূর্ণতার পাশাপাশি সৌন্দর্যসমূহ ও সংকীর্ণতা দূর করা (رفع الحرج); এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইসলাম ধর্ম হলো রহমত, বরকত, ইহসান, হিকমত, ফিতরাত (فطرة), বিবেক, সংশোধন ও সফলতার ধর্ম। আর ইসলামি শরিয়ত এমন কিছু নিয়ে আসে না যা বুদ্ধি বা বিবেক অসম্ভব মনে করে, আর না এমন কিছু যা সঠিক জ্ঞান (العلم الصحيح) দ্বারা খণ্ডিত হয়। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তা সুদৃঢ় (محكم) ও অটল হওয়ার এবং সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী হওয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রমাণ (১)।

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাতে নববী থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি ইসলামি শরিয়তের সহজতা ও উদারতা এবং সংকীর্ণতা দূর করার বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করেছে।‌‌ আর এই প্রমাণাদির মধ্যে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো রয়েছে:

‌‌ক - পবিত্র কুরআন থেকে অসংখ্য আয়াত রয়েছে এবং সেগুলো দুই প্রকারের:

‌‌প্রথম প্রকার: সেই সকল সম্মানিত আয়াত যা সংকীর্ণতা দূর করার (نفي الحرج) ওপর সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দুররাতুল মুখতাসারাহ ফি মাহাসিনিদ দীনিল ইসলামি, আল্লামা আবদুর রহমান বিন নাসের আস-সা'দী, পৃষ্ঠা ১৭, ১৯, ৩৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৭)
حَرَجٍ} (1)، أي لم يجعل عليكم في الدين مشقةً، وعسراً، بل يسره غاية التيسير، وسهّله غاية السهولة، فلم يُلزم إلا بما هو سهل على النفوس: لا يُثقلها، ثم إذا عرض بعض الأسباب الموجبة للتخفيف خفَّف سبحانه وتعالى ما أمر به: إما بإسقاطه، أو إسقاط بعضه، ويؤخذ من هذه الآية قاعدة شرعية: وهي أن المشقة تجلب التيسير، والضرورات تبيح المحظورات، فيدخل في ذلك من الأحكام الفرعية شيء كثير معروف في كتب الأحكام (2).

2 - قال الله عز وجل: {مَا يُرِيدُ الله لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (3) لم يجعل الله سبحانه وتعالى علينا فيما شرع لنا من حرج، ولا مشقة، ولا عسر، وإنما هو رحمة منه بعباده (4).

3 - قال تعالى: {لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى

--------------------------------------------

(1) سورة الحج، الآية: 78.

(2) انظر: تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، للسعدي، ص547.

(3) سورة المائدة، الآية: 6.

(4) انظر: تيسير الكريم الرحمن في تفسير المنان، للسعدي، ص224.
সংকীর্ণতা} (১), অর্থাৎ তিনি দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ওপর কোনো কষ্ট ও কাঠিন্য সৃষ্টি করেননি, বরং একে সর্বোচ্চ সহজ করেছেন এবং অত্যন্ত সহজসাধ্য করেছেন। ফলে তিনি কেবল এমন বিষয়ই আবশ্যক করেছেন যা নফসের জন্য সহজ: যা তাকে ভারাক্রান্ত করে না। অতঃপর যখন লাঘব করার মতো কোনো কারণ উপস্থিত হয়, তখন মহান আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা শিথিল করেন: হয় তা রহিত করার মাধ্যমে, অথবা তার কিছু অংশ রহিত করার মাধ্যমে। এই আয়াত থেকে একটি শরয়ি মূলনীতি গৃহীত হয়: আর তা হলো ‘কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে’ এবং ‘প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে’। এর অধীনে শাখা-প্রশাখা সংবলিত বিধিবিধানের এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় যা বিধিবিধানের গ্রন্থগুলোতে সুপরিচিত (২)।

২ - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (৩)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তাতে কোনো সংকীর্ণতা, কষ্ট বা কাঠিন্য রাখেননি। বরং এটি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এক রহমত (৪)।

৩ - মহান আল্লাহ বলেন: {দুর্বলদের ওপর কোনো গুনাহ নেই এবং অসুস্থদের ওপরও নয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৮।

(২) দেখুন: তায়সিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, সাদি, পৃ. ৫৪৭।

(৩) সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬।

(৪) দেখুন: তায়সিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরিল মান্নান, সাদি, পৃ. ২২৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৮)
وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُواْ لله وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَالله غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (1)، وهذه الآية أصل في سقوط التكاليف عن العاجز، فكل من عجز عن شيء سقط عنه، فتارة إلى بدل هو فعل، وتارة إلى عزم هو غرم، ولا فرق بين العجز من جهة المال، والعجز من جهة القوة (2)،ويستدل بهذه الآية على قاعدة وهي: أن من أحسن إلى غيره في نفسه أو في ماله، ونحو ذلك، ثم ترتب على إحسانه نقص أو تلف أنه غير ضامن، ولا سبيل على المحسنين، كما أنه يدل على أن غير المحسن وهو السيئ: كالمفرط والمتعدي أن عليه الضمان (3).

4 - قال الله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} (4)، فأصل الأوامر

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 91، وانظر: سورة النور: 61، وسورة الأحزاب: 37 - 38، وسورة الفتح: 17.

(2) انظر: رفع الحرج في الشريعة الإسلامية، للدكتور صالح بن حميد، ص61.

(3) انظر: تيسير الكريم الرحمن، للسعدي، ص348.

(4) سورة البقرة، الآية: 286، والأعراف: 42، والمؤمنون: 57 - 62، والبقرة: 33، والطلاق: 71، والأنعام: 152.
{আর তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই যারা ব্যয় করার মতো কিছু পায় না, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অকৃত্রিম অনুরাগী থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের অবকাশ নেই। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (১); এই আয়াতটি অক্ষম (العاجز) ব্যক্তির ওপর থেকে শরিয়তের বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি মূল ভিত্তি (أصل)। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কাজ করতে অক্ষম হয়, তার ওপর থেকে সেই দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়; কখনো তা কোনো আমল বা কাজের বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হয়, আবার কখনো তা দৃঢ় সংকল্পের দিকে পর্যবসিত হয়। সম্পদের দিক থেকে অক্ষম হওয়া এবং শারীরিক শক্তির দিক থেকে অক্ষম হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (২)। এই আয়াতের মাধ্যমে একটি মূলনীতি (قاعدة) সাব্যস্ত করা হয় যে, যে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে অথবা অন্যের সম্পদের ক্ষেত্রে অন্যের প্রতি কল্যাণ বা ইহসান করে, অতঃপর তার সেই ইহসানের ফলে কোনো ঘাটতি বা বিনাশ ঘটে, তবে সে দায়বদ্ধ (ضامن) হবে না এবং সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই। তদ্রূপ এটি এই বিষয়ের ওপরও প্রমাণ বহন করে যে, যে ব্যক্তি সৎকর্মশীল নয় বরং মন্দ কাজ করে—যেমন: অবহেলাকারী (المفرط) এবং সীমা লঙ্ঘনকারী (المتعدي)—তার ওপর ক্ষতিপূরণ বা দায়বদ্ধতা (الضمان) বর্তাবে (৩)।

৪ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেন না। সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে} (৪), সুতরাং নির্দেশসমূহের মূল ভিত্তি হলো...

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৯১; এবং দেখুন: সূরা আন-নূর: ৬১, সূরা আল-আহযাব: ৩৭-৩৮ এবং সূরা আল-ফাতহ: ১৭।

(২) দেখুন: রাফউল হারাজ ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, ড. সালেহ বিন হুমাইদ, পৃষ্ঠা: ৬১।

(৩) দেখুন: তাইসীরুল কারীম আল-রাহমান, আল-সা'দী, পৃষ্ঠা: ৩৪৮।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬, আল-আ’রাফ: ৪২, আল-মুমিনূন: ৫৭-৬২, আল-বাকারাহ: ৩৩, আত-তালাক: ৭১, আল-আনআম: ১৫২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৯)
والنواهي ليست الأمور التي تشق على النفوس، بل هي غذاء للأرواح، ودواء للأبدان، وحمية عن الضرر، فالله أمر العباد بما أمرهم به رحمة وإحسانًا، ومع هذا إذا حصل بعض الأعذار التي هي مظنة المشقة حصل التخفيف والتسهيل، إما بإسقاطه عن المكلف أو إسقاط بعضه، كما في التخفيف عن المريض، والمسافر، والخائف، وغيرهم (1) وغير ذلك من الآيات.

 

‌‌النوع الثاني: الآيات التي تدل على التيسير والتخفيف، ومنها:

1 - قال الله عز وجل: {يُرِيدُ الله بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} (2) أي يريد الله تعالى أن ييسِّر عليكم الطرق الموصلة إلى رضوانه أعظم تيسير، ويسهِّلها أبلغ تسهيل؛ ولهذا كان جميع ما أمر به عباده في غاية السهولة في أصله، وإذا حصلت بعض العوارض الموجبة لثقله سهَّله تسهيلاً آخر: إما بإسقاطه، أو تخفيفه بأنواع التخفيفات،

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير الكريم الرحمن، للسعدي، ص120.

(2) سورة البقرة، الآية: 185.
আর নিষেধসমূহ এমন কোনো বিষয় নয় যা আত্মার জন্য কষ্টকর হয়, বরং এগুলো হলো রুহের খোরাক, শরীরের ঔষধ এবং ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তা দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবেই দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও যখন এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যা কষ্টের কারণ হতে পারে, তখন সেখানে লাঘব করা (التخفيف) এবং সহজীকরণ (التسهيل) কার্যকর হয়; হয় তা মুকাল্লাফ বা বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির উপর থেকে দায়িত্বটি রহিত করার মাধ্যমে অথবা তার অংশবিশেষ কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। যেমনটি অসুস্থ, মুসাফির, ভীত ব্যক্তি এবং অন্যদের ক্ষেত্রে লাঘব করার (التخفيف) বিষয়ে হয়েছে (১) এবং এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: ওই সকল আয়াত যা সহজীকরণ (التيسير) ও লাঘব করার (التخفيف) প্রতি নির্দেশ করে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কোনো কষ্ট বা জটিলতা চান না} (২) অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথসমূহকে অত্যন্ত সহজ করতে চান এবং সেগুলোকে সর্বোচ্চ সাবলীল করতে চান; এই কারণেই তিনি তাঁর বান্দাদেরকে যা কিছু আদেশ করেছেন তা মূলত অত্যন্ত সহজ। আর যখন কোনো ভারবোধ সৃষ্টিকারী পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে, তখন তিনি তা অন্যভাবে সহজ করে দেন: হয় তা রহিত করার মাধ্যমে, অথবা বিভিন্ন প্রকার লাঘব করার (التخفيف) পদ্ধতির মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাইসিরুল কারিমির রহমান, আস-সাদী রচিত, পৃ. ১২০।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১০)
وهذه جملة لا يمكن تفصيلها؛ لأن تفاصيلها جميع الشرعيات، ويدخل فيها جميع الرخص والتخفيفات (1).

2 - قال تبارك وتعالى: {يُرِيدُ الله أَن يُخَفِّفَ عَنكُمْ وَخُلِقَ الإِنسَانُ ضَعِيفًا} (2) أي بسهولة ما أمركم به وما نهاكم عنه، ثم مع حصول المشقة في بعض الشرائع أباح لكم ما تقتضيه حاجاتكم، وذلك لرحمته التامة، وإحسانه الشامل، وعلمه، وحكمته بضعف الإنسان من جميع الوجوه: ضعف البنية، وضعف الإرادة، وضعف العزيمة، وضعف الإيمان، وضعف الصبر، فناسب ذلك أن يخفف الله عنه ما يَضْعُف عنه، وما لا يطيقه إيمانه وصبره وقوته (3).

3 - قال تعالى: {وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَى} (4) وهذه بشارة كبيرة أن الله عز وجل ييسِّر رسوله صلى الله عليه وسلم لليسرى في جميع أموره،

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير الكريم الرحمن، للسعدي، ص87.

(2) سورة النساء، الآية: 28.

(3) انظر: تيسير الكريم الرحمن، للسعدي، ص175.

(4) سورة الأعلى، الآية: 8.
এটি এমন একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যা বিস্তারিত বর্ণনা করা সম্ভব নয়; কারণ এর বিস্তারিত বিবরণের অন্তর্ভুক্ত হলো সকল শরিয়তসম্মত বিষয়াদি, এবং এর মধ্যে সকল প্রকার বৈধ ছাড় (رخصة) ও লাঘব (تخفيف) অন্তর্ভুক্ত হয় (১)।

২ - মহান ও বরকতময় আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের থেকে (বোঝা) হালকা করতে চান এবং মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে} (২)। অর্থাৎ তিনি তোমাদের যা আদেশ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন তা সহজ করার মাধ্যমে। অতঃপর কিছু শরিয়তসম্মত বিধানে কাঠিন্য দেখা দিলে তিনি তোমাদের প্রয়োজনের নিরিখে তা তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন; আর এটি তাঁর পূর্ণাঙ্গ রহমত, ব্যাপক অনুগ্রহ, জ্ঞান এবং মানুষের সর্বমুখী দুর্বলতা (ضعف) সংক্রান্ত হিকমতের কারণে: যেমন দৈহিক দুর্বলতা, ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা, সংকল্পের দুর্বলতা, ইমানের দুর্বলতা এবং ধৈর্যের দুর্বলতা। ফলে এটিই সমীচীন ছিল যে, আল্লাহ মানুষের জন্য সেই সব বিষয় লাঘব (تخفيف) করে দেবেন যা পালনে সে দুর্বল (ضعف) এবং যা তার ইমান, ধৈর্য ও শক্তি সহ্য করতে পারে না (৩)।

৩ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব} (৪)। এটি একটি বিশাল সুসংবাদ যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সকল কাজে সহজতার জন্য পথ সুগম করে দেবেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাইসিরুল কারিমির রহমান, আস-সাদি, পৃ. ৮৭।

(২) সুরা আন-নিসা, আয়াত: ২৮।

(৩) দেখুন: তাইসিরুল কারিমির রহমান, আস-সাদি, পৃ. ১৭৫।

(৪) সুরা আল-আলা, আয়াত: ৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১১)
ويجعل شرعه ودينه يسرًا (1).

4 - قال عز وجل: {فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا * إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا} (2) هذه بشارة عظيمة أنه كل ما وُجد عسر وصعوبة فإن اليسر يقارنه، حتى لو دخل العسر جحر ضب لدخل عليه اليسر فأخرجه، كما قال الله تعالى: {سَيَجْعَلُ الله بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا} (3) وتعريف ((العسر)) في الآيتين يدل أنه واحد، وتنكير ((اليسر)) يدل على تكراره، فلن يغلب عسرٌ يسرين، وفي تعريف العسر بالألف واللام الدالة على استغراق العموم يدل على أن كل عسر وإن بلغ من الصعوبة ما بلغ فإن في آخره التيسير ملازم له (4).

 

‌‌ب - الأدلة من السنة على اليسر والسماحة والسهولة كثيرة منها:

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير الكريم الرحمن، ص921.

(2) سورة الشرح، الآيتان: 5 - 6.

(3) سورة الطلاق، الآية: 7.

(4) انظر: تيسير الكريم الرحمن، ص 929.
এবং তিনি তাঁর শরিয়ত ও দ্বীনকে সহজ করেছেন (১)।

৪ - মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে} (২) এটি এক মহান সুসংবাদ যে, যখনই কোনো কষ্ট ও কঠিন অবস্থা দেখা দেয়, স্বস্তি তার সাথী হয়। এমনকি কষ্ট যদি কোনো গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে, তবে স্বস্তিও সেখানে প্রবেশ করে তাকে বের করে আনবে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ কষ্টের পর স্বস্তি দান করবেন} (৩) এবং এই দুই আয়াতে 'আল-উসর' (কষ্ট) শব্দটিকে নির্দিষ্ট (معرفة) রূপে ব্যবহার করা প্রমাণ করে যে এটি একটিই, আর 'ইউসর' (স্বস্তি) শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (نكرة) রূপে ব্যবহার করা এর পুনরাবৃত্তি বোঝায়। সুতরাং একটি কষ্ট কখনোই দুটি স্বস্তির ওপর প্রবল হতে পারবে না। আর 'আল-উসর' শব্দে আলিফ এবং লাম যুক্ত হওয়া যা সাধারণ ব্যাপকতা (استغراق العموم) বোঝায়, তা একথাই প্রমাণ করে যে প্রত্যেক কষ্ট চাই তা যতই কঠিন হোক না কেন, পরিশেষে স্বস্তি তার অনিবার্য সাথী (৪)।

 

‌‌খ - সুন্নাহ থেকে সহজসাধ্যতা, উদারতা ও সরলতার প্রমাণসমূহ অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাইসীরুল কারীমুর রহমান, পৃষ্ঠা ৯২১।

(২) সূরা আশ-শারহ, আয়াত: ৫ - ৬।

(৩) সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৭।

(৪) দেখুন: তাইসীরুল কারীমুর রহমান, পৃষ্ঠা ৯২৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১২)
1 - عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الدين يسر، ولن يشادَّ الدين أحدٌّ إلا غلبه (1)، فسددوا، وقاربوا، وأبشروا، واستعينوا: بالغدوة، والروحة، وشيء من الدُّلجة (2) [القصد القصد (3) تبلغوا))] (4).

--------------------------------------------

(1) ولن يشاد الدين أحد إلا غلبه: المعنى لا يتعمق أحد في الأعمال الدينية ويترك الرفق إلا عجز وانقطع فيُغلَب، وليس المراد منع طلب الأكمل في العبادة؛ فإنه من الأمور المحمودة، بل منع الإفراط المؤدي إلى الملال، أو المبالغة في التطوع المفضي إلى ترك الأفضل، أو إخراج الفرض عن وقته كمن بات يصلي الليل كله ويغالب النوم إلى أن غلبته عيناه في آخر الليل فنام عن صلاة الصبح في الجماعة، أو إلى أن خرج الوقت المختار، أو إلى أن خرجت الشمس فخرج وقت الفريضة. فتح الباري للحافظ ابن حجر، 1/ 94.

(2) الغدوة: أول النهار، والروحة: آخر النهار بعد الزوال، والدلجة السير آخر الليل، وقيل: سير الليل كله، وهذه الأوقات أطيب أوقات المسافر، وكأنه صلى الله عليه وسلم خاطب مسافرًا إلى مقصد، فنبهه على أوقات نشاطه؛ لأن المسافر إذا سافر الليل والنهار جميعًا عجز وانقطع، وإذا تحرى السير في هذه الأوقات المنشطة أمكنه المداومة من غير مشقة، وحسن هذه الاستعارة أن الدنيا في الحقيقة دار نقلة إلى الآخرة، وأن هذه الأوقات بخصوصها أروح ما يكون فيها البدن للعبادة. فتح الباري لابن حجر، 1/ 95.

(3) القصد، القصد: بالنصب فيهما الإغراء، والقصد: الأخذ بالأمر الأوسط، فالأولى للعبد أن لا يجهد نفسه بحيث يعجز عن العمل وينقطع، بل يعمل بتلطف وتدرج ليدوم عمله ولا ينقطع. فتح الباري للحافظ ابن حجر، 1/ 95.

(4) البخاري، كتاب الإيمان، باب الدين يسر، برقم 39، وما بين المعقوفين من كتاب الرقاق، باب: كيف كان عيش النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وتخليهم عن الدنيا، برقم 6463.
১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে (১)। অতএব তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষাংশে ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো (২) [পরিমিতিবোধ বজায় রাখো, পরিমিতিবোধ বজায় রাখো (৩); তবেই তোমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে] (৪)।"

--------------------------------------------

(১) "যে কেউ দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে": এর অর্থ হলো, কেউ যদি ধর্মীয় কার্যাবলিতে অতি-গভীরতা অবলম্বন করে এবং নম্রতা বর্জন করে, তবে সে শেষ পর্যন্ত অক্ষম হয়ে পড়ে এবং আমল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; ফলে দ্বীন তার ওপর বিজয়ী হয়। এর অর্থ ইবাদতে পূর্ণতা অন্বেষণ করতে নিষেধ করা নয়; কারণ তা প্রশংসনীয় বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। বরং এর উদ্দেশ্য হলো সেই অতিশয়তা রোধ করা যা বিরক্তির উদ্রেক করে, অথবা নফল ইবাদতে এমন অতিরঞ্জন যা অধিকতর উত্তম আমল ত্যাগের কারণ হয়, কিংবা ফরজ ইবাদতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বের করে দেয়। যেমন—কেউ সারা রাত জেগে নফল সালাত আদায় করল এবং ঘুমের সাথে লড়াই করল, পরিশেষে শেষ রাতে ঘুম তাকে কাবু করে ফেলল এবং সে জামাতের সাথে ফজরের সালাত থেকে বঞ্চিত হলো, অথবা ফজরের পছন্দনীয় সময় পার হয়ে গেল, কিংবা সূর্য উদিত হয়ে ফরজ সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। ফাতহুল বারী, হাফেজ ইবনে হাজার, ১/৯৪।

(২) গাদওয়াহ: দিনের শুরু। রাওহাহ: সূর্য ঢলে পড়ার পর দিনের শেষাংশ। দুলজাহ: রাতের শেষাংশের ভ্রমণ; মতান্তরে সারা রাত ভ্রমণ। এই সময়গুলো একজন মুসাফিরের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেন এখানে কোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সফরকারীকে সম্বোধন করেছেন এবং তাকে তার প্রাণচঞ্চলতার সময়গুলো সম্পর্কে সচেতন করেছেন। কারণ একজন মুসাফির যদি দিন-রাত একাধারে সফর করে তবে সে ক্লান্ত ও অক্ষম হয়ে পড়বে এবং তার পথ চলা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সে যদি এই প্রাণবন্ত সময়গুলোতে সফর করার চেষ্টা করে, তবে কোনো কষ্ট ছাড়াই তার সফর অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এই রূপকটির চমৎকারিত্ব হলো এই যে, দুনিয়া মূলত আখিরাতের অভিমুখে পাড়ি জমানোর একটি স্থান এবং বিশেষ এই সময়গুলো ইবাদতের ক্ষেত্রে শরীরের জন্য সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক। ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, ১/৯৫।

(৩) আল-কাসদ, আল-কাসদ: উভয় শব্দই এখানে উৎসাহ প্রদানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর আল-কাসদ অর্থ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। বান্দার জন্য উচিত হলো নিজেকে এমন পরিশ্রমে লিপ্ত না করা যার ফলে সে আমল করতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; বরং তার উচিত নম্রতা ও ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করা যাতে তার আমল স্থায়ী হয় এবং বিচ্ছিন্ন না হয়। ফাতহুল বারী, হাফেজ ইবনে হাজার, ১/৯৫।

(৪) বুখারী, কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: দ্বীন সহজ, হাদিস নং ৩৯। বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু কিতাবুর রিকাক, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনযাপন এবং দুনিয়া বিমুখতা, হাদিস নং ৬৪৬৩ থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - قال الإمام البخاري رحمه الله: بابٌ: الدين يسرٌ، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((أحب الدين إلى الله الحنيفية السمحة)) (1)، والمقصود أن أحب خصال الدين الحنيفية، وخصال الدين كلها محبوبة، لكن ما كان منها سمحًا - أي سهلاً - فهو أحب إلى الله تعالى، والحنيفية: ملة إبراهيم، والحنيف في اللغة ما كان على ملة إبراهيم، وسمي إبراهيم حنيفًا؛ لميله عن الباطل إلى الحق؛ لأن أصل الحنف الميل، والسمحة: السهلة: أي إنها مبنية على السهولة (2).

3 - وعن أسامة بن شريك رضي الله عنه قال: شهدتُ الأعراب

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الإيمان، باب: الدين يسر، قبل الحديث رقم 39، قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري، 1/ 94: ((وهذا الحديث المعلق لم يسنده المؤلف في هذا الكتاب (يعني صحيح البخاري) لأنه ليس على شرطه، نعم وصله في كتاب الأدب المفرد [رقم 287، وكذا وصله أحمد بن حنبل برقم 2107] وغيره، بإسناد حسن، فتح الباري،

1/ 94، وحسنه الألباني لغيره في صحيح الأدب المفرد، ص122، وفي سلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 881،وانظر: أيضًا سلسلة الأحاديث الصحيحة، رقم 1635.

(2) انظر: فتح الباري، لابن حجر، 1/ 94.
2 - ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: অনুচ্ছেদ: দ্বীন সহজ। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন হলো সহজ ও একনিষ্ঠতা (হানিফিয়াতুস সামহা)।" (১) এর উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের সবচেয়ে প্রিয় বৈশিষ্ট্য হলো একনিষ্ঠতা (হানিফিয়াহ)। দ্বীনের সকল বৈশিষ্ট্যই প্রিয়, তবে তার মধ্যে যা সহজ—অর্থাৎ সাবলীল—তা মহান আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। আর 'হানিফিয়াহ' হলো ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আদর্শ। আভিধানিক অর্থে 'হানিফ' হলো যা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে 'হানিফ' বলা হয়েছে বাতিল থেকে হকের দিকে তাঁর ঝুঁকে থাকার কারণে; কেননা 'হানিফ' শব্দের মূল অর্থ হলো ঝোঁকা। আর 'সামহা' অর্থ সহজ; অর্থাৎ এটি সহজবোধ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত (২)।

3 - উসামা ইবনে শারীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বেদুইনদের উপস্থিত হতে দেখলাম...

--------------------------------------------

(১) বুখারী, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: দ্বীন সহজ, ৩৯ নম্বর হাদিসের পূর্বে। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী (১/৯৪) গ্রন্থে বলেন: "এই ঝুলন্ত (معلق) হাদিসটি লেখক এই কিতাবে (অর্থাৎ সহীহ বুখারী) মুসনাদ হিসেবে উল্লেখ করেননি, কারণ এটি তাঁর শর্ত (شرط) অনুযায়ী ছিল না। তবে তিনি এটি আল-আদাবুল মুফরাদ কিতাবে [নং ২৮৭, এবং অনুরূপভাবে আহমাদ ইবনে হাম্বলও নং ২১০৭ এ এটি বর্ণনা করেছেন] এবং অন্যান্য কিতাবে হাসান (حسن) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন।" ফাতহুল বারী, ১/৯৪। আলবানী একে সহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ (পৃ. ১২২) এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা (নং ৮৮১) গ্রন্থে হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরও দেখুন: সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা, নং ১৬৩৫।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, ১/৯৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يسألون النبي صلى الله عليه وسلم: أعلينا حرج في كذا؟ أعلينا حرج في كذا؟ فقال لهم: ((عباد الله وضع الله الحرج إلا من اقترض من عرض أخيه شيئًا فذلك الذي حرج)) (1)، فقالوا:

يا رسول الله، هل علينا جناح أن نتداوى؟ قال: ((تداووا عباد الله، فإن الله سبحانه لم يضع داءً إلا وضع معه شفاء، إلا الهرم)) قالوا: يا رسول الله، ما خير ما أُعطي العبد؟ قال: ((خلق حسن)) (2).

4 - وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يسِّروا ولا تعسِّروا، وبشِّروا ولا تنفِّروا)) (3).

5 - وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه ومعاذ بن جبل إلى اليمن فقال: ((يسِّرا ولا تُعسِّرا، وبشِّرا

--------------------------------------------

(1) فذلك الذي حرج: أي الذي حُرم.

(2) ابن ماجه بلفظه، في كتاب الطب، باب ما أنزل الله داءً إلا أنزل له شفاء، برقم 4336، وأحمد، 4/ 278، والحاكم، 4/ 198، وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 3/ 158، وانظر: سلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 433.

(3) متفق عليه: البخاري، كتاب العلم، باب ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يتخولهم بالموعظة والعلم كي لا ينفروا، برقم 69، ومسلم، كتاب الجهاد، باب في الأمر بالتيسير وترك التنفير، برقم 1734.
তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করছিলেন: অমুক কাজে কি আমাদের কোনো গুনাহ আছে? অমুক কাজে কি আমাদের কোনো গুনাহ আছে? তিনি তাদের বললেন: "হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহ তাআলা সংকীর্ণতা বা গুনাহ তুলে নিয়েছেন, তবে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মানহানি করবে, সেই মূলত গুনাহগার হবে" (১)। তারা বললেন:

হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য কি চিকিৎসা গ্রহণ করা বৈধ? তিনি বললেন: "হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময় তিনি দান করেননি, কেবল বার্ধক্য ব্যতীত।" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! মানুষকে দান করা শ্রেষ্ঠ বস্তু কী? তিনি বললেন: "উত্তম চরিত্র" (২)।

৪ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও এবং বিতৃষ্ণ করো না" (৩)।

৫ - আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এবং মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং বললেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না, সুসংবাদ দাও

--------------------------------------------

(১) 'সেই মূলত গুনাহগার হবে': অর্থাৎ যে গুনাহে লিপ্ত হলো বা যাকে নিষিদ্ধ (حرم) করা হলো।

(২) ইবনে মাজাহ-তে এই শব্দে বর্ণিত, চিকিৎসা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার নিরাময় তিনি দেননি, হাদিস নং ৪৩৩৬; আহমদ ৪/২৭৮; হাকেম ৪/১৯৮; আল্লামা আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ ৩/১৫৮ গ্রন্থে; আরও দেখুন: সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা, হাদিস নং ৪৩৩।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, ইলম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের বিরক্তি এড়াতে তাদের মাঝে মাঝে ওয়াজ ও ইলমের মাধ্যমে উপদেশ দিতেন, হাদিস নং ৬৯; মুসলিম, জিহাদ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সহজ করার নির্দেশ ও বিতৃষ্ণ করা থেকে বিরত থাকা প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১৭৩৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا تُنفِّرا، وتطاوعا ولا تختلفا)) (1).

قال الإمام النووي رحمه الله: ((إنما جمع هذه الألفاظ بين الشيء وضده؛ لأنه قد يفعلهما في وقتين، فلو اقتصر على ((يسِّروا)) لصدق ذلك على من يسر مرة أو مرات وعسر في معظم الحالات، فإذا قال ((ولا تُعسِّروا)) انتفى التعسير في جميع الأحوال من جميع وجوهه وهذا هو المطلوب، وكذلك يقال في ((يسِّرا ولا تُعسِّرا، وتطاوعا ولا تختلفا)) (2). وغير ذلك من السنة كثير (3).

 

‌‌ج - منهج الصحابة رضي الله عنهم ومن تبعهم بإحسان: اتباع اليُسر والسماحة، والصحابة رضي الله عنهم هم الذين يطبقون الكتاب والسنة، وقد جاء عنهم أخبار كثيرة طبقوا فيها الإسلام كما جاء، وعملوا بالتيسير وتركوا التعسير؛ وذلك لفهم الكتاب والسنة، وعدم التنطع في الدين؛

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الجهاد، باب الأمر بالتيسير وترك التنفير، برقم 1733.

(2) شرح النووي على صحيح مسلم، 11/ 284.

(3) انظر: رفع الحرج في الشريعة الإسلامية، للدكتور صالح بن عبد الله بن حميد، ص75 - 86، فقد ذكر ثلاثين دليلاً من السنة على رفع الحرج.
এবং বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না; তোমরা পরস্পরের অনুগত হও এবং মতভেদ করো না)) (১)।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তিনি কেবল এই শব্দগুলো এবং এদের বিপরীত শব্দগুলোকে একত্রিত করেছেন; কারণ কোনো ব্যক্তি হয়তো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এ উভয়টিই করতে পারে। সুতরাং তিনি যদি কেবল 'সহজ করো' বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সত্য হতো যে এক বা একাধিকবার সহজ করেছে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কঠিন করেছে। তবে তিনি যখন বললেন 'কঠিন করো না', তখন সকল অবস্থায় এবং সকল দিক থেকে কাঠিন্য আরোপের বিষয়টি নাকচ হয়ে গেল, আর এটাই কাম্য। অনুরূপভাবে ‘তোমরা উভয়ে সহজ করো এবং কঠিন করো না, এবং পরস্পরের অনুগত থাকো ও মতভেদ করো না’ (২) এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।)) সুন্নাহ থেকে এর আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে (৩)।

 

‌‌গ - সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের কর্মপন্থা (منهج): সহজসাধ্যতা ও উদারতা অনুসরণ করা। সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন তাঁরাই যারা কিতাব ও সুন্নাহর বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তাঁদের থেকে অনেক বর্ণনা (أخبار) বর্ণিত হয়েছে যেখানে তাঁরা ইসলামকে যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবেই প্রয়োগ করেছেন এবং তাঁরা সহজ করার নীতি অনুসরণ করেছেন ও কাঠিন্য বর্জন করেছেন। আর এটি ছিল কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক উপলব্ধি এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করার ফল;

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ, সহজ করার নির্দেশ এবং বিদ্বেষ সৃষ্টি বর্জন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৭৩৩।

(২) সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা, ১১/ ২৮৪।

(৩) দেখুন: ডক্টর সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ রচিত ‘রাফউল হারাজ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ’, পৃষ্ঠা ৭৫ - ৮৬; তিনি সুন্নাহ থেকে কাঠিন্য দূরীকরণের উপর ৩০টি দলিল উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولهذا جاء عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: ((من كان منكم مستنًّا فليستنَّ بمن قد مات؛ فإن الحي لا تؤمن عليه الفتنة، أولئك أصحاب محمد؛ فإنهم كانوا أبرَّ هذه الأمة قلوبًا، وأعمقها علمًا، وأقلَّها تكلُّفًا، وأقومَها هديًا، اختارهم الله تعالى لصحبة نبيه، [ولإقامة دينه] فاعرفوا لهم فضلهم، واتبعوهم في آثارهم؛ فإنهم كانوا على الهدى المستقيم)) (1).

وما تقدم من أدلة الكتاب والسنة، وهدي الصحابة يدل على رفع الحرج عن الأمة، وأن الإسلام دين اليسر والسماحة (2).

 

‌‌ثالثًا: الأصل في مشروعية صلاة الخوف: الكتاب والسنة، والإجماع:

--------------------------------------------

(1) جاء هذا الأثر في عدة روايات، أخرجها ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله، 2/ 946، برقم 1807، 1810، وانظر: إغاثة اللهفان لابن القيم، 1/ 159، ومجمع الزوائد للهيثمي، 1/ 181.

(2) انظر: رفع الحرج، لابن حميد، ص87، ورفع الحرج في الشريعة الإسلامية دراسة أصولية تأصيلية للدكتور يعقوب عبد الوهاب، ص68.
এ কারণেই ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কারো অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা ইন্তেকাল করেছেন; কারণ জীবিত ব্যক্তি ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়। তারা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ; তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতা বা লৌকিকতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত এবং হিদায়াতের ওপর সবচেয়ে সুদৃঢ়। মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য এবং [তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার] জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো; কারণ তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।" (১)।

কুরআন ও সুন্নাহর পূর্বোক্ত দলিলসমূহ এবং সাহাবীগণের আদর্শ এই উম্মতের ওপর থেকে কষ্ট লাঘব করার প্রমাণ দেয় এবং এ কথা স্পষ্ট করে যে, ইসলাম হলো সহজ ও সহনশীলতার দ্বীন (২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: সালাতুল খাওফ (ভয়কালীন সালাত) বিধিবদ্ধ হওয়ার মূল ভিত্তি: কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع):

--------------------------------------------

(১) এই আসারটি (أثر) বেশ কয়েকটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে, ইবনে আব্দুল বার এটি জামে বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, ২/ ৯৪৬, নম্বর ১৮০৭, ১৮১০। এবং দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের ইগাসাতুল লাহফান, ১/ ১৫৯, এবং হাইসামীর মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, ১/ ১৮১।

(২) দেখুন: ইবনে হুমায়িদের রফউল হারাজ, পৃষ্ঠা ৮৭, এবং ড. ইয়াকুব আব্দুল ওয়াহাবের রফউল হারাজ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যা দিররাসাতুন উসুলিয়্যা তাসীলিয়া, পৃষ্ঠা ৬৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - أما الكتاب؛ فلقول الله تعالى: {وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُواْ أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُواْ فَلْيَكُونُواْ مِن وَرَآئِكُمْ وَلْتَأْتِ طَآئِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّواْ فَلْيُصَلُّواْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُواْ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَى أَن تَضَعُواْ أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُواْ حِذْرَكُمْ إِنَّ الله أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا} (1).

2 - وأما السنة، فقد ثبتت الأحاديث الصحيحة أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى بأصحابه صلاة الخوف مرات متعددة على صفات متنوعة (2).

3 - وأما الإجماع، فأجمع الصحابة على فعلها، فكان

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 102.

(2) انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 296، والشرح الكبير لابن قدامة المطبوع مع المقنع والإنصاف، 5/ 114.
1 - প্রথমত কিতাব (কুরআন); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যখন আপনি তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করবেন, তখন তাদের একদল যেন আপনার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখে। অতঃপর যখন তারা সিজদাহ সম্পন্ন করবে, তখন তারা যেন তোমাদের পেছনে অবস্থান নেয়। আর অপর একদল যারা সালাত আদায় করেনি, তারা যেন আপনার সাথে সালাত আদায় করে এবং তারা যেন তাদের সতর্কতা ও অস্ত্রশস্ত্র গ্রহণ করে। কাফিররা কামনা করে যে, তোমরা যদি তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্পর্কে অসতর্ক হও, তবে তারা তোমাদের ওপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ থাকো, তবে তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র রেখে দেওয়াতে কোনো গুনাহ নেই, তবে তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন} (১)।

2 - দ্বিতীয়ত সুন্নাহ; কেননা সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে একাধিকবার ভীতি অবস্থার সালাত (সালাতুল খাউফ) আদায় করেছেন (২)।

3 - তৃতীয়ত ইজমা (الإجماع); কেননা সাহাবীগণ এটি আমল করার ব্যাপারে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন, ফলে এটি ছিল...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০২।

(২) দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/২৯৬ এবং আল-মুকনা ও আল-ইনসাফ-এর সাথে মুদ্রিত ইবনে কুদামা রচিত আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১১৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الصحابة في الخوف يصلون صلاة الخوف، جاء ذلك عن علي رضي الله عنه ليلة صِفِّين، وجاء عن أبي هريرة، وأبي موسى الأشعري، وعن سعيد بن العاص، وحذيفة رضي الله عنهم (1) ولا ينظر إلى الأقوال الشاذة التي تخالف ذلك (2).

 

‌‌رابعًا: أنواع صلاة الخوف: جاءت صلاة الخوف في

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني، 3/ 297، والشرح الكبير، 5/ 114، وحاشية ابن قاسم على الروض المربع، 2/ 411، وتيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، 1/ 348، والإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن، 4/ 350، والشرح الكبير المطبوع مع المقنع والإنصاف، 5/ 115.

(2) كقول من يقول: إن صلاة الخوف مختصة بالنبي صلى الله عليه وسلم، وبمن صلى معه وذهبت بوفاته، وهذا يذكر عن أبي يوسف، وقوله لا حجة فيه؛ لأن الله قد أمر باتباع النبي صلى الله عليه وسلم والتأسي به ويلزمنا ذلك مطلقًا حتى يدل الدليل على الخصوص؛ ولأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((صلوا كما رأيتموني أصلي)) البخاري برقم 6008، ومسلم برقم 674؛ ولأن الصحابة رضي الله عنهم لم يقولوا بالخصوص، وادعى المزني: نسخ صلاة الخوف؛ لأنها لم تفعل يوم الخندق، والجواب: أنها لم تشرع حينذاك وإنما شرعت بعد ذلك. وانفرد مالك فقال: لا يجوز فعلها في الحضر، وقد ذكر الإمام القرطبي في المفهم أنه صلاها ببطن نخل على باب المدينة، ومن العلماء من رأى أن الصلاة تؤخر إلى وقت الأمن ولا تصلى في حال الخوف، كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم يوم الخندق، والجواب: أن فعله صلى الله عليه وسلم كان قبل نزول صلاة الخوف بالإجماع. انظر: الإعلام بفوائد عمدة الأحكام لابن الملقن،

4/ 350 - 351، والمفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم، 2/ 469 - 474، وشرح النووي على صحيح مسلم، 6/ 372 - 378.
সাহাবীগণ ভীতির সময় সালাতুল খউফ আদায় করতেন। এটি সিফফিনের রাতে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর আবু হুরায়রা, আবু মুসা আল-আশআরি, সাঈদ ইবনুল আস এবং হুযাইফা (রা.) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে (১)। এর বিপরীত যে সকল বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত রয়েছে, সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না (২)।

 

‌‌চতুর্থত: সালাতুল খউফের প্রকারভেদ: সালাতুল খউফ বর্ণিত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুগনি, ৩/২৯৭; আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১১৪; আর-রাওদুল মুরব্বি-এর ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ২/৪১১; আল-বাসসাম রচিত তাইসীরুল আল্লাম শারহু উমদাতিল আহকাম, ১/৩৪৮; ইবনুল মুলাক্কিন রচিত আল-ইলাম বি-ফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম, ৪/৩৫০; আল-মুকনি ও আল-ইনসাফ-এর সাথে মুদ্রিত আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১১৫।

(২) যেমন—যারা বলেন: সালাতুল খউফ কেবল নবী (সা.)-এর জন্য এবং যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছেন তাদের জন্য বিশেষায়িত ছিল এবং তাঁর ইন্তেকালের সাথে সাথে এটি রহিত হয়ে গেছে। এটি আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁর এই বক্তব্য দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা নবী (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোনো দলিল দ্বারা নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে আমাদের জন্য তা অনুসরণ করা আবশ্যক। এছাড়া নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" (বুখারি, হাদিস নং- ৬০০৮; মুসলিম, হাদিস নং- ৬৭৪)। সাহাবীগণ (রা.) এটিকে তাঁর জন্য বিশেষায়িত বলেননি। আর আল-মুযানী সালাতুল খউফ রহিতকরণ (نسخ)-এর দাবি করেছেন; কারণ খন্দকের যুদ্ধের দিন এটি আদায় করা হয়নি। এর উত্তর হলো: সে সময় এটি শরিয়তসম্মত হয়নি, বরং এর পরে এটি প্রবর্তিত হয়েছে। ইমাম মালিক এককভাবে মত দিয়েছেন যে, মুকিম অবস্থায় এটি বৈধ নয়। তবে ইমাম কুরতবি আল-মুফহিম গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (সা.) মদিনার প্রবেশপথে বাতনে নাখল নামক স্থানে এটি আদায় করেছিলেন। উলামাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, সালাতকে নিরাপদ সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করা হবে এবং ভীতির অবস্থায় আদায় করা হবে না, যেমনটি নবী (সা.) খন্দকের দিন করেছিলেন। এর উত্তর হলো: সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী নবী (সা.)-এর সেই কাজ ছিল সালাতুল খউফের বিধান নাজিল হওয়ার আগে। দেখুন: ইবনুল মুলাক্কিন রচিত আল-ইলাম বি-ফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম, ৪/৩৫০-৩৫১; আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম, ২/৪৬৯-৪৭৪; সহীহ মুসলিম-এর ওপর নববীর শারহ, ৬/৩৭২-৩৭৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أحاديث كثيرة، وأشكال متباينة (1)، والصواب أن كل صفة ثبتت عن النبي صلى الله عليه وسلم جائزة حسب مواطنها، يتحرَّى المسلمون فيها ما هو أحوط للصلاة وأبلغ في الحراسة، فهي على اختلاف صورها متفقة المعنى، ومن هذه الأنواع الثابتة في الأحاديث الصفات الآتية:

--------------------------------------------

(1) جاءت صلاة الخوف عن النبي صلى الله عليه وسلم على أنواع مختلفة، ذكر الإمام النووي في شرحه لصحيح مسلم أنها جاءت في أحاديث يبلغ مجموعها ستة عشر نوعًا، وهي مفصلة في صحيح مسلم، وبعضها في سنن أبي داود، واختار الشافعي منها ثلاثة أنواع: بطن نخل، وذات الرقاع، وعسفان. شرح النووي، 6/ 375، والإعلام بفوائد عمدة الأحكام، 4/ 351. وذكر الحاكم في مستدركه، 1/ 335، 338، ثمانية أنواع منها. وصحح ابن حزم في صفتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعة عشر نوعًا [المحلى،

5/ 33، 42، وابن خزيمة، 2/ 293، 307، وذكر القرطبي في المفهم عشرة أحاديث منها وتكلم عليها. المفهم، 2/ 468 - 476، قال أبو داود: جميع ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الخوف جائز، لا نرجح بعضه على بعض، وقال الإمام أحمد: ما أعلم في هذا الباب إلا حديثًا صحيحًا، واختار حديث سهل بن أبي حثمة. الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن، 4/ 352، وانظر: المغني، لابن قدامة، 3/ 311 - 314، وقال الإمام ابن القيم بعد أن ذكر ست صفات من أنواع صلاة الخوف، وقد روي عنه صلى الله عليه وسلم صفات أخرى ترجع كلها إلى هذه، وهذه أصولها، وربما اختلف بعض ألفاظها، وقد ذكر بعضهم عشر صفات، وذكرها أبو محمد بن حزم نحو خمس عشرة صفة، والصحيح ما ذكرناه أولاً، وهؤلاء كلما رأوا اختلاف الرواة في قصة، جعلوا ذلك وجوهًا من فعل النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما هو من اختلاف الرواة، والله أعلم)) زاد المعاد، 1/ 532.
অনেক হাদিস এবং বিভিন্ন পদ্ধতি (১)। সঠিক অভিমত এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত (ثابت) হওয়া প্রতিটি পদ্ধতিই নিজ নিজ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বৈধ (جائز)। মুসলিমগণ নামাজের ক্ষেত্রে যা অধিকতর সতর্কতামূলক এবং পাহারার ক্ষেত্রে যা অধিক কার্যকর, তা-ই অনুসন্ধান করবেন। সুতরাং নামাজের বাহ্যিক রূপভেদ থাকলেও এর মূল অর্থ ও উদ্দেশ্য অভিন্ন। হাদিসসমূহে সাব্যস্ত (ثابت) হওয়া এই প্রকারগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো উল্লেখযোগ্য:

--------------------------------------------

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সালাতুল খউফ (ভয়ের নামাজ) বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নববী সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি মোট ১৬টি পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে। এগুলো সহিহ মুসলিম-এ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে এবং এর কিছু অংশ সুনানে আবু দাউদ-এ রয়েছে। ইমাম শাফিঈ এর মধ্য থেকে তিনটি পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন: বাতনে নাখল, জাতুর রিকা এবং উসফান। (শারহ নববী, ৬/৩৭৫; এবং আল-ই'লাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম, ৪/৩৫১)। হাকেম তার আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/৩৩৫, ৩৩৮) এর ৮টি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর ১৪টি পদ্ধতিকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন [আল-মুহাল্লা,

৫/৩৩, ৪২, এবং ইবনে খুজাইমা, ২/২৯৩, ৩০৭]। কুরতুবী আল-মুফহিম গ্রন্থে এ সংক্রান্ত ১০টি হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছেন (আল-মুফহিম, ২/৪৬৮-৪৭৬)। আবু দাউদ বলেন: সালাতুল খউফ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত (مروي) হয়েছে তার সবই বৈধ (جائز); আমরা একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দেই না। ইমাম আহমাদ বলেন: আমি এই অধ্যায়ে কেবল একটি সহিহ (صحيح) হাদিসই জানি এবং তিনি সাহল ইবনে আবি হাসমাহ-র হাদিসটিকে গ্রহণ করেছেন। (ইবনুল মুলাক্কিন রচিত আল-ই'লাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম, ৪/৩৫২; আরও দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি, ৩/৩১১-৩১৪)। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম সালাতুল খউফের ছয়টি পদ্ধতি উল্লেখ করার পর বলেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও কিছু পদ্ধতি বর্ণিত (روي) হয়েছে যেগুলো এগুলোরই অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলোই সেগুলোর মূল ভিত্তি (أصول); হয়তো এগুলোর শব্দে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কেউ ১০টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, আবার আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম প্রায় ১৫টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে আমরা প্রথমে যা উল্লেখ করেছি সেটিই সঠিক (صحيح)। তাঁরা যখনই কোনো ঘটনায় বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে মতভেদ (اختلاف) দেখেছেন, তখনই সেটাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করেছেন; অথচ এটি মূলত বর্ণনাকারীদের (رواة) মতভেদ (اختلاف)। আল্লাহই ভালো জানেন। (জাদুল মা'আদ, ১/৫৩২)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌النوع الأول: ما يوافق ظاهر القرآن: يقسم الأمير أو القائد من معه إلى طائفتين: طائفة وجاه العدو؛ لئلا يهجم، وطائفة تصلي معه، فيصلي بهذه الطائفة ركعة، فإذا قام إلى الركعة الثانية نووا الانفراد وأتموا لأنفسهم ركعة والإمام واقف، وسلموا قبل ركوعه، ثم ذهبوا إلى الطائفة التي وجاه العدو، ثم تأتي الطائفة التي كانت تحرس وجاه العدو إلى الإمام فتجده ينتظرها واقفًا في الركعة الثانية فتدخل معه فيها وتصلي معه هذه الركعة، فإذا جلس للتشهد قامت فقضت ركعة والإمام ينتظرها في التشهد، فإذا تشهدت سلم بهم؛ لحديث صالح بن خوَّات عمن صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) يوم ذات الرقاع (2)

--------------------------------------------

(1) وفي رواية لمسلم برقم 841، عن صالح بن خوات بن جبير، عن سهل بن أبي حثمة، فصرح به في هذه الرواية، وفي رواية أبهمه.

(2) ذات الرقاع: غزوة معروفة، قال النووي: ((سميت ذات الرقاع؛ لأن أقدام المسلمين نقبت من الحفاء فلفوا عليها الخرق هذا هو الصحيح في سبب تسميتها)) وقال: ((كانت سنة خمس)) شرح النووي على صحيح مسلم، 6/ 376، وذكر ابن القيم رحمه الله أن أهل السير قالوا: كانت في السنة الرابعة جمادى الأولى، وقيل محرم، ورجح أنها كانت بعد خيبر، وسمعت شيخنا ابن باز يرد هذا القول ويرجح أنها قبل الخندق. انظر: زاد المعاد، 3/ 250 - 253، وانظر للفائدة: الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، 4/ 352، 7/ 417، 464.
প্রথম প্রকার: যা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: আমীর বা নেতা তাঁর সাথে থাকা লোকদের দুই ভাগে বিভক্ত করবেন: এক দল শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করবে যাতে তারা আক্রমণ করতে না পারে এবং অন্য দল তাঁর সাথে সালাত আদায় করবে। তিনি এই দলের সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করবেন। অতঃপর তিনি যখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন, তখন তারা ইমাম থেকে পৃথক হওয়ার (انفراد) নিয়ত করবে এবং ইমাম দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারা নিজেদের এক রাকাত পূর্ণ করে নেবে। তারা ইমাম রুকুতে যাওয়ার আগেই সালাম ফিরিয়ে নেবে। এরপর তারা শত্রুর মোকাবিলায় নিয়োজিত দলের জায়গায় চলে যাবে এবং পাহারায় নিয়োজিত দলটি ইমামের কাছে আসবে। তারা ইমামকে দ্বিতীয় রাকাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় পাবে এবং তাঁর সাথে সালাতে শামিল হয়ে এই রাকাতটি আদায় করবে। যখন ইমাম তাশাহহুদ (تشهد)-এর জন্য বসবেন, তখন তারা দাঁড়িয়ে তাদের অবশিষ্ট এক রাকাত পূর্ণ করবে এবং ইমাম তাশাহহুদ (تشهد) অবস্থায় তাদের জন্য অপেক্ষা করবেন। তারা যখন তাশাহহুদ (تشهد) শেষ করবে, তখন তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরাবেন। এর ভিত্তি হলো সালিহ ইবনে খাওওয়াত-এর বর্ণিত হাদিস, যা তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ‘জাতুর রিকা’ যুদ্ধের দিনে সালাত আদায় করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম-এর ৮৪১ নম্বর বর্ণনায় (رواية), সালিহ ইবনে খাওওয়াত ইবনে জুবায়ের-এর সূত্রে সাহল ইবনে আবি হাসমাহ থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি বিষয়টি অস্পষ্ট (مبهم) রেখেছেন।

(২) জাতুর রিকা: একটি সুপরিচিত যুদ্ধ (غزوة)। ইমাম নববী বলেন: "একে জাতুর রিকা নামকরণ করা হয়েছে কারণ খালি পায়ে হাঁটার কারণে মুসলিমদের পা ফেটে গিয়েছিল এবং তাঁরা তাতে কাপড়ের তালি বা ন্যাকড়া জড়িয়েছিলেন। নামকরণের কারণ হিসেবে এটিই সঠিক (صحيح)।" তিনি আরও বলেন: "এটি পঞ্চম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল।" (শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৬/৩৭৬)। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, ইতিহাসবিদগণ বলেছেন: এটি চতুর্থ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে অথবা মহররম মাসে সংঘটিত হয়েছিল। তবে তিনি খয়বর যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এটি সংঘটিত হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আমি আমাদের শায়খ ইবনে বাজকে এই মতটি খণ্ডন করতে এবং খন্দক যুদ্ধের পূর্বে এটি সংঘটিত হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিতে শুনেছি। দেখুন: জাদুল মাআদ, ৩/২৫০-২৫৩; আরও বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: আল-ইলাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম, ৪/৩৫২, ৭/৪১৭, ৪৬৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২১)
صلاة الخوف، أن طائفة صفت معه وطائفة وجاه (1) العدو فصلى بالذين معه ركعة، ثم ثبت قائمًا وأتموا لأنفسهم، ثم انصرفوا وصفوا وجاه العدو، وجاءت الطائفة الأخرى فصلى بهم الركعة التي بقيت من صلاته، ثم ثبت جالسًا وأتموا لأنفسهم، ثم سلم بهم)) (2)، وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((وهذا أيسر الأنواع، والصحابي المبهم في سند الحديث هو سهل بن أبي حثمة)) (3) وهذا النوع اختاره الإمام أحمد بن حنبل، لموافقته ظاهر القرآن، وأقر جميع الأنواع الأخرى، وأن كل حديث صح في صلاة الخوف يجوز العمل به (4).

--------------------------------------------

(1) وجاه العدو: يقال: وجاه وتجاه: أي قبالته، والطائفة: الفرقة. شرح النووي،6/ 377.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب المغازي، باب غزوة ذات الرقاع، برقم 4129، ومسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب صلاة الخوف، برقم 842.

(3) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 499.

(4) انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 299، 311، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف،

5/ 125، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 5/ 117، والكافي، 1/ 467.
ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থার সালাত (সালাতুল খাওফ), একদল তাঁর সাথে সারিবদ্ধ হলো এবং অন্য একদল শত্রুর মুখোমুখি (১) অবস্থান করল। এরপর তিনি তাঁর সাথে থাকা দলটিকে নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি দাঁড়িয়ে স্থির থাকলেন এবং তারা নিজেরাই নিজেদের সালাত পূর্ণ করে নিল। এরপর তারা চলে গেল এবং শত্রুর মুখোমুখি হয়ে সারিবদ্ধ হলো। অতঃপর অন্য দলটি এল এবং তিনি তাদের নিয়ে তাঁর সালাতের অবশিষ্ট রাকাতটি আদায় করলেন। এরপর তিনি বসে স্থির থাকলেন এবং তারা নিজেরাই নিজেদের সালাত পূর্ণ করে নিল। এরপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন (২)। আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((“এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এবং হাদিসের সনদে যে অস্পষ্ট (مبهم) সাহাবী রয়েছেন, তিনি হলেন সাহল বিন আবু হাসমাহ”)) (৩)। এই পদ্ধতিটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল পছন্দ করেছেন, কারণ এটি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তিনি অন্য সকল পদ্ধতিকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এই মর্মে অভিমত দিয়েছেন যে, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থার সালাত সম্পর্কে যে হাদিসই বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, তার ওপর আমল করা বৈধ (৪)।

--------------------------------------------

(১) শত্রুর মুখোমুখি: বলা হয় ‘وجاه’ ও ‘تجاه’, যার অর্থ হলো সম্মুখে; আর ‘طائفة’ মানে হলো দল। শারহু নববী, ৬/৩৭৭।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল মাগাজি, পরিচ্ছেদ: গাজওয়াতি জাতুর রিকা, হাদিস নং ৪১২৯; এবং মুসলিম, কিতাবু সালাতিল মুসাফিরিন, পরিচ্ছেদ: সালাতুল খাওফ, হাদিস নং ৮৪২।

(৩) বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর পাঠদানকালে আমি এটি শুনেছি, হাদিস নং ৪৯৯।

(৪) দেখুন: ইবনে কুদামাহ কৃত আল-মুগনি, ৩/২৯৯, ৩১১; আশ-শারহুল কাবীর মাআল মুকনি ওয়াল ইনসাফ, ৫/১২৫; আল-মুকনি মাআশ শারহিল কাবীর ওয়াল ইনসাফ, ৫/১১৭; এবং আল-কাফি, ১/৪৬৭।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌النوع الثاني: إذا كان العدو في جهة القبلة ولا يخفى بعضهم على المسلمين صف الإمام المسلمين خلفه صفين، فيكبر ويكبروا جميعًا، ثم يركع فيركعوا جميعًا، ثم يرفع من الركوع ويرفعوا جميعًا معه، ثم ينحدر فيسجد ويسجد معه الصف الأول الذي يليه، ويبقى الصف الثاني قائمًا يحرس مواجهة العدو، فإذا صلى بالصف الأول سجدتين وقام إلى الركعة الثانية سجد الصف الثاني الذي كان يحرس سجدتين، ثم قاموا فتقدموا إلى مكان الصف الأول، وتأخر الصف الأول مكانهم، ثم يركع الإمام ويركعوا معه جميعًا، ثم يرفع ويرفعوا جميعًا، ثم يسجد ويسجد معه الصف الأول الذي كان في الركعة الأولى هو الثاني، فإذا سجد سجدتين وجلس للتشهد سجد الصف الثاني ولحقوه في التشهد، وتشهدوا جميعًا، ثم سلم بهم جميعًا (1)؛ لحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف فصفنا

--------------------------------------------

(1) المغني، 3/ 312، والشرح الكبير، 5/ 118، وزاد المعاد، 1/ 529، والشرح الممتع، 4/ 583، والكافي لابن قدامة، 1/ 471.
দ্বিতীয় প্রকার: যদি শত্রু কিবলার (قبلة) দিকে থাকে এবং তারা (শত্রুরা) মুসলমানদের নিকট অস্পষ্ট না থাকে, তবে ইমাম তাঁর পেছনে মুসলমানদের দুই সারিতে কাতারবদ্ধ করবেন। অতঃপর তিনি তাকবির (تكبير) দেবেন এবং তারা সকলে একসাথে তাকবির (تكبير) দেবে। এরপর তিনি রুকু (ركوع) করবেন এবং তারা সকলে একসাথে রুকু (ركوع) করবে। তারপর তিনি রুকু (ركوع) থেকে মাথা তুলবেন এবং তাঁরাও সকলে তাঁর সাথে মাথা তুলবেন। অতঃপর তিনি সিজদাহর (سجود) দিকে অবনত হবেন এবং তাঁর নিকটবর্তী প্রথম কাতারটি তাঁর সাথে সিজদাহ (سجود) করবে, আর দ্বিতীয় কাতারটি শত্রুর মোকাবেলায় পাহারারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবে। যখন তিনি প্রথম কাতারকে নিয়ে দুটি সিজদাহ (سجدة) শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতের (ركعة) জন্য দাঁড়াবেন, তখন পাহারারত দ্বিতীয় কাতারটি দুটি সিজদাহ (سجدة) সম্পন্ন করবে। অতঃপর তারা দাঁড়িয়ে প্রথম কাতারের জায়গায় অগ্রসর হবে এবং প্রথম কাতারটি পিছিয়ে তাদের (দ্বিতীয় কাতারের) জায়গায় চলে যাবে। এরপর ইমাম রুকু (ركوع) করবেন এবং তারা সকলে তাঁর সাথে রুকু (ركوع) করবে। তারপর তিনি মাথা তুলবেন এবং তারাও সকলে মাথা তুলবে। এরপর তিনি সিজদাহ (سجود) করবেন এবং তাঁর সাথে সেই প্রথম কাতারটি সিজদাহ (سجود) করবে যারা প্রথম রাকাতে (ركعة) দ্বিতীয় কাতার ছিল। যখন তিনি দুটি সিজদাহ (سجدة) শেষ করে তাশাহহুদের (تشهد) জন্য বসবেন, তখন দ্বিতীয় কাতারটি সিজদাহ (سجدة) করবে এবং তাশাহহুদে (تشهد) তাঁর সাথে মিলিত হবে; আর তারা সকলে একসাথে তাশাহহুদ (تشهد) পাঠ করবে। অতঃপর তিনি তাদের সকলকে নিয়ে সালাম (تسليم) ফেরাবেন (১); জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ভয়কালীন নামাজ (صلاة الخوف) প্রত্যক্ষ করেছি, তখন আমরা কাতারবদ্ধ হলাম...

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি, ৩/৩১২; আশ-শারহুল কাবির, ৫/১১৮; যাদুল মা'আদ, ১/৫২৯; আশ-শারহুল মুমতি, ৪/৫৮৩; আল-কাফি লি-ইবনি কুদামাহ, ১/৪৭১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
صفين: صف خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم والعدو بيننا وبين القبلة فكبر النبي صلى الله عليه وسلم وكبرنا جميعًا، ثم ركع وركعنا جميعًا، ثم رفع رأسه من الركوع ورفعنا جميعًا، ثم انحدر بالسجود والصف الذي يليه، وقام الصف المؤخر في نحر العدو (1) فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم السجود وقام الصف الذي يليه، انحدر الصف المؤخر بالسجود وقاموا، ثم تقدم الصف المؤخر وتأخر الصف المقدم، ثم ركع النبي صلى الله عليه وسلم وركعنا جميعًا، ثم رفع رأسه من الركوع ورفعنا جميعًا، ثم انحدر بالسجود والصف الذي يليه الذي كان مؤخرًا في الركعة الأولى، وقام الصف المؤخر في نحر العدو، فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم السجود والصف الذي يليه انحدر الصف المؤخر بالسجود فسجدوا، ثم سلم النبي صلى الله عليه وسلم، وسلمنا جميعًا)) (2).

--------------------------------------------

(1) في نحر العدو: أي في مقابله، ونحر كل شيء أوله. شرح النووي، 6/ 376.

(2) مسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب صلاة الخوف، برقم 840، وفي رواية أنها صلاة العصر، ولأبي داود في سننه عن أبي عياش الزرقي في كتاب الصلاة، باب صلاة الخوف، برقم 1236، أن هذه الصلاة كانت بعسفان، وعسفان موضع على مرحلتين من مكة، كما في القاموس المحيط، ص1082، والمصباح المنير، ص155، قال الإمام ابن القيم: ((ولا خلاف بينهم أن غزوة عسفان كانت بعد الخندق)) زاد المعاد، 3/ 252.
দুইটি কাতার (صفين): এক কাতার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে দাঁড়াল এবং শত্রু আমাদের ও কিবলার মাঝখানে ছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলেন এবং আমরা সবাই তাকবীর দিলাম। এরপর তিনি রুকু করলেন এবং আমরা সবাই রুকু করলাম। তারপর তিনি রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠালেন এবং আমরাও সবাই মাথা উঠালাম। এরপর তিনি এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতারটি সিজদায় অবনত হলেন, আর পেছনের কাতারটি শত্রুর মুখোমুখি (في نحر العدو) দাঁড়িয়ে রইল (১)। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা সম্পন্ন করলেন এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতারটি দাঁড়িয়ে গেল, তখন পেছনের কাতারটি সিজদায় অবনত হলো এবং তারাও দাঁড়িয়ে গেল। এরপর পেছনের কাতারটি সামনে এগিয়ে এল এবং সামনের কাতারটি পেছনে চলে গেল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন এবং আমরা সবাই রুকু করলাম। এরপর তিনি রুকু থেকে মাথা উঠালেন এবং আমরা সবাই মাথা উঠালাম। এরপর তিনি এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতার—যা প্রথম রাকাতে পেছনে ছিল—সিজদায় অবনত হলেন এবং পেছনের কাতারটি শত্রুর মুখোমুখি (في نحر العدو) দাঁড়িয়ে রইল। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর নিকটবর্তী কাতার সিজদা শেষ করলেন, তখন পেছনের কাতারটি সিজদায় অবনত হলো এবং সিজদা করল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরালেন এবং আমরাও সবাই সালাম ফেরালাম (২)।

--------------------------------------------

(১) শত্রুর মুখোমুখি (في نحر العدو): অর্থাৎ তার সামনে; আর কোনো কিছুর 'নাহর' বলতে তার সম্মুখভাগ বোঝায়। শারহু নববী, ৬/৩৭৬।

(২) মুসলিম, কিতাব সালাতিল মুসাফিরিন, ভয়ের নামাজ (صلاة الخوف) অধ্যায়, নম্বর ৮৪০; এবং একটি বর্ণনায় আছে যে এটি আসরের নামাজ ছিল। আবু দাউদ তাঁর সুনানে আবু আইয়াশ আয-যুরাকী থেকে কিতাবুস সালাত, ভয়ের নামাজ (صلاة الخوف) অধ্যায়, নম্বর ১২৩৬-এ বর্ণনা করেছেন যে, এই নামাজ আসফানে হয়েছিল। আসফান হলো মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল দূরত্বের একটি স্থান, যেমনটি আল-কামুস আল-মুহিত, পৃষ্ঠা ১০৮২ এবং আল-মিসবাহুল মুনির, পৃষ্ঠা ১৫৫-তে উল্লেখ আছে। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আসফানের যুদ্ধ খন্দকের যুদ্ধের পরে হয়েছিল।" যাদুল মাআদ, ৩/২৫২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌النوع الثالث: يقسم الإمام أصحابه إلى طائفتين: فرقة تجاه العدو وفرقة تصلي معه، فيصلي بإحدى الطائفتين ركعة ثم تنصرف قبل أن تسلم وهي في صلاتها إلى مكان الفرقة الأخرى، ثم تأتي الفرقة الأخرى إلى مكان هذه خلف الإمام فتصلي معه الركعة الثانية، ثم يسلم وحده، وتقضي كل طائفة ركعة؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، قال: غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم قِبَل نجدٍ فوازينا (1) العدو، فصاففناهم، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي لنا، فقامت طائفة معه وأقبلت طائفة على العدو، فركع رسول الله صلى الله عليه وسلم بمن معه وسجد سجدتين، ثم انصرفوا مكان الطائفة (2) التي لم تصلِّ، فجاؤوا فركع رسول الله صلى الله عليه وسلم بهم ركعة وسجد سجدتين، ثم سلَّم، فقام كل واحد منهم فركع لنفسه

--------------------------------------------

(1) الإزاء: المقابل، فوازينا العدو: أي قابلناهم: فتح الباري لابن حجر، 2/ 430.

(2) ثم انصرفوا مكان الطائفة التي لم تصلِّ: أي فقاموا في مكانهم. فتح الباري لابن حجر، 2/ 430.
তৃতীয় প্রকার: ইমাম তাঁর সঙ্গীদের দুই দলে বিভক্ত করবেন: একদল শত্রুর মোকাবিলায় থাকবে এবং অন্য দল তাঁর সাথে সালাত আদায় করবে। তিনি দুই দলের একটির সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করবেন, তারপর তারা সালাম ফিরানোর পূর্বেই তাদের সালাত অবস্থায় থাকা অবস্থাতেই অন্য দলের অবস্থানে চলে যাবে। এরপর অন্য দলটি এদের স্থানে ইমামের পেছনে আসবে এবং তাঁর সাথে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করবে। অতঃপর তিনি একাকী সালাম ফিরাবেন এবং প্রত্যেক দল এক রাকাত করে পূর্ণ করবে; আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নজদের দিকে এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখি (১) হলাম এবং তাদের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সালাত পড়ানোর জন্য দাঁড়ালেন, তখন একদল তাঁর সাথে দাঁড়াল এবং অন্য দল শত্রুর দিকে মুখ করে রইল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে যারা ছিল তাদের নিয়ে রুকু করলেন এবং দুটি সেজদা করলেন। তারপর তারা সেই দলের (২) জায়গায় চলে গেল যারা সালাত আদায় করেনি। এরপর তারা এল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে এক রাকাত রুকু ও দুটি সেজদা করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর তাদের প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ জন্য এক রাকাত আদায় করে নিল।

--------------------------------------------

(১) আল-ইযা: মুখোমুখি, 'আমরা শত্রুর মুখোমুখি হলাম' অর্থাৎ আমরা তাদের সামনে দাঁড়ালাম: ইবনে হাজার কৃত ফাতহুল বারী, ২/৪৩০।

(২) 'অতঃপর তারা সালাত আদায় না করা দলের স্থানে চলে গেল': অর্থাৎ তারা তাদের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল। ইবনে হাজার কৃত ফাতহুল বারী, ২/৪৩০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ركعة (1) وسجد سجدتين)) وفي لفظ لمسلم: ((ثم سلم النبي صلى الله عليه وسلم، ثم قضى هؤلاء ركعة وهؤلاء ركعة)) وفي لفظ لمسلم أيضًا: ((ثم قضت الطائفتان: ركعة ركعة)) (2)، وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((صلى بهم

--------------------------------------------

(1) ((فقام كل واحد فركع لنفسه ركعة)) قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((لم تختلف الطرق عن ابن عمر في هذا، وظاهره أنهم أتموا لأنفسهم في حالة واحدة، ويحتمل أنهم أتموا على التعاقب وهو الراجح من حيث المعنى، وإلا فيستلزم تضييع الحراسة المطلوبة، وإفراد الإمام وحده، ويرجحه ما رواه أبو داود من حديث ابن مسعود ولفظه: ((ثم سلم فقام هؤلاء - أي الطائفة - فقضوا لأنفسهم ركعة، ثم سلموا، ثم ذهبوا ورجع أولئك إلى مقامهم فصلوا لأنفسهم ركعة ثم سلموا، [سنن أبي داود برقم 1244، 1245]، وظاهره أن الطائفة الثانية والت بين ركعتيها، ثم أتمت الطائفة الأولى بعدها ووقع في الرافعي تبعًا من كتب الفقه أن في حديث ابن عمر هذا أن الطائفة الثانية تأخرت وجاءت الطائفة الأولى فأتموا ركعة، ثم تأخروا وعادت الطائفة الثانية فأتموا، ولم نقف على ذلك في شيء من الطرق، وبهذه الكيفية أخذ الحنفية، واختار الكيفية التي في حديث ابن مسعود: أشهب والأوزاعي، وهي الموافقة لحديث سهل بن أبي حثمة من رواية مالك عن يحيى بن سعيد، واستدل بقوله طائفة على أنه لا يشترط استواء الفريقين في العدد، لكن لابد أن تكون التي تحرس يحصل الثقة بها في ذلك، والطائفة تطلق على القليل والكثير، فلو كانوا ثلاثة ووقع لهم خوف جاز لأحدهم أن يصلي بواحد ويحرس واحد، ثم يصلي بالآخر)) فتح الباري لابن حجر، 2/ 431.

(2) متفق عليه واللفظ للبخاري: البخاري، كتاب صلاة الخوف، باب صلاة الخوف، برقم 942،ورقم 4133،ومسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب صلاة الخوف، برقم 839.
এক রাকাত (1) এবং দুটি সিজদা করলেন)) এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: ((অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরালেন, তারপর এরা এক রাকাত আদায় করল এবং তারা এক রাকাত আদায় করল)) এবং মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আরও রয়েছে: ((অতঃপর উভয় দল এক রাকাত করে আদায় করল)) (2), এবং আমি আমাদের শায়খ ইমাম ইবনে বাজ রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি: ((তিনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন

--------------------------------------------

(1) ((অতঃপর প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে নিজের জন্য এক রাকাত আদায় করল)) হাফিজ ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেন: ((ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এই হাদিসের সূত্রগুলোর (طرق) মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। এর বাহ্যিক অর্থ হলো তারা একই সময়ে নিজেদের সালাত সম্পন্ন করেছে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা ধারাবাহিকভাবে একে অপরের পর সম্পন্ন করেছে এবং অর্থগত দিক থেকে এটিই অগ্রগণ্য (الراجح); অন্যথায় এর ফলে নির্দেশিত পাহারার দায়িত্ব বিনষ্ট হওয়া এবং ইমামকে একা ফেলে রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত ইবনে মাসউদের হাদিসটি একে শক্তিশালী করে, যার শব্দ হলো: ((অতঃপর তিনি সালাম ফেরালেন, তখন তারা—অর্থাৎ এক দল—দাঁড়িয়ে গেল এবং নিজেদের জন্য এক রাকাত সম্পন্ন করল, তারপর তারা সালাম ফেরাল। এরপর তারা চলে গেল এবং অন্য দল তাদের স্থানে ফিরে এল এবং তারা নিজেদের জন্য এক রাকাত সালাত আদায় করল এবং সালাম ফেরাল, [সুনান আবি দাউদ, হাদিস নং ১২৪৪, ১২৪৫]। এর বাহ্যিক অর্থ হলো দ্বিতীয় দল তাদের দুই রাকাতের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে, তারপর প্রথম দল তাদের পরবর্তী অংশ পূর্ণ করেছে। ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের অনুকরণে রাফেয়ীতে উল্লেখ রয়েছে যে, ইবনে উমরের এই হাদিসে দ্বিতীয় দল পিছিয়ে গিয়েছিল এবং প্রথম দল এসে এক রাকাত পূর্ণ করেছিল, তারপর তারা পিছিয়ে গিয়েছিল এবং দ্বিতীয় দল ফিরে এসে পূর্ণ করেছিল। কিন্তু আমরা কোনো সূত্রে (طرق) এমন বর্ণনা পাইনি। এই পদ্ধতিটি হানাফিগণ গ্রহণ করেছেন। আর ইবনে মাসউদের হাদিসের পদ্ধতিটি আশহাব ও আওযায়ি পছন্দ করেছেন; যা ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে মালিকের বর্ণনায় সহল বিন আবি হাসমাহ-এর হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি 'এক দল' শব্দ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, উভয় দলের সংখ্যা সমান হওয়া শর্ত নয়। তবে পাহাড়ায় যারা থাকবে তাদের মাধ্যমে যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় তা জরুরি। 'তয়িফাহ' (দল) শব্দটি অল্প এবং অধিক উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তারা যদি তিনজন হয় এবং ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তাদের একজনের জন্য ইমাম হয়ে একজনের সাথে সালাত আদায় করা এবং অন্য একজনের পাহারা দেওয়া, তারপর অপরজনের সাথে সালাত আদায় করা জায়েয হবে)) ফাতহুল বারী ইবনে হাজার, ২/৪৩১।

(2) সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং শব্দাবলি বুখারির: বুখারি, কিতাব সালাতিল খাওফ, বাব সালাতিল খাওফ, হাদিস নং ৯৪২, ৪১৩৩; এবং মুসলিম, কিতাব সালাতিল মুসাফিরিন, বাব সালাতিল খাওফ, হাদিস নং ৮৩৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ركعة ثم انصرفوا، وجاءت الطائفة الثانية فركع بهم ركعة ثم سلم، فقام كل واحد فركع لنفسه ركعة، قضوا الركعة كلهم بعد سلام النبي صلى الله عليه وسلم، وسمح لهم في هذه الحركة؛ للحاجة، وانصراف الطائفة الأولى قبل سلامهم، وهذا جائز والنوع الأول أسهل)) (1).

 

‌‌النوع الرابع: أن يصلي الإمام بكل طائفة صلاة منفردة: فيصلي بالطائفة الأولى ركعتين ثم يسلم بها، ثم تأتي الطائفة الثانية فيصلي بهم ركعتين ثم يسلم بهم؛ لحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى بطائفة من أصحابه ركعتين، ثم سلم، ثم صلى بآخرين أيضًا ركعتين، ثم سلم)) (2)؛ ولحديث أبي بكرة رضي الله عنه، قال: صلى النبي صلى الله عليه وسلم في خوفٍ الظهر فصف بعضهم خلفه وبعضهم بإزاء العدو، فصلى بهم ركعتين ثم سلم، فانطلق الذين صلوا معه فوقفوا موقف أصحابهم، ثم جاء أولئك

--------------------------------------------

(1) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 500.

(2) سنن النسائي، كتاب صلاة الخوف، برقم 1551، ورقم 1553، وصححه العلامة الألباني في صحيح النسائي، 1/ 503، 504.
এক রাকাত, অতঃপর তারা চলে গেলেন। এবং দ্বিতীয় দল আসল, তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত পড়লেন এরপর সালাম ফিরালেন। এরপর প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ এক রাকাত পড়ে নিলেন। তারা সবাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাম ফেরানোর পর নিজ নিজ রাকাত পূর্ণ করলেন। প্রয়োজনের খাতিরে এই চলাফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সালাম ফেরানোর পূর্বেই প্রথম দলের চলে যাওয়ার বিষয়টিও (অনুমোদিত); এটি বৈধ এবং প্রথম প্রকারটি অধিক সহজ)) (১)।

 

‌‌চতুর্থ প্রকার: ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে পৃথকভাবে সালাত আদায় করবেন: তিনি প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরাবেন, এরপর দ্বিতীয় দল আসবে এবং তিনি তাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন ও সালাম ফিরাবেন; জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের এক দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন, পুনরায় অন্য দলের সাথেও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন)) (২); এবং আবু বাকরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীতিকর অবস্থায় যোহরের সালাত আদায় করলেন, তাদের একদল তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলো এবং অন্য দল শত্রুর মুখোমুখি থাকল। তিনি তাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছিল তারা চলে গিয়ে তাদের সাথীদের অবস্থানে গিয়ে দাঁড়াল, অতঃপর তারা আসল...

--------------------------------------------

(১) বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যা প্রদানকালে আমি এটি শুনেছি, হাদিস নং ৫০০।

(২) সুনানে নাসায়ি, কিতাব সালাতিল খাওফ, নং ১৫৫১ এবং নং ১৫৫৩; আল্লামা আলবানি সহিহ নাসায়ি-তে একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন, ১/৫০৩, ৫০৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فصلوا خلفه، فصلى بهم ركعتين، ثم سلم، فكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أربعًا، ولأصحابه ركعتين)) وبذلك كان يفتي الحسن، قال أبو داود في المغرب؛ يكون للإمام ستُّ ركعات، وللقوم ثلاث ثلاث)) (1).

وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((يصلي بالطائفة الأولى ركعتين، ثم يسلم، ويصلي بالطائفة الثانية ركعتين، ثم يسلم، وروى مسلم ما رواه النسائي وأبو داود، ورواه البخاري معلقًا مجزومًا به، وهذا دليل على جواز إمامة المتنفل)) (2).

وعن جابر رضي الله عنه، قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بذات الرقاع، فإذا أتينا على شجرة ظليلة تركناها للنبي صلى الله عليه وسلم، فجاء رجل من المشركين وسيف النبي صلى الله عليه وسلم معلق بالشجرة فاخترطه فقال له: تخافني؟ فقال له: ((لا)) قال: فمن يمنعك مني؟ قال:

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب من قال يصلي بكل طائفة ركعتين، وتكون للإمام أربعًا، برقم 1248،والنسائي، كتاب صلاة الخوف، برقم 1554،1550، وصححه الألباني في صحيح أبي داود،1/ 342،وصحيح النسائي،1/ 503، 504.

(2) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 503، ورقم 504.
...তারা তাঁর পেছনে নামাজ পড়লেন, তিনি তাঁদের নিয়ে দুই রাকাত পড়লেন, এরপর সালাম ফেরালেন। সুতরাং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য ছিল চার রাকাত এবং তাঁর সাহাবীদের জন্য ছিল দুই রাকাত। আর হাসান (বসরি) এ ফতোয়াই দিতেন। আবু দাউদ মাগরিবের বর্ণনায় বলেছেন: ইমামের জন্য হবে ছয় রাকাত এবং মুক্তাদীদের জন্য হবে তিন তিন রাকাত করে (১)।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: "তিনি প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন, এরপর সালাম ফেরাবেন। এরপর দ্বিতীয় দলের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন এবং সালাম ফেরাবেন। মুসলিম সেটিই বর্ণনা করেছেন যা নাসাঈ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর বুখারি এটি মুআল্লাক (معلقًا) হিসেবে এবং মজজুম (مجزومًا) বা দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন। আর এটি নফল নামাজ আদায়কারীর ইমামতি জায়েজ হওয়ার দলিল" (২)।

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে জাতুর রিকা নামক স্থানে ছিলাম। যখন আমরা একটি ঘন ছায়াযুক্ত গাছের কাছে আসলাম, আমরা সেটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশ্রামের জন্য ছেড়ে দিলাম। এমতাবস্থায় মুশরিকদের এক ব্যক্তি আসলো এবং তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তরবারিটি গাছে ঝুলানো ছিল। সে সেটি খাপমুক্ত করল এবং তাঁকে বলল: "আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "না"। সে বলল: "তবে আমার হাত থেকে আপনাকে কে রক্ষা করবে?" তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি বলে ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে দুই রাকাত করে পড়বেন এবং ইমামের জন্য হবে চার রাকাত, হাদিস নং ১২৪৮; নাসাঈ, কিতাবুন সালাতুল খাওফ, হাদিস নং ১৫৫০, ১৫৫৪; আলবানি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ আবু দাউদ, ১/৩৪২ এবং সহিহ নাসাঈ, ১/৫০৩, ৫০৪।

(২) বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যা প্রদানের সময় আমি এটি তাঁর থেকে শুনেছি, হাদিস নং ৫০৩ এবং ৫০৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
((الله)) فتهدده أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وأقيمت الصلاة فصلى بطائفة ركعتين، ثم تأخروا وصلى بالطائفة الأخرى ركعتين، وكان للنبي صلى الله عليه وسلم أربعٌ وللقوم ركعتان)) (1)، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وهذا مثل الوجه الذي قبله (2) إلا أنه لا يسلم في الركعتين الأوليين)) (3). وقال الإمام النووي رحمه الله عن حديث جابر هذا ((صلى بطائفة ركعتين ثم تأخروا وصلى بالطائفة الأخرى ركعتين، فكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أربع ركعات وللقوم ركعتان)). قال [النووي] ((صلى بالطائفة الأولى ركعتين وسلم وسلموا، وبالثانية كذلك .. )) (4).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب المغازي، باب غزوة ذات الرقاع، برقم 4136، ومسلم، كتاب صلاة المسافرين، باب صلاة الخوف، برقم 843.

(2) يعني بذلك رحمه الله نفس النوع الرابع الذي دل عليه حديث جابر عند النسائي، برقم 1551.

(3) المغني لابن قدامة، 3/ 313، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 5/ 138، والكافي لابن قدامة، 1/ 469، وزاد المعاد لابن القيم، 1/ 529، وكل هذه المراجع ذكر أصحابها أن حديث جابر في الصحيحين بدون سلام للنبي صلى الله عليه وسلم؛ ولهذا عدُّوه نوعًا خامسًا لا يدخل في النوع الرابع، والله أعلم.

(4) شرح النووي على صحيح مسلم، 6/ 378، وكذلك اختار المجد ابن تيمية أن حديث جابر في الصحيحين تكون كل ركعتين بسلام [انظر: الحديث رقم 1314 من منتقى الأخبار المطبوع مع نيل الأوطار].
((আল্লাহ)) এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাকে (শত্রুকে) ভীতি প্রদর্শন করলেন এবং সালাত শুরু করা হলো। তিনি একদলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর তারা পেছনে সরে গেলেন এবং তিনি অন্য দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চার রাকাত হলো এবং লোকজনের জন্য হলো দুই রাকাত)) (১)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এটি পূর্ববর্তী পদ্ধতির (وجه) অনুরূপ (২), তবে পার্থক্য হলো তিনি প্রথম দুই রাকাতে সালাম (تسليم) ফেরাননি)) (৩)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) জাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই হাদিস সম্পর্কে বলেন: ((তিনি একদলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তারা পেছনে সরে গেলেন এবং তিনি অন্য দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চার রাকাত এবং লোকজনের জন্য দুই রাকাত হলো))। [নববী] বলেন: ((তিনি প্রথম দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম (تسليم) ফেরালেন ও তারাও সালাম ফেরাল, আর দ্বিতীয় দলের সাথেও একইভাবে...)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল মাগাজি, বাবু গাজওয়াতি জাতুর রিকা, হাদিস নম্বর ৪১৩৬; এবং মুসলিম, কিতাবুস সালাতিল মুসাফিরিন, বাবু সালাতিল খাওফ, হাদিস নম্বর ৮৪৩।

(২) এর দ্বারা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) নাসাঈ-তে ১৫৫১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত জাবেরের হাদিস দ্বারা নির্দেশিত সেই চতুর্থ প্রকারটিকেই (نوع) বুঝিয়েছেন।

(৩) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/৩১৩; আল-মুকনি ও আল-ইনসাফ সহ আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১৩৮; ইবনে কুদামা রচিত আল-কাফি, ১/৪৬৯; এবং ইবনুল কাইয়্যিম রচিত জাদুল মাআদ, ১/৫২৯। এই সকল উৎসের লেখকগণ উল্লেখ করেছেন যে, সহীহাইন-এ জাবেরের হাদিসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাম ব্যতীত বর্ণিত হয়েছে; এই কারণেই তারা এটিকে একটি পঞ্চম প্রকার (نوع) হিসেবে গণ্য করেছেন যা চতুর্থ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়, আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(৪) সহীহ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ, ৬/৩৭৮। একইভাবে মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, সহীহাইন-এ বর্ণিত জাবেরের হাদিসে প্রতি দুই রাকাত সালামসহ (تسليم) ছিল [দ্রষ্টব্য: নাইলুল আওতার-এর সাথে মুদ্রিত মুনতাকাল আখবার-এর ১৩১৪ নম্বর হাদিস]।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز ابن باز رحمه الله يقول: ((هذه صفة من أنواع صلاة الخوف: صلى ركعتين ثم سلم، ثم صلى بطائفة أخرى ركعتين ثم سلم، وهذا هو الصواب، ومن قال: إنه صلى بدون سلام فقد غلط، ومن أهم شيء عند طالب العلم إذا أشكل عليه بعض الأحاديث أن يجمع الروايات وطرقها حتى يتضح له الأمر)) (1).

 

‌‌النوع الخامس: يصلي الإمام بإحدى الطائفتين ركعة ثم تذهب ولا تقضي شيئًا، ثم تأتي الطائفة الأخرى فتصف خلفه ويصلي بهم ركعة ثم يسلم ولا تقضي شيئًا؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف بذي قرد: أرض من أرض بني سليم (2)، فصلى الناس خلفه صَفَّين: صفًّا يوازي العدو، وصفًّا خلفه، فصلى

--------------------------------------------

(1) سمعته أثناء تقريره على صحيح البخاري، الحديث رقم 4136.

(2) ذو قرد: ماء على ليلتين من المدينة، بينها وبين خيبر، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج إليه لما خرج في طلب عيينة حين أغار على لقاحه. معجم البلدان، 4/ 55.
আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((এটি সালাতুল খাওফ (ভয়ের নামাজ)-এর অন্যতম পদ্ধতি: তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়লেন অতঃপর সালাম ফিরালেন, এরপর অপর একটি দলের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন এবং সালাম ফিরালেন। আর এটাই সঠিক (الصواب)। আর যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি সালাম ছাড়াই নামাজ পড়েছেন, সে ভুল করেছে। একজন ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখন তার কাছে কোনো হাদিস অস্পষ্ট মনে হয়, তখন সে যেন বর্ণনাসমূহ (روايات) ও এর সূত্রগুলো (طرق) একত্রিত করে, যাতে বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।)) (১)।

 

‌‌পঞ্চম প্রকার: ইমাম দুই দলের একটি দলের সাথে এক রাকাত নামাজ পড়বেন, এরপর তারা চলে যাবে এবং তারা কোনো কিছুই কাজা (قضاء) করবে না, তারপর অন্য দলটি আসবে এবং তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হবে, তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত নামাজ পড়বেন এবং সালাম ফিরাবেন, আর তারাও কোনো কিছুই কাজা (قضاء) করবে না; ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'জু-কারাদ' নামক স্থানে সালাতুল খাওফ আদায় করেছিলেন; যা বনু সুলাইম গোত্রের একটি এলাকা (২)। তখন মানুষ তাঁর পেছনে দুই কাতারে নামাজ আদায় করেছিল: এক কাতার ছিল শত্রুর মুখোমুখি এবং অপর কাতার ছিল তাঁর পেছনে। এরপর তিনি নামাজ পড়ালেন...

--------------------------------------------

(১) আমি এটি সহীহ বুখারী-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যা প্রদানের সময় শুনেছি, হাদিস নম্বর ৪১৩৬।

(২) জু-কারাদ: মদিনা থেকে দুই রাতের দূরত্বে অবস্থিত একটি জলাশয়, যা মদিনা ও খায়বরের মধ্যস্থলে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে তখন বের হয়েছিলেন যখন তিনি উয়াইনাহ-এর সন্ধানে বের হন, যে সময় সে তাঁর দুগ্ধবতী উটগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছিল। মুজামুল বুলদান, ৪/৫৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল খাউফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
بالصف الذي يليه ركعة، ثم نهض هؤلاء إلى مصاف هؤلاء، وهؤلاء إلى مصاف هؤلاء فصلى بهم ركعة أخرى)). ولفظ النسائي: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى بذي قرد فصفّ الناس خلفه صَفَّين: صفًّا خلفه وصفًّا موازي العدو، فصلى بالذين خلفه ركعة ثم انصرف هؤلاء إلى مكان هؤلاء، وجاء أولئك فصلى بهم ركعة ولم يقضوا)) (1)؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الخوف بهؤلاء ركعة، وبهؤلاء ركعة، ولم يقضوا)) (2)، وسمعت شيخنا الإمام يقول: ((صلى بطائفة ركعة وبطائفة ركعة، ولم يقضوا فكان له ركعتان)) (3).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((فرض الله الصلاة على

--------------------------------------------

(1) أحمد، 5/ 385، والنسائي، كتاب صلاة الخوف، برقم 1532، والبخاري بنحوه، في كتاب صلاة الخوف، باب: يحرس بعضهم بعضًا في صلاة الخوف، برقم 944، وصححه الألباني في صحيح سنن النسائي، 1/ 496.

(2) أحمد، 5/ 399، والنسائي، كتاب الخوف، برقم 1528، وأبو داود، كتاب صلاة السفر، باب صلاة الخوف، برقم 1246، وصححه الألباني في صحيح أبي داود،

1/ 342، وصحيح النسائي، 1/ 495.

(3) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 505.
পেছনের সারির সাথে এক রাকাত পড়লেন, এরপর তারা অন্যদের অবস্থানে সরে গেল এবং অন্যরা এদের অবস্থানে এল, অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে আরও এক রাকাত সালাত আদায় করলেন))। আন-নাসায়ী-র শব্দে রয়েছে: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যি-কারাদ নামক স্থানে সালাত আদায় করলেন এবং লোকসকল তাঁর পেছনে দুই সারিতে কাতারবদ্ধ হলো: এক সারি তাঁর পেছনে এবং অন্য এক সারি শত্রুর মুখোমুখি। তিনি তাঁর পেছনের সারির সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তারা অন্যদের জায়গায় চলে গেল এবং অন্যরা আসল। তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারা আর কোনো সালাত পুনরায় আদায় করেনি)) (১); হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দলের সাথে এক রাকাত এবং ঐ দলের সাথে এক রাকাত ভয়ের সালাত আদায় করেছেন এবং তারা সালাত পুনরায় আদায় করেনি)) (২)। আমি আমাদের শাইখ ইমামকে বলতে শুনেছি: ((তিনি এক দলের সাথে এক রাকাত এবং অন্য দলের সাথে এক রাকাত সালাত আদায় করেছেন এবং তারা সালাত পুনরায় আদায় করেনি, ফলে তাঁর সালাত হয়েছিল দুই রাকাত)) (৩)।

আর ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আল্লাহ তাআলা সালাত ফরজ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আহমদ, ৫/৩৮৫; আন-নাসায়ী, কিতাব সালাতুল খাওফ, হাদিস নং ১৫৩২; এবং বুখারি অনুরূপ অর্থে, কিতাব সালাতুল খাওফ, পরিচ্ছেদ: ভয়ের সালাতে একে অপরকে পাহারা দেওয়া, হাদিস নং ৯৪৪; আলবানী একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনান আন-নাসায়ী-তে, ১/৪৯৬।

(২) আহমদ, ৫/৩৯৯; আন-নাসায়ী, কিতাবুল খাওফ, হাদিস নং ১৫২৮; আবু দাউদ, কিতাব সালাতুস সাফার, পরিচ্ছেদ সালাতুল খাওফ, হাদিস নং ১২৪৬; আলবানী একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ আবু দাউদ-এ,

১/৩৪২ এবং সহিহ আন-নাসায়ী-তে, ১/৪৯৫।

(৩) আমি এটি তাঁর বুলুগুল মারাম-এর ব্যাখ্যা প্রদানের সময় শুনেছি, হাদিস নং ৫০৫।