(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
صلاة الجمعة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة الجمعة - مفهوم، وشروط، وفضائل، وخصائص، وآداب، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 154

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

জুমার সালাত   (সাঈদ বিন ওহাফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: জুমার সালাত - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধারণা, শর্তাবলি, ফজিলত, বৈশিষ্ট্য, আদব ও বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওহাফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৪

[গ্রন্থটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

36

_

 

صلاة الجمعة

مفهوم، وشروط، وفضائل، وخصائص، وآداب، وأحكام

في ضوء الكتاب والسنة
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি-এর রচনাসমগ্র

৩৬

_

 

জুমার সালাত

ধারণা (مفهوم), শর্তাবলি (شروط), ফজিলত, বৈশিষ্ট্যসমূহ, শিষ্টাচার এবং বিধানাবলি (أحكام)

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلّى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة الجمعة)) بيَّنت فيها: مفهوم الجمعة، والأصل في وجوبها، وحكم صلاة الجمعة: من تجب عليه ومن لا تجب، وأنها فرض عين على من توفرت فيه ثمانية شروط، ومن حضرها ممن لا تجب عليه من المسلمين العقلاء أجزأته عن صلاة الظهر، وانعقدت به وصح أن يؤم فيها إلا المرأة فلا يصح أن تكون خطيباً، ولا إماماً، ثم بيّنت عقوبة تارك الجمعة، وأوضحت فضائل يوم الجمعة، وفضائل صلاة الجمعة،
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি জুমার নামাজ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; যাতে আমি জুমার ধারণা, এর আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার মূল ভিত্তি এবং জুমার নামাজের বিধান বর্ণনা করেছি: কার ওপর এটি ওয়াজিব (تجب) এবং কার ওপর নয়। আর এটি এমন ব্যক্তির ওপর ব্যক্তিগত আবশ্যকতা বা ফরজে আইন (فرض عين) যার মাঝে আটটি শর্ত পূর্ণ হয়। আর মুসলিমদের মাঝে যাদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব (تجب) নয়, এমন বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি এতে উপস্থিত হয়, তবে তা তাদের জোহরের নামাজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যথেষ্ট হবে এবং তাদের মাধ্যমে জুমুআ সংঘটিত হবে এবং তাদের ইমামতি করা সঠিক (صح) হবে; তবে নারী ব্যতীত, কারণ নারীর জন্য খতিব বা ইমাম হওয়া সঠিক (صح) নয়। এরপর আমি জুমুআ পরিত্যাগকারীর শাস্তি বর্ণনা করেছি এবং জুমার দিন ও জুমার নামাজের ফজিলতসমূহ স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وآداب الجمعة: الواجبة والمستحبة، ثم ذكرت خصائصها بإيجاز، ثم شروط صحة الجمعة، ثم صفة صلاة الجمعة، وقد استفدت كثيراً من تقريرات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله تعالى، ورفع درجاته في جنات النعيم.

والله أسألُ أن يجعل هذا العمل: مقبولاً مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله وخيرته من خلقه نبينا وإمامنا، محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر في ضحى يوم السبت الموافق 17/ 3/1422هـ
জুমার আদবসমূহ: ওয়াজিব (واجبة) এবং মুস্তাহাব (مستحبة), এরপর আমি সংক্ষেপে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করেছি, এরপর জুমা সহিহ (صحة) হওয়ার শর্তাবলি, এরপর জুমা নামাজের পদ্ধতি; আর আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর বিশ্লেষণসমূহ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাআলা জান্নাতুন নাঈমে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটিকে কবুল (مقبول) ও বরকতময় করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন; আর এর মাধ্যমে যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসুল এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মনোনীত সত্তা আমাদের নবি ও ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবি ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর।

লেখক

১৭/০৩/১৪২২ হিজরি, শনিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أولاً: مفهومها: الجمعة لغة: قال ابن فارس رحمه الله: ((الجيم، والميم، والعين أصل واحد يدل على تضامِّ الشيء، يقال جمعت الشيء جمعاً)). ((وتقول: استجمع الفرس جرياً. وجَمْع: مكة سُمِّي لاجتماع الناس فيه، وكذلك يوم الجمعة)) (1). سمِّي به لاجتماع الناس فيه (2)، وجمعة جمعها: جُمَع، وجُمُعات، والذين قالوا: الجُمُعة ذهبوا بها إلى صفة اليوم، ويقال: الجُمْعة، والجُمَعة (3) (4).

--------------------------------------------

(1) معجم المقاييس في اللغة، كتاب الجيم، باب الجيم والميم وما بينهم، اص224.

(2) انظر: النهاية في غريب الحديث لابن الأثير، باب الجيم مع الميم، 287، وقال: ((وفي حديث الجمعة: أول جمعة جمِّعت بعد المدينة بجواثى جمعت: بالتشديد أي صليت، ويوم الجمعة سمي به لاجتماع الناس فيه)) النهاية، 1/ 297.

(3) انظر: لسان العرب لابن منظور، باب العين، فصل الجيم، 8/ 58، والقاموس المحيط، باب العين، فصل الجيم، ص917.

(4) وسميت بالجمعة؛ لاجتماع الناس لها، وقيل: لِمَا جمع فيها من الخير، وقيل: لجمعها الخلق الكثير، وقيل: لأن آدم جمع مع حواء فيها، وقيل: لأنه اليوم الذي اجتمعت فيه المخلوقات وكمالها، وقيل: سمي يوم الجمعة؛ لأن آدم جمع خلقه فيها، ونقل المرداوي عن مجمع البحرين أن هذا القول أولى، وقال عبد الرحمن بن محمد بن قاسم: قال الحافظ: هو أصحها، ويليه: لاجتماع الناس لها. قال الإمام ابن خزيمة رحمه الله: ((باب ذكر العلة التي أحسب لها سميت الجمعة جمعة)) ثم أورد حديث سلمان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا سلمان ما يوم الجمعة))؟ قلت: الله ورسوله أعلم. قال: ((يا سلمان ما يوم الجمعة))؟ قال: قلت: الله ورسوله أعلم، قال: ((يا سلمان ما يوم الجمعة))؟ قلت: الله ورسوله أعلم، قال: ((يا سلمان يوم الجمعة به جمع أبوك - أو أبوكم - أنا أحدثك عن يوم الجمعة، ما من رجل يتطهر يوم الجمعة كما أمرتم يخرج من بيته حتى يأتي الجمعة، فيقعد، فينصت حتى يقضي صلاته إلا كان كفارة لِمَا قبله من الجمعة)) صححه ابن خزيمة، 3/ 117 - 118، برقم 1732، وقال العلامة الألباني: ((إسناده حسن))، والحديث أخرجه الطبراني في المعجم الكبير، 6/ 237،برقم 6089،وأحمد في المسند،5/ 439 - 440،وفي الفتح الرباني،6/ 45،قال الهيثمي في مجمع الزوائد 2/ 174: ((روى النسائي بعضه [3/ 104]، ورواه الطبراني في الكبير بإسناد حسن)) انتهى.

وفي لفظ أحمد: (( … لا يتطهر الرجل فيحسن طهوره ثم يأتي يوم الجمعة فينصت حتى يقضي الإمام صلاته إلا كان كفارة له ما بينه وبين الجمعة المقبلة ما اجتنبت المقتلة)) 5/ 439، وفي لفظ لأحمد أيضاً: (( … ألا أحدثك عن يوم الجمعة؟ لا يتطهر رجل مسلم ثم يمشي إلى المسجد ثم ينصت حتى يقضي الإمام صلاته إلا كانت كفارة لِمَا بينها وبين الجمعة التي بعدها ما اجتنبت المقتلة)) 5/ 440.

وقد كان يوم الجمعة يسمَّى في الجاهلية: ((العروبة))؛ لأن العرب كانت تعظمه، وقيل [ذكره السهيلي في الروض الأنف، 1/ 8، 2/ 196]: أول من سمى العروبة كعب بن لؤي، فكانت قريش تجتمع إليه في هذا اليوم، فيخطبهم، ويذكرهم بمبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعلمهم بأنه من ولده، ويأمرهم باتباعه والإيمان به)) انظر: الكشاف للزمخشري، 4/ 97، والوسائل في مسامرة الأوائل، للسيوطي، 19، والإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن، 4/ 102 - 103، والإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، للمرداوي،5/ 175،وحاشية ابن قاسم على الروض المربع،2/ 418، وسبل السلام، 3/ 153.
প্রথমত: এর ধারণা: অভিধানের ভাষায় জুমুআ: ইবনে ফারিস (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((জীম, মীম এবং আইন—এই তিনটি বর্ণ মূলত একটি মূল অর্থ নির্দেশ করে, যা কোনো বস্তুর একত্রিত হওয়াকে বুঝায়। বলা হয়: আমি বস্তুটি একত্রিত করেছি।)) ((আর আপনি বলতে পারেন: ঘোড়াটি তার পূর্ণ গতিতে দৌড়াচ্ছে। আর মক্কার 'জাম' (মুযদালিফা) নামকরণ করা হয়েছে সেখানে মানুষের একত্রিত হওয়ার কারণে। অনুরূপভাবে জুমুআর দিনটিও।)) (১)। সেখানে মানুষের সমাবেশের কারণেই এর এই নামকরণ করা হয়েছে (২)। জুমুআ (الجمعة) শব্দের বহুবচন হলো: জুমায়া (جُمَع) ও জুমুআত (جُمُعات)। যারা একে 'জুমুআ' (মীম বর্ণে পেশ সহকারে) বলেন, তারা দিনটির বৈশিষ্ট্যের (একত্রিত হওয়ার দিন) দিকে লক্ষ্য রেখেই তা বলেন। এছাড়া একে 'জুমআহ' (মীম বর্ণে সাকিন) এবং 'জুমায়া' (মীম বর্ণে যবর) হিসেবেও উচ্চারণ করা হয় (৩) (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুজাম আল-মাকায়িস ফিল লুগাহ, কিতাবুল জীম, বাবু জীম ওয়াল মীম ওয়া মা বাইনাহুমা, পৃষ্ঠা ২২৪।

(২) দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, ইবনুল আসির, বাবু জীম মাআল মীম, পৃষ্ঠা ২৮৭। তিনি বলেছেন: ((জুমুআর হাদিসে এসেছে: মদিনার পর প্রথম জুমুআ যা 'জুম্মিআত' (جمِّعت) তা ছিল জুওয়াসাতে। 'জুম্মিআত' শব্দটি তাশদীদসহ, অর্থাৎ নামাজ আদায় করা হয়েছে। আর জুমুআর দিনটির এই নামকরণ করা হয়েছে সেখানে মানুষের একত্রিত হওয়ার কারণে।)) আন-নিহায়া, ১/২৯৭।

(৩) দেখুন: লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর, বাবু আইন, ফাসলুল জীম, ৮/৫৮; এবং আল-কামুসুল মুহিত, বাবু আইন, ফাসলুল জীম, পৃষ্ঠা ৯১৭।

(৪) এর নামকরণ জুমুআ করা হয়েছে কারণ এতে মানুষেরা সমাবেত হয়। কেউ কেউ বলেছেন: এতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা একত্রিত হওয়ার কারণে। আবার কেউ বলেছেন: সৃষ্টির বিশাল সমাবেশ ঘটার কারণে। কেউ বলেছেন: কারণ এদিন আদম ও হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম) একত্রিত হয়েছিলেন। অন্য এক মতে: এটি সেই দিন যাতে সকল সৃষ্টি জগত ও তাদের পূর্ণতা একত্রিত হয়েছিল। আবার কেউ বলেছেন: জুমুআর দিন নামকরণ করা হয়েছে কারণ এদিন আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি সম্পন্ন হয়েছিল। আল-মারদাবি 'মাজমাউল বাহরাইন' থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, এই শেষোক্ত মতটিই অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য। আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম বলেছেন: হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: এটিই সর্বাধিক সঠিক (أصح) মত, আর এর পরেই রয়েছে মানুষের সমাবেশের কারণে নামকরণের বিষয়টি। ইমাম ইবনে খুযাইমাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((পরিচ্ছেদ: জুমুআকে কেন জুমুআ নামকরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ক কারণের বর্ণনা)) অতঃপর তিনি সালমান বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((হে সালমান! জুমুআর দিন কী?)) আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: ((হে সালমান! জুমুআর দিন কী?)) আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: ((হে সালমান! জুমুআর দিন কী?)) আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: ((হে সালমান! জুমুআর দিনে তোমার পিতাকে—বা তোমাদের পিতাকে—একত্রিত করা হয়েছিল। আমি তোমাকে জুমুআর দিন সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি; যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে তোমাদের নির্দেশিত পন্থায় পবিত্রতা অর্জন করে, নিজ ঘর থেকে বের হয়ে জুমুআর নামাজে আসে, অতঃপর বসে এবং নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনে, তা তার পূর্ববর্তী জুমুআ পর্যন্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।)) ইবনে খুযাইমাহ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, ৩/১১৭-১১৮, হাদিস নম্বর ১৭৩২; এবং আল্লামা আলবানী বলেছেন: ((এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)))। হাদিসটি তাবারানী তাঁর আল-মুজাম আল-কাবির (৬/২৩৭, হাদিস নম্বর ৬০৮৯) গ্রন্থে, এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/৪৩৯-৪৪০) ও আল-ফাতহুর রব্বানীতে (৬/৪৫) উদ্ধৃত করেছেন। আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদে (২/১৭৪) বলেছেন: ((নাসায়ি এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন [৩/১০৪], আর তাবারানী এটি আল-মুজাম আল-কাবিরা গ্রন্থে হাসান (حسن) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন।)) সমাপ্ত।

আহমাদের এক বর্ণনায় এসেছে: ((...কোনো ব্যক্তি যদি সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করে অতঃপর জুমুআর দিন আসে এবং ইমাম নামাজ শেষ না করা পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনে, তবে তা তার পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কবিরা গুনাহ (বা প্রাণঘাতী অপরাধ) থেকে বেঁচে থাকে।)) ৫/৪৩৯। আহমাদের অপর এক বর্ণনায় এসেছে: ((...আমি কি তোমাকে জুমুআর দিন সম্পর্কে সংবাদ দেব না? কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি পবিত্রতা অর্জন করে অতঃপর মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, এরপর ইমাম নামাজ শেষ না করা পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনে, তবে তা তার এবং পরবর্তী জুমুআর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।)) ৫/৪৪০।

জাহেলিয়াত যুগে জুমুআর দিনকে 'আল-আরুবাহ' বলা হতো; কারণ আরবরা দিনটিকে বিশেষ সম্মান প্রদান করত। কেউ কেউ বলেন [সুহাইলি এটি আর-রওদুল উনুফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ১/৮, ২/১৯৬]: সর্বপ্রথম কাব বিন লুআই এই দিনটির নাম 'আরুবাহ' রেখেছিলেন। কুরাইশরা এই দিনে তাঁর নিকট সমবেত হতো, অতঃপর তিনি তাদের নিকট ভাষণ দিতেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। তিনি তাদের জানাতেন যে, নবীজি তাঁর বংশধরদের থেকেই আসবেন এবং তিনি তাঁদের তাঁর অনুসরণ করার ও তাঁর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিতেন। দেখুন: আল-কাশশাফ, যামাখশারি, ৪/৯৭; আল-ওয়াসাইল ফি মুসামারাতিল আওয়াইল, সুয়ূতি, ১৯; আল-ইলাম বি ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম, ইবনুল মুলাক্কিন, ৪/১০২-১০৩; আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ, আল-মারদাবি, ৫/১৭৫; হাশিয়াহ ইবনে কাসিম আলা রওদিল মুরবি, ২/৪১৮; সুবুলুস সালাম, ৩/১৫৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌والجمعة اصطلاحاً: بضم الجيم والميم، ويجوز سكون
জুমু'আহ পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে: জিম এবং মিম বর্ণদ্বয়ে দম্মাহ (ضم) যোগে উচ্চারিত হবে, এবং (মিম বর্ণটি) সুকুন (سكون) করাও বৈধ।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الميم وفتحها، يوم من أيام الأسبوع، تُصلَّى فيه صلاة خاصة هي صلاة الجمعة (1).

 

و‌‌صلاة الجمعة: صلاة مستقلة بنفسها، تخالف الظهر: في الجهر، والعدد، والخطبة، والشروط المعتبرة لها، وتوافقها في الوقت (2).

وأول جمعةٍ جُمِّعت بعد جمعةٍ في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في مسجد عبد القيس بجواثى من البحرين)) (3).

 

‌‌ثانياً: الأصل في وجوب صلاة الجمعة: الكتاب والسنة والإجماع:

1 - أما الكتاب فقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ الله وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} (4) فأمر بالسعي،

--------------------------------------------

(1) معجم لغة الفقهاء، للدكتور محمد روَّاس، ص145، وانظر: الإعلام بفوائد عمدة الأحكام لابن الملقن، 4/ 101.

(2) انظر: زاد المعاد، لابن القيم، 1/ 432 - 434، والإنصاف للمرداوي المطبوع مع المقنع والشرح الكبير، 5/ 159 - 160، والشرح الكبير المطبوع مع المقنع والإنصاف،

5/ 178، وحاشية عبد الرحمن بن محمد بن قاسم على الروض المربع، 2/ 420.

(3) البخاري، كتاب الجمعة، باب الجمعة في القرى والمدن، برقم 892، 4371.

(4) سورة الجمعة، الآية: 9.
মিম বর্ণ এবং তার ফাতহা (যবর) সহযোগে (উচ্চারিত), এটি সপ্তাহের দিনগুলোর একটি দিন, যাতে একটি বিশেষ নামাজ আদায় করা হয়, যা জুমআর নামাজ (১)।

 

এবং জুমআর নামাজ: এটি একটি স্বতন্ত্র নামাজ, যা জোহরের নামাজ হতে ভিন্ন: উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত (جهر), রাকাত সংখ্যা, খুতবা এবং এর জন্য নির্ধারিত শর্তাবলির ক্ষেত্রে; তবে সময়ের ক্ষেত্রে এটি জোহরের সদৃশ (২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের পর সর্বপ্রথম যে স্থানে জুমআ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা হলো বাহরাইনের জুওয়াসায় অবস্থিত আবদ আল-কায়েসের মসজিদে (৩)।

 

‌দ্বিতীয়ত: জুমআর নামাজ ওয়াজিব হওয়ার মূল ভিত্তি: কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং ঐক্যমত (إجماع):

১ - কুরআন হতে প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন জুমআর দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা পরিত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে} (৪)। এখানে ধাবিত হওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়েছে,

--------------------------------------------

(১) মুজাম লুগাতিল ফুকাহা, ড. মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃ. ১৪৫, এবং দেখুন: আল-ইলাম বি-ফাওয়াইদ উমদাতিল আহকাম, ইবনুল মুলাক্কিন, ৪/১০১।

(২) দেখুন: জাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়্যিম, ১/৪৩২ - ৪৩৪; আল-ইনসাফ লীল মারদাওয়ী যা আল-মুকনি ও আশ-শারহুল কাবীর এর সাথে মুদ্রিত, ৫/১৫৯ - ১৬০; আশ-শারহুল কাবীর যা আল-মুকনি ও আল-ইনসাফ এর সাথে মুদ্রিত,

৫/১৭৮; এবং আর-রওদুল মুরবি-র ওপর আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিমের হাশিয়া, ২/৪২০।

(৩) বুখারি, কিতাবুল জুমআ, অনুচ্ছেদ: গ্রাম ও শহরে জুমআ আদায়, হাদিস নং ৮৯২, ৪৩৭১।

(৪) সূরা আল-জুমআ, আয়াত: ৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ومقتضى الأمر الوجوب، ولا يجب السعي إلا إلى واجب، ونهى عن البيع؛ لئلا يشتغل به عنها، فلو لم تكن فرضاً لَمَا نهى عن البيع من أجلها، والمراد بالسعي هنا الذهاب إليها لا الإسراع؛ فإن السعي في كتاب الله لم يُرَدْ به العَدْوُ (1).

2 - وأما السُّنَّة؛ فلحديث ابن عمر وأبي هريرة رضي الله عنهم أنهما سمعا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لينتهينَّ أقوام عن وَدْعهم (2) الجُمُعاتِ أو ليختمنَّ الله على قلوبهم، ثم ليكونُنَّ من الغافلين)) (3)؛ ولحديث أبي الجعد الضمري رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من ترك ثلاث جُمَع تَهَاوُناً بها طبع الله على قلبه)) (4)، ولفظ الترمذي وابن ماجه: ((من ترك الجمعة ثلاث مرات تهاوناً

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني لابن قدامة،، 3/ 158، والشرح الكبير، 5/ 157.

(2) ودعهم: الودع: الترك، وهو مصدر: ودع يدع ودعاً، وزعم بعض النحويين أن مصدر مثل هذا الفعل: متروك، وكذلك أفعالها الماضية، وأنهم يستغنون عن ((ودع)) بترك، وعن الودع بالترك، ونحو ذلك، ورسول الله صلى الله عليه وسلم أفصح وأعرف بالعربية. جامع الأصول لابن الأثير، 642، 5/ 667.

(3) مسلم، كتاب الجمعة، باب التغليظ في ترك الجمعة، برقم 865.

(4) طبع الله على قلبه: الطبع والختم واحد، والمراد أنه بتركه الجمعة قد أغلق قلبه وختم عليه فلا يصل إليه شيء من الخير. جامع الأصول لابن الأثير، 5/ 666.
আর আদেশের দাবি হলো আবশ্যকতা (الوجوب), আর কোনো আবশ্যক (واجب) বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুর অভিমুখে প্রচেষ্টা (السعي) চালানো আবশ্যক হয় না। তিনি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন যেন তা জুমুআ থেকে বিমুখ করতে না পারে। যদি এটি ফরজ (فرضاً) না হতো, তবে এর কারণে তিনি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করতেন না। এখানে ‘সাঈ’ (السعي) বলতে সেদিকে গমন করা উদ্দেশ্য, দ্রুত দৌড়ানো নয়; কারণ আল্লাহর কিতাবে ‘সাঈ’ দ্বারা দৌড়ানো (العَدْوُ) বোঝানো হয়নি (১)।

২ - আর সুন্নাহর দলিল হলো ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণিত হাদিস, তাঁরা উভয়ই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "লোকেরা যেন অবশ্যই তাদের জুমুআ বর্জন (ودعهم) করা থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, এরপর তারা অবশ্যই গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে" (৩)। এবং আবু আল-জা’দ আদ-দামরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তিনটি জুমুআ বর্জন করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর (طبع) মেরে দেবেন" (৪)। তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ-এর শব্দ হলো: "যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তিনবার জুমুআ ত্যাগ করবে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/১৫৮ এবং আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১৫৭।

(২) ‘অদউহুম’ (ودعهم): ‘আল-অদউ’ (الودع) হলো বর্জন (الترك), এটি ‘অদাআ’ (ودع), ‘ইদাউ’ (يدع), ‘অদআন’ (ودعاً) ক্রিয়াপদ থেকে আগত একটি ক্রিয়ামূল। কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ দাবি করেছেন যে, এই জাতীয় ক্রিয়ার মাসদার বা ক্রিয়ামূল হলো ‘মাতরুক’ (متروك), একইভাবে এর অতীতকালও তাই; তারা ‘অদাআ’ (ودع) এর স্থলে ‘তারাআ’ (ترك) এবং ‘অদউ’ (الودع) এর বদলে ‘তরকু’ (الترك) ও অনুরূপ শব্দ ব্যবহার করে এর অভাব পূরণ করেন। অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী ও আরবি ভাষা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। জামিউল উসুল লি-ইবনিল আসির, ৬৪২, ৫/৬৬৭।

(৩) মুসলিম, কিতাবুল জুমুআ, জুমুআ বর্জনের ক্ষেত্রে কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৬৫।

(৪) আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন: ‘তাবউ’ (الطبع) ও ‘খাতমু’ (الختم) একই অর্থবোধক। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জুমুআ বর্জনের কারণে তিনি তার অন্তর রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তাতে কোনো কল্যাণ আর পৌঁছাবে না। জামিউল উসুল লি-ইবনিল আসির, ৫/৬৬৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بها طبع الله على قلبه)) (1). وعن حفصة رضي الله عنها، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((رواح الجمعة واجب على كل محتلم)) (2).

3 - وأما الإجماع، فأجمع المسلمون على وجوب الجمعة (3)، وقال ابن المنذر رحمه الله: ((وأجمعوا على أن الجمعة واجبة على الأحرار، البالغين، المقيمين الذين لا عذر لهم)) (4).

 

‌‌ثالثاً: حكم صلاة الجمعة: من تجب عليه، ومن لا تجب عليه:

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب الصلاة، باب التشديد في ترك الجمعة، برقم 1052، والنسائي، كتاب الجمعة، باب التشديد في التخلف عن الجمعة، برقم 1370، والترمذي، كتاب الجمعة، باب ما جاء في ترك الجمعة من غير عذر، برقم 500، وابن ماجه، كتاب إقامة الصلوات، باب فيمن ترك الجمعة من غير عذر، برقم 1125،والحديث حسنه الترمذي، وقال الألباني في صحيح سنن النسائي،1/ 442: ((حسن صحيح)) وقال عبد القادر الأرناؤوط في تحقيقه لجامع الأصول، 5/ 666: ((وصححه جماعة، وهو حديث صحيح بشواهده))، ورواه النسائي من حديث جابر رضي الله عنه برقم 1368، وابن ماجه برقم 1126، بلفظ: ((من ترك الجمعة ثلاثاً من غير ضرورة طبع الله على قلبه))، وقال الألباني في صحيح النسائي، 1/ 442: ((حسن صحيح)).

(2) النسائي، كتاب الجمعة، باب التشديد في التخلف عن الجمعة، برقم 1370، وصححه الألباني في صحيح النسائي، 1/ 443.

(3) المغني لابن قدامة، 3/ 159.

(4) الإجماع لابن المنذر، ص44.
...এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর অন্তরে মোহর মেরে দেন)) (১)। আর হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((জুমার নামাজে যাওয়া প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ওয়াজিব)) (২)।

৩ - আর ইজমার (ঐকমত্য) ক্ষেত্রে, মুসলিমগণ জুমার নামাজের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (৩)। ইবনুল মুনজির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জুমার নামাজ স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুকিম (নিবাসী) ব্যক্তিদের ওপর ওয়াজিব, যাদের কোনো (শরয়ি) ওজর নেই)) (৪)।

 

‌‌তৃতীয়ত: জুমার নামাজের বিধান: যাদের ওপর এটি ওয়াজিব এবং যাদের ওপর এটি ওয়াজিব নয়:

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায়, জুমা ত্যাগের ব্যাপারে কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১০৫২; নাসায়ি, জুমা অধ্যায়, জুমায় অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৩৭০; তিরমিজি, জুমা অধ্যায়, ওজর ছাড়া জুমা ত্যাগ করার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫০০; এবং ইবনে মাজাহ, সালাত কায়েম অধ্যায়, ওজর ছাড়া যারা জুমা ত্যাগ করে তাদের পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১১২৫। ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান (حسن) বলেছেন। আলবানি সহিহ সুনান নাসায়ি-তে (১/৪৪২) বলেছেন: ((হাসান সহিহ (حسن صحيح))) এবং আব্দুল কাদির আরনাউত জামিউল উসুল-এর তাহকিকে (৫/৬৬৬) বলেছেন: ((একদল আলেম একে সহিহ (صححه) বলেছেন, এবং এটি তার শাহিদ বা সমর্থক বর্ণনাসমূহের ভিত্তিতে একটি সহিহ (صحيح) হাদিস))। নাসায়ি হাদিসটি জাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ১৩৬৮) এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ১১২৬), যার শব্দ হলো: ((যে ব্যক্তি কোনো প্রয়োজন ছাড়া তিনবার জুমা ত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন))। আলবানি সহিহ নাসায়ি-তে (১/৪৪২) একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন।

(২) নাসায়ি, জুমা অধ্যায়, জুমায় অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৩৭০; আলবানি সহিহ নাসায়ি-তে (১/৪৪৩) একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(৩) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/১৫৯।

(৪) ইবনুল মুনজির রচিত আল-ইজমা, পৃষ্ঠা ৪৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌صلاة الجمعة فرض عين على كل مسلم، بالغ، عاقل، حُرٍّ (1)، مستوطن ببناء يشمله اسم واحد ولا تفرق يسيراً،

--------------------------------------------

(1) وقيل: تجب على المملوك؛ لأنه داخل في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ الله وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} [الجمعة: 9]. وهي رواية عن أحمد، وقيل: إذا أذن له سيده لزمته وإذا لم يأذن له لا تلزمه، وهي رواية ثالثة عن أحمد، انظر: الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف للمرداوي، 5/ 171، والمغني لابن قدامة، 3/ 217، والشرح الكبير،

5/ 160، وقال السعدي رحمه الله: ((الصواب أن الجمعة والجماعة تجب على العبيد الأرقاء؛ لأن النصوص عامة في دخولهم، ولا دليل يدل على إخراج العبيد، وأما حديث طارق بن شهاب: ((الجمعة حق واجب على كل مسلم في جماعة إلا أربعة))، فذكر منهم العبد المملوك فهو حديث ضعيف الإسناد … وأصح منه حديث حفصة في سنن النسائي مرفوعاً: ((رواح الجمعة واجب على كل محتلم)) [برقم 1370، وصححه الألباني في صحيح النسائي، 1/ 443] وهو عام في الحر والمملوك، والأصل أن المملوك حكمه حكم الحر في جميع العبادات البدنية المحضة التي لا تعلق لها بالمال)). الاختيارات الجلية، ص69، واختار تلميذه محمد بن صالح العثيمين رحمه الله القول الثالث، وهو أن الجمعة تلزم العبد إذا أذن له سيده، وقال: ((وهذا القول قول وسط بين قول من يلزمه جمعة مطلقاً وقول من لا يلزمه مطلقاً)) الشرح الممتع، 5/ 9، ولكن سماحة شيخنا الإمام ابن باز ذكر أن حديث طارق بن شهاب صحيح؛ وأن مرسل الصحابي لا يضر، وهو مقبول وقد ذكر غير واحد إجماع أهل العلم على قبول مرسل الصحابي، وقد صرح بالسماع عن أبي موسى الأشعري فزال ما يخشى منه معنى كلامه رحمه الله، وسيأتي نصه إن شاء الله مع تخريج الحديث.

وقال شيخ الإسلام في الفتاوى، 24/ 184: ((وجوبها على العبد قوي إما مطلقاً وإما إذا أذن له سيده)).
‌‌জুমার সালাত প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির ওপর ফরযে আইন (فرض عين), যে প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন (১), এবং এমন ইমারত বা জনবসতিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী যা একটি একক নামের অন্তর্ভুক্ত এবং সামান্য ব্যবধানে বিচ্ছিন্ন নয়।

--------------------------------------------

(১) বলা হয়েছে: এটি দাসের ওপরও ওয়াজিব; কারণ সে মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে} [আল-জুমা: ৯]। এটি আহমদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। আরও বলা হয়েছে: যদি তার মুনিব তাকে অনুমতি দেয় তবে তা তার ওপর আবশ্যক হবে, আর যদি সে অনুমতি না দেয় তবে আবশ্যক হবে না; এটি আহমদ থেকে বর্ণিত তৃতীয় একটি বর্ণনা। দেখুন: আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ লিল মারদাউয়ি, ৫/১৭১; আল-মুগনি লি ইবনে কুদামা, ৩/২১৭; এবং আল-শারহুল কাবীর,‌

‌৫/১৬০। আস-সাদি (রহ.) বলেছেন: "সঠিক মত হলো, জুমআ এবং জামাত ক্রীতদাসদের ওপর ওয়াজিব; কারণ দলিলসমূহ তাদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সাধারণ, আর দাসদের বহির্ভূত করার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই। আর তারিক বিন শিহাবের হাদিসটি: "জুমআ জামাতের সাথে আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর একটি ওয়াজিব হক, চারজন ব্যতীত...", এখানে তিনি ক্রীতদাসের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (إسناد) বিশিষ্ট হাদিস … আর এর চেয়ে বিশুদ্ধতর হলো সুনানুন নাসায়ি-তে বর্ণিত হাফসা (রা.) এর হাদিসটি যা মরফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত: "জুমআর সালাতে গমন করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব" [নম্বর ১৩৭০, এবং আলবানি একে সহিহুন নাসায়ি-তে সহিহ (صححه) বলেছেন, ১/৪৪৩]। এটি স্বাধীন এবং দাস উভয়ের জন্য সাধারণ। আর মূলনীতি হলো, নিছক শারীরিক ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে দাসের বিধান স্বাধীন ব্যক্তির বিধানের মতোই, যেগুলোর সাথে মালের (অর্থের) কোনো সম্পর্ক নেই।" আল-ইখতিয়ারাতুল জালিয়্যাহ, পৃ. ৬৯। তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহ.) তৃতীয় মতটি বেছে নিয়েছেন, আর তা হলো—মুনিব অনুমতি দিলে দাসের ওপর জুমআ আবশ্যক হবে। তিনি বলেছেন: "এই মতটি ওই ব্যক্তির মতের মাঝামাঝি যে ঢালাওভাবে তার ওপর জুমআ ওয়াজিব বলে এবং যে ঢালাওভাবে ওয়াজিব নয় বলে।" আল-শারহুল মুমতি, ৫/৯। তবে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ ইমাম ইবনে বাজ উল্লেখ করেছেন যে, তারিক বিন শিহাবের হাদিসটি সহিহ (صحيح); আর সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي) কোনো ক্ষতি করে না, বরং তা মকবুল (مقبول)। একাধিক আলিম সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي) গ্রহণের বিষয়ে আলেমগণের ইজমা উল্লেখ করেছেন। তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে সরাসরি শোনা (السماع) এর কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, ফলে যা নিয়ে আশঙ্কা ছিল তা দূরীভূত হয়েছে—এটিই তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ (রহ.), আর ইনশাআল্লাহ হাদিসের তাখরিজ (تخريজ) সহ তাঁর মূল বক্তব্য সামনে আসবে।‌

‌শাইখুল ইসলাম আল-ফাতাওয়া-তে (২৪/১৮৪) বলেছেন: "দাসের ওপর এর আবশ্যকতা শক্তিশালী; হয় শর্তহীনভাবে, অথবা যদি তার মুনিব তাকে অনুমতি প্রদান করে।"
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فإن كان في البلد الذي تقام فيه الجمعة لزمته، ولو كان بينه وبين موضعها فراسخ، ولو لم يسمع النداء؛ لأن البلد كالشيء الواحد مثل: اسم: مكة، والمدينة، والرياض، فما دام البناء يشمله اسم واحد فهو بلد واحد، ولو فرض أن هذا البلد اتسع وصار بين أطرافه أميال كثيرة، أو فراسخ فتلزم الجمعة من بأقصاه الشرقي، كما تلزم من بأقصاه الغربي، وهكذا الشمال والجنوب؛ لأنه بلد واحد ليس بينه وبين المسجد أكثر من ثلاثة أميال تقريباً إذا لم يكن له عذر؛ لأن الموضع الذي يسمع منه النداء في الغالب، إذا كانت الأصوات هادئة، والموانع منتفية، والريح ساكنة، والمؤذن صيِّتاً على موضع عال، والمستمع غير ساهٍ ثلاثة أميال أو ما يقاربها، فحُدَّ بذلك تقريباً، والله أعلم (1). هذا إذا كان خارج البلد، أما إذا كان البلد واحداً، فإن الجمعة تلزمه ولو كان بينه وبين

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني، 3/ 244 - 446، والشرح الكبير، لابن قدامة، 5/ 160 - 164، والإنصاف للمرداوي، 5/ 160 - 166، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 2/ 418 - 424، والشرح الممتع للعلامة ابن عثيمين، 5/ 7 - 19.

যদি কেউ এমন শহরে অবস্থান করে যেখানে জুমার সালাত অনুষ্ঠিত হয়, তবে তার ওপর তা আবশ্যক (لزمته) হবে, যদিও তার এবং জুমার স্থানের মাঝে কয়েক ফারসাখ (فراسخ) দূরত্ব থাকে এবং যদিও সে আজান শুনতে না পায়। কারণ একটি শহর একটি একক বিষয়ের ন্যায়; যেমন: মক্কা, মদিনা ও রিয়াদ। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত জনবসতি একটি একক নামের অন্তর্ভুক্ত থাকে, ততক্ষণ তা একটিই শহর। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এই শহরটি বিস্তৃত হয়ে এর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্ব অনেক মাইল বা ফারসাখ (فراسخ) হয়ে গিয়েছে, তবুও শহরের সুদূর পূর্ব প্রান্তের অধিবাসীর ওপর যেমন জুমা আবশ্যক (تلزم) হবে, তেমনি সুদূর পশ্চিম প্রান্তের অধিবাসীর ওপরও তা আবশ্যক হবে। উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের ক্ষেত্রেও একই বিধান। কারণ এটি একটিই শহর এবং কোনো ওজর (عذر) না থাকলে তার এবং মসজিদের মাঝে সাধারণত তিন মাইলের বেশি দূরত্ব থাকে না। কেননা যে স্থান থেকে সাধারণত আজান শোনা যায়—যদি পরিবেশ শান্ত থাকে, প্রতিবন্ধকতা (الموانع) না থাকে, বাতাস স্থির থাকে, মুয়াজ্জিন উচ্চকণ্ঠের অধিকারী হয়ে কোনো উঁচু স্থানে দাঁড়ান এবং শ্রবণকারী অন্যমনস্ক না থাকেন—তা হলো তিন মাইল বা তার কাছাকাছি। তাই একে আনুমানিক সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন (১)। এটি তখন প্রযোজ্য যখন সে শহরের বাইরে থাকে; কিন্তু শহর যদি একটিই হয়, তবে তার ওপর জুমা আবশ্যক হবে, যদিও তার এবং

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুগনি, ৩/২৪৪ - ৪৪৬, এবং ইবনে কুদামা রচিত আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১৬০ - ১৬৪, এবং আল-মারদাউয়ি রচিত আল-ইনসাফ, ৫/১৬০ - ১৬৬, এবং ইবনে কাসিমের হাশিয়াসহ আর-রওদুল মুরবি', ২/৪১৮ - ৪২৪, এবং আল্লামা ইবনে উসাইমিন রচিত আশ-শারহুল মুমতি', ৫/৭ - ১৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
موضع الجمعة فراسخ كما تقدم. وخلاصة القول: أن‌‌ صلاة الجمعة تلزم من توفرت فيه هذه الثمانية شروط، وهي: الإسلام، والبلوغ، والعقل، والذكورية، والحرية، والاستيطان، وإمكان سماع النداء إذا كان لا يشمل المستمع اسم البلد، وانتفاء الأعذار (1).1 - أما الإسلام؛ فلأن الكافر لا تصح منه الصلاة، ولا أي عبادة؛ لقول الله عز وجل: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا} (2)، وقوله تعالى: {ذَلِكَ هُدَى الله يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُواْ لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} (3)، والكافر مخاطب بفروع الشريعة الإسلامية كما هو مخاطب بأصولها، ولكن لو عمل بفروع الشريعة ولم يدخل في الإسلام لا تقبل منه حتى يدخل في الإسلام (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: الشرح الكبير، 5/ 160، والكافي لابن قدامة، 1/ 477 - 478.

(2) سورة الفرقان، الآية:23.

(3) سورة الأنعام، الآية: 88.

(4) انظر: حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 2/ 421، والشرح الممتع، لابن عثيمين، 5/ 10 - 11.
জুমার স্থান কয়েক ফারসাখ দূরত্বে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সারকথা হলো:‌‌ জুমার সালাত সেই ব্যক্তির ওপর আবশ্যক হয়, যার মধ্যে এই আটটি শর্ত বিদ্যমান থাকে, সেগুলো হলো: ইসলাম, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া, পুরুষ হওয়া, স্বাধীন হওয়া, স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, এবং আজান শোনা সম্ভব হওয়া—যদি শ্রবণকারী লোকালয়ের নামের (ভৌগোলিক সীমানার) অন্তর্ভুক্ত না হয়—এবং ওজর বা প্রতিবন্ধকতা না থাকা (১)। ১ - প্রথমত ইসলাম; কেননা কাফেরের পক্ষ থেকে সালাত কিংবা কোনো ইবাদতই শুদ্ধ (صحيح) হয় না; মহান আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {আর তারা যে আমল করেছে, আমি তার প্রতি অগ্রসর হব এবং সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব} (২), এবং তাঁর বাণী: {এটি আল্লাহর হেদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর যদি তারা শিরক করত, তবে তারা যা আমল করত তা অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেত} (৩)। আর কাফের ব্যক্তি ইসলামের শাখা-প্রশাখার বিধানের ক্ষেত্রেও সম্বোধিত, যেমনটি সে তার মৌলিক বিধানের ক্ষেত্রে সম্বোধিত; কিন্তু সে যদি ইসলামের শাখা-প্রশাখার ওপর আমল করে অথচ ইসলামে প্রবেশ না করে, তবে ইসলামে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তা তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আশ-শারহুল কাবীর, ৫/১৬০ এবং ইবনে কুদামা রচিত আল-কাফী, ১/৪৭৭ - ৪৭৮।

(২) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৩।

(৩) সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৮৮।

(৪) দেখুন: আর-রওদুল মুরবি‘-এর ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ২/৪২১ এবং ইবনে উসাইমীন রচিত আশ-শারহুল মুমতি‘, ৫/১০ - ১১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - وأما البلوغ؛ فلحديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((رُفع القلم عن ثلاثة: عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبي حتى يحتلم، وعن المجنون حتى يعقل)) (1)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((رفع القلم عن ثلاثة: عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصغير حتى يكبر، وعن المجنون حتى يعقل أو يفيق)) (2).

3 - وأما العقل؛ فلحديث علي وعائشة رضي الله عنهما كما تقدم.

4 - وأما الذكورية، فذكر ابن المنذر الإجماع على أنه ليس على النساء جمعة (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب الحدود، بابٌ في المجنون يسرق أو يصيب حداً، برقم 443، واللفظ له، والترمذي، تاب الحدود، باب من جاء فيمن لا يجب عليه الحد، رقم 1423، وابن ماجه، كتاب الطلاق، باب طلاق المعتوه والصغير والنائم، برقم 2042،وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 3/ 56،وإرواء الغليل 2/ 5 - 6، وغيرهما.

(2) النسائي، كتاب الطلاق، باب من لا يقع طلاقه من الأزواج، برقم 3432، وأبو داود، كتاب الحدود، باب في المجنون يسرق أو يصيب حداً، برقم 4398، وابن ماجه، كتاب الطلاق، باب طلاق المجنون والصغير والنائم، برقم 2042، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود،1/ 55، وفي إرواء الغليل، برقم 297.

(3) انظر: الإجماع لابن المنذر، ص44.
2 - আর সাবালকতা (البلوغ) প্রসঙ্গে; আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু যতক্ষণ না সে সাবালক (يحتلم) হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ মস্তিস্ক (يعقل) সম্পন্ন হয়" (১); এবং আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, ছোট শিশু যতক্ষণ না সে বড় হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ মস্তিস্ক (يعقل) সম্পন্ন হয় বা সুস্থ (يفيق) হয়" (২)।

3 - আর বুদ্ধি (العقل) প্রসঙ্গে; ইতিপূর্বে বর্ণিত আলী ও আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের কারণে।

4 - আর পুরুষ হওয়া (الذكورية) প্রসঙ্গে; ইবনুল মুনযির এই মর্মে ঐক্যমত (الإجماع) উল্লেখ করেছেন যে, নারীদের ওপর জুমার নামাজ নেই (৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) আবু দাউদ, কিতাবুল হুদুদ, পাগল ব্যক্তি চুরি করলে বা হদ প্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদ, নম্বর ৪৪৩, এবং শব্দাবলী তাঁর; তিরমিজি, কিতাবুল হুদুদ, যার ওপর হদ আবশ্যক হয় না তার পরিচ্ছেদ, নম্বর ১৪২৩; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তালাক, মস্তিস্ক বিকৃত, শিশু ও ঘুমন্ত ব্যক্তির তালাক পরিচ্ছেদ, নম্বর ২০৪২; এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ৩/৫৬, ইরওয়াউল গালিল ২/৫-৬ এবং অন্যান্য গ্রন্থে।

(২) নাসাঈ, কিতাবুত তালাক, স্বামীদের মধ্যে যাদের তালাক কার্যকর হয় না পরিচ্ছেদ, নম্বর ৩৪৩২; আবু দাউদ, কিতাবুল হুদুদ, পাগল ব্যক্তি চুরি করলে বা হদ প্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদ, নম্বর ৪৩৯৮; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তালাক, পাগল, শিশু ও ঘুমন্ত ব্যক্তির তালাক পরিচ্ছেদ, নম্বর ২০৪২; এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৫৫ এবং ইরওয়াউল গালিল-এ, নম্বর ২৯৭।

(৩) দেখুন: ইবনুল মুনযিরের আল-ইজমা, পৃষ্ঠা ৪৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
5 - وأما الحرية؛ فلحديث طارق بن شهاب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((الجمعة حق واجب على كل مسلم في جماعة إلا أربعة: عبد مملوك، أو امرأة، أو صبي، أو مريض)) (1).وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز ابن باز رحمه الله يقول: ((هذا يدل على أن الجمعة حق واجب)) (2).

‌‌6 - الاستيطان ببناء معتاد، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((كل قوم كانوا مستوطنين ببناء متقارب، لا يظعنون عنه شتاءً ولا صيفاً، تقام فيه الجمعة إذا كان مبنياً بما جرت به عادتهم: من مدر (3) وخشب، أو قصب،

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب الجمعة للمملوك والمرأة، برقم 1067، قال أبو داود: طارق بن شهاب قد رأى النبي صلى الله عليه وسلم ولم يسمع منه شيئاً. وصحح الحديث العلامة الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 294، ورواه الحاكم عن طارق بن شهاب عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنهما، 1/ 288، وقال: ((هذا حديث صحيح على شرط الشيخين))، ووافقه الذهبي. وسمعت شيخنا ابن باز يقول: ((لمرسل مرسل صحابي وقد ذكر غير واحد إجماع أهل العلم على قبول مرسل الصحابي، وقد صرح بالسماع عن أبي موسى الأشعري فزال ما يخشى، وإن صلى هؤلاء الأربعة أجزأتهم)) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 494.

(2) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 494.

(3) مدر: الطين اليابس. القاموس المحيط، فصل الميم، باب الراء، ص609.
5 - আর স্বাধীন হওয়া প্রসঙ্গে; তারেক বিন শিহাব (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি নবি (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "জামাআতের সাথে জুমার সালাত আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর একটি অবশ্যকরণীয় (واجب) পাওনা, তবে চার ব্যক্তি ব্যতীত: মালিকানাধীন দাস, নারী, শিশু অথবা অসুস্থ ব্যক্তি" (১)। আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবন বাজ (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: "এটি প্রমাণ করে যে জুমার সালাত একটি অবশ্যকরণীয় (واجب) পাওনা" (২)।

‌‌6 - প্রচলিত অবকাঠামোতে স্থায়ী বসবাস, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "যে সকল সম্প্রদায় কাছাকাছি নির্মিত ঘরবাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, শীত বা গ্রীষ্মে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয় না, সেখানে জুমার সালাত কায়েম করা হবে যদি তা তাদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নির্মিত হয়: যেমন শুকনো মাটি (৩), কাঠ বা নলখাগড়া দিয়ে,

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, অনুচ্ছেদ: দাস ও নারীর জন্য জুমা, হাদিস নং ১০৬৭। আবু দাউদ বলেন: তারেক বিন শিহাব নবি (সা.)-কে দেখেছেন কিন্তু তাঁর থেকে সরাসরি কিছু শোনেননি। আল্লামা আলবানি সহিহ আবু দাউদ (১/২৯৪)-এ হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত (صحح) করেছেন। ইমাম হাকেম এটি তারেক বিন শিহাব থেকে, তিনি আবু মুসা আল-াশআরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (১/২৮৮) এবং বলেছেন: "এটি শাইখাইনের শর্ত (شرط الشيخين) অনুযায়ী একটি সহিহ (صحيح) হাদিস", এবং ইমাম যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমি আমাদের শায়খ ইবন বাজকে বলতে শুনেছি: "এটি সাহাবির মুরসাল (مرسل صحابي); আর একাধিক আলেম সাহাবির বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা গ্রহণ করার ব্যাপারে আহলে ইলমদের ঐক্যমত্যের (إجماع) কথা উল্লেখ করেছেন। তদুপরি এখানে আবু মুসা আল-াশআরি থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, ফলে যে আশঙ্কার অবকাশ ছিল তা দূর হয়ে গেছে। আর যদি এই চার শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তি জুমার সালাত আদায় করে নেয়, তবে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।" বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর পাঠদানকালে আমি এটি শুনেছি, হাদিস নং ৪৯৪।

(২) বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর পাঠদানকালে আমি এটি শুনেছি, হাদিস নং ৪৯৪।

(৩) মাদার: শুকনো কাদা বা মাটি। আল-কামুস আল-মুহিত, মিম পরিচ্ছেদ, র অধ্যায়, পৃ. ৬০৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أو جريد، أو سعف، أو غير ذلك؛ فإن أجزأ البناء ومادته لا تأثير لها في ذلك، إنما الأصل أن يكونوا مستوطنين، ليسوا كأهل الخيام، والحلل الذين يتتبعون في الغالب مواقع القطر، ويتنقلون في البقاع، وينقلون بيوتهم معهم، إذا انتقلوا، وهذا مذهب جمهور العلماء … وقال الإمام أحمد: ليس على البادية جمعة؛ لأنهم ينتقلون، فعلَّل سقوطها بالانتقال، فكل من كان مستوطناً لا ينتقل باختياره فهو من أهل القرى)) (1).والمسافر لا جمعة عليه؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسافر أسفاراً كثيرة: قد اعتمر ثلاث عمر سوى عمرة حجته، وحج حجة الوداع، ومعه ألوف مؤلفة، وغزا أكثر من عشرين غزوة ولم ينقل عنه أحد قط أنه صلى في السفر لا جمعة ولا عيداً، بل كان يصلي ركعتين ركعتين في جميع

--------------------------------------------

(1) فتاوى ابن تيمية 24/ 166، 169، وقال ابن تيمية رحمه الله: ((وتجب الجمعة على من أقام في غير بناء: كالخيام وبيوت الشعر ونحوها، وهو أحد قولي الشافعي، وحكاه الأزجي رواية عن أحمد … )) وقال أبو العباس ابن تيمية في موضع آخر: ((يشترط مع إقامتهم في الخيام ونحوها أن يكونوا يزرعون كما يزرع أهل القرية)) الاختيارات الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية، ص119،وانظر: المغني لابن قدامة، 3/ 203.
অথবা খেজুরের ডাল, বা খেজুরের শাখা, অথবা অন্য কিছু; কেননা স্থাপনার ধরণ বা এর নির্মাণ উপকরণের এতে কোনো প্রভাব নেই, বরং মূল কথা হলো তাদের স্থায়ী বসতি স্থাপনকারী (مستوطنين) হতে হবে। তারা তাঁবুবাসী বা যাযাবরদের মতো হবে না যারা সাধারণত বৃষ্টির স্থানের অন্বেষণ করে এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডে ঘুরে বেড়ায় এবং স্থানান্তরের সময় তাদের ঘরবাড়িও সাথে নিয়ে যায়। আর এটিই জমহুর (جمهور) আলেমদের মাযহাব … এবং ইমাম আহমাদ বলেছেন: মরুচারীদের (البادية) ওপর জুমার নামাজ নেই; কারণ তারা স্থানান্তরশীল। তাই তিনি তাদের ওপর থেকে এই বিধান রহিত হওয়ার কারণ হিসেবে যাযাবরবৃত্তিকে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যারা স্থায়ী বসতি স্থাপনকারী (مستوطناً) এবং নিজ ইচ্ছায় স্থান পরিবর্তন করে না, তারাই গ্রামবাসীর অন্তর্ভুক্ত। (১)। আর মুসাফিরের (مسافر) ওপর জুমার নামাজ নেই; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক সফর করেছেন: তিনি হজের উমরাহ ছাড়াও তিনবার উমরাহ করেছেন এবং বিদায় হজ পালন করেছেন যেখানে তাঁর সাথে হাজার হাজার মানুষ ছিল। এছাড়া তিনি বিশটিরও বেশি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে কেউ কখনও এটি বর্ণনা করেনি যে, তিনি সফরে থাকাকালীন জুমা বা ঈদের নামাজ পড়েছেন, বরং তিনি সকল সফরে দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন।

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৪/১৬৬, ১৬৯; এবং ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন: ((আর দালানকোঠা বিহীন স্থানে বসবাসকারীর ওপরও জুমা ওয়াজিব হবে: যেমন তাঁবু, পশমের ঘর বা এই জাতীয় ঘর। এটি ইমাম শাফেয়ীর দুটি মতের একটি এবং আল-আজজি একে ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে উল্লেখ করেছেন … )) এবং আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়া অন্য স্থানে বলেছেন: ((তাঁবু বা অনুরূপ স্থানে তাদের অবস্থানের সাথে এটিও শর্ত যে, তারা গ্রামবাসীর মতো চাষাবাদ করবে।)) আল-ইখতিয়ারাত আল-ফিকহিয়্যাহ লি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, পৃষ্ঠা ১১৯; এবং দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/২০৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أسفاره، ويوم الجمعة يصلي ركعتين كسائر الأيام، وكان يوم عرفة في حجة الوداع يوم الجمعة، وصلى ظهراً، ففي صحيح مسلم من حديث جابر رضي الله عنه: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم لَمّا وصل بطن الوادي يوم عرفة نزل فخطب الناس، ثم بعد الخطبة أذَّن بلال، ثم أقام فصلى الظهر، ثم أقام فصلى العصر)) (1).وهذا نص واضح صريح صحيح أنه صلى الله عليه وسلم لم يصلِّ الجمعة، وإنما صلى ظهراً (2) هذا هو الحق الذي لا شك فيه (3).

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الحج، باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم، برقم 1218.

(2) انظر: مجموع فتاوى ابن تيمية، 24/ 178 - 179 بتصرف يسير، والشرح الممتع لابن عثيمين، 5/ 13، والشرح الكبير، 5/ 169.

(3) وحكي عن الزهري، والنخعي، أن صلاة الجمعة تجب على المسافر؛ لأن الجماعة تجب عليه فالجمعة أولى، والصواب ما تقدم. انظر: الشرح الكبير، 5/ 169، والمغني لابن قدامة، 3/ 216، لكن إذا أجمع المسافر إقامة تمنع القصر ولم يرد استيطاناً لبلد: كطالب العلم، أو التاجر الذي يقيم ليبيع متاعه، أو مشتري شيء لا ينجز إلا في مدة طويلة ففيه وجهان عند الحنابلة:

الوجه الأول: تلزمه الجمعة لعموم الآية، ودلالة الأخبار؛ فإن الأخبار جاءت بوجوب الجمعة إلا على خمسة: المريض، والمسافر، والمرأة، والصبي، والمملوك، وليس المسافر المقيم إقامة تمنع القصر من هؤلاء الخمسة.

الوجه الثاني: لا تجب عليه؛ لأنه ليس بمستوطن، والاستيطان من شروط الوجوب؛ ولأنه لم ينوِ الإقامة في هذا البلد على الدوام، فأشبه أهل القرية الذين يسكنونها صيفاً ويظعنون عنها شتاء. انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 218، والشرح الكبير، المطبوع مع المقنع والإنصاف، 5/ 170.

والصواب أن المسافر الذي أقام إقامة تمنع القصر ولم ينو الاستيطان أن وجوب صلاة الجمعة عليه فيه تفصيل:

أ - إذا أقام المسافرون إقامة تمنع القصر في مكان لا تقام فيه صلاة الجمعة فلا تجب عليهم صلاة الجمعة؛ لأنهم أشبه بالمسافرين وسكان البادية، والجمعة إنما تجب على المستوطنين.

ب - إذا أقاموا في مكان تقام فيه صلاة الجمعة من المسلمين المستوطنين فالمشروع أن يصلوا معهم؛ لأن الجمعة تلزمهم بغيرهم، ورجحه المرداوي في الإنصاف قال: ((فالصحيح من المذهب أن الصلاة تلزمه بغيره)) الإنصاف، 5/ 170، وهذا ما أفتى به شيخنا ابن باز أهل الغربة في مجموع الفتاوى، 12/ 376 - 377، وانظر: المغني لابن قدامة، 3/ 218، والشرح الكبير، 5/ 170، والشرح الممتع لابن عثيمين،

5/ 25، وحاشية ابن قاسم مع الروض المربع، 2/ 426.
তাঁর সফরসমূহে এবং জুমার দিনে তিনি অন্যান্য দিনের মতোই দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। বিদায় হজের আরাফাতের দিনটি ছিল জুমার দিন, এবং তিনি জোহর নামাজ আদায় করেছিলেন। সহীহ মুসলিম-এ জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "নবী (সা.) যখন আরাফাতের দিন উপত্যকার তলদেশে পৌঁছালেন, তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। অতঃপর খুতবা শেষে বিলাল (রা.) আজান দিলেন, তারপর একামত দিলেন এবং তিনি জোহর নামাজ আদায় করলেন, পুনরায় একামত দিলেন এবং আসর নামাজ আদায় করলেন" (১)। এটি একটি স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন (صريح) ও বিশুদ্ধ (صحيح) পাঠ্য যে তিনি (সা.) জুমার নামাজ পড়েননি, বরং তিনি কেবল জোহর নামাজ পড়েছেন (২)। এটিই সত্য যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল হজ, নবী (সা.)-এর হজ অধ্যায়, নম্বর ১২১৮।

(২) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৪/ ১৭৮ - ১৭৯ সামান্য পরিবর্তনসহ; ইবনে উসাইমিনের আশ-শারহুল মুমতি, ৫/ ১৩; এবং আশ-শারহুল কাবীর, ৫/ ১৬৯।

(৩) যুহরি ও নাখয়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জুমার নামাজ মুসাফিরের ওপর ওয়াজিব; কারণ জামাত তার ওপর ওয়াজিব, তাই জুমার নামাজ অধিক অগ্রগণ্য। তবে সঠিক মত হলো যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। দেখুন: আশ-শারহুল কাবীর, ৫/ ১৬৯; এবং ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/ ২১৬। তবে যদি মুসাফির এমন অবস্থানে একমত হন যা সংক্ষেপকরণ (قصر) করতে বাধা দেয় অথচ তিনি কোনো জনপদে স্থায়ী বসবাসের (استيطان) নিয়ত করেননি: যেমন ইলম অন্বেষণকারী (তালিবে ইলম), অথবা এমন ব্যবসায়ী যিনি তার পণ্য বিক্রির জন্য অবস্থান করছেন, অথবা এমন কিছু ক্রেতা যার কাজ দীর্ঘ সময় ছাড়া সম্পন্ন হয় না, তবে হাম্বলি মাজহাবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম অভিমত: আয়াতের ব্যাপকতা এবং বর্ণনাসমূহের (أخبار) প্রমাণের কারণে তার ওপর জুমা আবশ্যক হবে; কেননা বর্ণনাগুলো (أخبار) এসেছে যে জুমা পাঁচজন ব্যতীত সবার ওপর ওয়াজিব: অসুস্থ, মুসাফির, নারী, শিশু এবং দাস। আর এমন মুসাফির যার অবস্থান সংক্ষেপকরণ (قصر) করতে বাধা দেয়, সে এই পাঁচজনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

দ্বিতীয় অভিমত: তার ওপর ওয়াজিব হবে না; কারণ সে স্থায়ী বাসিন্দা (مستوطن) নয়, আর স্থায়ী বসবাস (استيطان) ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত; তাছাড়া সে এই শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থানের নিয়ত করেনি, ফলে সে ওই পল্লীবাসীদের মতো যারা সেখানে গ্রীষ্মকালে বাস করে এবং শীতকালে সেখান থেকে প্রস্থান করে। দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/ ۲১৮; এবং আশ-শারহুল কাবীর, যা আল-মুকনি ও আল-ইনসাফের সাথে মুদ্রিত, ৫/ ১৭০।

আর সঠিক কথা হলো, যে মুসাফির এমন অবস্থানে রয়েছেন যা সংক্ষেপকরণ (قصر) করতে বাধা দেয় এবং স্থায়ী বসবাসের (استيطان) নিয়ত করেননি, তার ওপর জুমার নামাজের আবশ্যকতা বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে:

ক - যদি মুসাফিররা এমন স্থানে অবস্থান করেন যেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না, তবে তাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়; কারণ তারা মুসাফির ও মরুচারী বাসিন্দাদের মতো, আর জুমা কেবল স্থায়ী বাসিন্দাদের (مستوطن) ওপর ওয়াজিব।

খ - যদি তারা এমন স্থানে অবস্থান করেন যেখানে স্থায়ী মুসলিম বাসিন্দাদের দ্বারা জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, তবে নিয়ম হলো তারা তাদের সাথে নামাজ পড়বেন; কারণ অন্যের কারণে জুমা তাদের ওপর আবশ্যক হয়ে যায়। আল-মারদাউয়ি 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে এটিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন: "মাজহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো, অন্যের উপস্থিতির কারণে তার ওপর নামাজ আবশ্যক হয়" আল-ইনসাফ, ৫/ ১৭০। এটিই আমাদের শায়খ ইবনে বাজ প্রবাসীদের জন্য ফতোয়া দিয়েছেন 'মাজমুউ ফাতাওয়া', ১২/ ৩৭৬ - ৩৭৭-এ। আরও দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/ ۲১৮; আশ-শারহুল কাবীর, ৫/ ১৭০; ইবনে উসাইমিনের আশ-শারহুল মুমতি, ৫/ ২৫; এবং আর-রওদুল মুরবি-র সাথে ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ২/ ৪২৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌7 - سماع النداء؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ الله وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} (1) فالمعتبر في رواية عن الإمام أحمد: إمكان سماع النداء، ويمكن سماعه في الغالب على بعد فرسخ، وهو: ثلاثة أميال تقريباً إذا كانت الأصوات هادئة، والموانع منتفية، والريح ساكنة، والمؤذن صيِّتاً، على موضع عالٍ، والمستمع غير

--------------------------------------------

(1) سورة الجمعة، الآية: 9.
৭ - আযান শ্রবণ (سماع النداء); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।} (১) ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)-তে বিবেচনাযোগ্য (المعتبر) বিষয় হলো: আযান শোনা সম্ভব হওয়া; আর এটি সাধারণত এক ফরসাখ দূরত্বে শোনা সম্ভব, যা প্রায় তিন মাইলের সমান; যদি শব্দসমূহ শান্ত থাকে, সকল প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হয়, বাতাস স্থির থাকে, মুয়াযযিন উচ্চকণ্ঠের অধিকারী হন এবং উঁচু স্থানে অবস্থান করেন, আর শ্রবণকারী অন্য কোনো...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ساهٍ، وهذا إذا كان خارج البلد، أما إذا كان داخل البلد، ويشمل موضعه اسم البلد وجبت عليه الجمعة ولو كان بينه وبينها فراسخ (1)، ولو لم يسمع النداء؛ لأن البلد كالشيء الواحد (2).

 

‌‌8 - انتفاء الأعذار، فإذا كان من توفرت فيه شروط الجمعة غير معذور وجبت عليه، أما إذا كان معذوراً فلا تجب عليه الجمعة، وقد ذكرت هذه الأعذار بأدلتها في آخر صلاة الجماعة (3)،‌‌ وهذه الشروط تنقسم إلى أربعة أقسام:

‌‌القسم الأول: شرط للصحة والانعقاد، وهو: الإسلام والعقل.

‌‌القسم الثاني: شروط للوجوب والانعقاد، وهي: الحرية

--------------------------------------------

(1) تقدم غير مرة: أن الفرسخ ثلاثة أميال.

(2) انظر: الإنصاف للمرداوي، 5/ 160، والمغني لابن قدامة، 3/ 244، والشرح الكبير لابن قدامة، 5/ 160، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 2/ 218 - 424، والشرح الممتع لابن عثيمين، 5/ 7 - 19، وصحيح البخاري، رقم 902.

(3) وقد سبق أن الأعذار التي تسقط بها الجمعة والجماعة ثمانية أشياء: المرض، والخوف على النفس أو المال أو العرض، والمطر، والدحض، والريح الشديدة في الليلة المظلمة الباردة، وحضور الطعام والنفس تتوق إليه، ومدافعة أحد الأخبثين، وأن يكون له قريب يخاف موته ولا يحضره، وتقدمت الأدلة على ذلك في الأعذار المسقطة لصلاة الجماعة.
অমনোযোগী, আর এটি তখন হবে যখন সে শহরের বাইরে অবস্থান করবে। তবে যদি সে শহরের ভেতরে থাকে এবং তার অবস্থানটি শহরের নামের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তার ওপর জুমা ওয়াজিব (واجب) হবে যদিও তার ও জুমার মধ্যবর্তী দূরত্ব কয়েক ফারসাখ (১) হয় এবং যদিও সে আজান না শোনে; কারণ পুরো শহরটি একটি একক সত্তার মতো (২)।

 

‌‌৮ - ওজরসমূহের (عذر) অনুপস্থিতি, সুতরাং যার মধ্যে জুমার শর্তাবলি বিদ্যমান এবং সে ওজরগ্রস্ত নয়, তার ওপর জুমা ওয়াজিব (واجب) হবে। আর যদি সে ওজরগ্রস্ত হয়, তবে তার ওপর জুমা ওয়াজিব (واجب) নয়। জামাতের নামাজের আলোচনার শেষে এই ওজরসমূহ দলীলসহ বর্ণিত হয়েছে (৩)।‌‌ আর এই শর্তগুলো চার ভাগে বিভক্ত:

‌‌প্রথম ভাগ: সহিহ (صحيح) হওয়া ও নামাজ সংঘটিত হওয়ার শর্ত, আর তা হলো: ইসলাম ও বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া।

‌‌দ্বিতীয় ভাগ: ওয়াজিব (واجب) হওয়া ও নামাজ সংঘটিত হওয়ার শর্ত, আর তা হলো: স্বাধীন হওয়া।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে একাধিকবার অতিক্রান্ত হয়েছে যে: এক ফারসাখ হলো তিন মাইল।

(২) দেখুন: আল-মারদাউয়ি প্রণীত আল-ইনসাফ, ৫/১৬০; ইবনে কুদামা প্রণীত আল-মুগনি, ৩/২৪৪; ইবনে কুদামা প্রণীত আল-শারহুল কাবীর, ৫/১৬০; ইবনে কাসিমের হাশিয়াসহ আল-রওদুল মুরবি, ২/২১৮ - ৪২৪; ইবনে উসাইমিন প্রণীত আল-শারহুল মুমতি, ৫/৭ - ১৯; এবং সহিহ বুখারি, নম্বর ৯০২।

(৩) ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে সকল ওজরের কারণে জুমা ও জামাত রহিত হয় তা আটটি বিষয়: অসুস্থতা, নিজের জীবন, সম্পদ বা সম্মানের হানি হওয়ার ভয়, বৃষ্টি, পিচ্ছিল কাদা, অন্ধকার ও হাড়কাঁপানো শীতের রাতে প্রচণ্ড বাতাস, খাবারের উপস্থিতি যখন মনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকে, মল-মূত্রের বেগ হওয়া এবং এমন কোনো আত্মীয় থাকা যার মৃত্যু আসন্ন অথচ তার পাশে উপস্থিত হওয়ার মতো কেউ নেই। জামাতের নামাজ রহিতকারী ওজরসমূহের অধ্যায়ে এর দলীলসমূহ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
على قول، والذكورية، والبلوغ، والاستيطان.

 

‌‌القسم الثالث: شرط لوجوب السعي فقط، وهو انتفاء الأعذار.

‌‌القسم الرابع: شرط الانعقاد: وهو الإقامة بمكان الجمعة على قول (1).

‌‌رابعاً: من حضر الجمعة ممن لا تجب عليه من المسلمين العقلاء، أجزأته عن الظهر، وانعقدت به، وصح أن يؤم فيها على الصحيح؛ إلا المرأة، فلا يصح أن تكون خطيباً ولا إماماً، ولا تنعقد بها الجمعة: أي لا تحسب من العدد الذي تصح به صلاة الجمعة، ولكن لو حضرتها أجزأتها عن صلاة الظهر، قال ابن المنذر رحمه الله: ((وأجمعوا على أنهن إذا حضرن الإمام فصلين معه أن ذلك يجزئ عنهن)) (2) (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الكافي لابن قدامة، 1/ 478 - 479.

(2) الإجماع لابن المنذر، ص44.

(3) اختلف أهل العلم في إمامة المسافر في صلاة الجمعة، وكذلك إمامة المملوك، فقال قوم لا يؤم المسافر ولا المملوك في صلاة الجمعة، ولا يعتبر بهما في العدد المشروط، وقال آخرون: بل تصح إمامتهما ويعتبر بهما في العدد المشروط، واختار شيخ الإسلام أن العبد والمسافر تنعقد بهما الجمعة، وتصح إمامتهما؛ لأن من صحت منه انعقدت به، وصحت إمامته. نقله ابن قاسم في حاشية الروض، 2/ 427 وبين أن إمامة المرأة والخنثى لا تصح بلا نزاع، وأما إمامة العبد والمسافر فتجوز وفاقاً إلا مالكاً في العبد، وجمهور العلماء على خلافه، ونقل أبو حامد إجماع المسلمين على صحتها خلف المسافر، حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 2/ 427، وذكر المرداوي أن من حضرها منهم أجزأته عن الظهر بلا نزاع، وذكر رواية عن الإمام أحمد أن صلاة الجمعة تنعقد بالعبد ويؤم فيها، وقال في الصبي المميز إن قلنا تجب عليه انعقدت به وأم فيها. انظر الإنصاف، 5/ 173 - 174، والمغني، 3/ 220، والشرح الكبير، 5/ 173،ورجح العلامة ابن عثيمين أن الصحيح أن الجمعة تنعقد بالمسافر والعبد ويصح أن يكونوا أئمة وخطباء؛ لأن القول بعدم صحة ذلك لا دليل عليه. الشرح الممتع، 5/ 23.
একটি অভিমত অনুযায়ী, এবং পুরুষ হওয়া, বালেগ হওয়া এবং স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া।

 

‌‌তৃতীয় বিভাগ: কেবল গমনের আবশ্যকতা হওয়ার শর্ত, আর তা হলো ওজরসমূহ না থাকা।

‌‌চতুর্থ বিভাগ: সংঘটিত হওয়ার শর্ত: আর তা হলো একটি অভিমত অনুযায়ী জুমার স্থানে অবস্থান করা (১)।

‌‌চতুর্থত: বুদ্ধিমান মুসলিমদের মধ্যে যাদের ওপর জুমা ওয়াজিব নয়, তারা যদি জুমায় উপস্থিত হয়, তবে তা যোহরের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে, তাদের মাধ্যমে জুমা সংঘটিত হবে এবং বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী তাদের ইমামতি করাও সহিহ হবে; তবে নারী ব্যতীত। কেননা নারীর জন্য খতিব বা ইমাম হওয়া সহিহ নয় এবং তার মাধ্যমে জুমা সংঘটিত হবে না: অর্থাৎ জুমা সহিহ হওয়ার জন্য যে সংখ্যার প্রয়োজন হয় তার মধ্যে তাকে গণনা করা হবে না। তবে যদি সে জুমায় উপস্থিত হয়, তবে তা যোহরের সালাতের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সকলে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তারা (নারীরা) যদি ইমামের উপস্থিতিতে তাঁর সাথে সালাত আদায় করে, তবে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।" (২) (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামার আল-কাফি, ১/ ৪৭৮ - ৪৭৯।

(২) ইবনুল মুনযিরের আল-ইজমা, পৃ. ৪৪।

(৩) জুমার সালাতে মুসাফিরের ইমামতি এবং একইভাবে দাসের ইমামতি নিয়ে জ্ঞানীবৃন্দ মতভেদ করেছেন। একদল বলেছেন, জুমার সালাতে মুসাফির বা দাস ইমামতি করতে পারবে না এবং শর্তযুক্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে তাদের বিবেচনা করা হবে না। অন্যদল বলেছেন: বরং তাদের ইমামতি সহিহ এবং শর্তযুক্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে তাদের বিবেচনা করা হবে। শায়খুল ইসলাম পছন্দ করেছেন যে, দাস ও মুসাফিরের মাধ্যমে জুমা সংঘটিত হবে এবং তাদের ইমামতি সহিহ হবে; কারণ যার সালাত সহিহ হয়, তার মাধ্যমে জুমা সংঘটিত হয় এবং তার ইমামতিও সহিহ হয়। ইবনে কাসিম হাশিয়াতুর রওদ-এ (২/ ৪২৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, নারী ও হিজড়ার ইমামতি কোনো বিতর্ক ছাড়াই অশুদ্ধ। আর দাস ও মুসাফিরের ইমামতি ইমাম মালিক ব্যতীত অন্যদের নিকট সর্বসম্মতভাবে বৈধ, আর জমহুর ওলামায়ে কেরাম তাঁর বিপরীত মত পোষণ করেন। আবু হামিদ মুসাফিরের পেছনে সালাত সহিহ হওয়ার ব্যাপারে মুসলিমদের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন; হাশিয়াতু ইবনে কাসিম আলা রওদিল মুরবি, ২/ ৪২৭। মারদাভী উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মধ্যে যারা জুমায় উপস্থিত হবে, কোনো বিতর্ক ছাড়াই তা যোহরের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। তিনি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যে, দাসের মাধ্যমে জুমার সালাত সংঘটিত হবে এবং সে তাতে ইমামতি করবে। আর সমঝদার বালকের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, যদি আমরা বলি যে তার ওপর জুমা ওয়াজিব, তবে তার মাধ্যমে তা সংঘটিত হবে এবং সে ইমামতি করতে পারবে। দেখুন: আল-ইনসাফ, ৫/ ১৭৩ - ১৭৪, এবং আল-মুগনি, ৩/ ২২০, এবং আশ-শারহুল কাবির, ৫/ ১৭৩। আল্লামা ইবনে উসাইমিন প্রাধান্য দিয়েছেন যে, বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো মুসাফির ও দাসের মাধ্যমে জুমা সংঘটিত হবে এবং তারা ইমাম ও খতিব হতে পারবে; কারণ তা সহিহ না হওয়ার বক্তব্যের সপক্ষে কোনো দলিল নেই। আশ-শারহুল মুমতি, ৫/ ২৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌خامساً: عقوبة تارك صلاة الجمعة عظيمة؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لقوم يتخلفون عن الجمعة: ((لقد هممت أن آمر رجلاً يصلي بالناس ثم أُحرِّق على رجال يتخلفون عن الجمعة بيوتهم)) (1)، ولحديث أبي هريرة وابن عمر رضي الله عنهم أنهما سمعا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لينتهينَّ أقوام عن ودعهم الجُمعات أو ليختمنَّ الله على قلوبهم، ثم ليكونُنَّ من الغافلين)) (2)؛ ولحديث أبي الجعد الضمري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من ترك ثلاث جُمع تهاوناً بها طبع الله على قلبه)) (3).

--------------------------------------------

(1) مسلم، تاب المساجد، باب فضل صلاة الجماعة وبيان التشديد في التخلف عنها، برقم 652.

(2) مسلم، برقم 865، وتقدم تخريجه في الأصل في وجوب صلاة الجمعة.

(3) أبو داود، برقم 1052، والنسائي، برقم 1370، والترمذي، برقم 500، وتقدم تخريجه في الأصل في وجوب الجمعة.
পঞ্চম: জুমার সালাত পরিত্যাগকারীর শাস্তি অত্যন্ত গুরুতর; কেননা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকা একদল লোক সম্পর্কে বলেছেন: ((আমি সংকল্প করেছিলাম যে, কাউকে আদেশ করি সে মানুষকে সালাত পড়াবে, অতঃপর আমি ঐসব ব্যক্তিদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেব যারা জুমার নামাজে উপস্থিত হয় না)) (1), এবং আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: ((একদল মানুষ যেন অবশ্যই তাদের জুমার নামাজ বর্জন করা থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, অতঃপর তারা অবশ্যই গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে)) (2); এবং আবুল জাদ আদ-দুমারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তিনটি জুমা পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন)) (3)।

--------------------------------------------

(1) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, জামাতে সালাত আদায়ের ফযিলত এবং তা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে কঠোরতা বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, নম্বর 652।

(2) মুসলিম, নম্বর 865; এবং জুমার সালাতের আবশ্যকতা (وجوب) সংক্রান্ত মূল পাঠে ইতিপূর্বে এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) আলোচিত হয়েছে।

(3) আবু দাউদ, নম্বর 1052, নাসায়ি, নম্বর 1370, তিরমিজি, নম্বর 500; এবং জুমার আবশ্যকতা (وجوب) সংক্রান্ত মূল পাঠে ইতিপূর্বে এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌سادساً: حكم السفر في يوم الجمعة لمن تلزمه: لا يجوز إذا أذن المؤذن بعد دخول وقتها؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ الله وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} (1) (2) إلا إذا خاف فوات رفقته، فإن خاف فواتهم فله أن يسافر؛ لأن هذا عذر في ترك الجمعة نفسها، فكذلك يكون عذراً في السفر بعد دخول وقت الجمعة بعد الزوال.

وكذلك يجوز له السفر إذا كان يمكنه أن يأتي بصلاة الجمعة في طريقه في مسجد آخر من غير كراهة (3)، والله

--------------------------------------------

(1) سورة الجمعة، الآية: 9.

(2) يعبر الفقهاء بقولهم: ((لا يجوز لمن تلزمه الجمعة السفر في يومها بعد الزوال)) المغني لابن قدامة، 3/ 247، والشرح الكبير، 5/ 182، والمقنع، 5/ 182، ولكن قال العلامة ابن عثيمين: ((الأولى أن يعلق الحكم بما علقه الله به وهو النداء إلى الجمعة؛ لأنه من الجائز أن يتأخر الإمام عن الزوال … فلا ينادى للجمعة إلا عند حضور الإمام، ولكن الغالب أن الإمام يحضر إذا زالت الشمس)) الشرح الممتع،5/ 29 - 30.

(3) انظر: الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، للمرداوي، 5/ 182، 185، والشرح الممتع، 5/ 30.
ষষ্ঠত: যার ওপর জুমুআ আবশ্যক তার জন্য জুমুআর দিনে সফরের বিধান: ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর মুয়াজ্জিন আজান দিলে সফর করা বৈধ নয় (لا يجوز); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! যখন জুমুআর দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা উপলব্ধি করো} (১) (২)। তবে যদি কেউ তার সফরসঙ্গীদের হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করে, তবে সে সফর করতে পারবে; কারণ এটি স্বয়ং জুমুআ ত্যাগের জন্য একটি ওজর (عذر), তাই জওয়াল (সূর্য ঢলে পড়া) এর পর জুমুআর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরের ক্ষেত্রেও এটি ওজর (عذر) হিসেবে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে তার জন্য সফর করা বৈধ হবে যদি সে পথের অন্য কোনো মসজিদে কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই জুমুআর নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয় (৩), আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯।

(২) ফকিহগণ তাদের বক্তব্যে এভাবে ব্যক্ত করেন: "যার ওপর জুমুআ আবশ্যক, জওয়াল (الزوال) এর পর ঐ দিনে তার জন্য সফর করা বৈধ নয় (لا يجوز)"। ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/ ২৪৭; আশ-শারহুল কাবীর, ৫/ ১৮২; আল-মুকনি, ৫/ ১৮২; কিন্তু আল্লামা ইবনে উসাইমিন বলেছেন: "উত্তম হলো বিধানটিকে সেই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা যার সাথে আল্লাহ সম্পৃক্ত করেছেন, আর তা হলো জুমুআর আজান; কারণ অনেক সময় ইমাম জওয়াল (الزوال) এর পর বিলম্ব করতে পারেন... ফলে ইমামের উপস্থিতি ছাড়া জুমুআর আজান দেওয়া হয় না, তবে সাধারণত সূর্য ঢলে পড়ার (الزوال) পরপরই ইমাম উপস্থিত হন" আশ-শারহুল মুমতি, ৫/ ২৯-৩০।

(৩) দেখুন: আল-মারদাউয়ি কৃত আল-ইনসাফ ফি মা’রিফাতির রাজিহ মিনাল খিলাফ, ৫/ ১৮২, ১৮৫; এবং আশ-শারহুল মুমতি, ৫/ ৩০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
- عز وجل أعلم (1).

--------------------------------------------

(1) اختلف العلماء في جواز السفر يوم الجمعة على أقوال:

أولاً: اختلفوا في جوازه من طلوع الفجر إلى الزوال على خمسة أقوال:

القول الأول: الجواز، وهو قول أكثر العلماء، كعمر بن الخطاب، والزبير بن العوام، وأبي عبيدة، وابن عمر، والحسن، وابن سيرين، والزهري، وأبي حنيفة، ومالك في المشهور عنه، والأوزاعي، وأحمد بن حنبل في المشهور عنه، وهو القول القديم للشافعي، وحكاه ابن قدامة عن أكثر أهل العلم.

القول الثاني: المنع منه، وهو قول الشافعي في الجديد، ورواية عن أحمد، ورواية عن مالك.

القول الثالث: جواز السفر للجهاد دون غيره، وهو رواية عن أحمد.

القول الرابع: جواز السفر الواجب دون غيره، وهو اختيار أبي إسحاق المروزي من الشافعية، ومال إليه إمام الحرمين.

القول الخامس: جواز سفر الطاعة واجباً كان أو مسنوناً، وهو قول كثير من الشافعية، وصححه الرافعي.

ثانياً: اختلفوا في جواز السفر يوم الجمعة بعد الزوال، فذهب أبو حنيفة والأوزاعي إلى جوازه كسائر الصلوات، وقال عامة العلماء بعدم جوازه وفرقوا بين الجمعة وغيرها. والصواب في ذلك إن شاء الله تعالى أن السفر يوم الجمعة لا يجوز بعد الأذان الذي بعد دخول وقت الجمعة إلا أن يخشى حصول مضرة من تخلفه للجمعة: كالانقطاع عن الرفقة التي لا يتمكن من السفر إلا معها، وما شابه ذلك من الأعذار، وقد جاز التخلف عن الجمعة لعذر المطر الشاق فجوازه لما كان أدخل في المشقة منه أولى. وكذلك يجوز السفر بعد الزوال إذا تيقن أن يأتي بصلاة الجمعة في طريقه في مسجد آخر، والله أعلم. انظر: نيل الأوطار للشوكاني، 2/ 492 - 493، وزاد المعاد لابن القيم، 1/ 382 - 385، والمغني لابن قدامة، 3/ 247 - 248، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 5/ 182، وحاشية ابن قاسم على الروض المربع، 2/ 430.
মহান আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন (১)।

--------------------------------------------

(১) জুমার দিনে সফরের বৈধতা নিয়ে আলিমগণের মাঝে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমত: ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্য ঢলে পড়া (যাওয়াল) পর্যন্ত সময়ে সফরের বৈধতা নিয়ে তাঁরা পাঁচটি অভিমতে মতভেদ করেছেন:

প্রথম অভিমত: এটি বৈধ। এটি অধিকাংশ আলিমের অভিমত, যেমন: উমর ইবনুল খাত্তাব, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবু উবাইদাহ, ইবনে উমর, হাসান, ইবনে সিরিন, যুহরি, আবু হানিফা এবং ইমাম মালিক (তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী), আওযায়ি ও আহমাদ বিন হাম্বল (তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী)। এটি ইমাম শাফিঈর প্রাচীন (কাওল কাদিদ) অভিমত। ইবনে কুদামা অধিকাংশ বিজ্ঞ আলিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় অভিমত: এটি নিষিদ্ধ। এটি ইমাম শাফিঈর নতুন (কাওল জাদিদ) অভিমত এবং ইমাম আহমাদ ও ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।

তৃতীয় অভিমত: জিহাদ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয়। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।

চতুর্থ অভিমত: কেবল ওয়াজিব সফর বৈধ, অন্যগুলো নয়। শাফিঈ মাজহাবের আবু ইসহাক আল-মারওয়াযি এটি পছন্দ করেছেন এবং ইমামুল হারামাইনও এর প্রতি ঝুঁকেছেন।

পঞ্চম অভিমত: আনুগত্যের সফর বৈধ, তা ওয়াজিব হোক বা সুন্নাত। এটি অনেক শাফিঈ আলিমের বক্তব্য এবং ইমাম রাফেয়ি একে সঠিক (صحيح) বলেছেন।

দ্বিতীয়ত: জুমার দিনে সূর্য ঢলে পড়ার (যাওয়াল) পর সফরের বৈধতা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা ও আওযায়ি অন্যান্য সালাতের ন্যায় একে বৈধ বলেছেন। তবে সাধারণ আলিমগণ এটি বৈধ নয় বলে মত দিয়েছেন এবং জুমার সালাত ও অন্যান্য সালাতের মাঝে পার্থক্য করেছেন। এক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ সঠিক অভিমত হলো, জুমার ওয়াক্ত হওয়ার পর আজান দেওয়া হয়ে গেলে সফর করা বৈধ নয়; তবে জুমার জন্য পিছিয়ে থাকলে যদি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তবে ভিন্ন কথা। যেমন: এমন সফরসঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাদের ছাড়া সফর করা সম্ভব নয় অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো ওজর। জুমার সালাত থেকে বিরত থাকার জন্য যেখানে কষ্টকর বৃষ্টির ওজর গ্রহণযোগ্য, সেখানে সফরের ক্ষেত্রে ওজর থাকা তো অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। একইভাবে সূর্য ঢলে পড়ার পরও সফর বৈধ হবে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ব্যক্তি পথিমধ্যে অন্য কোনো মসজিদে জুমার সালাত আদায় করতে পারবে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। দেখুন: শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ২/৪৯২-৪৯৩; ইবনুল কায়্যিম রচিত যাদুল মাআদ, ১/৩৮২-৩৮৫; ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/২৪৭-২৪৮; আশ-শারহুল কাবির ও আল-ইনসাফসহ আল-মুকনি, ৫/১৮২; এবং আর-রাওদুল মুরবি-র ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ২/৪৩০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌سابعاً: فضائل يوم الجمعة، له فضائل كثيرة، منها ما يلي:

‌‌1 - هداية هذه الأمة ليوم الجمعة فضل عظيم؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نحن الآخرون السابقون يوم القيامة بيد (1) أنهم أُوتوا الكتاب من قبلنا، ثم هذا يومهم الذي فرض الله عليهم اختلفوا فيه، فهدانا الله له، فالناس لنا فيه تبع: اليهود غداً، والنصارى بعد غدٍ)) وفي لفظ للبخاري: ((نحن الآخرون السابقون يوم القيامة بيد كل أمة أُوتوا الكتاب من قبلنا وأُوتيناه من بعدهم … )) ولفظ مسلم: ((نحن الآخرون الأولون يوم القيامة، ونحن أول من يدخل الجنة، بيد أنهم أُوتوا الكتاب من قبلنا وأُوتيناه من بعدهم، فاختلفوا فهدانا الله لِمَا اختلفوا فيه من الحق، فهذا يومهم الذي اختلفوا فيه هدانا الله له - قال يوم الجمعة (2) - فاليوم لنا، وغداً

--------------------------------------------

(1) بيد أنهم: أي غير أنهم؛ فإن بيد تأتي: بمعنى غير، وبمعنى على، وبمعنى من أجل. وقيل: ميد بمعنى غير أيضاً. انظر: المفهم لِمَا أشكل من تلخيص كتاب مسلم، للقرطبي، 2/ 491.

(2) قال: أي قال الراوي، ويفسره ما في النسائي: ((يعني يوم الجمعة)).
সপ্তম: জুমার দিনের মর্যাদা, এর অনেক ফজিলত রয়েছে, যার মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্যতম:

১ - এই উম্মতকে জুমার দিনের জন্য হেদায়াত করা একটি মহান অনুগ্রহ; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস অনুসারে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমরা শেষে আগত কিন্তু কিয়ামতের দিন হব অগ্রগামী, যদিও আমাদের পূর্বে তাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছিল। অতঃপর এটিই ছিল তাদের সেই দিন যা আল্লাহ তাদের ওপর ফরজ করেছিলেন কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতভেদ করল। ফলে আল্লাহ আমাদের এ দিনের দিকে সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন। সুতরাং এ বিষয়ে মানুষ আমাদের অনুসারী: ইহুদিরা আগামীকাল এবং খ্রিস্টানরা পরশু।" বুখারি-র এক পাঠে (لفظ) রয়েছে: "আমরা শেষে আগত কিন্তু কিয়ামতের দিন হব অগ্রগামী, যদিও আমাদের পূর্ববর্তী প্রতিটি উম্মতকে কিতাব প্রদান করা হয়েছিল এবং আমাদের প্রদান করা হয়েছে তাদের পরে … " এবং মুসলিম-এর পাঠে (لفظ) রয়েছে: "আমরা শেষে আগত কিন্তু কিয়ামতের দিন হব প্রথম এবং আমরাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব, যদিও তাদের আমাদের পূর্বে কিতাব প্রদান করা হয়েছিল এবং আমাদের প্রদান করা হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর তারা মতভেদ করল, ফলে আল্লাহ যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল সেই সত্যের দিকে আমাদের হেদায়াত দান করলেন। সুতরাং এটিই তাদের সেই দিন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল, আল্লাহ আমাদের এ দিনের দিকে হেদায়াত দান করেছেন - তিনি বললেন: জুমার দিন (২) - সুতরাং আজকের দিনটি আমাদের জন্য এবং আগামীকাল..."

--------------------------------------------

(১) 'বইদা আন্নাহুম': অর্থাৎ এছাড়া যে তারা; কেননা 'বইদা' শব্দটি: 'এছাড়া', 'উপরে' এবং 'কারণে' অর্থে ব্যবহৃত হয়। আরও বলা হয়েছে: 'মইদা' শব্দটিও 'এছাড়া' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। দেখুন: আল-কুরতুবি রচিত আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাব মুসলিম, ২/৪৯১।

(২) তিনি বললেন: অর্থাৎ বর্ণনাকারী (راوي) বললেন, আর নাসাঈ-তে যা রয়েছে তা এর ব্যাখ্যা করে: "অর্থাৎ জুমার দিন"।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
لليهود، وبعد غد للنصارى)) (1). وقد فسرته الرواية الأخرى عند مسلم من حديث حذيفة رضي الله عنه ((أضلّ الله عن الجمعة من كان قبلنا، فكان لليهود يوم السبت، وكان للنصارى يوم الأحد، فجاء الله بنا فهدانا الله ليوم الجمعة، فجعل الجمعة، والسبت، والأحد، وكذلك هم تبع لنا يوم القيامة، نحن الآخرون من أهل الدنيا، والأولون يوم القيامة المقضيُّ لهم قبل الخلائق)). وفي رواية واصل: ((المقضي بينهم)) (2).

 

‌‌2 - يوم الجمعة خير يوم طلعت عليه الشمس؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((خير يوم طلعت عليه الشمس يوم الجمعة: فيه خُلِقَ آدم، وفيه أُدْخِلَ الجنة، وفيه أُخْرِجَ منها، ولا تقوم الساعة إلا في يوم الجمعة)) (3)، ولفظ أبي داود: ((خير يوم طلعت فيه الشمس

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الجمعة، باب فرض الجمعة، برقم 876، ورقم 3486،ومسلم، كتاب الجمعة، باب هداية الله هذه الأمة ليوم الجمعة، برقم 855.

(2) مسلم، كتاب الجمعة، باب هداية الله هذه الأمة ليوم الجمعة، برقم 856.

(3) مسلم، كتاب الجمعة، باب في الساعة التي يوم الجمعة، برقم 854.
ইহুদিদের জন্য, আর পরশু দিন খ্রিস্টানদের জন্য)) (১)। এটি মুসলিম-এ বর্ণিত হুযায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিস দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে: ((আল্লাহ তাআলা আমাদের পূর্ববর্তীদের জুমুআর দিন সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে রেখেছিলেন; ফলে ইহুদিদের জন্য ছিল শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিয়ে আসলেন এবং আমাদের জুমুআর দিনের জন্য পথপ্রদর্শন করলেন। এভাবে তিনি জুমুআ, শনিবার ও রবিবার (ক্রমানুসারে) নির্ধারণ করলেন। একইভাবে কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের অনুসারী হবে। আমরা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবশেষে এসেছি, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরাই হব সর্বপ্রথম, যাদের বিচার সব সৃষ্টির আগে সম্পন্ন করা হবে))। ওয়াসিল-এর বর্ণনায় (رواية): ((তাদের মধ্যে ফয়সালা করা হবে)) (২)।

 

‌‌২ - জুমুআর দিন হলো সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুআর দিন: এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। আর জুমুআর দিন ছাড়া কিয়ামত সংঘটিত হবে না)) (৩), আবু দাউদ-এর শব্দে (لفظ): ((সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, জুমুআ অধ্যায়, জুমুআ ফরয হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৭৬, ও ৩৪৮৬, এবং মুসলিম, জুমুআ অধ্যায়, এই উম্মতকে জুমুআর দিনের জন্য আল্লাহর হেদায়াত দান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৫৫।

(২) মুসলিম, জুমুআ অধ্যায়, এই উম্মতকে জুমুআর দিনের জন্য আল্লাহর হেদায়াত দান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৫৬।

(৩) মুসলিম, জুমুআ অধ্যায়, জুমুআর দিনের একটি বিশেষ মুহূর্ত সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৫৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
يوم الجمعة: فيه خُلِق آدم، وفيه أُهبط، وفيه تِيب عليه، وفيه مات، وفيه تقوم الساعة، وما من دابة إلا وهي مسيخة (1) يوم الجمعة من حين تصبح حتى تطلع الشمس شفقاً من الساعة، إلا الجن والإنس، وفي ساعة لا يصادفها عبد مسلم وهو يصلي يسأل الله حاجة إلا أعطاه إياها)) قال كعب: ذلك في كل سنة يوم؟ فقلت: بل في كل جمعة، قال: فقرأ كتب التوراة فقال: صدق النبي صلى الله عليه وسلم، قال أبو هريرة: ثم لقيت عبد الله بن سلام فحدثته بمجلسي مع كعب، فقال عبد الله بن سلام: قد علمت أي ساعة هي! قال أبو هريرة: فقلت له: أخبرني بها؟ فقال عبد الله بن سلام: هي آخر ساعة من يوم الجمعة، فقلت: كيف هي آخر ساعة من يوم الجمعة وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يصادفها عبد مسلم وهو يصلي)) وتلك الساعة لا يُصلَّى فيها؟ فقال عبد الله بن سلام: ألم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من جلس مجلساً ينتظر الصلاة فهو في

--------------------------------------------

(1) مسيخة، وروي مصيخة، والسين بدلاً من الصاد، ومعناهما: منتظرة لقيام الساعة.
জুমার দিন: এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে (পৃথিবীতে) নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দিনেই তার তওবা কবুল করা হয়েছে, এই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জুমার দিন ভোর হওয়া থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত জিন ও মানুষ ব্যতীত প্রতিটি প্রাণী কিয়ামতের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত হয়ে শ্রবণরত (مسيخة) থাকে। আর এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সালাত রত অবস্থায় সেটি পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজনের কথা জানায়, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন)) কাব জিজ্ঞেস করলেন: এটি কি প্রতি বছরের কোনো একদিন? আমি বললাম: বরং প্রতি জুমায়। তখন তিনি তাওরাতের কিতাবসমূহ পাঠ করলেন এবং বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন। আবু হুরায়রা বলেন: এরপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং কাবের সাথে আমার মজলিসের কথা তাকে জানালাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন: আমি জানি সেটি কোন মুহূর্ত! আবু হুরায়রা বলেন: আমি তাকে বললাম: আমাকে সেটি সম্পর্কে অবহিত করুন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন: সেটি জুমার দিনের শেষ মুহূর্ত। আমি বললাম: সেটি জুমার দিনের শেষ মুহূর্ত কীভাবে হতে পারে? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((কোনো মুসলিম বান্দা সালাত রত অবস্থায় সেটি পায়)) অথচ ওই সময়ে তো সালাত আদায় করা যায় না? তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলেননি: ((যে ব্যক্তি সালাতের অপেক্ষায় কোনো মজলিসে বসে থাকে, সে মূলত

--------------------------------------------

(১) মুসিখাহ (مسيخة), আর এটি মুসিখাহ (مصيخة) রূপেও বর্ণিত হয়েছে; এখানে 'সীন' বর্ণটি 'সদ'-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এগুলোর অর্থ হলো: কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
صلاة حتى يصلي)) قال: فقلت: بلى، قال: هو ذاك)) (1).

3 - يوم الجمعة سيد الأيام؛ لحديث أبي لبابة بن عبد المنذر، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن يوم الجمعة سيد الأيام، وأعظمها عند الله، وهو أعظم عند الله من يوم الأضحى، ويوم الفطر، فيه خمس خلال: خلق الله فيه آدم، وأُهبط فيه آدم إلى الأرض، وفيه تَوفَّى الله آدم، وفيه ساعة لا يسأل اللهَ فيها العبدُ شيئاً إلا أعطاه ما لم يسأل حراماً، وفيه تقوم الساعة، ما من ملك مقرب ولا سماء ولا أرض، ولا رياح، ولا جبال، ولا بحر إلا وهن يشفقن من يوم الجمعة)) (2).

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب فضل يوم الجمعة وليلة الجمعة، رقم 1046، واللفظ له، 1/ 290، والترمذي، كتاب الجمعة، باب ما جاء في الساعة التي ترجى في يوم الجمعة، برقم 491، والنسائي، كتاب الجمعة، باب ذكر الساعة التي يستجاب فيها الدعاء يوم الجمعة، برقم 1429، وصححه الألباني في صحيح أبي داود،

1/ 290، وصحيح الترمذي، 1/ 278 وغيرهما.

(2) ابن ماجه، كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها، باب فضل يوم الجمعة، 1084، وأحمد، 3/ 430، وحسنه الألباني في صحيح ابن ماجه، 1/ 321، ومشكاة المصابيح، 1/ 400.
সালাত আদায় করা পর্যন্ত)) তিনি বললেন: আমি বললাম: অবশ্যই, তিনি বললেন: ওটাই সেটি)) (১)।

৩ - জুমার দিন হলো দিনগুলোর সরদার; আবু লুবাবা বিন আব্দুল মুনযির বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই জুমার দিন দিনগুলোর সরদার এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মহান; আর তা আল্লাহর নিকট ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও বেশি মহান। এতে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে: এই দিনে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনে আল্লাহ আদমকে পৃথিবীতে অবতরণ করিয়েছেন, এই দিনে আল্লাহ আদমের মৃত্যু ঘটিয়েছেন, এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই প্রার্থনা করে তিনি তাকে তা দান করেন—যতক্ষণ না সে কোনো হারামের প্রার্থনা করে, আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আসমান, জমিন, বাতাস, পাহাড় কিংবা সমুদ্র নেই যারা জুমার দিন সম্পর্কে শংকিত নয়)) (২)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: জুমার দিন ও জুমার রাতের শ্রেষ্ঠত্ব, নম্বর ১০৪৬, শব্দবিন্যাস তার নিজস্ব, ১/২৯০; তিরমিজি, কিতাবুল জুমা, অধ্যায়: জুমার দিনে যে মুহূর্তের আশা করা হয় সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, নম্বর ৪৯১; নাসায়ি, কিতাবুল জুমা, অধ্যায়: জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার মুহূর্তের আলোচনা, নম্বর ১৪২৯; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে,

১/২৯০, এবং সহিহ তিরমিজি গ্রন্থে ১/২৭৮ এবং অন্যান্য স্থানে।

(২) ইবনে মাজাহ, কিতাব ইকামাতুস সালাত ওয়াস সুন্নাতু ফিহা, অধ্যায়: জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব, ১০৮৪; আহমদ, ৩/৪৩০; এবং আলবানি একে হাসান (حسن) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ ইবনে মাজাহ, ১/৩২১ এবং মিশকাতুল মাসাবিহ, ১/৪০০ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - يوم الجمعة أفضل الأيام؛ لحديث أوس بن أوس رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة؛ فيه خُلِق آدم، وفيه قُبِضَ، وفيه النفخة، وفيه الصعقة، فأكثروا عليَّ من الصلاة فيه؛ فإن صلاتكم معروضة عليَّ)). قال: قالوا: يا رسول الله! وكيف تُعرض صلاتنا عليك وقد أرَمْتَ؟ - يقولون: بليت - فقال: ((إن الله حرَّم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء)) (1).

5 - يوم الجمعة عيد الأسبوع، ويوم المزيد لأهل الجنة؛ لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: عرضت الجمعة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، جاء جبريل في كفه كالمرآة البيضاء، في وسطها كالنكتة السوداء، فقال: ((ما هذه يا جبريل))؟ قال: هذه الجمعة يعرضها عليك ربك لتكون لك عيداً

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب فضل يوم الجمعة وليلة الجمعة، برقم 1047، والنسائي، كتاب الجمعة، باب إكثار الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة، برقم 1373، وابن ماجه، كتاب إقامة الصلاة، باب فضل الجمعة، برقم 1085، وصححه الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 290، وصحيح ابن ماجه، 1/ 322، وصحيح النسائي، 1/ 443.
4 - জুমার দিন দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; আউস ইবনে আউস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন; এই দিনে আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এই দিনে শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে এবং এই দিনে মহাধ্বংস (কিয়ামত) হবে। সুতরাং এই দিনে তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো; কারণ তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়))। বর্ণনাকারী বলেন: তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমাদের দরুদ আপনার নিকট পেশ করা হবে অথচ আপনি জীর্ণ হয়ে যাবেন? - তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন: পচে যাওয়া - তখন তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন)) (১)।

5 - জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদ এবং জান্নাতবাসীদের জন্য অতিরিক্ত পুরস্কারের দিন; আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জুমার দিনটি উপস্থাপন করা হয়েছিল। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর হাতের তালুতে একটি সাদা আয়নার মতো এটি নিয়ে আসলেন, যার মাঝখানে একটি কালো বিন্দু ছিল। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: ((হে জিবরাঈল, এটি কী?))। তিনি বললেন: এটি হলো জুমার দিন, আপনার প্রতিপালক এটি আপনার কাছে পেশ করেছেন যাতে এটি আপনার জন্য একটি ঈদ হয়।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: জুমার দিন ও জুমার রাতের ফজিলত, হাদিস নং ১০৪৭; নাসাঈ, কিতাবুল জুমা, অধ্যায়: জুমার দিনে নবীর ওপর অধিক দরুদ পাঠ, হাদিস নং ১৩৭৩; ইবনে মাজাহ, কিতাব ইকামাতুস সালাত, অধ্যায়: জুমার ফজিলত, হাদিস নং ১০৮৫; এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন সহিহ আবু দাউদ, ১/ ২৯০, সহিহ ইবনে মাজাহ, ১/ ৩২২ এবং সহিহ নাসাঈ, ১/ ৪৪৩-এ।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولقومك من بعدك، ولكم فيها خير، تكون أنت الأول، ويكون اليهود والنصارى من بعدك، وفيها ساعة لا يدعو أحد ربه بخير هو قِسْمٌ إلا أعطاه، أو يتعوذ من شر إلا دفع عنه ما هو أعظم منه، ونحن ندعوه في الآخرة يوم المزيد، وذلك أن ربك اتخذ في الجنة وادياً أفيح من مسك أبيض، فإذا كان يوم الجمعة نزل من عليين فجلس على كرسيه، وحُفّ الكرسي بمنابر من نور، فجلس عليها النبيون، وحُفَّ المنابر بكراسي من ذهب مكللة بالجواهر، وجاء الصديقون والشهداء، فجلسوا عليها، وجاء أهل الغرف من غرفهم حتى يجلسوا على الكثيب وهو كثيب أبيض من مسك أذفر، ثم يتجلَّى لهم ذو الجلال والإكرام، فيقول: أنا الذي صدقتكم وعدي، وأتممت عليكم نعمتي، وهذا محل كرامتي فسلوني، فيسألونه الرضى، [فيقول: رضاي أحلكم داري، وأنالكم كرامتي، فسلوني، فيسألونه الرضا] فيشهد عليهم على الرضا ثم يفتح لهم ما لم ترَ عينٌ، ولم يخطر

এবং আপনার পরবর্তী আপনার উম্মতের জন্য, আর এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে; আপনি হবেন প্রথম এবং ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানরা হবে আপনার পরে। তাতে (জুমার দিনে) এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো বান্দা তার রবের কাছে এমন কোনো কল্যাণের দোয়া করে না যা তার জন্য নির্ধারিত (قسم) অংশ, তবে আল্লাহ তাকে তা দান করেন; অথবা এমন কোনো অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে না তবে আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করেন যা তার চেয়েও বড়। আর আমরা পরকালে একে অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন (يوم المزيد) হিসেবে সম্বোধন করব। আর তা এজন্য যে, আপনার প্রতিপালক জান্নাতে সাদা কস্তুরীর এক প্রশস্ত উপত্যকা তৈরি করেছেন। যখন জুমার দিন উপস্থিত হবে, তিনি ইল্লিয়্যিন (عليين) থেকে অবতরণ করবেন এবং তাঁর কুরসিতে (كرسي) উপবিষ্ট হবেন। কুরসিকে নূরের মিম্বরসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হবে, যার ওপর নবীগণ (النبيون) বসবেন। আর মিম্বরগুলোকে মণি-মুক্তাখচিত স্বর্ণের চেয়ারসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হবে। অতঃপর সত্যনিষ্ঠ (الصديقون) ও শহীদগণ (الشهداء) এসে সেগুলোর ওপর বসবেন। উচ্চকক্ষবিশিষ্ট প্রাসাদের অধিবাসীরা তাদের কক্ষসমূহ থেকে বের হয়ে আসবে এবং বালুর টিলার (كثيب) ওপর বসবে; আর তা হলো তীব্র সুগন্ধিযুক্ত সাদা কস্তুরীর একটি টিলা। এরপর মহান প্রতাপশালী ও পরম দয়ালু আল্লাহ (ذو الجلال والإكرام) তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং বলবেন: ‘আমিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের কাছে আমার ওয়াদা সত্য করেছি এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত পূর্ণ করেছি। এটিই আমার সম্মান প্রদর্শনের স্থান, সুতরাং তোমরা আমার কাছে চাও।’ তখন তারা তাঁর সন্তুষ্টি (الرضى) প্রার্থনা করবে। [তিনি বলবেন: ‘আমার সন্তুষ্টিই তোমাদেরকে আমার গৃহে স্থান দিয়েছে এবং তোমাদেরকে আমার সম্মান দান করেছে; সুতরাং তোমরা আমার কাছে চাও।’ তখন তারা পুনরায় সন্তুষ্টি (الرضا) প্রার্থনা করবে।] অতঃপর তিনি তাদের জন্য সন্তুষ্টির (الرضا) সাক্ষ্য দেবেন। এরপর তিনি তাদের জন্য এমন কিছু উন্মোচন করবেন যা কোনো চক্ষু দেখেনি এবং যা কখনো কোনো মানুষের হৃদয়ে উদিত হয়নি।

(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
[على] قلب بشر، إلى مقدار منصرفهم من الجمعة، وهي زبرجدة خضراء، أو ياقوتة حمراء، مُطَّرِدة فيها أنهارها متدلية فيها ثمارها، فيها أزواجها وخدمها، فليس هم في الجنة بأشوق منهم إلى يوم الجمعة، ليزدادوا نظراً إلى ربهم عز وجل وكرامته، ولذلك دعي يوم المزيد)) (1).

وعن أنس رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إن في الجنة لسوقاً يأتونها كل جمعة، فتهب ريح الشمال فتحثو في وجوههم وثيابهم، فيزدادون حسناً وجمالاً، فيرجعون إلى أهليهم وقد ازدادوا حسناً وجمالاً، فيقول لهم أهلوهم: والله لقد ازددتم بعدنا حسناً وجمالاً، فيقولون: وأنتم والله لقد ازددتم بعدنا حسناً وجمالاً)) (2). قال الإمام القرطبي رحمه

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبراني في الأوسط [مجمع البحرين في زوائد المعجمين، برقم 4879،

8/ 154، وبرقم 944 مختصراً، 2/ 197]، قال المنذري في الترغيب والترهيب: ((رواه الطبراني في الأوسط بإسناد جيد))، وقال الألباني في صحيح الترغيب والترهيب، 1/ 435: ((حسن صحيح))، وقال في موضع آخر في صحيح الترغيب والترهيب، 3/ 525: ((حسن لغيره)).

(2) مسلم، كتاب الجنة ونعيمها، باب في سوق الجنة وما ينالون فيها من النعيم والجمال، برقم 2833.
[কোনো] মানুষের হৃদয়ে (কল্পনায় আসেনি), জুমার দিন থেকে তাদের ফিরে আসার সময় পর্যন্ত। তা একটি সবুজ পান্না অথবা লাল ইয়াকুত পাথরের সমতুল্য, যেখানে নহরগুলো প্রবহমান এবং ফলমূল ঝুলে আছে। সেখানে রয়েছে তাদের সঙ্গী ও সেবকবৃন্দ। জান্নাতবাসীরা জান্নাতের অন্য কোনো নেয়ামতের প্রতি ততটা ব্যাকুল নয় যতটা তারা জুমার দিনের জন্য ব্যাকুল থাকে, যাতে তারা তাদের মহান প্রভু ও তাঁর সম্মানের প্রতি তাকিয়ে থাকার সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। এজন্যই একে অতিরিক্ত নেয়ামতের দিন বলা হয়েছে)) (১)।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে যেখানে তারা প্রতি জুমায় আসবে। তখন উত্তুরে বাতাস প্রবাহিত হয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাকে সুগন্ধি ছড়িয়ে দেবে, ফলে তাদের রূপ-লাবণ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। এরপর তারা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাবে এমতাবস্থায় যে, তাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য অনেক বেড়ে গেছে। তখন তাদের পরিজনেরা বলবে: আল্লাহর কসম! আমাদের থেকে যাওয়ার পর তোমাদের রূপ-লাবণ্য তো অনেক বেড়ে গেছে। তারা বলবে: আল্লাহর কসম! তোমাদেরও তো আমাদের পর রূপ-লাবণ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে)) (২)। ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন [মাজমাউল বাহরাইন ফি জাওয়ায়িদিল মুজামাইন, নম্বর ৪৮৭৯, ৮/ ১৫৪, এবং সংক্ষিপ্তভাবে নম্বর ৯৪৪, ২/ ১৯৭]। মুনজিরি আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব-এ বলেছেন: ((তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ উত্তম সনদ (إسناد جيد) সহ বর্ণনা করেছেন))। আলবানি সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, ১/ ৪৩৫-এ একে ((হাসান সহিহ (حسن صحيح))) বলেছেন। এবং সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব-এর অন্য স্থানে (৩/ ৫২৫) একে ((হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره))) বলেছেন।

(২) মুসলিম, কিতাবুল জান্নাত ওয়া নাঈমুহা, জান্নাতের বাজার এবং সেখানে তারা যে নেয়ামত ও সৌন্দর্য লাভ করবে সেই বিষয়ক অধ্যায়, নম্বর ২৮৩৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الله تعالى: ((وسمي سوقاً؛ لقيام الناس فيها على ساق، وقيل: لسوق الناس بضائعهم إليها، فيحتمل أن يكون سوق الجنة عبارة عن مجتمع أهل الجنة، ومحل تزاورهم، وسمِّي سوقاً بالمعنى الأول، ويؤيد هذا أن أهل الجنة لا يفقدون شيئاً حتى يحتاجوا إلى شرائه من السوق، ويحتمل أن يكون سوقاً مشتملاً على محاسن ومشتهيات مستلذات تجتمع هنالك مرتبة، محسَّنة، كما تجتمع في الأسواق، حتى إذا جاء أهل الجنة فرأوها فمن اشتهى شيئاً وصل إليه من غير مبايعة ولا معاوضة، ونعيم الجنة وخيرها أعظم وأوسع من ذلك كله، وخصّ يوم الجمعة بذلك لفضيلته، ولِمَا خصّه الله تعالى به من الأمور التي تقدم ذكرها؛ ولأنه يوم المزيد: أي الذي يُوفَّى لهم ما وُعِدوا من الزيادة، وأيام الجنة تقديرية إذ لا ليل هناك ولا نهار، وإنما هناك أنوار متوالية لا ظلمة معها)) (1).

6 - يوم الجمعة فيه ساعة إجابة الدعوات؛ لحديث أبي

--------------------------------------------

(1) المفهم لِمَا أشكل من تلخيص مسلم، 7/ 178.
আল্লাহ তাআলা: ((একে 'বাজার' নামকরণ করা হয়েছে; কারণ সেখানে মানুষ তাদের পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়। আবার বলা হয়েছে: মানুষ সেখানে তাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসে বলে। সম্ভবত জান্নাতের বাজার বলতে জান্নাতবাসীদের একত্রিত হওয়ার স্থান এবং পারস্পরিক সাক্ষাতের জায়গাকে বোঝানো হয়েছে এবং প্রথম অর্থ অনুযায়ী একে 'বাজার' বলা হয়েছে। এর সমর্থনে যুক্তি হলো, জান্নাতবাসীরা কোনো কিছুর অভাব বোধ করবেন না যে বাজার থেকে তা ক্রয় করার প্রয়োজন হবে। আবার এও সম্ভব যে, এটি এমন এক বাজার যা সৌন্দর্য, আকাঙ্ক্ষিত বস্তু এবং স্বাদযুক্ত উপাদানে ভরপুর থাকবে, যা সেখানে সুসজ্জিত ও সুন্দরভাবে সাজানো থাকবে—যেমনটি দুনিয়ার বাজারগুলোতে হয়ে থাকে। এমনকি যখন জান্নাতবাসীরা সেখানে এসে তা দেখবে, তখন যার যা মনে ধরবে, কোনো প্রকার ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময় ছাড়াই সে তা পেয়ে যাবে। আর জান্নাতের নেয়ামত ও কল্যাণ এসবের চেয়েও অনেক মহান ও প্রশস্ত। জুমআর দিনকে এর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এর মর্যাদার কারণে এবং আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে যেসব বিষয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন তার কারণে, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; আর একারণে যে এটি হলো অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন: অর্থাৎ যে দিনে তাদের জন্য প্রতিশ্রুত অতিরিক্ত পুরস্কার পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা হবে। জান্নাতের দিনগুলো হবে ধারণাপ্রসূত, কারণ সেখানে কোনো রাত বা দিন নেই; বরং সেখানে কেবল বিরতিহীন আলোকচ্ছটা থাকবে, যার সাথে কোনো অন্ধকার নেই।)) (১)।

৬ - জুমআর দিনে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যখন দোয়া কবুল হয়; আবূ [হুরায়রা (রা.)-এর] হাদিসের কারণে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি মুসলিম, ৭/১৭৮।