(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: -)
صلاة الجماعة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة الجماعة - مفهوم، وفضائل، وأحكام، وفوائد، وآداب في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 102

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

জামাতে সালাত   (সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: জামাতে সালাত - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর সংজ্ঞা, ফজিলতসমূহ, বিধানসমূহ, উপকারিতা, এবং আদবসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: 102

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণে প্রকাশের তারিখ: 17 জিলকদ 1433

(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة الجماعة)) بيّنت فيها: مفهوم صلاة الجماعة، وحكمها، وفوائدها، وفضلها، وفضل المشي إليها، وآداب المشي إليها، وانعقادها باثنين، وإدراكها بركعة، وأن صلاة الجماعة الثانية مشروعة لمن فاتته صلاة الجماعة الأولى مع الإمام، وأن من صلى ثم أدرك جماعة أعادها معهم نافلة، وأن المسبوق يدخل مع الإمام على أي حال وجده، ولكن لا يعتد بركعة لا يدرك ركوعها، ويصلي ما بقي من صلاته إذا سلم إمامه.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর অগণিত দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি জামাতে সালাত বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি জামাতে সালাতের ধারণা, এর বিধান, উপকারিতা, মর্যাদা, জামাতের উদ্দেশ্যে গমনের ফজিলত ও আদবসমূহ এবং দুই ব্যক্তির মাধ্যমে জামাত অনুষ্ঠিত হওয়া ও এক রাকাতের মাধ্যমে জামাত পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। আরও আলোচনা করেছি যে, ইমামের সাথে প্রথম জামাত ছুটে গেলে দ্বিতীয় জামাত করা শরয়িভাবে অনুমোদিত; এবং যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পর পুনরায় কোনো জামাত পায়, সে যেন তাদের সাথে নফল হিসেবে তা পুনরায় আদায় করে। এছাড়া মাসবুক ব্যক্তি ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থাতেই তাঁর সাথে সালাতে শরিক হবে, তবে যে রাকাতের রুকু সে পাবে না, তা রাকাত হিসেবে গণ্য হবে না। ইমাম সালাম ফিরালে সে তার সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقرنتُ كلَّ مسألة بدليلها.

وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا سماحة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله ورفع درجاته في جنات النعيم.

والله تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً، مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله وخيرته من خلقه، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف

حرر في ضحى يوم الأربعاء الموافق 27/ 2/1421هـ
আমি প্রতিটি বিষয়কে তার দলীলের সাথে যুক্ত করেছি।

আমি আমাদের শাইখ, মান্যবর ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন)-এর বর্ণনা এবং অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্ত (ترجيحات)সমূহ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে গ্রহণযোগ্য (مقبولاً), বরকতময় এবং একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন; আর এর মাধ্যমে যেন তিনি আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশাস্থল; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মনোনীত ব্যক্তি, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম এবং আমাদের আদর্শ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের ওপর।

লেখক

২৭/০২/১৪২১ হিজরি, বুধবার চাশতের সময় লিখিত।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول: مفهوم صلاة الجماعة لغة واصطلاحاً:

‌‌1 - الصلاة لغة: الدعاء، قاله الله تعالى: {وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ} (1) أي ادعُ لهم، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا دُعي أحدكم فليُجِبْ، فإن كان صائماً فليصلِّ، وإن كان مفطراً فليطعم)) (2).

أي فليدعُ بالبركة والخير والمغفرة (3)، والصلاة من الله حسن الثناء، ومن الملائكة الدعاء، قال الله تعالى: {إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (4). قال أبو العالية: ((صلاة الله: ثناؤه عليه عند الملائكة، وصلاة الملائكة الدعاء)) (5)، وقال ابن عباس رضي الله عنهما: ((يصلون: يبرِّكون)) (6)، وقيل: إن صلاة

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 103.

(2) مسلم، برقم 1431، وتقدم تخريجه في أول الصلاة.

(3) انظر: النهاية في غريب الحديث لابن الأثير، باب الصاد مع اللام، 3/ 50، ولسان العرب لابن منظور، باب اللام، فصل الصاد، 14/ 464، والتعريفات للجرجاني، ص174.

(4) سورة الأحزاب، الآية: 56.

(5) البخاري معلقًا مجزوماً به، كتاب التفسير، تفسير سورة الأحزاب، باب قوله تعالى: {إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} قبل الحديث رقم 4797.

(6) البخاري معلقاً مجزوماً به، كتاب التفسير، تفسير سورة الأحزاب، باب قوله تعالى: {إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ}، قبل الحديث رقم 4797.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে জামাতে সালাতের ধারণা:

‌‌১ - আভিধানিক (لغة) অর্থে সালাত: দোয়া, মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন; নিশ্চয় আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তি স্বরূপ" (১), অর্থাৎ আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কাউকে যখন দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা কবুল করে। যদি সে রোজা অবস্থায় থাকে তবে সে যেন দোয়া করে, আর যদি সে রোজা না থাকে তবে যেন আহার করে" (২)।

অর্থাৎ সে যেন বরকত, কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য দোয়া করে (৩)। আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো উত্তম প্রশংসা, আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তা হলো দোয়া। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন; হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও" (৪)। আবুল আলিয়াহ (রহ.) বলেছেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা, আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত হলো দোয়া" (৫)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তারা সালাত পাঠ করেন—এর অর্থ হলো তারা বরকত কামনা করেন" (৬)। আর বলা হয়েছে যে, সালাত...

--------------------------------------------

(১) সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৩।

(২) মুসলিম, হাদিস নং ১৪৩১, এবং সালাত অধ্যায়ের শুরুতে এর উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে।

(৩) দেখুন: ইবনুল আসির বিরচিত আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, সোয়াদ ও লাম অধ্যায়, ৩/৫০; ইবনে মানজুর বিরচিত লিসানুল আরব, লাম অধ্যায়, সোয়াদ অনুচ্ছেদ, ১৪/৪৬৪; এবং আল-জুরজানি বিরচিত আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ১৭৪।

(৪) সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৬।

(৫) বুখারি এটি নিশ্চিতরূপে (مجزوماً به) ঝুলন্ত (معلقًا) হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাফসির অধ্যায়, সুরা আল-আহজাবের তাফসির অনুচ্ছেদ, মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন" পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৭৯৭-এর পূর্বে।

(৬) বুখারি এটি নিশ্চিতরূপে (مجزوماً به) ঝুলন্ত (معلقًا) হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাফসির অধ্যায়, সুরা আল-আহজাবের তাফসির অনুচ্ছেদ, মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন" পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৭৯৭-এর পূর্বে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الله الرحمة، وصلاة الملائكة الاستغفار، والصواب القول الأول (1). فالصلاة من الله: الثناء، ومن المخلوقين: الملائكة، والإنس، والجن: القيام، والركوع، والسجود، والدعاء، والاستغفار، والتسبيح. والصلاة من الطير والهوام: التسبيح (2).

 

‌‌2 - الصلاة في الاصطلاح الشرعي: عبادة لله ذات أقوال، وأفعال معلومة مخصوصة، مفتَتَحة بالتكبير، مختَتَمة بالتسليم، وسُمِّيت صلاة؛ لاشتمالها على الدعاء (3)؛ فإنها كانت اسماً لكل دعاء، فصارت اسماً لدعاء مخصوص، أو كانت اسماً لدعاء فنقلت إلى الصلاة الشرعية؛ لما بينها وبين الدعاء من المناسبة، والأمر في ذلك متقارب، فإذا أطلق اسم الصلاة في الشرع لم يفهم منه إلا الصلاة المشروعة (4)،وقد اشتملت على الدعاء بنوعيه:

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير، ص76، والشرح الممتع لابن عثيمين، 3/ 228.

(2) انظر: لسان العرب لابن منظور، باب الياء، فصل الصاد، 14/ 465.

(3) انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 5، والشرح الكبير، 3/ 5، والإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف مع الشرح الكبير، 3/ 5، والتعريفات للجرجاني، ص174.

(4) انظر: شرح العمدة، لشيخ الإسلام ابن تيمية، 2/ 30.
আল্লাহর পক্ষ থেকে (সালাত হলো) রহমত (الرحمة), ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত হলো ক্ষমা প্রার্থনা (الاستغفار), আর প্রথম মতটিই সঠিক (الصواب) (১)। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো: প্রশংসা (الثناء), আর মাখলুকাত তথা: ফেরেশতা, মানুষ এবং জিনের পক্ষ থেকে হলো: দণ্ডায়মান (القيام), রুকু (الركوع), সিজদা (السجود), দুআ (الدعاء), ক্ষমা প্রার্থনা (الاستغفار) এবং তাসবিহ (التسبيح)। আর পাখি ও কীটপতঙ্গের পক্ষ থেকে সালাত হলো: তাসবিহ (التسبيح) (২)।

 

‌‌২ - শরয়ী পরিভাষায় (الاصطلاح الشرعي) সালাত: এটি আল্লাহর জন্য এমন এক ইবাদত (عبادة) যা নির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজের সমষ্টি, যা তাকবির (التكبير) দ্বারা শুরু হয় এবং তাসলিম (التسليم) দ্বারা শেষ হয়। একে সালাত নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি দুআ (الدعاء) অন্তর্ভুক্ত করে (৩)। কেননা এটি আগে সকল প্রকার দুআর নাম ছিল, পরবর্তীতে তা একটি বিশেষ দুআর নামে পরিণত হয়েছে; অথবা এটি দুআর নাম ছিল যা পরবর্তীতে শরয়ী সালাতের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে; কারণ দুআ ও সালাতের মাঝে উপযুক্ত সম্পর্ক বিদ্যমান এবং বিষয়টি কাছাকাছি। সুতরাং যখন শরিয়তে (الشرع) সালাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন তা দ্বারা শরীয়তসম্মত সালাত (الصلاة المشروعة) ব্যতীত অন্য কিছু বোঝায় না (৪), আর তা উভয় প্রকার দুআকেই অন্তর্ভুক্ত করে:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসীর, পৃষ্ঠা ৭৬ এবং ইবনে উসাইমিনের আশ-শারহুল মুমতি, ৩/২২৮।

(২) দেখুন: ইবনে মানজুরের লিসানুল আরব, বাব আল-ইয়া, ফাসল আস-সাদ, ১৪/৪৬৫।

(৩) দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/৫, আশ-শারহুল কাবীর, ৩/৫, আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ মা’আশ শারহিল কাবীর, ৩/৫ এবং জুরজানির আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ১৭৪।

(৪) দেখুন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার শারহুল উমদাহ, ২/৩০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
دعاء المسألة: وهو طلب ما ينفع الداعي من جلب نفع، أو دفع ضر، أو كشفه، وسؤال الحاجات من الله بلسان الحال.

ودعاء العبادة: وهو طلب الثواب بالأعمال الصالحة: من القيام، والركوع، والسجود، فمن فعل هذه العبادات فقد دعا ربه وطلبه بلسان الحال أن يغفر له، فاتضح بذلك أن الصلاة كلها: دعاء مسألة، ودعاء عبادة؛ لاشتمالها على ذلك كله (1).

 

‌‌3 - الجماعة لغة: عدد كل شيء وكثرته، والجمعُ: تأليف المتفرِّق؛ والمسجدُ الجامعُ: الذي يجمع أهله، نعتٌ له؛ لأنه علامة للاجتماع، ويجوز: مسجد الجامع بالإضافة، كقولك: الحقُ اليقينُ، وحقُّ اليقين، بمعنى: مسجد اليوم الجامع، وحق الشي اليقين؛ لأن إضافة

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح المجيد لشرح كتاب التوحيد، للعلامة محمد بن حسين آل الشيخ،

ص180، والقول المفيد على كتاب التوحيد، للعلامة محمد بن صالح بن عثيمين،

1/ 117، وانظر: شروط الدعاء وموانع الإجابة، للمؤلف، ص10.
যাচঞামূলক দোয়া (دعاء المسألة): এটি হলো দোয়াকারীর জন্য কল্যাণকর কিছু প্রার্থনা করা—চাই তা কোনো উপকার লাভ করা হোক, কিংবা কোনো অপকার প্রতিহত করা বা তা দূর করা হোক; এবং অবস্থার জবানীতে (لسان الحال) আল্লাহর নিকট প্রয়োজনসমূহ পেশ করা।

আর ইবাদতমূলক দোয়া (دعاء العبادة): এটি হলো নেক আমলের মাধ্যমে সওয়াব বা প্রতিদান অন্বেষণ করা; যেমন: কিয়াম (قيام), রুকু (ركوع) ও সেজদা (سجود)। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ইবাদতগুলো সম্পাদন করল, সে মূলত তার রবের নিকট দোয়া করল এবং অবস্থার জবানীতে (لسان الحال) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, পুরো নামাজই হলো: যাচঞামূলক দোয়া (دعاء المسألة) এবং ইবাদতমূলক দোয়া (دعاء العبادة); কারণ নামাজ এই সবকিছুরই অন্তর্ভুক্ত (১)।

 

‌‌৩ - জামায়াত (الجماعة) শাব্দিক অর্থে: যেকোনো বস্তুর সংখ্যা ও তার আধিক্য। আর 'আল-জামউ' (الجمع) হলো: বিচ্ছিন্ন বিষয়কে একত্রিত করা। আর 'আল-মসজিদুল জামি' (المسجد الجامع) হলো: যা তার সংলগ্ন ব্যক্তিদের একত্রিত করে, এটি মসজিদের একটি বিশেষণ (نعت); কারণ এটি সমবেত হওয়ার একটি চিহ্ন। আর সম্বন্ধযুক্ত পদ (إضافة) হিসেবে 'মসজিদুল জামি' (مسجد الجامع) বলাও বৈধ, যেমন আপনার উক্তি: 'আল-হাক্কুল ইয়াকিন' (الحق اليقين) এবং 'হাক্কুল ইয়াকিন' (حق اليقين); যার অর্থ: সমবেত হওয়ার দিনের মসজিদ এবং কোনো বিষয়ের ধ্রুব সত্য; কারণ সম্বন্ধযুক্ত করা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল মাজিদ লি-শারহি কিতাবিত তাওহিদ, আল্লামা মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-শেখ প্রণীত,

পৃষ্ঠা ১৮০; এবং আল-কাওলুল মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহিদ, আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন প্রণীত,

১/ ১১৭; এবং দেখুন: শুরুতুদ দুয়া ওয়া মাওয়ানিউল ইজাবাহ, লেখক প্রণীত, পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الشيء إلى نفسه لا تجوز إلا على هذا التقدير، والجماعة: عدد من الناس يجمعهم غرض واحد (1).

 

‌‌4 - الجماعة في الاصطلاح الشرعي: تطلق على عدد من الناس، مأخوذة من معنى الاجتماع، وأقل ما يتحقق به الاجتماع اثنان: إمام ومأموم (2)، وسميت صلاة الجماعة: لاجتماع المصلين في الفعل: مكاناً وزماناً، فإذا أخلوا بهما أو بأحدهما لغير عذر كان ذلك منهيّاً عنه باتفاق الأئمة (3).

‌‌المبحث الثاني: حكم صلاة الجماعة:

صلاة الجماعة فرض عين على الرجال المكلفين القادرين، حضراً وسفراً، للصلوات الخمس (4)؛ لأدلة

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان العرب لابن منظور، فصل الجيم، باب العين، 8/ 55، والقاموس المحيط، للفيروز آبادي، باب العين، فصل الجيم، ص917، والموسوعة الفقهية، وزارة الأوقاف بالكويت، 15/ 280، وصلاة الجماعة، للأستاذ الدكتور صالح السدلان، ص13.

(2) انظر: بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع، 1/ 156، وصلاة الجماعة، للأستاذ الدكتور صالح السدلان، ص14.

(3) حاشية عبد الرحمن بن القاسم على الروض المربع، 2/ 255.

(4) اتفق علماء الإسلام على أن إقامة الصلوات الخمس في المساجد هي من أعظم العبادات، وأجل القربات، ولكن تنازع العلماء بعد ذلك في كونها، واجبة على الأعيان، أو على الكفاية، أو سنة مؤكدة على النحو الآتي:

1 - فرض عين، وهذا المنصوص عن الإمام أحمد وغيره من أئمة السلف وفقهاء الحديث.

2 - فرض كفاية، وهذا المرجح في مذهب الشافعي، وقول بعض أصحاب مالك، وقول في مذهب أحمد.

3 - سنة مؤكدة، وهذا هو المعروف عن أصحاب أبي حنيفة، وأكثر أصحاب مالك، وكثير من أصحاب الشافعي، ويذكر رواية عن أحمد.

4 - فرض عين وشرط في صحة الصلاة، وهو قول طائفة من قدماء أصحاب أحمد وطائفة من السلف، واختاره ابن حزم وغيره، ويذكر عن شيخ الإسلام ابن تيمية في أحد قوليه كما في الاختيارات الفقهية له، ص103، وعن تلميذه ابن القيم كما في كتاب الصلاة له، ص82 - 87 والقول الصواب هو الأول والله أعلم.

انظر: كتاب المجموع شرح المهذب للشيرازي، للإمام النووي، 4/ 87، والمغني لابن قدامة، 3/ 5، وفتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 23/ 225 - 254، والإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، للمرداوي، مع المقنع والشرح الكبير، 4/ 265، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 340، والأخبار العلمية من الاختيارات الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية، ص103، وكتاب الصلاة لابن القيم، ص 69 - 86، وصلاة الجماعة، للأستاذ الدكتور صالح بن غانم السدلان، ص61 - 72، وأهمية صلاة الجماعة، للأستاذ الدكتور فضل إلهي، ص41 - 110، وفتاوى الإمام ابن باز،

12/ 7، والشرح الممتع، للعلامة ابن عثيمين، 4/ 204، والإحكام شرح أصول الأحكام، لابن قاسم، 1/ 239.
কোনো বিষয়কে নিজের দিকেই সম্বন্ধ করা এই অনুমান ব্যতীত বৈধ নয়; আর জামাআত হলো: একদল লোক যাদেরকে কোনো একটি উদ্দেশ্য একত্রিত করে (১)।

 

‌‌৪ - শরয়ি পরিভাষায় জামাআত: এটি একদল লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা 'ইজতিমা' (একত্রিত হওয়া) শব্দমূল থেকে গৃহীত। আর জমায়েত হওয়ার জন্য ন্যূনতম সংখ্যা হলো দুইজন: ইমাম ও মأمুম (অনুসারী) (২)। আর নামাজকে জামাআতের নামাজ বলা হয়েছে কারণ এতে নামাজিগণ কার্যের ক্ষেত্রে স্থান ও কালভেদে একত্রিত হন। সুতরাং যদি তারা ওজর ব্যতীত এই দুটির কোনো একটিতে বা উভয়টিতে কোনো ত্রুটি করে, তবে ইমামগণের ঐকমত্যে তা নিষিদ্ধ (৩)।

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জামাআতে নামাজের বিধান:

জামাআতে নামাজ আদায় করা সক্ষম ও মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য) পুরুষদের ওপর মুকিম ও মুসাফির—উভয় অবস্থায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (৪); কারণ বিভিন্ন দলিলাদি রয়েছে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল আরব (ইবনে মানজুর), জিম পরিচ্ছেদ, আইন অধ্যায়, ৮/৫৫; আল-কামুস আল-মুহিত (ফিরোজাবাদী), আইন অধ্যায়, জিম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৯১৭; আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, কুয়েত আওকাফ মন্ত্রণালয়, ১৫/২৮০; সালাতুল জামাআহ (প্রফেসর ড. সালিহ আল-সাদলান), পৃষ্ঠা ১৩।

(২) দেখুন: বাদায়িউস সানায়ি ফি তারতিবিশ শারায়ি, ১/১৫৬; সালাতুল জামাআহ (প্রফেসর ড. সালিহ আল-সাদলান), পৃষ্ঠা ১৪।

(৩) আর-রাওদুল মুরবি-র ওপর আব্দুর রহমান বিন কাসিমের হাশিয়া, ২/২৫৫।

(৪) ইসলামের উলামাগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু এরপর উলামাগণ এটি ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য, না কি সামষ্টিক আবশ্যিক কর্তব্য, নাকি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ—এ বিষয়ে নিম্নোক্তভাবে মতভেদ করেছেন:

১ - ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য; এটি ইমাম আহমাদ ও সালাফে সালেহীন এবং হাদিসবিশারদগণের (فقهاء الحديث) সুস্পষ্ট অভিমত।

২ - সামষ্টিক আবশ্যিক কর্তব্য; এটি শাফেয়ি মাযহাবের অগ্রগণ্য মত, ইমাম মালিকের কোনো কোনো অনুসারীর বক্তব্য এবং ইমাম আহমাদের মাযহাবের একটি বর্ণনা।

৩ - সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ; এটি ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ, ইমাম মালিকের অধিকাংশ অনুসারী এবং ইমাম শাফেয়ির অনেক অনুসারীদের মাঝে সুপরিচিত মত; এমনকি ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনাতেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ - ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য এবং নামাজের শুদ্ধতার (صحة) জন্য একটি শর্ত; এটি ইমাম আহমাদের পূর্ববর্তী একদল অনুসারী ও সালাফদের একটি দলের অভিমত। ইবনে হাজম ও অন্যান্যগণ এটিকেই গ্রহণ করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দুটি মতের একটিতে এটি বর্ণিত হয়েছে যেমনটি তার আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১০৩) রয়েছে এবং তার ছাত্র ইবনে কাইয়্যিম থেকে তার কিতাবুস সালাত গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৮২-৮৭) বর্ণিত হয়েছে। তবে প্রথম অভিমতটিই সঠিক, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দেখুন: মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব (ইমাম নববী), ৪/৮৭; আল-মুগনি (ইবনে কুদামা), ৩/৫; ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৩/২২৫-২৫৪; আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ (মারদাউয়ি), সাথে আল-মুকনি ও আশ-শারহুল কাবীর, ৪/২৬৫; নাইলুল আওতার (শাওকানি), ২/৩৪০; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ থেকে আল-আখবারুল ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১০৩; কিতাবুস সালাত (ইবনে কাইয়্যিম), পৃষ্ঠা ৬৯-৮৬; সালাতুল জামাআহ (প্রফেসর ড. সালিহ বিন গানিম আল-সাদলান), পৃষ্ঠা ৬১-৭২; গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: জামাআতে নামাজ (প্রফেসর ড. ফদলে ইলাহি), পৃষ্ঠা ৪১-১১০; ফাতাওয়া ইমাম ইবনে বাজ, ১২/৭; আশ-শারহুল মুমতি (আল্লামা ইবনে উসাইমিন), ৪/২০৪; আল-ইহকাম শারহ উসুলিল আহকাম (ইবনে কাসিম), ১/২৩৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
صريحة كثيرة من الكتاب والسنة الصحيحة، والآثار، ومنها ما يأتي:
কুরআন, সহীহ (صحيحة) সুন্নাহ এবং আসার (آثار) থেকে অসংখ্য সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌1 - أمر الله تعالى حال الخوف بالصلاة جماعة فقال:

{وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُواْ أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُواْ فَلْيَكُونُواْ مِن وَرَآئِكُمْ وَلْتَأْتِ طَآئِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّواْ فَلْيُصَلُّواْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُواْ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ} (1)، فالله عز وجل أمر بالصلاة في الجماعة في شدة الخوف، ثم أعاد هذا الأمر سبحانه مرة ثانية في حق الطائفة الثانية، فلو كانت الجماعة سُنَّة لكان أولى الأعذار بسقوطها عذر الخوف، ولو كانت فرض كفاية لأسقطها سبحانه عن الطائفة الثانية بفعل الأولى، فدّل ذلك على أن الجماعة فرض على الأعيان.

 

‌‌2 - أمر الله عز وجل بالصلاة مع المصلين فقال: {وَأَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ} (2)،فقد أمر الله عز وجل بالصلاة مع جماعة المصلين، والأمر يقتضي الوجوب.

‌‌3 - عاقب الله من لم يُجب المؤذن فيصلي مع الجماعة بأن

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 102.

(2) سورة البقرة، الآية: 43
‌‌১ - ভীতিকর অবস্থায় আল্লাহ তাআলা জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন:

{“আর যখন আপনি তাদের মাঝে থাকবেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করবেন, তখন তাদের একদল যেন আপনার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখে। অতঃপর যখন তারা সিজদা করবে, তখন তারা যেন তোমাদের পেছনে থাকে। আর অন্য একদল যারা সালাত আদায় করেনি, তারা যেন আপনার সাথে সালাত আদায় করে এবং তারা যেন তাদের সতর্কতা ও অস্ত্রশস্ত্র গ্রহণ করে।”} (১), মহান আল্লাহ চরম ভীতিকর অবস্থায় জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রে পুনরায় এই নির্দেশ প্রদান করেছেন। যদি জামাত (جماعة) সুন্নাত (سنة) হতো, তবে ভীতিকর অবস্থাই ছিল তা বাদ দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ওযর। আর যদি তা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হতো, তবে আল্লাহ প্রথম দলের সালাত আদায়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় দলের ওপর থেকে তা রহিত করে দিতেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, জামাত (جماعة) হলো প্রত্যেকের ওপর ফরজে আইন (فرض على الأعيان)।

 

‌‌২ - মহান আল্লাহ মুসল্লিদের সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: {“তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো”} (২), এখানে আল্লাহ তাআলা মুসল্লিদের জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, আর নির্দেশ মূলত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে।

‌‌৩ - আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন যে মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দিয়ে জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায় করে না এই মর্মে যে

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০২।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
حال بينهم وبين السجود يوم القيامة، قال عز وجل: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلا يَسْتَطِيعُونَ * خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ} (1). فقد عاقب سبحانه من لم يجب الداعي إلى الصلاة مع الجماعة بأن حال بينه وبين السجود يوم القيامة، وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((يكشف ربنا عن ساقه فيسجد له كل مؤمن ومؤمنة، ويبقى من كان يسجد في الدنيا رياءً وسمعة، فيذهب ليسجد فيعود ظهره طبقاً واحداً)). وفي لفظ: (( .. فيُكشف عن ساق فلا يبقى من كان يسجد لله من تلقاء نفسه إلا أذن الله له بالسجود، ولا يبقى من كان يسجد اتقاءً ورياءً إلا جعل الله ظهره طبقة واحدة كلما أراد أن يسجد خرَّ على قفاه .. )) (2).

--------------------------------------------

(1) سورة القلم، الآيتان: 42 - 43.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب التفسير، تفسير سورة {ن وَالْقَلَمِ}، باب ((يوم يكشف عن ساق)) برقم 4919، وكتاب التوحيد، باب قول الله تعالى: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ}، برقم 7439، ومسلم، كتاب الإيمان، باب إثبات رؤية المؤمنين ربهم في الآخرة، برقم 182.
কিয়ামতের দিন তাদের এবং সিজদাহর মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদাহ করার জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে; অথচ যখন তারা সুস্থ-সবল ছিল, তখন তাদেরকে সিজদাহ করার জন্য আহ্বান করা হতো} (১)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঐ ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করেছেন, যে জামাতের সাথে সালাতে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেয়নি—এইভাবে যে, কিয়ামতের দিন তিনি তার এবং সিজদাহর মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((আমাদের পালনকর্তা তাঁর পায়ের গোছা উন্মোচন করবেন, তখন প্রত্যেক মুমিন ও মুমিনা তাঁকে সিজদাহ করবে। আর অবশিষ্ট থাকবে তারা, যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও সুখ্যাতি অর্জনের জন্য সিজদাহ করত। সে সিজদাহ করতে যাবে, কিন্তু তার পিঠ একটি শক্ত তক্তার মতো হয়ে যাবে।)) অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: ((...অতঃপর পায়ের গোছা উন্মোচন করা হবে। তখন যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিজদাহ করত, আল্লাহ তাদের সিজদাহ করার অনুমতি দেবেন। আর যে ব্যক্তি কেবল লোক দেখানো ও আত্মরক্ষার জন্য সিজদাহ করত, আল্লাহ তার পিঠকে একটি শক্ত তক্তা সদৃশ করে দেবেন; যখনই সে সিজদাহ করতে চাইবে, তখনই সে চিৎ হয়ে পড়ে যাবে...)) (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪২ - ৪৩।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুত তাফসির, সূরা {ন ও আল-কালাম}-এর তাফসির, পরিচ্ছেদ: ((যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচন করা হবে)), হাদিস নং ৪৯১৯; এবং কিতাবুত তাওহিদ, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল, তাদের প্রতিপালকের দিকে দৃষ্টিপাতকারী}, হাদিস নং ৭৪৩৯; এবং মুসলিম, কিতাবুল ইমান, পরিচ্ছেদ: আখিরাতে মুমিনদের জন্য তাদের প্রতিপালকের দর্শনের প্রমাণ, হাদিস নং ১৮২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وهذا فيه عقوبة للمنافقين وأن ظهورهم يوم القيامة تكون طبقاً واحداً: أي فقار الظهر كله يكون كالفقارة الواحدة، فلا يقدرون على السجود (1).

 

‌‌4 - أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالصلاة مع الجماعة، فعن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم في نفر من قومي، فأقمنا عنده عشرين ليلة – وكان رحيماً رفيقاً- فلما رأى شوقنا إلى أهالينا قال: ((ارجعوا فكونوا فيهم، وعلِّموهم، وصلُّوا، فإذا حضرت الصلاة فليؤذن لكم أحدكم، وليؤمكم أكبركم)) (2).

فالنبي صلى الله عليه وسلم أمر بصلاة الجماعة، والأمر يقتضي الوجوب.

 

‌‌5 - همّ النبي صلى الله عليه وسلم بتحريق البيوت على المتخلفين عن صلاة الجماعة؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد

--------------------------------------------

(1) انظر: النهاية في غريب الحديث لابن الأثير، 3/ 114.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الأذان، باب من قال يؤذن في السفر مؤذن واحد، برقم 628، ومسلم، كتاب المساجد، باب من أحق بالإمامة، برقم 674.
এতে মুনাফিকদের জন্য শাস্তির বর্ণনা রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন তাদের পিঠ একটি তক্তার মতো হয়ে যাবে; অর্থাৎ মেরুদণ্ডের হাড়গুলো একটিমাত্র হাড়ের মতো হয়ে যাবে, ফলে তারা সিজদাহ করতে সক্ষম হবে না (১)।

 

‌‌৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক জামাতের সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ, মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার কওমের একদল লোকের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। আমরা তাঁর কাছে বিশ রাত অবস্থান করলাম। তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। যখন তিনি আমাদের পরিবারের প্রতি আমাদের ব্যাকুলতা অনুভব করলেন, তখন তিনি বললেন: ((তোমরা তোমাদের পরিবারে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে অবস্থান করো, তাদের দ্বীন শিক্ষা দাও এবং সালাত আদায় করো। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন ইমামতি করে)) (২)।

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, আর নির্দেশ সাধারণত আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে।

 

‌‌৫ - জামাতে সালাত থেকে বিরত থাকাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংকল্প; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপস্থিত পেলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস, ৩/১১৪।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আযান, অধ্যায়: যে ব্যক্তি বলে সফরে একজন মুয়াযযিন আযান দিবে, হাদিস নং ৬২৮, এবং মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, অধ্যায়: ইমামতির জন্য অধিক হকদার কে, হাদিস নং ৬৭৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ناساً في بعض الصلوات فقال: ((لقد هممتُ أن آمر رجلاً يصلي بالناس، ثم أُخالِفَ (1) إلى رجالٍ يتخلَّفون عنها فآمر بهم فيحرقوا عليهم بحزم الحطب بيوتهم، ولو عَلِمَ أحدهم أنه يجد عظماً سميناً لشهدها)). وهذا لفظ مسلم، ولفظ البخاري: ((والذي نفسي بيده لقد هممتُ أن آمر بحطب ليحطب، ثم آمر بالصلاة فيؤذّن لها، ثم آمر رجلاً فيؤمُّ الناس، ثم أخالف إلى رجالٍ فأحرِّق عليهم بيوتهم، والذي نفسي بيده لو يعلم أحدهم أنه يجد عَرْقاً سميناً (2)، أو مرماتين حسنتين (3) لشهد العشاء)). وفي لفظ لمسلم: ((إن أثقل صلاة على المنافقين صلاة العشاء وصلاة الفجر، ولو يعلمون ما فيهما لأتوهما ولو حبواً (4)، ولقد

--------------------------------------------

(1) أخالف إلى رجال: أي أذهب إليهم، شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 160.

(2) عَرقا: العرق: العظم بما عليه من بقايا اللحم بعدما أخذ عنه معظم اللحم. جامع الأصول لابن الأثير، 5/ 568.

(3) المرماة: قيل: هو ما بين ظلفي الشاة، وقيل: سهمان يرمي بهما الرجل. انظر جامع الأصول لابن الأثير، 5/ 568.

(4) حبواً: الحبو حبو الصبي الصغير على يديه ورجليه، شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 160.
কিছু লোক সম্পর্কে কিছু নামাজে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((আমি সংকল্প করেছিলাম যে, একজনকে নির্দেশ দেব যাতে সে লোকদের নিয়ে নামাজ পড়ে, এরপর আমি সেই সব লোকদের কাছে যাব (১) যারা নামাজ থেকে পিছিয়ে থাকে এবং তাদের নির্দেশ দেব যাতে কাঠের আঁটি দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যদি তাদের কেউ জানত যে সে একটি চর্বিযুক্ত হাড় পাবে, তবে অবশ্যই সে তাতে উপস্থিত হতো))। এটি মুসলিম-এর শব্দাবলি। আর বুখারি-র শব্দাবলি হলো: ((সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি সংকল্প করেছিলাম কাঠের নির্দেশ দেব যাতে তা সংগ্রহ করা হয়, এরপর নামাজের নির্দেশ দেব যাতে তার জন্য আজান দেওয়া হয়, অতঃপর একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ দেব যাতে সে লোকদের ইমামতি করে। এরপর আমি সেই সব লোকদের কাছে যাব এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেব। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তাদের কেউ জানত যে সে একটি চর্বিযুক্ত হাড় (২) অথবা দুটি উত্তম খুর (৩) পাবে, তবে অবশ্যই সে এশার নামাজে উপস্থিত হতো))। আর মুসলিম-এর অন্য একটি শব্দাবলি হলো: ((নিশ্চয়ই মুনাফিকদের (منافق) জন্য এশা ও ফজরের নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী আর কোনো নামাজ নেই। তারা যদি জানত এই দুই নামাজের মধ্যে কী রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে (৪) হলেও তাতে উপস্থিত হতো))। এবং নিশ্চয়ই...

--------------------------------------------

(১) আমি সেই সব লোকদের কাছে যাব: অর্থাৎ আমি তাদের নিকট গমন করব। সহিহ মুসলিম-এর ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা, ৫/১৬০।

(২) আরক: আরক হলো হাড় এবং তার ওপর লেগে থাকা মাংসের অবশিষ্টাংশ, যেখান থেকে অধিকাংশ মাংস হরণ করা হয়েছে। ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল, ৫/৫৬৮।

(৩) মারমাহ: বলা হয়েছে, এটি ছাগলের দুই খুরের মধ্যবর্তী অংশ; আবার বলা হয়েছে, এটি এমন দুটি তীর যা দিয়ে কোনো ব্যক্তি নিক্ষেপ করে। দেখুন: ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল, ৫/৫৬৮।

(৪) হামাগুড়ি দেওয়া: হামাগুড়ি হলো ছোট শিশুর তার হাত ও পায়ের ওপর ভর দিয়ে চলা। সহিহ মুসলিম-এর ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা, ৫/১৬০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
هممتُ أن آمر بالصلاة فتُقام، ثم آمر رجلاً فيصلي بالناس، ثم أنطلق معي برجال معهم حزم من حطب إلى قومٍ لا يشهدون الصلاة، فأحرق عليهم بيوتهم بالنار)) (1). وفي هذا الحديث دلالة على أن صلاة الجماعة فرض عين (2).

 

‌‌6 - لم يرخص النبي صلى الله عليه وسلم للأعمى بعيد الدار في التخلف عن الجماعة؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل أعمى فقال: يا رسول الله إنه ليس لي قائد يقودني إلى المسجد، فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يرخص له؛ فيصلي في بيته، فرخص له، فلما ولَّى دعاه فقال: ((هل تسمع النداء بالصلاة؟)) فقال: نعم، قال: ((فأجب)) (3).

وعن ابن أم مكتوم رضي الله عنه أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الأذان، باب وجوب صلاة الجماعة، برقم 644، ومسلم، كتاب الصلاة، باب فضل صلاة الجماعة وبيان التشديد في التخلف عنها، برقم 651.

(2) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 161.

(3) مسلم، كتاب المساجد، باب يجب إتيان المسجد على من سمع النداء، برقم 653.
((আমি সংকল্প করেছিলাম যে, আমি সালাতের নির্দেশ দেব এবং তা কায়েম করা হবে, অতঃপর আমি এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেব যেন সে লোকদের সালাত পড়ায়। এরপর আমি আমার সাথে এমন কিছু লোক নিয়ে বের হব যাদের নিকট কাঠের আঁটি থাকবে এবং আমি সেই সম্প্রদায়ের কাছে যাব যারা সালাতে উপস্থিত হয় না, অতঃপর আমি তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেব)) (১)। আর এই হাদিসের মধ্যে দলীল (دلالة) রয়েছে যে, জামাতে সালাত আদায় করা ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (فرض عين) (২)।

 

‌‌৬ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দূরবর্তী বাড়ির অন্ধ ব্যক্তিকেও জামাত থেকে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি প্রদান করেননি; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক অন্ধ ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কোনো পথপ্রদর্শক আমার নেই। সে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করল যেন তাকে অনুমতি দেওয়া হয় এবং সে তার নিজ বাড়িতে সালাত আদায় করতে পারে। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন, কিন্তু লোকটি যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন: ((তুমি কি সালাতের আহ্বান তথা আজান (النداء) শুনতে পাও?)) সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((তবে তুমি তাতে সাড়া দাও)) (৩)।

এবং ইবনে উম্মে মাকতূম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল...

--------------------------------------------

(১) উভয় দ্বারা ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আজান, অধ্যায়: জামাতে সালাত আদায় ওয়াজিব (واجب) হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং ৬৪৪; এবং মুসলিম, কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: জামাতে সালাতের ফজিলত এবং তা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কঠোরতা বর্ণনা প্রসঙ্গে, হাদিস নং ৬৫১।

(২) দেখুন: সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববির ব্যাখ্যাগ্রন্থ শারহুন নববি, ৫/ ১৬১।

(৩) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, অধ্যায়: যার আজান (النداء) শোনার সুযোগ হয় তার ওপর মসজিদে আসা ওয়াজিব (واجب) হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং ৬৫৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الله، إني رجل ضرير البصر، شاسع الدار، ولي قائد لا يلائمني، فهل لي رخصة أن أصلي في بيتي؟ قال: ((هل تسمع النداء؟)) قال: نعم، قال: ((لا أجد لك رخصة)) (1). وفي لفظ أنه قال: يا رسول الله، إن المدينة كثيرة الهوام والسباع، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((أتسمع حيَّ على الصلاة، حيَّ على الفلاح؟ فحي هلا (2)) (3).

وهذا يصرح فيه النبي صلى الله عليه وسلم بأنه لا رخصة للمسلم في التخلف عن صلاة الجماعة إذا سمع النداء، ولو كان مخيراً بين أن يصلي وحده أو جماعة، لكان أولى الناس بهذا التخيير هذا الأعمى الذي قد اجتمع له ستة أعذار: كونه أعمى البصر، وبعيد الدار، والمدينة كثيرة الهوام والسباع، وليس له قائد يلائمه، وكبير السن، وكثرة النخل

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب التشديد في ترك الجماعة، برقم 552، وقال العلامة الألباني في صحيح سنن أبي داود: ((حسن صحيح))، 1/ 110.

(2) ((حيَّ)) أي هلمَّ، وكلمة ((هلا)) بمعنى عَجَّل وأسرع. جامع الأصول لابن الأثير، 5/ 566].

(3) أبو داود، كتاب الصلاة، باب التشديد في ترك الجماعة، برقم 553، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 110.
হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি, আমার ঘর অনেক দূরে এবং আমার এমন কোনো পথপ্রদর্শক নেই যে আমার জন্য উপযুক্ত, এমতাবস্থায় আমি কি বাড়িতে সালাত আদায় করার কোনো অনুমতি (رخصة) পাব? তিনি বললেন: ((তুমি কি আযান শুনতে পাও?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((আমি তোমার জন্য কোনো অনুমতি (رخصة) দেখছি না)) (১)। অন্য এক শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, মদিনায় প্রচুর বিষাক্ত কীটপতঙ্গ ও হিংস্র প্রাণী রয়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((তুমি কি 'হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ' শুনতে পাও? তবে অবশ্যই চলে এসো (২))) (৩)।

এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, আযান শোনার পর কোনো মুসলিমের জন্য জামাতে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকার কোনো অনুমতি (رخصة) নেই। যদি একা সালাত আদায় করা বা জামাতে সালাত আদায় করার মধ্যে কোনো ঐচ্ছিকতা থাকত, তবে এই অন্ধ ব্যক্তিই সেই ঐচ্ছিকতার সবচেয়ে বেশি হকদার হতেন, যার ক্ষেত্রে ছয়টি ওজর একত্রিত হয়েছিল: দৃষ্টিহীনতা, দূরবর্তী ঘর, মদিনায় প্রচুর বিষাক্ত কীটপতঙ্গ ও হিংস্র প্রাণীর উপস্থিতি, কোনো উপযুক্ত পথপ্রদর্শক না থাকা, বার্ধক্য এবং প্রচুর খেজুর গাছের প্রতিবন্ধকতা।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, জামাত ত্যাগ করার কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৫২; এবং আল্লামা আলবানি সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে একে "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" বলেছেন, ১/১১০।

(২) "হাইয়া" অর্থাৎ এসো, এবং "হালা" শব্দটির অর্থ হলো দ্রুত করা ও ত্বরান্বিত করা। [জামিউল উসুল লি ইবনিল আসির, ৫/৫৬৬]।

(৩) আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, জামাত ত্যাগ করার কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৫৩; এবং আলবানি সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন, ১/১১০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والشجر بينه وبين المسجد (1).

 

‌‌7 - بيَّن النبي صلى الله عليه وسلم أن من سمع النداء فلم يأته فلا صلاة له؛ فعن ابن عباس رضي الله عنهماعن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من سمع النداء فلم يأته فلا صلاةَ له إلا من عُذرٍ)) (2). وهذا يدل على أن صلاة الجماعة فرض عين، وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((معنى لا صلاة له: أي لا صلاة كاملة بل ناقصة، والجمهور على الإجزاء … )) (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب الصلاة لابن القيم ص76، وصحيح الترغيب والترهيب، للألباني ص173.

(2) ابن ماجه، كتاب المساجد والجماعات، باب التغليظ في التخلف عن الجماعة، برقم 793، والدارقطني في سننه، 1/ 420، برقم 4، وابن حبان ((الإحسان))، 5/ 415 برقم 2064، والحاكم وصححه على شرط الشيخين ووافقه الذهبي، 1/ 245، وأخرجه أبو داود، كتاب الصلاة، باب التشديد في ترك الجماعة، برقم 551، وصححه ابن القيم في كتاب الصلاة، ص76، والألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 1/ 132، وصحيح سنن أبي داود، 1/ 110، وفي إرواء الغليل، 2/ 327، وسمعت الإمام ابن باز أثناء تقريره على الحديث رقم 427 من بلوغ المرام يقول: ((لا بأس به على شرط مسلم))، وهذا كما قال الحافظ ابن حجر في البلوغ: ((وإسناده على شرط مسلم)).

(3) سمعته من سماحته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 427.
এবং তার ও মসজিদের মাঝখানে গাছপালা ছিল (১)।

 

‌‌৭ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি আজান শুনল কিন্তু তাতে (সালাতে) উপস্থিত হলো না, তার কোনো সালাত নেই; ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((“যে ব্যক্তি আজান শুনল কিন্তু তাতে উপস্থিত হলো না, তার কোনো সালাত নেই, ওজর ব্যতীত”)) (২)। এটি প্রমাণ করে যে জামাতে সালাত আদায় করা ফরজে আইন (فرض عين), এবং আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((“তার কোনো সালাত নেই-এর অর্থ হলো: কোনো পূর্ণাঙ্গ সালাত নেই বরং তা ত্রুটিযুক্ত, আর অধিকাংশ আলেম (جمهور) আদায় হয়ে যাওয়ার (الإجزاء) ওপর মত দিয়েছেন... ”)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কায়্যিমের কিতাবুস সালাত, পৃষ্ঠা ৭৬; এবং আলবানীর সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব, পৃষ্ঠা ১৭৩।

(২) ইবনে মাজাহ, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়াল জামাআত, অনুচ্ছেদ: জামাতে অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে কঠোরতা, হাদিস নম্বর ৭৯৩; এবং দারাকুতনী তাঁর সুনানে, ১/৪২০, হাদিস নম্বর ৪; এবং ইবনে হিব্বান ((আল-ইহসান)), ৫/৪১৫, হাদিস নম্বর ২০৬৪; এবং হাকেম একে সহিহ (صححه) বলেছেন শায়খাইনের শর্তানুযায়ী এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, ১/২৪৫; এবং আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, অনুচ্ছেদ: জামাত বর্জনের ব্যাপারে কঠোরতা, হাদিস নম্বর ৫৫১; এবং ইবনুল কায়্যিম কিতাবুস সালাত-এ একে সহিহ (صححه) বলেছেন, পৃষ্ঠা ৭৬; এবং আলবানী সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ১/১৩২, সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/১১০ এবং ইরওয়াউল গালিল, ২/৩২৭-এ; এবং আমি ইমাম ইবনে বাজকে বুলুগুল মারামের ৪২৭ নম্বর হাদিসের ওপর তাঁর পর্যালোচনাকালে বলতে শুনেছি: ((“এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী গ্রহণযোগ্য (لا بأس به)”)), আর এটি ঠিক তেমনই যেমন হাফেজ ইবনে হাজার বুলুগুল মারামে বলেছেন: ((“এবং এর সনদ (إسناده) মুসলিমের শর্তানুযায়ী”))।

(৩) আমি এটি তাঁর মহোদয়ের নিকট থেকে বুলুগুল মারামের ৪২৭ নম্বর হাদিসের ওপর তাঁর পর্যালোচনাকালে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌8 - تركُ صلاة الجماعة من علامات المنافقين ومن أسباب الضلال؛ لقول عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: ((لقد رأيتُنا وما يتخلَّف عن الصلاة إلا منافق قد عُلِم نفاقه، أو مريض، إن كان المريض ليمشي بين الرجلين حتى يأتي الصلاة، وقال: إن النبي صلى الله عليه وسلم علمنا سنن الهُدى، وإن من سنن الهُدى الصلاة في المسجد الذي يؤذن فيه)). وفي رواية: أن عبد الله قال: ((من سرَّه أن يلقى الله تعالى غداً مسلماً فليحافظ على هؤلاء الصلوات، حيثُ يُنادَى بهِنَّ؛ فإن الله شرع لنبيكم سنن الهدى (1)، وإنهنَّ من سنن الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم (2)، وما من رجل يتطهر فيحسن الطهور ثم يعمد إلى مسجدٍ من هذه المساجد إلا كتب الله له بكل خطوة

--------------------------------------------

(1) سنن الهدى، روي بضم السين وفتحها، وهما بمعنى متقارب، أي طرائق الهدى والصواب. شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 162.

(2) وفي رواية أبي داود برقم 550 ((ولو تركتم سنة نبيكم لكفرتم)). قال الألباني في صحيح سنن أبي داود: ((لضللتم))، وهو المحفوظ، 1/ 110.
৮ - জামাতে সালাত বর্জন করা মুনাফিকদের (المنافقين) অন্যতম লক্ষণ এবং পথভ্রষ্টতার (الضلال) অন্যতম কারণ; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তির কারণে: ((আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, কোনো মুনাফিক (منافق) ছাড়া অন্য কেউ সালাত থেকে পিছিয়ে থাকত না যার নিফাক (نفاقه) সুষ্পষ্ট ছিল, অথবা কোনো অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিকেও দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো যতক্ষণ না সে সালাতে উপস্থিত হতো। তিনি আরও বলেন: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের হিদায়াতের সুন্নাত (سنن الهدى) শিক্ষা দিয়েছেন, আর হিদায়াতের সুন্নাতের (سنن الهدى) অন্তর্ভুক্ত হলো সেই মসজিদে সালাত আদায় করা যাতে আজান দেওয়া হয়))। অন্য এক বর্ণনায় (رواية): আবদুল্লাহ বলেন: ((যে ব্যক্তি কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে মুসলিম হিসেবে সাক্ষাৎ করতে আনন্দিত বোধ করে, সে যেন এই সালাতগুলোর প্রতি যত্নবান হয় যেখানে আজান দেওয়া হয়; কেননা আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের সুন্নাতসমূহ (سنن الهدى) (১) বিধিবদ্ধ করেছেন এবং এগুলো হিদায়াতের সুন্নাতসমূহের (سنن الهدى) অন্তর্ভুক্ত। আর তোমরা যদি তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো যেভাবে এই সালাত বর্জনকারী ব্যক্তি তার ঘরে সালাত আদায় করে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত (سنة) বর্জন করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত (سنة) বর্জন করো, তবে তোমরা পথভ্রষ্ট (لضللتم) (২) হয়ে যাবে। আর কোনো ব্যক্তি যদি পবিত্রতা অর্জন করে এবং সুন্দরভাবে ওজু সম্পন্ন করে, অতঃপর এই মসজিদগুলোর কোনো একটির দিকে গমন করে, তবে আল্লাহ তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে তার জন্য সাওয়াব লিখে দেন

--------------------------------------------

(১) হিদায়াতের সুন্নাত (سنن الهدى), এটি সীনের পেশ এবং যবর উভয়টি যোগে বর্ণিত হয়েছে, আর এ দুটির অর্থ কাছাকাছি, অর্থাৎ হিদায়াত ও সঠিক পথের পদ্ধতিসমূহ। শরহু আন-নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৫/ ১৬২।

(২) আর সুনান আবু দাউদ-এর ৫৫০ নম্বর বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: ((আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বর্জন করো তবে তোমরা কুফরি (لكفرتم) করলে))। আলবানী সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে বলেছেন: ((তোমরা পথভ্রষ্ট হতে (لضللتم))), আর এটিই সংরক্ষিত (المحفوظ), ১/ ১১০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يخطوها حسنة، ويرفعه بها درجة، ويحط عنه بها سيئة، ولقد رأيتُنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يؤتى به يُهادى بين الرجلين (1) حتى يقام في الصف)) (2).

وهذا يدل على أن التخلف عن الجماعة من علامات المنافقين المعلوم نفاقهم، وعلامات النفاق لا تكون بترك مستحب، ولا بفعل مكروه، ومعلوم أن من استقرأ علامات النفاق في السنة وجدها إما بترك فريضة، أو فعل محرم (3)، وفي هذا كله تأكيد أمر الجماعة، وتحمل المشقة في حضورها، وأنه إذا أمكن المريض ونحوه التوصل إليها استحب له حضورها (4).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن للمنافقين

--------------------------------------------

(1) يهادَى: أي يمسكه رجلان من جانبيه بعضديه يعتمد عليهما، شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 162.

(2) مسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب صلاة الجماعة من سنن الهدى، برقم 654.

(3) انظر: كتاب الصلاة، لابن القيم، ص77.

(4) شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 162.
(প্রতিটি পদক্ষেপে) একটি নেকি লিখে দেওয়া হয়, এর মাধ্যমে তাঁর একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং তাঁর একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়। আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, সুপরিচিত মুনাফিক (منافق معلوم النفاق) ব্যতীত কেউ জামাত থেকে পেছনে থাকত না। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে দুইজনের কাঁধে ভর (يُهادى بين الرجلين) দিয়ে আনা হতো, যতক্ষণ না তাঁকে কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো। (২)

এটি প্রমাণ করে যে, জামাত থেকে পিছিয়ে থাকা সুপরিচিত মুনাফিকদের (منافقين) আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর মুনাফিকির (نفاق) আলামত কোনো মুস্তাহাব (مستحب) বিষয় ত্যাগ করার মাধ্যমে কিংবা মাকরূহ (مكروه) কাজ করার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। এটি সুবিদিত যে, কেউ যদি সুন্নাহর মধ্যে মুনাফিকির (نفاق) আলামতসমূহ অনুসন্ধান করে, তবে সে দেখবে যে তা হয় কোনো ফরজ (فريضة) ত্যাগ করার মাধ্যমে, অথবা কোনো হারাম (محرم) কাজ করার মাধ্যমে প্রকাশ পায় (৩)। এই সবকিছুর মধ্যে জামাতের গুরুত্ব এবং জামাতে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে কষ্ট সহ্য করার তাকিদ রয়েছে। আর কোনো অসুস্থ বা অনুরূপ ব্যক্তি যদি জামাতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তবে তার উপস্থিত হওয়া মুস্তাহাব (مستحب) (৪)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুনাফিকদের (منافقين) জন্য...

--------------------------------------------

(১) ইয়ুহাদা (يهادى): অর্থাৎ দুই পাশ থেকে দুইজন লোক তার বাহু ধরে রাখা যেন সে তাদের ওপর ভর দিতে পারে। শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৫/ ১৬২।

(২) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিইস সালাত, বাবু সালাতিল জামায়াতি মিন সুনানিল হুদা, হাদিস নম্বর ৬৫৪।

(৩) দেখুন: কিতাবুস সালাত, ইবনুল কাইয়্যিম, পৃ. ৭৭।

(৪) শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৫/ ১৬২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
علامات يُعرَفون بها: تحيتهم لعنةٌ، وطعامهم نُهبة، وغنيمتهم غلول، ولا يقربون المساجد إلا هَجْراً (1)، ولا يأتون الصلاة إلا دَبْراً (2) مستكبرين، لا يألفون ولا يُؤلفون، خُشُبٌ (3) بالليل، صُخُبٌ بالنهار)) (4). وفي لفظ: ((سُخُبٌ بالنهار)) (5).

وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: ((كنا إذا فقدنا الرجل في صلاة العشاء وصلاة الفجر أسأنا به الظن)) (6).

--------------------------------------------

(1) لا يقربون المساجد إلا هجراً: يعني لا يقربون المساجد بل يهجرونها، انظر: شرح المسند، لأحمد شاكر، 15/ 51.

(2) دَبْراً: أي آخراً، حين كاد الإمام أن يفرغ. شرح المسند، لأحمد شاكر، 15/ 61.

(3) خشب بالليل: أي ينامون الليل لا يصلون، شبههم في تمددهم نياماً بالخشب المطرحة، شرح المسند لأحمد شاكر، 15/ 51.

(4) صخب: سخب وصخب: الضجة واضطراب الأصوات للخصام على الدنيا شحّاً وحرصاً. انظر: شرح المسند، لأحمد شاكر، 15/ 51.

(5) أحمد في المسند، 2/ 293، وحسن إسناده العلامة أحمد محمد شاكر، في شرحه للمسند، 15/ 50 - 51، برقم 7913.

(6) ابن أبي شيبة في المصنف، كتاب الصلوات، في التخلف في العشاء والفجر، وفضل حضورهما، 1/ 332، ورواه الطبراني في المعجم الكبير، 12/ 271، برقم 13085، والبزار [مختصر زوائد مسند البزار على الكتب الستة ومسند أحمد لابن حجر،

1/ 228، برقم 301]، قال الهيثمي في مجمع الزوائد، 1/ 40: ((رواه الطبراني في الكبير والبزار، ورجال الطبراني موثوقون)).
চিহ্নসমূহ যার মাধ্যমে তাদের চেনা যায়: তাদের অভিবাদন হলো অভিশাপ, তাদের খাদ্য হলো লুণ্ঠিত দ্রব্য, তাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হলো আত্মসাৎকৃত মাল, তারা মসজিদে কেবল কদাচিৎ (১) (পরিহার করার ছলে) আসে, আর তারা সালাতে কেবল শেষ মুহূর্তে (২) দম্ভভরে উপস্থিত হয়, তারা কারো সাথে হৃদ্যতা গড়ে তোলে না এবং কেউ তাদের সাথে হৃদ্যতা পায় না, তারা রাতে কাঠের গুড়ির মতো (৩) (নিশ্চল হয়ে ঘুমিয়ে থাকে), আর দিনে শোরগোলকারী (৪))। অন্য শব্দে এসেছে: ((দিনে উচ্চবাচ্যকারী)) (৫)।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমরা যখন কোনো ব্যক্তিকে এশা ও ফজরের সালাতে অনুপস্থিত পেতাম, তখন তার সম্পর্কে আমরা মন্দ ধারণা পোষণ করতাম)) (৬)।

--------------------------------------------

(১) তারা মসজিদে কেবল কদাচিৎ আসে: অর্থাৎ তারা মসজিদে আসে না বরং তা পরিহার করে চলে। দেখুন: শারহুল মুসনাদ, আহমাদ শাকির, ১৫/৫১।

(২) সালাতের শেষে: অর্থাৎ সবশেষে, যখন ইমাম প্রায় সালাত শেষ করে ফেলেন। শারহুল মুসনাদ, আহমাদ শাকির, ১৫/৬১।

(৩) রাতে কাঠের মতো: অর্থাৎ তারা রাতে ঘুমিয়ে থাকে সালাত আদায় করে না, তাদের শায়িত অবস্থাকে পড়ে থাকা কাঠের গুড়ির সাথে তুলনা করা হয়েছে। শারহুল মুসনাদ, আহমাদ শাকির, ১৫/৫১।

(৪) শোরগোলকারী: দুনিয়ার প্রতি লালসা ও কৃপণতাবশত ঝগড়া-বিবাদের কারণে সৃষ্ট শোরগোল ও চেঁচামেচি। দেখুন: শারহুল মুসনাদ, আহমাদ শাকির, ১৫/৫১।

(৫) আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ২/২৯৩; এবং আল্লামা আহমাদ মুহাম্মদ শাকির তার মুসনাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর সনদকে হাসান (حسن إسناده) বলেছেন, ১৫/৫০-৫১, হাদিস নম্বর: ৭৯১৩।

(৬) ইবনে আবি শায়বা তার মুসান্নাফ গ্রন্থে, কিতাবুস সালাওয়াত, এশা ও ফজর থেকে পিছিয়ে থাকা এবং তাতে উপস্থিত হওয়ার ফযিলত অধ্যায়, ১/৩৩২; তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন আল-মুজামুল কবির গ্রন্থে, ১২/২৭১, হাদিস নম্বর: ১৩০৮৫; এবং বাযযার [ইবনে হাজার কৃত মুখতাসার যাওয়ায়িদু মুসনাদিল বাযযার আরাস সিত্তা ওয়া মুসনাদি আহমাদ, ১/২২৮, হাদিস নম্বর: ৩০১]; হায়সামি মাজমাউয যাওয়ায়িদ গ্রন্থে (১/৪০) বলেন: ((এটি তাবারানি আল-কবিরে এবং বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثوقون)))।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي رواية عنه رضي الله عنه: ((كنا إذا فقدنا الرجل في صلاة الغداة أسأنا به الظن)) (1).

 

‌‌9 - تارك صلاة الجماعة متوعد بالختم على قلبه؛ لحديث ابن عباس وابن عمر رضي الله عنهم أنهما سمعا النبي صلى الله عليه وسلم يقول على أعواده (2): ((لينتهينَّ أقوامٌ عن ودعهم (3) الجماعات أو ليختمنَّ الله على قلوبهم، ثم ليكوننَّ من الغافلين)) (4). وهذا التهديد لا يكون إلا على ترك واجب عظيم.

‌‌10 - استحواذ الشيطان على قوم لا تقام فيهم الجماعة؛

--------------------------------------------

(1) البزار [مختصر زوائد مسند البزار، لابن حجر، 1/ 228، برقم 302]، وقال ابن حجر: ((وهذا إسناد صحيح))، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد، 1/ 40: ((رواه البزار ورجاله ثقات)).

(2) على أعواده: أي على المنبر الذي اتخذه من الأعواد. شرح السندي على سنن ابن ماجه، 1/ 436.

(3) عن ودعهم الجماعات: أي تركهم. شرح السندي على سنن ابن ماجه، 1/ 436.

(4) ابن ماجه، كتاب المساجد والجماعات، باب التغليظ في التخلف عن الجماعة، برقم 794، وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 1/ 132، والحديث أخرجه مسلم، برقم 865، لكنه بلفظ: ((الجُمُعات)).
তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "আমরা যখন কাউকে ফজর নামাজে অনুপস্থিত দেখতাম, তখন তার সম্পর্কে আমরা মন্দ ধারণা পোষণ করতাম" (১)।

 

‌‌৯ - জামাতে নামাজ বর্জনকারীর অন্তরে মোহর মেরে দেওয়ার হুঁশিয়ারি; ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মিম্বারের কাষ্ঠখণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে (২) বলতে শুনেছেন: "লোকেরা যেন অবশ্যই জামাত বর্জন করা (৩) থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, এরপর তারা অবশ্যই গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে" (৪)। আর এই কঠোর হুমকি কেবলমাত্র কোনো মহান ওয়াজিব (আবশ্যকীয় কাজ) ত্যাগের কারণেই হতে পারে।

‌‌১০ - যে সম্প্রদায়ের মাঝে জামাত কায়েম হয় না তাদের ওপর শয়তানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা;

--------------------------------------------

(১) বাযযার [ইবনে হাজার কৃত মুখতাসার যাওয়াইদ মুসনাদ আল-বাযযার, ১/২২৮, নম্বর ৩০২], এবং ইবনে হাজার বলেছেন: "এটি একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح)", এবং হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (১/৪০) বলেছেন: "বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।"

(২) তাঁর কাষ্ঠখণ্ডসমূহের ওপর: অর্থাৎ সেই মিম্বারের ওপর যা তিনি কাঠ দিয়ে তৈরি করেছিলেন। সিন্দি কৃত সুনান ইবনে মাজাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ১/৪৩৬।

(৩) তাদের জামাত ত্যাগ করা থেকে: অর্থাৎ তাদের বর্জন করা। সিন্দি কৃত সুনান ইবনে মাজাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ১/৪৩৬।

(৪) ইবনে মাজাহ, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়াল জামাআহ, জামাত থেকে পিছিয়ে থাকার ব্যাপারে কঠোরতা পরিচ্ছেদ, নম্বর ৭৯৪; আল্লামা আলবানী সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ-তে (১/১৩২) একে সহিহ (صححه) বলেছেন। হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, নম্বর ৮৬৫, তবে তা "জুমুআত" (জুমার নামাজসমূহ) শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
لحديث أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((ما من ثلاثة في قرية، ولا بدوٍ لا تقام فيهم الصلاة (1) إلا قد استحوذ عليهم الشيطان (2)، فعليك بالجماعة، فإنما يأكل الذئب من الغنم القاصية)) (3). قال زائدة: قال السائب: يعني بالجماعة: الصلاة في الجماعة (4)، فقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم باستحواذ الشيطان عليهم بترك الجماعة التي شعارها الأذان، وإقامة الصلاة، ولو كانت الجماعة ندباً يخير الرجل بين فعلها وتركها لما استحوذ الشيطان على تاركها وتارك شعارها (5).

--------------------------------------------

(1) لا تقام فيهم الصلاة: أي جماعة. عون المعبود شرح سنن أبي داود، للعظيم آبادي، 2/ 251.

(2) استحوذ عليهم الشيطان: أي غلبهم وحولهم إليه، عون المعبود شرح سنن أبي داود، 2/ 251.

(3) فإنما يأكل الذئب من الغنم القاصية، أي إن الشيطان يتسلط على الخارج عن الجماعة. انظر: عون المعبود، 2/ 251.

(4) أبو داود، كتاب الصلاة، باب التشديد في ترك الجماعة، برقم 547، والنسائي، كتاب الإمامة، باب التشديد في ترك الجماعة، برقم 847، وأحمد، 6/ 446، والحاكم وصححه ووافقه الذهبي، 1/ 246 وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 109، وفي صحيح سنن النسائي، 11/ 182.

(5) انظر: كتاب الصلاة، لابن القيم، ص80.
আবু দারদা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((কোনো জনপদ বা মরুভূমিতে যদি তিন জন ব্যক্তিও থাকে আর সেখানে সালাত কায়েম করা না হয় (১), তবে শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার (২) করে নেয়। সুতরাং তোমরা জামাতকে আঁকড়ে ধরো, কেননা নেকড়ে কেবল দলছুট ভেড়াই খেয়ে থাকে)) (৩)। যায়িদাহ বলেন: সায়েব বলেছেন: জামাত বলতে এখানে জামাতে সালাত আদায় করা (৪) বুঝানো হয়েছে। নবি (সা.) আজান ও ইকামতের মতো নিদর্শন সংবলিত জামাত ত্যাগের কারণে তাদের ওপর শয়তানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সংবাদ দিয়েছেন। জামাত যদি মুস্তাহাব (ندباً) হতো, যেখানে ব্যক্তির জন্য তা করা বা বর্জন করার ইখতিয়ার থাকত, তবে জামাত বর্জনকারী এবং এর নিদর্শন বর্জনকারীর ওপর শয়তান আধিপত্য বিস্তার করত না (৫)।

--------------------------------------------

(১) সেখানে সালাত কায়েম করা হয় না: অর্থাৎ জামাতে। আওনুল মাবুদ শরহ সুনানে আবু দাউদ, আল-আজিম আবাদি, ২/ ২৫১।

(২) শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে: অর্থাৎ সে তাদের ওপর বিজয়ী হয় এবং তাদের নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়, আওনুল মাবুদ শরহ সুনানে আবু দাউদ, ২/ ২৫১।

(৩) কেননা নেকড়ে কেবল দলছুট ভেড়াই খেয়ে থাকে: অর্থাৎ শয়তান জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। দেখুন: আওনুল মাবুদ, ২/ ২৫১।

(৪) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, বাবুত তাশদিদ ফি তারকিল জামাত, নম্বর ৫৪৭; নাসায়ি, কিতাবুল ইমামাহ, বাবুত তাশদিদ ফি তারকিল জামাত, নম্বর ৮৪৭; আহমাদ, ৬/ ৪৪৬; হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, ১/ ২৪৬; এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/ ১০৯ এবং সহিহ সুনানে নাসায়ি, ১১/ ১৮২-তে হাসান (حسن) বলেছেন।

(৫) দেখুন: কিতাবুস সালাত, ইবনুল কাইয়্যিম, পৃষ্ঠা ৮০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌11 - تحريم الخروج من المسجد بعد الأذان حتى يصلي صلاة الجماعة؛ لحديث أبي الشعثاء قال: كنا قعوداً في المسجد مع أبي هريرة رضي الله عنه فَأَذَّن المؤذن، فقام رجل من المسجد يمشي فأتبعه أبو هريرة بصره حتى خرج من المسجد، فقال أبو هريرة رضي الله عنه: ((أما هذا فقد عصى أبا القاسم صلى الله عليه وسلم)) (1). فقد جعله أبو هريرة رضي الله عنه عاصياً لرسول الله صلى الله عليه وسلم بخروجه بعد الأذان؛ لتركه الصلاة جماعة (2).

قال الإمام النووي - رحمه الله تعالى-: ((فيه كراهة الخروج من المسجد بعد الأذان حتى يصلي المكتوبة إلا لعذر والله أعلم)) (3). وقد جاء النهي صريحاً، فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا كنتم في المسجد فنودي بالصلاة فلا يخرج أحدكم حتى يصلي)) (4). وعنه

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب النهي عن الخروج من المسجد إذا أذن المؤذن، برقم 655.

(2) انظر: كتاب الصلاة لابن القيم، ص81.

(3) شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 163.

(4) أخرجه أحمد في المسند، 2/ 537، قال الهيثمي في مجمع الزوائد، 2/ 5: ((رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح)).
১১ - আজান হওয়ার পর জামাতে নামাজ আদায় করা পর্যন্ত মসজিদ থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়া প্রসঙ্গে; আবুশ শাশা থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর সাথে মসজিদে বসে ছিলাম, এমন সময় মুয়াজ্জিন আজান দিলেন। তখন এক ব্যক্তি মসজিদ থেকে উঠে হাঁটা শুরু করলেন এবং আবু হুরায়রা (রা.) তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখলেন যতক্ষণ না সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল। তখন আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: "এই ব্যক্তি তো আবুল কাসেম (সা.)-এর অবাধ্যতা করল" (১)। আবু হুরায়রা (রা.) আজানের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অবাধ্য বলে গণ্য করেছেন; যেহেতু সে জামাতে নামাজ বর্জন করেছে (২)।

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "এর মধ্যে আজানের পর থেকে নির্ধারিত (المكتوبة) নামাজ আদায় করার পূর্ব পর্যন্ত ওজর ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হওয়া অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন" (৩)। আর এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে; আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: "তোমরা যখন মসজিদে থাকো এবং নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমাদের কেউ যেন নামাজ আদায় না করে মসজিদ থেকে বের না হয়" (৪)। এবং তাঁর থেকে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, আজান হওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হওয়া নিষেধ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর ৬৫৫।

(২) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম রচিত কিতাবুস সালাত, পৃষ্ঠা ৮১।

(৩) সহিহ মুসলিমের শারহুন নববী, ৫/ ১৬৩।

(৪) এটি আহমাদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, ২/ ৫৩৭; হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে (২/ ৫) বলেন: "এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح) হাদিসের বর্ণনাকারী।"
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
- رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يسمع النداء في مسجدي هذا ثم يخرج منه إلا لحاجة، ثم لا يرجع إليه إلا منافق)) (1).

وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز

رحمه الله يذكر أنه لا يجوز الخروج من المسجد الذي أذن فيه، إلا لعذر: كأن يريد الوضوء أو يصلي في مسجد آخر.

قلت: قال الترمذي رحمه الله: ((وعلى هذا العمل عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، ومن بعدهم، أن لا يخرج أحد من المسجد بعد الأذان إلا من عذر، أو يكون على غير وضوء، أو أمرٌ لا بد منه)) (2).

وذكر المباركفوري رحمه الله: أن الحديث يدل على أنه لا يجوز الخروج من المسجد، بعدما أذن فيه، إلا للضرورة، كمن كان جنباً، أو عليه حدث أصغر، أو

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبراني في الأوسط [مجمع البحرين، 2/ 22، برقم 643]، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد، 2/ 5: ((رواه الطبراني في الأوسط ورجاله رجال الصحيح)).

(2) سنن الترمذي، كتاب الصلاة، باب النهي عن الخروج من المسجد إذا أذن المؤذن، بعد الحديث رقم 204.
(আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমার এই মসজিদে আযান শোনার পর যে ব্যক্তি কোনো প্রয়োজন ছাড়া বের হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে না, সে মুনাফিক)) (১)।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, যে মসজিদে আযান দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে কোনো ওজর ব্যতীত বের হওয়া বৈধ নয়; যেমন ওজু করার ইচ্ছা অথবা অন্য কোনো মসজিদে সালাত আদায়ের ইচ্ছা করা।

আমি বলছি: তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণের আমল এই যে, আযানের পর ওজর ছাড়া কেউ যেন মসজিদ থেকে বের না হয়, অথবা যদি সে ওজুবিহীন অবস্থায় থাকে কিংবা এমন কোনো বিষয় থাকে যা অনিবার্য)) (২)।

মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে: হাদিসটি প্রমাণ করে যে, মসজিদে আযান হওয়ার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া জায়েজ নয়; যেমন কেউ নাপাক অবস্থায় থাকলে অথবা তার ছোট অপবিত্রতা (حدث أصغر) হলে, অথবা

--------------------------------------------

(১) তাবারানী এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন [মাজমাউল বাহরাইন, ২/২২, হাদিস নং ৬৪৩], এবং হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ, ২/৫-এ বলেছেন: ((তাবারানী এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী))।

(২) সুনান তিরমিযী, সালাত অধ্যায়, মুয়াজ্জিন আযান দেওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২০৪-এর পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الذي حصل له رعاف، أو الحاقن، ونحوهم، وكذا من يكون إماماً لمسجد آخر، ومن في معناه (1).

 

‌‌12 - تفقد النبي صلى الله عليه وسلم للجماعة في المسجد يدل على وجوب صلاة الجماعة؛ لحديث أبي بن كعب رضي الله عنه قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوماً الصبح، فقال: ((أشاهد فلان؟)) قالوا: لا، قال: ((أشاهد فلان؟)) قالوا: لا، قال: ((إن هاتين الصلاتين (2) أثقل الصلوات على المنافقين، ولو تعلمون ما فيهما، لأتيتموها ولو حبواً على الركب، وإن الصف الأول على مثل صف الملائكة، ولو علمتم ما فضيلته لابتدرتموه، وإن صلاة الرجل مع الرجل أزكى من صلاته وحده، وصلاته مع الرجلين أزكى من صلاته مع الرجل وما كثر فهو أحب إلى الله تعالى)) (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي، للمباركفوري، 2/ 607.

(2) إن هاتين الصلاتين: أي صلاة العشاء والفجر، كما تقدم.

(3) سنن أبي داود، كتاب الصلاة، باب فضل صلاة الجماعة، برقم554، واللفظ له، والنسائي، كتاب الإمامة، باب الجماعة إذا كانوا اثنين، برقم 843، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود 1،/110، وفي صحيح سنن النسائي، 1/ 183.
যিনি নাসিকা রক্তক্ষরণ (رعاف) এর শিকার হয়েছেন, কিংবা মলমূত্রের বেগ সংবরণকারী (حاقن) এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ; তদ্রূপ অন্য কোনো মসজিদের ইমাম এবং যারা এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত (১)।

 

‌‌১২ - মসজিদে জামাতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খোঁজখবর নেওয়া এটি জামাতে সালাত আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে; কারণ উবাই ইবনে কাব (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন, এরপর বললেন: ((অমুক কি উপস্থিত আছে?)) তারা বললেন: না, তিনি বললেন: ((অমুক কি উপস্থিত আছে?)) তারা বললেন: না, তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই এই দুই সালাত (২) মুনাফিকদের নিকট সবচেয়ে কষ্টকর সালাত। যদি তোমরা জানতে এই দুই সালাতে কী রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তোমরা এতে উপস্থিত হতে। আর নিশ্চয়ই প্রথম কাতার ফেরেশতাদের কাতারের অনুরূপ। যদি তোমরা এর শ্রেষ্ঠত্ব জানতে তবে তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে। আর কোনো ব্যক্তির অপর এক ব্যক্তির সাথে সালাত আদায় করা তার একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে অধিক উত্তম (أزكى); এবং তার দুই ব্যক্তির সাথে সালাত আদায় করা এক ব্যক্তির সাথে সালাত আদায়ের চেয়ে অধিক উত্তম (أزكى)। আর সংখ্যায় যত বৃদ্ধি পাবে, তা মহান আল্লাহর নিকট তত অধিক প্রিয়।)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তুহফাতুল আহওয়াযি বিশারহি জামি' আত-তিরমিযি, মুবারকপুরী কৃত, ২/৬০৭।

(২) এই দুই সালাত: অর্থাৎ এশা ও ফজরের সালাত, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

(৩) সুনান আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, জামাতে সালাত আদায়ের ফজিলত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৫৪, শব্দাবলী তাঁর; এবং নাসায়ি, ইমামত অধ্যায়, জামাত যখন দুইজন হয় পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৪৩; আলবানি একে হাসান (حسن) বলেছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/১১০ এবং সহিহ সুনান নাসায়ি, ১/১৮৩-এ।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌13 - إجماع الصحابة رضي الله عنهم على وجوب صلاة الجماعة؛ فقد ذكر الإمام ابن القيم - رحمه الله تعالى- إجماع الصحابة على وجوب صلاة الجماعة، وذكر نصوصهم في ذلك، ثم قال: ((فهذه نصوص الصحابة كما تراها: صحةً، وشهرةً، وانتشاراً، ولم يجئ عن صحابي واحد خلاف ذلك، وكل من هذه الآثار دليل مستقل في المسألة، لو كان وحده، فكيف إذا تعاضدت وتظافرت، وبالله التوفيق)) (1).

وقال الترمذي رحمه الله: ((وقد روي عن غير واحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أنهم قالوا: من سمع النداء فلم يجب فلا صلاة له)) (2). وقال بعض أهل العلم: هذا على التغليظ والتشديد ولا رخصة لأحد في ترك الجماعة إلا من عذر)) (3).

--------------------------------------------

(1) كتاب الصلاة، ص81 - 82.

(2) سنن الترمذي، كتاب الصلاة، باب ما جاء فيمن يسمع النداء فلا يجيب، بعد الحديث رقم 217.

(3) سنن الترمذي، كتاب الصلاة، باب ما جاء فيمن يسمع النداء فلا يجيب، بعد الحديث رقم 217.
‌১৩ - জামাতে সালাত আদায় ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ঐক্যমত (إجماع); ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) জামাতে সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: ((সাহাবায়ে কেরামের এই বক্তব্যগুলো আপনি যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন: বিশুদ্ধতা (صحة), প্রসিদ্ধি ও ব্যাপকতার দিক থেকে এমন যে, একজন সাহাবী থেকেও এর বিপরীতে কিছু বর্ণিত হয়নি। এই বর্ণনাগুলোর (آثار) প্রতিটিই এ মাসআলায় একটি স্বতন্ত্র দলিল (دليل), যদি তা এককভাবেও থাকত; তবে এগুলো যখন একে অপরকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করে, তখন তো কথাই নেই। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা)) (১)।

ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা বলতেন: "যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ সালাতে উপস্থিত হলো না, তার কোনো সালাত নেই")) (২)। কোনো কোনো আলেম বলেছেন: "এটি কঠোরতা ও গুরুত্বারোপের জন্য বলা হয়েছে। ওজর ব্যতীত কারো জন্য জামাত ত্যাগ করার কোনো অনুমতি নেই")) (৩)।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুস সালাত, পৃ. ৮১ - ৮২।

(২) সুনান তিরমিযী, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আযান শুনেও সালাতে উপস্থিত হয় না, হাদিস নং ২১৭-এর পরে।

(৩) সুনান তিরমিযী, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আযান শুনেও সালাতে উপস্থিত হয় না, হাদিস নং ২১৭-এর পরে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال مجاهد: ((وسئل ابن عباس عن رجل يصوم النهار ويقوم الليل، ولا يشهد جمعة ولا جماعة؟ قال: هو في النار)) (1).

قال الترمذي رحمه الله: ((ومعنى الحديث: أن لا يشهد الجماعة والجمعة رغبة عنها، واستخفافاً بحقها، وتهاوناً بها)) (2).

 

‌‌المبحث الثالث: فوائد صلاة الجماعة:

صلاة الجماعة فيها فوائد كثيرة، ومصالح عظيمة، ومنافع متعددة شرعت من أجلها، وهذا يدل على أن الحكمة تقتضي أن صلاة الجماعة فرض عين، ومن هذه الفوائد والحكم التي شرعت من أجلها ما يأتي:

--------------------------------------------

(1) سنن الترمذي، كتاب الصلاة، باب ما جاء فيمن يسمع النداء فلا يجيب، برقم 218، قال العلامة أحمد محمد شاكر في حاشيته على سنن الترمذي، 1/ 424: ((وهذا إسناد صحيح، وهذا الحديث وإن كان موقوفاً ظاهراً على ابن عباس إلا أنه مرفوع حكماً؛ لأن مثل هذا مما لا يعلم بالرأي … )).

(2) سنن الترمذي، في الباب السابق، 1/ 424.
মুজাহিদ (র.) বলেন: ((ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে সালাত আদায় করে, কিন্তু জুমুআ বা জামাতে উপস্থিত হয় না? তিনি বললেন: সে জাহান্নামী)) (১)।

ইমাম তিরমিযী (র.) বলেন: ((হাদিসটির অর্থ হলো: অনাগ্রহবশত, এর হকের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এবং অবহেলার কারণে জামাত ও জুমুআয় উপস্থিত না হওয়া)) (২)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জামাতে সালাত আদায়ের উপকারিতা:

জামাতে সালাত আদায়ের মধ্যে অনেক উপকারিতা, মহান কল্যাণ এবং নানাবিধ সুফল রয়েছে যার উদ্দেশ্যে এটি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, হিকমতের দাবি অনুযায়ী জামাতে সালাত আদায় করা ফরজে আইন (ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য)। আর যেসব উপকারিতা ও হিকমতের উদ্দেশ্যে এটি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে তার কয়েকটি নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) সুনান তিরমিযী, সালাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আযান শোনে কিন্তু উত্তর দেয় না, হাদিস নং ২১৮। আল্লামা আহমদ মুহাম্মদ শাকির সুনান তিরমিযীর টীকায় (১/৪২৪) বলেছেন: ((এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد)। এই হাদিসটি বাহ্যিকভাবে ইবনে আব্বাসের ওপর স্থগিত (موقوف) হলেও এটি হুকমান (বিধানগতভাবে) মারফু (مرفوع); কারণ এই ধরনের বিষয় কেবল নিজস্ব রায়ের মাধ্যমে জানা সম্ভব নয় … ))।

(২) সুনান তিরমিযী, পূর্ববর্তী অধ্যায়, ১/৪২৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌1 - شرع الله عز وجل لهذه الأمة الاجتماع في أوقات معلومة، منها ما هو في اليوم والليلة كالصلوات الخمس، ومنها ما هو في الأسبوع وهو صلاة الجمعة، ومنها ما هو في السنة متكرراً وهو صلاة العيدين لجماعة كل بلد، ومنها ما هو عامٌّ في السنة وهو الوقوف بعرفة؛ لأجل التواصل وهو الإحسان، والعطف، والرعاية؛ ولأجل نظافة القلوب، والدعوة إلى الله عز وجل بالقول والعمل.

‌‌2 - التعبد لله تعالى بهذا الاجتماع؛ طلباً للثواب، وخوفاً من عقاب الله، ورغبة فيما عنده.

‌‌3 - التوادد، وهو التحابّ؛ لأجل معرفة أحوال بعضهم لبعض، فيقومون بعيادة المرضى، وتشييع الموتى، وإغاثة الملهوفين، وإعانة المحتاجين؛ ولأن ملاقاة الناس بعضهم لبعض توجب المحبة، والألفة.

‌‌4 - التعارف؛ لأن الناس إذا صلى بعضهم مع بعض حصل التعارف، وقد يحصل من التعارف معرفة بعض الأقرباء، فتحصل صلته بقدر قرابته، وقد يعرف الغريب
১ - আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই উম্মতের জন্য নির্ধারিত সময়ে একত্রিত হওয়াকে বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে কিছু রয়েছে দিন ও রাতের জন্য যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, কিছু রয়েছে প্রতি সপ্তাহের জন্য যা হলো জুমুআর সালাত, কিছু রয়েছে বছরে বারংবার ফিরে আসে এমন যা হলো প্রত্যেক জনপদের জামাতের জন্য দুই ঈদের সালাত, আর কিছু রয়েছে যা বছরে একবার সাধারণভাবে পালনীয় এবং তা হলো আরাফায় অবস্থান; যেন পারস্পরিক যোগাযোগ তথা ইহসান, সহানুভূতি ও দেখাশোনা বজায় থাকে এবং অন্তরের পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয় এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করা যায়।

২ - এই সমাবেশের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা; সওয়াব লাভের আশায়, আল্লাহর আজাবের ভয়ে এবং তাঁর নিকট যা রয়েছে তার প্রতি অনুরাগী হয়ে।

৩ - সৌহার্দ্য তথা পারস্পরিক ভালোবাসা; যেন একে অপরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, ফলে তারা অসুস্থদের দেখতে যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ করে, বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করে এবং অভাবীদের সহায়তা করে; কেননা মানুষের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে।

৪ - পারস্পরিক পরিচিতি; কেননা মানুষ যখন একে অপরের সাথে সালাত আদায় করে তখন জানাশোনা তৈরি হয়। আর এই জানাশোনা থেকে কখনো কখনো আত্মীয়দের পরিচয় পাওয়া যায়, ফলে আত্মীয়তার বন্ধন অনুযায়ী তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হয়, আবার এর মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিকেও চেনা যায়।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
عن بلده فيقوم الناس بحقه.

 

‌‌5 - إظهار شعيرة من أعظم شعائر الإسلام؛ لأن الناس لو صلُّوا كلهم في بيوتهم ما عرف أن هنالك صلاة.

‌‌6 - إظهار عز المسلمين، وذلك إذا دخلوا المساجد ثم خرجوا جميعاً، وهذا فيه إغاظة لأهل النفاق والكافرين، وفيه البعد عن التشبه بهم والبعد عن سبيلهم.

‌‌7 - تعليم الجاهل؛ لأن كثيراً من الناس يستفيد مما شرع في الصلاة بواسطة صلاة الجماعة، ويسمع القراءة في الجهرية فيستفيد ويتعلم، ويسمع أذكار أدبار الصلوات فيحفظها، ويقتدي بالإمام ومن بجانبه وأمامه فيتعلم أحكام صلاته، ويتعلم الجاهل من العالم.

‌‌8 - تشجيع المتخلف عن الجماعة، والقيام بإرشاده وتوجيهه، والتواصي بالحق والصبر عليه.

‌‌9 - تعويد الأمة الإسلامية على الاجتماع وعدم التفرق؛
...তার এলাকা সম্পর্কে, ফলে মানুষ তার প্রাপ্য হক আদায় করে।

 

‌৫ - ইসলামের অন্যতম মহান নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ; কারণ মানুষ যদি সবাই নিজ নিজ বাড়িতে সালাত আদায় করত, তবে যে সালাত বিদ্যমান আছে তা আর জানা যেত না।

‌৬ - মুসলিমদের শক্তি ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ; আর তা সাধিত হয় যখন তারা মসজিদে প্রবেশ করে এবং অতঃপর সকলে মিলে একত্রে বের হয়। এতে মুনাফিক ও কাফিরদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও তাদের পথ অনুসরণ করা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।

‌৭ - অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা প্রদান; কেননা অনেক মানুষ জামাতের সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সালাতের বিধিবদ্ধ কার্যাবলি থেকে উপকৃত হয়। তারা উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ শুনে উপকৃত হয় ও শিখতে পারে, সালাত পরবর্তী জিকিরসমূহ শুনে তা মুখস্থ করতে পারে এবং ইমাম ও তার পাশে বা সামনে থাকা ব্যক্তিদের অনুসরণ করে নিজের সালাতের বিধানসমূহ শিখতে পারে। এভাবেই একজন অজ্ঞ ব্যক্তি একজন আলিমের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করে।

‌৮ - জামাতে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে উৎসাহিত করা, তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা এবং একে অপরকে সত্যের ও ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া।

‌৯ - মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং বিচ্ছিন্নতা বর্জন করতে অভ্যস্ত করা;
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فإن الأمة مجتمعة على طاعة ولي الأمر، وهذه الصلاة في الجماعة ولاية صغرى؛ لأنهم يقتدون بإمام واحد يتابعونه تماماً، فهي تشكل النظرة العامة للإسلام.

 

‌‌10 - تعويد الإنسان ضبط النفس؛ لأنه إذا اعتاد على متابعة الإمام متابعة دقيقة، لا يكبِّر قبله، ولا يتقدم ولا يتأخر كثيراً، ولا يوافقه؛ بل يتابعه تعوّد على ضبط النفس.

‌‌11 - استشعار المسلم وقوفه في صف الجهاد كما قال الله تعالى: {إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنيَانٌ مَّرْصُوصٌ} (1). فهؤلاء الذين صاروا صفّاً في الجهاد لا شك أنهم إذا تعوَّدوا ذلك في الصلوات الخمس سوف يكون ذلك وسيلة إلى ائتمامهم بقائدهم في صف الجهاد، فلا يتقدمون ولا يتأخرون عن أوامره.

‌‌12 - شعور المسلمين بالمساواة، وتحطيم الفوارق الاجتماعية؛ لأنهم يجتمعون في المسجد: أغنى الناس

--------------------------------------------

(1) سورة الصف، الآية: 4.
নিশ্চয়ই উম্মাহ উলিল আমরের আনুগত্যের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ। আর জামায়াতে এই নামাজ হলো একটি ক্ষুদ্র কর্তৃত্ব; কারণ তারা একজন ইমামের অনুসরণ করে যাকে তারা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুকরণ করে, ফলে এটি ইসলামের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করে।

 

‌‌১০ - মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত করা; কারণ সে যদি সূক্ষ্মভাবে ইমামের অনুসরণ করতে অভ্যস্ত হয়—তার আগে তাকবির না বলা, তার চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে না যাওয়া বা পিছিয়ে না থাকা এবং তার সাথে সাথে না করা; বরং তাকে অনুসরণ করার মাধ্যমেই সে আত্মনিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

‌‌১১ - জিহাদের কাতারে দাঁড়ানোর বিষয়ে মুসলমানের অনুভূতি জাগ্রত করা যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা এক সিসাঢালা প্রাচীর} (১)। সুতরাং যারা জিহাদের ময়দানে কাতারবদ্ধ হয়েছে, তারা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এতে অভ্যস্ত হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা জিহাদের ময়দানে তাদের নেতার অনুসরণের মাধ্যম হবে; ফলে তারা তার নির্দেশের অবাধ্য হয়ে সামনে অগ্রসর হবে না বা পিছিয়ে থাকবে না।

‌‌১২ - মুসলমানদের মধ্যে সমতার অনুভূতি এবং সামাজিক ভেদাভেদ দূর করা; কারণ তারা মসজিদে সমবেত হয়: সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি...

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাফ, আয়াত: ৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
بجنب أفقر الناس، والأمير إلى جنب المأمور، والحاكم إلى جنب المحكوم، والصغير إلى جنب الكبير، وهكذا، فيشعر الناس بأنهم سواء، فتحصل بذلك الألفة؛ ولهذا أمر النبي صلى الله عليه وسلم بمساواة الصفوف حتى قال: ((ولا تختلفوا فتختلف قلوبكم)) (1).

 

‌‌13 - تفقد أحوال الفقراء، والمرضى، والمتهاونين بالصلاة؛ فإن الناس إذا رأوا الإنسان يلبس ثياباً بالية وتبدو عليه علامات الجوع رحموه، وأحسنوا إليه، وإذا تخلف بعضهم عن الجماعة عرفوا أنه كان مريضاً، أو عاصياً فينصحوه، فيحصل التعاون على البر والتقوى، والتواصي بالحق والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

‌‌14 - استشعار آخر هذه الأمة بما كان عليه أولها؛ لأن الصحابة كانوا يقتدون بالرسول صلى الله عليه وسلم، فيستشعر الإمام أنه في مقام الرسول صلى الله عليه وسلم، ويستشعر المأموم أنه في مقام الصحابة رضي الله عنهم، وهذا يعطي الأمة الحرص على الاقتداء

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الصلاة، باب تسوية الصفوف وإقامتها، برقم 432.
সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের পাশে, আমীর মামূরের (অনুসারী) পাশে, শাসক শাসিতের পাশে এবং ছোট বড়র পাশে—এভাবেই সকলে দাঁড়ায়। ফলে মানুষ অনুভব করে যে তারা সমান, আর এর মাধ্যমে হৃদ্যতা অর্জিত হয়; এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতার সোজা করার নির্দেশ দিয়েছেন, এমনকি তিনি বলেছেন: "তোমরা কাতার বিন্যাসে মতভেদ করো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে" (১)।

 

‌‌১৩ - দরিদ্র, অসুস্থ এবং সালাতে অবহেলাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা; কেননা মানুষ যখন কাউকে জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় দেখে এবং তার মধ্যে ক্ষুধার লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়, তখন তারা তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করে এবং তার সাথে সদাচরণ করে। আর যদি কেউ জামাত থেকে পিছিয়ে থাকে, তবে তারা জানতে পারে যে সে অসুস্থ নাকি অবাধ্য, ফলে তারা তাকে উপদেশ দিতে পারে। এর ফলে নেকি ও তাকওয়ার ওপর পারস্পরিক সহযোগিতা, সত্যের উপদেশ প্রদান এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের লক্ষ্য অর্জিত হয়।

‌‌১৪ - এই উম্মতের শেষ স্তরের লোকদের মাঝে প্রথম স্তরের (পূর্বসূরিদের) আদর্শের অনুভূতি জাগ্রত করা; কারণ সাহাবী (صحابة)গণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতেন। তাই ইমাম অনুভব করেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থলাভিষিক্ত এবং মুক্তাদী অনুভব করেন যে তিনি সাহাবী (صحابة)গণের স্থলাভিষিক্ত। এটি উম্মতের মধ্যে অনুসরণের প্রতি বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুস সালাত, কাতার সোজা করা ও তা কায়েম করার অধ্যায়, হাদিস নম্বর ৪৩২।
(খণ্ড: ১) সালাতুল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
بالنبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه.

 

‌‌15 - اجتماع المسلمين في المسجد راغبين فيما عند الله من أسباب نزول البركات.

‌‌16 - يزيد نشاط المسلم فيزيد عمله عندما يشاهد أهل النشاط في العبادة، وهذا فيه فائدة عظيمة.

‌‌17 - تضاعف الحسنات ويعظم الثواب.

‌‌18 - الدعوة إلى الله عز وجل بالقول والعمل، إلى غير ذلك من الفوائد الكثيرة (1).

‌‌19 - اجتماع المسلمين في أوقات معينة يربيهم على المحافظة على الأوقات.

‌‌المبحث الرابع: فضل صلاة الجماعة:

الصلاة مع الجماعة لها فضائل كثيرة، منها ما يأتي:

--------------------------------------------

(1) انظر: حاشية الروض المربع، لعبد الرحمن بن قاسم، 2/ 255، والإحكام شرح أصول الأحكام له، 1/ 340، ومجموع فتاوى ابن باز، 12/ 19 - 20، والشرح الممتع لابن عثيمين، 4/ 192 - 195، وصلاة الجماعة للأستاذ الدكتور صالح غانم السدلان، ص23.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের সাথে।

 

‌‌১৫ - বরকত নাযিলের মাধ্যমগুলো লাভের আশায় মসজিদে মুসলমানদের একত্রিত হওয়া।

‌‌১৬ - ইবাদতে উৎসাহী ব্যক্তিদের দেখে একজন মুসলিমের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায়, ফলে তার আমলও বেড়ে যায়, আর এতে মহান উপকারিতা রয়েছে।

‌‌১৭ - নেকি বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়া এবং সওয়াব মহান হওয়া।

‌‌১৮ - কথা ও কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করা, এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক উপকারিতা (১)।

‌‌১৯ - নির্দিষ্ট সময়ে মুসলমানদের একত্রিত হওয়া তাদের সময়ানুবর্তিতার প্রতি যত্নশীল হতে অভ্যস্ত করে।

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জামাতে সালাত আদায়ের ফজিলত:

জামাতের সাথে সালাত আদায়ের অনেক ফজিলত রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আবদুর রহমান বিন কাসেম রচিত হাশিয়াহ আর-রওযুল মুরবি, ২/২৫৫; এবং তাঁর রচিত আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম, ১/৩৪০; মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/১৯-২০; ইবনে উসাইমীন রচিত আশ-শারহুল মুমতি', ৪/১৯২-১৯৫; এবং ড. সালিহ গানিম আস-সাদলান রচিত সালাতুল জামা'আহ, পৃ. ২৩।