(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة التطوع القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة التطوع - مفهوم، وفضائل، وأقسام، وأنواع، وآداب في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 196
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
নফল নামাজ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: নফল নামাজ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধারণা, ফজিলত, প্রকারভেদ, শ্রেণিবিভাগ এবং আদবসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরাইসী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৬
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: -)
28
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
صلاة التطوع - مفهوم، وفضائل، وأقسام، وأنواع، وآداب في ضوء الكتاب والسنة
28
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি-এর গ্রন্থাবলি
নফল সালাত (صلاة التطوع) - সংজ্ঞা, ফজিলত, প্রকারভেদ, শ্রেণিবিভাগ এবং আদবসমূহ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلَّى الله عليهِ وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((صلاة التطوع)) بيّنت فيها: مفهوم صلاة التطوع، وفضلها، وأقسامها، وأنواعها، وكل ما يحتاجه المسلم من فقهٍ في هذا المبحث، بالأدلة من الكتاب والسنة.
وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز نوَّر الله ضريحه، ورفع درجاته في الفردوس الأعلى.
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা যাঞ্চা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি ‘নফল সালাত’ (صلاة التطوع) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি নফল সালাতের ধারণা, এর মর্যাদা, এর শ্রেণিবিভাগ ও প্রকারভেদ এবং এই বিষয়ে একজন মুসলিমের প্রয়োজনীয় ফিকহ (فقه) সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসহ বর্ণনা করেছি।
আমি আমাদের শাইখ, পরম শ্রদ্ধেয় ইমাম ও আল্লামা আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ—আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন—এর বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (ترجيحات) থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৪)
والله تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً، مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله وخيرته من خلقه، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر قبل مغرب يوم السبت الموافق20/ 11/1420هـ
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে কবুলযোগ্য, বরকতময় এবং একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন আমাকে আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই। আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মনোনীত সত্তা, আমাদের নবি, ইমাম ও আদর্শ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হবেন, তাঁদের সবার ওপর।
গ্রন্থকার
২০/১১/১৪২০ হিজরি, শনিবার মাগরিবের পূর্বে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৫)
صلاة التطوع
أولاً: مفهوم التطوع: التطوع: النافلة وكل متنفِّل خير: متطوع (1).
قال الله تعالى: {فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ} (2).
والتطوع: ما تبرع به المسلم من ذات نفسه مما لا يلزمه فرضه (3).
ثانياً: فضل التطوع:صلاة التطوع لها فضائل كثيرة عظيمة، منها ما يلي:
1 - تُكمِّلُ الفرائضَ وتجبر نقصها؛ لحديث تميم الداري رضي الله عنه مرفوعاً: ((أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة صلاته، فإن كان أتمَّها كُتبت له تامة، وإن لم يكن أتمَّها قال الله عز وجل لملائكته: انظروا هل تجدون لعبدي من تطوُّع فتكملون بها فريضته، ثم الزكاة كذلك، ثم تؤخذ الأعمال على حسب ذلك)) (4).
--------------------------------------------
নফল সালাত
প্রথমত: নফল (تطوع)-এর ধারণা: নফল (تطوع): নফল (نافلة) এবং প্রতিটি কল্যাণমূলক ঐচ্ছিক কাজই হলো নফল (تطوع) (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করবে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে} (২)।
আর নফল (تطوع) হলো: মুসলিম ব্যক্তি স্বীয় পক্ষ থেকে যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে, যা তার ওপর ফরজ (فرض) হিসেবে আবশ্যক করা হয়নি (৩)।
দ্বিতীয়ত: নফলের ফজিলত:নফল সালাতের অনেক মহান ফজিলত রয়েছে, যার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য:
১ - এটি ফরজ ইবাদতসমূহকে পূর্ণতা দান করে এবং এর ঘাটতি পূরণ করে; তামীম আদ-দারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসের কারণে: ((কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম তার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সে তা পূর্ণভাবে সম্পাদন করে থাকে, তবে তার জন্য তা পূর্ণ হিসেবেই লেখা হবে। আর যদি সে তা পূর্ণভাবে সম্পাদন না করে থাকে, তবে মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন: দেখ, তোমরা কি আমার বান্দার কোনো নফল (تطوع) ইবাদত পাও কি না, যা দিয়ে তার ফরজের ঘাটতি পূর্ণ করবে? অতঃপর জাকাতও একইভাবে দেখা হবে, এরপর অন্যান্য আমলসমূহকেও এই পদ্ধতি অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৬)
2 - التطوع تُرفع به الدرجات وتُحطُّ الخطايا؛ لحديث ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال له: ((عليك بكثرة السجود؛ فإنك لا تسجد لله سجدةً إلا رفعك الله بها درجة، وحطَّ عنك بها خطيئة)) (1).
3 - كثرة النوافل من أعظم أسباب دخول الجنة بمرافقة النبي صلى الله عليه وسلم؛ لحديث ربيعة بن كعب الأسلمي رضي الله عنه قال: كنت أبيت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فآتيه بوضوئه وحاجته، فقال لي: ((سل))، فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة، قال ((أوَ غيرَ ذلك؟)) قلت: هو ذاك، قال: ((فأعنِّي على نفسك بكثرة السجود)) (2).
4 - صلاة التطوع أفضل أعمال نوافل البدن بعد الجهاد، والعلم: تعلُّمه، وتعليمه (3)؛لحديث ثوبان رضي الله عنه قال:
--------------------------------------------
২ - নফল ইবাদতের (التطوع) মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহ মোচন হয়; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাকে বলেছিলেন: ((তোমার জন্য অধিক পরিমাণে সিজদা করা আবশ্যক; কারণ তুমি আল্লাহর জন্য এমন কোনো সিজদা করো না যার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন না এবং তোমার একটি গুনাহ মোচন করেন না)) (১)।
৩ - নফল ইবাদতের (النوافل) আধিক্য জান্নাতে প্রবেশের এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারণ; রবীআহ ইবন কাব আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রাত যাপন করতাম, অতঃপর আমি তাঁর ওজু ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে আসতাম। তিনি আমাকে বললেন: ((চাও)), আমি বললাম: আমি জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন: ((অন্য কিছু কি আছে?)), আমি বললাম: এটাই। তিনি বললেন: ((তাহলে অধিক সিজদার মাধ্যমে তোমার নিজের বিষয়ে আমাকে সাহায্য করো)) (২)।
৪ - জিহাদ এবং ইলম (শিক্ষা ও শিক্ষা দান) এর পর নফল নামাজ (صلاة التطوع) শারীরিক নফল আমলগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ (৩); সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((استقيموا ولن تُحصوا، واعلموا أن خير أعمالكم الصلاة، ولا يُحافظ على الوضوء إلا مؤمن)) (1).
5 - صلاة التطوع في البيوت تجلب البركة؛ لحديث جابر رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا قضى أحدكم الصلاة في
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা অটল ও অবিচল থাকো, তবে তোমরা তা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারবে না; আর জেনে রেখো, তোমাদের সর্বোত্তম আমল হলো সালাত। মুমিন ব্যতীত আর কেউ অজুর হিফাজত করে না)) (১)।
৫ - ঘরে নফল সালাত আদায় করা বরকত বয়ে আনে; জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যখন তোমাদের কেউ তার সালাত শেষ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مسجده فليجعل لبيته نصيباً من صلاته؛ فإن الله جاعلٌ في بيته من صلاته خيراً)) (1)؛ ولحديث زيد بن ثابت رضي الله عنه يرفعه، وفيه: ((فصلُّوا أيها الناس في بيوتكم فإن أفضل الصلاة صلاةُ المرءِ في بيته إلا المكتوبة)) (2). ولفظ مسلم: ((فعليكم بالصلاة في بيوتكم؛ فإن خير صلاة المرء في بيته إلا الصلاة المكتوبة)) (3)؛ ولحديث ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((اجعلوا في بيوتكم من صلاتكم ولا تتخذوها قبوراً)) (4). قال الإمام النووي رحمه الله: ((وإنما حثَّ على النافلة في البيت؛ لكونه أخفى وأبعد من الرياء، وأصون من المحبطات؛ وليتبرَّك البيتُ بذلك، وتنزل فيه الرحمة، والملائكة، وينفر منه الشيطان)) (5).
--------------------------------------------
...তাঁর মসজিদে, তবে সে যেন তার ঘরের জন্য তার সালাতের একটি অংশ বরাদ্দ রাখে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সালাতের মাধ্যমে তার ঘরে কল্যাণ দান করবেন (১); এবং যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণিত মারফূ (مرفوع) হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো; কেননা ফরয (المكتوبة) সালাত ব্যতীত ব্যক্তির শ্রেষ্ঠ সালাত হলো তার ঘরে আদায় করা সালাত" (২)। মুসলিমের শব্দবিন্যাস হলো: "তোমাদের কর্তব্য হলো ঘরে সালাত আদায় করা; কেননা ফরয (المكتوبة) সালাত ব্যতীত ব্যক্তির সর্বোত্তম সালাত হলো তার ঘরে আদায় করা সালাত" (৩); এবং ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোতে তোমাদের সালাতের কিছু অংশ আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না" (৪)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ঘরে নফল (النافلة) সালাত আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে কারণ এটি অধিকতর নিভৃত এবং লোকদেখানো (الرياء) মানসিকতা থেকে দূরে রাখে, এবং আমল বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ থেকে অধিক সুরক্ষা প্রদান করে; আর যেন এর মাধ্যমে ঘর বরকতময় হয়, সেখানে রহমত ও ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন এবং শয়তান সেখান থেকে পলায়ন করে" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৯)
6 - التطوّعُ يجلبُ محبة الله لعبده؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله تعالى قال: من عادَى لي وليَّاً فقد آذنته بالحرب، وما تقرَّب إليَّ عبدي بشيءٍ أحبَّ إليَّ مما افترضته عليه، وما يزال عبدي يتقرَّب إليَّ بالنوافل حتى أحبّه فإذا أحببته كنتُ سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها، وإن سألني لأعطينه، ولئن استعاذني لأعيذنه، وما ترددت في شيء أنا فاعله ترددي عن نفس المؤمن يكره الموت وأنا أكره مساءته)) (1).
ظاهره أن محبة الله للعبد تقع بملازمة العبد للفرائض؛ ودوامه والتزامه التقرب بالنوافل بعد الفرائض من صلاة، وصيام، وزكاةٍ، وحج، وغير ذلك (2).
7 - كمال التطوع يزيد في شكر العبد لله عز وجل -؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقوم من الليل حتى تتفطَّر
--------------------------------------------
৬ - নফল (التطوع) ইবাদত বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা নিয়ে আসে; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি। আর আমার বান্দা আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ওই বিষয়ের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যা আমি তার ওপর ফরজ (افترضته) করেছি। আর আমার বান্দা নফল (النوافل) ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। সুতরাং যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি; আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই। আর আমি যা করি, তার কোনোটিতেই আমি এমন দ্বিধাবোধ করি না, যেমনটি মুমিনের প্রাণ হরণের ক্ষেত্রে করি—সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি।")) (১)।
এর বাহ্যিক অর্থ হলো, আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা অর্জিত হয় ফরজ (الفرائض) বিধানসমূহ পালনে অবিচল থাকার মাধ্যমে; এবং ফরজের পর সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ এবং অন্যান্য নফল (النوافل) ইবাদতের মাধ্যমে নিয়মিত ও নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণের দ্বারা (২)।
৭ - নফল (التطوع) ইবাদতের পূর্ণতা মহান আল্লাহর প্রতি বান্দার কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি করে -; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন যতক্ষণ না তাঁর পা ফেটে যেত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১০)
قدماه، فقالت: لِمَ تصنع هذا يا رسول الله وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخَّر؟ فقال: ((أفلا أكون عبداً شكوراً)) (1). وعن المغيرة رضي الله عنه قال: قام النبي صلى الله عليه وسلم حتى تورَّمت قدماه فقيل له: غفر الله لك ما تقدَّم من ذنبك وما تأخر؟ قال: ((أفلا أكون عبداً شكوراً)) (2).
ثالثاً: جواز صلاة التطوع جالساً:تصح صلاة التطوع جالساً مع القدرة على القيام، قال الإمام النووي رحمه الله: ((وهو إجماع العلماء)) (3).
كما يصح أداء بعض التطوع من قيام وبعضه من قعود (4)، وأما صلاة الفريضة فالقيام فيها ركن، من تركه مع القدرة عليه فصلاته باطلة (5).
وقد ثبتت الأحاديث بذلك، ففي حديث عائشة رضي الله
--------------------------------------------
তাঁর পদদ্বয় [ফুলে গিয়েছিল], তখন তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কেন এমনটি করছেন, অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?" (১)। আর মুগিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামাজে) দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না তাঁর পদদ্বয় ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো: আল্লাহ কি আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?" (২)।
তৃতীয়ত: বসে নফল (تطوع) নামাজ পড়ার বৈধতা:দাঁড়ানোর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বসে নফল (تطوع) নামাজ পড়া বিশুদ্ধ (صحيح)। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "এটি ওলামায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع)" (৩)।
একইভাবে নফল নামাজের কিছু অংশ দাঁড়িয়ে এবং কিছু অংশ বসে আদায় করাও বৈধ (৪), তবে ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে দণ্ডায়মান হওয়া একটি রুকন (ركن); সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এটি ত্যাগ করবে তার নামাজ বাতিল (باطل) গণ্য হবে (৫)।
এ বিষয়ে হাদিসসমূহ সাব্যস্ত হয়েছে, আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১১)
عنها في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل، قالت: ((
… كان يصلي من الليل تسع ركعات، فيهن الوتر، وكان يصلي ليلاً طويلاً قائماً، وليلاً طويلاً قاعداً، وكان إذا قرأ وهو قائم ركع وسجد وهو قائم، وإذا قرأ قاعداً ركع وسجد وهو قاعد
… )) (1).
وعنها رضي الله عنها قالت: ((ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في شيء من صلاة الليل جالساً حتى إذا كَبِر قرأ جالساً حتى إذا بقي عليه من السورة ثلاثون أو أربعون آية قام فقرأهن ثم ركع)) (2).
وعن حفصة رضي الله عنها قالت: ((ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى في سبحته قاعداً حتى كان قبل وفاته بعام، فكان يصلي في سبحته قاعداً، وكان يقرأ بالسورة فيرتِّلها حتى تكون أطول من أطول منها)) (3).
--------------------------------------------
তার (আয়েশা রা.) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্পর্কে, তিনি বলেন: ((
… তিনি রাতে নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে বিতর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ বসেও সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠ করতেন, তখন দাঁড়িয়েই রুকু ও সিজদাহ করতেন। আর যখন বসে কিরাত পাঠ করতেন, তখন বসেই রুকু ও সিজদাহ করতেন
… )) (১)।
তাঁর (আয়েশা রা.) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতের সালাতের কোনো অংশে বসে কিরাত পাঠ করতে দেখিনি, যতক্ষণ না তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন। তখন তিনি বসে কিরাত পাঠ করতেন; এরপর যখন সূরার ত্রিশ বা চল্লিশটি আয়াত বাকি থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সেগুলো পাঠ করতেন, তারপর রুকু করতেন)) (২)।
হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর নফল (سبحة) সালাত বসে আদায় করতে দেখিনি, তবে তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্ব থেকে তিনি নফল (سبحة) সালাত বসে আদায় করতেন। তিনি সূরা এমনভাবে তারতীল বা ধীরস্থিরভাবে পাঠ করতেন যে, তা অন্য যেকোনো দীর্ঘতর সূরার চেয়েও বেশি দীর্ঘ মনে হতো)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وصلاة المسلم قائماً أفضل عند القدرة؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما يرفعه: ((صلاة الرجل قاعداً نصف الصلاة)) (1)؛ ولحديث عمران بن حصين رضي الله عنهما قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاة الرجل قاعداً فقال: ((إن صلَّى قائماً فهو أفضل، ومن صلى قاعداً فله نصف أجر القائم
… )) (2).
ويستحب لمن صلَّى قاعداً أن يكون مُتربِّعاً في حال مكان القيام؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي متربِّعاً)) (3). قال الإمام ابن القيم رحمه الله:
--------------------------------------------
সক্ষম অবস্থায় মুসলিমের দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা উত্তম; আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস অনুযায়ী: ((ব্যক্তির বসে নামাজ আদায় করার সওয়াব দাঁড়িয়ে নামাজের অর্ধেক)) (১); এবং ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ব্যক্তির বসে নামাজ আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: ((যদি সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে তবে তা উত্তম, আর যে বসে নামাজ পড়ে সে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে … )) (২)।
এবং যে ব্যক্তি বসে নামাজ আদায় করে, তার জন্য কিয়ামের (দাঁড়ানোর) স্থানে বাবু হয়ে (পালথি গেঁথে) বসা মুস্তাহাব (مستحب); আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: ((আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বাবু হয়ে নামাজ আদায় করতে দেখেছি)) (৩)। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(كانت صلاته [صلى الله عليه وسلم] بالليل ثلاثة أنواع:
أحدها: وهو أكثرها: صلاته قائماً.
الثاني: أنه كان يصلي قاعداً ويركع قاعداً.
الثالث: أنه كان يقرأ قاعداً، فإذا بقي يسير من قراءته قام فركع قائماً. والأنواع الثلاثة صحَّت عنه [صلى الله عليه وسلم] (1).
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله يقول: ((كانت صلاة النبي عليه الصلاة والسلام بالليل على أنواع أربعة كما هو مجموع روايات عائشة رضي الله عنها:
1 - يصلي قائماً ويركع قائماً.
2 - يصلي وهو قاعد ثم إذا لم يبقَ من القراءة إلا نحو من ثلاثين آية أو أربعين قام فقرأ بها ثم ركع.
3 - يصلي وهو قاعد ثم إذا ختم قراءته قام فركع.
--------------------------------------------
(নবিজি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর রাতের সালাত ছিল তিন প্রকার:
প্রথম প্রকার: যা ছিল তাঁর অধিকাংশ সময়ের আমল—দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা।
দ্বিতীয় প্রকার: তিনি বসে সালাত আদায় করতেন এবং রুকুও বসে করতেন।
তৃতীয় প্রকার: তিনি বসে কিরাত পাঠ করতেন, এরপর যখন কিরাতের সামান্য অংশ বাকি থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। এই তিন প্রকারই তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত (১)।
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: “আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের সমষ্টি অনুযায়ী নবি [আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম]-এর রাতের সালাত ছিল চার প্রকারের:
১ - দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন এবং দাঁড়িয়ে রুকু করতেন।
২ - তিনি বসে সালাত আদায় করতেন, এরপর যখন কিরাতের মাত্র ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াতের মতো অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে তা পাঠ করতেন এবং এরপর রুকু করতেন।
৩ - তিনি বসে সালাত আদায় করতেন, এরপর যখন কিরাত সমাপ্ত করতেন, তখন দাঁড়িয়ে রুকু করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
4 - يصلي وهو جالس، ويركع وهو جالس)) (1).
رابعاً: جواز التطوع على المركوب في السفر الطويل والقصير:يصح التطوع على المركوب في السفر: من راحلة، وطائرة، وسيارة، وسفينة وغيرها من وسائل النقل، أما الفريضة فلا بد من النزول لها إلا عند العجز؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي في السفر على راحلته حيث توجَّهت به، يومئ [برأسه] إيماءً صلاة الليل إلا الفرائض، ويوتر على راحلته)).
وفي لفظ: ((غير أنه لا يصلي عليها المكتوبة)) (2)، ولحديث عامر بن ربيعة رضي الله عنه قال: ((رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي على راحلته حيث توجَّهت به)). وفي لفظ: ((ولم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يصنع ذلك في المكتوبة)). وفي لفظ: ((أنه رأى
--------------------------------------------
৪ - তিনি বসে সালাত আদায় করতেন এবং বসে রুকু করতেন (১)।
চতুর্থত: দীর্ঘ ও স্বল্প উভয় ধরনের সফরে বাহনের ওপর নফল (تطوع) সালাত আদায়ের বৈধতা:সফরে বাহনের ওপর নফল (تطوع) সালাত আদায় করা সহিহ (صحيح): তা উট, বিমান, গাড়ি, জাহাজ বা যাতায়াতের অন্য যেকোনো মাধ্যমই হোক না কেন। তবে ফরজ (فريضة) সালাতের ক্ষেত্রে অক্ষমতা ব্যতীত বাহন থেকে নিচে নামা আবশ্যক; আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে তাঁর বাহনের ওপর সালাত আদায় করতেন তা যেদিকেই মুখ করুক না কেন। তিনি [মাথা দিয়ে] ইশারার মাধ্যমে রাতের সালাত আদায় করতেন, তবে ফরজ (فرائض) সালাত ব্যতীত; আর তিনি বাহনের ওপরই বিতর সালাত আদায় করতেন))।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((তবে তিনি এর ওপর ফরজ (المكتوبة) সালাত আদায় করতেন না)) (২), এবং আমের ইবনে রাবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: ((আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর বাহনের ওপর সালাত আদায় করতে দেখেছি, তা যেদিকেই মুখ করুক না কেন))। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরজ (المكتوبة) সালাতের ক্ষেত্রে এমনটি করতেন না))। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((তিনি দেখেছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
النبي صلى الله عليه وسلم يصلي السبحة بالليل في السفر على ظهر راحلته حيث توجهت به)) (1)؛ولحديث جابر رضي الله عنه قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي على راحلته حيث توجهت به، فإذا أراد الفريضة نزل فاستقبل القبلة)) (2).وفي لفظ: ((كان يصلي على راحلته نحو المشرق، فإذا أراد أن يصلي المكتوبة نزل فاستقبل القبلة)).وفي هذا أحاديث أخرى كحديث أنس رضي الله عنه (3).
ويستحب استقبال القبلة عند تكبيرة الإحرام؛ لحديث أنس رضي الله عنه ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا سافر فأراد أن يتطوع استقبل بناقته القبلة، فكبر، ثم صلى حيث وجَّهَهُ ركابه)) (4)، فإذا لم يفعل ذلك فالصلاة صحيحة عملاً بالأحاديث الصحيحة كما رجحه الإمام عبد العزيز ابن باز –رحمه الله (5).
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে তাঁর বাহনের পিঠে নফল সালাত (السبحة) আদায় করতেন, তাঁর বাহন যেদিকেই মুখ করত সেদিকেই (১); এবং জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাহনের ওপর সালাত আদায় করতেন যেদিকেই সেটি মুখ করত। যখন তিনি ফরয (الفريضة) সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি নিচে নামতেন এবং কিবলামুখী হতেন" (২)। অন্য শব্দে এসেছে: "তিনি তাঁর বাহনের ওপর পূর্ব দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, আর যখন তিনি নির্ধারিত ফরয (المكتوبة) সালাত আদায় করতে চাইতেন, তখন নিচে নামতেন এবং কিবলামুখী হতেন।" এ বিষয়ে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের মতো আরও হাদিস রয়েছে (৩)।
এবং তাহরিমা তাকবিরের (تكبيرة الإحرام) সময় কিবলামুখী হওয়া মুস্তাহাব (يستحب); আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে থাকতেন এবং নফল সালাত আদায়ের (يتطوع) ইচ্ছা করতেন, তখন তাঁর উট নিয়ে কিবলামুখী হতেন, এরপর তাকবির দিতেন, তারপর তাঁর সওয়ারি যেদিকেই যেত সেদিকেই সালাত আদায় করতেন" (৪)। আর যদি কেউ তা না করে, তবে সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহের ওপর আমল অনুযায়ী সালাতটি শুদ্ধ (صحيحة) হবে, যেমনটি ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) প্রাধান্য (رجحه) দিয়েছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وذكر الإمام النووي رحمه الله ((أن التنفل على الراحلة في السفر الذي تُقصر فيه الصلاة جائز بإجماع المسلمين
… )) (1).
وأما السفر الذي لا تقصر فيه الصلاة فالصواب جواز ذلك، وهو مذهب الجمهور (2)؛لقول الله تعالى: {وَلله الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ الله إِنَّ الله وَاسِعٌ عَلِيمٌ} (3)، وقد رجح الإمام ابن جرير-رحمه الله-أن هذه الآية تدخل فيها صلاة التطوع في السفر على الراحلة حيثما توجهت بك راحلتك (4). وقد ذكر الحافظ ابن حجر رحمه الله عن الإمام الطبري رحمه الله أنه احتج للجمهور: أن الله جعل التيمم رخصة للمريض والمسافر، وقد أجمعوا على أن من كان خارج المصر على
--------------------------------------------
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, ((সফরকালীন অবস্থায় যাতে নামাজ কসর (قصر) করা হয়, সওয়ারির (راحلة) ওপর নফল নামাজ আদায় করা (التنفل) মুসলিমদের ঐক্যমতে (إجماع) বৈধ (جائز)
… )) (১)।
আর যে সফরে নামাজ কসর (قصر) করা হয় না, সেক্ষেত্রেও সঠিক (الصواب) কথা হলো এটি বৈধ হওয়া (جواز), এবং এটিই অধিকাংশ আলেমের মাযহাব (مذهب الجمهور) (২); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ} (৩)। আর ইমাম ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) এই মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন (رجح) যে, এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো সফরে সওয়ারির ওপর নফল নামাজ (التطوع) আদায় করা, তোমার সওয়ারি তোমাকে যেদিকেই নিয়ে যাক না কেন (৪)। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জমহুরের (الجمهور) সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন (احتج): আল্লাহ তাআলা অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য তায়াম্মুমকে (التيمم) অবকাশ বা সহজ বিধান (رخصة) হিসেবে রেখেছেন, আর তাঁরা এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, যে ব্যক্তি শহরের বাইরে থাকা অবস্থায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ميل أو أقل ونيته العود إلى منزله لا إلى سفرٍ آخر، ولم يجد ماءً، أنه يجوز له التيمم، فكما جاز له التيمم في هذا القدر جاز له التنفل على الدابة لاشتراكهما في الرخصة (1).
خامساً: أخلص مواضع صلاة التطوع:صلاة التطوع تصلى في المسجد، وفي البيت، وفي كل مكان طاهر: كالصحراء وغيرها، ولكن صلاتها في البيت أفضل إلا ما شرعت له الجماعة كصلاة التراويح ففعلها في المسجد أفضل.
أما صلاة التطوع التي لم تشرع لها الجماعة فقد ثبتت الأحاديث التي تبين أن فعلها في البيت أفضل، منها حديث زيد بن ثابت رضي الله عنه وفيه: ((فإن أفضل صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة)) (2).وحديث جابر (3)، وابن عمر (4) رضي الله عنهم كلها
--------------------------------------------
এক মাইল বা তার কম দূরত্ব এবং তার নিয়ত হলো নিজ বাড়িতে ফিরে আসা, অন্য কোনো সফরে যাওয়া নয়, এমতাবস্থায় সে পানি না পেলে তার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ। সুতরাং এই পরিমাণ দূরত্বে যেহেতু তার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ হয়েছে, সেহেতু সওয়ারির পিঠে নফল নামাজ (التنفل) পড়াও বৈধ; কারণ উভয়টিই শরয়ি অনুমতির (الرخصة) অন্তর্ভুক্ত (১)।
পঞ্চম: নফল নামাজের (صلاة التطوع) জন্য সবচেয়ে উত্তম স্থানসমূহ:নফল নামাজ (صلاة التطوع) মসজিদে, বাড়িতে এবং প্রত্যেক পবিত্র স্থানে যেমন: মরুভূমি বা অন্য কোথাও পড়া যায়; তবে বাড়িতে এই নামাজ পড়া অধিক উত্তম, কেবল সেই নামাজ ব্যতীত যা জামাতের সাথে আদায়ের বিধান রয়েছে, যেমন তারাবিহ নামাজ। সেক্ষেত্রে তা মসজিদে আদায় করা অধিক উত্তম।
আর যে নফল নামাজ (صلاة التطوع) জামাতের সাথে আদায়ের বিধান নেই, সে বিষয়ে এমন অনেক হাদিস প্রমাণিত হয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, তা বাড়িতে আদায় করা অধিক উত্তম। তন্মধ্যে জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম, যাতে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই মানুষের সর্বোত্তম নামাজ হলো তার বাড়িতে আদায় করা, কেবল ফরজ নামাজ (المكتوبة) ব্যতীত" (২)। এছাড়া জাবির (৩) এবং ইবনে উমর (৪) (রা.)-এর হাদিসসমূহ সবই একই অর্থ বহন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تدل على أن أفضل الصلاة في البيت إلا المكتوبة.
سادساً: أحب التطوع إلى الله ما دُووِمَ عليه:أحب الأعمال إلى الله ما داوم عليه صاحبه وإن قلّ؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: كانت عندي امرأة من بني أسد، فدخل عليَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((من هذه؟)) قلت: فلانة، لا تنام الليل، تذكر من صلاتها، فقال: ((مه، عليكم ما تطيقون من الأعمال؛ فإن الله لا يملّ حتى تملُّوا)).
[وكان أحب الدين إليه ما داوم عليه صاحبه] (1)؛ ولحديث أنس رضي الله عنه قال: دخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد فإذا حبل ممدود بين ساريتين فقال: ((ما هذا الحبل؟)) قالوا: لزينب تصلي فإذا كسلت أو فَتَرتْ أمسكت به، فقال: ((لا، حُلّوه، ليُصلِّ أحدكم نشاطه، فإذا فتر فليقْعُدْ)) (2). وقال
--------------------------------------------
এটি প্রমাণ করে যে, ফরজ নামাজ ব্যতীত সর্বোত্তম নামাজ হলো ঘরে (আদায়কৃত নামাজ)।
ষষ্ঠত: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নফল (تطوع) ইবাদত হলো যা নিয়মিত পালন করা হয়:আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো যা আমলকারী নিয়মিতভাবে পালন করে, যদিও তা পরিমাণে কম হয়; আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস এর কারণ, তিনি বলেন: বনু আসাদ গোত্রের এক নারী আমার কাছে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: "ইনি কে?" আমি বললাম: অমুক নারী, যিনি রাতে ঘুমান না, তিনি তাঁর অধিক নামাজের কথা উল্লেখ করছিলেন। তখন তিনি বললেন: "থামো, তোমাদের সাধ্যাতীত আমল পরিহার করো; কারণ আল্লাহ প্রতিদান দিতে ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়।"
[আর তাঁর নিকট দ্বীনের সর্বাধিক প্রিয় কাজ ছিল তা-ই যা আমলকারী নিয়মিত করে] (১); এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে দুটি পিলারের মাঝে একটি রশি ঝুলানো আছে। তিনি বললেন: "এই রশিটি কিসের?" তারা বলল: এটি জয়নবের জন্য, তিনি নামাজ পড়েন, যখন তিনি অলসতা বোধ করেন বা ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এটি ধরে রাখেন। তখন তিনি বললেন: "না, এটি খুলে ফেলো, তোমাদের প্রত্যেকের উচিত স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থায় নামাজ পড়া, আর যখন ক্লান্ত হবে তখন বসে পড়া।" (২)। এবং তিনি বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مسروق: سألت عائشة رضي الله عنها: أي العمل كان أحبّ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالت: الدائم، قلت: متى كان يقوم؟ قالت: كان يقوم إذا سمع الصارخ (1)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها ترفعه، وفيه: ((خذوا من الأعمال ما تطيقون؛ فإن الله لا يملُّ حتى تملُّوا)). وأحبُّ الصلاة إلى النبي صلى الله عليه وسلم ما دُووِمَ عليه وإن قلَّت، وكان إذا صلى صلاة داوم عليها (2)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الدين يسر، ولن يشادّ الدينَ أحدٌ إلا غلبه، فسدِّدوا، وقاربوا، وأبشروا، واستعينوا بالغدوة والرَّوحة، وشيء من الدّلجة)). وفي رواية: ((لن يُدخل أحداً عملُه الجنة)) قالوا: ولا أنت يا رسول الله؟ قال: ((لا، ولا أنا إلا أن يتغمَّدنيَ
--------------------------------------------
মাসরূক থেকে বর্ণিত: তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল? তিনি বললেন: যা নিয়মিত করা হয়। আমি বললাম: তিনি কখন ইবাদতের জন্য দাঁড়াতেন? তিনি বললেন: যখন তিনি মোরগের ডাক শুনতেন (১); এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত মারফূ (مرفوع) হাদিসে রয়েছে, যাতে বলা হয়েছে: "তোমরা আমল থেকে ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু তোমাদের সামর্থ্যে কুলায়; কেননা আল্লাহ প্রতিদান দিতে ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ো।" আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সালাত ছিল তা-ই যা নিয়মিত আদায় করা হতো, যদিও তা পরিমাণে কম হয়। আর তিনি যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তখন তা নিয়মিত করতেন (২); এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষাংশের ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।" এবং অপর একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও কি নন? তিনি বললেন: "না, আমিও নই, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আচ্ছাদিত করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الله بفضلٍ ورحمة، فسدِّدوا وقاربوا، ولا يتمنَّى أحدكم الموت، إما محسناً فلعله أن يزداد، وإما مسيئاً فلعله أن يستعتِب)). وفي رواية: ((سدِّدوا وقاربوا، واغدوا وروحوا، وشيئاً من الدّلجة، والقصدَ القصدَ تبلغوا)) (1)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها وفيه: ((
… وأن أحب الأعمال إلى الله أدومها وإن قلَّ)). وفي رواية: ((سدِّدوا وقاربوا، وأبشروا؛ فإنه لا يُدخِلُ أحداً الجنةَ عملُه)) قالوا: ولا أنت يا رسول الله؟ قال: ((ولا أنا إلا أن يتغمدني الله بمغفرة ورحمة)) (2)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها أنها سُئِلت كيف كان عمل النبي صلى الله عليه وسلم؟ قالت: ((كان عمله ديمة، وأيكم يستطيع ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يستطيع)) (3).
--------------------------------------------
আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের মাধ্যমে; সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থেকো এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে; কারণ সে যদি নেককার হয়, তবে আশা করা যায় যে সে নেক আমল বৃদ্ধি করবে। আর যদি পাপাচারী হয়, তবে আশা করা যায় যে সে তাওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করবে। অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "তোমরা সঠিক পথে থেকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং সকালে, সন্ধ্যায় ও রাতের শেষাংশে ইবাদত করো। আর পরিমিতবোধ, পরিমিতবোধই তোমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।" (১); এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে, যাতে রয়েছে: "
… এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল তা-ই যা সর্বদা করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।" অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "তোমরা সঠিক পথে থেকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো; কারণ কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন: "আমিও নই, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে তাঁর ক্ষমা ও রহমত দ্বারা আবৃত করেন।" (২); এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল কেমন ছিল? তিনি বললেন: "তাঁর আমল ছিল নিরবচ্ছিন্ন, আর তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো সামর্থ্য আছে?" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفي هذه الأحاديث الحثُّ على المداومة على العمل وإن قلّ، والاقتصاد في العبادة، واجتناب التعمق والتشدد، وأن أحب الأعمال إلى الله أدومها وإن قلَّ (1).
وقوله صلى الله عليه وسلم: ((فإن الله لا يملُّ حتى تملُّوا)) هذا الملل لا يشابه ملل المخلوقين، وليس فيه نقص ولا عيب، بل كما يليق بالله عز وجل، وسمعت الإمام عبد العزيز ابن باز-رحمه الله يقول: ((هذا مثل بقية الصفات، ومن مقتضاه أنه لا يقطع الثواب حتى تقطعوا العمل)) (2).
سابعاً: جواز صلاة التطوع جماعة أحياناً:لا بأس أن يصلي المسلم صلاة التطوع جماعة أحياناً؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: ((صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فأطال حتى هممت بأمر سوءٍ، قيل: وما هممت به؟ قال: هممت أن أجلس وأدعه)) (3)؛ ولحديث
--------------------------------------------
এই হাদিসগুলোতে নিয়মিত আমল করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে—তা পরিমাণে অল্প হলেও; এবং ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন ও বাড়াবাড়ি (تعمق) ও কঠোরতা (تشدد) বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা পরিমাণে অল্প হয় (১)।
আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো))—এই ক্লান্তি (ملل) সৃষ্টির ক্লান্তির সদৃশ নয় এবং এতে কোনো ত্রুটি বা খুঁত নেই; বরং তা মহান আল্লাহর মহিমা অনুযায়ী। আমি ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((এটি আল্লাহর অন্যান্য গুণাবলির (صفات) মতোই; এর দাবি হলো—তিনি প্রতিদান প্রদান বন্ধ করবেন না যতক্ষণ না তোমরা আমল করা বন্ধ করো)) (২)।
সপ্তম: মাঝে মাঝে জামাতের সাথে নফল (تطوع) সালাত আদায়ের বৈধতা:একজন মুসলিমের জন্য মাঝে মাঝে জামাতের সাথে নফল (تطوع) সালাত আদায় করাতে কোনো বাধা নেই; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: ((আমি এক রাতে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি কিরাত এতো দীর্ঘ করলেন যে আমি একটি মন্দ কাজের সংকল্প করলাম। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কিসের সংকল্প করেছিলেন? তিনি বললেন: আমি বসে পড়ার এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করেছিলাম)) (৩); এবং এই হাদিসের কারণে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২২)
حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: ((صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة، فافتتح البقرة، فقلت: يركع عند المائة، ثم مضى فقلت: يصلي بها في ركعة، فمضى فقلت يركع بها، ثم افتتح النساء فقرأها، ثم افتتح آل عمران فقرأها يقرأ مسترسلاً، إذا مرَّ بآية تسبيح سبَّح، وإذا مرَّ بسؤال سأل، وإذا مرَّ بتعوذٍ تعوَّذ
… )) (1). وعن عوف بن مالك رضي الله عنه قال: ((قمت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فقرأ سورة البقرة، لا يمرُّ بآية رحمة إلا وقف فسأل، ولا يمرُّ بآية عذاب إلا وقف وتعوَّذ، ثم ركع بقدر قيامه يقول في ركوعه: ((سبحان ذي الجبروت، والملكوت، والكبرياء، والعظمة)) ثم سجد بقدر قيامه، ثم قال في سجوده مثل ذلك، ثم قام فقرأ بآل عمران، ثم قرأ سورة سورة)) (2).
وحديث ابن عباس رضي الله عنهما في وصف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم وفيه: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم قام من الليل قال فقمت إلى جنبه
… )) (3).
--------------------------------------------
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি এক রাতে নবী (সা.)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন। আমি (মনে মনে) ভাবলাম, তিনি একশ আয়াত তিলাওয়াত করে রুকু করবেন, কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো এক রাকাতেই এটি শেষ করবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে গেলেন, তখন আমি ভাবলাম তিনি এটি শেষ করে রুকু করবেন। এরপর তিনি সূরা আন-নিসা শুরু করে তা তিলাওয়াত করলেন। এরপর তিনি সূরা আল-ইমরান শুরু করে তা তিলাওয়াত করলেন। তিনি ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করছিলেন। যখনই তিনি তাসবিহ সম্বলিত কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন তাসবিহ পাঠ করতেন। যখনই কোনো প্রার্থনার আয়াত আসত, তখন প্রার্থনা করতেন। আর যখনই কোনো আশ্রয় চাওয়ার আয়াত আসত, তখন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন
… )) (১)। আর আওফ বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করলেন। তিনি রহমতের কোনো আয়াত অতিক্রম করলেই সেখানে থেমে প্রার্থনা করতেন এবং শাস্তির কোনো আয়াত অতিক্রম করলেই সেখানে থেমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এরপর তিনি তাঁর কিয়াম (দাঁড়ানো)-এর সমপরিমাণ দীর্ঘ রুকু করলেন। তিনি তাঁর রুকুতে বলছিলেন: "সুবহানা যিল জাবারূতি, ওয়াল মালাকূতি, ওয়াল কিবরিয়ায়ি, ওয়াল আজামাতি" (প্রবল প্রতাপ, রাজত্ব, মহিমা ও মহানত্বের অধিকারী আল্লাহ অতি পবিত্র)। এরপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ দীর্ঘ সিজদাহ করলেন এবং সিজদাহতেও তদ্রূপ পাঠ করলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে সূরা আল-ইমরান পাঠ করলেন এবং এরপর একে একে বিভিন্ন সূরা পাঠ করলেন)) (২)।
এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস, যাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সালাতের বর্ণনা রয়েছে এবং তাতে আছে: ((নবী (সা.) রাতে সালাতে দাঁড়ালেন, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমিও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম
… )) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وحديث أنس بن مالك رضي الله عنه أن جدته مليكة دعت رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعام صنعته فأكل منه، ثم قال: ((قوموا فأصلي لكم))، قال أنس بن مالك: فقمت إلى حصير لنا قد اسودَّ من طول ما لُبِسَ فنضحته بماء فقام عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وصففت أنا واليتيم وراءه، والعجوز من ورائنا، فصلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين ثم انصرف)) (1).
وفي حديث أنس الآخر أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليهم هو وأمه، وأم حرام خالة أنس، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((قوموا فلأصلي بكم)) في غير وقت صلاة، فصلَّى بهم، وجعل أنس عن يمينه، وأقام المرأة خلفهم (2).
وعن عِتبان بن مالك رضي الله عنه أنه كان يصلي بقومه فحال بينه وبينهم وادٍ إذا جاءت الأمطار شقَّ عليه اجتيازُه، وقد أنكر بصره، فسأل النبي صلى الله عليه وسلم أن يأتي إليه ويصلي في بيته
--------------------------------------------
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তাঁর নানি মুলাইকা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর প্রস্তুতকৃত খাবারের জন্য দাওয়াত করেন। তিনি তা থেকে আহার করলেন এবং এরপর বললেন: ((তোমরা ওঠো, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব))। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন: তখন আমি আমাদের একটি মাদুরের দিকে গেলাম যা দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে কালো হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর আমি তাতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেটির ওপর দাঁড়ালেন এবং আমি ও একজন এতিম বালক তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম, আর বৃদ্ধা আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে প্রস্থান করলেন (১)।
আনাস (রা.) বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সা.) তাঁদের নিকট প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি (আনাস), তাঁর মা এবং আনাসের খালা উম্মে হারাম উপস্থিত ছিলেন। নবী (সা.) বললেন: ((তোমরা ওঠো, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করি)), এটি সালাতের নির্ধারিত ওয়াক্ত ব্যতীত অন্য সময়ে ছিল। তিনি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং আনাসকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন আর মহিলাকে তাঁদের পেছনে দাঁড় করালেন (২)।
আর ইতবান ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর কওমের লোকদের ইমামতি করতেন। তাঁর ও তাঁদের মধ্যস্থলে একটি উপত্যকা ছিল, যখন বৃষ্টি হতো তখন সেটি অতিক্রম করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ত। এদিকে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি নবী (সা.)-এর নিকট আবেদন করলেন যেন তিনি তাঁর বাড়িতে আসেন এবং সেখানে সালাত আদায় করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
في مكان يتخذه مصلى، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم وأبو بكر معه، فلم يجلس حتى قال: ((أين تحبُّ أن أصلّيَ من بيتك؟)) فأشار إليه إلى المكان الذي يحب، قال: فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فكبَّرَ وصفَفْنا وراءه، فصلى ركعتين ثم سلَّم، وسلَّمنا حين سلَّم
… وفي آخر الحديث: ((
… فإن الله قد حرَّم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله)) (1).
وفي هذه الأحاديث جواز النافلة جماعة في غير التراويح في رمضان، ولكن لا يتخذ ذلك سنة دائمة وإنما في بعض الأحيان؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان أكثر تطوعه منفرداً (2).
ثامناً: أقسام صلاة التطوع:صلاة التطوع أقسام، منها السنن الرواتب الدائمة، والوتر، وصلاة الضحى، ومنها ما تُسن له الجماعة،
--------------------------------------------
...একটি স্থানে যাকে তিনি সালাতের স্থান (مصلى) হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং তাঁর সাথে আবু বকর (রা.) ছিলেন। তিনি বসার পূর্বেই বললেন: ((তোমার ঘরের কোন স্থানে আমি সালাত আদায় করি তা তুমি পছন্দ করো?)) তখন তিনি তাঁকে সেই স্থানের দিকে ইশারা করলেন যা তিনি পছন্দ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং তাকবির (كبر) দিলেন এবং আমরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ (صففنا) হলাম। তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এরপর সালাম ফিরালেন, আর তিনি সালাম ফেরানোর সময় আমরাও সালাম ফিরালাম
… এবং হাদিসের শেষে রয়েছে: ((
… কেননা আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের আগুনের ওপর ওই ব্যক্তিকে হারাম করেছেন যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে)) (১)।
এই হাদিসগুলোতে রমজানের তারাবিহ ব্যতীত অন্য সময়েও নফল (نافلة) সালাত জামাতে (جماعة) আদায় করার বৈধতা (جواز) পাওয়া যায়। তবে একে স্থায়ী সুন্নাহ (سنة دائمة) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, বরং মাঝেমধ্যে এমনটা করা যাবে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অধিকাংশ নফল ইবাদত (تطوع) একাকী (منفرداً) ছিল (২)।
অষ্টম: নফল সালাতের (صلاة التطوع) প্রকারভেদ:নফল সালাত (صلاة التطوع) কয়েক প্রকার। তার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত সুন্নানে রাতিবাহ (السنن الرواتب الدائمة), বিতর (الوتر) এবং চাশতের (الضحى) সালাত। আবার কোনোটি এমন যার জন্য জামাত (الجماعة) সুন্নাহ হিসেবে সাব্যস্ত (تُسن),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومنها التطوع المطلق، والتطوع المقيَّد، ومنها ما هو مقيَّد بسبب، ومنها غير ذلك، وكلها يطلق عليها صلاة التطوع (1).
وأقسام التطوع على النحو الآتي:
القسم الأول: السنن الدائمة المستمرة وهي أنواع:
النوع الأول: السنن الرواتب (2) مع الفرائض، وهي على النحو الآتي:
1 - الرواتب المؤكدة مع الفرائض: اثنتا عشرة ركعة؛ لحديث أم حبيبة أم المؤمنين رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من صلى اثنتي عشرة ركعة في يوم وليلة بُنيَ له بيتٌ في الجنة)). وفي لفظ: ((ما من عبدٍ مسلمٍ يصلي لله كل يوم ثنتي عشرة ركعة تطوعاً غير فريضة إلا بنى الله له بيتاً في الجنة، أو بُني له بيتٌ في الجنة)) (3). وجاء تفسيرها
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ নফল (التطوع المطلق) এবং নির্দিষ্ট নফল (التطوع المقيَّد), আর এর কিছু কোনো কারণের সাথে নির্দিষ্ট, আবার কিছু এর ব্যতিক্রম; আর এই সবকিছুকেই নফল নামাজ (صلاة التطوع) বলা হয় (১)।
নফল নামাজের প্রকারভেদগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম বিভাগ: স্থায়ী ও নিয়মিত সুন্নাতসমূহ (السنن الدائمة المستمرة) যা কয়েক প্রকার:
প্রথম প্রকার: ফরজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নাতসমূহ (السنن الرواتب) (২), যা নিম্নরূপ:
১ - ফরজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নতে মুয়াক্কাদা (الرواتب المؤكدة): বারো রাকাত; উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বারো রাকাত নামাজ পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে))। অন্য শব্দে এসেছে: ((কোনো মুসলিম বান্দা যদি প্রতিদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ফরজ ব্যতীত বারো রাকাত নফল হিসেবে (تطوعاً) নামাজ পড়ে, তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন, অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে)) (৩)। আর এর ব্যাখ্যা এসেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
في سنن الترمذي من حديث أم حبيبة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من صلى في يوم وليلة ثنتي عشرة ركعة بُني له بيتٌ في الجنة: أربعاً قبل الظهر، وركعتين بعدها، وركعتين بعد المغرب، وركعتين بعد العشاء، وركعتين قبل الفجر)) (1). ومن حديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من ثابر (2) على اثنتي عشرة ركعة من السنة بنى الله له بيتاً في الجنة: أربع ركعات قبل الظهر، وركعتين بعدها، وركعتين بعد المغرب، وركعتين بعد العشاء، وركعتين قبل الفجر)) (3). وحديث عائشة الآخر: ((كان لا يدع أربعاً قبل الظهر وركعتين قبل الغداة)) (4).
--------------------------------------------
সুনান তিরমিজি-তে উম্মে হাবিবা (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি দিন ও রাতে বারো রাকাত সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে: যোহরের পূর্বে চার রাকাত, যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকাত।" (১)। এবং আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বারো রাকাত সুন্নতের ওপর নিয়মিত যত্নবান (২) হবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন: যোহরের পূর্বে চার রাকাত, যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকাত।" (৩)। আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণিত অপর এক হাদিসে এসেছে: "তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের পূর্বের চার রাকাত এবং ভোরের (ফজরের) পূর্বের দুই রাকাত কখনো পরিত্যাগ করতেন না।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وثبت من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: ((حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر ركعات: ركعتين قبل الظهر، وركعتين بعدها، وركعتين بعد المغرب في بيته، وركعتين بعد العشاء في بيته، وركعتين قبل صلاة الصبح))، وفي رواية: ((وركعتين بعد الجمعة في بيته)) (1).
فالرواتب اثنتي عشرة ركعة، كما قالت أم حبيبة وعائشة رضي الله عنهما، أو عشر ركعات كما قال ابن عمر رضي الله عنهما، وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يذكر أن من أخذ بحديث ابن عمر قال: الرواتب عشر، ومن أخذ بحديث عائشة قال: اثنتي عشرة، ويؤيد حديث عائشة ما رواه الترمذي في تفسيرها، ويدل عليه حديث أم حبيبة في فضل هذه الرواتب، ويحتمل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان تارة يصلي اثنتي عشرة ركعة كما في حديث أم حبيبة وعائشة، وتارة يصلي عشراً كما في حديث ابن عمر، فإذا
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে দশ রাকাত মুখস্থ করেছি: জোহরের আগে দুই রাকাত এবং জোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে তার ঘরে দুই রাকাত, এশার পরে তার ঘরে দুই রাকাত এবং ফজরের নামাজের আগে দুই রাকাত।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "এবং জুমার পরে তার ঘরে দুই রাকাত।" (১)
সুতরাং সুন্নতে মুয়াক্কাদা (الرواتب) বারো রাকাত, যেমনটি উম্মে হাবিবা ও আয়িশা (রা.) বলেছেন; অথবা দশ রাকাত, যেমনটি ইবন উমর (রা.) বলেছেন। আমি আমাদের শায়খ ইমাম ইবন বাজ (রহ.)-কে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, যারা ইবন উমরের হাদিস গ্রহণ করেছেন তারা বলেন: সুন্নতে মুয়াক্কাদা (الرواتب) দশ রাকাত। আর যারা আয়িশার হাদিস গ্রহণ করেছেন তারা বলেন: বারো রাকাত। আর তিরমিজি যা বর্ণনা করেছেন তা আয়িশার হাদিসকে সমর্থন করে এবং এই সুন্নতে মুয়াক্কাদাগুলোর (الرواتب) ফজিলত সম্পর্কে উম্মে হাবিবার হাদিস এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে। এটি সম্ভব যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন যেমনটি উম্মে হাবিবা ও আয়িশার হাদিসে এসেছে, এবং কখনো দশ রাকাত আদায় করতেন যেমনটি ইবন উমরের হাদিসে এসেছে। ফলে যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نَشِط المسلم صلى اثنتي عشرة، وإذا كان هناك شاغل صلى عشراً، وكلها رواتب، والكمال والتمام أن يصلي كما في حديث عائشة وأم حبيبة رضي الله عنهما (1).
2 - السنن تفصيلاً: المؤكدة وغير المؤكدة مع الفرائض: اثنتان وعشرون ركعة، وهي على النحو الآتي:
أ- أربع ركعات قبل الظهر، وأربع بعدها؛ لحديث أم حبيبة رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من حافظ على أربعِ ركعات قبل الظهر، وأربعٍ بعدها حرَّمه الله على النار)) (2).
--------------------------------------------
যখন একজন মুসলিম উদ্যমী থাকেন তখন তিনি বারো রাকাত সালাত আদায় করেন, আর যদি কোনো ব্যস্ততা থাকে তবে দশ রাকাত আদায় করেন। এই সবগুলিই সুন্নতে রাওয়াতীব (رواتب); আর পূর্ণতা ও পরিপূর্ণতা হলো সেভাবে সালাত আদায় করা যেভাবে আয়েশা ও উম্মে হাবিবা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (১)।
২ - বিস্তারিতভাবে সুন্নাতসমূহ: ফরযের সাথে সুন্নতে মুয়াক্কাদা (المؤكدة) এবং গায়রে মুয়াক্কাদা (غير المؤكدة): বাইশ রাকাত, যা নিম্নরূপ:
ক- যোহরের পূর্বে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত; উম্মে হাবিবা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাতের প্রতি যত্নবান হবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ب- أربع ركعات قبل العصر؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((رحم الله امرءاً صلى قبل العصر أربعاً)) (1). وجاء عن علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يصلي قبل العصر ركعتين)) (2).
ج- ركعتان قبل المغرب وركعتان بعدها؛ لحديث أنس رضي الله عنه وفيه: ((وكنا نصلي على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين بعد غروب الشمس قبل صلاة المغرب)) (3). وقال رضي الله عنه: ((كنا في المدينة فإذا أذَّن المؤذن لصلاة المغرب ابتدروا السواري فركعوا ركعتين، ركعتين حتى إن الرجل الغريب ليدخل
--------------------------------------------
খ- আসরের আগে চার রাকাত; ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে আসরের আগে চার রাকাত সালাত আদায় করে)) (১)। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ((আসরের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন)) (২)।
গ- মাগরিবের আগে দুই রাকাত এবং পরে দুই রাকাত; আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাতের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করতাম)) (৩)। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ((আমরা মদিনায় ছিলাম, যখন মুয়াজ্জিন মাগরিবের আজান দিতেন, তখন তারা (সাহাবায়ে কেরাম) খুঁটিগুলোর দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতেন এবং দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন, এমনকি কোনো অপরিচিত লোক প্রবেশ করলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাতাউ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المسجد فيحسب أن الصلاة قد صليت من كثرة من يصليهما)) (1)؛ولحديث عبد الله بن مغفل رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((صلوا قبل صلاة المغرب))،قال في الثالثة: ((لمن شاء)) (2).
وفي رواية: أن النبي صلى الله عليه وسلم ((صلى قبل المغرب ركعتين)) (3).
وعن عبد الله بن مغفل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((بين كل أذانين صلاة، بين كل أذانين صلاة))، قال في الثالثة: ((لمن شاء)) (4).
وهذه الأحاديث تدلّ على أن الركعتين قبل المغرب سنة قولية، وفعلية، وتقريرية.
وأما الركعتان بعد المغرب فهي سنة مؤكدة كما تقدم من حديث عائشة، وأم حبيبة، وعبد الله بن عمر رضي الله عنهم.
والسنة أن يقرأ في الركعتين بعد المغرب بـ: {قُلْ يَا أَيُّهَا
--------------------------------------------
মসজিদ, ফলে তিনি মনে করতেন যে নামাজ সম্ভবত আদায় হয়ে গেছে, কারণ অনেক মানুষ এই দুই রাকাত পড়তেন (১); এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, নবী (সা.) বলেছেন: ((তোমরা মাগরিবের নামাজের আগে নামাজ আদায় করো)), তৃতীয়বার তিনি বলেছেন: ((যার ইচ্ছা হয় তার জন্য)) (২)।
এবং একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে যে, নবী (সা.) ((মাগরিবের আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছেন)) (৩)।
এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((প্রত্যেক দুই আজানের [আজান ও ইকামতের] মাঝে নামাজ রয়েছে, প্রত্যেক দুই আজানের মাঝে নামাজ রয়েছে)), তৃতীয়বার তিনি বলেছেন: ((যার ইচ্ছা হয় তার জন্য)) (৪)।
এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, মাগরিবের আগের দুই রাকাত হলো মৌখিক সুন্নাত (سنة قولية), কর্মগত সুন্নাত (سنة فعلية) এবং মৌন সম্মতিমূলক সুন্নাত (سنة تقريرية)।
আর মাগরিবের পরের দুই রাকাত হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), যেমনটি আয়েশা, উম্মে হাবিবা এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
এবং সুন্নাত হলো মাগরিবের পরের দুই রাকাতে পাঠ করা: {বলুন, হে অবিশ্বাসীগণ...
--------------------------------------------