(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
صدقة التطوع في الإسلام   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صدقة التطوع في الإسلام - مفهوم, وفضائل، وآداب، وأنواع في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 120

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

ইসলামে নফল দান   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: ইসলামে নফল দান - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, ফজিলত, আদব, এবং প্রকারভেদ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
50

رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

صدقة التطوع

في الإسلام

مفهوم، وفضائل، وآداب، وأنواع

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
50

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহ্তানি-এর রিসালাসমূহ

 

নফল দান (صدقة التطوع)

ইসলামে

ধারণা, ফযিলতসমূহ, আদবসমূহ ও প্রকারভেদ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহ্তানি
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((صدقة التطوع في الإسلام)) بيَّنت فيها: مفهوم صدقة التطوع، وفضائلها العظيمة، وأفضل صدقات التطوع، والإخلاص شرط في قبول التطوع، وآداب الصدقة، وإطعام الطعام، وثواب الصدقة به، والصدقة على الحيوان، وصدقة القرض الحسن، والصدقة الجارية والوقف، وأن الصدقات من صفات المؤمنين، وصدقة الوصية بعد الموت، وأنّ الهدية، والعطية، والهبة تكون صدقات بالنية، ثم بيَّنت أنواع صدقات التطوع على حسب أنواعها، وذكرت مبطلات الصدقات، وبيَّنت موضوعات متنوعة في الصدقات، وذكرت فضل صدقة إعتاق الرقاب المسلمة، وبيّنت وصول ثواب الصدقات المهداة إلى أموات المسلمين، ثم ذكرت القناعة والعفّة، ثم أنواع المسألة الجائزة والممنوعة، وذكرت الزهد والورع.

وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله وغفر له -.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘ইসলামে নফল সদকা’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি নফল সদকার ধারণা, এর মহান ফযিলতসমূহ, সর্বোত্তম নফল সদকা, নফল ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত হিসেবে ইখলাস, সদকার আদবসমূহ, অন্নদান ও এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সওয়াব, পশুপাখির প্রতি সদকা, উত্তম ঋণ প্রদানরূপ সদকা, সদকায়ে জারিয়াহ ও ওয়াকফ, সদকা মুমিনদের একটি বৈশিষ্ট্য হওয়া, মৃত্যুর পর অসিয়তকৃত সদকা এবং নিয়তের মাধ্যমে হাদিয়া, আতিয়্যাহ ও হিবা কীভাবে সদকায় পরিণত হয়—তা বর্ণনা করেছি। অতঃপর আমি নফল সদকার বিভিন্ন প্রকারভেদ বর্ণনা করেছি, সদকা বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছি এবং সদকা বিষয়ক নানাবিধ বিষয়াদি আলোচনা করেছি। আরও উল্লেখ করেছি মুসলিম দাস মুক্ত করার ফযিলত এবং মৃত মুসলিমদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত সদকার সওয়াব পৌঁছানোর বিষয়টি। এরপর অল্পেতুষ্টি ও চারিত্রিক পবিত্রতা, অতঃপর বৈধ ও নিষিদ্ধ যাচ্ঞার প্রকারভেদসমূহ এবং সবশেষে যুহদ ও ওরা’ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবন বাজ —আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন— এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকারসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وكذلك استفدت كثيراً من تخريجات العلاّمة المحدّث ناصر الدين الألباني للأحاديث رحمه الله، وغفر له.

واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه وتعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبيّنا محمد وعلى آله وأصحابه، وأتباعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

المؤلف/ أبو عبد الرحمن

الفقير إلى الله تعالى سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر قُبيل مغرب يوم الخميس 25/ 4/1426هـ الرياض
অনুরূপভাবে আমি প্রখ্যাত আলেম, হাদিস বিশারদ (المحدث) নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি-এর হাদিসের উৎসোদ্ঘাটনসমূহ (تخريجات) থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কাজটিকে বরকতময়, ফলপ্রসূ এবং কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। এটি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমার উপকারে আসে এবং যাদের কাছে এটি পৌঁছাবে তাদের সবার জন্য যেন এটি কল্যাণকর হয়। নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বোত্তম সাহায্যকারী এবং পরম আকাঙ্ক্ষিত সত্তা। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তি এবং তাঁর ওহির আমানতদার—আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও বিচার দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।

 

লেখক/ আবু আবদুর রহমান

আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহ্ তানি

২৫/ ০৪/ ১৪২৬ হিজরি, বৃহস্পতিবার মাগরিবের কিঞ্চিৎ পূর্বে রিয়াদে লিখিত।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
صدقة التطوع في الإسلام

 

‌‌أولاً: مفهوم صدقة التطوع: لغة واصطلاحاً.

‌‌الصدقة لغة: جمع صدقات، وتَصَدَّقتُ: أعطيتُهُ صدقةً، والفاعل مُتصَدِّقٌ، [وهو الذي يُعطي الصدقة]، ومنهم من يخفف بالبدل والإدغام فيقال: مُصَّدِّقٌ، والمتصدِّقُ: المُعطي، وفي التنزيل: {وَتَصَدَّقْ عَلَيْنَا إِنَّ اللَّهَ يَجْزِي الْمُتَصَدِّقِينَ} (1).

وقد جاء المتصدِّقُ والمصَّدِّقُ في القرآن العظيم: {وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ} (2). و {الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ} (3). وأما المُصَدِّق بتخفيف الصاد: فهو الذي يأخذ صدقات النَّعَم)) (4).

والذي يُصدِّقك في حديثك (5) فالصدقة: العطية.

 

‌‌والصدقة اصطلاحاً: العطية التي يُبتغى بها الثواب عند الله تعالى (6).

قال العلامة الأصفهاني: ((الصدقة ما يخرجه الإنسان من ماله على وجه القربة، كالزكاة، لكن الصدقة في الأصل تقال للمتطوَّع به، والزكاة للواجب، وقد يُسمَّى الواجب صدقةً إذا تحرَّى صاحبها الصدق في فعله)) (7).

--------------------------------------------

(1) سورة يوسف، الآية: 88.

(2) سورة الأحزاب، الآية: 35.

(3) سورة الحديد، الآية: 18.

(4) المصباح المنير، للفيومي، 1/ 336.

(5) مختار الصحاح، لمحمد بن أبي بكر الرازي، ص 151.

(6) التعريفات للجرجاني، ص 173، ولغة الفقهاء، لمحمد روَّاس، ص 243.

(7) مفردات ألفاظ القرآن، للأصفهاني، ص 480.
ইসলামে ঐচ্ছিক দান (صدقة التطوع)

 

‌‌প্রথমত: ঐচ্ছিক দান (صدقة التطوع)-এর ধারণা: শাব্দিক ও পারিভাষিক বিশ্লেষণ.

‌‌শাব্দিক অর্থে দান (الصدقة): এর বহুবচন হলো সদাকাত (صدقات)। 'তাসাদদাকতু' (تَصَدَّقتُ) অর্থ হলো—আমি তাকে দান করলাম। এর কর্তাবাচক বিশেষ্য হলো 'মুতাসাদদিক' (مُتَصَدِّقٌ), [অর্থাৎ যিনি দান করেন]। কেউ কেউ 'সাদ' অক্ষরকে ইদগাম করে সহজ উচ্চারণে 'মুস্সাদদিক' (مُصَّدِّقٌ) বলে থাকেন। মুতাসাদদিক (المتصدِّق) অর্থ হলো দানকারী। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {আমাদের প্রতি সদয় হোন; নিশ্চয়ই আল্লাহ দানকারীদের (المتصدقين) প্রতিদান দেন} (১)।

পবিত্র কুরআনে 'মুতাসাদদিক' (المتصدِّق) এবং 'মুস্সাদদিক' (المصَّدِّق) উভয় শব্দই এসেছে: {দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারীগণ (وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ)} (২)। এবং {দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারীগণ (الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ)} (৩)। আর 'সাদ' অক্ষরকে তাশদিদ ছাড়া হালকাভাবে উচ্চারণ করলে 'মুসাদদিক' (المُصَدِّق) হয়, যার অর্থ হলো—যিনি গবাদি পশুর যাকাত (الصدقات) সংগ্রহ করেন (৪)।

আর যে ব্যক্তি আপনার কথায় আপনাকে সত্যায়ন করে তাকেও 'মুসাদদিক' (مُصَدِّق) বলা হয় (৫)। সুতরাং দান (الصدقة) হলো এক প্রকার উপঢৌকন।

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে দান (الصدقة): এমন উপহার বা দান যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট সওয়াব বা প্রতিদান প্রত্যাশা করা হয় (৬)।

আল্লামা আসফাহানি বলেন: ((মানুষ আল্লাহর নৈকট্য (قربة) লাভের উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ থেকে যা কিছু ব্যয় করে তা-ই দান (الصدقة), যেমন যাকাত (الزكاة)। তবে মূলত 'সাদাকাহ' শব্দটি ঐচ্ছিক (المتطوَّع به) দানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং 'যাকাত' শব্দটি আবশ্যিক (الواجب) দানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও আবশ্যিক (الواجب) দানকেও 'সাদাকাহ' বলা হয় যদি দাতা তার এই কার্যের মাধ্যমে তার ঈমানের সততার (الصدق) পরিচয় দেন)) (৭)।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৮।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৫।

(৩) সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১৮।

(৪) আল-মিসবাহুল মুনীর, আল-ফাইয়ুমি, ১/৩৩৬।

(৫) মুখতারুস সিহাহ, মুহাম্মদ বিন আবি বকর আল-রাজি, পৃষ্ঠা ১৫১।

(৬) আল-তারিফাত, আল-জুরজানি, পৃষ্ঠা ১৭৩; এবং লুগাতুল ফুকাহা, মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃষ্ঠা ২৪৩।

(৭) মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন, আল-আসফাহানি, পৃষ্ঠা ৪৮০।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌والعطية: الشيء المُعطى، والجمع: العطايا، ويقال: رجل مِعطاءٌ: كثير العطاء، والمعاطاة: المناولة، والإعطاء: الإنالة (1).

‌‌والعطية اصطلاحاً: ما أعطاه الإنسان من ماله لغيره، سواء كان يريد بذلك وجه الله تعالى، أو يريد التودُّد، أو غير ذلك، فهي أعمّ من الزكاة، والصدقة، والهبة، ونحو ذلك (2).

التطوع لغة: التنفُّل، والنافلة، وكل متنفِّل خير متطوع، قال الله تعالى: {فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ} (3).

وقد تدغم التاء في الطاء فيقال: المطوِّع: أي المتطوع (4).

 

‌‌والتطوع اصطلاحاً: ما تبرع به المسلم من ذات نفسه، مما لا يلزمه فرضه (5).

وقيل: المتطوع هو الذي يفعل الشيء تبرعاً من نفسه، وهو تفعلٌ من الطاعة (6)، والتعريف الأول أشمل.

 

‌‌ثانياً: فضل صدقة التطوع، لها فضائل كثيرة جداً، منها ما يأتي:

‌‌1 - صدقة التطوع تكمِّل زكاة الفريضة وتجبر نقصها؛ لحديث تميم

--------------------------------------------

(1) مختار الصحاح، ص 185، والمصباح المنير، 2/ 417، ومفردات ألفاظ القرآن للأصفهاني، ص 572.

(2) الموسوعة الفقهية، 23/ 227.

(3) سورة البقرة، الآية: 184.

(4) النهاية في غريب الحديث، 3/ 142.

(5) لسان العرب، لابن منظور، باب العين، فصل الطاء، 8/ 243.

(6) النهاية في غريب الحديث، 3/ 142.
‌‌আল-আতিয়্যাহ (العطية): যা প্রদান করা হয়; এর বহুবচন হলো আল-আতায়া (العطايا)। বলা হয়: ‘মি’তা’ (رجل مِعطاءٌ) অর্থাৎ দানশীল ব্যক্তি: যে প্রচুর দান করে। ‘আল-মুআতাহ’ (المعاطاة) হলো হাতে হাতে অর্পণ করা এবং ‘আল-ইতা’ (الإعطاء) হলো প্রদান করা বা অর্পণ করা (১)।

‌‌পরিভাষাগত অর্থে আল-আতিয়্যাহ (العطية): মানুষ তার সম্পদ থেকে অন্যকে যা দান করে, চাই সে এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করুক অথবা হৃদ্যতা সৃষ্টি করতে চাক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকুক। সুতরাং এটি জাকাত (الزكاة), সদকা (الصدقة), হিবা (الهبة) এবং এই জাতীয় পরিভাষাগুলোর চেয়ে অধিক ব্যাপক (২)।

শাব্দিক অর্থে আত-তাতাউ (التطوع): অতিরিক্ত (التنفُّل) ইবাদত বা নফল (النافلة)। প্রত্যেক নফল আমলকারীই হলো কল্যাণকামী ও স্বেচ্ছায় নেক আমলকারী। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করবে, তা হবে তার জন্য কল্যাণকর} (৩)।

কখনো কখনো ‘তা’ বর্ণটি ‘ত্বা’ (طاء) বর্ণের সাথে সন্ধি বা একীভূত করা হয়, ফলে বলা হয়: ‘আল-মুত্তাউই’ (المطوِّع) অর্থাৎ আল-মুতাতাউই (المتطوع) (৪)।

 

‌‌পরিভাষাগত অর্থে আত-তাতাউ (التطوع): একজন মুসলিম নিজের পক্ষ থেকে যা স্বেচ্ছায় দান বা সম্পাদন করে, যা তার ওপর ফরজ (الفرض) হিসেবে আবশ্যক নয় (৫)।

কারো কারো মতে: ‘মুতাতাউই’ (المتطوع) হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কাজ করে। এটি ‘আত-তাআত’ (الطاعة) শব্দ থেকে উদ্ভূত একটি রূপ (৬); তবে প্রথম সংজ্ঞাটিই অধিক ব্যাপক।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নফল সদকার (صدقة التطوع) ফজিলত। এর বহু ফজিলত রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

‌‌১ - নফল সদকা (صدقة التطوع) ফরজ (الفريضة) জাকাতের পূর্ণতা দান করে এবং এর ঘাটতি পূরণ করে; তামিিম (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে

--------------------------------------------

(১) মুখতার আস-সিহাহ, পৃ. ১৮৫; আল-মিসবাহ আল-মুনীর, ২/৪১৭; আল-আস্ফাহানী রচিত মুফরাদাত আলফাজ আল-কুরআন, পৃ. ৫৭২।

(২) আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২২৭।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪।

(৪) আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস, ৩/১৪২।

(৫) ইবনে মানজুর রচিত লিসানুল আরব, বাবুল আইন, ফাসলুত ত্বা, ৮/২৪৩।

(৬) আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস, ৩/১৪২।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
الداري رضي الله عنه مرفوعاً: ((أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة صلاته، فإن كان أتمَّها كتبت له تامة، وإن لم يكن أتمها قال الله عز وجل لملائكته: انظروا هل تجدون لعبدي من تطوِّعٍ فتكملون بها فريضته، ثم الزكاة كذلك، ثم تؤخذ الأعمال على حسب ذلك)) (1).

 

‌‌2 - تُطفئ الخطايا وتكفرها؛ لحديث معاذ رضي الله عنه مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه: ((والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار)) (2).

وفي حديث حذيفة رضي الله عنه: ((فتنة الرجل: في أهله، وولده، وجاره، تكفرها الصلاة، والصوم، والصدقة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)) (3).

 

‌‌3 - من أسباب دخول الجنة والعتق من النار؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أنها قالت: جاءتنى مسكينة تحمل ابنتين لها، فأطعمتها ثلاث تمرات، فأعطت كل واحدة منهما تمرة، ورفعت إلى فيها تمرة؛ لتأكلها، فاستطعمتها ابنتاها، فشقت التمرة التي كانت تريد أن تأكلها بينهما، فأعجبني شأنها، فذكرت الذي صنعت

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((كل صلاة لا يتمها صاحبها تتم من تطوِّعه))، برقم 864، 866، وابن ماجه، كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها، باب ما جاء في أول ما يحاسب به العبد: الصلاة، برقم 1425، وأحمد، 4/ 65، 103، 5/ 377، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 245، وفي صحيح الجامع، 2/ 353.

(2) الترمذي، كتاب الإيمان، باب ما جاء في حرمة الصلاة، برقم 2616، وأحمد، 5/ 531، و236، و237، و245 وحسنه الألباني في إرواء الغليل، 2/ 138.

(3) متفق عليه: البخاري، كتاب الصلاة، باب: الصلاة كفارة، برقم 525، وكتاب الزكاة، باب الصدقة تكفر الخطيئة، برقم 1435، ومسلم، كتاب الإيمان، باب رفع الأمانة والإيمان من بعض القلوب وعرض الفتن على القلوب، برقم 144.
আদ-দারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعاً) সূত্রে বর্ণিত: ((কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে থাকে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ হিসেবেই লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যদি সে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় না করে থাকে, তবে মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন: দেখ, আমার বান্দার কোনো নফল বা স্বেচ্ছামূলক (تطوع) ইবাদত আছে কি না, যা দিয়ে তোমরা তার ফরজের ঘাটতি পূরণ করে দেবে। এরপর জাকাতের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে এবং পরবর্তী আমলগুলোও সেই অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে)) (১)।

 

‌‌২ - এটি পাপসমূহ মিটিয়ে দেয় এবং তা মোচন করে; মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعاً), তাতে রয়েছে: ((দান-সদকা গুনাহ মিটিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়)) (২)।

এবং হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: ((ব্যক্তির ফেতনা: তার পরিবার, সন্তান এবং প্রতিবেশীর মধ্যে; সালাত, সিয়াম, সদকা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ তা মোচন করে দেয়)) (৩)।

 

‌‌৩ - জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম কারণ; আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট একজন অভাবী নারী তার দুটি কন্যা সন্তানকে বহন করে নিয়ে এলো। আমি তাকে তিনটি খেজুর খেতে দিলাম। সে তাদের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর প্রদান করল এবং একটি খেজুর নিজে খাওয়ার জন্য তার মুখের কাছে তুলল; তখন তার কন্যাদ্বয় সেটিও তার কাছে খেতে চাইল। ফলে সে যে খেজুরটি নিজে খেতে চেয়েছিল, তা তাদের দুজনের মধ্যে দুই ভাগ করে দিল। তার এই বিষয়টি আমাকে অভিভূত করল। এরপর সে যা করেছিল তা আমি বর্ণনা করলাম...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((প্রত্যেক সালাত যা তার আদায়কারী পূর্ণাঙ্গ করেনি, তা তার নফল বা স্বেচ্ছামূলক (تطوع) ইবাদত থেকে পূর্ণ করা হবে)), হাদিস নম্বর ৮৬৪, ৮৬৬; এবং ইবনে মাজাহ, সালাত কায়েম ও এর সুন্নাহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: বান্দার সর্বপ্রথম কিসের হিসাব নেওয়া হবে: সালাত, হাদিস নম্বর ১৪২৫; এবং আহমাদ, ৪/৬৫, ১০৩, ৫/৩৭৭; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ, ১/২৪৫ এবং সহিহুল জামি'-তে, ২/৩৫৩।

(২) তিরমিজি, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সালাতের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নম্বর ২৬১৬; এবং আহমাদ, ৫/৫৩১, ২৩৬, ২৩৭, ২৪৫; আলবানী একে হাসান (حسن) বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরওয়াউল গালিল-এ, ২/১৩৮।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, সালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সালাত কাফফারা স্বরূপ, হাদিস নম্বর ৫২৫; এবং জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সদকা গুনাহ মোচন করে, হাদিস নম্বর ১৪৩৫; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: আমানত ও ঈমান কিছু অন্তর থেকে তুলে নেওয়া এবং অন্তরে ফেতনা প্রকাশ হওয়া, হাদিস নম্বর ১৪৪।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((إن الله قد أوجب لها بها الجنة، أو أعتقها بها من النار)) (1).

 

‌‌4 - الصدقة تدخل الجنة ولو بشق تمرة، فعن عائشة رضي الله عنها قالت: دخلت عليَّ امرأة معها ابنتان لها تسأل؟ فلم تجد عندي شيئاً غير تمرةٍ، فأعطيتها إيَّاها، فقَسَمَتْها بين ابنتيها، ولم تأكل منها، ثم قامت وخرجت، فدخل النبي صلى الله عليه وسلم فأخبرته فقال: ((من ابتُلي من هذه البنات بشيء فأحسن إليهن كنَّ له ستراً من النار)) (2).

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله في الجمع بين الحديثين السابقين: ((ويمكن الجمع بأن مرادها بقولها في حديث عروة: فلم تجد عندي غير تمرة واحدة: أي أخصها بها، ويحتمل أنها لم تكن عندها في أول الحال سوى واحدة، فأعطتها، ثم وجدت ثنتين، ويحتمل تعدد القصة)) (3).

 

‌‌5 - من أسباب النجاة من حرِّ يوم القيامة؛ لحديث عقبة بن عامر رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((كل امرئ في ظل صدقته حتى يفصل بين الناس)). أو قال: ((يحكم بين الناس)) (4). وفي لفظ: ((إن ظل المؤمن يوم القيامة صدقته)) (5). قال يزيد- أحد رواة الحديث: ((وكان أبو الخير-

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب البر والصلة، باب الإحسان إلى البنات، برقم 2630.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب اتقوا النار ولو بشق تمرة، والقليل من الصدقة، برقم 1418، ومسلم، كتاب البر والصلة، باب الإحسان إلى البنات، برقم 2629.

(3) فتح الباري، بشرح صحيح البخاري، لابن حجر، 10/ 428.

(4) أحمد في المسند، برقم 17333، وقال محققو المسند: ((إسناده صحيح)) وأخرجه ابن حبان برقم 3310، وصححه الألباني في صحيح الترغيب والترهيب، 1/ 523.

(5) أحمد، برقم 18043، وقال محققو المسند: ((حديث صحيح)).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, তখন তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত অবধারিত করেছেন অথবা এর মাধ্যমে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন)) (১)।

 

‌‌৪ - দান জান্নাতে প্রবেশ করায়, যদিও তা খেজুরের অর্ধেক টুকরো হয়, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট এক মহিলা আসল যার সাথে তার দুটি কন্যা ছিল, সে সাহায্য চাচ্ছিল। সে আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই পেল না। আমি তাকে সেটি দিয়ে দিলাম, ফলে সে তা তার দুই কন্যার মধ্যে ভাগ করে দিল এবং নিজে তা থেকে কিছুই খেল না। তারপর সে উঠে বেরিয়ে গেল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলে আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন: ((যাকে এই কন্যা সন্তানদের মাধ্যমে কোনো পরীক্ষায় ফেলা হয় এবং সে তাদের প্রতি সদাচরণ করে, তবে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড়াল হবে)) (২)।

হাফিজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি পূর্বোক্ত দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেন: ((উভয় বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, উরওয়াহ-এর বর্ণিত হাদিসে তাঁর বক্তব্য 'আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই পায়নি' এর অর্থ হলো: কেবল তাকে দেওয়ার জন্য বিশেষ করে আর কিছু ছিল না। অথবা এমনও হতে পারে যে, শুরুতে তাঁর কাছে একটি মাত্র খেজুর ছিল যা তিনি তাকে দিয়ে দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আরও দুটি পেয়েছিলেন। আবার এও হতে পারে যে, ঘটনাটি একাধিকবার ঘটেছিল)) (৩)।

 

‌‌৫ - কিয়ামত দিবসের উত্তাপ থেকে নাজাত পাওয়ার অন্যতম কারণ; উকবাহ ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ((প্রত্যেক ব্যক্তি তার দানের ছায়াতলে থাকবে যতক্ষণ না মানুষের মধ্যে ফয়সালা করা হয়))। অথবা তিনি বলেছেন: ((মানুষের মধ্যে বিচার করা হয়)) (৪)। অন্য শব্দে এসেছে: ((নিশ্চয়ই কিয়ামত দিবসে মুমিনের ছায়া হবে তার দান)) (৫)। হাদিসের জনৈক বর্ণনাকারী ইয়াযিদ বলেন: ((আর আবুল খায়ের ছিলেন-

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, বাবুুল ইহসানি ইলাল বানাত, হাদিস নং ২৬৩০।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুয যাকাত, বাবুু ইত্তাকুন নারা ওয়ালাও বিশিক্কি তামরাহ ওয়াল কালিলি মিনাস সাদাকাহ, হাদিস নং ১৪১৮; এবং মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, বাবুল ইহসানি ইলাল বানাত, হাদিস নং ২৬২৯।

(৩) ফাতহুল বারী, শারহু সহিহ বুখারি, ইবনে হাজার রচিত, ১০/ ৪২৮।

(৪) আহমাদ মুসনাদ-এ, হাদিস নং ১৭৩৩৩, এবং মুসনাদের গবেষকগণ বলেছেন: ((এর সনদ সহিহ (إسناده صحيح))); ইবনে হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন হাদিস নং ৩৩১০-এ, এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলেছেন সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব গ্রন্থে, ১/ ৫২৩।

(৫) আহমাদ, হাদিস নং ১৮০৪৩, এবং মুসনাদের গবেষকগণ বলেছেন: ((হাদিসটি সহিহ (حديث صحيح)))।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
راوي الحديث عن عقبة لا يخطئه يوم إلا تصدق فيه بشيء، ولو كعكة،

أو بصلة، أو كذا)) (1). وقال النبي صلى الله عليه وسلم في أحد السبعة الذين يظلُّهم الله في ظلِّه يوم لا ظلَّ إلا ظله: (( … ورجل تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه)) (2).

 

‌‌6 - الصدقة من أسباب النصر، والرزق؛ لحديث سعد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((هل تنصرون وترزقون إلا بضعفائكم)) (3). قال ابن بطال رحمه الله: ((تأويل الحديث: أن الضعفاء أشد إخلاصاً في الدعاء، وأكثر خشوعاً في العبادة؛ لخلاء قلوبهم عن التعلق بزخرف الدنيا)) (4).

وعن أنس رضي الله عنه قال: كان أخوان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، فكان أحدهما يأتي النبي صلى الله عليه وسلم، والآخر يحترف، فشكى المحترفُ أخاه إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ((لعلك تُرزق به)) (5).

 

‌‌7 - الصدقة تعوِّد المسلم على صفة الجود والكرم، والعطف على ذوي الحاجات، والرحمة للفقراء.

‌‌8 - الصدقة تحفظ النفس عن الشُّح، قال الله تعالى: {وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (6).

--------------------------------------------

(1) أحمد، برقم 17333، وتقدم قبل حديث واحد.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الأذان، باب من جلس في المسجد ينتظر الصلاة، برقم 1423، ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل إخفاء الصدقة، برقم 1031.

(3) البخاري، كتاب الجهاد والسير، باب من استعان بالضعفاء والصالحين في الحرب، برقم 2896.

(4) فتح الباري، بشرح صحيح البخاري، لابن حجر، 6/ 89.

(5) الترمذي، كتاب الزهد، باب في التوكل، برقم 2345، وقال: حديث حسن صحيح، وصححه الألباني في صحيح الترمذي، 2/ 274.

(6) سورة الحشر، الآية: 9.
উকবাহ থেকে বর্ণিত হাদিসটির বর্ণনাকারী বলেন, তার কোনো দিন এমন অতিবাহিত হতো না যাতে তিনি কোনো কিছু দান করতেন না, হোক তা একটি পিঠা, একটি পেঁয়াজ বা এই জাতীয় কিছু (১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সাত প্রকার ব্যক্তির একজন সম্পর্কে বলেছেন যাদেরকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: (( … আর সেই ব্যক্তি যে দান করে এবং তা গোপন রাখে, এমনকি তার বাম হাতও জানে না যে তার ডান হাত কী ব্যয় করছে)) (২)।

 

‌‌৬ - দান বিজয় ও রিযিক প্রাপ্তির অন্যতম কারণ; সাদ (রা.) বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের কারণে যেখানে তিনি বলেছেন: ((তোমাদের মাঝে থাকা দুর্বলদের কারণেই কি তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত ও রিযিকপ্রাপ্ত হও না?)) (৩)। ইবন বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((হাদিসের ব্যাখ্যা হলো: দুর্বলরা দোয়ার ক্ষেত্রে অধিক নিষ্ঠাবান এবং ইবাদতে অধিক বিনয়ী; কারণ দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি আসক্তি থেকে তাদের অন্তর মুক্ত থাকে)) (৪)।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে দুই ভাই ছিল, যাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (জ্ঞান অর্জনের জন্য) আসতেন এবং অন্যজন উপার্জন করতেন। অতঃপর উপার্জনকারী ভাইটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার ভাইয়ের ব্যাপারে অভিযোগ করলে তিনি বললেন: ((সম্ভবত তার অসিলাতেই তোমাকে রিযিক দান করা হচ্ছে)) (৫)।

 

‌‌৭ - দান একজন মুসলিমকে দানশীলতা ও মহানুভবতার চরিত্রে অভ্যস্ত করে তোলে, এবং অভাবীদের প্রতি সহানুভূতি ও দরিদ্রদের প্রতি দয়ার গুণে গুণান্বিত করে।

‌‌৮ - দান আত্মাকে কার্পণ্য থেকে রক্ষা করে, মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} (৬)।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ, হাদিস নং ১৭৩৩৩, যা এর এক হাদিস পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আজান, অধ্যায়: যে ব্যক্তি নামাজের অপেক্ষায় মসজিদে বসে থাকে, হাদিস নং ১৪২৩; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: দান গোপন করার ফজিলত, হাদিস নং ১০৩১।

(৩) বুখারি, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, অধ্যায়: যুদ্ধে দুর্বল ও নেককারদের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা, হাদিস নং ২৮৯৬।

(৪) ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি, ইবন হাজার প্রণীত, ৬/ ৮৯।

(৫) তিরমিজি, কিতাবুয যুহদ, অধ্যায়: তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৩৪৫, এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি উত্তম (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح), আর আলবানী সহিহ তিরমিজিতে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে আখ্যা দিয়েছেন, ২/ ২৭৪।

(৬) সুরা আল-হাশর, আয়াত: ৯।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌9 - الصدقة تجلب البركة والزيادة والخلف من الله تعالى، قال الله

سبحانه: {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} (1).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((قال الله تعالى: أنفق يا ابن آدم، أنفق عليك)). وقال: ((يد الله ملأى لا يغيضها نفقة سحاءُ الليلَ والنهار)). وقال: ((أرأيتم ما أنفق منذ خلق السموات والأرض؟؛ فإنه لم يغض ما في يده، وكان عرشه على الماء، وبيده الميزان، يخفض ويرفع)). ولفظ مسلم: ((يمين الله ملأى … )) (2).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ما نقصت صدقة من مال، وما زاد الله عبداً بعفوٍ إلا عزًّا، وما تواضع أحدٌ لله إلا رفعه)) (3).

ومما يدل على فضل الصدقة، وفضل الإحسان إلى المساكين وأبناء السبيل، وفضل أكل الإنسان من كسبه والإنفاق على العيال (4) وأن من فعل ذلك يبارك الله له في ماله ويحصل له الأجر العظيم، حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((بينما رجل بفلاة من الأرض فسمع صوتاً في سحابة: أسقِ حديقة فلان، فتنحى ذلك السحاب فأفرغ ماءه في حرَّة (5)

--------------------------------------------

(1) سورة سبأ، الآية: 39.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب التفسير، سورة هود، باب قوله: {وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ} 4684، وكتاب النفقات، باب فضل النفقة على الأهل، برقم 5352، ومسلم، كتاب الزكاة، باب الحث على النفقة وتبشير المنفق بالخلف، برقم 993.

(3) مسلم، كتاب البر والصلة، باب العفو، برقم 2588.

(4) شرح النووي على صحيح مسلم، 18/ 325.

(5) الحرة: أرض ملبَّسة حجارة سوداء، شرح النووي على صحيح مسلم، 18/ 325.
‌‌৯ - দান-সদকাহ বরকত, বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান বয়ে আনে, আল্লাহ

সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা} (১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমি তোমার ওপর ব্যয় করব))। তিনি আরও বলেছেন: ((আল্লাহর হাত পূর্ণ, রাত-দিনের অবিরাম দান তা কমাতে পারে না))। তিনি আরও বলেছেন: ((তোমরা কি দেখেছ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে তিনি যা ব্যয় করেছেন? নিশ্চয়ই তা তাঁর হাতের ভাণ্ডারকে সামান্যও কমাতে পারেনি; তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর এবং তাঁর হাতে রয়েছে মিরাজ (দাঁড়িপাল্লা), যা তিনি অবনমিত করেন ও উন্নীত করেন))। মুসলিমের শব্দে রয়েছে: ((আল্লাহর ডান হাত পূর্ণ ...)) (২)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((সদকাহ করলে সম্পদের হ্রাস ঘটে না, ক্ষমার দ্বারা আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধিই করেন এবং কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে আল্লাহ তাকে উচ্চাসীন করেন)) (৩)।

দান-সদকার শ্রেষ্ঠত্ব, মিসকিন ও মুসাফিরদের প্রতি সদাচরণের মাহাত্ম্য এবং মানুষের নিজ উপার্জিত আয় থেকে আহার করা ও পরিবার-পরিজনের ওপর ব্যয় করার (৪) ফযিলত এবং যে ব্যক্তি এরূপ করে আল্লাহ তার সম্পদে বরকত দান করেন ও সে মহান প্রতিদান লাভ করে—এই বিষয়ে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস: ((এক ব্যক্তি একটি নির্জন প্রান্তরে ছিল, এমতাবস্থায় সে মেঘের মধ্য থেকে একটি শব্দ শুনতে পেল: অমুকের বাগানে পানি দাও। তখন মেঘটি একপাশে সরে গিয়ে একটি কালো পাথরঘেরা জমিতে (৫) পানি বর্ষণ করল...

--------------------------------------------

(১) সূরা সাবা, আয়াত: ৩৯।

(২) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুত তাফসির, সূরা হুদ, অনুচ্ছেদ: তাঁর বাণী: {এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর} ৪৬৮৪, এবং কিতাবুন নাফাকাত, পরিবার-পরিজনের ওপর ব্যয়ের ফযিলত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৩৫২; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ দান এবং দানকারীকে প্রতিদানের সুসংবাদ প্রদান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৯৯৩।

(৩) মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, ক্ষমা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৫৮৮।

(৪) সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ, ১৮/ ৩২৫।

(৫) আল-হাররাহ (الحرة): কালো পাথরে আবৃত ভূমি, সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ, ১৮/ ৩২৫।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
فإذا شَرْجَة من تلك الشِّراج (1) قد استوعبت ذلك الماء كله، فتتبَّع الماء،

فإذا رجل قائم في حديقته يُحوِّل الماء بمسحاته فقال له: يا عبد الله ما اسمك؟ قال: فلان، للاسم الذي سمع في السحابة، فقال له: يا عبد الله: لم تسألني عن اسمي؟ قال: إني سمعت صوتاً في السحاب الذي هذا ماؤه يقول: اسقِ حديقة فلانٍ لاسمك، فما تصنع فيها؟ قال: أمَّا إذا قلت: هذا فإني أنظر إلى ما يخرج منها فأتصدق بثُلثه، وآكل أنا وعيالي ثلثاً، وأردُّ فيها ثلثه)) وفي لفظ: ((وأجعل ثلثه في المساكين، والسائلين، وابن السبيل)) (2).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما من يوم يصبح العباد فيه إلا مَلَكان ينزلان، فيقول أحدهما: اللهم أعط منفقاً خلفاً، ويقول الآخر: اللهم أعط ممسكاً تلفاً)) (3).

 

‌‌10 - تشرح الصدر وتدخل السرور على المنفق المتصدق، فالمتصدق إذا أحسن إلى الخلق، ونفعهم بما يملكه من المال، وأنواع الإحسان، انشرح صدره؛ فالكريم المحسن أشرح الناس صدراً، وأطيبهم نفساً، وأنعمهم قلباً، والبخيل الذي لا يحسن أضيق الناس صدراً، وأنكدهم عيشاً، وأكثرهم همّاً وغمّاً، لكن لا بد من العطاء بطيب نفس، ويخرج المال من قلبه قبل أن يخرج من يده (4).

‌‌11 - الصدقة تُلحق المسلم بالمؤمن الكامل؛ لحديث أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) الشرجة: وجمعها شراج: مسائل الماء في الحرار، شرح النووي، 18/ 325.

(2) مسلم، كتاب الزهد والرقائق، باب فضل الإنفاق على المساكين وابن السبيل، 18/ 325.

(3) مسلم، كتاب الزكاة، باب في المنفق والممسك، برقم 1010.

(4) انظر: زاد المعاد، لابن القيم، 2/ 25، والشرح الممتع لابن عثيمين، 6/ 10.
অতঃপর দেখা গেল সেই নালাগুলোর (১) মধ্যে একটি নালা সেই সমস্ত পানি পূর্ণরূপে গ্রহণ করে নিয়েছে। এরপর তিনি পানির অনুসরণ করলেন।

সেখানে তিনি দেখতে পেলেন একজন ব্যক্তি তার বাগানে দাঁড়িয়ে কোদাল দিয়ে পানি ঘুরাচ্ছেন (সেচ দিচ্ছেন)। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'হে আল্লাহর বান্দা! আপনার নাম কী?' তিনি বললেন: 'অমুক'। এটি ছিল সেই নাম যা তিনি মেঘের মধ্যে শুনেছিলেন। তখন সেই ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কেন আমার নাম জিজ্ঞাসা করছেন?' তিনি বললেন: 'আমি সেই মেঘের মধ্যে যেখান থেকে এই পানি এসেছে, একটি আওয়াজ শুনেছি যে—অমুকের বাগানে পানি দাও—আপনার নাম উল্লেখ করে। তো আপনি এতে কী আমল করেন?' তিনি বললেন: 'যেহেতু আপনি এ কথা জিজ্ঞেস করলেন, সেহেতু (আমি বলছি যে) আমি দেখি এই বাগান থেকে কী পরিমাণ ফসল উৎপন্ন হয়, অতঃপর তার এক-তৃতীয়াংশ দান করি, এক-তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার মিলে ভক্ষণ করি এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ পুনরায় চাষাবাদে (বীজ বপন ও অন্যান্য কাজে) ব্যয় করি।' অন্য এক শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: 'এবং তার এক-তৃতীয়াংশ আমি মিসকিন, যাঞ্ঝাকারী ও মুসাফিরদের জন্য রাখি।' (২)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “প্রতিদিন সকালে যখন বান্দারা উপনীত হয়, তখন দুইজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। তাদের একজন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি দানকারীকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর অন্যজন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।” (৩)।

 

‌‌১০ - এটি বক্ষ প্রশস্ত করে এবং দানকারীর মনে প্রশান্তি বয়ে আনে, কেননা দানকারী যখন সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করে এবং তার মালিকানাধীন সম্পদ ও বিভিন্ন প্রকার ইহসানের মাধ্যমে তাদের উপকার করে, তখন তার অন্তর প্রফুল্ল হয়। নিশ্চয়ই দানশীল ও পরোপকারী ব্যক্তিরা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, পবিত্র আত্মার অধিকারী এবং প্রশান্ত চিত্তের হয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে কৃপণ ব্যক্তি যে পরোপকার করে না, সে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সংকীর্ণমনা, মানবেতর জীবনযাপনকারী এবং সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় জর্জরিত হয়। তবে সানন্দ চিত্তে দান করা আবশ্যক এবং তার হাত থেকে অর্থ বের হওয়ার আগেই যেন তা তার হৃদয় থেকে বেরিয়ে যায়। (৪)।

‌‌১১ - সাদাকা মুসলিমকে পূর্ণাঙ্গ মুমিনের স্তরে উন্নীত করে; আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের কারণে

--------------------------------------------

(১) শারজাহ: যার বহুবচন হলো শিরাজ; এর অর্থ হলো পাথুরে ভূমিতে পানির প্রবাহ বা নালা। শারহু নববী, ১৮/৩২৫।

(২) মুসলিম, কিতাবুয যুহদ ওয়ার রাকায়েক, পরিচ্ছেদ: মিসকিন ও মুসাফিরের ওপর ব্যয়ের ফজিলত, ১৮/৩২৫।

(৩) মুসলিম, কিতাবুয জাকাত, পরিচ্ছেদ: দানকারী ও কৃপণ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১০১০।

(৪) দেখুন: জাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়্যিম রচিত, ২/২৫; এবং আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমীন রচিত, ৬/১০।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
قال: ((لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه - أو قال - لجاره ما يحب لنفسه)) (1). فكما

أن المسلم يحب أن يُبذل له المال الذي يسد به حاجته، فهو يحب أن يحصل لأخيه المحتاج مثل ذلك، فيكون بذلك كامل الإيمان.

 

‌‌12 - الصدقة يحصل بها قضاء الحاجات، وتفريج الكربات، والستر في الدنيا ويوم القيامة؛ لما فيها من قضاء حاجات المحتاجين، وتفريج كربات المكروبين، والستر على المعسرين؛ لأن الجزاء من جنس العمل؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من نفَّس عن مؤمن كُربَة من كُرب الدنيا نفَّس الله عنه كُربةً من كُربِ يوم القيامة، ومن يسَّر على معسرٍ يسَّر الله عليه في الدنيا والآخرة، ومن ستر مسلماً ستره الله في الدنيا والآخرة، والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه … )) (2)؛ ولحديث ابن عمر رضي الله عنهما، وفيه: ((ومن كان في حاجة أخيه كان الله في حاجته، ومن فرَّج عن مسلم كربة فرَّج الله عنه كربة من كرب يوم القيامة، ومن ستر مسلماً ستره الله يوم القيامة)) (3).

‌‌13 - الصدقة من أسباب رحمة الله تعالى للعبد؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا يرحم الله من لا يرحم الناس)) (4).

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الإيمان، باب الدليل على أن من خصال الإيمان أن يحب لأخيه المسلم ما يحب لنفسه، برقم 45.

(2) مسلم، كتاب الذكر والدعاء، باب فضل الاجتماع على تلاوة القرآن، وعلى الذكر، برقم 2699.

(3) متفق عليه: البخاري، كتاب المظالم، باب لا يظلم المسلم المسلم، ولا يسلمه، برقم 2442، ومسلم، كتاب البر والصلة، باب تحريم الظلم، برقم 2580.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب التوحيد، باب قول الله تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ

سَبِيلًا} برقم 7376، ومسلم، كتاب الفضائل، باب رحمة الصبيان والعيال، برقم 2319.
তিনি বলেছেন: ((তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য - অথবা বলেছেন তার প্রতিবেশীর জন্য - তা পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে)) (১)। ঠিক যেমনভাবে

একজন মুসলিম পছন্দ করে যে তাকে এমন সম্পদ প্রদান করা হোক যা দিয়ে তার প্রয়োজন মিটে যাবে, তেমনি সে তার অভাবী ভাইয়ের জন্যও অনুরূপ কিছু অর্জিত হওয়া পছন্দ করে; এর মাধ্যমেই ঈমান পূর্ণতা লাভ করে।

 

‌‌১২ - সদকার মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ হয়, বিপদাপদ দূর হয়, এবং দুনিয়া ও কিয়ামতের দিনে দোষত্রুটি গোপন থাকে; কারণ এর মধ্যে অভাবীদের প্রয়োজন পূরণ, বিপদগ্রস্তদের বিপদ দূরীকরণ এবং অসচ্ছলদের দোষ গোপন রাখার বিষয়টি নিহিত রয়েছে; আর প্রতিদান হয়ে থাকে কাজের ধরন অনুযায়ী; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার বিপদসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বিপদসমূহ থেকে তার একটি বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করে দিবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার জন্য সহজ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে … )) (২); এবং ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বিপদসমূহ থেকে তার একটি বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন)) (৩)।

‌‌১৩ - সদকা মহান আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম কারণ; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: ((আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: মুমিনের গুণাবলির প্রমাণ যে সে তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে, হাদিস নম্বর ৪৫।

(২) মুসলিম, কিতাবুজ জিকর ওয়াদ দুআ, অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত, হাদিস নম্বর ২৬৯৯।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল মাজালিম, অধ্যায়: এক মুসলিম অপর মুসলিমের ওপর জুলুম করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেবে না, হাদিস নম্বর ২৪৪২; এবং মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, অধ্যায়: জুলুম হারাম হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ২৫৮০।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুত তাওহিদ, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন সকল সুন্দর নাম তো তাঁরই। আর তুমি তোমার সালাতে কণ্ঠস্বর খুব উচ্চ করো না এবং খুব নিম্নও করো না; বরং এর মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করো} হাদিস নম্বর ৭৩৭৬; এবং মুসলিম, কিতাবুল ফাদায়িল, অধ্যায়: শিশু ও পরিবার-পরিজনের প্রতি দয়া প্রদর্শন, হাদিস নম্বর ২৩১৯।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌14 - الصدقة من الإحسان، والله يحب المحسنين؛ لقوله تعالى:

{وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} (1). وقال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَجْزِي الْمُتَصَدِّقِينَ} (2).وقال سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ} (3).

 

‌‌15 - يترتب على الصدقة الأجر العظيم الذي يربيه الله تعالى ويضاعفه لصاحبه؛ لقول الله تعالى: {يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ} (4). وقال عز وجل: {وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} (5)؛ ولقوله تعالى: {وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ} (6)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من تصدَّق بعدل (7) تمرة، من كسب طيب (8) ولا يقبل الله إلا الطيب، فإن الله يتقبَّلها بيمينه ثم يربيها

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 195.

(2) سورة يوسف، الآية: 88.

(3) سورة التوبة، الآية: 120.

(4) سورة البقرة، الآية: 276.

(5) سورة الروم، الآية: 39.

(6) سورة البقرة، الآية: 276.

(7) بعدل تمرة: أي قيمتها؛ لأنه بالفتح المثل، وبالكسر الحِمل بكسر المهملة، هذا قول الجمهور، وقال الفراء: بالفتح: المثل من غير جنسه، وبالكسر من جنسه، وقيل: بالفتح مثله في القيمة، وبالكسر في النظر. فتح الباري، لابن حجر، 3/ 279، وقال ابن الأثير في النهاية، 3/ 191: ((العِدل والعَدل: بالكسر والفتح في الحديث، وهما بمعنى المثل، وقيل: هو بالفتح: مَا عَادَله من جنسه، وبالكسر ما ليس من جنسه، وقيل: بالعكس)).

(8) وفي لفظ البخاري: ((من تصدق بعدل تمرة من كسب طيب ولا يصعد إلى الله إلا الطيب؛ فإنه يتقبلها بيمينه، ثم يُربِّيها لصاحبه، كما يربي أحدكم فلوَّه، حتى تكون مثل الجبل)) طرف الحديث رقم 7430.
‌‌১৪ - দান-সদকা ইহসানের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:

{এবং তোমরা ইহসান করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন} (১)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ দানশীলদের প্রতিদান দেন} (২)। এবং তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের প্রতিদান নষ্ট করেন না} (৩)।

 

‌‌১৫ - দান-সদকার ওপর মহান প্রতিদান অর্জিত হয় যা আল্লাহ তাআলা বৃদ্ধি করেন এবং দানকারীর জন্য তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত করেন এবং সদকাকে বর্ধিত করেন} (৪)। এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে জাকাত দাও, তারাই মূলত সমৃদ্ধি লাভকারী} (৫); এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তিনি সদকাকে বর্ধিত করেন; আর আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে পছন্দ করেন না} (৬); এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি পবিত্র (طيب) উপার্জন থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ (عدل) দান করে—আর আল্লাহ পবিত্র (طيب) ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না—নিশ্চয়ই আল্লাহ তা তাঁর ডান হাতে কবুল করেন, অতঃপর তা বৃদ্ধি করেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৫।

(২) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৮।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২০।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৬।

(৫) সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৯।

(৬) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৬।

(৭) একটি খেজুর সমপরিমাণ (عدل): অর্থাৎ এর মূল্য; কারণ ফাতহা (জবর) যোগে পড়লে তা ‘সমতুল্য’ (المثل) অর্থ প্রকাশ করে, আর কাসরা (জের) যোগে পড়লে তা ‘বোঝা’ বা ‘ভার’ (الحمل) অর্থ প্রদান করে—এটি জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অভিমত। আল-ফাররা বলেন: ফাতহা সহকারে পড়লে তা ভিন্ন জাতীয় ‘সমতুল্য’ (المثل) বস্তু বুঝায়, আর কাসরা সহকারে পড়লে সমজাতীয় বস্তু বুঝায়। আবার বলা হয়েছে: ফাতহা সহকারে পড়লে তা মূল্যের দিক দিয়ে ‘সমতুল্য’ (مثله في القيمة) বুঝায়, আর কাসরা সহকারে পড়লে বাহ্যিক দিক দিয়ে। ইবনে হাজার প্রণীত ফাতহুল বারী, ৩/২৭৯। ইবনুল আসির ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে (৩/১৯১) বলেছেন: ((العِدل) এবং (العَدل): হাদিসে কাসরা ও ফাতহা উভয়ভাবেই এসেছে এবং উভয়টি ‘সমতুল্য’ (المثل) অর্থ প্রকাশ করে। বলা হয়েছে: ফাতহা দিয়ে পড়লে তা সমজাতীয় ‘সমতুল্য’ (ما عادله من جنسه) বস্তু বুঝায়, আর কাসরা দিয়ে পড়লে যা সমজাতীয় নয় এমন কিছু বুঝায়। আবার এর বিপরীত মতও বর্ণিত আছে))।

(৮) এবং সহিহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছে: ((যে ব্যক্তি পবিত্র (طيب) উপার্জন থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ (عدل) দান করে এবং আল্লাহর নিকট পবিত্র (طيب) বস্তু ব্যতীত আর কিছু আরোহণ করে না; তবে আল্লাহ তা তাঁর ডান হাতে কবুল করেন, অতঃপর তা দানকারীর জন্য লালন-পালন (يربيها) করতে থাকেন, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে, এমনকি তা পাহাড়ের মতো হয়ে যায়))। হাদিসের অংশবিশেষ, নম্বর: ৭৪৩০।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
لصاحبها كما يربي أحدكم فلوّه (1)، حتى تكون مثل الجبل)) وفي لفظ مسلم: ((حتى تكون أعظم من الجبل كما يربي أحدكم فلوّه أو فصيله)) (2).

وفي رواية لمسلم: ((لا يتصدق أحد بتمرة من كسب طيب … )) (3).

 

‌‌16 - المتصدِّق ابتغاء مرضاة الله تعالى، يفوز بثناء الله عليه، وما وعد به المتصدقين من الأجر العظيم، وانتفاء الخوف والحزن؛ لقول الله تعالى: {الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} (4).

‌‌17 - المتصدق يحصل على مضاعفة الأجر على حسب إخلاصه لله تعالى؛ لقول الله سبحانه وتعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِئَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ} (5)؛ ولحديث أبي مسعود الأنصاري قال: جاء رجل بناقة مخطومة، فقال: هذه في سبيل الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لك

--------------------------------------------

(1) فلوَّه: وهو المهر؛ لأنه يُفلى: أي يُفطم، وقيل: هو كل فطيم من ذوات حافر: أي من أولاد ذوات الحافر. فتح الباري لابن حجر، 3/ 279، والنهاية في غريب الحديث، 3/ 474، وشرح النووي، 7/ 104.

(2) فصيله: ولد الناقة إذا فصل عن إرضاع أمه، شرح النووي، 7/ 104.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 1410، ورقم 7430، ومسلم، برقم 1014، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة.

(4) سورة البقرة، الآية: 274.

(5) سورة البقرة، الآية: 261.
...মালিকের জন্য, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে (فلوَّه) (১) লালন-পালন করে, এমনকি তা পাহাড়ের সমান হয়ে যায়।" আর মুসলিমের পাঠে (لفظ): "এমনকি তা পাহাড়ের চেয়েও বড় হয়ে যায়, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা (فلوَّه) বা উটের বাচ্চাকে (فصيله) (২) লালন-পালন করে।"

আর মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "কেউ যদি পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর দান করে... (৩)।"

 

‌‌১৬ - মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দানকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা লাভে ধন্য হন, এবং দানকারীদের জন্য যে মহা প্রতিদান এবং ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ওয়াদা করা হয়েছে তা লাভ করেন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাত ও দিন, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় নেই আর তারা চিন্তিতও হবে না} (৪)।

‌‌১৭ - দানকারী ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার প্রতি তার নিষ্ঠার ভিত্তিতে বহুগুণ প্রতিদান লাভ করেন; মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীর কারণে: {যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি শস্যবীজের মতো যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করল, প্রতিটি শীষে একশ শস্যদানা রয়েছে। আর আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ} (৫); এবং আবু মাসউদ আল-আনসারির হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি একটি লাগাম লাগানো উটনী নিয়ে এসে বলল: এটি আল্লাহর পথে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমার জন্য...

--------------------------------------------

(১) ফালউহু (فلوَّه): এটি হলো ঘোড়ার বাচ্চা; কারণ একে পৃথক করা হয়, অর্থাৎ এর দুধ ছাড়ানো হয়। আর বলা হয়েছে: এটি খুরবিশিষ্ট প্রাণীর প্রতিটি দুধ ছাড়ানো বাচ্চা। ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি, ৩/ ২৭৯; আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস, ৩/ ৪৭৪; এবং শারহু নববী, ৭/ ১০৪।

(২) ফাসিলুহু (فصيله): উটনীর বাচ্চা যখন তার মায়ের দুধ পান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, শারহু নববী, ৭/ ১০৪।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪১০ ও ৭৪৩০; মুসলিম, হাদিস নং ১০১৪। জাকাতের মর্যাদার আলোচনায় এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৪।

(৫) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬১।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
بها يوم القيامة سَبْعمائة ناقةٍ كلها مخطومة)) (1).

 

‌‌18 - الصدقة تجعل المجتمع المسلم كالأسرة الواحدة، يرحم القوي الضعيف، ويعطف القادر على العاجز، ويحسن الغني إلى المعسر، فيشعر صاحب المال بالرغبة في الإحسان؛ لأن الله أحسن إليه، قال الله تعالى:

{وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ} (2).

 

‌‌19 - بذل المال خير للمتصدق إذا كان زائداً عن كفايته؛ لحديث أبي أمامة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا ابن آدم إنك أن تبذل الفضل خير لك، وأن تُمسكه شرٌّ لك، ولا تُلامُ على كفاف (3)، وابدأ بمن تعول، واليد العليا خير من اليد السفلى)) (4).

‌‌20 - صدقة السر تطفئ غضب الرب، وصنائع المعروف تنجي من مصارع السوء؛ لحديث معاوية بن حيدة رضي الله عنه ، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: ((إن صدقة السر تطفئ غضب الرب)) (5)؛ ولحديث أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صنائع المعروف تقي مصارع السوء، وصدقة السر تطفئ غضب الرب، وصلة الرحم تزيد في العمر)) (6).

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الجهاد، باب فضل الصدقة في سبيل الله تعالى وتضعيفها، برقم 1892.

(2) سورة القصص، الآية: 77.

(3) الكفاف: الذي لا يفضل منه شيء، ولا يعوزه معه شيء، جامع الأصول، لابن الأثير،6/ 463.

(4) مسلم، كتاب الزكاة، باب بيان أن اليد العليا خير من اليد السفلى، وأن اليد العليا هي المنفقة وأن اليد السفلى هي الآخذة، برقم 1036.

(5) الطبراني في المعجم الكبير، 19/ 421، برقم 1018، وفي الأوسط [مجمع البحرين]، [3/ 65] برقم 1434 و [5/ 218]، برقم 2950.

(6) الطبراني في المعجم الكبير، 8/ 261، وقال في مجمع الزوائد، 3/ 115: ((وإسناده حسن))، وكذلك حسن إسناده المنذري في الترغيب، 1/ 679، وحسنه لغيره الألباني في صحيح الترغيب والترهيب، 1/ 532.
এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন সাতশত উট আসবে, যার প্রত্যেকটিই হবে লাগামযুক্ত (১)।

 

‌‌১৮ - দান-সদকা মুসলিম সমাজকে একটি পরিবারের মতো করে দেয়, যেখানে শক্তিমান দুর্বলের প্রতি দয়া করে, সমর্থ ব্যক্তি অক্ষমের প্রতি মমতা দেখায় এবং ধনী ব্যক্তি অভাবগ্রস্তের প্রতি অনুগ্রহ করে। ফলে সম্পদের মালিক অনুগ্রহ করার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে; কেননা আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{এবং তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন} (২)।

 

‌‌১৯ - সম্পদ ব্যয় করা দানকারীর জন্য কল্যাণকর যদি তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়; আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হে আদম সন্তান! তুমি যদি তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ ব্যয় করো তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর, আর যদি তা আটকে রাখো তবে তা তোমার জন্য অকল্যাণকর। তবে তোমার প্রয়োজনীয় (كفاف) পরিমাণের জন্য তোমাকে তিরস্কার করা হবে না (৩)। আর যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর তাদের থেকে শুরু করো, এবং ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম" (৪)।

‌‌২০ - গোপন দান প্রতিপালকের ক্রোধ প্রশমিত করে এবং নেক আমল মন্দ মৃত্যু থেকে রক্ষা করে; মুয়াবিয়া ইবনে হায়দাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই গোপন দান প্রতিপালকের ক্রোধ প্রশমিত করে" (৫); এবং আবু উমামা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নেক আমল মন্দ মৃত্যু থেকে রক্ষা করে, গোপন দান প্রতিপালকের ক্রোধ প্রশমিত করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা আয়ু বৃদ্ধি করে" (৬)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ, আল্লাহর পথে দান করার মর্যাদা ও তা কয়েক গুণ বৃদ্ধি বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নম্বর ১৮৯২।

(২) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭৭।

(৩) আল-কিফাফ (الكفاف): যা থেকে কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকে না এবং যা থাকলে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় না, জামিউল উসুল, ইবনুল আসির, ৬/৪৬৩।

(৪) মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম এবং ওপরের হাত হলো দাতা আর নিচের হাত হলো গ্রহীতা—এর বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নম্বর ১০৩৬।

(৫) তাবারানি, আল-মুজামুল কাবীর, ১৯/৪২১, হাদিস নম্বর ১০১৮; এবং আল-আওসাত [মাজমাউল বাহরাইন], [৩/৬৫] হাদিস নম্বর ১৪৩৪ এবং [৫/২১৮], হাদিস নম্বর ২৯৫০।

(৬) তাবারানি, আল-মুজামুল কাবীর, ৮/২৬১; এবং মাজমাউজ জাওয়ায়েদ গ্রন্থে (৩/১১৫) বলা হয়েছে: "এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)"। তেমনিভাবে আল-মুনজিরি 'আত-তারগিব' গ্রন্থে (১/৬৭৯) এর সনদকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং আলবানি 'সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব' গ্রন্থে (১/৫৩২) একে হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌21 - الصدقة دواء للأمراض (1).

‌‌ثالثاً: أفضل صدقات التطوع على النحو الآتي:

‌‌1 - من أفضل الصدقات التصدق بسقي الماء؛ لحديث سعد بن عبادة رضي الله عنه، قال: قلت: يا رسول الله، إن أمي ماتت أفأتصدق عنها؟ قال: ((نعم)). قلت: فأي الصدقة أفضل؟ قال: ((سقي الماء)) فتلك سقاية سعدٍ بالمدينة)). وفي لفظ لأبي داود: ((فحفر بئراً وقال: هذه لأم سعدٍ)) (2). ولكن يتحرى المتصدق حاجة الناس فيتصدق بما تدعو إليه الحاجة، سواء كانت في الماء أو في غيره (3).

‌‌2 - الصدقة على ذي الرحم الذي يضمر العداوة في باطنه من أفضل الصدقات؛ لحديث حكيم بن حزام رضي الله عنه، أن رجلاً سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصدقات أيُّها أفضل؟ قال: ((على ذي الرحم الكاشِح)) (4) (5). وعن أم كلثوم

--------------------------------------------

(1) جاء في ذلك خبر مرسل من مراسيل أبي داود، وحسنه الألباني لغيره، في صحيح الترغيب والترهيب، [1/ 458]، برقم 744، وفي صحيح الجامع، 3/ 140، برقم 3358.

(2) النسائي، كتاب الوصايا، باب ذكر الاختلاف على سفيان، برقم 3663، 3664، وأبو داود، كتاب الزكاة، باب في فضل سقي الماء، برقم 1681، وابن ماجه، كتاب الأدب، باب صدقة الماء، برقم 3684، وأحمد، 5/ 285، وحسنه الألباني في صحيح سنن النسائي، 2/ 560، وفي صحيح سنن أبي داود، 1/ 466.

(3) هذا ما رجحه شيخنا ابن باز رحمه الله أثناء تقريره على حديث سعد في فضل سقي الماء، في سنن النسائي، برقم 3665، وضعف الحديث رحمه الله، ولكن الألباني حسنه كما تقدم.

(4) الكاشِحُ: هو الذي يظهر عداوته في كشحه: وهو خصره، يعني أن أفضل الصدقة على ذي الرحم القاطع المضمر العداوة في باطنه، [المنذري في الترغيب والترهيب، 1/ 682]، وقيل: ((الكاشح: العدو الذي يضمر عداوته ويطوي عليها كَشْحَهُ: أي باطنه، والكشح: الخصر، أو الذي يطوي عنك كشحه ولا يألفك، وفي حديث سعد: إن أميركم هذا لأهضم الكشحين: أي دقيق الخصرين)) النهاية لابن الأثير، 4/ 176.

(5) أحمد 3/ 402، والنسخة المحققة، برقم 15320، 24/ 36، وله شواهد، وطرق، ولهذا قال محققو المسند: ((حديث صحيح)).وقال الألباني في إرواء الغليل 3/ 404،برقم 892: (صحيح)).
‌‌২১ - দান-সদকা রোগের ঔষধ (১)।

‌‌তৃতীয়ত: সর্বোত্তম নফল সদকাসমূহ নিম্নরূপ:

‌‌১ - সর্বোত্তম সদকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো পানি পান করানোর মাধ্যমে দান করা; সা'দ ইবন উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা ইন্তেকাল করেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে দান করব? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ))। আমি বললাম: কোন সদকাটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: ((পানি পান করানো))। অতঃপর তা মদিনায় ‘সা'দের পানি সরবরাহ কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত হলো। আবু দাউদের এক বর্ণনায় রয়েছে: ((অতঃপর তিনি একটি কূপ খনন করলেন এবং বললেন: এটি সা'দের মায়ের জন্য)) (২)। তবে দানকারী মানুষের প্রয়োজন যাচাই করবেন এবং যে জিনিসের অভাব বেশি তা-ই দান করবেন, চাই তা পানি হোক বা অন্য কিছু (৩)।

‌‌২ - সেই আত্মীয়কে দান করা যে অন্তরে শত্রুতা পোষণ করে, তা অন্যতম শ্রেষ্ঠ সদকা; হাকীম ইবন হিযাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সদকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, কোনটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: ((বিদ্বেষী আত্মীয়ের ওপর)) (৪) (৫)। এবং উম্মে কুলসুম থেকে বর্ণিত...

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে আবু দাউদের মুরসাল বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা এসেছে এবং আলবানী একে অন্য বর্ণনার ভিত্তিতে হাসান (حسنه لغيره) বলেছেন; সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, [১/৪৫৮], নং ৭৪৪, এবং সহীহ আল-জামি‘, ৩/১৪০, নং ৩৩৫৮।

(২) নাসায়ী, কিতাবুল ওয়াসায়া, সুফিয়ানের বর্ণনার পার্থক্য বিষয়ক অধ্যায়, নং ৩৬৬৩, ৩৬৬৪; এবং আবু দাউদ, কিতাবুজ জাকাত, পানি পান করানোর ফযীলত বিষয়ক অধ্যায়, নং ১৬৮১; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুল আদাব, পানির সদকা বিষয়ক অধ্যায়, নং ৩৬৮৪; এবং আহমাদ, ৫/২৮৫; আলবানী একে সহীহ সুনানে নাসায়ী, ২/৫৬০ এবং সহীহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৬৬-এ হাসান (حسن) বলেছেন।

(৩) এটিই আমাদের শায়খ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) প্রাধান্য দিয়েছেন যখন তিনি সুনানে নাসায়ীতে পানি পানের ফযীলত সম্পর্কে সা’দ বর্ণিত হাদিসের ওপর আলোচনা করছিলেন, নং ৩৬৬৫; তিনি হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, তবে আলবানী একে হাসান (حسن) বলেছেন যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে।

(৪) কাশিহ (الكاشح): সে-ই ব্যক্তি যে তার পার্শ্বদেশ বা কুক্ষিতে শত্রুতা প্রকাশ করে; আর তা হলো তার কোমর। অর্থাৎ সর্বোত্তম সদকা হলো সেই সম্পর্কচ্ছেদকারী আত্মীয়ের ওপর যে তার অন্তরে শত্রুতা পোষণ করে, [মুনযিরী প্রণীত আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ১/৬৮২]। আরও বলা হয়েছে: ((কাশিহ: সেই শত্রু যে শত্রুতা গোপন করে এবং তার পার্শ্বদেশ বা অন্তরে তা গুটিয়ে রাখে। কাশিহ অর্থ পার্শ্বদেশ, অথবা এমন ব্যক্তি যে আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং আপনার সাথে হৃদ্যতা রাখে না। সা’দের হাদিসে আছে: তোমাদের এই নেতা তো অতি কৃশোদর অর্থাৎ যার কোমর চিকন)) আন-নিহায়াহ লি ইবনিল আসীর, ৪/১৭৬।

(৫) আহমাদ ৩/৪০২, এবং সম্পাদিত সংস্করণ, নং ১৫৩২০, ২৪/৩৬; এর বিভিন্ন সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) ও সূত্র (طرق) রয়েছে, এ কারণেই মুসনাদের সম্পাদকগণ বলেছেন: ((সহীহ (صحيح) হাদিস))। আলবানী ইরওয়াউল গালীল ৩/৪০৪, নং ৮৯২-এ বলেছেন: ((সহীহ (صحيح)))।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
بنت عقبة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أفضل الصدقة على ذي الرحم الكاشح)) (1).

 

‌‌3 - أفضل الصدقة صدقة الصحيح الشحيح، فيغتنم حياته قبل موته، وصحته قبل مرضه، فينفق ولا يبخل، قال الله تعالى: {قُلْ لِعِبَادِيَ الَّذِينَ آَمَنُوا يُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خِلَال} (2)، ومعنى ((خلال)) لا خلة ولا صداقة (3).

قال العلامة السعدي رحمه الله: {مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خِلَالٌ} أي لا ينفع فيه شيء، ولا سبيل إلى استدراك ما فات، لا بمعاوضة ببيع وشراء، ولا بهبة خليل وصديق، فكل امرئ له شأن يغنيه، فليقدِّم العبد لنفسه، ولينظر ما قدمه لغدٍ؛ وليتفقَّد أعماله، ويحاسب نفسه قبل الحساب الأكبر)) (4).

وقال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ

--------------------------------------------

(1) الحاكم، 1/ 406، وصححه على شرط مسلم، ووافقه الذهبي، وقال الألباني في إرواء الغليل، 3/ 405: ((وهو كما قال)).

(2) سورة إبراهيم، الآية: 31.

(3) تفسير البغوي 3/ 35.

(4) تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، ص 426.
উকবা-র কন্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((বিদ্বেষ পোষণকারী নিকটাত্মীয়ের জন্য ব্যয় করা সর্বোত্তম সদকা)) (১)।

 

‌‌৩ - সর্বোত্তম সদকা হলো সুস্থ ও কৃপণ থাকা অবস্থায় করা সদকা, তাই নিজের জীবনকে মৃত্যুর আগে এবং সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে গনিমত মনে করে ব্যয় করা উচিত এবং কৃপণতা করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমার মুমিন বান্দাদের যারা ঈমান এনেছে তাদের বলুন, তারা যেন নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে ব্যয় করে সেই দিন আসার আগে, যেদিন কোনো কেনাবেচা বা বন্ধুত্ব থাকবে না} (২), আর 'খিলাল' শব্দের অর্থ হলো বন্ধুত্ব বা সৌহার্দ্যহীনতা (৩)।

আল্লামা সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: {সেই দিন আসার আগে যেদিন কোনো কেনাবেচা বা বন্ধুত্ব থাকবে না} অর্থাৎ সেদিন কোনো কিছুই উপকারে আসবে না, আর যা অতিবাহিত হয়েছে তা ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না—না কেনাবেচার মাধ্যমে, আর না কোনো বন্ধুর হিবাহ বা উপঢৌকনের মাধ্যমে। সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তির এমন অবস্থা হবে যা তাকে অন্য সবার থেকে বিমুখ রাখবে। অতএব বান্দার উচিত নিজের জন্য অগ্রিম কিছু পাঠানো এবং আগামীর জন্য সে কী পাঠিয়েছে তা লক্ষ্য করা; তার উচিত নিজের আমলসমূহ যাচাই করা এবং মহা হিসাবের আগেই নিজের হিসাব নেওয়া)) (৪)।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো সেই দিন আসার আগে, যেদিন কোনো কেনাবেচা, বন্ধুত্ব বা সুপারিশ থাকবে না, আর কাফিররাই হলো...

--------------------------------------------

(১) আল-হাকেম, ১/৪০৬; তিনি একে মুসলিমের শর্তানুসারে (على شرط مسلم) সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আলবানি ইরওয়াউল গালিল গ্রন্থে (৩/৪০৫) বলেছেন: "তিনি যেমনটি বলেছেন তা সঠিক।"

(২) সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩১।

(৩) তাফসিরে বাগভি ৩/৩৫।

(৪) তাইসিরুল কারিমির রাহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৪২৬।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
الظَّالِمُونَ} (1). وهذا من فضل الله ولطفه بعباده أن أمرهم بتقديم شيء مما رزقهم؛ ليكون لهم ذخراً وأجراً في يوم يحتاج فيه العاملون إلى مثقال

ذرة من الخير، فلا بيع فيه، ولو افتدى الإنسان نفسه بملء الأرض ذهباً ليفتدي به من عذاب يوم القيامة ما تقبل منه، ولم ينفعه خليل ولا صديق: لا بوجاهة، ولا بشفاعة (2).

وقال سبحانه وتعالى: {وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ} (3).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! أي الصدقة أعظم أجراً؟ قال: ((أن تصدَّق وأنت صحيح شحيح، تخشى الفقر، وتأمل الغنى، ولا تمهل حتى إذا بلغت الحلقوم قلت: لفلانٍ كذا، ولفلانٍ كذا، وقد كان لفلان)) (4).

الشح عام غالب في حال الصحة، فإذا سمح فيها وتصدق كان أصدق في نيته وأعظم لأجره، بخلاف من أشرف على الموت وأيس من الحياة، ورأى مصير المال لغيره؛ فإن صدقته حينئذ ناقصة بالنسبة إلى حالة الصحة والشح رجاء البقاء وخوف الفقر، وهو يطمع في الغنى (5)،

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 254.

(2) انظر: تفسير السعدي، تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، ص 110.

(3) سورة المنافقون، الآية: 10.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب فضل صدقة الصحيح الشحيح، برقم 1419، وكتاب الوصايا، باب الصدقة عند الموت، برقم 2748، ومسلم، كتاب الزكاة، باب بيان أن أفضل الصدقة صدقة الصحيح الشحيح، برقم 1032.

(5) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 129 - 130.
...জালিমরা।} (১)। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এক অপার অনুগ্রহ ও দয়া যে, তিনি তাদেরকে তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে কিছু অগ্রিম ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন; যাতে তা তাদের জন্য সঞ্চিত পুণ্য ও প্রতিদান হিসেবে থাকে এমন একদিনের জন্য, যেদিন আমলকারীরা বিন্দুমাত্র

কল্যাণের মুখাপেক্ষী হবে। সেদিন কোনো কেনাবেচা নেই; আর যদি কোনো ব্যক্তি কিয়ামত দিবসের শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণও মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চায়, তবুও তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো বন্ধু বা সুহৃদ তার উপকারে আসবে না—মর্যাদা দিয়েও নয়, আবার সুপারিশের মাধ্যমেও নয় (২)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর আমি তোমাদের যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে তোমরা ব্যয় করো তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে। অন্যথায় সে বলবে, 'হে আমার রব! যদি আপনি আমাকে আরও অল্প সময়ের জন্য অবকাশ দিতেন, তবে আমি সদকা দিতাম এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'} (৩)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! সওয়াবের দিক থেকে কোন সদকাটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: ((তুমি এমন অবস্থায় সদকা করবে যখন তুমি সুস্থ ও কৃপণ, দারিদ্র্যের আশঙ্কা করো এবং সচ্ছলতার আশা রাখো। আর তুমি সদকা করতে এমন বিলম্ব করো না যে, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে তখন তুমি বলবে, 'অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু', অথচ তা তখন অমুকের (উত্তরাধিকারীদের) জন্য হয়ে গেছে)) (৪)।

সুস্থ অবস্থায় সাধারণত মানুষের মাঝে কৃপণতা প্রবল থাকে। এমতাবস্থায় যদি কেউ উদারতা প্রদর্শন করে সদকা করে, তবে তা তার নিয়তের সততার অধিকতর প্রমাণ এবং প্রতিদানের ক্ষেত্রে অনেক বড়। পক্ষান্তরে যে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে এবং জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, আর দেখছে যে তার সম্পদ অন্যদের হাতে চলে যাচ্ছে, তার অবস্থা ভিন্ন। কেননা সেই মুহূর্তে তার সদকা করা সুস্থতা ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা ও দারিদ্র্যের আশঙ্কাকালীন কৃপণ অবস্থায় সদকা করার তুলনায় অপূর্ণাঙ্গ; যখন সে সম্পদশালী হওয়ার লোভ রাখত (৫),

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৪।

(২) দেখুন: তাফসির সাদি, তাইসিরুল কারিমির রাহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃ. ১১০।

(৩) সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত: ১০।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সুস্থ ও কৃপণ ব্যক্তির সদকার ফজিলত, নম্বর ১৪১৯; এবং অসিয়ত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মৃত্যুর সময় সদকা করা, নম্বর ২৭৪৮; এবং মুসলিম, জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: এটি বর্ণনা করা যে সর্বশ্রেষ্ঠ সদকা হলো সুস্থ ও কৃপণ অবস্থার সদকা, নম্বর ১০৩২।

(৫) দেখুন: সহিহ মুসলিমের শারহুন নববী, ৭/ ১২৯-১৩০।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهو في حال الصحة يصعب عليه إخراج المال غالباً؛ لما يخوفه به الشيطان، ويزين له من إمكان طول العمر والحاجة إلى المال؛ ولهذا قال بعض السلف عن بعض أهل الترف: يعصون الله في أموالهم مرتين:

يبخلون بها وهي في أيديهم - يعني في الحياة - ويسرفون فيها إذا خرجت عن أيديهم - يعني بعد الموت (1).

وذُكِرَ في الخبر عن أبي الدرداء مرفوعاً: ((مثل الذي يعتق أو يتصدق عند موته مثل الذي يهدي بعدما يشبع)) (2). وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز ابن باز رحمه الله يقول عن الصدقة في حال الصحة والشح: ((وهذا يدل على أن الصدقة في حال الصحة والشح أفضل، وهذا يدل على قوة الرغبة فيما عند الله، أما المريض فإنه يجود في حال مرضه؛ لأنه أيس من حياته، وصدقته مقبولة، لكن الأفضل أن تكون في حال الصحة)) (3).

 

‌‌4 - ومن أفضل الصدقة جهد المقل الذي هو قدر ما يحتمله حال قليل المال، فيكون من أفضل الصدقات؛ لحديث عبد الله بن حبشي الخثعمي أن النبي صلى الله عليه وسلم سُئل أي الأعمال أفضل؟ قال: ((إيمان لا شك فيه،

--------------------------------------------

(1) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 5/ 374.

(2) النسائي، كتاب الوصايا، باب الكراهية في تأخير الوصية، برقم 3615، والترمذي، كتاب الوصايا، باب ما جاء في الرجل يتصدق أو يعتق عند الموت، برقم 2123، وأبو داود، في كتاب العتق، برقم 3968، والحاكم، 2/ 213، وصححه ووافقه الذهبي. والبيهقي، 4/ 190، وقال الترمذي: ((هذا حديث حسن صحيح)). وحسنه الحافظ ابن حجر في الفتح، 5/ 374، وضعفه الألباني في ضعيف سنن الترمذي، ص 206؛ لأن في إسناده أبا حبيبة الطائي، لم يوثقه غير ابن حبان، ولا يعرف إلا بهذا الحديث. وقد صحح حديثه: الترمذي، والحاكم، ووافقه الذهبي، وحسنه الحافظ في الفتح، 5/ 374.

(3) سمعته أثناء تقريره على صحيح البخاري، الحديث رقم 2748.
সুস্থ অবস্থায় সাধারণত অর্থ ব্যয় করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে; কারণ শয়তান তাকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং দীর্ঘায়ু লাভ ও সম্পদের প্রয়োজনীয়তার সম্ভাবনাকে তার সামনে সুশোভিত করে তোলে। এই কারণেই পূর্বসূরিদের (সালাফ) কেউ কেউ বিলাসপ্রিয়দের সম্পর্কে বলেছেন: তারা তাদের সম্পদের ক্ষেত্রে দুইবার আল্লাহর অবাধ্য হয়:

সম্পদ যখন তাদের হাতে থাকে—অর্থাৎ জীবদ্দশায়—তখন তারা কার্পণ্য করে, আর যখন তাদের হাত থেকে বের হয়ে যায়—অর্থাৎ মৃত্যুর পর—তখন তারা অপচয় করে (১)।

আর আবু দারদা থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে: "যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর সময় দাস মুক্ত করে বা দান-সদকা করে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে পেট পূর্ণ হওয়ার পর কাউকে খাবার উপহার দেয়" (২)। আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে সুস্থতা ও কৃপণতার অবস্থায় সদকা করা সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "এটি প্রমাণ করে যে, সুস্থতা ও কৃপণতার সময় দান করা সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কাছে যা আছে তার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেয়। আর অসুস্থ ব্যক্তি তার অসুস্থতার সময় দান করে; কারণ সে তার জীবন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে পড়ে। তার দান গ্রহণযোগ্য (مقبول), তবে সুস্থ অবস্থায় দান করাই উত্তম" (৩)।

 

‌‌৪ - অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির সামর্থ্য অনুযায়ী দানও অন্যতম শ্রেষ্ঠ সদকা, যা স্বল্প সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি তার সাধ্য অনুযায়ী করে থাকে, এটি শ্রেষ্ঠ সদকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা আব্দুল্লাহ ইবন হাবশি আল-খাসআমি বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "এমন ঈমান যাতে কোনো সন্দেহ নেই,

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী বিশারহি সহিহ আল-বুখারি, ৫/৩৭৪।

(২) নাসায়ি, কিতাবুল ওয়াসায়া, অসিয়ত করতে বিলম্ব করার অপছন্দনীয়তা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬১৫; তিরমিজি, কিতাবুল ওয়াসায়া, মৃত্যুর সময় দান বা দাস মুক্ত করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২১২৩; আবু দাউদ, কিতাবুল ইতক, হাদিস নং ৩৯৬৮; আল-হাকিম, ২/২১৩ এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আয-যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। আল-বাইহাকি, ৪/১৯০। তিরমিজি বলেছেন: "এটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস"। হাফেজ ইবন হাজার ফাতহুল বারীতে একে হাসান (حسن) বলেছেন, ৫/৩৭৪; এবং আলবানি যইফ সুনান আত-তিরমিজিতে (পৃ. ২০৬) একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন; কারণ এর সনদে (إسناد) আবু হাবিবা আত-তাই রয়েছেন, ইবন হিব্বান ছাড়া আর কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে উল্লেখ করেননি এবং এই হাদিস ব্যতীত তাকে চেনা যায় না। অবশ্য তিরমিজি ও আল-হাকিম তার হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আয-যাহাবি তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং হাফেজ ফাতহুল বারীতে একে হাসান (حسن) বলেছেন, ৫/৩৭৪।

(৩) সহিহ বুখারি-এর ওপর তাঁর আলোচনার সময় আমি এটি শুনেছি, হাদিস নং ২৭৪৮।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وجهاد لا غلول فيه، وحجة مبرورة)). قيل: فأيُّ الصلاة أفضل؟ قال: ((طول القنوت)). قيل: فأيُّ الصدقة أفضل؟ قال: ((جهد المقلِّ)) (1). قيل:

فأيُّ الهجرة أفضل؟ قال: ((من هجر ما حرم الله عز وجل)). قيل: فأي الجهاد أفضل؟ قال: ((من جاهد المشركين بماله ونفسه)). قيل: فأيُّ القتل أشرف؟ قال: ((من أهريق دمه وعُقِر جواده)) (2).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((سبق درهم مائة ألف [درهم])) قالوا: يا رسول الله وكيف؟ قال: ((رجل له درهمان فأخذ أحدهما فتصدق به، ورجل له مالٌ كثير فأخذ من عُرضِ ماله مائة ألف [درهم] فتصدق بها)) (3). وظاهر الأحاديث أن الأجر على قدر حال المعطي لا على قدر المال المعطى، فصاحب الدرهمين أعطى نصف ماله، في حال لا يعطي فيها إلا الأقوياء، يكون أجره على قدر همته بخلاف الغني؛ فإنه ما أعطى نصف ماله، ولا في حال لا يعطي فيها عادة)) (4).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: يا رسول الله! أيُّ الصدقة أفضل؟ قال: ((جُهْدُ المقلِّ، وابدأ بمن تعول)) (5).

--------------------------------------------

(1) جهد المقل: هو قدر ما يحتمله حال قليل المال، [النهاية في غريب الحديث، 1/ 320] ، والمراد ما يعطيه المقل على قدر طاقته، ولا ينافيه حديث: ((خير الصدقة ما كان عن ظهر غنى))؛ لعموم الغنى القلبي، وغنى اليد. [حاشية السندي على سنن النسائي، 5/ 58].

(2) النسائي، الزكاة، باب جهد المقل، برقم 2525، وصححه الألباني في صحيح النسائي، 2/ 203.

(3) النسائي، كتاب الزكاة، باب جهد المقل، برقم 2526، 2527، وحسنه الألباني في صحيح النسائي، 2/ 203.

(4) حاشية السندي على سنن النسائي، 5/ 58.

(5) أبو داود، كتاب الزكاة، بابٌ في الرخصة في ذلك، برقم 1677، وأحمد، 2/ 358، وصححه ابن خزيمة، برقم 2444، وابن حبان، برقم 3335، والحاكم، 1/ 414، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 465.
এবং এমন জিহাদ যাতে কোনো খিয়ানত বা আত্মসাৎ নেই, আর মকবুল হজ্জ। জিজ্ঞেস করা হলো: কোন সালাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: দীর্ঘক্ষণ দন্ডায়মান থাকা (طول القنوت)। জিজ্ঞেস করা হলো: কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: স্বল্প পুঁজির অধিকারীর সাধ্যমতো দান (جهد المقل) (১)। জিজ্ঞেস করা হলো:

কোন হিজরত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন তা বর্জন করে। জিজ্ঞেস করা হলো: কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ ও জীবন দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হলো: কোন মৃত্যু সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? তিনি বললেন: যার রক্ত ঝরানো হয়েছে এবং যার ঘোড়াটি জখম করা হয়েছে (২)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: একটি দিরহাম এক লক্ষ দিরহামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে? তিনি বললেন: এক ব্যক্তির কাছে মাত্র দুটি দিরহাম ছিল, সে তার মধ্য থেকে একটি সদকা করে দিল। আর অন্য এক ব্যক্তির প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল, সে তার অগাধ সম্পদ থেকে এক লক্ষ দিরহাম নিয়ে সদকা করল (৩)। হাদিসসমূহের বাহ্যিক দিক থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিদান দাতার অবস্থার ওপর নির্ভর করে, কেবল প্রদত্ত অর্থের পরিমাণের ওপর নয়। সুতরাং দুই দিরহামের মালিক তার অর্ধেক সম্পদ দান করেছে এমন এক অবস্থায় যখন কেবল ঈমানে শক্তিশালীরাই দান করতে পারে। তাই তার প্রতিদান হবে তার সংকল্পের গভীরতা অনুযায়ী, যা ধনীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ সে তার অর্ধেক সম্পদ দান করেনি এবং সাধারণত দান করা সম্ভব নয় এমন কোনো সংকটাপন্ন অবস্থায়ও সে দান করেনি (৪)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: স্বল্প পুঁজির অধিকারীর সাধ্যমতো দান (جهد المقل), আর যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর তাদের দিয়ে শুরু করো (৫)।

--------------------------------------------

(১) জুহদুল মুকিল্ল (جهد المقل): এটি হলো অল্প সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি তার অবস্থা অনুযায়ী যতটুকু দান করার সামর্থ্য রাখে। [আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, ১/ ৩২০]। এর উদ্দেশ্য হলো সল্প সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী যা প্রদান করে। এটি ‘উত্তম সদকা হলো যা সচ্ছলতা বজায় রেখে করা হয়’—এই হাদিসের পরিপন্থী নয়; কেননা অন্তরের সচ্ছলতা ও হাতের সচ্ছলতা উভয়ই এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। [হাশিয়াতুস সিন্দী আলা সুনানিন নাসায়ি, ৫/ ৫৮]।

(২) নাসায়ি, যাকাত অধ্যায়, বাবু জুহদিল মুকিল্ল, হাদিস নং ২৫২৫; আলবানি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ নাসায়ি গ্রন্থে, ২/ ২০৩।

(৩) নাসায়ি, যাকাত অধ্যায়, বাবু জুহদিল মুকিল্ল, হাদিস নং ২৫২৬, ২৫২৭; আলবানি একে হাসান (حسن) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ নাসায়ি গ্রন্থে, ২/ ২০৩।

(৪) হাশিয়াতুস সিন্দী আলা সুনানিন নাসায়ি, ৫/ ৫৮।

(৫) আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, এ বিষয়ে অনুমতির পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৬৭৭; আহমাদ, ২/ ৩৫৮; ইবনে খুজাইমা একে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, হাদিস নং ২৪৪৪; ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, হাদিস নং ৩৩৩৫; হাকেম একে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, ১/ ৪১৪; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/ ৪৬৫।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌5 - من أفضل الصدقة ما كان عن ظهر غنى؛ لحديث حكيم بن حزام رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((اليد العليا خير من اليد السفلى، وابدأ بمن

تعول، وخير الصدقة عن ظهر غنى، ومن يستعفف يعفه الله، ومن يستغني يغنه الله)). ولفظ مسلم: ((أفضل الصدقة أو خير الصدقة عن ظهر غنىً، واليد العليا خير من اليد السفلى، وابدأ بمن تعول)) (1).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((خير الصدقة ما كان عن ظهر غنى: وابدأ بمن تعول)) (2). ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: ((خير الصدقة ما كان عن ظهر غنى)) أفضل الصدقة ما بقي صاحبها بعدها مستغنياً بما بقي معه، وتقدير: أفضل الصدقة ما أبقت بعدها غنىً يعتمده صاحبها، ويستظهر به على مصالحه، وحوائجه، وإنما كانت هذه أفضل الصدقة بالنسبة إلى من تصدق بجميع ماله؛ لأن من تصدق بالجميع يندم غالباً، أو قد يندم إذا احتاج، ويودُّ أنه لم يتصدق بخلاف من بقي بعدها مستغنياً، فإنه لا يندم عليها بل يُسرُّ بها (3) وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((والمعنى أفضل الصدقة ما أخرجه الإنسان من ماله بعد أن يستبقي منه قدر الكفاية)) (4) (5).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب لا صدقة إلا عن ظهر غنىً، برقم 1427، ومسلم، كتاب الزكاة، باب بيان أن اليد العليا خير من اليد السفلى، وأن اليد العليا هي المنفقة، وأن السفلى هي الآخذة، برقم 1034.

(2) البخاري، كتاب الزكاة، باب لا صدقة إلا عن ظهر غنى، برقم 426.

(3) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 131.

(4) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 3/ 296.

(5) اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في الصدقة بجميع المال، قال الإمام البخاري رحمه الله تعالى: ((باب لا صدقة إلا عن ظهر غنىً، ومن تصدق وهو محتاجٌ، أو أهله محتاجٌ، أو عليه دينٌ، فالدين أحق أن يقضى: من الصدقة، والعتق، والهبة، وهو ردٌّ عليه، ليس له أن يتلف أموال الناس، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((من أخذ أموال الناس يريد إتلافها أتلفه الله)) إلا أن يكون معروفاً بالصبر، فيؤثر على نفسه ولو كان به خصاصة، كفعل أبي بكر رضي الله عنه حين تصدق بماله، وكذلك آثر الأنصار المهاجرين، ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن إضاعة المال، فليس له أن يضيِّع أموال الناس بعلة الصدقة، وقال كعب رضي الله عنه: قلت: يا رسول الله! إن من توبتي أن أنخلع من مالي صدقة إلى الله وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم، قال: ((أمسك عليك بعض مالك فهو خير لك)). قلت: ((فإني أمسك سهمي الذي بخيبر)) [البخاري، كتاب الزكاة، باب لا صدقة إلا عن ظهر غنى، قبل الحديث رقم 1426]. قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((قال الطبري وغيره: من تصدق بماله كله في صحة بدنه وعقله، حيث لا دَين عليه، وكان صبوراً على الإضاقة، ولا عيال له، أو له عيال يصبرون أيضاً فهو جائز، فإن فُقِدَ شيء من هذه الشروط كره. وقال بعضهم: هو مردود، وروي عن عمر حيث رد على غيلان الثقفي قسمة ماله، ويمكن أن يحتج له بقصة المدبر الآتي ذكره؛ فإنه صلى الله عليه وسلم باعه وأرسل ثمنه إلى الذي دبَّره؛ لكونه كان محتاجاً. وقال آخرون: يجوز من الثلث ويردُّ عليه الثلثان، وهو قول: الأوزاعي، ومكحول. … وعن مكحول أيضاً يردُّ ما زاد على النصف.

قال الطبري: والصواب عندنا الأول من حيث الجواز، والمختار من حيث الاستحباب أن يجعل ذلك من الثلث جمعاً بين قصة أبي بكر وحديث كعب والله أعلم)). [فتح الباري، 3/ 295].

وقال الإمام النووي رحمه الله: ((وقد اختلف العلماء في الصدقة بجميع ماله فمذهبنا أنه مستحب لمن لا دَين عليه، ولا له عيال لا يصبرون، بشرط أن يكون ممن يصبر على الإضاقة، والفقر، فإن لم تجتمع هذه الشروط فهو مكروه)). [شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 131]. وسمعت شيخنا ابن باز رحمه الله أثناء تقريره على الحديث رقم 1426، من صحيح البخاري يقول: (( … الإنسان لا يتصدق على الناس ويترك من أوجب عليه الله … الإنفاق عليه، إلا إذا آثرت الأسرة ذلك، فإذا آثرت الزوجة، أو الولد الكبير على نفسه فلا بأس، وهكذا من كان عليه دَين فإذا كانت الصدقة تضر بالدين فيبدأ بالدين، وكذا الحج إذا كان لا يستطيع قضاء الدين … )).
‌‌৫ - শ্রেষ্ঠ সদকা হলো তা, যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়; হাকিম বিন হিজাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম। যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে, তাদের দিয়ে শুরু করো। আর শ্রেষ্ঠ সদকা হলো তা, যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়। যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন))। মুসলিমের শব্দে রয়েছে: ((শ্রেষ্ঠ সদকা বা সর্বোত্তম সদকা হলো তা, যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়; আর উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম। যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে, তাদের দিয়ে শুরু করো)) (১)।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((শ্রেষ্ঠ সদকা হলো তা, যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়; আর যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে, তাদের দিয়ে শুরু করো)) (২)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: ((শ্রেষ্ঠ সদকা হলো তা, যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়))-এর অর্থ হলো, সেই সদকা সর্বোত্তম যা প্রদানের পর দাতা তার অবশিষ্ট সম্পদ দ্বারা অমুখাপেক্ষী থাকে। এর ব্যাখ্যা হলো: শ্রেষ্ঠ সদকা সেটিই, যা প্রদানের পর এমন সচ্ছলতা অবশিষ্ট থাকে যার ওপর দাতা নির্ভর করতে পারে এবং যা তার প্রয়োজন ও স্বার্থ পূরণে সহায়ক হয়। মূলত এটি সেই ব্যক্তির তুলনায় শ্রেষ্ঠ সদকা বলা হয়েছে যে তার সমস্ত সম্পদ দান করে দেয়; কারণ যে ব্যক্তি সব সম্পদ দান করে দেয় সে সাধারণত লজ্জিত হয়, অথবা অভাবের সময় সে অনুতপ্ত হতে পারে এবং কামনা করে যে সে যদি দান না করত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দান করার পর সচ্ছল থাকে, সে অনুতপ্ত হয় না বরং এতে আনন্দিত হয় (৩)। হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এর অর্থ হলো, সর্বোত্তম সদকা হলো তা, যা মানুষ নিজের প্রয়োজনীয় পরিমাণ সম্পদ রেখে দেওয়ার পর তার অতিরিক্ত অংশ থেকে প্রদান করে)) (৪) (৫)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সচ্ছলতা বজায় রেখে দান করা ব্যতীত কোনো সদকা নেই, হাদিস নম্বর ১৪২৭; এবং মুসলিম, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম এবং উঁচু হাত হলো দানকারী এবং নিচু হাত হলো গ্রহণকারী, হাদিস নম্বর ১০৩৪।

(২) বুখারি, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সচ্ছলতা বজায় রেখে দান করা ব্যতীত কোনো সদকা নেই, হাদিস নম্বর ৪২৬।

(৩) সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ), ৭/ ১৩১।

(৪) সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারি, ৩/ ২৯৬।

(৫) ওলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) সমস্ত সম্পদ সদকা করার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((পরিচ্ছেদ: সচ্ছলতা বজায় রেখে দান করা ব্যতীত কোনো সদকা নেই। যে ব্যক্তি নিজে অভাবী হওয়া সত্ত্বেও অথবা তার পরিবার অভাবী হওয়া সত্ত্বেও কিংবা তার ওপর ঋণ থাকা অবস্থায় দান করল—তবে ঋণ পরিশোধ করাই সদকা, দাসমুক্তি বা উপহারের চেয়ে বেশি হকদার। আর এমন দান প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد), কেননা কারো অধিকার নেই মানুষের সম্পদ নষ্ট করার। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ নষ্ট করার নিয়তে তা গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।’ তবে যদি দাতা ধৈর্যশীল হিসেবে পরিচিত হন, তবে তিনি নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিতে পারেন যদিও তিনি অভাবগ্রস্ত হন, যেমনটি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) করেছিলেন যখন তিনি তার সমস্ত সম্পদ সদকা করেছিলেন। একইভাবে আনসারগণ মুহাজিরদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পদ অপচয় করতে নিষেধ করেছেন, তাই সদকার অজুহাতে মানুষের সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার তাওবার অংশ হিসেবে আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য সদকা হিসেবে ত্যাগ করতে চাই। তিনি বললেন: ‘তোমার কিছু সম্পদ নিজের কাছে রাখো, তা তোমার জন্য কল্যাণকর।’ আমি বললাম: ‘তবে আমি খায়বারে আমার অংশটি রেখে দিচ্ছি’)) [বুখারি, জাকাত অধ্যায়, হাদিস নম্বর ১৪২৬-এর পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ]। হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তাবারী ও অন্যান্যরা বলেছেন: যে ব্যক্তি সুস্থ ও সবল অবস্থায়, ঋণমুক্ত থাকা অবস্থায় তার সমস্ত সম্পদ দান করে দেয় এবং সে অভাব সইবার মতো ধৈর্যশীল হয়, আর তার এমন কোনো পরিবার নেই (যাদের ভরণপোষণ জরুরি) অথবা পরিবার থাকলেও তারাও ধৈর্যশীল, তবে তা বৈধ। কিন্তু এই শর্তগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তা মকরুহ (كره)। কেউ কেউ বলেছেন: তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি গাইলান আস-সাকাফির সম্পদ বণ্টন রদ করে দিয়েছিলেন। এর সপক্ষে মুদাব্বার (মৃত্যুর পর মুক্ত হবে এমন দাস) এর ঘটনাটি দলিল হিসেবে পেশ করা যায়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বিক্রি করে তার মূল্য সেই দাতার কাছে পাঠিয়েছিলেন যে তাকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল, কারণ দাতা নিজে অভাবী ছিল। অন্য ওলামাগণ বলেছেন: এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দান করা বৈধ এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এটি আওযায়ী ও মাকহুলের মত। ... মাকহুল থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, অর্ধেকের বেশি হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

তাবারী বলেন: বৈধতার দিক থেকে আমাদের কাছে প্রথম মতটিই সঠিক। আর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত হলো, আবু বকরের ঘটনা ও কাবের হাদিসের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দানকে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, আল্লাহই ভালো জানেন))। [ফাতহুল বারি, ৩/ ২৯৫]।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((সমস্ত সম্পদ সদকা করার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। আমাদের মাযহাব মতে, এটি তার জন্য মুস্তাহাব (مستحب) যে ঋণী নয় এবং যার এমন পরিবার নেই যারা ধৈর্য ধরতে পারবে না, শর্ত হলো তাকে অভাব ও দারিদ্র্যের ওপর ধৈর্যশীল হতে হবে। যদি এই শর্তগুলো একত্রিত না হয়, তবে তা মকরুহ (مكروه)))। [সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ, ৭/ ১৩১]। আমি আমাদের শায়খ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-কে সহিহ বুখারির ১৪২৬ নম্বর হাদিসের আলোচনার সময় বলতে শুনেছি: (( ... মানুষ অন্যকে সদকা করবে আর আল্লাহ যার ওপর খরচ করা ওয়াজিব (أوجب) করেছেন তাকে বঞ্চিত করবে এমনটি হবে না... তবে যদি পরিবার নিজেরাই ত্যাগ স্বীকার করে নেয়, যেমন স্ত্রী বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি নিজেদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেয় তবে সমস্যা নেই। একইভাবে যার ওপর ঋণ আছে, সদকা যদি ঋণ পরিশোধে বাধাগ্রস্ত করে তবে তাকে ঋণ পরিশোধ দিয়েই শুরু করতে হবে। হজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, যদি সে ঋণ পরিশোধে সক্ষম না হয়...))।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌6 - ومن أفضل الصدقة ما يعطى الأقارب؛ لحديث سلمان بن عامر رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الصدقة على المسكين صدقة، وعلى ذي الرحم اثنتان: صدقة، وصلة)) (1).

--------------------------------------------

(1) النسائي، برقم 2581، والترمذي، برقم 658، وصححه الألباني في صحيح سنن النسائي،

2/ 223، وسيأتي تخريجه.
৬ - এবং সর্বোত্তম সদাকাহ হলো তা যা নিকটাত্মীয়দের প্রদান করা হয়; সালমান ইবনে আমের (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি নবি (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মিসকিনকে দান করা কেবল সদাকাহ, আর নিকটাত্মীয়কে দান করার মধ্যে দুটি সওয়াব রয়েছে: সদাকাহ এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা)) (১)।

--------------------------------------------

(১) নাসাঈ, নম্বর ২৫৮১; তিরমিজি, নম্বর ৬৫৮; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে নাসাঈ-তে,

২/ ২২৩, এবং এর তখরিজ (تخريج) সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان أبو طلحة أكثر الأنصار بالمدينة مالاً من نخل، وكان أحب أمواله إليه بَيْرُحاء وكانت مستقبلة المسجد، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخلها ويشرب من ماء فيها طيب، قال أنس: فلما

نزلت هذه الآية: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} (1)، قام أبو طلحة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، إن الله تبارك وتعالى يقول: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} وإن أحبَّ أموالي إليَّ

بَيرُحاء (2) وإنها صدقة لله أرجو برَّها وذخرها عند الله، فضعها يا رسول الله حيث أراك الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((بَخٍ (3)، ذلك مال رابح (4) ذلك مال رابح، وقد سمعتُ ما قلت وإني أرى أن تجعلها في الأقربين)). فقال أبو طلحة: أفعل يا رسول الله، فقسمها أبو طلحة في أقاربه وبني عمه)). وفي لفظ: ((فجعلها في حسان بن ثابت وأبي بن كعب)) (5).

قال الإمام النووي رحمه الله: ((وفي هذا الحديث من الفوائد … أن الصدقة على الأقارب أفضل من الأجانب إذا كانوا محتاجين، وفيه أن القرابة يرعى

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 92.

(2) بيرحاء: حائط يسمى بهذا الاسم، وليس اسم بئر، شرح النووي، 7/ 89.

(3) بَخٍ: معناه تعظيم الأمر وتفخيمه، وهي كلمة تقال عند الإعجاب، [شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 90].

(4) مال رابح: ومعناه بهذا اللفظ ظاهر، وأما لفظ ((رايح)) في بعض الأوجه: فمعناه رايح عليك أجره ونفعه في الآخرة، [شرح النووي، 7/ 91].

(5) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب الزكاة على الأقارب، برقم 1461، ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين، برقم 998.
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু তালহা (রা.) মদীনার আনসারদের মধ্যে খেজুর বাগানের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী ছিলেন। তাঁর নিকট তাঁর সম্পদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল 'বাইরুহা' নামক বাগানটি, যা মসজিদের ঠিক সামনে অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেখানে প্রবেশ করতেন এবং সেখানকার সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস (রা.) বলেন: যখন

এই আয়াত নাজিল হলো: {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো} (১), তখন আবু তালহা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলছেন: {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো}। আর আমার নিকট আমার সম্পদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হলো

বাইরুহা (২)। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান (صدقة); আমি আল্লাহর নিকট এর পুণ্য ও পরকালীন সঞ্চয় হিসেবে আশা রাখি। সুতরাং হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যেভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন, আপনি সেভাবেই এটি ব্যয় করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ((চমৎকার (بخ)! এটি একটি লাভজনক (رابح) সম্পদ, এটি একটি লাভজনক (رابح) সম্পদ। তুমি যা বলেছ আমি তা শুনেছি। আমি মনে করি তুমি এটি তোমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দাও))। তখন আবু তালহা (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা-ই করব। অতঃপর আবু তালহা (রা.) সেটি তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((তিনি তা হাসান ইবনে সাবিত ও উবাই ইবনে কাবকে প্রদান করেন)) (৫)।

ইমাম নববী (রহি.) বলেন: ((এই হাদিসের শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে … যে, আত্মীয়রা অভাবগ্রস্ত হলে তাদের দান (صدقة) করা অন্যদের তুলনায় অধিক উত্তম। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৯২।

(২) বাইরুহা: এটি একটি বাগানের নাম, কোনো কূপের নাম নয়। শারহুন নববী, ৭/ ৮৯।

(৩) বাখিন (بخ): এর অর্থ হলো বিষয়টির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য প্রকাশ করা। এটি বিস্ময় বা প্রশংসার সময় ব্যবহৃত একটি শব্দ। [সহিহ মুসলিমের শারহুন নববী, ৭/ ৯০]।

(৪) লাভজনক সম্পদ: এই শব্দের অর্থ সুস্পষ্ট। তবে কিছু বর্ণনায় ‘রাইহ’ (رايح) শব্দ এসেছে: যার অর্থ হলো পরকালে এর সওয়াব ও উপকারিতা আপনার দিকে ফিরে আসবে। [শারহুন নববী, ৭/ ৯১]।

(৫) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: আত্মীয়দের জাকাত প্রদান, হাদিস নং ১৪৬১; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: নিকটাত্মীয়দের নিকট ব্যয় ও দান (صدقة) করার শ্রেষ্ঠত্ব, হাদিস নং ৯৯৮।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
حقها في صلة الأرحام، وإن لم يجتمعوا إلا في أبٍ بعيد؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أبا طلحة أن يجعل صدقته في الأقربين، فجعلها في أبي بن كعب وحسان ابن ثابت، وإنما يجتمعان معه في الجد السابع)) (1).

وعن ميمونة بنت الحارث رضي الله عنها أنها أعتقت وليدة في زمان رسول الله

صلى الله عليه وسلم، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((لو أعطيتيها أخوالك كان أعظم لأجرك)) (2).

قال الإمام النووي رحمه الله: ((فيه فضيلة صلة الرحم، والإحسان إلى الأقارب، وأنه أفضل من العتق … وفيه الاعتناء بأقارب الأم إكراماً بحقها، وهو زيادة في برها، وفيه جواز تبرع المرأة بمالها بغير إذن زوجها)) (3).

وعن أبي سعيد رضي الله عنه في قصة زينب امرأة ابن مسعود: أنها قالت: يا نبي الله إنك أمرت اليوم بالصدقة وكان عندي حلي لي فأردت أن أتصدق بها، فزعم ابن مسعود أنه وولده أحقُّ من تصدقت به عليهم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((صدق ابن مسعود: زوجك وولدك أحقّ من تصدقت به عليهم)) (4)؛ ولحديث زينب الآخر، وفيه: أنها أرسلت بلالاً يسأل النبي صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 91.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الهبة، باب بمن يبدأ بالهبة، برقم 594 ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين، برقم 999.

(3) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 91.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب الزكاة على الأقارب، برقم 1462، ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين، والزوج، والأولاد، والوالدين ولو كانوا مشركين، برقم 1000.
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা (صلة الأرحام) করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রাপ্য অধিকার, যদিও তাদের মিলনস্থল কোনো দূরবর্তী ঊর্ধ্বতন পুরুষ হয়; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু তালহাকে তাঁর সদকা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে তিনি তা উবাই ইবনে কাব এবং হাসসান ইবনে সাবিতকে প্রদান করেন। অথচ তাঁদের সাথে তাঁর মিলনস্থল সপ্তম ঊর্ধ্বতন পুরুষ পর্যন্ত পৌঁছে।)) (১)।

মায়মুনা বিনতে আল-হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে একজন দাসীকে মুক্ত করেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তা উল্লেখ করেন। তখন তিনি বললেন: ((তুমি যদি তাকে তোমার মামাদের দিয়ে দিতে, তবে তা তোমার জন্য অধিক নেকির কারণ হতো)) (২)।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এর মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা (صلة الرحم) ও নিকটাত্মীয়দের প্রতি সদাচরণের ফযিলত নিহিত রয়েছে এবং এটি দাসমুক্ত করার চেয়েও উত্তম … এতে মায়ের অধিকারের সম্মানে তাঁর আত্মীয়দের প্রতি যত্নবান হওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা তাঁর প্রতি সদাচরণেরই নামান্তর। এছাড়াও এতে স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নারীর নিজস্ব সম্পদ দান করার বৈধতা প্রমাণিত হয়)) (৩)।

আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ইবনে মাসউদের স্ত্রী যয়নবের ঘটনা সম্পর্কে বর্ণিত: তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর নবী! আপনি আজ সদকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমার কাছে আমার কিছু অলঙ্কার ছিল, যা আমি সদকা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ইবনে মাসউদ দাবি করলেন যে, তিনি এবং তাঁর সন্তানরাই আমার নিকট থেকে সদকা পাওয়ার অধিক হকদার।' তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((ইবনে মাসউদ সত্য বলেছে; তোমার স্বামী ও সন্তানরাই তোমার নিকট থেকে সদকা পাওয়ার অধিক হকদার)) (৪); এবং যয়নবের অন্য একটি হাদিসের কারণেও এটি প্রমাণিত, যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিলালকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠিয়েছিলেন:

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিমের উপর নববীর ব্যাখ্যা, ৭/ ৯১।

(২) সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه): বুখারী, কিতাবুল হিবা, কার মাধ্যমে হিবা শুরু করতে হয় পরিচ্ছেদ, নম্বর ৫৯৪ এবং মুসলিম, কিতাবুজ যাকাত, নিকটাত্মীয়দের ওপর ব্যয় ও সদকার ফযিলত পরিচ্ছেদ, নম্বর ৯৯৯।

(৩) সহীহ মুসলিমের উপর নববীর ব্যাখ্যা, ৭/ ৯১।

(৪) সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه): বুখারী, কিতাবুজ যাকাত, নিকটাত্মীয়দের যাকাত প্রদান পরিচ্ছেদ, নম্বর ১৪৬২ এবং মুসলিম, কিতাবুজ যাকাত, নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান এবং অমুসলিম হলেও পিতামাতার ওপর ব্যয় ও সদকার ফযিলত পরিচ্ছেদ, নম্বর ১০০০।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
أيجزئ عني أن أنفق على زوجي، وأيتام في حجري؟ فسأله فقال: ((نعم، ولها أجران: أجر القرابة وأجر الصدقة)). وفي لفظ مسلم: ((لهما أجران: أجر القرابة وأجر الصدقة))؛ لأنها كان معها امرأة من الأنصار حاجتها حاجتها (1).

قال الإمام النووي رحمه الله: ((فيه الحث على الصدقة على الأقارب وصلة الأرحام، وأن فيها أجرين)) (2).

 

‌‌7 - أفضل النفقات النفقة على العيال والأهل والأقربين: قال الله سبحانه: {قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ} (3). فأولى الناس بالإنفاق من الخير وأحقهم بالتقديم أعظمهم حقًّا عليك، وهم الوالدان الواجب برهما، والمحرم عقوقهما، ومن أعظم برهما النفقة عليهما، ومن أعظم العقوق ترك الإنفاق عليهما؛ ولهذا كانت النفقة عليهما واجبة على الولد الموسر، ومن بعد الوالدين: الأقربون على اختلاف طبقاتهم: الأقرب، فالأقرب، على حسب القرب والحاجة، فالإنفاق عليهم صدقة وصلة (4).

وقال تعالى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب الزكاة على الزوج والأيتام في الحجر، برقم 1466، ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين والزوج والأولاد، برقم 1000.

(2) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 92.

(3) سورة البقرة، الآية: 215.

(4) انظر: تيسير الكريم المنان في تفسير كلام الرحمن، ص 96.
আমার স্বামী এবং আমার তত্ত্বাবধানে থাকা এতিমদের জন্য ব্যয় করা কি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: ((হ্যাঁ, আর তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব: আত্মীয়তার সওয়াব এবং সদকার সওয়াব))। আর মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: ((তাদের উভয়ের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে: আত্মীয়তার সওয়াব এবং সদকার সওয়াব)); কারণ তাঁর সাথে একজন আনসারি মহিলা ছিলেন যার প্রয়োজনও ছিল একই রকম (১)।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এতে নিকটাত্মীয়দের ওপর সদকা করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, আর এতে রয়েছে দুটি সওয়াব)) (২)।

 

‌‌৭ - সর্বোত্তম ব্যয় হলো পরিবার-পরিজন এবং নিকটাত্মীয়দের ওপর ব্যয়: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তুমি বলো, তোমরা যে কল্যাণকর সম্পদ ব্যয় করো, তা পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য। আর তোমরা যে কোনো ভালো কাজ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত} (৩)। সুতরাং কল্যাণকর সম্পদ থেকে ব্যয়ের জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত এবং অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি তিনি, যার হক আপনার ওপর সবচেয়ে বেশি। আর তারা হলেন পিতা-মাতা, যাদের সাথে সদাচরণ করা আবশ্যক (واجب) এবং যাদের অবাধ্য হওয়া নিষিদ্ধ (محرم)। তাদের প্রতি শ্রেষ্ঠ সদাচরণের অন্যতম হলো তাদের জন্য ব্যয় করা, আর অবাধ্যতার অন্যতম দিক হলো তাদের জন্য ব্যয় করা বর্জন করা। এ কারণেই সচ্ছল সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ আবশ্যক (واجب)। পিতা-মাতার পরে বিভিন্ন স্তরের আত্মীয়স্বজন: নৈকট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী যারা অধিক নিকটবর্তী তারা অগ্রাধিকার পাবে। সুতরাং তাদের ওপর ব্যয় করা হলো সদকা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা (৪)।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং স্মরণ করো, যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না...

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুয যাকাত, বাবুয যাকাত আলায যাওজি ওয়াল আইতামি ফিল হিজর, নম্বর ১৪৬৬, এবং মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, বাবু ফাদলিন নাফাকাতি ওয়াস সাদাকাতি আল্যাল আকরাবিনা ওয়ায যাওজি ওয়াল আওলাদ, নম্বর ১০০০।

(২) শারহুন নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৭/ ৯২।

(৩) সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৫।

(৪) দেখুন: তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃষ্ঠা ৯৬।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ} (1).

وقال سبحانه: {وَآَتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ} (2).

وقال تعالى: {وَآَتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا

تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا} (3).

وقال تعالى: {فَآَتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُون} (4). وقال تعالى:

{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى} (5).

وعن ثوبان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أفضل دينارٍ ينفقه الرجل: دينار ينفقه على عياله، ودينار ينفقه الرجل على دابته في سبيل الله، ودينار ينفقه على أصحابه في سبيل الله)). قال أبو قلابة: وبدأ بالعيال، ثم قال: أبو قلابة: وأيُّ رجل أعظم أجراً من رجلٍ ينفق على عيالٍ صغارٍ، يعفُّهم أو ينفعهم الله به، ويغنيهم)) (6).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((دينار أنفقته في سبيل الله، ودينار أنفقته في رقبة، ودينار تصدقت به على مسكين، ودينار أنفقته

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 83، وانظر: سورة النساء، الآية: 36.

(2) سورة البقرة، الآية: 177، وانظر: سورة النساء، الآية: 8.

(3) سورة الإسراء، الآية: 26.

(4) سورة الروم، الآية: 38، وانظر: سورة الشورى، الآية: 23.

(5) سورة النحل، الآية: 90.

(6) مسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة على العيال والمملوك وإثم من ضيعهم أو حبس نفقتهم عنهم، برقم 994.
...এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়, এতিম ও অভাবগ্রস্তদের (মিসকিনদের) প্রতিও।} (১)।

এবং মহান সত্তা বলেন: "আর সম্পদের প্রতি মমতা থাকা সত্ত্বেও তা নিকটাত্মীয়, এতিম ও অভাবগ্রস্তদের দান করা।" (২)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য প্রদান করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও; আর কোনোভাবেই অপব্যয় করো না।" (৩)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও; যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় তাদের জন্য এটিই উত্তম এবং তারাই সফলকাম।" (৪)। এবং মহান আল্লাহ বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন।" (৫)।

সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ যে দিনার ব্যয় করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই দিনার যা সে তার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে, আর সেই দিনার যা মানুষ আল্লাহর পথে তার সওয়ারির পেছনে ব্যয় করে এবং সেই দিনার যা সে আল্লাহর পথে তার সঙ্গীদের জন্য ব্যয় করে।" আবু কিলাবা বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ) পরিবার-পরিজন দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর আবু কিলাবা বলেন: "ঐ ব্যক্তির চেয়ে সওয়াবের দিক থেকে আর কে বড় হতে পারে, যে এমন ছোট সন্তানদের জন্য ব্যয় করে যাদেরকে আল্লাহ তার মাধ্যমে পবিত্র রাখেন অথবা তাদের উপকৃত করেন এবং তাদের অভাবমুক্ত করেন।" (৬)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একটি দিনার যা তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ, একটি দিনার যা তুমি দাসমুক্তির জন্য ব্যয় করেছ, একটি দিনার যা তুমি কোনো অভাবগ্রস্তকে সদকা করেছ এবং একটি দিনার যা তুমি ব্যয় করেছ...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮৩; এবং দেখুন: সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭৭; এবং দেখুন: সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮।

(৩) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৬।

(৪) সূরা আর-রুম, আয়াত: ৩৮; এবং দেখুন: সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৩।

(৫) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯০।

(৬) মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: পরিবার-পরিজন ও দাসের জন্য ব্যয়ের ফজিলত এবং তাদের হক নষ্টকারী বা তাদের ব্যয় বন্ধকারীর গুনাহ, হাদিস নং ৯৯৪।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
على أهلك، أعظمها أجراً الذي أنفقته على أهلك)) (1).

وعن عبد الله بن عمرو أنه قال لخازنه: أعطيت الرقيق قوتهم؟ قال: لا، قال: فانطلق فأعطهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((كفى بالمرء إثماً أن يحبس عمن يملك قوته)) (2).

ولفظ أبي داود: ((كفى بالمرء إثماً أن يضيِّع من يقوت)) (3).

وعن جابر رضي الله عنه قال: أعتق رجل من بني عُذْرة - من الأنصار - عبداً له عن دُبرٍ، فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: ((ألك مال غيره؟)) فقال: لا، فقال: ((من يشتريه مني؟)) فاشتراه نعيم بن عبد الله بثمانمائة درهم، فجاء بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فدفعها إليه، ثم قال: ((ابدأ بنفسك فتصدق عليها، فإن فَضَلَ شيء فلأهلك، فإن فضل عن أهلك شيء فلذي قرابتك، فإن فضل عن ذي قرابتك شيء فهكذا، وهكذا)) يقول: فبين يديك، وعن يمينك، وعن شمالك)) (4).

قال الإمام النووي رحمه الله: ((في هذا الحديث فوائد منها:

الابتداء بالنفقة بالمذكور على هذا الترتيب، منها: أن الحقوق والفضائل إذا تزاحمت قدم الأوكد فالأوكد، ومنها أن الأفضل في صدقة التطوع أن ينوعها في جهات الخير، ووجوه البر بحسب المصلحة، ولا ينحصر في جهة بعينها … )) (5).

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة على العيال … ، برقم 995.

(2) مسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة على العيال … ، برقم 996.

(3) أبو داود، كتاب الزكاة، بابٌ في صلة الرحم، برقم 1692، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 469.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الأحكام، باب بيع الإمام على الناس أموالهم وضياعهم، برقم 7186، 2141، 2230، 2231، 2403، 2415، 2534، 6716، 6947 ومسلم، كتاب الزكاة، باب الابتداء في النفقة بالنفس، ثم أهله، ثم القرابة، برقم 997.

(5) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 87.
তোমার পরিবারের জন্য; এর মধ্যে সওয়াবের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো সেটি যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করেছ (১)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর তত্ত্বাবধায়ককে বললেন: তুমি কি দাসদের তাদের খাদ্য দিয়েছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে যাও এবং তাদের দিয়ে দাও। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যাদের খাদ্যের মালিক (অর্থাৎ যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর) তাদের খাদ্য আটকে রাখে" (২)।

আবু দাউদ-এর শব্দ নিম্নরূপ: "কোনো ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যাদের ভরণপোষণ করে তাদের ধ্বংস বা নষ্ট করে" (৩)।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনু উযরা গোত্রের—আনসারদের মধ্য থেকে—এক ব্যক্তি তার এক দাসকে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তির (عن دبر) শর্তে আজাদ করে দিল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: "তোমার কি এ দাস ছাড়া আর কোনো সম্পদ আছে?" সে বলল: না। তখন তিনি বললেন: "কে আমার থেকে একে ক্রয় করবে?" তখন নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ আটশ দিরহাম দিয়ে তাকে ক্রয় করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই অর্থ নিয়ে লোকটিকে প্রদান করলেন এবং বললেন: "প্রথমে নিজের থেকে শুরু করো এবং নিজের জন্য দান করো; যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার পরিবারের জন্য; আর যদি তোমার পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার আত্মীয়-স্বজনের জন্য; আর যদি আত্মীয়-স্বজনের প্রয়োজনের পরেও অতিরিক্ত থাকে তবে এভাবে ও এভাবে করো।" তিনি বলছিলেন: "অর্থাৎ তোমার সামনের দিকে, তোমার ডান দিকে এবং তোমার বাম দিকে" (৪)।

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "এই হাদিসে বেশ কিছু ফায়দা (উপকারিতা) রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

উল্লিখিত ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী ব্যয় শুরু করা; আরও রয়েছে: যখন বিভিন্ন অধিকার এবং ফজিলাতপূর্ণ বিষয়সমূহ পরস্পর ভিড় করে (একই সময়ে উপস্থিত হয়), তখন অধিক গুরুত্বপূর্ণ (الأوكد) বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়; আরও রয়েছে: ঐচ্ছিক সদকার (صدقة التطوع) ক্ষেত্রে উত্তম হলো একে জনকল্যাণ (مصلحة) ও নেকির বিভিন্ন খাতে বৈচিত্র্যময় করা এবং নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকা... " (৫)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, বাব: পরিবারের ওপর ব্যয় করার ফজিলাত... হাদিস নং ৯৯৫।

(২) মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, বাব: পরিবারের ওপর ব্যয় করার ফজিলাত... হাদিস নং ৯৯৬।

(৩) আবু দাউদ, কিতাবুয যাকাত, বাব: আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১৬৯২; আলবানী একে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন সহিহ সুনান আবি দাউদ গ্রন্থে, ১/ ৪৬৯।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আহকাম, বাব: ইমাম কর্তৃক মানুষের সম্পদ ও ভূসম্পত্তি বিক্রয়, হাদিস নং ৭১৮৬, ২১৪১, ২২৩০, ২২৩১, ২৪০৩, ২৪১৫, ২৫৩৪, ৬৭১৬, ৬৯৪৭ এবং মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, বাব: নিজের থেকে ব্যয় শুরু করা, তারপর পরিবার, তারপর আত্মীয়-স্বজন, হাদিস নং ৯৯৭।

(৫) শরহ নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৭/ ৮৭।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت: يا رسول الله! هل لي أجر في بني أبي سلمة، أنفق عليهم ولست بتاركتهم، هكذا وهكذا، إنما هم بني؟ فقال: ((نعم لك فيهم أجر ما أنفقت عليهم)) (1).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تصدقوا)) فقال رجل: يا

رسول الله! عندي دينار، قال: ((تصدق به على نفسك)) قال: عندي آخر، قال: ((تصدق به على زوجتك))، قال: عندي آخر، قال: ((تصدق به على ولدك))، قال: عندي آخر، قال: ((تصدق به على خادمك))، قال: عندي آخر: قال: ((أنت أبصرُ به)) (2).

وعن بهز بن حكيم قال: حدثني أبي عن جدي، قال: قلت يا رسول الله، من أبرُّ؟ قال: ((أمك))، قال: قلت: ثم مَن؟ قال: ((أمك))، قال: قلت: ثم مَنْ؟ قال: ((أمك))، قلت: ثم مَنْ؟ قال: ((أباك))، قال: قلت: ثم مَنْ؟ قال: ((ثم الأقرب فالأقرب)) (3).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: يا رسول الله! من أحقّ الناس بحسن صحابتي؟ قال: ((أمك، ثم أمك، ثم أمك، ثم أبوك، ثم أدناك أدناك)) (4).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب النفقات، باب ((وعلى الوارث مثل ذلك))، برقم 5369، ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين، برقم 1001.

(2) النسائي، برقم 2534، وأبو داود، برقم 1691، وحسنه الألباني في صحيح النسائي، 2/ 206، وفي صحيح سنن أبي داود، 1/ 469، وتقدم تخريجه في زكاة الفطر.

(3) الترمذي، برقم 1897، وأحمد برقم 9524، وحسنه الألباني في صحيح الترمذي، 2/ 199، وتقدم تخريجه في زكاة الفطر.

(4) متفق عليه: واللفظ لمسلم، البخاري، برقم 5971، ومسلم، برقم 2548، وتقدم تخريجه في زكاة الفطر.
উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আবু সালামাহর সন্তানদের জন্য খরচ করায় কি আমার কোনো সওয়াব হবে? আমি তো তাদের এভাবে এভাবে (অসহায় অবস্থায়) ছেড়ে দিতে পারি না, তারা তো আমারই সন্তান। তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি তাদের জন্য যা কিছু খরচ করবে, তাতে তোমার জন্য সওয়াব রয়েছে।" (১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "তোমরা সদকা করো।" এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার কাছে একটি দিনার আছে। তিনি বললেন: "তা তোমার নিজের জন্য খরচ করো।" সে বলল: আমার কাছে আরও একটি আছে। তিনি বললেন: "তা তোমার স্ত্রীর জন্য খরচ করো।" সে বলল: আমার কাছে আরও একটি আছে। তিনি বললেন: "তা তোমার সন্তানের জন্য খরচ করো।" সে বলল: আমার কাছে আরও একটি আছে। তিনি বললেন: "তা তোমার খাদেমের জন্য খরচ করো।" সে বলল: আমার কাছে আরও একটি আছে। তিনি বললেন: "তুমিই এ ব্যাপারে অধিক পরিজ্ঞাত (যে কোথায় খরচ করবে)" (২)।

বাহয ইবনে হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি (দাদা) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদ্ব্যবহার করব? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে।" তিনি বলেন: আমি বললাম, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে।" তিনি বলেন: আমি বললাম, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে।" আমি বললাম, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: "তোমার পিতার সাথে।" তিনি বলেন: আমি বললাম, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: "অতঃপর যে অধিক নিকটবর্তী, তারপর যে নিকটবর্তী" (৩)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার সুন্দর সাহচর্যের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন: "তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, এরপর তোমার বাবা, এরপর তোমার নিকটতম ব্যক্তি, তারপর তার পরবর্তী নিকটতম ব্যক্তি" (৪)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুন নাফাকাত, পরিচ্ছেদ: "ওয়ারিশের ওপরও অনুরূপ দায়িত্ব বর্তাবে", হাদিস নং ৫৩৬৯; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: নিকটাত্মীয়দের ওপর খরচ ও সদকা করার ফজিলত, হাদিস নং ১০০১।

(২) নাসায়ি, হাদিস নং ২৫৩৪; আবু দাউদ, হাদিস নং ১৬৯১; এবং আলবানী একে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন সহিহ নাসায়ি, ২/২০৬ এবং সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৬৯ গ্রন্থে; এর তাখরিজ পূর্বে জাকাতুল ফিতর অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৯৭; আহমাদ, হাদিস নং ৯৫২৪; এবং আলবানী একে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন সহিহ তিরমিজি, ২/১৯৯ গ্রন্থে; এর তাখরিজ পূর্বে জাকাতুল ফিতর অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): শব্দাবলি মুসলিমের; বুখারি, হাদিস নং ৫৯৭১; মুসলিম, হাদিস নং ২৫৪৮; এর তাখরিজ পূর্বে জাকাতুল ফিতর অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وعن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالت: قدمت عليَّ أمي وهي مشركة في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فاستفتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: يا رسول الله! قدمت عليَّ أمي وهي راغبة، أفأصل أمي؟ قال: ((نعم، صلي أمَّكِ)) (1).

 

‌‌رابعاً: الإخلاص شرط في قبول الصدقات:

فلا تقبل الصدقة إلا إذا أريد بها وجه الله والدار الآخرة للأدلة المذكورة على النحو الآتي:

 

‌‌1 - الإخلاص أعظم ما أمر الله به، قال الله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ} (2).

‌‌2 - الإخلاص شامل لأنواع العبادات، قال عز وجل: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (3).

‌‌3 - إسلام الوجه لله: هو الإخلاص، قال الله سبحانه: {وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ} (4).فإسلام الوجه إخلاص القصد والعمل لله، والإحسان فيه متابعة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنته (5).

‌‌4 - الإخلاص يحصل به الأجر العظيم، قال تعالى: {لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الأذان، باب الهدية للمشركين، برقم 2620، ومسلم، كتاب الزكاة، باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين والزوج، والأولاد والوالدين، ولو كانوا مشركين، برقم 1003.

(2) سورة البينة، الآية: 5.

(3) سورة الأنعام، الآيتان: 162 - 163.

(4) سورة النساء، الآية: 125.

(5) مدارج السالكين لابن القيم، 2/ 90.
আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট আসলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফতোয়া চেয়ে আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার নিকট এসেছেন, আর তিনি (আমার প্রতি) আগ্রহী, এমতাবস্থায় আমি কি আমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।" (১)।

 

‌‌চতুর্থত: সদকা কবুল হওয়ার জন্য ইখলাস (একনিষ্ঠতা) একটি শর্ত:

নিম্নোক্ত দলীলসমূহের ভিত্তিতে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালীন জীবনের উদ্দেশ্যে প্রদান করা ব্যতীত সদকা কবুল হবে না:

 

‌‌১ - ইখলাস হলো আল্লাহর দেওয়া মহান নির্দেশসমূহের অন্যতম, মহান আল্লাহ বলেন: "তাদেরকে কেবল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে" (২)।

‌‌২ - ইখলাস সকল প্রকার ইবাদতকে শামিল করে, মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম" (৩)।

‌‌৩ - আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করাই হলো ইখলাস, মহান আল্লাহ বলেন: "তার চেয়ে দ্বীনে আর কে অধিক উত্তম যে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং সে সৎকর্মশীল?" (৪)। সুতরাং সমর্পণ হলো সংকল্প ও আমলকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা, আর তাতে ইহসান হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা (৫)।

‌‌৪ - ইখলাসের মাধ্যমে মহান প্রতিদান অর্জিত হয়, মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই...

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আযান, মুশরিকদের উপহার প্রদান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ২৬২০; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, নিকটাত্মীয়, স্ত্রী, সন্তান ও পিতা-মাতার জন্য দান ও সদকার ফযীলত সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, যদিও তারা মুশরিক হয়, হাদিস নম্বর ১০০৩।

(২) সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫।

(৩) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৬২ - ১৬৩।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১২৫।

(৫) ইবনুল কাইয়্যিমের মাদারিজুস সালিকিন, ২/ ৯০।
(খণ্ড: ১) সাদাকাতুত তাতাউ ফীল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا} (1).

 

‌‌5 - الإخلاص تجارة رابحة، قال سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ * لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ} (2).

‌‌6 - الإخلاص تُوفَّى به الأجور، قال سبحانه: {وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ وَمَا تُنْفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ} (3).

‌‌7 - مضاعفة الحسنات للمنفقين المخلصين، قال تعالى: {وَمَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ وَتَثْبِيتًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَآَتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِنْ لَمْ يُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلٌّ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} (4).

‌‌8 - الجزاء بأحسن من العمل، قال سبحانه وتعالى فيمن ينفقون النفقات إخلاصاً لله تعالى: {وَلَا يُنْفِقُونَ نَفَقَةً صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً وَلَا يَقْطَعُونَ وَادِيًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (5).

‌‌9 - إنما الأعمال بالنيات، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى … )) (6).

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 114.

(2) سورة فاطر، الآيتان: 29 - 30.

(3) سورة البقرة، الآية: 272.

(4) سورة البقرة، الآية: 265.

(5) سورة التوبة، الآية: 121.

(6) متفق عليه: البخاري، كتاب بدء الوحي، برقم 1، ومسلم، كتاب الإمارة، باب قوله صلى الله عليه وسلم: إنما الأعمال بالنيات، برقم 1907.
...তাদের গোপন পরামর্শের অধিকাংশেই কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে সদকা, সৎকাজ কিংবা মানুষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের নির্দেশ দেয় (তার কথা ভিন্ন)। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তা করবে, অচিরেই আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব} (১)।

 

‌‌৫ - ইখলাস হলো একটি লাভজনক ব্যবসা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ সওয়াব দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী} (২)।

‌‌৬ - ইখলাসের মাধ্যমে সওয়াব পূর্ণরূপে প্রদান করা হয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তোমরা যে ভালো কিছু ব্যয় করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই। আর তোমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই ব্যয় করে থাকো। তোমরা যে ভালো কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না} (৩)।

‌‌৭ - একনিষ্ঠ দানকারীদের নেকি বহুগুণ বৃদ্ধি, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও নিজেদের মনকে সুদৃঢ় করার জন্য সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ উঁচু ভূমিতে অবস্থিত একটি বাগানের মতো, যাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হলো এবং ফলে তার ফলমূল দ্বিগুণ হলো। আর যদি প্রবল বৃষ্টি নাও হয়, তবে হালকা বৃষ্টিই যথেষ্ট। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা} (৪)।

‌‌৮ - আমলের চেয়েও উত্তম প্রতিদান লাভ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দানকারীদের সম্পর্কে বলেন: {আর তারা ছোট বা বড় যা-ই ব্যয় করে এবং কোনো প্রান্তর অতিক্রম করে, তা তাদের নামে লিখে রাখা হয়, যাতে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের চেয়েও উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন} (৫)।

‌‌৯ - নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে … )) (৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৪।

(২) সূরা ফাতির, আয়াত: ২৯ - ৩০।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭২।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬৫।

(৫) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২১।

(৬) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাব বাদউল ওহি, হাদিস নং ১; এবং মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: নবী (সা.)-এর বাণী: নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, হাদিস নং ১৯০৭।