(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شروط الصلاة في ضوء الكتاب والسنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: شروط الصلاة في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 38
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালাতের শর্তাবলি বিভাগ: ফিকহী মাসয়ালাসমূহ
বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালাতের শর্তাবলি
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনী
প্রকাশক: সাফীর প্রেস، রিয়াদ
পরিবেশক: মুয়াসসাসাতুল জুরাইসী লি আত-তাওযী ওয়াল ই'লান، রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
23
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
شروط الصلاة في ضوء الكتاب والسنة
23
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি-এর রচনাবলি সিরিজ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালাতের শর্তাবলি
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضلَّ له، ومن يضللْ فلا هاديَ له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في: ((شروط الصلاة))، بيَّنت فيها بإيجاز: مفهوم شروط الصلاة، وشرحت الشروط بأدلتها من الكتاب والسنة.
وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رفع الله درجاته في الفردوس الأعلى.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل مباركًا،
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি "নামাজের শর্তাবলি" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; যাতে আমি সংক্ষেপে নামাজের শর্তাবলির ধারণা বর্ণনা করেছি এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসহ শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করেছি।
আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ, ইমাম, আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবন বাজ-এর সিদ্ধান্ত ও অগ্রাধিকারসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই নগণ্য আমলটিকে বরকতময় করেন।
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وخالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كلَّ من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العليِّ العظيم، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله، وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر في ضحى يوم الجمعة الموافق 18/ 8/1420هـ
...এবং তা যেন একান্তভাবে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য হয়, এবং এর মাধ্যমে তিনি যেন আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন এবং যাদের নিকট এটি পৌঁছাবে তাদের সকলকেও উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত এবং মহানুভব আশা-ভরসাস্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আর আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর।
লেখক
১৮/০৮/১৪২০ হিজরি মোতাবেক শুক্রবার চাশতের সময়ে লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
شروط الصّلاة
الشرط في اللغة: العلامة، ومنه قول الله تعالى: {فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلا السَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا} (1).
واصطلاحًا: ما يلزم من عدمه العدم، ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم (2) لذاته (3)، وشروط الصلاة تجب قبلها إلا النية فالأفضل مقارنتها لتكبيرة الإحرام، وتستمر الشروط حتى نهاية الصلاة، وبهذا فارقت الأركان التي تنتهي شيئاً فشيئاً؛ والأركان تتركب منها ماهية الصلاة، والشرط مع المشروط كالصفة مع الموصوف (4)، وشروط الصلاة تسعة على النحو الآتي:
الشرط الأول: الإسلام، وضدُّه الكفر، والكافر
--------------------------------------------
সালাতের শর্তসমূহ (شروط الصلاة)
অভিধানে শর্ত (الشرط) এর অর্থ হলো: চিহ্ন (العلامة), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তবে কি তারা কিয়ামতের অপেক্ষা করছে যে, তা তাদের নিকট আকস্মিকভাবে এসে পড়ুক? অথচ কিয়ামতের আলামতসমূহ (أشراطها) তো ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে} (১)।
আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): যার অনুপস্থিতি (عدم) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে, কিন্তু যার উপস্থিতি (وجود) নিজ সত্তার (لذاته) কারণে কোনো কিছুর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে না (২) (৩)। সালাতের শর্তসমূহ (شروط الصلاة) সালাতের পূর্বে আদায় করা আবশ্যক (واجب), তবে নিয়তের (النية) ক্ষেত্রে এটি তাকবিরে তাহরিমার (تكبيرة الإحرام) সাথে থাকা উত্তম। এই শর্তসমূহ সালাতের শেষ পর্যন্ত বলবৎ থাকে; আর এখানেই রুকনগুলোর (الأركان) সাথে এর পার্থক্য, কারণ রুকনগুলো ক্রমান্বয়ে শেষ হতে থাকে। রুকনগুলোর সমন্বয়েই সালাতের প্রকৃত রূপ (ماهية) গঠিত হয়। শর্ত (الشرط) এবং শর্তযুক্ত (المشروط) বিষয়ের সম্পর্ক হলো গুণ (الصفة) ও গুণান্বিতের (الموصوف) সম্পর্কের ন্যায় (৪)। সালাতের শর্তসমূহ নিম্নোক্ত নয়টি:
প্রথম শর্ত: ইসলাম (الإسلام), যার বিপরীত হলো কুফর (الكفر); আর কাফির (الكافر)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
عمله مردود، ولو عمل أي عمل؛ لقول الله تعالى: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَن يَعْمُرُواْ مَسَاجِدَ الله شَاهِدِينَ عَلَى أَنفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ} (1). وقوله تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا} (2).
الشرط الثاني: العقل، وضده الجنون، والمجنون مرفوع عنه القلم حتى يفيق؛ لحديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((رُفِعَ القلم عن ثلاثة: عن المجنون المغلوب على عقله حتى يفيق، وعن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبي حتى يحتلم)) (3).
الشرط الثالث: التمييز، وضده الصغر، وحدّه سبع سنين، ثم يُؤمر بالصلاة؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله
--------------------------------------------
তার আমল প্রত্যাখ্যাত (مردود), সে যাই করুক না কেন; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {মুশরিকদের জন্য এটা সংগত নয় যে তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে যখন তারা নিজেরা নিজেদের কুফরীর সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদেরই আমলসমূহ নিস্ফল হয়ে গিয়েছে এবং আগুনেই তারা চিরকাল থাকবে।} (১)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যে আমল করেছে আমি তার প্রতি অগ্রসর হব এবং সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব।} (২)।
দ্বিতীয় শর্ত: বিচারবুদ্ধি (العقل), এর বিপরীত হলো উন্মাদনা (الجنون), আর পাগল ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তার ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (مرفوع عنه القلم); আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন: ((তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলা পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়)) (৩)।
তৃতীয় শর্ত: ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা (التمييز), এর বিপরীত হলো শৈশব (الصغر), আর এর সময়সীমা সাত বছর, এরপর তাকে নামাজের নির্দেশ দেওয়া হবে; আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين، واضربوهم عليها وهم أبناء عشر، وفرِّقوا بينهم في المضاجع)) (1). وهذه الشروط الثلاثة لكل عبادة، إلا الزكاة، فإنها تخرج من مال المجنون والصغير، وكذا الحج يصح من الصغير (2).
الشرط الرابع: رفع الحدث، وهو الوضوء للحدث الأصغر، والغسل للحدث الأكبر؛ لقول الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مَّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُواْ مَاءً فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ الله لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (3)؛
--------------------------------------------
তাঁদের উভয় থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও, দশ বছর বয়সে তাদের এর জন্য প্রহার করো এবং তাদের শয্যা পৃথক করে দাও" (১)। আর এই তিনটি শর্ত প্রতিটি ইবাদতের জন্য প্রযোজ্য, তবে জাকাত ব্যতীত; কেননা তা পাগল ও শিশুর সম্পদ থেকে বের করা হয়। একইভাবে শিশুর পক্ষ থেকে হজও শুদ্ধ (صحيح) হয় (২)।
চতুর্থ শর্ত: অপবিত্রতা দূরীকরণ (رفع الحدث), আর তা হলো ছোট অপবিত্রতার (الحدث الأصغر) জন্য ওজু এবং বড় অপবিত্রতার (الحدث الأكبر) জন্য গোসল; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত করো)। আর যদি তোমরা অপবিত্র (جنبًا) থাকো, তবে পবিত্রতা অর্জন করো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সংগত হও এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো। আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (৩);
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا تقبل صلاة من أحدث حتى يتوضأ)) (1)؛ولحديث عبد الله بن عمر رضي
… الله عنهما يرفعه: ((لا تقبل صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول)) (2)؛ ولحديث علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((مفتاح الصلاة الطهور، وتحريمها التكبير، وتحليلها التسليم)) (3).
الشرط الخامس: إزالة النجاسة من ثلاث: من البدن، والثوب، والبقعة.
أما إزالة النجاسة من البدن؛ فلأحاديث الاستنجاء، والاستجمار، وغسل المذي، فإنها تدل على وجوب الطهارة من النجاسة؛ لأن الاستنجاء والاستجمار وغسل المذي من البدن تطهير للبدن الذي أصابته نجاسة، ومن ذلك حديث أنس رضي الله عنه قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل الخلاء فأحمل أنا وغلام نحوي إداوة (4) من ماء،
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "ওজু ভেঙে যাওয়া ব্যক্তির সালাত কবুল করা হয় না যতক্ষণ না সে ওজু করে" (১); এবং আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে যা তিনি মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করা হয় না" (২); এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, এর প্রারম্ভ হলো তাকবির এবং এর সমাপ্তি হলো সালাম" (৩)।
পঞ্চম শর্ত: নাপাকি দূর করা তিনটি বিষয় থেকে: শরীর, কাপড় এবং স্থান।
শরীর থেকে নাপাকি দূর করার বিষয়টি ইস্তিনজা, ইস্তিজমার এবং মযি ধৌত করার হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত; কারণ সেগুলো নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকতা নির্দেশ করে। কেননা শরীর থেকে ইস্তিনজা, ইস্তিজমার এবং মযি ধৌত করা হলো শরীরের সেই অংশকে পবিত্র করা যাতে নাপাকি লেগেছিল। এর উদাহরণ হলো আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন আমি এবং আমার সমবয়সী এক কিশোর পানির একটি পাত্র (৪) বহন করতাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعنزة (1)، فيستنجي بالماء)) (2)؛ ولحديث المقداد في قصة علي رضي الله عنهما في المذي، وفيه: ((فليغسل ذكره وأنثييه)) (3)؛ ولحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: مرّ النبي صلى الله عليه وسلم بقبرين فقال: ((إنهما ليعذبان وما يعذبان في كبير، أما أحدهما فكان لا يستتر من البول، وأما الآخر فكان يمشي بالنميمة)) (4).
وأما إزالة النجاسة من الثوب؛ فلحديث أسماء رضي الله عنها قالت: جاءت امرأةٌ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فقالت: أرأيت إحدانا تحيض في الثوب كيف تصنع؟ قال: ((تحتّه، ثم تقرصه بالماء، وتنضحه وتصلي فيه)) (5)؛ ولأحاديث غسل بول الجارية ونضح بول الغلام ما لم يطعم، فعن علي رضي الله عنه
--------------------------------------------
...এবং একটি আনজা (১), অতঃপর তিনি পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতেন (২); এবং মিযি সংক্রান্ত আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘটনায় মিকদাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((সে যেন তার লিঙ্গ ও অণ্ডকোষদ্বয় ধুয়ে ফেলে)) (৩); এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই তাদের উভয়কে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর কোনো বড় বিষয়ের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে আড়াল করত না, আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত)) (৪)।
আর পোশাক থেকে নাপাকি দূর করার বিষয়টি; আসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: এক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: আমাদের কারো পোশাকে ঋতুর রক্ত লাগলে সে কী করবে? তিনি বললেন: ((সেটি ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়ে ধুয়ে ফেলবে, এরপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দেবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে)) (৫); এবং কন্যা শিশুর প্রস্রাব ধৌত করা এবং পুত্র শিশু যতক্ষণ খাবার গ্রহণ না করে ততক্ষণ তার প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত হাদিসসমূহের কারণে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يرفعه: ((بول الغلام يُنضح وبول الجارية يُغسل)) (1). وهذا ما لم يطعما، فإذا طعما غسلا جميعًا (2).
وأما إزالة النجاسة من البقعة؛ فلحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قام أعرابي فبال في المسجد، فتناوله الناس، فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: ((دعوه وهَرِيقوا على بوله سجلاً من ماء، أو ذنوبًا من ماء، فإنما بعثتم ميسرين ولم تبعثوا معسرين)) (3).
الشرط السادس: ستر العورة مع القدرة بشيء لا يصف البشرة، أجمع أهل العلم على فساد صلاة من صلى عريانًا وهو يقدر على ستر عورته (4)، وعورة الرجل من السرة إلى الركبة، والمرأة كلها عورة إلا وجهها في الصلاة (5)، لقول الله
--------------------------------------------
তিনি এটি মারফূ (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ((শিশুপুত্রের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং শিশুকন্যার প্রস্রাব ধৌত করতে হবে)) (১)। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রযোজ্য যতক্ষণ না তারা খাবার গ্রহণ করে; তবে যখন তারা খাবার গ্রহণ শুরু করবে, তখন উভয়ের প্রস্রাবই ধৌত করতে হবে (২)।
আর কোনো স্থান থেকে অপবিত্রতা দূরীকরণের দলীল হলো আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে মসজিদে প্রস্রাব করে দিল, তখন উপস্থিত লোকেরা তাকে ধমক দিতে উদ্যত হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন: ((তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি অথবা এক বড় ডোল পানি ঢেলে দাও; কেননা তোমাদের সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং কঠোরকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি)) (৩)।
ষষ্ঠ শর্ত: সক্ষমতা থাকা অবস্থায় সতর আবৃত করা এমন কোনো পোশাক দ্বারা যা গায়ের চামড়া ফুটিয়ে তোলে না। আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, সতর ঢাকার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি উলঙ্গ অবস্থায় নামাজ পড়বে তার নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে (৪)। পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত, আর নামাজে মুখমণ্ডল ব্যতীত নারীর পুরো শরীরই সতর (৫); কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وكُلُواْ وَاشْرَبُواْ وَلَا تُسْرِفُواْ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} (1)؛ ولحديث عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار)) (2). وعن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول الله، إني رجل أصيد، أفأصلي في القميص الواحد؟ قال: ((نعم وازرره ولو بشوكة)) (3).
وعن أم سلمة رضي الله عنها أنها سألت النبي صلى الله عليه وسلم تصلي المرأة في درع وخمار ليس عليها إزار؟ قال: ((إذا كان الدّرعُ (4) سابغًا (5) يغطي ظهور قدميها)) (6).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য (পোশাক) গ্রহণ করো। আর পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} (১); আর আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা ঋতুবতী নারীর সালাত ওড়না ব্যতীত কবুল করেন না)) (২)। এবং সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন শিকারি ব্যক্তি, আমি কি একটি মাত্র কামিসে সালাত আদায় করতে পারি? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, এবং এর বোতাম লাগিয়ে নাও, যদি তা একটি কাঁটা দিয়েও হয়)) (৩)।
আর উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: নারী কি কামিস ও ওড়না পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে পারবে যদি তার পরনে ইজার (নিচের কাপড়) না থাকে? তিনি বললেন: ((যদি কামিসটি (৪) পর্যাপ্ত দীর্ঘ ও প্রশস্ত (৫) হয় যা তার পায়ের উপরিভাগ ঢেকে দেয়)) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال الإمام عبد العزيزبن عبد الله ابن باز –رحمه الله: ((الواجب على المرأة الحرة المكلفة ستر جميع بدنها في الصلاة ما عدا الوجه والكفين؛ لأنها عورة كلها، فإن صلت وقد بدا شيء من عورتها: كالساق، والقدم، والرأس أو بعضه لم تصح َّصلاتها)) (1). وسمعته مراتٍ كثيرة يقول في حكم ستر الكفين في الصلاة: ((الأفضل للمرأة أن تستر كفيها في الصلاة خروجًا من الخلاف، فإن لم تفعل فصلاتها صحيحة)).
وفي حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده يرفعه: ((وإذا أنكح أحدكم عبده أو أجيره فلا ينظرن إلى شيء من عورته، فإنما أسفل من سرته إلى ركبته من عورته)) (2). وعن أبي الأحوص عن عبد الله رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((একজন স্বাধীন ও শরয়ীভাবে দায়বদ্ধ নারীর জন্য নামাজের মধ্যে মুখমণ্ডল এবং দুই কবজি ব্যতীত শরীরের সমস্ত অংশ ঢেকে রাখা ওয়াজিব; কারণ তার পুরো শরীরই সতর (عورة)। যদি সে এমন অবস্থায় নামাজ পড়ে যে তার সতরের (عورة) কোনো অংশ প্রকাশ পেয়ে যায়: যেমন পায়ের নলা, পা, মাথা বা তার কিছু অংশ, তবে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না)) (১)। আমি তাঁকে নামাজের মধ্যে দুই কবজি ঢেকে রাখার বিধান সম্পর্কে অনেকবার বলতে শুনেছি: ((নারীর জন্য নামাজের মধ্যে উভয় কবজি ঢেকে রাখা উত্তম যাতে মতভেদ থেকে বেঁচে থাকা যায়, তবে যদি সে তা না করে তবে তার নামাজ সহিহ (صحيحة) হবে))।
আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে একে নবী পর্যন্ত উন্নীত (يرفعه) করে বলেন: ((যখন তোমাদের কেউ তার দাস বা কর্মচারীকে বিয়ে দেয়, তখন সে যেন তার সতরের (عورة) কোনো অংশের দিকে না তাকায়; কেননা নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ সতরের (عورة) অন্তর্ভুক্ত)) (২)। এবং আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال: ((المرأةُ عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان)) (1).
ولا بد من ستر العاتقين للرجل أو أحدهما عند القدرة؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا يصلي أحدكم في الثوب الواحد ليس على عاتقيه منه شيء)) (2). فظاهر الحديث يدل على لزوم ستر العاتقين جميعًا عند القدرة، فإن عجز فلا شيء عليه؛ لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (3). ولقول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما في الثوب الواحد: ((فإن كان واسعًا فالتحف به وإن كان ضيقًا فاتزر به)) (4).
قال سماحة العلامة عبد العزيز ابن باز – رحمه الله:
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: ((নারী হলো গোপনীয় বিষয় (عورة), তাই যখন সে বাইরে বের হয়, শয়তান তার দিকে উঁকি মেরে তাকায়)) (১)।
আর সক্ষমতা থাকলে পুরুষের জন্য উভয় কাঁধ অথবা অন্তত একটি কাঁধ ঢেকে রাখা আবশ্যক; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যেন এমন একটি কাপড়ে সালাত আদায় না করে যার কোনো অংশই তার কাঁধের ওপর নেই)) (২)। হাদিসের বাহ্যিক অর্থ সক্ষমতা থাকাকালীন উভয় কাঁধ ঢেকে রাখা আবশ্যক হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, তবে অক্ষম হলে তার ওপর কোনো আবশ্যকতা নেই; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} (৩)। এবং জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণিত একটি কাপড় সংক্রান্ত হাদিসে নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: ((যদি কাপড়টি প্রশস্ত হয় তবে তা গায়ে জড়িয়ে নাও, আর যদি সংকীর্ণ হয় তবে তা লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করো)) (৪)।
মহামান্য আল্লামা আব্দুল আজিজ ইবন বাজ – রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
((أما مع القدرة على ستر العاتقين أو أحدهما فالواجب عليه سترهما أو أحدهما في أصح قولي العلماء، فإن ترك ذلك لم تصح صلاته؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا يصلي أحدكم في الثوب الواحد ليس على عاتقيه منه شيء)) (1). والله ولي التوفيق)) (2).
الشرط السابع: دخول الوقت؛ لقول الله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا} (3) أي مفروضًا في الأوقات؛ ولقوله سبحانه: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} (4)، وهذه الآية دخل فيها أوقات الصلوات الخمس، فقوله تعالى: {لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} زوالها عن كبد السماء إلى جهة الغرب، وهو بداية دخول وقت صلاة الظهر، ويدخل في ذلك العصر، وقوله: {إِلَى
--------------------------------------------
((তবে দুই কাঁধ অথবা তার যেকোনো একটি আবৃত করার সক্ষমতা থাকা অবস্থায় আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী তা আবৃত করা ওয়াজিব; যদি কেউ তা বর্জন করে তবে তার সালাত শুদ্ধ (صحيح) হবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ((তোমাদের কেউ যেন এক কাপড়ে এমনভাবে সালাত না পড়ে যে তার দুই কাঁধের ওপর কাপড়ের কোনো অংশ না থাকে)) (১)। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা)) (২)।
সপ্তম শর্ত: ওয়াক্ত প্রবেশ করা; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত একটি আবশ্যিক কর্তব্য} (৩) অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে; এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করো এবং ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত) কায়েম করো; নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ প্রত্যক্ষ করা হয়} (৪), এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়। মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্য ঢলে পড়ার সময়} এর অর্থ হলো আকাশের মধ্যভাগ থেকে পশ্চিম দিকে সূর্যের হেলে পড়া, যা জোহর সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশের শুরু এবং আসরও এর অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং তাঁর বাণী: {পর্যন্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
غَسَقِ اللَّيْلِ} أي: بداية ظلمة الليل، وقيل: غروب الشمس. وأخذ منه دخول وقت: صلاة المغرب وصلاة العشاء، {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ} يعني صلاة الفجر، ففي هذه الآية إشارة مجملة إلى أوقات الصلوات الخمس (1).
أما أوقات الصلوات الخمس تفصيلاً فعلى النحو الآتي:
1ـ وقت الظهر من زوال الشمس إلى أن يصير ظل كل شيء مثله؛ بعد فيء الظل؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((وقت الظهر إذا زالت الشمس، وكان ظلُّ الرجلِ كطوله، ما لم يحضر وقت العصر)) (2)؛ ولحديث جابر رضي الله عنه في إمامة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم في الصلوات الخمس في يومين، فجاءه في اليوم الأول فقال: ((قم فصلِّه، فصلى الظهر حين زالت الشمس)) ثم جاءه من الغد للظهر فقال: ((قم فصله، فصلى الظهر حين صار
--------------------------------------------
রজনীর অন্ধকার} অর্থাৎ: রাতের অন্ধকারের শুরু, আর কেউ কেউ বলেছেন: সূর্যাস্ত। এখান থেকেই মাগরিবের নামাজ ও এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে; {ফজরের কুরআন} অর্থাৎ ফজরের নামাজ। সুতরাং এই আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ের প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) ইঙ্গিত রয়েছে (১)।
আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
১- যোহরের ওয়াক্ত সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত; আসলি ছায়া (فيء) বাদ দিয়ে; আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যোহরের ওয়াক্ত হলো যখন সূর্য ঢলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়, যতক্ষণ না আসরের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়)) (২); এবং জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক দুই দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি করা সংক্রান্ত হাদিসে রয়েছে যে, তিনি প্রথম দিন তাঁর কাছে এলেন এবং বললেন: ((উঠুন এবং নামাজ পড়ুন, অতঃপর তিনি সূর্য ঢলে পড়ার সময় যোহরের নামাজ পড়লেন)) এরপর তিনি পরের দিন যোহরের সময় এলেন এবং বললেন: ((উঠুন এবং নামাজ পড়ুন, অতঃপর তিনি যোহরের নামাজ পড়লেন যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ظل كل شيء مثله)) ثم قال له في اليوم الثاني: ((ما بين هاتين الصلاتين وقت)) (1). ويسن الإبراد بصلاة الظهر في وقت الحر، لكن لا يخرجها عن وقتها؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إذا اشتد الحرُّ فأبردُوا بالصلاة، فإن شدّة الحرِّ من فيح جنهم)) (2).وسمعت سماحة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز – رحمه الله – يقول: ((السنة تأخير صلاة الظهر في وقت الحر، سفرًا وحضرًا، لكن لو اعتاد الناس التبكير للمشقة عليهم بكر بالصلاة؛ لأن التأخير يشق عليهم)) (3)،أما في غير وقت اشتداد الحر
--------------------------------------------
প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত)) তারপর তিনি দ্বিতীয় দিনে তাকে বললেন: ((এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই হলো নামাজের সময়)) (১)। তীব্র গরমের সময় জোহরের নামাজ বিলম্বে ঠান্ডা করে আদায় করা সুন্নত, তবে তা যেন তার ওয়াক্তের বাইরে না চলে যায়; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি বলেছেন: ((যখন গরম তীব্র হয়, তখন নামাজ বিলম্বে ঠান্ডা করে আদায় করো, কারণ গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিশ্বাসের অংশ)) (২)। আমি মহামান্য ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ – রাহিমাহুল্লাহ – কে বলতে শুনেছি: ((সফর এবং আবস্থান উভয় অবস্থাতেই তীব্র গরমে জোহরের নামাজ দেরি করে আদায় করা সুন্নত। তবে মানুষ যদি দেরিতে আসার কষ্টের কারণে আগেভাগে নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত হয়, তবে আগেই নামাজ আদায় করবে; কারণ বিলম্ব করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য)) (৩)। আর তীব্র গরমের সময় ব্যতীত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فالأفضل أن تصلى الصلاة في أول وقتها؛ لحديث عبدالله بن مسعود رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي الأعمال أفضل؟ قال: ((الصلاة في أول وقتها)) (1)، وسمعت العلامة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول: ((أي في أول وقتها بعد دخوله، ولو صليت في أثنائه أو في آخره فلا حرج، وقد كان صلى الله عليه وسلم يصلي في أول الوقت، ويحافظ عليه إلا في حالين:
الحال الأولى في صلاة العشاء إذا تأخر الناس حتى يجتمعوا.
الحال الثانية في الظهر إذا اشتد الحر، وكان في المغرب أكثر تبكيرًا، وكان الصحابة يصلون ركعتين قبلها، أما
--------------------------------------------
সুতরাং সালাত ওয়াক্তের শুরুতে আদায় করা উত্তম; কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন আমলটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: ((ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করা)) (১), এবং আমি আল্লামাহ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: ((অর্থাৎ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর তার প্রথম ভাগে। তবে ওয়াক্তের মধ্যভাগে বা শেষভাগে সালাত আদায় করলে তাতে কোনো দোষ নেই। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ওয়াক্তের শুরুর দিকেই সালাত আদায় করতেন এবং এর প্রতি যত্নবান হতেন, তবে দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত:
প্রথম ক্ষেত্রটি হলো এশার সালাতে, যখন মানুষ আসতে দেরি করে ফলে তারা সমবেত হওয়া পর্যন্ত (সালাত পিছিয়ে দেওয়া হয়)।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি হলো যোহরের সময় যখন প্রচণ্ড গরম পড়ে। আর মাগরিবের ক্ষেত্রে তিনি অধিক দ্রুততা অবলম্বন করতেন এবং সাহাবীগণ এর আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। তবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بقية الأوقات فهي أوسع وقتًا من المغرب)) (1).
2ـ وقت العصر من خروج وقت الظهر، أي إذا صار ظل كل شيء مثله دخل وقت صلاة العصر إلى أن تصفرَّ الشمس، أو إلى أن يصير ظل كل شيء مثليه، وهو مقارب لاصفرار الشمس، لكن اصفرار الشمس أوسع، وهو الذي استقر عليه التوقيت، ويجب أن تقدم الصلاة قبل الاصفرار؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: ((ووقت العصر ما لم تصفرَّ الشمس)) (2)؛ ولحديث جابر رضي الله عنه في إمامة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم قال: ((قم فصلِّه، فصلى العصر حين صار ظلُّ كل شيء مثله)) ثم جاء في اليوم الثاني فقال: ((قم فصله، فصلى العصر حين صار ظلُّ كل شيء مثليه)) (3). وهذا وقت الاختيار من ظل كل شيء مثله إلى اصفرار الشمس، أما وقت الضرورة فإذا اصفرت الشمس إلى غروب الشمس؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن
--------------------------------------------
অন্যান্য ওয়াক্তগুলো মাগরিবের ওয়াক্ত অপেক্ষা অধিক দীর্ঘ)) (১)।
২- আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় যোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে, অর্থাৎ যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয় তখন আসরের নামাজের ওয়াক্ত প্রবেশ করে এবং সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত স্থায়ী হয়, অথবা প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত, যা সূর্য হলুদ হওয়ার কাছাকাছি সময়। তবে সূর্য হলুদ হওয়ার সময়টি অধিক বিস্তৃত এবং এর ওপরই সময়সূচি স্থির হয়েছে। সূর্য হলুদ হওয়ার আগেই নামাজ আদায় করা ওয়াজিব; আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "আর আসরের ওয়াক্ত ততক্ষণ পর্যন্ত থাকে যতক্ষণ না সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে" (২); এবং জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি জিবরাঈলের ইমামতি সংক্রান্ত হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: "দাঁড়ান এবং নামাজ পড়ুন। অতঃপর তিনি আসরের নামাজ পড়লেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হলো।" এরপর দ্বিতীয় দিন তিনি এসে বললেন: "দাঁড়ান এবং নামাজ পড়ুন। অতঃপর তিনি আসরের নামাজ পড়লেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হলো" (৩)। এটি হলো ঐচ্ছিক সময় (وقت الاختيار), যা প্রতিটি বস্তুর ছায়া সমপরিমাণ হওয়া থেকে সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত। আর জরুরি সময় (وقت الضرورة) হলো সূর্য হলুদ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من أدرك من الصبح ركعة قبل أن تطلع الشمس فقد أدرك الصبح، ومن أدرك ركعة من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدرك العصر)) (1)، وإذا كان متعمدًا فقد أدرك الوقت مع الإثم؛ لقوله – عليه الصلاة والسلام: ((تلك صلاة المنافق يجلس يرقب الشمس حتى إذا كانت بين قرني شيطان قام فنقرها أربعًا لا يذكر الله فيها إلا قليلاً)) (2). أما إذا كان ناسيًا أو نائمًا فقد أدركها في الوقت وصلاها أداءً (3).
3ـ وقت صلاة المغرب من غروب الشمس إلى غروب الشفق الأحمر؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: ((ووقت صلاة المغرب ما لم يغب الشفق)) (4)، لكن الأفضل
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাত পেল, সে ফজর পেল; আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল, সে আসর পেল)) (১)। আর যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করে থাকে, তবে সে গুনাহসহ ওয়াক্ত পেল; কেননা তাঁর —আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম— বাণী: ((এটি হলো মুনাফিকের নামাজ, সে বসে সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে, এমনকি যখন তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে পৌঁছে, তখন সে দাঁড়ায় এবং চারবার ঠোকর মারে, যাতে সে আল্লাহকে সামান্যই স্মরণ করে)) (২)। তবে যদি সে বিস্মৃত হয়ে থাকে অথবা ঘুমিয়ে থাকে, তবে সে তা ওয়াক্তের মধ্যেই পেল এবং তা আদায় (أداءً) হিসেবেই সম্পন্ন করল (৩)।
৩ـ মাগরিব নামাজের ওয়াক্ত সূর্যাস্ত থেকে পশ্চিম দিগন্তের লাল আভা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত; আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে: ((মাগরিব নামাজের ওয়াক্ত ততক্ষণ থাকে, যতক্ষণ না শফক (লালিমা) অদৃশ্য হয়)) (৪), কিন্তু সর্বোত্তম হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أن تُصلَّى في أول الوقت؛ لحديث جابر رضي الله عنه في إمامة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم أنه ((جاءه المغرب فقال: قم فصلِّه فصلى المغرب حين وجبت الشمس)) ثم جاءه في اليوم الثاني المغرب وقتًا واحدًا لم يزل عنه (1)؛ ولحديث رافع بن خديج رضي الله عنه قال: ((كنا نصلي المغرب مع النبي صلى الله عليه وسلم فينصرف أحدنا وإنه ليُبصرُ مواقع نبله)) (2). وسمعت سماحة العلامة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز – رحمه الله – يقول عن هذا الحديث إنه: ((يدل على أن التبكير بالمغرب هو السنة المستقرة، لكن هذا لا يدل على أنَّ وقت المغرب وقتٌ واحد، بل آخر وقت المغرب هو غروب الشفق الأحمر)) (3). والسنة أن يصلي بعد الأذان ركعتين ثم تقام صلاة المغرب؛ لحديث عبد الله بن مغفل المزني رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((صلّوا قبل صلاة المغرب)) قال في الثالثة:
--------------------------------------------
ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করা; জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত জিবরাঈল কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইমামতি করানো সংক্রান্ত হাদিসের কারণে যে, তিনি "তাঁর নিকট মাগরিবের সময় আসলেন এবং বললেন: দাঁড়ান এবং এটি আদায় করুন, ফলে তিনি সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই মাগরিব আদায় করলেন।" অতঃপর দ্বিতীয় দিন তিনি মাগরিবের জন্য একই সময়ে আসলেন যা অপরিবর্তিত ছিল (১); এবং রাফি' ইবনে খাদিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম, অতঃপর আমাদের কেউ যখন ফিরে যেত, তখন সে তার তীরের পতনের স্থানগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পেত" (২)। আমি মহামান্য আল্লামা ইমাম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বায —রাহিমাহুল্লাহ— কে এই হাদিস সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে: "এটি নির্দেশ করে যে মাগরিব দ্রুত আদায় করা হলো সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (السنة المستقرة), তবে এটি নির্দেশ করে না যে মাগরিবের ওয়াক্ত কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়; বরং মাগরিবের ওয়াক্তের শেষ সীমা হলো লাল আভা (الشفق الأحمر) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত" (৩)। আর সুন্নাহ (السنة) হলো আজানের পর দুই রাকাত সালাত আদায় করা এবং এরপর মাগরিবের সালাত কায়েম করা; আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুজানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "তোমরা মাগরিবের সালাতের পূর্বে সালাত আদায় করো।" তৃতীয়বার তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
((لمن شاء)) كراهية أن يتخذها الناس سنة (1). [أي طريقة واجبة مألوفة لا يتخلفون عنها] (2). وفي رواية: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى قبل المغرب ركعتين)) (3). وفي حديث أنس رضي الله عنه: ((وكنا نصلي على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين بعد غروب الشمس قبل صلاة المغرب)) (4). وقال رضي الله عنه: ((كنا في المدينة، فإذا أذن المؤذن لصلاة المغرب ابتدروا السواري، فركعوا ركعتين، ركعتين حتى إن الرجل الغريب ليدخل المسجد فيحسب أن الصلاة قد صليت من كثرة من يصليهما)) (5). وهذا يدل أن هذه السنة ثبتت بالقول والفعل، والتقرير.
وهذه الأحاديث تدلّ على أن السنة التبكير بصلاة المغرب بعد صلاة ركعتين عقب الأذان، وأن الوقت بين
--------------------------------------------
((যে ইচ্ছা করে তার জন্য)) এই আশঙ্কায় যে পাছে মানুষ একে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গ্রহণ করে নেয় (১)। [অর্থাৎ: এমন কোনো অবধারিত পরিচিত পদ্ধতি যা তারা কখনো বর্জন করবে না] (২)। এবং একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: ((নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন)) (৩)। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: ((আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যাস্তের পর এবং মাগরিবের সালাতের পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায় করতাম)) (৪)। তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন: ((আমরা মদীনায় ছিলাম, যখন মুয়াজ্জিন মাগরিবের সালাতের আজান দিতেন, তখন তারা (সাহাবীগণ) পিলারের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতেন এবং দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন; এমনকি কোনো আগন্তুক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে অনেক মানুষকে এই সালাত আদায় করতে দেখে মনে করতেন যে সালাত হয়ে গেছে)) (৫)। এটি নির্দেশ করে যে, এই সুন্নাহ (سنة) কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতি (تقرير) দ্বারা প্রমাণিত।
এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, সুন্নাহ (سنة) হলো আজানের অব্যবহিত পরে দুই রাকাত সালাত আদায় করে দ্রুত মাগরিবের সালাত সম্পন্ন করা এবং সময়ের মধ্যবর্তী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأذان والإقامة قليل.
4ـ وقت صلاة العشاء من غروب الشفق الأحمر إلى نصف الليل الأوسط، ووقت الضرورة إلى طلوع الفجر، لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: ((ووقت صلاة العشاء إلى نصف الليل الأوسط)) (1)؛ ولحديث جابر رضي الله عنه في إمامة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم أنه: ((جاءه العشاء فقال: قم فصلِّه فصلى العشاء حين غاب الشفق)) ثم في اليوم الثاني: ((جاءه حين ذهب نصف الليل فصلى العشاء)) (2). أما بعد نصف الليل إلى طلوع الفجر فوقت ضرورة لمن نسي أو نام؛ لحديث أبي قتادة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أَمَا إنه ليس في النوم تفريط، إنما التفريط على من لم يصلِّ الصلاة حتى يجيء وقت الصلاة الأخرى، فمن فعل ذلك فليصلِّها حين ينتبه لها)) (3). والأفضل في وقت صلاة العشاء التأخير ما لم يخرج
--------------------------------------------
আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় সংক্ষিপ্ত।
৪- এশার সালাতের সময় লাল শفق (লাল আভা) অদৃশ্য হওয়া থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এবং জরুরতকালীন (ضرورة) সময় ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে: ((এবং এশার সালাতের সময় মধ্যরাত পর্যন্ত)) (১); এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইমামতি সংক্রান্ত জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে: ((তিনি এশার সময় তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: দাঁড়ান ও সালাত আদায় করুন। ফলে তিনি শفق অদৃশ্য হওয়ার সময় এশার সালাত আদায় করলেন)) তারপর দ্বিতীয় দিনে: ((তিনি যখন মধ্যরাত অতিবাহিত হলো তখন আসলেন এবং এশার সালাত আদায় করলেন)) (২)। তবে মধ্যরাতের পর থেকে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়টি সেই ব্যক্তির জন্য জরুরতকালীন (ضرورة) সময় যে ভুলে গেছে অথবা ঘুমিয়ে ছিল; কারণ আবু কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((জেনে রেখো, ঘুমের মধ্যে কোনো অবহেলা নেই, অবহেলা কেবল তার জন্য যে পরবর্তী সালাতের সময় না আসা পর্যন্ত সালাত আদায় করে না। অতএব, যে এমনটি করবে সে যেন জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে নেয়)) (৩)। আর এশার সালাতের সময়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব করা উত্তম যতক্ষণ না তা শেষ হয়ে যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقتها، إذا لم يكن مشقة، فإذا كانوا جماعة في سفر، أو بادية، أو قرية فتأخير صلاة العشاء أفضل، إذا رأوا ذلك ما لم يشقّ على أحد، فعن عائشة رضي الله عنها قالت: أعتم النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة حتى ذهب عامّةُ الليل، وحتى نام أهل المسجد، ثم خرج فصلى فقال: ((إنه لوقتُها لولا أن أشق على أمتي)) (1). وهذا دليل على أن آخر وقت العشاء أفضله (2)، وقد كان صلى الله عليه وسلم يراعي الأخف على الأمة، فعن جابر رضي الله عنه قال: ((والعشاء أحيانًا وأحيانًا، إذا رآهم اجتمعوا عجَّل، وإذا رآهم أبطؤوا أخّر)) (3)؛ ولأهمية المحافظة على وقت صلاة العشاء كان النبي صلى الله عليه وسلم يكره النوم قبلها، ففي حديث أبي برزة الأسلمي رضي الله عنه: ((وكان يستحب أن يؤخر من العشاء التي تدعونها العتمة، وكان يكره النوم قبلها، والحديث بعدها)) (4). وسمعت الإمام عبدالعزيز بن عبد
--------------------------------------------
এর (ইশা নামাজের) ওয়াক্ত, যদি তাতে কোনো কষ্ট না হয়। যদি তারা সফরে, মরুভূমিতে অথবা কোনো গ্রামে জামাতবদ্ধ থাকে, তবে ইশা নামাজ বিলম্ব করে পড়া উত্তম, যদি তারা তা সমীচীন মনে করে এবং যতক্ষণ তা কারো জন্য কষ্টকর না হয়। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাতে ইশার নামাজকে এতোটা বিলম্ব করলেন যে, রাতের অনেক অংশ অতিবাহিত হয়ে গেল এবং মসজিদের মুসল্লিরা ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে নামাজ আদায় করলেন এবং বললেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না থাকতো, তবে এটিই ছিল এই নামাজের সঠিক ওয়াক্ত।" (১)। এটি প্রমাণ করে যে, ইশার শেষ ওয়াক্তই হলো এর সর্বোত্তম সময় (২)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতের জন্য যা অধিকতর সহজ হতো তা বিবেচনা করতেন। জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইশা কখনো আগে আবার কখনো দেরিতে পড়তেন; যখন তিনি দেখতেন তারা সমবেত হয়েছে, তখন জলদি পড়তেন, আর যখন দেখতেন তারা দেরি করছে, তখন তিনিও বিলম্ব করতেন।" (৩); ইশা নামাজের সময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পূর্বে ঘুমানো অপছন্দ করতেন। আবু বারযা আল-আসলামী (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "তিনি ইশা বিলম্ব করা পছন্দ করতেন যাকে তোমরা 'আতামাহ' বলো, এবং এর পূর্বে ঘুমানো ও এর পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।" (৪)। এবং আমি ইমাম আবদুল আজিজ ইবনে আব্দুল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الله ابن باز – رحمه الله – يقول: ((كره النوم قبل صلاة العشاء لأنه قد يفوّت صلاة العشاء، وكره الحديث بعدها؛ لأن السمر قد يفوّت عليه صلاة الفجر)) (1).
5ـ وقت صلاة الفجر من طلوع الفجر الأبيض الصادق، وهو الفجر الثاني إلى نهاية الظلمة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصليها بغلس، ويمتد وقت الاختيار إلى طلوع الشمس (2)؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: ((ووقت صلاة الصبح من طلوع الفجر ما لم تطلع الشمس)) (3). ومما يؤكد التبكير بالفجر وصلاتها بغلس حديث جابر رضي الله عنه في إمامة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم وفيه: ((ثم جاءه الفجر فقال: قم فصلِّه، فصلى الفجر حين برق الفجر أو قد سطع الفجر)) ((ثم جاءه [من الغد] حين أسفر جدًّا ثم قال له: قم فصلِّه، فصلى
--------------------------------------------
আল্লাহ ইবনে বাজ – আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন – বলেন: "এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো অপছন্দীয় (مكروه), কারণ এর ফলে এশার নামাজ ছুটে যেতে পারে; এবং নামাজের পর কথাবার্তা বলাও অপছন্দীয় (مكروه); কারণ রাতের আলাপচারিতার ফলে ফজর নামাজ ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।" (১)।
৫- ফজর নামাজের সময় শুরু হয় শুভ্র ফজর সাদিক (الفجر الصادق) উদিত হওয়ার সময় থেকে, আর তা হলো দ্বিতীয় ফজর, যা অন্ধকারের শেষ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্ধকারের (بغلس) মধ্যে সালাত আদায় করতেন এবং এর ঐচ্ছিক সময় সূর্যোদয় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে (২); আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "আর সকালের নামাজের সময় হলো ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত।" (৩)। ফজরের নামাজ দ্রুত আদায় করা এবং তা অন্ধকারের (بغلس) মধ্যে আদায় করাকে যা সুনিশ্চিত করে তা হলো জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর ইমামতি করার হাদিস, যেখানে রয়েছে: "অতঃপর তিনি ফজরের সময় তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: উঠুন এবং সালাত আদায় করুন, ফলে তিনি ফজর আদায় করলেন যখন ফজর চমকাচ্ছিল অথবা ফজর প্রকাশিত হয়েছিল।" "অতঃপর তিনি [পরের দিন] এমন সময়ে আসলেন যখন বেশ ফর্সা হয়ে গিয়েছিল, তারপর তাঁকে বললেন: উঠুন এবং সালাত আদায় করুন, অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفجر، ثم قال: ما بين هذين وقت)) (1). وكان النبي صلى الله عليه وسلم لا يتعجَّل بصلاة الفجر، ولا يؤخرها عن الوقت المختار، ففي حديث أبي برزة الأسلمي رضي الله عنه: ((وكان ينفتل من صلاة الغداة حين يعرف الرجل جليسه، ويقرأ بالستين إلى المائة)) (2). وفي حديث جابر رضي الله عنه: ((والصبح كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلِّيها بغلس)) (3). وسمعت سماحة العلامة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز – رحمه الله – يقول: ((الغلس هو الفجر الواضح الذي به غلس من ظلمة آخر الليل)) (4). أما حديث رافع بن خديج رضي الله عنه الذي قال فيه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أصبحوا بالصبح فإنه أعظم لأجوركم، أو أعظم للأجر)). ولفظ الترمذي: ((أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر)) (5). ونقل الترمذي
--------------------------------------------
ফজর, অতঃপর তিনি বলেন: "এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়ই হলো নামাজের ওয়াক্ত" (১)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ আদায়ে তাড়াহুড়ো করতেন না এবং তা পছন্দনীয় সময় থেকেও বিলম্ব করতেন না। আবু বারযাহ আল-আসলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি ফজরের নামাজ শেষে এমন সময়ে ফিরে যেতেন যখন একজন ব্যক্তি তার পাশের সঙ্গীকে চিনতে পারত এবং তিনি ষাট থেকে একশটি আয়াত তিলাওয়াত করতেন" (২)। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আর সুবহে সাদিকের নামাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার থাকতেই (بغلس) আদায় করতেন" (৩)। আমি পরম শ্রদ্ধেয় আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ — রাহিমাহুল্লাহ — কে বলতে শুনেছি: "গলাস (الغلس) হলো সেই উজ্জ্বল ফজর যাতে রাতের শেষ ভাগের অন্ধকারের রেশ থাকে" (৪)। আর রাফি বিন খাদিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস যাতে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ফজরকে ফর্সা করে আদায় করো, কারণ এটি তোমাদের প্রতিদানের জন্য মহান, অথবা প্রতিদানের জন্য মহত্তর।" তিরমিজির শব্দে রয়েছে: "তোমরা ফজর ফর্সা (أسفروا) করো, কারণ এটি সওয়াবের জন্য অধিকতর বড়" (৫)। এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
– رحمه الله – عن الشافعي، وأحمد، وإسحاق أن معنى الإسفار أن يتضح الفجر فلا يشك فيه)) (1). وسمعت الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز – رحمه الله – يقول: ((المراد لا تعجلوا حتى يتضح الصبح حتى لا يخاطر بالصلاة)) (2).
وتدرك الصلاة أداءً في الوقت بإدراك ركعة؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من أدرك من الصبح ركعة قبل أن تطلع الشمس فقد أدرك الصبح، ومن أدرك ركعة من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدرك العصر)) (3). وسمعت سماحة العلامة الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز – رحمه الله – يقول: ((ويأثم إذا كان متعمدًا)) (4). ولا تجزئ الصلاة قبل الوقت، ويحرم تأخيرها عن وقتها المختار؛ لمفهوم أحاديث مواقيت الصلاة، ولقول الله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى
--------------------------------------------
—রহিমাহুল্লাহ— শাফেয়ী, আহমাদ এবং ইসহাক থেকে বর্ণিত যে, 'ইসফার' (ভোর ফর্সা করা) এর অর্থ হলো ফজর স্পষ্ট হওয়া যাতে তাতে কোনো সন্দেহ না থাকে (১)। এবং আমি ইমাম আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাযকে —রহিমাহুল্লাহ— বলতে শুনেছি: "এর উদ্দেশ্য হলো যে, তোমরা তাড়াহুড়া করো না যতক্ষণ না সুবহে সাদিক স্পষ্ট হয়, যাতে সালাত নিয়ে কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়" (২)।
আর এক রাকাত পাওয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সালাত আদায় হিসেবে গণ্য হয়; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাত পেল, সে ফজর পেল; আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল, সে আসর পেল" (৩)। এবং আমি মহামান্য আল্লামা ইমাম আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাযকে —রহিমাহুল্লাহ— বলতে শুনেছি: "এবং সে গুনাহগার হবে যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে" (৪)। আর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে সালাত যথেষ্ট হবে না এবং এর পছন্দনীয় সময় থেকে তা বিলম্বিত করা হারাম; সালাতের ওয়াক্তসমূহ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের মর্মার্থ অনুযায়ী এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا} (1).
ويجب فورًا قضاء الفوائت مرتبة ولو كثرت، لقول الله تعالى: {وَأَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِي} (2). ولحديث أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من نسي صلاة فليصلِّها إذا ذكرها، لا كفارة لها إلا ذلك)) وفي لفظ لمسلم: ((من نسي صلاة أو نام عنها
… )) (3)؛ ولحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه جاء يوم الخندق بعدما غربت الشمس، فجعل يسب كفار قريش، قال: يا رسول الله ماكدت أصلي صلاة العصر حتى كادت الشمس تغرب، قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((والله ما صليتها)) فقمنا إلى بطحان فتوضأ للصلاة وتوضأنا لها، فصلى العصر بعدما غربت الشمس، ثم صلى بعدها المغرب (4).
وأُلحق بالنائم المغمى عليه ثلاثة أيام فأقل، وقد روي
--------------------------------------------
...মুমিনদের জন্য এক নির্ধারিত সময়ের বিধান} (১)।
এবং ছুটে যাওয়া নামাজগুলো ধারাবাহিকভাবে অবিলম্বে কাজা করা ওয়াজিব, যদিও তা পরিমাণে অনেক হয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো} (২)। এবং আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, তবে সে যখনই তা স্মরণ করবে তখনই যেন তা পড়ে নেয়, এছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই)) এবং মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে: ((যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায় অথবা তা থেকে ঘুমিয়ে থাকে...)) (৩); এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খন্দকের যুদ্ধের দিন সূর্যাস্তের পর আসলেন এবং কুরাইশ কাফেরদের গালমন্দ করতে লাগলেন; তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছিল আর আমি আসর নামাজ পড়তে পারছিলাম না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((আল্লাহর কসম, আমিও তা পড়িনি))। অতঃপর আমরা বুতহান নামক স্থানে গেলাম এবং তিনি নামাজের জন্য অজু করলেন এবং আমরাও অজু করলাম। এরপর সূর্য ডোবার পর তিনি আসর পড়লেন এবং এরপর মাগরিব পড়লেন (৪)।
আর তিন দিন বা তার কম সময় বেহুঁশ ব্যক্তিকে নিদ্রিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বর্ণিত (روي) হয়েছে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ذلك عن عمار، وعمران بن حصين، وسمرة بن جندب رضي الله عنهم (1). وقيل: يقضي المغمى عليه ولو طالت المدة، وقيل: إن أغمي عليه خمس صلوات قضاها وإلا فلا، وقيل: لا يلزمه قضاء الصلاة إلا أن يفيق في جزء من وقتها، والصواب ما اختاره شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبدالله ابن باز – رحمة الله عليه – وهو أن المغمى عليه يقضي الصلاة إذا كان الإغماء ثلاثة أيام فأقل؛ لأنه يلحق بالنائم، أما إذا كانت المدة أكثر من ذلك فلا قضاء عليه؛ لأن المغمى عليه مدة طويلة أكثر من ثلاثة أيام يشبه المجنون بجامع زوال العقل (2).
أما الحائض فلا قضاء عليها إلا في حالتين:
الحالة الأولى: إذا طهرت قبل غروب الشمس صلت الظهر والعصر، وإذا طهرت قبل طلوع الفجر صلت المغرب والعشاء، جاء ذلك عن عبد الرحمن بن عوف،
--------------------------------------------
এটি আম্মার, ইমরান ইবন হুসাইন এবং সামুরা ইবন জুনদুব (রাদিআল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে (১)। এবং বলা হয়েছে: জ্ঞান হারানো (المغمى عليه) ব্যক্তি সালাত কাযা করবে যদিও সময়কাল দীর্ঘ হয়। আবার বলা হয়েছে: যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পর্যন্ত অজ্ঞান থাকে তবে সে তা কাযা করবে, অন্যথায় নয়। আরও বলা হয়েছে: তার ওপর সালাত কাযা করা আবশ্যক নয়, যতক্ষণ না সে ওয়াক্তের কোনো অংশে সজাগ হয়। আর সঠিক (الصواب) মত হলো যা আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) গ্রহণ করেছেন—আর তা হলো, জ্ঞান হারানো (المغمى عليه) ব্যক্তি সালাত কাযা করবে যদি অজ্ঞান থাকার সময়কাল তিন দিন বা তার কম হয়; কারণ একে ঘুমন্ত ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়। আর যদি সময়কাল এর চেয়ে বেশি হয়, তবে তার ওপর কোনো কাযা নেই; কারণ তিন দিনের বেশি দীর্ঘ সময় অজ্ঞান থাকা ব্যক্তি বুদ্ধি লোপ পাওয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে উন্মাদ (المجنون)-এর সদৃশ হয় (২)।
তবে ঋতুবতী (الحائض) নারীর ওপর কোনো কাযা নেই, কেবল দুটি অবস্থা ব্যতীত:
প্রথম অবস্থা: যদি সে সূর্যাস্তের আগে পবিত্র হয়, তবে যোহর ও আসর সালাত আদায় করবে। আর যদি ফজর উদয়ের আগে পবিত্র হয়, তবে মাগরিব ও এশা সালাত আদায় করবে। এটি আব্দুর রহমান ইবন আউফ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأبي هريرة، وعبد الله بن عباس رضي الله عنهم (1)؛ ولأن وقت الثانية وقت للأولى حال العذر، فإذا أدركه المعذور لزمه فرضها، كما يلزمه فرض الثانية (2)، وقال الإمام أحمد
– رحمه الله تعالى -: ((عامة التابعين يقولون بهذا القول إلا الحسن وحده)) (3) وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية
– رحمه الله – (4)، وصوّبه الإمام شيخنا عبد العزيز بن عبدالله ابن باز – رحمه الله – وأفتى به حتى مات – قدس الله روحه ونوّر ضريحه – (5).
الحالة الثانية: إذا أدركت المرأة وقت الصلاة ثم حاضت قبل أن تصلي، فقد اختلف أهل العلم هل تقضي أم لا؟ والصواب أن المرأة إذا أدركت وقت الصلاة ثم لم تصلِّ حتى تضيَّق الوقت – بحيث لا تستطيع الصلاة
--------------------------------------------
এবং আবু হুরায়রা ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) (১); কারণ ওজরের অবস্থায় দ্বিতীয় সালাতের সময়টি প্রথমটিরও সময় হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং ওজরগ্রস্ত ব্যক্তি যদি সেই সময়টি পায়, তবে তার ওপর উক্ত সালাতের ফরজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়, যেমন তার ওপর দ্বিতীয় সালাতের ফরজ আদায় করা আবশ্যক হয় (২)। ইমাম আহমাদ
– রাহিমাহুল্লাহু তাআলা – বলেছেন: "হাসান (বসরি) ব্যতীত সাধারণ তাবেয়ীগণ (التابعين) এই মতই পোষণ করতেন" (৩)। এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর
– রাহিমাহুল্লাহ – মনোনীত মত (৪)। আমাদের শাইখ ইমাম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ ইবনে বাজ – রাহিমাহুল্লাহ – একে সঠিক প্রতিপন্ন করেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত এই ফতোয়াই দিয়েছেন—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন— (৫)।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি কোনো নারী সালাতের ওয়াক্ত পায়, অতঃপর সালাত আদায়ের পূর্বেই ঋতুবতী হয়ে যায়, তবে তিনি কি তা কাজা করবেন কি না, সে বিষয়ে আহলে ইলমগণ মতভেদ করেছেন। সঠিক মত হলো, নারী যদি সালাতের ওয়াক্ত পায় এবং সালাত আদায় না করে যতক্ষণ না সময় সংকুচিত হয়ে যায়—এমনভাবে যে সালাত আদায় করা সম্ভব নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরূতুস সালাত ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كاملة في آخره -، ثم حاضت قبل أن تصلي، وجب عليها أن تقضي هذه الصلاة بعد أن تطهر؛ لأنها فرَّطت في الصلاة، وهذا الذي يفتي به سماحة الإمام شيخنا عبدالعزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى - (1). وإذا كان وقت الصلاة الحاضرة يخشى خروجه صلى الحاضرة حتى لا تكون فائتة، ثم يصلي الفائتة (2).
ويقضي الصلوات الفائتة على حالها الذي فاتت عليه: من عدد ركعاتها، أو سرِّيتها، وجهريتها؛ لحديث أبي قتادة رضي الله عنه الطويل في نوم النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه عن صلاة الفجر في السفر، وفيه: ((ثم أذَّن بلال بالصلاة، فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين، ثم صلى الغداة، فصنع كما كان يصنع كل يوم)) (3). ويدل الحديث أيضًا على أن من فاتته صلاة واحدة صلى سنَّتها معها.
--------------------------------------------
—এর শেষাংশে পূর্ণাঙ্গভাবে—অতঃপর নামাজ আদায়ের পূর্বেই তিনি ঋতুবতী হলেন, তবে পবিত্র হওয়ার পর এই নামাজের কাজা করা তার জন্য আবশ্যক; কারণ তিনি নামাজ আদায়ে অবহেলা করেছেন। আর এটিই সেই ফতোয়া যা আমাদের শাইখ মহামান্য ইমাম আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) প্রদান করেন এবং এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর পছন্দনীয় অভিমত (১)। আর যদি বর্তমান নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে বর্তমান নামাজটি আগে আদায় করবেন যেন তা ছুটে না যায়, অতঃপর ছুটে যাওয়া নামাজটি আদায় করবেন (২)।
আর ছুটে যাওয়া নামাজগুলো সেভাবেই কাজা করতে হবে যেভাবে তা ছুটেছে: রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে, কিংবা তা নিঃশব্দে বা সশব্দে পড়ার ক্ষেত্রে। এর দলিল হলো সফরে থাকাকালীন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের ফজরের নামাজ থেকে ঘুমিয়ে পড়া সম্পর্কে আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিস। তাতে রয়েছে: "অতঃপর বেলাল নামাজের আজান দিলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই রাকাত (সুন্নত) নামাজ পড়লেন, তারপর ফজরের নামাজ আদায় করলেন; অর্থাৎ তিনি সেভাবেই করলেন যেভাবে প্রতিদিন করতেন" (৩)। হাদিসটি একথারও প্রমাণ দেয় যে, যার কোনো একটি নামাজ ছুটে যায়, সে যেন তার সাথে সুন্নত নামাজটিও আদায় করে।
--------------------------------------------