(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: -)
زكاة عروض التجارة والأسهم والسندات   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: زكاة عروض التجارة والأسهم والسندات - مَفهومٌ, وشروطٌ، وفروقٌ، وأنواعٌ، وأحكامٌ في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 36

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

পণ্যদ্রব্য, শেয়ার এবং বন্ডের জাকাত   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: পণ্যদ্রব্য, শেয়ার এবং বন্ডের জাকাত - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, শর্তাবলি, পার্থক্যসমূহ, প্রকারভেদ এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: -)
رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

زكاة عروض التجارة

والأسهم والسندات

مَفهومٌ، وشروطٌ، وفروقٌ، وأنواعٌ، وأحكامٌ

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির পত্রাবলী

 

বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত

এবং শেয়ার ও বন্ডের

ধারণা, শর্তাবলি (شروط), পার্থক্যসমূহ, প্রকারভেদ এবং বিধিবিধান (أحكام)

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((زكاة العروض التجارية والأسهم والسندات)) بيَّنت فيها بإيجاز: مفهوم العروض: لغةً، واصطلاحاً، وذكرت الأدلة على وجوبها من: عموم الكتاب، والسنة، والإجماع، والآثار الواردة عن الصحابة رضي الله عنهم، والقياس، وأقوال الأئمة، والمحققين من أهل العلم قديماً وحديثاً، وذكرت شروط وجوب الزكاة فيها، وبيَّنت أن حول ربح التجارة حول أصله، وأنها تضم إلى النقدين في تكميل النصاب، وبيَّنت كيفيّة تقويم السلع آخر الحول، وأنه لا زكاة في الآلات التجارية التي أُعدّت للاستعمال، ثم ذكرت مقدار الواجب من الزكاة في عروض التجارة، ثم ختمت ذلك ببيان زكاة الأسهم والسندات، وكيفية زكاتها، والجائز منها والمحرّم، ثم ذكرت أهل الزكاة، ومن تحرم عليهم الزكاة.

وقد استفدت كثيراً من ترجيحات شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبدالله ابن باز رحمه الله ورفع منزلته.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি "ব্যবসায়িক পণ্য, শেয়ার ও বন্ডের জাকাত" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি সংক্ষেপে 'আরুদ' বা বাণিজ্যিক পণ্যের আভিধানিক ও পারিভাষিক ধারণা স্পষ্ট করেছি। এর আবশ্যকতা সম্পর্কে কুরআনের সাধারণ নির্দেশ, সুন্নাহ, ঐক্যমত্য (إجماع), সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত আছার (الآثار), কিয়াস (القياس) এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগের ইমাম ও মুহাক্কিক আলেমগণের মতামত থেকে দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি। এতে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি উল্লেখ করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, ব্যবসার মুনাফার বর্ষপূর্তি বা হাওল (حول) তার মূল মালের বর্ষপূর্তির অনুগামী। আর নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে এটি সোনা-রূপার সাথে যুক্ত করা হবে। আরও বর্ণনা করেছি বছরের শেষে পণ্যের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত ব্যবসায়িক যন্ত্রপাতির ওপর যে কোনো জাকাত নেই তা স্পষ্ট করেছি। অতঃপর আমি বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাতের পরিমাণ উল্লেখ করেছি এবং সবশেষে শেয়ার ও বন্ডের জাকাত, জাকাত আদায়ের পদ্ধতি এবং এর মধ্যে কোনটি বৈধ ও কোনটি নিষিদ্ধ তা আলোচনার মাধ্যমে শেষ করেছি। এরপর জাকাতের খাতসমূহ এবং যাদের জন্য জাকাত গ্রহণ হারাম তাদের কথা উল্লেখ করেছি।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (ترجيحات) থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৪)
والله أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

أبو عبدالرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر ليلة الإثنين الموافق 23/ 3/1426 بمدينة الرياض
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে বরকতময়, কল্যাণকর এবং তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالصاً) করেন। আর এর মাধ্যমে যেন তিনি আমাকে আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে উপকৃত করেন এবং এর দ্বারা উপকৃত করেন প্রত্যেককে যার নিকট এটি পৌঁছাবে; কারণ নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থীত সত্তা এবং মহানতম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার (إحسان) সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

 

আবু আব্দুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনি

রিয়াদ শহরে ২৩/০৩/১৪২৬ হিজরি মোতাবেক সোমবার রাতে লিখিত ও সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৫)
زكاة عروض التجارة

 

‌‌أولاًَ: مفهوم عروض التجارة‌‌ لغة و‌‌اصطلاحاً:

لغةً: العروض: جمع عَرْض بفتح العين وسكون الراء: خلاف النقد من المال، قال الجوهري: العَرْضُ: المتاع، وكل شيء عَرْضٌ سوى الدراهم، والدنانير فإنهما عين، وقال أبو عبيد: العروض: الأمتعة التي لا يدخلها كيل ولا وزن، ولا يكون حيواناً، ولا عقاراً، تقول: اشتريت المتاع بِعَرْضٍ: أي بمتاع مثله، وعارضته بمتاع، أو دابةٍ، أو شيء، معارضةً إذا بادلته به (1).

وأما العَرَض بفتح العين والراء، جمع أعراض فهو متاع الدنيا وحطامها، وهذا شامل لكل أنواع المال قل أو كثر {لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} (2) ((ليس الغنى غنى كثرة العرض، ولكن الغنى غنى النفس)) (3) ، وسُمِّي عرضاً؛ لأنه يعرض وقتاً ثم يزول (4). قال الله تعالى: {لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِيبًا وَسَفَرًا قَاصِدًا لَاتَّبَعُوكَ} (5) ، والمقصود هو الأول: ((العَرْض)).

 

اصطلاحاً: العروض: هو ما أعد للبيع والشراء؛ لأجلِ ربحٍ (6).

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، باب الضاد، فصل العين، 7/ 170، ومختار الصحاح، ص 178.

(2) سورة النور، الآية: 33.

(3) متفق عليه: البخاري، كتاب الرقاق، بابٌ: الغنى غنى النفس، برقم 6446، ومسلم، كتاب الزكاة، باب ليس الغنى غنى كثرة العرض، برقم 1051.

(4) انظر: القاموس الفقهي: لغة واصطلاحاً، السعدي أبو جيب، ص 247، ومعجم لغة الفقهاء لمحمد رواس، ص 278، والموسوعة الفقهية، 23/ 268.

(5) سورة التوبة الآية: 42.

(6) انظر: الروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 3/ 620، والشرح الممتع، 6/ 140.
ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত

 

‌‌প্রথমত: ব্যবসায়িক পণ্যের (عروض التجارة) ধারণা শাব্দিক (لغةً) ও‌ ‌পারিভাষিক (اصطلاحاً):

শাব্দিক অর্থে: ‘আরদ’ (العروض) হলো ‘আরদ’ (عَرْض) শব্দের বহুবচন (আইন বর্ণের ফাতহাহ এবং র-এর সুকুন যোগে): এটি নগদ অর্থের বিপরীত সম্পদ। আল-জাওহারি বলেন: ‘আরদ’ (العَرْض) হলো আসবাবপত্র বা পণ্যসামগ্রী; দিরহাম ও দিনার ব্যতীত প্রতিটি জিনিসই ‘আরদ’ (عَرْض), কেননা দিরহাম ও দিনার হলো মূল অর্থ। আবু উবাইদ বলেন: ‘আরদ’ (العروض) হলো সেইসব আসবাবপত্র যা পরিমাপ বা ওজনের আওতাভুক্ত নয় এবং যা প্রাণী বা স্থাবর সম্পত্তিও নয়। আপনি বলে থাকেন: আমি পণ্যটি ‘আরদ’ (بِعَرْضٍ) অর্থাৎ এর সমজাতীয় পণ্যের বিনিময়ে ক্রয় করেছি। আর আপনি যখন কোনো পণ্য, পশু বা অন্য কিছুর বিনিময়ে তা অদলবদল করেন, তখন তাকে ‘মুআরাদাহ’ (معارضة) বলা হয় (১)।

আর ‘আরাদ’ (العَرَض) (আইন ও র উভয় বর্ণের ফাতহাহ যোগে), যার বহুবচন হলো ‘আরাদ’ (أعراض), এর অর্থ হলো পার্থিব পণ্য ও এর নশ্বর ভোগসামগ্রী। এটি সম্পদের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। {যাতে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ (عرض) অন্বেষণ করো} (২)। ((ধনাঢ্যতা অঢেল পার্থিব সম্পদের (العرض) প্রাচুর্যের নাম নয়, বরং প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা)) (৩)। একে ‘আরাদ’ (عرض) বলা হয় কারণ এটি এক সময় দৃশ্যমান হয় এবং পরে বিলীন হয়ে যায় (৪)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তা নিকটবর্তী কোনো পার্থিব সম্পদ (عرضًا) এবং সহজ সফর হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার অনুসরণ করত} (৫)। আর এখানে কাঙ্ক্ষিত অর্থ হলো প্রথমটি: ‘আরদ’ (العَرْض)।

 

পারিভাষিক অর্থে: ‘উরুদ’ (العروض) হলো ওইসব বস্তু যা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয় (৬)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, বাব আদ-দাদ, ফাসলুল আইন, ৭/ ১৭০; এবং মুখতারুস সিহাহ, পৃষ্ঠা ১৭৮।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৩।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুর রিকাক, অধ্যায়: ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা, হাদিস নং ৬৪৪৬; এবং মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: ধনাঢ্যতা অঢেল পার্থিব সম্পদের প্রাচুর্যের নাম নয়, হাদিস নং ১০৫১।

(৪) দেখুন: আল-কামুস আল-ফিকহি: লুগাতান ওয়া ইস্তিলাহান, সাদি আবু জিব, পৃষ্ঠা ২৪৭; এবং মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃষ্ঠা ২৭৮; এবং আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/ ২৬৮।

(৫) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪২।

(৬) দেখুন: আর-রওদুল মুরবি মাআ হাশিয়াহ ইবনে কাসিম, ৩/ ৬২০; এবং আশ-শারহুল মুমত্বি, ৬/ ১৪০।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৬)
وقيل: هو السلع التجارية، كل ما أعد للبيع والشراء من أجل الأرباح، من أي نوع، ومن أي صنف كان، وهو جميع أصناف الأموال غير الذهب والفضة (1).

وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((العروض: جمع عَرْضٍ، وهو غير الأثمان من المال، على اختلاف أنواعه: من النباتِ، والحيوان، والعقار، وسائر المال)) (2).

التجارة: البيع والشراء من أجل الربح (3) في جميع أصناف المال إلا النقدين.

وقيل: كل ما أعد للتجارة كائنة ما كانت سواء من جنسٍ تجب فيه زكاة العين: كالإبل، والبقر، والغنم، أو لا: كالعقار، والثياب، والحمير، والبغال (4).

 

‌‌ثانياً: زكاة العروض واجبة بعموم الكتاب والسنة، والآثار، وإجماع عامة أهل العلم والقياس.

‌‌أما الكتاب فلعموم الآيات الآتية:

‌‌الدليل الأول: قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآَخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ الله غَنِيٌّ حَمِيدٌ} (5). وقد فسر مجاهد

--------------------------------------------

(1) انظر: حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 3/ 260.

(2) المغني، لابن قدامة، 4/ 249.

(3) لسان العرب، باب التاء، فصل الراء، 2/ 19، وانظر: الموسوعة الفقهية، 23/ 268.

(4) الموسوعة الفقهية، 23/ 268.

(5) سورة البقرة، الآية: 267.
এবং বলা হয়েছে: এটি হলো বাণিজ্যিক পণ্য (سلع تجارية), যা লাভের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়, তা যেকোনো প্রকার বা শ্রেণির হোক না কেন; এটি স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যতীত সকল প্রকার সম্পদকে অন্তর্ভুক্ত করে (১)।

ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((বাণিজ্যিক পণ্য (العروض): এটি ‘আরদ’ (عَرْض) শব্দের বহুবচন; এটি মুদ্রা ব্যতীত অন্যান্য সম্পদকে বোঝায়, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ, প্রাণী, স্থাবর সম্পত্তি এবং অন্যান্য সকল প্রকার সম্পদ)) (২)।

ব্যবসা: নগদ অর্থ (স্বর্ণ ও রৌপ্য) ব্যতীত সকল প্রকার সম্পদে লাভের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করা (৩)।

এবং বলা হয়েছে: ব্যবসার জন্য প্রস্তুতকৃত প্রতিটি বস্তু, তা যা-ই হোক না কেন; চাই তা এমন প্রকারের হোক যাতে মূল সম্পদের জাকাত (زكاة العين) ওয়াজিব হয়, যেমন: উট, গরু, ছাগল; অথবা না হয়, যেমন: স্থাবর সম্পত্তি, কাপড়, গাধা ও খচ্চর (৪)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: কিতাব, সুন্নাহ, বর্ণনা (الآثار), আলেমদের সাধারণ ঐকমত্য এবং কিয়াসের ব্যাপক নির্দেশনার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক পণ্যের (العروض) জাকাত ওয়াজিব।

‌‌কিতাব থেকে দলিল: নিম্নোক্ত আয়াতসমূহের ব্যাপক অর্থ থেকে এটি প্রমাণিত হয়:

‌‌প্রথম দলিল: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা বের করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট অংশ ব্যয় কর। আর তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না, অথচ তোমরা নিজেরা তা গ্রহণ করবে না—যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে থাক। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত} (৫)। আর মুজাহিদ ব্যাখ্যা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হাশিয়া ইবনে কাসিম আলা আর-রওদিল মুরবি, ৩/২৬০।

(২) আল-মুগনি, ইবনে কুদামা কৃত, ৪/২৪৯।

(৩) লিসানুল আরব, বাবুত তা, ফাসলুর রা, ২/১৯; এবং দেখুন: আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২৬৮।

(৪) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২৬৮।

(৫) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬৭।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৭)
رحمه الله تعالى، قوله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ} قال: ((من التجارة)) (1). وفي لفظ: ((من التجارة الحلال)) (2).

قال الإمام الطبري رحمه الله: ((من طيبات ما كسبتم)) يعني بذلك جل ثناؤه: زكُّوا من طيبات ما كسبتم، بتصرفكم: إما بتجارة، وإما بصناعة، من الذهب والفضة، ويعني بـ ((الطيبات الجياد)) (3) وقال الإمام القرطبي رحمه الله: ((الكسب يكون بتعب بدنٍ: وهي الإجارة، وسيأتي حكمها، أو مقاولةٍ في تجارة: وهو البيع)) (4). وقال الإمام البغوي رحمه الله تعالى: {مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ} من خيار، قال ابن مسعود رضي الله عنهم ومجاهد: من حلالات {مَا كَسَبْتُمْ} بالتجارة، والصناعة (5). وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: ((يأمر تعالى عباده المؤمنين بالإنفاق … من طيبات ما رزقهم من الأموال التي اكتسبوها، قال مجاهد: يعني التجارة، بتيسيره إياها لهم … )) (6). وقال العلامة السعدي رحمه الله: ((يأمر تعالى عباده المؤمنين بالنفقة من طيبات ما يسر لهم من المكاسب ومما أخرج لهم من الأرض)) (7).

--------------------------------------------

(1) جامع البيان (تفسير الطبري)، 5/ 556، برقم 6121، وأثر مجاهد صحيح الإسناد كما ذكر أبو البراء، وأبو أنس في زكاة عروض التجارة، ص 9.

(2) جامع البيان (تفسير الطبري)، 5/ 556، برقم 6124.

(3) تفسير الطبري، 5/ 556.

(4) تفسير القرطبي، 3/ 322.

(5) تفسير البغوي، 1/ 252.

(6) تفسير ابن كثير، ص 212، طبعة دار السلام.

(7) تفسير السعدي، ص 115.
রহিমাহুল্লাহ তাআলা, মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ, তার উৎকৃষ্ট অংশ হতে ব্যয় করো} তিনি বলেছেন: ((ব্যবসা হতে)) (১)। অন্য শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: ((হালাল ব্যবসা হতে)) (২)।

ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((তোমরা যা উপার্জন করেছ তার উৎকৃষ্ট অংশ হতে)) এর দ্বারা মহান আল্লাহ—তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত হোক—বুঝিয়েছেন: তোমরা তোমাদের স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা ব্যবসা কিংবা শিল্পের মাধ্যমে যা উপার্জন করেছ, তার উৎকৃষ্ট অংশ হতে জাকাত প্রদান করো; আর ((উৎকৃষ্ট)) দ্বারা তিনি ((উত্তম বস্তুসমূহ)) বুঝিয়েছেন (৩)। এবং ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((উপার্জন শরীরের পরিশ্রমের মাধ্যমে হতে পারে: আর তা হলো ইজারা (মজুরি), যার বিধান সামনে আসবে; অথবা ব্যবসার আলোচনার মাধ্যমে: যা হলো ক্রয়-বিক্রয়)) (৪)। ইমাম বাগাবী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: {তোমরা যা উপার্জন করেছ তার উৎকৃষ্ট অংশ হতে} অর্থাৎ উত্তম বস্তু হতে; ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং মুজাহিদ বলেছেন: ব্যবসা ও শিল্পের মাধ্যমে {তোমরা যা উপার্জন করেছ} তার হালাল অংশ হতে (৫)। ইমাম ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন... তাদের উপার্জিত সম্পদ থেকে তিনি যা রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার উৎকৃষ্ট অংশ হতে ব্যয় করার জন্য; মুজাহিদ বলেন: অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে সহজসাধ্য ব্যবসার মাধ্যমে...)) (৬)। আল্লামা সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের তাদের জন্য সহজকৃত উপার্জন এবং ভূমি হতে তাদের জন্য যা বের করেছেন, তার উৎকৃষ্ট অংশ হতে ব্যয় করার নির্দেশ দিচ্ছেন)) (৭)।

--------------------------------------------

(১) জামিউল বয়ান (তাফসীরে তাবারী), ৫/ ৫৫৬, নং ৬১২১; এবং মুজাহিদের বর্ণনা (أثر) টি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট যেমনটি আবু বারা ও আবু আনাস 'জাকাতু উরুদিত তিজারা', পৃ. ৯-এ উল্লেখ করেছেন।

(২) জামিউল বয়ান (তাফসীরে তাবারী), ৫/ ৫৫৬, নং ৬১২৪।

(৩) তাফসীরে তাবারী, ৫/ ৫৫৬।

(৪) তাফসীরে কুরতুবী, ৩/ ৩২২।

(৫) তাফসীরে বাগাবী, ১/ ২৫২।

(৬) তাফসীরে ইবনে কাসীর, পৃ. ২১২, দারুস সালাম সংস্করণ।

(৭) তাফসীরে সাদী, পৃ. ১১৫।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৮)
قال الإمام البخاري رحمه الله: ((بابُ صدقة الكسب والتجارة؛ لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ} (1) قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((هكذا أورد هذه الترجمة مقتصراً على الآية بغير حديث، وكأنه أشار إلى ما رواه شعبة عن الحكم عن مجاهد في هذه الآية: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ} قال من التجارة الحلال … (2) (3).

 

‌‌الدليل الثاني من القرآن الكريم، عموم قوله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ والله سَمِيعٌ عَلِيم} (4).

ذكر الإمام القرطبي رحمه الله في تفسير هذه الآية مسائل منها:

قال: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً} مطلق غير مقيد بشرط في المأخوذ، والمأخوذ منه، ولا تبين مقدار المأخوذ، ولا المأخوذ منه، وإنما بيان ذلك في السنة والإجماع، حسب ما نذكره، فتؤخذ الزكاة من جميع الأموال، وقد أوجب النبي صلى الله عليه وسلم الزكاة في المواشي والحبوب، والعين وهذا ما لا خلاف فيه، واختلفوا فيما سوى ذلك: كالخيل وسائر العروض … )) (5).

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الزكاة، باب صدقة الكسب والتجارة، رقم الباب 29، قبل الحديث رقم 1445.

(2) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 3/ 307.

(3) وممن استدل بهذه الآية أيضاً على وجوب زكاة التجارة الصنعاني في سبل السلام، 4/ 54، والماوردي في الحاوي الكبير، 4/ 292، وغير ذلك.

(4) سورة التوبة، الآية: 103.

(5) الجامع لأحكام القرآن، للقرطبي، 8/ 228.
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((উপার্জন ও ব্যবসার সদকা (জাকাত) বিষয়ক অধ্যায়; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ, তোমরা যা উপার্জন করো তার পবিত্র অংশ থেকে ব্যয় করো} (১) হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((তিনি এই অনুচ্ছেদটি কোনো হাদিস উল্লেখ না করে কেবল আয়াতের ওপর সীমাবদ্ধ থেকে এভাবে উপস্থাপন করেছেন। সম্ভবত তিনি সেই বর্ণনা (رواية)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা শু'বাহ, হাকাম থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণনা করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা যা উপার্জন করো তার পবিত্র অংশ থেকে ব্যয় করো}। তিনি (মুজাহিদ) বলেছেন: এটি হালাল ব্যবসা থেকে … (২) (৩).

 

‌‌পবিত্র কুরআন থেকে দ্বিতীয় দলিল, আল্লাহ তাআলার বাণীর সাধারণ অর্থ (عموم): {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন। আর আপনি তাদের জন্য দুআ করুন; নিশ্চয়ই আপনার দুআ তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} (৪).

ইমাম কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসিরে কতগুলো মাসআলা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

তিনি বলেছেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন} এটি নিঃশর্ত (مطلق), যা গ্রহণ করা হবে এবং যাদের থেকে গ্রহণ করা হবে তাদের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ (مقيد) নয়। এতে গ্রহণকৃত সম্পদের পরিমাণ বা কাদের থেকে নেওয়া হবে তার স্পষ্ট বর্ণনা নেই। বরং এর বিস্তারিত বর্ণনা সুন্নাহ এবং ইজমা (الإجماع)-এ রয়েছে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করব। সুতরাং সমস্ত সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করা হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গবাদি পশু, শস্য এবং স্বর্ণ-রূপা বা নগদ অর্থ (العين)-এর ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব (واجب) করেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। তবে এর বাইরে অন্যান্য বিষয় যেমন ঘোড়া ও অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্যের (العروض) ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছেন … )) (৫).

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুজ জাকাত, উপার্জনক ও ব্যবসার সদকা অধ্যায়, অধ্যায় নং ২৯, হাদিস নং ১৪৪৫ এর আগে।

(২) ফাতহুল বারি বিশরহ সহিহ বুখারি, ৩/ ৩০৭।

(৩) যারা এই আয়াতের মাধ্যমে ব্যবসার জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন সুবুলুস সালাম-এ সানআনি, ৪/ ৫৪, আল-হাবি আল-কাবির-এ মাওয়ারদি, ৪/ ২৯২ এবং অন্যান্য।

(৪) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৩।

(৫) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, কুরতুবি, ৮/ ২২৮।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: ((أمر تعالى رسوله صلى الله عليه وسلم بأن يأخذ من أموالهم صدقة يطهرهم ويزكيهم بها، وهذا عام، وإن أعاد بعضهم الضمير في ((أموالهم)) إلى الذين اعترفوا بذنوبهم وخلطوا عملاً صالحاً وآخر سيئاً)) (1).

 

‌‌الدليل الثالث: عموم قول الله تعالى: {وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ* لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} (2). قال قتادة رحمه الله: ((الحق المعلوم: الزكاة المفروضة)) (3). وسُئل ابن عمر رضي الله عنهما عن هذه الآية: أهي الزكاة؟ فقال: ((إن عليك حقوقاً سوى الزكاة)) (4).

قال الإمام الطبري رحمه الله: ((يقول تعالى ذكره: وإلا الذين في أموالهم حق مؤقت، وهو الزكاة، للسائل الذي يسأله من ماله، والمحروم الذي قد حرم الغِنى فهو فقير لا يسأل)) (5).

وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: ((أي في أموالهم نصيب مقرر لذوي الحاجات)) (6). وقال رحمه الله في تفسير قوله تعالى: {وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} (7) قال: ((أي جزء مقسوم، قد أفرزوه للسائل والمحروم)) (8).

وقال العلامة السعدي رحمه الله: ((والذين في أموالهم حق معلوم))

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم، لابن كثير، ص 629.

(2) سورة المعارج، الآية: 24.

(3) جامع البيان، للطبري، 23/ 613.

(4) المرجع السابق، 23/ 613.

(5) جامع البيان، 23/ 613.

(6) تفسير القرآن العظيم، ص 1380.

(7) سورة الذاريات، الآية: 19.

(8) تفسير القرآن العظيم، ص 1263.
ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তিনি তাদের পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করতে পারেন। এটি একটি সাধারণ (عام) নির্দেশ, যদিও কেউ কেউ ‘তাদের সম্পদ’ বাক্যাংশের সর্বনামকে তাদের দিকে ফিরিয়েছেন যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছিল এবং সৎকাজের সাথে মন্দ কাজ মিশ্রিত করেছিল।” (১)।

 

‌‌তৃতীয় দলীল: আল্লাহ তাআলার বাণীর ব্যাপকতা (عموم): {এবং যাদের সম্পদে সুনির্ধারিত অধিকার রয়েছে, যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের জন্য} (২)। কাতাদাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “সুনির্ধারিত অধিকার হলো: ফরয (فرض) যাকাত।” (৩)। আর ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এটি কি যাকাত? তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই তোমার ওপর যাকাত ছাড়াও আরও হক বা অধিকার রয়েছে।” (৪)।

ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করছেন: ‘আর তারা ব্যতীত যাদের সম্পদে একটি নির্ধারিত হক রয়েছে, আর তা হলো যাকাত; যাঞ্চাকারীর জন্য যে তার কাছে সম্পদ প্রার্থনা করে, আর বঞ্চিত ব্যক্তির জন্য যে সচ্ছলতা থেকে বঞ্চিত এবং সে দরিদ্র (فقير) হওয়ার পরেও কারও কাছে হাত পাতে না’।” (৫)।

ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “অর্থাৎ তাদের সম্পদে অভাবীদের জন্য একটি নির্ধারিত অংশ বরাদ্দ রয়েছে।” (৬)। তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তাদের সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে} (৭)-এর তাফসীরে বলেন: “অর্থাৎ এটি একটি বণ্টিত অংশ, যা তারা যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের জন্য পৃথক করে রেখেছে।” (৮)।

আল্লামা সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এবং যাদের সম্পদে সুনির্ধারিত অধিকার রয়েছে”

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর, পৃ. ৬২৯।

(২) সূরা আল-মাআরিজ, আয়াত: ২৪।

(৩) জামিউল বায়ান, তাবারী, ২৩/৬১৩।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, ২৩/৬১৩।

(৫) জামিউল বায়ান, ২৩/৬১৩।

(৬) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, পৃ. ১৩৮০।

(৭) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৯।

(৮) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, পৃ. ১২৬৩।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১০)
من زكاة وصدقة، ((للسائل)) الذي يتعرض للسؤال ((والمحروم)) وهو المسكين الذي لا يسأل الناس فيعطوه، ولا يُفطن له فيتصدق عليه)) (1) قال العلامة محمد بن عثيمين رحمه الله: ((الزكاة واجبة في عروض التجارة، والدليل على ذلك دخولها في عموم قوله تعالى: {وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ} (2) (3).

 

‌‌وأما السنة؛ فلعموم الأحاديث الآتية:

‌‌الدليل الأول: من السنة عموم قول النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه إلى اليمن: ((فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم)) وفي لفظ لمسلم: (( … فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم زكاة تؤخذ من أموالهم فترد على فقرائهم)) (4).

وظاهر الحديث العموم في كل مال، قال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله: ((ولا شك أن عروض التجارة مال)) (5).

 

‌‌الدليل الثاني من السنة، حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصدقة فقيل: منع ابنُ جميل، وخالد بنُ الوليد، وعباس بن عبدالمطلب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((ما ينقم ابن جميل إلا أنه كان فقيراً فأغناه الله ورسوله، وأما

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، ص 887.

(2) سورة الذاريات، الآية: 19.

(3) الشرح الممتع، 6/ 140.

(4) متفق عليه: البخاري، برقم 1395، ومسلم، برقم 19، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام.

(5) الشرح الممتع، 6/ 140.
যাকাত ও সদকা থেকে; ((সাহায্যপ্রার্থী (السائل))) যে যাঞ্চা করতে আসে এবং ((বঞ্চিত (المحروم))) সে হলো এমন অভাবী যে মানুষের কাছে হাত পাতে না যে তারা তাকে কিছু দেবে, আর তাকে চেনা বা বুঝাও যায় না যে তাকে সদকা করা হবে। (১) আল্লামা মুহাম্মাদ বিন উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ব্যবসা পণ্যের ওপর যাকাত আবশ্যক (واجب), আর এর দলিল হলো মহান আল্লাহর এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া: "আর তাদের ধন-সম্পদে সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।" (২) (৩)।

 

‌‌আর সুন্নাহর দলিল; পরবর্তী হাদিসসমূহের ব্যাপকতার কারণে:

‌‌সুন্নাহ থেকে প্রথম দলিল: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুয়াজ বিন জাবালকে যখন তিনি ইয়েমেনে পাঠান সেই সময়ের সাধারণ বক্তব্য: ((তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা ফরজ (افترض) করেছেন যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে।)) আর মুসলিম-এর একটি শব্দে এসেছে: (( … তাদের সংবাদ দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর যাকাত ফরজ (فرض) করেছেন যা তাদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।)) (৪)।

আর হাদিসের স্পষ্ট (ظاهر) অর্থ হলো সকল সম্পদের ক্ষেত্রে এটি ব্যাপক, আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ব্যবসা পণ্য হলো এক প্রকার সম্পদ।)) (৫)।

 

‌‌দ্বিতীয় দলিল সুন্নাহ থেকে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সদকা প্রদানের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বলা হলো: ইবনে জামিল, খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (যাকাত) দিতে অস্বীকার করেছেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((ইবনে জামিল কেবল এজন্যই অপছন্দ করছে বা অস্বীকার করছে যে সে দরিদ্র ছিল, অতঃপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে অভাবমুক্ত করেছেন। আর...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃষ্ঠা: ৮৮৭।

(২) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৯।

(৩) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ১৪০।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৩৯৫ এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৯; ইসলামের যাকাতের গুরুত্ব আলোচনায় ইতিপূর্বে এর তাখরিজ (تخريج) করা হয়েছে।

(৫) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ১৪০।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১১)
خالد فإنكم تظلمون خالداً، قد احتبس أدراعه وأَعتُدَهُ في سبيل الله، وأما العباس بن عبدالمطلب فعمُّ رسول الله صلى الله عليه وسلم فهي عليه صدقة ومثلها معها)). ولفظ مسلم: بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عمر على الصدقة … إلى قوله: وأما خالد فإنكم تظلمون خالداً قد احتبس أدراعه، وأعتاده في سبيل الله، وأما العباس فهي علي ومثلها معها … )) (1).

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((قد احتبس أدراعه، وأعتاده في سبيل الله)) ((وأعتاده)) ما يعده الرجل من الدواب والسلاح وآلات الحرب. قال الإمام النووي رحمه الله: ((ومعنى الحديث: أنهم طلبوا من خالد زكاة أعتاده ظنًّا منهم أنها للتجارة، وأن الزكاة فيها واجبة، فقال لهم: لا زكاة لكم عليَّ، فقالوا للنبي صلى الله عليه وسلم: إن خالداً منع الزكاة، فقال لهم: إنكم تظلمونه؛ لأنه حبسها ووقفها في سبيل الله قبل الحول عليها فلا زكاة فيها، ويحتمل أن يكون المراد: لو وجبت عليه زكاة لأعطاها، ولم يشح بها؛ لأنه قد وقف أمواله لله تعالى تبرعاً، فكيف يشح بواجب عليه، واستنبط بعضهم من هذا وجوب زكاة التجارة، وبه قال جمهور العلماء من السلف والخلف، خلافاً لداود)) (2).

وقال الخطابي رحمه الله: ((وتأويل الكلام على وجهين:

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب قول الله تعالى: {وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ الله} برقم 1468، ومسلم، كتاب الزكاة، باب تقديم الزكاة ومنعها، برقم 983.

(2) شرح النووي على صحيح مسلم، 7/ 61، وانظر: فتح الباري بشرح صحيح البخاري لابن حجر، 3/ 333، وقال: ((ظنوا أنها للتجارة فطالبوه بزكاة قيمتها، فأعلمهم عليه الصلاة والسلام بأنه لا زكاة عليه فيما حبس، وهذا يحتاج لنقل خاص، فيكون فيه حجة لمن أسقط الزكاة عن الأموال المحبّسة، ولمن أوجبها في عروض التجارة))، وانظر أيضاً: إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام لابن دقيق العيد، 2/ 191 – 194.
খালিদ, তোমরা তো খালিদের প্রতি জুলুম করছ; সে তো তার বর্ম ও যুদ্ধ সরঞ্জাম আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে রেখেছে। আর আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের ব্যাপার হলো, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর চাচা, তাই এটি তার পক্ষ থেকে সদকা এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও (সদকা হিসেবে গণ্য হবে)। এবং মুসলিমের শব্দগুলো হলো: আল্লাহর রাসূল (সা.) উমর (রা.)-কে যাকাত আদায়ের জন্য পাঠালেন … এই কথা পর্যন্ত: আর খালিদ, তোমরা তো খালিদের প্রতি জুলুম করছ; সে তার বর্ম ও যুদ্ধ সরঞ্জাম আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে রেখেছে। আর আব্বাসের ব্যাপারটি আমার জিম্মায় এবং এর সাথে সমপরিমাণ আরও … (১)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "সে তার বর্ম ও যুদ্ধ সরঞ্জাম আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে রেখেছে।" এখানে 'যুদ্ধ সরঞ্জাম' (অ্যাতাদাহু) বলতে ওই সমস্ত জিনিসকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তি পশু, অস্ত্র এবং যুদ্ধের সরঞ্জামাদি থেকে প্রস্তুত করে রাখে। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "হাদিসটির অর্থ হলো: তারা খালিদ (রা.)-এর কাছে তার যুদ্ধ সরঞ্জামের যাকাত দাবি করেছিলেন এই ধারণায় যে, সেগুলো ব্যবসায়িক পণ্য এবং সেগুলোর ওপর যাকাত প্রদান করা আবশ্যিক (واجب)। তখন তিনি তাদের বললেন: আমার ওপর তোমাদের কোনো যাকাত নেই। এরপর তারা নবী (সা.)-এর কাছে গিয়ে বললেন: খালিদ যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি তখন তাদের বললেন: তোমরা তার ওপর জুলুম করছ; কারণ তিনি বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেগুলো আল্লাহর রাস্তায় আটকে রেখেছেন এবং ওয়াকফ করেছেন, তাই তাতে কোনো যাকাত নেই। আবার এমন অর্থ হওয়াও সম্ভব যে: যদি তার ওপর যাকাত আবশ্যিক (واجب) হতো, তবে তিনি তা অবশ্যই প্রদান করতেন এবং এতে কার্পণ্য করতেন না; যেহেতু তিনি স্বেচ্ছায় নিজের সম্পদ আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন, তবে কেন তিনি নিজের ওপর অর্পিত আবশ্যিক (واجب) দায়িত্ব পালনে কার্পণ্য করবেন? কেউ কেউ এখান থেকে বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত আবশ্যিক (واجب) হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবন করেছেন, আর এটিই দাউদ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ (جمهور) আলেমদের অভিমত" (২)।

ইমাম খাত্তাবী (রহ.) বলেন: "এই কথার ব্যাখ্যা দুইভাবে হতে পারে:

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, যাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং দাসমুক্তিতে, ঋণগ্রস্তদের জন্য এবং আল্লাহর পথে...} হাদিস নং ১৪৬৮; এবং মুসলিম, যাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যাকাত অগ্রিম প্রদান এবং তা প্রদান না করা, হাদিস নং ৯৮৩।

(২) সহিহ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ৭/৬১; এবং দেখুন: ইবনে হাজার বিরচিত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী, ৩/৩৩৩; তিনি বলেছেন: "তারা মনে করেছিলেন যে এগুলো ব্যবসার সামগ্রী, তাই তারা সেগুলোর মূল্যের ওপর যাকাত দাবি করেছিলেন। তখন নবী (সা.) তাদের জানালেন যে, তিনি যা ওয়াকফ করে রেখেছেন তাতে কোনো যাকাত নেই। আর এ বিষয়টি সুনির্দিষ্ট বর্ণনা সাপেক্ষ, ফলে যারা ওয়াকফকৃত সম্পদের ওপর যাকাত রহিত করেছেন এবং যারা বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর যাকাত আবশ্যিক (واجب) বলেছেন, উভয়ের জন্যই এতে দলিল রয়েছে।" আরও দেখুন: ইবনে দাকীক আল-ঈদ বিরচিত ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম, ২/১৯১–১৯৪।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১২)
أحدهما: أنه إنما طولب بالزكاة عن أثمان الأدراع والعتاد على أنها كانت للتجارة، فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنه لا زكاة عليه فيها؛ إذ قد جعلها حبساً في سبيل الله، وفيه دليل على وجوب الزكاة في الأموال التي ترصد للتجارة، وهو كالإجماع من أهل العلم، وزعم بعض المتأخرين من أهل الظاهر أنه لا زكاة فيها، هو مسبوق بالإجماع)) (1).

 

‌‌الدليل الثالث: ما روي من حديث أبي ذر رضي الله عنه يرفعه: ((في الإبل صدقتها، وفي الغنم صدقتها، وفي البقر صدقتها، وفي البز صدقته)) (2).

‌‌الدليل الرابع: من السنة، قوله عليه الصلاة والسلام: ((إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى)) (3). قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((ولو سألنا التاجر: ماذا يريد بهذه الأموال؟ لقال: أريد الذهب والفضة، أريد النقدين .. فعلى هذا نقول: زكاة العروض واجبة بالنص والقياس)) (4).

‌‌وأما الآثار: فمنها على سبيل المثال لا الحصر ما يأتي:

--------------------------------------------

(1) معالم السنن للخطابي، 2/ 273، برقم 1623.

(2) أحمد، 35/ 442، برقم 21557، والترمذي في العلل الكبير، 2/ 102، والحاكم، 1/ 388، والدارقطني، 2/ 102، والبيهقي، 4/ 147، وغيرهم كثير، ولكن الحديث ضعفه الألباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة، 3/ 324، برقم 1178، ومحققو مسند الإمام أحمد، 35/ 442، برقم 21557، وذكروا أن لفظة ((وفي البز)) بالزاي المعجمة، وأما من صحف ((وفي البر)) بالراء: فلا وجه له، وضعفوا الحديث كما تقدم. واستُدلَّ بحديث سمرة بن جندب: ((كان يأمرنا أن نخرج الصدقة من الذي نعده للبيع)) [أبو داود، برقم 1562]، وضعفه الألباني في إرواء الغليل، 3/ 310، برقم 827.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 1، ومسلم، برقم: 1907، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام، في شروط صحة الزكاة.

(4) الشرح الممتع، 6/ 141.
প্রথমটি হলো: তার কাছে বর্ম ও যুদ্ধের সাজসরঞ্জামের মূল্যের যাকাত দাবি করা হয়েছিল এই ভিত্তিতে যে সেগুলো ব্যবসার জন্য ছিল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন যে, এগুলোতে কোনো যাকাত নেই; কারণ তিনি সেগুলো আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ (حبس) করে রেখেছিলেন। এতে ঐসব সম্পদের ওপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার দলিল পাওয়া যায় যা ব্যবসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় এবং এটি বিজ্ঞ আলিমদের ঐকমত্যের (إجماع) মতোই। পরবর্তী যুগের আহলে যাহিরদের কেউ কেউ যে দাবি করেছেন এতে কোনো যাকাত নেই, তাদের সেই দাবি পূর্ববর্তী ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা খণ্ডিত।)) (১)।

 

‌‌তৃতীয় দলিল: আবু যার (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হাদিস: ((উটের যাকাত দিতে হবে, বকরির যাকাত দিতে হবে, গরুর যাকাত দিতে হবে এবং কাপড়ের (ব্যবসা) যাকাত দিতে হবে)) (২)।

‌‌চতুর্থ দলিল: সুন্নাহ থেকে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে)) (৩)। আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন: ((যদি আমরা ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসা করি: আপনি এই সম্পদ দিয়ে কী চান? তবে তিনি বলবেন: আমি সোনা ও রূপা চাই, আমি নগদ অর্থ চাই... সুতরাং এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি: দালিলিক প্রমাণ (نص) ও কিয়াস (قياس) অনুযায়ী ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত ওয়াজিব)) (৪)।

‌‌আর আছার (আসার) বা সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে: উদাহরণস্বরূপ নিচেরগুলো উল্লেখ করা যেতে পারে:

--------------------------------------------

(১) আল-খাত্তাবির মাআলিমুস সুনান, ২/২৭৩, হাদিস নং ১৬২৩।

(২) আহমাদ, ৩৫/৪৪২, হাদিস নং ২১৫৫৭; আত-তিরমিজি আল-ইলালুল কাবীর, ২/১০২; হাকিম, ১/৩৮৮; দারাকুতনি, ২/১০২; বায়হাকি, ৪/১৪৭ এবং আরও অনেকে। তবে আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দইফাহ গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, ৩/৩২৪, হাদিস নং ১১৭৮। মুসনাদে ইমাম আহমাদ-এর মুহাক্কিকগণও (৩৫/৪৪২, হাদিস নং ২১৫৫৭) একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন এবং তারা উল্লেখ করেছেন যে, 'ওফীল বাযযি' শব্দটি 'যায়' বর্ণ দিয়ে। আর যারা একে 'ওফীল বিররি' (র’ দিয়ে) হিসেবে ভুল পাঠ (تصحيف) করেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই; তারা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। সামুরাহ ইবনে জুনদুব বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করা হয়েছে: ((তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যে আমরা যেন বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত সম্পদ থেকে সদকা বের করি)) [আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৬২], তবে আলবানী ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, ৩/৩১০, হাদিস নং ৮২৭।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১; মুসলিম, হাদিস নং ১৯০৭; এবং ইসলামের যাকাতের মর্যাদা ও যাকাত বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলির আলোচনায় এর তাখরিজ আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/১৪১।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الأثر الأول: عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: ((ليس في العَرْض زكاة؛ إلا أن يراد به التجارة)) (1).

‌‌الأثر الثاني: عن عمر رضي الله عنه كما قال عبدالرحمن بن عبدٍ القارئ، وكان على بيت المال في زمن عمر مع عبيد الله بن الأرقم، فإذا خرج العطاء جمع عمر أموال التجارة فحسب عاجلها وآجلها، ثم يأخذ الزكاة من الشاهد والغائب)) (2).

‌‌الأثر الثالث: عن عمر بن عبدالعزيز، قال زريق بن حيان - وكان على جواز مصر في زمن الوليد وسليمان، وعمر بن عبدالعزيز، فذكر ((أن عمر بن عبدالعزيز كتب إليه: أن انظر من مرَّ بك من المسلمين فخذ مما ظهر من أموالهم مما يديرون من التجارات: من كل أربعين ديناراً ديناراً، فما نقص فبحساب ذلك حتى يبلغ عشرين ديناراً، فإن نقصت ثلث دينار فدعها ولا تأخذ منها شيئاً)) (3).

--------------------------------------------

(1) البيهقي، 4/ 147، وعبدالرزاق في المصنف، 4/ 97، والشافعي في الأم، 2/ 46، وابن أبي شيبة، 3/ 183، وهو صحيح الإسناد كما قالت اللجنة الدائمة في مجموع الفتاوى، 9/ 310، وقال عبدالقادر الأرنؤوط في جامع الأصول، 4/ 632 ((بسند صحيح)). واحتج بأثر عن عمرو بن حماس عن أبيه، قال: ((أمرني عمر فقال: أدِّ زكاة مالك. فقلت: ما لي مالٌ إلا جعابٌ وأدَمٌ، فقال: قوِّمها ثم أدِّ زكاتها)) [الدارقطني 2/ 125، والبيهقي 4/ 147، وضعفه الألباني في إرواء الغليل برقم 828].

(2) مصنف ابن أبي شيبة، 3/ 184، وأبو عبيد في الأموال، ص 520 - 526، برقم 1178، 1211، وصححه ابن حزم في المحلى، 5/ 234، ولكن لم يعمل به، وقالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية برئاسة ابن باز بأنه ثابت، [فتاوى اللجنة، 9/ 309].

(3) موطأ الإمام مالك، 1/ 255، كتاب الزكاة، باب زكاة العروض، برقم 20، وإسناده حسن، كما قال عبدالقادر الأرنؤوط في جامع الأصول لابن الأثير بتحقيقه، 4/ 632.
‌‌প্রথম আসার: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ((পণ্যসামগ্রীতে কোনো জাকাত নেই; তবে তা যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে হয়)) (১)।

‌‌দ্বিতীয় আসার: উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, যেমনটি আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল ক্বারী বলেছেন—যিনি উমরের (রা.) যুগে উবাইদুল্লাহ ইবন আরক্বামের সাথে বাইতুল মালের দায়িত্বে ছিলেন—"যখন ভাতা প্রদানের সময় আসত, তখন উমর (রা.) ব্যবসায়িক সম্পদ একত্রিত করতেন, অতঃপর তার নগদ ও বাকির হিসাব করতেন এবং উপস্থিত ও অনুপস্থিত উভয়ের নিকট থেকে জাকাত গ্রহণ করতেন।" (২)।

‌‌তৃতীয় আসার: উমর ইবন আব্দুল আজিজ (রহ.) থেকে বর্ণিত; যুরাইক ইবন হাইয়ান—যিনি ওয়ালিদ, সুলাইমান এবং উমর ইবন আব্দুল আজিজের শাসনামলে মিশরের শুল্ক বিভাগে নিয়োজিত ছিলেন—উল্লেখ করেছেন যে, ((উমর ইবন আব্দুল আজিজ তাকে লিখেছিলেন: তোমার নিকট দিয়ে যে সকল মুসলিম অতিক্রম করে তাদের প্রতি লক্ষ্য রেখো এবং তারা যে ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের সেই প্রকাশ্য সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করো: প্রতি চল্লিশ দিনারে এক দিনার। আর যা কম হবে তা সেই অনুপাতে হিসাব করা হবে যতক্ষণ না তা বিশ দিনারে পৌঁছে। যদি এক-তৃতীয়াংশ দিনারও কম হয় তবে তা ছেড়ে দিও এবং তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) বাইহাকী, ৪/১৪৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ৪/৯৭; ইমাম শাফেঈ আল-উম্ম-এ, ২/৪৬; ইবন আবী শাইবা, ৩/১৮৩; এটি বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد), যেমনটি আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ ফাতাওয়া সমগ্রে বলেছে, ৯/৩১০। আব্দুল কাদির আরনাউত জামিউল উসুল-এ বলেছেন, ৪/৬৩২, ((বিশুদ্ধ সূত্রে (بسند صحيح)))। তিনি আমর ইবন হামাস কর্তৃক তার পিতার সূত্রে বর্ণিত একটি আসার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ((উমর আমাকে নির্দেশ দিয়ে বললেন: তোমার সম্পদের জাকাত প্রদান করো। আমি বললাম: চামড়ার থলে ও পাকা চামড়া ব্যতীত আমার তো কোনো সম্পদ নেই। তিনি বললেন: সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করো অতঃপর তার জাকাত প্রদান করো)) [দারাকুতনি ২/১২৫, বাইহাকী ৪/১৪৭, এবং আলবানী একে ইরওয়াউল গালীল-এ দুর্বল (ضعفه) বলেছেন, হাদিস নং ৮২৮]।

(২) মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা, ৩/১৮৪; আবু উবাইদ আল-আমওয়াল-এ, পৃ. ৫২০ - ৫২৬, নং ১১৭৮, ১২১১; ইবন হাজম আল-মুহাল্লা-তে একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন, ৫/২৩৪, কিন্তু এর ওপর আমল করেননি। এবং ইবন বাযের সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফাতাওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি একে প্রমাণিত (ثابت) বলেছে, [ফাতাওয়া আল-লাজনাহ, ৯/৩০৯]।

(৩) মুয়াত্তা ইমাম মালিক, ১/২৫৫, জাকাত অধ্যায়, পণ্যসামগ্রীর জাকাত পরিচ্ছেদ, নং ২০; এর সনদটি হাসান বা উত্তম (إسناده حسن), যেমনটি আব্দুল কাদির আরনাউত ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল-এর তাহকীকে বলেছেন, ৪/৬৩২।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌وأما الإجماع فقال الإمام ابن المنذر رحمه الله تعالى: ((وأجمعوا على أن في العروض التي تدار للتجارة: الزكاة إذا حال عليها الحول)) (1).

وقال الإمام ابن عبدالبر رحمه الله: ((ولم يختلف العلماء أن العروض كلها: من العبيد، وغير العبيد إذا لم تكن تبتاع للتجارة أنه لا زكاة فيها)) (2).

وقد نقل الإجماع عن ابن المنذر رحمه الله موافقةً له على ذلك: الإمام ابن قدامة رحمه الله (3) والإمام الصنعاني رحمه الله في سبل السلام (4) ، والإمام النووي رحمه الله (5) ، وشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (6) ، والعلامة الشوكاني رحمه الله (7).

وقال الإمام البغوي رحمه الله: ((ذهب عامة أهل العلم إلى أن التجارة تجب الزكاة في قيمتها، إذا كانت نصاباً تمام الحول، فيخرج منها ربع العشر)) (8).

وقال أبو عبيدٍ رحمه الله: ((أجمع المسلمون على أن الزكاة فرض واجب فيها، وأما القول الآخر فليس من مذاهب أهل العلم عندنا)) (9).

--------------------------------------------

(1) الإجماع لابن المنذر، ص 57، برقم 137.

(2) التمهيد لابن عبدالبر، 17/ 129.

(3) المغني، لابن قدامة، 4/ 248.

(4) سبل السلام، 4/ 54.

(5) المجموع للنووي، 6/ 47.

(6) مجموع فتاوى ابن تيمية، 25/ 15.

(7) نيل الأوطار، 4/ 163.

(8) شرح السنة للبغوي، 6/ 350.

(9) الأموال، لأبي عبيد، ص 429.
আর ঐক্যমত্যের (الإجماع) প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে আল-মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((সকলে ঐক্যমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত পণ্যসামগ্রীর (العروض) ওপর যাকাত প্রযোজ্য হবে যখন তাতে এক বছর পূর্ণ হয়)) (১)।

ইমাম ইবনে আবদিল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((বিদ্বানগণ এ বিষয়ে কোনো মতভেদ করেননি যে, সকল পণ্য (العروض)—চাই তা দাস হোক বা অন্য কিছু—যদি তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা না হয়, তবে তাতে কোনো যাকাত নেই)) (২)।

আর ইবনে আল-মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত এই ঐক্যমত্যের (الإجماع) বিষয়টি তাঁর সাথে একমত হয়ে বর্ণনা করেছেন: ইমাম ইবনে কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) (৩), সুবুলুস সালাম গ্রন্থে ইমাম আস-সানআনী (রাহিমাহুল্লাহ) (৪), ইমাম আন-নাওয়াবী (রাহিমাহুল্লাহ) (৫), শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) (৬) এবং আল্লামা আশ-শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) (৭)।

ইমাম আল-বাগাভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((অধিকাংশ আলেম (عامة أهل العلم) এই মত পোষণ করেছেন যে, ব্যবসার পণ্যের মূল্যের ওপর যাকাত ওয়াজিব (تجب) হয়; যদি তা বছর পূর্ণ হওয়ার সময় নিসাব (نصاباً) পরিমাণ থাকে, তবে তা থেকে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر) বের করতে হবে)) (৮)।

আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((মুসলিমগণ ঐক্যমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, যাকাত এতে একটি ফরজ (فرض) ও অপরিহার্য (واجب) বিধান; আর এর বিপরীতে যে মত রয়েছে, তা আমাদের নিকট আলেমদের মাযহাবসমূহের (مذاهب) অন্তর্ভুক্ত নয়)) (৯)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল মুনযিরের আল-ইজমা, পৃ. ৫৭, নং ১৩৭।

(২) ইবনে আবদিল বারের আত-তামহিদ, ১৭/১২৯।

(৩) ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৪/২৪৮।

(৪) সুবুলুস সালাম, ৪/৫৪।

(৫) আন-নাওয়াবীর আল-মাজমু, ৬/৪৭।

(৬) ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমু আল-ফাতাওয়া, ২৫/১৫।

(৭) নাইলুল আওতার, ৪/১৬৩।

(৮) আল-বাগাভীর শারহুস সুন্নাহ, ৬/৩৫০।

(৯) আবু উবাইদের আল-আমওয়াল, পৃ. ৪২৯।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌وأما القياس، فقال الإمام النووي رحمه الله: ((تجب الزكاة في عروض التجارة؛ لحديث أبي ذرٍّ رضي الله عنه؛ ولأن التجارة يطلب بها نماء المال، فتعلقت بها الزكاة، كالسوم في الماشية)) (1).

وقال الإمام ابنُ رشدٍ رحمه الله: ((إن العروض المتخذة للتجارة مال مقصود به التنمية، فأشبه الأجناس الثلاثة التي فيها الزكاة باتفاق. أعني الحرث، والماشية، والذهب، والفضة)) (2).

 

‌‌ثالثاً: وجوب زكاة عروض التجارة:

قال به الأئمة الأعلام المحققون قديماً وحديثاً: من أهل العلم والإيمان والفقه لمقاصد الإسلام، فهو كالإجماع، ومنهم على سبيل المثال لا الحصر، ما يأتي:

الفقهاء السبعة (3)، والأئمة الأربعة (4): الإمام أبو حنيفة (5)، والإمام مالك (6)، والإمام الشافعي (7) ، والإمام أحمد (8)، وكثير من علماء الإسلام

--------------------------------------------

(1) المجموع للنووي، 6/ 47.

(2) بداية المجتهد، لابن رشد، 1/ 254.

(3) سبل السلام للصنعاني، 4/ 54، والفقهاء السبعة هم: سعيد بن المسيب، وعروة بن الزبير، وأبو سلمة بن عبدالرحمن بن عوف، والقاسم بن محمد ابن أبي بكر الصديق، وعبيدالله بن عبدالله بن عتبة بن مسعود، وسليمان بن يسار، وخارجة بن زيد ابن ثابت. انظر: المغني لابن قدامة 4/ 248.

(4) الفقه على المذاهب الأربعة للجزيري، ص 342.

(5) المرجع السابق، ص 342.

(6) الموطأ، 1/ 255.

(7) الأم للشافعي، 2/ 68.

(8) المغني لابن قدامة، 4/ 248.
‌‌আর কিয়াসের (القياس) ক্ষেত্রে, ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ব্যবসার পণ্যে (عروض التجارة) জাকাত ওয়াজিব; আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে; এবং যেহেতু ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদের প্রবৃদ্ধি অন্বেষণ করা হয়, তাই এর সাথে জাকাত সংশ্লিষ্ট হয়েছে, যেমনটা গবাদি পশুর চারণের (السوم) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে)) (১)।

ইমাম ইবনে রুশদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই ব্যবসার জন্য গৃহীত পণ্য (عروض التجارة) এমন এক সম্পদ যার উদ্দেশ্য হলো প্রবৃদ্ধি, ফলে তা ঐ তিন শ্রেণির সদৃশ হয়েছে যাতে সর্বসম্মতভাবে জাকাত রয়েছে। অর্থাৎ ফসল, গবাদি পশু এবং সোনা ও রূপা)) (২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: ব্যবসার পণ্যের জাকাত ওয়াজিব হওয়া:

প্রাচীন ও বর্তমানের ইলম, ঈমান এবং ইসলামের মাকাসিদ বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বিষয়ক ফিকহ বা প্রজ্ঞার অধিকারী খ্যাতিমান গবেষক ইমামগণ এ মত পোষণ করেছেন। এটি অনেকটা ইজমার (الإجماع) মতো। তাদের মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কয়েকজনের নাম নিচে দেওয়া হলো (তবে এটিই সীমাবদ্ধ নয়):

সাত ফকিহ (৩), এবং চার ইমাম (৪): ইমাম আবু হানিফা (৫), ইমাম মালিক (৬), ইমাম শাফেঈ (৭), এবং ইমাম আহমদ (৮), ও ইসলামের আরও অনেক আলেম।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু, নববী রচিত, ৬/ ৪৭।

(২) বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ইবনে রুশদ রচিত, ১/ ২৫৪।

(৩) সুবুলুস সালাম, সানআনী রচিত, ৪/ ৫৪। সাত ফকিহ হলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর, আবু সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ, কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবি বকর আস-সিদ্দিক, উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসউদ, সুলাইমান ইবনু ইয়াসার এবং খারিজাহ ইবনু যায়িদ ইবনু সাবিত। দেখুন: আল-মুগনি, ইবনু কুদামাহ রচিত ৪/ ২৪৮।

(৪) আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ, জাযীরি রচিত, পৃ. ৩৪২।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৩৪২।

(৬) মুয়াত্তা, ১/ ২৫৫।

(৭) আল-উম্ম, শাফেঈ রচিত, ২/ ৬৮।

(৮) আল-মুগনি, ইবনু কুদামাহ রচিত, ৪/ ২৪৮।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
والأئمة الأعلام لا يحصي عددهم إلا الله، ومنهم: شيخ الإسلام ابن تيمية (1)، وابن القيم (2)، وأبو عبيد (3)، والإمام النووي (4)، والحافظ ابن حجر (5)، والإمام ابن قدامة (6)، والعلامة الصنعاني (7)، والعلامة الشوكاني (8)، والإمام البغوي (9)، ومن المعاصرين: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (10)، والإمام عبدالعزيز بن عبدالله ابن باز (11)، والعلامة محمد بن صالح العثيمين (12)، والعلامة عبدالله بن عبدالرحمن الجبرين (13) وغيرهم كثير، بل هو إجماع بين أهل العلم إلا من شذ؛ ولهذا قال الإمام أبو عُبيدٍ رحمه الله: ((أجمع المسلمون على أن الزكاة فرض واجب فيها)) (14)، وأما

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 25/ 15.

(2) زاد المعاد لابن القيم، 2/ 5.

(3) الأموال لأبي عبيد، ص 429.

(4) المجموع للنووي، 6/ 47.

(5) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 3/ 333.

(6) المغني 4/ 248.

(7) سبل السلام، 4/ 54.

(8) نيل الأوطار، 4/ 163.

(9) شرح السنة، 6/ 350.

(10) مجموع فتاوى اللجنة الدائمة، 9/ 308 – 362، وقد بدأت اللجنة ببحثٍ قيِّم ذكروا فيه الأدلة على وجوب الزكاة في عروض التجارة، وردوا على ابن حزم الظاهري ومن شذ معه.

(11) مجموع فتاوى ابن باز، 14/ 159 – 194.

(12) الشرح الممتع، 6/ 140، ومجموع فتاوى ابن عثيمين، 18/ 205 – 246.

(13) إبهاج المؤمنين بشرح منهج السالكين، 1/ 320.

(14) أي: فرض واجب في عروض التجارة.
বিখ্যাত ইমামদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (১), ইবনুল কায়্যিম (২), আবু উবাইদ (৩), ইমাম নববী (৪), হাফেজ ইবনে হাজার (৫), ইমাম ইবনে কুদামাহ (৬), আল্লামা সানআনী (৭), আল্লামা শাওকানী (৮), ইমাম বাগভী (৯)। আর সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছেন: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (১০), ইমাম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (১১), আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (১২), আল্লামা আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-জিবরীন (১৩) এবং আরও অনেকে। বরং যারা বিচ্যুত (شذ) হয়েছে তারা ছাড়া এটি আলেমদের মাঝে একটি ঐক্যমত্য (إجماع); এজন্যই ইমাম আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, এতে জাকাত প্রদান করা একটি অবধারিত ফরয (فرض) ও ওয়াজিব (واجب))) (১৪), আর...

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/ ১৫।

(২) ইবনুল কায়্যিমের যাদুল মাআদ, ২/ ৫।

(৩) আবু উবাইদের আল-আমওয়াল, পৃষ্ঠা ৪২৯।

(৪) নববীর আল-মাজমু, ৬/ ৪৭।

(৫) ফাতহুল বারী বিশারহি সহিহিল বুখারী, ৩/ ৩৩৩।

(৬) আল-মুগনী ৪/ ২৪৮।

(৭) সুবুলুস সালাম, ৪/ ৫৪।

(৮) নাইলুল আওতার, ৪/ ১৬৩।

(৯) শারহুস সুন্নাহ, ৬/ ৩৫০।

(১০) মাজমু ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ৯/ ৩০৮ – ৩৬২। কমিটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান গবেষণার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছে যেখানে তারা বাণিজ্যিক পণ্যের (عروض التجارة) উপর জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দলীলসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হাজম জাহেরী ও যারা তাঁর সাথে বিচ্যুত (شذ) হয়েছে তাদের খণ্ডন করেছেন।

(১১) মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/ ১৫৯ – ১৯৪।

(১২) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ১৪০ এবং মাজমু ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন, ১৮/ ২০৫ – ২৪৬।

(১৩) ইবহাউিল মুমিনীন বিশারহি মানহাজিস সালিকীন, ১/ ৩২০।

(১৪) অর্থাৎ: বাণিজ্যিক পণ্যের (عروض التجارة) ক্ষেত্রে জাকাত প্রদান করা একটি অবধারিত ফরয (فرض) ও ওয়াজিব (واجب)।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
القول الآخر فليس من مذاهب أهل العلم عندنا)) (1) (2).

--------------------------------------------

(1) الأموال، لأبي عبيد، ص 429.

(2) قال الإمام ابن قدامة: ((وحكي عن مالك وداود أنه لا زكاة فيها؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((عفوت لكم عن صدقة الخيل والرقيق)). [أبو داود، برقم 1574، والنسائي برقم 2477، وابن ماجه وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436] وتقدم تخريجه في زكاة الأثمان، ثم قال ابن قدامة رحمه الله: ((وخبرهم المراد به زكاة العين لا زكاة القيمة بدليل ما ذكرنا، على أن خبرهم عام وحديثنا خاص، فيجب تقديمه)). [المغني، 4/ 249]، واستدلوا كذلك بحديث أبي هريرة رضي الله عنه ((ليس على المسلم في عبده ولا فرسه صدقة)) [متفق عليه: البخاري، برقم 1463، ومسلم، برقم 982]، ونوقش الاستدلال بهذين الحديثين: بأن المراد: الفرس والعبد المعد للخدمة لا لعروض التجارة، فلا زكاة فيهما؛ لأن ذلك يكون خاصاً به يستعمله وينتفع به: كالثوب، والبيت، والسيارة التي يستعملها، كل هذه ليس فيها زكاة [الشرح الممتع، لابن عثيمين 6/ 141].

واستدلوا بقوله صلى الله عليه وسلم: ((ليس في حب ولا ثمر صدقة حتى يبلغ خمسة أوسق، ولا فيما دون خمس ذود صدقة، ولا فيما دون خمس أواق صدقة)) [متفق عليه: البخاري، برقم 1484، ومسلم، برقم 979] قال المسقطون لزكاة العروض التجارية: ((فدل عموم ذلك أنها ليس فيها زكاة سواء أعدت للتجارة أم لا، ويجاب عن ذلك بحمله على عدم وجوب الزكاة في أعيانها، وهذا لا ينافي وجو ب الزكاة في قيمتها: من الذهب، والفضة؛ فإنها ليست مقصودة لأعيانها، وإنما هي مقصودة لقيمتها، فكانت قيمتها هي المعتبرة، وبذلك يجمع بين أدلة نفي وجوبها في العروض وإثباتها فيها)). [فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، 9/ 310] وقالت اللجنة أيضاً في إجابة على الفتوى رقم 8895 لسؤال عن القول بعدم الوجوب في عروض التجارة فأجابت اللجنة بقولها: ((ثبت وجوب الزكاة في النقود ذهباً كانت أو فضة: بالكتاب، والسنة، والإجماع، وعروض التجارة ليست مقصودة لذاتها، وإنما المقصود منها النقود ذهباً كانت أو فضة، والأمور إنما تعتبر بمقاصدها؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إنما الأعمال بالنيات)) ولذا لم تجب الزكاة في الرقيق المتخذ للخدمة، ولا في الخيل المتخذة للركوب، ولا في البيت المتخذ للسكنى، ولا في الثياب المتخذة لباساً، ولا في الزبرجد، والياقوت، والمرجان ونحوها إذا اتخذت للزينة، أما إذا اتخذ كل ما ذكر ونحوه للتجارة فالزكاة واجبة فيه؛ لكونه قصد به النقود: من الذهب، والفضة، وما يقوم مقامها، وإنما نفى ابن حزم وجوب الزكاة في عروض التجارة؛ لأنه لا يقول بتعليل الأحكام، والقول بعدم تعليل الأحكام، وأنها لم تشرع لحكم قول باطل، والصحيح أنها معللة، وأنها نزلت لحكم، لكنها قد يعلمها العلماء فيبنون عليها، ويتوسعون في الأحكام، وقد لا يعلمها العلماء فيقفون عند النص، وهذا هو مسلك الأئمة الأربعة، والأكثر من أهل العلم، فمن منع زكاة ما لديه من عروض التجارة فهو مخطئ، والأحاديث الواردة في إيجابها في العروض وإن كان فيها ضعف، صالحة للاعتضاد، والتأييد لهذا الأصل)) [اللجنة الدائمة المكونة من: عبدالعزيز ابن باز، وعبدالرزاق عفيفي، وعبدالله بن غديان، وعبدالله بن قعود، 9/ 312].
অন্য মতটি আমাদের নিকট আলেমগণের (বিদ্বানদের) মাযহাবভুক্ত নয়। (১) (২)।

--------------------------------------------

(1) আল-আমওয়াল, আবু উবাইদ রচিত, পৃ. ৪২৯।

(2) ইমাম ইবনে কুদামা বলেন: ((মালিক ও দাউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এতে কোনো জাকাত নেই; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমি তোমাদের জন্য ঘোড়া ও দাসের সদকা (জাকাত) ক্ষমা করে দিয়েছি))। [আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭৪, এবং নাসায়ি, হাদিস নং ২৪৭৭, এবং ইবনে মাজাহ; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ, ১/ ৪৩৬] এবং মুদ্রার জাকাত অধ্যায়ে এর তাখরিজ (تخريج) অতিবাহিত হয়েছে। অতঃপর ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তাদের বর্ণিত খবরের উদ্দেশ্য হলো মূল বস্তুর জাকাত, মূল্যের জাকাত নয়—আমরা যা উল্লেখ করেছি তার দলিলে। তদুপরি তাদের বর্ণিত খবরটি সাধারণ (عام) এবং আমাদের হাদিসটি বিশেষ (خاص), তাই একেই অগ্রাধিকার দেওয়া ওয়াজিব (واجب)))। [আল-মুগনি, ৪/ ২৪৯]। তারা অনুরূপভাবে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: ((মুসলিমের ওপর তার দাস ও ঘোড়ার ব্যাপারে কোনো সদকা নেই)) [মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪৩, এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯৮২]। এই দুই হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে যে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সেবা বা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত ঘোড়া ও দাস, বাণিজ্যিক পণ্যের জন্য নয়। সুতরাং এগুলোতে জাকাত নেই; কারণ তা ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট যা সে ব্যবহার করে ও উপকৃত হয়: যেমন পোশাক, ঘরবাড়ি এবং তার ব্যবহৃত গাড়ি; এই সবকিছুর কোনোটিতেই জাকাত নেই [আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন ৬/ ১৪১]।

তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: ((শস্য ও ফলের ক্ষেত্রে পাঁচ ওয়াসাক না হওয়া পর্যন্ত কোনো সদকা নেই, পাঁচটির কম উটের ক্ষেত্রে কোনো সদকা নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম রূপার ক্ষেত্রে কোনো সদকা নেই)) [মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪৮৪, এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯৭৯]। বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত অস্বীকারকারীরা বলেন: ((এই দলিলের ব্যাপকতা প্রমাণ করে যে, এতে কোনো জাকাত নেই—চাই তা ব্যবসার জন্য প্রস্তুত করা হোক বা না হোক। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে এভাবে যে, একে মূল পণ্যের ওপর জাকাত ওয়াজিব (واجب) না হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হবে। এটি স্বর্ণ ও রৌপ্য হিসেবে এর মূল্যের ওপর জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পরিপন্থী নয়; কারণ পণ্যগুলো নিজস্ব সত্তার জন্য উদ্দেশ্য নয়, বরং এগুলো মূল্যের জন্যই উদ্দেশ্য করা হয়। ফলে এর মূল্যই ধর্তব্য হবে। আর এভাবেই বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত নফি বা অস্বীকার এবং তা সাব্যস্ত করার দলিলসমূহের মাঝে সমন্বয় করা সম্ভব))। [ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, ৯/ ৩১০]। লাজনাহ (কমিটি) ৮৮৯৫ নম্বর ফতোয়ার উত্তরে বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত ওয়াজিব না হওয়ার মতামত সম্পর্কে বলেছে: ((স্বর্ণ বা রৌপ্যমুদ্রার জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়া কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার (إجماع) মাধ্যমে প্রমাণিত। আর বাণিজ্যিক পণ্যগুলো নিজস্ব সত্তার জন্য উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা স্বর্ণ বা রৌপ্যমুদ্রাই উদ্দেশ্য। আর বিষয়াবলি তার উদ্দেশ্যের নিরিখেই বিবেচিত হয়; যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল))। এ কারণেই সেবার জন্য রাখা দাস, সওয়ারির জন্য রাখা ঘোড়া, বসবাসের বাড়ি, পরিধানের কাপড় এবং যবরজদ, ইয়াকুত ও মারজানের মতো মণি-মুক্তা যদি সৌন্দর্যের জন্য রাখা হয় তবে তাতে জাকাত ওয়াজিব (واجب) নয়। তবে যদি এই উল্লেখিত প্রতিটি বস্তু ও অনুরূপ বিষয়সমূহ ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা হয় তবে তাতে জাকাত ওয়াজিব (واجب); কারণ এর মাধ্যমে স্বর্ণ, রৌপ্য বা তার স্থলাভিষিক্ত মুদ্রার উদ্দেশ্য করা হয়েছে। ইবনে হাজম বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত ওয়াজিব হওয়াকে কেবল এজন্যই অস্বীকার করেছেন কারণ তিনি বিধানের কারণ অনুসন্ধান (তালিল) করেন না। অথচ বিধানের কোনো কারণ নেই অথবা তা কোনো হিকমতের ভিত্তিতে প্রবর্তিত হয়নি—এমন কথা বলা বাতিল (باطل)। সঠিক কথা হলো বিধানসমূহ কারণযুক্ত এবং তা নির্দিষ্ট হিকমতের ভিত্তিতে নাযিল হয়েছে। তবে আলেমগণ কখনো তা জানতে পারেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে বিধানের শাখা-প্রশাখা বর্ণনা করেন, আবার কখনো তা জানতে পারেন না তখন তারা নস (নাস/পাঠ)-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন। এটিই চার ইমাম ও অধিকাংশ আলেমগণের পথ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার নিকট থাকা বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত প্রদানে বিরত থাকে সে ভুলকারী। যদিও বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তবুও সেগুলো এই মূলনীতির সপক্ষে সমর্থন ও শক্তি যোগানোর উপযুক্ত)) [লাজনাহ আদ-দায়িমাহ: আবদুল আজিজ ইবনে বাজ, আবদুর রাজ্জাক আফিফি, আবদুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান এবং আবদুল্লাহ ইবনে কুউদ সমন্বয়ে গঠিত, ৯/ ৩১২]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌رابعاً: شروط وجوب الزكاة في عروض التجارة على النحو الآتي:

‌‌الشرط الأول: نية التجارة في عروض التجارة؛ لأن العروض مخلوقة في الأصل للاستعمال، فلا تصير للتجارة إلا بالنية، ويعتبر وجود النية في جميع الحول؛ لأنها شرط أمكن اعتباره في جميع الحول، فاعتبر فيه؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى)) (1) (2).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم (1)، ومسلم، برقم 1907، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام في شروط صحة الزكاة.

(2) واختلف الأئمة الأربعة في شروط وجوب الزكاة في عروض التجارة على النحو الآتي:

1 – الشافعية: قالوا تجب: الزكاة في عروض التجارة بشروط ستة: …

الشرط الأول: أن تكون هذه العروض قد ملكت بمعاوضة: كشراء ونحوه.

الشرط الثاني: أن ينوي بهذه العروض التجارة حال المعاوضة.

الشرط الثالث: أن لا يقصد بالمال القنية، فإن قصد ذلك انقطع الحول.

الشرط الرابع: مضي حول من وقت ملك العروض. …

الشرط الخامس: أن لا يصير جميع مال التجارة أثناء الحول نقداً من جنس ما تقوم به العروض.

الشرط السادس: أن تبلغ قيمة العروض آخر الحول نصاباً. …

2 – الحنفية: قالوا: تجب زكاة عروض التجارة بشروط منها:

الشرط الأول: أن تبلغ قيمتها نصاباً من الذهب أو الفضة.

الشرط الثاني: أن يحول عليها الحول، والمعتبر طرفا الحول لا وسطه.

الشرط الثالث: أن ينوي التجارة، وأن تكون هذه النية مصحوبة بعمل تجارة.

الشرط الرابع: أن تكون العين المتجر فيها صالحة لنية التجارة، فلو اشترى أرض عشر وزرعها أو بذراً وزرعه، وجب في الزرع الخارج العشر دون الزكاة، أما إذا لم يزرع الأرض العشرية فإن الزكاة تجب في قيمتها.

3 – المالكية: قالوا: تجب زكاة عروض التجارة مطلقاً، سواء كان التاجر محتكراً أو مديراً، بشروط خمسة:

الشرط الأول: أن يكون العرض مما لا تتعلق الزكاة بعينه: كالثياب، والكتب.

الشرط الثاني: أن يكون العرض مملوكاً بمبادلة حالية: كشراء، وإجارة.

الشرط الثالث: أن ينوي بالعرض التجارة حال شرائه. …

الشرط الرابع: أن يكون ثمنه عيناً أو عرضاً امتلكه بمعاوضة مالية. …

الشرط الخامس: أن يبيع من ذلك العرض بنصاب من الذهب أو الفضة إن كان محتكراً، أو بأي شيء منهما ولو درهماً إن كان مديراً.

4 – الحنابلة: قالوا: تجب الزكاة في عروض التجارة إذا بلغت قيمتها نصاباً بشرطين:

الشرط الأول: أن يملكها بفعله: كالشراء، فلو ملك العروض بغير فعله، كأن ورثها فلا زكاة فيها.

الشرط الثاني: أن ينوي التجارة حال التمليك، بأن يقصد التكسب بها، ولا بد من استمرار النية في جميع الحول، أما لو اشترى عرضاً للقنية ثم نوى به التجارة بعد ذلك فلا يصير للتجارة إلا الحلي المتخذ للبس [كتاب الفقه على المذاهب الأربعة، للحريري، ص 342 - 344].
‌‌চতুর্থত: পণ্যসামগ্রীর ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি নিম্নরূপ:

‌‌প্রথম শর্ত: পণ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে ব্যবসার নিয়ত করা; কারণ পণ্যসামগ্রী মূলত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই নিয়ত ব্যতীত তা ব্যবসার পণ্যে পরিণত হয় না। আর পুরো বছর জুড়ে নিয়ত বিদ্যমান থাকা আবশ্যক; কারণ এটি এমন একটি শর্ত যা পুরো বছর জুড়ে রক্ষা করা সম্ভব, তাই একে শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে" (১) (২)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং (১), এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৯০৭; এবং এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে 'ইসলামে জাকাতের মর্যাদা' অধ্যায়ের 'জাকাত সহিহ হওয়ার শর্তাবলি'র আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) পণ্যসামগ্রীর ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলির বিষয়ে চার ইমামের মতভেদ নিম্নরূপ:

১ – শাফেয়ি মাজহাব: তারা বলেন: পণ্যসামগ্রীর জাকাত ছয়টি শর্তে ওয়াজিব হয়: …

প্রথম শর্ত: এই পণ্যগুলোর মালিকানা বিনিময়ের (যেমন ক্রয় বা অনুরূপ কিছু) মাধ্যমে লাভ করা।

দ্বিতীয় শর্ত: বিনিময়ের সময় এই পণ্যগুলো দ্বারা ব্যবসার নিয়ত করা।

তৃতীয় শর্ত: সম্পদটি স্থায়ীভাবে নিজের কাছে রাখার (ব্যক্তিগত ব্যবহারের) উদ্দেশ্য না করা; যদি সেই উদ্দেশ্য করা হয় তবে বছর গণনা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

চতুর্থ শর্ত: পণ্যের মালিকানা লাভের সময় থেকে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া। …

পঞ্চম শর্ত: বছর চলাকালীন ব্যবসার সমস্ত সম্পদ যেন এমন নগদে পরিণত না হয় যা পণ্যের মূল্যায়নের মূল ভিত্তি নয়।

ষষ্ঠ শর্ত: বছরের শেষে পণ্যের মূল্য নিসাব পরিমাণ হওয়া। …

২ – হানাফি মাজহাব: তারা বলেন: পণ্যসামগ্রীর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে:

প্রথম শর্ত: পণ্যের মূল্য স্বর্ণ বা রৌপ্যের নিসাব পরিমাণ হওয়া।

দ্বিতীয় শর্ত: এর ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া; এক্ষেত্রে বছরের শুরু ও শেষ সময় ধর্তব্য, মধ্যভাগ নয়।

তৃতীয় শর্ত: ব্যবসার নিয়ত করা এবং এই নিয়তের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম যুক্ত থাকা।

চতুর্থ শর্ত: যে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে তা ব্যবসার নিয়তের যোগ্য হওয়া; সুতরাং কেউ যদি উশরযুক্ত (দশমাংশ ফসলের যাকাত) জমি ক্রয় করে তাতে চাষাবাদ করে বা বীজ বপন করে, তবে উৎপাদিত ফসলের ওপর উশর ওয়াজিব হবে, জাকাত নয়। আর যদি উশরযুক্ত জমিতে চাষাবাদ না করা হয়, তবে এর মূল্যের ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে।

৩ – মালিকি মাজহাব: তারা বলেন: পণ্যসামগ্রীর জাকাত নিঃশর্তভাবে ওয়াজিব, ব্যবসায়ী মজুদদার হোন বা খুচরা বিক্রেতা, পাঁচটি শর্তে:

প্রথম শর্ত: পণ্যটি এমন হওয়া যার মূল সত্তার ওপর জাকাত নির্ধারিত নয়: যেমন পোশাক ও বই।

দ্বিতীয় শর্ত: পণ্যের মালিকানা তাৎক্ষণিক বিনিময়ের মাধ্যমে হওয়া: যেমন ক্রয় ও ইজারা।

তৃতীয় শর্ত: পণ্যটি ক্রয়ের সময় ব্যবসার নিয়ত করা। …

চতুর্থ শর্ত: এর মূল্য নগদ অর্থ বা এমন পণ্য হওয়া যা আর্থিক বিনিময়ের মাধ্যমে মালিকানাধীন হয়েছে। …

পঞ্চম শর্ত: সেই পণ্য থেকে যদি তিনি মজুদদার ব্যবসায়ী হন তবে স্বর্ণ বা রৌপ্যের নিসাব পরিমাণ মূল্যে বিক্রি করা, আর যদি তিনি নিয়মিত খুচরা বিক্রেতা হন তবে যেকোনো মূল্যে এমনকি এক দিরহামের বিনিময়ে হলেও তা বিক্রি করা।

4 – হাম্বলি মাজহাব: তারা বলেন: পণ্যসামগ্রীর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত ওয়াজিব হয় দুটি শর্তে:

প্রথম শর্ত: নিজের কর্মের মাধ্যমে এর মালিক হওয়া: যেমন ক্রয়ের মাধ্যমে; সুতরাং যদি নিজের কর্ম ব্যতিরেকে মালিক হয়, যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, তবে তাতে জাকাত নেই।

দ্বিতীয় শর্ত: মালিকানা লাভের সময় ব্যবসার নিয়ত করা, অর্থাৎ এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য করা। পুরো বছর জুড়ে এই নিয়ত অব্যাহত থাকা আবশ্যক; কিন্তু যদি কেউ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পণ্য কিনে পরে ব্যবসার নিয়ত করে, তবে তা ব্যবসার পণ্য হিসেবে গণ্য হবে না, শুধুমাত্র পরিধানের উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত অলংকারের ক্ষেত্রে ভিন্ন হুকুম প্রযোজ্য। [আল-হারিরি রচিত কিতাবুল ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআ, পৃষ্ঠা ৩৪২ - ৩৪৪]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الشرط الثاني: أن تبلغ قيمة العروض للتجارة نصاباً من أقل الثمنين [أي الذهب والفضة] قيمةً فإذا بلغ أحدهما نصاباً دون الآخر قوَّمه به، ولا يعتبر ما اشتراه به؛ لأن تقويمه لحظ الفقراء … فإن بلغ نصاباً من كل واحدٍ: من الذهب والفضة، قوَّمه بما هو أحظ لأهل الزكاة، فإن استويا قومه بما شاء منهما، والأصل في اعتبار النصاب قوله صلى الله عليه وسلم: ((ليس فيما دون خمسة أوسق صدقة، ولا فيما دون خمس ذود صدقة، ولا فيما دون خمس أواق صدقة)) (1)؛ ولقوله صلى الله عليه وسلم: (( … فإذا كان لك مائتا درهم وحال عليها الحول ففيها خمسة دراهم، وليس عليك شيء - يعني في الذهب - حتى يكون لك عشرون ديناراً)) (2).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم 1484، ومسلم، برقم 979، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام في شروط الزكاة.

(2) أبو داود، برقم 1573، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 346، وتقدم تخريجه في زكاة الأثمان ((زكاة الفضة)).
‌দ্বিতীয় শর্ত: ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য স্বর্ণ ও রুপার মূল্যের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, সেই অনুযায়ী নিসাব (نصاب) পরিমাণ হওয়া। যখন সেগুলোর কোনো একটির নিসাব (نصاب) পূর্ণ হবে কিন্তু অন্যটির হবে না, তখন পূর্ণ হওয়া নিসাবটি দ্বারাই মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যে মূল্যে পণ্যটি ক্রয় করা হয়েছিল তা এক্ষেত্রে গণ্য হবে না; কারণ দরিদ্রদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এর মূল্যায়ন করা হয় … আর যদি স্বর্ণ ও রুপা—উভয় মাধ্যমেই পণ্যটি নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয়, তবে জাকাত প্রদানকারীদের জন্য যেটি অধিক কল্যাণকর হবে সেটির মাধ্যমেই তার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যদি উভয়টি সমান হয়, তবে দুটির মধ্য থেকে যেটির মাধ্যমে ইচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করবে। নিসাব (نصاب) নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "পাঁচ ওসাকের কম শস্যে কোনো জাকাত (صدقة) নেই, পাঁচটির কম উটে কোনো জাকাত (صدقة) নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম রুপাতে কোনো জাকাত (صدقة) নেই।" (১); এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: " … যখন তোমার কাছে দুইশত দিরহাম থাকবে এবং তার ওপর এক বছর অতিবাহিত (حال عليها الحول) হবে, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম জাকাত দিতে হবে। আর স্বর্ণের ক্ষেত্রে তোমার ওপর কোনো কিছুই নেই যতক্ষণ না তোমার কাছে বিশ দিনার থাকে।" (২)।

--------------------------------------------

(১) ঐক্যমত্য (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪৮৪, এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯৭৯। এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে 'ইসলামে জাকাতের মর্যাদা' শীর্ষক পরিচ্ছেদের 'জাকাতের শর্তাবলি' অংশে আলোচিত হয়েছে।

(২) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭৩; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন 'সহিহ সুনান আবু দাউদ', ১/৩৪৬-এ; এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে 'মূল্যবান ধাতুর জাকাত' (রুপার জাকাত) উপ-পরিচ্ছেদে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الشرط الثالث: الحول؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: (( … وليس في مال زكاة حتى يحول عليه الحول)) (1)، ويعتبر وجود النصاب في جميع الحول؛ لأن ما اعتبر له الحول والنصاب، اعتبر وجوده في جميعه، كالأثمان.

وإذا اشترى للتجارة عرضاً لا يبلغ نصاباً ثم بلغه انعقد الحول عليه من حين صار نصاباً، وإن ملك نصاباً فنقص انقطع الحول، فإن عاد فنما فبلغ النصاب استأنف الحول، على ما ذكر في زكاة السائمة والأثمان، وإن ملك نصاباً في أوقات فلكلِّ نصابٍ حول، ولا يضم نصابٌ إلى نصاب؛ لأن المال المستفاد يعتبر له الحول على ما ذكر سابقاً، وإن لم يَكْمُل النصاب الأول إلا بالثاني فحولهما منذ ملك الثاني، وإن لم يكملا إلا بالثالث فحول الجميع من حين كمل النصاب.

وإذا اشترى نصاباً للتجارة بآخر لم ينقطع الحول؛ لأن الزكاة تتعلق بالقيمة، والقيمة فيهما واحدة انتقلت من سلعة إلى سلعة، فهي كدراهم نقلت من بيت إلى بيت، وإن اشتراه بأثمان لم ينقطع الحول؛ لأن قيمة الأثمان كانت ظاهرة فاستترت في السلعة، وكذلك لو باع نصاب التجارة بنصاب الأثمان، لم ينقطع الحول لذلك، وإن اشترى نصاباً للتجارة بِعَرْضِ للقنية أو بما دون النصاب من الأثمان، أو عَرْض للتجارة انعقد الحول من حين الشراء؛ لأن ما اشترى به لم يجرِ في حول الزكاة، فلم يُبنَ عليه، ولو اشترى نصاباً للتجارة بنصاب سائمة أو سائمة بنصاب تجارة انقطع الحول؛ لأنهما مختلفان، فإن كان نصاب التجارة سائمة فاشترى به نصاب سائمة للقنية لم

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، برقم 1573، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام في شروط وجوب الزكاة.
‌তৃতীয় শর্ত: বর্ষপূর্তি; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: ((... এবং সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তাতে কোনো জাকাত নেই)) (১)। আর পুরো বছর জুড়ে নিসাব বিদ্যমান থাকা আবশ্যক; কারণ যার জন্য বর্ষপূর্তি এবং নিসাব ধর্তব্য, তার পুরো সময় জুড়ে অস্তিত্ব থাকাও আবশ্যক বলে গণ্য হয়, যেমন স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা।

আর যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে এমন কোনো পণ্য ক্রয় করা হয় যা নিসাব পরিমাণ নয়, অতঃপর তা নিসাবে পৌঁছে যায়, তবে যে সময় থেকে তা নিসাবে পৌঁছেছে তখন থেকে বর্ষপূর্তির গণনা শুরু হবে। আর যদি কেউ নিসাবের মালিক হয় কিন্তু তা হ্রাস পায়, তবে বর্ষপূর্তির ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; অতঃপর যদি তা আবার বৃদ্ধি পেয়ে নিসাবে পৌঁছে, তবে নতুন করে বর্ষপূর্তির হিসাব শুরু হবে, যেমনটি চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদি পশু এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রার জাকাতের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যদি কেউ বিভিন্ন সময়ে নিসাবের মালিক হয়, তবে প্রতিটি নিসাবের জন্য স্বতন্ত্র বর্ষপূর্তি রয়েছে এবং এক নিসাবকে অন্য নিসাবের সাথে যুক্ত করা যাবে না; কারণ অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে বর্ষপূর্তি ধর্তব্য হয়, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যদি প্রথম অংশ দ্বিতীয়টি ছাড়া নিসাব পূর্ণ না হয়, তবে দ্বিতীয়টির মালিক হওয়ার সময় থেকে উভয়ের বর্ষপূর্তি শুরু হবে। আর যদি তৃতীয়টি ছাড়া পূর্ণ না হয়, তবে যখন নিসাব পূর্ণ হবে তখন থেকে সবার বর্ষপূর্তির হিসাব শুরু হবে।

আর যদি ব্যবসার এক নিসাব দিয়ে ব্যবসার অন্য নিসাব ক্রয় করা হয়, তবে বর্ষপূর্তি বিচ্ছিন্ন হবে না; কারণ জাকাত মূল্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর এ ক্ষেত্রে উভয়টির মূল্য অভিন্ন যা এক পণ্য থেকে অন্য পণ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে তা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত দিরহামের মতো। আর যদি স্বর্ণ বা রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে তা ক্রয় করা হয়, তবে বর্ষপূর্তি বিচ্ছিন্ন হবে না; কারণ মুদ্রার মূল্য দৃশ্যমান ছিল যা এখন পণ্যের মধ্যে প্রচ্ছন্ন হয়েছে। একইভাবে যদি ব্যবসার নিসাব স্বর্ণ বা রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রয় করা হয়, তবে সে কারণে বর্ষপূর্তি বিচ্ছিন্ন হবে না। আর যদি ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্যের বিনিময়ে ব্যবসার নিসাব ক্রয় করা হয়, অথবা নিসাবের কম স্বর্ণ-রৌপ্য দিয়ে বা ব্যবসার পণ্যের বিনিময়ে ক্রয় করা হয়, তবে ক্রয়ের সময় থেকে বর্ষপূর্তি শুরু হবে; কারণ যা দিয়ে কেনা হয়েছে তার ওপর জাকাতের বর্ষপূর্তি কার্যকর ছিল না, তাই তার ওপর ভিত্তি করা যাবে না। আর যদি চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদি পশুর নিসাব দিয়ে ব্যবসার নিসাব কেনা হয় অথবা ব্যবসার নিসাব দিয়ে চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদি পশুর নিসাব কেনা হয়, তবে বর্ষপূর্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; কারণ তারা ভিন্ন প্রকারের। আর যদি ব্যবসার নিসাব গবাদি পশু হয় এবং তা দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদি পশুর নিসাব ক্রয় করা হয় তবে তা...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ১৫৭৩, এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/৪৩৬; আর এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে 'ইসলামে জাকাতের মর্যাদা' অধ্যায়ের 'জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি' পরিচ্ছেদে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২১)
ينقطع الحول؛ لأن السوم سبب للزكاة، إنما قدم عليه زكاة التجارة لقوَّته فإذا زال المعارض ثبت حكم السوم؛ لظهوره (1).

وإن اشترى أرضاً ونخلاً للتجارة، فزرعت الأرض وأثمر النخل، واتفق حولهما: بأن بدأ الصلاح في الثمر، واشتد الحب، عند تمام الحول، وكانت قيمة الأرض تبلغ نصاب التجارة، فالأقرب للصواب أنه يزكِّي الجميع زكاة التجارة؛ لأنه مال تجارة تجب فيه زكاة التجارة كالسائمة (2).

وهذه الشروط: من نية التجارة، وبلوغ النصاب، وتمام الحول في عروض التجارة، تضاف إليها الشروط العامة في الزكاة التي ذكرتها في أول الزكاة)) (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الكافي لابن قدامة، 2/ 162 - 164، والمغني، 4/ 251 - 255.

(2) وقدم هذا القول العلامة ابن مفلح في الفروع، 4/ 203، واختاره القاضي وجزم به كما ذكر المرداوي في الإنصاف، 7/ 69، وقيل: بل يزكي الثمر والحب زكاة العشر، ويزكي الأرض الأصل زكاة القيمة، وقدمه في المغني، والكافي، بل اختاره ونصره، وهو قول أبي حنيفة وأبي ثور [انظر: المغني لابن قدامة، 4/ 256، والكافي له، 2/ 164، والفروع لابن مفلح، 4/ 203، وحاشية ابن قاسم على الروض، 3/ 267].

(3) وفي مذهب الإمام أحمد شرط آخر: وهو أن يملك عروض التجارة بفعله، بنية التجارة: كالبيع، والنكاح، وقبول الهدية، ونحو ذلك. وهذه المسألة لها ثلاث حالات:

الحالة الأولى: أن يملكها بفعله بنية التجارة، كما لو اشترى هذه الأرض للتجارة ففيها الزكاة.

الحالة الثانية: أن يملكها بغير فعله كالميراث، وينويها للتجارة، فالمذهب لا تكون عروض تجارة فليس فيها زكاة.

الحالة الثالثة: أن يملكها بفعله بغير نية التجارة ثم ينويها للتجارة، فالمذهب لا تكون للتجارة فليس عليها زكاة.

وفي رواية للإمام أحمد أن العرض يصير للتجارة بمجرد النية، وهذه الرواية هي أقرب؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إنما الأعمال بالنيات)) [متفق عليه] وهي التي اختارها: أبو بكر، وابن أبي موسى، وابن عقيل، وصاحب الفائق، وقال العلامة ابن عثيمين رحمه الله في الشرح الممتع، 6/ 145: ((فيها الزكاة على القول الراجح)). [وانظر: الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، للمرداوي 7/ 56].
বছর অতিক্রান্ত হওয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; কারণ চারণ (السوم) হলো জাকাতের একটি কারণ। তবে এর ওপর ব্যবসায়িক জাকাতকে এর শক্তিশালী হওয়ার কারণে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যখন প্রতিবন্ধক অপসারিত হয়, তখন চারণের (السوم) বিধান প্রকাশ পাওয়ার কারণে তা সাব্যস্ত হয় (১)।

যদি কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে জমি এবং খেজুর গাছ ক্রয় করে, অতঃপর জমিতে চাষাবাদ করা হয় এবং গাছে ফল ধরে, আর উভয়ের (জাকাতের) বছর এক হয়ে যায়—এভাবে যে, বছর পূর্ণ হওয়ার সময়ে ফলে পরিপক্কতা প্রকাশ পায় এবং দানা শক্ত হয়, আর জমির মূল্য যদি ব্যবসায়িক নিসাব (النصاب) পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে অধিকতর সঠিক মত হলো যে, সে সবকিছুর ওপর ব্যবসায়িক জাকাত প্রদান করবে; কারণ এটি ব্যবসায়িক সম্পদ যাতে ব্যবসায়িক জাকাত ওয়াজিব (واجب) হয়, যেমন চারণরত গবাদিপশু (السائمة) (২)।

আর এই শর্তাবলি: যেমন ব্যবসার নিয়ত, নিসাব (النصاب) পূর্ণ হওয়া এবং ব্যবসায়িক পণ্যের (عروض التجارة) ক্ষেত্রে বছর পূর্ণ হওয়া—এগুলোর সাথে জাকাতের সাধারণ শর্তাবলি যুক্ত হবে যা আমি জাকাতের শুরুতে উল্লেখ করেছি (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-কাফি, ২/ ১৬২ - ১৬৪, এবং আল-মুগনি, ৪/ ২৫১ - ২৫৫।

(২) আল্লামা ইবনে মুফলিহ আল-ফুরু গ্রন্থে এই মতটিকে অগ্রগণ্য করেছেন, ৪/ ২০৩। কাজী এটি পছন্দ করেছেন এবং এর ওপরই দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন যেমনটি মারদাউয়ি আল-ইনসাফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ৭/ ৬৯। কেউ কেউ বলেন: বরং সে ফল ও দানাদার শস্যের ওপর দশমাংশ জাকাত (زكاة العشر) প্রদান করবে এবং মূল জমির ওপর মূল্যের জাকাত প্রদান করবে। আল-মুগনি ও আল-কাফি গ্রন্থে এই মতটিকেই অগ্রগণ্য করা হয়েছে, বরং এটিকেই পছন্দ ও সমর্থন করা হয়েছে। আর এটিই আবু হানিফা এবং আবু সাওর-এর অভিমত [দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি, ৪/ ২৫৬, আল-কাফি, ২/ ১৬৪, ইবনে মুফলিহ রচিত আল-ফুরু, ৪/ ২০৩, এবং আর-রওদ-এর ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ৩/ ২৬৭]।

(৩) ইমাম আহমদের মাজহাবে আরেকটি শর্ত রয়েছে: আর তা হলো ব্যবসায়িক পণ্য (عروض التجارة) নিজের কর্মের মাধ্যমে এবং ব্যবসার নিয়তে মালিকানাধীন হওয়া: যেমন ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ, উপহার গ্রহণ এবং এই জাতীয় বিষয়। এই মাসআলার তিনটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম অবস্থা: নিজ কর্মের মাধ্যমে ব্যবসার নিয়তে মালিক হওয়া, যেমন যদি কেউ এই জমি ব্যবসার জন্য ক্রয় করে, তবে তাতে জাকাত রয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থা: নিজ কর্ম ছাড়া মালিক হওয়া যেমন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, আর সেটি ব্যবসার নিয়ত করা; এক্ষেত্রে মাজহাবের (প্রসিদ্ধ মত) হলো সেটি ব্যবসায়িক পণ্য (عروض تجارة) হবে না, তাই তাতে জাকাত নেই।

তৃতীয় অবস্থা: নিজ কর্মের মাধ্যমে ব্যবসার নিয়ত ছাড়া মালিক হওয়া এবং পরবর্তীতে ব্যবসার নিয়ত করা; এক্ষেত্রেও মাজহাবের মতে সেটি ব্যবসার জন্য হবে না, ফলে তাতে জাকাত নেই।

ইমাম আহমদের একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, পণ্য কেবল নিয়তের মাধ্যমেই ব্যবসার জন্য গণ্য হয়। আর এই বর্ণনাটিই অধিক নিকটতর; কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বাণী: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" [সর্বসম্মত (متفق عليه)]। আর এই মতটিই আবু বকর, ইবনে আবি মুসা, ইবনে আকিল এবং সাহেবুল ফাইক পছন্দ করেছেন। আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রহ.) আশ-শারহুল মুমতি গ্রন্থে বলেন, ৬/ ১৪৫: "অগ্রগণ্য (الراجح) মতানুযায়ী এতে জাকাত রয়েছে"। [আরও দেখুন: মারদাউয়ি রচিত আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ, ৭/ ৫৬]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌خامساً: حول عروض التجارة لا ينقطع بالمبادلة أو البيع:

فإذا اشترى عَرْضاً للتجارة بنقدٍ أو باعه به، بنى على حول الأول؛ لأن الزكاة تجب في قيم العروض، وهي من جنس النقد، وحتى بهيمة الأنعام: من الإبل، والبقر، والغنم، إذا قصد بها التجارة؛ فإنه يزكيها زكاة العروض، ولا ينقطع الحول إذا باعها وهي من عروض التجارة: سواء باعها بجنسها أو بغير جنسها، قال الإمام البغوي رحمه الله: ((أما حول [عروض] التجارة فلا ينقطع بالمبادلة؛ لأن زكاة التجارة تجب في القيمة، والقيمة باقية في ملكه وقت المبادلة؛ لأن ملكه لا يزول عن أحدهما إلا ويملك الآخر)) (1).

 

‌‌سادساً: ربح عروض التجارة حوله حول رأس المال:

فلو ملك نصاباً من عروض التجارة وربح في قيمته، فإنه يزكي الجميع: رأس المال مع الربح، حتى لو لم يربح هذا الربح إلى آخر الحول، فإنه يزكيه مع رأس المال، أما إذا كانت قيمة التجارة دون النصاب ثم حصل الربح، فإن بداية الحول من كمال النصاب بالربح، وكذا إذا ارتفع سعر التجارة فإن الزكاة تجب في جميع القيمة، وإن نقص سعر التجارة زكَّى القيمة الحاضرة (2).

--------------------------------------------

(1) الزكاة، للبغوي ص 195، وانظر: فتاوى ابن عثيمين، 18/ 51، والكافي لابن قدامة، 2/ 164، والمغني، 4/ 255.

(2) انظر: المقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 6/ 314 - 320، 7/ 71، والكافي، 2/ 165، والمغني، 4/ 258، والشرح الممتع، 6/ 22 - 23، و33 - 39، والمختارات الجلية في المسائل الفقهية للسعدي، ص 76، ومجموع فتاوى الإمام ابن باز، 12/ 50.
পঞ্চম: ব্যবসা পণ্যের (عروض التجارة) বর্ষপরিক্রমা (حول) বিনিময় বা বিক্রয়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন (ينقطع) হয় না:

সুতরাং যদি কেউ নগদ অর্থের বিনিময়ে কোনো ব্যবসা পণ্য (عروض التجارة) ক্রয় করে অথবা তা বিক্রয় করে, তবে সে পূর্বের বর্ষপরিক্রমার (حول) ওপর ভিত্তি করবে; কারণ জাকাত ব্যবসা পণ্যের মূল্যের ওপর ওয়াজিব (تجب) হয় এবং তা নগদ অর্থের সমজাতীয়। এমনকি গৃহপালিত পশু—যেমন উট, গরু এবং ছাগল—যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা হয়, তবে সেগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যবসা পণ্যের জাকাত প্রদান করতে হবে। ব্যবসা পণ্য (عروض التجارة) হিসেবে এগুলো বিক্রয় করলে বর্ষপরিক্রমা (حول) বিচ্ছিন্ন (ينقطع) হবে না; চাই তা সমজাতীয় বস্তুর বিনিময়ে বিক্রয় করা হোক বা ভিন্ন জাতীয় বস্তুর বিনিময়ে। ইমাম বগভী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "ব্যবসা পণ্যের (عروض التجارة) বর্ষপরিক্রমা (حول) বিনিময়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন (ينقطع) হয় না; কারণ ব্যবসার জাকাত মূল্যের ওপর ওয়াজিব (تجب) হয় এবং বিনিময়ের সময়ও মূল্য তার মালিকানায় অবশিষ্ট থাকে। কেননা একটির ওপর থেকে তার মালিকানা তখনই চলে যায় যখন সে অপরটির মালিক হয়" (১)।

 

‌ষষ্ঠ: ব্যবসা পণ্যের (عروض التجارة) লভ্যাংশের বর্ষপরিক্রমা (حول) মূলধনের বর্ষপরিক্রমা (حول) অনুযায়ী হবে:

যদি কেউ ব্যবসা পণ্যের (عروض التجارة) নিসাব (نصاب) পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং তার মূল্যে লভ্যাংশ অর্জিত হয়, তবে সে সবকিছুর—অর্থাৎ মূলধন ও লভ্যাংশ উভয়ের—জাকাত প্রদান করবে। এমনকি যদি এই লভ্যাংশটি বর্ষপরিক্রমার (حول) একেবারে শেষের দিকেও অর্জিত হয়, তবুও সে মূলধনের সাথে এর জাকাত দেবে। পক্ষান্তরে, যদি ব্যবসার মূল্য নিসাব (نصاب) পরিমাণের কম থাকে এবং পরবর্তীতে লভ্যাংশ অর্জনের মাধ্যমে তা পূর্ণ হয়, তবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ হওয়ার সময় থেকেই বর্ষপরিক্রমার (حول) গণনা শুরু হবে। একইভাবে, যদি ব্যবসার বাজারমূল্য বৃদ্ধি পায়, তবে বর্তমান পূর্ণ মূল্যের ওপর জাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে; আর যদি বাজারমূল্য কমে যায়, তবে বর্তমান বাজারমূল্যের জাকাত প্রদান করবে (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-জাকাত, বগভী, পৃষ্ঠা ১৯৫; এবং দেখুন: ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন, ১৮/ ৫১; আল-কাফি লি-ইবনে কুদামা, ২/ ১৬৪; আল-মুগনি, ৪/ ২৫৫।

(২) দেখুন: আল-মুকনি মা'আ আশ-শারহিল কাবির ওয়াল ইনসাফ, ৬/ ৩১৪ - ৩২০, ৭/ ৭১; আল-কাফি, ২/ ১৬৫; আল-মুগনি, ৪/ ২৫৮; আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ২২ - ২৩, ও ৩৩ - ৩৯; আল-মুখতারাতুল জালিয়া ফিল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ লিস-সাদী, পৃষ্ঠা ৭৬; মাজমু'উ ফাতাওয়া ইমাম ইবনে বাজ, ১২/ ৫০।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
وإذا تم الحول على مال المضاربة فعلى صاحب المال زكاة رأس المال، وزكاة حصته من الربح؛ لأن حول الربح حول الأصل)) (1).

 

‌‌سابعاً: تضم قيمة أنواع العروض إلى بعضها، وإلى كل من الذهب والفضة في تكميل النصاب:

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((لا نعلم فيه خلافاً)) (2)، وقال رحمه الله في موضع آخر: ((ولو كان له ذهب، وفضة، وعروض وجب ضم الجميع بعضه إلى بعض في تكميل النصاب؛ لأن العروض مضمومٌ إلى كل واحد منهما، فيجب ضمهما إليه وجمع الثلاثة … )) (3) (4).

قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: (( … تضم قيمة العروض إلى قيمة الذهب والفضة؛ لأن المقصود بهما القيمة)) (5).

 

‌‌ثامناً: كيفية تقويم سلع عروض التجارة بما تبلغ قيمتها:

تقوَّم عروض التجارة عند تمام الحول بالأحظ لأهل الزكاة: من الدنانير من الذهب أو من الدراهم من الفضة، فإذا قُوِّمَت وصارت لا تبلغ النصاب باعتبار الذهب [الدنانير] وتبلغ النصاب باعتبار الفضة

--------------------------------------------

(1) الكافي، لابن قدامة، 2/ 165، والمغني، 4/ 260، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 7/ 73.

(2) المغني، 4/ 210.

(3) المغني لابن قدامة، 4/ 210.

(4) قال رحمه الله: ((فأما إن كان له من كل واحد من الذهب والفضة ما يبلغ نصاباً بمفرده، أو كان له نصاب من أحدهما، وأقل من نصاب من الآخر فقد توقف أحمد عن ضم أحدهما إلى الآخر في رواية الأثرم وجماعة، وقطع في رواية حنبل أنه لا زكاة عليه، حتى يبلغ كل واحد منهما نصاباً)). [المغني، 4/ 210] وتقدم الترجيح في زكاة الأثمان.

(5) الشرح الممتع، 4/ 148، وانظر: [الفروع، لابن مفلح، 4/ 199].
আর যখন মুদারাবাহ মালের উপর বছর পূর্ণ হবে, তখন মালের মালিকের উপর মূলধনের জাকাত এবং লাভের অংশে তার ভাগ্যের জাকাত ওয়াজিব হবে; কারণ লাভের বছর গণনার ক্ষেত্রে মূলধনের বছরকেই বিবেচনা করা হয়)) (১)।

 

‌‌সপ্তম: নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রীর মূল্য একে অপরের সাথে এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাথে যুক্ত করা হবে:

ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই)) (২), এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অন্য স্থানে বলেন: ((যদি কারো নিকট স্বর্ণ, রৌপ্য এবং পণ্যসামগ্রী থাকে, তবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার জন্য সবগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা ওয়াজিব; কেননা পণ্যসামগ্রী এই দুটির প্রতিটির সাথে যুক্ত হয়, তাই পণ্যসামগ্রীর সাথে এই দুটিকে যুক্ত করা এবং তিনটিকে একত্রিত করা আবশ্যক … )) (৩) (৪)।

আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (( … পণ্যসামগ্রীর মূল্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত করা হবে; কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো মূল্য)) (৫)।

 

‌‌অষ্টম: ব্যবসার পণ্যসামগ্রীর মূল্য যেমানে পৌঁছায় তার মূল্যায়ন পদ্ধতি:

বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ব্যবসার পণ্যসামগ্রী জাকাত গ্রহণকারীদের জন্য যেটি অধিক কল্যাণকর তা দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে: স্বর্ণের দিনার অথবা রূপার দিরহাম দিয়ে। সুতরাং যদি মূল্যায়ন করার পর তা স্বর্ণের (দিনারের) হিসেবে নিসাব (نصاب) পর্যন্ত না পৌঁছায় কিন্তু রূপার হিসেবে নিসাব (نصاب) পর্যন্ত পৌঁছায়

--------------------------------------------

(১) আল-কাফি, ইবনে কুদামা, ২/ ১৬৫, এবং আল-মুগনি, ৪/ ২৬০, এবং আল-মুকনি এর সাথে আশ-শারহুল কাবীর ও আল-ইনসাফ, ৭/ ৭৩।

(২) আল-মুগনি, ৪/ ২১০।

(৩) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৪/ ২১০।

(৪) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তবে যদি কারো কাছে স্বর্ণ ও রৌপ্য—উভয়টির এমন পরিমাণ থাকে যা স্বতন্ত্রভাবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করে, অথবা একটির নিসাব (نصاب) পূর্ণ আছে এবং অন্যটির নিসাব (نصاب) পূর্ণ নেই, তবে ইমাম আহমাদ একটির সাথে অন্যটি যুক্ত করার বিষয়ে আসরাম ও একটি দলের বর্ণনা অনুযায়ী বিরত থেকেছেন। আর হাম্বালের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, তার উপর জাকাত নেই যতক্ষণ না উভয়টির প্রতিটি নিসাব (نصاب) পূর্ণ হয়।)) [আল-মুগনি, ৪/ ২১০] আর মুদ্রার জাকাতের আলোচনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (ترجيح) মতটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(৫) আশ-শারহুল মুমতি, ৪/ ১৪৮, এবং দেখুন: [আল-ফুরু, ইবনে মুফলিহ, ৪/ ১৯৯]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
[الدراهم] فنأخذ بتقويمها باعتبار الفضة، فالأحظ للفقراء هو ما تبلغ به نصاباً من الذهب أو من الفضة، والعكس بالعكس، ولا يعتبر ما اشتريت به، وإنما المعتبر قيمة العروض عند تمام الحول (1).

مثال: رجل اشترى عقاراً بمبلغ مليون جنيه وعرضه للتجارة، ودار عليه الحول، فكان سعره ثلاثة ملايين جنيه، فيزكي ثلاثة ملايين، ورجل اشترى بضاعة بمائة ألف، وعندما دار الحول كانت قيمتها خمسين ألفاً، فيزكي خمسين ألفاً، وهكذا، في جميع عروض التجارة: المعتبر قيمة التجارة عند تمام الحول (2).

 

‌‌تاسعاً: لا شيء في آلات التجارة التي لا يراد بيعها ولا في ما أُعدَّ للأجرة، ولكن الزكاة في الأجرة إذا حال عليها الحول.

فإذا كان التاجر له في مخزنه: دواليب، وآلات، يستخدمها للعمل في تجارته، فلا زكاة فيها إلا إذا أراد بها عروض التجارة، ومثال ذلك: تاجر له: حفارات، ومكائن، وأجهزة يستعملها لإصلاح تجارته، أو له مطابع وآلات، فلا زكاة في هذه الآلات إذا لم يعدها للبيع، وإنما الزكاة في عروض التجارة التي يديرها، إلا إذا أعدها جميعاً للتجارة بحيث نوى أن يبيعها مع عرض التجارة ففيها الزكاة مع عروض التجارة (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: المقنع والشرح الكبير، 7/ 61، والمغني، 4/ 253، والشرح الممتع، 6/ 146، ومنار السبيل، 1/ 255، والموسوعة الفقهية، 23/ 274، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 3/ 264.

(2) انظر: مجموع فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية، 9/ 317، ومجموع فتاوى ابن باز، 14/ 171، ومجموع فتاوى ابن عثيمين، 18/ 205 - 206.

(3) انظر: الفروع، لابن مفلح، 4/ 205، والروض المربع، 3/ 264، والموسوعة الفقهية، 23/ 274، ومجموع فتاوى ابن باز، 14/ 185،وفتاوى اللجنة الدائمة، 9/ 345 - 346، ومجموع فتاوى ابن عثيمين، 18/ 207.
[দিরহাম] এর ক্ষেত্রে আমরা রৌপ্যের মাধ্যমে সেটির মূল্যায়ন করব; কারণ নিসাব (نصاب) পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে স্বর্ণ বা রৌপ্যের মধ্যে যেটি দরিদ্রদের জন্য অধিক লাভজনক হবে সেটিই গ্রহণ করা হবে, এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য। আপনি কত দিয়ে পণ্য ক্রয় করেছেন তা ধর্তব্য নয়, বরং বছর পূর্ণ হওয়ার (حول) সময় বাণিজ্যিক পণ্যের (عروض التجارة) যে বাজারমূল্য থাকবে সেটিই বিবেচ্য (১)।

উদাহরণ: একজন ব্যক্তি দশ লক্ষ পাউন্ড দিয়ে একটি স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করে তা ব্যবসার জন্য পেশ করলেন। বছর পূর্ণ হওয়ার (حول) পর সেটির মূল্য দাঁড়াল ত্রিশ লক্ষ পাউন্ড। এমতাবস্থায় তিনি ত্রিশ লক্ষ পাউন্ডের জাকাত প্রদান করবেন। আবার অন্য একজন ব্যক্তি এক লক্ষ টাকার পণ্য ক্রয় করলেন, কিন্তু বছর পূর্ণ হওয়ার (حول) সময় সেটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকা; সেক্ষেত্রে তিনি পঞ্চাশ হাজার টাকার জাকাত দেবেন। এভাবেই সকল বাণিজ্যিক পণ্যের (عروض التجارة) ক্ষেত্রে নিয়ম হলো: বছর পূর্ণ হওয়ার (حول) সময়কার বাণিজ্যিক মূল্যই ধর্তব্য (২)।

 

‌‌নবম: ব্যবসার সেই সকল যন্ত্রপাতির ওপর কোনো জাকাত নেই যা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয়নি, আর না সেই সব জিনিসের ওপর যা ভাড়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তবে ভাড়ার টাকার ওপর জাকাত প্রযোজ্য হবে যদি তাতে বছর পূর্ণ হয় (حول)।

সুতরাং কোনো ব্যবসায়ীর গুদামে যদি আলমারি বা এমন যন্ত্রপাতি থাকে যা তিনি তার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য রাখেন, তবে সেগুলোর ওপর কোনো জাকাত নেই; যতক্ষণ না তিনি সেগুলোকে বাণিজ্যিক পণ্য (عروض التجارة) হিসেবে গণ্য করার ইচ্ছা করেন। উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যবসায়ীর খনন যন্ত্র, কলকব্জা এবং সরঞ্জাম রয়েছে যা তিনি তার ব্যবসা মেরামতের কাজে ব্যবহার করেন, অথবা তার ছাপাখানা ও মেশিনারি রয়েছে; এই মেশিনগুলোর ওপর কোনো জাকাত নেই যদি না তিনি তা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। বরং জাকাত কেবল সেই বাণিজ্যিক পণ্যের (عروض التجارة) ওপর আসবে যা তিনি পরিচালনা করেন। তবে যদি তিনি সেই সব সরঞ্জামকেও ব্যবসার পণ্য হিসেবে প্রস্তুত করেন এবং সেগুলোকে মূল বাণিজ্যিক পণ্যের সাথে বিক্রির নিয়ত করেন, তবে সেগুলোর ওপরও বাণিজ্যিক পণ্যের (عروض التجارة) সাথে জাকাত আসবে (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুকনি ওয়াশ-শারহুল কাবীর, ৭/৬১; আল-মুগনি, ৪/২৫৩; আশ-শারহুল মুমতি, ৬/১৪৬; মানারুস সাবিল, ১/২৫৫; আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২৭৪; এবং আর-রওদুল মুরবি মাআ হাশিয়া ইবনে কাসিম, ৩/২৬৪।

(২) দেখুন: মাজমু ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ, ৯/৩১৭; মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/১৭১; এবং মাজমু ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন, ১৮/২০৫-২০৬।

(৩) দেখুন: আল-ফুরু, ইবনে মুফলিহ রচিত, ৪/২০৫; আর-রওদুল মুরবি, ৩/২৬৪; আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২৭৪; মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/১৮৫; ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ৯/৩৪৫-৩৪৬; এবং মাজমু ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন, ১৮/২০৭।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
و‌‌الآلات المعدة للإجارة لا زكاة فيها إنما الزكاة في أجرتها إذا حال عليها الحول وبلغت النصاب.

مثال ذلك: تاجر يملك حفارات، وسيارات، ورافعات، يؤجرها على الناس ولا يريد بيعها إنما يريد الحصول على أجرتها، فهذه لا زكاة فيها وإنما يزكي أجرتها إذا حال عليها الحول.

 

وكذلك:‌‌ العمارات، والأسواق المؤجرة، لا زكاة فيها، إنما الزكاة في أجرتها، وما يحصل منها إذا حال عليها الحول (1).

‌‌عاشراً: مقدار الواجب في عروض التجارة: ربع العشر:

الواجب في زكاة عروض التجارة ربع عشر قيمتها عند تمام الحول؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم في المقدار الواجب في الفضة: ((وفي الرقة ربع العشر)) (2)، والرقة: الفضة، وقال في حديث علي رضي الله عنه: ((هاتوا ربع العشور: من كل أربعين درهماً درهمٌ وليس عليكم شيء حتى تتمَّ مائتي درهَمٍ، فإذا كانت مائتي درهَمٍ ففيها خمسة دراهم … )) (3)، وقال صلى الله عليه وسلم في الذهب: (( … فإذا كان لك عشرون ديناراً وحال عليها الحول ففيها نصف دينار، فما زاد

--------------------------------------------

(1) الفروع لابن مفلح، 4/ 205، والروض المربع، 3/ 268، وفتاوى اللجنة الدائمة، 9/ 332، 345، وفتاوى ابن باز، 14/ 182، ومجموع فتاوى ابن عثيمين، 18/ 209.

(2) البخاري، برقم 1454، وتقدم تخريجه في مقدار الزكاة في الذهب والفضة.

(3) أبو داود، برقم 1572، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 435، وتقدم تخريجه في مقدار زكاة الذهب والفضة.
এবং ‌‌ভাড়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত যন্ত্রপাতির ওপর কোনো জাকাত (زكاة) নেই, বরং জাকাত কেবল তার ভাড়ার ওপর প্রযোজ্য যখন তার ওপর এক বছর (حول) অতিক্রান্ত হয় এবং তা নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয়।

এর উদাহরণ হলো: এমন একজন ব্যবসায়ী যার কাছে খনন যন্ত্র, গাড়ি এবং ক্রেন রয়েছে, যা তিনি মানুষের কাছে ভাড়া দেন এবং সেগুলো বিক্রি করার ইচ্ছা পোষণ করেন না, বরং কেবল তার ভাড়া পেতে চান। এমতাবস্থায় এগুলোর ওপর কোনো জাকাত (زكاة) নেই, বরং যখন তার ভাড়ার ওপর এক বছর (حول) অতিক্রান্ত হবে তখন তিনি তার জাকাত প্রদান করবেন।

 

অনুরূপভাবে:‌‌ ভবন এবং ভাড়ায় চালিত মার্কেটগুলোর ওপর কোনো জাকাত (زكاة) নেই, বরং জাকাত কেবল তার ভাড়ার ওপর, এবং তা থেকে যা অর্জিত হয় তার ওপর প্রযোজ্য যখন তার ওপর এক বছর (حول) পূর্ণ হবে (১)।

‌‌দশম: ব্যবসায়িক পণ্যের (عروض التجارة) ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় (واجب) পরিমাণ: এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر):

বছর (حول) পূর্ণ হওয়ার সময় ব্যবসায়িক পণ্যের (عروض التجارة) জাকাত হিসেবে তার মূল্যের এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر) প্রদান করা আবশ্যক (واجب); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) পরিমাণ সম্পর্কে বলেছেন: ((আর রিক্বাহ বা রূপার ক্ষেত্রে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر) জাকাত)) (২)। রিক্বাহ (الرقة) অর্থ হলো রূপা (الفضة)। তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: ((তোমরা এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر) জাকাত নিয়ে এসো: প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম; আর দুইশ দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের ওপর কোনো কিছু নেই। যখন দুইশ দিরহাম হবে, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম (জাকাত) দিতে হবে … )) (৩)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের ব্যাপারে বলেছেন: (( … যখন তোমার বিশ দিনার থাকবে এবং তার ওপর এক বছর (حول) অতিক্রান্ত হবে, তখন তাতে আধা দিনার জাকাত দিতে হবে, আর এর বেশি হলে...

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরু ইবনে মুফলিহ, ৪/২০৫; আর-রাওদুল মুরবি, ৩/২৬৮; ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ৯/৩৩২, ৩৪৫; ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/১৮২; এবং মাজমু ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন, ১৮/২০৯।

(২) বুখারি, হাদিস নং ১৪৫৪; এবং স্বর্ণ ও রূপার জাকাতের পরিমাণের আলোচনায় এর উৎস নির্দেশ (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৩) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭২; আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/৪৩৫; এবং স্বর্ণ ও রূপার জাকাতের পরিমাণের আলোচনায় এর উৎস নির্দেশ (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
فبحساب ذلك)) (1). فالواجب في زكاة عروض التجارة ربع عشر قيمتها، من الذهب، أو من الفضة بالأحظ لأهل الزكاة: مثال ذلك شخص يملك عقاراً قيمته عند تمام الحول مليون جنيه، فزكاته هي:

مليون تقسيم أربعين، يساوي خمسة وعشرين ألف جنيهاً [1000.000 ÷ 40 = 25.000 جنيهاً]

وشخص آخر له عروض تجارة قيمتها عند تمام الحول خمسون ألف ريالاً سعودياً، فزكاته: خمسون ألف تقسيم أربعين، يساوي: ألف ومائتين وخمسون ريالاً سعودياً.

[50.000 ÷ 40 = 1250 ريالاً] وهكذا (2).

--------------------------------------------

(1) أبو داود، برقم 1573، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436، وتقدم تخريجه في نصاب الذهب، وفي نصاب الفضة.

(2) واختلف العلماء في زكاة العروض، هل يجوز إخراجها عرْضاً من نفس العروض أم

لا بد أن تكون من القيمة؟ قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ويخرج الزكاة من قيمة العروض دون عينها وهذا أحد قولي الشافعي)). [المغني، 4/ 250]. وقال المرداوي في الإنصاف: ((هذا الصحيح من المذهب، وعليه الأصحاب، قطع به أكثرهم)) [الإنصاف، 7/ 55].

والقول الثاني للشافعي وأبي حنيفة: أنه مخير بين الإخراج من قيمتها وبين الإخراج من عينها؛ لأنها مال تجب فيه الزكاة فجاز إخراجها من عينه كسائر الأموال [المغني، 4/ 250، والشرح الكبير، 7/ 55]. ورد ابن قدامة رحمه الله هذا القول، فقال: ((ولنا أن النصاب معتبر بالقيمة فكانت الزكاة منها: كالعين في سائر الأموال، ولا نسلم أن الزكاة تجب في المال، وإنما وجبت في قيمته)) [المغني، 4/ 250].

وقال المرداوي: ((وقال الشيخ تقي الدين: ويجوز الأخذ من عينها أيضاً)) [الإنصاف، 7/ 55].

وذكر شيخ الإسلام في الفتاوى الكبرى، [1/ 299] الأقوال في المسألة: يجوز مطلقاً، لا يجوز مطلقاً، يجوز في بعض الصور للحاجة أو المصلحة الراجحة، ثم قال: ((وهذا أعدل الأقوال، فإن كان آخذ الزكاة يريد أن يشتري بها كسوة فاشترى رب المال بها كسوة وأعطاه فقد أحسن إليه، وأما إذا قوَّم هو الثياب فأعطاها فقد يقومها بأكثر من السعر، وقد يأخذ الثياب من لا يحتاج إليها، بل يبيعها فيغرم أجرة المنادي، وربما خسرت فيكون في ذلك ضرر على الفقراء)) [الفتاوى الكبرى، 1/ 299] وذكر عن شيخ الإسلام أيضاً في الاختيارات الفقهية: ((ويجوز إخراج زكاة العروض عرضاً، ويقوى على قول من يقول: تجب الزكاة في عين المال)) [الأخبار العلمية من الاختيارات الفقهية، لشيخ الإسلام ابن تيمية، ص 151].

وقال العلامة السعدي رحمه الله: ((والصحيح جواز دفع زكاة العروض من العروض؛ لأن الزكاة مواساة فلا يكلفها من غير ماله … )) [المختارات الجلية من المسائل الفقهية، للسعدي، ص 77]. وقال شيخنا ابن باز رحمه الله: ((اختلف العلماء في جواز أخذ العروض في الزكاة، والأرجح جواز ذلك بحسب السعر حين الإخراج، سواء كان ذلك: طعاماً، أو ملابس، أو غير ذلك؛ لما في ذلك من الرفق بأصحاب الأموال، والإحسان إلى الفقراء؛ ولأن الزكاة مواساة، فلا يليق تكليف أصحاب الأموال بما يشق عليهم)) [مجموع فتاوى ابن باز، 14/ 249 - 254].

قال الإمام البخاري رحمه الله: ((بابٌ: العرض في الزكاة، وقال طاوس قال معاذ رضي الله عنه لأهل اليمن: ائتوني بعرضٍ ثيابٍ خميصٍ أو لبيسٍ في الصدقة مكان الشعير والذرة، أهون عليكم وخير لأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة)). [البخاري، بعد الحديث رقم 1447]. قوله: باب العروض في الزكاة: أي جواز أخذ العرض، والمراد به ما عدا النقدين. قال ابن رشيد: وافق البخاري في هذه المسألة الحنفية مع كثرة مخالفته لهم، لكن قاده إلى ذلك الدليل، وقد أجاب الجمهور عن قصة معاذ، وعن الأحاديث كما سيأتي عقب كل منها [فتح الباري لابن حجر، 3/ 312] وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله أثناء تقريره على صحيح البخاري، قبل الحديث رقم 1448: يذكر أن الزكاة يجوز إعطائها من العروض عند الحاجة للفقير، فلو كان عنده ريال مثلاً، وأراد أن يعطيها الأيتام فلا بأس أن يعطيهم إياها طعاماً لحاجتهم، وكذا لو كان الفقير سفيهاً، وحديث معاذ حجة: أنه إذا رأى العامل أخذ الملابس، أو الطعام، بدلاً من الصدقة للحاجة فله ذلك؛ لأن معاذاً كان يأخذ العروض من الصدقة)). [وانظر: فتح الباري لابن حجر، 3/ 312].

وسئل شيخنا ابن باز رحمه الله، عن موضوع صرف مبالغ الزكاة؛ لشراء مواد غذائية وعينية: كالبطانيات، والملابس، وصرفها لبعض الجهات الإسلامية الفقيرة، مثل: السودان، وإفريقيا، خاصة في الحالات التي لا تتوفر المواد الغذائية بأسعار معقولة في تلك البلدان، أو تكاد تكون معدومة، وإن توفرت فهي بأسعار مضاعفة عن الأسعار التي تصلهم بها … فأجاب رحمه الله: ((لا مانع من ذلك بعد التأكد من صرفها في المسلمين، أثابكم الله وتقبل منكم)) [مجموع فتاوى ابن باز، 14/ 246].
সেই হিসেবে (১)। সুতরাং ব্যবসা পণ্যের (عروض التجارة) জাকাতের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো তার মূল্যের এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (অর্থাৎ ২.৫%), যা জাকাত গ্রহণকারীদের জন্য স্বর্ণ বা রৌপ্যের মধ্যে যেটি অধিক লাভজনক সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো ব্যক্তি যদি এমন একটি স্থাবর সম্পত্তির মালিক হন যার মূল্য বছর পূর্ণ হওয়ার সময় দশ লক্ষ জুনেই (পাউন্ড) হয়, তবে তার জাকাত হবে:

দশ লক্ষকে চল্লিশ দিয়ে ভাগ করলে হয় পঁচিশ হাজার জুনেই [১,০০০,০০০ ÷ ৪০ = ২৫,০০০ জুনেই]

অন্য একজন ব্যক্তির কাছে এমন ব্যবসা পণ্য আছে যার মূল্য বছর পূর্ণ হওয়ার সময় পঞ্চাশ হাজার সৌদি রিয়াল, তবে তার জাকাত হবে: পঞ্চাশ হাজারকে চল্লিশ দিয়ে ভাগ করলে হয় এক হাজার দুইশ পঞ্চাশ সৌদি রিয়াল।

[৫০,০০০ ÷ ৪০ = ১২৫০ রিয়াল] এবং এভাবেই হিসেব করতে হবে (২)।

--------------------------------------------

(1) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭৩, এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) হিসেবে গণ্য করেছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/৪৩৬; এবং এর উৎস নির্দেশ (تخريجه) পূর্বে স্বর্ণের নিসাব ও রৌপ্যের নিসাবের আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে।

(2) ব্যবসা পণ্যের জাকাতের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, তা কি স্বয়ং পণ্য থেকেই আদায় করা জায়েজ নাকি মূল্য থেকে আদায় করা আবশ্যক? ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জাকাত ব্যবসা পণ্যের মূল্য থেকে আদায় করা হবে, স্বয়ং পণ্য থেকে নয়। এটি শাফেয়ী মাজহাবের দুটি মতের একটি।" [আল-মুগনি, ৪/২৫০]। আল-মারদাভী 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলেছেন: "মাজহাবের বিশুদ্ধ (الصحيح) মত এটিই এবং আসহাবগণ (মাজহাবের অনুসারী আলেমগণ) এর ওপরই রয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই এটি নিশ্চিত করেছেন" [আল-ইনসাফ, ৭/৫৫]।

ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার দ্বিতীয় মত হলো: তিনি মূল্য থেকে আদায় করবেন নাকি পণ্য থেকে আদায় করবেন সে ব্যাপারে ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা রাখেন; কারণ এটি এমন সম্পদ যার ওপর জাকাত ওয়াজিব হয়, ফলে অন্যান্য সম্পদের মতো এর মূল পণ্য থেকেও তা আদায় করা জায়েজ [আল-মুগনি, ৪/২৫০, এবং আশ-শারহুল কাবীর, ৭/৫৫]। ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) এই মতটি খণ্ডন করে বলেছেন: "আমাদের দলিল হলো, নিসাব মূল্যের মাধ্যমে বিবেচিত (معتبر), তাই জাকাতও মূল্য থেকেই হবে: যেমনটি অন্যান্য সম্পদের মূল অংশের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর আমরা এটি স্বীকার করি না যে জাকাত সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়েছে, বরং এটি ওয়াজিব হয়েছে তার মূল্যের ওপর" [আল-মুগনি, ৪/২৫০]।

আল-মারদাভী বলেছেন: "শাইখ তাক্বীউদ্দীন বলেছেন: এর মূল পণ্য থেকেও গ্রহণ করা জায়েজ।" [আল-ইনসাফ, ৭/৫৫]।

শাইখুল ইসলাম 'আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা' গ্রন্থে [১/২৯৯] এই মাসআলায় কয়েকটি মত উল্লেখ করেছেন: নিঃশর্তভাবে জায়েজ, নিঃশর্তভাবে জায়েজ নয়, প্রয়োজন বা স্পষ্ট কল্যাণের ক্ষেত্রে কোনো কোনো সুরতে জায়েজ। এরপর তিনি বলেন: "এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মত। যদি জাকাত গ্রহণকারী সেই অর্থ দিয়ে পোশাক কিনতে চায়, আর সম্পদের মালিক তাকে পোশাক কিনে দেয় তবে সে তার প্রতি অনুগ্রহ করল। কিন্তু যদি সে পোশাকের মূল্য নির্ধারণ করে তা প্রদান করে, তবে অনেক সময় সে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ধরে ফেলতে পারে, অথবা এমন ব্যক্তিকে পোশাক দিল যার সেটি প্রয়োজন নেই, বরং সে তা বিক্রি করে দিবে এবং এতে করে তাকে দালালি বা ঘোষকের মজুরি দিতে হবে, কিংবা এতে লোকসান হতে পারে, ফলে এটি দরিদ্রদের জন্য ক্ষতিকর হবে" [আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ১/২৯৯]। শাইখুল ইসলাম থেকে 'আল-ইখতিয়ারাত আল-ফিকহিয়্যাহ' গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে: "ব্যবসা পণ্যের জাকাত পণ্য হিসেবেই আদায় করা জায়েজ, এবং যারা মনে করেন জাকাত মূল সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয় তাদের মত অনুসারে এটি শক্তিশালী মত।" [আল-আখবারুল ইলমিয়্যাহ মিনাল ইখতিয়ারাতিল ফিকহিয়্যাহ, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৫১]।

আল্লামা সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো ব্যবসা পণ্যের জাকাত পণ্য থেকেই প্রদান করা জায়েজ; কারণ জাকাত হলো সহমর্মিতা প্রকাশ করা, তাই তাকে নিজ সম্পদের বাইরের কোনো জিনিসের জন্য বাধ্য করা হবে না..." [আল-মুখতারাতুল জালিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ, আস-সাদী, পৃষ্ঠা ৭৭]। আমাদের শাইখ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জাকাত হিসেবে পণ্য গ্রহণ করার বৈধতার ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الأرجح) মত হলো, আদায় করার সময়ের মূল্য অনুযায়ী তা আদায় করা জায়েজ, তা খাদ্য হোক বা পোশাক অথবা অন্য কিছু; কারণ এতে সম্পদশালীদের জন্য সহজসাধ্যতা এবং দরিদ্রদের প্রতি ইহসান রয়েছে। যেহেতু জাকাত হলো সহমর্মিতা, তাই সম্পদশালীদের ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয় যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়।" [মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/২৪৯ - ২৫৪]।

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "অনুচ্ছেদ: জাকাতের ক্ষেত্রে পণ্য প্রদান। তাউস বর্ণনা করেন, মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়েমেনবাসীদের বলেছিলেন: 'তোমরা সদকা হিসেবে যব ও ভুট্টার পরিবর্তে আমাকে লিনেন বা পরিধেয় বস্ত্র দাও, যা তোমাদের জন্য সহজ হবে এবং মদিনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য কল্যাণকর হবে'।" [বুখারী, হাদিস নং ১৪৪৭ এর পরে]। তার উক্তি 'জাকাতের ক্ষেত্রে পণ্য প্রদান' এর অর্থ হলো পণ্য গ্রহণ করা জায়েজ হওয়া, আর পণ্য বলতে স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যতীত অন্য কিছু বোঝানো হয়েছে। ইবনে রাশিদ বলেন: হানাফিদের সাথে অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও ইমাম বুখারী এই মাসআলায় তাদের সাথে একমত হয়েছেন, তবে দলিলই তাকে এদিকে ধাবিত করেছে। জমহুর বা অধিকাংশ আলেম (جمهور) মুয়াজের এই ঘটনা এবং হাদিসগুলোর জবাব দিয়েছেন যা পরবর্তীতে প্রতিটি আলোচনার পর আসবে [ফাতহুল বারী ইবনে হাজার, ৩/৩১২]। আমি আমাদের শাইখ ইমাম ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে সহিহ বুখারীর ওপর পাঠদানের সময় ১৪৪৮ নং হাদিসের আগে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, দরিদ্রদের প্রয়োজনের সময় পণ্য থেকে জাকাত প্রদান করা জায়েজ। যেমন যদি কারো কাছে রিয়াল থাকে এবং সে তা এতিমদের দিতে চায়, তবে তাদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে তা খাদ্যসামগ্রী হিসেবে প্রদান করতে কোনো বাধা নেই। একইভাবে যদি দরিদ্র ব্যক্তি নির্বোধ বা অর্থ অপচয়কারী হয় তবে মুয়াজের হাদিসটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে: যদি জাকাত আদায়কারী কর্মকর্তা প্রয়োজনের খাতিরে সদকার পরিবর্তে পোশাক বা খাদ্য গ্রহণ করা সমীচীন মনে করেন তবে তিনি তা করতে পারেন; কারণ মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সদকা থেকে পণ্য গ্রহণ করতেন।" [দেখুন: ফাতহুল বারী ইবনে হাজার, ৩/৩১২]।

আমাদের শাইখ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জাকাতের অর্থ দিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও ব্যবহার্য জিনিস যেমন: কম্বল ও পোশাক ক্রয় করে সুদান বা আফ্রিকার মতো কিছু দরিদ্র মুসলিম এলাকায় বিতরণের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল; বিশেষ করে যেখানে খাদ্যসামগ্রী নায্য মূল্যে পাওয়া যায় না অথবা প্রায় দুষ্প্রাপ্য, আর পাওয়া গেলেও চড়া দামে কিনতে হয়... উত্তরে তিনি বলেছিলেন: "এগুলো মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর এতে কোনো বাধা নেই। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।" [মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/২৪৬]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الحادي عشر: زكاة الأسهم والسندات:

الأسهم والسندات معاملات معاصرة، تحتاج إلى فهمٍ لحقيقتها، ثم
একাদশ: শেয়ার ও বন্ডের জাকাত:

শেয়ার ও বন্ড হলো সমকালীন লেনদেন, যেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা প্রয়োজন, অতপর
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
النظر في زكاتها على النحو الآتي:

 

‌‌1 – مفهوم الأسهم: ((الأسهم جمع سهم، وهو: حصةٌ في رأس مال شركة ما – أي شركة تجارية، أو عقارية، أو صناعية، ملاك أم شركة عقود – وكل سهم جزء من أجزاء متساوية لرأس المال)) (1).

وقيل: ((الأسهم حقوق ملكية جزئية، لرأس مال كبير، للشركات المساهمة، أو التوصية بالأسهم، وكل سهم جزء من أجزاء متساوية لرأس المال)) (2).

وقيل: ((السهم: هو صك يمثل حصة من الحصص المتساوية، المقسم إليها رأس المال المطلوب للمساهمة. وهذه المساهمة تخوِّل لصاحبها الحق في الحصول على ما يخصه من أرباح عند اقتسام الممتلكات، أو تحمَّل ما يخصه من الخسارة إن كانت)) (3).

 

‌‌2 – مفهوم السند: ((السند تعهد مكتوب: من البنك، أو الشركة، أو الحكومة لحامله بسداد مبلغ مقدر، من قرض في تاريخ معين، نظير فائدة مقدرة)) (4).

وقيل: ((السند صك يتضمن تعهداً: من المصرف، أو الشركة، أو نحوهما لحامله بسداد مبلغ مقدر، في تاريخ معين، نظير فائدة مقدرة غالباً،

--------------------------------------------

(1) الربا المعاملات المصرفية في نظر الشريعة الإسلامية، للدكتور: عمر المترك، ص 369.

(2) فقه الزكاة للدكتور يوسف القرضاوي، 1/ 521.

(3) زكاة الأسهم والسندات والورق النقدي، للدكتور صالح بن غانم السدلان، ص 13.

(4) فقه الزكاة للقرضاوي، 1/ 521.
এর যাকাত বিবেচনার পদ্ধতি নিম্নরূপ:

 

‌‌১ – শেয়ারের ধারণা: ((শেয়ার হলো ‘সাহম’-এর বহুবচন, আর তা হলো: কোনো একটি কোম্পানির মূলধনের একটি নির্দিষ্ট অংশ—অর্থাৎ বাণিজ্যিক, রিয়েল এস্টেট বা শিল্প প্রতিষ্ঠান, মালিকানাধীন হোক বা চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি—এবং প্রতিটি শেয়ার মূলধনের সমান অংশসমূহের একটি অংশ)) (১)।

আরও বলা হয়েছে: ((শেয়ার হলো একটি বড় মূলধনের আংশিক মালিকানা স্বত্ব, যা জয়েন্ট স্টক কোম্পানি বা শেয়ারভিত্তিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং প্রতিটি শেয়ার মূলধনের সমান অংশসমূহের একটি অংশ)) (২)।

আরও বলা হয়েছে: ((শেয়ার হলো এমন একটি সনদ যা সমান অংশসমূহের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যার মাধ্যমে শেয়ার গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনকে বিভক্ত করা হয়। এই অংশগ্রহণ মালিককে সম্পদ বণ্টনের সময় তার প্রাপ্য লভ্যাংশ লাভের অধিকার প্রদান করে, অথবা যদি কোনো লোকসান হয় তবে তার নির্ধারিত অংশ বহনের দায়িত্ব প্রদান করে)) (৩)।

 

‌‌২ – ঋণপত্রের ধারণা: ((ঋণপত্র (বন্ড) হলো একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি: যা ব্যাংক, কোম্পানি বা সরকারের পক্ষ থেকে এর বাহককে একটি নির্দিষ্ট ঋণের নির্ধারিত অর্থ একটি নির্দিষ্ট তারিখে পরিশোধ করার জন্য প্রদান করা হয়, যার বিপরীতে একটি নির্ধারিত সুদ ধার্য থাকে)) (৪)।

আরও বলা হয়েছে: ((ঋণপত্র (বন্ড) হলো এমন একটি সনদ যা একটি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করে: ব্যাংক, কোম্পানি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এর বাহককে একটি নির্দিষ্ট অর্থ একটি নির্দিষ্ট তারিখে পরিশোধ করার জন্য, যার বিপরীতে সাধারণত একটি নির্ধারিত সুদ থাকে,

--------------------------------------------

(১) আর-রিবা ওয়াল মুয়ামালাত আল-মাসরিফিয়া ফি নাযারিশ শরীয়াহ আল-ইসলামিয়া, ডক্টর উমর আল-মুতারাক, পৃষ্ঠা ৩৬৯।

(২) ফিকহুয যাকাত, ডক্টর ইউসুফ আল-কারাদাভি, ১/ ৫২১।

(৩) যাকাতুল আসহুম ওয়াস সানাদাত ওয়াল ওয়ারাক আন-নাকদি, ডক্টর সালিহ বিন গানিম আস-সাদলান, পৃষ্ঠা ১৩।

(৪) ফিকহুয যাকাত, আল-কারাদাভি, ১/ ৫২১।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسبب قرضٍ عقدته شركة مساهمة، أو هيئة حكومية، أو أحد الأفراد)) (1).

وقيل: ((السند هو جزء من قرض طويل الأجل، تدفع عليه فائدة ثابتة في ميعاد معين، وترد قيمته للمقرض في ميعاد متفق عليه)) (2).

 

‌‌3 - الفروق بين‌‌ الأسهم و‌‌السندات:

السهم … السندات

1 - صك يمثل جزءاً من رأس المال. … 1 - صك يمثل جزءاً من قرض، ولا تدخل قيمته في رأس المال.

2 - حامله شريك بقدر أسهمه. … 2 - حامله دائن وليس بشريك.

3 - يصدر قبل تأسيس الشركة. … 3 - يصدر بعد التأسيس لتوسيع الأعمال.

4 - كل شركة مساهمة لها أسهم. … 4 - لا يلزم أن يكون للشركة المساهمة سندات.

5 - للمساهم حق الحضور والتصويت في الجمعيات العمومية. … 5 - ليس لصاحبه الحق في الحضور والتصويت في الجمعيات العمومية.

6 - قد يفقد المساهم حصته بسبب إفلاس أو ديون الشركة. … 6 - لا تقع عليه أي أخطار، بل يتأذى بإعسار الشركة ولكن حصته مضمونة.

7 - ربح المساهم يأخذه إذا ربحت الشركة وإلا فلا. … 7 - لصاحب السند فائدة مضمونة في الموعد المحدد ربحت الشركة أم خسرت.

8 - لا يمكن إصداره بأقل من قيمته الإسمية. … 8 - يمكن إصداره بأقل من قيمته الإسمية.

9 - أرباح السهم لا يعرف ميعاد دفعها بالضبط. … 9 - تدفع الفائدة على السند في ميعاد محدد معروف.

10 - لا يمكن خصم كوبون السهم. … 10 - يمكن خصم كوبون السند.

11 - لا تسدد قيمته إلا عند تصفية الشركة. … 11 - للسند وقت محدد لسداده.

12 - لا يكون لحامله إلا ما فضل بعد أداء ما على الشركة من ديون. … 12 - لحامله الأولوية عند تصفية الشركة لأنه يمثل جزءاً من ديونها.

13 - جواز المعاملة بالسهم بيعاً وشراء إذا كانت الشركة مباحة ومعروفة ومشهورة، وليس فيها غرر ولا جهالة. … 13 - السند بهذه الصفات يحمل قرضاً بفائدة، وهذا العمل

--------------------------------------------

(1) الربا والمعاملات المصرفية، ص 369.

(2) زكاة الأسهم والسندات، والورق النقدي، ص 14.
কোনো যৌথ মূলধনী কোম্পানি, সরকারি সংস্থা অথবা কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত ঋণের কারণে)) (১)।

বলা হয়েছে: ((সন্দ (বন্ড) হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী ঋণের অংশ, যার ওপর নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ে ঋণদাতাকে তার আসল মূল্য ফেরত দেওয়া হয়)) (২)।

 

‌‌৩ - শেয়ার এবং সন্দের (বন্ডের) মধ্যকার পার্থক্যসমূহ:

শেয়ার … সন্দসমূহ

১ - এমন একটি দলিল যা মূলধনের অংশ নির্দেশ করে। … ১ - এমন একটি দলিল যা ঋণের অংশ নির্দেশ করে এবং এর মূল্য মূলধনের অন্তর্ভুক্ত হয় না।

২ - এর বাহক তার শেয়ারের পরিমাণ অনুযায়ী অংশীদার। … ২ - এর বাহক একজন পাওনাদার, অংশীদার নন।

৩ - কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পূর্বে এটি ইস্যু করা হয়। … ৩ - ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর এটি ইস্যু করা হয়।

৪ - প্রতিটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার থাকে। … ৪ - যৌথ মূলধনী কোম্পানির জন্য সন্দ থাকা আবশ্যক নয়।

৫ - শেয়ারহোল্ডারের সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকার এবং ভোট দেওয়ার অধিকার থাকে। … ৫ - এর মালিকের সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকার এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নেই।

৬ - কোম্পানির দেউলিয়া হওয়া বা ঋণের কারণে শেয়ারহোল্ডার তার অংশ হারাতে পারেন। … ৬ - এর ওপর কোনো ঝুঁকি থাকে না, বরং কোম্পানি দেউলিয়া হলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন কিন্তু তার অংশ গ্যারান্টিযুক্ত থাকে।

৭ - কোম্পানি লাভ করলে শেয়ারহোল্ডার লভ্যাংশ পান, অন্যথায় নয়। … ७ - সন্দের মালিক নির্ধারিত সময়ে নিশ্চিত সুদ পান, কোম্পানি লাভ করুক বা লোকসান।

৮ - এটি এর অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ইস্যু করা যায় না। … ৮ - এটি এর অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ইস্যু করা সম্ভব।

৯ - শেয়ারের লভ্যাংশ প্রদানের সঠিক সময় জানা থাকে না। … ৯ - সন্দের সুদ একটি নির্দিষ্ট ও পরিচিত সময়ে প্রদান করা হয়।

১০ - শেয়ারের কুপন বাট্টা বা ডিসকাউন্ট করা সম্ভব নয়। … ১০ - সন্দের কুপন বাট্টা বা ডিসকাউন্ট করা সম্ভব।

১১ - কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়া ছাড়া এর মূল্য পরিশোধ করা হয় না। … ১১ - সন্দ পরিশোধের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে।

১২ - কোম্পানির যাবতীয় ঋণ পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, বাহক কেবল সেটুকুই পান। … ১২ - কোম্পানি বিলুপ্তির সময় বাহক অগ্রাধিকার পান, কারণ এটি কোম্পানির ঋণের একটি অংশ নির্দেশ করে।

১৩ - শেয়ারের মাধ্যমে লেনদেন (ক্রয়-বিক্রয়) করা বৈধ যদি কোম্পানিটি অনুমোদিত, সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ হয় এবং তাতে কোনো অনিশ্চয়তা বা অস্পষ্টতা না থাকে। … ১৩ - এই বৈশিষ্ট্যের সন্দ সুদি ঋণ বহন করে এবং এই কাজটি...

--------------------------------------------

(১) আর-রিবা ওয়াল মুয়ামালাত আল-মাসরিফিয়্যাহ, পৃ. ৩৬৯।

(২) যাকাত আল-আসশুম ওয়াস সানাদাত ওয়াল ওয়ারাক আন-নাকদি, পৃ. ১৪।
(খণ্ড: ১) জাকাতু উরুদিত তিজারাহ ওয়াল আসহুম ওয়াস সানাদাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
حرمه الله ورسوله، وهو من ربا الجاهلية، ومن تعامل به فهو يدخل تحت اللعنة، وهو محارب لله ورسوله صلى الله عليه وسلم (1).

 

‌‌4 - حكم بيع الأسهم، على نوعين:

‌‌النوع الأول: أسهم في مؤسسات محرمة، أو مكسبها حرام، أو تتعاون على الإثم والعدوان كالمصارف: الربوية، والبنوك التي تتعامل بالربا، أو مؤسسات نوادي القمار، أو دور لهو ومجون، أو غير ذلك مما حرم الله تعالى، فالمعاملة في هذه المؤسسات وغيرها مما يشبهها حرام، سواء كانت: مساهمة، أو بيعاً للأسهم، أو تعاملاً، قال الله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا الله إِنَّ الله شَدِيدُ الْعِقَابِ} (2).

‌‌النوع الثاني: أسهم في مؤسسات مباحة: كالشركات التجارية المباحة، والصناعية المباحة، والعقارية المباحة، فهذه المساهمة فيها جائزة والمشاركة فيها وبيع أسهمها، بشرط أن تكون الشركة معروفة، والقائمون عليها ثقات أمناء يراقبون الله تعالى ويتقونه، وليس فيها غرر ولا جهالة، فهذه جائزة؛ لأن السهم جزء من رأس المال يعود على صاحبه بربح ناشئ من كسب التجارة والصناعة المباحة، وهذا حلال بلا شك (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: زكاة الأسهم والسندات، ص 15، والربا والمعاملات المصرفية، ص 369 - 375، وفقه الزكاة للقرضاوي، 1/ 521.

(2) سورة المائدة، الآية: 2.

(3) انظر: الربا والمعاملات المصرفية في نظر الشريعة الإسلامية، لمعالي الشيخ الدكتور عمر بن عبدالعزيز المترك رحمه الله، ص 371.
আল্লাহ ও তাঁর রাসুল একে হারাম করেছেন এবং এটি জাহিলী যুগের সুদের (ربا) অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি এতে লেনদেন করে, সে অভিশাপের আওতায় পড়ে এবং সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী (১)।

 

‌‌৪ - শেয়ার বিক্রয়ের বিধান, এটি দুই প্রকার:

‌‌প্রথম প্রকার: নিষিদ্ধ (محرمة) প্রতিষ্ঠানসমূহের শেয়ার, অথবা যার উপার্জন হারাম (حرام), অথবা যা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহায়তা করে; যেমন: সুদী (ربوية) ব্যাংকসমূহ এবং সেইসব ব্যাংক যা সুদের (ربا) মাধ্যমে লেনদেন করে, অথবা জুয়ার আড্ডার প্রতিষ্ঠান, কিংবা আমোদ-প্রমোদ ও অশ্লীলতার কেন্দ্রসমূহ অথবা আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন এমন অন্য কিছু। সুতরাং এই সকল প্রতিষ্ঠান এবং এর সদৃশ অন্যান্য ক্ষেত্রে লেনদেন করা হারাম (حرام); চাই তা অংশীদারিত্ব হোক, শেয়ার বিক্রয় হোক বা অন্য কোনো লেনদেন হোক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরা নেকি ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা} (২)।

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: বৈধ (مباحة) প্রতিষ্ঠানসমূহের শেয়ার: যেমন বৈধ (مباحة) বাণিজ্যিক কোম্পানি, বৈধ শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বৈধ আবাসন কোম্পানি। এই সকল ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা বৈধ (جائزة) এবং এতে অংশগ্রহণ করা ও এর শেয়ার বিক্রয় করা জায়েজ (جائزة); তবে শর্ত হলো কোম্পানিটি সুপরিচিত হতে হবে এবং এর পরিচালনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও আমানতদার (أمناء) হতে হবে যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেন ও তাঁর সচেতন থাকেন। আর এতে কোনো প্রকার ধোঁকা (غرر) বা অজ্ঞাত বিষয় (جهالة) থাকা চলবে না। সুতরাং এটি বৈধ (جائزة); কারণ শেয়ার হলো মূলধনের একটি অংশ যা বৈধ ব্যবসা ও শিল্প থেকে অর্জিত লভ্যাংশ হিসেবে মালিকের কাছে ফিরে আসে এবং এটি নিঃসন্দেহে হালাল (حلال) (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাকাতুল আসহুম ওয়াস সানাদাত, পৃ. ১৫, এবং আর-রিবা ওয়াল মুয়ামালাতুল মাসরিফিয়্যাহ, পৃ. ৩৬৯ - ৩৭৫, এবং কারজাভী রচিত ফিকহুয যাকাত, ১/ ৫২১।

(২) সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২।

(৩) দেখুন: ইসলামী শরীয়ার দৃষ্টিতে আর-রিবা ওয়াল মুয়ামালাতুল মাসরিফিয়্যাহ, ড. উমর ইবন আব্দুল আজিজ আল-মুতরিক (রাহিমাহুল্লাহ), পৃ. ৩৭১।