(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: -)
زكاة بهيمة الأنعام السائمة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: زكاة بهيمة الأنعام السائمة الإبل، والبقر، والغنم في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم, وشروط, وأحكام, ومسائل

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 32

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

বিচরণশীল চতুষ্পদ জন্তুর যাকাত   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিচরণশীল চতুষ্পদ জন্তু—উট، গরু، এবং বকরির যাকাত - সংজ্ঞা, শর্তাবলি, বিধিবিধান এবং মাসআলাসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস، রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরায়সি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: -)
44

رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

زكاة بهيمة الأنعام السائمة

الإبل، والبقر، والغنم

في ضوء الكتاب والسنة

مفهوم، وشروط، وأحكام، ومسائل

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
44

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানির পত্রাবলি (رسائل)

 

চারণভূমিতে বিচরণকারী (السائمة) গবাদি পশুর জাকাত

উট, গরু এবং ছাগল-ভেড়া

কুরআন ও সুন্নাহর (السنة) আলোকে

সংজ্ঞা, শর্তাবলি, বিধান এবং মাসআলাসমূহ (مسائل)

 

আল্লাহ তাআলার নিকট মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((زكاة بهيمة الأنعام)) من الإبل، والبقر، والغنم، التي أنعم الله بها على عباده؛ ليعبدوه، ويشكروه، بيَّنت فيها بإيجاز: مفهوم بهيمة الأنعام السائمة، وشروط وجوب الزكاة في بهيمة الأنعام، وحكم زكاة بهيمة الأنعام، والأنصباء المقدرة شرعاً في بهيمة الأنعام مع توضيح ذلك بالجداول المرسومة، وذكر مسائل خاصة في زكاة الإبل، ثم مسائل عامة في زكاة بهيمة الأنعام.

وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله، ورفع منزلته.

والله أسأل أن يجعل هذه الرسالة: مباركة، خالصة لوجهه الكريم، وأن ينفعني بِهَا في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع بِهَا كلّ من اطّلع عليها، أو قرأها، أو نشرها، أو أعان على الاستفادة منها؛ فإنه سبحانه وتعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد بن عبد الله، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف: أبو عبد الرحمن

حرر عشية السبت 24/ 1/1426هـ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ (উপাস্য) নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে—তাদের সকলের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি উট, গরু ও বকরি—এই গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুর জাকাত সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে দান করেছেন; যাতে তারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আমি এতে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি: বিচরণশীল গবাদি পশুর ধারণা, গবাদি পশুর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি, গবাদি পশুর জাকাতের বিধান এবং শরয়িভাবে নির্ধারিত গবাদি পশুর নিসাবসমূহ—যা ছকের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া উটের জাকাত সংক্রান্ত বিশেষ মাসআলা এবং গবাদি পশুর জাকাত সংক্রান্ত সাধারণ মাসআলাসমূহ এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন)-এর বর্ণনা ও অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্তসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই পুস্তিকাটিকে বরকতময় ও কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। এটি যেন আমার জীবনে ও মরণোত্তর জীবনে আমার উপকারে আসে এবং যারা এটি দেখবে, পড়বে, প্রচার করবে কিংবা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে সাহায্য করবে—তাদের সকলের জন্য যেন কল্যাণকর হয়। নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বোত্তম প্রার্থনীত এবং মহান আশাস্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে—তাদের সবার ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

লেখক: আবু আব্দুর রহমান

২৪/০১/১৪২৬ হিজরি, শনিবার সন্ধ্যায় লিখিত।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
زكاة بهيمة الأنعام السائمة

الأموال التي تجب فيها الزكاة أربعة أصناف: السّائمة من بَهِيمة الأنعام، والخارج من الأرض: من الحبوب والثمار، والذهب والفضة، وعروض التجارة.

 

زكاة السائمة (1) من بهيمة (2) الأنعام (3): الإبل، والبقر، والغنم:

تجب الزكاة في بهيمة الأنعام بشروط أربعة:

 

‌‌الشرط الأول: أن تتخذ للدرِّ والنسل، والتسمين، لا للعمل؛ فإن الإبل المعدَّة للعمل والركوب، والسقي، وبقر الحرث والسقي لا زكاة فيها عند جمهور العلماء (4).

--------------------------------------------

(1) السائمة: الراعية، سميت السائمة؛ لأنها تسم الأرض بأثرها بحثاً عن الكلأ، قال الفيومي رحمه الله: ((سامت السائمة سوماً، من باب قال: رعت بنفسها، ويتعدّى بالهمز فيقال: أسامها راعيها)) [المصباح المنير، مادة: سوم. ص113]. وقال الجوهري: سامت الماشية: رعت، وأسمتها: أخرجتها إلى الرعي، [انظر: النهاية في غريب الحديث 2/ 426] ومنه قوله تعالى: {فِيهِ تُسِيمُونَ} [سورة النحل، الآية: 10].

(2) بهيمة: سميت بهيمة؛ لأنّها لا تتكلم بكلام يفهمه الناس؛ ولما في صوتِهَا من الإبْهَام، أما مع بعضها فتتكلم بكلام تفهمه بينها، وقد قال موسى لفرعون لما سأله: {قَالَ فَمَنْ رَبُّكُمَا يَا مُوسَى}، قال: {قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى} [سورة طه، الآية: 50] وبهيمة الأنعام: هي الإبل، والبقر، والغنم، قال تعالى: {أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ} [سورة المائدة، الآية: 1].

(3) بُدِئ بذكر بهيمة الأنعام فقدمت على أصناف الأموال الزكوية اقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم حينما ذكر زكاة الأنعام فقدمها على غيرها، واقتداء بالصديق رضي الله عنه في كتابه لأنس رضي الله عنه[أخرجه البخاري وسيأتي تخريجه إن شاء الله تعالى]؛ ولأن أكثر العرب في عهد النبي صلى الله عليه وسلم حول المدينة بادية أهل نعم، والأنعام غالب أموال العرب [انظر: حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 3/ 186، وشرح زاد المستقنع، 6/ 51].

(4) قال ابن قدامة رحمه الله في المغني، 4/ 12: (( … والعوامل؛ … لا زكاة فيها عند أكثر أهل العلم، وحُكي عن مالك: أن في الإبل النواضح والمعلوفة الزكاة؛ لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((في كل خمس شاةٌ)). قال أحمد: ((ليس في العوامل زكاة، وأهل المدينة يرون فيها الزكاة، وليس عندهم في هذا أصل)) وذكر صاحب الإنصاف أن العوامل ليس فيها زكاة ولو كانت سائمة قال: ((نص عليه علي في رواية جماعة [الإنصاف مع المقنع والشرح الكبير، 6/ 390]؛ ولما روي عنه رضي الله عنه مرفوعاً ((ليس في البقر العوامل صدقة)) أخرجه أبو داود 2/ 229 تحقيق عزت عبيد الدعاس، وأخرجه الدارقطني، 2/ 103 ط دار المحاسن، وصححه ابن القطان كما في نصب الراية، 2/ 353 وفي التعليق المغني، 2/ 103 قال:

((هذا سند صحيح، وكل من فيه ثقة معروف، ولا أعني رواية الحارث وإنما أعني رواية عاصم)) [وانظر لزيادة التخريج: الموسوعة الفقهية 23/ 251، وتخريج الروض المربع للدكتور عبد الله الغصن ومجموعة من طلاب العلم، 4/ 39].
চারণভূমিতে বিচরণকারী (السائمة) গৃহপালিত পশুর (بهيمة الأنعام) জাকাত

যেসব সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয় তা চার প্রকার: গৃহপালিত পশুর মধ্যে চারণভূমিতে বিচরণকারী (السائمة) পশু, ভূমি থেকে উৎপন্ন ফসল: শস্য ও ফলমূল, সোনা ও রুপা এবং ব্যবসার পণ্য (عروض التجارة)।

 

চারণভূমিতে বিচরণকারী (السائمة) (১) গৃহপালিত পশুর (بهيمة) (২) গবাদি পশুর (الأنعام) (৩) জাকাত: উট, গরু এবং ছাগল:

চারটি শর্ত সাপেক্ষে গৃহপালিত পশুর (بهيمة الأنعام) জাকাত ওয়াজিব হয়:

 

‌‌প্রথম শর্ত: এগুলো দুধ, বংশবৃদ্ধি এবং হৃষ্টপুষ্ট করার উদ্দেশ্যে পালিত হতে হবে, কাজের জন্য নয়; কেননা অধিকাংশ আলিমের (جمهور العلماء) (৪) মতে যেসব উট কাজ, সওয়ারি ও পানি বহনের জন্য এবং যেসব গরু হালচাষ ও পানি বহনের জন্য নির্দিষ্ট, সেগুলোতে কোনো জাকাত নেই।

--------------------------------------------

(১) সা-ইমাহ (السائمة): বিচরণকারী। একে সা-ইমাহ বলা হয় কারণ এটি চারণভূমির খোঁজে জমিতে বিচরণ করার মাধ্যমে চিহ্ন রাখে। আল-ফাইয়ুমি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সা-মাত আস-সা-ইমাতু সাওমান, যা 'কা-লা' শব্দের ওজনে ব্যবহৃত: অর্থাৎ সে নিজে নিজে চরেছে। আর যখন এর রাখাল একে চরাতে নিয়ে যায় তখন হামজা যোগে একে 'আসা-মাহা' বলা হয়।" [আল-মিসবাহুল মুনির, শব্দমূল: সাওম, পৃ. ১১৩]। আল-জাওহারি বলেন: গবাদি পশু চরেছে (سامت); আর আমি তাদের চরাতে নিয়ে গেছি (أسمتها): অর্থাৎ তাদের চারণভূমির দিকে বের করেছি। [দেখুন: আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস ২/৪২৬]। এরই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে তোমরা পশু চরাও (تُسِيمُونَ)।" [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১০]।

(২) বাহিমাহ (بهيمة): একে বাহিমাহ বলা হয় কারণ এটি এমন ভাষায় কথা বলে না যা মানুষ বুঝতে পারে; আর তার কণ্ঠস্বরের মধ্যে অস্পষ্টতা থাকার কারণে। তবে এরা নিজেদের মধ্যে এমন ভাষায় কথা বলে যা তারা একে অপরেরটা বুঝতে পারে। মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন ফেরাউনকে বললেন, যখন সে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল: "হে মূসা, তোমাদের দুজনের রব কে?" তখন তিনি বলেছিলেন: "আমাদের রব তিনি, যিনি প্রতিটি বস্তুকে তার গঠন দান করেছেন, তারপর পথ প্রদর্শন করেছেন।" [সূরা ত্বহা, আয়াত: ৫০]। আর বাহিমাতুল আন'আম (بهيمة الأنعাম) হলো: উট, গরু এবং ছাগল। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু (بهيمة الأنعام) হালাল করা হয়েছে।" [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১]।

(৩) জাকাতযোগ্য সম্পদের বর্ণনায় গৃহপালিত পশুকে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে। তিনি যখন জাকাতযোগ্য সম্পদের কথা উল্লেখ করতেন তখন গবাদি পশুর জাকাতকে অন্যান্য সম্পদের আগে উল্লেখ করতেন। এছাড়া আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লিখিত পত্রে সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসরণেও এটি করা হয়েছে [বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ সামনে এর তাখরিজ আসবে]; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মদিনার আশপাশের অধিকাংশ আরব ছিল বেদুঈন ও পশুপালক এবং গবাদি পশুই ছিল আরবদের প্রধান সম্পদ [দেখুন: আর-রওদুল মুরবি-এর ওপর ইবনে কাসিমের টিকা, ৩/১৮৬ এবং শারহু যাদিল মুসতাকনি, ৬/৫১]।

(৪) ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) আল-মুগনি ৪/১২-তে বলেন: "…এবং কর্মক্ষম পশু; …অধিকাংশ আহলে ইলমের মতে এগুলোতে জাকাত নেই। মালেক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, পানি বহনকারী এবং ঘাস খাইয়ে পালন করা উটের জাকাত দিতে হবে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: 'প্রতি পাঁচটি উটে একটি ছাগল।' আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'কর্মক্ষম পশুতে জাকাত নেই, মদিনাবাসীরা এতে জাকাত আছে মনে করেন, তবে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি (أصل) নেই'।" ইনসাফ-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কর্মক্ষম পশুতে কোনো জাকাত নেই যদিও তা চারণভূমিতে বিচরণকারী (السائمة) হয়। তিনি বলেন: "আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে এর ওপর সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) রয়েছে [আল-ইনসাফ মা'আল মুকনি ওয়াশ শারহুল কাবির, ৬/৩৯০]; আর তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে: 'কাজকর্মে নিয়োজিত গরুর ওপর কোনো সদকা নেই'।" এটি আবু দাউদ ২/২২৯ (ইজ্জত ওবায়েদ আদ-দা'আসের তাহকিক) বর্ণনা করেছেন এবং দারাকুতনি ২/১০৩ (দারুল মাহাসিন সংস্করণ) বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কাত্তান একে সহিহ (صحيح) বলেছেন যেমনটি নাসবুর রায়াহ ২/৩৫৩-তে রয়েছে। আত-তালিকুল মুগনি ২/১০৩-এ তিনি বলেছেন:

"এই সনদটি সহিহ (صحيح), এবং এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুপরিচিত। আমি এখানে হারিস-এর বর্ণনার কথা বোঝাচ্ছি না, বরং আসিম-এর বর্ণনার কথা বোঝাচ্ছি।" [অতিরিক্ত তাখরিজের জন্য দেখুন: আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২৩/২৫১ এবং ড. আবদুল্লাহ আল-গুসন ও একদল তালিবে ইলম কর্তৃক আর-রওদুল মুরবি-এর তাখরিজ ৪/৩৯]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الشرط الثاني: السوم أكثر الحول، ومعنى السائمة: الراعية، أما المعلوفة وهي التي يعلفها صاحبها وينفق عليها، ولا ترعى أكثر الحول فلا زكاة فيها عند جمهور أهل العلم (1)؛ لحديث علي رضي الله عنه مرفوعاً، وفيه: (( … وفي البقر في كل ثلاثين تبيع، وفي الأربعين مسنة، وليس على العوامل شيء … )) (2) وأما السائمة أكثر الحول ففيها الزكاة؛ لحديث أنس رضي الله عنه، وفيه: (( … وفي صدقة الغنم في سائمتها إذا كانت أربعين إلى عشرين ومائة شاة … )) (3)؛ ولحديث بهز ابن حكيم عن أبيه عن جده: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((في كل إبل سائمة في كل أربعين ابنة لبون … )) (4) أما السائمة

--------------------------------------------

(1) وحكي عن الإمام مالك رحمه الله: أن المعلوفة فيها الزكاة، والصواب قول الجمهور. انظر: المغني لابن قدامة، 4/ 12.

(2) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1572 وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود 1/ 434.

(3) البخاري، كتاب الزكاة، باب في زكاة الغنم، برقم 1454.

(4) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1575، والنسائي، كتاب الزكاة، باب عقوبة مانع الزكاة، برقم 2444، 2449، وأحمد، 5/ 2، 4، وغيرهم، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436، وفي صحيح النسائي، 2/ 18، وانظر: تلخيص الحبير، 1/ 160.
দ্বিতীয় শর্ত: বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে চরে খাওয়া, আর 'সাইমাহ' (চারণভূমিতে বিচরণকারী) পশুর অর্থ হলো: বিচরণশীল পশু; পক্ষান্তরে 'মা'লুফাহ' (খাদ্য সরবরাহকৃত পশু) হলো সেই পশু যাকে তার মালিক ঘাস-খাদ্য খাওয়ায় এবং তার জন্য ব্যয় করে, আর যা বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে চরে বেড়ায় না—অধিকাংশ আলিমের মতে তাতে কোনো জাকাত নেই (১); আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوعاً) হাদিসের কারণে, যেখানে রয়েছে: (( ...প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য একটি তাবি' (এক বছর বয়সী বাছুর) এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি মুসিন্নাহ (দুই বছর বয়সী বাছুর); আর কাজকর্মে নিয়োজিত পশুর ওপর কোনো জাকাত নেই ... )) (২)। আর যে পশু বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে চরে বেড়ায় তাতে জাকাত রয়েছে; আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: (( ...বকরির জাকাতের ক্ষেত্রে, তা যদি চারণভূমিতে বিচরণকারী হয় এবং সংখ্যায় চল্লিশ থেকে একশ বিশটি হয় ... )) (৩); এবং বাহজ ইবনে হাকিম তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((প্রতিটি চারণভূমিতে বিচরণকারী উটের ক্ষেত্রে, প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন (দুই বছর বয়সী মাদি উট) ... )) (৪)। আর চারণভূমিতে বিচরণকারী...

--------------------------------------------

(১) ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, খাদ্য সরবরাহকৃত পশুর ওপরও জাকাত রয়েছে, তবে অধিকাংশ আলিমের মতটিই সঠিক। দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, ৪/১২।

(২) আবু দাউদ, কিতাবুয জাকাত, বাবু ফী যাকাতিস সাইমাহ, হাদিস নং ১৫৭২; আলবানী একে সহিহ সুনান আবু দাউদ ১/৪৩৪-এ সহিহ (صححه) বলেছেন।

(৩) বুখারী, কিতাবুয জাকাত, বাবু ফী যাকাতিস গানাম, হাদিস নং ১৪৫৪।

(৪) আবু দাউদ, কিতাবুয জাকাত, বাবু ফী যাকাতিস সাইমাহ, হাদিস নং ১৫৭৫; নাসায়ী, কিতাবুয জাকাত, বাবু উকুবাতু মানিয়িয জাকাত, হাদিস নং ২৪৪৪, ২৪৪৯; আহমাদ, ৫/২, ৪ এবং অন্যান্য। আলবানী একে সহিহ সুনান আবু দাউদ ১/৪৩৬ এবং সহিহ সুনান নাসায়ী ২/১৮-এ হাসান (حسنه) বলেছেন। আরও দেখুন: তালখিসুল হাবীর, ১/১৬০।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
التي أعدها مالكها للتجارة فزكاتها زكاة عروض التجارة.

 

‌‌الشرط الثالث: أن يحول عليها الحول عند مالكها حولاً كاملاً؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا زكاة في مال حتى يحول عليه الحول)) (1).

ويستثنى نتاج السائمة، فحولها حول أمهاتها، فتزكى مع أمهاتها إن كانت الأمهات بلغت نصاباً، فإن لم تبلغ الأمهات نصاباً فبداية الحول من كمال النصاب بالنتاج، ومثال ذلك: رجل عنده أربعون شاة فولدت كل واحدة ثلاثة إلا واحدة ولدت أربعة، فأصبحت مائة وإحدى وعشرين ففيها شاتان، مع أن النتاج لم يحل عليه الحول؛ ولكنه يتبع الأصل (2).

 

‌‌الشرط الرابع: أن تبلغ النصاب الشرعي، وأما ما دون النصاب من الأعداد اليسيرة فلا زكاة فيها، ونصاب بهيمة الأنعام بالتفصيل على النحو الآتي:

‌‌أولاً: نصاب الإبل لا زكاة فيها حتى تبلغ خمس ذود، وهذا أقل نصاب الإبل، وتفصيل ذلك في حديث أنس رضي الله عنه: أن أبا بكر رضي الله عنه كتب له هذا الكتاب لما وجهه إلى البحرين: ((بسم الله الرحمن الرحيم، هذه فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين، والتي أمر الله بِها رسوله، فمن سُئلها من المسلمين على وجهها فليعطها، ومن سُئل فوقها فلا يعط: في أربع

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه، برقم 1792، وصححه الألباني في صحيح ابن ماجه، 2/ 98، وتقدم تخريجه في الشرط الخامس من شروط الزكاة في منزلة الزكاة في الإسلام، وتقدم هناك ذكر جملة من الأحاديث في عدم وجوب الزكاة في المال حتى يحول عليه الحول إلا ما استثني.

(2) المقنع مع الشرح الكبير، 6/ 314 - 320، والشرح المختصر للفوزان، 2/ 241، والشرح الممتع، 6/ 22 - 23.
যা এর মালিক ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করেছেন, তার জাকাত বাণিজ্যিক পণ্যের জাকাতের অনুরূপ হবে।

 

‌‌তৃতীয় শর্ত: মালিকের কাছে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া; আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((কোনো সম্পদে জাকাত নেই যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়)) (১)।

তবে চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদিপশুর বাচ্চার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; সেগুলোর বছর ধরা হবে তাদের মায়েদের বছর অনুযায়ী। সুতরাং মায়েরা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবে সেগুলোর বাচ্চার জাকাত মায়েদের সাথেই প্রদান করতে হবে। আর যদি মায়েরা নিসাব পরিমাণ না হয়, তবে বাচ্চার মাধ্যমে নিসাব পূর্ণ হওয়ার সময় থেকে বছর গণনা শুরু হবে। উদাহরণস্বরূপ: জনৈক ব্যক্তির ৪০টি ভেড়া আছে। একটি বাদে প্রতিটি তিনটি করে বাচ্চা দিল এবং একটি চারটি বাচ্চা দিল। ফলে মোট সংখ্যা হলো ১২১টি; এতে দুটি ভেড়া জাকাত দিতে হবে, যদিওবা বাচ্চাগুলোর ওপর এক বছর পূর্ণ হয়নি; তবে এগুলো মূলের অনুগামী হবে (২)।

 

‌‌চতুর্থ শর্ত: শারয়ি নিসাব পরিমাণ হওয়া, আর নিসাব-এর কম অল্প সংখ্যার ক্ষেত্রে কোনো জাকাত নেই। গবাদিপশুর নিসাব-এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

‌‌প্রথমত: উটের নিসাব উটের সংখ্যা পাঁচটি না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাকাত নেই এবং এটিই উটের সর্বনিম্ন নিসাব। এর বিস্তারিত বিবরণ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বাহরাইনে পাঠানোর সময় এই লিপিটি লিখে দিয়েছিলেন: ((বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, এটি সেই সদকার বিধান যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের ওপর ফরজ করেছেন এবং যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার কাছে এটি যথাযথ নিয়মে চাওয়া হবে সে যেন তা প্রদান করে, আর যার কাছে এর অতিরিক্ত চাওয়া হবে সে যেন তা না দেয়: চারটিতে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৭৯২; আলবানি একে সহিহ ইবনে মাজাহ গ্রন্থে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, ২/৯৮। জাকাত অধ্যায়ে জাকাতের শর্তাবলির পঞ্চম শর্তে এর সূত্রায়ন (تخريج) ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সেখানে সম্পদে এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত জাকাত ওয়াজিব না হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত একদল হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, তবে যা ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হয়েছে সেগুলো ব্যতীত।

(২) আল-মুজনি মা'আশ শারহিল কাবির, ৬/৩১৪ - ৩২০, ফাউজানের আশ-শারহুল মুখতাসার, ২/২৪১, এবং আশ-শারহুল মুমতি', ৬/২২ - ২৩।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وعشرين من الإبل فما دونها من الغنم (1) من كل خمس شاة، فإذا بلغت خمساً وعشرين إلى خمسٍ وثلاثين ففيها بنت مخاض (2) أنثى، فإذا بلغت ستّاً وثلاثين إلى خمس وأربعين ففيها بنت لبون أنثى (3)، فإذا بلغت ستّاً وأربعين إلى ستين ففيها حقة طروقة الجمل (4) فإذا بلغت واحدة وستين إلى خمس وسبعين ففيها جذعة (5)، فإذا بلغت- يعني ستّاً وسبعين- إلى تسعين ففيها بنتا لبون، فإذا بلغت إحدى وتسعين إلى عشرين ومائة ففيها حقتان طروقتا الجمل، فإذا زادت على عشرين ومائة ففي كل أربعين بنت لبون وفي كل خمسين حقة، ومن لم يكن معه إلا أربع من الإبل فليس فيها صدقة إلا أن يشاء ربّها، فإذا بلغت خمساً من الإبل ففيها شاة … )) (6) (7).

--------------------------------------------

(1) قوله: ((من الغنم)) قال ابن حجر رحمه الله في فتح الباري، 3/ 319: ((كذا للأكثر، وفي رواية ابن السكن بإسقاط ((من)) وصوَّبَها بعضهم، وقال عياض: من أثبتها فمعناه زكاتها: أي الإبل من الغنم، ومن للبيان لا للتبعيض، ومن حذفها فالغنم مبتدأ، والخبر مضمر في قوله: ((في كل أربع وعشرين)) وما بعده وإنما قدم الخبر؛ لأن الفرض بيان المقادير التي تجب فيها الزكاة والزكاة إنما تجب بعد وجود النصاب فحسن التقديم)).

(2) بنت المخاض: هي التي أتى عليها حول ودخلت في الثاني وحملت أمها، والمخاض: الحامل: أي دخل وقت حملها وإن لم تحمل. فتح الباري لابن حجر، 3/ 319.

(3) بنت لبون وابن لبون: هو الذي دخل في ثالث سنة، فصارت أمه لبوناً بوضع الحمل. فتح الباري، لابن حجر، 3/ 319.

(4) حقة: وهي التي أتت عليها ثلاث سنين ودخلت في الرابعة. فتح الباري، 3/ 319.

(5) جذعة: وهي التي أتت عليها أربع سنين ودخلت في الخامسة، فتح الباري، 3/ 319.

(6) البخاري، كتاب الزكاة، باب زكاة الغنم، برقم 1454.

(7) قوله صلى الله عليه وسلم: ((فإذا زادت على عشرين ومائة ففي كل أربعين بنت لبون وفي كل خمسين حقة)) قال الإمام ابن قدامة رحمه الله في المغني، 4/ 20: ((ظاهر هذا أنها إذا زادت على العشرين والمائة واحدةً ففيها ثلاث بنات لبون وهو إحدى الروايتين عن أحمد ومذهب الأوزاعي والشافعي وإسحاق، والرواية الثانية: لا يتغير الفرض إلى ثلاثين ومائة فيكون فيها حقة وبنتا لبون، وهذا مذهب محمد بن إسحاق بن يسار وأبي عبيد، ولمالك روايتان؛ لأن الفرض لا يتغير بزيادة الواحدة بدليل سائر الفروض، ولنا قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((فإذا زادت على عشرين ومائة ففي كل أربعين بنت لبون)) والواحدة زيادة، وقد جاء مصرحاً به في حديث الصدقات الذي كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان عند آل عمر بن الخطاب، رواه أبو داود والترمذي، وقال: هو حديث حسن وقال ابن عبدالبر: ((هو أحسن شيء رُوي في أحاديث الصدقات … )) المغني، 4/ 21 وفيه: ((فإذا كانت إحدى وعشرين ومائة ففيها ثلاث بنات لبون حتى تبلغ تسعاً وعشرين ومائة، فإذا كانت ثلاثين ومائة ففيها بنتا لبون وحقة، حتى تبلغ تسعاً وثلاثين ومائة، فإذا كانت أربعين ومائة ففيها حقتان وبنت لبون، حتى تبلغ تسعاً وأربعين ومائة، فإذا كانت خمسين ومائة ففيها ثلاث حقاق، حتى تبلغ تسعاً وخمسين ومائة، فإذا كانت ستين ومائة ففيها أربع بنات لبون، حتى تبلغ تسعاً وستين ومائة، فإذا كانت سبعين ومائة ففيها ثلاث بنات لبون وحقة، حتى بلغ تسعاً وسبعين ومائة، فإذا كانت ثمانين ومائة ففيها حقتان وابنتا لبون، حتى تبلغ تسعاً وثمانين ومائة، فإذا كانت تسعين ومائة ففيها ثلاث حقاق وبنت لبون، حتى تبلغ تسعاً وتسعين ومائة، فإذا كانت مائتين ففيها أربع حقاق أو خمس بنات لبون أي السنين وجدت أخذت … )) [أبو داود، برقم 1570 وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 433].
...এবং চব্বিশটি পর্যন্ত উটের ক্ষেত্রে ছাগল দ্বারা (১) যাকাত প্রদান করতে হবে, প্রতি পাঁচটির জন্য একটি ছাগল। যখন উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি এক বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে মাখাজ) (২) দিতে হবে। যখন ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে লাবুন) (৩) দিতে হবে। যখন ছেচল্লিশ থেকে ষাটে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট (হিক্কাহ) দিতে হবে যা উটের সাথে মিলনের উপযোগী (৪)। যখন একষট্টি থেকে পঁচাত্তরে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি চার বছর বয়সী উট (জাযআহ) (৫) দিতে হবে। যখন ছিয়াত্তর—অর্থাৎ ছিয়াত্তর—থেকে নব্বইয়ে পৌঁছাবে, তখন তাতে দুটি দুই বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে লাবুন) দিতে হবে। যখন একানব্বই থেকে একশ বিশে পৌঁছাবে, তখন তাতে দুটি তিন বছর বয়সী মাদি উট (হিক্কাহ) দিতে হবে যা উটের সাথে মিলনের উপযোগী। যখন সংখ্যা একশ বিশের বেশি হবে, তখন প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে লাবুন) এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট (হিক্কাহ) দিতে হবে। আর যার কাছে মাত্র চারটি উট আছে, তার ওপর কোনো সদকা (যাকাত) নেই, তবে মালিক যদি স্বেচ্ছায় দিতে চায় (তবে দিতে পারে)। যখন পাঁচটি উটে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি ছাগল দিতে হবে ... )) (৬) (৭)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: ((ছাগল দ্বারা)) ইবনে হাজার (রহ.) ফাতহুল বারীতে (৩/৩১৯) বলেছেন: "অধিকাংশ বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। ইবনুস সাকানের বর্ণনায় 'মিন' (থেকে/দ্বারা) শব্দটি বাদ পড়েছে এবং কেউ কেউ সেটাকেই সঠিক বলেছেন। আল-আইনী বলেছেন: যারা শব্দটি রেখেছেন তাদের নিকট এর অর্থ হলো উটের যাকাত ছাগল দ্বারা দিতে হবে; এখানে 'মিন' শব্দটি বর্ণনামূলক (লি-তাবিইন), আংশিকতা (লি-তাবইদ) বুঝাতে নয়। আর যারা শব্দটি বাদ দিয়েছেন, তাদের নিকট 'ছাগল' শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং এর খবর (বিধেয়) 'প্রতি চব্বিশের ক্ষেত্রে' এবং এর পরবর্তী বাক্যাংশের মাঝে উহ্য রয়েছে। এখানে খবরকে আগে আনা হয়েছে কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো সেই পরিমাণগুলো বর্ণনা করা যাতে যাকাত ওয়াজিব হয়, আর যাকাত কেবল নিসাব পূর্ণ হওয়ার পরই ওয়াজিব হয়, তাই খবর আগে আনা সংগত হয়েছে।"

(২) বিন্তে মাখাজ: এটি সেই উট যার এক বছর পূর্ণ হয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে এবং এর মা পুনরায় গর্ভধারণ করেছে। 'মাখাজ' অর্থ গর্ভবতী; অর্থাৎ তার গর্ভধারণের সময় হয়েছে যদিও সে গর্ভবতী না হয়ে থাকে। ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, ৩/৩১৯।

(৩) বিন্তে লাবুন ও ইবনু লাবুন: এটি সেই উট যা তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, ফলে তার মা বাচ্চা প্রসব করে দুগ্ধবতী (লাবুন) হয়েছে। ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, ৩/৩১৯।

(৪) হিক্কাহ: এটি সেই উট যার তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বছরে পদার্পণ করেছে। ফাতহুল বারী, ৩/৩১৯।

(৫) জাযআহ: এটি সেই উট যার চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। ফাতহুল বারী, ৩/৩১৯।

(৬) বুখারি, যাকাত অধ্যায়, ছাগলের যাকাত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৪৫৪।

(৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((যখন একশ বিশের বেশি হবে, তখন প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে)) ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) আল-মুগনীতে (৪/২০) বলেছেন: "এর প্রকাশ্য অর্থ হলো যখন ১২০-এর ওপর একটি বাড়বে, তখন তাতে তিনটি দুই বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে লাবুন) দিতে হবে। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি এবং আওজায়ি, শাফেয়ি ও ইসহাকের মাযহাব। দ্বিতীয় বর্ণনা হলো: ১৩০ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ফরজ পরিবর্তিত হবে না, সেক্ষেত্রে একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট (হিক্কাহ) এবং দুটি দুই বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে লাবুন) দিতে হবে। এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার ও আবু উবাইদ-এর মাযহাব। ইমাম মালিকের এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে; কারণ অন্যান্য ফরজের ন্যায় একটি বাড়লে মূল বিধান পরিবর্তিত হয় না। আমাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'যখন একশ বিশের বেশি হবে, তখন প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে', আর একটি বৃদ্ধি পাওয়াও 'বেশি' হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। সদকা সম্পর্কিত সেই হাদিসে বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে যা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখেছিলেন এবং যা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর পরিবারের কাছে ছিল। আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস। ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: 'সদকা বিষয়ক হাদিসসমূহের মধ্যে এটিই সর্বাধিক উত্তম (সুন্দর) যা বর্ণিত হয়েছে ... ' আল-মুগনী, ৪/২১। সেখানে আরও আছে: 'যখন ১২১টি হবে তখন তাতে ১২৯টি হওয়া পর্যন্ত তিনটি দুই বছর বয়সী মাদি উট (বিন্তে লাবুন) দিতে হবে। যখন ১৩০টি হবে তখন তাতে ১৩৯টি হওয়া পর্যন্ত দুটি দুই বছর বয়সী মাদি উট এবং একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট (হিক্কাহ) দিতে হবে। যখন ১৪০টি হবে তখন তাতে ১৪৯টি হওয়া পর্যন্ত দুটি তিন বছর বয়সী মাদি উট এবং একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন ১৫০টি হবে তখন ১৫৯টি হওয়া পর্যন্ত তিনটি তিন বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন ১৬০টি হবে তখন ১৬৯টি হওয়া পর্যন্ত চারটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন ১৭০টি হবে তখন ১৭৯টি হওয়া পর্যন্ত তিনটি দুই বছর বয়সী মাদি উট এবং একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন ১৮০টি হবে তখন ১৮৯টি হওয়া পর্যন্ত দুটি তিন বছর বয়সী মাদি উট এবং দুটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন ১৯০টি হবে তখন ১৯৯টি হওয়া পর্যন্ত তিনটি তিন বছর বয়সী মাদি উট এবং একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন ২০০টি হবে তখন তাতে চারটি তিন বছর বয়সী মাদি উট অথবা পাঁচটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে, বয়সের ক্ষেত্রে যা পাওয়া যাবে তাই গ্রহণ করা হবে ... ' [আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭০ এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৩৩-এ সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ويوضح ذلك الجدول الآتي:

زكاة الإبل

المقدار … زكاته

من … إلى

5 … 9 … شاة

10 … 14 … شاتان

15 … 19 … ثلاث شياه

20 … 24 … أربع شياه

25 … 35 … بنت مخاض … فإن لم توجد أجزأ ابن لبون ذكر

36 … 45 … بنت لبون

46 … 60 … حقة
নিম্নোক্ত সারণিটি তা স্পষ্ট করে:

উটের জাকাত

পরিমাণ … জাকাত

থেকে … পর্যন্ত

৫ … ৯ … একটি বকরি

১০ … ১৪ … দুইটি বকরি

১৫ … ১৯ … তিনটি বকরি

২০ … ২৪ … চারটি বকরি

২৫ … ৩৫ … এক বছর বয়সী একটি উষ্ট্রী (بنت مخاض) … যদি তা পাওয়া না যায়, তবে একটি দুই বছর বয়সী পুরুষ উট (ابن لبون ذكر) যথেষ্ট হবে

৩৬ … ৪৫ … দুই বছর বয়সী একটি উষ্ট্রী (بنت لبون)

৪৬ … ৬০ … তিন বছর বয়সী একটি উষ্ট্রী (حقة)
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
61 … 75 … جذعة

76 … 90 … بنتا لبون

91 … 120 … حقتان

121 … 129 … ثلاث بنات لبون

* ثم في كل أربعين بنت لبون وفي كل خمسين حقة

 

ففي 130 بنتا لبون وحقة، وفي 140 حقتان وبنت لبون، وفي 150 ثلاث حقاق، وفي 160 أربع بنات لبون، وفي 170 ثلاث بنات لبون وحقة، وفي 180 حقتان وابنتا لبون، وفي 190 ثلاث حقاق وبنت لبون، وفي 200 أربع حقاق أو خمس بنات لبون، أي السنين وجدت أخذت، وهكذا في كل خمسين حقة، وفي كل أربعين بنت لبون. [أبو داود 1570].

 

وتجب الزكاة في الإبل بالشروط المتقدمة، و‌‌وجوب الزكاة فيها بالسنة والإجماع:

‌‌أما السنة: فلحديث أنس رضي الله عنه: أن أبا بكر رضي الله عنه كتب له هذا الكتاب لما وجهه إلى البحرين: ((بسم الله الرحمن الرحيم، هذه فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين، والتي أمر الله بها رسوله، فمن سُئلها من المسلمين على وجهها فليعطها ومن سئل فوقها فلا يعطِ … )).

ثم ذكر أنواع الأنصباء في الإبل (1)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه وفيه: (( … ولا صاحب إبل لا يؤدي منها حقها، ومن حقها حلبها يوم وردها إلا إذا كان يوم القيامة بُطح لها بقاع قَرْقَرٍ (2) أوفر ما كانت، لا يفقد منها فصيلاً واحداً، تطؤه بأخفافها، وتعضه بأفواهها، كلما مر عليه أولها رُدَّ عليه

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 1454.

(2) بقاع قرقر: المكان المستوي.
61 … 75 … জাযাআ (جذعة)

৭৬ … ৯০ … দুটি বিনতে লাবুন (بنتا لبون)

৯১ … ১২০ … দুটি হিক্কাহ (حقتان)

১২১ … ১২৯ … তিনটি বিনতে লাবুন (ثلاث بنات لبون)

* অতঃপর প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون) এবং প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি হিক্কাহ (حقة)

 

সুতরাং ১৩০টিতে একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون) এবং একটি হিক্কাহ (حقة); ১৪০টিতে দুটি হিক্কাহ (حقتان) এবং একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون); ১৫০টিতে তিনটি হিক্কাহ (حقاق); ১৬০টিতে চারটি বিনতে লাবুন (بنات لبون); ১৭০টিতে তিনটি বিনতে লাবুন (بنات لبون) এবং একটি হিক্কাহ (حقة); ১৮০টিতে দুটি হিক্কাহ (حقتان) এবং দুটি বিনতে লাবুন (ابنتا لبون); ১৯০টিতে তিনটি হিক্কাহ (حقاق) এবং একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون); ২০০টিতে চারটি হিক্কাহ (حقاق) অথবা পাঁচটি বিনতে লাবুন (بنات لبون)। যে বয়সের পশু পাওয়া যাবে তা গ্রহণ করা হবে। আর এভাবেই প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি হিক্কাহ (حقة) এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون)। [আবু দাউদ ১৫৭০]।

 

উল্লিখিত শর্তাবলি সাপেক্ষে উটের জাকাত প্রদান করা আবশ্যক (واجب), আর এতে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি সুন্নাহ ও ইজমা (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত:

‌‌সুন্নাহর দলিল: আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস: আবু বকর (রা.) যখন তাঁকে বাহরাইনের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁর জন্য এই নির্দেশনামাটি লিখে দিয়েছিলেন: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। এটি সেই জাকাতের বিধান যা আল্লাহর রাসুল (সা.) মুসলিমদের ওপর ফরজ (فرض) করেছেন এবং যার নির্দেশ আল্লাহ তাঁর রাসুলকে দিয়েছেন। সুতরাং মুসলিমদের মধ্যে যার কাছে যথাযথভাবে এটি চাওয়া হবে, সে যেন তা প্রদান করে। আর যার কাছে এর অতিরিক্ত চাওয়া হবে, সে যেন তা না দেয় … "।

অতঃপর তিনি উটের নিসাব (نصاب) সমূহের প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন (১); এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: " … আর উটের এমন কোনো মালিক নেই যে তার হক আদায় করে না—আর উটের হকের অন্তর্ভুক্ত হলো পানি পানের দিন তার দুধ দোহন করা—কিয়ামতের দিন তাকে এক প্রশস্ত সমতল ভূমিতে (قاع قرقر) উপুড় করে ফেলে রাখা হবে, যেখানে তার উটগুলো আগের চেয়েও বেশি সংখ্যায় উপস্থিত থাকবে। সেগুলোর একটি বাচ্চাকেও সে অনুপস্থিত পাবে না। উটগুলো তাদের খুর দিয়ে তাকে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দিয়ে কামড়াতে থাকবে। যখনই সেগুলোর প্রথমটি তাকে অতিক্রম করে চলে যাবে, তখনই শেষটি আবার তার ওপর ফিরিয়ে আনা হবে

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নং ১৪৫৪।

(২) বিক্বাউ কারকার: সমতল ভূমি।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
آخرها، في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة، حتى يقضى بين العباد، فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار … )) (1).

 

‌‌وأما الإجماع، فأجمع على وجوب الزكاة في الإبل علماء الإسلام (2).

‌‌مسائل في زكاة الإبل:

‌‌1 - الجبران في زكاة الإبل فقط، وهو أن من وجبت عليه فريضة فلم يجدها فله أن يخرج فريضة أعلى منها بسنة ويأخذ شاتين أو عشرين درهماً أو فريضة أدنى منها بسنة ويدفع معها شاتين أو عشرين درهماً؛ لحديث أنس رضي الله عنه أن أبا بكر رضي الله عنه كتب له فريضة الصدقة التي أمر الله رسوله صلى الله عليه وسلم: ((من بلغت عنده من الإبل صدقة الجذعة وليست عنده جذعة وعنده حقة، فإنّها تقبل منه الحقة، ويجعل معها شاتين إن تيسرتا له أو عشرين درهماً، ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده الحقة وعنده الجذعة، فإنّها تقبل منه الجذعة ويعطيه المصدِّق عشرين درهماً أو شاتين، ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده إلا بنت لبون، فإنّها تقبل منه بنت لبون ويعطي شاتين أو عشرين درهماً، ومن بلغت عنده صدقة بنت لبون وعنده حقة؛ فإنّها تقبل منه الحقة ويعطيه المصدِّق عشرين درهماً أو شاتين، ومن بلغت صدقته بنت لبون وليست عنده وعنده بنت مخاض، فإنّها تقبل منه بنت مخاض ويعطي معها عشرين درهماً أو شاتين)) (3).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم 1402، ومسلم، برقم 987، 988، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام، رقم البند 13.

(2) الشرح الكبير لابن قدامة، 6/ 394.

(3) البخاري، كتاب الزكاة، باب من بلغت عنده صدقة بنت مخاض وليست عنده، برقم 1453.
...পরিশেষে, এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা হয়; এরপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে … )) (১)।

 

‌‌আর ঐকমত্যের (إجماع) ক্ষেত্রে, ইসলামের আলেমগণ উটের জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন (২)।

‌‌উটের জাকাত সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ:

‌‌১ - কেবল উটের জাকাতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ (جبران), আর তা হলো যার ওপর নির্দিষ্ট বয়সের উট জাকাত হিসেবে ফরজ (فريضة) হয়েছে কিন্তু সে তা পেল না, তবে তার জন্য সেটির চেয়ে এক বছরের বড় উট প্রদান করা বৈধ এবং সে (বিনিময়ে) দুটি ছাগল অথবা বিশ দিরহাম গ্রহণ করবে; অথবা এক বছরের ছোট উট প্রদান করবে এবং তার সাথে দুটি ছাগল বা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। এর দলিল হলো আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট সদকার সেই ফরজ (فريضة) বিধান লিখে পাঠিয়েছিলেন যা আল্লাহ তাঁর রাসুল (সা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন: ((যার নিকট উটের জাকাত হিসেবে চার বছর পূর্ণ হওয়া উট (جذعة) প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে কিন্তু তার নিকট চার বছর পূর্ণ হওয়া উট (جذعة) নেই বরং তিন বছর পূর্ণ হওয়া উট (حقة) আছে, তবে তার কাছ থেকে সেই তিন বছর পূর্ণ হওয়া উটটিই (حقة) গ্রহণ করা হবে এবং সে তার সাথে দুটি ছাগল প্রদান করবে যদি তা সহজলভ্য হয় অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। আর যার নিকট তিন বছর পূর্ণ হওয়া উটের (حقة) সদকা প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে কিন্তু তার নিকট তিন বছর পূর্ণ হওয়া উট (حقة) নেই বরং চার বছর পূর্ণ হওয়া উট (جذعة) আছে, তবে তার কাছ থেকে সেই চার বছর পূর্ণ হওয়া উটটিই (جذعة) গ্রহণ করা হবে এবং জাকাত আদায়কারী (مصدِّق) তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল ফেরত দিবে। আর যার নিকট তিন বছর পূর্ণ হওয়া উটের (حقة) সদকা ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার নিকট দুই বছর পূর্ণ হওয়া উট (بنت لبون) ব্যতীত আর কিছু নেই, তবে তার নিকট থেকে দুই বছর পূর্ণ হওয়া উটটিই (بنت لبون) গ্রহণ করা হবে এবং সে দুটি ছাগল অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। আর যার নিকট দুই বছর পূর্ণ হওয়া উটের (بنت لبون) সদকা ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার নিকট তিন বছর পূর্ণ হওয়া উট (حقة) আছে, তবে তার নিকট থেকে তিন বছর পূর্ণ হওয়া উটটিই (حقة) গ্রহণ করা হবে এবং জাকাত আদায়কারী (مصدِّق) তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল ফেরত দিবে। আর যার নিকট দুই বছর পূর্ণ হওয়া উটের (بنت لبون) সদকা ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার নিকট তা নেই বরং এক বছর পূর্ণ হওয়া উট (بنت مخاض) আছে, তবে তার নিকট থেকে এক বছর পূর্ণ হওয়া উটটিই (بنت مخاض) গ্রহণ করা হবে এবং সে তার সাথে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল প্রদান করবে)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪০২, এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯৮৭, ৯৮৮; এবং ইতিপূর্বে 'ইসলামে জাকাতের মর্যাদা' শীর্ষক পরিচ্ছেদের ১৩ নং ক্রমিকে এর হাদিস বিশ্লেষণ (تخريج) উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) ইবনে কুদামার আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৩৯৪।

(৩) বুখারি, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যার নিকট এক বছর পূর্ণ হওয়া উটের (بنت مخاض) সদকা ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তা তার নিকট নেই, হাদিস নং ১৪৫৩।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌2 - من بلغت صدقته بنت مخاض ولم تكن عنده وعنده ابن لبون، فإنه يقبل منه بدون أخذ الجبران؛ لحديث أنس رضي الله عنه الذي كتبه له أبو بكر رضي الله عنه، وفيه في رواية أبي داود: (( … فإذا بلغت خمساً وعشرين ففيها بنت مخاض إلى أن تبلغ خمساً وثلاثين؛ فإن لم يكن فيها بنت مخاض فابن لبونٍ ذكر … )) (1).

‌‌3 - الذي يؤخذ في زكاة الإبل الإناث دون الذكور إلا ابن اللبون إذا عدمت بنت المخاض؛ لحديث أنس رضي الله عنه السابق ذكره.

‌‌4 - الشاة التي تؤخذ في زكاة الإبل وكذلك في جبران زكاة الإبل: إن كانت أنثى جذعة من الضأن أو ثنية من المعز فما فوق ذلك أجزأت بلا نزاع، والجذعة ما لها ستة أشهر، والثنية ما لها سنة (2).

‌‌5 - إن تطوع المزكي فأخرج سنّاً أعلى من السن الواجب جاز، مثل: أن يخرج بنت لبون عن بنت مخاض، أو حقة عن بنت لبون، أو عن بنت مخاض، أو عن الجذعة ابنتي لبون أو حقتين، قال ابن قدامة رحمه الله: ((لا نعلم فيه خلافاً)) (3)؛ لحديث أبي كعب رضي الله عنه وفيه: أن رجلاً وجبت عليه في زكاة إبله ابنة مخاض فأعطى ناقة عظيمة فامتنع منها رسولُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم فذهب بها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فطلب منه أن يقبلها بدلاً من ابنة مخاض، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ذاك الذي عليك، فإن تطوّعت بِخَير

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود، كتاب الزكاة، بابٌ في زكاة السائمة، برقم 1567، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 430، وأصله في البخاري.

(2) أما الذكر فيحتمل أن يجزئ لصدق اسم الشاة عليه وهو المعتمد عند المالكية، والأصح عند الشافعية. [انظر: الموسوعة الفقهية، 23/ 255، والمغني لابن قدامة، 4/ 14].

(3) المغني، 4/ 18، والشرح الكبير مع المقنع والإنصاف، 6/ 397.
‌‌২ - যার জাকাতের পরিমাণ বিনতে মাখায (এক বছর বয়সী মাদী উট) পর্যন্ত পৌঁছেছে কিন্তু তার নিকট তা নেই, বরং ইবনে লাবুন (দুই বছর বয়সী নর উট) আছে, তবে তার থেকে কোনো অতিরিক্ত বিনিময় (জুবরান) গ্রহণ ছাড়াই তা কবুল করা হবে; আনাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে যা আবু বকর (রা.) তাঁর জন্য লিখেছিলেন। তাতে আবু দাউদের বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: (( …অতঃপর যখন (উটের সংখ্যা) পঁচিশে পৌঁছাবে, তখন তাতে বিনতে মাখায দিতে হবে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত; যদি সেখানে বিনতে মাখায না থাকে তবে একটি নর ইবনে লাবুন … )) (১)।

‌‌৩ - উটের জাকাতের ক্ষেত্রে মাদী উটই গ্রহণ করা হবে, নর নয়; তবে বিনতে মাখায না থাকলে ইবনে লাবুন এর ব্যতিক্রম; পূর্বে উল্লিখিত আনাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে।

‌‌৪ - উটের জাকাতে এবং উটের জাকাতের ক্ষতিপূরণ (জুবরান) হিসেবে যে বকরি গ্রহণ করা হয়: যদি তা ভেড়ার মধ্য থেকে জাযআ (ছয় মাস বয়সী) মাদী হয় অথবা ছাগলের মধ্য থেকে সানিয়্যাহ (এক বছর বয়সী) হয় বা তার ঊর্ধ্বে হয়, তবে তা কোনো বিরোধ ছাড়াই যথেষ্ট হবে। জাযআ হলো যার বয়স ছয় মাস এবং সানিয়্যাহ হলো যার বয়স এক বছর (২)।

‌‌৫ - যদি জাকাতদাতা স্বেচ্ছায় ওয়াজিব বয়সের চেয়ে উচ্চতর বয়সের পশু প্রদান করেন তবে তা বৈধ, যেমন: বিনতে মাখাযের পরিবর্তে বিনতে লাবুন প্রদান করা, অথবা বিনতে লাবুনের পরিবর্তে হিক্কাহ, কিংবা বিনতে মাখাযের পরিবর্তে হিক্কাহ প্রদান করা, অথবা জাযআর পরিবর্তে দুইটি বিনতে লাবুন বা দুইটি হিক্কাহ প্রদান করা। ইবনে কুদামাহ (রহ.) বলেছেন: ((এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই)) (৩); আবু কাব (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: এক ব্যক্তির উটের জাকাতে বিনতে মাখায ওয়াজিব হয়েছিল, কিন্তু সে একটি বিশাল উষ্ট্রী প্রদান করল। আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দূত তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন। অতঃপর সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট সেটি নিয়ে গেল এবং বিনতে মাখাযের পরিবর্তে সেটি গ্রহণ করার আবেদন করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((তোমার ওপর যা ওয়াজিব ছিল তা-ই, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় উত্তম কিছু প্রদান করো...

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, চারণকারী পশুর জাকাত পরিচ্ছেদ, নম্বর ১৫৬৭; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে, ১/৪৩০; আর এর মূল বুখারিতে রয়েছে।

(২) তবে নর পশু প্রদান করার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেহেতু তার ওপর 'শাত' (বকরি) শব্দটি প্রযোজ্য হয় এবং এটিই মালিকি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত এবং শাফেয়ি মাযহাবের অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত। [দ্রষ্টব্য: আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২৫৫, এবং আল-মুগনি লি-ইবনি কুদামাহ, ৪/১৪]।

(৩) আল-মুগনি, ৪/১৮, এবং আশ-শারহুল কাবীর মাআল মুকনি ওয়াল ইনসাফ, ৬/৩৯৭।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
آجرك الله فيه، وقبلناه منك)) قال: فها هي ذِه يا رسول الله قد جئتك بها فخذها، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقبضها ودعا له في ماله بالبركة (1).

 

‌‌6 - يخرج عن إبله من جنسها، فيخرج عن البخاتي بختية، وعن العراب عربية، وعن الكرام كريمة، وعن السمان سمينة، وعن اللئام والهزال لئيمة هزيلة، فإن أخرج عن البخاتي عربية بقيمة البختية جاز؛ لأن القيمة مع اتحاد الجنس هي المقصود، والله تعالى الموفق (2).

‌‌7 - لا مدخل للجبران في غير الإبل؛ لأن النص فيها ورد، وليس غيرها في معناها؛ لأنّها أكثر قيمة؛ ولأن الغنم لا تختلف فريضتها باختلاف سنها، فمن عدم فريضة البقر أو الغنم ووجد دونها لم يجز له إخراجها فإن وجد أعلى منها فأحب أن يتطوع بدفعها بغير جبران قبلت منه، وإن لم يفعل كلِّف شراءها من غير ماله (3).

‌‌8 - يجزئ الذكر إذا كان المال كله ذكوراً، سواء كان من إبل، أو بقر، أو غنم؛ لأن الزكاة مواساة فلا يكلفها من غير ماله (4)؛ لأن في حديث أنس الذي كتب له أبو بكر رضي الله عنهما: (( … فإن لم يكن فيها بنت مخاض فابن لبون ذكر)) (5)؛ ولقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (6).

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1583، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 439.

(2) المغني لابن قدامة، 4/ 20.

(3) المغني لابن قدامة، 4/ 29.

(4) المرجع السابق، 4/ 34.

(5) أبو داود، برقم 1567، وتقدم تخريجه في المسألة رقم 2.

(6) سورة التغابن، الآية: 16.
"আল্লাহ আপনাকে এতে প্রতিদান দিন এবং আমরা এটি আপনার থেকে গ্রহণ করলাম।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! এই তো সেটি, আমি এটি নিয়ে আপনার নিকট এসেছি, আপনি এটি গ্রহণ করুন।" অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন এবং তার সম্পদের বরকতের জন্য দোয়া করলেন (১)।

 

‌‌৬ - উট থেকে তার স্বজাতীয় উটই প্রদান করতে হবে। সুতরাং বুখতি (দ্বিকুজ বিশিষ্ট) উট থেকে বুখতি উট, জাতে আরব উট থেকে আরবীয় উট, উন্নত মানের উট থেকে উন্নত মানের, হৃষ্টপুষ্ট উট থেকে হৃষ্টপুষ্ট এবং নিকৃষ্ট ও রুগ্ন উট থেকে নিকৃষ্ট ও রুগ্ন উট বের করতে হবে। তবে বুখতি উটের পরিবর্তে যদি সমমূল্যের আরবীয় উট বের করা হয় তবে তা বৈধ হবে; কারণ সমজাতীয় হওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যই উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা (২)।

‌‌৭ - উট ছাড়া অন্য পশুর ক্ষেত্রে জুবরান (ক্ষতিপূরণ)-এর কোনো অবকাশ নেই; কারণ এ সংক্রান্ত নস (نص) উটের ক্ষেত্রেই বর্ণিত হয়েছে এবং অন্য পশুগুলো এর সমার্থবোধক নয়; কেননা উটের মূল্য অধিক। এছাড়া ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্যের কারণে নির্ধারিত ফরজের পরিবর্তন হয় না। সুতরাং যার কাছে গরু বা ছাগলের নির্ধারিত ফরজ পশু নেই, কিন্তু তার চেয়ে নিম্নমানের পশু আছে, তবে সেটি প্রদান করা তার জন্য বৈধ হবে না। তবে যদি সে উচ্চমানের পশু পায় এবং স্বেচ্ছায় কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তা প্রদান করতে চায়, তবে তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে। আর যদি সে তা না করে, তবে তাকে তার অন্য সম্পদ দিয়ে তা ক্রয় করতে বাধ্য করা হবে (৩)।

‌‌৮ - যদি গবাদি পশুর পালের সব কটিই পুরুষ হয়, তবে পুরুষ পশু প্রদান করা যথেষ্ট হবে, চাই তা উট, গরু বা ছাগল হোক; কারণ জাকাত হচ্ছে এক প্রকার সহমর্মিতা, তাই তাকে তার সম্পদের বহির্ভূত কোনো বিষয়ের জন্য বাধ্য করা হবে না (৪); কারণ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে, যা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তার জন্য লিখেছিলেন, তাতে রয়েছে: (( … যদি তাতে বিনতে মাখায না থাকে, তবে একটি পুরুষ ইবনে লাবুন প্রদান করবে)) (৫); এবং আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যানুযায়ী} (৬)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুয জাকাত, বাবু ফি জাকাতুস সাইমাহ, হাদিস নং ১৫৮৩, এবং আলবানী একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৩৯-এ হাসান (حسن) বলেছেন।

(২) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৪/২০।

(৩) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৪/২৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, ৪/৩৪।

(৫) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৬৭, এবং এর উৎস অনুসন্ধান (تخريج) ইতিপূর্বে ২ নম্বর মাসআলায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৬) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وعلى هذا ف‌‌يجزئ الذكر في الزكاة في مواضع:

‌‌الأول: التبيع في الثلاثين من البقر.

‌‌الثاني: ابن اللبون عن بنت المخاض إذا لم توجد بنت المخاض.

‌‌الثالث: إذا كان المال كله ذكوراً (1).

‌‌الرابع: التيس إذا شاء المصدِّق بأن كانت هناك مصلحة في أخذه (2).

‌‌ثانياً: نصاب زكاة البقر؛ لا زكاة فيها حتى تبلغ ثلاثين، وهذا أقل نصاب البقر، وتفصيل ذلك في حديث علي رضي الله عنه، وفيه: ((وفي البقر في كل ثلاثين تبيع (3)، وفي الأربعين مسنة (4)، وليس على العوامل شيء … )) (5)؛ ولحديث معاذ ابن جبل رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم لما وجهه إلى اليمن، أمره أن يأخذ من البقر من كل ثلاثين تبيعاً أو تبيعة، ومن كل أربعين مسنة، ومن كل حالمٍ - يعني محتلماً - ديناراً أو عَدْله من المعافر - ثياب تكون باليمن -)) (6)؛

--------------------------------------------

(1) قال في الإفصاح، 1/ 203: ((واختلفوا فيما إذا كانت غنمه إناثاً كلها، أو ذكوراً وإناثاً، أو أحدها ما الذي يؤخذ من كل واحد؟ فقال أبو حنيفة: يجزئ أخذ الذكر من الكل، وقال مالك والشافعي وأحمد: إذا كانت إناثاً كلها، أو ذكوراً وإناثاً لم يجز فيها إلا الأنثى، وإن كانت كلها ذكوراً أجزأ فيها الذكر)).

(2) البخاري، كتاب الزكاة، باب زكاة النعم، برقم 1454، وأبو داود كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1570.

(3) التبيع: ما كمَّل سنة ودخل في الثانية، والتبيع جذع البقر. المقنع والشرح الكبير مع الإنصاف، 6/ 421.

(4) المسنة: ما كملت سنتين ودخلت في الثالثة، والمسنة: هي ثنية البقر. المقنع والشرح الكبير مع الإنصاف، 6/ 421.

(5) أبو داود، برقم 1572، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 434، وتقدم تخريجه في الشرط الثاني من شروط وجوب الزكاة في بهيمة الأنعام.

(6) أبو داود بلفظه، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1576، والنسائي، كتاب، الزكاة، باب زكاة البقر، برقم 2449 - 2452، والترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في زكاة البقر، برقم 623، وابن ماجة، كتاب الزكاة، باب صدقة البقر، برقم 1471 - 1830، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 437، وفي صحيح الترمذي، 1/ 333، وفي صحيح ابن ماجة، 2/ 103.
এর ওপর ভিত্তি করে, জাকাত হিসেবে পুরুষ পশু প্রদান করা কয়েকটি ক্ষেত্রে বৈধ:

‌প্রথমত: ত্রিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি তাবিয় (এক বছর বয়সী বাছুর)।

‌দ্বিতীয়ত: বিনতে মাখাদের (এক বছর বয়সী মাদী উট) পরিবর্তে ইবনে লাবুন (দুই বছর বয়সী পুরুষ উট), যদি বিনতে মাখাদ পাওয়া না যায়।

‌তৃতীয়ত: যদি সম্পদের (পশুর) সবগুলোই পুরুষ হয় (১)।

‌চতুর্থত: পাঠা বা পুরুষ ছাগল, যদি জাকাত আদায়কারী তা গ্রহণ করতে চান এবং তা গ্রহণে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে (২)।

‌দ্বিতীয়ত: গরুর জাকাতের নিসাব; সংখ্যা ত্রিশ না হওয়া পর্যন্ত এতে কোনো জাকাত নেই, আর এটিই হলো গরুর সর্বনিম্ন নিসাব। এর বিস্তারিত বিবরণ আলী (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, যাতে বলা হয়েছে: ((গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ত্রিশটিতে একটি তাবিয় (৩) এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি মুসিন্নাহ (৪), আর কর্মক্ষম পশুর ওপর কোনো জাকাত নেই … )) (৫); আর মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী: নবী (সা.) যখন তাকে ইয়েমেনে পাঠান, তখন তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি প্রতি ত্রিশটি গরু থেকে একটি তাবিয় (পুরুষ বাছুর) অথবা তাবিয়াহ (মাদী বাছুর) গ্রহণ করেন এবং প্রতি চল্লিশটি থেকে একটি মুসিন্নাহ এবং প্রত্যেক বালেগ—অর্থাৎ স্বপ্নদোষ হয়েছে এমন ব্যক্তি—থেকে এক দিনার অথবা তার সমপরিমাণ 'মা'আফির'—যা ইয়েমেনে প্রস্তুতকৃত এক প্রকার কাপড়—গ্রহণ করেন)) (৬);

--------------------------------------------

(১) আল-ইফসাহ গ্রন্থে (১/২০৩) বলা হয়েছে: ((তারা (ফকিহগণ) মতভেদ করেছেন যখন কারো ছাগল-ভেড়া সবগুলোই মাদী হয়, অথবা পুরুষ ও মাদী মিশ্রিত থাকে, অথবা কেবল যেকোনো একটি থাকে—সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি থেকে কী গ্রহণ করা হবে? ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: সবগুলোর ক্ষেত্রে পুরুষ পশু প্রদান করা বৈধ। আর ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমদ বলেছেন: যদি সবগুলো মাদী হয় অথবা পুরুষ ও মাদী মিশ্রিত থাকে, তবে মাদী পশু ছাড়া অন্য কিছু প্রদান করা বৈধ হবে না। আর যদি সবগুলোই পুরুষ হয়, তবে সেক্ষেত্রে পুরুষ পশু প্রদান করা বৈধ হবে))।

(২) বুখারি, কিতাবুয জাকাত, বাবু জাকাতিন না'আম, হাদিস নম্বর ১৪৫৪; এবং আবু দাউদ, কিতাবুয জাকাত, বাবু ফি জাকাতিন সাইমাহ, হাদিস নম্বর ১৫৭০।

(৩) তাবিয়: যে পশু এক বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে; আর তাবিয় হলো গরুর জাযাআ (এক বছর বয়সী বাছুর)। আল-মুকনি' ও আশ-শারহুল কাবীর মা'আল ইনসাফ, ৬/৪২১।

(৪) মুসিন্নাহ: যে পশু দুই বছর পূর্ণ করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে; আর মুসিন্নাহ হলো গরুর সানিয়্যাহ (দুই বছর বয়সী বাছুর)। আল-মুকনি' ও আশ-শারহুল কাবীর মা'আল ইনসাফ, ৬/৪২১।

(৫) আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ১৫৭২; এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ, ১/৪৩৪; আর এর তাখরিজ গবাদি পশুর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার দ্বিতীয় শর্তের আলোচনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৬) আবু দাউদ (অনুরূপ শব্দে), কিতাবুয জাকাত, বাবু ফি জাকাতিন সাইমাহ, হাদিস নম্বর ১৫৭৬; নাসায়ি, কিতাবুয জাকাত, বাবু জাকাতিল বাকার, হাদিস নম্বর ২৪৪৯-২৪৫২; তিরমিজি, কিতাবুয জাকাত, বাবু মা জাআ ফি জাকাতিল বাকার, হাদিস নম্বর ৬২৩; ইবনে মাজাহ, কিতাবুয জাকাত, বাবু সাদাকাতিল বাকার, হাদিস নম্বর ১৪৭১-১৮৩০; এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ, ১/৪৩৭, সহিহ তিরমিজিতে, ১/৩৩৩ এবং সহিহ ইবনে মাজাহ-তে, ২/১০৩।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((في ثلاثين من البقر تبيع، أو تبيعة، وفي كل أربعين مسنة)) (1) ثم تستقرض الفريضة: في كل ثلاثين تبيع أو تبيعة، وفي كل أربعين مسنة.

ويوضح ذلك الجدول الآتي:

زكاة البقر

المقدار … زكاته

من … إلى

30 … 39 … تبيع أو تبيعة

40 … 59 … مسنة

60 … 69 … تبيعان أو تبيعتان

70 … 79 … تبيع ومسنة

وهكذا في كل 30 تبيع أو تبيعة وفي كل 40 مسنة

* التبيع أو التبيعة: ما له سنة.

* المسنة: ما لها سنتان.

 

وتجب الزكاة في البقر بالشروط المذكورة المتقدمة، و‌‌وجوب الزكاة فيها: بالسنة، وإجماع علماء الإسلام:

‌‌أما السنة؛ فلحديث معاذ بن جبل رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم لما وجهه إلى اليمن أمره أن يأخذ من البقر من كل ثلاثين تبيعاً أو تبيعة، ومن كل أربعين مسنة … (2)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه وفيه: (( … ولا صاحب بقر ولا غنم لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة بُطح لها بقاع

--------------------------------------------

(1) الترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في زكاة البقر، برقم 622، وابن ماجة، كتاب الزكاة، باب صدقة البقر، برقم 1472 - 1831، وصححه الألباني في صحيح الترمذي، 1/ 343، وفي صحيح ابن ماجة، 2/ 104.

(2) أبو داود، برقم 1576، والترمذي، برقم 623، وابن ماجه، ويأتي تخريجه قريباً.
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য একটি তাবি' (এক বছর বয়সী পুরুষ বাছুর) অথবা তাবি'আহ (এক বছর বয়সী স্ত্রী বাছুর) এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি মুসিন্নাহ (দুই বছর বয়সী গরু) জাকাত দিতে হবে)) (১) এরপর নির্ধারিত ফরজ (فريضة) পরিমাণ গণনা করা হবে: প্রতি ত্রিশটিতে একটি তাবি' অথবা তাবি'আহ এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি মুসিন্নাহ।

নিচের ছকটি বিষয়টি স্পষ্ট করছে:

গরুর জাকাত

পরিমাণ … জাকাত

থেকে … পর্যন্ত

৩০ … ৩৯ … তাবি' অথবা তাবি'আহ

৪০ … ৫৯ … মুসিন্নাহ

৬০ … ৬৯ … দুইটি তাবি' অথবা তাবি'আহ

৭০ … ৭৯ … একটি তাবি' এবং একটি মুসিন্নাহ

এভাবে প্রতি ৩০টিতে একটি তাবি' অথবা তাবি'আহ এবং প্রতি ৪০টিতে একটি মুসিন্নাহ

* তাবি' অথবা তাবি'আহ: যার বয়স এক বছর হয়েছে।

* মুসিন্নাহ: যার বয়স দুই বছর হয়েছে।

 

পূর্বে উল্লিখিত শর্তাবলী অনুযায়ী গরুর ওপর জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হয়। আর এতে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ হলো: সুন্নাহ এবং মুসলিম আলেমদের ঐক্যমত (إجماع):

‌‌সুন্নাহর প্রমাণ: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি প্রতি ত্রিশটি গরু থেকে একটি তাবি' বা তাবি'আহ এবং প্রতি চল্লিশটি থেকে একটি মুসিন্নাহ গ্রহণ করেন … (২); এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে: (( … আর গরু বা ছাগলের এমন কোনো মালিক নেই যে তার হক আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তাকে এক বিশাল সমতল প্রান্তরে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে...

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি, জাকাত অধ্যায়, গরুর জাকাত সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৬২২; এবং ইবনে মাজাহ, জাকাত অধ্যায়, গরুর সদকা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৪৭২ - ১৮৩১; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ তিরমিজি, ১/৩৪৩ এবং সহিহ ইবনে মাজাহ, ২/১০৪-এ।

(২) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭৬, তিরমিজি, হাদিস নং ৬২৩, ইবনে মাজাহ; এর তখরিজ (تخريج) শীঘ্রই আসছে।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قرقرٍ (1) لا يفقد منها شيئاً ليس فيها عقصاءُ (2) ولا جلحاء (3) ولا عضباء (4) تنطحه بقرونها وتطؤه بأظلافها، كلما مرت عليه أولاها رُدَّ عليه أخراها، في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد، فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار)) (5).

 

‌‌وأما الإجماع فقال الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((وأما الإجماع فلا نعلم اختلافاً في وجوب الزكاة في البقر)) (6).

‌‌ثالثاً: نصاب زكاة الغنم، لا زكاة فيها حتى تبلغ أربعين وهو أقل نصاب الغنم، وتفصيل ذلك في حديث أنس رضي الله عنه: أن أبا بكر كتب له هذا الكتاب لما وجهه إلى البحرين: ((بسم الله الرحمن الرحيم، هذه فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين، والتي أمر الله بها رسوله، فمن سُئلها من المسلمين على وجهها فليعطها، ومن سئل فوقها فلا يعطِ … )) الحديث وذكر فيه زكاة الإبل، ثم قال: (( … وفي صدقة الغنم في سائمتها إذا كانت أربعين إلى عشرين ومائةٍ: شاة، فإذا زادت على عشرين ومائة إلى مائتين: شاتان، فإذا زادت على مائتين إلى ثلاث مائة ففيها ثلاثٌ، فإذا زادت على ثلاث مائة ففي كل مائة شاة، فإذا كانت سائمة الرجل ناقصةً من أربعين شاةً

--------------------------------------------

(1) القاع القرقر: القاع المستوي الواسع من الأرض، يعلوه ماء السماء فيمسكه.

(2) العقصاء: ملتوية القرنين.

(3) الجلحاء: التي لا قرن لها.

(4) العضباء: التي كسر قرنها الداخل.

(5) متفق عليه: البخاري، برقم 1402، ومسلم، برقم 987، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة.

(6) المغني، 4/ 31.
...বিস্তীর্ণ সমতল ময়দানে (১), সেগুলোর একটিও হারিয়ে যাবে না, সেগুলোর মধ্যে কোনোটিই বাঁকা শিংবিশিষ্ট (২), শিংহীন (৩) বা শিং ভাঙা (৪) হবে না; সেগুলো তাকে শিং দিয়ে গুঁতো দেবে এবং ক্ষুর দিয়ে মাড়াবে। যখনই সেগুলোর প্রথম দলটি তাকে অতিক্রম করে চলে যাবে, তখনই শেষ দলটিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে। এটি এমন এক দিনে ঘটবে যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়। অতঃপর সে তার পথ দেখতে পাবে—হয় জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে)) (৫)।

 

‌‌আর ঐকমত্য (الإجماع) প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: ((আর ঐকমত্য (الإجماع)-এর বিষয়ে আমরা গরুর জাকাত ফরজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ জানি না)) (৬)।

‌‌তৃতীয়ত: ছাগল বা ভেড়ার জাকাতের নিসাব, এতে চল্লিশটি না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাকাত নেই, আর এটিই ছাগল বা ভেড়ার সর্বনিম্ন নিসাব। এর বিস্তারিত বিবরণ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন তাঁকে বাহরাইনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁর জন্য এই পত্রটি লিখেছিলেন: ((বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, এটি সদকার সেই বিধান যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলমানদের ওপর ফরজ করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর রাসুলকে যার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং মুসলমানদের মধ্যে যাঁর কাছে যথাযথভাবে এটি চাওয়া হবে, তিনি যেন তা প্রদান করেন। আর যাঁর কাছে এর অতিরিক্ত চাওয়া হবে, তিনি যেন তা না দেন … )) হাদিসটির অবশিষ্টাংশ; এতে তিনি উটের জাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: (( … এবং ছাগল বা ভেড়ার সদকার ক্ষেত্রে, যদি তা চরে বেড়ানো গবাদিপশু হয় এবং তার সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশ বিশ পর্যন্ত হয়, তবে একটি ছাগল। যদি একশ বিশের বেশি হয় দুইশ পর্যন্ত, তবে তাতে দুটি ছাগল। যদি দুইশর বেশি হয় তিনশ পর্যন্ত, তবে তাতে তিনটি ছাগল। আর যদি তিনশর বেশি হয়, তবে প্রতি একশতে একটি করে ছাগল। আর যদি কোনো ব্যক্তির চরে বেড়ানো ছাগল বা ভেড়ার সংখ্যা চল্লিশের কম হয়...

--------------------------------------------

(১) আল-কাউ আল-কারকার: প্রশস্ত সমতল ভূমি, যা বৃষ্টির পানি ধারণ করে রাখে।

(২) আল-আকসা: যার শিং দুটি বাঁকানো বা পেঁচানো।

(৩) আল-জালহা: যার কোনো শিং নেই।

(৪) আল-আদবা: যার শিংয়ের ভেতরের অংশ ভেঙে গেছে।

(৫) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, নম্বর ১৪০২, এবং মুসলিম, নম্বর ৯৮৭; আর এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে জাকাতের মর্যাদার আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৬) আল-মুগনি, ৪/ ৩১।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
واحدةً فليس فيها صدقة إلا أن يشاء ربّها … )) (1) (2).

ويوضح ذلك الجدول الآتي:

زكاة الغنم

المقدار … زكاته

من … إلى

--------------------------------------------

(1) البخاري، برقم 1454، وتقدم تخريجه.

(2) قوله صلى الله عليه وسلم: ((فإذا زادت على مائتين إلى ثلاث مائة ففيها ثلاث شياه، فإذا زادت على ثلاث مائة ففي كل مائة شاة)) قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ظاهر هذا القول: إن الفرض لا يتغير بعد المائتين وواحدةً حتى يبلغ أربع مائة فيجب في كل مائة شاةً، ويكون الوقص ما بين المائتين وواحدة إلى أربع مائة وذلك مائة وتسعة وتسعون، وهذا إحدى الروايتين عن أحمد، وقول أكثر الفقهاء، وعن أحمد رواية أخرى أنها إذا زادت على ثلاثمائة واحدة [ففيها] أربع شياه، ثم لا يتغير الفرض حتى تبلغ خمسمائة فيكون في كل مائة شاة ويكون الوقص الكبير ما بين ثلاثمائة وواحدة إلى خمسمائة، وهو أيضاً مائة وتسعة وتسعون، وهذا اختيار أبي بكر، وحكي عن النخعي والحسن بن صالح؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم جعل الثلاثمائة حدّاً للوقص وغايةً له، فيجب أن يتعقبه تغيُّر النصاب كالمائتين، ولنا قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((فإذا زادت ففي كل مائة شاة)) وهذا يقتضي أن لا يجب في دون المائة شيء، وفي كتاب الصدقات الذي كان عند آل عمر بن الخطاب ((فإذا زادت على ثلاثمائة واحدة فليس فيها شيء حتى تبلغ أربعمائة شاة ففيها أربع شياهٍ)) وهذا نص لا يجوز خلافه إلا بمثله أو أقوى منه، وتحديد النصاب لاستقرار الفريضة لا لغاية والله أعلم)) [المغني، 4/ 40، والشرح الكبير، 6/ 442] ولفظ كتاب الصدقات الذي كان عند آل عمر، واضح وفيه: (( … وفي الشاءِ، في كل أربعين شاةً إلى عشرين ومائة، فإذا زادت فشاتان إلى مائتين، فإذا زادت فثلاث شياه إلى ثلاثمائة شاة، فإذا زادت على ثلاث مائة شاة، ففي كل مائة شاةٍ شاةٌ، ثم ليس فيها شيء حتى تبلغ أربعمائة)) وفي لفظ أبي داود: (( … فإن زادت واحدة على المائتين ففيها ثلاث شياه، إلى ثلاثمائة، فإن كانت الغنم أكثر من ذلك ففي كل مائة شاهٍ شاة، وليس فيها شيء حتى تبلغ المائة … )) [أبو داود، برقم 1568، والترمذي، برقم 621، وابن ماجه، برقم 473 - 1832، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 432، وفي صحيح الترمذي، 1/ 342، وفي صحيح ابن ماجه، 2/ 104].
একটি (বেশি না হলে), তবে এতে কোনো সদকা (জাকাত) নেই যদি না এর মালিক ইচ্ছা করেন … )) (১) (২)।

এটি নিম্নোক্ত ছকটি দ্বারা স্পষ্ট করা হলো:

ছাগল বা ভেড়ার জাকাত

পরিমাণ … এর জাকাত

থেকে … পর্যন্ত

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নম্বর ১৪৫৪, এবং এর তাখরিজ (تخريج) ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((যখন তা দুইশ অতিক্রম করে তিনশ পর্যন্ত পৌঁছায় তখন এতে তিনটি ছাগল দিতে হবে, আর যখন তিনশ অতিক্রম করে তখন প্রতি একশতে একটি ছাগল দিতে হবে))। ইমাম ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ((এই বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো: দুইশ একটি অতিক্রম করার পর চারশ না পৌঁছানো পর্যন্ত নির্ধারিত ফরজের কোনো পরিবর্তন হবে না, এমতাবস্থায় প্রতি একশতে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে, আর দুইশ এক থেকে চারশর মধ্যবর্তী পর্যায়টি হবে ওয়াকস (وقص) (জাকাতমুক্ত অতিরিক্ত অংশ), যা হলো একশ নিরানব্বইটি; এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) একটি এবং অধিকাংশ ফকিহ বা আইনজ্ঞের অভিমত। আর ইমাম আহমাদ থেকে অন্য একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, যদি তা তিনশ একটি অতিক্রম করে তবে [তাতে] চারটি ছাগল দিতে হবে, এরপর পাঁচশ না হওয়া পর্যন্ত ফরজের কোনো পরিবর্তন হবে না এবং সেক্ষেত্রে প্রতি একশতে একটি ছাগল দিতে হবে। আর বড় ওয়াকস (وقص) হবে তিনশ এক থেকে পাঁচশর মধ্যবর্তী পর্যায়, যা একশ নিরানব্বইটি। এটি আবু বকর আল-খল্লাল পছন্দ করেছেন এবং নাখঈ ও হাসান ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত হয়েছে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনশকে ওয়াকস (وقص)-এর সীমা ও প্রান্ত নির্ধারণ করেছেন, তাই দুইশর মতো এখানেও নিসাব (نصاب) পরিবর্তনের বিষয়টি অনুসরণ করা আবশ্যক। আমাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((যদি বৃদ্ধি পায় তবে প্রতি একশতে একটি ছাগল)), আর এটি দাবি করে যে একশর কম পরিমাণে কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না। আর উমর ইবনুল খাত্তাবের পরিবারের কাছে থাকা জাকাত সংক্রান্ত পত্রে (কিতাবুস সাদাকাত) রয়েছে: ((যখন তিনশ একটি অতিক্রম করবে তখন চারশ ছাগল না হওয়া পর্যন্ত তাতে কিছু নেই, আর চারশ হলে তাতে চারটি ছাগল দিতে হবে))। এটি একটি অকাট্য প্রমাণ (نص), যার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে শক্তিশালী দলিল ব্যতীত বিরোধিতা করা বৈধ নয়। আর নিসাব (نصاب) নির্ধারণ করা হয়েছে নির্ধারিত ফরজ স্থির করার জন্য, কোনো সীমার জন্য নয়। আল্লাহই ভালো জানেন)) [আল-মুগনি, ৪/৪০, এবং আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৪৪২]। উমরের পরিবারের কাছে থাকা জাকাত সংক্রান্ত পত্রের শব্দাবলি সুস্পষ্ট, তাতে রয়েছে: (( … আর ছাগলের ক্ষেত্রে, প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি (জাকাত) একশ বিশটি পর্যন্ত; যদি বৃদ্ধি পায় তবে দুইশ পর্যন্ত দুটি ছাগল; যদি বৃদ্ধি পায় তবে তিনশ পর্যন্ত তিনটি ছাগল; আর যদি তিনশ অতিক্রম করে তবে প্রতি একশতে একটি ছাগল দিতে হবে, এরপর চারশ না পৌঁছানো পর্যন্ত তাতে কিছু নেই))। আবু দাউদের শব্দে আছে: (( … যদি দুইশর ওপর একটি বৃদ্ধি পায় তবে তিনশ পর্যন্ত তাতে তিনটি ছাগল; যদি ছাগলের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হয় তবে প্রতি একশতে একটি ছাগল, আর একশ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাতে কিছু নেই … )) [আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ১৫৬৮, তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৬২১, ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ৪৭৩ - ১৮৩২; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৩২, সহিহ তিরমিজি, ১/৩৪২ এবং সহিহ ইবনে মাজাহ, ২/১০৪-এ]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
40 … 120 … شاة

121 … 200 … شاتان

201 … 300 … ثلاث شياه

فإذا زادت على ثلاثمائة ففي كل مائة شاة، ففي 400 أربع شياه، وفي 500 خمس شياه، وفي 600 ست شياه، وفي 700 سبع شياه، وهكذا.

 

وليس فيما بين الثلاثمائة وأربعمائة شيء؛ لحديث الصدقات الذي كان عند آل عمر بن الخطاب رضي الله عنه وفيه: (( … فإذا زادت على ثلاث مائة ففي كل مائة شاةٍ شاةٌ، ثم ليس فيها شيء حتى تبلغ أربعمائة … )) (1).

 

وتجب زكاة الغنم بالشروط الأربعة المتقدمة، و‌‌وجوب الزكاة فيها ثابت بالسنة والإجماع:

‌‌أما السنة؛ فلحديث أنس رضي الله عنه في كتاب أبي بكر الصديق رضي الله عنه في فريضة الصدقة التي فرضها رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين، وقد تقدم ذكره آنفاً (2)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه وفيه: (( … ولا صاحب بقر ولا غنم لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة بُطح لها بقاع قرقرٍ لا يفقد منها شيئاً ليس فيها عقصاءُ، ولا جلحاء، ولا عضباء، تنطحه بقرونها، وتطؤه بأظلافها كلما مرت عليه أولاها رُدَّ عليه أخراها، في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يُقضى بين العباد، فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار)) (3).

‌‌وأما الإجماع؛ فأجمع العلماء على وجوب الزكاة في الغنم (4).

--------------------------------------------

(1) الترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في زكاة الإبل والغنم، برقم 621، وصححه الألباني في صحيح الترمذي، 1/ 343، وهو في سنن أبي داود، برقم 1568.

(2) البخاري، برقم 1454، وتقدم تخريجه.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 1402، ومسلم، برقم 977، وتقدم تخريجه.

(4) المغني لابن قدامة، 4/ 38.
40 … 120 … একটি ছাগল

121 … 200 … দুটি ছাগল

201 … 300 … তিনটি ছাগল

যদি তিনশতের অধিক হয়, তবে প্রতি একশতে একটি ছাগল; অর্থাৎ ৪০০-তে চারটি ছাগল, ৫০০-তে পাঁচটি ছাগল, ৬০০-তে ছয়টি ছাগল, ৭০০-তে সাতটি ছাগল—এভাবেই চলতে থাকবে।

 

তিনশত এবং চারশতের মধ্যবর্তী সংখ্যার জন্য অতিরিক্ত কিছু নেই; কারণ যাকাত সংক্রান্ত সেই হাদিস যা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর পরিবারের নিকট সংরক্ষিত ছিল, তাতে বর্ণিত হয়েছে: (( … অতঃপর যদি তিনশতের অধিক হয়, তবে প্রতি একশতে একটি ছাগল, এরপর চারশত না হওয়া পর্যন্ত আর কিছুই নেই … )) (১)।

 

ছাগলের যাকাত পূর্বে উল্লিখিত চারটি শর্ত সাপেক্ষে ওয়াজিব হয় এবং এতে যাকাতের আবশ্যকতা সুন্নাহ (سنة) এবং সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত:

‌‌সুন্নাহ (سنة) প্রসঙ্গে: আনাস (রা.) বর্ণিত সেই হাদিস যা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর পত্রে যাকাতের বিধান সম্পর্কে ছিল, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের ওপর ফরয করেছেন এবং তা ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে (২); এছাড়া আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যেখানে বলা হয়েছে: (( … আর গরু বা ছাগলের এমন কোনো মালিক নেই যে তার হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তাকে এক বিশাল সমতল ময়দানে উপুড় করে শুইয়ে দেওয়া হবে। তার পশুগুলোর একটিও সেখানে অনুপস্থিত থাকবে না। সেগুলোর কোনোটিই বাঁকা শিংবিশিষ্ট হবে না, শিংহীন হবে না এবং শিং ভাঙাও হবে না। পশুগুলো তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে এবং খুর দিয়ে মাড়াবে। যখনই পশুদলের প্রথমটি তাকে অতিক্রম করে চলে যাবে, তখনই শেষটি আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এমন দিনে (এই শাস্তি চলবে) যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়। অতঃপর সে তার পথ দেখতে পাবে—হয় জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে)) (৩)।

‌‌ইজমা (إجماع) প্রসঙ্গে: ওলামায়ে কেরাম ছাগলের যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) পোষণ করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি, কিতাবুজ যাকাত, অনুচ্ছেদ: উট ও ছাগলের যাকাত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ৬২১, এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ তিরমিজি গ্রন্থে, ১/ ৩৪৩। এটি সুনানে আবু দাউদ-এ রয়েছে, হাদিস নং ১৫৬৮।

(২) বুখারি, হাদিস নং ১৪৫৪, এবং এর উৎস বর্ণনা (تخريج) ইতিপূর্বেই করা হয়েছে।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৪০২, এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯৭৭, এবং এর উৎস বর্ণনা (تخريج) ইতিপূর্বেই করা হয়েছে।

(৪) আল-মুগনি লি-ইবনি কুদামাহ, ৪/ ৩৮।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجدول العام لزكاة السائمة (1) من بهيمة الأنعام (2)

لا يؤخذ في الصدقة: تَيس، ولا هَرمة، ولا معيبة، ولا شِرار المال.

لا يؤخذ في الصدقة: الهزيلة، ولا المخاض، ولا الأكولة، ولا خيار المال.

 

‌‌الغنم

المقدار [من - إلى] … زكاته

40 - 120 … شاة

121 - 200 … شاتان

201 - 300 … ثلاث شياه

ثم في كل 100 شاة

 

‌‌الإبل

المقدار [من - إلى] … زكاته

5 - 9 … شاة

10 - 14 … شاتان

15 - 19 … ثلاث شياه

20 - 24 … أربع شياه

25 - 35 … بنت مخاض

36 - 45 … بنت لبون

46 - 60 … حقة

62 - 75 … جذعة

76 - 90 … بنتا لبون

91 - 120 … حقتان

121 - 129 … ثلاث بنات لبون

ثم في كل أربعين بنت لبون.

وفي كل خمسين حقة.

 

بنت مخاض: بنت سنة، وسميت بذلك؛ لأن أمها حامل.

بنت لبون: ما لها سنتان، وسميت بذلك؛ لأن أمها ذات لبن.

حقة: ما لها ثلاث سنين، وسميت بذلك؛ لأنها استحقت الركوب.

جذعة: ما لها أربع سنين.

 

‌‌البقر

المقدار [من - إلى] … زكاته

30 - 39 … تبيع أو تبيعة

40 - 59 … مُسنَّة

60 - 69 … تبيعتان

ثم في كل 30 تبيع

وفي كل 40 مُسنَّة

التبيع أو التبيعة: ما لها سنة.

المُسنَّة: ما لها سنتان.

--------------------------------------------

(1) السائمة: الراعية الحول أو أكثره في الصحاري والقفار.

(2) انظر: منزلة الزكاة في الإسلام، للمؤلف، ص114.
বিচরণশীল (السائمة) গৃহপালিত পশুর (২) জাকাতের সাধারণ সারণি (১)

সাদাকাহ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না: প্রজননক্ষম পাঠা (تيس), অতি বৃদ্ধ পশু (هرمة), ত্রুটিযুক্ত পশু (معيبة) এবং নিকৃষ্ট মানের সম্পদ (شرار المال)।

সাদাকাহ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না: জীর্ণশীর্ণ পশু (الهزيلة), আসন্নপ্রসূতা বা গর্ভবতী পশু (المخاض), অতিভোজী বা মোটাতাজা করা পশু (الأكولة) এবং সর্বোত্তম সম্পদ (خيار المال)।

 

‌‌ছাগল-ভেড়া

পরিমাণ [থেকে - পর্যন্ত] … এর জাকাত

৪০ - ১২০ … একটি ছাগল

১২১ - ২০০ … দুইটি ছাগল

২০১ - ৩০০ … তিনটি ছাগল

এরপর প্রতি ১০০টি ছাগলে একটি করে ছাগল জাকাত দিতে হবে।

 

‌‌উট

পরিমাণ [থেকে - পর্যন্ত] … এর জাকাত

৫ - ৯ … একটি ছাগল

১০ - ১৪ … দুইটি ছাগল

১৫ - ১৯ … তিনটি ছাগল

২০ - ২৪ … চারটি ছাগল

২৫ - ৩৫ … একটি বিনতে মাখাদ (بنت مخاض)

৩৬ - ৪৫ … একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون)

৪৬ - ৬০ … একটি হিক্কাহ (حقة)

৬২ - ৭৫ … একটি জাযাআহ (جذعة)

৭৬ - ৯০ … দুইটি বিনতে লাবুন (بنت لبون)

৯১ - ১২০ … দুইটি হিক্কাহ (حقة)

১২১ - ১২৯ … তিনটি বিনতে লাবুন (بنت لبون)

এরপর প্রতি চল্লিশটি উটে একটি বিনতে লাবুন (بنت لبون)।

এবং প্রতি পঞ্চাশটি উটে একটি হিক্কাহ (حقة)।

 

বিনতে মাখাদ (بنت مخاض): এক বছর বয়সী উষ্ট্রী; এর নামকরণ এমন করা হয়েছে কারণ সাধারণত তার মা পুনরায় গর্ভবতী থাকে।

বিনতে লাবুন (بنت لبون): যার বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়েছে; এর নামকরণ এমন করা হয়েছে কারণ তার মা তখন দুগ্ধবতী থাকে।

হিক্কাহ (حقة): যার বয়স তিন বছর পূর্ণ হয়েছে; এর নামকরণ এমন করা হয়েছে কারণ এটি সওয়ার হওয়ার বা প্রজননের যোগ্য হয়েছে।

জাযাআহ (جذعة): যার বয়স চার বছর পূর্ণ হয়েছে।

 

‌‌গরু

পরিমাণ [থেকে - পর্যন্ত] … এর জাকাত

৩০ - ৩৯ … একটি তাবি' (تبيع) অথবা তাবিআহ (تبيعة)

৪০ - ৫৯ … একটি মুসিন্নাহ (مُسنَّة)

৬০ - ৬৯ … দুইটি তাবি' (تبيعتان)

এরপর প্রতি ৩০টি গরুতে একটি তাবি' (تبيع)।

এবং প্রতি ৪০টি গরুতে একটি মুসিন্নাহ (مُسنَّة)।

তাবি' (تبيع) বা তাবিআহ (تبيعة): যার বয়স এক বছর হয়েছে।

মুসিন্নাহ (مُسنَّة): যার বয়স দুই বছর হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বিচরণশীল (السائمة): যে পশু বছরের অধিকাংশ সময় প্রান্তর বা চারণভূমিতে চরে বেড়ায়।

(২) দেখুন: মানযিলাতুয যাকাত ফিল ইসলাম, লেখক, পৃষ্ঠা ১১৪।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مسائل في زكاة بهيمة الأنعام

‌‌1 - لا يأخذ المُصَدِّق في الصدقة: هرمة، ولا ذات عوارٍ، ولا تيس؛ لحديث أنس رضي الله عنه: أن أبا بكر رضي الله عنه كتب له: ((التي أمر الله رسولَه صلى الله عليه وسلم، ولا يخرج في الصدقة هرمةٌ (1)، ولا ذاتُ عوارٍ (2)، ولا تيس إلا أن يشاء المصدِّق (3))) (4)، وفي حديث آل عمر بن الخطاب في الصدقة: ((ولا يؤخذ في الصدقة هرمةٌ، ولا ذات عوارٍ من الغنم، ولا تيس الغنم إلا أن يشاء المُصدِّق)) (5).

وعن عبد الله بن معاوية الغاضري رضي الله عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((ثلاث من فعلهن فقد طَعِم طعْم الإيمان: من عَبَدَ الله وحده؛ وأنه لا إله إلا الله، وأعطى زكاة مالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نفسه، رافدةً (6) عليه كلَّ عام، ولا يعطي: الهرمة، ولا الدَّرنة (7) ولا المريضة، ولا الشَّرَط اللئيمة (8)، ولكن من وسط أموالكم، فإن الله لم يسألكم خيره، ولم يأمركم بشره)) (9).

--------------------------------------------

(1) الهَرِمَة: الهرم أقصى الكبر، فهرمة: كبيرة جدّاً، [لسان العرب، 12/ 607].

(2) ذات عوار: المعيبة التي لا يُضحى بها. الإنصاف مع المقنع والشرح الكبير، 6/ 445.

(3) المصدِّق: العامل الساعي لأخذ الزكاة، والمصدَّق بالفتح صاحب المال. الشرح الكبير 6/ 445 وجامع الأصول، 4/ 605.

(4) البخاري، برقم 1455، وتقدم تخريجه.

(5) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1570، وصححه الألباني في صحيح أبي داود، 1/ 433.

(6) رافدة عليه كل عام: الرفد: الإعانة: أي تعينه نفسه على أدائها كل عام. النهاية في غريب الحديث، 2/ 241.

(7) الدرنة: الجرباء، وأصله من الوسخ. ((النهاية في غريب الحديث)).

(8) الشرط اللئيمة: رذال المال، وقيل: شراره وصغاره. ((النهاية في غريب الحديث)).

(9) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1580، وصححه الألباني في سنن أبي داود، 1/ 438.
‌‌চতুষ্পদ জন্তুর জাকাত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ

‌‌১ - জাকাত উসুলকারী জাকাত হিসেবে গ্রহণ করবেন না: অতি বৃদ্ধ পশু, ত্রুটিযুক্ত পশু এবং পাঠা; আনাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে যে, আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট লিখেছিলেন: ((আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা.)-কে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে জাকাত হিসেবে অতি বৃদ্ধ পশু (১), ত্রুটিযুক্ত পশু (২) এবং পাঠা বের করা হবে না, যদি না জাকাত উসুলকারী তা নিতে ইচ্ছা করেন (৩))) (৪)। আর আল-উমর ইবনুল খাত্তাবের পরিবার থেকে বর্ণিত জাকাত সংক্রান্ত হাদিসে রয়েছে: ((জাকাত হিসেবে ছাগল বা ভেড়ার মধ্য থেকে অতি বৃদ্ধ পশু, ত্রুটিযুক্ত পশু এবং পাঠা গ্রহণ করা হবে না, যদি না জাকাত উসুলকারী তা নিতে ইচ্ছা করেন)) (৫)।

আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া আল-গাদারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: ((তিনটি কাজ যে ব্যক্তি করবে সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে: যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করল এবং (সাক্ষ্য দিল) যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর তার সম্পদের জাকাত সানন্দে প্রদান করল, যা প্রতি বছর তাকে (জাকাত আদায়ে) সহায়তা করবে (৬)। সে অতি বৃদ্ধ পশু, ময়লাযুক্ত বা চর্মরোগাক্রান্ত পশু (৭), অসুস্থ পশু এবং নিচু মানের বা তুচ্ছ পশু (৮) প্রদান করবে না; বরং তোমাদের সম্পদের মধ্যম মানের অংশ থেকে প্রদান করবে। কেননা আল্লাহ তোমাদের কাছে তোমাদের সবচেয়ে ভালো সম্পদটি চাননি এবং সবচেয়ে মন্দ সম্পদটির নির্দেশও দেননি)) (৯)।

--------------------------------------------

(১) আল-হারিমাহ (الهَرِمَة): 'আল-হারাম' হলো বার্ধক্যের শেষ সীমা, সুতরাং 'হারিমাহ' অর্থ হলো অত্যন্ত বৃদ্ধ পশু, [লিসানুল আরব, ১২/৬০৭]।

(২) ত্রুটিযুক্ত পশু (ذات عوار): এমন খুঁতযুক্ত পশু যা দিয়ে কোরবানি করা যায় না। আল-ইনসাফ মাআল মুকনি ওয়াশ শারহুল কাবির, ৬/৪৪৫।

(৩) আল-মুসাদ্দিক (المصدِّق): জাকাত আদায়ের জন্য নিয়োজিত কর্মচারী। আর মিম-এ জবরযুক্ত 'আল-মুসাদ্দাক' (المصدَّق) হলেন সম্পদের মালিক। আশ-শারহুল কাবির, ৬/৪৪৫ এবং জামিউল উসুল, ৪/৬০৫।

(৪) বুখারি, হাদিস নম্বর ১৪৫৫, এবং এর তাখরিজ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৫) আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সায়িমা পশুর জাকাত প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১৫৭০; আলবানি একে সহিহ আবু দাউদ, ১/৪৩৩-এ বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন।

(৬) প্রতি বছর তার উপর সাহায্যকারী: 'আর-রিফদ' মানে সাহায্য করা; অর্থাৎ তার মন প্রতি বছর এই জাকাত আদায়ে তাকে সহায়তা করবে। আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, ২/২৪১।

(৭) আদ-দারানাহ (الدرنة): চর্মরোগাক্রান্ত পশু, এর মূল অর্থ ময়লা থেকে আগত। ((আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস))।

(八) আশ-শারাতুল লাইমাহ (الشرط اللئيمة): সম্পদের নিকৃষ্ট অংশ, কেউ বলেছেন: এটি মন্দ ও ছোট আকারের সম্পদকে বোঝায়। ((আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস))।

(৯) আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সায়িমা পশুর জাকাত প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১৫৮০; আলবানি একে সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৩৮-এ বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد دعا النبي صلى الله عليه وسلم على من أعطى في الزكاة فصيلاً مهزولاً، فعن وائل بن حجر رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم بعث ساعياً فأتى رجلاً، فآتاه فصيلاً مخلولاً (1) فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((بعثنا مصدِّق الله ورسوله وإن فلاناً أعطاه فصيلاً مخلولاً، اللهم لا تبارك فيه ولا في إبله)) فبلغ ذلك الرجل فجاء بناقة حسناء، فقال: أتوب إلى الله عز وجل وإلى نبيه صلى الله عليه وسلم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((اللهم بارك فيه وفي إبله)) (2).

 

‌‌2 - لا يأخذ المصدِّق كرائم الأموال ولا خياره ولكن من الوسط؛ لحديث معاذ رضي الله عنه حينما بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن وفيه: ((فإياك وكرائم أموالهم، واتق دعوة المظلوم، فإنه ليس بينها وبين الله حجاب)) (3).

قال الزهري: ((إذا جاء المصدِّق قُسِّمت الشاء أثلاثاً: ثلثاً شراراً، وثلثاً خياراً، وثلثاً وسطاً، فأخذ المصدِّق من الوسط)) (4) (5).

 

‌‌3 - ما بين الفريضتين في زكاة بهيمة الأنعام أوقاص ولا زكاة في الأوقاص، مثل الزيادة على الخمس في الإبل إلى التسع، وعلى

--------------------------------------------

(1) مخلولاً: مهزولاً، وهو الذي جُعل على أنفه خلال، لئلا يرضع أمه فتهزل، ((النهاية في غريب الحديث)) وانظر: جامع الأصول، 4/ 605.

(2) النسائي، كتاب الزكاة، باب الجمع بين المتفرق والتفريق بين المجتمع، برقم 2457، وصحح إسناده الألباني في صحيح سنن النسائي، 2/ 185.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 1295، ومسلم، برقم 19، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام.

(4) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1568، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 432.

(5) ولا يؤخذ في الصدقة: الحامل، ولا الماخض، وهي التي قد حان ولادها، ولا تؤخذ الرُّبَى: التي تربي ولدها، أو التي تربَّى في البيت لأجل اللبن، ولا طروقة الفحل التي طرقها الفحل؛ لأنها تحمل غالباً، ولا تؤخذ الأكولة، التي أعدت للأكل إلا أن يشاء ربها: أي صاحب هذه الأموال: [الشرح الكبير، 6/ 446، والروض المربع، 4/ 64].
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছেন যে জাকাত হিসেবে একটি দুর্বল উটের বাচ্চা প্রদান করেছিল। ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন জাকাত সংগ্রাহককে পাঠিয়েছিলেন, তিনি এক ব্যক্তির কাছে আসলে সে তাঁকে একটি অতি দুর্বল (মখলুল) উটের বাচ্চা দান করে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জাকাত সংগ্রাহককে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু অমুক ব্যক্তি তাকে একটি অত্যন্ত দুর্বল উটের বাচ্চা দিয়েছে। হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদে এবং তার উটের পালে বরকত দেবেন না))। এই সংবাদটি সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছালে সে একটি অতি সুন্দর উষ্ট্রী নিয়ে উপস্থিত হলো এবং বলল: আমি মহান আল্লাহ ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে তাওবা করছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদে এবং তার উটের পালে বরকত দান করুন)) (২)।

 

‌‌২ - জাকাত সংগ্রাহক অতি উৎকৃষ্ট সম্পদ বা বেছে বেছে সবচেয়ে ভালোটি গ্রহণ করবেন না, বরং মধ্যম মানের সম্পদ নিবেন; মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন এবং তাতে উল্লেখ ছিল: ((তাদের উৎকৃষ্ট সম্পদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, আর মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরায় নেই)) (৩)।

ইমাম জুহরি বলেন: ((যখন জাকাত সংগ্রাহক আসবে, তখন বকরিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হবে: এক-তৃতীয়াংশ নিম্নমানের, এক-তৃতীয়াংশ উৎকৃষ্ট মানের এবং এক-তৃতীয়াংশ মধ্যম মানের। অতঃপর সংগ্রাহক মধ্যম মানের অংশ থেকে জাকাত গ্রহণ করবেন)) (৪) (৫)।

 

‌‌৩ - গবাদি পশুর জাকাতের ক্ষেত্রে দুটি নির্ধারিত সীমার (ফরিজাহ) মধ্যবর্তী সংখ্যা হলো 'আওকাস' এবং এই আওকাস-এর ওপর কোনো জাকাত নেই, যেমন উটের ক্ষেত্রে পাঁচটির অতিরিক্ত থেকে নয়টি পর্যন্ত সংখ্যা, এবং

--------------------------------------------

(১) মখলুল: দুর্বল ও কৃশকায়, যার নাকে শলাকা (খিলাল) লাগানো হয় যাতে সে তার মায়ের দুধ পান করতে না পারে এবং মা দুর্বল না হয়ে পড়ে, দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস এবং জামিউল উসুল, ৪/৬০৫।

(২) নাসায়ি, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বিচ্ছিন্নকে একত্রিত করা এবং একত্রিতকে বিচ্ছিন্ন করা, হাদিস নং ২৪৫৭; আলবানী সহিহ সুনান নাসায়ি-তে এর সনদকে সহিহ (صحيح) বলেছেন, ২/১৮৫।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১২৯৫, এবং মুসলিম, হাদিস নং ১৯; ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব অনুচ্ছেদে এর তাখরিজ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বিচরণকারী পশুর জাকাত প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১৫৬৮; আলবানী সহিহ সুনান আবু দাউদ-এ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, ১/৪৩২।

(৫) জাকাত হিসেবে এগুলো গ্রহণ করা হবে না: গর্ভবতী পশু, প্রসব আসন্ন এমন পশু, এবং 'রুবা' তথা যে পশু তার বাচ্চা লালন-পালন করছে অথবা যাকে দুধের জন্য ঘরে পালন করা হয়। প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পশুও নেওয়া যাবে না, কারণ সেগুলো সাধারণত গর্ভবতী থাকে। এছাড়া খাওয়ার জন্য হৃষ্টপুষ্ট করা পশুও নেওয়া হবে না, যদি না পশুর মালিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা দিতে চায়। [আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৪৪৬; আর-রওদুল মুরবি, ৪/৬৪]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
العشر إلى أربع عشرة، إلى نِهاية أوقاص الإبل، وكذلك أوقاص البقر، والغنم لا زكاة فيها عفواً وترغيباً للملاك، وشكراً لهم على أداء الحق (1).

 

‌‌4 - إرضاء المصدِّق الساعي الآخذ للزكاة وإن ظَلَمَ؛ لحديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه قال: جاء ناس - يعني من الأعراب - إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالوا: إن ناساً من المصدِّقين يأتوننا، فيظلموننا؟ قال: فقال:

((أرضوا مصدِّقيكم)) قالوا: يا رسول الله! وإن ظلمونا؟ قال: ((أرضوا مصدقيكم)) وفي زيادة: ((وإن ظُلِمْتُم)) قال جرير: ما صدر عني مُصدِّقٌ – بعدما سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا وهو عني راضٍ وفي لفظ للترمذي: ((إذا أتاكم المصدق فلا يفارقنكم إلا عن رضا)) (2).

 

‌‌5 - عمال الصدقة السعاة الذين يرسلهم الإمام المسلم، عن عطاء مولى عمران: أن عمران بن الحصين استعمل على الصدقة فلما رجع قيل له: أين المال؟ قال: وللمال أرسلتني؟ أخذناه من حيث كنا نأخذه على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووضعناه حيث كنا نضعه (3).

وعن أحمد بن حميد الساعدي رضي الله عنه قال: استعمل النبي صلى الله عليه وسلم رجلاً من الأزد يقال له: ابن اللتبية، فلما جاء حاسبه قال: هذا مالكم وهذا أُهدي إليّ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((فهلا جلست في بيت أبيك وأمك حتى تأتيك

--------------------------------------------

(1) إرشاد أولي البصائر والألباب إلى نيل الفقه بأقرب الطرق وأيسر الأسباب، ص130.

(2) مسلم، كتاب الزكاة، باب إرضاء السعاة، برقم 989، وأبو داود، كتاب الزكاة، باب رضا المصدِّق، برقم 1589، والترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في رضا المصدق، برقم 647، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 441، وفي صحيح الترمذي، 1/ 354.

(3) أبو داود، كتاب الزكاة، باب رضا المصدِّق، برقم 1589، وابن ماجه، كتاب الزكاة، باب ما جاء في عُمَّال الصدقة، برقم 1479 - 1838، وصححه الألباني في صحيح ابن ماجه، 2/ 106.
দশ থেকে চৌদ্দ পর্যন্ত, উটের অকাছ (أوقاص) -এর শেষ সীমা পর্যন্ত, এবং একইভাবে গরু ও ছাগলের অকাছ (أوقاص) সমূহের ক্ষেত্রেও কোনো জাকাত নেই; যা মালিকদের প্রতি ক্ষমা ও উৎসাহস্বরূপ এবং হক আদায় করার কারণে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ (১)।

 

‌‌৪ - জাকাত সংগ্রহকারী (المصدِّق) তথা আমিলকে সন্তুষ্ট করা, যদিও সে জুলুম করে; জারির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: কিছু লোক - অর্থাৎ বেদুইনরা - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: নিশ্চয়ই কিছু জাকাত সংগ্রহকারী (المصدِّق) আমাদের নিকট আসে এবং তারা আমাদের ওপর জুলুম করে? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

((তোমরা তোমাদের জাকাত সংগ্রহকারীদের (مصدِّقيكم) সন্তুষ্ট করো।)) তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! যদিও তারা আমাদের ওপর জুলুম করে? তিনি বললেন: ((তোমরা তোমাদের জাকাত সংগ্রহকারীদের (مصدقيكم) সন্তুষ্ট করো।)) এবং এক বর্ধিত (زيادة) বর্ণনায় রয়েছে: ((যদিও তোমরা জুলুমের শিকার হও।)) জারির (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি শোনার পর কোনো জাকাত সংগ্রহকারীই (مُصدِّقٌ) আমার কাছ থেকে তাকে সন্তুষ্ট করা ব্যতীত ফিরে যায়নি। তিরমিযীর এক শব্দে (لفظ) এসেছে: ((যখন তোমাদের নিকট জাকাত সংগ্রহকারী (المصدق) আসবে, তখন সে যেন তোমাদের থেকে সন্তুষ্ট হওয়া ব্যতীত পৃথক না হয়।)) (২)।

 

‌‌৫ - সদকা সংগ্রহের কর্মী তথা আমিলগণ (السعاة) যাদের মুসলিম ইমাম বা শাসক প্রেরণ করেন, ইমরানের মুক্তদাস আতা থেকে বর্ণিত: ইমরান বিন হুসাইন (রাযিআল্লাহু আনহু)-কে সদকা আদায়ের কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যখন তিনি ফিরে আসলেন, তখন তাকে বলা হলো: মাল কোথায়? তিনি বললেন: আপনি কি আমাকে মালের জন্য পাঠিয়েছিলেন? আমরা তা সেখান থেকেই গ্রহণ করেছি যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে গ্রহণ করতাম এবং সেখানেই ব্যয় করেছি যেখানে আমরা ব্যয় করতাম (৩)।

এবং আহমদ বিন হুমাইদ আস-সাঈদী (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আজদ গোত্রের ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে (জাকাত সংগ্রহের) কাজে নিযুক্ত করলেন। যখন সে ফিরে আসলো এবং নবীজী তার হিসাব নিলেন, তখন সে বলল: এটি আপনাদের সম্পদ আর এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((সে কেন তার বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকল না, যাতে দেখা যেত তার নিকট...

--------------------------------------------

(১) ইরশাদ উলি আল-বাসায়ির ওয়াল আলবাব ইলা নাইল আল-ফিকহ বি-আকরাব আত-তুরুক ওয়া আইসার আল-আসবাব, পৃ. ১৩০।

(২) মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, বাব ইর্দাউস সুআহ, হাদিস নং ৯৮৯; আবু দাউদ, কিতাবুজ জাকাত, বাব রিদাল মুসাদ্দিক, হাদিস নং ১৫৮৯; তিরমিযী, কিতাবুজ জাকাত, বাব মা জাআ ফি রিদাল মুসাদ্দিক, হাদিস নং ৬৪৭; এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) বলেছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ, ১/৪৪১ ও সহিহ তিরমিযী, ১/৩৫৪-এ।

(৩) আবু দাউদ, কিতাবুজ জাকাত, বাব রিদাল মুসাদ্দিক, হাদিস নং ১৫৮৯; ইবনে মাজাহ, কিতাবুজ জাকাত, বাব মা জাআ ফি উম্মালিস সদকা, হাদিস নং ১৪৭৯ - ১৮৩৮; এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) বলেছেন সহিহ ইবনে মাজাহ, ২/১০৬।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
هديتك إن كنت صادقاً؟)) ثم خطَبَنَا فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: ((أما بعد فإني أستعمل الرجل منكم على العمل مما ولاني الله فيأتي فيقول: هذا مالكم وهذه هدية أُهديت لي، أفلا جلس في بيت أبيه وأمه حتى تأتيه هديته؟ إن كان صادقاً، والله لا يأخذ أحد منكم منها شيئاً بغير حقه إلا لقي الله تعالى يحمله على عنقه يوم القيامة، فلأعرفنَّ أحداً منكم لقي الله يحمل بعيراً له رغاء (1) أو بقرة لها خوار (2) أو شاة تَيْعَر)) (3) ثم رفع يديه حتى رُئِيَ بياض إبطيه يقول: ((اللهم هل بلغت)) بَصُرَ عيني وسمع أذني (4).

وعن عبد الله بن أُنيس رضي الله عنه: أنه تذاكر هو وعمر ابن الخطاب رضي الله عنه يوماً الصدقة فقال عمر: ألم تسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم حين يذكر غلول الصدقة: ((أنه من غلَّ منها بعيراً أو شاةً أُتي به يوم القيامة يحمله))؟ قال: فقال عبدالله بنُ أُنيس: بلى (5).

وعن رافع بن خُديج قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((العامل على الصدقة بالحق: كالغازي في سبيل الله، حتى يرجع إلى بيته)) (6) وعن أنس

--------------------------------------------

(1) بعير له رُغاء: الرغاء: صوت البعير.

(2) خوار: الخوار: صوت البقرة. جامع الأصول لابن الأثير، 4/ 647.

(3) تيعر: اليعار: صوت الشاة. المرجع السابق، 4/ 647.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الحيل، باب احتيال العامل يُهدى إليه، برقم 6979، ومسلم، كتاب الإمارة، باب تحريم هدايا العمال، برقم 1832.

(5) ابن ماجه، كتاب الزكاة، باب ما جاء في عمال الصدقة، برقم 478 - 1837، وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 2/ 106، وهو في البخاري ومسلم أتم من هذا.

(6) الترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في العامل على الصدقة بالحق، برقم 645، وابن ماجه، كتاب الزكاة، باب ما جاء في عمَّال الصدقة، برقم 477 - 1836، وقال الألباني في صحيح سنن ابن ماجه 2/ 106: ((حسن صحيح)).
...তোমার উপহার, যদি তুমি সত্যবাদী হও?)) অতঃপর তিনি আমাদের সামনে খুতবা দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন: ((অতঃপর, আমি তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে সেই কাজের দায়িত্ব প্রদান করি যা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। এরপর সে এসে বলে: এটি আপনাদের সম্পদ এবং এটি আমাকে দেওয়া উপহার। সে কেন তার বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকল না, যাতে দেখা যেত তার কাছে উপহার আসে কি না—যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে? আল্লাহর শপথ, তোমাদের কেউ যদি অন্যায়ভাবে তা থেকে কিছু গ্রহণ করে, তবে কিয়ামতের দিন সে তা নিজ ঘাড়ে বহন করা অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। আমি অবশ্যই তোমাদের কাউকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে দেখব যে, সে চিৎকাররত (১) উট অথবা হাম্বা রবকারী (২) গাভী অথবা ডাকছে (৩) এমন বকরি বহন করছে।)) অতঃপর তিনি তাঁর হাত দুটি উঁচুতে তুললেন, এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বলছিলেন: ((হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?)) আমার দুই চোখ তা দেখেছে এবং দুই কান তা শুনেছে (৪)।

আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: একদা তিনি এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সদকা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন উমর বললেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সদকার মাল আত্মসাৎ সম্পর্কে আলোচনা করতে শোনেননি যে: ((যে ব্যক্তি তা থেকে একটি উট বা একটি বকরি আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সেটি বহন করা অবস্থায় তাকে উপস্থিত করা হবে))? তিনি বললেন: আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস বললেন: হ্যাঁ, শুনেছি (৫)।

রাফে ইবনে খুদাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((ন্যায়সঙ্গতভাবে সদকা আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়, যতক্ষণ না সে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে)) (৬)। এবং আনাস থেকে বর্ণিত...

--------------------------------------------

(১) চিৎকাররত উট: ‘রুগা’ হলো উটের ডাক বা শব্দ।

(২) হাম্বা রব: ‘খাওয়ার’ হলো গাভীর ডাক বা শব্দ। জামেউল উসুল, ইবনুল আসির, ৪/৬৪৭।

(৩) বকরির ডাক: ‘ইয়ার’ হলো বকরির ডাক বা শব্দ। পূর্বোক্ত উৎস, ৪/৬৪৭।

(৪) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল হিয়াল, অধ্যায়: আমিলকে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা, হাদিস নং ৬৯৭৯; এবং মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, অধ্যায়: আমিলদের উপহার গ্রহণ হারাম হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১৮৩২।

(৫) ইবনে মাজাহ, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: সদকা আদায়কারী আমিলদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ৪৭৮ - ১৮৩৭; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ গ্রন্থে, ২/১০৬। এটি বুখারি ও মুসলিমে এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়েছে।

(৬) তিরমিজি, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: ন্যায়সঙ্গতভাবে সদকা আদায়কারী আমিল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ৬৪৫; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: সদকা আদায়কারী আমিলদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ৪৭৭ - ১৮৩৬। আলবানি সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ ২/১০৬-এ বলেছেন: ((হাসান সহিহ (حسن صحيح)))।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
- رضي الله عنه يرفعه: ((المعتدي في الصدقة كمانعها)) (1).

 

‌‌6 - لا زكاة في غير بهيمة الأنعام من الحيوان، فلا زكاة في الخيل، والبغال، والحمير، ولا في الصيد؛ لأن النصوص في الزكاة جاءت في بَهِيمة الأنعام، بل قد جاء ما يبين العفو عن ذلك؛ لحديث علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قد عفوت عن الخيل والرقيق، فهاتوا صدقة الرقة … )) (2)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ليس على المسلم في فرسه وغلامه صدقة)) وفي لفظ: ((ليس على المسلم صدقة في عبده ولا في فرسه)) (3) ولمسلم: ((ليس في العبد صدقة إلا صدقة الفطر)).

إلا إذا كانت هذه الأشياء المذكورة قد أُعدت للتجارة، ففيها زكاة عروض التجارة (4).

 

‌‌7 - لا يجزئ في صدقة الغنم إلا الجذع من الضأن الذي كمّل ستة أشهر، والثني من المعز الذي كمَّل سنة، وتقدم أنه لا يجزئ في ذلك إلا الأنثى، إلا ما استثني (5).

--------------------------------------------

(1) الترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في المعتدي في الصدقة كمانعها، برقم 646، وابن ماجه، كتاب الزكاة، باب ما جاء في عمال الصدقة، برقم 476 - 1835، وحسنه الألباني في صحيح الترمذي، 1/ 353.

(2) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1574، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 1463،و1464،ومسلم، برقم 982،وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام.

(4) المغني، 4/ 66.

(5) الشرح الكبير لابن قدامة، 6/ 442، والمغني، 4/ 49.
(আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তিনি তা মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((সাদাকার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী তা প্রদান নাকারীর সমান)) (১)।

 

‌‌৬ - গবাদি পশু ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীর ওপর জাকাত নেই, সুতরাং ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার ওপর কোনো জাকাত নেই এবং শিকারকৃত পশুর ওপরও নেই; কারণ জাকাত সংক্রান্ত নস বা পাঠসমূহ (النصوص) গবাদি পশুর ক্ষেত্রেই এসেছে। বরং এই বিষয়গুলোতে অব্যাহতির বর্ণনাও এসেছে; আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদিস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((আমি ঘোড়া ও দাসের জাকাত ক্ষমা করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা রুপার সাদাকা নিয়ে এসো … )) (২); এবং আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদিস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((মুসলিমের ওপর তার ঘোড়া ও দাসের জন্য কোনো সাদাকা নেই)) এবং অন্য শব্দে এসেছে: ((মুসলিমের ওপর তার দাসের জন্য এবং তার ঘোড়ার জন্য কোনো সাদাকা নেই)) (৩) এবং মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: ((দাসের ওপর সদকাতুল ফিতর ছাড়া অন্য কোনো সাদাকা নেই))।

তবে উল্লিখিত এই বস্তুগুলো যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়, তবে তাতে ব্যবসার পণ্যের (عروض التجارة) জাকাত প্রদান করতে হবে (৪)।

 

‌‌৭ - ভেড়ার সাদাকার ক্ষেত্রে ছয় মাস পূর্ণ হওয়া জাযা' (الجذع) এবং ছাগলের ক্ষেত্রে এক বছর পূর্ণ হওয়া সানি (الثني) ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না, এবং ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ব্যতিক্রমসমূহ ব্যতীত এ ক্ষেত্রে স্ত্রী পশু ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না (৫)।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি, কিতাবুয জাকাত, বাবু মা জাআ ফিল মুতাদি ফিস সাদাকাতি কামানিয়িহা, হাদিস নং ৬৪৬; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুয জাকাত, বাবু মা জাআ ফি উম্মালিস সাদাকাতি, হাদিস নং ৪৭৬ - ১৮৩৫; এবং আলবানি একে সহিহ তিরমিজিতে হাসান (حسنه) বলেছেন, ১/ ৩৫৩।

(২) আবু দাউদ, কিতাবুয জাকাত, বাবু ফি জাকাতিস সায়িমা, হাদিস নং ১৫৭৪; এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ সহিহ (صححه) বলেছেন, ১/ ৪৩৬।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারি, হাদিস নং ১৪৬৩, ১৪৬৪; এবং মুসলিম, হাদিস নং ৯৮২; এবং ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনায় এর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) আল-মুগনি, ৪/ ৬৬।

(৫) ইবনে কুদামার আশ-শারহুল কাবির, ৬/ ৪৪২; এবং আল-মুগনি, ৪/ ৪৯।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌8 - شروط المخرج في الزكاة من بهيمة الأنعام، يشترط في ذلك شروط منها:

‌‌الشرط الأول: السن، وقد سبق بيان ذلك الواجب في الإبل، والبقر، والغنم.

‌‌الشرط الثاني: الأنوثة، وقد سبق ما يستثنى من جواز إخراج الذكر.

‌‌الشرط الثالث: ألا تكون معيبة عيباً يمنع من الإجزاء في الأضحية، إلا إذا كان الجميع معيباً.

‌‌الشرط الرابع: أن تكون وسطاً: فلا يؤخذ الجيد ولا الرديء (1).

‌‌9 - إذا ملك المسلم أقل من النصاب من الإبل، أو أقل من نصاب البقر، أو أقل من نصاب الغنم، وكانت للتجارة؛ فإنه يضم بعضها إلى بعض في تكميل نصاب عروض التجارة وتزكى زكاة النقدين، أما في غير عروض التجارة فلا يضم بعضها إلى بعض (2).

‌‌10 - الصواب عدم جواز العدول عن المقادير المقدرة من النبي صلى الله عليه وسلم في بهيمة الأنعام في الزكاة إلى القيمة إلا الجبرانات المقدرة كما في زكاة الإبل؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم هو الذي قدرها من بهيمة الأنعام كما تقدم، وكذلك زكاة الفطر، فلا يجوز إخراج القيمة عن العين المقدرة في الزكاة على الصحيح من أقوال أهل العلم (3) والله تعالى أعلم (4).

--------------------------------------------

(1) تعليق مجموعة من طلبة العلم على الروض المربع بإشراف عبد الله الطيار، 4/ 64.

(2) فتاوى العلامة ابن باز، 14/ 58.

(3) المقنع والشرح الكبير مع الإنصاف، 6/ 448، وفتاوى اللجنة الدائمة، 9/ 207.

(4) اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في عدم جواز إخراج القيمة في الزكاة، فمذهب الإمام أحمد لا تجزئ القيمة مطلقاً: أي سواء كان ذلك لحاجة أم لا، لمصلحة أو لا، الفطرة وغيرها وبه قال الإمام مالك والشافعي.

وقال الثوري وأبو حنيفة: يجوز، وعن الإمام أحمد مثل قول أبي حنيفة فيما عدا زكاة الفطر، قال في الإنصاف: ((وعنه تجزئ القيمة مطلقاً، وعنه تجزئ في غير الفطرة، وعنه تجزئ للحاجة: من تعذر الفرض ونحوه واختاره الشيخ تقي الدين، وقيل: ولمصلحة أيضاً واختاره الشيخ تقي الدين)) [المقنع والشرح الكبير مع الإنصاف، 6/ 448 - 449].
৮ - গবাদি পশুর জাকাত হিসেবে যা প্রদান করা হবে তার শর্তাবলি, এর জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

প্রথম শর্ত: বয়স, উট, গরু এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য যে বয়সের প্রয়োজন, তার বিবরণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

দ্বিতীয় শর্ত: স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া, পুরুষ পশু প্রদানের বৈধতার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো ব্যতিক্রম, তা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

তৃতীয় শর্ত: এমন ত্রুটিযুক্ত না হওয়া যা কুরবানিতে (أضحية) যথেষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়, তবে যদি সব কটি পশুই ত্রুটিযুক্ত হয় তবে ভিন্ন কথা।

চতুর্থ শর্ত: মাঝারি মানের হওয়া: সুতরাং অতি উৎকৃষ্ট পশু নেওয়া হবে না এবং নিকৃষ্ট মানের পশুও নেওয়া হবে না (১)।

৯ - যদি কোনো মুসলিমের মালিকানায় উট, গরু বা ছাগল-ভেড়ার নিসাব অপেক্ষা কম সংখ্যক পশু থাকে এবং সেগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে হয়; তবে ব্যবসার পণ্যের (عروض التجارة) নিসাব পূর্ণ করার জন্য এক জাতীয় পশুকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা হবে এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের (نقدين) জাকাতের ন্যায় তার জাকাত প্রদান করা হবে। তবে ব্যবসার পণ্য না হলে একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা যাবে না (২)।

১০ - সঠিক (صواب) মত হলো, গবাদি পশুর জাকাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাপ থেকে বিচ্যুত হয়ে তার মূল্যে (قيمة) যাওয়া বৈধ নয়, তবে উটের জাকাতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ (جبرانات) বা বিনিময় ব্যতীত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গবাদি পশু থেকেই তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে জাকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রেও একই বিধান। সুতরাং আলেমদের বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী জাকাতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বস্তুর পরিবর্তে তার মূল্য (قيمة) প্রদান করা জায়েজ নয় (৩) এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ (৪)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ আল-তায়্যারের তত্ত্বাবধানে একদল ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীর ‘আর-রাওদ আল-মুরবি’র ওপর টীকা, ৪/৬৪।

(২) ফাতাওয়া আল-আল্লামা ইবনে বাজ, ১৪/৫৮।

(৩) আল-ইনসাফসহ আল-মুকনি ও আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৪৪৮ এবং ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ৯/২০৭।

(৪) জাকাতের ক্ষেত্রে মূল্য (قيمة) প্রদান জায়েজ না হওয়ার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) মতভেদ করেছেন। ইমাম আহমদের মাযহাব হলো—মূল্য প্রদান করা মোটেই যথেষ্ট হবে না: অর্থাৎ চাই তা প্রয়োজনের কারণে হোক বা না হোক, জনকল্যাণের স্বার্থে হোক বা না হোক, ফিতরা হোক বা অন্য কিছু; ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেঈ-ও একই কথা বলেছেন।

সুফিয়ান সাওরী ও আবু হানিফা বলেছেন: এটি জায়েজ। ইমাম আহমদ থেকেও আবু হানিফার মতের অনুরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে জাকাতুল ফিতর ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ((তার থেকে একটি বর্ণনা হলো, মূল্য প্রদান করা নিঃশর্তভাবে জায়েজ। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ফিতরা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে জায়েজ। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জায়েজ: যেমন নির্ধারিত পশু পাওয়া অসম্ভব হওয়া বা অনুরূপ পরিস্থিতিতে, এবং শেখ তাকিউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়্যাহ) এই মতটি গ্রহণ করেছেন। আরও বলা হয়েছে: জনকল্যাণের (مصلحة) খাতিরেও এটি জায়েজ এবং শেখ তাকিউদ্দীন এটিও পছন্দ করেছেন)) [আল-ইনসাফসহ আল-মুকনি ও আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৪৪৮-৪৪৯]।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌11 - تؤخذ الزكاة على المياه، والموارد، وفي الدور، لئلا يشق الساعي على أصحاب الأموال؛ لحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تؤخذ صدقات المسلمين على مياههم)) (1) ولفظ أبي داود: ((لا جلب (2) ولا جنب (3)، ولا تؤخذ صدقاتهم إلا في دورهم)) (4).

‌‌12 - لا يشتري المسلم صدقته إذا وجدها تباع؛ لحديث عبد الله بن عمر: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه حمل على فرس في سبيل الله فوجده يُباع، فأراد أن يبتاعه، فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، فقال: ((لا تبتعه ولا تعد في صدقتك)) (5).

--------------------------------------------

(1) أحمد في المسند، 2/ 184 - 185، وانظر: سلسلة الأحاديث الصحيحة للألباني برقم 1779.

(2) لا جلب: تؤخذ صدقة الماشية في مواضعها ولا تجلب إلى المصدِّق لما في ذلك من المشقة عليهم. انظر: سنن أبي داود برقم 1592.

(3) ولا جنب: لا يجنب أصحابها: أي لا يكون الرجل بأقصى مواضع أصحاب الصدقة فتجنب إليه، ولكن تؤخذ في موضعه. سنن أبي داود برقم 1592 والمعنى والله أعلم: [لا يبعد صاحب المال المالَ بحيث تكون مشقة على العامل].

(4) أبو داود، كتاب الزكاة، باب أين تصدق الأموال، برقم 1591، وقال الألباني في صحيح سنن أبي داود 1/ 443: ((حسن صحيح)).

(5) أبو داود، كتاب الزكاة، باب الرجل يبتاع صدقته، برقم 1593، وأخرجه البخاري ومسلم.
১১ - জাকাত গ্রহণ করা হবে পানির নিকট, উেসর নিকট এবং ঘরবাড়িতে, যাতে জাকাত সংগ্রাহক সম্পদ মালিকদের জন্য কষ্টসাধ্য না হন; আমর ইবনে শুয়াইবের তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিমদের সদকা তাদের পানির নিকট হতে গ্রহণ করা হবে।" (১) এবং আবু দাউদের শব্দ হলো: "না আছে গবাদি পশুকে হাঁকিয়ে আনা (لا جلب) (২), আর না আছে দূরে সরিয়ে রাখা (لا جنب) (৩), এবং তাদের সদকা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও থেকে গ্রহণ করা হবে না।" (৪)।

১২ - কোনো মুসলিম তার প্রদানকৃত সদকা বিক্রি হতে দেখলে তা পুনরায় ক্রয় করবে না; আবদুল্লাহ ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসের কারণে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করেছিলেন, অতঃপর তিনি সেটাকে বিক্রি হতে দেখলেন। তিনি সেটি ক্রয় করতে চাইলেন এবং এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার সদকায় ফিরে যেয়ো না।" (৫)।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ তাঁর মুসনাদে, ২/ ১৮৪ - ১৮৫, এবং দেখুন: আলবানীর সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ, নম্বর ১৭৭৯।

(২) না আছে হাঁকিয়ে আনা (لا جلب): গবাদি পশুর সদকা তাদের অবস্থানের জায়গাতেই গ্রহণ করা হবে এবং জাকাত সংগ্রাহকের নিকট হাঁকিয়ে আনা হবে না, কারণ এতে তাদের উপর কষ্ট হয়। দেখুন: সুনানে আবু দাউদ, নম্বর ১৫৯২।

(৩) না আছে দূরে সরিয়ে রাখা (لا جنب): এর মালিকদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে না: অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি সদকা প্রদানকারীদের স্থান থেকে অনেক দূরে অবস্থান করবে না যাতে সম্পদকে তার নিকট সরিয়ে নিতে হয়, বরং তা তার নিজ স্থানেই গ্রহণ করা হবে। সুনানে আবু দাউদ, নম্বর ১৫৯২। এর অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—[সম্পদের মালিক সম্পদকে দূরে সরিয়ে রাখবে না যাতে জাকাত কর্মীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়]।

(৪) আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: কোথায় সম্পদের সদকা প্রদান করতে হয়, নম্বর ১৫৯১, এবং আলবানী সহিহ সুনানে আবু দাউদে ১/ ৪৪৩-এ বলেছেন: "উত্তম ও বিশুদ্ধ (حسن صحيح)"।

(৫) আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার সদকা ক্রয় করে, নম্বর ১৫৯৩, এবং এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌13 - دعاء المصدِّق لأهل الصدقة عند دفعهم الزكاة؛ لحديث عبد الله بن أبي أوفى، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتاه قوم بصدقتهم قال: ((اللهم صلِّ عليهم)) فأتاه أَبي أبُو أوفى بصدقته فقال: ((اللهم صلِّ على آل أبي أوفى)) (1). أو يقول: ((اللهم بارك فيه وفي ماله))، لحديث وائل بن حجر رضي الله عنه: أن رجلاً جاء بناقة حسناء، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: ((اللهم بارك فيه وفي إبله)) (2).

‌‌14 - إذا ملك نِصاباً صغاراً انعقد عليه الحول من حين ملكه؛ لأن السخال تعدُّ مع غيرها فتعدُّ منفردة كالأمهات، ومثال ذلك: اشترى رجل أربعين سخلة، فإن الحول يبدأ من وقت ملكه لها، فإذا مضى حول دفع زكاتَها؛ لعموم قوله عليه الصلاة والسلام: (( … فإذا بلغت خمساً من الإبل ففيها شاة)) (3).

‌‌15 - نتاج السائمة من بهيمة الأنعام حولها حول أمهاتها إن كانت الأمهات بلغت نصاباً، وإن كانت الأمهات لم تبلغ نصاباً فبداية الحول من كمال النصاب؛ لما روي عن عمر رضي الله عنه: أنه قال لساعيه: ((اعتد عليهم بالسخلة يروح بها الراعي على يديه ولا تأخذها منهم)) (4)؛ وهو

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الزكاة، باب الدعاء لمن أتى بصدقة، برقم 1078.

(2) النسائي، برقم 2457، وتقدم تخريجه، في فقرة، لا يأخذ في الصدقة: هرمة.

(3) اختلف في زكاة الصغار من بهيمة الأنعام إذا ملكها الإنسان، فقيل: فيها الزكاة إذا اكتملت الشروط، وهذه الرواية الأولى عن الإمام أحمد وهي المشهورة في مذهبه، والرواية الثانية لا ينعقد عليه الحول حتى يبلغ سناً يجزئ مثله في الزكاة، وهو قول أبي حنيفة [الشرح الكبير، 6/ 358].

(4) الإمام مالك، باب ما جاء فيما يعتد به من السخل في الصدقة، من كتاب الزكاة في الموطأ، 1/ 265، والبيهقي في باب السن التي تؤخذ في الغنم، من كتاب الزكاة، السنن الكبرى، 4/ 100. وانظر: الكلام على الحديث في جامع الأصول لابن الأثير، 4/ 601.
‌‌১৩ - যাকাত প্রদানের সময় যাকাত দাতা বা সাদাকা প্রদানকারীর জন্য যাকাত সংগ্রাহকের দোয়া; আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আউফা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট যখন কোনো সম্প্রদায় তাদের সাদাকা নিয়ে আসত, তখন তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন"। অতঃপর আমার পিতা আবু আউফা তার সাদাকা নিয়ে তাঁর নিকট আসলে তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি আবু আউফার পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন" (১)। অথবা সে বলবে: "হে আল্লাহ! আপনি তাকে ও তার সম্পদে বরকত দান করুন", ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: এক ব্যক্তি একটি সুন্দর উষ্ট্রী নিয়ে আসলেন, তখন নবী ﷺ তাকে বললেন: "হে আল্লাহ! তাকে ও তার উটগুলোতে বরকত দান করুন" (২)।

‌‌১৪ - যদি কেউ নেসাব পরিমাণ ছোট গবাদিপশুর মালিক হয়, তবে মালিক হওয়ার সময় থেকেই তার ওপর বছর গণনা শুরু হবে; কারণ পশুশাবকগুলো অন্যদের সাথেই গণ্য করা হয়, ফলে সেগুলো মায়েদের মতোই স্বতন্ত্রভাবে গণ্য হবে। এর উদাহরণ হলো: এক ব্যক্তি চল্লিশটি বকরি ছানা ক্রয় করল, তবে তার মালিক হওয়ার সময় থেকেই বছর গণনা শুরু হবে। যখন বছর অতিক্রান্ত হবে, তখন সে এগুলোর যাকাত প্রদান করবে; কারণ তাঁর (সা.) সাধারণ বাণীর ব্যাপকতার কারণে: (( ... যখন উটের সংখ্যা পাঁচটিতে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি বকরি দিতে হবে)) (৩)।

‌‌১৫ - চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদিপশুর শাবকসমূহের বছর গণনা তার মায়েদের বছর অনুযায়ী হবে যদি মায়েরা নেসাব পরিমাণ হয়, আর যদি মায়েরা নেসাব পরিমাণ না হয়, তবে নেসাব পূর্ণ হওয়ার সময় থেকে বছরের সূচনা হবে; উমর (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে, তিনি তাঁর যাকাত সংগ্রাহককে বলেছিলেন: "রাখাল তার দুই হাতে বহন করে আনছে এমন ছোট বাচ্চাকেও তাদের হিসেবে গণনা করো, কিন্তু সেগুলো তাদের থেকে গ্রহণ করো না" (৪); এটি হচ্ছে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, যাকাত অধ্যায়, যাকাত নিয়ে আগমনকারীর জন্য দোয়ার অনুচ্ছেদ, নং ১০৭৮।

(২) নাসায়ী, নং ২৪৫৭, এবং এর তাখরিজ (تخريج) আগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যাকাত হিসেবে যা নেওয়া হবে না: অতি বৃদ্ধ পশু’ অনুচ্ছেদে।

(৩) গবাদিপশুর ছোট বাচ্চাদের যাকাত নিয়ে মতভেদ রয়েছে যখন মানুষ সেগুলোর মালিক হয়। বলা হয়েছে: শর্তসমূহ পূর্ণ হলে এতে যাকাত আছে, এটি ইমাম আহমদের প্রথম বর্ণনা (رواية) এবং তাঁর মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত। দ্বিতীয় বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, যাকাতের উপযুক্ত বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত তার ওপর বছর গণনা শুরু হবে না, এবং এটি আবু হানিফার মত [আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৩৫৮]।

(৪) ইমাম মালিক, যাকাত হিসেবে গণ্য পশুশাবক অনুচ্ছেদ, মুয়াত্তা-এর যাকাত অধ্যায়, ১/২৬৫; এবং বায়হাকী, ছাগল-ভেড়ার যাকাত হিসেবে গ্রহণের বয়সের অনুচ্ছেদ, যাকাত অধ্যায়, আস-সুনানুল কুবরা, ৪/১০০। আরও দেখুন: জামিউল উসুল লি-ইবনিল আসির-এ হাদিসটির আলোচনা, ৪/৬০১।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مذهب علي رضي الله عنه ولا يعرف لهما في عصرهما مخالفاً فكان إجماعاً؛ ولأنه نماء نصاب فيجب أن يضم إليه في الحول كأموال التجارة (1) والحكم في فصلان الإبل وعجول البقر كالحكم في السخال (2).

 

‌‌16 - كل جنس من: الإبل، والبقر، والغنم ينقسم إلى نوعين:

‌‌فالإبل نوعان: العراب: وهي الإبل العربية، وهي ذات سنام واحد.

والبخاتي: جمع (بخيتة) وهي إبل العجم والترك، وهي ذات سنامين.

 

‌‌والبقر نوعان: البقر المعتاد، والجواميس.

‌‌والغنم نوعان: ضأن: وهي ذوات الصوف، ومعز: وهي ذوات الشعر، ويقال: للذكر والأنثى من الضأن والمعز شاة. والمقادير الواجبة في الزكاة السابقة تشمل من كل جنس: نوعيه، ويضم أحدهما للآخر في تكميل النصاب إجماعاً (3).

‌‌17 - الخلطة في بهيمة الأنعام السائمة الأصل فيها حديث أنس رضي الله عنه: أن أبا بكر رضي الله عنه كتب له التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ولا يجمع بين متفرق، ولا يفرق بين مجتمع خشية الصدقة))، ((وما كان من خليطين فإنهما يتراجعان بينهما بالسوية)) (4).

--------------------------------------------

(1) المغني لابن قدامة، 4/ 46، والشرح الكبير، 6/ 352.

(2) الشرح الكبير، 6/ 353، والمغني، 4/ 46.

(3) الموسوعة الفقهية، 23/ 259.

(4) البخاري، كتاب الزكاة، باب لا يجمع بين متفرق ولا يفرق بين مجتمع، وبابٌ: ما كان من خليطين فإنهما يتراجعان بينهما بالسوية، برقم 1450، ورقم 1451، وانظر: الروض المربع المحقق، 4/ 68.
এটি আলী (রা.)-এর মাযহাব এবং তাঁদের যুগে তাঁদের দুইজনের কোনো বিরোধিতাকারী জানা নেই, তাই এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع); কারণ এটি নিসাবের প্রবৃদ্ধি, তাই বৎসরান্ত (حول) হওয়ার ক্ষেত্রে একে মূল মালের সাথে যুক্ত করা ওয়াজিব যেমনটি ব্যবসা পণ্যের ক্ষেত্রে করা হয় (১)। আর উটের বাচ্চা এবং গরুর বাচ্চার বিধান ছাগল-ভেড়ার বাচ্চার বিধানের মতোই (২)।

 

‌‌১৬ - প্রতিটি শ্রেণি (جنس): উট, গরু এবং ছাগল-ভেড়া দুই প্রকারে বিভক্ত:

‌‌উটের দুই প্রকার: আল-ইরাব: এগুলো হলো আরবীয় উট এবং এগুলো এক কুঁজ বিশিষ্ট।

এবং আল-বুখতি: (بخيتة) এর বহুবচন, এগুলো অনারব ও তুর্কি উট এবং এগুলো দুই কুঁজ বিশিষ্ট।

 

‌‌গরু দুই প্রকার: সাধারণ গরু এবং মহিষ।

‌‌ছাগল-ভেড়া দুই প্রকার: দ্বাউন (ভেড়া): যা পশমযুক্ত, এবং মা'য (ছাগল): যা লোমযুক্ত। দ্বাউন এবং মা'য-এর পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কে 'শাহ' বলা হয়। জাকাতের পূর্বে বর্ণিত ওয়াজিব পরিমাণগুলো প্রতিটি শ্রেণির উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একে অন্যটির সাথে যুক্ত করা হবে—এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) (৩)।

‌‌১৭ - বিচরণকারী (سائمة) গবাদি পশুর ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব (خلطة) এর মূল ভিত্তি হলো আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস: আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত বিধান লিখে পাঠিয়েছিলেন: ((সাদাকার ভয়ে পৃথক মালকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিত মালকে পৃথক করা যাবে না)), ((আর দুই অংশীদারের যে মাল থাকবে, তারা সমতার ভিত্তিতে পরস্পরের মধ্যে হিসাব সমন্বয় করে নেবে)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি লি-ইবনে কুদামা, ৪/৪৬, এবং আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৩৫২।

(২) আশ-শারহুল কাবীর, ৬/৩৫৩, এবং আল-মুগনি, ৪/৪৬।

(৩) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, ২৩/২৫৯।

(৪) বুখারি, কিতাবুয জাকাত, পরিচ্ছেদ: পৃথক মালকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিত মালকে পৃথক করা যাবে না, এবং পরিচ্ছেদ: দুই অংশীদারের যে মাল থাকবে তারা সমতার ভিত্তিতে হিসাব সমন্বয় করে নেবে, হাদিস নং ১৪৫০, ১৪৫১, এবং দেখুন: আর-রাওদুল মুরব্বি আল-মুহাক্কাক, ৪/৬৮।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌والخلطة نوعان:

‌‌النوع الأول: خلطة أعيان: بأن يملك شخصان أو أكثر مالاً مشاعاً، يرثانه، أو يشتريانه، أو غير ذلك، ويكون مشاعاً بينهما ولكن لا يتميز مال كل واحد منهما.

‌‌النوع الثاني: خُلطة أوصاف: بأن يكون مالُ كل واحد منهما مميزاً ولكن اشتركا في المُراح، والمسرح، والمشرب، والمحلب، والراعي، والفحل.

‌‌وكلا النوعين المذكورين في الخلطة يؤثر في جعل مالهما كالمال الواحد في أمرين:

‌‌الأمر الأول: الواجب فيهما كالواجب في مال واحد، فإن بلغا معاً نصاباً ففيهما الزكاة، وإن زادا على النصاب لم يتغير الفرض حتى يبلغا فريضة ثانية، فلو كان لكل واحد منهما عشرون من الغنم كان عليهما شاة، وإن كان لكل واحد منهما ستون لم يجب أكثر من شاة، وتكون الشاة بينهما بالسوية.

‌‌الأمر الثاني: أن للساعي أخذ الفرض من مال أيهما شاء، سواء دعت إليه حاجة؛ لكون الفرض واحداً، أو لم تدع إليه حاجة بأن يجد فرض كل واحد منهما في ماله؛ لأن مالهما صار كالمال الواحد في الإيجاب، فكذلك في الإخراج.

ويعتبر‌‌ في الخلطة شروط خمسة:

‌‌الشرط الأول: أن تكون الخلطة في السائمة من بهيمة الأنعام ولا تؤثر الخلطة في غيرها من الأموال.

‌‌الشرط الثاني: أن يكون الخليطان من أهل الزكاة؛ فإن كان أحدهما
মিশ্রণ (خلطة) দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: মূল সম্পদের মিশ্রণ (خلطة أعيان): এর অর্থ হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো অবিভক্ত সম্পদের মালিক হওয়া, যা তারা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছে, অথবা ক্রয় করেছে, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে মালিক হয়েছে; এবং সম্পদটি তাদের মধ্যে অবিভক্ত থাকে কিন্তু প্রত্যেকের সম্পদ পৃথকভাবে চিহ্নিত থাকে না।

দ্বিতীয় প্রকার: বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ (خلطة أوصاف): এর অর্থ হলো তাদের প্রত্যেকের সম্পদ পৃথকভাবে চিহ্নিত থাকে, কিন্তু তারা পশু থাকার স্থান, চারণভূমি, পান করার স্থান, দোহনের স্থান, রাখাল এবং প্রজননের জন্য পুরুষ পশুর ক্ষেত্রে অংশীদার হয়।

মিশ্রণের ক্ষেত্রে উল্লিখিত উভয় প্রকারই তাদের উভয়ের সম্পদকে দুটি বিষয়ে একটি সম্পদের মতো গণ্য করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে:

প্রথম বিষয়: উভয় ক্ষেত্রে যাকাত ওয়াজিব হওয়া একটি সম্পদের মতো গণ্য হবে, সুতরাং তারা একত্রে যদি নেসাব (نصاب) পরিমাণ পৌঁছে যায় তবে তাতে যাকাত আবশ্যক হবে। আর যদি নেসাব (نصاب) এর অতিরিক্ত হয় তবে নির্ধারিত বিধান (فرض) ততক্ষণ পরিবর্তিত হবে না যতক্ষণ না তা দ্বিতীয় স্তরের বিধানে পৌঁছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি তাদের প্রত্যেকের ২০টি করে ভেড়া থাকে তবে তাদের উভয়ের ওপর একটি ভেড়া যাকাত দেওয়া আবশ্যক হবে। আর যদি প্রত্যেকের ৬০টি করে ভেড়া থাকে তবুও একটির বেশি ভেড়া আবশ্যক হবে না এবং এই ভেড়াটি তাদের উভয়ের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।

দ্বিতীয় বিষয়: যাকাত সংগ্রহকারী (ساعي) তাদের যার সম্পদ থেকে ইচ্ছা যাকাত গ্রহণ করতে পারবেন, চাই এর প্রয়োজন থাকুক—যাকাতের পরিমাণ এক হওয়ার কারণে, অথবা প্রয়োজন না থাকুক—অর্থাৎ তিনি যদি প্রত্যেকের সম্পদের মধ্যেই যাকাতের অংশ বিদ্যমান পান; কারণ তাদের সম্পদ ওয়াজিব (إيجاب) হওয়ার ক্ষেত্রে যেমন একটি সম্পদের মতো হয়ে গেছে, তেমনি তা আদায়ের (إخراج) ক্ষেত্রেও অনুরূপ হবে।

এবং মিশ্রণের ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্ত বিবেচিত হয়:

প্রথম শর্ত: মিশ্রণটি গবাদি পশুর বিচরণকারী পশুর (سائمة) ক্ষেত্রে হতে হবে, গবাদি পশু ছাড়া অন্য কোনো সম্পদে মিশ্রণ প্রভাব ফেলে না।

দ্বিতীয় শর্ত: মিশ্রণকারী উভয় ব্যক্তিকে যাকাত প্রদানের যোগ্য হতে হবে; কারণ যদি তাদের একজন...
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مكاتباً أو ذمّيّاً فلا أثر لخلطته؛ لأنه لا زكاة في ماله ما لم يكمل النصاب به.

 

‌‌الشرط الثالث: أن يختلطا في نصاب؛ فإن اختلطا فيما دونه مثل أن يختلطا في ثلاثين شاة لم تؤثر الخلطة.

‌‌الشرط الرابع: أن يختلطا في ستة أشياء لا يتميز أحدهما عن صاحبه فيها؛ وهي المسرح، والمشرب، والمحلب، والمراح، والراعي، والفحل، فإذا اكتملت هذه الشروط كان مال الشخصين كالمال الواحد.

‌‌الشرط الخامس: أن يختلطا في جميع الحول من أوله إلى آخره (1).

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا يجمع بين متفرق، ولا يفرق بين مجتمع خشية الصدقة)) قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: قال مالك في الموطأ: ((معنى هذا الحديث أن يكون النفر الثلاثة لكل واحد منهم أربعون شاة وجبت فيها الزكاة فيجمعونها حتى لا تجب عليهم كلهم فيها إلا شاة واحدة، أو يكون للخليطين مائتا شاة وشاتان فيكون عليهما فيها ثلاث شياه فيفرقونها حتى لا يكون على كل واحد إلا شاة واحدة، وقال الشافعي رحمه الله: هو خطاب لرب المال من جهة وللساعي من جهة، فأمر كل واحد منهم أن لا يحدث شيئاً من الجمع والتفريق خشية الصدقة، فرب المال يخشى أن تكثر الصدقة فيجمع أو يفرق لتقل، والساعي يخشى أن تقل الصدقة فيجمع أو يفرق لتكثر. فمعنى قوله صلى الله عليه وسلم: ((خشية الصدقة)) أي خشية: أن تكثر الصدقة أو خشية أن تقل الصدقة … )) (2).

--------------------------------------------

(1) الكافي لابن قدامة، 2/ 123 - 124، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 6/ 454 - 460، والمغني، 4/ 51 - 64.

(2) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، 3/ 314.
মুকাতাব (চুক্তিভুক্ত দাস) কিংবা জিম্মি (অমুসলিম নাগরিক) হলে তার মিশ্রণের (الخلطة) কোনো প্রভাব থাকবে না; কারণ নিসাব (نصاب) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পদে কোনো জাকাত নেই।

 

‌‌তৃতীয় শর্ত: নিসাব (نصاب) পরিমাণ সম্পদে মিশ্রিত হওয়া; যদি তারা এর কম পরিমাণে মিশ্রিত করে, যেমন ত্রিশটি ছাগলের ক্ষেত্রে মিশ্রণ ঘটে, তবে এই মিশ্রণ (الخلطة) কোনো প্রভাব ফেলবে না।

‌‌চতুর্থ শর্ত: ছয়টি বিষয়ে মিশ্রিত হওয়া যাতে একে অপরের থেকে অন্যজন পৃথক না থাকে; আর তা হলো: চারণভূমি, পানিস্থল, দোহনস্থল, বিশ্রামস্থল, রাখাল এবং প্রজননকারী পুং-প্রাণী। যখন এই শর্তগুলো পূর্ণ হবে, তখন দুই ব্যক্তির সম্পদ একক সম্পদের মতো গণ্য হবে।

‌‌পঞ্চম শর্ত: বছরের (الحول) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ সময় মিশ্রিত থাকা (১)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জাকাত কমে যাওয়ার ভয়ে পৃথক সম্পদকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিত সম্পদকে পৃথক করা যাবে না।" হাফিজ ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ইমাম মালিক আল-মুয়াত্তা গ্রন্থে বলেছেন: "এই হাদিসের অর্থ হলো, তিনজন ব্যক্তির প্রত্যেকের যদি চল্লিশটি করে ছাগল থাকে যাতে জাকাত ওয়াজিব (واجب) হয়েছে, তবে তারা তা একত্রিত করে ফেলে যাতে তাদের সবার ওপর মাত্র একটি ছাগল ছাড়া আর কিছু ওয়াজিব (واجب) না হয়; অথবা দুই অংশীদারের যদি দুইশত দুই (২০২)টি ছাগল থাকে যাতে তাদের ওপর তিনটি ছাগল প্রদান করা ওয়াজিব (واجب) হয়, অতঃপর তারা তা পৃথক করে ফেলে যাতে প্রত্যেকের ওপর একটির বেশি ছাগল না আসে। ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এটি একদিকে সম্পদের মালিকের প্রতি এবং অন্যদিকে জাকাত সংগ্রহকারীর প্রতি নির্দেশ। তিনি তাদের প্রত্যেককে আদেশ দিয়েছেন যেন জাকাতের ভয়ে একত্রীকরণ বা পৃথকীকরণের কোনো কিছু না করে। সম্পদের মালিক জাকাত বৃদ্ধি পাওয়ার ভয়ে তা একত্রিত বা পৃথক করে যাতে তা কমে যায়, আর জাকাত সংগ্রহকারী জাকাত কমে যাওয়ার ভয়ে তা একত্রিত বা পৃথক করে যাতে তা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'জাকাতের ভয়ে' এর অর্থ হলো: জাকাত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অথবা জাকাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা … " (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা রচিত আল-কাফি, ২/ ১২৩ - ১২৪; এবং আল-মুকনি মাআশ শারহিল কাবীর ওয়াল ইনসাফ, ৬/ ৪৫৪ - ৪৬০; এবং আল-মুগনি, ৪/ ৫১ - ৬৪।

(২) ফাতহুল বারী বিশারহি সহিহ বুখারি, ৩/ ৩১৪।
(খণ্ড: ১) জাকাতু বাহিমাতিল আনয়াম আস-সা-ইমাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌والخلطة لها تأثير في الماشية: إيجاباً، وإسقاطاً، وتغليظاً، وتخفيفاً، ومن أمثلة ذلك:

* لو كان لإنسان شاة ولآخر تسع وثلاثون شاة واشتركا حولاً كاملاً فعليهما شاة على حسب ملكهما، يتراجعان بينهما بالسوية، وهذه الصورة تفيد تغليظاً؛ لأن كل واحد منهما لو انفرد بملكه فلا زكاة عليه.

* لو كان لأربعين رجلاً أربعون شاة لكل واحد شاة واشتركوا حولاً تاماً فعليهم زكاة شاة على حسب ملكهم، يتراجعون بينهم بالسوية.

* وإذا كان لثلاثة مائة وعشرون شاة لكل واحد أربعون، ولم يثبت لأحدهم حكم الانفراد في شيء من الحول فعليهم شاة أثلاثاً. وهذا يدل على أن الخلطة تخفيفاً في مثل هذه الصورة، وهكذا فالخلطة تفيد إيجاباً، وتغليظاً، وتخفيفاً وإسقاطاً (1).

 

‌‌18 - إذا كانت سائمة الرجل الواحد في بلدان شتى وبينهما مسافة لا تقصر فيها الصلاة أو كانت مجتمعة ضُمَّ بعضها إلى بعضٍ وكانت زكاتها كزكاة المختلطة بغير خلاف. وإن كان بين البلدان مسافة القصر فعن أحمد روايتان: إحداهما: أن لكل مال حكم نفسه يعتبر على حدته إن كان نِصَاباً ففيه الزكاة وإلا فلا، ولا يضم إلى المال الذي في البلد الآخر … قال ابن المنذر: لا أعلم هذا القول عن غير أحمد، والرواية الثانية عن أحمد أن صاحب المال يضم بعضه إلى بعض في الزكاة ويؤدِّي زكاته، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وهذا هو الصحيح إن شاء الله

--------------------------------------------

(1) الروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 2/ 208، والشرح الممتع لابن عثيمين، 6/ 69.
‌গবাদি পশুর ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের প্রভাব রয়েছে: (জাকাত) আবশ্যক হওয়া, বিলুপ্ত হওয়া, পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার ক্ষেত্রে, এবং এর উদাহরণসমূহ নিম্নরূপ:

* যদি কোনো ব্যক্তির একটি ভেড়া থাকে এবং অন্যজনের ৩৯টি ভেড়া থাকে এবং তারা পূর্ণ এক বছর অংশীদার হিসেবে থাকে, তবে তাদের মালিকানা অনুপাতে একটি ভেড়া জাকাত দিতে হবে, যা তারা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে সমন্বয় করে নেবে। এই চিত্রটি পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার উদাহরণ; কারণ তারা প্রত্যেকে আলাদা মালিক হলে কারও ওপরই জাকাত আসত না।

* যদি ৪০ জন ব্যক্তির ৪০টি ভেড়া থাকে এবং প্রত্যেকের একটি করে ভেড়া থাকে এবং তারা পূর্ণ এক বছর অংশীদার থাকে, তবে তাদের ওপর মালিকানা অনুযায়ী একটি ভেড়া জাকাত দেওয়া আবশ্যক হবে এবং তারা তা সমানভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে নেবে।

* আর যদি তিন ব্যক্তির ১২০টি ভেড়া থাকে এবং প্রত্যেকের ৪০টি করে থাকে, এবং বছরের কোনো সময়েই তাদের কারও ওপর একক মালিকানার বিধান কার্যকর না হয়, তবে তাদের ওপর তিন ভাগের এক ভাগ হিসেবে (যৌথভাবে) একটি ভেড়া জাকাত আসবে। এটি প্রমাণ করে যে, এই ধরনের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দেয়। এভাবেই অংশীদারিত্বের ফলে (জাকাত) আবশ্যক হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, হ্রাস পাওয়া এবং বিলুপ্ত হওয়ার প্রভাব পড়ে (১)।

 

‌‌১৮ - যদি কোনো ব্যক্তির চারণভূমিতে বিচরণকারী পশু বিভিন্ন শহরে থাকে এবং শহরগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব এমন হয় যে নামাজ কসর করতে হয় না অথবা সেগুলো একত্রে থাকে, তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা হবে এবং এর জাকাত হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে থাকা পশুর জাকাতের মতোই। আর যদি শহরগুলোর মধ্যে কসরের দূরত্ব থাকে, তবে ইমাম আহমাদ থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে: প্রথমটি হলো, প্রতিটি মালের বিধান আলাদাভাবে বিবেচিত হবে; যদি তা নিসাব পরিমাণ হয় তবে জাকাত আসবে, অন্যথায় নয়; এবং এক শহরের মাল অন্য শহরের মালের সাথে যুক্ত হবে না ... ইবনুল মুনজির বলেন: ইমাম আহমাদ ছাড়া অন্য কারও থেকে আমি এই মতটি জানি না। ইমাম আহমাদ থেকে দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো, মালের মালিক জাকাতের জন্য এক অঞ্চলের মাল অন্য অঞ্চলের মালের সাথে যুক্ত করবেন এবং জাকাত আদায় করবেন। ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক (صحيح)"।

--------------------------------------------

(১) আর-রাওদুল মুরবি' মা'আ হাশিয়াত ইবনে কাসিম, ২/২০৮; এবং আশ-শারহুল মুমতি' লি-ইবনে উসাইমিন, ৬/৬৯।