(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: -)
زكاة الفطر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: زكاة الفطر - آداب، وأحكام، وشروط، ودرجات، ومسائل في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 32
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
যাকাতুল ফিতর বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: যাকাতুল ফিতর - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আদব, বিধান, শর্তাবলি, পর্যায় এবং মাসআলাসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: মাতবাআতু সাফির, রিয়াদ
পরিবেশক: মুয়াসসাসাতুল জুরাইসি লিদ-তাওজি ওয়াল ই'লান, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল কাদা ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: -)
45
رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني
زكاة الفطر
آداب، وأحكام، وشروط، ودرجات، ومسائل
في ضوء الكتاب والسنة
تأليف الفقير إلى الله تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
45
সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহ্তানির গবেষণাপত্রসমূহ
যাকাতুল ফিতর
শিষ্টাচার, বিধিবিধান, শর্তাবলি, পর্যায় এবং মাসআলাসমূহ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দার সংকলন
ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহ্তানি
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((زكاة الفطر)) بيَّنتُ فيها مفهوم زكاة الفطر: لغةً، واصطلاحاً، وأن الأصل في وجوبها عموم الكتاب، والسنة الصريحة، وإجماع أهل العلم، وذكرت شروطها المعتبرة عند أهل العلم، وأوضحت الحِكَمَ من زكاة الفطر، وأنها فرضٌ: على كل مسلمٍ حرٍّ، أو عبدٍ، أو كبيرٍ، أو صغيرٍ، أو ذكرٍ، أو أنثى، وأوضحت وقت إخراج زكاة الفطر، ومقدار زكاة الفطر: بالصّاع النبويّ وبالوزن، وذكرت درجات إخراج زكاة الفطر، ثم بيَّنت أهل زكاة الفطر الذين تُدفع لهم، وذكرتُ حُكْمَ دفع القيمة في زكاة الفطر، وأن زكاة الفطر تلزم المسلم عن نفسه وعن من يعول، ثم ختمت ذلك ببيان مكان زكاة الفطر، وحكم نقلها، وأحكام إخراج زكاة الأموال، وقد استفدت كثيراً من ترجيحات سماحة شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، غفر الله له، ورفع منزلته.
واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به من انتهى إليه؛ فإنه
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি ‘জাকাতুল ফিতর’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি জাকাতুল ফিতরের শাব্দিক (لغةً) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা স্পষ্ট করেছি এবং আরও বর্ণনা করেছি যে, এটি ওয়াজিব হওয়ার মূল ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআনের সাধারণ নির্দেশ, সুস্পষ্ট সুন্নাহ (السنة) এবং আলেমগণের ঐকমত্য (إجماع)। আমি আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি (شروط) উল্লেখ করেছি এবং জাকাতুল ফিতরের হিকমতসমূহ বর্ণনা করেছি। এটি প্রত্যেক স্বাধীন বা ক্রীতদাস, বড় বা ছোট, পুরুষ বা নারী—প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজ (فرض)। আমি জাকাতুল ফিতর আদায়ের সময় এবং নববী সা’ (صاع) ও ওজনের হিসেবে এর পরিমাণ স্পষ্ট করেছি। এরপর জাকাতুল ফিতর আদায়ের স্তরসমূহ উল্লেখ করেছি এবং এটি যাদের প্রদান করা যাবে তাদের বর্ণনা দিয়েছি। জাকাতুল ফিতরে সমমূল্য বা অর্থ প্রদানের বিধান এবং এই জাকাত যে মুসলিমের নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীলদের পক্ষ থেকে প্রদান করা আবশ্যক, তা উল্লেখ করেছি। এরপর জাকাতুল ফিতর আদায়ের স্থান, তা স্থানান্তরের বিধান এবং ধন-সম্পদের জাকাত আদায়ের নিয়মাবলি বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শেষ করেছি। এক্ষেত্রে আমি আমাদের শ্রদ্ধাভাজন শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন ও তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—এর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (ترجيحات) থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলকে বরকতময়, উপকারী এবং কেবল তাঁরই মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। এর মাধ্যমে যেন তিনি আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পর উপকৃত করেন এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি...
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৪)
خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف: أبو عبد الرحمن
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
حرر بعد الظهر من يوم السبت 28/ 3/1426هـ بمدينة الرياض
তিনিই সর্বোত্তম যাচিত সত্তা এবং সর্বাপেক্ষা মহিমান্বিত আশারস্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর শান্তি, নিরাপত্তা ও বরকত বর্ষণ করুন।
লেখক: আবু আব্দুর রহমান
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি
২৮/০৩/১৪২৬ হিজরি, রোজ শনিবার জোহরের পর রিয়াদ শহরে সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৫)
زكاة الفطر
أولاًَ: مفهوم زكاة الفطر:
الزكاة لغة: النماء، والزيادة، والطهارة، والبركة، يقال: زكى الزرع: إذا نما وزاد (1).
الفطر: اسم مصدر، من قولك: أفطر الصائم، يفطر إفطاراً؛ لأن المصدر منه: الإفطار، وهذه يراد بها الصدقة عن البدن، والنفس، وإضافة الزكاة إلى الفطر، من إضافة الشيء إلى سببه؛ لأن الفطر من رمضان سبب وجوبها، فأضيفت إليه؛ لوجوبها به، فيقال: ((زكاة الفطر)).
وقيل لها: فطرةٌ؛ لأن الفطرة: الخلقة، قال الله تعالى: {فِطْرَةَ الله الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا} (2). أي جبلته التي جبل الناس عليها، وهذه يراد بها الصدقة عن: البدن، والنفس، كما كانت الأولى صدقة عن المال (3)، ويقال: ((زكاة الفطر، وصدقة الفطر، ويقال للمُخْرَج: فطرة، وهي اصطلاحية للفقهاء، كأنها من الفطرة التي هي الخلقة: أي زكاة الخلقة)) (4).
زكاة الفطر في الاصطلاح: ((هي الصدقة تجب بالفطر من رمضان،
--------------------------------------------
জাকাতুল ফিতর
প্রথমত: জাকাতুল ফিতরের ধারণা:
আভিধানিক অর্থে জাকাত: প্রবৃদ্ধি, বৃদ্ধি, পবিত্রতা এবং বরকত। বলা হয়ে থাকে: শস্য জাকাত হয়েছে; অর্থাৎ যখন তা বৃদ্ধি পায় ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় (১)।
ফিতর: এটি একটি ইসমে মাসদার (اسم مصدر); যা ‘রোজাদার ইফতার করল’ (أفطر الصائم) বাক্য থেকে নির্গত। কেননা এর মূল মাসদার (مصدر) হলো ‘ইফতার’ (إفطار)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীর ও প্রাণের সদকা। জাকাত শব্দটিকে ফিতরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কোনো বস্তুকে তার কারণের দিকে সম্বন্ধ করার নিয়ম অনুযায়ী; কারণ রমজান মাসের ইফতার (রোজা সম্পন্ন করা) হলো এটি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার কারণ। সুতরাং এর আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার কারণে একে সেদিকেই সম্বন্ধ করা হয়েছে। ফলে একে বলা হয় ‘জাকাতুল ফিতর’।
একে ফিতরাহও বলা হয়; কারণ ফিতরাহ (فطرة) হলো সৃষ্টি বা স্বভাবজাত প্রকৃতি (خلقة)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহর দেওয়া ফিতরাত (فِطْرَةَ), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন} (২)। অর্থাৎ তাঁর সেই সৃষ্টিগত স্বভাব যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীর ও প্রাণের সদকা, যেমন প্রথমটি (জাকাত) ছিল সম্পদের সদকা (৩)। একে ‘জাকাতুল ফিতর’, ‘সদকাতুল ফিতর’ বলা হয় এবং যা প্রদান করা হয় তাকে ‘ফিতরাহ’ বলা হয়। এটি ফকিহদের (فقهاء) একটি পারিভাষিক শব্দ, যা ফিতরাত শব্দ থেকে উদ্ভূত এবং যা সৃষ্টি অর্থ প্রদান করে; অর্থাৎ শারীরিক বা সৃষ্টিগত জাকাত (৪)।
পারিভাষিক অর্থে জাকাতুল ফিতর: ((এটি এমন এক সদকা যা রমজানের ইফতারের মাধ্যমে ওয়াজিব (واجب) হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৬)
طهرة للصائم: من اللغو، والرفث)) (1).
وقيل: ((إنفاق مقدار معلوم، عن كل فرد مسلم يُعيله، قبل صلاة عيد الفطر، في مصارف مخصوصة)) (2).
وقيل: ((صدقة واجبة بالفطر من رمضان، وتسمى فرضاً، ومصرفها كزكاةٍ)) (3).
والحدُّ الذي يشمل التعريفات المتقدمة كلها، وهو: أن يقال: زكاة الفطر: صدقة معلومة بمقدار معلوم، من شخص مخصوص، بشروط مخصوصة، عن طائفة مخصوصة، لطائفة مخصوصة، تجب بالفطر من رمضان، طهرة للصائم: من اللغو، والرفث، وطعمة للمساكين، والله تعالى أعلم.
ثانياً: الأصل في وجوب زكاة الفطر: عموم الكتاب وصريح السنة والإجماع:
أما عموم الكتاب، فقيل: قول الله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى* وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} (4) (5). وعموم قول الله تعالى: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ
--------------------------------------------
রোজাদারের জন্য পবিত্রতা: অসার কথাবার্তা (اللغو) ও অশ্লীলতা (الرفث) থেকে (১)।
বলা হয়েছে: ((ঈদুল ফিতরের সালাতের পূর্বে নির্দিষ্ট ব্যয়ের খাতসমূহে, প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তি যার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে, তার পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করা)) (২)।
আরও বলা হয়েছে: ((রমজানের রোজা শেষে প্রদানকৃত একটি ওয়াজিব (واجبة) সদকা, যাকে ফরজ (فرضاً) বলা হয় এবং এর ব্যয়ের খাত যাকাতের মতোই)) (৩)।
আর যে সংজ্ঞাটি পূর্বোক্ত সকল সংজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলো: যাকাতুল ফিতর হলো— নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে, নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে, নির্দিষ্ট একদল লোকের জন্য, নির্দিষ্ট একদল লোকের পক্ষ হতে প্রদানকৃত একটি নির্দিষ্ট দান; যা রমজানের রোজা সমাপ্তিতে ওয়াজিব (تجب) হয়। এটি রোজাদারের জন্য অসার কথাবার্তা (اللغو) ও অশ্লীলতা (الرفث) থেকে পবিত্রতাস্বরূপ এবং মিসকিনদের জন্য খাদ্যের সংস্থান। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।
দ্বিতীয়ত: যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার ভিত্তি হলো: কুরআনের সাধারণ আয়াত, সুন্নাহর সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং ঐক্যমত (الإجماع):
কুরআনের সাধারণ আয়াতের ক্ষেত্রে, বলা হয়েছে যে আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে পবিত্রতা অর্জন করেছে। এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে} (৪) (৫)। এছাড়া আল্লাহ তাআলার বাণীর সাধারণ অর্থ: {আর রাসুল তোমাদের যা দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৭)
فَخُذُوهُ} (1).
وأما السنة؛ فلأحاديث كثيرة، ومنها حديث عبدالله ابن عمر رضي الله عنهما، وفيه: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر من رمضان على كل نفس من المسلمين
… )) (2).
وأما الإجماع، فأجمع أهل العلم: أن صدقة الفطر فرض، قال الإمام ابن المنذر رحمه الله: ((وأجمعوا على أن صدقة الفطر فرض، وأجمعوا على أن صدقة الفطر تجب على المرء، إذا أمكنه أداؤها عن نفسه، وأولاده الأطفال، الذين لا أموال لهم، وأجمعوا على أن على المرء أداء زكاة الفطر عن مملوكه الحاضر)) (3).
ثالثاً: شروط وجوب زكاة الفطر ثلاثة شروط:
الشرط الأول: الإسلام، فتجب على كل مسلم: حرٍّ أو عبدٍ، أو رجل أو امرأة، صغيرٍ أو كبيرٍ؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما، وفيه: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر من رمضان، على كل نفس من المسلمين: حرٍّ أو عبدٍ، أو رجلٍ أو امرأةٍ، صغيرٍ أو كبيرٍ)) (4). قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وجملته أن زكاة الفطر تجب على كل مسلم، مع الصغر والكبر،
--------------------------------------------
অতএব তা গ্রহণ করো} (১)।
সুন্নাহর প্রমাণ সম্পর্কে: অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটি অন্যতম, যাতে বলা হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের জাকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যিক (فرض) করেছেন..." (২)।
ইজমার (ঐক্যমত) প্রমাণ সম্পর্কে: আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে: সদকাতুল ফিতর আবশ্যিক (فرض)। ইমাম ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে সদকাতুল ফিতর আবশ্যিক (فرض)। তাঁরা আরও একমত হয়েছেন যে, সদকাতুল ফিতর ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (تجب) হয় যখন তার পক্ষে নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান—যাদের কোনো সম্পদ নেই—তাদের পক্ষ থেকে তা আদায় করা সম্ভব হয়। আর তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ব্যক্তির ওপর তার উপস্থিত দাসের পক্ষ থেকে জাকাতুল ফিতর আদায় করা আবশ্যক।" (৩)।
তৃতীয়ত: জাকাতুল ফিতর ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার তিনটি শর্ত:
প্রথম শর্ত: ইসলাম; সুতরাং তা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব (تجب): সে স্বাধীন হোক বা ক্রীতদাস, পুরুষ হোক বা নারী, ছোট হোক বা বড়; ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের কারণে, যাতে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের জাকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যিক (فرض) করেছেন: স্বাধীন বা ক্রীতদাস, পুরুষ বা নারী, ছোট বা বড়।" (৪)। ইমাম ইবনে কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সারকথা হলো, জাকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব (تجب) হয়, ছোট ও বড় নির্বিশেষে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৮)
والذكورية والأنوثية، في قول أهل العلم عامة، وتجب على اليتيم، ويخرج عنه وليه من ماله، وعلى الرقيق)) (1).
الشرط الثاني: الغنى، وهو أن يكون عنده يوم العيد وليلته صاع، زائد عن قوته وقوت عياله، وحوائجه الأصلية (2).
الشرط الثالث: دخول وقت الوجوب، وهو غروب الشمس من ليلة الفطر؛ لقول ابن عمر رضي الله عنهما: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر من رمضان)) (3) وذلك يكون بغروب الشمس، من آخر يوم من أيام شهر رمضان، فمن أسلم أو تزوج، أو وُلِدَ له ولد، أو مات قبل الغروب لم تلزمه فطرتهم، وإن غربت وهم عنده ثم ماتوا فعليه فطرتهم؛ لأنها تجب في الذمة، فلم تسقط بالموت ككفارة الظهار (4).
رابعاً: الحكمة من وجوب زكاة الفطر:لا شك أن مشروعية زكاة الفطر لها حِكم كثيرة من أبرزها وأهمها الحكم الآتية:
1 - طُهرةٌ للصائم، من اللغو والرفث، فترفع خلل الصوم، فيكون بذلك تمام السرور.
2 - طعمةٌ للمساكين، وإغناء لهم عن السؤال في يوم العيد،
--------------------------------------------
এবং পুরুষত্ব ও নারীত্বের ক্ষেত্রেও (অর্থাৎ নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর), যা অধিকাংশ আলেমগণের (أهل العلم) সাধারণ অভিমত। আর এটি ইয়াতিমের ওপরও ওয়াজিব (واجب) এবং তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে তার সম্পদ হতে তা আদায় করবেন, আর এটি দাসের ওপরও প্রযোজ্য (১)।
দ্বিতীয় শর্ত: সচ্ছলতা (الغنى), আর তা হলো ঈদের দিন ও রাতে তার কাছে নিজের এবং তার পরিবারের ভরণপোষণ ও মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অতিরিক্ত এক সা (صاع) পরিমাণ সম্পদ থাকা (২)।
তৃতীয় শর্ত: ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার সময় হওয়া, আর তা হলো ঈদুল ফিতরের রাতে সূর্যাস্ত হওয়া; কেননা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের জাকাতুল ফিতর (زكاة الفطر) ফরজ (فرض) করেছেন" (৩)। আর তা রমজান মাসের শেষ দিনের সূর্যাস্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সুতরাং কেউ যদি সূর্যাস্তের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, বিবাহ করে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় অথবা মৃত্যুবরণ করে, তবে তাদের ওপর ফিতরা আবশ্যক হবে না। কিন্তু যদি সূর্যাস্তকালে তারা বর্তমান থাকে এবং এরপর মৃত্যুবরণ করে, তবে তাদের ফিতরা আদায় করতে হবে; কারণ এটি জিম্মায় ওয়াজিব (تجب) হয়ে যায়, তাই যিহারের কাফফারা (كفارة الظهار) এর মতো মৃত্যুর কারণে এটি রহিত হয় না (৪)।
চতুর্থত: জাকাতুল ফিতর ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার হেকমত বা রহস্য:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জাকাতুল ফিতরের বিধানবদ্ধ হওয়ার পেছনে অনেক রহস্য রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
১. রোজাদারের জন্য অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্রতাস্বরূপ, এটি রোজার ভুলত্রুটি দূর করে দেয়, ফলে এর মাধ্যমে আনন্দ পূর্ণতা পায়।
২. মিসকিনদের আহারের ব্যবস্থা, এবং ঈদের দিনে তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে অমুখাপেক্ষী করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৯)
وإدخال السرور عليهم؛ ليكون العيد يوم فرح وسرور لجميع فئات المجتمع.
3 - مواساةٌ للمسلمين: أغنيائهم، وفقرائهم ذلك اليوم، فيتفرغ الجميع لعبادة الله تعالى، والسرور والاغتباط بنعمه سبحانه وتعالى، وهذه الأمور تدخل في حديث ابن عباس رضي الله عنهما ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر طهرة للصائم من اللغو والرفث، وطعمة للمساكين
… )) (1).
4 - حصول الثواب والأجر العظيم بدفعها لمستحقيها في وقتها المحدد؛ لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث ابن عباس المشار إليه آنفاً: ((فمن أدَّاها قبل الصلاة فهي صدقة مقبولة، ومن أدَّاها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات)) (2).
5 - زكاة للبدن حيث أبقاه الله تعالى عاماً من الأعوام، وأنعم عليه سبحانه بالبقاء؛ ولأجله استوى فيه الكبير والصغير، والذكر والأنثى، والغني والفقير، والحر والعبد، والكامل والناقص في مقدار الواجب: وهو الصاع.
6 - شكر نعم الله تعالى على الصائمين بإتمام الصيام، ولله حكم، وأسرار لا تصل إليها عقول العالمين (3).
--------------------------------------------
এবং তাদের মনে আনন্দ প্রদান করা; যাতে ঈদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য আনন্দ ও খুশির দিন হয়।
৩ - মুসলমানদের জন্য সমবেদনা ও সহমর্মিতা: সে দিনে তাদের ধনী ও দরিদ্র উভয়ের জন্য যাতে সকলেই মহান আল্লাহর ইবাদতে এবং তাঁর নেয়ামতসমূহে আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশে নিবিষ্ট হতে পারে। আর এই বিষয়গুলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাদারের অনর্থক কথা ও অশালীন আচরণ থেকে পবিত্রকারী হিসেবে এবং মিসকিনদের খাদ্যের সংস্থান হিসেবে...)) (১)।
৪ - নির্ধারিত সময়ে হকদারদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মহান সওয়াব ও প্রতিদান লাভ কেননা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে তা আদায় করবে, তা কবুলযোগ্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পর তা আদায় করবে, তা সাধারণ সদকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি সদকা হবে)) (২)।
৫ - শরীরের জাকাত হিসেবে, যেহেতু মহান আল্লাহ তাকে বছরের পর বছর বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং জীবনদানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; একারণেই এতে বড় ও ছোট, পুরুষ ও নারী, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও ক্রীতদাস এবং সক্ষম ও অক্ষম সকলেই ওয়াজিবের পরিমাণে সমান: আর তা হলো এক সা।
৬ - সিয়াম পূর্ণ করার তৌফিক দেওয়ায় রোজাদারদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করা আর আল্লাহর অনেক হিকমত ও রহস্য রয়েছে যা সৃষ্টির জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব নয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১০)
خامساً: زكاة الفطر فرض على كل مسلم فَضُل عنده يوم العيد وليلتهصاع من طعام، عن قوته وقوت أهل بيته الذين تجب نفقتهم عليه؛ لحديث عبدالله بن عمر رضي الله عنهما قال: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر في رمضان على كل نفسٍ من المسلمين: حرٍّ أو عبدٍ، أو رجلٍ، أو امرأةٍ، صغيرٍ، أو كبيرٍ، صاعاً من تمر، أو صاعاً من شعير)) وهذا لفظ مسلم في رواية، ولفظ البخاري: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر: صاعاً من تمر، أو صاعاً من شعير، على العبد، والحر، والذكر، والأنثى، والصغير، والكبير من المسلمين، وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة)). وفي لفظٍ للبخاري عن نافع عن ابن عمر: ((فرض النبي صلى الله عليه وسلم صدقة الفطر – أو قال: رمضان – على الذكر، والأنثى، والحر، والمملوك: صاعاً من تمر، أو صاعاً من شعير، فعدل الناس به نصف صاع من برٍّ، فكان ابن عمر يعطي التمر، فأعوز أهل المدينة من التمر فأعطى شعيراً، فكان ابن عمر يعطي عن الصغير والكبير، حتى إن كان يعطي بنيَّ، وكان ابن عمر رضي الله عنهما يعطيها للذين يقبلونها، وكانوا يعطون قبل الفطر بيوم أو يومين)) (1).
ويستحب إخراج زكاة الفطر عن الحمل؛ لفعل عثمان رضي الله عنه (2).
--------------------------------------------
পঞ্চম: জাকাতুল ফিতর প্রত্যেক সেই মুসলিমের ওপর ফরজ (فرض), যার নিকট ঈদের দিন ও রাতে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের—যাদের ভরণপোষণ তার ওপর ওয়াজিব (واجب)—তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের অতিরিক্তএক সা (صاع) পরিমাণ খাদ্য অবশিষ্ট থাকে; কেননা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর—চাই সে স্বাধীন হোক বা ক্রীতদাস, পুরুষ হোক বা নারী, ছোট হোক বা বড়—জাকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা (صاع) খেজুর অথবা এক সা (صاع) যব ফরজ (فرض) করেছেন।" এটি মুসলিমের একটি বর্ণনার (رواية) শব্দাবলি। আর বুখারির শব্দাবলি হলো: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের মধ্য হতে ক্রীতদাস, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট ও বড় প্রত্যেকের ওপর জাকাতুল ফিতর এক সা (صاع) খেজুর অথবা এক সা (صاع) যব ফরজ (فرض) করেছেন এবং মানুষ ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।" বুখারির অন্য এক শব্দাবলিতে নাফে’ থেকে ইবনে উমর-এর সূত্রে বর্ণিত: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদাকাতুল ফিতর—অথবা তিনি বলেছেন: রমজানের (জাকাত)—পুরুষ, নারী, স্বাধীন এবং ক্রীতদাসের ওপর এক সা (صاع) খেজুর অথবা এক সা (صاع) যব ফরজ (فرض) করেছেন। অতঃপর মানুষ এর সমপরিমাণ হিসেবে আধা সা (صاع) গম সাব্যস্ত করে। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) খেজুর প্রদান করতেন, একবার মদিনাবাসীদের নিকট খেজুরের অভাব দেখা দিলে তিনি যব প্রদান করেন। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ছোট ও বড় সবার পক্ষ থেকে এটি প্রদান করতেন, এমনকি তিনি আমার সন্তানদের পক্ষ থেকেও দিতেন। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সেই সকল অভাবী লোকদের এটি দিতেন যারা তা গ্রহণ করত এবং তারা ঈদের এক বা দুই দিন আগে তা প্রদান করতেন" (১)।
আর গর্ভস্থ সন্তানের পক্ষ থেকে জাকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব (مستحب); উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলের কারণে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتخرج عن المملوك يخرجها سيده عنه؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ليس على المسلم في فرسه، ولا في عبده صدقة إلا صدقة الفطر)) (1).
سادساً: وقت إخراج زكاة الفطر:وقَّت النبي صلى الله عليه وسلم وقت إخراج زكاة الفطر في حديث ابن عمر السابق بقول ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة)) (2). أي صلاة العيد. وفي رواية عن ابن عمر رضي الله عنهما: ((وكانوا يعطون قبل الفطر بيوم أو يومين)) (3)؛ ولكن الأفضل أن تخرج يوم العيد قبل الصلاة؛ لسد حاجة الفقراء يوم العيد، وإغنائهم يوم العيد عن المسألة.
ولا يجوز تأخيرها بعد الصلاة؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر طهرةً للصائم: من اللغو، والرفث، وطعمة للمساكين، فمن أداها قبل الصلاة فهي صدقة مقبولة، ومن أداها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات)) (4).
--------------------------------------------
দাসের পক্ষ থেকেও তা আদায় করতে হবে এবং তার মালিক তার পক্ষ থেকে এটি প্রদান করবেন; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুসলমানের ওপর তার ঘোড়া বা দাসের জন্য কোনো সদকা (যাকাত) নেই, তবে সদকাতুল ফিতর ছাড়া।" (১)।
ষষ্ঠ: যাকাতুল ফিতর আদায়ের সময়:নবী (সা.) যাকাতুল ফিতর আদায়ের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসে, যেখানে ইবনে উমর (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি (সা.) তা মানুষের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।" (২)। অর্থাৎ ঈদের নামাজ। ইবনে উমর (রা.) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "তারা ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে তা প্রদান করতেন।" (৩); তবে সর্বোত্তম হলো ঈদের দিন নামাজের আগে আদায় করা; যাতে ঈদের দিন দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণ হয় এবং সেদিন তাদের মানুষের কাছে যাঞ্চা করা থেকে অভাবমুক্ত রাখা যায়।
নামাজের পর পর্যন্ত এটি বিলম্বিত করা জায়েজ নেই; ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা পালনকারীর জন্য অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্রকারী হিসেবে এবং মিসকিনদের খাদ্যের সংস্থান হিসেবে যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজের আগে তা আদায় করবে, তা গ্রহণযোগ্য (مقبولة) সদকা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পরে তা আদায় করবে, তা সাধারণ সদকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত একটি সদকা হবে।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولكن زكاة الفطر لا تجب إلا بغروب شمس آخر يوم من رمضان: فمن أسلم بعد الغروب، أو تزوج، أو وُلِد له وَلدٌ، أو مات قبل الغروب لم تلزم فطرتهم (1).
سابعاً: درجات إخراج زكاة الفطر على النحو الآتي:
الدرجة الأولى: جواز تقديم زكاة الفطر قبل العيد بيوم أو يومين؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما، وفيه: ((
… وكانوا يعطون قبل الفطر بيوم أو يومين)) (2)، وفي لفظ للإمام مالك: ((أن ابن عمر كان يبعث بزكاة الفطر إلى الذي تجمع عنده قبل الفطر بيومين أو ثلاثة)) (3). قالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء برئاسة الإمام عبدالعزيز بن عبدالله ابن باز رحمه الله: ((ووقتها ليلة عيد الفطر إلى ما قبل صلاة العيد؛ ويجوز تقديمها يومين أو ثلاثة)) (4). وقال شيخنا الإمام عبدالعزيز ابن باز رحمه الله: ((ولا مانع من إخراجه قبله بيوم أو يومين، أو ثلاثة، ولكن لاتؤجل بعد
--------------------------------------------
কিন্তু সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় না রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্ত ব্যতীত: সুতরাং যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পর ইসলাম গ্রহণ করল, অথবা বিবাহ করল, অথবা যার সন্তান জন্ম নিল, অথবা যে সূর্যাস্তের পূর্বে মৃত্যুবরণ করল, তাদের ফিতরা প্রদান আবশ্যক হবে না (১)।
সপ্তম: সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের স্তরসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম স্তর: ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে সাদাকাতুল ফিতর অগ্রিম প্রদানের বৈধতা; ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তাতে রয়েছে: (( ... এবং তাঁরা ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে তা প্রদান করতেন)) (২), এবং ইমাম মালিকের এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: ((ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুই বা তিন দিন আগে সেই ব্যক্তির নিকট সাদাকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন যার নিকট এটি জমা করা হতো)) (৩)। ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর সভাপতিত্বে ফতোয়া ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্থায়ী কমিটি বলেছে: ((এর সময় হলো ঈদুল ফিতরের রাত থেকে ঈদের সালাতের আগ পর্যন্ত; এবং এটি দুই বা তিন দিন আগে প্রদান করা বৈধ)) (৪)। আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ঈদের একদিন, দুইদিন বা তিনদিন আগে তা আদায় করতে কোনো বাধা নেই, তবে তা বিলম্বিত করা যাবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
العيد)) (1) (2).
الدرجة الثانية: وقت الوجوب: هو غروب الشمس من آخر يوم من رمضان؛ فإنها تجب بغروب الشمس من آخر شهر رمضان، فمن تزوج، أو ملك عبداً، أو وُلِد له ولد، أو أسلم قبل غروب الشمس، فعليه الفطرة، وإن كان ذلك بعد الغروب لم تلزمه، ومن مات بعد غروب الشمس ليلة الفطر فعليه صدقة الفطر، نص عليه الإمام أحمد، وبه قال الثوري، وإسحاق، ومالك في إحدى الروايتين عنه، والشافعي في أحد قوليه (3).
وقالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء في أول وقت الوجوب لزكاة الفطر: ((إنما يبدأ من غروب شمس آخر يوم من رمضان، وهو أول ليلة من شهر شوال، وينتهي بصلاة العيد؛ لأن النبي
--------------------------------------------
ঈদ)) (১) (২)।
দ্বিতীয় স্তর: ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার সময়: তা হলো রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্ত; কেননা রমজান মাসের শেষ সূর্যাস্তের মাধ্যমে তা ওয়াজিব (وجوب) হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে বিবাহ করল, অথবা দাসের মালিক হলো, অথবা যার সন্তান জন্ম নিল, অথবা যে ইসলাম গ্রহণ করল, তার ওপর ফিতরা প্রদান করা আবশ্যক। আর যদি তা সূর্যাস্তের পরে হয়, তবে তার ওপর তা আবশ্যক হবে না। আর ঈদুল ফিতরের রাতে সূর্যাস্তের পর যে মৃত্যুবরণ করল, তার ওপর সদকাতুল ফিতর আবশ্যক হবে। ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং সুফিয়ান আস-সাওরি, ইসহাক, ইমাম মালিক (তার থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার একটিতে) এবং ইমাম শাফেঈ (তার দুই মতের একটিতে) একই কথা বলেছেন (৩)।
আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার শুরুর সময় সম্পর্কে বলেছে: "নিশ্চয়ই তা রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্ত থেকে শুরু হয়, যা শাওয়াল মাসের প্রথম রাত এবং ঈদের নামাজের মাধ্যমে তা শেষ হয়; কারণ নবী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- صلى الله عليه وسلم أمر بإخراجها قبل الصلاة)) (1) (2).
الدرجة الثالثة: المستحب إخراج زكاة الفطر يوم الفطر قبل صلاة العيد؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بها أن تؤدَّى قبل خروج الناس إلى صلاة العيد، كما في حديث ابن عمر رضي الله عنهما (3)، وكما قال ابن عباس رضي الله عنهما ((فمن أداها قبل الصلاة فهي صدقة مقبولة، ومن أدَّاها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات)) (4).
الدرجة الرابعة: لا يجوز تأخيرها بعد صلاة العيد على القول الصحيح، فمن أخَّرها بعد الصلاة بدون عذر، فعليه التوبة، وعليه أن يخرجها على الفور، قال العلامة ابن مفلح رحمه الله: ((وفي الكراهة بعدها وجهان، والقول بها أظهر؛ لمخالفة الأمر، وقيل: تحرم بعد الصلاة، وذكر صاحب المحرر أن أحمد رحمه الله: أومأ إليه، وتكون قضاءً، وجزم به ابن الجوزي)) (5). وقال الإمام عبدالعزيز ابن عبدالله ابن باز رحمه الله: ((الواجب
… إخراجها قبل صلاة العيد، ولا يجوز تأخيرها إلى ما بعد صلاة العيد)) (6).
وقال العلامة محمد بن صالح العثيمين، رحمه الله، في تعمد إخراجها
--------------------------------------------
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের পূর্বে তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন) (১) (২)।
তৃতীয় স্তর: ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে জাকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব (مستحب); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষ ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (৩)। আর যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে তা আদায় করল, তা কবুলকৃত জাকাত হিসেবে গণ্য হবে; আর যে ব্যক্তি সালাতের পর তা আদায় করল, তা সাধারণ সদকা সমূহের একটি সদকা হিসেবে গণ্য হবে" (৪)।
চতুর্থ স্তর: সঠিক (صحيح) মতানুসারে ঈদের সালাতের পর তা বিলম্বিত করা বৈধ নয়; সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত সালাতের পর তা বিলম্বিত করল, তার ওপর তওবা করা ওয়াজিব (واجب) এবং তাকে অবিলম্বে তা আদায় করতে হবে। আল্লামা ইবনে মুফলিহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সালাতের পর তা আদায়ের অপছন্দনীয়তা (كراهة) বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে, তবে আদেশের পরিপন্থী হওয়ায় এটিই অধিক স্পষ্ট মত। আবার কেউ কেউ বলেছেন: সালাতের পর তা প্রদান করা হারাম (حرام)। আল-মুহাররির রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং এটি কাজা (قضاء) হিসেবে গণ্য হবে; ইবনুল জাওজি এ ব্যাপারে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন" (৫)। ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ওয়াজিব (واجب) হলো... ঈদের সালাতের পূর্বে তা আদায় করা, আর ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা বৈধ নয়" (৬)।
আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) ইচ্ছাকৃতভাবে তা প্রদানের বিষয়ে বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بعد صلاة العيد: ((والصحيح أن إخراجها في هذا الوقت محرم، وأنها لا تجزئ، والدليل على ذلك حديث ابن عمر [رضي الله عنهما: أن النبي] ((أمر بها أن تؤدَّى قبل خروج الناس إلى الصلاة)) (1) فإذا أخرها حتى يخرج الناس من الصلاة، فقد عمل عملاً ليس عليه أمر الله ورسوله، فهو مردود؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد)) (2) بل إن حديث ابن عباس رضي الله عنهما صريح في هذا، حيث قال: ((من أدَّاها قبل الصلاة فهي زكاة مقبولة، ومن أدَّاها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات)) (3). وهذا نص في أنها لا تجزئ
… )) (4). وقالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء عندما سئلت عن وقت زكاة الفطر هل يمتد الوقت إلى آخر يوم العيد؟ فبينوا وقتها ثم قالوا: ((
… فمن أخرها عن وقتها فقد أثم، وعليه أن يتوب من تأخيره، وأن يخرجها للفقراء)) (5). وهذا اختيار شيخ الإسلام وابن القيم (6) (7).
--------------------------------------------
ঈদের সালাতের পর: ((আর বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো এই যে, এই সময়ে তা বের করা নিষিদ্ধ এবং তা আদায় হবে না। এর দলিল হলো ইবনে উমর [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ((লোকেরা সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন)) (১)। সুতরাং কেউ যদি সালাত থেকে লোকদের বের হওয়া পর্যন্ত তা দেরি করে, তবে সে এমন আমল করল যার ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ নেই, ফলে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: ((যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার ওপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد))) (২)। বরং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদিস এ বিষয়ে সুস্পষ্ট, যেখানে তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে তা আদায় করল, তা গ্রহণযোগ্য জাকাত হিসেবে গণ্য হবে; আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে তা আদায় করল, তা সাধারণ সদকা সমূহের মধ্যে একটি সদকা হবে)) (৩)। এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল যে তা আদায় হবে না
… )) (৪)। ফতোয়া ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ)-কে যখন ফিতরার জাকাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এর সময় কি ঈদের দিনের শেষ পর্যন্ত বর্ধিত হয়? তখন তারা এর সময় বর্ণনা করে বলেন: ((
… সুতরাং যে ব্যক্তি একে তার নির্ধারিত সময় থেকে দেরি করল সে গুনাহগার হলো, আর দেরিতে আদায়ের কারণে তার ওপর তওবা করা এবং দরিদ্রদের মাঝে তা বিলিয়ে দেওয়া আবশ্যক)) (৫)। আর এটিই শাইখুল ইসলাম এবং ইবনুল কাইয়্যিমের পছন্দকৃত মত (৬) (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثامناً: مقدار زكاة الفطر وأنواعها:هو صاع من قوت البلد الذي يأكله الناس، وقد ثبت في حديث ابن عمر رضي الله عنهما الذي ذكرته آنفاً أنه قال: ((فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر من رمضان صاعاً من تمر، أو صاعاً من شعير
… )). وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنه كان يقول: ((كنا نخرج زكاة الفطر: صاعاً من طعام، أو صاعاً من شعير، أو صاعاً من تمر، أو صاعاً من أقط، أو صاعاً من زبيب)). وفي لفظ للبخاري: ((كنا نعطيها في زمان النبي صلى الله عليه وسلم
… )). وفي لفظ لمسلم: ((كنا نخرج إذ كان فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر: عن كل صغير، وكبير، حرٍّ أو مملوك: صاعاً من طعام، أو صاعاً من أقط، أو صاعاً من شعير، أو صاعاً من تمر، أو صاعاً من زبيب، فلم نزل نخرجه حتى قدم علينا معاوية بن أبي سفيان حاجًّا أو معتمراً، فكلم الناس على المنبر فكان فيما كلم به الناس أن قال: إني أرى مدين من سمراء الشام تعدل صاعاً من تمر، فأخذ الناس بذلك، قال أبو سعيد: فأما أنا فلا أزال أخرجه كما كنت أخرجه أبداً ما عشت)) (1).
وفي لفظ ابن ماجه قال أبو سعيد: ((لا أزال أخرجه كما كنت أخرجه على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أبداً ما عشت)) (2). وفي حديث أبي سعيد زيادات لم أذكرها؛ لأن فيها نظراً (3)، أما رأي معاوية رضي الله عنه في أن البر يعدل المد منه
--------------------------------------------
অষ্টম: সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ ও প্রকারভেদ:তা হলো ওই জনপদের প্রধান খাদ্যশস্যের এক সা’ (صاع), যা মানুষ আহার করে। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, তাতে এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের সদকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা’ (صاع) খেজুর অথবা এক সা’ (صاع) যব ফরজ করেছেন
… ”। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: “আমরা সদকাতুল ফিতর বাবদ প্রদান করতাম: এক সা’ (صاع) খাদ্যদ্রব্য, অথবা এক সা’ (صاع) যব, অথবা এক সা’ (صاع) খেজুর, অথবা এক সা’ (صاع) পনির, অথবা এক সা’ (صاع) কিসমিস”। বুখারির এক শব্দশৈলীতে রয়েছে: “আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে এটি প্রদান করতাম
… ”। মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: “যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে ছিলেন, তখন আমরা প্রত্যেক ছোট ও বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাসের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর বের করতাম: এক সা’ (صاع) খাদ্য, অথবা এক সা’ (صاع) পনির, অথবা এক সা’ (صاع) যব, অথবা এক সা’ (صاع) খেজুর, অথবা এক সা’ (صاع) কিসমিস। আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে তা বের করতাম যতক্ষণ না মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হজ অথবা উমরাহ পালনকারী হিসেবে আমাদের নিকট আসলেন। তিনি মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে লোকজনের সাথে কথা বললেন। তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: ‘আমি মনে করি সিরিয়ার দুই মুদ (مدين) গমের মান এক সা’ (صاع) খেজুরের সমতুল্য’। অতঃপর সাধারণ মানুষ এটি গ্রহণ করে নিল। আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: ‘কিন্তু আমি আজীবন তা সেভাবেই বের করে যাব, যেভাবে আমি তা সর্বদা বের করতাম’।” (১)।
ইবনে মাজাহর বর্ণনায় আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে যেভাবে বের করতাম, আজীবন সেভাবেই বের করে যাব” (২)। আবু সাঈদের হাদিসে আরও কিছু বর্ধিত অংশ রয়েছে যা আমি উল্লেখ করিনি; কারণ তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (فيها نظر) (৩)। আর গমের ক্ষেত্রে মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর অভিমত ছিল যে, এর এক মুদ (مد) পরিমাণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المدين من غيره فيجزئ نصف صاع، فقال عنه الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((حديث أبي سعيد دال على أنه لم يُوافق على ذلك، وكذلك ابن عمر، فلا إجماع في المسألة خلافاً للطحاوي، وكأن الأشياء التي ثبت ذكرها في حديث أبي سعيد لما كانت متساوية في مقدار ما يخرج منها مع ما يخالفها في القيمة دل على أن المراد إخراج هذا المقدار من أي جنس كان، ولا فرق بين الحنطة وغيرها، وهذه حجة الشافعي ومن تبعه. وأما من جعله نصف صاع منها بدل صاع من شعير فقد فعل ذلك بالاجتهاد)) (1).
وقد قال الإمام النووي رحمه الله: ((قوله: عن معاوية أنه كلم الناس على المنبر فقال: إني أرى أن مدين من سمراء الشام يعدل صاعاً من تمر فأخذ الناس بذلك، قال أبو سعيد: فأما أنا فلا أزال أخرجها كما كنت أخرجها أبداً ما عشت، فقوله: سمراء الشام: هي الحنطة، وهذا الحديث هو الذي يعتمده أبو حنيفة وموافقوه في جواز نصف صاع حنطة، والجمهور يجيبون عنه: بأنه قول صحابي، وقد خالفه أبو سعيد وغيره ممن هو أطول صحبة، وأعلم بأحوال النبي صلى الله عليه وسلم، وإذا اختلف الصحابة لم يكن قول بعضهم بأولى من بعض، فنرجع إلى دليل آخر. وجدنا ظاهر الأحاديث، والقياس متفقاً على اشتراط الصاع من الحنطة كغيرها،
--------------------------------------------
অন্যান্য জিনিসের পরিবর্তে দুই মুদ (مدين), যা আধা সা' (نصف صاع) এর সমান তা যথেষ্ট হবে; এ প্রসঙ্গে হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: "আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসটি প্রমাণ করে যে তিনি এই বিষয়ে একমত ছিলেন না, তেমনিভাবে ইবনে উমর (রা.)-ও একমত ছিলেন না। সুতরাং ইমাম তাহাবীর মতের বিপরীতে এই মাসআলায় কোনো ঐক্যমত্য (إجماع) নেই। আবু সাঈদের হাদিসে যেসব দ্রব্যের কথা প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর পরিমাণ এবং তাদের মূল্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও পরিমাণ সমান হওয়া এটাই নির্দেশ করে যে, উদ্দেশ্য হলো যেকোনো প্রকারের শস্য থেকে এই নির্দিষ্ট পরিমাণটিই প্রদান করা। এক্ষেত্রে গম এবং অন্যান্য শস্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটিই ইমাম শাফেয়ী এবং তাঁর অনুসারীদের দলিল। আর যারা গমের ক্ষেত্রে এক সা' যবের পরিবর্তে আধা সা' নির্ধারণ করেছেন, তারা তা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ভিত্তিতে করেছেন।" (১)
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: "মুআবিয়া (রা.)-এর উক্তি—তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশে বলেছিলেন: 'আমি মনে করি সিরিয়ার লাল গমের দুই মুদ (مدين) এক সা' খেজুরের সমান', ফলে মানুষ তা গ্রহণ করে নিল। তখন আবু সাঈদ (রা.) বললেন: 'আমি তো আজীবন সেভাবেই সদকা বের করব যেভাবে আমি বের করতাম।' এখানে 'সামরাউশ শাম' বলতে গম বোঝানো হয়েছে। এই হাদিসটিই ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীরা আধা সা' গম বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করেন। তবে জমহুর (جمهور - সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ) এর উত্তর দেন এই বলে যে: এটি মূলত একজন সাহাবীর বক্তব্য (قول صحابي), অথচ আবু সাঈদ (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবী—যাঁরা দীর্ঘ সময় নবীজির সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ছিলেন—তাঁরা এর বিরোধিতা করেছেন। আর যখন সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়, তখন একজনের কথা অন্যজনের ওপর প্রাধান্য পায় না, বরং আমরা অন্য দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করি। আমরা হাদিসের বাহ্যিক অর্থ এবং পদ্ধতিগত অনুমান বা কিয়াস (قياس)-কে অন্যান্য শস্যের ন্যায় গমের ক্ষেত্রেও এক সা' হওয়ার শর্তের ওপর ঐক্যবদ্ধ পেয়েছি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فوجب اعتماده، وقد صرح معاوية بأنه رأيٌّ رآه، لا أنه سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم، ولو كان عند أحد من حاضري مجلسه مع كثرتهم في تلك اللحظة علم في موافقة معاوية عن النبي صلى الله عليه وسلم لذكره)) (1).
وسمعت شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبدالله ابن باز رحمه الله يقول فيمن جعل مُدين من الحنطة تقوم مقام الصاع من غيرها: ((اجتهد معاوية فجعل عدله مدين، والصواب أنه لا بد من صاع أخذاً بالنص؛ ولهذا قال أبو سعيد: أما أنا فلا أخرج إلا صاعاً وهو الصواب كما تقدم (2)، والله تعالى أعلم (3).
تاسعاً: مقدار الصاع الذي تؤدى به زكاة الفطر هو صاع النبي صلى الله عليه وسلم وهو خمسة أرطال وثلث بالعراقي (4)، وهو أربعة أمداد، والمد ملء كفي الإنسان المعتدل إذا ملأهما ومدّ يديه بهما، وبه سمي مدّاً، قال الفيروزآبادي: ((وقد جربت ذلك فوجدته صحيحاً)) (5)، والصاع أربع حفنات بكفي الرجل الذي ليس بعظيم الكفين ولا صغيرهما، إذ ليس
--------------------------------------------
সুতরাং তা অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب) হয়ে গেল। আর মুয়াবিয়া (রা.) স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি একটি মতামত (رأي), যা তিনি প্রদান করেছেন; এমন নয় যে তিনি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন। যদি তাঁর মজলিসে উপস্থিত বহু লোকের মধ্যে সে মুহূর্তে কারো কাছে মুয়াবিয়া (রা.)-এর মতামতের সপক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো জ্ঞান (علم) থাকত, তবে তিনি তা অবশ্যই উল্লেখ করতেন (১)।
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছি যিনি গমের দুই মুদ (مد)-কে অন্য জিনিসের এক সা (صاع)-এর স্থলাভিষিক্ত করেছেন: ((মুয়াবিয়া (রা.) ইজতিহাদ (اجتهد) করেছেন এবং এর সমপরিমাণ হিসেবে দুই মুদ (مد) নির্ধারণ করেছেন। তবে সঠিক (الصواب) কথা হলো, নস (النص) অনুযায়ী এক সা (صاع)-ই আবশ্যক। একারণেই আবু সাঈদ (রা.) বলেছিলেন: 'আমি তো এক সা (صاع) ব্যতীত অন্য কিছু বের করব না।' আর ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে, এটিই সঠিক (الصواب) (২)। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন (৩)।
নবম: সা (صاع)-এর পরিমাণ যার মাধ্যমে সদকাতুল ফিতর আদায় করা হয়এটি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সা (صاع), যা ইরাকি পরিমাপে পাঁচ রতল (أرطال) ও এক-তৃতীয়াংশ (৪)। এটি চার মুদ (أمداد)-এর সমান। আর মুদ (المد) হলো সাধারণ গড়নের একজন মানুষের দুই হাতের পূর্ণ অঞ্জলি যখন সে তার উভয় হাত পূর্ণ করে প্রসারিত করে; আর এ কারণেই একে মুদ (مد) নামকরণ করা হয়েছে। আল-ফিরোজাবাদি বলেছেন: ((আমি এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে সঠিক (صحيح) পেয়েছি)) (৫)। আর সা (صاع) হলো এমন একজন পুরুষের চার অঞ্জলি যার হাতের তালু খুব বড়ও নয় আবার খুব ছোটও নয়, যেহেতু এখানে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كل مكان يوجد فيه صاع النبي صلى الله عليه وسلم،قاله الداوودي (1). قال الفيروزآبادي: ((وجربت ذلك فوجدته صحيحاً)) (2).
قال شيخنا ابن باز رحمه الله في تحديد مقدارالصاع: ((ومقداره أربع حفنات بملء اليدين المعتدلتين من الطعام اليابس، كالتمر، والحنطة، ونحو ذلك، أما من جهة الوزن فمقداره أربعمائة وثمانون مثقالاً، وبالريال الفرنسي ثمانون ريالاً فرانسه؛ لأن زنة الريال الواحد ستة مثاقيل، ومقداره بالريال العربي السعودي [الفضي] مائة واثنان وتسعون ريالاً، أما بالكيلو فيقارب ثلاثة كيلو، وإذا أخرج المسلم من الطعام اليابس: كالتمر اليابس، والحنطة الجيد، والأرز، والزبيب اليابس، والأقط بالكيل، فهو أحوط من الوزن)) (3).
وقالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء: ((المقدار الواجب في زكاة الفطر عن كل فرد صاع واحد بصاع النبي صلى الله عليه وسلم، ومقداره بالكيلو ثلاثة كيلو تقريباً)) (4).
عاشراً: أهل زكاة الفطر الذين تدفع لهم: الفقراء والمساكينقيل: تعطى صدقة الفطر لمن يجوز أن يعطى صدقة الأموال؛ لأن صدقة الفطر زكاة فكان مصرفها مصرف سائر الزكوات؛ ولأنها صدقة فتدخل في عموم قوله تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ
--------------------------------------------
প্রতিটি স্থানেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সা' বিদ্যমান রয়েছে; এ কথা আদ-দাউদী বলেছেন (১)। আল-ফিরোজাবাদী বলেন: "আমি বিষয়টি পরীক্ষা করেছি এবং একে সঠিক (صحيح) পেয়েছি" (২)।
আমাদের শায়খ ইবন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) সা'-এর পরিমাণ নির্ধারণ প্রসঙ্গে বলেন: "এর পরিমাণ হলো স্বাভাবিক গড়নের দুই হাতের চার পূর্ণ অঞ্জলি শুষ্ক খাদ্যদ্রব্য, যেমন খেজুর, গম ইত্যাদি। আর ওজনের হিসেবে এর পরিমাণ চারশত আশি মিসকাল, আর ফরাসি রিয়ালের হিসেবে আশি ফরাসি রিয়াল; কারণ প্রতিটি রিয়ালের ওজন ছয় মিসকাল। আর সৌদি আরবের [রুপার] রিয়ালের হিসেবে এর পরিমাণ একশত বিরানব্বই রিয়াল। আর কিলোগ্রামের হিসেবে এটি প্রায় তিন কেজির সমান। আর যদি কোনো মুসলিম শুষ্ক খাদ্যসামগ্রী যেমন: শুকনো খেজুর, ভালো মানের গম, চাল, কিসমিস এবং পনির পরিমাপের মাধ্যমে আদায় করে, তবে তা ওজনের তুলনায় অধিক সতর্কতা অবলম্বনমূলক হবে" (৩)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি বলেছে: "প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর হিসেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সা' অনুযায়ী এক সা' প্রদান করা ওয়াজিব, যার পরিমাণ কিলোগ্রামের হিসেবে প্রায় তিন কেজি" (৪)।
দশম: যাকাতুল ফিতর পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিবর্গ: দরিদ্র ও অভাবীগণবলা হয়েছে যে: সদকাতুল ফিতর তাঁদেরকেই প্রদান করা হবে যাদেরকে সম্পদের সদকা (যাকাত) প্রদান করা বৈধ; কেননা সদকাতুল ফিতর হলো যাকাত, তাই এর ব্যয়ের খাত অন্যান্য যাকাতের ব্যয়ের খাতের মতোই। আর যেহেতু এটি সদকা, তাই এটি মহান আল্লাহর বাণীর সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত: "সদকা তো কেবল দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ الله وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ الله وَالله عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (1) (2).
وقيل: لا يجوز دفع زكاة الفطر إلا لمن يستحق الكفارة، فتجري مجرى كفارة اليمين، والظهار، والقتل، والجماع في نهار رمضان، ومجرى كفارة الحج، فتدفع لهؤلاء الآخذين لحاجة أنفسهم، وهم الفقراء والمساكين، ولا يعطى المؤلفة قلوبهم، ولا الرقاب ولا غير ذلك، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((وهذا القول أقوى في الدليل)) (3). وقال رحمه الله: ((ولا يجوز دفع زكاة الفطر إلا لمن يستحق الكفارة، وهو من يأخذ لحاجته لا في الرقاب، والمؤلفة قلوبهم وغير ذلك)) (4).
وقال الإمام ابن القيم رحمه الله: ((وكان من هديه صلى الله عليه وسلم تخصيص المساكين بهذه الصدقة، ولم يكن يقسمها على الأصناف الثمانية قبضة قبضة، ولا أمر بذلك، ولا فعله أحد من أصحابه، ولا من بعدهم، بل أحد القولين عندنا: أنه لا يجوز إخراجها إلا على المساكين خاصة، وهذا القول أرجح من القول بوجوب قسمتها على الأصناف الثمانية)) (5).
وقال الشوكاني رحمه الله عن حديث ابن عباس رضي الله عنهما وفيه:
--------------------------------------------
{...এবং যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় (مؤلفة قلوبهم), দাসমুক্তির (رقاب) জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} (১) (২)।
বলা হয়েছে যে: কাফফারা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে সদকাতুল ফিতর প্রদান করা বৈধ নয়। সুতরাং এটি শপথের কাফফারা, যিহার, হত্যা, রমজানের দিনে সহবাসের কাফফারা এবং হজের কাফফারার স্থলাভিষিক্ত হবে। ফলে এটি তাদেরই প্রদান করা হবে যারা নিজেদের প্রয়োজনে তা গ্রহণ করে থাকে, আর তারা হলো দরিদ্র (فقراء) ও অভাবী (مساكين) ব্যক্তিগণ। এবং তা যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় (مؤلفة قلوبهم), দাসমুক্তির (رقاب) জন্য বা এজাতীয় অন্য কাউকে প্রদান করা হবে না। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((দলিলের বিচারে এই অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী (أقوى))) (৩)। তিনি আরও বলেন: ((কাফফারা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে সদকাতুল ফিতর প্রদান করা বৈধ নয়; আর তারা হলো সেই সব লোক যারা নিজেদের প্রয়োজনে তা গ্রহণ করে থাকে, দাসমুক্তির (رقاب) খাতে বা যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় (مؤلفة قلوبهم) তাদের এবং এজাতীয় অন্যদের ক্ষেত্রে নয়)) (৪)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ ছিল এই সদকাকে অভাবী (مساكين) ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট করা। তিনি একে আটটি শ্রেণির মাঝে এক মুষ্টি করে বণ্টন করতেন না, এমন নির্দেশও দেননি এবং তাঁর কোনো সাহাবী বা তাঁদের পরবর্তী কেউ এমনটি করেননি। বরং আমাদের নিকট বিদ্যমান দুটি মতের একটি হলো: অভাবী (مساكين) ব্যক্তি বিশেষ ছাড়া অন্য কাউকে এটি প্রদান করা বৈধ নয়। আর এই মতটি আটটি শ্রেণির মাঝে বণ্টন ওয়াজিব হওয়ার মতের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) )) (৫)।
শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে বলেছেন, যাতে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২১)
((وطعمة للمساكين
… )) (1).
((وفيه دليل على أن الفطرة تصرف في المساكين دون غيرهم من مصارف الزكاة)) (2). وقال العلامة ابن عثيمين رحمه الله في ذكر القولين: ((هناك قولان لأهل العلم: الأول أنها تصرف مصرف بقية الزكوات، حتى المؤلفة قلوبهم والغارمين
… والثاني أن زكاة الفطر مصرفها للفقراء فقط، وهو الصحيح)) (3). وقال الإمام عبدالعزيز ابن عبدالله ابن باز رحمه الله: ((زكاة الفطر شرعها الله مواساةً للفقراء والمحاويج، وطعمة للمساكين)) (4). وقال في موضع آخر: ((ومصرفها الفقراء والمساكين)) (5). ويجوز دفع زكاة الفطر عن النفر الواحد لشخص واحد، كما يجوز توزيعها على عدة أشخاص)) (6).
الحادي عشر: حكم دفع القيمة في زكاة الفطر:قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ولا تجزئ القيمة؛ لأنه عدول عن المنصوص)) (7) (8). قال الإمام عبدالعزيز ابن عبدالله ابن باز رحمه الله: ((ولا يجوز
--------------------------------------------
((এবং মিসকিনদের আহারের জন্য
… )) (১)।
((এর মধ্যে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, জাকাতুল ফিতর মিসকিনদের জন্যই ব্যয় করা হবে, জাকাতের অন্যান্য খাতে নয়)) (২)। আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) এ সংক্রান্ত দুটি মত উল্লেখ করে বলেছেন: ((আলেমদের দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি জাকাতের অন্যান্য খাতের ন্যায় ব্যয় করা হবে, এমনকি যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য এবং ঋণগ্রস্তদের ক্ষেত্রেও
… আর দ্বিতীয় অভিমত হলো, জাকাতুল ফিতরের খাত কেবল দরিদ্রদের জন্য, আর এটিই সঠিক (الصحيح))) (৩)। ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা জাকাতুল ফিতরকে দরিদ্র ও অভাবীদের প্রতি সহানুভূতি এবং মিসকিনদের আহারের ব্যবস্থা হিসেবে প্রবর্তন করেছেন)) (৪)। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: ((এর ব্যয়ের খাত হলো দরিদ্র ও মিসকিনগণ)) (৫)। একজনের পক্ষ থেকে জাকাতুল ফিতর এক ব্যক্তিকে প্রদান করা জায়েজ, আবার তা একাধিক ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দেওয়াও জায়েজ)) (৬)।
একাদশ: জাকাতুল ফিতরে মূল্য প্রদানের বিধান:ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((মূল্য প্রদান করা যথেষ্ট হবে না; কারণ এটি বর্ণিত পাঠ (المنصوص) থেকে বিচ্যুতি)) (৭) (৮)। ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এবং এটি জায়েজ নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২২)
إخراج القيمة عند جمهور أهل العلم، وهو أصح دليلاً، بل الواجب إخراجها من الطعام، كما فعله النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم)) (1). وقال رحمه الله: ((
… زكاة الفطر عبادة بإجماع المسلمين، والعبادات الأصل فيها التوقيف، فلا يجوز لأحد أن يتعبد بأي عبادة إلا بما ثبت عن المشرِّع الحكيم عليه صلوات الله وسلامه)) (2).
وقالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء: ((ولا يجوز إخراج زكاة الفطر نقوداً؛ لأن الأدلة الشرعية قد دلت على وجوب إخراجها طعاماً، ولا يجوز العدول عن الأدلة الشرعية؛ لقول أحد من الناس)) (3). قال صلى الله عليه وسلم: ((من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد)). وفي رواية لمسلم: ((من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد)) (4).
الثاني عشر: الفطرة تلزم المسلم عن نفسه وعن من يعول ممن تلزمه نفقته:قال الإمام الخرقي رحمه الله: ((ويلزمه أن يخرج عن نفسه وعن عياله، إذا كان عنده فضل عن قوتِ يومه وليلته)) (5)، قال الإمام ابن المنذر رحمه الله: ((وأجمعوا على أن صدقة الفطر تجب على المرء إذا أمكنه أداؤها عن نفسه، وأولاده الأطفال الذين لا أموال لهم، وأجمعوا على أن على المرء أداء زكاة الفطر عن مملوكه الحاضر)) (6). فظهر أن الفطرة تلزم الإنسان القادر عن
--------------------------------------------
অধিকাংশ আলেমগণের (جمهور أهل العلم) মতে মূল্যের বিনিময়ে জাকাত প্রদান করা অনুচিত, বরং দলীলের দিক থেকে এটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح) যে, খাদ্যদ্রব্য দ্বারা এটি প্রদান করা ওয়াজিব (الواجب), যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) করেছেন (১)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: ((
… মুসলমানদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী সদকাতুল ফিতর একটি ইবাদত। আর ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো শরিয়তপ্রদত্ত নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া (التوقيف)। সুতরাং প্রজ্ঞাবান আইনপ্রণেতা (আল্লাহ) এর পক্ষ থেকে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, তা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কারো জন্য ইবাদত করা বৈধ নয়)) (২)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ) বলেছে: ((সদকাতুল ফিতর অর্থ দ্বারা আদায় করা জায়েজ নয়; কারণ শরয়ি দলিলসমূহ এটি খাদ্যদ্রব্য দ্বারা আদায় করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর কারো ব্যক্তিগত মতের কারণে শরয়ি দলিলসমূহ থেকে বিচ্যুত হওয়া জায়েজ নয়)) (৩)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছুর উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد) হিসেবে গণ্য হবে))। সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনাতে (رواية): ((যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد))) (৪)।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: ফিতরা একজন মুসলিমের নিজের পক্ষ থেকে এবং যার ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক তাদের পক্ষ থেকে প্রদান করা আবশ্যক:ইমাম আল-খিরাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তার জন্য নিজের এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফিতরা প্রদান করা আবশ্যক, যদি তার নিকট একদিন ও এক রাতের খাবারের অতিরিক্ত সম্পদ বিদ্যমান থাকে)) (৫)। ইমাম ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((বিদ্বানগণ ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, সদকাতুল ফিতর একজন ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (تجب) যখন তার নিজের এবং তার এমন শিশু সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করার সক্ষমতা থাকে যাদের কোনো নিজস্ব সম্পদ নেই। তারা আরও ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তির জন্য তার অধীনস্থ উপস্থিত দাসের পক্ষ থেকে জাকাতুল ফিতর আদায় করা আবশ্যক)) (৬)। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, সক্ষম ব্যক্তির ওপর ফিতরা আবশ্যক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نفسه، وعن من يعوله، أي يمونه، فتلزمه فطرتهم، كما تلزمه مؤنتهم، إذ وجد ما يؤدي عنهم (1)؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما: ((أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بصدقة الفطر، عن الصغير، والكبير، والحر، والعبد، ممن تمونون)) (2).
قالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء: ((زكاة الفطر تلزم الإنسان عن نفسه، وعن كلِّ من تجب عليه نفقته، ومنهم الزوجة؛ لوجوب نفقتها عليه)) (3). ويبدأ بنفسه إذا لم يجد لجميع من ينفق عليهم، ثم من يليه في وجوب النفقة (4)؛ لحديث جابر رضي الله عنه، وفيه: ((ابدأ بنفسك فتصدق عليها، فإن فضل شيء فلأهلك، فإن فضل عن أهلك شيء فلذي قرابتك، فإن فضل عن ذي قرابتك شيء فهكذا وهكذا)) يقول: فبين يديك، وعن يمينك، وعن شمالك (5).
وعن حكيم بن حزام رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((أفضل الصدقة، أو خير الصدقة عن ظهر غنىً، واليد العليا خير من اليد السفلى، وابدأ بمن تعول)) (6).
--------------------------------------------
নিজের পক্ষ থেকে এবং যাদের সে ভরণপোষণ (অর্থাৎ খোরাকি প্রদান) করে তাদের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা আবশ্যক। ফলে তাদের ফিতরা প্রদান করা তার ওপর আবশ্যিক হয়ে যায় যেমন তাদের ভরণপোষণ প্রদান করা তার ওপর আবশ্যক, যদি সে তাদের পক্ষ থেকে তা আদায় করার মতো সামর্থ্য পায় (১); ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) ছোট, বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাস—যাদের তোমরা ভরণপোষণ করো—তাদের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন" (২)।
স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) বলেছে: "সদকাতুল ফিতর মানুষের ওপর নিজের পক্ষ থেকে এবং যার ভরণপোষণ তার ওপর ওয়াজিব তাদের সকলের পক্ষ থেকে আদায় করা আবশ্যক, এবং তাদের মধ্যে স্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত; যেহেতু তার ভরণপোষণ স্বামীর ওপর ওয়াজিব" (৩)। আর যদি সে যাদের ভরণপোষণ দেয় তাদের সবার জন্য (সম্পদ) না পায় তবে নিজের থেকে শুরু করবে, এরপর ভরণপোষণ ওয়াজিব হওয়ার ক্রমধারা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করবে (৪); জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "তোমার নিজের থেকে শুরু করো এবং নিজের ওপর সদকা করো, এরপর যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার পরিবারের জন্য, আর যদি তোমার পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য, আর যদি তোমার নিকটাত্মীয়দের দেওয়ার পর কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে এভাবে ও এভাবে (দান করো)"। তিনি বলেন: অর্থাৎ তোমার সামনে, তোমার ডানে এবং তোমার বামে (৫)।
হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "উত্তম সদকা বা শ্রেষ্ঠ সদকা হলো তা যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়। আর উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। এবং যাদের ভরণপোষণ করো তাদের থেকে (দান) শুরু করো" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعن بهز بن حكيم قال: حدثني أبي عن جدي قال: قلت: يا رسول الله، من أبرُّ؟ قال: ((أمك)) قال: قلت: ثم من؟ قال: ((أمك)) قال: قلت: ثم من؟ قال: ((أمك)) قال: قلت: ثم من؟ قال: ((ثم أباك ثم الأقرب فالأقرب)) (1)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: يا رسول الله من أحق الناس بحسن صحابتي؟ قال: ((أمك، ثم أمك، ثم أمك، ثم أبوك، ثم أدناك أدناك)) (2).
وعنه رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تصدقوا)) فقال رجل يا رسول الله عندي دينار، فقال: ((تصدق به على نفسك)) قال عندي آخر، قال: ((تصدق به على زوجتك)) قال: عندي آخر، قال: ((تصدق به على ولدك)) قال: عندي آخر: قال: ((تصدق به على خادمك)) قال: عندي آخر؟ قال: ((أنت أبصر به)) (3).
الثالث عشر: مكان زكاة الفطر وحكم نقلها:الأصل في ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ حينما بعثه إلى اليمن: ((
… فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم)) (4).
--------------------------------------------
বাহজ ইবনে হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কার সাথে সদাচরণ করব? তিনি বললেন: ((তোমার মায়ের সাথে))। তিনি বলেন: আমি বললাম: তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: ((তোমার মায়ের সাথে))। তিনি বলেন: আমি বললাম: তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: ((তোমার মায়ের সাথে))। তিনি বলেন: আমি বললাম: তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: ((তারপর তোমার পিতার সাথে, এরপর যে অধিক নিকটবর্তী তার সাথে, তারপর যে অধিক নিকটবর্তী তার সাথে)) (১); এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মাঝে কে আমার সর্বোত্তম সাহচর্য পাওয়ার অধিক দাবিদার? তিনি বললেন: ((তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার পিতা, তারপর তোমার যে নিকটবর্তী, তারপর তোমার যে নিকটবর্তী ব্যক্তি)) (২)।
এবং তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা সদকা করো))। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার নিকট একটি দিনার আছে। তিনি বললেন: ((তা তুমি নিজের জন্য ব্যয় করো))। সে বলল: আমার নিকট আরেকটি আছে। তিনি বললেন: ((তা তোমার স্ত্রীর জন্য ব্যয় করো))। সে বলল: আমার নিকট আরেকটি আছে। তিনি বললেন: ((তা তোমার সন্তানের জন্য ব্যয় করো))। সে বলল: আমার নিকট আরেকটি আছে। তিনি বললেন: ((তা তোমার ভৃত্যের জন্য ব্যয় করো))। সে বলল: আমার নিকট আরেকটি আছে? তিনি বললেন: ((তুমিই এ বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত)) (৩)।
ত্রয়োদশ: জাকাতুল ফিতর আদায়ের স্থান এবং তা স্থানান্তরের বিধান:এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী, যা তিনি মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: ((
… সুতরাং তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়া হবে)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الإمام عبدالعزيز بن عبدالله بن باز رحمه الله تعالى: ((والسنة توزيعها بين الفقراء في بلد المزكي، وعدم نقلها إلى بلد آخر؛ لإغناء فقراء بلده وسد حاجتهم
… )) (1). وقال رحمه الله عندما سئل عن حكم نقل زكاة الفطر: ((لا بأس بذلك، ويجزئ إن شاءالله في أصح قولي العلماء، لكن إخراجها في محلك الذي تقيم فيه أفضل وأحوط، وإذا بعثتها لأهلك؛ ليخرجوها على الفقراء في بلدك فلا بأس)) (2).
الرابع عشر: أحكام إخراج زكاة الأموال:
1 – يجب إخراج الزكاة على الفور، كالكفارة، والنذر؛ لأن الأمر المطلق يقتضي الفورية، ومنه قول الله تعالى: {وَآَتَوُا الزَّكَاةَ} (3) إلا إذا أخرها؛ ليدفعها إلى من هو أحق بها، من: ذوي القرابة، أو ذوي الحاجة الشديدة، جاز إذا كان وقتاً يسيراً (4) (5).
2 – من جحد وجوب الزكاة كفر، إذا كان عالماً بوجوبها؛ لتكذيبه
--------------------------------------------
ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: ((সুন্নাহ হলো জাকাত প্রদানকারীর নিজ শহরের দরিদ্রদের মাঝে তা বণ্টন করা এবং অন্য শহরে তা স্থানান্তর না করা; যাতে তার নিজ শহরের দরিদ্রদের অভাব দূর করা যায় এবং তাদের প্রয়োজন মেটানো যায়
… )) (১)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যখন জাকাতুল ফিতর স্থানান্তরের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন তখন বললেন: ((এতে কোনো সমস্যা নেই এবং আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ তা যথেষ্ট হবে। তবে আপনি যেখানে অবস্থান করছেন সেই স্থানেই তা প্রদান করা অধিক উত্তম ও অধিকতর সতর্কতামূলক। আর আপনি যদি তা আপনার পরিবারের নিকট পাঠিয়ে দেন যাতে তারা আপনার শহরের দরিদ্রদের মাঝে তা বিতরণ করে দেয়, তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই)) (২)।
চতুর্দশ: অর্থ-সম্পদের জাকাত প্রদানের বিধানসমূহ:
১ – জাকাত অবিলম্বে প্রদান করা ওয়াজিব, কাফফারা ও মানতের ন্যায়; কেননা কোনো নিঃশর্ত নির্দেশ অবিলম্বে পালনের দাবি রাখে। আল্লাহ তায়ালার বাণী: {এবং তোমরা জাকাত প্রদান করো} (৩) -এ বিষয়টি এরই অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি কেউ তা অধিক হকদার ব্যক্তি যেমন: নিকটাত্মীয় বা অতি অভাবগ্রস্ত কাউকে প্রদানের উদ্দেশ্যে বিলম্ব করে, তবে তা অল্প সময়ের জন্য হলে জায়েজ হবে (৪) (৫)।
২ – যে ব্যক্তি জাকাতের আবশ্যকতা অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে, যদি সে এর আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত থাকে; কারণ সে সত্য প্রত্যাখ্যান করল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لله، ولرسوله، وإجماع الأمة، ويستتاب فإن تاب وإلا قتل (1) (2)، ولا يصلى عليه، ولا يدفن في مقابر المسلمين (3).
3 – من منع الزكاة بخلاً، وتهاوناً، أخذها إمام المسلمين أو نائبه منه، وعزّره؛ لارتكابه محرماً؛ ومنعه ركناً من أركان الإسلام؛ لينصره على نفسه، ويردعه عن فعله المحرم (4) (5).
4 – يخرج الزكاة من مال: الصغير، واليتيم، والمجنون وليهم؛ لأنه حق تدخله النيابة، فقام الولي فيه مقام المولَّى عليه: كنفقته، وغرامته؛ ولأن الزكاة واجبة في المال، ولم يشترط البلوغ والعقل في وجوب الزكاة في المال (6) (7).
--------------------------------------------
আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসুলের প্রতি এবং উম্মাহর ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী। তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে (১) (২), তার জানাজার নামাজ পড়া হবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে না (৩)।
৩ – যে ব্যক্তি কৃপণতা ও অবহেলার কারণে জাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকে, মুসলিমদের ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি তার নিকট থেকে তা গ্রহণ করবেন এবং তাকে তা’যির (تعزير) বা শাস্তি দেবেন; কারণ সে একটি হারাম কাজ করেছে এবং ইসলামের একটি রুকন (ركن) পালনে বাধা প্রদান করেছে; যাতে তাকে তার নফসের বিরুদ্ধে সাহায্য করা যায় এবং তাকে তার এই নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিবৃত্ত করা যায় (৪) (৫)।
৪ – শিশু, এতিম ও উন্মাদের সম্পদ থেকে জাকাত প্রদান করবেন তাদের অভিভাবক; কারণ এটি এমন একটি হক যেখানে প্রতিনিধিত্বের (النيابة) অবকাশ রয়েছে। ফলে অভিভাবক এক্ষেত্রে তার অধীনস্থ ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হবেন: যেমনটি হয় তার ভরণপোষণ ও জরিমানার ক্ষেত্রে; কারণ জাকাত সম্পদের ওপর ওয়াজিব (واجب) হয় এবং সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার (وجوب) ক্ষেত্রে বালেগ হওয়া বা বিবেকসম্পন্ন হওয়া শর্ত নয় (৬) (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
5 – والأفضل: أن يفرِّق زكاته بنفسه؛ ليتيقن وصولها إلى مستحقيها؛ وليحصل على أجر التعب؛ لأن تفريقها عبادة لله تعالى، وليجتهد في إيصالها إلى أهلها بيقين، قال عثمان رضي الله عنه: ((هذا شهر زكاتهم، فمن كان عليه دين فليقضه، ثم يزكي بقية ماله)) (1).
وعن أبي سعيد المقبري قال: جئت عمر بن الخطاب بمائتي درهم، قلت: يا أمير المؤمنين هذا زكاة مالي، قال: وقد عتقت يا كيسان؟ قال: قلت: نعم، قال: ((اذهب بها فاقسمها)) (2).
وإذا اجتهد في الإخلاص لله تعالى وأخفاها ابتغاء مرضاته سبحانه أظله الله تعالى في ظله، يوم لا ظل إلا ظله؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((سبعة يظلهم الله تعالى في ظله، يوم لا ظل إلا ظله
… )) وذكر منهم ((
… ورجل تصدّق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه)) (3).
فيحصل على هذا الثواب العظيم بتوزيعها بنفسه (4).
6 – والأفضل أن يسأل الله تعالى أن يتقبَّل منه، كأن يقول: ((اللهم تقبل مني إنك أنت السميع العليم)) وغير ذلك من الدعاء المناسب (5).
--------------------------------------------
৫ – আর এটিই উত্তম: যাতে ব্যক্তি নিজে তার জাকাত বণ্টন করে; যাতে এর হকদারদের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে সে নিশ্চিত হতে পারে এবং পরিশ্রমের সওয়াব অর্জন করতে পারে; কেননা জাকাত বণ্টন করা মহান আল্লাহর ইবাদত। আর সে যেন তা নিশ্চিতভাবে এর হকদারদের কাছে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। উসমান (রা.) বলেন: ((এটি তোমাদের জাকাতের মাস, সুতরাং যার ওপর ঋণ আছে সে যেন তা পরিশোধ করে দেয়, অতঃপর তার অবশিষ্ট সম্পদের জাকাত প্রদান করে)) (১)।
আবু সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট দুইশত দিরহাম নিয়ে এলাম এবং বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি আমার সম্পদের জাকাত। তিনি বললেন: হে কায়সান, তুমি কি মুক্ত হয়েছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((এটি নিয়ে যাও এবং তা বণ্টন করে দাও)) (২)।
আর যখন সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং একনিষ্ঠতার সাথে তা গোপন রাখে, মহান আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে নবী (সা.) বলেছেন: ((সাত শ্রেণীর ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না
… )) এবং তিনি তাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন ((
… আর এমন এক ব্যক্তি যে সদকা করল এবং তা গোপন রাখল, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারল না যে তার ডান হাত কী ব্যয় করেছে)) (৩)।
ফলে নিজে তা বিতরণের মাধ্যমে সে এই মহান সওয়াব অর্জন করতে পারে (৪)।
৬ – আর উত্তম হলো মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেন তিনি তা কবুল করেন, যেমন সে বলবে: ((হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ)) এবং এই জাতীয় অন্যান্য উপযুক্ত দোয়া (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - يقول آخذ الزكاة ما ورد، كأن يقول: ((اللهم بارك فيه وفي ماله)) (1)، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتاه قوم بصدقتهم قال: ((اللهم صلِّ عليهم)) فأتاه أبو أوفى بصدقته، فقال: ((اللهم صلِّ على آل أبي أوفى)) (2).
8 - ويشترط لإخراجها نية من مكلَّف، وله تقديمها بيسير، والأفضل قرنها بالدفع، فينوي الزكاة أو الصدقة الواجبة تقرباً لله تعالى، وكذلك إذا وكل نوى، وينوي الوكيل عمن وكله؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((إنما الأعمال بالنيات)) (3) (4)، قال العلامة السعدي رحمه الله: ((والصحيح أنه إذا نوى المتصدق الزكاة، ودفعها للوكيل، ثم دفعها الوكيل للمُعْطى أن ذلك يجزئ، ولو أن الوكيل لم ينو أنها زكاة، سواء تأخر دفعها عن نية المتصدق أو قارنها
… )) (5).
9 - يجوز تعجيل الزكاة لحولين إذا كمل النصاب؛ لحديث علي رضي الله عنه: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم تعجل من العباس صدقة سنتين)) (6)؛ ولحديثه رضي الله عنه: ((أن العباس سأل النبي صلى الله عليه وسلم في تعجيل صدقته قبل أن تحلَّ، فرخَّص له في ذلك، فأذن له في ذلك)) (7)، ويشترط في ذلك: وجود سبب وجوب
--------------------------------------------
৭ - জাকাত গ্রহণকারী বর্ণিত দোয়া পাঠ করবেন, যেমন তিনি বলবেন: ((হে আল্লাহ! তার মধ্যে এবং তার সম্পদে বরকত দান করুন)) (১), আর যখন কোনো সম্প্রদায় তাদের সদকা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতেন, তিনি বলতেন: ((হে আল্লাহ! আপনি তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন))। অতঃপর আবু আওফা তার সদকা নিয়ে তাঁর নিকট আসলে তিনি বললেন: ((হে আল্লাহ! আপনি আবু আওফার বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)) (২)।
৮ - জাকাত আদায়ের জন্য শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির নিয়ত করা শর্ত, এবং তিনি সামান্য সময় আগে তা করতে পারেন, তবে প্রদানের সাথে নিয়ত থাকাই উত্তম। সুতরাং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তিনি জাকাত বা ওয়াজিব সদকার নিয়ত করবেন। একইভাবে যখন তিনি কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবেন, তখনো নিয়ত করবেন এবং প্রতিনিধি যার পক্ষ থেকে নিযুক্ত হয়েছেন তার পক্ষ থেকে নিয়ত করবেন; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)) (৩) (৪)। আল্লামা সা'দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সঠিক মত হলো, যদি দানকারী জাকাতের নিয়ত করেন এবং তা প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন, অতঃপর প্রতিনিধি তা গ্রহীতাকে প্রদান করেন, তবে তা যথেষ্ট হবে; যদিও প্রতিনিধি এটি জাকাত হওয়ার নিয়ত না করেন। চাই প্রতিনিধির প্রদান করাটা দানকারীর নিয়ত থেকে বিলম্বিত হোক বা সমসাময়িক হোক
… )) (৫)।
৯ - নিসাব পূর্ণ হলে দুই বছরের জাকাত অগ্রিম প্রদান করা জায়েজ; আলী (রাযি.)-এর হাদিসের কারণে: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাযি.) থেকে দুই বছরের সদকা অগ্রিম গ্রহণ করেছিলেন)) (৬); এবং তাঁরই বর্ণিত অন্য হাদিসের কারণে: ((আব্বাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর সদকা ওয়াজিব হওয়ার পূর্বেই অগ্রিম প্রদানের অনুমতি চেয়েছিলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সেই অনুমতি প্রদান করেছিলেন)) (৭)। এর জন্য শর্ত হলো: জাকাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ বিদ্যমান থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الزكاة: وهو كمال النصاب، فإن لم يكن عنده نصاب؛ فإنه لا يجزئ إخراجه؛ لأنه قدمها على سبب الوجوب، وهو ملك النصاب (1) (2).
10 – الأفضل جعل زكاة كل مال في فقراء بلده، إلا لحاجة أو مصلحة راجحة؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لمعاذ حينما بعثه إلى اليمن: ((
… فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم
… )) (3). ولحديث إبراهيم بن عطاء - مولى عمران بن حصين – عن أبيه: أن زياداً – أو بعض الأمراء – بعث عمران بن حصين على الصدقة، فلما رجع قال لعمران: أين المال؟ قال: ((وللمال أرسلتني؟ أخذناها من حيث كنا نأخذها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووضعناها حيث كنا نضعها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم)) (4).
هذا هو الأفضل: أن تجعل زكاة كل بلد في فقراء بلده (5)، والراجح
--------------------------------------------
জাকাত: আর তা হলো নিসাব (نصاب) পূর্ণ হওয়া। যদি তার কাছে নিসাব না থাকে, তবে তা প্রদান করা আদায় (تجزئ) হবে না; কারণ সে ওয়াজিব হওয়ার কারণ তথা নিসাবের মালিক হওয়ার আগেই তা প্রদান করেছে (১) (২)।
১০ – প্রত্যেক সম্পদের জাকাত নিজ শহরের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা উত্তম, তবে কোনো প্রয়োজন কিংবা অগ্রগণ্য (راجحة) মাসলাহাত থাকলে ভিন্ন কথা; কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে যখন ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন তখন তাকে বলেছিলেন: (( ...তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে... )) (৩)। এবং ইমরান ইবনে হুসাইনের মুক্তদাস ইবরাহিম বিন আতা তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদিস: জিয়াদ — অথবা কোনো একজন আমির — ইমরান ইবনে হুসাইনকে সদকা আদায়ের জন্য পাঠিয়েছিলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন তিনি ইমরানকে বললেন: সম্পদ কোথায়? তিনি বললেন: ((আপনি কি আমাকে সম্পদের জন্য পাঠিয়েছিলেন? আমরা তা সেখান থেকেই নিয়েছি যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে নিতাম এবং সেখানেই রেখেছি যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে রাখতাম)) (৪)।
এটিই হলো উত্তম: প্রত্যেক শহরের জাকাত সেই শহরের দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা (৫), আর অগ্রগণ্য (الراجح)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাকাতুল ফিতর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
من أقوال أهل العلم في حكم نقل الزكاة: أن الأفضل إخراج زكاة كل مال في فقراء بلده؛ لأن أهل البلد المحاويج أحق بالبر والإحسان؛ ولغرس المحبة بين الأغنياء والفقراء؛ ولأن أطماعهم تتعلق بما عند الأغنياء في بلدهم من المال؛ ولأنه أيسر للمكلف؛ لأن نقلها من بلد إلى بلد آخر قد يكون فيه مشقة وكلفة، وقد يكون في السفر عرضة لتلف مال الزكاة، ولكن مع ذلك يجوز نقل الزكاة لمصلحة شرعية، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية (1)، قال العلامة عبد الرحمن السعدي رحمه الله: ((والصحيح جواز نقل الزكاة ولو لمسافة قصر إذا كان لذلك مصلحة
… )) (2). وقال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((وهذا القول هو
--------------------------------------------
যাকাত হস্তান্তরের বিধান সম্পর্কে আলেমগণের অভিমতসমূহের মধ্যে একটি হলো: প্রত্যেক সম্পদের যাকাত উক্ত এলাকার দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা সর্বোত্তম; কারণ সংশ্লিষ্ট এলাকার অভাবী মানুষজনই সদাচরণ ও অনুগ্রহের অধিক হকদার; এবং ধনী ও দরিদ্রদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টির লক্ষ্যে; আর যেহেতু অভাবীদের আকাঙ্ক্ষা নিজ এলাকার ধনীদের নিকট বিদ্যমান সম্পদের প্রতি নিবদ্ধ থাকে; এছাড়া এটি যাকাতদাতার জন্য সহজতর; কেননা এক শহর থেকে অন্য শহরে তা স্থানান্তর করা অনেক সময় কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হতে পারে এবং সফরের সময় যাকাতের মাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে তা সত্ত্বেও কোনো শরয়ি স্বার্থ বা জনকল্যাণে যাকাত স্থানান্তর করা বৈধ এবং এটিই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মনোনীত মত (১)। আল্লামা আবদুর রহমান আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যাকাত স্থানান্তর করা বৈধ, এমনকি তা কসরের সমপরিমাণ দূরত্বের ক্ষেত্রেও হয়, যদি তাতে কোনো জনকল্যাণ নিহিত থাকে
… )) (২)। আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আর এই মতটিই হলো...
--------------------------------------------